জুলাই সনদ ও গণভোট: কী আছে, কী নেই
কল্লোল মোস্তফা
অন্তর্বর্তী সরকার, দায়িত্ব গ্রহণের পর, বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেগুলোর রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে একটি অভিন্ন করণীয় নির্ধারণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে কমিশন তৈরি করে ‘জুলাই সনদ’। এখানে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য হয়নি, অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্তও হয়নি। তবে নির্বাচনের দিন এই সনদের উপরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট। জুলাই সনদ এবং তাতে বিভিন্ন দলের ঐক্য অনেক্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে এই প্রবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে তৈরি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পাঁচটি কমিশনের (সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন) সুপারিশ থেকে বাছাই করা ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৩২টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা হয়। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ে বেশ কতগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতসহ জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা হয়।১ সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন, সনদের পটভূমিতে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপিত না হওয়া, সনদ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন না তোলার অঙ্গীকার, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট না করা ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে বেশ কয়েকটি দল এদিন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকে।২
‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ধাপে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পাঁচটি কমিশনের (সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন) সুপারিশ থেকে বাছাই করা ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৩২টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা হয়।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য:
জুলাই সনদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যেগুলো নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংসদীয় ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বাজেট ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবশ্য বিএনপি এর সঙ্গে ‘সংবিধান সংশোধন’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তা (যুদ্ধ পরিস্থিতি)’ সংক্রান্ত দুটি শর্ত সংযোজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকা, সংসদে সরকারি হিসাব কমিটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে আসনের অনুপাতে বিরোধী দলের সদস্যদের মনোনয়ন এবং ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।
নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতাসহ পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও শুধু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের বদলে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, আপিল বিভাগের বিচারপতিসহ পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হবে।
রাষ্ট্রপতিকে বেশ কিছু সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ব্যাপারে ক্ষমতা দেওয়া হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ছাড়াই নিজ এখতিয়ার বলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করবেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক খেয়ালখুশিমতো দণ্ডিত আসামিকে ক্ষমা করার সুযোগ বন্ধ করা হবে। তিনি আইনে নির্ধারিত নীতি ও মানদণ্ড মেনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের সম্মতি নিয়ে তবেই ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সচিবালয় স্থাপন ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। এই সচিবালয়ের দায়িত্ব হবে অধস্তন আদালতের বিচারকের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলা বিধান। প্রধান বিচারপতি নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটনোর বদলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি বা জ্যেষ্ঠতম দুজন বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন। এ ছাড়া বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন করার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে।
দুর্নীতি দমনে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে– দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদনের বিধান বাতিল; নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের আয় ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা; দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে সুবিধাভোগী মালিকানা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় ও আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিরসন ও প্রতিরোধের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন।
পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে। পুলিশ কমিশনের কাজ হবে নাগরিকদের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা।
স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধীন ন্যস্ত করা বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর সব দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা দেওয়া বিষয়ে গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য ছাড়া আর সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি
ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইনসভা–এই তিন অঙ্গের সমন্বয়ে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন। তবে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলের আপত্তি থাকায় এ প্রস্তাব থেকে সরে এসে বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) ও ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান সংবিধানে যুক্ত করার প্রস্তাব দেয় ঐকমত্য কমিশন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য হলেও বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানে বাছাই কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল ভিন্নমত দিয়েছে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ঐকমত্য কমিশন ১২টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করে। তবে শেষ পর্যন্ত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত দেয়– জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হবে না। তবে গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভিন্নমত দেয় বিএনপিসহ কয়েকটি দল।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন হবে। কিন্তু বিএনপিসহ কয়েকটি দল ভোটের অনুপাতের বদলে নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের পক্ষে। উচ্চকক্ষ প্রস্তাব করার মূল্য উদ্দেশ্য হলো সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংসদে এক দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য হ্রাস। কিন্তু আনুপাতিক পদ্ধতির বদলে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে তা নিম্নকক্ষের অনুরূপ হবে এবং তার ফলে উচ্চকক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য সফল হবে না। লক্ষণীয় বিষয় হলো, সংবিধান সংশোধন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে আইনসভার উভয় কক্ষের অনুমোদনের প্রস্তাবেও ভিন্নমত দিয়েছে বিএনপিসহ কয়েকটি দল।
সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়নি, এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে গণফোরাম, জেএসডি, সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী)। স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন; স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধীন ন্যস্ত করা; অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের সংশোধন; পৃথক কর্ম কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতসহ কয়েকটি দল।
সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়নি, এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে গণফোরাম, জেএসডি, সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী)। স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন; স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধীন ন্যস্ত করা; অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের সংশোধন; পৃথক কর্ম কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতসহ কয়েকটি দল।
ঐকমত্য কমিশনে নারী এবং ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছিল না যার প্রভাব জুলাই সনদে পড়েছে। যেমন: জুলাই সনদে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০ আসনে উন্নীত করার ব্যাপারে ঐকমত্য হলেও নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও অধিকার কর্মীদের দাবি অনুসারে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন এবং এরপর ৩৩ শতাংশের লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ বর্ধিত হারে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে কয়েকটি দলের ভিন্নমতসহ ঐকমত্য হয়েছে। তবে এই বিধান সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।
জুলাই সনদে যা নেই
প্রথম পর্যায়ের ছয়টি সংস্কার কমিশন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তার সব কটি ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আসেনি এবং সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়নি। আরেকটি বিষয় হলো, সংবিধানে নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও কোন কোন মৌলিক অধিকার কীভাবে সম্প্রসারণ করা হবে, তা সনদে উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাবগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে যেন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করেন।
এ ছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত শ্রম, গণমাধ্যম, স্থানীয় সরকার, নারী ও স্বাস্থ্য খাত সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে ঐকমত্য কমিশন কোনো আলোচনা করেনি। দ্বিতীয় পর্যায়ের সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোকে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন কমিশনগুলোর প্রধানরা। তারা বলেছিলেন, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত কমিশনসমূহের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রমও সমানভাবে জরুরি।৩ কিন্তু সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সে বিষয়ে সরকারের দিক থেকে ভিন্ন কোনো পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়নি, যা এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠিত শ্রম, গণমাধ্যম, স্থানীয় সরকার, নারী ও স্বাস্থ্য খাত সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে ঐকমত্য কমিশন কোনো আলোচনা করেনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট
১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এই আদেশ অনুসারে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট অনুষ্ঠিত হবে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত চারটি প্রস্তাবনার ওপরে। গণভোটের দিন এই চারটি প্রস্তাবনার ওপর একটিমাত্র ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণকে মতামত জানাতে হবে।৪

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
গণভোটের চারটি প্রস্তাবের মধ্যে প্রথমটিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। আর চতুর্থ প্রস্তাবে জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটের এই প্রস্তাব যেভাবে করা হয়েছে, তাতে কিছু সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে আর কিছু সংস্কার নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলে যেসব সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট আর কার্যকর থাকবে না সেগুলো হলো: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে নিয়োগ সম্পর্কিত সংস্কার ও আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে গণভোটের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রস্তাবে। আর বাদবাকি বিষয়ে রাজনৈতিকগুলো নিজ নিজ নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে গণভোটের চার নম্বর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের এই আদেশ নানা ধরনের জটিলতার জন্ম দিতে পারে।
প্রথমত, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে গণভোটের যে প্রশ্ন রাখা হয়েছে তা ইতঃপূর্বে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত বিষয়ে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো এসব ভিন্নমত নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করে জনগণের সম্মতি নেবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যেভাবে গণভোটের প্রস্তাব রাখা হয়েছে তাতে উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদে যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলেছে সেভাবেই তা বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় ‘অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান’ বলতে ঠিক কোনগুলোকে বোঝানো হয়েছে তা নিয়েও ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যেভাবে গণভোটের প্রস্তাব রাখা হয়েছে তাতে উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ফলাফলকে উপেক্ষা করে সরাসরি জনগণের মতামতই যদি নিতে হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো: শুধু সংবিধান সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট হবে কেন? কেন এগারোটি সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশ নিয়েই গণভোট হবে না? কেন শ্রম, স্বাস্থ্য, নারী কিংবা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে গণভোট হবে না? জনগণের মতামত শুধু এই সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের জন্যই নিতে হবে, বাকিগুলোর জন্য লাগবে না– এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারকে কে দিল? রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ও স্বাক্ষর করা জুলাই সনদে তো এরকম কিছু নেই।
শুধু সংবিধান সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে গণভোট হবে কেন? কেন এগারোটি সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশ নিয়েই গণভোট হবে না? কেন শ্রম, স্বাস্থ্য, নারী কিংবা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে গণভোট হবে না?
তৃতীয়ত, সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তাতে সব কটি বিষয়ে সবাই একমত হতে পারেননি। তারা কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন, কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। এখন এসব বিষয়ে হঠাৎ করে জনগণের কাছে এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে মতামত চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? রাজনৈতিক দলগুলোর মতো সাধারণ মানুষও তো কিছু বিষয়ে একমত আর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তারা সংবিধানের সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে এক শব্দে মতামত দেবেন কী করে? তা ছাড়া এসব সংস্কার প্রস্তাবের ভালো-মন্দ সব দিক সম্পর্কে কি জনগণকে ব্যাপক মাত্রায় অবহিত করা হয়েছে? এটা কি সারা বছর ক্লাস না করিয়ে হঠাৎ করে পরীক্ষায় বসানোর মতো ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে না? সাধারণত গণভোটে জনগণের মতামত নেওয়া হয় সংবিধান সভায় আলোচনা তর্ক-বিতর্কের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মধ্যদিয়ে গৃহীত সংবিধানের ওপর। এখানে ঠিক উল্টো কাজটি করা হচ্ছে– আগে গণভোট নিয়ে পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বলা হচ্ছে সেই অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে।
জনগণের কাছে এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-তে মতামত চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? রাজনৈতিক দলগুলোর মতো সাধারণ মানুষও তো কিছু বিষয়ে একমত আর কিছু বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তারা সংবিধানের সমস্ত সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে এক শব্দে মতামত দেবেন কী করে?
চতুর্থত, গণভোটের প্রশ্নে আনুপাতিক উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতকে অস্বীকার করার কারণে পুরো জুলাই সনদ বাস্তবায়নই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। কারণ, কোনো দলের কাছে যদি এই ভিন্নমতগুলো রক্ষা করা অত্যাবশ্যক মনে হয়, তাহলে ঐ রাজনৈতিক দল গণভোটে দেওয়া পুরো প্যাকেজের বিরুদ্ধেই ‘না’ ভোট দেওয়ার ক্যাম্পেইন করতে পারে। কারণ, গণভোটে ৪টি প্রস্তাব বিষয়ে আলাদা আলাদা ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি, প্রশ্নটা চারটা হলেও উত্তর দিতে হবে একটা! ফলে চারটা প্রস্তাবের মধ্যে একটা প্রস্তাব বিষয়ে কারো ভিন্নমত থাকলে এবং সেটা তার কাছে অত্যাবশ্যক মনে হলে তিনি পুরো গণভোটের ক্ষেত্রেই ‘না’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। অথচ ভিন্নমতসহ গণভোট হলে ওই সব দলই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিত এবং ক্ষমতায় গিয়ে যার যার অঙ্গীকার করা সংস্কার করতে বাধ্য থাকত। অন্তর্বর্তী সরকারের হঠকারী গণভোট প্রস্তাবের কারণে এখন ভিন্নমতগুলো তো নয়ই, একমত হওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এমনকি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়লাভ করলেও নির্বাচনে সরকার গঠনকারী দল বা জোট স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে তাদের নোট অব ডিসেন্টের কথা উল্লেখ করে সেগুলোর বাস্তবায়ন অস্বীকার করতে পারে। সেগুলো তখন আরেক ধরনের আইনি, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা কতটুকু
গণভোটে জনসম্মতি ও সর্বোচ্চ আইনি ভিত্তি পেলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দল বা জোটের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার ওপর। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামপন্থিদের নেতৃত্বাধীন তিন জোটের পক্ষ থেকে একটি রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছিল। তিন জোটের রূপরেখা নামে পরিচিত এই দলিলে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো অঙ্গীকার করা হয়েছিল যার মধ্যে রয়েছে– অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন; রেডিও-টেলিভিশনসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পরিণত করা; নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সব রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণার অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করা; জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি সব আইন বাতিল করা।
বাস্তবতা হলো, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো এসব অঙ্গীকারের কোনোটিই বাস্তবায়ন করেনি। জুলাই সনদে থাকা অঙ্গীকারগুলোরও যে একই পরিণতি ঘটবে না তার কি নিশ্চয়তা!
কাজেই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো যেন পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবায়ন করে সে বিষয়ে যেমন রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের দিক থেকে যথাযথ তদারকি করতে হবে, সেই সঙ্গে যেসব সংস্কার সুপারিশ জুলাই সনদ থেকে বাদ পড়ে গেল, সেগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারেও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নইলে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রয়াত ড. তোফায়েল আহমেদ যেমন বলেছিলেন, ইতিহাসে ‘আর্কাইভাল ভ্যালু’ যোগ করা ছাড়া সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো আর কোনো কাজে লাগবে না।৫
কল্লোল মোস্তফা: প্রকৌশলী লেখক। ইমেইল: kallol_mustafa@yahoo.com
তথ্যসূত্র:
১। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, অক্টোবর ২০২৫, পৃষ্ঠা: ৩
২। জুলাই জাতীয় সনদে ২৪ দলের সই, প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
৩। দ্বিতীয় ধাপের সংস্কার কমিশনের সুপারিশও জাতীয় সনদে চান ৫ কমিশনের প্রধান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৩ আগস্ট ২০২৫
৪। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, প্রথম আলো, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
৫। সংস্কারের লক্ষণ দেখছেন না, হতাশ স্থানীয় সরকার কমিশনের প্রধান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৯ জুন ২০২৫
