সংবাদপত্রের পাতা থেকে(২৫ জুলাই- ২৭ অক্টোবর ২০২৬)

সংবাদপত্রের পাতা থেকে(২৫ জুলাই- ২৭ অক্টোবর ২০২৬)

শ্রমজীবি মানুষ

সৌদিতে কারখানায় আগুনে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে ১৬

১০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬–তে।

আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গতকাল রোববার দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ২ এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

৯ শ্রমিকের মৃত্যু: গত মাসেই নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে মামলা হয়েছিল ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে

১৪ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে গত ১৫ জুলাই সীতাকুণ্ডের ‘ফেরদৌস করপোরেশন লিমিটেডের’ বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।

কিন্তু এরপরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শিপইয়ার্ডের কাজ চালানোর একপর্যায়ে আজ শুক্রবার বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় ওই প্রতিষ্ঠানের ফেরদৌস স্টিলের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে আজ সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ডিআইএফইয়ের এক তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়ার্ডে নোঙর করা এলএনজি পরিবহন করা একটি পুরোনো জাহাজের ভেতরে স্ক্র্যাপ কাটিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। কাজ চলাকালে হঠাৎ জাহাজের ভেতরে গ্যাস লিকেজ হয়ে অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে।

এতে অক্সিজেনের অভাবে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অনেক শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই ৫ শ্রমিক মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৩ জন মারা যান।

বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।

এ ঘটনায় আরও ১০-১২ জন শ্রমিক অসুস্থ ও গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ডিআইএফইয়ের প্রতিনিধি দল কারখানা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতার মারধরে ২ শ্রম পরিদর্শক গুরুতর আহত হন।

একাধিক নোটিশ ও মামলা

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ডিআইএফই চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে কারখানাটি পূর্বে একাধিকবার পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ওই শিপইইয়ার্ডে গিয়ে কিছু ব্যত্যয় দেখতে পান কর্মকর্তারা। এরপর এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌস স্টিলকে একটি নোটিশ দেওয়া হয়।’

‘এরপর কয়েক দফা তাগিদ দেওয়ার পরও কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করায় গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে কারখানাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়,’ বলেন তিনি।  

পরিদর্শক মো. সাহেদ পারভেজ তালুকদার বাদী হয়ে এ মামলাটি করেছিলেন।

অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার কারখানা পরিদর্শন করে বেশ কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করে সংশোধনের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়।

এরপর ৪ মে আবার পরিদর্শন করে আগের নির্দেশনার অগ্রগতি না দেখে তাগিদ দেওয়া হয়।

পরে ৮ জুন চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে অগ্নি ও পেশাগত নিরাপত্তা জোরদারের চূড়ান্ত নোটিশ ও তাগিদপত্র দেওয়া হয়।

আজ দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

স্থানীয় শ্রমিকনেতা ফজলুর কবির মিন্টু ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই জাহাজের ভেতরে জমে থাকা তরল বর্জ্য বা গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা না করে শ্রমিকদের ঢোকানে হয়, যা মালিকপক্ষের গাফিলতি। তাছাড়া বন্ধের দিন সেখানে কাজ চলছিল। বিষয়গুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নৌকায় খাবার-পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

১৬ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

খাবার ও পানি ছাড়া ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১১ দিন ভেসে থাকার পর গ্রিসগামী একটি নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশি।

মিশরে চিকিৎসাধীন ওই বাংলাদেশির বরাতে কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউরোপ-যাত্রায় ৯ রুটে প্রাণ গেছে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর

২২ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবরুক থেকে নৌকায় উঠেছিলেন ৩৮ বাংলাদেশী। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছার লক্ষ্য ছিল রাবারের নৌকাটির।

কিন্তু মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই টানা ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকেন আরোহীরা। এর মধ্যে মারা যান ৯ বাংলাদেশী। তাদের সবার মরদেহ ফেলে দেয়া হয় সাগরেই। বেঁচে থাকা বাকি অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছলে পুলিশ তাদের অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের তরুণ মেহেদী হাসান। ‌আর গত ১৬ আগস্ট একই উপকূল থেকে আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিবিয়ার উপকূল থেকে ২০২৪ সালের এক রাতে নৌকায় উঠেছিলেন এক বাংলাদেশী তরুণ। পরিবারের কাছে তার শেষ বার্তা ছিল—‘ইতালি পৌঁছলে ফোন দেব।’ এরপর আর কোনো ফোন আসেনি। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যরা দালাল, পরিচিতজন ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন। শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি তিনি ভূমধ্যসাগরে ডুবে গেছেন, নাকি কোনো অজ্ঞাত পথে হারিয়ে গেছেন। পরিবারের কাছে তিনি আজও নিখোঁজ।

এটি কেবল একটি পরিবারের গল্প নয়, অবৈধ বা অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে এমন পরিণতির শিকার হয়েছেন হাজারো বাংলাদেশী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর গ্লোবাল ডেটাবেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের নয়টি অনিয়মিত অভিবাসনপথে ঘটে যাওয়া ৮৪টি পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৩২৯ বাংলাদেশী মারা গেছেন এবং আরো ৮৫৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অর্থাৎ গত এক দশকে ২ হাজার ১৮৮ বাংলাদেশীর কোনো না কোনোভাবে মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আয় কমছে শ্রমিকের, সংসারে টানাটানি

২৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

গ্যাসের অভাবে কোথাও কারখানা বন্ধ, কোথাও উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের আয়ে। নিয়মিত কাজ ও ওভারটাইম (অতিরিক্ত সময়ের কাজ) কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিকের মাসিক আয় কমে যাচ্ছে। চুক্তিতে কাজ করা শ্রমিকেরা পড়েছেন আরও বেশি সংকটে। কাজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় তাঁরা আগের মতো মজুরি পাচ্ছেন না।

গতকাল শনিবার নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল ঘুরে শ্রমিক, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

নরসিংদীতে গ্যাসনির্ভর তিন শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে শহরের শিল্পাঞ্চলখ্যাত চৌয়ালা ঘুরে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রথম আলোর নরসিংদী প্রতিনিধি। শ্রমিকেরা জানান, আধা কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অন্তত ৩০টি সাইজিং ও ডাইং কারখানা আছে। এসব কারখানায় সুতা প্রক্রিয়াজাতকরণসহ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হয়। সেখানে কমপক্ষে ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করেন।

গ্যাস না পাওয়ায় ইতিমধ্যে ২৫টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এসব কারখানার একটি মোমিন সাইজিং মিল। গ্যাস-সংকটের জন্য কারখানাটি সাত দিন ধরে বন্ধ ছিল। কারখানার শ্রমিক আবদুস সালাম জানান, সাত দিন ছুটি শেষে কাজে ফিরে তিনি শোনেন আরও তিন দিনের ছুটি। গত মাসের বেতন এখনো পাননি। তিনি বলেন, ‘বউ-বাচ্চাদের নিয়ে খাব কী, চলব কেমনে, কিছুই বুঝতেছি না। আগামীকাল (রোববার) গ্রামের বাড়ি চলে যাব।’

বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীর ‘নিরাপত্তাহীন’ জীবন

২৭ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শেখেরটেক এলাকায় বেসরকারি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করেন ৫৮ বছর বয়সী অহিদুল ইসলাম। ১৬ বছর আগে যখন এ পেশায় এসেছিলেন, তখন অহিদুলের মূল বেতন ছিল প্রায় আড়াই হাজার টাকা; এখন পান ৯ হাজার ৩৩৩ টাকা। আর অতিরিক্ত সময় কাজ করলে মাস শেষে বেতন বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, সারা দেশে ব্যাংকগুলোর ১৬ হাজারের বেশি শাখা–উপশাখা এবং প্রায় ১০ হাজারের বেশি এটিএম বুথ রয়েছে। এসব ব্যাংক ও বুথে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের প্রায় সবাই বিভিন্ন নিরাপত্তাসেবা কোম্পানির সরবরাহ করা ‘আউটসোর্স’ কর্মী।

শুধু ব্যাংক খাতেই নয়, বিভিন্ন অফিস, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে কূটনৈতিক মিশন— সবখানেই এখন বেসরকারি বিভিন্ন নিরাপত্তা কোম্পানির কর্মীদের দেখা যায়। তাঁদের সংখ্যার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে এ খাতের কোম্পানিগুলোর অন্যতম বড় সংগঠনটি বলছে, সারা দেশ মিলিয়ে পাঁচ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।

প্রথম আলোর অনুসন্ধান বলছে, নিরাপত্তাকর্মীদের প্রধান সমস্যা কম বেতন। অন্যান্য অসুবিধার মধ্যে রয়েছে—দৈনিক ১২-১৬ ঘণ্টা কাজ, দেরিতে বেতন পাওয়া, সাপ্তাহিক ছুটি না থাকা আর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাব। ঘুম, চিকিৎসা এবং খাওয়া নিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

চা বাগানে মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন, শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক নেত্রী গ্রেপ্তার

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম 

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবির আন্দোলনের মধ্যেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একটি মামলায় আসামি হিসেবে তাকে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করা হয়।

৫০০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরির দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে এই আন্দোলন চলছে। সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রায় ৫০টি চা বাগানে একযোগে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতিও পালন করছেন শ্রমিকরা।

ছোট হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বড় শ্রমবাজার, নতুন বাজারের নামে প্রতারণা

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

সেনানিবাসে বাবুর্চির কাজ দেওয়ার কথা বলে গত বছর রাশিয়ায় পাঠানো হয় লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে। কিন্তু খাবার তৈরি নয়, তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সরাসরি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে।

সাত মাস পর বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরে আসেন জাহাঙ্গীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে প্রশিক্ষণ ছাড়াই অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে এক দিন তা চালানো শেখানো হয়। তাঁরা একসঙ্গে ১৬ জন ছিলেন যুদ্ধের ক্যাম্পে। চারজন মারা যাওয়ার পর তাঁর দিন কাটছিল আতঙ্কে। অসুস্থ হয়ে দুই মাস হাসপাতালে কাটান। সেখান থেকে পালান এবং দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফেরেন।

রাশিয়া কখনোই বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার ছিল না। বাংলাদেশি অদক্ষ শ্রমিকেরা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যান। মালয়েশিয়ায়ও অনেকেই যেতেন। আর্থিক দিক দিয়ে বেশি সচ্ছলেরা যান ইউরোপের দেশগুলোতে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলো রাশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোতে অনেকে যাচ্ছেন। গিয়ে অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

অন্যদিকে অবৈধ পথে ইউরোপের দেশে গিয়ে বহু মানুষ প্রতিবছর প্রাণ হারাচ্ছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। কিন্তু অবৈধ পথে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে যাত্রা থামছে না।

বনরুটির দাম বাড়ল ৫ টাকা, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট বেড়েছে

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীর পেশায় রিকশাচালক। সকাল-বিকেল মিলিয়ে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পায়ে টানা রিকশা চালান তিনি। কষ্টের এই কাজের ফাঁকে দিনে তিন-চারবার টুকটাক নাশতা খেতে হয় তাঁকে। প্রতিবার অন্তত একটি বনরুটি ও এক কাপ চা খান তিনি।

এত দিন প্রতিবার নাশতায় আলমগীরের খরচ হতো ২০ টাকা। এর মধ্যে বনরুটি ১০ টাকা ও দুধ চা ১০ টাকা। কিন্তু গত রোববার থেকে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকায়। কারণ, বাজারে বনরুটির দাম পিসপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকাতেই এখন বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারির তৈরি খোলা পাউরুটি (বনরুটি নামে পরিচিত) ও কেক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরেও বেশ কিছু অঞ্চলে রুটি-কেকের দাম বেড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় দাম না বাড়লেও রুটি ও কেকের আকার ও ওজন (পরিমাণ) কামানো হয়েছে।

বেকারি মালিকেরা জানিয়েছেন, গত দেড়-দুই বছরে ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। এ কারণে তাঁরাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে দাম বাড়িয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। এমনিতে বাজারে মাছ, মাংস, সবজি, তেল, চিনি প্রভৃতি নিত্যসামগ্রীর দাম আগের তুলনায় বেশি। সেখানে রুটি, কেকের মতো বেকারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচের পাল্লা আরও কিছুটা ভারী হয়েছে নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের।

রিকশাচালক আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুইডা খেপ (ভাড়া) মাইরা একটা রুটি, একটা চা খাওনই লাগে। না হয় শরীরে বল (শক্তি) পাই না। কিন্তু এহন খরচ ৫ টেয়া বাড়ছে।’

শ্রমের হাটে বসে শুধু অপেক্ষা, কাজ নেই দিনমজুরদের

০১ অক্টোবর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

ভোর হলেই ঠাকুরগাঁও শহরের বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে বসে শ্রমের হাট। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দিনমজুরেরা এখানে আসেন কাজের আশায়। কারও হাতে কোদাল-কর্নি, কারও হাতে বাঁশের ঝুড়ি-কাস্তে। কেউ আবার রং-চুনকামের সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু ক্রেতা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককেই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে।

কৃষিকাজ, নির্মাণ, মাটি কাটা, রং-চুনকামসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রম বিক্রি করে যাঁদের সংসার চলে, তাঁদের কেউ কয়েক দিন, কেউবা কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ পাচ্ছেন না। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন হাটে এসে বসছেন, আবার দিন শেষে ফিরছেন হতাশ হয়ে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসে আছেন অনেক শ্রমিক। সকাল ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকে কাজ পাননি। কারও চোখে অনিশ্চয়তা, কারও মুখে সংসার চালানোর দুশ্চিন্তা।

মিরপুরে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফুটপাতের দোকানপাট উচ্ছেদ করতে যান সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সঙ্গে ছিল পুলিশ।

একপর্যায়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে হামলা চালান। ভাঙচুর করেন। আগুন ধরিয়ে দেন।

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে বাড়তি খরচ, সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বস্তিবাসী

৪ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা গৃহকর্মী জান্নাত বেগম এক কক্ষের ঘরে একটি বাতি ও একটি পাখা ব্যবহার করতে মাসে ৬০০ টাকা দেন। অথচ সরকারি বিদ্যুতের শুল্কহার অনুযায়ী, তার আনুমানিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ ৪৫০ টাকারও কম হওয়ার কথা।

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সরাসরি সংযোগ না থাকায় ঢাকার বস্তিগুলোর হাজারো নিম্ন আয়ের পরিবার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির জন্য অননুমোদিত সেবা সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল। এসব সরবরাহকারী সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করেন।

বস্তিবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী লোকজনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এসব ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।

‘সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগের শেষ হয় না,’ বলেন কল্যাণপুর পোড়া বস্তির বাসিন্দা মো. জনি।

দাবি আদায়ে প্রেস ক্লাবের সামনে অটো চালকদের অবরোধ, রাজধানীতে অটো চলাচল কম

৫ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা পোস্ট

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন অটো চালকরা। কয়েকটি দাবিতে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে শত শত অটো চালক সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এতে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

এদিকে অটো চালকদের অবরোধের কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চলাচল অনেকটা বন্ধ রয়েছে। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অটো রিকশা কম দেখা যাচ্ছে।

অবরোধে অংশ নেওয়া অটো চালক মিল্লাদা মিয়া বলেন, অটো চার্জ দেওয়ার স্থানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদসহ কয়েকটি দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না।

আরেক অটো চালক সুমন বলেন, ট্রাফিক পুলিশ অটো চালকদের হয়রানি করে এবং অটো রিকশা ডাম্পিং করে। অটো রিকশা আটক করলে পাঁচ হাজার টাকা করে মামলা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তারা।

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন দাবি: উত্তরায় পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ

১৪ অক্টোবর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় তৃতীয় দিনের মত সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পোশাক শ্রমিকেরা।

পুলিশের উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এডিসি রুবেল হক জানান, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বুধবার সকালে আজমপুর এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

পুলিশের লাঠিচার্জ-সাউন্ড গ্রেনেডে উত্তরায় সড়ক ছাড়লেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে তারা সড়ক ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।

মজুরি বাড়ানো, ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আজ সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় অবস্থান নেন। এতে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী মেহেদী হাসান জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেডে নিক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ছুটি না দিয়ে দুর্ব্যবহার, মেশিনেই মারা গেলেন অসুস্থ পোশাক শ্রমিক

১৯ অক্টোবর ২০২৬, যুগান্তর 

ঢাকার আশুলিয়ার একটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় এক নারী পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কারখানায় কাজের সময় এক কর্মকর্তা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার পরপরই ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন ওই শ্রমিক। ১৬ অক্টোবর তৈরি পোশাকশিল্প গ্রুপ ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থবোধ করায় ওই শ্রমিক কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও উৎপাদনের চাপে তাকে কাজ করতে হয়।

নিহত সুমি আক্তার মিশুর গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা থানায়। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কারখানায় সুমি সুইং মেশিনে কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে তার পাশে আসেন এক ব্যক্তি। এ সময় আরেক ব্যক্তি সুমির দিকে তেড়ে আসেন। তিনি সুইং মেশিন চাপড়াতে শুরু করেন এবং কয়েক দফায় উদ্ধত অঙ্গভঙ্গি করেন। সুমি যে কাপড়টি নিয়ে কাজ করছিলেন, সেটি ছিনিয়ে নিয়ে নিচে ফেলে দেন ওই ব্যক্তি। তার এমন দুর্ব্যবহারের একপর্যায়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন সুমি।

‘প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট জেলে থাকা নাগরিকদের খোঁজ নেয়, অথচ আমাদের নেয় না’

১৯ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

‘কারাগারে থাকার সময় ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিনা। সে জানিয়েছে, কেউ যোগাযোগ করেনি। প্রতিটি দেশের কনস্যুলেট কারাগারে থাকা নাগরিকদের খোঁজ নেয়। অথচ আমাদের দেশের কনস্যুলেট তার কোনো খোঁজ নেয়নি। আমার ছেলেকে যে অভিযোগে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী পেয়েছিল কিনা, কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ হয়েছিল কিনা, তাও বড় প্রশ্ন। আমার ছেলের মতো আর কারও যেন এমন পরিণতি না হয়।’

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের বাবা আবদুল বাছির কথাগুলো বলছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ এই বাবা এখন একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানাচ্ছেন।

অর্থনীতি

রাজধানীর মিরপুরে দেয়ালচাপায় টিসিবির লাইনে থাকা নারীসহ ২ জনের মৃত্যু, আহত অনেকেই

২৮ জুলাই ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরের লাভ রোডে একটি কলেজের দেয়াল ধসে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৬-৭ জন আহত হয়েছেন। তারা টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের দেয়াল ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছিমা বেগম মিরপুর ২ নম্বর জনতা হাউজিংয়ের বাসিন্দা।

এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

৩১ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। এই দুই ব্যাংকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

এদিকে পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নিযুক্ত পরিচালকদের কয়েকজন নানা অনিয়মে আগে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে

০১ আগস্ট ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা নিশ্চিত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার পৌঁছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাবিবুর রশিদ বলেন, ‌‘কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনকে শুধু একটি রেলস্টেশন হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যেই স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা নিশ্চিত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

কমছে ফসল ও মাছ উৎপাদন গ্রাম ছাড়ছেন ঋণগ্রস্ত কৃষক-জেলে পেশা পাল্টেছেন অনেকেই

৩ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

বরগুনার সমুদ্রঘেঁষা তালতলী বাজার। দুপুরের রোদে এক পাশে ছোট্ট একটি ঠেলাগাড়িতে বরফ, লেবু, চিনি আর পানির বোতল সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ইউসুফ হোসেন হাওলাদার।

কয়েক বছর আগেও পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষটিকে দেখা যেত জমিতে ধান, মরিচ কিংবা শাকসবজির পরিচর্যায়। কৃষিকাজই ছিল তার পরিচয়, তার সংসারের ভরসা। আজ তিনি আর কৃষক নন, শরবত বিক্রেতা।

তালতলী উপজেলার বড় অঙ্কুজান গ্রামের ইউসুফ হোসেন বলছিলেন, ‘চাষ করে আর সংসার চলছিল না। তিন বছর ধরে জমিতে ফলন এমনভাবে কমে গেছে যে খরচই উঠত না। বয়স হয়েছে, তাই ঢাকায় যেতে পারিনি। বাধ্য হয়ে এ শরবতের ব্যবসা শুরু করেছি।’

ইউসুফের এ পেশা পরিবর্তনের গল্পটি এখন আর ব্যতিক্রম নয়। বরং এটি উপকূলীয় তালতলীর এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে তালতলীর নিশানবাড়ী ইউনিয়নের বড় অঙ্কুজানপাড়ায় ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হওয়ার পরই এ পরিবর্তন শুরু হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর পর পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ আহরণ দ্রুত কমে যায়। একই সময়ে কৃষিজমির উৎপাদনও কমতে থাকে। ডাব, পেয়ারা, তালসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফল উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই বছরে উপজেলার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কৃষক ও জেলে জীবিকার তাগিদে পেশা বদল করেছেন। অনেকে ঢাকায় গিয়ে অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ হকারি করছেন, কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। ঋণের চাপে অনেকেই আবার গ্রাম ছেড়েছেন। পরিবারের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে তাদের এখন আর যোগাযোগই নেই।

বালুচরে স্বার্থের সেতু, ব্যয় প্রায় শতকোটি

০৬ আগস্ট ২০২৬, কালবেলা 

ঢাকার সাভার উপজেলার উত্তর কাউন্দিয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি আবাসন প্রকল্প। উর্বর ফসলি জমি আর তুরাগ নদীর বুক চিরে ওঠা বালুচরে ৯ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলা এ আবাসন সাম্রাজ্যে করা হচ্ছে ১৯ হাজার প্লট। তবে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি’ নামে এই আবাসন প্রকল্পের নেই রাজউকের কোনো অনুমোদন, নেই পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র। আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে কৃষকের জমি ও নিচু জলাশয় ভরাটের মতো অভিযোগও রয়েছে। এমন অনুমোদনহীন বেসরকারি আবাসন প্রকল্পকে বিশেষ সুবিধা দিতে সরকারি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু। লোকালয় থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে প্রায় ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আপত্তি উপেক্ষা করে স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) অনুরোধে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালি’ প্রকল্পের মধ্য দিয়েই এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, লোকালয় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালির মধ্য দিয়ে সেতু করায় বাধা দেয় রাজউক। এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাভার সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাজউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সভা করেন। তাতে রাজউক রাজি না হলে দুজন এমপিকে দিয়ে ফোন করানো হয়। পরে রাজউক কিছু শর্ত জুড়ে দেয়।

বন্ধ পাটকল ইজারা পাচ্ছে প্রাণ আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ, বিনিয়োগ করবে হাজার কোটি টাকা

১১ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

বন্ধ পাটকল ইজারা পাচ্ছে প্রাণ আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ, বিনিয়োগ করবে হাজার কোটি টাকা

খুলনা ও সিরাজগঞ্জে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ইজারা পাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপ। এই দুই শিল্পগোষ্ঠী বন্ধ মিলগুলোতে তৈরি পোশাক, জুতা, খেলনা, আসবাব, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য, লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এতে মোট ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল ৩০ বছরের জন্য ইজারা পাচ্ছে হ্যামকো গ্রুপের আবদুল্লাহ ব্যাটারি কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড। অন্যদিকে খুলনার দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলস এবং সিরাজগঞ্জের রায়পুরের জাতীয় জুট মিলস ইজারা পাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মামনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, খুলনা ও দিনাজপুরের তিনটি পাটকল প্রাণ-আরএফএল ও হ্যামকো গ্রুপকে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। কাল (আজ মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ইজারার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে বলে জানান তিনি।

ভোক্তার জন্য বাড়ল ১০ টাকা, খামারিরা পাচ্ছেন ৩ টাকা

১১ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

খামারিদের কাছ থেকে কম দামে দুধ কিনে ভোক্তাদের কাছে তুলনামূলক চড়া দামে বিক্রি করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড– মিল্ক ভিটা। প্রতিষ্ঠানটি গত ১ আগস্ট থেকে খামারিদের কাছ থেকে দুধ কেনার দাম লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ তিন টাকা বাড়ালেও ভোক্তা পর্যায়ে এক লিটার দুধের দাম বাড়িয়েছে ১০ টাকা। এতে খামারিরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেলেও বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত তরল দুধের এক লিটারের প্যাকেট এখন খুচরা বাজারে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ১০০ টাকা। অন্যদিকে ন্যূনতম ৪ শতাংশ চর্বিযুক্ত এক লিটার দুধের জন্য খামারিদের দেওয়া হচ্ছে ৫৩ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ টাকা। অর্থাৎ ৫৩ টাকায় দুধ কিনে প্যাকেটজাত করে ১১০ টাকায় বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চিনিকল চালুর দাবি

১১ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল আধুনিকায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। 

এ সময় সারাদেশ থেকে আসা চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রওনা হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে কমিটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেয়। 

প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিতে নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু; চিনিকলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি; আখচাষিদের উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ, উন্নতমানের আখবীজ, সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা; ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পসম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর বা বেসরকারিকরণের চক্রান্ত বন্ধ; রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিল্পনীতি গ্রহণ; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করা প্রভৃতি। 

শিল্পে কমছে কর্মসংস্থান, বাধ্য হয়ে কৃষিতে ফিরছেন দেশের তরুণরা

১২ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

কর্মসংস্থানের অভাবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা নেয়ার সুযোগ থাকলেও তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। গত এক দশকে দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে তরুণের সংখ্যা।

তবে সে তুলনায় বাড়েনি কর্মসংস্থান। বিশেষত শিল্প খাতে নতুন কাজ সৃষ্টি না হওয়া এজন্য দায়ী। ফলে তরুণদের অনেকে কৃষি, স্বকর্মসংস্থান কিংবা অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে শ্রমশক্তি স্থানান্তরের বদলে কৃষিতে কর্মসংস্থানের অংশ বাড়ার এ প্রবণতার কারণে শ্রমবাজারে বড় ধরনের কাঠামোগত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ‘রিভাইভিং অ্যান্ড রিকানেক্টিং ইকোনমিক গ্রোথ অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়ার্কিং পেপার ও বিশ্বব্যাংকের ‘রিপারপোসিং এগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’স এগ্রিফুড সিস্টেম’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণদের ৪৫ শতাংশ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া শিল্পে ১৭ ও সেবা খাতে যুক্ত ৩৮ শতাংশ। যদিও ২০১৭ সালে কর্মরত যুবকদের ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ কৃষিবহির্ভূত খাতে ছিল। ২০২২ সালে তা কমে ৫৮ দশমিক ৩ এবং ২০২৪ সালে মাত্র ৪৮ শতাংশ হয়। অর্থাৎ প্রতি বছর নতুন করে কৃষি খাতে বাড়ছে কর্মক্ষম তরুণের সংখ্যা। এমন বাস্তবতায় সারা বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক যুব দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন প্রত্যাশা’।

 

বাস্তবের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে বিবিএস?

১৩ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশে গত দুই মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে এ সময়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে।

অন্যদিকে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দুর্বলতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে চাপ ও কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি। বাস্তবতা ও সরকারি পরিসংখ্যানের এ পার্থক্য বিবিএসের তথ্যের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর আগের মাস জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। মে মাসে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ৪২ ও ৯ দশমিক শূন্য ৬। অর্থাৎ, মে থেকে জুলাইয়ে ধারাবাহিকভাবে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ দুটি হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫৫ ও ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সে হিসেবে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে সার্বিক ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি ও সবজির বাজারের দামের ঊর্ধ্বমুখিতায় দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন) আগের প্রান্তিকের তুলনায় দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২১ শতাংশে। মূলত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সবজির মূল্যবৃদ্ধি এ সময়ে মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ

১৪ আগস্ট ২০২৬, যুগান্তর

গ্যাস সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় শত শত শিল্প-কলকারখানা অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী কার্যত এখন কর্মহীন। চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্পমালিকরাও। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বায়ারদের অর্ডার বাতিল হওয়ার উপক্রম। শিল্প-কলকারখানার জন্য বরাদ্দকৃত গ্যাসের বেশির ভাগ বুধবার থেকে পাওয়ার প্ল্যান্টে সরবরাহ করায় এই মহাসংকটে পড়েছে দেশের পুরো শিল্প সেক্টর। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগ্গিরই সংকটের সমাধান না হলে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পুরো অর্থনীতি। যার নেতিবাচক প্রভাব কমবেশি সমাজের সব ক্ষেত্রে পড়বে। 

বন্ধ সরকারি কারখানায় বিনিয়োগে আগ্রহী ১৪ শিল্প গ্রুপ

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রাষ্ট্রমালিকানাধীন বন্ধ ও লোকসানি কলকারখানায় বিনিয়োগে আগ্রহী দেশের ১৪ প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠী। এসব প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠী সরকারের কাছে ৮৬টি বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবগুলো এখন যাচাই-বাছাই করছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন বন্ধ ও লোকসানি কলকারখানায় কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল উৎপাদন, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো, খাদ্য ও পানি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত জুনে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বন্ধ ও লোকসানি কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই মাসেই বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে—এমন ৪৪টি কলকারখানা তালিকাভুক্ত করে বিডা। এর মধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) ১৩টি, বাংলাদেশ বস্ত্রকল করপোরেশনের (বিটিএমসি) ১২টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১০টি, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ৫টি এবং বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিডা বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আগ্রহপত্র চাইলে ৪টি প্রতিষ্ঠান ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠী ৮০টি বিনিয়োগ প্রস্তাব দেয়।

মেট্রোর দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা

১৯ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

রাজধানীতে সরকারি গণপরিবহন ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-৫ (এমআরটি-৫ উত্তর লাইন) ও এমআরটি-১ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। এটি প্রকল্প দুটির অনুমোদিত ব্যয়ের দ্বিগুণের বেশি। অস্বাভাবিক এই ব্যয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি–একনেক বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। 

ব্যয়ের সঙ্গে প্রকল্প দুটির নির্মাণকালও ৫ ও ৬ বছর করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের সঙ্গে সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট ভৌত অবকাঠামো অস্বাভাবিক বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করছে। 

৫৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি পরিশোধ করেছে সরকার

২৩ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়া বাড়িয়েছে সরকার। কেবল চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই (জুলাই) ব্যাংক খাত থেকে সরকার ৫৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে।

ট্রেজারি বিল-বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে নেয়া হয়েছে এ ঋণ। তবে একই সময়ে সরকার সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধও করেছে। সে হিসাবে গত জুলাইয়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নেয়া নিট ঋণ ছিল ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

টাকা খরচ করতে যত রকমের ‘প্রকল্প’

২৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

অস্তিত্বই নেই, এমন একটি বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল দুই লাখ টাকা। এরপর কাগজে-কলমে ওই বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজ করার কথা বলে বরাদ্দের পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যশোরের অভয়নগরের।

সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ওই বরাদ্দ দিয়েছিল অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন। অনিয়মের এ ঘটনা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের। যখন বরাদ্দ দেওয়া হয়, তখন ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর টাকা তোলা হয়েছে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, গত ২০ এপ্রিল।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ‌‘সিদ্দিপাশা ভৈরব কিন্ডারগার্টেন স্কুলের’ সংস্কারের জন্য ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। অভয়নগরে সিদ্দিপাশা নামে একটি ইউনিয়ন আছে। একই নামে ওই ইউনিয়নে একটি গ্রামও আছে। গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সিদ্দিপাশা ইউনিয়নে যান প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। কিন্তু পুরো ইউনিয়নে ওই নামে কোনো স্কুল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অভনয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করে প্রথম আলো। তারা বলছে, ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান অভয়নগর উপজেলাতেই নেই।

অস্তিত্বহীন ওই বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজটি ‘সম্পন্ন’ করা হয়েছিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে। দরপত্র ছাড়াই সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগী বা স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিয়ে অবকাঠামোসহ ছোটখাটো কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়, যা পিআইসি নামে পরিচিত। সাধারণত পিআইসির মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করা হয় না। দরপত্র ছাড়া সরকারি বরাদ্দে কোথাও কোনো উন্নয়নকাজ হলে তা ‘প্রকল্প’ হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পায়।… ….

পিআইসি ও দরপত্রের মাধ্যমে যেসব উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে ২৩টি প্রকল্প এলাকায় গত জুলাই মাসে সরেজমিন পরিদর্শন করেন এই প্রতিবেদক। এর মধ্যে পিআইসির পাঁচটি প্রকল্পে কোনো কাজই হয়নি। দুটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর দুটি প্রকল্পে মোটামুটি কাজ হয়েছে। এসব প্রকল্পে সর্বনিম্ন ৮০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ ছিল। তবে দরপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা ১২টি প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, সব কটিতেই কাজ হয়েছে।

ব্যাংকে রাখা টাকা না পেয়ে বিক্ষোভ, ‘মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না’

২৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

‘আমার মা মারা যাচ্ছে, আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না।’ কথাগুলো বলতে বলতে চেয়ারে বসে পড়েন মো. আলাউদ্দিন। এ সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আজ সোমবার নগরের হালিশহর এলাকায় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের জোনাল অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

আলাউদ্দিনের মতো অনেক আমানতকারী টাকা তুলতে না পারাসহ বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ নিয়ে আজ ব্যাংকের জোনাল অফিসে জড়ো হন। সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম কমিটির আহ্বানে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা।

মো. আলাউদ্দিন সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে অসুস্থ মাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসতে হয়েছে; কিন্তু ব্যাংকে আমানতের টাকা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় তা তুলতে না পারায় মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

‘নাবিল গ্রুপের ফাঁদে’ ইউসিবি

২৫ আগস্ট ২০২৬, জাতীয় অর্থনীতি 

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। ব্যাংকটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও বিশাল মূলধন ঘাটতি। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ‘নাবিল গ্রুপ’কে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে এক হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইউসিবি। বাণিজ্যিকঋণ

বিতর্কিত এই গ্রুপটিকে এত বড় অঙ্কের নতুন অর্থায়ন করা নিয়ে ব্যাংকটির ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। নাবিল গ্রুপের নামে-বেনামে ইসলামী ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক ও প্রিমিয়ার ব্যাংকে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এতে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, যেখানে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি সামাল দিয়ে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো ইউসিবির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেখানে এমন এক আলোচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপকে বিপুল অর্থায়ন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎকে আরও সংকটে ফেলবে।

ঋণখেলাপিদের আরও বড় ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোরতার পরিবর্তে একের পর এক ছাড়ের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এক সিদ্ধান্তে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণেও এ সুবিধা দেওয়া যাবে। এমনকি বিশেষ সুবিধা নেওয়া ঋণে এখন আবার গ্রেস পিরিয়ডও বাড়ানো যাবে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন ঋণগ্রহীতারা। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়।

বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির কাছে প্রায় এক হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না করে এভাবে কমিটির মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এক সার্কুলার জারি করে গত বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি হওয়া ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধার জন্য আবেদন করতে বলে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়। গত মে মাসে আরেক দফা সময় বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এখন চতুর্থ দফা আবেদনের সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

খেলাপি কম দেখাতে ঋণ পুনঃতপশিলে একের পর এক ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ধ কারখানা সচল করতে বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতসব উদ্যোগের মধ্যে খেলাপি ঋণ না কমে আরও বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বেড়ে ফের ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মোট ঋণের যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বর্তমানে খেলাপি ঋণের এ হার বিশ্বের যে কোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকৃত চিত্র সামনে আনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ এ পর্যায়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে অনিয়ম জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা পলাতক। কেউ কেউ জেলে আছেন। নানা কৌশলে খেলাপি ঋণ গোপনের সুযোগ বন্ধ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র সামনে আনার ওপর জোর দেয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সামলানো যাচ্ছে বাড়তি আমদানি খরচ

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দুই বছরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ অনেকটাই বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এখন চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ আছে। সাধারণত তিন মাসের মজুত থাকলেই গ্রহণযোগ্য ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গতকাল রোববার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন (৩ হাজার ৬৩৯ কোটি) ডলার। বিগত ছয় মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত সপ্তাহেও রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কমেছে।

এটা মোট মজুতের হিসাব। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে মোট রিজার্ভের পাশাপাশি প্রকৃত রিজার্ভের হিসাবও দেওয়া হয়, যা বিপিএম ৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) নামে পরিচিত। এ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি (৩ হাজার ৪৭৪ কোটি)।

১০ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশ, তালিকায় কোন কোন ব্যাংক

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণে বিশ্বের ১ নম্বর দেশ। আর মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশই দেশের মাত্র ১০টি ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি যেমন বেড়েছে, তেমনি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতাও কমে গেছে।

বিশেষ করে একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত চারটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে রয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা চালালেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে না।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, যাঁদের নামে বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে, তাঁদের বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মী ও সমর্থক ব্যবসায়ী। তাঁদের কেউ কারাগারে, আবার কেউ বিদেশে পলাতক। যে কারণে দুই বছর ধরে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে।

১০ ব্যাংকে কেন্দ্রীভূত ৭২% খেলাপি ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে গত জুনে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকে ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশ।

সর্বোচ্চ ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকে, যা তাদের মোট ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের বড় অংশই সাইফুল আলম বা এস আলমের নামে, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপে এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর্যন্ত গ্রুপটির নেওয়া ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকে, যা তাদের দেওয়া মোট ঋণের ৭৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ব্যাংকটির শীর্ষ খেলাপি হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ। এ ছাড়া এস আলম গ্রুপ ও এননটেক্সও বড় খেলাপি।

খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ ও এক্সিম ব্যাংকের ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ ঋণ এখন খেলাপি। এসব ব্যাংকের বড় খেলাপিদের মধ্যে রয়েছে এস আলম, বেক্সিমকো, নাসা, সিকদারসহ কয়েকটি গ্রুপ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও এবি ব্যাংকের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি। এসব ব্যাংকের বড় খেলাপিদের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, উত্তরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ, মাইশা গ্রুপ, বিল্ডট্রেড গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, আশিয়ান সিটি, মাহিন গ্রুপ, আমান গ্রুপ, এরশাদ ব্রাদার্স ও মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের ৪৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটির শীর্ষ খেলাপিদের মধ্যে রয়েছে জজ ভূঁইয়া গ্রুপ, জাকিয়া গ্রুপ, মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং, মুন গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

‘ইলিশের দেশে’ ইলিশ আসছে ভারত থেকে

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

বাংলাদেশের ইলিশের জন্য মুখিয়ে থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে তৈরি হয় আগ্রহ। অথচ এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকেই ইলিশ আসছে ‘ইলিশের দেশে’।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। জুলাইয়ে এসেছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা পোস্ট

ঢাকা মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসন ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে এই বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

অনুমোদিত তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এই তিন প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। মেট্রোরেলের তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় এবং নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে গঠিত এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্প।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। একনেকের মূল বৈঠকে মেট্রোরেলের তিনটি মেগা প্রকল্পসহ মোট ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি একেবারে নতুন প্রকল্প এবং বাকি ৫টি সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে পেশ করা হয়। সভার কার্যক্রম শেষে একনেকের সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়তে চায় সরকার, লক্ষ্য ৫০–১০০ কোটি ডলার

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

অর্থায়নের উৎস বহুমুখী করতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এই বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম ঋণপত্র ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সিং কমিটির কাছ থেকে বন্ডের আকার ও ইস্যুর শর্তাবলির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ড ইস্যু করার আশা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমরা বিদেশি পুঁজিবাজারে ডলার বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করেছি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বন্ড ইস্যু করা হতে পারে।”

নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প পাস, আগের দুটির ব্যয় দ্বিগুণ

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

মেট্রোরেলপথের দুই প্রকল্পের ব্যয় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা বৃদ্ধিতে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা ২০১৯ সালে নির্ধারিত ব্যয়ে রাজি না হওয়ায় গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। 

জাপানের নানা শর্তে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রকল্প দুটির অগ্রগতি স্থগিত করে বিকল্প অর্থায়ন সন্ধান করতে চেয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার  জাপানের ঋণে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে প্রকল্প দুটির ব্যয় ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। পাতাল ও উড়ালপথের প্রকল্প দুটিতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প দুটির মেয়াদও সাত বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে একনেক। 

গতকাল একনেকের একই সভায় রাজধানীর গাবতলী থেকে আসাদগেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল (এমআরটি-৫ দক্ষিণ) প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। 

২০১৯ সালে অনুমোদনের সময় ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর-পূর্বাচল-কমলাপুর মেট্রোর (এমআরটি-১) ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ৬১ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বাড়ানোর পর প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়াল ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। ব্যয় রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বরে এমআরটি-১ চালুর পরিকল্পনা ছিল। গতকাল প্রকল্পটির মেয়াদ সাত বছর বাড়িয়ে ২০৩৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। 

রাজস্ব আয় কম, ঋণের নতুন উৎস খুঁজছে সরকার

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

সরকারের আয়ের তুলনায় ব্যয় সব সময়ই বেশি। রাজস্ব আয় বাড়িয়ে ঋণ কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বাজেট বাস্তবায়নে অর্থবছরের শুরু থেকেই ঋণ করতে হচ্ছে। তবে ঋণের জন্য সরকার ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। এ কারণে নতুন পথ খুঁজছে সরকার। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়নের পথে যাচ্ছে সরকার। ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রাপ্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সুকুক বা ইসলামী বন্ড ইস্যুর মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। 

এর বাইরে বহুপক্ষীয় সংস্থার কাছ থেকে বাজেট সহায়তা, স্বল্পমেয়াদি সার্বভৌম সুকুক, অভ্যন্তরীণ ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে বন্ধকি ঋণ এবং সবুজ ও নীল বন্ডসহ একাধিক নতুন অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব উদ্যোগ অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পদ্ধতি এবং শেষ পর্যন্ত সবই ঋণ। রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাওয়া উচিত নয়।

উচ্চ ব্যয় ও ঋণে মেট্রোরেল নিয়ে সতর্কবার্তা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, একমাত্র সমাধান হিসেবে না দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, নির্মাণে উচ্চ ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণের মেট্রোরেল ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যয় ও ঋণের চাপ কমাতে মেট্রোরেল নির্মাণে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছ দরপত্র হতে হবে। মেট্রোরেল আদৌ প্রয়োজন কিনা, বা কবে প্রয়োজন– তা বিশ্লেষণ করতে হবে। 

গতকাল শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা: আইপিডির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় পরিবহন ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। আইপিডি ভার্চুয়াল এ সভার আয়োজন করে।

পায়রা বন্দর: বিশাল অবকাঠামো, বাণিজ্যে খরা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গত ১৩ বছরে ১৫ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও পায়রা বন্দর এখনো অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। বিশাল এ অবকাঠামোটি বর্তমানে শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা খালাসের কাজেই সীমিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি নাব্যতা সংকট ও আশপাশে শিল্পাঞ্চল গড়ে না ওঠায় বন্দরটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

২০১৩ সালে পটুয়াখালীর টিয়াখালীতে ধানখেত আর কাদামাটির মধ্যে পায়রা বন্দর উদ্বোধন করা হয়। তখন বলা হয়েছিল, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়নে এই বন্দর বড় ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনাকারীরা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে ১৭টি বড় পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল নতুন জেটি, স্মার্ট সিটি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। মূল বন্দর এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ২০২৩ সালের মধ্যে শুরু করার লক্ষ্যও ছিল।

কিন্তু পরিকল্পনার বড় অংশই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আর বন্দরটির নিজস্ব কার্যক্রমও অনেকটা থমকে আছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানে প্রশাসনিক ভবন, কঠোর নিরাপত্তায় থাকা একটি জেটি এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর সরঞ্জাম আছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের তেমন কোনো চিহ্ন নেই।

পানিতে দু-একটি মাছ ধরার নৌকা দেখা গেছে। কিন্তু জেটিতে কনটেইনার নেই, নেই বাণিজ্যিক জাহাজের ব্যস্ততা।

তথ্যও বন্দরের সীমিত ব্যবহারের চিত্রই তুলে ধরছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ২ হাজার ৯৬২টি জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে বিদেশি জাহাজ ছিল মাত্র ২৯টি।

দেশে জাহাজ চলে এলেও বিল অব এন্ট্রি দাখিলেই লেগে যায় ৭ দিন

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পৌঁছার পর আমদানি পণ্য খালাস করে বন্দর থেকে বের করতে গড়ে ১৩ দিন সময় লাগছে। এর মধ্যে শুধু ইমপোর্ট জেনারেল ম্যানিফেস্ট (আইজিএম) থেকে বিল অব এন্ট্রি বা আগামপত্র দাখিল করতেই চলে যাচ্ছে গড়ে ৭ দিন ৯ ঘণ্টা। অথচ কাস্টমস আইন অনুযায়ী, বন্দরে পণ্য পৌঁছার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিল অব এন্ট্রি দাখিলের বিধান। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ না হওয়ায় আমদানি পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগে চলতি বছরের এপ্রিলে পরিচালিত ‘বর্ডার ক্লিয়ারেন্স টাইম’ শীর্ষক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

আইজিএম বা ম্যানিফেস্ট হলো জাহাজে থাকা পণ্যের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী। জাহাজ বন্দরে আসার আগে বা পৌঁছার পর পরই কোন আমদানিকারকের কী পণ্য, কী পরিমাণ পণ্য রয়েছে—এসব তথ্য অনলাইনে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে জমা দেয় আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলো। এরপর আমদানিকারক বা তার মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের কাছে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

এনবিআরের গবেষণায় ৩ হাজার ১৯১টি বিল অব এন্ট্রির তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। বিবেচনায় নেয়া হয় খাদ্যপণ্য, মেশিনারিজ ও কমার্শিয়াল গুডস—এ তিন ক্যাটাগরির পণ্যের খালাস প্রক্রিয়াকে। তাতে দেখা যায়, আইজিএম থেকে আগামপত্র দাখিল করতেই চলে যায় গড়ে ৭ দিন ৯ ঘণ্টা। আগামপত্র দাখিল থেকে শুল্কায়ন পর্যন্ত গড়ে সময় লাগছে দুদিন। এরপর রাজস্ব পরিশোধ থেকে এক্সিট নোট পেতে সময় লাগে গড়ে ১ দিন ২ ঘণ্টা। এক্সিট নোট পাওয়ার পর বন্দর থেকে পণ্য খালাস নিতে আরো ২১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট সময় লাগছে। অর্থাৎ আইজিএম দাখিল থেকে পণ্য বন্দর থেকে বের হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে। আর এসব কাজে আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

শুল্ক না কমিয়ে দাম বৃদ্ধির পথেই হাঁটল সরকার

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, যুগান্তর

সাধারণত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপে। দৈনন্দিন জীবন আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। বাড়ে মূল্যস্ফীতি। লিটারে তেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে তাই জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সরকারের হাতে কোনো বিকল্প ছিল কি না। প্রতিলিটার জ্বালানি তেলে এনবিআর প্রায় ৪০ টাকা করে শুল্ক নিচ্ছে। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাই বিকল্প হিসাবে জ্বালানি তেলে শুল্ক কমানোর প্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু সরকার সেদিকে না হেঁটে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রতিলিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের অবস্থান হচ্ছে, তাদের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না। আর এতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বেশ স্পর্শকাতর। কারণ সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর গেজেট প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর বড় চাপ তৈরি হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম সোমবার যুগান্তরকে বলেছেন, এই সময়ে তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার অন্যায় কাজ করেছে। কারণ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির পর্যালোচনা এবং জনগণের কাছ থেকে শুনানি ছাড়া এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না।

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়েও বিকল্প ছিল

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে এখন লাগছে ১৩৫ টাকা। কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেনের দাম ঠেকেছে ১৬৫ টাকায়। দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ। ডিজেল-পেট্রোলের এই দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে কৃষির সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন– প্রায় সব খাতেই এর ধাক্কা লাগে। সব মিলিয়ে এর কারণে বাড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, এটি বাস্তবতা। পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের হিসাবও রয়েছে। কিন্তু সেই চাপ সামাল দিতে একবারে ভোক্তার ওপর ২০ টাকা দাম বাড়ানোই কি একমাত্র পথ ছিল? তাদের মতে, বছরের পর বছর বিপিসির অর্জিত মুনাফার একটি অংশ দিয়ে আপৎকালীন তহবিল করা গেলে এবং সংকটের সময়ে কর-শুল্ক কিছুটা কমানো গেলে দাম বাড়ানোর চাপ অনেকটাই কমানো যেত।

বিপিসির আর্থিক হিসাবেও রয়েছে বড় অঙ্কের মুনাফার চিত্র। গত ১১ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। কোনো কোনো বছর মুনাফা ছাড়িয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন সময়ে বিপুল অর্থ ব্যাংকে জমা ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেই মুনাফার অর্থ দিয়ে আপৎকালীন তহবিল গড়ে তোলার উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বাস–ট্রাক–লঞ্চভাড়া বাড়ল, মানুষের ওপর আবার চাপ

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার গতকাল মঙ্গলবার বাসভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়েছে। লঞ্চমালিকেরা কিলোমিটারে ১৭-২০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া আদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাকচালকেরাও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে পাঁচ মাস পর আবারও ভাড়া ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপে পড়ছে মানুষ। যাত্রীবাহী যানবাহনের বাড়তি ভাড়া সরাসরি জনগণের পকেট থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ের চাপ প্রথমে বহন করছেন ব্যবসায়ী-আড়তদারেরা। শেষ পর্যন্ত এই চাপ পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। মানুষকে বাড়তি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

সরকার গত রোববার রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। পাঁচ মাস আগে গত এপ্রিলে বাড়ানো হয়েছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা। তখন বাসভাড়া বেড়েছিল কিলোমিটারে ১১ পয়সা। বেড়েছিল ট্রাকভাড়াও।

পাঁচ মাসে দুই দফায় ডিজেলের মূল্য বেড়েছে লিটারে ৩৫ টাকা। ডিজেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়ে। কারণ, যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, জাহাজসহ প্রায় সব যানবাহনই ডিজেলে চলে। কৃষিযন্ত্রের বড় অংশ চালানো হয় ডিজেল দিয়ে।

বিমানের কাছে দুই প্রতিষ্ঠানের বকেয়া সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা সাত হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার বেশি। যদিও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির দাবি, তারা রেকর্ড মুনাফা করছে। পাঁচ বছর ধরে লাভজনক অবস্থানে আছে সংস্থাটি। এদিকে বিমানের বহরে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার তোড়জোড় চলছে।  

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বকেয়া পাওনা পাঁচ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। পদ্মা অয়েল পিএলসির পাওনা এক হাজার ২৩২ কোটি ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৩৮২ টাকা।  

খেলাপিমুক্ত হচ্ছে ছোটরা, সাড়া নেই বড় ঋণখেলাপিদের

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে একের পর এক নীতি ছাড় দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে নামমাত্র ডাউন পেমেন্টে পুনঃতফসিল, সুদ মওকুফ করে হলেও এককালীন পরিশোধের মতো সুবিধা রয়েছে। তবে বিশেষ এসব নীতি ছাড়ও বড় ঋণখেলাপিদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। বরং বড় ও মাঝারি আকারের ঋণখেলাপিদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছেই। তবে খেলাপিমুক্ত হচ্ছেন ছোট গ্রাহকরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংক খাতে গত বছরের জুন শেষে ঋণখেলাপির সংখ্যা ছিল ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৬। এক বছর পর চলতি বছরের জুনে এ সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯১৪-তে নেমে এসেছে। সে হিসাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা কমেছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭২ জন। তবে তাদের কেউই বড় গ্রাহক নয়। উল্টো এ সময়ে ১ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া গ্রাহকের সংখ্যা ৫৩০ জন বেড়েছে। বিপরীতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা কমেছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯০২ জন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঋণের আকারের ভিত্তিতে খেলাপি গ্রাহকের এ চিত্র তুলে ধরা হয়।

১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

সঞ্চয়ের বিপরীতে সদস্যদের সুদ দিয়ে থাকে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো। সুদের হার ৬ থেকে ১২ শতাংশ। অল্প অল্প করে সঞ্চয় করা টাকার ওপর সদস্যদের যে সুদ আয় হয়, তার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নিতে চায় সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় এ কর আদায় করতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে যাচ্ছে।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৩৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট সদস্য ৪ কোটি ৭৩ লাখ জন। আর তাঁদের সঞ্চয় স্থিতির পরিমাণ ৯৫ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। ঋণগ্রহীতা সদস্য ৩ কোটি ৬১ লাখ জন।

ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১,৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কার, তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদারে নতুন প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংক পুনর্গঠন, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের সংস্কারে সহায়তা করা হবে। ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) শীর্ষক এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খরচের চাপে বাড়ছে ভোগ ব্যয়, কমছে জাতীয় সঞ্চয়, অর্থনীতিতে কী প্রভাব

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চলতি মূল্যে দেশজ ও জাতীয় উভয় ধরনের সঞ্চয়ের পরিমাণও বেড়েছে। তবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে দেশজ ও জাতীয় সঞ্চয়ের হার সেভাবে বাড়েনি, উল্টো ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তিন অর্থবছর ধরেই জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। অর্থাৎ অর্থনীতির আকার বাড়লেও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চয়ের হার বাড়েনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ‘জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সঞ্চয়ের পাশাপাশি জিডিপিতে বিনিয়োগের হারও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তার বিপরীতে বেড়েছে ভোগ ব্যয়।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয়ের হার ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে সেই হার কমে নেমে এসেছে ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে। অর্থাৎ তিন অর্থবছরের ব্যবধানে জাতীয় সঞ্চয় প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে গেছে। অন্যদিকে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে দেশজ সঞ্চয়ের হার ছিল ২৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশে নেমেছে। সেই হিসাবে তিন বছরের ব্যবধানে দেশজ সঞ্চয় কমেছে ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ব্যাংকে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর আইনে ছাড় দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়

০২ অক্টোবর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্যাংকে একক পরিবারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বেশ কিছু ছাড় দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একজন পরিচালকের টানা মেয়াদের সীমা ১২ বছর থেকে কমিয়ে ৯ বছর করার প্রস্তাব রাখা হলেও, পর্ষদে একই পরিবার থেকে সর্বোচ্চ ৩ জন পরিচালক রাখার বিদ্যমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা সর্বশেষ খসড়ায়, একই পরিবার থেকে পরিচালকের সংখ্যা ৩ জন থেকে কমিয়ে ২ জন করা এবং টানা সর্বোচ্চ মেয়াদ ১২ বছর থেকে কমিয়ে ৬ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) দুটি প্রস্তাবই বাতিল করে দিয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন ২০২৬’-এর খসড়া পুনর্বিবেচনা করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবারকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্ব ও পরিচালকদের মেয়াদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান বহাল রেখে, খসড়াটি পুনর্গঠন করে আবার মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এনসিটির পর এবার সিসিটিও যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরের হাতে

০২ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

এনসিটির পর চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্বও পেতে যাচ্ছে বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এই টার্মিনাল এখন পরিচালনা করছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কন্টেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএ-কে অনুরোধ করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে সিসিটির অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআই-এর নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (আইবিএ) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আরএসজিটিআই-এর আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রকল্প দুটি হলো—সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল।

বিদেশি অপারেটরের কাছে টার্মিনাল ইজারা নয়, বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান

৫ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ স্থগিতের দাবিতে  দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

আজ সোমবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের বাইরে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

তারা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

যন্ত্রাংশ ও দক্ষ কর্মীর সংকটে ঝুঁকি নিয়ে উড়ছে বিমানের উড়োজাহাজ

৫ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

যন্ত্রাংশের অভাব, দক্ষ কর্মীর সংকট ও ঘন ঘন কারিগরি ত্রুটিতে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিশ্বজুড়ে বোয়িংয়ের অন্য যেকোনো বহরের চেয়ে বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি বেশি। আর তা মেরামতেও সময় লাগছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ।

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ২০২৫ সালের অক্টোবরে তৈরি করা প্রতিবেদনে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশ নিয়েই উড়োজাহাজ চালাতে হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীরাও নানা সমস্যার কারণ হয়ে উঠছেন।

একজন বিশেষজ্ঞ অবশ্য মনে করেন, এসব ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছে, এমনটা বলা যায় না। তবে এসব তথ্য থেকে প্রশ্ন উঠেছে, আরও বড় উড়োজাহাজের বহর সামলানোর সক্ষমতা বিমানের আছে কি না।

আইটিসির যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভোগান্তিতে দেশের ৩৩ ব্যাংকের গ্রাহক

৬ অক্টোবর ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশের পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির (আইটিসি) সফটওয়্যার জটিলতা ও যান্ত্রিক ত্রুটিতে দেশের ৩৩টি ব্যাংকের গ্রাহকরা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এ তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বিদেশী ব্যাংকও রয়েছে। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার রাত ৯টা থেকে ওই ব্যাংকগুলোর এটিএম ও সিআরএম বুথের লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ থাকা সেবাগুলোর মধ্যে সব ধরনের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, ই-কমার্স ও বাংলাপের (আইবিএফটিএন, বাংলা কিউআর ও এনপিএসবি) মতো ডিজিটাল সেবাগুলোও রয়েছে। ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসব লেনদেন বন্ধ থাকবে বলে আইটিসি থেকে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশে বিধিনিষেধ কেন

০৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ধারণের পাশাপাশি গণমাধ্যমে বন্দরের ‘অপারেশনাল তথ্য’ প্রকাশেও বিধিনিষেধ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের তথ্য প্রকাশ ও প্রচারকে ‘সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত’ ও ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলা হয়েছে নতুন এক নির্দেশনায়।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিবের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি গণমাধ্যমের কথাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বন্দরের ‘অপারেশনাল তথ্য’ বলতে ঠিক কোন ধরনের তথ্য বোঝানো হয়েছে, তা নির্দেশনায় পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে জাহাজ আসা-যাওয়া, কনটেইনার ওঠানামা, পণ্য খালাস, জট, টার্মিনালের সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার মতো নিয়মিত প্রকাশিত তথ্যও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধায় ধনীরা পান বছরে ১০,৪৭২ টাকা, গরিবেরা ৭,১৪০ টাকা

০৬ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। আজ প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ মানুষের (দরিদ্র মানুষ) সঙ্গে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনীর মধ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কে কতটা সুবিধা পান, এর তুলনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে ৭ হাজার ১৪০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পান। অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা বছরে ১০ হাজার ৪৭২ টাকার এই সুবিধা পান।

দেশের দরিদ্র মানুষের (নিজের দিকে থাকা ২০ শতাংশ) মধ্যে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সরাসরি পান। অর্ধেকের মতো দরিদ্র পরিবার সরকারের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পায় না। অন্যদিকে ৩১ শতাংশ ধনী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সরাসরি সুবিধা পান।

বছরে শ্রমবাজারে আসেন ২০ লাখ, কাজ পান ৯ লাখ

০৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন। বিপরীতে নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে প্রায় ৯ লাখ। নতুন কাজের প্রতি ১০টির ৭টিই তৈরি হয়েছে কৃষিতে। শিল্প খাতে বরং কর্মসংস্থান কমেছে।

অথচ আগের এক দশকে দেশের অর্থনীতি বছরে গড়ে ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধির সুফলও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমানভাবে ছড়ায়নি। উৎপাদনশীলতায় শীর্ষ ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক খাতের মোট বিক্রির ৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু কর্মসংস্থানে তাদের অংশ মাত্র ১৫ শতাংশ।

অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় হওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে জটিল সরকারি প্রক্রিয়া, অর্থায়নের অভাব, অসম প্রতিযোগিতা ও বিদ্যুৎ–সংকট। সরকারি নিয়মকানুন সামলাতেই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের গড়ে ১৩ শতাংশ সময় চলে যায়। আবার ৭১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের মুখে পড়ে। এতে তাদের বার্ষিক বিক্রির প্রায় ৯ শতাংশ ক্ষতি হয়।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ধরে নিয়েছেন বাংলাদেশ সবকিছু যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে দিয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

০৮ অক্টোবর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

ইইউ রাষ্ট্রদূতদের খুশি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। কেবলমাত্র দেশের ব্যবসায়ীক প্রয়োজনেই উড়োজাহাজগুলো কেনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

পাশপাশি এয়ারবাসের উড়োহাজাজ কেনার ইস্যুতে ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলের কিছু মন্তব্যকে ‘অস্বস্তিকর ও ভুল বার্তা’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস এর কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে বুধবার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সামনে বেশ জোরালো কণ্ঠেই এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

০৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও। গত চার বছরে দেশে ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানে ভাটাসহ নানা কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

এদিকে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে আছেন প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়াসহ যেকোনো অর্থনৈতিক ধাক্কায় তাঁরা দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এসব কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, টানা চার বছর ধরে দারিদ্র্য হার বাড়ছে।

নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

০৮ অক্টোবর ২০২৬,  প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে (সাবেক বিডা) কোম্পানিটির সঙ্গে বন্দরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। ১৫ বছরের জন্য এ চুক্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ। আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে

এ চুক্তির বিরোধিতা করে আজ বেলা দুইটা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে সিপিবি, বাসদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি

০৮ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর এক দিন আগে বুধবার বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জরুরি চিঠি জারি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদেশি অপারেটরের কাছে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের বিরোধিতা করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর রক্ষা আন্দোলনকারী সংগঠনগুলো বন্দর অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় চুক্তির আগেই এ সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তিতে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে কি না: অধিকার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হয়নি। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর মানুষের মনে এই প্রশ্নের উদ্রেক করেছে যে সাম্রাজ্যবাদী কোনো দেশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে কি না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অধিকার কমিটি এ কথা বলেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে (সাবেক বিডা) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। সেখানে সিপিবি, বাসদসহ বিভিন্ন বামপন্থী দল-সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অধিকার কমিটি।

ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধারে আগামী ৫–৮ বছরে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা লাগবে: গভর্নর

১০ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

ব্যাংকিং খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছরে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

আজ শনিবার রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআরের প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে ব্যাংক খাতের ক্ষতির প্রসঙ্গে এ কথা বলেন গভর্নর।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক শিক্ষার্থী জানান, তাঁর বাবা নির্দিষ্ট একটি ব্যাংকের শাখা ও এটিএম থেকে প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারেননি। ব্যাংক টাকা দিতে পারেনি। তাঁর টিউশন ফি দেওয়ার সময়েও এমন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

জবাবে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন দেখলাম, ব্যাংকের তিন ভাগের এক ভাগ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে কিছু লোক। এটা ঠিক চুরি বলা যাবে না; বরং বলা ভালো, এটা লুট হয়েছে। ব্যাংকের টাকা লুট থেকেই আর্থিক খাতের সমস্যার শুরু। এটি এখন আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা।’

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অর্থ সরবরাহ করে গ্রাহকদের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বলে জানান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, এটা জনগণের করের টাকা দিয়েই করা হচ্ছে।

লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাতের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তী পাঁচ থেকে আট বছরে জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বন্দর ভবনের সামনে গণঅনশন 

১২ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিল ও শ্রমিক কর্মচারীদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ মৌলিক দাবি পূরণের লক্ষ্যে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দাবি পূরণ না হলে এখান থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। বন্দরের ওয়ানস্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই  গণঅনশন শুরু হয়। চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। 

অনশন চলার সময় ‘আমার বন্দর আমার মা, বিদেশিদের দেব না’, ‘গো ব্যাক গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড ডিপি ওয়ার্ল্ড’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।

গ্রামের দরিদ্রদের আয় চলে যাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে: গবেষণা

১৩ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গ্রামীণ পরিবারগুলোর ওপর ঋণের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে, বিশেষ করে চরম দরিদ্র পরিবারগুলো এর শিকার হচ্ছে বেশি। 

গতকাল প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের ৭৯ শতাংশই তাদের আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে অতিদরিদ্র পরিবারের ৪৯ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করত।

বিআইডিএসের এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার সময় প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল জানান, সামগ্রিকভাবে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে যারা আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি হিসেবে ব্যয় করেন, তাদের হার ২০১০ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণাটির শিরোনাম—দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’স রুরাল ক্রেডিট মার্কেট সিন্স ২০০০: এভিডেন্স ফ্রম ন্যাশনালি রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্ভেজ।

ঢাকা-কুমিল্লা নতুন উড়াল রেলপথ: চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিমি, ব্যয় প্রায় ৮৪ হাজার কোটি ১৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই রেলপথের পুরোটাই হবে উড়াল (এলিভেটেড)। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথে দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার এবং যাতায়াতের সময় কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর।

কর ফাঁকির চেষ্টায় কোনো ‘কমতি রাখেনি’ গ্রামীণ কল্যাণ: হাই কোর্ট

১২ অক্টোবর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে পাওয়া অর্থকে ‘লভ্যাংশ’ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেখিয়ে সরকারকে ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে গ্রামীণ কল্যাণ চেষ্টায় কোনো কমতি রাখেনি বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাই কোর্ট।

সোমবার প্রকাশিত রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির এ কর্মকাণ্ডকে ‘কর ফাঁকি দেওয়ার ধ্রুপদী নজির’ (ক্লাসিক কেস অব ইভেডিং ট্যাক্সেস) হিসেবে অভিহিত করেছে আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সামাদ আজাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কর ফাঁকি ও আইনি জটিলতার সঙ্গে প্রায় ৬৬৭ কোটি টাকার কর জড়িত।

ধারের টাকায় গ্রাহকের আমানত ফেরত দেবে ন্যাশনাল ব্যাংক

১৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংককে সাত হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টিতে এই টাকা ধার দিয়েছে সোনালী ব্যাংক। এই ধারের টাকায় ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করবে ন্যাশনাল ব্যাংক। এরই মধ্যে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে সেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরু হলে গ্রাহকেরা ব্যাংকটি থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিকদার গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে গ্রুপটি ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা। আগের অনিয়ম ও লুটপাটের কারণে ব্যাংকটি এখনো চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে। ব্যাংকটি ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান গুনছে।

মাতারবাড়ি মেগা প্রকল্পে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

১৪ অক্টোবর ২০২৬, দৈনিক কক্সবাজার

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্রজেক্ট এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি।কক্সবাজার গাইড

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার থেকে স্পিডবোটযোগে সরাসরি মাতারবাড়ির পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছামাত্র তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের পক্ষে তরুণ বিএনপি নেতা জাহেদুল হক নাহিদ ও এমপির ব্যক্তিগত সহকারী ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান জুয়েল ফুলেল অভ্যর্থনা জানান।

পরিদর্শনকালে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের চলমান সার্বিক অবকাঠামোগত অগ্রগতি ও নির্মাণকাজ সরাসরি ঘুরে দেখেন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের সাম্প্রতিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন।

ব্যাংকে ‘পরিবারতন্ত্রের’ সুযোগ রেখে আইনের নতুন খসড়া

১৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

বেসরকারি ব্যাংকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাব কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল, তার কয়েকটি থেকে সরে আসছে বর্তমান সরকার। একই পরিবারের তিনজনকে ব্যাংকের পরিচালক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা ছিল ব্যাংকমালিকদের চাওয়া। ঋণখেলাপি পরিচালকদের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান থাকছে না।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, বর্তমানে একই পরিবার থেকে তিনজন সদস্য একই সময়ে কোনো ব্যাংকের পরিচালক থাকতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক এই সংখ্যা কমিয়ে দুজন করার প্রস্তাব করে। এ ছাড়া একজন পরিচালকের মেয়াদ (টানা) ছয় বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্তমান আইনে একজন ব্যক্তি একই ব্যাংকের পরিচালক পদে একটানা ১২ বছর থাকতে পারেন। সে মেয়াদ পূর্ণ হলে তিন বছর বিরতি দিয়ে আবার পরিচালক হওয়া যায়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে গত ২০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইনের খসড়ার ওপর পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নতুন ঋণ নিতে ডিসেম্বরে আইএমএফের সঙ্গে চুক্তি

১৬ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তাহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ নিতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ শেষে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। চলতি মাসের শেষে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকায় আসবে। 

সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার পরিকল্পনা আইএমএফের কাছে তুলে ধরা হবে। সেখানে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর উপায় এবং খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়ে অগ্রাধিকার থাকবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ আমলে স্বাক্ষর করা ঋণচুক্তিতে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল, যা এখন বেড়ে প্রায় ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নতুন ঋণচুক্তিতে খেলাপি ঋণের হার কতটুকু কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি বলে জানান ওই কর্মকর্তা। 

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: আগে জানত না বাংলাদেশ, তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

১৬ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিন ফাঁদে আটকে গেছে দেশের অর্থনীতি

১৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের অর্থনীতি তিনটি কাঠামোগত ফাঁদে পড়েছে। প্রথম ফাঁদ হচ্ছে পরিবারের আর্থিক দুর্দশা বাড়ছে। এ কারণে ঋণ করে ও সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে একটি শ্রেণি। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে গেছে; আর তৃতীয়টি হচ্ছে, রাজনৈতিক-প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থার ফাঁদ। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এই তিন ফাঁদ অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)।

সংস্থাটি বলেছে, অর্থনীতি আটকে রয়েছে ‘উচ্চ দারিদ্র্য-নিম্ন বিনিয়োগ-নিম্ন প্রবৃদ্ধি’র ফাঁদে। এসব ফাঁদে পড়ে দারিদ্রের হার বাড়ছে, কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি চলছে। আর তার ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই টেকসই অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য এই কাঠামোগত ফাঁদ ভাঙা অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে পিপিআরসি।

ঝুঁকিতে তিন কোটি মধ্যবিত্ত

অর্থনীতির প্রথম ফাঁদের ব্যাখ্যা দিয়ে পিপিআরসি বলেছে, কাজ করেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় আয় করতে পারছে না। সংসারের আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য এত কম যে সামান্য ধাক্কা সামলানোর মতো সঞ্চয়ও থাকছে না অনেক পরিবারের। পিপিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ১৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ পরিবার এখন ‘ভঙ্গুর মধ্যবিত্ত’। দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও এই শ্রেণির মানুষদের ব্যয় করার সক্ষমতা কম। এমন মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ১০ লাখ। তাঁদের অর্ধেকের বেশি পরিবারের ঋণ সঞ্চয়ের চেয়ে বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। অথচ ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে চরম দারিদ্র্য ৫ দশমিক ৬ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

পিপিআরসির জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৬৮৫ টাকা; আর ব্যয় ৩২ হাজার ৬১৫ টাকা। তাতে মাস শেষে হাতে থাকে মাত্র ৭০ টাকা। সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ পরিবারের গড় মাসিক আয় ৮ হাজার ৪৭৭ টাকা হলেও ব্যয় ১২ হাজার ২৯৪ টাকা। ঘাটতি মেটাতে এসব পরিবারকে হয় ঋণ করতে হচ্ছে, না হয় সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন আয়ের ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ১৫ হাজার টাকার কম। তার বিপরীতে এসব পরিবারের ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ অর্থ খাবারের পেছনে চলে যায়। ফলে শিক্ষা, যাতায়াত ও চিকিৎসায় ব্যয় করার টাকা থাকে না তাদের। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসার ব্যয় তাদের আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ।

বিনিয়োগে স্থবিরতা ও কম প্রবৃদ্ধির ফাঁদ

পিপিআরসির প্রতিবেদনে বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের তথ্য তুলে ধরে পিপিআরসি বলছে, প্রবৃদ্ধির ধীরগতির পাশাপাশি বিনিয়োগে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। গত অর্থবছরে বেসরকারি ও সরকারি উভয় বিনিয়োগই কমেছে। নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে নতুন মূলধন বিনিয়োগ, ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ। বিনিয়োগের এই স্থবিরতা দীর্ঘায়িত হলে নতুন শিল্প গড়ে ওঠা, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ সীমিত হতে পারে। ফলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদনশীল খাতে পুঁজিপ্রবাহ বাড়ানোও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মত দেয় সংস্থাটি।

শাসনব্যবস্থার ফাঁদ

পিপিআরসি বলেছে, দারিদ্র্য থেকে টেকসই উত্তরণের পথে বড় বাধা রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা, ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রভাবাধীন অর্থায়ন ও সরকারি ব্যয়ে অদক্ষতার একটি ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছিল।। গণ-অভ্যুত্থানের পরও এই ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো টিকে আছে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসায় সরকারের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ঋণনির্ভর উন্নয়ন কৌশল ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়িয়ে বাজেটের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করেছে।

পিপিআরসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খামখেয়ালি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা রাজস্ব ফাঁকি, ব্যবসায়িক হয়রানি এবং অন্যায্য সুবিধা আদায়ের সুযোগ বাড়াচ্ছে। এসব দুর্বলতা কাটাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সে উদ্যোগের আগ্রহ কম। রাজনৈতিক প্রভাবে ঋণ দেওয়া ও নিয়মকানুন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। ২০২৬ সালের জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

সংসার চালাতে ৪৭% পরিবার ঋণগ্রস্ত, বেশি চাপে গ্রামের মানুষ

১৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে দেশের অর্ধেকের কাছাকাছি পরিবারকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং আয় স্থবির হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিশেষ এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জরিপের তথ্যে উঠে এসেছে দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। এর মধ্যে শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি চাপে রয়েছে। নবম জাতীয় বেতনকাঠামোর সুপারিশ তৈরির আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই জরিপ করা হয়। জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে জরিপটি করা হয়েছিল গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর।

বিবিএসের দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল ‘জীবনযাত্রার মান জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন তৈরি করে। তার আগে কম্পিউটারের সহায়তায় ডিজিটাল সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস। সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় গ্রাম, শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে মোট ৩ হাজার পরিবারের।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে গ্রামাঞ্চলের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা। আর পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে জাতীয় পর্যায়ে একটি পরিবারের গড় আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।

জরিপের তথ্য বলছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের অর্ধেক খাবার এবং অর্ধেক খাবারবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়। তবে অঞ্চলভেদে এই চিত্র আলাদা। যেমন গ্রামাঞ্চলে খাবারের পেছনে ব্যয় বেশি, আর শহরাঞ্চলে ব্যয় বেশি খাবারবহির্ভূত খাতে। সিটি করপোরেশন এলাকার পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই হয় খাবারবহির্ভূত খাতে।

এদিকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম ছিল। বিবিএসের মজুরির সূচক অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার আগের মাসে এই হার ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশায় কম বেতন পাওয়া দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরি পর্যবেক্ষণ করে এই সূচক তৈরি করে বিবিএস।

বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থনৈতিক চাপের পেছনে প্রধান কারণ চার বছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, যা ধারাবাহিকভাবে পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্থরতা, শ্রমের চাহিদা দুর্বল থাকা এবং মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় পরিবারের জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে দেশে দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে দৈনিক ৩ ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী, অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া জ্বালানিসংকটে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। তাতে দেশের শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দারিদ্র্যের হার চলতি বছর শেষে বেড়ে সাড়ে ২২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২২ সালের এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এদেশীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত শনিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৫ সালে দেশের ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ মানুষ উচ্চ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সংসার চালানোর ঘাটতি মেটাতে পরিবারগুলোকে হয় ঋণ করতে হচ্ছে, নয়তো সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে।

প্রতিশ্রুতি বদলে মেগা প্রকল্পের পথে হাঁটছে বিএনপি সরকারও

১৯ অক্টোবর ২০২৬, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি      

‘বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য হলো আমরা কোনো মেগা প্রকল্পে যাব না। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতির পেছনে খরচ করতে হবে।’ জাতীয় নির্বাচনের মাস দুয়েক আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর এ কথা বলেছিলেন দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। তার আগে ২৫ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনো মেগা প্রকল্প বানাবে না, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্কিল বাড়ানো, কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান ও বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেবে। 

যদিও ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাসের মধ্যেই প্রথম মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে বিএনপি সরকার। ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন করা হয় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্পটি। এটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, যার পুরোটাই সরকারের তহবিল থেকে যাবে। যদিও এ প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জন্য সর্বশেষ সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটি হয়েছিল ২০১৩ সালে। এরপর এক যুগ পেরিয়ে গেছে, নদীর গতি পথসহ ইকোসিস্টেমে এসেছে অনেক পরিবর্তন। এই অবস্থায় আগের সমীক্ষার ভিত্তিতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ বাস্তবসম্মত হবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে গত মাসে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। এগুলোর নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে একটি নতুন প্রকল্প, যা এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট নামে পরিচিত। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেল নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

অপর দুটি মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট) বিগত সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল। সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে এ দুটির ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা গত মাসে অনুমোদন করে সরকার। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ এর আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং পূর্বাচল রুট ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সরকারিসেবা

এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) হবে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ দুই প্রকল্পে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ দেবে। যদিও প্রাথমিকভাবে এ দুই প্রকল্পের ব্যয় ছিল অনেক কম। এমআরটি লাইন-১ এর ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ও এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এছাড়া এ তিন মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক এ প্রসঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে যেসব প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজ করার কথা ছিল, তা সম্পন্ন করা না হলে কেবল মেট্রোরেল দিয়ে ঢাকা শহরের যানজট সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের আমলে সুপরিকল্পিত কাঠামোর বদলে এলোমেলো উন্নয়ন করা হয়েছে। নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য যেসব ছোট অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি ছিল, সেগুলো না করেই ওপরের স্তরের উন্নয়নকাজ চালানো হয়েছে; ফলে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াটিই শক্ত ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন ছাড়া সম্পন্ন করা হয়।  অর্থনীতিশিখুন

দেশের নগর পরিবহন নীতি ও মেগা প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণে দূরদর্শিতার অভাব তুলে ধরে বিগত সরকারের ভুল নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক নীতির কারণে সাধারণ গণপরিবহন খাত চরম উপেক্ষিত থেকে গেছে। ফলে মেগা প্রকল্পের পেছনে শত শত কোটি ডলার অপচয় না করে আমজনতার যাতায়াত সহজ করতে বাস রুট রেশনালাইজেশন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা দ্রুত চালুর আহ্বান জানান তিনি।

পদ্মা ব্যারাজ বা মেট্রোরেলেই শেষ নয় আগামীতে আরও বেশকিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। গত ১১ জুন বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দ্বিতীয় যমুনা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লেনের এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন রেলপথসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পরামর্শক নিয়োগ করেছে সেতু বিভাগ।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানান, ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই রেলপথের পুরোটাই হবে উড়াল (এলিভেটেড)। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথে দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার এবং যাতায়াতের সময় কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। সরকারিসেবা

যদিও এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রেলপথটি নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ডলার। অথচ চীনে উচ্চগতির উড়াল রেলপথ নির্মাণে ব্যয় অনেক কম। নিজস্ব প্রযুক্তির কারণে দেশটিতে কিলোমিটারপ্রতি খরচ পড়ে মাত্র ১ দশমিক ৭ থেকে ২ দশমিক ১ কোটি ডলার। ভারতে উড়াল রেলপথ না থাকলেও উড়াল মেট্রোরেল নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় গড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ কোটি ডলার।

এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা

২১ অক্টোবর ২০২৬, যুগান্তর

ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। সময় লেগেছে দীর্ঘ ১৪ বছর। এই সময়ে গাজীপুর ও উত্তরার যাত্রীদের পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর সড়কে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটির অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। ৩ শতাংশ বাকি থাকতে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল করেছে সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া পদে পদে ত্রুটিযুক্ত এই প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা ছিল তীব্র। তবে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ভালো ছিল। গাজীপুরবাসীসহ এই অঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষ যেন যানজটবিহীন চলাচল করতে পারে। 

গণপরিবহণে গতি আনার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল বিআরটি প্রকল্প। পরিকল্পনা ছিল, ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে নির্দিষ্ট লেনে চলবে বিশেষ বাস। এতে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি বাড়ার কথা ছিল সড়কের সক্ষমতা। কিন্তু ১৪ বছরেও চালু করা যায়নি সেই বাসসেবা। উল্টো নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বেড়েছে যানজট, ভোগান্তি ও পরিবহন ব্যয়।

শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা: ৪ শর্তে আটকে গেছে চুক্তি

২৩ অক্টোবর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগিসহ চারটি বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের নতুন শর্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চারটি শর্তে মতবিরোধের কারণে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চূড়ান্ত চুক্তি আটকে আছে। বিষয়গুলো সমাধানে এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

রাজস্বের অংশ কমানোর প্রস্তাব

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিতে বাংলাদেশের রাজস্বের অংশ কত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, রাজস্বের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা। কিন্তু অপারেশনাল প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ের আট মাসের জন্য সাড়ে ১৩ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি কনসোর্টিয়াম।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায় বিমানের

চুক্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম নিয়ে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের শর্ত অনুযায়ী, থার্ড টার্মিনালের পরিচালনার আংশিক দায়িত্ব বিদেশি অংশীদারদের হাতে গেলেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দায়দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহন করতে হবে বিমানকে। একই সঙ্গে এই কার্যক্রম থেকে বিমানের আয়ের অংশ পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

দেশের আইনের প্রয়োগ নিয়ে মতবিরোধ

তৃতীয় বিরোধটি দেশের প্রচলিত আইন ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে। জাপানি পক্ষ বিশেষ আইনি সুবিধা, দায়মুক্তি বা ছাড় চেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তাদের অবস্থান, বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারী বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো সাধারণ আইন প্রণয়ন কিংবা বিদ্যমান আইন পরিবর্তন করলে তা যেন তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা না হয়।

ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা নিয়েও বিরোধ

চতুর্থ বিরোধটি থার্ড টার্মিনালের নির্মাণগত বা অন্যান্য ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের দায়সংক্রান্ত সময়সীমা নিয়ে। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি) নামে পরিচিত এই সময়সীমা বাংলাদেশ ৯ মাস নির্ধারণ করতে চায়। তবে জাপানি পক্ষ তা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে।

কৃষি খাত

কৃষক থেকে খুচরা বাজারে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ

৩০ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পাইজাম চাল গড়ে ৩০ টাকা ৬৫ পয়সায় বিক্রি হয়। ওই চাল ব্যাপারী, মিলার, আড়তদার ঘুরে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হয় ৫৯ টাকা ৬৯ পয়সা। তার মানে, কৃষক বা ফার্ম থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে চালের দাম দ্বিগুণ হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফার ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

চাহিদামতো মিলছে না সার, কৃষককে কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে

১২ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটার কৃষক দুলাল হোসেন। আমন ধান রোপণের পর জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার আর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা তার।

কিন্তু সে কাজ রেখে এখন তাকে ছুটতে হচ্ছে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে, সারের খোঁজে। কৃষি কার্ড নিয়েও অনুমোদিত ডিলারের দোকানে গিয়ে পাচ্ছেন না সার। অথচ একই সার মিলছে বাজারের খুচরা দোকানে, তবে সরকারি দামের চেয়ে বেশিতে।

দুলাল হোসেন বলেন, ‘কৃষি কার্ড থাকার পরও দুবার ডিলারের কাছে গিয়ে সার পাইনি। সরকারি দামে সার নেই। কিন্তু বেশি দিলে ঠিকই খুচরা দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। মূলত ডিলাররা দোকানে সার রাখছেন না। গোপনে অন্যত্র লুকিয়ে রেখে বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

শুধু দুলাল হোসেনই নন; রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রংপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকের অভিযোগ এখন একই রকম। আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। কোথাও অনুমোদিত ডিলারের দোকানে ভর্তুকির সার মিলছে না, আবার কোথাও খুচরা দোকানে পাওয়া গেলেও তা কিনতে হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে। বিশেষ করে টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি বেশি প্রকট বলে অভিযোগ কৃষকদের।

সরকারি দামে মিলছে না সার, বস্তাপ্রতি বাড়তি ৬০০ টাকা 

২১ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

চলতি আমন মৌসুমে জয়পুরহাট ও মেহেরপুরে সারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জয়পুরহাটে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সারের দাম নেওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে মেহেরপুরে দেখা দিয়েছে টিএসপি সারের ব্যাপক সংকট। রসিদ ছাড়াই ইচ্ছেমতো চড়া দামে সার বেচাকেনা করছে স্থানীয় সিন্ডিকেট। এভাবে বাড়তি দামে সার কিনে আবাদের উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯৭ ভাগ জমিতে রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ধানক্ষেতের পরিচর্যায় নেমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হাঁকাচ্ছেন। 

কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

২৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। সারের সংকটের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার ‘শাহ আমানত ট্রেডার্সের’ নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন। কিন্তু কৃষকেরা কয়েকবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে আজ সকালে স্থানীয় কৃষকেরা এক জোট হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ কৃষকদের সার ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন।

সরকারের গুদামে সার আছে, সমস্যা বিতরণে

২৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

আগস্ট মাস দেশের প্রধান ধানের মৌসুম আমনের জমি প্রস্তুত করা ও চারা রোপণের সময়। চারা রোপণের পর কয়েক ধাপে কৃষককে জমিতে সার দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবে এ সময় সারের চাহিদা বেশি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। তবে সরকারের নথিপত্র অনুযায়ী, চাহিদার বিপরীতে সারের মজুত ও বরাদ্দে কোনো ঘাটতি নেই।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাঁরা সার উত্তোলন না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। ডিলাররা ঠিকমতো সার উত্তোলন ও বিতরণ করছেন কি না, তা তদারক করার দায়িত্ব উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকার-নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রির কারণে সংকট দেখা দিচ্ছে। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচার করার অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর ৪ উপজেলায় ৪ পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট ২ পরিবেশককে মোট সাড়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের হাত-পা। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আমরা আমদানি, বরাদ্দ সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ সংকট তৈরি করছে।

আহমেদ ফয়সল ইমাম, অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ), কৃষি মন্ত্রণালয়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি মাসে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জেলাভিত্তিক সার বরাদ্দের আদেশ জারি হয়। প্রতি জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সার বরাদ্দ ও বীজ বিতরণ মনিটরিং কমিটি ডিলারভিত্তিক সার বরাদ্দের আদেশ জারি করে। এরপর ডিলার নির্ধারিত গোডাউন থেকে সার উত্তোলন করে থাকে। বরাদ্দ দেওয়া প্রতি মাসের সার সঠিক সময়ে উত্তোলন ও কতজন কৃষককে কতটুকু সার বিতরণ করা হচ্ছে, তা তদারকের দায়িত্ব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ১০ হাজার ডিলার সারা দেশে সার বিতরণের সঙ্গে যুক্ত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তেও মাঠপর্যায়ের গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

সারের বরাদ্দে ঘাটতি ও বিতরণে সমস্যার কথা বলছেন কৃষকেরা

২৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

আবাদি জমির তুলনায় সারের বরাদ্দ কম। সরকার-নির্ধারিত পরিবেশকদের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা হয় না। আবার এক জায়গার সার বিক্রি হয় আরেক জায়গায়। পরিবেশকদের বেশির ভাগ গুদাম ইউনিয়নের বাইরে। অন্যদিকে চাহিদার বিপরীতে যেটুকু সার বরাদ্দ হয়, সেটুকুও সময়মতো কৃষকের কাছে পৌঁছায় না।

মূলত এই পাঁচ কারণে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে পরিবেশকের (ডিলার) গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে শিলখুড়ি ইউনিয়নে যান প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টা ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদর ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম-বাজার ঘুরে কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সার পরিবেশক, রাজনৈতিক নেতা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেন, আমন ধান রোপণের পর প্রয়োজনীয় সার তাঁরা পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

শিলখুড়ি ইউনিয়নের পাগলার হাট এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী ১২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ধান রোপণের ২১ দিনের মধ্যে সার দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু ২৬ দিনেও তিনি সার পাননি। তাঁর ভাষ্য, সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে খোলাবাজারে সার কিনতে হচ্ছে।

ইউনিয়নের আরেক কৃষক আজিজুল হক বলেন, ‘ধান চাষ করে নিজের বিপদ নিজেই এনেছি। এখন সারের জন্য ঘুরব, নাকি জমিতে ধানের পরিচর্যা করব?’

ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যার বিপরীতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নে বরাদ্দ ১১৯ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। এই ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কৃষকেরা আমন আবাদে প্রতি বিঘায় গড়ে ৮০ কেজি সার ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ১৫ কেজি, ডিএপি ২০ কেজি ও এমওপি ১৫ কেজি। সেই হিসাবে শিলখুড়িতেই প্রায় ১ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন সার প্রয়োজন। এর মধ্যে ইউরিয়া সারের ঘাটতি আরও বেশি। প্রতি বিঘায় ৩০ কেজি হিসাবে ইউরিয়া প্রয়োজন প্রায় ৪৩৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন। কিন্তু শিলখুড়ি ইউনিয়নে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৬৮ মেট্রিক টন।

উপজেলায় ও প্রতিটি ইউনিয়নে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ রয়েছে বলে দাবি করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার।

যদিও কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে প্রয়োজনের তুলনায় সার কম পৌঁছাত। ফলে সেখানে সংকট তৈরি হয়েছে। অন্য ইউনিয়ন থেকে সার সমন্বয় করে শিলখুড়িতে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সার নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার, কমিটি গঠন

২৫ আগস্ট ২০২৬, সমকাল 

কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও সার ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য মন্ত্রীদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি সারের চলমান জটিলতা ও বিতরণ ব্যবস্থার সমস্যা নিরসনে কাজ করবে। 

একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেসব ডিলার ইউনিটশূন্য রয়েছে, সেগুলোতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে কাজ করবেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সারের ডিলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের সার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এরপর স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ, পানি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১০ জনের বেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে মতামত দেন।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গত বছরের চেয়ে বেশি সার রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারি গুদামে সার রাখার জায়গা নেই। সারের কোনো সংকট নেই।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সার নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদারকি করতে হবে।

বৈঠকে মন্ত্রীদের মতামতের পর প্রধানমন্ত্রী পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে রয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং কৃষি সচিব মো. সেলিম খান। কমিটিকে চলমান সংকটের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 

কৃষকের ভর্তুকির সার নিয়ে কারসাজি

দেশে কোথাও সার সংকট নেই, বরং অন্য বছরের চেয়ে মজুত বেশি– কৃষি মন্ত্রণালয় এমন দাবি করলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। সরকারি দামে সার না পেয়ে কৃষকদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কোথাও ডিলারের গুদামে সার থাকলেও কৃষক পাচ্ছেন না। আবার কোথাও সার না পেয়ে কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যাচ্ছেন।

সমকালের অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে সারের এই সংকটের পেছনে পুরোনো ডিলার, সাব-ডিলার, খুচরা বিক্রেতা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয়তার তথ্য মিলেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা কার্যকর ঘিরে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সার উত্তোলন বন্ধ রাখার পাশাপাশি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য, নতুন নীতিমালা বাতিল বা শিথিল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

পুরোনো চক্রের বলয় ভাঙেনি

সার ব্যবসার পুরোনো কাঠামো ভেঙে সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৯ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা, ২০২৫ (সংশোধিত)’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আলাদা ডিলার কাঠামো একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থার বদলে বিক্রয় প্রতিনিধি রাখার বিধান করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ তিনজন ডিলার রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারকে নির্ধারিত এলাকায় নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার বিক্রি করতে হবে। মূল ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি ডিলার আরও দুটি বিক্রয়কেন্দ্র রাখতে পারবেন। এসব কেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের সুযোগ থাকবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো ব্যবস্থায় ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার একাধিক স্তর থাকায় সার সরবরাহের শেষ প্রান্তে গিয়ে সেটি কার হাতে যাচ্ছে, কত দামে বিক্রি হচ্ছে এবং কোথায় মজুত হচ্ছে, তা অনুসরণ করা কঠিন ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারকে সরবরাহের জন্য সরাসরি দায়বদ্ধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আর এই পরিবর্তনেই আপত্তি পুরোনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের। তাদের দাবি, পুরোনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বহাল রাখতে হবে এবং বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলার কাঠামো আলাদা রাখতে হবে। নতুন নীতিমালার বিরোধিতায় ১৭ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

সংগঠনের সভাপতি মো. ফোরকান বলেন, দেশের প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতার দাবি, গ্রাম পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের বাকিতে সার দেন এবং ফসল ওঠার পর টাকা নেন। নতুন ব্যবস্থায় তারা ব্যবসা হারালে এসব পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এ নীতিমালা বাতিলের দাবিতে কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। এই অ্যাসোসিয়েশনের পেছনে রয়েছে পোটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনের সহযোগীসহ একটি চক্র, যিনি দীর্ঘদিন বিএফএর সভাপতি ছিলেন। পোটন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমদানির ৭২ হাজার টন রাসায়নিক সার বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৬ মে পোটনকে কারাগারে পাঠান আদালত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বোরো মৌসুমের অজুহাত তুলে বিএফএ নেতারা নীতিমালা ধীরে বাস্তবায়নের দাবি করেছিলেন। অথচ এখন তারা সেই নীতিমালা বাতিলের দাবি তুলছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৯ সালের পর সার ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ডিলার নিয়োগের পরিধি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনের নামেও ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন। এতে একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর হাতে বিপুল পরিমাণ সার তোলার সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে বিএডিসি ও বিসিআইসির সার ডিলার রয়েছেন ৭ হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ৫ হাজার ২২ জন এবং বিসিআইসির ২ হাজার ১১৮ জন।

ঝিনাইদহে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিসিআইসির ডিলার ছিলেন ১৩ জন। বর্তমানে সেখানে ডিলারের সংখ্যা ৬৭। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের কয়েকজন বিভিন্ন মামলায় পলাতক থাকলেও তাদের ডিলারশিপের বিপরীতে সার উত্তোলন ও কেনাবেচা চলছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুরেও আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় নেতাকর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামেও ডিলারশিপ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আছে।

ঢাকার নবাবগঞ্জে অনুসন্ধানে একই ব্যক্তির হাতে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণের তথ্য মিলেছে। নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্লা বাংলা বাজারে মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজের মালিক মানোয়ার হোসেনের দোকানে চাল-ডাল-তেল-লবণ, ডিজেল ও পেট্রোলের পাশাপাশি সার বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মানোয়ার হোসেন নিজ নামে একটি ডিলারশিপের পাশাপাশি তাঁর ভাই রফিকুল ইসলামের নামে থাকা মেসার্স নাবিলা এন্টারপ্রাইজ এবং প্রদীপ চন্দ্র সরকারের নামে থাকা মেসার্স বৈশাখী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ডিলারশিপের সার একই দোকান থেকে বিক্রি করেন। মানোয়ার হোসেন বলেন, আমি একাই তিনটি সারের ডিলারশিপ চালাই। এতে কারও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। 

সার তোলা বন্ধ রেখে সংকটের প্রচারণা

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন নীতিমালা ঠেকাতে একটি অংশ সার তুলছেই না। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে পঞ্চগড় ছাড়া অন্যান্য জেলার ডিলারদের একটি বড় অংশ সার সংগ্রহ করেনি। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৫ জেলার ডিলারের অনেকেই জুলাইয়ে সার তোলেননি। আগস্টেও তাদের কেউ কেউ সার সংগ্রহ করেননি। 

দেশের মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থা তদারকের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব, দুজন উপসচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন কমিটিতে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে তিন জেলার অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পেয়েও যেসব ডিলার সার সংগ্রহ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে চিঠিতে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা সার তুলছেন না, তাদের একটি অংশই আবার এলাকায় সার সংকটের প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে নতুন নীতিমালা বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, সার সংকট নেই। কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। মাঠপর্যায়ে তদারক চলছে। দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

গুদামে সার, কৃষকের হাতে নেই

চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়ার তিন ধরনের সার সরকারি ডিলার পয়েন্ট থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ একই সার খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক মাহফুজুল হক বলেন, ডিলার ২৫ টাকা কেজির সার সাব-ডিলারের কাছে ২৭ টাকায় বিক্রি করছেন। এরপর হাতবদলের প্রতিটি ধাপে দাম বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কৃষককে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

যশোরেও অভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। চৌগাছার সলুয়া বাজারে সরকার অনুমোদিত বিক্রেতার কাছে সার না থাকলেও কয়েকটি অনুমোদনহীন দোকানে সরকারি ভর্তুকির সার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বস্তাপ্রতি সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরে সরকারি বিক্রয় ব্যবস্থা এড়িয়ে একশ্রেণির ডিলার রাতের আঁধারে অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করছেন। পরে ওই সারই বেশি দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের চাঁন্দুটিয়া বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, কিছু ডিলার বেশি মুনাফার আশায় অনুমোদনহীন দোকানে সার বিক্রি করছেন। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা বিক্রেতারা কৃষকের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া তুলে গুদামে রাখা হয়। কৃষকরা বারবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। পরে গত রোববার সকালে এক দল কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকেও কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েবের খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার সার বিতরণের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চার ধরনের সারের মোট বিতরণ ৭ দশমিক ২৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের জন্য নতুন করে ৪ দশমিক ৪৩ লাখ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ দশমিক ২৬৩ লাখ, টিএসপি শূন্য দশমিক ৪৮ লাখ এবং এমওপি শূন্য দশমিক ৬৮৭ লাখ টন। ডিএপির জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, ডিলারকেন্দ্রিক নতুন ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সার বিতরণে জবাবদিহি বাড়তে পারে। তবে ডিলারদের ওপর কঠোর নজরদারি না থাকলে সংকটের সময় তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেতে পারেন। ডিজিটাল হিসাব, বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সারে ভর্তুকি দেয়। তবে এ ভর্তুকির সুফল কৃষক কতটা পাচ্ছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। নতুন নীতিমালায় সার বিতরণে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গুদাম থেকে কৃষকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত নজরদারির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিলারদের একটি শক্তিশালী অংশ এর বিরোধিতা করছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার সরকারের হাতে বেশি সার রয়েছে। সার নিয়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নতুন নীতিমালার কারণে যারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন, তাদের কেউ কেউ সমস্যা করছেন। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।

ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের সার না দেওয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি, ক্যাশ মেমোতে অসংগতি

২৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়ার অভিযোগ এবং ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ওই রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা পোস্ট 

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাসায়নিক সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজারে স্থানীয় কৃষকরা এ অবরোধ করেন।

স্থানীয়রা জানান, গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে আসেন স্থানীয় কৃষকরা। ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় ওই সড়কে যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েন চলাচলকারীরা। পরে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে অবরোধ তুলে নেন কৃষকরা।

ব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘সারের জন্য সকাল থেকে ডিলারের দোকানের সামনে আমরা অবস্থান করছিলাম। ১০টার পর ডিলারের কর্মচারীরা এসে বলেন, আজ কৃষকদের সার দেওয়া হবে না।

তিনি জানান,  সার না দেওয়ায় তারা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর উপসহকারী 

কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের লোকজন এসে সার দেওয়ার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন।

প্রতি মণ ধানের দাম ৮০০-৯৫০ টাকা, খরচই উঠছে না কৃষকের

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ জেলা নওগাঁয় এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। কারণ, আউশ ধান বিক্রি করে উৎপাদনের খরচ উঠছে না কৃষকের। দাম না পেয়ে এখন তাঁরা হতাশ।

নওগাঁর বিভিন্ন হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায়। কৃষকেরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ ধান ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধানের উৎপাদন খরচ গত বছরের চেয়ে বেড়েছে।

এদিকে, কৃষক ধান বিক্রি করে লোকসান গুনলেও নওগাঁর বিভিন্ন চালের মোকামে তার কোনো প্রভাব নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মোটা ও সরু জাতের চাল।

সারের দাবিতে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ, ‘সংকট নেই’ বলছে প্রশাসন

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় সার না পেয়ে ও ডিলারদের অনিয়ম বন্ধের দাবিতে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।

রোববার সকালে উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান।

এবার রৌমারীতে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

কুড়িগ্রামে সার নিয়ে শোরগোল থামছেই না। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় সার নিয়ে বিশৃঙ্খলার পর এবার রৌমারীতেও সার নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সেখানে ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ডিলারের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

কৃষকদের বিক্ষোভ অবরোধ, সার লুট

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, যুগান্তর

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার লুটের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীর পুঠিয়া ও লালমনিরহাটে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকরা। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে ক্ষুব্ধ কৃষক। মাগুরায় অবৈধভাবে সার মজুত করায় দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সার সংকট নিয়ে জামায়াত নেতার স্ট্যাটাসে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। 

রৌমারীতে জমির তুলনায় সারের বরাদ্দ কম, বিতরণেও সমস্যা, সমন্বয়হীনতা 

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

এবার বন্যা না হওয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ধান চাষের জমি বেড়েছে ১ হাজার ৬২৫ হেক্টর। জমির পরিমাণ বাড়লেও সে অনুযায়ী সারের বরাদ্দ হয়নি। আবার চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম।

অন্যদিকে কৃষকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে ইউনিয়নভিত্তিক সারের বরাদ্দ ঠিক করা হয়। এর পাশাপাশি সার বিতরণে প্রশাসন, পরিবেশক (ডিলার) ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এসব কারণে উপজেলায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে। 

সরকার নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার না পাওয়ায় ঘটনায় আগে থেকেই ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। মূলত এ ক্ষোভ থেকেই গত সোমবার সকালে উপজেলার বন্দবেড় বাজারে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, পরিবেশকদের বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিদিন খোলা থাকে না। কয়েক দিন বিরতি দিয়ে বিক্রয়কেন্দ্র খোলায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কৃষক সার নিতে ভিড় করেন। সোমবারের ঘটনার মূল কারণ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সার না পাওয়া।

সারের জন্য ঘুরছেন কৃষকেরা

রৌমারীর চর বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম তিন বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। ধান রোপণের ৪০ দিন পার হলেও কোনো সার দিতে পারেননি। গতকাল তিনি বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাইনি। অসুস্থ হয়ে পড়ায় ছেলেকে স্লিপ দিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছি।’

চর বোয়ালমারী গ্রামের আরেক কৃষক আবদুল জালাল পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, চার দিন ধরে সার নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।

খুচরা দোকানে সার এক ঘণ্টায় শেষ

বন্দবেড় ইউনিয়নে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর সোমবার মতবিনিময় সভা করে প্রশাসন। সেখানে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে রৌমারী সদরের নয়টি খুচরা দোকানে ৪০ বস্তা সার সরবরাহ করা হয়। উপজেলা সদরের ভোলামোড় এলাকার খুচরা বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাতটার দিকে ২০০ কেজি সার পাওয়ার পর এক ঘণ্টার মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। কৃষকের ভিড় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়েছে।

চাহিদার সঙ্গে বরাদ্দের ফারাক

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রৌমারীতে এবার ইউরিয়ার বরাদ্দ ২ হাজার ৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৫১০ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৯০০ মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হিসাবে, প্রতি বিঘায় (স্থানীয়ভাবে ৬২ শতকে এক বিঘা ধরা হয়) ৫০ কেজি ইউরিয়া এবং ৪০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে ইউরিয়ার চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন। টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন করে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, আগাম বাদাম, গম ও ভুট্টার জন্য অনেক কৃষক সার সংগ্রহ করে রাখেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সারসংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়তি সার কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এবার বন্যা না হওয়ায় অতিরিক্ত ১ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এতে সারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ

কৃষি বিভাগ বলছে, নীতিমালা অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক সমান পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়; কিন্তু সব ইউনিয়নে কৃষকের সংখ্যা সমান নয়। ফলে কৃষক বেশির ইউনিয়নে দ্রুত সার শেষ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দবেড় ইউনিয়নে কৃষকের সংখ্যা ৮ হাজার ৫২৮ জন এবং শৌলমারীতে ৬ হাজার ৮৫৮ জন। কিন্তু বরাদ্দের ক্ষেত্রে ইউনিয়নভিত্তিক সমতার নীতি থাকায় দুই ইউনিয়নে সমান সার দেওয়া হয়। এতে সব জায়গার কৃষকের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

কৃষকদের অভিযোগ, একটি ইউনিয়নের সব কৃষককে একই দিনে সার নিতে ডাকায় পরিবেশকদের বিক্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, একটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের কৃষকদের পর্যায়ক্রমে সার দেওয়া হলে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা কমবে।

দিনের বেলায় ‘সার নেই’, রাতে মেলে বাড়তি টাকায়

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল 

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাড়তি টাকা ছাড়া সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক কৃষক। তারা বলছেন, দিনের বেলা ডিলারদের দোকানে গেলে সংকটের কথা বলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাড়তি টাকা দিলে রাতের বেলা সার সরবরাহ করা হয়। চাষিদের ফোন নম্বর ক্যাশ মেমোতে লিখে রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক ডিলার তা মানছেন না। এদিকে, বিভিন্ন অভিযোগে ছয়জন ডিলারকে শোকজ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

কৃষকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কিছু ডিলার সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বস্তাপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। কৃষকরা বলছেন, যারা বস্তাপ্রতি চাহিদামতো টাকা দিচ্ছেন না তাদের ‘সার নেই’ বলে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ডিলার ক্যাশ মেমোতে কৃষকদের নাম লিখলেও তাদের মোবাইল নম্বর লিখছেন না। মূলত, অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যেন কেউ যোগাযোগ না করতে পারে এজন্যই নম্বর রাখা হয় না। যদিও কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, সার কেনা কৃষকদের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে রাখার জন্য ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

উথলী ইউনিয়নের নয়াবাড়ী বাজারের বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলার সমতা কৃষি ভাণ্ডারের মালিক আশরাফুল আলম রাজা বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা সার বরাদ্দ পাইনি। এ ছাড়া, এ বছর আমাদের এলাকায় বর্ষা কম হয়েছে। ফলে আমন ধানসহ শাকসবজির আবাদ বেশি হচ্ছে। এ কারণে সারের চাহিদাও বেশি। তিনি আরও বলেন, আমি কৃষকদের কাছে থেকে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছি না। চাহিদা অনুযায়ী সার দিতে না পারায় কিছু কৃষক অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কথা বলছেন। তবে কিছু সাব ডিলার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করেন বলে শুনেছি। তাঁর দোকানের ক্যাশ মেমোতেও সার কেনা বেশির ভাগ কৃষকের ফোন নম্বর দেখা যায়নি। 

গুদামে সার আছে, তবুও কৃষক পাচ্ছেন না

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল 

সরকারের দাবি, গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। যা দিয়ে আগামী কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারপরও প্রয়োজনের সময়ে সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকার কথা বলা হলেও পরে সেই সার অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে, ডিলারের গুদামের দরজা ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারের দাবিতে অন্তত ১৫টি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হয়ে সার উত্তোলন ও বিতরণে অসহযোগিতা করেছেন। আবার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, ডিলারদের একাংশের নিয়ন্ত্রণ, খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি এবং স্থানীয়ভাবে সার আটকে রাখার কারণে কৃষকের কাছে প্রয়োজনের সময় সার পৌঁছাচ্ছে না।

এক মাসে যত বিক্ষোভ

১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার কৃষক। ১২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সার সংকটের প্রতিবাদে রহনপুর ইউনিয়নের শত শত কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন। 

২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও না পেয়ে কৃষকরা এক ডিলারের গুদামে ঢুকে সার নিয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল; এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। 

৩০ আগস্ট দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সার নিয়ে সিন্ডিকেট দূর করা, প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ ও সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন হয়। ৩১ আগস্ট রংপুরের মিঠাপুকুরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সংকটের স্থায়ী সমাধান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়। একই দিন রংপুর নগরীর খামার মোড়েও সার নিয়ে কর্মসূচি হয়।

২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট বাজারে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। ৫ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে রাসায়নিক সার না পেয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। পরদিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে প্রায় ২০০ কৃষক সার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ডিলারের লোকজন সময়মতো না আসায় কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। 

৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীর বন্দবেড় বাজারে সার নিতে ভোর থেকে অপেক্ষা করেন কৃষকরা। বিতরণে দেরি হওয়ায় গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ডিলারের দাবি, প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই দিন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন এবং এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে প্রায় ৩০০ কৃষক পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারের কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও একই দিনে সার সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। 

কৃষকের হাতে নেই কেন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১২ লাখ ২২ হাজার টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া চার লাখ ২৭ হাজার, ডিএপি তিন লাখ ৩২ হাজার, এমওপি এক লাখ ১৭ হাজার এবং টিএসপি তিন লাখ ৫২ হাজার টন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সারের চাহিদা ও সম্ভাব্য সরবরাহের হিসাবও করেছে মন্ত্রণালয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার ধরনের সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ২৯ হাজার টন। বিপরীতে সম্ভাব্য সরবরাহ ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৪২ হাজার টন বেশি সার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে ইউরিয়ার চাহিদা ১৭ লাখ ২২ হাজার টন, বিপরীতে সরবরাহের সম্ভাবনা ২০ লাখ সাত হাজার টন। ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৩ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ছয় লাখ ৬৯ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১০ লাখ ৮২ হাজার এবং টিএসপির চাহিদা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ৯ লাখ ৩২ হাজার টন। বর্তমানে আমদানি করা প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার টন সার পরিবহনাধীন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে আমদানি ও বেসরকারি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আরও ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টন।

কৃষকরা বলছেন, সরকার সংকট নেই বলে জানালেও প্রয়োজনের সময় ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যায় না।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একজন প্রধান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ হতো। সেই ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা সার নিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে একটি এলাকায় সার সরবরাহের ওপর অল্প কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।

বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সম্পর্কিত ডিলারদের নিয়েও একটি আলাদা কাঠামো ছিল। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা করেছে। নতুন ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আগের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে– এমনটাই সরকারের লক্ষ্য।

কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব। পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন ব্যবস্থায় তাদের একচেটিয়া ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাজারে ঢোকার সুযোগ পাওয়ায় পুরোনোদের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে দেরি হওয়া এবং পুরোনো ডিলারদের একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি জেলায় বরাদ্দ করা সার পুরোপুরি উত্তোলন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে জুলাই ও আগস্টে কয়েকটি জেলার ডিলারদের বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সূত্রটির দাবি।

এই বিষয়ে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার ডিলার বলেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে। গুদামে সার আসার পর নির্দিষ্ট সংখ্যক বস্তা ওই মহলকে দিতে হয়। পরে তারা বেশি দামে সার বিক্রি করে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি সার দেওয়া হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি জানান, নতুন বা যেসব খুচরা বিক্রেতা এখনও পুরোপুরি কার্যক্রমে আসেননি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদেরও কিছু পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সার আনার চেষ্টা চলছে। এর পরও স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা থেকে যাচ্ছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান মনে করেন, গুদামে সার থাকা আর কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো এক বিষয় নয়। সরকার যদি বলে মজুত আছে, তাহলে বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কোথায়– তা চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, সার বিতরণের প্রতিটি ধাপ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক যদি ডিলারের গুদাম থেকে সার না পেয়ে পরে খোলাবাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে শুধু জাতীয় মজুতের হিসাব দিয়ে সংকটের দায় এড়ানো যায় না।

২০৪ মোবাইল কোর্ট, উদ্ধার ১৭০০ বস্তা

সার নিয়ে চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে সারাদেশে ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লুট হওয়া প্রায় এক হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৪ জেলায় একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণ ও উত্তরণের উপায় খতিয়ে দেখতে দুজন যুগ্ম সচিব ও দুজন উপসচিবের সমন্বয়ে চার সদস্যের তদারকি কমিটি করা হয়েছে। সব জেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করা হয়েছে, যেখানে সারসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? এহন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আহে’

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০–৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন গনাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার ও হয়রানির আতঙ্কে আছেন সাধারণ কৃষকেরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহীদ মোড় এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘সার চাওয়া কি আমাগরে অপরাধ? আমরা তো কাউকে আঘাত করি নাই। সার না পেয়ে রাস্তায় বসে পড়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা দিয়ে দুইজনকে ধরে নিয়ে গেছে। এহন প্রতি রাতে গ্রামে পুলিশ আহে। সারা দিন রোদে কাজ করি। অজ্ঞাতনামা আসামি করেও ধরে নিয়ে যেতে পারে। রাতে বাসায় ঘুমামু, সেই উপায় নাই।’

সারের ডিলারশিপ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ, বিতরণ ব্যাহত

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

নতুন ডিলার (পরিবেশক) নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সারের সরবরাহ ও বিতরণে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পরিবেশকদের অনেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা করছেন। তাঁরা মনে করছেন, সরকারদলীয় নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নতুন ডিলারের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ফলে বাদ পড়ার আশঙ্কা থেকে অনেকে সার বিতরণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। সরকারের একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইচ্ছা করেই সার উত্তোলন ও বিতরণে দেরি করছেন অনেক ডিলার। তাঁরা কৃষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মানিকগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও নড়াইলে সারের নতুন ডিলার নিয়োগের খোঁজ নেওয়া হয়। এতে জানা যায়, সরকারদলীয় নেতারা ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে ডিলারের দায়িত্ব পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের কাছ থেকে আধা সরকারিপত্র (ডিও) নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ডিলারশিপ পেতে বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ফলে যাঁরা এখন ডিলারের দায়িত্বে আছেন, তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় কাজ করছে।

এ পরিস্থিতিতে কৃষকেরা বলছেন, সরকার সুষ্ঠুভাবে সার ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না। কৃষক পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সার যাচ্ছে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কোথায় কতটুকু সারের প্রয়োজন, সরকার তা বলতে পারছে না।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, ঢালাওভাবে সব ডিলারকে সরানো হবে না। নতুন–পুরোনো মিলিয়ে পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সারে নতুন ডিলার নিয়োগ দিতে গত ২৭ আগস্ট একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, একই পরিবারে একাধিক ডিলার নিয়োগের সুবিধা থাকবে না। ডিলারের কার্যক্রম মূল্যায়নের মাধ্যমে বাতিল বা নবায়ন করা হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন সার ডিলার (এখন দুজন) নিয়োগ করা যাবে। প্রতিটি পৌরসভায় তিনজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া যাবে। নতুন ডিলার নিয়োগে এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকে পরিবেশক পদে আবেদন করছেন।

নতুন ডিলার নিয়োগ দিলে বর্তমানে যাঁরা আছেন, তাঁরা বাদ পড়বেন—মাসখানেক আগে থেকে এমন কানাঘুষা শুরু হয়। নতুন ডিলারের দায়িত্ব পেতে কেউ কেউ প্রভাবশালীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একজন ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার (প্রতি বস্তা ৫০ কেজি) নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে কিছু সার ফেরত পাওয়া যায়। সারসংকটের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি কার্যালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, ঢালাওভাবে সব ডিলারকে সরানো হবে না। নতুন–পুরোনো মিলিয়ে পরিবেশক নিয়োগ দেওয়া হবে।

৬ সেপ্টেম্বর সার দিতে দেরি হওয়ায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। সারের দাবিতে জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সড়কে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। লালমনিরহাটেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। সারসংকট নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে।

আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, চলতি আমন চাষ মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় তাঁরা সময়মতো জমিতে সার দিতে পারছেন না। কোথাও কোথাও সারের দাম বেশি রাখছে। নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে গড়ে ওঠা কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট বন্ধের দাবিতে তাঁরা জাতীয় মহাসড়কে নামতে বাধ্য হন।

কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে সারসংকটের কারণ ও উত্তরণ নিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ চিঠিতেও ডিলার পর্যায়ে অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। বলা হয়, এবার নির্ধারিত সময়ে সার বিতরণ শুরু করেননি ডিলাররা। প্রকৃত কৃষক ও জমির পরিমাণ কত, সে বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। একই ব্যক্তি একাধিকবার সার নিয়েছেন। ইউনিয়ন সার বিতরণ কেন্দ্রের সামনে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং সারসংকট নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার দেখা গেছে। তবে সার বিতরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়, সারসংকট নিরসনে প্রকৃত কৃষকের তালিকা ও জমির পরিমাণভিত্তিক চাহিদার আলোকে ডেটাবেজ তৈরি করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন যখন সার বিতরণ করতে যাবে, এর আগে অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হবে। গুজব প্রতিরোধে প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রচার চালাতে হবে। প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হয়।

মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও গাইবান্ধায় চাহিদা অনুযায়ী গত মাসে সার পাওয়া যায়নি। এসব জেলায় বেশি দামে সার বিক্রি হয়েছে। এসব জেলায় সারের অবৈধ মজুতের অভিযোগও রয়েছে।

অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে সারের ঘাটতি নেই। চাহিদার তুলনায় দেশে বাড়তি সারের মজুত রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা সার বিতরণে অস্থিরতা তৈরি করছেন। তবে বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে, সারের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সারের ডিলার থাকার কথা। কিন্তু কোথাও একজন রয়েছেন, কোথাও একজনও নেই। সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেবে। ফলে নতুন করে কোথাও একজন, কোথাও দুজন নিয়োগ পাবেন।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, আবেদন জমা হলে যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই ডিলার নিয়োগ শুরু হবে। তখন সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান ডিলারদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টির কারণে সারসংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি যে সব ডিলারকে বাদ দেবে। সব নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নয়। নতুন–পুরোনো মিলেই থাকবেন। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে সার মজুত করেন, সরকার অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

প্রতিবেদনে কী আছে

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জমা দেওয়া সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে যোগ্যতার পরিবর্তে অনুগত ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। নতুন ডিলার নিয়োগে নিজেদের পছন্দের লোকদের সুযোগ দিতে প্রভাবশালী মহলের চাপ রয়েছে। এটা হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাদ পড়তে পারেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রভাবশালী বিভিন্ন গোষ্ঠী সার পরিবহনে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। এতে সার পরিবহন ও বিতরণব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর সুযোগে কৃষকদের কাছ থেকে সারের অতিরিক্ত দাম আদায় করা হতে পারে।

মাঠপর্যায়ে চাহিদার সঠিক হিসাব না থাকায় সারের সংকট

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা

সারাদেশে সারের প্রকৃত চাহিদা মাঠ পর্যায় থেকে সঠিকভাবে নিরূপণ করা হয়নি। ফলে সরকারিভাবে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জায়গায় সার বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এই কারণে অনেক জেলায় সারের সংকট দেখা দেয় বলে সরকারি এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে কৃষি মৌসুমে বাজারে সারের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের তৈরি করা কৃত্রিম সংকটে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

নির্ধারিত এলাকার বাইরে সার সরিয়ে নেওয়া, বরাদ্দের অপব্যবহার ও পরিবহনের সময় কারসাজির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২৪ শতাংশ ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে গত ৮ সেপ্টেম্বর ১৫টি সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

বিএনপি নেতার সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা ক্ষুব্ধ কৃষকদের

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে রেখে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা পরিবেশকের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার রাজীবপুর বাজারে তাঁর বিক্রয়কেন্দ্র ‘শফি এন্টারপ্রাইজ’–এর তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুদামে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।

শফিউর রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রাজীবপুরের নিবন্ধিত সার ডিলার। ওই ঘটনার পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত চাল কিনছে সরকার, চাষির পর ভোক্তাও ক্ষতিগ্রস্ত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই লাখ টন চাল কিনছে। ইতোমধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দিতে তালিকা করা হয়েছে। এই বাড়তি ক্রয় সরকার করছে চালকল মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। প্রায় দেড়শ আবেদনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের আধা-সরকারিপত্র বা ডিও লেটার সংযুক্ত আছে। এই প্রক্রিয়ায় কৃষকের পর এবার ভোক্তাও ক্ষতির মুখে পড়ছে।

গত বোরো মৌসুমে চালকল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুত করেছেন। তা পরিমাণে এত বেশি যে, বাজারে সরবরাহ করে এবং নির্ধারিত পরিমাণে সরকারি গুদামে চাল দিয়েও উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে। সরকার এই বাড়তি চাল কিনতে রাজি হওয়ায় তা সরাসরি বাজারে আসছে না। এই চাল বাজারে এলে খুচরা পর্যায়ে দাম ভোক্তার জন্য আরও সহনীয় হতো।

ডিলারের কাছে নেই, কৃষক ছুটছেন সারের খোঁজে

০৪ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

চলতি আমন মৌসুমে ১০ বিঘা জমি চাষাবাদ করেন খুলনার কয়রা উপজেলার কৃষক তৌহিদুল সানা। তাঁর বাড়ি উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রথম দফায় জমিতে দেওয়ার জন্য তাঁর ১০০ কেজি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন ছিল। ৪০ কেজি কেনার পর স্থানীয় ডিলারের কাছে গিয়ে আর সার পাননি। গত শুক্রবার সারের জন্য তিনি যান ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলারের কাছে। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। 

বিভিন্ন দোকান ঘুরে সার না পেয়ে তৌহিদুল সানা যোগাযোগ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়, চলতি মাসে উপজেলার জন্য সারের বরাদ্দ পাস না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটবে না। এমন সংকটে পড়েছেন উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক। এ কারণে চলতি মৌসুমে আমনে আশানুরূপ ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

১২ বছরে ৭ বারই লোকসান, এবারও আলু নিয়ে বিপাকে রংপুরের কৃষক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

রংপুরের কৃষকের কাছে আলু একসময় ছিল ‘নগদ টাকার ফসল’। মৌসুম শেষে আলু বিক্রির টাকাতেই বছরের বেশির ভাগ সময় চলত অনেক পরিবার। কিন্তু গত এক যুগে বারবার লোকসানের ধাক্কায় সেভাবে চলার স্বপ্ন ও বাস্তবতা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সে তুলনায় দাম মিলছে না। আবার পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা যেমন নে্ই, তেমনি বিপণনব্যবস্থাও বেশ দুর্বল। ফলে এ অঞ্চলের চাষিরা আলু নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য এবং রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছরের ৭ বছরই আলু চাষে লোকসান হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬, ২০১৯, ২০২০, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আলু চাষে কৃষকেরা লাভবান হয়েছেন। আর ২০১৪, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৮, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৫ সালে তাঁদের লোকসান গুনতে হয়েছে।

সারের ডিলার নিয়োগে দল ও স্বজনপ্রীতি, টাকা লেনদেন

১২ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল 

সারাদেশে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার চেয়ে তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ এবং প্রভাবশালীদের আত্মীয়স্বজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৫৫ জেলার আংশিক তালিকায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশই অনভিজ্ঞ ও নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারী বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নামও রয়েছে।

সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। এত বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে ডিলার বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাদ পড়া ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের সার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী, সন্তান, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয়কে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত তালিকার নাম ও ক্রমের মিল পাওয়া গেছে। কোথাও আবার সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন।

দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম 

‘মেয়েটির বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল, স্বপ্ন দেখান কোটিপতি বানানোর’

২৫ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

তরুণীটির সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার।

এই দাবি করেছেন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, টাকার লোভে ওই তরুণীর মা–বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় ওবায়দুর রহমানের। তিনি এরই মধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন।

সম্পর্কে ওই তরুণীর মামা হন ওবায়দুর। গাজী নজরুলের গাড়ি চালানোর পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে ওবায়দুরের আত্মীয়তা রয়েছে মেয়েটির বাবার সূত্রে। ওবায়দুর জানান, গাজী নজরুল সম্পর্কে মাসুম বিল্লাহর খালু।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তে’র একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।

গাজী নজরুল তখন অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।

অন্যদিকে ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ওবায়দুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নজরুল ইসলামের সঙ্গে ভাগনির ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করা এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় সন্দেহের জেরে ১৪ জুলাই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ নিয়ে ইউএনও ও ছাত্রদল নেতার উত্তপ্ত কথোপকথন

০৯ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রংপুরের পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নিয়োগের প্রক্রিয়া, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন শোনা যায়।

গত শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে ওই দুজনের মধ্যে কথা হয়েছিল। ইউএনও মাহামুদুল হাসান ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান (মিলু) দুজনই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

০৯ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’-এর সুপারভাইজার পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রকাশিত ১২ জনের চূড়ান্ত ও রিজার্ভ তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থী রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত ফলাফলকে ‘তামাশা’ আখ্যা দিয়ে আজ রোববার দুপুর ২টায় তারাকান্দা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ পরীক্ষার্থীর অধিকার রক্ষায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জানা গেছে, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ১২ জনের মধ্যে অন্তত ছয়জন সরাসরি রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত। এর মধ্যে চারজন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা এবং তাদের সন্তান।

চট্টগ্রামে জামায়াত নেতার মাদ্রাসায় মিলল সরকারি ধানের বীজ

১৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার পরিচালিত মাদ্রাসা থেকে কৃষকের ১৩ বস্তা ধানের বীজ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের জামেউল উলুম মাদ্রাসা থেকে এসব বীজ উদ্ধার করা হয়। বীজগুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণের কথা ছিল। তবে ওই জামায়াত নেতা তা বিতরণ করেননি।

অভিযুক্ত ওই জামায়াত নেতার নাম শামসুল ইসলাম হেলালী। তিনি চরম্বা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। পাশাপাশি তিনি মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত সুপারের (অধ্যক্ষ) দায়িত্বে রয়েছেন।

মালয়েশিয়া চক্র এবার ভিন্ন কৌশলে তৎপর

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

২০২২ সালে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স পাওয়া ভালুকা ওভারসিজ গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ২৩৫ জন কর্মী পাঠানোর ছাড়পত্র নিয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার কোনো কর্মী নেই। অথচ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সির তালিকায় আছে এই প্রতিষ্ঠান।

ভালুকা ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু সোহাগ খান প্রথম আলোকে বলেন, আগে মালয়েশিয়ায় এক হাজারের বেশি কর্মী তিনি পাঠিয়েছেন বিভিন্ন এজেন্সির নামে। একইভাবে সৌদি আরবেও পাঠিয়েছেন। এবার সরাসরি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছেন। মালয়েশিয়া থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হয়নি।

ভালুকা ওভারসিজসহ মোট ২৫টি এজেন্সি এবার মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে। রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার কয়েকজন সদস্য বলছেন, এবার আগের এজেন্সিগুলোর নাম নেই। আগের মতো মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠানের নামও নেই সরাসরি। তবে অপরিচিত এজেন্সির আড়ালে আছে চক্র (সিন্ডিকেট) তৈরির পুরোনো হোতারাই। এবার ভিন্ন কৌশলে চক্র তৈরি করেছে তারা। ফলে এবার মালয়েশিয়া যেতে ৬-৭ লাখ টাকা খরচ করতে হতে পারে কর্মীদের। আগেরবার প্রত্যেক কর্মীর গড়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভেরিটে ইনকরপোরেটেডসহ পাঁচটি সংস্থার এক গবেষণায়।

অভিযোগ আছে, মালয়েশিয়া থেকে আমিন নূর কর্মী পাঠানোর পুরো বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন। বাংলাদেশে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন ওরফে স্বপন। তাঁরা দুজন মিলে নির্ধারণ করেছেন, চক্রে কারা থাকবে।

নির্বাচিত ২৫টি এজেন্সির প্রায় ২৩ বছরের (জানুয়ারি ২০০৪ থেকে গত ২৩ আগস্ট পর্যন্ত) তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমই) এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৫টির মধ্যে ১৭ এজেন্সির মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বাকি ৮টি এজেন্সি মিলে কর্মী পাঠিয়েছে ১ হাজার ৬১২ জন। যার মধ্যে ৫টি এজেন্সির নামে কর্মী গেছে ১১, ৭৪, ১০০, ১৫০ ও ২০২ জন করে। অন্য ৩টি থেকে গেছে ৪৩৬, ৩৩৩ ও ৩০৬ জন করে।

এজেন্সি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে এবারও মালয়েশিয়া কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কথা বলেনি। সুযোগটি নিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্মী নিয়োগের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) সফটওয়্যার মাইগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এটির মালিকানায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমিনুল ইসলাম বিন আবদুল নূর। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক, আমিন নূর নামে পরিচিত।

নতুন পে স্কেলে বছরে বাড়তি ব্যয় ১.০৬ লাখ কোটি টাকা, অর্থের সংস্থানে এনবিআরের দ্বারস্থ সরকার

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণার কারণে সরকারের যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, ওই অর্থের জোগানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপায় খুঁজতে বলা হয়েছে।

গতকাল (১ সেপ্টেম্বর) এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এই নির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা—যা আগের অর্থবছরের আদায়ের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪.১৫ লাখ কোটি টাকা।

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি কাজের চুক্তি দেয়। ঘটনাটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর শাহে আলম শপথ নেওয়ার মাস দুয়েক পরের।

ওই চুক্তির নথি অনুযায়ী, বগুড়াভিত্তিক কোম্পানিটির ১০০ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম এবং তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।

চুক্তিটির সঙ্গে শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগের। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দরপত্রটি প্রকাশ করা হয়। খাবার লবণে আয়োডিন যুক্ত করতে পটাশিয়াম আয়োডেট কেনার জন্য ছিল এই দরপত্র।

তখন শাহে আলম ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিকের পরিচালক। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহে আলমকে বিসিকের পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।

শর্ত পূরণ না করা এজেন্সিও মালয়েশিয়া ‘সিন্ডিকেটে’

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

কর্মী পাঠানোর কাজ পাওয়ার যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া যে ১০ শর্ত দিয়েছিল, তার একটি হলো ‘মানব পাচার বা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বা আইনি রেকর্ড থাকা যাবে না।’ কিন্তু দেশটি বাংলাদেশের যে ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছে, তার অন্তত চারটির বিরুদ্ধে ‘বিদেশে নারী পাচারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনের’ মামলা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর তদন্ত করছে। 

দেশে দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে, যারা বিদেশে কর্মী পাঠায়। ২০১৬ সালে এর মধ্যে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল মালয়েশিয়া। ২০২২ সালে কাজ দেয় ২৫টি এজেন্সিকে। যেগুলোর মালিক ছিলেন তৎকালীন এমপি-মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব এজেন্সি ‘সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিতি পায়। সে সময় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কর্মীপ্রতি ব্যয় ৭৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও গড়ে তা পাঁচ লাখের ওপরে উঠে যায়। 

এবার মালয়েশিয়ার ১০ শর্তের ছয়টি পূরণ করা ৪২৩ এজেন্সির তালিকা দেশটিকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। দুই দেশের স্বাক্ষরিত ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারকে পাওয়া একক ক্ষমতায় সেখান থেকে ২৫ এজেন্সিকে বাছাই করে গত ২১ আগস্ট তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। পরে ‘সহযোগী এজেন্সি’ হিসেবে আরও ৩১২ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রকাশ করে পুত্রজায়া। এবারও এদের সিন্ডিকেট বলা হচ্ছে। কর্মীদের নির্ধারিত ব্যয়ের কয়েক গুণ টাকা লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

এজেন্সিগুলোকে কোন মানদণ্ডে বাছাই করা হয়েছে, তা জানায়নি মালয়েশিয়া। তবে তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এমন প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে, যেগুলো কর্মী পাঠানোর সংখ্যা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য মানদণ্ডে বাদ পড়া এজেন্সির চেয়েও পিছিয়ে। চারটি এজেন্সি এক হাজারের কম কর্মী পাঠিয়েছে নিবন্ধন পাওয়ার পর। লাইসেন্স পাওয়ার পর মোট ৩৬০ জন কর্মী পাঠানো এজেন্সিও রয়েছে তালিকায়। যদিও পাঁচ বছরে অন্তত তিন দেশে তিন হাজার কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে।

সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করায় আবারও সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তালিকায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাংশ ‘ডামি’। এমপি, নেতারা নিজ নামে কাজ না নিয়ে অনুগতদের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। অতীতে আওয়ামী লীগ এমপি, মন্ত্রী, নেতারা নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেওয়ায় বিতর্ক হয়েছিল।  

যুবদলের সহসভাপতি আতিকুর রহমান বিশ্বাসের মালিকানাধীন এজেন্সি আল-আকাবা তালিকায় না থাকলেও রয়েছে তাঁর স্ত্রী সাবিহা সুলতানার মালিকানাধীন ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই ঠিকানা ফকিরাপুলের ইনার সার্কুলার রোডের শতাব্দী সেন্টারে। সাবিহা সুলতানা সমকালকে বলেছেন, তালিকায় থাকা এবং প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাঁর স্বামী জানেন। 

সরকারি একটি সূত্র সমকালকে বলেছে, এক প্রতিমন্ত্রীর তিনটি এজেন্সি তালিকায় রাখা হয়েছে। তিনটি এজেন্সির আড়ালে রয়েছেন একজন হুইপ। একজন উপদেষ্টার আত্মীয় বেনামে রয়েছেন এবারের সিন্ডিকেটে। খুলনা ও কুমিল্লার একজন করে এমপি রয়েছেন দুটি এজেন্সির পেছনে। গতবার ২৫ এজেন্সির সিন্ডিকেটে ছিল আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান গ্রিনল্যান্ড। এবার রয়েছে তাঁর স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানুর প্রতিষ্ঠান।  

চাঁদা না দিলে গরু-মহিষ চরানো যায় না যমুনার চরেও

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনার চরাঞ্চলে চাঁদা না দিলে কাশবনে গরু-মহিষ চরাতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, চাঁদা না দিলে বাথানমালিক ও রাখালদের ওপর জুলুম-নির্যাতন, গরু-মহিষ লুট ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। তৃণভূমির দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সারিয়াকান্দির পাকুরিয়া চরে কাশবনের দখলকে কেন্দ্র করে এই সিন্ডিকেটের এক নেতা মুসলেম উদ্দীনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর চরাঞ্চলের তৃণভূমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অপর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন গিয়াস খান ও হায়দার খান।

নিজের মুঠোফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে মন্ত্রী বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের মানুষ মুঠোফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কী বার্তা পাঠান, কোথায় কোথায় যান—এসব তথ্য টাকা দিলেই জানা যায়। রীতিমতো ওয়েবসাইট খুলে নাম নিবন্ধন করে তা বহুদিন ধরে বিক্রি হয়।

যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁদের কাছে ৬ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছিল একজন মন্ত্রীর নম্বর। দেওয়া হয়েছিল তাঁদের দাবি করা টাকা। কয়েক ঘণ্টা পরই পাওয়া যায় সেই মন্ত্রীর মুঠোফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর)। সিডিআরে মন্ত্রী তিন মাসে কার সঙ্গে কত সময় কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন, কথা বলার সময় তিনি কোথায় অবস্থান করেছেন ইত্যাদি নানা গোপন তথ্য রয়েছে।

সিডিআর আসল কি না, তা জানতে ৭ সেপ্টেম্বর গেলাম মন্ত্রীর দপ্তরে। সিডিআর দেখানোর পর মন্ত্রী নিজের মুঠোফোন বের করলেন। মিলিয়ে দেখলেন। তারপর অবাক হয়ে বললেন, এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়।

প্রথম আলো অনুসন্ধানে বের করেছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্যও নিরাপদ নয়। এমনকি যাঁদের দায়িত্ব মানুষকে নিরাপদ রাখা, তাঁদের গোপন তথ্যই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের যেকোনো মুঠোফোন ব্যবহারকারীর নম্বরের সিডিআর পাওয়া সম্ভব। প্রথম আলো একজন মন্ত্রীর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার দুজন প্রধানের মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি প্রথম আলোর দুজন কর্মীর মুঠোফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করা হয়। মিলিয়ে দেখা যায়, সব কটিই সঠিক।

মুঠোফোনের গোপন তথ্য কেনাবেচাকে ঘিরে অনলাইনে একটি বাজার গড়ে উঠেছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে, ওয়েবসাইট খুলে এবং টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি হচ্ছে। টাকা দিলেই পাওয়া যাচ্ছে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, সিডিআর, মুঠোফোনের অবস্থান, খুদে বার্তা বা এসএমএস, কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) সনদ, পাসপোর্টের তথ্য ও মুঠোফোনে লেনদেনের আর্থিক বিবরণী।

পাঠ্যবই ছাপাতে দর ফাঁস, সমঝোতার দরপত্র, বাড়তি ব্যয় ২৫২ কোটি টাকা

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ঠিকাদারি কাজের একটি বড় অংশ ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারেরা সরকারের প্রাক্কলিত দর আগেই জেনে গিয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী তাঁরা কিছুটা কম–বেশি করে দর দাখিল করে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।

মাঝপথে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। শুরুতে সরকার একটি প্রাক্কলিত দর ঠিক করেছিল, তা ফাঁস হয়ে যায় এবং ফাঁস হওয়া দর দেখে ঠিকাদারেরা তা বৃদ্ধির জন্য চাপ দেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সেটি মেনে নিয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেয়। পরে ঠিকাদারেরা সমঝোতা করে দরপত্র দাখিল করে কাজ ভাগাভাগি করেন।

দর ফাঁস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এনসিটিবির একজন সদস্য। অন্যদিকে সরকারি খাতে ক্রয়বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের জানার কথা নয়। মাঝপথে দর বাড়ানো নিয়ম অনুযায়ী হয়নি; আর প্রতিযোগিতা কম হলে সরকারের কাজের ব্যয় বেড়ে যায় এবং গুণগত মান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক্কলিত মূল্য বৃদ্ধি ও কাজ ভাগাভাগির ফলে শুধু মাধ্যমিকের বই ছাপাতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫২ কোটি টাকা।

দত্তকের নামে শিশু কেনাবেচা, ফেসবুকে চলে দর–কষাকষি

০৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

চড়া দাম হাঁকিয়ে শিশু বিক্রির প্রস্তাব এসেছে ফেসবুকের একটি পোস্টে, ‘ইমার্জেন্সি একটা ছেলে বাচ্চা দেওয়া হবে, বয়স ৬ মাস, ডিমান্ড ২ লাখ টাকা, লোকেশন চট্টগ্রাম।’

আমি পোস্টটি পড়লাম ‘সন্তান দত্তক দেওয়া-নেওয়া হয়’ নামের একটি গ্রুপে। পোস্টদাতা প্রতারকদের দূরে থাকতে বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ৫০ হাজার বা ১ লাখ টাকা যাঁরা চাইছেন, তাঁরা আসলে বাচ্চা দেবেন না।

এই যুক্তি খাড়া করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি সম্ভাব্য ক্রেতাদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘এটা ১০০% রিয়েল পোস্ট, সবকিছু বুঝেশুনে তারপর নক দিবেন।’

ফেসবুকে ‘বাচ্চা দত্তক নেওয়া এবং দেওয়ার গ্রুপ’-এর সদস্যসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। এখানে একজন নামবিহীন অংশগ্রহণকারী ফোন নম্বর দিয়ে গত বছর লিখেছিলেন, ‘একটি বাচ্চা মেয়ে বিক্রি করা হবে।’

গত জুনে ‘দত্তক দেওয়া ও নেওয়া/চাইল্ড অ্যাডপশন’ গ্রুপে একজন লিখেছেন, ‘বিশেষ অফারে একটা ছেলে বাবু দত্তক দেয়া হবে।’ ফেসবুকে কাছাকাছি নামের অনেক গ্রুপে এমন বিজ্ঞপ্তির ছড়াছড়ি। গ্রুপগুলোতে দত্তকের জন্য বাচ্চা চাওয়ার পোস্টও অনেক।

এভাবে ফেসবুকে রীতিমতো দর–কষাকষি করে অর্ডার দিয়ে কেনাবেচার আলাপ চলছে শিশু মায়ের গর্ভে থাকার সময় থেকে। ফেসবুকের বাইরে টাকার বিনিময়ে দত্তক দেওয়া–নেওয়ার একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ আমরা সরেজমিনে দেখে এসেছি।

এগুলো আইন এবং সরকারের নজরদারির বাইরে চলছে। এভাবে কত শিশু কেনাবেচা হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া কঠিন।

গত ১২ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম আলোর ফ্যাক্টচেকার মো. সোহাগ মিয়ার সঙ্গে মিলে যাচাই-বাছাই করে আমরা ফেসবুকের ৩৯টি পাবলিক গ্রুপ ঘেঁটে দেখেছি। বেশির ভাগের সদস্যসংখ্যা কয়েক শ, তবে প্রায় ২০ হাজার সদস্যের গ্রুপও আছে।

সেই আলোচিত ভবনটি এখন একজন প্রতিমন্ত্রীর কব্জায়

৮ অক্টোবর ২০২৬, মানবজমিন

৮১ মতিঝিল। বাংলার বাণী ভবন। মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বহু ইতিহাসের সাক্ষী চারতলা ভবনটি। ৫৩ বছরের পুরাতন এই ভবনটির দেয়ালে লেপ্টে আছে বহু ইতিহাস। এক সময় এখান থেকে উর্দুতে খবর ছাপা হতো। পরে এখান থেকেই সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক প্রকাশিত হতো। ভবনটি এখন দখলদারের থাবায়। ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর এই ভবন ঘিরে কয়েক দফা দখলের মহড়া হয়েছে। সর্বশেষ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের কব্জায় ভবনের বেশির ভাগ অংশ। আর এর নেপথ্যে আছেন দলটির সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম

১০ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় এমন এক প্রার্থীর নাম পাওয়া গেছে, যিনি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। বয়সসীমা অতিক্রম করায় তার মৌখিক পরীক্ষা না নিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই প্রার্থী। অথচ সেই প্রার্থীর নামই চূড়ান্ত তালিকায় এসেছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘটেছে এমন ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এটি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনি এলাকা। চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা প্রার্থী সোনিয়া খাতুন লালপুর উপজেলার আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম জেনেটের স্ত্রী।

কক্সবাজারে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, প্রশাসন নিষ্ক্রিয়

১৯ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

সরকারি সংস্থা, হোটেলমালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় সাত শতাধিক আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে অগ্নিনিরপত্তার ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। হোটেলমালিকদের হিসাব অনুযায়ী, বছরে অন্তত ৯০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসেন। আগুন লাগলে তাঁদের সতর্ক করা, প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানো এবং নিরাপদে বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকার কথা। টুপটুপের প্রাণহানি সেই ব্যবস্থার ঘাটতি ও সরকারি তদারকির ব্যর্থতা সামনে এনেছে।

২৫ বছরে ২০০ থেকে ২০০০ হোটেল-রিসোর্ট

অনুসন্ধানে সংগৃহীত আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সালে কক্সবাজারে হোটেল–রিসোর্ট ছিল ২ শতাধিক। ২০১০ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় প্রায় ৫০০। ২০২০ সালে তা এক হাজার ছাড়ায়। বর্তমানে জেলায় হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ মিলিয়ে সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। প্রায় আড়াই দশকে পর্যটকদের থাকার স্থাপনা বেড়েছে কয়েক গুণ।

শুধু কক্সবাজার শহরের প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় হোটেল–রিসোর্ট রয়েছে ৫৩৭টি। শহরের বাইরে মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফেও ব্যবসা ছড়িয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় প্রায় ৬০টি রিসোর্ট–কটেজ নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে।

কিন্তু পর্যটন ব্যবসার এই বিস্তারের সঙ্গে অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১১৫টি হোটেল–রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের। এর বাইরে ঠিক কত প্রতিষ্ঠান এসব ছাড়া চলছে, তার কোনো সমন্বিত তালিকা পাওয়া যায়নি সরকারি দপ্তর ও সংস্থায়।

আমানতকারীদের টাকা দিতে পারছে না, অথচ সাবেক চেয়ারম্যান নাফিজ সরাফাতকে মাসে ৬০ লাখ টাকা ভাড়া দিচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, বিজনেস্ট স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী জামাল হোসেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখায় তাঁর মেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিমের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই লাখ টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও— ব্যাংকটি তাঁর সেই জমানো টাকা ফেরত দেয়নি।

জামাল একা নন; তাঁর মতো হাজার হাজার সাধারণ আমানতকারী আজ চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন। সারা জীবনের সঞ্চয় জমা রেখেও বছরের পর বছর ধরে তা ফেরত পাচ্ছেন না তারা। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই ব্যাংকে একক বা ব্যক্তি পর্যায়ের আমানতকারীদের ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আটকে রয়েছে।

আমানতকারীদের পাওনা মেটাতে না পারলেও, সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে গুলশান-২-এর ফাইনান্স স্কয়ার ভবনের ভাড়াবাবদ প্রতি মাসে ঠিকই ৬০ লাখ টাকা গুনে যাচ্ছে পদ্মা ব্যাংক। অর্থপাচারের একাধিক অভিযোগের মুখে থাকা নাফিজ সরাফাত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁর নিকটজনেরা নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা যখন চরম ধসের দিকে, ঠিক তখনই ২০২২ সালে নাফিজ সরাফাত চেয়ারম্যান পদে থাকা অবস্থায় পদ্মা ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয়টি এই গুলশানের ভবনে স্থানান্তরিত করে। সেখানে প্রতি বর্গফুট ২৫০ টাকা হারে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়, একটি মূল শাখা এবং একটি ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার জন্য প্রায় ২৪,০০০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভবনটি ভাড়াবাবদ অগ্রিম হিসেবে ১৪ কোটি টাকাও পরিশোধ করেছিল ব্যাংকটি।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন

২৭ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের অন্যতম কাজ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন তদারক করে ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ এই বিভাগের একজন যুগ্ম পরিচালক নিজেই জড়িয়েছেন সন্দেহজনক লেনদেনে। তাঁর আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। বেতন-ভাতার পুরো টাকা ঋণ ও বাসা ভাড়ার জন্য কেটে নেওয়ার পরও তিনি একের পর এক জমি কিনেছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে বড় অংকের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর খুলেছেন। শেয়ারবাজারেও করেছেন বিনিয়োগ। নিজের তথ্য গোপন করে মুদি দোকানদার পরিচয়ে খুলেছেন ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট । 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ওই কর্মকর্তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। এখন পঞ্চম গ্রেডে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। মূল বেতন ৫৬ হাজার ৩০ টাকা এবং অন্যান্য ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে চাকরি বাবদ পান ৯০ হাজার টাকার মতো। মোশাররফের গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণ বাবদ কর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কোয়ার্টারে থাকার বাসা ভাড়ার টাকা কেটে নেওয়ার পর বেতন-ভাতার এক টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টে যায় না।

গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার 

সাইবার সুরক্ষা আইন আবার সংশোধন হচ্ছে, গুজব–অপতথ্য প্রচারে ১০ বছর জেল

৩০ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

তিন মাসের ব্যবধানে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’ আবার সংশোধন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন ধারা যুক্ত করে আইনটি আরও কঠোর করা হচ্ছে; একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে শাস্তিও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, গুজব, অপতথ্য, হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানিকর তথ্য—এ চারটি শব্দকে অপরাধের সংজ্ঞায় এনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে সংশোধিত আইনে। এ ছাড়া আইন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে।‘

অন্য সংস্থার সরাসরি নাম না থাকলেও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারকে (এনটিএমসি) বোঝানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধিত আইনটি পাস হতে পারে।

রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদককে সাদাপোশাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

১১ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে সাদাপোশাকের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় বলে তাঁরা জানান।

রাঙামাটি জেলা পুলিশ জানিয়েছে, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ আটক করেছে।

সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চার ব্যক্তি সাংবাদিক সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ঘিরে ধরেছেন। সড়কের এক পাশে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটি চালু ছিল এবং নির্দেশক বাতি জ্বলছিল। কথা বলার এক পর্যায়ে সৈকত রঞ্জন চৌধুরীকে ওই গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে গাড়িটি স্টেডিয়ামের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।

ধানমন্ডিতে ফুল দিতে যাওয়া অর্ণব সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে

১৫ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অর্ণব দাসকে (৩২) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাসার এ তথ্য দিয়েছেন।

তিন সাংবাদিককে মারধরের পর বিএনপি নেতা বললেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’

২৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

শরীয়তপুরের তিন সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে। ওই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আরেক সাংবাদিককে হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু।’

আজ মঙ্গলবার সকালে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজ প্রতিনিধি বিধান মজুমদার ও মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়। শরীয়তপুরের বিএনপি নেতারা তখন সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন।

মতপ্রকাশে ভয়, আত্মসংযমে সাংবাদিকরা: জরিপ

২৮ আগস্ট ২০২৬, টাইমস অব বাংলাদেশ অনলাইন বাংলা 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুকে নিয়মিত লিখতেন একটি দৈনিকের প্রতিবেদক। হঠাৎ একদিন তাকে অফিসে যেতে নিষেধ করা হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। এখন তিনি চাকরি খুঁজছেন।

ওই সংবাদকর্মী ছাত্রজীবনে রাজনীতি করতেন। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা ছিলেন। তবে গত ছয় বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। তার অভিযোগ, পুরনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার খেসারত দিতে হয়েছে তাকে। এরপর ফেসবুকে লেখালেখি করায় শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাকে গালমন্দ করেছেন। তিনিও আর লিখবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার অভিজ্ঞতা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা কি না, তা বুঝতে সহায়তা করছে ডেটা জার্নালিজম নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডেটাফুলের সাম্প্রতিক এক জরিপ।

গত ১০ থেকে ২৫ আগস্ট ‘এক্সপ্রেশন পালস’ নামে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। গত ছয় মাসে সাংবাদিকদের ডিজিটাল মতপ্রকাশের অভিজ্ঞতা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এতে। সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে অংশ নেন ২২ জন সংবাদকর্মী।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন বলেছেন, সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতির ভয়ে গত ছয় মাসে তারা মতামত প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন। তাদের ১৩ জন জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই এমন করেছেন। অর্থাৎ এটি তাদের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

বিদ্যুৎ-সারের দাবিতে বাসদের সমাবেশে বিএনপির হামলার অভিযোগ

২৮ আগস্ট ২০২৬, আগামীর সময়

সিরাজগঞ্জের পিপুলবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ-সারের দাবিতে বাসদের সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

হামলায় বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক নবকুমার কর্মকারসহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ভিডিও, কলেজছাত্রকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে সরকারের সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছাড়ার অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সিফাত আব্দুল্লাহ এনসিপির সমর্থক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী।

পানির দাবিতে সিটি করপোরেশনে গেলেন ৬ যুবক, তুলে দেওয়া হলো পুলিশের হাতে

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

সিলেট নগরের জল্লারপার এলাকায় পানির সংকট নিরসনের দাবিতে সিলেট সিটি করপোরেশনে গিয়ে ছয় যুবক আটক হয়েছেন। সিটি করপোরেশন ভবনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলায় পানি শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জল্লারপার এলাকার প্রায় ২০/২৫ জন বাসিন্দা পানির সংকট নিরসনের দাবিতে কলস ও বালতি নিয়ে সিটি করপোরেশনে যান। পরে তারা ষষ্ঠ তলায় পানি শাখায় গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে পানির সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। একপর্যায়ে পানি শাখার কর্মচারীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা ছয় জনকে আটক করে নিচতলায় নিয়ে যান। এরপর সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ তলার জানালা ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ ডেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তার মতোই হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া প্রস্তুত করেছে সরকার। এতে মানহানির অপরাধে সাজা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা, গুজব-অপতথ্য ছড়ালে ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে খসড়ায়। এ রকম কিছু ধারা আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোও বলছে, খসড়ায় মানহানি, গুজব-অপতথ্যের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে; এগুলোর অপব্যবহার হতে পারে।

আওয়ামী লীগ আমলের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানহানির জন্য ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান ছিল। সমালোচনার মুখে সেই আইন বিলোপ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। এতে জরিমানার বিধান থাকলেও কারাদণ্ড ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানহানির অংশ বাদ দিয়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করা হয়। বিএনপি সরকার সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করলেও ছয় মাসের মাথায় এসে তা সংশোধন করে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান করতে চাইছে। এ ছাড়া গুজব, অপতথ্য প্রচার করলে ১০ বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে সংশোধনীর খসড়ায়।

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে মেহেরপুরে যুবক আটক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

মেহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গালাগালিসহ হুমকি দিয়ে ভিডিও পোস্ট করার অপরাধে সঞ্জয় কুমার দাস নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সে সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের হিরন কুমার দাসের ছেলে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে আটককৃত সঞ্জয় কুমার তার নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ হুমকি দিতে থাকেন। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে পুলিশের নজরে আসে। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসে। 

ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফেরানো সাইবার সুরক্ষা আইন পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ডিজিটাল পরিসরে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, সাইবার বুলিং থেকে নারী ও তরুণদের সুরক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পরিমার্জনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

যুবলীগকর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান, না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঢাকার ধামরাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক কর্মীকে ধরতে বাসায় অভিযান চালিয়ে না পেয়ে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন (৬০) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার রিফাত আহমেদ যুবলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

কলিম উদ্দিনকে একটি পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

জাসদের কার্যালয় থেকে ২৮৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জাসদ নেতা–কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বেলা তিনটার দিকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক নেতাসহ নেতা–কর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া রাত ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে জাসদ কার্যালয় থেকে ২৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা জাসদের নেতা–কর্মী, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এর বাইরে যাঁরা আছেন, যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে বিকেলে অভিযানের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা জাসদ কার্যালয়ে জড়ো হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

তবে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের জড়ো হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে জাসদ। ঘটনার বিষয়ে জাসদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাসদ কার্যালয়ে আয়োজিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল পূর্বনির্ধারিত। জাসদের পক্ষ থেকে ডিএমপির কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি, পল্টন থানার ওসিকে অবগত করেই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করা হয়। জাসদ নিষিদ্ধ দল নয়। জাসদের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। জাসদের এই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভায় অংশগ্রণকারী সবাই জাসদের নেতা-সদস্য।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির জেরে শোরুমে তালা, ২ কর্মীকে তুলে নিয়ে আবার ছেড়ে দিল

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম

শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রির অভিযোগে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয় কেন্দ্রে তালা দিয়েছে কিছু মানুষ। এ সময় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা হয়।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ বই আর বিক্রি না করার শর্তে পুলিশের সমঝোতায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান।

গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ‘গালাগালের’ পর এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

গাজীপুরের শ্রীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে ‘গালাগালসহ আপত্তিকর পোস্ট’ দেওয়ার পর আশরাফুল ইসলাম ওরফে সজল (২৬) নামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আশরাফুলকে পোস্ট দেওয়ার জন্য নয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা আগের একটি মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা পেপার্সে একের পর এক ‘প্রাণনাশের’ হুমকি

২ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা পেপারস

ডিজিটাল মিডিয়া ‘ঢাকা পেপার্স’-এর প্রকাশিত দুটি কনটেন্টের কমেন্ট বক্সে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর দুই দিন পর, আজ শুক্রবার, প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র প্রডিউসার মো. রাজেকুজ জামান জুয়েলের ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

ডিজিটাল মিডিয়া ‘ঢাকা পেপার্স’-এর প্রকাশিত দুটি কনটেন্টের কমেন্ট বক্সে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর দুই দিন পর, আজ শুক্রবার, প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র প্রডিউসার মো. রাজেকুজ জামান জুয়েলের ফেসবুক মেসেঞ্জারে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রথম ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা পেপার্সের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দুটি এক্সপ্লেনারের কমেন্ট বক্সে মো. বাবু খান (www.facebook.com/Facebookmdbabukhan) নামের একটি আইডি থেকে একই ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানিয়ে ঢাকা পেপার্স কর্তৃপক্ষ আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) গুলশান থানায় জিডি করেছে।

রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় ডেইলি স্টার প্রতিনিধিসহ আহত ১০

৪ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, আজ রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে এবং এ ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও রাজশাহী ইউনিভার্সিটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নূর আহসান মৃদুল, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম, বিডিনিউজ২৪ ডটকমের আরিফুজ্জামান কোরবান এবং সমকালের মাইনুল ইসলাম রাজু। তাদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

‘জয় বাংলা’ স্লোগান: সিপিবির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা, কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে স্লোগান

২৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ধানমন্ডিতে মানববন্ধন করতে গিয়ে আটক ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলের মুক্তির পর বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতা-কর্মীরা। রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় এই মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে সিপিবি নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী পরিচয় দিয়ে এই হামলা করা হয়েছে বলে সিপিবি নেতারা জানিয়েছেন।

সোমবার রাত ১০টার দিকে এই হামলা শুরু হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টা হামলাকারীরা পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা সিপিবির দুজন নেতা-কর্মীকে মারধরও করেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। পাশেই সিপিবির কয়েকজন নেতা–কর্মী অবস্থান করছেন।

‘বিএনপিকে ভোট দিয়া ভুক্তভোগী’ বলা নারীকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

২৬ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের উত্তেজনার মুখে আটক নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে বিকাল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান।

মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনও ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য তাকে গ্রেফতার করতে পারে পুলিশ। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়।’

রাজনীতি ও সংস্কার

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ দিয়ে কী বার্তা দিচ্ছে সরকার

২৭ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের। এর আগে কখনোই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনে একসঙ্গে এত রাজনীতিবিদকে নিয়োগ দিতে দেখা যায়নি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। তবে এত দিন ধরে এসব পদে আমলা নিয়োগ প্রচলিত একটা ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় এমন নিয়োগ হলেও তা ছিল সীমিত পরিসরে।

জনপ্রশাসনবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনীতিবিদদের নিয়োগের সুফল আগে পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, নতুন নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা নিজ নিজ পদে কেমন ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি আইনে এমন নিয়োগের অবারিত সুযোগের অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

বিএনপি করা আমলাকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ

২৮ জুলাই ২০২৬, সমকাল

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব মো. সামসুল আলম ২০১৮ সালের মার্চে চাকরি থেকে অবসরে যান। পরে তিনি বিএনপির কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। গত বছর গঠিত বিএনপির আসন পুনবির্ন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ জুলাই তাঁকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। 

একই দিন ১১টি কোম্পানি, করপোরেশন এবং সরকারি সংস্থায় বিএনপির পদধারী নেতাদের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে আমলাদের নিয়োগ করা হতো। সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগের নজির রয়েছে। বিএনপির আগের আমলগুলোতে অবশ্য দু-একজন নেতাকে নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী এসব কোম্পানি, করপোরেশন এবং সংস্থায় সরকার যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে বাধা নেই।

তবে সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসিতে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার নজির নেই। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি এই নিয়োগকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। 

জামায়াতের এমপি ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ান, পরে বাসভবনে এলাকাবাসীর হামলা

২৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

রাস্তা নিয়ে যশোর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে বিরোধে জড়ানোর পর এলাকাবাসী তাঁদের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও এমপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ফেসবুক লাইভে এসে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পাশাপাশি ক্ষমা চেয়ে মিলেমিশে থাকতে চেয়েছেন।

গোলাম রসুল যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির। তাঁর বাসভবন যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায়।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত গোলাম রসুল বাড়ি থেকে বের হননি। স্থানীয় কিছু লোকজন তাঁর বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। এমপির মেয়ে অনন্যা গতকাল সোমবার মাদ্রাসার কয়েক শিক্ষার্থীকে ভয়–ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়।

হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলা, অবরুদ্ধ সারজিস আলম

২৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা এ হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা।

পরে পুলিশ গিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাইরে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের হামলার মুখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

২৯ জুলাই ২০২৬, জাগো নিউজ

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আত্মগোপনে বলে জানা গেছে।

গুমের তদন্ত করবে পুলিশ, বাদ যাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

২৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডই বহাল রেখেছে বিএনপি সরকার। এ–সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত আইনে সেই দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ না নিলে ভুক্তভোগীর পক্ষে যে কেউ এখতিয়ারভুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত হয়ে নালিশি মামলা করতে পারবেন।

আইনের খসড়াটি অংশীজনদের মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সবার মতামত নিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামীকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই আইনের খসড়া নিয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত আইনটি তোলা হবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এটি পাস হতে পারে।

এবার পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির নেতারা, কর্মসূচি পণ্ড

৩০ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জ জেলায় গতকাল বুধবারও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল। আগের দিন মঙ্গলবার এনসিপির দুই কেন্দ্রীয় নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষমতাসীন বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং এক নেতাকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে ডাকা গতকালের বিক্ষোভ কার্যত পণ্ড হয়েছে। হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চাইলেও এনসিপির নেতা–কর্মীরা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।

গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। সোয়া পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের বাহুবলে ঢোকার পর তাঁরা আবারও পুলিশি বাধার মুখে পড়েন।

এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা তখন সড়কে অবস্থান নেন।

গুম আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

০৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে গুম করার অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপের বিধান এতে যুক্ত করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ভাড়া করা ব্যক্তিকে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যা, জামায়াত নেতা কারাগারে

০৪ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা ট্রিবিউন অনলাইন বাংলা 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে হত্যা মামলায় আবু বকর ছিদ্দিক নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ভাড়া করা ব্যক্তিকে দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।

সোমবার (৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আবু বকর ছিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হবিগঞ্জে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় জামায়াত নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত

০৬ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নুরুল ইসলামকে (সজল) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের এক জরুরি সাংগঠনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নুরুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির ইদ্রিস আলী বলেন, ‘নুরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

৯ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, জামায়াতের রুকন বহিষ্কার

০৩ আগস্ট ২০২৬, ইত্তেফাক

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়ন মামলায় গ্রেপ্তার জামায়াতে ইসলামীর এক রুকনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার নাম ওমর ফারুক (৩৫), বাড়ি উপজেলার পাকারমাথা গ্রামে।

শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ওমর ফারুক এখন কারাগারে। তিনি পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুকন ছিলেন। তার ভাই আবু বকর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ২ বছর: রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের কাজ এগোয়নি

০৮ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রশ্নে দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রস্তাব তৈরি ও গণভোট হলেও এখন পর্যন্ত মৌলিক কাঠামোগত কোনো সংস্কার হয়নি। সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার। এটিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেগুলো হলো—সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কমিশনগুলো বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সুপারিশ তৈরি করে। সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। প্রথমে গঠন করা ছয়টি কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে এ কমিশন প্রায় আট মাসে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে। সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রাখা হয়, যার মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ওই ছয়টির বাইরে পরে আরও তিনটি কমিশন (শ্রম, নারী ও গণমাধ্যমবিষয়ক) গঠন করা হয়েছিল। সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আইনি বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়। এ জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় করা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

সাংবিধানিক সংস্কার

জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান–সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।

এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে।

এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা প্রায় সব কটি অধ্যাদেশ বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ অনুমোদন করেছে। অনেকগুলো বিধিবিধানও সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার। সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়গুলোতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন–সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি

বাস্তবায়ন আদেশে শপথ নেওয়ার এক মাসের মধ্যে ওই পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার করার কথা বলা ছিল ওই আদেশে।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার

১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ে ১১০টি অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে কিছু সংশোধিত আকারে অনুমোদন করা হয়। ফলে এগুলো আইনে রূপান্তরিত হয়। আর ৭টি অধ্যাদেশ রহিত করা হয় এবং ১৬টি সংসদে বিল আকারে আনা হয়নি। ফলে এগুলো কার্যকারিতা হারায়। এই অধ্যাদেশগুলো মূলত বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পর্কিত ছিল।

অনুমোদন না পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করা, গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশ কমিশন ছিল।

গত এপ্রিলে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে এগুলো আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনা হবে। অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো বিল সংসদে আনা হয়নি।

যেখানে অগ্রগতি

যেসব অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদ অনুমোদন করেছে সেগুলোর মধ্যে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন অধ্যাদেশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, জাতির পিতার পরিবার–সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনাল) (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)।

এর মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশে কোনো নিদিষ্ট সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল–মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে, তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধনী এনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলের বিচার করার বিধান যোগ করা হয়। আরেকটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেশ কিছু অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়, যেগুলো ছিল মূলত নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত।

কিছু অধ্যাদেশ বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংশোধিত আকারে পাস করা হয়েছিল। যেমন ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের সংশোধনী। এখানে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ তৈরি করা হয়। অবশ্য সমালোচনার মুখে আইন থেকে এই বিধান বাদ দেওয়ার কথা বলছে সরকার।

মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে মারামারি: তিন জামায়াত নেতা কারাগারে

০৯ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মারামারির মামলায় তিন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

তারা হলেন- উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ফজলুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল মজিদ।

রোববার আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে মামলার ধার্য তারিখে হাজিরা দিতে আসেন তিনজন। তারা জামিন আবেদন করেন। বিচারক আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উপজেলার কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। সেখানকার মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হামলার সময় হাতবোমা বিস্ফোরণ, ব্যাংকের তালা ভেঙে টাকা লুট, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরও করা হয় অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াত সামলাতে হেফাজতকে কাছে টানার কৌশল বিএনপির

০৯ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

বিগত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছিল হেফাজতে ইসলাম। এমনকি প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম বলেও জানিয়েছিলেন সংগঠনটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। জামায়াত ইস্যুতে হেফাজতের এই অবস্থান বিএনপির জন্য নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। নির্বাচনের পরও জামায়াতবিরোধী অবস্থান ধরে রেখেছে হেফাজত।

এমনকি হেফাজতে থেকেও নির্বাচনে জামায়াত জোটে যাওয়া খেলাফতে মজলিস নেতা মামুনুল হকসহ অনেক সিনিয়র নেতাকে সংগঠনে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। এটি বিএনপি-হেফাজতকে আরও কাছাকাছি এনেছে। নানা ইস্যুতে জামায়াত জোট যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন হেফাজতকে আরও কাছে টানছে বিএনপি। এটিকে অবশ্য জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দাবি

০৯ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ইসলাম ‘অবমাননা’ রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস এবং কোরআন সুন্নাহর সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ কোনো আইন না করাসহ ৯ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে ৯ দফা দাবি সম্বলিত ওই চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়।

সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে এদিন মাদ্রাসায় সংবর্ধনা ও মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামবাদী ৯ দফা দাবির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে জানান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৯ দফা দাবি জানিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমরা ইসলামের পক্ষে।’ হেফাজতে ইসলামের আমির উনাকে দোয়া করেছেন।”

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজিদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “আপনার (প্রধানমন্ত্রী) ফটিকছড়ি সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়; এটি দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের এক অনন্য স্মারক।”

৯ দফা দাবি

প্রধানমন্ত্রীকে ‘জননেতা’ সম্বোধন করে চিঠিতে যে ৯ দফা দাবি জানানো হয় তার মধ্যে প্রথম দাবিটি হল, “মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।”

পাশাপাশি কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার দাবিটি দুই নম্বরে রাখা হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ‘রাতের আঁধারে নৃশংস গণহত্যায়’ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তৃতীয় দাবিতে ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের ‘নারকীয় হত্যাযজ্ঞে’ জড়িত, হুকুমের আসামি ও ‘খুনিদের’ বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘ন্যায়বিচার কায়েম করার’ দাবি জানানো হয়েছে।

দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে ৪ নম্বরে। তা করা হলে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে হেফাজতে ইসলাম।

পাশাপাশি সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির কথা রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ‘ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

আলেমদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ‘মিথ্যা’ মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এদেশের আলেম-ওলামাদের ‘রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার’ করার দাবি রয়েছে আট নম্বরে।

সবশেষ দফায় ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি এবং টঙ্গী ময়দানের বিশ্ব ইজতেমায় তার অনুসারীদের অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল এক পাশ, অন্য পাশ মলিন

১০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক। সড়কের মাঝখানে থাকা ডিভাইডারের এক পাশ রং লাগিয়ে রঙিন করা হয়েছে। তবে অন্য পাশ রয়েছে মলিন। গতকাল রোববার এমনই একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গতকাল চট্টগ্রাম সফরে এসে হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে সেখান থেকে সড়কপথে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িসংলগ্ন হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে এস সভায় যোগ দেন তিনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সড়কের যে পাশ দিয়ে গেছেন কেবল সেই পাশটিতেই সড়ক পরিচ্ছন্ন করা এবং ডিভাইডারে রং লাগানোর ব্যবস্থা করে সড়ক বিভাগ। অন্য পাশটিতে রং করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আজ সকাল থেকে সড়কের ডিভাইডারটির অপর পাশ রঙিন করার কাজ শুরু হয়েছে।

কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক

১০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

নবগঠিত কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে (ওয়াসিম) তিন বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

এর আগে গত ১১ জুন নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) চেয়ারম্যান হিসেবে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারীকে (আবু) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

গত ১৪ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মোল্লাকে (টিপু)। কাছাকাছি সময়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া।

ক্ষমতাসীন দলের আপত্তিতে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হচ্ছে মাঠ প্রশাসন

১৩ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

সরকারের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণার পর পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টদের অগ্রাধিকার দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও বিক্ষোভ মিছিল, কোথাও ঝাড়ু ও জুতা মিছিল, আবার কোথাও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাংচুর ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একের পর এক উপজেলায় স্থগিত করা হয়েছে ফলাফল।

সবশেষ গতকাল নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভের সময় ইউএনও কার্যালয়ের দরজা-জানালা ভাংচুর এবং এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। একই জেলার লালপুরে ইউএনওর কক্ষের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় আরো দুই সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান।

সরকারি সংস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, নাকি নেতাদের পুনর্বাসন

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল বারী। তবে মনোনয়ন তিনি পাননি। বিএনপি সরকার তাঁকে গত মাসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছে।

দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদককে নৌপরিবহনের দায়িত্বে থাকা একটি সংস্থার প্রধান পদে বসানোয় প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার কি দলের মনোনয়নবঞ্চিত অথবা পদবঞ্চিত নেতাদের সরকারি সংস্থাগুলোয় পুনর্বাসন করছে?

শুধু বিআইডব্লিউটিসি নয়, অন্তত ১১টি সরকারি সংস্থার প্রধান পদে বসানো হয়েছে দলের নেতাদের। এর বাইরে ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে।

জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদেরাই চেয়ারম্যান অথবা মেয়র পদে আসেন। কিন্তু সরকারি সংস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ হয় না। সরকারই নিয়োগ দেয়।

দলের ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদককে নৌপরিবহনের দায়িত্বে থাকা একটি সংস্থার প্রধান পদে বসানোয় প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার কি দলের মনোনয়নবঞ্চিত অথবা পদবঞ্চিত নেতাদের সরকারি সংস্থাগুলোয় পুনর্বাসন করছে?

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় এমন নিয়োগ হয়েছে, তবে তা ছিল সীমিত পরিসরে।

বিএনপি সরকারের সময় এবার সরকারি সংস্থায় রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়া বাড়ল।

দলের পদ না ছেড়েই তাঁরা সরকারি সংস্থায়

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো 

বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করেছে সরকার। গত ২৩ জুলাই দেওয়া এ নিয়োগ এক বছরের জন্য।

অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-২) পদমর্যাদায় এ নিয়োগের শর্ত ছিল, অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক থাকলে তা পরিত্যাগ করতে হবে।

বুলবুল বনশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের পদ ছাড়েননি। অর্থাৎ সরকারি নিয়োগে ‘সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের’ যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা তিনি মানেননি।

সরকার গত জুন ও জুলাইয়ে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশন এবং ৮টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনের বর্তমান ও সাবেক ১৭ নেতাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের নেতাদের কেউ এখনো দলীয় পদ ছাড়েননি।

সাবেক বিচারপতিকে দুদক চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন

১৯ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদ সাড়ে পাঁচ মাস খালি থাকার পর সেখানে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার। গত সোমবার রাতে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। কমিশনার হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান পদে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধানবিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, এই নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কারণ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রাষ্ট্রের লাভজনক পদে নিয়োগে সাংবিধানিক বিধিনিষেধ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সংবিধানবিশেষজ্ঞ রিদওয়ানুল হক গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লঙ্ঘন’ শিরোনামে তিনি লিখেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া একটি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। কারণ, এটি সরাসরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘কয়েক বছর আগের অনুরূপ একটি নিয়োগ সম্পর্কে আমার জানা আছে। বর্তমান সরকার স্পষ্টতই গণতন্ত্রের বিপরীত পথে রয়েছে…।’

মন্ত্রিসভা আকারে তৃতীয় বৃহত্তম, উপদেষ্টার সংখ্যা সর্বোচ্চ

২২ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হলো। যুক্ত হলেন চারজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার তারা শপথ গ্রহণ করার পর মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা। 

অবশ্য এই ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৫৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২ জন। অতীতে কোনো সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এত উপদেষ্টা ছিলেন না। 

সর্বোচ্চ ৬১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায়। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পান ৬০ জন। সরকারপ্রধানের উপদেষ্টা ছিলেন চারজন। 

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে কয়েকবার বলেছিল ছোট আকারের কার্যকর সরকার গঠন করবে। এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিত্বের স্বাদ দিয়েছে ৫৬ জনকে। সরকার যত ছোট হবে, কাজ তত ভালো। অতীতে যখনই বড় আকারের সরকার ছিল, বিশৃঙ্খলা তত বেশি ছিল।  

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন

২৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে গত শুক্রবার শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে হুমায়ুন কবির পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। সেখানে তিনি বেড়ে ওঠেন, নেন উচ্চশিক্ষা। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বও নেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, হুমায়ুন কবির বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির ২৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ পাসপোর্ট (সবুজ) জমা দেন। তিনি সে মাসেই সরকারি বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট (লাল) নেন। তিনি ওই মাসে লাল পাসপোর্ট প্রথম ব্যবহার করে সৌদি আরব যান। গত ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভারত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, ফিলিপাইনসহ অন্তত ১১ বার বিদেশ সফর করেছেন সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে।

গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিয়ে শঙ্কা

৩০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

বাগেরহাটের মোংলার মিরাজ শেখের কোনো খোঁজ নেই। তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যার পর কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও কোস্টগার্ড শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ঘটনার পর পরিবারের সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সংবাদ সম্মেলন, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন—কোনোটিতেই মিরাজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর বাবা উচ্চ আদালতেও গেছেন। গত ১২ জুলাই হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিরাজকে খুঁজে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। ২৪ আগস্টও পরিবার জানিয়েছে, সাড়ে চার মাস ধরে তাঁর অবস্থান অজানা।

২৫ আগস্ট সচিবালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠককালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

গুমের অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা স্বাধীন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার দাবি থাকলেও সংসদে উত্থাপিত বিলে তা নেই।

এমন পরিস্থিতিতে মিরাজ শেখের পরিণতি কী হয়েছে, তা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এই ঘটনা আবার সামনে এনেছে পুরোনো প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে তদন্ত করবে কে? সংসদে নতুন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ ঘিরে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের করা ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে গুমের অভিযোগের তদন্তের নিয়ন্ত্রণ ছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে। কোথাও গোপন আটককেন্দ্র বা বন্দিশালা আছে সন্দেহ হলে কমিশন সেখানে যেতে পারত। কোনো ব্যক্তি গুম হলে তাঁকে পাওয়া বা তাঁর পরিণতি না জানা পর্যন্ত কমিশনের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতাও ছিল।

সংসদে বিএনপি সরকারের আনা বিলে সেই কাঠামো বদলেছে। গুমের অভিযোগের ফৌজদারি তদন্তের নিয়ন্ত্রণ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে রাখা হয়নি। তবে সংসদে উত্থাপিত বিলে নতুন একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে—কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী নিজে তদন্ত করতে পারবে না। কোনো পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বা সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলকে দায়িত্ব দেবে।

মিরাজ শেখের নিখোঁজকে ঘিরে ‘গুমের কাহিনী’ সাজানোর চেষ্টা হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৯ আগস্ট ২০২৬, ইত্তেফাক 

বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুমের কাহিনী সাজানোর চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করানো হলেও সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং মিরাজ শেখকে ঘিরে মোংলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি বিভিন্ন জলদস্যু গ্রুপের পারস্পরিক বিরোধের ফল হতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত ‘মায়ের ডাক’ কর্তৃক আয়োজিত প্রদর্শনী ও প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরাজ শেখের লোকজন নদীর তীরে একটি পন্টুন স্থাপন করেছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই পন্টুন ব্যবহার করে জলদস্যুদের জন্য সমুদ্র থেকে রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো। কোস্টগার্ড পন্টুনটি সরিয়ে দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় একপর্যায়ে কোস্টগার্ডের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় কম্পিউটার ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পন্টুন অপসারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের পাশাপাশি মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে এমন অভিযোগও সামনে আসে। তবে তার মতে, পুরো ঘটনাটি জলদস্যুদের পরস্পরবিরোধী গ্রুপগুলোর সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

মিরাজ শেখ ও তার পরিবারের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিরাজ শেখ ও তার বাবার রেকর্ডও একই ধরনের ছিল। তার বিরোধী গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের তথ্য রয়েছে।

তবে এসব বিষয় সামনে আসার পরও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্য একটি বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করানো হলেও সেখান থেকে কোনো ফাইন্ডিংস পাওয়া যায়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘এখানে তো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে না।’

মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কেউ গুমের কাহিনী তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ২০ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। তাঁরা মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন রাষ্ট্রপতি। ইতিমধ্যে শাস্তি মওকুফ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।

গত বছর রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনের ওই কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে তাঁদের বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন। কেউ কেউ আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। কেউ নিজ নিজ দপ্তর বন্ধ রেখে আন্দোলনে অংশ নেন।

সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগের সুযোগ রেখে বিল পাস, সংসদে বিতর্ক

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী—এমন অভিযোগ এনে বিলটি পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল। তবে তাদের আপত্তি নাকচ শেষে বিলটি সংসদে পাস হয়।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিকার বিল পাস 

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

বহুল আলোচিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিকার বিল আজ রোববার সংসদে পাস হয়েছে। তবে বিল দুটি পাস হওয়ার আগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। বিল দুটি উত্থাপন থেকে পাস হওয়া পর্যন্ত সবগুলো ধাপেই বাধা দিয়েছিলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ বিলের খসড়া নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আসছে।  

২৭ সেপ্টেম্বর বিল উত্থাপনের দিনেও বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে সংসদের টানেলে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র সদস্যরা আজ বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন ধারার কঠোর সমালোচনা করেন।   

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের পদবির আগে আর ‘মহামান্য’ কিংবা ‘মাননীয়’ লেখা যাবে না।

পরিপত্রে সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এর অধীনস্থ সব দপ্তরকে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরকারের কাছে কার্যত ‘সবার পরে বাংলাদেশ’

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেওয়া সরকারের কাছে কার্যত ‘সবার পরে বাংলাদেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, এই সরকারের কাছে সবার আগে সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ, সবার আগে ট্রাম্পের স্বার্থ। এ জন্য তো বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। 

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি (এমসিআরএস) আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সঙ্গে অন্য দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার তুলনা চলে না।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা রয়েছে দাবি করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ইতোমধ্যে নৌবাহিনী ও দেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এটা পরিচালনা করে পুরোপুরি জাতীয় সক্ষমতার একটা ভিত্তি দাঁড় করানো সম্ভব ছিল। সেই পথেই কোনো সরকার যায়নি।

গঠিত হচ্ছে এসআরবি, র‍্যাবের প্রায় সবই থাকছে আইনে

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার র‍্যাব বিলুপ্ত করে বিলটি সংসদে পাস হয়।

বিল পাসের আলোচনায় বিরোধী দল বলেছে, এই আইনের মধ্য দিয়ে শুধু র‍্যাবের ‘সাইনবোর্ড’ বদল হচ্ছে। এটি নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র‌্যাব সামনে আসছে এসআরবির মোড়কে।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে। র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই।

এসআরবি বিলে বলা হয়েছে—র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে রাখা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্রসহ সব দলিল এসআরবির কাছে স্থানান্তর হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামির সবাই পলাতক।

রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মালয়েশিয়া–সিঙ্গাপুর–ফিলিপাইন সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি, অনেকেই গেছেন পরিবারসহ

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য যখন আট দফা দাবিতে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত, তখন দলটির ৩৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি) রয়েছেন বিদেশ সফরে। ১৭ দিনের এই সফরে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। সব মিলিয়ে সফরকারী দলের সদস্য ৭১ জন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে বিরোধী দলের লংমার্চের মধ্যে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের বিদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে জামায়াত বলছে, এই সফর পূর্বনির্ধারিত। দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমপিদের বিদেশে নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতির কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।

খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি।

বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম এই অফিসের উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী; মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা; জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা; আর মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো 

সরকারি চাকরিতে এখনো গোয়েন্দা দিয়ে যাচাই, প্রাথমিকে অনেকের নিয়োগ আটকে  

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের চাকরির পরীক্ষায় ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিরোজপুরের মো. জাহিদ হাসান। জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনের মধ্যে জাহিদের মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশও পেয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য অন্য অনেকে নিয়োগপত্র পেলেও জাহিদ পাননি। তাঁর সন্দেহ, যাচাই বা ভেরিফিকেশনের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদের কোটাও ছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরটি শোনার পর মা কাঁদতে শুরু করেন। বাবা ভেঙে পড়েছেন।

শুধু জাহিদ নন, তাঁর মতো শত শত চাকরিপ্রার্থীকে যাচাইয়ের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সূত্র বলছে, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাইয়ের কাজটি করানো হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চা বলছে, তারা ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলার নিয়োগ হওয়ার তথ্য পেয়েছে। বাদ পড়ার সংখ্যা ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি।

‘এলাকার মানুষের চাইতে দলের লোককে প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে’

৬ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

‘আপনারা একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না। দল আমাদেরকে নিয়ে এই চেয়ারে বসিয়েছে। এই এলাকার মানুষ আমাদেরকে চায় না।… সেই জন্য আমরা এলাকার মানুষের চাইতে দলের (লোককে) প্রাধান্য বেশি দেব, যেহেতু দল আমাকে বসিয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামানের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হন মো. শরীফুজ্জামান। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানকে হারিয়ে জয়ী হন জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওতে শরীফুজ্জামানকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমার দলের নেতা–কর্মীর বাইরে কোনো অনুদান জেলা পরিষদ থেকে যাবে না। এই ইউনিয়নে যেকোনো জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারি অথবা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি–সেক্রেটারির রিকমেন্ড (সুপারিশ) ছাড়া একটি অনুদানও মিলবে না।’

উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করলেন বিএনপি নেতারা

০৭ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা উপাচার্য অফিসে গিয়ে তাদের লিখে নেওয়া পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেন। পরে তাঁকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। উপাচার্যকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগ করানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ লেখা ব্যানার নিয়ে বিএনপি ও কৃষক দলের ৪০-৫০ নেতাকর্মী মিছিল করে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম। তাঁর সঙ্গে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ। দরজায় ধাক্কা দিয়ে তারা উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। উপাচার্যের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ান আব্দুস সালাম ও হারুনুর রশীদ। এ সময় সাগর নামে এক বিএনপিকর্মী আগে থেকে লেখা পদত্যাগপত্র এনে হারুনুর রশীদের হাতে দেন। হারুন ও সালাম উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।

জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে খলিলুরের স্বার্থের সংঘাত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

১১ অক্টোবর ২০২৬, নেত্র নিউজ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য। আর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তার দপ্তর আবার তারই আরেক নিয়োগকর্তা প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়োগ দিয়েছে।

নেত্র নিউজের অনুরোধে আইন কর্মকর্তা হিসেবে জাইমা রহমানের নিয়োগ মূল্যায়ন করে দুর্নীতিবিরোধী দুই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এতে আপাতদৃষ্টিতে স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। উভয়েই বলেছেন, এই নিয়োগে সাধারণ পরিষদের সভাপতির জন্য প্রযোজ্য নৈতিক আচরণবিধি দৃশ্যত লঙ্ঘিত হয়েছে।

“এটি নৈতিক আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের একটি সম্ভাব্য উদাহরণ বলেই মনে হচ্ছে,” নেত্র নিউজকে বলেন সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনব্যবস্থা ও শুদ্ধাচারবিষয়ক অধ্যাপক এলিজাবেথ ডেভিড-ব্যারেট।

কিন্তু নেত্র নিউজের প্রশ্নের জবাবে সভাপতির দপ্তর নিয়োগটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, এতে জাতিসংঘের নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছে। জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার বিষয়টি নিরূপণ করেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মুখপাত্রের ভাষ্য, খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগেই জাইমা রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে জাইমাকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সভাপতির কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা স্পষ্ট করতে দপ্তরটি রাজি হয়নি।

“সভাপতির … জাতিসংঘ সচিবালয়ের কোনো কর্মীকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই,” বলেন তার মুখপাত্র মেলিসা সামার্স। তিনি উল্লেখ করেন, খলিলুর রহমান ৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার তিন সপ্তাহ আগেই ১৫ জুলাই জাইমা রহমান নিয়োগ পান।

কিন্তু তত দিনে খলিলুর রহমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ না করলেও, ওই পদে নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন। জাইমা রহমানের নিয়োগের ছয় সপ্তাহ আগে, ২ জুন তিনি নির্বাচিত হন। আর জাতিসংঘের নথিতে বর্ণনা রয়েছে, নবনির্বাচিত সভাপতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নিজেদের দপ্তরের কর্মীদল গঠন করে থাকেন।

জাইমা রহমানকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খলিলুর রহমানের কোনো ভূমিকা ছিল না — মুখপাত্র এটিই বুঝিয়েছিলেন কিনা, সেই বিষয়ে পরবর্তীকালে প্রশ্ন করা হলে সামার্স বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। তিনি জবাব দেন: “আমার এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।”

এক বছরের চুক্তিভিত্তিক পদটির অর্থায়ন হয় জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট থেকে। এই পদে প্রারম্ভিক বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার—প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের দেন; ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক’

১৬ অক্টোবর ২০২৬, ইত্তেফাক

সারের ডিলারশিপ না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ ঝেড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আলোচনায় এসেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ফেরদৌস সজীব। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেন, ‘সারের ডিলারশিপ না দেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন। ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক’। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দেন সজীব, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে এ মন্তব্য করেছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন সজীব।

জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর

১৪ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লার মোগলটুলি এলাকার ফারুকিয়া হাউজিংয়ে দলটির মহানগরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং সেখানে রাখা মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

পিস্তল হাতে ‘মাদকবিরোধী’ অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

১৭ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আজ শনিবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই অভিযানের একটি ভিডিও আপলোড করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিকমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে আকস্মিক অভিযানে যান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে বলেন, ‘এই ধর ধর ধর…।’  পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ প্রতিমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তখন দৌঁড়ে কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করেন। একজনকে লাথি মারেন এক দেহরক্ষী।

পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

১৯ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কোনো ভুল করেননি। তবে তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের কার্যক্রম যেন ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

মধ্যরাতে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফন করলেন মেয়ে ও বোনেরা

২৫ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা ও উত্তেজনার ঘটনার পর গভীর রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাত ২টার পর পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতালিয়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করেন তার পরিবারের সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন গ্রাম পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ফোনের আলোয় আবার কবর খুঁড়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন।

মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মেয়ে সুমি বেগম জানান, শনিবার দুপুরে তার বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। তবে বিকেলে কয়েকজন এসে সেখানে দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে কবরটি ভরাট করে দেন। পরে রাতে দাফনের ব্যবস্থা করা হলে তারা নিজেরাই কবর খুঁড়ে বাবাকে দাফন করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন গ্রাম পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের কেউ দাফনে অংশ নেননি বলে জানান তিনি।

জামায়াতের জেলা নেতৃত্বে বছরের পর বছর একই মুখ

২৫ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আমির সৈয়দ মো. আবদুল মোমেন। ১৯৯৮ সাল থেকে টানা প্রায় ২৮ বছর ধরে তিনি জেলা জামায়াতের আমিরের পদে আছেন। সারা দেশে জেলা ও মহানগর মিলে জামায়াতের ৭৯টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩টি ইউনিটের খোঁজ নিয়েছে প্রথম আলো। খাগড়াছড়ির মতো অনেক সাংগঠনিক ইউনিটে বছরের পর বছর শীর্ষ নেতা হিসেবে একই ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াত নেতা ও প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে, একনাগাড়ে ১০ বছর বা এরও বেশি সময় ধরে আমির পদে কোনো পরিবর্তন নেই, এমন ইউনিটের সংখ্যা ১৯। ৫ থেকে ৯ বছর পর্যন্ত আমির পদে আছেন আরও ১১টি ইউনিটে। একটি জেলায় বিরতি দিয়ে ২২ বছর আমির পদ সামলাচ্ছেন এক নেতা।

১৪ অক্টোবর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির হিসেবে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ২৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের পর ১৬ অক্টোবর তাঁকে আমির পদ থেকে অব্যাহতি এবং কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু-প্রান্তিক জনগোষ্ঠি

পড়াশোনায় ক্ষতির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাধা, লাঠিচার্জে আহত ২০

১৯ আগস্ট ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বাধা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় জেলা পুলিশ লাইন্সে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।

তিনবার বন্ধ হওয়া নারী বাস ফের চালু

১৯ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

যাত্রী সংকট ও অব্যবস্থাপনায় অতীতে তিনবার চালুর পর বন্ধ হলেও আবার নামছে নারীদের জন্য বিশেষ বাসসেবা। রাজধানীর ১০টি রুটে আজ বুধবার থেকে চলবে গোলাপি বাস। বগুড়ার দুটি এবং চট্টগ্রামের একটি রুটেও এই সেবা দেওয়া হবে। এসব বাসে নারীচালক এবং সহকারীরা দায়িত্ব পালন করবেন। 

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিপো থেকে সংস্থাটির ‘পিংক বাস সার্ভিস’ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। 

১৯৯৮ সালে বিআরটিসি প্রথমবারের মতো নারী বাস সার্ভিস চালু করে। ২০০১ সালে এই সেবা ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। এরপর প্রায় বন্ধ হয়ে যায় সেবাটি। ২০০৯ সালে আবার এই সেবা পুনরুজ্জীবিত করা হয়। তা ফের বন্ধ হয় ২০১৫ সালে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বিআরটিসির পাশাপাশি পরিবহন সংস্থা র‍্যাংগস ‘দোলনচাঁপা’ নামে নারী বাস সেবা শুরু করে। ২০২২ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। 

চার বছর পর আবার নারী বাস সেবা চালু হচ্ছে ১৪টি বাস দিয়ে। নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত এই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে গোলাপি পোশাক। 

‘আপত্তি’ ওঠার পর কিশোরগঞ্জে কনসার্ট স্থগিত

১৯ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

আজ বুধবার কিশোরগঞ্জের পুরোনো স্টেডিয়ামে কয়েকটি ব্যান্ডের কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। কনসার্টটি বিকেলে হওয়ার কথা ছিল।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় আলিশান রেস্তোরাঁর আয়োজনে কনসার্টটি হচ্ছিল, আমরা তাদের ডেকেছিলাম। তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, হোটেল নিবন্ধন আইন অনুযায়ী তারা কোনো আবেদন করেনি, হোটেলের লাইসেন্সও নেয়নি। যে প্রতিষ্ঠান বৈধ না বা অনিবন্ধিত, তাদের কোনো কাজে সম্মতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলে দিয়েছি, আপনাদের যেহেতু নিবন্ধন নেই, তাই আপনারা যেসব বিষয়ে অনুমতি চেয়েছেন, সেসব দেওয়া গেল না।’

এর আগে গতকাল কনসার্টটি বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল ‘ইমাম-উলামা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ সদর শাখা’। সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা আহমাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে পুরোনো স্টেডিয়ামে কনসার্ট আয়োজন বন্ধের দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি দেওয়া হয় পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদর থানায়।

বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ বন্ধ করার দাবি ‘তৌহিদী জনতার’

২২ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’। তবে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় আয়োজকরাও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে চলছে কথার লড়াই। 

জানা গেছে, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অতীতে এ প্রতিযোগিতা নিয়ে আয়োজকরা কোনো বাধার মুখে পড়েননি। কিন্তু এবার তৌহিদী জনতার ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা-সিনেমা নিষিদ্ধের মতো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২২ আগস্ট ২০২৬, ইত্তেফাক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটা এরকম যে গান-বাজনা-সিনেমা বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে নিষিদ্ধের মতো আরকি। ওখানকার পরিস্থিতি আলাদা।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢামেকের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে মধ্যরাতে উচ্চ স্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটা এরকম যে গান-বাজনা-সিনেমা বহু বছর ধরে তাদের মধ্যে নিষিদ্ধের মতো আরকি। ওখানকার পরিস্থিতি আলাদা। পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার সেটা নিয়েছি।

সাভারে ওরস বন্ধের দাবি জানালো ’তৌহিদি জনতা’

২৪ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনলাইন

ঢাকার সাভারে সুরেশ্বর পীরের অনুসারী কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আগামী ২৬-২৭ আগস্ট আয়োজিত ওরস শরীফ বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় বিক্ষোভ হয়েছে। তৌহিদি জনতার পক্ষে এসব কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর নেতারা।

ওরসে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রশাসন, সাভার থানাসহ কয়েকটি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

রবিবার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ (স্মারকলিপি) দেন তারা।

স্মারকলিপিতে তৌহিদি জনতার পক্ষে ১০ জন ব্যক্তি ওরস বন্ধের দাবি জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে তিনজন হেফাজতে ইসলামের নেতা, দুজন বিএনপির নেতা, একজন যুবদলের নেতা, একজন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতা, একজন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা, একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং একজন এলাকার পীর (ধর্মীয় নেতা) রয়েছেন।

‘সুইপার পরিচয় দিলে বাসা ভাড়া দেয় না কেউ, উচ্ছেদ করলে যাবো কোথায়?’

২৭ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার বাংলা অনলাইন

‘আমরা অন্য কোথাও বাসা ভাড়া নিতে গেলে যখন জানে আমরা সুইপার, তখন বাসা ভাড়া দিতে চায় না। টু-লেট থাকলেও পরিচয় জানার পর বলে, বাসা ভাড়া হয়ে গেছে। আমরা কি অভিশাপ? আমাদের চার পুরুষ প্রায় ২০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করে আসছে। আমাদের এখন কেনো উচ্ছেদ করা হচ্ছে আমরা সুইপার বলে?’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকা যতি আক্তার। আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির ১নং মিনিয়ালস কোয়ার্টারে বসবাসরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাস্থল উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মানববন্ধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

যতি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এ দেশে এসে থাকার জায়গা পায়, কিন্তু হরিজনরা কেন থাকার জায়গা পাবে না? আমরা তো এ দেশের নাগরিক। আমরা এ দেশের সন্তান। আমাদেরও তো থাকার অধিকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘ভোট চাওয়ার সময় তো কেউ বলে না আমরা সুইপার। তখন আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেন, বুকে টেনে নেন। এখন কেন আমাদের সুইপার বলে উচ্ছেদ করা হচ্ছে?’

‘এত বছর ধরে আপনাদের জন্য পরিষ্কারের কাজ করছি। এই যে এত সুন্দর পরিষ্কার পরিবেশে আপনারা আছেন, কাদের জন্য আছেন? আমাদের জন্যই আছেন। আমরা যদি একদিন কাজ বন্ধ করে দিই, তাহলে আমাদের মর্ম বুঝতে পারবেন’, বলেন তিনি।

মানববন্ধনে হরিজন সম্প্রদায়ের পরেশ মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে যে জনগোষ্ঠী সেখানে বসবাস করে আসছে, উন্নয়নের অজুহাতে তাদের উচ্ছেদ করা প্রয়োজন কেন?

তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ড হাসপাতাল ১৮৫৮ সালের ১ মে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই হরিজনরা এখানে বসবাস করে আসছে। প্রায় ২০০ বছর ধরে আমাদের চার প্রজন্ম এখানে বসবাস করছে। অথচ এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের জন্য এক নম্বর মিনি কোয়ার্টার ভেঙে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়।’

ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেলেন চিন্ময়ের মা

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, কালবেলা 

কারাগারে থাকা ছেলে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও কারাবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা ছিল মা সন্ধ্যা রাণী ধরের। অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে দেখতে প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করা হয়েছিল; কিন্তু সেই সুযোগ আর পেলেন না তিনি। ছেলেকে দেখার তৃষ্ণা নিয়েই মারা গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন্ধ্যা রাণী ধর। মৃত্যুর আগে গত মঙ্গলবার নিজেই এই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও দীর্ঘদিন এই আশ্রমে থাকতেন।

এর আগে অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ক্যানসার শনাক্ত হয়। তবে হাসপাতালে থাকতে চাইছিলেন না সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের আশ্রমেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার।

মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ভাই অঞ্জন কুমার ধর কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালবেলাকে বলেন, ‘আমার মা নেই। জীবিত থাকা অবস্থায় আমার ভাই নিজের মাকে একটু দেখতেও পারল না।’

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি শিক্ষার্থীদের

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে কনসার্ট বন্ধের দাবি জানায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

মাদরাসা শিক্ষার্থীরা পরদিন (১৯ আগস্ট) তাদের পরীক্ষা রয়েছে এবং উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যেবোধের এক সমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি।’

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হাতে পারে, তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়- এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

এ ছাড়া, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেছেনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতোই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিষয়ে কথাটা বলেছিলেন, ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল; ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল এই কনসার্টের কারণেই। এক মাসও যায়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা এমন হয়ে গেল না, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিচ্ছে? তারা তো এগুলো দেখেছে, তারপরও কীভাবে এগুলো করে?’

অশ্লীলতার’ অভিযোগ এনে আপত্তি, দিরাইয়ে বন্ধ হলো মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

০৬ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে পূর্ব-নির্ধারিত মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

খেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে আয়োজক ও প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। 

দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর ও মন্দিরে হামলার ৩৪ ঘটনা: পূজা উদযাপন পরিষদ

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

এসব ঘটনায় করা ১১টি মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পরিষদ।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এসব তথ্য জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুই দিনের ‘গরুভোজ’ নিয়ে প্রশ্ন

১৮ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ‘গরুভোজের’ আয়োজন করা হয়েছে। এবার আয়োজক বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভবন ও গণিত বিভাগের মধ্যবর্তী সড়কে গরু জবাই করা হয়েছে। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হয়েছে। রাতে ক্যাম্পাসে কাওয়ালি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেছে এই ছাত্রসংগঠনটি।

তবে এভাবে পর পর দুই দিন ঘটা করে ‘গরুভোজের’ আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময় আয়োজনটি করা হয়েছে।

লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার

১৯ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি থেকে একটি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ সোমবার ভোররাত ২টার দিকে মাজারে প্রবেশের পথে পানির ট্যাংকের পাশ থেকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করছেন।

তিনি জানান, রাত ২টার দিকে বোমাটি উদ্ধারের পর সকাল ৮টার দিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

সুনামগঞ্জে আপত্তি উপেক্ষা করেই বসলো বাউল গানের আসর, গাইলেন নারী শিল্পীরাও

২৩ অক্টোবর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর আপত্তি ও অভিযোগ উপেক্ষা করেই বাউল গানের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এতে একাধিক নারী শিল্পীও সংগীত পরিবেশন করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে শওকত আলী নামে এক যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর উদ্যোগে তার বাড়ির আঙিনায় এ গানের আসর বসে।

যদিও নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণে গানের অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়ে ‘এলাকাবাসীর পক্ষে’ থানায় লিখিত আবেদন করেছিলেন ওই গ্রামের দুই বাসিন্দা আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু। তাদের মধ্যে আতাহার আলী রাহাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিরাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। নারী শিল্পীরা গান পরিবেশন করলে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায়’ অনুষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।

এমন আবেদন পাওয়ার পর দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম গানের আয়োজক প্রবাসী শওকত আলীকে নিয়ে বসেন।

এ বিষয়ে দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, গানের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি পাওয়ার পর তারা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। আয়োজকেরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, তারা গান-বাজনা করবেন না।

তবে আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়ির আঙিনায় বাউল গানের আয়োজন করেন প্রবাসী শওকত আলী। এতে স্থানীয়রা তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে। এই গানের আসরে একাধিক নারী শিল্পীও গান পরিবেশন করেন।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার

‘গুমের’ অভিযোগ, ঠিক কী ঘটেছিল মোংলার মিরাজ শেখের সাথে?

৩০ জুলাই ২০২৬, বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা মোংলার নিখোঁজ জেলে মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করে আদালতে হাজির করার আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত দুই বছরের মধ্যে এটিই গুমের প্রথম ঘটনা বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এই ঘটনায় দেওয়া প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়ার আগে মি. শেখকে সর্বশেষ কোস্ট গার্ডের হেফাজতে দেখা গিয়েছিল।

এদিকে, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোস্ট গার্ড বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে হাইকোর্টের ওই আদেশটি এখনো পায়নি সংস্থাটি।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়টি উল্লেখ করে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজনকে প্রশ্ন করলে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, গণমাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন।

আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চাননি তিনি, তবে বলেন, “আমরা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। হাইকোর্টের আদেশটি এখনো অফিসিয়ালি আমরা পাইনি। আদালত থেকে কোনো নোটিশ আমরা পাইনি, পাওয়া সাপেক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় জবাব বা তথ্য উপস্থাপন করবো এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা পরিপূর্ণভাবে আমরা প্রতিপালন করবো।”

মিরাজকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পায়নি কোস্ট গার্ড

১২ আগস্ট, ২০২৬, যায়যায় দিন

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ মিরাজ শেখকে আটক বা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটির দাবি, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান, অপারেশনাল রেকর্ড, টহল কার্যক্রম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের তথ্য পর্যালোচনা করে মিরাজ শেখকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরাজ শেখ ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর মোংলার জয়মনির ঘোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি জেলে ও মোটরসাইকেলচালক হিসেবে পরিচিত। 

বাহিনীটির দাবি, স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী তিনি সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর অন্যতম লজিস্টিকস সরবরাহকারী ছিলেন। একই সঙ্গে মাদকসেবনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অতীতেও তিনি দীর্ঘ সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে সুন্দরবন এলাকায় অবস্থান করতেন বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

বাহিনীটির ভাষ্য, ছোট সুমন বাহিনীর হয়ে জেলেদের কাছ থেকে মুক্তিপণ ও চাঁদা বাবদ আদায় করা প্রায় ছয় লাখ টাকা নিজের কাছে রেখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মিরাজের সঙ্গে ওই বাহিনীর বিরোধ সৃষ্টি হয়।

তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর জামিনে মুক্ত

০৪ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান।

তিনি বলেন, রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন।

দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আইসিইউতে হাতকড়া পরা সেই মনির খানের মুক্তি মিললো মৃত্যুতে

০৬ আগস্ট ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান মনির ওরফে মনির খান (৪৮)। টানা প্রায় দুই মাস ঢামেক হাসপাতালের পুরাতন বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টা ২৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তবে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার হাতকড়ার একটা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। 

সাভারে একটি বাড়ি ঘিরে পুলিশের অভিযান, বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার

১২ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

ঢাকার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তিনতলা একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পাশাপাশি সাভার থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার রাতে অভিযানে বোমাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

হেমায়েতপুরের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় আবদুল জলিলের বাড়িতে এই অভিযান চলছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ডিএমপির সিটিটিসির একটি দল গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে, এখানে জেএমবির সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কাছে বিস্ফোরক দ্রব্য আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে বোমাসহ বিস্ফোরক–জাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

৫ অগাস্টের পর মুক্তি পাওয়া ‘নব্য জেএমবির বোমারু মামুনকে’ নাটের গুরু বলছে পুলিশ

১২ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকটি বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ নামে একজনকে পুলিশ খুঁজছে, যিনি নয় বছর আগে জঙ্গিবাদের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েও ৫ অগাস্টের পর জামিনে বেরিয়ে যান।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য মামুন মাত্র ২১ বছর বয়সেই বোমা বানানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ‘তার বানানো’ বোমার আত্মঘাতি বিস্ফোরণে ২০১৭ সালে রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিওতে সাইফুল ইসলাম নামে এক তরুণ নিহত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘হোটেল ওলিও’ মামলায় মামুনসহ সব আসামিকেই খালাস দেয় ঢাকার একটি আদালত। ওই রায়ে আদালত তাদের ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতা–কর্মী’ হিসেবে বর্ণনা করে।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এডিসি (ইনভেস্টিগেশন) মাঈন উদ্দীন চৌধুরী বলছেন, মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের যে যুবককে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার গুরু হচ্ছে ‘বোমারু মামুন’।

কেরানীগঞ্জ থেকে সাভার: ১১ ঘটনায় একই গোষ্ঠী, নাশকতার পরিকল্পনা

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় মসজিদের মাঠে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান স্থানীয় ব্যক্তিরা। ড্রামের ভেতরে ছিল স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার। স্থানীয় লোকজন ড্রাম থেকে প্রেশার কুকারটি বের করে মাঠে রেখে পুলিশকে খবর দেন।

সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে বুধবার (গতকাল) সকাল আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটি দেখতে পায়। এরপর ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি রাতে প্লাস্টিকের ড্রামটি মসজিদের মাঠে রেখে যায়। তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সাধাপুরের এ ঘটনার আগের রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় তিনতলা একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ১১টি পাইপ বোমাসহ (আইইডি) বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে। তার আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোহাম্মদ আরিফ নামের এক যুবককে। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ শ্যামপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যশোরে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার এবং সর্বশেষ সাভারের ২টিসহ মোট ১১টি ঘটনায় উগ্রপন্থী একই গোষ্ঠী জড়িত এবং তাদের বড় নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।

কেরানীগঞ্জের ঘটনা থেকে শুরু

শুধু সাভারের এই দুই ঘটনাই নয়, গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আল কুরা মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর অন্তত আটটি ঘটনায় নব্য জেএমবি সদস্যরা জড়িত বলে তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিস্ফোরণের পর কেরানীগঞ্জের ওই মাদ্রাসা থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। ওই মুঠোফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ ফেব্রুয়ারি যশোরের বাঘারপাড়ায় নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হাফিজ খালিদ ইব্রাহিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের বাসায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ১৯টি গুলি, ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি ক্ষুর উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের ওপর হামলা, কুমিল্লার একটি মন্দিরে ৭ মার্চ বোমা হামলা, ১২ মার্চ ফেনীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা, ২৫ মার্চ যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড়ে তল্লাশির সময় পাইপ বোমা বিস্ফোরণ, ২২ জুন উত্তরার দক্ষিণখানে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের ওপর বোমা হামলা, ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে বোমা উদ্ধার, ৩০ জুলাই আশুলিয়া এলাকার একটি মুদিদোকান থেকে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করা হয়। কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ, যশোরে গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার এবং সর্বশেষ সাভারের ২টিসহ মোট ১১টি ঘটনায় উগ্রপন্থী একই গোষ্ঠী জড়িত এবং তাদের বড় নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।

আল কায়েদা বাংলাদেশে ‘নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

১৩ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আল-কায়েদা বাংলাদেশে সক্রিয় সেল গঠনের মাধ্যমে তাদের ‘নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস’ একটি বিভক্ত গোষ্ঠী থেকে এখন আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। তারা বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সেলে কাজ করার পাশাপাশি লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনের বোমা বিস্ফোরণের পেছনেও একিউআইএসের হাত ছিল। এছাড়া একিউআইএস বাংলাদেশে তাদের সেল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে দেশটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, এমন উদ্বেগও প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ গেল ১০ অগাস্ট এই প্রতিবেদ প্রকাশ করেছে। এটি তাদের ৩৮তম প্রতিবেদন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ মাসে কেমন করল সরকার

১৯ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত স্বস্তি আসেনি। খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পুলিশের ওপর হামলার মামলা বেড়েছে। ব্যস্ত সড়ক, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে গুলি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও মানুষের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মাঠের পুলিশ এখনো পুরো মনোবল নিয়ে কাজে ফিরতে পারেনি।

সারা দেশে দায়ের হওয়া সাত শ্রেণির মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ২১ হাজার ৭৫৬টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত একই সাত শ্রেণিতে মামলা হয়েছিল ২১ হাজার ২২৮টি। সে হিসাবে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৫২৮টি বা প্রায় আড়াই শতাংশ।

সাত শ্রেণি হলো খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, পুলিশের ওপর হামলা, ডাকাতি ও দস্যুতা, ছিনতাই, অপহরণ এবং চুরি। এর মধ্যে প্রথম তিন শ্রেণিতে মামলা বেড়েছে। কমেছে অন্য চার শ্রেণিতে। তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া এই হিসাব মূলত মামলার, সংশ্লিষ্ট সময়ে সংঘটিত সব অপরাধের নয়। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী থানায় যান না বা অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় না। ফলে শুধু মামলার সংখ্যা দিয়ে অপরাধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন।

সরকার গঠনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মে মাসে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে তিনি মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাছাকাছি সময়ের অপরাধ পরিস্থিতি ও মাঠপর্যায়ের চিত্রে এখনো প্রত্যাশিত উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

রংপুরে ৪ খুন: শিক্ষক পরিবারের লাশ পড়েছিল ছাদে-সিঁড়িতে-ঘরে

২৩ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।

রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলছেন, “তাদের খুন করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তাদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো রয়েছে। তাদের পুরো ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটা ডাকাতি হতে পারে।”

পুলিশ বলছে, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও কন্যার লাশ পাওয়া যায় ছাদের সিঁড়িতে। প্রীয়ম চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় বিছানার নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় ছাদের এক প্রান্তে।

বাসার ভেতর লাশ পঁচার তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মেঝেতে কাপড়-চোপড় ও গয়নার বাক্স পড়ে ছিল।

দেশে একের পর এক ভয়ংকর খুন

২৬ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে খুনের ঘটনার মতো একটি হত্যাকাণ্ড ঘটে গত জুনে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের সেই ঘটনায় (গত ২৫ জুন) মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেন এক যুবক।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন শাহিনুর বেগম (৪০) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), ইকরা (১৭) ও সিপা (১০)।

শুধু রংপুর ও লক্ষ্মীপুর নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য খুন হওয়ার ১৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে গত ছয় মাসে (২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট)। এসব ঘটনায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। কোনো ক্ষেত্রে এক পরিবারের দুজন, কোনো ক্ষেত্রে তিনজন, কোনো ক্ষেত্রে চারজন এবং কোনো ক্ষেত্রে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরে আলাদাভাবে একই পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ১৮টি ঘটনা পাওয়া গেছে সাতটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোনো ঘটনায় সম্পত্তি বা জমির বিরোধ এবং কোনোটির সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক সামনে এসেছে। কোনোটি দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেছে পুলিশ। কোনো কোনো ঘটনার কারণ এখনো অজানা।

সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিষয়ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একের পর এক একসঙ্গে একাধিক খুনের ঘটনা মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করছে। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনার একটির সঙ্গে অন্যটির মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু গভীর বিশ্লেষণে দেখা যাবে, মিল রয়েছে।

ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর, সংসদ ভবনের সামনে অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু

৩০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

‎জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় অটোরিকশা থেকে পড়ে মারা গেছেন এক নারী। তিনি বগুড়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষিকার নাম রনজিনা পারভীন (৫৫)। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।‎

ঢাকায় চার কৌশলে ছিনতাই হচ্ছে, হিসাব নেই, বিচারও নেই

৩১ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো 

চোখের চিকিৎসা করাতে বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে ২৯ আগস্ট ভোরে ছিনতাইকারীর ব্যাগের টানে রিকশা থেকে পড়ে মারা যান শিক্ষক রনজিলা পারভিন। পাঁচ মাস আগে উত্তরায় মুক্তা আক্তার এবং জুনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সোহেলি ইসলামও একই কৌশলে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারান।

গত ছয় মাসে ঢাকায় চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশা থেকে ব্যাগ টান দেওয়ার ঘটনায় এই তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনটি ঘটনাতেই তাঁরা ছিলেন চলন্ত যানে আর ছিনতাইকারীরা পাশ বা পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টেনে ফেলে দেয়।

রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের হাতে এই তিনটি মৃত্যু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সড়কে, মোড়ে এবং ব্যস্ত এলাকায় একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। মৃত্যু কিংবা অঙ্গহানির মতো ঘটনার বিষয়গুলো সামনে এলেও অধিকাংশ ছিনতাইয়ের ঘটনা আড়ালে থাকছে। পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলোতে দস্যুতা ও ডাকাতির মামলা নেয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজধানীতে দস্যুতার মামলা হয়েছে ১৪৯টি। আর ডাকাতির মামলা মাত্র ১৮। তবে প্রকৃত ছিনতাই কতটি হচ্ছে—তার উত্তর পুলিশের মামলার হিসাব থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ভুক্তভোগীদের বড় অংশই মামলা করতে যায় না। আবার থানায় গেলেও মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি নেওয়া হচ্ছে।

অন্তত সাতটি ঘটনায় ভুক্তভোগী ছিলেন রিকশা, অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনে। দুই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছিলেন চলন্ত ট্রেনে। দুই নারী বাসা বা গন্তব্যে পৌঁছে রিকশা থেকে নামার পরপরই আক্রান্ত হন। অর্থাৎ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

গত ১ মার্চ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২২টি গুরুতর বা আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো। এই ঘটনাগুলোতে মানুষকে কুপিয়ে, ছুরিকাঘাত করে, গুলি করে, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে এবং অস্ত্রের মুখে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

জবি ছাত্রীকে র‍্যাবের গাড়িতে তোলার চেষ্টা, শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে উদ্ধার

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল 

রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মমতাজ আরা বর্ষাকে র‍্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় র‍্যাবের সদস্যরা। রোববার সকালে কলতাবাজার এলাকার ওই মেসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন।

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’: সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সন্তানের অভিভাবক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন।

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী। দেড় মাস আগে তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী নিখোঁজ হয়েছে। 

নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জিরো মিসিং চিল্ড্রেন আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিন দিন ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ হোশেনের। এরপর জিডি নেওয়া হলেও পুলিশ আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় পথে পথে ঘুরছেন এই বাবা। আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধার-দেনা করে ছেলের নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি ছাপাচ্ছেন তিনি। তার একটাই আকুতি—সন্তানকে খুঁজে দেওয়া হোক।

শুধু হোশেন আলী নন, একই অপেক্ষায় দিন কাটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বহু পরিবারের। সাভারের বলিয়ারপুরে নিজ বাসা থেকে গত ৩০ জুলাই নিখোঁজ হয় চার বছরের যাদব কর্মকার। শিশুটির মা বাসনা কর্মকারের অভিযোগ, ফোনে হুমকি পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের তথ্য পুলিশকে দেওয়া হলেও তদন্তে কার্যকর অগ্রগতি নেই। এক মাস ধরে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় ছুটছেন তিনি।

তানভীরের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জাগো নিউজ

পুলিশি হেফাজতে ‘ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে’ অসুস্থ এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের দ্রুত ও পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে গভীরভাবে মর্মাহত ও হতভম্ব হয়েছি। তার ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি একথা বলেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি তানভীরকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়ার একটি ছবিও শেয়ার করেছেন।

নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও একজন বিএনপি নেতার মামলায় তাকে অন‍্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনি অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। জামিন না দিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। কারা হেফাজতে গাজী তানভীরকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। রিমান্ডে তার শরীরে অজ্ঞাত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এর ফলে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট তিনি স্ট্রোকও করেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে পড়ে যে, তাকে প্রথমে বগুড়া মেডিকেল কলেজ, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের লাশ জঙ্গল থেকে উদ্ধার

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের (১৩) লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’: সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সন্তানের অভিভাবক

৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজেনস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

‘পুলিশ বলে, তুই বাচ্চা হারাইছিস তো আমি কী করব?’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামের কাপড় বিক্রেতা হোশেন আলী। দেড় মাস আগে তার ১২ বছরের ছেলে মো. আলী নিখোঁজ হয়েছে। 

নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবিতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জিরো মিসিং চিল্ড্রেন আয়োজিত ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর নিকটস্থ থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিন দিন ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে বলে অভিযোগ হোশেনের। এরপর জিডি নেওয়া হলেও পুলিশ আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় পথে পথে ঘুরছেন এই বাবা। আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধার-দেনা করে ছেলের নিখোঁজের বিজ্ঞপ্তি ছাপাচ্ছেন তিনি। তার একটাই আকুতি—সন্তানকে খুঁজে দেওয়া হোক।

শুধু হোশেন আলী নন, একই অপেক্ষায় দিন কাটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও বহু পরিবারের। সাভারের বলিয়ারপুরে নিজ বাসা থেকে গত ৩০ জুলাই নিখোঁজ হয় চার বছরের যাদব কর্মকার। শিশুটির মা বাসনা কর্মকারের অভিযোগ, ফোনে হুমকি পাওয়ার পর সন্দেহভাজনদের তথ্য পুলিশকে দেওয়া হলেও তদন্তে কার্যকর অগ্রগতি নেই। এক মাস ধরে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় ছুটছেন তিনি।

কামরাঙ্গীরচরের তিন বছরের শিশু সামিয়াও নিখোঁজ ১১৫ দিন ধরে। মায়ের অভিযোগ, বাসার সামনে খেলতে গিয়ে হারিয়ে যায় শিশুটি। এরপর পুলিশের একেকজন কর্মকর্তা একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন। পরে শিশুটিকে ‘মিঠাই’ নামে টিকটকে দেখা গেলেও বিষয়টি জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের। মামলা ডিবি ও পরে পিবিআইতে গেলেও সন্তানের সন্ধান মেলেনি।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮ জন।

৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কুমিল্লায় নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। এর আগেও এ বছর নিখোঁজ শিশুদের কাউকে পাওয়া গেছে মাটিচাপা অবস্থায়, কাউকে নদীতে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনের সঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

যেমন জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের একটি শিশু ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনের সঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য নিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করে আসক। তাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজের পর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫৫। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে নিহত ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে নিহত ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪, গুলিতে নিহত ৩, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু ২, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এর বাইরে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনা আছে।

পাঁচ বছরের মধ্যে এখন সর্বোচ্চ কারাবন্দি

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চলছে। প্রতিদিন গড়ে এক-দেড় হাজার আসামিকে গ্রেপ্তার করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব আসামিকে পাঠানো হচ্ছে কারাগারে। এতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্দি এখন কারাগারে। ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি রয়েছে কারাগারে। তবে কোনো কোনো কারাগারে ধারণক্ষমতার পাঁচ থেকে সাত গুণ বন্দিও রয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে কারাগারে বন্দির সংখ্যার রেকর্ড হয়েছে চলতি মাসে। বর্তমানে কারাবন্দির সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজার ১২৩ জন। এর আগে গত ২০২৫ সালে কারাগারে সবচেয়ে বেশি বন্দি ছিল ডিসেম্বর মাসে। সেই সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ৭১৯। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ বন্দি ৭৫ হাজার ৯৫৮ জন ছিল জানুয়ারিতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ ৮৬ হাজার ৩০৬ জন, ২০২২ সালের অক্টোবরে ৮৭ হাজার ১৭৩ জন এবং ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জানুয়ারিতে ৮৯ হাজার ৯১৪ জন বন্দি ছিলেন।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া মাদকের বন্দির সংখ্যাও বাড়ছে। আগে যেখানে ২০-২২ শতাংশ ছিল এখন সেটা বেড়ে প্রায় ৩২ শতাংশ হয়েছে। এতে বন্দির চাপ বাড়ছে কারাগারগুলোতে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একের পর এক বিশেষ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলতি বছরেও এসব অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

উগ্রপন্থি গ্রুপের ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ 

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে আটক ২৩ জনের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ শনিবার তাদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, তারা সহিংস ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে একত্র হন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শিহাব উদ্দিন, মারজুক আহমেদ, সাইফুর রহমান খান, রাম্মি মিয়া, কামিছুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, আফিফ আহমেদ, মোহাইমিনুল হক, জাওজি চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, সাকিব আহমেদ ও জুনায়েদ আহমেদ। আটক অন্য ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীতে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) ৫ নং বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রিকশাচালক পরিচয় দেওয়া যুবককে ‘ছাত্রলীগ সন্দেহে’ মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে পথচারী এক যুবককে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে পুলিশে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে রোববার দুপুরে ওই যুবককে ধাওয়া দিয়ে ধরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ দিন সকাল থেকেই মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এ সময় এক রিকশাচালক প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।

এটা শুনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করেন। পরে তাকে কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্যাতন–আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ, এমপি গাজী নজরুলসহ গ্রেপ্তার ২, আলোচনায় ‘সুইসাইড নোট’

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

গতকাল রোববার গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি হলেন মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু: চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা এক কিশোরকে আটকও করেছিলেন উপস্থিত লোকজন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল এবং চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করার পরও কেন তাঁকে মামলায় আসামি করা হলো না।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।

মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শত শত মুখোশধারীর হামলা

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ইত্তেফাক

রাজধানীর মিরপুর-১-এ মধ্যরাতে  একটি স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট এবং ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশধারী একটি দল ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা কেন্দ্রের ওষুধ, সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, চিকিত্সা যন্ত্রপাতি ও নগদ টাকা লুট করে বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়।

হামলার পর কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশুদের টিকাদান সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পুলিশের সামনেই রাড্ডা ক্লিনিক থেকে লুটের মালামাল পিকআপে তোলার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সময় বাইরে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার পরেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে মালামাল বের করে পিকআপ ভ্যানে তুলছিলেন কয়েকজন। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে এ চিত্র দেখা গেছে।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, লুটপাট শুরুর আগে সরকারি স্থাপনা ভাঙার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দিকে এগিয়ে আসে। সেটি কেন্দ্রটির দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

এরপর কয়েকশ মানুষকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের মুখ ঢাকা ছিল না। তাদের চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছিল, সেখানে স্বাভাবিক কোনো নির্মাণকাজ চলছে।

পরে ঘটনাস্থলে কয়েকটি পিকআপ ভ্যান আনা হয়। এরপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতর থেকে মালামাল বের করে সেগুলো পিকআপে তুলতে শুরু করেন লোকজন।

ফুটেজে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃশ্যটি দেখা যায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার কিছু আগে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ফটকের সামনে এসে থামে। বাইরে লুট করা মালামালবোঝাই একটি পিকআপ দাঁড়িয়ে ছিল। পুলিশের গাড়িটি সেখানে থাকা অবস্থাতেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মালামাল বের করে পিকআপে তোলা চলতে থাকে।

ফুটেজে পুলিশের গাড়ি থেকে কাউকে নামতে বা ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়নি। তবে গাড়ির ভেতর থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় অন্যরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতর থেকে মালামাল বের করে পিকআপে তুলতে থাকেন।

শনিবার রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। রাড্ডা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ২০০ থেকে ২৫০ জন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে এবং সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে ও আজ রোববার সকালে তাঁদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও লক্ষ্য করে হামলা হয়নি বলেছে পুলিশ। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও টার্গেট ছিল না।

রাজধানীতে ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা, ৮৫ শতাংশই তদন্তে প্রমাণিত

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর অনলাইন

চাঁদাবাজি হয়, মামলা হয়, তদন্ত শেষে চার্জশিটও জমা পড়ে। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক মামলার বিচার শুরু হয় না। সম্প্রতি ঢাকার ৫০টি থানার চাঁদাবাজি ও দখলসংক্রান্ত মামলার তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চিত্র।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ঢাকা মহানগরের ৫০টি থানার মধ্যে ৪৯টিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে ৭২৩টি। এসব মামলার প্রায় ৮৫ শতাংশেই তদন্তে চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আদালতে মামলার পর নারীকে তুলে নিয়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

কুষ্টিয়ায় নিজেদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাত দিন আগে আদালতে মামলা করেন এক নারী। সেই মামলার বিষয়ে ‘কথা’ বলতে আজ রোববার সকালে তাকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।    

ওই নারীর নাম নুরজাহান বেগম (৬৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে। 

ওই নারীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিজ বাড়ি ও ছেলের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন নুরজাহান বেগম। সেই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও কৃষক দলের স্থানীয় ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫–৩০ জনকে আসামি করা হয়। কয়েক দিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে থানা থেকে একদল পুলিশ নুরজাহানের বাসায় যায়। এ সময় তিনি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ তাকে জানায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদালতের মামলার বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। 

মোহাম্মদপুরে ৩৫ কাঠা জমি দখলে হামলা

‎২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

রাজধানীর মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এবার মোহাম্মদপুরে শতাধিক লোক নিয়ে ৩৫ কাঠা জমি দখলের চেষ্টায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকালে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের রোজ ভিলা-সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, হামলার সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক নান্নু। এ ছাড়াও ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার সোহেল মোল্লা এবং তাঁদের কর্মী নুর নবী দেওয়ান ও জামাল হোসেন। তাঁদের নির্দেশে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।

আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা: ‘বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না’ বলেই ফটকে কোপানো শুরু হয়

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা। রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল হামলা চালায় রাজধানীর আদাবরের বাড়িটিতে। অভিযোগ, শ্যামলী হাউজিংয়ের আটতলা বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ‘“দলবল নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বলে, টাকা দে। বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না?” এই কথা বলতে বলতে বাসার মূল ফটকে কোপানো শুরু করে। জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বাসার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে খুলতে না পারায় ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।’

গতকালের এই ঘটনা ঘটেছে আটতলা একটি বাড়িতে। বাড়িটির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।

অপরাধীরা বেপরোয়া, শঙ্কাহীন

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

মিরপুর-১, মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ইসিবি চত্বর। রাজধানী ঢাকার চার স্থান। ভিন্ন প্রেক্ষাপট, ভিন্ন ঘটনা। হামলা, ভাঙচুর, দখলচেষ্টা ও লুটপাট। মাত্র ৪৭ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। 

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে ৫০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান দরিদ্রদের স্বাস্থ্য ও টিকাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেয় দুই শতাধিক লোক। সর্বশেষ শনিবার রাত ১১টার দিকে ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আশপাশের কয়েকটি বাড়িসহ স্থাপনায়ও হামলা করা হয়েছে। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি পিকআপে দলবদ্ধভাবে এসেছিল। কারও হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। 

মিরপুরে রাড্ডায় লুটপাটের ৩৭ ঘণ্টা পর শনিবার বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যানে ১৭ কাঠা জমি দখল ঘিরে চলে সশস্ত্র হামলা-ভাঙচুর। দুই ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার। একই দিন সকাল সাড়ে ৬টায় স্বল্প দূরত্বের আদাবর শ্যামলী হাউজিংয়ে ৮ তলা বাড়ি দখলের চেষ্টায় রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ প্রায় ২০ জনের একটি দল হামলা চালায়। সে ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

দুদিনের কম সময়ের ব্যবধানে রাজধানীর প্রায় ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে এসব ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অপরাধীরা শঙ্কাহীন চিত্তে এসব করছে কিনা– এমন প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। আলাদা কারণে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ চার স্থানে হামলা ও লুটপাটে জড়িত। তাদের অনেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। কেউ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা-ভাঙচুরে জড়ায়। এমন ঘটনা শুধু রাজধানীতে নয়; দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই দলবদ্ধভাবে জমি দখলচেষ্টা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে প্রাণহানিও হচ্ছে। 

সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব করল বিএফআইইউ

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় সালমান মুক্তাদিরের হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম (এওএফ), গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য (কেওয়াইসি) ও হিসাব বিবরণী (স্টেটমেন্ট) দিতে বলা হয়েছে।

৫ বছর ৯ মাসে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু ৩০০ কারাবন্দীর

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে একের পর এক বন্দীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। অনেক ক্ষেত্রেই বন্দীর বয়স বেশি নয়। অর্থাৎ অকালমৃত্যু হচ্ছে।

কারা অধিদপ্তর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ বছর ৯ মাসে ১২৩৫ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান অন্তত ৩০০ জন বন্দী।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে বন্দীর মৃত্যুর সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার রাতে। মৃত বন্দীর নাম আবু তাহের (৩৪)। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, আবু তাহেরকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ থেকে অসুস্থ অবস্থায় গতকাল রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আনা হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

কারা অধিদপ্তরের গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হিসাব এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ চলতি বছরের শুরু থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ মাসে অন্তত ২৫১ জন বন্দী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফলে চলতি বছর মাসে গড় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৮ জনের। ৫ বছর ৯ মাসের হিসাবে, মাসে গড় মৃত্যু প্রায় ১৮। দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর বন্দী–মৃত্যু বেশি।

সেপ্টেম্বরে কারা হেফাজতে মৃত্যু ২৪, ‘মবে’ নিহত ২৩: এমএসএফের প্রতিবেদন

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

সেপ্টেম্বর মাসে ‘মব’ সহিংসতায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এমএসএফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, ‘মবের’ মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বুধবার প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এমএসএফের এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ‘মব’ সহিংসতার অন্তত ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। অগাস্ট মাসের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমলেও এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে তারা।

কিশোর গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’ বদলেছে, বেড়েছে উৎপাত

০৩ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

আওয়ামী লীগ আমলে যুবলীগ নেতার আশ্রয়ে থাকা ১৬ মামলার আসামি চট্টগ্রামের মো. মুরাদকে এখন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতার পালাবদলে এভাবে কিশোর গ্যাংয়ের রাজনৈতিক আশ্রয় বদলেছে।

চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মুরাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিলেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর আশ্রয়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে দেখা যায় নগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ওরফে বাদশার সঙ্গে মিছিল-সমাবেশে। নিজের ফেসবুক পরিচয়ে মুরাদ নিজেকে চান্দগাঁও থানা যুবদলের সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মুরাদ একা নন। পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন নেতার আশ্রয়ে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের কিছু নেতা-সদস্য এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছেন।

পুলিশের ভাষ্য, নগরের অন্তত ৪৫টি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম শহরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে ১১টি গ্যাংয়ের নাম সবচেয়ে বেশি এসেছে। সেগুলো হলো মুরাদপুর এলাকার এমবিএস (মোহাম্মদপুর বয়েজ সিন্ডিকেট), পাঁচলাইশের কেবি (খতিবের হাট), এনএস (নাজিরপাড়া), ৯৯৯, এক্স-মার্ক, ব্যাকহোল, ডট গ্যাং, বিঙ্গু, পাইথন, সেভেন স্টার ও ফাইভ স্টার।

গত সপ্তাহেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে নগরের দুই এলাকায় কিশোর গ্যাংকে ঘিরে গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার খুলশীর পাহাড়তলী ওয়্যারলেস কলোনিতে ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ গ্যাংয়ের বিরোধে খুন হয় ১৬ বছরের মো. হৃদয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার সঙ্গে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করত সে।

পুলিশের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে চট্টগ্রাম নগরে অন্তত ৬৩৫টি অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খুনের ঘটনাই ৩৯টি।

ছেলে হত্যার আসামিরা জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেললো, আর মামলা করতে চাই না

০৬ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

দেড় মাসের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলে খুন। একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই স্বামীকেও হারালেন নাসিমা বেগম। এখন আতঙ্কে দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের। এমনকি স্বামী হত্যার ঘটনায় মামলা করতেও রাজি নন তিনি। তার ভাষ্য, ‘ছেলের হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে তার বাবাকে হত্যা করেছে। আর ঝামেলায় যেতে চাই না। মামলাও করতে চাই না।’

গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর দেড় মাস আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় একই গ্রামের শহীদের মোড়ে তার ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

১০ অক্টোবর ২০২৬, জাগো নিউজ

খুলনায় অভিযান শেষে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন জেলা পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনার পর ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) পত্র জারি করেছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা পত্রে উল্লেখ করা হয়, চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। ইদানীং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ময়মনসিংহ সীমান্তে বিজিবির গুলিতে যুবকের মৃত্যু

১২ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গুলিতে নোমান মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির দাবি, চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিদের হামলার পর আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে নোমান গুলিবিদ্ধ হন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়েছে।

নিহত নোমান মিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।

গণপিটুনির পর হাসপাতালে ভর্তি, সেখানে ঢুকে দ্বিতীয় দফায় পিটুনিতে যুবক নিহত

১৪ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে গণপিটুনিতে ওহিদুজ্জামান শামীম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে জনরোষের মুখে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। পরে হাসপাতালে ঢুকে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়।

নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার ছোট শান্তা গ্রামের শামসুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে উপজেলার সখীপুর এলাকায় শামীমকে মারধর করেন কয়েকজন। একপর্যায়ে তিনি নিজ বাড়িতে বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

রাত ৯টার দিকে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসাধীন শামীমকে আবারও মারধর করেন। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

১২ মাসে মবের হাতে নিভেছে ২৪৯ প্রাণ

১৫ অক্টোবর ২০২৬, আগামীর সময়

রাত তখন ১১টা। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে কয়েক যুবক এলেন বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে। সন্দেহ হলো স্থানীয়দের। মাইকে ঘোষণা হলো— ‘ডাকাত এসেছে!’ ধাওয়া খেয়ে পালানোর চেষ্টা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মালোপাড়ায় পাঁচজনকে ধরে দলবেঁধে পিটুনি। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে যশোর সদর উপজেলার এ ঘটনা শুধু একটি উদাহরণ।

এরই কয়েক দিন আগে খুলনার এক মেসে চুরি করে ভাত খেয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মারা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুলকে। একই দিন পাবনায় ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামির দ্বিতল বাড়িতে আগুনের পর তা গুঁড়িয়ে দেয় একদল মানুষ। এভাবে কখনো চুরির অভিযোগ, কখনো পূর্ববিরোধ, আবার কখনো ধর্ষণ বা নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা মুহূর্তেই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। দেশে এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ বা মব সহিংসতা বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে। প্রায় দিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণহানির এমন ঘটনা।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আশঙ্কাজাগানিয়া এক চিত্র। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৬১২টি। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪৯ জন। আহত হন অন্তত ৬৬৪ জন। মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণবিষয়ক ওই প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর— এই ৯ মাসেই ঘটেছে ৫০১টি সহিংসতা। যাতে প্রাণ গেছে ২৩৫ জনের। এসব সহিংসতায় আহত হয়েছেন ৫৪০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে মবের শিকার হয়েছেন ৭৭৫ জন। এর মধ্যে গত আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কারখানার ছাদ থেকে পড়ে কর্মকর্তার মৃত্যু, ভাইদের অনশনের পর মামলা নিলো পুলিশ

১৪ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার ছাদ থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন (৩৮) নামের এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ পুলিশ মামলা গ্রহণ না করায় থানায় অনশন শুরু করেছিলেন নিহতের বড় দুই ভাই। 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ফটকের সামনে মৃত্যুর আসল কারণ উদঘাটন ও মামলা গ্রহণে গড়িমসির প্রতিবাদে এই অনশনে বসেন তারা। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে অভিযোগ আমলে নেয় পুলিশ।

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ফেসবুক লাইভ করে লোক জড়ো করা হয়

১৫ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ (সরাসরি সম্প্রচার) করে লোকজন জড়ো করা হয়। এরপর দফায় দফায় তাঁকে পেটানো হয়। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানেও তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালের বাইরে নিয়েও পেটানো হয়। শেষে মরদেহের ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়।

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক আমিনী তাঁর ফেসবুক (Fh Ameni) প্রোফাইল থেকে লোকজন জড়ো করতে দুই দফা লাইভ করেন।

গত মঙ্গলবার বেলা ৩টা ৩১ মিনিটে প্রথমবার ফেসবুক লাইভে আসেন তিনি। ১৯ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের লাইভে তিনি একটি অডিও শোনান। লাইভে বলা হয়, অডিও কথোপকথনটি শামীমের। এরপর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাঁর উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান ফজলুল হক। লাইভে শামীমের বাড়ির ঠিকানাও দেন তিনি।

একই দিন বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে আবার লাইভে আসেন ফজলুল হক। এই লাইভ তিনি করেন একজন পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারের সামনে। সেখানে তখন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শামীম। ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের এই লাইভে ফজলুল হক সবাইকে চেম্বারের সামনে আসার আহ্বান জানান। লাইভ করার সময় তাঁর আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজনকে উসকে দিচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে সেখানে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়। পরে শামীমকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য পল্লিচিকিৎসককে চাপ দেওয়া হয়।

কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা —ছদ্মবেশে অপরাধের খবর সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক আলিফ

১৯ অক্টোবর ২০২৬, যুগান্তর

কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা, আবার কখনো মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ছদ্মবেশে সীমান্ত এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, এসব প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে আগেও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি। রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উতরাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

আলিফ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে পেজটিতে প্রকাশিত সর্বশেষ পোস্টগুলোর একটিতে একটি ঘোষণা ছিল।

বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০

২০ অক্টোবর ২০২৬, সমকাল

বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) সারাদেশে রাজনেতিক সহিংসতায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ হাজার ৪৭৩ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া সারাদেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন। এতে দেখা যায়, রাজনৈতিক সংঘাতের চেয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু আড়াই গুণ বেশি। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এসব তথ্য জানিয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে সংস্থাটি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ হাজার ১৩টি সহিংসতার ঘটনার ৯৩১টি ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এর মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলের ৩৪২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০ জন এবং আহত ২ হাজার ৬৩২ জন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৩২১টি সংঘর্ষে ১১ জন নিহত ও ২ হাজার ১৯০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ৯৩টি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৯ জন, আহত হয়েছেন ৫৪৫ জন। 

সেই বাড়িতে তিন ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার এক বোতল মদ, একটি খালি ও দুটি আংশিক খালি ২১ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

গভীর রাতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বাড়িতে অভিযান, ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান বলে প্রচার। গতকাল মঙ্গলবার এই অভিযানের খবরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধারের তালিকা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ডিবি উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত এ অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২৬ জন নারী। এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর ওই বাড়ির মালিক পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। পুলিশ সদর দপ্তরে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন জহির। পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করায় কার্যত তিনি ওএসডি অবস্থায় আছেন।

সরকার ‘অ্যালাও’ করলে আমরা ক্রসফায়ারও করব: আইজিপি

২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ‘ক্রসফায়ারের’ অনুমতি দিলে পুলিশ তাই করবে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, “কে আসবে, আপা কবে আসবে—ওইটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেখার বিষয় না।

“আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”

শিক্ষা

গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করলেন রাকসু ও শিবির নেতারা

২৭ জুলাই ২০২৬, সমকাল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গতকালের ঘটনার জেরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নেতাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে হামলায় ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

রাকসু জিএস ও শিবির নেতাদের মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার, ছাত্রদলের নিন্দা

২৮ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান জানান, শাহ মখদুম থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের সময় এই দুজনকে অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

লাগামছাড়া আম্মার

২৯ জুলাই ২০২৬, সমকাল 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার পাঠাগারে শিক্ষার্থী পিটিয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন। নিজেকে ‘পরিবেশগতভাবে শিবির’ দাবি করা এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে উপ-উপাচার্যকে মারধর করা, জোর করে শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করা, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যায় নেতৃত্ব দেওয়াসহ গুরুতর নানা অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনারই ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনেকে বলছেন, আম্মারের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে তিনটি তদন্ত কমিটি হলেও কোনো প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। সাবেক উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব এবং শুরু থেকে ছাত্রশিবিরের সমর্থনে আম্মার এমন লাগামহীন হয়ে উঠেছেন।

জুলাইয়ে বিরোধিতা করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩০ জুলাই ২০২৬, সমকাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমুজাদ্দেদী আলফেসানী পৃথকভাবে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ১২৫ শিক্ষকের তালিকাও তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করবে। উপাচার্য বলেন, অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রমও স্থগিত করা হতে পারে।

এর আগে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) উপাচার্যের কাছে আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেন। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় নীল দলের কিছু শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরোধিতা করেন এবং তৎকালীন সরকারের অবস্থানকে সমর্থন দেন।

সাদেকা হালিমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষক বরখাস্ত

৩০ জুলাই ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে ‘অশিক্ষকসুলভ আচরণ’, ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের’ অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে; ভিন্ন অভিযোগে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আরও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বাকি দুই শিক্ষক হলেন- নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলী।

এছাড়া একজন শিক্ষককে বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে এবং তিনজন শিক্ষককে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

অন্য তিন শিক্ষক হলেন – ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন।

‘ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতাপরিপন্থি’

০৩ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি নীল দলের ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএনপি ও জামায়তপন্থি সাদা দলের শিক্ষকরা যে দাবি জানিয়েছেন, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্বাধীনতাপরিপন্থি[’ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও রোববার সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে পাঁচ দফা সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক-ইউটিএল সদস্যরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অব্স্থান’ নেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এরপর সিন্ডিকেট বৈঠকে এ বিষয়ে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম খুঁজতেও কমিটি করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘অবস্থানের’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬৮ জন শিক্ষককে পাঠদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

রাবিতে যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসংবলিত বিতর্কিত বিলবোর্ড, প্রতিবাদের মুখে সরাল প্রশাসন

৩ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ছবিসংবলিত একটি বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বিতর্কিত বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

আজ সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ (বিচারিক হত্যা) শিরোনামের মূল বিলবোর্ডটি সরিয়ে সেখানে একটি পরিবর্তিত সংস্করণ বসানো হয়েছে। নতুন এই বিলবোর্ডে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত ছয় ব্যক্তির ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে স্থান পেয়েছে সুখরঞ্জন বালী ও বজলুল হুদার ছবি।

এর আগে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিতর্কিত বিলবোর্ডটি স্থাপন করেছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘নভো-কালচার’। সংগঠনটির পরিচালক হিসেবে আছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার।

৭ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

‎০৫ আগস্ট ২০২৬, আজকের পত্রিকা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্তত ৭টি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় এসব সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট: এনসিপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সালাউদ্দীনকে গ্রেপ্তার

০৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে রাজধানীর মনিপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলা পুলিশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় গত ৩১ জুলাই এনসিপি থেকে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২ আগস্ট তাঁর নামে সাইবার সুরক্ষা আইনে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়।

আধিপত্যের লড়াইয়ে ছাত্রদল-শিবির

০৬ আগস্ট ২০২৬, সমকাল 

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ফের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নেমেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। আবাসিক সুবিধা রয়েছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া থেকে সংঘর্ষগুলো ঘটে বলে দুদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আলাপে জানা গেছে। গতকাল বুধবারও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও নারায়ণগঞ্জের তোলারাম সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। 

এর আগে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষে জড়ায় সংগঠন দুটি। ঢাকার বাইরে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজেও দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষের পর মাদ্রাসার হল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

জানা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর ছয় মাস হতে চললেও ক্যাম্পাসের হলগুলোতে এখনও আশানুরূপ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ছাত্রদল। এখনও নামে-বেনামে সমান শক্তিতে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রেখেছে শিবির। বিশেষত হলগুলোতে শিবির বেশ সক্রিয়। এটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। 

অন্যদিকে যেসব ক্যাম্পাসে শিবির শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে, সেগুলোতে তারা অন্যদের জায়গা দিতে রাজি নয়। এই নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যদিও সরাসরি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্বীকার করেন না। অন্যদিকে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়া ছাত্রদল নিজেদের অবস্থান তৈরিতে কঠোর অবস্থানে। 

১৯ বছরের মধ্যে পাসের হার এ বছরই সবচেয়ে কম

১০ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছর পাশের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট

২০০৭ সালের পর এবারই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার সারা দেশে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৭ সালে ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত বছর পাশের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট।

এবারে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। সে হিসেবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।

বিগত আওয়ামীলীগের সময়ে এসএসসি-এইচএসসির মতো পরীক্ষাগুলোয় উচ্চ পাসের হার দেখা গিয়েছিল। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, নিজেদের অর্জন দেখাতেই ওই সময়ে প্রকৃত ফলাফল আড়াল করে অধিক নম্বর দেয়ার মাধ্যমে পাসের হার বেশি দেখানো হয়েছিল।

শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরিবর্তন আনা হয়েছিল এবং নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল কোনো ধরনের গ্রেস নম্বর না দেয়ার। এর জেরে ২০২৫ সালের এসএসসির ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামে। বিগত ১৬ বছরের মধ্যে ২০২৫-এ পাসের হার ছিল সর্বনিম্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আবার ‘সমকামিতার’ অভিযোগ, দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল

১২ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁদের হলের আবাসিক সিট স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর হলের সিট স্থায়ীভাবে বাতিল করেছি।’

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ গতকাল রাতে বিষয়টি জানিয়ে তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি বলেন, দুই আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা)’ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হল থেকে তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এসএসসিতে শহর–মফস্‌সলের ফলাফলে এত ফারাক কেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা কী

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শহর আর মফস্‌সলের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় ফারাক দেখা গেছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো মহানগরের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে ভালো করলেও মফস্‌সলের চিত্র অনেকটাই মলিন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ঢাকা মহানগরে পাসের হার ৮৩ শতাংশের বেশি হলেও একই বোর্ডের মাদারীপুর জেলায় তা প্রায় ৫৮ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশের মতো, যেখানে মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ শতাংশের মতো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন খাগড়াছড়িতে পাসের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অথচ গত বছর এ জেলায় পাসের হার ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার যেখানে ৬৪ শতাংশ, সেখানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের ফল তার চেয়ে অনেক ভালো—গড়ে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ।

শুধু পাসের হারে নয়, ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও শহর ও মফস্‌সলের ফারাক স্পষ্ট। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ৩৩ হাজার ২৫৩ শিক্ষার্থীর ৫৮ শতাংশের বেশি ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর।

মফস্‌সলের পিছিয়ে থাকার আরেক চিত্র পাওয়া যায় শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে। এবার সারা দেশে ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মফস্‌সল এলাকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে এনে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কিছু দুর্বলতাও চিহ্নিত হতে পারে।

অবশ্য এবারে পাসের হার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সে অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় শহরাঞ্চলের ফলও খারাপ হয়েছে।

রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতার অভিযোগ: ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি

১৩ আগস্ট ২০২৬, জাগো নিউজ

রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত করে করণীয় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) এ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাবির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

২৪ আগস্ট ২০২৬, বাংলা ভিশন অনলাইন

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচার শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঝিনাইদহে মাদ্রাসার ৩ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা ট্রিবিউন অনলাইন বাংলা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে  ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের ঘটনায় আবুল বাশার (৩৩) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা কোটচাঁদপুর থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবুল বাশার কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসর এলাকায় দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তিনি। ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।

মাদ্রাসা শিক্ষকের কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক হারবাল ওষুধ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‘৩ মাস ধর্ষণের শিকার’ মাদরাসাছাত্রের কল—‘মা খুব কষ্ট হচ্ছে, আমাকে নিয়ে যাও’

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, কালের কন্ঠ 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদরাসার নাজেরা বিভাগের এক ছাত্রকে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিভাবক এবং উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে পিটুনি দেন।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান ও অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আটক করেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্রি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়া ছলে। 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাস স্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দোতলা এবং তিনতলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে উপজেলার ফতেপুর ইইনয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই মাদরাসায় তিন বছর আগে শিক্ষক হিসেবে আল আমিন যোগদান করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলার জামর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ১০ বছরের এক ছাত্র নাজেরা শাখায় ভর্তি হয় এবং আবাসিকে থাকে।

গত তিন মাস যাবত ওই ছাত্রকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন শিক্ষক আল আমিন। এতে ওই ছাত্রের পেট ব্যথা, পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত পড়াসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। পরে সে তার মাকে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানালে তার তিনি তাকে ছুটিতে বাড়িতে নেন।

বাড়িতে যাওয়ার পর একদিন সকালে নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পেয়ে ওই ছাত্রের মাকে বিষয়টি জানান। তবে ওই ছাত্র ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখে।

 পরে মা তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করান। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে ওই ছাত্রকে মাদরাসায় রেখে যান। এই ১১ দিনের মধ্যে ৮দিন ওই ছাত্রকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন।

এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে আবারও তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার মা এসে তাকে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ওই শিশুর বিভিন্ন পরীক্ষা করান তার মা। রিপোর্ট এবং ওই ছাত্রের স্বীকারোক্তিতে চিকিৎসক ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে চিকৎসক তার মাকে ছেলের পায়খানার রাস্তা দেখান এবং বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এদিকে, শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রের মা, নানা ও মামা মাদরাসায় আসেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি জানান। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রিন্সিপাল তদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক আল আমিনকে পিটুনি দেয়।

অভিযোগ উঠেছে, মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মাদরাসার গেট বন্ধ করে লাঠি নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশনা দেন ছাত্রদের। পরে ছাত্ররা গেট বন্ধ করে লাঠি হাতে হামলার চেষ্টা চালায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে লোকজনের ভিড় বেড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী শিশুর নানা বলেন, ‘এমন শিশু বাচ্চার সঙ্গে এমন আচরণ যে মানুষ করতে পারে সে তো মানুষ না পশু। আমি তার বিচার দাবি করছি।’

ভুক্তভোগী শিশু জানায়, গত তিন মাস যাবত শিক্ষক আল আমিন তাকে ফুসলিয়ে এবং নানা ভয় দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করেন। এতে তার পেট ব্যথা হওয়া ছাড়াও পায়খানার রাস্তা দিয়ে নিয়মিত রক্ত যাচ্ছে। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে মাকে জানায়, সে এখানে পড়বে না। তার এখানে খুব কষ্ট হচ্ছে।

ওই ছাত্রের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠ বলেন, ‘ছেলে ফোন দিয়ে বলে, মা এখানে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার পেট ব্যথা হচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাও। আমি এখানে থাকতে পারব না। ছেলের অসুস্থ থাকার খবরে মাদরাসায় আসলে অভিযুক্ত শিক্ষক ছেলেকে গ্যাস্ট্রোলিভারের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে তারা জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছেলেকে চিকিৎসা করান।’

তিনি আরো বলেন, ‘মির্জাপুরের একটি ক্লিনিকের চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে বিস্তারিত বলেন এবং সচিত্র দেখান। আমার ছেলের পায়খানার রাস্তা অনেক বড় হওয়া ছাড়াও ফেটে গেছে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পড়ছে। সঠিক চিকিৎসা না হলে তার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। আমি এই নরপিশাচ শিক্ষক নামের কলঙ্ক আল আমিনের ফাঁসির দাবি জানাই।’

শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পঞ্চম থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সুপারিশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা করার পক্ষে যুক্তি ছিল, পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষা পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারে না। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হলে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করার পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পথও প্রশস্ত হতো।

প্রাথমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকলেও শেখার ঘাটতি পূরণে অনেক শিক্ষার্থীকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাটি বাস্তবে হোঁচট খাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে দেশে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এরপর নানা সরকারের সময় আটটি শিক্ষা কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছে। এখন বিএনপি সরকার নতুন শিক্ষানীতি করবে নাকি অন্য কিছু করবে, তা স্পষ্ট নয়। যদিও এরই মধ্যে ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে ব্যাপক মাত্রায় পরিমার্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়েও বেশ কিছু পরিমার্জনের পাশাপাশি চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি বই যুক্ত করা হবে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—প্রতিটি স্তরেই আয়, অবস্থান ও সুযোগের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা। কোথাও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, কোথাও গবেষণার সুযোগ সীমিত, কোথাও শিক্ষার্থীরা কোচিংনির্ভর। ফলে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ধারিত হচ্ছে সে কোথায় জন্মেছে, পরিবারের সামর্থ্য কেমন বা কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে—এসবের ওপর।

এ পরিস্থিতিতে আজ ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন শরিফ শিক্ষা কমিশনের প্রতিবাদ থেকে যে শিক্ষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার কেন্দ্রে ছিল সবার জন্য গণমুখী ও বৈষম্যহীন শিক্ষা। ৬৪ বছর পরও সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি; বরং শিক্ষায় বৈষম্যের নানা ধরন যুক্ত হয়েছে।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ওই শিক্ষানীতির প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান কয়েকজন ছাত্র। এর পর থেকে দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনগুলো।

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

বৈষম্যের শুরু প্রাথমিক স্তর থেকেই

দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের অধিকাংশ শিশুর শিক্ষার প্রধান ভরসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে টিউশন ফি নেই। কিন্তু শিক্ষকসংকট, শিক্ষার মান ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরকারি এক পরিদর্শন প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট গত জুনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের দুই হাজারের বেশি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে। দেখা যায়, অনেক শিশু বাংলা বর্ণ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। ইংরেজি ও গণিতেও রয়েছে দুর্বলতা।

অন্যদিকে সচ্ছল পরিবারের শিশুরা কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তৈরি হচ্ছে দুই ধরনের বাস্তবতা।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

এর সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝরে পড়ার হার। বর্তমানে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৬ শতাংশের বেশি, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঝরে পড়া কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়াও চলছে।

শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

শিক্ষকসংকটে আটকে মানসম্মত শিক্ষা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১: ২৮। তবে এর আড়ালে রয়েছে বড় বৈষম্য। শহরের তুলনায় চর, হাওর, পাহাড় ও দুর্গম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট বেশি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩৬ হাজার ২৩৫টি এখনো শূন্য। অবশ্য এসব পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ করতে হবে। আলোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে অগ্রগতি জানানো যাবে।

নিয়োগবিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের পদের ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে একসঙ্গে অনেক সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি হলে নতুন সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও তাঁদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর।

এদিকে আবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে। শিক্ষাবিদদের বড় অংশের মতে, এতে শিক্ষার সমতা প্রতিষ্ঠার বদলে প্রতিযোগিতা ও বৈষম্য বাড়তে পারে। তাঁদের যুক্তি, বৃত্তির জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে। একই প্রশ্ন রয়েছে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা নিয়েও।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য প্রকট। শহর ও গ্রামের বিদ্যালয়ে সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে বিস্তর পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য মানে জাতির ভিত্তি দুর্বল করা। এটি রোধ করা জরুরি।

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কাগজে-কলমে অবৈতনিক হলেও এ সুবিধা কার্যত সরকারি বিদ্যালয়েই সীমিত। কিন্ডারগার্টেনে টিউশন ফি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তান। এর বাইরে কওমি মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক শিশু পড়ে।

মাধ্যমিকে বৈষম্য আরও বেশি

প্রাথমিকের পর মাধ্যমিকে এসে বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়। এ স্তরের ৭৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ে মাত্র ৬ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার মানে রয়েছে ব্যাপক তারতম্য।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রমতে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে ৩ হাজারের বেশি শূন্য। প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ খালি। সবচেয়ে বেশি সংকট বিজ্ঞান, গণিত ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষকসংকট ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের অভাব—দুই সংকট মিলেই মাধ্যমিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী গ্রাম ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে ব্যয়নির্ভর শিক্ষা

এখন মাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের পাঠদানই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষায় ভালো ফল করতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে কোচিং বা গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ব্যয়নির্ভর একটি সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থা।

পুরান ঢাকার এক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে দুটি গৃহশিক্ষকের পেছনে খরচ হয় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা। সচ্ছল পরিবার যেখানে এই ব্যয় বহন করতে পারে, নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব নয়।

এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি বাদে ওপরের সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের ওপর চাপ বাড়বে এবং ভর্তি-কোচিংয়ের প্রবণতা নতুন করে বাড়তে পারে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

উচ্চশিক্ষায় বরাদ্দে ফারাক

সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে ব্যয় ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪১ টাকা, অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় মাত্র ৭৮৯ টাকা। দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ দশমিক ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীই পড়ছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয়। অধিকাংশ কলেজেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও গবেষণার পরিবেশ সীমিত।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি অর্থসহায়তা পায় না। পরিচালন ব্যয় মেটাতে তাদের প্রায় পুরোপুরি টিউশন ফির ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় সাধারণ পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যায়।

শিবিরের ‘সাথী’ পদ হারান রাকসুর জিএস আম্মার

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, যুগান্তর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার। তবে বিষয়টি এতদিন গোপন ছিল।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ২০২৫ সালের। কিছু অনিয়মের অভিযোগে তার ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে।

মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে ১ বছরে ৪ লাখ, বেড়েছে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে

১৫ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

এক বছরের ব্যবধানে দেশে মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী কমেছে চার লাখের বেশি। শিক্ষার্থী কমেছে স্বতন্ত্র কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। বিপরীতে মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে। শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার এই প্রবণতায় শিক্ষার পরিকল্পনা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২৫ প্রতিবেদনের সঙ্গে আগের বছরের তথ্য তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে মূলত মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সম্পূরক তথ্য হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে ব্যানবেইস।

পাবনায় ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক, মাদ্রাসায় আগুন

২৩ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আবু ইউসুফ প্রামানিককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দড়িভাউডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা হাসপাতালের পাশে অবস্থিত নুরানী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসাটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, রাতে ছাত্রীটি মাদ্রাসার বাইরে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ছাত্রীটি সেখান থেকে পালিয়ে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষককে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় মাদ্রাসার অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হয়। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

১৩ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণে সহায়তা করেছিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকের স্ত্রী, গ্রেপ্তার

২৩ অক্টোবর ২০২৬, ইত্তেফাক

ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারী (৫০) পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তা এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে তার স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র ভেতরের একটি কক্ষে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারী পলাতক রয়েছেন।

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়, ভিডিও ভাইরাল

২৩ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (৭) যৌন হয়রানির অভিযোগে মোসলেম আহমদ (৩০) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বুধবার (২১ অক্টোবর) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করল মন্ত্রিসভা

০৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬ এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি–২০২৬ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণের বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।

হামের চিকিৎসায় হাজেরাদের খরচ ৭০ হাজার, ১০ পরিবারের ৯টিই ঋণ নিচ্ছে

০৩ আগস্ট ২০২৬,  প্রথম আলো

রংপুর থেকে ১১ মাসের মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন হাজেরা খাতুন। শিশুকন্যাটি হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনা মূল্যে হলেও তাঁদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত খরচ ইতিমধ্যে ৭০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনতেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এরপর প্রতিদিনের খাবার, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ হয়ে খরচ আরও বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে।

হাজেরা খাতুন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনা মূল্যে হলেও এর বাইরের অনেক খরচ আমাদের বহন করতে হয়। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে নিত্যদিনের অন্যান্য ব্যয়। আমি ইতিমধ্যে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এ মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে।’

হাজেরা খাতুনের মতো অভিজ্ঞতা এখন হাজারো পরিবারের। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথ এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত প্রতি ১০টি পরিবারের প্রায় ৯টিই চিকিৎসা-সংক্রান্ত খরচ মেটাতে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতি ১০টি পরিবারের ৬টি তাদের সঞ্চয় শেষ করে ফেলেছে।

৪৫% শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ পাচ্ছে না

০৭ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে প্রয়োজনমতো মায়ের দুধ পান করা শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কম। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পায় ৫৫ শতাংশ শিশু, পায় না ৪৫ শতাংশ শিশু। হাসপাতালগুলোতে আইন না মেনে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্য রাখা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনারে শিশুস্বাস্থ্য–বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য দেন। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

২০২৬ সালের ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল

০৩ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণয়ন করায় ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এর ফলে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সরকারের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে সেখানে বলা হয়, ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইন অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তা না করায় ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিল করেছে মন্ত্রিসভা।

গাফিলতিতে বেড়েছে হাম, কার দায় কতটা

১২ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

বিয়ের ১১ বছর পর সন্তানের মা হয়েছিলেন ফারজানা ইসলাম। তা-ও বহু ব্যয় করে, আইভিএফ (বিশেষ প্রজনন চিকিৎসা) পদ্ধতিতে।

ফারজানা সন্তানের নাম রেখেছিলেন ফাইয়াজ হাসান তাজিম। ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের নাম দিয়েছিলেন ‘তাজিমের আম্মু’।

হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ এপ্রিল মারা যায় তাজিম। বয়স হয়েছিল ৮ মাস ১৮ দিন। হাম ও হামের উপসর্গে গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাজিমের মতো ৮৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিশু।

দেশে বহু বছর ধরে হাম নিয়ন্ত্রণেই ছিল। হামে শিশুর মৃত্যু হয়েছে—এমন খবর ছিল বিরল। এ বছর কেন বিপর্যয় তৈরি করল, দায় কাদের, তা নিয়ে তিন মাস ধরে অনুসন্ধান করেছে প্রথম আলো। সরকারের নথিপত্র সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেছে গাফিলতির কারণে।

হামের ঝুঁকিকে অগ্রাধিকার না দেওয়া, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচির জন্য হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন বারবার পেছানো, কয়েক বছর ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম টিকা কেনা এবং ঝুঁকির তথ্য যথাসময়ে বিশ্লেষণ না করার মধ্য দিয়ে সংকটটি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে।

এ ব্যর্থতার দায় কোনো একটি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের সমন্বয়হীনতা, ভুল অগ্রাধিকার ও প্রশাসনিক জটিলতা পরিস্থিতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

হামের টিকাদানে পরে জাতীয় ক্যাম্পেইন হলেও অসম্পূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

হাম, হামের প্রাদুর্ভাব ও হামের টিকা নিয়ে অনুসন্ধানের একটি পর্যায়ে তথ্য দিতে চায়নি ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হয়। তারপরও পূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা কোনো তথ্য দেননি।

বিভিন্ন ধরনের বিশেষজ্ঞ কমিটির একাধিক সদস্যের কাছে তথ্য চেয়েও পাওয়া যায়নি। দুটি কমিটির সভার কার্যবিবরণী দিতে সদস্যরা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে একবার তথ্য দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ।

অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, টিকা ক্রয় ও সরবরাহের বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্যাভি সূত্রে বিভিন্ন তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে। সেসব তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে।

হাম নির্মূল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি সভা গত জুনে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হামের কোনো টিকা পায়নি।

এক. ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, সেটি বারবার পিছিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। অর্থাৎ যে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সারা দেশের সব টিকাদানযোগ্য শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়, সে ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যায় সাত মাস। এর আগে ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। যথাসময়ে ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণ হামকে গুরুত্ব কম দেওয়া। টাইফয়েডের টিকাদানে বেশি জোর দেওয়া।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও স্বীকার করেছে, টাইফয়েডের টিকাদান কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই হামের ক্যাম্পেইন পিছিয়েছিল।

দুই. ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নিয়মিত কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনের তুলনায় হাম-রুবেলার টিকা ৪২ শতাংশ কম কেনা হয়েছে।

তিন. টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকা, প্রকৃত টিকাদানের হার সরকারি হিসাবের চেয়ে কম হওয়া এবং পরীক্ষাগারে হাম শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তথ্য ছিল। কিন্তু ইপিআই, স্বাস্থ্য বিভাগ, জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো এসব তথ্য থেকে প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি চিহ্নিত করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সতর্কবার্তা দেয়নি।

চার. অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন করে, টিকা ক্রয় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং সে সময়ে ইউনিসেফের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব তৈরি হয়। এতে টিকা কেনায় বিলম্ব হয়; পাশাপাশি ২০২৫ সালে স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে একাধিকবার কর্মবিরতি ও ধর্মঘটে যান। এতে নিয়মিত টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং টিকার ক্যাম্পেইনও পেছায়।

পাঁচ. প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় ক্যাম্পেইন হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বড় ঘাটতি ছিল। বিপুলসংখ্যক শিশু শুরুতেই হিসাবের বাইরে থেকে যায়।

সবকিছুর ফল হলো শিশুমৃত্যু। হাম নির্মূল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি সভা গত জুনে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হামের কোনো টিকা পায়নি।

তিন বছরের মধ্যে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ, দুই সেরোটাইপের মিশ্রণে ঝুঁকি বেশি

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং এতে মৃত্যু বাড়ছে। মে মাসে যত সংক্রমণ ছিল, জুনে তার তিন গুণ সংক্রমণ হয়েছে। আবার জুলাইয়ের সংক্রমণ জুন মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। এ সময় মৃত্যুও বেড়েছে তিন গুণের কাছাকাছি। গত আগস্ট মাসে তার আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি সংক্রমণ হয়েছে, বেড়েছে মৃত্যুও।

এরই মধ্যে এবার ডেঙ্গু ভাইরাসের ডেন–৩ ধরনটি প্রধান হয়ে উঠেছে। তবে ডেন–২ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়াচ্ছে। কোথাও ডেন–৩, আবার কোনো কোনো এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে ডেন–২ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এই পরিস্থিতিকে বলছে ‘মিশ্র চিত্র’। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, একই সময়ে দুই ধরনের সেরোটাইপের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবারের দ্রুত সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

দেশে চিকিৎসকের শূন্য পদ ১১ হাজার ৪৯৫টি

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো 

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্য ১১ হাজার ৪৯৫টি।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আরও জানানো হয়, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।

প্রক্রিয়াজাত খাবারেও ভারী ধাতু, বড় ঝুঁকিতে শিশুরা

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উদ্বেগজনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া ৩২ ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে ছয় ধরনের ভারী ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি পণ্যে সিসা ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ থেকে কয়েকশ গুণ। সবচেয়ে বেশি দূষণের তথ্য মিলেছে বিভিন্ন পানীয়তে। কয়েকটি বেকারি পণ্য ও চকলেটেও সিসার মাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি।

এসব খাবার গ্রহণের ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও মূল্যায়ন করেছেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩২টি পণ্যের মধ্যে ৩১টিতেই শিশুদের ক্যান্সারসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি পাওয়া গেছে ৯টি পণ্যে। এ ছাড়া কয়েকটি খাদ্যপণ্যের শ্রেণিতে শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রোমিয়াম ও নিকেলের সম্ভাব্য ক্যান্সারজনিত ঝুঁকিও গ্রহণযোগ্য সীমার ওপরে পাওয়া গেছে। 

হামে মৃত্যু হাজার পার, নজিরবিহীন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো 

হামে মৃত্যু এক হাজার পার হয়ে গেল আজ বুধবার। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি।

প্রায় ৮ বছর ধরে মৃত্যু তো দূরে থাক, হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০–র বেশি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল। আর এ বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার একেবারে উল্টো হয়ে গেল পরিস্থিতি।

যে হাম ভুলে যাওয়া অসুখে পরিণত হয়েছিল, তা আজ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলাকে এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।

চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। গত মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান। কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।

গত সোমবার হামে মৃত্যুর সংখ্যা যখন হাজার ছুঁই ছুঁই, সেদিন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেছিলেন, ‘হামে এত মৃত্যু আমার জানামতে এ দেশে আগে হয়নি। এত সংক্রমণও হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, এর শিকার হলো শিশুরা।’

উত্তরে ডেঙ্গুর ১০০ ‘হটস্পট’, দক্ষিণে ২৯ ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো কোনগুলো

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ছোট একটি ঘর। সেটির স্যাঁতসেঁতে দেয়াল ঘেঁষে জমে আছে পানি। সেই পানিতে জন্ম নিয়েছে এডিস মশার লার্ভা। ঘরটির অবস্থান রাজধানীর লালমাটিয়ার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিউ কলোনি আবাসিক এলাকায়।

গতকাল শনিবার সকালে কলোনির ওই ঘরের পাশে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা দেখতে পান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশকনিধনকর্মীরা। পরে ঘরের বাসিন্দাদের স্থানটি পরিষ্কার করতে বলেন তাঁরা। এরপর সেখানে ওষুধ ছিটিয়ে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া কলোনি এলাকায় আরও ছয় স্থানে পাওয়া যায় এডিসের লার্ভা। সেগুলোও ধ্বংস করা হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ঠিকানা যাচাই করে ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় ডেঙ্গুর ১০০টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে ডিএনসিসি। এর মধ্যে ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিউ কলোনি আবাসিক এলাকাটি রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার প্রজনন ও ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকির এলাকাগুলোতে ‘উল্টান, ফেলুন, পরিষ্কার করুন বা উফপ’ শীর্ষক বিশেষ প্রচারাভিযান চালাচ্ছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির জরিপে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এসব এলাকাতেও চালানো হচ্ছে বিশেষ মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখা নিষিদ্ধ

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এই এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের রোগী দেখাও (প্র্যাকটিস) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার রোগী, সিরিয়াল ঠেকেছে ২০২৮ সালে

২ অক্টোবর ২০২৬, বণিক বার্তা

মহাখালীর এনআইসিআরএইচে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন রয়েছে। এগুলোর চারটিই গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিকল। দুটি মেশিন দিয়ে রোগীদের থেরাপি দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে রেডিওথেরাপি নিতে অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অনেকে থেরাপি নেয়ার সিরিয়াল পেয়েছেন ২০২৮ সালের শেষভাগে। দুটি মেশিনের সামর্থ্যের বিপরীতে সেবাপ্রত্যাশী রোগীর সংখ্যা এতটাই বেশি যে গত এক মাস নতুন রোগীর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, দুটি মেশিন দিয়ে পুরনো ও অপেক্ষায় থাকা রোগীদের রেডিওথেরাপি দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেশিন দুটি সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে সেবা দিচ্ছে। তিন শিফটে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশ রোগী থেরাপি নিচ্ছেন। যে রোগীরা অনেকদিন পরের সিরিয়াল পেয়েছেন তারা জানেন না সে পর্যন্ত তাদের ক্যান্সারের পরিস্থিতি কেমন চেহারা নেবে। দেরির কারণে তাদের শরীরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া, ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালে মোট ছয়টি রেডিওথেরাপি মেশিন পরিচালনার ব্যবস্থা থাকলেও কেন নতুন মেশিন কেনা হচ্ছে না জানতে চাইলে এনআইসিআরএইচের পরিচালক আরো বলেন, ‘একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা ও স্থাপন করতে ৩২ থেকে ৩৫ কোটি টাকার প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মেশিন কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’

হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না, ২৭ শতাংশ শিশুর অ্যান্টিবডি হয়নি

২৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হামের টিকা দেওয়ার পরও ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) গড়ে ওঠেনি। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠার এমন প্রবণতা ৯ থেকে ১৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের টিকা ঠিকমতো কাজে আসছে না। টিকা ও টিকাদানব্যবস্থা নিয়ে সরকারকে নতুন করে ভাবতে হবে।

সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা বলছেন, হাম–রুবেলার জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইনের পর দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীরে হাম প্রতিরোধ পরিস্থিতি জানতে প্রথমবারের মতো এই গবেষণা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ইস্টার্ন মেডিটেরানিয়ান পাবলিক হেলথ নেটওয়ার্ক ও ঢাকা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ১২ জন গবেষক ও কর্মকর্তা গবেষণাটি করেছেন। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছে আইইডিসিআর।

বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের এক কোম্পানি থেকেই ১৩ বছরে আসবে ৭১ হাজার কোটি টাকার এলএনজি

২৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার ১৩ বছর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে। সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে (জিটুজি) মোট ৭৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। বর্তমান বাজারে এই এলএনজির দাম ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে আমদানি করা হবে ৬ কার্গো এলএনজি। চলতি ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে এলএনজি আমদানি করা হবে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ক প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী কোনো ব্রিফ করেননি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে অনুমোদনের তথ্য সাংবাদিকদের জানায়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন সংস্থা পেট্রোবাংলা এ কেনাকাটার বাস্তবায়নকারী সংস্থা।

জিটুজি হয় সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে। কোনো বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে সরকারের জিটুজি করার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। গানভর ইউএসএ এলএলসি-ও বেসরকারি কোম্পানি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ আইনসম্মত হচ্ছে কি না।

তীব্র লোডশেডিং, কিছু স্থানে বিদ্যুৎ মিলছে ৫ ঘণ্টা

০৩ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

তীব্র গরমের মধ্যে দেশে ভয়াবহ আকার নিয়েছে লোডশেডিং। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার চিত্র বলছে, অনেক এলাকায় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও টানা দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ ঘণ্টা। কোথাও দিনে ২০-২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে শিশু, বৃদ্ধ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা। শিক্ষার্থী, অটোরিকশাচালক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের লোকসান বাড়ছে। পর্যটনকেন্দ্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বসুন্ধরার জন্য জ্বালানি বাজার খুলে দিতে চারদিনে নতুন নীতিমালা বানাতে চায় সরকার

৬ আগস্ট ২০২৬, চট্টগ্রাম প্রতিদিন

১০ দিন আগে এক রাতে হঠাৎ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পর জ্বালানি খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণের উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার চার দিনের মাথায় বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য চারদিনের মধ্যে খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এর মধ্যেই বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (বিওজিসিএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই খাত ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভাবাধীন হয়ে পড়বে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বেসরকারি খাতে চলে গেলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ ভোক্তারা।

ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি এবং বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।

ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল আমদানি এবং বিপণনের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।

এর আগে চট্টগ্রাম প্রতিদিনে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান বিওজিসিএল বছরে ১৫ থেকে ২০ লাখ টন ডিজেল, ২ লাখ টন অকটেন, দেড় লাখ টন পেট্রোল এবং ৮ থেকে ১০ লাখ টন ফার্নেস অয়েল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি চেয়েছে। আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য বিপিসি ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং মাত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে মতামত দিতে বলা হয়।

দরপত্র ছাড়া ৮ কার্গো এলএনজি ও ২০০ ইলেকট্রিক বাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

০৬ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে জরুরি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আট কার্গো জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং পাঁচ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে দেশে আপৎকালীন এলপিজির চাহিদা পূরণ, এলপিজি বাজারে সরকারের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে স্পিড মার্কেটিং করপোরেশনের (স্পিড গ্রুপ) কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে পাঁচ হাজার টন এলপিজি কেনার প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ

০৮ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন কার্যক্রম বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এ-সংক্রান্ত গঠিত এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে চারটি ব্যবসায়িক গ্রুপ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ। এর মধ্যে বসুন্ধরা বাদে বাকি তিনটি কোম্পানি দেশে রিফাইনারি বসিয়ে ক্রুড অয়েল আমদানি করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি চেয়েছে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শুধু বসুন্ধরা গ্রুপ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আবেদন করেছে।

২৪ মে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (বিওজিসিএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। 

আবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং ২০৩০ সালে তা ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকবে ডিজেলের। 

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ চাহিদা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার অভিপ্রায়ে বসুন্ধরা গ্রুপ ঢাকার অদূরে কেরাণীগঞ্জে বার্ষিক ২২.১০ লাখ টন উৎপাদন পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করেছে। সেখানে উৎপাদিত জ্বালানির মধ্যে ফার্নেস অয়েল ও বিটুমিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা হচ্ছে এবং ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আপাতত বিপিসিকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অফিস আদেশে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন্স) আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিপিসির পরিচালক (অর্থ), পরিচালক (পরিকল্পনা), ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন), মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন), যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কার্যপরিধিতে ছিল বিদ্যমান পেট্রোলিয়াম আইন, বিধি ও নীতিমালার আলোকে বসুন্ধরার আবেদনের আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই; প্রস্তাবিত বার্ষিক আমদানি (ডিজেল ১৫-২০ লাখ টন, অকটেন ২ লাখ টন, পেট্রোল ১.৫ লাখ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৮-১০ লাখ টন) ও বিপণন কাঠামোর বাণিজ্যিক বাস্তবতা মূল্যায়ন; অনুমতি দেওয়া হলে বিপিসি এবং এর অধীন যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বাজার হিস্যা, রাজস্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ; দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামোর আলোকে আবেদনটির তুলনামূলক মূল্যায়ন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, কমিটি ২১ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির খসড়া নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। একই চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে ১০ আগস্টের মধ্যে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করায় বিচারকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আদালতে ভাঙচুর

০৯ আগস্ট ২০২৬, জাগো নিউজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের এজলাসে সরকারের সমালোচনা করার অভিযোগে মো. উজ্জল হোসেন নামের এক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় আদালতের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও এজলাস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিচারক মো. উজ্জল হোসেনকে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেধে দেন।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফজলে আজিম মিম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হওয়া একটি মামলায় হাজিরা দিতে নেতাকর্মীরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যান। এ সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেন বিচারক মো. উজ্জল হোসেন। এ ঘটনার পর আদালত থেকে বের হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন নেতাকর্মীরা।

জেলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী বলেন, ওই বিচারক ফ্যাসিস্ট। তাই তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে সরকার আগ্রহী: মন্ত্রী

১১ আগস্ট ২০২৬, জাগো নিউজ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমাদের সরকার প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি। বিশেষ করে এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আমরা আগ্রহী।’

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

মার্কিন প্রতিষ্ঠান গানভরের কাছ থেকে ১৩ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

১২ আগস্ট ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে আগামী ১৩ বছরে মোট ১১৭ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। 

আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন মার্কিন কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তি সই করবে পেট্রোবাংলা। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এই এলএনজি আমদানি করা হবে। 

অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, গানভর ইউএসএ এলএলসি বাংলাদেশকে চলতি বছর ৫ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। ২০২৭ সালে ৬ কার্গো ও ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। 

এই ১৪ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার ক্ষেত্রে দর নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ’তে এশিয়ার স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) প্রাইস হিসেবে পরিচিত জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) এর সঙ্গে অতিরিক্ত ০.০৮৭৫ ডলার।

এছাড়া, ২০২৮ সালে ৩ কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি সরবরাহ করবে কোম্পানিটি। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এর দাম অনুমোদন করা হয়েছে উত্তর আমেরিকার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি ‘হেনরি হাব’ এর ১২১ শতাংশের সঙ্গে আরও ৫.২০ ডলার। 

রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং

১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার রাতে লম্বা সময় ধরে লোডশেডিং হয়েছে। মধ্যরাতে বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

কোথাও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হয়েছে। ভ্যাপসা গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে ঢাকার বাসিন্দাদের।

রাত ৯টা থেকে দেড়টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন গার্ডেনের কিছু অংশ, কাজীপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, পশ্চিম রাজাবাজার, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রথম আলোর প্রতিবেদকেরা মাঝরাতে লোডশেডিংয়ের খবর জানিয়েছেন। রাত ১১টার দিকে এক প্রতিবেদক শেওড়াপাড়ায় গিয়ে দেখেন, তাঁর বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে বিদ্যুৎ আসে।

ব্যাটারি অটোরিকশা চার্জের কারণে মধ্যরাতে বিদ্যুৎ সংকট অস্বাভাবিক বাড়ছে: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী

১৩ আগস্ট ২০২৬, ইত্তেফাক

অবৈধ অটোরিকশার কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) রাজধানীতে তিনি এ কথা জানান।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার কারণে এমন একটি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা আগে ছিল না। এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে সংশ্লিষ্টরা উল্টো হামলা চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে ব্যাটারি অটোরিকশা চার্জের কারণে মধ্যরাতে বিদ্যুৎ চাহিদা অস্বাভাবিক বাড়ছে, বেশিরভাগ অটো অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে। সরকার সেগুলো প্রতিরোধে চেষ্টা করছে।

তিন বছরের মধ্যে আরও ৩ এলএনজি টার্মিনাল করার পরিকল্পনা

১৩ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সংকট তীব্র হওয়ায় ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল বসানোর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনায় অনলাইনে যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বেশির ভাগ ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ

১৪ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এর ফলে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্পকারখানা– সব খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ভারী শিল্পে। গ্যাস এবং এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় স্টিল, সিরামিক, কাচের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর উৎপাদনক্ষমতা শূন্যে নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব শিল্পাঞ্চলের ভারী শিল্পের বেশির ভাগ কলকারখানা বন্ধ ছিল। স্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী বড় কয়েকটি শিল্প গ্রুপের প্রায় সব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। 

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। 

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল গতকাল সমকালকে বলেন, গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো ন্যূনতম গ্যাস মিলছে না। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে গ্রুপের সব মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। 

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে এলএনজি খালাসে আপত্তি

কার্গো বিতর্কে ভুগছে দেশ

১৪ আগস্ট ২০২৬, যুগান্তর

একটি কার্গো। একে ঘিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশ। সৌদি আরামকোর পাঠানো এলএনজিবাহী কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ বলছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট। তাই এটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।

সরকার বৈরী আবহাওয়ার ‘অজুহাত’ দিলেও মূলত এই আপত্তির কারণেই তিন দিন ধরে কার্গোটি বহির্নোঙরে ভাসছে। এতে গ্যাসের সরবরাহে ভয়াবহ ধস নেমেছে। শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে হাহাকার দেখা দিয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক ১৮৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি করা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এগুলো হলো-মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল এবং দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপের সামিট এলএনজি টার্মিনাল। দুটিই আবার পরিচালনা করে এক্সিলারেট। এলএনজি খালাস না হওয়ায় ২০ জুলাই যেখানে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় করা হয়েছে ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। ১০ বছর আগেও এর চেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা এবং সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করে ওই কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এক্সিলারেট থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আরামকোর কার্গো সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করে গ্যাস খালাস করা যাবে না। কারণ, এ ধরনের কার্গো এই টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তাহলে এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হলো কেন। সরকারের পক্ষে এলএনজি আমদানিকারক রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালেও এ ধরনের কার্গোতে এলএনজি আমদানি করা হয়েছে এবং এক্সিলারেট সেই কার্গো থেকেই তা খালাস করেছে।

টিকে গ্রুপের বিনিয়োগে দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারি উৎপাদনে আসছে মার্চে

১৫ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। এর বিপরীতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রিফাইনারিগুলোর পরিশোধন সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ।

ফলে দেশের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই পরিশোধিত আকারে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। এ আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবার বেসরকারি খাতে বড় পরিসরে জ্বালানি তেল পরিশোধন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কনগ্লোমারেট টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। এটি চালু হলে প্রতিষ্ঠানটির মোট জ্বালানি তেল পরিশোধন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা ২২ লাখ টনে উন্নীত হবে, যা হবে দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারি। অন্যদিকে চাহিদার প্রায় ৫৭ শতাংশ জ্বালানি তেল দেশেই পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন রিফাইনারি বা পরিশোধনাগারটি চট্টগ্রামের জুলদায় সুপার পেট্রোকেমিক্যালে নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন রিফাইনারিটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে এটি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বর্তমান রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা ৫ লাখ টন। সম্প্রসারিত রিফাইনারির সক্ষমতা ১৭ লাখ টন। সব মিলিয়ে রিফাইনারি ও স্টোরেজ সক্ষমতা দাঁড়াবে ২২ লাখ টনে।

আমদানির ৭৫% কয়লা স্থানীয় উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা সরকারের

১৭ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশে প্রতি বছর তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানি করা হয় ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি টনের মতো। জীবাশ্ম এ জ্বালানি দেশের বড় ছয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উত্তোলন করা কয়লার পুরোটাই ব্যবহার হয় ওই এলাকায় স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। সরকার জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কথা জানিয়েছে। এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে বলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল) সূত্রে জানা গেছে। জ্বালানি বিভাগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে। 

জ্বালানিসংকট সামলাতেই তিন মাস, সমাধানের চেষ্টায় ধীরগতি

২০ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে তিন মাস পার হয়েছে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায়। সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস কেটেছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে। আর এখন প্রায় এক মাস ধরে চলছে গ্যাস–সংকট। সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের গতি ধীর।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটা ঠিক, জ্বালানিসংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয়। দেড় দশক ধরে সংকট বেড়েই চলেছে। আর দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে এলএনজি টার্মিনাল দুর্ঘটনা। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যবস্থাপনায়ও ঘাটতি দেখা গেছে। দ্রুত উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

গত মার্চে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। মার্চের প্রথম চার দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হারে তেল বিক্রি হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে সরকার রেশনিং চালু করলে আরও আতঙ্কিত হয় মানুষ। ফিলিং স্টেশনে ভিড় বাড়তে থাকে। কিছুদিন পর রেশনিং প্রত্যাহার করা হলেও সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। সরকারের একটার পর একটা সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দিতে থাকে। টানা প্রায় দুই মাস দিন-রাত ভিড় ছিল ফিলিং স্টেশনে। এপ্রিলের শেষ দিকে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, ফুয়েল পাস চালু ও বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পর ভিড় কমে আসে।

এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা হয়নি। এখনো নিয়মিত আমদানির ওপর ভরসা করেই চলছে জ্বালানি তেল খাত। এর মধ্যে দরপত্র ছাড়া সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে একের পর এক তেল কেনার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রথম দফায় তারা কেউ তেল সরবরাহ করেনি। এখন দ্বিতীয় দফায় আবার কয়েকটি কোম্পানিকে একই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ কোনো কারণে আমদানি ব্যাহত হলেই দেখা দেবে সংকট।

অন্য চেহারায় ফিরছে কুইক রেন্টাল

২২ আগস্ট ২০২৬, আগামীর সময়

ভোলার গ্যাস দিয়ে সেখানে ২২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবের মধ্যেই বেসরকারি খাতে বহুল বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল’-এর মতো তিন-চার বছর মেয়াদি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য সরকারের নির্দেশে সম্প্রতি পিডিবি দরপত্র আহ্বান করেছে, যার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর। এই কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত দরে মার্কিন ডলারে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। ফলে ডলারের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

শুরুতে কেন্দ্রটির মেয়াদ তিন বছর রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে পরে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়বে। এত স্বল্পসময়ের জন্য তুলনামূলক ছোট এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এতে বিদ্যুতের দাম বেশি পড়বে। সংকটও বাড়বে।

এদিকে, ১০০ মেগাওয়াটের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সিম্পল সাইকেল হওয়ায় এর জ্বালানি দক্ষতা কম। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক বেশি গ্যাস লাগবে। অন্যদিকে, পিডিবির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল, যার দক্ষতা অনেক বেশি।

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে

২৩ আগস্ট ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশের ওপর নতুন করে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসোএনএ) চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের বিপরীতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে এ চার্জ দিতে হবে। 

 

বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে আলাদা হিসেবে যুক্ত হবে এসএনএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই চার্জ নেওয়া হয়।

দরপত্র ডেকেও পাওয়া যায়নি এলএনজি, কাটছে না সংকট

২৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়াদেশ দেওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) একটি কার্গোও দেশে না আসায় বিপাকে পড়েছে সরকার। এখন চাহিদামতো এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে আগস্টের জন্য তিন কার্গো এলএনজি কিনতে তিন দফায় দরপত্র ডেকে পাওয়া গেছে দুটি। ফলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না, কাটছে না সংকট।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, প্রতি দরপত্রে এলএনজির দাম বাড়ছে। ডিপিএম না করে আগে দরপত্র ডাকা হলে কম দামে এলএনজি পাওয়া যেত।

গ্যাস সংকটের প্রভাব রূপপুরেও

বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

২৪ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশে গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পরিকল্পনায়ও পড়তে শুরু করেছে।

কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের। এ লক্ষ্যে চলছে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ। তবে এর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় স্পিনিং রিজার্ভ (আপৎকালে ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র) নিয়ে রয়ে গেছে বড় ধরনের জটিলতা। আর এ সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট।

স্পিনিং রিজার্ভ বলতে এমন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাকে বোঝায়, যা ওই মুহূর্তে উৎপাদনে ব্যবহার না হলেও সবসময় প্রস্তুত অবস্থায় থাকে। কোনো কারণে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে এ রিজার্ভ সক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে এসে গ্রিডের ঘাটতি পূরণ করবে। এতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিতের জন্য গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহারের কথা বলেছিল রাশিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল সেন্টার অব ইউনিফায়েড পাওয়ার সিস্টেম (এসটিসি-ইউপিএস)। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বড় ইউনিট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের রিজার্ভ গ্রিডের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত স্পিনিং রিজার্ভ নেই। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সে রিজার্ভ রয়েছে।

ফুলবাড়ী যাচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি, ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু

২৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

‘ফুলবাড়ী গণ–অভ্যুত্থানের’ ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে আগামী বুধবার (২৬ আগস্ট)। এ উপলক্ষে ঢাকা থেকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পর্যন্ত একটি প্রচারযাত্রার আয়োজন করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। আজ সোমবার সকালে ঢাকায় এই প্রচারযাত্রার উদ্বোধন হয়েছে।

আগামী বুধবার ফুলবাড়ীতে অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন অধিকার কমিটির নেতা–কর্মীরা। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলে সরকারকে বাধ্য করার শপথের মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ীতে প্রচারযাত্রাটি শেষ হবে।

আজ সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এই প্রচারযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী অভ্যুত্থানে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ফুলবাড়ীবাসীর পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি জানান, প্রচারযাত্রাটি হচ্ছে চারটি দাবিতে—দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধ করা।

আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারি বানাচ্ছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল!

২৩ আগস্ট ২০২৬, জাগো নিউজ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙ্গারচরে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ (ক্যাটালিস্ট রিফরমিং ইউনিট) প্ল্যান্ট আছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্টটি পুরোদস্তুর রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কয়েক মাসের মধ্যে রিফাইনারিটি উৎপাদনে যাচ্ছে বলেও খবর চাউর আছে।

বছরে সাড়ে ছয় লাখ টন ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্রসেসিং সক্ষমতা আছে প্ল্যান্টটির। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনুমোদন না নিয়েই এটিকে পৌনে ২৬ লাখ টনের পুরোদস্তুর রিফাইনারিতে সম্প্রসারণ করার চেষ্টা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সুপার পেট্রোকেমিক্যালের সিআরইউ প্ল্যান্টটিকে রিফাইনারিতে সম্প্রসারণের তথ্য জানা নেই অভিভাবক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। এমনকি সম্প্রসারণ ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির করা আবেদন প্রায় ৯ মাস আগে নাকচ করে দেয় সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

ফুলবাড়ীর ‘কয়লা বিক্রি’ থামায়নি এশিয়া এনার্জি

২৬ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া থেমে গেছে ২০০৬ সালে। তবে থামেনি এশিয়া এনার্জি; নাম বদলে জিসিএম রিসোর্সেস নামে তৎপরতা চালাচ্ছে। নিয়মিত ব্যবধানে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে অগ্রগতির দাবি করছে তারা। আর লন্ডন শেয়ারবাজারে চাঙা হচ্ছে তাদের শেয়ারের দাম। এভাবেই মাটির নিচে পড়ে থাকা ফুলবাড়ীর কয়লা ‘বিক্রি’ করে যাচ্ছে এশিয়া এনার্জি।

জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এখন কোনো সম্পর্ক নেই। খনি উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা তারা জমা দিয়েছিল ২০০৫ সালে। এটি যাচাই করতে ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১২ সালে আলাদা তিনটি কমিটি করেছিল তিন সরকার। তিনটি কমিটির প্রতিবেদনেই ফুলবাড়ী প্রকল্পের বিপক্ষে মতামত দেওয়া হয়।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়লা কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার দিনাজপুরে কয়লাসম্পদ অনুসন্ধানের লাইসেন্স-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট। ফুলবাড়ীতে সমৃদ্ধ কয়লাখনির অস্তিত্ব খুঁজে পায় তারা। কিন্তু ১৯৯৭ সালে এশিয়া এনার্জি নামে একটি কোম্পানির হাতে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ছেড়ে যায় বিএইচপি।

সৌরবিদ্যুতে ঝুঁকছে বড় শিল্পগোষ্ঠী, নিজেরাই উৎপাদন করতে পারে ৬০০ মেগাওয়াট

২৬ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ডিবিএল গ্রুপ তাদের ৭টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানার ছাদে ৫ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করেছে। পাশাপাশি নতুন করে সিরামিক, তৈরি পোশাকসহ ১০টি কারখানায় ১৬ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। এর মধ্যে চলতি বছর উৎপাদনে আসবে ৮ মেগাওয়াট। বাকিটা আগামী বছর।

জানতে চাইলে ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্বালানিনিরাপত্তা ও বিদেশি ক্রেতাদের কার্বন নিঃসরণের চাপ থাকায় আমরা দ্রুত সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ করছি। নতুন প্রযুক্তি আসায় এখন সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগের চেয়ে সময় কম লাগছে। কারখানার ছাদের সৌরবিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ছে ৬ থেকে সাড়ে ৬ টাকা।’

ডিবিএল গ্রুপের মতো বড় শিল্পকারখানাগুলো এখন দ্রুতগতিতে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। গত দশকে সরকারের নীতি ও বিদেশি ক্রেতাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর চাপে পড়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন শুরু হয়। জ্বালানিসংকট প্রকট হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় তিন বছর ধরে সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা জানান, শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের যতগুলো বড় প্ল্যান্ট হয়েছে, তার অধিকাংশই হয়েছে গত দুই বছরে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদনক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপিত হয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে।

অন্য দেশের চেয়ে বেশি দামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ

২৮ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

রাজধানীর আমিনবাজারে চীনা বিনিয়োগে বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্টে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। তবে প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরকার কিনবে ২৫ টাকায়। চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রকল্পে সরকার তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ কিনছে।  

দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নতুন নয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নেওয়া এ ধরনের প্রকল্পের কোনোটিই উৎপাদনে যেতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় গত জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আমিনবাজার ও মাতুয়াইলের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সাধারণত ১২-১৪ টাকা এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের গড় ব্যয় ২২-২৪ টাকার মতো। আন্তর্জাতিকভাবে বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রকল্পভেদে ভিন্ন হলেও ভারতের সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রকল্পে তা ইউনিটপ্রতি ৬-৮ রুপির মধ্যে; বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮-১১ টাকা। চীনে প্রতি ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুৎ সরকার কেনে (বেঞ্চমার্ক ট্যারিফ) শূন্য দশমিক ৬৫ ইউয়ানে, যা ১১-১২ টাকা। 

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ট্যারিফ দিয়ে বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা বাদ পড়ে যায়। এখানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মূল বিষয়। বিদ্যুৎ বাইপ্রডাক্ট। তাই দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তুলনা করলে তা সহনীয়। 

আমিনবাজারে বড় বিনিয়োগ

আমিনবাজার প্রকল্পে চীনের সিএমইসি গ্রুপ বিনিয়োগ করবে। প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রেখে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রকল্পের আগের হিসাব অনুযায়ী ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ না থাকলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে।

কেন্দ্রটি নির্মাণে আওয়ামী লীগ সরকার দরপত্র আহ্বান করে। তাতে ১৭টি কোম্পানি অংশ নেয়, কাজ পায় চীনা কোম্পানি সিএমইসি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চুক্তি হয়েছিল। বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল ২০২৫ সালে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম  ধরা হয়েছিল ২১ সেন্ট, যা তখনকার মুদ্রার দামে ২১.২৯৫ টাকা পড়ে। এখন তা ২৫ টাকা ।

বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সিএমইসি বাংলাদেশের জয়েন্ট স্টকে একটি কোম্পানি নিবন্ধনও করেছে, এর নাম ডব্লিউটিই পাওয়ার প্লান্ট নর্থ ঢাকা প্রাইভেট লিমিটেড।

এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি), বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠন। তাদের অভিযোগ, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক বেশি।

সংগঠনগুলোর মতে, কেন্দ্রটি ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে ইউনিটপ্রতি দাম পড়বে ২৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সক্ষমতা ৪০ শতাংশে নেমে এলে তা ৪৭ টাকা এবং ২০ শতাংশে নামলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কম সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৫৮ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার বা ৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জের ঝুঁকিও রয়েছে। 

এ ছাড়া ডিএনসিসিকে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য সরবরাহের শর্ত দেওয়া হয়েছে। ঘাটতি হলে প্রতি টন বর্জ্যের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, এতে বর্জ্য কমানোর বদলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদনের চাপ তৈরি হতে পারে।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বর্জ্য পোড়ানোর কারণে ডাইঅক্সিন, ফিউরান, ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম কণার মতো দূষিত পদার্থ তৈরি হতে পারে। তাদের হিসাবে, আমিনবাজার প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় চললে বছরে প্রায় ৪ লাখ ১১ হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হতে পারে। তাদের প্রস্তাব, মিশ্র বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বদলে বর্জ্য আলাদা করে পুনর্ব্যবহার, কম্পোস্টিং ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মাত্র ৬০০ কোটি টাকার জন্য ফেলে রাখা হয় ভোলার গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প

৩০ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস ব্যবহারে ২০১৮ সালে পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের।

প্রকল্পে ব্যয়ের প্রাথমিক প্রাক্কলন ছিল ৬০০ কোটি টাকা। ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ধরা হয়েছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমানে একটি এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ সক্ষমতার কাছাকাছি। কিন্তু প্রকল্পটি সে সময় বাস্তবায়ন হয়নি অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও পতিত আওয়ামী সরকার ঘনিষ্ঠ এলএনজি আমদানি লবির তদবির ও দেনদরবারে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ত এবং ভোলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা শুরু হতো। অন্যদিকে এখন সেই পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত, বেড়েছে লোডশেডিং

২৮ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

চলমান গ্যাস–সংকটের সঙ্গে কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে হঠাৎ করে দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। আর সব সময়ই কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণে থাকে, এখনো আছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এ সময় গরমে চাহিদা বাড়তে থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি।

দেশে এখন মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩৭টি। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র সরকারি, ৭০টি বেসরকারি ও ৩টি কেন্দ্র ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার মধ্যে ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ছিল। বাকিগুলো সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করেছে। ফলে গতকাল দিনের বেলাতেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট।

‘লোডশেডিং নিয়ে লেখা শেয়ার করায়’ তরুণকে মারধর, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

৩০ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে ফেইসবুকে লেখা শেয়ার করায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক তরুণকে তুলে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে আড়াইহাজার বাজার এলাকায় থানার পাশে একটি ক্লাব ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন।

ভুক্তভোগী ২২ বছরের তরুণ আরাফাত হোসেন (২২) উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলার বেনু ফকিরের ছেলে। তিনি সরকারি সফর আলী কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

অতিরিক্ত লোডশেডিং: নরসিংদীতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ

৩০ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে নরসিংদীর মাধবদীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস ঘেরাও এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ও মহাসড়কে অবস্থান করেন স্থানীয় টেক্সটাইলের কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাধবদী থানা পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে যান। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে।

এলএনজি কেনায় বারবার ভুল

বড় মাশুল দিচ্ছে অর্থনীতি

৩০ আগস্ট ২০২৬, যুগান্তর

গ্যাসের সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছেই না। সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় (ডিপিএম) কেনা ব্ল্যাক কিউব কোম্পানির যে এলএনজি কার্গোটি ৬ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল, তাও অনিশ্চিত। তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো জমা দিতে পারেনি পেট্রোবাংলার কাছে। এমনকি ব্ল্যাক কিউবের কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে যোগাযোগই করছেন না। এই কার্গো না এলে সপ্তাহজুড়ে আবারও গ্যাস সংকট লেগেই থাকবে। এদিকে সারা দেশে এখনো লোডশেডিং প্রকট। আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শনিবার যুগান্তরকে বলেছেন, নেপাল যে দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত, সেই দুটি বন্যায় দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন অন্য কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চেষ্টা চলছে।

কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র করতে চান এমপিপত্নী, আপত্তির ২৭ দিন পরেই পেলেন অনাপত্তিপত্র

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ময়মনসিংহের ভালুকায় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ৪৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ‘কৃষিজমি’ উল্লেখ করে প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল কৃষি বিভাগ। পরে ‘চাপের মুখে’ অনাপত্তিপত্র দিতে কৃষি বিভাগ বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কাগজে-কলমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এই কোম্পানির চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার। তিনি ময়মনসিংহ-১১ আসনে (ভালুকা) বিএনপির সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। স্থানীয় মানুষের কাছে ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন সংসদ সদস্যের (এমপি) মালিকানাধীন কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।

ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন করলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আগে স্থানীয়দের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন।

আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই রাজনীতি করি এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। অবশ্যই আমরা দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধান করতে চাই। ফুলবাড়ীয়ায় যে কয়লার খনি আছে সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কয়লার একটি।’

‘আমরা এই কয়লা উত্তোলন করে যদি আমাদের জ্বালানি সংকট মেটাতে পারি, অবশ্যই সেটা যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করবে, একইভাবে দেশের জন্য সেটি ভালো হবে,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অবশ্যই সেই কয়লা উত্তোলন করতে গেলে ওপেন পিট (উন্মুক্ত পদ্ধতি) যদি করতে হয়, স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বসতবাড়ি আছে, কৃষিজমি আছে। আমরা যেহেতু রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, অবশ্যই সবার আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেই মানুষদের আগে সেটেলমেন্ট করা যায়।’

‘তাদের সেটেলমেন্টের ব্যবস্থা করে, তাদের আয়-রোজগার যেন বন্ধ না হয় এবং সেই প্রকল্প গ্রহণ করলে সেখান থেকেও যেন তারা কোনো না কোনোভাবে সুবিধা পেতে পারে, সেসব পর্যালোচনা করেই এবং পরিবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব,’ যোগ করেন তিনি।

ছয় মাসে ৩টির অনুমোদন, সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ দুই বছরে ১০০ কূপ খনন

৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ কূপ খননের উদ্যোগ নেয়। এসব কূপ আগামী ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে করা হবে বলে সরকারের পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়। এরই মধ্যে ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে, এ সময়ে কেবল তিনটি কূপ খননের অনুমোদন দিতে পেরেছে সরকার। আর এ তিনটি কূপই খনন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

কূপ খননের অনুমোদন দেয়ার এ ধীরগতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরেরও কম সময়ে বাকি ৯৭টি কূপ খনন করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেয়া ৫০টি কূপ খননের প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়নি।

সেফটি ভালভের ত্রুটি, অনিশ্চিত রূপপুরের বিদ্যুৎ

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। ভালভের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ ত্রুটি মেরামত হবে এবং কখন গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সময়সীমা দিতে পারছে না সরকার।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামি আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্জন তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিদ্যুৎ-গ্যাস খাত সংস্কারে নেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, আমদানি ও নতুন বড় প্রকল্পেই বেশি ঝোঁক

৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে বাড়ানো হবে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা, নির্মাণ করা হবে গ্যাসভিত্তিক ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নেয়া হবে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মতো বড় প্রকল্প। ২০৩১ সালের মধ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোডম্যাপে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার কীভাবে করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশল ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা কী, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা নেই। বরং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতার বিষয়টি সামনে রেখে জ্বালানি নিরাপত্তার নামে নতুন অবকাঠামো ও বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকেই সরকারের ঝোঁক বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা।

ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে গণ-আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ২০০৬ সালের মতো আবারও বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।

সংগঠনটি জানিয়েছে, ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কোনোভাবেই পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কয়লা খনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রী যেই বক্তব্য দিয়েছেন আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ২০০৬ সালের আন্দোলনে তরিকুল, সালেকিন ও আমিন নিহত হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ৬ দফা চুক্তি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।

বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ সিস্টেম লস তিতাসের

৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। কোম্পানিটির বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রতি বছর হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস, যা সিস্টেম লস হিসেবে বিবেচিত হয়। গত পাঁচ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট সিস্টেম লস হয়েছে ৪০৯ কোটি ঘনমিটার। বাংলাদেশে আমদানি করা একেকটি এলএনজি কার্গোতে সাধারণত ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ গ্যাস থাকে। সে হিসাবে তিতাসের পাঁচ বছরের সিস্টেম লস ৪৫ থেকে ৪৮ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ। অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থায় হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্পে গভীর রাতে আগুন, ৪৩ ঘণ্টাতেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর অনলাইন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাওনিয়ার বেজে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

ঘটনার প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্তও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি না থাকায় প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

দেশের বালুতে মূল্যবান খনিজের খোঁজে পরমাণু শক্তি কমিশন

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

দেশের নদী ও উপকূলের বালুতে থাকা মূল্যবান খনিজের সম্ভাবনা যাচাইয়ে নতুন করে অনুসন্ধানে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি)। ভোলা, পটুয়াখালী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় বালুর নমুনা সংগ্রহ করে খনিজের ধরন, পরিমাণ ও মান যাচাই করা হবে। পাশাপাশি এসব খনিজ আলাদা করা এবং শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করার প্রযুক্তি নিয়েও গবেষণা হবে।

এ কাজে বেসরকারি অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড (ইএমএল)। গতকাল মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তিন বছরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বিএইসি। কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং এভারলাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসাইন টিটু নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে সই করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

বিকল্প থাকলেও সরকারের পছন্দ খরুচে চীনা কোম্পানি

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সরকার যে প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে, ৩৮ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির দেওয়া আরেকটি প্রস্তাবের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এনএস এনার্জি নেভিগেশনের প্রধান নির্বাহী ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্যের নাতি। ফলে বাছাই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দুটি প্রস্তাবের মধ্যে মিল এতটাই বেশি যে, চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিএনইই) ১৯ জুন যে প্রস্তাব জমা দিয়েছে, তাতে থাকা একটি প্রকল্পের মানচিত্রে আগের প্রস্তাবদাতার নাম রয়ে গেছে: ‘প্রোপোজড এনএস এনার্জি এফএসআরইউ’।

অন্য কয়েকটি বৈশ্বিক কোম্পানি কম দর প্রস্তাব করলেও ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিএনইইর প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দেয়।

ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ল লিটারে ২০ টাকা

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। আর পেট্রলের নতুন দাম প্রতি লিটার ১৬০ টাকা ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা।

আজ রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

জ্বালানি বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিগত পাঁচ মাস দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি।

কেরোসিনের দাম লিটারে ১৩৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বিএনপি সরকারের ৭ মাসে তেলের দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা। জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এর চাপ নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০০, ১১২, ১১৬ ও ১২০ টাকা।  এই দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে এই দামই বহাল ছিল।  এপ্রিলের মাঝামাঝি হুট করে বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বাড়তে থাকায় ১৮ এপ্রিল রাতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। 

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিলম্ব

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহন বিলম্বিত হয়েছে।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চালানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টেলিফোনে এএনআইকে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো উড়োজাহাজ ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে ফ্লাইটটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।”

‘‌সিলিন্ডার নাই, ২৪০০ টাকা দিলে ম্যানেজ করে দিতে পারি’

৪ অক্টোবর ২০২৬, জাগো নিউজ

টঙ্গীর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতা মো. মিঠু রহমান। ছোট দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করেন। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে ক্রেতা সেজে তার কাছে সিলিন্ডার কিনতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। তবে প্রথমে ‘সিলিন্ডার নেই’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। কিন্তু ‘গ্যাস না থাকায় বাসায় রান্না হচ্ছে না, যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে দেন’— বলার পর ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ৪০০ টাকা দাম চান।

এই বিক্রেতা বলেন, ‘সিলিন্ডার এমনিতেই নেই। দাম ২ হাজার ৪০০ টাকা দেবেন। দেখি যদি ম্যানেজ করে দিতে পারি। বিকেলে একবার ফোন দিয়েন।’

শুধু টঙ্গী নয়, এমন বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির চিত্র রাজধানী, রাজধানীর আশপাশের এলাকাসহ সারাদেশেই। অথচ ১২ কেজির এই সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অথচ নির্ধারিত এই দামে সিলিন্ডার বিক্রির নজির কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

০৪ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২১ টাকা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা। এতে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে গত মাসে দাম কমেছিল ১৩ টাকা।

আজ রোববার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এলপিজির দাম বেড়েছিল। এরপর যুদ্ধবিরতি শুরু হলে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। গত দুই মাস ধরে ওঠানামার মধ্যে ছিল। এ মাসে আবার বড় রকমের উল্লম্ফন দেখা গেল।

যদিও গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার চেয়ে এলপিজি সরবরাহ কমেছে বাজারে। এতে করে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল, বিক্রি হচ্ছে আরও বেশিতে, সরবরাহ বাড়বে কি

০৫ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি দিয়ে কিনতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এর মধ্যেই গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়তে পারে বাজারে।

গতকাল নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। যদিও বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি সূত্র বলছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সরবরাহ কমাতে শুরু করেছে কোম্পানিগুলো। শুরুর দিকে ৩০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে ৫০ শতাংশের বেশি সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কোম্পানির ডিপোতে ডিলারদের ট্রাকের সারি অপেক্ষা করছে। এতে করে ট্রাক ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। তাই নির্ধারিত দামে বিক্রি সম্ভব নয়। বিইআরসি দাম বাড়ানোর পর কোম্পানিগুলো থেকে বাড়তি সরবরাহ শুরু হয়েছে। মাসের মাঝখানে দাম বাড়ালে হয়তো সরবরাহ ঘাটতি হতো না। এখন সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

কলকাতায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৮৭ টাকা, বাংলাদেশে ১৫৩

০৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নির্ধারিত দাম বাংলাদেশে বেশি। বাংলাদেশে প্রতি কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ১৫৩ টাকা। ভারতের কলকাতায় তা ৮৭ টাকা। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এলপিজির নির্ধারিত দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম।

বাংলাদেশে দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অবশ্য সেই দাম কখনোই বাজারে কার্যকর হয় না। যেমন এখন ১২ কেজির এক সিলিন্ডার গ্যাসের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। কিন্তু ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন

০৭ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

ঢাকা-চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

২৭ অক্টোবর ২০২৬, মানবজমিন

ঢাকা-চট্টগ্রামের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিপর্যয় হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এজন্য আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যায়।  ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের আইসিটি ও অপারেশন পরিচালক রবিউল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এতে করে বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।  সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রেসক্লাবসহ মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকাতেও বিদ্যুৎ নেই। 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ‘এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানা যায়নি।’

পরিবেশ

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ: ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ, বিয়েও হচ্ছে না কারো কারো

৩১ জুলাই ২০২৬, বাংলা ভিশন অনলাইন

* বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষিত আবর্জনা ফেলা হচ্ছে যত্রতত্র, কয়লা পরিবহনেও মানা হচ্ছে না আইন

* ২১ জন নারীর ওপর জরিপে ১৭ জনের শরীরে মিলেছে চর্মরোগ

* উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ বছরে স্কিন ডিজিজের রোগী বেড়েছে ৩ গুণ

* প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ৩০% এলার্জি রোগী

* পানি দূষণে পায়রা নদীতে মিলছে না ইলিশ, বায়ু দূষণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী ইউনিয়নের সালেহা বেগম। মুখের মতোই তার সারা শরীরেও ছড়িয়ে পড়েছে চর্ম রোগ। দুঃসহ এ যন্ত্রণায় স্বাভাবিক জীবনই যেন থেমে গেছে এই নারীর। তার অভিযোগ, এলাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরই তার শরীরে অস্বাবিকভাবে বেড়েছে চুলকানি।

সালেহা বেগম বাংলাভিশনকে বলেন, যখন থেকে এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয় তার পর থেকে পানিতে গোসল করলেই শুরু হয় চুলকানি। এখন এমন অবস্থা যে সারা শরীরে এই চুলকানি ছড়িয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে জ্বালাপোড়ায় আমি কাদি।

তারা বানু নামের আরেক নারী বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র হওয়ার পর থেকে সারা শরীরে চুলকানি শুরু হয়েছে। চুলকানিতে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া করে। বহু ওষুধ খেয়েছি। আমরা গরিব মানুষ। অত ওষুধ খেতে পারি না, জ্বালাপোড়া শুরু হলে ফ্যানের নিচে গেলে একটু ভালো লাগে কিন্তু আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎও নাই। খুব কষ্ট করছি।

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ীতে ২০২৩ সালে চালু হয় বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সেই থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক হারে চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ স্থানীয়দের। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এ চর্মরোগের কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে ওই এলাকায় অনেক তরুণীর বিয়েও ভেঙে যাচ্ছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র লাগোয়া বড় অঙ্কুজানপাড়ার ২১ জন নারীর ওপর জরিপ চালিয়ে ১৭ জনের শরীরেই  চর্মরোগ পাওয়া গেছে। অন্য ৪ জনেরও ছিলো পরিবেশ দূষণজনিত রোগ।  

আসলেই কি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে চর্মরোগ বেড়েছে? বুঝতে বরগুনার তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী ভর্তির পরিসংখ্যান ঘেটে দেখা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর বছর ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ওই এলাকায় স্কিন ইনফেকশনজনিত রোগী বেড়েছে সাড়ে তিন গুণেরও বেশি, ডায়রিয়ার রোগী প্রায় আড়াই গুণ, আর অশনাক্ত বিষক্রিয়ার রোগী বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। 

সিলগালার পরও কেন ইয়ুথ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে গুলশান পার্ক?

১২ আগস্ট ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল পার্কের (শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক) ভেতরে অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগে সেখানে থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের কার্যালয় সিলগালা করেছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পাঁচ মাসের মাথায় সেই একই ক্লাবের কাছে পার্ক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে সংস্থাটি।

পার্কটিতে কোনো ধরনের স্থাপনা না রাখতে রায় দিয়েছিল হাই কোর্ট। এরপর ডিএনসিসি ও সংশ্লিষ্টদের আদালত অবমাননা সংক্রান্ত আইনি নোটিশও দেওয়া হয়েছিল।

এরপরও রাজউক চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই গত ২৫ এপ্রিল সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে পার্ক পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ইয়ুথ ক্লাবকে। ফলে আদালতের নির্দেশ অমান্য পার্কের নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীরা।

৮ দশমিক ৮৭ একর জায়গাজুড়ে থাকা গুলশানের ১৩০এ নম্বর প্লটটি মূলত পার্ক হিসেবে নির্ধারিত। পার্কটি ঘিরে বছরের পর বছর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের দখল, স্থাপনা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

আগাছা মারতে প্যারাকোয়াট, মরছে মানুষ: ৭৭ দেশে নিষিদ্ধ, বাংলাদেশে চলছে কীভাবে

১৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো 

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে গত জুলাইয়ে ১১৭ জন রোগী বিষক্রিয়া নিয়ে ভর্তি হন। এ জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বরাবরই বেশি। তবে ইদানীং আগাছানাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টার প্রবণতা বেড়েছে। জুলাইয়ে ১১৭ জন রোগীর মধ্যে বেশির ভাগ আগাছানাশক পান করেছিলেন বলে জানায় হাসপাতাল সূত্র।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিকাজে আগাছানাশক হিসেবে ব্যবহৃত অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘প্যারাকোয়াট’ বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ১০টি হাসপাতালের তথ্য নিয়ে করা ওই গবেষণা বলছে, ২০১৩ সালে দেশে প্যারাকোয়াট পানে বিষক্রিয়ায় একটি মৃত্যুর ঘটনার রেকর্ড পাওয়া যায়। ২০২৪ সালে একই রাসায়নিক পানে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা ২১২। দেশে আত্মহত্যার উপকরণ হিসেবে প্যারাকোয়াটের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটা পান করলে ধুঁকে ধুঁকে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হয়।

আমেরিকান সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন সাময়িকীতে গত মে মাসে ‘ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ল্যাবরেটরি প্রোফাইল অব প্যারাকোয়াট পয়জনিং: এ টক্সিকোলজিক্যাল ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকতে বালিয়াড়ির ওপর দিয়ে সড়ক, পরিবেশকর্মীদের ক্ষোভ

২৪ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি ভরাট করে শহর রক্ষা বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে দাবি পরিবেশ অধিদপ্তরের।

প্রকল্পটির কাজ বন্ধ রাখার দাবিতে গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। পরিবেশ আইন ও উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় এই সড়ক নির্মাণের কাজ কেন বন্ধ করা হবে না জানতে চেয়ে গতকাল আইনি নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। দুই সচিবসহ আট সরকারি কর্মকর্তাকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দেশে ইলিশ আহরণে ধসের নেপথ্যে কী

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

টানা দুই দশক উৎপাদন বাড়ার পর এখন দেশে ইলিশের আহরণ কমতে শুরু করেছে। ইলিশের অভয়াশ্রমের কাছে থাকা তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানিদূষণ, নদীতে পলি জমা এবং অতিরিক্ত মাছ ধরাকে এর প্রধান কারণ মনে করা হচ্ছে। এতে জাতীয় মাছের ভবিষ্যৎ এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এর দাম রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কয়েক দশক ধরে ইলিশ নিয়ে গবেষণা করেছেন আনিসুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক পরিচালক। তার ভাষ্য, ইলিশের সংখ্যা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশ আহরণ হয়েছে ৫ লাখ টন। আগের বছরের তুলনায় এটা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

দেশের বড় নদীগুলোতে ইলিশ কমে যাওয়ার পেছনে শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণের কথা বেশি উল্লেখ করা হলেও পটুয়াখালী ও বরগুনায় থাকা তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ইলিশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিজিক্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ওই এলাকায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন, বেড়ে ওঠা ও টিকে থাকার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক খোরশেদ আলম বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আনা নেওয়ার জন্য জাহাজ চলাচল করে। এতে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া পোড়া কয়লার ছাই এবং কেন্দ্র থেকে বের হওয়া তরল বর্জ্য ইলিশের জন্য প্রয়োজনীয় প্ল্যাঙ্কটনসমৃদ্ধ পানির পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার আগের সময়ের তুলনায় ওই এলাকার পানির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে।

খোরশেদ আলম বলেন, এই দূষণের কারণে সেখানে গত তিন বছরে ইলিশের আহরণ ৪৫ শতাংশ কমেছে।

মহেশখালীর বনও ধ্বংসের পথে, আপত্তির পরও ভেতর দিয়ে হচ্ছে পাকা সড়ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। আপত্তি সত্ত্বেও চালানো হয়েছে নির্মাণকাজ।

তাদের মতে, পাকা সড়ক নির্মাণ অব্যাহত থাকলে সংরক্ষিত বনটি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ২২ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বনের দুর্গম অংশগুলো উন্মুক্ত হয়ে যাবে। এতে দখল, বন উজাড় ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের ঘটনা ঘটতে পারে, বলেন কর্মকর্তারা।

খাল হয়ে ভেসে আসছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া তেল, সাঙ্গু নদে দূষণ

০৪ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ড্রেন থেকে বের হচ্ছে কালচে তৈলাক্ত বর্জ্য। সেই বর্জ্য গিয়ে পড়ছে পাশের খালে। আবার খাল হয়ে কিছু দূরে গিয়েই এসব বর্জ্য মিশছে সাঙ্গু নদে। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য দেখা যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নে।

এলাকাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পোড়া ফার্নেস অয়েলের স্লাজ আশপাশের খাল, কৃষিজমি ও সাঙ্গু নদে দূষণ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের।

গত শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৩০০ মিটার পূর্বে উত্তর কালিয়াইশের মইল্যার ডেবা (জলাধার) এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়েছে একটি খাল। মইল্ল্যা খাল নামের খালটি প্রবাহিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ পাশ দিয়েই। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে মলেয়াবাদ গ্রামের চাগাচর এলাকায় সাঙ্গু নদে মিশেছে খালটি।

সুন্দরবনের বাতাসে দূষণ

১১ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

বন–বনাঞ্চলকে বিশুদ্ধ বায়ুর আধার হিসেবে ধরা হয়। তবে বিশ্বের বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে পাওয়া গেছে ভিন্ন চিত্র। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সুন্দরবনের কয়েটি স্থানে মানমাত্রার চেয়ে বেশি অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫ এবং ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ১০ পাওয়া গেছে।

পরপর দুই বছর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরবনের খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে চালানো এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের পানিতে শুধু নয়, বাতাসেও লবণাক্ততা আছে। সেটির সঙ্গে যখন পিএম ২.৫-এর মতো দূষিত পদার্থ যোগ হয়, তখন গাছপালা, মৌমাছি, পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গবেষণাটি করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন। সুন্দরবনের প্রাণী, বায়ু, মাটি, পানি ও বৃক্ষসম্পদ তথা সামগ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা নিয়ে ‘ইকোলজিক্যাল মনিটরিং অব সুন্দরবন’ শীর্ষক প্রথম এই বেজলাইন স্টাডি (ভিত্তিমূলক সমীক্ষা) করা হয়। এর অংশ হিসেবে বায়ুপরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে এক কর্মশালায় এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

দূষণের উৎস কোথায়

এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সিআইজিইএসের পরিবেশবিশেষজ্ঞ মুতাসিম বিল্লাহ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গবেষণায় আমরা অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫–এর পরিমাণ বেশি পেয়েছি শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে। পশুর চ্যানেল, চাঁদপাইয়ে জাহাজ থেকে সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার ও কয়লা খালাস করা হয়। খালাসের সময় যে ধুলা তৈরি হয়, সেটিই অতিক্ষুদ্র বস্তুকণার উপস্থিতির কারণ হতে পারে।

পশুর নদের তীর ঘেঁষে সিমেন্ট কারখানাগুলোর নিজস্ব জেটিতে ক্লিংকার খালাস করা হয়। অন্যদিকে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা কয়লা খালাস করা হয় পশুর চ্যানেলে।

প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন বুড়িগঙ্গার পারে মিলবে ভারী শিল্পের অনুমোদন

১৭ অক্টোবর ২০২৬, বণিক বার্তা

বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী উন্মুক্ত স্থানে (ওপেন স্পেস) এবার ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কৌশলগত বন্যাপ্রবাহ এলাকা সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়ে আবাসন প্রকল্প নির্মাণের সুযোগও দেয়া হয়েছে। অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত রাজধানীর পরিবেশ, জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ও বাসযোগ্যতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকায় ভারী শিল্প স্থাপনের অনুমোদন পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কেননা বিদ্যমান শিল্প ও কলকারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য এবং রাসায়নিক পদার্থ সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে এমনিতেই মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এর প্রতিবেশ।

ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত নাগরিক সেবা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে ঢাকা। এ পরিস্থিতিতে ২০২২-২৩ সালে প্রণীত ড্যাপে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় জনঘনত্ব কমিয়ে নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ এবং বন্যাপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে আবাসন ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের আপত্তির মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভবনের উচ্চতা ও জনঘনত্বসংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও একই পরিকল্পনায় সংশোধনী আসে। এর বাইরে বন্যাপ্রবাহ এলাকাসহ কয়েকটি বিষয়ের সংজ্ঞাও পরিবর্তন করা হয়েছিল। নগর পরিকল্পনাবিদরা অবশ্য বলছেন, সর্বশেষ সংশোধনীগুলো আগের সব পরিবর্তনকে ছাড়িয়ে গেছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২-এর উপসচিব মোছা. লুৎফর নাহার নাজীমের সই করা ১৪ অক্টোবরের এক প্রজ্ঞাপনে ড্যাপের তিনটি সংশোধনী আনার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রক্রিয়া ও অংশীজনদের মতামত গ্রহণ ছাড়াই এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিযোগ।

সুন্দরবনের ঝুঁকি রেখেই এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ

২০ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম

সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই গ্যাস মোংলায় নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হবে। অথচ সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষায় রয়েছে আইন ও বিধিমালা।

১৯৯৯ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে এই সীমানার ভেতর বনের জন্য ক্ষতিকারক এমন কোনো শিল্প স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৩ সালে প্রণীত পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় গ্যাস টার্মিনাল ও ২৫ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ গ্যাস বিতরণ পাইপলাইনকে পরিবেশের জন্য সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা লাল শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

সুন্দরবন ও বাংলাদেশ উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের তথ্য অনুযায়ী, আকরাম পয়েন্ট সুন্দরবনের ভেতরের পশুর, শিবসা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এর ৬০ কিলোমিটার উজানে মোংলা বন্দর এবং ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট। আকরাম পয়েন্টের দুপাশে সুন্দরবনের দুটি বন্যপ্রাণী অভয়রাণ্য এবং উত্তর-পশ্চিমে শিবসা ডলফিন অভয়ারণ্য। ওই এলাকায় গাঙ্গেয় ডলফিন ও ইরাবতী ডলফিনের অবাধ বিচরণ রয়েছে।

জাহাজভাঙা শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও শ্রমিক

২৪ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

জাহাজভাঙা শিল্পকে পরিবেশের জন্য সর্বোচ্চ দূষণকারী শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করাসহ কয়েকটি ধাপে অনুমোদন নিতে হয়। তবে জাহাজভাঙা শিল্পের মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এ শিল্পকে লাল থেকে কমলা শ্রেণিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ইয়ার্ড স্থাপনের আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জাহাজভাঙা শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, এ শিল্প লাল শ্রেণিতে থাকায় ইয়ার্ড স্থাপনের অনুমোদন পেতে ৯০ দিনের মতো সময় লাগে। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে শ্রমিক ও পরিবেশ দুটোই ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁরা বলছেন, জাহাজভাঙা শিল্প উচ্চ ঝুঁকি ও দূষণকারী শিল্প। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এ শিল্পকে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ এশিয়ার যেসব সৈকতে জাহাজ ভাঙা হয়, সেসব উপকূলের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, মাটি, বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে।

জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ শিল্পকে লাল থেকে কমলায় নিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এ-সংক্রান্ত কমিটি। এর আগে আগস্ট মাসে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পসংক্রান্ত বিদ্যমান আইন, বিধি, নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। কমিটির সভাপতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। শিল্পমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, আইন ও সংসদবিষয়ক সচিব এই কমিটির সদস্য। কোনো পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি বা পরিবেশ বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা

কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

০১ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অক্ষর শৌভিক রায় (৩০) নামের একজন পর্যটক। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল সড়কের বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে।

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেলিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ এক যুগ ধরে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছে। প্রায় সময় প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রশাসন পর‍্যাসেইলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিলেও প্রতিষ্ঠানটি এটি চালু রেখেছিল।

ঢাকার প্রতি চার বাসের একটি আনফিট

৬ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী প্রতি চারটি বাসের মধ্যে একটি ফিটনেস সনদ ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করছে। সে হিসাবে প্রতিদিন লাখো যাত্রীকে নির্ভর করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এ গণপরিবহনের ওপর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্বল তদারকি, অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনা, বাসের অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ এবং অকার্যকর স্ক্র্যাপিং ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে অনুমোদিত বাসের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৩। এর মধ্যে নিয়মিত সড়কে চলাচল করছে ৪ হাজার ৫৪৬টি বাস। কিন্তু এসব সক্রিয় গণপরিবহনের মধ্যে ১ হাজার ৫৩টির কোনো বৈধ ফিটনেস সনদ নেই। অর্থাৎ রাজধানীতে চলমান বাসের প্রায় ২৩ শতাংশই ফিটনেসবিহীন অবস্থায় যাত্রী পরিবহন করছে।

জাহাজ কাটায় সেই পুরনো পদ্ধতি কমেনি দুর্ঘটনা ও মৃত্যু

১৫ আগস্ট ২০২৬, বণিক বার্তা

আন্তর্জাতিক সনদ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার শর্ত পূরণের লক্ষ্যে দেশের পুরনো জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলো একে একে রূপান্তর হচ্ছে ‘গ্রিন ইয়ার্ডে’।

আধুনিক অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নানা শর্ত পূরণের মাধ্যমে এসব ইয়ার্ডে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের কথা। তাতে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনা ও শ্রমিক হতাহতের ঘটনা কমে আসার প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। অবকাঠামো ও সনদে পরিবর্তন এলেও জাহাজ কাটার অনেক ক্ষেত্রেই অনুসরণ করা হচ্ছে পুরনো পদ্ধতি। ঝুঁকি শনাক্ত, গ্যাস মনিটরিং, শ্রমিক প্রশিক্ষণ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে রয়েছে ঘাটতির অভিযোগ। ফলে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ হওয়ার পরও থামছে না শ্রমিকের মৃত্যু।

এর সর্বশেষ উদাহরণ গতকাল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যু। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এসএন করপোরেশন নামের একটি ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন সাত শ্রমিক।

নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল আগেই, মামলাও হয়েছিল, এখন গেল ৯ প্রাণ

১৫ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি পেয়েছিল সরকারি পরিদর্শন সংস্থা। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া, নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করিয়েও ওভারটাইমের টাকা না দেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে ছয় মাস আগে।

অনিয়ম সংশোধনে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। কিন্তু যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলার এক মাসের মাথায় গতকাল শুক্রবার একই কারখানায় ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ একসঙ্গে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

মামলাটির বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের শ্রম পরিদর্শক শাহেদ পারভেজ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি পরিদর্শন করেছিলেন তাঁরা। তখন নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এরপর ধাপে ধাপে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যথাযথ জবাব দেয়নি। শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলীকে আসামি করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে ‘গ্রিন ইয়ার্ড’, আদতে মৃত্যুফাঁদ

১৬ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশের অনেক জাহাজভাঙা কারখানা বা ইয়ার্ড কাগজে-কলমে ‘গ্রিন’ ছাড়পত্র পেলেও, অনিরাপদ পরিবেশে ঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকদেরকে কাজ করতে হয়। গত বছর ‘হংকং কনভেনশন’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই শিল্পে অন্তত ৮৪টি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বর্তমানে ৩১টি সচল শিপইয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ বা সবুজ কারখানা হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৮টি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

কিন্তু কাগজে কলমে ছাড়পত্র পাওয়া আর বাস্তবের ব্যবধান, তা আরও একবার প্রমাণ হলো গত শুক্রবার। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে এদিন ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ পুরোনো জাহাজের ভেতর বিষাক্ত গ্যাসে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ জুন থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জাহাজভাঙা শিল্পে ৮৪টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮১ জন আহত হয়েছেন।

জাহাজটিকে ‘নিরাপদ সনদ’ দেয় ৬ সংস্থা

১৭ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যে জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, সেটিকে ভাঙার জন্য নিরাপদ হিসেবে সনদ দিয়েছে সরকারি চারটি সংস্থা ও সরকার নিয়োজিত বেসরকারি একটি সেফটি এজেন্সি। এর বাইরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের (বিএসআরবি) অনুমোদনও ছিল।

গত বছরের ১১ জুলাই এমটি রাসি নামের প্রায় ৯৪ হাজার টন ওজনের জাহাজটি পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম ও বেসরকারি শিপ স্ট্রিপের প্রতিনিধিরা। এর পরের মাসে সেটিকে নিরাপদ হিসেবে ভাঙার সনদ দেওয়া হয়। জাহাজটি কীভাবে ভাঙা হবে, তার নকশা করে দেয় শিপ স্ট্রিপ।

১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিক মারা যান। তাঁদের মৃত্যুর কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। হাইড্রোজেন সালফাইড বর্ণহীন, বিষাক্ত ও জ্বলনশীল গ্যাস। তবে গত বছরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জাহাজটিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন পদার্থের কথা উল্লেখ নেই। বিপজ্জনক পদার্থের কথা উল্লেখ ছিল না জাহাজ আমদানির সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আইএইচএম (জাহাজের কাঠামোয় থাকা বিপজ্জনক পদার্থ) তালিকাতেও।

প্রতিবেদনে স্লাজ অয়েল (তেলের ট্যাংকের নিচে জমে থাকা বর্জ্য), লুব অয়েল (ইঞ্জিনের তেল), গ্লাসউল, এসবেস্টস, পেইন্টসহ ১৬ ধরনের পদার্থের উল্লেখ আছে। এ ছাড়া জাহাজটির মালিকপক্ষের দেওয়া ইনভেন্টরি অব হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালসের (জাহাজে বিভিন্ন অংশে থাকা বিপজ্জনক পদার্থের তালিকা) তালিকায়ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক কোনো পদার্থের উল্লেখ ছিল না। আইএইচএমের তালিকাটিও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) হিসাবে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে দেশের জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৩৭ শ্রমিকের। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মারা গেছেন তিনজন। আর সর্বশষে ১৪ আগস্টের নয়জনের মৃত্যু যোগ করলে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৯–এ।

‘গরিবের ট্রেন’ একে একে সব বন্ধ, ভোগান্তিতে মানুষ

২৯ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

একসময় ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ছয়টি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল করত। ১০-২০ টাকা ভাড়া দিয়ে সেসব ট্রেনে মানুষ পৌঁছে যেতেন দূরের বাজারে, কর্মস্থলে কিংবা বাড়িতে। করোনাকালে এই পথের চারটি লোকাল ও একটি মেইল ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। বাকি ছিল শুধু ময়মনসিংহ মেইল। সেটিও গত সোমবার থেকে বন্ধ।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। এই পথে লোকাল ট্রেনের ভাড়া ৪০ টাকা, মেইল ট্রেনে লাগে ৫৫ টাকা। লোকাল–মেইল সব ট্রেন বন্ধের পর এখন চলছে শুধু আন্তনগর ট্রেন, যাতে এই পথের ভাড়া ১২৭ টাকা। সেটিও আবার সব স্টেশনে থামে না। ফলে কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ হারিয়ে এই রেলপথের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে এখন বেশি টাকা খরচ করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

সরকারি সংস্থার দায় পায়নি কমিটি, তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে গ্যাস নিঃসরণে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ইয়ার্ডমালিকের গাফিলতির বিষয়টি খুঁজে পেলেও সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকিতে গাফিলতি পায়নি শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। যদিও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী জাহাজটি ভাঙার জন্য নিরাপদ কি না, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল সরকারি সংস্থাগুলোর।

গত ১৪ আগস্ট দুর্ঘটনার দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে গত সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করে সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে জাহাজের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা না করেই সনদ দিয়েছিল বিস্ফোরক অধিদপ্তর। ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

ওই দুর্ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে (বিএসআরবি) দুই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। দুই প্রতিবেদনে ৪৪টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

পার্সেল পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ ক্ষতির মুখে উদ্যোক্তারা

৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বণিক বার্তা

দেশের পণ্য খাতের ট্রেন চলাচল অস্বাভাবিক কমেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার, জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন সীমিত করার পর এবার লাভজনক পার্সেলবাহী ট্রেন চলাচলেও ছেদ পড়েছে। লোকোমোটিভ সংকটে কয়েক মাস ধরে অনিয়মিত হয়ে পড়া চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের ময়মনসিংহ মেইলের চলাচল সম্প্রতি কার্যত বন্ধ। অথচ পার্সেল পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের অন্যতম লাভজনক ট্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের অন্যতম ভরসা। শুঁটকি, কৃষিপণ্য, জুতা, টায়ার, ফার্নিচারসহ নানা পণ্য কম খরচে পরিবহন করেন তারা। গত কিছুদিন ট্রেনটির সার্ভিস বন্ধ থাকায় বাড়তি খরচ গুনছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি দূরের জেলা ও স্টেশনকেন্দ্রিক বাজারগুলোয় স্বল্প পরিমাণ পণ্য পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহ মেইলের সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে রেলওয়েকে চিঠিও দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) দেয়া ওই চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, ৪০ বছর ধরে চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ময়মনসিংহগামী ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ট্রেনে পণ্য আনা-নেয়া করছেন। বিশেষ করে শুকনো কৃষিপণ্য, শুঁটকি, আদা, টায়ার, জুতা, তুলা ও ফার্নিচার পরিবহনে এ ট্রেন ব্যবহার করেন তারা। কিছুদিন ধরে ট্রেনটি অনিয়মিতভাবে চললেও সম্প্রতি সার্ভিস কার্যত বন্ধ। এতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এ রুটের বিভিন্ন স্টেশনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী, শ্রমিক-কুলিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ কর্মহীনতা ও ব্যবসায়িক মন্দার মুখে পড়েছেন বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের পর চার মৃত্যু, পদদলিত হওয়ার তথ্য নাকচ প্রশাসনের

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। এরপর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৬ জনের মৃত্যু: আশুলিয়ার কারখানাটিতে বেআইনিভাবে গ্যাস পরিবহন ও ব্যবহার করা হচ্ছিল

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গতকাল তৈরি পোশাকশিল্প গ্রুপ প্রিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানার চত্বরে থাকা গ্যাসের সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কোম্পানিটি কাভার্ড ভ্যানে বিশেষ পদ্ধতিতে সিএনজি সিলিন্ডার স্থাপন করে গ্যাস পরিবহন ও ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) লিড প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত কারখানাটিতে এভাবে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক (ঢাকা) মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘গ্যাস ব্যবহারের এই পদ্ধতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এলপিজি সিলিন্ডারগুলো লো-প্রেশারের, যেখানে এসব সিলিন্ডার অনেক হাই-প্রেশারের। তাছাড়া দেশের কোনো আইন বা বিধানেও এটি অনুমোদিত নয়।’

পাঁচ বছর ফিটনেসবিহীন থাকলেও গাড়ি বাতিল নয়

০৩ অক্টোবর ২০২৬, ইত্তেফাক

ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপিং বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সময়সীমা এক বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে সরকার। ফলে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কোনো গাড়ি এক বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই সেটি স্ক্র্যাপযোগ্য  হবে না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেসবিহীন থাকলেই তা স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। নতুন এই বিধান নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই সময়সীমায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করে। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা আগের নীতিমালা রহিত করা হয়েছে। নতুন নীতিমালায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির স্ক্র্যাপযোগ্য হওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ক্র্যাপিং প্রক্রিয়ার কয়েকটি ধাপ দ্রুত করার বিধান রাখা হয়েছে।

ছাড়ার আগেই ব্লক হয় রেলের টিকিট, ‘সহজ’ কর্মীদের হাতে নিয়ন্ত্রণ

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ইনডিপেনডেন্ট টিভি অনলাইন

রেলের অনলাইন টিকেট সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার ১ থেকে ৫ দিন আগেই তা ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। আর সেই ই-টিকেটিং সিস্টেমের ড্যাশবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ থাকে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের কর্মীদের হাতে। এমন তথ্য উঠে এসেছে পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে। চুক্তির শর্ত ভেঙে টিকিট অপারেশনে ভেন্ডর কর্মীদের সরাসরি যুক্ত রাখায়, তৈরি হয়েছে কালোবাজারির সুযোগ। 

রেলের টিকিট কাটা নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। টিকেট প্রাপ্তি সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনার জন্য চুক্তি করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সঙ্গে।

কক্সবাজারে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, একই পরিবারের ছয়জন

১৮ অক্টোবর ২০২৬, ইত্তেফাক

কক্সবাজারের ইনানীতে পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। অগ্নিকাণ্ডে ইট ও কাঠ দিয়ে তৈরি তিনতলা রিসোর্টটির প্রায় পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের অনেক পর্যটক ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে তাদের অনেকে কক্ষের ভেতরে আটকা পড়েন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন রিসোর্ট থেকে লাফিয়ে বের হন। তাদের অনেকে এভাবে প্রাণে বেঁচে যান।

ফিটনেসবিহীন বাসে ১৪ প্রাণ, দায় কার?

২০ অক্টোবর ২০২৬, কালবেলা

ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়েছে পাঁচ মাস আগে। অথচ সেই বাসেই দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন চলছিল। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামে বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জনের প্রাণহানির পর সামনে এসেছে এ তথ্য।

প্রশ্ন উঠেছে, ফিটনেসবিহীন বাসটি কীভাবে মহাসড়কে চলাচল করছিল, কার নজরদারিতে ছিল যানটি? দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি সড়কে ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কাছাকাছি এ দুর্ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী আরভি স্পেশাল নামের যাত্রীবাহী বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে নয়জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

রেলে ইঞ্জিন সংকট আরও প্রকট

২৫ অক্টোবর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পর্যাপ্ত ইঞ্জিন না থাকায় নিয়মিত ট্রেন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও ইঞ্জিনের অপেক্ষায় ট্রেন ছাড়তে দেরি হচ্ছে, কোথাও পথে বিকল হচ্ছে ইঞ্জিন, আবার কোথাও বাতিল করতে হচ্ছে ট্রেন। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহনও। এর প্রভাব পড়ছে রেলওয়ের আয়েও।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইঞ্জিন সংকটে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিটারগেজ ট্রেন বাতিল ও বিলম্বের সংখ্যা বেড়েছে। এই তিন মাসে ইঞ্জিনের কারণে ১ হাজার ৯৫৮টি মিটারগেজ ট্রেন বাতিল হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৩৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ট্রেন বাতিল বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ।

পররাষ্ট্র বিষয়ক

ঢাকায় সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা, যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৬ জুলাই ২০২৬, জাগো নিউজ

মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্সের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা জেরাল্ড পি হ্যামিল্টন রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অবস্থান করছেন। তার বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকার একটি হোটেলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্স অবস্থান করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে- তারা কিছু জানে না, আপনাদের গোচরে আছে কিনা, জানিয়ে এসেছেন কিনা বা তার ফাংশন কী? এ বিষয়ে কোনো ধারণা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই জিজ্ঞেস করেন, এটা আমি জানবো কীভাবে?

সৌদির নেতৃত্বে সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

৩১ জুলাই ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। এ জোটে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ যুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে গঠিত এই জোটের মূল লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর (রেড সি) এবং গালফ অব এডেনে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথগুলোর নিরাপত্তা জোরদারেও সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

০৫ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারত সরকারকে আগে থেকে উদ্বেগ জানানোর পরেও এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা  ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

গতকাল বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদে ক্ষোভ ও খেদের কথা জানানো হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গতকাল বিকেলে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রথমে বক্তব্য এবং পরে প্রশ্নের উত্তর দেন শেখ হাসিনা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কারাবাস বা আরও খারাপ কিছুর শঙ্কা সত্ত্বেও ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো অনুশোচনা কিংবা ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখাননি।

দিল্লির এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান প্রথমে একটি রেকর্ড করা বক্তব্য দেন। পরে সরাসরি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। তবে তখন কোনো কথা বলেননি। এ ছাড়া সশরীরে মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

এ সংবাদ সম্মেলনের পর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানায়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ চায় ঢাকা

১১ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভারতকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার যে কোনো সমস্যা সমাধানে সংলাপ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে। তাতে প্রতিবেশী দুই দেশের এমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আপত্তি জানানোর পরও ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় আবারও ক্ষোভ জানিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনার দ্রুত প্রত্যর্পণ চেয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে ভারতে গ্রেপ্তার শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত প্রত্যর্পণের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে অগ্রগতির আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত নয় বলেও বার্তা দেওয়া হয়েছে। 

পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ভারতের হাইকমিশনারকে অস্বস্তি তৈরির কারণগুলো বন্ধ করার তাগিদ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য যে সহায়ক পরিবেশ দরকার, তা সৃষ্টির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে।

হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের ভারতে ধরা পড়ার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল সবকিছু তাদের দিয়েছি। আমাদের জন্য এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা বলেছি অভিযুক্তদের যত দ্রুত আমাদের কাছে প্রত্যর্পণ করার জন্য।’

সাক্ষাতে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে আলোচনা প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো নিয়ে খুব সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার বিষয় নয়।

বাংলাদেশের সরকারি কেনাকাটার তথ্য প্রকাশ করার তাগিদ দিল যুক্তরাষ্ট্র

১২ আগস্ট ২০২৬, প্রথম আলো

বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য সবার জন্য প্রকাশ করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বাড়াতে বাজেটের নথিপত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি অনুযায়ী প্রস্তুত করা ও সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (সিএজি) আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে দেশটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

২০ চীনা যুদ্ধবিমান, ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা

২৬ আগস্ট ২০২৬, সমকাল

চীন থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনার জন্য চুক্তির খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপি সরকার। ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে এতে। আট অর্থবছরে দাম পরিশোধ করা হবে। ১০টি বিমান ঘাটতি পূরণে (টিওঅ্যান্ডই) কেনা হবে। বাকি ১০টি বিমান কেনা হবে বিমানবাহিনীর নতুন স্কোয়াড্রন গঠনে।

সরকারের বিভিন্ন সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে সমকালকে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, চীন থেকে জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।

মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

২৪ আগস্ট ২০২৬, দেশ রূপান্তর

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশ নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। খবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার।  

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। তাই মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা চুক্তি বা উদ্যোগ হয়, তাতে অংশ নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। দেখা যাক। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।’

মার্কিন চুক্তি বাতিলসহ ৪ দাবিতে প্রচারযাত্রা, ফুলবাড়ীতে গিয়ে শেষ

২৬ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব সমাধান এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবিতে তিন দিনের প্রচারযাত্রা ফুলবাড়ীতে গিয়ে শেষ হয়েছে।

আজ বুধবার তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত ফুলবাড়ী দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির প্রচারযাত্রাটি শেষ হয়।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে গত ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে এই প্রচারযাত্রা শুরু হয়। প্রচারযাত্রায় গাজীপুর, টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর মাজার, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গোবিন্দগঞ্জ, বিরামপুর ও দিনাজপুরে সমাবেশ, পথসভা এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।

এদিকে, ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে সংঘটিত আন্দোলনের স্মরণে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চাল আমদানিতে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

২৭ আগস্ট ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। ভারত ও চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। বিপুল উৎপাদনের পরও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চাল আমদানি করতে হয়।

ভৌগোলিক নৈকট্য, তুলনামূলক কম দাম ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে আমদানির প্রধান উৎস ভারত। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের চাল আমদানির ব্যয় আগের বছরের প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ গুণে উন্নীত হয়েছে। এ প্রবৃদ্ধির সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের চালের শীর্ষ ১০ ক্রেতা দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ২০২৫ সালের চাল রফতানি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চালের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জাপান। এরপর রয়েছে যথাক্রমে হাইতি, মেক্সিকো, কানাডা, ইরাক, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, হন্ডুরাস ও তাইওয়ান। তালিকায় দশম অবস্থানে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের আরও উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। গত রোববার রাতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর নিজের এক্স পোস্টে এ তথ্য জানান।

এ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কেনাকাটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একটি ‘অভূতপূর্ব সমঝোতা’ হয়েছে বলেও সার্জিও গর উল্লেখ করেন।

তবে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন করে কতগুলো উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে, সেটি সার্জিও গর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেননি।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিমান প্রয়োজন হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কিনতে পারবে। আগস্টের শেষ সপ্তাহে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এবং এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাঁর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সব সময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।

পারমাণবিক জ্বালানি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সমকাল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার পুরোনো কাঠামো পুনরুজ্জীবিত করে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই নতুন কাঠামোর আওতায় ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর), আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হয় ১৯৮১ সালে। ১৯৯১ সালে সেটি নবায়ন করা হলেও পরে আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এখন নতুন একটি সমঝোতার মাধ্যমে সহযোগিতার কাঠামো ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যে ভারতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্র 

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো 

ভৌগোলিক নৈকট্য, স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং তুলনামূলক কম খরচ—এসব কারণে দীর্ঘদিন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল ভারত। ১৬ বছর পর সেই অবস্থান বদলে গেছে। ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র; আর বড় ব্যবধানে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। 

এই পরিবর্তন কেবল আমদানি-রপ্তানির অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক বিষয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষি, দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক চুক্তি কার্যকর না হলেএ যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য কেনা বাড়ানো এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে ভালো মানের পণ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। 

দেখা গেছে, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। তবে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে আমদানি। 

অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এই পতনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ডলারের। অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে  ভারতের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়েছে ১৯৫ কোটি ডলার বেশি। 

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ইত্তেফাক

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকের (৩৫) মৃত্যুর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাকিম (৩৮) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শ্রী উদা চন্দ্র (৩৫) নামে আরেক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে বিএসএফ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপির কাছাকাছি ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বসুদেবপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা না কেনা বর্তমান সরকারের জন্য পরীক্ষা

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, প্রথম আলো

ইউরোপের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে হলে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে। তাই বিষয়টি বাংলাদেশ কীভাবে এগিয়ে নেবে, সেটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘ভালো পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিকাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আলোচনা আর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলের কাছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও দর–কষাকষি চলমান থাকায় এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিক্রি নিয়ে এখনো ‘চিন্তিত নন’ বলে জানান তিনি।

কী আছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সই হওয়া পারমাণবিক সমঝোতা স্মারকে

১ অক্টোবর ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) মূলত দুই দেশের সরকার, নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা, কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসামরিক পারমাণবিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার উপায় খুঁজে দেখার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে এই খাতে উন্নত দক্ষতা, উপযুক্ত নীতি ও সর্বোত্তম নিরাপত্তা প্রোটোকল গড়ে তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পারমাণবিক উপাদান আমদানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি কোনো পক্ষের জন্যই বাধ্যতামূলক না। এমনকি এই স্মারকের আওতায় পারমাণবিক উপাদান বিনিময়ও করতে পারবে না দুই দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্ণনা মতে, এ ধরনের এমওইউ’র মাধ্যমে তাদের সঙ্গে অন্য দেশের পারমাণবিক উপাদান ও সরঞ্জাম হস্তান্তরের নিয়ম নির্ধারিত হয়।

এক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এই সমঝোতা স্মারকে কী আছে?

সমঝোতা স্মারকটি আসলে ‘১২৩ চুক্তি’র পূর্বধাপ।

সহজ করে বলতে গেলে, বেসামরিক পারমাণবিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কর্মকর্তা, সংস্থা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে খুঁজে দেখার সুযোগ করে দেয় এই সমঝোতা স্মারক।

দ্য ডেইলি স্টারের হাতে আসা পাঁচ পৃষ্ঠার নথিটিতে এই খাতে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক আগ্রহের ক্ষেত্র এবং কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মানদণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

‘কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা’র ভূমিকা অংশে স্বীকার করা হয়েছে, ‘অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পারমাণবিক শক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।’

এতে ‘সরকার, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনা ও চুক্তি’কে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই দেশই সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মকর্তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়।

১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার’ নিয়ে করা সহযোগিতা চুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এর ভূমিকায়। সেটি একটি ‘১২৩ চুক্তি’ ছিল। ওই চুক্তির মেয়াদ অবশ্য শেষ হয়ে গেছে।

‘১২৩ চুক্তি’ নামটি এসেছে ১৯৫৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারা থেকে। এতে পারমাণবিক উপাদান ও সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে এবং পারমাণবিক উপাদান ‘বিস্ফোরক যন্ত্র, তা নিয়ে গবেষণা বা উন্নয়ন, কিংবা অন্য কোনো সামরিক উদ্দেশ্যে’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটির মূল অংশে দেখা যায়, প্রথম ধারায় জাতীয়, জ্বালানি ও সাইবার নিরাপত্তা; সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা; পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন; স্বাধীন তদারকির সক্ষমতা গড়ে তোলা; সংশ্লিষ্ট দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, সুরক্ষা মানদণ্ড ও সেফগার্ড বজায় রাখার মতো আগ্রহের ক্ষেত্র ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সার্বিকভাবে এর অর্থ হলো, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর রিঅ্যাক্টর নির্মাণ কিংবা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরির লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এতে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের উপযুক্ত বিধিমালা ও প্রোটোকল থাকতে হবে, সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত স্থানীয় দক্ষতা থাকতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান যাতে ভুল হাতে না পড়ে, সে জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি করলো বিমান 

০৭ অক্টোবর ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন

বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ কেনা হবে। 

চুক্তিতে এয়ারবাস ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান রুমি এ খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। 

ব্যাংককে অর্থমন্ত্রী • এতগুলো বোয়িং কেনা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন সহায়তা না বাড়ালে আর কখন

১৪ অক্টোবর ২০২৬, জাগো নিউজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে সম্প্রতি ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিসহ দেশটি থেকে তেল-গম ও নিত্যপণ্যের আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এখন বাংলাদেশকে সহায়তা বাড়ানো উচিত বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি সাংবাদিকদের সঙ্গে তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ প্রত্যাশার কথা জানান।

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত‍্যুদণ্ড আমাদের জন‍্য শিক্ষা: শামা ওবায়েদ

১৭ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত‍্যুদণ্ড ‘আমাদের জন‍্য’ বড় শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেই দেশেই থাকুক, সেই দেশের আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন।

সৌদি আরব দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশকে তথ্য জানিয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ চিঠি দিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে যে বার্তা এসেছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ‍্যন্তরে ‘ব‍্যভিচারে’ লিপ্ত ছিলেন দুই বাংলাদেশি, যা সৌদি আইনে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে গণ‍্য। ওই আইন অনুযায়ী আদালত ব‍্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার কোনো কিছুই পায়নি। বাংলাদেশ তাই দুজনের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন /মাতারবাড়ি হয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে সমুদ্রপথে যুক্ত করার ১৮ অক্টোবর ২০২৬, আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোকে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইনডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন’ তৈরির পরিকল্পনা করছে জাপান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জাপানের কূটনৈতিন সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের ২৬ তারিখ জাপান সফরে যাবেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে, তারা একটি ‘শিল্প মূল্যশৃঙ্খল’ (ইনডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন) তৈরির পরিকল্পনা করছে। এটি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে। উল্লেখ্য, মাতারবাড়ী বন্দরে অর্থায়ন করে আসছে জাপান। বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সম্ভাব্য জাপান সফরের আগে জাপানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক দ্য হিন্দুকে এক বিশেষ মন্তব্যে জানান, মাতারবাড়ি বন্দর বাংলাদেশকে একটি শিল্প কেন্দ্রে রূপান্তর করতে পারে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উক্ত জ্যেষ্ঠ জাপানি কূটনীতিক বলেন, ‘মাতারবাড়ি বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্প কেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।’

‘দুনিয়ায় দেখা না হলে দেখা হবে হাশরের মাঠে’, রাশিয়ায় নিহত বাংলাদেশিদের লাশও দেশে আসে না

২১ অক্টোবর ২০২৬, প্রথম আলো

কয়েক বছর ধরেই রাশিয়ায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাঁদের অনেকেই প্রতারিত হয়ে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায় না। কাগজে–কলমে নিখোঁজ বলা হলেও পরিবার জানে, তাঁরা মৃত। এখন পর্যন্ত গত তিন বছরে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে প্রথম আলো। যদিও বর্তমান সরকার রাশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস বিভিন্ন সময়ে যাচাই–বাছাই ছাড়া কর্মী পাঠানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। গত ২৫ মে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দূতাবাসের শ্রম উইং থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সি জাবালে নূর গত ৫ মে ৭০ জন কর্মী পাঠানোর অনুমতি চাইলেও সত্যায়ন করেনি দূতাবাস। প্রাথমিকভাবে আর এস ইন্টারন্যাশনালকে ১০ জন কর্মী নিয়ে আসার কথা বলা হলেও সন্দেহ তৈরি হলে তা স্থগিত করা হয়। এরপর ১৮ মে এক কর্মীর পরিবার থেকে ফোন করে দূতাবাসে জানানো হয়, জাবালে নূর ও আর এস ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে রাশিয়ায় এসেছে ৩০ জন, যাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দুটি এজেন্সি সত্যায়ন করাতে না পারায় টিএস ওভারসিজের নামে কর্মীদের পাঠিয়েছে। দূতাবাসের অনুমতি ছাড়া কর্মী পাঠানোর বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়েছে চিঠিতে। আর কর্মীদের যুদ্ধে না পাঠিয়ে নিয়োগপত্র অনুসারে কাজে ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চার–পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ ও নিহত বাংলাদেশিদের তথ্য দূতাবাসকে জানাচ্ছে রাশিয়ার সরকার। এখন পর্যন্ত ৪০ জনের তথ্য জানিয়েছে তারা। যদিও এর মধ্যে নিহত কতজন, নিখোঁজ কতজন; তা আলাদা করে বলেনি তারা। সবশেষ ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে দেশটির পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানায়নি। যুদ্ধে কেউ মারা গেলে বা ছয় মাসের বেশি নিখোঁজ থাকলে ক্ষতিপূরণ দাবির সুযোগে আছে। কিন্তু রাশিয়া থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, উত্তরাধিকারের রাশিয়ায় গিয়ে অন্তত ছয় মাস থাকাসহ বেশ জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর মরদেহ উদ্ধার করা যায় না। রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে রাশিয়া যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন মাত্র ৩৭ জন। পরের বছর এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৯৫ জনে। ২০২৫ সালে দেশটিতে যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪ হাজার ৭২৫ জন। এক বছরেই রাশিয়া যাওয়া তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এ বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাশিয়ায় যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩ হাজার ১০৫ জন।

 

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •