সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২৬ অক্টোবর ২০২৩- ২৬ জানুয়ারি ২০২৪)

সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২৬ অক্টোবর ২০২৩- ২৬ জানুয়ারি ২০২৪)

শ্রমজীবি মানুষ

গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আজও মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

২৬ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিচালা ও মৌচাক এলাকায় চতুর্থ দিনের মতো কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এ সময় শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় অবস্থিত লগোজ অ্যাপারেলস লিমিটেড, এ টি এস অ্যাপারেলস লি. ও হাইড্রো–অক্সাইড লিমিটেড এবং কোনাবাড়ি এলাকার এল জেড লিমিটেড ও ওরিয়েন্ট অ্যালিউর লিনজেরি লিমিটেড নামক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকেরা তাঁদের সর্বনিম্ন বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবি জানান। এ ছাড়া মৌচাক এলাকার গ্লোবাস, কোকোলাসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা একই দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে গাজীপুর রণক্ষেত্র, আহত দেড় শতাধিক

২৬ অক্টোবর ২০২৩, সমকাল

সর্বনিম্ন ২৩ হাজার টাকা বেতন দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছেই। দাবি আদায়ে চার দিন ধরে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুর শিল্পাঞ্চলের পোশাককর্মীরা। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারটি পয়েন্টে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ হয়। এতে এলাকাগুলো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ার গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরা পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন। উত্তেজিত শ্রমিকরা যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন এবং কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেন। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে পঞ্চম দিনের মতো শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল

২৮ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা আজ পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করেছেন। আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে গাজীপুর নগরের কোনাবাড়ী এলাকায় তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক পাশে অবস্থান নেন। এতে অপর পাশ দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন থেমে থেমে চলতে থাকে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ভাষ্য, ন্যূনতম মূল বেতন ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। কোনাবাড়ী তুষকা নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক আমানা আক্তার বলেন, ‘আমাদের এখন বেতন ৮ হাজার টাকা। এই টাকায় আমাদের সংসার চলে না। এই কারণে আমরা চাই, আমাদের বেতন যেন ২৩ হাজার টাকা করা হয়।’

শ্রমিক বিক্ষোভে যান চলাচল বন্ধ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

৩০ অক্টোবর ২০২৩, ঢাকা ট্রিবিউন অনলাইন বাংলা

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে শিল্প কারখানার শ্রমিকরা সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এ সময়ে শ্রমিকরা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন।

২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার লেগোস অ্যাপারেলস, এটিএস, বে-ফুটওয়ারসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। সপ্তম দিনের মতো সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মালেকের বাড়ি এবং নলজানি এলাকার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চান্দনা চৌরাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেন। তিন দিক থেকে বিক্ষোভ শুরু করায় দুই মহাসড়কেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে করতে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ভবনে ইট-পাটকেল ছুড়ে বিভিন্ন কারখানার জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। শ্রমিকদের একটি গ্রুপ গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন ভাঙচুর করতে গেলে শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ ছাত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হলেও আবারও তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং কারখানায় ঢিল ছুড়তে থাকেন।

গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার জেরে পোশাক কারখানায় আগুন

৩০ অক্টোবর ২০২৩, ইত্তেফাক

গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় গুলিবিদ্ধ শ্রমিক নিহতের জেরে কোনাবাড়ী এলাকায় এবিএম ফ্যাশন লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় আগুন দিয়েছে শ্রমিকরা। সোমবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কাশিমপুর রোডে কোনাবাড়ী থানা সংলগ্ন এবিএম ফ্যাশন লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকরা ভাঙচুর করার পর আগুন দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, নিহত ২

অক্টোবর ৩১, ২০২৩, বণিক বার্তা

মজুরি বৃদ্ধি ও নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা। শিল্প অধ্যুষিত সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এলাকায় গতকালও তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর, পুলিশ বক্স, পিকআপ ও পোশাক কারখানায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক এবং অগ্নিকাণ্ডে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক। এদিকে কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। 

গাজীপুরের বাসন থানার ওসি আবু সিদ্দিক ও স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহ খানেক ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন ও বিক্ষোভ করে আসছেন। গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড়, ভোগড়া, নলজানী ও মালেকেরবাড়ী এলাকায় সোমবার সকালেই বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাককর্মীদের ওপর হামলা, সড়ক অবরোধ

৩১ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরে পূরবী সিনেমা হলের কাছে একটি পোশাক কারখানার আন্দোলনরত কর্মীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বেশ কয়েকজন পোশাককর্মী আহত হন। এরপরই পোশাককর্মীরা পোশাক কারখানায় হামলা চালান এবং গলি থেকে বের হয়ে মূল সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের পোশাক কারখানার কর্মীরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

স্থানীয় ইপিলিয়ন গ্রুপের পোশাককর্মীদের অভিযোগ, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করার সময় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে অভিযোগ সম্পর্কে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ইপিলিয়ন গ্রুপের ওই কারখানার কর্মীরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে কারখানার সামনের গলিতে বিক্ষোভ করছিলেন। তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একদল নেতা-কর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন আহত হন। এতে পোশাককর্মীরা আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ইপিলিয়নের কারখানার আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ দমনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে যুবলীগ নেতা

৩১ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে মাঠে নেমেছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে আওলাদ হোসেন ওরফে লাক্কু নামের যুবলীগের এক নেতাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওলাদ ওই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে কয়েকটি গুলিও ছুড়েছেন। তবে তাঁর ছোড়া গুলি কারও শরীরে বিদ্ধ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পল্লবীর অ্যাপোলো নিটওয়্যার নামের একটি কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে এর পরেও মিরপুর অঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা সাতটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা সড়কে ছিলেন।

ভিসার অপব্যবহারের কারণে ওমানের এমন সিদ্ধান্ত

০২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে গত দুই বছরে অন্তত তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। তবে দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তেমন সুখকর নয়। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে যাওয়া বাংলাদেশিরা ঠিকমতো কাজ পাচ্ছেন না। বিপুল টাকা খরচ করে যাওয়া কর্মীরা নিরুপায় হয়ে আইনসম্মত নয় এমন কাজ করছেন। তাই সামগ্রিকভাবে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া স্থগিত করেছে ওমান।

কূটনৈতিক সূত্রে ওমান থেকে গতকাল বুধবার এসব কথা জানা গেছে। রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) গত মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে। তবে গতকাল পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তের কারণ জানায়নি। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলামের আলোচনার কথা রয়েছে।

২০০ পোশাক কারখানা বন্ধ রেখেছেন মালিকেরা

০২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মিরপুরে প্রায় ২০০টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছেন মালিকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, কারখানা খোলা রাখলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাজধানীর মিরপুরে গতকাল বুধবারও শ্রমিকেরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সাভারে কিছু শ্রমিক বিক্ষোভে নেমেছিলেন। তবে গাজীপুরে পরিস্থিতি ছিল শান্ত।

এদিকে মালিকপক্ষ গতকাল নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে জানিয়েছে, তাঁরা নতুন করে মজুরি প্রস্তাব দেবেন। আগের প্রস্তাব বাতিল হবে। নতুন প্রস্তাবে মজুরি বাড়িয়ে ধরা হবে, তবে তা কত হবে জানানো হয়নি।

গাজীপুরে কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও শ্রমিকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৯

০১ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় একটি কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও আগুনে পুড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কারখানার নিরাপত্তাকর্মী গোলজার হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।

কোনাবাড়ী থানার ওসি একেএম আশরাফ উদ্দিন ৯ জনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ট্রেড ইউনিয়ন করার সুবিধা বাড়িয়ে শ্রম বিল পাস

০২ নভেম্বর ২০২৩, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মোট সংখ্যা তিন হাজার পর্যন্ত হলে সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন করতে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি লাগবে। আর মোট শ্রমিকের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি হলে শতকরা ১৫ ভাগের সম্মতি লাগবে।

বৃহস্পতিবার সংসদে এমন বিধানসহ শ্রম আইনের বেশকিছু ক্ষেত্রে সংশোধনী এনে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল-২০২৩ পাস হয়েছে।

বিলে নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৮ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শ্রমিক বিক্ষোভ চলছেই

০৩ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

মালিকপক্ষের নতুন মজুরি প্রস্তাবের প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলন। গতকাল বৃহস্পতিবারও রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, পোশাকশ্রমিকেরা মিরপুরে কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেছেন। তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। গাজীপুরে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। আশুলিয়ায় শ্রমিকেরা একটি কারখানার ফটক ভেঙে গ্যারেজে থাকা দুটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন।

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গতকাল আরও দুই শতাধিক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকেরা। শিল্প পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) হিসাবে, গত তিন দিনে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে ২৩৫টি, আশুলিয়ায় ৩৫টি এবং গাজীপুরের ৩৮৬টি কারখানা রয়েছে।

শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত বিজিবি, র‍্যাব ও শিল্প পুলিশ

নভেম্বর ০৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় শ্রম অসন্তোষ অব্যাহত ছিল গতকালও। কাঙ্ক্ষিত মজুরির দাবিতে পথে নেমেছেন মিরপুর, গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকার শ্রমিকরা। পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন হলেও এখনো এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের মজুরি প্রস্তাব ও সমঝোতার আগ পর্যন্ত শ্রম অসন্তোষ প্রশমনের সম্ভাবনাও এখন কম। সার্বিক দিক বিবেচনায় অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তসংখ্যক র‍্যাব, বিজিবি ও শিল্প পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গার্মেন্ট খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে গঠিত বোর্ডের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২২ অক্টোবর। ওই সভায় ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাব ছিল ২০ হাজার ৩৯৩ টাকার। মালিক পক্ষের প্রস্তাব ছিল ১০ হাজার ৪০০ টাকার। ওই দিনই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিল্প অধ্যুষিত এলাকার শ্রমিকরা। অসন্তোষেরও শুরু তখনই। এরপর গত ১২ দিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় অসন্তোষ দৃশ্যমান হয় ৩১ অক্টোবর, যা গতকালও অব্যাহত ছিল। এখন পর্যন্ত এ শ্রম অসন্তোষে দুজন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছিল ৬৯টি কারখানায়। কারখানাগুলো ছিল গাজীপুর ও আশুলিয়া এলাকার। এরপর ৩১ অক্টোবর ঢাকার মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষের তীব্রতা দৃশ্যমান হয়। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভগুলোও মূলত এ তিন এলাকাকেন্দ্রিক। গতকাল রাতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গাজীপুরে ১৭০ থেকে ২০০ কারখানা বন্ধ হয়েছে। আশুলিয়ায় বন্ধ কারখানার সংখ্যা ২৭০টির মতো।

আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

নভেম্বর ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের ছয়তলা এলাকায় গতকাল আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা ছবি : নিজস্ব আলোকচিত্রী

বেতন-মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বেশ কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন  পোশাক শ্রমিকরা। গতকালও আশুলিয়া ও গাজীপুরে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এর মধ্যে গাজীপুরে দুই পুলিশ সদস্য ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। আটক হয়েছেন নয়জন। আশুলিয়ায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে এক ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুর ও সাভার প্রতিনিধির পাঠানো খবর—

গাজীপুর: বেতন বাড়ানোর দাবিতে সদর উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে আসেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। উত্তেজিত শ্রমিকরা এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর শ্রীপুর সাব-জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদ, পরিদর্শক আবদুর নুর ও বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

আশুলিয়া: সাভারের আশুলিয়ায় গতকালও সপ্তম দিনের মতো বিক্ষোভ দেখিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা। তার আগে সকাল ৮টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া ছয়তলা এলাকায় বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একত্র হয়ে অবরোধের চেষ্টা চালান। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গলির ভেতর ঢুকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় আমিরুল ইসলাম নামে এক ভ্যানচালক গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তৈরি পোশাক খাত ব্যবসায় এগিয়ে, মজুরিতে পিছিয়ে

০৭ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

অল্প সময়ের ব্যতিক্রম ছাড়া এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই সময়ে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ড, রানা প্লাজা ধস ও করোনার ধাক্কার পরও পোশাকের ব্যবসা বেড়েছে। সুনির্দিষ্ট করে বললে, গত ১০ বছরেই (২০১৩ থেকে ২০২২ সাল) তৈরি পোশাকের রপ্তানি ১৩০ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যবসা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দিক থেকেও তৈরি পোশাকশিল্প এগিয়ে রয়েছে। অন্য শিল্পকারখানাকে যেখানে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত করপোরেট কর দিতে হয়, সেখানে পোশাক কারখানার জন্য এই করের হার ১০-১২ শতাংশ। এর বাইরে এই শিল্পের জন্য নগদ সহায়তা, মূসক অব্যাহতি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধাও আছে।

অভ্যন্তরীণ ও দেশের বাইরের সংকটের মধ্যেও ব্যবসা বা রপ্তানি ও নানা রকম সুবিধা পাওয়ায় এগিয়ে থাকলেও শ্রমিকের মজুরি দেওয়ায় প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। ভারত, কম্বোডিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের পোশাকশ্রমিকেরা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মজুরি পান। শুধু তাই নয়, দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের তুলনায়ও কম মজুরি দিচ্ছে শীর্ষ রপ্তানি আয়ের এই খাত।

প্রত্যেকবার মজুরি বাড়ানোর সময় বিভিন্ন অজুহাতে মালিকপক্ষ কম মজুরি বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির দেওয়া ২০ হাজার ৩৯৩ টাকার প্রস্তাবের বিপরীতে মালিকপক্ষ এর প্রায় অর্ধেক বা ১০ হাজার ৪০০ টাকার প্রস্তাব দেয়। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন সহিংস ওঠার পর মালিকপক্ষ বোর্ডে নতুন মজুরি প্রস্তাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। তার আগে গাজীপুরের দুজন পোশাকশ্রমিক মারা যান।

আজ মঙ্গলবার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের ষষ্ঠ সভায় মজুরি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, মালিকপক্ষ ১২ হাজার টাকার বেশি মজুরির প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে মালিকদের সেই প্রস্তাবের কাছাকাছি মজুরি চূড়ান্ত হলে শ্রমিকেরা তাতে সন্তুষ্ট হবেন কি না, তা নিয়ে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত মাসে এক গবেষণায় দেখিয়েছে, শ্রমিকের মাসিক নিম্নতম মজুরি হওয়া দরকার ১৭ হাজার ৫৬৮ টাকা। বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান যদি প্রতিটি পোশাকে অতিরিক্ত ৭ সেন্ট করে দেয়, তাহলে বাড়তি মজুরি দিতে কারখানা মালিকদের ওপর কোনো চাপ পড়বে না বলে মনে করেন সংস্থাটির গবেষকেরা।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মজুরি নির্ধারণের সময় পোশাকশিল্পের মালিকেরা প্রায়ই নীতিনির্ধারকদের কারখানার সক্ষমতা নেই, কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা শ্রমিকেরা বেকার হয়ে যাবেন—এমন ভয় দেখান। এই যুক্তিগুলো অসাড়। অতীতে যতবার মজুরি বেড়েছে, ততবারই কারখানাগুলো সেই মজুরি দিতে পেরেছে। রপ্তানিও বেড়েছে। সেটাই এই খাতের সক্ষমতা প্রমাণ করে।’ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি, বেশির ভাগ কারখানার বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা আছে। কারণ, গত কয়েক বছরে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব আকারের কারখানার রপ্তানি বেড়েছে।

কয়েকজন পোশাকশিল্পের মালিক বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বর্তমানে পোশাকের ক্রয়াদেশ তুলনামূলক কম। দেড় বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। এতে করে কাঁচামাল ও গ্যাস-বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। তবে পোশাক রপ্তানি করে প্রাপ্ত ডলারে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন মালিকেরা।

১০ বছরে রপ্তানি আড়াই গুণ

গত এক দশকে চারটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং পরের বছর রানা প্লাজা ধসের কারণে পোশাক রপ্তানিতে সাময়িক মন্দা আসে। তবে পোশাক কারখানায় কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রচুর কাজ করায় ক্রেতাদের আস্থা ফিরে। রপ্তানিও বাড়ে। মাঝে কোভিড মহামারির কারণে পোশাকশিল্পের কঠিন সময় গেছে। তারপর আবার ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরেক দফা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে দেশের পোশাক খাত।

এত কিছুর পরও তৈরি পোশাকের রপ্তানি ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২ দশমিক ৩০ গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি পোশাক খাতের ব্যবসাও সুসংহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডার মতো প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা কমে এসেছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনের মতো নতুন বাজারে রপ্তানি বেড়ে চলেছে। গত বছর মোট পোশাক রপ্তানির ১৬ শতাংশের গন্তব্য ছিল নতুন বাজার।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি হিস্যা (মার্কেট শেয়ার) ছিল চীনের, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান, হিস্যা ছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ভিয়েতনামের হিস্যা ৬ দশমিক ১ শতাংশ, তুরস্কের সাড়ে ৩ শতাংশ এবং ভারতের ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

গত এক দশকে চারটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। ২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ড এবং পরের বছর রানা প্লাজা ধসের কারণে পোশাক রপ্তানিতে সাময়িক মন্দা আসে।

৩,৫০০ কোটি টাকার করছাড়

তিন দশকের বেশি সময় ধরে তৈরি পোশাক খাত বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা পেয়ে আসছে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা ধরে রাখার লক্ষ্যের কথা বলে মালিকেরা এখনো প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার করছাড় আদায় করে নিচ্ছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পোশাক, বস্ত্র ও আনুষঙ্গিক খাতকে সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার করছাড় দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিভিন্ন শর্তের একটি হচ্ছে, এই করছাড় কমাতে হবে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পোশাক খাতে করপোরেট করহার সবচেয়ে কম। মাত্র ১২ শতাংশ। পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা হলে করপোরেট করহার মাত্র ১০ শতাংশ। তবে রপ্তানিকারককে বছর শেষে এই কর দিতে হয় না। রপ্তানিকালে মোট রপ্তানি মূল্যের (এফওবি মূল্য) ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর দিলেই তা পরে করপোরেট করের সঙ্গে সমন্বয় হয়ে যায়। যদিও অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানকে ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর দিতে হয়।

এনবিআর সূত্র জানায়, পোশাক ও আনুষঙ্গিক খাত থেকে সব মিলিয়ে বছরে দুই হাজার কোটি টাকার মতো কর আদায় হয়। তবে যত আদায় হয়, তার চেয়ে ১৭৫ শতাংশ বেশি করছাড় দেওয়া হয়।

আয়কর ছাড়াও বিভিন্ন বাজারে ১৫ শতাংশ নগদ সহায়তা পায় পোশাকশিল্প। বন্ড সুবিধাও পান পোশাকমালিকেরা। এই সুবিধার আওতায় পোশাক খাতের কাঁচামাল যেমন সুতা, কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য বিদেশ থেকে আনতে কোনো শুল্ক-কর দিতে হয় না। এ ছাড়া পোশাক খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাত যেমন প্যাকেজিং, অ্যাকসেসরিজ খাতও এই বন্ড সুবিধা পায়। চামড়া খাতসহ হাতে গোনা কয়েকটি খাত শুধু বন্ড সুবিধা পায়। অন্য খাতগুলো এসব সুবিধা পায় না।

বন্ড সুবিধায় কত শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়, তা নিয়ে দুই বছর আগে একটি গবেষণা করেছে এনবিআর। সেখানে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরেই বন্ড সুবিধার আওতায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি শুল্ক-কর ছাড় পেয়েছে বস্ত্র খাত। মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি আনতে রেয়াতি হারে কর সুবিধা পায় পোশাকশিল্প। এ ছাড়া পোশাকশিল্পের মালিকেরা বাড়ি-গাড়ি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে দেখিয়ে করছাড় পেয়ে যান।

জানতে চাইলে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সাবেক সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চার দশক ধরে এই খাতটিকে যত ধরনের কর সুবিধা দেওয়া যায়, সবই দেওয়া হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে এই কর সুবিধা উঠিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। চার দশকে যদি একটি শিল্প দাঁড়াতে না পারে, তবে কবে দাঁড়াবে?’

পোশাকশ্রমিকের মজুরি কম

২০১৮ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা। তখন নিম্নতম মজুরি ছিল ৮ হাজার টাকা, যা তখনকার বিনিময় হারের হিসাবে ৯৫ ডলার ৩৫ সেন্ট। এখন ডলারের দাম ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। ডলারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাব করলে এখন পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ৭২ ডলারে দাঁড়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ভারতে পোশাকশ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ১৭১ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া চীনে ৩০৩, কম্বোডিয়ায় ২০০, ইন্দোনেশিয়ায় ২৪২, ভিয়েতনামে ১৭০ এবং পাকিস্তানে ১১০ ডলার। বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি। চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোও (কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান) এ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একজন শ্রমিক প্রতি মাসে গড়ে ২ হাজার ৩০ ডলার বা ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের রপ্তানিযোগ্য পোশাক তৈরি করেন। ২০১৭ সালে এই পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। পরের বছরগুলোতে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা চূড়ান্ত

০৭ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

দেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি চূড়ান্ত করেছে নিম্নতম মজুরি বোর্ড। মজুরি বোর্ডের বৈঠকের পর মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

তিনি বলেন, নির্দেশেই আমরা এটা ঘোষণা করছি। ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়বে। আট হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা হবে। সঙ্গে বছরে পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকবে।

করদাতাদের পকেট থেকে দেওয়া নগদ প্রণোদনার সুফল যেভাবে পশ্চিমা পোশাক ক্রেতারা নিচ্ছে

৭ নভেম্বর ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

দেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের নানা ধরনের কর সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। এসব ভর্তুকি পোশাকের দামের সঙ্গে যোগ করে এর সুফল নিজেদের ঘরে তুলছে পশ্চিমা ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা। কিন্তু এই চর্চার কারণে নিজেদের ন্যায্য ভাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের পোশাক শ্রমিকরা। কারণ এই ব্যয়বৃদ্ধির সময়েও তাদেরকে তাদের ন্যূনতম মজুরি এখনও পাঁচ বছর আগে নির্ধারণ করে দেওয়া ৮ হাজার টাকাই।

উদাহরণ দিতে গিয়ে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এক দশক আগে বাংলাদেশ একটি মানসম্মত টি-শার্ট বিক্রি করত দেড় ডলারে। সবরহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ওই টি-শার্ট এখনও একই কিংবা কখনও কখনও এরচেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। যেখানে পশ্চিমা খুচরা বিক্রেতারা এই টি-শার্ট প্রতি পিস সাড়ে চার ডলারে বিক্রি করে—অর্থাৎ তাদের মুনাফার মার্জিন অনেক বেশি।

একইভাবে বাংলাদেশ একটি শার্ট সাড়ে চার ডলারে এবং একজোড়া ডেনিম প্যান্ট সাড়ে ছয় ডলারে বিক্রি করলেও মার্কিন ও ইউরোপের খুচরা বিক্রেতারা সেগুলো যথাক্রমে সাড়ে ১৩ ও সাড়ে ১৯ ডলারে বিক্রি করছে। এভাবে এই খুচরা বিক্রেতারা তিনগুণ পর্যন্ত মুনাফার মার্জিন রাখে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে উৎপাদন খরচ ৪০ শতাংশ বাড়লেও, পশ্চিমা ক্রেতারা বাংলাদেশে তৈরি টি-শার্টের দাম কয়েক সেন্টও বাড়াতে চায় না।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, তারা পোশাকের ‘কাটিং-অ্যান্ড-মেকিং’ চার্জ বাড়ানোর কথা বলে আসছেন, কিন্তু তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আরএমজির জন্য নগদ প্রণোদনা ও কর সুবিধা

পোশাক রপ্তানিকারকরা এখন স্থানীয়ভাবে কেনা কাঁচামাল, যেমন সুতা ও ফ্যাব্রিক থেকে তৈরি করা পোশাক রপ্তানির সময় ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পায়। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি করতে পারলে বাড়তি ৪ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি সব রপ্তানি গন্তব্যই অপ্রচলিত রপ্তানি বাজার। এছাড়া সমস্ত দেশে রপ্তানিতেই অতিরিক্ত ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পায় পোশাক রপ্তানিকারকরা।

সেপ্টেম্বরে ওইসিডি ও জাতিসংঘের ‘প্রোডাকশন ট্রান্সফরমেশন পলিসি রিভিউ অভ বাংলাদেশ: ইনভেস্টিং ইন দ্য ফিউচার অভ আ ট্রেডিং নেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে উঠে এসেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানিতে বাংলাদেশ প্রায় ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা (৭০০ মিলিয়ন ডলার) নগদ প্রণোদনা দিয়েছে—যা ওই অর্থবছরের বাজেটে দেশের মোট ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এসব প্রণোদনা থেকে মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতই উপকৃত হয়। কারণ বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিকতম অফিশিয়াল তথ্য অনুসারে, এই নগদ প্রণোদনার ৬৫ শতাংশ বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্প।

তবে পোশাক রপ্তানিকারকরা শুধু নগদ প্রণোদনাই পায় না। এর পাশাপাশি তারা প্রচুর কর ও শুল্ক সুবিধাও ভোগ করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্কলন অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে কর ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১.৭৮ লাখ কোটি টাকা। এই আর্থিক সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পেয়েছে পোশাক রপ্তানিকারকরা।

গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পোশাকশ্রমিক নিহত

নভেম্বর ৮, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক নারী শ্রমিক মারা গেছেন।

আজ বুধবার সকালে সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নিহত শ্রমিকের নাম আঞ্জুয়ারা খাতুন (২৪)।

কোনাবাড়ীর ইসলাম গার্মেন্টসে সেলাই মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গাজীপুরে কারখানা ছুটির পর আবার শ্রমিক বিক্ষোভ, দুই মহাসড়ক বন্ধ

০৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটির পর বিকেলে মহাসড়ক অবরোধ করে আবার বিক্ষোভ শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আজ বুধবার বিকেলে শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় দুই মহাসড়কেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশের বিভিন্ন কারখানায় ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেন শ্রমিকেরা। খবর পেয়ে থানা ও শিল্প পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাঁচজন পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পোশাককর্মী নিহত

মায়ের কাছে বেড়াতে এসেছিল দুই শিশু, ফিরল তাঁর লাশ নিয়ে

০৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে স্বল্প বেতনে আলাদা পোশাক কারখানায় কাজ করতেন মো. জামাল ও মোসা. আঞ্জুয়ারা খাতুন দম্পতি। ইচ্ছা থাকলেও দুই সন্তানকে কাছে রাখার সামর্থ্য তাঁদের নেই। আট বছর বয়সী ছেলে মো. আরিফ ও সাত বছর বয়সী মেয়ে জয়া খাতুন গ্রামে তাদের দাদা-দাদির কাছে থাকে। সেখানেই একটি বিদ্যালয়ে আরিফ তৃতীয় শ্রেণিতে এবং জয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পূজার ছুটিতে ২০ দিন আগে মা–বাবার কাছে বেড়াতে এসেছিল দুই ভাই-বোন। আজ বুধবার মা আঞ্জুয়ারার লাশের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের চরগিরিশ গ্রামে ফিরতে হলো ছোট্ট আরিফ ও জয়াকে।

সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় আহত হয়ে আঞ্জুয়ারা খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্বামী মো. জামাল বলেছেন, আঞ্জুয়ারা শ্রমিক বিক্ষোভে ছিলেন না। বিক্ষোভের কারণে সকাল আটটার দিকে কারখানা ছুটি হওয়ার পর জরুন এলাকার বাসায় সন্তানদের কাছে ফিরছিলেন আঞ্জুয়ারা। পথে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আঞ্জুয়ারার লাশের সুরতহাল করা হয়। পরে তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার পর স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ নিয়ে রওনা দেন। আঞ্জুয়ারার দুই শিশুসন্তানও মায়ের লাশের সঙ্গে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে সিরাজগঞ্জে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়।

গাজীপুরে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ, কারখানায় ছুটি

০৯ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

গাজীপুরে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনের জেরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, জরুন, চান্দনা ও ভোগরা এলাকায় ৫০টির বেশি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা এলাকায় আজ সকাল ৯টার দিকে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শিল্প ও থানা-পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এর কিছু সময় পর নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় শ্রমিকেরা মহাসড়কে টায়ার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে তখন পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি: মালিকদের বাড়াতে হবে কার্যত ৩৯%

০৯ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়লেও মালিকদের ততটা বাড়াতে হবে না। মালিকদের বাড়াতে হবে কার্যত ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

কারণ, ২০১৮ সালে মজুরিকাঠামো ঘোষণার পর প্রতিবছরই শ্রমিকদের মজুরি ৫ শতাংশ বেড়েছে। সঙ্গে কিছুটা বেড়েছে বাড়িভাড়া ভাতা। সেটা মজুরিকাঠামোতেই বলা ছিল।

হিসাব করে দেখা গেছে, বছর বছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিলে নতুন কাঠামোতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়বে ৩ হাজার ১৫৫ টাকা। নতুন কাঠামোয় ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর ওপরের চারটি ধাপে (গ্রেড) প্রকৃত মজুরি বেড়েছে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ।

বিষয়টি নিয়ে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, তাত্ত্বিকভাবে হিসাব করলে হয়তো মজুরি বৃদ্ধির এই হার দাঁড়াবে। কিন্তু কোনো শ্রমিকই সর্বনিম্ন গ্রেডে তিন-চার বছর থাকেন না। তিনি আরও বলেন, রপ্তানি হওয়া একটি পোশাকের এফওবি (জাহাজীকরণ পর্যন্ত) মূল্যের ১২ থেকে ১৪ শতাংশ ব্যয় হয় শ্রমিকের মজুরির পেছনে। মজুরি যদি প্রকৃতপক্ষে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বাড়তি দাম নিতে হবে। বর্তমান মন্দা বাজারে এটি খুবই কঠিন কাজ।

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ সংঘর্ষ, গুলি

১০ নভেম্বর ২০২৩, মানবজমিন

নতুন মজুরি কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে সর্বনিম্ন মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় ফের বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে গতকাল দিনব্যাপী থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে গাজীপুর ও আশুলিয়ায়। শ্রমিকরা কয়েকদফা সড়ক অবরোধ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ বাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে। এদিন বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসও ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ ছাড়া দিনব্যাপী এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংঘর্ষের সময় পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পোশাক শ্রমিকও আহত হয়েছেন।

কারখানা বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় মালিকেরা

১০ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে কারখানা বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চান তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা। এ ছাড়া তাঁরা কারখানায় হামলার ঘটনায় মামলা করেও শ্রমিকদের চাপে রাখতে চান।

তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরায় নিজেদের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গতকাল গাজীপুরে ২২টি কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয় মালিকপক্ষ।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিজিএমইএর একজন নেতা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে কারখানাগুলোতে আপাতত নতুন শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ থাকবে, হামলা-ভাঙচুরের শিকার কারখানাগুলো মামলা করবে, শ্রমিকেরা কাজ না করলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় (কাজ নেই, মজুরি নেই) কারখানা বন্ধ, আইন অনুযায়ী গত মাসের মজুরি প্রদান এবং হামলা ও ভাঙচুরের শিকার কারখানায় ছবি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা।

ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করে দুই দিন ধরে আন্দোলন করছে পোশাকশ্রমিকদের একটি অংশ। মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে। গত পরশু শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় মোসা. আঞ্জুয়ারা খাতুন নামের এক শ্রমিক নিহত হন।

‘অনির্দিষ্টকাল’ বন্ধ ২৫ কারখানা

১১ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

শ্রমিক বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ২৫টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। ওই দুই মামলায় অজ্ঞাতনামা ১১ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করে সরকার। ঘোষিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে বুধ ও বৃহস্পতিবার গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের সময় কারখানা ও গাড়ি ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও শ্রমিক-পুলিশ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক বিক্ষোভ হয়েছে সাভারের আশুলিয়ায়ও।

গাজীপুরে ১২৩ কারখানায় ভাংচুর, গ্রেফতার ৮৮ জন

নভেম্বর ১১, ২০২৩, বণিক বার্তা

মজুরি বাড়ানোর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১২৩টি পোশাক কারখানায় ভাংচুর হয়েছে। বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ২২টি মামলায় এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানালেন শিল্প পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মো. জাকির হোসেন খান।

আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। ওই সময় ক্ষতিগ্রস্ত তুসুকা গার্মেন্টস্ পরিদর্শন করেন জাকির হোসেন।

ডিআইজি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন কোনাবাড়িতে বেশি। আশুলিয়াতে কিছুটা আছে বা চট্টগ্রাম এলাকায় আন্দোলন নেই। কোনাবাড়িতে একটা গ্রুপ মদদ দিচ্ছে। এখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও ইন্টিলিজেন্টস্ সেল কাজ করছে।

তিনি বলেন, শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, জেলা পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবাই এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সরকার এরই মধ্যে মজুরি ঘোষণা করেছেন এবং আমাদের ধারণা আন্দোলন করার জন্য একটি গ্রুপ তাদের উসকানি দিচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

প্রায় দেড়শ পোশাক কারখানা বন্ধ, ২২ মামলায় গ্রেফতার ৮৮ জন

নভেম্বর ১২, ২০২৩, বণিক বার্তা

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ১২৩টি কারখানায় কম বেশি ভাংচুর চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় ২২ মামলায় গতকাল পর্যন্ত ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মো. জাকির হোসেন খান। তাছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুর ও ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের ১৩৭টি পোশাক কারখানার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে শ্রমিকদের আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা তুসুকা গার্মেন্টস পরিদর্শনে গিয়ে গতকাল শিল্প পুলিশের ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গার্মেন্ট সেক্টরে মজুরি বাড়ানো ঘিরে এখানে শ্রমিক অসন্তোষ চলছে। শ্রমিকদের আন্দোলন কোনাবাড়ীতেই বেশি। আশুলিয়ায়ও কিছুটা আছে। এর মধ্যে কোনাবাড়ীতে একটা গ্রুপ মদদ দিচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও ইন্টেলিজেন্টস সেল আছে, তারাও কাজ করছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, ১২৩ কারখানায় কম বেশি ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানো হয়েছে।’

আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ২২টি মামলা হয়েছে। শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, জেলা পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই আমরা এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সরকার এরই মধ্যে মজুরি ঘোষণা করেছে এবং আমাদের ধারণা, এর পেছনে একটা গ্রুপ এদের উসকানি দিচ্ছে আন্দোলন করার জন্য। এখানে যারা উসকানি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

মিরপুরে আবারও রাস্তায় নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা

১২ নভেম্বর ২০২৩, ঢাকা পোস্ট

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে আবারও রাস্তায় নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।

রোববার (১২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৮টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার রাস্তা অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

এ বিষয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আজ সোয়া ৮টার দিকে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তা অবরোধ করেন। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা রাস্তা অবরোধ করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

নতুন বেতন কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে মিরপুর-১০ এ পোশাকশ্রমিকদের অবস্থান

নভেম্বর ১২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

নতুন বেতন কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে এবং বেতন আরও বাড়ানোর দাবি নিয়ে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছেন কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে মিরপুর ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশনে শ্রমিকরা তাদের নিজ নিজ কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ১১ নম্বরের দিকে যান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর সেকশনের মাঝামাঝি পুলিশ সদস্যরা পোশাকশ্রমিকদের আটকে দেন। তারপর তারা মিরপুর ১০ নম্বরের দিকে চলে আসেন এবং মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৪ যাওয়ার রাস্তার এক পাশে অবস্থান নেন।

কয়েকজন পোশাকশ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, সরকার ও মালিকরা শ্রমিকদের বেতন যে পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলছেন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মূল শ্রমিকদের বেতন সে পরিমাণ বাড়েনি।

তারা আরও জানান, হাতে গোনা কয়েকজন হেলপারের বেতন বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। অথচ অন্যদের বেতন বেড়েছে ২৫ শতাংশের কম।

ফলে বেশিরভাগ শ্রমিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।

মিরপুরে রাস্তায় নেমে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর মিরপুর–১০, ১৩ ও পল্লবী এলাকার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার কয়েক শ শ্রমিক। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকেরা মিরপুর–১৩ নম্বর সড়কের দুই পাশে অবস্থান করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

শ্রমিকেরা বলছেন, ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর ঘোষণায় তাঁরা সন্তুষ্ট নন। এছাড়া গতকাল শনিবার কারখানায় কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখেন, সবার বেতন সমান হারে বাড়েনি। সরকার ৫৬ শতাংশ বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। যাঁরা অভিজ্ঞ শ্রমিক, তাঁদের বেতন বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এ কারণে তাঁরা বিক্ষোভ করছেন।

গাজীপুরে কোণাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে আহত পোশাক শ্রমিকের হাসপাতালে মৃত্যু

নভেম্বর ১২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গাজীপুরের কোণাবাড়ীতে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত ইসলাম গার্মেন্টসের সুপারভাইজার জালাল উদ্দিন (৪২) মারা গেছেন।

আজ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) মো. মাসুদ মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জালাল উদ্দিন মারা গেছেন। তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

মাসুদ মিয়া আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

জালাল উদ্দিনের শ্যালক রেজাউল করিম জানান, কোণাবাড়ীর জরুন এলাকায় ইসলাম গার্মেন্টসের সুপারভাইজার ছিলেন তার দুলাভাই। ওই এলাকায় স্ত্রী নার্গিস পারভীন ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জালাল। তার বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানায়।

রেজাউল জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গত ৮ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে জরুন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালায়। এতে জালাল আহত হন, তার পেটে গুলি লাগে। ওই দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

একই দিন নারী পোশাক শ্রমিক আঞ্জুয়ারা খাতুন (২৮) পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

‘আমার স্বামী আন্দোলনে যাননি, কেন তাঁকে গুলি করে ঝাঁঝরা করা হলো’

১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

‘আমার স্বামী তো ছিলেন পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার। শ্রমিক আন্দোলনে যাননি। তিনি শ্রমিকনেতাও ছিলেন না। তাহলে কেন তাঁকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে মেরে ফেলল?…আমার মেয়ে এখন কাকে বাবা বলে ডাকবে?’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে বসে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নার্গিস পারভিন। নার্গিসের স্বামী জালাল উদ্দিন (৪০) গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত বুধবার সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জালাল উদ্দিন শরীরে ছররা গুলি লাগে। তিনি ইসলাম গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন। একই সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার পোশাকশ্রমিক আঞ্জুয়ারা খাতুন (৩০) মারা যান।

নার্গিস পারভিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকালে আমার স্বামী কারখানায় গিয়েছিলেন। আন্দোলনের কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় তিনি বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক বাসার গলির সামনেই জালালকে গুলি করে ঝাঁঝরা করল। কেন আমার স্বামীকে এভাবে মেরে ফেলা হলো?’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিস বলেন, ‘ওরা আমার কলিজা ছিদ্র করেছে। আরেকটা বুলেট মেরে আমার বুকটাও ছিদ্র করে দাও। স্বামীকে ছাড়া সন্তান দিয়ে আমি কীভাবে বাঁচব? আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।’

নার্গিস হাসপাতালের মর্গে বসে যখন আহাজারি করছিলেন, তখন তাঁর পাশে বসে কাঁদছিল একমাত্র সন্তান জান্নাতুল বাকিয়া। সে গাজীপুরের একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। জান্নাতুল বারবার মায়ের কাছে জানতে চাচ্ছিল তার বাবার কী হয়েছে।

পোশাক খাতে তিন দশকে রপ্তানি বেড়েছে ২৪ গুণ, মজুরি বেড়েছে ১৩ গুণ

১৩ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

১০ বছর আগে নিম্নতম মজুরি বোর্ডে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৬০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মালিকপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে মজুরি নির্ধারণ হয় ৫ হাজার ৩০০ টাকা। চলতি বছরও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির প্রস্তাবিত মজুরির অর্ধেক অর্থাৎ ১০ হাজার ৪০০ টাকা প্রস্তাব দিলে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের মুখে মালিকপক্ষ মজুরি বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে। তাদের সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। তারপরও শ্রমিকেরা শান্ত হচ্ছেন না।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া পোশাকশ্রমিকদের দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরিতে তাঁদের প্রয়োজন মিটবে না। অন্যদিকে মালিকেরা পোশাকশিল্পের সক্ষমতাকে সামনে আনছেন। বলছেন, এই মজুরিই দিতে পারবে না অনেকে। যদিও গত ২৮ বছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ২৪ গুণ। আর একই সময়ে পোশাকশ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ১৩ গুণ।

আশির দশকের গোড়ার দিকে দেশে পোশাকশিল্পের উত্থান শুরু। আর নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই পাট ও পাটজাত পণ্যকে হটিয়ে তৈরি পোশাক দেশের শীর্ষ রপ্তানি খাত হিসেবে আবির্ভূত হয়। তখন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৬২৭ টাকা। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো মজুরি বোর্ড গঠিত হয়। সেই বোর্ড ন্যূনতম মজুরি ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৯৩০ টাকা নির্ধারণ করে। তারপর ১২ বছর ন্যূনতম মজুরিতে আর কোনো পরিবর্তন হয়নি। যদিও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবেই বেড়েছে।

২০০৬ সালে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। তারপর ২০১০ সালে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়।

২০১২ সালে তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ড ও পরের বছর সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনা ঘটে। তখন দেশে–বিদেশে পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ২০১৩ সালে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। সেই বোর্ড মজুরি ৭৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে। শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর পর মজুরি পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। সে অনুযায়ী, ২০১৮ সালে গঠিত মজুরি বোর্ড পোশাকশ্রমিকের মজুরি ৫১ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে।

তবে রপ্তানির পরিসংখ্যান বলছে, মজুরি যে হারে বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৪ সালে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ছিল ১৮৮ কোটি ডলারের। গত বছর সেই রপ্তানি বেড়ে ৪ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তার মানে, গত ২৮ বছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ২৪ গুণ। তার বিপরীতে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বেড়েছে ১৩ গুণ।

ধারাবাহিকভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববাজারে গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি হিস্যা (মার্কেট শেয়ার) ছিল চীনের, ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ। তারপরেই বাংলাদেশের অবস্থান, বৈশ্বিক বাজারে হিস্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া ভিয়েতনামের হিস্যা ৬ দশমিক ১, তুরস্কের সাড়ে ৩ এবং ভারতের ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

অবশ্য রপ্তানিতে এগিয়ে থাকলেও প্রতিযোগী দেশের তুলনায় মজুরিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ। ভারত, কম্বোডিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের পোশাকশ্রমিকেরা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মজুরি পান। শুধু তা–ই নয়, দেশের কয়েকটি খাতের তুলনায় কম মজুরি দিচ্ছে শীর্ষ রপ্তানি আয়ের এই খাত।

২০১৩ সালে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭৭ দশমিক ৭৫ টাকা। তাতে তখন পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ছিল ৬৮ ডলার (৫ হাজার ৩০০ টাকা)। ২০১৮ সালে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে ৮৩ দশমিক ৯০ টাকা হয়। সে হিসাবে তখন নিম্নতম মজুরি ছিল ৯৫ ডলার (৮ হাজার টাকা)। এখন ডলারের দাম ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। সেই হিসাবে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দাঁড়াবে ১১৩ ডলার (১২ হাজার ৫০০ টাকা)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ভারতে পোশাকশ্রমিকের নিম্নতম মজুরি ১৭১ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া চীনে ৩০৩, কম্বোডিয়ায় ২০০, ইন্দোনেশিয়ায় ২৪২, ভিয়েতনামে ১৭০ ও পাকিস্তানে ১১০ ডলার। বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপির মাত্র ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি। চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোও (কম্বোডিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান) এ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

পোশাক কারখানা খুলছে, নতুন ৫ মামলা

১৪ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ ভিত্তিতে বন্ধ হওয়া রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো গতকাল সোমবার থেকে খুলতে শুরু করেছে। শ্রমিকেরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরেছেন।

অবশ্য গতকাল পর্যন্ত গাজীপুর, আশুলিয়া ও মিরপুরের প্রায় শতাধিক কারখানা বন্ধ ছিল। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার কারখানাগুলো ধাপে ধাপে খুলতে পারে।

এদিকে আশুলিয়ায় বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নতুন করে পাঁচটি মামলা হয়েছে। গত রোববার রাতে আশুলিয়া থানায় মামলাগুলো করেছে ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান।

গাজীপুরে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শ্রমিকনেতাকে, এক দিনের রিমান্ডে

১৫ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেনকে আটকের পর বুধবার বিকেলে গাড়ি পোড়ানোর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে আটক করে। মামলায় কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকনেতা বাবুল হোসেন মাগুরা সদর এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ভাদাইল গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে হুমকির মুখে শিশুরা

নভেম্বর ২০, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড লেবার ইউনিট যে ৪৩টি খাতকে ‘শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে ডকইয়ার্ডে শিশুশ্রম অন্যতম। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, অ্যালমুনিয়ামজাত কারখানা, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং, ভলকানাইজিং, মেটাল কারখানার কাজ প্রভৃতি।

একদিকে গনগণে উত্তপ্ত আগুন, অন্যদিকে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার উৎকট গন্ধ। এই অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যে যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের পক্ষেই কাজ করা দুঃসাধ্য, সেখানে কাজ করে চলেছে কয়েকজন শিশু। এদের কেউ উত্তপ্ত আগুনে পিতল গলানোর কাজ করছে, কেউ উত্তপ্ত চিমনির মুখে মবিল ফেলছে আবার কেউবা ব্যস্ত লঞ্চের প্রপেলার তৈরির ছাঁচে গলন্ত তামা ঢালায়। অত্যন্ত বিপজ্জনক ও চরম অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশে কাজ করা শিশুদের নেই ন্যূনতম নিরাপত্তা।

সম্প্রতি বুড়িগঙ্গা তীরের একটি ডকইয়ার্ডে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

১৪ বছর বয়সী সাদিক জ্বলন্ত চিমনির মুখে মবিল ঢালার কাজের একফাঁকে জানায়, ৪ বছর ধরে ডকইয়ার্ডে কাজ করছে সে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে একরকম বাধ্য হয়েই কাজে যোগ দিয়েছিল। মাস শেষে যে সাত হাজার টাকা বেতন পায় তাই এখন পরিবারের প্রধান উপার্জন।

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা পাড়ে রয়েছে অনেকগুলো ডকইয়ার্ড। সাদিকের মতো শতাধিক শিশু কাজ করে এসব ডকইয়ার্ডে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে বুড়িগঙ্গা তীরে ডকইয়ার্ডের সংখ্যা ৯৭টি।

সম্প্রতি এখানকার ২০টিরও বেশি কারখানা ঘুরে দেখেন ডেইলি স্টারের এই প্রতিনিধি। মীরেরবাগ এলাকার ডকইয়ার্ডের একটি কারখানার স্বত্বাধিকারী হারুন মিয়া জানান, ‘ডকইয়ার্ডে কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যে শিশু শ্রমিকই বেশি।’

বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী ডকইয়ার্ডগুলোতে কর্মরত একাধিক শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ডকইয়ার্ডগুলোতে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ চলে। তবে এসব ডকইয়ার্ডে সব মিলিয়ে কত শিশু কাজ করছে সে পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চাইল্ড লেবার ইউনিট যে ৪৩টি খাতকে ‘শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে ডকইয়ার্ডে শিশুশ্রম অন্যতম। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কাজগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, অ্যালমুনিয়ামজাত কারখানা, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং, ভলকানাইজিং, মেটাল কারখানার কাজ প্রভৃতি।

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিযুক্ত শিশুর সংখ্যা কত

চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ‘জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২’এর প্রভিশনাল রিপোর্টে বলা হয় দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন। এর আগে ২০১৩ সালে শিশুশ্রম সমীক্ষা করা হয়েছিল।

জরিপের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপের ফোকাল পয়েন্ট অফিসার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসাইন খাঁন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২০১৩ সালের জরিপের তুলনায় ২০২২ সালের জরিপে ২ লাখেরও বেশি শিশুশ্রমিকের সংখ্যা কমেছে। গতবছর আমরা যেহেতু আইএলও কনভেনশন ১৩৮ সনদে স্বাক্ষর করেছি, আশা করছি, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে শিশুদের ব্যবহার আমরা পুরোপুরি রোধ করতে পারব।

২০২২ সালে জুন মাসে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় কেবল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেই দেড় লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিবেদনটির বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটির প্রজেক্ট ম্যানেজার ফারহানা সুলতানা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘২০২২ সালে আমরা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের আনুষ্ঠানিক খাত নিয়েই আমাদের পরিসংখ্যানটি করেছিলাম। কারণ অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যাটা বেশি। তবে আমরা যে সংখ্যাটা নিরূপণ করেছি এর বাইরেও অসংখ্য শিশু শ্রমিক রয়েছে।’

বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষেই জিঞ্জিরার তাওয়াপট্টির অবস্থান। সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, এখানকার ক্ষুদ্র কারখানাগুলোতে অসংখ্য শিশু কাজ করছে। তেমনই একজন ১২ বছর বয়সী রাকিব। কারখানায় অ্যালমুনিয়ামের গোলাকার পাত ঘূর্ণায়মান ছাঁচে ফেলে হাতের সাহায্যে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ কায়দায় বিভিন্ন তৈজসপত্র তৈরি করছে। করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানাটিতে যোগ দেয় রাকিব। রাকিব এই প্রতিবেদককে বলে, ‘স্কুলে যাইতে ইচ্ছা করে, কিন্তু কারখানা বাদ দিয়া যাওনের উপায় নাই।’

রাকিবের মতো জিঞ্জিরার একটি স্ক্রু তৈরির কারখানায় কাজ করে ১৩ বছর বয়সী সুমন। সমবয়সী অন্য শিশুরা যখন স্কুলে পড়াশোনা আর খেলাধুলা করে, তখন সুমনের দিনের ১২ ঘণ্টা সময়ই কাটে এমন একটি কারখানায় যেখানে মেশিনের তীব্র শব্দে কান পাতা দায়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের দেওয়া তথ্যমতে জিঞ্জিরায় প্রায় দেড় হাজারের মতো ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের কারখানা রয়েছে। জিঞ্জিরার একটি কারখানার স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জিঞ্জিরায় শ্রমিকদের মধ্যে শিশুরাই বেশি। কারণ শিশুদের কম টাকায় রাখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের বেশিরভাগেরই টাকায় পোষায় না।’

অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের উৎপাদন এবং ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ পুরান ঢাকার ধোলাইখাল। অটোমোবাইলের যন্ত্রাংশ তৈরি ও মেরামতের জন্য ধোলাইখাল, নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার ও টিপু সুলতান রোডে রয়েছে হাজারের বেশি কারখানা।

টিপু সুলতান রোডের তেমনই একটি মেশিনারিজ পার্টসের কারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ কায়দায় ‘মেশিন বুশ’ তৈরি করছিল সেতু। পাঁচ মাস আগেও স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ত সেতু। কিন্তু রিকশাচালক বাবা অসুস্থ হওয়ায় সংসার চালানো দুরূহ হয়ে পড়লে পড়াশোনা ছেড়ে কাজ নিতে বাধ্য হয় সে। সেতু এই প্রতিবেদককে বলে, ‘কাম না করলে খামু কী! বেবাকেরে না খাইয়া থাকন লাগবো।’

সেতুর মতো একই দশা ধোলাইখালের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ মেরামতকারী দোকানে কাজ করা রায়হানেরও। ১৩ বছর বয়সী রায়হান জানায়, সাধারণত সে গাড়ির যন্ত্রাংশ থেকে ব্যাটারি, ইঞ্জিনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে।

দেশের ৮০ ভাগ জিন্স প্যান্টের চাহিদার জোগান দেয়া হয় কেরানীগঞ্জের চর কালীগঞ্জ, আগানগর, কৈবর্ত্যপাড়া ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহের হাজারের বেশি ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা থেকে।

সম্প্রতি এসব এলাকার প্রায় ১৫টি কারখানায় ঘুরে দেখা গেছে এসব কারখানায় বৈদ্যুতিক সেলাই মেশিনে কাজ করা শ্রমিকদের একটি বড় অংশই শিশু শ্রমিক।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডাসহ অন্তত ১০টি এলাকা ঘুরে পঞ্চাশেরও অধিক ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ দেখা গেছে শিশু শ্রমিকদের আধিক্য।

মোহাম্মদপুরের একটি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপে ঢুকে দেখা গেছে ওয়ার্কশপটিতে কাজ করা পাঁচ জন শ্রমিকের মধ্যে তিন জনই শিশু। এদের একজন ১৬ বছর বয়সী মনোয়ার। মনোয়ারের সঙ্গে যখন এই প্রতিবেদকের কথা হচ্ছিল তখন কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অবলীলায় ঝালাইয়ের মতো প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করছিল মনোয়ার।

জানায়, করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরবর্তীতে আর স্কুলে যায়নি সে। কেবল মনোয়ারই নয়, ওয়ার্কশপটিতে কাজ করা পাঁচ জন শ্রমিকের মধ্যে তিন জনই শিশুশ্রমিক। যাদের সবাই কখনো না কখনো স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে।

পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ১২৫০০ টাকা চূড়ান্ত

নভেম্বর ২৬, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত করেছে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড।

আজ রোববার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা চূড়ান্ত মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেন।

এছাড়া, বোর্ড মজুরি কাঠামোতে গ্রেডের সংখ্যা পাঁচটি থেকে কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৭ নভেম্বর মজুরি বোর্ড বেতন গ্রেডের সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে পাঁচে নামিয়ে এনেছিল।

লিয়াকত আলী মোল্লা জানান, মজুরি কাঠামোর খসড়ায় পাঁচটি গ্রেডের প্রস্তাব করা হলেও বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তা কমিয়ে চার করা হয়।

ইপিজেডে নতুন মজুরি চূড়ান্ত, ন্যূনতম মজুরি ১২,৮০০ থেকে ১৪,০২৫ টাকা

১০ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) কর্মরত শ্রমিকদের নতুন মজুরি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে খাতভেদে ১২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৪ হাজার ২৫ টাকা পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১৭৫ টাকা। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে নতুন এ মজুরি কার্যকর হয়েছে।

ইপিজেডভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় নতুন মজুরি নির্ধারণের জন্য গত ৯ নভেম্বর ‘ইপিজেড নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করা হয়। এই মজুরি বোর্ড বিভিন্ন বিষয় যাচাই শেষে নতুন মজুরির সুপারিশ পেশ করে। এর আলোকে নতুন মজুরি চূড়ান্ত করে ৭ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। বর্তমান মজুরিকাঠামোর চেয়ে নতুন নির্ধারিত এই মজুরি ৫০ শতাংশ থেকে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি।

শূন্য হাতে ফিরছেন লাখো প্রবাসী

১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দুই বছর ধরে প্রতি মাসে গড়ে লাখের বেশি নতুন কর্মী যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশে। তাঁদের অনেকেই গিয়ে কাজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ আছে। তাই বিপুল কর্মসংস্থানের স্রোতের মধ্যেই ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন অনেক প্রবাসী। তাঁদের কোনো হিসাব পাওয়া যায় না। সব হারিয়ে, পুলিশের হাতে আটক হয়ে, একদম বাধ্য হয়ে, শূন্য হাতে যাঁরা ফিরে আসেন; হিসাব আছে শুধু তাঁদের।

নিঃস্ব এমন প্রবাসীদের হাতে পাসপোর্ট থাকে না। দেশে ফেরার জন্য দূতাবাস থেকে তাঁদের একটি আউট পাস (ভ্রমণের বৈধ অনুমতিপত্র) সরবরাহ করা হয়। আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা দিতে এ ডেস্ক কাজ করে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় বাড়ি ফেরার জন্য এক হাজার টাকা করে যাতায়াত খরচ দেওয়া হয়। সরকারি সংস্থার তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম ১১ মাসেই দেশে ফিরে এসেছেন ৭৮ হাজার ৩২৮ প্রবাসী। তবে এর বাইরে যাঁরা পাসপোর্ট নিয়ে ফিরে আসছেন, তাঁদের কোনো হিসাব নেই এ সংস্থার কাছে। তবে অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যর্থ অভিবাসনের প্রকৃত চিত্র আরও নাজুক। বছরে এটি লাখের অনেক বেশি হবে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ ১৮ ডিসেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস। প্রবাসী কর্মীর ভূমিকা ও তাঁদের অধিকারকে সম্মানিত করার বিষয়টিতে এবার গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। দেশেও এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; ‘প্রবাসী কর্মীরা উন্নয়নের অংশীদার, সমুন্নত রাখব তাঁদের অধিকার’।

ফিরে আসা বাড়ছে

২০১৯ সালে আউট পাস নিয়ে দেশে ফিরে আসেন ৬৪ হাজার ৪৩৮ জন। এরপর ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর প্রবাসীরা দেশে ফিরতে শুরু করেন। ওই সময় দেশে ফেরা সব প্রবাসীর হিসাব রাখতে শুরু করে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। এতে বছরে প্রায় চার লাখ প্রবাসী কর্মীর তথ্য পাওয়া যায়। যদিও তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছুটিতে দেশে আসেন, যাঁদের অধিকাংশই আবার ফিরে গেছেন। তবে এখন ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা প্রবাসীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য বলছে, এ বছরের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শূন্য হাতে দেশে ফিরে এসেছেন ৮০ হাজার ৮১১ জন প্রবাসী। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ৭৮ হাজার ৭৯ জন ও নারী কর্মী ২ হাজার ৭৩২ জন। তবে এটি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সৌদি আরবে নিয়মিত অভিযান চলছে। নানা কারণে অবৈধ হয়ে পড়ায় কর্মীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। একই কাজ করছে মালয়েশিয়াসহ অন্য আরও কিছু দেশ। সরকারি তথ্য বলছে, গত অক্টোবরে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ৪৯৩ জন। আর নভেম্বরে দেশে ফিরেছেন ৮ হাজার ৪৫২ জন।

এক বছরে কর্মক্ষেত্রে প্রাণ ঝরেছে ৮৭৫ শ্রমিকের

৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

কর্মক্ষেত্রে ২০২৩ সালে সারাদেশে ৭১২টি দুর্ঘটনায় ৮৭৫ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন খাতে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি শ্রমিক ক্ষতিপূরণ পাননি। বেসরকারি সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস) রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরেন এসআরএসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২২ সালে ৫৪৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭১২ শ্রমিক। ২০২৩ সালে মারা যান ৮৭৫ জন। এ বছর পরিবহন খাতে সর্বোচ্চ ৩২৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এর পরই রয়েছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান (ওয়ার্কশপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান), যেখানে ১৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নির্মাণ খাতে ১৭৩ জন, কলকারখানা ও অন্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ৯৬ জন এবং কৃষি খাতে ৮২ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৩ সালের ৫৯টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩০ জনের তথ্য নিয়ে এসআরএস দেখেছে, সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ১২ জন, আংশিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন ৮ জন এবং ক্ষতিপূরণ পাননি ১০ জন শ্রমিক। ২৯ জন আহত শ্রমিকের তথ্য থেকে দেখা যায়, দু’জন শ্রমিক সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, আংশিক পেয়েছেন ৯ জন এবং ক্ষতিপূরণ পাননি ১৮ শ্রমিক।

এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এক প্রতিবেদনে জানায়, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২৩ সালে ৭০৯ শ্রমিক নিহত এবং ৪৮২ শ্রমিক আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয়ে ১৫৩ শ্রমিক নিহত ও ১২৬ শ্রমিক আহত হন। কর্মক্ষেত্রের বাইরে নির্যাতনের শিকার হন ১৮৮ শ্রমিক। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার পথে ৪০ শ্রমিক নিহত এবং ৩১ শ্রমিক আহত হয়েছেন। বিভিন্ন সেক্টরে ১৬৯টি শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১০৮টি ঘটে তৈরি পোশাক খাতে।

ব্যাংকে রাখা আমানত কমছে, সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছেন পোশাককর্মীরা

০২ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকেই জীবিকানির্বাহের তাগিদে তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। তিন মাসে পোশাককর্মীরা ব্যাংকে থাকা তাঁদের আমানত থেকে ৩০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। আবার অনেকেই তাঁদের ব্যাংক হিসাবে মাসে যে পরিমাণ টাকা জমা রাখতেন, সেটা রাখছেন না। তাতে ব্যাংকে পোশাককর্মীদের আমানতের পরিমাণ কমছে।

এদিকে পোশাককর্মীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের শেষ দিকে নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য বিদায়ী ২০২৩ সালের জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পোশাকশ্রমিকদের ৯ লাখ ৩ হাজার ৭৫৩টি ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট জমা ছিল ৩০০ কোটি টাকা। এর আগের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে যা ছিল ৩৩০ কোটি টাকা। ওই প্রান্তিকে হিসাবসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫০৩টি। অর্থাৎ তিন মাসে পোশাকশ্রমিকদের হিসাবসংখ্যা বাড়লেও আমানত কমেছে ৩০ কোটি টাকা বা ৯ শতাংশ।

কিছু কারখানা নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করেনি

১৬ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

গাজীপুর ও সাভারের বেশির ভাগ পোশাক কারখানা নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করলেও কিছু কারখানা এখনো দেয়নি। আবার শ্রমিকদের যাঁরা মজুরি পেয়েছেন, তাঁদের একটি অংশ যথাযথভাবে গ্রেড সমন্বয় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি এবং যথাযথভাবে গ্রেড সমন্বয়ের দাবিতে গত এক সপ্তাহে গাজীপুরের অন্তত ১০টি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল সোমবার থেকে আশুলিয়ার একটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সাভারের একটি কারখানার একটি ইউনিটও বন্ধ।

এদিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলে (ইপিজেড) মজুরি নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) গত রোববার পাঁচটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি কারখানা গতকাল খুলেছে। তবে নতুন করে আরও দুটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর ও সাভার অঞ্চলের কয়েকজন সাধারণ শ্রমিক ও শ্রমিকনেতা জানান, নতুন মজুরিকাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় শ্রমিকদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিগগিরই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবশ্য তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সদস্য ৯৫ শতাংশ কারখানা নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পরিশোধ করেছে। বাকি কারখানাগুলো কয়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দেবে।’ গ্রেড নিয়ে সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়গুলো সমাধান করা হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।

শিল্প কারখানা ও দোকানপাটে কর্মপরিবেশের বিষয়ে পরিদর্শন করে থাকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফইএ)। সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মিনা মাসুদ উজ্জামান গতকাল বলেন, নতুন কাঠামো অনুযায়ী কোনো কারখানা মজুরি দিচ্ছে না, এমন অভিযোগ তাঁরা পাননি। তবে গ্রেড সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতার খবর আসছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরিকাঠামোতে নিম্নতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। গ্রেডসংখ্যা ৭টি থেকে কমিয়ে ৪টি করা হয়। গত ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হয়।

গাজীপুর শিল্প ও থানা-পুলিশ এবং পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী বেতন পরিশোধ শুরু করে কারখানাগুলো। এর মধ্যে কিছু কারখানা কর্তৃপক্ষ নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়ন না করতে বিভিন্ন অজুহাতে দেখায়।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের মাওনার তিনটি কারখানার হাজারখানেক শ্রমিক নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকেরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মাওনা-ফুলবাড়িয়া সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকেরা কাজে ফেরেন।

একই দিন কোনাবাড়ী এলাকার মেইগো বাংলাদেশ নামের কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরিসহ ছয় দফা দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, কারখানার কিছু শ্রমিককে নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি দেওয়া হলেও বেশির ভাগই তা পাননি।

পরদিন শুক্রবার কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. খালিদ হাসান দাবি করেন, বেতন বাড়ানো হয়েছে। তবে শ্রমিকদের মনমতো হয়নি। পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি এবং যথাযথভাবে গ্রেড সমন্বয়ের দাবিতে গত কয়েক দিনে গাজীপুরের পুবাইলের বেসিক শার্ট, মাদার টেক্সটাইল মিলস ও কাশিমপুরের রেডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে সাভারের কলামা এলাকার উইন্টার ড্রেস কারখানার একটি ইউনিটে গত কয়েক দিন কাজ হয়নি। আশুলিয়ার আইরিশ ফ্যাশন গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে।

শ্রম আদালতে ঝুলছে ২২ হাজার মামলা

২১ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

দেশের শ্রম আদালতগুলোতে ২১ হাজার ৬১৭টি মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ মামলা নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হয়নি। কোনো কোনো মামলা ঝুলছে ১০ বছর ধরে।

যেমন মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হন ঢাকার খিলক্ষেতের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক শিরিন আক্তার (৩৫)। ওই বছরই তিনিসহ ১৯ জন কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে পাওনার দাবিতে ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা করেন। এত বছরেও সেই মামলা নিষ্পত্তি হয়নি।

শিরিন আক্তার এখন গাজীপুরে থাকেন। ৪ জানুয়ারি মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে তাঁর অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন তিনি অসুস্থ, হাড়ক্ষয় রোগে ভুগছেন। তাই সর্বশেষ ৪ মাসে আদালতে যাননি। তাঁরা যে ১৯ জন মামলা করেছিলেন, কারও মামলাই নিষ্পত্তি হয়নি। একজন মারাও গেছেন।

ঢাকাসহ দেশের ১০টি জেলায় ১৪টি শ্রম আদালত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় রয়েছে চারটি (আপিল ট্রাইব্যুনালসহ)। চাকরিচ্যুতি, পাওনা, ক্ষতিপূরণ না পাওয়াসহ নানাভাবে বঞ্চিত ভুক্তভোগীরা শ্রম আইন প্রতিকার চেয়ে শ্রম আদালতে মামলা করতে পারেন।

শ্রম আইনে বলা আছে, শ্রম আদালতের রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ, প্রত্যেক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে। ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রায় দেওয়া সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়াতে পারবেন।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের শ্রম আদালতগুলোতে যে ২১ হাজার ৬১৭টি মামলা ছিল, তার মধ্যে ১৬ হাজার ১৪১টি মামলা ছয় মাসের বেশি সময় অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ মামলাই আইনে নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি হয়নি। শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণ ও পাওনা আদায়ের জন্য দায়ের করা মামলার ৯০ শতাংশই পোশাকশ্রমিকদের করা।

শ্রম আদালতে মামলা পরিচালনা করা দুজন আইনজীবী বলছেন, বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে বলে একসময় শ্রমিকেরা মামলা চালাতে অনাগ্রহ দেখান।

আইনজীবী কফিল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ক্ষতিপূরণের মামলা নিষ্পত্তি হয়নি, কিন্তু শ্রমিক মারা গেছেন, এমন তিনটি ঘটনা তিনি জানেন। এই তিন ঘটনায় দুজন শ্রমিক মারা যাওয়ার পর তাঁদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। মারা যাওয়া এক শ্রমিকের পরিবার এখন আর মামলা চালাতে চায় না।

আরেক আইনজীবী সেলিম আহসান খান বলেন, শ্রম আদালতে দুই দশক ধরে ঝুলে আছে, এমন মামলাও রয়েছে। অনেক মামলার নথি খুঁজে পেতেও এখন কষ্ট হয়।

মামলা কেন ঝুলে থাকে

শ্রম আদালতে মামলা ঝুলে থাকার কারণ নিয়ে আইনজীবী, শ্রমিকনেতা, ভুক্তভোগী ও আদালত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তিনটি বড় কারণ জানা গেছে। প্রথমত, মামলার তুলনায় আদালতের সংখ্যা কম। দ্বিতীয়ত, মামলা নিষ্পত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি। তৃতীয়ত, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা, বিশেষ করে মালিকপক্ষের আইনজীবীরা মামলা বিলম্বে নানা যুক্তি দাঁড় করান।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে শ্রম আদালতের সংখ্যা ৭টি বাড়িয়ে ১৪টি করা হয়েছে। দরকার হলে আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, মামলাজট কমাতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আদালত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শ্রম আইনের ২১৩ ও ৩৩ ধারায় করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগছে। এই দুই ধারায় করা মামলার শুনানিতে শ্রম আদালত গঠিত হয় একজন বিচারক এবং মালিক ও শ্রমিকপক্ষের একজন করে সদস্যের সমন্বয়ে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সদস্য শুধু মতামত দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষ ও সরকারি দলের অনুসারী শ্রমিক সংগঠন থেকে নিয়োজিত সদস্যরা অনুপস্থিত থাকেন।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি ও শ্রম আদালতে শ্রমিকপক্ষের সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন প্রথম আলোকে বলেন, নিয়ম আছে যে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সদস্য উপস্থিত হলে আদালত গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। কিন্তু মালিক ও সরকারি দলের অনুসারী শ্রমিক সংগঠনের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই বিচারকাজ বিলম্বিত হয়।

শ্রম আইনের ৩৩ নম্বর ধারায় লে অফ (কারখানা বন্ধ), ছাঁটাই, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে অভিযোগ দায়েরের কথা বলা হয়েছে। ২১৩ নম্বর ধারায় স্বীকৃত কোনো অধিকার প্রয়োগ নিয়ে শ্রমিক সংগঠন, মালিক বা শ্রমিকের মামলার বিষয়ে বলা হয়েছে।

শ্রম আদালতে কাজ করা আইনজীবীদের সংগঠন লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সেলিম আহসান খান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক বাদী শেষ পর্যন্ত মামলার খোঁজই নেন না। ফলে এসব মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। মালিকপক্ষ পার পেয়ে যায়, শ্রমিক আর প্রতিকার পান না।

নিষ্পত্তিতে লাগে গড়ে ৬০১ দিন

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) কর্মক্ষেত্রে আঘাত ও মৃত্যুর শিকার কর্মীদের পক্ষ থেকে শ্রম আদালতে দায়ের করা ৮০টি ক্ষতিপূরণ মামলা বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা প্রকাশ করে ২০২১ সালে।

‘টায়ার দেম আউট: চ্যালেঞ্জেস অব লিটিগেটিং কমপেনসেশন ক্লেইমস আন্ডার বাংলাদেশ লেবার অ্যাক্ট ২০০৬’ শীর্ষক এই গবেষণায় উঠে এসেছে, এসব মামলায় রায় দেওয়ার জন্য গড়ে ৬০১ দিন সময় লেগেছে। গবেষণাটিতে শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণ মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি মামলার রায়ের পরও ক্ষতিপূরণ দিতে মালিকপক্ষের অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, মালিকেরা এতই শক্তিশালী যে তাঁদের আইনের আওতায় আনাই যায় না।

ঢাকায় বেশি মামলা ঝুলছে

ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা বেশি। ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যাও সেখানে বেশি। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার তিনটি নিয়মিত শ্রম আদালতে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। গাজীপুরের আদালতে ছয় মাসের বেশি সময় ঝুলে আছে ৪ হাজার ৮৯২টি মামলা।

শ্রমিকদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে খোঁজ রাখেন শ্রমিকনেতা আশরাফুজ্জামান। তিনি এই প্রতিবেদককে ১৮টি মামলার তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর ১১টি মামলা পাঁচ বছর ধরে ঝুলে আছে। ৭টি ঝুলছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে।

আশরাফুজ্জামান যে ১৮টি মামলার তথ্য দিয়েছেন, তাঁর ১৪টির বাদীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা হতাশ। কেউ কেউ মামলার খোঁজ নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।

বাদীদের একজন আরিফুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ১৩ বছর একটি প্রসাধন কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। চাকরি ছাড়ার পর তাঁর পাওনা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে একটি পয়সাও দেয়নি মালিকপক্ষ। তিনি ২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা করেন।

আরিফুর বলেন, মামলার শুনানির দিন ঠিক হয় দীর্ঘ বিরতিতে। ফলে মামলা এগোয় না। কবে রায় হবে, তা অনিশ্চিত।

শূন্য হাতে বিদায়

শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হলে তাঁকে তাঁর ‘সার্ভিস বেনিফিট’ (চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে অর্থ) ও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। পাওনার পরিমাণ খুব একটা বেশি হয় না। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে যেসব মামলা আসে, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দাবির পরিমাণ এক লাখ টাকার আশপাশে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বছরের পর বছর শ্রম দিয়ে শ্রমিকেরা যখন কারখানা থেকে চাকরি হারান, তাঁরা সেই সামান্য পাওনাটুকুও পান না। আদালতে গেলে বিচারের দীর্ঘসূত্রতায় তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন।

শ্রম আদালতে ২০১৪ সালে মামলা করা পোশাকশ্রমিক মিলনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাওনা টাকা পাওয়ার আর আশা করি না।’

অর্থনীতি

বিশ্ববিদ্যালয় পাস বেকার ৮ লাখ: জরিপ

২৬ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করেই সাধারণত বিপুলসংখ্যক তরুণ চাকরির বাজারে ঢোকেন। একই প্রক্রিয়ায় চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন প্রকৌশলী ও চিকিৎসকেরাও। চাকরির বাজার কিংবা সামাজিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষিতদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারের হার সবচেয়ে বেশি। উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ১২ শতাংশই এখন বেকার।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিএস। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিগ্রিধারী উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার এখন ১২ শতাংশে পৌঁছেছে। সংখ্যার বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বেকার বসে আছেন প্রায় আট লাখ নারী-পুরুষ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাস্তবে বেকারের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ, প্রতিবছর যেসব তরুণ-তরুণী স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন, তাঁদের প্রায় অর্ধেক গড়ে দু-তিন বছর বেকার থাকেন। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কোভিড মহামারি এবং অর্থনীতির চলমান সংকটের কারণেই দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক এবি ব্যাংকের ঋণখেলাপি

অক্টোবর ২৬, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

এবি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়েছেন আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) একজন পরিচালক রিক হক সিকদার। আগামী দুই মাসের মধ্যে তিনি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকের পদ হারাতে হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এবি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হয়েছে আর অ্যান্ড আর অ্যাভিয়েশন। রিক হক সিকদার এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, তাই খেলাপি হওয়ায় তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকের পদ হারাতে পারেন।

মাছ-গাছ-পশু বন্ধকে মিলবে ঋণ, সংসদে বিল পাস

২৬ অক্টোবর ২০২৩, যুগান্তর

গাছ, মাছ, গবাদিপশু, সোনা, রুপা, গাড়ি, আসবাবপত্রের মতো অস্থাবর সম্পত্তি জামানত রেখে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া যাবে।

এ ধরনের বিধান রেখে সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) বিল-২০২৩ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে বিলটি পাসের কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা।

তারা বলেন, অস্থাবর সম্পত্তি দিয়ে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আইনটি নিয়ে আসা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি দিয়ে ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া ঋণগ্রহণকারীরাই অস্থাবর সম্পত্তি দিয়ে ঋণ নেবে। আইনটির মাধ্যমে নতুন করে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে আইনমন্ত্রী অ্যডভোকেট আনিসুল হক বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় শুধু স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি, জমি) জামানত রেখে ঋণ নেওয়া যায়। আইনটি কার্যকর হলে অস্থাবর সম্পত্তি জামানত রেখেও ঋণ নেওয়া যাবে।

বিলে জামানতযোগ্য অস্থাবর সম্পত্তি নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে- রফতানির উদ্দেশ্যে অথবা রফতানি আদেশ অনুযায়ী পণ্য প্রস্তাতের কাঁচামাল। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত স্থায়ী আমানতের সনদ। স্বর্ণ, রৌপ্য এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, যার ওজন ও বিশুদ্ধতার মান স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত। নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার সনদ। স্বীকৃত মেধাস্বত্ব পণ্য।

বিধিতে নির্ধারিত মৎস্য, গবাদিপশু, দণ্ডায়মান বৃক্ষ ও শস্যাদি, ফলদ উদ্ভিদ ও ঔষধি উদ্ভিদ। আসবাব, ইলেকট্রনিক পণ্য, সফটওয়্যার ও অ্যাপস, যার মূল্য প্রাক্কলন করা সম্ভব।

ডলার–সংকটের প্রভাব কৃষিযন্ত্রের বাজারে

৩০ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশের কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৮০ সালের দিকে। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর যন্ত্রের ব্যবহার আরও বাড়ে। ওই সময়ে চাষের জন্য পাওয়ার টিলারের ব্যবহার বেড়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে পাওয়ার টিলারের পরিবর্তে ট্রাক্টরের ব্যবহার শুরু হয়। পাশাপাশি এখন কৃষিতে মাড়াই, রোপণসহ সব ধরনের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে যন্ত্র। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার, এ জন্য যন্ত্রভেদে ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকিও দিচ্ছে। ফলে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন কোম্পানিও।

তবে গত বছর রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশে শুরু হয় ডলারের সংকট। এরপর ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ফলে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে, এসবের দামও বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এর প্রভাব পড়ছে পুরো কৃষি খাতে।

কৃষিযন্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্য, তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য রিজার্ভ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ডলার দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কৃষিযন্ত্র আমদানির জন্য ব্যাংকগুলো চাহিদামতো ডলার দিচ্ছে না। এদিকে কারও নজরও নেই। কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে খাদ্য উৎপাদনও বাড়ত। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকত বাংলাদেশ।

দেশে যেসব কোম্পানি কৃষিযন্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো এসিআই, মেটাল, কর্ণফুলী, র‍্যাংকন, আবেদিন, গেটকো, আলীম, এসকিউ, বাংলামার্ক ও ইয়ন গ্রুপ।

মেটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিদ জামিল প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২২ সালে ভালো ব্যবসা হলেও এখন চাহিদা কমে গেছে। কারণ, ডলারের কারণে যন্ত্রের দাম ২০-২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। তেলের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষিযন্ত্রের ব্যবসা কমে গেছে। এ ছাড়া আমরা যন্ত্র আমদানিতে চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছি না। ব্যাংকগুলোও মার্জিনের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা কমে যাচ্ছে।’

চাষ ও কাটার যন্ত্রের বাজার

একসময় কৃষিতে ব্যবহৃত হওয়া পাওয়ার টিলারের ব্যবহার এখন খুবই কম। কারণ, পাওয়ার টিলার সব ধরনের জমিতে যথাযথ চাষের জন্য উপযোগী ছিল না। এর পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে বেশি। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলাগুলায় মালামাল পরিবহনেও ট্রাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। একসময় ট্রাক্টর কেনার ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিত। তবে এখন আর দেওয়া হয় না। কারণ, কৃষির পাশাপাশি ট্রাক্টরের বহুমুখী ব্যবহার হচ্ছে। আর ট্রাক্টরের এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এর বিক্রিও বাড়ছে।

ট্রাক্টর বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে ২০২০ সালে দেশে ট্রাক্টর বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৬৯৩টি। ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ৮ হাজার ৫৫৬টি। ডলার–সংকটের কারণের গত বছর তা কমে হয় ৭ হাজার ৬৭৬টি। আর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ট্রাক্টর বিক্রি কমে হয়েছে ৫ হাজার ২০০টি।

এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সরবরাহ কম, দামও বেড়ে গেছে। চলতি বছরের বাকি সময়ে যে পরিমাণ ট্রাক্টর বিক্রি হবে, তাতে মোট বিক্রি গত বছরের তুলনায় কমই থাকবে।

ট্রাক্টরের পরেই কৃষিযন্ত্রের বড় বাজার কম্বাইন হারভেস্টারের, যা ধান ও গম কাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। সরকার এখন এই যন্ত্রে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। আর হাওর অঞ্চলের এই যন্ত্র বিক্রিতে দেওয়া হচ্ছে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি। ফলে কৃষিতে এই যন্ত্রের ব্যবহার দ্রত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেক সময় কৃষকেরা কয়েকজন মিলে এই যন্ত্র কিনছেন, আবার শিক্ষিত তরুণেরাও এই যন্ত্র কিনে উদ্যাক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছেন। ফলে গ্রামগুলোয় নতুন একটি উদ্যোক্তা শ্রেণিও গড়ে উঠছে।

সরকারি হিসাবে, ২০২০ সালে কম্বাইন হারভেস্টার বিক্রি হয়েছিল ৮৫০টি, ২০২১ সালে যা তিন গুণের বেশি বেড়ে হয় ২ হাজার ৭৫০টি। ২০২২ সালেও এই যন্ত্রের বিক্রি বাড়ে, বিক্রি হয় ৩ হাজার ৯৪২টি। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিক্রি কমে হয় ২ হাজার ৫০০টি।

বাজার করপোরেটদের হাতে

কৃষিযন্ত্র দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যবহার হলেও এই বাজার পুরোপুরি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে। ট্রাক্টরের বাজারের মেটাল গ্রুপ ও এসিআই কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপ মিলেই ৬০-৭০ শতাংশ ট্রাক্টর বিক্রি করছে। মেটাল গ্রুপ ট্যাফে ও আইশার ট্রাক্টর বাজারজাত করছে, অন্যদিকে এসিআই করছে সোনালিকা।

২০২২ সালে বিক্রি হওয়া ৭ হাজার ৬৭৬টি ট্রাক্টরের মধ্যে মেটাল একাই বিক্রি করেছে ২ হাজার ৭১৬টি। এরপর এসিআই ২ হাজার ৪৪৪টি, কর্ণফুলী ১ হাজার ১০৭টি, র‍্যাংকন ৩৯৫টি, আবেদিন ইকুইপমেন্ট ৪১৩টি, এসকিউ গ্রুপ ২০৯টি, ইয়ন গ্রুপ ১৭৩টি ও গেটকো ১০২টি ট্রাক্টর বিক্রি করেছে।

তবে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিক্রি হওয়া ৫ হাজার ২০০টি ট্রাক্টরের মধ্যে এসিআই একাই বিক্রি করেছে ১ হাজার ৮৫৭টি। তাদের পরে যারা আছে, তারা হলো মেটাল ১ হাজার ৫০০টি, কর্ণফুলী ৭৯৩টি, র‍৵াংকন ১৮৬টি, আবেদিন ইকুইপমেন্ট ৩৬৭টি, এসকিউ গ্রুপ ২৯৪টি, ইয়ন গ্রুপ ৬২টি, গেটকো ৪৮টি।

আর কম্বাইন হারভেস্টারের বাজারে শীর্ষে রয়েছে রয়েছে এসিআই। তারা ইয়ানমার ব্র্যান্ডের যন্ত্র বিক্রি করে। এরপরই কুবোটা ব্র্যান্ডের যন্ত্র নিয়ে পরের অবস্থানে আছে আবেদিন ইকুইপমেন্ট, এফ ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ডের যন্ত্র নিয়ে মেটাল গ্রুপ। এরপরই ধান ও গম কাটা যন্ত্র বেশি বিক্রি করছে এসকিউ গ্রুপ, বাংলামার্ক, আলীমসহ আরও কিছু কোম্পানি।

এসিআই মোটরস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষিযন্ত্রের দাম ৩০ শতাংশের মতো বেড়ে গেছে। আবার ঋণপত্র খুলতে আগের ৪৮ ঘণ্টার জায়গায় এখন ৪৮ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে বিক্রি কিছুটা কমেছে। এ জন্য আমরা ট্রাক্টর কেনার কিস্তির সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। এককালীন জমাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ

২৯ অক্টোবর ২০২৩, সমকাল

বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ৩৭ কোটি ৮৪ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হঠাৎ করে সুদ পরিশোধে ব্যয় এত বেশি হারে বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ইআরডির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সুদ পরিশোধে ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে অন্তত তিনটি কারণ রয়েছে। এগুলোর একটি হচ্ছে বিদেশি ঋণের সুদের হার বেড়েছে। যেমন– বর্তমানে কিছু ঋণে সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (সোফর) সঙ্গে অতিরিক্ত সুদ ধার্য করা হয়। সোফর রেট এখন ৫ শতাংশের মতো। এর সঙ্গে ঋণদাতা সংস্থার সুদ মিলে কোনো কোনো ঋণে সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে গিয়ে ঠেকে। আরেকটি কারণ, বাজেট সহায়তার মতো স্বল্পমেয়াদি অনেক ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ ধরনের ঋণে রেয়াতকাল তুলনামূলক কম থাকে। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে। যেগুলোর কিছু কিছু এখন পরিশোধ করতে হচ্ছে। আগামীতে সুদ পরিশোধে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

ইআরডির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল পরিশোধ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। মোট ৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে এ বাবদ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আসল বাবদ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি ডলার।

আলুর দাম বাড়াচ্ছে কোল্ডস্টোরেজ সিন্ডিকেট : কৃষিমন্ত্রী

৩০ অক্টোবর ২০২৩, ঢাকা পোস্ট

কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা একটি সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় আলু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আলুর দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। দেশে আলুর উৎপাদন বেড়েছে প্রচুর। আমরা বলি, আলু উদ্বৃত্ত থাকে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও উন্নত জাত প্রবর্তনের কারণে উৎপাদন বেড়েছে। আবহাওয়া আলু উৎপাদনের অনুকূল। আন্তর্জাতিক বাজারে আলু রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকে তারল্য সংকটের সমান্তরাল চাপ

অক্টোবর ৩১, ২০২৩, বণিক বার্তা

মুদ্রাবাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার পদক্ষেপ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসের শুরুতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) বাড়ানো হয় দশমিক ৭৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয় ব্যাংক ঋণের সুদহার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে সুদহার বাড়লেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখনো তা কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখেনি। উল্টো পেঁয়াজ, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশির ভাগ পণ্যের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে অর্থের চাহিদা নিয়ন্ত্রণেরও উদ্যোগ নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। বরং দেশের মুদ্রাবাজারে তারল্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক বেসরকারি ব্যাংক এখন ১২-১৩ শতাংশ সুদেও মেয়াদি আমানত সংগ্রহের ঘোষণা দিচ্ছে। তার পরও কাঙ্ক্ষিত আমানত না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধারের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ২৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ২৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। গতকালও ব্যাংকগুলো ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ধার নিয়েছে। এক্ষেত্রে সুদহার ছিল ৭ দশমিক ২৫ থেকে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। আবার কলমানি বাজার থেকে ১০ শতাংশ সুদ দিয়েও অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু টানেলে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ভিডিও, সমালোচনা

৩০ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথে (বঙ্গবন্ধু টানেল) বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সমালোচনা চলছে। গত রোববার মধ্যরাতে একদল তরুণ ১০ থেকে ১৫টি গাড়ি নিয়ে এ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন।

গত শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন সকাল ছয়টায় সর্বসাধারণের গাড়ি চলাচলের জন্য টানেলটি খুলে দেওয়া হয়। চালুর প্রথম দিনেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটল। এ ঘটনার পরে টানেলে নিরাপত্তাকর্মী বাড়ানো হয়।

দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

‘বর্ষাকালে মুরগি একটু কম ডিম পাড়ে’

৩১ অক্টোবর ২০২৩, ইত্তেফাক

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্ষাকালে মুরগি এমটিতেই একটু কম ডিম পাড়ে। ডিমের দাম বাড়লো কেন, সেটা নিয়ে চিৎকার। যখন বললাম আমদানি করবো, তার আগে দাম গেলো কমে। আমদানি আর করা লাগলো না। এ সময় তিনি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বেলজিয়াম সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিছুটা কৃত্রিমভাবে করা হচ্ছে। এত আলু উৎপন্ন হচ্ছে। তারপর হঠাৎ দাম বাড়ানো। এখানে তো কিছু কাজ আছে। বর্ষাকালে মুরগি এমনিতেই একটু কম ডিম পাড়ে। ডিমের দাম বাড়লো কেন, সেটা নিয়ে চিৎকার। যখন বললাম আমদানি করবো, তার আগে দাম গেলো কমে। আমদানি আর করা লাগলো না।

ঘোষণা ছিল আলুর উদ্বৃত্ত ও রফতানির, এখন সিদ্ধান্ত আমদানির

অক্টোবর ৩১, ২০২৩, বণিক বার্তা

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে আলুর উৎপাদন হয় চাহিদার চেয়ে বেশি। উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সুবিধা নিতে কৃষিপণ্যটির রফতানি বাড়াতে এখন পর্যন্ত নানা উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। যদিও দেশের বাজারেই পণ্যটির সরবরাহ এখন চাহিদার চেয়ে কম। অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আলুর বাজারদর। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ দর বেঁধে দেয়াসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। খোদ কৃষি খাতের নীতিনির্ধারকরাই এজন্য দায়ী করছেন হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেটকে। এ অবস্থায় বাজারে আলু সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারদর স্থিতিশীল রাখতে গতকালই কৃষিপণ্যটি আমদানির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাজার স্থিতিশীলতা ফেরাতে আলুর মতো ডিমও আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। এজন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে ১ কোটি করে আমদানির অনুমতিও দেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর দেড় মাস পার হলেও এখনো ডিম আমদানি শুরু করা যায়নি। আমদানিকারকরা বলছেন, ৩৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে আমদানি করতে গেলে তারা লোকসানে পড়বেন। আমদানি শুরু না হওয়ায় এখনো স্থিতিশীলতা ফেরানো যায়নি ডিমের বাজারে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও তা বিক্রি হয়েছিল ৪৮-৫০ টাকায়। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে কৃষিপণ্যটির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর খুচরা পর্যায়ে আলুর সর্বোচ্চ মূল্য প্রতি কেজি ৩৫-৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে সময় বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৪৩-৫০ টাকা।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয়া হয়। যদিও বিভিন্ন সময় পণ্যটির রফতানি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন কৃষি খাতের নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল আলু রফতানির জন্য রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে কৃষি মন্ত্রণালয়। সে অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাশিয়ায় আগামী বছর দেড়-দুই লাখ টন আলু রফতানি হবে। বর্তমানে বছরে এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন বছরে ৮০ লাখ টন, বাকি ২০ লাখ টন রফতানির সুযোগ রয়েছে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’

রাজনৈতিক অস্থিরতা শঙ্কা বাড়াচ্ছে অর্থনীতিতে

০৫ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে দেশের অর্থনীতি যখন সংকটে, তখন রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিরোধী দলগুলোর হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি এ সংকটকে করছে ঘনীভূত। রাজনীতির এমন অনিশ্চিত যাত্রা চলতে থাকলে অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের অর্থনীতির এখনকার প্রধান দুই বিপদ– উচ্চ মূল্যস্ফীতি আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পতন। ডলার সংকটে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। অসহনীয় পর্যায়ে এসে ঠেকেছে মূল্যস্ফীতি। বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেনে রয়েছে ভারসাম্যের ঘাটতি। সর্বশেষ অক্টোবরে রপ্তানি কমেছে ১৪ শতাংশ। রেমিট্যান্স অক্টোবরে বাড়লেও এর আগের তিন মাসে কমেছে। শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে, যা বিনিয়োগে ধীরগতির লক্ষণ। সর্বশেষ শ্রম জরিপে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার তথ্য রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সরবরাহ, উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হলে সংকট আরও বাড়বে।

লন্ডনের অভিজাত এলাকায় বাংলাদেশিদের বিলাসবহুল বাড়ি, অর্থের উৎস কী?

৬ নভেম্বর ২০২৩, মানবজমিন

‘হারা জীবন লন্ডন তাইক্কা সাদারণ এলাখাত ছুট একখান গর (ঘর) কিন্তা ফারলাম না, আর হেরা দেশ তাইক্কা রাজা-রানীর বাড়ির খানদাত গর কিনে খেমনে? এই টেখা পায় খই, জাননি?’

এমনই আফসোস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছিলেন প্রায় ৪০ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করা বৃটিশ বাংলাদেশি সিলেটি এক ভদ্রলোক।

   গত এক দশক ধরে লন্ডনের অভিজাত এলাকাগুলোতে বিদেশিদের বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান নেহায়েত কম নয়। বাংলাদেশি নাগরিকরা বৃটিশ বাংলাদেশি আত্মীয়স্বজন অথবা বৃটেনে ইনডেফিনিট লিভ টু রেমেইনে আছেন এমন আত্মীয়স্বজনদের ব্যবহার করে, বাংলাদেশের ঠিকানা ব্যবহার করে কিনছেন অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল বাড়িগুলো। বর্তমানে যার সংখ্যা প্রায় ২০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

বৃটিশ রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি ব্যবস্থাপনা সংস্থা নাইটস ফ্রাঙ্ক ও বৃটিশ সরকারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০২০ সালে শো হাউস নামের একটি বিজনেস পত্রিকা একটি রিপোর্ট প্রচার করেছিল (২০২০)।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল লন্ডনে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ জাপানের চেয়েও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। ২০২০ সালের রিপোর্ট বলেছিল- বিশ্বের মোট দশটি দেশ লন্ডনে বাড়ি কেনার শীর্ষে- ফ্রান্স, হংকং, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও জাপান। ওই রিপোর্টে দেখা গেছে, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ জাপানকেও হার মানিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থান লন্ডনে বিলাসবহুল বাড়ি কেনার এই তালিকায় যে দেশগুলো রয়েছে- সবগুলো দেশই বাংলাদেশের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে বহুগুণ এগিয়ে,  তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লন্ডনে বাড়ি কেনা একেবারেই সহজ নয়। শুধু ২০২০ সালের প্রথম নয় মাসেই বাংলাদেশিরা কিনেছিলেন ১২ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ডের প্রপার্টি যা বাংলাদেশি কারেন্সিতে দাঁড়ায় ৬ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। ২০২০ সালে শো হাউসের এই রিপোর্টের পর পেরিয়ে  গেছে আরও প্রায় তিনটি বছর। এরই মধ্যে বাংলাদেশিদের বাড়ি কেনার হার আরও বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- বর্তমানে বাংলাদেশিদের বাড়ি কেনার অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে আর বাড়ির সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ২৫০টিরও উপরে।

কেবল সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নামানো যাবে কি

নভেম্বর ০৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য গত চার মাসের ব্যবধানে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ৯ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশে ‍উন্নীত করা হয়েছে। যদিও দেশের গত ৪০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে, মূল্যস্ফীতি বাড়া-কমার সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদহারের তেমন কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নব্বইয়ের দশকে দেশের ব্যাংকগুলোয় বাণিজ্যিক ঋণের সুদহার ছিল ১৮-২০ শতাংশ। ওই সময় দেশে গড় মূল্যস্ফীতিও ছিল দুই অংকের ঘরে। আবার ২০২০ সালে যখন ব্যাংক ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে বেঁধে দেয়া হয়, তখন মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ দুই দশক আগে ব্যাংক ঋণ অনেক দামি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির অন্তত ৫০ শতাংশ এখনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ কারণে উন্নত দেশগুলোর মতো সুদহার বাড়িয়ে এখানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটনির্ভর। দুই-চারজন ব্যবসায়ী চাইলেই কারসাজির মাধ্যমে এখানে পণ্যের দাম বাড়াতে পারেন। আবার ঘুস-দুর্নীতির ভয়াবহতার কারণে বাজারে কালো টাকার দৌরাত্ম্যও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ কারণে সুদহার বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি মূল্যস্ফীতিকে আরো উস্কে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ছাতক সিমেন্ট কারখানা

০৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

সুনামগঞ্জে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাতক সিমেন্ট কোম্পানির সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কারখানার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। চাইলে চলতি বছর উৎপাদনে যেতে পারবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন কারাখানাটি। কিন্তু কারখানা নির্মাণ শেষ হলেও গ্যাস সরবরাহের লাইন স্থাপন করা হয়নি। এ ছাড়া সিমেন্টের কাঁচামাল হিসেবে ভারত থেকে পাথর আমদানি ও আমদানির রোপওয়ে (পাথর আনার পথ) তৈরি নিয়েও রয়েছে জটিলতা। আর তাতে ৯০০ কোটি টাকায় তৈরি নতুন এ কারখানা এখন অলস বসে আছে।

কারখানার নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও এরই মধ্যে এই প্রকল্পের ব্যয় আরেক দফা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা ও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে আদৌ ২০২৫ সালের মধ্যে পাথর আমদানি, রোপওয়ে ও গ্যাসলাইন নির্মাণ শেষ হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কারখানা তৈরির কাজ শেষ। কিন্তু রোপওয়ে, গ্যাসলাইনসহ অন্যান্য কাজ বাকি থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৮৮ ভাগ।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এত অর্থ ব্যয়ে কারখানা করে এখন গ্যাস-সংযোগের অভাবে ও অন্যান্য কারণে অলস পড়ে থাকলে বিপুল এই বিনিয়োগ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার সময়মতো উৎপাদনে না গেলে কারখানার যন্ত্রপাতিতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রাজশাহীতে শ্রমের হাট

‘এভাবে আর চলতি পারি না’

০৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

আজ সোমবার সকাল ৯টা। রাজশাহী নগরের তালাইমারী মোড়। রাস্তার পাশে সারি সারি সাইকেল। তাতে বাঁধা আছে একটি ঢালি ও কোদাল। পাশেই ছড়িয়ে–ছিটিয়ে অপেক্ষায় বসে আছেন শতকের কাছাকাছি মানুষ। সেখানে গিয়ে গাড়ি থেকে নামতেই একজন বলে উঠলেন, ‘ভাই, কাজ লাইগব্যে। আসলে এখানে এসে দাঁড়ালে এভাবেই বলি। মন খারাপ কইরবেন না।’

জেলার চারঘাট উপজেলার ইউসূফ এলাকা থেকে আসা জহুরুল ইসলাম এই কথা বলছিলেন। তিনি ভোর সাড়ে ৬টা থেকে দিনমজুরির কাজের অপেক্ষায় ছিলেন তালাইমারী এলাকায়। পরে তাঁর সঙ্গে আরও কথা হলো। বললেন, ‘অবস্থা ভালো না ভাই। সাধারণ মানুষের কিছুই নাই। কাজও নাই। হরতাল, মিছিল না হলে দেখা যায়, সাত দিনে তিন-চার দিন কাজ হয়। এভাবে আর চলতি পারি না, দেশের অবস্থাও ভালো না। এগুলো নিয়েও টেনশন করি। বাজারের জিনিসপত্রের দামও অনেক।’ জহুরুল সকাল সাড়ে ৯টার পর সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন কাজ না পেয়ে।

শরিফুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক বলেন, ‘কাজ দুই দিন হলে, চার দিন হয় না। গত সপ্তাহে তিন দিন কাজ পেয়েছেন। ওই টাকায় সাত দিন চলা যায় না। চাল, ডাল, আলু সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। হরতাল অবরোধের কারণে মানুষজন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আরও চাপে পড়েছেন তাঁরা, যা আয় করছেন সবজি কিনতেই চলে যায়। এই অবস্থার মধ্যে দেশের পরিস্থিতি ভালো না হলে আরও বিপদ সামনে।’

বিএনপির ডাকা দ্বিতীয় দফার অবরোধ চলছে। শ্রমজীবী মানুষের কাজের ক্ষেত্র কমে গেছে। অনেক উন্নয়ন কাজে ঢিলেঢালা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বিপদে আছেন দিনমজুর মানুষেরা। তালাইমারী মোড়ের মতো নগরের বিনোদপুর, শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমজীবীরা শ্রম বিক্রি করতে আসেন। রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম থেকে কাকডাকা ভোরে শ্রমজীবী মানুষেরা আসেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁদের কেউ কাজ পান, কেউবা কাজ না পেয়ে চলে যান। ইদানীং কাজ না পেয়ে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

ডলার বিড়ম্বনায় বিপিসির জ্বালানি তেল আমদানি ও বকেয়া পরিশোধ

নভেম্বর ০৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ সরবরাহকারী চার বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে দেনার পরিমাণ ৩৬ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সর্বশেষ বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১১১ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশিতে। এ বকেয়ার কারণে জ্বালানি তেল আমদানিতে এলসি খুলতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। বকেয়া জটিলতার কারণে আমদানীকৃত জ্বালানি তেল খালাসে জাহাজে ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ড (অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় পণ্য খালাস আটকে দেয়া) আরোপের মতো বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়েছে সংস্থাটিকে।

অক্টোবরে একযুগের সর্বোচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতির রেকর্ড

নভেম্বর ০৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।  অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশে।  যা গত আগস্টে ছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।  এটি ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ।  আর গত মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

আজ সোমবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান  ব্যুরো (বিবিএস) থেকে প্রকাশিত মাসিক মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

এর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল।  প্রায় ১২ বছরের মধ্যে অক্টোবরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নতুন রেকর্ড তৈরি করল।  গত আগস্ট মাসে প্রথমবারের মতো খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে উঠে যায়।  এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এখন আবার তা ১০ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে।

চালের বাজারে উত্তাপ ক্রেতার বাড়ল চাপ

০৮ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

নিত্যপণ্যের বাজারে বেড়েই চলেছে একের পর এক পণ্যের দাম। এতে যেন ক্রেতাদের ‘দম বন্ধ’ হওয়ার অবস্থা। কয়েক মাস স্থির থাকার পর এবার দাম বাড়ার তালিকায় উঠে এসেছে প্রধান খাদ্যশস্য চাল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। তাতে খুচরায় কেজিতে ৪ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অন্য পণ্যের পর চালের দাম বাড়ায় বড় চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।

দাম বাড়ার পেছনে নানা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মিল মালিক তথা বড় মজুতদাররা ভারতের চাল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের সুযোগ নিচ্ছেন। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন তারা। এ ছাড়া অবরোধের কারণে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। অন্যদিকে মিলাররা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে মজুত ফুরিয়ে আসছে। সে জন্য বাজার কিছুটা বাড়তি। সপ্তাহ দুয়েক পর নতুন ধান উঠবে। তখন চালের বাজার স্বাভাবিক হবে।

আমদানি শুরুর পর দ্রুত কমছে ডিমের দাম

০৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ভারতীয় ডিমের মাত্র একটি চালান দেশে এসেছে। এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৬২ হাজার ডিম। এর পর থেকেই ঢাকার বাজারে দ্রুত কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম। ভারতীয় ডিম দেশে আসার পর তিন দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১৫-২৫ টাকা কমেছে। কোনো কোনো বাজারে এর চেয়েও বেশি কমেছে। ফলে প্রতি ডজন ডিমের দাম সরকার নির্ধারিত ১৪৪ টাকার নিচে নেমে এসেছে।

রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও তেজগাঁও ডিমের বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪০ টাকায়। অথচ গত রোববারেও ঢাকায় প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

সরকারের উন্নয়ন প্রচারের কাজ পাবে কোম্পানি, দরপত্র ডাকা হবে না

০৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে উন্নয়নের চিত্র প্রচার করবে সরকার। এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘প্রান্তিক পর্যায়ে উন্নয়ন প্রচার’। এ প্রকল্পের আওতায় থাকবে ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি আউটরিচ কর্মসূচি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। তবে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দরপত্র ডাকা হবে না। অর্থাৎ সরকার এ সেবা কিনবে দরপত্র ছাড়া সরাসরি পদ্ধতিতে।

আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন পায়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে নিয়োজিত রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এবার আরও থাকছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তর। তারা দেশের ৪৯২টি উপজেলায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে এলইডি ডিসপ্লে বসানোর কাজে যুক্ত।

আলাদাভাবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রদর্শন’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সাল থেকে এলইডি ডিসপ্লের মাধ্যমে ১৯ জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নতুন করে উন্নয়ন প্রচারের জন্য আরেক প্রকল্প হাতে নেয় এক বছর আগে। সবার অঙ্ক যোগ করলে এ কাজে ব্যয় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সূত্রগুলো জানায়।

এর আগে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে ২০১৮ সালেও ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রচার কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ২০২২ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে পিকআপ ভ্যানে করে ভ্রাম্যমাণ এলইডি ডিসপ্লে দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করা হয়েছে।

গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রচারের অংশ হিসেবে নারীদের নিয়ে সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া ফেসবুক ও টেলিভিশনে ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হবে এবং গ্রামে গ্রামে কিছু ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে।

খোলা বাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৭ টাকা

নভেম্বর ৯, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

খোলা বাজারে একদিনে মার্কিন ডলারের দাম ৫-৬ টাকা বেড়ে গেছে। আজ মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৭ টাকায়। অথচ একদিন আগেও এর দাম ছিল ১২১-১২২ টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডলারের দাম বেড়েছে।

লিপস্টিকের আমদানি বাড়ল কেন

১০ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হচ্ছে। এক যুগের রেকর্ড ভেঙে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি। এর মানে হলো, এক বছরের ব্যবধানে মানুষের খরচ সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত তিন মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। খরচ বাড়লেও আয় বাড়ছে না। এমন সময় কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

দেশের অর্থনৈতিক সংকটের এমন সময়ে শিল্পের কাঁচামাল থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি কমছে। সেটা স্বাভাবিকই। তবে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে একটি পণ্যের আমদানি ও ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। এই পণ্য হলো লিপস্টিক। লিপস্টিকের আমদানি বৃদ্ধিই অর্থনীতিতে ভয় দেখাচ্ছে। ভয়টা মূলত পশ্চিমের ‘লিপস্টিক এফেক্ট’ তত্ত্বের কারণে। অবশ্য অর্থনীতির গতি কমার সঙ্গে মিলে গেলেও পশ্চিমা তত্ত্বে ভয় পাওয়ায় কিছু নেই বলে জানাচ্ছেন গবেষকেরা।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মন্দার সময় লিপস্টিক তত্ত্ব আলোচনায় আসে। মন্দায় সাধারণত জিনিসপত্রের বিক্রি কমে যায়। তবে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রসাধন কোম্পানি এস্টি লাউডারের চেয়ারম্যান লিওনার্দ লাউডার ঘোষণা দিলেন, এই মন্দায় লিপস্টিক বিক্রি আরও বেড়েছে। তিনি প্রথম ‘দ্য লিপস্টিক ইফেক্ট’ শব্দ ব্যবহার করেন। এই তত্ত্ব খুব জনপ্রিয় হয়। এর নেপথ্যে দুটি জোরালো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

যেমন মানুষের আয় কমলে বিলাসপণ্য কেনার চাহিদা কমে যায়। তবে কম বিলাসপণ্য কেনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে মানুষ। আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আর্থিক কষ্টের সময় নিজেকে পরিপাটি রাখার মধ্য দিয়ে কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করে মানুষ। তাতে মন্দার সময় লিপস্টিকের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে মন্দার আশঙ্কা বা পূর্বাভাস বোঝার জন্য লিপস্টিক বিক্রির ওপর চোখ রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা।

