করোনার করুণ কীর্তন

করোনার করুণ কীর্তন

দিলরুবা শাহানা

করোনাকালের কয়েকটি টুকরো ছবি… 

১. ইউনাইটেড আতংক

আহলানের এখনকার নিয়মিত অভ্যাস হচ্ছে সকালে ইন্টারনেটে দেশের খবর, ঢাকার খবর আর পৃথিবীর খবরে চোখটা বুলিয়ে নেওয়া। গতরাতে বোনের সাথে টেলিফোন করে অনেক বাক-বিতণ্ডা করেছে। বোনের শ্বশুরের হাঁপানি আগেই ছিল এবার জ্বর-কাশি শুরু হতেই তাকে নামিদামি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছে আহলান বারবার। সরকারি হাসপাতালে যাওয়া এখন তাদের মত বিত্তবান লোকদের মানায় না।

টাকা পয়সা যথেষ্ট হয়েছে তার, পরিবারেরও। হবে নাই বা কেন এক সময়ে মাথা নিচু  করে পাছা উপরে রেখেই সারাক্ষণ কাজ ছিল তার। সেই কাজ করেই এন্তার টাকার মালিক আজ আহলান । দশ পনেরো জন স্থায়ি কর্মী আর শতেকের বেশি ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়ে এখন তার মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। প্লামার হিসাবে কাজ শুরু করে এখন সে প্লামিং কোম্পানির মালিক।  সাধারণ বিএসসি ডিগ্রী নিয়ে বিদেশে এসে যখন সে প্লামিং বিদ্যায় প্রশিক্ষণ নিতে গেল তখন পরিচিত এদেশের সাধারণ মানুষ রসিকতা করে অভব্য একটি কথা বলেছিল The bigger the bam crack, the bigger the pay check। কিছুদিন যেতেই সে নিজেও অবাক তার অর্থ উপার্জনের বিপুলতা দেখে। এক সময়ে কাজটা যদিও অহংকার করে বলার মতো ছিল না তবে তার অর্থের ঝনঝনানি ও বিত্তের চাকচিক্যে সবাই ঈর্ষান্বিত হতো। এখনতো শত মানুষকে  কাজের ব্যবস্থা করে দিয়ে অনেক পরিবারকে বাঁচিয়ে রেখেছে আহলান । চারপাশে সবাই তাকে রীতিমত সমীহ করে চলে।

একসময়ে অর্থাভাবে তার সবচেয়ে মেধাবী একটা ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত মারাই গিয়েছিল ভাইটা। বিদেশে এসে বিদ্যার্জন নয় সৎভাবে কাজ করে বেশি পয়সা উপার্জনই ছিল উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্যে  পৌঁছেছে আহলান ।

যাই হোক তার বোনের পরিবারের সদস্যদেরও এখন চিকিৎসা পাওয়ার কথা এ্যাপোলো আর ইউনাইটেড এর মত নামিদামি হাসপাতালে। তাকে কেন যে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আহলান সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না।

প্লামিং ইউনাইটেড কোম্পানির হর্তাকর্তা সে। এমবিএ থেকে আইনজীবী, মেকানিক থেকে মেইন্টেনান্স ইঞ্জিনিয়ার সব ধরনের কর্মী পৃথিবীর নানান দেশ থেকে একত্রিত হয়েছে তার পাশে। তার কোম্পানি বড় বড় সব সংস্থার (হসপিটাল, পাঁচতারা হোটেল, বড় শপিং মল) জন্যই মূলতঃ কাজ করে তবে সাধারণ মানুষের জন্যও তাদের সেবাদান বাদ যায় না। আমজনতার বাড়িঘরের রান্নাঘরের সিংক থেকে পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ সারানোর দক্ষতাও তাদের জানা। উপুড় হয়ে করা কাজের পয়সাও উপচে পড়ে।

বোনের জামাই উচ্চপদে চাকরি করে দেশে। বড় কথা হল লোকটি আত্মসম্মানী ও সৎ মানুষ। বিদেশ বাসে আগ্রহ নাই। কিন্তু বাপকে একটা ভাল হাসপাতালে রাখলে কী এমন ক্ষতি হতো খোদা মালুম! তার কথা হল ডঃ জাফরুল্লাহর মত ‘এদেশের সাধারণ মানুষ যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা আমার বাবাও তাই পাচ্ছেন, উনাকেতো বাদ দেওয়া হয়নি’।

গতরাতের মন খারাপ নিয়েই দিনের কাগজে চোখ বুলাচ্ছিল। খবরটা দেখেই সে চমকে উঠলো। এমন নামি হসপিটালে এমন গাফিলতি ভাবা যায়! সাতজন রোগী ইউনাইটেড হসপিটালে আগুনে পুড়ে মারা গেছে। একজন ডাক্তার বা নার্স, নিদেন পক্ষে একজন আয়া-বুয়াও আগুনে পুড়ে মরলো না! মরলো শুধু করোনা সন্দেহে ভর্তি সাতজন মানুষ। কী যে দারুণ বাঁচা বেঁচে গেছে আহলানের বোনের শ্বশুর। যদি টাকার ক্ষমতার জোরে তাকে ইউনাইটেড হসপিটালে গতকাল বিকালে ভর্তি করা হতো তবে তো গতকাল রাতেই তাকেও আগুনে পুড়ে মরতে হতো। নয় কি?

এমন নামি হসপিটালে এমন গাফিলতি ভাবা যায়! সাতজন রোগী ইউনাইটেড হসপিটালে আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

রাগে দুঃখে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করলো আহলানের। চিকিৎসার নামে যারা মানুষ মারার ফাঁদ পাতে, মানুষকে নিংড়ে অর্থ আদায় করার মতলব আঁটে তাদের কী করা উচিত জানা নাই। এইরকম কাণ্ড আগেও হয়েছে জানে তবে তার কি কোনো বিচার বা সুরাহা হয়েছিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত স্বনামধন্য সঙ্গীত গবেষক শিক্ষক মৃদুল কান্তি চক্রবর্তীর পরিবার ঢাকার ল্যাবএইড নামে হসপিটালের ভর্তির পুরো টাকা তক্ষুণি জমা দিতে পারেননি বলে এ্যাডমিশন লাউঞ্জেই তার মৃত্যু হয়। এর জন্য কী খেসারত ওই হসপিটাল দিয়েছিল তা আহলানের জানা নাই বা জানতে চেষ্টাও করে নি। আহলান কাগজে খবরটা আবার পড়লো। এখন অতিমারি করোনার সময়ে ডাক্তার-নার্স, সাফাই কর্মী জান লুটিয়ে, প্রাণ বাজী রেখে কাজ করছে আর লাভের টাকা পকেটে পুরছে কর্পোরেটের কু…।

ইউনাইটেড হসপিটালে আগুনে পুড়ে মৃত একজনের কথা পড়ে তার বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠলো। তার বয়স ৪৩/৪৫ বছর। ভদ্রলোক এক বাচ্চার বাবা। ওই দিনই করোনা পজিটিভ জেনে বিকাল তিনটায় ইউনাইটেড হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল আর রাত  সাড়ে নয়টায় আগুনে পুড়ে মারা যায়। করোনা ওয়ার্ডের নামে এক হাজতখানায় বন্দী অবস্থায় সাত সাত জন মানুষ নিমেষে পুড়ে শেষ হয়ে গেল। হসপিটাল তৈরির উদ্দেশ্য এখন মানব সেবা ও মানুষের মঙ্গল নয়। হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে কর্পোরেটের মুনাফা অর্জনের বিশাল এক একটি কারখানা হিসাবে। রোগীরা হচ্ছে সব শিকার। ঝাপটে ধরে আর… করে।

আহলান এখন বোনকে ফোন করবে। প্রথমতঃ তার শ্বশুরকে নামি হসপিটাল ইউনাইটেডে ভর্তি করার জন্য বোনকে জোড়াজুড়ি করেছিল বলে বোনের কাছে মাপ চাইবে। দ্বিতীয়ত, ওই হসপিটালের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়েছে কিনা খবর জানতে চেষ্টা করবে। কর্তব্যে কী নিদারুন অবহেলা, অবহেলিত রোগী একজন নয় সাত সাতজন আগুনে পুড়ে মরলো।

করোনার সময়ে তার কাজকর্ম বন্ধ হলেও এই দেশের সরকার ব্যবসা টিকিয়ে রেখে মানুষের কাজ বাঁচানোর জন্য ‘জব কিপারস’ এ্যালাউন্স দিচ্ছে। এতে মোটা অংকের অর্থ পেয়েছে আহলানের কোম্পানি। ভেবেছিল দেশে একটা হসপিটাল করবে ওই অর্থ দিয়ে। এখন সে হতাশ হসপিটাল নামের পিশাচের আখড়ার উপর।

দু’দিন পরই আহলান খবরে দেখলো হসপিটালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার সূত্রেই হসপিটালের চারজন কর্মকর্তার দেশত্যাগের উপর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিহতদের পরিবারের জন্য ১৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ার জন্য হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে মৃতদের পরিবারের সাথে আলোচনায় বসতে বলেছে আদালত ।

আহলান একা ঘরে মাথার টুপি খুলে দেশের সেই সব আইনজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশদের শ্রদ্ধা জানালো যারা করোনার মৃত্যুঝুঁকি পরোয়া না করে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। অর্থবিত্ত থাকলে দান খয়রাত করা যায় বটে তবে অতিমারির সময়ে জীবনপাত করে এমন মহৎ কাজ কয়জনই বা করতে পারে।

২. মিল গেটে ফারাজ

(করোনার সময়েও খবরের কাগজে খবর হচ্ছে বাংলাদেশে নানা অঞ্চলে বাল্যবিবাহ হয়েই যাচ্ছে সন্ধানী চোখে কিছু রহস্য ধরা দিল)

প্রায় আট সপ্তাহ পর অনেক ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে রংপুর অঞ্চলের নীলফামারীর প্রত্যন্ত এক গ্রাম থেকে ফারাজ নারায়ণগঞ্জের গেঞ্জির কারখানায় পৌঁছেছে। করোনার কারণে মিল বন্ধ ছিল। এক মাসের বেতন হাতে নিয়ে দরাজ ও ফারাজ গ্রামে ফিরেছিল। বেতন খতম অল্পদিনেই। ছোট্ট বোন ফড়িংএর বিয়ের জন্য জমানো  টাকাতে বাবার ওষুধ কিনতে ও নিজেদের খাবার কিনতে হাত দিতে হয়েছে। কখন কারখানায় কাজ শুরু হবে সেই চিন্তায় দুই ভাইয়ের ঘুম যখন হারাম তখন আশা ও আনন্দের উদয়। বোনের বিয়ের আলাপ নিয়ে সামান্য চেনাজানা বিদেশ ফেরত আকমল আসলো। অনেক দই, মিষ্টি নিয়েই সে আলাপ শুরু করলো। ওর বিনয়ী কথায় ফারাজরা মুগ্ধ। আকমল বললো -ছেলেটা ভাল, দুবাইয়ের হোটেলে ঝাড়ামোছার কাজ করে ভালই সে রোজগার করে। ফড়িং ফর্সা ও সুন্দরি বলে কোনো দাবী দাওয়া ছাড়াই সে বিয়ে করতে আগ্রহী।

দরাজ বলেছিল

-এই দুর্দিনে কোনো আয়োজন করাই সম্ভব না, এক হচ্ছে পয়সাও নাই, দুই লোকজন জমায়েত করে নামাজ-জামাত, আনন্দ ফূর্তি সব এখন বারণ আছে

-এই জন্যইতো বলছি চুপচাপ কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে ফেললেই হবে

-ফড়িংএর যেতে হবে তো?

-লাগবে না, ফড়িং ক্লাস নাইনে পড়ে ও নিজে কাগজে লিখে তোমাকে ক্ষমতা দিয়ে দিবে যাকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি বলে তা দেখলেই কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করিয়ে দিবে।

সব শুনে দরাজ ফারাজের বাবার কেমন একটু খটকা লাগলো। মেয়ে এখনো বিয়ের বয়সে পৌঁছায় নি। তবে শান্তশিষ্ট পাত্রটিকে দেখে পছন্দ হয়েছিল বৃদ্ধের। বিশেষ করে খরচের হাত পাত্রের উদার। সবার জন্য কাপড়চোপড়, মিঠাইমন্ডার বহর সবই মনকাড়া। তার মেয়েও গুণবতী সুন্দরী। তাই পাত্রপক্ষ যখন দরিদ্র দরাজদের হাতে ভাল অংকের টাকা গুঁজে দিল তখন সব ‘খটকা’ ও ‘কিন্তু কিন্তু’ উবে গেল।

ফারাজের বিষয়টা ভাল লাগেনি। ফারাজের বয়স মাত্র উনিশ কি বিশ তারপরও মনে হল পাত্রপক্ষ তাড়াহুড়া করছে, টাকাও দিচ্ছে আবার বিয়েটাও গোপনে সারতে চাইছে। কেন? প্রশ্নটা জোর দিয়ে করতে পারেনি। অভাব, অসুখ ও ক্ষুধার সংসারে টাকাটা বড় দরকার যে।

ভিতরে ভিতরে আশংকা ও আক্রোশে কাঁপছিল ফারাজ।

ভাল পোষাক, আংটি, কানের দুল, লিপস্টিক, ক্রিম, পাউডার সবকিছু দেখে ফড়িং যার সারাজীবন একবারে একটির বেশি জামা জোটে নি কখনো, সেও খুশি মনে বিয়েতে রাজি।

পাড়াপড়শির অগোচরে চুপিচুপি কাজী অফিসে বিয়ের পর সেই রাতেই দরাজ ও ফারাজ সিএনজি নাকি টেম্পোতে করে ফড়িংকে গ্রাম ছাড়িয়ে দূরে এক বাস স্টপেজে জামাইয়ের কাছে দিয়ে আসলো। আকমলও ছিল। দরাজ আকমলের কাছে আস্তে আস্তে জানতে চাইলো

-বাস টাস তো চলে না যাবে কীভাবে?

-সবজি নিয়ে ট্রাক ঢাকার পথে যাবে তাতেই লুকিয়ে ওরা উঠে যাবে।

-ঢাকায় কেন যাবে?

-আরে যাওয়ার পথে ওদের বাড়ির কাছে ওরা নেমে যাবে ।

বলেই আকমল আরও কিছু টাকা দরাজের হাতে গুঁজে দিল।

আজ প্রায় একুশ দিন ফড়িং নতুন বরের সাথে চলে গেছে। কোনো খবর পায় নি ওরা। উৎকণ্ঠিত পরিবার। কাউকে বলাও যাচ্ছে না কিছু। এর মাঝে হঠাৎ বাবা পড়ে গিয়ে কোমড়ের হাড় ভাঙ্গলো। ছোটখাটো শুকনা পাতলা মায়ের পক্ষে লম্বা চওড়া বাবাকে তোলা, নাড়ানো চাড়ানো সম্ভব নয়। অগত্য ঠিক হল দরাজ বাড়িতে থেকে যাবে।

দরাজের প্রায় নয় বছরের ছোট ফারাজ ক্লাস নাইনের শেষে ভাইয়ের সাথে গেঞ্জির মিলে কাজে লেগেছে। তাও হয়ে গেছে পাঁচ ছয় বছর। দায়িত্ববান, বুদ্ধিমান লিখতে পড়তে জানা ফারাজ এরই মাঝে মেশিন চালানোতেও দক্ষ। মিলে ওর কদরও বেশি।

মিলে এসে শুনলো এরা এবার গেঞ্জির বদলে ওই কাপড় দিয়ে বিদেশের জন্য মাস্ক বানানোর ফরমায়েস পেয়েছে। করোনার কালে যত তাড়াতাড়ি ফরমায়েসি মাল পাঠাবে ততোই লাভ। করোনা শেষ হলে এ ধরনের কাজ আর পাওয়া যাবে না। মিলে শ্রমিকরা ষোল থেকে আঠারো ঘন্টা জান লুটিয়ে কাজ করছে। করোনা ওদের চট্ করে মেরে ফেলতে পারে তবে কর্মহীন দরিদ্রজীবন মারার আগে ওদের দেয় লাঞ্চনা গঞ্জনা, অপমান ও ক্ষুধার কষ্ট। কখনো বা দারিদ্রের হাত থেকে বাঁচতে ওরা সততা হারিয়ে হয়ে উঠে দুঃস্কৃতিকারী।

মিলে এসে শুনলো এরা এবার গেঞ্জির বদলে ওই কাপড় দিয়ে বিদেশের জন্য মাস্ক বানানোর ফরমায়েস পেয়েছে। করোনার কালে যত তাড়াতাড়ি ফরমায়েসি মাল পাঠাবে ততোই লাভ। করোনা শেষ হলে এ ধরনের কাজ আর পাওয়া যাবে না। মিলে শ্রমিকরা ষোল থেকে আঠারো ঘন্টা জান লুটিয়ে কাজ করছে।

যদিও মিলের মেশিন ফারাজদের পেশি নিংড়ে কাজ আদায় করে নিচ্ছে তারপরও কাজ শেষে মজুরি পাচ্ছে এইটুকুই সান্ত্বনা ওদের। কাজ করছে ফারাজ তবে মনটা তার বিষণ্ন।

পাশের গ্রামের আদিল চাচাও কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখের পানি মোছে। এক রাতে কাজের মাঝেই আদিলের জ্বর আসলো। পরদিন কাশি শুরু হল। সেদিন মিল গেট থেকেই তাকে বিদায় করা হল। পরদিনই ফারাজ আদিল চাচাকে অনেক রাতে দেখতে গেল। ভয়ংকর কাহিনী শুনে পালিয়ে আসলো ফারাজ। আকমল আদিল চাচার প্রায় বাচ্চা মেয়েকেও বিয়ের ‘সুব্যবস্থা’ করে দিয়েছে। চাচা কাঁদতে কাঁদতে বললো

-কাগজে পড়ছোনি দুর্দিনে বাল্যবিয়া বাড়ছে! আকমলের সাজা আল্লাহ্ আখেরাতে দিবেন। সে অভাবী ভুখা মানুষের মেয়েদের কোন জাহান্নামে পাঠাচ্ছে কে জানে?

কাগজে পড়ছোনি দুর্দিনে বাল্যবিয়া বাড়ছে! আকমলের সাজা আল্লাহ্ আখেরাতে দিবেন। সে অভাবী ভুখা মানুষের মেয়েদের কোন জাহান্নামে পাঠাচ্ছে কে জানে?

আদিল পরদিন করোনাতেই মারা গেল। আর সেদিনই ফারাজ মিল গেটে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে মারলো।

প্রশ্ন হল কেন? কেন মানুষকে এভাবে মরতে হবে?

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *