পাটশিল্পবিনাশী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা এবং শিল্পরক্ষার পথ

পাটশিল্পবিনাশী সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা এবং শিল্পরক্ষার পথ

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ

গত ২৯ জুন ২০২৬ জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ’-এর উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবিতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই লেখাটি উপস্থাপন ধরেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন আমিন জুট মিলসের শ্রমিক প্রতিনিধি মো. হানিফ, জে.জে.আই. জুট মিলসের শ্যামল শাফরিন, প্লাটিনাম জুট মিলসের নুর ইসলাম, দৌলতপুর জুট মিলসের নুর মোহম্মদ, খুলনার সংগঠক ও ছাত্র প্রতিনিধি আল আমিন, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের সিরাজুল ইসলাম, করিম জুট মিলসের গোফরান মিয়া, শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক শামীম ইমাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল এর সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালা, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কাফি রতন, শ্রমজীবী ও হকার সমিতি সভাপতি, বাচ্চু ভূঁইয়া, শিক্ষক ও গবেষক ড. মাহা মির্জা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনগণের সম্পদ, তা বেসরকারিকরণের নামে ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার এখতিয়ার কোনো সরকারের নেই। কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে জাতীয় অর্থনীতি বিকশিত করার নীতি হিসেবে এই খাতকে কোনো সরকারই গুরুত্ব দেয়নি। ৮০ দশকে বিরাষ্ট্রীয়করণের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০২০ সালে ২ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকার অবশিষ্ট রাষ্টায়ত্ত পাটকলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ করে, মিলগুলো বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। এর বিরুদ্ধে বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে, আন্দোলনকারীদের উপর জেল-জুলুম, নির্যাতন নিপীড়ন নেমে এসেছে। এমনকি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ বকেয়া পাওনা পরিশোধের যে অঙ্গীকার তৎকালীন সরকার করেছিল, তা পূরণেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
 
২০২৪ সালের গণঅভ্যূত্থানের পর আন্দোলনরত শ্রমিকবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠন আশা করেছিল যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় বন্ধ হওয়া পাটকলগুলো অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানাগুলো নতুনভাবে চালু করার মাধ্যমে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা কর্মসংস্থান, ন্যায্যতা, সংস্কারের বহুল প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটতে পারতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারও একই পথে হেঁটেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে দ্রুত বেসরকারিকরণের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ওয়াদা করেছিল- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চিনিকলগুলো চালুর লক্ষ্যে টাস্কফোর্স গঠন করবে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা টাস্কফোর্স গঠনের অঙ্গীকার খেলাপ করে বেসরকারি মালিকদের হাতে জমিসহ সব সম্পদ তুলে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানা ব্যক্তিখাতে তুলে দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেশি-বিদেশি মালিকদের সাথে বৈঠক করেছেন। 
 
লিজকৃত পাটকল ও ইজারার চিত্র
আওয়ামী সরকারের সময়ে পাটকলগুলো বেসরকারিখাতে তুলে দেয়ার প্রত্রিয়া শুরু হয়েছিল। বর্তমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ ঘোষিত ২৫টি পাটকলের মধ্যে ১৪ টির লিজ বা ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বেসরকারি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কাছে ৩০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লিজ দেওয়া এই ১৪টি মিল হলো:
 
১. বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড, ঘোড়াশাল, নরসিংদী (ইজারা গ্রহীতা: টিকে গ্রুপের জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেড। এই মিলের ৭৭ একর জমির মধ্যে ৩৪.৩৫ একর টিকে গ্রুপে এবং প্রাণ গ্রুপের প্রাণ ফুড লিমিটেড ৩ দশমিক ২৯৬ একর জমিতে কারখানা করেছে। জুট অ্যালায়েন্স প্রতি বর্গফুট ৫ দশমিক ০৫৯ টাকা এবং প্রাণ ফুড ২ দশমিক ৫০ টাকা ভাড়ায় এই জমি লিজ নিয়েছে।) 
২. কেএফডি জুট মিলস লিমিটেড, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম (ইজারা গ্রহীতা: ইউনিটেক্স গ্রুপ, ২০২২ সাল)
৩. যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (জেজেআই), নওয়াপাড়া, যশোর (ইজারা গ্রহীতা: আকিজ জুট মিলস, ২০২২ সাল)
৪. কার্পেটিং জুট মিলস লিমিটেড, নওয়াপাড়া, যশোর (ইজারা গ্রহীতা: রিগাল জুট লিমিটেড)
৫. দৌলতপুর জুট মিলস লিমিটেড, খালিশপুর, খুলনা (ইজারা গ্রহীতা: ফরচুন গ্রুপ)
৬. ইস্টার্ন জুট মিলস লিমিটেড, দিঘলিয়া, খুলনা (ইজারা গ্রহীতা:ওরিয়ন গ্রুপ) 
৭. ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিমিটেড, খালিশপুর, খুলনা (ইজারা গ্রহীতা: বে গ্রুপ, ২০২৬ সাল)
৮. হাফিজ জুট মিলস লিমিটেড, সীতাকু-, চট্টগ্রাম।
৯. ইউএমসি জুট মিল, নরসিংদী (জুট এ্যালায়েন্স লিমিটেড, টিকে গ্রুপ, ২০২৩ সাল)
১০. এম এম জুট মিলস লিমিটেড, সীতাকু-, চট্টগ্রাম (ইজারা গ্রহীতা: স্টিলমার্ক বিল্ডিংস)
১১. আর আর জুট মিলস লিমিটেড, সীতাকু-, চট্টগ্রাম (ইজারা গ্রহীতা: ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস)
১২. গুল আহমেদ জুট মিলস লিমিটেড, সীতাকু-, চট্টগ্রাম (ইজারা গ্রহীতা: আরমাডা স্পিনিং)
১৩. খালিশপুর জুট মিলস লিমিটেড, খুলনা (ইজারা গ্রহীতা: রেডিয়েন্ট গ্রুপ)
১৪. জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড, রায়পুর, সিরাজগঞ্জ (ইজারা গ্রহীতা: রশিদ গ্রুপ)
 
এর মধ্যে ৯টি পাটকলে ইতোমধ্যে উৎপাদন চালু হয়েছে। সেগুলোর চিত্র নিম্নরূপ-
 
 
কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রচার, কম মজুরি এবং অন্যখাতে জমি ব্যবহার 
ব্যক্তিমালিকানায় লিজ দেওয়ার পর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পাট শিল্পের আধুনিকায়নের যে বাগাড়ম্বর করা হচ্ছিল, বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই। হাফিজ জুট মিলস, গালফা হাবিব লিমিটেড, গুল আহমদ জুট মিলস এবং আর আর জুট মিলস-এর লিজ প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চার জুট মিল দেওয়া হয়েছিল মূলত শিল্পপ্রতিষ্ঠান করে বেশি বেশি কর্মসংস্থান করতে। কিন্তু তারা এখন কইটেইনার টার্মিনাল করতে চায়। দৌলতপুর জুট মিলে আগে যেখানে ২,২৮২ জন শ্রমিক ছিলেন, সেখানে ফরচুন গ্রুপ মাত্র ২০০ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাচ্ছে। নতুন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুরোনো দক্ষ শ্রমিকদের কাজে নেওয়া হচ্ছে না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অধিকাংশ সাধারণ শ্রমিককে দৈনিক হাজিরা, পিস-রেট অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদী চুক্তির অধীনে অস্থায়ী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কারখানার এই সীমিত কর্মসংস্থানও মৌসুম ও উৎপাদন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করে। শ্রমিকদের খুবই নিম্ন মজুরিতে কাজ করতে হচ্ছে। তাদের চুক্তিভিত্তিক দৈনিক মজুরি ২৫০-৩৫০ টাকা, চাকরির কোন স্থায়িত্ব নেই। ২০২০ সালের জুলাই মাসে কেএফডি জুট মিলে সরকারি চালুকালীন অবস্থায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪,৫০০ জন। বর্তমানে সেখানে নিয়মিত শ্রমিক কাজ করছে ৪০০ থেকে ৫০০ জন। 
 
ইউনিটেক্স গ্রুপ তাদের লিজ নেওয়া কারখানার বড় অংশটিকে নিজস্ব অন্যান্য ব্যবসা যেমন: এলপিজি, কয়েল ও স্টিল, লজিস্টিকস সাপোর্ট, কাঁচামালের বাণিজ্যিক গুদাম এবং আংশিকভাবে পাটের সুতা তৈরির টেস্ট রান হিসেবে ব্যবহার করছে। পাটের মূল বাণিজ্যিক উৎপাদন এখানে নামমাত্র, দৈনিক ৫-৭ টনের কম। অতীতে এসব মিলে যেখানে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ টন পণ্য উৎপাদন হতো, বর্তমানে ইজারায় চালু হওয়া মিলগুলোতে এখন গড়ে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ টনের কাছাকাছি। (তথ্যসূত্র- ৩,৪) পাটকলের নাম করে লিজ নেওয়া হলেও কোনো কোনো জায়গাতে মূল পাটের ব্যবসার চেয়ে ঐ জমিতে অন্য পণ্য উৎপাদন বা স্রেফ গুদামজাতকরণের দিকে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বেশি। ফলে কাঁচা পাটের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং কৃষকেরা পাটের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খুলনার খালিশপুর জুট মিলস লিজ গ্রহীতা রেডিয়েন্ট গ্রুপ। এরা মূলত ঔষধ শিল্পভিত্তিক গ্রুপ। পাট বা বস্ত্রখাতে তাদের কোন পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই। সম্প্রতি যুগান্তরের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, 
 
‘চট্টগ্রামের মিলস ফারনিশিংস লিমিটেড ২০২৩ সালে লিজ দেওয়া হয়েছিল ফোর এমারেল্ড এক্সেসরিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে। রপ্তানি নির্ভর এই শিল্প কারখানার বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি এখনো চালু হয়নি। চট্টগ্রামের আরও একটি জুট মিলস গালফ্রা হাবিব জুট মিল। ২০২৩ সালে প্রতি বর্গফুট ১ দশমিক ৫৫ টাকায় এটি লিজ নিয়েছিল শফি মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে কিছু কারখানা চালু করে এখন তারা সরকারকে জানিয়েছে ওই জায়গায় ব্যবসার ধরন বদলাতে চায় তারা। সেখানে গড়ে তুলতে চায় কনটেইনার টার্মিনাল। কিন্তু সরকার তার অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই ভাবে চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ গুল আহমেদ জুট মিল লিজ নিয়েছিল ২০২৩ সালে। ওই জুট মিলে পানির স্তর অনেক নিচে। তাই তারা সেখানে কনটেইনার টার্মিনাল করার আগ্রহ দেখিয়েছে সরকারকে।’ (লিজ দিয়েও স্বপ্ন ফিকে কর্মসংস্থানের, যুগান্তর, ২০ জুন ২০২৬)
 