বাংলাদেশে পণ্যভিত্তিক খুচরা বিক্রির হিসাব পাওয়া যায় না। তবে আমদানি থেকে লিপস্টিক বিক্রির চাহিদা বাড়ল না কমল, সে সর্ম্পকে ধারণা পাওয়া যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে ঠোঁটে ব্যবহারের উপকরণ বা লিপস্টিক-জাতীয় পণ্য আমদানি হয়েছে ৪০ হাজার ৭৭৫ কেজি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয় ২৬ হাজার ৮৫৩ কেজি। সরকারি হিসাবে, লিপস্টিক আমদানি ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

একনেকে রেকর্ড প্রকল্প অনুমোদন

১০ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ একনেক সভায় রেকর্ড ৪৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে একনেকের এক বৈঠকে সর্বোচ্চ ৩৭টি প্রকল্প অনুমোদনের রেকর্ড ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে টেবিলে উত্থাপিত অনির্ধারিত প্রকল্পের সংখ্যা ৯টি। এসব প্রকল্পের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের নেওয়া প্রকল্পটির মাধ্যমে পুলিশের নিরাপত্তা সরঞ্জাম হিসেবে এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর, বম্ব স্যুট, বম্ব ব্লাস্ট বিন, ব্যারিকেড, মেটাল ডিটেক্টরসহ ৫০ ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা হবে।

বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন-এসপিসির মাধ্যমে প্রকল্পটি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়। এ মাসেই প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সুপারিশে বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ পুলিশ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপির বরাদ্দহীন এবং অননুমোদিত তালিকায় ছিল প্রকল্পটি।

টেবিলে উত্থাপিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে রংপুরের ৯টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত এলাকাসহ মহানগরীর সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি। অন্যদিকে, নির্ধারিত ৩৬ প্রকল্পের মধ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পার্ক নির্মাণ প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৫টিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর এখতিয়ারে আগে অনুমোদিত ৮টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করা হয়। ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী আগেই এ প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেন। সব মিলিয়ে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৩০ হাজার ১২৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৭৬৮ কোটি টাকা।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে গেছে ৯৪০ কোটি টাকার ইভিএম

নভেম্বর ১১, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম বাংলাদেশে প্রথম ব্যবহার হয় ২০১১ সালে। নতুন এ ব্যবস্থাকে ভোটাধিকার প্রয়োগের এক দুর্দান্ত হাতিয়ার বলে ধরা হচ্ছিল তখন।

পরে, বড় আকারে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ছয়টি আসনের নির্বাচনে ব্যবহার হয় ইভিএম। ওই বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতিটি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় দেড় লাখ ইভিএম কেনে, যা ভারতে ব্যবহৃত ইভিএমের দামের প্রায় ১১ গুণ বেশি।

ভারত সরকারের ওই ইভিএমগুলো ১৫ বছর ব্যবহার করা যায়। অথচ দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে আমাদের অন্তত ৪০ হাজার ইভিএম পাঁচ বছরও টেকেনি। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের কমপক্ষে ৯৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জনগণের অর্থের এই অপচয়ের পরিমাণ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মোট বাজেটের চেয়ে ২০০ কোটি টাকা বেশি।

এদিকে, আরও ৪০ হাজার ইভিএম নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। কারণ সেগুলো এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যেখানে এ ধরনের স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতি রাখার উপযোগী নয়। এই যন্ত্রগুলো এখনই সঠিকভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে আরও ৯৪০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হবে।

ডলার সংকটে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি

নভেম্বর ১১, ২০২৩, বণিক বার্তা

জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয় দেশের হাসপাতালগুলোকে। বিশেষ করে হৃদরোগ, অর্থোপেডিক, চক্ষু, ক্যান্সার, জেনারেল সার্জারি, স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের প্রায় শতভাগ সরঞ্জামই আমদানি করতে হয়। বর্তমানে এগুলো আনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বিদ্যমান ডলার সংকট। সরঞ্জামের অভাবে দেশের হাসপাতালগুলোয় এখন বড় অস্ত্রোপচারের সংখ্যাও কমার পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে হৃদরোগের সার্জারি নিয়ে। ব্যাঘাত ঘটছে অর্থোপেডিকসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায়ও। ডলার সংকটের কারণে চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির জন্য ব্যাংকে এলসি (ঋণপত্র) খোলা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ এখন চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অসংক্রামক রোগের চিকিৎসার জন্য অতিজরুরি সরঞ্জাম আমদানি ব্যাহত হওয়ায় চিকিৎসায় ব্যাঘাতের পাশাপাশি রোগীদের মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলার অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি নিউরো সার্জারি, কিডনি সার্জারি, অর্থোপেডিক সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল সার্জারির সরঞ্জামও নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে আনতে হয়। এছাড়া রোগ নিরীক্ষা ও জীবাণুনাশের যন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ প্রধানত আমদানিনির্ভর।

সবজি নিয়ে বিপদে চাষি

১২ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

একের পর এক হরতাল-অবরোধের কারণে মাঠ পর্যায়ে কমে গেছে শীতকালীন সবজির দাম। রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবজি বাজারজাত নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, লাভের আশায় বেশি দামে সার-বীজ কিনে আগাম চাষ করেছি। এখন যে দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে লোকসান ছাড়া উপায় নেই। 

গতকাল শনিবার উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সবজির হাট বগুড়ার মহাস্থানে ১০০ টাকা ধরা (৫ কেজি) বরবটি, ২১৬ থেকে ২২০ টাকা ডজন সাঁচি লাউ এবং ১২৫ টাকা ধরা বেগুন বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এ হাটে মুলা মিলছে প্রতি ধরা ৭৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০, শসা ৫০০, ঝিঙে ১০০০, পেঁপে ৩৫০, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০, বাঁধাকপি প্রতি শ ২০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

হাটের এ চিত্র হলে মাঠের অবস্থা কী? জানতে শিবগঞ্জের আঁচলাই গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, চাষিরা নিরাশ। সেখানে মাঠে নিজের স্ত্রী ও ছেলের বউকে নিয়ে মুলা ও ফুলকপি তুলছিলেন আমিরুল হক। জানালেন, লাভের আশায় আগাম চাষ করেছি। বাজারও ছিল ভালো। এখন অবরোধে পাইকাররা সবজি কিনছেন না। স্থানীয় ফড়িয়ারা নামমাত্র দামে জমি থেকে সবজি নিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল তিনি ক্ষেত থেকে মুলা বিক্রি করেছেন প্রতি মণ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ১ হাজারের ওপরে। প্রতি শ ১৫০০ টাকার ফুলকপি নেমে এসেছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। পাশের ডোবার পানিতে আমিরুলের স্ত্রী ও ছেলের বউ মুলা ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। এটি করলে কেজিতে দাম ১ থেকে ২ টাকা করে বেশি পাওয়া যায়।

ডলার নেই, তারল্যও সংকটে, সংকোচনের মুখে বেসরকারি খাত

নভেম্বর ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

ডলার সংকটে দেশের আমদানি সংকুচিত হচ্ছে দুই বছর ধরে। চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করতে না পারায় স্থবির হতে বসেছে অনেক শিল্প। টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়নের প্রভাবেও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এবার ডলার সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংকের তারল্য সংকট। ঋণ না পাওয়ায় দেশের অনেক উদ্যোক্তাই এখন কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় সমৃদ্ধি নয়, বরং সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশের বেসরকারি খাত। যদিও দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও কর্মসংস্থানের বড় অংশই বেসরকারি খাতনির্ভর। এ খাত প্রাণবন্ত থাকলে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধির পথে চলে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হয় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ঋণ প্রবাহ সংকুচিত হওয়া, সুদহার বৃদ্ধি, ডলার সংকট ও ডলারের বিনিময় হার নিয়ে নৈরাজ্য, প্রত্যাশিত মাত্রায় ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারা, গ্যাস সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বিক্রি কমে যাওয়াসহ বহুমুখী সংকটে বেসরকারি খাত এখন বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ব্যবসায়ীরা গণহারে ঋণখেলাপি হবেন। তাতে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত আরো বেশি নড়বড়ে হয়ে উঠবে।

দেশের ব্যাংক ঋণের সুদহার এখন প্রায় ১১ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সুদহারের চেয়েও অনেক নিচে নেমে এসেছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যা গত ২৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে। সর্বশেষ অক্টোবর ও চলতি নভেম্বরে ঋণ প্রবাহের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বাড়বে ৮ লাখ টন, তবু খাদ্য নিরাপত্তাহীন সোয়া কোটি মানুষ

১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ধানসহ দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। তবে দাম বেশি থাকায় মানুষের কেনার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে।

গ্লোবাল ইনফরমেশন অ্যান্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম অন ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি ১০ নভেম্বর প্রকাশ করা হয়েছে।

এফএও মনে করছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৭ লাখ ৯৩ হাজার টন বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন হতে পারে। এর মধ্যে বোরো ধান উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে, ৩ কোটি ১০ লাখ টন। ফলে এবার সামগ্রিকভাবে খাদ্যশস্য কম আমদানি করতে হবে। তবে খাদ্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যপণ্য কেনার সক্ষমতা কমছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে এফএও প্রতি দুই–এক বছরে প্রতিটি দেশের খাদ্যশস্যের উৎপাদন নিয়ে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে।

মেয়াদপূর্তির পরও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না প্রায় ১০ লাখ বিমা গ্রাহক

নভেম্বর ১৩, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

তারল্য সংকটের কারণে দেশের ২৯ জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধ না করায় অন্তত ১০ লাখ গ্রাহকের বিমা দাবি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশের বিমাখাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত চার বছরে গ্রাহকদের দুই হাজার ৭০ কোটি টাকার বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে দেশের বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো। এটি মোট বিমা দাবির ৪০ দশমিক ৪২ শতাংশ।

একই সময়ে আরও মোট তিন হাজার ৫০ কোটি টাকার বিমা দাবি অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।

বিমা আইন ২০১০ অনুসারে, পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কাছে সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিমা দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে৷

গত ১২ অক্টোবর এক বৈঠকে দেশের বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিসেম্বরের মধ্যে সব বিমা দাবি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সানলাইফ ইনসিওরেন্সকে তাদের জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে।

যে ২৯ বিমা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিষ্ঠানটির বিমা দাবি নিষ্পত্তির হার মাত্র এক শতাংশ।

আইডিআরএর তথ্য অনুসারে, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিমা দাবি নিষ্পত্তির হার পাঁচ শতাংশ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ছয় শতাংশ ও গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৪ শতাংশ।

চার পণ্য বিক্রি হবে ট্রাকে, পাওয়া যাবে কম দামে

১৩ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকা শহরে কাল মঙ্গলবার থেকে ২৫-৩০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু করবে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে ফ্যামিলি বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে এই পণ্য বিক্রি হবে না। বরং যাঁরা আসবেন, তাঁরা সেই পণ্য পাবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

একজন ক্রেতা দুই কেজি মসুরের ডাল, দুই কেজি সয়াবিন তেল, দুই কেজি আলু ও দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। পেঁয়াজ বিক্রি হবে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকায়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১০০ টাকায়।

সরকারের কাছে পাওনা দুই বিলিয়ন ডলার

১৪ নভেম্বর ২০২৩,  সমকাল

বিদ্যুতের মূল্য বাবদ সরকারের কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মালিকদের পাওনা দাঁড়িয়েছে দুই বিলিয়ন ডলারেরও কিছু বেশি। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। মূলত চলমান ডলার সংকট, লোকসান বৃদ্ধি ও ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে না পাওয়ায় এ অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ও যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতনের কারণেও সংকটে পড়েছে খাতটি।

এ সংকট থেকে উত্তরণে করণীয় নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চায় বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ)। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে দেওয়া চিঠিতে বিআইপিপিএ বলেছে, চলমান পরিস্থিতিতে এ খাতের উদ্যোক্তারা দেউলিয়া হওয়ার পথে। টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

যশোর ও টঙ্গী শিশু-কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র

নভেম্বর ১৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ও গাজীপুরের টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ নিবাসী। খাবারের জন্য অপ্রতুল বরাদ্দ, তিনবেলা খাবারের জন্য মাথাপিছু মাত্র ১০০ টাকা। বাড়ন্ত শিশু-কিশোরদের পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও পরিমিত খাবার প্রয়োজন হলেও তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি তাদের চিকিৎসায় কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক কিংবা নার্সও নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিভাগে জনবল সংকট থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা এসব শিশু-কিশোর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি ধারণক্ষমতা ১৫০ জনের। এর বিপরীতে সেখানে রাখা হয়েছে ২৮৪ শিশু-কিশোরকে। তিনতলা ভবনের ৬০টি ছোট কক্ষে গাদাগাধি করে থাকতে হচ্ছে এসব নিবাসীকে। নেই স্থায়ী কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা। অন্যদিকে ৪৯ জনবলের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ২৪ জন। বিশেষ করে নিরাপত্তাকর্মী সংকট ভোগাচ্ছে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের। ফলে প্রায়ই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে কিশোররা। বছর তিনেক আগে এক সংঘর্ষে তিন কিশোর নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসীদের মাথাপিছু খাবারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ১০০ টাকা। এ অর্থ দিয়েই জ্বালানি খরচসহ তিনবেলা খাবার ও বিকালে নাশতা দিতে হচ্ছে ঠিকাদারকে। নিয়মানুযায়ী এসব শিশু-কিশোরকে তিনদিন মাছ ও তিনদিন মাংস (মুরগি) দেয়ার কথা। এর মধ্যে মাছ ও মাংস ১০০ গ্রাম করে, ভাত ৪০০ গ্রাম ও সবজি ৪২০ গ্রাম। তবে দেয়া হয় অনেক নিম্নমানের খাবার। মাছের মধ্যে কেবল পাঙাশ, মাংস দেয়া হয় পোলট্রি মুরগির। তাও আবার মাছ-মাংস এতই কম মেলে যে পাতে খুঁজে পাওয়াই ভার। তরকারির পাতলা ঝোল দিয়ে খাবার সারতে হয়। ফলে পুষ্টির ঘাটতি নিয়েই বেড়ে উঠছে এসব শিশু-কিশোর।

প্রবাসী আয় বাড়লেও কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

১৭ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

চলতি নভেম্বর মাসের প্রথমার্ধে প্রবাসী আয়ে বড় উল্লম্ফন হয়েছে। প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে এসেছিল ৯২ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয় বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত কমছে।

বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসের শুরুতে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ১২৩-১২৪ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ফলে বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানো বেড়ে গেছে। এখন কড়াকড়ি আরোপ করায় আয় আসা আবার কমতে পারে।

পূর্বাভাসের চেয়ে কম যানবাহন চলছে বঙ্গবন্ধু টানেলে

নভেম্বর ১৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলে যান চলাচল শুরু হয়েছে গত ২৯ অক্টোবর। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির দিনগুলো বাদে প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার ৪৮টি যানবাহন টানেল পারাপার হয়েছে। আর চালুর পর ১৮ দিনের হিসাব ধরলে প্রতিদিন গড়ে টানেলটি ব্যবহার করেছে ৬ হাজার ৩১৮টি যানবাহন।

যদিও টানেলটি নির্মাণের জন্য করা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ২৮ হাজার যান চলাচল করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালকে টানেল চালুর বছর ধরে এ পূর্বাভাস করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, চালুর বছরে প্রতিদিন গড়ে ১৭ হাজারের বেশি গাড়ি চলতে পারে।

বেড়েছে ডলার সংকট রিজা৩র্ভ নেমেছে ১৯.৬০ বিলিয়নে

নভেম্বর ১৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (বিপিএম৬) অনুযায়ী গত বুধবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৬ কোটি বা ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে দেশের নিট রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর দেশের রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। ১৫ নভেম্বর তা নেমে আসে ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে। এ হিসাবে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে ১৩৫ কোটি ডলার কমেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধের পর রিজার্ভের পরিমাণ এতটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশে পাড়ি জমাতে চান দেশের ৪২ শতাংশ তরুণ

নভেম্বর ১৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের মোট শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ তরুণ-তরুণী। তাদের মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের প্রায় অর্ধেকই বা ৪২ শতাংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে চান। অনিশ্চিত আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির বাজার তৈরি না হওয়া, গুণগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের স্বল্পতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগের অভাব এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই তাদের এ আগ্রহ। তবে বিদেশ যাওয়ার পর যদি দেখেন এসব সংকট সমাধান হয়েছে তাহলে ৮৫ শতাংশই আবার দেশে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের ‘‌ইয়ুথ ম্যাটার্স সার্ভে ২০২৩’ শীর্ষক যৌথ সমীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের যুবসমাজের অবস্থান, সমসাময়িক ভাবনা ও প্রত্যাশা জানতে বিওয়াইএলসি পাঁচ বছর পরপর জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সমীক্ষা পরিচালনা করে। বিওয়াইএলসি কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের সজীব ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড জাস্টিস সেন্টারের সাবেক গবেষণা সহযোগী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর খৈয়াম। জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও সুশাসন, তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিপ্রায় বিষয় এ জরিপের ফলাফলে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ—দুটিই উঠে এসেছে।

দেশের আট বিভাগের ৫ হাজার ৬০৯ তরুণ-তরুণীর মাঝে পরিচালিত এ জরিপে দেখা যায়, ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশই দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন। ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ আবার মনে করেন, তাদের যে দক্ষতা রয়েছে দেশে সে অনুযায়ী চাকরি নেই। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই মনে করেন ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মনে করেন দেশে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কম। এছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে দেশ ছাড়তে চাইছেন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ-তরুণী।

জনতা ব্যাংকে দুই গোষ্ঠীর ঋণ নিয়মিত, খেলাপি ঋণ কমল সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা

১৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের বড় দুই খেলাপি শিল্পগোষ্ঠী তাদের ঋণ নিয়মিত করেছে। এতেই তিন মাসের ব্যবধানে এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ কমেছে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তাতে ব্যাংকের প্রায় সব সূচকে উন্নতি ঘটেছে।

ঋণ নিয়মিত করা বড় দুই শিল্পগোষ্ঠী হলো বেক্সিমকো গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে গ্রুপ দুটি তাদের প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে।

জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নথিপত্র এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্য নথিপত্র ও হিসাব পর্যালোচনায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে জনতা ব্যাংক এখনো সবচেয়ে বেশি ঋণখেলাপি রয়েছে এমন ব্যাংকগুলোর পুরোভাগেই অবস্থান করছে।

রাষ্ট্র খাতের এই ব্যাংকটি একসময় ভালো ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। উদ্যোক্তাদেরও অর্থায়নের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এই ব্যাংক।

দাম বাড়ছে আমদানিনির্ভর পণ্যের

২০ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে ডলার-সংকট চলমান রয়েছে। যেসব নিত্যপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোর ঋণপত্র খুলতে অনেক ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামে ডলার কিনতে পারছেন না। দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। এর প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। ডলারের বাজারে অস্থিরতায় গত এক মাসে নতুন করে ডাল, চিনি, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের দাম মোটামুটি কমে এসেছে। কিন্তু ডলারের বাড়তি দামের কারণে খুচরা বাজারে বেড়েছে আমদানি করা নিত্যপণ্যের দাম।

রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজারে গরুর মাংস এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০-৬০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায়।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে আমদানি করা নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। বৃদ্ধির হার কেজিতে ৩০ শতাংশ। এরপর রয়েছে চিনি। দেশে চিনির চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি করে মেটানো হয়। খুচরা বাজারে চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ১১ শতাংশ। এ ছাড়া খোলা আটা ৮ শতাংশ, খোলা ময়দা ৯ শতাংশ, মাঝারি দানার মসুর ডাল ২ শতাংশ ও খোলা সয়াবিন তেলের দর প্রায় ২ শতাংশ হারে বেড়েছে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে বিশ্বে খাদ্য মূল্যসূচক কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বরে সার্বিক খাদ্য মূল্যসূচক ছিল ১২১ দশমিক ৩, অক্টোবরে এসে যা দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ৬-এ। চিনির মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট কমে ১৫৯ দশমিক ২-এ নেমে এসেছে। ভোজ্যতেলের সূচক ১২০ দশমিক শূন্য ৯ থেকে কমে হয়েছে ১২০। আর গম-ভুট্টার মতো শস্যদানার মূল্যসূচক ১২৬ দশমিক ৩ থেকে কমে ১২৫-এ নেমেছে।

সামাজিক সুরক্ষা ভাতায় মাসে সর্বোচ্চ ১১ কেজি চাল বা আলু কেনা সম্ভব

নভেম্বর ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে একজন বয়স্ক ব্যক্তি প্রতি মাসে ৬০০ টাকা ভাতা পান। একজন বিধবা ও নিগৃহীতা নারী পাচ্ছেন ৫৫০ টাকা। তবে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির প্রভাবে যৎসামান্য এ ভাতায় এসব জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদার সামান্যই পূরণ হয়। ভাতার অর্থে বয়স্ক ও বিধবারা বর্তমানে মাসে সর্বোচ্চ ১১ কেজি চাল বা আলু কিনতে পারেন।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আশির দশকে বিভিন্ন ভাতা চালু করেছিল সরকার। মূলত সামাজিক নিরাপত্তাবলয় সুসংহত করার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নই ছিল এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এর আওতায় বিভিন্ন ধরনের ভাতা দিচ্ছে সরকার। প্রতি বছর এসব ভাতার উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে জনপ্রতি টাকার অংকে এ আর্থিক সহায়তার পরিমাণ খুবই কম। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণীতে রয়েছে বয়স্ক, বিধবা ও নিগৃহীতা নারী এবং প্রতিবন্ধীরা। এ তিন শ্রেণীর ভাতাভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার। বর্তমানে ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে বয়স্করা প্রতি মাসে ৬০০ টাকা, বিধবারা ৫৫০ এবং প্রতিবন্ধীরা পাচ্ছেন ৮৫০ টাকা। এ অর্থে এসব জনগোষ্ঠীর মাসিক চাহিদার কতটুকু পূরণ হয় সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার ওপর ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাবে ভাতার অর্থের মূল্য আরো সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

ধারদেনা করার অবস্থাও নেই ন্যাশনাল ব্যাংকের

২১ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

আমানতকারীর স্বার্থে প্রতিটি ব্যাংকের মোট দায়ের ১৭ শতাংশ বিধিবদ্ধ তারল্য হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা নিয়ম। এর মধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে রাখা যায় ১৩ শতাংশ; বাকি ৪ শতাংশ রাখতে হয় নগদে (সিআরআর)। বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) অবস্থা এতটাই নাজুক, টানা ১৪ মাস বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ করতে পারছে না। এ পটভূমিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩৩৭ কোটি টাকা জরিমানা করলেও তা পরিশোধের অবস্থায় নেই ব্যাংকটি। গ্রাহক চাহিদা মেটাতে এনবিএল তার সব বিল-বন্ড বন্ধক রেখে যতটুকু সম্ভব দেনা করে ফেলেছে। এখন আর ধার করার মতো পরিস্থিতি ব্যাংকটির নেই। তারল্যের মহাসংকটে পড়ে এনবিএল এখন সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে। আবার ব্যাংকটি টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথাও ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আর্থিক দুরবস্থা তুলে ধরে খোদ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পরিচালনা পর্ষদের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে এ বছরের অক্টোবরভিত্তিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকের নিট আমানত ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা কমেছে। এর মধ্যে করপোরেট আমানত তোলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। এ অবস্থা সামলাতে ট্রেজারি বিল, বন্ডসহ বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা ৬ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা বন্ধক রেখে ধার নেওয়া হয়েছে। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২২৬ কোটি এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা দেনা করা হয়েছে। ফলে আগামীতে তারল্য চাহিদা মেটানোর মতো কোনো সিকিউরিজ নেই। এটি উচ্চ তারল্য ঝুঁকির ইঙ্গিত করে।

চীনা ঋণের ১৭ প্রকল্পে গতি নেই

২১ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

চীনের অর্থায়নে প্রথম টানেলের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সমঝোতা হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে; দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের সময়। সাত বছর পর গত ২৮ অক্টোবর সুড়ঙ্গপথটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

কেবল কর্ণফুলী টানেল নয়, সি চিন পিং ঢাকা সফরের সময় অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের মোট ২৭টি প্রকল্পে দুই হাজার কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা।

তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, গত সাত বছরে সব মিলিয়ে ১০টি প্রকল্পে চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে ৩ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ৭টি চলমান। এখন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা।

নথি ঘেঁটে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চীনের অর্থায়নে বাকি যে ১৭টি প্রকল্প হওয়ার কথা, সেগুলো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোনোটিরই কাজ এখনো শুরু হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসব প্রকল্পে ধীরে চলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে ১১ প্রকল্পের দিকে। বাকি ৬টির ভাগ্য অনিশ্চিত।

১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছল বাংলাদেশের বিদেশী ঋণ

নভেম্বর ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারে পৌঁছেছে বাংলাদেশের বিদেশী ঋণ। এর মধ্যে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশী ঋণের পরিমাণ ৭৯ বিলিয়ন ডলার। বাকি ২১ বিলিয়ন ডলার বিদেশী ঋণ নিয়েছে দেশের বেসরকারি খাত। বিদেশী বিভিন্ন উৎস থেকে নেয়া ঋণের প্রায় ৮৪ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি। বাকি ১৬ শতাংশ বা ১৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ স্বল্পমেয়াদি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশী ঋণের পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের মোট বিদেশী ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশই নেয়া হয়েছে গত ১০ বছরে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষেও বিদেশী উৎস থেকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৪১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার ছিল দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। বাকি ৬ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছিল স্বল্পমেয়াদি। ওই সময় বিদেশী ঋণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর পর থেকে বিদেশী ঋণ ক্রমাগত বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছর শেষে বিদেশী ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলারে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে এ ঋণের স্থিতি ৫৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে বিদেশী ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে।

বিদেশী ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ২০১৮ সালের পর। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বিদেশী ঋণের স্থিতি ৬৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধি ১৯ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ওই অর্থবছর শেষে বিদেশী ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশী ঋণের প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থবছর শেষে এ ঋণের স্থিতি ৯৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশী অনেক প্রতিষ্ঠান স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বিদেশী ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিও কমে যায়। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে বিদেশী ঋণের স্থিতি ৯৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে তথা সেপ্টেম্বরে এসে বিদেশী ঋণের স্থিতি ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

৫০ কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বেড়েছে

নভেম্বর ২৪, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত অর্থবছরের শেষ তিন মাসে দেশে ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে ১ হাজার ৮২৪টি অ্যাকাউন্টে ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা ছিল।

তবে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের অ্যাকাউন্ট ছিল ১ হাজার ৭৫৮টি।

এই ১ হাজার ৮২৪টি অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এদিকে জুন শেষে ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৯২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট জমা ছিল ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

জনতার সরকার, বৈঠক ও আলাপনে ব্যয় কোটি টাকা, ব্যবহার সামান্য

২৫ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

জনগণের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে ‘জনতার সরকার’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি টাকা।

ওয়েবসাইটটি গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ বলেন, এটি দেশের সাধারণ জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করবে।

এক বছরের বেশি সময় পর দেখা যাচ্ছে, জনতার সরকার ওয়েবসাইটটি তেমন কোনো কাজে লাগছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে এটির ব্যবহার নেই বললেই চলে।

সাইটটি তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) ‘বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপদ ই-মেইল ও ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে। এটি কী কাজে লাগছে, তা জানতে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে প্রায় এক মাস ধরে। মুঠোফোনে কল করে, খুদে বার্তা পাঠিয়ে এবং তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শুধু জনতার সরকার নয়, অনলাইনে বৈঠক করার মাধ্যম ‘বৈঠক’ ও ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলাপন’ও জনপ্রিয়তা পায়নি। যদিও বলা হয়েছিল, বিদেশি মাধ্যম জুম ও গুগল মিটের বিকল্প হবে বৈঠক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমগুলোর বিকল্প হবে আলাপন।

ঋণের টাকায় পরিশোধ হচ্ছে সরকারি ঋণ?

নভেম্বর ২৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আহরণ বাড়ছে না। ঘাটতি পূরণে দেশী-বিদেশী উৎসগুলো থেকে প্রতিনিয়ত ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। বাড়ছে সরকারের দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের স্থিতিও। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে সরকারের নেয়া মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছর (২০২২-২৩) শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়। অর্থ বিভাগের গত মাসে প্রকাশিত ডেবট বুলেটিনের এ হিসাব অনুযায়ী গত এক অর্থবছরে সরকারের ঋণের স্থিতি বেড়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা এ সময় সরকারের আহরিত মোট রাজস্বের প্রায় ৮৩ শতাংশের সমপরিমাণ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা।

রাজস্ব ও ঋণের এ অসামঞ্জস্যতায় চাপ বাড়ছে সরকারের কোষাগারে। বাড়ছে ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধিত অর্থের পরিমাণও। গত অর্থবছরে সরকারকে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে এ বাবদ বরাদ্দের চেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৯০ হাজার ১৩ কোটি টাকা। যদিও পরিশোধ করতে হয়েছে ৯২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।

ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও বাড়তি সুদব্যয় নির্বাহ করতে অভ্যন্তরীণের পাশাপাশি বহিস্থ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ বাড়াতে হয়েছে সরকারকে। অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য সরকারকে এখন নতুন করে আরো ঋণ নিতে হচ্ছে। এতে সুদসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকির মাত্রাও এখন বাড়ছে।

বাড়তি এ ঋণের মধ্যে বিদেশী ঋণের অবদানই সবচেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে দেশে স্থানীয় উৎস থেকে নেয়া ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৯৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। আর বিদেশী ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। বিদেশী ঋণে নির্ভরতা বাড়ায় শঙ্কিত হয়ে উঠছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। টাকার অবমূল্যায়ন ও ডলারের সংকটজনিত কারণে এ ঝুঁকি আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আমদানি ও বিনিয়োগ বেশি, রপ্তানি কম

২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

স্বাধীনতার পর থেকে গত ২০২১–২২ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থসহায়তা দিয়েছে জাপান। এককভাবে বাংলাদেশকে অর্থসহায়তাকারী শীর্ষ দেশ জাপান।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে এগিয়ে জাপান। উন্নত অনেক দেশে বাংলাদেশ রপ্তানি বড় পরিমাণে বাড়াতে পারলেও জাপানের ক্ষেত্রে তা হয়নি। রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসছে পোশাক খাত থেকে। গত ২০২১–২২ অর্থবছরে জাপানে ১৩৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ রপ্তানির বিপরীতে গত অর্থবছরে জাপান থেকে আমদানি হয়েছে ২৭৭ কোটি ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জাহাজ, বোর্ড, লোহা ও ইস্পাত, গাড়ি, শিল্পের যন্ত্রপাতি, চশমা, ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফির যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।

জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী—বিভিন্ন জরিপে এমন তথ্য উঠে এলেও দেশটি থেকে বিনিয়োগ এখনো কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপানি বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০৭ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে। দেশে কর্মরত জাপানি কোম্পানির সংখ্যা তিন শতাধিক।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক হাজার একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল। বিশেষ এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হলে জাপান থেকে বড় বিনিয়োগ আসবে, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জাপানের সুমিতমো করপোরেশনের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) যৌথভাবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে।

৫ বছরে সরকারি গাড়ি ক্রয়-তেল খরচ ৪৮ হাজার কোটি টাকা

২৫ নভেম্বর ২০২৩, যুগান্তর

বিগত ৫ অর্থবছরে (২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪) সরকারি যানবাহন কেনা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৫ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। একই সময়ে জ্বালানি তেল খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে বিগত ৪ অর্থবছরে ১২২৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কাজ সমাপ্ত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে প্রকল্পের গাড়ি জমা দিতে হয় সরকারি পরিবহণ পুলে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একই সময়ে (বিগত অর্থবছরে) প্রকল্পের গাড়ি জমা পড়েছে মাত্র ১৩৮টি। সংশ্লিষ্টদের মতে কমপক্ষে ২০ হাজার গাড়ি এখন অবৈধভাবে চলছে।

কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করেই যে যার মতো করে ব্যবহার করছেন। আর ব্যবহৃত গাড়ি জমা না হওয়ায় সৃষ্ট সংকটের কারণে নতুন গাড়ি কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি এসব গাড়ির পেছনে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থে জ্বালানি ও চালকসহ মেইনটেন্যান্স ব্যয় বাবদ যাচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকা।

চামড়া খাতে কর্মপরিবেশ অর্জিত হচ্ছে না ৪ কারণে: বিসিকের গবেষণা

২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে পণ্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে চামড়াশিল্প অন্যতম। স্থানীয়ভাবে চামড়ার পর্যাপ্ত জোগানও রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই শিল্পের রপ্তানি আশানুরূপ নয়। বর্তমানে যে পরিমাণ চামড়া রপ্তানি হচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার উপযুক্ত দাম পান না উদ্যোক্তারা।

দীর্ঘদিনেও দেশের চামড়াশিল্প খাতে কমপ্লায়েন্স (দূষণমুক্ত ও উন্নত কর্মপরিবেশ) অর্জন হয়নি। এর প্রভাব পড়ছে রপ্তানিতেও। কমপ্লায়েন্স অর্জন না করার পেছনে চারটি কারণের কথা উঠে এসেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

বিসিক যে চারটি কারণ চিহ্নিত করেছে, সেগুলো হলো—সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতার অভাব, কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে কারখানা বা ট্যানারিমালিকদের যথাযথ ধারণা না থাকা, কঠিন বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা এবং ট্যানারির অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মান উন্নত না হওয়া।

এসব কারণে ট্যানারিশিল্পের মানসনদ প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) থেকে স্বীকৃতি পাচ্ছে না সাভারে অবস্থিত ট্যানারিগুলো। দেশে বর্তমানে এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া চারটি ট্যানারি রয়েছে, যার সব কটিই সাভারের চামড়াশিল্প নগরীর বাইরে।

মধ্যবিত্তরাও টিসিবির ট্রাকের পেছনে

২৮ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

অনেক চেষ্টা করেও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পরিবার কার্ড করতে পারেননি রাজধানীর কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম। তবে ট্রাক থেকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে হলেও অন্তত ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন– এমন ভরসা ছিল। কিন্তু সেই ভরসাও রয়ে গেছে তাঁর অধরা। পরপর দু’দিন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পাননি টোকেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় কারওয়ান বাজার-সংলগ্ন সোনারগাঁও রোডে ন্যাশনাল প্লাজার সামনে সমকালকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাসার কাজ ফালাইয়া তাড়াতাড়ি আইলাম। তবু পাইলাম না টোকেন। রোববার এফডিসির সামনে যাইয়াও টোকেন পাই নাই। ঠেলাঠেলি করে টোকেন নেওন লাগে। আমরা তো এটা পারি না, বাবা।’

গতকাল ন্যাশনাল প্লাজার সামনে ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করে সংস্থাটির ডিলার হাসিনা এন্টারপ্রাইজ। দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, আড়াই শতাধিক নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে। একই সংখ্যক ক্রেতা ঘুরছেন লাইনের আশপাশে। বিক্রয়কর্মী মো. নাহিদ বলেন, টোকেন দেওয়া শেষ ১১টায়। টোকেনের বাইরে কাউকে পণ্য দেওয়া হবে না। বারবার বলার পরও মানুষ এসে ভিড় করছেন। গাড়িতে যে পণ্য আছে, তা ৩৬ জনকে দেওয়া যাবে।

ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে

২৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশে ডলারের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখনো কাটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভের যে হিসাব গত সপ্তাহে প্রকাশ করছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ তার চেয়ে অনেক কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ এখন ১৬ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের কম।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল থেকেই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, ভোগ্যপণ্য ও পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যায়। ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের আমদানি খরচ আগের তুলনায় অনেক বাড়ে। তবে সে তুলনায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়েনি। এতে আমদানির জন্য ডলারের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়, তা চাপ তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর। কারণ, জরুরি জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির দায় মেটাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

আইএমএফও সঠিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম।

গত ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার (৪৮ বিলিয়ন)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে তা কমে হয়েছে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ডলার (২৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার)। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৯৫২ কোটি ডলার (১৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার)। গত বুধবার ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই অর্থের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। আইএমএফও সঠিকভাবে রিজার্ভের হিসাবায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের কম।

বিলাসবহুল হোটেল বাণিজ্যে প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন

২ ডিসেম্বর ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

প্রথাগত ভূমিকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগ ও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)।

সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে পাঁচ তারকা মানের হোটেল স্থাপনের জন্য সদস্যদের কাছে শেয়ার বিক্রি শুরু করেছে সংগঠনটি।

এছাড়া সংগঠনটির মালিকানায় খুলনায় একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ প্রায় শেষের পথে।

দেশের প্রতিটি জেলায় ডরমিটরি, অ্যাডমিন সেন্টার, রিসর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএএসএ। সংগঠনের সদস্যদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত ২৯ অক্টোবর বিএএসএ সভাপতি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তফা কামাল সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে যে হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার শেয়ার বিক্রির অনুরোধ করেছেন।

ওই চিঠির পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা তাদের আওতাধীন দপ্তরের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের শেয়ার কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওই চিঠিতে বিএএসএ সভাপতি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ১ হাজার একর জমি নিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করছে।

এ পার্কে বেজা বিএএসএকে ১০ একর জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে, যেখানে একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পটির বেশ কিছু শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থায়ন সংগ্রহের জন্য আরও ৩ হাজার শেয়ার বিক্রি করা প্রয়োজন। প্রতিটি শেয়ারের দাম ৫০ হাজার টাকা। বিএএসএর একজন সদস্য কমপক্ষে তিনটি এবং সর্বোচ্চ ২০টি শেয়ার নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।

বিদেশী ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে

ডিসেম্বর ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা কম থাকলেও আন্তর্জাতিক দায়দেনা পরিশোধে বেশ স্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ। যথাসময়ে বিদেশী ঋণ ও ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধ নিয়েও বেশ সুনামও অর্জন হয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রিজার্ভ কমে আসার পাশাপাশি দুর্বল হয়েছে বিদেশী ঋণ পরিশোধের সামর্থ্যও। ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে বিদেশী ঋণের প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিশোধের সক্ষমতা ছিল বাংলাদেশের। এখন এ সক্ষমতা নেমে এসেছে এক-চতুর্থাংশেরও নিচে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিদেশী ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১১৭ কোটি বা ৪১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এক্ষেত্রে বিদেশী ঋণের তুলনায় রিজার্ভের অনুপাত ছিল ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের রিজার্ভ দিয়েই ওই সময় বিদেশী ঋণের ৭৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব ছিল। এর পর থেকে রিজার্ভ বাড়লেও বিদেশী ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ক্রমাগত দুর্বল হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসে বিদেশী ঋণ ও রিজার্ভের অনুপাত মাত্র ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গত অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের হাতে যে রিজার্ভ ছিল তা দিয়ে বিদেশী ঋণের মাত্র ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ পরিশোধ সম্ভব হতো।

গত অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিদেশী ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশের গ্রস রিজার্ভ মাত্র ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এ পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরেই বাংলাদেশের বিদেশী ঋণের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও এ সময়ে দেশের রিজার্ভ অস্বাভাবিক ক্ষয় হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, গত ২৯ নভেম্বর দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল মাত্র ২৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) রিজার্ভ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভ ছিল ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই ধার ৫৩ হাজার কোটি

০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে কমেছে মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতা। আস্থাহীনতার কারণে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অনেকে রাখছেন হাতে। আবার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির বিপরীতে বাজারের টাকা উঠে আসছে। সব মিলিয়ে চরম তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংক খাত। ধারদেনা করে দৈনন্দিন খরচ মেটাচ্ছে অনেক ব্যাংক। গত সোমবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তঃব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই ধার ৫৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা। এর আগে কখনও এত ধার নেওয়ার নজির নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি ব্যাংকের কারণে পুরো ব্যাংক খাতের এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। সাধারণত বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বাড়লে তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংক খাত। এখন তেমন বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের আশপাশেই রয়েছে। এরপরও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ বিভিন্ন জালিয়াতি ও আস্থাহীনতা। আস্থা না থাকায় অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিজের কাছে রেখে নিশ্চিন্ত থাকছেন কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহক। অনেকে ব্যাংকে টাকা না রেখে ডলার কিনে ঘরে রাখছেন। মানুষের সঞ্চয় ক্ষমতাও কমেছে। আবার দীর্ঘদিন চলমান ডলার সংকট মেটাতে গিয়ে রিজার্ভ থেকে বিক্রি অব্যাহত আছে। এই অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৫৯০ কোটি ডলার বিক্রির বিপরীতে উঠে এসেছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা।

পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সৌদি প্রতিষ্ঠান

০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা করবে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আরএসজিটিআইর মধ্যে একটি কনসেশন চুক্তি সই হয়েছে। ২২ বছরের জন্য এ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি প্রতিষ্ঠানটি।

১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ টার্মিনালের মাধ্যমে টুল পোর্ট থেকে ল্যান্ড লর্ড মডেলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা। টুল পোর্ট পদ্ধতিতে বন্দর পরিচালনার যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সরকার। আর ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে সরকার কেবল প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করে। বাকি সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বেসরকারি খাত।

৫৮৪ মিটার লম্বা পিসিটি টার্মিনালের তিনটি জেটিতে একসঙ্গে তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ভেড়ানো যাবে। তেল খালাসের জন্য রয়েছে ২০৪ মিটার লম্বা আরেকটি ডলফিন জেটি। এ টার্মিনাল বছরে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের প্রায় পাঁচ লাখ কন্টেইনার বাড়তি হ্যান্ডেল করতে পারবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে। কমবে জাহাজের চাপও।

টাকা, ডলারের তীব্র সংকট, সার আমদানি বাধাগ্রস্ত

০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

সারের ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে গত জুন পর্যন্ত বকেয়া ৮ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। যথাসময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সরকারি চার ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো ইউরিয়া সার আমদানির নতুন আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খুলতে চাচ্ছে না।

এলসি খুললেও ডলার সংকটের কারণে বিদেশে যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না। এতে করে এসব ব্যাংকের এলসির বিপরীতে বিদেশি ব্যাংক নিশ্চয়তা দিতে (অ্যাড কনফারমেশন) রাজি হচ্ছে না। সব মিলিয়ে আমদানির কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে, যা আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের সার সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। 

এ পরিস্থিতি নিরসন অতি জরুরি উল্লেখ করে সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছেন বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে।

বাজেট কমছে ৫১ হাজার কোটি টাকা

০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

নির্বাচনের বছরেও দেশে মূল্যস্ফীতি কমছেই না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার ধারেকাছেও নেই মূল্যস্ফীতি। অর্থবছর শুরুর মাস জুলাইয়ের পর থেকেই মূল্যস্ফীতি রয়েছে ৯ শতাংশের ঘরে।

অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হারও অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার রাজস্ব আদায়ের চিত্রও নিম্নমুখী, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রকৃত আদায়ে অনেক ঘাটতি। ভালো আসছে না প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয়। ডলার–সংকট তো আছেই।

সামষ্টিক অর্থনীতির এসব অবস্থা বিবেচনায় রেখে চলতি অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রাগুলোকে বাস্তবভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী এই অর্থবছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৭ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সংশোধিত বাজেটের আকার ৫১ হাজার কোটি টাকা কমছে। আর মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর: ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় কেজিতে পেঁয়াজের দাম বাড়ল ১০০ টাকা

ডিসেম্বর ৯, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়িয়েছে ভারত।

গতকাল শুক্রবার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পর বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে দিনাজপুরে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা আসে কাল।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে একথা জানানো হয়।

গতকাল শুক্রবার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিনাজপুরের বাজারগুলোতে পেঁয়াজ বিক্রির ধুম পরে যায়। গভীর রাত পর্যন্তু বাজারগুলোতে চলে পেঁয়াজের বেচাকেনা।

আজ শনিবার দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, গুদড়িবাজার ও রেলবাজারহাট, হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে মানুষের ভিড় দেখা যায়।

গতকাল শুক্রবার বাজার গুলোতে যে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি, তা আজ শনিবার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা প্রতি কেজি।

ব্যাংক ও বিদ্যুৎ কোম্পানি উভয়ই ঝুঁকিতে

ডিসেম্বর ১১, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে কেনা বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত আট মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ এ বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বিল না পাওয়ায় এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোও এখন কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিনিয়োগ করা ব্যাংকগুলোর ঋণের কিস্তিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এতে দেশের অনেক বিদ্যুৎ কোম্পানিই খেলাপির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বিপিডিবির কাছে আট মাসের বকেয়া পাওনা রয়েছে। গত এপ্রিল থেকে এ বকেয়া পাওনা পরিশোধ হয়নি। প্রতি মাসে যে পরিমাণ বিপিডিবিতে জমা পড়ছে তার ২৫-৩০ শতাংশ বিল পাচ্ছে বলে দাবি আইপিপি উদ্যোক্তাদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে প্রকৃত রফতানি ইপিবির চেয়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার কম

বদরুল আলম

ডিসেম্বর ১১, ২০২৩, বণিক বার্তা

বাংলাদেশ থেকে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে ৫ হাজার ৫৫৫ কোটি বা সাড়ে ৫৫ বিলিয়নের বেশি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গত আগস্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গতকাল ‘অ্যানুয়াল এক্সপোর্ট রিসিপ্ট অব গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ২০২২-২৩’ শীর্ষক হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে গত অর্থবছরে পণ্য রফতানি বাবদ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাওয়া অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৭ কোটি ২০ লাখ বা সাড়ে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। সে অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধীনস্থ সংস্থা ইপিবির চেয়ে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার কম। এ হিসাবে ইপিবি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানের পার্থক্য ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

জাতীয় রফতানি আয়ের তথ্য নিয়ে সরকারেরই দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে গরমিল বা ভিন্নতা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জাতীয় হিসাব-নিকাশ থেকে শুরু করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের প্রয়োজনের কারণেই ভিন্নতা দূর করা জরুরি। পাশাপাশি বাণিজ্যে সুশাসন নিশ্চিতের জন্যও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং চর্চায় বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঘটনা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশেও এ ধরনের চর্চার প্রতিফলন সরকারি সংস্থার মাধ্যমেই প্রমাণিত। তাছাড়া বর্তমান ডলার সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে সরকারি সংস্থার পরিসংখ্যানগত পার্থক্য দূর হওয়া প্রয়োজন।

গ্রামে ব্যাংকে আমানত কমেছে ২৭.৫৬%

ডিসেম্বর ১২, ২০২৩, বণিক বার্তা

উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে সঞ্চয় কমেছে মানুষের। পাশাপাশি গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণ কমেছে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। এ দুয়ের প্রভাবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে গ্রামে ব্যাংক আমানত কমেছে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে দেশের গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকগুলোয় জমা আমানত হ্রাস পেয়েছে আগের প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিক শেষে গ্রামে তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোয় জমা আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭০ কোটি ২২ লাখ টাকায়। সে অনুযায়ী, তিন মাসের ব্যবধানে গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকগুলোয় জমা আমানতের পরিমাণ কমেছে ৯৮ হাজার ৮৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

মাত্র তিন মাসে গ্রামে ব্যাংক আমানত প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি কমে যাওয়ার বিষয়টি এখন ভাবিয়ে তুলছে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের। তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। দেশে আহরিত রেমিট্যান্সের মূল গন্তব্যস্থল হলো গ্রামাঞ্চল। এ রেমিট্যান্সের বড় একটি অংশ ব্যাংকে জমা হয় আমানত হিসেবে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি গ্রামের ব্যাংকগুলোয়ও আমানত ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৯০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। ২০২২ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৬৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত প্রান্তিকে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে সাড়ে ১৩ শতাংশের কিছু বেশি। 

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা দেখছে আইএমএফ

১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা দেখছে। সংস্থাটি মনে করছে, আগামীতে মূল্যস্ফীতির হার বর্তমানের তুলনায় কমবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে। তবে নিকট মেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুরুদ্ধারে মুদ্রানীতির আরও সংকোচন করতে হবে। টাকার সঙ্গে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় আরও নমনীয় হতে হবে। থাকতে হবে নিরপেক্ষ রাজস্বনীতি। অবশ্য অর্থনীতিতে উচ্চ অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি বজায় থাকবে বলে মন্তব্য করেছে আইএমএফ।

আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদের সভায় ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদনের পর গত মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ নিয়ে এমন মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ছাড়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় আইএমএফের পর্ষদ। আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে ছাড় হয়ে এ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যুক্ত হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার মতো।

আইএমএফ মনে করছে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২ শতাংশে নামবে। বর্তমানে যা রয়েছে ৯ শতাংশের ওপরে। সংস্থাটির মতে, মুদ্রানীতির আরও সংকোচনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতির প্রভাব জোরদার হবে। মুদ্রার একক বিনিময় হার গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে আইএমএফ ধাপে ধাপে আরও নমনীয় হওয়ার ওপর জোর দিয়েছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, বেসরকারি খাতে চাহিদা কম থাকলেও তুলনামূলক ভালো রপ্তানির ওপর ভর করে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানো এবং বিনিয়োগ জরুরি। করনীতি সংশোধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কর-রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে সংস্থাটি। ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ, ব্যয় করার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়েছে তারা।

বাংলাদেশের রেটিং পূর্বাভাস নেতিবাচক থাকছে: ফিচ

১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বৈশ্বিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা ফিচ রেটিং জানিয়েছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশের পূর্বাভাস স্থিতিশীল রয়েছে। শুধু ‘নেতিবাচক’ আছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের রেটিং। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (এপিএসি) সার্বভৌম আউটলুক ২০২৪-এ এমন তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফিচ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশের রেটিং করে থাকে, সেগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেক দেশে আগামী বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে দেশগুলোতে নীতি বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে বর্তমানের মতো আগামী বছরেও ভূরাজনীতির প্রভাব কাজ করবে। এ ছাড়া সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী বছরেও বেশ চ্যালেঞ্জিং থাকবে বলে জানিয়েছে ফিচ।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস কমিয়ে নেতিবাচক করেছিল ফিচ রেটিং। ওই পূর্বাভাসে সংস্থাটি দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক (বিবি মাইনাস) করেছে। আইডিআর স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক হওয়ার অর্থ হচ্ছে, বাংলাদেশের খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি, তবে বাংলাদেশ এখনো তার ঋণের দায় মেটাতে বা বাধ্যবাধকতা পূরণে সক্ষম।

ফিচের সেপ্টেম্বরের রেটিং পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতির বহিস্থ খাতের অবনতির ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, যেমন মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তন, ঋণদাতাদের সহায়তা নেওয়া—এসব করেও বিদেশি মুদ্রার মজুতের পতন ঠেকানো যায়নি বা বাজারে ডলারের সংকট মেটানো যায়নি। বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বৈশ্বিক ঋণমান নির্ণয়কারী আরও দুই বড় প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এবং মুডিস ইনভেস্টর সার্ভিসও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। এসঅ্যান্ডপি, মুডিস ও ফিচ রেটিং—এই তিন প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে ‘বিগ-থ্রি’ বলা হয়। ঋণমান নির্ণয়ে এই তিন সংস্থাকে বিশ্বে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বলে মনে করা হয়।

রাঘববোয়ালের টিকিটিও ছুঁতে পারছে না প্রশাসন

১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

ভারত থেকে আসা প্রতি কেজি পেঁয়াজ পরিবহন খরচসহ আমদানি খরচ পড়ে ৯০ টাকা। তবে পাশের দেশের রপ্তানি বন্ধের খবরে সেই পেঁয়াজ কয়েক দিন বেচাকেনা হয়েছে সর্বোচ্চ ২২০ টাকা দরে। চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৫৫ টাকা। এই পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে দ্বিগুণের বেশি; ১৩০ টাকায়। কৃত্রিম সংকটের জাল বিছিয়ে পাঁচ দিনে ক্রেতার পকেট থেকে শতকোটি টাকা বের করে নিয়েছে ৫০ থেকে ৬০ আমদানিকারকের সিন্ডিকেট। চট্টগ্রাম, বেনাপোল, হিলি, সোনামসজিদ, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা পেঁয়াজ মজুত রেখে দাম বাড়িয়েছে এ চক্র। এমন কারসাজিতে সায় দিয়েছে কমিশন এজেন্টরাও। বারবার একই চক্র মিলেমিশে এমন অপকর্ম করলেও তারা সবসময় থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভারতের রপ্তানি বন্ধের পর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও স্বীকার করেছিলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ে কেউ কেউ কারসাজি করছে। এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে বিভিন্ন সংস্থা। এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমও বলেছিলেন, দেশে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়ার কারণ ছিল না। অভিযানের পর আবার দাম কমতে শুরু করেছে। তার মানে কোথাও কারসাজি হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় উৎসের বিদেশি ঋণ দ্রুত বাড়ছে

১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

বহুপক্ষীয় উৎসের তুলনায় দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। চীন, জাপান, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ গত বছর শেষে দাঁড়িয়েছে মোট ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। গত এক দশকে দ্বিপক্ষীয় উৎসের ঋণ বেড়ে ছয় গুণ হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বহুপক্ষীয় উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও কম। এ সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বেসরকারি উৎসের ঋণ বেড়ে চার গুণ হয়েছে।

মোট দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে ২০২২ সাল শেষে বহুপক্ষীয় ঋণদাতার অংশ ছিল ৫৩ শতাংশ। ২০১২ সালে যা ছিল ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় উৎসের অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। ২০১২ সালে এ উৎসের অংশ ছিল ১৫ শতাংশের মতো। বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ চলতি বছর কম আসার প্রবণতা থাকলেও এর আগে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ঋণের ২০ শতাংশের বেশি এখন স্বল্পমেয়াদি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ কম সুদের নমনীয় ঋণ থেকে উচ্চ সুদের এবং কম মেয়াদকালের ঋণের দিকে যাচ্ছে, যা আগামীতে পরিশোধের চাপ আরও বাড়াবে।

বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ঋণ প্রতিবেদন-২০২৩-এ বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের এসব পরিসংখ্যান রয়েছে।

চলতি হিসাবে টাকা নেই পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের

১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামী ব্যাংক বছরখানেক ধরে বিধিবদ্ধ তারল্য রাখতে পারছে না। ব্যাংকগুলো হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এসব ব্যাংকের চলতি হিসাব ঋণাত্মক হলেও লেনদেন হচ্ছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ রাখতে না পারলে লেনদেন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে সম্প্রতি ‘বিএসিএইচ সেটেলমেন্ট জটিলতা প্রসঙ্গে’ শিরোনামে এ চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মতিঝিল অফিসের ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট বিভাগে রক্ষিত আপনাদের চলতি হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লিয়ারিং পেমেন্ট সিস্টেম (আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি) সম্পন্ন হয়ে থাকে। যেমন– বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক প্রসেসিং সিস্টেম (বিএসিপিএস), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন), ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমে। তবে আপনাদের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে চলতি হিসাবের স্থিতি ঋণাত্মক, যা স্বাভাবিক ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি বারবার আপনাদের গোচরীভূত করা হলেও এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় পত্র পাওয়ার ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আবশ্যিকভাবে আপনাদের চলতি হিসাবের ঋণাত্মক স্থিতি সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হলো।’

অর্থ ঘাটতি, তবুও দামি এয়ারবাস কিনতে রাজি বিমান

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

৮ হাজার কোটি টাকায় এয়ারবাসের দুটি উড়োজাহাজ কিনতে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কিন্তু, এই অর্থ জোগানের বিষয়ে কোনো পূর্ব পরিকল্পনা না থাকায়, এয়ারবাস কিনতে বিমান এখন ৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণের উপায় খুঁজছে।

কূটনৈতিক চাপে এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হওয়ার সময়, উড়োজাহাজগুলোকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, সংস্থাটিকে তা নির্ধারণ করতে বলে বিমান বোর্ড।

অথচ, আরও কম খরচে বোয়িং কেনার প্রস্তাব থাকলেও, সেটি মূল্যায়ন পর্যন্ত করা হয়নি।

গত ১৫ নভেম্বর বিমানের বোর্ড সভায় এয়ারবাস নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বোর্ড সদস্য রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হবে। তবে আমরা কীভাবে পুনর্মূল্যায়ন করব, তার ওপর পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে।’

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বিমানের বাণিজ্যিক স্বার্থ, এ দুটি বিষয় সামলানোর নীতিতে বিমান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করার আশা করেছিলেন। আবার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সফর করেন, তখনও তারা এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য বলেছিলেন। ইইউর অন্যান্য দেশগুলোও এটি দেখতে আগ্রহী। রুশনারা আলীও (ব্রিটিশ পার্লামেন্টারিয়ান) সফর করেছেন।’

ধানের দামে কৃষকের কান্না, ফড়িয়ার পোয়াবারো

১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

নিজের এক বিঘা জমিতে ধান চাষে এবার কৃষকের খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। আর যারা বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেন, তাদের অতিরিক্ত ৭ হাজার টাকা ধরলে খরচ দাঁড়ায় ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অন্যবারের চেয়ে উত্তরাঞ্চলে এবার বিঘাপ্রতি ধানের ফলন নেমে আসে প্রায় অর্ধেকে। অর্থাৎ, আগে যেখানে প্রতি বিঘায় ২০ মণের ওপর ধান মিলত, সেখানে এবার এলাকাভেদে ফলন মিলছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১২ মণ। এ অঞ্চলের হাটবাজারে গত রোববার ধানের পাইকারি দর ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

কৃষকরা বলছেন, এই দামে ধান বিক্রি করে তাদের লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠবে না। অন্যদিকে ধান ঘরে ফেলে রাখারও সুযোগ নেই। তাই ফড়িয়া ব্যবসায়ীর কাছে বাজারদরের চেয়ে কমে সব ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে এবার আমন ধান চাষ করেন কৃষকরা। তবে ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাননি তারা। সেই সঙ্গে হাটবাজারে ধানের দামও নিম্নমুখী। উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে এখন দিশেহারা কৃষক।

উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি: গবেষণা

১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ইউরোপের উন্নত দেশগুলোয় দারুণ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা আছে বলে বিশ্বাস করেন তাঁরা। উন্নত জীবনযাপন, ভালো আয় ও উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের সুবিধার হাতছানি আছে। এসব কারণেই অনিশ্চয়তা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে চান তরুণেরা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সমুদ্রের ওপারে স্বপ্ন: ইউরোপে অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসনের বাস্তবতা উন্মোচন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপন করা নিবন্ধে এসব তথ্য জানানো হয়। আজ রোববার সকালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে এ সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (সিএমএস)। এতে বলা হয়, অন্তত ২২ শতাংশের জন্য উন্নত জীবনের আশাই অভিবাসনের ক্ষেত্রে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

মানুষের মাসে গড় আয় এখন ৭৬১৪ টাকা

১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ৭ হাজার ৬১৪ টাকা। ছয় বছরের ব্যবধানে এই আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৬ সালে একজন মানুষের গড় আয় ছিল ৩ হাজার ৯৪০ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২ সালের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। আজ রোববার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের আয় অনেক বেশি। শহরের একজন মানুষের মাসিক গড় আয় ১০ হাজার ৯৫১ টাকা। আর গ্রামের মানুষের আয় অর্ধেকের কাছাকাছি, ৬ হাজার ৯১ টাকা।

১৪ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩৭৫০৮ কোটি টাকা

১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

ধাপে ধাপে প্রভিশন সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ছাড়ের পরও মূলধন ঘাটতি থেকে বের হতে পারছে না কিছু ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বর শেষে ১৪ ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। এ তালিকায় সরকারি মালিকানার ৬টি, বেসরকারি ৬টি এবং বিদেশি ব্যাংক রয়েছে দুটি। তিন মাস আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালীসহ ১৫টি ব্যাংকের ঘাটতি ছিল ৩৩ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংক ১১ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে সেপ্টেম্বর শেষে ৫৫ কোটি টাকার উদ্বৃত্ত হয়েছে। বাকি ব্যাংকগুলোর ঘাটতি বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অনিয়মের কারণে আলোচিত ব্যাংকই ঘুরেফিরে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এসব ব্যাংক উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণের কারণে প্রয়োজনীয় মুনাফা করতে পারছে না। আবার উদ্যোক্তারাও নতুন করে মূলধন জোগান দিচ্ছে না। অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আলোকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতি পূরণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা নিয়েছে। অনেক ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বয়ক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্তের আলোকে নতুন করে পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।

সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা ও ভর্তুকির অর্থ পাচ্ছে না ব্যাংক

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা বাবদ সরকারের কাছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা পাবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসি। অন্যান্য খাতের প্রণোদনা বা ভর্তুকি হিসেবেও প্রায় ৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ব্যাংকটির। রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ব্যাংকটির পাওনা অর্থের পরিমাণও প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা পাবে এমটিবি।

এমটিবির চেয়েও সরকারের কাছে বেশি অর্থ পাবে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির শুধু সার আমদানির ভর্তুকি বাবদ সরকারের কাছে ৪৩৭ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। রেমিট্যান্সের নগদ প্রণোদনা বাবদও প্রায় ৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে ঢাকা ব্যাংকের। বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের সুদ ভর্তুকি বাবদ আরো প্রায় ২০ কোটি টাকা পাবে ব্যাংকটি।

শুধু বেসরকারি এ দুটি ব্যাংকই নয়, বরং সরকারের কাছে অর্থপ্রাপ্তির এ তালিকায় দেশের সবক’টি ব্যাংকেরই নাম রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের বিপরীতে সরকারের কাছে প্রাপ্য প্রণোদনার অর্থ প্রায় ছয় মাসের বকেয়া পড়েছে। ব্যাংকগুলোর সার আমদানির ভর্তুকিও বকেয়া পড়েছে প্রায় দুই বছরের। এছাড়া সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ও পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ভর্তুকিও যথাসময়ে পরিশোধ করা হচ্ছে না। দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে সরকারের কেনা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া পড়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বকেয়া এ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলে সে অর্থ ব্যাংকগুলোয় জমা পড়ত। এ অর্থ থেকে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি সমন্বয় করা সম্ভব হতো।

একটি সংসার চালাতে কোথায় কত খরচ হয়

১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বিবিএস বলছে, বাংলাদেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। এর বিপরীতে খরচ হয় ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। বিবিএস জানাচ্ছে, মোটাদাগে সব মিলিয়ে ১৩টি খাতে সংসারের জন্য অর্থ খরচ করতে হয়, তবে এটি গড় হিসাব। স্বাভাবিকভাবেই ধনী পরিবারে মাসিক খরচ তুলনামূলক বেশি, গরিব পরিবারে কম।

খানার আয় ও ব্যয় জরিপের জন্য সারা দেশের ১৪ হাজার ৪০০ পরিবারের সারা বছরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই সব পরিবারের সংসার চালাতে প্রতি মাসে গড়ে কত টাকা খরচ করতে হয়—জরিপে সেই চিত্র উঠে এসেছে। সবশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, সারা দেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার আছে।

কোন খাতে কত খরচ

জরিপে বলা হয়েছে, এখন একটি পরিবারের ৪২ শতাংশ খরচ হয় খাবার কেনায়। চাল, ডাল, তেল, মরিচ, পেঁয়াজ, মাছ–মাংস, ডিম–দুধ ইত্যাদি কিনতে এই খরচ হয়। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১৩ হাজার ১৯৩ টাকা। এটি সংসারের সবচেয়ে বড় খরচের খাত।

সংসারের দ্বিতীয় বৃহত্তম খরচের খাত হলো—বাসাভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিল ইত্যাদি। এই বিল খাতে একটি পরিবারের মাসে খরচ হয় ৪ হাজার ৪১৮ টাকা। এটি মোট খরচের ১৪ শতাংশ। তবে যেসব পরিবারের নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে, তাদের বাসাভাড়ার খরচ নেই। গ্রামে বাসাভাড়ার প্রচলনও নেই। তাই এই খাতে খরচ আপাতত দৃষ্টিতে কম মনে হয়।

স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা খাতই হলো একটি পরিবারের তৃতীয় বৃহত্তম খরচের জায়গা। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত চিকিৎসায় প্রতিমাসে একটি পরিবারকে গড়ে ২ হাজার ১১৫ টাকা খরচ করতে হয়। এটি মোট খরচের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতি মাসে কাপড়চোপড় ও জুতা কেনায় খরচ হয় ওই পরিবারের মোট ব্যয়ের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২ হাজার ৬৩ টাকা। পাঁচ নম্বরে আছে যাতায়াত খরচ। এ খাতে একটি পরিবারকে মাসে গড়ে ১ হাজার ৬৮২ টাকা খরচ করতে হয়।

১৩টি খাতের মধ্যে শিক্ষায় খরচের অবস্থান ১০ নম্বরে। এ খাতে একটি পরিবারের মাসিক খরচ মাত্র ৫৭৩ টাকা। অন্যদিকে মুঠোফোন, ইন্টারনেট, চিঠিপত্র আদান–প্রদানসহ যোগাযোগ খাতে একটি পরিবারের গড় খরচ ৮৬০ টাকা। নাটক, সিনেমা দেখা, ডিশলাইনের বিল, ঘুরতে যাওয়া—এসব খরচ ৪৩১ টাকা। রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পেছনে খরচ গড়ে ৬২ টাকা। বাড়িঘর রক্ষণাবেক্ষণে গড় খরচের পরিমাণ ১ হাজার ৬৩৮ টাকা। নানা ধরনের পণ্য ও সেবা কিনতে মাসে খরচ করতে হয় ১ হাজার ৫০৯ টাকা। অন্যান্য খরচ খাতে আছে ২ হাজার ১৪০ টাকা।

দেশে উৎপাদন হলেও পাঁচ পণ্যের দাম বেড়েছে দুই-তিন গুণ

ডিসেম্বর ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি বছরই বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট ও টাকার বিপরীতে মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিদেশী খাদ্যপণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ, রসুন, আলু, বেগুন ও ইলিশেও। এক বছরের ব্যবধানে এ পাঁচ পণ্যের দাম বেড়েছে দুই-তিন গুণ।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে দেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ইলিশ ও বেগুন। এর মধ্যে পেঁয়াজ ও রসুনের একটি অংশ কেবল আমদানি করতে হয়। বাকি দুই পণ্যের প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকা, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে এসব পণ্যের দাম অতিরিক্ত হারে বেড়েছে।

রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, টাউন হল বাজার ও নিউমার্কেট বনলতা কাঁচাবাজারে গতকাল প্রতি কেজি নতুন ও পুরনো দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০-১৬০ টাকায়। দেশী রসুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২৪০-২৮০ টাকা, নতুন ও পুরনো আলু প্রতি কেজি ৫৫-৭০ এবং বেগুন ৬০-৮০ টাকা। আর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ছিল মানভেদে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। যদিও গত বছরের এ সময়ে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা, দেশী রসুন ৮০-১০০, নতুন ও পুরনো আলু ২০-৩০, বেগুন ২০-৫০ এবং প্রতি কেজি ইলিশ ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে এক বছরে দেশী পেঁয়াজের দাম ২০০, দেশী রসুন ১৮৮, আলু ১৫০, বেগুন ১০০ ও ইলিশ মাছের দাম বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।

আইএমএফ ও এডিবির ঋণে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ডিসেম্বর ২১, ২০২৩, বণিক বার্তা

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেড় বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে পাওয়া অর্থের সুবাদেই রিজার্ভ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যানুসারে দেশের রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় এডিবিও ৪০ কোটি ডলার দিয়েছে। এর সুবাদেই মূলত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে।

খাদ্য আমদানিতে বিশ্বে তৃতীয় বাংলাদেশ: এফএও

২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্ববাজার থেকে প্রায় সোয়া কোটি টন খাদ্যপণ্য আমদানি করেছে। এতে বিশ্বের খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক বার্ষিক পরিসংখ্যান পুস্তিকা-২০২৩–এ এসব তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। পুস্তিকাটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

এফএওর হিসাবে ২০২১ সালে বাংলাদেশ ৯ কোটি ৩৩ লাখ টনের মতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করেছে। একই বছর বিশ্ববাজার থেকে প্রায় সোয়া কোটি টন খাদ্যপণ্য আমদানি করেছে। এখনো খাদ্য আমদানি ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে গম, ভোজ্যতেল ও গুঁড়া দুধ।

টেলিটকে বিনিয়োগে আগ্রহ বসুন্ধরা গ্রুপের

২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রাষ্ট্রমালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকে বিনিয়োগ করতে চায় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। তারা মনে করে, বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তিন বছরের মধ্যে টেলিটককে দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কোম্পানিতে উন্নীত করা সম্ভব।

বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা টেলিকমিউনিকেশন তিন মাস আগে (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠায়। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক, গ্রাহকসেবা এবং কাঠামোগত উন্নয়ন—এই তিন খাতে অর্থ বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এটিকে তারা ‘কৌশলগত বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এদিকে বসুন্ধরার প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই শেষে টেলিটক জানিয়েছে, প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গ নয়। কোম্পানিটি টেলিটকে কত টাকা বিনিয়োগ করবে, টেলিটকের শেয়ার কিনবে, নাকি লভ্যাংশ ভাগাভাগি হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি প্রস্তাবে। সে জন্য বিনিয়োগের বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে বসুন্ধরাকে অনুরোধ করেছে টেলিটক।

ডলারের দাম কাগজে–কলমে এক, বাস্তবে আরেক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের শীর্ষস্থানীয় এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গত সপ্তাহে একটি ব্যাংকে ৪ লাখ মার্কিন ডলারের আমদানি দায় পরিশোধ করে। প্রতি ডলারের জন্য নির্ধারিত দাম ১১০ টাকা হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকে জমা দিয়েছে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তবে এর বাইরে প্রতি ডলারে আরও ১৩ টাকা হিসাবে পে-অর্ডারের মাধ্যমে দিতে হয়েছে ৫২ লাখ টাকা। তাতে ওই আমদানিকারকের ৪ লাখ ডলারের দায় পরিশোধে প্রতি ডলারের দাম পড়েছে ১২৩ টাকা। এভাবেই বাংলাদেশের সব ব্যাংকের নথিপত্রে এখন আমদানিতে ডলারের সর্বোচ্চ দর ১১০ টাকা। তবে বাস্তবে ডলারের দাম আরেক।

একই অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেশের বেশির ভাগ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে। অবশ্য প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে কিছুটা কম দামে ডলার কিনতে পারলেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের আমদানি দায় পরিশোধে ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। একইভাবে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে বড় ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ব্যাংকের কাছ থেকে সুবিধা পেলেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেককেই ডলার-সংকটের কারণে ঋণপত্র খুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে যত শক্তিশালী, তার কাছে ডলারের দাম তত কম, যারা দুর্বল তাদের কাছে তত বেশি। এটাই এখন নীতি হয়ে গেছে। আমদানিতে ডলারের দাম ১১৫ থেকে ১২৮ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। আমাদের রপ্তানি আয়ের ডলার অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে, এরপর আমাদেরই তা আবার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ডলার নিয়ে ব্যাংকগুলো সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এর ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ওপর যে ক্ষত তৈরি হচ্ছে, তার দায় আমরা নেব না।’

একই গতিপথে চার বড় প্রকল্প, সমন্বয়হীনতায় কাজে ধীরগতি

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

ঢাকার আশুলিয়া থেকে বিমানবন্দর হয়ে কমলাপুর রুটে বর্তমানে একই সঙ্গে চলমান রয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের চারটি বড় প্রকল্প। এর মধ্যে আশুলিয়া-আবদুল্লাহপুর-বিমানবন্দর রুটে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। গাজীপুর-আবদুল্লাহপুর-বিমানবন্দরের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। বিমানবন্দর-তেজগাঁও-কমলাপুর রুটে চলছে ‘ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র কাজ। আর টঙ্গী থেকে কমলাপুরের মধ্যে বিদ্যমান রেলপথের সমান্তরালে নির্মাণ করা হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ। আশুলিয়া-বিমানবন্দর-কমলাপুরের মধ্যে একসঙ্গে চার প্রকল্প চলমান থাকায় সবক’টির নির্মাণকাজে তৈরি হয়েছে ধীরগতি। এজন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন অবকাঠামো বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি একই স্থানে প্রত্যেক প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদা খুঁটি তৈরি করে বিদ্যমান সড়কের সক্ষমতাও কমিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে যাত্রাবাড়ী-সংলগ্ন চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ‌ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাল ধরা হয়েছিল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। ধীরগতির কারণে কয়েক দফা বাড়িয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। যদিও এ বর্ধিত সময়েও কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ঢাকা-টঙ্গীর মধ্যে বিদ্যমান রেলপথটির সমান্তরালে তৃতীয় ও চতুর্থ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়ে ২০১৫ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ধীরগতির কারণে এ প্রকল্পের মেয়াদও ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

একইভাবে ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া বিআরটি প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আর ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ।

একই করিডোরে একই সময়ে চার প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে সবচেয়ে বেশি জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের কাজ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের জন্য কয়েক দফায় পিছিয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত দুই পাশে মোট ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথসংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজে। এসব জায়গা সংযোগ রাস্তা হিসেবে মালামাল, নির্মাণ উপকরণ ও নির্মাণকাজের যান চলাচলের জন্য ব্যবহার করছে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ। ফলে এখন পর্যন্ত বনানী থেকে টঙ্গী অংশে রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে পারেনি রেলওয়ে।

আলুর দামে ‘রেকর্ড’

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাজারে বেড়েছে আলুর দামও। গত সপ্তাহে খুচরায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুরোনো আলু খুচরায় ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারিতে গত সপ্তাহে ৪৭-৪৮ টাকা দরে বিক্রি হলেও সোমবার পুরোনো আলুর পাইকারি দাম ৬৮ টাকা। বেড়েছে নতুন আলুর দামও।

সোমবার কারওয়ান বাজারের একাধিক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, খুচরায় ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি চলছে পুরোনো আলুর।

ডলার সংকট, খেলাপি ঋণ, আর ব্যাংক তছরুপের বছর

২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, মানবজমিন

বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের চাপে ছিল দেশের অর্থনীতি। এর মধ্যে ব্যাংক খাত অন্যতম। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্থিরতায় পার করেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল নিম্নমুখী। ডলার সংকটে ক্রাইসিসে পড়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। হিসাবের গণনায় ছিল সমালোচনা। পরে আইএমএফ’র শর্তে বেরিয়ে আসে রিজার্ভ গণনায় হিসাবের গড়মিল। এর মধ্যেই খোলাবাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে ডলারের দর উঠে ১২৯ টাকায়। খেলাপি ঋণের ভারে বিশৃঙ্খল ছিল আর্থিক খাত। খেলাপি ঋণেও রেকর্ড তৈরি হয়।

চরম তারল্য সংকটে দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে বেশিরভাগই ধারদেনা করে দৈনন্দিন খরচ মেটায়, যা নজিরবিহীন। এর মধ্যে ১৪ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিতে রেকর্ড সৃষ্টি করে। আবার ৫ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন সেবা বন্ধের উপক্রমও হয়েছে। এ ছাড়া আমদানিও ছিল নিয়ন্ত্রিত।

এমন কঠিন সময় দেশের অর্থনীতি আগে কখনো দেখেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের ঝুঁকি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ও তারল্য সংকটে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের ব্যাংকিং খাত। তাই দেশের অর্থনীতির ধারা বজায় রাখতে বিভিন্ন খাতে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণে বাজার থেকে বড় অঙ্কের টাকা উঠে আসছে। সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে, যার কারণে তারল্য সংকট তীব্র হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় এক প্রকার হিমশিম খাচ্ছে বলে জানান তারা। বছর শেষে সবার একটাই প্রত্যাশা, ভীতি, রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব এবং ডলার সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক লেনদেন ফিরে আসুক ব্যাংক খাতে।

ব্যাংকাররা জানান, বছরজুড়েই ছিল অর্থ সংকট। কমতে থাকে রিজার্ভ, উদ্বেগ তৈরি করে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এতকিছুর মধ্যেও কিছুটা আশা জাগায় শ্রীলঙ্কাকে দেয়া ঋণের অর্থ ফেরত পাওয়া। সারা বছরই আলোচনায় ছিল আইএমএফ’র ঋণ। নানান নাটকীয়তার পরে এরই মধ্যে ঋণের দুই কিস্তি দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি এডিবি’র ঋণে কিছুটা বেড়েছে রিজার্ভ। শেষ আলোচনায় আসে টাকার সংকটে পাঁচ শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকের লেনদেন সেবা বন্ধের উপক্রম হওয়ার বিষয়।

ডলার কারসাজি: ব্যাংকগুলোতে ডলার সংকট দীর্ঘদিনের। ডলার বাজারে কারসাজিতে জড়িয়ে পড়ে দেশি-বিদেশি ও রাষ্ট্রায়াত্ত ১০ ব্যাংক। এ ছাড়া নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে ডলার বিক্রি করায় সতি মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত ও ১০টিকে শোকজ করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় একাধিক প্রতিষ্ঠানকে। চালানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। ডলার সংকটের সমাধানে নেয়া হয় নানান পদক্ষেপ, তবে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসেনি।

সর্বোচ্চ দরে ডলার বিক্রির রেকর্ড: ডলারের দর নিয়ে অস্থিরতায় খোলাবাজারে ডলারের দাম ওঠে ১২৭ টাকায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর। ডলারের দাম তিন দফায় কমানো হয়েছে। ফলে এখন ডলার বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১১০ টাকা দামে। মাঝে অস্থিরতায় খোলাবাজারে ডলারের দাম ওঠে ১২৭ টাকায়, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর। তবে এখনো মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডলার সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা করে বিক্রি করার কথা থাকলেও ১২২ টাকার নিচে তাদের কাছে ডলার মিলছে না।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে: চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ৪.৩৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ২.০৩ শতাংশ। রেমিট্যান্সের প্রবাহ আগামীতে কমে যেতে পারে। এদিকে বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি বছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার হতে পারে।

তারল্য সংকট: দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ধারের পরিমাণও বাড়ছে। সংকটে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক রেকর্ড ২৪ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা স্বল্পমেয়াদি ধার নিয়েছে। এর আগে গত ২৫শে অক্টোবর সর্বোচ্চ ২৪ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা ধার নেয়ার রেকর্ড ছিল। সবশেষ ধারের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণে রেকর্ড: রাজনৈতিক চাপে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণে হয় নতুন রেকর্ড। জুন প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১০.১১ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

সুদ হার: বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নেয়ার পাশাপাশি আন্তঃব্যাংক কলমানিতে এক ব্যাংক আরেক ব্যাংক থেকে ধার করে চলছে। কলমানির সুদের হার ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সম্প্রতি কলমানিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা, যার গড় সুদহার ছিল ৯.১৪ শতাংশ। এ আগে ধারের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, যার গড় সুদহার ৯.১৩ শতাংশ।

রিজার্ভের গণনা নিয়ে লুকোচুরি: আইএমএফ’র গণনা পদ্ধতিতে দেশের প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ১৩শে জুলাই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাবে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের তারতম্য ছিল। ১৩ই জুলাই আইএমএফ’র গণনা পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ওইদিন রিজার্ভ ছিল ২৯.৯৭ বিলিয়ন ডলার।

ঋণ নিয়ে আইএমএফ’র শর্ত: বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ দিতে নানান শর্ত বেঁধে দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। শর্ত পূরণের আলোকেই ২রা ফেব্রুয়ারি আসে ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার। এরপর দ্বিতীয় কিস্তির ঋণ পেতে আরও শর্ত জুড়ে দেয় সংস্থাটি। একের পর এক পরিদর্শন, পরামর্শ টিম পাঠানো হয়। ঋণ না পাওয়ার উপক্রমও তৈরি হয়। তবে রিজার্ভ ও রাজস্ব খাতের শর্ত ছাড়া বাকি সব শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশ। এরপর নানান নাটকীয়তা শেষে চলতি ডিসেম্বরে ঋণের দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আসে দেশে।

রিজার্ভ সংকট: আইএমএফ’র ঋণ বাবদ ৬৯ কোটি ডলারসহ ৩টি সংস্থার ১৩১ কোটি ডলার যোগ হওয়ায় সামান্য বেড়েছে দেশের রিজার্ভ। তবে জানুয়ারিতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দেনা শোধ করলে রিজার্ভ আবার কবে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫.৮২ বিলিয়ন ডলারে। তবে খরচ করার মতো রিজার্ভ (বিপিএম৬) আছে ২০.৪১ বিলিয়ন ডলার।

আর্থিক হিসাবে ঘাটতির রেকর্ড: চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ সূচকে ১২৭ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে আর্থিক হিসাবের সূচকে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারের বড় উদ্বৃত্ত ছিল।

৫ ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন বন্ধের উপক্রম: শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত ৫ ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন সেবা বন্ধের উপক্রম হয়। ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি হিসাবের স্থিতি ঋণাত্মক। বারবার অবহিত করার পরও ব্যাংকগুলো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি হিসাবের ঋণাত্মক স্থিতি সমন্বয়ের জন্য ২০ কর্মদিবসের সময় বেঁধে দেয়।

সরকার দেশের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, ব্যাংকিং, দুর্নীতি, অপচয়, প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, এই বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যায়া হয়েছে।

‘স্মার্ট পদ্ধতিতে’ নির্ধারণ হবে সুদহার: আইএমএফ’র শর্ত ও ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটাতে ৯ শতাংশ সুদহার তুলে ঋণের সুদহারে ‘স্মার্ট পদ্ধতি’ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর হয় চলতি বছরের জুলাই থেকে। ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ তুলে দিয়ে ট্রেজারি বিল, বন্ডের ৬ মাসের গড় সুদহার (ওয়েটেড) বিবেচনা করে প্রতি মাসে একটি রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংক।

১৪ ব্যাংক রেকর্ড মূলধন ঘাটতি: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪টি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকসহ ১৪টি ব্যাংক রেকর্ড মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে এই ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি ছিল ৩৭ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতির ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ ঘটনা। এর আগে ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতির ঘটনা ঘটেছিল।

পুরো ঋণ পরিশোধ শ্রীলঙ্কার: দুই বছর আগে মুদ্রা বিনিময় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ থেকে নেয়া ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলার ঋণের পুরোটাই পরিশোধ করেছে শ্রীলঙ্কা। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ কিস্তিতে এই ঋণ দেয় বাংলাদেশ। কোনো দেশকে দেয়া বাংলাদেশের প্রথম ঋণ এটি।

সিআইবি’র নিয়ন্ত্রণ ছাড়লো কেন্দ্রীয় ব্যাংক: ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিভাগ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি। এটি এত গুরুত্বপূর্ণ যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ এ বিভাগের কোনো বিষয় পর্যবেক্ষণ বা তথ্য পেতেন না। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান শাখা এতদিন এ বিষয়ে তথ্য নিতে পারতো। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর শাখা অফিসও সিআইবি তথ্য পরিদর্শন ও পরিবর্তন করতে পারবে।

খানা আয় ও ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের তথ্য–উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন

২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে সার্বিক দারিদ্র্যের হার কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। ছয় বছর আগে ২০১৬ সালে এই হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর অতি দারিদ্র্যের হার এখন ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে, যা ছয় বছর আগে ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জাতীয় পর্যায়ের মতো বিভাগওয়ারি দারিদ্র্যের চিত্রও পাল্টে গেছে। এখন আর সর্বোচ্চ দারিদ্র্যের হার রংপুরে নয়; বরিশাল বিভাগে। ইতিমধ্যে বরিশালে দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যা রংপুরে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিবিএস মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এদিকে অনুষ্ঠানে বক্তারা বিবিএসের প্রকাশিত দারিদ্র্যের হারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর প্রভাব দারিদ্র্যের হার কমে যাওয়ার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের খাবার তালিকা ছোট হয়েছে। তাহলে ক্যালরি গ্রহণ বাড়ে কীভাবে? আবার শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরিশালে দারিদ্র্য বাড়বে কেন?

চালের চেয়ে আলুর দাম বেশি

২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার বাজারে এখন বেশির ভাগ চালের চেয়ে আলু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে মোটা ও মাঝারি ধরনের চালের দামকে ছাড়িয়ে গেছে নতুন-পুরোনো আলুর দাম। ক্ষেত্রবিশেষে সরু চালের দামকেও অতিক্রম করেছে আলু।

অথচ মৌসুম শুরু হওয়ার পর বাজারে নতুন আলু এসেছে। কিছু পুরোনো আলুও এখনো বাজারে আছে। তবু আলুর দাম কমছে না। একই সঙ্গে শীতের মৌসুমের অন্যান্য সবজির দামও এখনো চড়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি নতুন ও পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় ধরনের আলুর দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে নতুন আলু আসে এবং এরপর এর দাম কমতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সার-বিদ্যুতের দায় শোধ হবে বন্ডে

০১ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

নগদ টাকার সংকটের কারণে সরকার বন্ডের মাধ্যমে সার ও বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ভর্তুকি বাবদ দায় মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে সার আমদানি বাবদ বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ জানতে চেয়ে শিল্প মন্ত্রণালায় ও বিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংক ঋণের সমপরিমাণ বন্ড ইস্যু করে তা পরিশোধ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সারের ভর্তুকি বাবদ গত জুন পর্যন্ত সরকারের কাছে বিসিআইসির পাওনা ৮ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ভর্তুকি বাবদ আরও কিছু বকেয়া যোগ হয়েছে। যথাসময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সরকারি চার ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। এ কারণে ব্যাংকগুলো ইউরিয়া সার আমদানির নতুন এলসি খুলতে চাচ্ছে না। অর্থ পেতে বারবার চিঠি দিচ্ছে বিসিআইসি। কিন্তু সরকারের কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় অর্থ ছাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে খেলাপি ঋণের হাত থেকে রক্ষায় ব্যাংকের দায়ের সমপরিমাণ বিশেষ বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোট ভর্তুকি নয় বরং বিসিআইসির প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ব্যাংকের দায় নির্ধারণ করে দিলে সে পরিমাণ বন্ড ইস্যু করা হবে।

সবজির দাম বাড়ার নেপথ্যে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি

০১ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

ক্রেতাদের প্রত্যাশা থাকে শীত মৌসুমে কম দামে সবজি পাওয়া যাবে। মাছ-মাংসের চেয়েও এ সময় পছন্দের সবজি কেনায় আগ্রহ থাকে বেশি। কিন্তু এবার এমন আশায় ‘গুড়ে বালি’। ভরা মৌসুমেও সবজিতে হাত দেওয়া কঠিন। বিশেষ করে টমেটো, বেগুন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম বেশ চড়া। গত বছরের তুলনায় কোনো কোনোটির দর বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাছাড়া চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। পরিবহন খরচও বেশি। দাম বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী পথে পথে ও বাজারে সরকারদলীয় লোক ও পুলিশের চাঁদাবাজি। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা উচিত। তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা দায়ী করছেন মধ্যস্বত্বভোগীদের।

গতকাল ঢাকার শান্তিনগর, হাতিরপুল ও কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, শিমের কেজি ৮০ থেকে ১০০, পাকা টমেটো ৮০ থেকে ১০০, বেগুন ৭০ থেকে ৮০, মুলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অথচ এসব সবজির উৎপাদন খরচ ৭ থেকে ১০ টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ ও মুনাফা যোগ করলেও ভোক্তা পর্যায়ে সবজির কেজি খুচরায় গড়ে ৩০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। বছর দুয়েক আগেও সবজির দর ক্রেতার নাগালে ছিল।

কৃষিপণ্যের দৈনিক বাজারদর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি শিম ২০ থেকে ৫০, টমেটো ৪০ থেকে ৪৫ এবং বেগুন ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি ফুলকপি ২০ থেকে ২৫ এবং বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ চার গুণ বেড়েছে শিমের দাম। বেগুনের ক্ষেত্রে বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ। 

দেশে ২২ শতাংশ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে : বিবিএস

৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, এনটিভি অনলাইন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রথম খাদ্য নিরাপত্তা জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী ২১ দশমিক ৯১ শতাংশ বাংলাদেশি পরিবার মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং গুরুতর অবস্থায় রয়েছে শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের ভিত্তিতে ‘খাদ্য নিরাপত্তা পরিসংখ্যান-২০২৩’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় আটটি প্রশ্নের ভিত্তিতে বৈশ্বিক মান বজায় রেখে দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা জরিপ প্রতিবেদন তৈরি করেছে তারা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ এক দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রংপুর বিভাগের সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ পরিবার মাঝারি ধরনের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পরিবার খাদ্য মজুদে নিরাপদ বোধ করে এবং সর্বনিম্ন  দশমিক ৫১ শতাংশ পরিবার মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।

ঢাকা বিভাগে সর্বনিম্ন ১৬ দশমিক চার শতাংশ পরিবার মাঝারি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং এই বিভাগে দশমিক ৬৪ শতাংশ পরিবার মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

গুরুতর নিরাপত্তাহীনতার কারণে গ্রামাঞ্চলে দশমিক ৯৫ টি পরিবার মারাত্মক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, যেখানে শহরে এই হার  দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় দশমিক ৪১ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ের প্রধান উৎস কৃষি দশমিক ৯৪ শতাংশ (পরিবার), শিল্প দশমিক ২৭ শতাংশ, সেবা দশমিক ৭৯ শতাংশ, আয় দশমিক ৬১ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স এক দশমিক ৩১ শতাংশ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা।

ভর্তুকি মূল্যের পণ্য নিয়ে গরিব এলাকায় যায় না টিসিবির ট্রাক

০৩ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রাকে করে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রাজধানীর স্বল্প আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কার্যক্রমের ২৪ দিনের মধ্যে ১৯ দিন মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক ও বক চত্বরে এবং ১৪ দিন সচিবালয়ের ১ ও ৩ নম্বর ফটকের সামনে পণ্য বিক্রি করেছে টিসিবির ট্রাক। তবে এক দিনের জন্যও পণ্য নিয়ে যায়নি কড়াইল বস্তি কিংবা কামরাঙ্গীরচরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ-অধ্যুষিত এলাকায়।

টিসিবি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক দিনে রাজধানীর সর্বোচ্চ ৩০টি জায়গায় পণ্য নিয়ে যায় টিসিবির ট্রাক। এখন পর্যন্ত শহরের ১৭২টি স্থানে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাক সবচেয়ে বেশিবার গেছে ব্যাংকপাড়া মতিঝিল ও সচিবালয়–সংলগ্ন এলাকায়। নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস বেশি, এমন অনেক এলাকা টিসিবির এই কর্মসূচি থেকে হয় একেবারে বাদ পড়েছে, অথবা সেসব এলাকায় ট্রাক গেছে হাতে গোনা কয়েক দিন। দেখা গেছে, জোগানের তুলনায় পণ্যের চাহিদাও অনেক বেশি।

বেসরকারীকরণের পথে চট্টগ্রাম বন্দর

৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, দেশ রূপান্তর

প্রাইভেটাইজেশনের পথে হাঁটছে চট্টগ্রাম বন্দর। ইতিমধ্যে সৌদি আরবের রেড-সি গেটওয়েকে ২২ বছরের চুক্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে টার্মিনালটি নির্মাণ করেছিল। এ ছাড়া আগামীর বন্দরখ্যাত বে-টার্মিনালটি পুরোপুরি প্রাইভেট বিনিয়োগের দিকে এগোচ্ছে। বে-টার্মিনালে তিনটি টার্মিনালের একটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্য দুটি টার্মিনাল সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপিওয়ার্ল্ডকে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। আগামী জুনে চুক্তি সম্পন্ন হবে।

তবে শেষ মুহূর্তে এসে চট্টগ্রাম বন্দরের আওতায় যে মাল্টিপারপাস টার্মিনালটি নির্মাণ হওয়ার কথা রয়েছে, সেটিও আবুধাবির একটি কোম্পানি নির্মাণের কথা চলছে। অন্যদিকে বে-টার্মিনালে আরও একটি নতুন টার্মিনাল করা হবে, যা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই টার্মিনালেও দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে।

শুধু বে-টার্মিনাল ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালই নয়, পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ শিপিং কোম্পানি ডেনমার্কের এপি-মুলার মায়ের্সকের বিনিয়োগেরও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, লালদিয়ায়ও বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগে টার্মিনাল হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় সবচেয়ে কার্যকর টার্মিনাল বলে খ্যাত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কনটেইনারর টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে পরিচালনার বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় থাকছে শুধু জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবছর গড়ে তিন মিলিয়নের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এখন যদি প্রায় শতভাগ বিদেশি কোম্পানির কাছে টার্মিনাল চলে যায়, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরের হাতে কী থাকছে?

এই প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল সম্প্রতি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, ‘নিরাপত্তা ও চ্যানেল (জাহাজ চলাচলের পথ) বন্দরের আওতায় থাকবে। জাহাজের বার্থিংয়ের নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতে থাকবে। তাই কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনায় দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ আসছে। এর মধ্যে শুধু বে-টার্মিনালেই বিনিয়োগ হবে আট বিলিয়ন ডলার। বাকি বিনিয়োগ আসছে মায়ের্সক ও সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ের মাধ্যমে। ইতিমধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য রেড সি গেটওয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করবে।’

এক বছরে পেঁয়াজ, রসুন ও জিরার দাম দ্বিগুণ

০৪ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপণ্যের বাজার উচ্চ মূল্যে স্থিতিশীল। মাছ, মাংস ও ডিমের সঙ্গে এ বছর বাজারে সবজির দামও চড়া। এর মধ্যে গত বছরের তুলনায় ক্রেতাদের পেঁয়াজ-রসুন থেকে শুরু করে এলাচি-লবঙ্গের মতো মসলাও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এলাচ, লবঙ্গ ও রসুনের দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। বাজারের অধিকাংশ মসলাই আমদানিনির্ভর।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের মসলা পাওয়া যায়। তার মধ্যে ১১ ধরনের মসলার দামের খোঁজ নিয়েছে এই প্রতিবেদক। এসব মসলার মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, দারুচিনি, জিরা, এলাচি, লবঙ্গ, ধনিয়া, তেজপাতা ও শুকনা মরিচ। এসব মসলার দাম বাজারে গত এক বছরে সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ১০০ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধি মানে দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া। উল্লিখিত ১১ ধরনের মসলার মধ্যে টিসিবির হিসাবে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। আর জিরার দামও দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বাকি মসলাগুলোর দাম ৪ থেকে ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছরে মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে দামের কোনো হেরফের হয়নি শুধু তেজপাতার। যদিও রান্নায় তেজপাতার ব্যবহার খুব বেশি হয় না।

ঋণের সুযোগ করে দিতে ছাড়ের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

০৪ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের মান যাচাই করে করে ঋণ দেওয়া ও ঋণ নবায়নে ছাড়ের মেয়াদ আবার বাড়িয়েছে। ফলে কেউ আইন অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার শর্ত পূরণ না করলেও তাঁকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি তাঁদের ঋণও নবায়ন করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘দেশব্যাপী ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের বিদ্যমান আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা প্রদানসহ বিদ্যমান ঋণ নবায়ন অব্যাহত রাখার জন্য আগের নির্দেশনার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।’

এক দিনেই ৬ হাজার কোটি টাকা ধার করেছে সরকার

০৪ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

সরকারের খরচ চালানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড। কারণ, রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না। তা ছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিবর্তে এখন ভাঙানোই হচ্ছে বেশি। আবার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঋণ নেওয়াও বন্ধ করেছে সরকার। এ জন্য ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে টাকা ধার করছে সরকার, যা দিন দিন বাড়ছে। এতে ট্রেজারি বিলের সুদহার বাড়ছে।

আজ বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদে টাকা ধার করেছে সরকার, যা বিদায়ী বছরের জুনে ৮ শতাংশের নিচে ছিল। ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বিমা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায়েও ট্রেজারি বিল ও বন্ড কেনা যায়।

ভর্তুকির বিপরীতে ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করেছে সরকার

জানুয়ারি ০৫, ২০২৪, বণিক বার্তা

অর্থ সংকটের কারণে সার ও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না সরকার। ফলে অর্থাভাবে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে পারছে না। এ অবস্থায় ব্যাংকের দেনা পরিশোধে বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের অনুকূলে সারের ভর্তুকির বিপরীতে ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকার বিশেষ বন্ড ইস্যু করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বন্ড ইস্যুর বিষয়ে সোনালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংককে বন্ড ইস্যুর জন্য নির্দেশ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ২ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের অনুকূলে ৪৫৯ কোটি টাকার বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করা হয়। এই বন্ডের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে নয় বছর।

১০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে সরকারের দুই সংস্থার গ্যাস বিল বকেয়া

জানুয়ারি ১৩, ২০২৪, বণিক বার্তা

রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে গ্যাসের বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বিপিডিবির গ্যাস বিল বাবদ বকেয়া প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা আর বিসিআইসির কাছে বকেয়া পড়েছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপুল পরিমাণ এ বকেয়া আদায়ে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ জোর প্রচেষ্টা চালিয়েও অর্থ আদায়ের বিষয়ে কোনো সমাধান দেখছে না।

‘লোকসান ঘোচাতে’ ফের মাংসের কেজি ৭০০!

১৩ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

মাস দুয়েক আগে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল গরুর মাংস। প্রতি কেজির দর ৭৫০ থেকে কমে ৬০০ টাকায় নেমেছিল। মাংসের দর কমার কারণে সবজির বাজারে দামেও স্বল্প সময়ের জন্য কিছুটা প্রভাব পড়ে। তবে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে যাচ্ছিল, এই দামে মাংস বিক্রি করে তারা লোকসান গুনছে। তারপরও সংসদ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত মাংসের দাম ৬৫০ টাকার মধ্যেই স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন থেকে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার অজুহাতে আবার গরুর মাংসের দর কেজিতে এক লাফে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় এবং বিভিন্ন মহলের চাপ থাকায় দুই মাস তাদের হাজার হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। এভাবে লোকসানের ভার টেনে নেওয়া তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। অন্যদিকে আগামী কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে খামারিরা এখনই বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু সংগ্রহ করছে। তারা মাঠ পর্যায়ে গরুর দর বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মাংস বিক্রিতে। যদিও খামারিদের দাবি, তারা গরুর দর বাড়ায়নি।

পরে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, চিশতী টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, মসলিন কটন মিলস লিমিটেড ও ওরিয়েন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে আরও চারটি কারখানা বিক্রির জন্য এই সেলকে দায়িত্ব দেয় মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বিক্রি হয়েছে।

২০২১–২২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই লিকুইডেশন সেলে ৩৫ জন ‘লিকুইডেটর’ হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে কর্মকর্তা তিনজন। বাকিরা অফিস সহকারী, চালক, দৈনিক ভাতাভিত্তিক নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদের কর্মচারী।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই লিকুইডেশন সেলের পেছনে সরকারকে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। যে কারখানা ও যন্ত্রপাতিগুলো বিক্রি করা হয়েছে, সেই বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা আছে। সেখান থেকে যে আয় আসে, তা থেকে সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাতে খরচের জোগান দিচ্ছে সরকার।

৪ দশকেও বিক্রি হলো না কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল বন্ধ হয়ে যায় ১৯৮২ সালে। এর পর থেকে এ কারখানার জমি বেদখল হতে থাকে।

এরই মধ্যে কারখানার প্রায় অর্ধেক জমি বেদখল হয়ে গেছে। কারখানার মূল অংশসহ বাইরের কিছু জায়গা মিলে প্রায় সাড়ে ১৬ একর জমি নিয়ন্ত্রণে আছে এখন। কারখানা ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। লতাপাতায় ঢেকে গেছে লোহার যন্ত্রাংশ।

চারদিকে গজিয়েছে বটসহ নানা গাছপালা। পুরো কারখানার চত্বর পরিণত হয়েছে জঙ্গলে। সম্প্রতি সরেজমিনে একসময়ের নামকরা কারখানার এমন চিত্র দেখা গেল।

অথচ কারখানাটি বিক্রির জন্য ‘লিকুইডেশন সেল’ বা বিলুপ্তির দপ্তর ১৯৮১ সালের জুনে গঠন করে দেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। তবে ৪২ বছরেও এটি বিক্রি করতে পারেনি তারা। এখন লিকুইডেশন সেলের ১৫ জনের বেশি কর্মচারী কারখানাটি দেখভাল করেন। এরপরও এর জায়গাজমির বেহাত হওয়াও ঠেকানো যায়নি।

শুধু এই কারখানা নয়, আরও তিনটি কারখানা বিক্রি করতে পারেনি এই সেল। ফলে এ সেলে কর্মরত ব্যক্তিদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন-ভাতা, কার্যালয়ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ দিতে হচ্ছে সরকারকে। অন্যদিকে বন্ধ থাকায় কারখানাগুলোর যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়াসহ সম্পদের অপচয় হচ্ছে। বেদখল হচ্ছে জায়গাজমি।

শুরুর দিকে মোহিনী মিলসহ চারটি কারখানা বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয় লিকুইডেশন সেলকে। বাকি তিনটি—আদর্শ কটন স্পিনিং অ্যান্ড উইভিং মিলস লিমিটেড, ঢাকেশ্বরী কটন মিলস লিমিটেড-১ ও ঢাকেশ্বরী কটন মিলস লিমিটেড-২ বিক্রি করতে পেরেছে তারা।

পরে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, চিশতী টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, মসলিন কটন মিলস লিমিটেড ও ওরিয়েন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে আরও চারটি কারখানা বিক্রির জন্য এই সেলকে দায়িত্ব দেয় মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বিক্রি হয়েছে।

২০২১–২২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই লিকুইডেশন সেলে ৩৫ জন ‘লিকুইডেটর’ হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে এখানে কর্মরত আছেন ৫২ জন। তাঁদের মধ্যে কর্মকর্তা তিনজন। বাকিরা অফিস সহকারী, চালক, দৈনিক ভাতাভিত্তিক নিরাপত্তা প্রহরীসহ বিভিন্ন পদের কর্মচারী।

জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই লিকুইডেশন সেলের পেছনে সরকারকে ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। যে কারখানা ও যন্ত্রপাতিগুলো বিক্রি করা হয়েছে, সেই বিক্রির টাকা ব্যাংকে জমা আছে। সেখান থেকে যে আয় আসে, তা থেকে সেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাতে খরচের জোগান দিচ্ছে সরকার।

পরিশোধের পরও ৭% বেড়ে গেছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ!

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, শেয়ার বিজ

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গৃহীত ঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৯৮৪ বিলিয়ন ডলার। চায়না এক্সিম ব্যাংকের কঠিন শর্তের এ ঋণের জন্য গুনতে হচ্ছে উচ্চ সুদহার। গত বছর সুদের আন্তর্জাতিক হার সোফর (সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট) বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। এতে সুদ পরিশোধ ব্যয় বেড়ে গেছে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় প্রকৃত ঋণও বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে ঋণ পরিশোধ নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়েছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র।

তথ্যমতে, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০ শতাংশ ইক্যুইটি ছিল বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল)। এর মধ্যে অর্ধেক তথা ১০ শতাংশ দেয় বাংলাদেশের নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডবিøউপিজিসিএল)। বাকি ১০ শতাংশ দেয় চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। বাকি ৮০ শতাংশ ঋণ হিসেবে নেয়া হয়। ১৫ বছর মেয়াদি এ ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ৪ বছর, যা মোট ২৩ কিস্তিতে শোধ করতে হবে।

ঋণ নেয়ার সময় সুদহার ধরা হয়েছিল ছয় মাস মেয়াদি লাইবর+২.৯৮ শতাংশ সুদ। এতে সুদহার পড়ত ৫ শতাংশের কম। তবে লাইবর (লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট) বিদায়ের পর বর্তমানে ঋণের সুদ নির্ধারণে বিবেচনা করা হচ্ছে সোফর। এতে বর্তমানে সুদহার দাঁড়িয়েছে ছয় মাস মেয়াদি সোফর+২.৯৮ শতাংশ সুদ। তবে গত বছর সোফর বেড়ে পাঁচ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বর্তমানে ছয় মাস মেয়াদি সোফর দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ফলে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের জন্য সুদ দিতে হচ্ছে আট দশমিক ৩৪ শতাংশ হারে।

এদিকে দেশের ডলারের বিনিময় হারও বেড়ে গেছে। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে তা দাঁড়ায় ১০৯ টাকা ১৮ পয়সা। বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় গত অর্থবছর মুদ্রা অবমূল্যায়নজনিত ক্ষতি প্রায় ৬৮ শতাংশ বা ৯৭৬ কোটি টাকা বেড়েছে। এতে দেশীয় মুদ্রায় ঋণের প্রকৃত পরিমাণও বেড়ে গেছে। আর সুদ ও ঋণ পরিশোধ ব্যয় বাড়ায় পায়রার জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ক্যাপাসিটি চার্জও বেশি দিতে হচ্ছে।

চামড়াপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার পথে এখনো বড় বাধা দূষণ

১৯ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনার পথে এখনো বড় বাধা দূষণ। সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত পরিকল্পিত চামড়াশিল্প নগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। কঠিন বর্জ্য ফেলার জন্য গড়ে তোলা যায়নি স্থায়ী ভাগাড় বা ডাম্পিং ইয়ার্ড। ফলে দূষণ থাকছেই, যা ট্যানারিগুলোর আন্তর্জাতিক মান সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। এতে রপ্তানির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ।

যদিও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চাচ্ছে সরকার। নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গত সোমবার রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান করে সেখানে প্রবেশে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে যেভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, প্রয়োজনে তিনটি পণ্যের ক্ষেত্রে তেমন সহায়তা দিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও হচ্ছে। পণ্য তিনটি হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য; পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিজাত পণ্য।

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়াশিল্পকে দূষণমুক্ত পরিকল্পিত শিল্পনগরে স্থানান্তরের জন্য ২০০৩ সালে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। ২১ বছরেও এই চামড়াশিল্প নগরকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি।

চামড়া খাতের রপ্তানি বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রণোদনা বাড়ানোসহ সম্ভাব্য সব সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটা কোনো সমস্যা না। তবে সিইটিপির কার্যক্ষমতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

অবশ্য বিশ্ববাজার ধরার জন্য বাংলাদেশের চামড়া খাত এখনো প্রস্তুত নয় বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক মো. আবু ইউসুফ। তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় উৎপাদকদের প্রণোদনা ও অন্যান্য সুবিধা দিলে হয়ত তাঁদের উৎসাহ বাড়বে। তবে পরিবেশ ও পণ্যের মানের ক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা ছাড় দেবে না। এ জন্য সবার আগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে। সেটি করা গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি স্বল্প সময়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে নেওয়া সম্ভব হবে।

২১ বছরেও প্রস্তুত হয়নি

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়াশিল্পকে দূষণমুক্ত পরিকল্পিত শিল্পনগরে স্থানান্তরের জন্য ২০০৩ সালে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। ২১ বছরেও এই চামড়াশিল্প নগরকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়নি। সাভারের হেমায়েতপুরের ২০০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই চামড়াশিল্প নগরের সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় পাশের ধলেশ্বরী নদী দূষণের শিকার হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিতে অবস্থান শক্ত করতে পারছে না চামড়া খাত। কারণ, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর কাছে ভালো দামে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিক্রি করতে হলে বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ থাকতে হয়। দূষণের কারণে মূলত এ সনদের জন্য আবেদন করা যাচ্ছে না। যদিও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

চামড়া খাতের ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা বলছেন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। মূল বাধা কোথায় সেটিও সবার জানা। ফলে দ্রুততম সময়ে বর্তমান সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর ও আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিতভাবে করতে ডাম্পিং ইয়ার্ড লাগবে। তারপর অন্যান্য বিষয়ে উন্নতি করে এলডব্লিউজি সনদের জন্য আবেদন করতে হবে।

সাভারের চামড়াশিল্প নগরে বর্তমানে ১৪২টি ট্যানারি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে গত নভেম্বরে এলডব্লিউজি স্বীকৃতি পেয়েছে সিমোনা ট্যানিং। প্রতিষ্ঠানটি ক্রাস্ট থেকে ফিনিশিং পর্যায়ে চামড়া উৎপাদন করে থাকে। তাদের নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি রয়েছে। তবে চামড়াশিল্পের বাকি সব ট্যানারি সিইটিপি ব্যবহার করে। ফলে তাদের কেউই এখনো এলডব্লিউজি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করতে পারেনি।

সাভারের চামড়াশিল্প নগরের বাইরে দেশে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, রিফ লেদার, এবিসি লেদার, সুপারেক্স লেদার ও এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ। এলডব্লিউজি সনদ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো ব্যবসা করছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

অনেক বড় প্রকল্প বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে: আনু মুহাম্মদ

২০ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ভূমিকা পালনের কথা এবং পুরো আর্থিক খাতে তার যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, তার কিছুই কাজ করছে না।

পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আদালত ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানও সামগ্রিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের মতের কোনো প্রতিফলন নেই। মানুষ যে মত দিচ্ছে আর সিদ্ধান্ত যা নেওয়া হচ্ছে, একটার সঙ্গে আরেকটার কোনো মিল নেই।

আজ শনিবার ‘অর্থনীতি: নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন। প্রথম আলো নিজস্ব কার্যালয়ে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় এতে দেশের বিশিষ্ট গবেষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, তিনটা সমস্যা এখানে প্রকট। প্রথমত, স্বচ্ছতার সমস্যা, দ্বিতীয়ত জবাবদিহির সমস্যা ও তৃতীয়ত, প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা। দেশে একেকটা সিদ্ধান্ত হচ্ছে, নীতিমালা তৈরি হচ্ছে, কে তৈরি করছেন, কীভাবে তৈরি হচ্ছে, কার স্বার্থে হচ্ছে—এসব বিষয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। এগুলো যেন অনেকটা ট্রাফিক সিগন্যাল পদ্ধতির মতো—বাতি যখন সবুজ থাকে, তখন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। আর যখন লাল থাকে, তখন গাড়ি চলে।

অনেক বেশি ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ এমনকি সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকেরাও আপত্তি জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, তারপরও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এরপর ব্যাংক খাত চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তগুলো যতটা না সামনে থেকে নেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে পেছন থেকে। হোটেলে বসেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থে এসব হচ্ছে। ওই সব গোষ্ঠী কর সুবিধা পাচ্ছে, অর্থ পাচারের সুবিধাও পাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের বড় ব্যবসায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ পেয়েছেন, এমন মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার নিয়ে ডেইলি স্টারে একটা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সরকারের আচরণটা এমন যে মনে হয় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অথচ সরকারের দিক থেকেই যথাযথ তদন্ত করা উচিত ছিল। একটা পত্রিকা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সরকারের দিক থেকে কোনো সাড়া (রেসপন্স) নেই।

আনু মুহাম্মদের মতে, বর্তমান সময়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার পেছনে অন্যতম কারণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। তিনি বলেন, আইন করে ২০১০ সালে জবাবদিহি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যা কিছুই করা হোক না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না, আদালতেও যাওয়া যাবে না। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্র স্থাপনের বদলে স্বল্প খরচের বিকল্প প্রস্তাব সরকারকে তখনই দেওয়া হয়েছিল। সরকার তা আমলে নেয়নি। এ ছাড়া যেসব চুক্তি করা হচ্ছে, তা নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। গ্যাসকূপ খননের যে সক্ষমতা আছে, সে ব্যাপারে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ না করে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এখন যে গ্যাসের সংকট, এরও সুবিধাভোগী গোষ্ঠী আছে বলে মনে করেন আনু মুহাম্মদ। বলেন, বিচারব্যবস্থায় যেমন অপরাধের সুবিধাভোগীকে খোঁজা হয়, গ্যাসের ক্ষেত্রে তেমন সুবিধাভোগী আছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তো বহু আগেই বলেছেন, ‘আমাদের এলপিজিতে (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) যেতে হবে। এলপিজির সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীরা। আর এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির দিকে সরকার গেল, এর দাম যে এত বেড়ে যাবে, সরকারের একটা অনুমান থাকবে না? আমদানিনির্ভর ও ঋণনির্ভর প্রকল্পগুলোর দিকে বাংলাদেশ মনোযোগ দিয়েছে। অনেক বড় প্রকল্প বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। একটা বিপর্যয় আর্থিক দিক থেকে, আরেকটা পরিবেশগত। কত দিন পর্যন্ত এ ভার যে জনগণকে বইতে হবে, আমরা জানি না।’

আনু মুহাম্মদের প্রশ্ন, এ পরিস্থিতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে, জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে বাড়লে দেশেও বাড়ছে, কিন্তু বিশ্ববাজারে কমলে দেশে আর কমছে না কেন? তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি নিয়েই সম্প্রতি নতুন মন্ত্রিসভা হলো। তাদের মাধ্যমে যে নীতি পদক্ষেপে কোনো পরিবর্তন আসবে, তা বলা কঠিন। উদাহরণস্বরূপ যদি বলা হয়, দেশে একটা পাওয়ার পলিসি হয়েছে এবং তা করেছে জাইকা (জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা)। এখানে দেশীয় কোনো লোক ছিল না। জাইকা যেসব প্রকল্পের পরামর্শ দিয়েছে, সব কটিতে তাদের স্বার্থ আছে। ২০১৬ সালের পলিসি সংশোধন হচ্ছে, কিন্তু কোনো পরিবর্তনের আশা করা যাচ্ছে না।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বলি অমুক মন্ত্রী ভালো, অমুক মন্ত্রী দুর্নীতিবাজ। এসব বলে কোনো লাভ নেই। আসলে শাসনব্যবস্থাটাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং সবকিছু এত বেশি এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেছে যে সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় যে কাজ করছে, তার কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে মন্ত্রী দিয়ে এখানে কিছু হচ্ছে না। যে ধারাবাহিকতায় আজ সংকট তৈরি হয়েছে, তা দূর হওয়ার আপাতত কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ কী জানি না। তবে লক্ষণ দেখে মনে হয়, সরকারের কাছে একটাই চ্যালেঞ্জ চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকা। জনগণের জন্য চ্যালেঞ্জ যেগুলো, সেগুলো সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করছে না।’

দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এখন শুধুই জাপাননির্ভর

জানুয়ারি ২৪, ২০২৪, বণিক বার্তা

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিভিন্ন দেশের ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় নিয়ে গতকালই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এতে দেখা যায়, এ ছয় মাসের মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে মূলত বহুপক্ষীয় বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে। দ্বিপক্ষীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শুধু জাপান। এ ছয় মাসে বাংলাদেশকে নতুন করে ২০২ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। পাশাপাশি আগে প্রতিশ্রুত ঋণের ৮১ কোটি ২২ লাখ ডলারও এ সময় ছাড় করেছে দেশটি।

ইআরডির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সব মিলিয়ে ৬৯৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর অধিকাংশই এসেছে বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ঋণদাতা সংস্থার কাছ থেকে। দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলোর মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শুধু জাপান। আবার বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণে প্রতিশ্রুতিও মিলেছে জাপান নিয়ন্ত্রিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে। এডিবি এ ছয় মাসে ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২৪৬ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এ সময় বাংলাদেশের অনুকূলে মোট অর্থছাড় হয়েছে ৪০৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। অর্থছাড়ের দিক থেকেও এ সময় জাপানের অবস্থান ছিল শীর্ষে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা দেশগুলো। ব্যতিক্রম শুধু জাপান। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশকে ঋণ ও অনুদান হিসেবে বিপুল পরিমাণ সহায়তা দিয়ে এসেছে জাপান। সে ধারা বজায় রেখে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নতুন ঋণের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ওপর ভরসা ধরে রেখেছে দেশটি।

দেশটি অন্যান্য দেশকে সহায়তা করে থাকে আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহযোগিতা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায়। বর্তমানে বাংলাদেশই জাপানি ওডিএর সবচেয়ে বড় গন্তব্য বলে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সিসহ (জাইকা) বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ইআরডির তথ্যেও দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সহযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের অনুকূলে ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে জাপান। এ সময়ে দেশটি থেকে ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩ হাজার ৩৪ কোটি ডলারের বেশি। এর মধ্যে অর্থছাড় হয়েছে ২ হাজার ৪৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার। গত ৫২ বছরে বাংলাদেশের অনুকূলে অর্থছাড়ের দিক থেকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। যদিও এ সময় দেশটি অর্থ ছাড় করেছে জাপানের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বা ৮১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বর্তমানে জাপানের সঙ্গে চুক্তির অপেক্ষায় পাইপলাইনে রয়েছে জাপানের আরো ৭৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের ঋণ সহায়তা। আর দেশে এখন জাপানি অর্থায়নে ৮২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

দেশের যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের মেগা প্রকল্পগুলোয় জাপানের অর্থায়নই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে কক্সবাজারে মাতারবাড়ীতে নির্মীয়মাণ গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থায়ন করছে জাইকা। প্রকল্পে অর্থায়নের পাশাপাশি কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে দেশটি।

জাপানি বিনিয়োগে বাস্তবায়ন হচ্ছে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায় নির্মীয়মাণ প্রকল্পটিতে জাইকার অর্থায়ন ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বড় লক্ষ্যে কাজে নেমে এখন ঋণ পরিশোধ মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেজা’র

২৪ জানুয়ারি ২০২৪, দ্যা বিজনেস ট্রিবিউন

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নেওয়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বর্তমানে ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝায় পড়েছে।

বর্তমানে বেজা’র ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু আছে যার ৮টি বেসরকারি খাতের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত আয় না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকার অভাবে পড়ে সংস্থাটি গত বছরের নভেম্বরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ঋণ পরিশোধে পুনঃতফসিলের সুবিধার অনুরোধ করেছিল।

দেশজুড়ে পরিকল্পিত ১০০টি শিল্প অঞ্চলের মধ্যে ৩০ হাজার একরের বিশাল অর্থনৈতিক এলাকা ঘিরে তৈরি সবচেয়ে বড় মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগকারীদের অনীহা বেজা’র আর্থিক সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই ধাক্কা বেজা’র আয় সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সংস্থাটির নেওয়া ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাকে ব্যাহত করেছে।

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বেজা’র সামনে বর্তমানে ৩টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে: প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান, জমি পাওয়া এবং প্লট নেওয়ার পরও বরাদ্দকৃত প্লটে বিনিয়োগ না করা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া।

যেমন, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ২০১৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ নিলেও এখনো সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি। একইভাবে এসবিজি গ্রুপ ২০১৭ সালে সাড়ে ৫০০ একর জায়গা নিয়েও কোনো কাজ করেনি।

বেজা’র ঋণ ও খরচ

বেজা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগিদের থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সংস্থাটি।

এর মধ্যে ২০২১ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর স্থাপনে বিশ্বব্যাংক থেকে চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয় বেজা। পরের বছর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জাইকা থেকে দুই হাজার ১২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সংস্থাটি।

বাকি ঋণ দিয়েছে অর্থ বিভাগ ও সরকারি অর্থায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)।

এসব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি। বেজা’র নথি অনুযায়ী, এতদিন সরকার বেজাকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ দিত। কিন্তু সর্বশেষ ঋণে তা হয়েছে ৬ শতাংশ।

বেজা’র আয়

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের আয়ের উৎস মাত্র দুটি। ভূমি ইজারা দেওয়ার বিপরীতে আয় এবং পরিষেবা দেওয়ার বিপরীতে সার্ভিস চার্জ ও ইউটিলিটি বিলের ওপর সারচার্জ।

তারা বলছেন, ব্যয়ের তুলনায় আয় খুবই অপ্রতুল। শিল্প কারখানা পুরোদমে চালু না হওয়ায় পরিষেবার বিপরীতেও আয় কম।

২০২২-২৩ অর্থবছরে বেজা বিভিন্ন খাত থেকে মোট প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করেছে। সংস্থাটি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ ধরনের সেবা দেয়।

বকেয়া কিস্তি

বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, তারা ২০১৫ সালের অর্থ বিভাগের একটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি।

‘অন্যান্য স্থানীয় ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সংস্থার ঋণের গ্যারান্টার সরকার। এসব ঋণ সরকারি পর্যায়ে পরিশোধ হবে,’ তিনি আরও বলেন। যদিও অর্থ বিভাগের কাছে কত টাকা বকেয়া তা জানাননি তিনি।

তবে বেজা’র আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, ২০২৩ সালের জুনের হিসাব পর্যন্ত ঋণের কিস্তি প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, বর্তমানে বেজা’র কাছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা রয়েছে। কিন্তু এই টাকা থেকে ঋণের কিস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অনেক কাজ এ অর্থে করতে হচ্ছে।

ঋণ পরিশোধে বেজা’র পরিকল্পনা

সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কীভাবে ঋণ পরিশোধ করা হবে সে বিষয়ে বেজা একটি পর্যালোচনা করেছে এবং এই পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বেজাসূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি নিজেদের কার্যক্রমের ব্যয়কে সরকারি অনুদান হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করেছে। একইসঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়ার সুযোগ নেই, সেসব ক্ষেত্রে কম সুদের ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করারও প্রস্তাব করেছে এটি।

এছাড়া ফায়ার স্টেশন ও সংযোগ সড়ক তৈরি, রেললাইন গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার মতো কার্যক্রম সরকারি স্ব-স্ব সংস্থা যাতে করে দেয় সেই প্রস্তাব করেছে বেজা।

এদিকে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বেজা’র প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। পাশাপাশি বেজাকে আয় বাড়ানোর জন্য সেবামূল্য বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামীতে বেজা’র প্রকল্পগুলো আংশিক অনুদান ও আংশিক ঋণ ব্যবস্থায় অর্থায়ন করা হতে পারে।

মডেল জোনের পরামর্শ

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম টিবিএসকে বলেন, ঋণ নেওয়ার যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। তবে প্রশ্ন হলো ঋণ নেওয়ার সম্ভাব্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল তা।

তিনি বলেন, বেজা আশা করেছিল অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ আসবে এবং সেখান থেকে যে আয় হবে, তা থেকে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হচ্ছে না। ফলে আয়ও হচ্ছে না।

তিনি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এবং বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মডেল হিসেবে দু-একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে দ্রুত সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন।

শুরুর লক্ষ্য বনাম হালের বাস্তবতা

বেজা’র প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রতিবছর ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা।

সরকারি-বেসরকারি মিলে এ পর্যন্ত ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৪১টি শিল্পকারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৫৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

এর বাইরে আরও ৫০টি শিল্প-কারখানার অবকাঠামো নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ চলছে।

বেজা এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্যে সারাদেশে ৬২ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছে।

এখন পর্যন্ত ১৯৭ বিনিয়োগকারীর অনুকূলে ছয় হাজার ৬০৭ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ২৭.৬৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে যার মধ্যে দেড় বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে যেসব দেশ উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে তার মধ্যে রয়েছে জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও নরওয়ে।

যেসব ব্র্যান্ড বিনিয়োগ করেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এশিয়ান পেইন্টস, বার্জার পেইন্টস, জতুন পেইন্ট, আদানি পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড, সুমিটোমো কর্পোরেশন, সিসিইসিসি, জেই হং, ইয়াবাং গ্রুপ, ম্যারিকো, নিপ্পন স্টিল, হোন্ডা মোটরস, মিয়াগো, হ্যান্টসম্যান, সিগওয়ার্ক, ও সাকাত ইংক।

অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পাশাপাশি বেজা মহেশখালী ও টেকনাফে ৩টি (সোনাদিয়া, সাবরাং ও নাফ) ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন করেছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ইতোমধ্যে ২১টি কোম্পানিকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

.

জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে কমে, সরকার কমায় না

২৪ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলে দেড় বছর আগে বাড়ানো হয় জ্বালানি তেলের দাম। তখন বলা হয়েছিল, বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমবে। তবে সেটি আর হয়নি। গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি অর্থে দেড় বছর ধরে মুনাফা করছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের শুল্ক-কর থেকে বিপুল রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি লভ্যাংশও নিয়েছে সরকার।

২০২২ সালের আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই মাসে মাত্র ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ দাম কমানো হয়েছিল (প্রতি লিটারে কমেছিল ৫ টাকা)। এর পর থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৯ টাকা, পেট্রল ১২৫ টাকা ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

 বিপিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) বিপিসি মুনাফা করেছে ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। সরকারকে লভ্যাংশ দিয়েছে ২০০ কোটি টাকা। বিপিসির সূত্র বলছে, গত অর্থবছরের মুনাফা থেকে লভ্যাংশ নেওয়ার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অর্থ হিসেবে বিপিসির কাছ থেকে ৫০০ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও (জুলাই-ডিসেম্বর) ৪০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে বিপিসি।

পানির পাঁচ রকম দাম নির্ধারণ করতে চায় ঢাকা ওয়াসা

২৩ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

ঢাকা ওয়াসা গত ১৪ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে। এবার ঢাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী পানির দাম নির্ধারণ করতে চায় সংস্থাটি। ঢাকা ওয়াসার করা কারিগরি সমীক্ষায় বর্তমান দামের তুলনায় শ্রেণিভেদে ২৪ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত—সব শ্রেণির গ্রাহকেরই খরচ বাড়বে।

ঢাকা ওয়াসার দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় গ্রাহককে কম দামে পানি দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১০ টাকা। এই ভর্তুকি কমিয়ে সংস্থার লাভ বাড়াতে পানির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন পানির দাম কার্যকর করতে চায় সংস্থাটি।

যদিও সংস্থাটির কর্মকর্তারাসহ নগরবিদেরা বলছেন, পানির দাম বাড়িয়ে ওয়াসা নিজের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপাতে চাইছে। পানির প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় কম। উচ্চ সুদে বৈদেশিক ঋণের টাকায় প্রকল্প করছে ওয়াসা। এসব ঋণের দায় চাপছে জনগণের ঘাড়ে। অন্যদিকে ঋণের টাকায় করা প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ছাড়া ঢাকা ওয়াসায় ‘সিস্টেম লস’ (ব্যবস্থাগত অপচয়) ২০ শতাংশ। এ অপচয় কমাতে পারলে ওয়াসাকে পানির দাম বাড়াতে হতো না। সব খরচ বাদ দিয়ে ঢাকা ওয়াসা প্রতিবছর লাভ দেখায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। লাভে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকির কথা বলে পানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক বলে মনে করেন তাঁরা।

ঢাকা ওয়াসা কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী পানির দাম নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের একটি বক্তব্যে। গত রোববার ঢাকা ওয়াসা ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভর্তুকি দিয়ে ঢাকায় ধনীদের পানি সরবরাহ করা উচিত নয়। ঢাকা ওয়াসার এক হাজার লিটার পা‌নি উৎপাদনে খরচ হয় ২৬ থেকে ৩০ টাকা। বিক্রি করছে ১৫ টাকায়। সরকার কি বা‌কি ১৫ টাকা ভর্তুকি দিতে থাকবে?

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ঢাকা ওয়াসার প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে এই হারে পানির বিল দিতে হয়। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের প্রতি হাজার লিটার পানির বিল দিতে হয় ৪২ টাকা।

এবার বিশেষ বন্ড ছেড়ে বিদ্যুতের দেনা শোধ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়

২৫ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

টাকার অভাবে আগের দফায় সারের ভর্তুকি বাবদ সরকার ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল বিশেষ বন্ড ছেড়ে। এবার একই পন্থায় বিশেষ বন্ড ছাড়া হয়েছে বিদ্যুতের দেনা পরিশোধে।

সচিবালয়ে গতকাল বুধবার সরকারের সঙ্গে বেসরকারি সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকের মোট ২ হাজার ৬২ কোটি টাকার বিশেষ বন্ড ছাড়ার বহুপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিটি ব্যাংকের অনুকূলে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা এবং পূবালী ব্যাংকের অনুকূলে ৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ভর্তুকির টাকা দিতে পারছিল না সরকার। সে কারণে কেন্দ্রগুলোও ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ করতে পারছিল না। এতে কোনো কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র ঋণখেলাপিও হয়ে পড়ছিল।

এ অবস্থায় পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বন্ডের কুপন রেট বা সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ। এ হার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারণ করা রেপো রেটের সমান। তবে ভবিষ্যতে রেপো রেট বাড়লে এ বন্ডের সুদহারও বাড়বে, রেপোর সুদ কমলে বিশেষ বন্ডের সুদও কমবে।

জানা গেছে, বন্ড ছাড়ার ফলে সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক এখন আর দেনাদারদের কাছে টাকা চাইতে পারবে না। বন্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংকের দায় সমন্বয় হয়ে যাবে। আর ব্যাংক সুদ পাবে ছয় মাস পরপর। মেয়াদ শেষে সুদসহ ব্যাংকের পাওনা সরকার পরিশোধ করবে। তখন বন্ডগুলোও সরকার ফেরত নেবে। সাধারণত বন্ড ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি হলেও বিশেষ বন্ডের মেয়াদ হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ বছর।

বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ বন্ড ছাড়া হয়েছে যেসব প্রতিষ্ঠানের দায় মেটাতে, সেগুলো হচ্ছে সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, বারাকা, কুশিয়ারা, ডরিন, অ্যাক্রন পাওয়ারের বিপরীতে।

ব্যাংক খাতে রেকর্ড ১৩.০৮ লাখ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

২৩ জানুয়ারি ২০২৪, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

দেশের আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে রেকর্ড ১৩.০৮ লাখ কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের চেয়ে যা সাড়ে সাত গুণের মতো বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়। 

গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত নথি অনুসারে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের আটসাঁট অবস্থার কারণেই নজিরবিহীন মাত্রায় এ সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর ডলার সংকটের চাপ কমাতে, বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে। তবে এই পদক্ষেপে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কিছুটা পূরণ হলেও– এতে ব্যাংকগুলোর স্থানীয় মুদ্রার (টাকা) তারল্য একইসঙ্গে সংকুচিত হয়েছে।  

এজন্যই তাদের বিপুল তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে। যারমধ্যে রেপোর মাধ্যমে ৬ লাখ ১১ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর অ্যাসিউরড লিক্যুইডিটি সাপোর্ট (বা এএলএস) এর মাধ্যমে প্রাথমিক ডিলার ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

তারল্য সহায়তার তুলনামূলক একটি পর্যালোচনায় তা ব্যাপকভাবে বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দুটি চ্যানেলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার সহায়তা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবার বিদ্যুৎ, সারের বন্ডের জন্য টাকা ছাপাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২৬ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়া বন্ধ করেছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কিন্তু মুদ্রানীতি ঘোষণার মাসেই সরকারের দেওয়া ‘বিশেষ বন্ডের’ বিপরীতে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যাতে বাড়ছে মুদ্রা সরবরাহ। এতে সুদহার ধরা হয়েছে নীতি সুদহারের সমান, অর্থাৎ ৮ শতাংশ। মেয়াদ দেওয়া হচ্ছে ১৮০ দিন পর্যন্ত। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতির লক্ষ্য থেকে সরে আসছে বলে মনে করছেন আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

টাকার অভাবে সার ও বিদ্যুতের দেনা মেটাতে ব্যাংকগুলোকে এই বিশেষ বন্ড দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে পাঁচ ব্যাংককে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বন্ড দেওয়া হয়েছে। এখন এই বিশেষ বন্ডের বিপরীতেই টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতিমধ্যে ১৮০ দিন মেয়াদের জন্য আইএফআইসি ব্যাংককে ৪৫৯ কোটি টাকা ও সিটি ব্যাংককে ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম

আত্মীয়দের ডেকে ডেকে চাকরি দেন ঢাবি ভিসি!

২৭ অক্টোবর ২০২৩, কালবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই নানা কারণে বিতর্কিত হলেও কারও বিরুদ্ধেই বিভিন্ন পদে গণহারে আত্মীয়স্বজন নিয়োগের অভিযোগ শোনা যায়নি। এ ক্ষেত্রে নতুন নজির স্থাপন করেছেন বর্তমান উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান। ছয় বছরের দায়িত্বকালে যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই নিজের এবং স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন। এই তালিকায় আছেন উপাচার্যের ভাগনে, ভাগনি জামাই; উপাচার্যপত্নী সালমা জামানের ভাতিজি, ভাইয়ের ছেলের বউ, ভাগনি জামাই, খালাতো বোনের মেয়েসহ প্রায় ৪০ জন। এর বাইরে আঞ্চলিকতা বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক চাকরি দেওয়ার ঘটনা তো আছেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী নিয়োগে একক আধিপত্য ছিল তার। এই নিয়োগে বরিশাল অঞ্চলের প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়করণও করেছেন। উপাচার্যের স্ত্রীর এলাকা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হয়েছে ড. আখতারুজ্জামানের মেয়াদকালে। এসব নিয়োগে উপাচার্যের স্ত্রী ও ছেলে আশিক খান সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দরিদ্র রোগীর চিকিৎসার টাকায় কর্মকর্তাদের সম্মানী

৩০ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

টাকা বরাদ্দ ছিল গরিব ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। তবে এ টাকা থেকে সম্মানী দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ, কর্মসূচি পরিদর্শন, মুদ্রণ ও সফটওয়্যার হালনাগাদ (আপগ্রেডেশন) করাসহ আনুষঙ্গিক নানা খাতে খরচ করা হয়েছে অনুদানের এ টাকা।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের গরিব ও অসহায় রোগীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকায় সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। সরকারের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের (সিএজি) নিরীক্ষায় বিষয়টি উঠে এসেছে। গত জুনে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সিএজি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় হাতে নেওয়া ওই কর্মসূচি হলো—‘ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজ), জন্মগত হৃদ্‌রোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত গরিব রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি’। সংশ্লিষ্ট এসব রোগের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র, পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ (টেস্ট রিপোর্ট) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক রোগীকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।

সিএজির প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০—এই চার অর্থবছরে অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ২৫৯ দরিদ্র রোগী। তাঁদের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সম্মানী, প্রশিক্ষণ, কর্মসূচি পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে খরচ করা হয়েছে।

ঢাবিতে নিয়োগে ভিসি আখতারুজ্জামানের সীমাহীন স্বজনপ্রীতি

০৪ নভেম্বর ২০২৩, আজকের পত্রিকা

অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলের লোকদের প্রাধান্য দেওয়ার তথ্য মিলেছে। অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়, যেটি আগে বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে কারণেই ওই অঞ্চলের লোকেরা নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নিয়োগ বোর্ডের একাধিক সদস্য, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী সমিতির একাধিক নেতা জানান, বরিশাল অঞ্চলের লোকজন যাতে নিয়োগ পান সে জন্য নিয়োগ বোর্ডে তদবির করতেন উপাচার্য, উপাচার্যের স্ত্রী, ছেলে ও ভাগনে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখতারুজ্জামান দায়িত্বে থাকাকালে নিজ এলাকার শতাধিক লোককে নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০ জনের তথ্য আজকের পত্রিকার কাছে আছে। উপাচার্যের দপ্তরে নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট এইচ এম নয়নের বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। সেকশন অফিসার নুর ইসলাম এবং প্রটোকল অফিসারের (পিও) দায়িত্বরত মাহামুদুল হাসান তানভীরও একই অঞ্চলের। পিয়ন পদে নিয়োগ পাওয়া এক নারীও বরিশালের। রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ জনের মধ্যে ৬ জনই বরিশালের।

জনসংযোগ দপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ জনের মধ্যে ২ জনের বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে। তাঁরা হলেন সেকশন অফিসার রায়হানুল ইসলাম আবির ও তথ্যকেন্দ্রের পিয়ন সঞ্জয় কুমার। জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাহমুদ আলমের বাড়ি পটুয়াখালী। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৯ জনের মধ্যে ১১ জন, হিসাব পরিচালকের দপ্তরে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন, এস্টেট অফিসে ৩৫ জনের মধ্যে ৮ জন এবং মাস্টাররোলের (অস্থায়ী) ৩ জনই বরিশালের।

আরও জানা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জন এবং মাস্টাররোলে ৭ জন, পরিবহন দপ্তরে ৯ জনের মধ্যে ৪ জন, শহীদ বুদ্ধিজীবী মো. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে তৃতীয় শ্রেণিতে ৪ জনের মধ্যে ৩ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯ জনের মধ্যে ৬ জন, হোমিও চিকিৎসক হিসেবে দুজনের মধ্যে দুই এবং অ্যালোপ্যাথিকে একজনে ১, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে ২৬ জনের মধ্যে ১০ জন, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ৭ জনে ২ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসে ৮ জনে ২ জন, সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসে ৩ জনের মধ্যে ২ জনই বরিশাল অঞ্চলের।

পূর্বাচলে রাজউকের ১২৬ একর জমি ‘গায়েব’

০৪ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

পূর্বাচল নতুন শহর থেকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১২৬ একর জমি ‘গায়েব’ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে হিসাব নেই এ জমি অধিগ্রহণ করা বাবদ ১১ কোটি টাকার। খোদ রাজউকের নিরীক্ষা অন্তত এমনটাই বলছে। আর একেই অনিয়ম বলছে সরকারের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় (সিএজি)।

প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ২১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে রাজউক। তবে বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির দখলে আছে ৬ হাজার ৮৭ একর জমি। বাকি ১২৬ একর জমি কোথায় গেল, তার সঠিক জবাব নেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।

রাজউকের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে এ নিয়ে নিরীক্ষা চালায় সরকারের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কার্যালয় (সিএজি)। গত জুন মাসে তারা নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানে বিষয়টিকে অনিয়ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেনরীর হাতে আলাদিনের চেরাগ!

০৩ নভেম্বর ২০২৩,সমকাল

চৌদ্দ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৮২০ গুণ। এই সময়ে কালো টাকা সাদা করেছেন তিন দফায়। বাড়ি, গাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্টসহ গড়েছেন শত শত কোটি টাকার সম্পদ। যেন হাতে পেয়েছেন আলাদিনের চেরাগ! তিনি সোনালী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জান্নাত আরা হেনরী।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকার। শিক্ষকতা ও কৃষি থেকে আয় ছিল ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। বার্ষিক খরচ দেখানো হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা। আয়কর নথির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৪ বছরে তাঁর সম্পদ ৮২০ গুণ বেড়ে হয়েছে ৫১ কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

চট্টগ্রামে ‘আয়নাবাজি’, ধরা পড়েছে আঙুলের ছাপে

০৮ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

‘আয়নাবাজি’র কথা মনে আছে? এই চলচ্চিত্রের মূল চরিত্র শরাফত করিম আয়না (চঞ্চল চৌধুরী) জাহাজে বাবুর্চির কাজ করেন। মাঝেমধ্যে দুই-তিন মাসের জন্য হাওয়া হয়ে যান তিনি। কোথায় যান? আসলে এ সময় তিনি সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের হয়ে টাকার বিনিময়ে জেল খাটেন। এমন ঘটনা শুধু সিনেমায়ই নয়, বাস্তবে ঘটেছে চট্টগ্রামেও।

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় ফুটপাতের চা–বিক্রেতা মজিবুর রহমান। তিনি কোনো মামলার আসামি নন। কিন্তু চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির পরিবর্তে আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। বিনিময়ে পান তিন হাজার টাকা। অবশ্য বেশি দিন কারাবাস করতে পারেননি মজিবুর। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের নেওয়া আঙুলের ছাপে ধরা পড়ে যান। ঘটনাটি গত ১৩ মার্চের।

 সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির নাম নাছির আহমদ। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে। আর টাকার বিনিময়ে নাছির সেজে আত্মসমর্পণ করে কারাবন্দী হন সাভারের মজিবুর।

শুধু মজিবুর নন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে এভাবে আত্মসমর্পণ করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আসা ১২ জনকে আঙুলের ছাপে শনাক্ত করা হয়।

বসুন্ধরায় ১৩৮ কাঠা জমি আবদুল হাই বাচ্চুর, বিক্রির চেষ্টা করছেন

১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ১৩৮ কাঠা জমির মালিক বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত প্রধান ব্যক্তি ও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু। এই জমি বিক্রির জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। দ্রুততম সময়ে যাতে এ জমি বিক্রি করা যায়, সে জন্য একাধিক লোকও নিযুক্ত করেছেন।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে শেখ আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ৫৮টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক, বেসিক ব্যাংক সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযোগপত্র দাখিলের পরপরই দুই প্লটের ওই জমি বিক্রির তোড়জোড় শুরু হয়। যদিও চার মাস ধরে চেষ্টা করেও যথাযথ ক্রেতার সন্ধান পাননি শেখ আবদুল হাই। একবারে কেউ টাকা শোধ করলে বাজারদরের চেয়ে সস্তায় ওই জমি বিক্রি করতে তিনি রাজি বলেও জানা গেছে। তাঁর পক্ষে এ জমি বেচার দায়িত্ব পালন করছেন বাবুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি। বসুন্ধরার স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি আবদুল হাইয়ের সম্পত্তি দেখাশোনা করার ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত।

গুলশান ছাত্রলীগ সভাপতি হেলালের রাজকীয় জীবন

১৮ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

দৃশ্যমান কোনো আয় নেই। তবে তুলনামূলক একটি ভালো পদে আছেন তিনি– রাজধানীর গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি। এই পদটিই তাঁর কাছে আলাদিনের চেরাগ হয়ে ধরা দিয়েছে। এখন তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করেন। থাকেন নিজস্ব অভিজাত ফ্ল্যাটে, চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে। ঘুরতে যান উন্নত দেশে। স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকার পরও সম্পদের গরমে আরও একটি বিয়ে করেছেন।

মোস্তাফা হোসেন হেলালের এই উত্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীও বিস্মিত। চার বছর ধরে রাজধানীর গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পদ ধরে রেখেছেন তিনি। তাঁর নামে চাঁদাবাজি ছাড়াও রয়েছে নানা অভিযোগ। তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে হতাশ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, সরকারি তিতুমীর কলেজে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১০-১১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন হেলাল। তিনি কীভাবে এখনও ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তা রহস্যে ঘেরা। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বয়স ২৯ পেরোলে সংগঠনের পদে থাকা যায় না। সমকালের হাতে আসা হেলালের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্মতারিখ ১৯৮৯ সালের ২ মার্চ। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই দায়িত্ব পাওয়ার সময়ই তাঁর বয়স ছিল ৩০ বছর। বর্তমানে বয়স ৩৪ বছর সাত মাস।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলশান থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার আগে হেলাল মধ্যবাড্ডা এলাকায় পোস্ট অফিস গলিতে সিডি ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান চালাতেন। ওই গলিতে অন্তরা আক্তার নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে তাঁর দুই ছেলেসন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর হেলাল গুলশান-১-এর নাভানা টাওয়ারের ১৯ তলায় একটি স্পা সেন্টারে বেশি সময় কাটাতেন। পরে তিনি ওই স্পা সেন্টারের মালিককে বিয়ে করেন। গুলশান এলাকায় ২৫টি স্পা সেন্টার থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগ আছে হেলালের বিরুদ্ধে।

কয়েকটি স্পা সেন্টারের মালিক জানান, হেলালকে প্রতি মাসে চাঁদা না দিলে সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবাই ভয়ে চাঁদা দেন। এ ছাড়া হেলাল ব্যবসায়ীদের টাকা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে তদবির বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি করেন। এভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তাঁর ৪২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে গত জানুয়ারিতে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে।

‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ আইএফআইসির বন্ড নয়

নভেম্বর ২৩, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গাজীপুরে একটি বিশাল আবাসন প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহের জন্য চোখ ধাঁধানো রিটার্ন দিয়ে বন্ড ইস্যু করেছে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। তবে, এক হাজার কোটি টাকা তোলার জন্য বন্ডটি যেভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ প্রচারণা দেখে মনে হয়েছে, একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই বন্ড ইস্যু করেছে, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নয়।

দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির অংশীদার এবং ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডার, তাই এখানে স্বার্থ সংঘাতের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এ বন্ডের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু, এটি ব্যাংকটির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যে ব্যাংকের শেয়ার সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের চেয়ে সরকার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতেই বেশি।

গত সপ্তাহে বেসরকারি খাতের আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি পাঁচ বছর মেয়াদি আইএফআইসি আমার বন্ডের সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে, অর্থাৎ এক হাজার কোটি টাকার সব বন্ডই মাত্র এক মাসের মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।

এই বন্ডের বিপরীতে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে সুদ (এটি ডিসকাউন্ট রেট নামে পরিচিত) দেওয়ার কথা রয়েছে। এই সুদের হার জাতীয় সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকে আমানতের হার ও অন্যান্য করপোরেট বন্ডে দেওয়া সুদের হারের চেয়ে বেশি।

কিন্তু বড় বিষয় হলো আইএফআইসি ব্যাংক এই বন্ড ইস্যু করেনি। মূলত রিয়েল এস্টেট কোম্পানি শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড (এসটিএল) এই বন্ডের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছে। যে কোম্পানিটি চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আইএফআইসি ব্যাংক এই বন্ডের গ্যারান্টি দিচ্ছে, যদিও টাউনশিপ তৈরি করা তো দূরের কথা কোনো ফ্ল্যাট নির্মাণ বা কোনো প্লট তৈরির অভিজ্ঞতাও কোম্পানিটির নেই।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশে জিরো কুপন বন্ড ইস্যুকারী কোনো কোম্পানি কখনো কোনো ব্যাংকের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য গ্যারান্টি চায়নি। প্রকৃতপক্ষে, ডেট সিকিউরিটিজ রুলস অনুসারে গ্যারান্টি নেওয়ার প্রয়োজনও হয় না। এতে কোম্পানির খরচও বেড়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই বন্ডকে ‘খেলাপির উচ্চ ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় মৌখিকভাবে এসটিএলকে গ্যারান্টার নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তিনি যদি আইএফআইসির শীর্ষ নির্বাহী হতেন, তাহলে কখনোই আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহার করে এমন একটি কোম্পানিকে গ্যারান্টি দিতে দিতেন না।

তার মতে, এসটিএল আইএফআইসি ব্যাংকের সুনাম ব্যবহার করে টাকা তোলার গ্যারান্টি পেয়েছে এবং জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা টাকা ফেরত দিতে গিয়ে খেলাপি হবে না।

বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেদের জালিয়াতি ঢাকতে রংধনু গ্রুপের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে

২৩ নভেম্বর ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বসুন্ধরা গ্রুপ জালজালিয়াতি ও ভূমিদস্যুতার মাধ্যমে গত ৩০ বছরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। হাজার হাজার মানুষের জমিতে জোর করে বালু ফেলে ভরাট করে নিজেদের কবজায় রেখেছে গ্রুপটি। এ জমিগুলো দখল করার পর সেখানে বড় বড় বাউন্ডারি নির্মাণ করে তারা সন্ত্রাসীদের দিয়ে পাহারা বসিয়েছে। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নে একই কায়দায় গ্রুপটি কবজায় নিয়েছে ২ হাজার ৫০০ বিঘা জমি। এর সিংহভাগ তারা বিক্রি করে দিয়েছে। এখন চোখ পড়েছে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের আরও প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমির ওপর। নিরীহ গ্রামবাসীকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে ওই জমিগুলো দখলে নিতে চাইছে ভূমিদস্যু গ্রুপটি।

কায়েতপাড়ার নাওড়া গ্রামে জন্ম রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলামের। এ গ্রামের মানুষ বংশপরম্পরায় রফিকুল ইসলামের আত্মীয়। স্থানীয়রা যখন তাদের ভিটেমাটি, জমি হারানোর ভয়ে ভীত, ঠিক তখনই রফিকুল ইসলাম তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। আর তাতেই তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তাব্যক্তিরা। সেখান থেকেই শুরু রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, মামলা আর দমনপীড়ন। বসুন্ধরা গ্রুপ মনে করে, রফিককে গ্রামে ঢুকতে না দিলে তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে গ্রামবাসীর জমি দখল করে নেওয়া সহজ হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে জমি কিনে প্রতারিত হওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক। লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে বসুন্ধরা-বারিধারা প্রকল্পের প্রায় ৪ হাজার প্লট বিক্রি করে গ্রুপটি। সাধারণ মানুষ তাদের সারা জীবনের উপার্জন দিয়ে এ প্লটগুলো কিনেছিল। কিন্তু মালিকানা বুঝে নিতে গিয়ে ওই মানুষগুলো দেখতে পান বসুন্ধরা গ্রুপ তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যে ব্লকের প্লট দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল সেখানে আর প্লট নেই। সব প্লট বালু নদের ওপারে নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত কায়েতপাড়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কোনো ক্রেতা এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ১২ লাখ টাকায় কেনা ৩ কাঠা জমির সেই টাকা ফেরত নিয়ে যেতে বলছে। অথচ যে জমি দেখিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপ টাকা নিয়েছিল তার বাজারমূল্য এখন ৩ কোটি টাকা। আর যেখানে এখন প্লট বরাদ্দ দিয়েছে সেখানে ১ বিঘা জমির বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এ জমিগুলো বসুন্ধরা গ্রুপ ভয়ভীতি দেখিয়ে কম মূল্যে গ্রামবাসীর কাছ থেকে কিনে নিয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরে ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমি দখল করে রেখেছে তারা। মূল মালিকরা জমি বিক্রি না করলেও জাল দলিলের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকে জাল দলিল দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। শুধু সাধারণ মানুষের জমি দখলই নয়, সরকারের বিপুল পরিমাণ খাসজমির দখল এখন বসুন্ধরা গ্রুপের হাতে। খাল ভরাট করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে গ্রুপটি।

ধলেশ্বরীর তীরে শিপইয়ার্ড জমি দখল এমপির ছেলের

২৬ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

মুন্সীগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জে (মোল্লারচর) ধলেশ্বরীর তীরে গড়ে উঠছে জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গ্লোব শিপইয়ার্ড। অভিযোগ উঠেছে, শিপইয়ার্ডটি গড়ে তোলা হচ্ছে স্থানীয়দের জমি দখল করে। গত ২২ অক্টোবর এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েক ব্যক্তি।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখার তথ্য অনুযায়ী, গ্লোব শিপইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক হলেন ওমর হাজ্জাজ গং। চট্টগ্রাম-১১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের বড় ছেলে তিনি। শিপইয়ার্ডটি নির্মাণ শুরু হয় ২০১৬ সালে। দুই থেকে আড়াই একর জমির ওপর কার্যক্রম শুরু হলেও এখন এই শিপইয়ার্ডের সীমানা প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, বিশাল এই জায়গার মধ্যে রয়েছে বেশকিছু ফসলি জমি, যা নানা কৌশলে দখল করা হয়েছে।

অপাত্রে প্রশিক্ষণ, গচ্চা বিপুল টাকা

২৯ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রংপুরের পীরগঞ্জে কাদিরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজোয়ান হোসেন। গ্রামের সচ্ছল পরিবারের সন্তান। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার সঙ্গে যুক্ত নয় সে। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সেই পেশা থেকে সরিয়ে আনতে সরকারের দেওয়া প্রশিক্ষণ তালিকায় তার নাম। ১০ মাস সে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। প্রতি মাসে পেয়েছে এক হাজার টাকা করে শিক্ষাবৃত্তিও।

রেজোয়ানের বাবা আখতারুজ্জামান গরু ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজে যুক্ত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছেলেকে সেলাই মেশিনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অন্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলে কাজে আসত। বাড়িতে সেলাই মেশিন নেই। যা শিখেছে, তা কাজে আসেনি। প্রশিক্ষণকালে ছেলেটা কিছু টাকাপয়সা পেয়েছে, এটাই লাভ হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত শিশুদের সরিয়ে ঝুঁকিমুক্ত কাজ করে আয়ের পথ করে দিতে ২০১৮ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের নাম ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন (চতুর্থ পর্যায়)’। সরকারি তহবিল থেকে এর অর্থায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় জরিপের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী ১ লাখ শিশুকে নির্বাচিত করা হয়। এসব শিশুকে নয়টি বিষয়ের ওপর ছয় মাসের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা এবং চার মাসের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগামী মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

চতুর্থ পর্যায়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে কক্সবাজার ও ফরিদপুর পৌরসভা এবং রংপুরের হারাগাছ পৌরসভা ও পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্পের কাজ হয়। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, জরিপের মাধ্যমে শিশুদের তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে এই প্রকল্পের কাজ পরিচালনায় ১১২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে (এনজিও) নিয়োগ দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। নির্বাচিত শিশুদের ২০টি তালিকা থেকে দৈবচয়ন–পদ্ধতিতে ২২টি শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। দেখা গেছে, একটি শিশুও কোনোদিন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত ছিল না এবং এখনো নেই। তারা সবাই শিক্ষার্থী।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি সচিবালয়ে শ্রমসচিব এহছানে এলাহীর সভাপতিত্বে এ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) তৃতীয় সভায় শিশু জরিপ প্রতিবেদনের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন উপস্থিত কর্মকর্তারা। সভায় একটি উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, ‘অ্যাকশন ফাইভ’ নামের একটি এনজিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে শিশুশ্রমিকদের ওপর জরিপ করে। তালিকায় ১ হাজারের বেশি নাম থাকলেও সেখান থেকে ৩৬৬ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় মাত্র ২৫ জন এই প্রশিক্ষণ পাওয়ার যোগ্য।

পণ্য রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচার

০২ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ময়মনসিংহের এক পোশাক কারখানার নাম ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের ২২৫ চালান পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানি মূল্য সাড়ে ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার বা ৭৫ কোটি টাকা দেশে আসেনি। চালানগুলো গেছে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (ইউএই) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

ময়মনসিংহের ভালুকার লুপডট ফ্যাশন লিমিটেডের দুটি চালান আটক করার পর এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রপ্তানিকারক ও রপ্তানিকারকের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

জালিয়াতি ধরা পড়ার পর লুপডট ফ্যাশনের প্রতিনিধি লিখিতভাবে জানান, তাঁরা এসব চালান রপ্তানি করেননি। তাঁদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ এসব চালান পাঠিয়েছে। অন্যদিকে কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কারও পক্ষে এভাবে পণ্য রপ্তানির সুযোগ নেই। রপ্তানিকারক অস্বীকার করার অর্থ, এই রপ্তানি আয় দেশে আসেনি, আসার সম্ভাবনাও নেই।

জানতে চাইলে কাস্টমসের উপকমিশনার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী গত বুধবার বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি জালিয়াতির বিষয়টি উদ্‌ঘাটন করেছি। চালানগুলোর বিপরীতে দেশে অর্থ আসেনি। তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অপরাধের ধরন অনুযায়ী কাস্টমস অ্যাক্ট, মুদ্রা পাচার ও ফৌজদারি আইনে মামলা হতে পারে।’

নগদ টাকা ও সম্পদে ফুলেফেঁপে সবাই

০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

গত পাঁচ বছরে আয় কমলেও সম্পদ বেড়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের। এখন বছরে তিনি ২৬ লাখ টাকা আয় করলেও ২০১৮ সালে করতেন ৩৫ লাখ টাকার বেশি। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ। তাঁর আয়ের একটি বড় উৎস কৃষি। এই খাতে বছরে ২৫ লাখ টাকার বেশি আয় করেন তিনি। পাঁচ বছরে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী আবদুস সালাম মুর্শেদীর। রাজশাহীর এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ২০১৮ সালে ব্যাংকে এক টাকাও জমা ছিল না। কিন্তু এখন তাঁর ব্যাংকে রয়েছে ৯ কোটি টাকা! দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

পাঁচ বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪৩ কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী আবদুস সালাম মুর্শেদীর। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে হলফনামায় দেওয়া হিসাব বিবরণীতে তাঁর সম্পদ ছিল ৯৫ কোটি ১১ লাখ টাকার। গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়।

সাড়ে তিন বছরেই রাটিংয়ের কবলে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়ক

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়ক ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘‌জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক’। মহাসড়কটি নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হয়েছে ২০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মহাসড়কটির প্রতি কিলোমিটার পেভমেন্ট বা পিচের পেছনে খরচ হয়েছে কিলোমিটারপ্রতি ২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। নকশা অনুযায়ী, সড়কটির পিচের স্থায়িত্ব হওয়ার কথা ২০ বছর। যদিও ২০২০ সালের মার্চে চালু হওয়া ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালুর সাড়ে তিন বছর পেরোতেই ‘‌রাটিং’ দেখা দিতে শুরু করেছে। এতে মহাসড়কটিতে যাতায়াত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, তেমনি দেখা দিয়েছে বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও।

সীতাকুণ্ডের ওসির ‘চাঁদাবাজি’ ১৯৬ কারখানায়, মাসে ওঠে দেড় কোটি টাকা

০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

সীতাকুণ্ডের ওসির ‘চাঁদাবাজি’ ১৯৬ কারখানায়, মাসে ওঠে দেড় কোটি টাকা

ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড শিল্প এলাকায় যেন এটাই নিয়ম।

চাঁদাবাজির অভিযোগ পুলিশের সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীতাকুণ্ড থেকে প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। সেখানকার ১৯৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, চোরাই জ্বালানি তেল ও জাহাজের পুরোনো আসবাব বিক্রির দোকান, ড্রামের কারখানা, পুরোনো লোহা বিক্রেতা, পরিবহনচালক—কেউই বাদ যান না চাঁদাবাজি থেকে।

অবশ্য চাঁদার হার ভিন্ন ভিন্ন। কাউকে দিতে হয় দুই হাজার টাকা, কারও কারও কাছ থেকে নেওয়া হয় এক লাখ টাকা।

চাঁদাবাজির শিকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তালিকা ধরে ১১টি কারখানার মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মকর্তারা চাঁদা দিতে বাধ্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অস্বীকার করেছেন একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেছেন, তাঁর কারখানা বন্ধ থাকায় এখন চাঁদা দিতে হয় না।

ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন

১০ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নেওয়া ঘুষের প্রায় ১০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি জাকির হোসেন। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে মন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠজন ভুক্তভোগী আবু সুফিয়ানের কাছে টাকা ফেরত দেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ৭ ডিসেম্বর ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে পাওনাদারদের প্রতিমন্ত্রীর বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। ওইদিন ভুক্তভোগী তিনজনের মধ্যে দু’জন মন্ত্রীর বাসা থেকে নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে যান। আবু সুফিয়ান নামে একজন প্রাণ বাঁচাতে মন্ত্রীর বাসার দেয়াল টপকে ডিবি কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। এ সময় তাঁকে আটক করেন ডিবি সদস্যরা।

 দেশে আসেনি পণ্য রপ্তানির ১,২০০ কোটি ডলার : বাংলাদেশ ব্যাংক

১১ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির ১ হাজার ১৯৯ কোটি বা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার অর্থ দেশে ফেরেনি। দেশিয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা (১ ডলার= ১১০.২৫ টাকা)। আর সেবা রপ্তানির ৯ কোটি ডলার বা ৯৯২ কোটি টাকাও দেশে আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি বাবদ ৩ কোটি মার্কিন ডলার কম এসেছে। যদিও রপ্তানি বেড়েছিল ৩৪৮ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) দেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানির পরিসংখ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৫৭ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার মানে ওই অর্থবছরের রপ্তানির ১ হাজার ১৯৯ কোটি ডলার দেশে আসেনি।

এক ভবন উদ্বোধনেই সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা খরচ

১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভবন উদ্বোধনেই ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা খরচ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের একাডেমিক ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ খরচ দেখানো হয়েছে। তবে এ খরচ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে নানা সমালোচনা। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা এটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলছেন, ভবন উদ্বোধনে এত টাকা খরচ করা অস্বাভাবিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি দপ্তরের নথিপত্রে দেখা যায়, ভবনটি উপলক্ষে উপাচার্যের নির্দেশে দুই দফায় টাকা নিয়েছেন প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার। প্রথম দফায় টাকা নেন ৩০ মে। ওই দিন পরিকল্পনা উন্নয়ন দপ্তরের এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষামন্ত্রীর সফর উপলক্ষে গঠিত কমিটির সদস্যসচিবকে (প্রক্টর) ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার জন্য উপাচার্য শিরীণ আখতার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন টাকা তোলেন প্রক্টর।

আর দ্বিতীয় ধাপে টাকা নেন ১৮ সেপ্টেম্বর। ওই দিন হিসাব নিয়ামক দপ্তরকে দেওয়া এক চিঠিতে প্রক্টর নূরুল আজিম সিকদার উল্লেখ করেন, ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে ৩৩ লাখ টাকা তিনি নিয়েছিলেন তা দিয়ে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়নি। দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আনুষঙ্গিক অতিরিক্ত খরচের কারণে আরও ১১ লাখ টাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ ভবন উদ্বোধনের খরচ হয়েছে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

এক যুগ পর সিকদার পরিবারের কর্তৃত্বের বাইরে ন্যাশনাল ব্যাংক

ডিসেম্বর ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

এক যুগের বেশি সময় ধরে সিকদার পরিবারের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের হাত ধরে সৃষ্টি হওয়া সে কর্তৃত্বের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বেসরকারি এ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির জন্য সাত সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করে দেয়া হয়েছে।

পর্ষদ ভেঙে দেয়ায় প্রয়াত জয়নুল হক সিকদারের স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিচালক পদ হারিয়েছেন জয়নুল হক সিকদারের ছেলে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার। ওই পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে কেবল পারভীন হক সিকদার ব্যাংকটির নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। তিনি জয়নুল হক সিকদারের কন্যা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ঋণ অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতার অপব্যবহার, পরিচালক নির্বাচনে জটিলতা সৃষ্টি, আমানতকারীদের স্বার্থ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হলো। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১৫ বছরে ব্যাংক থেকে ৯২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট

২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩—এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট–বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ব্যাংক খাত থেকে অনিয়মের মাধ্যমে বের করে নেওয়া এ অর্থ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের ১২ শতাংশের বেশি। অথচ এ অর্থে অনায়াসে বাজেট–ঘাটতি মেটানো সম্ভব হতো।

দেশের মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের অনিয়মের এ তথ্য তুলে ধরেছে সিপিডি। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘অর্থনীতির চলমান সংকট ও করণীয়’বিষয়ক ব্রিফিংয়ের ব্যাংকসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের চিত্র তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। আর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক খাত, মূল্যস্ফীতি, বহিঃখাত ও শ্রম খাত—অর্থনীতির এ চার সূচকে এখন বড় ধরনের সংকটে। এ চার সূচকের মধ্যে ব্যাংক খাত বৈকল্য দশায় পড়েছে। মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার ছুটে চলা অব্যাহত রয়েছে, বহিঃখাত পঙ্গুত্বের ভেতরে পড়ছে আর শ্রম খাতে অন্ধত্ব বা স্থবিরতা বিরাজ করছে।

বিদেশে সম্পদ থাকা সেই মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী

২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

একজন মন্ত্রীর বিদেশে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা রয়েছে বলে গত মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তথ্য  দিয়েছিল। তিনি হলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। সমকালের নিজস্ব অনুসন্ধানে সাইফুজ্জামান নিজে পরিচালক এমন আটটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হওয়া গেছে, টিআইবির কাছে ভূমিমন্ত্রীর বিষয়েই তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে ও বিস্তারিত তথ্য না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানিয়েছিল, এক মন্ত্রীর বিদেশে ছয় কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে। এসব কোম্পানির সম্পদের মূল্য ১৬ কোটি ৬৪ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। এসব সম্পদের তথ্য তিনি নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করেছেন। গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা ওই মন্ত্রীর নাম, কোন দেশে তাঁর বিনিয়োগ আছে এবং কোম্পানিগুলোর নাম জানতে চেয়েছিলেন। তবে টিআইবি নাম প্রকাশ না করে বলেছিল, সরকারের কোনো সংস্থা চাইলে তারা তথ্যপ্রমাণ দেবে।

সমকাল জানতে পেরেছে, লন্ডনে মন্ত্রী জাবেদের কোম্পানি ছয়টি না; আটটি। কোম্পানিগুলোর সম্পদমূল্য ২০ কোটি ৩১ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। স্ত্রী রুখমিলা জামান এবং মেয়ে জেবা জামানের নামেও কোম্পানি খুলেছেন তিনি। এ ছাড়া পারিবারিক মালিকানায় থাকা ব্যবসায়িক গ্রুপ আরামিটের নামেও একটি কোম্পানি খুলেছেন।

সিকদার ইন্স্যুরেন্স: নিয়ম ভেঙে ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ, তবু আইপিও অনুমোদন

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

সিকদার ইন্স্যুরেন্সের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ম ভেঙে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছে। তারচেয়েও বড় বিষয় হলো এই বিনিয়োগের সিংহভাগই করা হয়েছে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ন্যাশনাল ব্যাংকে। যে ব্যাংকের মালিকানাতেও আছেন সিকদার পরিবারের সদস্যরা।

বিমা প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল ব্যাংকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে গিয়ে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের যে ন্যূনতম সীমা আছে তা পূরণ করতে পারেনি।

আইনভঙ্গের এত নজির থাকার পরও বিমা কোম্পানিটি জনগণের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন দিয়েছে।

টাকা তোলার পথ প্রশস্ত করতে একটি রেটিং এজেন্সি বিমা প্রতিষ্ঠানটিকে বেশি ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে। নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান বা অডিটর এসব নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে আপত্তি জানায়নি। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষও (আইডিআরএ) বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।

ছয় মাসে তিন হাজার নারীর ভিডিও ধারণ

২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

রাজধানীতে ‘উইমেন্স ওয়ার্ল্ড’ বিউটি পার্লারের ধানমন্ডি শাখার সেবাকক্ষে ছয় মাস আগে গোপন ক্যামেরা বসায় কর্তৃপক্ষ। ওই শাখায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ নারী সেবা নিতে যেতেন। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার নারীর অজ্ঞাতে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর পার্লারটি থেকে ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) জব্দ করেছে পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেখানে বিপুলসংখ্যক নারীর স্পর্শকাতর ভিডিও পাওয়া গেছে।

এদিকে ঘটনার পর ধানমন্ডি শাখা বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির অন্য ছয়টি শাখা। গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে মামলায় প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর পার্লারের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসলিমা চৌধুরী কণা আলম এবং তাঁর মেয়ে পরিচালক ফারনাজ আলমকে খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই শাখায় সাধারণত প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন সেবা নিতে গেলেও বন্ধের দিনগুলোতে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যেত। দিনে ১৫ জনের হিসাবে ছয় মাসে অন্তত ২ হাজার ৭০০ নারীর স্পর্শকাতর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অন্তত ২৬০ সম্পত্তির মালিক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

যুক্তরাজ্যে অন্তত ২৬০টি সম্পত্তি রয়েছে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের। এসবের জন্য তিনি পরিশোধ করেছেন অন্তত ১৩৪ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন পাউন্ড বা এক হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোম্পানি ফাইলিংয়ের তথ্য থেকে এ হিসাব পেয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।

আওয়ামী লীগের তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) জাভেদ যুক্তরাজ্যের সম্পদের বিপরীতে আরও অন্তত ৫৩৭টি মর্টগেজ রেখেছেন। সম্পদগুলোর বেশিরভাগই লন্ডনে।

তবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দেওয়া হলফনামার সঙ্গে তিনি যে আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন, সেখানে তার কোনো বৈদেশিক আয় নেই বলা হয়েছে।

হলফনামায় বলা হয়েছে, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় মাত্র এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা। হলফনামায় স্ত্রী ও সন্তানের মতো নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় প্রকাশের নিয়ম থাকলেও মন্ত্রী তা প্রকাশ করেননি।

এতে আরও বলা হয়েছে, জাভেদ ও তার স্ত্রীর যৌথভাবে মাত্র ১৭ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার ও ডিবেঞ্চার রয়েছে, যা যুক্তরাজ্যে তার যে মোট বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে, এর তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ কম।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভূমিমন্ত্রী জাভেদ। এসব বিষয়ে জানতে তার নম্বরে ফোন করলে তিনি ধরেননি এবং মেসেজ দিলেও জবাব দেননি।

যুক্তরাজ্যে তার যে সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলো অন্তত আটটি কোম্পানির কেনা। এসব কোম্পানির প্রতিটিতেই ভূমিমন্ত্রীর উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব রয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো—আরামিট প্রপার্টিজ, রুখমিলা প্রপার্টিজ, সাদাকাত প্রপার্টিজ, নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেড, জিটিএস প্রপার্টিজ, জেবা প্রপার্টিজ, জিটিজি প্রপার্টি ভেঞ্চারস লিমিটেড ও জারিয়া প্রপার্টিজ। এসব কোম্পানি ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উত্তরায় তিন পুলিশের নেতৃত্বে ২০০ ভরি সোনা লুট

০৩ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

রাজধানীর উত্তরায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর ২০০ ভরি সোনা লুটের ঘটনায় পুলিশের তিন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ওই এসআইসহ পুলিশের আরও এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে সোনা লুটের ঘটনাটি ঘটেছে।

বিদেশে এস আলমের সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান পেছাল, ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

অনুমতি ছাড়া সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তর নিয়ে এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও তিন সপ্তাহ স্থিতাবস্থায় রাখতে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দেন।

সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন সিঙ্গাপুরে কমপক্ষে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন বলে দ্য ডেইলি স্টারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এস আলম গ্রুপ কখনোই বিদেশে বিনিয়োগ বা তহবিল স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নেয়নি।

‘গায়েবি’ রপ্তানি, আত্মসাৎ ৩০ কোটি টাকা

১৬ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যভান্ডারের হিসাবে ২০২০ সালে আলু রপ্তানিতে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল রাজধানীর মতিঝিলের অন্তরা করপোরেশন। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি ৯৬টি চালানে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করে।

অবশ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস তদন্ত করে প্রমাণ পেয়েছে, আসলে অন্তরা করপোরেশন একটি আলুও রপ্তানি করেনি। বরং জাল নথিপত্র জমা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে তারা আলু রপ্তানির বিপরীতে সাড়ে সাত কোটি টাকা নগদ সহায়তা নিয়েছে।

অন্তরা করপোরেশনের মতো ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস জানতে পেরেছে, এসব প্রতিষ্ঠান ৪২২টি চালানে ১ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা) আলু রপ্তানি দেখিয়েছে, যা পুরোটাই ছিল ‘গায়েবি’। কোনো রপ্তানি না করেই তারা সরকারের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকার বেশি নগদ সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।

‘গায়েবি’ আলু রপ্তানির বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১০টি

প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আরও ৪৮টির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো তদন্ত শেষ হলে আরও জালিয়াতি ও আরও বিপুল অর্থ আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী প্রথম আলোকে বলেন, তাদের ২০টি দল জালিয়াতি নিয়ে তদন্ত করছে। যে কয়েকটির তদন্ত শেষ হয়েছে, সেসব রপ্তানিকারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ‘গায়েবি’ রপ্তানির ক্ষেত্রে আলুকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলু রপ্তানিতে সরকার ২০ শতাংশ সহায়তা দেয়। এ ক্ষেত্রে হয়তো জালিয়াতিতে ঝুঁকি কম মনে করেছে চক্রটি।

রপ্তানির ‘অর্ধেকই গায়েবি’

অপ্রচলিত বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকার নগদ সহায়তা দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৩টি পণ্য নগদ সহায়তা পাচ্ছে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাওয়া পণ্যের একটি আলু। মানে হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ১০০ টাকার আলু রপ্তানি করলে ২০ টাকা সরকার ভর্তুকি দেয়।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ৫ কোটি ৮ লাখ ডলারের আলু রপ্তানি হয়, যা তখনকার মূল্যে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৩৭ কোটি টাকার সমান।

বাংলাদেশ থেকে যত আলু রপ্তানি হয়, তার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ যায় চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে। সেখানে বেসরকারি ডিপোতে (পণ্য রাখার জায়গা) আলু কনটেইনারে ভরা হয়। তখন আলুর নমুনা পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যসনদ দেয় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র।

উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের রপ্তানির হিসাবের সঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। যেমন এনবিআরের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়নের পর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫৫ টন আলু। তবে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের হিসাবে, তারা ৫১ হাজার ৪৪৫ টন আলু রপ্তানির সনদ দিয়েছে।

২০১৮-১৯ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত চার অর্থবছরে এনবিআরের তথ্যের সঙ্গে উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের রপ্তানির হিসাবের পার্থক্য ৫৯ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই ৫৯ শতাংশ রপ্তানি আসলে ‘গায়েবি’। চট্টগ্রাম কাস্টমস ২০২০-২১ অর্থবছরের আলু রপ্তানি বিষয়ে তদন্ত করে এখন পর্যন্ত ৩৭ শতাংশ রপ্তানি ‘গায়েবি’ বলে শনাক্ত করেছে।

উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রপ্তানির আলু কনটেইনারে ভরার আগে নমুনা পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যসনদ দিই আমরা। বাস্তবে কত আলু রপ্তানি হয়েছে, তা এই স্বাস্থ্যসনদ দেওয়ার পর হিসাব করে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এখানে ভুল হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

মৃত মানুষের সইয়ে রপ্তানি

আলু রপ্তানিতে জালিয়াতির তদন্ত করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা আশ্চর্যজনক নানা ঘটনা পেয়েছেন। যেমন ‘গায়েবি’ রপ্তানি তথ্যভান্ডারে দেখাতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের পরিচয় (আইডি ও পাসওয়ার্ড) ব্যবহার করেছে জালিয়াত চক্র। ব্যবহার করা হয়েছে মৃত মানুষের সইও।

অন্তরা করপোরেশন ছাড়াও জালিয়াতি করে রুচিকর অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্টস ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, টাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, তাসা ওয়ার্ল্ড বিডি এক্সপো সাড়ে ৩ কোটি টাকা, ম্যাজিস্টিক এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, এমবি অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা, মিয়াজী ফুড প্রোডাক্টস ৫ কোটি টাকা, এম আর ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, কাশ্মেরি অ্যাগ্রো ফুড ৪৫ লাখ টাকা এবং আফান ফুড ৯১ লাখ টাকা নগদ সহায়তা নিয়েছে।

অন্তরা করপোরেশনের জালিয়াতি নিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ছয় সদস্যের কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গত বছরের ২৯ অক্টোবর। তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে ৪ হাজার ১৫ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য ও দলিলাদি যুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাস্টমস কর্মকর্তাদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এনবিআরের তথ্যভান্ডারে (অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম) অন্তরা করপোরেশনের আলু রপ্তানি দেখানো হয়েছে। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ২২ দিন পর এক কাস্টমস কর্মকর্তার সই ব্যবহার করা হয়েছে রপ্তানি নথিতে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্তরা করপোরেশন সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রায় ৪৭ লাখ মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে এনেছে, যদিও রপ্তানি করেনি। রপ্তানি না হলেও আয় আসে কীভাবে, সে বিষয়ে সন্দেহের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরেছেন কর্মকর্তারা। বলা হয়েছে, দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার করে আবার ফেরত আনা হতে পারে। এতে যেমন কালোটাকা সাদা হয়, তেমনি ২০ শতাংশ নগদ সহায়তাও পাওয়া যায়।

অন্তরা করপোরেশনের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ঢাকার মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার ১২-১৩ নম্বর ভবনের (রহমান চেম্বার) ষষ্ঠ তলা। সোমবার বেলা তিনটার দিকে সেখানে গেলে জানানো হয় অন্তরা করপোরেশনের মালিক মো. মুশতাক খান কার্যালয়ে নেই। এক কর্মী মুঠোফোনে তাঁর (মুশতাক) সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।

মুশতাক খান বলেন, কাস্টমসের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রপ্তানি করেই রপ্তানি আয় দেশে আনা হয়েছে। মারা যাওয়ার ২২ দিন পর কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কাস্টমস বলতে পারবে। তারা কেন, কীভাবে করেছে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।’

মিয়াজী ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ৬৩টি চালানের সাড়ে ৩২ লাখ ডলারের রপ্তানিকে ‘গায়েবি’ বলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। তাদের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে মতিঝিলের শাপলা ভবনে। রোববার দুপুরে গিয়ে পাওয়া যায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মামুন মিয়াজিকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রপ্তানি না করে নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, তিনি এখন আর কোনো পণ্যই রপ্তানি করছেন না। ফল, আদা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির চেষ্টা করছেন।

জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত আরেক প্রতিষ্ঠান আফান ফুডের ঠিকানা মতিঝিলের খান ম্যানশনে। রোববার বিকেলে ভবনটিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভবনটির একজন নিরাপত্তারক্ষী বলেন, আগে কোম্পানিটি ওই ভবনে ছিল। এখন আর নেই।

‘গায়েবি’ রপ্তানির গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তদন্তে যেসব ‘গায়েবি’ রপ্তানি শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগের গন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে সংযুক্ত আরব-আমিরাত ও মালয়েশিয়া। যেমন ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘গায়েবি’ রপ্তানির ৬৪ শতাংশ আলুর গন্তব্য দেখানো হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। প্রায় ২৫ শতাংশের গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পাচার করা অর্থের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাই। দুবাই চেম্বারের হিসাবে, সেখানে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন কোম্পানি সংখ্যা ১০ হাজার ৯৭৫। অভিযোগ আছে, কেউ কেউ কাগুজে কোম্পানি খুলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। মালয়েশিয়ায়ও বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

আলুর আগে মুড়ি, সুপারি, মসলা, তৈলবীজসহ বিভিন্ন পণ্যের ‘গায়েবি’ রপ্তানি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। সরকার নানা পণ্যে বছরের পর বছর নগদ সহায়তা দিয়ে গেলেও রপ্তানি আয় খুব একটা বাড়ছে না। বরং জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, এমন ঘটনা সামগ্রিক কৃষিপণ্যের রপ্তানি নিয়ে ভুল বার্তা দিচ্ছে। কারণ, রপ্তানি না করে নথিপত্রে নাম ওঠানোয় মনে হবে, দেশে পর্যাপ্ত আলু রয়েছে। এ ধরনের তথ্য সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, যাতে সামনে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

নান্দোস, পেয়ালার ‘ব্যবসায় বাধা দেওয়ায়’ ফুডপান্ডাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

১৬ জানুয়ারি ২০২৪, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

বাজারে নিজের প্রভাবশালী অবস্থান অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ লঙ্ঘন করার জন্য অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)।

খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে এমজিএইচ রেস্টুরেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের তিন বছর আগে দায়ের করা অভিযোগের বিষয়ে কমিশন চূড়ান্ত রায় দেওয়ার পর জরিমানার এই সিদ্ধান্ত এলো।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিসিসি চেয়ারম্যান প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘ফুডপান্ডা নিঃসন্দেহে বাজারের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নান্দোস এবং পেয়ালার মতো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি করেছে। এই দুটি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট ব্র্যান্ডের মালিক এমজিএইচ রেস্টুরেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড।’

১০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ফুডপান্ডার ওপর বিধিনিষেধও আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ফুডপান্ডা এখন থেকে অন্য খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে রেস্তোরাঁগুলোকে বাধা দিতে পারবে না।

চাষির গোলা খালি, কার গুদামে ধান

১৯ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

আমন ধানের চালে এই সময়ে ভরপুর থাকে বাজার। এ কারণে দামের পারদও নামার কথা। তবে রেকর্ড আমন উৎপাদনেও এবার চালের দরে উল্টোবাঁক। বছরের শুরুতে ভরা মৌসুমে চালের বাজারে কেন এমন ‘লু হাওয়া’ বইছে, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।

চাল সরবরাহে টান না থাকলেও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকা– সর্বত্র চড়েছে দাম। পাইকার আর মিলার, দু’পক্ষই পরস্পরকে দাম বাড়ার পেছনের ‘অনুঘটক’ ভাবছে। কেউ কেউ দোষ চাপাচ্ছে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও লাইসেন্সহীন মজুতদারদের ওপর।

এদিকে উৎপাদন ভালো হওয়ায় এ বছর চাল আমদানিতে নজর দেয়নি সরকার। খাদ্যগুদামেও দিন দিন কমছে মজুত। এ পটভূমিতে চালের বাজার আরও বেসামাল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দাম বাড়ার এ সময়ে উৎপাদন এলাকার মিলার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ধান-চাল কিনে গুদামে ভরছে। কেউ কেউ নিজের মিলের বাইরে গোপন স্থানেও ধান-চাল লুকিয়ে রাখছে।

তবে ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দুষলেও ভরা মৌসুমে চালের অস্বাভাবিক দরে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলছে, কেউ দায় স্বীকার করে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনলে বোঝা যাবে, বাজার কার নিয়ন্ত্রণে। তবে সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজারের নাটাই আসলে কার হাতে– খতিয়ে দেখার দাবি ক্রেতাদের।

কেজিতে বেড়েছে কত?

খোদ সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে সরু চাল ৫ দশমিক ৩৮, মাঝারি চাল প্রায় ৩ ও মোটা চালের দর প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা ঘুরে দেখা গেছে, সরু (মিনিকেট) চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়। কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৭ টাকা। মাঝারি (বিআর-২৮, পায়জাম) চাল কেজিতে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায়। এ ছাড়া কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা কেজি।

৫০৬ জন দিনমজুর, বিধবা, জেলের নামে ঋণ, জানতেন না কেউই

১৯ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

রাঙামাটির লংগদু উপজেলা ভাসান্ন্যা আদাম ইউনিয়নের পশ্চিম চাইল্ল্যাতলী গ্রামে গৃহবধূ ফাতেমা বেগম। তাঁর স্বামী মো. আবদুল জব্বার দিনমজুরি করেন। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা তাঁদের। তবু জীবন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ যেন আকাশ ভেঙে পড়ে এই মাথার ওপর। জানতে পারেন, লংগদু উপজেলা সোনালী ব্যাংক শাখায় ফাতেমা বেগমের নামে চারটি হিসাব খুলে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭২৪ টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে।

ফাতেমা বলেন, তিনি কখনো সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য যাননি। ১২ বছর আগে সরকারি অনুদানের কথা বলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি নেওয়া হয়। সে সময় অনুদানের ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। এখন জানতে পারছেন, সেই আইডি কার্ড দিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে তাঁর নামে চারবার ঋণ নেওয়া হয়েছে।

গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের মতো লংগদু উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির নামে এমন ঋণ নেওয়া হয়। ১২ বছর আগে নেওয়া এই ঋণ সুদে-আসলে বেড়ে কয়েক গুণ হয়েছে। জালিয়াতি করে একটি চক্র এমন ঋণ নিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। তবে যাঁদের নামে ঋণ নেওয়া হয় তাঁরা এর কিছুই জানতেন না। ভুক্তভোগী লোকজনের বেশির ভাগই দিনমজুর, বিধবা ও জেলে। কয়েকজন ভিক্ষুকও আছেন তাঁদের মধ্যে।

লংগদু উপজেলা ভাসান্ন্যা আদাম ও বগাচতর ইউনিয়নে ৫০৬ জনের নামে এ ধরনের ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তবে এ বিষয়ে লংগদু সোনালী ব্যাংক কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

৪০০ কোটি টাকা ব্যয়, তবু সড়ক টেকে না

২৩ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

দেশের একটি সড়ক ৯ বছরে সাতবার মেরামত করা হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এই ৯ বছরে সেই সড়ক দিয়ে বেশির ভাগ সময় মানুষকে চলাচল করতে হয়েছে ভোগান্তি নিয়ে।

কারণ একটাই। সড়কটি যতবার মেরামত করা হয়েছে, ততবারই অল্প সময়ের মধ্যে উঁচু–নিচু হয়ে যাওয়া (রাটিং), খানাখন্দ তৈরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে সড়কটির সর্বশেষ মেরামত শেষ হয়। তবে কয়েক মাস পর থেকেই সড়কটি নষ্ট হয়ে যাওয়া শুরু করে।

সড়কটির অবস্থা এখন একেবারেই খারাপ। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও উঁচু–নিচু ঢেউ তৈরি হয়েছে, কোথাও বিটুমিনের আস্তরণ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। শুরু হয়েছে নতুন করে মেরামত, টাকা খরচ। সেই মেরামতের কারণে এক পাশ আটকে দেওয়া হয়েছে। এতে দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

ডিমের বাজারে কারসাজি; ডায়মন্ড এগ ও সিপিকে সাড়ে তিন কোটি টাকা জরিমানা

২৫ জানুয়ারি ২০২৪, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে অস্বাভাবিকভাবে ডিমের দাম বাড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই কোম্পানিকে সাড়ে তিন কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)।

এর মধ্যে ডায়মন্ড এগ লিমিটেডকে আড়াই কোটি এবং সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল (বুধবার) এ মামলার রায় প্রকাশ করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ডিম ও মুরগির বাজারে হঠাৎ করেই অস্থিরতা তৈরি হয়। এ সময় প্রতি হালি ডিম ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। এভাবে প্রায় ১৫ দিন বাজার অস্থির থাকে। অভিযোগ উঠে এই অস্থিরতা তৈরির পেছনে ১০-১২টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যোগসাজস করে দাম বৃদ্ধি করে বাড়তি মুনাফা তৈরি করছে।

শুধু ডিমই নয়, সে সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে ডিম, মুরগি, সাবান-ডিটারজেন্ট, চাল, আটা, ময়দাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রতিযোগিতা কমিশন ৪৪টি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে ডিম উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ডিম উৎপাদনকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মামলার রায় ঘোষণা করলো প্রতিষ্ঠানটি।

রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড ও ডায়মন্ড এগ সমধর্মীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে পরোক্ষভাবে তাদের উৎপাদিত ডিমের বিক্রিয় মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করেছে। একইভাবে তাদের উৎপাদিত ডিমের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। যা প্রতিযোগিতা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অভিযুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হওয়ায় সিপি বাংলাদেশকে এক কোটি টাকা এবং ডায়মন্ড এগকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কোম্পানি দুটি পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ডিমের দাম বাড়িয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে প্রতিযোগিতা আইনের ১৫ ধারায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কোম্পানি দুটি এই রায়ের বিষয়ে রিভিউ বা আপিল আবেদন করতে পারবে।

১৬ টাকায় প্রতি পিস প্যান্ট রপ্তানি, তা–ও মিথ্যা ঘোষণায়

২৫ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

বাংলাদেশ থেকে প্রতি পিস প্যান্ট রপ্তানি হচ্ছে মাত্র ১৫ সেন্ট বা ১৬ টাকায়। এই দামের ডেনিম বা জিনসের প্যান্টের গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এমন অবিশ্বাস্য দামে জিনস প্যান্ট রপ্তানি করছিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফাইয়্যাজ ফ্যাশন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। 

চালানটি রপ্তানির জন্য শুল্কায়নসহ সব প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছিল। চট্টগ্রামের বেসরকারি ডিপো শফি মোটরস থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জাহাজে তুলে দেওয়ার আগেই বাদ সাধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ১৫ জানুয়ারি চালানটি পরীক্ষা করে বেরিয়ে আসে অবিশ্বাস্য ঘটনা।

শুল্কায়নে ফাইয়্যাজ ফ্যাশন ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ১৪ হাজার ৩৫০ পিস সোয়েটার ও অন্তর্বাস রপ্তানি করবে। তাতে দেশে আসবে ১২ হাজার ৪৮৫ ডলার। তবে এটা ছিল শুধু কাগজে-কলমে। কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কনটেইনার খোলার পর দেখতে পান ভিন্ন চিত্র। রপ্তানিকারক যে পণ্য রপ্তানি করার কথা, তার কোনোটিই তাতে নেই। চালানটি পরীক্ষা করে সেখানে কর্মকর্তারা পেয়েছেন, ৮৫ হাজার ৩৬৮ পিস ডেনিম লং প্যান্ট। অর্থাৎ এসব প্যান্ট রপ্তানি হলেও রপ্তানি আয় আসবে সেই ১২ হাজার ৪৮৫ ডলার-ই। এ হিসাবে প্রতি পিসের রপ্তানি মূল্য পড়ে প্রায় ১৫ সেন্ট বা ১৬ টাকা। 

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ডেনিম প্যান্ট রপ্তানি হয়। গত অর্থবছরে গড়ে প্রতি পিস ডেনিম প্যান্ট রপ্তানি হয়েছে ছয় ডলারে। ডেনিমের এ গড় দাম ধরা হলে এই চালানটির রপ্তানি মূল্য হওয়ার কথা ছিল ৫ লাখ ১২ হাজার ডলার। অর্থাৎ এই চালানটি রপ্তানি হলে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার দেশে আসত না। বিষয়টি রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের ঘটনাই।

বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ

বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না শিল্প

২৬ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো

বাড়তি দাম দিয়ে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। সরকারও বাড়তি গ্যাস কেনার টাকা জোগাড় করতে শিল্পে দাম বাড়িয়েছিল ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের অভাবে কারখানা পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না।

বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। যেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের দুটি সংগঠনের একটি বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীরা তিতাসকে অতিরিক্ত দাম দিয়েও এখন গ্যাস পাচ্ছেন না।

এভাবে চলতে থাকলে দেশে উৎপাদন না করে বিদেশ থেকে কাপড় আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এতে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে, ডলার–সংকট আরও বেড়ে যাবে।

মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের জন্য গত বছর জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত খোলাবাজার থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছিল সরকার। তখন গ্যাস–সংকট বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার দাবি জানান।

গ্যাসের নতুন সংকট শুরু হয়েছে সপ্তাহখানেক ধরে। গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, এই সংকট তিন কারণে—১. দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমেছে। ২. শিল্প খাতে কমিয়ে সরকারি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। ৩. হঠাৎ কমেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন ধরে গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। যদিও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা।

মার্কিন ডলার সাশ্রয়ের জন্য গত বছর জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত খোলাবাজার থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছিল সরকার। তখন গ্যাস–সংকট বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার দাবি জানান। প্রয়োজনে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সম্মতি দেন।

সরকার গত জানুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়, যা ছিল দেশের ইতিহাসে একসঙ্গে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা। তখন শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত। দাম বাড়ানোর পর ফেব্রুয়ারি থেকে খোলাবাজারের এলএনজি কেনা শুরু করে সরকার। তাই সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। এখন আবার সংকট বাড়ল।

সিন্ডিকেটের খপ্পরে কঠিন শিলা খনি

৩১ অক্টোবর ২০২৩, যুগান্তর

সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়েছে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্প। দেশে পাথরের জন্য হাহাকার থাকলেও এই খনির গোডাউনে স্তূপ হয়ে আছে ৮ লাখ টনের বেশি। গোডাউনসহ খনি এলাকার কোথাও পাথর রাখার জায়গা নেই। অথচ দেশে একের পর এক আমদানি হচ্ছে পাথরের চালান। চলে যাচ্ছে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু নির্বিকার খনি কর্তৃপক্ষসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা। জানা গেছে, পাথর বিক্রি না হওয়ায় গত এক বছরে ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকারও বেশি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পাথরের দাম নিয়ে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি (এমজিএমসিএল), পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের একটি অসাধু সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাদের সমন্বয়হীনতা, অদূরদর্শিতা ও আমদানি নির্ভরতা নীতির কারণে পাথরের স্তূপ জমেছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন পাথরের দাম কম তখন খনির পাথরের দাম বাড়িয়ে রাখে এই সিন্ডিকেট। এতে খনির পাথর বিক্রি হয় না। গত এক বছর ধরে চলছে এই অচলাবস্থা। আবার বিশ্ববাজারে দাম বেশি থাকলে দেশে কমানো হয়। এতে মুহূর্তে সিন্ডিকেট গোডাউন খালি করে পুরো পাথর কিনে নিয়ে যায়। এভাবে সিন্ডিকেটকে অবৈধ সহায়তা দিয়ে গত এক বছরে ৫০ কোটি টাকার বেশি অর্থ লোকসান দিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

এলএনজি সরবরাহে মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই

০৯ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি আরও বাড়ানো হচ্ছে। বেসরকারি খাতে এলএনজি সরবরাহের জন্য এবার মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ বছর ধরে এলএনজি সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজধানীর একটি হোটেলে বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। পেট্রোবাংলার পক্ষে বোর্ড সচিব রুচিরা ইসলাম ও এক্সিলারেট এনার্জির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ওয়াংদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

দেড় টিসিএফ এলএনজি আমদানিতে ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়

ভরসার, না উদ্বেগের!

নভেম্বর ১৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা হচ্ছে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ওই বছর কাতার থেকে এলএনজিবাহী প্রথম কার্গো দেশে আসে। এর পর থেকে গত পাঁচ অর্থবছরে ৪৬ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ঘনমিটার (১ হাজার ৬২৯ বিলিয়ন ঘনফুট) বা দেড় টিসিএফের বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে, যা দেশে এক বছরের গ্যাস চাহিদার সমান। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গ্যাসের পাশাপাশি এলএনজিকে ভরসা হিসেবে দেখা হলেও পণ্যটির আমদানিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়কে জ্বালানি খাতের জন্য উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।

তবে জ্বালানি বিভাগের উইং হাইড্রোকার্বন ইউনিটের তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের আগস্টের পর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ২ বিসিএফের কিছু বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে। আমদানিনির্ভর এ জ্বালানিটি কিনতে গত পাঁচ অর্থবছরে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বা ১০ বিলিয়ন ডলার গুনতে হয়েছে পেট্রোবাংলাকে। এলএনজি আমদানি শুরুর পর ২০১৮-১৯ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮৫ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।

সদ্য শেষ হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি ব্যয়ের হিসাব পাওয়া না গেলেও এ খরচ ২৫ হাজার কোটি টাকার কম নয় বলে জানান পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্প আবাসিক ও পরিবহন খাত

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প-কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাসের সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন উদ্যোক্তারা। এখন এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে আবাসিক খাতেও। রান্নাবান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর বাইরে সিএনজিচালিত পরিবহনের ভিড়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

বরাবরই দেশে গ্যাসের সরবরাহ হয় চাহিদার তুলনায় কম। তবে শীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার কমায় এ সময় গ্যাসের সংকট অনুভূত হয় তুলনামূলক কম। কিন্তু এবার শীতের শুরুতেই তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট।

শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলা ও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। আবার দেশের বৃহৎ সার কারখানাগুলোয়ও সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় ঘাটতির মধ্যে রয়েছে দেশের গ্যাস খাত। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪৩০ কোটি ঘনফুট। যদিও স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ হয় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত ভাসমান টার্মিনালটি থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় তা নেমে এসেছে ২৫৯ কোটি ঘনফুটে।

গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্প আবাসিক ও পরিবহন খাত

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

দীর্ঘদিন ধরেই শিল্প-কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাসের সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন উদ্যোক্তারা। এখন এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে আবাসিক খাতেও। রান্নাবান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর বাইরে সিএনজিচালিত পরিবহনের ভিড়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

বরাবরই দেশে গ্যাসের সরবরাহ হয় চাহিদার তুলনায় কম। তবে শীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার কমায় এ সময় গ্যাসের সংকট অনুভূত হয় তুলনামূলক কম। কিন্তু এবার শীতের শুরুতেই তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট।

শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলা ও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ভাসমান একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। আবার দেশের বৃহৎ সার কারখানাগুলোয়ও সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে রাজধানী ও আশপাশের অঞ্চলগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ কমেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় ঘাটতির মধ্যে রয়েছে দেশের গ্যাস খাত। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪৩০ কোটি ঘনফুট। যদিও স্বাভাবিক সময়ে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ হয় ৩০০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত ভাসমান টার্মিনালটি থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় তা নেমে এসেছে ২৫৯ কোটি ঘনফুটে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রে তেলের সন্ধান

১০ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

সিলেট গ্যাসক্ষেত্র ১০ নম্বর কূপের প্রথম স্তরে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ তথ্য জানান।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট গ্যাসক্ষেত্র ১০ নম্বর কূপে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ৩৫ ব্যারেল তেলের প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে। তেলের মজুদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে ৩ থেকে ৪ মাস পর।

তিনি আরও জানান, তেল ছাড়াও সেখানে ৪৩.৬ থেকে ১০৬ বিলিয়ন ঘন মিটার গ্যাসের গ্যাসের মজুদও মিলেছে।

এখান থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল তেল পাওয়া সম্ভব বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

আবারও বন্ধ রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন

১১ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

নাম না জানানোর শর্তে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রর বয়লারের কারিগরি সমস্যার জন্য সকালে কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত আবারও উৎপাদন শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে উৎপাদন শুরুর পর গেল এক বছরে জ্বালানি কয়লার সংকটে তিন দফাসহ অন্তত ১০ বার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে।

নগদের সংকট, সঞ্চয় ভেঙে ঋণ পরিশোধ করছে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো

ডিসেম্বর ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

বিদ্যুতের মূল্য বাবদ সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এতে নগদ অর্থের সংকটে পড়ে গেছে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশী বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ থেকে।

এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের গ্যারান্টি দেয়া রয়েছে, যার পরিমাণ এরই মধ্যে অর্ধ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা সরকারকে বিপাকে ফেলে দিতে পারে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩০ জুন শেষে সরকারের গ্যারান্টেড ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের ১৮ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে গ্যারান্টি দেয়া ঋণের স্থিতি ৫১ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। চীন, ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির ব্যাংকের কাছ থেকে নেয়া ঋণের বিপরীতে এ গ্যারান্টি দিয়েছে সরকার। এ ১৮ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে নয়টির গ্যারান্টেড ঋণের স্থিতি আগের অর্থবছরের তুলনায় কমলেও বাকিগুলোর বেড়েছে।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করলে বাঁচবে ১১ হাজার কোটি টাকা

১৮ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশে বিভিন্ন ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে। এটি এখনো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। তবে ছাদ ব্যবহার করে ২ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। আর এটি করা গেলে বছরে ১১ হাজার ৩২ কোটি টাকা (১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সাশ্রয় করতে পারবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় অনলাইনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও এর সরবরাহ ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের অর্থনৈতিক সুবিধা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

রেন্টাল-কুইক রেন্টালের ভূত এখন সৌরবিদ্যুতে!

২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ শেয়ার বিজ নিউজ

নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বহু আগেই নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রতি ঝুঁকতে শুরু করে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে থাকলেও সম্প্রতি এ খাতে জোর দেয়া হচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত নানা উদ্যোগ ও বিনিয়োগের ফলে এ খাতের সুফল সুদূর পরাহত হয়ে পড়ছে। বর্তমানে দেশের নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে শেয়ার বিজের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব

ইসমাইল আলী: বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধানে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের প্রতি জোর দেয়া হয়। তেলচালিত উচ্চ ব্যয়ের ও নিম্নমানের এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে ১০ বছর বা তার বেশি। এত বছর দেশে সৌরবিদ্যুৎকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হতো না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যদিও রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মতোই উচ্চ ব্যয়ে ও ডলারে চুক্তি করা হচ্ছে এসব সৌরবিদ্যুৎ কেনায়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্যমতে, দেশে প্রথম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন শুরু করে ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট। সরিষাবাড়ীতে নির্মিত ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র তিন মেগাওয়াট। পরের বছর ২০ সেপ্টেম্বর টেকনাফে উৎপাদন শুরু করে ২০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৯ সালের মে মাসে সাত মেগাওয়াট ও জুলাইয়ে আট মেগাওয়াটের আরও দুটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসে। পরের বছর নভেম্বরে ময়মনসিংহে উৎপাদন শুরু করে ৫০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র।

২০২১ সালে তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জে ৩৫ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র ১২ মার্চ এবং সিরাজগঞ্জে ছয় মেগাওয়াটের অপর একটি কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করে ৩০ মার্চ। আর বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করে ২৯ ডিসেম্বর। ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট ৩০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র লালমনিরহাটে এবং ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ২০০ মেগাওয়াটের অপর একটি কেন্দ্র উৎপাদন শুরু করে। ৪৫৯ মেগাওয়াটের এ ১০ কেন্দ্রের মধ্যে আটটি বেসরকারি খাতে, যেগুলোর সক্ষমতা ৪৫৬ মেগাওয়াট। অপর দুটি কেন্দ্র সরকারি খাতের যেগুলোর সক্ষমতা ১৩ মেগাওয়াট।

এদিকে বর্তমানে নির্মাণাধীন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ১১টি, যেগুলোর সক্ষমতা ৪৬০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি তিনটি কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১৫১ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি আটটি কেন্দ্রের ৩০৯ মেগাওয়াট। এছাড়া নির্মাণকাজ শুরুর জন্য এলওআই/এনওএ ইস্যু করা হয়েছে ১৭টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের, যেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা এক হাজার ৪৭৪ মেগাওয়াট, যার সবগুলোই বেসরকারি খাতের। আর সরকারি খাতের তিনটি ও বেসরকারি খাতের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা ১২৮ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে নির্মাণের পরিকল্পনাধীন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে আরও ১৩টি, যার সবগুলো সরকারি খাতের। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৯২৭ মেগাওয়াট। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগে একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যার সক্ষমতা ১৬০ মেগাওয়াট এবং বেসরকারি মালিকানায় ১৮৬ মেগাওয়াটের আরও তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে নির্মাণাধীন এবং পরিকল্পনাধীন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯টি। আর এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা তিন হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট।

সূত্রমতে, পরিকল্পনাধীন বা দরপত্র প্রক্রিয়াধীন সরকারি-বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সবগুলোর জন্যই এরই মধ্যে জমি চিহ্নিত বা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে রেন্টাল-কুইক রেন্টালের মতো সৌরবিদ্যুতেও লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দরপত্র  আহ্বান করা হয়নি। ফলে প্রকৃতপক্ষে এ খাতে কত ব্যয় হতে পারে তার নির্দিষ্ট ধারণা বিপিডিবির নেই। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সময় নানা প্রস্তাব নিয়ে আসে। তখন তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করে নির্মাণব্যয় ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়। তবে দেশীয় কোম্পানিগুলো নানা ধরনের তদবির করে সরকারি বা বিদেশি কোম্পানির চেয়ে রেট বাড়িয়ে নিচ্ছে। এছাড়া রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মতোই এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে ডলারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি পড়ছে। সম্প্রতি চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ প্রকাশিত ‘ফলো দ্য রিনিউয়েবল এনার্জি ফাইন্যান্স: বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের গড় ব্যয় পড়ছে ১৫ দশমিক ৫ ইউএস সেন্ট। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ হার ৫ দশমিক ৩ সেন্ট ও পাকিস্তানে ৩ দশমিক ২ সেন্ট। এছাড়া ভিয়েতনামে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনের গড় ব্যয় ৮ দশমিক ৪ সেন্ট, জাপানে ৯ দশমিক ৩ সেন্ট ও  থাইল্যান্ডে ১২ দশমিক ১ সেন্ট।

বিপিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেসরকারি খাতে নির্মিত বা নির্মাণাধীন বিভিন্ন কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ১১ থেকে ১৭ সেন্ট। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম ধরা হয়েছে সুনামগঞ্জে নির্মাণাধীন হাওর বাংলা সোলার পার্কে। এ কেন্দ্রটি থেকে সৌরবিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ সেন্ট। আর লালমনিরহাটের ইন্ট্রাকো সোলার পার্ক থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ সেন্ট এবং গাইবান্ধায় বেক্সিমকোর সোলার পার্ক থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ সেন্ট।

যদিও বিদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় অনেক কম ধরা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নির্মাণাধীন গ্রিড সোলার প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ সেন্ট। অর্থাৎ বিদেশি কোম্পানির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানির সৌরবিদ্যুৎ কিনছে সরকার। এছাড়া ডলারের চুক্তির ফলে দেশীয় মুদ্রায় অবমূল্যায়নে এ খাতে ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ ১৭ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা!

শেয়ার বিজ নিউজ, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩

বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র রেন্টাল ও আইপিপির (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ বেড়েই চলেছে। তবে গত অর্থবছর এ খাতে ব্যয় এক লাফে ২৫ শতাংশের বেশি বাড়ে। অথচ এ সময় আইপিপি ও রেন্টাল কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার কমেছে। স্বাভাবিকভাবে সক্ষমতার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ উৎপাদন করার শর্তে লাইসেন্স দেয়া হয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর সক্ষমতার মাত্র ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

পিডিবির তথ্যমতে, রেন্টাল-কুইক রেন্টাল ও আইপিপি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা গত অর্থবছর বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। যদিও এর মধ্যে ৮১৯ মেগাওয়াট রয়েছে এনইএনপি (নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট) এবং ৪৫৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের জন্য কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় না। এরপরও গত অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে ১৭ হাজার ১৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। যদিও উৎপাদন সক্ষমতার ৬২ শতাংশ বসে ছিল গত অর্থবছর।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছর রেন্টাল ও আইপিপিগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১০ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াট। ওই অর্থবছর সক্ষমতার ৪৭ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। আর ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার কমেছে ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ বেড়েছে তিন হাজার ৪৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের রেন্টাল ও আইপিপির বাইরে গত অর্থবছর আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তবে এ চার্জ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেকের জন্য এবং মাত্র তিন মাসের (এপ্রিল-জুন)। কারণ গত এপ্রিল থেকে আদানির ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। এ হিসাবে আদানির পুরো কেন্দ্রটি (দুই ইউনিট) পূর্ণ সক্ষতায় চালুর ফলে চলতি অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

সূত্রমতে, গত ১৫ বছরে বেসরকারি খাতে ১০০টির বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র দরপত্রের মাধ্যমে নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। যদিও একটিমাত্র কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়ায় তাতেও কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। ফলে প্রাক্কলনের চেয়ে বেশি দরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের লাইসেন্স দেয়া হয়। বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল আনসলিসিটেড তথা অযাচিত প্রস্তাবের মাধ্যমে। ফলে এগুলোর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে অনেক বেশি। ফলে ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরও আর্থিক উন্নতির দেখা পায়নি পেট্রোবাংলা

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হয় ২০১৮ সালের এপ্রিলে। এর আগ পর্যন্ত লাভে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোর অন্যতম ছিল পেট্রোবাংলা। এলএনজি আমদানি শুরুর পর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথম লোকসান দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থবছরেই মুনাফা করতে পারেনি পেট্রোবাংলা। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত গত পাঁচ অর্থবছরে সংস্থাটির পরিচালন লোকসান হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও এ সময়ের মধ্যে গ্যাসের দাম তিন দফায় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জ্বালানি বিভাগ।

এলএনজি আমদানির জন্য প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে সরকার। তবুও অব্যাহতভাবে লোকসান দিয়ে গেছে দেশের গ্যাস খাত। এ লোকসান কমাতে গত পাঁচ অর্থবছরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে তিন দফায়। এ সময় সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্প-কারখানায় বিতরণকৃত গ্যাসের।

এলএনজি আমদানি শুরুর পর গ্যাসের দাম প্রথম বাড়ানো হয় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দামে অস্থিরতার মধ্যে গত বছরের জুনে বাড়ানো হয় সব শ্রেণীর গ্যাসের দাম। এরপর বিশেষ ক্ষমতাবলে জ্বালানি বিভাগ সর্বশেষ গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি, যা কার্যকর হয় ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে। তিন দফা বাড়ানোর পর সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুতে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫৭৪ দশমিক ১৫ শতাংশে। ক্যাপটিভে বেড়েছে ১১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। বৃহৎ শিল্পে ও মাঝারি শিল্পে বেড়েছে ১৮০ শতাংশ। এছাড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ৭৬ শতাংশ, সারে ২৬০ শতাংশ, আবাসিক হোটেল-রেস্টুরেন্টে ৩০ শতাংশ এবং মিটারবিহীন সিঙ্গেল, ডাবল ও প্রি-পেইড মিটারে যথাক্রমে ৭, ১১ ও ৪৩ শতাংশ বেড়েছে গ্যাসের দাম।

গ্যাস–সংকট: ধুঁকছে শিল্প, সংকট আবাসিকেও

২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

শীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। তাই এ খাতে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ—দুই-ই কমেছে। কিন্তু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি কমায় অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহে ভাটা কাটেনি। দেশেও গ্যাসের উৎপাদন কমছে। এতে করে শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস-সংকটে ভুগছেন। চড়া দামে বিকল্প জ্বালানি কিনে উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন রপ্তানিমুখী শিল্পের মালিকেরা।

বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় দৈনিক ১১০ থেকে ১১২ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে এ খাতে। এখন দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে ৭০ কোটি ঘনফুট। তবে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। সংকটের সময় সাধারণত অধিকাংশ সার কারখানা বন্ধ রাখা হয়। বিশ্ববাজারে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। এখন সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে দিনে গড়ে ২২ কোটি ঘনফুট।

সরকারির দ্বিগুণ উৎপাদন ব্যয় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে!

শেয়ার বিজ নিউজ, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩

ঘাটতি মোকাবিলায় ২০০৯ সালের শুরু থেকেই বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে জোর দেয় সরকার। রেন্টাল-কুইক রেন্টালের পর আসে বড় আকারের বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে সরকারির তুলনায় বেসরকারি খাতে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি। তবে বেসরকারি খাতের বেশিরভাগ কেন্দ্র অদক্ষ। তারপরও বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দেখা হয় এসব কেন্দ্রের জন্য। এতে সরকারি কেন্দ্রের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যয়ে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও অন্যান্য সরকারি কোম্পানির কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় পড়ছে কাছাকাছি। তবে বেসরকারি খাতে এর দ্বিগুণ ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।

পিডিবির তথ্যমতে, গত অর্থবছর সংস্থাটির কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে এক হাজার ৭৪৩ কোটি ২৫ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এতে জ্বালানি ব্যয় পড়ে সাত হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ (ওঅ্যান্ডএম) ব্যয় ৩৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া বেতন-ভাতাসহ স্থায়ী ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ১৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয় পড়ে ১৩ হাজার ৩০৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এতে পিডিবির কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় পড়ে সাত টাকা ৬৩ পয়সা।

এদিকে পিডিবি ছাড়া অন্যান্য সরকারি কোম্পানির কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে এক হাজার ৫৭৪ কোটি ২৩ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এতে জ্বালানি ব্যয় পড়ে পাঁচ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এবং ওঅ্যান্ডএম ব্যয় ৩৩৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর বেতন-ভাতাসহ স্থায়ী ব্যয় ছিল চার হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয় পড়ে ১০ হাজার ৭৮৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এতে অন্য সরকারি কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় পড়েছে ছয় টাকা ৮৫ পয়সা।

অন্যদিকে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কেন্দ্রগুলোয় গত অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে চার হাজার ৩৩৪ কোটি ৯৪ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এতে জ্বালানি ব্যয় পড়ে ৪৩ হাজার ৭০ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং ওঅ্যান্ডএম ব্যয় দুই হাজার ৫৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর স্থায়ী ব্যয় তথা ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল ১৭ হাজার ১৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয় পড়ে ৬২ হাজার ৭৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এতে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ব্যয় পড়েছে ১৪ টাকা ৪৮ পয়সা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিটি খাতেই উচ্চ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জ্বালানি ব্যয়। গত অর্থবছর পিডিবির গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল চার টাকা ৪৬ পয়সা এবং অন্য সরকারি কেন্দ্রে তিন টাকা ৬০ পয়সা। তবে বেসরকারি খাতের কেন্দ্রগুলোর গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল ৯ টাকা ৯৪ পয়সা। যদিও ওঅ্যান্ডএমে গড় ব্যয় পিডিবির ২১ পয়সা ও অন্য সরকারি কেন্দ্রে ৫০ পয়সা। আর বেসরকারি খাতে এ ব্যয় গড়ে ৫৯ পয়সা। একইভাবে পিডিবির গড় স্থায়ী ব্যয় মাত্র দুই টাকা ৯৭ পয়সা এবং অন্য বেসরকারি কেন্দ্রে গড়ে তিন টাকা চার পয়সা। তবে বেসরকারি খাতে গড় স্থায়ী ব্যয় তথা ক্যাপাসিটি চার্জ তিন টাকা ৯৬ পয়সা।

বিদ্যুতে সরকারের সবচেয়ে বড় বোঝা এখন আইপিপি

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩, বণিক বার্তা

ক্রমাগত লোকসান ও অর্থ সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পরিশোধ করতে পারছে না বেসরকারি উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) কাছ থেকে কেনা বিদ্যুতের দাম। সরকার এতদিন ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেও এখন সেটিরও জোগান দেয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আইপিপিগুলোর কাছে বিপিডিবির দেনা ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় সরকার পরিকল্পনা করছে ভর্তুকির অর্থ নগদে পরিশোধ না করে স্পেশাল ট্রেজারি বন্ডে রূপ দেয়ার।

বিপিডিবির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটি বিদ্যুৎ কেনায় মোট অর্থ ব্যয় করেছে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু আইপিপি থেকেই কেনা হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার ২৩ কোটি টাকার বিদ্যুৎ। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে এ বাবদ বিপিডিবির ব্যয় ছিল ৪৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী গত অর্থবছরে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় বিপিডিবির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

আইপিপিগুলোর কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনছে বিপিডিবি। আবার এ দামও ক্রমেই বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আইপিপি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনায় সংস্থাটির ব্যয় হয়েছে ১৪ টাকা ৬২ পয়সা। যেখানে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এ মূল্য ছিল ৬ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিডিবি আইপিপিগুলোকে প্রতি ইউনিটের দাম পরিশোধ করেছিল ১১ টাকা ৫৫ পয়সা।

২০২২-২৩ অর্থবছর পিডিবির লোকসান ৫১,৩০০ কোটি টাকা

শেয়ার বিজ নিউজ, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪

বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়। দাম বাড়িয়েও আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি পোষানো যাচ্ছে না। এতে লোকসান বাড়ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। ঘাটতি মেটাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। তবে তহবিল সংকটে ভর্তুকির অর্থ সময়মতো ছাড় করছে না অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাতের নাজুক অবস্থা ক্রমেই জটিল হচ্ছে।

তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে পিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৩০০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ ঘাটতি পূরণে সরকারের কাছে ভর্তুকি চাওয়া হয় ৩৯ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। যদিও গত জুন পর্যন্ত ছাড় হয়েছে মাত্র সাত হাজার ৩৫৯ কোটি টাকা। বাকিটা চলতি অর্থবছর ধীরে ধীরে ছাড় করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তুকি বাদেও বিদায়ী অর্থবছর ১১ হাজার ৭৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘাটতি রয়ে গেছে পিডিবির।

এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছর পিডিবি লোকসান গুনেছিল ৩২ হাজার ৮৯১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে গত অর্থবছর সংস্থাটির লোকসান রেকর্ড বেড়েছে ১৮ হাজার ৪০৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৫৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর ২০১১-২২ অর্থবছর পিডিবিকে ভর্তুকি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ২৯ হাজার ৬৫৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছর ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বেড়েছে ৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে ওই অর্থবছরও ভর্তুকি বকেয়া রয়ে যায়; যা গত অর্থবছর ছাড় করা হয়।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে বেশকিছু রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয় সরকার। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় ডলারে। যদিও বর্তমানে কুইক রেন্টালের সংখ্যা কমে এসেছে। তারপরও বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোকে ডলারেই ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। রেন্টাল-কুইক রেন্টালের পর বেসরকারি খাতে বড় বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হয়।

ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি) নামক এসব কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ সরাসরি ডলারে পরিশোধ করা হয় না। তবে আইপিপিগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ডলারের বিনিময় হার ধরে টাকায় পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিনিময় হার নির্ধারিত হয় সোনালী ব্যাংকের বিনিময় হারে। ফলে সরাসরি ডলার না লাগলেও টাকার অবমূল্যায়নে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ ব্যয় বেড়ে গেছে। এছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিল ডলারে পরিশোধ করতে হয়। আদানি যুক্ত হওয়ায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বেড়েছে। ফলে এ খাতে ব্যয়ও অনেক বেড়েছে।

পিডিবির গত ১৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত পিডিবি লোকসান গুনেছে এক লাখ ৬০ হাজার ৯৬৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে মাত্র শেষ দুই অর্থবছর ৮৪ হাজার ১৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে পিডিবি। অর্থাৎ ১৫ বছরে পিডিবির লোকসানের ৫২ দশমিক ৩০ শতাংশই ছিল ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে গত অর্থবছর লোকসান প্রায় ৬১ গুণ বেড়েছে পিডিবির।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর পিডিবি লোকসান গুনেছিল মাত্র ৮২৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। পরের (২০০৯-১০) অর্থবছর তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৬৩৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ২০১০-১১ অর্থবছর লোকসান এক লাফে সাতগুণের বেশি বেড়ে হয় চার হাজার ৬২০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছর তা আরও ৪৪ শতাংশ বেড়ে হয় ছয় হাজার ৬৯৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে ২০১২-১৩ অর্থবছর তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

পরের দুই অর্থবছর পিডিবির লোকসান আবারও বাড়ে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছর লোকসান ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৮০৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছর প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে হয় সাত হাজার ২৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পিডিবির লোকসান প্রায় ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় তিন হাজার ৮৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পিডিবির লোকসান আবারও বাড়ে। ওই অর্থবছর লোকসান দাঁড়ায় চার হাজার ৪৩৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছর পিডিবির লোকসান অনেকখানি বাড়ে। ওই অর্থবছর ১১০ শতাংশ বাড়ে সংস্থাটির। এতে পিডিবির লোকসান দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। তবে পরের দুই অর্থবছর তা আবার কমে। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছর লোকসান হয় আট হাজার ১৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ও ২০১৯-২০ অর্থবছর সাত হাজার ৪৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। তবে ২০২০-২১ অর্থবছর পিডিবির লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৪৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

শিল্পে তীব্র গ্যাস–সংকট, দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা

১৭ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

বেলা সাড়ে ১১টা। এম এস ডাইং, প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানার ডাইং ইউনিটের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক বাতিই বন্ধ। ফলে তৈরি হয়েছে কিছুটা আলো-আঁধারি পরিবেশ। দৈত্যকার যন্ত্রগুলোও চুপচাপ। শ্রমিকেরা আসেন, তবে কাজ নেই। অলস সময় কাটান তাঁরা। অথচ দিনের এই সময়ে টনে টনে নিট কাপড় রং করতে যন্ত্রগুলোর সঙ্গে শ্রমিকেরা সাধারণত মহাব্যস্ত সময় পার করেন।

গ্যাস-সংকটের কারণে ৯ দিন ধরে এই কারখানায় পুরোপুরি নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক কবীর আহমেদ। তিনি জানান, দিনে ১১০ টন কাপড় ডাইংয়ের সক্ষমতা থাকলেও গত তিন মাস গ্যাস-সংকটের কারণে ৮০ থেকে ৮৫ টনের মতো কাপড় রং করা গেছে। কিন্তু ৮ জানুয়ারি থেকে গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। ফলে টানা ৯ দিন ধরে কাপড় ডাইং বন্ধ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীর এম এস ডাইং, প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং কারখানার মতো এই জেলার প্রায় সাড়ে চার শ শিল্পকারখানা বছরের শুরু থেকে তীব্র গ্যাস-সংকটে ভুগছে। নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি আরও দুই শিল্প এলাকা সাভার ও গাজীপুরের শ্রীপুরেও একই পরিস্থিতি। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে এসব এলাকার ডাইং কারখানা, সুতার কল বা স্পিনিং মিল, খাদ্যপণ্য, কাগজকলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেই তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে হবিগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহের ভালুকা ও চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলো। চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস পেলেও উৎপাদন মোটামুটি চালিয়ে নিতে পারছে তারা।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, বন্দর, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলার অন্তত ১০ জন শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তাঁরা জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট থাকলেও গত তিন মাস রাতে ৬-৭ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গ্যাসের যে চাপ থাকত, তাতে উৎপাদন মোটামুটি চলত। তবে জানুয়ারির শুরু থেকে দিনে বা রাতে কোনো সময়ই কারখানার উৎপাদন চালানোর মতো গ্যাস মিলছে না বললেই চলে। এতে উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো কারখানা বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়তি ব্যয় করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে। গ্যাসের এই সংকট শিগগিরই সমাধান না হলে শ্রমিক ছাঁটাই এবং কারখানা বন্ধের মতো ঘটনা বাড়বে বলে জানালেন উদ্যোক্তারা।

বেশি দামেও শিল্পে মিলছে না গ্যাস

১৭ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

বেশি দাম দিয়েও গ্যাস পাচ্ছে না শিল্পকারখানা। এরই প্রভাবে উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে। উৎপাদন ধরে রাখতে অনেক কারখানা ডিজেল ব্যবহার করলেও, তাতে মাসে ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। কারখানা মালিকরা বলেছেন, অব্যাহত গ্যাস সংকট সমাধানে বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। এতে সমস্যা হচ্ছে বেতন দিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন তারা। এরই মধ্যে সংকট সমাধানে সরকারকে চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সহসা সংকট কাটছে– এমন আশ্বাস সরকার দিতে পারছে না। যদিও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের কথা বলে গত বছরের শুরুতে শিল্পে গ্যাসের দাম রেকর্ড ১৭৯ শতাংশ বাড়ানো হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে আমদানিতে সরকারের ঝোঁক বেশি। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন অবহেলিত গ্যাস অনুসন্ধান। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির ব্যয় মেটাতে পর্যাপ্ত ডলার সরকারের হাতে নেই। ফলে সহসা সংকট কাটছে না।

পূর্বাঞ্চলে গ্যাস-বিপর্যয়

২০ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকাল শুক্রবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় ঘটেছে। বিতরণ কোম্পানির আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া হঠাৎ বিপর্যয়ে দিনভর ছিল দুর্ভোগ। খাবারের কষ্টে পড়েন সাধারণ গ্রাহকেরা। ব্যাহত হয় শিল্প কারখানার উৎপাদন।

মূলত দেশের পূর্বাঞ্চলে এই বিপর্যয় হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়ে কমপক্ষে সাড়ে ১১ লাখ গ্রাহক। এর মধ্যে কর্ণফুলী বিতরণ কোম্পানির (কেজিডিসিএল) আওতাধীন চট্টগ্রাম, বাখরাবাদের কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা রয়েছে। এমনকি ঢাকার পাশের তিতাসের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জও এই সংকটের মধ্যে পড়ে। এসব জেলায় জাতীয় গ্রিডের পাশাপাশি এলএনজির বড় অংশ সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম যেহেতু পুরোটাই এলএনজি-নির্ভর, তাই সেখানে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অন্য জেলায় কোথাও চুলা জ্বলেনি, কোথাও ছিল মিটমিট। এ ছাড়া বাখরাবাদের আওতাধীন চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়ও সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ কম ছিল।

আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। এই দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দিনে ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়। পাঁচ বছর পরপর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। গত ১ নভেম্বর মার্কিন এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গভীর সমুদ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন এক্সিলারেট টার্মিনালটি চালুর চেষ্টা করা হয়। কয়েকবার চালু করলেও গ্যাস সরবরাহ করা যায়নি। আবার বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনালটিও গত বৃহস্পতিবার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যাওয়ার কথা ছিল। এ কারণে টার্মিনালটিও খালি করা হয়। তাই গ্যাস সরবরাহও বন্ধ ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল পর্যন্ত মার্কিন টার্মিনাল চালু করতে না পারায় মূলত বিপর্যয় ঘটে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয় গ্রিডের গ্যাসের চাপ কম থাকা।

গ্যাস উত্তোলনে ২১টির কথা বলে কূপ খনন ৯টি

২২ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

সংকট কাটাতে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিল সরকার। নতুন নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও পিছিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে চার বছরে ৪৬টি কূপ খনন করার লক্ষ্য ঠিক করেছিল। এর মধ্যে প্রথম দুই বছর, অর্থাৎ ২০২২ ও ২০২৩ সালের মধ্যে ২১টি কূপ খননের কথা। যদিও হয়েছে মাত্র ৯টি। একই সময়ের মধ্যে নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দিনে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা। হয়েছে মাত্র আড়াই কোটি ঘনফুট, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯ শতাংশ।

স্থলভাগে গ্যাসকূপ খননের যখন এই অবস্থা, তখন সমুদ্রে আরও পিছিয়ে সরকার। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন—পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির এক যুগ পরও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন গতি নেই।

জ্বালানি ব্যয় কমলেও বাড়ছে গড় ক্যাপাসিটি চার্জ!

শেয়ার বিজ নিউজ, ২৪ জানুয়ারি ২০২৪

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কয়েক বছর ধরে বেড়েই চলেছে। ২০২০-২১ অর্থবছর এ ব্যয় ছিল গড়ে ছয় টাকা ৬১ পয়সা। দুই বছরের ব্যবধানে ২০২২-২৩ অর্থবছর তা বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। এতে গত অর্থবছর গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় ১১ টাকা চার পয়সা। চলতি অর্থবছর তা সামান্য কমবে বলে প্রাক্কলন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে আগামী অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় আবার বেড়ে যাবে।

গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় জ্বালানি ব্যয় কমলেও বেড়ে যাবে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা। নতুন বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসায় ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেড়ে যাচ্ছে এই দুই বছরে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা বাড়ছে। কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয় সরাসরি ডলারে অথবা ডলারের বিনিময় হার ধরে টাকায়। ফলে বিনিময় হার যত বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও তত বাড়বে।

পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল সাত টাকা ১১ পয়সা। চলতি অর্থবছর তা কমে দাঁড়াবে পাঁচ টাকা ৭২ পয়সা এবং আগামী অর্থবছর পাঁচ টাকা ৪৫ পয়সা। তবে ক্যাপাসিটি চার্জের ক্ষেত্রে ঘটবে তার উল্টোটা। ২০২২-২৩ অর্থবছর ক্যাপাসিটি চার্জ ও অন্যান্য ব্যয় ছিল গড়ে তিন টাকা ৯৩ পয়সা। চলতি অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়াবে চার টাকা ৯০ পয়সা এবং আগামী অর্থবছর পাঁচ টাকা ৪৫ পয়সা।

এ হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছর গড় জ্বালানি ব্যয় কমলেও বেড়ে যাবে গড় ক্যাপাসিটি চার্জসহ অন্যান্য ব্যয়। এর মধ্যে দুই বছরের ব্যবধানে ক্যাপাসিটি চার্জ বাড়বে ৫৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে জ্বালানি ব্যয় কমবে ২৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এতে সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় কিছুটা কমে ১০ টাকা ৬২ পয়সা দাঁড়াবে। যদিও আগামী অর্থবছর তা আবার বেড়ে দাঁড়াবে ১১ টাকা ৫৬ পয়সা।

যদিও এর আগের বছরগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল অনেক কম। ২০২১-২২ অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল আট টাকা ৮৪ পয়সা। এর মধ্যে গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল পাঁচ টাকা ৩৭ পয়সা এবং গড় ক্যাপাসিটি চার্জ ও অন্যান্য ব্যয় তিন টাকা ৪৭ পয়সা। আর ২০২০-২১ অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল ছয় টাকা ৬১ পয়সা। এর মধ্যে গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল তিন টাকা ১৬ পয়সা এবং গড় ক্যাপাসিটি চার্জ ও অন্যান্য ব্যয় তিন টাকা ৪৫ পয়সা।

প্রসঙ্গত, ২০২২-২৩ অর্থবছর দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল মাত্র তিন দশমিক ৬৮ শতাংশ। এতে নিট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় (আমদানিসহ) ৮৭ হাজার ৪০ গিগাওয়াট ঘণ্টা। তবে চলতি অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০ দশমিক ০৯ ও আগামী অর্থবছর আট দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এতে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছর নিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে যথাক্রমে ৯৫ হাজার ৮০৫ গিগাওয়াট ঘণ্টা এবং এক লাখ চার হাজার ৪২৩ গিগাওয়াট ঘণ্টা।

গত অর্থবছর কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়াবে ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছর ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায় গড় ব্যয় কমে আসবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কয়লার দাম অনেকটাই কমে এসেছে। এর প্রভাবেও চলতি অর্থবছর ব্যয় কমবে। তবে আগামী অর্থবছর কয়লার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় কিছুটা বাড়বে। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় গড় ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়ে যাবে।

পিডিবির তথ্যমতে, গত অর্থবছর কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল ১৫ টাকা ২০ পয়সা। এর মধ্যে গড় জ্বালানি ব্যয় ছিল ১০ টাকা ৭২ পয়সা ও গড় ক্যাপাসিটি চার্জ চার টাকা ৪৭ পয়সা। চলতি অর্থবছর কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় কমে দাঁড়াতে পারে সাড়ে ১৩ টাকা। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় পড়বে ছয় টাকা ও গড় ক্যাপাসিটি চার্জ সাড়ে সাত টাকা। আর আগামী অর্থবছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় উৎপাদনে গড় ব্যয় কিছুটা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫ টাকা ছয় পয়সা। এর মধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি ব্যয় পড়বে আট টাকা ৭৬ পয়সা এবং গড় ক্যাপাসিটি চার্জ ছয় টাকা ৩০ পয়সা।

এদিকে কয়লার উৎপাদন বাড়ায় ফার্নেস অয়েলের কেন্দ্রগুলো বসে থাকবে। এতে গড় ক্যাপাসিটি চার্জ অনেক বেড়ে যাবে। গত অর্থবছর ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ এসেছে ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছর তা অনেকখানি কমে দাঁড়াবে সাত দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছর দুই দশমিক ৪৭ শতাংশ। উৎপাদন কমায় গড় ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। গত অর্থবছর ফার্নেস অয়েলের কেন্দ্রগুলোয় গড় উৎপাদন ব্যয় ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। চলতি অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়াবে ২৮ টাকা ৫৯ পয়সা এবং আগামী অর্থবছর ৫৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

পরিবেশ

চিংড়িতে আগ্রহ কমছে, ধান চাষে ঝুঁকছে কৃষক

২৮ অক্টোবর ২০২৩, সমকাল

‘চিংড়ি চাষে এখন আগের মতো লাভ হয় না; প্রতিবছর দু’বার মরে ভাইরাসে। উৎপাদনও কমেছে। দামের হেরফের আছে। সবদিক বিবেচনায় চিংড়ি চাষ এখন অলাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম ধান চাষের। অনেক দিন পর জমিতে ধান লাগাতে পেরে ভালো লাগছে।’ কথাগুলো বলছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলার নয়ানি গ্রামের কৃষক বিকর্ণ মণ্ডল।

২০ বছর পর নোনাপানির চিংড়ি চাষ বাদ দিয়ে ধান চাষে ফিরেছেন এ কৃষক। তিনি জানান, এলাকার প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে ২০০৩ সালে চিংড়ি চাষ শুরু হয়। এক হাজার কৃষকের জমি থাকলেও সব জমি ইজারা নিয়ে ঘের করেন ২০০ জন। সারাবছর নোনাপানিতে ভরা থাকত বিল। বাধ্য হয়ে পাশের ছোট জমির মালিকরাও চিংড়ি চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে লবণাক্ততা বসতভিটায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ফলে শাকসবজিও লাগানো যেত না। বিলে চার বিঘা জমি থাকলেও পাঁচজনের সংসারের চালের চাহিদা মিটত না আরেক কৃষক মনমোহন মণ্ডলের। বাড়িতে সবজিও লাগাতে পারতেন না। সবকিছু বাজার থেকে কিনতে হতো। তবে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এবার জমিতে নোনাপানি ওঠানো বন্ধ করে ধানের সঙ্গে সবজি চাষাবাদ করছেন।

যদিও কিছু জায়গায় ধানের পাতা লালচে হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে কৃষকরা অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসের কারও পরামর্শ পাচ্ছেন না তারা। চাষাবাদের শুরুতেও সহযোগিতা পাননি। কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতা পেলে ধান ও সবজি চাষাবাদ বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

এলাকার অনাদি সরকার, সমীরণ মৃধা, নান্টু রায়, দীপক মণ্ডলসহ অনেকের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তারা বাজারের কীটনাশকের দোকানে বসে থাকেন। তারা কৃষকের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে মাঠে যান না। কোনো দরকারে তাদের কাছে পরামর্শ চাইলে বিশেষ বিশেষ কোম্পানির কীটনাশক কিনতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

পদ্মায় বালু উত্তোলনে পাল্টে গেছে স্রোতের প্রবাহ

২৯ অক্টোবর ২০২৩, সমকাল

পদ্মা সেতুর আধা কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক স্থানে ড্রেজার দিয়ে তোলা হচ্ছে বালু। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় অবৈধ এই বালু উত্তোলনে পদ্মায় পাল্টে গেছে স্রোতের প্রবাহ পথ। মাওয়া প্রান্ত থেকে স্রোতের প্রবাহ চলে গেছে জাজিরা প্রান্তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, নদীর দুই তীরে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

গত এক যুগে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়েছে কৃষক মুজিবর হাওলাদারের (৭০) চার বিঘা জমি। শরীয়তপুরের জাজিরার কাথুরিয়া গ্রামের মুজিবর সমকালকে বলেন, ‘বাপদাদার ভিটা ভাইঙা যাওয়ার পর কাজিরহাট গেছিলাম একজনের আশ্রয়ে। কিছুদিন পর তারা আর থাকতে দেয় নাই। তখন হামিদ মাতবরের চরে যাই। সেই চরও ভাইঙা যায়। এরপর আইছি কাথুরিয়া।’ নদীর দুই তীরে এই ভাঙনের কারণ জানেন না মুজিবর হাওলাদার। মাওয়া থেকে স্রোতের প্রবাহ জাজিরা প্রান্তে চলে যাওয়ার কারণও তাঁর অজানা।

দেশের বিভিন্ন নদনদীর তলদেশের অবস্থা জানতে জরিপ চালায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ওই জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে পাউবোর ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জে পদ্মায় স্রোতের প্রবাহ ছিল উত্তরের মাওয়া প্রান্তে। এর পর আস্তে আস্তে তা দক্ষিণের জাজিরা প্রান্তে চলে যায়।’ স্রোতের প্রবাহ পথের এই পরিবর্তনে নদীর দুই তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মাওয়া-জাজিরা এলাকায় পদ্মার স্রোত প্রবাহে পরিবর্তন সম্পর্কে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) উপদেষ্টা ড. মমিনুল হক সরকার বলেন, ‘পদ্মায় পলি জমে ছোট ছোট চর জেগে উঠেছে। অন্যদিকে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনে নদীর তলদেশে এলোমেলোভাবে সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। এতে স্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পাল্টে গেছে গতিপথ।’ তিনি বলেন, ‘নদীর পানি সব সময় গভীরতার দিকে ধাবিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। পদ্মার মাওয়া-জাজিরা অংশে সেটাই হয়েছে। অপরিকল্পিত বালু তোলার ফলে জাজিরা প্রান্তে নদীর তলদেশে গভীরতা বেড়েছে। ফলে মাওয়া প্রান্ত থেকে স্রোতের প্রবাহ চলে গেছে সেদিকে।’

একই কথা বলেন, পদ্মা সেতুর নদীশাসন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, ‘পদ্মায় অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের কারণেই মাওয়া থেকে স্রোতের প্রবাহ জাজিরা প্রান্তে চলে গেছে। আর স্রোত প্রবাহের এই পরিবর্তনে মাঝ পদ্মায় জেগে ওঠা চরে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এরই মধ্যে চরের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়েছে।’

পাউবোর মুন্সীগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী মনে করেন, পদ্মায় স্রোতের প্রবাহ পথ পাল্টে যাওয়ার মূল কারণ মাঝ নদীতে জেগে ওঠা চর। ছোট ছোট অনেক চরের কারণে নদীর মাওয়া প্রান্তে এখন তেমন স্রোত নেই, মূল প্রবাহ জাজিরা প্রান্তে। আর নদীর বুকে চর জেগে ওঠার জন্য ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে দায়ী করেন তিনি। প্রকৌশলী নরেন্দ্র শংকর বলেন, ‘ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু তোলার কারণে পদ্মার তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে আশপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।’

স্থানীয়রা বলছেন, ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর পদ্মার মাওয়া প্রান্তে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ভাঙনের মুখে পড়ায় ২০১৪ সালে কয়েক দফা মাওয়া ফেরিঘাট স্থানান্তর করতে হয়। ২০২০ সালেও পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা ও শিমুলিয়া ঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়। ২০২১ সালের আগস্টে পদ্মা সেতুর ৩৪ নম্বর খুঁটির অদূরে শিবচরের কারালী ও চরচন্দ্রায় ভাঙন দেখা দেয়। এ ছাড়া পদ্মার ভাঙনে পড়েছে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা, পালেরচর, বড়কান্দি, বিলাশপুর ও কুণ্ডেরচর।

চলনবিল গিলে খাচ্ছে ‘উন্নয়ন’

৪ নভেম্বর ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দেশের বৃহত্তম বিল নাটোরের চলনবিলের মাঝখানে অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কৃষির ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলনবিলে চলমান নির্মাণকাজের মধ্যে রয়েছে একটি হাইটেক পার্ক, শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (টিএসসি)। এর পাশাপাশি চলনবিলে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

চলনবিলের শেরকোল এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন, ‘চলনবিলের পানি দুটি চ্যানেল দিয়ে প্রবাহিত হতো। হাইটেক পার্ক নির্মাণের কারণে একটি চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে ফসলি জমির বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময়ের জন্য জলাবদ্ধ থাকে এবং চাষাবাদে অসুবিধা হয়।’

তেলিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মানিক ইসলাম জানান, চকপুর, তেলিগ্রাম, সিধাখালী, বামুনহাট, রাণীনগর, বামনুহাট, বোক্তারপুর, গোয়ালবাটান, বিলভারট ও ভাঙ্গারকান্দি গ্রামের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

লাঠিটিলা বনেই হবে সাফারি পার্ক

১০ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

পরিবেশবাদীদের আপত্তি উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা বনেই সাফারি পার্ক স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৫ হাজার ৬৩১ একর এলাকার ওপর সাফারি পার্কটি নির্মাণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটির জন্য ৩৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু হবে।

প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় বলেন, এই সাফারি পার্ক নির্মাণের ফলে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এখানে দেশ–বিদেশের পর্যটক আসবে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে; সর্বোপরি এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় বসবাসরত ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিয়েই সাফারি পার্কটি নির্মাণ করা হবে।

এদিকে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ার আগে পরিকল্পনা কমিশন থেকে শর্ত হিসেবে প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করে পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজে পাহাড় না কাটতে বলা হয়। যদিও দেশের বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে এ ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণের আগে ইআইএ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জরুরি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন ছাড়া পাহাড় কাটারও নিয়ম নেই।

এর আগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক–১ এবং গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক–২ নির্মাণ করা হয়। ওই দুটি প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

বিশেষ করে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া এবং দুটি সাফারি পার্কে বন্য প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই দুটি সাফারি পার্কে এখনো বন্য প্রাণীদের সুরক্ষা এবং আর্ন্তজাতিক মান অর্জন না করা নিয়ে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ আছে। এমন পরিস্থিতিতে লাঠিটিলার মতো বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যপূর্ণ বনে আরেকটি সাফারি পার্ক নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাথাপিছু ব্যয় ৫৫৮ টাকা

০৮ নভেম্বর ২০২৩, দেশ রুপান্তর

দেশে বিদ্যমান ৩২৮টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশনে ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে। এ শহরগুলোতে এখন মোট ৪ কোটি ৫ লাখ জনসংখ্যার বসবাস। এ শহরগুলোর জন্য মানুষের দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে এ পৌর ও সিটি শহরগুলোকে। ২০২১ সালে ৩৪০টি পৌর ও সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পেছনে মাথাপিছু ব্যয় করতে হয়েছে গড়ে ৫৫৮ টাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মিউনিসিপ্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরিপ ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পৌর ও সিটি করপোরেশনগুলোতে ৩ কোটি ৭৯ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শহরগুলোতে ২০২০-২১ অর্থবছরে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫ লাখে। ৩৪০টি শহরের মোট আয়তন এখন ৬ হাজার ৮২৪ বর্গ কিলোমিটার, যদিও আগের বছরগুলোতে শহরগুলোর মোট আয়তন কত ছিল তা উঠে আসেনি। এর ফলে পৌর ও সিটি করপোরেশনগুলোতে সরকারের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের মোট ব্যয়ের ৬ দশমিক ১২ শতাংশ খরচ হয়েছে এসব পৌর ও সিটি করপোরেশনগুলোতে, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় মাত্র ৮%

১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো বিভিন্ন পরিষেবা বাবদ বছরে মাথাপিছু ৭ হাজার ৪৫ টাকা খরচ করে। এর মধ্যে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাথাপিছু গড়ে ব্যয় করে ৫৫৮ টাকা। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলো ৬৬১ টাকা ও পৌরসভাগুলো শ্রেণিভেদে ২১৮ থেকে ৫১৫ টাকা পর্যন্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় করে।

 সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘মিউনিসিপ্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা ২০২২’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২০-২১ অর্থবছরের হিসাব ধরা হয়েছে।

এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাথাপিছু এত টাকা ব্যয় করলেও এর সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর-পরিকল্পনাবিদেরা। তাঁরা বলছেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সনাতন পদ্ধতিতে হয়। অর্থাৎ সব ধরনের কঠিন বর্জ্য একত্রে সংগ্রহ করে ল্যান্ডফিলে, মানে ভাগাড়ে ফেলা হয়। কিন্তু জমাকৃত ওই বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা হয় না। অন্যদিকে বর্জ্য সংগ্রহে এলাকাভেদে বাসাপ্রতি মাসে ১০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মাথাপিছু এত টাকা ব্যয় হলেও তার সুফল মিলছে না।

পশুর নদে ৮০০ টন কয়লা নিয়ে জাহাজডুবি

১৭ নভেম্বর ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

মোংলা বন্দরের পশুর নদে ৮০০ মেট্রিক টন জ্বালানি কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এ সময় জাহাজে থাকা ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী তাৎক্ষণিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে পশুর নদের ডুবোচরে আটকে তলা ফেটে যায় “এমভি প্রিন্স অব ঘষিয়াখালী” নামের ওই কার্গো জাহাজটির।

শিল্পবর্জ্যে সাতটি হাওরে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে কৃষকেরা

১৭ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

হবিগঞ্জের মাধবপুর ও লাখাই উপজেলায় শিল্পবর্জ্যে সাতটি হাওরে চাষাবাদ করতে পারছেন না চাষিরা। এ ছাড়া এলাকার হাওর ও খাল–বিলগুলো শিল্পবর্জ্যে ছেয়ে যাওয়ায় এর পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এদিকে হাওর ও খাল–বিলের পানি দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাধবপুর উপজেলার শিবজয়নগর হাওরের মাঝখান দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। খালটি এলাকাবাসীর কাছে রাজ খাল হিসেবে পরিচিত। এ রাজ খাল পাশের সাতপাড়িয়া হাওর, এখতিয়ারপুর হাওর, পিয়াম হাওর ও সাকুসাইল হাওর হয়ে জেলার লাখাই উপজেলার মুড়াকরি কালাউক হয়ে কাস্টি নদে গিয়ে মিশেছে। ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার খালটি ঘিরেই ওই এলাকার কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে। কিন্তু সম্প্রতি এ খালের পানি চাষিরা সেচকাজে ব্যবহার করতে পারছেন না। খালটি শিল্পবর্জ্যে দূষিত হয়ে গেছে।

মাধবপুর উপজেলার শিবজয়নগর ও হরিতলায় আট বছর আগে পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেড ও নাহিদ ফাইন টেক্স নামের দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ দুই প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানার বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলছে। এতে ওই এলাকার মাধবপুরের পাঁচটি, লাখাই উপজেলার দুটি হাওরসহ সাতটি হাওরের কৃষিজমি চাষ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে স্থানীয় চাষিরা সেচকাজে এ পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। পাশাপাশি খাল–বিল ও নদে এ দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। যে কারণে ফসলের মাঠে ফসল হচ্ছে না, খাল–বিলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্গন্ধের জন্য বাড়িঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর। লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে ভুগছেন অনেকে। সব ধরনের জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

টাকা ব্যয় হয়, দূষণ কমে না

০২ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করেছে সরকার। কিন্তু নির্মল বায়ুতে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়নি এই শহরের শিশুরা। উল্টো দূষণের কারণে নানা বয়সের মানুষ ভুগছে বিভিন্ন রোগে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণ রোধে সরকার ২০০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুটি প্রকল্পে অন্তত সাড়ে ছয় কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে, যা বর্তমানে প্রায় ৭২০ কোটি টাকার সমান। এর বাইরে ছোট ছোট কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রকল্প নেওয়ার আগে বলা হয়েছিল, ‘দেশের বায়ু মান খারাপ’। প্রকল্পের মাধ্যমে বায়ুকে ‘নির্মল’ করা হবে। অথচ বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় ওপরের দিকেই থাকে ঢাকা।

বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাত সোয়া ১০টায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল ৩ নম্বরে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের গড় হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের তালিকায় ৫ নম্বরে ছিল বাংলাদেশ।

বায়ুদূষণ রোধে সহায়ক হয়, এমন প্রকল্পে বিপুল অর্থায়নও পেয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রভাবশালী সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এ ধরনের প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি (দুই বিলিয়ন) ডলারের অর্থায়ন পেয়েছে বাংলাদেশ, যা বর্তমান বিনিময় মূল্যে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার সমান।

বায়ুদূষণ রোধ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, দূষণ রোধে অর্থ ব্যয় হলেও ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দেওয়া হয়নি। ফলে দূষণ রোধ করা যায়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে নামকাওয়াস্তে। তারা নিজেদের তৈরি নির্দেশিকা মানাতে পারেনি। আদালতের নির্দেশনাও মানা হয়নি।

মাফিয়াদের সিন্ডিকেট মিলছে না ইজারাদার

০১ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

বালু মাফিয়াদের সিন্ডিকেটের কারণে চট্টগ্রামের ৩৬ নদী-খালের ৫৩ বালুমহালে ইজারাদার মিলছে না। সাতবার বিজ্ঞপ্তি দিলেও ইজারা নেয়নি কেউ। ইজারা না নিয়েই নদী-খালকে গিলে খাচ্ছে বালুখেকোরা। মাত্র সাড়ে ছয় কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের জন্য নদী-খাল হচ্ছে বিপন্ন, ভাঙনে ভিটে হারাচ্ছে হাজারো মানুষ। নদীতে বিলীন হচ্ছে একের পর এক কৃষিজমি, ঝুঁকিতে এক ডজনের বেশি রেল ও সড়ক সেতু।

বালু সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী, ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল-জরিমানা করলেও তাদের বাগে আনা যাচ্ছে না। ইজারাদার না মিললেও প্রতিদিন ঠিকই এসব মহাল থেকে কোটি কোটি টন বালু অবৈধভাবে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালুখেকোরা। ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তরের ফেনী নদী, দক্ষিণের ডলু ও নগরের কর্ণফুলী নদী। চট্টগ্রামে বালুর কারবার এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

চট্টগ্রাম জেলা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব নু-এমং মারমা মং বলেন, ৫৩টি বালুমহাল ইজারা দেওয়ার জন্য প্রথম ১২ মার্চ ইজারা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কেউ অংশ নেননি। তারপর দফায় দফায় সাতবার বিজ্ঞপ্তি দিলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। গত ৪ সেপ্টেম্বর অষ্টমবারের মতো বিজ্ঞপ্তি দিলে ২৪ জন দরপত্র জমা দেন। সিন্ডিকেট না হলে ৫৩ মহাল ইজারা নেওয়ার জন্য সাত-আটবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না।

৭৬% এলাকার মাটির স্বাস্থ্যহানি

০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

সারা দেশে ভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। একদিকে মাটির স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে, অন্যদিকে কমে আসছে কৃষিজমির পরিমাণ। সরকারি হিসাব বলছে, প্রতিবছর গড়ে ২৭ হাজার হেক্টর ভূমির অবক্ষয় হচ্ছে।

ভূমি অবক্ষয়ের (ল্যান্ড ডিগ্রেডেশন) কারণ মূলত পাঁচটি—মাটির রাসায়নিক গুণের অবনতি, ভূমি ক্ষয়, পানির স্তর নেমে যাওয়া ও খরা, জলাবদ্ধতা ও মাটি জমাট বাঁধা এবং প্রাণবৈচিত্র্য হ্রাস। সরকারের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, দেশের ১ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর ভূমি অবক্ষয়ের শিকার। এটি দেশের মোট ভূমির ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। জনসংখ্যা ১৭ কোটি। ভূমির ওপর এ দেশের মানুষের নির্ভরতা অনেক বেশি। কিন্তু মাথাপিছু ভূমির পরিমাণ ০.০৯ হেক্টর। সিঙ্গাপুরের মতো নগররাষ্ট্র ছাড়া মাথাপিছু এত কম জমি আর কোনো দেশে নেই। এই সামান্য পরিমাণ জমিতেই বসবাস, এর উৎপাদিত ফসলেই জীবনধারণ। চাপ এ কারণেই।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর। সেদিন ছিল বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস। বাংলাদেশের ভূমি অবক্ষয়ের প্রকৃতি, কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি জানা এবং করণীয় নির্ধারণের জন্য এই গবেষণা করা হয়েছিল।

নিঃশেষের পথে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি

ডিসেম্বর ৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঢাকাবাসীর প্রতিদিনের চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর।

দূষণ ও দখলের কারণে ঢাকার চারপাশের নদী ও জলাশয়ের পানি ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায়, নগরীর প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ বাসিন্দার ঘরে ও শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা প্রায় ৭০ শতাংশ পানি উত্তোলন করতে হচ্ছে মাটির নিচ থেকে।

শুধু ঢাকা ওয়াসাই প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে, যা দিয়ে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আকারের অন্তত ২০টি স্টেডিয়াম পূর্ণ করা সম্ভব। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, উত্তোলন করা এই পানির অন্তত ২৫ শতাংশই অপচয় হচ্ছে সরবরাহ প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে।

সারাদেশে ১ হাজার ২৭২টি পর্যবেক্ষণ কূপের মাধ্যমে ৬০ বছর ধরে পানির পরিমাণ ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ২ মিটার বা প্রায় ৭ ফুট করে নেমে যাচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানি বিশেষজ্ঞ এবং পাউবো পরিচালক ড. আনোয়ার জাহিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঢাকার মাটির নিচে একটি বড় বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। মাটির নিচে হচ্ছে বলে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বিপর্যয়ের ধারণাই পাচ্ছি।’

কয়েক দশক আগেই ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল পাউবো এবং গবেষকরা। ১৯৯৬ সালে ঢাকায় পানির স্তর ছিল ২৫ মিটারে, যা ২০০৫ সালে ৪৫ মিটার, ২০১০ সালে ৬০ মিটার এবং ২০২৩ সালে এসে ৭৫ মিটারে নেমেছে।

২০৫০ সালের মধ্যে এটি নেমে যেতে পারে ১২০ মিটারে। কেননা, ওয়াসার প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৫ সালে প্রতিদিন ৩৫ লাখ ঘনমিটার, ২০৩০ সালে প্রতিদিন ৪৩ লাখ ঘনমিটার এবং ২০৩৫ সালে প্রতিদিন ৫২ লাখ ঘনমিটার পানির চাহিদা থাকবে ঢাকায়।

সোমালিয়ার মোগাদিসু এবং মিশরের টান্তা শহরের পরে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে ওয়াসার ১ হাজার পাম্প ছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপন করা অন্তত ২ হাজার গভীর নলকূপ ও আরও কয়েক হাজার অননুমোদিত গভীর নলকূপ দিয়ে প্রতিদিন ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে।

৩ শতাংশ জলাধারও নেই রাজধানী ঢাকায়

১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

মাঝে ২৮ বছরের ব্যবধান। এর মধ্যেই ঢাকা মহানগরে জলাধারের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ১৯৯৫ সালে যা ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ, এখন তা ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এ সময়ে ফাঁকা জায়গা ও সবুজ এলাকাও কমেছে বড় পরিসরে। বিপরীতে বেড়েছে নির্মিত এলাকার পরিধি। জলাধার, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত হওয়ার কারণে রাজধানী ঢাকা হারাচ্ছে বাসযোগ্যতা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপি কার্যালয়ে ‘ড্যাপ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা: বিএডিসি ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জলাশয় ভরাট প্রসঙ্গে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ওই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৯৫ সালে দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় জলাধার ও জলাভূমি ছিল ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০০৫ সালে সেটা ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ হয়। ২০১৫ সালে তা আরও কমে ৩ দশমিক ২১ শতাংশে নামে। ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৯১ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।

একইভাবে ১৯৯৫ সালে সবুজ এলাকা ছিল ২০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ২০০৫ সালে হয় ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে হয় ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে হয়েছে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

১৯৯৫ সালে ফাঁকা জায়গা ছিল ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তা ২০২৩ সালে হয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে নির্মিত এলাকা ছিল ৪৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৩ সালে সেটা হয়েছে ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে ছাত্রলীগ

১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়ার পরদিন ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টিএসসি ও শাহবাগ এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা হয়।

আহত দুই নেতা হলেন ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু ও সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ। হামলায় গুরুতর আহত দুই নেতাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। মেঘমল্লারের বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। আর মাঈনের কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়েছে।

সুন্দরবন-অধ্যুষিত অঞ্চলে বাড়ছে কিডনি লিভার ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী

ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩, বণিক বার্তা

সুন্দরবনের অধিকাংশ অধিবাসী জল ও জঙ্গলের ওপরই নির্ভরশীল। তাদের প্রধান পেশা—মাছ শিকার, কৃষি ও মধু সংগ্রহ। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ পরিবারই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। প্রকৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে চলা এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় রোগ-ব্যাধিও তাই কম। তবে সাম্প্রতিক বছগুলোয় সুন্দরবন-অধ্যুষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগ, ক্যান্সার, কিডনিসহ জটিল রোগ বেড়ে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অল্প সময়ে অধিক মাছ শিকারে বনটির নদী ও খালে বেড়েছে বিষ প্রয়োগের প্রবণতা। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।

সরকার প্রতি বছরই ছয়টি জটিল রোগ—ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক, প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান দেয়। খুলনা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৯-২০ থেকে সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করার হার সুন্দরবন-অধ্যুষিত উপজেলাগুলোয় সবচেয়ে বেশি। বছর বছরই তা বেড়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেট বিভাগের ৩১ নদী সংকটাপন্ন

ডিসেম্বর ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

অবৈধভাবে নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, শিল্প-কারখানার দূষণ, পলি ভরাটসহ বিভিন্ন কারণে সিলেট বিভাগের ৩১টি নদী আজ সংকটাপন্ন। এর মধ্যে সিলেটের প্রধানতম দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারাও রয়েছে। গতকাল ‘সিলেট বিভাগীয় নদীবিষয়ক কর্মশালা’য় এ তথ্য উঠে আসে। শহরতলির খাদিমনগরের একটি রিসোর্টে যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ প‌রিবেশ আইন‌বিদ স‌মি‌তি (বেলা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) ও পা‌নি অধিকার ফোরাম।

কর্মশালায় জানানো হয়, নদী রক্ষা কমিশনের সর্বশেষ ২০২৩ সালের হিসাবমতে, দেশে ১ হাজার ৮টি নদ-নদী রয়েছে। সিলেট বিভাগে রয়েছে ১৬৮টি। এর মধ্যে সিলেটে ৩৫টি, সুনামগঞ্জে ৯৭টি, মৌলভীবাজারে আটটি ও হবিগঞ্জে ২৮টি। যদিও আলোচকদের দাবি, সরকারি এ তথ্যে গরমিল রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের অনেক নদ-নদী এরই মধ্যে হারিয়ে গেছে। সিলেটেও এমন বেশ কয়েকটি নদী তালিকায় রয়েছে কিন্তু অস্তিত্ব নেই। এছাড়া বেশকিছু নদীর তীর ১ হাজার ১৯৪ জন দখল করে রেখেছে।

বান্দরবানে পাহাড় কেটে-ঝিরির পানি প্রবাহ বন্ধ করে বন উজাড়

ডিসেম্বর ২১, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের পানছড়ি মৌজার চিনি পাড়ার খেদার ঝিরি এলাকায় গত এক মাস ধরে নির্বিচারে প্রাকৃতিক বনের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।

বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের পানছড়ি মৌজার চিনি পাড়ার খেদার ঝিরি এলাকায় গত এক মাস ধরে নির্বিচারে প্রাকৃতিক বনের গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টংকাবতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুর রহিমসহ স্থানীয় আব্দুল শুক্কুর এবং কালু মেম্বার এ কাজে জড়িত। গাছ পাচারের জন্য তারা খেদার ঝিরির পানি প্রবাহ বন্ধ করে এবং এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছেন। এতে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন চিনি পাড়ার বাসিন্দারা।

বান্দরবান সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের পশ্চিম অংশের পাদদেশে চিনি পাড়ার অবস্থান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে খেদার ঝিরির ওপর প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মতো গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে খেদার ঝিরির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। ঝিরির আশপাশেই গাছ কেটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে আছে কড়ই, চাপালিশ, গামারি ও সেগুনসহ আরও নানা প্রজাতির বনজ গাছ।   

চিনি পাড়ার বাসিন্দারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই বনের কাটা গাছ ট্রাকে করে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও আমিরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। পাড়াবাসীর পানির একমাত্র উৎস টংকাবতী খালের ওপর দিয়ে সারাদিন এসব ট্রাক চলাচল করায় পানি ঘোলা থাকে। যে কারণে পাড়ার ৬৫টি পরিবার সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে।

খেদার ঝিরি এলাকায় কথা হয় গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও ট্রাকচালক মো. ইউসুফের সঙ্গে। তিনি জানান, বন থেকে গাছ কেটে খেদার ঝিরি এলাকায় জড়ো করেন তারা। তারপর সেগুলো ট্রাকে করে লোহাগাড়া ও আমিরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হয়।

অপর শ্রমিক মো. শহীদ জানান, তিনি দৈনিক ৬০০ টাকার বিনিময়ে গাছ কাটার কাজ করছেন। তার সঙ্গে কক্সবাজারের রামুর আরও ১৩ জন শ্রমিক রয়েছেন। গত ১২ দিন ধরে আব্দুর রহিম ও আব্দুল শুক্কুরের অধীনে তারা এই কাজ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম টংকাবতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক। তার বাড়ি চট্টগ্রাম লোহাগাড়ায় হলেও দুই বছর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র স্থানান্তর করে টংকাবতী এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এলাকায় বড় গাছের সওদাগর হিসেবে পরিচিত।

তার বিরুদ্ধে গত বছর টংকাবতী ইউনিয়নের রমজু পাড়া ও বলী পড়া এলাকায় ঝিরি-ঝর্ণা থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন এবং প্রাকৃতিক বনের গাছ কেটে হাতি দিয়ে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

সুন্দরবনে ফ্লাই অ্যাশবোঝাই কার্গো জাহাজডুবি

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

সুন্দরবনের শিবসা নদীতে ফ্লাই অ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল) বোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের মোংলা শাখার সহ-সভাপতি মো. মাঈনুল হোসেন মিন্টু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভারতের হলদিয়া বন্দর থেকে এক হাজার ৪২২ মেট্রিক টন ফ্লাই অ্যাশ বোঝাই করে এমভি গারোহেরা সুন্দরবনের আন্টিহারা নৌপথ দিয়ে মোংলার উদ্দেশে আসছিল। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে সুন্দরবনের শিবসা নদীর নলিয়ান এলাকায় পৌঁছালে জাহাজটি ডুবো চরে আটকে একদিকে কাত হয়ে যায়। পরে তলা ফেটে ঘটনাস্থলে ডুবে যায় জাহাজটি।’

দুর্ঘটনা-কবলিত জাহাজে থাকা ১২ জন স্টাফ-কর্মচারী তীরে উঠে যান। ভারত থেকে ফ্লাই অ্যাশ বোঝাই এ জাহাজ মোংলা বন্দরের শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে যাচ্ছিল বলেও জানান তিনি।

বর্ষবরণের রাতে শব্দ ও বায়ুদূষণে শতাধিক পাখির মৃত্যু

০২ জানুয়ারি ২০২৩, প্রথম আলো

বর্ষবরণের রাতে আতশবাজি ও পটকা ফাটানোর আনন্দ অনেকের জন্য বিপদ ডেকে এনেছিল। এতে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ বড় শহরের বায়ু ও শব্দদূষণ তীব্র হয়ে ওঠে। শিশু ও প্রবীণ মানুষেরা অনেকেই অসুস্থ বোধ করেন। তবে গত বছরের তুলনায় পটকা, আতশবাজি পোড়ানো কমেছে। সবচেয়ে কমেছে ফানুস ওড়ানো। এতে সামগ্রিকভাবে গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ দূষণ কম হয়েছে। তবে তা-ও ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ এবং স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) আলাদা পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে যে পরিমাণে শব্দ ও বায়ুদূষণ হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে শহরের পাখিগুলো। গতকাল সোমবার বর্ষবরণের রাতে শুধু ঢাকা শহরে চার প্রজাতির শতাধিক পাখি মারা গেছে। আর কমপক্ষে চার প্রজাতির পাখি ভয় ও আতঙ্কে বাসা থেকে উড়ে গেছে। বেশ কিছু এলাকায় পাখিরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে ঢাকার ৪৮টি স্থানের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে বর্ষবরণের রাতের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার ফানুস ওড়ানো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। অর্ধেকে নেমেছে আতশবাজি ও পটকা ফাটানো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দোলাইরপাড়, আনন্দবাজার, নীলক্ষেত ও নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি এলাকায় বায়ুদূষণ ছিল গত বছরের মতো বেশি। অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্যে ফার্মগেট, তেজগাঁও ও মহাখালী এলাকায় বেশি বায়ুদূষণ ছিল। উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ প্রধান আবাসিক এলাকাগুলোয় বায়ুর মান খুব বেশি খারাপ হয়নি। শব্দের মানও স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি ছিল।

ক্যাপসের পর্যবেক্ষণ

এ ব্যাপারে অধ্যাপক আব্দুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, বর্ষবরণের রাত মানেই আতশবাজি আর পটকা ফাটানো নয়। এতে কিছু মানুষের আনন্দ হয়, কিন্তু শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে আনে। এটা অনেকে বুঝতে পেরেছেন। তাই এবার সচেতনতা বাড়ায় শব্দ ও বায়ুদূষণ কমেছে। তবে আগামী বছরগুলোয় এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে আরও সোচ্চার হতে হবে। নাগরিকদের হতে হবে আরও দায়িত্বশীল।

অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় অধ্যয়নকেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষবরণের রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আতশবাজি পোড়ানো এবং পটকা ফাটানোর শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শব্দ হয় সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, রাতের বেলা রাজধানীতে শব্দের মানমাত্রা ৫০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু রাতের ৯০ শতাংশ সময় ওই মাত্রা ৭০ ডেসিবেলের ওপরে ছিল। যা প্রতিদিনের গড় মাত্রার চেয়ে ৪২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বায়ুর মান ৩৫ শতাংশ অবনতি হয়। রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বায়ুতে অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা ৯১ মাইক্রোগ্রাম বেড়ে যায়। যা ওই সময়ের স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি। তবে গত বছর একই সময়ের তুলনায় ১ মাইক্রোগ্রাম কম।

এ ব্যাপারে ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, বায়ু ও শব্দের মানের উন্নতি হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এখনো তা মানমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। যা মানুষ ও প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে রয়েছে। তবে হঠাৎ করে তা বন্ধ করা যাবে না। ধারাবাহিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তা কমাতে হবে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্ষবরণের রাতে বিকট শব্দে ও বায়ুদূষণের কারণে আটটি জায়গায় শতাধিক পাখির মৃত্যু হয়েছে। পাখিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল চড়ুই। এর পর কাক, বাতাসী ও ঘরবাতাসী পাখির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে মিরপুর–১৪ নম্বর এলাকা, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও জাতীয় চিড়িয়াখানা, তেজগাঁও সাতরাস্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া, ওয়ারী ও সদরঘাট এলাকায়। আর বিকট শব্দে বাসা থেকে বেশি পালিয়েছে টিয়া, লক্ষ্মীপ্যাঁচা, খঞ্জন ও শালিক পাখি।

ঢাকাবাসীকে রক্ষায় অ্যালার্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেই

০২ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

গত ৮ বছরের মধ্যে ঢাকার মানুষ মাত্র ৪৭ দিন ভালো বায়ু গ্রহণ করতে পেরেছে। এ সময় ৫৯৮ দিন মধ্যম মানের বায়ু, ৭৭৮ দিন সতর্কতামূলক, ৬৮৩ দিন অস্বাস্থ্যকর, ৫৪১ দিন খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৫৫ দিন ‘দুর্যোগপূর্ণ বায়ু’ গ্রহণ করে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

সোমবার নতুন বছরের প্রথম দিনই বিশ্বের ১০৯ শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা। এদিন রাত ৮টায় ঢাকায় বায়ুর মান ছিল ৩০০, যা দুর্যোগপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে থাকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বায়ুদষূণের কারণে এক দিনের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়নি। ঢাকাবাসীকে রক্ষায় সতর্কতা বা অ্যালার্ট সিস্টেম চালু করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও পরিবেশবিদদের আহ্বান– কিছুরই তোয়াক্কা করছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। সভা-সেমিনার, লিফলেট বিতরণ আর সাইনবোর্ড লাগিয়েই দায় শেষ করছে তারা। আর এর পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইপিএর হিসাবে, কোনো একটি শহরের বায়ুর মানের সূচক (একিউআই বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) ২০০ হলে তাকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। এতে  প্রত্যেক নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ঢাকার বায়ুমান বছরের পাঁচ মাস অস্বাস্থ্যকর থেকে বিপজ্জনক থাকে। এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশ জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে।

ঢাকা: বসবাসের অযোগ্য যে শহরে থাকতে ব্যয় করতে হয় অত্যধিক

৬ জানুয়ারি ২০২৪, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

জীবনযাত্রার ব্যয়ের দিক থেকে টরন্টো, ক্যালগারি, মন্ট্রিল ও লিসবনের মতো শহরগুলোর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর।

গত নভেম্বরে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তাদের সর্বশেষ জরিপ প্রকাশ করে। এই জরিপের জন্য, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) ১৭৩ টি শহরের ২০০ টিরও বেশি পণ্য এবং পরিষেবাগুলোর ৪০০ এরও বেশি স্বতন্ত্র মূল্যের তুলনা করেছে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার প্রথমে রয়েছে সিঙ্গাপুর (সূচক মান ১০৪)। আর সবার শেষে অর্থাৎ সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহর হল সিরিয়ার দামেস্ক (সূচক মান ১৩)। আর জরিপে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সূচক মান ৫৬।

গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৩-এ ১৭৩ টি শহরের মধ্যে জিম্বাবুয়ের হারারে’র সঙ্গে যৌথভাবে ১৬৬ তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এটি সূচকে সপ্তম সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে অবস্থান করছে।

তবে দামেস্ক কম ব্যয়বহুল শহর হলেও বিশ্বব্যাপী বসবাসযোগ্যতার র‍্যাংকিংয়ে নিচে অবস্থান করছে (১৭৩ তম স্থান)। অপরদিকে ঢাকা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল শহর ঠিক তেমনি বসবাসেরও অযোগ্য। আগের বছরের সূচকে ঢাকা নিচের দিক থেকে সপ্তম স্থানে অবস্থান করেছিল।

বাসযোগ্য শহরগুলো পাঁচটি দিক বিবেচনা করে পরিমাপ করা হয়েছে। সেগুলো হলো, স্থায়িত্ব, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো।

রক্ষক সিটি করপোরেশনই গিলছে বিপ্লব উদ্যান

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, বাংলা ট্রিবিউন

চট্টগ্রাম নগরীর ২ নম্বর ষোলশহরে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মরণে গড়ে ওঠা বিপ্লব উদ্যানে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণে কারও মানা শুনছে না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পরিবেশবিদরা বলছেন, অনেকটাই একগুয়েমি করে সবুজ এই উদ্যানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে চলেছে চসিক। যেখানে কনক্রিটের স্থাপনা নির্মাণে দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ক্ষত-বিক্ষত করা হচ্ছে উদ্যান। সবুজের ধ্বংস্থলে একের পর এক গড়ে উঠছে কনক্রিটের দালান।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের স্মরণে ১৯৭৯ সালে এ উদ্যান নির্মিত হয়। যার নাম রাখা হয়েছে ‘বিপ্লব উদ্যান’।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ২ নম্বর গেট এলাকায় প্রায় দুই একর আয়তন বিশিষ্ট এ উদ্যান। এটি চট্টগ্রামের একমাত্র সবুজ উদ্যান। এক সময় সবুজের সমারোহ ছিল এ উদ্যান। শহরের মাঝখানে উদ্যানটিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসতো নগরীর বাসিন্দারা। তবে বিপ্লব উদ্যানে এখন সবুজ নেই। নেই ফুল-সবুজ গাছপালা। আধুনিকতার নামে সবুজের সিংহভাগ গিলে খেয়েছে এ উদ্যানের রক্ষক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

উদ্যানে প্রথম আঘাতটি করা হয় ২০১৮ সালে। ওই বছর ১ নভেম্বর স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড ও রিফর্ম লিমিটেড নামে বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে সিটি করপোরেশন। বিপ্লব উদ্যানে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে ২০ বছর মেয়াদী এক চুক্তির পর উদ্যানে গড়ে তোলা হয় ইট-কনক্রিটের অবকাঠামো।

পরিবেশবাদীদের আন্দোলন অগ্রাহ্য করে তৎকালীন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ওই পরিকল্পনায় অর্ধেকে নেমে আসে বিপ্লব উদ্যান। এর ফলে ফুল এবং সবুজে সমারোহ উদ্যানটি এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এ কাজের জন্য আ জ ম নাছিরকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি পরিবেশবিদদের মতে, এটি ছিল মেয়র নাছিরের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

এ সমালোচনা শেষ না হতেই গত বছরের ২২ আগস্ট রিফর্ম কনসোর্টিয়াম নামে অপর একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে চসিক। চুক্তিতে ৩১টি শর্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বিপ্লব উদ্যানের পূর্ব পাশে দোতলায় ২০০ ফুট দীর্ঘ স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। সেখানে হবে কফিশপ। একটি অংশে দোতলায় চট্টগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংবলিত জাদুঘরসহ প্রদর্শনী কেন্দ্র থাকবে।

উদ্যানের পূর্ব পাশে জাতীয় পতাকার আদলে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে একটি কাঠামো তৈরি হবে। এখানে সবুজ লতাপতা দিয়ে আবৃত্ত করে বাংলাদেশের পতাকা, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু ও চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের কৃতি সন্তানদের প্রতিকৃতি থাকবে। তবে এই কাঠামোর নিচে কিডস বা গেমিং জোন করা হবে। কাঠামোটি হেলানো অবস্থায় করা হবে। উদ্যানে এক হাজার ৩০০ বর্গফুট দুটি স্টিলের কাঠামোর ভেতর গেমিং জোন করা হবে। এতে ২৫টি ডিজিটাল স্ক্রিন, বিলবোর্ড বা মেগাসাইন, এটিএম বুথ, কিয়স্ক, প্রদর্শনী কেন্দ্র, কিডস এক্সপেরিয়েন্স বা গেমিং জোন স্থাপনের সুযোগ আছে বর্তমান মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর করা চুক্তিতে।

বিপজ্জনক আর্সেনিক পানি খাচ্ছে দেশের অর্ধেক মানুষ

১৯ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

বাংলাদেশিদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যকের পানীয় জলেই বিপজ্জনক মাত্রার আর্সেনিক রয়েছে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি দল বলছে, প্রায় ৮ কোটি বাংলাদেশি বা জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ক্ষতিকর মাত্রার আর্সেনিকযুক্ত পানি খাচ্ছে। এটি দেশের জনস্বাস্থ্য সংকটকে প্রকট করে তুলেছে। বুধবার পিএলওএস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষা অনুসারে, আর্সেনিকের এই বর্ধিত মাত্রা সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং আরও গুরুতর মৌসুমি বন্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

গবেষকরা আর্সেনিক নিঃসরণের পেছনের গতিশীলতা বোঝার জন্য অক্সিজেনের ঘনত্ব, পিএইচ এবং তাপমাত্রা পরীক্ষা করার জন্য সমগ্র বাংলাদেশের কূপ থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা দেখেছেন, বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানির প্রায় ৪৯ শতাংশে আর্সেনিকের ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

নিরাপদ মান ধরা হয় প্রতি লিটার পানীয় জলের জন্য ১০ মাইক্রোগ্রাম। কিছু নমুনায় আর্সেনিকের ঘনত্ব পাওয়া গেছে ৪৫০ মাইক্রোগ্রাম, যা ডব্লিউএইচওর নির্দেশিকার ৪৫ গুণ।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

ডেঙ্গুতে আরও ১৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭২৮

০২ নভেম্বর ২০২৩, সমকাল

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৫ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৩৭০ জন মারা গেলেন।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আজ সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সরকারি ৮৪ হাসপাতালে ৩,৩৩১ যন্ত্রপাতি অচল

০৪ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমআরআই (ম্যাগনেটিক রেসোন্যান্স ইমেজিং) যন্ত্রটি দুই বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট। যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় কিছু রোগের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সরকারি এই হাসপাতালে হচ্ছে না। রোগ পরীক্ষা করাতে  হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগীদের নিয়মিতভাবে অন্য হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন।

শরীরের ভেতরের কাঠামো ও অঙ্গের বিস্তারিত প্রতিচ্ছবি দেখার জন্য এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশেষ করে স্নায়ুরোগের চিকিৎসায় এমআরআই পরীক্ষার দরকার হয়। যেসব রোগীর এমআরআই পরীক্ষার দরকার হয়, তাঁদের আমরা অন্য সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিই।’

হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৩৫০ শয্যার এই হাসপাতালে এমআরআই যন্ত্রসহ ২২টি যন্ত্র বহুদিন ধরে নষ্ট। যন্ত্রগুলো সারানোর জন্য হাসপাতালের পরিচালক একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আছে, কাজ হয়নি।

ঢাকা শহরসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে বহু যন্ত্র অচল অবস্থায় পড়ে আছে। গত জুলাইয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া যন্ত্রপাতির হিসাবে দেখা যায়, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়সহ মোট ৮৪টি হাসপাতালে ৩ হাজার ৩৩১টি যন্ত্র অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মেরামত করলে এসব যন্ত্র কাজে লাগবে। এ ছাড়া ৯৩৩টি যন্ত্র নষ্ট হয়ে আছে, যেগুলো আর মেরামত করা যাবে না।

৮৪টি হাসপাতালে ৩ হাজার ৩৩১টি যন্ত্র অচল অবস্থায় আছে। অর্থাৎ প্রতিটি হাসপাতালে গড়ে ৪০টি যন্ত্র অচল অবস্থায় আছে। অবশ্য সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এসব যন্ত্র সচল করা সম্ভব।

যন্ত্রপাতির হিসাব

এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল সেবা ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিঠি দিয়ে যানবাহন ও ভারী যন্ত্রপাতির তথ্য নির্ধারিত ছকে পাঠাতে বলা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো ১৩টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ১১টি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ৬০টি জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল নির্ধারিত ছকে ভারী যন্ত্রপাতির তথ্য পাঠিয়েছে। তাতে  অ্যাম্বুলেন্স, জিপ, পিকআপ, এক্স-রে যন্ত্র, ইসিজি যন্ত্র, আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র, অস্ত্রোপচারের জন্য ওটি টেবিল, ওটি লাইট (সিলিং), ওটি লাইট (পর্টেবেল), ডায়াথার্মি যন্ত্র, সাকার যন্ত্র, অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র, অটোক্লেভ যন্ত্র, ডেন্টাল যন্ত্র, অক্সিজেন সিলিন্ডার যন্ত্র, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর যন্ত্র, নেবুলাইজার যন্ত্র, এনজিওগ্রাম যন্ত্র, এমআরআই যন্ত্র ও সিটি স্ক্যান যন্ত্রের তথ্য আছে। এসব যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। মোট কতগুলো যানবাহন ও যন্ত্র পাঠানো হয়েছে, কয়টি সচল আছে, কয়টি অচল ও মোরামতযোগ্য এবং কয়টি অচল ও অমেরামতযোগ্য, ছকে তা পৃথকভাবে দেওয়া আছে।

তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে ৮৪টি প্রতিষ্ঠানে ৩০৬টি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫৫টি অ্যাম্বুলেন্স বর্তমানে অচল অবস্থায় আছে। এ ছাড়া ৪৬টি অ্যাম্বুলেন্স আর কোনো দিন ব্যবহার করা যাবে না।

এত বছরে হাসপাতালগুলোতে মোট ৩৩ হাজার ৪৫৬টি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ১৯৫টি বা ৮৭ শতাংশ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

৮৪টি হাসপাতালে ৩ হাজার ৩৩১টি যন্ত্র অচল অবস্থায় আছে। অর্থাৎ প্রতিটি হাসপাতালে গড়ে ৪০টি যন্ত্র অচল অবস্থায় আছে। অবশ্য সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এসব যন্ত্র সচল করা সম্ভব। অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে একেবারে ব্যবহার–অনুপযোগী যন্ত্র আছে ৯৩৩টি। এসব যন্ত্র মেরামতেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি হাসপাতালে এ রকম যন্ত্র আছে ১১টি।

স্বাস্থ্যসেবায় দেশে মাথাপিছু ব্যয় ৫৪ ডলার, বিদেশগামীদের ব্যয় ৫ হাজার ডলার

নভেম্বর ২৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে জনপ্রতি চিকিৎসা ব্যয় গড়ে ৫৪ ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় পাঁচ হাজার ৯৯৪ টাকা। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩ সালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বাজারের আকার প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের। একইসঙ্গে বলছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর স্বাস্থ্যসেবা নিতে বহির্গমনকারী রোগীর সংখ্যা ৭ লাখ। বিডার হিসাবে, এ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার দেশের বাইরে চলে যায়। ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহির্গমনকারী এসব রোগীদের বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয় গড়ে ৫ হাজার ডলার বা স্থানীয় মুদ্রায় পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

দেশের বাইরে চিকিৎসা গ্রহণে এ বিপুল পরিমাণ ব্যয় এখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থার সংকটকেই সামনে নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, দেশে বিগত বছরগুলোয় সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো বেড়েছে। চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি সেবার পরিধিও প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুপাতে আস্থা তৈরি হয়নি। আবার দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে বিশেষায়িত সেবা পৌঁছেনি। নির্ভুল রোগ নিরীক্ষা, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব সংকটের কারণে রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন বিদেশে। সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেলে বেসরকারি হাসপাতালে যায়। যখন সেখানেও প্রয়োজনীয় সেবা মেলে না, তখন যাদের সক্ষমতা রয়েছে তারা বিদেশে চলে যান চিকিৎসার জন্য।

প্রতি বছর দেশের কী পরিমাণ নাগরিক চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। বিডার হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা সাত লাখ। এক্ষেত্রে বিদেশগামী রোগীদের চিকিৎসা সেবার গন্তব্য হিসেবে শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। এছাড়া চীন, জাপান, কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীদের সর্বোচ্চসংখ্যক হলেন ক্যান্সারের রোগী, যা মোট বিদেশগামী রোগীর ২১ শতাংশ। এরপর ১৮ শতাংশ যাচ্ছেন হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে। এছাড়া বাকিরা যাচ্ছেন প্রজনন জটিলতা, অর্থোপেডিক চিকিৎসা, গ্যাস্ট্রোঅ্যান্ট্রোলজি, লিভার, কিডনি, চোখ, কান ও স্নায়বিক চিকিৎসার জন্য।

গ্রামে চিকিৎসক নেই, শহরে রোগীর চাপে হিমশিম

০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মান অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার জন্য একজন চিকিৎসক থাকা দরকার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, বাগেরহাটের জনসংখ্যা ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৬। সেই হিসাবে জেলায় চিকিৎসক থাকা দরকার ১ হাজার ৬১৩ জন। কিন্তু আছেন মোটে ১৭১ জন। তাঁরা সেবা দেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তাঁদের দেখা পান না প্রান্তিক মানুষেরা। ফলে তাঁদের দৌড়াতে হয় জেলা বা উপজেলা সদরে। সেখানে আবার রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।

ডব্লিউএইচওর আদর্শ বহুদূর

বাগেরহাটের ৯ উপজেলায় মোট ইউনিয়ন ৭৫টি। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ ইউনিয়নে স্বাস্থ্য বিভাগের ৮টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৬১ ইউনিয়নে পরিবার কল্যান বিভাগের ৬৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। এসব কেন্দ্রে থাকার কথা একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক। সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সাধারণ চিকিৎসা সেবা এবং ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই নিরাপদ প্রসব ও জরুরি প্রসূতি সেবা মেলার কথা। ৭টি ইউনিয়নে এ ধরনের কোনো সেবা কেন্দ্র নেই।

জনবল কাঠামো অনুযায়ী, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন করে চিকিৎসা কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (এসএসিএমও), ফার্মাসিস্ট, এমএলএসএস/অফিস সহায়ক ও মিডওয়াইফ (নার্স) থাকার কথা। এই ৫টি পদ ছাড়াও কেন্দ্রগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এফডব্লিউভি (পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা) ও আয়ার দুটি পদ রয়েছে। কেন্দ্রে আছে দুজনের আবাসন ব্যবস্থাও।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ পরিচালিত ৬৩টি ‘ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে’র প্রতিটিতে একজন করে এসএসিএমও, ফার্মাসিস্ট, এফডব্লিউভি, অফিস সহায়ক কাম নিরাপত্তা প্রহরী ও আয়া পদ ছাড়াও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একজন করে সহকারী সার্জন/ চিকিৎসা কর্মকর্তা (এমবিবিএস) ও এসএসিএমও পদ আছে। আছে দুজনের আবাসন ব্যবস্থা।

গত তিন মাস ধরে বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে কোথাও চিকিৎসা কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায়নি।

জেলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে সব মিলিয়ে চিকিৎসক পদ আছে ৩১০টি। কিন্তু কর্মরত আছেন ১৪২ জন। এর মধ্যে আবার ১১ জন প্রেষণে আছেন জেলার বাইরে। এর সঙ্গে পরিবার কল্যাণ বিভাগে আছেন ৮ জন চিকিৎসক। এই মোট ১৩৯ জন সরকারি চিকিৎসকের পাশাপাশি জেলায় আরও ৩২ জন বেসরকারি চিকিৎসক আছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বাগেরহাট শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন। ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আদর্শ মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য একজন চিকিৎসকের বদলে এখানে ৯ হাজার ৪৩৩ জন মানুষের বিপরীতে চিকিৎসক আছেন একজন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার বেলায় এই অনুপাত ১: ১১,৬০৫। জেলা হাসপাতাল ও ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলে নার্সের পদ ৪০৪। কর্মরত আছেন ৩৫৭ জন। যদিও ডব্লিউএইচওর গাইডলাইন অনুযায়ী থাকার কথা ৪ হাজার ৮৩৯ জন। টেকনিশিয়ানসহ অন্যান্য জনবলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য দুটি শয্যাও নেই ২০ জেলায়

ডিসেম্বর ১২, ২০২৩, বণিক বার্তা

গত এক দশকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় শয্যা সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। যদিও অঞ্চল অনুযায়ী চিকিৎসাসেবার চাহিদা মেটাতে পারছে না স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যা ও রোগ অনুযায়ী হাসপাতালের পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা নিশ্চিত করা যায়নি। এখনো দেশের ২০ জেলায় প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে হাসপাতালের গড় শয্যা সংখ্যা দুটিরও কম। গড়ে পাঁচটির বেশি শয্যা আছে মাত্র পাঁচ জেলায়।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যার অভাব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেকটি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সেবার পরিধি নির্ধারণ হয় মূলত হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। রোগীর সংখ্যা এ শয্যা সংখ্যার অতিরিক্ত হলে গোটা প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা চাপে পড়ে যায়। সে জায়গায় হাসপাতালগুলোয় রোগী ভর্তি হচ্ছে শয্যা সংখ্যার অনেক বেশি। বিশেষ করে বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালগুলোয় এ চিত্র তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। শয্যা না পেয়ে অধিকাংশ রোগীকে চিকিৎসা নিতে হয় মেঝেতে বিছানা পেতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ২০টি জেলার প্রতি ১০ হাজার বাসিন্দার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় গড়ে দুটি শয্যাও বরাদ্দ নেই। গড় শয্যা সংখ্যা সবচেয়ে কম শেরপুর জেলায়। এ জেলায় ১ দশমিক ৩০টি শয্যার চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছে প্রতি ১০ হাজার মানুষ। লক্ষ্মীপুর জেলায় শয্যা রয়েছে ১ দশমিক ৪৪টি। পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে নরসিংদী (১ দশমিক ৪৯), হবিগঞ্জ (১ দশমিক ৫০), গাজীপুর (১ দশমিক ৫৬), সিরাজগঞ্জ (১ দশমিক ৫৮), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (১ দশমিক ৬১), নাটোর (১ দশমিক ৬২), গাইবান্ধা (১ দশমিক ৬৩) ও চুয়াডাঙ্গায় ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ১ দশমিক ৬৬টি। এছাড়া আরো ১০টি জেলায় ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে গড় শয্যা সংখ্যা দুটির কম। জেলাগুলো হলো ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট।

বছরজুড়ে ডেঙ্গুতে দিনে ৯১৯ আক্রান্ত, মৃত্যু ৫

১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ বছর প্রতিদিন গড়ে ৯১৯ জন মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এঁদের মধ্যে দৈনিক গড়ে ৫ জন করে মারা যাচ্ছেন। মৃতদের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ১৬৬ জন। গণমাধ্যমে পাঠানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এটা ডেঙ্গুর পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। সরকারি তথ্যের বাইরে বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের একটি অংশ নিজেদের মতো করে চিকিৎসা নিয়েছে, অনেকে আবার চিকিৎসা নেননি। সরকারি হিসাবের বাইরে আক্রান্তদের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করেন, যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তার চার থেকে পাঁচ গুণ মানুষ বাস্তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত থাকেন। সেই হিসাবে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষ।

বছর শেষ হতে এখনো ১৯ দিন বাকি। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ জন। এঁদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৬৭ জন। বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে এত আক্রান্ত ও মৃত্যু এর আগে হয়নি। এ বছর বিশ্বে আর কোনো দেশে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যুও হয়নি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হলেও দেশটিতে মৃত্যু এক হাজারের কম।

প্রতি দুই হাসপাতালের বিপরীতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট একজনেরও কম

ডিসেম্বর ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

একজন রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসকের (সার্জন) তত্ত্বাবধানে। আর শরীরের প্রয়োজনীয় অংশকে অসাড়-অজ্ঞান করার (অ্যানেস্থেসিয়া) মাধ্যমে রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুতের কাজটি করে থাকেন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট। এর পাশাপাশি অসাড় অবস্থায় হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর কার্যকারিতা ঠিক রাখা এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ে রোগীর জ্ঞান ফেরানো ও ব্যথা প্রশমনের কাজটিও করেন তিনি। জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট—দুজনের ওপরই নির্ভর করে। এজন্য গোটা বিশ্বেই স্বাস্থ্য খাতে সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের পর্যাপ্ততার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

যদিও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত চলছে সার্জন ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসকের সংকট নিয়ে। বিশেষ করে দেশের সরকারি স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় এ সংকট তুলনামূলক বেশি প্রকট। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোয় গড়ে সার্জন রয়েছেন একজন। আর গড়ে প্রতি দুটি হাসপাতালের বিপরীতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট রয়েছেন একজনেরও কম। আবার এসব হাসপাতালে গড়ে প্রতি তিনজন সার্জনের বিপরীতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আছেন মাত্র একজন। রয়েছে ল্যাব টেকনিশিয়ানের মতো জনবলের সংকটও। ‘‌বাংলাদেশ হেলথ ওয়ার্কফোর্স স্ট্র্যাটেজি ২০২৩’ শীর্ষক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কৌশলপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ল্যাব টেকনিশিয়ানের অভাবে কোনো কোনো সরকারি হাসপাতালে সার্জারি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৭০০ ছুঁই ছুঁই

২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মহানগরের বাইরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডিসেম্বরের ২৭ দিনে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছর এডিস মশাবাহিত এ রোগে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৯৯ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৪ জন। এঁদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ জন আর ঢাকা মহানগরের বাইরের হাসপাতালে ১০৬ জন।

জটিল রোগেও চিকিৎসা নেন না ৮২% রোগী

৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ গ্যাস্ট্রিক, রক্তচাপ, বাতজ্বর, হাঁপানি ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগলেও তাদের মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি রোগী কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। এসব রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা এর একটি বড় কারণ। তবে চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায়ও অনেকে রোগ বয়ে বেড়ান। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগ যত কঠিনই হোক, এসব রোগীর ৮২ শতাংশই কোনো ধরনের চিকিৎসা নেন না। কারণ হিসেবে সমস্যাকে গুরুতর নয় মনে করেন ৮২ শতাংশ রোগী। আর প্রায় ১১ শতাংশ রোগী মনে করেন, চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত বেশি। যারা চিকিৎসা নেন, তাদেরও প্রায় ৫৪ শতাংশ ফার্মেসি থেকে নিজের মতো ওষুধ কিনে থাকেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহীতাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসকের কাছে যান এবং ৯ শতাংশ যান বেসরকারি ক্লিনিকে।

ডেঙ্গুতে এক বছরে ১৭০৫ জনের প্রাণ গেল

৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গেছেন ১ হাজার ৭০৫ জন। দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক বছরে মৃত্যুর রেকর্ড এটি।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৮৫৩ জন। এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

নিম্ন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল

জানুয়ারি ১১, ২০২৪, বণিক বার্তা

দেশের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় এ হাসপাতালে সেবার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে অনেক বেশি। ফলে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হলেও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির বিশেষায়িত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নিম্ন মধ্যবিত্তরা। উদ্বোধনের প্রায় দেড় বছরেও পরিপূর্ণভাবে সেবা চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ৭৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০০ শয্যায়। মোট সুবিধার এক-তৃতীয়াংশও নিশ্চিত করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ এতে ব্যয় হয় দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ছিল দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ঋণ, সরকারি সহায়তা ৩৩৮ কোটি ও জমির মূল্য হিসেবে ১৭৫ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন।

উদ্বোধনের পর চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবলের সংকটের কারণে বহির্বিভাগ ও রোগী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এর প্রায় তিন মাস পর ওই বছরের ডিসেম্বরে চালু হয় বহির্বিভাগের পরামর্শ (কনসালটেশন) সেবা। সর্বশেষ গত বছরের জুলাইয়ে স্বল্প পরিসরে রোগী ভর্তি কার্যক্রম চালু হয়েছে বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিপূর্ণভাবে হাসপাতালটি চালু করতে আরো ছয় মাস সময় লাগবে।

সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এ হাসপাতালের কনসালটেশন, রোগ নির্ণয় ও অন্যান্য ফি সরকারি হাসপাতালের চেয়ে চিকিৎসার ধরন ভেদে কয়েকশ শতাংশ বেশি। নিম্ন মধ্যবিত্তরা বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে সরকারি জেনে। তবে চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে তাদের মোটা অংকের অর্থ গুনতে হচ্ছে। এতে আশাহত হয় সেবাপ্রত্যাশীরা। তুলনামূলকভাবে সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালের চেয়ে বিএসএমএমইউর চিকিৎসা ব্যয় বেশি। আবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালের চেয়েও ৪০ শতাংশ বেশি সুপার হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা ও বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পরামর্শ পাচ্ছে রোগীরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে যে কনসালটেশন দেয়া হয় তাতে একজন অধ্যাপক ৬০০ টাকা, সহযোগী অধ্যাপক ৪০০ ও সহকারী অধ্যাপক ৩০০ টাকা ফি নিচ্ছেন। আর বৈকালিক কনসালটেশনের জন্য অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপকের ফি যথাক্রমে ১ হাজার, ৮০০ ও ৬০০ টাকা। শুধু পরামর্শক ফি নয়, বাড়ানো হচ্ছে রোগ নির্ণয় ফি। যদিও এ ফি নিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ তুলেছেন আপত্তি।

বোতলজাত সয়াবিনে ক্ষতিকর ‘ট্রান্সফ্যাট’

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বোতলজাত সয়াবিন তেলে সহনীয় মাত্রার বেশি ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া গেছে। এই ক্ষতিকর উপাদান দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিডের এই উপস্থিতি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস্ পি গ্র্যান্ট পাবলিক হেলথ স্কুলের ১৩ জন গবেষকের দুই বছর মেয়াদি এক গবেষণায়। এতে বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রায় ৬৭ শতাংশ নমুনায় সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। খোলা সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে হারটি প্রায় ২৫ শতাংশ। অবশ্য পাম তেলের কোনো নমুনায় সহনীয় মাত্রার বেশি ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়নি।

ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড পরিচিত ট্রান্সফ্যাট নামে। সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাট তৈরি হতে পারে পরিশোধন প্রক্রিয়ার কোনো গলদে। অতীতের গবেষণার বরাত দিয়ে এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ভোজ্যতেল পরিশোধন করা হয় উচ্চ তাপে, তখনই ট্রান্সফ্যাট বেড়ে যায়।

শিক্ষা

দেশে খুলছে হেইলিবারি স্কুল, বছরে খরচ ৩৭ লাখ টাকা

১৭ নভেম্বর ২০২৩, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি অনলাইন

দেশে প্রথম আন্তর্জাতিক বোর্ডিং স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে হেইলিবারি। প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা থাকা যুক্তরাজ্যের নামকরা এ স্কুলটির শাখা শতাধিক ছাত্র নিয়ে আগামী বছরের জুনে যাত্রা শুরু করবে।

৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের বছরে খরচ হবে প্রায় ৩৪ হাজার ডলার বা ৩৭ লাখ টাকা। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এমন উদ্যোগে বিশ্বমানের শিক্ষায় বিদেশে অর্থ খরচের চাপ কমবে।

রাজধানী থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহের ভালুকায় গড়ে উঠছে যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত হেইলিবারি স্কুলের শাখা। এই বোর্ডিং স্কুলে ১ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আবাসিক সুবিধা। সুপরিসর শ্রেণিকক্ষ, বিশ্বমানের লাইব্রেরি ও ল্যাবসহ আছে সর্বাধুনিক সব সুবিধা। শিক্ষার্থীরা পাবে পাঁচ তারকা মানের খাবার আর খেলাধুলার উন্নত প্রশিক্ষণ।

পাঠ্যক্রম নিয়ে সমালোচনার অভিযোগে চার শিক্ষক গ্রেপ্তার

২৮ নভেম্বর ২০২৩, দেশ রুপান্তর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক নিয়ে সমালোচনা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমে (দক্ষিণ) বিভাগ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আবুল হাসনাত কবির (৫১) ও গোলাম রাব্বী (৩৭), জাহাঙ্গীর কবির ও কাজী সাইফুল হক।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

এর আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সহকারী সচিব আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে অপ্রকাশিত বই প্রকাশসহ বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রকাশ চালিয়ে আসছিলো কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি।

তিনি আরও বলেন, অজ্ঞাত এই ব্যক্তিরা ফেইসবুক আইডি, ফেইসবুক গ্রুপ ও পেইজে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সকল ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক পেজ চলমান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হত।

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে শিক্ষকদের আলোচনা সভা করতে দিল না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এ জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি (বরাদ্দ) নিয়েছিলেন আয়োজকেরা। বেলা আড়াইটায় এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ওই মিলনায়তনের কাছেও যান আয়োজকেরা। কিন্তু বেলা দুইটার আগমুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন আয়োজকদের মুঠোফোনে জানান, ওই মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

আর সি মজুমদার মিলনায়তন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে বাতিলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন আবদুল বাছির প্রথম আলোকে বলেন, মিলনায়তন ব্যবহারের নীতিমালা আছে। শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনার অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁরা (ডিন) অবহিত হন, এখানে সরকার ও রাষ্ট্রকে হেয় করা হতে পারে। সে জন্য আয়োজকদের বিনয়ের সঙ্গে না করা হয়েছে।

অনুমতি বাতিলের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে সেখান থেকে মৌন মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে প্রতিবাদ সভা করেছেন আয়োজকেরা।

এ যেন পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়

১৫ জানুয়ারি ২০২৪, আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) যেন একটি পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন ২৫ দম্পতি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। কারও ছেলে, কারও মেয়ে, কারও ভাই, কারও বোন, কারও শ্যালক, কারও শ্যালিকা, কারও শ্বশুর, কারও জামাতা, কারও ননদ, কারও জা কর্মরত এখানে। সর্বশেষ গত ২ ডিসেম্বর সেকশন অফিসার পদে উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলেসহ বিভিন্ন পদে কয়েকজন কর্মকর্তার স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই যোগ্যদের বদলে নিয়োগে গুরুত্ব পেয়েছে স্বজন-প্রীতি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন না নিয়ে এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের চেয়ে বেশি জনবল নিয়োগ রীতিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিবাদের মুখে কোনো কোনো নিয়োগ স্থগিত করা হলেও পরে সেই পদে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নজিরও আছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানালেও নিয়োগ আটকায়নি।

শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে ব্র্যাক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ইত্তেফাক

বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ মাহতাব উৎসকে চাকরিচ্যুতের প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক আটকে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের মূল ফটক আটকে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, যাতে লেখা ‘সে নো টু এলজিবিটিকিউ’, ‘উই ডোন্ট প্রমোট এলজিবিটিকিউ’।

গত শুক্রবার কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক : বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেন শিক্ষক আসিফ মাহতাব। সেখানে তিনি বলেন, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ট্রান্সজেন্ডারের গল্প ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করা হচ্ছে। এ সময় তিনি এ পাঠ্যবই থেকে ‘শরীফ থেকে শরীফা’ হওয়ার গল্পের পাতা ছিঁড়ে ফেলেন।

এরপরই গত রোববার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে আসিফ মাহতাব লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে আর ক্লাস নিতে না যাওয়ার জন্য মোবাইলফোনে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, আজকে আমি ব্র্যাকে রেগুলার ক্লাস নিয়েছি। আমাকে (রোববার রাত ১১টা) ফোন করে জানানো হয়েছে, আমি যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ক্লাস না নিতে না যাই। আমি জানি না, হঠাৎ কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিলো। আমাকে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, আসিফ মাহতাব ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কোনো চুক্তি নেই। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি তার কর্মী এবং তাদের চুক্তির গোপনীয়তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্যাম্পাসে সবার মাঝে সহযোগিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি তার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে শ্রদ্ধা করে।

যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা

অক্টোবরে সড়কে নিহত ৪৩৭, এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

১১ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

সারা দেশে গত অক্টোবর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১৪৪ জনের। অর্থাৎ ৩৩ শতাংশের মৃত্যুর কারণ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

আজ শনিবার অক্টোবরে সড়ক দুর্ঘটনার এ তথ্য প্রকাশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অক্টোবর মাসে ৪২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৩৭ জন। আহত হয়েছেন ৬৮১ জন। একই সময় রেলপথে ২৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৫৩ জনের। আহত হয়েছেন ১৫৫ জন। এ ছাড়া নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত অক্টোবরে মারা গেছেন ৫০২ জন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলছে, অক্টোবরে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৪১ জন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এ বিভাগে অক্টোবর মাসে ২১ জনের প্রাণ গেছে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই চলছে অনেক ট্রেন

০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচল করে যাত্রীবাহী ট্রেন উদয়ন এক্সপ্রেস। গত ১২ সেপ্টেম্বর ১৫টি বগি নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার আগে পরীক্ষক ব্রেকসহ ট্রেনটি পরীক্ষা করে চলাচল উপযোগী হিসেবে ফিট সনদ দেন। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার আগে আরও নিশ্চিত হতে গিয়ে চালক নাজমুল আলম দেখেন, ১৫টি কোচের মধ্যে ৯টির ব্রেক অকার্যকর। তিনি বিষয়টি স্টেশনমাস্টারকে জানালে পরীক্ষায় সত্যিই ব্রেক অকার্যকর পাওয়া যায়। পরে তিনটি ব্রেক কার্যকর করতে পারলেও ছয়টি পারা যায়নি। তখন ট্রেনের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশনা দিয়ে অকার্যকর ব্রেক নিয়েই সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। সাধারণত উদয়ন ট্রেনটি ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার গতিতে চালানোর অনুমোদন থাকলেও সেদিন গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটারে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো বিপদ না হওয়ায় ইমার্জেন্সি ব্রেক কষতে হয়নি ট্রেনটিকে। কিন্তু সব সময় এমন হয় না। অভিযোগ আছে, অনেক সময় ঠিকঠাক কাজ করে না ট্রেনের বগির ব্রেক সিস্টেম। তাতে ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

গত ২৩ অক্টোবর ঢাকার কমলাপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া মালবাহী ট্রেনকে চলাচলের উপযোগী বলে সনদ দিয়েছিলেন পরীক্ষক। সই করা সেই মেমো নেন ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার) ও পরিচালক (গার্ড)। কিন্তু মালবাহী ট্রেনটি যখন ভৈরব জংশনের জগন্নাথপুর রেলক্রসিংয়ে এগারসিন্দুর ট্রেনকে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল, তখন চালক ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেছিলেন। কিন্তু যেভাবে ট্রেন থেমে যাওয়ার কথা, সেভাবে থামেনি। মালবাহী ট্রেনটি যাত্রীবাহী এগারসিন্দুরকে ধাক্কা দিলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। তখন বলা হয়েছিল, চালক সিগন্যাল অমান্য করায় এই দুর্ঘটনা। তবে তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, মালবাহী ট্রেনটির ৩২টি বগির মধ্যে ২৭টিরই ব্রেক অকার্যকর ছিল।

মেট্রোরেলে প্রতিদিন ভ্রমণ করছে ১ লাখের বেশি যাত্রী

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৩, বণিক বার্তা

উত্তরা-মতিঝিল মেট্রোরেলে (এমআরটি লাইন-৬) বর্তমানে প্রতিদিন এক লাখের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করছে। গত ৫ নভেম্বর মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যা। অন্যদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেছে ১ কোটি ৫১ লাখ যাত্রী। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক।

মেট্রোরেলে ভ্রমণ করা এসব যাত্রীর সিংহভাগই আগে পাবলিক বাসে যাতায়াত করত বলে তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক গবেষণায়। ‘মডেলিং প্রিরিসিভড সার্ভিস কোয়ালিটি অব মেট্রোরেল অব ঢাকা সিটি ইউজিং স্ট্রাকচারাল ইকুয়েশন অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাস ছেড়ে মেট্রোরেলে এসেছে এমন যাত্রী ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাসের পর মেট্রোরেলে সবচেয়ে বেশি যাত্রী আসছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে। জরিপে অংশ নেয়া ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, মেট্রোরেল চালুর আগে তারা যাতায়াতের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার করতেন। একইভাবে মোটরসাইকেল বাদ দিয়ে মেট্রোরেল ব্যবহার করছে এমন যাত্রী ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আগে রিকশা ব্যবহার করত, বর্তমানে রিকশার বদলে এখন মেট্রোরেল ব্যবহার করছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ যাত্রী। প্রাইভেট কার ব্যবহার বাদ দিয়ে মেট্রোরেলে চলাচল করছে ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ যাত্রী। আর ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ মেট্রোরেল যাত্রী যাতায়াতের জন্য আগে রাইডশেয়ারিং সেবার মাধ্যমে প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেলের মতো বাহন ব্যবহার করত। এর বাইরে অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করত আরো ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ যাত্রী।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলছে বাল্কহেড

১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

দুর্ঘটনার শঙ্কায় মুন্সিগঞ্জের তালতলা-গৌরগঞ্জ খাল (পদ্মার শাখানদী) দিয়ে বাল্কহেড চলাচলের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে-রাতে সমানতালে চলছে বাল্কহেড। এতে ওই খালের আবার দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ছাড়া দুই পাড়ে ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৫ আগস্ট এই খালের লৌহজংয়ের রসকাঠি এলাকায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পিকনিকের একটি ট্রলার ডুবে নারী, শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই সিরাজদিখান উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। এরপর খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত রাখতে উপজেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাঝখানে কয়েক মাস বন্ধ থাকলেও নভেম্বরের শেষ দিক থেকে খালটি দিয়ে আবারও চলছে বাল্কহেড।

পদ্মায় বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারডুবি, ২ শিশুর মৃত্যু

১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, সমকাল

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পদ্মার শাখা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার হাসাইল বাজার এলাকায় নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এক কিশোরী ও শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত তিনজন।

নিহতরা হলো– উপজেলার মান্দ্রা গ্রামের নজরুল বেপারীর মেয়ে সিফা আক্তার (১৫) ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ফারুক হোসেনের মেয়ে ফাইজা (৬)।

ট্রলারডুবির পরপরই টঙ্গিবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে রাতের অন্ধকার ও নদীর স্রোতে উদ্ধার অভিযান বিঘ্নিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস। রোববার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে। এদিকে ঘাতক বাল্কহেডটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী। তবে বাল্কহেডের চালকসহ অন্যরা পালিয়ে গেছে।

ঢাকার ৩ ভবনে বিস্ফোরণ: ৪৪ মৃত্যুর পরও দায়ী হচ্ছে না কেউ

২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার মগবাজার, সিদ্দিকবাজার ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার তিনটি ভবনে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৪ জন। তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, সব কটি বিস্ফোরণই ঘটে পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া গ্যাস জমে।

আর এমনটি ঘটেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে। কিন্তু এ–সংক্রান্ত মামলায় কাউকেই দায়ী করতে পারছে না পুলিশ। তারা তিনটি মামলারই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তি হিসেবে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কোন ঘটনায় কে দায়ী, তা শনাক্ত করতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল; কিন্তু তারা তথ্য দিচ্ছে না। নথি গায়েব হওয়ার অজুহাত দেখাচ্ছে।

পুলিশের এমন যুক্তি প্রসঙ্গে আইনজ্ঞরা বলছেন, অবহেলার কারণে এত বড় বড় দুর্ঘটনা এবং এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো না গেলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

২০২৩ সালে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১৪৩২ শ্রমিকের মৃত্যু

২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, যুগান্তর

কর্মক্ষেত্রে ২০২৩ সালে বিভিন্ন সেক্টরের এক হাজার ৪৩২ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৫০২ শ্রমিক। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ওশি) ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১৫টি সংবাদপত্র এবং ওশির উদ্যোগে মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

ওশি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপারসন ড. এসএম মোর্শেদ বলেন, ২০২৩ সালে কর্মক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা ৩২৯ জন ও আহত শ্রমিকের সংখ্যা ২৭৭। এ ছাড়া অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা এক হাজার ১০৩ জন ও আহত শ্রমিকের সংখ্যা ২২৫ জন।

সেক্টরভিত্তিক তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২৩ সালে পরিবহণ খাতে সর্বোচ্চ ৬৩৭ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১২৭ জন। এ সময় ২২০ দিনমজুর নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৬ জন। নির্মাণ খাতে নিহত ১৪৯ এবং আহত ৭২, কৃষি শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৬ ও আহত হয়েছে ১০ জন (যাদের মধ্যে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৭১ জন), পোশাকশিল্পে নিহত ৬৪ ও আহত ৮৯ জন, ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নিহত ৯৪ ও আহত ১৫ জন।

এ ছাড়া মৎস্য খাতে নিহত ৫৩ ও আহত ২২ জন, সেবা খাতে নিহত ২৬ ও আহত ২২ জন, সিরামিক খাতে নিহত ১৭ ও আহত ৯ জন, চামড়াশিল্পে নিহত চার ও আহত ১৭ জন, ইটভাটা বা ব্রিকফিল্ডে নিহত ১১ ও আহত ছয়জন, জাহাজভাঙ্গা বা শিপব্রেকিংয়ে নিহত সাত ও আহত ২৯ জন, চা শ্রমিক নিহত এক ও আহত ৬ জন, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিহত তিন ও আহত ২ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবহণ খাতে সর্বোচ্চসংখ্যক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালে এ খাতে নিহত ৬৩৭ ও আহত ১২৭ জন। অথচ ২০২২ সালে নিহত ১০৫ ও আহত ২৯ জন ছিল।

ঠাকুরগাঁওয়ে চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

৪ জানুয়ারি ২০২৪, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলায় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিথুন সরকার।

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের গৃহবধূ দীপ্তি রাণী দাস (৪৫), তার মেয়ে পূজা দাস (৮) ও ভাতিজা পলক দাস (৯)। আহত হয়েছেন দীপ্তি রাণী দাসের স্বামী সাগর দাস (৫০) ও স্থানীয় বাসিন্দা নিখিল (৪০)।

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিসংখ্যান

দেশী-বিদেশী কোনো সংস্থারই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছে না সরকার

জানুয়ারি ১৭, ২০২৪, বণিক বার্তা

২০২৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯০২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ২০২১ সালেই ৩১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও যাত্রী কল্যাণ সমিতি কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কারো প্রতিবেদনই আমলে নিচ্ছে না সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোনো ধরনের প্রমাণ দিতে পারেনি। আর যাত্রী কল্যাণ সমিতির এ ধরনের তথ্য প্রকাশের অধিকারই নেই।’

সেতু ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২০২৩ সালে বাংলাদেশে ৫ হাজার ৪৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছে ৫ হাজার ২৪ জন। আহত হয়েছে ৭ হাজার ৪৯৫ জন। বিআরটিএর এ তথ্য আমার কাছে আছে। এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওখানে বসে বসে কী তালিকা দিল, কে তাদের সহযোগী, এখানে কোনো রেজিস্টার্ড না, অথচ দেখি কোনো কোনো মিডিয়া এত বেশি এটাকে নিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রকাশ করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর আগেও ২০-২১ হাজারের একটা দুর্ঘটনার তালিকা প্রকাশ করেছিল। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম যে এটা সত্য নয়। তাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত আমরা যথাযথ উত্তর পাইনি।’

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের আবেদন করেনি ৯৩%

১৭ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

সরকার সহায়তা তহবিল গঠন করলেও গেল বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ৯৩ শতাংশই ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেনি। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ২৪ জন নিহত ও ৭ হাজার ৪৯৫ জন আহত হন। নিহতদের পরিবার ও আহতদের ৮৭৯ জন বা মাত্র ৭ শতাংশ ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন।

বিআরটিএ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা কার্যকর হওয়ার এক বছরে তহবিলে চাঁদা জমা হয়েছে ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৮ টাকা। এর মধ্যে ১৯৪ জনকে সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তহবিলে জমা আছে ১২৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৮ টাকা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ২০১৮ সালে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের ৫৩(১) ধারা অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তি ও তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবেন আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে। সড়কে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি ছিল বহু বছরের। ক্ষতিপূরণ দিতে গত বছরের প্রথম দিন থেকে সহায়তা তহবিলে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা।

আইনে বলা হয়েছে, সরকারি অনুদান, যানবাহনের কাছ থেকে পাওয়া চাঁদা এবং এ আইনের অধীনে আদায় করা জরিমানার টাকা জমা হবে তহবিলে। সড়ক পরিবহন বিধিমালার ১৪৯ ধারায় বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে তাঁর পরিবার অন্যূন ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে। অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের জন্য ৩ লাখ এবং চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা থাকলে ১ লাখ টাকা সহায়তা পাবেন দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি। সরকারের অনুমোদনে সহায়তার পরিমাণ কমবেশি করতে পারবে ট্রাস্টি বোর্ড। দুর্ঘটনার এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের আবেদন করতে হবে।

গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬২ আহত ও নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণের চেক দেন। গত দুই মাসে আরও ৩২ জনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। তিনি পদাধিকারবলে আর্থিক সহায়তা তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ১২ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডেরও চেয়ারম্যান।

তহবিলে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভারের বার্ষিক চাঁদা ১ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন নিবন্ধন এবং প্রতিবছর গাড়ির কাগজ হালনাগাদের সময় এই চাঁদা দিতে হয়। মিনিবাস, মিনিট্রাক, পিকআপের বার্ষিক চাঁদা ৭৫০ টাকা। কার, জিপ, মাইক্রোবাসের চাঁদা ৫০০ টাকা। তিন চাকার গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনের চাঁদা ৩০০ টাকা।

তবে মোটরসাইকেলের ট্যাক্স টোকেন ও ফিটনেস বছরে বছরে হালনাগাদ করতে হয় না। তাই এই দ্বিচক্রযান থেকে নিবন্ধনের সময় এককালীন এক হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয় আর্থিক সহায়তা তহবিলের জন্য। গত বছর ৩ লাখ ১০ হাজারের বেশি নতুন মোটরসাইকেল নিবন্ধন পায়। এই হিসাবে শুধু মোটরসাইকেল থেকে চাঁদা এসেছে ৩১ কোটি টাকার বেশি।

বিধিমালা অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আবেদন পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করা হবে। ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে ওই কমিটি। আবেদনকারী আপিলও করতে পারবেন। ট্রাস্টি বোর্ডের নিজস্ব জনবল না থাকায় যে এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে, সেখানকার বিআরটিএ কর্মকর্তারা অনুসন্ধান করছেন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে ৮৭৯ জন সহায়তার জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে অনুসন্ধান কমিটির কাছে পাঠানো হয় ৭৯৪ আবেদন। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ২৭৩টির। এর মধ্যে ১৯৪ জনকে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়া হয়েছে জানিয়ে নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘অনুসন্ধান সাপেক্ষে বাকিরাও ক্ষতিপূরণ পাবেন। গত সোমবার ময়মনসিংহের একজন নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে।’ হতাহতের তুলনায় আবেদন কেন কম– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মাত্র এক বছর হয়েছে, অনেকেই তহবিলের বিষয়ে জানেন না। আবার ৩০ দিনের মধ্যে আসেন না।’

ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়েই খালাস রাজউক

১৭ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ডেমরার কোনাপাড়ায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে ইট মাথায় পড়ে মারা যান গার্মেন্টকর্মী রুনা বেগম (২২)। পরের বছরের ৩০ অক্টোবর মোহাম্মদপুরে আরেকটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে মারা যায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল হাফিজ কারেমী। সবশেষ গত ১১ জানুয়ারি মৌচাক মার্কেটের পাশে একটি ভবনের ওপর থেকে কংক্রিটের খণ্ড মাথায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক দ্বীপান্বিতা বিশ্বাস দিপু।

এভাবে মাঝেমধ্যেই নির্মাণাধীন ভবনের ওপর থেকে ইট-পাথর পড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। নির্মাণ শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা তো আছেই! কিন্তু এসব মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী কে– সেই প্রশ্ন এবার উঠেছে জোরেশোরে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল (সিভিল) বিভাগের অধ্যাপক মো. বদরুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘যে ভবন থেকে ইট পড়ে আর যিনি ভবনটি বানান, এটা তাদের দায়। কারণ কনস্ট্রাকশন সেফটি প্ল্যান অনেকে অনুসরণ করেন না! দেখা যায়, ১০ তলার ওপর একজন ওয়েল্ডিং করছেন কোমরে কোনোরকম একটি দড়ি বেঁধে নিয়ে। রাজউকের নিয়মিত এসব মনিটর করার কথা। থার্ড পার্টি হিসেবে তারা সেই কাজটিও ঠিকমতো করছে না।’ বড় বড় প্রকল্পে প্রতিনিয়ত সেফটি প্ল্যান জমা দিতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে যে তৃতীয় টার্মিনাল হচ্ছে, সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বিআরটি বা কোনো ব্যক্তি যখন ভবন তৈরি করেন, তখন সেই নিরাপত্তা দেখা যায় না।’ অধ্যাপক মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘নির্মাণাধীন ভবনের সরঞ্জাম পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায়ও আনা হচ্ছে না। যেন বাংলাদেশের মানুষের জীবনের দাম কম। গরিব মানুষ হলে তো কথাই নেই।’ তাঁর মতে, সেফটি প্রটোকল অনুসরণ করলে দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অনেকটা কমে আসবে।

রাজধানীতে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের পর প্রতিটি পর্যায়ে কাজ তদারকির কথা বলা হয়েছে ইমারত নির্মাণ বিধিমালায়। টিনশেড কাঠামো থেকে শুরু করে বহুতল ভবন নির্মাণ– সব ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু রাজউকের পক্ষ থেকে কখনোই নির্মাণকাজ তদারকি করা হয় না। নির্মাণের শুরু থেকে একজন পরিদর্শক সার্বক্ষণিক তদারকি করার কথা থাকলেও নকশা অনুমোদন দিয়েই যেন তারা খালাস।

ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধিত)-এ একটি ভবনের নকশা অনুমোদনের পর প্রতিটি ধাপে মনিটরিংয়ের কথা উল্লেখ আছে। বিধিমালার ৩০৫ ও ৩০৭ ধারায় বলা হয়েছে, বহুতল ভবন নির্মাণ শুরুর সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাজউককে অবহিত করবে। রাজউকের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কাজ শুরু হবে। বিধিমালার ৩১১ ধারায় বলা হয়েছে, বেজমেন্ট নির্মাণের পর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে রাজউকের কাছ থেকে একটি সনদপত্র নিতে হবে। ৩১৩ ধারায় বলা হয়েছে, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্ব পালন করলেও রাজউকের পক্ষ থেকে তদারকির ব্যবস্থা থাকতে হবে। ৪০২ ধারায় বলা হয়েছে, ভবনের নকশা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থপতি ও প্রকৌশলীরা তদারকি করবেন এবং প্রতিটি স্তরের কাজ শেষের পর রাজউককে অবহিত করে পরবর্তী স্তরের কাজের অনুমোদন নিতে হবে। ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর রাজউক থেকে ভবনের ব্যবহার সনদপত্র নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিধিমালার ৪০৭ ধারায়। এই সনদপত্র জমা দেওয়ার পর সেখানে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দেবে সেবা সংস্থাগুলো। অথচ রাজউক কখনোই স্তরে স্তরে মনিটরিংয়ের কাজ করে না। আবার ভবন ব্যবহারের ছাড়পত্র না নিয়েও অনেকে সেবা সংযোগ পেয়ে যান।

লক্কড়ঝক্কড় লাইন, ট্রেন চলে ঢিমেতালে

২০ জানুয়ারি ২০২৪, সমকাল

ময়মনসিংহ-ভৈরব রে