সংবাদপত্রের পাতা থেকে(২৬ জানুয়ারি- ২৫ এপ্রিল ২০২৬)
অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন, রাজনীতি ও সংস্কার
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে উচ্চ ব্যয়ের বরাদ্দ সন্দেহজনক, নতুন সরকারকে বিপদে ফেলবে
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে উচ্চ ব্যয়ের বরাদ্দ সন্দেহজনক, নতুন সরকারকে বিপদে ফেলবে
সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ ব্যয়ের মধ্য দিয়ে অপচয়ের পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলছে, জনগণের কর্মসংস্থান, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে সরকারি পরিচলন ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব বরাদ্দ এবং দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারকেও বিপদে ফেলবে।
আজ মঙ্গলবার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যদের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, নাজমুস সাকিব, দিলীপ রায়, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফেরদৌস আরা রুমী, সজীব তানভীর, আবদুল্লাহ মাহফুজ, আকরাম খান, সীমা দত্ত, আফজাল হোসেন ও ফারহানা শারমীন।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল হলেও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়েছে। গত দেড় বছরে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ৬ দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। রুটিন কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কাজের কোনো এখতিয়ার বা যৌক্তিকতা এ সরকারের থাকে না। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং তাড়াহুড়া খুবই সন্দেহজনক। দেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’ এসব তৎপরতায় কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের ২ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের ৪২ শতাংশই চট্টগ্রামে
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৮ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০টি সভা হয়েছে। সভাগুলোয় অনুমোদন পেয়েছে ১৫৩টি নতুন প্রকল্প। আর এসব উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ২ লাখ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৮ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০টি সভা হয়েছে। সভাগুলোয় অনুমোদন পেয়েছে ১৫৩টি নতুন প্রকল্প। আর এসব উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ২ লাখ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ বরাদ্দের ৪২ শতাংশ অর্থই দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। অন্যদিকে দারিদ্র্যপীড়িত রংপুর বিভাগে বরাদ্দ গেছে মাত্র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থ। অবশ্য রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগ বরাদ্দ পেয়েছে আরো কম। রাজশাহীতে মাত্র ১ দশমিক ৩৮ ও বরিশালে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বরাদ্দ গেছে। অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৭৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের নথিপত্রে উন্নয়ন বরাদ্দে অঞ্চল বা বিভাগভিত্তিক এ বৈষম্যমূলক চিত্র উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়। আর চট্টগ্রাম বিভাগ বিবেচনায় নিলে বিভিন্ন সময় উপদেষ্টাদের ১৩ জন এ বিভাগের ছিলেন। উন্নয়ন বরাদ্দে তাই আঞ্চলিকতা কোনো প্রভাব রেখেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তাদের।
দুই মাস আগে পদত্যাগ করেও সরকারি বাসায় আসিফ ও মাহফুজ
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পর মাহফুজ আলম বললেন, নির্বাচনের আগে মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন। আর এক মাস আগেই বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তবে সরকারি বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করলেও বুধবার রাতে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হেয়ার রোডে বাসা ‘নিলয়-৬’ এ গিয়ে একজন দায়িত্বরত কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি এখনো বাসা ব্যবহার করছেন।
তার বাসায় দায়িত্বরত আরেকজন কর্মচারীও বলেন, “স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি।”
তবে ২৭ বছর বয়সী সাবেক এই উপদেষ্টা বেশিরভাগ সময় পরিবাগের বাসায় থাকেন, বলেন তিনি।
শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে প্রশাসনের আয়োজনে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম ও বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, ঝিনাইগাতী ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আমজাদ হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজা মিয়া রয়েছেন। গুরুতর আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট খারিজ
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন আজ বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের যুক্তি শোনার পর বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ এই রায় দেন।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম গত বছর হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে রিট আবেদনটি দায়ের করে।
৪০% মানুষ গণভোট সম্পর্কে সচেতন
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট সম্পর্কে সচেতন। আর ৩০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে।
এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)। গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন তথ্য উপস্থাপন করে সংস্থাটি। সংস্থাটি ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
সংস্থাটি জানায়, তারা মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ ও উপস্থিত জরিপ করেছে। সেখানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির সংলাপ এবং উপস্থিত জরিপে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন ৪০০ নারী–পুরুষ। আর বিইআই অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেছে ২০০ জনের সঙ্গে। এর মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং প্রতিটি এলাকার প্রার্থী ও নাগরিকেরাও এতে মতামত দিয়েছেন।
ভোটের প্রচারে ফেসবুকে বিএনপির ব্যয় ৩৭ লাখ টাকা, জামায়াতের কত
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সময়ের সঙ্গে অনেকটাই বদলেছে নির্বাচনী প্রচারের ধরন। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা এখন জোর দিচ্ছেন ডিজিটাল প্রচারে। এতে দেখা যাচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক মাসে ৫২ হাজার ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৪ লাখ টাকার মতো।
ফেসবুকের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার অ্যাড লাইব্রেরির ‘সোশ্যাল ইস্যুস, ইলেকশনস অ্যান্ড পলিটিকস’ ক্যাটাগরির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০ দিনে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে গত এক মাসে ন্যূনতম ১০০ ডলার খরচ করেছে, এমন ১১২টি ফেসবুক পেজের খরচ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ১০০ ডলারের কম অঙ্কের বিজ্ঞাপনের হিসাব মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে সরাসরি দেওয়া হয় না। ফলে এটা স্পষ্ট, রাজনৈতিক দলগুলো কিংবা প্রার্থীদের পক্ষে বিজ্ঞাপনের ব্যয় এর চেয়েও অনেকটাই বেশি হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ডেইলিস্টার বাংলা অনলাইন
অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে দ্রুতগতিতে দীর্ঘমেয়াদি নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলে কার্যত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাত বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনালের কার্গো কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্য চুক্তি।
এর আগে গত নভেম্বরে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করা হয়।
একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ ২২ বছরের চুক্তিতে পানগাঁও নদীবন্দর পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেডলগের নিয়োগটি উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হলেও লালদিয়া ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের ক্ষেত্রে সে ধরনের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না থাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
জামায়াতের আমির পদে নারী সম্ভব নয়
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার আল–জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়েছে।
‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। সাক্ষাৎকারের ভূমিকায় তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এবং জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে জামায়াত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
প্রচার শুরুর আট দিনে ৪২ নির্বাচনী সহিংসতা
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনাও তত বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে ভোটের পরিবেশে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, গণভোট ঘিরে পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন থাকবে– এমন প্রশ্নও সামনে আসছে। নির্বাচনী জনসভায় একে অন্যের প্রতি অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। ভোটের মাঠের কথার লড়াই কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আট দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। এতে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৫৩ জন। ১ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ৬৫টি। এতে অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৫৫৫ জন।
ভোটারের বয়স ১৬, এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে ভোটাধিকারের বয়স ১৬ বছর করা, আগামী ৫ বছরে দেশে ১ কোটি সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং এককালীন তহবিল দিয়ে রিভার্স ব্রেন ড্রেইন (মেধাবীদের দেশে ফেরানো) করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে এক অনুষ্ঠানে এনসিপির ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ প্রকাশ করা হয়। ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উপস্থাপন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
প্রতিরক্ষা ক্রয়ে বিশেষ মনোযোগ
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও নির্বাচন– এই তিন গুরুদায়িত্ব পালনের ঘোষণা দিলেও গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে প্রতিরক্ষা খাতের কেনাকাটায়। এর মধ্যে ভূরাজনৈতিকভাবে কৌশলগত নানা সমঝোতা, চুক্তি এবং আলোচনা উল্লেখযোগ্য।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার পাকিস্তান থেকে ১২টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান, চীন থেকে ২০টি জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান, ইউরোপের কয়েকটি দেশের তৈরি ১০টি ইউরো ফাইটার টাইফুন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট দুই আসনের ছয়টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, তুরস্ক অথবা তার মনোনীত কোনো সংস্থা থেকে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ খালিদ বিন ওয়ালিদের উন্নয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক হেলিকপ্টার ও বিমান কেনা নিয়ে আলোচনা করেছে, আগ্রহ দেখিয়েছে বা আগ্রহপত্র সই করেছে। সর্বশেষ সামরিক ড্রোন নির্মাণে চীনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বাংলাদেশ ফোর্সেস গোল ২০৩০-এ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা আছে। এই উদ্যোগ প্রতিরক্ষা ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক ঘরানা নির্ধারণের মতো বিষয় সব সময় সম্পৃক্ত। ফলে ধাপে ধাপে এসব সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাস্তবায়নের কথা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তৃতীয় ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ সামিটে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি বলেছিলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুবচনবাদী গণতন্ত্র রূপান্তর নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেছিলেন, নির্বাচন, বিচার, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম কাজ।
তবে অর্থনৈতিকভাবে বহুমাত্রিক চাপে থাকা অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার নানা বাড়তি ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ একাধিক টার্মিনাল ২২ থেকে ৩৩ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার মতো নানা ব্যবসায়িক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর কোনো কোনোটি নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কথাও উঠেছে।
দুদক সংস্কারের বিপক্ষে ছিলেন সাত উপদেষ্টা
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, কালের কন্ঠ
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে, শুধু আমলাতন্ত্রের একাংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত আশাহত করেছে। সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া দু-একটি সুপারিশ বাস্তবায়ন হলেও এর ফলে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বরং কিছু কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে।’
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়েছে, ঐকমত্য কমিশন হয়েছে, একাধিক হোয়াইট পেপার কমিটি হয়েছে, বিচার বিভাগ স্বাধীন করার জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ রকম আরো অনেক দৃষ্টান্ত আমি দিতে পারব। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য আছে, এমনকি কোনো নোট অব ডিসেন্টও নাই, সেই মৌলিক সুপারিশগুলো এ সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকারকাঠামো তৈরি করা। যে মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব সেসব প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন কমিশন গঠন করে।
পরবর্তী সময় কমিশনের অনেক কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়। উদাহরণস্বরূপ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন কিংবা পুলিশ কমিশনের কথা যদি বলি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যাডহক ভিত্তিতে সংস্কারগুলো হয়েছে, যে কারণে আমরা অনেক হতাশ।’
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো দেশীয় অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করে করা হয়েছে। আমাদের প্রতিবেদনটি সবচেয়ে কম সময়ে, কম সুপারিশে, খুবই স্পেসেফিকভাবে ৪৭টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকার আমাদের কাছ থেকে আশু করণীয় সুপারিশগুলো জানতে চায়।
যার মধ্যে কিছু সুপারিশ সরকারের সিদ্ধান্তে হবে, কিছু অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে হবে আর কিছু দুর্নীতি দমন কমিশন নিজে বাস্তবায়ন করবে। গত বছরের মার্চে এ সুপারিশগুলো সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানকার আশু করণীয় সুপারিশগুলোর মধ্যে দু-একটি হয়তো বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে কিছুই অগ্রগতি হয় নাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চেয়েছি দুদক একটি সিম্পল কাজ করবে। একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কমিটি থাকবে। বাছাই কমিটি নামে যে কমিটি থাকবে এটি তারই পরিবর্তিত রূপ। সেই পর্যবেক্ষক কমিটি ছয় মাস পর দুদকের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে একবার আমি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠকে সংস্কারের ব্যাপারে তাদের রাজি করাতে পেরেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল সুপারিশগুলো বাতিল করা হয়ে গেছে। এখানটাই হচ্ছে অন্তর্ঘাত। অনেকেই চাইছেন না দুদক কার্যকর হোক, দুদকে জবাবদিহি থাকুক, স্বাধীনতার পাশাপাশি তারা এটাকে প্রতিহত করছে। আমাদের বলা হয়েছে, শুধু আমলাতন্ত্রের একাংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত আশাহত করেছে।’
সংস্কারের উদ্যোগে বাধা ‘ডিপ স্টেট’
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সংসদ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা দরকার মনে করেন দেশের ৫১ শতাংশ মানুষ। কিন্তু গত দেড় বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ‘ডিপ স্টেট’ ও আমলাতন্ত্রের প্রতিরোধের মুখে পিছিয়ে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আসন্ন নির্বাচনের পর আমলাতন্ত্র তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংস্কারের প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে পারে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতি, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ‘২০২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির রূপান্তর’ শীর্ষক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের একটি অংশে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই কর্মবিরতিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা, অচলাবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুশিয়ারি উপেক্ষা করে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনাকারী এই সমুদ্রবন্দর।
দিনব্যাপী ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি বেলা ১১টার দিকে বন্দরে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।মিছিলটি বন্দর এলাকার ভেতর থেকে শুরু হয়ে নিমতলা হয়ে ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত যায়। পরে সেখান থেকে ফিরে এসে ৪ নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, নিউমুরিং টার্মিনালটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তা সত্ত্বেও এটি কেন বেসরকারি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। এই চুক্তি প্রক্রিয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন যে, কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ কম, আশিক চৌধুরীর চমক কোথায়
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনায় প্রতিযোগী দেশগুলোর থেকে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) শীর্ষ পদের জন্য সিঙ্গাপুর থেকে তরুণ ব্যাংকার আশিক চৌধুরীকে উড়িয়ে এনে চমক দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে অন্য ক্ষেত্রে চমক দেখালেও গত ১৬ মাসে বিদেশি বিনিয়োগ আনায় চমক দেখাতে পারেননি আশিক চৌধুরী।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খাদের কিনারায় পৌঁছে যাওয়া আর্থিক খাতে অনেকটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও ঠেকানো গেছে। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতি সন্তোষজনক করা যায়নি। উল্টো নতুন বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের হারও নিম্নমুখী। আবার অনেক ছোট-মাঝারি ও বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছর জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের হার ছিল ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। বিগত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সেটি কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে। সে বছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি হয়েছিল ২৮১ কোটি ডলারের, যা কিনা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহও ছয় মাস ধরে ৭ শতাংশের নিচে। অথচ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শেষ মাসেও এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ শতাংশের বেশি।
কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও অচলাবস্থা, মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন আজ রোববারও বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা চলছে। সকাল আটটা থেকে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার থেকে দুই দিনব্যাপী আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন আজ সকাল আটটা থেকে আট ঘণ্টা পরিচালন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
ঢাকা উত্তরের প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ঢাকা পোস্ট
ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ থাকায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, সরকারি কর্মচারিকে জরিমানা
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, চ্যানেল২৪ অনলাইন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মো. এরফান আলী নামে এক সরকারি কর্মচারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেন।
জানা গেছে, মো. এরফান আলী যিনি ঢাকা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কমরত। তিনি উপজেলার বীরেশ্বরপুরে নিজের বাসভবনে একটি গোপন বৈঠক আয়োজন করেছিলেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং সম্ভাব্য সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার। প্রশাসন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে লিপ্ত অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
সংস্কারক নাকি ইকোনমিক হিটম্যান?
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
আধুনিক বিশ্বায়িত অর্থনীতির আলোচনায় রহস্যময় কিন্তু বহুল উল্লেখিত ধারণা হলো ‘ইকোনমিক হিটম্যান’। শব্দটি জনপ্রিয়তা পায় মার্কিন লেখক জন পারকিনসের ২০০৪ সালের বই ‘কনফেশনস অব অ্যান ইকোনমিক হিটম্যান’-এ। যেখানে তিনি দাবি করেন, উন্নয়ন ঋণ, নীতি-পরামর্শ ও করপোরেট চুক্তির মোড়কে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের জাল, কৌশলগত চুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে আটকে দিয়ে তাদের কৌশলগত সম্পদ ও সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতার ওপর প্রভাব বিস্তার করাই এ ধরনের হিটম্যানদের কাজ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশী ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ খাতে অভিজ্ঞ দুই বাংলাদেশী পেশাদারকে যুক্ত করে। তারা হলেন লুৎফে সিদ্দিকী ও চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। লুৎফে সিদ্দিকীকে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। অন্যদিকে আশিক চৌধুরীকে একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আনা হয়। লুৎফে সিদ্দিকীর মূলত আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর কাজ করার কথা। পাশাপাশি তিনি আগের সরকারগুলোর সময়ে সংঘটিত অর্থনৈতিক অপরাধ ও খেলাপি ঋণ (নন-পারফর্মিং লোন) তদন্তের জন্য একটি ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠনের কথাও বলেছিলেন। অন্যদিকে আশিক চৌধুরীর মূল ম্যান্ডেট ছিল বিনিয়োগ আনয়নে সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো তৈরি। অর্থাৎ দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরানো।
কিন্তু এ দুজনের সক্রিয় ও আগাম উদ্যোগী ভূমিকা চোখে পড়লেও তাদের বেশকিছু কর্মতৎপরতা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকের মতে, সংস্কারের অগ্রভাগে অবস্থান করলেও এ দুজনের কর্মকাণ্ডে তাদের ঘোষিত মূল কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে রাষ্ট্রীয় কেনাকাটা, বন্দর ও বড় অবকাঠামো চুক্তির মতো ‘হাই-ভ্যালু ডিল’। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নীতিগত সংস্কার ও ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়নের বদলে তাদের আগ্রহ কেন্দ্রীভূত হয়েছে এমন সব বিষয়ে, যেগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন তোলে।
এনসিটি নিয়ে চুক্তি, দর–কষাকষি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে, বন্দরে অচলাবস্থা
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই দর-কষাকষি চূড়ান্ত হলেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা। সই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় আট ঘণ্টা অচলাবস্থা ছিল বন্দরে। কর্মসূচির কারণে আট ঘণ্টা বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবিতে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ ছাড়া চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
নির্বাচনে মাত্র ৭৮ নারী প্রার্থী, এক-তৃতীয়াংশই পারিবারিক সূত্রে
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৮ জন নারী প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যানই আসলে দেখিয়ে দেয়, রাজনীতিতে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এখনো কতটা পিছিয়ে রয়েছে।
আরও উদ্বেগজনক হলো, এই ৭৮ জন নারীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চরিত্র নন। তারা প্রভাবশালী কোনো পুরুষ রাজনীতিকের স্ত্রী, কন্যা কিংবা পরিবারের সদস্য। দলীয় নেতৃত্ব ও ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রেই তাদের রাজনৈতিক উত্থান।
এই নারী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাত্র ৬৭টি সংসদীয় আসনে। ফলে দেশের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সরাসরি নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিত্বের কোনো সুযোগই নেই।
দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রতিনিধিত্ব অনেকটাই প্রতীকী এবং প্রধানত বংশানুক্রমিক।
নারী প্রার্থীদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত, কর্মজীবী ৬৭%
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৫ জন। এর বাইরে ১ জন প্রার্থী হিজড়া জনগোষ্ঠীর। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নারী প্রার্থীদের হলফনামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের ৬৪ জনই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, অর্থাৎ ৭৫ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত। ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩২। পেশাগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী কর্মজীবী।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর নির্বাচন কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেই তালিকা অনুসারে, নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৪ জন, অর্থাৎ মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৪ শতাংশ। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬৬ জন নারী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৯ জন। তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রার্থীদের যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার কিছু গড়মিল আছে। যেমন: রংপুর–৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরীর নাম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে হলফনামায় নেই। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন উর্ত্তীণ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের করা চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম আছে। আবার ঢাকা–১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথির নাম নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় না থাকলেও হলফনামার চূড়ান্ত তালিকায় আছে। আজ সোমবার ( ২ ফেব্রুয়ারি) প্রথম আলোর ছাপা পত্রিকায় নারী প্রার্থীর যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছিল (৭৮ জন), সেটা হলফনামা দেখে করা হয়েছিল। সেখানে কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছিল।
ভিসা পেতে অনেক উপদেষ্টা আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাগো নিউজ
ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের প্রয়োজন বিবেচনায় সময়মতো ভিসা পেতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকে আগেভাগেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি জানান, তিনি কিংবা তার স্ত্রী কেউই এখনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করেননি।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) ও ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দর–কষাকষি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে, বন্দরে অচলাবস্থা
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই দর-কষাকষি চূড়ান্ত হলেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা। সই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই চুক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।
কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো প্রায় আট ঘণ্টা অচলাবস্থা ছিল বন্দরে। কর্মসূচির কারণে আট ঘণ্টা বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ বা জিসিবিতে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এ ছাড়া চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালেও কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এ নিয়ে টানা দুই দিন ৮ ঘণ্টা করে ১৬ ঘণ্টা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। গতকাল বিকেল চারটার দিকে কর্মবিরতি কর্মসূচি শেষ হলে বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো এবং খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়াও শুরু করেছে। গতকাল পৃথক দুটি আদেশে ১২ কর্মচারীকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ও কমলাপুর কনটেইনার ডিপোতে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে শনি ও রোববার—দুই দিনে ১৬ কর্মচারীকে বদলি করা হলো। তবে বদলির আদেশে জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজে তাঁদের বদলি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, আন্দোলন নস্যাৎ করতে এই বদলি করছে কর্তৃপক্ষ।
ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল এবং কর্মচারীদের বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার আবারও সকাল আটটা থেকে আট ঘণ্টা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এবার বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তাঁরা। বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর এই সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হিসেবে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্দোলন করার কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ একের পর এক কর্মচারীদের বদলি করছে। ইজারাপ্রক্রিয়া বাতিল এবং বদলির বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। প্রতিবাদে আজ সোমবারও কর্মবিরতি চলবে।’
চট্টগ্রাম বন্দরের বৃহৎ এই টার্মিনাল নির্মিত হয় ২০০৭ সালে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের সিংহভাগ এই টার্মিনাল দিয়ে পরিবহন হয়। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।
ঢাকায়ও প্রতিবাদ
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামের একটি সংগঠন। গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে দেশি-বিদেশি একটি সিন্ডিকেটের স্বার্থ কাজ করছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে প্রশাসনিক চাপ, বদলি ও নানা হয়রানি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত ও দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
চলমান বিষয় নিয়ে বন্দরের বক্তব্য
গতকাল দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই (চুক্তি) কার্যক্রমটি সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির (পিপিপিএ) মাধ্যমে পিপিপি নির্দেশিকা অনুসরণ করে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর-সংক্রান্ত কোনো খবর নেই। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে আন্দোলন ও কর্মসূচি শুরু করা ঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মবিরতির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়ছে।
কর্মচারীদের বদলি প্রসঙ্গে ওমর ফারুক বলেন, এটি জরুরি দাপ্তরিক প্রয়োজনের জন্য নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
ভোটার স্থানান্তর ও নারী কর্মী হেনস্তার পৃথক অভিযোগ
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
গত এক–দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটার স্থানান্তর হয়েছেন—এমন দাবি করে বিএনপি বলেছে, বিশেষ কিছু এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছেন, যেটা অস্বাভাবিক। তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য চেয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে দেখা করে এটিসহ কয়েকটি বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে দলের নারী কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারে গেলে নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে সিইসির কাছে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি তাঁরা তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে ইসি বলেছে, এ রকম বেশি হয়নি। কোনো আসনে দু–তিন হাজারের বেশি স্থানান্তর হননি। তবে বিএনপি ইসির এ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। যারা ইসিকে এ–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে, তারা সঠিক তথ্য দেয়নি। বিএনপি ইসির কাছে আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য জানতে চেয়েছে।
বিভিন্ন জায়াগায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কেউ কেউ কোনো দলের পক্ষে বক্তৃতা করতে ধর্মীয় আবেগ, বিশ্বাসকে আঘাত করছে। কিন্তু ইসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যদের প্রথমবারের মতো নির্বাচনের কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা শুনেছেন। যদিও এটা চূড়ান্ত নয়। তাঁরা বলেছেন, ছাত্রদের নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে ইসি।
কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষার নামে একটা শান্তি কমিটি গঠন করার কথা শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শান্তি কমিটি শব্দটাই আমাদের কাছে খুব অপ্রিয়। যদিও আমরা শান্তিবাদী মানুষ। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তাদের এ সম্পর্কে জানা নেই।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, এবার দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তেমন পরিচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে বিএনপির অভিযোগ নেই। তাঁরা জানতে চেয়েছেন, ইসি বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নাকি সাধারণ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। ইসি বলেছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।
নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ জামায়াতের
কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের চার দায়িত্বশীলসহ ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। তারা সিইসিকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছে। এই প্রথমবারের মতো জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রীরা অভিযোগ নিয়ে ইসিতে গেলেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী কর্মীরা যখন ভোটের জন্যে বিভিন্ন পাড়া–মহল্লায় যাচ্ছেন বা নির্বাচনের কাজ করছেন, তখন একদল লোক তাঁদের ওপর বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন করছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে, শারীরিক নির্যাতন করছে, তাঁদের হিজাব–নেকাব খুলে ফেলছে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে তাঁরা ইসির পদক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো তাঁরা স্থানীয়ভাবেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
কারা নারীদের প্রচারে হেনস্তা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, যারা এই কাজ করেছে, তাদের দলীয় পরিচয় বোঝার উপায় নেই, তারা দুষ্কৃতকারী। তবে তাদের আইনের মুখোমুখি করতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে বের করবে তাদের দলীয় পরিচয় আছে কি না বা তাদের পরিচয় কী।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য হাবিবা আক্তার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা ইসিতে যে তালিকা দিয়েছেন, সেখানে ১৫টি জায়গার ছবি, ভিডিওসহ দিয়েছেন। এর বাইরে আরও ঘটনা আছে।তিনি জানান, ইসি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
দলের নারী নেতৃত্ব প্রশ্নে যা বললেন
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয়। জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেত্রীরাও তাই মনে করেন কি না, জানতে চান একজন সাংবাদিক।
জবাবে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, ‘আপনারা জানেন, জামায়াতে ইসলামী হলো ইসলামি সংগঠন, তাই না? আর ইসলামি সংগঠন ইসলাম মেনে চলবে, এটাই স্বাভাবিক। যেখানে আল্লাহ–তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “আর-রিজালু ক্বাওয়ামুনা আলান নিসা”—পুরুষ হচ্ছে নারীদের পরিচালক। তো এখানে আল্লাহর এই নির্দেশটা, এটা কোরআনের নির্দেশ, এটা ফরজ। সেই হিসাবে কোনো ইসলামি সংগঠনে নারীরা নেতৃত্বে আসতে পারে না।’
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, তাঁরা এটা মেনে নিয়েই ইমান এনেছেন। তাঁরা এটা মেনে নিয়েই চলছেন। শীর্ষ পদে নারী আসাটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কি না।
নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, ‘বাংলাদেশের গত ৫৪ বছরে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার কি সমাধান হয়েছে? নারীদের প্রতি সহিংসতা কি কমেছে? নারীদের অধিকার কি আদায় হয়েছে? তাহলে শুধু নারী শীর্ষ পদে থাকলেই যে একটা কিছু হয়ে যাবে, কথাটা ঠিক না। বরং নারী হোক আর পুরুষ হোক, যিনি মানবিক হবেন এবং মানবিক মর্যাদা দিবেন নারীদের, পুরুষদের সবাইকে আমরা এই ধরনের নেতৃত্ব চাই। এ জন্য শীর্ষ পদে আমরা আসাটা জরুরি মনে করি না।’
নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করবে অন্তর্বর্তী সরকার
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এই চুক্তি অনুষ্ঠান হবে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের। তবে শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে এর আগে গত আগস্ট মাসে সমঝোতা হয় দুই দেশের; তবে চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন সেই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।
জনপ্রশাসন সংস্কারে ১৮ ‘অতি জরুরি’ সুপারিশের মধ্যে শৌচাগার সংস্কারসহ মাত্র ৩টি বাস্তবায়িত: টিআইবি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা, সিদ্ধান্তহীনতা ও আমলাতন্ত্রের নিজের স্বার্থরক্ষার প্রবণতা চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ১৮টি ‘অতি জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও শৌচাগার সংস্কারসহ মাত্র তিনটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবি উল্লেখ করে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ১৮টি ‘অতি জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে মাত্র তিনটি—শৌচাগার সংস্কার, ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও গণশুনানি।
সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ বাদ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজেদের পছন্দমতো প্রস্তাব যুক্ত করে আমলাতন্ত্রের স্বার্থরক্ষার অভিযোগও করেছে সংস্থাটি।
প্রশাসনে জনবল কাঠামো ও পদোন্নতি নিয়ে বিশৃঙ্খলার চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে অনুমোদিত ৩ হাজার ৬৯৬টি পদের বিপরীতে প্রশাসনে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৫৩৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার চেয়ে ‘বঞ্চিত’ হওয়া এবং রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অনেকের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতি, অনিয়ম, বিভাগীয় মামলায় শাস্তি এবং বিগত সরকারের অপকর্মের সহযোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভোটে আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে
২০ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ ঋণখেলাপি বেরিয়ে গেলেও বাদ পড়েছেন ৬৮ জন। ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাছাই এবং নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এর পরে রয়েছে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাদ পড়া অনেকেই উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে নাম উঠলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ৩১ জন উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রার্থী হন। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে এই ৩১ জনের মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসির আপিল শুনানিতে বাদ পড়ে যান। কারণ, হাইকোর্টের আদেশে আপিলে আটকে যাওয়ার ফলে তিনি পুনরায় খেলাপির তালিকায় পড়ে যান।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণগ্রহণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও তাদের ১৮ মাসে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঋণগ্রহণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১১ মাসে (আগস্ট-জুন) ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে সরকার। ঋণ গ্রহণের এ ধারা অব্যাহত থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
ক্ষমতায় বসার পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অতীতের সরকারের সময়ের লুটপাট ও অর্থ পাচারের বিষয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। এ কমিটির প্রতিবেদনে সরকারি বিনিয়োগকে ঘিরে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে সরকারি কর্মকাণ্ডের জন্য ক্রয়কৃত পণ্য ও সেবায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। এ অর্থ থেকে ঘুস হিসেবেই চলে গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো। এ ঘুস নিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও তাদের সহযোগী ব্যক্তিরা। এ সময় সরকারি তহবিল থেকে দেশে বাস্তবায়িত বড় প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন হয়েছে। এর সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় ঋণও ছিল।
আইনি জটিলতা ও শ্রমিক অসন্তোষের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তির উদ্যোগ
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা অনলাইন
বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক নৌবাণিজ্য সম্পদ একটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার উচ্চ ঝুঁকির উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি চ্যালেঞ্জ, শ্রমিক ধর্মঘট ও ব্যাপক আর্থিক অবমূল্যায়নের অভিযোগের তীব্র ঝড়।
অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য ইজারা দিতে দ্রুতগতিতে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। কর্মকর্তারা এটিকে বৈশ্বিক মানের দক্ষতায় পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এবং আদালতে বিচারাধীন একটি প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে চুক্তিটি ‘জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)—বন্দরের একটি কৌশলগত স্থাপনা, যেখানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ কনটেইনারবাহী পণ্য ওঠানামা করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থায় এনসিটি ও এর পাশের ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য আমিরাতভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গোপন’ চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, উদ্বেগ
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে। ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা।
সরকারের বিদায়বেলায় চুক্তিটি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন ওঠার বড় কারণ, চুক্তির খসড়ায় কী আছে, তা কেউ জানে না। চুক্তির সবকিছু গোপন রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগেই নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট বা এনডিএ সই করেছে বাংলাদেশ।
৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি হলে কয়েক দিন পরই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। কারণ, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ।
এরপর নির্বাচনে বিজয়ী দল গঠন করবে নতুন সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের দায় পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপরই।
গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা; যা বললেন খালিদুজ্জামান
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যমুনা টিভি অনলাইন
ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের ক্যান্টনমেন্টে গ্যানমান নিয়ে প্রবেশের চেষ্টার ভিডিও ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এনিয়ে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন খালিদুজ্জামান। ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
পাঠকদের জন্য ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিচে দেওয়া হলো।
বেশকিছু দিন আগে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গর্ব ও অহংকার, সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সেনাবাহিনীর দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হওয়া সত্ত্বেও দুঃখজনকভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই সমাধানকৃত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। যাইহোক, উক্ত ঘটনার বিষয়ে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের ভুল বুঝাবুঝি আর না হয় সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
বেজার নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে দেশের সব বেসরকারি ইপিজেড
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
দেশের সব বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এখন থেকে সরাসরি ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ বা বেজা’র নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬’ বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলে ভুয়া ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেত্রী ফেসবুকে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেই পোস্টে আরেক সহনেতার বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
আতঙ্কিত হয়ে তিনি লেখেন, ‘…ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন। আপনার মতাদর্শ তার সঙ্গে না মিললেও এই কঠিন সময়ে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা মানবিক দায়িত্ব। স্ক্রিনশটে থাকা ব্যক্তিকে যদি কেউ চেনেন বা তার সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় জানেন, অনুগ্রহ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসুন।’
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টটিতে ১০ হাজারেরও বেশি রিঅ্যাকশন (প্রতিক্রিয়া) পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৫০০টিই ছিল ‘হাহা’। এটা কোনো উদ্বেগ নয়, বরং বিদ্রূপের ইঙ্গিত দেয়।
সাধারণত সামাজিক মাধ্যমে কেউ কারও মতের সমর্থন বা বিরোধিতা জানাতে ‘লাইক’, ‘লাভ’ বা ‘হাহা’সহ বিভিন্ন রিঅ্যাকশন দেয়। কিন্তু এই ৮ হাজার ৫০০টি ‘হাহা’ রিঅ্যাকশন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি এসেছে সন্দেহজনক প্রোফাইল থেকে।
অনেক ইউজারনেম ছিল বিদেশি, বাংলা বা ইংরেজি ছাড়া অন্য লিপিতে লেখা। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর কোনো প্রোফাইল ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য নেই। এর মধ্যে ছিল টোগোর ‘কোকো খেলিওস’ কিংবা মাদাগাস্কারের ‘অলিভিয়ে রান্দ্রিয়ানজাকা’র মতো নাম, যাদের ওই পোস্টের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকার কথাই না।
দ্য ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিপোর্টের শুরুতে উল্লেখ করা ওই বাংলাদেশি ছাত্রনেত্রীর পোস্টে এসব অ্যাকাউন্টের রিঅ্যাকশন কোনো কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না। এগুলো মূলত বট প্রোফাইল, যা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ বা ভুয়া সমর্থন তৈরির জন্য অনলাইনে খুব সহজেই কেনা যায়।
এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দ্য ডেইলি স্টার দুদিনে চারটি আলাদা ‘ক্লিক ফার্ম’ থেকে পাঁচটি ডামি (নকল) ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে নয়টি মিম পোস্টে প্রায় ৩০ হাজার রিঅ্যাকশন কিনেছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আমাদের পোস্টে ভুয়া রিঅ্যাকশন দেওয়া অনেক প্রোফাইলই আবার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্তত ছয়জন প্রার্থী ও অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তির পোস্টেও সক্রিয়—কখনো সমর্থনে, কখনো বা ট্রল করতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সমন্বিত বট তৎপরতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে কৃত্রিমভাবে এমন এক জনমত গড়ে ওঠে, যার সঙ্গে বাস্তব জনমতের কোনো মিল নেই।
গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সামনে বাংলাদেশ, নতুন সরকারের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: প্রথম আলো
জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সাংবিধানিক পথে ফিরবে শুধু এমনটাই নয়; বরং ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম দেশে সত্যিকারে জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার ক্ষমতায় বসবে। তাই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাটা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি। এই অভিমত জানিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ থাকার কথা উল্লেখ করেছে ব্রাসেলসভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজে)।
গতকাল সোমবার আইসিজের ওয়েবসাইটে ‘গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন এগিয়ে আসছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে’ শিরোনামে একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখায় এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই নির্বাচনের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। নির্বাচনের পর সরকারকে দেশের ভেতর ও বাইরে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে হবে। এর মধ্যে দেশের ভেতরে দুর্বল প্রতিষ্ঠান, পোশাকশিল্পনির্ভর ধীরগতির অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সামাজিক চাপ সামাল দিতে হবে। এর মধ্যে দেশে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। দেশের বাইরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলার মতো বিষয়গুলোও সামলে নিতে হবে।
এনসিটি চুক্তি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ; নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সইয়ে নিষেধাজ্ঞা
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার পথে বাধা সরিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল গ্রহণ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চেম্বার জজ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে রিটকারীর আইনজীবী বিতর্কিত রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) জারির আবেদন জানান। এ সময় বিচারপতি মন্তব্য করেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবে না।
জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
দায়িত্বের শেষ সময়ে এসে এবার জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার ঢাকা সেনানিবাসে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। আর জাপানের পক্ষে সই করেন ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
আইএসপিআর বলছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব’ নতুন উচ্চতায় উন্নীত হল।
তবে কী ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বাংলাদেশ পাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু সেখানে বলা হয়নি।
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার চুক্তির সঙ্গে জড়িতরা যেন দেশ থেকে বের হতে না পারে: আনু মুহাম্মদ
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতার দায়ে’ অভিযুক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তাঁর অভিযোগ, যে চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজ ৩০, ৪০, ৫০ বা ৬০ বছরের জন্য বাঁধা পড়ে যাবে, সে ধরনের চুক্তি করার কোনো অধিকার বা এখতিয়ার একটা অন্তর্বর্তী সরকারের না থাকলেও বর্তমান সরকার জোরজবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে তা করতে যাচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের দায়িত্ব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার কেন ও কিসের বিনিময়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো করছে, তার একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং এর মধ্যে যারা দায়ী, তাদের বিচারের সম্মুখীন করা। সেটা করার জন্য এই সরকারের মধ্যে যারা এসব তৎপরতা চালাচ্ছে, তারা যেন দেশ থেকে বের হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
এস আলমের মামলা লড়তে ব্রিটিশ ল ফার্ম নিয়োগ, ঘণ্টায় ব্যয় ১২৫০ ডলার
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল|
আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই আইনি লড়াইয়ে সংশ্লিষ্ট ল ফার্মকে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ল ফার্মা নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মতামত জরিপ: আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৪৮ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে চান। আর ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বা ভোটে অংশ নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা করছেন না। অন্যদিকে আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেবেন।
‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস: ফাইন্ডিংস ফ্রম আ নেশনওয়াইড সার্ভে’ শীর্ষক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজ একসঙ্গে এই জরিপ করেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জরিপের ফল তুলে ধরা হয়। ফল তুলে ধরেন সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ। তিনি জানান, তাঁরা দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি সংসদীয় আসনে ভোটারদের ওপর এই মতামত জরিপ করেছেন। মতামত জরিপে অংশ নিয়েছেন ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটার। ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই ধাপে জরিপটি করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে (২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি বলছে, এই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সীমান্ত হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ নানামুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্-নির্বাচনী সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘মব ভায়োলেন্স এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মব সন্ত্রাস করে বিভিন্ন অফিস আক্রমণ করা হয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল। মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নাগরিক নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে জনমনে হতাশা ও উদ্বেগ বেড়েছে।
রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দেশে ১ হাজার ৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, সমাবেশ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত, চাঁদাবাজি ও স্থাপনা দখল এসব ঘটনার প্রধান কারণ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএনপি। দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৭০৪টি ঘটনায় ১২১ জন নিহত এবং ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ২৩৬টি ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত ও ২৪৯ জন আহত হন। এ ছাড়া ৩০০-এর বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং শতাধিক রাজনৈতিক কার্যালয় ও ১৩০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১৫৫টি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত ও ১ হাজার ৪০৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়ন–বিরোধে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
মব ভায়োলেন্স ও সাংবাদিক নির্যাতন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এ সময়ে ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ৪১টি মামলায় ৬৯ জন অভিযুক্ত ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হন। অধিকাংশ মামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টকে কেন্দ্র করে হওয়ায় আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজতে থাকা অবস্থায় ও নির্যাতনে ১৭ মাসে ৬০ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ১২৭ জন আসামির, যার মধ্যে ৪৪ জন কয়েদি ও ৮৩ জন হাজতি। সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনসহ কয়েকজনের মৃত্যু ঘিরে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে তাঁদের পরিবার।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মাজারে হামলা ও সীমান্ত হত্যা
দেশজুড়ে শতাধিক মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্তে ১১০টি ঘটনায় ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে হামলায় ৩ জন নিহত হন।
একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ১৬ জন এবং শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ৪৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিক নির্যাতন ও দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন।
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপসহ ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপ এবং আপসহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনসহ ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দলের ইশতেহার প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার
‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন; বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন; যুবকদের ক্ষমতায়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের প্রাধান্য দেওয়া; নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্রে বিনির্মাণ; প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন; প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সরকারি চাকরিতে বিনা মূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ; ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও বাবসাবান্ধব টেকসই স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ; সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা; কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা; ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা ও বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা) বাস্তবায়নের মাধ্যমে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপকভিত্তিতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি; শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা; প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা; সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা; আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনা মূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা; সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা; দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা; যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক বা রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দু-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা; নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জনা স্বল্প মূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা; ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা; সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সব নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সব পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন।
জামায়াত আমিরের এক্স ‘হ্যাকড’: ছরওয়ারের গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশে দ্বিমত
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকড হওয়ার ঘটনায়’ বঙ্গভবনের কর্মী ছরওয়ারে আলমকে হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
তবে এই গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। কারো চাপে বঙ্গভবনের কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা, মিন্টো রোড এলাকায় উঠেছে সেই প্রশ্নও।
জামায়াত আমিরের এক্স হ্যাকের অভিযোগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মতিঝিল থানা এলাকা থেকে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য পুলিশের তরফে আসেনি।
জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানান, স্বীকারোক্তি প্রেসমালিকের
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ সময় তিনি ভোটের সিল তৈরির নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করেন।
স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামির নাম সোহেল রানা (৪০)। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার, একটি মুঠোফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিজিটাল দুর্বলতা সংস্কার না হলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের নির্বাচনী কারচুপির চিত্র এখন আর শুধু ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রযুক্তির সহায়তায় এই অনিয়ম এখন আরও সূক্ষ্ম, সমন্বিত এবং ডেটানির্ভর রূপ নিয়েছে। যেখানে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার হয়ে উঠছে মূল হাতিয়ার। তাই বিদ্যমান ডিজিটাল কাঠামোর দুর্বলতাগুলো সংস্কার না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনও বিশ্বাসযোগ্যতার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ‘হাইজ্যাকিং দ্য ভোট: ইনসাইড বাংলাদেশ’স ডেটা–ড্রাইভেন ইলেকশন ম্যানিপুলেশন’ শীর্ষক নীতি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আজ বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে জাতীয় পরিচয়, পোস্টাল ভোট, নির্বাচনের ফল ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন–সংক্রান্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি তৈরির উদ্দেশ্য নির্বাচন কমিশনকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ দেওয়া। যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জন–আস্থা জোরদার করা যায়।
ঢাবিতে উপদেষ্টা সাখাওয়াত, বিডার আশিকসহ কয়েকজনের কুশপুত্তলিকা দাহ
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে কয়েকজনকে ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যায়িত করে তাঁদের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজের’ ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
আন্দোলনকারী সেই ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে চিঠি
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাগো নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা আন্দোলনকারী সেই ১৫ কর্মচারীর এবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দাকে (এনএসআই) চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ সই বাংলাদেশের, ৭ হাজারের বেশি পণ্য রপ্তানিতে মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
জাতীয় নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করল। ইপিএ চুক্তির ফলে বাজারটিতে তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ পাবে।
আজ শুক্রবার জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও এই চুক্তি সই করেন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এক তথ্য বিবরণীতে বাংলাদেশের তথ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে ঢাকা ও টোকিওতে অনুষ্ঠিত সাত দফা দর-কষাকষির ফল হচ্ছে এই চুক্তি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন তাঁর বক্তব্যে ইপিএ চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইপিএ চুক্তি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়; এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।
চুক্তিটির অধীনে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবা উভয় বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে। তৈরি পোশাকসহ প্রায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশও জাপানের জন্য তার বাজার সম্প্রসারিত করছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য পর্যায়ক্রমে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।
ইপিএ চুক্তি অনুযায়ী, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। পাশাপাশি জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), ইঞ্জিনিয়ারিং, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং এবং নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগে ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানুষের জন্য জাপানে অধিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুগান্তর
প্রায় দেড় বছর ধরে অচল থাকার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুম–সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির (গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন) প্রধান ছিলেন।
বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
কমিশনারদের মধ্যে দুজন সাবেক গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য। তারা হলেন মো. নূর খান ও নাবিলা ইদ্রিস। বাকি দুজন কমিশনার হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।
মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম : হেফাজত আমির
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, কালের কন্ঠ
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
তিনি বলেছেন, সমস্ত মুসলমানের জন্য জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, এটা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাজিরহাট মাদরাসায় হাদিস গ্রন্থ সহিহ বুখারি শরিফের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হেফাজত আমির এই ঘোষণা দেন।
ইনটেরিম তুমি যেও না, এই নির্বাচন হবে না : জুলাইযোদ্ধা সুরভী
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, কালের কন্ঠ
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ‘ইনটেরিম তুমি যেও না, এই নির্বাচন হবে না’ এমন মন্তব্য করেছেন আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকার কারণে কোনো নির্বাচনই সম্ভব নয়।
এর মধ্যেই শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিএনপির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহি
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। ইশতেহারে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতিসংক্রান্ত মোট ৫১টি বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করেছে দলটি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেষে তিনি বলেন, তিনি যত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন, তার কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না, যদি তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দেওয়া যায়। এগুলো হলো দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন ও জবাবদিহি।
বিএনপি গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০০১-০৬ সময়ে স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমে তৎকালীন সরকারকে বিভিন্ন সমালোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এর জন্য কোনো সংস্থা থেকে পত্রিকায় ফোন করা হয়নি, যা গত ১৬-১৭ বছর দেখা গেছে। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয়েছিল অভিযোগ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।’
বিএনপির নেতা-কর্মীদের গুম-খুনের শিকার হওয়া প্রসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে বিভীষিকার মধ্য দিয়ে বিএনপি গেছে, বাংলাদেশে আর তার পুনরাবৃত্তি হোক, সেটা আমরা চাই না। সেটির পুনরাবৃত্তি হলে কোনোভাবেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। প্রতিশোধ কখনো শান্তি বা ভালো কিছু এনে দিতে পারে না। সর্বস্তরে দ্রুততার সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে পারে।’
প্রধান ৯ প্রতিশ্রুতি, আছে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড
বিএনপির ইশতেহারে নয়টি বিষয়কে ‘প্রধান প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম তিন প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা; কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ এবং দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ।
প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরও আছে প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু; কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ ও মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা।
দলটির অন্য তিন প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু; ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী চালু এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে প্রতিশ্রুতি
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ ও তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে যেসব বিষয়ে যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সেভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছে বিএনপি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা প্রণয়ন, স্মৃতি সংরক্ষণ, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ানো, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের পরিবারকে স্বীকৃতি ও সহায়তা, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’, নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃস্থাপন, একজন উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি, ন্যায়পাল নিয়োগসহ আরও বিভিন্ন সংস্কারের কথা ইশতেহারে বলেছে বিএনপি। এ ছাড়া ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না বলেও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র-প্রতিরক্ষায় কী নীতি
বিএনপি বলেছে, পররাষ্ট্রনীতি হবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসা হবে, অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, সেটাই করবে দলটি। ইশতেহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধান করা বিএনপির অগ্রাধিকার। পদ্মা, তিস্তাসহ বিভিন্ন অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিএনপি।
ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। কোনো সন্ত্রাসবাদীকেও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
ইশতেহারে বলা হয়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্তে চোরাচালান, মানব পাচার ও মাদক পাচার কঠোরভাবে দমন করা হবে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের উন্নয়ন এবং ‘পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট’ বাড়ানোর জন্য সফট পাওয়ার কূটনীতি ও ক্রীড়া কূটনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র বাহিনীর বিরাজনীতিকরণ ও পেশাদারত্ব জোরদার করার জন্য বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপি একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবে। জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিনের’ আলোকে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতি ও ডকট্রিন প্রণয়ন করা হবে। গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের সুদৃঢ় কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।
ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও পুনর্বাসনমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠন করা হবে উল্লেখ করে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সময়ে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন করা হবে, নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার ব্যক্তিদের অর্থবহ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গুম-খুন, মিথ্যা মামলা, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের কথাও ইশতেহারে বলেছে বিএনপি।
দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার
ইশতেহারে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। বিএনপি বলেছে, আওয়ামী লীগের আমলে সংঘটিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে তারা। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’
বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হবে বলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিএনপি ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ করবে। এর বাইরে ‘যথাসময়ে’ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পিএসসি গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নের অঙ্গীকার করেছে দলটি।
কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং সরকারি মসজিদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও ইশতেহারে বলেছে বিএনপি।
নারীদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা
ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। নারীদের কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টার ও ‘ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপন করার কথা বলেছে তারা। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারীদের সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বিএনপি। এ ছাড়া সব নারী শ্রমিক-কর্মচারীর সবেতন মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস নির্ধারণ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে রাজনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা দেওয়া হবে। মাধ্যমিক, মাদ্রাসাসহ সব সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ
ক্ষমতায় গেলে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কাছ থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের এক বছরের কিস্তি ঋণ গ্রহণকারীদের পক্ষে সরকার এনজিওগুলোকে দেবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নে বরেন্দ্র প্রকল্প আবার চালু, আম সংরক্ষণে বিশেষ হিমাগার স্থাপন ও উত্তরাঞ্চলে কৃষি পণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
বিদেশে বছরে ২০ লাখ কর্মসংস্থান
ক্ষমতায় গেলে দেশব্যাপী বিদেশি ভাষাশিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ চালু করবে বিএনপি। দলটির ইশতেহারে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা এবং বিদেশে যেতে বিনা সুদে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা দেবে বিএনপি।
ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সমমানের শিক্ষকদের আধুনিক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ট্যাবলেট কম্পিউটার দেওয়া হবে। একে বিএনপি বলছে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’।
দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, মান্দারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করার কথা বলেছে বিএনপি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ঋণ ও ব্যাংকঋণের জটিলতা দূর করবে তারা। ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের অঙ্গীকারও করেছে দলটি।
বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা
স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা ইশতেহারে বলেছে বিএনপি। ই-হেলথ কার্ড ও বিনা মূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলেছে তারা। নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিএনপি যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে, তার ৮০ শতাংশ হবেন নারী।
প্রবাসী কার্ড
এত দিন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বললেও নির্বাচনী ইশতেহারে এগুলোর পাশাপাশি ‘প্রবাসী কার্ড’ দেওয়ার কথা বলেছে বিএনপি। এই কার্ডে প্রবাসীদের বিভিন্ন তথ্য থাকবে। এর ভিত্তিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে বাড়তি প্রণোদনা এবং দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা দেবে বিএনপি।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
অর্থনীতির ক্ষেত্রে আকস্মিক বা হুটহাট করে কোনো নীতি পরিবর্তন করবে না বিএনপি। তারা ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কথা বলেছে বিএনপি। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ হবে ২০ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে কোনো গোপন চুক্তি করা হবে না বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা পুনঃপরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি তদন্ত করা হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগকারী হিসেবে কাজ করতে ‘এফডিআই ক্যাপ্টেন’ নিয়োগ দেবে বিএনপি। বেসরকারি খাতের উন্নয়নে লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করাসহ আরও নানা উদ্যোগের কথা ইশতেহারে বলেছে তারা।
ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে ‘সেকেন্ডারি সিটি’ কার্যকর করা হবে।
লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক নিয়েই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এর আগে তাড়াহুড়ো করে এ ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেইজ।
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
প্রথম শ্রেণির পদসহ সব পদে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংস্থাটির চাকরি প্রবিধানমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেছেন, ‘শতভাগ নিয়ম অনুসরণ করেই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি তারিখে ২০ গ্রেড থেকে ৬ গ্রেড পর্যন্ত মোট ৬২টি পদে ৯৬ জন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। এসব পদে ৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কয়েক হাজার প্রার্থী আবেদন করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সদ্য স্থাপিত এই জাদুঘরে প্রথম শ্রেণির পদসহ সব পদে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে রাজস্ব খাতে সৃষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ড. ইউনূসের সরকার কি ভূরাজনৈতিক?
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
সুষ্ঠু ভোট ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়াই যেখানে সরকারের মূল ম্যান্ডেট ছিল, সেখানে চুক্তিসংক্রান্ত তৎপরতা এতটাই প্রাধান্য পেয়েছে যে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকার ‘ভূরাজনৈতিক সরকারে’ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে যখন এসব কৌশলগত সিদ্ধান্তের অনেকগুলোই দীর্ঘমেয়াদি এবং ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের নীতিগত পরিসর সংকুচিত করতে পারে।
মাত্র পাঁচদিন পর জাতীয় নির্বাচন। ঠিক এ সময়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একের পর এক আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করছে। যার মধ্যে রয়েছে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরবিষয়ক চুক্তি সই। নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তিও সই করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বন্দরসংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রক্রিয়াও অনেকখানি এগিয়েছে। এর বাইরে গত নভেম্বরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্ট একাধিক চুক্তিতে নন-ডিসক্লোজার (গোপনীয়তা) ক্লজ থাকায় চুক্তির শর্তাবলি ও পারস্পরিক দায়দায়িত্বের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর প্রতিরক্ষা খাতেও একাধিক বড় উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের সঙ্গে জিটুজি চুক্তিতে ড্রোন কারখানা স্থাপন, জে১০ সিই যুদ্ধবিমান ক্রয়, পাকিস্তান থেকে জেএফ১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার ক্রয়ের প্রসঙ্গ।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়বেলায় ‘বিতর্কিত’ প্রকল্প
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা ওয়াসা আগে থেকেই ঋণে জর্জরিত। ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে তারা আরেকটি ঋণনির্ভর প্রকল্প নিয়েছে। নাম ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন। ব্যয় ৭২১ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের পাশাপাশি আশপাশের দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মীদের প্রশিক্ষণের কথা বলছে।
সরকারের রাজস্বঘাটতির মধ্যে এ ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার সমালোচনা উপেক্ষা করে বিদায়বেলায় প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ২৩ ডিসেম্বর ‘ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন’ শিরোনামের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প নিয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। যেগুলোর মোট ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪০টি নতুন প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। নতুনের তালিকায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ‘কম জরুরি’ ও ‘বিতর্কিত’ প্রকল্প।
সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প নিয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। সব কটি নতুন প্রকল্পের ধরন ও সুবিধাভোগী জেলা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পেয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের প্রকল্প। স্বাস্থ্য খাত পিছিয়ে ছিল। তবে শেষ সময়ে বড় তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় স্বাস্থ্য খাত এ তালিকায় এগিয়েছে। শিক্ষা খাতে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো–সংক্রান্ত প্রকল্প বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য আলাদাভাবে জোর দিতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি বিশেষ কোনো স্বল্পকালীন কর্মসূচিও নেওয়া হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলায় বেশি বরাদ্দ যাওয়ার কারণ কী, তা গত আগস্টে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ঢাকায় পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা যতটা ভালো, চট্টগ্রামে ততটা নয়। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। সে কারণে চট্টগ্রামে বেশি বরাদ্দ গেছে।
নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে এমন প্রকল্প। চট্টগ্রামে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প যেমন নেওয়া হয়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম শহরের নানা সেবা ও অবকাঠামোর প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। বিপরীতে ২১টি জেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।
৫০ টাকার বিনিময়ে নির্বাচনী মিছিলে যান তাঁরা
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শনিবার দুপুর। রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর নদীর ধারের বস্তির মাঠজুড়ে উড়ছে ভেজা কাপড়। বস্তিবাসী কাপড় ধুয়ে এই মাঠেই শুকাতে দেন। এই মাঠেই মা-মেয়ে রোদে বসে মাথায় চিরুনি করছেন। চিরুনি করতে করতে মেয়ে মাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘কাল মিছিলে গ্যালা ট্যাকা কই?’ মা বলছেন, ‘আইজ গেলে নাকি একসঙ্গে দিবেহেনি।’
নির্বাচনের সময় এই বস্তির বাসিন্দা নারীদের মৌসুমি মিছিলে যাওয়ার ডাক পড়ে। তাঁরা মিছিলে গিয়ে পরিবারের জন্য একটু বাড়তি আয় করেন। এবার মিছিলের ভাড়া কমেছে। তারপরও তাঁরা যাওয়া বন্ধ করেননি। এক দিন গেলে ৫০ টাকা দেওয়ার কথা। তবে মিছিলে লোক বেশি হয়ে গেলে বরাদ্দ কমিয়ে ৪০ টাকা করে দিচ্ছেন। সাত দিন ধরে তাঁরা নিয়মিত মিছিলে যাচ্ছেন। বস্তির নারীদের সঙ্গে গল্পে গল্পে এই খবর জানা গেল। ওই মহল্লায় এটা নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে কোনো রাখঢাকও নেই। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যেকোনো দল টাকা দিলেই মিছিলে যান। এবার বিএনপির মিছিলে যাওয়ার জন্য বস্তির নারীদের বেশি ডাকা হচ্ছে। তবে বরাদ্দ কম।
বস্তির এই মাঠে বসে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে কথা হয়। বললেন, তাঁর জন্ম হয়েছিল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়। ছোট বয়সে মা মারা গেছেন। শহরের এক লোক প্রতিপালন করেই এই বস্তিতে বিয়ে দিয়েছিলেন। স্বামী রিকশা চালাতেন। তিন বছর আগে মারা গেছেন। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। জামাই নেশা করে বলে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁর মেয়ে এখন ওষুধ কারখানায় কাজ করে। তাঁর সঙ্গেই থাকেন এই বৃদ্ধা। বৃদ্ধার ছেলে রিকশা চালান। তাঁরই চারটা ছেলে। নিজেরই চলে না। তাই বাধ্য হয়ে মিছিলে ডাক পেলেই যান তিনি।
জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে সিইসিকে স্মারকলিপি ১০ নারী ও এক সংগঠনের
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ১০ নারী ও একটি সংগঠন।
রোববার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন, যেখানে তারা জামায়াত আমিরের বক্তব্যে ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না তুলে ধরে চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি পোস্ট গেল ৩০ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জামায়াতে ইসলামে— নারী নেতৃত্ব এবং কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
পরে রাতে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়।
এই সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না: বিডা চেয়ারম্যান
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’
রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’
চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনে জড়িত ৬ জনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগে ছয় জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন। তবে বিষয়টি স্বীকার করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সংগ্রাম পরিষদের দুজন প্রবীণ নেতাসহ মোট ছয় জনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। শক্তি প্রয়োগ হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।’
ভোটের মাঠে কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের দাপট, বেড়েছে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুগান্তর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটের মাঠে কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের দাপট রয়েছে, আছেন ঋণগ্ৰস্তরাও। এবারে প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ প্রার্থী উচ্চ শিক্ষিত। তবে প্রার্থীদের একটি বড় অংশ আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের তথ্য তুলে ধরে সুজন জানায়, মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা শতকরা হিসাবে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন প্রার্থী। ঋণগ্রহীতা প্রার্থীর সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। দলটির ১৬৭ জন প্রার্থী ঋণগ্রহীতা, যা মোট ঋণগ্রহীতার ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বলছে, টাকার পাহাড়ের নিচে সাধারণ ও যোগ্য প্রার্থীরা দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এবারের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি প্রার্থীই কোটিপতি। বিশেষ করে বড় দলগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে বিত্তের প্রভাব সবচেয়ে প্রকট। এসব দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ২৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫৫ জনই কোটিপতি, যা দলটির মোট প্রার্থীর অর্ধেকেরও বেশি (৫৬%)। একইভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতির হারও কম নয়। এর বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ প্রার্থীর সম্পদ ৫ লাখ টাকার নিচে।
আয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত দেড় দশকে প্রার্থীদের বার্ষিক গড় আয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থীদের গড় আয় যেখানে ছিল ৩২.৫৯ লাখ টাকা, ২০২৬ সালে তা ফুলে-ফেঁপে দাঁড়িয়েছে ২.০১ কোটিতে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দৃশ্যমান হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৯.৮১ লাখ টাকার গড় আয় বর্তমানে ৮৭.৬৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গড় আয়ও এখন প্রায় ৯৩ লাখ টাকার কাছাকাছি।
সুজন জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তৃতীয় অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এছাড়া ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন সনদ জমা দিয়েছেন, তবে আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি।
আয়কর প্রদানকারী ১ হাজার ৩১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৭৯ জন, অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রার্থী ৫ হাজার টাকা বা এর কম আয়কর দিয়েছেন। এক লাখ টাকার বেশি আয়কর দিয়েছেন ৩৫৮ জন (২৭ দশমিক ১৪ শতাংশ) এবং ১০ লাখ টাকার বেশি কর দিয়েছেন ১১৬ জন প্রার্থী, যা মোটের ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে আয়কর প্রদানকারী প্রার্থীর হার বেড়েছে। আগের নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা এবারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ১০ শতাংশে।
সুজন জানায়, ৭৪১ জন প্রার্থীর আয় ৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে। ২৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন এবং ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মধ্যে আয় করেন ৭১ জন প্রার্থী। এছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।
কোটি টাকার বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৫১ জন। এরপর ২৫ জন স্বতন্ত্র এবং ৫ জন জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন।
শীর্ষ আয়কারীদের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছেন কুমিল্লা–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে টাঙ্গাইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলাম, যার আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন লক্ষ্মীপুর–১ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী।
তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরসহ বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের বার্ষিক আয় চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার মধ্যে।
সুজন জানায়, শিক্ষাগত যোগ্যতায় এবারের প্রার্থীরা উজ্জ্বল হলেও (প্রায় ৭০ শতাংশ স্নাতক বা তদূর্ধ্ব) রাজনীতির এই ‘ব্যবসায়িকীকরণ’ চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতি যখন ধনিক শ্রেণির করায়ত্ত হয়, তখন সাধারণ ও যোগ্য প্রার্থীদের জন্য মাঠ সংকুচিত হয়ে পড়ে। সুস্থ ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য এই আর্থিক বৈষম্য দূর করা এখন সময়ের দাবি।
রাস্তা, কালভার্ট ও কর্মসংস্থান—উন্নয়ন বলতে এসবই মনে করেন ৭৭% ভোটার: সিপিডির জরিপ
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ বা ৭৭ শতাংশ ভোটার মনে করেন, রাস্তা, কালভার্ট নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা এখনো অবকাঠামো নির্মাণকেন্দ্রিক। জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাঁদের প্রভাবিত করছে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক এ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত, অনুষ্ঠান সহযোগী সামি মোহাম্মদ, মালিহা সাবাহ ও নূর ইয়ানা জান্নাত।
সিপিডির জরিপে দেখা গেছে, উন্নয়ন বলতে অধিকাংশ ভোটার এখনো সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও অন্যান্য দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পকেই প্রধান সূচক হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি এসব প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান যুক্ত থাকায় তাঁদের বিবেচনা হলো, এসব উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার উন্নয়নের সঙ্গে ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণের বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে দেখেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি), উপকূলীয় অঞ্চল, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক অঞ্চলে এ ধারণা প্রবল।
ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মধ্যেও উন্নয়ন নিয়ে প্রায় একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে উন্নয়ন ধারণা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও ভোটারদের ধারণা এখনো মূলত অবকাঠামোকেন্দ্রিক রয়ে গেছে।
সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত বলেন, বাংলাদেশে সবুজ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব—৯৫ শতাংশ ভোটার এমন আশাবাদী ধারণা পোষণ করেন।
হেলেন মাশিয়াত বলেন, উন্নয়ন ধারণার এই একমুখী প্রবণতা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আড়ালে ফেলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, উন্নয়ন আলোচনায় কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবনমানের বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জরিপে ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার ৪৫০ জন নির্বাচন প্রার্থী, তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি ও বিভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১ হাজার ২০০ ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে পরিবেশ, সবুজ অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়ন—এই তিন স্তম্ভে ভোটার ও প্রার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও বাস্তব পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় সহজ সমাধানের প্রতি ঝোঁক
জরিপে উঠে এসেছে, পরিবেশ রক্ষার উপায় হিসেবে প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটার গাছ লাগানো ও প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রার্থীরাও প্রায় একই ধরনের সমাধানের কথা বলেছেন। গবেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে একধরনের আচরণগত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেটা হলো, তাঁরা যেটা ব্যক্তিগতভাবে সহজে করতে পারেন, সেটাকেই পরিবেশ রক্ষার মূল সমাধান হিসেবে দেখছেন।
জরিপে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে জানেন—এমন ভোটারের হার ৪৭ শতাংশ। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৪২ শতাংশ। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি আছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, পরিবেশ ও অর্থনীতির তুলনায় সামাজিক স্তম্ভকে সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে দারিদ্র্য, আয় ও কর্মসংস্থানের চাপ এতটাই প্রবল যে সামাজিক বিষয়গুলো তাঁদের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে।
সামাজিক উন্নয়নের প্রশ্নে ভোটারদের অগ্রাধিকার খুবই মৌলিক দুটি বিষয়ে। সেই দুটি বিষয় হলো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। সিপিডির মতে, এই বাস্তবতা থেকে দেখা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনো মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াই করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক আটক
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লাগাতার ধর্মঘট স্থগিতের পরদিন তাকে আটক হলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক ২০ থেকে কমে ১৯%
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাবিতে নিয়োগ চায় ‘জুলাই-যোদ্ধারা’, সিন্ডিকেট সভা ঘিরে উত্তেজনা
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই-যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া একটি সংগঠন ‘জুলাই চেতনা বাস্তবায়ন কমিটি’।
এ ঘটনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সোমবারের সিন্ডিকেট সভাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছিলেন।
১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি কিনবে বাংলাদেশ
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে দেশটি থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য কিনবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্যও আমদানি করা হবে উত্তর আমেরিকার দেশটি থেকে।
গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্রয়ের তালিকায় বিমানের জন্য ১৪টি বোয়িং কেনার বিষয়টি যুক্ত করলে এই অঙ্ক আরও বড় হবে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তারা বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষি পণ্যের জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা নিশ্চিত করবে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও মোটরযান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) সরঞ্জাম, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, দুগ্ধজাত পণ্য, গরুর মাংস, পোলট্রি, বাদাম ও ফলমূল।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হার বিদ্যমান ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক হার হবে শূন্য। এ ছাড়া মার্কিন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের শর্তে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দীর্ঘ ৯ মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর এই চুক্তি হলো।
চুক্তির আওতায় অশুল্ক বাধা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ক্ষেত্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সনদকে স্বীকৃতি দেবে ঢাকা। এ ছাড়া শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা, রি-ম্যানুফ্যাকচারড বা পুনরায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্য লেনদেন অবাধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
চুক্তিতে বাংলাদেশ শ্রম সুরক্ষা জোরদার, পরিবেশ আইন প্রয়োগ এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় কঠোর মানদণ্ড অবলম্বনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পনির ও মাংস উৎপাদনকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সংক্রান্ত বিধান মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে যা উল্লেখ রয়েছে। এসব কৃষিপণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। আর আমদানি করে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য।
কৃষিপণ্যের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে- আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর কমপক্ষে ৭ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি। পাশাপাশি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৫ কোটি বিলিয়ন ডলার বা ২৬ লাখ মেট্রিক টন (যেটি কম) মূল্যের সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য। এছাড়া তুলা আমদানির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন উড়োজাহাজ, জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির তৈরি ১৪টি বেসামরিক উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিকল্পও রাখা হয়েছে। এছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্ট সেবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহের বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা চুক্তিতে বলা হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ (এলএনজি) বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য দীর্ঘমেয়াদে আমদানির উদ্যোগ নেবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিসহ ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর বিষয়ে প্রচেষ্টা চালাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ সীমিত রাখার কথাও চুক্তিতে বলা হয়েছে।
রপ্তানির ক্ষতি এড়াতে নানা শর্তের বেড়াজালে দেশ
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ১৯ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশটিতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়িয়ে রপ্তানি বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। তবে এ সুবিধা পেতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যে নানা ধরনের শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ।
শর্তের অন্যতম– সামরিক-অসামরিক কেনাকাটা বাড়ানোসহ শুল্ক ও অশুল্ক ব্যাপক ছাড়; এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিষয়টি চুক্তিতে রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ থেকে কমানোর অঙ্গীকার করেছে। উভয় দেশের মধ্যে হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চুক্তির কপি গতকাল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়-ইউএসটিআর।
গত সোমবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশে বিদ্যমান সাধারণ গড় শুল্কহার সাড়ে ১৫ শতাংশ। এর ওপর বাড়তি পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ দেশটির বাজারের বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ৩৪ শতাংশ।
চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে একটি কৌশল অবলম্বন করা হবে। যার মাধ্যমে পাল্টা শুল্ক আরোপ না করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে দুটি বড় অর্জন এসেছে। প্রথমত শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৬ শতাংশ গার্মেন্টস পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক শূন্য পাল্টা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্য কোনো দেশ এ সুবিধা পায়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করতে চাইলে সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশের সঙ্গে ১৮ শতাংশ পাল্টা শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। দেশের গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত তুলার মাত্র ২ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৯৮ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার বাংলাদেশের জন্য যেমন উপযোগী তেমনি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাল্টা শুল্ক ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পাবে। বাকি ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তিতে একটি শর্ত সংযুক্ত রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রয়োজনে উপযুক্ত নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যদি মনে করে, এই চুক্তি দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তাহলে তারা সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছি তার সঙ্গে তারা ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিজ’ নামে একটা শুল্ক সুবিধা দিয়েছে। পাল্টা চুক্তির আলোচনায় থাকা সব দেশের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে। চুক্তি হওয়ার দিন থেকেই তা কার্যকর হবে। সেটা হলো ২ হাজার ৫০০ পণ্যের ওপর তারা ডিউটি ফ্রি বেনিফিট দিয়েছে। এর আওতায় ফার্মাসিউটিক্যালসসহ আমরা উৎপাদন করি এমন অনেক পণ্য রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর ৩১ জুলাই হার ২০ শতাংশে নামানোর ঘোষণা আসে।
বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ব্যাপক কেনাকাটা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বছরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য। আমদানি করে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য কমানোর কথা বলেই যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। তাই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। চুক্তির কপি অনুযায়ী এসব কৃষিপণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি।
কৃষিপণ্যের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে– আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর কমপক্ষে ৭ লাখ টন গম আমদানি। পাশাপাশি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৫ কোটি বিলিয়ন ডলার (বা ২৬ লাখ টন, যেটি কম) মূল্যের সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য। এ ছাড়া তুলা আমদানির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মার্কিন উড়োজাহাজ, জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির তৈরি ১৪টি বেসামরিক উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিকল্পও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্ট সেবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহের বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা চুক্তিতে বলা হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ (এলএনজি) বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য দীর্ঘ মেয়াদে আমদানির উদ্যোগ নেবে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিসহ ১৫ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দেড় হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ
চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ৫৫৫টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এসব পণ্যকে ‘কার্যকর প্রবেশ’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গবাদি পশু, মাংস, মাছ, রাসায়নিক দ্রব্য, বস্ত্র, যন্ত্রপাতি ও নানা শিল্পপণ্য। চুক্তিতে আরও ৪০৩টি পণ্য ‘এ’ স্তরে রাখা হয়েছে। এগুলোর ওপর শুল্ক আগে যেমন শূন্য ছিল, ভবিষ্যতে তেমনই থাকবে।
এ ছাড়া বি-৫ শ্রেণিতে থাকা ৯৯৬টি পণ্যের শুল্ক চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্ধেক কমানো হবে। অবশিষ্ট অর্ধেক পরবর্তী চার বছরে সমানভাবে কমবে। পঞ্চম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এসব পণ্য পুরোপুরি শুল্কমুক্ত হবে। বি-১০ শ্রেণির ৩৪০টি পণ্যের ক্ষেত্রেও শুরুতে শুল্ক অর্ধেক কমবে। বাকি অর্ধেক পরবর্তী ৯ বছরে সমান ধাপে কমিয়ে দশম বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ শূন্যে নামানো হবে। অন্যদিকে ‘এক্স’ শ্রেণিভুক্ত ৩২২টি পণ্য কোনো বিশেষ ছাড় পাবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে হারে শুল্ক নেয়, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই হার প্রযোজ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেসব সুবিধা
চুক্তিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মোটরযান নিরাপত্তা ও নির্গমন মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত যানবাহন গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) দেওয়া সনদের স্বীকৃতি দেবে। যেসব ওষুধ এফডিএ আগেই বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে, সেই অনুমোদনেও স্বীকৃতি দেবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্নির্মিত (রিম্যানুফ্যাকচার্ড) পণ্য ও যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান যে কোনো আমদানি নিষেধাজ্ঞা বা লাইসেন্সের শর্ত তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
ডিজিটাল বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংস্কারেও উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। তথ্যের অবাধ আদান-প্রদানের অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া বীমা খাতে বিদ্যমান বাধা দূর করা, শুল্ক প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট রীতিনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, তার অধিকাংশই আসলে আগে থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি জানান, বাংলাদেশ কয়েক বছর আগে ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ও মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিভিন্ন বাধ্যবাধকতায় সম্মত হয়েছে।
অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শর্ত
চুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি কোনো রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে এমন নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তিতে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এই সমঝোতাকে দুর্বল করে এবং আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করা না যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, এমন কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, জ্বালানি দণ্ড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনবে না। তবে যেসব প্রযুক্তি বা সরঞ্জামের বিকল্প সরবরাহকারী নেই, অথবা চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরের জন্য যেসব ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় বাড়াতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে এ ধরনের ক্রয় সীমিত রাখার কথাও উল্লেখ আছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব বলেছেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশের অন্য দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে না।
চুক্তির অধীনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার রক্ষা, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধ, শ্রম আইন সংশোধন ও প্রয়োগ জোরদারের অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ভর্তুকি ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কারণে তৈরি বাজার বিকৃতি কমানো এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি; বিদ্যুৎ উৎপাদন; টেলিযোগাযোগ; পরিবহন ও অবকাঠামো সেবায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগ অনুমোদন ও সহায়তা দেবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে দেশীয় বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যে সুবিধা পায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও তার চেয়ে কম অনুকূল শর্ত পাবে না। আন্তর্জাতিক আইনের ন্যূনতম মান মেনেই এসব বিনিয়োগ পরিচালিত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশকে দেশের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সব ধরনের অবাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকির তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি এসব সহায়তার ফলে বাণিজ্য বা বিনিয়োগে কোনো বিকৃতি তৈরি হলে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, বাংলাদেশ এই চুক্তির কোনো একটি অনুসরণ করেনি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভব হলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শে বসবে। এসব পরামর্শ থেকে সন্তোষজনক কোনো ফল না এলে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল জারি করা নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত প্রযোজ্য পারস্পরিক শুল্কহার (৩৭ শতাংশ) বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট বা সব পণ্যের ওপর পুনরায় আরোপ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে কী আছে, জেনে নিন বিস্তারিত
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্যচুক্তি সই হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার করতে হবে। শুল্ক, শ্রম আইন, ডিজিটাল নীতি, কৃষি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে কিনতে হবে নানা পণ্য।
চুক্তিপত্রে কেবল পণ্যের শুল্ক নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রণকাঠামো ঢেলে সাজানোর বাধ্যবাধকতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড শীর্ষক এই চুক্তিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নাম এসেছে ৫৯ বার। অথচ বাংলাদেশের নাম এসেছে ২০৫ বার। মূলত বাংলাদেশকে কী করতে হবে, তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে এই চুক্তিপত্রে।
অন্যদিকে এই বাণিজ্যচুক্তি করায় বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশের পরিবর্তে তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসাবে যুক্তরাষ্ট্র। এখানে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও অন্য সব শুল্ক আগের মতোই বসবে।
যা কিনতে হবে বাংলাদেশকে
চুক্তিপত্রে বলা হয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক উড়োজাহাজ, যন্ত্রাংশ ও সেবা কেনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে আরও উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। বেসরকারি পর্যায়েও তা কেনা হতে পারে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। আগামী ১৫ বছরে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে। এসব পণ্যের মধ্যে আছে—প্রতিবছর (পাঁচ বছরের জন্য) অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন গম, এক বছরে সর্বোচ্চ ১২৫ কোটি ডলারের বা ২৬ লাখ মেট্রিক টন (যেটি কম) সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য ও তুলা। এসব কৃষিপণ্যের সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৩৫০ কোটি ডলার।
৬ নম্বর ধারায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত রাখার চেষ্টা করবে। তবে কোন কোন দেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা সীমিত করতে হবে, তা চুক্তিতে উল্লেখ নেই।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) সব ধরনের ভর্তুকির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে হবে। ডব্লিউটিওর ভর্তুকি ও পাল্টা ব্যবস্থাসংক্রান্ত চুক্তির বিধান অনুযায়ী তা বাধ্যতামূলক।
শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা অনেক পণ্যে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ধাপে ধাপে কমাতে বা পুরোপুরি তুলে নিতে হবে। কিছু পণ্যে চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুল্ক উঠে যাবে। আবার কিছু পণ্যে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনো ধরনের কোটা আরোপ না করার বাধ্যবাধকতাও থাকছে।
অশুল্ক–বাধা অপসারণ
চুক্তিপত্রের বড় একটি বড় অংশজুড়ে অশুল্ক–বাধা কমানোর নির্দেশনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য যেন প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।
চুক্তির ২ দশমিক ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনভাবে আমদানি লাইসেন্সিং নীতির প্রয়োগ করতে পারবে না, যাতে সেসব পণ্যের আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। চুক্তিপত্রের ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন ও অযথা জটিলতামুক্ত। পাশাপাশি এ ধরনের ব্যবস্থা যেন যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন না করে, তা–ও নিশ্চিত করতে হবে।
মার্কিন বা আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি বিধিমালা মেনে তৈরি পণ্য, যার সনদ সরকারি বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাগার থেকে দেওয়া হয়েছে—এমন মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অতিরিক্ত পরীক্ষা বা সামঞ্জস্যের কথা বলে মূল্যায়নের শর্ত আরোপ করতে পারবে না। অর্থাৎ বৈধ সনদ থাকলে পণ্য প্রবেশে নতুন করে বাধা দেওয়া যাবে না
এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—
প্রথমত, সামঞ্জস্য মূল্যায়নকারী মার্কিন সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্থাগুলোর সমান সুবিধা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের আলাদা পরীক্ষার আওতায় পড়ে না, সেসব পণ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন কমপ্লায়েন্স পদ্ধতি গ্রহণে বাংলাদেশ সহযোগিতা করবে।
এ ছাড়া কারিগরি বিধিমালা, মান ও সামঞ্জস্য বিধানের পদ্ধতি যেন বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে। সেই সঙ্গে এসব বিধান যেন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুপ্ত বিধিনিষেধ হিসেবে কাজ না করে, তা–ও নিশ্চিত করতে হবে। পারস্পরের পরিপন্থী বিদ্যমান কারিগরি বাধা—যেমন অপ্রয়োজনীয় বা নতুন পরীক্ষা (যে পরীক্ষা আগেও করা হয়েছে)—এসব ধাপে ধাপে তুলে দিতে হবে।
শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা
শ্রম খাতে চুক্তির শর্তগুলো যথেষ্ট বিশদ ও বিস্তারিত। বাংলাদেশকে বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত এবং শ্রম আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলেও (ইপিজেড) শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শ্রম আইনের সুরক্ষা দুর্বল করা যাবে না—এমন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশ খাতে বাংলাদেশকে পরিবেশ সুরক্ষা আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাণিজ্যে পরিবেশগত অসাম্য তৈরি হয়—এমন কিছু করা যাবে না।
তৃতীয় দেশের কোম্পানির রপ্তানিতে বিধিনিষেধ
চুক্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগ নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে তৃতীয় কোনো দেশের কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে পণ্য রপ্তানি করলে তা ঠেকানোর ব্যবস্থা নিতে হবে বাংলাদেশকে। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন পণ্য রপ্তানি বা অন্য কোনো দেশের বাজারে মার্কিন পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত আছে—এমন দেশ থেকে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি কেনার ওপর কড়াকড়ি আরোপের শর্তও রাখা হয়েছে।
অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা
চুক্তিপত্রের ৩ নম্বর ধারায় অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো সংবেদনশীল বিষয়।
চুক্তিপত্রে বলা হয়েছে, দেশের সমুদ্রবন্দর, বন্দর টার্মিনাল, লজিস্টিকস ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক ও বাণিজ্যিক জাহাজের বহরে ব্যবহৃত ডিজিটাল লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মগুলোয় যথাযথ সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ। এসব প্ল্যাটফর্মের ডেটা যেন ফাঁস না হয়, জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না করে বা অন্য কোনো দেশ অনুমোদন ছাড়া সে তথ্য না পায়—সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপন্ন বা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন যেসব পণ্য ‘এক্সপোর্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেগুলেশনস (ইএআর)’-এর আওতাভুক্ত, সেগুলোর অননুমোদিত রপ্তানি, পুনরায় রপ্তানি বা দেশের ভেতরে হস্তান্তর সীমিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ। এ ধরনের পণ্য পুনরায় রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটির (বিআইএস) অনুমোদনপত্র দেখাতে হবে অথবা প্রমাণ করতে হবে, বিআইএসের অনুমোদন প্রয়োজন নেই। ইএআরের আওতাভুক্ত পণ্য নিয়ে দুই দেশ তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে উৎপন্ন বা যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পণ্যের শুল্ক ও লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ পর্যালোচনা করবে। এসব তথ্য প্রয়োজনে বিনিময় করা হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—বিশেষ করে বিআইএস বা তার মনোনীত সংস্থা উদ্বেগজনক লেনদেন শনাক্ত করতে পারবে।
আরও বলা হয়েছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনের লঙ্ঘন হলে তার প্রতিকারে ব্যবস্থা নিতে হবে।
চুক্তিপত্রের ভাষ্য, বাংলাদেশ নিজস্ব রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ও প্রয়োগের কাঠামো গড়ে তুলবে। এর মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি শাস্তির বিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নিরীক্ষা ও তদন্ত সক্ষমতা জোরদার করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব আইন প্রয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কৃষিপণ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার নীতিতে পরিবর্তন
কৃষি খাতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থার স্বীকৃতি দিতে হবে। চুক্তির ১ দশমিক ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া খাদ্য ও কৃষিপণ্যের সনদ বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
চুক্তির ২ দশমিক ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, অ্যানেক্স-১-এর সিডিউল–১-এ যে শর্তগুলো নির্ধারিত আছে, তার আলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজারে বৈষম্যহীন কিংবা অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দেবে।
একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষাসংক্রান্ত (এসপিএস) সব ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিতে হবে। এসব বিধান যেন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গোপন বাধা হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পারস্পরিক সুবিধার পরিপন্থী এবং অযৌক্তিক এসপিএস–সংক্রান্ত বাধাগুলোও তুলে দিতে হবে।
চুক্তির ১.৬ নম্বর ধারায় কৃষি জৈব প্রযুক্তিপণ্যের বাণিজ্য সহজ করতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে বিজ্ঞান ও ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক–কাঠামো বজায় রাখতে হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বিক্রি হওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রাক্–বাজারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জৈব প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশে আমদানি ও বাজারজাত করতে অতিরিক্ত অনুমোদন, পর্যালোচনা বা বিশেষ লেবেলিংয়ের প্রয়োজন না হয়।
পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও রোগসংক্রান্ত আমদানি নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সীমিত করতে হবে।
মেধাস্বত্ব ও আইন সংস্কার
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ও পেটেন্ট সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অনলাইনসহ সব ক্ষেত্রেই মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও সীমান্তভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাদ্রিদ প্রটোকল, পেটেন্ট কো-অপারেশন ট্রিটি ও একাধিক ডব্লিউআইপিও চুক্তিতে যোগ দিতে হবে। ফলে দেশের বিদ্যমান আইনকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ডিজিটাল বাণিজ্য ও তথ্যপ্রবাহ
ডিজিটাল নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অঙ্গীকার করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির ওপর বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ব্যবসার প্রয়োজনে আন্তসীমান্ত তথ্য প্রবাহের অনুমতি দিতে হবে।
ইলেকট্রনিক কনটেন্টে কোনো ধরনের কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো ডিজিটাল বাণিজ্যচুক্তি অন্য দেশের সঙ্গে করলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সই হওয়া এই বাণিজ্যচুক্তি বাতিল করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল আরোপিত শুল্কহার প্রযোজ্য হবে।
কাস্টমস আধুনিকীকরণ ও করব্যবস্থা
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও কাগজবিহীন কাস্টমস–ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ই-ডকুমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিতে করছাড়–সংক্রান্ত কোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আপত্তি তুলতে পারবে না।
বুধবার সারাদিন যা যা ঘটলো
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিবিসি বাংলা
নির্বাচনে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জালভোট দেওয়া, হিন্দু ভোটারদের হুমকি দেওয়াসহ নানা বিষয়ে ১২৭টি অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি।
নির্বাচনের আগের রাতেই বিএনপি ভোটের মাঠে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “লাইলাতুল গুজব চলছে”। তার এই পোস্টে ভোটের আগের রাতে নানা অভিযোগের দিকে একটি ইঙ্গিত রয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের কর্মীসহ পাঁচজনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি।
লক্ষ্মীপুরে যৌথবাহিনীর তল্লাশীচৌকিতে একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজল মৃধাকে বস্তাভর্তী টাকা সহ আটক করেছে কোস্টগার্ড। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে জব্দ করা টাকা গণনার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ।
শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকার জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে যৌথ বাহিনী সাত লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. তানভীর হোসেন।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কিছু রাজনৈতিক দল অতীতের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ভোট কেনাবেচার বিষয়ে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহসীন (প্রশাসন) বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যবেক্ষণে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো চার লাখ ৮১ হাজার ১৮৫টি পোস্টাল ব্যালট দেশে এসে পৌঁছেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট। বুধবার রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে যাবে ব্যালট পেপার-বক্স’সহ ভোটের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম।
ভোটের দিনেও গণভোট কী জানেন না চা-বাগান গ্রামের বেশির ভাগ ভোটার
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আজকের পত্রিকা
সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলছে। ভোটের দিনেও চা-বাগানের ভোটাররা জানেন না গণভোট কী। অনেকেই ভোট দিয়েছেন, তারপরও তাঁরা জানেন না গণভোট কী। পুরো বিষয়টিই বুঝে উঠতে পারেননি। গণভোট কিসের জন্য, তা-ও জানেন না তাঁরা।
সরেজমিনে কমলগঞ্জ উপজেলার মির্তিঙ্গা চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় এই ভোটকেন্দ্র মোট ভোটার ৩ হাজার ৭২৬ জন। প্রথম ২ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৯৭টি। ভোটারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। তবে এসব ভোটার গণভোট কী জানেন না। শুধু বাগানের নয়, অনেক গ্রামগঞ্জের ভোটার গণভোট সম্পর্কে অবগত নন। কেউ ভোট দিচ্ছেন, আবার কেউ দিচ্ছেন না গণভোট।
কয়েকজন নারী ভোটার জানান, ‘আমরা জানি এমপি নির্বাচন হচ্ছে। অনেক প্রার্থীই আমাদের কাছে ভোট চেয়েছেন। তবে গণভোট নিয়ে কথা বলেননি কেউ।’ বাগান ছাড়াও মুন্সিবাজার গ্রামের মবারক মিয়া ও পেয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা জানি না গণভোট কী। আমি আমার প্রার্থীকে ভোট দিতে এসেছি। গণভোট নিয়ে আমাদের কেউ কিছু বলেননি।’
শান্তিপূর্ণ ও স্বস্তির ভোট দেখল দেশ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্বস্তির পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা; রাজনৈতিক দলগুলোর সংযত আচরণ আর ভোটারদের উৎসাহ–উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি বাধাহীন, উৎসবমুখর ও পরিচ্ছন্ন জাতীয় নির্বাচন দেখল বাংলাদেশ।
তবে ঢাকা–৮ আসনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে রাতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ছাড়া ঢাকা-১৩ ও ১৬ আসনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। গতকাল রাত ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সারা দেশে ভোট পড়ার হার কত, তা জানায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে
গতকাল বিকেলে ইসি জানিয়েছিল, বেলা ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এবারের নির্বাচন নিয়ে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের কেউ বড় ধরনের কোনো প্রশ্ন তোলেননি। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ বলে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ ও পুলিশের চুরি যাওয়া অস্ত্র বাইরে থাকা, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কারও কারও মধ্যে একধরনের সংশয় ছিল। শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ পাড়ি দিল দেশ।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘একতরফা’, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সর্বশেষ তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন এখন কারাগারে। ভোটারদের একটি বড় অংশই বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারেনি।
এবার অন্য রকম পরিবেশ
নির্বাচন নিয়ে গত দেড় দশকের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা, ভোটের আগে নানা ধরনের গুজব আর সংশয়—এমন এক প্রেক্ষাপটে হলো সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল ভোটের দিন সকাল থেকে সারা দেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই অনেক জায়গায় ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অবশ্য রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কিছুটা কম ছিল। গ্রাম থেকে শহর সবখানে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সারা দেশে ভোটের দিনের পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ।
অন্যদিকে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ থেকেই ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখের বেশি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন মাঠে। প্রায় সব কটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি পুলিশের কাছে ছিল বডি–ওর্ন ক্যামেরা। বিভিন্ন এলাকায় আকাশে ছিল সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী, বিজিবি, র্যাবের ড্রোন। ভোটকেন্দ্রে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা।
ঢাকায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বসে বডি–ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ফুটেজে (লাইভ ফিড) সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও নজর রাখছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নির্বাচনের মাঠে ছিলেন দেশি–বিদেশি ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনুষ্ঠিত তিনটি সংসদ নির্বাচন এবং গত দেড় দশকে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই ধরনের চিত্র ছিল। যেসব নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন, সেখানে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, সংঘাত–সহিংসতা ছিল অনেকটা সাধারণ চিত্র। আরেকটি চিত্র ছিল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়।
এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সংঘাত, ভোটারদের বাধা দেওয়া, জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগও সেভাবে ছিল না। দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ছিল তুলনামূলক কম।
এর আগের বিভিন্ন নির্বাচনে আরেকটি সাধারণ চিত্র ছিল ভোটকেন্দ্রের সামনে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী–সমর্থকদের জটলা। তাঁরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। অনেক সময় ভোটকেন্দ্রের সামনে তৈরি করে রাখা হতো ভোটারদের কৃত্রিম সারি। এবার সে ধরনের চিত্র ছিল না বললেই চলে।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানাইয়া ইফফাতের কথায় যেন উঠে এসেছে নির্বাচনী পরিবেশের সামগ্রিক একটি চিত্র। গতকাল রাজধানীর দক্ষিণখানের গাওয়াইর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন্দ্রে আসার আগে অনেক ভয় হচ্ছিল, মারামারি হবে কি না। অনেকে বলেছিলেন, ভোট দিতে অনেক সময় লাগবে, লম্বা লাইন হবে। এসে দেখি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। দুই মিনিটেই ভোট দিয়ে দিলাম। ভেতরে-বাইরে সবাই হেল্পফুল ছিলেন।’
আনন্দের দিন
গতকাল সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। আজ তাঁর জীবনের মহা–আনন্দের দিন। বাংলাদেশের সবার জন্য মহা–আনন্দের দিন। মুক্তির দিন। দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরুর দিন। সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ঈদ মোবারক।’
অন্যদিকে সকালে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। আমরা গত দেড় বছর এদিনটার অপেক্ষায় ছিলাম।’
দেশ গণতন্ত্রের ট্রেনে
গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। ৩০০ আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট বাতিল হয়েছে। এই আসনে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। শুরু থেকে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের তিনটি ম্যান্ডেট বা অর্পিত দায়িত্বের কথা বলে আসছে। সেগুলো হলো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিকবার বলেছিলেন, এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় গতকাল কাঙ্ক্ষিত সেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আর সংস্কার, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়েও গতকাল হয়ে গেল গণভোট। অন্যদিকে ইতিমধ্যে জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কিছু ঘটনার বিচার হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গতকালের ভোটের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার বড় দায়িত্বটি শেষ করল। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের ভাষায়, দেশ গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেছে। গতকাল সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জাতির কাছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট উপহার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম। ঈদের সময়ের মতো মানুষ ট্রেন, বাস, লঞ্চে করে গ্রামে-গঞ্জে গেছে ভোট দিতে। অনেক দিন পর উৎসবের আমেজে মানুষ আনন্দের সঙ্গে ভোট দিচ্ছে।’
গতকাল ভোট গ্রহণ শেষে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে সার্বিক সহযোগিতা করায় সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী, ভোটারসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় ইসি।
এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নেয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এর বাইরে নিবন্ধিত ৯টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। দেশে–বিদেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার চালিয়েছিলেন। তবে দিন শেষে সেটি ভোটে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম প্রথম আলোকে বলেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকে নানা ধরনের গুজব ছিল। নির্বাচন হবে কি না, শেষ দিন পর্যন্ত এই আলোচনা ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। এখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। তিনি বলেন, দেড় দশক নির্বাচন জনগণের কাছে ছিল না। এবার ভোটাররা চাপ, ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিনা ভোটের নির্বাচন, রাতের ভোটের মতো যে নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সেখান থেকে দেশ বের হয়ে এসেছে।
ঢাকা চট্টগ্রাম ময়মনসিংহে ভালো ফলাফল বিএনপির, খুলনা ও উত্তরাঞ্চলে জামায়াতের
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বিএনপি জোট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলের সিংহভাগ আসনেই জয় পেয়েছে।
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বিএনপি জোট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা অঞ্চলের সিংহভাগ আসনেই জয় পেয়েছে। আর খুলনা, রাজশাহী, রংপুর উত্তরাঞ্চলে ভালো করেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা।
দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় গণনা। গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে বিএনপি জোট ১৭০টি ও জামায়াত জোট পেয়েছে ৪৫টি আসন। অন্য প্রার্থীরা পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছেন।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ আসনে বিএনপি জয়লাভ করেছে। এছাড়া বৃহত্তর কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে আছে বিএনপি জোট।
‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে আজ শুক্রবার বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থক হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ধানের শীষের সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আবদুল্লাহ গ্রামে জসিম উদ্দিন (৩০) নামের ওই যুবককে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি অফিসে হামলা, আহত ৪
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুগান্তর
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ নির্বাচনি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন- কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপি কর্মী খোকন হোসেন ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ইবন হোসেন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক বলে জানা গেছে।
অল্প ব্যবধানে জামায়াত নেতাদের হার: ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বনাম পরিসংখ্যান
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ডিসমিসল্যাব
“ডাক্তার শফিক কেন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নিল ? পিরোজপুর-২ তে দেলোয়ার হোসেন সাইদির ছেলেকে মাত্র ৭০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুলনাতে মিয়া গোলাম পরোয়ারকে মাত্র ২০০০ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামাত ৫০০০ এর কম ভোটে হেরেছে এমন আসনের সংখ্যা ৫৩ টি। মূলত এই ৫৩ টি আসনে কারচুপি করে হারানো হয়েছে জামাতকে। জামাত প্রকৃত পক্ষে ১৩৫ টি আসনে জিতেছে। কিন্তু ডিপ স্টেট সংখ্যা কমিয়ে ৭০-৮০ টি দিতে চাচ্ছে।” বক্তব্যটি একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর। ভোটের পরদিন, অর্থাৎ, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে এমন ভাষ্য ফেসবুকে ছড়াতে দেখা যায়। এমন আরেকটি পোস্টে আরেক ব্যবহারকারী লেখেন “…৫৭ টি আসনে জামায়াত প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপি প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান মাত্র ৭০টি থেকে ২, ৩, ৪, ৫ হাজার , নির্বাচন কতটা প্রতিদ্ধন্দিতা হয়েছে এই সব আসন গুলি দেখলে বুজা যায়!” (বানান অপরিবর্তিত)
ভিন্ন দুটি পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ৫০টির বেশি আসনে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধান ৫০০০।
ডিসমিসল্যাব বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এমন অন্তত এক ডজন পোস্ট ও মন্তব্য সংগ্রহ করেছে, যার মূল বক্তব্য হলো, কারচুপি বা ষড়যন্ত্র না হলে আরো অনেক বেশি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করতেন।
এমন দাবির সত্যতা যাচাইয়ে প্রথম আলোর প্রকাশিত আসনভিত্তিক ফলাফল থেকে বিজয়ী ও মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রাপ্ত ভোট সংগ্রহ করে তাদের মধ্যকার ব্যবধান গণনা করে ডিসমিসল্যাব।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৫ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে মোট ২২টি আসনে, ৫৩টিতে নয়। এসব আসনে ব্যবধান ৩৮৫ ভোট থেকে ৪,৭০২ ভোটের মধ্যে। কিন্তু সব মিলিয়ে ৫ হাজারের নিচে থাকা আসনের সংখ্যা ২২টির বেশি নয়।
এই ২২টি আসনের ফল জোটভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামায়াত ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ১১টি আসনে। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ৯টিতে। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, একটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৫ হাজারের কম ব্যবধানের আসনগুলোর অর্ধেকেই জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
এই তালিকায় জামায়াত জোট সরাসরি পরাজিত হয়েছে ৯টি আসনে। এদের একজন এনসিপির মোঃ আব্দুল আহাদ, একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ওমর ফারুক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক এবং বাকি ৬ জন জামায়াতে ইসলামীর যার মধ্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও রয়েছেন।
৫০০০ ভোটের কমে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে এমন আসনগুলোর জোটভিত্তিক বিন্যাস।
সবচেয়ে কম ব্যবধানের পাঁটটি আসনের মধ্যে মাদারীপুর-১-এ ব্যবধান ৩৮৫ ভোট, সিরাজগঞ্জ-৪-এ ৫৯৪ ভোট। এই দুইটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত বা তাদের মিত্র প্রার্থী। অন্যদিকে কক্সবাজার-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে যথাক্রমে ৯২৯, ১০২৬ ও ১০৬১ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা। অর্থাৎ সংকীর্ণ ব্যবধান উভয় জোটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়েছে।
জোটভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব আসনে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা পরাজিত হয়েছে সেখানে মোট ব্যবধানের যোগফল ২৬,৯০৭ ভোট। এতে করে গড় পরাজয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ২,৯৯০ ভোট। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা যেসব আসনে পরাজিত হয়েছে, সেখানে মোট ব্যবধানের যোগফল ৩০,৮২০ ভোট এবং গড় পরাজয়ের ব্যবধান প্রায় ২,৫৬৮ ভোট। অর্থাৎ, স্বল্প ব্যবধানের আসনগুলোর মধ্যে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের গড় পরাজয়ের ব্যবধান ভোটের হিসাবে বিএনপি জোটের তুলনায় বেশি।
২৯৭টি আসনের ফলাফলকে ভোটের ব্যবধান অনুযায়ী ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজালে দেখা যায়, সবচেয়ে কম ব্যবধানের ৫০টি আসনের পরিসর ৩৮৫ ভোট থেকে ৯,৫৮১ ভোট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ৫০টি আসনের মধ্যে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ২৪টিতে। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জিতেছে ২২টিতে। তিনটিতে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
যে দশটি আসনে সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে।
অর্থাৎ ৫০টি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ভেতরে কোনো একক জোটের একচেটিয়া প্রাধান্য দেখা যায় না; বরং বিএনপি জোটের প্রার্থীরাই বেশি হেরেছে।
পরিকল্পনা-টেন্ডার ছাড়াই বন্দরের জমি ২০ বছরের ইজারা
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাগো নিউজ
বন্দরের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছিল না। ছিল না কোনো আলোচনায়। তবুও নতুন আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ১০ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই।
এই ইজারার প্রথম দুই বছর দেওয়া হয়েছে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে রেয়াতি সুবিধা। জায়গাটি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্দরের সম্ভাব্য সংকটকেও আমলে নেওয়া হয়নি। জায়গা বরাদ্দ পেলেও ইজারাগ্রহীতা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজ শুরু করেনি। অভিযোগ উঠেছে- বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বন্দরের ভবিষ্যৎ হুমকিও বিবেচনায় না রেখে টেন্ডার ছাড়া উল্টো ভাড়া রেয়াতি সুবিধায় জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক নিহত, ১৩ জেলায় হামলা-সংঘর্ষ
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
বাগেরহাটের কচুয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনি আহত হয়েছিলেন।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের ১৪ জেলার ১৯টির বেশি আসনে সহিংসতায় ১৪৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়টি স্থানে বিএনপি ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এবং আটটি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তিন জায়গায় জামায়াত ও এনসিপি সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাগেরহাট, পটুয়াখালী, নড়াইল, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের আট জেলায় ১০টির বেশি আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতে একজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
বাগেরহাটের কচুয়ায় নিহত ওসমান সরদার (২৯) সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে এবং বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের সমর্থক ছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কচুয়ার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে ধানের শীষ ও ‘বিদ্রোহী’ ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হন।
নিহত ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার বলেন, ‘ধানের শীষের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের লোকজন কই গেল বলে খুঁজছিল। এ সময় কথাকাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে ধানের শীষের সমর্থকরা।
এদিকে গতকাল বাগেরহাট সদর উপজেলার আরপাড়া, চুনখোলা, মান্দ্রা, চুলকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
জামায়াতের বড় উত্থান, সর্বোচ্চ ভোট
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জোট-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব শক্তির প্রদর্শন করেছে।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হওয়া এই নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে দলটি এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জোটগত হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭। ফলে সরকার গঠনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জামায়াত।
বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে এবং জোটগতভাবে ২১২টিতে জয় পেয়েছে। তবে ৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।
১৯৯১ সালে ১৮টি, ২০০১ সালে ১৭টি ও ২০০৮ সালে ২টি আসনে জয় পেয়েছিল জামায়াত। সেই তুলনায় এবারের ফল দলটির জন্য ঐতিহাসিক মোড়।
৬৮টি আসনে জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। কারণ, ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে পেয়েছিল ৩টি আসন।
১৭ বছর পর জামায়াত নিজস্ব নেতৃত্বে জোট গড়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সরকার গঠনের মতো আসন না পেলেও জোটগত ৭৭ আসন প্রাপ্তিকে জামায়াতের বড় উত্থান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
জামায়াতে ইসলামী অতীতে রাজধানী ঢাকায় একটি আসনও পায়নি। কিন্তু এবার ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে—ঢাকা-৪, ৫, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬। এ ছাড়া জোটের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।
এ ছাড়া ঢাকার আরও পাঁচটি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ঢাকা-৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭—এই আসনগুলোতে জামায়াত বা জোটের প্রার্থীরা হেরেছেন কম ভোটের ব্যবধানে। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে ৩ হাজার ৩০০ ভোটের ব্যবধানে আর ঢাকা-৭ আসনে ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেক আসনে হারলেও দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে।
১৯৯১–২০২৬: বিএনপির সবচেয়ে ভালো ফলাফল এবার
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রায় সবাই জয়ী হয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে প্রধানমন্ত্রী হবেন, দলের পক্ষ থেকে তা আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। ওই নির্বাচনে বিএনপি একাই পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। আর জোটের শরিকসহ তাদের মোট আসন ছিল ২১৬। তখন প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টি। জোটের শরিকেরা পেয়েছে আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে পরবর্তী সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। তবে আরও দুটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা আছে বিএনপির। আদালতের নির্দেশে এ দুটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন যোগ হলে এই জোটের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে।
জয় নিরঙ্কুশ, ভোটব্যাংকে বড় পরিবর্তন
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসনভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে। অতীতের ভোটের সব হিসাবনিকাশ পাল্টে গেছে। আসনভিত্তিক দলগুলোর ভোটব্যাংকেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষমাণ বিএনপি। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলতি সপ্তাহেই নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির এই বিজয় নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ চলছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে দলটির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকার পরও সহজ জয় পায়নি তারা। ২শর বেশি আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫০টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে। পাশাপাশি পাঁচ হাজারের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ২১টি আসনে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে জয় পেয়েছেন পাঁচ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে। এমনকি অতীতে বিএনপির দুর্গখ্যাত জেলাগুলোতেও তারা আসন হারিয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত আসনগুলোতে জয় পেয়েছে বিএনপি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, গাজীপুর, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের মতো জেলার আসনগুলোতে একচেটিয়া আসন লাভের কারণে জয়ের ব্যবধান অনেক বড় হয়েছে।
তবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সত্ত্বেও বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা রাজধানী ঢাকার দুই সিটির ১৫ আসনের মধ্যে সাতটিতে জিততে পারেনি।
অন্যদিকে ৯০ দশক থেকেই জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগে এবার লাঙ্গল প্রতীক কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি। এমনকি দেশের কোনো জেলার আসনেই দলটির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে রংপুরের ২২ আসনের ১৮টি, ১৯৯৬ সালে ২১টি এবং ২০০১ সালে ১৩টি আসন পেয়েছিল জাতীয় পার্টি। লালমনিরহাট বাদে এই বিভাগের বাকি ১৯ আসনের ১৮টিতে জিতেছে জামায়াত জোট।
ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জামায়াত এই নির্বাচনে ৬৮টি আসন পেলেও দলভিত্তিক হিসেবে উপস্থিত ভোটের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পেতে পারে। কারণ, তাদের হেরে যাওয়া আসনগুলোর মধ্যে অন্তত অর্ধেক আসনে তারা বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ছিল। যদিও ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এখনও দলভিত্তিক ভোটের হার চূড়ান্ত করতে পারেনি। এর আগে ২০০১ সালে ২০০ বেশি আসনে বিজয়ী বিএনপির তুলনায় ০ দশমিক ৮ ভাগ কম পেলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ আসন পেয়েছিল মাত্র ৬২টি। একইভাবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী ২০০ বেশি আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের তুলনায় ১৬ ভাগ ভোট কম পেয়ে আসন পেয়েছিল মাত্র ২৮টি।
এই নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল তাদেরই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তারা জোটভুক্ত ছিল, এর পরও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলনে তারা রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছে।
জামায়াতের কাছে সবচেয়ে বেশি আসন আটটি হারিয়েছে বিএনপি খুলনা বিভাগে। জামায়াত ছাড়াও ৩০টি আসনে বিএনপিকে লড়তে হয়েছে ৫ আগস্টের বিপ্লবের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল এনসিপির সঙ্গে। ৭৮টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের লড়তে হয়েছে নিজ দলের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে। বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল এমন ২১টি আসন জামায়াতের কাছে হেরেছে বিএনপি। আর সরাসরি নিজ দলের বিদ্রোহীদের কাছে হেরেছে সাতটিতে।
স্বতন্ত্র সাত প্রার্থী বিজয়ী
এবারের জাতীয় নির্বাচনে সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচন করায় সাতজনকেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিজয়ী এই সাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন– ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, টাঙ্গাইল-৩ আসনে লুৎফর রহমান খান আজাদ, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান, চাঁদপুর-৪ আসনে আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনে আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনে সালমান ওমর এবং দিনাজপুর-৫ আসনে এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।
সারাদেশে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ
ইসির পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এবার ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণায় বিএনপি ২০৯ আসনে বিজয়ী হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা শেষ করে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এর আগে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
ইসি ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১, স্বতন্ত্র ৭ এবং অন্যান্যরা ৪টি আসনে জয়ী হয়েছে। ২৯৯ আসনের ভোটে ৫০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন দুই হাজার ২৮ জন।
এই নির্বাচনে সারাদেশে ২৯৯টি আসনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে (ইসি)। ইসির সচিব আখতার আহমেদ জানান, সারাদেশের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনও কিছু বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রের চূড়ান্ত হিসাব আসা বাকি। তবে সামগ্রিক ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পরবর্তী সময় প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
গণভোটে পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ
ইসি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে সারাদেশে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট সাত কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৩৮২ জন গণভোটে ভোট দিয়েছেন। বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ দুই হাজার ২৮৫টি ভোট। বৈধ ছয় কোটি ৯২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৬টি ভোটের মধ্যে হ্যাঁ ভোট পড়েছে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। যা প্রদত্ত বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর ‘না’ ভোট পড়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। যা প্রদত্ত বৈধ ভোটের ৩১ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
নারী প্রার্থী জিতেছেন সাতজন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট সাতজন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ছয় এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
বিজয়ী নারী প্রার্থীরা হলেন বিএনপি থেকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থীর জয়
নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তারা সবাই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। এর মধ্যে ঢাকা-৩ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসনে জয়ী হয়েছেন। গয়েশ্বর ও নিতাই পরস্পরের বেয়াই।
এদিকে বান্দরবান আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন সাচিং প্রু। এ ছাড়া রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়নে জয়লাভ করেছেন দীপেন দেওয়ান।
বিএনপি এবার ছয়জন সংখ্যালঘুকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন পরাজিত হন। তারা হলেন বাগেরহাট-১ আসনের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও বাগেরহাট-৪ আসনের সোমনাথ দে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী দিয়েছিল। তারা হচ্ছেন– খুলনা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ। তারা দুজনও পরাজিত হন।
এবারের নির্বাচনে অন্তত ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ২২টি দল থেকে ৬৭ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সর্বোচ্চ মনোনয়ন দেয় সিপিবি থেকে ১১ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১২ জন নির্বাচন করেন।
হেভিওয়েট প্রার্থী যারা হেরেছেন
নির্বাচনে ভোটের মাঠে বড় চমক দেখিয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব, সাংগঠনিক শক্তি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও ২৫ জনের বেশি হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। যারা ভোটের মাঠে আলোচনার ঝড় তুলেও ভোটারদের সমর্থন না পাওয়ায় হেরেছেন।
রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের হেরেছেন ও তৃতীয় হয়েছেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত রংপুরের এই আসনে লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট। যেখানে জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল এক লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। একইভাবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীও ভোটের লড়াইয়ে থাকতেই পারেননি। পাটওয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে তৃতীয় হয়েছেন।
খুলনা অঞ্চলে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। খুলনা-৫ আসনে হেরেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার লবীর কাছে দুই হাজার ৬০৮ ভোটে হেরেছেন। খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাবেক মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনে জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীও হেরেছেন অনেক ভোটের ব্যবধানে।
কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরেছেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহর কাছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোট কম পেয়েছেন। সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির হেরেছেন বিএনপির নাছির চৌধুরীর কাছে।
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মাত্র তিন হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এখানে বিএনপির মীর শাহে আলম এক লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে জিতেছেন।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে হারিয়ে জামায়াতের সাইফুল আলম মিলন জিতেছেন। এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মিলন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর নিকটতম প্রার্থী সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট।
বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ এই দুই আসনেই পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। বরিশাল-৫ এ বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-৬ এ বিএনপির আবুল হোসেন খানের কাছে হেরেছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরোটা সময়জুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে নানামুখী বক্তব্য দিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিন্তু ভোট শেষে পাঁচ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মির্জা আব্বাসের কাছেই। সেখানে বিএনপির মির্জা আব্বাস পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। আর পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পরাজিত হয়েছেন বিএনপির নওশাদ জমিরের কাছে। সারজিস হেরেছেন আট হাজার ৩০৪ ভোটের ব্যবধানে।
ঢাকা-৯ আসনে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা হেরেছেন। ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এই আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জিতেছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন। এদিকে নরসিংদী-২ আসনে এনসিপির গোলাম সারোয়ার তুষার মাত্র ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এখানে বিএনপির আব্দুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
ঢাকা-১৩ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী ও এনডিএম ছেড়ে আসা ববি হাজ্জাজের কাছে। ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ পান ৮৬ হাজার ৬৯৪ ভোট। আর মামুনুল হক পান ৮৩ হাজার ৮৫১ ভোট।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও হেরেছেন। ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। এখানে জামায়াতের আবু তালিব এক লাখ চার হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ হেরেছেন জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুলের কাছে। এখানে বুলবুল এক লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ ভোট এবং হারুন এক লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ ভোট পান। ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক হেরেছেন জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে। আমিনুল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে তিন হাজার ৩৬১ ভোট কম পেয়েছেন।
নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে; যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে।
আজ শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল, একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল; যা মূলত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে মর্যাদাপূর্ণ করে। বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা, যাইহোক না কেন, প্রায়শই ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান দ্বারা সৃষ্ট হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ও স্বচ্ছভাবে স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা সমুন্নত রেখে কাজ করেছে। মিশনটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, নির্বাচনী আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য পরিচালিত হয় এবং ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে। আইনি নিশ্চয়তা বাড়ানোর জন্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা হ্রাস করে এমন ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার জন্য আরও সংস্কার প্রয়োজন।
ইইউ মিশনের প্রধান বলেন, আমরা দেখেছি, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে এবং আমরা লক্ষ্য করেছি, অন্তর্বর্তী সরকার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা কমিশনকে যে সমর্থন দিয়েছিলেন কমিশন স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের দ্রুত জবাব দিয়েছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য ভাগ করে নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে।
ইভার্স ইজাবস বলেন, নারীরা জুলাই অভ্যুত্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিলেও নির্বাচনে তাদের উপস্থিতি মাত্র ৪ শতাংশ। ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি, বৈষম্য হয়েছে নারীদের সঙ্গে৷ জাতীয় রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার স্পষ্ট অভাব লক্ষ্য করা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের বাদ দেওয়ার পুরনো প্রথা এখন পরিত্যাগ করার সময় এসেছে। প্রচারণার সময় ভীতি প্রদর্শন এবং বিশেষ করে নারী প্রচারকদের হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে।
ইইউ আরও বলেন, ৫৬টি প্রচারণা সংক্রান্ত সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে শারীরিক আঘাত এবং প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। কারসাজি করা অনলাইন বর্ণনা বা প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দেওয়া হয়েছে যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করে। ভুল তথ্য বা অপপ্রচার রোধে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো খুব ধীরগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও হতাশাজনক। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য এবং শান্ত বয়বহারকে আমরা স্বাগত জানাই।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৫৯% ব্যবসায়ী
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী। ৮৩ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। ৭৩ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি।
নির্বাচনে গত বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট গ্রহণ বাতিল হয়েছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে জয়ী বিএনপির প্রার্থীর ফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (ঋণ খেলাপের কারণে)। ফলে বিশ্লেষণ করা গেছে ২৯৭ জন প্রার্থীর তথ্য।
বিএনপি ৪৯.৯৭% ও জামায়াত ৩১.৭৬% ভোট পেয়েছে: ইসি
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও জামায়াতে ইসলামী ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
আজ রোববার দলভিত্তিক ভোটের তথ্য প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
কোনো আসনে ৫৬ কোথাও ৯৬ ভোট, বাম জোটের কোনো প্রার্থীরই টেকেনি জামানত
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনেই মুখ রক্ষা করতে পারেননি বামপন্থি দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা। এই জোটের কোনো প্রার্থীরই জামানত টিকেনি। অর্থাৎ আসনে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিএনপি ২১২ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে। ৬৮ আসনে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আর ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠকদের দল এনসিপি। এছাড়া আরও অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে পেয়েছে ১১টি আসন।
বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের আগে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল। গত বছর ২৯ নভেম্বর বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশ জাসদ আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন থেকে এই যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল। নতুন এই জোটে পরে আরও বাম-প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনকে যুক্ত করা হয়। এই যুক্তফ্রন্টে হয় আটটি বামপন্থি রাজনৈতিক দলের প্লাটফর্ম।
জোটগতভাবে দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়।
এই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে চারটি। দলগুলো হলো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ। এই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে প্রার্থী দেয়। মোট ৯৭টি আসনে জোটের ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল।
এর বাইরে জোট থেকে নিজস্বভাবেও দলগুলো প্রার্থী দিয়েছিল। সব মিলিয়ে এই জোটভুক্ত দলগুলোর প্রার্থী ছিল ১৪৭টি আসনে। এর মধ্যে সিপিবির প্রার্থী ছিল ৬৫ আসনে, বাসদের প্রার্থী ছিল ৩৭ আসনে, বাসদের (মার্কসবাদী) ৩৩ আসনে এবং বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী ছিল ১৫টি আসনে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন জোটের শরিক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মণীষা চক্রবর্তী। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বরিশাল-৫ আসন থেকে। মণীষা চক্রবর্তী ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়েছেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনে যত সংখ্যক ভোট পড়বে, তার আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ১৪৭টি আসনে বাম দলগুলোর যে প্রার্থীরা লড়েছিলেন, তারা সেসব আসনের প্রত্যেকটিতে গৃহীত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগও তারা পাননি
এ বিষয়ে বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, গৃহীত ভোটের শতকরা ৮ ভাগ ভোট যদি প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে। আর যদি গৃহীত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটের প্রয়োজন হয় তাহলে জামানত টিকবে না। অন্যান্য আসনে আমাদের জোটের অন্য প্রার্থীরা অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। অনেকেই এক হাজারের নিচে ভোট পেয়েছেন।
এই জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে বিজয়ী হন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে জামানত টিকিয়ে রাখতে পারেননি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ৩ হাজার ১০ ভোট পেয়েছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফী রতন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুইজনই জামানত হারিয়েছেন। কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রার্থী হয়েছিলেন নরসিংদী-৪ আসন থেকে এবং আবদুল্লাহ কাফী রতন প্রার্থী হয়েছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনে।
এই জোটের অধিকাংশ প্রার্থীই ভোট পেয়েছেন এক হাজারের নিচে। কোনো কোনো প্রার্থী দুই বা তিন হাজার ভোট পেয়েছেন।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক সিপিবি থেকে মোট ৬৫টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কিশোর রায়। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৪২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন নেত্রকোনা-১ আসনের প্রার্থী আলকাছ উদ্দিন মীর। তিনি ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৯টি।
এছাড়া ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এএইচএম রফিকুজ্জামান আকন্দ কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ ভোট এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) এএফএম ইসমাইল চৌধুরী মোটরগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ ভোট।
সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণবজ্যোতি পাল মই প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ ভোট।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আনোয়ার হোসেন সুমন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৯০৮ ভোট। আর বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্তি দাস কাঁচি প্রতীকে পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
ঢাকা–৫ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি পেয়েছেন ২২১ ভোট। ঢাকা–৭ আসনে দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম ২০৮ ভোট পেয়েছেন। বাসদ (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত পেয়েছেন ৬৭৭ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব পেয়েছেন ৩৭০ ভোট।
জয়পুরহাট-১ আসনে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর তৌফিকা দেওয়ান ৬১৭ ভোট এবং বাসদ প্রার্থী ওয়াজেদ আলী ৫৭৮ ভোট পেয়েছেন।
এমপি পদে বিজয়ী ১৭৪ ব্যবসায়ী, পোশাক খাতের অন্তত ১৫ জন
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাগো নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে বিজয়ীদের মধ্যে ১৭৪ জন বা ৫৯ শতাংশই ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে পোশাক শিল্প-মালিক ও সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য আছেন অন্তত ১৫ জন। হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা ও বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি এবারের নির্বাচনে ২০৯টি আসন পেয়েছে। এই দল থেকে জয়ী প্রার্থীদের ১৪৫ জন বা ৬৯ শতাংশ নিজেদের পেশা ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ আসন পাওয়া জামায়াতের ২০ জন বা ২৯ শতাংশ জানিয়েছেন তারা ব্যবসায়ী।
তথ্যমতে, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীর ১৮ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী। পরে ক্রমেই জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ১৯৯১ সালের সংসদে ব্যবসায়ী ছিলেন ৩৮ শতাংশ। সর্বশেষ টানা কয়েক মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের আমলেও সংসদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য ছিল। এখন নতুন সংসদে অর্ধেকের বেশি এমপিই হতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী।
অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে বেশি আস্থা রেখেছেন ভোটাররা
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আদর্শিক বয়ানের চেয়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিতে ভোটাররা বেশি আস্থা রেখেছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ প্রতিশ্রুতি বেশি প্রভাব ফেলেছে। ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস)’-এর জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জরিপের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এই জরিপের ফলাফলের একাংশ প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশের ২ হাজার ৯৮৫ জনের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (বিআরএআইএন) ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ চালায় ইনোভিশন কনসাল্টিং।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনের আগে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ বলেছিলেন, নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বড় ভূমিকা রাখবে। এর প্রভাব জামায়াত সমর্থকদের ওপরও ছিল। তাঁদের ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেছিলেন, এটি বড় ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে নারী ভোটারদের মধ্যে এই কার্ডের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার হার ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া বিএনপি সমর্থকদের ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেছিলেন, ‘হেলথ কার্ড’ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসলামি শাসন, ভারতবিরোধী রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের বিচারের মতো আদর্শিক ইস্যুগুলো মূলত জামায়াত জোটের সমর্থক এবং পুরুষ ভোটারদের সিদ্ধান্তকে বেশি প্রভাবিত করেছে। তবে অন্যান্য আদর্শিক ইস্যুর তুলনায় ভারতবিরোধী রাজনীতির প্রভাব কিছুটা কম ছিল। জামায়াত জোটের সমর্থকদের মধ্যে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার এটিকে প্রধান ভূমিকা পালনকারী ইস্যু হিসেবে দেখেছেন। বিএনপির সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২২ দশমিক ৬ শতাংশ।
জরিপে দেখা গেছে, ভারতবিরোধী রাজনীতি পুরুষ ভোটারদের তুলনায় নারী ভোটারদের ওপর অনেক কম প্রভাব ফেলেছে। মাত্র ১৭ দশমিক ১ শতাংশ নারী এটিকে প্রধান কারণ মনে করেছেন। আর ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী এই ইস্যুটির প্রভাব সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিচারের বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বেশ কার্যকর ছিল, বিশেষ করে যাঁরা আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে অনড় ছিলেন। জামায়াত জোটের সমর্থকদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার এটিকে প্রধান ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করেছেন। আর বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ।
তবে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল ইসলামি শাসন। তাঁদের ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার মনে করেছিলেন, ইসলামি শাসনের বিষয়টি তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
জরিপের ফলাফল বলছে, বিএনপির সাফল্যের পেছনে অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং আওয়ামী লীগের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন স্থানান্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। আর ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াত-জোটের দিকে গেছেন। তবে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত এলাকাগুলোতে তুলনামূলক কম ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে, যা তাদের ভোটব্যাংকের একটি অংশের অনাগ্রহ বা বিরত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি নেতাদের কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে জামায়াতের নেতাদের কোম্পানির
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শান্তিপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফলের বড় প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। তাতে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেনের বড় উত্থান হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটির নেতাদের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ছিল বাড়তি আগ্রহ। সেই সঙ্গে ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানির প্রতিও বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে। এ কারণে ভালো কোম্পানিগুলো লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল। যার ফলে সূচকের বড় উত্থান ও লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ রোববার দিন শেষে ২০১ পয়েন্ট বা পৌনে ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। দিন শেষে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে আজই ঢাকার বাজারে সূচক ও লেনদেন সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে। এর আগে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৬২৭ পয়েন্টের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। আর একই দিন ঢাকার বাজারে সর্বশেষ ১ হাজার ৪০১ কোটি টাকার সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল।
তিন যুগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ইসলামপন্থী দলগুলোর
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু (১৯৯১ সালে) হওয়ার পর এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছে ইসলামপন্থী দলগুলো। আসনের পাশাপাশি প্রাপ্ত ভোটের হারও বেড়েছে তাদের। এ পটভূমিতে দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের উত্থান হলো কি না, নানা মহলে সে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের অংশ হয়ে এসব ইসলামপন্থী দল নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) তথ্য অনুসারে, এবারের নির্বাচনে ১১টি ইসলামপন্থী দল অংশ নেয়। তারা সব মিলিয়ে ৬০৭ জন প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী। এবারের নির্বাচনে মোট ২৯৯টি আসনে ২ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইসলামপন্থী দলগুলো মোট আসন পেয়েছে ৭২টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি। দলটি ২২৪ আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর দুই নির্বাচনী মিত্র বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।
এবারই প্রথম একটি আসন পেয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ইসলামপন্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ২৫৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। বিএনপির সঙ্গে জোট করে পাঁচটি আসনে ভোট করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। কোনো আসন জিততে পারেনি তারা।
ভোটের পরে সারা দেশে ৪৭টি হামলা-সংঘাত
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের হিসাবে ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত নির্বাচনোত্তর ৪৭টি বড় ঘটনার তথ্য রয়েছে। এসব ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৬ জন। এর বাইরে মিছিল, বিক্ষোভ, বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতিসহ ছোটখাটো আরও ১৫টি ঘটনার তথ্য রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, অফিস ভাঙচুর এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ থেকে। ৪৭টি ঘটনার মধ্যে ১২টিতে মামলা হয়েছে। ২০টি ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বলেন, কোথাও হামলা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে মামলা নেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় পরিচয় এখানে মুখ্য হবে না।
পুলিশের নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৪৭টি গুরুতর ঘটনার মধ্যে ৩৪টিই সংঘর্ষ ও মারধরের। এর মধ্যে ২১টি ঘটনা ঘটেছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ৮টি স্থাপনা ভাঙচুর এবং একটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা রয়েছে। নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা রয়েছে চারটি। এর বাইরে মিছিল, বিক্ষোভ, বাগ্বিতণ্ডা, হাতাহাতিসহ ছোটখাটো ১৫টি ঘটনা ঘটেছে। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে সহিংস ঘটনা তুলনামূলক বেশি।
জামায়াত ও এনসিপি বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের ওপর হামলা এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ করে আসছে। পুলিশের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জামায়াত ও এনসিপির সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির সমর্থকদের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনার পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে দলটির ‘বিদ্রোহী’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনেরও সংঘর্ষের ঘটনাও রয়েছে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও রয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে মুন্সিগঞ্জের সদর থানা এলাকায়। সেখানে বিএনপির সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক জসিম নায়েবকে কুপিয়ে জখম করে, পরে তিনি মারা যান। একই দিন বাগেরহাট সদর থানাতে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার (৩৫) নিহত হন।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিএনপির প্রার্থীর বিজয় মিছিল থেকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে অন্তত পাঁচজনকে আহত করা হয়। নড়াইলে স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।
নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা কয়েকটি এলাকায় পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। কিছু এলাকায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
১৩ ফেব্রুয়ারি রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার আমবাগান এলাকায় নির্বাচনে পরাজিত বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার দুই-তিন হাজার সমর্থক ভোট পুনরায় গণনার দাবিতে রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বিএনপির সমর্থক বিক্ষোভকারীরা পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর করেন।
এ ছাড়া পটুয়াখালী, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আবার ঝিনাইদহ সদরে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই সমর্থকের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলেও পুলিশের প্রতিবেদনে এমন তথ্যও উঠে এসেছে।
ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি নারীর নিরাপত্তায় পুলিশ
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এক নারীকে (৩২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধ থেকে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন ওই নারী। সেখানে নারী পুলিশ সদস্যদের পাহারায় তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি গত শুক্রবার রাতের বলা হলেও আজ রোববার পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তিন সন্তানের এই জননী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী একজন নারী চিকিৎসককে দিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশের লিখিত চাহিদাপত্রের আলোকে আলামত পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ১০ জন আবাসন ব্যবসায় যুক্ত
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ১০ জন আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জয়ী এসব সংসদ সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে এখাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন–রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।
আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এসব সংসদ সদস্যরা এখাতের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা, কর কাঠামোর সংস্কার, নগর পরিকল্পনা, ড্যাপ বাস্তবায়ন, ইউটিলিটি সংযোগ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে শুভেচ্ছা বার্তায় আশাপ্রকাশ করেছে রিহ্যাব। যদিও নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ করেনি সংগঠনটি।
খাত সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আবাসন খাতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া; মোঃ ফখরুল ইসলাম (নোয়াখালী-৫); কাজী রফিকুল ইসলাম (বগুড়া-১); মাহবুব উদ্দিন খোকন (নোয়াখালী-১); মঞ্জুর এলাহী (নরসিংদী-৩), মজিবুর রহমান সরওয়ার (বরিশাল-৫); শেখ রবিউল ইসলাম (ঢাকা-১০); কুমিল্লা-১০ আসনের খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নেত্রকোনা-৩ আসনের রফিকুল ইসলাম হিলালী।
এদের সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এখনই শপথ নেবে না বিএনপি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি এখন শপথ নেবে না। সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যদের শপথের বিধান করা যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানের আগে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার হাতের নীল রঙের ফর্মটি দেখিয়ে বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের ফর্ম। আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। এবং সংবিধানে এখনো এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হলে তা আগে সংবিধানে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের কে শপথ নেয়াবেন, সে বিধান করতে হবে।‘
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনার অনুরোধ ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির শর্তগুলো অনেক ক্ষেত্রে কঠোর। এ চুক্তিতে দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি; বরং চুক্তিটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে সীমিত করে দিতে পারে। এ জন্য নতুন সরকারের কাছে চুক্তিটি আবার পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির প্রভাব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তাঁরা এই অনুরোধ জানান। সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই)।
বড় মন্ত্রিসভায় শুরু তারেক রহমানের
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
খোলা আকাশ, উন্মুক্ত মঞ্চ, হাজারখানেক দেশি-বিদেশি অতিথি; দূরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে আসাদগেট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে মণিপুরিপাড়াসংলগ্ন রাস্তা, ফুটপাতে বিপুল কর্মী-সমর্থকের উচ্ছ্বাস। এমন পরিবেশে রাজধানীতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঙ্গলবার পড়ন্ত বিকেলে (৪টা ১২ মিনিট) শপথ নিল বাংলাদেশের নতুন সরকার। টিভির পর্দা, অনলাইন কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে কোটি চোখ সাক্ষী হলো বঙ্গভবনের জমকালো দরবার হলের বাইরে প্রথম এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের।
প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। তারপর একে একে ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ান তিনি। এর মাধ্যমে কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে ছোট বা মাঝারি মন্ত্রিসভার যে জল্পনা ছিল, তার অবসান হয়। সন্ধ্যার পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আরও পাঁচ উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি জনস্বার্থবিরোধী
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে তাতে দেশের জন্য ভালোর থেকে খারাপই হয়েছে বেশি। এ চুক্তির ফলে দেশের রপ্তানি বাড়বে না; উল্টো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতির লঙ্ঘন হওয়ায় অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যে ‘পাল্টা শুল্ক’ অব্যাহতি পাবে বলে প্রচার করা হচ্ছে, তা বহু শর্তযুক্ত। ওই শর্ত মেনে আদৌ বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা এ চুক্তিকে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনায় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এমন মত দিয়েছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিআই কার্যালয়ে এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
নতুন সংসদ সদস্যদের ৮০% কোটিপতি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশই কোটিপতি। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী, নির্বাচিত কোটিপতি সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৩৬। তাঁদের মধ্যে শতকোটিপতি রয়েছেন ১৩ জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকা প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে টিআইবি।
টিআইবির প্রতিবেদন বলছে, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী নির্বাচিতদের মধ্যে বিএনপির কোটিপতি ১৮৯ জন আর জামায়াতে ইসলামীর ৩৮ জন। শুধু অস্থাবর সম্পদের হিসাবে নির্বাচিতদের মধ্যে কোটিপতি ১৮৪ জন আর স্থাবর সম্পদের মূল্য অনুযায়ী কোটিপতি ১৬৭ জন।
টিআইবির তথ্য বলছে, নির্বাচিতদের গড় অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি টাকা। যদিও দ্বাদশ সংসদের চেয়ে এবারের নির্বাচনে নির্বাচিতদের গড় অস্থাবর সম্পদ কমেছে। গত সংসদে নির্বাচিতদের গড় অস্থাবর সম্পদ ছিল প্রায় ২৩ কোটি টাকা। নির্বাচিতদের ২০০ জনই বছরে ১০ লাখ টাকার বেশি আয় করেন। অন্যদিকে কোটি টাকার বেশি বার্ষিক আয় ৪৮ জনের।
নতুন সরকারের তিন অগ্রাধিকার নির্ধারণ
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ে। আজ বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অগ্রাধিকার তিনটি হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের সময় আলোচিত খলিলুর রহমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় খোদ দলটির নেতা-কর্মীরাই অবাক হয়েছেন। এর সমালোচনা করেছে বিরোধী দলও।
বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার বিষয়টি তাদের জন্য বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর হয়েছে।
নানা আলোচনা চলছে ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহলে। কারণ, অন্তবর্তী সরকারের আঠারো মাসে অনেক সময়ই খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এমনকি নানা ইস্যুতে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করতে দেখা গেছে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের। তখন শুধু সমালোচনায় থেমে থাকেননি তারা, বিএনপি তাকে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিল।
সর্বশেষ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদদের পাশাপাশি বিএনপি নেতাদেরও কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছিলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি।
ওই চুক্তি ঘিরেও অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বিএনপি নেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে খলিলুর রহমানের সমালোচনা করেছেন।
কিন্তু আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকারে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় এটিই বড় ব্যতিক্রম।
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্ন
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিএনপির নতুন সরকারে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি একজন মন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন অপাহাড়ি একজন। ২৮ বছর আগে মন্ত্রণালয়টি গঠনের পর এই প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকারের আমলে এমন ঘটনা ঘটল। চুক্তিকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক নেতা দাবি করেছেন, এটা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিশ্লেষকেরাও বলছেন, এটা চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত মঙ্গলবার তাঁর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ নেন। এরপর দপ্তর বণ্টনে দেখা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দা দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য রাঙামাটি থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে। দীপেন দেওয়ান পার্বত্যাঞ্চলের চাকমা জাতিসত্তার হলেও মীর হেলাল ওই এলাকার বাসিন্দাও নন, পাহাড়িও নন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার এত অস্থির ছিল কেন: আনু মুহাম্মদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার এত অস্থির ছিল কেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) এই যে চুক্তিগুলো এভাবে করল, বাংলাদেশকে হাত–পা বাঁধা অবস্থায় ফেলল। ইচ্ছা করলেই বলতে পারত, নির্বাচিত সরকার আসছে, আপনারা নির্বাচিত সরকারের সাথে কথা বলতে পারবেন।’
এ প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) উৎসাহ, সেই বাজেটের সময় থেকে তাদের উৎসাহ অতিমাত্রায় বেশি ছিল।’
‘দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচ’।
সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হলে সেটা চাঁদা নয়, বরং টাকা দিতে বাধ্য করা হলে সেটা চাঁদা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে পরিবহনের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো। চাঁদা আমি সেটাকে বলতে চাই, যেটা কেউ দিতে চায় না বা বাধ্য করা হয়।’
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি: প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাণিজ্যে জোর
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই বার্তা দেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়টের এক্স হ্যান্ডেল (সাবেক টুইটার) থেকে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠির শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘আমেরিকান জনগণের পক্ষ থেকে আমি আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার সফল মেয়াদ কামনা করছি।’
দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে উন্মুক্ত রাখা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একটি মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত; যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম জাতিগুলো সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে।’
বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘মেয়াদ শুরুর এই সময়ে আমি আশা করি, আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতি ধরে রাখতে আপনি আমাকে সহায়তা করবেন। এই চুক্তি আমাদের উভয় দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর।’
চিঠিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আরও আশা করি, আপনি সেই সব রুটিন প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করতে দ্রুত ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেবেন, যা শেষ পর্যন্ত আপনার সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সেরা অত্যাধুনিক আমেরিকান সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।’
সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। আজ রোববার সেনা সদর থেকে এ–সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে সদর দপ্তরের চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) করা হয়েছে। আর সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয়েছে। পদোন্নতির পর তাঁকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ: গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আজকের পত্রিকা
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর নজিরবিহীন আক্রমণ: গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে করা যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর ‘নজিরবিহীন আক্রমণ’ বলে জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। অবিলম্বে নির্বাচিত সরকারকে এই ‘অবৈধ’ চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
২০ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সাধারণ সভায় এমন আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।
ছয় সিটিতে নতুন প্রশাসকের সবাই বিএনপি নেতা
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। যাঁরা এই পদগুলোতে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা সবাই বিএনপির নেতা।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তার মধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে নতুন প্রশাসকদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হয়।
২০২৪ সালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করেছিল। এরপর নিয়োগ দেওয়া হয় ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক। বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো।
শ্রমিকদের মুনাফার অংশ কমল বিধিমালা সংশোধনে
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিকে তাদের মুনাফার ভাগ শ্রমিকদের কম দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার এক দিন আগে তড়িঘড়ি করে শ্রম বিধিমালাও সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এটি কার্যকর হলে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিতে কর্মরত শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশ অর্থ পাওয়া অনিশ্চতায় পড়বে।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শ্রমিকনেতারা বলছেন, শ্রমিকদের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে বিধিমালা সংশোধন করে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের বকেয়া লভ্যাংশ প্রদানে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তার আগের দিন বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানির জন্য সুবিধাভোগী মুনাফা অংশগ্রহণ কেন্দ্রীয় তহবিল (বিপিপিসিএফ) গঠনের জন্য শ্রম বিধিমালা সংশোধনের প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। যদিও শ্রম আইন অনুযায়ী, বেসরকারি কোম্পানির নিট মুনাফার ৫ শতাংশ অর্থ শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলে (ডব্লিউপিপিএফ) দেওয়ার বিধান রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: বেশির ভাগ উঠবে না সংসদে
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আজকের পত্রিকা
সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বেশির ভাগই আইনে রূপান্তর হচ্ছে না। ওই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি বাদে বাকিগুলো অনুমোদন বা আইনে রূপান্তরের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদেই তুলবে না বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ১২ মার্চ। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে। তা না হলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সূত্র বলেছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বেশির ভাগ অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে হাঁটছে বিএনপির সরকার। যেগুলো আইনে পরিণত করা হবে, সেগুলোর যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। অধিবেশন বসার আগেই যেসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত হবে তার খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।
মেধা বনাম পুলিশি–গোয়েন্দা প্রতিবেদন: জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশেও কাটেনি ভেরিফিকেশন বৈষম্য
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মেধার সর্বোচ্চ লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হয়েও অন্তত তিনটি বিসিএসের বিপুলসংখ্যক মেধাবী চাকরিপ্রার্থী এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ৪৩, ৪৪ ও ৪৮তম বিসিএসে পিএসসি কর্তৃক চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও শুধু ‘নেতিবাচক’ পুলিশি–গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে চূড়ান্ত গেজেট থেকে। তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, ৪৩তম বিসিএসে ৬৫ জন, ৪৪তম বিসিএসে ১১ জন (যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে) এবং ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে ২১ জন মেধাবী চিকিৎসক ক্যাডার পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
২০২৪ সালে ৮ আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়া ২৮ থেকে ৪২তম বিসিএসের বঞ্চিত হাজারো প্রার্থীকে পুনর্বহাল করলেও তাঁদেরই সময়ে হওয়া পরবর্তী বিসিএসগুলোতে একই প্রথার পুনরাবৃত্তি মেধাবীদের ক্ষুব্ধ করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হতো কেবিনেটের বাইরে: এম সাখাওয়াত হোসেন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইত্তেফাক
সদ্য সমাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী ও ‘বড় সিদ্ধান্তগুলো’ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নয়, বরং পরিষদের বাইরে থেকে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিদায়ী সরকারের দেড় বছরের কার্যক্রমের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়েও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন বলে অনুযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে দীর্ঘ সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারের কেউ আমার কোনো পরামর্শ চায়নি। আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না।’
সাক্ষাৎকারে সাবেক এই উপদেষ্টা সরকারের ভেতর একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা প্রভাবশালী মহলের অস্তিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করেন। তিনি জানান, বড় সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই বাইরে নির্ধারিত হয়ে যেত। নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তার সামনে না এলেও তিনি শুনেছেন যে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল। তবে ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশের ব্যবহৃত ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেল এবং এর যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে কথা বলে আলোচিত হয়েছিলেন সাখাওয়াত হোসেন। সাক্ষাৎকারে তিনি পুনরায় বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, ‘পুলিশের এই মারাত্মক মারণাস্ত্র সাধারণ মানুষের হাতে কীভাবে গেল, তা নিয়ে আমি তদন্ত করতে চেয়েছিলাম। ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন ও চেহারা আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়ে প্রতিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
১৯৯৬ সালে শুরু। পথ দেখান শেখ হাসিনা। অনুসরণ করেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান; এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসও। উপদেষ্টা নিয়োগ। শেখ হাসিনা একজন দিয়ে শুরু করে নিয়োগ করেছেন সর্বোচ্চ ১১ জন পর্যন্ত। এবার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান নিয়োগ করেছেন ১০ জন উপদেষ্টা। তবে নির্বাহী ক্ষমতাসহ উপদেষ্টা নিয়োগ শুরু হয় ২০০৩ সালে, খালেদা জিয়ার সময়।
সংবিধানে এই পদের উল্লেখ নেই। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার অনির্বাচিত এই উপদেষ্টাদের শপথও নিতে হয় না। কিন্তু তারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রিত্বের শপথের পাশাপাশি গোপনীয়তা রক্ষার শপথও নিতে হয়।
রুলস অব বিজনেসে প্রধানমন্ত্রীকে উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন বা নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান নেই।
শপথ না নেওয়া উপদেষ্টারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা– এই সাংবিধানিক প্রশ্নে ২০০৬ সালে হাইকোর্ট রুল জারি করলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।
রাজনৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে তা’মীরুল মিল্লাত
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় যেসব প্রতিষ্ঠান বিগত কয়েক বছর ধরে সামনের সারিতে আছে তাদের মধ্যে অন্যতম তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা।
চলতি বছরেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আর জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৫২ শতাংশ। আলিম পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা স্তরের ভর্তি পরীক্ষায়ও কয়েক বছর ধরে এ মাদরাসা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করছেন। তবে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ মাদরাসার বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নজর কাড়ছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মাহফুজ আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এ শিক্ষার্থী আলিম সম্পন্ন করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং পরবর্তী সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
একই মাদরাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার ও পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হান্নান মাসউদ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। হান্নান মাসউদ বণিক বার্তাকে বলেন, তা’মীরুল মিল্লাত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মাদরাসা। এ কারণেই সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হয়। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, তেমনি এ মাদরাসা থেকেও ধীরে ধীরে নেতৃত্ব উঠে আসতে শুরু করেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই রাজনৈতিকভাবে সচেতন। অন্যান্য মাদরাসার তুলনায় এ প্রতিষ্ঠানের মূল পার্থক্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসেন। ফলে একটি সুস্থ নেতৃত্ব বিকাশের পরিবেশ এখানে তৈরি হয়েছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে এক বছর এসএসএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন
০২ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে এক বছর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা–সুবিধা পাচ্ছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান ও ২ কমিশনারের পদত্যাগ
৩ মার্চ ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে দুদক কমিশন।
দুদকের কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আলি আকবার আজিজি দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার রোববার জানিয়েছিল, তারা ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক নয়। তাদের স্বেচ্ছায় এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বঙ্গভবনে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।
জুলাই জাতীয় সনদ-গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
৩ মার্চ, ২০২৬, বাসস
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত সাতজনের জন্যও শোক জানাল ত্রয়োদশ সংসদ
১২ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।
সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ঠেকাতে পারিনি : ফরিদা আখতার
১৫ মার্চ, ২০২৬, কালের কন্ঠ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সস্তায় মাংস, পোলট্রি ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য আমদানির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এই চুক্তির বিরুদ্ধে লড়েছি। সরকারের ভেতরে থেকেও আমরা চুক্তি ঠেকাতে পারিনি।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা স্ট্রিম কার্যালয়ে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট : ক্যাবের ১৩ দফা ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
চুক্তির গোপনীয়তানীতির সমালোচনা করে ফরিদা আখতার বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি হয়নি। বরং প্রক্রিয়াটি আগে থেকেই চলছিল। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের চুক্তি হচ্ছে, সেখানে আমরা গোপন রাখার কথা মেনে নিয়ে বসে আছি। এমনকি সরকারের ভেতরেও সবাই সবটুকু জানতে পারবে না। এটা তো হতে পারে না।
দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তিনি। ফরিদা আখতার বলেন, ২০২৫ সালের জুনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস, পোলট্রির বাচ্চা, ক্যাটফিশ ও নাড়িভুঁড়ি আমদানির বিষয়ে অনুমোদনে। কিন্তু এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দেশে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিস্বাস্থ্যের ঝুঁকি, বিশেষ করে জুনোটিক রোগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে আমরা আপত্তি জানাই।
ফরিদা আখতার বলেন, ওদের উচ্চমানের টেস্টিং ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে আসার আগে নিজস্ব পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম চুক্তিতে সেই সুযোগ নেই। ওখানে যা আছে সেটাই মানতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত উৎপাদিত মাংস বাংলাদেশে ডাম্পিং হওয়ার আশঙ্কা আছে। যে মাংসগুলো আসবে, সেগুলো তো ওভার প্রোডাকশন এবং এগুলো বিষ খাওয়া।
জেনেটিক্যালি মডিফাইড সয়াবিন কর্ন খাওয়ানো হয় এবং ওদের ওভার প্রোডাকশনকে ওরা সমুদ্রে ফেলতে পারছে না বলে আমরা তাদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হতে যাচ্ছি। এতে দেশের প্রায় ২ কোটি খামারি ও পশুপালননির্ভর মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে গরু-ছাগল পালন করে বিপুল মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। যদি বিদেশি মাংস কম দামে বাজারে আসে, তাহলে আমাদের খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ফরিদা আখতার বলেন, নাগরিক হিসেবে ও সরকারের একজন হিসেবে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছি। শেষদিন পর্যন্ত লড়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারের ভেতরে থেকেও চুক্তি ঠেকাতে পারিনি। এই না পারার দায় আমারও রয়েছে।
৪২ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ
১৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
এবার দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নতুন প্রশাসক নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। এতদিন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
আজকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা (নতুন প্রশাসক) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আসবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকেরা জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪-এর ধারা ৩, এবং জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক (৩) অনুযায়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁরা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।
কৃষি খাতে সেচসুবিধা বাড়াতে খাল খনন
১৬ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়াতে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের অঙ্গীকার করেছিল বিএনপি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আজ সোমবার শুরু হচ্ছে সেই খাল খনন কর্মসূচি।
সরকারের তিন মন্ত্রণালয়ের চারটি সংস্থা প্রথম ধাপে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খনন করবে। এ কাজ করা হবে বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায়। পাশাপাশি নতুন প্রকল্প নেওয়ার কাজ চলছে।
আজ সকালে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় সাহাপাড়া খাল খননের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের ৫৪টি জেলায় একই কর্মসূচি শুরু হবে। মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ জেলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি এবার তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনর্বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী, হাজার হাজার খাল ও তাদের প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সেচব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।
সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হলো
১৬ মার্চ ২০২৬, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের পর ৪২টি জেলা পরিষদেও দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের উল্লসিত করলেও প্রশ্ন উঠছে যে, স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান বিএনপি নেতাদের ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ পরিণত হল কি-না।
সরকারের দিক থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, অকার্যকর স্থানীয় সরকারকে সচল করার জন্য সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক বসানো হয়েছে। একই সাথে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনে ভালো কাজ করতে পারবেন।
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার
২৪ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গতকাল সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা আছে। এসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসক পদেও সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা ‘বেটার চয়েজ’ কিন্তু দলীয় নেতাদের প্রশাসক করার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত হবার এবং এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় কর্তৃত্ব স্থাপনের একটি চেষ্টার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে আশংকা তাদের। ।
সরকার ইতোমধ্যেই দেশের সব সিটি কর্পোরেশন থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এসব নেতাদের কেউ কেউ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়েও হেরে গেছেন কিংবা আবার কেউ কেউ তখন দলীয় মনোনয়ন পাননি।
সর্বশেষ রোববার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদের দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন প্রশাসক নিয়োগের ফলে জেলা পরিষদসমূহের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কর্মদিবসেই এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের কথা বলেছিলেন।
ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ আটক
২৬ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’: আসিফ মাহমুদ
২৭ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
‘ডিপ স্টেট’ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি।
সভায় আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, শক্তিশালী যাদেরকে আসলে “ডিপ স্টেট” বলা হয়, তাদের থেকে আমাদেরকে অফার করা হয়েছিল যে আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটা শেষ করেন। আপনারা শেষ করেন, আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করি।’
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের (ডিপ স্টেট) সার্টেইন কিছু শর্ত ছিল যে তাদেরকে কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিলিটেটেড করা এবং তারা পুরা রোডম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে। তো সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তো তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে আদালতের মাধ্যমে এগুলো লেংদি (দীর্ঘায়িত) করে আপনারা তো জানেন সেটা কীভাবে করা যায়। আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে…তারেক রহমানের নিজের নামেও সাজা ছিল। সে যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকত, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না।’
কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই কৌশল সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে একধরনের নেগোসিয়েশন, সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দেইনি। আমরা সব সময় গণতন্ত্রকেই সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট লাস্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে এবং আমাদের ছিল বলেই আমরা ইভেন নির্বাচনকে, নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি।’
দুর্ঘটনা, অব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এমপিদের ক্ষোভ
২৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ঈদের ছুটিতে সড়ক ও নৌপথে অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তাঁরা এ দুটি বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ শনিবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সদস্যরা এ অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মাঝখানে আসরের নামাজের বিরতিসহ প্রায় দুই ঘণ্টা সভা চলে। এতে ১৫-১৬ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী সবার বক্তব্য শুনেছেন, তবে নিজে তেমন কথা বলেননি বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংসদীয় দলের সভায় একাধিক সংসদ সদস্য এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিভিন্ন সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা এ ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম লোকবলসংকটসহ কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেন।
সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সংসদে বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব
০১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মঙ্গলবার এ–সংক্রান্ত এক মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার একটি দলিল’। এই আদেশ সূচনা থেকেই অবৈধ। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কোনো সুযোগ নেই। তবে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারি দল।
অন্যদিকে বিরোধী দল বলেছে, রাষ্ট্রপতিকে এই আদেশ জারির এখতিয়ার দিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। গণভোটের মাধ্যমে যে জনরায় এসেছে, তা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সংসদ সম্মানিত হবে। সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবের জবাবে বিরোধী দল বলেছে, ‘সংস্কার’ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, এটাকে একটি বিশেষ জায়গায় পৌঁছানোর জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে, সেটা বিবেচনার বিষয় হতে পারত।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে গণভোট হয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এই সংসদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা।
কিন্তু বিএনপি ও তার জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি। বিরোধী দলের সদস্যরা এ শপথ নিয়েছিলেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য সংসদে ২৯ মার্চ মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির আলোচনা শেষে অন্য কার্যক্রম মুলতবি করে প্রস্তাবটির ওপর আলোচনা হয়।
সরকারি দলের ৩ জনসহ মোট ১১ জন সংসদ সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কিসের দেশ, নিজেরটা আগে
০২ এপ্রিল, ২০২৬, কালের কন্ঠ
প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্দোলনের নেতাদের ডাকে সাড়া দেন ‘মুরব্বি’ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ‘দেশ উদ্ধারের স্বার্থে’র কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকারের হাল ধরেন তিনি। সে সময় তাঁকে ঘিরে আশার বীজ বুনেছিল জাতি। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন তাঁর ‘জাদুর ছোঁয়ায়’ বিশ্বের দুয়ারে আরো উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের মুখ, বাড়বে মানুষের মর্যাদা, খুলে যাবে দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ সম্ভাবনার দুয়ার।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত প্রায় দেড় বছরে জনগণের স্বপ্ন কতটা পূরণ করতে পেরেছেন নোবেলজয়ী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই অনুসন্ধানে নামে কালের কণ্ঠ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশের বারোটা বাজলেও কিভাবে নিজের স্বার্থ ষোলোআনা হাসিল করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী।
ষোলোআনার অন্যতম হলো গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। সদ্য বিদায়ি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে দেশে এই একটিমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রামীণ ট্রাস্টের একটি উদ্যোগ। আর এই গ্রামীণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগে থেকে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন করার ৩ মাসের মধ্যেই পেয়ে যায় অনুমোদন। এই রকেট গতি এখন আর কারো কাছে বিস্ময় নয়; কারণ, ওই সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আরো অনেক সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন ড. ইউনূস। বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেন, যাতে সরকার অন্তত এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের এক হাজার ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকির পাশাপাশি ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের মতো ব্যাপক সুবিধাও নিয়েছেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, ক্ষমতার চেয়ারে বসে গুণে গুণে সাতটি মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছেন নিজেকে, যার মধ্যে আলোচিত দুর্নীতি মামলাও রয়েছে। এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক দ্রুততায় বাগিয়ে নিয়েছেন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স।
সমাধান করে ফেলেছেন ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ নামক ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স না পাওয়ার জটিলতারও। এর সবই ঘটে তার ক্ষমতা গ্রহণের পর।
জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে প্রধান উপদেষ্টার শপথ গ্রহণের আগে প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে দাঁড়ালেও দায়িত্ব ছাড়ার পর আবার সেসব প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ফলে ক্ষমতার আলোয় আসার সঙ্গে সঙ্গে এই সুবিধাগুলো নেওয়ার মধ্য দিয়ে কার্যত তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলেই মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
কার্যকারিতা হারাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ
০৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই দুটিসহ চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে (রহিত) সংসদে বিল আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।
এ ছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা বাড়িয়ে করা অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি হলে এ অধ্যাদেশগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারাবে। সব মিলিয়ে মোট ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অনুমোদনের জন্য হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আর সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৫টি সংশোধিত আকারে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাই করে গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সুপারিশসহ সংসদে প্রতিবেদন দেয় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। গতকাল সন্ধ্যায় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টির বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছেন বিশেষ কমিটিতে থাকা জামায়াতে ইসলামীর তিন সংসদ সদস্য। প্রতিবেদনে তাঁদের ভিন্নমতের উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষমতা বৃদ্ধির অধ্যাদেশ আইন হচ্ছে, জবাবদিহি বৃদ্ধিরগুলো বাদ যাচ্ছে
০৩ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অন্তর্বর্তী সরকার যেসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল, সেগুলো আইনে রূপান্তরে সংসদকে সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। আবার যেসব অধ্যাদেশে সরকারের জবাবদিহি বাড়ানো হয়েছিল, সেগুলো রহিত কিংবা এখনই সংসদে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিন গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। কমিটির ১১ সদস্য বিএনপির। তিনজন জামায়াতের। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সুপারিশ প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ৯৮টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করতে বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত আর আইনে রূপান্তর হচ্ছে না।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ সুপারিশে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল বিএনপি বিনা বাধায় সংসদে সুপারিশটি কার্যকর করতে পারবে। এতে সরকারের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দুজনসহ প্রধানমন্ত্রীর চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ
০২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দুজন এবং একজন সচিব ও আরেকজন গ্রেড-২ পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া দুজনের মধ্যে সাবেক আমলা বিজন কান্তি সরকারকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক এবং তানভীর গনিকে বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে হোঁচট
০৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে সংশোধন এবং গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি সংস্কার এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে অনুমোদন করা হচ্ছে না। ফলে ১০ এপ্রিলের পর থেকে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়, সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা তত সীমিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুর দিকেই তা হোঁচট খেল। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
অবশ্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই সনদ সই হয়েছিল, সেভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুদক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সংস্কার, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশসহ কিছু বিষয় যাচাই–বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে পরবর্তী সময়ে আইন করার সুপারিশ আছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি কবে নাগাদ এবং কতটা ‘শক্তিশালী’ আইন করবে, তা এখন দেখার বিষয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বৈঠক নিয়ে বিডার বিভ্রান্তিকর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
৪ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিডা) দুই দফা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকে নিয়ে বিডা প্রথম সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় সাড়ে ৭টার দিকে। বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল, ‘দেশের প্রথম বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ (প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল) গঠন করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সময়োপযোগী ও কাঠামোবদ্ধ মতামত দিতে পারবেন।
সেখানে নির্বাচিত পরিষদের সদস্যদের তালিকাও দেয়া হয়। এমনকি সদস্যদের পরিচিতি অন্তর্ভুক্ত করে বিডার ভেরিফাইড ফেসবুকে ছবিও প্রকাশ করা হয়।
এরপর রাত সোয়া ৮টার দিকে বিডা আবারো প্রেস রিলিজ পাঠায়। সেখানে বলা হয়, অনুগ্রহ করে আগের প্রেস রিলিজটি (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি) উপেক্ষা করুন এবং নিচের সংশোধনগুলো অনুসরণ করুন।
সংশোধীত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির শিরোনামে বলা হয়, ‘বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে শীর্ষ স্থানীয় বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে প্রেস রিলিজে বলা হয়, এর মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সময়োপযোগী ও কাঠামোবদ্ধ মতামত দিয়েছেন।
জনপ্রতিনিধিকে ‘ইচ্ছেমতো’ বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকারও
০৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
‘বিশেষ পরিস্থিতি’ বা ‘জনস্বার্থে’ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ রেখে দিচ্ছে বিএনপি সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটার অপব্যবহারের আশঙ্কা আছে এবং তা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ‘ইচ্ছেমতো বরখাস্তের’ সুযোগ তৈরি করবে। এটা নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতির বিপরীত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে এই সুযোগ তৈরি করেছিল। কারণ, তখন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের বড় অংশই আত্মগোপনে চলে গিয়েছিল। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এ ছাড়া তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানীয় সরকার থেকে বিদায় করার সিদ্ধান্ত ছিল।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ জারি হয়। এতে বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্তের সুযোগ তৈরি করা হয়। যদিও বিশেষ পরিস্থিতি ও জনস্বার্থের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি সরকারের হাতে দেওয়া হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি সংসদে
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে আসতে পারেনি সরকারি দল ও বিরোধী দল। এই প্রশ্নে আগের অবস্থানেই অনড় থাকে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি।
বিএনপি বলেছে, নোট অব ডিসেন্টসহ (ভিন্নমত) যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদ সই হয়েছে, সেটা তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। তারা সে অনুযায়ী সংসদে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের কথা বলেছে।
অন্যদিকে বিরোধী দল বলেছে, তারা বিদ্যমান সংবিধানের সংস্কার চায়। সংবিধানের ওই জায়গাগুলো পরিবর্তন চায়, যেগুলো গত ৫৪ বছরে বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে। এ জন্য তারা নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া জুলাই সনদের সব মূল প্রস্তাব পূর্ণাঙ্গ বস্তবায়নের পক্ষে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা প্রয়োজন বলে তারা মনে করে।
গতকাল সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের ৯ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান নিয়ে গত বুধবার বিরোধী দলের একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সেদিনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজস্ব খাত সংস্কারও ঝুলে গেল, জবাবদিহি কবে আসবে
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা এখনই বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছে না বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব খাতের মতো ‘অরাজনৈতিক’ সংস্কারেও পিছু হটছে। যদিও দেশের অর্থনীতির জন্য এ সংস্কার খুবই জরুরি।
রাজস্ব খাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামো পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগ করা হয়। একটি হলো রাজস্ব নীতি বিভাগ, যার কাজ করনীতি তৈরি করা, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, গবেষণা ইত্যাদি। অর্থাৎ করহার নির্ধারণের কাজটি করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ। অন্য বিভাগটির নাম রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, যেটি মূলত কর আদায়ের কাজ করবে।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সংস্কার। পাশাপাশি অর্থনীতিবিদেরা একই পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
আমিনুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে তামিমের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি
০৭ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে অনেক অনিয়ম ও দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত তদন্ত কমিটি। সেসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া দিয়েছে এনএসসি। এই কমিটি বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটিও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক সংস্থাটি, যেটির প্রধান করা হয়েছে তামিম ইকবালকে।
তামিমের কমিটিতে আছেন আরেক সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলি খানও। এছাড়াও আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে ইব্রাহিম আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, যিনি বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতে দ্বন্দ্ব, হামলা-‘লুটপাট’
০৮ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে হামলার সময় হাতবোমা বিস্ফোরণ, ব্যাংকের তালা ভেঙে টাকা লুট, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরও করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৮ জনের নাম দিয়ে এবং অজ্ঞাত আরও ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য দেন ফুলবাড়িয়া থানার ওসি সাইফুল্লাহ সাইফ।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং মামলার তথ্যে জানা গেছে, কাহালগাঁও বাজারের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। ওই কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা আওয়ামী লীগের সময় তাদের নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে নিয়ে বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষ্ঠা নিতেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়ায়) আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন জয়লাভ করেন। এরপর সেখানার মুরগির বিষ্ঠা কারা নেবেন তা নিয়ে স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাস, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা করে দুই শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে যায়। তারা সেখান থেকে দুই ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা নিয়ে যায়।
পরে কাহালগাঁও বাজারে ডুকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট এবং যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস
০৯ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধীদের কেউ হতাহত হয়ে থাকলে এর বিচার হবে না। এ জন্য জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে গতকাল বুধবার সংসদে বিল পাস হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিলটি আইনে পরিণত হবে।
গত ২৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ জারি করেছিল। কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণতি হতে যাচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচারে হত্যা ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধে এবং আত্মরক্ষায় জুলাইযোদ্ধারা যা করেছেন, তা বৈধ। এ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
বিল পাস, নিষিদ্ধ থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম
০৯ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে হুবহু বিল আকারে পাস হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তিযোগ্য বিধান যুক্ত করতে সুপারিশ করেছিল। তবে সংসদে উত্থাপিত বিলে তা করা হয়নি।
আবু সাঈদ হত্যা মামলা
০৯ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ বৃহস্পতিবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ আসামি হলেন-সাবেক এসাই বিভূতিভূষণ রায়, রংপুর পুলিশের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ও সাবেক ইন্সপেক্টর রবিউল ইসলাম নয়ন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয় এই মামলার ৩০ আসামির সবার সাজা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল, ফিরছে আওয়ামী লীগ আমলের আইন
০৯ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি পাস হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নতুন করে কার্যকর হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল
০৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের বিধান এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জারি করা অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে জাতীয় সংসদ। এগুলো বাতিল করার বিরুদ্ধে ছিল বিরোধী দল।
আজ বৃহস্পতিবার বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ–সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে। এর ফলে বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের আর কোনো আইন থাকছে না। তবে ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২৫ জন বিচারকের নিয়োগসহ যেসব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলে গণ্য হবে।
আর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ) বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অধ্যাদেশের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে ন্যস্ত বাজেট, গৃহীত প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তরিত হবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য সৃজিত পদগুলো বিলুপ্ত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরি আগে যে আইনে পরিচালিত হতো, আবার সে আইনের অধীনে ন্যস্ত ও পরিচালিত হবে।
আদালত, মানবাধিকার কমিশন ফিরছে আগের ধারায়
০৯ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
বিরোধী দলের আপত্তির পরও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। এতে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারাবে।
অধ্যাদেশ রহিত করায় উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা ফের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি, পদোন্নতি, বদলির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ফিরবে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে।
আওয়ামী লীগের সময়ে প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ ফিরবে। ফলে সরকারি কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলেও তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। সরকারের কাছে কমিশন প্রতিবেদন চাইতে পারবে। শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। সরকার শাস্তি না দিলে কমিশনের কিছুই করার থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
গণভোট, গুম, দুদকসহ ১৩ অধ্যাদেশ অকার্যকর
১১ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
সংসদে অনুমোদিত না হওয়ায় গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশনসহ ১৩টি অধ্যাদেশ শুক্রবার রাত ১২টার পর কার্যকারিতা হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে সংসদে অনুমোদিত চারটি বিলে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়া-সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গতকাল রাত থেকে আর কার্যকর নয়।
টানা ছয় দিনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়। জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিল পাসের নজির নেই। গতকাল শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়।
রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনসহ সাতটি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোটসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে, তা অস্পষ্ট। গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে ‘গণভোট ২০২৬’সহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হলো।
অধ্যাদেশ পাস না করায় দুদক আইনের সংশোধনী বাতিল হয়েছে। ফলে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। মানবাধিকার কমিশন চলবে ২০০৯ সালের আইনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ আবারও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফিরবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ও বিলুপ্ত হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা, পদোন্নতি, বদলির ক্ষমতা ফিরেছে সরকারের কাছে।
সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের বৈঠকে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গতকালই ছিল সংসদে নিষ্পত্তির শেষ সময়। গত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু ও ১৫টি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া চারটি বাতিল ও ১৬টি পরে যাচাই-বাছাইসহ অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। কমিটি সংশোধন করে পুলিশ কমিশন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তা শেষ দিনেও উত্থাপন না করায়, বিলুপ্ত হয়েছে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন।
বিশেষ কমিটির সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সুপারিশের বাইরে গিয়ে সংসদে বিল তুলে অধ্যাদেশটি রহিত করে আগের মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
সংসদে উত্থাপন হলেও আইনি সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে কার্যকারিতা হারাচ্ছে, সেগুলো হলো– গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ।
রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ উত্থাপন না হওয়ায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবারও একীভূত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে ভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন কর্মচারীরা।
ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাস: পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলা নিয়ে বিতর্ক
১২ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের আগে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে, যাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকে পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলার আলোচনা সামনে এসেছে।
এ নিয়ে একজন ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতির একজন বিশ্লেষকের তরফে দুই ধরনের বক্তব্য এসেছে।
বিরোধী দল শুক্রবার এ বিল পাসের সময়ই নতুন করে যুক্ত ১৮ক ধারা নিয়ে আপত্তি তোলে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে টেকেনি। এ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিনিময়ও হয়।
এক কারখানায় পাঁচটি নয়, করা যাবে তিনটি ইউনিয়ন
১৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে একটি প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় সর্বোচ্চ পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ তৈরি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেটি কমিয়ে এখন তিনটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকের সংজ্ঞায়ও আবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্য তহবিল করার ক্ষেত্রে মালিকদের জটিলতা কমানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল পাস করে সরকার। বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা হয় শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ–২০২৫। সেখানে কিছু সংশোধনী এনে বিলটি পাস হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিলে সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে।
একাধিক শ্রমিকনেতা বলছেন, মালিকপক্ষ যেভাবে চাচ্ছিল, সেভাবেই শ্রম অধ্যাদেশটি সংশোধন করা হয়েছে। মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বলেছেন, সংশোধনের পরও কিছু জায়গায় বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। ভবিষ্যতে আবারও শ্রম আইন সংশোধন করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ, ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহালে উদ্বেগ
১৩ এপ্রিল ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)-এর সব সদস্য সোমবার পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর দেওয়া খোলাচিঠিতে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ পুনর্বহাল হলে সংস্থাটির স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
এতে বিদায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের স্বাক্ষর রয়েছে।
খোলাচিঠিতে বিদায়ী কমিশনের সদস্যরা বলেন, ”সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না হওয়ায়, ভুক্তভোগীরা আমাদের বারবার প্রশ্ন করছেন– ‘এখন আমাদের কী হবে?’ তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই খোলাচিঠি।”
বলা হয়, ”কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, ভুক্তভোগীদের প্রতি কর্তব্যবোধ থেকে আজ আমরা কলম হাতে নিয়েছি।”
বিদায়ী কমিশনাররা চিঠিতে ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘অধ্যাদেশগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের প্রকৃত আপত্তিসমূহ’ এবং ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা’—এমন তিন উপশিরোনামে নিজেদের অবস্থান এবং অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
তাদের দাবি, সংসদীয় বিশেষ কমিটির যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংসদে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে, তাতে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব হবে।এটি আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে আসবে।
বলা হয়, আওয়ামী লীগ আমলে ২০০৯ সালে মানবাধিকার কমিশন আইনটি হয়েছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রয়াসে নতুন অধ্যাদেশ জারি করে। এখন বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই অধ্যাদেশটি বাতিল হলো।
কমিশনাররা দাবি করেছেন, অধ্যাদেশ বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ভুল কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সংসদে বলা হয় যে গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর কারাদণ্ড, অথচ গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ পাস করে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও প্রকৃত অর্থে ভবিষ্যতে জুলাই যোদ্ধারা মামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তারা বলেছেন, এক দিকে বলা হচ্ছে, যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী আইন প্রণীত হবে, অন্যদিকে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে নথিভুক্ত সরকারের প্রকৃত আপত্তিগুলো মানলে অনিবার্যভাবে ২০০৯ সালের মতো দুর্বল আইন হবে, যা জন্মলগ্ন থেকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ।
ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু-প্রান্তিক জনগোষ্ঠি
হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে ৭ স্থানে আগুন
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
মিরসরাইয়ে একটি হিন্দুপাড়ায় একের পর এক আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে মন্দির, বসতঘর, খড়ের গাদাসহ সাত স্থানে আগুন দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে একজনের বসতঘরে আগুন দেওয়ায় একাংশ পুড়ে গেছে। এতে এলাকায় ভয়ানক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন রাত জেগে এলাকায় পাহারা দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
পাড়ার বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে হয়তো কেউ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সে জন্য হয়তো এমনটি করা হচ্ছে।
এর আগে চট্টগ্রামের রাউজানে এমন ঘটনা ঘটেছে একের পর এক। গত ১ নভেম্বর থেকে ৫০ দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২টি ঘরে আগুন লাগানো হয়। ঘরের ভেতরে মানুষ থাকা অবস্থায় বাইরের দরজায় তালা মেরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘ঝাড়ু মিছিল’
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া একটি পোস্টের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘ঝাড়ু মিছিল’ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নারী নেত্রীদের ঝাড়ু হাতে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
এদিকে একই দিনে রাজধানীর মিরপুরে কাফরুলের বাইশটেকি এলাকায় জামায়াতের আমিরের নির্বাচনি প্রচারণার আগ মুহূর্তে একদল কর্মজীবী নারী ঝাড়ু মিছিল বের করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সহিংসতা এড়াতে ভিক্ষোভকারী নারী ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝখানে বেরিকেডট দিয়ে রাখেন। এছাড়া রবিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শান্ত চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর’ ও ‘নারীর মর্যাদাহানিকর’ বলে উল্লেখ করেন।
১৭ মাসে হামলার শিকার ৯৭টি মাজার: মাকাম
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।
সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের সারাংশ পাঠ করে শোনান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হামলার ঘটনাগুলো এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
ঈদের আলোয় বাউলের ঘরে কেন বিষাদের সুর?
২০ মার্চ ২০২৬, রিডিং বেঙ্গলি নিউজ
সংগীতের মাধ্যমে লোকজ আধ্যাত্মিকতা চর্চাকারী বাংলাদেশি বাউল সাধকদের প্রধান নেতা, অর্থাৎ বাংলাদেশ বাউল সমিতির সভাপতি এবার কারাগারে ঈদ কাটাবেন। দেশের ইতিহাসে এমন কি আগে কখনো হয়েছে, না এবারই প্রথম? স্থানীয় বাউল সমাজে ‘মহারাজ’ হিসেবে পরিচিত লোকসংগীতশিল্পী আবুল সরকারের বন্দিত্বে আজ এই প্রশ্নের মুখোমুখি বাংলাদেশ।
গত নভেম্বরে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা মানিকগঞ্জে এক পালাগানের আসরে ‘ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য’ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আবুল সরকার। চার মাসেও তাঁর মুক্তির কোনো পথ খুঁজে পায়নি পরিবার। ওয়ানম্যান নিউজরুমকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে মুঠোফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁর স্বামীর জামিনের আবেদন নাকচ করেছে উচ্চ আদালত। বিচারিক আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ কবে, সেটাও জানে না পরিবার।
সিলেটে হামলা চালিয়ে মাজারের বাউলগানের আসর পণ্ড
২৪ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন।
গত রোববার রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। ওই গানের আসরে হামলার একটি ভিডিও গতকাল সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেন।
চাঁদপুরে লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ
০১ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী এলাকার হযরত শাহ সোলেমান লেংটার মেলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন চাঁদপুরের মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জবীর হুসাইন সানীব।
এসপি জানান, প্রশাসন থেকে মেলার কোনো অনুমতি নেই। তাই, আজকের মধ্যেই মেলার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেলা করার কোনো অনুমতি প্রয়োজন থেকে দেওয়া হয়নি। তাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা দূর দূরান্ত থেকে এসেছেন তারা রাতে যেতে না পারলে সকালে চলে যাবেন।
মেলায় মাদক বিক্রি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ তুলে ল্যাংটার মেলার অনুমতি না দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয় চাঁদপুর জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের একটি সংগঠন।
জামিন পেলেন বাউলশিল্পী আবুল সরকার
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা বাউলশিল্পী আবুল সরকার ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।
জামিন চেয়ে আবুল সরকারের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার রুলসহ অন্তবর্তীকালীন এ জামিন দেন।
আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ধর্ম অবনাননার অভিযোগ আনা হলেও এর উপাদান নেই। হাইকোর্ট রুল দিয়ে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। অন্য কোনো মামলা না থাকলে আবুল সরকারের মুক্তিতে আইনি কোনো বাধা নেই।
কুষ্টিয়ায় ‘আস্তানায়’ হামলা করে ‘পীর’কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা
১১ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে একটি ‘আস্তানায়’ হামলা চালিয়ে ‘পীর’কে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে কিছু লোক।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫)। তিনি নিজেকে পীর দাবি করে ওই ‘আস্তানা’কে দরবার শরিফ হিসেবে পরিচালনা করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভয় ও চাপে কমছে সাংস্কৃতিক আসর, অনিশ্চয়তায় শিল্পীরা
১৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সিলেটের বিশ্বনাথের ইব্রাহিম শাহের মাজার। প্রায় শত বছর ধরে মাজারের পাশে বাউলগানের আয়োজন করা হয়। এ বছরও শুরু হয় গানের আসর। হঠাৎ শতাধিক লোক মঞ্চে এসে হামলা চালায়। বাদ্যযন্ত্র, শব্দযন্ত্র ও দর্শকদের চেয়ার ভাঙচুর করে। গত ২২ মার্চ রাতের এ হামলায় কয়েক মিনিটের মধ্যে পণ্ড হয়ে যায় শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী গানের আসর। ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেয় হামলাকারীরা।
বিশ্বনাথের এই চিত্র এখন আর শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির আয়োজন ঘিরে অনেকটা নিত্যদিনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামবাংলার লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ওপর এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এতে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক উৎসব। কমছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।
যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, বাউলগান, পালাগান—এসব একসময় গ্রামীণ বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, গত দুই দশকে গ্রামবাংলার অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনমূলক এ ধরনের লোকসংস্কৃতি উৎসবের নিয়মিত আয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসংগীত ও লোকনাট্য এখন মূলত বিশেষ অনুষ্ঠান বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
একটি পরিসংখ্যান দেখলে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাধা প্রদানের চিত্র পাওয়া যায়। পুলিশের একটি শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে এ ধরনের ১৩৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসেই ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ঘটেছে ১৬টি ঘটনা।
গ্রামীণ সাংস্কৃতিক উৎসব ও আয়োজনের পরিসর সংকুচিত হওয়ার পেছনে হামলা, বাধা ও সামাজিক চাপের মতো ঘটনাগুলো বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোথাও অনুষ্ঠান করতে গেলেই স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন, দল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ আসছে।
একটি পরিসংখ্যান দেখলে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাধা প্রদানের চিত্র পাওয়া যায়। পুলিশের একটি শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে এ ধরনের ১৩৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসেই ৯৪টি ঘটনা ঘটেছে। আর এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ঘটেছে ১৬টি ঘটনা।
দিপু হত্যা মামলার আসামি মাসুম জামিন পেলেন হাইকোর্টে
১৪ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
ময়মনসিংহের ভালুকায় চাঞ্চল্যকর দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি মো. মাসুম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। গত ০৬ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই জামিন আদেশ প্রদান করেন। পরে ময়মনসিংহের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে ১৩ এপ্রিল জামিননামা বের হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার আসামি দ্রুত জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান জোবায়ের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মাসুমকে এক বছরের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, আসামি মাসুম খালাসী মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার বাহাদুরপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়া খালাসীর ছেলে।
২০ মাসে মাজারে হামলা ৬৭ বার
মবের মধ্যে সবসময় থাকে প্রশিক্ষিত দল
১৮ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার কবরকে ‘শরিয়ত পরিপন্থী’ দাবি করে ‘ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির’ ও ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন করছিলেন মুসল্লিরা।
ওই কর্মসূচি চলার মধ্যেই হঠাৎ একদল লোক কবর থেকে নুরাল পাগলার মরদেহ তুলে মহাসড়কের ওপর পুড়িয়ে দেয়। যেখানে স্থানীয়রা অনেকটাই উৎসুক জনতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুও হয়। সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম পীরের দরবারে হামলার ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখা যায়। সেখানেও স্থানীয়রা কেবল উৎসুক জনতার ভূমিকায় ছিলেন। মাঝ থেকে একদল লোক স্বল্প সময়ের মধ্যেই দরবারে লুটপাট এবং শামীমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।
শুধু এ দুটি মাজার নয়, একই ধরনের চিত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজারে হামলার অন্যান্য ঘটনাতেও দেখা যায়; যেখানে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী হামলা, নৃশংসতা ও লুটপাটে মূল ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাজারে হামলাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ করা যায়। তাদের মতে, এসব ঘটনায় প্রথমে একটি মব তৈরি হয়। তবে সেই ভিড়ের আড়ালে সংগঠিত একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার ধরন, দ্রুততা ও সমন্বয়ের দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের হামলায় কেবল স্বতঃস্ফূর্ত জনতার অংশগ্রহণ নয়, বরং প্রশিক্ষিত গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের ৬৫টি স্থানে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে ৬৭টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে ২৫ বার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৫টি, ময়মনসিংহে আট, খুলনায় চার, রাজশাহী ও রংপুরে তিনটি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে সিলেটে ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় দুইবার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন, খুলনা মেট্রোপলিটন, সিলেট মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এবং বরিশাল রেঞ্জে একবার করে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাজারে হামলার এসব ঘটনায় ২৬টি মামলা এবং ৪০টি সাধারণ ডায়েরি থানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৬৭ জনকে। মামলাগুলোর মধ্যে নয়টিতে অভিযোগপত্র এবং ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। এখনো মাজারে হামলার ১১টি মামলা তদন্তাধীন, যা মোট মামলার প্রায় ৪০ শতাংশ।
গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার
গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের খসড়া তড়িঘড়ি প্রকাশ করাকে অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক বলে মনে করে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এ সংগঠন।
আজ রোববার সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ১০ মাসেও কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে মতামত নিতে সেটি গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত দিতে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তার আগে মঙ্গলবার সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ আলাদা দুটি কমিশন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ টাইমস-এর কার্যালয়ে সেনা সদস্যদের ‘অভিযান’, কী ঘটেছে
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিবিসি নিউজ বাংলা
বাংলাদেশের একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টাইমস-এর কার্যালয়ে সেনা সদস্যদের ‘অভিযান ও এর সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া এবং অফিসে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা’ আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশ টাইমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “সশস্ত্র অবস্থায় সেনা সদস্যদের একটি দল একটি সংবাদ সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে তুলে নেওয়া নজিরবিহীন” এবং তারা মনে করে একটি স্বাধীন সাংবাদিকতা বিরোধী পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর- এর পরিচালক অবশ্য বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ঘটনাটির সমাধান হয়ে গেছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝির আর কিছু নেই।
এর আগে রাতেই একজন সেনা কর্মকর্তা টাইমস-এর সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যে, ‘কাউকে তুলে নেওয়া বা অভিযানের কোনো ঘটনা ঘটেনি’।
ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকায় শনিবার রাতে সংবাদ মাধ্যমটির কার্যালয়ের ভেতরে সেনা সদস্যদের উপস্থিতির ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় এভাবে সংবাদ কর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
চাঁদপুরে বাইরে ঘোরাঘুরির জন্য ২১ জনকে আটক, পরে মুচলেকায় ছাড়া
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা দেখলেই কিশোরদের যেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, শিক্ষান্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর চাঁদপুরে ১২ কিশোরসহ ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সন্ধ্যার থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, লেকের পাড়, স্টেডিয়াম রোড, মাদ্রাসা রোড, পৌর পার্ক, কবরস্থান রোড, প্রেসক্লাব রোডসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এসব স্থান থেকে ২১ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ১২ জনের বয়স ১৪–১৭ বছর। অন্যদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ১৮ বছর, দুজনের ১৯ ও একজনের ২৩ বছর।
৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা ৪ জন সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার
০৭ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সাত মার্চ উদ্যাপনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে মিছিল নিয়ে ফুল দিতে আসা চারজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে কলাবাগান থানা পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ৩০-৪০ জনের একটি মিছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের দিক থেকে মিছিল নিয়ে আসছিল। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পৌঁছানোর পর পুলিশের বাধায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
এর মধ্য থেকে চারজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায় কলাবাগান থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ।
চানখাঁরপুলে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীসহ আটক ২
০৭ মার্চ ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে ৭ই মার্চের ভাষণ সাউন্ড বক্সে বাজানোর ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক সাবেক শিক্ষার্থীসহ ২জনকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভাষণ বাজানোর কাজে ব্যবহৃত সাউন্ড বক্সটি জব্দ করেছে।
আটক শিক্ষার্থীর নাম আসিফ আহমেদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক ছাত্র। তার ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি নিজেকে শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ সাউন্ড সিস্টেমটি জব্দ করে এবং সংশ্লিষ্ট দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় ইমিসহ তিনজন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে
০৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে ওই মামলায় তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। এর আগে তাঁদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আশাদুল ইসলাম তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
গ্রেপ্তার দুই নেতা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত এবং শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবদুল আল মামুন।
ঢাবি শিক্ষক জামাল উদ্দীনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার
১১ মার্চ ২০২৬, জাগো নিউজ
ঢাবি শিক্ষক জামাল উদ্দীনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার আ ক ম জামাল উদ্দীন/ফাইল ছবি
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১১ মার্চ) গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান।
তিনি বলেন, অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।
চট্টগ্রামে ৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা
১৩ মার্চ ২০২৬, আজকের পত্রিকা
চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী এবং সম্প্রতি ছাত্রদলে যোগ দেওয়া মো. রিদুয়ান সিদ্দিকী এই মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এবং চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রধান চৌধুরী ফরিদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইবার স্পেসে ধর্মীয় বা জাতিগত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৬(১) ও ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এসব ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ময়মনসিংহে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার, জামায়াত–সমর্থক কারাগারে
২৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আজিজুল হক (৩৫) নামের একজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুক্তাগাছা থানার পুলিশ ৫৪ ধারায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজিজুল হক মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঝনকা বড়টেঙ্গর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের দাবি, তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
সাংবাদিককে ডেকে গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ, সিপিজে’র উদ্বেগ
০২ এপ্রিল ২০২৬, আলাপ নিউজ
একজন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ উঠেছে। এতে উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট।
অভিযোগটি করেছেন ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্ট তানভীরুল মিরাজ রিপন। যিনি কাজ করেন দ্য ইকোনমিস্ট, স্কাই নিউজের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।
রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা ইস্যু ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে।
তিনি অভিযোগ করেন গত ৩০এ মার্চ সোমবার তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সেখানে তাকে তার পেশা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়।
আলাপ-কে রিপন বলেন, “রোহিঙ্গা কনটেক্সটে কিছু প্রশ্ন করেছে। এর ফাঁকে ফাঁকে আমার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আমাকে ট্রিগার করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো বিদেশির সাথে দেখা করলে আমাকে নিয়মিত আসতে হবে তাদের অফিসে। অথচ আমি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করি। আমার কাজই বিদেশি কলিগদের সঙ্গে কাজ করা।”
ব্যক্তিগত বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিপন বলেন, “আমার আদিবাড়িতে আমার মা থাকেন। এই ধরনের বিষয় নিয়ে তিনি ট্রিগার করার চেষ্টা করেছেন, যা ইন্টিমিডেশন।”
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের এশিয়া প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেছেন, “সাংবাদিক তানভীরুল মিরাজ রিপনকে করা এই হয়রানি এখানেই শেষ হওয়া উচিত। সংবাদ মাধ্যমকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশ্ন বন্ধ করা উচিত। এ ঘটনা মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করে।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক গ্রেপ্তার
০৩ এপ্রিল ২০২৬, আরটিভি নিউজ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য ও কটুক্তির অভিযোগে শাওন মাহমুদ (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জুশুরগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত শাওন মাহমুদ শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের প্রাণী মণ্ডল এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে।
ভোলায় নারী কর্মীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানালো জামায়াত
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ইত্তেফাক
ভোলার পৌরসভা মহিলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বিবি সাওদাকে রাতের বেলা নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক এই সংগঠনটি এই ঘটনাকে অমানবিক ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ওই নারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি এই গ্রেপ্তারকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি বলে অভিহিত করেছেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার নিজ বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’ থাকার কথা বলা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন নারীকে গভীর রাতে গ্রেপ্তারের এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
চিফ হুইপকে নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’: কনটেন্ট নির্মাতা হাসান নাসিম কারাগারে
১৮ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চিফ হুইপকে নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের’ অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় কনটেন্ট নির্মাতা এ এম হাসান নাসিমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার একটি বাসা থেকে নাসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের কারণে মামলা–গ্রেপ্তারে ফিরছে উদ্বেগ
২১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
‘কথা চলবে, কলম চলবে’—এই বক্তব্য সংবলিত ফেস্টুন দেখা গেল আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে। এ এম হাসান নাসিমের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ ডাকা হয়। ফেসবুকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগে ১৮ এপ্রিল তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ফেসবুকে একটি কার্টুন শেয়ার করাই নাসিমকে গ্রেপ্তারের কারণ। তবে এদিন বিকালেই তাঁর জামিনের আদেশ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত এক মাসে অন্তত চারজনকে ৫৪ ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত এক মাসে অন্তত চারজনকে ৫৪ ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার এবং একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আজিজুল হক নামে এক ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। একটি পেজ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ছবিসহ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটি আজিজুল হক নিজের ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করেছিলেন।
ভোলায় আরেক ঘটনায় ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় বিবি সওদা নামের একজন নারীকে। পরে বিষয়টি আলোচনায় এলে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা পুলিশকে পরোয়ানা ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে আটক করার ক্ষমতা দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই ধারার অপব্যবহারের অভিযোগ করে আসছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীতে বলা হয়, আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে যে ওই ব্যক্তি পুলিশের সামনেই অপরাধ করেছেন। যদি অপরাধসম্পর্কিত এজাহার বা নালিশি মামলা তদন্তাধীন থাকে, তবে পুলিশকে দেখাতে হবে যে ওই ব্যক্তি অপরাধ করেছেন বলে যুক্তিসংগত সন্দেহের কারণ আছে। শুধু প্রতিরোধমূলক আটক করার জন্য ৫৪ ধারা ব্যবহার করা যাবে না।
আইন বদলেছে, গ্রেপ্তারের ধরন বদলায়নি
আওয়ামী লীগের শাসনকালে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে নানা আইনের ব্যবহার ছিল ব্যাপকভাবে আলোচিত। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ হয়রানিমূলক কয়েকটি আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার গিয়েছিল বেড়ে।
তখন শুরুতে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল তথ্যপ্রযুক্তি আইন। এই আইনের ৫৭ ধারার প্রয়োগ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠেছিল। এরপর ২০১৮ সালে করা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ২০২৩ সালের ৫ জুন তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতীয় সংসদে বলেন, ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট ৭ হাজার ১টি মামলা হয়েছে। দেশ–বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিতর্কিত এই আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে প্রণীত হয় ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তবে আইন পরিবর্তন হলেও অনলাইন মত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ধরনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
১৭ এপ্রিল কনটেন্ট ক্রিয়েটর হাসান নাসিমকে আটকের পর গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এর আগে চলতি বছরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর পর তিনি এখনো বন্দীই আছেন।
এআই দিয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে ছবি, পঞ্চগড়ে কলেজছাত্র কারাগারে
২৩ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট ও তীর্যক মন্তব্য লেখার অভিযোগে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শাকিল আহমেদ (২২) নামে ওই শিক্ষার্থীকে পঞ্চগড়ের হাকিম আদালতে (দেবীগঞ্জ) হাজির করা হলে বিচারক মো. মোস্তাকিম ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, বুধবার বিকালে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সাইবার আইনের অপব্যবহার আগের সরকারের দমন–পীড়নেরই পুনরাবৃত্তি: এইচআরডব্লিউ
২৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
নতুন সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশে অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে আগের সরকারের দমনমূলক চর্চার একটি উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতা বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। ২৩ এপ্রিল নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি এমন মন্তব্য করে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকারের উচিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা, ভিন্ন মত দমনে বিদ্যমান আইনের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং যেসব আইন অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, সেগুলো সংশোধন বা বাতিল করা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপুল জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর দেড় বছর আগে একটি গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। শেখ হাসিনার সরকার সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কঠোর আইন ব্যবহার করত। অন্তর্বর্তী সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আইনগুলো সংশোধনের ক্ষেত্রে বেশি দূর এগোতে পারেনি।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া–বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার দাবিতে বাংলাদেশিরা জীবন বাজি রেখেছিল। এখন নতুন সরকারের সেই সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই বিএনপি সরকার অপছন্দনীয় কনটেন্ট পোস্ট করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের গ্রেপ্তার করছে।
কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেপ্তার
সবশেষ ১৭ এপ্রিল এ এম হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি একটি কার্টুন পোস্ট করেছিলেন যেখানে সরকারের এক আইনপ্রণেতাকে চিত্রিত করা হয়েছিল এবং সংসদে তাঁর করা একটি রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যের উদ্ধৃতি দেওয়া ছিল। ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার নিজ বাসা থেকে নাসিমকে আটক করা হয়।
এর আগে ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মী পুলিশের কাছে নাসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। পরে অনলাইন ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর একটি ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ মামলার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘একটি পাবলিক ফোরামে করা রসিকতা, যা সংবাদপত্রেও ছাপা হয়েছে এবং সেই রসিকতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কার্টুন কীভাবে “ব্ল্যাকমেল” হতে পারে?’ ২১ এপ্রিল নাসিম জামিন পেয়েছেন।
৫ এপ্রিল দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা ভোলায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক সওদা সুমিকে (বিবি সওদা বেগম) ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, তিনি ফেসবুকে ‘সরকারবিরোধী’ মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন। এই বিধানে কর্তৃপক্ষকে ‘আমলযোগ্য অপরাধের’ ক্ষেত্রে ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ পাওয়ার ভিত্তিতে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অতীতে এটি খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। দুই দিন পর আদালত তাঁকে জামিন দেন।
গত ৩১ মার্চ উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জামায়াতের আরেক সমর্থক আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিতর্কিত ছবি শেয়ার করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকেরা এমন অভিযোগ করলে পুলিশ তাঁকে ৫৪ ধারায় আটক করে। পরে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ’ ও ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’ প্রয়োগ করে। পুলিশ বলেছে, ‘আমরা তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করতে পারি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিলেন।’ ১ এপ্রিল একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর আটকের আদেশ বহাল রাখেন।
২ এপ্রিল মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে ‘অপমান করা’র অভিযোগে ক্ষমতাসীন দলের যুব সংগঠন যুবদলের নেতা-কর্মীরা শাওন মাহমুদকে তুলে নিয়ে পুলিশে দেন। পরে তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা তাঁর এমন একাধিক পোস্ট তদন্ত করছে, যা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হতে পারে।
‘আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে’
বেশ কয়েক বছর ধরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিপীড়ন চলার পর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারির মাধ্যমে আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও আনা হয়েছে, যেমন অনলাইন কনটেন্টে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাঁর প্রতিনিধিই শুধু অভিযোগ করতে পারবেন, এমন বিধান রাখা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি ক্ষেত্রে এ বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, নতুন বিএনপি সরকারের অধীনে একটি উদ্বেগজনক নজির তৈরি হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের নির্দেশে পুলিশ সুরক্ষা দেওয়া বাক্স্বাধীনতাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশে এখনো এমন অনেক বিধান রয়েছে যা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং তদন্তের ক্ষমতা ও অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষেত্রে দুর্বল বিচারিক তদারকি।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার
চট্টগ্রামে ২৬ দিনে ১২ খুন
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রামে চলতি মাসের শুরু থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৬ দিনে ১২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রকাশ্যে পিটিয়ে, গুলি করে এবং কেটে লাশ ছয় টুকরা করার ঘটনাও রয়েছে। এতে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
আরাকান আর্মির হাতে আটক ‘৪২০ জেলে’, তাঁদের উদ্ধারের আকুতি
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সাগরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের উদ্ধারে সরকারকে তৎপর হতে অনুরোধ করেছে নিখোঁজদের পরিবার। তারা বলছে, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের কমপক্ষে ৪২০ জন জেলেকে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে তুলে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তাঁদের ছাড়িয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘দ্বীপের নারীরা: সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জন্য একটি পরিবেশগত নারীবাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সরকারকে এ অনুরোধ জানান তারা। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স নামের একটি সংগঠন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেন্ট মার্টিন থেকে ঢাকায় আসেন হুমায়রা বেগম ও রাবেয়া বেগম। গত সেপ্টেম্বরে তাঁদের স্বামীদের মাছ ধরার সময় অপহরণ করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। প্রায় পাঁচ মাস ধরে তাঁদের কোনো খবর পাননি তাঁরা।
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত, ২০.৭%-এর সঙ্গে আ.লীগ: টিআইবি
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১.৭ শতাংশ ঘটনার সাথে বিএনপি যুক্ত।
আজ (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, ২০.৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭.৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১.২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে।
‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটির ফলাফল টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে প্রকাশ করা হয়।
টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারাদেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।
মিয়ানমার থেকে গুলি, ২৭ দিন পর মারা গেল শিশু হুজাইফা
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা সুলতানার (৯) মৃত্যু হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ২৭ দিন পর আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল ও শিশুর চাচা শওকত আলী প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে আসা গুলিতে আহত হয়েছিল শিশু হুজাইফা। সে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল, গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে ওঠে
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ ইকবাল করিম এই জবানবন্দি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার জবানবন্দি অসমাপ্ত রয়েছে। আগামীকাল সোমবার তাঁর আবার জবানবন্দি দেওয়ার কথা। ইকবাল করিম ভূঁইয়ার দেওয়া প্রথম দিনের জবানবন্দির পূর্ণ বিবরণ এখানে দেওয়া হলো—
‘আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান। আমি ২০১২ সালের ১৫ জুন থেকে ২০১৫ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্বে ছিলাম। আমি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কীভাবে বেড়ে উঠেছে, সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে এসেছি। পাশাপাশি আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে র্যাব সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে এসেছি।’
সেনাবাহিনীতে খুনের সংস্কৃতি আগে থেকেই ছিল। গুমের সংস্কৃতি পরে গড়ে উঠেছে। আমরা যদি ধরে নিই যে ২০০৮ সাল থেকে খুন শুরু হয়েছে, তবে সেটা ভুল বলা হবে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই খুনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে। সে সময় কথিত অপরাধীদের ধরে সেনা ক্যাম্পে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে তার সংখ্যা ছিল সীমিত। পরে তদন্ত আদালতের মাধ্যমে এবং আইন প্রয়োগ করে সেগুলোকে নিয়মিত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর অপারেশন চলাকালে বেশ কিছু মৃত্যু হয়েছে। যেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, সেগুলোকে ধর্তব্যে নিয়ে দোষী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর প্রধান কাজ হচ্ছে বহিঃশত্রু থেকে দেশকে রক্ষা করা। তবে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সামরিক বাহিনীকে তাদের সাহায্যে সময়–সময় মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। এমনকি নির্বাচনকালেও সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। সবার ধারণা সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাই এটি একটি অলিখিত নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সেনাবাহিনীকে যখনই বাইরে মোতায়েন করা হয়, অধিনায়কদের মনে একটি সার্বক্ষণিক চাপ থাকে তাদের কত তাড়াতাড়ি সেনানিবাসে ফেরত আনা হবে। কারণ, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণ ‘এক গুলি, এক শত্রু’ নীতির ওপর পরিচালিত হয়ে থাকে। বস্তুত এটি না হলে সেনাবাহিনী কখনো যুদ্ধ করতে পারবে না। এ জন্য প্রশিক্ষণকালে সেনাসদস্যদের ডিহিউম্যানাইজ করা হয়। তারা ধীরে ধীরে মানুষকে মানুষ মনে করা ভুলে যায়, মানুষকে টার্গেট বলতে শুরু করে। ফায়ারিং রেঞ্জে মানুষ আকৃতির টার্গেটের ওপর গুলি করে তাদের মানুষ হত্যার মনস্তাত্বিক বাধা দূর করা হয়। এ কথা মনে রেখে সেনাবাহিনীকে কখনো বেসামরিক পুলিশের সঙ্গে মেশানো ঠিক হয়নি। অথচ সেটাই ঘটেছে ২০০৩ সালে, যখন র্যাব গঠন করা হয়। এটি ছিল একটি মারাত্মক ও ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। সেনাসদস্যদের যে প্রশিক্ষণ তা র্যাবে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ছিল না। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে কিছু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে। র্যাব গঠনের পূর্বে অপারেশন ক্লিনহার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেনাসূত্র অনুযায়ী ১২ জন হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই সংখ্যাটি ছিল ৬০ জন। পরে ক্লিন হার্টের সব সদস্যকে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। বস্তুত এই ইনডেমনিটি ছিল হত্যার লাইসেন্স প্রদান।
২০০৭ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির বয়স বাড়ানোর জন্য যে সংঘাত শুরু হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সময়ে ডিজিএফআই হয়ে ওঠে দেশের মুখ্য নিয়ন্ত্রক। বিভিন্ন সময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে তাদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করত। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা বিএনপির জনাব তারেক রহমানকেও উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে। এ সময় থেকে বস্তুত বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে আটক রাখার সেলের মধ্যে রাখা একটি অভ্যাসে পরিণত হয়। বস্তুত যেকোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা ইচ্ছা তাই করা যায় মর্মে তারা ভাবতে শুরু করে। তারা ভাবতে শুরু করে যা কিছুই তারা করুক না কেন শেষ পর্যন্ত তারা পার পেয়ে যাবে। জরুরি অবস্থায় সেনাসদস্যদের সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। তারা রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করে, তাদের মধ্যে আধিপত্যবোধের জন্ম হয়, সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়, নগদ সংস্কৃতির উত্থান হয় এবং উপরস্থদের আদেশ অন্ধভাবে পালন করার প্রবণতা জন্ম হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। পরে বিদ্রোহ দমন করার পর বিডিআর সদস্যদের অন্তরিণ করা হয় এবং সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জিজ্ঞাসাবাদকালে পিলখানায় (বিডিআর সদর দপ্তর) র্যাব ও সামরিক সদস্য দ্বারা নির্যাতনের কারণে আনুমানিক ৫০ জন বিডিআর সদস্য মৃত্যুবরণ করেন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়। পরে দায়রা আদালত কর্তৃক ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ অনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনা অফিসারদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগ বিদ্বেষ তীব্রতর হয়, সিনিয়র ও জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে বিভাজন ব্যাপক রূপ ধারণ করে, পেশাদার অফিসারদের এক পাশে সরিয়ে অনুগত অফিসারদের ওপরে নিয়ে আসা হয় এবং বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করে বাহিনীটিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করা হয়। এর বড় কারণ হলো শেখ হাসিনা ভাবতেন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সেনাবাহিনী তার জন্য নিরাপদ।
পরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসন আমলের দুর্বল দিকগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও প্রশাসনের ওপর তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। এ জন্য তিনি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনেক রাজনৈতিক নেতার বিচার করে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেন এবং সংবিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেন।
এ সময় তিনি তাঁর আত্মীয় মেজর জেনারেল তারিক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন এবং তাঁর মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সচেষ্ট হন। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি অচিরেই প্রধানমন্ত্রী ও বাহিনী প্রধানদের মধ্যে সুপার চিফ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, এনটিএমসি, আনসার, বিজিবি ইত্যাদি সংস্থাগুলোকে তাঁর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এর মাধ্যমে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে। প্রথম চক্রটি হচ্ছে অপরাধ চক্র, যেটি ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব ও এনটিএমসিকে নিয়ে তিনি পরিচালনা করতেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, হত্যা ও গুমের মতো ঘটনা সংঘটিত হতে থাকে। দ্বিতীয় চক্রটি ছিল ডিপ স্টেট। এটি তিনি পরিচালনা করতেন এমএসপিএম (প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব), ডিজিএফআই, এনএসআই ইত্যাদির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে তিনি তিন বাহিনী সম্পর্কে সব নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতেন। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো বাহিনী প্রধানদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তৃতীয় চক্রটি ছিল কেনাকাটা চক্র। এটিতে সংযুক্ত ছিল পিএসও, এএফডি, ডিজিডিপি, বাহিনী প্রধান ইত্যাদি। এই চক্রের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তার করতেন। চতুর্থ চক্রটি ছিল সামরিক প্রকৌশলী চক্র। মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের অফিসার হওয়ায় তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে আলাদা চক্র গড়ে তোলেন। এদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন জাতীয় প্রকল্পে তাঁর প্রভাব বিস্তার করা শুরু করেন। এটি ছিল অবৈধ অর্থের প্রধান উৎস।
এবার র্যাবের কথা বলছি। সেনাপ্রধান হওয়ার পূর্ব থেকেই অন্য সামরিক সদস্যদের মতোই র্যাব সদস্যদের অবৈধ ও বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত ছিলাম। সেনাপ্রধান হওয়ার পরপরই আমি র্যাবের এডিজি তৎকালীন কর্নেল (পরবর্তী সময় লে. জেনারেল) মুজিবকে আমার অফিসে ডেকে পাঠাই এবং এসব ক্রসফায়ার বন্ধ করতে বলি। আমি তাকে র্যাব ইন্টেলিজেন্সের প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানকে নিয়ন্ত্রণ করতে বলি। তিনি আমাকে কথা দেন আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। পরবর্তী কিছুদিন আমি পত্রিকাতে ক্রসফায়ারের ঘটনা দেখিনি। কিন্তু অচিরেই উপলব্ধি করতে পারি ঘটনা ঘটছে, কিন্তু তা চাপা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও বদলে যায় যখন বেনজীর আহম্মেদ র্যাবের ডিজি হয়ে আসেন এবং জিয়াউল আহসান এডিজি হন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান ও কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলকে (যিনি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আছেন) জিয়াউল আহসানের সঙ্গে কথা বলতে বলি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল আহসান এসে আমাকে জানান তিনি কথা বলেছেন কিন্তু কোনো ভালো প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছ থেকে পাননি। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল এসে আমাকে জানান কথা বলে কোনো লাভ হয়নি, ওর মাথা ইট ও পাথরের টুকরা দিয়ে ঠাসা। পরে আমাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল জানায় জিয়াউল আহসান তার বাসায় অস্ত্র রাখে, গার্ড মোতায়েন রাখে ও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে। তাকে সামরিক কোয়ার্টারে থাকার নিয়মকানুন মেনে এগুলো পরিত্যাগ করতে বলা হয়। পরে জিয়াউল আহসান, মেজর জেনারেল সিদ্দীকি ও তার কোর্সমেট এএমএসপিএম কর্নেল মাহবুবের (বর্তমানে মেজর জেনারেল) ছত্রচ্ছায়ায় আমার আদেশ অমান্য করতে শুরু করে। দুজন অফিসারকে বিভিন্ন নেতিবাচক রিপোর্টের কারণে শান্তি দেওয়ার জন্য র্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য পোস্টিং আদেশ জারি করার পরও সে তাদের ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে। আমি জিয়াউল আহসানকে সেনানিবাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করি। এটি কার্যকরী করার জন্য লজিস্টিক এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানকে দায়িত্ব দেই। পরে তিনি বিষয়টি মেজর জেনারেল তারেক আহম্মেদ সিদ্দীকিকে না জানানোর জন্য তার বিরাগভাজন হন। অচিরেই আমি এমএসপিএম মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিনের কাছ থেকে ফোন পাই। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জিয়াউল আহসানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার জন্য। আমি না বলেছি। আমাকে তখন মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিন জিজ্ঞাসা করেন কোনো চাকরিরত অফিসারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা কি বিশেষ পদক্ষেপ? আমি বলি হ্যাঁ, এটি বিশেষ পদক্ষেপ এবং তুমি যদি সেনাপ্রধানের আদেশ অমান্য করো, তাহলে তোমারও একই অবস্থা হবে। দুদিন পর সংঘাত এড়ানোর জন্য আমি নিজে থেকেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেই।
আমাকে যে জিনিসটা সবচেয়ে ব্যথিত করত তা হলো আমরা সেনাবাহিনী থেকে র্যাবে পেশাদার অফিসার পাঠাচ্ছি আর তারা পেশাদার খুনি হয়ে ফেরত আসছে। এরপর আমি সিদ্ধান্ত দেই র্যাব, ডিজিএফআই এবং বিজিবিতে কোনো অফিসার পোস্টিংয়ে যাওয়ার পূর্বে ও পরে আমার ইন্টারভিউতে আসবে। যারা র্যাবে যেত তাদের আমি এই বলে মোটিভেট করতাম যে নরহত্যা মহাপাপ এবং কাউকে হত্যা করলে তার পরিবারের অভিশাপ তোমার পরিবারের ওপর পড়বে। একজনকে হাত–পা বেঁধে হত্যা করা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। সত্যিকারের সাহস হচ্ছে হাত–পা খুলে তার হাতে একটি অস্ত্র দিয়ে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া। যারা ফেরত আসত, তাদের কাছে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা শুনে আমি সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীর র্যাব সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফেরত আনার জন্য আবেদন জানাই। তিনি স্বীকার করলেন র্যাব রক্ষীবাহিনীর চেয়েও খারাপ। তিনি কোনো কথা দেননি এবং পরে এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
পরে আমি ইন্টারভিউতে আসা অফিসারদের এই বলে সাহস জোগালাম যদি কাউকে কোনো কিলিং মিশনের জন্য বলা হয়, সে যেন আমাকে সরাসরি ফোন করে। আমি তাদের সেনাবাহিনীতে সম্মানের সঙ্গে ফেরত নিয়ে আসব এবং পুনর্বাসিত করব। আমার পাশাপাশি যারা র্যাবে নতুন যাচ্ছেন, তাঁদের মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল আনোয়ার, ডিএমআই এবং আমার পিএস কর্নেল সাজ্জাদও (বর্তমানে মেজর জেনারেল) মোটিভেট করতে থাকেন। কিছুদিন পর ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল আমাকে এসে জানান, আমাদের মোটিভেশনে কোনো কাজ হচ্ছে না। র্যাবে যোগদানের পরে অফিসারদের ডিমোটিভেট করা হচ্ছে। তবুও দুজন অফিসারকে যখন প্রথম রাত্রেই কিলিং মিশনে যেতে বলা হয়, তাঁরা ওখান থেকে চলে এসে ঢাকা সেনানিবাসের এমপি চেকপোস্টে রিপোর্ট করেন। আমি তাঁদের সসম্মানে সেনাবাহিনীতে পুনর্বাসিত করি।
এর মধ্যে ডিএমআই ব্রিগেডিয়ার জগলুল কর্নেল জিয়াউল আহসানের বিরাগভাজন হন। তাঁকে মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দীকি ডিএমআই পদ থেকে সরিয়ে দেন। সাধারণত ডিএমআই সেনাপ্রধানের পছন্দের ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং তাঁকে সেনাপ্রধানই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাঁকে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বদলি করে দেওয়া হয়, যা ছিল আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। কমান্ডিং অফিসার আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট ব্রিগেডিয়ার ফজলকেও বদলি করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমার প্রবল বিরোধিতার কারণে তা ব্যর্থ হয়।
মাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে যুবক আটক, পরে মৃত্যুর খবর পেল পরিবার
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে নিয়ে যান বরিশালের মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে গতকাল রাতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন তিনি মারা গেছেন।
নিহত রাসেল কাজী (২৯) উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের উত্তর আন্ডারচর এলাকার আলম কাজীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করতেন। তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। রাসেল কাজীর আরও তিন ভাই আছে; তাঁরা ঢাকায় থাকেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার বেলা তিনটার দিকে নিহত রাসেল কাজীর বাড়ির সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজন। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন মুলাদী সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের নির্যাতনে রাসেলের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
জামায়াত সমর্থকদের হামলায় বিএনপি নেতার চোখে জখম, দৃষ্টি হারানোর খবর শুনে মায়ের মৃত্যু
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা (মজিদ)। তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মাসুদ রানা চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন– এমন খবর শুনে তাঁর মা রাবেয়া বেওয়া (৬৫) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নন্দীগ্রামের পারশুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাবেয়া বেওয়া ওই গ্রামের প্রয়াত মোহাম্মদ আলী আকন্দের স্ত্রী।
আহত মাসুদ রানার ছেলে কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ বলেন, তাঁর বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর খবর শুনে দাদির (রাবেয়া বেওয়া) হার্ট অ্যাটাক হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।
বরিশালে আদালতে ঢুকে আইনজীবী সমিতির নেতাদের হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে হট্টগোল হয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চ ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আদালত সূত্র ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনা ঘটে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সিটিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা। এতে তারিখ ও সময় উল্লেখ রয়েছে। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের দিকে ঘটনার শুরু। এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করার প্রতিবাদে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁরা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের তল্লাশি-মারধর নিয়ে প্রশ্ন
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,সমকাল
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের মারধরের ঘটনায় পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আইনি এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সোমবার রাতে তল্লাশির নামে হয়রানি ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া নাগরিকদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ।
অভিযানের সময় পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলছে, বাংলাদেশের কোনো আইনেই পুলিশকে সন্দেহভাজন, আটক ও গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মাদকবিরোধী অভিযানের সময় সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা ও মারধরের ঘটনায় গতকাল নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী যুব আন্দোলনের নেতা নাইম উদ্দীনসহ কয়েকজনের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে থানায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
‘ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের একজন জামায়াত কর্মী, মীমাংসায় ছিলেন বিএনপি নেতা’
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি অনলাইন
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী, আর মিমাংসা করেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। এলাকাবাসীর অনেকে এই অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীরা জানান, ধর্ষণ ও হত্যার প্রধান অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ নুরা। তার সহযোগী ছিল ৩ জন। এর মধ্য এবাদুল্লাহ জামায়াতের কর্মী। এবারের সংসদ নির্বাচনে এবাদুল্লাহ সক্রিয়ভাবে কাজ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, ধর্ষণের ১৫ দিন পর্যন্ত মামলা করতে দেয়নি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। মামলা করতে চাইলে মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়, যাতে আলামত নষ্ট হয়। সালিসে তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় ৮ হাজার টাকা সালিস কমিটি ও পুলিশকে দেয় আসামিরা।
বুয়েটে সেহরি খেতে যাওয়া ঢাবি ছাত্রকে ছাত্রলীগ আখ্যা দিয়ে মারধর
০৯ মার্চ ২০২৬, জাগো নিউজ
জুলাই আন্দোলনে হামলার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, সেহরি করতে গিয়ে তাকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে তুলে নিয়ে কয়েক দফা মারধর করা হয় এবং পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহবাগ থানার সামনে রেখে আসা হয়।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল
০৯ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
পুলিশের আলোচিত কর্মকর্তা মো. কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল করেছে সরকার; যিনি দেড় যুগ আগে রাজধানী ঢাকায় ও ময়মনসিংহে পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
সোমবার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরির সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এ আদেশের ফলে পুলিশে তিনি চাকরি ফিরে পেলেন। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
বিসিএস ১২ ব্যাচের এ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে।
এদিন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার ‘বরখাস্তকরণের’ গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন।
এ কর্মকর্তা সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
মব করে পুলিশে দেওয়া বগুড়ার সেই আওয়ামী লীগ নেতা কারা হেফাজতে মারা গেছেন
১৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার শাহনূর আলম (৬০) কারা হেফাজতে মারা গেছেন। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। গত শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে তাঁকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল।
শাহনূর আলম সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নিজবলাইল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, থানায় কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মারধর করে তুলে নেওয়া হয় এবং পরে একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বপ্ন’র ডেটাবেজ হ্যাক, ঝুঁকির মুখে ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য
২৮ মার্চ ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন ‘স্বপ্ন’র গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হ্যাকাররা ‘স্বপ্ন’র কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) দাবি করেছে।
প্রায় তিন মাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্বপ্ন’র গ্রাহকদের নাম, ফোন নম্বর ও কেনাকাটার তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর এই তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।
আজ শনিবার যোগাযোগ করা হলে স্বপ্ন’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘হ্যাকাররা গত ডিসেম্বরে আমাদের কোম্পানির ডেটাবেজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। পুনরায় ডেটাবেজ অ্যাক্সেস পেতে হ্যাকাররা আমাদের কাছে ১৫ লাখ ডলার দাবি করে।’
বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলায় ৮১২টি আউটলেট রয়েছে স্বপ্ন’র। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। হ্যাক হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর ও তাদের কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য।
ইউটিউবার আর এস ফাহিম গ্রেপ্তার
২৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকা থেকে ইউটিউবার আর এস ফাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল।
পুলিশ বলছে, আজ রোববার মিরপুরে চিড়িয়াখানা এলাকায় স্থানীয় একদল ব্যক্তি ‘মব’ তৈরি করে ফাহিমকে আটক করেছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শাহ আলী এলাকায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট কাউকে দেখলে আটক করে ‘মব’ করার চেষ্টা করেন। তবে টাকা দিতে রাজি হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সন্দেহভাজন সাবেক ৩ সেনা সদস্যের ডিএনএ নমুনা মেলানোর নির্দেশ আদালতের
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লার আদালতে এসেছেন। মামলাটির অগ্রগতি জানাতে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছিলেন কুমিল্লার আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লার আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটির অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ নমুনা ম্যাচিংয়ের (মেলানোর) আবেদন জানিয়েছেন। আদালত সেটিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে মা, বললেন ‘আমার বাচ্চাটা মারা যাবে’
২১ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে গেলেন যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম।
মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ।
শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সোমবার সন্ধ্যায় তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার
২২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ
২৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নিষিদ্ধঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ–সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য বা স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও তারা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম
‘পরিবহনে ফিরল চাঁদা’, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শ্রমিক বিক্ষোভ
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
আওয়ামী লীগ পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বন্ধ থাকলেও ময়মনসিংহে পুরনো কায়দায় চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলছেন, আগে যেখানে অটোরিকশা প্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হত, এখন সেটা ১০০ টাকা করে দাবি করা হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের কারণে এ পথে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। পরে পুলিশের আশ্বাসে শ্রমিকরা সড়ক ছাড়েন।
বিদায়ের দিনে দুর্নীতির অভিযোগ এক প্রসিকিউটরের, তাজুল বললেন ‘মিথ্যা’
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে বিদায়ের দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, ‘চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে’ টাকা আয়ের হাতিয়ার করেছিল তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।
সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ট্রাইব্যুনালে সেটলিং বাণিজ্য ও রাজসাক্ষী নাটক: কেন সরতে হচ্ছে তাজুল ইসলামকে?’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দুটি মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। সেই দুই মন্তব্যে তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন তিনি।
চাঁদা ‘না দেওয়ায়’ কারখানা ভাঙচুর, ট্রাক এনে পণ্য লুট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম। এ গ্রামে রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেন ওরফে অপুর (৪৩) জিআই তার উৎপাদনের একটি কারখানা। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয় এ জিআই তার।
কারখানার নাম বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ। গত রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার বাইরে ভাঙচুরের চিহ্ন। সামনে পুলিশের পাহারা। সাংবাদিক পরিচয় দিলে কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ এগিয়ে এসে কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটিতে কর্মীদের মারধর, ভাঙচুর এবং ট্রাক এনে মালামাল লুট করা হয়েছে। হামলার পর দুই দিন উৎপাদন বন্ধ ছিল। পরে শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হয়।
ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিএনপির রূপগঞ্জ উপজেলার সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় বিএনপির একদল লোক বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক মনোয়ার হোসেনের কাছে এককালীন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি মাসে ১ লাখ টাকা করে দেওয়ার দাবিও আছে তাঁদের। চাঁদা না দেওয়ায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়।
কানাডার ‘বেগমপাড়ায়’ ঢাকা ওয়াসার এমডির স্ত্রীর নামে বাড়ি
০৩ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের কানাডায় বাড়ি রয়েছে। ২০১৮ সালে আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। ২০২৩ সালে বাড়িটির মালিকানার অংশ থেকে আব্দুস সালামের নাম বাদ দিয়ে তাঁর এক ছেলের নাম দেওয়া হয়। পরে পুরো মালিকানা স্থানান্তর করা হয় তাঁর স্ত্রীর নামে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে আব্দুস সালামকে বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে তিনি ছিলেন একই সংস্থার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এ পদে চাকরিকালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এবার কানাডায় তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেল।
বাড়িটি কানাডার টরন্টোতে। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিস সার্ভিস অন্টারিও থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে বাড়িটি কেনা হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, বাড়িটির বর্তমান দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ কোটি টাকা। কেনার সময় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বাড়িটি কেনা হয় সিও বুইয়ং ও ইনসান ইয়াম নামে দুজন ব্যক্তির কাছ থেকে।
কথোপকথন ফাঁস: জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান প্রসিকিউটর
১০ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের কারাবন্দী একজন সাবেক রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।
রেকর্ডিংগুলোয় চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরদের একজনের কথোপকথন রয়েছে। এই প্রসিকিউটরের নাম মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। জামিনের বিষয়ে তিনি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ রেকর্ডিংগুলো যাচাই করে দেখেছে।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।
ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—২০২৪ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম শহরে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তিনি। রেকর্ড করা হোয়াটসঅ্যাপ কলগুলোর একটিতে ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্যকে আগের একটি আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদারকে বলতে শোনা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি যদি ফজলে করিম চৌধুরীকে বের করতে পারেন—তখন একটি ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ বিষয় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।’ এক কোটি টাকা থেকে সাইমুম রেজা তালুকদার অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও বলেন। তিনি বলেন, যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয়—নগদে।
শাহবাগে নীরব চাঁদাবাজি, টাকা না দিলে গুপ্ত হামলা, অপহরণ
১০ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
‘আমি এত বছর রাজনীতি করছি। এখন কি আমি না খেয়ে থাকব? ভাই, আমি এখন শ্রাবণ মাসের পাগলা কুত্তার মতো হয়ে গেছি। মনে করেন আমি পাগল হয়ে গেছি। পাগল হয়ে গেলে সবার কাছ থেকেই ধরতে হয়।’
কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর শাহবাগে ওষুধের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠা তাসকিন গাজী। কোনো পদ না থাকলেও তিনি নিজেকে ছাত্রদল বা বিএনপির নেতা পরিচয় দেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এমন শাহবাগকেন্দ্রিক আরও কয়েকটি চরিত্র সামনে এসেছে। যারা একাধিক চক্র গড়ে তুলে ওই এলাকায় ওষুধের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও ‘নীরব চাঁদাবাজি’ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব চক্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এককালীন ও মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে টাকা নিচ্ছে। চাঁদার টাকা না পেয়ে দোকানকর্মীকে হুমকি, তুলে নিয়ে অর্থ আদায়, এমনকি গুপ্ত হামলা করে লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।
এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ, ফুটপাতের চাঁদা ও ফুলের মার্কেটকেন্দ্রিক আলাদা চাঁদাবাজ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
যাঁকে নিয়ে চলছে দুদকের অনুসন্ধান, তাঁকেই বসানো হলো বিমানের বড় পদে
১৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কিনে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। তদবির করে সেই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। বিমান অব্যাহতি দিলেও এ নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সেই মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে ছিলেন মিজানুর রশীদ। গত ৪ মার্চ তাঁকে বদলি করা হয় অর্থ ও হিসাব বিভাগে। তার এক দিন পর তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। পরিচালকের পদটি মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উঁচু।
৬ শিল্পগোষ্ঠীর ‘পাচার করা’ টাকা খুঁজতে ৩৬ চুক্তি
০২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের বড় ছয়টি শিল্পগোষ্ঠীর ‘পাচার করা’ অর্থ ও বিদেশে তাদের সম্পদ খুঁজতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে বহুজাতিক একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৬টি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি বা নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) সই করেছে দেশের ১০টি ব্যাংক। মোট চুক্তি হবে ৫৯টি। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন।
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা খেলাপি হয়ে পড়েছে, তাদের মধ্যে ছয়টি শিল্পগোষ্ঠীর কাছ থেকে টাকা আদায়ে ব্যাংকগুলো এই চুক্তি করেছে। এনডিএর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অর্থ উদ্ধারে বাণিজ্যিক চুক্তি করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। কাজটির সমন্বয় করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ছয় শিল্প গ্রুপ হলো চট্টগ্রামের মোহাম্মদ সাইফুল আলমের এস আলম গ্রুপ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিট গ্রুপ, প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ ও নাসা গ্রুপ। আওয়ামী লীগের মেয়াদে টানা ১৫ বছর ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ছিলেন নজরুল ইসলাম মজুমদার, যিনি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান।
ব্যাংক দখল, লুটপাট, আর্থিক অনিয়মসহ নানা অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এসব শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে। তাদের কারণে ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক একীভূত করতে হচ্ছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না আরও কয়েকটি ব্যাংক।
ছয়টি শিল্পগোষ্ঠীর মোট ঋণ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। এসব ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে পুরো ব্যাংক খাত আস্থার সংকটে ভুগছে।
নিজের গাড়ি রেন্ট-এ–কারের মাধ্যমে বাসসকে ভাড়া দিয়েছিলেন মাহবুব মোর্শেদ
০৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেছিলেন মাহবুব মোর্শেদ, যখন তিনি সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ছিলেন। ওই গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে নেওয়া হতো দেড় লাখ টাকা।
মাহবুব মোর্শেদ সম্প্রতি বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট গল্পকার-সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছরের জন্য বাসসের শীর্ষ পদে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিনই বাসসে গিয়ে কর্মীদের ‘বিক্ষোভের’ মুখে পড়েন তিনি। তখন তিনি অফিস থেকে চলে যান এবং ফেসবুক এক পোস্টে ‘মব তৈরি করে’ তাঁকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। পরে তাঁর পদত্যাগের খবর আসে। সর্বশেষ ১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এক সংগঠনের ‘শাটল ব্যবসার’ বিদ্যুৎ খরচা গুনছে ঢাবি!
১২ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে বৈদ্যুতিক গাড়ি নামিয়ে গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন ব্যবসা করলেও বিদ্যুতের খরচা গুনতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। আর যে হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, সেটিকে ‘চড়া’ হিসেবেই দেখছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে ২০টি বৈদ্যুতিক গাড়ি নামায় সংগঠনটি, যারা তখনই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সুবিধা নিচ্ছে।
শুরুতে এ গাড়িগুলোর জন্য রেজিস্ট্রার ভবন সংলগ্ন এলাকায় চার্জের ব্যবস্থা করা হয়। পরে সেখান থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের এক কোণায় সরঞ্জাম বসিয়ে সুইমিং পুলের লাইন থেকে নেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ।
অর্থনীতি
মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করবে সরকার। মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত জায়গায় এই সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
দেশে নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিতরাই সবচেয়ে বেশি বেকার
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে আবার উচ্চশিক্ষিত নারীরা সবচেয়ে বেশি বেকার। চাকরিদাতার চাহিদা ও প্রার্থীদের যোগ্যতার মিল না হওয়ার কারণেই উচ্চশিক্ষিত হয়েও নারীরা সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, সামগ্রিকভাবে দেশে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৩ দশমিক ৪৮ ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেকার উচ্চশিক্ষিতরা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা দেশের ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশই বেকারত্বের জীবন দিনাতিপাত করছেন। তবে এ চিত্র সবচেয়ে করুণ নারীদের ক্ষেত্রে। উচ্চশিক্ষিত পুরুষদের ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেকার হলেও নারীদের মধ্যে ২০ দশমিক ৩৯ শতাংশই বেকার থাকছেন।
সাগরে ৪৬ জাহাজে ভাসছে ২৩ লাখ টন ভোগ্যপণ্য, নানা সংকটে খালাসে বিলম্ব
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রতিবছর রোজার আগে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়। তবে এবার সেই আমদানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে কারখানা বা গুদামে নেওয়া পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। বিশেষ করে নদীপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত লাইটার জাহাজের সংকটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বন্দরে পণ্য খালাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এবার অনেক নতুন প্রতিষ্ঠান ভোগ্যপণ্য আমদানি বাড়িয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশেরই পর্যাপ্ত গুদাম বা সংরক্ষণ–সুবিধা নেই। ফলে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের পর ঘাটে নিয়ে দ্রুত খালাস করা যাচ্ছে না। এতে লাইটার জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। অন্যদিকে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় লাইটার জাহাজের চাহিদাও বেড়েছে, যা সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
বিলিয়ন ডলার ক্লাবে এখন দেশি-বিদেশি আট শিল্প গ্রুপ
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে উৎপাদনমুখী খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানি–রপ্তানিতে বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি লেনদেন করেছে আট শিল্প গ্রুপ।
বিলিয়ন ডলার ক্লাবে জায়গা নেওয়া এই আট শিল্প গ্রুপ হলো মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বা এমজিআই, প্রাণ–আরএফএল গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, বিএসআরএম গ্রুপ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন। আর আগের অর্থবছর এ তালিকায় থাকলেও সর্বশেষ অর্থবছরে এসে তালিকা থেকে ছিটকে গেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প গ্রুপগুলোর আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি আয় হিসাব করে এ তালিকা তৈরি করেছে প্রথম আলো। তালিকা তৈরিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকৃত আমদানি ও রপ্তানির হিসাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আমদানি পর্যায়ে আমদানিকারকদের ঘোষিত মূল্য হিসাব করা হয়েছে। স্থানীয় আমদানি বা রপ্তানি এ তালিকার হিসাবে রাখা হয়নি। এবার দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশি শিল্প গ্রুপও তালিকায় রাখা হয়েছে।
বড় ঋণে বেশি খেলাপি, ছোট ঋণে কম
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ব্যাংক খাতে যত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তার ৪৫ শতাংশ ঋণই ১০ কোটি টাকার কম ছোট ও মাঝারি গ্রাহকের ঋণ। উচ্চসুদ সত্ত্বেও এসব ঋণের ২৫ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। তার বিপরীতে সবচেয়ে বেশি খেলাপির হার ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণে। ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ ৫০ কোটি টাকার ওপরে। এসব ঋণে খেলাপির হার ৫১ শতাংশ। ব্যাংক খাতের বিতরণ করা ঋণের ধরন ও খেলাপির হার নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যত বড় ঋণ, খেলাপিও তত বেশি। আর ছোট ও মাঝারি ঋণে খেলাপি কম।
প্রতিবেদনের তথ্য ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ নেন। তারপরও তাঁরা সেই ঋণ পরিশোধে অত্যন্ত তৎপর থাকেন। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগ কম। তার বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার থাকে কম। তারপরও বড় ঋণের গ্রাহকেরা কম সুদের সেই ঋণ ফেরতে নানা গড়িমসি করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ঋণ পরিশোধ না করে উল্টো নানা ধরনের ছাড় পান।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ, নতুন ১০% শুল্কের ঘোষণা দিলেন তিনি
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে ওই শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু আইনটি প্রেসিডেন্টকে এই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তিনি সব দেশের পণ্যের ওপর অন্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছাতে চিঠি দিয়েছে নতুন সরকার
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে।
সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান।
ডাউন পেমেন্টের অর্ধেক পরিশোধ করলে নবায়ন হবে খেলাপি ঋণ
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুগান্তর
উদ্যোক্তার ব্যবসা ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ পুনর্গঠনে বড় ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নবায়ন নীতিমালা আরও সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের অর্ধেক পরিশোধ করেই খেলাপি ঋণ নবায়ন করা যাবে।
রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম খেলাপি ঋণ নবায়নে বিশেষ ছাড় দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ভিন্ন পন্থায় খেলাপি আদায় করে ব্যাংক এশিয়ার চমক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিরূপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরো ব্যাংক খাতে ঋণ আদায়ের গতি শ্লথ হয়ে যায়। তাতে অন্য অনেক ব্যাংকের মতো বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়াও ঋণ আদায়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এ সময় বাড়তি সুবিধা পাওয়া প্রভাবশালী বড় গ্রাহকদের অনেকেই ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। কেউ কেউ নামমাত্র এককালীন জমা দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিলের আবেদন করে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রচলিত ধারা সহজ শর্তে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দিয়ে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রবণতা থাকলেও ব্যাংক এশিয়া সেই গতানুগতিক পথে পা বাড়ায়নি। ব্যাংকটি ঋণ পুনঃ তফসিলকে নগদ প্রবাহের বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন, ঋণগ্রহীতার ঋণ-মূলধন(ইকুইটি) অনুপাত বিশ্লেষণ, নতুন মূলধন সংযোজন ও জামানত বৃদ্ধিতে জোর দেয়। ফলে অধিক ঋণভারাক্রান্ত ও পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না থাকায় কিছু বড় গ্রাহকের ক্ষেত্রে দর–কষাকষি ও আলোচনাকালে খেলাপি ঋণ সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে সাময়িকভাবে বেড়ে ১৯ শতাংশে পৌঁছায়। তবে নানা কৌশল ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে গত বছর শেষে তা কমে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
৩ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে না আলু, কৃষকের মাথায় হাত
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যুগান্তর
ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। বাজারে আলুর দামে ভয়াবহ ধস নেমেছে। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মাঠ থেকে আলু তোলার খরচও তুলতে পারছেন না অনেক কৃষক। বর্তমানে অনেক এলাকায় ৬০ কেজির এক বস্তা আলু ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে না, যা কেজিপ্রতি ৩ টাকার সামান্য বেশি। এমন পরিস্থিতিতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করবেন নাকি বাড়িতে ফেলে রাখবেন—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার চাষিরা।
এমপি আসবেন তাই হাসপাতালে ভর্তি হলেন নির্বাচনের দিন সংঘর্ষে আহত হওয়া ২৩ রোগী
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ইত্তেফাক
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ২৩ জন রোগী স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। সে সময় ২৩ জন ব্যক্তি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংঘর্ষে তারা আহত হয়েছেন।
তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, আগে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। পরে অসুস্থতা অনুভব করায় সরকারি হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনেকের হাত-পায়ে নতুন ব্যান্ডেজ ছিল। দুপুর ১টার দিকে এমপি হাসপাতাল ত্যাগ করার পরপরই ওই ২৩ জনও হাসপাতাল ছাড়েন।
কিছুটা কম দামে সরকারি তেল–ডাল কিনতে গিয়ে…
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের খালপাড় এলাকা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে সেখানে সরকারি সংস্থা টিসিবির পণ্য বিক্রির একটি ট্রাক আসে। কিন্তু ট্রাকের পেছনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই দফায় অনেক বিশৃঙ্খলা হয়। তখন ট্রাকটি দূরে সরিয়ে নিতে গেলে কয়েকজন নারী-পুরুষ সেটির পেছনে ঝুলে পড়েন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই নারী সড়কে পড়ে যান।
পরে ওই ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা টিসিবির পরিবেশক রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ট্রাকে যত লোকের জন্য পণ্য আনা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ কারণে মানুষের এমন হুড়োহুড়ির ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ১৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি (ট্রাক সেল) শুরু করেছে টিসিবি। চলবে ১২ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিন। টিসিবির ট্রাকের পেছনে রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্ধারিত পরিমাণে সব পণ্য পেলে একজন মানুষের সাশ্রয় হয় প্রায় ৩৫০ টাকা। এই পরিমাণ টাকা বাঁচাতে নিম্ন আয়ের মানুষকে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। বিশেষ করে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নারীদের।
সারের বাড়তি দর, চাপে কৃষক ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
খুলনার কয়রার গাতিঘেরি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ মণ্ডল এবার বোরো ধান চাষ করেছেন আট বিঘা জমিতে। মৌসুমের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পেরেছেন। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি এসে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা বেশিতে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে তাঁকে। এ ছাড়া টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার কিনতে গিয়ে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষাবাদে এবার লোকসানের শঙ্কায় আছেন এ কৃষক।
বোরো মৌসুমের শুরুতে দেবাশীষ মণ্ডলের মতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। সেই ব্যস্ততার ভেতরেই জমছে উদ্বেগ। কৃষকের স্বস্তি নেই। কারণ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আবাদ কমানোর কথা ভাবছেন। সরকার আসে, সরকার যায়; সারের সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি নেই কৃষকের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর কে এই মোস্তাকুর রহমান
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মোস্তাকুর রহমান একজন হিসাববিদ (এফসিএমএ)। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বর্তমানে বিজিএমইএর বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। এছাড়াও তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন।
সরকারি হিসাবে সারের সংকট নেই। বিএডিসি বলছে, গুদামে সার রাখার জায়গা পর্যন্ত নেই। অথচ মাঠ পর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ১ হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকা। ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে, যা শুধু উৎপাদন খরচই বাড়িয়ে দিচ্ছে না; খাদ্য নিরাপত্তাকেও শঙ্কায় ফেলছে।
১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ: মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এ মওকুফের আওতাভুক্ত হবে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক লাভবান হবেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবাদ-মব, গভর্নরের বিদায়
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
এক দল কর্মকর্তার বিক্ষোভের মুখে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই প্রথম কোনো ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হলেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে।
আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা গভর্নরের উপদেষ্টা, নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক ও পিএসকে জোর করে অফিস থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে যে তিন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল, তাদের স্বপদে বহাল করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রগুলো জানায়, আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় নীল দল থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। শুরুতে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয়তাবাদীপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠন সবুজ দলে দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হয়। তবে সরকারের একটি পক্ষের সংকেতে গতকাল আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সবাই যোগ দেন। এর পরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে খবর ছড়িয়ে পড়ে– গভর্নর বদল হচ্ছেন।
ব্যবসায়ী গভর্নর এই প্রথম
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হলো।
মোস্তাকুর রহমান হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২৭৬৯ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯%
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই তথ্য দিয়েছে।
আগের বছরের চেয়ে মাথাপিছু আয় ৩১ ডলার বেড়েছে। আগের অর্থবছরের (২০২৩–২৪) মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার।
আজ বৃহস্পতিবার ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মাথাপিছু আয়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চূড়ান্ত হিসাব দিয়েছে বিবিএস।
সদস্যদের সাফল্য উদযাপন করল বিজিএমইএ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের তালিকা প্রকাশের পর স্পষ্ট হয়েছে তাদের পেশাগত বিন্যাস। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিলেন পেশায় ব্যবসায়ী।
নির্বাচনের ফলাফলেও ব্যবসায়ী প্রার্থীদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট অন্তত ১৬ জন ব্যবসায়ী সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন। তাদের ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। গতকাল রাজধানীতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের এ সাফল্য উদযাপন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
নবগঠিত মন্ত্রিসভার তালিকা ও বিজিএমইএর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনজন মন্ত্রী ও তিনজন প্রতিমন্ত্রী তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট। আর অতিসম্প্রতি দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদেও নিয়োগ পেয়েছেন পোশাক শিল্প খাতের একজন ব্যবসায়ী। তিনি অবশ্য আরো কয়েকটি খাতের ব্যবসা ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভর্নর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাববিদ (এফসিএমএ) মো. মোস্তাকুর রহমান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত হেরা সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ও বিজিএমইএর তথ্যে দেখা যায়, হেরা সোয়েটার্স লিমিটেড সোয়েটার ও নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে তৈরি পোশাক খাতের প্রভাবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আগের ধারাবাহিকতায় আবারো সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন দেশের পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে তারা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় সাফল্য নিশ্চিত করেছেন।
পোশাক শিল্প পরিবার থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে বিজিএমইএ। গতকাল বিকালে রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে বিজিএমইএ ওই ইফতার মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
নতুন গভর্নর কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন?
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? এ প্রশ্ন রেখে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করা একজন তৈরি পোশাক শিল্প ও আবাসন ব্যবসায়ী করপোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কতটা নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন?
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নবনিযুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ব্যাংক খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি ও পরবর্তী সময়ে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন, অ্যাটাব, ঢাকা চেম্বার্সের মতো প্রভাবশালী ব্যবসা লবির অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে নতুন গভর্নরের। প্রশ্ন হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদী চৌর্যতন্ত্রের আমলে খাদে পড়া ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীনভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? বিশেষ করে, যেখানে সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণগ্রস্ত, যাদের মোট আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে, সেখানে একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ী, যার বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যিনি তৈরি পোশাক শিল্প ও রিহাবের মতো খাতে নীতি দখলের সুবিধাভোগী, এমন একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের প্রভাব ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সার্বিকভাবে এ নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা দিচ্ছে? তা সরকারকে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।’
১০ বছরের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ সর্বনিম্ন
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
গত ১০ বছরের মধ্যে এখন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ সবচেয়ে কম। এখন দেশে জিডিপির আকার যত, এর মাত্র ২২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশের সমান হলো বেসরকারি বিনিয়োগ, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। টানা চার বছর ধরে জিডিপিতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অবদান কমছে।
এই হিসাব বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। এটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জিডিপি ও বিনিয়োগের চূড়ান্ত হিসাব। সেখানে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০১৪–১৫ অর্থবছরের পর এত কম বেসরকারি বিনিয়োগ আর হয়নি।
বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম
০১ মার্চ ২০২৬, যুগান্তর
রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথ থেকে সরবরাহ করা পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকে নতুন এ বর্ধিত মূল্য কার্যকর করা হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসার সচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সই করা এক অফিস আদেশে এ দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা ওয়াসার ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’র ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মূলত বুথগুলোর অপারেশন ও মেনটেনেন্স (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) খরচ বেড়ে যাওয়ায় পানির দাম ৮০ পয়সা (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় প্রতি লিটার ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ পয়সা করা হয়েছিল।
পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
০৩ মার্চ ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চাপে রফতানি খাতে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, সচল রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা যথাসময়ে পরিশোধ নিশ্চিতে ব্যাংকগুলোকে চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে বিশেষ মেয়াদি ঋণ সুবিধা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিটি থেকে সাদিক আহমেদের পদত্যাগ, সুদহার কমানোর সভা স্থগিত
০৪ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নিয়ে সুদহার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ জন্য আজ বুধবার নীতি সুদহার কমাতে ডেকেছিলেন মুদ্রানীতি কমিটির সভা। এই সভায় ১০ শতাংশ নীতি সুদহার কমানোর পরিকল্পনা ছিল। শূন্য দশমিক ২৫ থেকে শূন্য দশমিক ৫০ বেসিস পয়েন্টে কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন নতুন গভর্নর, যাতে ঋণের সুদহার কমে আসে। তবে সভাটি স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির সদস্যপদ থেকে অর্থনীতিবিদ সাদিক আহমেদ পদত্যাগ করেছেন। তিনি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ছিলেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক।
হঠাৎ সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট, খোলা তেলের দাম বেড়েছে
০৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান গতকাল শনিবার সকালে বাসা থেকে বের হন এক বোতল সয়াবিন তেল কিনতে। প্রথমে মহল্লার তিনটি মুদিদোকানে সয়াবিন তেলের খোঁজ করেন তিনি। না পেয়ে যান শেওড়াপাড়া বাজারে। সেখানে চারটি দোকান ঘুরে শেষে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন কেনেন।
মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার প্রয়োজন ছিল ২ লিটারের এক বোতল। কিন্তু কোনো দোকানেই পাইনি। শেষে বাধ্য হয়ে ৫ লিটারের জার কিনেছি। তা–ও কয়েক দোকান ঘোরার পর। হঠাৎ তেলের এমন সংকট কেন হলো, বুঝলাম না।’
শুধু শেওড়াপাড়া নয়, রাজধানীর অনেক স্থানেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এখন খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বেড়েছে। বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মাসখানেক ধরেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। গত তিন–চার দিনে এ সংকট আরও বেড়েছে। একদিকে তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল বাজারে আসছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আতঙ্ক থেকে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনছেন। সব মিলিয়ে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।
মসজিদের ইমাম থেকে গির্জার যাজক পাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী
০৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার।
একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, সেবায়েত তিন হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকেরা পাঁচ হাজার ও সহকারী যাজকেরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।
নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো: প্রধানমন্ত্রী
১০ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হলো। প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারায় আজ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর জন্য যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি তাঁর সরকার ও দল বিএনপির জন্য একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে বিএনপি বহু বছর ধরে পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যাপারে তাঁর দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন। তাই আজ একটি স্মরণীয় দিন। ঐতিহাসিক দিন। এখন ১৪ জায়গায় কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে সবার কাছে তাঁরা এই কার্ড নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদী।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি দিয়ে পরিচালনায় চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ
১২ মার্চ ২০২৬, সমকাল
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।
এর ফলে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে কোনো বাধা থাকলো না।
কৃষকের ৫৬ টাকার পটোল হাতবদলে যেভাবে ১০০ টাকা হচ্ছে
১৩ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
যশোরের বারীনগর পাইকারি মোকামে ৫৬ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন মাঠের কৃষক। ব্যাপারী, ফড়িয়া ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অন্তত পাঁচবার হাতবদল হয়ে সেই পটোল পৌঁছাচ্ছে ঢাকার মানুষের রান্নাঘরে। প্রতিবার হাতবদলে দাম বাড়ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। এতে কৃষকের ৫৬ টাকার পটোল ভোক্তাকে ১০০ টাকার বেশি দরে কিনতে হচ্ছে।
হাতবদলের পাশাপাশি দাম বাড়ার পেছনে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের সার-কীটনাশক ওষুধ না পাওয়া, পৌরসভার নামে রাস্তায় চাঁদাবাজি, পাইকারি বাজারে শ্রমিকদের বকশিশ, রাজনৈতিক কর্মীদের দালালি, হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়, সবজি প্যাকেজিংয়ের বস্তা, ডিজেল ও শ্রমের মূল্য বেশি হওয়াও অন্যতম কারণ।
আশানুরূপ বিক্রি হয়নি হতাশ প্রকাশকরা
১৬ মার্চ ২০২৬, বণিক বার্তা
শেষ হলো দেশের সবচেয়ে বড় বই উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। টানা ১৮ দিনের আয়োজন শেষে পর্দা নামল এ বই উৎসবের।
পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত এ আয়োজন এবার নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পাঠক-দর্শনার্থী ছিল তুলনামূলক কম, বিক্রিও আশানুরূপ হয়নি। ফলে এবারের বইমেলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন প্রকাশকরা।
গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এবারের মেলার। মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা মূল মঞ্চে সমাপনী প্রতিবেদন পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত আট লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। তবে মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও কবিতায় মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেয়া হয়নি।
নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে এ বছর মেলার সময়সূচি নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল। প্রথমে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ দিনের জন্য মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও প্রকাশকদের একটি বড় অংশ ঈদের পর মেলা আয়োজনের দাবি জানায়। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ফলে সংক্ষিপ্ত সময়ের এ আয়োজন শেষ হয়েছে ১৮ দিনেই।
বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এবারের মেলায় ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৬৮টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। আগের বছরের মতো কোনো প্যাভিলিয়ন রাখা হয়নি। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্টল ভাড়া মওকুফ করায় প্রকাশকদের কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিক্রির পরিস্থিতি ছিল হতাশাজনক।
মাঠভর্তি পচা আলু কৃষকের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ
১৯ মার্চ ২০২৬, সমকাল
‘আজ অন্তর কাল ঈদ, অথচ হামরা এখনও মাঠেই পড়ে আছি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছিলাম, সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখন কিস্তি দেব কোত্থেকে আর ধান লাগাব কী দিয়ে? হামার পরিবারে ঈদ বলতে আর কিছুই নেই।’ অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের কৃষক মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেনের মতো জয়পুরহাটের হাজারো কৃষকের ভাগ্যে এবার ঈদের আনন্দ জোটেনি। টানা চার দিনের অকাল বৃষ্টি ও ঝড়ে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা আলুর ক্ষেত। উত্তোলনের শেষ মুহূর্তে এসে স্বপ্নের ফসল পচে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার চাষিরা।
মঙ্গলবার কালাই উপজেলার আঁওড়া, হাতিয়র, তালোড়া বাইগুনি, বানিহারাসহ বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কৃষকরা এক হাঁটু পানিতে নেমে পচা আলু কুড়াচ্ছেন। কেউ কেউ লজ্জা-শরম ত্যাগ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কাদা-পানিতে কাজ করছেন। পানি নিষ্কাশনের পথগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় জমি থেকে পানি সরছে না, ফলে মাটির নিচেই আলু পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, পুরো জেলায় অন্তত এক হাজার ১০০ হেক্টর জমির আলু পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ এই ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ হেক্টরের কাছাকাছি বলে দাবি করছে।
চাহিদা বাড়লেও জনবল ও কাঁচামাল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কাগজ উৎপাদন
২৭ মার্চ ২০২৬, বণিক বার্তা
সাত দশক আগে প্রতিষ্ঠাকালে রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডের (কেপিএম) বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩০ হাজার টন।
স্বাধীনতা-পূর্ব পাকিস্তানের দুই অংশের চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকত কেপিএমের কাগজ। এখনো সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও জনবল ও কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মালিকানাধীন পেপার মিলটি।
জানা যায়, পার্বত্য রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কেপিএম সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ কোটি ৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮১ টাকায় ভালোমানের ৯১৪ টন কাগজ সরবরাহ করে। এর পরপরই সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে চাহিদাপত্র এলেও কাঁচামাল ও জনবল সংকটে বাড়তি উৎপাদনে যেতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এতে ৩০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতার মিলটি পরিচালনায় প্রতি বছরই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ঋণখেলাপি ছিলেন, এখন তাঁরা সংসদে
২৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগে ঋণখেলাপির তালিকায় নাম ছিল বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের। তিনি এখন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট—এ তিন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ২৯ ডিসেম্বর। সব প্রার্থীর ঋণের তথ্য যাচাই করে গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) থেকে দুটি তালিকা পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত ডিসেম্বরের হিসাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
সিআইবির একটা তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে ৮২ জনকে চিহ্নিত করা হয়। অপর তালিকায় ৩১ জনের নাম দেওয়া হয়, যাঁদের সবাই উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। দ্বিতীয় তালিকায় ছিল খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নাম। মানে হলো, তিনি আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, জয়ী হয়েছেন, সংসদে গিয়েছেন এবং মন্ত্রীও হয়েছেন।
এভাবে ঋণখেলাপির তালিকায় নাম থাকা অনেকে এবারের সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে শুরুতে ৩১ জনকে সুযোগ দিয়েছিলেন আদালত। চূড়ান্ত বিচারে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর (কুমিল্লা-৪) প্রার্থিতা বাতিল হয়। তিনি নির্বাচন করতে পারেননি। বাকি ৩০ জন পেরেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির দুজন প্রার্থী বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো তাঁদের নামে প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। যদিও তাঁরা আশা করছেন, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
সার কিনতে নতুন উৎসের খোঁজ
০১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিশ্বে সমুদ্রপথে সার পরিবহনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হয় ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রণালিটি প্রায় বন্ধ। এতে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, জুন পর্যন্ত সারের মজুত আছে। তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সার আমদানির জন্য নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে।
এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে তিনটি নতুন উৎস থেকে সার আমদানির বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে অনুরোধ করেছে। গত ১৬ মার্চ দেওয়া ওই চিঠির পর মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ভিয়েতনামে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিবাচক সাড়া পেলে এই তিন দেশ থেকে সার আমদানি করা হবে। তবে কী পরিমাণ আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তথ্য দেয়নি শিল্প মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় ব্রাজিল ও চীন থেকে সার আনার বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছে।
স্টার্টআপে অর্থায়নে নতুন কোম্পানি গঠন করল ৩৯ ব্যাংক
০২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশের উদীয়মান প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ বা স্টার্টআপগুলোর অর্থায়নে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষায়িত কোম্পানি ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ (বিএসআইসি)। দেশের ৩৯টি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ৬০০ কোটি টাকা মূলধনে এই কোম্পানি গঠিত হয়েছে। বিএসআইসির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি। নতুন এই কোম্পানির কৌশলগত পরামর্শক করা হয়েছে গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসেল পার্টনার্সকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তরুণ উদ্যোক্তাদের চিন্তা ও উদ্যমে গড়ে ওঠা নতুন ও সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপগুলোকে সফল করতে শুরুতে পুঁজির জোগান দেবে কোম্পানিটি। পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে পরবর্তী পর্যায়ের পুঁজি ‘কো-ইনভেস্টমেন্ট’ বা দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ দেশে আনতে ভূমিকা রাখবে কোম্পানিটি। ৩০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করবে বিএসআইসি। আর জুনের মধ্যে নতুন কয়েকটি উদ্যোগে পুঁজি জোগান দিতে চায় কোম্পানিটি।
ব্যবসার নীতি সিদ্ধান্তে বেসরকারি অংশগ্রহণ চান ব্যবসায়ীরা
০৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত সরকারি নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত নীতি গ্রহণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও মতামত নেওয়া হলে তাতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয়। ব্যবসায়ীরা তাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মতামত দিতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীও ব্যবসায়ীদের এই পরামর্শের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বেসরকারি খাত পরামর্শক কাউন্সিলের প্রথম সভায় কাউন্সিলের ব্যবসায়ী সদস্যরা এ মত দেন। শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নানা বিষয় নিয়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী কাউন্সিলের প্রথম সভা হয়।
থার্ড টার্মিনাল থেকে আয়ের সাড়ে ২২ শতাংশ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব জাপানি কনসোর্টিয়ামের
৭ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে, তার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বাংলাদেশকে দেয়ার প্রস্তাব করেছে জাপানের একটি কনসোর্টিয়াম।
সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন এ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার ব্যাপারে দরকষাকষি করছে সরকার। ৩ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘থার্ড টার্মিনাল পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ’ বিষয়ক এক সভায় রাজস্ব ভাগাভাগির এ প্রস্তাব দেয় জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
যদিও জাপানি কনসোর্টিয়ামকে তাদের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। ৩ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাপানি প্রতিনিধি দলকে পুনরায় সংশোধিত প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চলতি মূলধন হিসেবে ৮ শতাংশ সুদে অফশোর ডলার ঋণ পাবেন রপ্তানিকারকরা
০৮ এপ্রিল ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
অর্থায়ন ব্যয় কমানো এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে রপ্তানিকারকদের জন্য কম সুদে অফশোর ডলার ঋণ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রস্তাবিত এই স্কিমের আওতায়, রপ্তানিকারকরা ৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন, যা বর্তমানে স্থানীয় মুদ্রা বা ‘টাকায়’ নেওয়া ঋণের ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ সুদের তুলনায় অনেক কম। শিগগিরই এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে কার্যক্রমের কাঠামো জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রপ্তানিকারকরা দৈনন্দিন ব্যবসায়িক খরচ—যেমন বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কার্যকর মূলধনের চাহিদা—মেটাতে এই ঋণ ব্যবহার করতে পারবেন। ঋণ পরিশোধ করতে হবে রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে, ফলে দেশীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
এছাড়া ঋণগ্রহীতা রপ্তানিকারক প্রয়োজনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ঋণের ডলার সোয়াপ করে টাকা নিতে পারবেন। এজন্য তাকে বাড়তি সুদ গুণতে হবে না।
ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, আর্থিক সংকটে নতুন সরকার
১০ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দীর্ঘদিন চাপে থাকা অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে নতুন করে সংকটে পড়েছে। এমনিতেই সরকারের রাজস্ব আয়ে রয়েছে বড় ঘাটতি। আয় যা হচ্ছে, তার পুরোটাই চলে যাচ্ছে পরিচালন ব্যয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ যাচ্ছে সুদ পরিশোধে। এদিকে বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির প্রভাবে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে গত মার্চ থেকে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে ৩৯ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক সংকটে পড়েছে সরকার। টাকার জন্য বেশি বেশি ঋণ করতে হচ্ছে। পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এরই মধ্যে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার। এখন বিদেশি উৎস থেকে ৩১৫ কোটি ডলার ঋণের চেষ্টা করছে।
আর্থিক খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে সুদহার কমাবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে– এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। সুদহার কমানোর জন্য একটি বৈঠকও ডাকেন নতুন গভর্নর। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক আর হয়নি। আপাতত যুদ্ধবিরতি দিলেও খুব সহসা সংকটের সমাধান হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ফলে সুদহার কমবে না।
অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নে ৩৬ সদস্যের কমিটি, প্রধান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
১৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নীতি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি অ্যাডভাইজরি বা পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে সরকার। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এ কমিটি। যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধির যাত্রা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ পরিকল্পনা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ৮ এপ্রিল গঠিত এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে। এই কমিটিতে দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের ৩৬ জন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আজ বুধবার শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি কক্ষে এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটি প্রধান অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাশেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন।
উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটিতে রয়েছেন বিআইজিডির প্রফেসরিয়াল ফেলো সুলতান হাফিজ রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি–বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আবদুল-আওয়াল।
কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, পিপিআরসির নির্বাহী সভাপতি হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
এ ছাড়া বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার, গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার, বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক এবং র্যাপিডের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমানও এই কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাত থেকে যুক্ত হয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী এবং আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আক্তার হোসেন, বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের অংশ হিসেবে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ এবং বিআইজিডির মির্জা এম হাসান যুক্ত হয়েছেন।
একাডেমিক অঙ্গন থেকে এআইটির ইমেরিটাস অধ্যাপক এ টি এম নুরুল আমিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ তসলিমও রয়েছেন এই কমিটিতে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আবদুল হান্নান চৌধুরী, অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিত্ব করছেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মুশতাক খান।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত থেকে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বেসিসের সভাপতিরা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি লেদারগুডস ও ফুটওয়্যার খাতের প্রতিনিধি হিসেবে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরও রয়েছেন। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মনজুর হোসেন।
এই কমিটির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ, বেসরকারি খাতের উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কমিটিকে তাদের পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের জন্য নতুন এ কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। এটি প্রণয়নে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ।
ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পথে মেট্রোরেল করবে সরকার, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
১৮ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে চাইছে বর্তমান সরকার। অনেক বেশি ব্যয় প্রস্তাব করায় অন্তর্বর্তী সরকার ঠিকাদার নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
নতুন পথটিতে মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি ঠিকাদারেরা কিলোমিটারপ্রতি যে টাকা চাইছে, তা সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঠিকাদারদের ব্যয় প্রস্তাব ধরে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, প্রতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সরকার ধরেছিল, ব্যয় হবে ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। তিনি বিভিন্ন দেশের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ঢাকার নতুন মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জাইকা জানায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা তাদের ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটকে যায়।
ডিএমটিসিএল তখন সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকাকে চিঠি দিয়ে জানায়, ঠিকাদারের দর গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানে আগ্রহী।
যদিও এই প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা জাইকা তাতে রাজি হয়নি। জাইকা জানায়, চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বান করা তাদের ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই পরিস্থিতিতে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটকে যায়।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন আনা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদকেও।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাইকার প্রতিনিধিরা সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রবিউল আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর মেট্রোরেলের লাইন-১–এর কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জাইকার সঙ্গে আলোচনার নির্দেশনা দেয় সড়ক মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ গত ১০ মার্চ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) জাইকা, মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও ইআরডির যৌথ বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের কাজের দুটি প্যাকেজে ১৭০ ও ২৫ শতাংশ বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করে ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়ে অনড় থাকে জাইকা। কাজের পরিধি বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে সংস্থাটি। এমনকি ঠিকাদার নিয়োগপ্রক্রিয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে আসার বিষয়ে আপত্তি জানায় তারা।
রংপুরে উৎপাদিত ৭৮% আলু রাখার হিমাগার নেই, কেজিপ্রতি ক্ষতি ৩ টাকার বেশি
১৯ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশে ব্যাপক উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আলু চাষে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় প্রতি কেজি আলুতে ৩ টাকারও বেশি ক্ষতি গুনতে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় আলু বিক্রি না করে হিমাগারেও রাখতে পারছেন না তারা। কারণ চলতি বছর রংপুরে যে পরিমাণ আলুর উৎপাদন হয়েছে, তার ৭৮ শতাংশ আলু রাখার হিমাগার নেই। এতে চাষীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা, আর ভবিষ্যতে চাষে আগ্রহ কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রংপুর ও দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে (২৫-২৬) মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের (২০২৪-২৫) চেয়ে ২১ হাজার ৯১৯ হেক্টর জমি কম। চলতি মৌসুম আলু উৎপাদন হয়েছে ৫১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৯ টন। গত বছরে উৎপাদন হয়েছিল ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭৩৯ টন।
রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ১১৫টি (কোল্ড স্টোরেজ) হিমাগারের ধারণক্ষমতা ছিল ১১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫ টন। মজুদ ছিল প্রায় ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪৫৫ টন। প্রতি কেজি আলুর জন্য কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ দশমিক ২৫ টাকা। চলতি বছরের উৎপাদন (৫১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৯ টন) ও হিমাগারের ধারণক্ষমতা (১১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫ টন) তুলনা করলে দেখা যায় মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ আলু সংরক্ষণ করা যায়। তবে এবার রংপুরে দুটি এবং কুড়িগ্রামে একটি কোল্ড স্টোরেজ নতুন নির্মিত হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ধারণক্ষমতা কিছুটা বাড়তে পারে।
প্রথম বেসরকারি কনটেইনার টার্মিনাল করবে এমজিএইচ
২০ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে বেসরকারি উদ্যোগে দেশে প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপ। কর্ণফুলী নদীর তীরে বন্দর থেকে ইজারা নেওয়া জমিতে এই টার্মিনাল নির্মাণ করবে গ্রুপটি। আজ সোমবার বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টার্মিনালের জন্য জমি ইজারা নেওয়ার চুক্তির পর এ তথ্য জানায় গ্রুপটি।
প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে এমজিএইচ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস পতেঙ্গায় সাত একর জমি ইজারা নিয়েছিল। ২০ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া এই জমিতেই টার্মিনাল নির্মাণ করবে গ্রুপটি, যেখানে ২৫০ মিটারের একটি জেটি থাকবে। অর্থাৎ টার্মিনালে একটি কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে।
চুক্তি শেষে বন্দর ভবনে এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনিস আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ মাসে এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ হবে ৫৫০ কোটি টাকা। টার্মিনালে মাসে ৪০ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো–নামানোর সক্ষমতা থাকবে। এতে অন্তত ১৮০ জনের কর্মসংস্থান হবে।
এমজিএইচ যেখানে টার্মিনাল নির্মাণ করবে, তার পাশেই নদীর উজানে নতুন একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। গত বছরের ১৭ নভেম্বর এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে বন্দরের এ–সংক্রান্ত চুক্তিও হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তারা তিন বছরে টার্মিনাল নির্মাণ করে ৩০ বছর পরিচালনা করবে। আয় ভাগাভাগি করবে বন্দরের সঙ্গে। অর্থাৎ এপিএম টার্মিনালস চালু হওয়ার আগে এমজিএইচ গ্রুপের টার্মিনাল চালু হতে পারে।
মার্চে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে সরকার: পিআরআইয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ
২৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সরকার নতুন করে টাকা ছাপানো শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, মার্চ মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটা হাইপাওয়ার মানি, ছাপানো টাকা। অর্থাৎ এটার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেন পিআরআইয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ
২৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য।
কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে হাবিবুরের সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তাঁর পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন হাবিবুর। এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাঁকে ঋণ করতে হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, বেগুন, পটোলের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
হাবিবুরের সঙ্গে কথা হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর রাজধানীর জোয়ার সাহারা, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের পাশাপাশি মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি।
বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভোগাচ্ছে জ্বালানির দাম
দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।
ডিম-মুরগির দাম বেড়েছে
সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। গত দুই সপ্তাহে বাজারে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গাড়িভাড়া বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন।
এদিকে বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। গতকাল প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি সোনালি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছিল। পরে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়।
সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গতকাল ছোট আকারের রুই মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ
বিতর্কিত ক্যাপাসিটি চার্জের জের এখনও টানছে বিদ্যুৎ, ভাড়া বেড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ে জোর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিছু ক্ষেত্রে সাশ্রয়ও করেছে তারা। এর মধ্যেই এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এক বছরে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
তিনটি কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, তুলনামূলক সস্তা জ্বালানি হিসেবে পরিচিত গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। এর ফলে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও পিডিবির কাছ থেকে বাড়তি দাম নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এসব কারণে উৎপাদন খরচ কমানো যায়নি। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্ত হয়েছে বাড়তি খরচ।
চুক্তি অনুসারে সরকারি–বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক আর না করুক, প্রতিটি কেন্দ্রে চুক্তি অনুসারে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। এটি কেন্দ্রভাড়া হিসেবে পরিচিত।
পিডিবি সূত্র বলছে, ২০২২–২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট। ওই বছর কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৯৮ মেগাওয়াট, কেন্দ্রভাড়া ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন না করায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সক্ষমতা কমে হয় ২৭ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট। এবার কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
নাইকোর কাছে ১২,৩৭১ কোটি টাকা চেয়ে ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ
৩১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায় অবশেষে আসছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের (ইকসিড) রায়ে বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রার বর্তমান মূল্যে ৫১২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ক্ষতিপূরণ দেবে কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।
যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছিল ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।
জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের একটি সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি জানা গেছে। তবে রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পুরো রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারের পরামর্শ নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চালাতেও অনেক খরচ হয়েছে।
জ্বালানি খাতে সরকারের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
সরকার স্থলভাগ (অনশোর) ও সমুদ্রে (অফশোর) নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা করছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) মডেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই বছরের মধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সই করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে আগের আওয়ামী লীগ সরকার বৈশ্বিক কোম্পানির জন্য গভীর সমুদ্রে (অফশোর) দরপত্রের সময়সীমা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দিয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগটি মূলত সেই থেমে যাওয়া প্রক্রিয়া আবার চালু করার চেষ্টা। ২০১২ সালে ভারত ও ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের এটিই ছিল প্রথম বড় পদক্ষেপ।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাস সময় বাড়ালেও অংশগ্রহণকারী পাওয়া যায়নি। পরে পেট্রোবাংলা কিছু সংশোধিত নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য তুলে রাখা হয়।
পিএসসি চূড়ান্ত করার এই পরিকল্পনা জ্বালানি খাতের বিস্তৃত ১০০ দিনের রোডম্যাপের অংশ। গত বুধবার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রমজান ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এরপর পরবর্তী পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে বিঘ্ন, দুশ্চিন্তা বাংলাদেশেও
০৩ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে একদিকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ছে; অন্যদিকে সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দুশ্চিন্তায় পড়েছে বাংলাদেশও। মূল্যবৃদ্ধি স্থায়ী হলে, সরবরাহে সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশেও ঘাটতি তৈরি হতে পারে, দাম বেড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর ইরান পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এতে অনেকটা অচল হয়ে গেছে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম পথ ইরানের হরমুজ প্রণালি। হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে কাতার। অন্যদিকে ইরানের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের সবচেয়ে বড় শোধনাগার রাস তানুরা সতর্কতার অংশ হিসেবে বন্ধ করে দিয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ ডলারের আশপাশে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিশ্বের প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি আমদানির খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দেশের জ্বালানি তেলের প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানির পুরোটা আসে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি আসে বিভিন্ন দেশ থেকে। এ ছাড়া দেশের গ্যাস চাহিদার ৩৫ শতাংশ পূরণ করে আমদানি করা এলএনজি, যার বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি
০৬ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার বিপিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে’ জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছড়ানোয় ভোক্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, এর ফলে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ডিপো থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করারও চেষ্টা করছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক ট্রিপপ্রতি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছে বিপিসি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া যাবে।
ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া যাবে।
ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে বাগ্বিতণ্ডা, ‘বিক্রয়কর্মীদের মারধরে’ তরুণ নিহত
০৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিরব আহমেদের (২২) বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবার এলাকায়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে নিরব তাঁর দুজন বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে তেল দেননি। তবে কিছুক্ষণ পরেই স্টেশনের কর্মীরা বোতলে তেল ভরছিলেন। সেটা দেখে তিনি জানতে চান কেন বোতলে তেল ভরা হচ্ছে, আর তাঁকে কেন তেল দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে বাঁশের লাঠি নিয়ে মারধর শুরু করেন। পরে বন্ধুরা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
জ্বালানি সংকট দেখিয়ে বাতিল হচ্ছে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট, শেষ সময়ে ভাড়া বাড়ানোর শঙ্কা
৮ মার্চ ২০২৬, বণিক বার্তা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্টেশনারি ব্যবসায়ী মামুন মৃধা পটুয়াখালীর শাখারিয়াগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের ১৮ মার্চের ঈদযাত্রার টিকিট কিনেছিলেন।
কিন্তু গতকাল পরিবহন বাস কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ওইদিনে নির্ধারিত বাস চলবে না। মামুনের মতো অনেকে আশঙ্কা করছেন, ভাড়া বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অগ্রিম টিকিট বাতিল হওয়ায় শত শত যাত্রীর মধ্যে বাড়ি ফেরা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গতকাল রাজধানীর গাবতলী ও গুলিস্তানের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জেলার বাসের অগ্রিম টিকিট কিনতে আসা মানুষের ভিড়। যারা টিকিট কিনেছেন তাদের সবাইকেই গুনতে হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি টাকা। অনেক কাউন্টার থেকে আবার সিট নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। কারো কারো টিকিট বাতিল হওয়ায় এসেছেন টাকা ফেরত নিতে। আবার কাউন্টারগুলো থেকেও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন কেউ কেউ।
জ্বালানি তেলের জন্য লাইন, পণ্য সরবরাহ নিয়েও দুশ্চিন্তা
০৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
জ্বালানি তেল কিনতে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে গতকাল রোববারও যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইন ছিল। সকালে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল ছিল না। দুপুরের পরে সেগুলোতে তেল আসার পর বিক্রি শুরু হয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, ঢাকার বাইরেও তেলের জন্য যানবাহনচালকদের লাইন ধরতে হচ্ছে। মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তেল না পেয়ে বচসার ঘটনা ঘটছে।
সহজে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও বিপাকে পড়েছে। তারা বলছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দেশে যেসব শিল্পকারখানায় গ্যাস–সংযোগ নেই, সেগুলো বয়লার ও জেনারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে জ্বালানি তেল না পেয়ে এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম আগের মতো চালানো যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে গতকাল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা গতকাল বিপিসির কার্যালয়ে যান। একটি শিল্পগোষ্ঠীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের জন্য তিন হাজারের বেশি ট্রাক রয়েছে। এসব ট্রাক পরিচালনায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না।
এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন
০৮ মার্চ ২০২৬, যুগান্তর
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি এবং তিন তেল বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশ অনেকটা বিপাকে পড়েছে। সময়মতো জ্বালানি তেল মজুতের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মজুত না করায় সারা দেশে তেল নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে সর্বনিম্ন ৬০ দিনের তেলের ধারণ ক্ষমতা বা মজুত রাখার সক্ষমতা তৈরি করার সিদ্ধান্ত হলেও এখন আছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মতো। সেই ৩৫ দিনের মধ্যে ডিজেল আছে ১০-১১ দিনের মতো। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এখন তেলের মজুত আছে ৭৪ দিন, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ৩০ দিন এবং নেপালে আছে ১০ দিনের। অন্যদিকে এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে তেলের মজুত আছে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে ২৫০ দিনের। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশে ৩০-৩৫ দিনের মজুতের ধারণ ক্ষমতা আসলে কোনো কিছুই নয়। এটাকে কোনোভাবে মজুতের ক্ষমতা বা আপৎকালীন সক্ষমতা বলা যায় না। এটা একেবারে পরিচালনের মজুত ছাড়া কিছুই নয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তেল বিতরণ কোম্পানিগুলো জ্বালানি তেলের ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ গ্রহণে আগ্রহী।
কক্সবাজারে ৪ হাজার নৌযানে মাছ ধরা বন্ধ, পর্যটকদেরও দুর্ভোগ
২৪ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
কক্সবাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মাছ ধরার প্রায় চার হাজার নৌযান সাগরে যেতে পারছে না। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহও কমে গেছে। এদিকে জ্বালানি–সংকটের কারণে জেলা শহরের হোটেল-মোটেলগুলোতে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পর্যটন নগর কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।
জেলার ৯টি উপজেলায় জ্বালানি সরবরাহের ৩২টি পাম্প রয়েছে। এ ছাড়া ভাসমান পাম্প রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে শহরের বাইরের পাম্পগুলোতে বর্তমানে পেট্রল নেই। অকটেন-ডিজেলও শেষের পথে। পাম্পের মালিকেরা জানান, চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করছে রাষ্ট্রীয় তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। জেলায় প্রতিদিন জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ১২ লাখ লিটার। এর বিপরীতে মিলছে ৪ লাখ লিটারের মতো। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
দুটি ডিজেলবাহী জাহাজ আনতে বাড়তি ব্যয় ৩৩০ কোটি টাকা
২৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আমদানিনির্ভরতার কারণে এর প্রভাব এখন বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ মাসে দেশে আসা দুটি ডিজেলবাহী জাহাজের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানিতে আগের তুলনায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।
সরকার বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে শুরু করলেও দেশে এখনো জেট ফুয়েল ছাড়া ডিজেল, অকটেন ও পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে পরিবহন, শিল্প ও উৎপাদন খাতে এখনো সরাসরি বড় প্রভাব পড়েনি। জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। এর চাপ পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
তিন কারণে পেট্রোল, অকটেন সংকট
২৬ মার্চ ২০২৬, সমকাল
ঈদের ছুটির পরও রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় বাড়ছে। কোথাও দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড– এই বাস্তবতায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক সবার প্রশ্ন একটাই– দেশে উৎপাদন থাকলে পেট্রোল-অকটেনের এমন সংকট কেন?
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, সম্ভাব্য বাজার কারসাজি এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা– এগুলোর সমন্বয়ে পেট্রোল ও অকটেনের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা– এই তিনটি দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
জ্বালানি খাতের তথ্য বলছে, দেশে পেট্রোলের পুরো চাহিদাই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল চার লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যার শতভাগই দেশে উৎপাদন হয়েছে। অপরিশোধিত তেল থেকে ১৬ শতাংশ উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বাকি ৮৪ শতাংশ বেসরকারি রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত হয়।
অকটেনের ক্ষেত্রেও বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়, মূলত কনডেনসেট থেকে। প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সময় পাওয়া এই উপজাত তরল পদার্থ পরিশোধন করে অকটেন তৈরি করা হয়। গত অর্থবছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার টন কনডেনসেট সংগ্রহ ও পরিশোধন করা হয়েছে। তবে অকটেনের চাহিদা পূরণে ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চার লাখ ১৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৩ টন এমন অকটেন আমদানি করে বিপিসি।
গত পাঁচ বছরে পেট্রোল ও অকটেনের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল তিন লাখ ৭৮ হাজার টন, সেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬২ হাজার টনে। একই সময়ে অকটেনের ব্যবহার তিন লাখ টন থেকে বেড়ে চার লাখ ১৫ হাজার টনে পৌঁছেছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, সমস্যার বড় অংশই সরবরাহ চেইনে। পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম সমকালকে বলেন, ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোল-অকটেন দেশেই উৎপাদিত–তাই এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, বেসরকারি কনডেনসেট রিফাইনারি ইউনিটগুলো দাম বাড়ার আশায় সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
সাড়ে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পেলেন পলাশ
২৭ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
সকাল ৬টা। তেল পাওয়ার আশায় বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন পলাশ রোজারিও। গন্তব্য বাসার অদূরে রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। পলাশ ভেবেছিলেন, এত সকালে হয়তো ভিড় কম থাকবে; কিন্তু পাম্পে গিয়ে তাঁর সেই ধারণা পাল্টে যায়।
পলাশ গিয়ে দেখেন, ততক্ষণে ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। মোটরসাইকেলের লাইন বিস্তৃত হয়েছে এলেনবাড়ির বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত। সেই লম্বা সারির শেষে ২৫-৩০ জনের পেছনে দাঁড়ানোর সুযোগ পান পলাশ। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ১০ থেকে ১৫ মিনিটে একটুও লাইন এগোয় না। পরে পাম্পে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তেল নেই, সরবরাহ এলেই বিক্রি শুরু হবে।
তবে অপেক্ষা ছাড়া তখন আর কোনো উপায় ছিল না পলাশের। কারণ, ব্যবসার কাজে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। মোটরসাইকেলের তেল প্রায় শেষ, তেল নিতেই হবে। তাই অনিশ্চয়তার মধ্যেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। সকাল গড়িয়ে প্রায় ১০টা বাজে। চার ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। আবারও পাম্পের কর্মীদের কাছে গিয়ে খোঁজ নেন তিনি। জানতে চান, তেলের গাড়ি কোথায়, কবে আসবে, কখন বিক্রি শুরু হবে? জবাবে জানানো হয়, দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তেল বিক্রি শুরু হতে পারে।
পলাশের ক্ষুধা আর ক্লান্তি বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার পর সারি ছেড়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছাও আর হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সামনে-পেছনে সারিতে দাঁড়ানো অন্য চালকদের বলে নিজের মোটরসাইকেল লক করে কাছেই তেজকুনীপাড়ার বাসায় যান তিনি। সেখানে নাশতা করে কিছুটা জিরিয়েও নেন।
পরে সোয়া ১২টার দিকে আবার ফিরে এসে দাঁড়ান সেই একই লাইনে। ততক্ষণে রোদ উঠেছে। ভিড় আরও বেড়েছে। কিন্তু অবস্থা ওই একই, গাড়ি এগোয় না। শেষে আড়াইটার দিকে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে সারি।
আজ শুক্রবার বিকেল চারটার কিছু পর কথা হয় পলাশের সঙ্গে। তখন তাঁর মোটরসাইকেলটি পাম্পে ঢোকার মুখে। অবশেষে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তেল পান তিনি।
দীর্ঘ এই ভোগান্তির অভিজ্ঞতা জানিয়ে পলাশ বলেন, ‘সকালে ভেবেছিলাম আধা ঘণ্টা, বেশি হলে এক ঘণ্টার মধ্যে তেল নিয়ে চলে যাব। কিন্তু পুরো একটা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে কাটাতে হবে—এটা ভাবতেই পারিনি। এটা শুধু কষ্ট না, সময়ের অপচয়ও।’
ওই একই পাম্পে কথা হয় আরেক চালক রানা ইসলামের সঙ্গে। তিনি মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার এক বাসিন্দার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। সকাল ৮টার কিছু পরে তেল নেওয়ার আশায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখন ব্যক্তিগত গাড়ির সারির শেষ প্রান্ত ছিল মহাখালী উড়ালসড়ক থেকে নামার মুখে।
সেখানেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষা। সময় গড়ায়, কিন্তু সারি এগোয় না। রোদের মধ্যে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত। এরপর একটু একটু করে গাড়ি সামনের দিকে এগোনো শুরু করে।
বিকেল চারটার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তখন তিনি গাড়ি নিয়ে পাম্পের ভেতরে ঢুকছিলেন। সামনে তখনো কয়েকটি গাড়ি অপেক্ষায়। অবশেষে সোয়া চারটার দিকে তিন হাজার টাকার অকটেন নিতে সক্ষম হন তিনি। সব মিলিয়ে তেলের জন্য তাঁর অপেক্ষা ছিল প্রায় সোয়া আট ঘণ্টা।
তেল নেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত আলাপে নিজের ক্লান্তি আর তাড়াহুড়োর কথা জানান রানা। তিনি বলেন, ‘ভাই, সকাল থেকে কলা-রুটি খেয়ে আছি। খুব খিদে লাগছে। যা বলার তাড়াতাড়ি বলেন। এখন আগে মালিকের বাসায় গাড়ি রেখে তারপর বাসায় যেতে হবে।’
বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়ির সারি গত কয়েক দিনের মতোই দীর্ঘ। বিকেলে ব্যক্তিগত গাড়ির সারি শাহিনবাগ এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত দেখা গেছে। আর মোটরসাইকেলের সারি তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিকেল চারটার দিকে ওই পাম্প থেকে তেল কেনার সারিতে ২১৭টি বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহন এবং ১৭৮টি মোটরসাইকেল দেখা গেছে। রোদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালকদের অনেকে ফুটপাতে গাছের ছায়ায়, অনেকে ছাতা ধরে কিংবা গায়ে কাপড় দিয়ে বসে ছিলেন।
সেচে ডিজেল সংকটের প্রভাব, শঙ্কায় কৃষক
২৮ মার্চ ২০২৬, সমকাল
‘এলাকায় যে কয়ডা দুকান, সব বন্ধ। শহরে আইসেও কোনো ব্যবস্থা করতি পারিনি। এই যে দেহেন, ড্রাম খালি। আমার নিজের ধানও যাচ্ছে, অন্যদেরও যাচ্ছে। গাড়িআলারা তেল পাচ্ছে, আমরা কৃষকরা পাচ্ছিনে। আমরা তো আর তেল নিয়ে নষ্ট করিনে।’
নড়াইল সদর উপজেলার মাছিমদিয়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে গতকাল কথাগুলো বলছিলেন কৃষক কবির হোসেন। সকাল থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে শহরের এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরছেন। কোথাও ডিজেল পাননি। তাঁর বোরো ধানের জমিতে এখনই সেচ না দিলে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা আছে।
এই অবস্থা নড়াইলের কবির হোসেনের একার নয়। দেশের উত্তরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে সমকালের প্রতিনিধিরা প্রায় একই রকম তথ্য পাঠিয়েছেন। এখন বোরো ধানের ভরা মৌসুম। বোরো ধান পুরোপুরি সেচনির্ভর। ফেব্রুয়ারি থেকে মে– এই সময়ে জমিতে নিয়মিত এক দিন পরপর সেচ দিতে হয়। এলাকাভেদে ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বোরো ধানের চাষাবাদ হলেও ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ক্ষেত পুরোপুরি সেচনির্ভর থাকে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭৫৪টি গভীর নলকূপ, ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৭টি অগভীর নলকূপ এবং এক লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৪টি লো-লিফট পাম্প আছে। এসবের বড় অংশই ডিজেলচালিত। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর এলাকায় ডিজেল ছাড়া সেচ প্রায় অসম্ভব।
জ্বালানি তেল সংকটের পেছনে অবৈধ মজুত, কালোবাজারি
২৮ মার্চ ২০২৬, সমকাল
দেশে প্রায় এক মাস ধরে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির সারি এখনও লম্বা। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোথাও ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। সরবরাহ অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে সংকট আর বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। তাদের শঙ্কার সতত্য মিলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অবৈধ তেল মজুত জব্দ হচ্ছে। কালোবাজারে বিক্রির জন্য জরিমানাও করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক দর বেড়েছে। চলতি মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) অন্তত আড়াই হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। আমদানির পেছনে সরকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে ভর্তুকির চাপ কমাতে বিদ্যুতের দর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।
শরীয়তপুরে জ্বালানি সংকটে ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করে কৃষকদের বিক্ষোভ
২৯, মার্চ ২০২৬, চ্যানেল আই অনলাইন
শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে তেল না পেয়ে একটি ফিলিং স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং প্রত্যেককে ১০ লিটার করে জ্বালানি তেল দেওয়া হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের মনোহর মোড়ে অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। জ্বালানি তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা প্রায় দুই ঘণ্টা স্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
পাম্পে তেল না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন কৃষকের, তবু তেল মিলছে না
৩১ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
কৃষিপ্রযুক্তিতে যোগ হয়েছে আধুনিক সব যন্ত্র। এতে জ্বালানি তেল ডিজেলের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ফিলিং স্টেশনগুলোয় ক্যানে (ঢোপ) তেল দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা আছে। ফিলিং স্টেশনে গিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কৃষিযন্ত্র চালানো নিয়ে বিপাকে পড়ছেন কৃষকেরা।
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিপাকে পড়া জাতীয় পুরস্কার পাওয়া কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিনসহ (কুল চাষে সাফল্যের জন্য ‘কুল ময়েজ’ নামে পরিচিত) প্রায় ৪০ জন কৃষক গত রোববার বিকেলে তেলের সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সেখানে কোনো সমাধান না পেয়ে কার্যালয় থেকেই কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিকে ফোন করেন ময়েজ উদ্দিন। ফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়েছেন। মন্ত্রী তৎক্ষণাৎ সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
তবে গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। তিনি জানান, তেলের সমস্যা সমাধানে কয়েক দিন ধরে কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। কিন্তু তাতেও পাম্প থেকে তেল দিচ্ছে না। এ জন্য রোববার তাঁরা ৪০ জন কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলেও সমাধান পাননি। পরে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিকে ফোন দিয়ে তাঁর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তার কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। মন্ত্রী সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলেও গতকাল বিকেল পর্যন্ত তাঁদের অনেকে পাম্প থেকে তেল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।
ডিজেল সংকটে উপকূলের লাখো জেলে কর্মহীন
০১ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার জেলে রণজিৎ চন্দ্র দাস সাত দিন ধরে নৌকা ঘাটে বেঁধে বসে আছেন। নদী আছে, জাল আছে, ইঞ্জিনও আছে; কিন্তু নেই ডিজেল। এই অভাবই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।
নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে রণজিৎ বলেন, ‘নদীতীরের হাটবাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে লিটারপ্রতি ৬০-৭০ টাকা বেশি দামে কিনে নদীতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই খরচ তোলা সম্ভব না।
রণজিৎ বলেন, ‘সাত দিন ধরে নৌকা বন্ধ। পরিবার আর শ্রমিকদের নিয়ে খুব বিপদে আছি। ছেলেমেয়ের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।’ রণজিৎ একা নন; একই চিত্র দেশের প্রায় সব নদী ও উপকূলীয় এলাকায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে। ডিজেলের সংকটে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নদী কিংবা সাগরে যেতে পারছে না।
মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, এ অবস্থা চলতে থাকলে মাছ ধরা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
জেলে ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইতোমধ্যে নদনদীতে মাছ আহরণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় মৎস্যবন্দর ও মোকামগুলোতে। অনেক জায়গায় কার্যক্রম প্রায় স্থবির। ফলে শুধু জেলে নয়; আড়তদার, পাইকার, শ্রমিক, বরফকল মালিক, পরিবহনকর্মীসহ পুরো মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এখন ঝুঁকির মুখে।
হরমুজ পেরোতে ইরানের ছাড়পত্র পাওয়া বাংলাদেশের ৬ জাহাজের মধ্যে ৫টির চালানই বাতিল
০২ এপ্রিল ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
বাংলাদেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী ছয়টি জাহাজ নিরাপদে চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে ইরান সরকার। তবে এর মধ্যে পাঁচটি চালানই ইতোমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহকারীরা বাতিল করেছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানে পাঠানো তালিকাটি পুরোনো পরিকল্পনা ও নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল।
এসব নথিতে কাতারএনার্জি ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিংয়ের ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই, মার্চের শুরুতে এই দুই প্রতিষ্ঠান সব সরবরাহ স্থগিত করে।
১২ কেজি এলপিজির দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা
০২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এপ্রিলে প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে, ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এরপর এলপিজির আমদানি শুল্ক কমানোর পর ২৪ ফেব্রুয়ারি দাম সমন্বয় করে ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় পেছাল ফুয়েল লোডিং
০২ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র ইস্যু করেনি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ফলে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ৭ এপ্রিল যে ফুয়েল লোড করার কথা ছিল, তা হচ্ছে না। এতে দেশের প্রথম পারমাণবিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও পিছিয়ে গেল।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সব কাজ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ। এটা পর্যালোচনা করতে পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের হয়তো দুই থেকে চার দিন সময় লাগবে। এর পর ফুয়েল লোডিংয়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আশা করছি, এপ্রিলেই ফুয়েল লোড সম্ভব হবে।
অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
০৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলে। আর ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এবং ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টার মধ্যে।
এ ছাড়া দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ হবে, যা আজ শুক্রবার থেকেই কার্যকর হবে।
একটি রাত, একটি তেলের পাম্প, শত শত মানুষের নির্ঘুম অপেক্ষা
০৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টা। দিনের কর্মব্যস্ত ঢাকা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনে শত শত মানুষের চোখে ঘুম নেই। উত্তরের মহাখালী থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিকে তেজগাঁও পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি। হেডলাইটের আলো আর তেলের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ক্লান্ত মুখগুলো যেন এক অস্থির সময়ের প্রতিচ্ছবি।
রায়েরবাগ থেকে আসা মোটরসাইকেলচালক কামরুল হাসানের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছে। ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে এসেছেন শুধু একটু তেলের আশায়। গতকাল রাত ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি যখন ৬০০ টাকার তেল পেলেন, তখন প্রায় ভোর হয় হয়। ঘড়িতে সোয়া ৪টা।
দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার যুদ্ধ শেষে কামরুল আক্ষেপ করে প্রথম আলোকে জানান, তিনি তেজগাঁওয়ের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। প্রতিদিন তাঁকে রায়েরবাগ থেকে বাইকে যাতায়াত করতে হয়। তেলের সংকটে এখন পাম্পগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল দিচ্ছে। এই অল্প তেলে তাঁর বড়জোর দুই থেকে তিন দিন চলে।
কামরুল আপসোস করে বলেন, ‘সপ্তাহে তিন দিন যদি এভাবে সাত-আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে তো জিন্দেগি শেষ!’
দীর্ঘ অপেক্ষা
বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্প থেকে শুরু হওয়া গাড়ির লাইন পৌঁছেছে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের সামনে পর্যন্ত। এই দীর্ঘ লাইনে গুনে দেখা গেল ৪৮৩টি মোটরসাইকেল, ৩৬৯টি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ৩১টি পণ্যবাহী ট্রাক তেলের জন্য ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তিতে কেউ মোটরসাইকেলের ওপরই মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছেন, কেউবা সময় কাটাতে পাশের চালকদের সঙ্গে মুঠোফোনে লুডু খেলছেন। আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে অনেকেই সড়ক বিভাজকের ওপর বসে পড়েছেন।
গরমের আগেই লোডশেডিং শুরু, ঢাকার চেয়ে গ্রামে বেশি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে গ্রীষ্মের আগেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। এটি সহনীয় রাখতে জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এবারের গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং হয়েছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ঢাকা শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং বেশি।
জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি
বেশি প্রভাব দশ খাতে
০৬ এপ্রিল ২০২৬, যুগান্তর
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে সব খাতে। ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল অবস্থায় আছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সেটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধের কারণে দেশের অন্তত ১০টি খাতের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহণ, শিল্প খাত, কৃষি, আমদানি-রপ্তানি, গৃহস্থালি, সেবা, নির্মাণ, পর্যটন ও বিনোদন এবং টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। মোট জ্বালানির ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আবার জ্বালানি মজুদেরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বড় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সংকট মোকাবিলায় সরকার মার্কেট খোলা রাখার সময় কমিয়ে আনা, বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ানো, অফিস সময় এগিয়ে আনা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি সব উদ্যোগের মূল কথা হলো-চাহিদা কমানো। কিন্তু সরবরাহ বাড়াতে তেমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিতে বড় দুর্বলতা তৈরি করেছে এমন নয়। দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। ইরান যুদ্ধ সেটার প্রকাশ ঘটছে।
জ্বালানি সংকটে কমেছে যান চলাচল, বেড়েছে ভাড়া
০৬ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতে। ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে সড়কে প্রাইভেটকার, বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাসের চলাচল কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। পণ্য পরিবহন ভাড়া তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কমেছে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার। নৌযান চলাচল কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই বাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে রিকশা বা রাইড শেয়ারিং সেবার দিকে ঝুঁকছেন, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। চালক-শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
উত্তরাঞ্চলে তীব্র ডিজেল সংকটে বন্ধ ৪ হাজার পণ্যবাহী পরিবহন
৬ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে তীব্র ডিজেল সংকটে উত্তরাঞ্চলে সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় চার হাজার ট্রাক-পিকআপসহ পণ্যবাহী পরিবহন।
এসব যানবাহনের চালক-হেলপারসহ এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত শ্রমিকরাও আকস্মিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তরবঙ্গে এ মুহূর্তে অর্ধলাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মহীন।
দেশের অন্যতম খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চল। এ অঞ্চলে আবাদ হয় ধান, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। এছাড়া স্বাদু পানির মাছ, মুরগি, গবাদিপশুর বহু খামার রয়েছে। অন্যদিকে, সোনামসজিদ-বাংলাবান্ধার মতো স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পাথর, ফল, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, সিমেন্টের ফ্লাই-অ্যাশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়। এসব কৃষি ও আমদানি পণ্য পরিবহনে সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে চলাচল করে ১০ হাজারেরও বেশি ট্রাক-পিকআপ, যা টিকিয়ে রেখেছে শতকোটি টাকার বাণিজ্য। এ বাণিজ্যেও এখন লোকসান দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্বালানি তেলের সংকটে মাছ আহরণ কমেছে অন্তত ১০%
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
জ্বালানি তেলের সংকটে সাগরে নিয়মিত মাছ শিকারে যেতে পারছে না দেশের সমুদ্র অঞ্চলের অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ও কাঠের নৌযান (ট্রলার)। ফলে উপকূলীয় জেলেদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মাছ আহরণ কমেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জ্বালানিসংকট শুরুর পর সাগর থেকে মাছ ধরা ১০-১৫ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩০ হাজার নৌযান ও বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে মাছ ধরে। এগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টন মাছ ও চিংড়ি আহরণ করা হয়। তবে সম্প্রতি জ্বালানিসংকটে অনেক জাহাজ ও নৌযান নিয়মিত সাগরে যেতে পারছে না। যেসব নৌযান সাগরে যাচ্ছে, তাদেরও সাগরে অবস্থানের সময় কমেছে। এ ছাড়া জেলি ফিশের আধিক্য, সাগর উত্তালসহ প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে মাছ আহরণ কমেছে।
প্রতি শতাংশ সেচে ডিজেল খরচ ৪০ টাকা, সৌরবিদ্যুতে ২৫ পয়সা
১২ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
বৈশ্বিক বাজারে ডিজেলের দাম ও সংকটে দেশে কৃষিকাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তবে এর প্রভাব পড়েনি বরিশালের কৃষিতে ব্যবহার হওয়া সেচ ব্যবস্থাপনায়। সেচ ব্যয়ের বোঝা কমাতে এ বিভাগে নতুন ভরসা হয়ে উঠেছে সৌরচালিত পাম্প। বিএডিসি বলছে, ডিজেল ব্যবহার করে সেচ দিতে হলে প্রতি শতাংশে কৃষকের খরচ হয় ৪০ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে সৌরচালিত পাম্প দিয়ে সেচ দিলে ব্যয় হয় মাত্র ২৫ পয়সা।
জানা গেছে, বরিশালের ছয় জেলায় ডিজেলচালিত সেচ স্কিম রয়েছে ৩৪০টি। বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এ প্রকল্প চালু করেছে। এছাড়া বিভাগের ছয় জেলায় সৌরবিদ্যুচ্চালিত পাম্প স্থাপন করা হয়েছে ৪৫টি। বিদ্যুচ্চালিত সেচ পাম্প রয়েছে ৩১টি। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বরিশাল বিভাগের সাত উপজেলায় ইরিগেশন প্রজেক্ট নামে একটি প্রকল্পের অধীনে ৭৮টি পাম্প হাউজ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল সদর উপজেলায় ১৬টি, বাবুগঞ্জে ১৪, বাকেরগঞ্জে ১২, নলছিটিতে ১৪, ঝালকাঠি সদরে ১৪, রাজাপুরে সাত ও কাউখালীতে একটি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
গ্রামে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না
১৬ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
বিদ্যুতের ভোগান্তি বেড়েছে। তবে শহরে তুলনামূলক কম লোডশেডিং হচ্ছে– এক থেকে দেড় ঘণ্টা। গ্রামে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর বিভাগে লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সহনীয়। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় পল্লি মানুষের জীবনে নেমে এসেছে ভয়ানক দুর্ভোগ। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র শিল্প, বাণিজ্য।
সরকারি তথ্যমতে, লোডশেডিং দুই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের চলমান সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে কয়লার স্বল্পতা। এতে বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে। এ ছাড়া নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার দ্বিগুণ হলেও ঘাটতি মেটাতে সরকার হিমশিম। লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলাতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। তবে এই লোড সমভাবে বণ্টন হচ্ছে না। রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে নামমাত্র লোডশেডিং দিয়ে পল্লি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
১৭ এপ্রিল ২০২৬, মানবজমিন
বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং বর্তমানে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। শুক্রবার চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের জমি, তেলের খোঁজে পাম্পে পাম্পে ঘুরছে কৃষক
১৭ এপ্রিল ২০২৬, জাগো নিউজ
বগুড়ার শেরপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশন। দুপুর পেরিয়ে বিকেল। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। পাম্পের এক পাশে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেল, অন্যপাশে ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা। সেই লাইনের মাঝখানে দুই হাতে কনটেইনার ধরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন কৃষক। কারও মুখে বিরক্তি, কারও চোখে উৎকণ্ঠা। তাদের তাড়া রাস্তার জন্য নয়, জমির জন্য। মাঠে পানি দিতে না পারলে ধান বাঁচবে না। কিন্তু ডিজেল ছাড়া সেচ পাম্প চালানোও সম্ভব নয়।
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে যখন ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, তখন বগুড়াজুড়ে দেখা দিয়েছে এমন ডিজেল সংকট। জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন, তেল শেষ হয়ে যাওয়া, সীমিত বিক্রি এবং অনিশ্চয়তার চিত্র দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন কৃষকেরা। কারণ উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় বোরো চাষের বড় অংশই এখনো ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ডিজেলবাহী জাহাজ, আসছে আরও তিনটি
১৭ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জ্বালানি সংকটের মধ্যে পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি জাহাজ। ডিজেলবাহী আরও দুটি জাহাজ রাতে পৌঁছানোর কথা।
বন্দর সচিবে সৈয়দ রেফায়েত হামিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ তিনটি ছাড়াও ডিজেলবাহী আরেকটি জাহাজ রোববার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছার কথা রয়েছে।
সব মিলিয়ে চারটি ট্যাংকারে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে।
মুন্সিগঞ্জে পাম্পে কৃষকদের লাইন
‘ধান গাছ সব পুইড়া যাইতাছে, দুঃখে বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে’
১৭ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডিজেল না পাওয়ায় বোরোসহ বিভিন্ন আবাদি জমির সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলার হরপার ফিলিং স্টেশনে শুক্রবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা ডিজেলের জন্য ড্রাম নিয়ে ভিড় জমান। দুপুর পর্যন্ত শতাধিক কৃষককে ডিজেলের জন্য এ পাম্পে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
বেলা দুইটার দিকে হরপার পাম্পে তেল পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে ছিলেন উপজেলার পাচলদিয়া এলাকার কৃষক নান্নু মিয়া। তিনি এবার দুই কানি (প্রায় ৭০ শতাংশ) জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ডিজেল সংকটে জমিতে তিনি সেচ দিতে পারছেন না। নান্নু মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তেলের জন্য পাম্পে লাইনে ছিলাম। অপেক্ষা করেও তেল পাইনি। শুক্রবার সকাল থেকে আবারও তেলের জন্য লাইন ধরছি। জমির ধান গাছ সব পুইড়া যাইতাছে। দুঃখে বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে।’
পেট্রল-অকটেন-ডিজেলের দাম বাড়ল
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ডেইলি স্টার অনলাইন বাংলা
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা, ডিজেল ১১৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা হয়েছে। এর আগে অকটেনের দাম ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা ছিল।
নতুন দাম অনুযায়ী, অকটেন বেড়েছে ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা, ডিজেল ১৫ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১৮ টাকা বেড়েছে। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার চান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ
১৭ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বর্তমান জাতীয় সংসদে আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির এই সদস্য।
এই চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের আর কী কী ‘সর্বনাশ’ করেছে, সেটির বিষয়ে তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা ও অপরাধীদের বিচারের দাবি তুলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো সর্বনাশা কাজ করেছে। তাঁদের অনেকে হয়তো এখন বিদেশে থাকেন। যেখানেই থাকুক, তাঁদের বিচার করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব।’
বিদ্যুৎ–সংকটে জেনারেটর–নির্ভর মোবাইল নেটওয়ার্ক, দিনে জ্বালানির চাহিদা এক লাখ লিটার
১৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ–সংকটের প্রভাব এবার মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামোয় পড়ছে। বিদ্যুৎ গ্রিডের অনিয়মিত সরবরাহে নেটওয়ার্ক পরিচালনা এখন প্রায় পুরোপুরি জেনারেটর–নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে দৈনিক জ্বালানির চাহিদা বেড়ে প্রায় এক লাখ লিটারে পৌঁছেছে।
মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মোবাইল বেজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রাখতে প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৫২ হাজার ৪২৫ লিটার ডিজেল ও ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন। এর বাইরে ডেটা সেন্টার ও সুইচিং অবকাঠামো সচল রাখতে আরও ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে। তবে ইরান যুদ্ধের পর শুরু হওয়া জ্বালানিসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে এর প্রভাব দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা অপারেটরদের।
তেলের সংকট ও লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা দূর করছে ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র
১৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সকাল গড়িয়েছে। রোদের তেজ বাড়ছে ধীরে ধীরে। সেই রোদেই প্রাণ পাচ্ছে একটি যন্ত্র—চাকা লাগানো, খেতে দাঁড়িয়ে থাকা এক অন্য রকম কাঠামো। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটা গর্জে ওঠে। মাটির গভীর থেকে উঠে আসে পানির ধারা। সেই পানি জমির আল বেয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
অভিনব এ যন্ত্রের পেছনের কারিগর সোলেমান আলী। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানী গ্রামে। জ্বালানি তেলের সংকট আর লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা যখন কৃষকদের নিত্যসঙ্গী, তখন সূর্যের আলোকে কাজে লাগিয়ে তিনি খুঁজে পেয়েছেন ভিন্ন এক সমাধান। তৈরি করেছেন স্বল্প খরচে ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র—যা এক খেত থেকে আরেক খেতে নিয়ে সহজেই ব্যবহার করা যায়।
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে দেশব্যাপী তেলের সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিলো বিপিসি
২০ এপ্রিল ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সরবরাহকারী কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনাকে দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো চিঠিতে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহ ১০ শতাংশ করে বাড়াতে বলা হয়েছে।
কিটসংকটে হাম পরীক্ষা কম হচ্ছে, শনাক্তও কম
২০ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
হাম শনাক্তের পর্যাপ্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। কিটসংকটের কারণে প্রতিদিন স্বল্পসংখ্যক পরীক্ষা হচ্ছে। এতে দেশের হাম পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
শুধু রাজধানীর মহাখালীতে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে হামের পরীক্ষা হয়। দেশে আর কোথাও এমন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দৈনিক তিন-চার শ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা এখন প্রতিদিন গড়ে ১২০ বা তার কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা করছি। কিটস্বল্পতার কারণে বেশি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।’
জ্বালানি সংকট: উপচে পড়ছে সব ডিপো, তবু তেল নিয়ে হাহাকার
২১ এপ্রিল ২০২৬, আজকের পত্রিকা
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ডিপোতে তেল রাখার জায়গা নেই। তেলবোঝাই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও খালাস করা যাচ্ছে না। তেলভর্তি জাহাজ ভাসছে সাগরে। অন্যদিকে বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলোও জানাচ্ছে, তাদের ডিপোতেও তেল রাখার জায়গা নেই। তেল নেওয়ার জন্য তারা বিপিসির কাছে ধরনা দিচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখনো দেশজুড়ে পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে দিনরাত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে দেশজুড়ে।
দেশের বেসরকারি শোধনাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম সুপার পেট্রোকেমিক্যাল। অপরিশোধিত তেল আমদানি করে পরিশোধনের পর অকটেন ও পেট্রলের চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে তারা।
বিপিসি ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চে দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হলে সরকার সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ পায়নি। মার্চে কম দিয়ে এখন এপ্রিলে দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতিষ্ঠানটি বাড়তি তেল দিতে চাইছে।
সরিষাবাড়ীতে কৃষি কার্ড নিয়ে পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক
২২ এপ্রিল ২০২৬, ইত্তেফাক
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও সেচকাজ। অন্যদিকে জ্বালানি তেল ঠিকমতো না পাওয়ায় যাত্রা বাতিল হচ্ছে যাত্রীবাহী বাসগুলোর। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কৃষক ও বাসযাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডিজেল নিতে পাম্পগুলোতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি কারো হাতে তেল নেওয়ার ক্যান বা বোতল, আবার কেউ শ্যালো মেশিনের ফুয়েল ট্যাংক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ফজর নামাজের পর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় কৃষকদের। তারা বলছেন, ডিজেল না থাকায় গত কয়েক দিন থেকে বন্ধ রয়েছে ডিজেল চালিত অধিকাংশ সেচ পাম্প পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
লোডশেডিং মানেই গ্রাম, স্থায়ী হচ্ছে বিদ্যুৎবৈষম্য
২২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
গরমের সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের ঘাটতি। বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াট পার হচ্ছে। তবে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যার প্রায় পুরোটাই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামের মানুষের ওপর। পরিকল্পনা করেই লোডশেডিংমুক্ত রাখা হচ্ছে ঢাকা শহরকে।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্ম মৌসুমে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। আর বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে শুরুতেই সরবরাহ কমানো হয় গ্রামে। ঘাটতি বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে শহরে কিছু লোডশেডিং করা হয়। তবে তা গ্রামের তুলনায় অনেক কম।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তাদের নির্দেশনায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। আর ছয়টি বিতরণ সংস্থা গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ দেয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। এ তিন সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ২ হাজার ৫০৬ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ২ হাজার ২২৯ মেগাওয়াট ছিল আরইবির। কেন্দ্রীয় হিসাবে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট। যদিও আরইবির তথ্য, তাদের লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ১১ মেগাওয়াট।
জ্বালানিসংকটে রাজধানীতে ২০ শতাংশ বাস চলাচল বন্ধ
২২ এপ্রিল ২০২৬, ইত্তেফাক
জ্বালানিসংকটে রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে রাজধানীর প্রায় ২০ শতাংশ বাস সড়ক থেকে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে অফিসফেরত যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ৩৫% পর্যন্ত, বাড়ছে কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের দাম
২২ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আগেই বেড়েছিল পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া। এর মধ্যে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে সরকার। দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া বেড়েছে আরেক দফা।
সরকার ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ালেও মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি পণ্যবাহী যানবাহনের স্বল্পতাও রয়েছে। এর প্রভাবে খাদ্যশস্য, শাকসবজি, কাঁচামাল, মৌসুমি ফল, প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ সব ধরনের কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়েছে। শুধু কৃষিপণ্য নয়, ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাবে আমদানি-রফতানিসহ দেশের শিল্প খাতের পণ্য পরিবহনও এখন আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
তেল নিতে পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কৃষকের মৃত্যু
২২ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে হিটস্ট্রোকে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ওই কৃষকের নাম আব্দুল আলাম ওরফে আলাউদ্দিন (৬০)। তিনি কেশরহাট পৌর এলাকার বাকশৈল গ্রামের নাসের আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দেওয়ার জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কেশরহাট পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলাউদ্দিন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিপিসির লাভের সুফল পায় না জনগণ
২১ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গত ১১ বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। বছরে গড়ে লাভ সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সংস্থাটি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে সোয়া লাখ কোটি টাকার ওপরে। তবে এমন লাভের সুফল পায় না জনগণ।
প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পণ্যের বাজার দামের সঙ্গে দেশে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এই দাম বৃদ্ধির ফর্মুলা এবং বিপিসির আর্থিক হিসাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, লাভের অংশ থেকে বিশেষ তহবিল করলেই যুদ্ধ বা মহামারিকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির দিকে যেতে হয় না।
দেশের অর্থনীতি এবং জনজীবনের অন্যতম ‘লাইফ লাইন’ ডিজেল-পেট্রোলের মূল্য বাড়লে পণ্যমূল্য, যাতায়াত, বিদ্যুৎ, কৃষিসহ সবকিছুর উৎপাদন খরচ বা দাম বেড়ে যায়। গত শনিবার রাতেও ১৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয় ডিজেল-অকটেনের। এতে এই পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলোর দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার সার্বিক বিষয় মাথায় নিয়ে ভেবে এ খাতে বিশেষ করে ডিজেলের দাম সহনীয় মাত্রায় রাখা গেলে জনজীবনে স্বস্তি বিরাজ করত। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকত।
বাসভাড়া বাড়ল কিলোমিটারে ১১ পয়সা, কোন ভাড়া কত হলো
২৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার বাসের ভাড়া সমন্বয় করল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
নতুন এই ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর বলে জানান মন্ত্রী। জ্বালানি তেলের দাম বাড়া–কমার সঙ্গে পরবর্তী সময় বাসভাড়া সমন্বয় করা হবে বলেও তিনি জানান।
ছেলের জীবিকা বাঁচাতে পেট্রোল নিতে লাইনে মা
২৪ এপ্রিল ২০২৬, আরটিভি নিউজ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের ডেমলা ফিলিং স্টেশনে থেকে ছেলের মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল নিতে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এক মাকে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ফিলিং স্টেশটিতে সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য নিজের কষ্ট ভুলে ছেলের জীবিকা বাঁচাতে তেল সংগ্রহে জন্য এসেছেন।
তিন সন্তানের জননী বিথিকা রানী বৈদ্য বলেন, আমার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল চালিয়ে ও কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। সময়মতো তেল না পাওয়ায় আজ সে কৃষি কাজ করতে গেছে। তাই আমি দুই দিন ধরে তেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। আজ সকালে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের আগে তেল দেওয়া হয়েছে। এরপর সাধারণ মানুষের লাইনে কিছু তেল দেওয়া হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিয়ম ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রায় দুই-তিনশ মানুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় আছি, জানি না কখন তেল পাব।
শ্রমজীবি মানুষের কথা
ফেব্রুয়ারির বেতন হয়নি ৩২.৩৪% কারখানায়, ঈদ বোনাস দেয়নি ৬৩.৪৫%
১৬ মার্চ ২০২৬, বণিক বার্তা
ঈদের আগে দেশের শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন চলতি মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশনা ছিল।
আর ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা ছিল ১২ মার্চের মধ্যে। কিন্তু শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সংস্থা শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকাল পর্যন্ত আট শিল্প এলাকার ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ কারখানার কর্মীরা ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। আর ঈদের বোনাস পরিশোধ হয়নি ৬৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কারখানায়।
দেশে শিল্প অধ্যুষিত আট এলাকা আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেটে মোট কারখানার সংখ্যা ১০ হাজার ১০০। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানা ৬ হাজার ৮৩৪টি। এ হিসাবে বেতন পরিশোধ করা কারখানা ৬৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। পরিশোধ হয়নি ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ২৬৬ কারখানায়।
রাজধানীতে মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইন বসাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ডেসকোর ৩ কর্মী নিহত
১৬ মার্চ ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
রাজধানীর খিলক্ষেতে মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইন বসানোর কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) তিন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে খিলক্ষেতের খাঁপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বরগুনা সদর উপজেলার মো. রাজিব হোসেন (২৫) ও রাজ্জাক মিয়া (৫৭) এবং জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ফরিদ জামান (৬৪)। আহত অন্য দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই ডেসকোর আউটসোর্সিং (সাব-ঠিকাদার) প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরাও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, খাঁপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরের পাশে মাটির নিচ থেকে ক্রেন দিয়ে বৈদ্যুতিক তার তুলছিলেন ওই কর্মীরা। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত অন্য একটি সচল বৈদ্যুতিক খুঁটির তারের সঙ্গে স্পর্শ লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন পাঁচজন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিহত ২৬, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি
২৮ মার্চ ২০২৬, যমুনা টিভি অনলাইন
লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু হয়েছে ২২ অভিবাসন প্রত্যাশীর। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় আরও ২৬ জনকে। যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।
গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ইউরোপ যাওয়ার পথে ছয় দিন ধরে নৌকায় ভাসার পর গ্রিস উপকূলে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
মাঠের হাসি বাজারে গিয়ে মলিন
০১ এপ্রিল ২০২৬,সমকাল
‘সাড়ে ১১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ ছিল। বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ মণ। শ্রমিকের টাকা পরিশোধের জন্য গত রোববার (২৯ মার্চ) ৯ মণ পেঁয়াজ হাটে বিক্রি করতে নিছিলাম। কিন্তু ৭০০ টাকা মণ দাম হওয়ায় ফেরত আনছি। এই দামে বিক্রি করলে লাভ দূরে থাক, খরচই উঠবে না! কৃষক বাঁচবে কী করে?’
আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বরইচারা গ্রামের কৃষক জহির হোসেন। তাঁর ভাষ্য, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বর্তমান পেঁয়াজের বাজারদরও একই। এতে লোকসানের শঙ্কা করছেন জহিরের মতো কৃষকরা। তারা বলছেন, এবার চাষ, সার, পরিচর্যাসহ সবকিছুর খরচ বেশি লাগেছে। খরচ বাড়লেও পেঁয়াজের ফলন গতবারের চেয়ে বেশি হওয়ায় কৃষকরা খুশি। কিন্তু দামে অখুশি তারা।
রাজধানীর ফুটপাত-সড়কে উচ্ছেদ অভিযান, মামলা ২৫
০১ এপ্রিল ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযানে নেমেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
বুধবার সকাল ১০টার পর থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া এ অভিযানে কিছু জায়গায় বাধা আসলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না, অভিযানের ব্যাপারে সবাই সহযোগিতা করছেন। আমরা রাজধানীবাসীর সকলের সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ চলমান রাখবো। ফুটপাত মুক্ত রাখবো।”
দাউদকান্দিতে খাদে পড়ে নিহত সবাই ধানকাটা শ্রমিক, খরচ কমাতে যাচ্ছিলেন ট্রাকে করে
১৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে হতাহত শ্রমিকেরা খরচ কমাতে ট্রাকে করে কাজের সন্ধানে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। আজ মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন হতাহত ব্যক্তির স্বজন পুলিশের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওই দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিক নিহত হন ও আহত হন আরও ছয়জন। তাঁরা সবাই বোরো ধান কাটার শ্রমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
প্রসিকিউশনের উদাসীনতায় ১৩ বছর ঝুলছে বিচার
২৪ এপ্রিল ২০২৬, যুগান্তর
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ হয়নি এখনো। ১ হাজার ১৩৬ প্রাণহানির এ মামলায় উচ্চ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে অনেক আগে; কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া এখনো আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনার আমলে সদিচ্ছার অভাবে এই মামলার বিচার এগোয়নি। এই ট্র্যাজেডিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। অন্যদিকে বিচার শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে। তাদের প্রশ্ন-এত প্রাণহানির দায় নির্ধারণে আর কত সময় লাগবে?
১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাককর্মীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলাটি ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। ওই নির্দেশনার ২৬ মাস পার হলেও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। আগের মতোই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আটকে আছে।
বর্তমানে হত্যা মামলাটি ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৯৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন ৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ৩০ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
এছাড়া রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ঘটনায় ইমারত নির্মাণ আইনে আরেক মামলার বিচারও ঝুলে রয়েছে। মামলাটি ঢাকার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় ১৩৫ জন সাক্ষীর মধ্যে একজনেরও সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ২০ এপ্রিল এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন প্রসিকিউশন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির করতে পারেনি। এ কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) ফয়সাল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনার আমলে এই ট্র্যাজেডিকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া হয়েছে। তাদের সদিচ্ছার অভাবে এ মামলার বিচার এগোয়নি। দিনের পর দিন পার হলেও রাষ্ট্রপক্ষ বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলা শেষ করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর মামলাটি নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘দুপুরে শুকনো কিছু খেয়ে কাজ চালাই, যদি একটু টাকা বাঁচে’
২৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সকাল গড়িয়ে দুপুর। মাথার ওপর তপ্ত রোদ। খুলনার গল্লামারী বাসস্ট্যান্ডে মোটরসাইকেলের হ্যান্ডেলে এক হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মো. আতিয়ার রহমান। অন্য হাতে তালপাতার পাখায় একটু স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা। ঘাম ঝরছে থেমে থেমে, রোদের তাপে ফুটছে চারপাশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রী নিয়ে এখানে এসেছেন। বেলা দেড়টা বাজলেও নতুন কোনো যাত্রীর দেখা নেই। চোখেমুখে অপেক্ষার ক্লান্তি আর কণ্ঠে অনিশ্চয়তা নিয়ে বললেন, ‘কখন যাত্রী পাব ঠিক নেই। এখন সবই কপালের ওপর।’
খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়খালী গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান। ৫০ বছরের জীবনে ১৬ বছর ধরে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়েই সংসার চলছে। খুলনা নগরের প্রবেশদ্বার গল্লামারী থেকে দাকোপ–পাইকগাছা সীমান্তের মোজামনগর পর্যন্ত তাঁর নিয়মিত রুট। উপজেলার অভ্যন্তরীণ পথেও যাত্রী নিয়ে যান। উপকূলের এই অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ অনুন্নত হওয়ায় মোটরসাইকেলই অন্যতম ভরসার যান। হাজারো মানুষ এই পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকট তাঁদের জীবনযাত্রাকে ওলটপালট করে দিয়েছে।
কিছুদিন আগেও গ্রামের দোকানেই জ্বালানি তেল পেতেন। সেই দিন এখন নেই। এখন শহরের পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। শুক্রবার দুপুরে গল্লামারী বাসস্ট্যান্ডে আতিয়ার রহমান বলছিলেন, ‘কখনো তিন ঘণ্টা, কখনো পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়েছি। তারপরও নিশ্চয়তা নেই তেল পাব কি না। কখনো ৩০০, কখনো ৫০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরে এসেছি। এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেছি শুধু তেলের আশায়। গত দুই-তিন দিনে লাইন কিছুটা কমলেও সমস্যা কাটেনি পুরোপুরি। চাহিদামতো পেট্রল না পেয়ে অনেক সময় অকটেন নিতে হচ্ছে। অকটেনে মাইলেজ কম। খরচ বাড়ে। কিন্তু যাত্রী তো সেটা বুঝতে চায় না।’
জ্বালানির এই সংকট সরাসরি আঘাত করেছে আয়ে। আগে খরচ বাদে দিনে ৬০০–৭০০ টাকা থাকত, এখন তা নেমে এসেছে ৩০০–৪০০ টাকায়। তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া বাড়াতে হয়েছে, কিন্তু যাত্রী কমে গেছে। অটোরিকশায় ভাড়া না বাড়ায় অনেক যাত্রী সেদিকে ঝুঁকছেন। তার ওপর প্রচণ্ড রোদে যাত্রী চলাচলও কমে গেছে, স্ট্যান্ড আরও ফাঁকা হয়ে পড়ছে।
স্ট্যান্ডে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎই কথায় বেরিয়ে আসে তাঁর দুশ্চিন্তা। বলেন, ‘আগে দুপুরে হোটেলে খেয়ে নিতাম। এখন অনেক সময় দুপুরে না খেয়েই থাকি। শুকনো কিছু খেয়ে কাজ চালাই, যদি একটু টাকা বাঁচে।’
‘কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি, কোনো লাভ নাই’
২৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
হাওরে এবার ২০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন কৃষক আলী আকবর। তিন বিঘা জমির ধান কেটেছেন। একদিকে হাত খালি, অন্যদিকে শ্রমিকও পাওয়া যায় না। তাই ১৩ বছর বয়সী ছেলে রেদোয়ানকে নিয়েই জমির ধান কাটতে নেমেছেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে বৈশাখের কড়া রোদে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরে দেখা আলী আকবরের সঙ্গে। আরও দুই কৃষকের সঙ্গে হাওর থেকে ধান কেটে এনে মাড়াই করার জন্য খলায় রাখছিলেন তিনি। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব দিক থাকি চাপও আছি আমরা। কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই। ধানের দাম আর খরচ ত সমান সমান। সবতার দাম বেশি। এখন সংসার চালানোই দায়।’
হাওরপারের হাছনবাহার গ্রামে বাড়ি এই বর্গাচাষি হিসাব কষে বলেন, এখন এক বিঘা জমি আবাদ করতে শ্রমিক, সার, বীজ ও কীটনাশক মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এরপর এক বিঘা জমির ধান কাটাতে শ্রমিক লাগে চারজন। এবার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এরপর আছে মেশিনে মাড়াই। এক বিঘায় ধান হয় ১২ থেকে ১৪ মণ। সব খরচ বাদে ধান যা থাকে, তাতে কোনোরকমে চলতে হয়।
কথায় কথায় আলী আকবর বলছিলেন, ডিজেলের দাম বেশি। এ কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে মেশিনের খরচ এবার বাড়তি দিতে হচ্ছে। ধানকাটা শ্রমিক নেই, এটা আরেক সমস্যা।
স্ত্রী ও চার ছেলেকে নিয়ে ছয় সদস্যের পরিবার আলী আকবরের। ১৩ বছর বয়সী বড় ছেলে রেদোয়ানকে সংসারের টানাপোড়েনের কারণে সপ্তম শ্রেণির পর আর স্কুলে পাঠাতে পারেননি। বর্গাচাষ করে যা ধান পান, তা দিয়ে পুরো বছর চলে না। এখন দ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে সংকট আরও বেড়েছে।
‘প্রচণ্ড তাপে মুরগি মারা যাচ্ছে, জেনারেটর চালিয়ে টিকতে পারতেছি না’
২৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
‘সবচাইতে যে সমস্যাটা আমরা ফেস করতেছি, সেটা হচ্ছে বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। এই যে প্রচণ্ড তাপ, এই তাপে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মুরগিগুলো মারা যাচ্ছে। আবার জেনারেটর যে চালাব, সেই তেলের যে দাম, তেল কিনে জেনারেটর চালিয়ে আমরা এখন আর টিকে থাকতে পারতেছি না।’
কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোলাঘাট গ্রামের খামারি আবু তালেব। প্রায় ২৫ বছর ধরে পোলট্রিশিল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনি। নিজ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে তাঁর খামার বিস্তৃত। কয়েকটিতে মাংস এবং বেশির ভাগ শেডে ডিমের জন্য মুরগি পালন করেন তিনি।
দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে পোলট্রিশিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক খামারিরা লোডশেডিং ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় আবু তালেবকে। বর্তমান পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি নিয়ে গেলেন পাশের সোহাদিয়া গ্রামে তাঁর একটি পোলট্রি খামারে। গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ নেই। দুটি জেনারেটর অনবরত চলছে। তালেব জানালেন, গত বুধবার ঝড়ের পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। এ ছাড়া নিয়মিত লোডশেডিং তো আছেই।
তেল কিনতেও সমস্যার কথা জানিয়ে তালেব বলেন, ‘জেনারেটর চালাব, সে জন্য তো ডিজেল পাচ্ছি না। পাম্পে গেলে তো সিরিয়াল ধরে তেল পাই না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রতি লিটারে ৩০-৫০ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনতে হয়।’
বিদ্যুৎ–সংকট ডিম উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা জানিয়ে আবু তালেব বলেন, ডিম দেওয়া মুরগিতে নির্দিষ্ট সময়ে আলো না দিলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। কৃত্রিম উপায়ে বাতাস না দিলে মুরগি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হয়, স্ট্রোক করে মারা যায়। সময়মতো পানি সরবরাহ না করতে পারলে মুরগি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। প্রচণ্ড উত্তাপে মুরগির টোটাল লেভেল (উৎপাদন ও শারীরিক সক্ষমতা) কমে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের কারণে মুরগির পাতলা পায়খানা হয়। অতিরিক্ত ভিটামিন প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এভাবে খরচ বাড়ে; কিন্তু উৎপাদন কমে।
আবু তালেব বলেন, আগে এক হাজার মুরগি জন্য বিদ্যুৎ খরচ হতো তিন থেকে চার হাজার টাকা। সেখানে বর্তমানে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় উঠে গেছে। উৎপাদন খরচ থেকে বর্তমানে প্রতিটি ডিমে প্রায় দুই টাকা লস গুনছেন।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
দশ বছরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
জনসংখ্যা অনুপাতে গত এক দশকে অন্তত এক লাখ ৩০ হাজার শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৩ হাজার নতুন শিশু ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হচ্ছে বলে দ্য ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব পেডিয়াট্রিক অনকোলজির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাময় সম্ভব হলেও অবকাঠামো ও চিকিৎসায় ব্যয়ের চাপ বড় বাধা।র
এমন পরিস্থিতিতে আজ রোববার বাংলাদেশে ‘বিশ্ব শিশু ক্যান্সার’ দিবস পালন করা হচ্ছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য– ‘শিশু ক্যান্সারের প্রভাব তুলে ধরা: চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে পরিবর্তন’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সভার আয়োজন করা হয়েছে।
চিকিৎসা কেন্দ্র আছে, সেবা সীমিত
দেশের ১৪টি সরকারি হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিশু ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অধিকাংশ জেলায় উন্নত পরীক্ষা– বিশেষ করে জেনেটিক অ্যানালাইসিসের সুবিধা সীমিত।
‘ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে’, এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের একটি বক্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে। অনেকে মনে করছেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাস্তব চিত্র কিছুটা ফুটে উঠেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে চিকিৎসকদের কিছুটা হেয় করা হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর গত শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানুষকে যাতে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে না হয়, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে। সহজলভ্য ও সর্বজনীন করার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তবে ‘ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে’—এই পরিস্থিতি দেশে নেই।
চিকিৎসাসেবা পাওয়া বা দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন চিকিৎসক। সেবার জন্য নার্সসহ আরও অন্য ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীও প্রয়োজন। কিন্তু ১০ হাজার মানুষের জন্য দেশে চিকিৎসক আছে সাতজন। নার্স আরও কম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। বছরের পর বছর স্থায়ী জনবলসংকটের মধ্যে আছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনবল কম রেখে মানসম্পন্ন সেবা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিকিৎসকসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব দূর করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রুমানা হক বহু বছর ধরে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত বর্তমান মানবসম্পদ তথ্যপদ্ধতিকে হালনাগাদ ও শক্তিশালী করা এবং একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি করা। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীর শূন্যপদ পূরণ করা। মনে রাখতে হবে, গ্রামীণ সেবাকে পদোন্নতির মানদণ্ডে যুক্ত করলে প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসক ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি।’
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দলিলে বাংলাদেশের অনুমিত জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরা হচ্ছে। সেই হিসাবে দেশে ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৭ দশমিক ২ জন।
পরিস্থিতি কী
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের (এমবিবিএস পাস) সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজার। এর মধ্যে কত চিকিৎসক মারা গেছেন, কত চিকিৎসক বিদেশ আছেন, কত চিকিৎসক পেশা চর্চা করেন না—এই তথ্য বিএমডিসির কাছে নেই।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩০ হাজারের মতো চিকিৎসক কর্মরত আছেন।
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দলিলে বাংলাদেশের অনুমিত জনসংখ্যা ১৮ কোটি ধরা হচ্ছে। সেই হিসাবে দেশে ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৭ দশমিক ২ জন। ভারতে ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৯ দশমিক ৯ জন, নেপালে ১০ দশমিক ৯ জন, শ্রীলঙ্কায় ১১ দশমিক ৪ জন, পাকিস্তানে ১২ দশমিক ৮ জন এবং মালদ্বীপে ২৩ জন। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে শুধু আফগানিস্তান (৩ দশমিক ২) ও ভুটান (৫ দশমিক ৫)। একইভাবে দেখা যায়, দেশে নার্সের সংখ্যাও প্রয়োজনের চেয়ে কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত ১: ৩: ৫ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ একজন চিকিৎসক থাকলে নার্স থাকবেন তিনজন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন পাঁচজন।
বাস্তবে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুধু একা চিকিৎসকের কাজ নয়। স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা রাখেন নার্স, মিডওয়াইফ, টোকনোলজিস্টসহ আরও অনেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রধান বা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। মানসম্পন্ন সেবার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর দক্ষতার মিশ্রণের প্রয়োজন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত ১: ৩: ৫ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ একজন চিকিৎসক থাকলে নার্স থাকবেন তিনজন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন পাঁচজন।
২০২৫ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ কোটি মানুষের জন্য সরকারি খাতে চিকিৎসক প্রয়োজন ১ লাখ সাড়ে ৩ হাজার। সেই হিসাবে নার্স দরকার ৩ লাখ সাড়ে ১০ হাজার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী দরকার ৫ লাখ সাড়ে ১৭ হাজার। ওই প্রতিবেদন আরও বলছে, দেশে প্রয়োজনের চেয়ে ১৭ শতাংশ চিকিৎসক কম আছে। অন্যদিকে নার্স ৮২ শতাংশ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ৫৬ শতাংশ কম। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩২ শতাংশ পদ শূন্য।
নানা কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে থাকেন না, থাকতে চান না বা থাকতে পারেন না। ২০২৪ সালের মার্চে স্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে দেখা গেছে, ১৮ কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন।
চিকিৎসক অনুপস্থিতির ১৮ কারণ
দক্ষিণের জেলা খুলনার সুন্দরবন–সংলগ্ন দাকোপ উপজেলায় সরকারি চিকিৎসকের পদ আছে ৪০টি। রোববার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে চিকিৎসক আছেন ১২ জন। অর্থাৎ ২৮টি পদে চিকিৎসক নেই বা ৭০ শতাংশ পদ শূন্য। এ রকম উদাহরণ আরও আছে।
নানা কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে থাকেন না, থাকতে চান না বা থাকতে পারেন না। ২০২৪ সালের মার্চে স্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে দেখা গেছে, ১৮ কারণে চিকিৎসকেরা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন। এর মধ্যে আছে:
অবকাঠামোগত দুর্বলতা: রোগী দেখার কক্ষগুলো ছোট, এক কক্ষে একাধিক চিকিৎসককে বসতে হয়, রোগী দেখার সময় গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়স্বজনের ভিড় অনেক বেশি থাকে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ প্রয়োজনমতো থাকে না। ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি থাকে। পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। চিকিৎসকদের সহায়তাদানকারী সব ধরনের স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা দেখা যায়। হাসপাতালগুলোতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘটতি থাকায় চিকিৎসকদের নোংরা পরিবেশে কাজ করতে হয়।
প্রভাবশালীদের চাপ, সহিংসতা: হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকেরা সব সময় স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চিকিৎসকদের কাজে বাধা দেন, নানা অনৈতিক চাপ দেন। এসব চাপের কারণে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অনেক সময় রোগীর আত্মীয়রা চিকিৎসকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অনেক সময় শারীরিক সহিংসতার মুখে পড়েন চিকিৎসকেরা।
আবাসন ও পারিপার্শ্বিক সমস্যা: উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের আবাসন সমস্যা বেশি। কর্ম এলাকায় তাঁদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ভালো সুযোগ নেই। তাঁরা যে এলাকায় কাজ করেন, সেই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ।
নীতি–সম্পর্কিত: সরকারি নীতিই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়নের বাধা হয়ে দেখা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা চার ধরনের সমস্যার কথা গবেষকদের বলেছেন—চাকরির সুযোগ–সুবিধায় ক্যাডারদের মধ্যে অন্যায্যতা রয়েছে, অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানো যায় না, বদলির ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায় এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগের ঘাটতি আছে।
স্বাস্থ্যের ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৩ সদস্যের সেল
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত স্বাস্থ্য খাতের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ১৩ সদস্যের একটি ‘সেল’ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই সেল প্রাথমিকভাবে ৯টি বিষয় নিয়ে কাজ করবে। গত বৃহস্পতিবার একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে কর্মপরিধির শুরুতেই ই–হেলথ কার্ডের কথা বলা হয়েছে। এই বিশেষ সেল ই–হেলথ কার্ডের নকশা, প্রযুক্তিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন রোডম্যাপ (পথনকশা) তৈরি করবে।
আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু
২৬ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
আড়াই বছরের নুসাইবা সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি ছিল। নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় শিশুটির নাম ছিল ২২ নম্বরে। কিন্তু ‘সিরিয়াল’ আসার আগেই ১২ মার্চ শিশুটি মারা যায়। এর চার দিন পর আইসিইউর কর্মীরা ফোন করে শিশুটির সিরিয়াল আসার কথা জানান।
শিশু নুসাইবা পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাঠেংগা গ্রামের সবুজ আলীর ছেলে। রামেক হাসপাতালে আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকা তার মতো ৩৩ শিশু মারা গেছে ১১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত আইসিইউ শয্যার জন্য ৩৮ জন শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল।
রাজশাহী নগরের তেরখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাহিদের শিশুসন্তান নাহিদ ১৩ মার্চ এই হাসপাতালে মারা গেছে। বাবা সাহিদ জানান, আইসিইউতে নেওয়ার জন্য চিকিৎসক পরামর্শ দেওয়ার তিন দিন পর তাঁর ছেলে মারা যায়। এই তিন দিনে চেষ্টা করেও ছেলেকে আইসিইউতে নিতে পারেননি তিনি।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব, মার্চে ২১ শিশুর মৃত্যু, টিকায় ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন
২৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কমপক্ষে সাত জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চলতি মাসেই হামে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের ব্যাপারে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়ায় পরিস্থিতি এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। শিশুদের হামের টিকা দেওয়ায় ঘাটতি আছে। হাম খুবই সংক্রামক, অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন আক্রান্ত হলে তার থেকে ১৫–১৮ জন সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে, শিশুমৃত্যু বাড়তে পারে।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) মঈনুল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশেই কমবেশি হাম আছে। তবে আমরা ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে বেশি রোগী দেখতে পাচ্ছি।’
তবে সরকারের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভোলা ও পটুয়াখালীর রোগীরা রাজধানীর এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রথম আলোর প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতেও রোগী আছে।
টিকা কেনায় গাফিলতি ছিল, এখন সিরিঞ্জ নেই
০১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত সব ধরনের টিকা কেনায় বিলম্ব ঘটিয়েছে। সম্প্রতি হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। ইপিআই কর্মকর্তারা বলেছেন, হাম-রুবেলার জাতীয় ক্যাম্পেইনের টিকা হাতে এসেছে, সিরিঞ্জ আসেনি। দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু করতে দেড়-দুই মাস সময় লেগে যাবে।
শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া নিশ্চিত না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং দাতা সংস্থা সময় ব্যয় করেছে টিকা কেনার প্রক্রিয়া কী হবে, তা ঠিক করতে, সরকার সরাসরি টিকা কিনবে নাকি ইউনিসেফের সহায়তা নেবে, আর্থিক লাভ–লোকসান কী হবে—এসব নিয়ে। এতে টিকার মজুত ফুরিয়েছে। জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় পেছাতে হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কিনতে এটা আসলে গাফিলতি।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই ছয় জেলায় হাম বেশি ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে সাত শর বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে পঞ্চাশের বেশি। অন্যদিকে ইপিআই কার্যালয় থেকে জানা গেছে, হামের পাশাপাশি অন্তত ২১ জন রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছে।
২০২৫ সালে হামের টিকা পায়নি ৪৪% শিশু
০১ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দেশে গত বছর হামের টিকাদানে বড় ধরনের ব্যত্যয় ঘটেছে। ২০২৫ সালে মাত্র ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। অর্থাৎ, ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে, যা গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হার।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বড় অংশ শিশু টিকার বাইরে থাকায় ভবিষ্যতে হামের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু কোনো ডোজ টিকা নেয়নি বা আংশিক টিকা নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটেছে।
দুই দশকে দেশে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যু, বেশি মৃত্যুহারও
০৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
চলতি বছরে হামে যত মৃত্যু হয়েছে, তা গত দুই দশকে সর্বোচ্চ। এই সময়ে পাঁচবার হামে মৃত্যুর ঘটনা জানা যায়। ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি মারা যায় ১০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল) ৯৮ শিশু সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছে। আর হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৬। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে চারজন এবং নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে প্রথম আলো দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৬১ বলে জেনেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামে প্রতিবছর কতজন আক্রান্ত হয়, তার হিসাব নিয়মিত করা হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না। দেশে হামে মৃত্যুর হার ছিল ১০ লাখে ১ শতাংশ। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
বরিশালে বিকল্প ‘হেডবক্স’ দিয়ে চলছে শিশুদের অক্সিজেন সরবরাহ
৬ এপ্রিল ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
গত ১ মার্চ থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বানারীপাড়ার কৃষক হাফিজুলের চার মাস ২৫ দিনের শিশু সন্তান তাবাসসুম।
জ্বর ও হামের লক্ষণ দেখে তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে হাম আইসোলেশন কক্ষে। এই কক্ষে আরও দুই শিশুর সঙ্গে ভাগাভাগি করে তাবাসসুমের চিকিৎসা চলছে।
তাবাসসুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত দুই দিন ধরে তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর তখনই স্থানীয়ভাবে প্লাস্টিকের বক্স ছিদ্র করে অক্সিজেন সরবরাহের নল জুড়ে অক্সিজেন দেওয়া হয় তাবাসসুমকে। বক্সের সামনের অংশ গামছা বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে অক্সিজেন বাইরে বেরিয়ে যেতে না পারে।
এ ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে হেডবক্স।
রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর অপেক্ষায় এক মাসে ৯১ শিশুর মৃত্যু
০৭ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শয্যাসংকটের কারণে অপেক্ষায় থেকে এক মাসে ২২৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯১ শিশু রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র এ কথা জানিয়ে বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে সংকট কাটাতে ১০০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের প্রস্তাব গত রোববার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৪০। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ১২, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য ১৬ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১২ শয্যা বরাদ্দ। তবে বর্তমান হামের পরিস্থিতিতে অন্য জায়গা থেকে কমিয়ে শিশু আইসিইউর শয্যার সংখ্যা ছয়টি বাড়ানো হয়েছে।
ক্যানুলা ও নাকে নল নিয়ে হাসপাতালে লড়ছে হাজারও শিশু
১৬ এপ্রিল ২০২৬, আজকের পত্রিকা
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা অটোচালক আবু সাইদের সাত মাস বয়সী একমাত্র সন্তান ইউসুব। নিউমোনিয়া নিয়ে ২৪ দিন আগে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিল সে। নিউমোনিয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার মুহূর্তেই গত মঙ্গলবার হাসপাতালেই তার শরীরে হাম ধরা পড়ে।
এর পর থেকেই সাইদ-মৌসুমি দম্পতির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। হাম ধরা পড়ার পর থেকে ইউসুব ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। মাথায় ক্যানুলা, এক নাকে অক্সিজেনের পাইপ, অন্য নাক দিয়ে নলের মাধ্যমে চলছে খাবার গ্রহণ। হাত-পাসহ পুরো শরীর হামের লাল র্যাশে ভরে গেছে। ছেলের শিয়রে বসে অঝোরে কাঁদছেন মা মৌসুমি। কিছুক্ষণ আগেই চিকিৎসক জানিয়ে গেছেন, ইউসুবের শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় সে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না, তার জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন।
কিন্তু আইসিইউ’র জন্য বাবা আবু সাইদ দৌড়ঝাঁপ করে দেখলেন, সিরিয়াল অনেক দূরে। আগামী দুই-তিন দিনেও আইসিইউ পাওয়া সম্ভব নয়। কান্না করতে করতে স্ত্রীর পাশে এসে বসলেন সাইদ। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে অঝোরে জল ফেলছেন। এদিকে, ইউসুবের শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হওয়ায় সে কান্নার চেষ্টা করছে, কিন্তু শরীর এতটাই দুর্বল যে সেই সামর্থ্যটুকুও তার নেই।
স্বজন হারানোর বেদনা ও আইসিইউ সংকট
হাসপাতালের আইসিইউ’র সামনে বাকরুদ্ধ হয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন জাকির হোসেন। মাত্র পাঁচ দিন আগে তার ছয় মাসের যমজ কন্যাসন্তানের একজন, রিসা, হামে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে মারা গেছে। অন্য সন্তান রুহিও এখন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। জাকিরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতেই তিনি অঝোরে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আল্লাহ আমারে দুইটা ফুটফুটে কন্যা উপহার দিয়ে একজনকে (রিসা) নিয়ে গেছেন। রুহি আইসিইউতে আছে, ডাক্তার কইলো ওর অবস্থাও ভালো না। শ্বাস নিতে নাকি প্রচুর কষ্ট হয়। জানি না কপালে কী আছে! ওর মা প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেছে।’
একটু সামনে এগোতেই দুই মাস বয়সী আয়মানের কান্নায় যেন পুরো ওয়ার্ড ভারী হয়ে ওঠে। আয়মানের হাতেও ক্যানুলা, নাকে নল ও অক্সিজেনের পাইপ। মা জান্নাত আরা বেগম ছেলেকে বুকের ভেতর জড়িয়ে আগলে রেখে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, মুখের ভেতরেও ঘা হওয়ায় কিছুই খাওয়াতে পারছি না। পেটে সবসময় খিদে থাকে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। আর যে হাতে ক্যানুলা লাগানো, সে হাতে একটু নাড়া লাগলেই চিৎকার করে ওঠে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিত্র
মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও চিত্র একই রকম। পঞ্চম তলার ওয়ার্ডের করিডরে দেখা মেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা সাত মাস বয়সী জান্নাতির সঙ্গে। ওর ডান হাতে ক্যানুলা থাকায় হাতটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ফুলে গেছে। শ্বাসকষ্ট হওয়ায় বাবা-মা দুজন মিলে অক্সিজেন মাস্ক নাকের কাছে ধরে আছেন। এত চেষ্টা করেও মেয়ের কান্না থামাতে পারছেন না তারা।
১০০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের জন্য মাত্র আটটি বেড বরাদ্দ থাকলেও এখন চিকেনপক্স ও নিউমোনিয়া ওয়ার্ডের বেড যুক্ত করে পঞ্চম তলার পুরোটাই হামের ওয়ার্ড করা হয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপের তুলনায় তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। বেডের চেয়ে তিনগুণ বেশি রোগী আসায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থা
গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর এই দুটি হাসপাতাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হামের ওয়ার্ডের প্রতিটি শিশু ক্যানুলা ও নাকে প্রবেশ করানো নলের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অভিভাবকদের চোখেমুখে শুধুই উৎকণ্ঠা। বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে ৬০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিনই ৭৫-এর অধিক শিশু ভর্তি থাকে।
হামের চিকিৎসা: খরচে দিশাহারা অভিভাবকেরা
১৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
‘আমার কলিজার টুকরো সন্তান ফালাক ঘুমিয়ে গেছে। আর ফিরবে না’—কুষ্টিয়া সদরের মুদিদোকানি মো. সাকিবুর রহমান গত সোমবার ফেসবুকে এভাবেই হামে ছেলের মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছেন।
ফালাকের পুরো নাম মোহাম্মদ নোমান ফালাক। বয়স হয়েছিল মাত্র আট মাস। সে গত ২৫ মার্চ থেকে ভর্তি ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মাঝে দুই দিন রাজশাহীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছিল। দুই দিনেই কুষ্টিয়া থেকে যাতায়াতসহ মোট খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। খরচের কথা চিন্তা করে তার বাবা ফালাককে আবার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সাকিবুর রহমান (ফালাকের বাবা) সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ ওষুধ, স্যালাইন ও সিরিঞ্জ বাইরে থেকে কিনে দিতে হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে দুই দিনসহ ছেলের চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে এক লাখ টাকার বেশি। ১৯ দিন হাসপাতালে থাকায় নিজের দোকানও খুলতে পারেননি। ধারদেনা করা টাকা শোধ তো করতেই হবে।
রোগীর স্বজনেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধের সরবরাহ থাকে না। বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগের পরীক্ষা করাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে যাতায়াত খরচ যুক্ত হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের খাবার ও নানা কিছু কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বল্প আয় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য খরচ অনেক।
সাকিবুর রহমানের মতো হামে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকেরা খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় খরচ কম। তবে যে রোগীকে নিয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে হয়, সেই পরিবারের খরচ অনেক বেড়ে যায়। বেসরকারি হাসপাতালে খরচ আরও বেশি।
রোগীর স্বজনেরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে সব ওষুধের সরবরাহ থাকে না। বাইরে থেকে কিনতে হয়। রোগের পরীক্ষা করাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নিতে যাতায়াত খরচ যুক্ত হয়। হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের খাবার ও নানা কিছু কেনার পেছনে ব্যয় করতে হয়। সব মিলিয়ে স্বল্প আয় ও দরিদ্র পরিবারের জন্য খরচ অনেক।
তারপরও সন্তানকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরতে পারলে তবু সান্ত্বনা থাকত, অনেকেই সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।
টিকার অব্যবস্থাপনায় ১১ রোগের বিস্তার
১৮ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দেশের স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেনাকাটা নিয়ে জটিলতার কারণে ১১টি রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু টিকার সংকট তৈরি হয়। এতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। পাশাপাশি ১৫টি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সংক্রামক ও অসংক্রামক মিলিয়ে অন্তত ২৬টি রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (এইচপিএনএসপি) আওতায় ১৯৯৮ সাল থেকে দেশে রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি সেক্টর প্রোগ্রাম নামে পরিচিত। বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতো। এর আওতায় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ মোট ৩৮টি কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সরকারি অর্থায়ন ও দাতা সংস্থার সহায়তায় পাঁচ বছর পরপর এই কর্মসূচি নবায়ন করা হতো।
চতুর্থ এইচপিএনএসপি শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। জুলাইয়ে এক লাখ ছয় হাজার ১০০ কোটি টাকার পঞ্চম এইচপিএনএসপি শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের মার্চে হঠাৎ করে ওপি বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই বছরে মাত্র পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।
হাম মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
হাম মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ খুব একটা আমলে নিচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১২ এপ্রিলের যৌথ সভা থেকে বিশেষজ্ঞরা একটি বহুপক্ষীয় কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করেছিলেন। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হতে দেখা যাচ্ছে না।
২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা কমিটি গঠনের যে সুপারিশ করেছেন তা আমি জানি না, আমাকে এখনো জানানো হয়নি।’
পাহাড়ে চিকিৎসা সংকট, মেডিকেল ক্যাম্পের দাবি
২৫ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় আক্রান্ত অনেক শিশু হাসপাতালেই পৌঁছাতে পারছে না। ফলে ঘরেই চলছে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে দুর্গম পাড়াগুলোতে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আলীকদম ও লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ১০ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে কুরুকপাতা ইউনিয়ন থেকে ৩১ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিক্ষা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম
১৬ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হচ্ছেন পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, যিনি এতদিন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ভিসির নাম ঘোষণা করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এর বর্তমান সভাপতি এবং বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
লটারি বাদ, ফিরছে ভর্তি যুদ্ধ, শিশুদের ওপর চাপ ও কোচিং বাড়ার শঙ্কা
১৬ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে ওপরের সব শ্রেণিগুলোতে ভর্তির জন্য বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭ সাল) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এর ফলে প্রত্যাশিত বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শিশুদের আবারও সেই পুরোনো ভর্তির যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিশুদের বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে লটারির পরিবর্তে আবার পরীক্ষা হলে শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে এবং কোচিং-প্রাইভেটের প্রবণতা নতুন করে মাথাচাড়া দেবে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্যও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রামে সংঘর্ষে কিরিচ হাতে ছিলেন ছাত্রদলের নেতা, লাঠি হাতে জামায়াত সমর্থক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি হাতে থাকা দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের একজন ছাত্রদল নেতা, অন্যজন জামায়াত সমর্থক। পুলিশ বলছে, অন্য অস্ত্রধারীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সূত্র জানায়, ওই সংঘর্ষে কিরিচ (ধারালো অস্ত্র) হাতে থাকা ব্যক্তি নগরের ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মির্জা ফারুক আর লাঠি হাতে থাকা ব্যক্তি নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইন। এ ছাড়া সংঘাতে থাকা উভয় পক্ষের অন্তত আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ মুছে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের কোপে স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের শিবিরের সভাপতি ও সংগঠনটির সাথি আশরাফুল ইসলামের পায়ের একটি গোড়ালি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ
২৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের প্রধান ফটকে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ছাত্রদলের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ছাত্রদল-শিবির বিরোধে শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা
২৫ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
‘গুপ্ত’ শব্দ নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাগ্যুদ্ধ গড়িয়েছে সংঘাতে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, পাবনায় সংঘর্ষ হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শব্দের প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে দেখা গেলেও এর পেছনে রয়েছে শিক্ষাঙ্গনের নিয়ন্ত্রণ। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে জয়ের পর শিক্ষাঙ্গনে শিবিরের একক অবস্থান তৈরি হয়েছে। ছাত্রদলও চেষ্টা করছে সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি করতে।
দুই সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সংসদে বাহাসে জড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘অভিভাবক’ দলগুলোর মধ্যে আলোচনার আভাস না থাকায় ছাত্রদল এবং শিবিরের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা স্থায়ী হবে কিনা সংশয় রয়েছে।
তবে তিন দিনের উত্তজেনার পর গতকাল শুক্রবার উভয় সংগঠন সংযম দেখিয়েছে। সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সংগঠনের নেতাদের সহনশীলতা দেখাতে হবে। শিবির জানিয়েছে, আলোচনার আহ্বান পেলে সংলাপে আগ্রহী তারা।
যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা
বিচারে গতি নেই, সাত মাসে একজনও সাক্ষ্য দেননি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
‘আমরা পাঁচ ভাই! আমার আব্বা একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। আমার চার ভাই তখন পড়াশোনা করত। অগ্নিকাণ্ডে বাবা মারা যাওয়ার পর আমার ওপর সংসারের দায়িত্ব আসে। দুই ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। আমি এখন কাপড়ের দোকানে চাকরি করি। বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পুরো সংসার এলোমেলো হয়ে গেছে। আমরা কী অবস্থায় আছি, বলে বোঝাতে পারব না।’
কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. আসিফ। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁর বাবা জুম্মন ওয়াহেদ ভবনটির দোতলায় একটি ডেকোরেটরের দোকানে ছিলেন। তিনি সেখানেই পুড়ে মারা যান। চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭১ জনের মধ্যে আসিফের বাবা ছিলেন একজন।
আজ ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর। সেদিনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে ধীরগতিতে। গত সাত মাসে একজনও সাক্ষ্য দেননি।
নতুন দুই মেট্রোরেলের ব্যয় আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকায় নতুন দুটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে যে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে, তা উত্তরা-মতিঝিল পথের দ্বিগুণের বেশি। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে নতুন দুই পথে খরচ দাঁড়াচ্ছে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। যদিও সরকার এই বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেলের আনুষ্ঠানিক নাম লাইন-৬। এটির ঠিকাদার নিয়োগ শুরু হয় ২০১৫ সালে। সেই সময় আরও পাঁচটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। দুটি পথে নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষা। একটি হলো কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত, নাম এমআরটি লাইন-১ (৩১ কিলোমিটারের বেশি)। অন্যটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর এবং গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)। এটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটারের মতো। দুটি মেট্রোরেল লাইনেরই কিছু অংশ উড়াল ও কিছু অংশ পাতালপথে হবে।
কক্সবাজারে এমপির বহরের গাড়ির ধাক্কায় শিশু নিহত
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সমকাল
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের বহরের গাড়ির ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের আহমদ কবিরের ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা একটি গাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত শিশুর নাম খালিদ বিন ওয়ালিদ (৮)। সে বদরখালী ইউনিয়নের তেচ্ছিপাড়ার বাসিন্দা আমান উল্লাহ ও সুমাইয়া জান্নাত দম্পতির ছেলে। ওয়ালিদ স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মেট্রোরেলের এমডি বদল কী বার্তা দিল
০৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনায় অভিজ্ঞ ফারুক আহমেদকে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি ছিলেন ডিএমটিসিএলের প্রধান পদে প্রথম বিশেষজ্ঞ। এর আগে এই পদে শুধু আমলারাই দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
বিএনপি সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তার একটি ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ। যে পদ থেকে ফারুক আহমেদকে গত সোমবার সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে এমন সময় বাদ দেওয়া হলো, যখন তিনি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ঋণদাতা, ঠিকাদার ও পরামর্শকদের চাপে রাখছিলেন।
বাগেরহাটে বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত
১২ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
রাত পৌনে ১০টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ ১৫ জন ছিলেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৪ জন মারা গেছেন। আর একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।
ঈদযাত্রায় দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া, ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙছে এবারের নৈরাজ্য: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
১৮ মার্চ ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
সরকারি ঘোষণা উপেক্ষা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের যাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণির বাস ও মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মহোৎসব চলছে। বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসেও এই নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে
বুধবার (১৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরও প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় নিহত ২, বাবা-ছেলে নিখোঁজ
১৮ মার্চ ২০২৬, যুগান্তর
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের চাপায় দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় এমন ঘটনা ঘটে। জানা যায় ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় পেছন দিক থেকে ‘জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি হঠাৎ ধাক্কা দেয়। এতে লঞ্চের চাপায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন এবং বাবা-ছেলেসহ আরও দুইজন নিখোঁজ। নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘আসা যাওয়া-৫’ (ঢাকা-ইলিশা) লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামার সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। আকস্মিক এ সংঘর্ষে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চটির সামনের অংশের চাপায় অপেক্ষমাণ লঞ্চের দুই যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন।
সংকেত মানেননি লোকোমাস্টার, সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতির ঘটনায় আহত অন্তত ৬৬
১৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
লোকোমাস্টার সংকেত অমান্য করার কারণে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আদমদীঘি স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত আহত ৪৮ জনকে উদ্ধার করেছেন। আর রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, আহত মানুষের সংখ্যা ৬৬।
ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহাম্মেদ হোসেন মাসুম। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারে পার্বতীপুর ও ঈশ্বরদী থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসেছে।
উত্তরের পথে পথে ভোগান্তি,দুটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়
১৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
পবিত্র ঈদুল ফিতর আগামীকাল শনিবার। ঈদ সামনে রেখে এরই মধ্যে অনেকে ঢাকা ছেড়েছেন। এখন শেষ মুহূর্তেও সড়ক, রেল ও নৌপথে গ্রামে যাচ্ছেন মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার এই তিন পথেই ছিল যাত্রীদের ভোগান্তি। কিছু সড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট, বিভিন্ন রুটে ঘরমুখী মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হয়।
আজ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ছিল উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের। যমুনা সেতুতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও সেতুর ওপর ১৫টি গাড়ি বিকল হওয়ায় গতকাল ভোরে সেতুর পূর্ব প্রান্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অন্তত ২৫ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয় উত্তরের হাজারো যাত্রীকে। তবে বিকেলের দিকে যানজট কমে আসে।
রেলপথে ঈদযাত্রাও আজ স্বস্তিকর ছিল না। একতা এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি যথাক্রমে সাত ঘণ্টা ও পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। যাত্রীদের কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বেঞ্চে বসে, আবার কেউ ব্যাগপত্রে ভর দিয়ে অপেক্ষা করেন ট্রেনের জন্য।
কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১২
২২ মার্চ ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
কুমিল্লায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
আজ রোববার ভোররাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ট্রেনটি মামুন স্পেশাল (মামুন পরিবহন) বাসকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে-হিঁচড়ে উত্তর দিকে জাঙ্গালিয়া-কচুয়া এলাকায় নিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান উপস্থিত ছিলেন না।
ঈদে ঘুরতে বেরিয়ে ব্রহ্মপুত্রে ভাসমান সেতু উল্টে ভাই-বোনসহ নিহত ৫
২১ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ভাসমান সেতু ঈদে ঘুরতে আসা মানুষের ভারে ছিঁড়ে ও উল্টে গেলে পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার বিকালে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার কাছেই নদীতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার রবিউল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- উপজেলার ঝালুরচর এলাকার শের আলীর মেয়ে খাদিজা (১২) ও ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬), একই উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে রিফাত (১৬) ও মেয়ে মায়ামনি (১০) এবং গামারিয়া এলাকার আবির (১৬)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের উপর ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান সেতু দিয়ে চরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। চরে নগরবাসীর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ঈদের দিন ঘুরতে বের হওয়া মানুষজন সেই বিনোদন কেন্দ্রে যেতে সেতুর উপর ভিড় জমান।
বিকালে মানুষের ভারে সেতুটি ছিঁড়ে যাওয়ার পর উল্টে যায়। অধিকাংশ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশ কয়েকজন পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
৪০ যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মায় পড়ল বাস
২৫ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরির ধাক্কায় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। আজ বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসে।
ফায়ার সার্ভিস এক বার্তায় জানিয়েছে, ফেরিতে উঠার সময় যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকা এবং ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।
ফেরিঘাটে অব্যবস্থাপনা, অরক্ষিত পন্টুন, পদ্মায় বাসডুবির যত কারণ
২৭ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলার চিত্র। রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিঘাটটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাসডুবির ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকালই সবার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরি দলের সদস্যরা বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বাসের ভেতর থেকে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করেন। নদী থেকে বাস তোলার পর বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত ডুবুরি দল আরও ৮ জনের লাশ উদ্ধার করে। এর আগে বুধবার বিকেলে ২ জনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
হাফিজুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত হলে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, নিহতদের মধ্যে ছেলেশিশু চারটি, মেয়েশিশু তিনটি, নারী ১১ ও পুরুষ ৮ জন।
গত বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। ঢাকার উদ্দেশে বাসটি ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন। এরপর যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ওঠেন।
অরক্ষিত পন্টুন
ফেরিঘাটে সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কের প্রান্তে নদীতীরে পন্টুন বাঁধা থাকে। এই পন্টুনের ওপর দিয়েই ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করে। দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনটিতে তিনটি পকেট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্যন্ত পুরোনো ও আকারে ছোট পন্টুনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। লোহার রেলিং বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। অপর দুটি ঘাটেরও (৪ ও ৭ নম্বর ঘাট) একই চিত্র।
মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী জেআর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না।
ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক
দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে মূল সড়ক থেকে পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কগুলো বেশ ঢালু। সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই ঘাটেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে যানবাহনগুলোতে ফেরিতে ওঠানামা করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। মাঝেমধ্যে এই সংযোগ সড়কে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কখনো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
১১ মার্চ রাতে পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নেমে উঁচু সংযোগ সড়ক দিয়ে মূল সড়কে ওঠার সময় সয়াবিন তেলবাহী একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে গিয়ে নদীতে ডুবে যায়। এতে অল্পের জন্য গাড়িচালক ও সহকারী প্রাণে বেঁচে যান।
গতকাল দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটের অদূরে কথা হয় খাদ্য উৎপাদনকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাভার্ড ভ্যানচালক পলাশ শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ফেরিতে ওঠানামার সড়কগুলো খাড়া ঢালু। লোড নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা করতে অনেক সময় ব্রেক কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করতে সমস্যা হয়। ব্রেক ফেল করলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফেরিগুলোও পুরানো।’
পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না।
মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী জেআর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম
ডুবে যাওয়া বাসের এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাটে তোলা হচ্ছে। গতকাল সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটে
ডুবে যাওয়া বাসের এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাটে তোলা হচ্ছে। গতকাল সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটেছবি: প্রথম আলো
ঘাট পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার ছাপ
সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বুধবার বিকেলে হাসনাহেনা নামের ফেরিটি ঘাটে এসে পৌঁছাতেই সংযোগ সড়ক থেকে চলতে শুরু করে বাসটি, যা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরিঘাটে পাঠিয়ে দেন।
মনির হোসেন বলেন, বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তাঁরা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যাঁরা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গতকাল দুপুরে ফেরিঘাট পরিদর্শন করেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। একই সঙ্গে ঘাটের জরাজীর্ণতা দূর করতে দ্রুত সমাধানের কথাও জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণত গাড়িগুলো পন্টুনে আসার আগে থামে। এরপর সুবিধামতো ফেরিতে উঠে পড়ে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় দেখা গেছে, হাসনাহেনা ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না, তার আগেই চালকের ভুলে গাড়িটি পন্টুনে এসেছে। নিয়ম হলো, ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো আগে নামবে, এরপর নতুন করে যানবাহন উঠবে।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যাঁরা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
১০ দিনে সড়কে ২৭৪ জন নিহত
২৭ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ঈদের সময় দেশে সড়কে মৃত্যু বেড়ে যায়। এবারও একই ঘটনা দেখা গেল। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে গত ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
মৃত্যুর এই হিসাব সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।
এবার ঈদের ছুটির মধ্যে ২১ মার্চ দিবাগত রাতে কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৫ মার্চ (গত বুধবার) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাস ডুবে ২৬ জন নিহত হন।
তেল শেষ হওয়ায় থেমে ছিল বাস, যাত্রীরা নেমে বসে ছিলেন রেললাইনে
২৮ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজন একটি বাসের যাত্রী ছিলেন। তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসটি সেখানে থেমে ছিল। তখন যাত্রীদের অনেকে বাস থেকে নেমে আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিলেন। কেউ কেউ চলে গিয়েছিলেন পাশের রেললাইনে। এ সময় ট্রেন চলে আসায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসযাত্রী, প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে দুর্ঘটনার এ বর্ণনা পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত পাঁচজন হলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আবদুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।
ঢাকা ফিরতেও বাড়তি ভাড়া, যানজট
২৮ মার্চ ২০২৬, সমকাল
ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরার পথেও দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। আজ শনিবার অধিকাংশ কলকারখানা খুলবে। এর আগের দিন গতকাল শুক্রবার তাই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী বাস, ট্রেন, লঞ্চে ছিল উপচে পড়া ভিড়। উত্তরবঙ্গ থেকে ফেরার পথে যমুনা সেতু এবং সেতুর পশ্চিম প্রান্তে দীর্ঘ যানজট হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বিভিন্ন রুটে।
সাত দিনের ঈদের ছুটির পর সরকারি অফিস-আদালত খুলেছে গত মঙ্গলবার। তবে স্বাধীনতা দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাজধানী এখনও ফাঁকা। গতকাল গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী টার্মিনালে দেখা গেছে ঢাকায় ফেরা বাসগুলো যাত্রীতে পূর্ণ। উত্তরবঙ্গ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা ট্রেনের ছাদও ছিল যাত্রীবোঝাই।
মহাখালীতে আসা যাত্রীরা জানান, ফিরতি পথেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আলম এশিয়া পরিবহনে ঢাকায় ফেরা যাত্রী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ময়মনসিংহের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে বাস নেই। বাসস্ট্যান্ড থেকে দুই কিলোমিটার দূরে বাইপাস এলাকায় বাস রাখা হয়। সেখান থেকে যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩১০ টাকা। প্রশাসন যাতে ধরতে না পারে, সে জন্য বাসস্ট্যান্ডের বাইরে থেকে বাস ছাড়ছে। পুলিশ দেখেও দেখছে না।
ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের পেছনে রেলওয়ের কর্মীদের কয়েক স্তরের গাফিলতি
৩০ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দের কাছে ১১ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরীসহ সদস্যরা।
প্রশাসনের এই তদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পেছনে রেলওয়ে বিভাগের কর্মীদের কয়েক স্তরে দায়িত্ব অবহেলার তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুধু গেটম্যানদের ওপর দায় চাপিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি রেলওয়ের আরও একাধিক ধাপে কর্মরত কর্মীদের অবহেলার তথ্য পেয়েছে। দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে ঘটনাস্থল পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের চার গেটম্যান ছাড়াও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের দুই গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের সহকারী মাস্টার, ট্রেনের দুজন চালক বা লোকোমাস্টার, বাসের চালকের অদক্ষতা ও পরিবহনের সঠিক সিদ্ধান্ত না থাকা এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্মাণকাজে অবহেলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ বিস্তারিত উল্লেখ করার পাশাপাশি মোট আটটি সুপারিশও করা হয়েছে। রোববার রাত আটটার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঈদযাত্রায় ৩৭৭ দুর্ঘটনায় ৩৯৪ মৃত্যু: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
৩০ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আর আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্ঘটনার এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, চলমান ইরান-ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
৩০০ মৃত্যুর খবর ‘সঠিক নয়’, দুয়েকটি দুর্ঘটনা ছাড়া ঈদযাত্রা ‘স্বস্তির হয়েছে’: সড়কমন্ত্রী
২৯ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সড়কে প্রাণহানি, বাড়তি ভাড়া আর যানজটের ঘটনা শিরোনাম হলেও এবারের ঈদাযাত্রাকে ‘স্বস্তির’ বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তার কথায় ঈদযাত্রায় দুয়েকটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা’ ঘটেছে।
১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৮ জনের মৃত্যু তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। তবে সড়কমন্ত্রীর দাবি, মৃত্যুর ওই সংখ্যা ‘সঠিক নয়’।
অতীতের চেয়ে এবারের ঈদ যাত্রায় মৃত্যু ‘কম হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কে নিরাপত্তা জোরদারসহ ৭ এজেন্ডা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
বৈঠক শেষে ঈদে ১০ দিনের যাত্রা কেমন হয়েছে জানতে চাইলে রবিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ঈদের জার্নি স্মুদ হয়েছে বলে আমি মনে করি, কারণ দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে চেয়েছে। বড় ধরনের দুই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটার জন্য আমরা দুঃখিত, মর্মাহত।
“আমরা মনে করছি, যে কোনো সময়ের চেয়ে দেড় কোটি মানুষ নিরাপদে, স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়েছে।”
ঈদযাত্রায় এবার ৩০০ মৃত্যুর খবর ‘সঠিক নয়’ দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “এবার মৃত্যুর সংখ্যা হচ্ছে রোড দুর্ঘটনা, সড়ক এবং নৌপথে যে দুর্ঘটনাটা ঘটেছে, ১৭০ জন। তার মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন, আর ১৭ জন সম্ভবত রেলপথে। বাকিগুলো এলজিআরডি সড়ক বা অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।”
ঘাটে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঘটেছে দুর্ঘটনা
০২ এপ্রিল ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে এনেছে তদন্ত কমিটি। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের কাছে এ সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে। বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। প্রতিবেদনের দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে তুরে ধরা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পেছনে ঘাটের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলা এবং বাসের যান্ত্রিক ত্রুটিসহ বেশ কিছু কারণ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
বেইলি রোডে আগুনের খবরে গ্রাহকদের ভেতরে রেখে বাইরে তালা দেওয়া হয়: সিআইডি
০২ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকানের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে খাবারের বিল পরিশোধ না করে কেউ বেরিয়ে যেতে না পারেন। আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন তলায় থাকা কিছু মানুষ ছুটে যান ছাদের দিকে। কিন্তু ভবনের আটতলা ও ছাদ মিলে অবৈধভাবে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ থাকায় সেখানে গিয়েও আশ্রয় নিতে পারেননি তাঁরা।
আগুন লাগার পর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসারও প্রাণপণ চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু সিঁড়িতে খাবারের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা জিনিসপত্র রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা ছিল। এসব ‘অব্যবস্থাপনার জালে’ আটকা পড়ে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের আগুনে সেদিন ৪৬ জন মারা গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ৩ জন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জন মারা যান।
ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ল ট্রাক
০৩ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রামে কালুরঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পড়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নদীর বোয়ালখালী উপজেলা প্রান্তে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক থেকে বেরিয়ে সাঁতরে কূলে ওঠেন।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ট্রাকটি লোহাগাড়া উপজেলায় পণ্য খালাস করে নগরের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেরিতে উঠছিল। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে চালক ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি ছিল না।
কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন, পাঁচ মরদেহ উদ্ধার: ফায়ার সার্ভিস
০৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার বিকেল চারটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাঁচ মরদেহ উদ্ধারের এ তথ্য জানান।
অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ‘প্রধান ফটক ছিল তালাবদ্ধ’
০৪ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
অগ্নিকাণ্ডের সময় ঢাকার কেরানীগঞ্জের আকরাম গ্যাসলাইটার কারখানার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়ার পর শ্রমিকেরা কারখানার দেয়াল টপকে বের হন।
আজ শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলীর ডিপজল গলির কারখানাটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানোর পর কারখানার ভেতর থেকে পাঁচ শ্রমিকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একাধিক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে।
বিকেল পাঁচটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে পুড়ে কারখানার টিনের শেড ধসে পড়েছে। কারখানার ভেতরের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কারখানায় থাকা রাসায়ানিকের ড্রাম এদিক–সেদিক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কারখানা ও এর আশপাশের এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘিরে রেখেছে।
পরিবেশ
পাহাড়সম বর্জ্যের স্তূপ, বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
একসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার ও বলিয়ারপুরের মাঝামাঝি বিস্তীর্ণ জমিতে শুকনো মৌসুমে চলত চাষাবাদ। বর্ষা এলে সে জমিই রূপ নিত অস্থায়ী জলাভূমিতে—মাছ ধরেই চলত বহু পরিবারের জীবিকা।
ঢাকাকে দুই সিটিতে ভাগ করার পর ২০০৯ সালে প্রায় ৫৫ একর কৃষিজমি ভরাট করে সেখানে গড়ে তোলা হয় আমিনবাজার ল্যান্ডফিল। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ সামাল দিতেই এ উদ্যোগ। শুরুতে এটি ছিল অস্থায়ী সমাধান। কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বাড়তে থাকে বর্জ্যের স্তূপ, ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ, বদলে যেতে থাকে আশপাশের পরিবেশ।
২০১৭ সালেই শেষ হয়ে যায় ল্যান্ডফিলটির ধারণক্ষমতা। তবুও থেমে থাকেনি বর্জ্য ফেলা। কোনো আধুনিকায়ন ছাড়াই প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টন কঠিন বর্জ্য ফেলছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মাটির সমতল থেকে এখন প্রায় ৯০ ফুট উঁচুতে উঠেছে আবর্জনার স্তূপ, যেন এক কৃত্রিম পাহাড়।
বর্জ্যের সেই ‘পাহাড়’ ছোট করার এক অদ্ভুত পদ্ধতি গড়ে উঠেছে এখানে, নিয়মিতই আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। শুকনো মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই জ্বলতে থাকে ময়লা। আগুনের লেলিহান শিখা না দেখা গেলেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী জানান দেয় ভেতরে কী চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ধোঁয়ার মাত্রা ও গন্ধই বলে দেয়, এখানে বর্জ্য পোড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ার ঘনত্বও বাড়ে।
সরজমিনে ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে দেখা যায়, ল্যান্ডফিলের বিভিন্ন অংশে আগুন জ্বলছে। বর্জ্য পোড়া ছাই ও বিষাক্ত ধোঁয়া শুধু ল্যান্ডফিলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের কৃষিজমি, গাছপালা ও বসতবাড়ির দিকে। সবুজ ঘাস বিবর্ণ হয়ে পড়েছে, মাটির রঙ হয়েছে কালচে। বাতাসে মিশে থাকা পোড়া প্লাস্টিকের গন্ধে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা দায়।
রাজধানীতে দুর্যোগপূর্ণ বায়ু, সতর্কতা-পদক্ষেপ নেই
০৬ মার্চ ২০২৬, সমকাল
ঢাকার আকাশ প্রায় প্রতিদিনই ধূসর পর্দায় ঢেকে যাচ্ছে। ধুলা, ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের মিশ্রণে তিলোত্তমা এই নগরে বুকভরে শ্বাস নেওয়াই এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই শীতের শুরু থেকে রাজধানীর বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আন্তর্জাতিক সূচকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় উঠে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আড়াই কোটি মানুষের এই নগরের সামনে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতার ভিড়ে এই পরিবেশগত সংকট তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। দূষণ নিয়ন্ত্রণে মাঠে কার্যত নিষ্ক্রিয় দুই সিটি করপোরেশন। আগের মতো সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে না। দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত পুরোনো যানবাহন, ইটভাটা কিংবা নির্মাণকাজও চলছে আগের মতো। সরকারি দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
টিলার ভাঁজে ভাঁজে ছিল সবুজ গাছপালা, এখন অনেকটা ‘কঙ্কালসার’
০৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
দুজন ব্যক্তি শাবল দিয়ে অনবরত টিলা খুঁড়ছেন। খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটির ভেতর থেকে কোদাল দিয়ে আরেকজন পাথর তুলে টুকরিতে রাখছেন। অন্য একজন মাথায় টুকরি বহন করে কয়েক শ গজ দূরে স্তূপ করে পাথর মজুত করছেন। পরে সেই পাথর ট্রাক্টরে করে পাচার করছিলেন আরও দুজন।
গত ২৪ মার্চ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আরেফিন টিলার স্থানে স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তের গভীরতা ২০ থেকে ৩০০ ফুট। কোনো গর্তে পানি জমেছে। প্রায় গর্তের পাশেই হেঙ্গার (পাথর তোলার জন্য বাঁশ-কাঠের তৈরি বিশেষ বস্তু) দাঁড় করিয়ে রাখা।
সরকারি খাস খতিয়ানে ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গাজুড়ে শাহ আরেফিন টিলার অবস্থান। আড়াই দশক আগেও এখানে উঁচু বড় আকারের দুটি টিলা ছিল। টিলায় মাটির নিচে স্তরে স্তরে ছিল ছোট-বড় অসংখ্য পাথর। এ ছাড়া টিলার আশপাশে আরও প্রায় ৩৫০ একর জায়গায় ছিল পাথর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে স্থানটিকে ‘পাথরের খনি’ ডাকতেন। টিলার ভাঁজে ভাঁজে ছিল সবুজ গাছপালা। ২০০০ সালের দিকে টিলা ও আশপাশে পাথরখেকোদের প্রথম নজর পড়ে। এরপরই প্রকাশ্যে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকে।
মন্ত্রী বিচারপতি সচিবদের হাঁটার পার্ক রমনায় বাড়তি যত্ন অবহেলায় ধুঁকছে বাকিগুলো
১০ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
একসময় রাজধানীর ছোট-বড় পার্কগুলো ছিল নগরবাসীর হাঁটা, ব্যায়াম ও অবসরযাপনের কেন্দ্র। ধীরে ধীরে সরকারি উদ্যোগে ওই পার্কগুলো দোকান, ক্লাব, মেলা, রাইড ইত্যাদির নামে দখল ও সংকুচিত হতে থাকে।
শুধু তা-ই নয়, বেশির ভাগ পার্কে নোংরা আর আবর্জনার কারণে বসা কিংবা হাঁটার পরিবেশ নেই। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম মন্ত্রীপাড়ায় অবস্থিত রমনা পার্ক। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত রমনা পার্কে কোনো দখল নেই, বিভিন্ন সময় এখানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রকল্প। পার্কটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের চারটি বিভাগের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসারদের বিশাল টিম দায়িত্ব পালন করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমলা, মন্ত্রী, বিচারপতিরা এ পার্কে হাঁটতে আসেন। যে কারণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এর সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা অটুট রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার বাকি পার্কগুলো বেহাল অবস্থা প্রমাণ করে সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই সেগুলো অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। সরকারের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নগরবাসীর মনোদৈহিক বিকাশ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পররাষ্ট্র বিষয়ক
বাণিজ্য চুক্তি মানার বার্তা নিয়ে আসছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত
০১ মার্চ ২০২৬, সমকাল
বাণিজ্যে ভারসাম্য তৈরিতে শুল্ক নির্ধারণে সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। তবে চলতি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে দেন। ফলে পাল্টা শুল্ক না থাকলেও সই করা এ চুক্তি বাস্তবায়নের পরামর্শ থাকবে ঢাকার জন্য। আর এ পরামর্শ নিয়ে তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস পল কাপুর।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মার্চের শুরুতে পল কাপুর বাংলাদেশ সফর করবেন বলে মন্ত্রীকে জানান রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ব্যবসা ও ভূরাজনীতি গুরুত্ব পাবে পল কাপুরের সফরে
০১ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর আগামী মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন। তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ডোনাল্ড লুর জায়গায় নিয়োগ পাওয়ার পর এটা তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। ঢাকার আগে তিনি দিল্লি সফরে যাবেন।
ঢাকা সফরের সময় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন পল কাপুর। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লি হয়ে ঢাকায় পল কাপুরের তিন দিনের সফরে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গ আলোচনায় আসবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সূত্রগুলো ৩ থেকে ৫ মার্চ পল কাপুরের ঢাকা সফরের বিষয়টি প্রথম আলোর কাছে নিশ্চিত করেছে। অতীতের প্রসঙ্গ টেনে কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক মাস না যেতেই পল কাপুরের ঢাকা সফর তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য থাকার মধ্যে ওয়াশিংটন থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল তখনকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুকে। তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে শর্তহীন সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন, যা ছিল ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি ‘একতরফা’ নির্বাচনের আগের ঘটনা। আর এবার নির্বাচনের পর যে পল কাপুর ঢাকা সফরে আসবেন, সেটা গত মাসের শুরুতে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন।
খসড়া সূচি অনুযায়ী, পল কাপুর মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছাবেন। পরদিন, অর্থাৎ ৪ মার্চ তিনি মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দিনের দ্বিতীয় ভাগে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। সফরের শেষ দিনে তিনি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার বাণিজ্য, ভূরাজনীতি
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পল কাপুরের ঢাকায় আসা হবে দেশটি থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের প্রথম সফর। ফলে আগামী দিনগুলোতে সম্পর্কের পথনকশা কেমন হবে এবং কার কোথায় অগ্রাধিকার, তা এই সফরে অনেকটা স্পষ্ট হবে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ ফেব্রুয়ারি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের প্রসঙ্গ রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পল কাপুরের ঢাকা সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চিঠির আলোকে আলোচনা হতে পারে।
পল কাপুরের ঢাকা সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি যে গুরুত্ব পাবে, তা গত সপ্তাহে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটনের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পল কাপুরের সফরসঙ্গী হিসেবে ঢাকা সফরে থাকবেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন।
ওয়াশিংটন থেকে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে পল কাপুরের সফরে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে আরও প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি।
বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষাচুক্তি জিসোমিয়া ও আকসা সই করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জিসোমিয়া নিয়ে আলোচনা অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ঢাকা এসেছিল। এ সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল এ নিয়ে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসেও আলোচনা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি পল কাপুরের সফরে গুরুত্ব পাবে।
ওয়াশিংটন, দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, ভারত হয়ে বাংলাদেশে পল কাপুরের সফরে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও আগ্রহের বিষয়টি আলোচনায় আসবে, বিশেষ করে চীনের প্রভাব থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসার বিষয়টি আবার সামনে আনবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিষয়টি তিনি তুলবেন, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত ইতিবাচক সম্পর্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বার্তা থাকতে পারে। তবে ঢাকা মনে করে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে দিল্লির বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা, ইরানের নাম নেয়নি ঢাকা
০১ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।
শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে দুইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতাও রয়েছেন।
ওই হামলার জেরে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেণণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বিএনপি-জামায়াত ‘সম্মতি দিয়েছিল’: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
০৪ মার্চ ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির করার আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াত থেকে ‘সম্মতি’ আসার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে তিনি বলেন, “ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল।
“সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই চুক্তি করার ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের সমালোচনার মধ্যে এমন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আর্ট চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা
০৪ মার্চ ২০২৬, সমকাল
অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (আর্ট) বা পারস্পারিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। বুধবার ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি এস পল কাপুরকে বৈঠকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। গত মঙ্গলবার রাতে তিন দিনের সফরে তিনি ঢাকা এসেছেন। আজ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। আর সন্ধ্যায় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক নৈশ্যভোজে অংশ নেন মার্কিন এ দূত।
বুধবার বিকেলে পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে আর্ট চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, আর্ট চুক্তির বিষয়ে পল কাপুর আশ্বস্ত হয়েছেন যে বাংলাদেশ সরকার এ চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর ধারা ১২২ এর আওতায় ১৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। যখন ধারা ৩০১ বাস্তবায়ন হবে, তখন যাতে শুল্ক ১৯ না হয়ে কিছু কম হয়। সে আবেদন বাংলাদেশ করেছে।
নির্বাচনের তিন দিন আগে আর্ট সই নিয়ে মার্কিন কোনো চাপ ছিল কি না– উত্তরে তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন। দলগুলো এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন না যে চুক্তিটি আমরা অন্ধকারে করেছি। চুক্তিতে একটা প্রবেশের ধারা এবং বের হবার ধারা রয়েছে। প্রবেশের ধারা হচ্ছে– আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালে এ চুক্তি কার্যকর হবে না। এখনও আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাইনি। সরকার ইচ্ছা করলে পর্যালোচনা করতে পারে। আর বের হবার ধারা হচ্ছে– ৬০ দিনের নোটিশে বের হওয়া যাবে।
বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়নসহ আরও যেসব বিষয়ে জোর দিয়ে গেলেন পল কাপুর
০৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসে ঢাকা–ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের দ্রুত ফেরানোর বার্তা দিয়ে গেছেন তিনি।
গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় দীর্ঘদিনের শাসক দল আওয়ামী লীগের বিদায়ের কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে রিপাবলিকানরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণ করার পর সরকারি দায়িত্বে পরিবর্তনের ঢেউয়ে এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর জায়গায় বসেন পল কাপুর। গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম ঢাকা সফর ঘিরে তাই কৌতূহল ছিল বেশি।
৩ মার্চ থেকে তিন দিনের এই সফরে পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি ঢাকা এসেছিলেন দিল্লি ঘুরে। সংগত কারণেই নির্বাচন পরবর্তী ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের মনোভাবের প্রসঙ্গ বাংলাদেশের আলোচনায় এসেছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। দুই দেশের কূটনৈতিক মহলগুলোতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গঠনমূলক থাকুক, এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের এই বার্তা পল কাপুর দুই দেশেই দিয়ে গেছেন।
‘বাণিজ্যচুক্তি বহাল রয়েছে’
পল কাপুরের এই সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের করা বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ঘিরে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এই শুল্ক কমানোর দর–কষাকষির ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে করা ওই চুক্তি নিয়ে এর মধ্যে সংশয় তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এর মধ্যে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার কারণে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় আসার পর বাংলাদেশে সরকারি পর্যায় থেকে নানা বক্তব্য দেওয়া হয়। এসব বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এসেছে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওই চুক্তি কার্যকর কি না, এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ঢাকা সফরে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে গেছেন পল কাপুর। তিনি বলেছেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও চুক্তি বলবৎ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিধিবিধান অনুযায়ী শুল্ক ও বাণিজ্যের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনেকগুলো বিকল্প সুযোগ আছে। তাই চুক্তিটি বহাল আছে। এখন বাংলাদেশ যেন যথাযথভাবে দ্রুত তা কার্যকর করে।
পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করবে জামায়াত
দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলোতে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে যে চুক্তিটি পর্যালোচনার সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। যদিও সংসদ ছাড়া এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে না। সংসদে চুক্তির পর্যালোচনা, প্রশ্ন উত্থাপন এবং মতামত দিতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাধারণত নির্বাহী বিভাগের হাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনোরকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই এটি নির্বিঘ্নে পাস হোক।
দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি বোয়িং কেনা, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনা, তৈরি পোশাক উৎপাদন করে বিনা শুল্কে সুবিধা নিতে তুলা আমাদনি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গম, সয়াবিন কেনার বিষয়গুলো রয়েছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।
রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল বাংলাদেশ
১১ মার্চ ২০২৬, যুগান্তর
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় (ওয়েভার) চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মতো বাংলাদেশকেও একই ধরনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিসটেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে একটি অস্থায়ী ওয়েভার দিয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ পাওয়ার আশা করছে।
বাংলাদেশের উৎপাদন খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অযৌক্তিক ও অসম্মানজনক
১২ মার্চ ২০২৬, জাগো নিউজ
উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ ও একটি জোটের নাম এসেছে। বিষয়টি যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এটি অস্বস্তিকর ও অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য কারও কারও। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে স্বাগতও জানিয়েছেন কোনো কোনো উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের যে ক্যাটাগরিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়, সেগুলো সেখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয় না, ফলে মার্কিন শিল্পভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে কেউ কেউ দেখছেন, দেশটির বাণিজ্যিক দরকষাকষির শক্তি বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবেও।
জানতে চাইলে দেশের পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার নামে একটা বিষয়ে তদন্ত হবে—আপনার বিষয়ে যদি এখন মনে করেন, থানা থেকে একটা বিষয়ে তদন্ত করতে আসবে, সেটা কি আপনার জন্য স্বস্তিদায়ক? সম্মানজনক?’
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত উৎপাদন করার কোনো কোটা ঠিক করে দেইনি। যুক্তরাষ্ট্র যে এত বেশি উৎপাদন করা যাবে না, তাই না? বিষয়টা হচ্ছে যে এমন কিছু উৎপাদন করে এক্সপোর্ট করছি, কি না যেটি তাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রি সাফার করবে। কিন্তু আমরা তো পোশাক বানাই। যুক্তরাষ্ট্রে তো আর পোশাকের ইন্ডাস্ট্রি নেই।’
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্তে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র
১৩ মার্চ ২০২৬, সমকাল
দেশভেদে ভিন্ন হারে উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ সর্বোচ্চ আদালতে বাতিল হওয়ায় অন্য কোনো পন্থা খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশসহ ১৫ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কিনা– তা নিয়ে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর। গত বুধবার ইউএসটিআর এ ঘোষণা দেয়। এসব দেশের আইন, নীতি এবং চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক বা প্রতিবন্ধকতামূলক কিনা– তা বের করা তদন্তের উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় এ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইউএসটিআর। বাংলাদেশ ছাড়া এ তালিকায় রয়েছে চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান এবং ভারত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও এর আওতায় থাকবে। ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টা পারস্পরিক শুল্ক আরোপের পর সমঝোতার মাধ্যমে তা কমাতে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর বা চূড়ান্ত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের কোনো অগ্রাধিকার নেই: আনু মুহাম্মদ
১৩ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশের কোনো অগ্রাধিকার দেখছেন না অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বর্তমান সরকারের কাছে তাঁর দাবি, এই চুক্তির বিরুদ্ধে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চুক্তি স্বাক্ষরকারীদের বিরুদ্ধে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি কেন বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপ্রধানের বক্তব্যে এসব কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বিজয়নগরের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। আয়োজক গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
আনু মুহাম্মদ বলেন, বিএনপির নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি সত্যিই মনে করেন যে সবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে অবশ্যই তিনি যেন এই চুক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। চুক্তি স্বাক্ষরকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার আগে তা নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের কতিপয় ব্যক্তির তৎপরতায় হতাশা প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই চুক্তি, চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত তৎপরতায় তাঁরা যেটা দেখেছেন, সেটা হচ্ছে—সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁরা এই অবস্থার পরিবর্তন চান।
আট মাসে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ
২৯ মার্চ ২০২৬, প্রথম আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সীমান্ত দিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ১৭ জনকে ঠেলে পাঠায় (পুশ ইন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাঁদের আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আটজন পুরুষ, পাঁচ নারী ও চারটি শিশু।
এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ভারতের ওডিশা রাজ্যের হিন্দিভাষী একই পরিবারের ১৪ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনার সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ।
শুধু গোমস্তাপুর বা দর্শনা নয়, গত বছরের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে দেশের ৩২ জেলার সীমান্ত দিয়ে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ। তাঁদের মধ্যে ১২০ জন ভারতের নাগরিক বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এর পর থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে শুরু করে বিএসএফ।
ইরান ইস্যুতে ঢাকার বিবৃতি নিয়ে তেহরান সন্তুষ্ট নয়: ইরানের রাষ্ট্রদূত
০১ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, ইরানে ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার যে বিবৃতি দিয়েছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় তেহরান। ইরান প্রত্যাশা করে, আগ্রাসী শক্তির ভূমিকার নিন্দা করবে বাংলাদেশ।
আজ বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ কথাগুলো বলেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকার ইরান দূতাবাস।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি। এই বিবৃতি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্র। আমাদের ভাই (বাংলাদেশ) হিসেবে ইরানে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে নিন্দা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সেটা হয়নি। এটা আমাদের জন্য কষ্টের।’
দুঃখ প্রকাশের এক দিন পর পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
০৮ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলগুড়ি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে একই সীমান্তে বাংলাদেশি তরুণ মিজানকে গুলিতে আহত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিল বিএসএফ।
লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলী হোসেনের মরদেহ বর্তমানে ভারতের একটি হাসপাতালে আছে।
বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে রাজনৈতিক অংশীদারত্বে উত্তরণ ঘটছে
১৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে রাজনৈতিক অংশীদারত্বে উত্তরণ ঘটতে যাচ্ছে।
অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) প্রাথমিক স্বাক্ষরের (ইনিশিয়াল সাইনিং) মধ্য দিয়ে এই উত্তরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে দুই পক্ষ। আগামীকাল সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে দুই পক্ষ প্রাথমিক স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।
এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি–বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কাল্লাসের বৈঠক হবে। বৈঠকের পর চুক্তির প্রাথমিক স্বাক্ষর হবে।
ঢাকা ও ব্রাসেলসের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে জানায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে পাঁচ দফা আলোচনা শেষে দুই পক্ষ ৮৩টি ধারাসংবলিত পিসিএর খসড়া চূড়ান্ত করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশই এ চুক্তিতে সই করবে।
বাংলাদেশ-ইইউ সমন্বিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি সই
২০ এপ্রিল ২০২৬, জাগো নিউজ
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা কাঠামোর প্রাথমিক চুক্তি (পিসিএ) স্বাক্ষর হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ব্রাসেলসে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইইউর পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া ও প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি সই করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ/ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস এসময় উপস্থিত ছিলেন।