বেসরকারিকরণের ফলে পাটশিল্পের ফলাফল কী?
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার নতুন পাটকল স্থাপনের পথে না হেঁটে বিদ্যমান অবকাঠামোতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সময়ে অতীতের সরকারগুলো যুক্তি দিয়েছিল, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্প  বেসরকারিকরণের মধ্যে দিয়ে পাটশিল্পের আরো সম্প্রসারণ হবে, শ্রমিকের কর্মসংস্থান বাড়বে। বাস্তবে কী ঘটছে তার একটি চিত্র আগের ছকে আছে। আরও আগের বেসরকারিকরণগুলোর ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা তিক্ত। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত মোট ৭৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিরাষ্ট্রীয়করণ করা হয়। বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশন পরিচালিত “বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সমীক্ষা ২০১০” নামের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। পানির দরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি করে দেয়ার ফলে কেমন করে বিশিল্পায়ন হয় তার একটা ধারণা আমরা পেতে পারি বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য ও মন্তব্য থেকে। ২০০৪ সালে বেসরকারিকরণ করা বাওয়া জুট মিলস সম্পর্কে ২০১০ সালের সমীক্ষা প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: 
 
“মিলটির মূল ক্রেতা যন্ত্রপাতি গাছপালাসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমান মালিক বসুন্ধরা গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের ভূমি রিয়েল এস্টেটে রূপান্তরিত করেছেন।” ২০০৪ সালে বিক্রি হওয়া নোয়াখালি টেক্সটাইল মিলসে বেসরকারিকরণের পূর্বে ৭৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন, বিক্রির পর বস্ত্র সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু করা যায় নি, ক্রেতা বিকল্প পণ্য উৎপাদনের চেষ্টা করছেন, কর্মসংস্থান ২৫ জনের। কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বন্ধ হয়ে আছে, ঢাকা ভেজিটেবল ওয়েলস বিক্রি করা হয় ১৩.৭৫ কোটি টাকায় যার এক টাকাও ক্রেতা পরিশোধ করেনি, ৫৫৯ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের যোগানদাতা এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সাল থেকেই বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। ১৯৯৯ সালে মাত্র ১১ লক্ষ টাকায় ৪.১৬ একর জমিসহ বিক্রয় হওয়া বিজিবাংলা রাইস মিলস সম্পর্কে সমীক্ষা প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে: “শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব নেই। কারখানা প্রাঙ্গণের ভূমি আবাসিক প্লট আকারে বিক্রয় করা হয়েছে।” ৬.১৭ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কর্নফ্লাওয়ার মিলস এর যন্ত্রপাতি খোয়া গেছে। “৩২.২৪৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হাফিজ টেক্সটাইল মিলস লিঃ, কুমিরা চট্টগ্রাম এর নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে কেডিএস লজিস্টিকস লি: যা চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি রপ্তানি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চালু আছে।” (তথ্যসূত্র- ৫,৬)
 
৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১টি শিল্প প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে গেছে। পানির দরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি করে দেয়ার ফলে কেমন করে বিশিল্পায়ন হয় তার একটা ধারণা আমরা পেতে পারি বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে সমীক্ষায় পাওয়া তথ্য ও মন্তব্য থেকে।
 
বর্তমানেও লোকসানের কারণ নিয়ে প্রকৃত সত্য আড়াল করা হচ্ছে-
বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ধারাবাহিক লোকসান এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পেছনে তৎকালীন সরকার শ্রমিকদের অতিরিক্ত মজুরি, বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা কমে যাওয়া, শ্রমিকদের উৎপাদন দিতে না পারা ইত্যাদি অজুহাত তুলেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী সেই পুরোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যই আবার আউড়েছেন।  অথচ এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো সরকারই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা কমে যাওয়া, পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে পাটকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্তভাবে চালু হচ্ছে না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসানের আসল কারণ ছিল ভুল নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং কাঠামোগত দুর্নীতি। সরকারি মিথ্যাচারের জবাব ও ব্যাখ্যা নীচে দেয়া হলো- 
 
দেশের চাহিদা ও রপ্তানি মিলিয়ে পাটের চাহিদা কমার কথা মিথ্যা
বিজেএমসির নথিপত্র এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলে মোট ইনস্টলড বা বরাদ্দকৃত তাঁতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬, ১৭১টি। তবে দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন না করা, পার্টসের অভাব এবং জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বন্ধ হওয়ার আগে এর বড় অংশই অচল ছিল। বাস্তবে গড়ে ৪,৮১২টি তাঁত সচল বা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছিল। তথ্য মতে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হয়েছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন। দেশের চাহিদা ও রপ্তানি মিলিয়ে মোট চাহিদা কমপক্ষে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য অন্তত দেড় লাখ মেট্রিক টন পাটপণ্য প্রয়োজন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) এবং বিজেএমসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ লাখ থেকে ৯ লাখ মেট্রিক টন (যার মধ্যে বেসরকারি খাতের অবদান ছিল সিংহভাগ)।
 
বিশ্বজুড়ে যখন প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ফাইবারের চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো বন্ধ করা হয়। বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা কমেনি, বরং পণ্যের ধরণ বা বৈচিত্র‍্য বদলেছে। বিশ্ববাজার এখন সস্তা পাটের বস্তার চেয়ে পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, কার্পেট, জিও-টেক্সটাইল ও চারকোল বা নান্দনিক হোম ডেকর পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশের বেসরকারি পাটকলগুলো এই চাহিদা ধরে রেখে ঠিকই লাভ করছিল, কিন্তু সরকারি মিলগুলো আগের মতই পাটের বস্তা ও সুতা উৎপাদন করছিল।
 
বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা কমেনি, বরং পণ্যের ধরণ বা বৈচিত্র‍্য বদলেছে। বিশ্ববাজার এখন সস্তা পাটের বস্তার চেয়ে পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, কার্পেট, জিও-টেক্সটাইল ও চারকোল বা নান্দনিক হোম ডেকর পণ্যের দিকে ঝুঁকছে।
 
সাত দশকের পুরোনো ও অকেজো যন্ত্রপাতি
২০১৭-১৮ সালে বিজেএমসির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়- সক্ষমতা অনুসারে উৎপাদন না হওয়ার কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পুরাতন মেশিনারিজ বিএমআরআই না করায় মেশিনের দক্ষতা হ্রাস পাওয়া (৫৬%)। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের বেশিরভাগ যন্ত্রপাতির গড় বয়স ছিল ৫০ থেকে ৭০ বছর (অধিকাংশ ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে স্থাপিত)। অথচ, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের টেক্সটাইল ও জুট লুমের সর্বোচ্চ কার্যকাল বা ইকোনমিক লাইফ হলো ৩০ থেকে ৪০ বছর। স্বাধীনতার পর থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব মিলে কোনো সমন্বিত এবং বড় ধরনের BMRE (Balancing, Modernization, Rehabilitation and Expansion) বা আধুনিকায়ন করা হয়নি। যার ফলে চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের মিলগুলো তাদের মূল উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছিল। এই পুরোনো লুমগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত কম। এগুলো চালাতে বিদ্যুৎ খরচ হতো দ্বিগুণ। ঘনঘন ব্রেকডাউন বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কাঁচামাল ও সময়ের অপচয় হতো ব্যাপক।
স্বাধীনতার পর থেকে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব মিলে কোনো সমন্বিত এবং বড় ধরনের BMRE (Balancing, Modernization, Rehabilitation and Expansion) বা আধুনিকায়ন করা হয়নি। যার ফলে চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের মিলগুলো তাদের মূল উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছিল।
 
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর লোকসানের আরেকটি কারণ- মৌসুমের সময়ে কাঁচা পাট না কেনা
২০১৭-১৮ সালে বিজেএমসির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়- নগদ টাকা বরাদ্দের অভাবে মৌসুমের শুরুতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গুণগত মানসম্পন্ন পাটক্রয় নিশ্চিত করা যায় না। জুন-জুলাই মাসে যখন বাজারে নতুন পাট ওঠে এবং দাম সবচেয়ে কম থাকে, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফান্ড সংকটের দোহাই দিয়ে বিজেএমসি পাট না কিনে পাট কিনতো অক্টোবর-নভেম্বর বা তারও পরে, যখন পাটের বাজার ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত এবং দাম দ্বিগুণ হয়ে যেত। ফলস্বরূপ, বেসরকারি মিলগুলো যেখানে কম দামে কাঁচামাল কিনে লাভ করে, সরকারি মিলগুলো সেখানে শুরুতেই চড়া দামে কাঁচামাল কিনে লোকসানের মুখে পড়েছে।
 
ত্রুটিপূর্ণ মেশিনের দায় শ্রমিকের ওপর চাপানো
শ্রমিকদের ‘উচ্চ’ মজুরি ও দক্ষতার অভাবের কারণে লোকসান হয় নাই। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের মোট খরচের মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ যেত শ্রমিকের মজুরিতে। বাকি ৮০ শতাংশ খরচ হতো কাঁচামাল কেনা, বিদ্যুৎ, যন্ত্রাংশ এবং বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তার প্রশাসনিক বেতন-ভাতা ও অপচয়ে। তাছাড়া বেসরকারি মিলের শ্রমিকদের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলের শ্রমিকেরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু তাদের পুরোনো ও জরাজীর্ণ মেশিনে কাজ করতে হতো, যেখানে উৎপাদনশীলতা কমতে বাধ্য। ত্রুটিপূর্ণ মেশিনের দায় শ্রমিকের ওপর চাপানো অন্যায়।
 
শীর্ষ পর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ
বিজেএমসি বা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর শীর্ষ পরিচালন পদে পাট সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হতো না। মূলত প্রেষণে আসা সরকারি আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতো। পাটখাতের বাজার সচল রাখার গতিশীলতা বা বাণিজ্যিক জ্ঞান না থাকায় তারা দীর্ঘমেয়াদি ও লাভজনক বিপণন কৌশল তৈরি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
 
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও বিপণন ব্যর্থতা
কাঁচা পাট কেনা, মেশিনের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য বিক্রির প্রতিটি স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন পাটের সুতা বা চটের ভালো দাম থাকতো, তখন বিজেএমসির অদক্ষ বিপণন বিভাগের কারণে সঠিক সময়ে ক্রেতা ধরা সম্ভব হতো না। অনেক সময় গুদামে পণ্য পচে গেছে বা ইঁদুরে কেটেছে, কিন্তু তা সময়মতো আন্তর্জাতিক বাজারে দরপত্র ডেকে বিক্রি করা যায়নি।
 
ভারতের ‘এন্টি-ডাম্পিং’ শুল্কের ধাক্কা
২০১৭ সালে ভারত সরকার বাংলাদেশী পাটপণ্যের ওপর ‘এন্টি-ডাম্পিং’ শুল্ক বা বিশেষ কর আরোপ করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর রপ্তানির একটি বড় অংশ যেত ভারতে। এই শুল্ক আরোপের পর ভারত সরকার যখন আমদানি কমিয়ে দেয়, তখন বিজেএমসি বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক বাজার (যেমন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা বা ইউরোপে নতুন ক্রেতা) তৈরি করতে পারেনি। ফলে উৎপাদিত পণ্য গুদামে জমে গিয়ে মূলধন আটকে যায়।
 
বিজেএমসির সুপারিশ 
২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিজেএমসি’র লোকসান হয় ৫৭৩.৫৮ কোটি টাকা। বিজেএমসির ২০১৮-১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন (খসড়া) অনুসারে এইসব লোকসানের চিহ্নিত ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ
 
* সক্ষমতা অনুসারে উৎপাদন না হওয়া: ৩৩৪.৪১ কোটি টাকা (৫৮.৩০%)। * ব্যাংক ঋণের সুদ: ৭৫.১১ কোটি টাকা (১৩.১০%)। * গেট মিটিং/শ্রমিক আন্দোলন: ৬৫.৮৭ কোটি টাকা (১১.৪৮%)।(ঐ বছর মজুরি আন্দোলন হয়েছিল) * অতিরিক্ত ৯১৭৭ জন অস্থায়ী শ্রমিক: ৪৫.১৪ কোটি টাকা (৭.৮৭%)। * বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ২৭.২৫ কোটি টাকা (৪.৭৫%)। * সামাজিক দায়বদ্ধতা: ২২.৬৭ কোটি টাকা (৩.৯৫%)। * সিবিএ এর কার্যক্রম: ৩.১৩ কোটি টাকা (০.৫৫%)। এইসব সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিজেএমসি অনেকগুলো সুপারিশ করে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কতগুলো সুপারিশ হলো:
* গচঅ-২০১০ আইনটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। * ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলসমূহে এবং বিজেএমসি’র মিলসমূহে অভিন্ন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করা এবং উভয়ের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক পণ্য বিক্রয়ের স্ট্যান্ডার্ড প্রাইস নির্ধারণ। *আদমজী হস্তান্তর বাবদ ৩২২৮ (তিন হাজার দুইশত আটাশ) কোটি টাকা এবং বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন মিল সমূহের অব্যবহৃত জমি বিক্রয় করে সমুদয় অর্থ বিজেএমসি’র নামে এফডিআর করার ব্যবস্থা করা। এফডিআর হতে প্রাপ্ত অর্থে বিজেএমসি ও মিলসমূহের সার্বিক ব্যয় পরিচালনা করা। * মৌসুমের শুরুতে স্বল্প মূল্যে/ন্যায্য মূল্যে পাটক্রয়ের জন্য আবর্তক তহবিল গঠন করা। * বিজেএমসি’র আওতাভুক্ত ছোট ছোট মিলগুলিকে বড় মিলের সাথে যুক্ত করে প্রশাসনিক ব্যয় কমানো। * বিজেএমসি’র পর্ষদে পরিচালক (উৎপাদন ও পাট) এবং পরিচালক (বিপণন) পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করা। *মিলসমূহের পর্ষদ-এর মাধ্যমে মনিটরিং জোরদারকরণ। *বাজার অনুসন্ধানে অভিজ্ঞ টিম গঠন ও নতুন বাজার অনুসন্ধান। 
*এন্টি ডাম্পিং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। *মজুদ পণ্য দাম কমিয়ে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ। *মিলগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঊহঃবৎঢ়ৎরংব জবংড়ঁৎপব চষধহহরহম (ঊজচ) বাস্তবায়ন। এবং
* স্কুলগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় গচঙ ভুক্তকরণ। (তথ্যসূত্র- ৬)
 
বর্তমানে বিজেএমসিকে ভাড়া তোলার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে-
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়: 
বন্ধ পাটকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলেও এখনো বিজেএমসিতে ২ হাজার ৩৪৭ কর্মকর্তা-কর্মচারি নিযুক্ত আছেন। কাজ না থাকলেও তাঁদের নিয়মিত বেতনভাতা দিচ্ছে সরকার। সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আছে।  বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মামুনুর রশিদ বলেন, বেতন ও ভাতার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১১.৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। বিজেএমসি সূত্র জানায়, উৎপাদন খাতের প্রায় ১,৬০০ একর জমির মধ্যে গুলশান ও নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিল এলাকাসহ প্রায় ৪০০ একর জমি সরকার নিয়ে নিয়েছে। মিলগুলোতে বিপুল পরিমাণ স্ক্র‍্যাপ বা ভাঙারি মালামাল অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সেগুলো বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখা হয়েছে। বিজেএমসির মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ৩০০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫০টি ইতিমধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৫০টি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এছাড়া আরও দোকান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর করিম চেম্বার এবং চট্টগ্রামের সাত্তার চেম্বার থেকে মোট আয় ২৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলে বিজেএমসির একটি পেট্রোল পাম্প রয়েছে, এটি সরাসরি পরিচালনা করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার এদিকে লোকসানের গল্প প্রচার করছে, আরেকদিকে উৎপাদনহীন কারখানায় কোটি কোটি টাকা বছরের পর বছর গচ্ছা দিয়ে চলছে। (তথ্যসূত্র ১০, ১১)
 
বিভিন্ন সময়ে পাটকলগুলো লাভজনক করার জন্য সুপারিশ গ্রহণ করেনি বিগত সরকার
১) ২০১৬ সালের মে মাসে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘চায়না টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন ফর ফরেন ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন’ (ঈঞঊঢওঈ) এবং বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিজেএমসি (ইঔগঈ)-এর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক বা গড়ট স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বিজেএমসির বেশ কয়েকটি বড় পাটকল (যার মধ্যে নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিল, খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল) চীনা অর্থায়নে আধুনিকায়নের জন্য বাছাই করা হয়েছিল।
২) শ্রমিক কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর সুপারিশ ছিল, মিলগুলো কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। মিল বন্ধ করলে উৎপাদন চেইন ব্যাহত হবে এবং বাজার হাতছাড়া হবে। তাদের প্রস্তাব ছিল, উৎপাদন চালু রেখেই পর্যায়ক্রমে পুরোনো ও জরাজীর্ণ ব্রিটিশ আমলের খটখটি তাঁতগুলো পরিবর্তন করে আধুনিক উচ্চ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় লুম স্থাপন করা। (তথ্যসূত্র-৮) স্কপের প্রস্তাব অনুসারে, বর্তমানে বিজেএমসি পরিচালিত ২২টি কারখানায় হেসিয়ান, সেকিং এবং সিবিসি এই তিন ধরনের মোট ১০৮৩৫ টি তাঁত বিদ্যমান। যার মধ্যে হেসিয়ান তাঁত ৬২৩২ টি, সেকিং তাঁত ৩৬৯৬ টি এবং সিবিসি তাঁত ১০০০ টি। আধুনিক স্বয়ংক্রিয় তাঁতের তুলনায় এই তাঁত সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা এমনিই কম, তার উপর পুরাতন হয়ে যাওয়ায় এগুলির উৎপাদন ক্ষমতা আরও হ্রাস পেয়েছে। হেসিয়ান তাঁতের পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক মাত্র ১৬ মেঃ টন, সেকিং তাঁতের ৩৯ মেঃ টন এবং সিবিসি তাঁতের ১৮ মেঃ টন। অথচ চীনা ঞঁহমফধ ঞউ ৭৮৮ গড়ফবষ এবং ঠরপঃড়ৎ ১১০১ ঔঁঃব ৎবঢ়রবৎ খড়ড়স স্বয়ংক্রিয় তাঁত বার্ষিক ৩৬ মেঃ টন উৎপাদন করতে সক্ষম। আর দক্ষতার সাথে সরবরাহ চুক্তি করতে পারলে স্বয়ংক্রিয় তাঁত সরবরাহকারী কোম্পানিই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেবে। অনেকাংশে স্বয়ংক্রিয় তাঁতে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ লাইনে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের সংখ্যা বাড়বে যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। 
 
স্কপের প্রস্তাব মতে, বিদ্যমান শত বছরের পুরনো স্কটল্যান্ড টেকনোলজি পর্যায়ক্রমে ৩ ধাপে আমূল পরিবর্তন করতে হবে:
প্রথমধাপ: ৬২৩২ টি হেসিয়ান তাঁত এর পরিবর্তে আধুনিক চাইনিজ ঞঁহমফধ ঞউ ৭৮৮ গড়ফবষ এবং ঠরপঃড়ৎ ১১০১ ঔঁঃব ৎধঢ়রবৎ ষড়ড়স এর মধ্যে থেকে স্বল্পব্যয়ে অধিক উৎপাদন করা যায় এরূপ একটি মডেল আমাদেরকে বাছাই করতে হবে। ৬২৩২ টি হেসিয়ান তাঁতের সমপরিমাণ উৎপাদন এইসকল আধুনিক মডেলের ৩০০০ তাঁতেই করা সম্ভব। দ্বিতীয় ধাপ: প্রথম ধাপের সাফল্যের উপর নির্ভর করে ৩৬৯৬ টি সেকিং তাঁতের পরিবর্তে ২০০০টি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় তাঁত বসাতে হবে। তৃতীয় ধাপ: উপরোক্ত দুইটি ধাপের সাফল্যের উপর নির্ভর করে মিল সাইট (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) স্পিনিং, ড্রইং, প্রিপেয়ারিং ও ব্যাচিং বিভাগের যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের মাধ্যমে তৃতীয় ধাপটি সম্পন্ন হবে।’
প্রথম ধাপের হেসিয়ান তাঁতের জন্য উল্লেখিত কোম্পানিগুলির ৩০০০ স্বয়ংক্রিয় আধুনিক তাঁত এর সম্ভাব্য মূল্য ৩ শত কোটি টাকা হতে পারে। যেহেতু আধুনিকায়নের ফলে তাঁতের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে, তাই সেই বর্ধিত চাহিদা পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নতুন প্রি-ভিম এবং ভিম মেশিন প্রতিস্থাপন করতে হবে। ওয়ার্প ওয়েন্ডিং এবং ভিমের সম্ভাব্য ব্যয় ১৫০ কোটি টাকা হতে পারে। ৬ মাসের পাটের মজুদ, মেশিনারিজের মেরামত, স্থাপন ও পরিবহন, পাটক্রয়সহ ১ হাজার কোটি টাকা হিসাব দিয়েছিল। (তথ্যসূত্র-৬)
 
বন্ধ শিল্প চালুর প্যাকেজ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে বরাদ্দ কেন নয়?
বন্ধ বা রুগ্ন শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের বিভিন্ন তহবিল বা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার মূল লক্ষ্য হলো খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, সহজ শর্তে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগান দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি কম সুদের ঋণের মাধ্যমে কারখানার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। অথচ আমরা দেখছি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবস্থাপনায় মিলগুলো চালুর জন্য সরকার টাকা দিতে রাজি নয়, বরং বেসরকারি মালিকদের হাতে মিলগুলোর অবকাঠামো, জমি এবং টাকা তুলে দিতেই উৎসাহী। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের ভাষ্য হলোÑ ‘সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।’  (‘সরকারিভাবে নতুন কোন পাটকল নয়’, প্রথম আলো, ১৫ জুন ২০২৬) বিভিন্ন সরকারের আমলে এসব তৎপরতার ফলাফল আমরা আগেই তুলে ধরেছি।  পাটশিল্পের রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে পুরোনো দক্ষ শ্রমিক ও শ্রমবাজারে আসা লক্ষ লক্ষ বেকার এবং ৪০ লক্ষ পাটচাষীদের চাইতে বেসরকারি মালিকদের স্বার্থই এই সরকারও বড় করে দেখছে। 
 
আমাদের প্রস্তাব
দেশে বর্তমান অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দরকার কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ। অভ্যন্তরীণ ও বিদেশের বাজারের চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উৎপাদনে গেলে কৃষিভিত্তিক এই শিল্পে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই প্রভাব অনেক বড়। এই পরিস্থিতিতে আমরা সরকারের কাছে প্রস্তাব করছি-
১) পেশাদার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, পাট বিজ্ঞানী এবং অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘টাস্কফোর্স গঠন’ করা। অতীতের ভুলনীতি চিহ্নিত করে দ্রুত লাভজনক করা সম্ভব মিলগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য বাজেট ঘোষণা করা।
২) শিল্প চালুর জন্য আর্থিক বরাদ্দের থেকে বিশেষ ‘প্যাকেজ ঘোষণা’ করলেই এখনো পাটকলগুলো সচল করার সম্ভাবনা আছে।
৩) বেসরকারিকরণের চলমান নীতি স্থগিত করা, বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লিজগুলো যাচাই বাছাই করা, লিজ চুক্তি বাতিল করা।  
৪) বিগত সময়ে দুর্নীতির সাথে যুক্তদের তদন্ত ও বিচার করা।
৫) সরকারের নিজস্ব ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’-যার আওতায় ১৯টি পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইনটি শতভাগ কার্যকর করা।
 
সঠিক পথ: নমুনা একটি কারখানা
ভুলনীতিগুলো পরিহার করে এবং বিজেএমসি পরিচালনা পদ্ধতি সংস্কার করে নতুন যন্ত্র ও মেশিন স্থাপনের অর্থ বরাদ্দ দিলে কি পরিমাণ টাকা লাগতে পারে? উদাহরণের জন্য আমরা এখানে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস কে বাছাই করেছি। আমিন জুট মিলস সচল করতে অর্থের প্রাক্কলন- (স্কপের প্রস্তাবনাকে মান ধরে এই হিসাব করা হয়েছে)
প্রথম ধাপ: আমিনের পুরনো ১৬৬টি হেসিয়ান তাঁতের সমপরিমাণ উৎপাদন নিশ্চিত করতে আধুনিক রেপিয়ার লুম লাগবে: ৮০ টি। স্বল্প ব্যয়ে অধিক ও টেকসই উৎপাদনের জন্য ঞড়হমফধ ঞউ ৭৮৮ ঔঁঃব জধঢ়রবৎ খড়ড়স মডেলটি সবচেয়ে উপযোগী। আন্তর্জাতিক গড় বাজার মূল্য প্রতি সেট ৮,০০০ ডলার।
দ্বিতীয় ধাপ: সেকিং তাঁত আধুনিকায়ন। আমিনের পুরনো ২৭৫টি সেকিং তাঁতের সমপরিমাণ উৎপাদন ধরে রাখতে আধুনিক সেকিং তাঁত লাগবে: ১৪৯ টি। সেকিং বা বস্তা বোনার স্বয়ংক্রিয় চাইনিজ রেপিয়ার লুমের গড় আন্তর্জাতিক মূল্য প্রতি সেট প্রায় ৯,০০০ ডলার।
তৃতীয় ধাপ: ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ আধুনিকায়ন (স্পিনিং, ড্রইং, প্রিপেয়ারিং ও ব্যাচিং)। মোট ২২৯টি (৮০+ ১৪৯) আধুনিক রেপিয়ার তাঁতকে প্রতিদিন কাঁচামাল বা সুতা সরবরাহ করতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সেকশনের সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির হিসাব: ব্যাচিং বিভাগ: ৩টি আধুনিক হাই-স্পিড জুট সফেনার এবং সমমানের প্রিপারেটরি লাইন। ড্রইং ও গিলবক্স বিভাগ: হেসিয়ান ও সেকিং সুতার কাউন্ট ঠিক রাখতে ৪টি ফার্স্ট ড্রইং, ৪টি সেকেন্ড ড্রইং এবং ৪টি ফিনিশার ড্রইং গিলবক্স (মোট ১২টি গিলবক্স সেট)। স্পিনিং বিভাগ: ৩৬৭টি আধুনিক তাঁতের দৈনিক সুতার চাহিদা পূরণের জন্য (প্রতি শিফটে গড়ে ২০-২২ টন সুতা) কমপক্ষে ২৪টি আধুনিক হাই-স্পিড স্পিনিং ফ্রেম প্রয়োজন। উইন্ডিং ও প্রিপেয়ারিং: ৪টি ড্রাম উইন্ডার এবং ২টি আধুনিক প্রি-বিমিং মেশিন।
 
  সারসংক্ষেপ:
 
মিলটি সচল করার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবে এর সাথে আরও ৩০%-৪০% অতিরিক্ত খরচ (যেমন- আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ ভাড়া, কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট, ফ্যাক্টরি সিভিল ওয়ার্ক ও ডেমোলিশন এবং চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা ইন্সটলেশন ও কমিশনিং খরচ যোগ করে ৩৫% অতিরিক্ত খরচ যোগ করে প্রায় ৬০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। (তথ্যসূত্র- ৭,৮) 
 
আমরা এখানে একটি মিলের মডেল দিয়েছি। দেশের প্রধান প্রধান ১০-১২টি পাটকলের BMRE (Balancing, Modernization, Rehabilitation and Expansion) বাবদ কি পরিমাণ খরচ হতে পারে তা এ থেকে বোধগম্য। এই আধুনিকায়ন মডেলে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে প্রায় দ্বিগুণ, বিদ্যুৎ খরচ কমবে, পাটের অপচয় কমবে লোকসানের পরিমাণ কমে আসবে। এতে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব সোনালী আঁশের নতুন জাতীয় অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
 
সত্যজিৎ বিশ্বাস: সদস্য, শ্রেণিসংগ্রামের পথ। ইমেইল:satyajitssf@gmail.com 
 
তথ্য সুত্রঃ
১)  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS): ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর কর্তৃক পরিবেশিত বক্তব্য এবং “Govt expects remaining leased out jute mills to be operational by Dec 2026” ও “Leased BJMC mills to create 20,000 jobs by Dec” শীর্ষক অফিশিয়াল রিপোর্ট
২) বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (BJMC) অফিশিয়াল পোর্টাল (bjmc.gov.bd): বিভিন্ন মেয়াদে প্রকাশিত ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (EOI) এবং লিজ চুক্তি মূল্যায়ন কমিটির (PEC) সভার কার্যবিবরণী।
৩) [Private operators turn BJMCÕs leased out jute mills into warehouses] (https://www.tbsnews.net/) (চট্টগ্রাম অঞ্চলের কেএফডি, এমএম এবং আরআর জুট মিলকে কীভাবে পাটকলের পরিবর্তে গুদাম ও লজিস্টিকস পার্ক বানানো হয়েছে, তার ওপর করা বিস্তারিত ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট)।
৪) [How private sector is reviving BJMCÕs closed jute mills](https://www.tbsnews.net/) (খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আকিজ ও ফরচুন গ্রুপের আংশিক উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার বাস্তব পরিসংখ্যান)। 
৫) [Jute sector in limbo as leased mills fail to deliver](https://www.thedailystar.net/) (বেসরকারিকরণের ফলে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং পাট শিল্পের সামগ্রিক স্থবিরতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও শ্রমিক নেতাদের বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট)।
৬) কল্লোল মোস্তফা – https://sarbojonkotha.info/sk-24-state-owned-jute-mills-shutdown-motive/
৭) লুম ও টেক্সটাইল মেশিনের দরদাম: আন্তর্জাতিক পাটকল যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী এবং মূল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Tongda Machinery এবং জুট উইভিং টেকনোলজি ম্যানুয়াল।
৮) বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের বিজেএমসি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ও বিএমআরই (BMRE) সংক্রান্ত নির্দেশিকা রয়েছে।
৯) বিজেএমসি লিজ ও উৎপাদন গাইডলাইন: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের বিজেএমসি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট যেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ও বিএমআরই (BMRE) সংক্রান্ত নির্দেশিকা রয়েছে।
১০) চলতি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি: সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (BSS) বিশেষ প্রতিবেদন, যা মামুনুর রশিদ (জিএম, বিজেএমসি)-এর বরাতে বন্ধ মিলগুলোর বর্তমান লিজ উৎপাদন ক্ষমতা ও সংস্কার ব্যয় নিশ্চিত করে।
১১) ঐ
 
Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •