আয়েশা সিদ্দিকার ‘পাকিস্তানের সামরিক অর্থনীতির অন্দরমহল’-৩

আয়েশা সিদ্দিকার ‘পাকিস্তানের সামরিক অর্থনীতির অন্দরমহল’-৩

মেহেদী হাসান

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু হয়, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এই দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি–সবকিছুতেই সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত। এর বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তা সফল হয়নি। এই ক্ষমতার বিন্যাস তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অবদান আছে। এই অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতা বিস্তারে পাকিস্তান বরাবর একটা খুঁটি হিসেবে কাজ করেছে। এটি টিকিয়ে রাখায় তাই তাদের বরাবর সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকেছে। বারবার ব্যবহৃত হলেও পাকিস্তানে সাম্রাজ্যবাদী হামলা এবং অপমানেরও নজির অনেক। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর একক কর্তৃত্ব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কী রূপ নিয়েছে, তার বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন পাকিস্তানের সমাজবিজ্ঞানী আয়েশা সিদ্দিকা। তাঁর গ্রন্থ (Ayesha Siddiqa; Military Inc.: Inside Pakistan’s Military Economy, Pluto Press, London, 2007, 2017)-এর ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিক লেখার এটি শেষ পর্ব।

পাকিস্তানে সামরিক আধিপত্য, মিলবিজ ও জাতীয় নিরাপত্তা রাষ্ট্র

পাকিস্তানের রাষ্ট্র ও রাজনীতির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে, দেশটির সামরিক বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আধিপত্যকে শুধু কয়েকজন সামরিক শাসকের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা; যেখানে দুর্বল বেসামরিক প্রতিষ্ঠান, ভারত ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রচিন্তা, আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী, জমিদার-ভূস্বামী ও ব্যবসায়ী এলিট, ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং বিদেশি শক্তির স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো–সামরিক বাহিনী ধীরে ধীরে শুধু রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান না থেকে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ফলে পাকিস্তানে সামরিকতন্ত্র কোনো সাময়িক ঘটনা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে।

দুর্বল গণতন্ত্র ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রের জন্ম

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা’র সংকটে আক্রান্ত হয়। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল–মাত্র ১১ বছরে ৭ জন প্রধানমন্ত্রী ও ৮টি মন্ত্রিসভা পরিবর্তিত হয় এবং একটি সংবিধান তৈরি করতে প্রায় ৯ বছর, অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময় লাগে। ১৯৪৭–২০০৮ সময়কালে সরাসরি সামরিক শাসনের মোট সময় ছিল প্রায় ৩৩ বছর। মাঝের কয়েক বছর (১৯৭১-১৯৭৭ এবং ১৯৮৮-১৯৯৯) বুর্জোয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলে। টানাপোড়েন ছিল যথেষ্ট কিন্তু সংহতি বা গণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা শক্তিশালী হওয়ার আগেই আবার সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ তৈরি হয়। মাঝের বছরগুলোতে বেসামরিক শাসন চললেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল খেলোয়াড় ছিল সামরিক বাহিনীই।

১৯৪৭ থেকে ১৯৫৮ সাল–মাত্র ১১ বছরে ৭ জন প্রধানমন্ত্রী ও ৮টি মন্ত্রিসভা পরিবর্তিত হয় এবং একটি সংবিধান তৈরি করতে প্রায় ৯ বছর, অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সময় লাগে। ১৯৪৭–২০০৮ সময়কালে সরাসরি সামরিক শাসনের মোট সময় ছিল প্রায় ৩৩ বছর।

শুরুর দিকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দুর্বলতার বিপরীতে আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনী ছিল তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও শক্তিশালী। ফলে বেসামরিক রাজনীতিবিদরা নিজেদের প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণ করতে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে শুরু করেন। শুরুতে সেনাবাহিনীকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতার সহায়ক বা junior partner হিসেবে রাখলেও ১৯৫৮ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনী নিজেই ক্ষমতার প্রধান দাবিদার হয়ে ওঠে। ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করে। এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য অন্যান্য সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে খেয়াল করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার নামে পাকিস্তানে শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় অন্যান্য খাতের চাইতে অগ্রাধিকার দিয়ে সামরিক বাহিনীকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বাধীনতার প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তানের সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৬০.৬৯ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছিল।

পাকিস্তানের এই সামরিক বাহিনীকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয় তথাকথিত ‘শীতল যুদ্ধের’ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে। সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করার মার্কিন কৌশলের অংশ হিসেবে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হয়ে ওঠে এবং SEATO ও CENTO-তে যোগ দেয়। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে পাকিস্তান প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পায়। এর ফলে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী শুধু দেশের অভ্যন্তরেই শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি; আন্তর্জাতিক সামরিক সহায়তা, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থের ওপর নির্ভর করে তারা একটি স্বতন্ত্র ক্ষমতার ভিত্তিও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট এবং শীতল যুদ্ধের ভূরাজনীতি পরস্পরকে শক্তিশালী করে এমন একটি কাঠামো তৈরি করে, যার ভিত্তিতে পাকিস্তানে কথিত National Security State বা ‘জাতীয় নিরাপত্তা রাষ্ট্র’-এর বিকাশ ঘটে।

এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক নীতিতে ‘নিরাপত্তা’ ধারণাটি ক্রমেই আরও বিস্তৃত ও কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ, প্রতিরক্ষা জোট এবং বিদেশে সামরিক উপস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলা যায়, এই ‘নিরাপত্তা’ কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন দেশে তার সামরিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য হস্তক্ষেপ করার রাজনৈতিক যুক্তি জোগায়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান হলো এমন একটি রাষ্ট্র যেটি প্রথম থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা’ বলয়ে আশ্রয়ে নেয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিশ্বস্ত মিত্রতে পরিণত হয়।

আইয়ুব থেকে ইয়াহিয়া: সামরিক শাসনের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

আইয়ুব খান সরাসরি সামরিক শাসনের পাশাপাশি সামরিক কর্তৃত্বকে বেসামরিক কাঠামোর ভেতরে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। ১৯৫৯ সালের মৌলিক গণতন্ত্র (Basic Democracies) এবং ১৯৬২ সালের রাষ্ট্রপতিশাসিত সংবিধান ছিল এই নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একই সময়ে সামরিক শাসন ভূস্বামী ও নতুন শিল্পপতি এলিটদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী জোট গড়ে তোলে। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের ‘২২ পরিবার’ দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ শিল্প এবং ৮৭ শতাংশ ব্যাংকিং ও বীমা সম্পদের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, সামরিক বাহিনী এবং অর্থনৈতিক (ব্যবসায়ী, শিল্পপতি এবং বৃহৎ ভূমির মালিক শ্রেণি) এলিটের মধ্যে একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক তৈরি হয়। এই ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক সম্পদ কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাও তাদের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে।

এই বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা মূলত পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০টির মধ্যে ১৬৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। এর পরিণতি হয় ১৯৭১ সালের ভয়াবহ সংঘাত, গণহত্যা এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ফলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সামরিক আধিপত্য ও কেন্দ্রীয়করণের সঙ্গে জাতীয় প্রশ্ন ও আঞ্চলিক বৈষম্যের সম্পর্কও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ভুট্টো: সামরিক শক্তিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং পুনরায় তার শক্তিশালী হয়ে ওঠা

১৯৭১ সালের পর জুলফিকার আলী ভুট্টো সামরিক বাহিনীর পরাজয় ও বৈধতা সংকটের সুযোগে বেসামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তিনি Joint Chiefs of Staff Committee গঠন করেন, সামরিক বাহিনীকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনেন এবং ১৯৭৩ সালের সংবিধানে সংবিধান বাতিলের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখেন। কিন্তু একই সময়ে ভুট্টো নিজেও রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করেন। বিশেষত বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে সামরিক শক্তি ব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামরিক বাহিনীকে আবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। একইভাবে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক আধুনিকায়ন সেনাবাহিনীর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৭৯ সালে ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে বেসামরিক নেতারাও যখন রাজনৈতিক স্বার্থে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেন, তখন দীর্ঘ মেয়াদে সেই শক্তিকেই আরও স্বাধীন ও শক্তিশালী করে তোলেন। বেসামরিক শাসনাধীনদের জিম্মিদশা কঠোর থেকে আরও কঠোরতর হয় সামরিক শাসনামলে। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই তার খেসারত দিতে হয়।

একই সময়ে ভুট্টো নিজেও রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করেন। বিশেষত বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ দমনে সামরিক শক্তি ব্যবহার এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামরিক বাহিনীকে আবার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। একইভাবে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক আধুনিকায়ন সেনাবাহিনীর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়াউল হক ক্ষমতা দখল করেন

সামরিক বাহিনী শুধু ‘আম্পায়ার’ নয়–একটি স্বতন্ত্র ক্ষমতাশালী শ্রেণি

১৯৮৮–১৯৯৯ সালের নির্বাচিত সরকারগুলোর সময়ও সামরিক বাহিনীর প্রভাব কমেনি। এই দশকে ৮ জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হন এবং সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে বেসামরিক রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে। ১৯৯০ সালে বেনজির ভুট্টোর প্রথম সরকারের পতনে সামরিক স্বার্থের ভূমিকা ছিল; এমনকি সামরিক গোয়েন্দা কাঠামো ব্যবহার করে রাজনৈতিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগও ওঠে। একটি ঘটনায় সেনাপ্রধান ও আইএসআই প্রধানের সঙ্গে সম্পর্কিত গোপন তহবিলের পরিমাণ ছিল ৬০ মিলিয়ন রুপি বা প্রায় ১.০৩ মিলিয়ন ডলার। ঘটনাটির ব্যাপারে আয়েশা সিদ্দিকার বইতে এভাবে উল্লেখ আছে: 

The army chief, General Aslam Beg, and the head of the ISI, Lt. General Asad Durrani, obtained a slush fund of approximately Rs 60 million (US$1.03 million) from a private bank, and used this to execute the plan for Bhutto’s removal. (পৃ. ১০৭)। 

এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বে সেনাপ্রধান ওয়াহিদ কাকর কার্যত ‘আম্পায়ার’-এর ভূমিকা পালন করেন।

১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতা দখলের পর এই সামরিক কর্তৃত্ব আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। ২০০২ সালে তার গণভোটে সরকারি হিসাবে ৭০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ও ৯৮ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হলেও বিরোধীদের দাবি ছিল উপস্থিতি মাত্র ৫ শতাংশ; অন্য একটি হিসাব ছিল ১৫ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং বেসরকারি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আর্থিক দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের মতো অপরাধের তদন্ত ও প্রসিকিউশন পরিচালনা করার জন্য গঠন করা হয় National Accountability Bureau (NAB)। কিন্তু বিরোধীপক্ষের অভিযোগ ছিল- রাজনৈতিক দলগুলোকে ভাঙা, পছন্দের দলকে সুবিধা দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্যই মূলত এটিকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০০৪ সালের National Security Council Act-এর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা আরও প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়। NSC-তে চারজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং নয়জন বেসামরিক সদস্য থাকার ফলে সামরিক বাহিনীর নীতিনির্ধারণী ভূমিকা একটি স্থায়ী কাঠামো পায়। 

‘মিলবিজ’: সামরিক ক্ষমতার অর্থনৈতিক ভিত্তি

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোর একটি হলো গবেষক আয়েশা সিদ্দিকার Milbus বা Military Business। যেখানে তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিশাল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলেছেন। বলেছেন যে, মিলবিজ কেবল কয়েকটি কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং কৃষি, শিল্প, ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহন, নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ, রিয়েল এস্টেট, শিক্ষা, বিমান পরিবহনসহ বহু খাতে বিস্তৃত সামরিক বাহিনীর একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। ফৌজি ফাউন্ডেশন, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, শাহীন ফাউন্ডেশন ও বাহরিয়া ফাউন্ডেশন এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিশাল অর্থ-সম্পদ-পুঁজির মালিক তারা। একটি হিসাবে দেখা যায়, ফৌজি ফাউন্ডেশনের ঘোষিত সম্পদ ছিল ৯.৮ বিলিয়ন রুপি, আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সম্পদ প্রায় ৫০ বিলিয়ন রুপি, শাহীন ফাউন্ডেশনের সম্পদ ২ বিলিয়ন রুপির বেশি এবং বাহরিয়া ফাউন্ডেশনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ বিলিয়ন রুপি (উল্লিখিত সম্পদের হিসাবগুলো ২০০৩–২০০৫ সালের আশপাশের সময়ের)।

মিলবাসের বিস্তার বোঝাতে National Logistics Cell বা NLC-এর উদাহরণও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত NLC-এর ১,৬৮৯টি যানবাহন ছিল এবং ২০০০–০১ সালে এর নিট মূল্য ছিল প্রায় ৩,৯৬৪.৬৫২ মিলিয়ন রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৬৮.৩৫৬ মিলিয়ন ডলার (পৃ. ১৩৪)। Frontier Works Organisation বা FWO-ও মহাসড়ক নির্মাণ ও টোল আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ সামরিক বাহিনী এমনসব ক্ষেত্রে প্রবেশ করে যেখানে সাধারণত বেসরকারি কোম্পানি বা বেসামরিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাজ করার কথা। এর ফলে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা একে অপরকে শক্তিশালী করে।

কল্যাণের যুক্তি বনাম অর্থনৈতিক স্বার্থ

সামরিক বাহিনী তাদের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যকে সাধারণত সৈনিকদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং অবসরকালীন নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করে। এই ব্যবস্থার কিছু বাস্তব কল্যাণমূলক সুবিধাও রয়েছে–যেমন: স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান। কিন্তু আয়েশা সিদ্দিকার গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, এর সুবিধা সমানভাবে বণ্টিত হয়নি। ২০০৪–০৫ অর্থবছরে সামরিক পেনশনের জন্য ব্যয় ছিল ৩০.১৮১ বিলিয়ন রুপি, যেখানে বেসামরিক পেনশনে ব্যয় ছিল মাত্র ৬.১৫৬ বিলিয়ন রুপি। সামরিক সদস্যদের জন্য কৃষিজমি অত্যন্ত ভর্তুকিযুক্ত দামে–প্রতি একর প্রায় ২০–৬০ রুপি–দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মীদের সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটা ছিল; যেমন: বেসিক পে স্কেল (BPS) গ্রেড ১–৩ পর্যায়ে ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১৭-এর ওপরে ১০ শতাংশ (পৃ. ২৪৭–২৪৯)।

এই কল্যাণ ব্যবস্থা আবার আঞ্চলিক বৈষম্যের সঙ্গেও যুক্ত। গবেষণা অনুযায়ী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্য পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে আসে এবং সামরিক কল্যাণ বাজেটের প্রায় ৭২ শতাংশ পাঞ্জাবে বিনিয়োগ করা হয়। ফলে সামরিক কল্যাণ ব্যবস্থা একদিকে সামরিক সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা তৈরি করলেও অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বণ্টনে আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রায় ৭৫ শতাংশ সদস্য পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো থেকে আসে এবং সামরিক কল্যাণ বাজেটের প্রায় ৭২ শতাংশ পাঞ্জাবে বিনিয়োগ করা হয়।

জমি, আবাসন ও নতুন সামরিক ভূস্বামী শ্রেণি মিলবাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো জমি ও রিয়েল এস্টেট। সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বিপুল পরিমাণ কৃষি ও শহুরে জমি বরাদ্দ, সামরিক আবাসন প্রকল্প এবং Defence Housing Authority বা DHA-এর মতো প্রতিষ্ঠান সামরিক বাহিনীকে শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোক্তা নয়, বরং বড় ভূস্বামীতে পরিণত করেছে। এই আবাসন প্রকল্পগুলো নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশের ধারণা ব্যবহার করে নিজেদের বাজারজাত করলেও এর ফলে শহরে অভিজাত আবাসিক এলাকা ও speculative investment বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের জমি অধিগ্রহণ, কম ক্ষতিপূরণ এবং ‘জাতীয় স্বার্থ’ বা ‘প্রতিরক্ষা প্রয়োজন’-এর যুক্তি ব্যবহারের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে।

এই জমির রাজনীতির সামাজিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক কর্মকর্তারা গ্রামীণ এলাকায় জমির মালিক হয়ে অনেক ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ‘সামরিক ভূস্বামী’ বা নতুন সামন্ত শ্রেণি হিসেবে আবির্ভূত হন। এতে স্থানীয় কৃষক ও ভূমিহীন মানুষের সঙ্গে ক্ষমতার বৈষম্য বাড়ে। সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের মতো প্রদেশে পানি ও জমির বণ্টন নিয়ে অসন্তোষও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে মিলবাস শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি জাতিগত, আঞ্চলিক ও শ্রেণিগত সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ, কর সুবিধা ও প্রতিযোগিতার অসমতা আয়েশা সিদ্দিকার মিলবিজ সংক্রান্ত আলোচনার একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো– সামরিক এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দাবি করলেও অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জমি, কর সুবিধা, সরকারি ঋণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সামরিক লোগো ব্যবহার করার সুবিধা পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বাহরিয়া ফাউন্ডেশনের আবাসন ব্যবসায় বেসামরিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কোনো আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়াই ১০ শতাংশ শেয়ার এবং ২৫ শতাংশ প্লট পাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। আবার সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যবসা লোকসানে পড়লে সরকারি অর্থ দিয়ে উদ্ধার করার ঘটনাও দেখা যায়। একটি সিমেন্ট প্রকল্পের জন্য ৮ বিলিয়ন রুপি ঋণের পরও তিন দফায় সরকারি bailout নেওয়ার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

সামরিক এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দাবি করলেও অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জমি, কর সুবিধা, সরকারি ঋণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সামরিক লোগো ব্যবহার করার সুবিধা পেয়েছে।

চিনি রপ্তানির ক্ষেত্রেও ১৯৯৭–১৯৯৯ সময়ে ভারতের কাছে ৬০ মিলিয়ন ডলারের চিনি রপ্তানি চুক্তিতে সামরিক বাহিনী-সম্পৃক্ত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী চিনিকলগুলো প্রতি টনে ১০০ ডলার ভর্তুকি ও শুল্ক সুবিধা পেয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব উদাহরণ থেকে গবেষকের যুক্তি হলো– যখন কোনো প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক প্রভাব এবং ব্যবসায়িক সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করে, তখন বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা দুর্বল হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের বণ্টন নিরপেক্ষ থাকে না।

সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে প্রভাব সামরিক অর্থনৈতিক শক্তির সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রশ্নটি হলো রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ কোথায় ব্যয় হচ্ছে। ১৯৮১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় আয় বা জিএনপির বরাদ্দ ছিল মাত্র ০.৬–১.০ শতাংশ, আর শিক্ষা খাতে ১.৪–২.৫ শতাংশ। এর বিপরীতে প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল প্রায় ৩.২–৭.২ শতাংশ। অর্থাৎ রাষ্ট্রের বাজেট কাঠামোয় প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্ব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে এসব যে কেবল আশি-নব্বই দশকের পরের ঘটনা তা কিন্তু নয়, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই এ প্রক্রিয়া চালু ছিল।

সামরিক বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসায় প্রবেশ করলেও সব উদ্যোগ সমান সফল হয়নি। শাহীন এয়ারের উদাহরণে ২০০৪ সালে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন রুপি দেনা জমে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি হয়ে যায়। আবার সামরিক কর্মকর্তাদের বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর ঘটনাও ছিল। ফলে লেখকের যুক্তি হলো, সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক বিস্তার সবসময় দক্ষতার সমার্থক নয়; বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধা যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের স্বাভাবিক জবাবদিহি থেকে দূরে চলে যেতে পারে।

আইএসআই, আফগান যুদ্ধ ও সামরিক রাষ্ট্রের আরও শক্তিশালী হওয়া গবেষকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বলা যায় যে, ১৯৮০-এর দশকের আফগান যুদ্ধ পাকিস্তানের সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভিন্ন আরেকটি প্রতিবেদনে। সেখানে দেখা যায়; ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর কর্মীসংখ্যা আফগান যুদ্ধের সময় বিশেষ করে জেনারেল আখতারের সময়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৮ সালের ২,০০০ কর্মী থেকে ১৯৮৮ সালে ৪০,০০০ কর্মী এবং ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেটে পৌঁছায়। (Bruce Riedel: How General Akhtar revamped the ISI, Geo News, Aug 17, 2022)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই মিলে সোভিয়েতবিরোধী মুজাহিদিনদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করত। এর ফলে আইএসআই শুধু গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে নয়, বৈদেশিক নীতি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়। অন্যভাবে, এটি ধীরে ধীরে একটি ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্র’ ধরনের ক্ষমতা অর্জন করে। এখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সামরিক শাসনগুলোকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে–শীতল যুদ্ধের সময়ে মূলত কমিউনিজম মোকাবিলার জন্য এবং পরবর্তী সময়ে ভূ-কৌশলগত প্রয়োজনের কারণে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ সামরিক কর্তৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রাজনীতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক উপস্থাপন করেছেন– সামরিক বাহিনী যখন একটি শক্তিশালী অভিজাত শ্রেণিতে পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বিকল্প কমে যায়। এই শূন্যতা পূরণে ধর্ম বা ধর্মীয় মতাদর্শ বিকল্প এজেন্ডা হিসেবে উঠে আসে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন যে, সামরিক আধিপত্য এবং ধর্মীয় রক্ষণশীলতার উত্থানের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। সামরিক বাহিনী নিজস্ব প্রয়োজনে জঙ্গি সংগঠন ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে লালন-পালন করায় তা রাষ্ট্র ও সমাজের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে আরও সুসংহত করেছে।

সামরিক বাহিনী যখন একটি শক্তিশালী অভিজাত শ্রেণিতে পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে রাজনৈতিক বিকল্প কমে যায়। এই শূন্যতা পূরণে ধর্ম বা ধর্মীয় মতাদর্শ বিকল্প এজেন্ডা হিসেবে উঠে আসে।

‘মিল-বিজ’: রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ব্যবসায়িক ক্ষমতার মেলবন্ধন সামরিক বাহিনীর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে বেসরকারি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, বিচারক, সাংবাদিক ও অন্যান্য অভিজাত গোষ্ঠীর স্বার্থের সম্পর্ক একটি পৃষ্ঠপোষকতা বা clientship ব্যবস্থা তৈরি করে। সামরিক বাহিনী জমি, ব্যবসায়িক সুযোগ ও অন্যান্য সুবিধা দেয়; বিনিময়ে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ না করার প্রবণতা দেখায়। লেখায় আয়েশা সিদ্দিকার সূত্রটি এভাবে দেওয়া হয়েছে:

রাজনৈতিক ক্ষমতা + অর্থনৈতিক ক্ষমতা (সামরিক গোষ্ঠী × সহযোগীরা) = 

সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক পুঁজি।

এই ব্যবস্থার ফল হলো ক্রনি ক্যাপিটালিজম, অর্থাৎ তথাকথিত বাজারের প্রতিযোগিতার পরিবর্তে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সম্পদ ও সুযোগ বণ্টন। এর ফলে সামরিক ও বেসামরিক এলিট উভয়েই লাভবান হতে পারে, কিন্তু সাধারণ নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর ভেতরেও বৈষম্য তৈরি হয়: উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বেশি সুবিধা পান, আর নিম্নপদস্থরা ভবিষ্যৎ সুবিধার আশায় পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে সামরিক পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এখন প্রশ্ন হলো– বেসামরিক রাজনীতির দুর্বলতা কেন সামরিক আধিপত্যকে টিকিয়ে রাখে?

সামরিক আধিপত্যকে শুধু সেনাবাহিনীর শক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বেসামরিক রাজনৈতিক এলিটের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, স্বল্পমেয়াদি ক্ষমতার হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতাও সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন সময়ে বেনজির ভুট্টো, নওয়াজ শরিফসহ রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোকাবিলা করতে সামরিক বাহিনীকে ‘আম্পায়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। ফলে সামরিক বাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার বদলে রাজনীতির ভেতরেই তার ভূমিকা বৈধতা পেয়েছে।

বেসামরিক রাজনৈতিক এলিটের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, স্বল্পমেয়াদি ক্ষমতার হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে দমন করার প্রবণতাও সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে গবেষক আয়েশা সিদ্দিকার মৌলিক যুক্তিটি হলো এরকম যে: সামরিক বাহিনী শক্তিশালী হয়েছে কারণ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল; আবার সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির ফলে বেসামরিক প্রতিষ্ঠান আরও দুর্বল হয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি স্ব-শক্তিবর্ধক চক্র (self-reinforcing cycle)।

নিরাপত্তা → সামরিক ব্যয় → সামরিক শক্তি → রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ → অর্থনৈতিক সুবিধা → আরও স্বায়ত্তশাসন → আরও রাজনৈতিক শক্তি–

এই ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোয় দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

Military Inc. থেকে Media Inc: আয়েশা সিদ্দিকা কর্পোরেট মিডিয়া নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন তাঁর বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে। এই অধ্যায়ে তাঁর আলোচনার যুক্তিটি হলো– পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা শুধু অস্ত্র, সেনাবাহিনী, অভ্যুত্থান বা ব্যবসায়িক সম্পদের ওপর নির্ভর করে না। সময়ের সঙ্গে তারা মিডিয়া, জনমত, চলচ্চিত্র, শিক্ষা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। অর্থাৎ সামরিক বাহিনী শুধু রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে না; বরং জনগণ কীভাবে রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং সামরিক বাহিনীকে দেখবে–সেই ন্যারেটিভ বা আখ্যান তৈরির ক্ষমতাও নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো ISPR (Inter-Services Public Relations)। শুরুতে এটি মূলত সামরিক বাহিনীর তথ্য সরবরাহকারী ও জনসংযোগ সংস্থা হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে এটি একটি বড় মিডিয়া ও ইমেজ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থায় পরিণত হয়। আইএসপিআর চলচ্চিত্র নির্মাণ, রেডিও নেটওয়ার্ক এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি ও বজায় রাখতে কাজ করে। ফলে সামরিক বাহিনীকে শুধু একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়।

শুরুতে এটি মূলত সামরিক বাহিনীর তথ্য সরবরাহকারী ও জনসংযোগ সংস্থা হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে এটি একটি বড় মিডিয়া ও ইমেজ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থায় পরিণত হয়। আইএসপিআর চলচ্চিত্র নির্মাণ, রেডিও নেটওয়ার্ক এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি ও বজায় রাখতে কাজ করে।

এখানে প্রপাগান্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই (Psychological Warfare)-ও গুরুত্বপূর্ণ। আয়েশা সিদ্দিকার যুক্তি অনুযায়ী, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অদক্ষতার বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যাতে সাধারণ মানুষের কাছে বেসামরিক রাজনীতিবিদরা অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সামরিক বাহিনী তুলনামূলকভাবে ‘একমাত্র ত্রাতা’ হিসেবে প্রতিভাত হয়। অর্থাৎ মিডিয়া এখানে শুধু খবর প্রচারের মাধ্যম নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতা (legitimacy) তৈরির একটি হাতিয়ার।

আরেকটি দিক হলো সমালোচকদের নিয়ন্ত্রণ। আইএসআই এর মাধ্যমে ভিন্নমত দমন, সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি ও চাপ এবং সেলিম শাহজাদ, হামিদ মীর ও জিও টিভি-এর মতো উদাহরণগুলো হলো এর প্রমাণ। অর্থাৎ মিডিয়ার একটি দিক হলো ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করা, আর অন্য দিক হলো সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সমালোচনা বা বিকল্প ন্যারেটিভকে দুর্বল করা। গবেষক এটিকে মিলবিজ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক শক্তি যখন ব্যবসা, জমি, আবাসন, ব্যাংকিং, পরিবহন, নির্মাণ ইত্যাদির মাধ্যমে বাড়ে, তখন শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ থাকলেই যথেষ্ট নয়–সেই ক্ষমতাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলাও দরকার। Media Inc. সেই কাজটি করে।

আয়েশা সিদ্দিকার সূত্র ধরে সহজভাবে বললে:

সামরিক শক্তি → অর্থনৈতিক শক্তি → মিডিয়া/ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ → জনমত প্রভাবিত করা → রাজনৈতিক বৈধতা → সামরিক আধিপত্য আরও শক্তিশালী করা।

পুরো প্রবন্ধের কাঠামোয় এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিলে মিলবিজের অর্থনৈতিক ক্ষমতার পাশাপাশি Narrative Power বা Media Power বসালে আয়েশা সিদ্দিকার মূল যুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়বে। অর্থাৎ উৎপাদন-অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারের পর সামরিক বাহিনী পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় বিনিয়োগ করে এবং ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। অন্যভাবে বললে, সম্মতি আদায়ের চেষ্টা করে।

সংক্ষেপে পুরো বিষয়টিকে এভাবে বলা যায়– মিলবাস শুধু ব্যবসা ও সম্পদের সাম্রাজ্য নয়; এর সঙ্গে গড়ে ওঠে মিডিয়ার একটি ন্যারেটিভ ও ইমেজ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সামরিক বাহিনী নিজেদের রাষ্ট্রের অপরিহার্য রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে, রাজনীতিবিদদের দুর্বল/দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে দেখায় এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠকে নিয়ন্ত্রণ বা দুর্বল করার চেষ্টা করে।

সবশেষে আয়েশা সিদ্দিকার বইটির যুক্তিগুলো একত্র করলে পাকিস্তানের ইতিহাসকে শুধু ‘সামরিক বনাম গণতন্ত্র’ হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। বরং এটি একটি রাজনৈতিক অর্থনীতির সমস্যা, যেখানে নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, পুঁজি, জমি, আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক এলিট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। দেশভাগের পর ভারত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের যে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক চরিত্র তৈরি হয়, সেটি সামরিক বাহিনীকে অতিরিক্ত সম্পদ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দেয়। দুর্বল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা সেই ক্ষমতাকে আরও বাড়ায়। এরপর সামরিক বাহিনী নিজস্ব অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে; ফলে তারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা হারালেও অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকে।

এই অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সামরিক বাহিনী যখন ব্যাংক, বীমা, পরিবহন, নির্মাণ, সিমেন্ট, সার, বিমান, শিক্ষা, রিয়েল এস্টেট ও কৃষিজমির মতো খাতে প্রবেশ করে; তখন তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ সরাসরি যুক্ত হয়ে যায়। ফলে সামরিক বাহিনী শুধু রাষ্ট্রের ‘রক্ষক’ নয়; বরং রাষ্ট্রের সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উৎপাদক, মালিক, বণ্টনকারী ও সুবিধাভোগী হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা একে অপরকে শক্তিশালী করে।

ড. আয়েশা সিদ্দিকার দৃষ্টিতে পাকিস্তানের সামরিক আধিপত্যকে বোঝার জন্য শুধু ‘কে ক্ষমতায় আছে’ প্রশ্ন করলেই হবে না; বরং কে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, কার হাতে নিরাপত্তার সংজ্ঞা, কে অর্থনৈতিক সুবিধা পায় এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে–এই প্রশ্নগুলোও একই সঙ্গে করতে হবে।

বইয়ের প্রসঙ্গে আগের আলোচনার সূত্র ধরে সবশেষে বলা যায়– পাকিস্তানে সামরিক আধিপত্য কোনো একক অভ্যুত্থান বা কোনো একজন জেনারেলের তৈরি ব্যবস্থা নয়; এটি কয়েক দশক ধরে তৈরি হওয়া একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা। ভারত-ভীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা এর আদর্শিক ভিত্তি তৈরি করেছে; দুর্বল বেসামরিক রাজনীতি এর রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে; আন্তর্জাতিক সামরিক জোট ও ভূরাজনীতি এর বাহ্যিক শক্তি জুগিয়েছে; আর সামরিক আধিপত্যকে অর্থনৈতিক ভিত্তি দিয়েছে। এর ফল হয়েছে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনৈতিক সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করেছে। এই কারণেই গবেষক ড. আয়েশা সিদ্দিকার দৃষ্টিতে পাকিস্তানের সামরিক আধিপত্যকে বোঝার জন্য শুধু ‘কে ক্ষমতায় আছে’ প্রশ্ন করলেই হবে না; বরং কে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, কার হাতে নিরাপত্তার সংজ্ঞা, কে অর্থনৈতিক সুবিধা পায় এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে–এই প্রশ্নগুলোও একই সঙ্গে করতে হবে। এক কথায়:

‘নিরাপত্তার নামে সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ → সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন → রাজনৈতিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা → সামরিক-বেসামরিক এলিটের পারস্পরিক সুবিধা → আবার সামরিক আধিপত্য’

—এই চক্রই পাকিস্তানের রাষ্ট্রব্যবস্থার দীর্ঘস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।

আগের পর্ব: আয়েশা সিদ্দিকার ‘পাকিস্তানের সামরিক অর্থনীতির অন্দরমহল’-২

মেহেদী হাসান: লেখক, গবেষক। ই-মেইল: mehedihassan1@gmail.com

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •