দেশপ্রেম, ইতিহাসের দায়ভার ও অপরাধবোধ

নৈতিক স্মৃতিচারণ হিসেবে ইতিহাস। সিপি গ্যাং-এর ‘বেশ্যা’ ব্যানার-১০

দেশপ্রেম, ইতিহাসের দায়ভার ও অপরাধবোধ

রেহনুমা আহমেদ

অন্যায়ের প্রতিবাদকারীদের জন্য শাসক নির্যাতক আর তাদের নানারূপের প্রতিনিধিরা বহুরকম আক্রমণ চর্চা করে। এর মধ্যে যেমন থাকে শারীরিক আক্রমণ, জেল জুলুম তেমনি থাকে ‘চরিত্রহনন’, কুৎসা, অপপ্রচার। এই কাজে ভাষা, রূপক, তথ্যবিকৃতি সবই ঘটে। এগুলোর মধ্যে শাসকদের মতাদর্শিক অবস্থানও প্রকাশ হয়ে পড়ে। এই লেখায় একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পর বুদ্ধিজীবীদের বেশ্যা বলে গালি দেবার ভেতরের চিন্তা ও মতাদর্শ অনুসন্ধান করা হয়েছেধারাবাহিকভাবে। কয়েক সংখ্যা বিরতির পর এবারে দশম পর্ব। এই পর্বে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির স্বার্থে ইতিহাস ও দেশপ্রেমের বয়ান পর্যালোচনা করা হয়েছে।      

দেশপ্রেমিক ইতিহাস” ও অপরাধবোধের সৃষ্টি

একবিংশ শতকের শুরুর দিকে লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধে ইতিহাসবিদ উইলেম ভন শেন্ডেল বলেন, স্বাধীনতার পরপরই রাষ্ট্রীয় এলিটরা বাঙালি জাতীয়তাবাদকে আত্মসাৎ করে রূপান্তরিত করে একটি “মতাদর্শিক অস্ত্রে” এলিটদের “নিজ ক্ষমতা ও পলিসিকে বৈধতা দান করার জন্য, সমালোচকদের দেশদ্রোহী বলে নিন্দা করার জন্য, ও ‘নিচু স্তরের’ জনগোষ্ঠীকে শৃংখলিত করার জন্য।”

বাংলাদেশের নব্য-স্বাধীন রাষ্ট্র অতি দ্রুত পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদের পথ অনুসরণ করে, যার অর্থ, “নির্মম পুঞ্জীভবন,কর্তৃত্ববাদী উন্নয়নশীলতাবাদ, সাংস্কৃতিক হেজেমনিবাদ, বিশেষ-বিশেষ জাতির-প্রতি-বিদ্বেষ এবং ঘনঘন সামরিক শাসন।” কিন্তু তা সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী প্যারাডাইমের প্রতি আস্থাভাজন এবং গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায্যতার মুক্তিকামীতায় বিশ্বাসী সামাজিক শক্তির উদ্ভব ঘটে (প্রাক্তন মুক্তিযোদ্ধা, ছাত্রসমাজ, বুদ্ধিজীবী ও অন্যান্যদের মিলে গঠিত জাতীয় এলিট); শেন্ডেল এর নাম দেন, “পুনরুজ্জীবিত জাতীয়তাবাদ” (“renewal nationalism”)।

বাংলাদেশের নব্য-স্বাধীন রাষ্ট্র অতি দ্রুত পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদের পথ অনুসরণ করে, যার অর্থ, “নির্মম পুঞ্জীভবন,কর্তৃত্ববাদী উন্নয়নশীলতাবাদ, সাংস্কৃতিক হেজেমনিবাদ, বিশেষ-বিশেষ জাতির-প্রতি-বিদ্বেষ এবং ঘনঘন সামরিক শাসন।”

১৯৮০-র দশকে আরো দুটো প্রবণতা লক্ষ করা যায়, দুটোই “দেশোর্ধ্ব” (transnational;দেশীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ না) কিন্তু চিন্তাধারা একইরকম না, বরংপরষ্পর-বিরুদ্ধ চিন্তাধারাকে প্রতিনিধিত্ব করে। এক দিকে হচ্ছে “রাজনৈতিক ইসলাম” দ্বারা উদ্দীপ্ত যারা, এরা স্থানিক শক্তি কিন্তু নিজেদের মতাদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য দেশোর্ধ্ব ইসলামকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে গ্রহণ করে। অপর পক্ষে আছে “সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদী”রা (cultural pluralists), তারা বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশী রাষ্ট্রের একীভূতকরণকে চ্যালেঞ্জ করে, একইভাবে বাঙালিদের ইতিহাসের সাথে বাংলাদেশীদের ইতিহাসের সমরূপীকরণকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এক দিকে হচ্ছে “রাজনৈতিক ইসলাম” দ্বারা উদ্দীপ্ত যারা, এরা স্থানিক শক্তি কিন্তু নিজেদের মতাদর্শিক অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য দেশোর্ধ্ব ইসলামকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে গ্রহণ করে। অপর পক্ষে আছে “সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদী”রা (cultural pluralists), তারা বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশী রাষ্ট্রের একীভূতকরণকে চ্যালেঞ্জ করে, একইভাবে বাঙালিদের ইতিহাসের সাথে বাংলাদেশীদের ইতিহাসের সমরূপীকরণকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জাতীয়তাবাদের ‘বীরোচিত কর্তার বয়ান’ অনেক শক্তিশালী, আর একারণে শেন্ডেল বলেন, জাতীয়তাবাদকে নতুন করে ঢেলে সাজানো উচিৎ নাহলে “ভয়াবহ” সংঘাতের সম্ভাবনাকে হ্রাস করা যাবে না। জনগণের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, বাহাস হওয়া খুবই জরুরি কিন্তু “সঠিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ” কোনটা, এ নিয়ে নিরন্তর তর্ক করার পরিবর্তে আলাপচারিতা গড়ে তুলতে পারা উচিৎ “জাতীয়তাবাদোত্তর” (post-nationalist) বিষয়াদি নিয়ে।

নৃবিজ্ঞানী দীনা সিদ্দিকী শেন্ডেলের বক্তব্যের সাথে ঐক্যমত প্রকাশ করে ক’কদম এগিয়ে আহ্বান জানান ইতিহাস-রচনার “বি-জাতীয়করণের” (“a call to denationalize the writing of history”)। তিনি বলেন, “ইতিহাসের রাষ্ট্রিক ও পরমোদ্দেশ্যবাদী সংস্করণ [“teleological versions”]” থেকে সরে যাওয়া জরুরি, এগুলো অল্পকিছু মানুষকে গুরুত্ব প্রদান করে আর অন্যদের মুখ বন্ধ করে বা মুছে ফেলে বা ইতিহাসের মানচিত্র থেকে তাদের স্থানচ্যুত করে। কে বা কারা এই দেশের খাঁটি নাগরিক আর কে/কারা নন সিদ্দিকী এই প্রক্রিয়াকে স্বতঃসিদ্ধ না ধরে নিয়ে সমস্যায়িত করতে চান। তিনি বলেন, অধিকারবোধকে (sense of entitlement) স্বয়ংক্রিয় বা অবধারিত কিছু হিসেবে না দেখে কোন প্রক্রিয়ায় কে ‘বাঙালি’ কে ‘বিহারি’, কে ‘আপন’ কে ‘পর’, কি উপায়ে এই বর্গগুলো উৎপাদিত হয় ও স্বাভাবিক হিসেবে জারি রাখা হয়, সেগুলো ক্রিটিকালি পর্যবেক্ষণের সময় এসেছে যাতে নাগরিকত্বের ধারণা “আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্যতাভিত্তিক হতে পারে।”

আমি দুজনের সাথেই একমত। কিন্তু বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কথা ভাবলে- আওয়ামী লীগ সরকারের পুনরুজ্জীবিত জাতীয়তাবাদের পুরোপুরি আত্মসাৎকরণ, মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ন্যায্যতা ও সাম্যবাদের আকাক্সক্ষাকে পাশ কাটানো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ-স্টাইলে পুরো দেশটাকে মুক্তিযুদ্ধের ‘পক্ষে’র শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের ‘বিপক্ষে’র শক্তি নামক দুই টুকরায় ভাগ করা, গণহত্যা ও স্বাধীনতার যুদ্ধের তাৎপর্যকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সীমাবদ্ধ রাখা, বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্য সমালোচনাকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলে সংজ্ঞায়িত করা, দেশের ইতিহাসকে পুনঃলিখন করে ১৯৪৮-১৯৭১ পর্যন্ত সব রাজনৈতিক আন্দোলনের সকল কৃতিত্বকে “অসত্যভাবে” আওয়ামী লীগ ও তার নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বলে চালিয়ে দেওয়া, জানুয়ারী ৫, ২০১৪-র ভ- নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগেরই তার ‘বিরোধী’ দল (জাতীয় পার্টি) কে প্রসব করা, বিএনপির উপর পুরোদস্তুর যুদ্ধ পরিচালনা করে গণগ্রেপ্তার, অপহরণ ও মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে দলটিকে অচল করে ফেলা, “পাকিস্তান চলে যাও” বলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিরন্তর তিরষ্কার করে মতাদর্শিক যুদ্ধ পরিচালনা করা, এমন কোনো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি যেটি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে পারে সেটিকে ভূমিষ্ঠ হতে না দেওয়া, সংক্ষেপে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের খেলায় আওয়ামী লীগ হবে একমাত্র/প্রধান খেলোয়াড়, এবং অতপর-আরো-কিছু। আর তাই আমার মনে হয় শেন্ডেল ও সিদ্দিকী-প্রস্তাবিত জটিল বহুত্ববাদী ইতিহাস-চর্চার সাথে সাথে আমাদের আরেক ধরণের ইতিহাস-চর্চার সাথেও তাত্ত্বিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা উচিৎ:- জিম্বাবুয়ের মুক্তিযোদ্ধা-থেকে-স্বৈরশাসকে-পরিণত-হওয়া রবার্ট মুগাবে’র “দেশপ্রেমিক ইতিহাস-রচনা” [“patriotic history-writing”]।

তাই আমার মনে হয় শেন্ডেল ও সিদ্দিকী-প্রস্তাবিত জটিল বহুত্ববাদী ইতিহাস-চর্চার সাথে সাথে আমাদের আরেক ধরণের ইতিহাস-চর্চার সাথেও তাত্ত্বিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা উচিৎ:- জিম্বাবুয়ের মুক্তিযোদ্ধা-থেকে-স্বৈরশাসকে-পরিণত-হওয়া রবার্ট মুগাবে’র “দেশপ্রেমিক ইতিহাস-রচনা”।

এই ধারার ইতিহাস (ও ইতিহাস-রচনার) কথা জানতে পারি প্রথিতযশা আফ্রিকান অ্যাকাডেমিক টেরেন্স রেঞ্জার (১৯২৯-২০১৫) এর গোটা কতক প্রবন্ধ থেকে। ইতিহাসবিদ হিসেবে রেঞ্জার তার মনোযোগ ও কাজের বড় অংশ উৎসর্গ করেছিলেন জিম্বাবুয়েতে। ১৯৬৩ সালে সাদার্ন রোডেশিয়া (বর্তমান জিম্বাবুয়ে)-র শ্বেতাঙ্গ সরকার রেঞ্জারকে বহিষ্কার করে; শ্বেতাঙ্গ শাসন থেকে মুক্তিলাভের পর (১৯৮০) রেঞ্জার স্বাধীন জিম্বাবুয়েতে যান। দি ইনভেনশান অফ ট্রাডিশান বইয়ের লেখক হওয়ার সুবাদে (এরিক হবসবম’সহ, ১৯৮৩) রেঞ্জার বিদ্যান মহলে সুপরিচিত।১০রেঞ্জার সবসময় গুরুত্বারোপ করেছেন ইতিহাস-চর্চার “প্রাসঙ্গিকতার” উপর।

দেশপ্রেমিক ইতিহাস কী, সেটা বর্ণনা করার আগে আমি রেঞ্জারের প্রবন্ধে উল্লিখিত একটি মজার গল্প বলতে চাই। একদা জিম্বাবুয়ের শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট, এমপি ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী ভিক্টোরিয়া চিতেপো (তার স্বামী হার্বার্ট চিতেপো জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান ছিলেন, তাকে ১৯৭৫ সালে হত্যা করা হয়) রেঞ্জারকে এতগুলো ইতিহাসবিদ পয়দা করার জন্য মৃদু ভর্ৎসনা করে বলেন, “জিম্বাবুয়েতে আরো বাস্তববাদী নারী-পুরুষের প্রয়োজন ছিল।” উত্তরে রেঞ্জার হেসে বলেন, মন্ত্রীপরিষদ ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে এতজন ইতিহাসবিদ থাকার কারণে “নতুন জিম্বাবুয়ে হবে ইতিহাসরচনা-শাস্ত্রের দ্বারা দেশ-শাসিত হওয়ার একটি এক্সপেরিমেন্ট’!”১১ কিন্তু বিষয়টি পরে আর কৌতুককর থাকেনি।

রেঞ্জার বলেন, দেশপ্রেমিক ইতিহাস একটি “একক, সরু ঐতিহাসিক বয়ান।” এটি একচেটিয়া, একে “বারংবার পুনরাবৃত্ত” করা হয়।১২ এটি পুরাতন ইতিহাসরচনা শাস্ত্র (historiography) থেকে ভিন্ন কারণ সেটি “আকাক্সক্ষা ও আধুনিকায়ন এবং প্রতিরোধকেও” উদযাপন করে।১৩ জাতীয়তাবাদী ইতিহাসবিদরা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে “বিশ্বাসঘাতকতার” প্রশ্ন তুললে দেশপ্রেমিক ইতিহাস বিরক্তি বোধ করে। দেশপ্রেমিক ইতিহাসের দৃষ্টিতে কোনো ইতিহাস চর্চা যদি “অরাজনৈতিক” হয় তাহলে সেটি অপ্রাসঙ্গিক। দেশপ্রেমিক ইতিহাস দেশকে “বিপ্লবী ও বিশ্বাসঘাতক” এই দুই ভাগে বিভক্ত করে। এটি জটিল ও নমনীয়, জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনী বক্তৃতায়, মন্ত্রী-ইতিহাসবিদদের কাজে, ওয়ার্ল্ড কনজার্ভেশানিস্টদের প্রতি সম্বোধনী বক্তৃতায়, সব জায়গাতেই “সূক্ষ্ম” বিশ্লেষণের সাথে পাওয়া যায় “ভয়াবহ রকমের অতি-সরলীকরণ”। রেঞ্জার বলেন, দেশপ্রেমিক ইতিহাসের সরু ফোকাস এটিকে এক ধরনের “শক্তি ও সারল্য” প্রদান করে। এটি সমানভাবে সর্বত্র প্রচার করা হয় – প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট, মুগাবে’র ভাষণে, স্কুলের পাঠ্যবই ও সিলেবাসে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে, রাষ্ট্র-পরিচালিত পত্রপত্রিকায় (২০০৩)। এটি “ঘোষণা করে যে কর্তৃত্ববাদী সরকার ভীষণ প্রয়োজন যাতে ‘বিশ্বাসঘাতক’দের, যারা সংখ্যায় বড্ড বেশি, দমনপীড়ন ও শাস্তিপ্রদান করা যায়।১৪ দেশপ্রেমিক ইতিহাস আগে থেকেই সব প্রশ্নের উত্তরের ফয়সালা করে ফেলে; এটি “সমাজতন্ত্রের ধারণার পরিবর্তে স্থাপন করেছে ‘সাচ্চার’ [সাচ্চা ইতিহাস, সাচ্চা মুক্তিযোদ্ধা] ধারণা” (২০০৫)।

ব্লেসিং-মাইলস টেন্ডি মেইকিং হিস্ট্রি ইন মুগাবে’স জিম্বাবুয়ে: পলিটিক্স, ইনটেলেকচুয়ালস অ্যান্ড দা মিডিয়া-র লেখক (২০১০)। এটি একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজ যা জিম্বাবুয়ের দেশপ্রেমিক ইতিহাসের “উৎস, উৎপাদন ও আকৃতি” কে নিরীক্ষা করে।১৫ টেন্ডি জোর দিয়ে বলেন, দেশপ্রেমিক ইতিহাস “কল্পিত না বরং বাস্তব অসন্তোষ”কে ধরে এগোয়, উদাহরণস্বরূপ, জিম্বাবুয়েতে জমির মালিকানাকে কেন্দ্র করে শ্বেতাঙ্গ ও অ-শ্বেতাঙ্গদের মধ্যকার বৈষম্য। দেশপ্রেমিক ইতিহাসের প্রবক্তারা তাদের বক্তব্যের সাথে “উদ্বুদ্ধ হওয়ার মতো সাক্ষ্যপ্রমাণ” হাজির করে, যা তাদের বয়ানকে করে তোলে “বিশ্বাসযোগ্য ও বলিষ্ঠ।”সুতরাং, রেঞ্জারের মতো টেন্ডিও আর্গু করেন যে দেশপ্রেমিক ইতিহাসকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে, “শক্তিশালী নৈতিক ডিসকোর্স অন্তর্ভুক্ত করার কারণে” এটি “অমোঘ প্রভাব বিস্তার করে, [এটিকে] চ্যালেঞ্জ করা কঠিন।”১৬

বহু পাঠক হয়ত আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবিত জাতীয়তাবাদ প্রকল্পের সাথে জিম্বাবুয়ের দেশপ্রেমিক ইতিহাস প্রকল্পের আশ্চর্য রকম মিল খুঁজে পাবেন। পার্থক্যের একটি বড় জায়গা হচ্ছে গণমাধ্যম: বাংলাদেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন মিডিয়া, কি প্রিন্ট কি ইলেক্ট্রনিক, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেডিও ও টেলিভিশনের চাইতে দেশপ্রেমিক ইতিহাস প্যাকেজকরণ ও সম্প্রচারে আরো পটু। কৌশলগত দিক থেকে কারো কারো মনে হতে পারে এটি আরো ইফেক্টিভ যেহেতু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিডিয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন মিডিয়া সরকারের প্রতি সম্মতি উৎপাদন করছে। অন্যরা হয়ত জোর দেবেন শাসকগোষ্ঠীর কম্পোজিশনের উপর, সেই ব্যবসায়ী-রাজনৈতিক মেলবন্ধনের উপর যার আবির্ভাব ঘটে বাংলাদেশে নব্য-উদারনৈতিক বাজারব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে। এটি বর্তমান পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে যেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন মিডিয়া জগতে কে কত ভালোভাবে দেশপ্রেমিক ইতিহাস পুনঃপ্যাকেজ ও বিতরণ করতে পারে তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান।১৭

বহু পাঠক হয়ত আওয়ামী লীগের পুনরুজ্জীবিত জাতীয়তাবাদ প্রকল্পের সাথে জিম্বাবুয়ের দেশপ্রেমিক ইতিহাস প্রকল্পের আশ্চর্য রকম মিল খুঁজে পাবেন।

মুগাবে সরকার “কল্পিত” না বরং “বাস্তব” অসন্তোষের সাহায্যে জাতীয়তাবাদী বয়ান নির্মাণ করেছেন, টেন্ডির এই পর্যবেক্ষণকে বাংলাদেশেও স্বার্থকভাবে প্রয়োগ করা যায়: প্রথমে জিয়াউর রহমান সরকার (১৯৭৫-১৯৮১) এবং তার পর হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকার (১৯৮১-১৯৯০) যুদ্ধ অপরাধীদের পুনর্ববাসন করে, বিএনপি নির্বাচনকে উপলক্ষ করে জামায়াতে ইসলামীর সাথে মোর্চা গঠন করে, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার মন্ত্রীপরিষদে যুদ্ধাপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করেন (২০০১-২০০৬), চেনা পরিচিত যুদ্ধাপরাধীদের সরকারি গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য – এগুলোর প্রতি জনসমর্থন ছিল না। যুদ্ধাপরাধের মতো জঘন্য অপরাধ করার পরও অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়াটা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, আাওয়ামী লীগ সরকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের প্রতি বিশাল জনসমর্থন ছিল।

চেনা পরিচিত যুদ্ধাপরাধীদের সরকারি গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য – এগুলোর প্রতি জনসমর্থন ছিল না। যুদ্ধাপরাধের মতো জঘন্য অপরাধ করার পরও অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়াটা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, আাওয়ামী লীগ সরকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্তের প্রতি বিশাল জনসমর্থন ছিল।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার ‘রিকনসিলিয়েশান প্রকল্প’কে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে জেরা করেন সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকের একটি দল। দক্ষিণ আফিকার জাতীয় ঐক্যের সরকার ১৯৯৫ সালে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশান কমিশন (সত্য ও আপস কমিশন) গঠন করে বর্ণবাদের ক্ষত সারানোর জন্য। এটি অনেকটা আাদালতের মতো কাজ করে, চিন্তাটা ছিল এরকম যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আগ্রাসীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় জোর দেয়া হবে সত্য উদঘাটনের উপর। কমিশনের সম্মুখে ভিক্টিম ও আগ্রাসী, দুপক্ষই উপস্থিত হবেন – অপরাধের ভুক্তভোগী তার ক্ষত’র কথা বলবেন, আর অপরাধী তার দোষ স্বীকার করবেন; মনে প্রাণে দোষ স্বীকার করলে আর সেটি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে জেল জরিমানার পরিবর্তে অপরাধীকে ক্ষমা (amnesty) করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সত্য উদঘাটিত হবে, পরস্পরের মধ্যে আপসের সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে, স্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের সাথে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গদের সহঅবস্থানের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। এই শিক্ষক গবেষক দল, যারা আপসের সম্ভাবনা ও গবেষণা করেন, তারা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় “সামাজিকভাবে ক্ষত সারানোর অনুপস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের আলোকে [বলা যেতে পারে যে] বর্ণবাদী সহিংসতার ঐতিহাসিক ও সমষ্টিগত ট্রমাকে [সরকার] ব্যবহার করছে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক-রাজনৈতিক সম্বল হিসেবে।”১৮

নানান চিন্তা মাথায় ঘুরছিল, মনে হলো কোনো গবেষক যদি বাংলাদেশের পুনরুজ্জীবিত জাতীয়তাবাদ নিয়ে গবেষণা করেন তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্পন্সর করা দেশপ্রেমিক ইতিহাস চর্চা আর ১৯৭১- এর ট্রমা নিশ্চয়ই গবেষণার কেন্দ্রে থাকবে, তার সাথে যদি অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে যোগ করেন প্রজন্মের অপরাধবোধ (guilt) – তাহলে আমরা বর্তমান আওয়ামী লীগ শাসনের মেকানিজমকে আরো সূক্ষ ও গভীরভাবে বুঝতে পারব।

মনোবিজ্ঞানীরা অপরাধবোধ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা বলেন এটি একটি সামাজিক অনুভূতি, উদ্ধৃত করছি,

“এটি সামাজিকভাবে নির্মিত, এটি বাস্তবের কিংবা কল্পনার অন্য কারোর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনুভূত হয়…

অপরাধবোধ একটি আত্মসচেতনমূলক অনুভূতি; নিজেকে অপরাধী বোধ করার জন্য সেই মানুষটির মনে এমন একটা মানদন্ড থাকতে হবে যার থেকে তার মনে হবে সে সরে দাঁড়িয়েছে… নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ পালনে অপরাধবোধ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে…অপরাধের অনুভূতি বোধ করার ফলে যার প্রতি দোষী আচরণ করা হয়েছে সেটি পুষিয়ে দেয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়…অপরাধ করেছি এই জ্ঞান সাংঘাতিক চাপের কারণ এর মধ্যে রয়েছে ভয়ের একটি উপাদান: [ভয় যে], আমি অপরাধ করেছি [এটি নিজের কাছে স্বীকার করলে] নিজের কাছে নিজেই ধরা পড়ব… ।” (Klandermans et al., Political Psychology, ২০০৮, পৃ.৩৩৩)।১৯

অপরাধবোধ ভাগাভাগি[share] করলে সংহতি তৈরি হয়, এর কারণে মানুষ একাট্টা বোধ করতে পারে, আমি আবারো উদ্ধৃত করছি,

“সামাজিক পরিচয় তত্ত্ব দাবি করে যে… মানুষের নিজ পরিচয় সম্বন্ধে নিজের যেই ধারণা তার একাংশ পায় সে যেই দল বা গোষ্ঠীর সদস্যতা থেকে…সামাজিক গোষ্ঠীর সাথে একাত্ব বোধ করা মানুষের নিজেকে চেনার একটি অবলম্বন, এর কারণে তার আত্মসম্মানবোধ বাড়তে বা কমতে পারে।” (Klandermans et al., Journal of Personality and Social Psychology,১৯৯৮,পৃ.৮৭৭)।২০

১৯৯৮ সালে বি ডুসইয়ে, এন আর ব্র্যান্সকোম, আর স্পিয়ার্স ও অ্যান্টনি এস আর ম্যানস্টেড ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন সামষ্টিক অপরাধবোধের অনুভূতি (collective feelings of guilt) নিয়ে; তাদের অনুসন্ধানের বিষয় ছিল সামষ্টিক অপরাধবোধ ব্যক্তির আচারণকে কীভাবে প্রভাবিত করে।২১তারা বলেন, যখন দলের সদস্যদের মধ্যে শক্তিশালী দলীয় বন্ধন থাকে তখন “নিজ দলের অতীত আচরণকে ম্যানিপুলেট করলে [দলের সদস্যরা] অনেক প্রভাবিত হয়” আর যদি নিজের অতীত আচরণের জন্য দলটি অপরাধবোধে ভোগে তাহলে তারা এর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতেও রাজী হয়। মনস্তত্ত্বের এই গবেষকদের করা আরেকটি গবেষণা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যদিও নিজ সরকারের আচরণের জন্য কোনো গোষ্ঠী বা দলের বর্তমান সদস্যের “ব্যক্তিগতভাবে দোষী” সাব্যস্ত করা যায় না কারণ তারা তখনো জন্মায়নি, সদস্যদের মধ্যে খুব প্রকট অপরাধবোধ সমষ্টিগতভাবে জাগিয়ে তোলা সম্ভব। এটি নির্ভর করে সদস্যদের দলের সাথে “একাত্মবোধ” এর উপর আর তাদের কতটুকু কি জানানো হয়েছে, সেই “তথ্যে”র উপর।

কিন্তু যদি এমনও হয় যে, গণহত্যার ট্রমা আর অপরাধবোধ, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অপরাধবোধ (২০ থেকে ৩০-এর একটু বেশি বয়সী যারা, তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত কসরত না করার অপরাধবোধ) “ইচ্ছাকৃতভাবে” জাগ্রত করা হয়নি, আমাদের মনে রাখতে হবে যে এই অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যেতে পারে। আরো ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, উদাসীনতা অপরাধবোধের স্থান দখল করতে পারে, বিশেষ করে যদি সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক সমস্যার কোনো সুরাহা না হয়।

নেহেমিয়া স্ট্রাস্লার হারেট্জ পত্রিকায় লেখেন, “পৃথিবীর দেশগুলোর দুর্বিসহ অপরাধবোধের কারণে, কারণ তারা [হিটলারের ইহুদি নিধনের] চূড়ান্ত সমাধান থামানোর জন্য কোনো চেষ্টা চালায়নি, এতেই পাল্লা ভারি হয়ে যায়” আর ইসরায়েল জন্মলাভ করে।২২ কিন্তু, তিনি তার পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেন, ফিলিস্তিনীদের জায়গা দখল করতে থাকা ধীরে ধীরে বিশ্ববাসীর অপরাধবোধকে দুর্বল করে ফেলেছে, ইসরায়েলের এখন “স্বাভাবিক” দেশ হিসেবে আচরণ শুরু করার পালা। তিনি বলেন, “হলোকস্ট [নামক] প্রতিরক্ষা জ্যাকেট তো আর সারা জীবন চলবে না..অচিরেই এটি আমাদের আর রক্ষা করতে পারবে না।২৩ 

গণহত্যা [নামক] প্রতিরক্ষা জ্যাকেট আওয়ামী লীগ সরকারকে কতকাল রক্ষা করবে? যদি শাসনের কর্তৃত্ববাদী ধারা বহাল থাকে তাহলে কি আমাদের অনুভূতি ম্লান হয়ে যাবে আর আমরা আগামীতে বীরঙ্গনাদের অপমান ও যন্ত্রণার কথা স্মরণ করব না?

কিন্তু আমি ওয়াল্টার বেঞ্জামিনের কথা থেকে শক্তি সঞ্চার করি,

“এমন কিছু কখনো ঘটেনি যা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে বলে মনে হতে পারে।”২৪

ইতিহাসবিদ টেরেন্স রেঞ্জার (বামে)। তার বই রাইটিং রিভল্ট এর প্রচ্ছদ (২০১৩)।

সূত্র: www.theconmag.co.za

দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনির শ্রমিকরা বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও জনজীবনের মানোয়ন্নের দাবিতে ধর্মঘট ডাকলে বর্ণবাদোত্তর কৃষ্ণাঙ্গ- শাসিত দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ গুলি চালায়। ৩৪ জন শ্রমিক মারা যান। ১৬ আগস্ট ২০১২।

সূত্র: www.yahoo.com

তথ্যসূত্র:

১। “…however, Bengali nationalism was quickly appropriated by the new Bangladeshi state elite, which found nationalist phraseology useful to legitimize its power and policies, discredit its critics as unpatriotic, and discipline the ‘lower orders’Ó| †`Lyb, Willem van Schendel, “Who Speaks for the Nation? Nationalist Rhetoric and the Challenge of Cultural Pluralism in Bangladesh,” in Willem van Schendel and Erik-Jan Zürcher (eds.), Identity Politics in Central Asia and the Muslim World: Nationalism, Ethnicity and Labour in the Twentieth Century, London and New York: IB Tauris, ২০০১,পৃ.১২৬।

২। উপরোক্ত, একই পৃষ্ঠা।

৩। উপরোক্ত, পৃ. ১০৯।

৪। উপরোক্ত, পৃ.১৩৪।

৫। বাঁকা হরফ মূল লেখায়।

৬। Dina M. Siddiqi, “Left Behind by the Nation: ‘Stranded Pakistanis’ in Bangladesh,” Sites: New Series, Vol. 10, No. 1, 2013, পৃ. ১৭৬।

৭। উপরোক্ত, একই পৃষ্ঠা।

৮। দীর্ঘ হওয়া সূত্রেও উদ্ধৃত করছি: ““The ruling class parties of Bangladesh and their mercenary intellectuals, some of whom even pretend to be historians, refuse to allow open discussions about the past objectively. They want us, the people at large, to swallow what they provide us with in the name of history – mostly half-truths, if not utter lies about our Liberation War, about the controversial role of the top politicians during the Liberation War, about the spirit of the Liberation War, et cetera. The League intellectuals, for example, rightly describe the emergence of Bangladesh as the culmination of a series of major political movements that particularly include the Language Movement of 1948 and 1952, the students’ education movement of 1962, the autonomy movement of 1966, the mass-upcharge [sic] against the Pakistani Military regime of General Ayub Khan in 1969 based on the 6-point programmes of the League and the 11-point programmes of the All-party Students Action Committee, and of course people’s war of liberation against the occupation forces of Pakistan in 1971, but they falsely attribute the entire credit of the movements to Awami League and its leader Sheikh Mujibur Rahman (1920 –1975), who, however, had matchless contribution in generating nationalist self-consciousness of the Bengalis in the erstwhile East Pakistan. They never mention the names of liberal democratic Kamruddin Ahmad and Oli Ahad or leftwing Mohammad Toaha and Abdul Matin, who were the prime leaders of the Language Movement, and they hardly mention the names of leftwing Kazi Zafar Ahmed and Mohammad Farhad who were the most prominent leaders of the education movement. Similarly, coming to the history of the 11-point movement of the Students Action Committee, the League intellectuals rightly refer to the contribution of Tofail Ahmed, but conveniently forget the name of, for example, leftwing Mahbubullah who played a pivotal role in the historic student movement that led to the mass-upcharge [sic] in January 1969. They even refuse to mention the sacrifice of leftwing Asaduzzaman, whose martyrdom was instrumental in igniting the mass upcharge [sic] across the erstwhile East Pakistan that led to the dethronement of the military regime of Gen Ayub Khan|” (বাঁকা হরফ যুক্ত করা হয়েছে)। Nurul Kabir, “Politics of history and history of politics. On partisan narratives of Bangladesh’s liberation war,” New Age, 16 December 2014;১৮-খন্ডের এই লেখা নিউ এইজ- এ প্রকাশিত হয় ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে ২ জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত।

৯। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী ব্যক্তিগত আলাপে বিষয়টির প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, তাকে ধন্যবাদ।

১০ Eric Hobsbawm and Terence Ranger (eds.), The Invention of Tradition, Cambridge: Cambridge University Press (1983), 12thprinting, 2004।

১১। Terence Ranger, “Historiography, Patriotic History and the History of the Nation: The struggle over the past in Zimbabwe,” Journal of Southern African Studies, 30:2, 2004, পৃ. ২২৪।

১২। উপরোক্ত, পৃ. ২১৭।

১৩। টেরেন্স রেঞ্জারের “Historiography, Patriotic History and the History of the Nation,” প্রবন্ধের দুটো আগের সংস্করণ আছে;এই উদ্ধৃতি অক্টোবর ২০০৩ এর সংস্করণ থেকে নেওয়া। দেখুন, পৃ.৫।

১৪। উপরোক্ত।

১৫। Blessing-Miles Tendi, Making History in Mugabe’s Zimbabwe. Politics, Intellectuals and the Media, Bern: Peter Lang, 2010,পৃ.১।

১৬। Blessing-Miles Tendi, How Intellectuals Made History in Zimbabwe, London: Africa Research Institute Counterpoints, 2010,পৃ. ১-২।

১৭। মুগাবের patriotic history-writing এর ধারণা নিয়ে এদেশের এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি মনে করেন, বর্তমানকালের সংবাদ-লেখা/পরিবেশন করার ক্ষেত্রেও এই কনসেপটটি একটি analytical tool হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

১৮। Garth Stevens, Brett Bowman, Gillian Eagle, & Kevin Whitehead, symposium on “The Ruse of Reconciliation? Discursive contours, impossibilities, and modes of resistance in the South African ‘Reconciliation Project’,” Centre for Place, Culture and Politics, City University of New York, 18 August 2015।

১৯। Bert Klandermans, Merel Werner, Marjoka van Doorn, “Redeeming Apartheid’s Legacy: Collective Guilt, political ideology, and compensation,” Political Psychology, Vol. 29, No. 3, 2008,পৃ.৩৩৩।

২০। উপরোক্ত, একই পৃষ্ঠা।

২১। B. Doosje, N. R. Branscombe, R. Spears, and Antony S. R. Manstead, “Guilty by Association: When one’s group has a negative history,”Journal of Personality & Social Psychology, 1998, Vol. 75, No. 4,পৃ.৮৭৭।

২২। Nehemia Shtrasler, “The Holocaust won’t protect Israel forever,” Haaretz, April 13, 2010।

২৩। উপরোক্ত।

২৪ । “…nothing that has ever happened should be regarded as lost to history.” দেখুন, “On the concept of history,” প্রাগুক্ত,পৃ.৩৯০।

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •