পাওয়ার-চায়নার মহাপরিকল্পনার সাতটি অমীমাংসিত প্রশ্ন

তিস্তা সংকট নিরসনের জন্য কী ধরনের মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন?-৪

পাওয়ার-চায়নার মহাপরিকল্পনার সাতটি অমীমাংসিত প্রশ্ন

নজরুল ইসলাম

চীনের পাওয়ার-চায়না নামক কোম্পানি ‘তিস্তা নদী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ (ইংরেজিতে– তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এবং রেসটোরেশন প্রজেক্ট) নামক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছে, যেটা সাধারণভাবে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। প্রশ্ন হলো– এই প্রকল্প কি তিস্তা সংকটের সমাধান দিতে পারবে, নাকি ভিন্ন ধরনের মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন? এই প্রশ্নের আলোচনার জন্য এই প্রবন্ধের প্রথম তিনটি পর্বে  বাংলাদেশের জন্য কোন পন্থা বেশি উপযোগী, তিস্তার সংকট কীভাবে সৃষ্টি হলো, এবং পাওয়ার চায়নার তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নযোগ্যতার প্রশ্নের সাথে জড়িত বিভিন্ন দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। এই পর্বে পাওয়ার চায়না মহাপরিকল্পনার সাতটি অমীমাংসিত প্রশ্ন তুলে ধরা হল।

২০২৩ সালের সম্ভাব্যতা-সমীক্ষায় পাওয়ার-চায়না স্বীয় মহাপরিকল্পনার যে বিবরণ দেয় তার ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষণ থেকে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন বেরিয়ে আসে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৭টি প্রশ্ন নিম্নরূপ:

(১) তিস্তার প্রস্থ যদি বর্তমানের এক-চতুর্থাংশ করা হয় এবং এর গড় গভীরতা যদি মাত্র ৩.৩ মিটার হয়, তাহলে তিস্তার প্রস্থচ্ছেদের যে ব্যাপক হ্রাস ঘটবে তার দ্বারা তিস্তা বর্ষাকালের এবং হড়কা বন্যার বিপুল প্রবাহ কীভাবে ধারণ করবে?

(২) প্রায় তিন মাইল পরপর স্থাপিত গ্রোয়েনসমূহ তিস্তার বর্ষাকালীন বিপুল প্রবাহকে সংকুচিত খাতের মধ্যে কীভাবে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবে?

(৩) ভারত থেকে প্রাপ্ত তিস্তার প্রবাহ যদি বৃদ্ধি না করা যায়, তাহলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের তিস্তায় লভ্য পানির পরিমাণ কীভাবে বৃদ্ধি পাবে?

(৪) তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ যদি হ্রাস পায়, তাহলে তিস্তা প্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধির কারণে যে অতিরিক্ত পাড়ভাঙন দেখা দেবে তা কীভাবে এড়ানো সম্ভব হবে?

(৫) তিস্তার বর্ষাকালীন প্রবাহ যদি সংকুচিত নদীখাতে ধারণ করা সম্ভব না হয় এবং তা কূল উপচে পড়ে, তাহলে তিস্তা গর্ভ থেকে উদ্ধারকৃত জমিতে শিল্প স্থাপন, নগরায়ন, আবাসন স্থাপন ইত্যাদি কীভাবে সম্ভব হবে?

(৬) তিস্তার শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহ যদি বৃদ্ধি না করা যায়, তাহলে এই নদীর নাব্যতা রক্ষা করা কীভাবে সম্ভব হবে এবং সে ক্ষেত্রে এতগুলো টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ করে কী লাভ হবে?

(৭) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৃত্রিম উপায়ে নদীখাতের পরিবর্তনের মাধ্যমেই তিস্তার সমস্যা সমাধান করে ফেলা সম্ভব বলে দাবি করা হয়, তাহলে ভারতের কাছ থেকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যার আদায়ের কী হবে?

