সংবাদপত্রের পাতা থেকে(২৬ এপ্রিল- ২৪ জুলাই ২০২৬)
শ্রমজীবি মানুষের কথা
ঢাকার বাজারে শ্রম বিক্রি করতে আসা মানুষগুলো কেমন আছেন
২৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের পাশের সড়কের ফুটপাতে কাজের খোঁজে দাঁড়িয়ে আছেন মোহাম্মদ সুমন। লুঙ্গির ওপর কালো টি–শার্ট গায়ে, বাঁ কাঁধে গামছা। তিন দিন ধরে কেউ কাজে নেননি তাঁকে। কেরানীগঞ্জ থেকে রোজ সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এখানে এসে তিনি হাজির হন। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকে ফিরে যান। দুপুরের পর সাধারণত আর কাজ জোটে না। মন খারাপ করে ফিরতি পথ ধরতে হয়।
গতকাল শনিবার সকাল নয়টার দিকে কথা হলো সুমনের সঙ্গে। খুবই কষ্টে দিন যাচ্ছে তাঁর। কাজ না পেলেও ক্ষুধা তো মানবে না। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তাঁর পাঁচজনের সংসার। ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয় মাসে। তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। প্রতিদিনের মজুরি ৮০০ টাকা। তবে কাজ পেতে পেতে যদি অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়, যেমন সকাল ১০টার পর থেকে কাজ পেতে যত সময় যায়, মজুরিও তত কমে আসে।
স্বাধীনতার পর থেকেই ফকিরাপুল পানির ট্যাংকের পাশের ফুটপাতে গড়ে উঠেছে এই শ্রমবাজার। এখন প্রতিদিন এখানে ৩০০–৪০০ মানুষ শ্রম বিক্রি করতে আসেন। তাঁদের মধ্যে আছেন নির্মাণ–সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকার কাজের মিস্ত্রি। যেমন কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, স্যানিটারি মিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি ও তাঁদের সহকারী; আছেন সাধারণ দিনমজুর, ভ্যানচালক এমন অনেক পেশার মানুষ। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সবারই কাজ কমে গেছে। বিশেষ কাজের পারদর্শী মিস্ত্রি থেকে শুরু করে দিনমজুর পর্যন্ত সবাই খুব অর্থসংকটে পড়েছেন। প্রত্যেকেই সপ্তাহে তিন-চার দিন বেকার থাকছেন বলে জানান। কেউ কেউ টানা এক সপ্তাহের বেশি সময়ও কাজ পাচ্ছেন না।
সুমনের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বলিগঞ্জে। সেখানে জ্ঞাতিগোষ্ঠী আছে, কিন্তু নিজের ঘরবাড়ি নেই। কিশোর বয়সে কেরানীগঞ্জে এসেছিলেন। এখন বয়স ৪৫ বছর। বরাবরই দিনমজুরি করেছেন। মাঝখানে অন্য রকম কিছু করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন। কিছু টাকা জমে ছিল হাতে। সেই টাকা আর সমিতি থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনেছিলেন ২০২২ সালে। তাঁর কপালটাই খারাপ। বছর না ঘুরতেই অটোর ‘ব্যাটারি বসে’ যায়। এর পর থেকেই এটা–ওটা নানা রকম ঝামেলা হতেই থাকে। উপায়ান্তর না পেয়ে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়ে আবার ফিরেছেন দিনমজুরির পেশায়। তাঁর স্ত্রীর কিছু জমানো টাকা ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে সমিতির ঋণ শোধ করেছেন। তবে এখনো ৪০ হাজার টাকার মতো তাঁর দেনা রয়ে গেছে।
সুমন মিয়া বললেন, বছর দুয়েক ধরে তাঁর কাজ কমে গেছে। এখন খুব বেশি হলে মাসে ১৫ দিন কাজ পান। সব দিনে আবার পুরো মজুরি পাওয়া যায় না। ফলে মাসে তাঁর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বেশি আয় হয় না। তাঁর স্ত্রী কেরানীগঞ্জেই গৃহকর্মীর কাজ করেন। মাসে তিনি আয় করেন চার হাজার টাকার মতো। কোনোরকমে দুজনের আয়ে সংসার চলছে।
কালিয়াকৈরে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ
২৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে একটি প্যাকেজিং কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। শনিবার সকালে উপজেলার ভান্নারা পোড়াচালা এলাকার সানস প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেড কারখানার সামনে শ্রমিকেরা ওই বিক্ষোভ করেন।
কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তাঁদের ঈদ বোনাস পরিশোধের কথা ছিল। সেদিন পরিশোধ না করে শনিবার দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত সময়ে বোনাস না দিয়ে শনিবার সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে কারখানার প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক শ্রমিক কারখানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকেরা অবিলম্বে বকেয়া বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
১৫ শতাংশ শিল্পকারখানায় এখনো ঈদ বোনাস বাকি
২৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ঈদের বাকি আর দুই দিন। অথচ আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ শিল্পকারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি। এমনকি দেড় শতাংশ শিল্পকারখানা গত এপ্রিলের বেতনও দেয়নি। প্রায় ১০ হাজার শিল্পকারখানা তদারক করে এমন তথ্য জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট—এই আট শিল্পাঞ্চলের ১০ হাজার ২৩৮টি শিল্পকারখানা পর্যবেক্ষণ করছে শিল্প পুলিশ। সংস্থাটি আজ সন্ধ্যায় জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৩৮টি শিল্পকারখানা ঈদ বোনাস দিয়েছে। তবে ১ হাজার ৫০০টি বা ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিল্পকারখানার বোনাস বাকি রয়েছে। এ ছাড়া ১৬২টি বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিল্পকারখানার গত এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
দেশের সব কারখানায় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ২১ মের মধ্যে এবং মাসিক বেতন নির্ধারিত তারিখে আবশ্যিকভাবে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ১৪ মে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং আরএমজি–বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বেতন-বোনাসের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
২৬ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বেতন ও বোনাসের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর থেকে মহাসড়কের সোনারগাঁ টিপুদ্রি এলাকা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ১টার দিকে টিপুদ্রি এলাকায় অবস্থিত চৈতি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা মহাসড়কের দুটি লেনের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা এপ্রিল মাসের বকেয়া বেতন এবং মে মাসের বেতন ঈদের আগেই পরিশোধের দাবি জানান। তবে মালিকপক্ষ পুরো বেতন পরিশোধে অপারগতা জানালে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে মহাসড়কের দুটি লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ টিপুদ্রি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজট ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও চালকরা।
‘ঈদের পর থেইকাই কাম নাই, পকেট একেবারে খালি’
০৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের মূল সড়কের পাশের ফুটপাতে ভোরের চিত্রটা একটু ভিন্ন। যখন শহরের অনেক বাসিন্দার ঘুম ভাঙে না, তখন এখানে জমে ওঠে একটি ভিন্ন রকমের ভিড়। সেই ভিড়ের মানুষের দিকে তাকালে চোখে পড়ে কারও হাতে কোদাল–বালতি, কাঁধে গামছা, কারও ব্যাগে রাখা নানা যন্ত্রপাতি। তাঁদের অপেক্ষা একটাই—কেউ তাঁদের ‘কিনতে’ আসবেন। এটি সেসব ‘মানুষের হাট’, যাঁরা নিজের শ্রম বিক্রি করতে এখানে আসেন।
মিরপুর ১ গোলচত্বর থেকে সামান্য দূরে, রাস্তার পাশের এই শ্রমবাজার দশকের পর দশক ধরে টিকে আছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ এখানে ভিড় জমান। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, টাইলস মিস্ত্রি ও তাঁদের সহযোগী এবং নানা কাজের দিনমজুর।
‘কহনো ২০০, কহনো ৩০০ টেকা পাঠাই’
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই প্রতিবেদক যখন সেখানে যান, তখন ঘড়িতে সাতটা বাজতে কয়েক মিনিট বাকি। ফুটপাতের একটা অংশে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন মানুষ। তাঁদের একজন মো. সুলতান, বয়স ৭০ পেরিয়েছে, গায়ে ধুলামাখা শার্টে ময়লার আস্তরণ জমেছে, নেই কয়েকটি বোতামও; পরনে লুঙ্গি আর কোমরে গামছা বাঁধা। সঙ্গে থাকা একটি পুরোনো ব্যাগে আরও কয়েকটি জামাকাপড়, একটি চশমার বাক্সে রাখা আছে জাতীয় পরিচয়পত্র।
মো. সুলতান প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজমিস্ত্রির ‘জোগালি’ হিসেবে কাজ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায়। এর আগে তিনি বেবিট্যাক্সি চালাতেন। সুলতানের একমাত্র ছেলে বয়োজ্যেষ্ঠ মা–বাবার কোনো দেখাশোনা না করায় বয়সের ভারে নুইয়ে পড়লেও খাবার জোটাতে তাঁকে প্রতিদিন কাজের খোঁজে আসতে হয়। সুলতানের স্ত্রী থাকেন গ্রামে। মো. সুলতান কাজ পেলে তাঁর স্ত্রীর জন্য খাবার ও ওষুধের টাকা পাঠান। তিনি বলেন, ‘দোকানে গিয়া কহনো ২০০ টেকা, কহনো ৩০০ টেকা পাঠাই। আমার তো মোবাইল নাই, দোকানে গেলে পাঠাইয়া দেয়।’
মো. সুলতানের ঢাকায় কোনো থাকার স্থান নেই। প্রথম আলোকে জানালেন, রাতে মিরপুর ১–এর আশপাশের সড়ক কিংবা ফুটপাতই তাঁর থাকার জায়গা। কাজ পেলে খাবার কিনতে পারেন, কাজ না পেলে উপোস থাকতে হয়।
মো. সুলতান বলেন, ‘ঈদের পর থেইকাই কাম নাই। গত তিন দিন ধইরা কোনো কাম পাই নাই। কাল বিকাল থেইকা কিচ্ছু খাই নাই। পকেট একেবারে খালি, একডা ট্যাহাও নাই।’ বর্তমান বাজারে কাজ কমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক দিন কাম পাই, পাঁচ দিন পাই না। এইভাবে কেমনে চলমু কন? আর চলতে পারতাছি না বাবা।’ বয়স বেশি হওয়ায় অনেকে তাঁকে কাজে নিতে চায় না কিংবা নিলেও কম টাকা দিতে চায় বলেও জানান তিনি।
ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপের ১৮৬৮ জনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই
০৬ জুন ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘আল মুসলিম’ গ্রুপের সাভারের ৩টি কারখানা থেকে এক হাজার ৮৬৮ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে উলাইল এলাকায় একেএম নিটওয়্যার লিমিটেড থেকে এক হাজার ২৮৬, রেডিও কলোনি এলাকায় প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়ার থেকে ৫২৯ ও আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস থেকে ৫৩ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রেডিও কলোনি ও উলাইল এলাকার দুটি কারখানার সামনে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের অনেককে কারখানার সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। অনেককে কারখানার ফটকের পাশের দেয়ালে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের তালিকা দেখছেন। কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের দাবি, ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি। ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
সুপারভাইজার বলেছিলেন, ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’
২৫ জুন, ২০২৬, কালের কন্ঠ
“লিজা সুপারভাইজারকে বলেছিলেন ‘খুব অসুস্থ লাগছে। মনে হয় মারা যাব’।
জবাবে সুপারভাইজার বলেছিলেন, ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’। পরে কাজ করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। সকালে আমরা জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে।”
কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী এলাকায় অবস্থিত কালার কো-লিমিটেড নামের পোশাক কারখানার এক নারী মেশিন অপারেটর।
বুধবার (২৪ জুন) রাতে কারখানাটিতে তারই এক নারী সহকর্মী লিজা আক্তার (২৬)-এর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও ছুটি না দেওয়ায় বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি লিজা।
ওই নারী অপারেটেরের অভিযোগ, অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চান লিজা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছুটি দেয়নি।
রাত ৮টার দিকে আবারও ছুটি চাইলে তাতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ রাত ১০টার দিকে তিনি ফের ছুটি চাইলে তা নাকচ করা হয়। ওই সময় তাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল বলে জানান তিনি।
নারী অপারেটর বলেন, “লিজা সুপারভাইজারকে বলেছিলেন, ‘খুব অসুস্থ লাগছে। মনে হয় মারা যাব।
আমার দুটি শিশুসন্তান আছে। সন্তান দুটির সঙ্গে কথা বলে মারা যেতে চাই’। জবাবে সুপারভাইজার বলেছিলেন, ‘তুই মইরা যাগা, ছুটি নাই’। পরে কাজ করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। সকালে আমরা জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে।”
এদিকে ছুটি না দিয়ে লিজাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কারখানাটির শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, বুধবার কাজে এসে বিকেল ৫টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়েন লিজা। তিনি কর্তৃপক্ষর কাছে ছুটি চাইলেও দেওয়া হয়নি। পরে কর্মরত অবস্থায় রাতের কোনো এক সময় মেঝেতেই মারা যান তিনি। আজ বৃহস্পতিবার খবরটি সকালে কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে জানাজানি হয়। প্রতিবাদে তারা সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন।
দেশে ছয় মাসে ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই
০৬ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং এবং ইউনিক ডিজাইনার্স কারখানা গত ১৬ জুন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কারখানা দুটিতে ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ করতেন। আর্থিক সংকটের কারণে বন্ধ হওয়া কারখানা দুটির শ্রমিকেরা এখনো বকেয়া বেতন-ভাতা ও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং এবং ইউনিক ডিজাইনার্স মতো প্রতি মাসেই কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। আবার বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করছে কারখানাগুলো। তাতে শত শত শ্রমিক বেকার হচ্ছেন। তাঁদের একটি অংশ বকেয়া বেতন-ভাতা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ বুঝে পাচ্ছেন না।
শিল্প পুলিশ, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ—এই তিন সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কমপক্ষে ২০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত কিংবা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। যার অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক।
বেতন স্থবির, কাজের শেষ নেই: শোষণে পিষ্ট বেসরকারি চাকরিজীবী
১৫ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
টানা বৃষ্টি। রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়ার সড়কগুলো কোমরসমান পানিতে ডুবল। তবু বেসরকারি চাকরিজীবীদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। গণপরিবহন–সংকট আর তীব্র জলাবদ্ধতা ঠেলে ভিজতে ভিজতেই তাঁদের অফিসের পথ ধরতে হয়। কারণ, বেসরকারি খাতের হাজিরা খাতায় ‘জলাবদ্ধতা’র জন্য দেরিতে আসার কোনো বিশেষ ছাড় নেই। তবে রাস্তাঘাটের এই কঠিন যাতায়াত যন্ত্রণার চেয়েও অনেক বেশি তীব্র মানসিক ও কাঠামোগত শোষণ সহ্য করতে হয় তাঁদের অফিসের চারদেয়ালের ভেতরে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ দেশের বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের জীবন আসলে এক প্রচ্ছন্ন ‘দিন আনি দিন খাই’ চক্রের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে করপোরেট পোশাক আর গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে ঘুরলেও মাস শেষে তাঁদের পকেট শূন্য হয়ে যায়। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে যাতায়াত ভাড়া ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেলাতে মেলাতে এই কর্মীরা নিজেদের মৌলিক ও মানবিক অধিকারের কথা একপ্রকার ভুলেই যান।
বেসরকারি চাকরিজীবীদের প্রথম ও প্রধান সংকট হলো বছরের পর বছর আটকে থাকা পদোন্নতি আর নামমাত্র ইনক্রিমেন্ট। ঢাকার একটি বেসরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর ধরে কর্মরত অর্ণব রহমান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, পাঁচ বছর ধরে একই পদে আছেন। কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়েছে, কিন্তু ইনক্রিমেন্ট হয়েছে নামমাত্র। ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির এই বাজারে একই বেতনে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শ্রম আইনে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজের কথা বলা হলেও আমাদের প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা খাটতে হয়। কিন্তু অতিরিক্ত এই শ্রমের জন্য কোনো ওভারটাইম বা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয় না।
একই সংকটের কথা জানান একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্তরের কর্মকর্তা আহসান মিজু। তিনি বলেন, কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। মাঝেমধ্যে ছুটির দিনেও অফিসের কাজ করতে হয়। অফিসের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি ও চাটুকারিতার কারণে যোগ্য কর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কেবল বসের সুনজরে না থাকার কারণে অনেকের পদোন্নতি আটকে থাকে। আর এই নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত সৎ কর্মীদের মানসিক অবসাদে ভুগতে হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের এই শোষণের চিত্রটি আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে যখন সামান্য অজুহাতে বা ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের জেরে ছাঁটাইয়ের খাঁড়া নেমে আসে। একটি স্বনামধন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে বসের ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে এক সহকর্মীকে হঠাৎ চাকরিচ্যুত করা হয়। এমনকি তাঁর পাওনা টাকাও আটকে রাখা হয়েছে অন্যায় অজুহাতে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বেসরকারি চাকরিতে কোনো কাজের নিশ্চয়তা নেই, যেকোনো সময় চাকরি চলে যেতে পারে।
কমলগঞ্জে ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকরের দাবি চা-শ্রমিকদের
২২ জুলাই ২০২৬, আজকের পত্রিকা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা-শ্রমিকেরা।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা-বাগানে সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র যুবকবৃন্দের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার করা হয়, যা চা-শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তাঁরা।
বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৬
২৩ জুলাই ২০২৬, চট্টগ্রাম প্রতিদিন
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ মাহমুদুল হক নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. রাশেদ উল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
এর আগে গত ২১ জুলাই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ লিটন (২৮) মারা যান। তিনি চট্টগ্রাম জেলার সদরঘাট থানার উত্তর নালাপাড়া, মাদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল কালামের ছেলে।
গত ১৬ জুলাই বোয়ালখালীর কনফিডেন্স লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। এ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
অর্থনীতি
বরাদ্দ চাল মেলেনি ১০ দিনেও
২৬ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দুই ছেলেকে নিয়ে উপকূলীয় এলাকার নদী ও সাগরে মাছ শিকার করে পরিবারের খরচ চালাতে হয় হারাধন জলদাসের। তাঁর ছয় সদস্যের সংসারে দিনে চালই লাগে তিন কেজির বেশি। ১৫ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর বিপাকে পড়েন ফেনীর সোনাগাজী সদরের এই জেলে। তালিকাভুক্ত হলেও তাঁর কাছে সরকারি সহায়তার চাল এখনও পৌঁছায়নি।
শুক্রবার হারাধন জলদাসকে পাওয়া যায় সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার জেলেপাড়ায়। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আগে মাছ ধরে বিক্রি করতেন মহাজন ও আড়তদারের কাছে। এতে দিনে দুই-তিন হাজার টাকা আয় হতো। ইঞ্জিনচালিত নৌকার তেল খরচ বাদে বাকি টাকা সংসারে দিতেন।
হারাধন জলদাসের ভাষ্য, ভূমিদস্যুরা নদী দখল করে বড় বড় মাছের খামার গড়ে তুলেছে। যে কারণে এমনিতেই নদীতে মাছ কমে গেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সমুদ্রে মাছ শিকার করতেও যেতে পারছেন না। ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারি চাল পাননি। যে কারণে বাধ্য হয়ে বড় ফেনী নদীতীরে মশারি জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা ধরছেন। এতে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাচ্ছেন।
একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের কয়েকশ জেলে পরিবারের সদস্যরা। যদিও এ ইউনিয়নের ১৫০ পরিবার শিগগির সহায়তার চাল পাবেন– এমন আশ্বাস দিয়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অন্য পরিবারগুলোকে ১১ জুন পর্যন্ত জীবন ধারণে করতে হবে ধারদেনা।
বাসই চলে না, বোয়িং বিলাস
২৭ এপ্রিল ২০২৬, বাংলাদেশ প্রতিদিন
দেশের অর্থনীতিতে চলছে টানাটানি। তহবিলসংকটে বাড়ছে ধারকর্জ। জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের জন্য চারদিকে হাহাকার। এই সংকটকালে খোদ সরকারই যখন সর্বস্তরে কৃচ্ছ্রসাধনে জোর দিয়েছে, আরেক দিকে চলছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার আয়োজন।
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তির দোহাই দিয়ে নীরবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপাতে চাইছে সরকারের ঘাড়ে। অথচ আগের কেনা ১০টি বোয়িংয়ের পুরো টাকাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি। দেশের অর্থনীতির দুঃসময়ে এমন বিলাসী কেনাকাটা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একদিকে জ্বালানিসংকটে যানবাহন স্থবির, ডিজেলের অভাবে কৃষকের সেচ পাম্প চলে না, অন্যদিকে সরকারি মিতব্যয়িতার ঘোষণা জারি রেখে এমন ব্যয়বহুল কেনাকাটা সরকারের নীতির সঙ্গে সাঘর্ষিক।
কষ্টের ধান দুঃখ ছড়াচ্ছে কৃষকের সংসারে
২৭ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু কষ্টে ফলানো ধান ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছে। বাজারে গিয়ে তারা দেখছেন, ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও তারা পাচ্ছেন না।
বেশি দরে সার কিনে, বাড়তি খরচে সেচ ঠিক রেখে, ধার করে টাকা নিয়ে ফসল ফলিয়েছিলেন কৃষক। কাটার পর যথাযথ দাম না পেয়ে তারা হতাশ। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ হাওরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে প্রতি মণ ধানের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিছুটা শুকনো ধান বিক্রি করলে মিলছে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় গত বছর (২০২৫ সাল) এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ হিসাব করেছিল ৩২ টাকা ৯৬ পয়সা। তাতে এক মণ (৪০ কেজি হিসাবে) ধানের খরচ দাঁড়ায় এক হাজার ৩১৮ টাকা। এবারও তারা খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ধানের উৎপাদন খরচের একই রকম হিসাব দিয়েছে। সে অনুযায়ী সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে। যদিও সার ও সেচে কৃষককে এ মৌসুমে বাড়তি ব্যয় করতে হয়েছে। তবে কৃষক সরকার নির্ধারিত মূল্যেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই বড় লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষক।
ফ্যামিলি কার্ডে ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা
২৮ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দিতে পাঁচ বছরে সরকারের ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এ কার্ডে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার। প্রতিবছর উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়াবে সরকার। বাড়বে তাঁদের জন্য বাজেট বরাদ্দও। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকেই পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১০ মার্চ নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
একীভূত এসআইবিএলে ফিরতে সাবেক পাঁচ শেয়ারহোল্ডারের আবেদন
২৮ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
একীভূত হওয়া সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকে (এসাইবিএল) ফিরতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছেন সাবেক পাঁচ শেয়ারহোল্ডার। ব্যাংকটি পুনর্গঠন করতে আগামী ৮ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। তাদের পরিচালনায় গেলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা হবে। ২০১৭ সালে এসআলম গ্রুপ ব্যাংকটি দখলের সময় চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মেজর (অব.) ডা. রেজাউল হকের নেতৃত্বে সোমবার গভর্নর বরাবর এ আবেদন দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে তারা মালিকানায় ফিরতে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮ক ধারা অনুযায়ী এ আবেদন করা হয়েছে। এই ধারায় একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকে আগের মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বি সরকারের দেওয়া অর্থের সাড়ে ৭ শতাংশ ফেরত দিতে হবে।
ঊর্ধ্বমুখী দামে ছোট ও মিনি প্যাকে ঝুঁকছেন ক্রেতা
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের অর্থনীতিতে জেঁকে বসা উচ্চ মূল্যস্ফীতি কেবল সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাই কেড়ে নেয়নি, বরং পাল্টে দিয়েছে বাজারের প্রচলিত বিপণন ব্যাকরণও। চাল, ডাল বা ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম মেটাতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা এখন কৃচ্ছ্রসাধন করছেন। একসময়ের জনপ্রিয় ‘ফ্যামিলি প্যাক’ বা বড় আকারের প্যাকেটগুলো এখন মুদি দোকানের তাকে শোভাবর্ধক হিসেবে পড়ে থাকছে, আর অবিক্রীত প্যাকের জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্মল বা ছোট প্যাক এবং ‘মিনি প্যাক’ কিংবা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এসকেইউ (স্টক কিপিং ইউনিট)। মূলত পকেটে নগদ টাকার অভাব এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে ক্রেতারা এখন মাসব্যাপী মজুদের পরিবর্তে ‘যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু’ নীতিতে ঝুঁকছেন।
ডিএসসিসির হকারদের দেয়া হবে স্মার্ট কার্ড, পথচারীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটালে নিবন্ধন বাতিল
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
রাজধানী ঢাকায় পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলে অন্যতম বাধা সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের অস্থায়ী দোকান। নগরে হকার ব্যবস্থাপনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় এক্ষেত্রে কোনো শৃঙ্খলা দেখা যায় না।
যেকোনো স্থানে যেকোনো সময়ে ভ্রাম্যমাণ কিংবা অস্থায়ী কাঠামোর দোকান গড়ে ওঠে। সড়কে যানজট বাড়ারও একটি বড় কারণ যেখানে-সেখানে হকার বসা। এবার প্রথমবারের মতো হকারদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। এ নীতিমালা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার জন্য তৈরি হচ্ছে। এটি হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম হকার নীতিমালা। ‘ঢাকা শহরের হকার পুনর্বাসন নীতিমালা ২০২৬’ শিরোনামে নীতিমালার খসড়াটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ডুবে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন
৩০ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের গুয়াছুড়া অংশে এখন দাঁড়ালে মনে হয় এটা কোনো ধানের মাঠ নয়, বিশাল জলরাশি। বাতাসে কাঁপছে না ধানের শীষ, কাঁপছে মানুষের বুক। চারদিকে থইথই পানি, তার নিচে চাপা পড়ে আছে সোনালি স্বপ্ন। কয়েক দিন আগেও যেখানে সোনালি ধান দুলছিল, আজ সেখানে ভাঙা স্বপ্নের নিঃশব্দ চিহ্ন। গতকাল বুধবার কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত পলিথিনে মোড়া, যেন বৃষ্টির সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা। একটু দূরে দাঁড়িয়ে কাটা ধানের আঁটি বেঁধে দিচ্ছিলেন কৃষক রইছ মিয়া। চোখের কোণে জমে থাকা পানি আর বৃষ্টির পানির পার্থক্য বোঝা যাচ্ছিল না। প্রশ্ন করতেই গলা ধরে এলো তাঁর। কান্না কারতে করতে বলেন, ‘ধানের ওপরে তিন-চার হাত পানি। কীভাবে কাটমু? যা ছিল, সব ভেসে গেল। চোখের সামনে তলিয়ে গেল সোনার ধান। ধানই আমাদের জীবন। আর সেই জীবনটাই এখন পানির নিচে ডুবে আছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
এই চিত্র এখন নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। টানা বর্ষণে দেশের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। যারা জমি থেকে ফসল কাটতে পেরেছেন, তাদের ধানও মাঠে ভিজছে। রোদ না থাকায় শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারছেন না কৃষক। এ অবস্থায় বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষক অসহায় হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, শুধু বৃষ্টির পানি নয়, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। আরও দুয়েক দিন গেলে এই পাকা ধানে পচন ধরবে। বুকের দরদ ঢেলে যে চাষি ফসল ফলিয়েছেন, সে চাষির মাথায় এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ঢাকার দুই সিটির ৩০২ জন হকার পেলেন ডিজিটাল পরিচয়পত্র, স্থানও ঠিক হল
০১ মে ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা মহানগরীর ফুটপাতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়টি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির সাতটি স্থানে হকারদের বেচাকেনার সময়ও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর সিটির দুটি স্থানে পুনর্বাসনের তথ্য মিলেছে, তবে সময় বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে দুই সিটির ৩০২ জন হকারকে। পর্যায়ক্রমে আরও হকারকে এ পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলেছে দুই সিটি করপোশেন।
ধান পানিতে তলিয়ে গেছে দেখে ঢলে পড়লেন কৃষক, জমিতেই মৃত্যু
০২ মে ২০২৬, প্রথম আলো
সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে যান কৃষক আহাদ মিয়া (৫৫)। তাঁর আবাদ করা ছয় বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বপ্নের ধান তলিয়ে যেতে দেখে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে ঢলে পড়েন এই কৃষক। জমিতেই মারা যান। আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আহাদ মিয়া স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর বর্ণনা শোনে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ওই ব্যক্তি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
এনসিটির সঙ্গে সিসিটিও চায় ডিপি ওয়ার্ল্ড
০৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) দীর্ঘ মেয়াদে ইজারাপ্রক্রিয়া আবারও গতি পাচ্ছে। তবে এবার শুধু এনসিটি নয়, এর পাশে থাকা চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) মিলিয়ে একক টার্মিনাল হিসেবে একসঙ্গে আধুনিকায়ন ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড।
জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় হকার বসতে পারবেন না
০৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানী ঢাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল, যানজট, পথচারীদের চলাচলে বাধা এবং হকারদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর এবার ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এই নীতিমালায় প্রথমবারের মতো হকারদের নিবন্ধন, নির্ধারিত স্থানে ব্যবসা, হলিডে ও নৈশকালীন মার্কেট, লাইসেন্স ফি এবং প্রশাসনিক তদারকির বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঢাকার জনবহুল ও ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় হকার বসতে পারবেন না। যেসব এলাকায় অফিস শেষ হওয়ার পর জনচলাচলের চাপ কমে যায়, সেসব এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন মার্কেট চালু করা যাবে।
এই নীতিমালা করার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, হকারদের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা এবং হকারদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করা।
নীতিমালার ভূমিকায় সরকার বলেছে, ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত হকার কার্যক্রমের কারণে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যানজট বাড়ছে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরো বিষয়টিকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চের ভাড়া
০৬ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে বাসের পর এবার লঞ্চের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। একজন যাত্রীর লঞ্চ ভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৪ পয়সা বেড়েছে। কম দূরত্বে লঞ্চের ভাড়া ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
মূল্যস্ফীতি আবারো ৯ শতাংশ ছাড়াল
৭ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
মূল্যস্ফীতি আবারো ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ; যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা মোকাবেলায় এপ্রিলের মাঝামাঝি দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়। এতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর প্রভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিক বৈশ্বিক ও স্থানীয় জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতিতে।
বাংলাদেশ-দুবাই যৌথ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ সভায় এ আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। ৮ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী বৈঠকে এটি পৃথক প্রকল্প হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর হাতে আসা সভার কার্যবিবরণী থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক আন্দোলনের মুখে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন করে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এখন আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ ও পরিচালনার প্রস্তাব দিল দুবাইভিত্তিক বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানিটি।
খেলাপি ঋণ নবায়নে আবার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
০৮ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে বা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু করতে আবার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এবারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোক ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে। এ ঋণের নতুন মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত হলে শুরুতে দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে যারা আগে নীতিসহায়তার আওতায় ঋণ নিয়মিত করেছে, তারা নতুন সুযোগটি পাবে না।
গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত যাদের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে, তারাই কেবল এ সুযোগ পাবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি পেতে চাইলে সেটিকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। ব্যাংকগুলোই এ আবেদন নিষ্পত্তি করবে। তবে নিষ্পত্তি করতে হবে আবেদন গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে।
একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন
১৩ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
চলতি অর্থবছরের ১১তম এবং বিএনপি সরকারের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।
বড় শিল্পগোষ্ঠীর বৃহৎ ঋণের সীমা বাড়ল
১৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য বৃহৎ ঋণের সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে তাদের আরও সুবিধা হবে। তবে বড় আকারের ঋণ নিয়ে যারা ইতিমধ্যে আইনি সীমার বাইরে চলে গেছে, তারা নিয়মের মধ্যে আসবে।
একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণে নানা ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে একক গ্রাহকের ঋণসীমার শর্ত শিথিল করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও দুটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা প্রথম আলাকে বলেন, দেশের একটি শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী একাধিক ব্যাংকে তাদের ঋণসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। এর বড় অংশই সরাসরি ঋণে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি বড় গ্রুপ ঋণসীমার কারণে চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছে না। এলপিজি আমদানিকারকেরাও ঋণসীমা তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এ জন্যই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে অবশ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ঋণ কমে যেতে পারে।
বাড়ল সরাসরি ঋণের সুযোগ
নতুন নিয়মে এখন থেকে একটি ব্যাংক তাদের মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফান্ডেড বা সরাসরি ঋণ দিতে পারবে একজন গ্রাহককে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ঋণসীমা কোনো অবস্থায়ই ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দুটি মিলে ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আগে সরাসরি ১৫ শতাংশ ও নন-ফান্ডেড ১০ শতাংশ ঋণ দিতে পারত। আগামী ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
অর্থাৎ একটি ব্যাংকের মোট মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকা হলে একটি গ্রুপকে এখন সরাসরি আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে। আগে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ১ হাজার কোটি টাকা ঋণপত্র সুবিধা নিতে পারত।
‘যত কম টাকায় খাওয়া যায় চেষ্টা করি’, বললেন রিকশাচালক আনসার
১৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
সড়কের পাশে প্যাডেলচালিত রিকশা রেখে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে খাবারের একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানে গেলেন মো. আনসার আলী (৭৪)। একটি পরোটা নিয়ে পাশে থাকা টেবিলে বসে খেতে শুরু করেন। পরনের জলপাই রঙের শার্টটা ঘামে ভিজে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে দেখা গেল এ দৃশ্য।
আনসার আলী যাত্রাবাড়ী থেকে একজন যাত্রী নিয়ে শান্তিবাগে এসেছেন। যানজট ঠেলে যাত্রাবাড়ী থেকে শান্তিবাগে পৌঁছাতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। যাত্রী নামিয়ে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।
একটি পরোটাই কি দুপুরের খাবার, জিজ্ঞাসা করতে আনসার আলী বলেন, ‘কী করব বাবা। ইনকাম তো নাই। পায়ের রিকশা চালাই। একটা ছেলে কোরআনে হাফেজ বানাইছি। এখন কিতাবখানায় পড়ে। কী করব, কোনো সহযোগিতাও পাই না।’
যত কম টাকায় খাওয়া যায় চেষ্টা করি। কখনো কখনো না খেয়ে থাকি। ভাত খেলে তার সঙ্গে কম দামের শাকসবজি খুঁজি। মাছ, মাংস কবে খেয়েছি মনে নেই। কয়েক মাস আগে একটি দাওয়াতে মাংস খেয়েছিলাম।
আনসার আলী, রিকশাচালক
আনসার আলীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় আসেন। এরপর থেকেই প্যাডেলচালিত রিকশা চালিয়ে জীবন চালাচ্ছেন। শনির আখড়ায় একটি রিকশার গ্যারেজে থাকেন। ছয় সদস্যের পরিবারের দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে শহিদুর রহমান (১৮) বরিশালের একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়ে। ছোট ছেলে মারুফ হোসেন (১৪) আগে পড়াশোনা করলেও আর্থিক অনটনে এখন তা বন্ধ। সে গ্রামের বাড়িতে মা খালেদা বেগমের সঙ্গে থাকে।
সকালের নাশতায় ১টি পরোটা ও ১০ টাকার এক প্লেট ভাজি খেয়েছেন বলে জানান আনসার আলী। তিনি বলেন, ‘যত কম টাকায় খাওয়া যায় চেষ্টা করি। কখনো কখনো না খেয়ে থাকি। ভাত খেলে তার সঙ্গে কম দামের শাকসবজি খুঁজি। মাছ, মাংস কবে খেয়েছি মনে নেই। কয়েক মাস আগে একটি দাওয়াতে মাংস খেয়েছিলাম।’
চট্টগ্রাম বন্দরের চালু টার্মিনাল পেতে দেশি-বিদেশি প্রতিযোগিতা
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার ব্যবসা পেতে এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। একই টার্মিনাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালস (আরএসজিটি)। এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে দেশীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপও।
গত ৮ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–দুবাই প্ল্যাটফর্ম সভায় সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেয় দুবাই সরকারের মালিকানাধীন ডিপি ওয়ার্ল্ড। এর দুই সপ্তাহ পর ২২ এপ্রিল সৌদি আরবের সরকারি–বেসরকারি যৌথ মালিকানাধীন আরএসজিটি একই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এত দিন পর্যন্ত দুই দেশ চট্টগ্রাম বন্দরের পৃথক দুটি টার্মিনাল ঘিরে আগ্রহ দেখালেও এবারই প্রথম একই টার্মিনালকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য রূপ নিল। এর মধ্যে ২০২৪ সালে সৌদি আরবের আরএসজিটি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পায়। অন্যদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সৌদি–আমিরাত দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। দেশ দুটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ১ মে সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশে বন্দর টার্মিনালের ব্যবসা পেতে দুই দেশের প্রতিযোগিতা এ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা কি না, তা জানা যায়নি।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ প্রতিযোগিতা শুধু বন্দর ব্যবসার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশও। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সৌদি আরব ও আমিরাত প্রায় সব কৌশলগত খাতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
চালু টার্মিনালেই বেশি আগ্রহ
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনা করছে আরএসজিটি। বাকি তিনটি জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), সিসিটি ও এনসিটি এখনো দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণে শতকোটি ডলার বিনিয়োগ ও দীর্ঘ নির্মাণঝুঁকি থাকে। কিন্তু চালু টার্মিনাল হাতে পেলেই তাৎক্ষণিক নগদপ্রবাহ নিশ্চিত হয়। ফলে দেশি–বিদেশি অপারেটরদের মূল আগ্রহ এখন চালু টার্মিনালগুলোকে ঘিরেই।
সিসিটি ঘিরে সৌদি–আমিরাতের কৌশল
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনসিটি ও সিসিটিকে একীভূত করে একটি বড় টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনা করতে চায় তারা। দুটি টার্মিনাল পাশাপাশি হওয়ায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য বলেই তারা মনে করছে। অন্যদিকে সৌদি আরএসজিটি চায় সিসিটি ও জিসিবিকে একীভূত করে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করতে। এতে প্রাথমিকভাবে ৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের পর বছরে ১৮ লাখ একক কনটেইনার এবং ৫০ লাখ টন পণ্য ওঠানো–নামানোর সক্ষমতা তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিসিটির ভৌগোলিক অবস্থানও এ প্রতিযোগিতার বড় কারণ। এটি এনসিটি ও জিসিবির মাঝামাঝি হওয়ায় যে পক্ষ এটি পাবে, তারা কার্যত বন্দরের বেশির ভাগ কনটেইনার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে।
বন্দর সূত্র অনুযায়ী, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ এনসিটিতে, ৩৬ শতাংশ জিসিবিতে, ১৬ শতাংশ সিসিটিতে এবং প্রায় ৪ শতাংশ পতেঙ্গা টার্মিনালে ওঠানো–নামানো হয়েছে। সে হিসাবে এনসিটি–সিসিটি একীভূত হলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণে যাবে প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেইনার। আর সিসিটি–জিসিবি একীভূত হলে আরএসজিটির নিয়ন্ত্রণে যাবে প্রায় ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা মূলত বন্দরের প্রধান ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েই।
দেশীয় এমজিএইচের পাল্টা প্রস্তাব
বিদেশি দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় বহুজাতিক এমজিএইচ গ্রুপও প্রতিযোগিতায় সক্রিয় রয়েছে। গত বছর মার্চে তারা সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে ২৮ এপ্রিল নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার জন্য নতুন করে প্রস্তাব জমা দেয়।
ডিপি ওয়ার্ল্ড যেখানে প্রতি কনটেইনারে ১৫৫ থেকে ১৬১ দশমিক ৮ ডলার রাজস্ব আয়ের বিপরীতে বন্দরকে যথাক্রমে ৯৩ ডলার ৫০ সেন্ট ও ৯৭ ডলার ৫০ সেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে এমজিএইচ একই স্তরে ৯৮ দশমিক ৫০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি, এ মডেলে ১৫ বছরে বন্দর প্রায় ১৬৮ কোটি ডলার বা ২০ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।
এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনসিটি পরিচালনায় অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বন্দরকে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।’ দেশীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে দেশের টাকা দেশেই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সিদ্ধান্ত কী
বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সিসিটি ও জিসিবি কোন মডেলে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলোয় বিনিয়োগ ও পরিচালনার অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব আমরা পেয়েছি, সেগুলো পর্যালোচনা করে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশের সমুদ্রবাণিজ্যের কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর এখন শুধু পণ্য ওঠানো–নামানোর জায়গা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক শক্তি ও দেশীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নতুন কৌশলগত প্রতিযোগিতার মঞ্চেও পরিণত হয়েছে। সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বন্দরের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক মানচিত্র। যদিও চালু টার্মিনাল ঘিরে বাড়তি আগ্রহের ফলে নতুন প্রকল্পগুলো বিনিয়োগসংকটে পড়তে পারে বলে অনেকের শঙ্কা আছে।
রংপুরে কৃষিতে সাফল্য, জীবিকার অনিশ্চয়তায় মানুষ
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
নিজ এলাকায় কাজের সংকটের কারণে বছর তিনেক আগে রংপুর শহরে এসেছিলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কৃষিশ্রমিক জাহিদুল ইসলাম (৫০)। কৃষিকাজের পাশাপাশি ইমারত নির্মাণ ও টাইলসের কাজও রপ্ত করেছেন তিনি। তবে বৈচিত্র্যপূর্ণ কাজে দক্ষ হয়েও নিয়মিত কাজ পান না।
গত ২৭ এপ্রিল সকালে জাহিদুলের সঙ্গে কথা হয় রংপুরের শাপলা চত্বরে। বাজারের ব্যাগে জামাকাপড়সহ সেখানে কাজের সন্ধানে এসেছিলেন তিনি। আক্ষেপ নিয়ে জাহিদুল বলছিলেন, ‘ভুঁই (জমি) নিড়ানি, রাজমিস্ত্রি, স্যানিটারি মিস্ত্রি, হেলপারি (রাজমিস্ত্রির জোগালি)—সব কামোতে পাই। যেটে (যেখানে) নিয়া যায়, সেটে যাই। তা–ও একদিন কাজ পাই, তো আরেক দিন পাই না।’
ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় রংপুর অঞ্চলে ভারী শিল্প, গার্মেন্টস, কলকারখানা বা রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অঞ্চলটিতে কৃষিনির্ভর শিল্পের প্রসার ঘটেনি। ফলে জাহিদুলের মতো কৃষিশ্রমিকেরা কর্মসংস্থানের অভাবে মৌসুমি বেকারত্বে ভোগেন।
যদিও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য বলছে, রংপুর অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনের প্রধান জোগানদাতা। এখানে ধান, আলু ও ভুট্টার বড় অংশ উৎপাদিত হয়। তবু এ অঞ্চল দারিদ্র্য, নিম্ন আয়, সীমিত শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত পশ্চাৎপদতার কারণে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এখানকার দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড় দারিদ্র্যের হারের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন।
লবণের দাম ও অর্থ সংকটে চাপে চামড়া ব্যবসা
১৮ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। সারা বছরই এ হাটে চামড়া বেচাকেনা হলেও কোরবানি ঈদের মৌসুমি বাজার ধরতে অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা।
তবে এবার ঈদের আগেই ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা নেমেছে। কয়েকটি কারণে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার বাজার নিয়ে শঙ্কিত। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে চামড়া সংরক্ষণের প্রধান অনুষঙ্গ লবণের দাম বাড়ছে। এছাড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা বকেয়া রয়েছে। ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় চড়া সুদে মহাজন কিংবা এনজিও থেকে টাকা নিতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে সংরক্ষণের পর ন্যায্য দাম মিলবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রতি বছর সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মনিটরিংয়ের অভাবে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রাজারহাটে যশোরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পাশাপাশি ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী ও নাটোরের ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনাবেচা করেন। ছোট-বড় মিলিয়ে এখানে দুই শতাধিক আড়ত রয়েছে। এখানে কর্মরত আছে প্রায় দুই হাজার মানুষ। এবার কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২-৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০-৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭-৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫-৬০ টাকা। নির্ধারিত দামে চামড়া বেচাকেনা হবে কিনা তা নিয়ে প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। এসব সংকটের কারণে এবার কোরবানিতে চামড়াবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সড়ক প্রকল্পের টাকায় ভবনবিলাস
১৮ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয় গবেষণাগার উন্নয়নের নামে ভবন নির্মাণসহ নানা বিলাসী উপকরণ। যেমন মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, কনফারেন্স হল, লাউঞ্জ, দেড় শতাধিক পাঁচ তারকা হোটেলের সমমানের থাকার কক্ষ। আরও যোগ হয়েছে সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, ইনডোর গেমস সরঞ্জাম বিলিয়ার্ড, স্নুকার, কার্ড রুম ইত্যাদি।
সবই করা হচ্ছে বড় বড় গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে। বর্তমান সরকার সারা দেশে বৃক্ষরোপণে জোর দিয়েছে। অথচ সরকারেরই একটি সংস্থা গাছ কেটে বিলাসী ভবন তৈরি করছে।
প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। প্রকল্পটির নাম সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২। আর বিলাসী ভবনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে মিরপুরের পাইকপাড়ায় সড়ক গবেষণাগার এলাকায়। জায়গাটি মূল সড়ক থেকে ভেতরে, গাছগাছালিতে ঘেরা। এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে ভাঙা হয়েছে পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর ভবন। এগুলোর নকশা করেছিলেন স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।
সবই করা হচ্ছে বড় বড় গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে। বর্তমান সরকার সারা দেশে বৃক্ষরোপণে জোর দিয়েছে। অথচ সরকারেরই একটি সংস্থা গাছ কেটে বিলাসী ভবন তৈরি করছে।
প্রকল্পে বিলাসী উপকরণ যোগ হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। শুরুতে এসব ভবন ও কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। শুরুতে তারা কাজটি পেয়েছিল ২৩২ কোটি টাকায়। তিন দফা ব্যয় বাড়িয়ে এখন ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
সওজের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঠিকাদার সওজের প্রাক্কলনের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়ে (লেস) মূল্য প্রস্তাব করে কাজটি পান। অনেক উপকরণের (আইটেম) মূল্য কম দেখিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেন। কিন্তু পরে যেসব আইটেমের মূল্য কম দেখানো হয়েছিল, এর বেশির ভাগই বাদ দেওয়া হয়। আর নতুন নতুন পণ্য ও কাজ যোগ করা হয়, যেগুলোর মূল্য বেশি। মূলত বাড়তি লাভের জন্যই এই কারসাজি করেছেন ঠিকাদার। কর্তৃপক্ষও তা অনুমোদন করেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদার কাজ নেওয়ার পর কৌশল করে প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়েছেন, যা খুবই অস্বাভাবিক।
১৫ বছরে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতায় খরচ বেড়েছে ৪ গুণ
২১ মে ২০২৬, প্রথম আলো
আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। বিদ্যমান মূল বেতন থেকে নবম পে কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এটি প্রথম ধাপের বেতন বৃদ্ধি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বাড়তি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতা বাবদ প্রতিবছর বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়। প্রতিবছরই এই বরাদ্দ বাড়াতে হয়।
বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। এ ছাড়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সরকারি পেনশন সুবিধা পান। বর্তমান বেতনকাঠামো অনুসারে, মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা—এসব পান। বেতনের প্রায় সমপরিমাণ অর্থ এসব ভাতায় বরাদ্দ রাখতে হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন–ভাতায় বরাদ্দ প্রায় চার গুণ বেড়েছে। আরও সহজভাবে বলা যায়, দেড় দশকে বেতন–ভাতায় বরাদ্দ ২৭৫ শতাংশ বেড়েছে। আগামী অর্থবছরে তা চার গুণের বেশি বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে।
বন্ধ কারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা
২৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন।
দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে এই বিশেষ তহবিলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই তহবিলের মাধ্যমে ২৫ লাখ কর্মসংস্থান হবে।
সুদ কত, কারা পাবে
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, এই তহবিলের ঋণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে। আর গ্রাহকেরা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তিনি জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ব্যাংকগুলো এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা পুনঃ অর্থায়ন তহবিল।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম
২৪ মে ২০২৬,সমকাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগের পরই নতুন এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে।
খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। এখন খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঢাকায় কোরবানির চামড়ার দাম গত বছরের চেয়েও কম, মাঝারি গরুর ৫০০-৬৫০ টাকা
২৮ মে ২০২৬, প্রথম আলো
কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের চেয়ে এবার ২ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তবে রাজধানীতে সেই দরেও চামড়া বিক্রি হচ্ছে না। উল্টো গত বছরের চেয়েও প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম কম পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা। এবারও ছাগলের চামড়া কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।
চামড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও তাঁরা ট্যানারির মালিকদের কাছে সে দামে বিক্রির আশ্বাস পাননি। ট্যানারির মালিকেরা গত বছরের তুলনায় দাম কম বলেছেন। এ কারণে তাঁরা দাম কমিয়ে চামড়া কিনছেন। তবে ট্যানারির মালিকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কমেনি, বরং প্রতি পিসে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেশি আছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ঘুরে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
চট্টগ্রামে চামড়ার সেই পুরোনো সংকট, কেউ রাস্তায় ফেলে গেছেন, কারও বিক্রি লোকসানে
২৯ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া সংগ্রহ করছিলেন। কেউ ভ্যানে। কেউ পিকআপে। কারও সামনে শত শত চামড়া। সবারই আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম উঠবে। কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।
রাত গভীর হওয়ার আগেই নগরের আতুরার ডিপো ও আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় শুরু হয় হতাশার সেই দৃশ্য। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে ছেড়ে দেন। কেউ আবার জোর করে আড়তে চামড়া ঢুকিয়ে দিয়ে ফিরে আসেন। চট্টগ্রামের চামড়ার বাজারে এবারও যেন ফিরে এল পুরোনো সংকট।
গরু বিক্রি হয়নি, ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পাবনায় ফিরলেন খামারিরা
২৯ মে ২০২৬, প্রথম আলো
পাবনার বেড়া পৌরসভা এলাকার বৃশালিখা মহল্লার গরু ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন কোরবানির হাট সামনে রেখে ধারদেনা ও বাকিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ৩৩টি গরু কিনেছিলেন। ঈদের কয়েক দিন আগে গরুগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকার ফতুল্লা, শারুল্লা ও মেঘনা পশুর হাটে।
উজ্জ্বল হোসেনের আশা ছিল, ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৬টি গরু বিক্রি করতে হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা লোকসান দিয়ে। আর সাতটি গরু বিক্রিই করতে পারেননি। ঈদ শেষ হওয়ার পর সেগুলো ফিরিয়ে এনেছেন বাড়িতে। ঢাকার হাটে যাওয়া-আসার ধকল সহ্য করতে না পেরে ফিরিয়ে আনা গরুগুলো ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘গরু কেনার টাকা জোগাড় করতি ধারদেনা আর বাকির ওপর নির্ভর করতে হইছে। ঢাকার হাটে গিয়া যা অবস্থা হইছে, তা কল্পনাও করি নাই। সাতটা গরু ফিরায়া আনছি, এখন এগুলা স্থানীয় হাটে বেচলে আরও লোকসান হবি। শ্রমিক, খাওয়াদাওয়া, যাতায়াতসহ সব হিসাব কইরা দেখছি, আমার প্রায় ১১ লাখ টাকা লস হবি। ধারদেনার টাকা কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় অস্থির হয়া আছি।’
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ভালো লাভের আশায় পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার পাঁচ শতাধিক খামারি ও ব্যবসায়ী গরু নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই এবার লাভ তো দূরের কথা, ব্যাপক লোকসানে গরু বিক্রি করেছেন। অনেকে আবার সব গরু বিক্রি করতে না পেরে গরু ফিরিয়ে এনেছেন। ফলে ঈদের পর এখন বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। কারও মাথায় ঋণের চাপ, কেউ পাওনাদারের তাগাদায় দিশাহারা, আবার কেউ ফিরিয়ে আনা গরুর খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
দেশের অন্যতম গবাদিপশু উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার দুটি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত ছিল। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিপুলসংখ্যক পশু দেশের বিভিন্ন এলাকার হাটে পাঠানো হয়। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে বেড়া-সাঁথিয়া থেকে হাজার হাজার গরু নেওয়া হয়েছিল।
বেড়া পৌর এলাকার আরেক খামারি ও গরুর ব্যবসায়ী আরমান আকরাম বলেন, ‘১৯টা গরু নিয়্যা ঢাকার হাটে গেছিলাম। এর মধ্যে মাত্র ৯টা বিক্রি করতে পারছি। বাকি ১০টা ফিরায়া আনছি। এখন স্থানীয় হাট আর মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির চেষ্টা করতেছি। ইতিমধ্যে আমার ৮-১০ লাখ টাকা লোকসান হইছে।’
মৌলভীবাজারে চামড়া সংগ্রহে অনীহা ব্যবসায়ীদের, বাধ্য হয়ে মাটিচাপা
২৯ মে ২০২৬, আজকের পত্রিকা
বাজারে চামড়ার মূল্য না থাকায় মৌলভীবাজারে বেশির ভাগ কওমি মাদ্রাসা এবারের ঈদে চামড়া সংগ্রহ করেনি। এ ছাড়া লোকসানের ভয়ে ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানি দেওয়া পশুর মালিকেরা। সারা দিন অপেক্ষা করে কেউ চামড়া না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে অনেকেই মাটিচাপা দিয়েছেন। আবার হাতে গোনা যাঁরা চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন, তাঁদের খরচ তোলা দায় হয়ে পড়েছে।
মৌলভীবাজারের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত বছর আমরা যে চামড়া কিনে সংগ্রহ করেছিলাম, তা এখনো বিক্রি করতে পারিনি। আমাদের আগের চামড়ার টাকা ট্যানারির কাছে এখনো পাওনা আছে। ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সামান্য কিছু চামড়া সংগ্রহ করছি। ১০০-১৫০ টাকা দিয়ে যে চামড়া ক্রয় করছি, তাতেও আমাদের লোকসান হবে।’
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারায় ডিপি ওয়ার্ল্ড আবার আলোচনায়, এক দিনে দুই চিঠি
০৬ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে একই দিনে একই বিষয়ে দুটি ভিন্ন বার্তার চিঠি গেছে। ওই দুই চিঠিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল। দুটি চিঠি পাঠিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো এক চিঠিতে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ কিংবা বাতিল করার কথা বলা হয়। আবার একই দিন বিকেলে পাঠানো আরেক চিঠিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবার আলোচনায় এসেছে বন্দরের এই টার্মিনাল ইজারা ইস্যুটি।
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২%, ঊর্ধ্বমুখী খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম
৭ জুন ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
দেশে নিত্যপণ্যের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ কমছেই না, বরং সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এর আগের মাস এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ।
রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ।
এবার এনসিটি পরিচালনায় দুই এমপির প্রস্তাব
০৯ জুন ২০২৬, সমকাল
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা করতে এবার নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপির দুই এমপি। ‘সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম’ নামে একটি জোট করে এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাবটি গত ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়। তাদের সেই প্রস্তাবের বিষয়টি এত দিন গোপন রেখেছিল মন্ত্রণালয়। টার্মিনালের মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ বন্দরের হাতে রেখেই ১৫ বছরের জন্য শুধু এনসিটি পরিচালনা করতে চায় তারা।
চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) বর্তমান অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড নতুন এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে। সঙ্গে নিয়েছে দুই বার্থ অপারেটর কসমস এন্টারপ্রাইজ ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডকে। কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম।
এনসিটি পরিচালনা করতে এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা জমা দিয়েছিল। তাদের প্রস্তাব আলোচনায় থাকতেই নতুন এই জোট এবং দেশি বহুজাতিক কোম্পানি এমজিএইচ গ্রুপ ২৮ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে দুটি প্রস্তাব জমা দেয়।
ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
১০ জুন ২০২৬,বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার দুপুরে ব্যাংকার্স সভায় বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠকের পর সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্ত দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আশ্রাফুল আলমকে পর্যবেক্ষক হিসেবে বসানোর কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন সহকারি মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে
১৩ জুন ২০২৬,সমকাল
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে। বাজেটের এ প্রস্তাবে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও মধ্যবিত্তের করের চাপ বাড়াবে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রথম পৌনে চার লাখ টাকা করমুক্ত। পরবর্তী তিন লাখে ১০ শতাংশ, পরের চার লাখে ১৫ শতাংশ, পরের পাঁচ লাখে ২০ শতাংশ এবং পরের ২০ লাখ টাকা আয়ে ২৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে গিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা হবে এবং সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় করমুক্ত আয় আরও বাড়ানোর পক্ষে বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল, দায়িত্বে বাংলাদেশ ব্যাংক
১৪ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে।
আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
কৃষকের হাতের নাগালে দুই হাজার ছোট হিমাগার বানাবে সরকার
১৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে বড় হিমাগার করলে তা কৃষকের খেত থেকে ২৫ থেকে ৩০ মাইল দূরে পড়ে। এতে কৃষকের তেমন উপকার হয় না। তাই বর্তমান সরকার আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে দুই হাজার ছোট হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে।
এই ছোট হিমাগারগুলো কৃষকের ঘরের কাছে বা মাঠের পাশেই তৈরি হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
সারের ভর্তুকির অর্ধেক যায় ২০ শতাংশ সচ্ছল কৃষকের হাতে
১৬ জুন ২০২৬, সমকাল
সারের ভর্তুকির বড় অংশই চলে যাচ্ছে তুলনামূলকভাবে বেশি জমির মালিক কৃষকের হাতে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ সারের ভর্তুকিতে খরচ হলেও এর সুবিধা সমানভাবে পাচ্ছেন না সব কৃষক। বরং দেশের শীর্ষ ২০ শতাংশ ভূমি মালিক কৃষক মোট সারের ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক সুবিধা ভোগ করছেন। বিপরীতে ক্ষুদ্র জমির মালিক ৪০ শতাংশ কৃষকের ভাগে যাচ্ছে মাত্র ১৫ শতাংশ সুবিধা।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গুণগত প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের কৃষি খাতে সরকারি ব্যয়ের বর্তমান কাঠামো খাদ্য উৎপাদন ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখতে সহায়ক হলেও দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কৃষির আধুনিকায়ন, ফসলের বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না।
ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা
১৭ জুন ২০২৬ , সমকাল|
ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি নেমেছে ঋণাত্মক ধারায়। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিলের পরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক খাতের আদায় অনিশ্চিত উচ্চ ঝুঁকির ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত তথা ডিসট্রেস অ্যাসেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে ব্যাংক খাতের দেখানো মোট খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করে আলাদা করে রাখা অনাদায়ী ঋণ স্থিতির যোগফলকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সিটি গ্রুপকে রক্ষা: ২৬,৬০০ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ ৩৬ ব্যাংকের
১৮ জুন ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপকে সচল রাখতে এবং এর ২৬,৬০০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া ঋণ—যৌথভাবে পুনর্গঠনের কথা বিবেচনা করছে দুটি বিদেশি ব্যাংকসহ মোট ৩৬টি ব্যাংক। বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পগোষ্ঠী।
এই সিন্ডিকেটেড পুনর্গঠন কাঠামো চূড়ান্ত করতে ব্যাংকগুলোর আজ হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রুপটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রভিশনিংয়ের (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) চাপ এড়ানো। ব্যাংকিং খাতের সূত্রগুলো জানায়, ঋণগুলোকে এখনই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করে—এই প্রস্তাবের আওতায় তা পুনর্গঠন করা হবে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো হবে।
বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
২১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ, রুগ্ণ বা অলাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমি ও অবকাঠামো সুবিধা কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ নিয়ে দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে একই ধরনের আরও দুটি বৈঠক করেন।
শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আজকের বৈঠকে অংশ নেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী জাহেদুল হাসান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান ও হেড অব ট্রান্সফরমেশন যারেফ আয়াত হোসেন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের এমডি তামারা হাসান আবেদ, নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মো. আমিনুল ইসলাম, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সিইও পারভেজ সাইফুল ইসলাম, এসিআইয়ের এমডি আরিফ দৌলা, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের চেয়ারম্যান এস কে শামীম উদ্দিন প্রমুখ। বৈঠকে জাপানের মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক) পিটিই লিমিটেড, সোজিৎস এশিয়া পিটিই লিমিটেড, জেট্রো বাংলাদেশ কার্যালয় এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ওয়ালটন, রানার ও টি কে গ্রুপের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
৪৫৭ কারখানার ৮৬ শতাংশই স্থায়ীভাবে বন্ধ কাজ না থাকায় ও মালিকের আর্থিক সংকটে
২৪ জুন ২০২৬, বণিক বার্তা
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি জুন পর্যন্ত শিল্প অধ্যুষিত সাতটি এলাকায় মোট ৪৫৭ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
শিল্প গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৫৭ কারখানার মধ্যে ২০৫টি বন্ধ হয়েছে পর্যাপ্ত ক্রয়াদেশের অভাবে। ১৯০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে মালিকের আর্থিক সংকটে। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ পর্যাপ্ত কাজের অভাব ও মালিকের আর্থিক সংকট। এছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হয়েছে ১১টি কারখানা। রাজনৈতিক, ব্যাংক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামালের অভাব ও ফ্যাক্টরি স্থানান্তরসহ অন্যান্য কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৫১টি কারখানা।
ঋণের জন্য নতুন করে আইএমএফের কাছে সরকার, চাইতে পারে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার
২৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি ঋণের আবেদন করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর চিঠিতে ঋণের পরিমাণ উল্লেখ নেই। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য পরিমাণ হতে পারে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ।
কর্মসংস্থানের বড় শক্তি ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত
২৮ জুন ২০২৬, সমকাল
দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারিশিল্প খাত (এমএসএমই)। সংখ্যার হিসাবে অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই এমএসএমই, যেখানে প্রায় তিন কোটি ছয় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে এ ধরনের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও অনানুষ্ঠানিক। কর্মসংস্থানের দিক থেকে এমএসএমই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলেও শিল্পায়নের দিক থেকে এর কাঠামোগত অনেক দুর্বলতা রয়েছে।
বিবিএসের তথ্যমতে, এক দশক আগে শিল্প খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের অংশ ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা কমে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে সেবা খাতের অংশ ৮৮ দশমিক ৪৬ থেকে বেড়ে ৯০ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ হয়েছে। এমএসএমইভিত্তিক উৎপাদন খাতের অবদান ১২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ হয়েছে।
কড়াইল বস্তিসহ ৫৮ স্থানে এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা: সংসদে গৃহায়ণমন্ত্রী
২৮ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি এলাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি–বেসরকারি উদ্যোগে এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তথ্য জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
এবার কৃষকের চোখের পানি ঝরাচ্ছে পেঁয়াজ
২৮ জুন ২০২৬, সমকাল
বীজের অস্বাভাবিক দর, সার, কীটনাশক, ডিজেল, সেচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় পেঁয়াজ চাষিরা। সব মিলিয়ে পেঁয়াজ চাষে এবার কৃষককে গুনতে হয়েছে সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ খরচ। মাঠে বাম্পার ফলন হলেও এখন বাজারে সেই পেঁয়াজ বেচতে গিয়ে চাষির মন বেজার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়ও নেমে এসেছে।
অথচ কৃষকের দাবি, এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধনও তুলতে পারছেন না কৃষক। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষিরা এখন হতাশ। অনেক কৃষক বলছেন, এভাবে লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আর পেঁয়াজ চাষ সম্ভব হবে না।
করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ল, ব্যাংক হিসাবে টিআইএন নয়
৩০ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়েছে।
এই অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
জাতীয় সংসদে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত দেন। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। অর্থবিলে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা।
ফলে ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা মোট ৫০ হাজার টাকা বাড়বে। এতে মধ্যম আয়ের মানুষেরা আরেকটু স্বস্তি পাবেন।
করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধিসহ তিন ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাদ দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন খাতে নতুন কর ও ভ্যাট ছাড়যুক্ত করাসহ ৬৪টি সংশোধনী যুক্ত করে গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থবিল, ২০২৬ পাস হয়।
উৎপাদন খরচের চেয়েও দাম কম, পেঁয়াজ ডোবায় ফেলে দিচ্ছেন ফরিদপুরের চাষিরা
৩০ জুন ২০২৬, ইত্তেফাক
বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় আর্থিকভাবে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভে অনেক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা বা পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন। জেলার সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
খেলাপি কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা, সুদ মওকুফে বড় ছাড়
৩০ জুন ২০২৬, সমকাল
ব্যাংক খাতের রেকর্ড খেলাপি ঋণ কমাতে একের পর এক ছাড় দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল সোমবারের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো খেলাপি গ্রাহক পুরো ঋণ একবারে পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদও মওকুফ করতে পারবে ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের চেয়েও বেশি সুদ মাফ করা যাবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত এক নীতিমালার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ছাড় দিয়েছে।
ব্যাংকাররা জানান, ব্যাংকগুলোর কোনো ঋণ নিয়মিত থাকলে আদায় হোক বা না হোক সুদ আয় খাতে নেওয়া হয়। আর একটি ব্যাংকের আয় থেকে সব ধরনের খরচের পর পরিচালন মুনাফা দেখিয়ে থাকে। একশ টাকা পরিচালন মুনাফা থেকে নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণের পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংক সাড়ে ৩৭ শতাংশ সরকারকে কর পরিশোধ করে। তালিকাভুক্ত নয় এ রকম ব্যাংকের পরিশোধ করতে হয় ৪০ শতাংশ।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির ‘ধোঁকাবাজিটা তাদের রাজনীতিরই অংশ’: আনু মুহাম্মদ
২৯ জুন ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
নির্বাচনের সময় জনগণকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়াকে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ধোঁকাবাজি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন আনু মুহাম্মদ।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ’ এ সভা আয়োজন করে, যেখানে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি না রাখার অভিযোগ তোলেন কোনো কোনো বক্তা।
আনু মুহাম্মদ বলেন, “এই যে নির্বাচনি ইশতেহার, প্রতিশ্রুতি, এগুলো বললে তারা একটু হাসবে হয়তো। কারণ, এগুলো তাদের অভ্যাস। এই ধোঁকাবাজিটা তাদের রাজনীতিরই একটা অংশ।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, “এমনিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিল নেই, একজন আরেকজনকে দেখতে পারে না। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো বন্ধ করা বা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার মতো নীতির ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায় না।”
আশির দশক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের ধারা চলছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, “নীতি প্রণয়নকারীদের কোনো পরিবর্তন হয় না। পরিবর্তন হয় শুধু বাস্তবায়নকারীদের চেহারা। এ কারণেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালুর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয় না।”
প্রতীকী মূল্যে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পাচ্ছে সেনাবাহিনী
০১ জুলাই ২০২৬, জাগো নিউজ
চট্টগ্রাম এরিয়ায় বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) বা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণের জন্য প্রতীকী মূল্যে বন্ধ থাকা চট্টগ্রামের জলিল টেক্সটাইল মিলস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলের নিয়ন্ত্রণাধীন টেক্সটাইল মিলটি চট্টগ্রাম জেলার ফৌজদারহাট এলাকায় অবস্থিত।
টেক্সটাইল মিলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে বুধবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
দোহারে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যু, ছিলেন ঋণের চাপে
৩০ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার দোহারে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, নিহত মা-মেয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সময়মতো দিতে না পারায় মানসিক চাপে ছিলেন। তাঁদের চাপ দেওয়ার পাশাপাশি গালাগাল করছিলেন ঋণদাতা সংস্থার কর্মকর্তারা। এ কারণে লজ্জায়-অভিমানে অসুস্থ হয়ে ২৪ জুন মারা যান দোহারের খালপাড় এলাকার লাভলী আক্তার। একই কারণে অসুস্থ হয়ে গত সোমবার রাতে মারা গেছেন মা রেহানা বেগম।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও নিহত মা-মেয়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার খালপাড় এলাকার মৃত শেখ শহীদের স্ত্রী লাভলী এক বছর আগে ‘রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন’নামে একটি এনজির উপজেলার বটিয়া শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু ছেলে টাকা না পাঠানোয় ঋণের টাকা শোধ করতে পারছিলেন না লাভলী। এতে এনজিও কর্মকর্তারা তাঁকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন।
এনজিওর চাপ সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে আমার মা ও বোন মারা গেছে। আমি আমার মা ও বোনের মৃত্যুর বিচার চাই।
নুরুল ইললাম, রেহেনা বেগমের ছেলে
কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভয়ে লাভলী বাড়ি ত্যাগ করে অন্যত্র অবস্থান নেন। তিনি উপজেলার নাগেরকান্দায় মায়ের বাড়িতে অবস্থান করেন। সেখানে গিয়েও ঋণের টাকার জন্য চাপ দেন এনজিওর এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে লাভলীকে গ্রেপ্তার করার কথা বলে ভয়ভীতি দেখান। ওই দিনই লাভলী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সন্ধ্যার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, লাভলীর মৃত্যুর সপ্তাহ না যেতেই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া এবং ভয় দেখানো হয় তাঁর মা রেহানা বেগমকে। এতে রেহানা বেগম আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তিন বাহিনীর সাবেক ১৫০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি
০৩ জুলাই ২০২৬, সমকাল
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং বিশেষ আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে সরকার। তাদের মধ্যে সাবেক লে. জেনারেল দুজন, মেজর জেনারেল সাতজন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ২১ জন। গত বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত চাকরিজীবনে বঞ্চনা, অবিচার, প্রতিহিংসার শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতি এবং বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার আবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের সই করা প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছয় বছরে উৎপাদনে আট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান কেবল ৫৫ জনের
৪ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠার ছয় বছরে উৎপাদনে গেছে মাত্র আটটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এতে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৫৫ জনের।
তবে সরজমিনে গিয়ে একটি কারখানা বন্ধ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বরাদ্দ দেয়া ৮৮টি প্লটের মধ্যে এখনো খালি পড়ে আছে ৫৯টি। এছাড়া ৮০টি কারখানা স্থাপনের কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১১টি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, নিরাপত্তা ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত কারণে প্লট মালিকরা দেশের ৭৫তম বিসিক শিল্পনগরীতে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী নন।
জানা যায়, মিরসরাই বিসিক শিল্পনগরীতে ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি কারখানা উৎপাদনে যায়। এরপর ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় এয়াকুব অটো রাইস মিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর এবি কমোডিটিজ নামে একটি কারখানায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। সব মিলিয়ে গত ছয় বছরে মাত্র আটটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে গেছে। এসব কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৫৫ জনের।
সাংহাই মডেলে ঢাকাকে গড়তে চায় সরকার
০৪ জুলাই ২০২৬, সমকাল
চীনের সাংহাই শহরের মডেলে ঢাকা শহরকে সাজাতে চায় সরকার। এক সময় সাংহাই ঢাকা শহরের মতো অপরিকল্পিত জঞ্জালের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। ল্যান্ড রিডেভেলপমেন্ট (ভূমি পুনঃউন্নয়ন) প্রকল্পের মাধ্যমে সাংহাই আজ বিশ্বের আধুনিক শহরের কাতারে চলে গেছে। চীনের সবচেয়ে আধুনিক শহর এখন সাংহাই। ঠিক সেভাবেই ঢাকা শহরকে গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানা গেছে, গত ৪ মার্চ রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন বেশ কয়েকজনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। তখন ঢাকা শহরকে কীভাবে পরিকল্পিতভাবে সাজানো যায়, তিনি তা জানতে চান। পাশাপাশি এটাও জানতে চান, চীনের সাংহাই কীভাবে এত আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হলো। সাংহাই যদি পারে তাহলে ঢাকা পারবে না কেন– সে প্রশ্নও রাখেন।
ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সড়কে ডিম ফেলে খামারিদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
০৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
গাজীপুরের শ্রীপুরে মুরগির ডিমের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। সড়কে মুরগির ডিম ফেলে প্রতীকী প্রতিবাদও করেছেন তাঁরা। আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনাবাজার পদচারী–সেতুর নিচে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মুরগির ডিম উৎপাদনকারী মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার খামারিরা অংশ নেন। পরে তাঁরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল নানা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। এতে ‘ডিম খেলে পুষ্টি মেলে, খামারিরা কেন ঋণের জালে’ এবং ‘ডিমের দাম কমল কেন, জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান লেখা ছিল।
ভুল পরিকল্পনা, পেঁয়াজ চাষির বিপদ
০৫ জুলাই ২০২৬,সমকাল
পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার গত দেড় বছরে পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ‘এয়ার-ফ্লো মেশিন’ ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সংরক্ষিত পেঁয়াজ দ্রুত পচে যাচ্ছে। অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোথাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মেশিন চালানোই যাচ্ছে না। এতে কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগের সুফল পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
তাদের অভিযোগ, এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণের আগে দেশের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অপরিকল্পিত প্রকল্প এবং ভুল নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির বোঝা বহন করতে হচ্ছে কৃষকদের।
৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি!
