তিস্তা মহাপরিকল্পনা নদীর জন্য কী ফল আনবে?
‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’র চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ
মো. খালেকুজ্জামান
বাংলাদেশে নদী ও পানি সম্পদ নিয়ে পাকিস্তান আমল থেকে বহু ব্যয়বহুল প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের পেছনে বহু টাকা খরচ হয়েছে, বিশাল ঋণ নেয়া হয়েছে, দেশি বিদেশি কোম্পানি-কনসালট্যান্ট-ব্যবসায়ীরাই সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারাই লাভবান হয়েছে, কিন্তু জনগণের কাছে এসব প্রকল্পের অনেক কিছুই গোপন রাখা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ও উন্নয়নের কথা বলে নেয়া হলেও এরকম বহু প্রকল্পের কারণে বহু নদী এখন মৃত, নদী ভাঙনবৃদ্ধিতে বহু অঞ্চলের মানুষ সর্বশান্ত, বহু অঞ্চল জলাবদ্ধতার শিকার, প্রাণ প্রকৃতি প্রতিবেশ বিপর্যস্ত। একইধারায় গত সরকারের সময়ে নেয়া হয়েছে ‘ডেল্টা প্রকল্প’ ও ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’। এ নিয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রাহ্যও করা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একই পথে অগ্রসর হচ্ছে। এই বিশেষজ্ঞ লেখায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট চীনা কোম্পানির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও প্রচারণা বিশ্লেষণ করে গুরুতর সমস্যা চিহ্নিত ও করণীয় নির্দেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি `পাওয়ার চায়না’ নামক একটি চীনা সংস্থার সঙ্গে ৮৫৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার জন্য চুক্তি সই করেছে (তথ্যের উৎসের ওপর নির্ভর করে এই পরিমাণের পরিবর্তন দেখা যায়), এবং তাদের কারিগরি সহায়তায় ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’, টিআরসিএমআরপি কিংবা TRCMRP, (BWDB, 2019) গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। `পাওয়ার চায়না’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত একটি প্রচারমূলক ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এর প্রাথমিক বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, টিআরসিএমআরপি-টি বাংলাদেশে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামেই বেশি পরিচিত।
350

