সম্পাদকীয়
মে দিবসে বিশ্বের সকল মেহনতি মানুষকে শ্রদ্ধা জানাই। যুগে যুগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে নিপীড়িত শ্রমজীবী মানুষেরা লড়াই করে বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য বিরোধী শক্তি তৈরি করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
এই সংখ্যা যখন প্রকাশিত হচ্ছে তখন ইরানে মার্কিন-ইজরাইলি আগ্রাসনের কারণে পুরো বিশ্বই রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ভাবে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শুধু তাই নয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশে দেশে শুল্ক আরোপে যথেচ্ছাচার, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ, কিউবায় কয়েক দশকের অবরোধের পর তা দখলের হুমকি, গ্রীনল্যান্ড নিজেদের বলে দাবি করা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের মাস্তান পর্ব শুরু করেছেন। কিন্তু এতে কি বিশ্বব্যবস্থায় তার কর্তৃত্ব শক্ত হচ্ছে না ভেঙে যাচ্ছে? নতুন বিশ্বব্যবস্থার কি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে? এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী করবে? এই বিষয়ে গত ১৮এপ্রিল সর্বজনকথার উদ্যোগে আয়োজিত প্রথম ‘প্রশ্নবোধের আড্ডা’য় মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান যে আলোচনা করেন তার সারসংক্ষেপ এই সংখ্যায় প্রকাশ করা হলো।
ছয় দশক ধরে কিউবার উপর মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদী দানবের নাকের ডগায় বসে সেদেশের জনগণ তৈরি করেছেন নিজেদের শক্তিশালী গৌরবময় জগত। সম্প্রতি কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আগ্রাসন বৃদ্ধি ও হামলার ঘোষণার বিপরীতে রচিত হয়েছে ‘কিউবার জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না’ লেখাটি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই চুক্তির বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে কল্লোল মোস্তফা এর বিভিন্ন ধারা উপধারা কীভাবে বাংলাদেশকে অধীনতায় বেঁধে অর্থনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত দিকে দীর্ঘমেয়াদী বিপদের মধ্যে ফেলছে তা স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশে এখন বহুবিধ জ্বালানি সংকট চলছে। একদিকে ইরানে মার্কিন আক্রমণের কারণে তেল সংকট, অন্যদিকে আমদানি নির্ভর ব্যয়বহুল প্রাণবিনাশী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে সৃষ্ট অবধারিত বিদ্যুৎ সংকট। ঘর বাহির সর্বত্র মানুষের ভোগান্তি। দীর্ঘসময়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে কৃষকসহ দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লোডশেডিং বাড়ছে। যখনই এরকম সংকট দেখা যায় তখনই দেশি বিদেশি কোম্পানির দালালচক্র সক্রিয় হয়ে যায়, তারা আগের সর্বনাশা পথেই দেশকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। কিন্তু সংকট থেকে টেকসই উত্তরণের জন্য কী ধরনের চিন্তা ও উদ্যোগ দরকার মোশাহিদা সুলতানার লেখায় তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে যে পরিকল্পনার কথা আগে বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছেন এবং এখন তা বাস্তবায়নের পথে চলেছেন, এই তিনটি বিষয় বিশ্লেষণের পাশাপাশি করণীয় সুপারিশ করে লিখেছেন রাখাল রাহা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে LGBTQIA+, হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর উপর একটি অনলাইন জরিপ পরিচালিত হয়। সেই জরিপ প্রতিবেদন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে, এই সংখ্যায় তার সংক্ষিপ্তরূপ প্রকাশ করা হলো। মানবাধিকার প্রতিদিনের আলোচনা ও প্রশ্নের বিষয়। কোন সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক লড়াইএর মাধ্যমে অর্জিত মানবাধিকারকে সীমাবদ্ধ এবং ক্ষমতাবানদের হাতিয়ারে পরিণত করে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন আজমাঈন ফারহিন।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে সামরিক বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য শুরু হয় যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। এই দেশের রাজনীতি অর্থনীতি পররাষ্ট্র নীতি সবকিছুতেই সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত। এই ক্ষমতার বিন্যাস তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অবদান আছে। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর একক কর্তৃত্ব অর্থনীতি ক্ষেত্রে কী রূপ নিয়েছে তার বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন পাকিস্তানের সমাজবিজ্ঞানী আয়েশা সিদ্দিকা। তার গ্রন্থের ভিত্তিতে এই সংখ্যা থেকে ধারাবাহিক লেখা শুরু করেছেন মেহেদী হাসান।
‘বাংলাদেশের ৫০ বছর ও তারপর’ ধারাবাহিক লেখার একাদশ পর্বে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ১৯৯০ সালে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ১৯৯১ সালে ২৯টি টাস্ক ফোর্স গঠন করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর অনুসন্ধান, তাদের পরিচালিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচিত সরকার, ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯২ সালে যুদ্ধাপরাধী বিরোধী ঐতিহাসিক গণআদালত এবং লোগাং হত্যাকান্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারিক আলি রচিত মৌলবাদের সংঘর্ষ: ক্রুসেড, জিহাদ এবং আধুনিকতার অনুবাদের ত্রয়োদশ পর্বে পাকিস্তানের কাহিনীর বাকি অংশ আলোচনা করা হয়েছে। বীথি ঘোষ সংকলিত ‘২৪ -এর গণআন্দোলনের গান’ ধারাবাহিকের সপ্তম পর্বে আরো বেশ কিছু গান যুক্ত করা হলো। জেমস বেনিংয়ের “ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা” বিষয়ে চলচ্চিত্র পর্যালোচনা করেছেন মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন।
২০২৫ সাল ছিল ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুটো স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতায় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ থেকে, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে, পূর্ববাংলা ব্যবস্থা পরিষদের সদস্য প্রভাসচন্দ্র লাহিড়ীর স্মৃতিচারণ এখানে পুনপ্রকাশ করা হলো।
আনু মুহাম্মদ
২৪ এপ্রিল ২০২৬
