জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ দরকার এ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য, অর্থনীতিকে গতি দেবার জন্য, জীবনকে স্বচ্ছন্দ করবার জন্য; দেশকে বিপদগ্রস্ত করবার জন্য নয়, মানুষ ও প্রকৃতির অপরিমেয় ক্ষতি করবার জন্য নয়। কিন্তু যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে দেশকে বিপন্ন করবার আয়োজন হয়, ঋণ-নির্ভর, পরিবেশ বিধ্বংসী, ব্যয়বহুল প্রকল্পকে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে উপস্থিত করা হয় তখন স্পষ্ট হয় যে, সরকারের প্রধান এজেন্ডা বিদ্যুৎ উৎপাদন নয় বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে দেশি-বিদেশি কতিপয় গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তার মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি ২০১৬) অনুযায়ী দেশ ধ্বংসী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সুন্দরবনবিনাশী রামপাল কেন্দ্র সহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয়বহুল, পরিবেশবিধ্বংসী, ঋণ-নির্ভর, বিপজ্জনক পথ গ্রহণ করে। এর বিপরীতে কম দামে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে, নিরাপদ বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পথ সনাক্ত করে ২০১৭ সালের ২২ জুলাই জাতীয় কমিটি বিকল্প মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করে। দুই দশকের আন্দোলনের উপর দাঁড়িয়ে, দুই বছরের গবেষণার মধ্য দিয়ে, জাতীয় কমিটি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে, শিল্প ও কৃষি সহ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য অনেক ভাল পথ আছে। সুন্দরবন বিনাশ, ‘পারমাণবিক যুগে প্রবেশ’ ইত্যাদির নামে দেশকে ধ্বংস ও মহাবিপদে ফেলা বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান বা উন্নয়নের পথ হতে পারে না।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান ও উন্নয়নের পথ নিয়ে জাতীয় কমিটির খসড়া প্রস্তাবনা দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সংক্ষিপ্ত রূপে ২০১৭ সালের আগস্টে পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই দলিলটি সর্বজনকথার পাঠকদের জন্য এখানে আপলোড করা হলো।

পুস্তিকাটির ডাউনলোড লিংক: জাতীয় কমিটি প্রস্তাবিত জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা

Social Share
  •  
  •  
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •  

সংক্রামক রোগ থেকে শিশুর সুরক্ষা পেতে কী কী বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে

বনানী চক্রবর্তী

গত কিছুদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচশতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পত্রিকায় এসেছে। হাম নিয়ে কেন অনিয়ম হয়েছে, কারা এর জন্য দায়ী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও উঠেছে। এর পাশাপাশি মনোযোগী পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ছে আরও কাঠামোগত কারণ। দারিদ্র, বৈষম্য, অপুষ্টি, চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রকট দুর্বলতা। সেইসাথে সমাজে শিক্ষা সংস্কৃতিসহ নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়দায়িত্বের প্রশ্নটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। রোগের কারণ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যাসহ এসব বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ বনানী চক্রবর্তী। গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা লেখাটি অনলাইনে আগাম প্রকাশ করছি।  

জীবাণু সংক্রমণ এখনও পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর বড় কারণ। নবজাতকের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এগুলো উল্লেখযোগ্য। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া জনিত মৃত্যু (২৪%) বছরে প্রায় ২৪,০০০।[১] সারাদেশে দৈনিক নিউমোনিয়ায় মৃত্যু প্রায় ৬০ জন। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন তার সাথে যুক্ত হয়েছে হামজনিত মৃত্যু। যার বেশীরভাগ হামের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়ায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার পরিংখ্যান অনুযায়ী গড়ে হাজারে  ৩৩। কিন্তু নিম্ন বিত্ত, দরিদ্র পরিবারগুলোতে এই হার বেশী।[২]  অস্বাস্থ্যকর বসবাস, অপুষ্টি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধার অভাব, চিকিৎসা খরচ এগুলোই মূল কারণ হিসেবে বিবেচ্য। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের ৫ বছর পরও বাংলাদেশের সব মানুষের দৈনন্দিন টিকে থাকার শর্ত পূরণ হয়নি, এমনকি নিশ্চিত হয়নি জীবিকা এবং মজুরি। 

(more…)
Social Share
  •  
  •  

সর্বজনকথা ১২তম বর্ষ: ৩য় সংখ্যা (মে- জুলাই ২০২৬)

(more…)
Social Share
  •  
  •  

সর্বজনকথা ১২তম বর্ষ: ২য় সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি- এপ্রিল ২০২৬)

(more…)
Social Share
  •  
  •