নিচে আমরা এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব।

৪.১ সংকুচিত তিস্তা কীভাবে বর্ষাকালীন বিপুল প্রবাহ ধারণ করবে?

পাওয়ার-চায়নার প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর যে সংকুচিত তিস্তা হবে, তা এই নদীর বর্ষাকালীন এবং হড়কা প্রবাহ ধারণ করতে সক্ষম হবে কি না তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উপরে আমরা দেখেছি, সংকুচিত তিস্তার (ভরাটকৃত) প্রস্থ হবে ৮১৬ মিটার এবং গড় গভীরতা হবে ৩.৩ মিটার (চিত্র-৩.৩)। ফলে, প্রকল্পের পর তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ হবে মাত্র ২,৬৯৩ বর্গমিটার। বর্তমান তিস্তার গড় প্রশস্ততা ধরা হয় ৩,০০০ মিটার এবং গভীরতা ৫ মিটার (পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পের পিডিপিপি এবং ভিডিও অনুযায়ী)। এর ভিত্তিতে তিস্তার বর্তমান প্রস্থচ্ছেদ হবে ১৫,০০০ বর্গমিটার। এই অনুমান যদি সত্য হয়, তাহলে প্রকল্প-পরবর্তী তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ হবে বর্তমান প্রস্থচ্ছেদের মাত্র ১৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশেরও কম হবে। যদি ধরা হয়, বর্তমান তিস্তার গড় গভীরতা ৫ মিটারের চেয়ে কম, সে ক্ষেত্রেও প্রকল্প-পরবর্তী তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ যে বর্তমান প্রস্থচ্ছেদের চেয়ে বহুগুণ কম হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, তিস্তার উজানে বহু বাঁধ নির্মিত হওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে তিস্তার প্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেলেও বর্ষাকালে ভারতের ব্যারাজসমূহের সব কপাট খুলে দিলে বিপুল জলরাশি বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় পৌঁছায় (চিত্র-২.৭(ক)। একই কারণে হড়কা বন্যার সংখ্যা ও প্রকোপও বাড়ছে। সুতরাং, তিস্তা ৮১৬ মিটারে সংকুচিত হলে বর্ষা ও হড়কার প্রবাহ উপচিয়ে নদীখাতের দুই পার্শ্বে বিস্তৃত হওয়া এবং বন্যার সৃষ্টি করার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এই অনুমান যদি সত্য হয়, তাহলে প্রকল্প-পরবর্তী তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ হবে বর্তমান প্রস্থচ্ছেদের মাত্র ১৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক-পঞ্চমাংশেরও কম হবে। যদি ধরা হয়, বর্তমান তিস্তার গড় গভীরতা ৫ মিটারের চেয়ে কম, সে ক্ষেত্রেও প্রকল্প-পরবর্তী তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ যে বর্তমান প্রস্থচ্ছেদের চেয়ে বহুগুণ কম হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা দাবি করে যে, যেহেতু তিস্তা নদী ডালিয়া ব্যারাজ, মহীপুরঘাট, কাউনিয়া এবং ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলনস্থল চিলমারীতে প্রায় ৭০০ মিটার প্রস্থে সীমাবদ্ধ; সুতরাং, সমগ্র নদীকেই ৮১৬ মিটার প্রস্থে সংকুচিত করা অসম্ভব হবে না। এ বিষয়ে লক্ষণীয় যে, ডালিয়া ব্যারাজ, মহীপুরঘাট এবং কাউনিয়া সেতুর নিকট তিস্তাকে সংকুচিত করার জন্য নিবিড় নদীশাসনের প্রয়োজন হয়েছে, যা গোটা তিস্তার জন্য সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এসব বিশেষ স্থানে নদী সংকুচিত করার ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, এগুলোর উজানে ‘ফানেল-অভিঘাত’ ঘটেছে এবং নদী সেখানে পাড় ভাঙনের মাধ্যমে অনেক বেশি প্রশস্ত হয়ে এক ধরনের পানি-অপেক্ষাগার সৃষ্টি করেছে, যাতে পানি কিছুটা ধীরগতিতে জলাবদ্ধস্থানসমূহ অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু সমগ্র নদীকে যদি সংকুচিত করে ফেলা হয়, তাহলে এ ধরনের পানি-অপেক্ষাগার সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না। তখন হয় নদী পুনরায় প্রশস্ত হবে কিংবা নদীর পানি উপচে বন্যার সৃষ্টি হবে। ইংরেজিতে এটাকে বলা হয় ‘ফ্যালাসি অব কম্পোজিশন,’ অর্থাৎ নদীর একটি কিংবা কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে তা সমগ্র নদীর জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে ভ্রান্ত ধারণা করা।

সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে, ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলনস্থলে তিস্তা প্রাকৃতিকভাবেই ৭০০ মিটারে সংকুচিত। তবে এখানে মানাস নদীর উপস্থিতিও লক্ষ করা প্রয়োজন, যেটাকে তিস্তার একটি বিনুনি হিসেবেও গণ্য করা যায়। মানাসকে অন্তর্ভুক্ত করে বিবেচনা করলে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলনস্থলে তিস্তার প্রস্থ ৭০০ মিটার বলে বিবেচনা ঠিক নয়। তার প্রমাণ দেখা যায় এই মিলনস্থলের মাত্র ৫০০ মিটার উজানে তিস্তার ওপর সদ্যনির্মিত হরিপুর সেতুর মধ্যে, যেটি ১৪০০ মিটার দীর্ঘ এবং তিস্তা ও মানাস উভয়কে অতিক্রম করে। সর্বোপরি, যদি মানাস নদীকে তিস্তার বিনুনি হিসেবে না ভাবা হয় এবং মনে করা হয় যে, ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলনস্থলে প্রাকৃতিক কারণে তিস্তা সংকুচিত থাকে, সে ক্ষেত্রেও লক্ষ করা প্রয়োজন যে, এখানেও ‘ফানেল অভিঘাত’ পরিদৃষ্ট হয়। কারণ, এর উজানে তিস্তা অনেক প্রশস্ত।

সব মিলিয়ে, তিস্তাকে প্রায় এক-চতুর্থাংশে সংকোচন এবং এর গড়-গভীরতা ৩.৩ মিটার করা হলে তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ যে পরিমাণ হ্রাস পাবে তাতে তিস্তা কীভাবে বর্ষাকালীন এবং হড়কা প্রবাহ নিরাপদে ধারণ করতে সক্ষম হবে তার কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না।

তিস্তাকে প্রায় এক-চতুর্থাংশে সংকোচন এবং এর গড়-গভীরতা ৩.৩ মিটার করা হলে তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ যে পরিমাণ হ্রাস পাবে তাতে তিস্তা কীভাবে বর্ষাকালীন এবং হড়কা প্রবাহ নিরাপদে ধারণ করতে সক্ষম হবে তার কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না।

৪.২ তিন মাইল পরপর স্থাপিত গ্রোয়েন কীভাবে তিস্তাকে প্রস্তাবিত সরুখাতে সীমাবদ্ধ রাখতে সমর্থ হবে?

তিস্তা নদীকে প্রস্তাবিত সরুখাতে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য পাওয়ার-চায়না যে পদ্ধতির প্রস্তাব করে তা হলো ৬৫টি গ্রোয়েন (৫০টি নতুন এবং ১৫টি পুরোনো) নির্মাণ। কিন্তু বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থাপনার জন্য গ্রোয়েন এবং অন্যান্য কঠিন স্থাপনা (স্পার, কংক্রিট রিভেটমেন্ট, হার্ডপয়েন্ট ইত্যাদি) ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উৎসাহজনক নয়। পশ্চিমের অনেক দেশে নদীশাসনের জন্য কঠিন স্থাপনা কার্যকর হয়েছে। কারণ, সেখানকার নদীর প্রবাহ বাংলাদেশের মতো এত বিশাল নয়, পলির পরিমাণ কম, প্রবাহের ঋতুভেদ এত চরম নয় এবং মাটি ক্ষয়প্রবণতা কম।

বিপরীতে, বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ বিশাল, বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে, প্রবাহের ঋতুভেদ চরম এবং নদীখাতের মাটির গঠন ক্ষয়ের জন্য সহায়ক। বাংলাদেশের বৃহৎ নদীগুলো বর্ষাকালে সমুদ্রে পরিণত হয়। গ্রোয়েন দিয়ে এ ধরনের নদী নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। (এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য Islam (2020, 2022), ইসলাম (২০২৩), Khalequzzaman (2024))। তিস্তা নদীতীরে বিদ্যমান ১৫টি গ্রোয়েনের অভিজ্ঞতা থেকেও এটি স্পষ্ট। এ বিষয়ে যমুনা নদীর অভিজ্ঞতা আরও ব্যাপক। এই নদীর উভয় তীরে, বিশেষত ডান তীরে, বহুসংখ্যক কঠিন স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু এগুলো যমুনা নদীর পাড়ভাঙন, প্রশস্তকরণ এবং পশ্চিম দিকে (ডান তীর রক্ষা বাঁধের দিকে) স্থানান্তর রোধ করতে পারেনি। (এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দ্রষ্টব্য Islam (2022, Chapter 6) এবং ইসলাম (২০২৩, ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ))।

বাংলাদেশে নদীর প্রবাহ বিশাল, বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে, প্রবাহের ঋতুভেদ চরম এবং নদীখাতের মাটির গঠন ক্ষয়ের জন্য সহায়ক। বাংলাদেশের বৃহৎ নদীগুলো বর্ষাকালে সমুদ্রে পরিণত হয়। গ্রোয়েন দিয়ে এ ধরনের নদী নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

বহু অর্থ ব্যয় করে সিরাজগঞ্জে নির্মিত হার্ডপয়েন্ট ২০২১ সালের ২৯ জুন আংশিকভাবে ধসে পড়েছে এবং বাকিটার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। উপরে আমরা লক্ষ করেছি, তিস্তার মোট ২০৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তীরে ৬৫টি গ্রোয়েন স্থাপন করা হলে এগুলোর মধ্যে গড় ব্যবধান হবে প্রায় ৩ কিলোমিটার। এত বিপুল ব্যবধানে স্থাপিত গ্রোয়েন এগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে নদীর প্রস্থ কীভাবে সংকুচিত রাখবে তা প্রশ্নের বিষয়।

গ্রোয়েন বিষয়ক আরও কিছু প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে যার উত্তর সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা থেকে পরিষ্কার হয় না। যেমন: নদীর মূলখাত প্রতিষ্ঠা এবং গ্রোয়েন নির্মাণের মধ্যকার সময়ক্রম এবং কার্যকারণের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। একদিকে, গ্রোয়েন নির্মাণের জন্য নদীর স্থিতিশীল তীর থাকা প্রয়োজন; অন্যদিকে মূলখাতের স্থিতিশীল তীর সৃষ্টির জন্য গ্রোয়েন প্রয়োজন। এখানে সময়ক্রমতা কী? যদি বলা হয়, এই দুই কর্মকাণ্ড একইসঙ্গে অগ্রসর হবে, তাহলে মূলখাতটি সম্পূর্ণরূপে কৃত্রিমভাবে আরোপিত বলে প্রমাণিত হবে এবং এর অবস্থান নির্ধারণে প্রবাহের বেগ বৃদ্ধি এবং নদীর তলদেশের অধিক ক্ষয়সাধন (স্কাওরিং)-এর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়ার কোনো ভূমিকা থাকে না।

সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা আরও জানায়, গ্রোয়েন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভবনের উজানে এবং ভাটিতে, নদীর তীক্ষ্ণ বাঁকসম্পন্ন অংশে এবং অবতল (কনকেভ) তীরের শেষে ‘লম্বালম্বি ডাইক’ বসানো হবে। কিন্তু এসব লম্বালম্বি ডাইকের সংখ্যা, দৈর্ঘ্য ইত্যাদি সম্পর্কে সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা তেমন কোনো তথ্য প্রদান করে না এবং গ্রোয়েনের সঙ্গে এগুলোর ভূমিকা কীভাবে সমন্বিত হবে তার তেমন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় অতীতে ব্যর্থ বলে প্রমাণিত গ্রোয়েনপ্রযুক্তি ভবিষ্যতে কীভাবে তিস্তা নদীকে ৮১৬ মিটারে সীমাবদ্ধ রাখায় সফল হবে সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না।

৪.৩ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির পরিমাণ কীভাবে বৃদ্ধি পাবে?

পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পের পিডিপিপি ও ভিডিওতে জোর দেওয়া হয়েছিল যে, তিস্তা নদীকে খননের মাধ্যমে বর্তমানের ৫ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীর করা হবে এবং তার ফলে নদীতে প্রচুর পানি সঞ্চিত থাকবে এবং তা শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। এই প্রস্তাবের দুর্বলতাসমূহের দিকে ইতঃপূর্বেই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল (দ্রষ্টব্য Khalequzzaman 2021, ২০২৩ এবং ইসলাম 2022 এবং ২০২৩)। 

এগুলো হলো:

প্রথমত, এককালীন খননকাজের মাধ্যমে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি করা হলেও তিস্তা বছরে গড়ে যে ৪.৯৩ কোটি টন পলিবালি বহন করে, তার পতনের ফলে খননকৃত গভীরতা দ্রুতই নাকচ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি-উচ্চতা ব্রহ্মপুত্রের চেয়ে বেশি হলে সে পানি তিস্তা থেকে ব্রহ্মপুত্রে চলে যাবে। তৃতীয়ত, তিস্তায় পানি ধরে রাখার জন্য যদি চিলমারীতে বাঁধও নির্মিত হয়, তাহলে এই বাঁধের উজানে ক্রমাগত পলি জমে তিস্তার গভীরতা পুনরায় হ্রাস পাবে। 

চতুর্থত, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার খননকৃত অংশে যে পানি এসে জমা হবে তা হবে তিস্তা অববাহিকার ভূগর্ভস্থ অগভীর স্তরের পানি। কাজেই, তার ফলে তিস্তা অববাহিকার মোট পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে না। বরং তিস্তা অববাহিকায় নলকূপ ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমানে যে সেচ পরিচালিত হয় তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাওয়ার-চায়নার ২০২৩ সালের সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা এ বিষয়ে আরও ধূম্রজালের সৃষ্টি করেছে। কারণ এই সমীক্ষা দেখায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তিস্তার মূলখাতের গড় গভীরতা হবে মাত্র ৩.৩ মিটার, যা বহু স্থানে তিস্তার বর্তমান গভীরতার চেয়েও কম। ফলে, পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পের ফলে কীভাবে তিস্তা নদীর শীতকালীন প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে তার কোনো সদুত্তর নেই। বস্তুত, পাওয়ার-চায়নার ২০২৩ সালের সম্ভাব্যতা-সমীক্ষায় এ বিষয়ে তেমন কোনো আলোচনাই নেই।

৪.৪ সংকুচিত তিস্তায় প্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধির কারণে যে অতিরিক্ত পাড়ভাঙন দেখা দেবে তা কীভাবে এড়ানো যাবে?

পাওয়ার-চায়না কর্তৃক প্রস্তাবিত তিস্তার সংকোচনের ফলে পাড় ভাঙনের সমস্যা আরও তীব্র হবে। নদীপ্রবাহের গতিবেগ (V) দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একটি হলো প্রবাহের পরিমাণ (F)। প্রবাহ বাড়লে গতিবেগ বাড়ে। দ্বিতীয়টি হলো নদীর প্রস্থচ্ছেদ (A)। এ ক্ষেত্রে সম্পর্কটি বিপরীত, অর্থাৎ প্রস্থচ্ছেদ বড় হলে একই পরিমাণ প্রবাহ ধীরগতিতে অগ্রসর হতে পারে। বিষয়টিকে নিম্নরূপ সমীকরণ দ্বারা সূত্রবদ্ধ করা হয়: V=F/A। এই সমীকরণ দেখায়, প্রবাহের পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলে পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পের পর তিস্তার প্রস্থচ্ছেদ এক-পঞ্চমাংশে হ্রাস পাওয়ায় প্রবাহের গতিবেগ পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাবে। অধ্যাপক খালেকুজ্জামান দেখিয়েছেন যে, প্রবাহের গতিবেগ এত বেশি বৃদ্ধি পেলে তা তিস্তার পাড়ভাঙনকে আরও তীব্র করবে। কারণ, তিস্তা নদীর পাড় মূলত বালু এবং নুড়ি দ্বারা গঠিত, যা কিনা প্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধি পেলে অনায়াসেই ভেঙে পড়ে (Khalequzzaman 2021, ২০২৩)।

পাওয়ার-চায়না প্রকল্প-পরবর্তী তিস্তার যে নমুনা প্রস্থচ্ছেদ উপস্থিত করেছে (উপরের চিত্র-৩.৩ দেখুন), তাতে দেখা যায়, তিস্তার প্রস্তাবিত ‘মূলখাত’ এবং তার অভ্যন্তরে ‘প্রবাহক্ষয় নিষ্ক্রমণ খাত’ উভয়ের তীরই সম্পূর্ণ খাড়াখাড়ি (অর্থাৎ ৯০ ডিগ্রি কোণসম্পন্ন)। অধ্যাপক খালেকুজ্জামান আরও দেখিয়েছেন, তিস্তার জন্য এ ধরনের ৯০ ডিগ্রি কোণসম্পন্ন তীরের প্রস্তাব সম্পূর্ণরূপে অবাস্তব। কারণ, তিস্তাপাড়ের বালু এবং নুড়িময় গঠনের কারণে তিস্তাপাড়ের প্রাকৃতিক স্থায়িত্বশীল ঢাল হবে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি। খননের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে খাড়াখাড়ি খাত নির্মাণ করা হলেও তিস্তা দ্রুতই পাড় ভাঙনের মাধ্যমে নদীখাতের ঢালকে কমিয়ে আনায় সচেষ্ট হবে।

উপরে আমরা লক্ষ করেছি, তিস্তা নদী বছরে প্রায় ৪.৯৩ কোটি টন পলিবালি বহন করে, যার বেশিরভাগই বিভিন্ন আকারের বালি এবং নুড়ি দ্বারা গঠিত। ৪.১ নম্বর সারণি দেখায়, তিস্তা তার মোট পলিবালির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভাসমান রূপে বহন করে। সুতরাং, নদীর প্রবাহ সংকুচিত মূলখাতে সীমাবদ্ধ করা হলে পলিবালির এই অংশ তিস্তার দুই পাড়ের বিশাল প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে আরও বেশি হারে নদীর তলদেশে জমা হবে। ফলে খননকৃত মূলখাত এবং ‘প্রবাহ ক্ষয় নিষ্ক্রমণ পথ’ হয় ভরাট হয়ে যাবে কিংবা এত বেশি বাৎসরিক খননের প্রয়োজন হবে যা কারিগরি এবং অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবাস্তব বলে প্রমাণিত হবে।

সারণি-৪.১: তিস্তা নদীবাহিত বাৎসরিক ভাসমান ও তলদেশস্থ পলিবালির পরিমাণ (কোটি টন)

 

বৎসর 

১৯৮১

১৯৮২

১৯৮৩

১৯৮৪

১৯৮৫

১৯৮৬ 

গড়

ভাসমান 

৩.০০

২.৯৪ 

৩.৩১

৪.২৪

৩.৪৭

২.৪০

৩.২৩ 

তলদেশস্থ 

১.০৮

১.৯০

১.৮৪

২.৫২

১.৬০

১.২৬ 

১.৭০

মোট

৪.০৮

৪.৮৪

৫.১৫

৬.৭৬

৫.০৭

৩.৬৬

৪.৯৩

সূত্র: BWDB and Power China (2023, p. 15, Table 2.6-1)

বর্তমানে তিস্তাপাড়ের জনগণের প্রধান দাবি হলো পাড়ভাঙন রোধ। কিন্তু তিস্তার সংকোচনের ফলে প্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধির কারণে পাড়ভাঙন আরও বৃদ্ধি পাওয়া এবং তিস্তার নদীখাতের নকশাকৃত অবয়ব ভন্ডুল হয়ে যাওয়া কীভাবে প্রতিহত করা যাবে তার কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না।

৪.৫ বন্যা-প্রতিরক্ষা বাঁধ এত দূরে রেখে পুনরুদ্ধারকৃত জমির প্রস্তাবিত ব্যবহার কীভাবে সম্ভব হবে?

উপরে আমরা লক্ষ করেছি, পাওয়ার-চায়না প্রকল্পের পিডিপিপি এবং ভিডিও থেকে মনে হয়েছিল যে, নদীগর্ভ থেকে উদ্ধারকৃত জমি বন্যা-প্রতিরক্ষা বাঁধের বাইরে থাকবে; ফলে এগুলো বন্যামুক্ত হবে এবং তাতে শিল্পস্থাপন, নগরায়ন ইত্যাদি সম্ভব হবে। সারণি-৩.১ দেখায়, উদ্ধারকৃত জমির ৮২.৬ শতাংশ ব্যবহৃত হবে শিল্পস্থাপন, পুনর্বাসন এবং নগরায়নের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২০২৩ সালের সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা প্রস্তাব করে, পুনরুদ্ধারকৃত জমির সিংহভাগ বাঁধের ভেতরে থাকবে (চিত্র-৩.৩ দেখুন)। এই প্রস্তাব পুনরুদ্ধারকৃত জমির ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। কারণ, বাঁধের ভেতরে থাকার কারণে এই ভূমি দ্বিবার্ষিক প্লাবন দ্বারা আক্রান্ত হবে।

সম্ভাব্যতা-সমীক্ষা প্রণেতারাও সম্ভবত এই অসংগতি অনুভব করেন এবং সে জন্য তারা ব্যাখ্যা যোগ করেন যে, যেসব এলাকায় পুনরুদ্ধারকৃত জমি নগরায়নের জন্য ব্যবহৃত হবে সেখানে বাঁধগুলো নতুন হবে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে নির্মিত হবে। অর্থাৎ, নগরায়নের জন্য ব্যবহৃতব্য পুনরুদ্ধারকৃত জমি বাঁধের বাইরে হবে এবং ফলে তা দ্বিবার্ষিক বন্যার নাগালের বাইরে থাকবে। কিন্তু দ্বিবার্ষিক বন্যার অধীন জমি কীভাবে শিল্প স্থাপন এবং পুনর্বাসনের জন্য উপযোগী হবে তা বোঝা কঠিন। অন্যদিকে, নগরায়নের জন্য পুনরুদ্ধারকৃত ভূমিকে বন্যা থেকে রক্ষার বাঁধ যদি তিস্তার মূলখাত থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোর স্থায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কারণ, নদীর এত কাছে হলে সেগুলো পাড়ভাঙন এবং অন্যান্য সমস্যার শিকার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

নগরায়নের জন্য পুনরুদ্ধারকৃত ভূমিকে বন্যা থেকে রক্ষার বাঁধ যদি তিস্তার মূলখাত থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোর স্থায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

সুতরাং, পাওয়ার-চায়নার প্রকল্প প্রণেতারা যেন এক উভয়সংকটে পড়েন। নদীখাতের কাছে বাঁধ নির্মাণ করলে বন্যার বাইরে অবস্থিত এলাকার পরিমাণ বাড়ে, কিন্তু বাঁধ নিজেই সংকটাপন্ন হয়। অন্যদিকে, মূলখাতের অনেক দূরে নির্মিত হলে বাঁধ কম বিপদাপন্ন হয় বটে, কিন্তু পুনরুদ্ধারকৃত জমির বেশিরভাগ দ্বিবার্ষিক বন্যার আওতায় থাকে, ফলে সেগুলো শিল্পস্থাপন, নগরায়ন এবং পুনর্বাসনের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কীভাবে এই উভয়সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে তার কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না।

৪.৬ তিস্তার সাংবাৎসরিক নাব্যতা কীভাবে অর্জিত হবে?

পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পে তিস্তা নদীর নাব্যতার ওপর জোর দেওয়া হয়। উল্লেখ করা হয় যে, এই প্রকল্পের ফলে তিস্তা নদী সারা বছরের জন্য নাব্য হবে এবং তা ব্যবহার করে নদীতে নৌ-চলাচল এবং নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে এক বিরাট সুযোগের সৃষ্টি হবে। সে জন্য প্রকল্পের অধীন তিস্তাপাড়ে দুটি টার্মিনাল এবং ১৫টি জেটি নির্মিত হবে।

লক্ষণীয় যে, একটি হড়কা নদী হওয়ার কারণে তিস্তা নদী কখনোই নৌপরিবহনের জন্য খ্যাত ছিল না। নৌপরিবহন সংক্রান্ত পাওয়ার-চায়নার লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমেও পর্যাপ্ত গভীরতাসম্পন্ন পানি থাকতে হবে। কিন্তু আমরা এরইমধ্যে লক্ষ করেছি, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ কীভাবে বৃদ্ধি পাবে সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়ার-চায়না দিতে পারে না। এ অবস্থায় টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ কেন নেহাত অপচয় বলে পরিগণিত হবে না তার কোনো উত্তরও পাওয়ার-চায়নার সম্ভাব্যতা-সমীক্ষায় পাওয়া যায় না।

৪.৭ ভারতের কাছ থেকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা কীভাবে আদায় হবে?

পাওয়ার-চায়নার প্রকল্পে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তার প্রবাহ বণ্টনের বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা করা হয় না। ফলে একটা ধারণার সৃষ্টি হয় যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই তিস্তা সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এবং ভারতের কাছ থেকে তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ের বিষয়ে তত সচেষ্ট না হলেও অসুবিধা নেই।

পাওয়ার-চায়নার প্রকল্প অনুসারে তিস্তা প্রবাহের ভাগাভাগির ইস্যুকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হলে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা কীভাবে আদায় হবে?

কিন্তু উপরে আমরা লক্ষ করেছি, ভারত কর্তৃক তিস্তা নদীর শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহ ক্রমবর্ধমানভাবে অপসারণই বাংলাদেশে তিস্তা অববাহিকার বর্তমান বহুমুখী সংকটের প্রধান কারণ। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানিস্বল্পতার সমস্যা, বর্ষাকালের বন্যা ও হড়কা বন্যার সমস্যা, নদীখাত গঠনের বিকৃতির সমস্যা ইত্যাদি সমাধানের জন্য ভারতের আচরণের পরিবর্তন প্রয়োজন। সুতরাং, পাওয়ার-চায়নার প্রকল্প অনুসারে তিস্তা প্রবাহের ভাগাভাগির ইস্যুকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হলে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা কীভাবে আদায় হবে?     (চলবে)

আগের পর্ব: তিস্তা সংকট নিরসনের জন্য কী ধরনের মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন?-৩

ড. নজরুল ইসলাম: অধ্যাপক, এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান। ইমেইল: nislam13@yahoo.com. 

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •