সংক্রামক রোগ থেকে শিশুর সুরক্ষা পেতে কী কী বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে

বনানী চক্রবর্তী

গত কিছুদিনে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচশতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পত্রিকায় এসেছে। হাম নিয়ে কেন অনিয়ম হয়েছে, কারা এর জন্য দায়ী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও উঠেছে। এর পাশাপাশি মনোযোগী পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ছে আরও কাঠামোগত কারণ। দারিদ্র, বৈষম্য, অপুষ্টি, চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রকট দুর্বলতা। সেইসাথে সমাজে শিক্ষা সংস্কৃতিসহ নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়দায়িত্বের প্রশ্নটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। রোগের কারণ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যাসহ এসব বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন শিশু বিশেষজ্ঞ বনানী চক্রবর্তী। গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা লেখাটি অনলাইনে আগাম প্রকাশ করছি।  

জীবাণু সংক্রমণ এখনও পর্যন্ত শিশু মৃত্যুর বড় কারণ। নবজাতকের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এগুলো উল্লেখযোগ্য। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া জনিত মৃত্যু (২৪%) বছরে প্রায় ২৪,০০০।[১] সারাদেশে দৈনিক নিউমোনিয়ায় মৃত্যু প্রায় ৬০ জন। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন তার সাথে যুক্ত হয়েছে হামজনিত মৃত্যু। যার বেশীরভাগ হামের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়ায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার পরিংখ্যান অনুযায়ী গড়ে হাজারে  ৩৩। কিন্তু নিম্ন বিত্ত, দরিদ্র পরিবারগুলোতে এই হার বেশী।[২]  অস্বাস্থ্যকর বসবাস, অপুষ্টি, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধার অভাব, চিকিৎসা খরচ এগুলোই মূল কারণ হিসেবে বিবেচ্য। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের ৫ বছর পরও বাংলাদেশের সব মানুষের দৈনন্দিন টিকে থাকার শর্ত পূরণ হয়নি, এমনকি নিশ্চিত হয়নি জীবিকা এবং মজুরি। 

(more…)
Social Share
  •  
  •  
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •  

তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের মামলার টাইমলাইন (২০১২-২০২৫): অপরাধী মালিকশ্রেণী কি আইনের উর্ধ্বে?

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টস কারখানায় আগুন পুড়ে মারা যান শতাধিক শ্রমিক। মালিকের অবহেলার কারণে ঘটা এই কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের পর অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে মালিক দেলোয়ারসহ আসামীদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয় সেই মামলা আজও চলছে। এর মধ্যে পার হয়ে গেছে ১৩টি বছর! বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সহযোগিতা করার জন্য এই রাষ্ট্র আদৌ কোন দায় অনুভব করে কিনা এই মামলার টাইমলাইনটি সেই প্রশ্নটাকেই সামনে আনে। তাজরীনের এই মামলাটি শুরু থেকেই পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত কয়েকজন গবেষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সংগীত শিল্পী, রাজনৈতিক কর্মী ও চলচ্চিত্রকার। তাদের পক্ষ থেকে এই মামলার টাইমলাইনটি তৈরি করেছেন সায়দিয়া গুলরুখশহীদুল ইসলাম সবুজ

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনস অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর হল ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে। তেরো বছর আগে এই ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে ১১৯ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান। আহত হয় আরও অর্ধশতাধিক শ্রমিক। পরবর্তীতে আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৪ জন শারীরিক অসুস্থতাসহ নানা দুঃখকষ্টে মৃত্যুবরণ করেন।

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করার জন্য ঘটনার পরপরই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রতিটি অনুসন্ধানেই মালিক-কর্তৃপক্ষের শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ে সার্বিক অবহেলার চিত্র তুলে ধরা হয়।

(more…)
Social Share
  •  
  •  
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •  

চা-শ্রমিকদের ভূমি অধিকার কেন নিশ্চিত করা হবে না

মোহন রবিদাস

বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোতে কর্মরত ১৫ লক্ষাধিক চা-শ্রমিক একটি বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে আজ অবধি তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু তাদের মজুরি, জীবনযাত্রার মান ও অধিকার নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন। চা-শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো ভূমি অধিকারের অভাব। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জায়গা-জমির কোনো আইনগত দলিল না থাকায় তারা নানাবিধ আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই লেখায় চা-শ্রমিকদের ভূমি অধিকারের গুরুত্ব ও সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোতে কর্মরত ১৫ লক্ষাধিক চা-শ্রমিক একটি বৈচিত্র্যময় ও স্বতন্ত্র জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে আজ অবধি তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু তাদের মজুরি, জীবনযাত্রার মান ও অধিকার নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন। চা-শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো ভূমি অধিকারের অভাব। এই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জায়গা-জমির কোনো আইনগত দলিল না থাকায় তারা নানাবিধ আর্থ-সামাজিক বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই লেখায় চা-শ্রমিকদের ভূমি অধিকারের গুরুত্ব ও সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চা-শ্রমিকদের বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের চা-বাগানে নিয়ে আসা হয়। তাদেরকে বলা হতো ‘বাগান শ্রমিক’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বংশধররা একই বাগানে কাজ করে আসছেন, কিন্তু জমির মালিকানার স্বীকৃতি পাননি। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ও পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আমলে তাদেরকে শুধু শ্রমিক হিসেবেই দেখা হতো, স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ নয়। ফলে তারা ভূমিহীন হয়ে পড়েন। স্বাধীনতার পরও এ ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং রাষ্ট্রীয়করণের পর বাগানগুলো সরকারি মালিকানায় এলেও শ্রমিকদের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তী সময়ে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বাগানগুলো আবার ব্যক্তিগত মালিকানায় ফিরে গেলেও শ্রমিকদের অবস্থান অপরিবর্তিত থেকে যায়।

(more…)
Social Share
  •  
  •  
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •  

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নদীর জন্য কী ফল আনবে?

‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’র চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ

মো. খালেকুজ্জামান

বাংলাদেশে নদী ও পানি সম্পদ নিয়ে পাকিস্তান আমল থেকে বহু ব্যয়বহুল প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের পেছনে বহু টাকা খরচ হয়েছে, বিশাল ঋণ নেয়া হয়েছে, দেশি বিদেশি কোম্পানি-কনসালট্যান্ট-ব্যবসায়ীরাই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারাই লাভবান হয়েছে, কিন্তু জনগণের কাছে এসব প্রকল্পের অনেক কিছুই গোপন রাখা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও উন্নয়নের কথা বলে নেয়া হলেও এরকম বহু প্রকল্পের কারণে বহু নদী এখন মৃত, নদী ভাঙনবৃদ্ধিতে বহু অঞ্চলের মানুষ সর্বশান্ত, বহু অঞ্চল জলাবদ্ধতার শিকার, প্রাণ প্রকৃতি প্রতিবেশ বিপর্যস্ত। একইধারায় গত সরকারের সময়ে নেয়া হয়েছে ‘ডেল্টা প্রকল্প’ ও ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’। এ নিয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রাহ্যও করা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একই পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞ লেখায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রচারণা বিশ্লেষণ করে গুরুতর সমস্যা চিহ্নিত ও করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে।     

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি `পাওয়ার চায়না’ নামক একটি চীনা সংস্থার সঙ্গে ৮৫৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার জন্য চুক্তি সই করেছে (তথ্যের উৎসের ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণের পরিবর্তন দেখা যায়), এবং তাদের কারিগরি সহায়তায় ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’, টিআরসিএমআরপি কিংবা TRCMRP,  (BWDB, 2019) গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। `পাওয়ার চায়না’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি প্রচারমূলক ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এর প্রাথমিক বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, টিআরসিএমআরপি-টি বাংলাদেশে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামেই বেশি পরিচিত।

(more…)
Social Share
  •  
  •  
  • 350
  •  
  •  
  •  
  •