লিঙ্গীয় বিশ্বাসের ছাঁচে নারীপুরুষের মানস এবং এর বাস্তবতা

নারী-পুরুষের মানস: পুরুষতান্ত্রিক ধারণা ও বৈষম্যের জৈবসামাজিক ভিত্তি-৪

লিঙ্গীয় বিশ্বাসের ছাঁচে নারীপুরুষের মানস এবং এর বাস্তবতা

মনিরুল ইসলাম

বিশ্বাসের ছাঁচ (Stereotypes) কেবল একটা মার্কাযুক্ত মোড়ক নয়, বরং এটা হচ্ছে এই মার্কাযুক্তদের বৈশিষ্ট্য ও আচরণ কেমন সে সম্পর্কে লোকে যা ভাবে তাই…। জেন্ডার সম্পর্কিত বিশ্বাসের ছাঁচগুলোর গতিপ্রকৃতিও একই রকমের। বৈশিষ্ট্যের তালিকা থেকে কোনটা নারীকে এবং কোনটা পুরুষকে নির্দেশ করে বেশির ভাগ মানুষ তা সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন।২৯

ম্যারি ই কাইট

Gender Stereotypes: Psychology of Women

আমরা কে, কেমন আচরণ করব, কতটা জানতে চাইব, কী অনুভব করতে পারব তা আগে থেকেই ঠিক করে দেয় আমাদের সংস্কৃতি। লিঙ্গ-নির্দিষ্ট ভূমিকাতে আমাদের পুনর্জন্ম হয় যা নির্ধারিত হয় আমাদের দৃশ্যমান যৌনতা বা জেন্ডার দ্বারা।… রূপকথা ও উপকথাগুলো সংস্কৃতির আদি বহিঃপ্রকাশ। এগুলো মানুষের (সামাজিক) ভূমিকা, মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক আদান-প্রদান সম্পর্কিত বিশ্বাসগুলোকে ছড়িয়ে দেয়।৩০

অ্যান্ড্রিয়া ডরকিন

Woman Hating.

তখনও পড়তে শিখিনি, চার বছর বয়সে উপহার পাওয়া দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলি বইয়ের গল্পগুলো বড়দের পঠনে শুনতে শুনতে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতাম। এর পরে বহুবার এসব গল্প আমরা অনেকেই পড়েছি। গল্পগুলো আবহমান কাল থেকে লোকের মুখে মুখে ফিরেছে । কে এসব গল্পের রচয়িতা আমরা জানিনা। হয়তো একজন কেউ নয়। লোকের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে কাহিনীগুলো হয়ত একটু একটু করে বদলেও গেছে। লিখিত রূপে আসার পরে এই বদলে যাওয়া কমে গেছে কিন্তু এগুলোর আবেদন কমে যায় নি। আমাদের এই গুরুগম্ভীর আলোচনায় রূপকথা কেন এলো তা একটা সঙ্গত প্রশ্ন। আসলে রূপকথা, পৌরাণিক কাহিনী, উপকথা, কিংবদন্তী ইত্যাদিকে আমরা যে রূপে পাই তার স্রষ্টা সমাজের অনেকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমাজের বহুসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে তাদের চিন্তা, ধারণা ও উপলব্ধির ছায়া রয়েছে এই জনপ্রিয় কাহিনীগুলোর মধ্যে। নারীপুরুষের  মানসিকতা সম্পর্কে সমাজের মানুষের বিশ্বাসের রূপটি কেমন তা বোঝার জন্য তাই এই কাহিনীগুলো এক চমৎকার আয়না। এসব কাহিনীতে নারী ও পুরুষের মানসিকতার যে চিত্র আমরা পাই তা নারী পুরুষের মানস সম্পর্কে সামাজিক বিশ্বাসকে অনেকটাই প্রতিফলিত করে। অনেক বছর পরে কাহিনীগুলোকে সমালোচকের দৃষ্টি থেকে পড়তে গিয়ে এগুলোর ভেতরের সত্যগুলোকে দেখতে পাচ্ছিলাম।

ঠাকুরমার ঝুলি’র বেশিরভাগ গল্পের মূল সমস্যা বা অশান্তির কারণ নারী। ‘শীত বসন্ত’ গল্পে শুয়োরানী স্বার্থপর, হিংসুটে, নিষ্ঠুর, প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং সক্রিয় তাই যত গণ্ডগোল । দুয়ো রানী সরল গোবেচারা, নির্বিবাদী এবং নিপীড়নের শিকার। শুয়ো রানী সক্রিয় দুয়ো রানী নিষ্ক্রিয়। এ গল্পে রাজা মশাই ‘ভাল মানুষ’ কিংবা ‘অতি সরল’ যিনি শুয়ো রানীর চক্রান্ত অনাচার বুঝতে পারেন না- রানী যখন বলেন সতীনের ছেলের রক্তে স্নান করবেন- “অমনি রাজা জল্লাদকে ডেকে আজ্ঞা দিলেন”… নিজের  ছেলেদের কেটে রক্ত এনে দিতে। ‘কলাবতী রাজকন্যা’ কিংবা ‘সাত ভাই চম্পা’ গল্পে বড় রানীদের হিংসায় ছোট রানী ও ন রানীর দুর্দশা ঘটে। এখানেও সক্রিয় রানীরা (নারীরা) খারাপ, হিংসুটে, পরশ্রীকাতর, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক। অন্যদিকে ‘ভাল’ রানী/রানীরা (নারীরা) দুর্বল, নিষ্ক্রিয় (Passive) তারা সবাই উপদ্রুত (Victim) । ষড়যন্ত্রের শিকার, বন্দী বা বিনা দোষে পরিত্যক্ত। ইউরোপ আমেরিকার রূপকথা উপকথায়ও এক ধরণের চিত্রই দেখা যায়। স্নো-হোয়াইট বা সিন্ডেরেলার সৎ মায়েরা এখানে ‘শুয়োরানী’, তারা ‘খারাপ’- হিংসুটে, পরশ্রীকাতর, নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং যথারীতি সক্রিয়। আর ‘ভাল’ নারী স্নো-হোয়াইট, সিন্ডেরেলা কিংবা স্লিপিং বিউটিরা হল ‘বন্দিনী’ ও ‘হতভাগিনী’দের দলের যথারীতি দুর্বল, নিষ্ক্রিয় এবং উপদ্রুত। অর্থাৎ এসব কাহিনীতে আমরা দুরকম মানসিকতার নারী দেখতে পাই। ‘ভাল’ ও ‘খারাপ’। ‘ভাল’ নারী হল দুর্বল বা মৃত (সিন্ডেরেলার বা স্নো-হোয়াইটের মা), নিষ্ক্রিয়, নিপীড়িত ও আক্রান্ত ।

এখানেও সক্রিয় রানীরা (নারীরা) খারাপ, হিংসুটে, পরশ্রীকাতর, নিষ্ঠুর এবং অমানবিক। অন্যদিকে ‘ভাল’ রানী/রানীরা (নারীরা) দুর্বল, নিষ্ক্রিয় (Passive) তারা সবাই উপদ্রুত (Victim) । ষড়যন্ত্রের শিকার, বন্দী বা বিনা দোষে পরিত্যক্ত। ইউরোপ আমেরিকার রূপকথা উপকথায়ও এক ধরণের চিত্রই দেখা যায়। স্নো-হোয়াইট বা সিন্ডেরেলার সৎ মায়েরা এখানে ‘শুয়োরানী’, তারা ‘খারাপ’- হিংসুটে, পরশ্রীকাতর, নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং যথারীতি সক্রিয়।

এই আক্রান্ত অবস্থা বা দুরবস্থা থেকে মুক্ত হবার মনোবল বা আত্মশক্তি তাদের নেই। এদেশি রাজকন্যাদের মত সিন্ডেরেলা, রূপাঞ্জেল কিংবা স্লিপিং বিউটিরাও (হালের ডিজনির ছায়াছবির কথা বলছি না) এতই নিষ্ক্রিয় যে তাদের কখনও চিন্তা করতে, সক্রিয়ভাবে কোনো কাজ করতে, কোনো উদ্যোগ নিতে, প্রতিরোধ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এমনকি কোনো প্রশ্ন করতেও দেখা যায় না। ‘বন্দিনী’ বা ‘হতভাগিনী’ এসব রাজকন্যা বা রানীকে মুক্ত করে কোনো রাজপুত্র বা রাজা (পুরুষ) কিংবা অলৌকিক কিছু (পরী) অথবা দুটোই। রূপকথার ‘ভাল’ মায়েরা সাধারণত বাঁচে না কারণ তারা এতই নিষ্ক্রিয় থাকে যে এই ‘নিষ্ঠুর’ পৃথিবীতে মরণই হয় তার স্বাভাবিক পরিণতি। ‘খারাপ’ হলে সে বেঁচে থাকে সে ক্ষেত্রে সে হয় ভীষণভাবে পরশ্রীকাতর, ঈর্ষাপরায়ণ, নিষ্ঠুর, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, শিশুদের প্রতি হিংস্র ইত্যাদি। কখনও সৎ মা, কখনও শুয়োরানী, কখনও ডাইনী বা রাক্ষসী রূপে।৩১

পৌরাণিক কাহিনীগুলোও এখন যে রূপে পাওয়া যায় তার উপর যুগে যুগে বহুরচয়িতাদের চিন্তার ছায়া আছে।এখানেও নারীদের অবস্থাও প্রায় একই। রামায়ণের ‘নায়িকা’ সীতা খুব ‘ভাল’ অর্থাৎ সুন্দরী, সদাচারী, স্বামীঅন্তপ্রাণ আরও নানা গুণে গুণান্বিতা। কিন্তু মূলধারার রামায়ণে স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে বনবাসে যাওয়া ছাড়া সক্রিয়ভাবে তাকে কিছু করতে দেখা যায় না। একই অবস্থা মহাভারতের দ্রৌপদী কিংবা ইলিয়াডের হেলেনের। মহাভারতে কুন্তী খুব সক্রিয় একজন নারী। যে নিজের এবং সন্তানদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অনেক কিছুই করে। ভিলেন না হলেও কুন্তী এখানে রূপকথার সৎমায়ের মত পরশ্রীকাতর, ঈর্ষাপরায়ণ, নিষ্ঠুর এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

রামায়ণের ‘নায়িকা’ সীতা খুব ‘ভাল’ অর্থাৎ সুন্দরী, সদাচারী, স্বামীঅন্তপ্রাণ আরও নানা গুণে গুণান্বিতা। কিন্তু মূলধারার রামায়ণে স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে বনবাসে যাওয়া ছাড়া সক্রিয়ভাবে তাকে কিছু করতে দেখা যায় না। একই অবস্থা মহাভারতের দ্রৌপদী কিংবা ইলিয়াডের হেলেনের।

অর্থাৎ আবহমানকাল থেকে নারীর মানস সম্পর্কে সমাজে যে বিশ্বাসের ছাঁচ (Stereotype) ছিল সেখানে নারীর মানস সম্পর্কে বিশ্বাসের দুটো ধরণ আমরা দেখতে পাই। একটা ধরণ হল ‘ভাল’ নারী যার মানস দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় (Passive) । এরা প্রতিবাদ করতে পারে না কিংবা দুরবস্থা থেকে মুক্ত হবার মনোবল বা আত্মশক্তি তাদের নেই। তাই তারা আক্রান্ত বা উপদ্রুত হয় বা মরে যায়। অন্য একটা ধরণ হল ‘খারাপ’ নারী। মানসিকতার দিক থেকে এরা হিংসুটে, পরশ্রীকাতর, নিষ্ঠুর, অমানবিক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সক্রিয়। অন্যদিকে এসব কাহিনীতে প্রতিফলিত পুরুষের মানস সক্রিয়, প্রতিদ্বন্দ্বীতা পরায়ণ, স্বনির্ভর এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান। বর্তমান সময়ে সেই পুরনো সমাজের ধারণা ও বিশ্বাস কিছুটা পাল্টে গেলেও বহুলাংশে টিকে আছে। লাজুক, ভীরু, নির্ভরশীল, সংকীর্ণ, আপোষকামী, ঈর্ষাকাতর, হুজুগে ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য এবং ভদ্র, কোমলমনা, আবেগপ্রবণ, মমতাময়ী, ‘নির্বিবাদী’ ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য নারীর মানসের প্রকৃতিগত (Innate) ধরণ এমন বিশ্বাস আমাদের সমাজে এখনও মোটামুটি সার্বজনীন। অন্যদিকে সাহসী, সক্রিয়, প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও সংঘাত-পরায়ণ, স্বনির্ভর, চিন্তাশীল এবং আত্মশক্তিতে বলীয়ান ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য এবং বেপরোয়া, আক্রমণাত্মক, নিষ্ঠুর ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য পুরুষের মানসের প্রকৃতিগত ধরণ এমন বিশ্বাসও একইভাবে টিকে আছে। এই সমাজের মধ্যে বেড়ে ওঠা নারীপুরুষ এই বিশ্বাসের ছাঁচেই কমবেশি নারী ও পুরুষের মানসিকতাকে চিহ্নিত করে থাকে। এই বিশ্বাসগুলো সমাজে নারীপুরুষের আচরণের অগভীর ও মোটাদাগের পর্যবেক্ষণ থেকে গড়ে উঠেছে। তবে এ ধরণের পর্যবেক্ষণ থেকে যে ধারণা পাওয়া যায় এগুলো হুবহু তা নয় বরং তার অতিরঞ্জন এবং অন্যান্য বিশ্বাসের মিশ্রণে গড়ে ওঠা একটি অবস্থান।

লাজুক, ভীরু, নির্ভরশীল, সংকীর্ণ, আপোষকামী, ঈর্ষাকাতর, হুজুগে ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য এবং ভদ্র, কোমলমনা, আবেগপ্রবণ, মমতাময়ী, ‘নির্বিবাদী’ ইত্যাদি (সমাজের দৃষ্টিতে) ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য নারীর মানসের প্রকৃতিগত (Innate) ধরণ এমন বিশ্বাস আমাদের সমাজে এখনও মোটামুটি সার্বজনীন।

নারীপুরুষের মানস সম্পর্কে বর্তমান সমাজে প্রচলিত বিশ্বাসের স্বরূপ কেমন তার উপর গবেষণা করেছেন এ যুগের মনস্তত্ত্ববিদেরা। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের একটি গবেষণায় গবেষকেরা এই বিশ্বাসের দুটো মৌলিক মাত্রাগত দিক চিহ্নিত করেন। তারা দেখেন- নারীদের সম্পর্কে বিশ্বাস এমন যে এরা সাধারণত (নিজেদের দলের) অন্যদের মঙ্গলের ব্যাপারে অধিক সংশ্লিষ্ট ও সরব থাকে অতএব তাদের অভিব্যক্তিপূর্ণ (communal) বা দলীয় স্বার্থপরায়ণ (agentic) বলে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে পুরুষকে অধিক দৃঢ়প্রত্যয়ী বলে বিশ্বাস করা হয় বলে তাদের চিহ্নিত করা হয় অধিক সক্রিয় (agentic) বা সক্ষম (instrumental) হিসেবে।৩২ আরও সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় (১৯৯০ এর দশকের) উঠে এসেছে যে মেয়েদের দেখা হয় অধিক আবেগপ্রবণ, মার্জিত, সহানুভূতিশীল এবং নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে। আর পুরুষদের দেখা হয় অধিক সক্রিয়, প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ, স্বাধীনচেতা এবং আত্ম-প্রত্যয়ী হিসেবে।৩৩ এরকম ধারণা যে অনেকটাই সার্বজনীন তা অনুমান করা গেছে কারণ তিরিশটি দেশের নাগরিকদের উপর চালানো একটি গবেষণাতেও একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে।৩৪ এসব গবেষণা থেকে আরও স্পষ্ট হয়েছে যে সমাজের মানুষ তাদের এই বিশ্বাসের ছাঁচেই নারী ও পুরুষকে নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ভূমিকায় বসায়। পুরুষকে দেখা হয় নেতৃত্বদানকারী, অর্থের সংস্থানকারী এবং বাড়ির কর্তা হিসেবে।৩৫

আবেগ সম্পর্কে বিশ্বাস হল- এটা বেশিরভাগই নারীত্বের সঙ্গেই সংযুক্ত। অর্থাৎ মনে করা হয় নারীরা পুরুষের চেয়ে বেশি আবেগ অনুভব করে এবং প্রকাশও করে বেশি। যদিও – রাগ ও গড়িমা- এই দুই ধরণের আবেগকে পুরুষের সঙ্গে অধিক যুক্ত বলে মনে করা হয়।৩৬ শুধু তাই নয়, মেয়েরা যখন রাগ প্রকাশ করে তখন মনে করা হয় এটা রাগ ও দুঃখের মেশানো অভিব্যক্তি। কিন্তু পুরুষের রাগকে আসল রাগ বলেই মনে করা হয়। নারীপুরুষের আবেগপ্রবণতা সম্পর্কে এসব বিশ্বাস গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে আবেগ-অনুভবের তীব্রতার চেয়ে এর বহিঃপ্রকাশই অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিঙ্গীয় বিশ্বাসের ছাঁচ এক্ষেত্রে নারীপুরুষের মানসের পার্থক্য সম্পর্কে আমাদের যে ধারণা দেয় বাস্তবে পার্থক্য এর চেয়ে অনেক কম।৩৭

লিঙ্গীয় বিশ্বাসের ছাঁচগুলো ঢালাওভাবে সব নারীপুরুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বাস্তবে অসুবিধাজনক। কারণ নারী ও পুরুষ জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক । এত ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে একই ছাঁচে ফেলা সাধারণ মানুষের জন্যও বাস্তবানুগ নয়। তাই এসব বিশ্বাসের ধরণের অনেক ‘উপধরণ’ (subtypes) রয়েছে।৩৮ এ বিষয়ের গবেষকগণ লক্ষ্য করেন যে, এরকম প্রায় দু’শ উপধরণের অস্তিত্ব আছে। উপধরণগুলো তৈরি হয় কতগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-পেশা, পরিবারে ভূমিকা (গৃহিণী/কর্মজীবী), সামাজিক রাজনৈতিক আদর্শ (নারীবাদী/ধার্মিক), শারীরিক অবয়ব (সবল/রোগা), কর্মপরিধি সংক্রান্ত (খেলোয়ার), যৌনতা-সম্পর্কিত (যৌন-আবেদনময়ী/লেসবিয়ান/ধর্ষকামী পুরুষ) ইত্যাদি।৩৯ এসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে নারী ও পুরুষের উপর কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আরোপিত হয়। যেমন পেশাগত জীবনে সফল নারীদের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান, প্রত্যয়ী, জ্ঞানসম্পন্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইত্যাদি। সাজগোজে আগ্রহী যৌন-আবেদনকারী নারীদের ক্ষেত্রে ছেনাল, প্রগলভা, প্রলোভক (seductive) ইত্যাদি।৪০ কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সাধারণ মানুষ পুরুষের তুলনায় নারী-সম্পর্কিত উপধরণগুলোকে অধিক স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে থাকে।৪১ সাধারণভাবে বিশ্বাস এমন যে নারীর মধ্যে আন্তরিকতা (warmth) এবং পুরুষের সামর্থ্য (competence) বেশি। কিন্তু মনে করা হয় কর্মজীবী নারীর আন্তরিকতা অপেক্ষাকৃত কম এবং সামর্থ্য অপেক্ষাকৃত বেশি। অন্যদিকে কর্মজীবী পুরুষের ক্ষেত্রে মনে করা হয় তারা সফলভাবে আন্তরিকতা ও সামর্থকে সমন্বয় করতে পারে।৪২

নারীপুরুষের মানস সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো আমাদের এই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের বিশ্বাসগুলোর ভিত্তিতে নারীপুরুষের ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতাকে বিচার করা হয়। নারীর উপর বৈষম্য, অবদমন ও নিপীড়ন বজায় রাখা বা এর ‘ন্যায্যতা’ প্রতিষ্ঠার সপক্ষে ভূমিকা রাখে এই সব বিশ্বাস। শুধু তাই নয় অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসের অন্তর্গত এই মানসিক প্রবণতাগুলো নারী ও পুরুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় আদর্শ হিসেবে। যেমন- ‘লজ্জাই নারীর ভূষণ’ কিংবা ‘বেশরম বা বেহায়া মেয়ে মানুষ’ এসব বচনগুলো ‘আদর্শ’ নারীর লজ্জাশীলা এক রূপকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। পুরুষকে বলা হয়- ‘মেয়েদের মত কাঁদিস কেন?’ কিংবা ‘পুরুষ মানুষ হয়েও ছেড়ে দিলি’ ইত্যাদি। যেন আবেগপ্রবণ হওয়া বা নির্বিবাদী হওয়া পুরুষের প্রকৃতিগত নয়। নারী পুরুষের মানসিক প্রবণতা এই বিশ্বাসের বাইরে  গেলে তা পুরুষতান্ত্রিক পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। রবীন্দ্রনাথের ‘স্ত্রীর পত্র’ গল্পের মেজবৌ মৃণালের চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব পুরুষতান্ত্রিক পরিবারের সঙ্গে ছিল নিত্য সাংঘর্ষিক। মৃণালের ভাষায়- “মেয়ে মানুষের জন্য এ(বুদ্ধি) এক বালাই। যাকে বাধা মেনে চলতে হবে সে যদি বুদ্ধিকে মেনে চলতে চায় তবে ঠোকর খেয়ে খেয়ে কপাল তার ভাঙবেই।” লৈঙ্গিক বিশ্বাসের ছাঁচের বাইরে কোনো নারী বা পুরুষের আচরণ হলে তাকে সমাজ বিপরীত লিঙ্গের মত বলে চিহ্নিত করে। শ্বশুরের পরিবারে মৃণালকে ‘মেয়ে জ্যাঠা বলে দুবেলা গাল’ শুনতে হয়েছে। আধুনিক গবেষণায়ও এ ধরনের কিছু ঘটনা উঠে এসেছে। যেমন- নারী সমকামীদেরকে ঐতিহ্যগত পুরুষালী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দিয়ে চিহ্নিত করার এবং পুরুষ সমকামীদের ঐতিহ্যগত মেয়েলী বৈশিষ্ট্য দিয়ে চিহ্নিত করার প্রবণতা।৪৩

নারীপুরুষের মানস সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাসগুলো আমাদের এই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরণের বিশ্বাসগুলোর ভিত্তিতে নারীপুরুষের ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতাকে বিচার করা হয়। নারীর উপর বৈষম্য, অবদমন ও নিপীড়ন বজায় রাখা বা এর ‘ন্যায্যতা’ প্রতিষ্ঠার সপক্ষে ভূমিকা রাখে এই সব বিশ্বাস।

বাস্তব ক্ষেত্রে এই বিশ্বাসগুলোর স্বরূপ ও এর প্রভাবকে বুঝতে হলে এগুলো কীভাবে গড়ে ওঠে এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে যায় তা জানা দরকার। সমাজের মানুষ তাদের পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করে মানুষের আচরণ ও মনোভঙ্গীর ভিন্ন ভিন্ন ধরণ (category) তৈরি করে। যেসব বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এগুলো তৈরি হয় তার মধ্যে লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ একটি। এছাড়াও রয়েছে বয়স, বর্ণ, ধর্ম, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বাহ্যিক পর্যবেক্ষণে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপাতদৃষ্টিতে ও সহজে যে সব তথ্য পাওয়া যায় (যেমন- পোশাক, চুলের স্টাইল, বাহ্যিক অবয়ব ইত্যাদি) সাধারণত তার ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে এ সব ধারণা।৪৪ যেহেতু এসব বিষয়ের বিভিন্ন সংস্কৃতিগত ভিত্তি রয়েছে সে কারণে ধারণাগুলো সহজেই পাকা-পোক্ত হয়। সমাজে নারীপুরুষ ও বালক বালিকাকে প্রতিদিন তারা যেভাবে জীবন যাপন করতে দেখে মূলত তার উপর ভিত্তি করে একধরনের ভাসা ভাসা বোধ থেকেই এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। যেমন- অধিকাংশ নারী বা বালিকার মনের মাঝে ভীতি, সংকোচ বা লাজুকতা পুরুষের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান হয় তার পূর্বসূত্র বা সামাজিক ভিত্তিকে (যেমন- নারীদের ক্ষেত্রে নানারকম অবরোধ ও নিপীড়নের ভয় ও আশঙ্কা) এরা দেখতে পান না।৪৫ সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মানসিকতা ও আচরণগুলো যখন প্রশ্রয় পায় বা পুরস্কৃত হয় এবং বিশ্বাসের বিপরীত মানসিকতা যখন ধিকৃত বা শাস্তিযোগ্য বিবেচিত হয় তখন এই ধারণাগুলো আরও গভীরে প্রোথিত হবার সুযোগ পায়।

নারীপুরুষের মানস সম্পর্কে প্রচলিত এই বিশ্বাসগুলো নানা ভাবে সমাজে বেড়ে ওঠা নারীপুরুষের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমাদের কথিত ও লিখিত ভাষা, পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গী, সমবয়সীদের (বন্ধু/সহপাঠী) কাছ থেকে পাওয়া ধারণা, মিডিয়া ইত্যাদি। যেমন আমাদের ভাষায়- ‘লজ্জাবতী’, ‘ক্রন্দসী’, ‘কুটনী’ ইত্যাদি অনেক মানসিক গুণবাচক শব্দ রয়েছে যেগুলোর পুরুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগের শব্দ নেই বা থাকলেও প্রয়োগ করা হয় না। আবার ‘কাপুরুষ’, ‘সেনাপতি’, ‘নৃপতি’ ইত্যাদির নারীর ক্ষেত্রে প্রয়োগের শব্দ নেই।  যে পরিবারে ভাবাদর্শ ও মানবিক সম্পর্কগুলোর উপর পুরুষতন্ত্রের প্রভাব যত বেশি, প্রচলিত বিশ্বাসগুলোও সে পরিবারে বেড়ে ওঠা নারীপুরুষকে তত গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরিবারে উভয় লিঙ্গের জন্য যে ধরনের মানসিকতা ও আচরণ গ্রহণযোগ্য ও মানানসই বলে মনে হয় যে, সে পরিবারে বেড়ে ওঠা অধিকাংশ নারীপুরুষ সেটাকেই সাধারণত গ্রহণ করে বা মেনে নেয়।৪৬ যেমন দেখা গেছে, যেসব পরিবারে মা কর্মজীবী সেই পরিবারের বড় হয়ে ওঠা শিশুরা নারীপুরুষ সম্পর্কিত প্রচলিত বিশ্বাস দ্বারা কম প্রভাবিত হয়। পারিবারিক বিশ্বাসের অবস্থান থেকে অনেকেই পরবর্তী কালে সরে আসে। সে ক্ষেত্রে তাদের সমবয়সী, বন্ধু, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের অবস্থান কোন দিকে পরিবর্তিত হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে যে ধরনের পরিবেশে তারা সামাজিকীকৃত হয় তার উপর।

পারিবারিক বিশ্বাসের অবস্থান থেকে অনেকেই পরবর্তী কালে সরে আসে। সে ক্ষেত্রে তাদের সমবয়সী, বন্ধু, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের অবস্থান কোন দিকে পরিবর্তিত হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে যে ধরনের পরিবেশে তারা সামাজিকীকৃত হয় তার উপর।

লিঙ্গবৈষম্যমূলক বিশ্বাস ও ধারণা প্রকাশ ও প্রচারে মিডিয়া বা গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গত শতাব্দী থেকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন মানুষের চিন্তাজগতে এবং জীবন যাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান শতাব্দীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল সঙ্গীত, ভিডিও গেমস ও ইন্টারনেট। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে লিঙ্গীয় প্রচলিত বিশ্বাসগুলো ব্যাপকভাবে এই মাধ্যমগুলিতে প্রতিফলিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় পরিবর্তন খুব সামান্যই।৪৭ এসব মাধ্যমে যে বিজ্ঞাপন দেখানো হয় সেখানেও এসব ধারণা প্রকাশিত হয়। যেমন- পুরুষদের সাধারণত কর্তৃত্বপূর্ণ ও পেশাদার ভূমিকায় দেখানো হয়। অন্যদিকে নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখানো হয় গৃহস্থালী কাজ বা ঐতিহ্যগতভাবে ‘মেয়েলী’ কাজে।৪৮ ভিডিও গেমস-এ প্রায়ই নারীদের আক্রান্ত হতে বা যৌন-আবেদনময় হতে দেখা যায়। যে নারী বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করছে তাকেও দেখানো হচ্ছে যৌনবস্তু হিসেবে।  ডিজনী ভার্সনে ডিজিটাল চলচ্চিত্রে রূপকথার কিছুটা ‘রূপান্তর’ হলেও নারীর অবস্থান ও ভূমিকা রয়ে গেছে প্রায় আগের মত। প্রচার মাধ্যমে প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন আমাদের চিন্তা ও আচরণকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। এ যুগে আমাদের জীবন যাপনে এসব গণমাধ্যম এমন ভাবে জড়িয়ে গেছে যে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। অতএব নারীপুরুষের মানস সম্পর্কিত বিশ্বাসগুলো ছড়িয়ে যাবার ক্ষেত্রেও মিডিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি মাধ্যম।

ভিডিও গেমস-এ প্রায়ই নারীদের আক্রান্ত হতে বা যৌন-আবেদনময় হতে দেখা যায়। যে নারী বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করছে তাকেও দেখানো হচ্ছে যৌনবস্তু হিসেবে।  ডিজনী ভার্সনে ডিজিটাল চলচ্চিত্রে রূপকথার কিছুটা ‘রূপান্তর’ হলেও নারীর অবস্থান ও ভূমিকা রয়ে গেছে প্রায় আগের মত।

নারীপুরুষের মানসের দৃশ্যমান পার্থক্য গড়ে ওঠে, তাদের প্রকৃতিগত পার্থক্য এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রভাব এই দুয়ের সমন্বয়েই । কিন্তু এ সংক্রান্ত প্রচলিত বিশ্বাসগুলো গড়ে ওঠে ভিন্নভাবে। পরিবার ও সমাজে নারীপুরুষের অবস্থান ও ভূমিকার আপাত-পর্যবেক্ষণ, প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবাদর্শ, সামাজিক আদান প্রদান ইত্যাদি এই প্রচলিত বিশ্বাসের মূল উৎস যা আরও অনেকগুলো বিষয়ের মাধ্যমে পাকা-পোক্ত হয়। এসব বিশ্বাসের বহু ধরণ ও উপ-ধরণ আছে। বেশিরভাগ মানুষই এই বিশ্বাসের ছাঁচেই নারী ও পুরুষের মানস বিচার করে। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব নারী পুরুষ উভয়ের উপরেই পরে। তারা সচেতন বা অবচেতনভাবে এই ছাঁচের আদলে নিজেদের মানসিকতা ও আচরণ পরিবর্তন করে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে প্রশ্রয় দেয় এবং এর বিপরীত কিছু হলে তাকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট হয়। এর ফলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অনেক বৈষম্য, অবদমন ও নিপীড়ন বজায় রাখা বা এসবের ‘ন্যায্যতা’ প্রতিষ্ঠা করা সহজ হয়। বিশ্বাসের ছাঁচ থেকে বেরিয়ে এসে নারীপুরুষের মানস সম্পর্কে বিজ্ঞান-ভিত্তিক ধারণা অর্জন ছাড়া এর বিপরীত স্রোতে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। (চলবে)

মনিরুল ইসলাম: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, লেখক ও শিক্ষক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ।

ইমেইল: monirul852@gmail.com 

তথ্যসূত্র:

২৯.  Mary E. Kite, Kay Deaux, and Elizabeth L. Haines: “Gender Stereotypes” in Psychology of women : A handbook of issues and theories. Florence L. Denmark and Michele A. Paludi (ed). — 2nd ed. Praeger Publishers, USA 2008, pp- 206-207.

৩০.  Andrea Dworkin: Woman Hating ; Penguin Books USA, 1974, pp- 34.

৩১. Andrea Dworkin: Ibid. pp- 42

৩২. Broverman, I. K., Vogel, S. R., Broverman, D. M., Clarkson, F. E., & Rosenkrantz, P. S. (1972). “Sex-role stereotypes: A   current appraisal.” Journal of Social Issues, 28(2), 59–78.

৩৩. Deaux, K., & LaFrance, M. (1998). “Gender”. In D. T. Gilbert, S. T. Fiske, &G. Lindzey (Eds.), Handbook of social psychology (4th ed., vol. 1, pp. 788–827). Boston: McGraw-Hill. Deaux, K., & Lewis, L. L. (1984).

৩৪. Williams, J., & Best, D. L. (1990). Measuring sex stereotypes: A thirty-nation study. Newbury Park, CA: Sage.

৩৫. Cejka, M. A., & Eagly, A. H. (1999). ”Gender-stereotypic images of occupation correspond to the sex segregation of employment.” Personality and Social Psychology Bulletin, 25, 413–423.

৩৬. Plant, E. A., Hyde, J. S., Keltner, D., & Devine, P. G. (2000). “The gender stereotyping of emotions.” Psychology of Women Quarterly, 24, 81–92.

৩৭. Huston-Comeauz, S. L., & Kelly, J. R. (2002). ”Gender stereotypes of emotional reactions: How we judge an emotion as valid.” Sex Roles, 47, 1–10.

৩৮. Vonk, R., & Ashmore, R. D. (2003). “Thinking about gender types: Cognitive organization of female and male types “ British Journal of Social Psychology, 42, 257–280.

৩৯. Carpenter, S., & Trentman, S. (1998). “Subtypes of women and men: A new taxonomy and an exploratory analysis”. Journal of Social Behavior and Personality,13, 679–696.

৪০. Noseworthy, C. M., & Lott, A. J. (1984). The cognitive organization of genderstereotypic categories. Personality and Social Psychology Bulletin, 10, 474–481.

৪১. Deaux, K., Winton, W., Crowley, M., & Lewis, L. L. (1985). Level of categorization and content of gender stereotypes. Social Cognition, 3, 145–167.

৪২. Cuddy, A. J. C., Fiske, S. T., & Glick, P. (2004). “When professionals become mothers, warmth doesn’t cut the ice.” Journal of Social Issues, 60(4), 701–718.

৪৩. Eliason, M., Donelan, C., & Randall, C. (1992). “Lesbian stereotypes.” Health Care for Women International, 13, 131–144.

৪৪. Macrae, C. N., & Bodenhausen, G. V. (2000). “Social cognition: Thinking categorically about others.” Annual Review of Psychology, 51, 93–120.

৪৫. Arthur, A. E., Bigler, R. S., Liben, L. S., Gelman, S. A., & Ruble, D. N. (2008). “Gender stereotyping and prejudice in young children: A developmental intergroup perspective.”  in S. Levy & M. Killen (Eds.), Intergroup relations: An integrative developmental and social psychological perspective. New York:Oxford University Press.

৪৬. Mondschein, L. R., Adolph, K. E., & Tamis-LeMonde, C. S. (2000). “Gender bias in mothers’ expectations about infant crawling.” Journal of Experimental Child Psychology, 17, 304–316.

৪৭. Signorelli, N. (2001). “Television’s gender role images and contribution to stereotyping: Past, present, future.” in D. Singer & J. Singer (Eds.), Handbook of children and the media (pp. 341–358). Thousand Oaks, CA: Sage.

৪৮. Furham, A., & Mak, T. (1999). “Sex-role stereotyping in television commercials: A review and comparison of 14 studies done on five continents over 25years.” Sex Roles, 41, 413–437.

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *