সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২ ফেব্রুয়ারি – ২২ এপ্রিল ২০২০)

সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২ ফেব্রুয়ারি- ২২ এপ্রিল ২০২০)


করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস: অপ্রস্তুত হাসপাতাল, পালালেন ঝুঁকিতে থাকা রোগী

১৬ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত শুক্রবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন বাহরাইনফেরত এক প্রবাসী। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার প্রায় সব লক্ষণ দেখতে পান চিকিৎসকেরা। এ খবর রোববার দুপুরে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওয়ার্ডে থাকা অন্য রোগীরা। তাঁর শয্যার পাশ থেকে সরে যান অন্য রোগীসহ দায়িত্বরত নার্সরাও। আর এই রোগীকে কোথায় রাখা হবে, তাঁর চিকিৎসা কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে চিকিৎসকেরা জড়ো হন হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে যখন আলাপ-আলোচনা চলছিল, ততক্ষণে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান ওই রোগী। পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের পুরুষ ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তাঁকে অন্য রোগীদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখতে না পারার কারণ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো করোনা চিকিৎসার প্রস্তুতিই শুরু করেনি। যেসব চিকিৎসক ও নার্স করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের চিকিৎসা করবেন, তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রী বা পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টও (পিপিই) এই হাসপাতালে নেই।

ঢামেকের ৪ চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টিনে

মার্চ ১৮, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চার চিকিৎসককে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এক করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসায় তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

পঙ্গু হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী আতঙ্ক

১৬ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী আছেন—এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে আজ সোমবার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কাছে সহায়তা চেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিউমোনিয়ার রোগীও ভর্তি নিচ্ছে না হাসপাতালগুলো

মার্চ ১৮, ২০২০, বণিক বার্তা

সর্দি-জ্বর ও নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে গেলেই এখন ভর্তি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে রোগীরা। যেসব রোগীকে এতদিন কোনো সংকোচ ছাড়াই চিকিৎসা দেয়া হতো, ভয়-আতঙ্কে সেসব সাধারণ রোগীও চিকিৎসা পাচ্ছে না এখন। দেশে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ সর্দি-জ্বর নিয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে মানুষকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানা প্রশ্নের।

করোনায় নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে

১৯ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে গেছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের ডাকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে তাঁরা কর্মবিরতিতে যান। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের জন্য ন্যূনতম নিরাপত্তার কোনোব্যবস্থা করা হয়নি। তাই তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

শিবচরে দোকান ও গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

১৯ মার্চ, ২০২০, দেশ রুপান্তর

করোনা প্রতিরোধে মাদারীপুরের শিবচরে জনসমাগম এড়াতে মুদি, ওষুধ ও কাঁচা বাজার ছাড়া সব দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

করোনাআতঙ্ক: হাসপাতাল থেকে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ আসছে

১৯ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

জ্বর, কাশি, সর্দির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে কোনো কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আবার করোনা সন্দেহ হলে কোনো কোনো হাসপাতাল রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

জ্বরের চিকিৎসা না পেয়ে খুমেকের সিঁড়িতেই মারা গেল বাবুল

১৯ মার্চ ২০২০, যুগান্তর

৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়বাংলা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল (৪০)। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় তাকে। হাসপাতালে ঢোকার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, এই সময়টা তারা হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে দৌড়াদৌড়িতেই পার করেছেন। করোনা সন্দেহে কোনো ডাক্তারই তাকে চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেননি। যার কারণে মৃত্যু হয়েছে বাবুলের।

কিট ও পিপিই সংগ্রহে দেরিতে উদ্যোগ, হিমশিম খাচ্ছে সরকার

মার্চ ১৯, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব সঙ্কটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে টেস্টিং কিট ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম (পিপিই) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রায় তিন মাস সময় পেলেও সরকার পরিস্থিতি বুঝতে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে টেস্টিং কিট ও পিপিই সংগ্রহ করা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। সারা পৃথিবীতেই নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। যার কারণে টেস্টিং কিটের চাহিদা ব্যাপক। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পিপিই উৎপাদন করতে পারছে না কাঁচামালের অভাবে। এসবের কাঁচামাল বেশিরভাগই আমদানি করা হয় চীন থেকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এক লাখ পিপিই, পাঁচ লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক ও সার্জিক্যাল গগলস এবং অন্যান্য সরঞ্জাম চেয়ে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিরাময় কেন্দ্র। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র বলছে, মন্ত্রণালয়ের অস্বস্তিকর ধীর প্রতিক্রিয়ার কারণেই এই অবস্থা হয়েছে।

সম্পদ স্বল্পতায় সকলকে মাস্ক দেওয়া যাচ্ছে না: মিটফোর্ড হাসপাতাল পরিচালক

মার্চ ২১, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

‘সম্পদের স্বল্পতার’ কারণে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে কর্মরত সকলকে ‘নিজ উদ্যোগে’ মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্শেদ রশীদের সই করা নোটিশে বলা হয়, সংক্রমণ ঝুঁকি এড়ানোর জন্য প্রতিরোধ কর্মসূচী হিসেবে হাসপাতালে কর্মরত এবং সেবা কাজের সহিত জড়িত সকলের মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন। সম্পদের স্বল্পতার জন্য হাসপাতালের তরফ হতে সকলকে মাস্ক সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য সকলকে নিজ উদ্যোগে মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো।

করোনার নিরাপত্তাসামগ্রী নেই, চিকিৎসকদের উদ্বেগ

২১ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

মাগুরা জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে রোগী দেখছিলেন চিকিৎসক অমর প্রসাদ সাহা। তাঁর টেবিল ঘেঁষে বসা কয়েকজন রোগী। তাদের কারও জ্বর, কারও সর্দিসহ অন্যান্য সমস্যা। এই চিকিৎসকের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বলতে মুখে শুধু মাস্ক। তা–ও নিজের টাকায় কেনা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রী বা পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্টের (পিপিই) অভাবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।

মাগুরায় সর্দি, কাশি ও জ্বরের চিকিৎসা দেওয়া হলেও বেশির ভাগ জেলায় এ ধরনের রোগীদের হাসপাতালে সেবা দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের হাসপাতালে না এসে ফোনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে। এ জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে ভোলার মনপুরা উপজেলায়। আরও কয়েকটি জেলায় নানাভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তুতির কথা বলা হলেও সারা দেশের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকেরাই নিজেদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। রাজবাড়ী, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলায় কিছু নিরাপত্তাসামগ্রী পৌঁছালেও এর ব্যবহার শুরু হয়নি। আর কয়েকটি জেলা থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা বরাদ্দ পেয়েছেন বলে জেনেছেন। কুরিয়ারে সরঞ্জাম পাঠানো হলেও এখনো পৌঁছায়নি।

গতকাল শুক্রবার ঢাকার বাইরে দেশের ৫৫টি জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। কথা বলেছেন ১৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সঙ্গেও। বেশির ভাগ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাসামগ্রী না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।…

করোনা পরীক্ষায় প্রয়োজন পড়েছিল তদবিরের

মার্চ ২২, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশে নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগের জনের মতোই তার পরিচয়ও গোপন রেখেছে সরকার। তবে বণিক বার্তার পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারা যাওয়া ব্যক্তি ঢাকার একটি সরকারি মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই মৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হলো না।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যাওয়া এ ব্যক্তির মরদেহ গতকাল সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দাফন করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা এ শিক্ষাবিদের চিকিৎসা, মৃত্যু ও দাফন-সংক্রান্ত সব তথ্য বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন তার নিকটাত্মীয়রা।

অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রায় ১০ দিনের রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে ওই শিক্ষাবিদের পরিবার থেকে। একই সঙ্গে উঠে এসেছে করোনা নিয়ে সরকারি অব্যবস্থাপনার চিত্রও। তার পরিবারের অভিযোগ, বহু চেষ্টা করেও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) থেকে করোনা পরীক্ষার সুযোগ পাননি আক্রান্ত ব্যক্তি। পরে উচ্চপর্যায়ের তদবিরেই করোনা পরীক্ষার সুযোগ মিলেছিল আক্রান্তের। করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পরের দিনই বরেণ্য ওই শিক্ষাবিদের মৃত্যু হলো।

করোনা-আক্রান্তদের চিকিৎসায় সব হাসপাতাল প্রস্তুত নয়

২৪ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

‘সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই হাসপাতালে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে। এখনো হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হয় নাই। সুতরাং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অথবা করোনাভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহভাজন রোগীদেরকে সরকারঘোষিত অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হইল।’

‘জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে’ ওপরের এই বিজ্ঞপ্তিটি সাঁটানো হয়েছে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রধান ফটকে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে যে কয়টি হাসপাতাল সরকার নির্ধারণ করেছে, এ হাসপাতালটি তার একটি।

রাজধানীতে এখন মূলত কুয়েত–বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা হচ্ছে। এর বাইরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, রেলওয়ে হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, মিরপুর লালকুঠি হাসপাতাল, রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা ও মিরপুর এবং যাত্রাবাড়ীর সাজিদা ফাউন্ডেশনে করোনা–আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দুটির প্রস্তুতি প্রাথমিক পর্যায়ে, আরেকটি মোটামুটি প্রস্তুত। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেগুলোও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুতিতেই ঘাটতি ছিল অনেক

২৪ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চলতি বছরের জানুয়ারিতেই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কৌশল ঠিক করে দিয়েছিল, সতর্কও করেছিল। তখন থেকে টানা তিন মাস সময় পায় বাংলাদেশ। এখন এসে চিকিৎসা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় অংশ মনে করছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিপদ আঁচ করতে পারেনি। সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে বলা হলেও পরিস্থিতি যত খারাপ হচ্ছে, প্রস্তুতির ঘাটতিও পরিষ্কার হয়ে উঠছে।

জানা গেছে, যেকোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগী শনাক্তের কিছু নিয়মকানুন ঠিক করে দেয়। কোথাও সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়লে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) র‍্যাপিড রেসপন্স টিমকে সতর্ক করে। তারা ওই রোগের উপসর্গ আছে—এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয় এবং হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসার প্রথম স্তরে থাকে ‘ট্রায়াজ’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি হাসপাতালে একটি করোনা কর্নার স্থাপন করার কথা। শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ নিয়ে রোগীরা সেখানে এলে চিকিৎসকেরা সম্ভাব্য রোগী শনাক্তের পর তাঁদের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের সংক্রমণ থামানো এবং নমুনা সংগ্রহ করে রোগী সত্যিই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, শনাক্তকরণ ও ট্রায়াজ ব্যবস্থা থাকলে টোলারবাগের ঘটনা ঘটত না। শুধু রোগ শনাক্ত না হওয়ায় টোলারবাগের মৃত মাদ্রাসা অধ্যক্ষ নিজে ভুগেছেন, অন্যকে সংক্রমিত করেছেন। জানা গেছে, টোলারবাগের প্রথম রোগীর করোনা শনাক্ত হয় শুক্রবার, আর তিনি শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় মারা যান হাসপাতালে। আর তাঁরই এক প্রতিবেশী, যাঁকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রোববার সন্ধ্যায় মৃত ঘোষণা করা হয়, তাঁর নমুনাই সংগ্রহ করা হয় ওই দিন সকালে। ডেলটা হাসপাতালের অপর একজন চিকিৎসক এখন সংক্রমিত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন, পরিচালক বদরুজ্জামান আছেন কোয়ারেন্টিনে। অভিযোগ আছে, মানুষ উপসর্গ নিয়েও পরীক্ষা করাতে পারছেন না।

ঢাকায় এসেও করোনার পরীক্ষা করাতে পারছেন না রাজশাহীর নার্স

২৫ মার্চ ২০২০,

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা রাজশাহীর নার্সের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় আনা হয়েছে। তবে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়নি।

মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালককে প্রত্যাহার

মার্চ ২৫, ২০২০, বণিক বার্তা

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকলেও সম্পদের স্বল্পতায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক সরবরাহ করা যাচ্ছে না জানিয়ে নোটিশ দেওয়ার চার দিন পর হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্শেদ রশীদকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

করোনাভাইরাস: ফেইসবুকে লিখে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

২৫ মার্চ ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ‘সমন্বিত উদ্যোগের’ মধ্যে এনিয়ে ফেইসবুকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য ও ছবি পোস্ট করায় বরখাস্ত হয়েছেন সরকারি কলেজের দুইজন শিক্ষক।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকিয়া ফেরদৌসী এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাহাদাত উল্লাহ কায়সারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বুধবার আদেশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে বললেন হাইকোর্ট

মার্চ ২৫, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখতে বলেছেন হাইকোর্ট। করোনা পরীক্ষার ল্যাব স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে বুধবার (২৫ মার্চ) বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন কূটনীতিকরা

মার্চ ২৬, ২০২০, বণিক বার্তা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কূটনীতিকদের। সেই সঙ্গে অনাস্থা রয়েছে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নিয়ে। এ প্রেক্ষাপটে পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী কূটনৈতিক মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা। ঢাকার বিভিন্ন দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মাস্ক না পরায় কান ধরে উঠবস

মার্চ ২৬, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

মাস্ক না পরে রাস্তার বের হওয়ার কারণে রাজবাড়ী জেলায় পথচারীদের কান ধরে উঠবস করাতে দেখা গেছে। পুলিশ বলছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও জনসচেতনতা বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কঠোর অবস্থানে যাওয়ার অংশ হিসেবে প্রশাসন এ কাজ করেছে।

চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে সুরক্ষা উপকরণ নেওয়ার অভিযোগ চবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

২৬ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো অনলাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এক শটি গ্লাভস, ২৭ বোতল স্যানিটাইজার ও ১০টি মাস্ক জোর করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় চিকিৎসা কেন্দ্রের গুদাম থেকে সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী এসব নিয়ে যান।

কোথাও কোনো কাজ নেই দিশেহারা শ্রমজীবী মানুষ

২৭ মার্চ ২০২০, সমকাল

কাজ নেই, আয়-রোজগার নেই। খরচ আছে। যারা দিন আনে, দিন খায়; কাজ না করলে একদিনও চলে না, তারা এখন দিশেহারা। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জনসমাগম বন্ধে পুলিশের কড়া পাহারা চলছে রাজধানীর সর্বত্র। ফলে বেকার হয়ে পড়েছে স্বল্প আয়ের অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। হাত গুটিয়ে বসে আছে তারা। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। কোথাও কাজ নেই। এ পরিস্থিতিতে পেটে ভাত জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বুধবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেকার হওয়া সাধারণ মানুষের দুর্দশার চিত্র নজরে এসেছে। শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার, ঠেলাগাড়ি চালক, রিকশাচালক, মিন্‌তি, ফড়িয়া, কয়ালরা চরম সংকটের মাঝে দিন কাটাচ্ছে। প্রত্যক্ষ করা গেছে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারকে কঠোর হতে হচ্ছে। কোনোভাবেই জনসমাগম না করা, সবকিছু বন্ধ করা, লকডাউন হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষেরা এখন বেকার। এই সংকটকালে তাদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তরা বিদ্যমান সংকটের ধকল সামলাতে পারলেও সীমিত আয়ের মানুষেরা হয়ে পড়েছে উপায়হীন।

২৪ ঘণ্টায় ৩৪৫০ কল, নমুনা সংগ্রহ মাত্র ৪২!

২৮ মার্চ ২০২০, সময় নিউজ টিভি

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৫০ কল পেয়েছে আইইডিসিআর। যার প্রত্যেকটি কলই করোনা সক্রান্ত বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা। তবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪২ জনের বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত আইইডিআর ১০৬৮ টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে।

বাধার মুখে বন্ধ আকিজের করোনায় আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের কাজ

২৮ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় আকিজ গ্রুপের হাসপাতাল নির্মাণের কাজে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর ও কিছু মানুষ। আজ শনিবার বেলা একটার দিকে শ দুয়েক মানুষ এসে কিছুক্ষণ অবস্থান নেন এবং প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার পর হাসপাতাল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই হাসপাতাল নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতাল নির্মাণে বাধার কথা তিনি শুনেছেন। আকিজ গ্রুপের লোকেরা তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিল এটা করাচ্ছেন। তিনি গুজব তৈরি করে লোকজন জড়ো করে এটা করছেন।

করোনা সংক্রমণের মধ্যে ডেঙ্গুর আনাগোনা

২৮ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

ডেঙ্গু ও এডিস মশা। গত বছর দেশের মানুষের কাছে আতঙ্ক ছিল এই দুটি শব্দ। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ লোক প্রাণ হারিয়েছে। আর সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯। এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা কম। তবে গত বছরের প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ গতবারের চেয়ে বেশি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ছিল ৭৩ জন। চলতি বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশে এ রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৬৯ জন।

শ্রমজীবী মানুষেরা কোথায় যাবেন

২৯ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

“বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৭) অনুযায়ী, দেশের ৮৫ শতাংশ কর্মজীবী লোক এমন অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। দেশে মোট ৬ কোটি ৮ লাখ লোক মজুরির বিনিময়ে কোনো না কোনো কাজে আছেন। এর মধ্যে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৪ হাজারই এমন অনানুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ (কাজের নিশ্চয়তা নেই) কাজ করেন। অন্য ব্যক্তিরা অনানুষ্ঠানিক খাতের। করোনায় অবশ্য তাঁদের জীবিকাও হুমকিতে আছে।

দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমজীবী লোকের মধ্যে কৃষি খাতে আছেন ২ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার নারী-পুরুষ। শিল্প খাতে ১ কোটি ১১ লাখ ৬৮ হাজার লোক কাজ করেন। আর সেবা খাতে আছেন ১ কোটি ৭০ লাখ লোক।

এই অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীরা তৈরি পোশাক কারখানা কিংবা অন্য কোনো রপ্তানি খাতের কলকারখানার মতো প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন না। ওই সব রপ্তানিমুখী কারখানার শ্রমিকদের জন্য সরকার বেতন–ভাতার ব্যবস্থা করলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য আপাতত কোনো ঘোষণা নেই।…

করোনার ক্ষতি কাটাতে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। এই তহবিলের অর্থ দিয়ে কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে। কিন্তু রিকশা-বাসচালক ও সহকারী, দোকানের সহকারী, হোটেল-রেস্তোরাঁর কর্মীদের মতো অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীদের জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ নেই।”

অ্যাম্বুলেন্সে ১৬ ঘণ্টায় ৬ হাসপাতালে ছোটাছুটি, অতঃপর বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু

২৯ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল মো. আলমাছ উদ্দিনের। আগেও একবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। চিকিৎসকদের কাছে ছবি পাঠানোর পর তাঁরা জানিয়েছিলেন লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে আবারও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বাবা আলমাছ উদ্দিনকে নিয়ে সন্তানেরা পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরেছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিকিৎসা ছাড়াই আজ রোববার সকালে মারা যান তিনি।

ছুটি পাননি দেশের ১৬৬ চা বাগানের শ্রমিক

মার্চ ৩০, ২০২০, বণিক বার্তা

ছুটি না মেলায় করোনা আতঙ্কের মধ্যেও নিয়মিত কাজে যেতে হচ্ছে দেশের ১৬৬টি চা বাগানের প্রায় দেড় লাখ শ্রমিককে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকার ঘোষিত ছুটি চান এসব শ্রমিক। কিন্তু ছুটি দেয়া হলে বেতন-ভাতা পরিশোধের বাধ্যবাধকতার অজুহাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাগান মালিকরা।

জীবন যে আর চলে না বাহে!

৩০ মার্চ, ২০২০, দেশ রুপান্তর

‘বাপজান আর কয়দিন সউগ (সব) কিছু বন্দ (বন্ধ) থাকবে। এ্যাদোন করি চললে না খায়া (খেয়ে) মরা খাইবে।’ আদিতমারী উপজেলা সদরের বুড়ির বাজারে গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে রিকশাচালক চান মিয়া (৫৫) তার কষ্টের কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, এক দিন বিকশার প্যাডেল না ঘোরালে পেট চালাতে কষ্ট হয়। আর এ অবস্থায় রিকশা নিয়ে বের হলেও মানুষের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কেমন করে বন্ধের দিনগুলো চলবে, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে পেশায় এ ধরনের দিনমজুরদের সঙ্গে কথা বললে তাদের অবর্ণনীয় দুঃখ গাথার চিত্র ফুটে উঠেছে। বুড়ির বাজারে ভ্যানচালক আবদুস ছালামের (৪২) সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, চারজনের সংসারে এক দিন ভ্যান না চালালে চুলায় হাঁড়ি উঠে না। আর গত চার দিন ধরে ভ্যান চালাতে না পেরে কী যে কষ্ট, তা বোঝাতে পারব না। ধার-দেনা করে চলছেনা।

এবার না খেয়ে মরতে হবে!

৩০ মার্চ, ২০২০, দেশ রুপান্তর

স্বপন দেব (৫৫)। আখাউড়ার প্রাণকেন্দ্র সড়ক বাজারের একটি চায়ের দোকানে ৩০০ টাকা হাজিরায় কাজ করতেন তিনি। ওই টাকায় কোনো রকমে চারজনের সংসার চালাতেন। করোনাভাইরাসের কারণে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বপন এখন গৃহবন্দি। কাজকর্ম বন্ধ হয়ে পড়ায় তার সংসারে চলছে হাহাকার। রোজগার না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ছেলেমেয়ে নিয়ে। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার দু’চোখে শুধু অন্ধকার দেখছেন স্বপন। সাহায্য তো দূরের কথা, গত তিন দিনে স্বপনদের খোঁজ নেয়নি কেউ। মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্বপনরা।

এক কেজি শসার দাম ৫০ পয়সা, দিশেহারা কৃষক

মার্চ ৩০, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

বাজারে একটা মোটামুটি মানের মাস্কের দাম গড়ে ৪০ টাকা। আর ৫২ কেজি ওজনের এক বস্তা শসার দাম পাইকাররা বলছেন মাত্র ৩০ টাকা। তাও কিনতে চাইছেন না অনেকেই। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসায় হঠাৎ করেই এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পড়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের শসাচাষিরা। দর নামতে নামতে কেজি প্রতি মোটে ৫০ পয়সা হওয়ায় এক বস্তা শসা বেচেও একটা মাস্ক কিনতে না পারার এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নজর দাবি করে দুই  শতাধিক কৃষক মানববন্ধন করেছেন।

করোনার প্রভাব: পানির দামে দুধ

৩১ মার্চ ২০২০, সমকাল

করোনার প্রভাবে সারাদেশের দুগ্ধ খামারে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বড় খামারিরা বিকল্প ব্যবস্থায় সামান্য হলেও দুধ প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে প্রান্তিক খামারিরা করোনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ গাভি বিক্রি করে দিচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দিনে অন্তত ৯০ কোটি টাকার দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে বলে জানাল বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ)। চলমান অবস্থা এক মাস থাকলে দুগ্ধ খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

পোলট্রি খাতে দিনে ক্ষতি শতকোটি টাকা

৩১ মার্চ ২০২০, সমকাল

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপক সংকটে পড়েছে দেশের অন্যতম শিল্প খাত পোলট্রি। পুষ্টির চাহিদা মেটাতে প্রধান উৎস মুরগি ও ডিম উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পোলট্রি খাদ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো, পরীক্ষাগার বন্ধ থাকায় আমদানি করা পোলট্রি ফিডের কাঁচামাল সরবরাহ হচ্ছে না। পর্যাপ্ত পোলট্রি খাদ্য সরবরাহ না থাকায় খামারিরা মুরগি ও ডিম বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে বাজারে চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম কমেছে।

নানা গুজবের কারণেও এ পণ্যের চাহিদা কমেছে। এতে মাংস ও ডিম অবিক্রীত থাকছে ৬০-৭০ ভাগ। ফলে নতুন করে খামারিরা মুরগির বাচ্চা তুলছেন না। হ্যাচারিগুলোর উৎপাদন করা এক দিন বয়সের মুরগির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে না। এমনকি ফ্রি দিলেও তা নিতে চাচ্ছে না। এসব কারণে পোলট্রি খাতে প্রতিদিন শতকোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন এ খাতের সংগঠনগুলোর নেতারা।

মার্চে শ্বাসতন্ত্রে আক্রান্ত রোগী ১৪ গুণ বেশি

৩১ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

চার বছরের মধ্যে এই মৌসুমেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য তা–ই বলছে। শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই) বলতে সর্দি–কাশি, গলাব্যথা থেকে শুরু করে ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কুইলাইটাস ও নিউমোনিয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে।

নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, এ বছরের মার্চে গত বছরের মার্চের তুলনায় এআরআইতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৯৩০। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮২০, ২০১৮ সালে ১০১০ এবং ২০১৭ সালে ১৪১ জন। একইভাবে দেখা যাচ্ছে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এআরআইতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৯৫০, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৪৬০। এর এক মাস আগে অর্থাৎ জানুয়ারিতে রোগীর সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৬৪১। গত বছরের জানুয়ারিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫২০।

শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশিসহ নানা উপসর্গ: বিভিন্ন স্থানে ১৩ জনের মৃত্যু

৩১ মার্চ ২০২০, যুগান্তর

দেশের বিভিন্ন স্থানে রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত শ্বাসকষ্ট, সর্দি ও গলাব্যথাসহ নানা রোগে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে- এ সন্দেহে কয়েকজনের বাড়িসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

কর্মহীন প্রায় দুই কোটি দিনমজুর

মার্চ ৩১, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। সবকিছু থমকে থাকায় কাজে বের হতে পারছেন না কুলি-মুটে, নির্মাণ ও আবাসন শ্রমিকসহ সব ধরনের দিনমজুর।

দেশে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত। অনানুষ্ঠানিক খাতের বড় একটি অংশই দৈনিক, চুক্তিভিত্তিক মজুরি এবং নিয়োগপত্র ছাড়াই কাজ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক কাজ করছেন মুদি কিংবা বিভিন্ন দোকানে। এর পাশাপাশি পরিবহন, বন্দর, নির্মাণ ও আবাসন এবং হাটবাজার শ্রমিক রয়েছেন। সব মিলিয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন প্রায় দুই কোটি শ্রমিক, যারা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

চার হাসপাতাল ঘুরে মারা গেলো রিফাত, ভর্তি নেয়নি কেউই

মার্চ ৩১, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের স্কুলছাত্র রিফাত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরের দিকে তার শারীরিক সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ একে একে ৪টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়। কিন্তু কেউ তাকে ভর্তি নেয়নি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় রিফাত মারা যায়।

মোড়ে মোড়ে সাহায্য প্রত্যাশীদের অপেক্ষা

এপ্রিল ০১, ২০২০ , বাংলা ট্রিবিউন

আছমা থাকেন রায়েরবাজার। স্বামী তাকে ছেড়ে গেছেন দুই বছর। ভাঙারি জিনিসপত্র কুড়িয়ে এনে বিক্রি করতেন। এতে যা সামান্য টাকা আসতো, তা দিয়ে পাঁচ ও সাত বছরের দুই ছেলেকে নিয়ে চলাই ছিল মুশকিল। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ হলো, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণের বাইরে বের হওয়াতে জারি হলো নিষেধাজ্ঞা। এতে ‘দিন এনে দিন খাওয়া’ আছমার উপার্জন বন্ধ হয়ে গেলো একেবারেই।

২৬ মার্চ থেকে সবকিছু বন্ধ হওয়ার পর দুদিন কোনও রকম সংসার চললেও এখন আর চলছে না। বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন আছমা সাহায্যের প্রত্যাশায়। মঙ্গলবার পান্থপথ সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে এমন আশাতেই তিনি বসেছিলেন। শুধু তিনিই নন, সাহায্য পাওয়ার আশায় এমন আরও অন্তত ত্রিশজনের দেখা মিললো সেখানে।

করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যু

০১ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা গেছেন আরও ১৩ জন। এর মধ্যে ঢাকায় দুই, সাতক্ষীরায় এক, শরীয়তপুরে এক, পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে এক, নড়াইলে এক, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এক, রাজবাড়ীতে এক, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় এক, ফেনীতে এক, বগুড়ায় এক এবং নাটোরে দু’জন রয়েছেন।

ঝুঁকিতে ছিন্নমূল মানুষ

০১ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও রাজধানীর গুলশান, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, সায়েন্সল্যাব, টিএসসি, নিউমার্কেট, মগবাজার, হাতিরঝিল, পল্টন, কাকরাইল ও কমলাপুর এলাকার বেশির ভাগ ছিন্নমূল মানুষের ঠিকানা ফ্লাইওভার কিংবা ছাউনির নিচে। কেউ কেউ থাকছে মার্কেটের পাশে কিংবা ফুটপাতে। সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও নির্বিকার এই বাস্তুহারারা। পেটের চিন্তায় আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগও নেই তাদের।

চেম্বার-ডায়াগনসিস বন্ধ, রোগীদের দুর্ভোগ চরমে

২ এপ্রিল ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে চেম্বারে বসছেন না অনেক চিকিৎসক এবং অনেক জায়গায় টেকনিশিয়ানরা কর্মস্থলে না থাকায় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও বন্ধ আছে বলে প্রায় রোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছে।

করোনায় পেশা ও ব্যবসায়ের ধরন বদলাচ্ছে

০১ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

প্রায় ২০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ নগরে রংমিস্ত্রির (ভবন রঙের) কাজ করে আসছিলেন বজলুর রহমান (৪৭)। দৈনিক ও চুক্তি ভিত্তিতে কাজ। সেই আয়ে স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে কোনো রকমে খেয়েপরে দিন কাটছিল। তবে করোনাভাইরাসের প্রকোপে নগরজীবন থমকে যাওয়ার সঙ্গে বজলুরের কাজও থেমে গেছে। ঘরে বসে থাকলে পেট চলে না। বাঁশের টুকরিতে বোম্বাই মরিচ নিয়ে তাই নেমে এসেছেন শহরের পথে। রংমিস্ত্রি বজলুর এখন নারায়ণগঞ্জ শহরে মরিচের ফেরিওয়ালা।

করোনায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে প্রিয়জনদের নিয়ে টিকে থাকার প্রয়োজনে নিজের পেশা বদল করেছেন বজলুর রহমান। বজলুরের মতো এমন অনেক শ্রমজীবী নিজেদের পেশা এবং ব্যবসায়ের ধরন পাল্টে টিকে থাকার লড়াই করছেন।

ফুলবাড়িয়ায় তিনশ’ কোচ-বর্মণ পরিবারে চরম খাদ্য সংকট

০১ এপ্রিল ২০২০, সমকাল  

জন্মের পর থেকেই মায়ের বুকের দুধ পাচ্ছে না ছয় মাসের অঙ্কিতা। বাধ্য হয়ে কৌটার দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। বাবা পাইলট চন্দ্র বর্মণ এখন দুধ কোথায় পাবেন- কাজ নেই, টাকাও নেই। সামান্য চালের সুজি খাইয়ে কোনোমতে বাঁচিয়ে রেখেছেন শিশুটিকে। টাকার জন্য বাবা হন্যে হয়ে ঘুরছেন, আর চোখের পানি ফেলছেন মা রত্না চন্দ্র বর্মণ।

এই পরিবারের মতো ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ৩০০ কোচ-বর্মণ পরিবারে ১২০০ মানুষের একই অবস্থা। চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার এই মানুষগুলো। সরকারি সাহায্য তো দূরের কথা, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন কেউ তাদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। সরেজমিন উপজেলার রাঙামাটি ইউনিয়নের বাবুলের বাজার, কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ গ্রাম, এনায়েতপুর ইউনিয়নের দুলমা গ্রাম, বাক্তা এবং পুটিজানা ইউনিয়নের কোচ-বর্মণপাড়ায় গিয়ে এমন অবস্থা দেখা গেছে।

বগুড়ায় সবজি পচছে জমিতে, নষ্ট হচ্ছে দুধ

০২ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

বগুড়ায় সবজি ও দুধ নিয়ে বিপাকে কৃষক। এ দুটি পণ্য সংরক্ষণ করা যায় না। করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও শহরে ক্রেতা নেই। এ কারণে ট্রাক চলাচলও সীমিত হয়ে গেছে। যথাসময়ে পরিবহন না করায় সবজি জমিতেই পচছে; দুধ বিক্রি করতে না পারায় তা নষ্ট হচ্ছে।

সব উপজেলায় করোনা টেস্টের নির্দেশ দেননি প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুঃখ প্রকাশ

এপ্রিল ০৩, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

দেশে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রতি উপজেলা থেকে অন্তত দুটি করে নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার পরিচালক হাবিবুর রহমান এ কথা জানিয়েছিলেন। তবে ওই তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে অধিদফতর। বৃহস্পতিবার   রাত নয়টায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

ত্রাণ না পেয়ে নষ্ট ভাত শুকাচ্ছেন, চাল হলে রান্না করবেন ভিক্ষুক

০৩ এপ্রিল ২০২০, জাগোনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম

৭০ বছরের বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম। থাকেন নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া বিহারি কলোনি মহল্লার ছোট যমুনা নদীর গাইড ওয়াল-সংলগ্ন সরকারি জমিতে। সেখানে ঝুপড়ি ঘরে গত কয়েক বছর ধরে বসবাস করছেন তিনি। স্বামী নুরু মিয়া মারা গেছেন ২৫ বছর আগে। মেয়ের বয়স যখন আট মাস তখন স্বামী মারা যান। বিভিন্ন জনের বাড়িতে কাজ করে জীবন চলত তার। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর এখন একা থাকেন। বয়স হয়ে যাওয়ায় এখন আর কাজ করতে পারেন না। ভিক্ষা করে দিন চলে তার।..

বৃদ্ধা সাবিয়া বেগম বলেন, গতকাল রাতে এক প্রতিবেশী ভাত দিয়েছেন। রাতে কিছু খেয়ে রেখে দিয়েছি। সকালে দেখি ভাত নষ্ট হয়ে গেছে। ওই নষ্ট ভাত পানিতে পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে দিয়েছি। ভাত শুকিয়ে চাল হলে পরে রান্না করে খাব। গতে কয়েকদিন থেকে ঘরে বাইরে যেতে পারিনি। ঘরে কোনো খাবার নেই আমার। খুব কষ্ট করে চলছি। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।

একই কলোনির বিলকিস, চেলি ও নাইচ বেমগ বলেন, কলোনিতে যারা বসবাস করে এদের কেউ স্বামীহারা, কারও স্বামী অসুস্থ, কেউ রিকশা ও ভ্যানচালক। করোনা আসার পর থেকে আমাদের গজব শুরু হয়েছে। মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবন চলত। এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ। শুনতেছি বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ দেয়। কিন্তু আমাদের মহল্লার কেউ তো পেল না। খুব কষ্ট করে চলছি আমরা।

বেসরকারি হাসপাতালের ফটকে ঝুলছে ক্লোজ

এপ্রিল ০৪, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

৬৭ বছরের নাজমা বেগম ক্যানসারে আক্রান্ত। পেটে পানি জমার কারণে চিকিৎসক তাকে আলট্রাসাউন্ড করতে বলেন গত ২৪ মার্চ। সেদিন থেকে অনেক হাসপাতাল ঘুরে পরিচিতজনের সুবাদে অবশেষে তার আলট্রাসাউন্ড হয়েছে গত ২ এপ্রিল। তার মতো অনেক রোগীই বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারাত্মক সংকটে পড়ছেন। মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না। সেজন্য অধিকাংশ হাসপাতালই রোগীশূন্য। রোগীদের প্রবেশেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। কোথাও লেখা রয়েছে ‘ক্লোজ’। ঘোষণা না থাকলেও কার্যত বন্ধই রয়েছে এসব হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা।    

গার্মেন্টস খুলছে: ময়মনসিংহ থেকে হেঁটে ঢাকার পথে কয়েকশ শ্রমিক

৪ এপ্রিল, ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

দেশে গণপরিবহন বন্ধের মধ্যে শনিবার কিছু গার্মেন্টস কারখানা খোলার কথা থাকায় ময়মনসিংহ থেকে হেঁটে ১১২ কিলোমিটার দূরের ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন হাজারো শ্রমিক। শুক্রবার সকাল থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাজারো গার্মেন্টস শ্রমিককে ঢাকার দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যে ট্রেন-বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নিজের দুটি পা ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পাননি তারা-তার উপর ভরসা করেই পাড়ি দিতে নেমেছেন দীর্ঘপথ।

বাংলাদেশে প্রতি লাখ মানুষের জন্য আইসিইউ বেড ০.৭টি

এপ্রিল ০৪, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে সেই সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কা। সরকার তার সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ঢাকার বাইরে আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশে জনসংখ্যার অনুপাতে আইসিইউ বেডের সংখ্যা প্রতিবেশী দেশ ভারত কিংবা পাকিস্তান, এমনকি নেপালের চেয়েও অনেক কম।

কিছু দিন আগে দেশে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ব্যাপারে জানাতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিদেশ থেকে এরই মধ্যে আড়াই শ ভেন্টিলেটর মেশিন দেশে এসেছে। আরও সাড়ে তিন শ ভেন্টিলেটর আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। অনেক বড় বড় দেশেও এতোগুলো ভেন্টিলেটর থাকে না। এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখা যায়, জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশের আইসিইউ বেডের সংখ্যা ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা বা মিয়ানমারের চেয়ে কম। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ লোকের জন্য রয়েছে শূন্য দশমিক সাতটি বেড, যেখানে ভারতে এই সংখ্যা দুই দশমিক তিন। আর উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে হতাশা শুধুই বাড়বে।

মাঠেই লবণ ফেলে যাচ্ছেন কক্সবাজারের কৃষক

এপ্রিল ০৪, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমুখী। কভিড-১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর কারখানা বন্ধ ও পরিবহন সংকটে লবণের দাম নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্নে। বিক্রি না হওয়ার পাশাপাশি লোকসানে পড়ে দায়-দেনা এড়াতে মাঠে লবণ ফেলে যাচ্ছেন কৃষকরা। সংকট থেকে উত্তরণে অনেকে মজুদ করে অপেক্ষার পরামর্শ দিলেও কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন চরম সংকটে দিন পার করছেন। 

খাবারের জন্য মোড়ে মোড়ে অপেক্ষা

এপ্রিল ০৪, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের পরিবারের অনেকেই খাদ্যসামগ্রীর জন্য নগরীর মোড়ে মোড়ে অবস্থান করছেন। এসব খেটে খাওয়ার মানুষের সবার চোখেমুখে মলিনতা। মাঝে-মধ্যে বিত্তবানদের কেউ কেউ কিছু খাদ্যসামগ্রী তাদের মাঝে বিতরণ করছেন। আবার কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কিছুই পাচ্ছেন না। শনিবার (৪ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

করোনা উপসর্গে মৃত্যু আরও ১০ জনের

০৫ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার থেকে গতকাল শনিবারের মধ্যে তারা মারা গেছেন। আইসোলেশনে আছেন ছয়জন। এরই মধ্যে মারা গেছেন এবং উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৯টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। ৩০ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা উপসর্গে এ নিয়ে মোট ৫০ জনের মৃত্যু হলো।

মাইকিং করে কারখানার গেট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো শ্রমিকদের

এপ্রিল ০৫, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাজে যোগ দেওয়ার জন্য দলে দলে কারখানার দিকে ছুটছেন শ্রমিকরা। কারখানার সামনে আসার পর জানতে পারেন ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ থাকবে। প্রতিটি গার্মেন্টস কারখানার গেটে মাইকিং করে শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কারখানা বন্ধ রয়েছে। তাই তাদেরকে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কোথাও আবার টানানো হয়েছে নোটিশ। এ অবস্থায় কাজে যোগ দিতে না পেরে কিছু সময় অপেক্ষা করে বাসায় ফিরে যান শ্রমিকরা। রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বেশ কিছু গার্মেন্টস ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

০৫ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে নতুন করে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তৈরি পোশাক খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন চারটিসহ পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

প্যাকেজ-১: ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল–সুবিধা দেওয়া, ব্যাংক–ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণসুবিধা প্রণয়ন করা হবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ঋণগ্রহীতা শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-২: ক্ষুদ্র (কুটিরশিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল–সুবিধা প্রদান: ব্যাংক–ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণসুবিধা প্রণয়ন করা হবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

প্যাকেজ-৩: বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো: ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি–সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। ইডিএফের বর্তমান সুদের হার LIBOR + ১.৫ শতাংশ (যা প্রকৃত পক্ষে ২.৭৩ %) থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

প্যাকেজ-৪: প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণসুবিধা চালু করবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫: এর আগে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা পরিশোধ করার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ল্যাব বাড়লেও নমুনা সংগ্রহে ঘাটতি

০৫ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

কোভিড–১৯ রোগের পরীক্ষাকেন্দ্রের (ল্যাবরেটরি) সংখ্যা বেড়েছে। সেই তুলনায় পরীক্ষার সংখ্যা বাড়েনি। কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার ১২ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ ও সরবরাহ বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে এখন ১৪টি কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৯টি ও ঢাকার বাইরে ৫টি কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে দৈনিক কমপক্ষে চার হাজার নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৩৪টি। দেশে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫৪৭ জনের কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম।

১০ টাকার চাল কিনতে উপচে পড়া ভিড়

০৬ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের দুস্থ, অসহায় ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার। গতকাল রোববার প্রথমদিনের মতো রাজধানীর মিরপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালবাড়ীর রূপনগর ঝিলপাড় বস্তি ও মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় এ চাল বিক্রি হয়েছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে এ চাল বিক্রি হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সংশ্নিষ্ট ওএমএস ডিলার এ চাল বিক্রি করেন। গতকাল নির্ধারিত সময়ের আগেই রূপনগরে ১০ টাকা দরে চাল নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

কমলগঞ্জে অসহায় শব্দকর সম্প্রদায়

৬ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী শব্দকর সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ের ৮০ শতাংশ লোক হতদরিদ্র ও দিনমজুর। করোনাভাইরাসের কারণে এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার কর্মহীন দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু গুটিকয়েক পরিবার বাদে অধিকাংশ পরিবারে জোটেনি সরকারি বা বেসরকারি খাদ্য সহায়তা।

মুন্সীগঞ্জে বেগুনের কেজি ২ টাকা

৬ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

করোনা আতঙ্কে পরিবহন ও দিনমজুর সংকটের মুখে রাজধানীর নিকটবর্তী মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে না পেরে লোকসানের কবলে পড়েছেন। জেলা শহর ও শহরতলীতে কৃষকরা এক কেজি বেগুন বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ২ থেকে ৪ টাকা দরে। আর কেজিপ্রতি টমেটো বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়। প্রতি কেজি করলা বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকা দরে।

ভাইরাসের চেয়ে ভাতের দুশ্চিন্তা বেশি

৬ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারের একটি নাশতার দোকান কামরুল হাসানের। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দোকানের সামনে বসে গল্প করছেন মলিন চেহারার দুই কর্মচারী। গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের দু-একটি দোকান বাদে সব বন্ধ।

পরোটা তৈরির কারিগর শরিফুল জানান, দোকানটিতে তারা দুজন কর্মচারী। এক বেলা কাজ করলে ৩০০ টাকা পান। ২৭ মার্চ সকাল থেকে দোকান বন্ধ, কাজও বন্ধ। দু-এক দিন পর দোকানের একটি শাটার খুলে কিছু বেচার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। আয়-রোজগার হয়নি। প্রথম দুদিন কোনো রকমে চলেছেন, কিন্তু এখন আর চলছে না। করোনাভাইরাসের চেয়ে তাদের এখন ভাতের দুশ্চিন্তা বেশি।

ঘরে চাউল নাই, পকেটে টাহা নাই

৬ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

‘ঘরে চাউল নাই, পকেটে টাহা (টাকা) নাই, ঘেরে (কাঁকড়া চাষের পুকুর) কাঁকড়া মরছে প্রতিদিন, হাটে (বাজার) বেচার উপায় নাই, রপ্তানিও বন্ধ। এহন মোরা খামু কী? হেরপর আছে এনজিও, ব্যাংকের ঋণ, দাদনের বোঝা। এ অবস্থায় মরা ছাড়া আর কোনো উপায় দেহি না।’ এভাবে নিজের সমস্যার কথা বলছিলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদোয়ানী ইউনিয়নের হোগলপাশা গ্রামের কাঁকড়াচাষি মনোজ ব্যাপারী। প্রতি বছর এ সময় কাঁকড়া বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতেন তিনি। এ বছর করোনাভাইরাসের প্রভাবে রপ্তানি বন্ধ থাকায় ঘেরেই মরে যাচ্ছে কাঁকড়া। তাই লাভ তো দূরে থাক খরচের টাকাও ওঠাতে পারবেন না তারা।

বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষের সময় ট্রাকচাপায় নিহত ২

৬ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

ময়মনসিংহের ভালুকায় মিলে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় মালিকপক্ষের হামলা ও ধাওয়ায় মহাসড়ক পার হয়ে পালানোর সময় ট্রাকের চাপায় দুই শ্রমিক নিহত হন।

প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি, সদুত্তর দিতে পারি না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

০৬ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো অনলাইন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু তিনি ঠিকঠাক জবাব দিতে পারছেন না। যদিও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের তরফে যে জাতীয় কমিটি করা হয়েছে সেটির প্রধান তিনি।

বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বৈঠকে জাহিদ মালেক নিজেই এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর গলায় ছিল হতাশার সুর। জাহিদ মালেক বলেন, ‘ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান আমাকে করা হয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে। যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে সেগুলো আমাদের নলেজে নাই। কখন ফ্যাক্টরি খোলা হবে, খোলা হবে কি না, মসজিদে কীভাবে নামাজ হবে সে বিষয়ে আলোচনা আমরা জানিনা। কখন রাস্তা খুলে দেবে বা বন্ধ করবে এসবও আমরা জানি না। স্বাস্থ্য বিষয় ছাড়া কোনো বিষয়ের আলোচনা হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজের প্রশংসায় বসুন্ধরার এমডি

০৭ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর।

শেখ হাসিনা ঘোষিত প্যাকেজকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বের যে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের গৃহীত ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত হিসেবে অভিহিত করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ট্রাক কাভার্ডভ্যান চালকদের দুর্দিন

০৭ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে পড়েছে দেশের উন্নয়ন সহযোগী পরিবহন খাত। দেশের বাজার অর্থনীতি ও পরিবহনের চাকা যারা সচল রাখেন সেই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, কার্গো ও পিকআপ ভ্যানের ৫৭ হাজার চালকের জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্দিন।

সাহায্য না পেয়ে সড়ক অবরোধ, ইউএনওর দাবি প্রচুর ত্রাণ আছে

এপ্রিল ০৮, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

ত্রাণ না পেয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কর্মহীন লোকজন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার ঢেলাপীর উত্তরা আবাসনের সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক অবরোধ করেন তারা। তবে উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তার দাবি, ‘প্রচুর ত্রাণ আছে। তাদের দেওয়া হবে।’

করোনাভাইরাস: অভাব সহ্য করতে না পেরে ভ্যানচালকের আত্মহত্যা

এপ্রিল ৮, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে অভাবে পড়ে ঝিনাইদহের মহেশপুরে উপজেলায় অহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক ভ্যান চালক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের ডালভাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ির আড়ায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। অহিদুল ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী এনজিও ও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালানো ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রাস্তায় বের হতে না পেয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তার আয়-রোজগার হচ্ছিল না। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি চলছিল।

সম্পূর্ণ লকডাউন নারায়ণগঞ্জে খাবারের জন্য বিক্ষোভ

এপ্রিল ০৮, ২০২০, বণিক বার্তা

নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরের হাজারখানেক মানুষ খাদ্য সহায়তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কাশিপুর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান আয়ুব আলী গত ১৫ দিনে কোনো খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেননি। তাদের অভুক্ত দিন গুজার করার অবস্থা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয়ায় কলেজ শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

৮ এপ্রিল ২০২০, মানবজমিন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, আইইডিসিআর’র পরিচালক ও বিজেএমই এর সভাপতিকে নিয়ে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ সম্পর্কিত আপত্তিকর পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ফেরদৌসী বেগম মিলি নামে এক কলেজ শিক্ষিকাকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে পটুয়াখালী পৌর শহরের কালিকাপুর এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আটক মিলি কলাগাছিয়া  সেকান্দার আলী চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

করোনা উপসর্গে মৃত্যু আরও ২১ জনের

০৯ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ২১ জন মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার তাদের মৃত্যু হয়েছে। আইসোলেশনে আছেন সাতজন।

সপ্তাহের বাজার করার টাকা নেই সাড়ে ৭ কোটি অ্যাকাউন্টে

৯ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

দেশের সাড়ে সাত কোটি ব্যাংক হিসাবে টাকা আছে মোটে ৪ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা। গড়ে প্রতিটি ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মোটে ৬১০ টাকা করে। এসব ব্যাংক হিসাবধারীর আর কোথাও জমানো টাকা না থাকলে বা আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হলে পরিবারের এক সপ্তাহের চাল-ডালও কিনতে পারবেন না তারা। এমনকি করোনাভাইরাস বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দূরের কোনো হাসপাতালে যাওয়া কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর খরচও মেটাতে পারবেন না তারা।

করোনার ধাক্কায় ঘরে খাবার নেই নিম্ন আয়ের ১৪ ভাগ মানুষের: ব্র্যাক

১০ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো অনলাইন

মানুষের উপার্জন ও খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলেছে করোনাভাইরাস। দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন ৮৯ শতাংশ মানুষ। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে এসব তথ্য উঠে আসছে।

আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক জানায়, দেশের ৬৪ জেলায় ২ হাজার ৬৭৫ জন নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করা হয়। গত ৩১শে মার্চ থেকে ৫ই এপ্রিলের মধ্যে এ জরিপ পরিচালিত হয়। ব্র্যাকের জরিপে বলা হয়, নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের পদক্ষেপের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে নেমে গেছেন। করোনাভাইরাসের পূর্বে আয়ের ভিত্তিতে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার নিম্নসীমার নিচে এবং ৩৫ শতাংশ ছিলেন দারিদ্র্যরেখার ঊর্ধ্বসীমার নিচে। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতে চরম দারিদ্র্য আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনা মহামারির আগে জরিপে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৬৭৫ জনের গড় আয় ছিল ১৪ হাজার ৫৯৯ টাকা। যাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছে এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর তাদের আয় কমেছে। মার্চ ২০২০ এ এসে তাদের গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৪২ টাকায়। অর্থাৎ তাদের পারিবারিক আয় ৭৫ শতাংশের মতো কমে এসেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম (৮৪ শতাংশ), রংপুর (৮১ শতাংশ) এবং সিলেট বিভাগের (৮০ শতাংশ) মানুষের আয় কমেছে সবচেয়ে বেশি।

সরকারি ছুটি বা সামাজিক দূরত্বের কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন বা তাঁদের কাজ কমে গেছে। ৮ শতাংশ মানুষের কাজ থাকলেও এখনো তারা বেতন পাননি। কৃষিকাজে সম্পৃক্তদের (৬৫ শতাংশ) তুলনায় অ-কৃষিখাতের দিনমজুর বেশি (৭৭ শতাংশ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৫১ শতাংশ রিকশাচালক, ৫৮ শতাংশ কারখানা শ্রমিক, ৬২ শতাংশ দিনমজুর, ৬৬ শতাংশ হোটেল/রেস্তোরাঁকর্মী জানান- চলতি মাসে তাঁদের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। ১৪ ভাগ মানুষের ঘরে কোনো খাবারই নেই। ২৯ শতাংশের ঘরে আছে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার।

সামাজিক দূরত্ব মেনে সড়ক অবরোধ

১০ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাসের বিস্তার মোকাবিলায় সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হলো বাসাবাড়ি থেকে বের না হওয়া। প্রয়োজনে বের হলেও মানুষে মানুষে ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় রাখা। এ নির্দেশনা মেনেই শুক্রবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের লোকজন কচুবাড়ি এলাকার ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়ক অবরোধ করে খাদ্যসামগ্রীর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

করোনাভাইরাস: গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দুই সপ্তাহে প্রায় ৫০ জন আটক

১০ এপ্রিল ২০২০,বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এপর্যন্ত প্রায় ৫০জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে মূল টার্গেট করে দুই সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চালাচ্ছে।

করোনাতেও ২২৬৪ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরি!

১০ এপ্রিল, ২০২০, কালের কণ্ঠ অনলাইন

.. .. এই করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই ত্রাণের চাল চুরি। চাল চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই বেশি জড়িত বলে অভিযোগ আছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে, অনেকেই পলাতক আছেন।

সারা দেশে গত ৯ দিনে অন্তত ২ হাজার ২৬৪ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিনের ব্যবধানে এই চাল চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে এ পর্যন্ত পাথরঘাটা উপজেলায় ৫৫০ বস্তা, বগুড়ায় ১০০ বস্তা, নাটোরে ১৩ বস্তা, জয়পুরহাটে ৭ বস্তা, যশোর ৮০ বস্তা, যশোরের মণিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা, ঝিকরগাছায় ১ বস্তা, নওগাঁয় ৩৩৮ বস্তা, বাগেরহাটে ১৮ বস্তা, পটুয়াখালীতে ১০ বস্তা, ঝালকাঠিতে ৫০ বস্তা, সিলেটে ১২৫ বস্তা, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৬ বস্তা, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৮৮ বস্তা, গাবতলী উপজেলায় ১০০ বস্তা, বগুড়ার শিবগঞ্জ ১৩ বস্তা চাল চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।

শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হাওরের হাজারো গৃহস্থ

১১ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

করোনাভাইরাসে যখন সারা দেশ আতঙ্কিত ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জে হাওরাঞ্চলে বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে অর্ধেকেরও বেশি বোরো জমির ধান পেকে গেছে। দেশে এমন পরিস্থিতিতে জেলার বাইরে থেকেও এ বছর কোনো ধান কাটার শ্রমিক আসছে না এখানে। ফলে জমির পাকা ধান নিয়ে শ্রমিক সংকটে পড়েছে এ অঞ্চলের হাজারো কৃষক। এদিকে আবার শিলাবৃষ্টি আর আগাম বন্যায় জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সব মিলিয়ে হাওরের কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শিশুর আত্মহত্যা খাবারের অভাবে

১১ এপ্রিল, ২০২০, কালেরকন্ঠ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় আফরোজা খাতুন (১০) নামে এক শিশু আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার বিকেলে গলায় ফাঁস নিয়ে নিজ বাড়িতে সে আত্মহত্যা করে। স্বজনরা দাবি করেছেন, কয়েকদিন ধরে অনাহারে পরিবারটি। খাবারের জন্য কান্নাকাটি করায় পিতা থমক দেন আফরোজাকে। তারপরই ঘটে আত্মহত্যার ঘটনা। খাবারের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে। আফরোজার পিতা আলম শেখ পেশায় তাঁত শ্রমিক। থাকেন কামারপাড়া ওয়াপদা বাঁধে। দুস্থ এ পরিবারটির সন্তান আফরোজা আত্মহত্যা করেছে মূলত ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে।

করোনা সংকটকালেও চাল চুরি

এপ্রিল ১২, ২০২০, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা

দেশ যখন করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় যুদ্ধ করতে ব্যস্ত, তখন কিছু জনপ্রতিনিধি ও ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ব্যবসায়ী অসহায় মানুষ ও ওএমএস প্রকল্পের চাল চুরিতে ব্যস্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন গত ১২ দিনে ২০টি উপজেলায় চাল চুরির অন্তত ২২টি ঘটনা প্রকাশ করেছে এবং ৫০ কেজির দুই হাজার ৮৩২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে।

এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১০ জনপ্রতিনিধিসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জনপ্রতিনিধি ছাড়া বাকীদের বেশিরভাগই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের আত্মীয়স্বজন।.. …

ত্রাণের টাকা আত্মসাৎ, হটলাইন অকার্যকর

১২ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। অসহায়-দরিদ্র মানুষ কাঙ্ক্ষিত ত্রাণ পাচ্ছেন না। আবার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে অনেক কাউন্সিলর পুরো টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করছেন। আবার অনেক ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণই পৌঁছেনি। এদিকে সামাজিক কারণে যারা প্রকাশ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে বিব্রত বোধ করছেন, তাদের জন্য হটলাইন চালু করা হলেও সেখানে ফোন করে কোনো সাড়া মিলছে না। হঠাৎ কেউ ফোন ধরলেও কখন ত্রাণ পৌঁছবে, তা জানানো হচ্ছে না।

ট্রাক আটকে সরকারি ত্রাণ নিয়ে গেলো হতদরিদ্ররা

এপ্রিল ১২, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

জামালপুর শহরের মুকন্দবাড়ি এলাকায় ট্রাক আটকে সরকারি ত্রাণের চাল ও আলু নিয়ে গেছে স্থানীয় কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষরা। রোববার (১২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। জামালপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশা জানিয়েছেন, রবিবার বেলা ১১টার দিকে সিংহজানী খাদ্য গুদাম থেকে ত্রাণের ৬শ’ প্যাকেট চাল ও ৬শ’ প্যাকেট আলু নিয়ে একটি ট্রাক বানিয়া বাজার আসছিল। শহরের মুকন্দবাড়ি এলাকায় কর্মহীন হতদরিদ্র নারী-পুরুষ মানুষ ট্রাক আটকিয়ে চাল ও আলু নিয়ে যায়।

ত্রাণের প্যাকেটে প্রধানমন্ত্রীর উপহার লেখার নির্দেশ

১২ এপ্রিল, ২০২০, ইত্তেফাক অনলাইন

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে সরকারের দেওয়া ত্রাণসামগ্রী ও শিশুখাদ্যের প্যাকেট বা বস্তায় ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে সকল জেলা প্রশাসকদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।

১ কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে মাসে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়ার সুপারিশ

১৩ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি পরিবারকে প্রতি মাসে আট হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সিপিডির সুপারিশ হলো, দেশের ১ কোটি ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ৯০ লাখ পরিবারকে দুই মাস এই টাকা দেওয়া যেতে পারে। তবে প্রণোদনার টাকা মাসভিত্তিক নয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সপ্তাহভিত্তিক পরিবারপ্রতি ২ হাজার টাকা করে দেওয়া উচিত।

আজ সোমবার সিপিডির ভার্চ্যুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই সুপারিশ করা হয়েছে। ‘সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা’ শীর্ষ এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সিপিডি বলছে, এভাবে প্রণোদনা দিলে দেশের ৬ কোটি ৮৪ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা যাবে। সিপিডি হিসাব করে দেখেছে, এসব দিন আনে দিন খাই মানুষকে আর্থিক প্রণোদনা দিলে সব মিলিয়ে ২৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা থেকে ২৯ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা লাগবে।

খুলনায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ

এপ্রিল ১৪, ২০২০, বণিক বার্তা

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খুলনার রূপসা উপজেলায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার বাংলা নববর্ষের দিন সকাল ১১টার দিকে রূপসা উপজেলার পূর্ব রূপসা বাজার পার্শ্ববর্তী আদর্শগলির নারী-পুরুষরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ করেন।

রংপুরে ত্রাণের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল

১৩ এপ্রিল, ২০২০, ইত্তেফাক

রংপুরের বিড়ি শিল্পনগরী হারাগাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে হারাগাছ ডিগ্রি কলেজের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

চট্টগ্রামে শ্বাসকষ্টের রোগীদের আইসিইউর জন্য ছোটাছুটি

১৪ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের করোনা চিকিৎসায় আইসিইউ আছে কাগজে কলমে। কিন্তু করোনা রোগীরা এই আইসিইউ–সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে চিকিৎসকেরা শেষ চেষ্টা করে দেখতে পারছেন না। চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল দৌড়াতে হচ্ছে।

বেতনের দাবিতে রাজধানীজুড়ে গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ

১৫ এপ্রিল ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

এপ্রিলের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মালিকরা মার্চ মাসের বেতন এখনও পরিশোধ না করায় নিরুপায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর আশুলিয়া, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা,মিরপুর, ভাষানটেক, শাহআলি, তেজগাঁও, মতিঝিল এলাকায় শতশত শ্রমিক বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামে।

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার টেস্ট সবচেয়ে কম বাংলাদেশে, মৃত্যুও বেশি

১৫ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসের টেস্টের হার বাংলাদেশে সবচেয়ে কম। আবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও এ দেশে বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ২২৮ জনের টেস্ট করা হয়েছে বাংলাদেশে, এ তথ্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। ওয়ার্ল্ডোমিটারের সাইটেও এ তথ্য উল্লেখ আছে। আক্রান্তের নিরিখে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর প্রতি ১০ লাখে এ দেশে টেস্টের সংখ্যা ৮০। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যুর সংখ্যা ০ দশমিক ৩ শতাংশ।

ভারতে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৩৮৭। প্রতি ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ১৭৭। আক্রান্তের নিরিখে মৃত্যু হয়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ মানুষের। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে ০ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৮৮। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০৭ জন। প্রতি ১০ লাখে টেস্টের সংখ্যা ৩৩২। আর আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২ শতাংশ। প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষের। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে তুলনামূলকভাবে উন্নত বলে গণ্য করা হয়। দ্বীপরাষ্ট্রটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৩, মারা গেছে ৭ জন। এ দেশে ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ২২৩। আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে মৃত্যুর হার ৩ শতাংশের খানিকটা বেশি।

এই ভয়াবহ ভাইরাস হিমালয়–কন্যা নেপালকে পর্যুদস্ত করতে পারেনি তেমন। দেশটিতে আক্রান্তের পরিমাণ ১৬। প্রাণহানির কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি। ১০ লাখ মানুষে টেস্টের সংখ্যা ২১৬। সাড়ে সাত লাখ মানুষের ছোট দেশ ভুটানে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ। এ দেশেও কোনো মৃত্যু নেই করোনায়। আর ১০ লাখে টেস্টের সংখ্যা ১ হাজার ৫১১।

শত শত দ্বীপের দেশ মালদ্বীপে আক্রান্ত হয়েছে ২১ জন। মাত্র প্রায় চার লাখ মানুষের এ দেশেও কোনো মৃত্যু নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে টেস্টের এ সংখ্যা সর্বোচ্চ, প্রতি ১০ লাখের হিসাবে ৫ হাজার ৩৬৩।

ডা. মঈনের মৃত্যু দেখিয়ে দিলো `কতটা অপ্রস্তুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়’

এপ্রিল ১৫, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, ডা. মঈনের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছে, প্রথম থেকে সব প্রস্তুত বলে আসা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনও কতটা অপ্রস্তুত।

ডা. মঈন উদ্দিন কোভিড পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন গত ৫ এপ্রিল। পরের দিনই তাকে সিলেটের শহীদ সামসুদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, সেখানে ভেন্টিলেটরসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা না থাকায় স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রতিবাদ, এই চিকিৎসকের আকুতি ও তার পরিবারের  দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরদিনই তাকে নিয়ে আসা হয় সিলেট থেকে ঢাকায়। ৯ এপ্রিল থেকে প্রথমে আইসিইউ ও পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাকে।

টেস্টিং কিট সংকট: চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষা ব্যাহতের শঙ্কা

১৫ এপ্রিল ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

টেস্টিং কিট সংকটে বন্ধ হয়ে যেতে পারে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের কোভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম। বিআইটিআইডি-এর ল্যাব ইনচার্জ ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে ১০০ টির মতো কিট রয়েছে, যেগুলো দিয়ে আজকের (১৫ এপ্রিল) দিনটা কোনরকম চালানো যাবে। কালকে কী হবে বলতে পারি না।’

আইইডিসিআরের ৬ কর্মী আক্রান্ত, কোয়ারেন্টাইনে সেব্রিনা ফ্লোরা

১৬ এপ্রিল, ২০২০, ইত্তেফাক

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) চার টেকনোলজিস্টসহ ছয়জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে চারজন রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চার টেকনোলজিস্ট বাদে বাকি দু’জনের একজন ক্লিনার। অন্যজন আইইডিসিআরের স্টাফ।

খাবারের দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ, মুখ চিনে ত্রাণ দেওয়ার অভিযোগ

১৬ এপ্রিল ২০২০, সমকাল অনলাইন

ত্রাণের দাবিতে দেশের কয়েকটি স্থানে বৃহস্পতিবার মহাসড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে দরিদ্র কর্মহীন শত শত মানুষ। বেশ কিছুদিন ধরে ঘরে খাবার না থাকা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ বিতরণের দাবিতে এদিন তারা রাস্তায় নেমে আসে। কর্মহীন লোকজন জানান, বেশিরভাগ পরিবার এখনও ত্রাণ পায়নি। তা ছাড়া জনপ্রতিনিধিরা মুখ চিনে এ খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মাদারীপুর : মস্তফাপুর ইউনিয়নের দুই শতাধিক মানুষ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বাঁকাল ইসলামপুর (চর) ভূমিহীন জনপদের ত্রাণবঞ্চিত সহস্রাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ শুরু করে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের সরফদি গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ ত্রাণের দাবিতে উলিপুর-রাজারহাট সড়ক বাঁশ দিয়ে অবরোধ করে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) : ঈশ্বরদীতে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের দাবিতে কর্মহীন শত শত মানুষ গত বুধবার মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, মুলাডুলি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাদের পরিচিত লোকজন ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রাণ দিচ্ছেন।

ভাড়া করা লোক দিয়ে ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ: তথ্যমন্ত্রী

১৭ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো অনলাইন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করোনা পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকাসহ সমগ্র দেশ ও অর্থনীতিকে বাঁচাবে বলেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রাজনৈতিক ইন্ধন দিয়ে লোক ভাড়া করে এনে বিভিন্ন জায়গায় অর্গানাইজ করে ত্রাণের জন্য বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে বলেও এ সময় জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণের জন্য বিক্ষোভ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটা আপনারা দেখতে পেয়েছেন। কিন্তু আজকেই গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, এই বিক্ষোভের অনেকগুলোর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল।’

আরও ২ হাজার ২৫৭ বস্তা চাল উদ্ধার

১৬ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সহায়তার চাল আত্মসাতের ঘটনা থামছে না। গত সোমবার থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত নতুন করে ১০ জেলায় আরও ২ হাজার ২৫৭ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের চারজন নেতা–কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন।

এর আগে ৮ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১২৪ টনের বেশি চাল উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

চাল আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চারজন চেয়ারম্যান ও পাঁচজন সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। একই কারণে এর আগে ১২ এপ্রিল এক ইউপি চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

মালিকদের চাপে কাজে যোগ দিলেন ৪ হাজার জাহাজভাঙা শ্রমিক

১৭ এপ্রিল ২০২০, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রায় ৬০টি শিপইয়ার্ড রয়েছে। এরমধ্যে ২০ থেকে ২২টি শিপইয়ার্ডে কাজ শুরু হয়েছে। কাজে যোগ দেওয়া শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার শিপইয়ার্ডগুলোতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক বৃহস্পতিবার থেকে কাজে যোগ দিয়েছেন। মালিকদের চাপে তারা কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

পুলিশের ৫৮ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

১৭ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭ জনই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত। এ ছাড়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন, এমন ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে (সঙ্গনিরোধ) পাঠানো হয়েছে।

গণমাধ্যমে কথা বলায় নার্সদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

এপ্রিল ১৮, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে সরকারি হাসপাতালের সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রকাশ্যে বা মিডিয়ায় কথা বলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদফতরের জেনারেল (ডিজিএনএম)।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিজিএনএমের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার এই আদেশ জারি করেন।

আদেশ কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের প্রকাশ্য আলোচনা, বিবৃতি প্রদান, সংবাদপত্র বা অন্যান্য গণমাধ্যমের মতামত না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশটি এমন সময়ে জারি করা হয়েছে যখন সারাদেশের অনেক নার্স করোনাভাইরাসে (কোভিড -১৯) আক্রান্ত রোগীদের সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পাননি। যেটা না পেলে তাদেরও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

করোনা চিকিৎসার পরিকল্পনায় গলদ, এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয় কোনো হাসপাতাল

১৭ এপ্রিল ২০২০, যুগান্তর

দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় দেড় মাস আগে। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। কিন্তু এর মধ্যেও এসব রোগীর চিকিৎসায় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়নি।

রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতাল প্রস্তুতির যেসব পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে সেখানেও যথেষ্ট ঘাটতি আছে। বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিবর্তে নির্বাচন করা হয়েছে আউটডোর ক্লিনিক। সেখানে অক্সিজেনের সুবিধা পর্যন্ত নেই, নেই অপারেশন থিয়েটার।

রোগীদের সুচিকিৎসায় যুক্ত করা হয়নি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। করোনা চিকিৎসায় নিবেদিত ডাক্তার-নার্সদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও টেকনোলজিস্টদের জন্য নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা বলেন, প্রথম দিকে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বপরায়ণতায় সঠিকভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাই রোগটির বিস্তার ঘটেছে। আর এখন চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় বাড়ছে রোগীদের দুর্ভোগ ও মৃত্যুহার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জ্যেষ্ঠ পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, করোনা চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা এ পর্যন্ত যেসব পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেখানে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষ করে হাসপাতাল নির্বাচন। কারণ সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত হাসপাতাল ছাড়া করোনা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন যথেষ্ট অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত জনবল। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা সবাই মেডিকেল অফিসার পর্যায়ের।

তাছাড়া কুর্মিটোলা হাসপাতাল ছাড়া এ পর্যন্ত যেসব হাসপাতাল নির্বাচন করা হয়েছে সেগুলোর একটিতেও অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। এসব হাসপাতালে কোনো রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে তারা অক্সিজেন ছাড়াই মৃত্যুবরণ করবেন।

এদিকে যেসব বেসরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করা হয়েছে সেগুলোতে নেই কোনো ওটি সাপোর্ট, নেই ডায়ালাইসিস ও হৃদরোগের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা। দুই থেকে তিনজন মেডিকেল অফিসার ছাড়া আর কোনো জনবলও নেই।.. …

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল : রোগীদের কাছে ডাক্তার-নার্স যান না, খাবার ও ওষুধ গেটের বাইরে রেখে যাওয়া হয়। প্রত্যেক ওষুধ ও খাবারের ওপর রোগীর বেড নম্বর লেখা থাকে। হাসপাতালের ৪ ও ৫ তলায় রোগী থাকেন। জরুরি বিভাগে এবং হটলাইনে ডাক্তার থাকলেও রোগীর কাছে যাওয়ার কেউ নেই।

হটলাইনের কর্মরত ডাক্তাররা ফোনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। আইসিইউ দ্বিতীয়তলায়। সেখানে ডাক্তার থাকেন। নার্স থাকলেও তারা হাসপাতালের নিচতলায় অবস্থান করেন কিন্তু রোগীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। কোনো রোগীকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাশের রোগী ফোন করে চিকিৎসক বা নার্সকে জানান।

এমনকি কোনো রোগীর অক্সিজেন লাগানো হলে সেটিও খুলে ফেলে রাখা হয়। কোনো রোগীর মৃত্যু হলে বা ছাড়া পেলে তার যাবতীয় জিনিসপত্র মেঝেতে স্তূপ করে ফেলে রাখা হয়। হাসপাতাল নিয়মিত পরিষ্কার করাও হয় না। এমনকি একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকেও তার নিজের খাবার ও ওষুধ নিজেকেই সংগ্রহ করতে হয়। নেই আয়া-ওয়াডবয়। সব মিলিয়ে করুণ অবস্থা।

চট্টগ্রামে বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা, ত্রাণ চাইতে চালকরা রাস্তায়

১৮ এপ্রিল ২০২০, বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর ডট কম

মার্চ মাসের বেতনের দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা ও ত্রাণের জন্য অটোরিকশাচালকরা চট্টগ্রামে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সকালে নগরীর হালিশহর বড়পুল এলাকায় ও আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

সন্দেহভাজন অনেকে পরীক্ষার বাইরে

১৮ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

কোভিড–১৯ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। এ কারণে সন্দেহভাজন অনেকে রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। সারা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ২৯টি জেলা লকডাউন (অবরুদ্ধ) করেছে সরকার। দেশে শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর ৩৮ শতাংশের বেশি (৭০৪ জন) এসব এলাকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব এলাকা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তূলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত (কন্টাক্ট ট্রেসিং) করা সম্ভব। তাঁদের পরীক্ষার আওতায় আনা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে আসবে। এ ছাড়া এসব এলাকায় কারও মধ্যে লক্ষণ–উপসর্গ দেখা দিলে তাদেরও পরীক্ষার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এসব এলাকায় রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার পরিসর সেভাবে বাড়ছে না।…

প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, গতকাল পর্যন্ত লকডাউন হওয়া ২৯ জেলায় মোট ৭০৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯–এর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এসব জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৭ হাজার ৩৪৫ জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮১ জন। এর মধ্যে ১৯টি জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ৩ হাজার ৮৬০ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা ২৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাকি ১০টি জেলার কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কতজনের পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। এ ছাড়া ২৯ জেলায় আইসোলেশনে থাকা ৪৬৮ জনের মধ্যে ৪৫৪ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা, ত্রাণ চাইতে চালকরা রাস্তায়

১৮ এপ্রিল ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

মার্চ মাসের বেতনের দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা ও ত্রাণের জন্য অটোরিকশাচালকরা চট্টগ্রামে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছে। শনিবার সকালে নগরীর হালিশহর বড়পুল এলাকায় ও আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

লকডাউন উপেক্ষা করে জানাজায় জনস্রোত

১৯ এপ্রিল ২০২০, সমকাল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় অংশ নিয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকার জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা হয়। তিনি শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে মারা যান। এদিকে ইসলামী দলের এই নেতার জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য রাতেই সরাইল থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন টিটুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার চারটি গ্রাম লকডাউন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী: সুরক্ষা নিশ্চিত করে সীমিতভাবে কিছু গার্মেন্টস চালানো যাবে

এপ্রিল ২০, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, পরিবহন ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কিছু গার্মেন্টস সীমিত আকারে চালু রাখা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে করোনাভাইরাস (কোভিড- ১৯) পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আটটি জেলার জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গার্মেন্টস কারখানার মালিকেরা তাদের কর্মকাণ্ড সীমিত আকারে চালিয়ে যেতে পারবেন যদি তারা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, পরিবহন ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারেন।”

এর আগে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জেলাটিতে করোনভাইরাস সংক্রমণের জন্য পোশাক কারখানার মালিকদের দায়ী করেন। এসপি শামসুন্নাহার বলেন, লকডাউনের মধ্যেও গার্মেন্টস কারখানার মালিকেরা হাজার হাজার শ্রমিককে ফিরিয়ে এনেছিলেন, এরপরেই গাজীপুরে কোভিড- ১৯ পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে।

নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগী নিয়ে হিমশিম

২০ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

করোনাভাইরাস বা কোভিড–১৯ আক্রান্ত রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। রাজধানী ঢাকার পরেই সবচেয়ে বেশি রোগী এই জেলায়। গতকাল পর্যন্ত এই জেলায় মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৮৬। মারা গেছেন ৩০ জন। আর এই জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য শয্যা আছে মাত্র ৮০টি। কিন্তু প্রতিদিন যেভাবে রোগী বাড়ছে, শিগগির আরও হাসপাতাল বা চিকিৎসার জন্য শয্যা না বাড়ালে বিপাকে পড়তে হবে। এ আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারাও।

শামসুন্নাহার বলেন, “৪ এপ্রিল কারখানা পুনরায় চালু হওয়ার আদেশে পোশাক শ্রমিকেরা ফিরে আসার আগে গাজীপুরে কোনো করোনাভাইরাস রোগী ছিল না।”এসপি জানান, কারখানা খোলার ঘোষণার পরে করোনাভাইরাস সংক্রমিত নারায়ণগঞ্জ এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি জেলা থেকে শ্রমিকেরা গাজীপুর ফিরে আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, গাজীপুরে অনেক গার্মেন্টস কারাখানা রয়েছে যারা এখনও তাদের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেনি।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তিনি এ বিষয়ে পোশাক কারাখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

দেশে করোনায় মৃত অর্ধেকের বয়স ষাটের নিচে

২১ এপ্রিল ২০২০, প্রথম আলো

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় অর্ধেকই (৪৯.১৯%) ৬০ বছরের কম বয়সী। আর ৫০ দশমিক ৭৯ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব। সংখ্যায় কম হলেও তরুণদের মৃত্যুর ঘটনাও আছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও চীনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সেসব দেশে ষাটোর্ধ্ব মানুষ বেশি মারা যাচ্ছেন। তবে ওই সব দেশে মৃত ব্যক্তিদের ৮০ শতাংশের বেশি ষাটোর্ধ্ব। ওই সব দেশের চেয়ে বাংলাদেশে ৬০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের মৃত্যুর হার এখন পর্যন্ত বেশি। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ফারাকের কারণে এই তারতম্য হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশে প্রথম করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্তের খবর প্রকাশ পায় গত ৮ মার্চ। এর ১০ দিনের মাথায়, ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর জানানো হয়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশে মোট ১০১ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৪৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত ব্যক্তিদের সবার বয়সের তথ্য প্রকাশ করেনি। গতকাল পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬৩ জনের বয়সের তথ্য পাওয়া গেছে।

এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জনের বয়স ৬১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ ৫০ দশমিক ৭৯ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব। ১৭ জনের (২৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ) বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। ১১ শতাংশ বা ৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী আছেন ৬ জন (৯ দশমিক ৫২ শতাংশ)। একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের কোভিড-১৯-এর পাশাপাশি অন্য রোগ ছিল।

চিকিৎসায় বিপর্যয়ের শঙ্কা

২২ এপ্রিল, ২০২০, দেশ রুপান্তর

দেশে করোনাযুদ্ধের সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের ১১ শতাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশাপাশি করোনার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। সংক্রমণ ঠেকাতে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ এবং ওয়ার্ড। আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাওয়ায় কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে হচ্ছে অন্য চিকিৎসক ও নার্সদের। এর ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্স সংকট দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটছে। ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। ভয়ে আতঙ্কে অনেকেই করোনা চিকিৎসা দিতে গড়িমসি করছেন।…

বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি ২০৫ চিকিৎসক ও ১০২ জন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বিডিএফ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্তের কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

বিডিএফ আরও জানায়, আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই সরকারি চিকিৎসক। বাকি ২৫ শতাংশ বেসরকারি। সরকারি চিকিৎসকদের মধ্যে শুধু কিশোরগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। এছাড়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৮, রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ২৪ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসক ও নার্সদের আক্রান্তের কারণে ইতিমধ্যেই বেশকিছু হাসপাতাল লকডাউন ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মিটফোর্ড হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ এবং বেসরকারি ইনসাফ বারাকাহ কিডনি ও জেনারেল হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ ও ইমপাল্স হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় বিডিএফ।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিবিজিএনএস) তথ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ১০৮ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭০ ও বেসরকারি হাসপাতালের ৩৮ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন আরও ৩০০ নার্স। সরকারি হাসপাতালের মধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ঢামেক হাসপাতালে ১৬ ও মিটফোর্ডে ১০ জন।

এভাবে চিকিৎসক ও নার্সরা আক্রান্ত হতে থাকলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক ও নার্স সংকট দেখা দিতে পারে এবং অন্যরাও করোনাসহ সাধারণ রোগের চিকিৎসায় আসতে ভয় পাবেন বলে মত দেন বিডিএফের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. নিরুপম দাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট রেজিস্টার্ড চিকিৎসক রয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার। এর মধ্যে বর্তমানে সেবা দিচ্ছেন ৭০ হাজার। এই ৭০ হাজারের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২০-২৫ হাজার সরকারি চাকরি করেন। সুতরাং সুরক্ষা না দিলে ভবিষ্যতে চিকিৎসক সংকট দেখা দিতে পারে।

শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেনি ছয় শিল্প এলাকার ৮১৭ কারখানা

এপ্রিল ২২, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশের শিল্পঘন ছয় এলাকা আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮১৭ কারখানা শ্রমিকদের মার্চের বেতন-ভাতা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিশোধিত ছিল। শিল্প পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেতন-ভাতা অপরিশোধিত থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে ৩২ শতাংশ বা ২৬৩টি কারখানা পোশাক শিল্পের।

ছয় শিল্প এলাকায় মোট কারখানা আছে ৭ হাজার ৭০০টি। এর মধ্যে পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ সদস্য কারখানা ১ হাজার ৯১৫টি। পোশাক শিল্প মালিকদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএ সদস্য কারখানা ১ হাজার ১০১টি। পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের সংগঠন বিটিএমএ সদস্য কারখানা ৩৮৯টি। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (বেপজা) কারখানা ৩৬৪টি। এছাড়া অন্যান্য খাতের কারখানা আছে ৩ হাজার ৯৩১টি।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শিল্প পুলিশের হিসাবে দেখা যায়, বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ১৫৭ কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ হয়নি। আবার বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত ১০৬ কারখানার শ্রমিকদের বেতনও অপরিশোধিত ছিল গতকাল পর্যন্ত। এ হিসাবে শুধু গার্মেন্টস খাতের ২৬৩ কারখানার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ হয়নি।

এদিকে এ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের বিটিএমএ সদস্য ৩১ কারখানার বেতনও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিশোধিত ছিল। এছাড়া বেপজার আওতায় থাকা ১৪ কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বেতন-ভাতা পাননি অন্যান্য খাতের ৫০৯টি কারখানার শ্রমিকরাও।

উল্লেখ্য, ছয় শিল্প এলাকায় বস্ত্র-পোশাক শিল্পের কারখানা ছাড়াও আছে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, রি-রোলিং, কেমিক্যাল, মোবাইল শিল্প সংযোজনসহ বিভিন্ন খাতের শিল্প-কারখানা।

শ্রমিক জীবন

 

দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ হয় অধিকাংশ কারখানায়!

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের দিনে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করাচ্ছে অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানা। কোনো কোনো কারখানায় দিনে ১৩ ঘণ্টার বেশিও কাজ করানো হয়। অবশ্য বাড়তি আয়ের জন্য ওভারটাইমকে ইতিবাচক মনে করেন ৪৭ শতাংশ শ্রমিক। যদিও বিষয়টি নিয়ে ৫৩ শতাংশের শ্রমিকের মনোভাব নেতিবাচক।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বদ্ধ-নোংরা পরিবেশে স্বর্ণকারদের জীবন

মার্চ ১৩, ২০২০, বণিক বার্তা

রাজধানীর স্বর্ণকারদের সবচেয়ে বেশিসংখ্যকের বসবাস তাঁতীবাজার এলাকায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানকার অধিকাংশ কারখানাতেই ছোট একটি কক্ষের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে কাজ করছেন অধিকাংশ স্বর্ণশিল্প শ্রমিক। কাজ চলে সকাল থেকে রাত অবধি। অনেকে আবার রাতযাপন করেন সেখানেই।

তাঁতীবাজারে স্বর্ণশ্রমিকদের অনেকেই জানান, অনেক খাটুনি আর স্বাস্থ্যঝুঁকি এ পেশায়। আবার এসব কারখানার কর্মপরিবেশ কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়েও ধারণা নেই অনেকের। উপরন্তু সার্বিকভাবেই পেশাটির অবস্থা এখন তেমন একটা ভালো না। প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ইমিটেশনের বাজার সম্প্রসারণে সংকটে পড়ে গিয়েছে স্বর্ণকারদের জীবন-জীবিকাও।

বাংলাদেশের নাগরিকদের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর। অথচ ষাটের কোটায় পা রাখতে পারেন না স্বর্ণকারদের বেশির ভাগই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস (ডিপিএইচআই) বিভাগের এক গবেষণা বলছে, দেশের স্বর্ণশ্রমিকদের গড় আয়ু ৫৯ বছর।গবেষণায় দেখা যায়, স্বর্ণকারদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপ, ৫০ শতাংশ ডায়াবেটিস, ৩৫ শতাংশ হূদরোগ এবং ২০ শতাংশ কিডনি রোগে ভুগছিলেন। দুই বা ততোধিক অসংক্রামক রোগে ভুগছেন ৭৫ শতাংশ স্বর্ণকার।

এতে আরো উঠে আসে স্বর্ণকারদের মৃত্যুর ৫৫ শতাংশই ঘটে হূদরোগ ও স্ট্রোকের কারণে। ক্যান্সারে প্রাণহানির হার ২০ শতাংশ। এছাড়া ধূমপানের অভ্যাসও স্বর্ণকারদের আয়ু হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।

দিনাজপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ১

২৬ মার্চ ২০২০, সমকাল  

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রূপালী জুট মিলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে সুরত আলী (৩৬) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তিন সপ্তাহের বকেয়া বেতনের দাবিতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রূপালী জুট মিলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে, যাতে সুরত আলী নিহত হন।

ক্রিকেটার সাকিবের হ্যাচারি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরির জন্য বিক্ষোভ

২০ এপ্রিল ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কাঁকড়া খামারের শ্রমিকরা পাওনা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন এলাকার বুড়িগোয়ালিনীতে সাকিব আল হাসানের মালিকানাধীন ‘সাকিব অ্যাগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ নামের কাঁকড়ার হ্যাচারির শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করে। শ্রমিকদের অভিযোগ-তাদের চার মাসের মজুরি পাওয়া রয়েছে।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, “তিন-চার মাস ধরে বেতন না পেয়ে সোমবার সাকিব এগ্রো ফার্মের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা হ্যাচারির সামনে জড়ো হয়ে পাওনা বেতনের দাবিতে সোচ্চার হয়। “ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় র‌্যাব ক্যাম্পের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা ফেরত গেলেও ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের জন্য আল্টিমেটাম দিয়ে যায় তারা।”

অর্থনীতি

ভালোই আছেন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের দুষ্কৃতকারীরা

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশের আর্থিক খাতে লুণ্ঠনে আলোচিত তিন নাম প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার), মো. আবদুল আজিজ ও আবদুল হাই বাচ্চু।  দেশের উত্কৃষ্ট ব্যাংকের স্বীকৃতি থাকা বেসিক ব্যাংককে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন আবদুল হাই বাচ্চু। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। দেশের পুঁজিবাজার এবং অন্তত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে (এনবিএফআই) সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করেছেন প্রশান্ত কুমার হালদার। অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অনুসন্ধান চলমান রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে। তা সত্ত্বেও নির্বিঘ্নে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।

বিদেশিকর্মীরা বছরে পাচার করছে ২৭ হাজার কোটি টাকা: টিআইবি

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সমকাল

অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশিকর্মী নিয়োগের ফলে বছরে ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৈধ ও অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ বিদেশিকর্মী কাজ করেন। যার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বৈধ কর্মী রয়েছেন ৯০ হাজার। এদের ন্যূনতম গড় মাসিক বেতন দেড় হাজার মার্কিন ডলার। সে হিসেবে বিদেশি কর্মীদের বার্ষিক আয় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৩০ শতাংশ স্থানীয় ব্যয় বাদে প্রায় ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে বৈধভাবে বিদেশে যায় ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যায়। টাকার অঙ্কে প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি হয় ১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি টাকা।

এক দশক ধরে চাকরি কমছে

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, দেশ রুপান্তর

দেশে গত এক দশকে অর্থনীতির গতি বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ কমে গেছে। এ সময়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দ্রুত বাড়লেও কর্মসংস্থানে দেখা দিয়েছে নেতিবাচকতা। এক দশক আগে বিভিন্ন খাতে যে হারে নতুন চাকরির সুযোগ ছিল, এখন আর সেই ধারা নেই। ২০১০ সালের পর কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে নেমেছে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশে। প্রতি বছর ১৬ লাখ কর্মক্ষম মানুষ চাকরির বাজারে ঢুকলেও শিল্প খাতে নতুন চাকরি সৃষ্টি হচ্ছে বছরে দুই লাখের মতো। তবে ১০ বছর আগেও শিল্প খাতে প্রতি বছর নতুন কর্মসংস্থান হতো সাড়ে তিন লাখ মানুষের। তথ্যপ্রযুক্তিসহ নতুন কিছু খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেও দেশের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান বাড়েনি, উল্টো ২০১৬ সালের পর থেকে কমেছে। ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত কাজের সুযোগ কমলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে নির্মাণ খাত। তবে খাদ্য প্রক্রিয়াজতকরণ শিল্পেও আগের চেয়ে নতুন কর্মসংস্থান কমেছে। বেসরকারি খাতের বাইরে সরকারিভাবে প্রতি বছর প্রায় ৩০-৪০ হাজার চাকরিতে নিয়োগ হয়। ফলে কর্মক্ষমদের বড় অংশই বেকার থেকে যাচ্ছে। দেশের কর্মক্ষম জনশক্তির ৩৫ ভাগ পড়াশোনা, কাজকর্ম ও কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের মধ্যে নেই। আর শতভাগ বেকার মানুষের সংখ্যা ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪০ ভাগই কোনো কাজ পাচ্ছে না। পুরনো এসব বেকারের সঙ্গে প্রতি বছর যুক্ত হচ্ছে নতুন বেকার। ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধির ফারাক বাড়ছে। এক যুগ আগে প্রতি ১ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধির বিপরীতে কর্মসংস্থানের হার ছিল দশমিক ৫৪৯৯ শতাংশ, এখন এ হার দশমিক ১৭৬৫ শতাংশ। এ অবস্থায় দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে বাংলাদেশ চলমান জনসংখ্যার বোনাসকালের সুফল ভোগ করতে পারবে না বলে উঠে এসেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কৌশলপত্রের খসড়ায়।

গত ডিসেম্বর মাসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ‘ন্যাশনাল জবস স্ট্র্যাটেজি ফর বাংলাদেশ’-এর খসড়ায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

খেলাপির হারে বাংলাদেশ শীর্ষে

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে জানা গেল, ২০১৯ সালের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি—১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ভুটান ও আফগানিস্তান, যাদের খেলাপি ঋণের হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৯ ও ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

৫০০ কোটি টাকা মেরে কানাডায় ইসা-মুসার বাদশাহি জীবন!

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, দেশ রুপান্তর

আপন দুই ভাই ইসা বাদশা ও মুসা বাদশা। তাদের বাবা বাদশা মিয়া সওদাগর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গড়েছিলেন বাদশা গ্রুপের নামের প্রতিষ্ঠান। তবে বাবা মারা যাওয়ার পর গ্রুপের তালা মার্কা সাবান ও ভেজিটেবল অয়েলের সুনাম আর ধরে রাখতে পারেনি তারা। পরে জাহাজ ভাঙাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে আটটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আর তা শোধ করেননি। দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইসা বাদশা ও মুসা বাদশা এখন কানাডার টরন্টোয় বাদশাহি জীবনযাপন করছেন। টরন্টোর লেকশোর এলাকায় তাদের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, বাড়ি ও নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশের আটটি ব্যাংক ওই ৫০০ কোটি টাকা আদায়ে তাদের পেছনে ছুটে একরকম হয়রান, আদালতের খাতায় যারা এখন ‘ফেরারি’।

প্রাথমিকের প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষক পদ খালি

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সমকাল

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ হাজার ৮৩২টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে সাত হাজার ১৮টি এবং সহকারী শিক্ষক পদে ২১ হাজার ৮১৪টি পদ রয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে সরকারি দলের মামুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এ তথ্য জানান।

কুয়েতে মানব পাচারে যুক্ত বাংলাদেশের সাংসদ

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

কুয়েতে মানব পাচারে যুক্ত বাংলাদেশের তিন পাচারকারীর একজন সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম। সেখানে গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর আগেই তিনি দেশে চলে এসেছেন। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় পত্রিকা এ খবর দিয়েছে। স্বতন্ত্র এই সাংসদসহ তিনজনের ওই চক্র অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে বলে দাবি কুয়েত সিআইডির।

দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

বসবাসের খরচের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে প্রথমে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। এদিক দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান অনেকটাই সাশ্রয়ী হিসেবে তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য সংক্রান্ত সাময়িকী সিইওওয়ার্ল্ডের এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গৃহহীনের ঘর ধনাঢ্যের ভিটায়

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, কালেরকন্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনি গ্রামের গোপাল চন্দ্র মহন্তের (৬৫) সহায়-সম্পদ বলতে কিছুই নেই। গ্রামের ভূপেন বাসাক নামের এক ব্যক্তি তাঁকে থাকার জন্য আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি যে ঘরটিতে বসবাস করছেন, সেটিও জীর্ণশীর্ণ। প্রায় এক যুগ ধরে গোপাল চন্দ্র মহন্ত তাঁর পরিবার নিয়ে সেখানে বাসবাস করছেন। তিনি ভূমিহীন হলেও তাঁর কপালে গৃহহীনদের জন্য নগদ টাকায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ প্রকল্পের ঘর জোটেনি। তাঁরই প্রতিবেশী ভালো অবস্থাসম্পন্ন ওবাইদুল ইসলামের কপালে জুটেছে সেই ঘর।

প্রত্যক্ষ আয়কর: ৮৫ শতাংশই আসছে উৎসে ও অগ্রিম থেকে

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না রাজস্ব আহরণ। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো ১০ শতাংশের ঘরে। সরকারের রাজস্বের ৭০ শতাংশই আসে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও শুল্কের মতো পরোক্ষ খাত থেকে। প্রত্যক্ষ কর থেকে আসে বাকি ৩০ শতাংশ। আবার প্রত্যক্ষ করের ৮৫ শতাংশই আসে উৎসে কর কর্তন ও অগ্রিম কর থেকে।

হাজার কোটি টাকার খেলাপি মোর্শেদ-মাহজাবিন চম্পট

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, দেশ রুপান্তর

বেসিক ব্যাংকের ২৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাতীয় পার্টি নেতা-নেত্রী দম্পতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও সাবেক এমপি বেগম মাহজাবিন মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে দুটি মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলা হওয়ার পর আত্মসাৎ করা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে তাদের জামিন দিয়েছিল আদালত। কিন্তু শর্তানুযায়ী কিস্তি পরিশোধ না করা ও আদালতে হাজির না হওয়ায় গত বছরের ১৯ এপ্রিল তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে চট্টগ্রামের আদালত। শুধু বেসিক ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎই নয়, মোর্শেদ মুরাদ নামে-বেনামে তার পারিবারিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৯০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেননি বলে তথ্য মিলেছে। বিপুল অঙ্কের এই খেলাপি ঋণের দায় নিয়ে মোর্শেদ-মাহজাবিন দম্পতি বর্তমানে সপরিবারে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের অশাওয়া শহরে বসবাস করছেন বলে জানতে পেরেছে দেশ রূপান্তর। আর সেখান থেকে মাঝেমধ্যে ভারতে এসে এই দম্পতি দেশে থাকা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।

সান্ধ্য কোর্স চলমান রাখতে একাট্টা নীল ও সাদা দল

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ইত্তেফাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স চলমান রাখতে এক হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সাদা দল। এ বিষয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষকরা গত ২০ ফেব্রুয়ারি আলোচনা করেন, অন্য সব বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা আজ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাবিবুল্লাহ কনফারেন্স হলে এক সভার আয়োজন করেছেন।

১১শ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের জামিন

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, যুগান্তর

মোট ১১শ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের পৃথক চার মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদেরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির জামিনের এ আদেশ দেন।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ৪৯% শেয়ার কিনে নিল দুই চীনা প্রতিষ্ঠান

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০, বণিক বার্তা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ঢাকা-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এ প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করে থাইল্যান্ডভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড, যেটি ইতালথাই নামেও পরিচিত। এ প্রকল্পে শুরু থেকেই অর্থসংকটে ভুগছিল প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ধরনা দিয়েও জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রয়োজনীয় অর্থ। তাই অর্থসংকট কাটাতে চীনের শ্যাংডং ইন্টারন্যাশনালে ৩৪ শতাংশ ও সিনো-হাইড্রো করপোরেশনের কাছে ১৫ শতাংশ শেয়ার বেচে দিয়েছে তারা। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অর্ধেক মালিকানা চলে গেল দুই চীনা কোম্পানির হাতে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। পিপিপির ভিত্তিতে এর নির্মাণকাজ পাওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানিও গঠন করে ইতালথাই। এ কোম্পানির মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ২৫ বছর পরিচালনা (সাড়ে তিন বছর নির্মাণকালসহ) এবং টোল আদায় করা হবে। টোল আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা টাকা তুলে নেবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

এক্সপ্রেসওয়ের নির্বাহক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ইতালথাই ‘ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেড’ নামের যে কোম্পানি গঠন করে, তাতে ইকুইটির পরিমাণ নির্মাণ ব্যয়ের ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ভায়াবিলিটি গ্যাপ ফান্ড বা ভিজিএফ ২৭ শতাংশ, যা সরকার দিচ্ছে। নির্মাণ ব্যয়ের বাকি ৪২ শতাংশ অর্থ সংগ্রহ নিয়ে সংকটে পড়ে ইতালথাই।

নগদ অর্থের দেড় লাখ কোটি টাকা কার কাছে?

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০, বণিক বার্তা

গত এক দশকে দেশের অর্থনীতিতে এক ডজনের বেশি নতুন ব্যাংক যুক্ত হয়েছে। বেড়েছে ব্যাংকের শাখার সংখ্যাও। এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংক ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রযুক্তির উৎকর্ষে ব্যাংকিং খাতে যুক্ত হয়েছে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা। এর ফলে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের হার কমে আসার কথা। যদিও হয়েছে উল্টোটা। ২০১০ সালে দেশে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯ সাল শেষে নগদ এ অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ হিসাবে গত এক দশকে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

বাংলাদেশের মতো একটি অর্থনীতির দেশে ৫০-৬০ হাজার কোটি টাকার নগদ অর্থ যথেষ্ট বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা, যদিও বাস্তবে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ এর তিন গুণ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল এ নগদ অর্থ আছে কার বা কাদের কাছে?

বাড়ল বিদ্যুতের দাম খরচ বাড়বে সব খাতে

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ইত্তেফাক

ভোক্তা অধিকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর যুক্তি-অনুরোধ গ্রহণ করা হলোনা। মানা হলো না বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবিও। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাণিজ্য মন্দা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর পতনের মধ্যেই দেশে সব পর্যায়ে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য বাড়লো। এর ফলে গ্রাহকদের পকেট থেকে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বাড়তি বেরিয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে ৪০ পয়সা এবং খুচরা ৩৬ পয়সা বাড়ানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে এ মূল্যহার কার্যকর হবে।

১২ বছরে ১৩ বার বেড়েছে পানির দাম

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

ঢাকা ওয়াসার সেবায় গ্রাহকদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসন্তুষ্ট—গত বছরের এপ্রিলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করেছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নতুন খবর হচ্ছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে গ্রাহকদের আগের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি দাম দিয়ে ওয়াসার পানি কিনতে হবে। তবে সেই পানি ‘সুপেয়’ হবে কি না, তার নিশ্চয়তা অবশ্য নেই।

আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকে গত প্রায় ১২ বছরে মোট ১৩ বার পানির দাম বেড়েছে। একই সময়ে পানির দাম প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পানির দাম ছিল প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। দাম বাড়ানোর কারণে আগামী এপ্রিল থেকে তা হচ্ছে ২০ টাকা।

মৃত ২৬ জন নিয়মিত তুলছেন বয়স্ক ভাতা!

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সমকাল

বিরাহিমপুর গ্রামের আজাহের ৯ বছর আগে এবং নার্গিস বেওয়া মারা গেছেন দুই বছর হলো। কিন্তু তাদের নামে নিয়মিত তোলা হচ্ছে বয়স্ক ভাতার টাকা। শুধু আজাহের ও নার্গিসই নন, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ২নং ঘাটাইল ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতার তালিকায় তাদেরসহ ২৬ মৃত ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাদের নামে নিয়মিত ভাতার টাকা তোলা হচ্ছে। অথচ মৃতদের পরিবারের দাবি, ভাতার টাকার বিষয়ে তারা কিছুই জানে না।

চট্টগ্রামে পিপিপিতে রেলওয়ের হাসপাতাল

মার্চ ০২, ২০২০, বণিক বার্তা

পতিত ও অব্যবহূত জমি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে রেলের জমিতে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করবে সংস্থাটি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) এ প্রকল্পে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড।…

রেলওয়ের প্রকৌশল দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ১২ বছর (নিয়োগের তারিখ থেকে)। চুক্তির সময়কাল ধরা হয়েছে ৫০ বছর (নির্মাণকালসহ)। চুক্তি অনুযায়ী, বেসরকারি অংশীদার বা ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ চুক্তির সময়কালে অবকাঠামোর ডিজাইন, নির্মাণ, অর্থায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে পূর্ণাঙ্গ চালু ও ভালো অবস্থায় সামগ্রিক অবকাঠামো সরকারি অংশীদার বা বাংলাদেশ রেলওয়েকে হস্তান্তর করবে। আর্থিক চুক্তি অনুযায়ী প্রাইভেট পার্টনার প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট ফি হিসেবে পিপিপি কর্তৃপক্ষকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রদান করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বশর্ত হিসেবে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ রেলওয়েকে ৫ কোটি টাকা প্রিমিয়াম হিসেবে প্রদান করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পূর্তিতে প্রথম বার্ষিক ফি হিসেবে ৭৫ লাখ টাকা, চতুর্থ বছর পূর্তিতে দ্বিতীয় বার্ষিক চুক্তি ফি ৭৫ লাখ টাকা, পঞ্চম বছর পূর্তিতে চুক্তি ফি দেড় কোটি টাকা বাংলাদেশ রেলওয়েকে প্রদান করবে। ষষ্ঠ বছরও একই পরিমাণ ফি প্রদান করবে। তবে এর পর থেকে প্রতি তিন বছর অন্তর চুক্তির মেয়াদকাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে।

বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে বছরে পাচার ৬৪ হাজার কোটি টাকা

০৪ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। বর্তমান বাজারদরে (৮৫ টাকায় প্রতি ডলার) এর পরিমাণ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদন বলছে, ২০০৮ সালের পরে বাংলাদেশে এভাবে মূল্য ঘোষণায় গরমিল দেখিয়ে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বিদেশে চলে গেছে। ২০০৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ৫২৮ কোটি ডলার। এ ছাড়া ২০০৯ সালে ৪৯০ কোটি ডলার, ২০১০ সালে ৭০৯ কোটি ডলার, ২০১১ সালে ৮০০ কোটি ডলার, ২০১২ সালে ৭১২ কোটি ডলার ও ২০১৩ সালে ৮৮২ কোটি ডলার বিদেশে গেছে।

লবণ চাষিদের নোনা কান্না

মার্চ ০৪, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের প্রায় ৩০ হাজার লবণ চাষি তাদের উৎপাদনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।লবণ চাষি ও সরকারি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, অসাধু ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট লবণের দাম নিয়ে কারসাজি করছে। তারা বলেছেন, ভোজ্য লবণের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো থেকে শিল্প লবণ হিসেবে পরিচিত সোডিয়াম সালফেটের নামে প্রচুর পরিমাণে ভোজ্য লবণ আমদানি করছে।

পর্যটনের নামে জুমচাষের হাজার একর জমি দখল

০৫ মার্চ ২০২০, সমকাল

নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়ন এক সময় গভীর বন ও জঙ্গলে ঘেরা ছিল। বাস করত বন্য হিংস্র জন্তু। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই সেখানে যুগ যুগ ধরে বাস করে আসছে আদিবাসী কয়েকশ’ পরিবার। বনের ভেতর জুম চাষ (পাহাড়ে বিশেষ কায়দায় চাষ) করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। সারাবছরের খাদ্য জোগান তাদের এখান থেকেই হতো। পর্যটনের নামে সেই জুমচাষের প্রায় এক হাজার একর জায়গা অবৈধ দখল হয়ে গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শফিউল্লাহর বিরুদ্ধে এ অবৈধ দখলের অভিযোগটি তুলেছেন আদিবাসীরা। এরই মধ্যে ১৫টি পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করে প্রায় ৮ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিরি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। অথচ জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, পাহাড় কাটা ও পর্যটনের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতিই নেননি ওই আওয়ামী লীগ নেতা। আদিবাসীদের ভয়ভীতি আর পর্যটন এলাকায় চাকরির লোভ দেখিয়ে এসব জায়গা দখল করা হচ্ছে। পাড়াপ্রধান ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, জুম চাষ করতে না পারায় এ বছর অতি দরিদ্র অন্তত ৭০ পরিবার খাদ্য সমস্যায় পড়বে। কারণ এর বাইরে উপার্জনের অন্য কোনো উপায় নেই তাদের। পাশাপাশি ওই কয়েকশ’ পরিবারেরই জীবিকা হুমকিতে পড়বে।

৫% বস্তিবাসী ভালো খাবার পায়

০৭ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করতে রাজধানীর বস্তিবাসীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাদের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি ব্যয় হয় খাবার কেনা বাবদ। মাত্র ৫ শতাংশ দরিদ্র মানুষ তিন বেলা পুষ্টিকর খাবার পায়।  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও বস্তিবাসীদের সংগঠন ঢাকা নর্থ কমিউনিটি টাউন ফেডারেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠী খাদ্যনিরাপত্তা–বিষয়ক ওই গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল ৪ মার্চ চূড়ান্ত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শহরের বস্তিবাসীর সবচেয়ে দরিদ্ররা দিনে মাথাপিছু ৩৩ টাকা ও সবচেয়ে সচ্ছল ব্যক্তিরা মাথাপিছু ১৩০ টাকা খাদ্যের পেছনে ব্যয় করে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বস্তিবাসীর ১০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ তিন বেলা খাবার পায় না। তারা মূলত দুই বেলা খাবার পায়। খাবারের মধ্যে থাকে ভাত, আলু ভর্তা ও ডাল। এসব খাবার খেয়ে তাদের ঠিকমতো পেট ভরে না। বাজার থেকে সস্তা শাকসবজি ও শুকনো মাছ কিনে থাকে। মূলত স্থানীয় বাজার থেকে ও সবাই কিনে নেওয়ার পর উচ্ছিষ্ট হিসেবে থেকে যাওয়া কম দামি খাবারগুলো তারা কিনে থাকে।

৮৫ শতাংশ বস্তিবাসী তিন বেলা খাবার পায়। তবে ওই খাবারের বেশির ভাগ অংশ থাকে ভাত। ভাতের সঙ্গে অবশ্য সামান্য শাকসবজি, ডাল, মাছ ও মুরগি থাকে। তবে মুরগির মাংস ও মাছ থাকে মাসে বড়জোর দুবার।…

দরিদ্র পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় খাবার না পাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তারা অনিয়মিত আয়ের ওপরে নির্ভরশীল। মূলত তৈরি পোশাক কারখানা, হকার, দিনমজুর ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভর করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।

গৃহহীন নয়, স্বাবলম্বীরা ঘর পেয়েছেন

মার্চ ১১, ২০২০, বণিক বার্তা

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গৃহহীন পরিবারের জন্য ১১ হাজার ৬০৪টি দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দ দেয় সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির মাধ্যমে এসব ঘর নির্মাণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এসব ঘর নির্মাণ কার্যক্রম সমাপ্ত হয় গত বছরের জুনে। চলতি বছরের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টার্নশিপের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের একদল শিক্ষার্থী আট ভাগ হয়ে কয়েকটি উপেজলায় নির্মিত দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে ফিরে পরিদর্শনে পাওয়া পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রতিবেদনে গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দ এবং নির্মাণে বেশকিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থীদের একটি দল যায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। তাদের প্রতিবেদনে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ বিষয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সঠিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয় না। এর উদাহরণ হিসেবে তারা সেখানে উল্লেখ করেন, দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহের একজন সুবিধাভোগী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমান। পেশায় মত্স্যজীবী হলেও কাঠের ব্যবসা করেন তিনি। হাঁস-মুরগি পালনের পাশাপাশি নিজের পুকুরে মাছও চাষ করেন তিনি। তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ প্রায় ৩৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল জীবনযাপন করেন তিনি। এমনকি সরকারের দেয়া সম্পদ নিজ অর্থায়নে তিনি সম্প্রসারণও করেছেন। অন্যদিকে উপজেলার অনেক গৃহহীন পরিবারই দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ বরাদ্দ পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা পরিবর্তন ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

মানবাধিকার ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

 

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছেলেকে ক্রসফায়ারের গুজব, হার্ট অ্যাটাকে মায়ের মৃত্যু

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

“ছেলে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছে, পুলিশ তাকে গুলি করে মেরে ফেলবে”- এমন খবরে দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রেনুকা রপ্তান (৫৬) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

সহিংস আচরণের শিকার ৮৮.৮% শিশু

ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০, বণিক বার্তা

৫-১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুশ্রমে জড়িত। নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী। আবার ১৫ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কিশোরীর। জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ পাচ্ছে না ৫৩ শতাংশ শিশু। সিজারিয়ানে (অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব) জন্মগ্রহণ করছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু। আর পিতা-মাতার সহিংস আচরণের শিকার ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু। এছাড়া ইন্টারনেটের বাইরে এখনো ৬২ শতাংশ ও কম্পিউটার নেই ৯৪ শতাংশ পরিবারে। ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

৫ কারণের যেকোনোটিতে স্বামীর মার যৌক্তিক ভাবেন ২৫% নারী

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

দেশের প্রতি চারজন বিবাহিত নারীর একজন স্বামীর হাতে মার খাওয়াকে যৌক্তিক মনে করেন। এই নারীদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। স্বামীর অনুমতি না নিয়ে বাইরে যাওয়া; বাচ্চাদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া; স্বামীর সঙ্গে তর্ক করা; যৌন সম্পর্ক করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং খাবার পুড়িয়ে ফেলা—এই পাঁচটি কারণের অন্তত একটির জন্য ওই নারীরা মার খান। আর তাঁরা স্বামীর হাতে মার খাওয়ার এই কারণগুলোকে যৌক্তিক মনে করেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০১৯-এ  এই চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী ওপরের কারণগুলোর জন্য স্বামীর হাতে মার খাওয়াকে যৌক্তিক মনে করেন।

টেকনাফে র‌্যাব-বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮

০২ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

কক্সবাজারের টেকনাফে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাতজন এবং বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক তাঁদের নাম জানা যায়নি।

খাগড়াছড়িতে বিজিবি-এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, বিজিবি সদস্যসহ নিহত ৪

০৩ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌরসভার গাজীনগর এলাকায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগানের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিজিবি সদস্যসহ অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিভীষণ কান্তি দাশ।

আ. লীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানো বিচারককে তাৎক্ষণিক বদলি, বিকেলে জামিন

মার্চ ০৩, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

দুর্নীতির মামলায় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের জামিন আবেদন বাতিল করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নানকে ‘দুর্নীতির অভিযোগে’ তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে।

পরে বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিন এর দ্বিতীয় আদালত থেকে তারা জামিন পেয়েছেন।

‘দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট’ করার কারণে সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিকের মাকে ‘ভয়ভীতি দেখানোর’ অভিযোগ

৯ এপ্রিল ২০২০, বিবিসি বাংলা

সুইডেন প্রবাসী একজন বাংলাদেশী মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন যে তার লেখালেখির কারণে বাংলাদেশে একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তার মায়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’ করেছেন।

ফেসবুকে এক পোস্টে তাসনিম খলিল বলেছেন, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর তিনজন সদস্য বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটে তার মায়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে নানা বিষয়ে বিশেষ করে তার লেখালেখির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

 

যক্ষ্মায় দিনে ১২৯ জনের মৃত্যু

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, প্রথম আলো

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে দৈনিক ১২৯ জন মারা যাচ্ছে যক্ষ্মায়। যক্ষ্মা শনাক্ত করার আধুনিক যন্ত্র দেশে কম। প্রয়োজনীয় জনবল ও সম্পদেরও ঘাটতি ব্যাপক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ‘যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তাঁরা এসব কথা বলেন।..

অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল উপস্থাপনায় জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মেডিকেল কর্মকর্তা নাজিস আরেফিন দেশের যক্ষ্মা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রতিদিন ৯৭৮ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। প্রতিদিন ১৬ জন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার শিকার হচ্ছে। আর দৈনিক মারা যাচ্ছে ১২৯ জন।..

সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, যক্ষ্মা শনাক্ত করার আধুনিক জিনএক্সপার্ট যন্ত্র দরকার ১ হাজার ২০০টি। এখন সারা দেশে চালু আছে ২২১টি। এ বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৪০০ হবে। যে বাজেট বরাদ্দ আছে, তাতে ২০২৩ সালে এ যন্ত্রের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭০০টিতে। তারপরও ৫০০ যন্ত্রের ঘাটতি থাকবে।

শহুরে ক্যান্সার রোগীর ৩৩% শিশু-কিশোর

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০, বণিক বার্তা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত খানা আয়-ব্যয় জরিপ বলছে, দেশে ক্যান্সার আক্রান্ত শহুরে রোগীর এক-তৃতীয়াংশই শিশু-কিশোর, যাদের বয়স ১ থেকে ১৯ বছর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা। আর বয়স চার বছর উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ক্যান্সার বাসা বাঁধে ১৩ শতাংশের শরীরে। এছাড়া ১০ থেকে ১৪ এবং পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী ক্যান্সারের রোগী পাওয়া যায় যথাক্রমে ১ ও ২ শতাংশ।

কিডনির ব্যয়বহুল চিকিৎসায় সক্ষম ২০% রোগী

মার্চ ১৩, ২০২০, বণিক বার্তা

চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশের দুই কোটি কিডনি রোগীর ৮০ শতাংশ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না। আর এ রোগের মাত্র ২০ শতাংশ রোগী ডায়ালাইসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে সক্ষম। এছাড়া আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় কিডনি রোগের ১০ শতাংশ শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে পারে। বাকিরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হামে সাজেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭, আক্রান্ত আরও ১২৩

মার্চ ২৪, ২০২০, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

রাঙ্গামাটি ‌জেলার সা‌জে‌ক উপত্যকায় হা‌ম রো‌গে মৃ‌তের সংখ্যা বে‌ড়ে ৭ এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে খিয়াং‌তি ত্রিপুরা না‌মে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গে‌ছে,  সাজেকের অরুন পাড়া, লুইংখিয়ান পাড়া ও হাইচ্যাপাড়া এলাকায় গত ২০ দিনে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ক‌রোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়ে উদ্বিগ্ন এসব গ্রা‌মবাসীর ওপর হাম রোগ ভর করায় পরিস্থিতি আরও থমথমে হয়ে উঠেছে।   সর্বশেষ ২৩ ও ২৪ মার্চ দুই শিশুর মৃত্যু হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূ‌ত্রে জানিয়েছে, সাত শিশুর মৃত্যু ছাড়াও হামে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১২৩ শিশু।

পরিবেশ

 

পরিবেশের নিয়ম মানছেন না মেগা প্রকল্পের ঠিকাদাররা

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২০, বণিক বার্তা

রাজধানীর বনানীতে গত বছরের নভেম্বরে বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ৪২৫ এসপিএম। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেখানে বাতাসের অবস্থা চলে গিয়েছিল খুবই খারাপ অবস্থায়। এজন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দেয়া হয় নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা ও প্রকল্প এলাকায় প্রতিদিন অন্তত দুবার পানি ছিটানোর নির্দেশনা। তবে এ নির্দেশনা যে মানা হয়নি তা উঠে এসেছে ডিসেম্বরের বায়ুমান পরীক্ষায়। গত ২৬ ডিসেম্বর একই এলাকার বায়ুমান সূচক ৪৭৩ এসপিএম পেয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর ঠিকাদাররা পরিবেশের নিয়মকানুন কিছুই মানছেন না। তাদের বারবার তাগাদা দেয়ার পরও দূষণরোধক ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন না তারা। উল্টো জরিমানা করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নালিশ করেছেন তারা।

উত্তরা থেকে মিরপুর-আগারগাঁও হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলছে ঢাকার প্রথম মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ। গত নভেম্বরে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও আগারগাঁওয়ে বায়ুমান সূচক পরীক্ষা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই সময় মিরপুরে বায়ুমান সূচক ছিল ৭৬৪ এসপিএম ও আগারগাঁওয়ে ৮২০ এসপিএম। বায়ূদূষণের জন্য সে সময় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার পর প্রকল্প এলাকায় আরো খারাপ হয়েছে বাতাসের মান। ডিসেম্বরে মিরপুরে বায়ুমান ছিল ১১৩৭ এসপিএম, আগারগাঁওয়ে ১১১১ এসপিএম।

বায়ুমান সূচক ১০০ এসপিএমের বেশি হলেই সেটিকে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। সেখানে ঢাকার দুই মেগা প্রকল্প এলাকায় দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ১১০০ এসপিএমের উপরে। এ অবস্থায় বাতাসের মান তুলে ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরকে একটি চিঠি দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

৫৭ বছরে শুকিয়ে গেছে ১৫৮ নদী

১৪ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

দুটি গবেষণার সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে গত ৫৭ বছরে ১৫৮টি নদী শুকিয়ে গেছে। ১৯৬৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে নদ-নদীর সংখ্যা কত কমল, সেই সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা ২০১০ সালে প্রকাশ করে বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের একদল গবেষক তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাতে বলা হয়, দেশের ১১৫টি নদ-নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়।

প্রতিদিন ঢাকা শহরের গাছে ধুলা জমে ৪৩৬ মেট্রিক টন

মার্চ ১৫, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

প্রতিদিন ঢাকা শহরের গাছগুলোতে ৪৩৬ মেট্রিক টন ধুলা জমে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেয়ারিক পল্যুশন স্টাডিজ (সিএপিএস) পরিচালিত ‘ঢাকা শহরে গাছের পাতায় ধূলিকণা জমার সামগ্রিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা হয়েছে। গবেষণার জন্য বেছে নেওয়া হয় গুলিস্তান পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, রমনা পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনকে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, গুলিস্তান পার্কে গাছের গায়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ধুলা জমেছে। সবচেয়ে কম বোটানিক্যাল গার্ডেনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ ঘণ্টায় পাতার প্রতি বর্গ মিলিমিটারে ধুলা জমার পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৫৯ মাইক্রোগ্রাম ও ২৪ ঘণ্টায় এই পরিমাণ ৪ দশমিক ৫৩ মাইক্রোগ্রাম। সে হিসেবে আনুমানিক ৯৬ দশমিক ৪৮ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা গাছে ৭২ ঘণ্টায় এক হাজার ৩১০ মেট্রিক টন ধুলা জমে। অর্থাৎ, প্রতিদিন ঢাকার গাছগুলোতে জমে ৪৩৬ দশমিক ৭ টন ধুলা।

নির্বাচন ও গণতন্ত্র

 

নিয়ন্ত্রিত ভোটের নতুন রুপ

প্রথম আলো, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

১. ভোটার যন্ত্রে আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর ব্যালট উন্মুক্ত হলো। কাপড় দিয়ে ঘেরা গোপন কক্ষে ভোট সম্পন্ন করতে গেলেন। এ সময় কোন মার্কায় ভোট দিয়েছেন, তা উকি দিয়ে প্রত্যক্ষ করছেন অবাঞ্ছিত ব্যক্তিরা। ২. ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে দেখলেন, সেখানে থাকা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি তার ভোট দিয়ে দিচ্ছেন। ৩. ভোটার গোপন কক্ষে প্রবেশ করার পর কোন মার্কায় ভোট দিতে হবে, তা বলে দিচ্ছেন অবাঞ্ছিত ব্যক্তি। বেশির ভাগ ভোটকক্ষের দৃশ্য ছিল এমনই।

গতকাল শনিবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এভাবে “নিয়ন্তিত পরিবেশে’ ভোট গ্রহণ হয়েছে। ভোটকক্ষ, কেন্দ্রের ভেতরে এবং কেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় নৌকার ব্যাজধারীদের একতরফা নিয়ন্ত্রণ ছিল। ফলে গোপন ভোট আর গোপন থাকেনি।

বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপিসহ অন্য দলের মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া যায়নি। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট আসেননি । কোথাও কোথাও এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোটে বড় কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৪৬৮টি। কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মারমুখী ভূমিকায় খুব একটা দেখা যায়নি। তবে কোথাও কোথাও ভোটার ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

দুই সিটির সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। যন্ত্রের সঙ্গে অনভ্যত্ততার কারণে কীভাবে ভোট দিতে হবে, তা ভোটারদের বুঝিয়ে দিতে দেখা যায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টদের। আঙুলের ছাপ মেলাতেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক দফা চেষ্টা করতে হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি খুবই কম থাকায় কোথাও লম্বা সারি দেখা যায়নি।

প্রথম আলোর ৬৬ জন সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী দিনভর ঘুরেছেন। তারা ৪২৭টি কেন্দ্র ঘুরেছেন। এর মধ্যে সকালে ১২৫টি কেন্দ্রের কিছু কিছু কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট দেখা গেছে। তবে বেলা একটার পর তাদের আর পাওয়া যায়নি।

একাধিক ওয়ার্ডে ফল পাল্টানোর অভিযোগ

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সমকাল

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রের ফল প্রকাশে কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। ঘোষণার সময় ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী। তারা বলছেন, এর সঙ্গে ইসির দায়িত্বপ্রাপ্তরাও জড়িত রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের ৩১নং ওয়ার্ডের প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ফল ঘোষণা স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এ দুই সিটি নির্বাচনের পর ওই দিন রাতেই ফল ঘোষণা করা হয়।

ফিঙ্গার নিয়ে পাঠিয়ে দিবি, তারপর তুই টিপ দিবি

২১ মার্চ, ২০২০, দেশ রুপান্তর

ঢাকা- ১০ আসনের উপ-নির্বাচনে কেন্দ্রের কক্ষে কক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নৌকার প্রার্থীর এজেন্টদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও বিএনপির প্রার্থীর কোনো এজেন্ট চোখে পড়েনি। শনিবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির প্রগতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ চিত্র দেখা গেছে।

এই কেন্দ্রের ভেতরে ৯টি কক্ষের প্রতিটি কক্ষের ভেতর নৌকা প্রার্থীর এজেন্ট ও সমর্থকদের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। এই প্রতিবেদকের সামনেই এক সমর্থক বলে ওঠেন, ‘ফিঙ্গার নিয়ে পাঠিয়ে দিবি তারপর তুই টিপ দিবি। ক্যামেরা দেখলে সরে আসবি।’

দুর্ঘটনা

 

সড়ক দুর্ঘটনা: জানুয়ারিতে ৪৪৫ জন নিহত, আহত ৮৩৪

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

গত মাসে সারাদেশে ৩৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৪৫ জন নিহত ও ৮৩৪ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

একই সময়ে ১১টি রেলওয়ে দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং আটটি নৌ দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

প্রকল্পই হয়েছে, পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের কারখানা সরেনি

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের নয় বছরের মাথায় চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির পর আবারও রব উঠেছিল পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের কারখানাগুলো সরানোর। এক বছর পর খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, রাসায়নিকের এই কারখানাগুলো সরেনি। এগুলো সরিয়ে নিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে চকবাজারসহ পুরান ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকাগুলো আগের মতোই রয়েছে আগুনের ঝুঁকিতে।

২০১০ সালের নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে যেসব সুপারিশ করেছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল রাসায়নিকের কারখানা আর গুদামগুলো সরিয়ে নেওয়া।কিন্তু নয় বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ার মধ্যে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আগুন লাগার পর তা রাসায়নিকের পরশ পেয়ে নরককুণ্ড হয়ে উঠেছিল চকবাজারের চুড়িহাট্টা। এরপর আবারও তদন্ত কমিটি, আবারও একই সুপারিশ।

চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির ১ বছর: কেমিক্যাল শিল্প পার্ক কতদূর

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সমকাল

পুরান ঢাকার নিমতলীতে ২০১০ সালের ৩ জুন কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রাণ হারান ১২৩ জন। তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পুরান ঢাকার এসব কেমিক্যাল কারখানা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি একই অঞ্চলের চুড়িহাট্টায় পারফিউমের কারখানা ও গোডাউনে অগ্নিদুর্ঘটনায় ফের প্রাণ হারান আরও ৭১ জন। এবারও সরকার বলেছিল, পুরান ঢাকায় কোনো কেমিক্যাল কারখানা থাকবে না। কারণ এই কেমিক্যালের গুদাম পুরান ঢাকাকে মৃত্যুকূপে পরিণত করেছে। কিন্তু দশ বছর পেরিয়ে গেছে। ভয়ংকর দাহ্য এসব কারখানা সরেনি। এখনও মৃত্যুর সঙ্গে বাজি রেখে বসবাস করছেন পুরান ঢাকাবাসী।

বিশ্বে সবচেয়ে ভয়ংকর বাংলাদেশের বাস

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০, বণিক বার্তা

দেশে বাস সম্পৃক্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বে সড়কপথে বাস সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। দেশে সড়কপথে চলাচলরত প্রতি ১০ হাজার বাসের বিপরীতে বাস সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায় প্রতি বছর প্রাণহানি ঘটে ২৮৭ জনের। এদিক থেকে বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে কেবল জিম্বাবুয়ে। দেশটিতে প্রতি ১০ হাজার বাসের বিপরীতে বাস সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ২১৭ জনের। এর বাইরে আর কোনো দেশে বাস সম্পৃক্ত দুর্ঘটনায় এত বেশি প্রাণহানির নজির নেই। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রোড সেফটি-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩৪

মার্চ ০২, ২০২০, ডেইলি স্টার অনলাইন

ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে ৫০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৯ জন। এ মাসেই রেলপথে ৫৬টি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত ও ১৩ জন আহত এবং নৌ-পথে নয়টি দুর্ঘটনায় ৪০ জন নিহত, ৫৬ জন আহত ও ৬৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ

 

পানি ঠেকিয়ে কয়লা তোলার প্রস্তাব দিঘীপাড়া কয়লাখনি থেকে

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০, বাংলা ট্রিবিউন

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুঁটিমারা ইউনিয়নের অন্তর্গত দিঘীপাড়া কয়লাখনির ছড়িয়ে থাকা কয়লা পানির কারণে তোলা সম্ভব হবে না এমন মত ছিল এতদিন। তবে জরিপকারী জার্মানি ও অস্ট্রেলীয় যৌথ কনসোর্টিয়াম দীর্ঘ জরিপের পর যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, মাল্টিস্লাইস লংওয়াল টপ কোল কেভিং উইথ কাট অফ ওয়াল পদ্ধতি অর্থাৎ মাটির নিচে দেয়াল দিয়ে পানি প্রতিরোধের মাধ্যমে এ কয়লা তোলা যাবে। এ পদ্ধতিতে বার্ষিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন হিসেবে ৩০ বছরে ৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন দিঘীপাড়া কয়লাখনি ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

শ্রীকাইলে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান

০৩ মার্চ ২০২০, সমকাল

কুমিল্লার শ্রীকাইল পূর্ব জোনে নতুন একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এই গ্যাসস্তর আবিষ্কার করেছে। ৩ হাজার ৬৫ মিটার গভীরে অবস্থিত এই গ্যাস স্তর থেকে দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে জানায় বাপেক্স।

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাসের জরিপ নেই, তবু দরপত্র

১৫ মার্চ ২০২০, প্রথম আলো

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগামী সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু সমুদ্রভাগের কোথায় তেল-গ্যাসের মতো খনিজ সম্পদের কী ধরনের সম্ভাবনা আছে, তার জরিপ হয়নি, সরকারের হাতেও কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এমন অবস্থায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দর-কষাকষিতে সরকার কতটা সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শর্ত সাপেক্ষে গ্যাস রপ্তানির বিধান রেখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি বা প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) অনুমোদন করে। নতুন পিএসসি অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় বেশি দামে সরকারের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে পারবে।উত্তোলিত গ্যাসের ভাগও বেশি পাবে কোম্পানিগুলো। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে দরপত্র আহ্বানের তারিখ ঘোষণা হতে পারে।

ভারত বাংলাদেশ

 

এবার বেড়েছে ভারত থেকে ফেনসিডিল আসার পরিমাণ

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০, ডেইলিস্টার বাংলা

ভারতের কয়েকটি ফেনসিডিল কারখানা স্থানান্তরিত ও পুনরায় চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিলের চোরাচালান বেড়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

২০১৬ সালের ১১ মার্চ ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ফেনসিডিল নিষিদ্ধ করার পর বাংলাদেশে এই ওষুধ আনা নিষিদ্ধ করা হয়। কর্তৃপক্ষ ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে থাকা কারখানাগুলো বন্ধ করে দিলেও কাশির সিরাপ উৎপাদন আসলে কখনও বন্ধ হয়নি। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী সম্প্রতি মাদক সিন্ডিকেটগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে সড়ে গিয়ে ভারতের বিহার রাজ্যে স্থানান্তরিত কারখানায় এই নিষিদ্ধ ফেনসিডিল উৎপাদন করছে।

মোদি-কাদেরকে ব্যঙ্গ, যুবক গ্রেফতার

০৪ মার্চ ২০২০, সমকাল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।..

অভিযোগ, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনায় এমদাদুল হক মিলন কয়েকদিন ধরেই তার ফেসবুক ওয়ালে নানা ধরনের ব্যঙ্গ ও সরকারবিরোধী পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়েও নানা ব্যঙ্গ করে আসছিলেন তিনি।

হাতিয়ায় মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১২

মার্চ ০৫, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বুড়িরচর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ভারতের দিল্লিতে সহিংসতা, হত্যা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং মুজিববর্ষের আয়োজনে নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় মুসল্লিরা।

পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত শিক্ষার্থী মারা গেছে

এপ্রিল ২০, ২০২০, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দেশের ভেতরে এসে এক শিক্ষার্থীকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রতিবেশী মো. আসাদুজ্জামানসহ গ্রামবাসী। তারা সরকারকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার দাবিও জানান।গতকাল রোববার বিকালে পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত শিক্ষার্থী অবশেষে রাত সাড়ে আটটায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।

আর দশটা ছেলের মতো হেলাফেলায় সময় নষ্ট করতে নিহত শিমোন রায়কে (১৬) দেখেনি গ্রামের মানুষ। পড়ালেখার অবসরে বাবার সঙ্গে নিজেদের কৃষি কাজের দেখভাল করাই ছিল তার পছন্দ। গতকাল বিকালটা ছিল সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। বাবার সঙ্গে পাটক্ষেতে বেড়া দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকা ছেলের ওপর অশনি নেমে এলো অকারণেই। পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংরোড-প্রধানপাড়া সীমান্তে ৭৬২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিএসএফর সাকাতি ক্যাম্পের এক সদস্যের  গুলি মুহূর্তেই যেন সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিল একটি নিরীহ পরিবারের…’ বলেই কেঁদে ফেলেন প্রতিবেশী আসাদুজ্জামান।

বিকালে নিহত ছাত্রের বাবা পরেশ চন্দ্র রায় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘আমাদের পাটক্ষেত থেকে প্রায় দেড়শ গজ দূরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। বিকালে সুতার নেট দিয়ে আমরা ক্ষেতে বেড়া দিচ্ছিলাম। আমার ছেলে ২০ থেকে ২৫ হাত দূরে কাজ করছিল। একজন বিএসএফ সদস্য সেসময় আমাদের দিকে এগিয়ে এসে গালিগালাজ শুরু করে।’

‘ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই বিএসএফ সদস্য আমার সামনেই ছেলের পেটে বন্দুক লাগিয়ে গুলি করে দেয়। আমাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে বিএসএফ সদস্য পালিয়ে যায়,’ যোগ করেন তিনি। আক্ষেপ করে আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে আমার জমিতে আমার ছেলেকে গুলি করে গেল বিএসএফ।’

ঘটনার পর স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ শিমোনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ছেলেটির পেটে গুলি ঢুকে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।’   

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *