অভিজ্ঞতা/মতামত/চিঠিপত্র

অভিজ্ঞতা/মতামত/চিঠিপত্র

ঢাকা মহানগরীতে ট্র্যাফিক চালচিত্র: ধানমন্ডি-মহাখালী রুট

ফারুক কাদের

ঢাকা নগরের রাজপথের ট্র্যাফিক জ্যাম ও বিশৃঙ্খলা কিংবদন্তী সম। এ সমস্যা নিয়ে অনেক লেখালেখি, অনুসন্ধান, সমাধানের উদ্যোগ ও প্রকল্প নেয়া হয়েছে। নগরবাসী এখন ট্র্যাফিক জ্যামে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কারণ এটা তাদের জন্য নিত্য দিনের অভিজ্ঞতা। অনেক বছর পর যারা প্রবাস থেকে ঢাকা আসেন, তারা ঢাকার রাজপথের ট্র্যাফিক জট দেখে আমার মতই বিস্মিত ও বিমূড় হবেন। রাজপথের এই চালচিত্র আমার কাছে উপেক্ষনীয় নয়, বরং এর প্রকৃতি, ঘনঘটা, ও পট পরিবর্তন দিনের পর দিন অবলোকন করেছি। তার ফলাফল এই রাজপথের পাঁচালী। এর একটা ভূমিকা আছে।

আমি অষ্ট্রেলিয়ার সিডনী প্রবাসী ২০০২ সাল থেকে। ঢাকা এলে ধানমন্ডীতে ছোট বোন খুকু আপার বাসায়ই থাকি। খুকু আপার সাথে আমার অশীতিপর মা থাকেন। ২০১৮র এপ্রিল/মে মাসে মার শরীর খারাপ হয়, এবং চিকিৎসার জন্য মাকে হাসপাতালে একদিন থাকতে হয়। তখন মনে হোল সিডনী থেকে ফোনে মার খোঁজ-খবর নেয়াই যথেষ্ট নয়। বড় ছেলে হিসেবে মার সাথে লম্বা সময় আমার থাকা দরকার, এতে খুকু আপাকে মার প্রতি দায়িত্ব থেকে কিছুটা অব্যাহতি দেয়া যাবে।

ঢাকায় দীর্ঘ সময় থাকার প্ল্যান নিয়ে ২০১৮ সালের জুন মাসে দেশে আসি। ঢাকায় ব্যয়বহূল জীবন যাত্রার মানের সাথে তাল মিলিয়ে চলবার জন্য একটা চাকুরী প্রয়োজন ছিল। আমার আগের অফিস ইন্সটিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং (ইওম) যোগযোগ করে একটা কাজও পেয়ে যাই। এখন পুরা দস্তুর ৭-৫টা অফিস জীবনে জড়িয়ে গেছি।

আমি ও ৬/৭ জন সহকর্মী ইন্সটিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং এর মহাখালী ডিওএইচএস অফিসে এক সাথে আসা যাওয়া করি। বাহন আমাদের একটা মাইক্রোবাস, জুলহাস ড্রাইভার। অফিসে আসা যাওয়ার রুটের শুরু ধানমন্ডি ১৫ নং রোড থেকে (আমার পুরনো বন্ধু ফুয়াদ এখান থেকে উঠে); এরপর ১১ নং থেকে উঠি আমি। তার পর রুটের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একে একে তুলে নেয়া হয় জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার রিমি (৩২ নং রোড ব্রীজ), সৌরভ ও বিজনেস ম্যানেজার সামিউন (সাত মসজিদ রোড), সাদাত (সেন্ট্রাল রোড) ও আতিক (মানিক মিঞা এভিনিউ গোল চত্ত্বর)। রুট এয়ারপোর্ট রোডের জাহাঙ্গীর গেট হয়ে মহাখালী ডিওএইচএস অফিসে শেষ।

৩২ নং রোড সংলগ্ন ব্রীজ পার হয়ে তাকওয়া মসজিদ চৌমাথায় কখনও মাইক্রোবাসে বসে একটি আনুষ্ঠানিকতা পর্যবেক্ষণ করি। এই পথে জাঁদরেল পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান খান সকাল বেলা অফিসে যান। তার সম্মানে চৌমাথায় ট্র্যাফিক থামিয়ে তার প্রাডো জিপ গাড়ীকে পথ করে দেয়া হয়। তার প্রাডো সাইরেন বাজিয়ে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি। এর পর আবাহনী মাঠের চৌমাথায় এ জাতীয় আর একটি আনুষ্ঠানিকতার সম্মূখীন হই।

৩২ নং রোড সংলগ্ন ব্রীজ পার হয়ে তাকওয়া মসজিদ চৌমাথায় কখনও মাইক্রোবাসে বসে একটি আনুষ্ঠানিকতা পর্যবেক্ষণ করি। এই পথে জাঁদরেল পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান খান সকাল বেলা অফিসে যান। তার সম্মানে চৌমাথায় ট্র্যাফিক থামিয়ে তার প্রাডো জিপ গাড়ীকে পথ করে দেয়া হয়। তার প্রাডো সাইরেন বাজিয়ে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করি।

আবাহনীর চৌমাথায় কর্তব্যরত এক ট্রাফিক পুলিশ আমাদের আগে যাবার সুযোগ করে দেয়। আমি হাত তুলে পুলিশকে ধন্যবাদ দেই। প্রত্যুত্তরে সে স্যালুট দিয়ে কখনও অভিবাদন জানায়। ড্রাইভার জুলহাস সকালের পিক আপ ড্রাইভে নেমে কাওরানবাজার থেকে এই পুলিশকে তুলে ধানমন্ডিতে প্রায়ই ড্রপ দেয়। পুলিশ ভাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এ সম্মানটুকু আমাদের দেয়।

আবাহনী মাঠ ডানে রেখে আমাদের মাইক্রোবাস বাঁয়ে বাঁক নিয়ে সাত মসজিদ রোডে প্রবেশ করে এবং মোঃপূর থেকে ছুটে আসা বাস, ট্যাক্সি, সিএনজির ট্র্যাফিকের সাথে মিশে যায়। বাসের কর্কশ হর্ন, সিএনজির গোঁ গোঁ শব্দ, ব্যাটারী চালিত রিকশার ঝিঁ ঝিঁ পোকার মত আওয়াজ, বিল্ডিং সাইটে কংক্রিট মেশিনের ঘর ঘর আওয়াজ আপনাকে অন্য জগতে নিয়ে যাবে।

ধানমন্ডি মেডিনোভা ক্লিনিকের কাছে ফুটপাত ঘেঁষে রাস্তায় ঘট ঘট শব্দে সরিষা ভাঙ্গানোর কল খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করে চলেছে। টিপ টিপ করে তেল বোতলে পড়ছে, পাশেই জমা হচ্ছে উৎপাদিত তেলের বায়ো-প্রডাক্ট খইলের কেক – যা আগে গরুকে খাওয়ান হত। গত বছর এখানে একটা সরিষা ভাঙ্গানোর কল ছিল, এবার দুটো।

সাত মসজিদ রোডের দু সাইডে বিভিন্ন বাস স্টপেজ বা মোড়, শঙ্কর, ১৫ নং (পুরনো), ১৯ নং (পুরনো), জিগাতলা, এগুলো এখনও আমার জন্য চেনা দুষ্কর, যদিও এ এলাকায় অনেক দিন থেকেছি। একই ধরনের দোকান পাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শপিং মল, ফুটপাত বাজার, পার্কিং করা গাড়ী, মানুষের ভীড় – সবকিছু মিলিয়ে স্টপেজ গুলোর কারো কোন আলাদা বৈশিষ্ট্য এখন আর নেই। ১৯ নং (পুরোনো) রোড হয়ে ভিতরে মধুবাজার, যেখানে আমার শ্বশুর বাড়ী ছিল। অনেক আগে মধুবাজারে ঢোকার মুখে আমানত ফার্মেসী আমার কাছে ছিল ল্যান্ডমার্কের মত। আমানত ফার্মেসী উঠে যাবার পর শ্বশুর বাড়ী যেতে ১৯ নং মোড় খূঁজে বের করতে হয়েছে।

সাত মসজিদ রোডের দুদিকে প্রশস্ত ফুটপাত। কিন্তু কাঁচা বাজার, ফলের দোকান, হোটেল, টি-স্টল, নির্মাণ কাজ ফুটপাতের বিরাট অংশ হজম করে ফেলেছে। আলমাস প্লাজা পয়েন্টের অপর দিকে সুগন্ধা বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারিদের ক্লিনিকের গলিতে সকালের অফিস টাইমে জমজমাট মাছের বাজার বসে। ধানমন্ডির গলিতে জমজমাট মাছের বাজার বসবে, এটা কোনদিন ভাবিনি। বাজারের কাছে ওয়াসার পাইপ বসাতে ট্রেঞ্চের মত রোড কাটা হয়েছে। রোডের কাটা অংশে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল মানুষের পেটের নাড়ি ভূঁড়ির মত বের হয়ে এসেছে।

রোডের অনেক স্থানে ফুটপাত ঘেষে রাস্তায় ভ্যান গাড়ীতে শাক-সব্জী, ফল-ফলাদি, পরিধেয় বস্ত্র ও জুতো-স্যান্ডেলের বাজার। সব মিলিয়ে এক চমকপ্রদ দৃশ্য। বাংলাদেশীরা খুবই এন্টারপ্রাইজিং – তারা যেখানে সেখানে অকল্পনীয় স্থানে হাট বাজার বসিয়ে দেবে!

সাত মসজিদ রোড দিনের বেলা, বিশেষ করে অফিস টাইমে, এক উড়ণচন্ডাল সড়ক। রোডে প্রতিটা যানবাহন: কার, বাস, সিএনজি, রিক্সা, হোন্ডা, সাইকেল, ভ্যানগাড়ী, পথচারী সামনে যেতে বা রোডের এপার থেকে ওপারে যেতে বা ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় প্রতি ইঞ্চি জায়গার জন্য জান প্রাণ লড়াই করে। কোন রিকশা চালক বা ড্রাইভার ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকতে চায়না। একশ মিটার দৌড়ের শুরুতে স্প্রীন্টার যেমন স্টার্টার পিস্তলের গুলি ফুটার জন্য মুখিয়ে থাকে, তেমনি রিকশা চালক বা ড্রাইভার ট্রাফিক জ্যাম ছুটার জন্য অপেক্ষা করে। ফুটপাতে ও ফুটপাত সংলগ্ন রাস্তায় মোবাইল দোকানপাট ও ক্রেতাদের ভীড়, পার্কিং করা বাস, ট্রাক প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তোলে।

একশ মিটার দৌড়ের শুরুতে স্প্রীন্টার যেমন স্টার্টার পিস্তলের গুলি ফুটার জন্য মুখিয়ে থাকে, তেমনি রিকশা চালক বা ড্রাইভার ট্রাফিক জ্যাম ছুটার জন্য অপেক্ষা করে।

ওভারব্রীজ দিয়ে যারা ধীরে সুস্থে পার হয়, তাদের মনে হয় পরাজিত যোদ্ধা। রাস্তার ট্র্যাফিক যুদ্ধে হেরে ওভারব্রীজ বেছে নিয়েছে, যেন আর কোন উপায় ছিলনা।

ঈদগাহের কাছে আলমাস প্লাজা পয়েন্টে আমাদের মাইক্রোবাস সহযাত্রী সৌরভ ও সামিউনের জন্য অপেক্ষা করে। সৌরভ রায়েরবাজার টালী অফিস রোড থেকে ২০ মিনিট হেঁটে সাত মসজিদ রোডের পশ্চিম সাইডে উপস্থিত হয়, দেরী হলে রিকশায় চড়ে আসে। সামিউন কাছেই থাকে, ধীরে সুস্থে আসে। সকালের বেপরোয়া ট্রাফিকের মধ্যে রাস্তা পার হয়ে অপেক্ষারত অফিসের মাইক্রোবাস ধরা সৌরভের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। মাইক্রোবাসে বসে দেখি বিপরীত দিক থেকে অভিবাবক-সন্তান সহ স্কুলগামী রিকশা আসছে। মাঝে মাঝে ভাবি, আমাদের মাইক্রোবাস সঠিক লেনে বা সাইডে আছে তো! নাকি আমরা উল্টো দিকে যাচ্ছি!

সাত মসজিদ রোডের শেষ মাথায় বিজিএফ হেডকোয়ার্টার বা পিলখানা। এখানে দুটো ভাল স্কুল আছে। সকালে পায়ে হাঁটা ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবক দেখে শুনে রাস্তা পার হয়ে পিলখানার গেটে ভীড় করে। রাস্তা পার হতে উদ্বিগ্ন বাবা-মা ও স্কুলযাত্রী ছেলে মেয়েদেরও কেউ ছাড় দেয়না। দেখে খারাপই লাগে। কিন্তু কেউ কেউ দমে যায় না। সেদিন এক কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে দেখি ট্র্যাফিক জ্যামে থমকে দাঁড়ানো গাড়ীর ফাঁক ফোঁকড় গলে সাইকেল চালিয়ে গেল। মোচড় দিয়ে যেন গ্লাইড করে চলে এল পিলখানা গেটের সামনে। এত স্মার্ট! আমি বিস্মিত ও মুগ্ধ!

এক কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে দেখি ট্র্যাফিক জ্যামে থমকে দাঁড়ানো গাড়ীর ফাঁক ফোঁকড় গলে সাইকেল চালিয়ে গেল। মোচড় দিয়ে যেন গ্লাইড করে চলে এল পিলখানা গেটের সামনে। এত স্মার্ট! আমি বিস্মিত ও মুগ্ধ!

রুটের বিভিন্ন রোড ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক জ্যামের কারনে ড্রাইভার জুলহাসের পিক আপ শিডিউল বজায় রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পয়েন্টে অপেক্ষারত অফিস যাত্রী অধৈর্য্য হয়ে জুলহাসকে মোবাইলে কল করে। জুলহাসের মোবাইলে তখন হিন্দী গানের রিংটোন বাজে, “যো তুমভি না হোতে, চাহাত না হোতা।” জুলহাস ডান হাতে ষ্টীয়ারিং আর বাম হাতে মোবাইল ধরে কাঁচুমাঁচু হয়ে বলে, “স্যার আইসা পড়ছি, আর কয়েক মিনিট।”

জুলহাসের ডান পা নিয়ত ব্রেক ও এক্সিলারেটরের মধ্যে নাচা নাচি করে, যখন গাড়ী চলে। চিপা চাপার মধ্য দিয়ে যাতা দিয়ে জায়গা করে গাড়ী চালিয়ে নিতে সে ওস্তাদ। দু এক বার জুলহাসকে বলেছি, স্কুলগামী ছাত্র ও বাবা-মার দিকে খেয়াল রাখতে। কোন কাজ হয়নি।

কাওরানবাজার রোডের সিগনালে প্রায়ই দেখি আফজাল ভাই তসবীহ হাতে জেব্রা ক্রসিং এ দাঁড়িয়ে, রাস্তা পার হবেন। হয়তো মসজিদে ফজরের নামাজের পর প্রাতঃভ্রমণ শেষে বাড়ী ফিরছেন। উনি দীর্ঘ সময় কাজ করে সম্প্রতি আমাদের অফিস থেকে রিটায়ার করেছেন। গাড়ী থামিয়ে তার কুশলাদি জিজ্ঞেস করব, সে উপায় নেই।

কাওরানবাজারে জ্যাম বেশী হলে কখনও লম্বা গ্রীণ রোড হয়ে যাই। সোজা এ রোডের সায়েন্স ল্যাবরেটরী মাথা থেকে ফার্মগেট মাথা দেখা যায়। রাস্তার দুপাশে অনেক হাই রাইজ বিল্ডিং এর প্রতি তালায় বারান্দায় কাপড় চোপড় শুকাচ্ছে। দেখে মনে হয়, এখানে শুধু গৃহস্থ মানুষেরাই থাকে। গ্রীণ রোডে দূর থেকে একদিন দেখি, আকাশে এক বিরাট কুন্ডলীর মত সাদা মেঘ পূব থেকে ভেসে পশ্চিমে যাচ্ছে, যেন ধীরে ধীরে হেঁটে জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে গেল।

মহাখালী ডিওএইচএসঅফিসে পৌঁছার আগে এয়ারপোর্ট রোডের বিরাট জ্যামে আমরা তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করি, কখন জ্যামের শেষ প্রান্ত জাহাঙ্গীর গেটে নড়ন চড়ন দেখা যাবে! জ্যামে আমাদের গল্পগুজব খেই হারিয়ে ফেলে। অপেক্ষার মধ্যে কেউ গাড়ীতে ঘুমিয়ে পড়ে। ওদিকে বিপরীত লেনে সাইরেন বাজিয়ে সাঁই সাঁই করে উইন্ডো গ্লাস টিন্টেড করা ভিআইপি গাড়ী ছুটে যায়।

জ্যামে আমাদের গল্পগুজব খেই হারিয়ে ফেলে। অপেক্ষার মধ্যে কেউ গাড়ীতে ঘুমিয়ে পড়ে। ওদিকে বিপরীত লেনে সাইরেন বাজিয়ে সাঁই সাঁই করে উইন্ডো গ্লাস টিন্টেড করা ভিআইপি গাড়ী ছুটে যায়।

জাহাঙ্গীর গেট পার হয়ে মহাখালী ফ্লাই ওভারের কাছে এলে মনে পড়ে এখানে দুই কচি তাজা প্রাণ, দিয়া আর সায়েম, নির্মম বাস দূর্ঘটনায় ঝরে গিয়েছিল। মাইক্রোবাস শাহীন স্কুলের ফুটপাতের গা ঘেষে এগিয়ে মহাখালী ডিওএইচএস এ ঢুকে পড়ে। ঢোকার এক লেন পরে ৩২ নং লেনের মুখে অফিসের গেটে মাইক্রোবাস থামে।

জাহাঙ্গীর গেট পার হয়ে মহাখালী ফ্লাই ওভারের কাছে এলে মনে পড়ে এখানে দুই কচি তাজা প্রাণ, দিয়া আর সায়েম, নির্মম বাস দূর্ঘটনায় ঝরে গিয়েছিল।

আমরা একে একে নেবে পড়ি, অফিস কক্ষের দিকে ধাবিত হই।

ফারুক কাদের: সিডনী প্রবাসী। ইমেইল: faruk.kader718@gmail.com

 

গ্রাম ও শহরের কথা

মমতাজ হাসান

 

গ্রামে মানুষ ভাল নেই                      

গ্রামে মানুষ ভাল নেই। চাল সহ নিত্য পণ্যের বাজার উর্ধ্বমুখী। চাল সহ কেনা অন্যান্য সাংসারিক পণ্য গ্রামের অধিকাংশ মানুষের অধিকাংশ সময়ের ভরসা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের জীবন যাত্রার দশা বেহাল। গ্রামীণ মানুষের প্রধান সহায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য যার দাম বাজারে লভ্য অন্যসব পণ্যের তুলনায় অনেক কম। গ্রামে উৎপাদিত  এসব পণ্যই বাজারের সংগে কৃষকের জীবনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। তাই বলা যায় তাদের জীবন এখন অনেকটাই ভারসাম্যহীন। ধান পাট গম আখ এসব আমাদের চিরায়ত কৃষি পণ্য। বহুকাল ধরে এসব পণ্য উৎপাদনের পরিক্রমাই এখানকার কৃষকের জীবন পরিক্রমার একটি  সাধারণ রূপ। কিন্তু বর্তমানে এর সবকটিতেই লেগেছে শনির দশা। সুদীর্ঘকাল ধরে ঢিমে তেতালায় নিম্নমূল্যের দাঁড় টানার পর ২০১৭ সালে এসে আমাদের মুক্ত বাজার ধানের দামে একটা উর্দ্ধমুখী ঢেউ তোলে। ফলে ধানের দাম অনেক বেড়ে যায়। আগে যেখানে দাম থাকত প্রতি মণে ৫/৬শ টাকা সেখানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০০০/১১০০ টাকায়। সে বছর ব্যাপক বন্যায় হাওড়ের ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। সেখানে বছরে ফসল একটিই। তাই স্বাভাবিকভাবেই আশংকা তৈরি হয় খাদ্য সংকটের। এরপর যথারীতি সে খবর ছড়িয়ে যায় সারা দেশে। কৃষকের কপাল মন্দ, ফসলের ন্যায্যমুল্য তার ভাগ্যে জোটেনা।

ধান পাট গম আখ এসব আমাদের চিরায়ত কৃষি পণ্য। বহুকাল ধরে এসব পণ্য উৎপাদনের পরিক্রমাই এখানকার কৃষকের জীবন পরিক্রমার একটি  সাধারণ রূপ। কিন্তু বর্তমানে এর সবকটিতেই লেগেছে শনির দশা।

কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্য ছাড়া এখন সব জিনিসের দাম চড়া এবং সেটা বজায় আছে।  কয়েকদিন আগে মিডিয়া খবর দিয়েছে নাটোরে মুলার কেজি ১ টাকা যশোরে শিম ২ টাকা বেগুন ৩ টাকা ফুলকপি ২ টাকা নতুন পেঁয়াজ ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে বোতলে ২৫-৩০টাকা। প্রথম আলোর (২৯/০১/২০২১) খবর হল ১০ লাখ টন আমদানীর অনুমতি প্রদান ও কর ভার ৬২% থেকে ২৫% এ নামিয়ে আনার পরেও বাজারে চালের দাম কমেনি। বাজারে সাধারণ মানুষের খাদ্য মোটা চালের দাম ৪৫-৫০ টাকা কেজি যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭% বেশী। কে কাকে খেলা দেখাল তার হিসাবটা পাঠক মিলিয়ে নিতে পারবেন। এ ভাবেই ব্যর্থ  হল উপার্জনের প্রধান সূত্র ধান। মানুষের বিস্ময়ভরা উচ্চারণ ‘কী হল’।

নাটোরে মুলার কেজি ১ টাকা যশোরে শিম ২ টাকা বেগুন ৩ টাকা ফুলকপি ২ টাকা নতুন পেঁয়াজ ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে বোতলে ২৫-৩০টাকা।

এর বাইরে কৃষকের উপার্জনের দুটো বড় উপায় ছিল আখ ও পাট। সেগুলোও এখন ধ্বংসের মুখে, পাটকল পুরোপুরি বন্ধ আর চিনিকলের ৬টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গড়পড়তা ৩০০ টাকা মূল্যের চিনি যখন ৫৪ টাকায় বিক্রি করতে হয় তখন অনুমান না করেও বলে দেয়া যায় যে বাকিগুলিও শীঘ্র বন্ধের মধ্যে পড়বে। আখ ও পাট গ্রামে জীবন জীবিকার এক বৃহৎ সূত্র, মানুষকে টেনেটুনে নিয়ে চলে। ১৫টি চিনি কল ২৬টি পাটকল কয়েক লাখ কৃষকের নিকট হতে আখ ও পাট কিনত তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা প্রাণ প্রবাহ টিকে ছিল যা এখন আর থাকবেনা। এগুলো বন্ধের অজুহাত ‘লোকসান’। পাটকল চিনিকল ছাড়া আরও বহু সংস্থা আছে যারা লোকসান দেয়। বিমান রেল ব্যাংক পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এমন অনেক নাম নেয়া যাবে যারা লোকসান দিলেও বন্ধ হয়না। কিন্তু খড়গ পড়ল কেবল পাটকল ও চিনিকলের উপরে। যুক্তি উঠতে পারে যে রেল বিমান পেট্রোলিয়ামের সেবা অপরিহার্য। যারা কৃষক নামক সমাজের এক বৃহৎ অংশকে টিকিয়ে রাখে তাদের সেবাও তো অপরিহার্য হওয়া উচিৎ। লোকসানের ভার পড়েছে কৃষকের কাঁধে যারা এর সাথে কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট নন। লোকসানের কতক চিরচেনা কারণ আছে: অব্যাহত চুরি ও  লুটপাট, বেশী দামে ও অসময়ে খারাপ মানের পাট কেনা, প্রচন্ড দুর্নীতি, কারখানাগুলির আধুনিকায়ন না করা ইত্যাদি। এসব চলেছে যুগ যুগ ধরে।

প্রশ্ন আসে এতদিন পরে এসে কেন বলা হচ্ছে কারখানা চালানো যাবেনা, কেন এ বিলম্ব? বিলম্বের কারণ হল অজুহাত গুলোকে খুব শক্ত হয়ে ওঠার সুযোগ দেয়া যেন অন্যকিছু আর এসবের উপরে দাঁড়াতে না পারে। যদি সময় থাকতেই সব বলা হত তবে কৃষক অবশ্যই এই ভাংগা ঘাটটি ছেড়ে অন্য কোন ঘাটে তাদের আবাদের নাও ভেড়াতেন।  তাহলে আজকের এই সংকটের মধ্যে তাকে পড়তে হতনা। সময়ে সুবিধা অনেকেই নিয়েছেন। এখন বিপদে কৃষক একা।

ইদানিং আমরা নানাখাতে বৃহৎ বৃহৎ সব সক্ষমতার নজীর রাখছি, নানা স্থাপনা কাঠামো তৈরি হচ্ছে প্রচুর অর্থ ব্যয়ে। কিন্তু তার চেয়ে অনেক কম খরচে গ্রামীণ মানুষদের জীবন জীবিকার এই চিরচেনা সূত্রগুলো মেরামত করিনি। কে নেবে এই ব্যর্থতার দায়? কয়েক লাখ পাটচাষী আর আখচাষীর জীবন এখন অন্ধকারে। একেকটি পরিবারে অন্তত ৫/৭ জন মানুষ ছিল; ছিল ১/২জন শিক্ষার্থী, অসুস্থ বয়স্ক বাবা মা, বিবাহযোগ্যা কন্যা। কতবড় যে নিরব বিপর্যয় নেমে এলো তার পরিমাপ কেউ জানবেনা। এখন অনেকের বাঁচার উপায় হল পেশা পরিবর্তন করা। কেউ হবেন বাজারের পথে-বসা হকার, কেউ হবেন পথের ধারের ঘুন্টির দোকানদার, কেউ হবেন চা বিক্রেতা। বলা যায় এক কঠিন সময়। যারা মাঠের ধারায় অভ্যস্ত ছিলেন তারা এখন কীভাবে পথের ধারায় অভ্যস্ত হবেন তা কারো জানা নেই। এক জীবনের চর্চা থেকে ভিন্ন আরেক জীবনের চর্চায় থিতু হওয়া সহজ নয়। পেশা কেবল উপার্জনের ক্ষেত্র নয়, সেখানে হৃদয়বৃত্তি ও মননশীলতার চর্চাও রয়েছে। এতদিনের এইসব চর্চা পরিত্যাগ করে  নতুন চর্চা আয়ত্ত্ব করা স্বল্প সময়ে কীভাবে সম্ভব? কৃষির দুটি বৃহৎ ক্ষেত্রকে অন্ধকারে ঠেলে দেবার মধ্য দিয়ে  কৃষককেও নিকষ অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হল। বন্ধ হয়ে গেল গ্রামের মানুষের ভাল থাকার দুটি বৃহৎ পথ ।

কৃষি পণ্যের মুল্য প্রাপ্তি ছাড়াও গ্রামে আরও অনেক সমস্যা আছে। সেখানে  ভাল কোন পরিষেবা পাওয়া যায়না, নেই ভাল চিকিৎসক শিক্ষক। যিনি কিছুটা দক্ষতা ও  পসার লাভ করেন তাকে আর গ্রামে পাওয়া যায়না, পাড়ি জমান শহরে। পত্রিকা টিভি চ্যানেলের কল্যাণে শিক্ষা দীক্ষা কর্মসংস্থান সহ নানা ক্ষেত্রে শহরের মানুষের সুযোগ সুবিধা ও এগিয়ে যাওয়ার গল্পগুলি প্রতিনিয়ত গ্রামের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে । সেই মতে তাদের মধ্যে প্রত্যাশাও তৈরি হয়। কিন্তু গ্রামে সেই প্রত্যাশা পূরণের উপায় নাই। তাই যেতে হয় শহরে। গ্রামের বহু মানুষ এই ন্যায়সংগত চাওয়া পূরণের জন্য পরিবার পাঠিয়েছেন শহরে নিজে থাকছেন গ্রামে; শহর আর গ্রামে যাওয়া-আসার মধ্যে তাদের দিন কাটে। এই যে এক জীবনে দুই জীবনের জঞ্জাল তা কেবলি গ্রাম জীবনের অভিশাপ, অন্যকিছু নয়।

গ্রামীণ মানুষের জীবনে সুকুমার বৃত্তির চর্চাও হারিয়ে গেছে। অবকাশ মানুষকে চিরাচরিত প্রথা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সামাজিক মানবিক নানা বিষয়ে মনোনিবেশ করার সুযোগ দেয়, মনে মহৎ কিছু ভাবার ও করার উদ্দীপনা আনে। মানবিক জীবনের পূর্ণাংগরূপ পেতে কৃষকের জন্য অবশ্যই অবকাশ নান্দনিকতা মহৎ গুণাবলীর চর্চা দরকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এগুলি হতে সে বঞ্চিত। উচ্চ ফলনশীল জাত শস্যক্রমের নিবিড়তা ও এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী ফেলে না রাখার প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা আধুনিক কৃষি কৃষককে এসব হতে সরিয়ে দিয়েছে অনেক দুরে।এখন তার জীবন কেবলই ক্ষুন্নিবৃত্তির আর মোটা ভাত মোটা কাপড়ে দিন যাপনের । এখন এটাই কৃষকের সাদামাটা জীবনের ছবি। এই শুণ্যতায় গজিয়ে  উঠেছে সন্ত্রাস জংগীবাদ সহ নানা বৈকল্য-বিপদ। গ্রামের মানুষকে পর্যাপ্ত অবকাশ ও সুকুমারবৃত্তির সুযোগ দিতে হবে। তাহলে এইসব প্রবণতা ফণা তোলার সুযোগ পাবেনা।

 

একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর শহর চাই: ঠাকুরগাঁও চিত্র

ঠাকুরগাঁও একটি ছোট শহর। তিরিশ বর্গ কিলোমিটারের এ শহরটি এখনও পুরোপুরি বাণিজ্যিক কলেবর ধারণ করেনি।এখানকার মানুষ শান্তিপ্রিয়, সেই সুবাদে ঠাকুরগাঁয়ের ছিমছাম পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শহরের অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনার বিশেষতঃ পলিথিনের ছড়াছড়ি, চোখ ও নাক উভয়কেই বিষম পীড়িত করে; এলাকাগুলি হেঁটে অতিক্রম করা কঠিন। অনেক স্থানে ভাংগারীর বস্তা স্তুপ করে রাখা হযেছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১-এ এখানে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রচার পর্বটি ছিল বেশ জমজমাট। প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন, ভোট প্রার্থনা করেছেন, নানা আশ্বাসও দিয়েছেন। যে কথাটি বিশেষভাবে বলে তারা সবাই শহরবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন তা হল নির্বাচিত হলে তারা একটি পরিচ্ছন্ন সুন্দর নগরী গড়বেন। আমরা এই সুযোগে কথাটি তাদেরকে পুনরায় মনে করিয়ে দিতে চাই। সুন্দর শহর গড়ার প্রাথমিক কাজ হল শহরকে ময়লা-আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু দুঃখজনক হল পরিচ্ছন্নতা এখানে অনুপস্থিত।

শহরের পথঘাট মাঠ খোলা জায়গা নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরে থাকে। এসব আবর্জনার অধিকাংশই পলিথিন। যদিও শহরের পরিচ্ছন্নতা-যানগুলি মাঝে মাঝে সড়কে চলাচল করে তবে তাতে ময়লার স্তুপের দখলিস্বত্ত্বে তেমন বিঘ্ন ঘটেনা। এ ছাড়াও একটা ব্যবস্থা আছে, ভ্যানে করে প্রতিদিন বাসাবাড়ী হতে ময়লা সংগ্রহ করা হয়। এজন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের নিয়ম আছে। এই ভ্যানগুলি নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ করে বলেই দৃশ্যতঃ প্রতীয়মান। তবে সকলে বোধহয় এই সেবা গ্রহণ করেন না। না হলে এর পরে আর যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকার কথা নয়, কিন্তু থাকে। কিছু কিছু বাসাবাড়ী হতে ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নতা-ভ্যানে না দিয়ে সড়কের মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটির গোঁড়ায় সহ বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। এরপর যথারীতি পশুপাখীর ঘাঁটাঘাটির কারণে সেসব চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে আবর্জনার সংগে তীব্র দুর্গন্ধও চারপাশে ছড়ায়, বিশেষতঃ শিশুদের স্বাস্থ্যহানির কারণ ঘটায়। পথ চলতে হয় নাকে রুমাল চেপে।

শহরের পথঘাট মাঠ খোলা জায়গা নালা-নর্দমা আবর্জনায় ভরে থাকে। এসব আবর্জনার অধিকাংশই পলিথিন।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় শহরের মাঝখানে অবস্থিত সর্বজনের জায়গা বলে পরিচিত বড় বড় গাছপালার সবুজে ঘেরা জেলা স্কুল বড়মাঠের কথা। শহরের সকল বয়সের সকল শ্রেণীর মানুষের বিনোদন খেলাধুলা নির্মল বায়ু সেবন হাঁটাহাটি শরীর চর্চা বৈকালিক অবসর কাটানোর জন্য এটিই একমাত্র জায়গা। সকলে এখানেই আসেন। তাই প্রতিদিন কি সকাল কি বিকাল এখানে মানুষের সমাগম থাকে। গত মার্চে করোনা সংক্রমণ বিস্তার লাভ করলে নিরপত্তামুলক ব্যবস্থা হিসাবে শহরের কালিবাড়ী বাজারের সব্জির দোকানগুলিকে জেলা স্কুল বড়মাঠে এবং মাছের দোকানগুলিকে বড়মাঠের উত্তরদিকে রেলিংএর বাইরে প্রধান সড়কের পাশে স্থানান্তর করা হয়। তখন বাজার-সদাই এর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষের চলাচলও এখানে বন্ধ হয়।

বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় শহরের মাঝখানে অবস্থিত সর্বজনের জায়গা বলে পরিচিত বড় বড় গাছপালার সবুজে ঘেরা জেলা স্কুল বড়মাঠের কথা। শহরের সকল বয়সের সকল শ্রেণীর মানুষের বিনোদন খেলাধুলা নির্মল বায়ু সেবন হাঁটাহাটি শরীর চর্চা বৈকালিক অবসর কাটানোর জন্য এটিই একমাত্র জায়গা।

এখন সংক্রমণ অনেকটা কমেছে।দোকান গুলি তাদের আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। তবে অজস্র পলিথিন ব্যাগ ও অন্যান্য আবর্জনা মাঠের যত্রতত্র স্তুপ হয়ে আছে ও পরিবেশ দুষণ ঘটাচ্ছে। বিশেষভাবে এর শিকার হচ্ছে মাঠে খেলতে আসা শিশুরা।

অজস্র পলিথিন ব্যাগ ও অন্যান্য আবর্জনা মাঠের যত্রতত্র স্তুপ হয়ে আছে ও পরিবেশ দুষণ ঘটাচ্ছে। বিশেষভাবে এর শিকার হচ্ছে মাঠে খেলতে আসা শিশুরা।

শহরের পরিবেশ সর্বত্র কমবেশী একই রকম যা শহরবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যার এক বড় কারণ। আমরা আশা করব এবং অনুরোধ করব শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে অনমনীয় হবেন।

মোঃ মমতাজ হাসান: অবসর প্রাপ্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ঘোষপাড়া, ঠাকুরগাঁও। 

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •