সংবাদপত্রেরপাতাথেকে (২৬এপ্রিল- ২৬জুলাই২০২৩)

সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২৬ এপ্রিল- ২৬ জুলাই ২০২৩)

অর্থনীতি

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি বাড়ছে, তবে সম্ভাবনাও আছে

২৬ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ছে। তবে পণ্য রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে দেশটির সঙ্গে বড় বাণিজ্যঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে আমদানির চেয়ে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বেশি ছিল বাংলাদেশের। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থায়ই ছিল বাংলাদেশ।

 বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকলেও জাপানি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক হাজার একর জমির ওপর গড়ে উঠছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে কারখানা স্থাপনে চারটি বিদেশি কোম্পানি চুক্তি করেছে। এ ছাড়া জাপানের ৩০টিসহ ৪০টি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, জাপানি কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বাইরে বিকল্প দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম ও ভারতে বিনিয়োগ করছে তারা। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় এবং বিশেষায়িত খাতে কর সুবিধা, অভ্যন্তরীণ বাজার ও আঞ্চলিক বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এ ছাড়া জাপানের বাজারেও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ভালো সম্ভাবনা আছে। 

জাপানি উদ্যোক্তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করে থাকেন। অর্থাৎ তাঁরা বিনিয়োগে আসা মানে তা বাংলাদেশের জন্য একধরনের ব্র্যান্ডিং। এতে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডি। 

এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে গেছেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্ধশত ব্যবসায়ী নেতার একটি দলও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কাল বৃহস্পতিবার সেখানে বাংলাদেশ ব্যবসা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, মেধাস্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার–নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং শুল্ক–সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে।

রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ

পাঁচ বছর আগে জাপান-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩০১ কোটি ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ১৫৭ কোটি ডলার, আর রপ্তানি ১৪৪ কোটি ডলার। করোনার পর জাপান থেকে পণ্য আমদানি বেড়ে যায়, সেই গতিতে রপ্তানি বাড়েনি। ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) বাংলাদেশ ব্যাংক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তথ্যানুযায়ী ২০২০ সালে সেই দেশ থেকে ১৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়। পরের বছর সেটি ৮৫ কোটি ডলার বাড়ে। গত বছর তো দেশটি থেকে আমদানি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ কোটি ডলার।

অন্যদিকে ২০২০ সালে জাপানে ১৩১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা পরের বছর বেড়ে ১৪৫ কোটি ডলার হয়। গত বছর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই আসে ১০৯ কোটি ৮৫ লাখ। অন্য খাতগুলোর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৯ কোটি ৩৬ লাখ, হোম টেক্সটাইলে ৪ কোটি ৬৯ লাখ এবং চামড়াবিহীন জুতায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আসে।

জাপানে পণ্য রপ্তানির ৬৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) ১২২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। গত ২০২১-২২ অর্থবছর এই বাজারে ১০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের তথ্যানুযায়ী ২০২১ সালে জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে। সেই হিসাবে এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই নগণ্য।

দেশে চীন বিনিয়োগ করেছে ৭ বিলিয়ন ডলার, ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ২৩ বিলিয়নের

বণিক বার্তা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেন। এটি বাস্তবায়ন করছে চীনের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—গেঝুবা গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (সিজিজিসি), জিয়াংসু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (জেটিইজি) ও ওয়েহাই ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেটিভ কোম্পানি লিমিটেড।

সাসেক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় এডিবির অর্থায়নে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজ করেছে চায়না কনস্ট্রাকশন সেভেনথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন করপোরেশন লিমিটেড ও হেগো নামে চীনের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ দেশের এমন প্রকল্পে এখন তৈরি হয়েছে চীনা ঠিকাদারদের আধিপত্য।

দেশে চীনের বিনিয়োগে গৃহীত প্রকল্পগুলোয় ঠিকাদারের কাজ প্রধানত চীনা সংস্থাগুলোই পেয়ে থাকে। আবার অন্যান্য দেশের অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পেও দেখা যায় চীনা ঠিকাদারদের আধিপত্য। পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসনের কাজ করেছে দুই চীনা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন হচ্ছে চীনা ঠিকাদারের মাধ্যমে।

দেশে চীনা ঠিকাদারদের কাজের ব্যাপ্তি এখন দেশটির মোট বিনিয়োগের কয়েকগুণে দাঁড়িয়েছে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন উেস পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত চীনের মোট বিনিয়োগের স্থিতি প্রায় ৭-৮ বিলিয়ন ডলার। আবার বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পেয়েছে কমপক্ষে ২২ বিলিয়ন ডলারের।

দেশে চীনা অর্থায়নে গৃহীত হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকল্প। কয়েকটির কাজ এরই মধ্যে শেষও হয়েছে। চীনা অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিপিডিসির পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ ইত্যাদি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন খাতে ঋণ ও অনুদান হিসেবে মোট ১ হাজার ৭৭ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অনুদান হিসেবে এসেছে খুব সামান্য। সিংহভাগই ঋণ। এসব ঋণ এসেছে মূলত গত দুই দশকে।

সরকারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও চীন থেকে ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি খাতে এ মুহূর্তে চীনা ঋণের স্থিতি ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন (২৩৩ কোটি) ডলারের কিছু বেশি। এক্ষেত্রে সিংহভাগ ঋণের গন্তব্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মীয়মাণ একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১৭৬ কোটি ডলারের ঋণ অর্থায়ন হয়েছে চীনা উৎস থেকে। অর্থায়ন করছে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না ও চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক।

মার্কিন থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) এক হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীন থেকে মোট বিনিয়োগ এসেছে ৭ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন (৭০৭ কোটি) ডলারের। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পেয়েছে ২২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন (২ হাজার ২৯৪ কোটি) ডলারের।

খেলাপি ঋণ বাড়ছে, আছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের অর্থনীতি বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ও অবলোপন থেকে আদায়ও তেমন হচ্ছে না। আবার ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো থেকে আমানত সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। ব্যাংক তথা আর্থিক খাতের জন্য যে পাঁচ আইন করতে হবে, সেগুলোর একটি মাত্র মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে, বাকিগুলোর খসড়া আছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আইএমএফের ঢাকা সফরকারী স্টাফ কনসালটেশন মিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন চিত্রই তুলে ধরেছে। মিশনটি গত মঙ্গলবার থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করছে, যা চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন বিভাগ এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালীসহ ছয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে মিশনটির সঙ্গে এ বৈঠক করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশের জন্য গত জানুয়ারিতে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের শর্তের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আইএমএফ মিশনকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের ঋণ ও অগ্রিম রয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে তাদের খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি বেসিক ব্যাংকের—৫৮ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম সোনালী ব্যাংকের—১৫ শতাংশ। ছয় ব্যাংকের গড় খেলাপি হার দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

পুরো ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২০২০ সালে ৭ দশমিক ৬৬, ২০২১ সালে ৭ দশমিক ৯৩ এবং ২০২২ সালে বেড়ে তা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে বলে আইএমএফকে জানানো হয়।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। সোনালী, জনতা ও বিডিবিএল বাড়তি সঞ্চিতি রাখতে পারলেও বাকি তিন ব্যাংকই ঘাটতিতে রয়েছে। যেমন অগ্রণীর ৪ হাজার ৪২২ কোটি, রূপালীর ২ হাজার ৮১৫ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। আর বেসিক ব্যাংক ১২৭ কোটি টাকা লোকসানে থাকলেও বাকি পাঁচ ব্যাংকের নিট মুনাফা মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

বিপুল ব্যয়ে ভবন নির্মাণে বেশি আগ্রহ

২৯ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় প্রায় দেড় একর জমিতে গাজীপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি। তিন বছরে সেখানে ২৭৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু প্রশিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন, তাও অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অস্থায়ীভাবে আনা।

গাজীপুরের এই আইএইচটিতে ৯ তলা একটি একাডেমিক ভবন, ৬ তলা ছাত্রাবাস, ৭ তলা ছাত্রীনিবাস এবং প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য ১০ তলা ভবন করা হয়েছে। কিন্তু ভবনগুলোর ব্যবহার সামান্য। সেখানকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অনেক আশা নিয়ে আইএইচটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন সব বিষয়ে প্রশিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। পরীক্ষাগারে যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাতে–কলমে শিক্ষাও পাচ্ছেন না।

গাজীপুরের মতো দেশের ১৪ জেলায় ১৫টি আইএইচটি প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে গত ছয় বছরের মধ্যে। লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য খাতে রোগীর রক্ত, মূত্র পরীক্ষা, এক্স-রে করাসহ বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা, যাঁরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নামে পরিচিত। এ ধরনের দক্ষ জনবল স্বাস্থ্য খাতের জন্য জরুরি। করোনাকালে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতির চিত্রটি বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ভবন করতে যতটা আগ্রহ ছিল, জনবল নিয়োগে ততটা নেই। এত বছর পরও আইএইচটিগুলোতে পদ সৃষ্টি করে প্রশিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কোথাও কোথাও ধার করে দু-একজন প্রশিক্ষক এনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিক্ষা উপকরণ ও সরঞ্জামের ঘাটতিও প্রকট। যেহেতু কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি, সেহেতু আইএইচটিগুলোর ভবন কোনোটি পুরোটা, কোনোটি আংশিক খালি পড়ে আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রায় আবার বেঁকে গেল রেললাইন, ঢালা হচ্ছে পানি

২৯ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আবার রেললাইন বেঁকে গেছে। এতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটের সঙ্গে ঢাকা অভিমুখী রেলপথে (আপলাইন) ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট অভিমুখী রেলপথ (ডাউনলাইন) দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এতে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে বিলম্বে চলবে সব ট্রেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দারিয়াপুর এলাকায় রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে একই এলাকায় রেললাইন বেঁকে কনটেইনার বহনকারী ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

পোশাক ছাড়া সব পণ্যে মন্দা

২৯ এপ্রিল ২৩, সমকাল

ঈদ অর্থনীতির পুরোটাই ছিল এবার পোশাককেন্দ্রিক। ২০ রোজার পর থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মার্কেট ছিল ক্রেতায় ঠাসা। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ঈদুল ফিতরের বেচাকেনাকে ‘মন্দের ভালো’ বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ভোগ্যপণ্য কিনতেই মানুষের নাভিশ্বাস। এরই প্রভাব পড়েছে ঈদের বিকিকিনিতে। প্রয়োজনীয় জিনিসও সবাই কম করে কিনেছেন। তবে বরাবরের মতো পরিবহন ব্যবসা ছিল জমজমাট।

খুলনা ব্যুরো থেকে হাসান হিমালয় জানান, নগরীর ডাকবাংলো, শিববাড়ী মোড়সহ ছোট-বড় শপিংমলে ক্রেতার ভিড় ছিল চাঁদ রাত পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, পোশাক ছাড়া ঈদের অন্য সব পণ্যের বাজারেই ছিল মন্দাভাব। ঈদে পোশাকের পর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় খাদ্যপণ্য। কিন্তু এ বছর সেমাই, চিনি, পোলাও চাল, মসলার বাজারে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। পাইকারি গুদামে অনেক পণ্যই অবিক্রিত রয়েছে। স্মার্টফোন বিক্রিও তলানিতে। যদিও রমজানের শেষদিকে তাবদাহ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে এসি বিক্রি। আর পরিবহন ব্যবসা ছিল আগের মতোই জমজমাট।

জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব বাড়ছে না, বাড়ছে সরকারের ঋণ

এপ্রিল ৩০, ২০২৩, বণিক বার্তা

জিডিপির অনুপাতে গত এক দশকে রাজস্ব আয় বাড়েনি। যদিও এ সময় জিডিপির অনুপাতে সরকারের ঋণে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশে সরকারের ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এক দশক পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। আবার এ সময় কমেছে রাজস্ব আয়-জিডিপির অনুপাত। ২০১৪ সালে সরকারের রাজস্ব (কর ও অনুদান)-জিডিপি অনুপাত ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক দশক পর তা নেমেছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। আর শুধু কর-জিডিপির অনুপাত নেমেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে।

আমরা একটা অবস্থান থেকে বেহেশতের বাগানে

৩০ এপ্রিল ২০২৩, যুগান্তর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ১৫ বছর আগে আপনারা কি ছিলেন, আর আজকে কোথায় এসেছেন। সেটা যদি চিন্তা করেন তাহলে আর কাউকে কিছু বলতে হবে না। সবাই মনে করবেন আমরা একটা অবস্থান থেকে বেহেশতের বাগানে প্রবেশ করেছি।

শনিবার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

যে ৫ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ২২৫ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

০২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি (২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।

গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের এ ঋণচুক্তি হয়। ঋণচুক্তি সইয়ের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো—

রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট (আরআইভিইআর)।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি)।

অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১।

ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি)।

সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি)।

প্রথম প্রকল্প: রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্টটি ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ‘ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নয়নে সহায়তা করবে।

দ্বিতীয় প্রকল্প: বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি বাংলাদেশে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাসহ সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর চিত্রকর্ম উপহার প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা বহুমুখী সেতুর চিত্রকর্ম ডেভিড ম্যালপাসকে উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তৃতীয় প্রকল্প: অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১ হলো ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার (৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বাড়াতে ঢাকাকে সাহায্য করবে।

চতুর্থ প্রকল্প: ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) প্রকল্পটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে।

পঞ্চম প্রকল্প: সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প খাতকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ ও জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তরে সহায়তা করবে।

বেসরকারি খাতে দিয়েও বন্ধ দুই দেশলাই কারখানা

৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে দেশলাইয়ের বাজারে একসময় ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচের বেশ কদর ছিল। কিন্তু এখন এই ম্যাচ বাজারে নেই। ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচ কারখানা বন্ধ। ঢাকা ম্যাচের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। দাদা ম্যাচের অবস্থা আরও খারাপ, বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে।

ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচ নামের কারখানা দুটি ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানির ৩০ শতাংশের মালিকানা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি)। বাকিটা অর্থাৎ ৭০ শতাংশ ভাইয়া গ্রুপের।

কারখানা দুটির মালিকানা একসময় পুরোটাই বিসিআইসির ছিল। বেসরকারি খাতে অংশীদারত্ব ছেড়ে দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানার কোম্পানি ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ কারখানা এবং ২০১০ সালে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো তাঁদের পাওনা বুঝে পাননি।

দুটি কারখানার প্রায় ৩২ একর জমি রয়েছে। কারখানা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই জমি খুবই মূল্যবান। বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। সেখানে অন্য কোনো কারখানা হতে পারে। এ জন্য দরকার উদ্যোগ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরকারি উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন দুটি কারখানা বন্ধ রাখা একেবারেই অযৌক্তিক। এভাবে ফেলে না রেখে কারখানা দুটির বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা ম্যাচ কারখানা। ১৯৫৫ সালে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর বেসরকারি উদ্যোগে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের আবাসনের জন্য পাঁচ একরের বেশি জমিতে একটি কলোনিও করেছিলেন। আর দাদা ম্যাচ কারখানার অবস্থান খুলনার রূপসা স্ট্র্যান্ড রোডে। ১৯৫৫ সালে রূপসা নদীর তীরে ১৭ দশমিক ৭৯ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠে এই কারখানা। এটিও ছিল বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।

দেশে স্বাধীন হওয়ার পর কারখানা দুটি জাতীয়করণ করা হয়। পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিসিআইসি। ১৯৮৪ সালে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির আওতায় ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়। এই কোম্পানির অধীনে দেওয়া হয় ম্যাচ কারখানা দুটি। কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা বিসিআইসির হাতে রেখে ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হয় সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

ঢাকা ম্যাচ কারখানার শ্রমিক মো. নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সুইডিশ কোম্পানিটি কারখানা পরিচালনার সময় শ্রমিকদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান চক্রান্ত করে তাদের চলে যেতে বাধ্য করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৮৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি কারখানা দুটিতে তাদের মালিকানার অংশ বিক্রি করে দেয়। এরপর তা কিনে নেয় ভাইয়া গ্রুপ। তারা ১৯৯৩ সালে আবার কারখানা দুটি চালু করে। তারা ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ ও ২০১০ সালে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে কারখানা দুটি সিলগালা করে দাদা ম্যাচের দেখভালের দায়িত্ব দেয় জেলা প্রশাসনকে। আর ঢাকা ম্যাচ কারখানার নিয়ন্ত্রণ এখনো কোম্পানির কাছেই রয়েছে।

ধানের উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক

০৭ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এক কাঠা জমির বোরো ধানের বীজ কিনতে খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা। ধান কাটতে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সঙ্গে তিনবেলা খাবার বাবদ আরও ২০০ টাকা। সার ও কীটনাশকে ব্যয় হয়েছে ৪৫০ টাকা। চারা রোপণ ও দুই দফায় ঘাস নিড়ানিতে খরচ ২ হাজার টাকা। ধান কাটার পর মাড়াইয়ে কাঠাপ্রতি ব্যয় ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে কাঠাপ্রতি এবার ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে চার মাস ধরে নিজের কঠোর পরিশ্রম তো আছেই।

এক কাঠায় তিন থেকে চার মণ ধান হয়। এবার ধানে বেশিরভাগই চিটা। কাঠাপ্রতি চার মণ ধান ধরলেও কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে ৩০ টাকা। কৃষক নুরুল্লাহ বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন দাম মণপ্রতি ৯০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ধানের দাম মাত্র ২২ টাকা ৫০ পয়সা। ধান উৎপাদন করতে গিয়ে কেজিতে তার সাড়ে ৭ টাকাই লোকসান।

নুরুল্লাহ বলেন, ধান চাষে লাভ নেই। তার পরও মানুষ চাষ করে ঘরের ভাতের জন্য, গরু-মহিষের খাবারের জন্য। কৃষকের পরিশ্রম ফাও। তিনি বলেন, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ হলে কৃষকের কিছুটা লাভ হতো। তবে এখনও যাদের জমি বেশি এবং মেশিনে রোপণ, নিড়ানি ও মাড়াইয়ের কাজ করেন, তাদের লাভ থাকে।

রপ্তানি আয় না আসার তথ্যে গরমিলের যে ব্যাখ্যা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

০৭ মে ২০২৩, প্রথম আলো

রপ্তানি তথ্যের সংজ্ঞার গরমিলের কারণে রপ্তানি আয় দেশে না আসার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো পণ্য রপ্তানি হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে দেশে আসার নিয়ম রয়েছে। আবার বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন কোম্পানির মুনাফাও দেশে আনতে হয়। দেশে আসেনি এমন রপ্তানি আয় ও মুনাফার পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সফররত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, সময়মতো দেশে না আসা অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আটকে আছে ক্রয়াদেশের তুলনায় কম পণ্য সরবরাহ করার কারণে বিল পরিশোধ না করায়। ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার আটকে আছে রপ্তানিকারক দেউলিয়া হয়ে পড়ায় ও ২ কোটি ডলার আটকে আছে আমদানিকারক দেউলিয়া হওয়ার কারণে। ভুয়া রপ্তানির কারণে আটকে আছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও মামলার কারণে ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

মেজবাউল হক বলেন, যখন অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য দেশে বিক্রি হচ্ছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তাদের হিসাবে তা রপ্তানি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এ জন্য দেশে কোনো রপ্তানি আয় আসছে না। এই পণ্য যদি আবার বিদেশে রপ্তানি হয়, তাহলেই কেবল রপ্তানি আয় দেশে আসার কথা। এখানেই ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

ঋণপত্র অর্ধেকে নেমেছে, কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি

০৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার-সংকট, ডলারের ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি এবং বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার কারণে শিল্পের প্রধান উপাদান কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। একই কারণে শিল্প স্থাপনে নতুন প্রকল্প, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সংস্কারের উদ্যোগও কমে গেছে। ফলে গত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভাটা এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

সরকারি চিনিকলের উৎপাদন তলানিতে

০৮ মে ২৩, সমকাল

বাজারে এখন প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকার বেশি দরে। অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পর্যাপ্ত চিনি নেই। দেশে চিনির চাহিদা ও দাম বাড়লেও সরকারি চিনিকলগুলোর উৎপাদন প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে মাত্র ২১ হাজার ৩১৩ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে, যা গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) তথ্যমতে, সরকারি চিনিকলগুলোতে সর্বোচ্চ এক লাখ ২৮ হাজার লাখ টন চিনি উৎপাদন হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। ওই সময় ১৫টি চিনিকল উৎপাদনে ছিল। পরে লোকসানে থাকায় ২০২০ সালে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করা হয়। উৎপাদনের পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৫০৯ টন চিনি উৎপাদন হয়। এখন উৎপাদন আরও তলানিতে নেমেছে। চলতি অর্থবছরে গত অর্থবছরের চেয়েও উৎপাদন কম হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি, অস্থিরতা

০৯ মে ২৩, সমকাল

ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবর নেই। আমদানি, পাইকারি, খুচরা তিন ধাপেই যে যার মতো বাড়াচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ কম থাকার ছুতায় ব্যবসায়ীরা দর বাড়ালেও তথ্য-উপাত্ত বলছে ভিন্ন কথা। সমকালের অনুসন্ধান বলছে, বিশ্ববাজার ও ডলারের দাম কিছুটা অস্থির থাকলেও এটিকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনকে চাপে রাখতে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে আমদানি; কমানো হয়েছে উৎপাদন। ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে সরবরাহে।

দেশে এ বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে অপরিশোধিত সয়াবিন ১৩ শতাংশ বেশি এসেছে। চার মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি সয়াবিনের দামও কমেছে ১১০ থেকে ১১৫ ডলার। এ হিসাবে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে ১২ থেকে ১৪ টাকা। তবে দেশের বাজারের চিত্র পুরো উল্টো। এখানে সয়াবিনের দাম লিটারে বেড়েছে ১২ টাকা! চিনির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। তবে সয়াবিনের চেয়ে এ বছরের প্রথম চার মাসে চিনি কিছুটা কম এসেছে। বিশ্ববাজারেও দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সবশেষ চার মাসে বিশ্ববাজারে চিনির দাম টনপ্রতি গড়ে বেড়েছে ৫৫ থেকে ৬০ ডলার। প্রতি ডলারের দাম ১০৬ থেকে ১০৭ টাকা ধরলে চিনির দাম কেজিপ্রতি বাড়ার কথা ছয় থেকে সাড়ে ছয় টাকা। তবে চিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যানজট ঠেকানোর প্রকল্পে ভজকট

০৯ মে ২৩, সমকাল

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের প্রকল্পে প্রকল্পে লেগেছে ভজকট। সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা, বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃসমন্বয়ে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, সরকারের অনুমোদনসহ সব ধাপ পেরিয়ে নির্মাণকাজ শুরুর পর ধরা পড়ছে– এক প্রকল্প আরেকটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে আটকে যাচ্ছে কাজ, খরচও বাড়ছে। হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্পের ভিড়ে যানজট বাড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের জট ছোটাতে গত ২২ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিচালনা পরিষদের সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি করা হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারি সংস্থাগুলোর মত নিয়েছে কমিটি।

সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর হয়ে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে আপত্তি রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। ১২ বছর আগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু করে সেতু বিভাগ। এতে খরচ হচ্ছে ১৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।

এক যুগ পর এসে দক্ষিণ সিটি বলছে, নকশা অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প তেজগাঁওয়ে এফডিসি রেলক্রসিং থেকে হাতিরপুল হয়ে পলাশীর দিকে গেলে যানবাহনের চাপ বহু গুণ বাড়বে। পদ্মা সেতুমুখী গাড়ি পলাশী হয়ে হানিফ ফ্লাইওভারে উঠতে চাইবে। এতে যানজট বাড়বে। এরপরও যদি পলাশীমুখী র‍্যাম্প করা হয়, তবে তা থেকে আদায় করা টোলের ভাগ চায় দক্ষিণ সিটি।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা বিমানের জন্য কতটা লাভজনক, প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের

০৮ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গত বছর ২৮ হাজার টনের কিছু বেশি মালামাল পরিবহন করেছে বিমান। যদিও এর পরিবহন সক্ষমতা ছিল ৪ দশমিক ৯৮ লাখ টনের বেশি।

সক্ষমতার মাত্র ৬ শতাংশ ব্যবহার করার পরও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে দুটি নতুন কার্গো উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে বিমান।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) এর একটি নিরীক্ষায় দেখা যায়, গত বছর আন্তর্জাতিক রুটে ২০ দশমিক ৫৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান। এসব ফ্লাইটে প্রায় ৭ লাখ আসন খালি ছিল যা বিমানের যাত্রী বহন সক্ষমতার প্রায় ২৪ শতাংশ।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ১২টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে একাধিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং -৯ এবং বোয়িং ৭৩৭-৮০০।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইলটসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি এবং দুর্বল পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কারণে উড়োজাহাজগুলোর সঠিক ব্যবহার হয় না। উড়োজাহাজগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবহারে নতুন রুট চালু করতেও ব্যর্থ হয়েছে বিমান।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩ মে দুটি কার্গো উড়োজাহাজসহ এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঁচ মাসে কেবল পাঁচ দিন উৎপাদনে সিইউএফএল

৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড-সিইউএফএল গত পাঁচ মাসের মধ্যে শুধু পাঁচ দিন উৎপাদনে ছিল। কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো দুর্ঘটনা আবার কখনো গ্যাসের সংকটের কারণে ব্যাহত হয়েছে কারখানাটির সার উৎপাদন।

বর্তমানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিইউএফএল দেশের সারের চাহিদার বড় একটা অংশের জোগান দেয়। কারখানাটি বন্ধ থাকায় উচ্চ মূল্যে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হবে সরকারকে।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ নভেম্বর কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের রিফরমার পাইপলাইন ফেটে আগুন ধরে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। সব ধরনের মেরামত সম্পন্ন করে চার মাস পর গত ২২ মার্চ বিকেল থেকে শুরু হয় উৎপাদন। কিন্তু পাঁচ দিন পর ২৭ মার্চ দুপুরে পুনরায় বন্ধ হয়ে পড়ে কারখানাটি। তখন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানার পুরো ইউনিট বন্ধ হওয়ায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া দুটোরই উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে, গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে এক মাস সময় ধরে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কারখানার অনুঘটক রূপান্তরের প্রক্রিয়া ‘কনভার্টার ক্যাটালিস্ট’ পরিবর্তন করা হয়। তবে কাজটি সফলভাবে শেষ হলেও এর কার্যকারিতা জানা যায়নি। পরীক্ষামূলক ‘ট্রায়ালের’ জন্য বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের কারখানায় দ্বিতীয় দফায় আসার কথা ১০ মে। এ দফায় কারখানা চালু করে নতুন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলাফল যাচাই করার কথা তাঁদের। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাঁদের আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যথাসময়ে চালু করা না গেলে ব্যয়বহুল এই পরিবর্তন কোনো কাজে আসবে না বলে আশঙ্কা করছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে সিইউএফএলের অস্তিত্বই হুমকির মধ্যে পড়েছে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ এক মাস সময় ধরে বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কারখানার যান্ত্রিক ত্রুটি সারানো হলেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবর্তিত রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সার উৎপাদনে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। গ্যাসের সরবরাহ চেয়ে কেজিডিসিএলকে বারবার অনুরোধ করা হলেও গ্যাস মিলছে না। ফলে অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ছে কারখানার।

১৪৬ টাকায় সয়াবিন ও ৮৩ টাকা চিনি কিনছে সরকার

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ভারত থেকে প্রতি লিটার ১৪৬ টাকা ১০ পয়সা দরে ১১ হাজার টন সয়াবিন তেল ও সিঙ্গাপুর থেকে ৮২ টাকা ৯৪ পয়সা কেজিতে সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি আমদানি করছে বাংলাদেশ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সাশ্রয়ী দামে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এই তেল-চিনি বিক্রি করবে।

রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মার্চ-এপ্রিল সময়ে আমদানি বাবদ ১১৮ কোটি ডলার পরিশোধের পর আজ সোমবার রিজার্ভ কমে গেছে। ফলে গতকাল সোমবার (৮ মে, ২০২৩) দিন শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলারের নিচে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

খোলা চিনি ১২০ টাকা করার প্রস্তাব সরকারের, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়

১০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন চিনির নতুন দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আগের নির্ধারিত দাম কেজিপ্রতি ১০৪ টাকা থেকে ১৬ টাকা বাড়িয়ে খোলা চিনির দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ১২০ টাকা। একইভাবে ১০৯ টাকার প্যাকেটজাত চিনির দাম বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতি কেজি ১২৫ টাকা।

এদিকে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও মগবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে কোথাও কোথাও এর চেয়ে কিছুটা বেশি দামেও চিনি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন প্যাকেটজাত চিনি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। সুপারশপে কিছু প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেলেও তা সীমিত। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজারদরের হিসাবে, ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন প্রকল্প

তিন বছরের কাজ ১৫ বছরে, খরচ বাড়ছে সাড়ে ৩ গুণ

১১ মে ২৩, সমকাল

ভারতীয় ঋণে (এলওসি) তিন বছরে ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ রেললাইন এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের এই প্রকল্প ১১ বছরেও হয়নি। অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে ‘সংঘর্ষ’ ও জমি জটিলতায় কবে কাজ শেষ হবে– তা এখনও অনিশ্চিত। তাই প্রকল্প মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়াতে প্রস্তাব করেছে রেলওয়ে। ৮৪৮ কোটি টাকা খরচ ধরে শুরু করা প্রকল্পটির ব্যয় সাড়ে তিন গুণ বাড়িয়ে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শুরুতে ছিল ভারতের ঋণের টাকা পেতে জটিলতা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী, দেশটির ঠিকাদাররা এ প্রকল্পে কাজ করছেন। নথি অনুযায়ী, প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩০ জুনে নির্মাণ সম্পন্নের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এর ২৪ দিন আগে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আরভী-আয়েশা জেভিকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করে রেল।

ডিপিপির প্রথম সংশোধনে ৯০২ কোটি টাকা ভারতীয় ঋণসহ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয় ১ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর তথা ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু এর দেড় বছর পর ভারতীয় ঠিকাদার এফকনস এবং কেপিটিএলের যৌথ উদ্যোগে চুক্তি করে রেল। নির্মাণকাজ শুরু হয় পরের বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্প মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। খরচ বেড়ে হয় ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

বন্ধ কারখানার পেছনে ব্যয় থেমে নেই

১৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার সাভারের নয়ারহাট এলাকায় অবস্থান ঢাকা লেদার কোম্পানি লিমিটেডের। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ১৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কারখানাটি ১৯৯৫ সালে উৎপাদনে যায়। কোটি টাকার কারখানাটি তিন বছরের মাথায় বন্ধ করে দেয় বিসিআইসি। এরপর আর চালু হয়নি।

দুই দশকের বেশি সময় বন্ধ থাকলেও ঢাকা লেদারের পেছনে ব্যয় থেমে নেই। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, কারখানাটিতে এখনো একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাঁর অধীনে কর্মচারী, ১২ আনসার সদস্য, ৩ নিরাপত্তাকর্মী, ৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা-বোনাসসহ কারখানার রক্ষণাবেক্ষণের নানা খরচ রয়েছে।

গত ২৫ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার মূল ফটকে তালা। চারপাশে সীমানাপ্রাচীর। কারখানার ভেতরে ঢোকার অনুমতি পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে দেখা যায়, কারখানার ভেতরের প্রাঙ্গণ নানা ধরনের গাছপালায় ভরে গেছে। জানা যায়, ভেতরে কারখানা ছাড়াও প্রশাসনিক ভবন, রেস্টহাউসসহ কিছু স্থাপনা রয়েছে।

শুধু ব্যবসায়ীদের বক্তব্যকেই আমলে নিচ্ছে কি ট্যারিফ কমিশন?

মে ১৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার ওঠানামা করছে ১০৭ টাকার আশপাশে। যদিও ভোজ্যতেলের সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণের সময় ব্যবসায়ীরা আমদানিতে ডলারের বিনিময় হার ধরেছেন ১১১ টাকা। ২০ শতাংশ শুল্কসহ প্রতি টন সয়াবিন তেলের আমদানি দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর সঙ্গে উৎপাদন পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করলে মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২ টাকা। উৎপাদন খরচ, মোড়কজাত, অপচয় (প্রসেস লস), মুনাফা ও ডিলার কমিশন মিলিয়ে আরো ১৫ শতাংশ যুক্ত করে সবচেয়ে রক্ষণশীল হিসাব করেও দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সার বেশি হওয়ার কথা নয়। যদিও ট্যারিফ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায়।

ঢাকার গরিব মানুষের অর্ধেকই ‘নতুন দরিদ্র’

১৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

করোনাভাইরাস মহামারির সময় দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা কমে আসে। তবে মহামারির প্রভাবে শহরাঞ্চলে নতুন ধরনের দারিদ্র্যের আবির্ভাব ঘটে। নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষ কাজ হারিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাতারে যুক্ত হয়েছে। গত বছর ঢাকা শহরের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই নতুন দরিদ্র।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার ২ হাজার ৪৬টি খানার ওপর জরিপ করে গবেষণাটি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, করোনা–পরবর্তী সময়ে ঢাকার দরিদ্র মানুষের আয় বাড়লেও সঞ্চয় কমেছে। যদিও ধনীদের যে হারে আয় বেড়েছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেভাবে বাড়েনি। তার মানে, সমাজে আয়বৈষম্য নতুন করে বেড়েছে।

বিআইডিএসের গবেষণায় ঢাকার দারিদ্র্যের নতুন মাত্রা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়, ঢাকার ৬২ দশমিক ১২ শতাংশ জনগোষ্ঠী কখনোই দরিদ্র হয় না। দারিদ্র্য থেকে বেরিয়েছে ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী আগে থেকে দরিদ্র। নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী বিআইডিএস রিসার্চ অ্যালমানক ২০২৩ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গতকাল বুধবার এই গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার।

বিনায়ক সেন বলেন, ‘ঢাকার মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ শতাংশ নতুন দরিদ্র। তারা করোনারকালে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে নিচের স্তরে নেমে গেছে। সংকটে থাকা এই শ্রেণির ওপর আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

আয়, ব্যয় ও বৈষম্য

বিআইডিএসের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দারিদ্র্য ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। আর অতিদারিদ্র্য কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট। করোনা-পরবর্তী সময়

বিআইডিএসের গবেষণা

করোনা–পরবর্তী সময়ে ঢাকার দরিদ্র মানুষের আয় বাড়লেও সঞ্চয় কমেছে। যদিও ধনীদের যে হারে আয় বেড়েছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় সেভাবে বাড়েনি।

দারিদ্র্য কমাতে আত্মকর্মসংস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। যাঁদের আর্থিক সঞ্চয় ছিল, তাঁরা সেটি ভেঙে নিজের কর্মসংস্থানের জন্য কাজে লাগিয়েছেন। তা ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে মোবাইলে আর্থিক সেবা বা এমএফএস আত্তীকরণ দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।

দারিদ্র্য কমলেও আয়বৈষম্য বেড়েছে। করোনার আগে ২০১৯ সালে ঢাকার দরিদ্র খানা বা পরিবারের বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। করোনার পর গত বছর সেটি বেড়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে অতিদরিদ্র খানার আয় ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। গত বছর সেটি বেড়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্র খানার আয় যথাক্রমে ১০ ও ১৬ শতাংশ বাড়লেও ধনীদের আয় বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ধনী খানার আয় ছিল ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে ১৪ লাখ।

এদিকে আত্মকর্মসংস্থান (সেলফ এমপ্লয়মেন্ট) থেকে দরিদ্র খানার আয় বেড়েছে। করোনার আগে ২০১৯ সালে দরিদ্র খানার আয়ের ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থান থেকে এসেছে। গত বছর সেটি বেড়ে ৩৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়। অন্যদিকে অতিদরিদ্র খানার আয়ের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ এসেছে আত্মকর্মসংস্থান থেকে। গত বছর সেটি বেড়ে ৩৩ দশমিক ২১ শতাংশে দাঁড়ায়।

জ্বালানি তেলের দাম কমে ৭৫ ডলারের নিচে

১৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ কয়েক বছর কমই ছিল। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ উঠে গেলে চাহিদা বাড়তে শুরু করে। তখন থেকেই বাড়তে শুরু করে তেলের দাম। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও দুই দফা তেলের দাম বাড়ানো হয়। এরপর একবার সামান্য কমানো হয়। এই ধাক্কায় মূল্যস্ফীতির হার অনেকটা বেড়েছে। দাম বাড়ানোর সময় সরকারের মন্ত্রীরা বলেছিলেন, তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশে দাম বাড়ানো হবে, আবার কমলে দাম কমানো হবে।

কিন্তু ২০২২ সালের শেষ দিকে এসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তখন রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের শেষ প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর যে হারে কমেছে, তার কারণ হলো বিশ্ব অর্থনীতির বেহালজনিত উদ্বেগ। চলতি বছর বিশ্বের অনেক দেশেই মন্দার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। যদি সেটা হয়, তাহলে তেলের চাহিদা কমে যাবে। সে কারণেই ধারাবাহিকভাবে তেলের দাম কমছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যা ছিল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে তা বাড়তে থাকে—ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ ও আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এখন জ্বালানি তেলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অনেক দিন ধরেই তেলের দাম ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে দেশের বাজারে দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

বিল বকেয়া রাখা কোম্পানি পাচ্ছে সরবরাহের দায়িত্ব

১৯ মে ২৩, সমকাল

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস অবশেষে দেশের মূল ভূখণ্ডে আসছে। সিএনজি আকারে এই গ্যাস তিতাসের আওতাধীন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হবে; যার কাজ পেতে যাচ্ছে ইন্ট্রাকো সিএনজি। এই সিএনজির প্রতি ঘনমিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। যদিও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত দর অনুসারে শিল্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩০ টাকা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম পড়ছে ৪৩ টাকা। অর্থাৎ ভোলার গ্যাস চলতি দামের চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি করবে ইন্ট্রাকো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা থেকে উত্তোলিত গ্যাস সিএনজি আকারে সরবরাহের জন্য ইন্ট্রাকো ও সুন্দরবন গ্যাসের মধ্যে আগামী ২১ মে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যদিও ইন্ট্রাকোর একাধিক সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে এখনও তিতাস গ্যাসের শতকোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ কিস্তিতে এই বকেয়া পূরণের সুযোগ পেয়েছে কোম্পানিটি।

বিলম্বিত হচ্ছে সব ধরনের জ্বালানির অর্থ পরিশোধ

মে ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানির সংস্থান হয় আমদানির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারি কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে এসব জ্বালানি আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এ আমদানি অব্যাহত রাখা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল, কয়লা ও গ্যাস—প্রাথমিক এ তিন জ্বালানি আমদানি বাবদ বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমেছে জোগানদাতাদের কাছে। এ দেনা শোধ করা যাচ্ছে না ডলার সংকটের কারণে। রক্ষণশীলভাবে হিসাব করলেও দেখা যায়, জ্বালানির সংস্থান বাবদ দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান-সংস্থাগুলোর দেনা অনেক আগেই ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের বেঞ্চমার্ক অতিক্রম করেছে।

সরবরাহব্যবস্থার বিশৃঙ্খলায় বাজারে অস্থিরতা

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে চিনির বাজারে অস্থিরতার জন্য ‘সরবরাহব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা’কে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। সংস্থাটি বলছে, চিনিকলগুলো তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি সরবরাহের আদেশ নেওয়ায় বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ, সাপ্লাই অর্ডার বা সরবরাহ আদেশ (এসও) হাতবদলের সুযোগ থাকায় অতি মুনাফার জন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি চিনির বাজারের অস্থিরতা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। এতে চিনির সরবরাহব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে পরিশোধিত চিনির সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পরিশোধন মিল থেকে চিনি সরবরাহে বিশৃঙ্খলার ফলে সৃষ্ট সমস্যা বাজারে চিনির মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশে চিনি পরিশোধনাগার কম থাকার কারণেও বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিটিটিসি বলেছে, চিনিকল থেকে এসওর (সরবরাহ আদেশ) মেয়াদ ১৫ দিন উল্লেখ করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত থেকে যাচ্ছে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের এসও বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এ ছাড়া মিল থেকে উৎপাদন সক্ষমতার বেশি এসও দেওয়া হয়। আবার এসও হাতবদলের সুযোগ রয়েছে। এতে অতি মুনাফার জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়, আর সেটি বাজারে সমস্যার সৃষ্টি করে।

সরকারি সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থাকলে মিলগুলো আগের এসওর চিনি সরবরাহ কমিয়ে নতুন এসওর মাধ্যমে সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটি চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতে শুরু করলে তখন মিল থেকে এসও কেনা ব্যবসায়ীরা চিনি উত্তোলন করতে চান না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চিনির সরবরাহে।

বিটিটিসি জানায়, চিনিকলগুলো অনেক সময় নিয়মিত সরবরাহ আদেশের পাশাপাশি বিশেষ সরবরাহ আদেশ নেয়। এই আদেশের মাধ্যমে মূলত বাড়তি দামের চিনি আগে মিল থেকে ছাড় করা হয়। এতে চিনি সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অনেক মিল আবার চিনি সরবরাহের জন্য ট্রাকের নম্বর নির্ধারণ করে দেয়। ওই নম্বরের ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো ট্রাককে মিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এতেও সমস্যা দেখা দেয়।

এ ছাড়া মিল ফটকে খোলা চিনির মূল্য অতিমাত্রায় পরিবর্তনের ফলে সেকেন্ডারি বাজারে প্রতিনিয়ত দাম পরিবর্তন হয়। ফলে খোলা চিনির দাম নিয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করে। খোলা চিনি পাইকারি বাজারে প্রবেশের পর সেটি কোন ব্র্যান্ডের, তা বোঝা যায় না। আর দেশে চিনি পরিশোধনকারী কারখানার সংখ্যা কম হওয়ায় চিনির বাজারে সিন্ডিকেটের সুযোগ আছে।

১৬ শর্তে ইজিবাইক নিবন্ধন

২০ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের শহরে-গ্রামে লাখ লাখ ইজিবাইক চলছে অনুমোদন ছাড়াই। এগুলোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে দূরপাল্লার বাসচালকরা অভিযোগ করে থাকেন। এসব ইজিবাইক মানসম্মত করে তোলার জন্য ১৬টি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষকরা। সুপারিশ মেনে তাদের সড়কে চলার অনুমতি দেওয়া যায় বলে গবেষকদের অভিমত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষণা কাউন্সিল এই গবেষণায় অর্থায়ন করে।

বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান জানান, বুয়েটের কয়েকটি বিভাগের অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত গবেষকদল বিদ্যমান ইজিবাইকের ১৬টি কারিগরি পরিবর্তন করতে বলেছে। মেকানিক্যাল ব্রেকের পরিবর্তে তিন চাকায় হাইড্রোলিক ব্রেক সংযোজন করতে হবে। চালকের আসনের দুই পাশ ও উইন্ডশিল্ড পুরোপুরি ফুল ওয়েদার কোট দ্বারা ঢাকা রাখতে বলা হয়েছে। চালকের আসনে কোনো যাত্রী নেওয়া যাবে না। চালকের আসনটি হবে একজন বসার মতো, যাতে সেখানে যাত্রী না নেওয়া যায়। চালক ও যাত্রীদের আসনের মাঝে প্রতিবন্ধক, পেছনে ও ডানে-বাঁয়ে দেখার গ্লাস ও সামনের উইন্ডশিল্ড উইপার থাকবে। সব আবহাওয়ায় দুই পাশে কভার ও মাথার ওপর ঢাকা থাকতে হবে। তাতে জিপার থাকবে যাতে বৃষ্টি ও গরমের সময় সহজে ব্যবহার করা যায়।

আলুর বড় মজুত, দাম বাড়ছে

২১ মে ২৩, সমকাল

‘মার্চ-এপ্রিল মাসে কয়েকটি হিমাগারে ছয় হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছি। বাজারে এর দাম বেড়েছে। তবে আমি এখনও এক বস্তাও বিক্রি করিনি। সংরক্ষণের মেয়াদও অনেক রয়েছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’ কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের আলু ব্যবসায়ী মিঠু ফকির। তাঁর মতো আরও অনেকে একযোগে মজুত করেছেন।

বাজারে এক মাস আগে এক কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) আলু ১৭-১৮ টাকা, ডায়মন্ড (সাদা) ১৮-১৯, দেশি পাকরি (লাল) ২১-২২ এবং রুমানা (পাকরি) ২০ টাকায় বিক্রি হয়। শনিবার সদরের নতুন ও পুরোনো বাজার, কালাই পৌর বাজার ও পুনট হাটে লাল আলু ৩৫-৩৬, ডায়মন্ড ৩৮, দেশি পাকরি ৪০-৪২ এবং রুমানা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত।

অথচ ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে সাড়ে ১১ থেকে ১৩ টাকা কেজি আলু কিনেছেন। হিমাগারের ভাড়াসহ সব মিলে খরচ পড়েছে ১৫-১৬ টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ-এপ্রিলে জয়পুরহাটের হিমাগারে ৬৫ কেজি ওজনের ২০ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ হয়েছে। পাঁচটি উপজেলার ১৬টি হিমাগারে উৎপাদনের ৯৩ শতাংশ মজুত রয়েছে। উত্তোলনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর।

ব্যবসায়ী ও হিমাগার ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, গত বছর ১৬টি হিমাগারে প্রায় ২১ লাখ বস্তা আলু মজুত ছিল। গত মে মাসে প্রকারভেদে এক কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) আলু ৭-৮ টাকা, ডায়মন্ড (সাদা) ৮-৯ টাকা এবং দেশি পাকরি (লাল) ১০-১২ টাকায় বিক্রি হয়। এবার একই পরিমাণ মজুত থাকলেও দাম বেড়েছে চার-পাঁচ গুণ।

চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় আলু উত্তোলন করছেন না। এতে দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে বলে অভিযোগ হিমাগার মালিক, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের। তাঁদের দাবি, ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে সংকট সৃষ্টি করেছেন। কম আলু বের করে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়াচ্ছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা।

গ্রামীণ সড়কের বড় অংশই বেহাল

২১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন দেশের গ্রামীণ সড়কের একটা বড় অংশই বেহাল। এর মধ্যে সংস্কারের অভাবে প্রায় ২৫ শতাংশ সড়ক একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সংস্থার অধীনে থাকা প্রায় ৫০ শতাংশ সড়কেরই মেরামত প্রয়োজন। এলজিইডির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কের একক দায়িত্ব এলজিইডির। এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন-রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সংস্থাটির। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক এলজিইডির। সংস্থাটির আওতায় মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯২১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ পাকা ও ৫৫ শতাংশ কাঁচা সড়ক। এলজিইডি সূত্র বলছে, সংস্থাটি সচরাচর কাঁচা সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ বরাদ্দ দেয় না। এ কারণে বছরের পর বছর এই সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বিগত তিন অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে রাজস্ব খাত থেকে সংস্থাটি ব্যয় করেছে প্রায় ৬ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সংস্থাটি।

সাধারণত, সড়ক নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যে তা সংস্কার করা হয় না বলে এলজিইডি সূত্র জানায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নির্মাণের পর বছর না ঘুরতেই সড়ক ভাঙতে শুরু করে। তা ছাড়া এলজিইডির সড়ক নির্মাণের পর তা বেশি দিন না টেকার অভিযোগ রয়েছে। দু-তিন বছরের মধ্যেই সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কের সুফল মানুষ পায় না।

এলজিইডির প্রকৌশলীরা বলছেন, গ্রামীণ সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল। উপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কে ৮ দশমিক ২ টন এবং গ্রামীণ সড়কে ৫ টনের বেশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়। এ ছাড়া অতিবৃষ্টি, সড়কের পাশের পুকুরের পাড় বাঁধানো না থাকা, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলজিইডির সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দুর্নীতিকেও দায়ী করেন।

গ্রামীণ কাঁচা সড়ক অবহেলিত

এলজিইডির অধীন থাকা গ্রামীণ সড়ককে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক, গ্রাম সড়ক (ক শ্রেণি) ও গ্রাম সড়ক (খ শ্রেণি)।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে চার ধরনের কাজ করে। এগুলো হলো যেসব সড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ভরাট (রি-সিল), মোটামুটি থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত (ওভার-লে), সড়কের আয়ুষ্কাল কমে গেলে তা পুনর্বাসন এবং সড়ক প্রশস্ত করা। তবে সংস্থাটির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণকাজের বড় অংশ অর্থই ব্যয় হয় মেরামতের পেছনে।

এলজিইডি প্রতিবছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করে। এলজিইডি সূত্র বলছে, যে সড়কে যানবাহন চলাচল বেশি, উপজেলা ও ইউনিয়নের সংযোগকারী সড়ক, হাটবাজারের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে—এমন সব সড়কই সংস্থাটি গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার করে।

এলজিইডি থেকে জানা যায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক বাদে সংস্থাটির ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের বেশি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ১ লাখ ৭৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি। অর্থাৎ, মোট গ্রামীণ সড়কের ৬৭ শতাংশই কাঁচা।

কাঁচা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে এলজিইডি সচরাচর অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকে।

আয় খেয়ে ফেলছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি

২২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা আর্জেন্টিনার মতো এখনো গভীর সংকটে থাকা কিছু দেশ ছাড়া অন্যরা মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছে। ভারতে মূল্যস্ফীতি এখন ৫ শতাংশের নিচে, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি কমছে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো দেশগুলোতেও। নানা উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি কমাচ্ছে অন্যরাও। কিন্তু স্বস্তি নেই বাংলাদেশে। এখানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সংসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যদিও সরকারের হিসাবে গত এক বছরে দেশের মানুষের আয় বেড়েছে, মজুরিও বেড়েছে। টাকার অঙ্কে বেড়েছে মাথাপিছু আয়। কিন্তু সবই কাগজে-কলমে হিসাব। আর তাতে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি পাচ্ছে না; বরং সংসার চালাতে অনেককে ধারদেনা করতে হচ্ছে। ভাঙতে হচ্ছে সঞ্চয়। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতিই খেয়ে ফেলছে মানুষের আয়।

ডলার–সংকটে জ্বালানির মূল্য পরিশোধে সমস্যা, বাংলাদেশে ‘তেল না পাঠানোর হুমকি’

২৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সেই সঙ্গে জ্বালানির মজুতও ‘বিপজ্জনকভাবে কমে’ আসছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাঠানো দুটি চিঠির একটির সূত্রে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। ছয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশের কাছে জ্বালানি তেল বাবদ ৩০ কোটি ডলার পাবে। অর্থ না পাওয়ায় এদের কেউ কেউ বাংলাদেশে তেল পাঠানো কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তেলবাহী কার্গো ‘না পাঠানোর হুমকি’ দিয়েছে বলে চিঠির সূত্রে আরও জানিয়েছে রয়টার্স।

শিল্পে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমলেও মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি

মে ২৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

ভারী শিল্প স্থাপনের প্রধান উপকরণ হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি। এ ধরনের শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্রায় পুরোটাই আসে আমদানির মাধ্যমে। চলতি অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) কমেছে ৫৭ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী (ইন্টারমিডিয়েট) পণ্যর ঋণপত্রও। যদিও সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেই বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণে বেশ বড় আকারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দেয়া ঋণকে বলা হয় মেয়াদি ঋণ। ব্যাংক থেকে নেয়া এ ঋণেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েন উদ্যোক্তারা। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অর্ধেকে নেমে আসার পরও ব্যাংকগুলোর মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধিকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি কমে গেলে শিল্পের মেয়াদি ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমার কথা। এ অবস্থায় আমদানি কমার পরও এ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক চিত্র নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পণ্যমূল্য বেশি দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনেক আছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড আমদানি হওয়ার পেছনে এ অর্থ পাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ডলার সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণপত্রগুলোর যথার্থতা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ কারণে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচার কমছে। এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে। অর্থের হিসাবে আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমলেও পণ্যের পরিমাপে আমদানি কমেনি। এ কারণে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছিল ৫৬৮ কোটি ১২ লাখ ডলারের। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের ২৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানের এলসি খোলা কমেছে ৫৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। শুধু নতুন এলসিই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তির হারও ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এ খাতে ৪০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হলেও চলতি অর্থবছরে তা ৩৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অর্ধেকের বেশি কমলেও চলতি অর্থবছরে দেশের বৃহৎ শিল্পের মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৃহৎ শিল্পের ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এ খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি দেশের মাঝারি শিল্পেরও মেয়াদি ঋণের বিতরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে এ ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ৪৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলে কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৯.০৫ কোটি ডলার

মে ২৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ হবে ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট)। পাতালপথ ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি টাকা। টাকার বিপরীতে ডলারের সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলারে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা) অনুযায়ী হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোরেল নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার। গতকালই মেট্রোরেলের একটি প্যাকেজে ঠিকাদার নিযুক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আগামী জুলাইয়ে এ মেট্রোর নির্মাণকাজ শুরুর আশা করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যয় নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছে নির্মাণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাত নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’। এতে বলা হয়েছে, লাহোর অরেঞ্জ লাইনের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। একইভাবে জাকার্তা নর্থ-সাউথের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৭ কোটি ডলার, হো চি মিন সিটি লাইন-১-এর ৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, হ্যানয় লাইন-২-এর ৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, দিল্লি লাইন-১-এর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৫ কোটি ৬ লাখ ডলার। উল্লিখিত সব মেট্রোই সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর প্রথম। ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এশিয়ার ব্যয়বহুল মেট্রোরেলে পরিণত হয়েছে ঢাকার এমআরটি লাইন-৬। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। মার্কিন মুদ্রার হিসাবে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)। উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য নির্মীয়মাণ দেশের প্রথম এ মেট্রোরেলের পুরোটাই হচ্ছে উড়ালপথে।

এর চেয়েও বেশি ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ঢাকার দ্বিতীয় মেট্রোরেলটি। বিমানবন্দর-কমলাপুর-পূর্বাচল রুটের জন্য এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)।

নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলের ব্যয় প্রথম দুটিকে অতিক্রম করে গেছে। এতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে গড়ে খরচ হবে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার।

প্রতিবেশী ভারতে যেখানে মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি গড় নির্মাণ ব্যয় ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার মেট্রো নির্মাণে ১৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যবসা খারাপ বেশির ভাগ কোম্পানির

২৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের উৎপাদনশীল খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির ব্যবসায় খারাপ যাচ্ছে। নানামুখী সংকটে উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় এসব কোম্পানি ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। তবে কোনো কোনো কোম্পানির বিক্রি বাড়লেও উৎপাদন খরচ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও মুনাফায় টান লেগেছে।

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সেবা ও শিল্প খাতের ২০৪টি কোম্পানির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ) সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১৯টিরই ব্যবসা গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। ব্যবসায় ভালো করেছে ৮১টি, অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানি মোট ২৪১টি। এর মধ্যে ৩৭টি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় সেগুলোর ব্যবসা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বকায়

২৭ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে ৫ বছরের কম বয়সী ২৬ শতাংশ শিশু খর্বকায়। অপুষ্টির শিকার এসব শিশুর সংখ্যা ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার। এদের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। দেশে এমন শিশুর সংখ্যা কমে এলেও এখনো তা উচ্চপর্যায়ে আছে বলে একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অপুষ্টির শিকার শিশুদের এই অনুমিত সংখ্যা ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে প্রকাশ করেছে। ২৩ মে প্রকাশিত ‘শিশু অপুষ্টির মাত্রা ও প্রবণতা’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অন্তত একটি ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বাড়ছে। দেশে আগের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজনের শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

বৈশ্বিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম, এমন শিশুর সংখ্যা কমছে। ২০১২ সালে ছিল ৩৯ শতাংশ বা ৬০ লাখ ৪৬ হাজার। বর্তমানে ২৬ শতাংশ বা ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার। একে ‘উচ্চ’ হার বলছে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক।

একই সঙ্গে দুই ধরনের অপুষ্টির শিকার শিশুদের বৈশ্বিক বা দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান নেই।

অপুষ্টির আরেকটি সূচক কৃশতা বা ওয়াস্টিং। কিছু শিশু তাদের উচ্চতার তুলনায় কৃশ বা হালকা–পাতলা হয়। কোনো কারণে যদি দ্রুত ওজন কমে যায় বা কোনো কারণে যদি ওজন না বাড়তে থাকে, তাহলে শিশু কৃশ হয়ে পড়ে। মাঝারি থেকে মারাত্মক কৃশকায় শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। এই ধরনের শিশুর চিকিৎসা দরকার হয়। প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৫ বছর কম বয়সী ৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু কৃষকায়। এদের মোট সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৮ হাজার।

ওষুধের দামও লাগামছাড়া

২৯ মে ২৩, সমকাল 

নিত্যপণ্যের দাম ছুটছে তো ছুটছেই। এ দৌড়ে পেরে উঠছে না মানুষ। এর মধ্যেই নতুন দুঃসংবাদ নিয়ে হাজির ওষুধ খাত। দেশের শীর্ষ ছয় প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ২৩৪টি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ালেও সেই নথি পায়নি সমকাল। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কত শতাংশ বাড়িয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে অনেক ওষুধ বেশি দামেও কেনাবেচা চলছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১০ কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধের দাম বাড়াতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। এদের কেউ কেউ ওষুধের দাম সমন্বয় না করলে উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডলার সংকটে ধুঁকছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত

৩১ মে ২৩, সমকাল 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ডলার সংকট প্রকট হচ্ছে। গত বছর থেকেই এ সংকটের শুরু। মাঝে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবার অবনতি হচ্ছে। জ্বালানি পণ্য সরবরাহকারী বিদেশি কোম্পানির কাছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া দিন দিন বাড়ছে। বকেয়া বিল পরিশোধে এ মুহূর্তে অন্তত ১০০ কোটি ডলার দরকার। হাতে টাকা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ডলার নেই। ফলে বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আগের মতো সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদামতো ডলারও দিচ্ছে না; বরং আইএমএফের শর্ত মেনে নিট রিজার্ভ বাড়াতে ডলার বিক্রি কমানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, যথাসময়ে অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় কয়েক কোটি টাকা জরিমানা গুনছে পেট্রোবাংলা। ডলার সংকট দীর্ঘায়িত হলে ব্যাহত হতে পারে এলএনজি আমদানি। ডলারের অভাবে কয়লা আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পায়রা, রামপালসহ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তেল আমদানির বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে বিপিসি। বকেয়া পরিশোধ না করলে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। ডলার চেয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও সুফল মিলছে না।

বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দিলো মুডি’স

৩০ মে ২৩, সমকাল

ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আর্ন্তজাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি মুডি’স বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান কমিয়েছে। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর থেকে মুডি’স ইনভেষ্টর সার্ভিস এ রেটিং প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেটিং ‘বিএ৩’ যা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ‘বি১’। তবে আউটলুক বা ভবিষ্যতের জন্য আভাস হচ্ছে ‘স্থিতিশীল’।

কোনো দেশের ক্রেডিট রেটিং বিনিয়োগকারীদেরকে সে দেশের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। ঋণমান হলো- কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের যোগ্যতা। ঋণমানের মূল্যায়ন থেকে কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ‘বি১’ রেটিং আগের রেটিংয়ের চেয়ে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি নিম্ন ও মধ্যম ক্যাটাগরির। সবচেয়ে উচু মানের রেটিং হলো ‘এএএ’।

বিদেশী ঋণের সুদ ও এলসি কমিশন বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা

জুন ০১, ২০২৩, বণিক বার্তা

আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দেয়ার পরদিনই এর বিরূপ প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে গতকালই আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ঋণসীমা বা ক্রেডিট লাইন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংক (এডিআইবি)। বাংলাদেশের অন্তত ২০টি ব্যাংকের সঙ্গে ইউএইর বৃহৎ এ ব্যাংকটির ক্রেডিট লাইন রয়েছে। আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংকের মতো বিশ্বের অন্য বৃহৎ ব্যাংকগুলোও বাংলাদেশে নিজেদের ঋণসীমা পুনর্বিবেচনার কথা জানাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রাপ্তির আশঙ্কা করছেন দেশের ব্যাংক নির্বাহীরা।

বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পাদন ও দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশী মুদ্রায় ঋণ দেয়ার জন্য বিদেশী ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণসীমা নেয়া হয়। এ ঋণসীমা ব্যবহার করেই আমদানি-রফতানি ঋণপত্রের (এলসি) নিশ্চয়তা দেয় দেশের ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি এর আওতায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল এনে দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশী মুদ্রায়ও ঋণ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কান্ট্রি রেটিং অবনমনের পর এবার সাতটি বেসরকারি ব্যাংকেরও রেটিং অবনমন করে দিয়েছে মুডি’স। রেটিং অবনমন হওয়া ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। এ তালিকায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নামও রয়েছে। বৈদেশিক ও স্থানীয় মুদ্রায় ‘দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট’ ও ‘ইস্যুয়ার রেটিং’য়ের ক্ষেত্রে এ অবনমন করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে মুডি’স জানিয়েছে। দেশের কেবল এ আটটি ব্যাংকই মার্কিন ঋণমান প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে রেটিং করিয়েছিল। মুডি’সের পক্ষ থেকে গত ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

ধনীদের সারচার্জের ক্ষেত্রে আরও ছাড়

০১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ধনীদের সম্পদের ওপর সারচার্জের ক্ষেত্রে আবার ছাড় দিলেন অর্থমন্ত্রী। এত দিন তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলেই সারচার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। আগামী বছরের বাজেটে এ সীমা বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে যে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে সারচার্জ দিতে হবে।

 অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ওই ব্যক্তির করের ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে কিংবা নিজ নামে একাধিক গাড়ি কিংবা ৮ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের গৃহ-সম্পত্তি থাকলেও ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

এ ছাড়া নিট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে প্রদত্ত করের ২০ শতাংশ; সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে করের ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে করের ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

করদাতার বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার সময় পরিসম্পদ, দায় ও খরচের বিবরণীতে নিট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়। সেই সম্পদের ওপরেই সারচার্জ আরোপ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে যে অনেকেই নিজেদের সম্পদের পুরোটা কর বিবরণীতে ঘোষণা দেন না। বিশেষ করে কালোটাকার মাধ্যমে যে সম্পদ অর্জিত হয়, তা রিটার্নে দেখান না এসব সম্পদের মালিকেরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১৫ হাজারের মতো ব্যক্তি সারচার্জ দিয়েছেন। ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সারচার্জ দেওয়ার বিধান করা হয়। তখন অবশ্য দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হতো। এরপর প্রতিবছর সারচার্জধারী সম্পদশালীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সারচার্জ দেওয়া সম্পদশালীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত এক দশকে এমন সম্পদধারী সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে।

২০২০ সালে আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ওয়েলথ এক্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পদধারীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। ওই সময়ে দেশে ৫০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদধারী ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

উপেক্ষিতই থাকল জ্বালানি খাত

০২ জুন ২৩, সমকাল

জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ। গ্যাস-কয়লার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাস সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। ডলার সংকটে  গ্যাস-কয়লা আমদানি বন্ধ থাকছে। সংকট সামলাতে বিশেষজ্ঞরা দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে বলছেন। তবে বরাবরের মতো বাজেটে অবহেলিত থাকছে জ্বালানি খাত।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মাত্র ৯১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুতের উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ২৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

স্মার্ট না বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির সূচনা?

জুন ০২, ২০২৩, বণিক বার্তা

জাতীয় সংসদে গতকাল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছবি: পিআইডি

কোষাগারে অর্থাভাব। সরকারি সংস্থাগুলোও বিপর্যস্ত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কাউকে টাকা দিতে পারছে না। অর্থের অভাবে সরকারও আমদানির বাজার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংস্থান করতে পারছে না। দুইদিন আগেই বাংলাদেশের ঋণমান অবনমন করেছে মার্কিন ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্যাকেজ গ্রহণও এ অবনমন ঠেকাতে পারেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৬ শতাংশ।  চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরেও পূর্ণ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা না থাকায় সংশোধন করে বাজেটের আকার কমিয়ে আনতে হয়েছে।

এর মধ্যেই জাতীয় সংসদে গতকাল আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৫ শতাংশ বড় আয়তনের এ বাজেটের শিরোনাম ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘‌উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের লক্ষ্য হলেও আমরা একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে চাই। এরই মধ্যে আমাদের সরকারের সময়োপযোগী কৌশলের প্রভাবে লেনদেন ভারসাম্যের অস্থিতিশীলতা কমে এসেছে।’

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি উচ্চপ্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বরং অর্থের সুনির্দিষ্ট জোগান ছাড়া খরচ বৃদ্ধির এ ধরনের রূপকল্প পরিস্থিতিকে আরো বেহাল করে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে তাদের ভাষ্য হলো উচ্চাভিলাষী এ বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। চলমান মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা নিয়েও প্রয়োজনীয় কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এর মধ্যেই আবার বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দিয়েছে মুডি’স। তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব দৃশ্যমান না হলেও অর্থবছরজুড়ে এর জন্য ভুগতে হবে। এরই মধ্যে আরব আমিরাতের একটি ব্যাংক বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত ঋণসীমা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী অন্য অনেক আর্থিক সংস্থা ও ব্যাংকের এ পদক্ষেপ অনুসরণ করার জোর আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে বিদেশী উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার সরকারের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যে পরিমাণ নতুন টাকা ছাপাতে হবে, তাতে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।

একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম (বাজেট) অধিবেশন শুরুর পর গতকাল বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এর আগে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত হয়ে এ বাজেটের আকার কমে হয় ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ ডলার।

৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উৎস থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর-বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরো ৫০ হাজার কোটি টাকা।

গত কয়েক বছরে প্রাক্কলন বা লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে রাজস্ব আহরণ করতে পারেনি সরকার। প্রতি বছরই প্রস্তাবে উল্লিখিত লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তব রাজস্ব আহরণের বড় ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরেও প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থেকে গেছে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আহরণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণ করতে অর্থবছরের বাকি দুই মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে সংস্থাটিকে। এজন্য প্রতি মাসে গড়ে রাজস্ব আহরণ করতে হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। যদিও ২০২২-২৩ অর্থবছর শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আয়ের এ ঘাটতি সামনের দিনগুলোয় বড় সংকটের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। বড় অংকের নতুন এ বাজেটে ঘাটতি পূরণের জন্য দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে সরকারকে। এ অর্থায়ন নিশ্চিত হোক না হোক, প্রয়োজনমাফিক রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতা বড় ধরনের সংকটের উৎস হয়ে দেখা দিতে পারে। একদিকে তা সুদ বাবদ সরকারের প্রদেয় ব্যয়ের বোঝাকে আরো ভারী করে তুলতে পারে। এরই মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বৃহৎ একটি ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। আবার মুডি’সের অবনমনও বাংলাদেশের ঋণপ্রাপ্যতাকে খর্ব করেছে। 

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার পরিচালন ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজেটে অনুদান ব্যতীত মোট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বৈদেশিক উৎস (অনুদানসহ) থেকে আসবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলো নিজেরাই এখন তারল্য সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় সরকারের ঋণ চাহিদা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে টাকা ছাপাতে হচ্ছে। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরেও সরকারকে ঋণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৭০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে ছাপাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে সরকারকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো বেশি হারে টাকা ছাপাতে হবে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, সেক্ষেত্রে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতিকে ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। বরং তা বর্তমানের চেয়ে আরো মারাত্মক আকার নিতে পারে। তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, শ্রীলংকার মতো বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে মুদ্রা ছাপিয়ে বাজেট অর্থায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক দুর্বিপাকের শিকার হয়েছে।

৫ বিলিয়ন ডলারই কষ্টসাধ্য ২০ বিলিয়নের সংস্থান হবে কি?

জুন ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল ফার্নেস অয়েল। এসব জ্বালানির বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ জ্বালানি চাহিদার প্রয়োজন পড়ছে, তার বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপুল পরিমাণ এ জ্বালানি আমদানিতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে বিদ্যমান জ্বালানির বাজারদর বিবেচনায় বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি দরকার হবে।

জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে। নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে জ্বালানি আমদানি বাবদ যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তার সংস্থান নিয়ে রয়েছে সংশয়। জ্বালানি নিরাপত্তায় টেকসই অর্থনীতি ও বাজেটে এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেন তারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন ফার্নেস অয়েল, এলএনজি ও কয়লা আমদানি করতে হয় জ্বালানি বিভাগকে। বছর শেষে হিসাব অনুযায়ী, এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

জ্বালানিসংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে দেখা যায়, স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করতে হলে বছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার (গড়ে ১০ ডলার হিসেবে), যার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার না হলেও অনেকাংশে এলএনজিনির্ভর।

দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরে প্রতি টন কয়লার দাম গড়ে ১৫০ ডলার হিসাবে বছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য বছরে প্রায় ছয় লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিসির ফার্নেস অয়েল আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৬ টন। যার আমদানি ব্যয় ১ হাজার ৭১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ডলারের বিনিময় মূল্য গড়ে ৮৫ টাকা হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৭ ডলার।

দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েলসহ বেশকিছু জ্বালানি পণ্য আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়। আমদানীকৃত এসব জ্বালানি পণ্যে ব্যয় হয় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে বছরে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ১১ হাজার ৩৭২ মেগাওয়াট। যদিও বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো। নির্মাণাধীন কেন্দ্রগুলো আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে প্রস্তুত হলে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট। বর্তমানে স্থানীয় গ্যাসের বাইরে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। দৈনিক ৯০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ সক্ষমতা চালু থাকলে বছরে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট এক প্রক্ষেপণে দেখা যায়, ২০২৭ সাল নাগাদ দেশে গ্যাসভিত্তিক ১৬ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৬ হাজার ৪৯৭ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক ৭ হাজার ৯১ মেগাওয়াট, আমদানি সক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াট ও পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে ৫৯১ মেগাওয়াট। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি চাহিদা ও বিদ্যমান বাজার দর হিসাব করলে সংশ্লিষ্ট বছর থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে হবে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ৬-৭ বিলিয়ন ডলার, কয়লায় ৫ বিলিয়ন এবং আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ, ফার্নেস অয়েল, নিউক্লিয়ার ফুয়েলের জন্য ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

১১ বছর পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

০৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে গত মে মাসের মতো মূল্যস্ফীতির এত চাপে পড়েনি সাধারণ মানুষ। গত মাসে সার্বিকভাবে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা গত ১৩৪ মাস বা ১১ বছর দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল সোমবার মে মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এর আগে ২০১২ সালের মার্চে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। এরপর আর কখনো মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে যায়নি। ওই বছরের পরের মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য।

কর্মসংস্থানে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ বিপদে

জুন ০৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। গ্রুপটির আওতাভুক্ত ৩৬ প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের। ইউরোপ-আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে বড় বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল বস্ত্র শিল্প খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। শীর্ষ রফতানিকারক হিসেবে বেশ কয়েকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে নোমান গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস লিমিটেড। 

যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নোমান গ্রুপের উদ্যোক্তা-কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বমুখিতায়। আবার প্রাপ্যতা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এ কাঁচামালেরও দাম বেড়েছে। উৎপাদনের সব অনুষঙ্গে ব্যয় বাড়লেও যুদ্ধসৃষ্ট মূল্যস্ফীতির কারণে পশ্চিমা বাজারগুলো থেকে আগের মতো ক্রয়াদেশ পাচ্ছে না নোমান গ্রুপ। দীর্ঘদিন ধরে বড় বিনিয়োগে শিল্প সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ানো হলেও এখন এর অর্ধেকই অব্যবহৃত পড়ে আছে। ২০২১-২২ অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটির রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। বর্তমানে এটিও নেমেছে অর্ধেকে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো চাপে ফেলে দিয়েছে জনবল ও অব্যবহৃত সক্ষমতা। তবে ব্যবসায়িক পরিবেশের বহিঃস্থ উপাদানগুলো নিয়েই নোমান গ্রুপের কর্ণধারদের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি। নিকট ভবিষ্যতে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং গ্রুপসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, নোমান গ্রুপের ২৩ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ভালো গ্রহীতা হিসেবে এখনো কোনো ঋণ খেলাপ হয়নি প্রতিষ্ঠানটির। যদিও গ্রুপটির অনেক ঋণ এখন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিষ্ঠাতাও। 

‘ব্যক্তির প্রভাবে’ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখছে সরকারি ব্যাংক

০৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

আর্থিক সূচক পর্যালোচনা না করেই কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে কাজ করছে কোনো কোনো ব্যক্তির প্রভাব। এ জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখার ক্ষেত্রে সার্বিক সুশাসন বিবেচনায় নেওয়া এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন মন্তব্য করে এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো হলো সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড।

‘উন্নয়নের বাতি ফিউজ হয়্যা গেইছে বাহে’

০৬ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

বাহে, উন্নয়নের বাতি ফিউজ হয়্যা গেইছে, দিনে রাইতে ১৫ ঘণ্টা কারেন্ট থাকোছে না। মরণ গরমোত হামার ফ্যান চলোছে না, হাতপাখার বাতাসে গাও জুড়ায় না। সারা রাইত চেতন থাকি সকালে কৃষাণী করিবার পারুছি না। আর কদ্দিন এইংক্যা করি চলবার নাগবে। জীবন আর বাঁচোছে না। কদ্দিন যে শোননো কারেন্ট ফেরি করি বেচাইবে, এ্যালা কেন তাক থাকুছে না।

ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে আক্ষেপ করে ইকরচালী বাজারে কথাগুলো বলছিলেন তারাগঞ্জের ইকরচালী গ্রামের দিনমজুর বাদশা মিয়ার।

রংপুর নগরীর শাহিপাড়া গ্রামের রুকন মিয়ার চার ছেলে মেয়ে। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে সংসার চালান তিনি। আগে সারা দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে গাড়িতে ঠিকমতো চার্জ করাতে না পারায় এখন সেই আয় ঠেকেছে ৩০০-৪০০ টাকায়। এ টাকায় ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সংসার চালাতে খাচ্ছেন হিমশিম।

রুকন মিয়া বলেন, ‘ভাই, না পাওছি ঠিকমতো ঘুমবার, না পাওছি খাবার। কামাই তো নাই। সারা দিনে রাইতে মিলে অর্ধেকও চার্জ হয় না। খুব কষ্টে বাঁচি আছি।’

ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রংপুরের মানুষের জনজীবন। শহরে সারা দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকছে না। আর গ্রামে থাকছে না ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। বিশেষ করে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছে না মানুষ। এতে স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কমছে কর্মঘণ্টাও। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পোলট্রি খামারিরা।

নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র বলছে, রাতের বেলায় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় এ লোডশেডিং বেড়েছে। দিনের বেলায়ও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এটি জাতীয় সমস্যা।

দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে চিন্তিত

জুন ০৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে জীবন-জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তায় সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সমস্যার প্রভাব তুলে ধরতে কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত জরিপ চালাচ্ছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ‘বাংলাদেশ: ডিআইইএম—ডাটা ইন ইমার্জেনসিস মনিটরিং ব্রিফ’ শীর্ষক দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক এ জরিপের সপ্তম ধাপের ফলাফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পরিচালিত জরিপের সপ্তম কিস্তির ফলাফলে উঠে এসেছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশী খানাগুলোর প্রায় অর্ধেকই খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকট বা ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ৪৮ শতাংশ খানা। এর আগে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের ষষ্ঠ ধাপে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছিল মাত্র ১০ শতাংশ পরিবার। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে জরিপের ফলাফলে এ বড় পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতির এ ঊর্ধ্বমুখিতাকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা গোটা খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই হুমকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জীবিকা জোগাতে হয় শিশুকাল থেকেই

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র শিশুসন্তানকে কাঠের দোকানে কাজে দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু মো. সাফায়েত ইসলাম নামের সেই শিশুর কাজ ভালো লাগত না। ২০২০ সালের শুরুতে ১১ বছর বয়সে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাড়ি ছেড়ে রাজধানীর সদরঘাটে আসে। এখন সে বরিশালগামী লঞ্চে শিশুদের জন্য প্যাকেটজাত কম দামি খাবার বিক্রি করে।

বাবার মৃত্যু ও মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর মো. রনি হাসানের পরিবারে জায়গা হয়নি। রনির ভাষায়, তার ছয়-সাত বছর বয়সে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর নাটোর থেকে ট্রেনে চেপে রাজধানীতে আসে সে। এখন সে কারওয়ান বাজারে ‘ফোর স্টার ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের সামনে রাখা ভ্যানে রাত-দিন থাকে, আর প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে।

গুলশান-২ নম্বর চত্বরে বেলুন বিক্রি করে সুমাইয়া (৯)। শিশুটি জানাল, কাছাকাছি এলাকায় তার বাবা হায়দার আলীও বেলুন বিক্রি করেন। সন্ধ্যার পর বাবার সঙ্গে সে কমলাপুরের বাসায় ফেরে।

জরিপে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৩০ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকে, ৩৬ শতাংশ কখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়নি। ৯১ শতাংশ পথশিশু কাজ করে। দেশের আট বিভাগের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশু জরিপে অংশ নেয়। এদের ৪৯ শতাংশ ঢাকায় থাকে।

দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা ও সুরক্ষাবঞ্চিত এসব শিশু শৈশব থেকেই নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা নেয়। তাদের নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এসব শিশুকে শ্রম থেকে সরিয়ে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে আজ ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশু শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি’।

গত মার্চে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ প্রকাশিত ‘পথশিশুদের ওপর জরিপ ২০২২’ শীর্ষক জরিপে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৩০ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকে, ৩৬ শতাংশ কখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়নি। ৯১ শতাংশ পথশিশু কাজ করে। দেশের আট বিভাগের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশু জরিপে অংশ নেয়। এদের ৪৯ শতাংশ ঢাকায় থাকে।

গত ২৯ মে মহাখালীতে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ফেলা রড মাথায় ঢুকে সুমন নামের এক পথশিশুর মৃত্যু হয়। একই দিনচট্টগ্রামে বন্দর থানার ইসহাক ডিপো টোল প্লাজার কাছে একটি টিনের ঘর থেকে ১৩-১৪ বছর বয়সী চার পথশিশু কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আশ্রয় ও কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের যৌন নিপীড়নমূলক কাজে বাধ্য করা হচ্ছিল।

কারওয়ান বাজারে রনি বলছিল, দুই দিন আগে মধ্যরাতে তাকে নেশাগ্রস্ত কয়েক তরুণ ঘুম থেকে তুলে মারধর করে প্যান্টের পকেটে থাকা সারা দিনের আয়ের ২০০ টাকা নিয়ে গেছে।

সোয়ারীঘাটের শিশু সাফায়েত বলে, ঘাটের ‘লাঠি বাহিনীকে’ দিনে ৬০ টাকা চাঁদা দিলে খাবার বিক্রির সুযোগ দেয়।

বিবিএসের জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ শতাংশ পথশিশু বলেছে, কাজ করতে গিয়ে তারা সহিংসতার শিকার হয়। পথচারীদের হাতে নির্যাতনের হার সবচেয়ে বেশি, ৮৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি পথশিশু ধূমপান ও নেশায় আসক্ত।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের মিল নেই

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ববাজারে কিছু কিছু নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, দেশের বাজারে বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। আবার বিশ্ববাজারে কিছু পণ্যের দাম যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সে হারে কমেনি। দু-একটি পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে বাড়তি।

সচিবালয়ে গতকাল রোববার বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত টাস্কফোর্স’–এর বৈঠকে আটটি পণ্যের বিষয়ে এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ জন্য দায়ী মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার–সংকট।

সরবরাহব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। প্রতিবেদনে এক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৈঠকে সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরে গমের দাম কমেছে প্রতি টনে ৩৫ শতাংশ। অথচ দেশের বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটার দাম ২৫ শতাংশ এবং খোলা আটার দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে চিত্রটি একই। মসুর ডালের দাম বিশ্ববাজারের চেয়ে কম হারে কমেছে দেশে।

অপরিশোধিত চিনির দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে বাড়ার হার দ্বিগুণের কাছাকাছি—৫৮ শতাংশ। আদার দাম বিশ্ববাজারে ১৭২ শতাংশ বাড়লেও দেশের বাজারে বেড়েছে ২২২ থেকে ২৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ৪৪ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে খোলা তেলের দর কমেছে ২ শতাংশ। আর পাম তেলের দাম বিশ্ববাজারে ৪৯ শতাংশ কমার বিপরীতে দেশে কমেছে ২০ শতাংশ। যদিও গতকালই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা ও পাম তেলের দাম ২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এখন থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৮৯ ও পাম তেল ১৩৩ টাকা দরে বেচাকেনা হবে।

বিআরটি প্রকল্পের বিলম্ব যেভাবে বছরে ১২৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে

১৩ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

এশিয়ার দেশগুলোতে একটি বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সময় লাগে তিন বছর। বাংলাদেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়ে পরের চার বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এরপর পেরিয়ে গেছে এগারো বছর। জয়দেবপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার বিআরটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই সময়ে প্রকল্পটির ব্যয় ২,০৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪,২৬৮ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, দ্রুতগামী বাস করিডর প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কত?

প্রকল্পটিতে অর্থায়নকারী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, এই অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর।

সংস্থাটি বলছে, ২০১৬ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে দেশের প্রথম বিআরটি সড়কে সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং যানজট ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ১২৩ মিলিয়ন ডলারের সুফল যোগ করতে পারত, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১,১৪০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মেয়াদ এখন ২০২৪ সাল ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আট বছর বিলম্বের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে, যা দিয়ে এ ধরনের দুটি বিআরটি করিডর নির্মাণ করা যাবে।

রাজধানী ও শিল্পনগরীর মধ্যে দ্রুত পরিবহনের জন্য নেওয়া এ প্রকল্প রাস্তার জায়গা কমিয়ে দিয়ে এবং পরিবেশ দূষিত করে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সময় যেমন নষ্ট করছে, তেমনি পরিবেশও দূষণ করছে।

মানুষের ভোগান্তি এবং গাজীপুরে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের পরিবহনে বিঘ্ন আর দুর্ঘটনার হিসেব বিবেচনায় নিলে এই নির্মাণ বিলম্বের অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর জন্য তারা দায়ী করছেন সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ইউটিলিটি স্থানান্তর ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, উপকরণ সরবরাহে ঠিকাদারের অনীহা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতাকে।

শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণ

১৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে শহরে বসবাসকারী প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ১১ জন গ্রামে ফিরে গেছেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল হাজারে ৬ জন।

গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা জরিপের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল ২০২০ সালে। এর আগে এ সংখ্যা ছিল খুবই কম। অন্যদিকে গত বছর গ্রাম ছেড়ে শহরে কিংবা এক শহর ছেড়ে অন্য শহরে স্থানান্তরের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের অভিবাসন বেড়েছে। গত বছর দেশের অভ্যন্তরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আগের বছরের তুলনায় হাজারে ছয়জনের বেশি অভিবাসী হয়েছেন। আর আগের বছরের তুলনায় প্রতি হাজারের বিপরীতে দ্বিগুণের বেশি মানুষ দেশের বাইরে অভিবাসী হয়েছেন গত বছর। ২০২১ সালে প্রতি হাজারে ৩ জন দেশ ছেড়ে বিদেশে অভিবাসী হয়েছিলেন। গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে হাজারে ৬ দশমিক ৬।

এদিকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ক্ষেত্রে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের সংখ্যাও। তবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া মানুষের অভিবাসন কমেছে। বিবিএসের জরিপের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে প্রতি হাজারে ৪৮ জন গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫।

৩৩,৫৭৫ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে ১১ ব্যাংক

১৬ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্যাংক খাতের খেলাপী ঋণ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মার্চ শেষে ১১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে ৩৩,৫৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় মার্চে ঘাটতি আরো ২,৮৭৩ কোটি টাকা বেড়েছে। ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের মূলধন ঘাটতি ছিল ৩০,৭০২ কোটি টাকার মতো।

প্রতিবেদন বলছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৭টি ব্যাংকই বর্তমানে মূলধন ঘাটতিতে আছে। ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৮,১১৭ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ১৪,০৯৪ কোটি টাকা ঘাটতিতে আছে কৃষি ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলো হলো- বেঙ্গল কমার্সিয়াল ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক।

ডলার–সংকটে আর্থিক হিসাবে সর্বোচ্চ ঘাটতি

১৮ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটে দেশের আর্থিক হিসাব পুরো এলোমেলো হয়ে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। এতেই আর্থিক হিসাবে দেখা দিয়েছে বড় ঘাটতি। গত এক যুগের মধ্যে এটাই প্রথম ও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি। মূলত একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওঠানামা নির্ভর করে এই আর্থিক হিসাবের ওপর। এই ঘাটতির কারণেই রিজার্ভও ক্রমাগত কমছে।

দেশে এখন প্রবাসী আয়ের পুরোটাই এখন দিনে দিনে দেশে চলে আসে। রপ্তানি যা হয়, তার বড় অংশ খরচ হয়ে যায় কাঁচামাল আমদানিতে। আবার সব রপ্তানি আয় সময়মতো দেশেও আসে না। এর বাইরে দেশে ডলার আয়ের অন্যতম মাধ্যম বিদেশি ঋণ, অনুদান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা আমদানিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন (বায়ার্স ক্রেডিট)। দেশি ব্যাংকগুলোও বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণসীমা নিতেন। এর সবই এখন কমতির দিকে।

বরং ডলারের দাম বাড়তে থাকায় উল্টো বিদেশি ঋণ শোধ করার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতেই দেশে ডলারের প্রবাহ কমে গেছে এবং আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে ডলারের ওপর চাপ কমছে না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও থামানো যাচ্ছে না। এতকিছুর পরেও ডলারের দাম এখনো ব্যাংকগুলো আটকে রেখেছে। এই দাম শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কেউ তা বলতে পারছে না।

ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম এখন ১০৮ টাকা হলেও আমদানিতে ১১৩ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আর রিজার্ভ কমে হয়েছে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ডলার, যা এক বছর আগেও ছিল ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নয়নশীল দেশে আর্থিক হিসাব ভালো রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এর ওপরই একটি দেশের ঋণমান নির্ভর করে। আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সম্প্রতি দুই অনুষ্ঠানে বলেছেন, গত এক দশকে আর্থিক হিসাবে কখনো ঘাটতি হয়নি, এখন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হচ্ছে, এই আর্থিক হিসাব ভালো করা। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতির ঘোষণা দেবে। এই মুদ্রানীতিতে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি কমানোর কথা থাকবে।

এক যুগ পর যেভাবে ঘাটতি

বৈদেশিক আর্থিক সম্পদ ও দায় থেকে দেশের আর্থিক হিসাব গণনা করা হয়। এর মধ্যে থাকে সরাসরি বিনিয়োগ, পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, অন্যান্য বিনিয়োগ ও রিজার্ভ সম্পদ। বিনিয়োগের ধারা (সম্পদ ও দায়), বিনিয়োগের দলিল (ইক্যুইটি, বন্ড, নোটস এবং ঋণ) এই হিসাবের আওতায় আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদের প্রথম বছরে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সব৴শেষ আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তখন ঘাটতি ছিল ৬৩ কোটি ডলার। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ঘাটতি ২১৬ কোটি ডলার। এক যুগ আগেও ঘাটতি দেখা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে। এবারের ঘাটতিও একই কারণে। তবে এ সময়ের মধ্যে ডলারের দর ধরে রাখার কারণে এবারের সংকট বেশি প্রকট হচ্ছে।

এত ঘাটতি কেন

ডলারের দাম সামনে আরও বেড়ে যাবে—এই আশঙ্কায় দেশি উদ্যোক্তারা বিদেশি ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টো আগের ঋণ শোধ করা বাড়িয়েছেন। এমনকি খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মেয়াদ বাকি রয়েছে, এমন ঋণও শোধ করে দিচ্ছেন। এর ফলে গত দেড় বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৫০০ কোটি ডলার বিদেশে পাঠাতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত মার্চে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ ছিল ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার (২৪.৯৮ বিলিয়ন), যা গত বছর শেষে কমে হয়েছে দুই হাজার ৪৩০ কোটি ডলার (২৪.৩০ বিলিয়ন)। তবে সরকারি খাতে ঋণ ৬ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার (৬৮.২৮ বিলিয়ন) থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ১৯৩ কোটি ডলার (৭১.৯৩ বিলিয়ন)। ফলে বিদেশি ঋণ ৯৩ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

উদ্যোক্তারা মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান (বায়ার্স ক্রেডিট) ঋণ নিতেন, ডলারের দাম বাড়ায় তা–ও নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার বিলম্বে পরিশোধ সুবিধা (ডেফার্ড পেমেন্ট), ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র সবই কমে গেছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদি ঋণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ১৭২ কোটি ডলার।

এদিকে পণ্য রপ্তানি করার পরেও তার অর্থ বিদেশে বেশি সময় আটকে থাকছে। যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, তার অর্থ দেশে আসতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এর ফলে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬০ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিদেশে আটকে থাকা রপ্তানি পণ্যের মূল্য ১৩২ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ব্যাংক থেকে যে ঋণ ও ঋণসীমা নিত, তা–ও কমে এসেছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত যাতে ঘাটতি হয়েছে ২৭৬ কোটি ডলার। এর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে খারাপ বার্তা গেছে। এর ফলে ঋণসীমা কমিয়ে দিয়েছে অনেক ব্যাংক। আবার রপ্তানি আয় আসার গতিও কমে গেছে। প্রবাসী আয়ও বেশি দাম দিয়ে দেশে আনা যাচ্ছে না। এসব কারণেই আর্থিক হিসাবে ঘাটতি হয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা এখনো চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছেন না। ডলারের দাম বেড়ে খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে।

আইএমএফের ছকেই মুদ্রানীতি

১৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বাজারে আগুন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল মানুষ। এই চাপ সামলাতে অবশেষে টাকার প্রবাহ কমিয়ে ঋণের খরচ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ঋণের সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই সীমা নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুদের হার কিছুটা বাড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে ব্যাংকগুলোকেও বেশি খরচ করতে হবে। এ জন্য নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে এই ঘোষণা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন ও গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহারের করিডর প্রথা, সুদহারের সীমা প্রত্যাহার, ডলারের একক দাম, রিজার্ভের প্রকৃত হিসাবায়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের মধ্যে ছিল। ফলে পুরো মুদ্রানীতিটি হয়েছে আইএমএফের ছক অনুযায়ী। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি রোধে মুদ্রা সরবরাহনির্ভর নীতি থেকে সরে এসে সুদহার লক্ষ্য করে মুদ্রানীতি প্রণয়ন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার জানিয়েছেন, মুদ্রানীতিটি আইএমএফের শর্ত মেনে হয়নি। অনেক দেশ এই পদ্ধতিতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে, সেটা অনুসরণ করা হয়েছে। মুদ্রানীতির কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে ঘোষিত মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে এনে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বরাদ্দ ৭ জেলায়

১৮ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বাংলাদেশের এডিপি প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ৭টি জেলাই মোট বরাদ্দের ৫০ ভাগ বরাদ্দ পাচ্ছে, অথচ স্বল্প বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৫টি জেলা পাচ্ছে মাত্র ১৩ ভাগ।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) একটি গবেষণায় বিষয়টি উঠে আসে।

শনিবার আইপিডি সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের আঞ্চলিক বিন্যাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি একটি ওয়েবিনারের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আইপিডি’র পক্ষ থেকে গবেষণাটি করেন পরিকল্পনাবিদ রেদওয়ানুর রহমান ও সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান।

গবেষণাটিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের সাধারণ সরকারি সেবা, প্রতিরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাত ব্যতীত বাকি ১২টি খাতের চলমান প্রকল্পের বাজেটসমূহের জেলা ও আঞ্চলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে স্থানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাতে এডিপির প্রায় ৭০ ভাগ প্রকল্পকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তবে এই গবেষণায় জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেলসেতু ও যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু রেলসেতুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল উপস্থাপনায় অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বৈষম্য পরিমাপক ‘পালমা রেশিও’ অনুযায়ী যার মান ৩.৭২, যা এখন ও দেশের মধ্যে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের উচ্চ বৈষম্যকেই নির্দেশ করে। ঢাকা জেলা উন্নয়ন বরাদ্দের ২১ ভাগ পাচ্ছে, তবে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প চলমান থাকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কক্সবাজার (শতকরা ৯ ভাগ)। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে চট্টগ্রাম (৬.৮৫ ভাগ) ও নারায়ণগঞ্জ (৩.৮৫ ভাগ)।

বরাদ্দপ্রাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে কম পাচ্ছে মেহেরপুর জেলা (০.৩৬ ভাগ) ও পঞ্চগড় (০.৩৯ ভাগ)। এর উপরেই আছে চুয়াডাঙ্গা (শতকরা ০.৪১), ঠাকুরগাঁও (০.৪৩), ঝালকাঠি (০.৪৫), ঝিনাইদহ (০.৪৮), বরগুনা (০.৪৮) ও জয়পুরহাট (০.৪৮ ভাগ)।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও দৃশ্যমান আছে। বাংলাদেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য উন্নয়ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও টেকসই অর্থনৈতিক উদ্যোগ দরকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (পঞ্চগড়,  ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট), উত্তর পূর্বাঞ্চল (নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ) এবং মধ্য দক্ষিণাঞ্চল (মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, রাজবাড়ী) এলাকায় উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ মধ্যাঞ্চল তথা ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম অঞ্চলের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম। ফলে এসব অঞ্চলের অনেক এলাকাতেই দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সমগ্র দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

আঞ্চলিক বিবেচনায় বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল (পুরাতন বৃহৎ জেলা) পাচ্ছে শতকরা ৩২ ভাগ ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পাচ্ছে ১৫ ভাগ। বিপরীতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া (১.৫৩ ভাগ), পার্বত্য অঞ্চল (১.৬০), বৃহত্তর বগুড়া (১.৬৮) ও বৃহত্তর দিনাজপুর (১.৮০ ভাগ)। ফলে দেশের জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দের মধ্যে ব্যাপক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন আহসানুল আলম

১৯ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আহসানুল আলম মারুফ। তিনি মাত্র ২৮ বছর বয়সে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আহসানুল আলম চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ছেলে। আজ সোমবার ব্যাংকটির ৩২৪তম বোর্ড সভায় পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহসানুল আলম এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড থেকে স্নাতক এবং এডিনবার্গ নেপিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

আহসানুল আলম হাসান আবাসন (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং আর্টসি হোল্ডিংস লিমিটেড, শাইনিং অ্যাসেটস লিমিটেড, অ্যাফিনিটি অ্যাসেটস লিমিটেড, ওয়েস্কো লিমিটেড, মেরিনা অ্যাসেটস লিমিটেড ও ক্র্যাফট হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি দেশের বৃহত্তম কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার-আই লিমিটেডের পরিচালক।

বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভেরও নিচে

জুন ২২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)।

৫টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। সেগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো।

আজ বৃহস্পতিবার দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৩ প্রকাশ করেছেন ইআইইউ।

তালিকায় শেষের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান সপ্তম। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৭৩টি শহরের এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬৬ নম্বরে রয়েছে ঢাকা।

তালিকার শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। এরপরে যথাক্রমে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি, কানাডার ভ্যানকুভার, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। যৌথভাবে ৭ নম্বরে আছে কানাডার ক্যালগেরি ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। ৯ নম্বরে কানাডার টরন্টো এবং যৌথভাবে ১০ নম্বরে রয়েছে জাপানের ওসাকা ও নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড।

এই তালিকায় সবচেয়ে শেষের দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া ও ইউক্রেনের শহরের সঙ্গে আছে ঢাকাও। তালিকার শেষের দিক থেকে যথাক্রমে আছে ক্যামেরুনের দৌয়ালা, ইউক্রেনের কিয়েভ, যৌথভাবে জিম্বাবুয়ের হারারে ও বাংলাদেশের ঢাকা, পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোর্সবি, পাকিস্তানের করাচি, নাইজেরিয়ার লাগোস, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।

নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য বানানো সবচেয়ে ছোট ফ্ল্যাটটিরও দাম পড়বে কোটি টাকার বেশি

২৩ জুন, ২০২৩, বণিক বার্তা

রাজধানীর আবাসন সমস্যা সমাধানে কেরানীগঞ্জে ৪৮০ বিঘা জমিতে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য সুলভে ফ্ল্যাট নির্মাণ। এজন্য বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম নামে মালয়েশীয় একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও হয়েছিল রাজউকের। যদিও চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য ও বর্তমানে মালয়েশীয় কোম্পানিটির নতুন করে দাবীকৃত অর্থের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য বানানো এ আবাসন প্রকল্পে সবচেয়ে ছোট আকারের ফ্ল্যাটটিরও দাম গিয়ে ঠেকবে দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। 

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, ৯ হাজার ৯৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে মোট ৮৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তিন শ্রেণীতে ফ্ল্যাট হবে ১৩ হাজার ৭২০টি। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ রয়েছে ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এ হিসাবে সর্বনিম্ন ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রি খরচসহ যার মূল্য দাঁড়ায় কোটি টাকা।

২০১৭ সালে সই হওয়া চুক্তির পর ছয় বছর পেরোলেও বিএনজি গ্লোবাল নামের বিদেশী ওই প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজই শুরু করেনি। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কাজ শুরুর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আরো সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছে। যুক্তি হিসেবে বর্তমান বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে আনছে কোম্পানিটি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাছাই করছেন। তবে দাবি করা সেই অর্থ বিএনজিকে দেয়া হলে নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের সর্বনিম্ন দাম গিয়ে ঠেকবে দেড় কোটি টাকায়।

সরকারি প্রকল্পে আবাসনের মূল্য নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একজন নিম্নমধ্যবিত্ত সর্বোচ্চ ১০-১৫ লাখ টাকায় এবং মধ্যবিত্ত ৫০-৬০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট কিনতে পারে, তাও কিস্তিতে। কিন্তু রাজউকের ফ্ল্যাটের মূল্য ১ কোটি, দেড় কোটি টাকা। কোনোভাবেই এটা কাম্য নয়। রাজউকের উচিত ভর্তুকি দিয়ে হলেও নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাছে কম মূল্যে ফ্ল্যাট বিক্রি করা। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই রাজউকের উচিত জনগণকে সেবা দেয়া। মৌলিক অধিকার নিয়ে ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। তাই ঝিলমিল ও উত্তরায় নিম্নমধ্যবিত্তদের নামে এক-দেড় কোটি টাকার ফ্ল্যাট কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। তাই সে ফ্ল্যাট উচ্চবিত্তরা কিনছে ও কিনবে।’

এক বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা সরাল বাংলাদেশিরা

২৩ জুন ২৩, সমকাল

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অবিশ্বাস্য গতিতে কমেছে বাংলাদেশিদের আমানত। মাত্র এক বছরেই সুইস ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক এবং এ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ডলার সংকট এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। কেউ কেউ পাচার করা টাকাও হয়তো সরিয়ে নিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২২ সালে তাদের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ মাত্র ৬৬২ কোটি টাকা। ২০২১ সাল শেষে বাংলাদেশের পাওনা ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মানে এক বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমেছে।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের অর্থ প্রায় ৮২ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ৯৪ শতাংশ কমে গেছে।

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার, হিমশিম মানুষ

২৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

‘আমনের ভালো ফলন হবে। মাঠে ফসল হলুদ হয়ে আছে, যা দেখতে চমৎকার লাগছে’—নতুন ধান উঠলে দাম কমার আশার কথা জানিয়ে গত নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আমন মৌসুম তো শেষ হয়েছেই, বোরোর চালেও বাজার এখন ভরা। কিন্তু চালের দাম আর কমছে না। বরং গত এক মাসে মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা বেড়েছে। যদিও আমন ও বোরোতে ফলন ভালো হয়েছে। হাওরে এবার ফসলহানিও হয়নি।

চালের মতো বাজারে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম এখন স্থিতিশীল, তবে উচ্চমূল্যে। দু-একটি পণ্যের দাম কমছে। তবে সেটা আগের জায়গার কাছাকাছিতেও ফিরছে না। দু-একটি পণ্যের দাম এখনো বাড়ছে। সব মিলিয়ে মানুষের খরচ কমছে না, স্বস্তি ফিরছে না।

যেমন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৩০ টাকা ছিল। গত জানুয়ারিতে তা ছিল ৪৬ থেকে ৫২ টাকা। এখন তা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে সরু চালের দামও।

রাজধানীর উত্তরা আজমপুর বাজারে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি একটি বিমা কোম্পানির একজন ইউনিট ব্যবস্থাপক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার চেয়েও পরিস্থিতি এখন খারাপ। বরং বলা যায় দেয়ালে পিঠ পিষে গেছে। তিনি বলেন, তাঁর বেতন কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। এ কারণে তিন সদস্যের পরিবার চালাতে তাঁকে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাজারদর: ২০২০ বনাম ২০২৩

বাজার পরিস্থিতি ও প্রবণতা বুঝতে করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উল্লিখিত দর, একই সংস্থার গত ১ জানুয়ারির দর এবং গতকালের দর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল প্রথম আলোর চারজন প্রতিবেদক মিরপুর-১, উত্তরা আজমপুর, মহাখালী, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, রামপুরা, শ্যামবাজার, সূত্রাপুর, পশ্চিম আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখেছেন।

এসব বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দুই মাসে কিছু কিছু পণ্যের দাম কমেছে। যেমন ১১ জুন সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫ টাকা কমতে দেখা গেছে। ওদিকে চিনির দাম বেড়ে গেছে।

এই সামান্য দাম কমা-বাড়ায় সার্বিকভাবে মানুষের ব্যয়ের ওপর ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ছে না। কারণ করোনা, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের আগে দাম অনেক কম ছিল। ২০২০ সালের শুরুতে এক লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। এখন তা ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। চিনি, আটা, মসুর ডাল, মাছ, ডিম, মাংসের ক্ষেত্রে চিত্রটি মোটামুটি একই। বেড়েছে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, টিস্যুসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দামও।

দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে ২০২০ সালের প্রথম ভাগ থেকে। ওই বছর মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। তখন মূল্যবৃদ্ধির কারণ ছিল আতঙ্কের কেনাকাটা। ২০২০ ও ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতি তবু লাগামছাড়া হয়নি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে এসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু বছরখানেকের মধ্যে দেশে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৩ টাকা (আমদানিতে)। আর আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, প্রাণিখাদ্য—সবকিছুর দাম বেড়েছে, যা বাড়িয়ে দিয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়।

খেলাপি ঋণ কমাতে আবারও বড় ছাড়

২১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

অনেক ব্যবসায়ী এমনিতেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছেন না। কারণ, ২০২০ ও ২০২১ সালে ঋণ শোধ না করেও ঋণখেলাপি না হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সুবিধার কারণে সময়মতো ঋণের টাকা ফেরত না পেয়ে অনেক ব্যাংক পড়েছে তারল্যসংকটে। এমন এক পরিস্থিতিতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে আবারও বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ঋণের কিস্তির অর্ধেক টাকা জমা দিলেই কোনো গ্রাহককে আর খেলাপি করা যাবে না। ফলে যারা ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ না করে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তাঁরা এখন কিস্তির অর্ধেক টাকা জমা দিয়েই নিয়মিত গ্রাহক থাকতে পারবেন। তবে শুধু মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে। সাধারণত ব্যবসা শুরু বা শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে মেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়। গতকাল জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ।

ঋণ পরিশোধে দেওয়া এ সুবিধার কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ঋণগ্রহীতারা কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও সেবা খাতসহ সব ব্যবসা চলমান রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।’

রিজার্ভ বাড়াতে ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ডলারের সংকট এখনো কাটেনি। ব্যাংকগুলো চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছে না। আবার যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছে, অনেক ব্যাংক তার বিল পরিশোধ করতে পারছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোকে যেসব ঋণ দিয়েছে, তার বেশ কয়েকটির মেয়াদ শেষ হলেও ডলার ফেরত পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করেছে বেসরকারি খাতে প্রাইম ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এর মাধ্যমে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথমবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, অর্থবছরের হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো দেখাতে ব্যাংক থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত রয়েছে, জুনের মধ্যে প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারে উন্নীত করা।

এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি খাতের প্রাইম ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলারের জন্য ১০৬ টাকা দাম দিয়েছে। পাশাপাশি একই দামে আমদানি দায় মেটাতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ব্যাংক আমদানি দায় শোধ করতে পারছে না। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একরকম জোর করেই ডলার কিনে নিয়েছে। কোনো ব্যাংকে ডলার উদ্বৃত্ত থাকলে অন্য সব ব্যাংক সেই ডলার কেনার জন্য প্রস্তুত আছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করেছে, তা অফশোর ইউনিট থেকে ঋণ করা।

১ টাকা আয় করতে গিয়ে ২ টাকা ৭৮ পয়সা ব্যয় করছে রেল

২৪ জুন, ২০২৩, বণিক বার্তা

পঁচিশ বছর আগেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ছিল একটি লাভজনক সংস্থা। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে সংস্থাটি যে টাকা আয় করত, তা দিয়ে ট্রেন পরিচালনার সব ব্যয় মেটানোর পরও কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকত। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর সংস্থাটিতে এমন উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, লাভজনক থেকে ক্রমেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে রেল। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে সংস্থাটির লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। লোকসানের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও। ২৫ বছর আগে যেখানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে ৯৬ পয়সা ব্যয় করতে হতো সংস্থাটিকে। সেখানে বর্তমানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হচ্ছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

রেলের এ অবস্থার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিজেদের সম্পদ ও জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছে না রেল। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিও রেলের ধারাবাহিক লোকসানের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত রেলপথ মন্ত্রণালয়ও। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রেলের দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা না হলে, রেলের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবং যাত্রীসেবার মান না বাড়ানো হলে লোকসান কমানো কষ্টকর হবে।’

কোনো সংস্থা বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কতটা দক্ষ, তা সহজেই যাচাই করা যায় ‘অপারেটিং রেশিও’র মাধ্যমে। এ অপারেটিং রেশিও মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট ব্যয়কে মোট আয় দিয়ে ভাগ করে নিরূপণ করা হয়। অপারেটিং রেশিও যত বেশি হবে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালন দক্ষতা তত দুর্বল হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর সংস্থাটির অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। পরবর্তী সময়ে অপারেটিং রেশিওর এ হার আর ধরে রাখতে পারেনি সংস্থাটি। ২০০৮-০৯ অর্থবছর এ রেশিও ছিল ১৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে প্রায় ১ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয় করতে হয় রেলওয়েকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ২১৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ রেশিও বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৬ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে অপারেটিং রেশিও পৌঁছেছে ২৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হচ্ছে প্রায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

১০% ধনীর হাতে ৪১% আয়

২৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে আয়বৈষম্য আরও বেড়েছে। ধনীদের আয় আরও বেড়েছে। যেমন দেশের সবচেয়ে বেশি ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতেই এখন দেশের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় দেশের মোট আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দেখা যাচ্ছে, গত ৫০ বছরে ধনীদের আয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ধনী ও গরিবের আয়বৈষম্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত এক যুগে দেশে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি যেমন বেড়েছে, সঙ্গে দ্রুতগতিতে বৈষম্যও বেড়েছে। বৈষম্যের নির্দেশক গিনি সহগ সূচক এখন দশমিক ৪৯৯ পয়েন্ট। দশমিক ৫০০ পয়েন্ট পেরোলেই উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ উচ্চ বৈষম্যের দেশ থেকে অতি সামান্য দূরত্বে আছে বাংলাদেশ।

ধনীদের আয় শুধু বেড়েছে

বাংলাদেশে ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো খানার আয় ও ব্যয় জরিপ করা হয়। ওই জরিপের ফল অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষ ওই সময়ে দেশের মোট আয়ের ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ আয় করত। পরের ১৫ বছরে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের চতুর্থ খানার আয় ও ব্যয় জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় কিছুটা বেড়ে হয়েছে মোট আয়ের ৩১ শতাংশ, আর ২০১০ সাল পর্যন্ত তা আরও বেড়ে হয় প্রায় ৩৬ শতাংশ।

এরপর থেকে দেশের সবচেয়ে ধনী শ্রেণির আয়ের অংশীদারত্ব দ্রুত বেড়েছে। যেমন ২০১৬ সালে দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশই ছিল শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে। এবার তা আরও বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯২ শতাংশে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ মানুষের আয় এখন দেশের মোট আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে স্বাধীনতার পর এই গরিব মানুষের আয় দেশের মোট আয়ে অংশীদারত্ব এখনকার চেয়ে ভালো ছিল। ১৯৭৩-৭৪ সালে দেশের সব মানুষের মোট আয়ের ২ দশমিক ৮০ শতাংশের মতো আয় করত সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ। পরের ১০-১২ বছরে এই অংশ কিছুটা বেড়েছে। এরপর ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এখন তা ওই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের খানার আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় কমে মোট আয়ের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে। অবশ্য ২০১৬ সালে তা আরও কমে ১ শতাংশে নেমেছিল।

সব মিলিয়ে এবারের জরিপে দেখা গেছে, দেশের তিন ভাগের দুই ভাগ আয় যাচ্ছে দেশের ধনী ৩০ শতাংশ মানুষের হাতে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের বাকি এক ভাগ।

উচ্চ বৈষম্যের সামান্য দূরে দেশ

১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের গিনি সহগ ছিল মাত্র দশমিক ৩৬। ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৩৭। এর মানে হলো, ওই সময়ে দেশে দারিদ্র্য বেশি থাকলে আয়বৈষম্য ছিল তুলনামূলকভাবে সহনীয়। গত দেড় যুগে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০১০ সালে গিনি সহগ সূচক ছিল দশমিক ৪৫৮। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৪৮৩। সর্বশেষ ২০২২ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯৯। দশমিক ৫০০ পয়েন্ট পেরোলেই একটি দেশকে উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এখন উচ্চ বৈষম্যের দেশ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির গিনি সহগ সূচক দশমিক ৬৫। আর সবচেয়ে কম বৈষম্যের দেশগুলোর মধ্যে ওপরের দিকে আছে সুইডেন, ডেনমার্কসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো। এসব দেশে গিনি সহগ সূচক ৩০-এর আশপাশে। এ ছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর গিনি সূচক ৪০ থেকে ৪৫-এর মধ্যে আছে।

ঢাকায় দৈনিক ২.৫ কোটিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়: গবেষণা

২৬ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২.৫ কোটিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয় বলে উঠে এসছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

রোববার (২৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)- এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণে বিপন্ন বাংলাদেশ: করণীয় ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে ৫টি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ এনভায়রোনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)- এর সম্প্রতি করা গবেষণাটি থেকে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ক্রাইসিস তৈরি হবে, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

২৬ জুন ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজার সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। এটা ঠিক বড় বড় গ্রুপগুলো একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। চাইলে জেল-জরিমানাসহ বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে আমাদের লক্ষ্য রাখা দরকার— আমরা জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম; সেটা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিসটা তৈরি হবে, সেটাও তো সইতে আমাদের কষ্ট হবে। এজন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি।’

সোমবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র ১০ সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেন। তবে, কণ্ঠভোটে তাদের প্রস্তাব নাকচ হয় এবং মন্ত্রীর প্রস্তাবিত অর্থ মঞ্জুর হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেটে মন্ত্রী জড়িত

২৭ জুন ২৩, সমকাল

জাতীয় সংসদে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থতায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতরা মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন। কেউ কেউ বলছেন, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা মন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জেল-জরিমানা করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ক্রাইসিস আরও বেড়ে যাবে। ফলে জনগণের কষ্ট তখন আরও বড়বে। এ কারণেই তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

গতকাল সোমবার সংসদের বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য দেওয়া বরাদ্দ পাস হওয়ার আগে বিরোধী সদস্যদের আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র সদস্যরা এসব কথা বলেন। অন্তত ১০ জন সংসদ সদস্য দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সমালোচনার জবাব দেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বিরোধী সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং মন্ত্রীর প্রস্তাবিত অর্থ মঞ্জুর হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা কী কাজ করে?

এত বড় একটি মন্ত্রণালয়। এর মন্ত্রীর যদি ডায়নামিজম না থাকে, তাহলে তো জিনিসপত্রের দাম বাড়বেই। তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। এটা চাইলে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু যদি মনে করেন, ব্যবসা আমারই, তাহলে সেটা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দুঃখজনক।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গত কয়েক মাসে সারাবিশ্বে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ছে না। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছিল, এখন এটা মনে হয় ১০ শতাংশ। এটা বেড়েই চলছে। মূল্যস্ফীতি মানুষের আয় খেয়ে ফেলছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সাবান, রুটি, কটকটি সব ছোট হয়ে আসছে। সরকারের বাজেট বাড়ছে, মানুষের বাজেট ছোট হয়ে আসছে। চাল, ডাল, তেল, মুরগির আকার ও মাংসের পিস ছোট হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির একটি দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে দেশের অর্থনীতি। এর থেকে উত্তরণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

২০২০ সালের জানুয়ারি ও চলতি জুন মাসের নিত্যপণ্য মূল্যের তুলনা করে জাপার এই এমপি বলেন, ২০২০ সালের শুরুতে মোটা চাল ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, এখন হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। চিনি ছিল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। সেটা এখন হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। গরিবের প্রোটিন ফার্মের মুরগি ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। সেটা এখন ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা। কারও আয় কি এ সময়ে বেড়েছে? সিন্ডিকেট আছে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সিন্ডিকেট শক্তিশালী। কিন্তু তারা কি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী– এমন প্রশ্নে তুলে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সরকারের ভেতরে সিন্ডিকেট থাকলে সেটা চিহ্নিত করতে হবে। মন্ত্রীর সুবিশাল ব্যবসা আছে। তিনি সফল ব্যবসায়ী। বিশ্বাস করি, তাঁকে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হলে অবশ্যই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ব্যর্থ মন্ত্রণালয় হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজারে গেলে মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এতটাই ব্যর্থ যে এটিকে মানুষ সিন্ডিকেটবান্ধব মন্ত্রণালয় বলে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দায়ী– এমন অভিযোগ তুলে মোকাব্বির খান বলেন, অনেকে সংসদে বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তিনি এভাবে বলতে চান না।

বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও কেন আপনি পদত্যাগ করেন না? তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে কি সিন্ডিকেট বসিয়েছে? পেঁয়াজ থাকার পরও তিন গুণ দাম বাড়ে। বাণিজ্যমন্ত্রী যখন কোনো দ্রব্যের দাম কমবে বলেন, তার পরদিনই ওই দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেন পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে ৯০ টাকা হলো! আমদানি করার পরও কেন পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা। মোকাব্বির খান বলেন, ‘জানি বাণিজ্যমন্ত্রী এসবের কোনো জবাব দেবেন না। পাশ কাটিয়ে যাবেন।’

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, বাজারে গেলে মানুষের মাথা গরম হয়ে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিকমতো বাজার নজরদারি করছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি যদি এখনও হুঙ্কার দেন, তাহলে তিনি কেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাজারে গিয়ে মানুষ কাঁদছে, যার একমাত্র কারণ সিন্ডিকেট। মানুষও এটি বোঝে। শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় চাপালে হবে না। ডিমের বাজারে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে সিন্ডিকেট। হাঁস-মুরগির ডিম ইউক্রেন থেকে আসে না।

তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, পণ্যমূল্যে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন। যাঁরা এই সুযোগ নিচ্ছেন, মন্ত্রী তাঁদের ধরেন না কেন? মন্ত্রী নিজে একজন ব্যবসায়ী মানুষ। তিনি তো জানেন, কোন ব্যবসায়ী এটা করছে। তাহলে এই ব্যবসায়ীরা কি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন, যে কারণে তিনি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ধরতে পারছেন না? তাহলে সেটা মন্ত্রীর প্রকাশ্যে বলা উচিত, কেন তিনি করতে পারছেন না।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, পেঁয়াজের বাজারে দেড় হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। চিনির বাজারে প্রতিদিন ১৭ কোটি টাকা লুটছে কয়েকটি কোম্পানি। ব্রয়লার মুরগির বাজারে দেড় মাসে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী কিছু করতে পারছেন না।

সদস্যদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চাইলে জেল-জরিমানাসহ বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। এটা ঠিক, বড় বড় গ্রুপ একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। লক্ষ্য রাখা দরকার, জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম। সেটা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিসটা তৈরি হবে, সেটা সইতে তো আমাদের কষ্ট হবে। এ জন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্য থেকে চেষ্টা করি।’

৫% প্রণোদনায় ব্যয় বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

২৭ জুন ২০২৩, প্রথশ আলো

সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) হয় অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে। তবে এ বছরের জুলাই মাসে তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ সুখবর। ২০১৫ সালে ঘোষিত বেতনকাঠামো অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে যে বেতন বাড়ে, এবার তার সঙ্গে আরও মূল বেতনের ৫ শতাংশ প্রণোদনা যোগ হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রণোদনা দিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৮।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানান।

লবণ উৎপাদনে রেকর্ড, দামেও রেকর্ড

২৮ জুন ২৩, সমকাল

কোরবানির ঈদের সময় প্রতিবছর লবণের দাম ও সরবরাহ নিয়ে কমবেশি জটিলতা দেখা দেয়। এবারও সেই পুরোনো পথেই হাঁটছে লবণের বাজার। কোরবানির আগেই বেড়েছে অপরিশোধিত লবণের দাম। গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে।

চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উৎপাদন ও মজুতে ঘাটতি না থাকলেও কোরবানি ঘিরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এতে লবণের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে বারবার অনুরোধ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বলেছে, এবার কোরবানির সময় কত টন লাগতে পারে, সেই হিসাব করে প্রয়োজনীয় লবণ সব জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তার পরও কোথাও ঘাটতি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ করা হবে।

৬২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে ২২ লাখ ৩২ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, যা লবণ উৎপাদনে ৬২ বছরে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া উদ্বৃত্ত রয়েছে আগের মৌসুমের লবণও। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বছরে ২২ থেকে ২৩ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। তবে চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, শুধু কোরবানির সময় পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের দরকার হয় দেড় থেকে দুই লাখ টনের। উৎপাদনের হিসাবে বর্তমানে কৃষক, মিলার এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে কয়েক লাখ টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সেই হিসাবে এ মুহূর্তে লবণের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়, অথচ দাম বেড়েই চলেছে।

পরশুরামে আড়াই লাখ টাকার গরুর চামড়া ১৫০ টাকা!

২৯ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

চামড়ার আশানুরূপ দাম না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা পাওয়া যায়নি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। পরে কেউ কেউ নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, ‘আমার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোরবানি পশুর চামড়া বিক্রি করেছি মাত্র দেড় শ টাকা। এর চেয়ে বেশি দাম দিতে রাজি হননি স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ী।’

উপজেলা বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গরু কোরবানি দিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরে একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী তাঁর গরুর চামড়া দেড় শ টাকা দাম বললে চামড়া বিক্রি না করে মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।

সত্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ও পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু ইউসুফ মিন্টু জানান, তাঁরা শরিকে কোরবানির জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। আজ সকাল থেকে চামড়ার কোনো ক্রেতা না পেয়ে দুপুরের দিকে দেড় শ টাকার দরে বিক্রি করে দিয়েছেন।

চিথলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শফিকুল হোসেন মহিম জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ১০০ টাকায়।

শফিকুল আরও বলেন, ‘পরশুরামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার ওপরে কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি।’

পরশুরাম বাজারের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পরশুরাম, মির্জানগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় সাইজের আড়াই শ চামড়া কিনেছেন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। তবে বেশির ভাগ ১০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি।’

তহিদুল বলেন, ‘গ্রাম থেকে ঘুরে ঘুরে ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি।’ প্রতি শ্রমিকের বেতন ২ হাজার টাকা কাঁচা চামড়ায় লবণ যুক্ত করা এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে চামড়ায় তিনি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এখন পর্যন্ত চামড়া ব্যাপারীরা গড়ে ২০০ টাকা করে বলে চলে গেছেন বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে মৌসুমি চামড়া সংগ্রহকারীদের আক্ষেপ

২৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামে চার লাখ কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন আড়তদারেরা। চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সংগ্রহের পাশাপাশি শ্রমিকও নিয়োগ করেছেন তাঁরা। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বাড়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বেশি দামে চামড়া কেনায় সতর্ক করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

আড়তদারদের মতে, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার সময়ই বেশি দাম দিয়ে দেন। পরে তাঁরা সমস্যায় পড়েন।

নগরের হালিশহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৪০টি চামড়া বিক্রি করতে চৌমুহনী এলাকায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। প্রতিটি চামড়ার দাম চান ৮০০ টাকা। কিন্তু এ দাম দিতে রাজি হননি ইয়াছিন সওদাগর। তিনি অর্ধেক দামে দিতে চান। পরে সাড়ে ৫০০ টাকা করে চামড়াগুলো কিনে নেন আমজাদের কাছ থেকে।

প্রত্যাশিত দর না পেয়ে হতাশ আমজাদ বলেন, কয়েক জায়গায় চেষ্টা করেছেন ৮০০ টাকা করে বিক্রি করতে। কিন্তু কেউই ৫০০ টাকার বেশি রাজি হননি। পরে যা পেয়েছেন, তা দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাসার আশপাশের মানুষের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে কেনেন বলে জানান তিনি।

আমজাদ হোসেন বিক্রি করলেও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আলামিন ১৫২টি চামড়া বিক্রি করেননি। তিনি ৬০০ টাকা করে চাইলেও সংগ্রহকারীরা ৪০০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি। কাঙ্ক্ষিত দর না পেয়ে যে গাড়িতে করে চামড়াগুলো আনেন, সেটি নিয়ে ফিরে যান।

রাজশাহীতে গরুর চামড়া ৩০০-৭০০, খাসির চামড়া ৫০ টাকাও বলে না কেউ

২৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজশাহী নগরের দরগাপাড়া এলাকার একটি জায়গায় কোরবানির পশুর চামড়া জড়ো করা হচ্ছে। সেখানে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এর মধ্যে মো. ফরহাদ নামে একজন বিক্রেতা একটি খাসির চামড়ার দাম মাত্র ৫০ টাকা চেয়েছেন। কিন্তু এত কম দাম দিতেও রাজি হননি মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নাদিম মোস্তফা। এ সময় ষাটোর্ধ্ব মো. ফরহাদ প্রথম আলোকে জানান, তিনি যে খাসির চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন, সেটি কিনেছেন ১৮ হাজার টাকায়।

 রাজশাহী নগরের হোসনিগঞ্জ এলাকা থেকে আসা মো. ফরহাদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, এর আগে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা একটি ষাঁড়ের চামড়া বিক্রি করে পেয়েছেন ৫০০ টাকা। কিন্তু খাসির চামড়া মাত্র ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেননি। তাই চামড়াটি কোনো মাদ্রাসায় দিয়ে দেবেন। ভাগ্যিস সাইকেলে করে চামড়া নিয়ে এসেছেন বলে পরিবহন খরচ হয়নি।

এদিকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নাদিম মোস্তফা জানান, তিনি ভয়ে ভয়ে অল্প করে গরুর চামড়া কিনছেন। কিন্তু খাসির চামড়া কিনছেন না। কারণ, খাসির চামড়া বিক্রি করা যায় না।

নগরের ওই এলাকায় কথা হয় কসাই কাওসার আলী ওরফে জুম্মনের সঙ্গে, যাঁর ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে চামড়া বেচাকেনায়। তিনি জানান, আজ থেকে ১০ বছর আগেও চামড়ার বাজার এমন ছিল না। তখন একটি বড় গরুর চামড়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠত। এখন সেই চামড়া কেনেন সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দিয়ে। জুম্মন বলেন, কিছু দেশীয় চক্র অল্প দামে চামড়া কিনে বিদেশে বিক্রি করে। ওই সিন্ডিকেটই চামড়া বিক্রির সর্বোচ্চ সুফল পায়। সরকার কেন এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না, এটাই রহস্য।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাড়া–মহল্লা থেকে পশুর চামড়া প্রধান সড়কগুলোতে এনে রাখা হচ্ছে। স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া জড়ো করছেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির চামড়া খুব অল্প ব্যবসায়ীই কিনছেন, তা-ও খুব কম দামে। সব চামড়া সন্ধ্যায় বা রাতে নাটোর কিংবা রাজশাহীর বেলপুকুর থেকে ব্যবসায়ীরা এসে নিয়ে যাওয়ার কথা।

চামড়া থেকে তোলা মাংসই যখন আরাধ্য

৩০ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির মাংসের অস্থায়ী বাজার বসার চিত্র মোটামুটি সবার কাছে পরিচিত। নিম্ন আয়ের অনেকেই বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মাংস বিক্রির জন্য হাজির হন এসব বাজারে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও এ মাংসের বড় ক্রেতা হন। ফলে দামও থাকে খানিকটা বাড়তি।

সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।

তবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামের গোদারাঘাট এলাকায় কোরবানির সময় মাংসের যে অস্থায়ী হাট বসে সেটা কিছুটা ব্যতিক্রম।

এখানেই অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি চামড়ার বাজার। কোরবানির সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহের পর এখানেই সেই চামড়া থেকে মাংস ছেঁটে নেওয়ার কাজ করেন দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক। আর চামড়া থেকে তুলে নেওয়া সেই মাংস বিক্রি হয় অবিশ্বাস্য কম দামে, যার বেশিরভাগ ক্রেতা দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ।

বিক্রির জন্য রাখা মাংস। ছবি: মিন্টু দেশোয়ারা/স্টার

গতকাল থেকেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোরবানির মাংসের অস্থায়ী অস্থায়ী বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে। অথচ গোদারাঘাটে প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকারও কম দামে।

গোদারাঘাটে মাংসের এই অস্থায়ী হাটটি শুরু হয় ঈদের দিন বিকেল থেকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার ভিড়ও বাড়তে থাকে। চলে ঈদের দ্বিতীয় দিন পর‌্যন্ত।

রাস্তায় পড়ে আছে গরুর চামড়া, ছাগলের চামড়া ভাগাড়ে

৩০ জুন ২০২৩, জাগো নিউজ

দিনাজপুরে পানির দামে গরুর চামড়া বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়া কেনেনি কেউ। রামনগর চামড়া বাজারে ফেলে যাওয়া ছাগলের ফেলে দেওয়া হয়েছে ভাগাড়ে। আর বৃষ্টির কারণে গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে চরম বিপাকে ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৩০ জুন) বেলা ১১টায় দিনাজপুর পৌরসভার ময়লা পরিবহন ট্রাকে তুলে মাতাসাগর ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে চামড়া পানিতে ডুবে যেতে দেখা গেছে।

কোরবানি দেওয়ার পর আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া কেনার প্রতিযোগিতা থাকতো। এ বছর ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনেছেন সর্বোচ্চ ৪০০ এবং সর্বনিম্ন ১০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া ফ্রিতেও কেউ নেয়নি। এতে ছাগল এবং ছোট ছোট গরুর অনেক চামড়াই ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ।

কাঁচামরিচে তীব্র ঝাল, দায় নিচ্ছে না কেউই

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

‘৫০ বছরের জীবনে কাঁচামরিচের এমন দাম দেখিনি। এটা তো ডাকাতি। রীতিমতো মানুষের গলা টিপে ধরে পকেট কাটছে ব্যবসায়ীরা।’ ১৫০ টাকায় এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ কেনার ক্ষোভ এভাবেই ঝাড়লেন বেসরকারি চাকরিজীবী তৌহিদুর রহমান।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া থেকে কাঁচামরিচ কেনেন তিনি। সেখানে সমকালকে বলেন, ‘গত শনিবারে মরিচের কেজি কিনেছি ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহের মাথায় আজ (গতকাল) কিনলাম ৬০০ টাকা দরে। এমন কী ঘটল যে এক সপ্তাহের মধ্যে দাম ৫/৬ গুণ বেড়ে যাবে। সঠিক তদারকির অভাব। বাজারে যে যার মতো কারসাজি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে।’

কারওয়ান বাজার থেকে আধাপাকা আধাকেজি (৫০০ গ্রাম) ২৫০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনেছেন গৃহিণী সাজুদা বেগম। তিনি বলেন, ‘যে মরিচ কিনেছি, এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনেকই পচা। এরপরও কেজি নিল ৫০০ টাকা করে। সরকার জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিলে মানুষকে এত দাম দিয়ে মরিচ খাইতে হইত না।’ তৌহিদুর আর সাজুদা বেগমের মতো অনেকেই কাঁচামরিচ কিনতে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন।

১০ দিনে দাম বেড়েছে ৫ গুণ

দিন দশেক আগেও ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। তবে ১০০ বা ২০০ গ্রাম কিনতে গেলে দিতে হচ্ছে আরও বেশি দাম। এই হিসাবে ১০/১২ দিনে মরিচের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। মাস দেড়েক আগেও প্রতি কেজি মরিচের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

হঠাৎ করে দাম বাড়তে থাকায় সরকার গত ২৫ জুন থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১৭ হাজার টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। গত ২৭ জুনের তথ্য অনুযায়ী মাত্র ২০ টনের মতো মরিচ এসেছে দেশে। এদিকে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাঁচামরিচের উৎপাদন হয়েছে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার টন। দেশে কাঁচামরিচের চাহিদা রয়েছে ১৫ লাখ টনের।

দায় নিচ্ছে না কোনো মন্ত্রণালয়

শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পণ্যটির দাম। সমকালের সারাদেশের প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, কোথাও কোথাও এক হাজার টাকা দামেও বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ।

আমদানির পরও কেন মরিচের দাম বাড়ছে, সে বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে প্রশ্ন করা হয়। গতকাল বিকেলে বগুড়া সার্কিট হাউস চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচ কৃষিজাত পণ্য। এর দাম কেন বেড়েছে, তা কৃষি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। সরকার কাঁচামরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত ও অনুমতি দিয়েছে। এর উৎপাদন কতটুকু হয়েছে, তা কৃষি মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’ অন্যদিকে খুলনা নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে জড়িত সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ইতোমধ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমদানিও হচ্ছে। তা ছাড়া বাজার তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তদারকি সেল মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তারপরও বাজারে দাম বাড়ছে কেন কিংবা কারসাজি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থার খতিয়ে দেখা দরকার।

নৈরাজ্য কমলেও ন্যায্যমূল্য নেই

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে নৈরাজ্য কমলেও ন্যায্যমূল্য মেলেনি। ঢাকার বড় মসজিদ ও মাদ্রাসার মধ্যে যেগুলো মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে সরাসরি আড়ত বা ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ কিছুটা বাড়তি দাম পেয়েছেন। গরুর চামড়ার দর সামান্য মিললেও খাসি বা ছাগলের চামড়ার ক্রেতা এ বছরও ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন এবং শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং কাঁচা চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার লালবাগের পোস্তা ঘুরে দেখা গেছে, প্রান্তিক বা খুচরা পর্যায়ে চামড়ার বড় বিক্রেতার থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাপট কমেছে। তাঁদের জায়গা নিয়েছে এলাকাভিত্তিক মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলো। কতিপয় মৌসুমি ব্যবসায়ী পাড়া বা মহল্লা না ঘুরে মসজিদ ও মাদ্রাসার কাছ থেকে চামড়া কিনেছেন। আড়ত ও ট্যানারি এ থেকে এগিয়ে ছিল। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকেও একই রকম খবর মিলেছে।

ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, আড়ত ও ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করে কেউ গড়ে ৭০০ টাকা, কেউ ৮৫০ টাকা দর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আবার লালবাগের পোস্তায় ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রেতার কাছ থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ১ হাজার ২০০ টাকায় চামড়া কিনতে দেখা গেছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় ৩০০-৫০০ টাকা দরে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে। গ্রামে বা মফস্বলে কোরবানিদাতারা ১০০-২০০ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও খবর এসেছে।

উত্তরের ৬ জেলায় বাঁধে ভাঙন, সংস্কারে অবহেলার খেসারত

০৫ জুলাই ২৩, সমকাল

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক জায়গায় বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীতে বিলীনও হয়েছে। ঝুঁকিতে আছে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকশ কিলোমিটার অংশ। বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাউবোর বাস্তবায়নাধীন ১০১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৩টি নদীতীর সংরক্ষণের প্রকল্প নেওয়া হয়। চলতি ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বাস্তবে এসব প্রকল্পের অনেক স্থানে কাজ এখনও শুরু হতে দেখা যায়নি। তিন বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে রক্ষায় দেশের ৩৩টি জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সরকার। এর পরও জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার এবং মেরামত কাজ এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি পাউবো।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালটি বন্যার জন্য ঝুঁকির বছর। অতীতে প্রতি পাঁচ বছর পরপর বড় ধরনের বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। সেই হিসাবে ২০১৭ সালের পর ২০২৩ সালটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদনদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি সমতল; সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানাচ্ছে, বন্যায় দেশের ৩৩ জেলা লাল দাগে রয়েছে। অর্থাৎ এসব জেলায় ইতোমধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করা শুরু করেছে। এর মধ্যে উত্তরের জেলা রয়েছে আটটি। এসব জেলায় নড়বড়ে বাঁধ রয়েছে ১০০ কিলোমিটারের বেশি। টানা বৃষ্টি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিনই হবে।

দেশের ১২ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন না

০৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায় প্রতিটি দেশেই কিছু মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার সামর্থ্য থাকে না। অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোতে এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব মানুষ যাতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে ক্ষুধামুক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন না, এমন মানুষ যেসব দেশে বেশি, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশে এখন ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে পারেন না। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার সামর্থ্য তাঁদের নেই।

বাংলাদেশের ওপরে আছে ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও চীন। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে পুষ্টিমান অর্জন করতে এটি বড় বাধা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দ্বিতীয় লক্ষ্য ক্ষুধামুক্তিতে (জিরো হাঙ্গার) ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পুষ্টিমান অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া চিনিকলে ৩ মৌসুম আখ মাড়াই বন্ধ, কর্মহীন সহস্রাধিক

১১ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

টানা তিন মৌসুমে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কুষ্টিয়া চিনিকলের। এতে বিনষ্ট হওয়ার পথে মিলের ভারী মেশিনারিজ-বৈদ্যুতিক মোটরসহ শতকোটি টাকার স্থাপনা। এ দিকে কয়েক বছর মিল বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা না পেয়ে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা মৌসুম বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়া চিনিকলের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে ভূতুড়ে পরিবেশ ও সুনসান নীরবতা। এককালের জৌলুসপূর্ণ এই মিলে এখন নেই কর্ম-ব্যস্ততা ও প্রাণের কলরব। মিলের প্রায় শতাধিক কোয়ার্টার এখন পরিত্যক্ত। বাউন্ডারি ঘেরা মিলের ২২১ দশমিক ৪৬ একর জায়গা জুড়ে ঘাস, লতা-পাতা ও গুল্মে সয়লাব। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মিল ভবন ও টিনের ছাউনিসহ অন্যান্য স্থাপনা, আখ পরিবহনে ব্যবহৃত অনন্ত ১৫-২০টি লরি, মিলের সুউচ্চ চিমনি, ভারী মেশিনারি ও বৈদ্যুতিক মোটরসহ শতকোটি টাকার যন্ত্র বিনষ্টের উপক্রম। জনবল কাঠামো অনুযায়ী কুষ্টিয়া চিনিকলে ১ হাজার ১৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এখন মাত্র ২৬ জন কর্মচারী বেতন ছাড়াই মিল রক্ষায় নিয়োজিত। অন্যরা কর্ম হারিয়ে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

এ দিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্দেশে কুষ্টিয়ার জগতি চিনিকলে ২০১৯-২০, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ মিলে দৈনিক মাড়াই ও উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক মাড়াই ক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বন্ধের তিন বছর পরও মিলটি চালুতে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় মিলজোনের আওতায় আখ উৎপাদন মারাত্নক হ্রাস পেয়েছে। তবে কুষ্টিয়া জোনের আওতায় চাষকৃত আখ মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর ও দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং চিনিকলে সরবরাহ করছেন চাষিরা।

ইজারা নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপন করতে পারবেন উদ্যোক্তারা

১৩ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের নিয়ন্ত্রক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানটি ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর করেছে। এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট বা পাটজাত পণ্য উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল বিজেএমসি। এক্ষেত্রে ইজারার মেয়াদ ছিল ২০ বছর।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল ইজারা নিয়ে এখন থেকে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপন করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ক নানা শর্তাবলী এবং রেফারেন্সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)।

সম্প্রতি তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা নয়টি পাটকল বেসরকারি খাতে পাটকল ইজারা দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রণয়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের নিয়ন্ত্রক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানটি ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর করেছে।

সংশোধিত শর্তাবলী অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা পাট, পাটজাত পণ্য বা টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন। পাট ও টেক্সটাইল দু ক্ষেত্রেই তারা ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজে কাজ করতে পারবেন।

এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট বা পাটজাত পণ্য উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল বিজেএমসি। এক্ষেত্রে ইজারার মেয়াদ ছিল ২০ বছর।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান আনিস মাহমুদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “বর্তমান পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য বেসরকারি খাতের কাছ থেকে আমরা খুব কমই সাড়া পেয়েছি। এ কারণে বস্ত্রশিল্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

“এখন উদ্যোক্তারা শুধু পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক নয়। তাছাড়া, টেক্সটাইল রপ্তানি সম্ভাবনার একটি প্রতিশ্রুতিশীল খাত,” বলেন তিনি।

সরকার পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য এ পর্যন্ত তিনটি পাটকলকে ইজারা দিয়েছে; ইতোমধ্যেই উৎপাদনে ফিরেছে সেগুলো।

যেসব মিল ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নতুন শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, “যেসব মিল ইতোমধ্যে পাট উৎপাদন শুরু করেছে তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

“তবে, আমরা যদি তাদের কাছ থেকে আবেদন পাই তাহলে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

২০২০ সালের ১ জুলাই বড় লোকসান এবং অত্যধিক উৎপাদন খরচের কারণে সমস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল একযোগে বন্ধ করে দেয় সরকার। সেসময় প্রায় ২৫০০০ কর্মী চাকরি হারান।

এরপর সরকার বন্ধ পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের মধ্যে ১৭টি ইজারা দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আন্তর্জাতিক দরপত্র দেওয়া হয়।

দরপত্রে শর্ত ছিল, একজন ইজারাদার শুধুমাত্র পাট, পাটজাত পণ্য ও পাটের-বৈচিত্র্য সম্বলিত পণ্য উৎপাদন করতে এসব পাটকল ব্যবহার করতে পারবেন।

বর্তমানে তৃতীয় দরপত্র চলছে, কিন্তু এখনও নয়টি পাটকল ইজারা দেওয়া বাকি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে দেশের রিজার্ভ এখন ২৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার

জুলাই ১৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

অবশেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বহুজাতিক সংস্থাটির নির্দেশিত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (২ হাজার ৩৫৭ কোটি) ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিজার্ভের এ পরিসংখ্যান উঠে আসে।

তবে আইএমএফ নির্দেশিত হিসাবের পাশাপাশি নিজস্ব পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, ১২ জুলাই দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফ নির্দেশিত হিসাব (বিপিএম৬) অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করতে গিয়ে এক ধাক্কায় দেশের রিজার্ভ কমেছে ৬৪০ কোটি ডলার।

ঝুঁকিতে এলএনজি আমদানি-সরবরাহ

১৩ জুলাই ২০২৩, কালবেলা

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এলএনজি আমদানির ব্যয় মেটাতে না পারার কারণে অতি জরুরি এ পণ্যটি আমদানির চুক্তি স্থগিত করার কথা জানিয়েছে একাধিক রপ্তানিকারক কোম্পানি। পাশাপাশি বকেয়ার অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) থেকে অর্থ আদায় করার কথা জানিয়েছে একাধিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। পেট্রোবাংলার ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকার পরও পর্যাপ্ত মার্কিন ডলারের অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট সমাধানে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়ে জ্বালানি সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। তবে কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের হাতে টাকা থাকলেও ডলার নেই। এ কারণেই এই সংকট।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের কোম্পানি গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে আমদানি করা এক কার্গো (কার্গো নং-১০) এবং টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের সুইজারল্যান্ডের ব্রাঞ্চ থেকে আমদানি করা দুই কার্গো (কার্গো নং-৭ ও ৮) এলএনজি আমদানি করা হলেও এখনো অর্থ পরিশোধ করেনি পেট্রোবাংলা। ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকে টাকা থাকলেও ডলার না পাওয়ার কারণে আমদানি বিল পরিশোধ করা যায়নি। এমনকি বিল পরিশোধের সময়ও পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে বিল পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে চলতি মাসের শুরুতে তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে। পত্রে বিল পরিশোধের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কোম্পানি দুটি। কোম্পানি দুটির একটি গানভর বিল পরিশোধের তাগাদাপত্রে উল্লেখ করে, আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে পেট্রোবাংলা বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য আহ্বানকৃত দর প্রস্তাবে কোম্পানিটি অংশগ্রহণ করবে না। জুলাই ও আগস্ট মাসে যে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য ‘কনফার্ম নোটিশ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা স্থগিত করা হবে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) থেকে বিল কেটে নেওয়া হবে। একইভাবে অন্য কোম্পানি টোটাল এনার্জিসের পক্ষ থেকে এক ইমেইল বার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেট্রোবাংলা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসবিএলসি থেকে অর্থ আদায় করা হবে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার জ্বালানি সচিবের কাছে পাঠানো পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই দুই কোম্পানির বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবং সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত এসবিএলসি থেকে তাদের অর্থ আদায় করা হলে তা দেশ ও দেশের বাইরে জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে মাস্টার সেলস অ্যান্ড পারচেজ এগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ কমে যাবে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ব্যাংকগুলো পেট্রোবাংলার পক্ষে এসবিএলসি ইস্যু করতে রাজি হবে না। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটবে।

জানা গেছে, গানভর সিঙ্গাপুরের সরবরাহকৃত এক কার্গো এলএনজি বিল পরিশোধের সময় ছিল গত ২০ জুন। বিলের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি রয়েছে ২৮ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ থেকেও আট দিন বেশি পেরিয়ে গেছে। গানভরের সরবরাহকৃত এলএনজি দাম আংশিক পরিশোধ করা হলেও টোটাল এনার্জিসের দুই কার্গো এলএনজির বিপরীতে বিলের পুরোটাই বাকি। টোটাল এনার্জিসের একটি কার্গোর (কার্গো-৮) বিল দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিল গত ২০ জুন। এরই মধ্যে ২০ দিন পার হয়ে গেছে। অন্য কার্গো (কার্গো-৭) এলএনজি দাম পরিশোধের সময় ছিল গত ৫ জুলাই। এরই মধ্যে ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিল পরিশোধ করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অপার রেট) সঙ্গে ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী যত দিন বিল অপরিশোধিত থাকবে ততদিন দেরিতে পরিশোধের জন্য জরিমানা গুনতে হবে।

দেশে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ৫ কোটি ২৭ লাখ মানুষ

১৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশের সোয়া পাঁচ কোটির বেশি মানুষ খাদ্যে তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে আছে। এর মধ্যে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার মধ্যে আছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার প্রকাশিত হয়।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ২০১৬ সালের পর গত ছয় বছরে প্রায় ১৮ লাখ বেড়েছে।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ নেই বাংলাদেশের

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশকে দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের অন্যতম শর্ত ছিল—গত জুনে প্রকৃত (নিট) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হবে ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার।

আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলার। এর বাইরেও প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি তথ্য আছে, যা প্রকাশ করেনি তারা।

যদিও দেশের মানুষকে না জানালেও ঋণের শর্ত মেনে প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব ঠিকই প্রতিদিন আইএমএফকে জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন সর্বশেষ প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের কিছু বেশি প্রকৃত রিজার্ভ থাকার কথা আইএমএফকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন রিজার্ভের তিন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেমন মোট রিজার্ভ, বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ও প্রকৃত রিজার্ভ।

খরচ বাড়বে রেলওয়ের লাভ হবে ঠিকাদারের

১৯ জুলাই ২৩, সমকাল

জামালপুরের নান্দিনার মো. হীরা সাত বছর ধরে সিলেটের ইলিয়াসপুরে রেলের গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন। অস্থায়ী শ্রমিক (টিএলআর) হিসেবে মাসে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পান তিনি। এটাই তাঁর সম্বল। এখনও যথারীতি দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর চাকরি আছে কিনা, স্পষ্ট নয়। কারণ, টিএলআরদের বাদ দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঠিকাদারের দেওয়া কর্মী নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে।

হীরার মতো রেলে অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন ছয় হাজার ৮২৬ জন। রেলওয়ের হিসাবে, এখনও ছয় হাজার টিএলআর আছেন। কাজ হারানোর শঙ্কায় তাদের একাংশ গত রোববার ঢাকায় ট্রেন থামিয়ে রেললাইন অবরোধ করে। পাঁচ ঘণ্টা সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাসে কাজে ফিরলেও তারা বেতন পাবেন না। কারণ, ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরে অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরির জন্য বরাদ্দ পায়নি রেলওয়ে। গত বছরের ২ অক্টোবর অর্থ বিভাগ অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরি আউটসোর্সিং খাত থেকে দিতে শর্ত দিয়েছে। এ কারণে আউটসোর্সিং কর্মী নিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেলওয়ে। সেটি করতে রেলের নিয়োগবিধিও মানা হচ্ছে না। যেসব পদে সরাসরি নিয়োগের শর্ত রয়েছে, সেগুলোও দরপত্রে থাকছে।

ডলার সংকটের প্রভাব এখন পোশাক খাতেও দৃশ্যমান

জুলাই ১৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রিজার্ভের নিম্নমুখিতায় গত অর্থবছর আমদানিতে লাগাম টেনে ধরা হয়, যার প্রভাব পড়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে। তবে এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। কাঁচামাল আমদানির ব্যাক টু ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) খুলতে এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের এতদিন তেমন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়নি। তবে ডলার সংকট প্রকট হওয়ায় এখন এ সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে পোশাক খাতেও।

পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পোশাক খাতের বেশির ভাগ কাঁচামালই আমদানি করতে হয়। কিন্তু এখন ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার বিষয়ে বেশকিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আগের ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধের আগে নতুন ঋণপত্র খোলায় নিরুৎসাহিত করছেন ব্যাংকাররা। তারা জানিয়েছেন, ডলার রিজার্ভের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে গিয়ে ঋণপত্র খোলার শর্তগুলোও আগের তুলনায় অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করছে ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পোশাক রফতানিকারকদের ক্রেতা বা বায়াররা পণ্য আমদানি করলেও সময়মতো অর্থ পরিশোধ করছে না। চুক্তিতে শর্ত দেয়া হয় রফতানি নথি গ্রহণের পর অবিলম্বে (অ্যাট সাইট পেমেন্ট) অর্থ পরিশোধের। যদিও ক্রেতারা পরিশোধ করছে ১২০ কিংবা ১৮০ দিন পর। কভিড প্রাদুর্ভাবের সময় থেকেই এ চর্চা শুরু হলেও গত এক বছরে সমস্যাটি আরো বেশি হচ্ছে। ক্রেতারা পণ্য নেয়ার পর বলছেন, ছয় মাস বা এক বছরের আগে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন না। এদিকে রফতানির মূল ঋণপত্রের বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাকের দায় মেটানোর সময় থাকে ১২০ দিনের। কিন্তু ততদিনে পণ্য রফতানির অর্থ আসছে না। এ বিলম্বের ফলে ব্যাক টু ব্যাকের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না ব্যাংক। এতে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশ বোর্ডে তা রেড মার্কে প্রদর্শন হচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক নতুন ঋণপত্রের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র করছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা আছে, নির্ধারিত সময়ের একদিন পরও কেউ ব্যাক টু ব্যাকের দায় পরিশোধ করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তফসিলি বা অথরাইজড ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কারণেই মূলত ব্যাংকগুলো ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাব বাস্তবায়ন করছে।

মূল্যস্ফীতির শঙ্কার মধ্যেই টাকা ছাপিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২০ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মূল্যস্ফীতি অনেক দেশে পড়তির দিকে থাকলেও, বাংলাদেশে এই চাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। এরমধ্যেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে টাকা ধার দিতে নতুন টাকা ছাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৮ দিনের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজস্ব ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল আদতে ঘাটতি হয়েছে তারও বেশি, প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ার কারণে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকার সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের এসব তথ্য গত অর্থবছরের একই সময়ের সাথে তুলনা করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকখাত থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা ধার নেয় সরকার। এরমধ্যে ৭৮ হাজার ১৪০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মানে, প্রতিমাসে গড়ে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে।  এমনকি আগের অর্থবছরের শেষ মাস গত জুনেও সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৬ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা।   

সে তুলনায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে – কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯১ ও ৩৬৪ দিন-মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৪ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়া, আরও ৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা ২, ৫ ও ১০- বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিভলভিং প্রক্রিয়ায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে সরকারি ট্রেজারি বিল এবং বন্ড বিক্রি করে টাকা সংগ্রহের বদলে নিজেই কিনে নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিভলভমেন্ট কৌশলের আওতায় সরকারের টাকা ধার নেওয়ার অর্থ-  অর্থনীতিতে নতুন টাকার সরবরাহ বৃদ্ধি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকখাত থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ধার নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পোশাকের রপ্তানি আসলে কত

২৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ণাঙ্গ একটি অর্থবছর শেষ হলো গত জুনে। সরকারি হিসাবে, এই সময়ে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। অথচ ক্রয়াদেশ কমেছে, অধিকাংশ কারখানার ২০-৩০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত। ফলে রপ্তানির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

তৈরি পোশাকশিল্পের বেশ কিছু বড়-মাঝারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) গ্রাহক। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের রপ্তানি আয় প্রায় ১১ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ৩১৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পোশাক ও বস্ত্র খাতে চারটি কারখানা রয়েছে উর্মি গ্রুপের। গ্রুপটি গত বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি কমে হয়েছে সাড়ে ৮ কোটি ডলার। ফলে অর্থের হিসাবে প্রায় ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি রপ্তানি হারিয়েছে গ্রুপটি।

ইপিবির পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যানের সঙ্গে আমরা বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। গত অর্থবছরে আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। নারায়ণগঞ্জ বিসিকে আমার প্রতিষ্ঠানের আশপাশে যতগুলো কারখানা রয়েছে, সব কটিরই রপ্তানি কমেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

এই যখন অবস্থা, তখন অর্থাৎ চলতি মাসের গোড়ার দিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ অথবা ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৪ শতাংশ। ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে শীর্ষ ছয় খাতের মধ্যে শুধু তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে।

কয়েক মাস ধরেই পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের কেউ প্রকাশ্যে, কেউবা ব্যক্তিগতভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানির পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, ফলে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্য কেনা কমিয়ে দেন। তাতে কমে যায় পোশাকের বিক্রিও। আবার গত বছরের শেষ দিকে অধিকাংশ কারখানা ২০-৩০ শতাংশ কম উৎপাদন সক্ষমতায় চলছে। গ্যাস-বিদ্যুতের কারণেও উৎপাদন কম-বেশি ব্যাহত হয়েছে।

পরিকল্পনার প্রায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ, পূরণ হয়নি বেশির ভাগ উদ্দেশ্য

জুলাই ২৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের জন্য ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, নতুন সেতু নির্মাণ, সড়ক-সেতু পুনর্বাসন, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৬৬ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনাটি বর্তমানে শেষভাগে চলে এসেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে প্রাক্কলনের প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে গত ১১ বছরে খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও যে সাতটি প্রধান উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার, তার বেশির ভাগই পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সড়ক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা থেকে যতটা সুফল পাওয়ার কথা বাস্তবে তা হয়নি। এজন্য দায়ী যথাযথভাবে এবং সঠিক সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারা, অবকাঠামো বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি করতে না পারা, প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া, অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের বিষয়।

সড়ক মহাপরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক ও ট্রাফিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ১৫ বছর হতে চললেও পূরণ হয়নি সেটি। সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, দেশের অর্থনীতির ‘‌লাইফ লাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে ধারণক্ষমতার বেশি যানবাহন। অন্য সড়কগুলোরও একই অবস্থা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জরিপে ভালো সড়কের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে (১৩৪টি দেশের মধ্যে ১১৩তম)। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে বিশ্বের চতুর্থ ধীরগতির সড়ক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের, যেখানে যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার।

এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার এখন পর্যন্ত যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলোয় ব্যয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার কয়েক গুণ বেশি। মহাপরিকল্পনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। যদিও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি শুধু চার লেন করতেই খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা-মাওয়া সড়কে বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল ৬০০ কোটি টাকা। বাস্তবে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনসহ ‘‌এক্সপ্রেসওয়ে’ মানে উন্নীত করতে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যুক্ত করে সেতু তিনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। ৬৯০ কোটি টাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। বর্তমানে যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি চলমান রয়েছে, সেগুলোয়ও ব্যয় হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

মহাপরিকল্পনার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দুর্ঘটনা হ্রাস। গত ১১ বছরে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণে বিপুল অংকের টাকা খরচ হলেও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা কমানো—কোনোটিই সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য বলছে, ২০০৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়। আর ২০২২ সালে এসে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৮ জনের। চলতি বছরও সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা ও আহতের সংখ্যা। গত শনিবার ঝালকাঠিতে একটি যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় আহত হয় আরো অন্তত ৩৫ জন।

বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যে দেখা যায়, গত জুনে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৫১৬ জন ও আহত ৮১২ জন। মে মাসে সড়কে প্রাণ যায় ৪০৮ জনের আর আহত হয় ৬৩১ জন। এ মাসে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয় ১৩ দশমিক ১৬ জন। আর জুনে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৭ দশমিক ২ জন। এ হিসাবে জুনে প্রাণহানি বাড়ে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। একইভাবে গত এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন নিহত হয়। এ সময়ে ৪৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৭ জন নিহত ও ৭৭৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবশেষ ঈদুল আজহার সময় ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৪৪ জন। এসব দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়কে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির তিন চাকার যানবাহন চলাচল।

প্রতিদিনই জরিমানা দিচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক ছয় ব্যাংক

২৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

চাহিদামতো টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে না পারায় দণ্ডসুদ বা জরিমানা দিতে হচ্ছে ইসলামি ধারার ছয় ব্যাংককে। এসব ব্যাংকের তারল্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দণ্ডসুদের টাকাও পুরোটা জমা দিতে পারছে না। তাই তারল্য পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এসব ব্যাংককে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

তারল্যসংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ছয়টি হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর মধ্যে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলো চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন। এসব ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তারল্যঘাটতিতে রয়েছে।

ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর ও এসএলআরের টাকা জমা করছে না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শুধু ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে দায় সেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোও অনিয়ম বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া শুরু করেছে।

মুডি’সের পর বাংলাদেশের রেটিং নেতিবাচক করল এসঅ্যান্ডপি

বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভ আরো চাপে পড়বে

জুলাই ২৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

মুডি’সের পর এবার বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান কমিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক অবস্থায় নেমে এসেছে বাংলাদেশের ঋণমান। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং এখন ‘বিবি মাইনাস’ (BB-)। আর স্বল্পমেয়াদে রেটিং ‘বি’। বিদেশী ঋণ ও তারল্য পরিস্থিতি আরো প্রতিকূলে গেলে এ ঋণমান আরো কমে যাবে। এছাড়া আগামী বছর দেশের ডলার পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আরো চাপের মুখে পড়তে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

বিশ্বব্যাপী মুডি’স, এসঅ্যান্ডপি ও ফিচ রেটিং—মার্কিন এ তিন প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ঋণমানের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের ক্রেডিট রেটিং বাজারের সিংহভাগই প্রতিষ্ঠান তিনটির নিয়ন্ত্রণে। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে এ তিন প্রতিষ্ঠানের দেয়া ঋণমানের প্রভাব পড়ে।

এর আগে চলতি বছরের ৩১ মে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামিয়ে দেয় মুডি’স। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন বড় দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যেও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।

দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকই বড় গ্রহীতাদের ঋণ দেয়ার সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন করেছে

এপ্রিল ২৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

কোনো ব্যাংক তার বিতরণকৃত মোট ঋণের কত শতাংশ অর্থ বড় গ্রাহকদের দিতে পারবে, তা ব্যাংক কোম্পানি আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রীতিনীতিতে স্পষ্ট করা আছে। ব্যাংককে অল্প কিছু গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই এমন বিধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালীতে বিধানটির প্রতিপালন হয়নি। বরং এ চার ব্যাংকের সবক’টিরই ঋণ পোর্টফোলিওতে বড় গ্রাহকদের দেয়া ঋণের সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক তার ঋণ পোর্টফোলিওর ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দিতে পারে। যদিও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৯ শতাংশই ছিল বড়দের কাছে। আর বড় গ্রাহকদের কাছে গেছে জনতা ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৬৯ শতাংশ অর্থ। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকও বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন করেছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৩৬ শতাংশ অর্থ নিয়েছেন বড় গ্রাহকরা। যদিও এক্ষেত্রে ব্যাংকটির বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা হলো পোর্টফোলিওর ৩০ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৩৪ শতাংশ হলেও ব্যাংকটি এরই মধ্যে ৩৬ শতাংশ অর্থ বড়দের দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বড় গ্রাহকদের কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড়দের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি রাতারাতি হয়নি। বরং বছরের পর বছর ধরেই এ প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে গত ১০-১২ বছরে এটি অনেক বেশি ত্বরান্বিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে। ব্যাংকগুলোর পর্ষদে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তার পরও বড়দের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার বিষয়টি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান তিনজন শীর্ষ নির্বাহী বণিক বার্তাকে বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেশের ক্ষমতাবানদের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রভাবশালীদের ঋণ দিতে হয়েছে। তবে তাদের কেউই এ বিষয়ে নিজের নাম উদ্ধৃত করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সরকারি পুকুর ভরাট করে হকার্স মার্কেট

২৯ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউমার্কেটের বিপরীতে মাশরুম কেন্দ্রসংলগ্ন সরকারি পুকুরটির পরিমাণ ১১২ শতাংশ। আগে একবার উত্তরণ সমবায় ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি উপজেলা প্রশাসন লিজ দিয়েছিল। হঠাৎ সেখানে ‘সাভার হকার্স মার্কেট’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। অথচ জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এভাবে কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী ও খাল ভরাট করা যাবে না।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় হকার্স লীগের নেতারা অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সরকারি পুকুরটি ভরাট করে মার্কেট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বাসস্ট্যান্ডের পাশেই ভরাটের কাজ চলছে পুরোদমে। সরকারি সম্পত্তি লিজ না নিয়েই বালু ফেলে ভরাট করার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। একটি প্রভাবশালী মহল হকার্স মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে গড়ে ২৬৫৩ টাকা ঘুষ

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে একেকজন সুবিধাভোগীকে গড়ে ২ হাজার ৬৫৩ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের এ ঘুষ দেন ভাতাপ্রত্যাশীরা। কারণ, ঘুষ না দিলে ভাতা পাওয়ার তালিকায় তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় না। ঘুষ দিতে না পারায় ভাতা কার্ড পাননি, এমন ঘটনাও ঘটেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ঘাটতি নিরূপণ এবং এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ জরিপ করা হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক সংলাপে জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে সিপিডি। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় এ জরিপ করা হয়। জরিপে ঘুষের বিষয়টি ছাড়াও বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রাপ্তির নানা ভোগান্তি ও অসংগতির চিত্র তুলে ধরা হয়।

সিপিডি জানিয়েছে, জরিপে দেশের ২৯টি উপজেলার ৪৮৬ জনের বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সুবিধাভোগীর মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ১০৮ জন বয়স্ক, ২০০ জন বিধবা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১৭৮ জন অভিভাবক। জরিপের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ এবং যেখানে কম সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষাবেষ্টনী রয়েছে, সেসব স্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জরিপে উঠে এসেছে, স্থানীয় পর্যায়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড করতে গিয়ে একজন উপকারভোগীকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। আর এসব ঘুষ নিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও সরকারের কর্মকর্তারা।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ১৫শ কোটি টাকা যাচ্ছে অযোগ্যদের কাছে

কার্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়

৩০ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয় বলে নিজেরাই জানিয়েছেন। ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নন এমন মানুষের জন্য মোট বরাদ্দের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তথা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনেকে যোগ্য হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে ভাতা পান না।

অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হলে যোগ্যদের অন্তত ৪৫ শতাংশকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা যেত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জরিপভিত্তিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা নিজেদের অযোগ্য বলে জানিয়েছে। এদের মধ্যে আবার প্রায় ১২ শতাংশ পেনশন, ভিজিডি বা অন্যান্য ভাতা নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অযোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মূলত উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাত ও দুর্নীতির কারণে এমন হয়। অযোগ্যদের ভাতা দেওয়া বন্ধ করা হলে প্রকৃত যোগ্য ৪৫ শতাংশ ব্যক্তিকে এর আওতায় আনা সম্ভব।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক ভাতা খাতে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ৫৭ লাখ ১ হাজার উপকারভোগী এ ভাতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা খাতে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২৪ লাখ ৭৫ হাজার উপকারভোগী এ ভাতা পাচ্ছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য কার্ড পেতে সংশ্লিষ্টদের গড়ে ২ হাজার ৬৫৩ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ৫০০ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। অনেকে যোগ্য হলেও ঘুষ দিতে না পারায় ভাতা পান না। এসব কারণে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বয়স্ক ও স্কুলগামী শিশুরা যে ভাতা পাচ্ছেন তা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সুবিধাভোগী ও তাঁদের অভিভাবকরা। উপকারভোগীদের  ৯৭ শতাংশ মনে করছেন, বয়স্ক ভাতা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৮০ শতাংশ শিশুর অভিভাবক মনে করছেন ভাতা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা দরকার।

সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য অথচ ভাতা পান না এমন বয়স্ক লোকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এদের ভাতার আওতায় আনতে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ১৭ লাখ বিধবা এবং ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে না। এদের ভাতা ও বৃত্তির আওতায় আনতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা যদি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করা হয় এবং যোগ্য সবাইকে যদি এর আওতায় আনা হয় তাহলে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা থেকে পেনশন ও সঞ্চয়পত্রের সুদের প্রিমিয়ামকে আলাদা করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বাড়তি অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে তারও একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সিপিডির অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, কর ফাঁকি ও কর অস্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার ৪১ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাজস্ব বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।

৩ হাজার পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ‘আতঙ্কে’ ‍পুঞ্জিবাসী

৯ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির ৪টি পানজুমের ৩ হাজার পান গাছ ও ৬০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আল্লাদাত চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সোমবার রাতে পুঞ্জির বাসিন্দারা এই অভিযোগ করেছেন। আজ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পুঞ্জিবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী অলমি প:তাম গতকাল আল্লাদাত চা-বাগানের ম্যানেজার সিরাজ উদ্দিন, পাহারাদার নূর উদ্দিন ও আব্দুস সামাদের নাম ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় লিখিত একটি অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান।

লিখিত অভিযোগে বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির হেডম্যান অলমি প:তাম বলেন, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জিতে ব্রিটিশ আমল থেকে ৬০টি খাসিয়া পরিবারের প্রায় ৫০০ জন মানুষ বসবাস করছেন। বংশ পরম্পরায় তারা পানজুম ও সুপারি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আল্লাদাত চা-বাগানের ম্যানেজার সিরাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বাগানের পাহারাদার নূর উদ্দিন ও আব্দুস সামাদসহ কয়েকজন লোক বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির দক্ষিণ পাশের খাসিয়াদের লাগানো ৪টি পানজুমের ৩ হাজার পান গাছ ও ৬০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলে। বিষয়টি দেখে খাসিয়ারা বাগানের লোকজনকে বাধা দিতে গেলে তারা তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।

সাগরপাড়ের রুবিতে মজেছে ইউসিবি

১০ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মাত্র ২৩ কোটি টাকার জামানতের বিপরীতে ৭৬৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)। তার মধ্যেও সিংহভাগই দেওয়া হয়েছে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া। একাধিকবার ঋণ অনুমোদনের আগেই করা হয়েছে ঋণ বিতরণ। খেলাপি গ্রাহক হলেও ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখতে তাকে খেলাপি দেখানো হয়নি। উল্টো নতুন করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আর এর সবই করা হয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিএসএম গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দিতে। ঋণের টাকায় গ্রুপটির ব্যবসার প্রসার ঘটলেও এখন আর ঋণ আদায় করতে পারছে না ইউসিবিএল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১ কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন মাত্র ২ লাখ টাকা। কোনো ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুটি মেয়াদি ঋণ, তিনটি টাইম লোন, ৪টি ফোর্সড লোন, একটি ওভার ড্রাফ্ট ও একটি সিসি লোনের বিপরীতে ৬৬৪ কোটি ৯২ লাখ ২৯ হাজার টাকা দিয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা। এ ছাড়া নন-ফান্ডের বা এলসির মাধ্যমে ঋণ দিয়েছে ১০০ কোটি ৩২ লাখ। সব মিলিয়ে রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৬৫ কোটি ৩৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া এসব ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনিয়ম করে কন্যাদের নিয়োগ দিলেন দুই ভিসি

১২ মে ২০২৩, সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপাচার্য। পরস্পরের কন্যাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন তাঁরা। আর তা করতে গিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে অবলীলায় বাদ দিয়েছেন। তুলনামূলক কম যোগ্যতার প্রার্থী হলেও দুই কন্যার নিয়োগ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এ দুই উপাচার্য হলেন– গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন। এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে তাঁরা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়ে অহনা আরেফিনকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বশেমুরবিপ্রবির পুরকৌশল বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য। এ নিয়োগের বিনিময়ে গত ২২ মার্চ একিউএম মাহবুবের কন্যা ফারজানা মাহবুবকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন ছাদেকুল আরেফিন। প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দুটিতে নিয়োগ বোর্ডেরও প্রধান ছিলেন এ দুই উপাচার্য।

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পরস্পরের কন্যাকে নিয়োগ দিতে গিয়ে তাঁরা নিজ পদের অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে এ নিয়োগ দিয়েছেন। উপাচার্য ছাদেকুল আরেফিনের মেয়ে নাটোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বশেমুরবিপ্রবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনটি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রুয়েট) দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী মোট ১৬ প্রার্থী। যদিও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ডের কাছে সবচেয়ে ‘যোগ্য’ মনে হয়েছে নাটোরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী অহনা আরেফিনকে। বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামান এ নিয়োগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের ব্যাপার বলে জানান তিনি।

কিছু ব্যক্তির কাছে ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়েছে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

১১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ব্যাংক খাতের চলমান অবস্থা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন বাজারে যাই, তখন দেখি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কেন ঊর্ধ্বগতি? আমাদের কিন্তু কোনো কিছুর অভাব নেই, আমরা প্রতিটা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পন্ন। চাল–ডাল, তরিতরকারি, মাছ-মাংস থেকে সবকিছুতেই স্বয়ংসম্পন্ন। তারপরও সিন্ডিকেটের কারণে দেশে এই অবস্থা বিরাজ করছে। যে ব্যক্তি লুটপাট করে বড় লোক হচ্ছেন, তাঁকে আরও সুযোগ দিচ্ছি। ফলে কিছু ব্যক্তির কাছে ব্যাংক থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই সিন্ডিকেট আমাদের ভাঙতে হবে।’

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আজ অবাক লাগে, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে লাখ লাখ বেকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ মওকুফ করা হয় না। কাদের ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে? যাঁরা ব্যাংক থেকে লক্ষকোটি টাকা নিয়ে খেলাপি হয়েছেন, তাঁদেরটাই বারবার মওকুফ করা হচ্ছে। তাঁরা মওকুফ পেয়ে আবার ঋণ নিচ্ছেন। বড় খেলাপিদের যে ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে, সেগুলো যদি এসএমই ফাউন্ডেশনসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের দেওয়া হতো, তবে তাঁদের ব্যবসা আরও সমৃদ্ধশালী হতো। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।’

অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশ

১৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির খেলাপি ঋণ প্রায় ১১ শতাংশ। এরপরই অবস্থান বাংলাদেশের, খেলাপি ঋণ প্রায় ৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের দেশ নেপাল। দেশটির খেলাপি ঋণ ২ শতাংশের কম। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আপডেটে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আমদানি ব্যয়, ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১৭ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেড়েছে।

এটা অবশ্য শুধু খেলাপি ঋণের হিসাব। পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না এমন ঋণ ও বিশেষ নির্দেশিত হিসাবের ঋণকে খেলাপি হিসাবে দেখানোর পক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের হিসাব অনুসরণ করলে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

গত জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। এই ঋণ দিতে আইএমএফ শর্ত দিয়েছিল, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমাতে হবে, যাতে দেশের ব্যাংক খাত বড় ধরনের কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে। সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ যাতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না যায়, সে জন্য গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিশেষ ছাড় দেয়। শিথিল করে ঋণ খেলাপি হওয়ার নীতিমালা।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ৬ শতাংশের কম, পাকিস্তান ও ভুটানের ৮ শতাংশের কম।

মতিঝিল আইডিয়ালে শতকোটি টাকার ভর্তি-বাণিজ্য

১৬ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিলসহ তিনটি শাখায় গত ৯ বছরে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির অনুমোদিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত এসব শিক্ষার্থী ভর্তিতে লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকার বেশি।

আইডিয়াল স্কুলে ভর্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ঘেঁটে এবং অভিযোগ অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, দুটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ ভর্তি-বাণিজ্যে জড়িত। এই চক্রে ছিলেন বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভর্তি-বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

ইজারা ছাড়াই বালি তুলছেন তিন আওয়ামী লীগ নেতা

মে ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ছোট যমুনা নদী থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে উত্তোলন করা এসব বালি কোটি টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে। ইজারা না নিয়েও যত্রতত্র বালি তোলায় ভাঙনের মুখে পড়েছে নদীর বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকা। নদী ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় দ্রুত বালি তোলা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (১৪২৯ সন) ৯ মার্চ নওগাঁয় আটটি বালিমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেখানে বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর ৭১ দশমিক ৫৭ একর বালি মহালের সরকারি ইজারামূল্য ধরা হয় ৩৯ লাখ ২৫২ টাকা। কার্যাদেশ অনুসারে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৬২ লাখ ৩১ হাজার ৭১১ টাকায় বালিমহালের ইজারা পান বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তপন কুমার মণ্ডল। বালি  উত্তোলনে তাকে ১০টি মৌজা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর মধ্যে তেজাপাড়া মৌজায় রয়েছে ১ দশমিক ৭৭ একর। চলতি বছর ওই নদীতে উত্তোলনযোগ্য বালি নেই বলে একটি প্রতিবেদন পাঠায় উপজেলা প্রশাসন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর নদীর বালিমহাল ইজারা দেয়া হয়নি।

এমডি তাকসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ওয়াসা চেয়ারম্যান পদ হারালেন

২২ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলা ঢাকা ওয়াসা-র চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওয়াসা বোর্ডের সদস্য সুজিত কুমার বালাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে ওয়াসার সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আমার মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে, হয়তো সে কারণেই নতুন কাউকে নিয়োগ দিয়েছে।’

 মজুতদাররাই পেঁয়াজ কারসাজির হোতা

২২ মে ২৩, সমকাল

এবারও পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমদানি হয়েছে কয়েক লাখ টন। মজুত আছে পর্যাপ্ত। তবু মসলাজাতীয় পণ্যটির বাজারে চলছে অস্থিরতা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে বেশিরভাগ পেঁয়াজ চলে গেছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে মূলত তাঁরা বাজারকে নিজেদের কবজায় নিয়ে গেছেন। সরকারের উল্লেখযোগ্য তদারকি না থাকার সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন তাঁরা। এ কারণে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারসাজির মূল নায়ক আড়তদার বা মজুতদাররা। যদিও সরকার বলছে, আমদানির ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্যের আত্মীয় হলেই চাকরি

২৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ম আছে, কোনো নিকট আত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক, শিক্ষক অথবা কর্মকর্তা ওই পরীক্ষার কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কোনো উপাচার্য ভেঙেছেন বলে শোনা যায়নি। ব্যতিক্রম বিএসএমএমইউর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক শারফুদ্দিনের ছোট ছেলে তানভীর আহমেদ ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর (এমডি/এমএস) কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, ওই পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধান কমিটির প্রধান ছিলেন উপাচার্য নিজে।

তানভীর আহমেদ এখন বিএসএমএমইউর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি অটোল্যারিংগোলজি (নাক কান গলার সার্জারি) বিভাগে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) পদে রয়েছেন। এই চাকরি হয়েছে তাঁর বাবার আমলে। তানভীরের বাবা অধ্যাপক শারফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পান ২০২১ সালের মার্চে।

উপাচার্যের ছেলে তানভীরের স্ত্রী ফারহানা খানম চিকিৎসক। গত ১ জানুয়ারি ফারহানার চাকরি হয়েছে বিএসএমএমইউর শিশু বিভাগে।

বিএসএমএমইউর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য হলো, উপাচার্যের এ রকম অন্তত ১১ জন আত্মীয় চাকরি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের মধ্যে ৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর। বাকি চারজনের দুজন নিয়োগ পান অধ্যাপক শারফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহ-উপাচার্য থাকার সময়। আর দুজন যখন নিয়োগ পান তখন তিনি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি ছিলেন।

টাকা নিয়ে নিয়োগের অভিযোগও উঠছে। যেমন গত ২৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এক যুবক। গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাকরি দেওয়া না-দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের কার্যালয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। উপাচার্যের অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) রোববার একটি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অবশ্য উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন বলেছেন, ‘অনিয়ম করে কিছু হচ্ছে না।’

চেয়ারম্যান-ভাতিজা মিলে বালু-মাটি লুটপাট

২৩ মে ২৩, সমকাল

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনোগ্রাম বাজারসংলগ্ন গড়াই নদী থেকে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারের ভাতিজা সাফি আহমেদ। প্রতিদিন অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকার মাটি-বালু বিক্রি হলেও জানে না স্থানীয় প্রশাসন। সাফির দাবি, তাঁর চাচা উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীপাড়ের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু কেটে ট্রলি ও ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশেই শান বাঁধানো বটগাছের ছায়ায় বসে চালকদের কাছ থেকে মূল্য বুঝে নিচ্ছেন এক যুবক। হিসাব লিখে রাখছেন খাতায়। তবে ক্যামেরা চালু করতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। হিসাবের খাতা লুকিয়ে ফেলেন টাকা আদায়কারী যুবকের সহযোগী। তখনও বালুভর্তি দুটি ট্রলি নদীপাড়ে ছিল। পরে চালকরা বালু নিয়ে চলে গেলেও যুবক তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেননি।

খেলাপির তথ্য লুকিয়ে আরও বড় জালিয়াতি

২৪ মে ২৩, সমকাল

ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে রাতে ঋণের টাকা তুলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী হায়দার রতন। সম্প্রতি একটি ভুয়া কোম্পানির অনুকূলে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে এবি ব্যাংক, যার সুবিধাভোগী সেই ব্যবসায়ী রতন। জালিয়াতির এই ঋণের তথ্য জানতে পেরে এরই মধ্যে তা আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলী হায়দার রতনের নামে পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৫৫৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি কাজের কার্যাদেশের বিপরীতে সন্দেহজনক উপায়ে নেওয়া এসব ঋণ এখন খেলাপি।

আদা আমদানি ৫৮ টাকায়, বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়

২৪ মে ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায় এক মাস ধরে চীন থেকে আদা আমদানি বন্ধ। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকেও আমদানি হচ্ছে কম। আদা আসছে মূলত এখন মিয়ানমার থেকে। বাজারে এখন যত আদা বেচাকেনা হচ্ছে, তার ৮০ শতাংশই মিয়ানমারের আদা। এই আদার আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি কেজি ৫৮ টাকা। হাতবদলের পর খুচরায় এখন এই আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের ২২ দিনে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ৩১ জন ব্যবসায়ী ১ হাজার ৮১৭ টন আদা আমদানি করেছেন। এসব আদার কেজিপ্রতি গড় আমদানিমূল্য ছিল ৪৫ সেন্ট বা ৪৮ টাকা। শুল্ক–কর দিতে হয়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা। এই হিসাবে কেজিপ্রতি আমদানি মূল্য পড়েছে ৫৮ টাকা।

মাদক চোরাকারবার থেকে অর্থ পাচারে বাংলাদেশ এশিয়ায় প্রথম, বিশ্বে পঞ্চম

১১ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মাদক চোরাকারবার থেকে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড)।

তবে এশিয়ার দেশগুলো বিবেচনায় নিলে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

‘এর মধ্যে মেথামফেটামিন, হেরোইন এবং সিন্থেটিক ওপিওড যেমন বুপ্রেনরফিন এবং ফেনসিডিলের পাচার অন্তর্ভুক্ত,’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯টি দেশের মাদকসংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক হিসাব তুলে ধরেছে সংস্থাটি। অন্য দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মিয়ানমার, নেপাল ও পেরু।

মাদক এবং অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনওডিসির সহায়তায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক এই হিসাব করেছে আঙ্কটাড।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকের অবৈধ অর্থপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপর যথাক্রমে রয়েছে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও বাংলাদেশ।

তালিকায় এশিয়ার যে ৫টি দেশের নাম রয়েছে, এর মধ্যে শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের পরেই আছে মালদ্বীপ ও নেপাল। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।

মূলত ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের এই চিত্র প্রথমবারের মতো তুলে ধরেছে আঙ্কটাড।

নির্বাচনী বছরে সুবিধা নিতে তৎপর ব্যাংকমালিকেরা

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ব্যাংকের পরিচালক পদের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে নিতে নতুন করে তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রভাবশালী ব্যাংকমালিকেরা। তাঁরা ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরিচালক পদের মেয়াদ ৯ বছর থেকে ১২ বছর করার জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সরকার পরিচালক পদের মেয়াদ ৬ বছর থেকে ৯ বছর করে। পাশাপাশি একই পরিবার থেকে দুজনের পরিবর্তে চারজনকে পরিচালক করার বিধান যুক্ত করে। ২০১৮ সালে তাঁদের চাপে শুধু এই উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছিল।

এবারও নির্বাচনের আগে ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনী হচ্ছে। এবারও তাঁরা নানাভাবে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০২৩’ সংসদে উপস্থাপন করেন। সাত দিনের মধ্যে এই বিল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটি বিলটি পর্যালোচনা করছে।

ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা শেখ আবদুল হাই অবশেষে আসামি

১৩ জুন, ২০২৩, প্রথম আলো

বেসিক ব্যাংকের মতো ভালো একটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংককে কেলেঙ্কারিময় ব্যাংকে পরিণত করার হোতা ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু। তারপরও তাঁকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছিল সরকার। পরের আট বছর আত্মসাৎ করা অর্থে বাড়ি ও জাহাজ কিনে আরাম-আয়েশেই জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। এ নিয়ে বারবার আদালতের তিরস্কারের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংসদ সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের বিরূপ সমালোচনার পর অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আসামি হলেন তিনি।

আবদুল হাইসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে দুদক অভিযোগপত্র দিচ্ছে ৫৯টি। এর মধ্যে ৫৮টিতেই শেখ আবদুল হাই আসামি। তবে তাঁর দুই মেয়াদের পর্ষদে যাঁরা পরিচালক ছিলেন, তাঁদের কাউকেই আসামি করেনি দুদক। অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তাব গতকাল সোমবার অনুমোদন করেছে দুদক। এখন এগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হবে। দুদক কার্যালয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলায় আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করায় দুদকের ওপর কোনো চাপ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কোনো চাপের মুখে পড়ে কাজ করে না। এ ক্ষেত্রেও কোনো চাপ ছিল না।’

দুই দফায় শেখ আবদুল হাই বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে ২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।

অনুসন্ধানের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় প্রথমে ৫৬টি মামলা করা হয়। পরে মামলা হয় আরও ৩টি। এসব মামলার ১টিতেও এত দিন আসামি ছিলেন না শেখ আবদুল হাই। নিবিড় তদন্তের পর এবার ৫৮টিতেই ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে শেখ আবদুল হাইয়ের সম্পৃক্ততা পায় দুদক। দুদকের পাঁচজন কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যখন মামলা করা হয়, তখন দুদক চেয়ারম্যান ছিলেন মো. বদিউজ্জামান। তাঁর সময়ে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তারপর ২০১৬ সালে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে ইকবাল মাহমুদ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলেও তদন্ত শেষ হয়নি তখনো। বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ২০২১ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এখন বেসিক ব্যাংকের মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হয়।

সে হিসেবে মামলার তদন্ত করে অভিযোগপত্র তৈরি করতে দুদকের আট বছর লেগে যায়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএজি) এবং বেসিক ব্যাংকেরই নানা প্রতিবেদনে এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইসহ অনেকের জড়িত থাকার প্রমাণ আগেই উঠে আসে।

আবদুল হাই ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসন (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) থেকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া দেয়। বর্তমান সরকারের ওপর মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত।

শেখ আবদুল হাই ২০০৯ সালে যোগ দেওয়ার সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ শতাংশ আর ২০১৪ সাল শেষে তা দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশ। কেলেঙ্কারির পর এখন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংককে বাজেট থেকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকাও দেয় সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির জন্য শেখ আবদুল হাইকে সরাসরি দায়ী করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ও সংসদের বাইরে বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারার জন্য তিনি হতাশাও প্রকাশ করতেন।

শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান নিয়োগের রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি

জুন ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

ছাত্রজীবনে বা তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবু সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সুনজরে পড়ে বাগেরহাটের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর পিতার ছেলে আবদুল হাই বাচ্চু। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোল্লাহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী আবদুল হাই বাচ্চু। দুই বছর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন রাজনীতির ময়দানে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে আর কোথাও তেমন একটা আলোচনাও হয়নি।

এ আবদুল হাই বাচ্চুই আবার দীর্ঘদিন পর আলোচনায় আসেন ২০০৯ সালে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কমার্স (বেসিক) ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ সে সময় ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের অবাক করেছিল। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই দশক পদাধিকার বলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্প সচিব। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যও ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু সে ধারা ভঙ্গ করে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু।

তার এ নিয়োগের বিষয়টি কম রহস্যাবৃত নয়। সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আবদুল হাই বাচ্চুর কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায় না। জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তার জন্য কোনো তদবির বা সুপারিশ করেননি বলে দলটির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছে। আবার আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে বেসিক ব্যাংকের লুট হওয়া অর্থে জাতীয় পার্টি বা দলটির অন্য কারো লাভবান হওয়ারও কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বেসিক ব্যাংক থেকে আবদুল হাই বাচ্চু পদত্যাগ করেন ২০১৪ সালে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতও জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে ব্যাংকটির ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে আবদুল হাই বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যদিও প্রায় এক দশক পেরুলেও এখনো জানা যায়নি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুর নিয়োগের রহস্য। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয়েরও।

একসময়ে বেসিক ব্যাংক পরিচিতি পেয়েছিল সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভালো ও লাভজনক উদাহরণ হিসেবে। বৈশ্বিক জায়ান্ট স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হতো ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটিকে। প্রতিষ্ঠার পর দুই দশক ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করে আসছিল বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকের চেয়ে বেশি। সরকারি অন্য ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণে জর্জরিত হলেও এ সংকট থেকে একপ্রকার মুক্ত ছিল বেসিক ব্যাংক।

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার সময়ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল বিতরণকৃত ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ। ওই বছর ৬৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল ব্যাংকটি। কিন্তু বাচ্চুর নিয়োগের পর তার নেতৃত্বে ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয় বেসিক ব্যাংক। চেয়ারম্যানের একক কর্তৃত্ববলে বড় ঋণ বিতরণ শুরু করেন বাচ্চু। অজ্ঞাত-অপরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে বিতরণ করা হয় বিপুল পরিমাণ ঋণ। দ্রুত অবনমন ঘটতে থাকে বেসিক ব্যাংকের। কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বাড়তে থাকে খেলাপির পরিমাণও। এর বিপরীতে কমতে থাকে মুনাফার অংক। পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে থাকে দ্রুতগতিতে। কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে নিয়োগ দিতে থাকেন জনবল। অবাধে নিয়োগ দেয়া জনবলকে কাজে লাগাতে খুলতে হয়েছে একের পর এক শাখা।

২০১৩ সালে এসে প্রথমবারের মতো লোকসানের দেখা পায় ব্যাংকটি। ২০১৪ সালে তিনি যখন পদত্যাগ করেন, তখন ব্যাংকটির ঘাড়ে শতকোটির টাকার বেশি লোকসানের বোঝা। ব্যাংকের শাখার সংখ্যাও ততদিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাচ্চুর নিয়োগের সময়কার চেয়ে দ্বিগুণে। ওই সময়ের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের ধাক্কা আজও সামলে উঠতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। বরং ব্যাংকটির লোকসানের পাল্লা কেবল ভারীই হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বেসিক ব্যাংকের নিট লোকসান হয়েছে ৪ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যাংকটিকে বাঁচানোর জন্য বাজেট থেকে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার। বিপুল অংকের এ অর্থ পেয়েও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। উল্টো ২০২২ সাল শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকায়। বেসিক ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এখনো খেলাপি।

এক দশকে বেসিক ব্যাংকের লোকসান ৪,২৩০ কোটি টাকা

১৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

একসময় রাষ্ট্র খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থানে ছিল বেসিক ব্যাংক। শিল্প গ্রুপগুলো এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করত। তখন ব্যাংকটি ভালো মুনাফাও করত। উচ্চ বেতনে কর্মী নিয়োগ দিত ব্যাংকটি। সে সময় পদাধিকারবলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব।

তবে ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবদুল হাইকে চেয়ারম্যান করে বেসিক ব্যাংকের নতুন পর্ষদ গঠন করে সরকার। এরপরই ভেঙে পড়ে ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা। শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার পাঁচ বছরে (২০০৯-১৪) নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ফলে ২০১৩-২০২২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির লোকসান হয় ৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা শেখ আবদুল হাই কোথায়, দুদকও জানে না

১৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দুর্নীতির মামলা হওয়ার আট বছর পর বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্রে আসার খবরে সবারই প্রশ্ন, তিনি এখন কোথায়। ঢাকায় না গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে? নাকি নিয়মিত যাতায়াত করা সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন? নাকি অনেকের মতো স্থায়ী আবাস গড়েছেন কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে?

দুদকের কাছে এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে পাওয়া যায়নি। মোট ৫৯টি মামলার মধ্যে ৫৮টিতে ১৪৫ আসামির তালিকায় নাম রয়েছে আবদুল হাইয়ের। কয়েক দিনের মধ্যেই দুদক অভিযোগপত্রগুলো আদালতে দাখিল করবে। আবদুল হাইকে আসামি করলেও দুদক কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধরবে? যদি বিদেশে পালিয়ে থাকেন, বিদেশ থেকে ফিরিয়ে দেশে এনে দুদক কি বিচারের মুখোমুখি করবে আবদুল হাইকে? এসব প্রশ্নেরও জবাব মিলছে না কোথাও।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক বছর আগেও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে ছিল। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন, তা বলা যাচ্ছে না। অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আমরা মনে করছি।’

এক বছর আগেও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে ছিল। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন, তা বলা যাচ্ছে না।

মো. মোজাম্মেল হক খান, দুদক কমিশনার

অনেকেই বলছেন যে শেখ আবদুল হাই বিদেশে চলে গেছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই দুদক তাঁর নাম অভিযোগপত্রে এনেছে।

গ্রাহকের টাকা পাচার আলেশা মার্টের

লোপাট ৪২২ কোটি টাকা

১৭ জুন ২০২৩, যুগান্তর

সাড়ে তিন বছরে মানি লন্ডারিংয়ের (টাকা পাচার) মাধ্যমে গ্রাহকের প্রায় ৪২২ কোটি টাকা লোপাট করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম সিকদার, তার স্ত্রী সাদিয়া চৌধুরী, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, এসকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আল মামুন, আলেশা মার্টের অন্তত ১০টি অঙ্গ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৪২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চারটি বেসরকারি ব্যাংকের পৃথক চারটি হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে সম্প্রতি রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা হয়েছে। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গত ৩১ মে থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন মামলা রেকর্ড হয়। মামলায় ভুক্তভোগী ৩৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, আলেশা মার্টের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন অফার দিয়ে বহু গ্রাহকের কাছ থেকে মোটরসাইকেল ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করা হয়। পরে পণ্য বা টাকা ফেরত না দিয়ে ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়। ২০২০ সালে নিবন্ধিত আলেশা মার্ট ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে মানি লন্ডারিং কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির আত্মসাৎ করা অর্থ ফিরে পেতে গত ১ মে পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে দুই হাজার ৮৭ জন এবং সিআইডিতে ৩৫ জন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সড়কের ৪০ শতাংশ বাস ধ্বংসযোগ্য

১৮ জুন, ২০২৩, কালের কন্ঠ

দেশের সড়কগুলোতে চলাচল অনুপযোগী, অচল ঘোষিত বা মেয়াদ শেষ হওয়া মোটরযান বিনষ্ট করে ফেলতে একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। নীতিমালা পাস হলে আনফিট বা অচল গাড়ি স্ক্র্যাপ করা যাবে। অর্থাৎ পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আলাদা করে মোটরযানটি ধ্বংস করা যাবে। এর মাধ্যমে সড়কে দুর্ঘটনা ও যানবাহনের দূষণ কমানো সম্ভব হবে।

বিআরটিএর এক হিসাবে বর্তমানে সড়কে চলাচল করা ৪০.৬৬ শতাংশ বাস ধ্বংসযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়াটি মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো অতি পুরনো ও চলাচলের অনুপযোগী গাড়িগুলোকেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করে আসছে।

যদিও প্রতিবছর চলাচলের অনুপযোগী বাসগাড়িগুলোর জন্য সড়কে কী পরিমাণ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, এর যথাযথ পরিসংখ্যান নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এরই মধ্যে স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে স্ক্র্যাপযোগ্য বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭৪। অথচ সর্বশেষ গত মে মাস পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত বাস রয়েছে ৫৩ হাজার ৪৮৫টি।

মিনিবাস রয়েছে ২৮ হাজার ৮৮টি। বাস-মিনিবাস মিলিয়ে মোট দাঁড়াচ্ছে ৮১ হাজার ৫৭৩টি। এর বিপরীতে ৪০.৬৬ শতাংশ গাড়িই ধ্বংসযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

গণপরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের অচল গাড়িগুলোও বাধ্যতামূলক স্ক্র্যাপ করা হচ্ছে আইনে। বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ট্রাকের সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৪।

কাভার্ড ভ্যান রয়েছে ৪৫ হাজার ১৫৯টি। মোট এক লাখ ৯৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যবাহী গাড়ির মধ্যে স্ক্র্যাপযোগ্য ৩০ হাজার ৬২৩টি, যা ১৫.৭৩ শতাংশ।

বিমানের চুক্তিতে কারসাজি, ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

১৯ জুন, ২০২৩, প্রথম আলো

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা ক্রয়ে ‘জালিয়াতিপূর্ণ’ চুক্তির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ১০ বছরে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।

সরকারের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় এই গুরুতর আর্থিক অনিয়মটি ধরা পড়ে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আগে আর্থিক প্রস্তাবে কিছু সেবার বিপরীতে খরচ যা হবে তার চেয়ে কম দেখানো এবং কিছু সেবা বাবদ খরচ গোপন করা হয়েছে। আবার কিছু সেবা বাবদ ব্যয় আর্থিক প্রস্তাবে না দেখিয়ে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই কারসাজির সঙ্গে বিমানের বর্তমান একজন পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

বিমান সূত্র জানায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেবার গ্লোবাল ইনকরপোরেশনের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকিট বুকিং ও বিক্রিসংক্রান্ত এজেন্টদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস), এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রিসংক্রান্ত প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম (পিএসএস), বিমানবন্দরে চেক-ইন ও বোর্ডিং কার্ডসহ অন্যান্য সেবা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ডিপারচার কন্ট্রোল সিস্টেম (ডিসিএস), ই-কমার্স, লয়্যালটি সার্ভিসের মতো সেবাগুলো পাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানায়, এই চুক্তির আগে বিমানের পরিচালনা পর্ষদে দেখানো হয়েছিল যে এসব সেবা ক্রয়ের জন্য ১০ বছরে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮২ কোটি টাকা দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদও সে অনুযায়ী চুক্তির অনুমোদন দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নিরীক্ষায় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে যে চুক্তিটি এমনভাবে করা হয়েছে, যার ফলে এসব সেবার জন্য বিমানকে ১০ বছরে মোট ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিতে হবে। যা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা বেশি।

অনিয়মের শুরু

বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবা আগে

‘সিটা’ নামের আরেকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনত বিমান। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে এ–সংক্রান্ত সেবা ক্রয়ে দরপত্র (আরএফপি) আহ্বান করে বিমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আটটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়। কিন্তু দরপত্রে অ্যামাডিউস নামক একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ যোগ্য বিবেচিত হয়নি। পরে ওই দরপত্র বাতিল করে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আবার দরপত্র আহ্বান করে বিমান। নতুন দরপত্রে অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়, যার কারণে কেবল তিনটি প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসে। তাদের মধ্য থেকে সেবার গ্লোবালকে নির্বাচিত করা হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গণখাতে ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) বিধি ১০৫ (৩, ৭) অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত আবেদনকারীর সংখ্যা ৪–এর কম হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে। কিন্তু বিমানের ভেতরে একটি পক্ষ কাজটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে সক্রিয় ছিল। যার কারণে পিপিআরের বিধি অনুসরণ করা হয়নি। বরং এমনভাবে প্রাক্কলন করা হয়, যাতে ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দর প্রকৃত দরের চেয়ে কম প্রতীয়মান হয়।

তথ্য গোপন

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের ২৫৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম বাবদ বিমানের প্রাক্কলন ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (৪২২ কোটি টাকার বেশি)। বিমান সূত্র বলছে, ওই সময় বিমানের পরিচালনার পর্ষদকে দেখানো হয় সেবার গ্লোবালের মাধ্যমে এ কাজ করতে খরচ পড়বে ২ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের (প্রায় ২৮২ কোটি টাকা) মতো খরচ পড়বে। এমন প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ সেবার গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি করতে অনুমোদন দেয়।

কিন্তু বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম বাবদ সেবার গ্লোবালকে দিতে হবে ৩ কোটি ২২ লাখ ডলারের বেশি। ফলে কেবল এই খাতে সেবার গ্লোবালকে বেশি দিতে হবে প্রায় ৫৪ লাখ ডলার (৫৬ কোটি টাকা)।

প্রস্তাবে কম টাকা দেখিয়ে কীভাবে বাড়তি টাকা দেওয়ার কারসাজি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সেবাগুলোর খরচ নির্ভর করে যাত্রীর সংখ্যার ওপর। যাত্রী বাড়লে টাকাও বেশি দিতে হবে। কিন্তু দরপত্রে ওই সময় বিমানের প্রকৃত যাত্রী কত এবং প্রতিবছর কী হারে যাত্রী বাড়বে, তা বিমানের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়নি। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখ করে দর দিয়েছে। কিন্তু খরচের হিসাব দেওয়ার সময় সম্ভাব্য সর্বনিম্ন যাত্রীর সংখ্যা ধরে আর্থিক হিসাব উল্লেখ করা হয়। প্রতিবছরই যে যাত্রী বাড়বে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণে আর্থিক ব্যয় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে কম দেখানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি করা সময় তাতে বলা হয়েছে, সব সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী টাকা পাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তিন বছর পর থেকে প্রতিটি সেবার খরচ ২ শতাংশ হারে বাড়বে।

এ ছাড়া টিকিট বুকিং ও বিক্রিসহ এ–সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বিক্রয় প্রতিনিধি বা ট্রাভেল এজেন্টরা ‘জিডিএস সার্ভিস’ ব্যবহার করে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবার গ্লোবালের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, তাতে বিমানের কোনো এজেন্ট জিডিএস ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে কোনো টিকিট বুকিং করলে টিকিটপ্রতি ২ ডলার (২১০ টাকা) এবং এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য টিকিট প্রতি সাড়ে ৬ ডলার করে পাবে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেবার গ্লোবালের জিডিএস ব্যবহার করে টিকিট বুকিংয়ের সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে দেখা গেছে, ১০ বছরে এই খাতে সেবার গ্লোবালকে অন্তত ১ হাজার ১৯ কোটি টাকা দিতে হবে। কিন্তু বিমানের পরিচালনা পর্ষদের কাছে এই খরচের বিষয়টি গোপন করে চুক্তির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে আছে, প্রস্তাবে নেই

প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম ও জিডিএস সেবা বাস্তবায়নের জন্য এ পর্যন্ত পরামর্শক ফি হিসেবে প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বিমান। কিন্তু সেবার গ্লোবাল চুক্তির আগে যে আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে এই পরামর্শ ফি উল্লেখ করেনি। কিন্তু চুক্তিতে এই ফি যুক্ত করা হয়েছে।

বিমানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আর্থিক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি চুক্তিতে এমন ব্যয় যুক্ত করা বেআইনি। এই অনিয়মের জন্য ওই সময় আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন ও চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দায়ী।

এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগপর্যন্ত সময়ে (২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) ১০ মাসে বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব প্রায় এক লাখ যাত্রীর জন্য ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি এবং বিমান কর্তৃক অন্যান্য এয়ারলাইনসের যাত্রী হ্যান্ডলিং বাবদ আরও ৭৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছে সেবার গ্লোবাল। এই খরচও আর্থিক প্রস্তাবে ছিল না, কিন্তু চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রযুক্তিসংক্রান্ত সেবা কেনাকাটায় এমন কারসাজি ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আজিমকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি উত্তর দেননি। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও চুক্তির বাইরে কাউকে এক টাকাও বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই। সেবার গ্লোবালের বিষয়টি নিয়ে তিনি বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কানাডায় স্ত্রীর নামে বাড়ি ব্যাংকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা

২০ জুন ২০২৩, যুগান্তর

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের দুবারের জাতীয় সংসদ-সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম শিমুল নিজ দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান তিনি। নির্বাচনি এলাকার নিজ দলের দুই উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুটি পৌর মেয়রসহ বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তার দা-কুমড়া সম্পর্ক। জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। জেলার সব এমপির অবস্থানও তার বিরুদ্ধে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ-বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর-কাবিখা বরাদ্দে এমপি শিমুল ব্যাপক অনিয়ম লুটপাট করেছেন। নিয়োগবাণিজ্য করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতির টাকায় এমপি শিমুল নাটোর ও কানাডার বেগমপাড়ায় স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল দুটি বাড়ি করেছেন। এছাড়া কানাডাসহ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিনিধির নামে তিনি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা রেখেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আয়কর ফাইল অনুযায়ী এমপি শিমুলের স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতি একজন গৃহবধূ। কিন্তু তার নামে দেশ-বিদেশে রাজপ্রাসাদসম দুটি বাড়ি রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জান্নাতির সম্পদ ছিল ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার। পরের বছর তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। সম্পদ বৃদ্ধির হার ২৮৪ শতাংশ। যা রীতিমতো বিস্ময়কর।

কানাডার ব্যাংকে এমপি শিমুলের অর্থ লেনদেনের তিনটি অ্যাকাউন্টের (ব্যাংক হিসাব) তথ্য যুগান্তরের কাছে আছে। এরমধ্যে তার নিজের নামে দুটি এবং কানাডার একজন নাগরিকের নামে অপরটি রয়েছে। কানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব কমার্সে তার একটি অ্যাকাউন্ট (সিআইবিসি ২০০০০০০পি) এবং ব্যাংক অব নোভা স্কোটিয়ায় আরেক অ্যাকাউন্ট (৩০০০০০০পি) রয়েছে। একটি ব্যাংক থেকে তিনি মাস্টার কার্ডও (৪৬৩৯৪৩১৮৫৮৭৯৬০৭৮) নিয়েছেন। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্টে তার ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ১৬২ কানাডিয়ার ডলার (৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ছিল। এছাড়া কানাডার নাগরিক রাডি অর্নল্ডের নামে (কার্ড নম্বর ৫০৬১৯৭৩৯৩১৫৩৬৪৪৮) তিনি অর্থ লেনদেন করেছেন। এমপি শিমুলের স্ত্রী জান্নাতির নামে কানাডায় বিলাসবহুল বাড়ির তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম দুর্নীতির বাসা

২৪ জুন ২৩, সমকাল

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। আর এসবের জন্য সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলমকে অভিযুক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। ক্ষমতার দম্ভে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আয়োজিত একটি একাডেমিক সেমিনার পর্যন্ত করতে দেননি বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে বিধিবহির্ভূতভাবে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা গ্রহণ, জনবল কাঠামো না মেনে নিজের খেয়াল-খুশি মতো বিভিন্ন পদে নিয়োগেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুন উপাচার্য দিদার-উল-আলমের চার বছর মেয়াদ শেষ হয়। দীর্ঘ চার বছর মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কোনো কাজ না হলেও তাঁর মেয়াদ শেষের দিকে নিয়োগ বাণিজ্যের হিড়িক পড়ে। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে।

পরিচালক বানাতে টাকা তোলেন কাশেম, ফেঁসে গেছেন অনেকে

২৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারের সাবেক একজন পদস্থ ব্যক্তির কাছে ‘নতুন ব্যাংকের মালিক’ হওয়ার আশ্বাস পেয়ে ২০১৭ সালে দেশে আসেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহসভাপতি আবুল কাশেম। অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কার্যালয়ও খোলেন তিনি। এরপর ব্যাংকের পরিচালক বানানোর আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূলধন ও বাড়তি খরচ সংগ্রহ শুরু করেন। এভাবে কাটে প্রায় দুই বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পিপলস ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেয়। নীতিগত অনুমোদন পাওয়া পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আবুল কাশেম। ওই অনুমোদনের পর বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করলেও পিপলস ব্যাংক আর আলোর মুখ দেখেনি।

শর্ত পালন করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রাথমিক অনুমোদনও বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অনুমোদনের আগে ব্যাংকের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আর ফেরত দেননি আবুল কাশেম। ব্যাংকের পরিচালক বানানোর কথা বলে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই টাকায় আবুল কাশেম গুলশানে কেনেন ফ্ল্যাট, কেনেন দামি গাড়ি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটিকে লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্রও দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। তবে তিন বছরে কয়েক দফায় সময় নিয়েও সেই আগ্রহপত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেনি ব্যাংকটি।

জানা গেছে, পিপলস ব্যাংকের পরিচালক বানানো ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট থেকেও ১০০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন আবুল কাশেম। এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

পাশাপাশি তাঁর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে আবুল কাশেম কারাগারে রয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালে ৫ বছরে ৪৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম

২৭ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে সরকারের ৪৫৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৪টি আলাদা কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) বাজেট ব্যয়ে অনিয়মের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনটি রোববার সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

এই সময়ে মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে।

সিএমএসডির বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিএমএসডিতে নিরীক্ষাকালীন প্রতি অর্থবছরেই এই ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে সিএজি।’

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাযথ প্রটোকল অনুসরণ না করে সিএমএসডি ৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করায় সরকারের ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে, এই সরঞ্জামগুলো অব্যবহৃত রয়ে গেছে কিংবা অকেজো হয়ে পড়েছে। যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

নিরীক্ষা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সিএমএসডি ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে। যে মেডিকেল সরঞ্জামগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো শিগগিরই স্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলছে, সিএমএসডি তাদের সম্মতি ছাড়াই এসব পণ্য সরবরাহ করেছে।

‘সিএমএসডিই এই সরঞ্জামগুলো হাসপাতালে পাঠিয়েছে’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে এই ধরনের অপচয়ের জন্য দায়ীদের শনাক্ত করতে আরও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই বছর ৮টি মেডিকেল কলেজ, একটি সিভিল সার্জন কার্যালয়, একটি জেলা হাসপাতাল এবং ২টি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একই ধরনের পণ্যের জন্য জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানির দেওয়া দামের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি দামে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল।

এর ফলে সরকারের লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

সিএমএসডির কাছে সিএজি অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি তাদের পণ্যের স্পেসিফিকেশন পূরণ করতে না পারায় তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেছে।

তবে, এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি নিরীক্ষকরা।

২০১১ সালের ২ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়।

মেশিনটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড ছিল ৫ বছর। তবে ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ওয়ারেন্টি প্রয়োগের পরিবর্তে ঢামেক কর্তৃপক্ষ মেশিনটি মেরামতের জন্য অন্য একটি কোম্পানিকে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ব্যয় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অন্য কোনো কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এই অসদাচরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ ৪৪টি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে সরকারের প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সরকারি তহবিলের অপচয়, অব্যবহৃত ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহে ব্যাঘাত এবং প্রচলিত বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ক্রয়।

ওই বছর সিএমএসডি ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩টি জেনারেল হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করায় সরকারের প্রায় ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা লোকসান হয়।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে ব্যাপক অনিয়ম

২৮ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ২০১৩ সালের ২৬ জুন একটি ওষুধ উৎপাদন যন্ত্র কেনে। কিন্তু পরবর্তী ৭ বছরে যন্ত্রটি ব্যবহার তো দূরের কথা, খোলাই হয়নি। এরপর যখন যন্ত্রটি খোলা হয়, তখন দেখা যায় তা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।

গত রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ কোম্পানির এই অবহেলার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

সিএজি তাদের প্রতিবেদনে একে ‘গুরুতর অবহেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সিএজির নিরীক্ষকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই মেশিনটির পরীক্ষামূলক কাজ চলছিল এবং মেশিনটির আউটপুট ছিল ৯৫ শতাংশ। তবে কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ দেখাতে না পারায় ইডিসিএলের এই দাবি গ্রহণ করেনি সিএজি নিরীক্ষকরা।

এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল সিএজির নিরীক্ষকরা। তবে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিঠির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিতর্কিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নিরীক্ষকরা আরও ৬টি আর্থিক অনিয়মের ঘটনা খুঁজে পেয়েছে, যার ফলে কোম্পানিটি শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরেই প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

অনিয়মগুলোর মধ্যে একটি হলো মহামারিকালে ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম তৈরিতে ব্যর্থতা। তখন এই ওষুধটির ব্যাপক চাহিদা ছিল।

ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই কাঁচামাল সংগ্রহের দরপত্র ৩ বার বাতিল করে এবং যেসব সরকারি হাসপাতালগুলো অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিল, তাদেরকে স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি থেকে তা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয়।

খেলাপিরাও এখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন

০২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে খেলাপি গ্রাহকেরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পান। এবার গ্রুপভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি থাকলেও তাদের অন্য প্রতিষ্ঠান ঋণ পাবে। এ রকম সুযোগ রেখেই জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে খেলাপিরাও ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল না। কয়েকজন ব্যাংক পরিচালকের প্রস্তাবেই সরকার আইনটি সংশোধন করে বলে জানা গেছে।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আইনের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য আরও খারাপ হবে, খেলাপি ঋণ বাড়বে এবং সার্বিকভাবে আমানতকারীদের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়বে।

যেভাবে এই অভিনব সুযোগ

কয়েকজন ব্যাংক পরিচালক গত মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি লিখিত প্রস্তাবে জানিয়েছিলেন, গ্রুপভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান যাতে ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। তাঁরা বলেছিলেন, ঋণ ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলে বা যুক্তিসংগত কারণে ঋণখেলাপি হয়ে পড়লে সেই ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো যেন ঋণ দেয়।

ব্যাংক পরিচালকেরা যখন এই প্রস্তাব জমা দেন, তখন সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়ায় এমন কোনো ধারা ছিল না। আইনটি তখন অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে ছিল। ওই কমিটি সংসদে যে মতামত পেশ করে, তাতেও ব্যাংক পরিচালকদের প্রস্তাবটি স্থান পায়নি।

কিন্তু আইনটি পাসের দিন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম ২৭(কক) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আনেন। তিনি যেভাবে ওই ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আনেন, তা অনেকটা সরকারের উচ্চপর্যায়ে ব্যাংক পরিচালকদের দেওয়া প্রস্তাবের মতো।

সংসদে কণ্ঠ ভোটে এই প্রস্তাব পাস হয়ে যায়। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা অবশ্য এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন, অর্থাৎ বের হয়ে যান।

আগের আইন অনুযায়ী, গ্রুপভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও খেলাপি হয়ে পড়ত। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেশি ছিল।

কেন এই সুযোগ

গত দেড় দশকে ভোগ্যপণ্যের বাজার, জাহাজভাঙা শিল্পের উত্থান-পতনসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে পড়েন। তাঁদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ী। আবার বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেও অনেক ভালো গ্রুপ প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়ে। অনেক ব্যাংক উদ্যোক্তা এসব প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে। আবার অনেক ব্যাংকের বড় অঙ্কের ঋণ এতে আটকে পড়েছে। এ কারণেই কয়েকজন ব্যাংক উদ্যোক্তা ঋণখেলাপিদের আবার ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাব দেন।

এই প্রস্তাব প্রক্রিয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না কারার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুধু পরিচালকদের মেয়াদ ৯ থেকে ১২ বছর করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। লিখিত প্রস্তাবে আরও কিছু দিতে হয়, এ জন্য খেলাপিদের ঋণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবটি যুক্ত করা হয়েছিল। এটাও পাস হয়ে যাবে, সেটা ভাবিনি। এটা ব্যাংক খাতের জন্য ক্ষতির কারণ হলো।’

৬ বছরে জনতা ব্যাংকে প্রায় ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকার অনিয়ম

০২ জুলাই ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ১১০ কোটি ৮০ লাখ টাকার ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়মের’ ৩১টি অভিযোগ এসেছে। এটি ব্যাংকটির মোট অনাদায়ী ঋণের ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সম্প্রতি এক অডিটে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা অডিটে দেখা গেছে, এই অনাদায়ী অর্থের ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ রয়েছে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত অ্যাননটেক্স গ্রুপের।

গত সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপিত অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতা এবং নিয়ম-কানুন মেনে না চলার বিষয়টি ধরা পড়েছে।

এসব অনিয়মের মধ্যে আছে—ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের শর্তাবলী না মানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) বিজ্ঞপ্তি, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন ও ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ অনুমোদন নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে না চলা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পারফরমেন্স উন্নতির জন্য সম্মত হওয়া শর্তাবলী বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য নীতিমালাও জনতা ব্যাংকে অনুসরণ করা হয়নি।

ব্যাংকটি পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়েছে, অনুমোদিত সীমার বাইরে বড় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে সুদ মওকুফ করেছে।

এতে বলা হয়, ‘ব্যাংকের যেসব শাখায় অডিট করা হয়েছে সেগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার, সরকারি তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

একই ধরনের অনিয়ম যেন আর না হয় এবং অডিটের সুপারিশগুলো যেন বাস্তবায়ন করা হয় তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনিয়মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ৫ হাজার ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিল ও মতিঝিলে ব্যাংকের জনতা ভবন কর্পোরেট শাখার বিআরপিডি সার্কুলার।

এই অর্থ পুনঃতফসিলের জন্য ব্যাংকটি অ্যাননটেক্স থেকে ন্যূনতম ২ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের কারণে শ্রেণিবদ্ধ ঋণ পুনঃতফসিল করা ঠিক হয়নি।

২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আননটেক্স গ্রুপের ৬ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) সুবিধা দেওয়া হয়, যদিও প্রতিষ্ঠানটি আগের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ডিমান্ড লোন তৈরি করে অ্যাননটেক্সের এলসি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ঋণগুলোও খেলাপি হয়েছে। এরপরও এর ৬ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে আরও এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তাদের বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৫৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

জবাবে জনতা ব্যাংক জানায়, বিদেশে ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের সুনাম রক্ষায় নিজস্ব অর্থায়নে অ্যানটেক্সের এলসি ক্লিয়ার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির পর অ্যাননটেক্স নতুন কোনো এলসি সুবিধা দেওয়া হয়নি।

এরপর চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা ভবন কর্পোরেট শাখা জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজকে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি ঋণ দিয়েছে। বকেয়া অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অডিট প্রতিবেদনে এস আলমের অপর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার অনিয়মও ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আলম কোল্ড রোল স্টিলস ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলস লিমিটেডের পাওনা সমন্বয় করেছে শাখাটি। এটি অনুমোদিত সীমার বাইরে গ্লোবাল ট্রেডিংকে ঋণ দিয়েছিল।

রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক শাখা ভুয়া রপ্তানি বিলের বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা দেয়। রপ্তানি কখনই হয়নি, তাই ডিমান্ড লোন তৈরি হয়েছিল। এসব ঋণ খেলাপি হয়েছে। জামানত ছাড়াই ব্যাংকটি ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করেছে।

বেশ কয়েকবার রপ্তানিতে ব্যর্থ হলেও ব্যাংকটির মতিঝিল শাখা বিআর স্পিনিং মিলসকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নতুন এলসি দিয়েছে। এই অর্থ কখনই পরিশোধ করা হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ৮০৬ কোটি টাকার বেশি।

ডরিন গার্মেন্টসের কাছ থেকে ব্যাংকটির পাওনা ১৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর স্থানীয় শাখা রপ্তানির বিপরীতে বেশ কয়েকটি এলসি খুলেছে। তবে রপ্তানি কখনই হয়নি।

স্থানীয় শাখা যথাযথ নিয়ম ছাড়াই আল-মদিনা ট্যানারিকে ঋণ দিয়েছে। এগুলো অনাদায়ী রয়ে গেছে। তবে বিপিআরডি সার্কুলার লঙ্ঘন করে এই অর্থ ব্যাংকের নিয়মিত হিসাবে দেখানো হয়েছিল। ট্যানারির কাছে এখন জনতা ব্যাংকের পাওনা ১০২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

খুলনা করপোরেট শাখা গত ৭ বছরে ৫ বার নিজেদের সীমা অতিক্রম করে ঋণ দিয়েছে। পুনঃতফসিল ও মোরাটোরিয়াম সুবিধা একাধিকবার বাড়ানোর কারণে এখন ব্যাংকটির পাওনা ১১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

শাখাটি পর্যাপ্ত জামানত না নিয়ে লকপুর গ্রুপের ৩ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মের লঙ্ঘন। এখন এর বকেয়া ১২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তাঁর ছেলেমেয়ে

০৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মানিকগঞ্জে সরকারি ওষুধ কারখানার জন্য যে সাড়ে ৩১ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানকার ১১ একর ১৪ শতক জমি কেনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মেয়ে সিনথিয়া মালেক। তিনি এ জমি ভরাট করে ভিটি শ্রেণিতে পরিবর্তন করেন। মাস সাতেক পর ওষুধ কারখানা স্থাপনের প্রকল্প পাস হয়। তার ২০ দিন আগে কেনা মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দেখিয়ে এসব জমি স্বামী আলতাফ আকমলকে দান করেন সিনথিয়া। এখন সরকার এ জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে সর্বশেষ মূল্যের তিন গুণ বেশি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মেয়ে সাড়ে ৭ কোটি টাকায় যে জমি কিনেছেন, সেটা সরকার অধিগ্রহণ করলে ৪০ কোটি টাকা পাবেন তিনি বা তাঁর স্বামী।

 প্রস্তাবিত ওই স্থানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিডি সান লিমিটেডের নামে কেনা হয় ৬ একর ৩৯ শতক জমি। মন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালেকের মালিকানাধীন রাহাত রিয়েল এস্টেটের নামে কেনা হয় ৩ একর ১২ শতক জমি। অর্থাৎ সাড়ে ৩১ একর জমির মধ্যে ২০ একর ৬৫ শতাংশ জমি মন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও মেয়ে কিনেছেন।

এরপর শ্রেণি পরিবর্তন করে এক লাফে জমির মূল্য (মৌজা দর) পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। তারপর তিনজনই এসব জমি বর্ধিত দরে (মৌজা রেটে) ঘনিষ্ঠজনদের নামে দান বা বিক্রি করেছেন। এর বাইরে মন্ত্রীর ফুফাতো ভাই শামীম মিয়া কিনেছেন আরও ৫ একর ৫৪ শতক জমি।

প্রকল্প পাসের পর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর পর্যায়ে জেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির পর্যালোচনায় প্রস্তাবিত জমি নিয়ে এমন কারসাজির বিষয়টি উঠে আসে। এমন পরিস্থিতিতে এই জমিতে প্রকল্প করতে গেলে ভূমি অধিগ্রহণে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হবে। এর পরিবর্তে পাশের কোনো মৌজায় প্রকল্প করলে সরকারের এই টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

এই চিঠি দেওয়ার পরপর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দেন মন্ত্রীর ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেন, যিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শামীম মিয়ার বড় ভাই।

প্রকল্পটি হচ্ছে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) মানিকগঞ্জে কারখানা স্থাপন। ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি পাস হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রকল্পের জন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের মেঘশিমুল এলাকায় সাড়ে ৩১ একর জমি প্রস্তাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্প কোথায় হবে, সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্প পাসের সময় প্রস্তাব করে থাকে। তাই প্রকল্প পাসের আগেই ওই এলাকার জমি কিনে নিয়ে শ্রেণি পরিবর্তন এবং তারপর সে জমি অন্যের নামে হস্তান্তর ও মূল্যবৃদ্ধির এই কার্যক্রমকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে জমির মালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে মৌজা দরের তিন গুণ দাম পান। অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণ বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ১০০ কোটি টাকা বের করে নিতে কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তুলে ধরে গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ।

ঋণখেলাপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তবু পদোন্নতি পেয়ে সচিব

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মো. খাইরুল ইসলাম বেসিক ব্যাংকের একজন ঋণখেলাপি। ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করলেও সরকারি চাকরিতে তাঁর একের পর এক পদোন্নতি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় ২০১০ সালে ছিলেন উপসচিব। এরপর পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সর্বশেষ ২ জুলাই সচিব হয়েছেন। এখন তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)। কিন্তু এত পদোন্নতি হলেও ব্যাংকের টাকা আর পরিশোধ করেননি তিনি। ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কিছু ফেরত দিলেও জমতে জমতে সুদাসলে তাঁর দেনা এখন ৯ কোটি টাকা। ঋণও নিয়েছিলেন প্রভাব খাটিয়ে, বেআইনিভাবে এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া।

বেসিক ব্যাংক পাওনা আদায়ে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলা করেছে। মামলা নম্বর ১৪০২। এরপর তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গত এপ্রিলে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। অর্থঋণ আদালতে তাঁর নামে আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ মামলা করার অংশ হিসেবে খাইরুল ইসলামকে কয়েক দফা নোটিশ দিলেও বেসিক ব্যাংককে তিনি কোনো জবাব দেননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর, বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হদিস মিলছে না ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া চট্টগ্রামের দুই দম্পতির

০৯ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন, ঘন ঘন বিদেশ সফর, উচ্চশ্রেণির লোকজনদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসার পর শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করেই গায়েব হয়ে গেছেন  চট্টগ্রামের দুই দম্পতি।

সুলতানা শিরীন আক্তার-মোস্তাফিজুর রহমান এবং মোয়াজ্জেম হোসেন-সাদিকা আফরিন দীপ্তি দম্পতি ৭ ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন। তবে ঋণ পরিশোধের সময় এখন আর হদিস মিলছে না তাদের। এতে করে ঋণের অর্থ আদায়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে দাতা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ব্যাংক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শিরিন ও মোস্তাফিজুর দম্পতি আলভি এন্টারপ্রাইজ, সিজদা মোটরস এবং শিরীন করপোরেশনের নামে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) থেকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ঋণ নেন।

এদিকে, পৃথক ঘটনায় ন্যাশনাল ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উধাও হয়েছেন আরেক দম্পতি। শিপ ব্রেকিং ব্যবসা গ্রান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নামে ঋণ নেওয়া দম্পতি  মোয়াজ্জেম ও দীপ্তিকে চেনেন না এ খাতের কোনো ব্যবসায়ী। এমনকি এই কোম্পানির নামও তারা শোনেননি।

দীর্ঘদিন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এসব ঋণ গ্রহীতার। ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে নেই তেমন জামানতও। এমনকি, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ, তার অস্তিত্বই খুঁজে পাচ্ছে না ব্যাংক।

চাকরিটাই ‘জাদুর কাঠি’

বিআরটিএর অন্দরমহল (১)

১১ জুলাই ২৩, সমকাল

যেখানেই জমি কিংবা ফ্ল্যাট কেনাবেচার হাওয়া, সেখানে ছোটেন জলিল মিয়া। পছন্দ হয়ে গেলে তাঁর কাছে দাম কোনো বিষয়ই না। তিনি বড় সরকারি কর্তা। পাবনার ফরিদপুরের বেরহাউলিয়া গ্রামের কৃষকপুত্র আবদুল জলিল মিয়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বরগুনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক। সহকর্মীদেরই ভাষ্য, তিনি ‘টাকার কুমির’! রাজধানীতেই তাঁর আছে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি।

টাঙ্গাইল বিআরটিএর আরেক সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন। তিনি জলিল মিয়ার শ্যালক। দুলাভাই জলিলই শিখিয়েছেন ‘আলগা কামাই’র ধারাপাত! এর পর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দুলাভাইয়ের মতো তিনিও হয়ে যান ‘টাকার মেশিন’।

বিআরটিএর রাজধানীর মিরপুর কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। ভাসানটেকের হোমিওপ্যাথি কলেজ থেকে ডিগ্রি নেওয়ায় নামের আগে লাগিয়েছেন ‘ডাক্তার’। মিরপুর এলাকায় তাঁর পরিচিতি ডা. আসাদুজ্জামান! সরকারি চাকরি করেই তিনি গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক।

মিরপুর অফিসেরই হিসাবরক্ষক খান মো. রুহুল আমিন এক কর্মস্থলেই খুঁটি ধরে আছেন প্রায় ১৩ বছর। বাড়ি, গাড়ি, জমি– কোনো কিছুতেই কমতি নেই। গ্রামের দরিদ্র স্বজনদের দুই হাতে টাকা বিলান। তাই গ্রামের লোকজনের বিশ্বাস জন্মেছে– রুহুল রাজধানীতে ‘টাকার খনিতে’ চাকরি করেন।

সবে অবসর-পরবর্তী ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের অফিস সহকারী রজব আলী মোল্লাও ঘুষবাজিতে কম যাননি। মিরপুর কার্যালয়ে রেকর্ডরুমে থাকাকালে টাকা ছাড়া নথি চিনতেন না। রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর তিনি যে ছয়তলা বাড়ি বানিয়েছেন, সেটির নাম ‘মোল্লা ভিলা’।

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের ফিরিস্তিই বলে দেয় বিআরটিএর ঘুষ-বাণিজ্যের বিস্তার কোন মাত্রায় পৌঁছেছে। ঢাকার প্রধান কার্যালয় তো বটেই, মাঠ পর্যায়েও সেবাগ্রহীতাদের কাছে হয়রানি, ভোগান্তি আর আতঙ্কের নাম বিআরটিএ। কথিত আছে, কার্যালয়ের ভেতরের টেবিল-চেয়ারও ঘুষ ছাড়া কিছু চেনে না! সরকারি মাশুলের বাইরে বাড়তি টাকায় সব কাজই মেলে সহজে। তা না হলে জুতার তলা ক্ষয় করেও হয় না কাজের সমাধান। বিআরটিএর ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া চাকুরেদের বিপুল বিত্তের খোঁজে ছিল সমকাল। তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের ওপর ভর করে উঠেছেন অবৈধ সম্পদের চূড়ায়। বিআরটিএর চাকরিটা তাঁদের কাছে ‘জাদুর কাঠি’। নইলে সরকারি চাকরির সামান্য বেতনে নামে-বেনামে এত অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়াটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

বিশ্লেষকরাও বলছেন, বিআরটিএ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান– এটি মোটামুটি সবারই জানা। সেখানকার দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হবেন– এটাই স্বাভাবিক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে-মেয়ের জমি কেনা

সরিয়ে দেওয়া হলো মানিকগঞ্জের ডিসিকে

১০ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সামনে রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তাঁর ছেলে–মেয়ের জমি কিনে নেওয়ার খবর নিয়ে আলোচনার মধ্যে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ আবদুল লতিফকে বদলি করা হয়েছে। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বদলি করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় মানিকগঞ্জে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে।

মানিকগঞ্জে সরকারি একটি ওষুধ কারখানা নির্মাণ প্রকল্প পাসের আগেই প্রস্তাবিত এলাকায় ২০ একর ৬৫ শতাংশ জমি কিনে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তাঁর ছেলে–মেয়েরা। এরপর সেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন (ভিটি শ্রেণি) করে নির্দিষ্ট মৌজার জমির সরকারি মূল্য পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার শুরুতে জেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটি মূল্যায়নে বিষয়টি উঠে আসে। কমিটির সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানান, প্রস্তাবিত ওই মৌজায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি খরচ হবে।

এই চিঠি দেওয়ার পরপর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেন, যিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এই বিষয়ে ৮ জুলাই প্রথম আলোতে ‘সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তাঁর ছেলে–মেয়ে’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই খবর প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। তাতে জেলা প্রশাসককে বিষোদ্‌গার করা হয়। জেলা প্রশাসকের কারণে সরকারি ওষুধ কারখানা প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, প্রস্তাবিত জমিতে কারখানা না করে পাশের কোনো মৌজায় প্রকল্প করলে সরকারের ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

ওষুধ কারখানা নির্মাণের জমি ঘিরে এই কারসাজির ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দেওয়া হলো।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মধুর হাঁড়ি

বিআরটিএর অন্দরমহল (শেষ)

১৩ জুলাই ২৩, সমকাল

ক, খ, গ, ঘ– চার নামে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চার ক্যাটাগরি সার্কেল। রাজস্ব আদায়, কর্মপরিসর, অবকাঠামো অবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ও বদলির জন্য এই সার্কেল ভাগাভাগি। এর মধ্যে ‘ক’ সার্কেল ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাতামাতি। গাড়িবিষয়ক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় ‘ক’ সার্কেলে উপরি আয়ের সুযোগ অবারিত। তাই ঘুরেফিরে এই সার্কেলেই থাকতে চান প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। এ জন্য চলে তদবির! বদলি হলেও ঊর্ধ্বতনদের আশকারায় ফের ‘ক’ সার্কেলেই থিতু হন অনেক অসাধু কর্তা। এ নিয়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভেতরে রয়েছে অসন্তোষ।

বিধিতে আছে, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এক সার্কেলে একাধারে তিন বছরের বেশি থাকতে পারবেন না; পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষেত্রে তা দুই বছর। বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে ‘ক-ঘ-গ-খ’ এবং ‘ঘ-ক-খ-গ’– এভাবে চক্র মেনে বদলি হবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিধিতে আরও বলা আছে, যৌক্তিক প্রয়োজনে কাউকে চক্রের বাইরেও পদায়ন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে নিতে হবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনুমতি। তবে সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুরেফিরে ‘ক’ সার্কেলেই পদায়নের চেষ্টা করেন। তদবিরের কারণে ওই সময় কোনো নিয়মনীতি মানা হয় না।

৩ বছরে ১৯ প্রতিষ্ঠানের ১৫০ কোটি টাকা পাচার

২৩ জুলাই ২৩, সমকাল

নতুন টি-শার্টের দাম ৩ টাকা। নতুন প্যান্টের দাম মাত্র ২ টাকা। এত কম দামে পণ্য রপ্তানি দেখিয়ে ১৯ প্রতিষ্ঠান গত তিন বছরে পাচার করেছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে টাকা পাচারের এমন তথ্য উদঘাটন করেছে কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এই চক্রে আরও কারা আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে অধিদপ্তর এটি জানাবে আনুষ্ঠানিকভাবে।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন জালিয়াতি করেছে সেগুলোর একটি হলো রিফাত অ্যান্ড সিফাত অ্যাপারেলস।

গত জুনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানিকালে ঢাকার রিফাত অ্যান্ড সিফাত অ্যাপারেলসের তৈরি পোশাকের একটি কন্টেইনার জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। রপ্তানির ঘোষণায় মাত্র ১৭ হাজার ১৪৩ পিস থাকলেও, বাস্তবে পাওয়া যায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ পিস পোশাক। পরে প্রতিষ্ঠানটির আরও ৬ কন্টেইনার জব্দ করা হয়।

তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাঠালেও মাঝখানে জালিয়াতি করেছেন সুজন বিশ্বাস নামে এক ব্রোকার। তাকে সিঅ্যান্ডএফ এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে ঘোষণার অতিরিক্ত রপ্তানি পণ্যের টাকা দেশে আসছে না অথবা এলেও তা ফিরছে হুন্ডিতে- এমন তথ্য পান কাস্টমস গোয়েন্দারা। তাই তারা নজরদারি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিলেছে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন আমদানিতে দাম কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি এবং টাকা পাচারের অপতৎপরতা থাকলেও এবার প্রমাণ মিলল রপ্তানিতে কারসাজির। এতে জড়িত কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কারখানা থেকে লেফট ওভার বা স্টক লটের পোশাক কিনে নিয়ে রপ্তানিতে জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কারসাজির কারণে পণ্যের সংখ্যা বা পরিমাণের সঙ্গে দামের তারতম্য আকাশ-পাতাল। দেখা যাচ্ছে, সাড়ে ১৬ হাজার টি-শার্ট বা সিংগ্লেটসের দাম দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৯৫০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি পিসের দাম মাত্র ৩ সেন্ট(প্রায় ৩ টাকা)।

আরেকটি প্রতিষ্ঠান একইরকম পোশাক ৩০ হাজার পিস পাঠিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ডলারে, যার প্রতি পিসের দাম পড়েছে মাত্র ২ টাকা।

অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৪১৭ ডলারে পাঠিয়েছে ২৪ হাজার ৮৭০ পিস। এ হিসেবে প্রতি ইউনিটের দাম পড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। এমন দাম কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর হিসাব অনুযায়ি রপ্তানি উপযোগী সবচেয়ে নিম্নমানের টি-শার্ট বা সিংগ্লেটস কারখানা থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকার নিচে কেনার কোনো সুযোগ নেই। শর্ট কিংবা লং প্যান্ট অন্তত ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে পলি প্যাক, কার্টনসহ নানা খরচ। তাই রপ্তানিমূল্য সিংগ্লেটসের ন্যূনতম ৫০ টাকা, টি-শার্ট ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শর্ট ও লং প্যান্ট ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শার্টের দাম হবে ১৭০ টাকা। তবে এ ব্যাপারে বিজিএমএ’র কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পরিচালকদের ঋণই ২ লাখ কোটি

২৪ জুলাই, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

গ্রাহকদের আমানতের টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে পকেটে ভরছেন ব্যাংক পরিচালকরা। নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালকরা একে অন্যের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়ে যাচ্ছেন সহজেই। ব্যাংক পরিচালকদের এমন সুবিধার ঋণের পরিমাণ এখন সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার বেশি।

এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও পরিচালকরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ সুবিধা। অনেক ক্ষেত্রেই ঋণের সুদ মওকুফ করা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে মেয়াদ ৮-১০ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেখা গেছে, পুরনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ ১৬৯ শতাংশ বেড়েছে। এক কথায়, মিলেমিশে লুটপাটে নেমেছেন ব্যাংক পরিচালকরা।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু নিজেরাই যে ঋণ নিচ্ছেন, তা নয়, বিশেষ সুবিধায় অন্যকেও ঋণ পাইয়ে দিচ্ছেন তারা।

নতুন-পুরনো মিলিয়ে দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ৫২টি এবং ৯টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের পরিচালক ৭৬০ জন হলেও এ ধরনের সমঝোতাভিত্তিক বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া-নেওয়া করেন শতাধিক পরিচালক। বিতর্কিত এসব পরিচালকের কাছেই পুরো ব্যাংক খাত জিম্মি হয়ে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৬ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা; অর্থাৎ ৬ বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৬৯ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দেশ রূপান্তর। বিভিন্ন ব্যাংকে চালানো অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৫৮টি ব্যাংকই পরিচালকদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক পরিচালকদের ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে। আর দুটি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন। আইন ভঙ্গ করে এমন ঋণ নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালকরা তাদের ঋণের তথ্য গোপন করতে গড়ে তুলছেন বেনামি প্রতিষ্ঠান। ওই সব প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রাখা হচ্ছে ব্যাংক পরিচালকের আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিদের। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো পরিচালক তার গাড়িচালক ও সহকারীদের নাম ব্যবহার করছেন।

বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, আইন করার পর নিজেদের ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বর্তমানে নিজেদের ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকারও কম। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালকরা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণই প্রায় হাজার কোটি টাকা।

ঋণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিচালকদের সবচেয়ে বেশি ঋণসুবিধা দেওয়ার তালিকায় আছে সরকারি-বেসরকারি পাঁচ ব্যাংক। এগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালকদের ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে আরও ১১টি ব্যাংক। এর মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক দিয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার তালিকায় রয়েছে প্রাইম ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ তিন ব্যাংক। ঢাকা ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া থেকে পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে ব্র্যাক, সিটি ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

শ্রমজীবি মানুষ

একজন শ্রমিকের মাসিক আয় ৫২ হাজার টাকা হওয়া উচিত: জরিপের তথ্য

৩০ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

মহামারির পর মূল্যস্ফীতির কারণে পারিবারিক ব্যয় অনেক বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের আয় বাড়েনি। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের দুজন সদস্য কাজ করেও ব্যয় নির্বাহ করা যাচ্ছে না।

২০২১ সালে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, সে সময় শ্রমিকদের পরিবারের মাসিক গড় ব্যয় ছিল ২৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। অথচ সামগ্রিকভাবে দুজনে কাজ করেও আয় হয় ২১ হাজার ৬৪২ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসেই তাদের ধার করে চলতে হচ্ছে। দেশের বিদ্যমান মজুরি কাঠামো তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ঋণের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে।

এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এফডব্লিউএ) গতকাল শনিবার এক অনলাইন আলোচনায় এসব তথ্য দিয়েছে। ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে ৬৩টি কারখানার ৩০০ শ্রমিকের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে এফডব্লিউএ।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, পরিবারের ভরণপোষণ করতে ২০২২ সালে দেশের একজন শ্রমজীবী মানুষের মাসিক আয় হওয়া উচিত ছিল ৫১ হাজার ৯৯৪ দশমিক ৫১ টাকা। একজন মানুষের দৈনিক ৩ হাজার ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, সেই মানদণ্ডে মাসিক আয় এমন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে এফডব্লিউএ। তারা মনে করে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৩ হাজার ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি কমেছে

মে ০১, ২০২৩, বণিক বার্তা

মোট মজুরি থেকে মূল্যস্ফীতির হার সমন্বয় করে হিসাব করা হয় প্রকৃত মজুরি। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে প্রকৃত মজুরি বাড়লেও ২০২২ সালে তা কমেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

আইএলওর ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০২২-২৩: ইমপ্যাক্ট অব ইনফ্লেশন অ্যান্ড কভিড-১৯ অন ওয়েজেস অ্যান্ড পারচেজিং পাওয়ার’-এ বলা হয়, একাধিক বৈশ্বিক সংকটের মুখে বিশ্বব্যাপী প্রকৃত মজুরির নেতিবাচক পরিস্থিতি দেখা গেছে। এ বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

আইএলও বলছে, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি হলো বছরে বছরে সব কর্মচারীর মাসিক গড় মজুরির পরিবর্তন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী মাসিক মজুরি শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। চলতি শতাব্দীতে এ বছরেই প্রথমবারের মতো প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি নেতিবাচক হয়। উন্নত জি২০ দেশগুলোর মধ্যে গত বছরের প্রথমার্ধে প্রকৃত মজুরি ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে বলে ধারণা করা হয়। উদীয়মান জি২০ দেশগুলোতে প্রকৃত মজুরি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কভিড-১৯ মহামারীর আগের বছর ২০১৯ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

আইএলওর প্রতিবেদনে আঞ্চলিক প্রকৃত মজুরি পরিস্থিতির পাশাপাশি সংস্থাটির বিশ্লেষণে ব্যবহূত তথ্যে ছিল বাংলাদেশসহ ১৩০টিরও বেশি দেশের মাসিক গড় নমিনাল মজুরি ও প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান। এতে দেখা যায়, গত চার বছরে বাংলাদেশে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি প্রতি বছরই বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) তথ্যসূত্র উল্লেখ করে আইএলও বলেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি ছিল ১১ হাজার ২৮১ টাকা, ২০১৯ সালে ১২ হাজার ৪ টাকা এবং ২০২০ সালে হয় ১২ হাজার ৭৩২ টাকা। ২০২১ সালে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৫০৪ টাকা।

প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ২০২২ সাল পূর্ববর্তী চার বছরে বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম-বেশি বেড়েছে। তবে ২০২২ সালের চিত্র ছিল ভিন্ন, এ বছর প্রকৃত মজুরি কমেছে। আইএলওর তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি হয় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি কমে যায়, যার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধির হার আবারো বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২২ সালে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে আইএলওর তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। যার হার ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

রোমানিয়ায় কর্মী পাঠানো: শ্রমবাজারের আরেক সুযোগ নষ্ট হলো

০১ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

ছয় মাসে বাংলাদেশের ১৫ হাজার দক্ষ কর্মীকে ভিসা দেবে–এমন প্রস্তুতি নিয়ে গত মার্চে ঢাকায় এসেছিল রোমানিয়ার একটি ভিসা টিম। সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে তারা ফেসবুকে একটি পেজ খোলে। দেড় মাস এ দেশে থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে ভিসা দেয় তারা। ১৮ এপ্রিল ওই পেজে হঠাৎ বিরতি টানা হয়। এরপর গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দলটির সদস্যরা তড়িঘড়ি করে অনেকটা নীরবে ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

কূটনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটি এসেছিল দক্ষ কর্মীকে ভিসা দিতে। কিন্তু দলটির সামনে যাঁদের পাঠানো হয়, তাঁরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার দাঁড়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ। এ নিয়ে দলটি হতাশ ছিল। এই অবস্থায় অদক্ষ কর্মীদের ভিসা দেওয়ার জন্য তাঁদের ঘুষ সাধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এমনকি ভয়ও দেখানো হয়।

ঘামের দামে কষ্টে চলে তাঁদের জীবনসংসার

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

কাঠফাটা রোদে তপ্ত দুপুর। ইটভাটার খোলা (যেখানে ইট পোড়ানো হয়) থেকে ইটের উচ্ছিষ্ট পোড়ামাটি ঝাঁকায় ভরে মাথায় করে নিয়ে পাশের একটি স্থানে স্তূপ করে রাখছেন শ্রমিকেরা। মাঝেমধ্যে শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম হাত দিয়ে মুছছেন। প্রচণ্ড গরমে তাঁদের নাস্তানাবুদ অবস্থায়। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় একটি ভাটায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। জীবনসংসারের চাকা সচল রাখতে ওই সব শ্রমিকের প্রতিদিনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাঁরা জানেন না মে দিবসের তাৎপর্য কী।

রহমান ব্রিকস নামের ইটভাটাতে প্রায় ১৮ বছর ধরে কাজ করেন আবদুর রহিম (৫০)। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের মুলজান গ্রামে। স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাঁর পরিবার। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। সংসারে তাঁর স্ত্রী ও কলেজপড়ুয়া ছেলে। এই ভাটায় কাজ করেই চলছে তিন সদস্যের সংসার। রহিমের স্ত্রী সাজ্জান বেগম গৃহবধূ। ছেলে টুটুল হোসেন এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন। স্নাতকে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইটভাটাটির শ্রমিকদের পারিশ্রমিক নির্ভর করে তাঁদের কাজের সময়সীমার ওপর। ভোর পাঁচটা থেকে বিকেলে পাঁচটা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করলে ৮০০ টাকা পাওয়া যায়। তবে হাড়ভাঙা পরিশ্রমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না আবদুর রহিম। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। তিনি বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, এই উপার্জনের ট্যাকায় টাইন্যা-টুইন্যা কোনো রহমে সংসার চলে। অন্য কাজ পাই না, বাধ্য হয়ে এই কাম করছি।’

আবদুর রহিমের সঙ্গে মাথায় করে ইটের উচ্ছিষ্ট পোড়ামাটি ভাটায় অন্য স্থানে নিয়ে রাখছিলেন সদর উপজেলার পাথরাইল গ্রামের মঙ্গল মিয়া (৪০)। কাজের ফাঁকে কথা হয়, তাঁর সঙ্গেও। মঙ্গল মিয়া বলেন, পরিবারে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে। তাঁদের নিয়েই তাঁর জীবনসংগ্রাম। দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই স্বল্প উপার্জনে খুব কষ্টে চলছে তাঁর সংসারের চাকা।

৮২% মামলাই ঝুলে আছে

০১ মে ২৩, সমকাল 

দেশের শ্রম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ২৪ হাজার ৭টি মামলা। এর মধ্যে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ১৯ হাজার ৬০৯টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। অনিষ্পন্ন মামলাগুলো মোট মামলার ৮১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অথচ শ্রমিকদের দায়ের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার বছর আগে দেশের তিন জেলায় পৃথক শ্রম আদালত গঠন করে সরকার। ফলে দেশে মোট শ্রম আদালতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টি। গত বছর আরও তিনটি শ্রম আদালত গঠিত হলেও এগুলো এখনও সচল হয়নি। তাই মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি কম হওয়ায় প্রতি বছরই মামলাজট বাড়ছে। আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা আটকে আছে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব শ্রম আদালতে মোট ২৪ হাজার ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে দেশের সাতটি শ্রম আদালত এবং শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল ১৬ হাজার ১১৫টি মামলা। শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২১৮(৫)-এ বলা হয়েছে, দুই বা ততোধিক বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল চলবে। আইন অনুযায়ী শ্রম আদালতকে ৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করে আরও ৯০ দিন সময় দেওয়া যাবে। কিন্তু এক যুগ আগের মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

‘পাথরভাঙা কাজে ঝুঁকি বেশি, মজুরি কম’

১ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক পাথরভাঙা ও পাথর লোড-আনলোড কাজে জড়িত। এ কাজে রয়েছে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকিও।

শ্রমিকদের দাবি, তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। এ অঞ্চলে তেমন কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা কম মজুরিতেই পাথরভাঙার কাজ করেন।

শ্রমিকরা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাথরভাঙার কাজ করে মজুরি পান ৪০০ টাকা। মজুরির এ টাকা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সন্তানদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে পারেন না। পরিবারের লোকজনের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। কোনোদিন কাজ বন্ধ থাকলে সেদিন থাকতে হয় অনাহারে-অর্ধারে। সংসার চালাতে অন্যের কাছে ধার করতে হয়। পাথরভাঙার কাজে মজুরি ছাড়া বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা পান না।

সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের পাটিগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে ২৭ হাজার আর কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ১৩ হাজার শ্রমিক পাথরভাঙা ও পাথর লোড-আনলোড কাজ করছেন। তাদের মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ২০ শতাংশ।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথরভাঙা শ্রমিক সোহরাব হোসেন (৫০) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘১০ বছরধরে পাথরভাঙা শ্রমিকের কাজ করছি। এ কাজ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মরণব্যাধি সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু মজুরি খুবই কম। এ অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলে পাথরভাঙা শ্রমিকের কাজ করতাম না। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে মজুরি পাই ৪০০ টাকা। মাঝে মাঝে ওষুধ কিনতে অনেক টাকা চলে যায়।’

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথরভাঙা শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৪৮) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মেশিনে পাথরভাঙার কারণে পাথরের ধূলা নাক-মুখ দিয়ে ভেতরে ঢুকে ফুসফুসে জমে যায়। এ কারণে পাথরভাঙা শ্রমিকরা সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হন। আমাদের অনেক সহকর্মী সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এখনো অনেক শ্রমিক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মেশিন মালিকরা কখনোই আমাদেরকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন না। কোনো শ্রমিক ন্যায্য মজুরি দাবি করলে তাকে আর কাজে নেওয়া হয় না। এই ভয়ে আমরা ন্যায্য মজুরির দাবিও করতে পারছি না।’

বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথরভাঙা মেশিন মালিক নুর ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ অঞ্চলে চাহিদার চেয়ে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা কম মজুরিতেই পাথরভাঙার কাজ করেন। দুই হাজারের বেশি পাথরভাঙার মেশিনে শ্রমিকরা কাজ করেন। প্রত্যেক মেশিনে ১২ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পান। অন্যান্য মেশিন মালিকরা শ্রমিক মজুরি বাড়ালে আমিও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি করবো।’

চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার

১ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

চা বাগানের স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা সমান মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও কম মজুরি পাচ্ছেন অস্থায়ী শ্রমিকরা। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কয়েকটি চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের মধ্যে মজুরির বৈষম্যের কথা জানা যায়। শ্রমিক নেতা ও অস্থায়ী চা শ্রমিকরা জানান, স্থায়ী শ্রমিকদের চেয়ে কম মজুরি পান তারা।

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুর মহম্মদ বলেন, কিছু অস্থায়ী চা শ্রমিক এখনও স্থায়ী চা শ্রমিকদের সমান মজুরি পান না।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সোনাছড়া চা বাগান ইউনিটের সভাপতি কার্তিক নায়েক জানান, মজুরি চুক্তি অনুযায়ী অস্থায়ী শ্রমিকরাও স্থায়ী শ্রমিকদের সমান মজুরি পাবেন। কিন্তু অস্থায়ী চা শ্রমিকদের অধিকাংশই এখন দৈনিক ১২০ টাকা এর চেয়েও কম মজুরি পাচ্ছেন। অন্যদিকে স্থায়ী চা শ্রমিকরা পাচ্ছেন ১৭০ টাকা।

তিনি বলেন, যেখানে রাবার শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন ১১০ টাকা সেখানে কিছু চা শ্রমিক দৈনিক মজুরি পান ৭০, ৭৫ ও ৮০ টাকা।

একটি চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক ব্রিটিশ রায় বলেন, স্থায়ী চা শ্রমিকের সমান কাজ করলেও আমি ৫০ টাকা কম মজুরি পায়।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, শ্রমিকের রক্তঝরা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত মহান মে দিবসের ১৩৭ বছর পরও চা-শ্রমিকদের শোষণ নির্যাতন এতটুকু কমেনি। এমনকি আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত অধিকার হতেও চা-শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সমান কাজে সমান মজুরি দেওয়ার আইন থাকলেও চা-শ্রমিকদের আজও ক্লাস/ক্যাটাগরির নামে ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ করে যথাক্রমে ১৭০টাকা, ১৬৯ টাকা ও ১৬৮ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

অথচ ‘বি’ ও ‘সি’ ক্লাস বাগানের শ্রমিকদের কাজের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ছাড়া সমান কাজ করলেও ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের মজুরি অনেক ক্ষেত্রে কম দেওয়া হয়। আবার পুরুষ শ্রমিকদের স্ত্রীকে তাদের উপর নির্ভরশীল বিবেচনা করে রেশন দেওয়া হলেও নারী শ্রমিকের বেকার স্বামীকে নির্ভরশীল বিবেচনা করা হয় না। তাদের রেশনও দেওয়া হয় না। যুগ যুগ ধরে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এই অন্যায় চলে আসছে।

শ্রীপুরে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা-টিয়ার শেল, পুলিশের গাড়িতে আগুন

১৪ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে বেতন ভাতার দাবিতে চলমান আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর রাবার বুলেট, লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে ছোটাছুটি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার গুদাম ও শিল্প পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আজ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডার্ড কম্পোজিট কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

কারখানায় শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। আজ রোববার সকালে মালিক আসার কথা থাকলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত মালিক কারখানায় উপস্থিত না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একটাই দাবি, মালিক আসতে হবে এবং তাঁদের বকেয়া বেতনসহ সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু মালিক সারে ৩টায় কারখানায় আসে। মালিক আসার পর ও শ্রমিকদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায়, কারখানার সকল শ্রমিক এক সঙ্গে মিলিত হন। এরপর শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ হঠাৎ তাঁদের ওপর রাবার বুলেট, লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বহু শ্রমিক আহত হন।

পোশাকশ্রমিকের মজুরি ২৫ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ

২০ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। একই সঙ্গে তারা আগামী রোববারের মধ্যে চলতি মাসের মজুরি ও ঈদ বোনাস এবং জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল ২০২৩ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের ব্যানারে আজ মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। সঞ্চালনা করেন গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান।

শ্রমিকের ‘মরণফাঁদ’ সেপটিক ট্যাঙ্ক

২৪ জুন ২৩, সমকাল

নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কের সাটারিং খুলতে নামেন শ্রমিক মো. সামাদ। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধারে নামেন মধু মিয়া। ডাকাডাকি করে দু’জনের কারও সাড়া না পেয়ে ঠিকাদার নিজেই নেমে পড়েন। ভাগ্য ভালো, সেখানে উপস্থিত অন্যরা সময়মতো ঠিকাদারকে ওপরে ওঠাতে পেরেছেন। খবর পেয়ে গত ২৮ মে রাজধানীর উত্তরখানের ওই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সামাদ ও মধুর লাশ উদ্ধার করেন। মর্মন্তুদ এ ঘটনার রেশ না কাটতেই পরের দিন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আটঘরা গ্রামে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে মারা যান দিনমজুর মো. শাহজালাল (৫৮)। শ্রমিকের ‘মরণফাঁদ’ হয়ে ওঠা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে প্রায়ই সামাদ-শাহজালালের মতো প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। এমনকি উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে প্রাণ গেছে অনেক শিশুর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও গ্যাস ডিটেক্টর ছাড়া কারও সেপটিক ট্যাঙ্কে নামা উচিত নয়। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার অবশ্যই পেশাদার লোক দিয়ে করাতে হবে। তাহলে এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

গত ১৫ মার্চ আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে প্রাণ হারান তিনজন। ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজারের পশ্চিমজুড়ীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কের সাটারিং খুলতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে মারা যান দুই শ্রমিক। ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। গত ২১ এপ্রিল খুলনার খালিশপুরে চিত্রালী সুপার মার্কেটের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে মারা যায় সাত বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। পুরান ঢাকার চকবাজারে নিখোঁজের একদিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয় আরিয়ানের লাশ (৬)। পরে জানা যায়, খেলতে গিয়ে অসাবধানতায় সে নিচতলায় ঢাকনা খোলা সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে যায়।

সেপটিক ট্যাঙ্কে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে সঠিক তথ্য নেই। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশে এ ধরনের ১৮টি দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তবে প্রাণহানি যে আরও বেশি, তা উপরে বর্ণিত ঘটনাগুলো থেকেই স্পষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী কর্মীদের প্রতি দুজনে একজনের মৃত্যুর কারণ জানা যায় না: রামরু

২৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ।

‘প্রাণঘাতী তাপ: উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের ওপর চরম তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠার রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আজ রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রামরু এবং অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস যৌথভাবে এটি আয়োজন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) ছয়টি দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বছরে ১০ হাজার প্রবাসী মারা যান। তাঁদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কোনো অন্তর্নিহিত কারণ কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রাকৃতিক কারণ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হিসেবে মৃত্যুসনদ দেওয়া হয়। বিপজ্জনক ঝুঁকি সত্ত্বেও কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তাপসংক্রান্ত কারণে প্রাণহানি বা কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যের কোনো নিবন্ধন নেই।

শ্রমজীবীদের জন্য ‘সবচেয়ে বাজে’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

০২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশ্বের ‘সবচেয়ে বাজে’ ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি) বৈশ্বিক অধিকার সূচক ২০২৩-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা আইটিইউসির ১০ম এই সূচক গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

আইটিইউসি বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন। তারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে।

১৪৯টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে আইটিইউসির এবারের সূচকটি করা হয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা বাকি নয়টি দেশ হলো বেলারুশ, ইকুয়েডর, মিসর, এসওয়াতিনি, গুয়াতেমালা, মিয়ানমার, তিউনিসিয়া, ফিলিপাইন ও তুরস্ক।

স্কোর অনুযায়ী, সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ‘অধিকারের নিশ্চয়তা নেই’ শ্রেণিতে পড়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সূচকে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো পশ্চাদমুখী আইন, ইউনিয়ন গঠনে বাধা ও পুলিশি সহিংসতা।

আইটিইউসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার মারাত্মকভাবে খর্ব করা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন নিষেধ। ইপিজেডে শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে অধিকার-সম্পর্কিত মতামত প্রকাশও নিষেধ।

গার্মেন্টস খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই খাতে ৪৫ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এখানেও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রচেষ্টায় ক্রূরভাবে বাধা দেওয়া হয়। এখানে ধর্মঘট নির্দয়ভাবে দমন করে শিল্প পুলিশ। কর্তৃপক্ষ একটি কঠোর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চাপিয়ে ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে ব্যাহত করেছে।

বছরের প্রথম ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে ৩৮৯ শ্রমিকের মৃত্যু

০৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু বেড়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন খাতে। এর পরেই রয়েছে নির্মাণ খাত। বেসরকারি সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির (এসআরএস) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

 প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে সারা দেশে ২৮৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে ২৪১টি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৩৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।

 ১৫টি জাতীয় ও ১১টি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এসআরএস এই প্রতিবেদন তৈরি করে।

শ্রমিকনেতা শহিদুল হত্যা: মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে হয়ে’ হামলা

০৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন–ভাতা আদায়ে আরও দুই শ্রমিকনেতাকে নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডে গিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম।

মালিকপক্ষের সঙ্গে বসলেও বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় পরদিন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মালিকপক্ষ। কারখানা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই তাঁদের ওপর হামলা করা হয়, যাতে প্রাণ হারান শহিদুল।

গত ২৫ জুন রাতে টঙ্গীর সাতাইশ বাগানবাড়ী এলাকায় কারখানাটির কাছে ওই হামলার শিকার অপর দুই শ্রমিকনেতা প্রথম আলোকে এ তথ্য দেন। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফা বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি। আর মো. শরীফ জাতীয় নিট ডাইং গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

নিহত শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি। ১১ বছর আগে এই সংগঠনেরই নেতা আমিনুল ইসলাম খুন হয়েছিলেন। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া গিয়েছিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা এলাকায়।

বাস চালক-শ্রমিকদের আয়ের নিশ্চয়তা নেই!

০৬ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

দেশের অধিকাংশ গণপরিবহন বেসরকারি খাতে পরিচালিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত ন্যায্য শ্রমনীতি তৈরি হয়নি। বাস চালক-শ্রমিকদের আদর্শ মজুরি এবং কাজের সু-ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এর ফলে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য আয়ের নিশ্চয়তা নেই, জীবনমানেও আসেনি শৃঙ্খলা।

সম্প্রতি কথা হয় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বাস চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে। তাদের অধিকাংশই দৈনিক ৩ হাজার বা এরও বেশি টাকা চুক্তিতে বাস নিয়ে রাস্তায় চালান। এই চুক্তির টাকা জমা ও রাস্তায় বিভিন্ন জনকে উৎকোচ দেওয়ার পর বাড়তি যা থাকে তা তাদের আয়। কেউ আবার বেতনে বাস চালালেও তা স্বল্প মনে করেন। তাই আয় বাড়াতেই পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ সড়কে নানান বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। এছাড়া দিন শেষে নগদ টাকা হাতে পাওয়ায় স্ট্যান্ডে মাদক ও জুয়ার আসরে দৈনিক আয়ের অনেকাংশ ব্যয় করেন কেউ কেউ। এতে করে তাদের কাটে না অর্থ সংকট, জীবনে থাকে না কোনও শৃঙ্খলা।

নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা নেই

‘চুক্তিতে বাস নেও, রাতে জমার টাকা বুঝায়া দেও’— এইটাই রীতি মন্তব্য করে শিকড় বাসের চালক আউয়াল হোসেন বলেন, ‘২০ বছর ধরে গাড়ি চালায়া আসতাছি। আগে মুড়ির টিন চালাইছি, এখন অনেক ভালো গাড়িও চালাই। কিন্তু নিয়ম ওই একটাই। রাতে গিয়া বাস মালিকরে প্রতিদিনের জমার টাকা বুঝায়া দেওয়া লাগে। এরপর বাকি যা থাকে তা আমার আর আমার হেল্পারের।’

একদিনের আয়ে দুই দিন চলতে হয় জানিয়ে খাজাবাব পরিবহনের চালক মো. নুর ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম হলো একদিন গাড়ি চালায়া আরেকদিন রেস্ট। তাতে আমার এই একদিনের আয় দিয়া দুইদিন চলতে হয়। মনে করেন বাড়তি লোক উঠায়াও দিনে যদি ১২০০ থেকে ১৫০০, কোনও দিন যদি ভালো যায় ১৮০০ টাকাও আয় হয়। এখন এত কষ্ট কইরা দুই দিনের হিসাবে দিনপ্রতি কত করে আসে? বর্তমান বাজারে এই টাকায় কী হয়? রিকশা চালাইলেও দিনে এই টাকা আসে, তাও আরাম। আমাদের মতো এত হয়রানি নাই।’

নিজের আয়, মালিকের দৈনিক জমার চিন্তায় চাপে থাকতে হয় জানিয়ে বিহঙ্গ বাস চালক আব্বাস বলেন, ‘আমাদের ওপর সব দায় চাপায়া না দিয়া বাস মালিকরা যদি বলে বাস ড্রাইভাররা শুধু গাড়ি চালাইবো, ইনকামের চিন্তা নাই। তখন না সব সিস্টেমে আসবে। এখন আমার মাথার ওপর বোঝা দিয়া যদি বলেন, দৌড়ান। তাহলে তো আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার তো টেনশন থাকে ঘরে টাকা নিয়া যাইতে হইবো, মাহাজনরে টাকা বুঝায়া দিতে হইবো। আমার তো শুধু টেনশন থাকবো কীভাবে যাত্রীরে নিরাপদে পৌঁছাইয়া দেওয়া যায়?’

নেই নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টা, বিশ্রামের সুযোগ

গণপরিবহন শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনও কর্মঘণ্টা নেই বলে জানিয়েছেন বাস চালক ও সহকারীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যায় অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রাজধানীর জ্যাম ঠেলে যতটা ট্রিপ দেওয়া যায়, তার ওপর নির্ভর করে দিনের কাজ কখন শেষ হবে। কাজ শেষ করে বাস মালিককে জমার টাকা ও গাড়ির চাবি ফিরিয়ে দিতে দিতে মধ্য রাত হয়ে যায় বলেও জানান তারা।

দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় জানিয়ে মিরপুর লিংক বাসের চালক ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের যে বর্তমান পরিস্থিতি, আগে যারা গাড়ি চালাইতো, তারা একদিন পর পর চালাইতো। আর এখন যারা গাড়ি চালাই তারা ঘুমাইতে পারি না। এই সকালে আসি রাতে বাড়ি যাই পরের দিন আবার রাস্তায় নামি। এখন বাধ্য হইয়াই টানা গাড়ি চালাইতে হয় ফ্যামিলি বাঁচাইতে।’

দীর্ঘ সময় কাজের মধ্যে কোনও বিশ্রামের সুযোগ নেই বাস শ্রমিকদের। জ্যামের শহরে এক ট্রিপ দেওয়ার পর আরেক ট্রিপ দেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। অন্যথায় দিনের ট্রিপ কম হলে জমার টাকা দিয়ে নিজের আয়ে টান পড়ার দুশ্চিন্তায় থাকেন বাস শ্রমিকরা।

এবিষয়ে বিকাশ পরিবহনের চালক নজরুল বলেন, ‘দিনে পুরা ট্রিপ দেওয়া যায় তিনটা। এর মাঝে যদি বিশ্রাম নিতে চাই, তাইলে তো সময়ই পাওয়া যাইবো না গাড়ি চালানোর। এমনিতে রাস্তার বেশিরভাগ জ্যামেই আটকায়া থাকি।’

গাড়িতেই বিশ্রাম জানিয়ে শিকড় পরিবহনের আরেক চালক সোহেল বলেন, ‘আমাদের তো কোথাও পার্কিংয়ের সুযোগ নাই। সদরঘাট গেলে গাড়ি অলটাইম দৌড়ের ওপর রাখে। গাড়ি ব্রেক করারই সুযোগ দেয় না, পার্কিং তো পরে। দুপুরে খাওয়ার পরে চায়ের দোকানে না হলে বাসেই রেস্ট নিতে হয়।’

দুর্ঘটনায় আহত হলে দেখার কেউ নেই

যে কোনও দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনও ক্ষতিপূরণ পান না বাস শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, শ্রমিকের কল্যাণের নামে নানা অর্থ আদায় করা হলেও দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে কোনও ক্ষতিপূরণ পান না গণপরিবহন শ্রমিক বা তার পরিবারের সদস্যরা।

এবিষয়ে বাস চালক জাফর বলেন, ‘শ্রমিকের নাম কইরা, প্রোটেকশন দেওয়ার নাম কইরা ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৬০ টাকা আমরা চাঁদা দেই। সবখানেই কিন্তু আমাদের চাঁদা কে খায়, কোন কাজে লাগে আমরা জানি না। আমি এখন পর্যন্ত শুনি নাই কোনও শ্রমিক এক্সিডেন্ট করলে ১০ টাকা দিয়া কেউ সহায়তা করছে।’

শ্রমিকের বিপদে শ্রমিকই এগিয়ে আসে জানিয়ে আরেক বাস চালক মো. কাউসার বলেন, ‘এমনিতে তো কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কাউরে খুঁজে পাওয়া যায় না। যদিও কেউ সহায়তার জন্য আসে, ভুক্তভোগীরে নিয়া বাসস্ট্যান্ডে মূর্তির মতো বসায়া রাখে। এসময় অন্যান্য শ্রমিকরা ৫০ টাকা, ১০০ টাকা করে দেয়। এর বেশি তো দেওয়াও সম্ভব না। তারাই কত আর কামায়।’

আয় থেকে পথে পথে দিতে হয় চাঁদা

দৈনিক আয়ের একটা অংশ পথে পথে চাঁদা দিতেই ব্যয় হয় বলে জানান গণপরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলেন, দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিভিন্ন জায়গায় ওয়েবিল ও চাঁদা দিতে হয়। এই টাকার পুরোটা যায় তাদের আয় থেকে। আর এসব চাঁদা বিভিন্ন গণপরিবহন সমিতির ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের লোকেরা আদায় করেন বলে জানান বাস চালক ও সহকারীরা।

মিরপুর ১২ থেকে আজিমপুর যেতে আসতে প্রায় ৮ থেকে ১০ জায়গায় চাঁদার টাকা দিতে হয় জানিয়ে মিরপুর লিংকের সহকারী রুবেল বলেন, এই পেশার কোন ভবিষ্যৎ নাই, আয় রুজির ঠিক নাই। একদিন বেশি হয় তো আরেকদিন খরচাপাতি দিয়া টানাটানি অবস্থা। তার ওপর রাস্তার সব খরচ আমাদের। এত কিছু দিয়া আর থাকে কত। সবাই দেখে টাকার লাইগা পাড়াপাড়ি করি। এইটা তো আর এমনি এমনি না।

শিকড় বাসের সহকারী বাবু বলেন, ‘রাস্তার চাঁদা-মাদা সব টাকা আমাদের দিতে হইতাছে। আর শেষে আমার ইনকাম হোক না হোক, মালিকের টাকা বুঝায়া দিতে হয়। এক পয়সা কম নাই আগে টাকা দেও। এই চাঁদার চার-পাঁচশো যদি না দেওয়া লাগতো তাহলেও তো কিছুটা সেভ হয়’।

হাসেম ফুডসে অগ্নিকাণ্ড

ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে কারখানাটির উৎপাদন

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল শনিবার। ২০২১ সালের ৮ জুলাই ছয়তলা ভবনের ওই কারখানায় আগুনে প্রাণ হারান ৫৪ জন। এ ঘটনার দুই বছরেও মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। উল্টো ফায়ার সার্ভিস, প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই পুরোদমে কারখানাটির উৎপাদন চলছে। এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন কারখানার মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, তাঁর চার ছেলেসহ আট আসামির সবাই।

গতকাল সকালে কারখানা এলাকায় গিয়ে ওই কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তা ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। মো. আমজাদ ও সাহারা খাতুন নামের দুজন জানান, বর্তমানে কারখানাটির চারটি ভবনে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানাটিতে এখন জুস, লাচ্ছি, সেমাই ও নুডলস উৎপাদন করা হয়।

কারখানার একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার চার মাস পর পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালানোর কথা বলে কারখানা চালু করা হয়। শুরুতে চার-পাঁচ শ শ্রমিক কাজ করতেন। ধীরে ধীরে শ্রমিক ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। এখন প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। তবে এখনো প্রশাসনিকভাবে উৎপাদনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

অনুমোদন ছাড়া কীভাবে উৎপাদন চলছে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সবকিছু ম্যানেজ করেই চালাতে হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ রাখলে অনেক শ্রমিক কাজ হারান। আবার যন্ত্রও নষ্ট হয়।’

১০ লাখ ৬৮ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত

জুলাই ১৯, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২’এর প্রভিশনাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২’র ফলাফলে দেখা গেছে, দেশে ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩৯,৯৬৪,০০৫ বা ৩৯.৯৬ মিলিয়ন। তাদের মধ্যে যথাক্রমে শ্রমজীবী শিশুর সংখ্যা ৩,৫৩৬,৯২৭ জন, শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১,৭৭৬,০৯৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজত শিশুর সংখ্যা ১,০৬৮,২১২।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০২২ সালে শ্রমজীবী শিশু এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কমেছে।

২০১৩ সালের শিশুশ্রম জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৯,৬৫২,৩৮৪। তাদের মধ্যে ৩,৪৫০,৩৬৯ শ্রমজীবী, শিশুশ্রমে নিয়োজিত ছিল ১,৬৯৮,৮৯৪ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত ছিল ১,২৮০,১৯৫ জন শিশু।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম, ঢাকা ঘুরেও হাসপাতালে ভর্তি করা গেল না শাহীনকে, গেল না বাঁচানো

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মো. শাহীনকে বাঁচানোর আশা নিয়ে তাঁর স্বজনেরা গতকাল মঙ্গলবার রাতে এসেছিলেন ঢাকায়। মুমূর্ষু শাহীনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাতভর তাঁরা ঘুরেছেন এ হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও তাঁকে ভর্তি করতে পারেননি। অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মারাই গেলেন শাহীন।

শাহীন এক হতদরিদ্র নাগরিক। গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার মোটবি ইউনিয়নে। বাবা মুন্সী মিয়া। ৩৮ বছর বয়সী শাহীন ২৩ এপ্রিল রোববার অর্থাৎ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন সকালে ফেনী শহরের অদূরে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত পান। গাছের সঙ্গে ধাক্কায় তাঁর মাথার একাংশ থেঁতলে যায়।

২২ জেলায় সরকারিভাবে আইসিইউ সেবা নেই

২৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৯: ৩৩

মাথায় আঘাত পাওয়া মো. শাহীনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আঘাত এত গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় রেখে তাঁর চিকিৎসা সম্ভব ছিল না। নিজের শহর ফেনীর সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়নি। পাশের জেলা চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি ছিল না। তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। চিকিৎসা না পেয়ে ফেনীতে ফেরত নেওয়ার পর গত বুধবার তিনি মারা যান।

শাহীনের জন্য আইসিইউ শয্যাসংকট বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনদের কাছ থেকে জেনেছেন, দেশের কমপক্ষে ২২ জেলায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবা নেই।

জেলায় জেলায় আইসিইউ নেই

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ নেই এমন জেলার মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, বরগুনা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, নাটোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ভোলা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গা ও সুনামগঞ্জ। এ ছাড়া বাগেরহাট ও মাদারীপুর জেলায় সরঞ্জাম থাকলেও আইসিইউ চালু নেই।

মানুষের আইসিইউ সেবার দরকার হলে কী করেন প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাট জেলার সিভিল সার্জন প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমরা জরুরি রোগী রংপুরে পাঠিয়ে দিই।’

রাজধানীর একাধিক বড় সরকারি হাসপাতালেও এই শয্যা নেই। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) এক হাজার শয্যার। সারা দেশের গুরুতর আহত রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়। গতকাল ওই হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে কোনো আইসিইউ শয্যা নেই। জাতীয় নাক-কান-গলা হাসপাতালেও এ ধরনের কোনো শয্যা নেই।

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দুই সপ্তাহ পর অস্ত্রোপচার শুরু

০২ মে ২৩, সমকাল

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে দুই সপ্তাহ পর অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শীতাতপ যন্ত্রের কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে এবং জীবাণুমুক্ত করার কাজ শেষে এটি চালু করা হলো। মঙ্গলবার এখানে তিনজনের অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম মনজুরুল আলম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সব কাজ শেষ করে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। আইসিইউর এসি মেরামত করা ও জীবাণুমুক্ত করতে এটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অধ্যাপক ডা. একেএম মনজুরুল আলম জানান, ঈদের আগে হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের আইসিইউ ইউনিটের এসি দিয়ে পানি পড়ায় অনেক রোগীর সংক্রমণ বাড়তে থাকে। গত ১৮ এপ্রিল এক রোগীর সংক্রমণ বাড়লে তাকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বন্ধ করে রাখা হয় ২৯ শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি। সবশেষ এ ইউনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত মরিয়ম বেগমের অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ঈদের ছুটি শুরু হয়।

চিকিৎসা চালাতে নিঃস্ব হচ্ছেন রোগী-স্বজন

০৮ মে ২৩, সমকাল

দিনমজুর কিবরিয়া মাতুব্বর থাকেন মাদারীপুর সদরের একটি ভাড়া বাসায়। তার ১১ বছরের ছেলে মো. সোহান রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। কিবরিয়া বলেন, তিন বছর বয়সে ছেলের থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হয়। ৭ থেকে ৮ বছর  ধরে চিকিৎসা করে আসছি। প্রতি মাসে দু’বার রক্ত দিতে হয়। সেই সঙ্গে অনেক ওষুধ কিনতে হয়। সব মিলিয়ে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার খরচ। মাঝেমধ্যে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন সোহান অনেক দুর্বল হয়ে যায়। ছেলের অসুস্থতা বাড়লে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা বাড়ে। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ফের চিকিৎসা শুরু করি। এরই মধ্যে নিজের জায়গাজমি বিক্রি করতে হয়েছে। এভাবে কতদিন চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারব জানি না।

রাজধানীর বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানও থ্যালাসেমিয়া রোগী। ২২ বছরের নুসরাত দুই বছর বয়স থেকে এ রোগ বহন করছেন। প্রতি মাসে দু’বার হিসাবে গত ২০ বছরে প্রায় ৪৮০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে তাঁকে। রক্ত জোগাড়ে প্রতিবারই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে শরীরে নানা জটিলতাও দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। পা ও হাতের হাড় ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাইয়েরও থ্যালাসেমিয়া রয়েছে। নুসরাত জানান, সবচেয়ে বেশি কঠিন রক্তের ব্যবস্থা করা। প্রতি মাসে চার ব্যাগ রক্ত লাগে তাঁদের। প্রতিদিনই ডোনার খুঁজতে হয়।

শুধু সোহান বা নুসরাত নন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন লাখো রোগী ও তাঁর স্বজন। তাঁদের আকুতি, দেশের সব স্থানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা সহজ এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

তবে দেশে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় রয়েছেন মাত্র ১৩৫ রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে। এ হিসাবে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এর বাহক। প্রতি বছর আরও ৫ থেকে ৬ হাজার শিশু এ রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। যে হারে রোগী বাড়ছে, সেই হারে বাড়েনি সেবার মান। চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত গ্রামের রোগীরা।

ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অখিল রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা ব্যয়বহুল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ চিকিৎসা চালাতে হয়। তবে অধিকাংশ রোগী ৫ থেকে ১০ বছর চিকিৎসা নিয়ে অর্থ সংকটে বন্ধ করে দেয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনও ব্যয়বহুল। অটোলোগাস পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে ৫ লাখ টাকা এবং অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে এর প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হবে। কিন্তু চিকিৎসাপ্রার্থীরা দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এ জন্য সরকারের এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের সভাপতি ডা. এম এ মতিন বলেন, তাঁদের সমিতির আওতায় প্রায় ৯ হাজার নিবন্ধিত রোগী রয়েছেন। তাঁদের জন্য বছরে ২ লাখ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। তবে তাঁরা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ব্যাগ সংগ্রহ করতে পারছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, দেশে চাহিদার মাত্র ৩১ শতাংশ রক্ত সংগ্রহ করা হয় স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে। যে রোগীদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তাঁদের প্রতি মাসে ১ থেকে ৪ ব্যাগ রক্ত লাগে। ৮০ শতাংশ পরিবার নিয়মিত রক্ত জোগাড়ে সমস্যায় পড়ে। দেশে বহুল পরিচিত ব্লাড ডোনার ক্লাব ও সংস্থা থেকেও তাঁরা আশানুরূপ সহযোগিতা পান না।

ভোগান্তির শেষ নেই রোগীর স্বজনদের

৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সাত বছরের আরিয়ান হাসানকে মাসে দুবার গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসতে হয়। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত আরিয়ানের রক্ত পরিসঞ্চালন, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয় পরিবারকে।

গতকাল রোববার রাজধানীর গ্রিন রোডে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার প্রায় সব শয্যাতেই রোগী। আরিয়ানকেও সেখানে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। তখন সে ঘুমাচ্ছিল। তার মা আয়েশা জানান, দেড় বছর বয়সে আরিয়ানের রোগটি ধরা পড়ে। সেই থেকেই ঢাকায় নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছে সে।

আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘সচেতন হোন, জানান, যত্ন নিন: সেবার মান বৃদ্ধিতে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানুন’। বলা হয়ে থাকে, দেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। তবে দেশে কী পরিমাণ রোগী বা বাহক আছে, তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা-বাবার মধ্যে কেউ বা দুজনই থ্যালাসেমিয়ার রোগী বা এ রোগের বাহক হলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।

হাসপাতালে দেখা গেল, বাড্ডা থেকে আসা সাড়ে তিন বছরের শাহির আল আসিরের এক হাতে ক্যানুলা লাগানো। তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। আট মাস বয়সেই শাহিরের থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। ওর মা সানজিদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, মাসে একবার শাহিরকে নিয়ে আসতে হয়। তিনি ও শাহিরের বাবা দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক। চিকিৎসার খরচ প্রসঙ্গে জানান, রক্ত, ওষুধের জন্য মাসে ১০–১২ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়।

একাধিক রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বয়স ও রোগীর অবস্থাভেদে মাসে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসা খরচের পাশাপাশি রক্তের সন্ধানে তাঁদের দৌড়াতে হয় প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের প্রধান উপায় হচ্ছে বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা। তাই বিয়ের আগে প্রত্যেককে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ–সংক্রান্ত আইন আছে। থ্যালাসেমিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বাংলাদেশকে তেমন কিছু ভাবতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন জানায়, তাদের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এখন ছয় হাজারের বেশি। তিন বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল তিন হাজারের মতো। এ ছাড়া থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এখন সাড়ে চার হাজার, যা তিন বছর আগে আড়াই হাজারের মতো ছিল।

থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের (টিআইএফ) ‘গ্লোবাল থ্যালাসেমিয়া রিভিউ ২০২২’ নামে একটি প্রকাশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এর চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মনজুর মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসকদের সবাইকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে রোগটি সম্পর্কে জানাতে শিক্ষাক্রমে সেটি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।

রোগী ও রোগীদের স্বজনদের দ্বারা পরিচালিত হয় বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি। এর সভাপতি এম এ মতিনের এক সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতন থাকার কারণে তাঁর সেই সন্তান এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিও পেরিয়েছেন। তাঁরা স্বামী–স্ত্রী দুজনই বাহক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোয় থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসার জন্য আলাদা সেন্টার চালু করা প্রয়োজন।

রোগী বাড়ছে, নিরাপদ পানি নিশ্চিতের তাগিদ

১১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীর প্রায় ৪০ ভাগের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে কলেরার জীবাণু। মূলত অনিরাপদ খাওয়ার পানির মাধ্যমে এই জীবাণু মানুষের শরীরে যাচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়ারায় ডায়রিয়া রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এসব উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার ২৬৫ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। এ নিয়ে চলতি মাসে উপজেলাগুলোতে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আড়াই হাজারে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬৯৫।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত খাওয়ার পানি কিংবা নানা ধরনের খোলা পানীয় থেকে ডায়রিয়া হয়। ওয়াসার পানিও নানাভাবে দূষিত হয়। আগেও হালিশহরে খাওয়ার পানিতে কলেরা জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে অসমোটিক ডায়রিয়া হতে পারে। গবেষণা দল বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

ক্যানসার চিকিৎসায় গড় খরচ সাড়ে ৫ লাখ টাকা

১৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪০ টাকা পকেট থেকে খরচ করতে হয়। এই খরচ জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৮১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় ওষুধপত্র কিনতেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অধিবেশনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে ক্যানসারের রোগীর খরচের এই চিত্র তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি করেন বিআইডিএসের গবেষক আবদুর রাজ্জাক সরকার। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষণায় দেখানো হয়, হাসপাতালে নিবন্ধন, চিকিৎসক সম্মানী, পরীক্ষা–নিরীক্ষাসহ সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত খরচ হয় গড়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫ টাকা। যাতায়াত, খাবারসহ অন্যান্য খরচ হয় আরও ৯০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ক্যানসারের প্রথম স্তরে গড়ে চিকিৎসা খরচ ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪৩ টাকা। আর দ্বিতীয় স্তরে গড় খরচ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৫ টাকা।

সাড়ে চার শ ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এই গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কোনো সদস্য ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়। ৬৫ শতাংশ পরিবার নিয়মিত আয় থেকে খরচ করেছে। ৫৬ শতাংশ পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। আর সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে ৪০ শতাংশ পরিবারকে।

প্রক্রিয়াজাত ৬২ শতাংশ খাবারে অধিকমাত্রায় লবণ

২২ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার গ্রহণ করে। আর এসব খাবারে রয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত লবণ। এ কারণে কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

রোববার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে লবণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং রিসলভ টু সেইভ লাইভস (আরটিএসএল) এর সহযোগিতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (ক্লিনিকাল রিসার্চ) ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান। তিনি বলেন, এক হাজার ৩৯৭ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার দেশের বাজারে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০৫ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে অধিকমাত্রায় লবণ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫.২ শতাংশ খাবারে অত্যধিক এবং ২৬.৭ শতাংশ খাবারে বেশি, তবে তুলনামূলক কম অতিরিক্ত লবণ রয়েছে। আর ৩৮.১ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে সঠিক মাত্রায় লবণ রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর পরামর্শ শোনেনি সরকার

২৪ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শক কে কে কৃষ্ণমূর্তি ২০১৭ সালে সরকারকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। দুই বছর পর ২০১৯ সালে ওই সংস্থার জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল ডেঙ্গুর জীবাণু বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। সরকার সেই পরামর্শও সব কটি শোনেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২০০০ সালের পর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে অস্থায়ী ভিত্তিতে, সমস্যার আপাত সমাধান করতে। তাদের কাজে কোনো সমন্বয় নেই। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু এখন সারা দেশের রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ডেঙ্গু মূলত ঢাকা শহরের রোগ ছিল। চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় শহরে অতীতে কিছু ডেঙ্গু রোগী দেখা গেছে। কিন্তু গত বছর দেশের ৫০টির বেশি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। এ বছর ডেঙ্গুর মৌসুম এখনো শুরু হয়নি, এরই মধ্যে ৪৪টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রোগীরা। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গুর জীবাণু ও জীবাণু বাহক মশা সারা দেশেই আছে। ডেঙ্গু এখন সারা দেশের মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভয়ংকর চেহারায় ডেঙ্গু

০১ জুন ২৩, সমকাল

দুই বছর আগে ২০২১ সালের মে মাসে সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৪৩ জন। গত বছরের মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৬৩। এই বছরের মে মাসে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬। সরকারি পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা আগ্রাসী চেহারায় রয়েছে এবারের ডেঙ্গু। আতঙ্কের বিষয়– গত বছরের চেয়ে এবার ছয় গুণ গতিতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি। মে মাসের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় জ্যামিতিক হারে রোগী বাড়ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উড়ন্ত এডিস মশা নিধনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে অধিকাংশ হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় রয়ে গেছে অব্যবস্থাপনা। এখনও অনেক হাসপাতালে প্রস্তুতিই নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকে হাসপাতালের শয্যায় মশারির ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিলেও চিকিৎসাধীন ৯০ শতাংশ রোগী থাকছেন মশারি ছাড়াই। এতে হাসপাতালের অন্য রোগীর মধ্যে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এছাড়া সব হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ইউনিটও করা হয়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দ্রুতই হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, গড়ে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ দিন। তবে হাসপাতালে গত বছরের মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু চিকিৎসার বাড়তি খরচ মেটাতে বেকায়দায় পড়ছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর (গতকাল পর্যন্ত) ২ হাজার ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মে মাসেই ১০৩৬ জন। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৯৮৬ জন। সে হিসাবে গত চার মাসের চেয়ে মে মাসেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার যাত্রাবাড়ীতে এবং রাজধানীর বাইরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল জোড়াতালি দিয়ে চালুর চেষ্টা

০৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা দিতে ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ উদ্বোধনের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ বিশেষায়িত এই হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তো দূরের কথা, একজন রোগীও ভর্তি করতে পারেনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএসএমএমইউ সূত্র জানিয়েছে, বিশেষায়িত এই হাসপাতাল চালু করার জন্য মে মাসে উচ্চপর্যায়ের অন্তত চারটি সভা হয়েছে। হাসপাতালের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে। ১ জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতাল চালু করতে বলা হয়েছে। এখন চাপে পড়ে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালটি চালুর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগের বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক ও সি ব্লকের উত্তর এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পশ্চিম দিকে।

অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ খরচ হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ঋণ। ৩৩৮ কোটি টাকা সরকারের সহায়তা এবং বাকি ১৭৫ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন।

বিএসএমএমইউতে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি রোগী এর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। দেড় হাজার শয্যার হাসপাতালে ৪৬টি বিষয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হয়। এত বড় আয়োজন থাকার পরও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ আছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবার যে কথা শোনানো হয়েছিল, বর্তমান বিএসএমএমইউর প্রশাসন তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

দক্ষতার ঘাটতি নিয়েই চিকিৎসক

২৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

২৫ মে সকাল নয়টায় রাজশাহীর শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজে গিয়ে এর অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। কলেজে বেলা একটা পর্যন্ত কোনো শিক্ষক আসেননি, কোনো শিক্ষার্থীও চোখে পড়েনি। পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এটি একটি মেডিকেল কলেজ। আছে শুধু সাইনবোর্ড।

মেডিকেল কলেজটি রাজশাহী মহানগরের খড়খড়ি এলাকায়। কলেজের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা এই প্রতিবেদককে বলেন, দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলতে হলে সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৯ বছর আগে ২০১৪ সালে বেসরকারি এই মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কলেজটির কার্যক্রম একাধিকবার স্থগিত করেছে। কর্তৃপক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি অব্যাহত রাখে। তবে এ পর্যন্ত এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে কলেজে শিক্ষার্থী আছেন ৪০ জন।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে নিয়মনীতির মধ্যে আনা হচ্ছে। যারা কথা শুনছে না, এমন ছয়টিকে বন্ধ করেছি। কলেজ পরিচালনার নীতিমালা তৈরি হয়েছে।

অধ্যাপক মো. টিটো মিয়া, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৭৭টি। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শাহ্ মখদুমসহ ছয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেয়নি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এই তালিকায় অন্য মেডিকেল কলেজগুলো হলো ঢাকার কেয়ার, নর্দান, আইচি ও নাইটিঙ্গেল এবং রংপুরের নর্দান মেডিকেল কলেজ। এই প্রতিবেদক রাজশাহীর শাহ্‌ মখদুম ছাড়াও তালিকার বাইরে থাকা খুলনা শহরে দুটি এবং ঢাকার তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ঘুরে দেখেছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। হাতে-কলমে শিক্ষারও ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকার ১৯ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা

২৮ জুন ২৩, সমকাল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এমন লার্ভা পাওয়া গেছে প্রায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িতে। অর্থাৎ, রাজধানীর ১৯ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা আছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বছরে তিনবার মশা জরিপ করে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার বর্ষাকালীন মশা জরিপে রাজধানীর এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে সারাদেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে।

জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে পানি জমে থাকা ঘর বা ভবনের মেঝে, প্লাস্টিকের ড্রাম বা প্লাস্টিকের নানা ধরনের পরিত্যক্ত পাত্রে। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ডিএনডিসি এলাকার ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিত্যক্ত পাত্রে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ১৮ থেকে ২৫ জুন উভয় সিটিতে এ জরিপ হয়। উভয় সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৫১১টি বাড়ি পরিদর্শন করেন জরিপকারীরা।

ছয় মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড শনাক্ত ৮২৪৮

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এত মৃত্যু আগে কখনও দেখা যায়নি। এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন, এপ্রিলে দুই, মে মাসে দুই এবং গত মাসে ৩৪ জনের প্রাণ গেছে। করোনা মহামারিকালে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১ হাজার ১১১ জনের। ওই বছর জুনে প্রথম ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বছর শেষে ২৮১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডেঙ্গুতে এটি এক বছরে দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ১০০ জন আক্রান্ত হন। তবে প্রথম ছয় মাসে কেউ মারা যাননি। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৮। মারা গিয়েছিলেন সাতজন।

এবার ডেঙ্গু ভয়ানক রূপ নিতে পারে

০৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০১৯ সালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্‌-বর্ষা জরিপের তথ্য বলছে, এবারের পরিস্থিতি ২০১৯ সালের চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার ঘনত্ব এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থলের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৫টিই ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৯ সালে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ড ছিল ২১টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রাক্‌-বর্ষা জরিপ অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সব এলাকাতেই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপস্থিতি বেশি। এবার ডেঙ্গুর মৌসুম গত বছরের মতো দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের জোরালো কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসী সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নিতে পারে।

৮৬১% রোগীর চিকিৎসা দেন ওঝারা

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

পাটখেতে কাজ করার সময় গত ৩ জুলাই রাজবাড়ীর কৃষক জাহিদ প্রামানিককে সাপে কামড়ায়। প্রথমে তিনি চিকিৎসার জন্য পাংশা সদর হাসপাতালে যান। সাপের বিষের চিকিৎসা না থাকায় তিনি বাসে চড়ে কুষ্টিয়ায় যান এবং সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তাঁর প্রাণরক্ষা হয়।

এর কিছুদিন আগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক যুবক সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাননি। কারণ, হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ অ্যান্টিভেনাম ছিল না।

দেশে প্রায় প্রতিদিনই সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন মানুষ। গ্রামে এসব ঘটনা বেশি। তবে উপজেলা পর্যায়ে সব হাসপাতালে এসব রোগীর ওষুধ নেই। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গবেষকেরা বলছেন, সাপের কামড়ের ৬১ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নেন ওঝাদের কাছ থেকে।

ওষুধের আনুপাতিক ব্যয়ে সবার ওপরে কি বাংলাদেশ

জুলাই ০৮, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে স্বাস্থ্যসেবায় যে অর্থ ব্যয় হয় তার প্রায় অর্ধেকই যাচ্ছে ওষুধে। গত কয়েক দশকে এ ব্যয় কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বর্তমানে এ ব্যয়ের হার ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে খরচের ১০০ টাকার মধ্যে ৪৪ টাকাই ওষুধের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। এ খরচের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ওষুধের খরচে বৈশ্বিক গড় ব্যয় ১৫ শতাংশ। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণে দেশে এ ব্যয় বেশি। এতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বাড়তি ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার) বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএর তথ্যমতে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ে ওষুধের খরচ সবচেয়ে কম যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে মোট স্বাস্থ্যসেবার খরচের মাত্র ৯ শতাংশ ওষুধে ব্যয় হয়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কানাডা। দেশটিতে এ হার ১০ শতাংশ। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলে ১৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ১৫ শতাংশ, ইতালি, জাপান ও জার্মানিতে ১৭ শতাংশ, স্পেনে ১৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ শতাংশ ওষুধের পেছনে খরচ হয়।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপালেও স্বাস্থ্য ব্যয়ে ওষুধের খরচ বাংলাদেশের তুলনায় কম। এ দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং গবেষণা থেকে জানা যায়, ভারতে ওষুধে ব্যয়ের হার ২৭ শতাংশ, নেপালে ২৬ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৩০ শতাংশের কিছু বেশি।

তবে দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪৪ শতাংশই ওষুধে খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। গত জানুয়ারিতে ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এ প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০২০ সালের হিসাবে দেখা যায়, সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার বার্ষিক স্বাস্থ্য ব্যয়ে ৭৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ওষুধে ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ব্যয়ের ৪৪ শতাংশ। এছাড়া ২৩ শতাংশ হাসপাতাল অবকাঠামো, বহির্বিভাগে চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে ১৬ শতাংশ, পরীক্ষায় ৮ শতাংশ, জনস্বাস্থ্যমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৪ শতাংশ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ২ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে ২ শতাংশ।

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশের ৬০ জেলায়

১০ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রতিরোধে কার্যকর গুরুত্ব না দেওয়ায় দেশের ৬০ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবার জটিল হচ্ছে। মানুষ একই সঙ্গে ডেঙ্গুর একাধিক ধরনেও আক্রান্ত হচ্ছেন। আর কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি হওয়ায় এবার ডেঙ্গুতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর গত দুই দশকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বছরের জুলাই মাসের শেষে বা আগস্টের শুরু থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর জুলাই মাসের শুরু থেকেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৮। আর গতকাল রোববার (৯ জুলাই) এক দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৬ জন। এই সংখ্যা এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির দিক থেকে (চলতি বছরে) সর্বোচ্চ।

সব পানিতেই জন্মাচ্ছে এডিস, কামড়ায় রাতেও

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বদলে গেছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার গতিপ্রকৃতি। এ মশা শুধু দিনেই নয়, রাতেও কামড়ায়। এমনকি স্বচ্ছ পানির পাশাপাশি এডিস মশা ময়লা পানি ও সমুদ্রের নোনা পানিতেও ডিম পাড়ে এবং জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের গবেষণায় এমন তথ্য এসেছে।

চলতি বছরের মধ্যে গতকাল শনিবার সর্বোচ্চ ৮২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ জন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর ১২ হাজার ১১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬৭ জন।

গবেষক কবিরুল বাশার শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে আমরা পরিষ্কার পানির কথা জানি। আমি নিজেও এটি সব সময় বলে এসেছি। কিন্তু আমাদের গবেষণায় আমরা পেয়েছি এডিস মশা ড্রেনের ময়লা পানি এমনকি সমুদ্রের নোনা পানিতেও ডিম পাড়ে এবং জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে।

তিনি বলেন, এক সেন্টিমিটার পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও আমরা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছি। ইতঃপূর্বে আমরা জানতাম এডিস মশা শুধু দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে এবং বিকালে কামড়ায়। কিন্তু আমাদের গবেষণায় সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে?

জুলাই ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে চলতি বছর ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের কথা গতকাল জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৪৬ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এ নিয়ে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ২০২৩ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের নিশ্চিতকৃত সংখ্যা ৮৮।

সে অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫ দশমিক ৪৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ বছর বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি।

বিষয়টিকে চরম উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের ভাষ্যমতে, রোগটির বাহক এডিস মশা এরই মধ্যে আচরণ বদলে ফেলেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হতেও দেখা যাচ্ছে কম। যদিও এর শক সিনড্রোম এখন আরো প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। শনাক্তের আগেই মৃত্যুর ঘটনাও শোনা যাচ্ছে অনেক। আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও হিসাব প্রকাশ করছে শুধু হাসপাতালে ভর্তিভিত্তিক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) বলেছে, চলতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ২২ লাখ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজারের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয়। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া দেশগুলো হলো ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু ও আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ হিসাবে ব্রাজিলে চলতি বছর শনাক্তকৃত ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৬০ রোগীর মধ্যে মারা গেছে ৩৮৭ জন। প্রতি হাজার রোগীর বিপরীতে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ২৫ জন। বলিভিয়ায় শনাক্তকৃত ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮২ রোগীর মধ্যে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে মৃত্যুহার হাজারে দশমিক ৫৫ জন। পেরুতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৯ রোগীর মধ্যে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৪৩ জন। আর্জেন্টিনায় ৯৯ হাজার ৪৫৬ জনে মারা গেছে ৫৯ জন। হাজারে মৃত্যুহার দশমিক ৫৯ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ পাঁচ গুণ

১৫ জুলাই ২৩, সমকাল

সরকারির চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ দিন-রাতের ফারাক। এডিস মশাবাহিত এ রোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে পা রাখলেই খরচাপাতি বাড়ে অন্তত পাঁচ গুণ। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সাধারণ চিকিৎসায় এক রোগীর খরচ যেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত লাখ টাকা। দেশের সর্বোচ্চ মানের বেসরকারি হাসপাতালে এ খরচ গিয়ে ঠেকে ৩ থেকে ৪ লাখে।

একই রোগের চিকিৎসা খরচে এত বড় ব্যবধান অযৌক্তিক মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্রমবর্ধমান বিস্তারের পাশাপাশি চিকিৎসা খরচও উদ্বেগজনক। বিপর্যয়মূলক স্বাস্থ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি হাসপাতালে তদারকি বাড়ানো দরকার। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সরকারি বা বেসরকারি– যেখানেই ভর্তি থাকুক, ডেঙ্গু রোগীর খরচ বাড়াচ্ছে অ্যাপারেসিস প্লাটিলেট। যাদের প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে যাচ্ছে, তাদের ১ থেকে ৩ ব্যাগ পর্যন্ত প্লাটিলেট নিতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১ ব্যাগ প্লাটিলেটের দাম ১৪ হাজার টাকা। বেসরকারিতে যা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ডিএনসিসির নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের লার্ভা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

জুলাই ১৫, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিজেদের নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আজ শনিবার দুপুরে গাবতলী বেড়িবাঁধ রোডে ডিএনসিসির ক্লিনার্স পল্লী আবাসনের নির্মাণাধীন দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্স এবং মাইশা কন্সট্রাকশনকে দুটি মামলায় ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্যে গরমিল

১৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে। আবার কোথাও মৃত্যু বেশি দেখা যাচ্ছে। একইভাবে আক্রান্তের সংখ্যাও কম পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী ও চট্টগ্রামের চারটি বড় সরকারি হাসপাতালের তথ্য যাচাই করে এটা জানা গেছে।

এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। গতকাল সোমবার এক দিনে আরও ৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৪। এর মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৪৮ জন পুরুষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলা করতে হলে সঠিক তথ্য দরকার। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রতিদিন রাজধানীর ২০টি সরকারি হাসপাতাল, ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা শহরের বাইরের ৭১টি হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য প্রকাশ করে। গতকাল প্রথম আলো মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের প্রকাশ করা তথ্যের মিল নেই।

প্রতিদিন ওই হাসপাতালগুলো নির্দিষ্ট ছকে কন্ট্রোল রুমে ডেঙ্গুর তথ্য পাঠায়। ওই ছকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় নতুন কত রোগী ভর্তি হলো, কতজনের মৃত্যু হলো, কত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেন এবং কত রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেই তথ্য থাকে। কন্ট্রোল রুম সব হাসপাতালের তথ্য একত্র করে তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমে পাঠায়।

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু একদিনে ১৯ জনের মৃত্যু

জুলাই ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত সংক্রামক এ রোগটি। একদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ১৯ জন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বাসায় থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য এ রোগে এত মৃত্যুর হার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল ১৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ১৭ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৬। চলতি মাসের ১৮ দিনেই প্রাণ হারিয়েছে ৯৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো হাসপাতালভিত্তিক ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৭৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৯২। তাদের মধ্যে জুলাইয়ের ১৮ দিনে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৮১৪ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৯২২ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭০ জন ভর্তি হয়েছে। আর মারা যাওয়া ১৯ জন রোগীর মধ্যে ১৭ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। বর্তমানে ৫ হাজার ৫৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে রাজধানীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আর সারা দেশে অন্যান্য হাসপাতালে সোয়া দুই হাজার রোগী।

৯৯ শতাংশ হাসপাতাল হিসাবের বাইরে

২৩ জুলাই ২৩, সমকাল

প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসাব দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট হাসপাতালের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর তথ্য প্রকাশ করছে সরকারি এ সংস্থাটি। বাকি ৯৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আংশিক ওই তথ্যকে পূর্ণাঙ্গ ধরে প্রকাশ করা অনৈতিক। এতে রোগ নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। এরকম লুকোচুরিতে গোপনে মহামারিও দেখা দিতে পারে। এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ মহামারি পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি এবং আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এবার সর্বোচ্চ হতে পারে। তবে বিপুল সংখ্যক হাসপাতাল ও হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগী ও মৃত্যু হিসাব না থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

করোনা মহামারির সময় জরুরি উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি স্থানীয় অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্যও মানুষ জানতে পারত। এবার ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ৭০টি হাসপাতালে তথ্যে গত এক দিনে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত রেকর্ড ২২৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ২৩ বছরে এক দিনে এই বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৮৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হন ১৮ হাজার ৮৮৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১ হাজার ৮০০ জন। শুধু জুলাইয়ের ২১ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৭০৭ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ১১ জন মারা গেছেন। তাতে এডিস মশাবাহিত রোগে এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৭ জনে। তাদের মধ্যে ১২০ জনের মৃত্যুই হয়েছে জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সারাদেশে সরকার-বেসরকারি ৫ হাজার ২৭৫টি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২০টি সরকারি ও ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী তথ্য সরকারিভাবে দেওয়া হয়। এর বাইরে ৫ হাজার ২০৫টি হাসপাতাল রয়েছে। এমনকি অনেক রোগী আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে, যার তথ্য নেই সরকারের কাছে। দেশে ৪২৪ উপজেলা, ৬৪ জেলা ও বিশেষায়িত পর্যায়ের মেডিকেল ৩০টিসহ মোট ৫৭৭ সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাসপাতালের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৪ হাজার ৬৯৮টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৫০টি তথ্য আসছে।

রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী থাকে এর অন্তত পাঁচগুণ বেশি পাওয়া যায় ওই এলাকায়। বৈজ্ঞানিক উপায়ে হাসপাতাল এলাকা অর্থাৎ ওই শহর বা গ্রামে জরিপ করলে দেখা যাবে, ১০ রোগী ভর্তি হলেও বাস্তবিক অর্থে চিকিৎসার বাইরে রয়েছে ৫০ জন। এ পদ্ধতিতে এনসেফালাইটিসের (জীবাণুঘটিত মস্তিষ্কের প্রদাহ) বেলায় জরিপ করা হয়েছিল।

মশা মারতে ১২২ কোটি টাকা ব্যয় করবে ঢাকা উত্তর সিটি

২৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মশা নিধনে এবার প্রায় ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, যন্ত্রপাতি কেনা, ডেঙ্গু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচারকাজে এই টাকা ব্যয় করা হবে।

আজ সোমবার দুপুরে গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরাদ্দের এ বিষয়টি জানানো হয়। ডিএনসিসির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ বাবদ মোট ১১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী এ খাতে ব্যয় হয় ৭৪ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী এ খাতে ব্যয়ের তুলনায় এবারের বরাদ্দ প্রায় দেড়গুণ বেশি।

শিক্ষা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গরিবই রয়ে গেল

০৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পুরান ঢাকার অভিজাত এলাকা ওয়ারী। সেখানকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটে সুউচ্চ ভবনের ফাঁকে একতলা একটি ঘর। ছাউনি টিনের, দেয়াল পাকা। তারই মধ্যে একটি সাইনবোর্ডে লেখা—‘মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৫৭ ’।

 সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, মোটামুটি ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি মাত্র কক্ষ। পুরো ঘরজুড়ে জীর্ণতার ছাপ। একপাশে একটি চেয়ার ও ছোট একটি টেবিল পেতে প্রধান শিক্ষকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি জায়গায় ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চ রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানেই চলছে পাঠদান।

 ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন, তার একটি মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিগত ৫০ বছরে ওয়ারীর একতলা ঘরগুলো ভেঙে বহুতল ভবন হয়েছে, শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে, কিন্তু মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি।

 বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০। শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। এ বিদ্যালয়ে ওয়ারীর নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা পড়ে। শিক্ষকেরা জানান, শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে স্কুলের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এমনকি শৌচাগারও (টয়লেট) ছিল না। বছরখানেক আগে শিক্ষকেরা নিজস্ব উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি শৌচাগার নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়টিতে কোনো দপ্তরি নেই।

শিক্ষকেরা আরও জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সরকারের কাছ থেকে বেতন পান। আর বছরে ৫০ হাজারের মতো সরকারি বরাদ্দ আসে, যা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ করা হয়।

২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন তৈরি করা হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যদিও সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রুমা চৌধুরী (গত ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়েছেন) প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীতে এমন দুরবস্থার মধ্যে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে, সেটা ভাবাই যায় না।

শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব দেখি না। তবে এসব বিষয় যাঁদের দেখভাল করার কথা, যাঁরা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাঁরা সেটি ঠিকমতো করছেন না।

রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দুরবস্থার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন মাসে এটিসহ ঢাকার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য—এক. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নগরের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা পড়ে। দুই. বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরি, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া নেই। ব্যবস্থাপনা কমিটি বা স্থানীয়দের অনুদানে সামান্য বেতনে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মী রাখা হয়েছে। তিন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মলিন ও অপরিচ্ছন্ন। চার. শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। পাঁচ. সহশিক্ষা কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ছয়. বেশ কিছু বিদ্যালয়ের জমি ও অবকাঠামো বেদখল।

এই প্রতিবেদক যে ৪০টি বিদ্যালয়ে গেছেন, তা বাছাই করা হয়েছে এভাবে যে, প্রথমে প্রতিবেদক চারটি বিদ্যালয়ে গেছেন। এরপর সেখান থেকে তথ্য পেয়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মাঠ না থাকা, জমি বেদখলে থাকা বিদ্যালয় খুঁজে বের করা হয়েছে। পাশাপাশি দেখা হয়েছে বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ও শিক্ষাদানের পরিস্থিতি। দেখা গেছে, ৪০ টির মধ্যে ৩০টি বিদ্যালয়ে কোনো মাঠ নেই। তিনটিতে কাগজে-কলমে মাঠ আছে, তবে তা বেদখল। শিক্ষা কর্মকর্তাদের হিসাবে, ঢাকায় ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাঠ নেই ২৫২ টির।

সরেজমিনে ২১টি বিদ্যালয়ের জমি ও ভবন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে দখল অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও চারটি বিদ্যালয়ের ভবন ও জমি বেদখল বলে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে তিনটি বিদ্যালয়ে।

বাংলা বর্ণ চেনে না তৃতীয় শ্রেণীর অর্ধেক শিক্ষার্থী

মে ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

পাঠ্যক্রম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর প্রাক-প্রাথমিকেই বাংলা বর্ণমালা ও গণিতের ১ থেকে ২০ পর্যন্ত শিখে ফেলার কথা। অথচ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া অনেক শিক্ষার্থীরই বাংলা বর্ণ ও গণিতের সংখ্যা চিনতে সমস্যা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কভিডে দুই বছর স্কুল বন্ধ থাকার পর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অবস্থা এখন কোন অবস্থায় রয়েছে, তা জানতেই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

কভিড মহামারী শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় দেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা যখন স্কুল বন্ধ থাকে, তখন শিশুরা শেখার ও বেড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগটি হারায়। সেটিই প্রকাশ পেয়েছে বিআইডিএসের গবেষণায়। দেশের ৩৩৯টি উপজেলায় গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালনা করে সংস্থাটি। এর মধ্যে গ্রামীণ, শহুরে, চর ও উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকার ২০ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১ হাজার ৬৪৪টিকে বাছাই করা হয়। যেখানে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল গ্রামাঞ্চলের এবং ৭ দশমিক ৩ শতাংশ শহরের বিদ্যালয়। এছাড়া চর ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যালয় ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং পাহাড়ি এলাকার ৯ দশমিক ১ শতাংশ। একই পদ্ধতিতে এসব বিদ্যালয় থেকে নির্বাচন করা হয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৬২ হাজার ৭০৩ শিক্ষার্থীকে, যারা কভিডের সময় অটো পাস নিয়ে ওপরের শ্রেণীতে উঠেছে। বাংলা ও গণিতে দক্ষতার ওপর তাদের মূল্যায়ন করা হয়।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘৬৪ জেলার ৬২ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর জরিপটি চালানো হয়। এটা অনেক বড় একটি গবেষণা। তাতে দেখা গেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীই জটিল (কমপ্লেক্স) বাক্য ও শব্দ পড়তে পারে না। এটা আমাদের শিক্ষার সংকটকে নির্দেশ করে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতে হলে আমাদের শিক্ষার এ সংকট দূর করতে হবে।’

সহজ ও কঠিন শব্দ পড়তে পারে কিনা তা যাচাই করা হয় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ওপর। এ মূল্যায়নে ৩১ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মোট তিনটি শব্দ দেয়া হয়, তার মধ্যে একটি ছিল কঠিন বর্ণ দিয়ে গঠিত। তবে একটি শব্দও পড়তে পারেনি চতুর্থ শ্রেণীর ২ হাজার ২১৭ শিক্ষার্থী (৭ শতাংশ)। তিনটি শব্দের মধ্যে মাত্র একটি পড়তে পেরেছে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ১৬৮ শিক্ষার্থী। মাত্র দুটি শব্দ পড়তে পেরেছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৯ হাজার ১৪২ শিক্ষার্থী সব শব্দ পড়তে পেরেছে।

কঠিন বানানের তিনটি শব্দও দেয়া হয় তাদের। যেখানে একটিও পড়তে পারেনি এমন শিক্ষার্থীর হার ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। একটি শব্দ পড়তে পেরেছে কেবল ১৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৩৯৩ শিক্ষার্থী। দুটি শব্দ পড়তে পারে কেবল ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। সব বানানই পড়তে পারে এমন শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিআইডিএসের কভিড-পরবর্তী প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে করা বিশেষ গবেষণায় তৃতীয় শ্রেণীর ৩১ হাজার ৫৮ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৩১ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থীকে পুরো একটি লেখা পড়তে দেয়া হয়। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরো লেখাটা একেবারেই পড়তে পারেনি ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ১১ হাজার ৩৯৭ জন। আবার পড়তে পেরেছে কিন্তু জড়তা আছে এবং বিরাম চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে না, এমন শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া সাবলীলভাবে লেখাটা পড়তে পারে এবং বিরাম চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার করতে পেরেছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরো লেখাটা একেবারেই পড়তে পারেনি ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বা ৯ হাজার ৫৬০ শিক্ষার্থী।

তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা গণিতের বিভিন্ন নম্বর চিনতে ও যোগ করতে পারে কিনা তার ওপরও মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে কোনো নম্বরই চিনতে পারে না এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮৪ জন বা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। এক্ষেত্রে ছেলেদের (১ হাজার ৬৫৫ জন) চেয়ে মেয়েদেরই (২ হাজার ৪২৯) অংকে কাঁচা মনে হয়েছে। তিনটির একটি নম্বরও চিনতে পারেনি এ রকম শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। তিনটির মধ্যে দুটি নম্বর চিনতে পারে এমন শিক্ষার্থী ছিল ১৯ দশমিক ২ শতাংশ বা ৫ হাজার ৯৭০ জন। এছাড়া সব নম্বরই চিনতে পেরেছে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

এসব শিক্ষার্থীকে দুই ধরনের যোগ করতেও দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এক ধরনের যোগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো উত্তর দেয়নি এবং ভুল করেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী। আরেক ধরনের যোগের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো উত্তরই দেয়নি এবং ভুল করেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তাদের ভাগ করতে দেয়া হলে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তরই দেয়নি। আবার উত্তর দিলেও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী ভুল করেছে।

দারিদ্র্য-বাল্যবিয়ের কারণে মাধ্যমিক শিক্ষায় ধাক্কা

২৮ মে ২৩, সমকাল

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ২১ মে পর্যন্ত অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। যদিও পরীক্ষার বিষয় ও পত্রভেদে এ সংখ্যা কমবেশি হয়।

৩৮ হাজার অনুপস্থিত সারাদেশে একযোগে গত ৩০ এপ্রিল মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। ১১ শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২১ হাজার ১৯৭ এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। ৩৮ হাজার অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, ১১ হাজার ৩৮৩ জন।

বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে অনুপস্থিতির হার এবার চোখে পড়ার মতো। ১৪ মে অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে ১১ হাজার ৬০৯ জন পরীক্ষায় বসেনি। এই তিন বিষয়ে অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ১৬ মে রসায়ন বিষয়ে গরহাজির ছিল ১৫ হাজার ৪৭২ জন। এই হার মোট পরীক্ষার্থীর ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। ১৯ মে অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞান পরীক্ষায়  ৫ হাজার ৮০০ জন অনুপস্থিত ছিল। সর্বশেষ ২১ মে বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় সারাদেশে ১৬ হাজার ১৫২ জন অনুপস্থিত ছিল।

অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনুপস্থিতর এই সংখ্যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। করোনার আগে ২০১৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৫২০ জন। ২০১৮ সালে  ৯ হাজার ৬৪২, ২০১৯ সালে ১০ হাজার ৩৮৭, ২০২০ সালে ১২ হাজার ৯৩৭, ২০২১ সালে ১৮ হাজার ৮২০ এবং ২০২২ সালে ৩৫ হাজার ৮৬৫। আর এ বছর ৩৮ হাজার অনুপস্থিতি ধরলে ২০১৭ সালের চেয়ে তা পাঁচ গুণের কাছাকাছি।

কেন ঝরে পড়া বাড়ছে

পরীক্ষায় কেন শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বাড়ছে? এই উদ্বেগজনক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে সমকাল। দারিদ্র্য আর বাল্যবিয়ের কারণেই মূলত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে দূরে থাকছে। অসুস্থতা ও পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে অনুপস্থিতির ঘটনাও আছে। এ ছাড়া খুব সামান্য কিছু শিক্ষার্থী কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণেও পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে আর উপস্থিত থাকছে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশনের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে করোনার মধ্যে দেশের অর্ধেকের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৪৭ হাজারের বেশি ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়ে যায়। আর শিশুশ্রমে যুক্ত হয় প্রায় ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মাউশি সে সময় দেশের ২০ হাজারের মধ্যে ১১ হাজার ৬৭৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি-২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাল্যবিয়ের হারে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। প্রতিবেদনে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগেই ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে বেতন–ফিতে বিস্তর ফারাক

০৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীর মাসে বেতন ১ হাজার ৪৫০ টাকা। এই বিদ্যালয় থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত মতিঝিল কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে বেতন ৪০০ টাকা। দুটি বিদ্যালয়ই এমপিওভুক্ত। শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। অবশ্য দুটি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এমপিওভুক্ত নন। অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের আয়ে বেতন পান।

আবার কাছাকাছি দূরত্বের মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মাসে বেতন মাত্র ৪ টাকা। আবার কাছের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনন্যা কিন্ডারগার্টেনে কেজি শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীর মাসে বেতন দেড় হাজার টাকা।

বেতনের বাইরেও নানা অজুহাতে ‘ফি’ নেওয়া হয়। তবে শুধু এই চারটি বিদ্যালয় নয়, সারা দেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর বেতনসহ নানা ফিতে বিস্তর ফারাক দেখা যায়। সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয় বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো করে বেতন-ফি ঠিক করে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় কোচিং-প্রাইভেটেও খরচ করতে হয় অভিভাবকদের।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয়ের ৭১ শতাংশই পরিবারকে বহন করতে হয়। এর মধ্যে কোচিং-প্রাইভেটের খরচও দিন দিন বাড়ছে। এনজিও বিদ্যালয়ে ফি সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তিন গুণ আর বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ৯ গুণ বেশি।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেতন ও ফির বিষয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো মাধ্যমিক পর্যন্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা গেলে এই বৈষম্য দূর করা যেত।

স্কুলে অভুক্ত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষতি

০৮ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর তুরাগে বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দ্বিতীয় শ্রেণিতে ক্লাস করতে এসেছে ৬৩ জন শিশু। তাদের মধ্যে নাশতা করে এসেছে অর্ধেকের মতো। ২৯ জন জানাল, তারা খেয়ে আসেনি। কেউ কেউ বাসা থেকে নাশতা এনেছে। কেউ নিয়ে এসেছে টাকা, কিছু কিনে খাবে। অনেকেই আবার জানাল, স্কুল শেষে বাসায় ফিরে তারা সকালের নাশতা করবে।

কথা হলো প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও। ৫০টি শিশুর মধ্যে ২৪ জন না খেয়ে এসেছে ক্লাসে। এদেরও অনেকে বাসায় ফিরে খাবে।

বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রতিবেদক গিয়েছিল গত ১৬ মে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলো পাঠদানের বিরতিতে, শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে। তাদের মধ্যে বাড়ি ফিরে নাশতা করার দলে ছিল শারমিন আক্তার নামের একটি শিশু। সকাল সাড়ে ১০টায় তার ক্লাস শেষ হলো। শারমিনের সঙ্গে প্রতিবেদক তাদের বাড়িতে গিয়েছিল পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে আসার জন্য।

পাঁচ বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা

গত ১৬, ১৭ ও ১৮ মে এ রকম পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক—তুরাগের বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাইলজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুলশানের ছোলমাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালাচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহজাদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কথা বলেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে। তাতেই জানা গেল, শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশ না খেয়ে ক্লাসে আসে। পাঁচটি বিদ্যালয়ই আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর–বাস্তবায়িত ‘দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ছিল।

প্রকল্পটির আওতায় শিশুশিক্ষার্থীদের ৭৫ গ্রাম করে ফর্টিফায়েড বিস্কুট (১০টি) দেওয়া হতো। এ বিস্কুট একেকটি শিশুকে প্রতিদিন ৩৩৮ কিলোক্যালরি করে শক্তি জুগিয়েছে। ২১ বছর ধরে চলা সেই কার্যক্রম গত বছরের জুনে বন্ধ হয়ে যায়।

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ অনুসারে, প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদার (ক্যালরি) ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসার কথা। শিক্ষকেরা বলেছেন, যখন বিস্কুট দেওয়া হতো, তখন দরিদ্র এই শিশুদের বাড়ি থেকে নাশতা আনার দরকার পড়ত না। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও ছিল কম।

স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দরিদ্র শিশুদের ভর্তি, উপস্থিতি ও শিক্ষাচক্র সমাপ্ত করার হার বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও শিক্ষার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে। প্রকল্পটি সর্বশেষ বাস্তবায়িত হচ্ছিল ৩৫ জেলার ১০৪ উপজেলায়। ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২ লাখ ৩১ হাজার শিশুশিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় পুষ্টিকর বিস্কুট পেত।

দেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। সেগুলোতে ১ কোটি ৩৩ লাখ শিক্ষার্থী পড়ছে। সরকার বলছে, সীমিতসংখ্যক স্কুলে নতুন করে কার্যক্রমটি আবার শুরু হবে, তবে ব্যাপক পরিসরে শুরু করার পরিকল্পনা নেই।

বাংলাদেশে শিক্ষায় বরাদ্দ ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, দ. এশিয়ায় সবার নিচে

জুন ১৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষাখাতে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ ইউনেস্কোর, যা প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কম দেওয়ার কারণে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জিডিপির শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে গড় ব্যয় ছিল ৪১টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই হ্রাসের প্রবণতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বাজেট সবচেয়ে কম।’

‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর আরও অর্থনৈতিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে শিক্ষার যে মান, সেই অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা পাব না।’

২০০৯-১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রথম বাজেট পেশ করার পর থেকে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার শিক্ষাখাতে জিডিপির সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে। এরপর থেকে গত ৭ বছরে এই বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমেছে এবং ক্ষমতাসীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এটি একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় সব পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ-স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। সুতরাং আমরা শিক্ষার্থীদের প্রধানত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত আসন্ন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং এগিয়ে যেতে সক্ষম করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিভিত্তিক, দক্ষতা বৃদ্ধিকারী ও সৃজনশীলতা-সহায়ক শিক্ষা প্রদান করা, যা তাদের মধ্যে সেবা প্রদানের চেতনা জাগিয়ে তুলবে।’

তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, কীভাবে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি তারা।

ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শিক্ষা আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের দাবির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।’

‘শিক্ষাখাতে বাজেট হতাশাজনক। বাজেট বক্তৃতা চমৎকারভাবে তৈরি করা হয়েছে, সবকিছু সেখানে রয়েছে। এতে স্মার্ট নাগরিক, মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এগুলো নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনাই বক্তৃতায় অনুপস্থিত।’

সিপিডি ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বলেছে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৫টি স্বল্পোন্নত দেশ গড়ে তাদের জিডিপির ২ শতাংশ বা তার বেশি শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গড় শিক্ষা ব্যয় ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৮ শতাংশ। শুধু সোমালিয়া দশমিক ২ শতাংশ, হাইতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ সুদান ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে।

সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র আফ্রিকার দেশ, যা সংঘাতে বিপর্যস্ত। এসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাংভিত্তিক সহিংসতা ক্যারিবিয়ান দেশ হাইতিকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে, যা ফলে দেশটিতে কলেরার পুনরুত্থান ও চরম মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ, কঙ্গো ও উগান্ডা ২ দশমিক ২ শতাংশ, চাদ ২ দশমিক ৫ শতাংশ, কম্বোডিয়া ২ দশমিক ৬ শতাংশ, রুয়ান্ডা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, সেনেগাল ও ইথিওপিয়া ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং সিয়েরা লিওন ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করে শিক্ষাখাতে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশের গড় শিক্ষা ব্যয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম।

তাদের তথ্যে আরও দেখা যায়, ভুটান ২০২১ সালে জিডিপির ৭ শতাংশ, ভারত ২০২০ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, পাকিস্তান ২০২১ সালে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, মালদ্বীপ ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, নেপাল ২০২০ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২০১৯ সালে ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আফগানিস্তান ২০১৯ সালে ২ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় করেছে শিক্ষাখাতে।

২৭% প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ, বৃষ্টি হলেই পানি ঝরে ১৯% শ্রেণীকক্ষে

জুলাই ০৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সম্প্রসারণের মূল কার্যক্রম হিসেবে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এতে অর্থায়ন করে ১০টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে ব্যয় করা হচ্ছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে এখনো ২৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ। দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে গেছে, দরজা ভাঙা। ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় ১৯ শতাংশ শ্রেণীকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ, বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। এমনকি ২৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে নলকূপ নেই কিংবা থাকলেও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সরকারের প্রকল্প মনিটরিংয়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

পিইডিপি-৩ প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দু’দফায় সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ে। এ প্রকল্পে আর্থিক ব্যয় ৯২ ও অবকাঠামো বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ শতাংশ। এর মাধ্যমে নতুন করে ৩৯ হাজার শ্রেণীকক্ষ ও নলকূপ স্থাপন করা হয়। ৩১ হাজারের বেশি টয়লেট মেরামত এবং সাড়ে ২৮ হাজার ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানামুখী কাজ করা হয় প্রকল্পটির মাধ্যমে।

প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর কোনোটায় মেঝেতে গর্ত, লাইট-ফ্যান থাকলেও নষ্ট, কোনোটায় আবার অল্প বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ১৩ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ নেই। একই সংখ্যক বিদ্যালয়ে নলকূপ থাকলেও ব্যবহার অযোগ্য কিংবা নষ্ট। সমীক্ষায় ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণীকক্ষ নিয়ে নানা সমস্যার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশের মতেই শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণীকক্ষ ছোট। তাই সবার বসার জায়গা হয় না। ফ্যান না থাকায় গরমে কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে ১৪ শতাংশ খুদে শিক্ষার্থী। এমনকি প্রায় ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে শ্রেণীকক্ষে বিদ্যুৎ নেই। ১৯ শতাংশ বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে বলে অভিযোগ। আর ১০ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো কমন রুম নেই। ২৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট নেই। টয়লেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছে ১১ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৯ শতাংশই আবার বিদ্যালয়ের টয়লেট সবসময় খোলা না থাকার কথা জানিয়েছে। আর ব্যবহার উপযোগী নয় মনে করে ১১ শতাংশ খুদে শিক্ষার্থী। অপরিষ্কার থাকায় টয়লেটে যেতে খারাপ লাগার কথা জানিয়েছে ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু সরকারি ব্যয় ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা

০৬ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী প্রতি সরকারের বছরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব‌্যয় হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের মোজাফ্ফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ‌্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে (কোন অর্থ বছর সেটা উল্লেখ করা হয়নি) ক‌্যাডেট কলেজগুলোর সরকারি বরাদ্দ ছিল ১৯৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বর্তমানে ক‌্যাডেট কলেজগুলোতে ৩ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সেই অনুযায়ী ক‌্যাডেট কলেজগুলোতে অধ‌্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের মাথাপিছু বার্ষিক সরকারি ব‌্যয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩ টাকা।

মন্ত্রী জানান, মাধ‌্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ হতে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব‌্যয় সংক্রান্ত বরাদ্দ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয় বিধায় সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব‌্যয় পৃথকভাবে প্রদর্শন করা হয় না।

মন্ত্রীর তথ‌্য অনুযায়ী উচ্চ মাধ‌্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী প্রতি সরকারের বার্ষিক খরচ ৫০ হাজার ৫১২ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ স্তরের ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। পোস্ট সেকেন্ডারি নন টারশিয়ারি স্তরে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে সরকারের বরাদ্দ ৭০৭ কোটি টাকা। শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৮৯ টাকা। টারশিয়ারি স্তরে ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে সরকারের বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৭৮ টাকা।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধাওয়া পুলিশের

১৮ জুলাই, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা দখল করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। তবে গত দুদিন শিক্ষকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। যদিও পরে আবার শিক্ষকরা তাদের আগের জায়গায় ফিরে আসেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, গতকাল তারা সপ্তম দিনের মতো শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু বেলা ১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তারা মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের পক্ষে তাদের দাবি তুলে ধরেন। মহাপরিচালক তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বললে তারা দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানান।

পরিবেশ

ঢাকায় শব্দদূষণের সময় বেড়ে যাচ্ছে

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

‘শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক, আসুন শব্দদূষণ বন্ধে সকলে আমরা সচেতন ভূমিকা রাখি’—পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট খুললেই আজ বুধবার এ কথাগুলো ভেসে উঠছে। আজ আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস। আর এ জন্যই এই প্রচারণা। তবে বাস্তবতা হলো রাজধানীর শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছে। এই নীরব ঘাতক রোধ হচ্ছে না। এর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগও তেমন নেই। আগে রাজধানীতে গড়ে ১২ ঘণ্টা সময় ধরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শব্দদূষণ হতো। এখন তা ১৪ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেখভালকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো পরিবেশ অধিদপ্তর। তারাও রাজধানীতে দূষণের বিস্তৃতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানে। আর এ বিস্তৃতি রোধে গবেষণাও এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধনের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

ক্যাপস গত জানুয়ারি মাসে ঢাকার দুই সিটির করপোরেশনের সড়কের মোট ৮২টি সংযোগস্থানের শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৭টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকায় ৪৫টি স্থান। গবেষণায় তাইওয়ানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় শব্দের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্র অটোমেটিক সাউন্ড লেভেল মিটার ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

গবেষণায় কী পাওয়া গেল

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, ঢাকার জন্য দিনের বেলায় শব্দের আদর্শ মান (সর্বোচ্চ সীমা) ৬০ ডেসিবেল। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শব্দের তীব্রতা মানমাত্রা ছাড়িয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণভাবে শব্দের গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ২ গুণ বেশি শব্দ পাওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ৭৬ দশমিক ৮০ ডেসিবেল। যে তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে সর্বোচ্চ মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো নিউমার্কেট মোড়, নয়া পল্টন মোড় এবং প্রেসক্লাব মোড়। সেখানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ১০০ দশমিক ৬৫ ডেসিবেল, ৯২ দশমিক ২২ ডেসিবেল এবং ৯০ দশমিক শূন্য ৩ ডেসিবেল। দক্ষিণ সিটির সড়কের সংযোগস্থলে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া জায়গাগুলো হলো আবুল হোটেল মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় এবং জিরো পয়েন্ট মোড়। এই তিন এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ২৭ ডেসিবেল, ৭৭ দশমিক ৯২ ডেসিবেল এবং ৭৭ দশমিক ৬০ ডেসিবেল।

গবেষণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ৮০ দশমিক ৫৬ ডেসিবেল। যে তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে সর্বোচ্চ মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়, শিয়া মসজিদ মোড় এবং মাসকট প্লাজা মোড়। এসব স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৯৯ দশমিক ৭৭ ডেসিবেল, ৯৩ দশমিক শূন্য ৫ ডেসিবেল এবং ৯০ দশমিক ২৭ ডেসিবেল। উত্তর সিটির যেসব সড়কের সংযোগস্থলে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো মিরপুর বেড়িবাঁধ মোড়, রবীন্দ্র সরণি মোড় এবং গুলশান-২ মোড়। এসব স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৮৬ ডেসিবেল, ৭৫ দশমিক ২৫ ডেসিবেল এবং ৭৬ দশমিক শূন্য ১ ডেসিবেল।

ঢাকায় শব্দদূষণের ক্ষেত্রে যেসব উৎসের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো সাধারণত যানবাহন চলাচলের শব্দ (হর্ন, ইঞ্জিন, চাকার ঘর্ষণ ও কম্পনের শব্দ), নির্মাণকাজ যেমন ইট ও পাথর ভাঙার মেশিন ও টাইলস কাটার মেশিন থেকে শব্দ, ভবন ভাঙার শব্দ, কলকারখানার শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের মাইকিংয়ের শব্দ।

উন্নয়নের করাতে বৃক্ষহীন হচ্ছে ঢাকা

০৩ মে ২৩, সমকাল

রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ এলাকার সড়কদ্বীপ উন্নয়নের নামে শুরু হয় গাছ কাটা। এর প্রতিবাদে গত ৩০ জানুয়ারি আন্দোলনে নামেন এলাকাবাসী। এর পর কেটে গেছে তিন মাস। গত সোমবার হঠাৎ একই এলাকায় আবার শুরু হয় গাছ কাটা, তবে এবার গভীর রাতে। রাত পৌনে ২টায় এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে জড়ো হন স্থানীয়রা। ছুটে আসে পুলিশও, বন্ধ হয় গাছ কাটা। তবে এর আগেই কেটে ফেলা হয় শতাধিক গাছ।

শুধু সাতমসজিদ রোড নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের নামে এভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে সবুজ। প্রকল্পের পর প্রকল্পের করাতে কাটা পড়েছে বৃক্ষরাজি। আর উধাও হয়ে যাচ্ছে গাছের ছায়া। খাতা-কলমে একটি কাটলে তিনটি গাছ লাগানোর কথা। তবে রাজধানীতে কোথায়, কত বিকল্প গাছ লাগানো হয়েছে– তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তাপদাহ যখন ঢাকাকে পোড়াচ্ছে, ঠিক তখন গাছ কাটার বিষয়টি নগরবাসীর মনে দাগ কেটেছে। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে। ধানমন্ডিতে বৃক্ষ ধ্বংস নগর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রায় ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ পায় অনিকা এন্টারপ্রাইজ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া প্রকল্পের কার্যাদেশের কোথাও গাছ কাটার কথা উল্লেখ নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে গাছ কাটা শুরু করে। আগের বিভাজক ভেঙে নতুন বিভাজকের জন্য ঢালাই দেওয়া হয়। সরেজমিন দেখা যায়, সাতমসজিদ রোড থেকে জিগাতলার পিলখানা গেট পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তখন ‘সাতমসজিদ রোড গাছ রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে এলাকাবাসী নানা কর্মসূচি পালন করেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার গভীর রাতে আবার শুরু হয় গাছ কাটা।

উৎসমুখ খনন না করায় ব্রহ্মপুত্রে জেগেছে চর

০৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

খননকাজ শুরুর চার বছরেও নাব্যতা ফেরেনি ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে। উল্টো নদের বুকে ছোট ছোট চর জেগে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে হেঁটেই পার হওয়া যায় নদ। নাগরিক সমাজের অভিযোগ, খননকাজ পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে না। যমুনা নদীর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগস্থল বা উৎসমুখ খনন না করায় প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে মেরে ফেলা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার নদের বুকে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান ময়মনসিংহ শহর ও কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা তরুণ–তরুণীরা। ‘মৃতের চিৎকার’ শিরোনামে প্রতীকী ওই কর্মসূচিতে তাঁরা বিষাদের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান।

সর্বশেষ গত শনিবার ‘জনউদ্যোগ’ নামের একটি নাগরিক সংগঠন নদের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করে খননকাজের অসংগতি অনুসন্ধান করে। পরে প্রতিকার চেয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা।

সংরক্ষিত বনের মাটি চুরি

১০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সবুজ গাছগাছালির ঘন এক বন। আঞ্চলিক সড়ক থেকে সে বনের গাছপালার ফাঁক গলে চলে গেছে কাঁচা রাস্তা। রাস্তা ধরে ২০০ মিটার বনভূমি পার হলেই চমকে ওঠার মতো দৃশ্য। বনের ভেতর প্রায় ৫ বিঘায় ৩০ ফুট গভীর দুটি খাদ। সেখান থেকে বনভূমির মাটি কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ দৃশ্য গাজীপুরে বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের আওতাধীন সদর বিটের গাজিয়ারন এলাকার সংরক্ষিত বনে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গোসিংগা-শ্রীপুর সড়কের গাজিয়ারন এলাকায় বন বিভাগের একটি কংক্রিটের ফলক স্থাপন করা হয়েছে। ফলকে সেখানকার বনভূমি ও বনায়নের কিছু তথ্য লেখা আছে।

ফলক ঘেঁষে বনের ভেতর চলে গেছে একটি কাঁচা নিচু সড়ক। সড়কটিতে বড় ট্রাক চলাচলের ছাপ স্পষ্ট। ওই সড়ক ধরে উত্তর দিকে বনের ভেতর অল্প দূরে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল একটি খাদ। এটির আয়তন অন্তত আড়াই বিঘা। এ খাদের গড় গভীরতা কমপক্ষে ২৫ ফুট।

খাদে রয়েছে শাল, গজারিসহ বিভিন্ন গাছপালা। খাদ দেখে মনে হয়েছে, এটি অতিসম্প্রতি খনন করা হয়েছে। ওই খাদের চারপাশের গাছের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে গাছগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক সড়ক থেকে নেমে আসা কাঁচা সড়কটি খাদের পাশ দিয়ে আরও কিছু দূরে উত্তর দিকে চলে গেছে। ওই সড়ক ধরে ১০০ মিটারের মতো উত্তরে গিয়ে চমকে উঠতে হয়। সেখানে বনের ভেতর গাছপালার গোড়া থেকে আরও বেশি গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গভীরতা কমপক্ষে ৩০ ফুট। এসব খাদের আশপাশে কোনো জনবসতি নেই। ফলে খাদ দুটির জায়গাটি একদমই নির্জন‌।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীপুরের কর্ণপুর, গাজিয়ারন, বিন্দুবাড়ি, কাওরাইদ, মাওনাসহ বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটা হচ্ছে বহু বছর ধরে। একটি বড় চক্র এসব মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। মাটিগুলো কেটে ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে দূরদূরান্তের ইটভাটা ও সিরামিক কারখানায় সরবরাহ করা হয়। এসব মাটির সবচেয়ে বড় ক্রেতা বিভিন্ন ইটভাটা। এ ছাড়া শিল্পকারখানা ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের জন্য নিচু জমি ভরাটের ক্ষেত্রেও বনের মাটি কেটে সরবরাহ করা হয়।

বনের ভেতর থেকে কারা কীভাবে মাটি কেটে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে জানতে গোসিংগা, কর্ণপুর ও শ্রীপুর সদর এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, গভীর রাতে বন থেকে এসব মাটি কাটা হয়। ভোররাত পর্যন্ত বন থেকে ট্রাকের পর ট্রাক মাটি নিয়ে বের হয়।

স্থানীয় লোকজন বলেন, বন ও বিভিন্ন ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে বেশ কয়েকটি চক্র কাজ করে। প্রভাবশালী এসব চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে বন বিভাগের অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া এসব চক্র ক্ষমতাসীন দলের কারও কারও প্রভাবকে কাজে লাগায়।

হাতিরঝিল ভরাট করে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

১০ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

রাজধানীর হারিয়ে যাওয়া কয়েকশ পুকুর ও জলাধারের মধ্যে টিকে থাকা অন্যতম জলাধার হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজারের অংশ ভরাট করছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে এ অংশের ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন পর্যন্ত ভরাট করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ অংশের কাজ নিয়ে আলোচনা ওঠার পরে তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। সোমবারের পর থেকে আর ভরাট করা হচ্ছে না।

তারা জানায়, হাতিরঝিলের এ অংশের পিলার তুলতে লেকের একটি অংশ ভরাট করা হবে। কাজ শেষে ভরাট করা বালু সরিয়ে নেওয়া হবে।

পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুগে লেকে মাটি না ফেলেও পিলারের কাজ করা যায়। এভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে জলাধার ভরাট করতে পারে না সরকারি সংস্থা। কাজ শেষে খালি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানে না সংস্থাগুলো।

দিনে মাত্র ৯৮৯ টাকা পেতে বাহাদুর শাহ পার্ক ‘ধ্বংস’

১৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের পরও বাহাদুর শাহ পার্কের ভেতর থেকে খাবারের দোকান সরেনি। দৈনিক মাত্র ৯৮৯ টাকা ভাড়ায় গত অক্টোবর থেকে ঐতিহাসিক এই পার্কে খাবারের দোকান বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ওই দোকানকে কেন্দ্র করে পার্কের ভেতরে রাতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাখির আনাগোনা কমে গেছে।

দোকান বসানোর কারণে এই পার্কের সবুজ চত্বরে নিজের মতো হাঁটা বা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। দোকান বসানোর কারণে পার্কের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ জায়গা কার্যত ইজারাদারের দখলে চলে গেছে। পার্কের ভেতরে ‘ফুড ভ্যান’ বা খাবারের দোকান বসানোর ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের শর্ত ছিল, এটি এমনভাবে স্থাপন করতে হবে, যাতে যেকোনো সময় তা স্থানান্তর করা যায়। তবে ইজারাদার শর্ত না মেনে পার্কের ভেতরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করেছেন। এ নিয়ে নানা মহল থেকে আপত্তি তোলা হলেও সিটি করপোরেশন ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই

১৪ মে ২৩, সমকাল

হাতিরঝিলের একাংশ মাটি ভরাট করেই হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৪১ পিয়ার (খুঁটি) নির্মাণ। তেজগাঁও এফডিসি রেলগেট থেকে পলাশীমুখী ভায়াডাক্টের (উড়াল সড়ক) র‍্যাম্পের জন্য সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে লেকের পাড়ে খুঁটি নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্মাণকাজ শেষে লেক পুনঃখনন করা হবে। তবে নকশা সমন্বয়কারী বিশেষজ্ঞই বলেছেন, তাতেও ক্ষতি হবে হাতিরঝিলের।

২০০৮ সালে হাতিরঝিলের নির্মাণকাজ শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৩০২ একর আয়তনের দৃষ্টিনন্দন এই ঝিলটি পরিত্যক্ত এবং বেদখল অবস্থায় ছিল। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিলের উদ্বোধন করেন। তবে এরও দুই বছর আগে ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বিমানবন্দর থেকে বিদ্যমান রেললাইন বরাবর কমলাপুর স্টেশন হয়ে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এটিই দেশের প্রথম পিপিপি প্রকল্প।

পাহাড়-গাছপালা সাবাড়, এবার বাঁচাবে কে

১৩ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

১৯৭০ সালে ভোলার মনপুরায় আঘাত হেনেছিল প্রলয়ঙ্ককরী ঘূর্ণিঝড়। এতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ওই সময় ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা না থাকায় লন্ডভন্ড হয়েছিল মনপুরা। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, বুলবুল, ফণিসহ এক ডজনের বেশি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করেছে সুন্দরবন। এতে উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে আঘাত হানতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোখার বেলায় নেই সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক রক্ষাকবজ। যদিও এক সময় নাফ নদীর পাড়ে অবস্থিত টেকনাফ উপজেলা ছিল সবুজ ঘন বনবেষ্টিত পাহাড়ি এলাকা। কিন্তু কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসনের ব্যবস্থায় কাটা হয়েছে টেকনাফের অগণিত পাহাড়। ধ্বংস করা হয়েছে ঘন গাছপালাসমৃদ্ধ বনাঞ্চল।

গবেষক ও প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা থেকে কক্সবাজার উপকূলের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই। কারণ এরই মধ্যে এ অঞ্চলের ৭৫ শতাংশ সবুজ প্রাকৃতিক বেষ্টনী ধ্বংস হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের তাণ্ডব ও একই সঙ্গে ধেয়ে আসা ১০-১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারে টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। বর্তমানে টেকনাফে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার চিংড়ির হ্যাচারি ও লবণের ঘের, যেগুলো জলোচ্ছ্বাসে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে লবণপানিতে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা তীব্র সুপেয় পানির সংকটে পড়বেন।

কক্সবাজারের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, টেকনাফে রোহিঙ্গা ও সেন্টমার্টিনে অপরিকল্পিত পর্যটনের কারণে প্রাকৃতিক বন ও পাহাড় এখন একেবারেই নেই। তবে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া যে পাহাড় আছে, সেটি কিছুটা রক্ষা করতে পারে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা। ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হলে সেখানে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন বিপন্ন হতে পারে। এ ছাড়া অস্থায়ী ঘরবাড়িগুলো বাতাসের বেগে ধ্বংস হতে পারে। সেন্টমার্টিনে এরই মধ্যে খাবার পানি নষ্ট হয়ে গেছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং জাতীয় উদ্যানে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এতে এ বন ধ্বংস হয়ে গেছে।

বালু তোলায় ঝুঁকিতে স্থাপনা, ইজারা বাতিলের দাবি

১৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে ঘিওর সরকারি কলেজের পাশে ধলেশ্বরী নদী বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। এই বালুমহালের আশপাশে রয়েছে আরও অনেক স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা ছবিপ্রথম আলো

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে ধলেশ্বরী নদী থেকে দেদার বালু তোলা হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি খাদ্যগুদাম, শত বছরের পুরোনো হাটবাজার, মহাশ্মশানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে বালুমহাল ইজারা বাতিল এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাসিন্দা ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলা সদরে ঘিওর-কুস্তা-চর বাইলজুরী বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দেওয়া সম্ভাব্য ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৪ টাকা। উদ্ধৃত দরমূল্য ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বালুমহালটি ইজারা পায় মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর স্বত্বাধিকারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে বালু তুলে তা ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করছেন।

বনাঞ্চল ধ্বংস-ঝিরির পাথর উত্তোলনসহ অপরিকল্পিত উন্নয়নে’ পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট

১৮ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বান্দরবান-রুমা-চিম্বুক-নীলগিরি-থানচি সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের এলাকার প্রায় ৯০টি ম্রোপাড়ায়।

সম্প্রতি বিভিন্ন পাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, সব পানির উৎস প্রায় শুকিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ঝিরির একেবারে শেষ মাথায় পাথরের গর্তে অল্প পানি জমে আছে। সেখান থেকেই ম্রো পাড়ার নারীরা পানি সংগ্রহ করছেন।

জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ম্রোলং পাড়া। এই পাড়ায় বসবাস করা বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের নার্সিং শিক্ষার্থী চামলে ম্রো দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কাকড়া ঝিরি থেকে পানি আনতে আসা-যাওয়ায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দুই এক মগ পানি নেওয়ার পর আবার ৮-১০ মিনিট পানি জমার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বয়স্ক নারীরা রাত ২-৩টার সময়ও পানি আনতে যান। পানি অনেক কম থাকায় একসঙ্গে সবাই গেলে পানি আনতে পারেন না। তাই প্রতিবার ২ জন পানি আনতে যেতে হয়।’

ম্রো লং পাড়ার ৬০ বছরের ম্রো নারী হাই প্লেম ম্রো বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পাড়ার নারীদের অন্যান্য কাজ বাদ দিয়ে শুধু নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতেই অধিকাংশ সময় দিতে হয়। বর্তমানে ম্রোলং পাড়ায় ২৬টি পরিবার থাকে। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত, অর্থাৎ বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমরা পানির  তীব্র সংকটে থাকি।’

রাংকোইসা ম্রো (৭১) বলেন, ‘পানির অভাব থাকায় শুষ্ক মৌসুমের ২-৩ মাস নিয়মিত গোসল করা যায় না। যারা কাজে যায়, তারা যেখানে পানি পায় সেখানেই গোসল করে বাড়িতে ফেরে। কোথাও পানি না পেলে সারা দিন পরিশ্রমের পর ঘামে ভেজা শরীর নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা জুমের কাজে যাওয়ার সময় বাড়িতে থাকা ময়লা কাপড় সঙ্গে নিয়ে যান। যেখানেই সামান্য পানি পান, সেখানেই কাপড় ধুয়ে নেন। এইভাবে চলে শুষ্ক মৌসুমে ম্রো পাড়াবাসীর জীবন।’

‘এই অবস্থা চলতে থাকলে পানির সংকটের কারণে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

রেনিক্ষ্যং বাগান পাড়ার ৩৮টি ম্রো পরিবারের একমাত্র পানির উৎস বিউসনা ঝিরি। সেখানে একটি এনজিও পক্ষ থেকে জিফএস পদ্ধতিতে পাড়ায় পানি সরবরাহ করা হয়েছে। জিএফএস পাইপের পানি বর্ষায় পাওয়া গেলেও মার্চ থেকে মে পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পাড়ায় তীব্র পানি সংকট থাকে বলে জানান কনইয়াং ম্রো।

একই পরিস্থিতি ক্রামাদি পাড়ার ৪৪টি পরিবারের।

পাকু ম্রো বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগেও এই চিম্বুক পাহাড়ে পানির জন্য এতো হাহাকার ছিল না। রাস্তা ভালো হয়েছে, কিন্তু রাস্তা হওয়ার পর ক্ষমতা আর টাকার মালিকরা ইচ্ছে মতো বনের গাছ কেটে, ইটভাটার জন্য লাকড়ি কেটে সব উজাড় করছে। ঝিরি আর ঝর্ণাগুলো থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করায় পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ে একদিকে প্রচণ্ড গরম পড়ছে, তেমনি বৃষ্টির পরিমাণও কমে গেছে। সব মিলিয়ে পাহাড়ে চরম পানির সংকট তৈরি হয়েছে।’

ক্রামাদি পাড়ার তুমপিয় ম্রো জানান, কেউ একবার পানি আনার পর ৩ ঘণ্টা পর আরেকজন পানি নিতে পারেন। ফলে, ঝিরি থেকে পানি নিতে যাওয়ার আগে পাড়ায় জিজ্ঞাসা করে নেন, সর্বশেষ কতক্ষণ আগে কেউ পানি এনেছেন।

লেখক ও গবেষক ইয়াং ঙান ম্রো বলেন, ‘বনাঞ্চল ধ্বংস, ঝিড়ির পাথর উত্তোলন করে পানির উৎস ধ্বংস করার কারণে প্রতি বছর চিম্বুক এলাকার প্রায় ৯০টি পাড়ার ম্রো সম্প্রদায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকেন। দুর্গম এলাকার অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের লোকজন পানির সংকটে থাকেন। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চিম্বুক এলাকাসহ দুর্গম পাড়াগুলো বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫-১০ বছরের মধ্য শুধু পানির অভাবে ম্রো জনগোষ্ঠী চিম্বুক-নীলগিরি এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে।’

শতকোটির প্রকল্প নিয়ে বিপদে ওসমানী উদ্যান

১৯ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে মানুষের স্বস্তিদায়ক উন্মুক্ত জায়গা ওসমানী উদ্যান। তবে ‘গোস্বা নিবারণী পার্ক’ নাম দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ছয় বছর ধরে এ উদ্যানে আর উন্মুক্ত পরিবেশ পাচ্ছে না নগরবাসী। এখানে-ওখানে গাছ কেটে, রড-সিমেন্টের অর্ধেক স্থাপনা তৈরি করে অবিন্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলা হয়েছে এ উদ্যানকে।

এদিকে যে লক্ষ্য সামনে রেখে উদ্যানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওসমানী উদ্যান তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হারাবে। প্রকৃতপক্ষে কোটি টাকা খরচ করে ঐতিহাসিক এ উদ্যানকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

কংক্রিট স্থাপনা কতটুকু

২০২১ সালে ঢাকার পার্ক-উদ্যানের নকশা নিয়ে একটি সমীক্ষা করে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এতে বলা হয়, ওসমানী উদ্যানের নকশায় ৫২ ভাগ কংক্রিট রাখা হয়েছে। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, পাবলিক পার্ক ও খোলা পরিসরে শতকরা ৫ ভাগের বেশি জায়গায় অবকাঠামো তৈরির সুযোগ নেই।

তবে এ পরিসংখ্যান সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পার্কটির নকশাপ্রণেতা স্থপতি রফিক আজম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘পার্কের মধ্যে যত কংক্রিটের স্থাপনা রয়েছে, তা ৫ শতাংশের বেশি হবে না। যারা এসব বলছেন, তারা সঠিক বলছেন না। আমার কাছে নকশা রয়েছে, কেউ দেখতে চাইলে, দেখতে পারেন।’

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় নষ্ট হচ্ছে উদ্যান

ওসমানী উদ্যানসহ ঢাকার পার্ক ও খেলার মাঠ নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকল্প গ্রহণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আবদ্ধ এ উদ্যান। তবে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় এর টিনের বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছে নানা স্থানে। সেসব স্থান দিয়ে আসা-যাওয়া করছে অনেকেই। গত মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন দেখা গেল, উদ্যানে অনেককেই ঘোরাঘুরি করতে। বেশ কিছু ছেলেমেয়েকে দেখা গেল খেলাধুলা করতে। তবে এলোমেলোভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী ও বড় বড় গর্ত এ উদ্যানের মধ্যে মানুষের চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পুকুরের ওপর নির্মাণ করা বিশালাকৃতির স্থাপনার বড় বড় রড ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বড় রকমের বিপদ।

প্রকল্পের গতি-প্রকৃতি

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যানে প্রথমে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও পরে নতুন পরিকল্পনা সংযোজন করে তা বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর আবারও পানি নিষ্কাশন, ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন প্রক্রিয়া যোগ করা হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে।

প্রায় ২৩ একর এলাকাজুড়ে ওসমানী উদ্যান। সচিবালয়, নগর ভবন, গুলিস্তান, পল্টন ও হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যবর্তী এ স্থানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ বিশ্রাম নিতেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেকেই এখানে অবসর সময় কাটাতেন। ভাসমান মানুষ ও পথশিশু থেকে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এখানে সময় কাটাতেন। অনেকে শরীর চর্চা করতেন। কিন্তু উন্নয়নকাজের জন্য টিনের বেড়ায় আবদ্ধ করে ফেলা হয় উদ্যানটি। এরপর থেকে সেখানে আর কেউ ঢুকতে পারছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত। প্রথম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত একটি লাইব্রেরি, ফুড কোর্ট-১, ফুড কোর্ট-২, কার পার্কিং প্লেস, জিম, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড বোর্ড, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, বিনোদনকেন্দ্র ও নগর জাদুঘর।

দ্বিতীয় প্যাকেজে রয়েছে শিশুদের খেলার জায়গা, ভলিবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, মাঠ উন্নয়ন ও সাব-স্টেশন স্থাপন এবং তৃতীয় প্যাকেজে ওয়াটার পিউরিফিকেশন সিস্টেম, স্বাধীনতা চত্বর ও কফিশপ, স্পিংকেল সিস্টেম, ওয়াটার রিজার্ভার স্থাপন, প্যাডল বোট, বিভিন্ন ভাস্কর্য ও পুরান ঢাকার থ্রিডি স্থাপত্য নকশার মডেল। এ ছাড়া জলাধার, আলাদা আলাদা বসার জোন করার পাশাপাশি বড় স্ক্রিনে নিজের অবস্থান দেখার ব্যবস্থা রাখারও কথা ছিল এ প্রকল্পে। নিরাপত্তার জন্য ৩৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জিম স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছরে এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।

নদে ভেসে উঠছে মাছ, ধরতে শত শত মানুষের ভিড়

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদের বিভিন্ন অংশে নানা প্রজাতির মরা মাছ ভেসে উঠছে। মরা ও প্রায় মরা এসব মাছ ধরতে নদের দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, নদের উজানে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দুটি শিল্পকারখানার বর্জ্য নদে ফেলায় পানি দূষিত হয়ে গেছে। এ কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচে, কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। দুই দিন ধরে এ অবস্থা চলছে।

হাওরে সড়ক বানিয়ে পায়ে কুড়াল মেরেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

হাওরের মাঝখানে সড়ক নির্মাণ করা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, ‘এখন টের পাচ্ছি, হাওরে সড়ক নির্মাণ করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছি। হাওরে সড়ক বানিয়ে উপকারের চেয়ে অপকারই হয়েছে।’

শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার’ শিরোনামে সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর হলিস্টিক স্টাডিজ।

সড়কের কারণে হাওরে কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে শনিবার রাতে কথা হয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের কারণে পানির চলাচলের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। বর্ষার সময়ে পানি উপচে বাড়িঘরে উঠছে। হাওরের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। হাওরের নিজস্ব প্রজাতির মাছ, গাছ—হিজল, কড়চ, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রাণী-বৃক্ষ ধ্বংস হচ্ছে। হাওরকে হাওর হিসেবেই থাকতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম সড়ক চালু করে সরকার।

উন্নয়ন প্রকল্পে আরো আট এলাকায় গাছ কাটবে ডিএসসিসি

মে ২৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর আওতায় ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বিভাজক ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কেটে ফেলা হয় সড়ক বিভাজকে থাকা ৫৬৩টি গাছ। এ নিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন ধানমন্ডিবাসী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে অন্তত আরো আট এলাকায় কাটা পড়বে ছোট-বড় নানা প্রজাতির গাছ। যদিও সেখানে নতুন করে গাছ লাগানোর আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের (ডিসিএনইউপি) অধীনে সদরঘাটের লালকুঠি, নারিন্দা, খিলগাঁও ও ধোলাইখাল এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রকল্পটির মাধ্যমে দুটি খেলার মাঠ, দুটি কমিউনিটি সেন্টার ও একটি পুকুর আধুনিকায়নে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে নির্মাণ হবে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো। এজন্য ওইসব এলাকায় থাকা বড় অনেক গাছ কাটা পড়বে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

ডিএসসিসির ৮৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কালুনগর, জিরানী, মান্দা ও শ্যামপুর খাল উন্নয়নের কাজও এগোচ্ছে। খালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে কালুনগর খাল ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার, জিরানী খাল ৩ দশমিক ৯, মান্দা খাল ৮ দশমিক ৭ ও শ্যামপুর খাল ৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। প্রকল্পের আওতায় ৩৮ দশমিক শূন্য ৬ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, ৩৬টি পথচারী সেতু, যানবাহন চলাচলের জন্য ১৯টি সেতু, ১০টি পাবলিক টয়লেট, ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার হাঁটার পথ, চারটি প্লাজা, সাইকেল লেন ও ৭৭১টি লাইট স্থাপন করা হবে। চার খালের এ সংস্কারকাজ করতে গিয়েও আশপাশের গাছ কাটতে হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কত দিন লাগবে: হাইকোর্ট

২৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বরিশালের বানরিপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর (কৃষ্ণকাঠি) সীমানা জরিপ ও নদীর জায়গায় থাকা দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পাঁচ বছর আগে দেওয়া রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

 রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে আদালত বলেছেন, ‘রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কত দিন লাগবে? ১০০ বছর হলেও হয়তো হবে না।’ বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ মন্তব্য করেন।

 সন্ধ্যা নদী ভরাট করে আবাসন প্রকল্প তৈরি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। নির্দেশনার মধ্যে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুসারে একই বছরের ৩১ মের মধ্যে নদীর সীমানা জরিপ করতে ও জরিপ অনুসারে নদীর জায়গায় থাকা স্থাপনা চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করতে বলা হয়।

তিন দশকে ঢাকা উত্তরে ৬৬% সবুজ এলাকা কমেছে: সমীক্ষা

৩০ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

যেকোনো শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পার্ক, খেলার মাঠ এবং শহুরে বনাঞ্চলের মতো সবুজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এমন সবুজ এলাকার পরিমাণ কমেছে ৬৬ শতাংশ।

১৯৯২ সালে ঢাকার উত্তর অঞ্চলে ৯২.২১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল গাছপালা, যা ২০২২ সালে এসে প্রায় ৬৬ শতাংশ কমে ৩১.৪০ বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। গত ৯ মে মার্কিন-ভিত্তিক জার্নাল পিএলওএস সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনে প্রকাশিত ‘প্রোসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ অ্যাচিভিং সাস্টেইনেবল আরবান গ্রিন স্পেসেস: আ কেস স্টাডি অফ আরবান গ্রিনিং ইন ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

১৯৯২ সালে ঢাকার উত্তরের ১৯৪.২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪৭ শতাংশই ছিল সবুজ, যা ২০০২ সালে ৩১ শতাংশ, ২০১২ সালে ১৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে আরও কমে ১৬.১৭ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা উত্তরে ধূসর এলাকা (শহুরে অঞ্চল, যেখানে গাছপালা নেই) ১৯৯২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সময়ে এ অঞ্চলে জলাশয় কমেছে ৩২.৪ শতাংশ।

এছাড়া, ঢাকা উত্তরে গাছ লাগানোর মতো অনুর্বর ভূমি এলাকা ২০১২ সালের প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার থেকে কমে ২০২২ সালে ২.২ বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে।

যশোরে কম উচ্চতার ১১ সেতুতে ‘নদী হত্যা’

০৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ভৈরব নদের পর এবার যশোরের আরও সাতটি নদীর ওপর কম উচ্চতার ১১টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুগুলো নিচু হওয়ার কারণে বর্ষায় এসব সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র না নিয়ে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান সেতুগুলো নির্মাণ করছে।

এর আগে ভৈরব নদের ওপর ৫১টি ‘অপরিকল্পিত’ সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে ২০২১ সালের ১৫ জুলাই প্রথম আলোয় ‘নদের টুঁটি চেপে ধরেছে ৫১টি সেতু-কালভার্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এখন যে সাতটি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রে সেতুর উচ্চতা হওয়ার কথা পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ১৬ ফুট, কোনোটির ২৫ ফুট। কিন্তু যে ১১টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে তার সব কটির উচ্চতা ৪ দশমিক ৫৯ ফুট থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত। সেতুগুলোর মধ্যে ১০টি সেতু নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ডব্লিউবিবিআইপি) আওতায়।

অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, নৌপথে খুঁটিসহ বৈদ্যুতিক লাইন ও সেতু নির্মাণ করতে হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে ছাড়পত্র (নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স) নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব সেতু নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র নেয়নি এলজিইডি ও সওজ। বাংলাদেশ নদী কমিশন এবং বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে এসব সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

২৮ বছরে রাজধানীর ২৪ বর্গকিলোমিটার জলাশয় উধাও : বিআইপি

০৩ জুন ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গত ২৮ বছরে রাজধানী থেকে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জলাধার উধাও হয়ে গেছে। এ সময়ে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার সবুজের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯৫ সালে রাজধানীতে জলাধার ও জলাভূমি ছিল ৩০ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২৩ সালে সেটা মাত্র ৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর মাত্র ২ দশমিক ৯১ শতাংশ জলাধার ও ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ সবুজ রয়েছে। অথচ একটি আদর্শ শহরে ১২ শতাংশ জলাভূমি ও ১৫ শতাংশ এলাকায় সবুজ থাকা প্রয়োজন। 

শনিবার (৩ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে ‘২৮ বছরে রাজধানীর জলাধার ও সবুজ নিধন, বাস্তবতা ও উত্তরণের পথনকশা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ (ইউডিজেএফবি)।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

ল্যান্ডসেট স্যাটেলাইট ছবিসহ নানা বিষয় বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ বছরে রাজধানীর সবুজ, জলাধার, জলাভূমি, উন্মুক্তস্থান, গণপরিসর, পতিত জমি সবই ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। কেন্দ্রীয় নগর এলাকায় সবুজের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৭৮ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ১০ দশমিক ৪২ একরে নেমেছে। জলাধার ও জলাভূমি ৩০ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। ফাঁকা জায়গা ও পতিত জমিও কমেছে।

ঢাকায় জলাধার ও সবুজ উধাওয়ের পথে, পার্ক ছেয়েছে কংক্রিটে: গবেষণা

০৩ জুন ২০২৩, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

জলাধার ভরাট করে ও সবুজ খালি জায়গায় একের পর এক ভবন তৈরির মূল্য দিতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে; কমতে কমতে ২৮ বছরের ব্যবধানে জলাভূমি এসে ঠেকেছে মাত্র ২ দশমিক ৯১ শতাংশে এবং সবুজ এলাকা ৭ দশমিক ৯ শতাংশে।

শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ক এক গবেষণার বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা শহরে ১৯৯৫ সালে ঢাকা শহরে জলাধার ও জলভূমি ছিল নগরীর মোট আয়তনের ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সবুজ এলাকার পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ওই সময় ৪৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এলাকা নির্মাণের আওতায় এসেছিল, যা এখন বেড়ে হয়েছে ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে খেলার মাঠ দখল করে ক্লাব, বিপণিবিতান, হাটবাজারসহ নানা স্থাপনা এবং জলাভূমি ভরাট করে প্রতিনিয়ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করায় সবুজ ও জলাভূমি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে বলে এ গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একটি আদর্শ শহরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাভূমি এবং ১৫ শতাংশ সবুজ থাকাটা প্রয়োজন।

রাজধানী ঢাকায় পার্কের উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণও অত্যন্ত বেশি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বনানী পার্ক, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন পার্ক, ওসমানী এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যথাক্রমে ৪২, ৩৭, ৫২ ও ৩৭ শতাংশ এলাকা কংক্রিটে আচ্ছাদিত।

এমন প্রেক্ষাপটে বক্তারা উন্নয়নের নামে জলাশয় ভরাট করা ও সবুজ নষ্ট করে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে নিয়ম মেনে চলা ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

বন কেটে পাখির জন্য অভয়ারণ্য বানাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন

জুন ৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল বন কেটে পাখিদের জন্য একটা অভয়ারণ্য বানাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলি এলাকায় বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন কেটে এ অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ হাজার ১২টি গাছ কাটা হয়েছে।

শনিবার সারাদেশে যখন পরিবেশের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হচ্ছিল, তখনই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গাছ কাটা শুরু করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা বেশ কিছু জমি উদ্ধার করে সেখানে ডিসি পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, যেখানে পাখি ও বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থলসহ একটা গ্রিন এরিয়া তৈরি করা হবে।

তার দাবি, জায়গাটি এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জায়গা। আগের অবৈধ দখলদাররা সেখানে বিষ দিয়ে গাছগুলো মেরে ফেলেছিল। সেই মরা গাছ তারা সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

কিন্তু ডেইলি স্টারের হাতে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা যে গাছগুলো কেটে ফেলেছেন, সবগুলো গাছই সজীব ও জীবন্ত ছিল।

গাজীপুরে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমি

জুন ০৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

গাজীপুরের কাশিমপুর উপজেলার সারাবো এলাকার আবু বকর, পেশায় একজন কৃষক। জমিতে ফসল ফলিয়েই একসময় চলত তার জীবন-জীবিকা। ধানের পাশাপাশি শীতের মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ নানা ধরনের সবজিও চাষ করতেন, কিন্তু আশপাশের ডায়িং কারখানার ইটিপিবিহীন কেমিক্যাল ও বর্জ্য মেশানো পানি এসে পড়ছে কৃষিজমিতে। নষ্ট করছে জমির ফসল, পুকুর ও খালের মাছ, শিশুদের খেলার মাঠ। ডায়িং কারখানার এ বিষাক্ত পানিতে আজ যেন ‘কালছে’ হয়ে গেছে আবু বকরের মতো অর্ধশতাধিক কৃষকের স্বপ্নও! অনেকেই কৃষিকাজ হারিয়ে করছেন দিনমজুরি।

পরিবেশ আইন অমান্য করে বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কাশিমপুরের বেশ কয়েকটি ডায়িং কারখানার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের ৪ নং সারদাগঞ্জ ওয়ার্ডের সারাবো এলাকায় স্থানীয় জোড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে বসানো হয়েছে মোটা পাইপলাইন। জিএমএস কম্পোজিট লিমিটেড ও মেগা ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড নামে দুটি কারখানার বিষাক্ত কালো পানি ওই পাইপলাইনে করে ফেলা হচ্ছে সরাসরি কৃষি জমিতে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা কারখানা কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

কৃষক আবু বকর বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ, আমাদের আয়ের একমাত্র উপার্জন কৃষি। কিন্তু ১০-১২ বছর হলো কারখানাগুলো কেমিক্যালমিশ্রিত পানি সরাসরি আমাদের জমিতে ফেলছে। এ কারণে আর চাষাবাদ করতে পারছি না। বর্তমানে আমি দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছি।’ একই কথা জানান, স্থানীয় কৃষক ফারুখ, আফতাব উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, নুরুল ইসলামরাও। তাদের জমিতে এক সময় বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ পর্যন্ত ধান হতো বলেও জানান।

কৃষক মমিন বলেন, ‘১০-১২ বছর আগে আমরা বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ ধান পেতাম। কিন্তু কারখানার কালো রঙের বর্জ্যপানি ফসলি জমিতে সরাসরি চলে আসায় ফলন কমে যায়। প্রথম কয়েক বছর বিঘাপ্রতি ধান পাওয়া গেছে সাত থেকে আট মণ। লোকসানের কারণে অনেকে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকম বেঁচে আছেন।’ অনেকেই আবার অন্য পেশার কাজ না জানায় ক্ষতির মুখে বাধ্য হয়ে চাষাবাদই করে যাচ্ছেন বলে জানান এ কৃষক। 

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি কারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যালমিশ্রিত বর্জ্য পানির কারণে নষ্ট হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রতিকার হয়নি।’

দুর্গন্ধযুক্ত কাদামাটির আধিক্যে খেতে হালচাষসহ স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ডা. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। কারখানার কেমিক্যালমিশ্রিত বর্জ্যপানির কারণে ১০-১২ বছর ধরে সে জমিতে আর চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এভাবে যদি দিন দিন ফসলি জমি নষ্ট করা হয় তাহলে টাকা দিয়েও আর খাদ্যশস্য মিলবে না।’

এলাকাবাসী জানান, একসময় খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এসে এখানে মাছ ধরত। কিন্তু কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালমিশ্রিত পানির কারণে মাছ দূরের কথা, খালে এখন কোনো জলজ প্রাণীও চোখে পড়ে না। এছাড়া কারখানার ঝুট বয়লারের বিষাক্ত ধোঁয়ায় চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

হাতিরঝিলে শত শত মরা মাছ

১১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর হাতিরঝিলে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। আজ রোববার সকালে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পেছনের অংশে মরা এসব তেলাপিয়া  মাছ উঠিয়ে মাটিচাপা দিতে দেখা যায় ঝিলের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কর্মীদের। তাঁরা জানান, গত শুক্রবারের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পানিতে মাছগুলো মরেছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবছরই ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানীর অন্য এলাকা থেকে আসা পানিতে মাছ মরার ঘটনা ঘটে।

কংক্রিটের চাপে সবুজের টিকে থাকা দায়

২১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী উদ্যানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি কংক্রিট অবকাঠামো থাকতে পারবে না। আর আন্তর্জাতিকভাবে ২ শতাংশও অনুমোদন করে না। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেটের বিপ্লব উদ্যানের কংক্রিট অবকাঠামোর পরিমাণ অন্তত ৫৫ শতাংশ। কংক্রিটের চাপে কোনোরকমে টিকে আছে সবুজ।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ জালাল মিশুকের নেতৃত্বে করা এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে সহায়তা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কাবিরুল সহিদ। গত মে মাসে এ জরিপ করা হয়।

এ অবস্থায় আবার নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বর্তমানে যে অংশে দোকান রয়েছে, একতলা অংশটি বর্ধিত করে দোতলা করা হবে।

১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ২ নম্বর গেট গাছগাছালিতে ভরা ২ একরের এই উদ্যান গড়ে তোলা হয়। আশপাশের মানুষের স্বস্তির একটি স্থান এ উদ্যান। অনেকে বিকেলের সময়টুকু কাটান এখানে। সেই স্বস্তি এখন কেড়ে নিচ্ছে কংক্রিটের যন্ত্রণা।

উদ্যানের সবুজ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের নগর–পরিকল্পনাবিদ আবদুল্লাহ আল ওমর। তাঁর মতে, বিপ্লব উদ্যানে কংক্রিটের অবকাঠামোর পরিমাণ ২৫–৩০ শতাংশের বেশি হবে। অবশ্য এই পরিমাণও গ্রহণযোগ্য নয়। আরও কম থাকা দরকার ছিল। একজন নগর–পরিকল্পনাবিদ হিসেবে মনে করেন, এভাবে স্থাপনা করতে দেওয়া উচিত হয়নি।

সবুজের প্রাণ যায় যায়

উদ্যানটি রক্ষণাবেক্ষণ করত সিটি করপোরেশন। ২০১৮ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রি ফর্ম লিমিটেড ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ইজারা দিয়ে দেয় সংস্থাটি। এ জন্য বছরে রাজস্ব ধরা হয় মাত্র এক লাখ টাকা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজারা পেয়ে বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করতে দেরি করেনি। এতে উদ্যানের মূল চরিত্রই পাল্টে গেছে। এখন উদ্যানের মূল অংশে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান। একটি-দুটি নয়, এক সারিতেই আছে ১৯টি দোকান। উদ্যানের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এসব দোকান ও দোকানে আসা ক্রেতাদের জন্য বসার আসন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের বড় অংশজুড়ে মানুষের যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। শুধু হাঁটার পথগুলো খোলা। সেগুলোও কংক্রিটের তৈরি। সবুজের চিহ্ন নেই। উদ্যানে থাকা চারটি বড় গাছও মরে গেছে। এ ছাড়া হাঁটাপথের পাশে একটু পরপর বসার আসন রাখা হয়েছে। দোকানগুলোর সামনের অংশ ঢালাই করা। এর মধ্যে এক সারিতে বসার আসন। উদ্যানের মাঝখানে রয়েছে পানির ফোয়ারা। নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ময়লা হয়ে আছে পানি।

একসময় বিপ্লব উদ্যানে হাঁটতে আসতেন নগরের আলফালাহ গলির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী সৈয়দ সগীর (৭৮)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগে উদ্যানের পরিবেশ ছিল নিরিবিলি। স্বস্তিতে হাঁটা যেত। বিশ্রাম নেওয়া যেত। কিন্তু এখন সেখানে প্রচুর দোকান হয়ে গেছে। সারাক্ষণ মানুষের ভিড় লেগে থাকে। নিরিবিলি পরিবেশ আর নেই। উদ্যানের বর্তমান পরিবেশের কারণে সেখানে তাঁদের মতো বৃদ্ধ লোকদের যাওয়ার সুযোগ নেই।

খোলা জায়গা ও পার্কে কংক্রিটের আচ্ছাদন নগরীর জলাবদ্ধতা বাড়িয়েছে

জুলাই ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় (নগর ভবন) ও সচিবালয়ের মাঝে ওসমানী উদ্যানের অবস্থান। প্রায় ২৩ দশমিক ৩৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত উদ্যানটির বেশির ভাগ অংশই অর্থাৎ ৫২ শতাংশ এখন কংক্রিটে ঢাকা। পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বনানী পার্ক, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কগুলোর চিত্রও প্রায় একই। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো পার্ক বা উদ্যানের ৫ শতাংশের বেশি অংশে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়ার নিয়ম নেই। পার্কের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রাজধানীর খোলা জায়গাগুলোতেও বসানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কংক্রিট। ফলে অল্প বর্ষণেই তীব্র জলাবদ্ধতায় ভুগতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সিটি করপোরেশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাই নগরে জলাবদ্ধতা বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কংক্রিটে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যান ও খোলা জায়গাগুলো। যদিও দুই সিটি মেয়রের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা গড়ার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে গত ২৮ জুন ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ১ জুলাই হয়েছে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এতেই তলিয়ে যায় ঢাকার পথঘাট। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা থাকায় অবশ্য ব্যাপক জনভোগান্তি হয়নি। তবে সামনের বর্ষার দিনগুলোয় এমন বৃষ্টি ঝরলে ঠিকই চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে নগরবাসীকে। কেননা জুলাইয়ে সাধারণত ১১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, বৃষ্টির পানি সাধারণত তিনভাবে নিষ্কাশন হয়। এর মধ্যে মাটি কিছু শুষে নেয়। কিছু পানি জলাশয় ও নিচু ভূমিতে গিয়ে জমা হয়। আর বড় একটা অংশ নগরের ড্রেন হয়ে খাল ও নদীতে গিয়ে মেশে। কিন্তু ঢাকায় না আছে পর্যাপ্ত জলাশয়, না আছে শোষণক্ষম ভূমি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আবার যে পরিমাণ খোলা জায়গা ও পার্ক রয়েছে সেগুলোও যদি কংক্রিটে ঢেকে ফেলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোয় অল্প বৃষ্টিপাতেই নগরবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় ভুগতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে আশঙ্কাজনক হারে শোষণক্ষম ভূমি কমছে। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশে। অর্থাৎ ২০ বছরের ব্যবধানে শোষণক্ষম ভূমি কমেছে ২৬ শতাংশ। একই সঙ্গে রাজধানীতে কমেছে খোলা জায়গাও। ১৯৯৯ সালে ফাঁকা ভূমি ছিল ১৪ শতাংশ। বর্তমানে সেটি ৪ দশমিক ৬১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। রাজধানীতে ২০ বছরে সবুজ আচ্ছাদিত এলাকা কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বর্তমানে এর পরিমাণ মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

বিআইপির সম্প্রতি প্রকাশিত আরেক গবেষণা বলছে, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্ক ওসমানী উদ্যানের ৫২ শতাংশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩৭ শতাংশ, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কের ৩৭ শতাংশ এবং বনানী পার্কের ৪২ শতাংশ কংক্রিটে আচ্ছাদিত। একইভাবে বাহাদুর শাহ পার্কের মতো ঐতিহাসিক পার্কেও গত বছর নতুন করে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়া হয়েছে, তাও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমোদন নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত রাজধানীর শোষণক্ষম ভূমি এভাবে কংক্রিটে ঢেকে ফেলায় আরো জটিল আকার ধারণ করবে নগরীর জলাবদ্ধতা। ডিএসসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‌‘পর্যাপ্ত জলাশয় ও শোষণক্ষম ভূমি সমস্যার সমাধান না করে রাজধানীবাসীকে কখনই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। ড্রেন ও খাল শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেও জলাবদ্ধতা থেকেই যাবে। কারণ এসব ড্রেন ও খালের একটি নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে।’ জলাবদ্ধতা বাড়ার জন্য মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সৌন্দর্যের নামে দেদার পার্ক ও উদ্যান কংক্রিটে ঢেকে ফেলাকে দুষেছেন এ কর্মকর্তা।

মিলেমিশে পাহাড় সাবাড়

০৭ জুলাই ২৩, সমকাল

কক্সবাজারের শুকনাছড়ি এলাকায় সড়কের পাশে বড় বড় পাহাড়। ব্রিটিশ আমলে এসব পাহাড়কে ‘সংরক্ষিত বন’ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ বনভূমিও রয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালে সংরক্ষিত ও সংকটাপন্ন এই এলাকার ৭০০ একর বনভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে সেই বরাদ্দ কার্যক্রম।

বন বিভাগ বলছে, বন বিভাগের জমি নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে মাত্র ১ লাখ টাকা প্রতীকী মূল্যে ওই জমি বরাদ্দ দেয়। অথচ জমির প্রকৃত মূল্য ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। একইভাবে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে খুনিয়াপালং মৌজায় ২০২২ সালের ৪ জুলাই ২৫ একর সংরক্ষিত বন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। সেখানে তৈরি হবে আবাসিক প্রশিক্ষণ একাডেমি। জমি বরাদ্দের সময় আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয় বন বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়, একাডেমি স্থাপনে সেখানে পাহাড়ের পাশাপাশি কাটা পড়বে প্রায় ৩০ হাজার গাছ। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবেশ।

পানি

লোডশেডিংয়ের মধ্যে ঢাকায় পানিরও সংকট

০৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর আফতাবনগরের জি ব্লকে দুই দিন ধরে ঢাকা ওয়াসার লাইনে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাসিন্দারা দুই দিন ধরে পাশের বনশ্রী থেকে পানি আনতেন। গতকাল মঙ্গলবার বনশ্রীতেও পানির সংকট দেখা দেয়।

আফতাবনগরের জি ব্লকের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানিও যদি না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচে কী করে। এখন তো আরও বেশি পানি লাগে। কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পানিসংকটের এই চিত্র শুধু আফতাবনগরে নয়, রাজধানীর অন্তত ৩৫টি এলাকা থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ওয়াসার লাইনে চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ওয়াসা গাড়ির মাধ্যমে যে পানি বিক্রি করে, তা–ও চাহিদামতো কিনতে পারছেন না কিছু এলাকার মানুষ।

ঢাকা ওয়াসা বলছে, লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পানির পাম্প চালাতে পারছে না। বিপরীতে প্রচণ্ড গরমের কারণে পানির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে—দুইয়ে মিলে সংকট তৈরি হয়েছে।

চাহিদা কত, উৎপাদন কত

ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২৫৫ থেকে ২৬০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়। ওয়াসা প্রায় ২৮০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। কিন্তু সরবরাহকালে অপচয় (সিস্টেম লস, যা প্রায় ২০ শতাংশ) এবং পাম্প নষ্ট হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই এলাকাভিত্তিক কিছু সমস্যা তৈরি হয়।

ওয়াসা বলছে, গরমের কারণে এখন পানির চাহিদা বেড়ে দৈনিক ৩০০ কোটি লিটারের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে বেশিসংখ্যক এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির প্রায় ৬৭ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপ দিয়ে টেনে এই পানি তোলা হয়। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এখন ঢাকা ওয়াসার ১ হাজার ৬১টি পাম্প (স্ট্যান্ডবাইসহ) রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ওয়াসা নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলো চালায়। তবে জেনারেটর দিয়ে সব পাম্প চালানোর মতো সক্ষমতা ওয়াসার নেই। অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।

সংস্থাটির একটি সূত্র বলছে, ঢাকা ওয়াসায় এখন সব মিলিয়ে ৪০০টির মতো জেনারেটর আছে।

ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহের ব্যবস্থাটি ১০টি জোন বা অঞ্চলে বিভক্ত। অঞ্চলগুলো থেকে গত সোমবারের সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে, পাঁচটি অঞ্চলে (১, ২, ৩, ৫ ও ১০) বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কারণে বেশি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব অঞ্চলের পাম্পগুলো গত সোমবার মোট ১৫৮ বার বিদ্যুতের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগের দিন এসব অঞ্চলের পাম্প ১৪৯ বার বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের শিকার হয়।

পানি উৎপাদনে ঢাকা ওয়াসা ‘কাগুজে বাঘ’

০৯ জুন ২৩, সমকাল

ঢাকা ওয়াসা এত দিন গলা ফাটিয়েছে– চাহিদার চেয়েও তাদের পানির উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। কয়েক দিনের তাপদাহ আর লোডশেডিংয়ের বাড়াবাড়িতেই এখন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানেরও নরম সুর! গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাজধানীবাসীকে এই সময়ে কম পানি ব্যবহারের সবক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন সরাসরি রানিং পানি ব্যবহার না করে পাত্রে নিয়ে ব্যবহার করুন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা কী পরিমাণ বাড়ে, সে ধারণা ওয়াসার নেই। তা না হলে এত অল্পতেই পানি ব্যবস্থাপনায় হযবরল পরিস্থিতি হবে কেন? সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প; এত দিনেও কেন তারা পাম্পগুলোতে জেনারেটর নিশ্চিত করতে পারল না। এ দায়ভার এককভাবে ওয়াসাকেই নিতে হবে।

ঢাকা ওয়াসার দাবি, প্রতিদিন গড়ে ২৮০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করেছে তারা। গত এক সপ্তাহে ৯১৪ পাম্পের মধ্যে জেনারেটরহীন ১৫৮টি বিদ্যুৎ বিভ্রাটজনিত কারণে ২৭৫ ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে। ওয়াসার হিসাবে প্রতিদিন দেড় হাজার গাড়ি পানির চাহিদা জমা পড়লেও ৭৫০টির বেশি সরবরাহ করতে পারছে না তারা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার গাড়ি পানির চাহিদা থাকে। এদিকে ওয়াসার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, প্রতিদিন যদি একজন মানুষের ১৩০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়, সে হিসাবে রাজধানীতে দুই কোটি লোকের জন্য ২৬০ কোটি লিটার পানি লাগে। তবে বাস্তবে একজন মানুষ প্রতিদিন ১৩০ লিটার পানি ব্যবহার করছেন না। আর ওয়াসার প্রকৃত উৎপাদন যদি দৈনিক ২৮০ কোটি লিটার হয়, কোনোভাবেই রাজধানীতে পানি সংকট থাকার কথা নয়। ওয়াসা যে হিসাব দেয় তা কাগুজে, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম দ্বিগুণ হচ্ছে

১৬ জুলাই ২৩, সমকাল

দ্বিগুণ করা হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম। বর্তমানে প্রতি লিটার পানি বিক্রি হচ্ছে ৪০ পয়সায়। আগস্ট মাস থেকে কিনতে হবে ৮০ পয়সায়। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এটিএম বুথ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রামেশ্বর দাস সমকালকে বলেন, লিটারপ্রতি ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি লিটারের দাম হবে ৭০ পয়সা। বাকি ১০ পয়সা কর বাবদ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সুজিত কুমার বালা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ২৯৪টি পানির এটিএম বুথ রয়েছে। ওয়াসার পানির পাম্পগুলোতে এসব এটিএম স্থাপন করা আছে। এটিএম বুথের মাধ্যমে সেখান থেকে গভীর নকলকূপের পানি গ্রাহকের নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বুথে বুথে নোটিশ দিয়ে গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দাম বৃদ্ধির কথা। এতদিন প্রতি লিটারের দাম ছিল করসহ ৪০ পয়সা। 

ওয়াসা বলছে, যে দামে ওয়াসা এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহককে পানি দেয় তাতে খরচ ওঠে না। বিদ্যুৎ বিল, কর্মীদের বেতন-ভাতা, পানি সরবরাহে এটিএম বুথ স্থাপনসহ বিভিন্ন খরচ আছে। এতদিন ভর্তুকি দিয়ে গ্রাহককে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকির পরিমাণ কমানোর জন্য দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প কি অনিশ্চয়তায় পড়ছে

২৭ এপ্রিল ২৩, সমকাল

ইউক্রেনে হামলার কারণে মস্কোকে আরও চাপে ফেলতে চায় ওয়াশিংটন। তারই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার ৮০ প্রতিষ্ঠান ও একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সদ্য দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্যতম প্রতিষ্ঠান রোসাটম। এতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে রোসাটমের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন নিয়ে। সম্প্রতি রোসাটমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঢাকাকে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে রোসাটম এক ই-মেইল বার্তায় সমকালকে জানায়, রোসাটমের সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে না। বরং এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে রোসাটম।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে তাদের ওয়েবসাইটে। এতে বলা হয়, রাশিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান ইউক্রেন যুদ্ধে মদদ দিয়েছে বা দিচ্ছে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে চীনের প্রতিষ্ঠান ‘হেড অ্যারোস্পেস টেকনোলজি’ এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে– তারা ইউক্রেনের ওপর থেকে স্যাটেলাইট দিয়ে ছবি তুলে রাশিয়াকে সরবরাহ করেছে।

কয়লাসংকটে পাঁচ দিন ধরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

২৮ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

কয়লাসংকটে আবারও বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ২৩ এপ্রিল রাত থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ আছে। ডলার–সংকটের কারণে কয়লা আমদানি করতে না পারায় এ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবার উৎপাদন শুরু হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি কয়লাসংকটের কারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক মাসের মাথায় কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদনে ফেরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৫ এপ্রিল রাত থেকে আবারও বন্ধ হয় উৎপাদন। তিন দিন বন্ধ থাকার পর ১৮ এপ্রিল কেন্দ্রটি আবার সচল হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর অফশোর ব্লকে অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো

৫ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ও ভারতের মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সুপারপাওয়ার দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল, অস্ট্রেলিয়ার স্যান্টোস ও আজারবাইজানের সকারসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি এখানে কার্যক্রম বন্ধ করার বেশ কয়েক বছর পর ফের এসব প্রস্তাব পাচ্ছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশে ২৬টি ওপেন অফশোর ও ২২টি অনশোর ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অফশোর ব্লক অগভীর সমুদ্রে ও ১৫টি গভীর সমুদ্রে।

সরকার ওএনজিসি ভিদেশ ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে দুটি অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য (এসএস-০৪ ও এসএস-০৯) উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদন করেছে। কোম্পানি দুটি যৌথভাবে এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

মোট অনশোর ব্লকগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি ব্লক আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন তেল জায়ান্ট শেভরন তিনটি উপকূলীয় ব্লকে (১২, ১৩ ও ১৪) প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন করছে। আর সিঙ্গাপুরের ক্রিসএনার্জি কাজ করছে ব্লক-৯-এ।

এদিকে পেট্রোবাংলা একটি নতুন মডেল পিএসসির খসড়া তৈরি করেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটির আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার চলছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ক্ষেত্রে আকৃষ্ট করতে এ চুক্তির আওতায় বড় আউটপুট শেয়ার দেয়া হবে; বেশি দেওয়া হবে গ্যাসের দামও।

প্রস্তাবিত পিএসসিতে আইওসি-উৎপাদিত গ্যাসের ক্রয়মূল্য প্রতি হাজার ঘনফুটে (এমসিএফ) প্রায় ১০ ডলার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান পিএসসির হারের চেয়ে তিনগুণ বেশি। ‘প্রফিট গ্যাসে’ সরকারের হিস্যাও আগের পিএসসির ৫৫-৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০-৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন যে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তাবগুলো সামলাতে হবে।

দেশের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, ‘আইওসির প্রস্তাবের পেছনে কোনো ভূ-রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। তবে আমাদের উচিত তাদের প্রস্তাবকে স্থানীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে নেওয়া, বিশেষ করে প্রস্তাবটা যখন এক্সনমোবিলের মতো বড় কোম্পানি থেকে আসে।

‘এর আগে কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় গ্যাসক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছে। এখন বাংলাদেশ যেহেতু আইওসিগুলোর লাভ বাড়িয়ে পিএসসিকে আকর্ষণীয় করছে, তাই অন্যান্য কোম্পানিও আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই এই প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের দিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

এর আগে গত ২৩ মার্চ পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার জানিয়েছিলেন, গভীর সমুদ্র ও অনশোর ব্লকগুলোর জন্য এক্সনমোবিলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রস্তাব ও প্রতিবেদন দুটোই বিশ্লেষণ করছে।

স্থলের পাশাপাশি সমুদ্রও চায় যুক্তরাষ্ট্র

নতুন ব্যবসায়িক পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক্সনমোবিল কর্পোরেশন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সমস্ত উন্মুক্ত গভীর পানির অফশোর ব্লক ও কিছু অনশোর ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

একইসঙ্গে শেভরন কর্পোরেশন—যারা স্থানীয় ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত ৬০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের জন্য তিনটি কূপ উন্নয়ন করছে—এখন সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুনেত্রা গ্যাসক্ষেত্রেও তাদের কাজের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী।

মার্কিন বহুজাতিক জ্বালানি কর্পোরেশন শেভরনের সুবাদে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় গ্যাসের সিংহভাগ উৎপাদনই করে শেভরন।

এছাড়া টেক্সাসভিত্তিক প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এক্সেলারেট এনার্জি মহেশখালীতে দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে বাংলাদেশে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন সেবা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পটুয়াখালীর পায়রাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছ থেকে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের অংশে হাইড্রোকার্বন মজুতের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ তার বহুল প্রত্যাশিত মাল্টি-ক্লায়েন্ট জরিপ শুরু করেছে, যা চলতি মে মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেছেন এক্সনমোবিল ও আইওসির অন্যান্য প্রস্তাবের উপর আলোচনা চলছে এবং তারা বাংলাদেশের শর্তাবলিতে সম্মত হলে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযুক্তি বাড়াতে চায়, তেমনি রাশিয়াও অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত লজিস্টিক ও আর্থিক সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ খুঁজছে।

চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত রাশিয়া-বাংলাদেশ ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের (আইজিসি) চতুর্থ অধিবেশনে রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রস্তাব দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ প্রতিনিধিরা তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি, কয়লা শিল্পে সহযোগিতা এবং যৌথভাবে সবুজ শক্তি বিশেষ করে পারমাণবিক সৌরশক্তির উৎস গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বর্তমানে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন—রোসাটম পাবনায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

গাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টস বিভি-ও বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে দৈনিক ৩,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন স্থানীয় উৎস থেকে দৈনিক ২,২০০ এমএমসিএফ এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৬০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশ এখন গ্যাস সংকটে ভুগছে।

বাংলাদেশ কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করলেও এই প্রথম রাশিয়া সরকারি পর্যায়ে এদেশে এলএনজি রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে চীন ও ভারতের রশি টানাটানি

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ছাড়াও আঞ্চলিক শক্তিধর ভারত এবং চীনেরও বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।

চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) কয়লা খনন ও কয়লা বিদ্যুৎ উন্নয়নে নিযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল কর্পোরেশন (সিনোপেক) গ্যাস খাতে কাজ করছে।

এদিকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও তরল রপ্তানিতে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রতিবেশী ভারতের উল্লেখযোগ্য হিস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি এশিয়ার উভয় প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের শাখা পেট্রোচায়না কোম্পানি লিমিটেড এবং ইন্ডিয়ান অ্যাডভেন্ট অয়েলফিল্ড সার্ভিসেস প্রাইভেট একই এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এছাড়াও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) ও এইচ-এনার্জি বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দেড় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৩.৪৯%

৮ মে ২০২৩, শেয়ার বিজ

কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে চলেছে। ডলারের বিনিময়হার বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসায় ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লা ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এর মূল কারণ। এতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়। মাত্র দেড় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৭৩ শতাংশ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও চলতি অর্থবছরের ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) উৎপাদন ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও কয়লার দাম কমতে থাকায় আগামীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

পিডিবির তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল ছয় টাকা ৩০ পয়সা। গত অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট টাকা ৫৪ পয়সা। আর চলতি অর্থবছর প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯৩ পয়সা। অর্থাৎ দেড় বছরে বিদ