৫ জুলাই ২০২৬, কালবেলা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পের আওতায় ৩০০ জন অসহায় মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য অনুদান দেওয়া হবে প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে এই অনুদানের টাকা বিতরণে জন্য পরামর্শক ও প্রশাসনিক বিলাসিতার পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকার বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে বাস্তুহারা ও দরিদ্র মানুষের সহায়তার নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই সুকৌশলে আমলা ও পরামর্শকদের পকেটে ভরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট)’ শীর্ষক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ১ বছর ৯ মাস। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর আজ রোববার পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ক্রয়ক্ষমতা কমছে ৫৩ মাস ধরে
০৭ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
টানা সাড়ে চার বছর ধরে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি বাড়েনি। প্রতি মাসে যত মূল্যস্ফীতি হয়, তার চেয়ে কম হারে মজুরি বাড়ে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই এমন পরিস্থিতি চলছে। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষের বাজার থেকে জিনিসপত্র কেনার সামর্থ্য কমে গেছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের এবং মধ্যবিত্ত পরিবারকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশের ৮৬ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনানুষ্ঠানিক খাতে হওয়ায় মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি হার না বাড়লে শ্রমিকশ্রেণি বা নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি ও কষ্ট বাড়ে।
এদিকে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল সোমবার মাসিক মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, গত জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
অবসরে পাঠানো, দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতি
১১ জুলাই ২০২৬, সমকাল
উপসচিব পদে থাকা মাইনুল হক ভূঁইয়াকে অবসরে পাঠিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ৯ দিন পর পদোন্নতি পেয়ে তিনি হলেন যুগ্ম সচিব। শুধু তিনি নন পদোন্নতি পেয়েছেন দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে অতীতে দণ্ড পাওয়া কর্মকর্তারাও।
গত বৃহস্পতিবার উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব হয়েছেন ১৭৯ জন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তালিকায় ৫৩ নম্বরে আছেন মাইনুল হক। বিতর্কিত কিছু কর্মকর্তা পদোন্নতি পেলেও একটি ব্যাচের মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকা দুজন বাদ পড়েছেন। এতে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনে এটাই একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পদোন্নতি।
শাইনপুকুর সিরামিকসকে শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার অনুমতি
১৪ জুলাই ২০২৬, জাগো নিউজ
উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে সোনালী ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে শতভাগ (১০০ শতাংশ) মার্জিনে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ সুবিধা দিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশের ৬৭ শতাংশের বেশি তরুণই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন
১৫ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের তরুণরা।এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান কিংবা প্রতিবেশী ভারতের তুলনায়ও দেশে তরুণদের মধ্যে এসব বিষয়ে উদ্বেগের হার বেশি। যদিও এ সময়েই জনমিতিক লভ্যাংশের (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে বাংলাদেশ। তরুণদের সংখ্যাধিক্যের এ সুফল ২০৪০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা।
সম্প্রতি ‘লাইভস, চয়েজেস অ্যান্ড ফিউচারস: ডেমোগ্রাফিক ফিউচারস সার্ভে’ শীর্ষক বৈশ্বিক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। বিশ্বের ৭৩টি দেশের ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, একই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুটানের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ, ভারতের ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শ্রীলংকার ৪৫ শতাংশ তরুণ।
১০ বছরে সেবা খাতে জিডিপি বেড়েছে পৌনে চার গুণ
১৭ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি সেবা খাত। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অর্ধেকের বেশি মূল্য সংযোজনই হচ্ছে এ খাত থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে দেশের জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সেবা খাতের অবদান ১৮ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫২ শতাংশ। অবশ্য চলতি মূল্যে গত অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৬১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।
বিবিএসের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরে জিডিপিতে সেবা খাতের মূল্য সংযোজন প্রায় পৌনে চার গুণ বেড়েছে। একই সময়ে শিল্প খাতের অবদান সোয়া চার গুণ ও কৃষি খাতের অবদান প্রায় পৌনে তিন গুণ বেড়েছে।
বিবিএসের সম্প্রতি প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, দেশের জিডিপি তথা অর্থনীতি ক্রমেই সেবা খাতনির্ভর হয়ে উঠছে। বর্তমানে জিডিপিতে বর্তমানে শিল্প খাতের অবদান ৩৭ শতাংশ ও কৃষি খাতের অবদান ১১ শতাংশ।
শীর্ষে এমজিআই, বড় উত্থান ডেল্টার, আরও পেছাল সিটি গ্রুপ
২০ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
গত দুই দশকের মধ্যে বেশির ভাগ সময় দেশে নিত্যপণ্য আমদানিতে শীর্ষে ছিল শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপ। তিন বছর আগে শীর্ষ অবস্থানটি হারিয়েছে গ্রুপটি। এরপর টানা দুই অর্থবছর দ্বিতীয় শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছিল সিটি গ্রুপ। আর্থিক সংকটে থাকা সিটি গ্রুপ এবার দ্বিতীয় শীর্ষস্থানটিও হারিয়েছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছর শেষে নিত্যপণ্য আমদানিতে দুই ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে সিটি গ্রুপ।
অন্যদিকে টানা তৃতীয় অর্থবছরের মতো নিত্যপণ্য আমদানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ বা এমজিআই। তিন বছর আগে সিটি গ্রুপকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছিল এমজিআই। এ ছাড়া গত অর্থবছর শেষে এক ধাপ করে এগিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে যথাক্রমে টি কে গ্রুপ ও স্মাইল ফুড প্রোডাক্টস। নাবিল গ্রুপ দ্বিতীয়বারের মতো পঞ্চম অবস্থান ধরে রেখেছে। এর বাইরে গত এক অর্থবছরের ব্যবধানে নিত্যপণ্য আমদানিতে বড় উত্থান হয়েছে ডেল্টা এগ্রোফুড ও প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের।
ঋণ পুনঃতপশিলে ঘুরেফিরে চিহ্নিত কয়েকটি কোম্পানি
২২ জুলাই ২০২৬, সমকাল
টাকা ফেরত না দিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়ে আসছেন শীর্ষ খেলাপিরা। বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরাই ঘুরেফিরে পুনঃতপশিলের জন্য হাজির হচ্ছেন। একের পর এক সুবিধা নেওয়ার কিছুদিন পর তারা আবার খেলাপি হচ্ছেন। প্রকৃত আদায় ছাড়া ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত দেখিয়ে আসা ব্যাংক খাত এভাবে পুনঃতপশিলের ফাঁদে পড়েছে। এতে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বের শীর্ষস্থান পেয়েছে।
কখনও বৈশ্বিক খারাপ অবস্থা, কখনও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই খেলাপিদের জন্য উপায় বের করে দিচ্ছে। সুবিধা দিয়ে খেলপি ঋণ কমানোর নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের বেশির ভাগের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধানে নীতি শিথিলতার সিদ্ধান্ত কাজ দিচ্ছে না। এ ধরনের নীতির বারবার অপব্যবহার হয়েছে।
অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। খেলাপি অনেকেই ব্যাংকের টাকায় বিলাসী জীবন, বিদেশে পাচারসহ নানা অনিয়ম করছেন। এর বিপরীতে দেশে এমন অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা খেলাপি হননি। তাই ঋণখেলাপিদের বারবার সুবিধা দিতে থাকলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে বিশ্বে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত মার্চ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৩ সালভিত্তিক খেলাপি ঋণের দেশওয়ারি তথ্য রয়েছে। ওই সময় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ১৪ নম্বরে ছিল বাংলাদেশের নাম। তখন খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইউক্রেনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির খেলাপি নেমেছে ২৭ শতাংশে।
২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাদ। আর আফ্রিকান দেশ গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গিনির খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩০ শতাংশে।
কারা সুবিধা পায়
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতপশিলসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে ১২ শতাধিক আবেদন এসেছে। এর বিপরীতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের পুনঃতপশিল চাওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধার জন্য গত বছর ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের ১২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। ২৬ ব্যাংক ও দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বেক্সিমকোর ছয় হাজার ৯১৯ কোটি টাকার পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন এসেছে। বেক্সিমকোর ঋণ পুনঃতপশিল না হলেও তাদের মালিকানাধীন খেলাপি প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকের এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বারবার বিশেষ সুবিধা নেওয়া আব্দুল মোনেম গ্রুপ এ দফায় দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে। এই গ্রুপের মালিকানার আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি মিলের খেলাপি ঋণ থাকা অবস্থায় একইভাবে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক খাতে বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের ৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার ঋণ বিশেষ সুবিধায় পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নাবিল গ্রুপ ৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করতে চেয়েছে। ১২ ব্যাংকে এসএ অয়েল রিফাইনারির এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পুনঃতপশিলের আবেদন এসেছে। আব্দুল কাদির মোল্লার মালিকানাধীন থার্মেক্স গ্রুপ চেয়েছে এক হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। সাদ মুসা গ্রুপ চেয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে এক খাতের ঋণ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। মাগুরা গ্রুপ ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার বিশেষ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আনন্দ শিপইয়ার্ড চেয়েছে এক হাজার ৫৬ কোটি টাকার পুনঃতপশিল। এক হাসপাতালের নামে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আলোচিত আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালও চেয়েছে বিশেষ সুবিধা। দেশবন্ধু সুগার মিল, জেএমআই গ্রুপ, সানম্যান গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, রাইসিং স্টিল, অটোবি গ্রুপ, রানকা টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ৩৬টি ব্যাংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনের পর আবার বড় ঋণগ্রহীতাদের অভিনব সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে– এ রকম গ্রাহকের সুদহার কমানো, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন করে আর কখনও পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য আসবে না– এই শর্তে ১১ গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা নিয়মিত করে ব্যাংকগুলো।
পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই শেষে বেক্সিমকো, আব্দুল মোনেম, সিকদার, অ্যাননটেক্স, কেয়া গ্রুপ, থার্মেক্স, যমুনা গ্রুপ, রাইজিং স্টিল মিলস, এসএ অয়েল রিফাইনারি, রতনপুর ও এমআর গ্রুপের বিআর স্পিনিং মিলস বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা নেয়। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে যমুনা ছাড়া অন্য সবাই এখন খেলাপি।
এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন সুবিধা চেয়ে আবেদন করে তিন গ্রুপ। এর মধ্যে ৯২৮ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপ, ৮১২ কোটি টাকা রতনপুর গ্রুপ এবং ৫৭২ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে বিআর স্পিনিং মিল। বেক্সিমকো গ্রুপ ওই সময়ে পাঁচ হাজার ৬৪৩ কোটি পুনর্গঠন করে। সুদসহ বছর শেষে তাদের স্থিতি দাঁড়ায় ছয় হাজার ১৫১ কোটি টাকায়।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার ‘এককালীন এক্সিট ও বিশেষ পুনঃতপশিল’ নীতিমালা জারি হয়। সেখানে বলা হয়, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। আগের সুবিধা নেওয়া গ্রুপগুলো এ দফায়ও ঋণ পুনর্গঠন করে। ফলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে এ সুবিধার আওতায় পুনঃতপশিল হয় ৫২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা।
২০১৯ সালেই আবার খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো মেয়াদি ঋণ অনাদায়ী থাকার ছয় মাস পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাব করতে বলা হয়। এভাবে চলার পর ২০২০ সালে এক টাকাও পরিশোধ না করে খেলাপিমুক্ত দেখাতে সার্কুলার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলেই আর খেলাপি হয়নি।
২০২৩ সালে বিশেষ সুবিধায় সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না। প্রতিবার সুবিধা পাওয়াদের তালিকায় ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দেখা যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সময়ে একের পর এক বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারও খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ নীতি-সহায়তা দেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন করে গত ২৯ জুনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে এক্সিট নীতিমালার আওতায় কোনো ঋণখেলাপি এককালীন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদ কিংবা তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বেশি মওকুফের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে।
জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, বারবার পুনঃতপশিল করা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসার চেয়ে পুনঃতপশিল ব্যবসা অনেক লাভজনক। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে তারা দেশে বা বিদেশে কোনো না কোনো সম্পদ কিনেছে। নিয়মিতভাবে ওই সম্পদের দর বেড়েছে। অথচ বছরের পর বছর সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধা নিয়ে আসছে। অনেক চাপে পড়লে এক পর্যায়ে হয়তো দেখা যাবে, এক্সিটের নামে আসল পরিশোধ করে বেরিয়ে যাবে। এরপরও ব্যবসা করে যে আয় করা যায়, তার চেয়ে সম্পদ বিক্রি করলে বেশি মুনাফা থাকবে।
আরফান আলী বলেন, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান করতে হলে খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, সরকারি কোনো সুবিধা না দেওয়া এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাতে ভালো ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন।
যত টাকা পুনঃতপশিল
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে বিশেষ সুবিধায় মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার পুনঃতপশিল করা হয় ২০২৫ সালে। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না।
আইএমএফের পদ্ধতির আলোকে এসব ঋণ ডিসট্রেস অ্যাসেট বা দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়। উচ্চ খেলাপির কারণে গত বছর ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৫ সালে দেশীয় মালিকানার ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক লোকসান করেছে।
৭ লাখ কৃষকের ৬০০ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ
২১ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষি খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি সরকার। তারই অংশ হিসেবে গত ৫ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০০ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কৃষি ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে এসব ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষকদের এই মওকুফ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
চট্টগ্রামে বন্দর রক্ষা কমিটির মশাল মিছিল, ২ আগস্ট বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা
২২ জুলাই ২০২৬, সমকাল
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি (নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল), সিসিটিসহ (চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল) অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের উদ্যোগে এক মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতীকী মশাল মিছিলটি আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চেরাগীর মোড় থেকে লালদিঘির পাড় পর্যন্ত যায়। এর আগে চেরাগীর মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু। সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির এ এম নাজিম উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা নূর হোসেন প্রমুখ।
রাজনীতি ও সংস্কার
সারাদেশে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন যেভাবে হচ্ছে
১২ মে ২০২৬, সমকাল
দেশের ৮৪টি আইনজীবী সমিতির মধ্যে চলতি বছর ৪১টিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন। তার ৯টিতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে বিজীয় হয়েছেন। বাকিগুলোতে একাধিক পদে জয়লাভ করেছেন।
সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে জয় পান আওয়ামীপন্থিরা। এরপর আর আওয়ামীপন্থিদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
১৬ এপ্রিলের পর থেকে ২৬টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। ২৩টিতে বিএনপিপন্থিরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি সমিতির সবকটি পদে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। মাদারীপুরসহ পাঁচ জেলায় জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা এক বা একাধিক পদে জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে মোট ৩৮টি বারের ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনটির ফল জানা যায়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিরোধী দলের ওপর নানা দমনপীড়ন চালানো হলেও আইনজীবী সমিতির মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলোয় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পেরেছেন। তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এএম মাহাবুব উদ্দিন খোকন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ছয়বার এই আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। একইভাবে সারাদেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা চাপে থাকলেও সমিতিগুলোর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ও জয়লাভ করেছেন।
ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই দীপেন দেওয়ানের বিদায়
০২ জুন ২০২৬, টাইম অব বাংলাদেশ অনলাইন বাংলা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালনা এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের ওপর প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের জের ধরেই পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
তিনি জাতীয় সংসদের রাঙ্গামাটি আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতা।
সোমবার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও, ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মন্ত্রী হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব হারানোর কারণেই মূলত তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দীপেন দেওয়ানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার একজন সংসদ সদস্য টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, “তিনি (দীপেন দেওয়ান) কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন ঠিকই, তবে তা তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কিংবা মন্ত্রী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তিনি মন্ত্রিত্ব এবং দলীয় কর্মকাণ্ড দুটোই সমানতালে ও সুচারুভাবে চালিয়ে যাচ্ছিলেন।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই দীপেন দেওয়ান ও মীর হেলালের মধ্যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয়। এই মতবিরোধ এক মাসের মধ্যে দ্বন্দ্বে রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে তা আরও তীব্র হতে থাকে।
এই দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পর প্রতিমন্ত্রী হেলাল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সচিব মিজানুর রহমানকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার (প্রতিমন্ত্রীর) অনুমোদন ছাড়া মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইল যেন মন্ত্রীর কাছে পাঠানো না হয়।
সচিব অবশ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, ফাইল প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমেই মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়, যা সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম।
সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ বা কার্যবিধি অনুযায়ী, মন্ত্রী হলেন মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন নেই।
একজন সাবেক আইন সচিব টাইমস’কে বলেন, সাধারণত একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রথমে প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে মন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠান। তবে মন্ত্রী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সাবেক সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে কিছু নির্দিষ্ট কাজ বণ্টন করে দেন।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে এই স্বাভাবিক নিয়মটি চর্চা করা সম্ভব হয়নি। কারণ দীপেন দেওয়ান নিজের মন্ত্রণালয় স্বাধীনভাবে চালাতে চেয়েছিলেন, অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল তার প্রভাব খাটিয়ে সেখানে হস্তক্ষেপ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ দীপেন দেওয়ান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন এবং জানান, প্রতিমন্ত্রীর সাথে কাজ করতে তার অস্বস্তি হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রতিমন্ত্রীকে আস্থায় নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রের মতে, এই সিদ্ধান্তে দীপেন দেওয়ান বেশ হতাশ হন।
বিরোধী আসনে উন্নয়ন তদারক করবে বিএনপির নারী এমপিরা
০৭ জুন ২০২৬, সমকাল
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকি এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলটির ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।
সভা সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, কোনো নারী এমপিকে একটি আসনে, কাউকে দুটি এবং কয়েকজনকে সর্বোচ্চ চারটি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনকে পুরো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির নেতারা এমপি হয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে জিতে আসা স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আসনেও দায়িত্ব হয়েছে সরকারদলীয় নারী এমপিকে।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে বিতর্ক
১০ জুন ২০২৬, সমকাল
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যাংকটিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের দুজন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন নেতা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দল। এই প্রেক্ষাপটে কারও নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে, এই যাতনা তো আমরা বুঝি।’
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা এক নোটিশ নিয়ে এ বিতর্ক হয়। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিতর্ক চলাকালে জামায়াতে ইসলামীর শরিক এনসিপি সংসদে উপস্থিত ছিল না।
‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা
১৪ জুন ২০২৬, সমকাল
জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তাদের কেউ দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন না। করলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর দলটির নেতাকর্মীরা তা মেনে চললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু নেতার মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সাংগঠনিক নিয়ম অমান্যের ফলে ‘বড় দল’ হয়ে উঠতে চাওয়া জামায়াতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় জামায়াতের তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সব নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ‘লবিং’ করছেন তৃণমূলের নেতারা।
একবেলা না খেয়ে হলেও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে হবে: এনসিপি এমপি মুজাহিদ
১৮ জুন ২০২৬, সমকাল
প্রস্তাবিত বাজেটকে বিশাল ঘাটতি ও ‘সাদা হাতির বাজেট’ আখ্যা দিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ। তিনি বলেন, দেশকে রক্ষা করার জন্য সবাইকে যদি একবেলা না খেয়েও থাকতে হয়, তবুও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের বাজেট বেশি করে দিন।
একই সঙ্গে তিনি দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এক এলাকার উন্নয়ন করে অন্য এলাকাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
সংসদ সদস্যরা ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ পাবেন
২৩ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
নিজ নিজ সংসদীয় আসনের রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হবে সংসদ সদস্যদের জন্য। প্রতিবছর ১০ কোটি টাকা করে পাঁচ বছর এই টাকা দিয়ে সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দমতো অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারবেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য এই বরাদ্দ দিতে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন (বিভাগওয়ারি) নামের প্রকল্প তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ সদস্যরা অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিজ নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজার, ঘাট ইত্যাদির তালিকা দেবেন। সে তালিকা ধরে বরাদ্দের টাকায় কাজ করবে এলজিইডি।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত জামায়াতপন্থী ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ
২৩ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের ব্যর্থতা, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে ১৮ জন রাষ্ট্রীয় আইন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
তাদের মধ্যে সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।
ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ একাই নিয়েছেন ৮২ লাখ
২৭ জুন ২০২৬, আগামীর সময়
শর্ট ইনিংস খেলেছেন উপদেষ্টারা। মাত্র আঠারো মাসের দায়িত্ব। কিন্তু বিদেশে চিকিৎসা বিলের অঙ্কটা বেশ লম্বা। নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রীরাও চিকিৎসা বিল নেন। আইনগতভাবেই সেটা। তবে প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। যাদের হাতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নের দায়িত্ব, তারাই যদি চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হন, তাহলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে কী বার্তা যায়? অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রেও সেই প্রশ্নই উঠেছে। আইনগত বৈধতা থাকলেও নৈতিকতা ও জনআস্থার জায়গায় বিতর্ক রয়েছে।
এসব বিতর্ক একপাশে ফেলে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন একাই নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এমনটাই জানিয়েছে।
হেফাজত ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির চিকিৎসা নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। হৃদরোগ খালিদ হোসেনের। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছিল হার্টে যে সমস্যা, তার চিকিৎসা দেশে নেই। বাংলাদেশে এ-সংক্রান্ত অপারেশনের ঝুঁকি রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। আগামীর সময়ের প্রতিবেদকের কাছে এমনটাই দাবি খালিদ হোসেনের।
অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আঠারো মাসে বিদেশে চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়।
খালিদ হোসেন ও সালেহউদ্দিন আহমেদের বাইরে তৃতীয় সর্বোচ্চ বিদেশে চিকিৎসা বিল নিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা। সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা।
৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা নিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা নিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দীন মাহমুদ নিয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ টাকা। ৩১ হাজার ৫২ টাকা নিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান ২১ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন চিকিৎসা বাবদ নেন ৪ হাজার ১৬০ টাকা।
সংসদে নিষ্প্রভ জামায়াত, এমপিদের ভূমিকায় বিব্রত
০৭ জুলাই ২০২৬, সমকাল
সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারছে না প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। দলটির সংসদ সদস্যদের কয়েকজন সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বাজেট আলোচনায়ও জামায়াত এমপিরা ছিলেন নিষ্প্রভ। অর্থ বিলে কোনো সংশোধনী প্রস্তাবও দেয়নি তারা। সংসদ সদস্যদের অনেকের সংসদের রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালি বিধির বিষয়ে জানাবোঝার ঘাটতিও প্রকাশ পেয়েছে।
সংসদের বাইরে দলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের (এমপি) কার্যকলাপে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে জামায়াত। এদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য দল থেকে কোনো কোনো এমপিকে সতর্কও করা হয়েছে। জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন। আবার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্বজনদের দেওয়ার ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত থাকলেও জামায়াত তাদের এমপির পক্ষ নিয়েছে।
উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
০৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আতাউল্লাহ শাহ নামের ওই নেতা এনসিপির গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়। আতাউল্লাহর উদ্দেশে লেখা চিঠিটি গতকাল গভীর রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। যদিও গ্রেপ্তার হওয়া আতাউল্লাহ এখন পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন।
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
১২ জুলাই ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি নিয়ে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ফেরিটি ২৩ মিনিট পর পুনরায় চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরে আসে। বিষয়টি নিয়ে ফেরী যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তাদের জানানো হয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ ঘাটে এসেছেন। তাকে নিয়ে নলচিরা ঘাটে যেতে হবে। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এমপিকে নিয়ে গন্তব্যে যায় ফেরি।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ফেরি মহানন্দার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।
জুলাইয়ের এই মুখগুলো এখন কোথায়
১৯ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। সবার সম্মিলিত কণ্ঠের স্নোগান বরং বৃষ্টির শব্দ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিক—‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই।’
দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ২ আগস্ট, স্থান রাজধানীর উত্তরার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণ। চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে আটকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্বিচার গুলি–খুনের প্রতিবাদে স্বতঃস্ফূর্ত ওই বিক্ষোভ। এতে যোগ দেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা; ছিলেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও।
ওই দিনের বিক্ষোভে ছিলেন রাজউক কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার শশী। বৃষ্টির মধ্যে রিকশায় বসে তাঁর স্লোগান দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয় সেটি।
শায়লা এখন বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনায় ফিরে গেলেও আন্দোলনের সেই স্মৃতি এখনো তাঁর কাছে উজ্জ্বল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন তিনি।
চলতি মাসের ৯ তারিখ রাজধানীর আফতাবনগরে কথা হয় শায়লার সঙ্গে। ভাইরাল ছবিটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানববন্ধনে মানুষের অংশগ্রহণ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। আমার সব ভয় কেটে যায়, বিশেষ করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ আমার মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ স্লোগানে মুখর এবং তার মধ্যে ঝুম বৃষ্টি। আমি এ রকম দৃশ্য আগে দেখিনি। তখন স্লোগানের মধ্যে এমনভাবে নিমজ্জিত হয়ে যাই, কেউ আমার ছবি তুলছে, তা টের পাইনি।’
সেদিনের বিক্ষোভে শামিল হওয়ার কথা মনে পড়লে এখনো গর্ব হয় শায়লার, সঙ্গে আফসোসও হয়। তাঁর ভাষ্য, যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জীবন দিয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো এখনো নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত। জুলাইয়ের শহীদদের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি, অনেক আহত ব্যক্তিকে নিজের খরচে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। শায়লার ভাষায়, ‘একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমি আজকের দেশ দেখে আশাহত এবং খুবই লজ্জিত। এ রকম দেশের জন্য আবু সাঈদ, মুগ্ধরা জীবন দেননি। যে সিস্টেম (ব্যবস্থা) বদলানোর জন্য এত আত্মত্যাগ, আজও সেই একই সিস্টেমের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি। কোনো পরিবর্তনই আমি দেখি না! পরিবর্তন হলো শুধু দল। জুলাই শুধুই একটা নাম এখন। এর প্রকৃত মূল্যায়ন কেউ করেনি।’
শুধু শায়লা নন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় নানাভাবে ভাইরাল হওয়া আরও ছয়জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের কেউ পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, কেউ আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিলেন, কেউবা শহীদ ভাইয়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে মিছিল করেছিলেন। দুই বছর পর তাঁদের সবার জীবন আবার অনেকটাই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। তবে গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়নে তাঁরা প্রায় একই ধরনের হতাশার কথা জানালেন।
এই ব্যক্তিদের অধিকাংশের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া বড় অর্জন হলেও রাষ্ট্র সংস্কার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণহত্যার বিচার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। তবে কেউ কেউ মনে করেন, সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া; সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার
২৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো অনলাইন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার
জঙ্গি সম্পৃক্ততা: বিমানবাহিনীতে শুদ্ধি অভিযান
২৬ এপ্রিল ২০২৬, টাইম অব বাংলাদেশ অনলাইন
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আস্তানায় চট্টগ্রামের বিমানবাহিনী ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের পর বিমানবাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তদন্ত। একই সঙ্গে বাহিনীতে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ইউনিটের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ ধরনের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে বিমানবাহিনীর ২০ জনেরও বেশি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়াদের মধ্যে ওই ওয়ারেন্ট অফিসার ছাড়াও আছেন দুইজন স্কোয়াড্রন লিডার, ১০ জন জুনিয়র কমিশনড অফিসার ও বিমানসেনা এবং একজন ইমাম।
এ ঘটনার পর বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বাহিনীর ভেতরে গত কয়েক মাস ধরে কোনো নিয়োগ নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন। এ ছাড়া কোনো স্পর্শকাতর তথ্য পাচার হয়েছে কি না এবং বাংলাদেশ থেকে নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের বিদেশে জঙ্গি কার্যকলাপে পাঠানো হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মূলত চট্টগ্রামের বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটিতে কর্মরত ওই ওয়ারেন্ট অফিসার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর থেকে তদন্ত শুরু হয়। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে বিনা ছুটিতে নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে টিটিপির একটি আস্তানা থেকে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। টিটিপি পাকিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার নামে সশস্ত্র লড়াই চালানো একটি নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী।
এ বিষয়ে শনিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক সামি উদ দৌলা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যের প্রয়োজন হলে তারা পরবর্তীতে তা জানাবেন।
বাংলাদেশে টিটিপির তৎপরতার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে গত বছর। তখন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে, অন্তত চারজন বাংলাদেশি টিটিপির হয়ে লড়াই করার সময় পাকিস্তানে সে দেশের বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি পাকিস্তানে গিয়ে এই গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধ করছেন।
তদন্তকারীরা জানান, আটক হওয়া ওয়ারেন্ট অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দাবি অনুযায়ী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি পাকিস্তানে গিয়ে টিটিপিতে যোগ দিয়েছেন এবং সেখানে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিএএফ ঘাঁটি জহুরুল হক, বিএএফ ঘাঁটি এ কে খন্দকার এবং বিএএফ ঘাঁটি মতিউর রহমানে অভিযান চালায়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, কক্সবাজারের একটি ইউনিটসহ বিভিন্ন স্কোয়াড্রনের সদস্যদের সঙ্গে এই যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের আমলে ৪৬৪টি হত্যা ও ৬৬৬টি ধর্ষণ মামলা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৮ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব হত্যা মামলায় ৬০৪ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ জন আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে রাজধানীতে ৪ জন গ্রেপ্তার
২৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তাঁরা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)।
গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল তাঁদের আটক করে। আজ বুধবার পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করলে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এপ্রিলে সারাদেশে মব বা গণপিটুনিতে নিহত ২১ আহত ৪৯: এমএসএফ
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
চলতি বছরের এপ্রিলে সারাদেশে মব বা গণপিটুনির ৪৯ ঘটনায় ২১ অন্তত ২১ জন নিহত ও ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিস্তার আইনের শাসনের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
মার্চে ৩৬টি মব বা গণপিটুনির ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন আহত হয়েছিলেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে গণপিটুনিতে ১৮ জন, জানুয়ারিতে ২১ জন ও গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ জন নিহত হন।
প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ায় গত ১১ এপ্রিল পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম আল-জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যার উল্লেখ করা হয়েছে।
‘মব’ হচ্ছে জনগণের প্রতিক্রিয়া: আইনমন্ত্রী
০৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
‘মব ইজ আ রিঅ্যাকশন অব দ্য পিপল’ বা মব হচ্ছে জনগণের প্রতিক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আজ সোমবার বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ প্রথমবারের মতো ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আসাদুজ্জামান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বিনা দাওয়াতে ঢাকায় ‘আফগান মেহমান’, টিটিপি সংযোগে তোলপাড়
০৫ মে ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম
রাজধানীর অদূরে একটি মাদ্রাসায় প্রায় এক মাস ছিলেন নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল। এই সময়ে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে তেহরিকে তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বাংলাদেশ শাখার প্রধান ইমরান হায়দারের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কওমি ধারার ওই মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইমরানকে আলাপ করিয়ে দেন।
স্ট্রিমের হাতে আসা পাসপোর্ট ও নথি অনুযায়ী, নিয়ামাতুল্লাহ মাঙ্গাল আফগানিস্তানের নাগরিক, বাবার নাম আসিল খান। জন্ম ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই। এই যুবক ‘বিনা আমন্ত্রণে’ পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভারত থেকে যশোরের বেনাপোল দিয়ে ঢাকায় আসেন। শুধু তাই নয়, এখান থেকে দুই মাসের ‘ট্রাভেল পাস’ জোগাড় করে পাড়ি জমিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখান থেকে তিনি শুধু আফগানিস্তান যেতে পারবেন।
নিয়ামাতুল্লাহর বাংলাদেশ ছাড়ার পর টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়ামাতুল্লাহর ব্যাপারে জানতে আফগানিস্তানে যোগাযোগ করেন তাঁরা। কাবুলের তালেবান সরকার বিস্তারিত জানাতে না পারলেও, নিয়ামাতুল্লাহর দীর্ঘদিন পাকিস্তানে অবস্থানের তথ্য দিয়েছে।
নিয়ামাতুল্লাহর মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থী ইমরান হায়দারের সঙ্গে আলাপ করেছেন, তাদের মধ্যে একজন ওই মাদ্রাসা পরিচালকের খাদেম। ২১ বছর বয়সী এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এখন পাকিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তাঁর এক নিকটাত্মীয় স্ট্রিমকে জানিয়েছেন। সিলেট বিভাগের একটি জেলার ওই শিক্ষার্থী (বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ থাকার পরেও স্ট্রিম নিরাপত্তা বিবেচনায় নাম উল্লেখ করছে না) পরিবারকে ‘উচ্চশিক্ষার’ জন্য পাকিস্তান যাচ্ছেন বলে রাজি করিয়েছেন।
নৌপথে অপরাধ বেড়েছে ৬৩%
০৭ মে ২০২৬, সমকাল
অন্ধকার নামলেই নদীপথে নামে আতঙ্ক। যাত্রীবাহী ট্রলার, জেলে নৌকা, মালবাহী কার্গো, বাল্কহেডসহ নানা নৌযানে হামলা, ডাকাতি, মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। স্থলপথের চেয়ে নৌপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম থাকায় অপরাধীরা এ পথকে বেছে নিচ্ছে। ফলে বাড়ছে নদীকেন্দ্রিক অপরাধ।
এ ছাড়া খুনিরা অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা ও নিজেদের আড়াল করার চেষ্টায় লাশ নদীতে ফেলছে। পানির স্রোতে লাশ ভেসে চলে যাওয়ার কারণে নদীকে লাশ গুমের ‘নিরাপদ স্থান’ মনে করা হয়। লাশ পচে-গলে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তও কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্ষা মৌসুমে ছয় থেকে আট হাজার কিলোমিটার নৌপথ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় তিন থেকে চার হাজার কিলোমিটারে। এর মধ্যে নিয়মিত নৌযান চলাচল করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার নৌপথে। এই বিশাল জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৌ পুলিশের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।
নৌ পুলিশ সদরদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জলপথকে ১১টি অঞ্চলে ভাগ করে আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম চালাচ্ছে নৌ পুলিশ। এসব অঞ্চলে খুন, অপমৃত্যু, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র, চোরাই পণ্য বহন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদকসহ নানা অপরাধে ২০২৪ সালে দুই হাজার ৮৫টি মামলা হয়। তবে পরের বছর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় মামলার সংখ্যাও বাড়ে। ২০২৫ সালে মামলা হয় তিন হাজার ৩৯৯টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বাড়ে এক হাজার ৩১৪টি, যা ৬৩ শতাংশ।
জামিন হয়, মুক্তি মেলে না, মামলার চক্করে আইভী
১০ মে ২০২৬, প্রথম আলো
প্রথমে পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার। সেগুলোতে জামিন পান। এরপর আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দ্বিতীয় দফার পাঁচ মামলায়ও জামিন দেন আদালত। তারপর আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই দুই মামলায়ও জামিন হয়েছে। কিন্তু প্রথম দুই দফার ১০ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ দুই মামলায় জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানির অপেক্ষায়।
এই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন ও গ্রেপ্তার দেখানোর চালচিত্র। যদিও ১২ মামলার মধ্যে ৭টির এজাহারে তাঁর নাম নেই।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছর পার হলেও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
আইভীর আইনজীবীরা বলছেন, একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে আইভীর মুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। সর্বশেষ দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে আইভীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৬ এপ্রিল এক আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
থানায় গিয়ে এসপি জানালেন তিনিও ছিনতাইয়ের শিকার
১১ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধী দমনে পুলিশের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণের এটিই প্রথম ঘটনা। সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে ছিনতাই করছিল একটি চক্র। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যায়। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানায় ছুটে আসেন পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি জানান, মাত্র দুদিন আগে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তিনিও এই চক্রের কবলে পড়েছিলেন।
এসপি শামীমা ইয়াসমিন বলেন, “শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে অটোরিকশায় ফেরার সময় একটি কালো মোটরসাইকেল আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারী ধরার খবরে আমার ফোনটি উদ্ধার হয়েছে কি না দেখতে এসেছি, যদিও সেটি এখনো পাওয়া যায়নি।”
চার মাসে ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার, খুন ১৭
২২ মে ২০২৬, সমকাল
দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন। গত দুই সপ্তাহে ধর্ষণের পর অন্তত চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৮ কন্যাশিশু।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে প্রতিবেশী সোহেল রানা। গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় ১০ বছরের এক কন্যাশিশুকে। এ ঘটনায় মেয়েটির এক আত্মীয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সাম্প্রতিক সময়ের ধর্ষণ ও হত্যার পাঁচটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবকটিতে শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের শিকার হয়েছে।
ঝিনাইদহে যুবশক্তি নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
২৪ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় যুবশক্তি নেতা অয়ন রহমান খানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের জনতা ক্লিনিক থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসাধীন বাবার পাশে অবস্থান করছিলেন অয়ন রহমান খান। এ সময় নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে সঙ্গে নিয়ে যান।
অয়নের বোন জেরিন আখি বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিক থেকে তার ভাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দরবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ৩ আনসার সদস্য কারাগারে
২৪ মে ২০২৬, জাগো নিউজ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২২ মে বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বিশৃঙ্খলার এমন ঘটনায় ২১ মে আনসার ও ভিডিপির অ্যাডজুট্যান্ট মাসুদ হাসান বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা তারেক রেজা গ্রেপ্তার
২৪ মে ২০২৬, সমকাল
ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এনসিপি নেতা তারেক রেজা আজ সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে শনিবার এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।
মে মাসে গণপিটুনির ঘটনায় নিহত ৩২, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার ৫৩: এমএসএফ
৩১ মে ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
বাংলাদেশে মে মাসে গণপিটুনির (মব ভায়োলেন্স) ঘটনা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত এক মাসে সারাদেশে ৬৯টি পৃথক গণপিটুনির ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এপ্রিল মাসে একই ধরনের সহিংসতায় ২১ জন নিহত হয়েছিলেন; মে মাসে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নাগরিকরা ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন’ বলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া মে মাসে সারাদেশে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে ৫৩টি৷
আজ রোববার (৩১ মে) বিগত দুই মাসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে এমএসএফ।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সংকলিত এই তথ্যে এমএসএফ জানায়, মে মাসে গণপিটুনির ঘটনায় আরও ৭১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৪৯ জন। মূলত চুরি, ধর্ষণের চেষ্টা এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ধরনের গণপিটুনির ঘটনাগুলো ঘটেছে।
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ
০১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি হতে দেয়নি পুলিশ ৷ আজ সোমবার সকালে মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল।
ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ১০টার আগেই জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আয়োজকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। আয়োজকেরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এলেও তা প্রদর্শনের সুযোগ পাননি। ব্যানারে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরকে নতুন চেয়ারম্যান’ নিয়োগ দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে সালিসে এক ব্যক্তিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
০৬ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে গ্রাম্য সালিসে এক ব্যক্তিকে মা ও স্ত্রীর সামনে চোখ-হাত বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম অভি মিয়া (৪০)। তিনি নারুই গ্রামের প্রয়াত রহমত মিয়ার ছেলে। ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। অভি মিয়ার বিরুদ্ধে নবীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাড়ির উঠান থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
০৭ জুন ২০২৬, সমকাল
গাইবান্ধার সাঘাটায় বাড়ির উঠান থেকে তুলে নিয়ে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বুরুঙ্গী বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে এলাকাবাসী তিনজনকে আটক করতে পারলেও একজন পালিয়ে যায়। গতকাল শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া গত কয়েক দিনে ভালুকা, সুন্দরগঞ্জ, কালীগঞ্জ ও তাহিরপুরে চার শিশু, বোয়ালমারী ও টাঙ্গাইলে দুই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী, লোহাগড়ায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী, শিবালয়ে ভিক্ষুককে ধর্ষণ এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন : টিআইবি
০৭ জুন, ২০২৬, কালের কন্ঠ অনলাইন
সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ সময়ে দেশে ৬০৫টি খুন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ৩ হাজার ৪৯৬টি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।
অধিকাংশ ধর্ষণ হয় নিজ ঘরে, ধর্ষক পরিচিত মুখ
৮ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
বাংলাদেশে অধিকাংশ ধর্ষণের ঘটনা অন্ধকার গলি বা নির্জন রাস্তায় ঘটে না। ঘটে মানুষের সবচেয়ে আস্থার জায়গায়, অর্থাৎ নিজ বাড়িতেই।
২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির (বিপিও) ডেটা থেকে ৮ হাজার ৬৭টি ধর্ষণ মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডেইলি স্টার। এতে দেখা যায়, অপরাধের অন্যতম প্রধান ঘটনাস্থল ভুক্তভোগীর নিজের বাড়ি।
গত পাঁচ বছরের ৬৮০টি ঘটনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ১৮৬টিই ঘটেছে ভুক্তভোগীর নিজের বাড়িতে এবং ১৭৯টি ধর্ষকের বাড়িতে।
বিপিওর ডেটায় এমন বহু ঘটনা পাওয়া গেছে, যেখানে শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে ডেকে নেওয়া হয়েছে, অথবা পরিচিত পরিবেশেই তারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
৮ হাজার ৬৭টি ঘটনার মধ্যে ৬৮০টি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাগান, জঙ্গল ও ফসলের মাঠে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৬টি এবং পরিত্যক্ত স্থানে ৯৫টি।
এমনকি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৩টি, যার মধ্যে ২৮টি মাদ্রাসায়, ১৫টি স্কুলে এবং ১০টি মসজিদে।
বাণিজ্যিক জায়গা বা যানবাহনেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তবে এর হার তুলনামূলক কম। স্থানীয় দোকানে ২৫টি, যানবাহনে ১৭টি ও হোটেলে ১২টি ধর্ষণের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষণ করা ৮ হাজার ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনায় অর্ধেকেরও বেশি বা ৪ হাজার ৫২০টি ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী হয়েছে শিশু ও কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৮৩।
পর্যালোচনা করা ঘটনাগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের পূর্বপরিচিত। বড় অংশই আত্মীয়, প্রতিবেশী, শিক্ষক বা পরিবারের সদস্য।
ডেটা থেকে দেখা যায়, ১৬৯টি ঘটনায় আত্মীয়-স্বজন জড়িত। এর মধ্যে চাচা-মামা ও বৈবাহিক সূত্রের আত্মীয়ও রয়েছেন। ৫৩টি ঘটনায় বাবা এবং ৫১টি ঘটনায় স্বামী বা সাবেক স্বামী অভিযুক্ত। বন্ধুদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ৭৩টি ঘটনায়। এ ছাড়া ৪৪টি ঘটনায় পরিবারের অন্যান্য সদস্য অভিযুক্ত হয়েছেন।
অন্তত ৫০২টি ঘটনায় অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছেন প্রতিবেশী। অনেক ক্ষেত্রেই তারা খাবার বা উপহারের লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের, বিশেষ করে শিশুদের নিজেদের ঘরে ডেকে নেন।
স্কুল, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গৃহশিক্ষক জড়িত ছিলেন অন্তত ৩৬৬টি ঘটনায়।
পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযুক্ত হয়েছেন অন্তত ৬৪টি ঘটনায়। ২০২০ সালে খাগড়াছড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর বাইরে ১ হাজার ৩৬৯টি ঘটনায় স্থানীয় বখাটেরা জড়িত, যারা প্রায়ই সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ করে। এ ছাড়া ১৯৬টি ঘটনায় উত্ত্যক্তকারী এবং ১১২টি ঘটনায় পরিবহনশ্রমিক জড়িত। ১৬২টি ঘটনায় সন্দেহভাজন ছিলেন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি।
মাদক ব্যবসার অভিযোগে কারও বাড়িঘর ভাঙচুর, কাউকে পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া
০৯ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অন্তত তিনটি এলাকায় মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে ‘মব সৃষ্টি করে’ বাড়িঘর ভাঙচুর ও বেধড়ক পিটুনি দিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভাঙ্গা পৌর সদরের চণ্ডীদাসদী মহল্লা, হামিরদী ইউনিয়নের হামিরদী গ্রাম ও পাশের মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের কারও বাড়িঘর ভাঙচুর করে আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কাউকে সালিস বৈঠক করে কিংবা মারধর করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকার ‘সচেতন যুবসমাজের’ নামে হওয়া এসব ঘটনা প্রতিরোধে থানা-পুলিশকে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। কথিত ‘সচেতন যুবসমাজ’ মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে কাউকে পুলিশেও সোপর্দ করেনি।
ছিনতাইকারীরা ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে নারী আহত, পরে হাসপাতালে মৃত্যু
১২ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বাস থেকে নেমে রিকশায় চড়ে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম (৪২)। পাশ দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে মাথায় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান সোহেলি। এতে ভেঙে যায় ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান। কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এরপর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে।
গত রোববার সকাল সোয়া ছয়টায় ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পিটিয়ে থানায় নিল পুলিশ, এসআইসহ তিনজন প্রত্যাহার
১৩ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
গতকাল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ নাঈমের।
এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে নগরের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
দিনে ১০টির বেশি খুন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
১৬ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
রাজনৈতিক কোন্দল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে দেশজুড়ে খুন, টার্গেট কিলিং ও বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সারা দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ১০টিরও বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শীর্ষ অপরাধীদের মুক্তি ও দেশে ফিরে আসা সহিংসতা বাড়ার মূল কারণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন রাজপথে এসে ঠেকেছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯১৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক পরপরই, অর্থাৎ মার্চ মাসে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি ও মে মাসে ৩১০টি মামলা দায়ের হয়েছে।
২০২৫ সালের একই তিন মাসে ৯৯৩টি মামলা হয়েছিল, তবে এর মধ্যে ২২৬টি ছিল আগের ঘটনার জের। ফলে তুলনামূলক প্রকৃত সংখ্যাটি ছিল ৭৬৭। অন্যদিকে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৭৯৪।
ছাত্রাবাসে স্কুলছাত্রের মরদেহ, পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের
১৭ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি আবাসিক স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে ওপরের ক্লাসের শিক্ষার্থীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিহত ছাত্রের নাম মেহেদী হাসান (১৪)। সে উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
মেহেদীর বাবা রামগঞ্জের রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা জিয়া উদ্দিনের অভিযোগ, মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে সোমবার রাতে একদল শিক্ষার্থী তার ছেলেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন করে।
তিনি বলেন, ‘পরদিন আমার ছেলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকেলে তারা আবার আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে।’ বিচার চেয়ে এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
ঢাকায় অপরাধ থামছে না, নিয়ন্ত্রণে গতি নেই
২১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ব্যস্ত সড়ক কিংবা বাসার সামনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। হামলার শিকার হচ্ছে পুলিশও। ঘটনার পর মাঠপর্যায়ে কিছু আসামি গ্রেপ্তার হলেও, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পেশাদার এসব সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না পুলিশ। ফলে অপরাধ থামছে না, বরং নতুন নতুন ঘটনা ঘটেই চলেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ২১ মাসে ঢাকা মহানগরে খুনের মামলা হয়েছে ৫৯৭টি। এর মধ্যে ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’।
একই সময়ে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ৭৭৩টি। যদিও ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা অনেক বেশি বলে পুলিশ কর্মকর্তারাই মনে করেন। কারণ, অধিকাংশ ঘটনাতেই ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। কেউ কেউ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলা না নেওয়ার অভিযোগও আছে।
ঢাকায় আলোচিত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর একটিরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে যুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু, পরিবার বলছে ‘নির্যাতনে’, পুলিশের দাবি ‘অসুস্থ হয়ে’
২১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের পিটুনিতে অসুস্থ হয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। আজ রোববার সকাল আটটার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭) নামের ওই যুবককে আটক করে ডিবি। এ সময় তাঁকে তাঁর মায়ের সামনেই পেটানো হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
তবে ডিবি পুলিশের দাবি, ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আজ ভোরে তাঁকে নাশতা করানো হয়েছে।
খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
২২ জুন ২০২৬, সমকাল
খুন, ধর্ষণ, মব, গণপিটুনি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ প্রতিদিনই ঘটছে। দেশের মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক ও ভীতিকর বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে পুলিশ বলছে, তারা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংঘবদ্ধ হয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা তো বটেই, এমনকি কবর থেকে মরদেহ তুলে পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। স্মরণকালের ইতিহাসে এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই। সে তুলনায় নতুন সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামিনে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধী চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। তিনি ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল দুই কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে অ্যালেক্স গ্রুপের নেতা মো. ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমন নিহত হন। চার দিনের মাথায় একই এলাকায় আরেক যুবক খুন হন।
৩ মে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় একাধিক ব্যক্তিকে ট্রাকচাপা দেওয়ার গুজব রটিয়ে হান্নান শেখ নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ৯ মে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখাতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং তা ধরে রাখা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বাহিনীর সদস্যদের অনেক সময় হামলার শিকার হতে হচ্ছে, এমনকি অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে আসতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
পাঁচ মাসে ১,৪৫২ খুনের মামলা
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারাদেশে খুনের ঘটনায় এক হাজার ৪৫২টি মামলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ঘটনায় একাধিক মানুষ খুন হলেও হত্যা মামলা হয় একটি।
একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের সাত হাজার ৯১০টি, অপহরণের ৪৩৭টি, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ৮৫৮টি এবং মাদক-সংক্রান্ত ২৬ হাজার ১৪১টি মামলা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা হয়েছে চার হাজার ৯১২টি।
আগের বছর একই সময়ে খুনের মামলা হয়েছিল এক হাজার ৫৮৭টি। এই পরিসংখ্যানে আগের খুনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ছিল ৯ হাজার ১০০টি এবং চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনা ছিল চার হাজার ৯৫৫টি।
মব সহিংসতায় শতাধিক প্রাণহানি
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৯৮টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এপ্রিলে ৪৪টি ঘটনায় ২২ জন ও মে মাসে ৬৬টি ঘটনায় ৩১ জন প্রাণ হারান।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ মাসে ৭৭২টি রাজনৈতিক সংঘাতে ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ২৬৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার ২৯৮ জন। বিভিন্ন কারণে প্রাণ হারিয়েছে ২৫১ শিশু।
অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৮৯ জন। একই সময়ে ২৩৯ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৮৫ জনকে। ধর্ষণ-সংক্রান্ত ঘটনায় ২৬ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মাসে এক হাজার ৩৫ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫১ শিশু ও ৫৮৪ নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জনকে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে ২৩৭ নারী ও শিশু হত্যার শিকার হয়েছেন।
চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু, গ্রেপ্তার হন এক দিন আগে
২৪ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম নুরুল আলম। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুল আলম। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নুরুল আলম গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আলমের ভাই নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় জমি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতার সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে। গতকাল সাতকানিয়া ভূমি অফিসে ওই জমি নিয়ে শুনানি ছিল। শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই । সেখান থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের নামে কোনো মামলা ছিল না। জায়গা-জমির বিরোধে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
৩০ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আজ মঙ্গলবার এ রায় দেন। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।
নজরদারি শিথিল, সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা উগ্রপন্থীদের
০১ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নামে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটির চারপাশের দেয়াল ও ছাদের একাংশ ধসে পড়ে।
পরে ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ছিল হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক অ্যাসিড এবং প্রায় ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক। এ ছাড়া কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো নয়টি তাজা বোমাও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা আইএস–মতাদর্শী উগ্রপন্থী সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য। তাঁদের মধ্যে শেখ আল আমিন, অলি উল্লাহ জনি ও শাহীন ওরফে আবু বকর অতীতেও উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে পুলিশের দুটি বিশেষায়িত ইউনিট—অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। এই দুই ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, উগ্রবাদী তৎপরতা পর্যবেক্ষণে খুব একটা নজরদারি নেই। তাঁদের ভাষ্য, সরকারের পক্ষ থেকে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কী ধরনের কৌশল বা অগ্রাধিকার অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর অনলাইন কার্যক্রম, সন্দেহভাজন সদস্যদের চলাচল, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের তৎপরতা এবং বিদেশি উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার কথা। সেটা না থাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সদস্যরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে কি না বা তাদের অন্য কোনো তৎপরতা আছে কি না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই।
৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন, ৪৫ জন বিএনপির
০২ জুলাই ২০২৬, সমকাল
চলতি বছরের প্রথম সাড়ে পাঁচ মাসে সারাদেশে ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন এবং জামায়াতের সাতজন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতজন। দলীয় কোন্দল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ জন। এর মধ্যে ২৩ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। জামায়াতের পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের দুজন। বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোন্দলে নিহত হয়েছেন ১৪ জন। বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধে নিহত হয়েছেন ১১ জন। তাদের মধ্যে ছয়জন বিএনপির ও পাঁচজন জামায়াতের নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সহিংসতায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। তাদের তিনজন বিএনপির ও দুজন আওয়ামী লীগের।
অন্যান্য ঘটনায় খুন হন ২৯ নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ২২ জন বিএনপির, পাঁচজন আওয়ামী লীগের ও দুজন জামায়াতের। এসব খুনের ১৩টির ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চাঁদা না দেওয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, পারিবারিক, ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বিরোধসহ নানা কারণ বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান ও সমকালের নিজস্ব তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
মামলার এজাহারে লুঙ্গি পরা ব্যক্তির ‘প্যান্টের পকেট’ থেকে মাদক উদ্ধারের দাবি
০৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মারা যাওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদকে (২৮) মাদকসহ আটকের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ডিবির দায়ের করা মামলার এজাহারে লুঙ্গি পরা ব্যক্তির ‘প্যান্টের পকেট থেকে গাঁজা’ উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে আরও অসংগতি দেখা গেছে। গত ২১ জুন সকালে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন ফরিদপুর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুজ্জামান। ওই দিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইশতিয়াক।
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ৪
০৭ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার পর সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। প্রশাসনের সহায়তায় সমাবেশে এই ককটেল হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে এনসিপি।
বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেন। তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পরে সাভার মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে কারা হেফাজতে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে: আসক
০৬ জুলাই ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারা হেফাজতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সংকলিত তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন (আন্ডার-ট্রায়াল) বন্দি এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি।
পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর, লুটপাটের পর আগুন
১৮ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এ হামলা চালানো হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত।
আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)। তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন মিজানুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ
২০ জুলাই, ২০২৬, কালের কন্ঠ
বাগেরহাটের মোংলা থেকে কোস্ট গার্ড সদস্য পরিচয়ে মিরাজ শেখ (৩০) নামের এক জেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ওই যুবকের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে এটি ‘জোরপূর্বক গুমের প্রথম ঘটনা’ উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
রবিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ অবিলম্বে নিখোঁজ মিরাজ শেখকে খুঁজে বের করার পাশাপাশি গুম রোধে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
নিখোঁজ মিরাজ শেখের বাড়ি সুন্দরবনসংলগ্ন মোংলার জয়মণি গ্রামে। তিনি পেশায় একজন জেলে।
গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, পঞ্চগড়ে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার
২৫ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে নিশাদ ইসলাম (২০) নামের এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার হাজিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
আজ শনিবার সকালে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সালাম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
‘অপপ্রচারকারী’ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনদের চালান সাদিক কায়েম, অভিযোগ ছাত্রদলের আবিদুলের
২৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিতর্কিত যেসব ফেসবুক পেজ থেকে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচারসহ বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়, সেসব পেজের অ্যাডমিনদের (পরিচালনাকারী) সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশনা দেওয়া এবং অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিকের (সাদিক কায়েম) বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচন করে পরাজিত আবিদুল ইসলাম খান।
গতকাল শুক্রবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে আলোচক ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। সেখানে সাদিকের সামনেই তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে জবাব চান আবিদুল। পরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে কিছু ‘তথ্যপ্রমাণসহ’ সেই অভিযোগটি তুলে ধরেন আবিদুল।
অপপ্রচারের অভিযোগে মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করে রাঙামাটির ডিসির চিঠি
২৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অসত্য’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকারকর্মী ইয়েন ইয়েনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফী ৬ এপ্রিল এ চিঠি পাঠান।
চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে ইয়েন ইয়েন আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁর আইনি পরামর্শকের মাধ্যমে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে চিঠির উত্তর দিয়েছেন। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন।
এভাবে একজন মানবাধিকারকর্মীকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়ার সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী নূর খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই চিঠি মানুষের কণ্ঠরোধ, মানুষের কথা বলার অধিকার প্রকারান্তরে পরোক্ষভাবে সংকুচিত করে দেওয়ারই একটা চেষ্টা বলে মনে করি, যা বিগত দিনেও পার্বত্য চট্টগ্রামে চালু ছিল। পার্বত্য এলাকার মানবাধিকার-সংক্রান্ত বক্তব্য যখন অধিকারকর্মীরা দিতেন, তখন এ ধরনের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হতো। আমরা ক্রমান্বয়ে পূর্বের দিকে ফিরে যাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।’
তদন্ত এগোয় না, জামিনের অপেক্ষায় সাংবাদিকেরা
০৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী রয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক। বারবার আবেদন করেও তাঁরা জামিন পাচ্ছেন না। এ ছাড়া মামলার কারণে কেউ কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন জামিন পাওয়ার আশা দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকেরা।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আটক করা হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। সেদিন তাঁরা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাঁদের আটক করে।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি।
বিদেশ যাওয়ার সময় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠুকে বিমানবন্দরে বাধা
০৩ মে ২০২৬, বিবিসি বাংলা অনলাইন
ব্যক্তিগত সফরে চীন যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাধা দেওয়া হয়েছে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ’র বাংলাদেশে প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠুকে।
ওই ঘটনার পরপরই মি. মিঠু তার ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেছেন, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসেই যথাযথ কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ এর কারণ হিসাবে এজেন্সির (গোয়েন্দা সংস্থা) আপত্তির কথা জানিয়েছে তাকে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় কারণে’ তাকে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
রোববার একটি ফেসবুক পোস্টে নজরুল ইসলাম মিঠু দাবি করেছেন, তিনি বিমানবন্দরের বোর্ডিং পাস সংগ্রহের সময় তাকে ডেকে নেন ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। পরে তাকে জানানো হয়, পুলিশের আপত্তি না থাকলেও এজেন্সি (গোয়েন্দা সংস্থা) থেকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ না থাকায় তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
পরে তার লাগেজ বিমান থেকে নামিয়ে এনে তাকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত যেতে বাধ্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেছেন।
নজরুল ইসলাম মিঠু বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ বা ওকাবের সভাপতি। অতীতে তিনি ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
হবিগঞ্জে প্রথম আলোর সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা
০৭ মে ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
হবিগঞ্জে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে।
স্থানীয় এনজিও পিপলস অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর সোশাল অ্যাডভান্সমেন্ট-পাশা এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবির বুধবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অপর আসামিরা হচ্ছেন- প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান নিয়ন।
যার বিরুদ্ধে সংবাদ হবে, প্রথম ফোনটাই আসে আমার কাছে: এ কে আজাদ
০৯ মে ২০২৬, প্রথম আলো
টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ বলেছেন, তাঁর কারণে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৭৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে। তাদের স্বার্থটা আমাকে আগে দেখতে হয়। তারপরে সৎ সাংবাদিকতা, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা বলেন, গণতন্ত্র বলেন, এটা আমার কাছে সেকেন্ডারি; ফান্ডামেন্টাল হলো এদের প্রটেকশন দেওয়াটা।’
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে এ কথা বলেন এ কে আজাদ। এই সেশনে আলোচনার বিষয় ছিল ‘মিডিয়া সেলফ রেগুলেশন ইন বাংলাদেশ: প্রফেশনাল ওভারসাইট, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড গ্রিভেন্স রেডরেসাল’।
এ কে আজাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি একই সঙ্গে ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক। তাহলে জনগণ কেন বিশ্বাস করবে যে তাঁর গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে।
জবাবে এ কে আজাদ বলেন, ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, তারা (সাংবাদিক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। কেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না? তার মূল অন্তরায় হচ্ছি আমি।’
এ কে আজাদ আরও বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করতে হলে দীর্ঘ সময় ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন হয়। কোনো দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিতে হয়। আর তখন থেকেই চাপ শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে সংবাদ হবে, প্রথম ফোনটাই আসে আমার কাছে; যেন কোনোভাবেই সংবাদটি প্রকাশ না করা হয়।’
এ কে আজাদের অভিযোগ, সরাসরি চাপ দিয়ে কাজ না হলে অনেক সময় প্রভাবশালী মহল, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদেরও ব্যবহার করা হয়।
ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীদের হামলা, নারীর মৃত্যু
১৭ মে ২০২৬, প্রথম আলো
কক্সবাজারের উখিয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় ছৈয়দা বেগম নামের এক নারী নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের টাইপালং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছৈয়দা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমদের স্ত্রী।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় টাইপালং মাদ্রাসার দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয়তু শেখ হাসিনা’ লেখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কর্মী মো. জিসান দেয়াললিখনটি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মো. ইউনুস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেসবুকের ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাতে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ইউনুসকে আটক করে মারধর শুরু করেন। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে যান তাঁর বন্ধু ও স্থানীয় এনজিওকর্মী এস এম ইমরান। তখন ইমরানকেও বেধড়ক পেটানো হয়। ইমরানের ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তাঁর মা ছৈয়দা বেগম ছুটে আসেন। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ওপরও হামলা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে
২০ মে ২০২৬, প্রথম আলো
অতিগোপনীয় ও সংবেদনশীল সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনছে সরকার। এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)-এর আওতায় সীমিত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণ করে এ সরঞ্জাম কেনা হচ্ছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ–বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, এনটিএমসি একটি অতিগোপনীয় ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। এ কারণে এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত দরপত্র ডাকা হয়। তবে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে তিনটি প্রতিষ্ঠান। রেসপন্সিভ হয় দুটি প্রতিষ্ঠান।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পায় ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত কোম্পানি গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সুপারিশ করা দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর থেকে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনটিএমসির কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)–এর আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ডিভাইস, দুটি মাল্টি ফাংশনাল হাইব্রিড প্যাকেট ব্রোকার, তিনটি সুইস ম্যানেজমেন্ট কার্ড এবং আংশিকভাবে সংযুক্ত ছয়টি ডেটা সেন্টারের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর বক্তব্য’, এনসিপি নেতা কারাগারে
৩১ মে ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ‘মানহানিকর বক্তব্য’ প্রচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার এক এনসিপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেনকে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
রোববার দুপুরে সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চরবগা গ্রামের শফিক আহম্মদের ছেলে রুহুল আমিন এনসিপি নেতা আনোয়ার হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আনোয়ার হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী জানান।
মির্জা ফখরুলকে ব্যঙ্গ করে ভিডিও, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ
১৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ব্যঙ্গ করে বানানো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর বাগমারার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম আবদুল কাদের (৩১)। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সজীব নামে পরিচিত। তাঁর বাবার নাম কামরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্টের অভিযোগে যুবক কারাগারে
০৯ জুন ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
বাগেরহাটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি দিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) রাতে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার শেখ রসুল রফিকুল (২৪) ওই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। কচুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুপুরে তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। পরে কারাগারে পাঠানো হয়।
বগুড়ায় সাংবাদিক ও সংবাদপত্র চাপের মুখে
১৯ জুন ২০২৬, সমকাল
‘এবার সাংবাদিকদের উপদেশ দিলেন রাস্তাকাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম’ শীর্ষক একটি ফটোকার্ড প্রচারের অভিযোগে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সম্পাদকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ‘ঢাকার জেলা প্রশাসক নিয়োগে ৩০ কোটি টাকা লেনদেন, একই সিন্ডিকেট জড়িত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জেরে বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক উত্তরকোণ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনায় মামলা করেছেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক তানভীর আলম রিমন। উত্তরকোণের প্রকাশনা বাতিলের আবেদন করেন বগুড়া শহরের চারমাথা ভবের বাজার এলাকার আবুল কালাম আজাদ এবং শিবগঞ্জ উপজেলার আলীগ্রাম এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম সুমন।
আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
১৯ জুন ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে গাজীপুর উপজেলার গাছা উপজেলার বোর্ড বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার (১৯ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান এ তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডিতে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ
২৩ জুন ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শেষে এক সাংবাদিককে পিটুনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আহত হয়েছেন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেনও। এছাড়া অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে।
সাংবাদিক আজহার আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ
২৯ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় করা এক মামলায় সাংবাদিক আজহার আলী সরকারকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনে এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
কারাবন্দী ৫৭ বছর বয়সী আজহার আলী আদালতে এসেছিলেন হুইলচেয়ারে। তাঁকে এখন যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ হয়েছে, গত বছর ‘মঞ্চ ৭১’–এর একটি গোলটেবিল বৈঠক ঘিরে করা এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও আসামি।
সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ পোস্ট’, র্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার ৬
০৫ জুলাই ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অশালীন’, ‘মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট’ ছড়ানোর অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জয়নাল আবেদীন মানিক, রবিন তাজ, মামুন লস্কর সরকার, মো. হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল ওরফে রুবেল।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত বছরের শেষভাগ থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ এবং টেলিগ্রাম চ্যানেলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এতে ভুক্তভোগীদের সামাজিক মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। এই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহে আলমকে নিয়ে প্রতিবেদন: ‘সাইবার হামলার’ শিকার হওয়ার অভিযোগ চ্যানেল ওয়ানের
১৮ জুলাই ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি ‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন’ প্রচারের পরপরই চ্যানেল ওয়ানের ফেইসবুক পেইজে সাইবার হামলা হওয়ার অভিযোগ করেছে এ সংবাদমাধ্যম।
চ্যানেল ওয়ান বলছে, “এখনও হামলা অব্যাহত রয়েছে। সেইসাথে চ্যানেল ওয়ানের ইনস্টাগ্রামও হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।”
শনিবার চ্যানেল ওয়ানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় তাদের ওয়ান বুলেটিনে ‘নীতি-নৈতিকতা ভেঙে সরকারের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর ব্যবসা; তিনটি মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়, যেখানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মীর শাহে আলমের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ‘বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ’ তুলে ধরা হয়।
জুলাইয়ের কবিতা পাঠ করছিলেন মোহন রায়হান, মাইক কেড়ে নিলেন শ্রমিক শক্তির নেতা
২৪ জুলাই ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করতে গিয়ে এনসিপির শ্রম সংগঠন ‘শ্রমিক শক্তির’ এক নেতার হাতে নাজেহাল হয়েছেন কবি মোহন রায়হান।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা একাডেমিতে কবিতা পাঠের মাঝে তার মাইক কেড়ে নেন শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক। ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়। ওই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়েছে ফেইসবুকে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মাইক কেড়ে নিয়ে ইসহাক বলেন, “আজকে থেকে এইখানে এই মোহন রায়হান আওয়ামী লীগের দালালকে বাংলা একাডেমিতে আমরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম।”
ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু-প্রান্তিক জনগোষ্ঠি
জামায়াত-শিবির তৌহিদী জনতার ব্যানারে শাহ আলী মাজারে হামলা, নির্বিচার লাঠিপেটা
১৬ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) এর মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে কিছু লোক তৌহিদী জনতার ব্যানারে স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাত্ এই হামলায় মাজারের ভক্ত-মুরিদদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে এ হামলা নিয়ে নানা রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ বলছে, মাজারের পাশে একটি স্থানে নামাজ পড়া হয়। ঐ স্থানে কতিপয় ব্যক্তি মাঝে মধ্যে আড্ডা দেয়। মাজারের পরিবেশ খারাপ করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কতিপয় কর্মী তৌহিদী জনতার ব্যানারে লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলা চালায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত শাহ আলী মাজার কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষ তাদের একটি অভিযোগ পুলিশের কাছে দেয়ার কথা। অভিযোগ করা হলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। এদিকে মাজারে হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কিছু লোক লাঠি দিয়ে মাজারে থাকা লোকজনকে মারধর করে বের করে দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মুসল্লিগণ বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার পর প্রায় ৭০-৮০ জনের একটি দল মাজারে ঢোকে। তাদের হাতে লাঠি ও পাইপ ছিল। হামলাকারীদের মধ্যে টুপি-পাঞ্জাবী পরিহিত ২০/২২ বছর বয়সের এক যুবকের পিঠে কালো কাপড়ের ব্যাগ ঝোলানো ছিল। তৌহিদী জনতার নামে ঐ যুবককে স্লোগান দিতে শোনা যায়। জড়ো হওয়া জনতাকে মাজারের হামলার নির্দেশ দেয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্বিচারে মারধর শুরু করে তারা। এ সময় মাজারের ভিতরে লাল রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত ৪০/৪৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তিকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে বের করতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মাজারে ঢুকে মুরিদ ও জিয়ারতকারীদের টেনে হিঁচড়ে বের করে দেয়। এ সময় হামলা থেকে ভক্ত-মুরিদদের রক্ষা করতে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি।
শাহ আলী মাজারে হামলা: ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ৩
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় নয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা–পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)।
আজ শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামলায় আহত রেশমি বেগম নামে একজন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে গ্রেপ্তার তিনজনকেই হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান এখনো চলছে।
আসামির রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মী বলে জানতে পেরেছি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হচ্ছে না ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এর প্রদর্শনী
৩০ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ শনিবার ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছবিটির প্রদর্শনী স্থগিত করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আপাতত প্রদর্শনী স্থগিত করেছে। তবে শিগগিরই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
আজ বেলা তিনটার দিকে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ছবিটির প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ছবি প্রদর্শনের কোনো অনুমতি দেয়নি। যদিও আয়োজক পক্ষ বারবার বলছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সামাজিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই সংগঠনের সদস্য। এক বছর ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছিলেন তাঁরা। সংগঠনটি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার জেলার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি প্রদর্শন না করার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা পোস্ট করেছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে চলে আলোচনা–সমালোচনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসুরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।’
সাত গাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করল প্রশাসন
৩১ মে, ২০২৬, কালের কন্ঠ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা শহরে পূর্বনির্ধারিত প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার পর একই রাতে কসবা উপজেলার একটি গ্রামে আয়োজন করা বিকল্প প্রদর্শনীতেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শো বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনের কথা ছিল। তবে সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরোধিতা শুরু হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ফেসবুকে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালায়। পরে সম্ভাব্য উত্তেজনার কথা বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রদর্শনী স্থগিত করে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্রকর্মীরা। এর প্রতিবাদ হিসেবে একই দিন রাতে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে সিনেমাটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন তরুণ শিল্পী আদিব রেজা রঙ্গন, যিনি পেশায় একজন অ্যানিমেটর ও চলচ্চিত্রকর্মী।
তার দাবি, প্রদর্শনীর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর এবং শো শুরুর আগে প্রশাসনের নির্দেশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে আদিব রেজা রঙ্গন কালের কণ্ঠকে বলেন, “গতকাল রাতে যখন আমরা সিনেমাটির প্রদর্শনী শুরু করব তার ঠিক পনেরো মিনিট আগে পাঁচ থেকে সাতটি পুলিশের গাড়ি এসে হাজির হয়।
ইউএনও, এসপি, ওসিসহ আরো অনেকেই আসেন এবং তাদের সবার একটাই কথা ‘সিনেমার প্রদর্শনী করা যাবে না, বন্ধ করতে হবে’।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘এরপর আমি যখন জানতে চাইলাম, ‘সেন্সর সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত একটা সিনেমা কেন
প্রদর্শনী করা যাবে না’, এমন প্রশ্নে এসপি বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে অনেক ক্যাচাল হচ্ছে, এখানে অশ্লীল সিনেমা চালানো যাবে না’। এরপর তারা সবাই দাঁড়িয়ে থেকে সব আয়োজন ভন্ডুল করে দেয়।’’
মদনে ইমাম-উলামাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাউল গানের আয়োজন বন্ধ
২৯ মে ২০২৬, ব্রম্মপুত্র এক্সপ্রেস
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ইমাম ও উলামাদের দাবির প্রেক্ষিতে বাউল গানের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা পুলিশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার রাতে উপজেলার হাসনপুর বাজারে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে এ গানের আয়োজন করা হয়েছিল।
এলাকাবাসী ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে ইমাম ও উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে বাউল গান বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে ইমাম-উলামা পরিষদ ও আয়োজকদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা দেয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর হাসনপুর জামে মসজিদে ইমাম, উলামা পরিষদ, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন। পরে সবার সম্মতিতে বাউল গানের আয়োজন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফতেপুর উলামা পরিষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি সুলাইমান আহমদ বলেন, “বাউল গান বন্ধের দাবিতে আমরা আগেই জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। আজকের বৈঠকে চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আশ্বস্ত করেছেন যে অনুষ্ঠান হবে না। এজন্য পুলিশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাড়ি-মন্দির ভাঙচুর
২৪ জুন ২০২৬, সমকাল
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপ্ত রায় (২৫) নামে এক হিন্দু যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের গড়কাটি গ্রামের নিখিল রায়ের ছেলে।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা গড়কাটি গ্রামে দীপ্ত রায়ের বাড়ি, দোকান এবং স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
গতকাল বিকেলে বাদাঘাট বাজারের মুক্তার মিয়ার তেলের দোকান থেকে তাঁকে পুলিশ কৌশলে হেফাজতে নেয়। এ সময় বাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তাঁর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা
৩০ জুন ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে মুফতি হারুন ইজহারের আহ্বানের পর সারা দেশে উড়ছে সাদা এবং কালো পতাকা। স্ট্রিম গ্রাফিক
‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’ ভিডিও বক্তব্যে সম্প্রতি এই আহ্বান জানান মুফতি হারুন ইজহার।
‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে গত ১৩ জুন ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহারকে বলতে শোনা যায়, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে… এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে মুফতি হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর সারা দেশে উড়ছে সাদা এবং কালো পতাকা। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে গেছে। এমনকি শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হচ্ছে পতাকা হাতে।
পতাকা নিয়ে শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন স্থানে টানানো ছবি দেওয়ার পর নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা স্ট্রিমকে এগুলোর সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
দরবারে হামলা ও হত্যা
জামায়াত ও খেলাফত মজলিস নেতা কারাগারে
৩০ জুন ২০২৬, সমকাল
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা ও দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েতুল কবীরের আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা খাজা আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান।
ছয় মাসে মাজারে হামলা ছয়টি, পিটিয়ে হত্যা ১
০২ জুলাই ২০২৬, সমকাল
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে হঠাৎ বেড়ে যায় মাজারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭ মাসে অন্তত ৯৭টি মাজার ও সম্পর্কিত স্থাপনায় (দরগাহ খানকাহ) হামলা হয়। অর্থাৎ মাসে গড়ে পাঁচ মাজার আক্রান্ত হয়। চলতি বছরে পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কমে এসেছে এ প্রবণতা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে ছয়টি।
মাকামের ষাণ্মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় হামলার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ঘটনায় একজনকে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া এসব ঘটনায় ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত দুটি দরবারে ওরসসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। হামলার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত। সেই সঙ্গে স্থানীয় কোন্দল, মাদক-জুয়া নিয়ন্ত্রণের অজুহাত এবং মাজারের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণের লড়াই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা: গড়কাটি গ্রামের মিছিলে ছিল ‘অচেনা মুখ’
১০ জুলাই ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ছেলের ফেইসবুকে কমেন্ট নিয়ে যখন গ্রামবাসী আলোচনা করছে, তখনই বিপদ আঁচ করতে পেরে এলাকার ‘গণমান্য’ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন নিখিল রায়। মীমাংসার জন্য দ্রুত ছেলেকে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে বাদাঘাট বাজারে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে কিছু লোক ‘মব’ তৈরি করে তাদের আউত্তরায় জুলাই শহীদ নারী মঞ্চের ভাস্কর্যগুলো কালো কাপড়ে ঢাকল কারা
২১ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও অংশগ্রহণকারী নারীদের আত্মত্যাগ, সাহস ও ঐতিহাসিক অবদান স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি গোলচত্বরে (মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন) নির্মাণ করা হয়েছিল ‘জুলাই শহীদ নারী মঞ্চ’। কিন্তু সেই স্মৃতিমঞ্চের নারী ভাস্কর্যগুলো এখন কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে বেঁধে রাখা হয়েছে। কে বা কারা কেন শুধু নারী ভাস্কর্যগুলো এভাবে ঢেকে রেখেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে দিয়াবাড়ি এলাকায় ওই গোলচত্বরে গিয়ে দেখা যায়, চত্বরটির পূর্ব অংশে পশ্চিম দিকে মুখ করে মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চের তিনটি স্তম্ভ রয়েছে। এক পাশের স্তম্ভে আন্দোলনের প্রতীক মুষ্টিবদ্ধ হাত এবং অন্য পাশের স্তম্ভে জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষের মুখে মুখে পরিচিতি পাওয়া প্রতিবাদী বিভিন্ন স্লোগান। এর মধ্যে লাল রঙের একটি গোল বৃত্তে লেখা, ‘দফা এক দাবি এক, স্বৈরাচারের পদত্যাগ’। আর মাঝের স্তম্ভটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে বেঁধে রাখা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা একটি ছবিতে দেখা যায়, মাঝের ওই স্তম্ভে ১০ জন নারীর আবক্ষ ভাস্কর্য রয়েছে।
ভাস্কর্য কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা থাকার বিষয়ে স্থানীয় একাধিক দোকানির সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। গোলচত্বরের পাশেই চায়ের দোকান শহীদুল ইসলামের। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি ওই অংশটি কালো কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখেছেন। রোদ, ঝড়বৃষ্টিতে কাপড় পুরোনো হয়ে খুলে যায়, বাতাসে ছিঁড়ে যায়। আবার কারা যেন নতুন করে কালো কাপড় বেঁধে দেয়।টকে ফেলে বলে তার ভাষ্য।
একপর্যায়ে ছেলেকে নিয়ে নিখিল একজনের দোকানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে উঠলে তাহিরপুর থানার পুলিশ এসে তার ছেলেকে পেছন দরজা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মিছিল শুরু করে দেয়। সেই মিছিলকারীরা বাজারের প্রধান সড়ক ধরে গড়কাটি গ্রামে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির আর দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। কয়েক দফা সেখানে হামলা-ভাঙচুর হয় বলে গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম
এনায়েত উল্যাদের বিদায়, ঢাকার পুরোনো বাসের নতুন নিয়ন্ত্রক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নিবন্ধিত বাস-মিনিবাসের ৩০ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব বাস যাতে রাস্তায় চলাচল করতে না পারে, তা নিশ্চিতের জন্য বিআরটিএ আছে, ট্রাফিক পুলিশ আছে; কিন্তু রাস্তায় পুরোনো বাস ঠিকই চলছে। অভিযোগ আছে, মাসোহারা দেওয়া হয় বলেই বাসগুলো চলতে পারে, রাস্তায় কেউ বাধা দেয় না।
দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০২৪ সালের মার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানায়, ব্যক্তিমালিকানাধীন বাস থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এর ভাগ পান রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী ব্যক্তি, পুলিশ, বিআরটিএর কর্মকর্তা ও অন্যরা। গবেষণায় আরও উঠে আসে, দেশের বৃহৎ বাস কোম্পানিগুলোর প্রায় ৯২ শতাংশ পরিচালনার সঙ্গে রাজনীতিবিদেরা সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই তখনকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত।
ঢাকার রাস্তা থেকে পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছিল দেড় দশক আগে। আওয়ামী লীগ সরকার তা পারেনি। কারণ, দলটির নেতারাই ছিলেন বাসমালিক ও নিয়ন্ত্রক। সরকারের যেকোনো উদ্যোগে তাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াতেন। এ কারণে দলটির দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে মানুষকে ‘বেশি ভাড়া’ দিয়ে পুরোনো বাসে চলাচল করতে হয়েছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আশা করা হয়েছিল, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারকে জোরালো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাস চলাচলব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিএনপি নেতাদের হাতে।
ঢাকার রাস্তা থেকে পুরোনো বাস তুলে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছিল দেড় দশক আগে। আওয়ামী লীগ সরকার তা পারেনি। কারণ, দলটির নেতারাই ছিলেন বাসমালিক ও নিয়ন্ত্রক। সরকারের যেকোনো উদ্যোগে তাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াতেন। এ কারণে দলটির দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে মানুষকে ‘বেশি ভাড়া’ দিয়ে পুরোনো বাসে চলাচল করতে হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক নতুন
বিআরটিএর হিসাবে, ঢাকা শহরে অনুমোদিত বাসের সংখ্যা সাত হাজারের মতো। এসব বাস চলে ৩০০টির মতো কোম্পানির অধীন। মালিক আছেন অন্তত চার হাজার। এসব বাস ঢাকায় চলে অনেকটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে।
মালিকেরা কখনো সরাসরি শ্রমিকদের অথবা কোম্পানিকে দৈনিক লিখিত অথবা মৌখিক চুক্তিতে বাস ভাড়া দেন। এ ক্ষেত্রে আয় যতই হোক, মালিকেরা প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পান। কোম্পানি কখনো কখনো শ্রমিক নিয়োগ করে বাস পরিচালনা করে। এ ক্ষেত্রে তাদের নির্দিষ্ট টাকা দেওয়া হয়, যা পথভেদে ভিন্ন। কখনো শ্রমিকেরা দৈনিক চুক্তিতে বাস ভাড়া করেন। সে ক্ষেত্রে কোম্পানিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে আয়ের বাকি অংশ তাঁরা নেন।
সূত্র বলছে, বেশির ভাগ বাসের যেহেতু ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট থাকে না, সেহেতু মালিকেরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অধীনে পরিচালিত কোম্পানিকে বাস ভাড়া দেন। উদ্দেশ্য, যেন তাঁদের বাস পুলিশের হাতে ধরা না পড়ে।
এর একটি উদাহরণ বিহঙ্গ পরিবহন। এটি মিরপুর থেকে সদরঘাটের পথে চলাচল করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই বাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঙ্কজ দেবনাথ আত্মগোপনে চলে গেছেন। এখন কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ১৩ নম্বরর ওয়ার্ডের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন। বিহঙ্গ বাস মালিক সমিতির সদস্যসচিব হয়েছেন তিনি। বিহঙ্গ পরিবহনের নামে ঢাকায় এখনো পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় বাস চলাচল করছে।
সারা দেশে সড়ক খাতের শ্রমিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান। তিনি এখন কারাগারে। এখন এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন বিএনপির শ্রমিক দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বকস।
মেজবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সমিতিটি ৯ জনের কমিটি দিয়ে চলছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিহঙ্গ পরিবহনে তাঁর একটা বাস ছিল। তখন সাধারণ মালিক ছিলেন। এখন নেতৃত্বে এসেছেন।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল গাবতলী থেকে আবদুল্লাহপুর পথের বসুমতি পরিবহন। এখনো এই কোম্পানির বাস আছে। কিন্তু এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাইদুর রহমান নামের আরেকজন।
আওয়ামী লীগ আমলে পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন দলটির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। এখন বিএনপিপন্থী সাইফুল আলম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সমর্থক পরিবহননেতারা পালিয়ে গেলে এই খাতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। দায়িত্ব নিয়ে তাঁরা শৃঙ্খলা ফেরাতে চেষ্টা করছেন। কারও মালিকানায় হাত দেননি। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন বাস–মিনিবাস সম্পর্কে তিনি বলেন, একবারে সব পুরোনো বাস তুলে দিলে শূন্যতা তৈরি হবে। নতুন বাস নামিয়ে পুরোনোগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। এ জন্য সরকারের ঋণসহায়তা দরকার। পাশাপাশি বাস পরিচালনার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক করতে হবে। অর্থাৎ একটি পথে শুধু একটি কোম্পানির, একই রঙের বাস চলবে।
আত্মীয় ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ নিয়োগে
০৩ মে ২০২৬, সমকাল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সালাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। দুবার স্বর্ণপদক বিজয়ীও হয়েছিলেন। রাবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগ পান মেধা তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থজন।
এমন অনিয়ম দেখে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলের নথিতে সই করেননি। তবু নিয়োগটি বৈধ করেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।
শুধু এই একটি নিয়োগ নয়, সালেহ্ হাসান নকীব যে ৫৫৭ দিন উপাচার্য ছিলেন, সেই সময়ে ১৫টি সিন্ডিকেট বৈঠকের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন অন্তত ৪৭৮ জনকে। এর অধিকাংশ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ উঠেছে।
সালেহ্ হাসান নকীবের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫৪ জন শিক্ষক, ছয় চিকিৎসক, তিন কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ৩১৫ জন। অতীতে এত অল্প সময় দায়িত্বে থেকে কোনো উপাচার্য এত বেশি জনবল নিয়োগ দিতে পারেননি।
ঢাকা উত্তরে চাঁদা নেওয়ার লোক পাল্টেছে, ‘অদৃশ্য শক্তির’ বাধাও আছে
১৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ আবাসিক এলাকায় প্রতি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ময়লার বিল নেওয়া হয় ১৫০ টাকা, যা গত ডিসেম্বরেও ছিল ১০০ টাকা। লালমাটিয়ায় কোথাও নেওয়া হয় ২৫০ টাকা, কোথাও ৩০০ টাকা। মিরপুরের বিভিন্ন সেকশনে ফ্ল্যাট প্রতি ১০০–১৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। শেওড়াপাড়ায় প্রতি ফ্ল্যাটের জন্য দিতে হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
অন্যদিকে গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় ময়লার বিলের পরিমাণ আরও বেশি। এসব এলাকার বড় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকদের মাসে দিতে হয় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। ঢাকা উত্তর সিটির একেক এলাকায় এই বিল একেক রকমের। যদিও সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ময়লার বিল মাসে ১০০ টাকার বেশি হবে না। কিন্তু যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই বিল আদায় করছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। এখন ময়লা-বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন দলটির কিছু নেতা-কর্মী।
ঢাকা উত্তর সিটিতে ওয়ার্ড আছে ৫৪টি। এর মধ্যে ১ থেকে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত মাসিক ফি ১০০ টাকা। বাকি ১৮টি ওয়ার্ডের (৩৭-৫৪) ক্ষেত্রে ৫০ টাকা। এসব ওয়ার্ড (উত্তরখান-দক্ষিণখান, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকা) ২০১৬ সালের জুন মাসে সিটি করপোরেশনে যুক্ত হয়। নতুন ওয়ার্ডগুলোতেও বাসাবাড়ির ময়লার বিল ৫০ টাকার বেশি নেওয়া হয়। যেমন দক্ষিণখানে (৪৮ নম্বর ওয়ার্ড) নেওয়া হয় মাসে ১৫০-২০০ টাকা। আবার ভাটারার বারোবিঘা এলাকায় (৪০ নম্বর ওয়ার্ড) ফ্ল্যাটপ্রতি নেওয়া হয় ১০০ টাকা।
বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহের কাজটি কীভাবে হয়, কোন এলাকায় কত টাকা বিল নেওয়া হয়, কারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা কতটা আছে—এসব বিষয়ে জানতে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ২১ দিন ঢাকা উত্তর সিটির ২৬টি ওয়ার্ড ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। এই সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সিটি করপোরেশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, ময়লা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত কর্মী ও ভ্যানচালকদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এ ছাড়া ২৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে অন্তত দুজন করে বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক।
অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ইচ্ছেমতো ময়লার বিল আদায়ের বিষয়ে অবগত আছেন বলে প্রথম আলোকে জানান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে অভিযোগ পেলে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি।
ময়লা–বাণিজ্য: আ.লীগের দেখানো ‘বনানী মডেল’ বহাল
১৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
নিজেদের মধ্যে ঝগড়া–মারামারি ছাড়াই মিলেমিশে ভাগ–বাঁটোয়ারার মাধ্যমে কীভাবে ময়লা–বাণিজ্য করা যায়, সেটি ‘সফলভাবে’ করে দেখান রাজধানীর বনানী থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কিছু নেতা–কর্মী।
গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বাণিজ্য তাঁদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তবে যে পথ তাঁরা দেখিয়েছেন, তা অনুসরণের মাধ্যমে ময়লা–বাণিজ্য বহাল রাখা হয়েছে। এখন কাজটি করছেন বনানী থানা এবং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা–কর্মী।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনানী ঢাকা উত্তর সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। বনানীতে মূল সড়ক আছে ২৮টি।
আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী বনানীর ২৮টি সড়ককে ৭টি ভাগে ভাগ করেছিলেন। মূলত নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-মারামারি এড়াতে কোন সড়ক কোন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অধীনে থাকবে, সেটি সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক হয়েছিল তখন। সেই পথ অনুসরণ করে বিএনপির স্থানীয় কিছু নেতা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়) বনানীর ২৮টি সড়ককে ১২টি ভাগে ভাগ করেছেন। এই ভাগ মূলত কোন সড়কের পাশের বাসাবাড়ি থেকে কারা ময়লা সংগ্রহের কাজ করবেন, তা সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা।
জামায়াত নেতার বাড়িতে মিলল খাদ্য অধিদপ্তরের ৯৯ বস্তা চাল
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতে ইসলামীর নেতার বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ শনিবার দুপুরে চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঈমান আলী বাজার–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই জামায়াত নেতার নাম আবদুস সামাদ। তিনি চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি। তাঁর দাবি, চালগুলো লক্ষ্মীপুরের তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর ভাই কিনেছিলেন। তবে প্রশাসন বলছে, সরকারি চাল কেনাবেচার কোনো সুযোগ নেই।
কোরবানির পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ধারা
২৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের নেতা-কর্মী ও তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছেই কোরবানির পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ থাকে। কোথাও তাঁরা সরাসরি ইজারাদার হিসেবে থাকেন, আবার কোথাও নেপথ্যে থেকে হাট পরিচালনা করেন। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের বাইরে অন্য কেউ দরপত্র দাখিল করার সাহসও পান না। যদিও কাগজে-কলমে দেখানো হয়—নিয়ম মেনেই দরপত্রের মাধ্যমে হাটের ইজারা নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে। গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই নিয়ন্ত্রণ এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় দলটির নেতা-কর্মীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমঝোতার মাধ্যমে দরপত্র দাখিল করতেন। আগেই ঠিক করা হতো কোন হাট কে ইজারা নেবেন। যদিও পুরো প্রক্রিয়াকে ‘প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ’ দেখানো হতো। একটি হাটে যাতে একাধিক দরপত্র জমা হয়, সেই ব্যবস্থা করতেন তাঁরা। কে কত দর উল্লেখ করবেন, তা সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ বা দলটির ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের বাইরে অন্য কেউ যাতে দরপত্র জমা দিতে না পারেন, সেই ব্যবস্থাও থাকত। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও পুরোনো সেই ধারা খুব বেশি বদলায়নি।
বাংলাদেশি ৪ যুবককে রাশিয়ায় বিক্রির অভিযোগ জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে
২৭ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতের সহযোগী যুব সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই চার যুবকের পরিবার চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সম্প্রতি (পাঁচ দিন আগে) উপজেলা জামায়াত কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া পাটগ্রাম উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইউনুস আলী এবং পৌর যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাহিন ইসলাম উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে এই কাজ করেছেন।
পরিবারগুলোর দাবি, ঢাকা উত্তরার আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮) এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠালে সেখানে নিরাপদ ও বৈধভাবে কাজের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে চার যুবকের পরিবারের কাছ থেকে ভিসা, টিকিট ও চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলে টাকা নেন তারা।
৮৫০ রুটের ২৬টিতেই বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা
২৮ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ। এ সুযোগে পরিবহনগুলো দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
২৬টি রুটের বাসে এবার ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও মানুষের যাতায়াত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা তুলে ধরে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য দেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টি-বাদল ও কালবৈশাখীর পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে ঈদযাত্রায় মানুষের দুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের দুর্ভোগ, বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়
০২ জুন ২০২৬, সমকাল
কোরবানি ঈদের ছুটি শেষে গতকাল সোমবার খুলেছে অফিস-আদালত। এদিনও ঢাকার কর্মস্থলে ফিরতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া, আরিচার ফেরি ও লঞ্চঘাট এবং টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্টপেজে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এ সময় পরিবহন স্বল্পতার অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কর্মজীবী হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে আসছেন। ঘাটে পরিবহন স্বল্পতার কারণে কিছু বাসে যাত্রীদের কাছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে গাবতলীগামী সেলফি, নীলাচল, পদ্মা লাইন ও যাত্রীসেবা বাসের ভাড়া পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত ১২০ টাকা। নবীনগরের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। সাভারের ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে নেওয়া হয় ১৫০ টাকা এখন নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। গাবতলীর ভাড়া ১৯৫ টাকা এখন নেওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
ভাড়া বাড়ল, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটও ‘বৈধ’ হলো মেয়রের বৈঠকে
৯ জুন ২০২৬, ঢাকা পোস্ট
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও মরদেহ পরিবহনে একটি প্রভাবশালী অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সেবাখাতকে উন্মুক্ত করা হবে।
কিন্তু বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ও তা নিয়ে আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত বৈঠকে উল্টো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাইরের অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার জিসানকে ‘প্রেম করায়’ বহিষ্কার করছে ছাত্রশিবির
১৩ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার এক দিন পর লাকসামে উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তাঁকে ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছাত্রশিবির তাঁকে বহিষ্কার করেছে ‘প্রেমের সম্পর্কে’ জড়ানোর কারণে।
শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ আজ দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
খুলনায় ত্রাণের টাকার তালিকায় জামায়াত এমপির এপিএস, ‘স্বচ্ছলদের’ নাম
১৫ জুন ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
খুলনার কয়রা উপজেলায় কোরবানির ঈদে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের টাকা বণ্টন ও তালিকা প্রণয়ন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
ওই তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) আবু ওবাইদাসহ কয়েকজন সচ্ছল ব্যক্তি ও দলীয় নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কয়রা উপজেলার তালিকার এক নম্বরে রয়েছেন আহসান হাবিব, যিনি সংসদ সদস্যের ভাগনে। ছয় নম্বরে থাকা আসমাতুল্লাহ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং দশ নম্বরে থাকা মাজহারুল ইসলাম কয়রা সদর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি।
মাজহারুল ইসলাম চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত এবং তার পরিবার সচ্ছল বলে স্থানীয়রা জানান। তালিকার ১৫২ নম্বরে তার বাবা নুরুল ইসলাম সরদারের নাম রয়েছে।
বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামে তিন ইউনিয়ন গঠন
১৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বগুড়ার শিবগঞ্জ এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এই গেজেট গতকাল রোববার প্রকাশিত হলে নতুন তিনটি ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। অন্যদিকে নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন তিনটি ইউনিয়নে নামকরণ করা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’, ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’ এবং ‘স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন’।
উন্নয়নের শিবগঞ্জ মডেল
১৭ জুন ২০২৬, নেত্র নিউজ
বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রবেশ করতেই একটি বিষয় দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যায়। গোটা শহরজুড়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের একচ্ছত্র উপস্থিতি। রাস্তার মোড়, বাজার, ল্যাম্পপোস্ট, দেওয়াল — সবখানেই ব্যানার-ফেস্টুন আর পোস্টারে হাসিমুখে তাকিয়ে আছেন তিনি।
একটু পরপরই চোখে পড়ছিল চকচকে ভিত্তিপ্রস্তর। প্রায় প্রতিটি ফলকে উদ্বোধক হিসেবে জ্বলজ্বল করছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর নাম। কয়েকটি ভিত্তিপ্রস্তরে ঠিকাদার হিসেবে খোদাই করা তারই ছেলের প্রতিষ্ঠানের নাম। এই প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই রাস্তা পাকা করার কাজ।
পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড গরীবপুরে চোখে পড়লো একটি সরু রাস্তা। শুরুতেই দুই পাশে সারি সারি বাড়িঘর। একটু ভেতরে ঢুকতেই ধানক্ষেত আর সরু আল। রাস্তা এতটাই সরু যে গাড়ি ঢোকাতেই গলদঘর্ম হতে হয় — বিপরীত দিক থেকে আরেকটি গাড়ি আসা তো দূরের কথা, কোনো মোটরসাইকেল পার হতেও কসরত করতে হবে। এক পর্যায়ে রাস্তা এতোই সরু হয়ে যায় যে গাড়ি নিয়ে আর এগোনোর উপায় নেই। শুরু হয় কাঁচা পথ। সেখানেও দেখা মিলল আরও দুটি ভিত্তিপ্রস্তরের — শিগগির শুরু হবে রাস্তা বানানোর কাজ।
এভাবেই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সড়ক ও পথ বানানোর হিড়িক পড়েছে শিবগঞ্জে। আর অর্থের যোগান আসছে মীর শাহে আলমের মন্ত্রণালয় থেকেই। সরকারি পরিসংখ্যান ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে নেত্র নিউজ দেখেছে, বিএনপি সরকারের চার মাসে সড়ক, পথ ও সেতু নির্মানে শিবগঞ্জ পেয়েছে ৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প। সারাদেশে শিবগঞ্জের ধারেকাছেও নেই আর কোনো উপজেলা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গাজীপুরের কালীগঞ্জ পেয়েছে অর্ধেকেরও কম: ৩২ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের কাজে বরাদ্দ ছিল ১৪০০ কোটি টাকা। দেশের প্রায় শতাধিক উপজেলা এক টাকারও কাজ পায়নি। ৩৭৩টি উপজেলা গড়ে পেয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্প। অর্থাৎ, শিবগঞ্জ একাই পেয়েছে ২০টি উপজেলার সমান প্রকল্প।
শিবগঞ্জের এই উন্নয়ন-যজ্ঞ বগুড়াকে বরাদ্দের দিক থেকে দেশের শীর্ষ জেলায় পরিণত করেছে — যেখানে মোট বরাদ্দ গেছে ১৩২ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গাজীপুরের চেয়েও ৯০ শতাংশ বেশি। গড়ে প্রায় ছয়টি জেলার বরাদ্দ একাই পেয়েছে বগুড়া।
আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা হিসেবে গোপালগঞ্জে প্রকল্পের এমন আধিক্য দেখা যেতো। তার বিপরীতে বগুড়া ছিল অবহেলিত। নেত্র নিউজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সিটি কর্পোরেশনের বাইরে মাথাপিছু সড়ক বা সেতু প্রকল্প বরাদ্দের দিক থেকে জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়ার অবস্থান ছিল ৫৯তম। অন্যদিকে গোপালগঞ্জের অবস্থান ছিল তৃতীয়। মাথাপিছু বগুড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বরাদ্দ পেয়েছিল গোপালগঞ্জ।
নির্বাচনের আগে এই বগুড়াতেই এক পথসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এমন জেলা-প্রীতি বন্ধের, “আমরা সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। সমগ্র বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার সাথে সাথে সমগ্র দেশের কথা চিন্তা করতে হবে।”
কিন্তু বিএনপি সরকারের প্রথম চার মাসেই তার ওই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘিত হয়েছে উন্নয়নের শিবগঞ্জ মডেলে। কেননা, বগুড়া জেলা সড়ক ও সেতু উন্নয়নে যত টাকা পেয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি একাই টেনে নিয়েছে শিবগঞ্জ। এই একই সময়ে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বরাদ্দ পেয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক নিবাস হিসেবে পরিচিত এই উপজেলার চেয়ে প্রতিমন্ত্রীর উপজেলা প্রায় চার গুণ প্রকল্প বরাদ্দ পেয়েছে। জেলার অবশিষ্ট ১০টি উপজেলা মিলে পেয়েছে মোট ৩০ শতাংশেরও কম।
আবার শিবগঞ্জের উন্নয়ন-উৎসবে বরাদ্দের সবচেয়ে বড় ভাগটা গেছে খোদ প্রতিমন্ত্রীর নিকটজনদের কাছেই। এখানে এককভাবে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের প্রকল্প বাগিয়ে নিয়েছে স্বয়ং প্রতিমন্ত্রীর সন্তান মীর শাকরুল আলম সীমান্তের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর ছেলের পাওয়া এসব প্রকল্পের বেশ কয়েকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রতিমন্ত্রীই।
সীমান্ত নিজে শিবগঞ্জ বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং এই উপজেলাতে পিতার মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক ও সেতুর কাজ পেয়েছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার। উপজেলার মোট প্রকল্পের ১৮ শতাংশই গেছে তার কাছে। অর্থাৎ শিবগঞ্জের সবচেয়ে বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছেন যে ঠিকাদার, তারই পিতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ
২১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের বৃহৎ একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামকে (সজীব) আটক করেছে পুলিশ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আজ রোববার তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে আনে। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এমপিপুত্রকে
২২ জুন ২০২৬, সমকাল
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে রোববার রাত দেড়টায় তাঁকে ছেড়ে দেয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সজীবকে ডিবিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য যাচাই বাছাই করার পর মুচলেকা নিয়ে নিয়ে রাত ১টা ৩০ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জৈব সারের নামে কৃষকদের দেওয়া হলো পলিথিন ও আবর্জনা
২৫ জুন ২০২৬, ইত্তেফাক
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা জৈব সারের বস্তায় মাটি, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের এই ভেজাল সার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা কেবল গাছের চারা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে সার ও চারা বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে।
সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জে এমপিপুত্রই ‘ছায়া এমপি,’ দাপট সর্বত্র
২৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বাবা সরকার–দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি)। তবে পুরো সংসদীয় এলাকায় প্রভাব ছেলের। এলাকায় দলের রাজনীতি থেকে শুরু করে অবৈধ উপার্জনের খাতগুলোর নিয়ন্ত্রকও ছেলে। শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, নৌপথ ও পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে একক আধিপত্য গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
যাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীব। তাঁকে গত রোববার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করেছিল। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। ‘বেশ কিছু অভিযোগের’ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়ছিল।
‘এমপিপুত্র’ সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আটকের পর গত রোববার তাঁকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বসুন্ধরার সঙ্গে ‘আন্ডারটেবিল’ সমঝোতা হয়েছে কি না, জানতে চান হাসনাত আবদুল্লাহ
২৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলার বিষয়ে ‘আন্ডারটেবিল’ কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধা কোথায়, সেটা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আাবদুল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মিডিয়া (সংবাদমাধ্যম) লেলিয়ে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারী ও ‘ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদনকারীদের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি করনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঘুষ
২৬ জুন ২০২৬, সমকাল
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঘুষ-দুর্নীতিতে শীর্ষে অবস্থান করছে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাত।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফল প্রকাশ করে টিআইবি। জরিপে ঘুষ ও দুর্নীতি– পৃথক দুই ক্যাটেগরিতে সেবাগ্রহীতাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম
২৭ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তাঁর এক মেয়ের নাম পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা দিলে তিনি নিজেই এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল)। চিঠিটি ছিল সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির পত্র।
ওই চিঠিতে লেখা ছিল, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ সারিবদ্ধভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর। দুটি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে প্রচারিত হতে থাকে। এ ছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়নের (হবখালী) এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাত জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।
কাগজে-কলমে চাল বিতরণ, গুদামে মিলল সরকারি বস্তা
২৯ জুন ২০২৬, সমকাল
সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে মোবাইল অ্যাপে টিসিবির চাল বিতরণের তথ্য দেখানো হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ভোক্তা চাল পাননি। বিতরণের দুদিন পর ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে সরকারি সিলযুক্ত ৫০ কেজির ৪০ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
কুতুবপুর ইউনিয়নে টিসিবির নিবন্ধিত ভোক্তা এক হাজার ৫০ জন। সক্রিয় কার্ড রয়েছে এক হাজার ১৫টি। গত ১৯ জুন মে মাসের বরাদ্দের পণ্য বিতরণ করা হলেও চাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য দেওয়া হয়। অথচ অ্যাপে চালসহ সব পণ্য বিতরণের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রত্যেক ভোক্তার পাওয়ার কথা ছিল পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, গোসলের সাবান, কাপড় কাচার সাবান ও ওয়াশিং পাউডার।
রূপপুরে আরও অনিয়ম, ২৭ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল ২১৪ কোটি টাকায়
৩০ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বালিশ–কাণ্ডের পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের কেনাকাটায় আরও অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার আবাসন এলাকা ‘গ্রিন সিটি’র ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় অনিয়ম পেয়েছে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়।
নিরীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, এই কেনাকাটায় সরকারি দরের তুলনায় আট গুণ বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে যেসব যন্ত্রপাতির দাম ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা, সেগুলোর জন্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
সিএজি কার্যালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর ও দাপ্তরিক প্রাক্কলনের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি দামে এসব যন্ত্রপাতি কিনে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করেছে।
সরকারি বরাদ্দের সাইকেল নাতনিকে উপহার দিলেন জামায়াত নেতা, সমালোচনার মুখে ফেরত
০২ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল অন্যের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে নিজের নাতনিকে উপহার দিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে এ সাইকেল বিতরণ করা হয়।
হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা সাইকেল নাতনিকে দেওয়ার বিষয়টি জানাজানির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত-দলীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের হস্তক্ষেপে দুপুরে সাইকেলটি ইউএনও কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়। পরে সাইকেলটি আরেক উপকারভোগীকে দেওয়া হয়।
কর্ণফুলী টানেলে ১৬১৬ কোটি টাকা গুরুতর অনিয়ম পেয়েছে আইএমইডি
৫ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
১০ হাজার ৬৮৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত আইএমইডি বৃহস্পতিবার এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এসব অনিয়মের কথা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, গাছ লাগানোর জন্য ৪৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে একটি গাছও লাগানো হয়নি।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন অর্থবছরে ৬৮টি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৮টিকে ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এমডিকে মারধর, সংবেদনশীল স্থান চেপে ধরে সই নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
০৫ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
বরিশালে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মারধরের একপর্যায়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থান চেপে ধরে চেক ও নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আজিজ হাওলাদার তাঁর কক্ষে বসে চা পান করার সময় আকস্মিক চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সবাইকে বের করে দিয়ে কালো জামা পরিহিত এক ব্যক্তি আজিজ হাওলাদারকে জাপটে ধরেন এবং তাঁকে চড়থাপ্পড় মারাসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে দুটি চেকে ও দুটি স্ট্যাম্পে তাঁর সই নেওয়া হয়।
ইস্পাত কারখানায় অবরুদ্ধ সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়া
০৬ জুলাই ২০২৬, আজকের পত্রিকা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে গ্রামে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিতে চেকপোস্ট বসিয়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে একপ্রকার অবরুদ্ধ করে রেখেছে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা। ছবিটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অংশ সুলতানা মন্দির ত্রিপুরাপাড়ার। আজকের পত্রিকা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অংশ সুলতানা মন্দির ত্রিপুরাপাড়া। নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ গ্রামটিতে ৩১টি ত্রিপুরা পরিবারে দুই শতাধিক লোকের বাস। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ওই গ্রামে যাওয়ার একমাত্র রাস্তাটিতে চেকপোস্ট বসিয়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে জিপিএইচ ইস্পাত।
সস্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিপুরাপাড়ায় যাওয়ার রাস্তার গা ঘেঁষে করা হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার ১০ তলা ভবন। আর কৌশলে রাস্তার ওপর করা হয়েছে কারখানার সীমানা দেয়াল। এটি ব্যবহার করে রাস্তায় বসানো হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের চেকপোস্ট। চেকপোস্টে পাহারায় রয়েছেন ৪ জন নিরাপত্তাকর্মী। ত্রিপুরাপাড়ায় যেতে চাইলে বাধা দেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
ওই নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, এই রাস্তায় চলাচলকারী গ্রামের লোকজনকে টোকেন দেওয়া হয়েছে। টোকেন দেখালে পার হতে দেওয়া হয় চেকপোস্ট।
‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি, মাসে দিবি ১০ লাখ’
১৩ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম নগরে ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিন-দুপুরে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা-বাকলিয়া এক্সেস সড়কে অবস্থিত ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দাবি, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলায় জড়িত। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন (মোবারক হোসেন ইমন) পরিচয়ে আমার কাছে ফোন আসে। এতে ইমন বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি টাকা দিবি। মাসে দিবি ১০ লাখ।’ এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।
আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী বলে দাবি করেন তিনি।
দোকান, পার্কিং, শৌচাগার ইজারা— রেলের আনিসুরপ্রীতি
১৪ জুলাই ২০২৬,প্রথম আলো
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের ভেতরে দোকান করার জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আনিসুর রহমান ওরফে টিপু নামের এক ঠিকাদারকে। কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়া তিনি রেলস্টেশনের জায়গা পেয়েছেন, যেখানে কখনোই কাউকে দোকান করতে দেওয়া হয়নি। দোকানের জায়গাটি স্টেশনের নকশাবহির্ভূত।
শুধু কমলাপুরে দোকান নয়, রেলের একের পর এক ঠিকাদারি কাজ পাচ্ছেন আনিসুর রহমান। রেলওয়ের ঠিকাদারি কাজের নিয়ন্ত্রক হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। নিয়েছেন শৌচাগার বা টয়লেট ইজারা। অন্যদিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পার্কিং এলাকা ইজারা পেতে যাচ্ছে তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা প্রতিষ্ঠান।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, আনিসুর রহমান নিজেকে কোনো কোনো মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বন্ধু বলে পরিচয় দেন। ব্যবহার করেন রাজনৈতিক প্রভাব। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যে জায়গায় কাউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয় না, সেখানে আনিসুর রহমান কীভাবে পেলেন?
নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে বিএনপি নেতা বললেন, ‘এলাকা ছাড়’
১৪ জুলাই ২০২৬,প্রথম আলো
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে বিএনপির এক নেতা কানে কামড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ব্যবসায়ীর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা নাম মহিউদ্দিন চিশতিয়া। তিনি ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ভুক্তভোগী বালু ব্যবসায়ীর নাম সাখাওয়াত হোসেন (৪৮)। তাঁর বাড়ি পাশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জে। বর্তমানে তিনি পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
এস আলম গ্রুপ পাচার করেছে সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা, বিএফআইইউর প্রতিবেদন
২২ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বড় আকারের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রধান শিকার হয়েছে। এ সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে দেশের ৭টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। এরপর কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, নামমাত্র জামানতে নামে-বেনামে প্রায় সোয়া ২ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে শিল্পগোষ্ঠীটি।
বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে এই অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে কেস স্টাডি হিসেবে এই তথ্য তুলে ধরে বিএফআইইউ। পরে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ‘এস গ্রুপ’ ছদ্মনামে যে কেস স্টাডি প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে সেটি এস আলম গ্রুপ।
ভিডিও ভাইরাল: জামায়াতের এমপি নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার
২২ জুলাই ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
‘আইসিইউতে যখন সিরিয়াল পাওয়া গেল, ততক্ষণে আমার গৌরী আর নাই’
২৯ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
নাটোরের সোহাগ কুমার আর বন্দনা রানীর ঘরে প্রথম সন্তান এসেছিল মাত্র ছয় মাস আগে। ছোট্ট গৌরী—যার কান্না, হাসি আর নড়াচড়ায় ভরে উঠেছিল পুরো ঘর। কিন্তু সেই ঘরই এখন নিঃশব্দ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ঢোকার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একসময় থেমে যায় গৌরীর শ্বাস। ১৮ এপ্রিল হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু হয় শিশুটির।
গৌরীর বাবা সোহাগ কুমার ২০ এপ্রিল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইসিইউতে ভর্তির জন্য যখন সিরিয়াল পাওয়া গেল, ততক্ষণে আমার গৌরী আর নাই। আমি চেষ্টা করলাম, ডাক্তাররা চেষ্টা করলেন। কিন্তু আইসিইউতে যারা ভর্তি ছিল, তাদের সবার অবস্থাই খারাপ ছিল। সিরিয়াল তো আর ভাঙা যাবে না। সরকার যদি পারে আইসিইউর শয্যা বাড়াক।’
গৌরীর মতো অনেক শিশুর বাবা–মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শে যখন পিআইসিইউ শয্যার খোঁজে, তখন তাঁরা পাচ্ছেন সন্তানের মৃত্যুসংবাদ। পিআইসিইউর সংকট নতুন করে সামনে এসেছে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে। বিভিন্ন ঘটনা জানা যাচ্ছে, যেখানে শিশুদেরকে জরুরিভাবে পিআইসিইউতে নেওয়ার জন্য চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু শয্যা খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা হাসপাতাল, এমনকি বিভাগীয় হাসপাতালেও অনেক ক্ষেত্রে পিআইসিইউ নেই। সেখান থেকে হামে আক্রান্ত মুমূর্ষু অনেক শিশুকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও এখন পিআইসিইউ শয্যা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বড়দের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রকে বলা হয় আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। শিশুদের জন্য একই সেবার নাম পিআইসিইউ (পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট)। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বড়দের ও ছোটদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের কিছু দিক দিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
কোভিড মহামারির সময় দেশে আইসিইউর সংকট বড় হয়ে উঠেছিল। তখন হাইকোর্টের এক আদেশে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যার সংখ্যা ৭৩৩। পরিস্থিতির চাপে তখন আরও আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক তথ্যে দেশে তখন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ১ হাজার ১৬৯টি আইসিইউ থাকার কথা বলা হয়।
বর্তমানে আইসিইউর সংখ্যা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দেশের ৭৪টি মেডিকেল কলেজ, জেলা, বিশেষায়িত ও জেনারেল হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৭২টি আইসিইউ শয্যার তথ্য পাওয়া যায়। তবে শিশুদের জন্য পিআইসিইউর আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যায়নি।
ইউনিসেফের সতর্কতার পরও ভ্যাকসিন সংগ্রহ পদ্ধতি বদল করে অন্তর্বর্তী সরকার
২ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ বন্ধ করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে যায়।
ওই সময়ই ইউনিসেফ এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছিল, এতে টিকাদান ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে এবং সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সে সতর্কতাকে আমলে নেয়নি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মার্কিন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশুদের জন্য নিয়মিতভাবে নয় মাস ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার দুটি ডোজ দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়। যাতে বাদ পড়া শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে মোট কাভারেজ ৯৫ শতাংশে পৌঁছানো যায়, যা মহামারী প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় সীমা। বহু বছর ধরে ইউনিসেফ এ টিকা সরবরাহ করে আসছিল। এর বেশির ভাগ অর্থায়ন দিত গাভি ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। এতে সরকারেরও অবদান ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনে এ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহ বন্ধ করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি চালু করে। যেখানে সরকার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে, প্রস্তাব মূল্যায়ন করে পরে অর্ডার দেয়। এ পরিবর্তনের তীব্র বিরোধিতা করে ইউনিসেফ। সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, এতে টিকাদান ব্যবস্থা ব্যাহত হতে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার সায়েন্সকে জানান, বিষয়টি খুবই হতাশাজনক ছিল এবং তিনি বারবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সতর্ক করে দিয়ে বারবার বলেছিলাম খোদার দোহাই লাগে, এটা করবেন না।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করে সায়েন্স, তবে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
ঢাবিতে হামের অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে ডাকসুর আপত্তি
০৪ মে ২০২৬, সমকাল
হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ বরাদ্দে প্রশাসনের ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর আপত্তিতে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে এক সপ্তাহ বিলম্বে এবং বিকল্প স্থানে স্থাপন করা হয় হামের অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে শিবির নিয়ন্ত্রণাধীন ডাকসুর নেতাদের আপত্তির কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে স্থাপন করা যায়নি হামের অস্থায়ী এই চিকিৎসা কেন্দ্র। অবশেষে ঢাকা মেডিকেলের অডিটোরিয়াম চত্বরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট এই অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে জায়গা না হওয়া হামে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৩০০ ছাড়াল
০৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দেশে প্রথম হাম শনাক্ত হওয়ার পর শিশুমৃত্যুর এই সংখ্যা গত ৫০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
১৭ শিশুর মধ্যে ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। অপর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে ৫০ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৩১১–এ দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে আর হামে ৫২ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ যায় ব্যক্তির পকেট থেকে
০৮ মে ২০২৬, সমকাল
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ক্রমেই পশ্চাৎমুখী হয়ে পড়ছে। সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা এখনও বড় সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই ব্যক্তির পকেট থেকে যাচ্ছে। গরিব মানুষের মোট আয়ের ৩৫ শতাংশই যায় চিকিৎসায়। ক্যান্সার কিংবা কিডনি রোগের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির বড় ব্যয়ের কারণে বহু পরিবার দারিদ্র্যসীমায় নেমে গেছে। অসংখ্য পরিবার আছে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্য খাতের এমন চিত্র উঠে এসেছে।
হামের পরিস্থিতি: ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের, দ্বিমত সরকারে
১১ মে ২০২৬, আজকের পত্রিকা
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দুই মাসের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেল। রোগটির প্রকোপ ঠেকাতে টিকাদান কর্মসূচি চললেও আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। এই অবস্থায় হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা বা মহামারি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত জরুরি পদক্ষেপের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য ও রোগতত্ত্ববিদেরা। তবে এর সঙ্গে একমত নয় সরকার। তাদের দাবি, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণেই আছে।
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মহামারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির আওতায় চলে এসেছে ৯৬ শতাংশ শিশু। বাকিটা চলমান। সংক্রমণ বেশি, এমন এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা জোরদার করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চার শিশু হামে এবং সাত শিশু হাম উপসর্গে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ৬৫ শিশু ও উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪০৯ জনে। এ সময় ৪৯ হাজার শিশু উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সব শিশু টিকা পাচ্ছে না, হামে মৃত্যু ৪০০ ছাড়াল
১১ মে ২০২৬, প্রথম আলো
হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের সাতজনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, বাকি চারজনের নিশ্চিত হামে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ ও হামে ৪০৯ জনের মৃত্যুর খবর দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে সরকার দেশজুড়ে টিকার ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। তবে সব শিশু টিকার আওতায় আসছে না। ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য পেয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যাচাই করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। টিকাদান পরিস্থিতি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (আরসিএম) থেকে ইউনিসেফ বলছে, এখনো শহর এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং গ্রাম এলাকায় ১৫ শতাংশ শিশু টিকা পায়নি।
হামের রোগীরা ঢাকামুখী, হাসপাতালের মেঝেতে শিশুদের চিকিৎসা
১১ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
নয় মাসের শিশু তারিকুলের হঠাৎ জ্বর ও হামের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে প্রথমে নরসিংদীর একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত শনিবার রাতে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন স্বজনেরা।
গতকাল দেখা যায়, ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তিনতলার সিঁড়ির কাছে একটি ম্যাট্রেসের ওপর ঘুমিয়ে আছে শিশুটি। দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে শয্যা ফাঁকা নেই। তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
তারিকুলের মা তাকমিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘কোথাও বেড খালি নেই, তাই বাধ্য হয়ে মেঝেতেই বিছানা পাততে হয়েছে।’
আট মাস বয়সী ইয়াসিনের গল্পটাও একই রকম। গাজীপুর সদর হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় শিশু হাসপাতালেসহ তিনটি হাসপাতালে ঘুরেও ফাঁকা বেড পায়নি ইয়াসিনের পরিবার। অবশেষে গত শনিবার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পাঁচতলার সিঁড়ির কাছে একটি ম্যাট্রেসে জায়গা হয় তার।
ইয়াসিনের দাদি রেহানা বেগম বলেন, ‘সব জায়গায় ঘুরেছি, কিন্তু কোথাও কোনো বেড খালি পাইনি।’
চিকিৎসকেরা জানান, তারিকুল ও ইয়াসিনের মতো অনেক শিশুকেই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে কয়েক দিন চিকিৎসার পর মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় আনা হচ্ছে। দীর্ঘ ভ্রমণ তাদের শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে ঢাকার হাসপাতালগুলো রোগীর বিপুল চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এখানে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর হার দুটোই বেশি।
হাম নিয়ে জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
১২ মে ২০২৬, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি অনলাইন
হামের জন্য জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, হামের টিকা কেন কেনা হয়নি তা তদন্তে আন্তর্জাতিক মানের কমিটি করার প্রক্রিয়া চলছে। হামে কেন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার সবকিছুই যাচাই-বাছাই করে দেখবে কমিটি। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সমন্বয় করে এটি করা হবে। তবে হাম নিয়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
গাইবান্ধায় কুকুরে কামড়ানো ১৪ ব্যক্তির মধ্যে এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু
১৩ মে ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কুকুরে কামড়ানো ১৪ ব্যক্তির মধ্যে পাঁচজন এক সপ্তাহের মধ্যে মারা গেছেন।
অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশু ও নারীসহ আরও নয়জন। এলাকায় একের পর এক মৃত্যুর কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আহতদের পরিবারের সদস্যরা।
হতাহতদের স্বজনদের ভাষ্য, ২২ এপ্রিল সকালে একটি বেওয়ারিশ কুকুর বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক অন্তত ১৪ ব্যক্তিকে আক্রমণ করে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়। পরে তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ভ্যাকসিন না পেয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানেও ভ্যাকসিন নাই বলে তাদেরকে জানানো হয়।
পরে তারা বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেন। তবে ততক্ষণে অনেকেরই ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যায়।
‘আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না’
১৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
‘আমার মেয়ের হাম হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন তাকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হবে। সরকারি হাসপাতালে অনেক ঘুরেছি, কিন্তু কোথাও আইসিইউ বেড খালি পাইনি। বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাই। এখন মেয়ে সুস্থ আছে, কিন্তু হাসপাতালের বিল অনেক বেশি এসেছে। স্ত্রীর সব গয়না বিক্রি করেও পুরো বিল হচ্ছে না। আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি। তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না।’
কথাগুলো বলতে বলতে চট্টগ্রাম নগরের কাঠগড় জেলেপাড়ার বাসিন্দা সুমন জলদাসের (৪০) গলা ধরে আসে। পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসকে নিয়ে ২০ দিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে সর্বশেষ ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় জয়াকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর এখন সে কিছুটা সুস্থ। তবে হাসপাতালে বিল দিতে না পারায় মেয়েকে আর ঘরে ফেরাতে পারছেন না সুমন।
চট্টগ্রামে কমছেই না হামের প্রকোপ: ৯ ওয়ার্ড হটস্পট, আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করাও
১৪ মে ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নগরীর নয়টি ওয়ার্ডকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। একই সঙ্গে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক চমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালের এক ২৫ বছর বয়সী ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চমেকের হামের বিশেষায়িত ওয়ার্ডে ৬ জন রোগীর বয়স ১৪-২৪ বছর।
হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পায়। অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে।
সৈকতে ছবি তুলে সংসার চালান আলম, মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করলেন ক্যামেরা
১৭ মে ২০২৬, প্রথম আলো
মেয়েটাকে বাঁচাতে যা আছে, সব দিচ্ছি। কিন্তু আর কত পারব জানি না, কথাগুলো বলতে বলতে থেমে যান মোহাম্মদ আলম। চোখে–মুখে ক্লান্তি, কণ্ঠে অসহায়ত্ব। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন তিনি। হঠাৎ খেয়াল হলো, চার মাস বয়সী মেয়ে সুরাইয়া আলমের পরীক্ষার রিপোর্ট আনতে হবে। তখনই ছুটলেন বেসরকারি একটি ল্যাবে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। হাতে শিশুর নানা পরীক্ষার তালিকা নিয়ে দিশাহারা মোহাম্মদ আলম। তিনি জানান, তিন দিন আগে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকেরা নানা পরীক্ষা দিয়েছেন; বেশির ভাগ পরীক্ষাই করাতে হচ্ছে বেসরকারি ল্যাবে। প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।
মোহাম্মদ আলম জানান, কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে সংসার চালান তিনি। অল্প আয়ের সংসারে এখন মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ধার-দেনায় জর্জর। শিশুসন্তানের হামের উপসর্গজনিত নিউমোনিয়া রয়েছে বলে জানান তিনি। আর ১১ বছর বয়সী ছেলেকে বাড়িতে একা রেখেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে দিন কাটছে তাঁর। মেয়ের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলেন জানান তিনি।
সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘চিকিৎসার খরচ পোষাতে নিজের আয়ের একমাত্র উৎস ক্যামেরাটিও বিক্রি করেছি। একদিকে মেয়ের অবস্থা খারাপ, অন্যদিকে ছেলেটা বাসায় একা। কী করব, বুঝতে পারছি না। শুধু চাই, আমার মেয়েটা সুস্থ হয়ে উঠুক। এখানে শুধু একটা পরীক্ষা করিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে যদি এটুকু সেবা না পাই, আমরা গরিব মানুষগুলো কোথায় যাব?’
হামে আক্রান্ত সন্তান বাঁচাতে দেনায় ডুবছে পরিবার
১৮ মে ২০২৬, সমকাল
পৃথিবীতে এসেছে সবে পাঁচ মাস। এর মধ্যেই শিশু সাব্বির আহমেদের শরীরে হানা দিয়েছে হাম। হাসপাতালের বিছানায় তুলতুলে হাতে ক্যানুলা। শ্বাস-প্রশ্বাস ছন্দহীন, তাই অক্সিজেন মাস্ক! আদরের ছেলের পাশে বসা আবদুর রহিম। বিড়বিড় করে মেলাচ্ছেন ধারদেনার হিসাব। কত টাকা ধার হলো আর কত লাগবে। ঘরে যা ছিল, প্রায় সবই শেষ। এখন কী হবে?
হামের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে শুধু সন্তানের জীবনই নয়, জীবিকার নিরাপত্তাও হারিয়েছে পরিবার। ছেলের পাশে থাকতে টানা ১০ দিন অফিসে যেতে পারেননি রহিমের স্ত্রী আছিয়া বেগম। শেষমেশ চাকরিটা হারিয়েছেন।
গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ঘুরে এমন অসংখ্য গল্প মিলছে। কারও সঞ্চয় শেষ, কেউ আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করছেন, কেউ আবার গরু-ছাগল বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড়ে নেমেছেন। হাম শুধু শিশুর শরীরেই আঘাত করছে না; ভেঙে দিচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক ভিত্তি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও হামে আক্রান্ত শিশুর পেছনে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। রোগের জটিলতা বাড়লে সেই খরচ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রোগীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএনসিসি হাসপাতালে একজন হাম রোগীর পেছনে প্রতিদিন অন্তত ২ হাজার ১১১ টাকা খরচ হচ্ছে। গড়ে ছয় দিন হাসপাতালে থাকতে হওয়ায় মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২ হাজার ৬৭০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তি ফি, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, শিশুখাদ্য, নেবুলাইজার মেশিন ও অক্সিজেন মাস্ক কেনার খরচ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব শিশু জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসছে, তাদের অধিকাংশের শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। অনেককেই নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। গড়ে ১৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। সেই হিসাবে এক রোগীর চিকিৎসা ব্যয় দুই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন– এমন এক শিশুর বাবা আতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, দুইটা গরু-বাছুর বিক্রি করে এক লাখ টাকার মতো জোগাড় করছি। অনেক পরিবার স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে, একাধিক জায়গা ঘুরে শেষে ঢাকায় এসেছে। যাতায়াত, বাইরে থাকা, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
টিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৫টি চিঠি দেয় ইউনিসেফ, ১০টি বৈঠকে করে সতর্ক
২০ মে ২০২৬, যমুনা টিভি অনলাইন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। এছাড়া, ১০টি বেঠকেও সরকারের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিল তারা।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে ‘হামের প্রাদুর্ভাব এবং চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলা কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭.৮ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা পেয়েছে, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে রুটিন টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছে। রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে অনেক শিশু টিকা ছাড়াই থেকে যায়। যা দেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি করে।
হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ৫০০ ছাড়াল
২৩ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ১৩ শিশু। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছিল এক শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ৫০০ ছাড়াল। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১২ শিশু। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ১৩ শিশু। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছিল এক শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি বরিশালে মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে দুই, সিলেটে চার, বরিশালে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।
হাম পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে
২৫ মে ২০২৬, সমকাল
চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকায় ১০ জন, রাজশাহীতে একজন, সিলেটে একজন, বরিশালে একজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং রংপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৪৪২ শিশুর এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৮৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর মধ্যে। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ শিশু। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৬ হাজার ২১৪ শিশু। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জনের।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু
২৭ মে ২০২৬, সমকাল
রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘এটি দুর্ঘটনা’। এসির গ্যাস লিকেজ থেকে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল আজ সকালে সমকালকে জানান, ছয়জনই নবজাতক। আজ ভোরে খুব কাছাকাছি সময় তারা মারা গেছে। দুর্ঘটনার কারণ এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম সকালে ছয় শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কীভাবে গ্যাস লিকেজ হয়েছে এবং নিহতরা কারা সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু ৬০০ ছাড়াল
০৩ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
দেশে হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১১ শিশু। আর হামে ৯০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬০১।
৬ নবজাতকের মৃত্যুতে অক্সিজেন স্বল্পতা ও প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগ
০৪ জুন ২০২৬, সমকাল
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন ভবনটি হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত নয়। দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। বদ্ধ কক্ষে বায়ু চলাচল কম থাকায় শিশুদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের মৃত্যুতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ছিল।
হাসপাতালটিতে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভবত মৃত্যুর কারণ ছোট কক্ষে দীর্ঘ সময় এসি না থাকা। প্রয়োজনীয় এসি না থাকায় ঘটনাস্থলে অক্সিজেন স্বল্পতা হয়। যে কারণে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে অতিরিক্ত জনসংখ্যার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। এ অনুযায়ী বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে।
এর আগে বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেন। ২৭ মে ভোর ৬ থেকে ৯টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। ২৮ মে এই ঘটনায় মামলা হয়। তবে এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে যা আছে
১. ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত না
২. কক্ষতে অক্সিজেন কমে কার্বনডাই অক্সাইড বেড়েছে। অভিভাবকদের আহ্বানে নার্স সহযোগিতা করেনি
৩. ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ছিল
৪. হাসতাপাতাল পরিচালনার জন্য কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি
৫. ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স দিতে ভবন পরিদর্শনের সুপারিশ
মৃত্যুর কারণ
এসি বন্ধ, অক্সিজেন স্বল্পতা ও ছোট কক্ষ
চিকিৎসক না থাকা। নার্সের অসহযোগিতা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে।
বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ, সুদের হার ৭%
০৫ জুন ২০২৬, ইত্তেফাক
বন্ধ ও আংশিক চালু শিল্পকারখানাগুলোকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারবে।
নতুন এই স্কিমের আওতায় ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে ব্যাংক খাতে ঋণের সুদহার ১৪ শতাংশেরও বেশি। ফলে প্রচলিত বাজারদরের প্রায় অর্ধেক সুদে চলতি মূলধনের ঋণ নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করার সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালা ঘোষণা করে।
এর আগে, গত ২৩ মে দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ তহবিল ঘোষণার কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এবার ২০ হাজার কোটি টাকার এ বিশেষ তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করা হলো।
ঢাকায় ইঁদুরের বংশবিস্তার বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
৬ জুন ২০২৬, বণিক বার্তা
ঢাকার অলিগলি, কাঁচাবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ড্রেন ও আবাসিকের আশপাশে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব।
দিনের বেলায়ও খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়া এসব প্রাণী নগরবাসীর জন্য শুধু বিরক্তির কারণই নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুর বিভিন্ন রোগ জীবাণুর বাহক। এদের মলমূত্র ও শরীরের সংস্পর্শে খাবার বা পানি দূষিত হলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় এ ঝুঁকি আরো বেশি।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে ইঁদুরের বংশবিস্তার ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়া, খোলা জায়গায় ময়লা ফেলে রাখা এবং পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের অভাব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। অথচ নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে এখনো কার্যকর ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে নগরীতে ইঁদুর, মশা ও রোগবাহক অন্যান্য প্রাণীর উপদ্রব ক্রমেই বাড়ছে।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল, বেতন ফেরতের নির্দেশ
২৫ জুন ২০২৬, সমকাল
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে (আজীবন) ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ওই পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
পরপর দুই বছর হামের টিকায় ঘাটতি, ঝুঁকিতে হার্ড ইমিউনিটি
১২ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দক্ষিণ এশিয়ায় একসময় সফল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পরপর জাতীয় পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হামের নির্মূল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০–২১ সালেও জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। এসব কর্মসূচি ও নিয়মিত টিকাদানের ফলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে টিকাদানের উচ্চ কভারেজ বজায় ছিল এবং জনসংখ্যার বড় অংশে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে ওঠে।
কিন্তু সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়। এরপর ২০২৬ সালে দেশব্যাপী নতুন এমআর কর্মসূচিতে কভারেজ বেড়ে প্রায় ৮১ শতাংশে পৌঁছালেও প্রায় ৩৯ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে।
অর্থাৎ টানা দুই বছরই ৯৫ শতাংশের প্রয়োজনীয় টিকাদান কভারেজ অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই বছরের ঘাটতি শুধু চলতি বছরের সংক্রমণ নয়, আগামী কয়েক বছরও দেশে হামের ঝুঁকি বহাল রাখতে পারে।
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৮০০ ছাড়াল, ৯১% টিকাবঞ্চিত
২৩ জুলাই ২০২৬, সমকাল
সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩৭ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯১ দশমিক ৫ শতাংশের টিকা দেওয়া ছিল না।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কেসভিত্তিক পর্যবেক্ষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
১৪ জুলাই পর্যন্ত ৩৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ কথা জানানো হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এক ডোজ এবং ২ দশমিক ১ শতাংশ দুই বা তার বেশি ডোজ টিকা নিয়েছিল। এ ছাড়া মারা যাওয়া ২৪ শতাংশ শিশুর এখনও টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি। টিকাবঞ্চিত শিশুরাই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর শিকার হয়েছে।
শিক্ষা
দুই দিন খাবার পায়নি ১৬০০ স্কুলশিক্ষার্থী
২৬ এপ্রিল ২০২৬, সমকাল
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার এই ঘটনা ঘটে। একই দিন নরসিংদীতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মিড ডে মিলে দেওয়া খাবারে গন্ধ পান। এদিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের একটি ইউনিয়নের ১০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার খাবার পায়নি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্থানীয় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকে দায়ী করেছেন।
খাবার সরবরাহে বাধা
কুলিয়ারচরের রামদী ইউনিয়নের ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬০০ শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার পায়নি। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউনিয়ন ও উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাধায় খাবার সরবরাহ করা যায়নি। দুদিন খাবার না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার বেশি
১ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশে প্রাথমিক স্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর হার গত কয়েক বছরে বাড়লেও এক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে মাধ্যমিক স্তর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ৩ ও ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারছে না।
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বড় কারণ পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যের অভাব। শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য যত কমে, তাদের মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ঝরে পড়ার হার সে অনুপাতে বাড়ে। ইউনেস্কোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রাথমিকের তুলনায় মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য তাদের অধ্যয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বেশি প্রভাব রাখছে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক স্তর সম্পন্ন করার হারও কম।
শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য নিয়ে ইউনেস্কো প্রকাশিত (২০২২) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীর হার যথাক্রমে ৮৮, ৭১ ও ৩১ শতাংশ। প্রাথমিক স্তরে ধনী ও দরিদ্র পরিবারের সংশ্লিষ্ট স্তর সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হার কাছাকাছি। প্রাথমিকে অতি দরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, ধনী ও অতি ধনী পরিবারের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক সম্পন্ন করার হার ছিল যথাক্রমে ৮২, ৮৭, ৮৮, ৯২ ও ৯৩ শতাংশ। এ স্তরে অতি দরিদ্র ও অতি ধনীদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্তর সম্পন্নকারীর হারে পার্থক্য ছিল ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট। কিন্তু নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে গিয়ে এ পার্থক্য বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৬ ও ৪৮ শতাংশীয় পয়েন্টে।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, ধনী, অতিধনীদের মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক সম্পন্ন করার হার যথাক্রমে ৫২, ৬৬, ৭৩, ৭৭ ও ৮৮ শতাংশ। আর উচ্চ মাধ্যমিকে অতিদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত, ধনী, অতিধনীদের মধ্যে এ স্তর সম্পন্ন করার হার যথাক্রমে ১২, ২১, ২৭, ৩৪ ও ৬০ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি
২০ মে ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে নিপীড়নমূলক গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জোর করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে নেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হয়েছে। বিভিন্ন হলের ক্যানটিনের খাবারের মান আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তবে অভ্যুত্থান-উত্তর সময়ে ক্যাম্পাসে আগের মতোই ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন ও হেনস্তা করার সংস্কৃতি রয়ে গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) একচ্ছত্র আধিপত্যেরও অবসান ঘটেছে। আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শাসনামলে ‘শিবির সন্দেহে’ শিক্ষার্থীদের মারধর করার বিষয়টি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় নিয়মিত ঘটনা। কাজটি করতেন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা। এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সন্দেহে বা ফ্যাসিস্টের দোসর—এমন ট্যাগ (তকমা) দিয়ে মারধর–নির্যাতনের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
গণ-অভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেত না। অভ্যুত্থানের পর থেকে ক্যাম্পাসে শিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে রাজনীতি করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত নেতৃত্বও এখন শিবিরের। বেশির ভাগ হল সংসদের নেতারাও শিবির-সমর্থিত। ছাত্রদল, বামধারার ছাত্রসংগঠন ও ইসলামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তিও এখন ক্যাম্পাসে সক্রিয়।
সাভারে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
২৩ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার সাভার উপজেলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৩) শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামানকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভারের কমলাপুর এলাকার একটি মাদ্রাসায় ঘটনাটি ঘটে। আজ শনিবার দুপুরে সাভারের ভবানীপুর এলাকা থেকে মো. কামরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শিক্ষকদের অবসরের টাকা দিতে গেলেও ‘টাকা নেই’, পাওয়ার আগে মারাও যান কেউ কেউ
৩১ মে ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার প্রবাসীকল্যাণ ভবনের একটি তলায় মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি হাঁটাহাঁটি করছিলেন। বিষণ্ন চেহারা। পরিচয় দিয়ে কথা বললে তিনি জানালেন, তাঁর শ্বশুর পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। ওই বছরের জুনে অবসর ও কল্যাণসুবিধার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি মারা যান। এখন তিনি এসেছেন তাঁর শ্বশুরের মৃত্যুসনদ জমা দিতে। তিনি নিজেও রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে ওই ব্যক্তি বললেন, শ্বশুরের চার মেয়ে। শাশুড়িও বৃদ্ধ মানুষ। একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে তিনি কেঁদেই ফেলেন।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হাজার হাজার এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনের বাস্তবতা এখন এমনই। কেউ অবসরের পর মাসের পর মাস ঘুরছেন, কেউ বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ নিজের প্রাপ্য টাকা হাতে পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। সারা জীবন শিক্ষাসেবা দিয়ে অবসরে গিয়ে নিজের প্রাপ্য টাকার জন্য এমন অসহায় অপেক্ষা শিক্ষকসমাজে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
সরকার বদলায়, শিক্ষকদের অপেক্ষা কমে না
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ড এবং কল্যাণ ট্রাস্ট এখন হাজারো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘশ্বাসের জায়গা হয়ে উঠেছে। সরকার বদলায়, নানা খাতে বড় বড় প্রকল্প হয়, কিন্তু শিক্ষকদের এ সমস্যার সমাধান হয় না। অভিযোগ রয়েছে, অন্য খাতে অর্থ ব্যয়ে উদারতা থাকলেও শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দেওয়ার প্রশ্নে বারবার বলা হয়—তহবিল নেই, টাকা নেই।
অথচ শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণসুবিধা সময়মতো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশও রয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরসুবিধার টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না।
অবসরসুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসরসুবিধার টাকা পেয়েছেন। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন করলেও টাকা পাননি।
অবসরসুবিধা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, এখন ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে আবার সফটওয়্যার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে টাকা দেওয়া অনেক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
তবে টাকার পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে কিছুটা কম অপেক্ষা করতে হয়। ট্রাস্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনকারীরা কল্যাণসুবিধার টাকা পেয়েছেন। এরপর ২৪ মে পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ ভেরিফিকেশনে এনএসআই যুক্ত: বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের উৎকণ্ঠা
০৪ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। তবে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর শুরু হবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশন। সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এবারই প্রথম যুক্ত হয়েছে এই গোয়েন্দা তদন্ত। এদিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের চার মাস পরও যোগদান আটকে থাকা এবং একের পর এক নতুন শর্ত যুক্ত হওয়ায় নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এখন চরমে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও প্রশিক্ষণের আগে বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (ডিপিই) স্মারকলিপি দিয়েছেন।
রাজশাহীর ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে তিন শতাধিক বই জব্দ
১০ জুন ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
রাজশাহীতে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের সম্পর্কিত প্রায় ৩০০ বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী হাকিম পাঠাগারটির বাসে তল্লাশি চালিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যান।
প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি
১৪ জুন ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
প্রাথমিক স্কুলে সংগীত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ অসম্মতি দিয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠতম দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেই বিতর্ক সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী?
জবাবে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে জাতীয় সংসদকে জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি দেওয়া হয়েছে।
ঢাবির তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
২৩ জুন ২০২৬, সমকাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পক্ষাবলম্বন করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামীপন্থী তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা হলেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন।
সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিন্ডিকেট সদস্য সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৩৬% শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন না
০২ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (এইচএসসি ও সমমান) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না। প্রতিবছর এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন না। তবে এ বছর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার এই হার অস্বাভাবিক বেশি বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই বছর আগে (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিল প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হারটি প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। গত বছর নিবন্ধিত সোয়া ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেননি।
পাঠদানের শিক্ষক কম, প্রধান শিক্ষক নেই ৫৫% বিদ্যালয়ে
০৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত শহীদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে এখন নতুন ছয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ভবনটি হচ্ছে বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠের জায়গায়। শ্রেণিকক্ষের সংকট মেটাতে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও আরেকটি মৌলিক সংকট রয়ে গেছে আগের মতোই—পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।
শহীদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। ২০১৩ সালে এটি সরকারি হয়। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪২০ শিক্ষার্থীর জন্য এখন শিক্ষক রয়েছেন প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র ৯ জন। অর্থাৎ গড়ে একজন শিক্ষকের বিপরীতে প্রায় ৪৭ জন শিক্ষার্থী। অথচ মাধ্যমিকে গড়ে ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হালিমা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় প্রতিদিন একজন শিক্ষককে পাঁচ থেকে ছয়টি পর্যন্ত ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষককেও নিয়মিত ক্লাস নিতে হয়। তিনি বলেন, বহুদিন ধরেই শিক্ষক চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। এক পালায় (শিফট) চলা সরকারি বিদ্যালয় হিসেবে এখানে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাড়া আরও ২৫ জন শিক্ষক থাকার কথা।
শুধু শহীদ মনু মিঞা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় নয়, দেশের অধিকাংশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের সংকটের কারণে ধুঁকছে। পাশাপাশি অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ শূন্য, যা মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ। কিছু বিদ্যালয়ে এখনো প্রধান শিক্ষকের পদই সৃষ্টি হয়নি।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও তদারকিও দুর্বল হয়ে পড়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।
স্কুল ফিডিংয়ে মানহীন খাবার, সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক
৬ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৯৮ নং পূর্ব ধানসাগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জুলাই অন্য দিনের মতোই শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। টিফিনের সময় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয় সেদ্ধ ডিম। কিন্তু কিছু সময় পরই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। একের পর এক শিশু পেটব্যথায় কাতরাতে শুরু করে। কারো বমি বমি ভাব, কেউ তীব্র অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকে। দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও ঘটনাটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের সংকট নয়, বরং সারা দেশে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মান ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া কমানোর লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬২ জেলার ১৫০টি উপজেলায় চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে প্রাথমিকের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর কাছে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দেয়ার কথা। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, ক্ষুধামুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশে শিশুরা আরো আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসবে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়বে ইতিবাচক প্রভাব। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন জেলা থেকে নিম্নমানের খাবার, কম ওজনের খাদ্যসামগ্রী, সংরক্ষণে অনিয়ম এবং খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনা অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সংসদ ভবনের সামনে লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ
১৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের এক পর্যায়ে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিপেটা করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সকাল থেকে সারা দিন ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন এই শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সংসদে অধিবেশন চলার মধ্যে সংসদের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন তাঁরা।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘দফা এক দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ফাহমিদ খান সাব্বির বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া এই স্থান থেকে যাব না।’
বিশ্বে কওমি শিক্ষার্থীর প্রায় ৬০ শতাংশই বাংলাদেশে
১৮ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
উনিশ শতকের মাঝামাঝি ভারতের উত্তর প্রদেশের ছোট্ট জনপদ দেওবন্দে যে শিক্ষাধারার সূচনা হয়েছিল, দেড় শতাব্দী পর সে ধারার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষার্থী ও সম্প্রসারণের গতির বিচারে বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা শিক্ষা।
আঠারোশ সাতান্নের সিপাহি বিদ্রোহের পর মুসলিম সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা ও পুনর্জাগরণের লক্ষ্য নিয়ে মাওলানা কাসিম নানুতাবির নেতৃত্বে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলুম দেওবন্দ। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে এ ধারার শিক্ষা ছড়িয়ে পড়ে। দেশভাগের পর পৃথকভাবে এর বিকাশ ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের দেওবন্দি বা কওমি ধারার মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন এ দেশের। আর পাকিস্তানের প্রায় তিন গুণ।
দেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) তথ্য অনুযায়ী, তাদের অধীনে বর্তমানে নিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৭৩০। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৭০ লাখ। এছাড়া অন্যান্য কওমি বোর্ডের অধীনেও রয়েছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মাদরাসা। ফলে দেশে কওমি ধারার মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
অন্যদিকে ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের অধীন অল ইন্ডিয়া দ্বীনি তালিমী বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাদের আওতায় ২০ হাজার ৯০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। শিক্ষার্থী ছিল ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৪০৪ জন। পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া, পাকিস্তানের তথ্য বলছে, তাদের অধীনে রয়েছে মোট ২৭ হাজার ৪৮টি মাদরাসা এবং শিক্ষার্থী ২৪ লাখ ২ হাজার ৩২৩ জন।
তুলনামূলক এ চিত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এখন দেওবন্দি ধারার শিক্ষার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, প্রতি বছর বাড়ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। বেফাকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬ শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩১ জন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৪০৫ জন বা প্রায় ৫৭ শতাংশ।
কওমি ধারায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধিকে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। কেননা দরিদ্র পরিবারের জন্য কওমি মাদরাসা এখন একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। অধিকাংশ মাদরাসায় বিনা খরচে বা খুব অল্প ব্যয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক ব্যবস্থা থাকায় শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে।’
বিদেশে পড়তে ১১ হাজার কোটি টাকা পাঠানো হচ্ছে, পাঁচ বছরে ব্যয় দ্বিগুণ
১৯ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
একসময় শুধু বৃত্তি পেয়ে বিদেশে পড়তে যেতেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা, যার খরচ বহন করত সেই দেশগুলো বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এর পাশাপাশি এখন নিজেরা খরচ করে সন্তানদের বিদেশে পড়াতে পাঠাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।
বেশির ভাগ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে বিদেশে শিক্ষা খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিদেশে শিক্ষার পুরো খরচই মেটাতে হচ্ছে বিদেশি বিভিন্ন মুদ্রায়। এখন আগের চেয়ে সহজে বিদেশে শিক্ষা খরচ পাঠানো যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে বিদেশে শিক্ষা বাবদ বাংলাদেশ থেকে ব্যয় হওয়া অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদেশে শিক্ষা খাতে খরচ হয়েছে ৮৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১০ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে)।
টিএসসিতে ‘ফিমেল জোন’ উদ্বোধন ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা
২৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ফিমেল জোন’ চালুর পর ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক পক্ষ বলছে নেকাব বা পর্দানশিন শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ। অন্যদিকে অনেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের স্যানিটেশন, ওয়াশরুম ও নিরাপত্তা-সংকট সমাধানের আগে আলাদা বসার ব্যবস্থা চালু করাই কেন অগ্রাধিকার পেল?
বৃহস্পতিবার টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের নতুন মেনুর পাশাপাশি ‘ফিমেল জোন’ উদ্বোধন করা হয়। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ক্যাম্পাসজুড়ে ভিন্নমত দেখা যায়।
পরিবেশ
পরের জায়গা সবুজায়নের নামে নিয়ে ফুডকোর্ট বসানোর অনুমতিও দিয়েছিলেন মোহাম্মদ এজাজ
২৬ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন করা হবে, এমন প্রতিশ্রুতিতে সরকারি একটি সংস্থার জায়গা ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। কিন্তু সেখানে গাছ লাগানো হয়নি। ‘সবুজ অঞ্চল তৈরির’ নামে কৌশলে একটি প্রতিষ্ঠানকে ফুডকোর্ট বা খাবারের দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের কাছে টঙ্গী খালের (লেক) দুই পাশে গাছ লাগাতে সিটি করপোরেশনকে ওই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেয় রাজউক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নিজেরা গাছ না লাগিয়ে সেখানে ভিভিড কনস্ট্রাকশন নামের ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানকে সবুজায়নের পাশাপাশি ফুডকোর্ট করার অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঢাকা উত্তর সিটির সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের ইচ্ছাতেই ওই জায়গায় ভিভিড কনস্ট্রাকশনকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। ফুডকোর্টের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলতে।
তবে রাজউকের ওই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ লাগানোর জন্য জায়গা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। করপোরেশন থেকে অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান সেখানে দোকান বসাতে গেলে সে জন্য তাঁরা বাধাও দেন।
চারদিকে পানি, তবু এক ফোঁটা খাওয়ার পানি যেন অমূল্য সম্পদ
০৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
উপকূলের শ্যামনগর—চারদিকে শুধু পানি, অথচ সেই পানি যেন তৃষ্ণা মেটাতে জানে না। বিস্তীর্ণ জনপদজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লোনাধরা বাস্তবতায় এখানে সুপেয় পানির প্রতিটি ফোঁটা যেন অমূল্য সম্পদ। জলবেষ্টিত এই ভূখণ্ডে পানির জন্য মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম যেন এক নীরব মহাকাব্য, যেখানে বেঁচে থাকার লড়াই লেখা হয় কলসির পানিতে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের রাস্তার ধারে ভিড় জমতে থাকে। হাতে কলসি, কারও হাতে প্লাস্টিকের ড্রাম, কারও চোখে অপেক্ষার ক্লান্ত ছায়া। কেউ হেঁটে এসেছেন দুই-তিন কিলোমিটার মেঠো পথ, কেউ সাইকেলে চেপে আসছেন দূর-দূরান্ত থেকে। সবার গন্তব্য এক—একটি ট্যাপ, যেখানে টপটপ করে ঝরে পড়ে সুপেয় পানি। সূর্য যত ওপরে ওঠে, তত দীর্ঘ হয় পানির লাইন। তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে প্রত্যাশা—আজ অন্তত কলস ভরে ফিরতে পারবেন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে বড় দুশ্চিন্তা পানি, ‘সংকটাপন্ন’ ঘোষণার পরও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ
০৮ মে ২০২৬, প্রথম আলো
রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক গ্রামে এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম পানি। একসময় যে পুকুরের পানি মানুষ ব্যবহার করতেন দৈনন্দিন কাজে, সেই পুকুর আজ পরিত্যক্ত। বাড়ির উঠানের নলকূপে পানি ওঠে না। যে গভীর নলকূপ দিয়ে বিঘার পর বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া হয়েছে, সেই নলকূপে কখনো পানি পাওয়া যায়, কখনো যায় না। এতে অনেক এলাকায় খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, নির্বিচার ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় মাটির নিচের পানিধারক স্তর বা ‘অ্যাকুইফার’ মারা যাচ্ছে। ফলে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেও মাটির নিচে পানি জমছে না। পানিসংকটে সেচব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, বাড়ছে ধান চাষের খরচ, অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ জমি। এমনকি খাওয়ার পানি সংগ্রহেও মানুষকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
এমন অবস্থায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে গত বছরের ২৫ আগস্ট ‘অতি উচ্চ পানিসংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানিসংকটাপন্ন এলাকা’ এবং ১ হাজার ২৪০টি মৌজাকে মধ্যম মাত্রার পানিসংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে গত জানুয়ারিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সংকটাপন্ন এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বন্ধ রাখাসহ ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। ফলে ক্রমেই সংকট আরও বাড়ছে।
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ, খরচ ৩৩,৪৭৪ কোটি টাকা
১১ মে ২০২৬, প্রথম আলো
অবশেষে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রায় ২৫ বছর আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ শুরু করেছিল। আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ওঠানো হতে পারে। এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।
এই প্রকল্প প্রস্তাবের নথি অনুসারে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমিতে পানির সমস্যা সমাধানে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। যার মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আসা লবণাক্ততার নিরসন হবে।
ঢাকার শিশুরা খেলতে চায়, মাঠ কোথায়
১৬ মে ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বাস করে একটি পরিবার। সেই পরিবারে দুটি শিশু আছে। একটির বয়স ৪ বছর, অন্যটির ৯ বছর। ৯ বছর বয়সী শিশুটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সে সারা দিন মুঠোফোন নিয়ে কেন পড়ে থাকে। জবাবে বলল, সে খেলতে চায়। মাঠ কোথায়?
শিশুটির বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো উন্মুক্ত মাঠ নেই। দু–একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ আছে। সেগুলো বিকেলে তালাবদ্ধ থাকে। ফলে তাঁর সন্তান চাইলেও খেলার কোনো সুযোগ নেই।
ঢাকার বহু পরিবারের মা–বাবা এখন মাঠ না থাকার সমস্যায় ভুগছেন। শিশুদের খেলার সুযোগ না থাকায় তারা সারা দিন মুঠোফোন অথবা ট্যাব নিয়ে পড়ে থাকে।
সমস্যাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণার ফল সামনে আসায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের একটি বড় অংশ মুঠোফোন, টেলিভিশন, ট্যাব বা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের পর্দায় চোখ রেখে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কাটায়। এর ফলে তাদের ঘুম কমে যাচ্ছে, ওজন বাড়ছে, মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দুই বছর ধরে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৪২০টি শিশুর ওপর এই গবেষণা করা হয়। গবেষণার ফলাফল ৪ মে জার্নাল অব মেডিক্যাল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত হয়। গতকাল শুক্রবার তা প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ঘোষণা করেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। পরীক্ষায় নম্বরও থাকবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ‘ডিভাইসের’ (ডিজিটাল যন্ত্র) আসক্তি কমাতে এই উদ্যোগ নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী যেদিন এই ঘোষণা দেন, তার এক দিন পর গত ৩০ মার্চ দুপুরে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গেটে কথা হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিজা রহমানের বাবা কে এম আরিফুর রহমানের সঙ্গে। প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও হতাশা নিয়ে তিনি বলেন, ‘উদ্যোগটা চমৎকার। কিন্তু আমার সন্তান খেলবে কোথায়? এই স্কুলের করিডরে নাকি সিঁড়িতে?’
হোপ ইন্টারন্যাশনালের পাশেই আরও দুটি স্কুল দেখা গেল, যেগুলো আবাসিক ভবনের নিচতলা বা গ্যারেজ ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোরও নিজস্ব কোনো মাঠ নেই। ভবন থেকে বের হলেই মূল সড়ক, যেখানে চলে হরেক রকমের যানবাহন। ঢাকার বেসরকারি প্রায় সব স্কুলের চিত্র একই।
কত মাঠ চাই, এখন আছে কত
২০২৩ সালে প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, রাজধানীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাঠ আছে মাত্র ৯০টি বিদ্যালয়ে। অর্থাৎ ২৫২টিতে মাঠ নেই।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, একটি আধুনিক শহরে প্রতি আধা বর্গকিলোমিটার এলাকায় একটি খেলার মাঠ থাকা আবশ্যক। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন (৩০৫ দশমিক ৪৭ বর্গকিলোমিটার) অনুযায়ী মাঠ প্রয়োজন অন্তত ৬১০টি। অথচ বাস্তবে আছে মাত্র ২৩৫টি! অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক মাঠও নেই।
একই গবেষণার তথ্য বলছে, ২৩৫টি মাঠের মধ্যে ১৪১টি রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। এ ছাড়া কলোনির মাঠ আছে ২৪টি এবং ঈদগাহ মাঠ আছে ১২টি। ১৬টি সরকারি মাঠ বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। এর বাইরে মাত্র ৪২টি মাঠ আছে, যেগুলো সবাই ব্যবহার করতে পারে।
যদিও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ, ক্রীড়া, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী, ঢাকার ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪১টি ওয়ার্ডে কোনো খেলার মাঠই নেই। এর ফলে ঢাকার জনসংখ্যার প্রায় ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশ কিশোর ও তরুণ কোনো ধরনের খেলার মাঠের সুবিধা ছাড়াই বেড়ে উঠছে, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান নগর–পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার যেসব বড় ও মাঝারি আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তারা খেলার জন্য মাঠ রাখেনি। তখন আইনকানুনও এতটা কঠোর ছিল না। তবে গত ১০ থেকে ১৫ বছরে যেসব আবাসন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ কেউ খেলার জন্য মাঠ রেখেছে।
শিল্পের জন্য কেটে ফেলা গাছের গোড়া থেকে নতুন বন
০৯ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বড়তাকিয়া থেকে একটি পাকা সড়ক চলে গেছে ফেনী নদীর মোহনার দিকে। সেই সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল শুরু।
এটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। আয়তন ৩৩ হাজার ৮০৫ একর। ইতিমধ্যে সেখানে কিছু শিল্পকারখানার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ৩ জুন গিয়ে দেখা গেল, অর্থনৈতিক অঞ্চলটির বড় একটি অংশে গড়ে উঠেছে বন।
বন বিভাগ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে বিপুল গাছ কাটা হয়েছিল। এমন অনেক জমিতে এখনো শিল্পকারখানার কাজ শুরু হয়নি। গাছের গোড়া থেকে এবং ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকে নতুন করে এই বন গড়ে উঠেছে।
আইন ভেঙে ঢাকার ভালো মাঠ পার্ক অভিজাত সোসাইটিকে দিচ্ছে রাজউক ও সিটি করপোরেশন
১৫ জুন ২০২৬, বণিক বার্তা
উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষে ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক। এতে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা।
কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছর পর ২০২৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পার্কটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে। তবে এর আগে থেকেই পার্কের একটি বড় অংশ ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুরো পার্কের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ওই ক্লাবের হাতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্লাবটি পার্কের মূল নকশায় পরিবর্তন এনে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। শুধু তা-ই নয়, পার্কসংলগ্ন মাঠে খেলাধুলা করতে ঘণ্টাপ্রতি ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হয়। সম্প্রতি পার্কটিতে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ নাম লেখা নতুন সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে।
অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় গুলশানের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক। উদ্বোধনের সময় এটিকে দেশের প্রথম ‘স্মার্ট পার্ক’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। তৎকালীন মেয়রও ঘোষণা করেছিলেন, শুধু গুলশান বা নিকেতন সোসাইটির জন্য এ পার্ক নয়, বরং উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্যই। খেটে খাওয়া মানুষও এ পার্কে আসতে পারবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে পার্কটির নিয়ন্ত্রণ গুলশান ও নিকেতন সোসাইটির হাতে। পার্কটি খোলা কিংবা বন্ধও হয় এসব সংগঠনের নির্দেশে।
খুলনায় নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে আশ্রয়ণের শতাধিক ঘর
১৭ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
হাতে থাকা ছোট একটি লোহার টুকরা দিয়ে ইটের ওপর থেকে পলেস্তারা সরাচ্ছিলেন পারুল বেগম। একটি ইট কিছুটা পরিষ্কারের পর তিনি দেয়াল থেকে পরের ইটটি আলাদা করতে শুরু করেন। মাথার ওপর পাহাড়সম মাটির স্তূপ। সেই মাটির নিচেই চাপা পড়েছে তাঁর শেষ সম্বলের ঘর। পুনর্বাসন না করেই নদী খননের মাটি ঘরের ওপর ফেলায় পারুলসহ দেড় শতাধিক মানুষ বিপদে পড়েছেন। আশ্রয়ণের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশাহারা অবস্থায় দিন পার করছেন তাঁরা।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আপার ভদ্রা নদী পুনঃখননের কাজের কারণে চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পারুল বেগমসহ দেড় শতাধিক মানুষের ঘরের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। মাটি সরিয়ে পারুলের ইট সরানোর কারণ—ভবিষ্যতে যদি কখনো আবার ঘর তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়। পারুল বেগম এখন চুকনগর গরুর হাটের মাঠে একটি অস্থায়ী খুপরিতে থাকছেন। তাঁর মতো আরও অসংখ্য পরিবার সেখানে অস্থায়ী আবাস গড়েছে।
মিরপুরে দিনের শুরু হচ্ছে পানির খোঁজে, সড়কে বিক্ষোভ
২৮ জুন ২০২৬, সমকাল
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া, মনিপুর ও ১১ নম্বর এলাকার অনেক বাসিন্দার দিন শুরু হচ্ছে পানি খোঁজার মধ্য দিয়ে। কোনো বাড়িতে কয়েক ঘণ্টার জন্য পানি আসছে, কোথাও আবার দিন–রাত পানির টেপ শুকনো। এমন অবস্থায় অনেককে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া কিংবা শৌচাগার ব্যবহারের মতো নিত্যদিনের কাজ চালাতে বাইরে থেকে পানি কিনতে হচ্ছে। আবার অনেকে দূরের এলাকা থেকে পানি আনছেন, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের বাসায়।
এই সংকট কয়েক দিনের হলেও এর পেছনের কারণ দীর্ঘদিনের। মেট্রোরেল চালুর পর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও আশপাশে নতুন নতুন বহুতল ভবন হয়েছে। বেড়েছে ভাড়াটে ও স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা। সেই সঙ্গে পানির চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহব্যবস্থা বাড়েনি। এর মধ্যে সাভারের ভাকুর্তা পানি শোধনাগারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি
০৯ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার দিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে এ অঞ্চলের তিন জেলায় ২২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে গতকাল বুধবার মারা গেছে সাত শিশু।
ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানি জমেছিল। রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, চট্টগ্রামে এবার যে পরিমাণ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যাবে না। তবে আবার স্বাভাবিকও নয়। কেননা এবার আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন প্রায় বৃষ্টি হয়নি। তাই এখন একসঙ্গে যে বৃষ্টি হয়েছে, তা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। বর্ষাকালে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্ট হলে এ ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। এখন তা–ই হয়েছে।
‘আমরা না খেয়ে থাকতে পারব, শিশুদের জন্য একটু ভাত চাই’
৯ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
বন্যার পানি বাড়তে থাকায় বান্দরবানের লেমুঝিড়ি মারমা পাড়ার বাসিন্দা ম্রাসংচিং ও ক্রইংসাংপ্রু মারমাসহ অন্তত ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার পাশের একটি পাহাড়ের বনে আশ্রয় নিয়েছে। টানা তিন দিন ধরে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে সেখানেই রাত কাটাচ্ছেন তারা। সঙ্গে আনা শুকনো খাবার শেষ হয়ে গেছে। ঘরে ফেলে আসা চাল, কাপড় ও আসবাবপত্রের কোনোটিই আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তাদের একটাই আবেদন—‘আমাদের তেমন কিছু দরকার নেই। শুধু একটু চাল বা ভাত পেলেই হবে। আমরা না খেয়ে থাকতে পারব, কিন্তু আমাদের শিশুদের অন্তত খাবার দিতে হবে।’
শুধু লেমুঝিড়ি নয়, বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাতেও একই চিত্র। প্রশাসনের সহায়তা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছালেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অনেক পাহাড়ি এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ পাহাড় ও বনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের।
সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে আগামী এক দশকে ৮৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা সরকারের
০৮ জুলাই ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে, আগামী এক দশকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে সরকার।
একই সঙ্গে নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর পেট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন এবং বিমান বাহিনীর জন্য চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সংগ্রহের মাধ্যমে নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রূপরেখা আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়াও একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি প্রণয়ন, নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা শিল্প অঞ্চল (ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন) প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার।
পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
১০ জুলাই ২০২৬, জাগো নিউজ
ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলার মানুষ। লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকাও প্লাবিত। অনেক স্থানে কোমর থেকে গলাসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকলেও পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে।
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে বারবার কেন এত মৃত্যু, গলদ কোথায়
১১ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
পাহাড়ধসের আশঙ্কা ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছিল। প্রশাসন জানত, টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবু ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে মানুষকে আগেভাগে সরানো যায়নি।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে চার জেলায় পাহাড়ধসে ১৪ শিশুসহ অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের প্রায় সবাই পাহাড়ের গা ঘেঁষে বা ঢালে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বাস করতেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, ১৯ জনের। তাঁদের ১৩ জনই রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। বান্দরবানে মারা গেছেন পাঁচজন, চট্টগ্রামে চার এবং রাঙামাটিতে একজন।
প্রশাসনের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর সতর্কবার্তা প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে আগেভাগে সরিয়ে নেওয়া, পুনর্বাসন, পাহাড় সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতিই প্রাণহানি কমানোর মূল উপায়।
ঘের বাঁচাতে বেআইনিভাবে স্লুইসগেট বন্ধ রাখায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বন্যা দীর্ঘায়িত
১১ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতির জন্য শুধু বৃষ্টিপাত নয়, কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতাকেই দায়ী করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে মাছ ও লবণের ঘের রক্ষায় স্লুইসগেট বন্ধ করে দেওয়াকেই দায়ী করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এছাড়া, অবৈধভাবে নির্মিত কিছু বাঁধের কারণে বন্যার পানি নিষ্কাশনে ধীরগতির কথাও বলছেন তারা।
চট্টগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, পুরো অঞ্চলের স্লুইসগেটগুলো খুলে দেওয়া হলেও পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কিছু গেট আবার বন্ধ করে দিচ্ছে।
বন্যায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, মাথাপিছু নগদ বরাদ্দ ২৮ টাকা
১২ জুলাই ২০২৬, সমকাল
দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। পানিবন্দি রয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবারের সদস্যরা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গত ছয় দিনে সরকার নগদ বরাদ্দ দিয়েছে ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল। হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ টাকা এবং চাল প্রায় ৩ দশমিক ২ কেজি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের রোববারের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আ.লীগের ইয়াবা ব্যবসা হাতবদল হয়ে এখন বিএনপির কিছু নেতার নিয়ন্ত্রণে: জয়নুল আবদিন ফারুক
১২ জুলাই ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
আওয়ামী লীগ নেতাদের ইয়াবা ব্যবসা হাতবদল হয়ে এখন বিএনপির কিছু নেতার নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
শনিবার (১১ জুলাই) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার কানকিরহাট বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত মফজলুর রহমান মজুমদার স্মৃতি মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকায় কোটি কোটি টাকা ঢেলেও জলাবদ্ধতা
১৩ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান সোহরাব সরদার। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর কাজীপাড়ায় হাঁটুপানিতে বিকল হওয়া মোটরসাইকেল ঠেলছিলেন। গন্তব্য মগবাজার।
সোহরাব বলেন, মিরপুর ১০ নম্বরে যাত্রী নামিয়ে ফেরার পথে তাঁর মোটরসাইকেলে পানি ঢুকে বিকল হয়ে গেছে। এখন সেটিকে ঠেলে ঠেলে মগবাজার নিয়ে সারাবেন। এতে পুরো দিনে আর কোনো আয়ের আশা দেখছেন না তিনি। তিনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) আর কোনো ট্রিপ পামু না।’
ঢাকায় শনিবার দিবাগত রাত ও গতকাল দিনের প্রথম ভাগে যে বৃষ্টি হয়েছে, তাতে জলাবদ্ধতা ও মানুষের দুর্ভোগের একটি খণ্ডচিত্র এটি। ঢাকা কার্যত ডুবে গিয়েছিল। অনেক এলাকার সড়কে বিকল হয়ে পড়েছিল যানবাহন। যাঁরা ঘর থেকে বেরিয়েছেন, তাঁদের সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। বহু মানুষের ঘরেও পানি ঢুকেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা স্থগিত ও ক্লাস বাতিল করে ছুটি দিতে বাধ্য হয়।
অবশ্য ঢাকায় অতিবৃষ্টি হলেও ‘১৫ মিনিটের মধ্যে’ পানি নেমে যাবে, আর ‘জলাবদ্ধতা দেখা যাবে না’—এসব কথা শোনানো হয়েছিল নগরবাসীকে। বলেছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন (২০১৭ সালে) এবং ঢাকা দক্ষিণের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস (২০২৩ সালে)। খরচ করা হয়েছিল বহু টাকা।
ঢাকার পানি নামার ৪১ গেটের ২২টিই অচল
১৩ জুলাই ২০২৬, এশিয়া পোস্ট
রাজধানীতে শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববার মধ্যরাতের পর রূপ নেয় অতি ভারী বর্ষণে। দুই দিনে ঢাকায় ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা এই বর্ষণে রাজধানীর নীলক্ষেত, জিগাতলা, গেন্ডারিয়া, মতিঝিল, শান্তিনগর, কাকরাইল, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, পুরান ঢাকা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কোথাও চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পানি নামেনি। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
তবে বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা বলছেন, শুধু অতিবৃষ্টি নয়, রাজধানীর জলাবদ্ধতার বড় কারণ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অকার্যকারিতা। খাল, স্লুইসগেট, পাম্পস্টেশন ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর বড় অংশ ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকার পরও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।
যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা
বাসে জরুরি বহির্গমনে জানালার রড অপসারণের নির্দেশ
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ইত্তেফাক
গণপরিবহণ দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমাতে এসি বাসে জরুরি বহির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি ডোর) নিশ্চিত করা এবং নন-এসি বাসের জানালায় থাকা স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে না পারাই প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যাত্রীদের নিরাপদে দ্রুত বের হওয়ার পথ নিশ্চিত করতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক ও মহাসড়ক, ফেরিঘাট কিংবা রেলক্রসিং পারাপারের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে বাসের দরজা ও জানালা দিয়ে বের হতে গিয়ে যাত্রীরা নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে আটকে থাকা দরজা বা সংকীর্ণ জানালার কারণে অনেক সময় বের হওয়া সম্ভব হয় না।
এসি বাসের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান স্থানে ‘ইমার্জেন্সি ডোর’ চিহ্ন রাখার পাশাপাশি জানালার গ্লাস ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীরা দ্রুত বিকল্প পথ ব্যবহার করে বের হতে পারেন।
সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু
২০ মে ২০২৬, সমকাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে নেমে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলী মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন জানান, আলী মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের নিচের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিক ট্যাংকের ভেতর নামে। তাদের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরপর আরও দুজন ভেতরে নামলে তাদেরও কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে ট্যাংকের দেয়াল ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
এক দিনে সড়কে ১৫ মৃত্যু
২৪ মে ২০২৬, সমকাল
দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক দিনে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে যশোরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সদর উপজেলায় যশোর-খুলনা মহাসড়কে চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন।
এদিকে কুষ্টিয়ায় ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে শিক্ষার্থীসহ চারজন, দিনাজপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী, চট্টগ্রামে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোর, খাগড়াছড়িতে এক যুবক এবং ফরিদপুরে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন একজন।
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
২৫ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
তারা ঈদ উপলক্ষে ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর দিকে যাচ্ছিলেন। আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ঘটনাস্থল থেকে দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রড ও যাত্রী বোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের রডের নিচে চাপা পড়ে ১৫ জন নিহত ও ৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হতাহতদের সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। তারা ঈদ উপলক্ষে কম ভাড়ায় ট্রাকবোঝাই রডের ওপর বসে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। ট্রাক উল্টে যাওয়ার পর তারা রডের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকের চালক ঘুমিয়ে পড়ায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
রডবাহী ট্রাক উল্টে নিহত ১৫
পথে পথে যাত্রী নিলেও থামায়নি পুলিশ
২৬ মে ২০২৬, সমকাল
তারা সবাই ছিলেন শ্রমজীবী। চট্টগ্রাম থেকে বাসে হাজার-বারোশ টাকা ভাড়া দিয়ে নওগাঁ যাবেন– সেই সামর্থ্য ছিল না। তবুও ঈদ বলে কথা, যেতে হবে আপনজনের কাছে। সন্তানদের জন্য খেলনা আর পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য নতুন জামা কিনে ঘরে ফিরতে কম ভাড়ায় চেপেছিলেন রডবোঝাই ট্রাকে। সেই ট্রাক ১৬ ঘণ্টা চলার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে গেলে রডের নিচে পিষ্ট হয়েছেন ১৫ জন। তাদের ১০ জনই নওগাঁর বাসিন্দা; পেশায় ছিলেন ফেরিওয়ালা। আহত হয়েছেন ১০ জন।
গতকাল সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ট্রাকে যাত্রী পরিবহনও নিষিদ্ধ। তার পরও কীভাবে ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১ নম্বরের ট্রাকটি চট্টগ্রাম থেকে পথে পথে ৩০ জন যাত্রী তুলে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরের যমুনা সেতু পর্যন্ত গেছে– এ প্রশ্নের জবাব এখনও মেলেনি।
বাসের ছিল না ফিটনেস, ট্রাক পাল্টে বানানো হয় অ্যাম্বুলেন্স
২৬ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
ফরিদপুরের নগরকান্দায় মুখোমুখি সংঘর্ষের বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের বৈধ বা হালনাগাদ কোনো কাগজপত্র ছিল না।
বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত সরকারি ওই বাসের দুই বছর ধরে ফিটনেস সনদ ছিল না, তিন বছর দেওয়া হয়নি ট্যাক্স। অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সটির কাগজপত্র ১৭ বছর ধরে নবায়ন করা হয়নি। এটি ছিল মূলত একটি ছোট ট্রাক। ট্রাকটিকে অবৈধভাবে পরিবর্তন করে অ্যাম্বুলেন্স বানানো হয়।
গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দার শংকরপাশা এলাকায় এই দুর্ঘটনায় ‘অ্যাম্বুলেন্সে’ থাকা পাঁচ জন নিহত হন। মাদারীপুর থেকে এক অসুস্থ স্বজনকে চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
ঈদযাত্রায় ভাড়া তিন-চার গুণ বেশি, বৃষ্টিতে বেড়েছে ভোগান্তিও
২৬ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে আজ মঙ্গলবার একযোগে ছুটি হয়েছে। ফলে দুপুরের পর থেকেই সাভারের মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলেও ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিও আরও বেড়ে গেছে।
আজ দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল স্ট্যান্ডে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দরকষাকষি করতে দেখা যায়।
স্বামী-সন্তান নিয়ে নাটোরের দত্তপাড়া যাওয়ার জন্য বাইপাইল ব্রিজের কাছে অপেক্ষারত পোশাকশ্রমিক রেজিয়া বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ায় এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন ভাড়া দিয়েছিলাম ২০০ টাকা। এখন বাড়ি ফিরতে ১ হাজার ২০০ টাকা চাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে ভাড়া কিছুটা বাড়লে সমস্যা নেই, কিন্তু এত বেশি ভাড়া নেওয়া অন্যায়। ৩ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু সবাই একই ভাড়া চাচ্ছে।’
ইসলাম পরিবহনের বাস রোড ডিভাইডার ভেঙে আকাশ বাসে ধাক্কা, ৪ যাত্রী নিহত
২৭ মে ২০২৬, ঢাকা পোস্ট
পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ইসলাম পরিবহনের একটি বাস রাজধানীর নতুন বাজার সংলগ্ন নর্দ্দা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোড ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহনের একটি বাসে ধাক্কা দেয়। এতে অন্তত চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইসলাম পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় আকাশ পরিবহনের বাসটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। ঘটনার পর ওই এলাকার সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনাস্থলে হাজির হয় অতিরিক্ত পুলিশ। ছুটে যায় বাড্ডার থানা পুলিশ। তার আগেই পালিয়ে যায় ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসের চালক ও হেল্পার। হতাহতদের নেওয়া হয় আশপাশের হাসপাতালে।
একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি: সড়কমন্ত্রী
২৭ মে ২০২৬, সমকাল
এবারের ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়া ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার সার্বক্ষণিকভাবে ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ করছে। যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় কিছু যানজট বা ধীরগতি থাকলেও সেটি স্বাভাবিক। কারণ সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় সেখানে গাড়ির গতি কমে যাচ্ছে। তবে ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা নেই।
‘দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায়, আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব’
২৭ মে ২০২৬, সমকাল
‘গাজীপুর থেকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বাস ছেড়েছি। টাঙ্গাইলে আসছি পরদিন সকাল ৯টায়। ৮০ কিলোমিটার রাস্তায় সময় লাগছে ১৪ ঘণ্টা। টাঙ্গাইল এসেও দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় বসে আছি। আল্লাহই জানেন কখন রংপুর যাব।’ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরগামী রাব্বি পরিবহনের সুপারভাইজার আব্দুল মালেক।
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৃষ্টি ও যমুনা সেতুর ওপর একাধিক দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এ যানজট সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যায়।
পুলিশ ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত তিনটার পর থেকে অতিবৃষ্টির মধ্যে যমুনা সেতুর ওপর কয়েকটি যানবাহন বিকল হয় ও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরাতে সময় লাগায় টোলপ্লাজা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরে যান চলাচল শুরু হলেও ধীরগতির কারণে যানজট বাড়তে থাকে।
ঈদযাত্রায় ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত
০৪ জুন ২০২৬, যমুনা টিভি অনলাইন
এবারের ঈদুল আজহার আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট প্রাণহানির ৪৪.১২ শতাংশ। এছাড়া, দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী ও ৩৩ জন যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
এই সময়ে ১৩টি নৌ-পথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন। এছাড়া, ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। এদিকে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১২৪ জন, বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৩২ জন, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সে ১১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৪৮ জন এবং স্থানীয় যানবাহনে ৮ জন নিহত হয়েছেন।
দৌলতদিয়ায় নদীতে পড়া বাসটি আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার, আগেই নামিয়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের
০৫ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে টেনে ঘাটে থাকা কে-টাইপ ফেরি করবীর ওপর তোলে।
এর আগে আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র্যাম ভেঙে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দ্রুত বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই বাসে যাত্রীরা ছিলেন না। ফেরিতে ওঠার আগেই তাঁরা নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এবারের ঈদযাত্রায় ৪৩৮ জনের প্রাণহানি: যাত্রী কল্যাণ সমিতি
০৭ জুন ২০২৬, যুগান্তর
পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে ৩৯৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১২৯৪ জন আহত হয়েছে বলে। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৪২ টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত ও ১৩৪০ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মায়ের হাত ধরে হাঁটছিল, ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁকে ড্রেনে পড়ে প্রাণ গেল শিশুর
২২ জুন ২০২৬, সমকাল
ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে মায়ের হাত থেকে খোলা ড্রেনে পড়ে স্মৃতি (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্মৃতি কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় সোমবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষ।
বিরতিহীন ট্রেনেই পাথর নিক্ষেপ হচ্ছে বেশি
৩০ জুন ২০২৬, বণিক বার্তা
করোনা অতিমারীর পর দেশে শতাধিক দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেন সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
এ সময়ে বিভিন্ন রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু হলেও বন্ধ হওয়া সার্ভিস চালু কিংবা নতুন দ্বিতীয় শ্রেণীর ট্রেন সার্ভিসের দিকে অনাগ্রহ রেলওয়ের। সাধারণ যাত্রীরা আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রাবিরতির দাবিতে আন্দোলন করলেও বাস্তবায়নের হার চাহিদার তুলনায় কম। যার কারণে বিরতিহীন ট্রেনগুলোতে পাথর নিক্ষেপের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
সেপটিক ট্যাংক দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে ৪৪ প্রাণহানি
৬ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশ সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। সংসারের হাল ধরতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন দুজনই।
গত ২৬ জুন চট্টগ্রাম নগরের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে শাটারিংয়ের কাজ করতে নেমে মারা যান তারা। একই দিন ডাবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন আরেকটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ হারান নোয়াখালী সদর উপজেলার সাকিব ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার হৃদয় মিয়া। অর্থাৎ মাত্র একদিনেই সেপটিক ট্যাংকে প্রাণ হারান চারজন।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে প্রায় একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। কোথাও একজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়ার পর তাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ যায় অন্যদের, আবার কোথাও একই পরিবারের একাধিক সদস্য বিষাক্ত গ্যাসের শিকার হন। প্রতিটি ঘটনার পর কয়েক দিনের আলোচনা হয়, ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়, তদন্তের আশ্বাস আসে। তারপর বিষয়টি আবার চাপা পড়ে যায়। নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ না থাকায় সেপটিক ট্যাংকে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।
দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে দেশের শহর ও মফস্বলে বহুতল ভবন, আবাসিক প্রকল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনার সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে সেপটিক ট্যাংকের সংখ্যাও। কিন্তু এ সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে ওঠেনি নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত জনবল কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর পরিষ্কার ব্যবস্থা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণ, পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এখনো কোনো সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো ও মানসম্মত পরিচালনা নির্দেশিকা কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে নগরায়ণের প্রসারের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্তে সেপটিক ট্যাংক নীরবে নতুন ঝুঁকি ও প্রাণহানির উৎসে পরিণত হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্য এ সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দেশে সেপটিক ট্যাংক ও বর্জ্যাধারক-সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৬৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮৪ জন। আহত হয়েছেন আরো ৯৩৫ জন। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় চারজন এ মরণফাঁদে প্রাণ হারিয়েছেন, আর এ সময় পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রাণহানি ঘটেছে ৪৪ জনের।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনার প্রবণতা ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। ২০২০ সালে ২৩টি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নয়জনের। পরের বছর ৩০টি ঘটনায় প্রাণহানি অনেকটা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪২ জনে, যা প্রায় সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০২২ সালে ২৩ জন, ২০২৩ সালে ২০, ২০২৪ সালে ২৭ ও ২০২৫ সালে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে—মাত্র পাঁচ মাসেই ৮০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন। অর্থাৎ বছর শেষ হওয়ার আগেই চলতি বছর সেপটিক ট্যাংক দুর্ঘটনার দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বছরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ত্রুটিপূর্ণ এসি নিয়েই চেন্নাই গেল ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, যাত্রীদের ভোগান্তি
১৪ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
বোয়িং ৭৩৭–৮০০ মডেলের উড়োজাহাজে যাত্রী ছিলেন ১৮৮ জন। কিন্তু উড়োজাহাজের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ঠিকমতো কাজ করছিল না। যাত্রীরা হাতের কাছে যা পাচ্ছিলেন, সেটা দিয়েই বাতাস নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে হাঁপানির (অ্যাজমা) একজন রোগী মাঝ আকাশে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
এমন ভোগান্তির মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে চেন্নাইয়ের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছেন যাত্রীরা। গত রোববার ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-২০৫ ফ্লাইটের ওই যাত্রীদের একটি বড় অংশই ছিলেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ
জ্বালানি তেলের দামের প্যারাডাক্স: চড়া কর ডেকে আনছে ভর্তুকি
২৭ এপ্রিল ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
মার্চের বিশ্ববাজারের দর ও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের আমদানি খরচ পড়ে ১০৫.৭৩ টাকা। সাম্প্রতিক সরবরাহ সংকট ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির জেরে দাম বাড়ানোর পর খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেন এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
এর অর্থ হলো, ভোক্তারা প্রতি লিটারে আমদানি ব্যয়ের চেয়ে ৩৪.২৭ টাকা বেশি পরিশোধ করছেন। এই বাড়তি অর্থের মধ্যে ২৭.৫৭ টাকাই আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, উন্নয়ন সারচার্জ, পরিবহন ব্যয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবেশক সংস্থাগুলোর মুনাফা হিসেবে সরকারের কোষাগারে যাচ্ছে।
এর সাথে স্থানীয় পরিবহন খরচ ও ডিলারদের কমিশন যোগ করার পর প্রতি লিটারে মোট খরচ দাঁড়ায় ১৫১.৬১ টাকা—যা খুচরা বিক্রয়মূল্যের চেয়ে ১১.৬১ টাকা বেশি। সরকার এই বাড়তি অংশটিকেই ভর্তুকি হিসেবে গণ্য করছে।
এখান থেকেই তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য: সরকার একদিকে লিটারপ্রতি ২৭.৫৭ টাকা কর ও চার্জ আদায় করছে, আবার অন্যদিকে ১১.৬১ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান টিবিএসকে বলেন, ‘এটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন তোলে যে, সরকার আদৌ অকটেনে ভর্তুকি দিচ্ছে কি না।’
পেট্রোলের ক্ষেত্রেও চিত্রটি অনেকটা একই রকম, যার দাম সাধারণত অকটেনের চেয়ে ৫ টাকা কম হয়ে থাকে।
তবে ডিজেলের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন, সেচ কাজ, নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এই জ্বালানি।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার ফলে বর্তমানে ডিজেলের আমদানি ব্যয় লিটারপ্রতি ১৪৮.০৬ টাকা। এর সাথে শুল্ক, কর, পরিচালন ও পরিবেশন ব্যয় যোগ করলে মোট খরচ দাঁড়ায় ২০৩.৮৪ টাকায়। তবে সরকার ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর পরও খুচরা বিক্রয় মূল্য ১১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে প্রতি লিটারে সরকারকে ৮৮.৮৪ টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই দামের মধ্যেও ৫৫.৭৮ টাকা (বা ৩৭ শতাংশ) কর ও অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রূপপুরে চুল্লিতে দেওয়া হলো ইউরেনিয়াম, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ
২৮ এপ্রিল ২০২৬, প্রথম আলো
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।
জ্বালানি প্রবেশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটির কাজ করা হয়েছে। আজ জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের অংশ হলো। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ শুধু পাবনা নয়, দেশের অর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’ আলোচনা শেষে অতিথিরা স্বয়ংক্রিয় সুইচ টিপে জ্বালানি লোডিং উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন অঞ্চলে গ্যাসের সম্ভাব্যতা ৬ টিসিএফ
২৮ এপ্রিল ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস ব্লক-১৮-এর অবস্থান। মিয়ানমারের সীমান্ত ঘেঁষা এ গ্যাস ব্লকে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সম্ভাব্যতার তথ্য মিলছে গবেষণায়। পূর্বাঞ্চলীয় ফোল্ডবেল্ট ব্লক-১৮-এর আওতাধীন সেন্ট মার্টিন, টেকনাফ ও কোরাল দ্বীপে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রায় ৬ হাজার ১৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) বা ছয় টিসিএফ গ্যাস সম্পদ রয়েছে বলে গবেষণায় জানা গেছে। পূর্বাঞ্চলীয় ফোল্ডবেল্টে বিপুল গ্যাসের সম্ভাব্যতার বিষয়টি দেড় দশক আগেও ইঙ্গিত দিয়েছিল মার্কিন প্রতিষ্ঠান গুস্তাভসন অ্যাসোসিয়েটস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের সমুদ্রসীমার গভীরে গ্যাসের সম্ভাব্যতার নানা প্রক্ষেপণ থাকলেও এসব এলাকায় বৃহৎ আকারে অনুসন্ধানের বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ ও তৎপরতা দেখা যায়নি পেট্রোবাংলা কিংবা জ্বালানি বিভাগের তরফে। বরং গ্যাস পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে বিগত সময়ে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের গ্যাস খাতে আর্থিক সংকট দিন দিন বাড়িয়ে তোলা হয়েছে।
হাজার কোটি টাকায় তেল-গ্যাসের তিন কূপ খনন করবে চীনা প্রতিষ্ঠান
১ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশে গ্যাস ও তেলের উৎপাদন বাড়াতে তিনটি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৫ টাকা। কূপগুলো খননের কাজ পেয়েছে দুই চীনা প্রতিষ্ঠান।
গতকাল অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় ডিজেল ও সার আমদানিসহ আরো বেশকিছু ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাপেক্সের বাস্তবায়নাধীন ‘তিনটি অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খনন’ প্রকল্পের আওতায় টার্ন-কি ভিত্তিতে দুটি কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১) খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৭১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানছিং ডিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে এ দুটি কূপ খননের কাজ দেয়া হয়েছে।
তেলের দীর্ঘ লাইন উধাও, কয়েকটি কারণের কথা বলছেন পাম্পমালিকেরা
০২ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ফিলিং স্টেশনগুলোয় এখন আগের মতো স্বাভাবিক চিত্র। কোনো কোনোটি বেশির ভাগ সময় ফাঁকা। আর কোনোটিতে স্বাভাবিক সময়ের মতোই জ্বালানি তেল নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে গাড়ি। ব্যস্ত পাম্পগুলোয় কিছু গাড়ি সারিবদ্ধ হয়ে তেল নিচ্ছে। পাম্পের মালিকেরা বলছেন, মূলত সরবরাহ বাড়ানোর কারণে তিন-চার দিন ধরে চাপ কমে গেছে। তেল বিপণন কোম্পানি বলছে, পাম্পগুলোয় তেলের চাহিদাও কমতে শুরু করেছে।
ভিড় কমার নেপথ্যে কারণ জানতে কথা হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও পেট্রলপাম্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে। তাঁরা বলছেন, ভিড় কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম দুটি হলো— বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো ও মূল্যবৃদ্ধি। এ ছাড়া অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি কমিয়েছে অনিশ্চয়তা। অবৈধ মজুত বন্ধে সরকারের নিয়মিত অভিযান ও ফুয়েল পাস ব্যবস্থাও ভূমিকা রেখেছে।
মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসির আওতায় দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন
০৫ মে ২০২৬, সমকাল
নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতকে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগে বড় অগ্রগতি এলো। ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’-এর আওতায় দেশের প্রথম প্রকল্প হিসেবে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
মঙ্গলবার এই অনুমোদন দেওয়া হয়। টাঙ্গাইলের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ই-ট্রাইক্যাচ টেকনোলজিস। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং দেশের বিদ্যুৎ খাতে বাজারভিত্তিক নতুন ধারার সূচনা।
ভারত ও চীনের চার কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম অস্বাভাবিক
০৯ মে ২০২৬, সমকাল
ভারত ও চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত চারটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের অভ্যন্তরীণ এক নথিতে বলা হয়েছে, এসব কেন্দ্রের বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য অস্বাভাবিক বেশি। আগের সরকারের সময় করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) কিছু শর্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র চারটি হলো– ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাটে ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট), পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চীনের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল)।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতায় এমওইউ সই
১৫ মে ২০২৬, প্রথম আলো
জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে (ডিওই) এই সমঝোতা স্মারক সই হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী মূল্য ও টেকসই সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি পাওয়ার উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদারের যে প্রচেষ্টা বাংলাদেশের রয়েছে, তাতে ভূমিকা রাখবে এই সমঝোতা স্মারক। পাশাপাশি এটা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।
এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় ও জৈবশক্তি বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও দক্ষতাবিনিময় এবং গবেষণা সহজ হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বাংলাদেশের আমদানির ক্ষেত্রে এটা সহায়ক হবে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন করে ধারাবাহিক লোকসান, ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায়
১৬ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনে নিয়োজিত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি তিন অর্থবছর ধরে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে রয়েছে।
এ সময় কোম্পানিটি লোকসান করেছে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে সঞ্চালন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঋণের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ক্রমবর্ধমান এ ঋণের চাপ এবং ধারাবাহিক লোকসানের ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ৭৪ হাজার কোটি টাকার ডজন খানেকের বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাওয়ার গ্রিড।
পাওয়ার গ্রিডের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সঞ্চালন না হওয়ায় আয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি লোকসানে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের পর তা পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার না হলেও বিপুল পরিমাণ পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অন্যদিকে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। ফলে দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন লস বেড়ে গিয়ে পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ক্ষতি আরো বেড়েছে।
সুবিধা বাড়িয়ে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র
২৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
সমুদ্রে তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করছে সরকার। এর আগের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। তাই এবার নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তিতে (পিএসসি) বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম। এতে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, সমুদ্রে সর্বশেষ দরপত্রে সাতটি বিদেশি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জমা না দেওয়ার কারণ ও মতামত জেনে পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন দিয়েছে। আজ রোববার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম
পিএসসি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পিএসসি-২০১৯ অনুসারে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম রাখা হয়েছিল গভীর সমুদ্রের জন্য সোয়া সাত মার্কিন ডলার; আর অগভীর সমুদ্রের জন্য দাম ধরা হয় সাড়ে পাঁচ ডলার। ২০২৩ সালের পিএসসিতে কোনো স্থির দাম নির্ধারণ না করে গভীর ও অগভীর দুই ক্ষেত্রেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) দামের ১০ শতাংশ ধরা হয়। এবার পিএসসি-২০২৬–এ এটি বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ ও অগভীর সমুদ্রে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে–বাড়লে আনুপাতিক হারে গ্যাসের দামও কমবে-বাড়বে। প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার হলে গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম হবে ১১ ডলার। তবে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য ব্রেন্টের দামের ক্ষেত্রে এবার উচ্চ সীমা ও নিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হবে, যাতে গ্যাসের দাম খুব বেশি বাড়তে বা কমতে না পারে।
চুক্তি অনুসারে সমুদ্র থেকে গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন করবে ঠিকাদারি কোম্পানি। এ পাইপলাইনের জন্য গ্যাসের মজুত, সরবরাহ ও খরচ মিলে একটি ট্যারিফ পাবে ঠিকাদারি সংস্থা। গত পিএসসিতে এ সুবিধা ছিল না। চুক্তিতে ঠিকাদার হিসেবে আসা বহুজাতিক কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার মধ্যকার মুনাফা ভাগাভাগির সূত্রও বদল করা হয়েছে। অনুসন্ধান ব্যর্থ হওয়ার পরও ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখতে চাইলে তার মুনাফার অংশ ১ থেকে ২ শতাংশ বাড়তে পারে। এর আগে শ্রম আইন সংশোধন করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিদেশি কোম্পানিকে একটি সুবিধা দিয়ে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। শ্রমিক তহবিলে কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে। এটিও ঠিকাদারদের অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়াবে।
আগের কিছু সুবিধা এবারও থাকছে। কর ও শুল্ক অব্যাহতি থাকছে আমদানিতে। ঠিকাদারের হয়ে আয়কর দেবে পেট্রোবাংলা। গ্যাস পেট্রোবাংলা না কিনলে দেশের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে ঠিকাদার। দেশে চাহিদা না থাকলে করতে পারবে রপ্তানি। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে যেতে পারবে যেকোনো পক্ষ। অগভীর সমুদ্রে ১০ শতাংশ অংশীদারত্ব থাকবে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স)।
বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮ শতাংশ
০৩ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
০৪ জুন ২০২৬, সমকাল
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) ইউনিট প্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ মূল্যহার জুন মাস থেকে কার্যকর হবে।
জ্বালানি সংকট সমাধানে সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ সুপারিশ
৭ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার বাংলা অনলাইন
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু সুপারিশ ও করণীয় উপস্থাপন করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।
আজ রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথমদিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধ পরিস্থিতি, অবৈধ মজুতের কারণে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ গ্রহণে এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির সুপারিশগুলো হলো:
১. জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে ৩ মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
২. আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা
৩. জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু
৪. অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা
৫. নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা
৬. ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন ও এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল-২ দ্রুত বাস্তবায়ন করা
৭. জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা
৮. বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্টাডি করা
৯. রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সোলার চলছে কি না, এর তদারকি জোরদার করা
১০. সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া
১১. তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার, উইন্ডসহ এসব খাত থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া
১২. বিশেষ কমিটির কার্যপরিধির আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা
প্রতিবেদনে বিরোধী দল থেকে আসা ১০ দফা সুপারিশের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, গ্যাসের অফশোর অনুসন্ধান জোরদার করা। এছাড়া সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি, জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা যাচাই ও সরকারি খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের সুপারিশও করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডের পরীক্ষায় যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত
১৪ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পর পরীক্ষা চলাকালে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে।
এতে দেশের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
আজ রোববার বিদ্যুৎকেন্দ্রের মিডিয়া কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি, ত্রুটি সংশোধন করার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
জ্বালানি সংকটে ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লোডশেডিং
১৮ জুন ২০২৬, জাতীয় অর্থনীতি
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। অথচ সারা দিনে ১৪ হাজার মেগাওয়াটও উৎপাদন করা যাচ্ছে না। শুধু জ্বালানি সংকটেই প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ। তবে সেচ মৌসুম ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে চাহিদা পিক-আওয়ারে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ঘাটতির কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ছে। গতকাল মধ্যরাতে দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, ঈদুল আজহার ছুটির পর জুনের শুরুর কয়েক দিন চাহিদা অনেকটাই কম ছিল। এর পরও তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। তবে গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি সেচ মৌসুমের কারণে রাতেও বিদ্যুতের চাহিদা তেমন কমছে না। যদিও রাত ৯টার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়। এজন্য দিনের পাশাপাশি মধ্য রাতেও অনেক বেশি হারে লোডশেডিং হচ্ছে।
কোথাও কোথাও সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, খেলা দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ অনেকে
১৮ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
গরম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়েনি। উল্টো তিনটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি আরও বেড়েছে। এর প্রায় পুরো চাপ পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে সাত থেকে আট ঘণ্টা, কোথাও আরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। টিভিতে ফুটবল বিশ্বকাপের খেলা দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন অনেকে।
বিদ্যুৎ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দফায় দফায় দাম বাড়লেও গত কয়েক বছর গরমের সময় লোডশেডিং কমছে না। চলতি মাসেও বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ গত কয়েক দিনে দেশে দিনে গড়ে সর্বোচ্চ তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে। গতকাল দিনের বেলায়ও সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল প্রায় ২ হাজার ৬২৯ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎঘাটতি সামাল দিতে মূলত ঢাকার বাইরের এলাকায় লোডশেডিং করা হচ্ছে।
উৎপাদনের পথে রূপপুর কিন্তু অনেক প্রশ্ন
১৮ জুন ২০২৬, আগামীর সময়
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সংকট ও আমদানিতে ডলারের সীমাবদ্ধতার কারণে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে দেশে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছরই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার আলোচনাটি বেশ আশাজাগানিয়া। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটির ক্ষতিকর স্পেন্ট ফুয়েল (ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি) রাশিয়ায় নেওয়ার চুক্তি হয়নি।
পাশাপাশি বাকি রয়েছে কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগেই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি হওয়ার প্রচলিত নিয়ম থাকলেও রূপপুরের ক্ষেত্রে তা ঝুলে আছে এখনো। ফলে কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কত হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা। সব মিলিয়ে অনেক প্রশ্ন আর সংশয় সঙ্গী করেই উৎপাদনের পথে রূপপুর।
অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. এম মঈনুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানালেন, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ চুক্তি সই হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ছাড়া স্পেন্ট ফুয়েল, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও মেলেনি সাড়া।
লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ, ৭ জেলায় বিক্ষোভ
২৯ জুন ২০২৬, সমকাল
তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে লোডশেডিং। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে দেশের অন্তত সাত জেলায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ করেছেন। কোথাও বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া, রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জ এবং ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
মে-জুনে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, নেপথ্যে ৩ কারণ
০১ জুলাই ২০২৬, আগামীর সময়
স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। তীব্র গরমে ঘরে টেকা দায়। তার ওপর যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল। ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি বিলের চাপ। প্রতি বছর মে-জুন মাস এলেই এই যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় সাধারণ মানুষকে, যা নিয়ে হইচই হয় কিছুদিন। তারপর সব শান্ত। মাঝখান থেকে গ্রাহকের পকেট কাটে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো।
ঘুরেফিরে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে কেন এমন ভুতুড়ে বিল? এর কারণ খুঁজতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর অন্তত তিনটি অপকৌশলের তথ্য পেয়েছে আগামীর সময়।
প্রথমত বিতরণ কোম্পানিগুলো বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিদ্যুৎ অপচয় ও চুরির মাধ্যমে তৈরি হওয়া মাত্রাতিরিক্ত সিস্টেম লস কমাতে গ্রাহকের কাঁধে বাড়তি বিলের বোঝা চাপানো হয়। দ্বিতীয়ত, জুন ক্লোজিংয়ে বকেয়া মাস কমিয়ে আয় বাড়ানো এবং তৃতীয়ত মিটার রিডারদের গাফিলতি।
ঝুঁকি নিয়ে চালু হচ্ছে রূপপুর, কয়েকটি চুক্তি নিষ্পন্ন হয়নি
০৫ জুলাই ২০২৬, সমকাল
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সরকারের প্রত্যাশা, আসছে আগস্ট মাসের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। তবে উৎপাদন শুরুর আগমুহূর্তেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এখনও হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ স্পেন্ট ফুয়েল অপসারণের চূড়ান্ত চুক্তি। নির্ধারিত হয়নি বিদ্যুতের দাম। বাকি রয়েছে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সমঝোতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি লোড বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করাই একমাত্র সফলতা নয়; বরং এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উপযোগিতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।
প্রিপেইড মিটারের ভাড়া বহাল, ‘প্রত্যাহার’ ছিল গুজব
০৫ জুলাই ২০২৬, বাংলা ট্রিবিউন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় গত ৩ জুন সরকারি দল বিএনপির ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয় সরকার প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ জ্বালানির নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই বিষয়ে কিছুই জানে না। কিংবা কোনও বিতরণ প্রতিষ্ঠানও এই বিষয়ে কোনও আবেদন করেনি।
সারাদেশে ৫৫ লাখ গ্রাহকের ঘরে প্রিপেইড মিটার রয়েছে। সিঙ্গেল ফেইজ মিটারের ভাড়া ৪০ টাকা আর থ্রি ফেইজ মিটারের ভাড়া ৪২ টাকা। প্রিপেইড মিটারের ভাড়া এবং বিদ্যুতের ডিমান্ড চার্জ নিয়ে গ্রাহকের ক্ষোভ রয়েছে। প্রতি কিলোওয়াটের জন্য আবাসিক গ্রাহককে ৪২ টাকা করে ডিমান্ড চার্জ দিতে হয়। অর্থাৎ একজন গ্রাহক যদি ৫ কিলোওয়াটের লাইন নেয় তাহলে তার ৫ কিলোওয়াট বাবদ ২১০ টাকার সঙ্গে মিটার ভাড়া যোগ হবে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার সময়।
বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী
২২ জুলাই ২০২৬, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা
দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও বিল আদায় নিশ্চিত করতে এই খাতকে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিচালনার প্রস্তাব আহ্বান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার ঢাকায় আয়োজিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমি সব বিতরণ কোম্পানিকে বেসরকারিকরণ করতে চাই। সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন করে পাইকারি বিক্রি করতে পারে, কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের কাজটি বেসরকারি খাতেরই করা উচিত।’
পররাষ্ট্র বিষয়ক
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে সংসদে আনার প্রস্তাব রুমিন ফারহানার, নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ স্পিকারের
২৯ এপ্রিল ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ দাবি করে তা বাতিলের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই প্রস্তাব করেন। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই বক্তব্যকে পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকায় বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি
০১ মে ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে এই চুক্তি হয়। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন।
১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১০টি ওয়াইড-বডির ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’ এবং ৪টি ন্যারো-বডির ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।
‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক না শোধরায়,’ বললেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি ও কলকাতা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলছেন যে তিনি সবসময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যাতে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্কে উন্নতি না হয়।
তার কথায়, “আমি তো সকালে সবসময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যে পরিস্থিতি ইউনুসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।”
ভারতের গণমাধ্যম এবিপিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে “রাতের অন্ধকারে” কীভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয়, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
মি. বিশ্বশর্মার কথায়, “বিএসএফ কি করে, কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ-ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন বিডিআর থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়।”
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নাম এখন বিজিবি হলেও পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাতের অন্ধকারের সুযোগেই যে এভাবে ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয়, সেটাও জানিয়েছেন তিনি।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ওই সাক্ষাৎকারটি গত ১৫ই এপ্রিল সম্প্রচারিত হয়েছে, তবে তার কিছু অংশ সোমবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকার আসলে চলছে ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র’ নীতিতে: আনু মুহাম্মদ
০২ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও দেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে চলছে বলে দাবি করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় বলছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। এটা বলেই তিনি শুরু করেছেন, বাংলাদেশে এসে প্রথম দিনই বলেছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি, সেই চুক্তিটা দেখাচ্ছে যে সরকার “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” এই নীতি অনুযায়ী চলছে।’
বিএনপি সরকারের আড়াই মাসের কাজের মূল্যায়নে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সভায় এ কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভাপ্রধান ছিলেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি দিকে ইঙ্গিত করে দুটি সরকারেরই সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির বৈধতা নিয়ে রিট
০৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) বৈধতা নিয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) সই হয়। এই চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। রিট আবেদনকারী হলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম। তাঁর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল: রাশেদ আল তিতুমীর
০৬ মে ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। তিনি বলেন, এই চুক্তির প্রতি সম্মান রেখে ধাপে ধাপে কনসালটেশন বা পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে কীভাবে যৌথভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল তিতুমীর জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ‘ঐক্য’ জামায়াত-এনসিপির
০৭ মে ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম
জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনা ছিল শুরু থেকেই। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তা থামেনি। সম্প্রতি ওই চুক্তিতে শতাধিক শর্তের কথা সামনে আসার পর ফের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তবে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তির আলাপে গত দুই বছর ধরে সরব জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি।
দল দুটির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও কড়া প্রতিবাদ আসার আভাস মেলেনি। জামায়াত ও এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা স্ট্রিমকে জানান, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি তাঁরা চান না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তির ‘প্রকাশ্য বিরোধিতাও’ তারা করছেন না।
জামায়াত দলীয়ভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে বলে জানিয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অন্যদিকে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, দলীয়ভাবে আলোচনা করেছেন, আরও হবে।
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ
০৭ মে ২০২৬, ইত্তেফাক
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বেইজিং থেকে প্রকাশিত দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কলেজশিক্ষার্থীসহ দুই বাংলাদেশি নিহত
০৯ মে ২০২৬, প্রথম আলো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে ভারতের ভেতরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন। ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী
০৯ মে ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা চত্বরে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো চালু করা নিয়েও কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।’
বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব: ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দ্বিগুণ
১০ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের আমদানিতে। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে বছরের প্রথম চার মাসেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের একই সময়ে এটি ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০১ শতাংশ।
অন্যদিকে, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে খুবই সামান্য। মাত্র ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায়।
মোট আমদানির বড় একটি অংশ, ৩৮ শতাংশই করেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান—পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলে দেশে ফিরলেন
৯ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৪ জেলে দেশে ফিরেছেন।
আজ শনিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ব্যাটালিয়ন-২ টেকনাফের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবির মধ্যস্থতায় ফেরত আসাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও একজন রোহিঙ্গা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার নাফ নদীর জিরো লাইনে আরাকান আর্মির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিজিবির একটি দল জেলেদের গ্রহণ করে। পরে তাদের টেকনাফ জেটিতে নিয়ে আসা হয়।
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
১৪ মে ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। গতরাত ২টার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি সীমান্তের আমঝোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম খাদেমুল ইসলাম (২৫)। তিনি বনচৌকি আমঝোল সীমান্ত এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল রাতে সীমান্তের ওপারে খাদেমুল ইসলাম হাতে, পিঠে ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তার সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে রাতেই রংপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার মৃত্যু হয়। পরে আজ পরিবারের লোকজন তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
নিহত খাদেমুলের বাবা আমজাদ হোসেন দাবি করেছেন, তার ছেলে চোরাকারবারি ছিলেন না, তিনি পেশায় জেলে ছিলেন। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তলাগোয়া একটি জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিল। হয়তো কারও প্ররোচনায় সে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গিয়েছিল। সকালে তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু সে ফিরল লাশ হয়ে।’
পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
২৩ মে ২০২৬, বণিক বার্তা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে শূন্যলাইনে খুঁটি স্থাপনের অপচেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কড়া আপত্তি ও কঠোর অবস্থানের কারণে খুঁটি অপসারণে বাধ্য হয় বিএসএফ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজিবির রংপুর ব্যাটালিয়নের (৫১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের কলসিরমুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি দল আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে শূন্যলাইনে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপনের অপচেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় জনগণ ও বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির কলসিরমুখ বিওপির সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান এবং ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান নেন। বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে স্থাপিত খুঁটি অপসারণের জন্য চাপ দেয়। বিজিবির অনড় ও কড়া অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা তাদের কার্যক্রম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং স্থাপিত খুঁটি দ্রুত অপসারণ করে নেয়।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত
২৪ মে ২০২৬, প্রথম আলো
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে এক এলাকায় তিনটি স্থল মাইন বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় বাগানের কাজ করতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘুমধুম পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানিয়েছেন।
মাইন বিস্ফোরণে মারা যাওয়া তিনজন হলেন অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), চিংক্ষ্যং তঞ্চঙ্গ্যা (৩২) ও চপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে লেরাইয়া (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়ায়। বিস্ফোরণে মৃতদের কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশ উড়ে গেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
২৭ মে ২০২৬, যমুনা টিভি অনলাইন
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য বিক্রি হওয়া অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে আবারও ফেরত যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের খামারে।
বুধবার (২৭ মে) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যমুনা টেলিভিশনকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় কেরানীগঞ্জের ক্রেতাকে মূল্য ফেরত দিয়ে মহিষটি খামারে ফেরত নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই মহিষটি লালন-পালন করা হবে।
এর আগে, অ্যালবিনো জাতের এ মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে এর নাম রাখেন ট্রাম্প।
উত্তরায় চীনা ভ্লগারদের রহস্যময়ভাবে ভিডিও ধারণ, আসলে কী ঘটছে?
২৮ মে ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ঢাকার উত্তরার সেক্টর–১২-এর টেকপাড়ায় প্রবেশ করতেই দেখা যায় কয়েকজন বিদেশি নাগরিক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন।
দৃশ্যটি কিছুটা এমন, যেন সাংবাদিকরা কোনো ঘটনাস্থল থেকে লাইভে গিয়ে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। উত্তরার অভিজাত আবাসিক ভবনের সারি যেখানে শেষ হয়ে যায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের বসতি শুরু হয়—সেই ছোট্ট পাড়াতেই এই অস্বাভাবিক দৃশ্য আমাদের স্বাগত জানায়।
প্রথম দেখায় বিষয়টি একেবারেই সাধারণ মনে হলেও, দ্রুতই কৌতূহল জাগে—আসলে তারা কী দেখাতে চাইছেন? এলাকার জীবনযাপন, সরু গলি আর ঘনবসতিপূর্ণ বসতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে?
উত্তরার টেকপাড়ায় দেখা যাওয়া চীনা ভ্লগাররা ঠিক কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। তবে চীনের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম যেমন বিলিবিলি ও ইউকুতে খোঁজ নিয়ে একটি উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে চীনা ভ্লগারদের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট একটি ধাঁচ অনুসরণ করছেন। তাদের ভিডিওর শিরোনামে প্রায়ই ‘দরিদ্র’, ‘নোংরা’ বা ‘বস্তি’ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওগুলোর মূল বিষয়বস্তু হিসেবে সাধারণত স্থানীয় দরিদ্র মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়, যেখানে ভ্লগারকে প্রায়ই একজন দানশীল ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়—যিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
শুধু উপস্থাপনার ধরনই নয়, এসব ভিডিওতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু মানুষ নিজেদের দৈনন্দিন কাজ করছেন—যেমন গোসল করা বা ব্যক্তিগত জীবনযাপন—যেখানে তারা বুঝতেই পারেন না যে তাদের ভিডিও করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভ্লগারদের অনুমতি ছাড়া মানুষের ঘরে ঢুকে পড়তেও দেখা গেছে, যেখানে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন।
আরও উদ্বেগজনক একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর একটি বাংলাদেশি তরুণের কলার ধরে টেনে ধরছেন, যেন তাকে ‘শাসন’ করা হচ্ছে। এই দৃশ্যটি অনলাইনে কনটেন্ট তৈরির নামে কিছু ভ্লগারের আচরণ এবং স্থানীয় মানুষকে কাজে লাগানোর মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
অনুপ্রবেশ বা অপরাধের ক্ষেত্রে হত্যাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০২ জুন ২০২৬, ইউএনবি নিউজ
অন্য দেশের অভ্যন্তরে অপরাধে জড়িত থাকা বা অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় কোনো ব্যক্তি নিহত হলে সেটিকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হব। যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে বা শূন্য রেখায় এসে কাউকে হত্যা করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বা সীমান্ত হত্যা বলতে পারি। কিন্তু আমাদের সীমানার ভেতরে কিংবা তাদের সীমানার ভেতরে কেউ কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে বা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করলে, সেটি তারা তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী মোকাবিলা করবে। এটাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
০২ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে তিনি এক বছরের জন্য এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ জয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীন, ভারত ও পাকিস্তানও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় সীমান্তে ১০টি ‘পুশইন’ চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানাল বিজিবি
০৪ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) ১০টি পৃথক অপচেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
একই সঙ্গে এ ধরনের সম্ভাব্য ‘পুশইন’ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তুরস্ক
০৬ জুন ২০২৬, সমকাল
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্ক। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট ও বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে ঢাকার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আঙ্কারা।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত পরিসরে গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং একে দৃঢ় ভিত্তির ওপর আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ১৩০ কোটি ডলার থেকে ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা, তুর্কি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মতো প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।
ঢাকার ওয়াশিংটন-নির্ভরতা অব্যাহত
০৬ জুন ২০২৬, সমকাল
চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতি ঘটে তাঁর টানা ১৫ বছরের শাসনের। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও পালাবদল ঘটে বৈদেশিক প্রভাবের। হাসিনা সরকার নির্ভরশীল ছিল প্রতিবেশী ভারতের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই নির্ভরশীলতা পৌঁছায় ওয়াশিংটনে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপিও ওয়াশিংটন-নির্ভরতা অব্যাহত রেখেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল বৈরী। সেই সম্পর্ক ঠিক বিপরীত মোড় নেয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বিএনপি সরকারও। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এখন সবচেয়ে উন্নত। সবচেয়ে সমালোচিত দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি ড. ইউনূসের সময় সই করা হয়েছিল। এ চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সফরের সময় কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত কিছু সামরিক চুক্তি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর এবং বাণিজ্য দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সফর উল্লেখযোগ্য।
বিধিনিষেধে ভারতে রপ্তানি কমেছে বাংলাদেশি পণ্যের
০৬ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ভারত সরকার এক বছর আগে বাংলাদেশের কিছু পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। শুরুতে এর তেমন প্রভাব দেখা না গেলেও পরে এসে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি কমতে শুরু করে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই–এপ্রিল) ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ কমেছে।
আলোচ্য সময়ে ভারতের বাজারে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কাঁচা পাট ও পাটপণ্য, চামড়াবিহীন জুতা এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। তবে প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি সামান্য বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ভারতে ১৪৬ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১৫২ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের পণ্য। সে হিসাবে রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।
বিএসএফ বন্দুক দেখিয়ে নারী-শিশুদের বাংলাদেশে ঢোকাচ্ছে
০৭ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। এই ঘটনার জেরে এপিডিআর ১১ জুন মালদা শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল আহ্বান করে বলে সংগঠনের সহসভাপতি রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসা বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে লিখেছিল, ক্ষমতায় এলে তারা ‘ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট’-এর (চিহ্নিতকরণ, ফেরত পাঠানো এবং মুছে ফেলা) নীতি নেবে। ক্ষমতা গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের পাশাপাশি ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটককেন্দ্র চালু করে কথিত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে সেখানে পাঠানোর জন্য। পাশাপাশি শুরু হয় বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ (বাংলাদেশে পুশ ইন)। এর জেরে অসংখ্য মানুষ দুই দেশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বলে আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।
‘পুশ ইন’ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সদস্য মোতায়েন
০৭ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শিশু, নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানো (পুশ ইন) ঠেকাতে বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। চার পালায় ২৪ ঘণ্টা তাঁরা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় লোকজনও তাঁদের সহযোগিতা করছেন।
এদিকে গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত—চার দিনে বিএসএফের ২১টি পুশ ইনের ঘটনা সফল হতে দেয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনার মাধ্যমে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল।
এই সরকার দায়বদ্ধ, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে: আনু মুহাম্মদ
০৭ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশের মানুষ যে সরকারকে নির্বাচিত করেছে, তাদেরকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘এই সরকার দায়বদ্ধ, তাকে জবাবদিহি করতে হবে।’
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে সম্মিলিত গণপ্রতিবাদ’ কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজক গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এতে বামপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই সরকার নির্বাচিত সরকার। মানুষ নির্বাচন করেছে তারেক রহমানের সরকারকে। মানুষ নির্বাচিত করবে তারেক রহমানকে, আর দেশ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র–ট্রাম্প প্রশাসন? দেশ চালাবে আইএমএফ, দেশ চালাবে বিভিন্ন ধরনের করপোরেট স্বার্থ? এটা তো চলতে পারে না।’
সীমান্তে ৬৮ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন, দিল্লির কাছে ঢাকার প্রতিবাদ
১১ জুন ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো কার্যক্রমে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের ৬৮টি স্থানে নির্মিত বেড়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বা বিচ্যুতি রয়েছে। এসব অনিয়ম সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ৮৬টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সপ্তাহে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা, সড়ক নির্মাণ বা মেরামত, সীমান্ত পোস্ট বা স্থাপনা নির্মাণ, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ বা এ ধরনের প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ।
বাংলাদেশে পুশ ইন বন্ধের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
১৭ জুন ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
ভারত থেকে বাংলাভাষীদের, বিশেষ করে মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানধাবিকার সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এসব মানুষকে জোর করে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের ঠেকিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের ‘শূন্যরেখায়’ চরম দুর্ভোগে আটকে আছে বেশ কিছু পরিবার।
বিজিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত ১ জুন থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার অন্তত ২১টি চেষ্টা নস্যাৎ করেছে তারা।
অভিবাসনে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জ্বালানি সহযোগিতায় জোর
২৩ জুন ২০২৬, সমকাল
নয়টি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের সম্মতিতে ৩৩ দফার যৌথ বিবৃতির মধ্য দিয়ে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর শেষ হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
প্রথমে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অর্জন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণের জন্য আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তাঁর আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন, প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো খাতগুলো উঠে আসে। এর মধ্যে অভিবাসন ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিশেষ করে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দিতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধ করা এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও বিবেচনার জন্য তুলে ধরেন তিনি।
চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ
২৩ জুন ২০২৬, ইত্তেফাক
নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিনিয়োগ ও উন্নয়নে ১৩ সমঝোতা স্মারক সই
২৬ জুন ২০২৬, সমকাল
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ, বিনিয়োগ, চীনে রপ্তানি বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিস্তার বিষয়ে একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে যেটা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পঠিত হয়েছে। তার আলোকে এই মহাপরিকল্পনার পরিকল্পনা পর্যায় থেকে শুরু করে কারিগরি সহায়তা করা– সর্বক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তারা সম্পৃক্ত হবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খবর বাসস ও ইউএনবির।
যুক্তরাষ্ট্রের গম টনপ্রতি ২৪ ডলার বেশি দিয়ে কিনছে বাংলাদেশ
২ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় প্রতি টন গম আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় ২৪ ডলার বেশি দামে আমদানি করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত পূরণ করে শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) জি-টু-জি ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত
০৫ জুলাই ২০২৬, ইত্তেফাক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা।
ক্ষমতার স্বার্থে সর্বনাশী মার্কিন চুক্তির বিষয়ে দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নীরব: আনু মুহাম্মদ
১৭ জুলাই ২০২৬, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা
সংসদের সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে ঝগড়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘দাসত্বমূলক চুক্তির’ বিষয়ে যেন ‘নীরবতার ঐক্য’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত গণজমায়েতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘নির্বাচনের আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশনামা এবং রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন দিয়েছে।’
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে’ এ গণজমায়েতের ডাক দেয় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।
দিল্লিতে অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার, কূটনৈতিক গুরুত্ব কতটা
২০ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। ১৫ জুলাই দিল্লিতে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকটির বিষয়ে বাংলাদেশ বা ভারতের কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
দিল্লিতে ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকভুক্ত (বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দেশগুলোর একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা জোট) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের পঞ্চম সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে আগের দিন ভারত সফরে যান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলাম।
সংস্কার নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস মার্কিন রাষ্ট্রদূতের: আসিফ
২২ জুলাই ২০২৬, একাত্তর টিভি অনলাইন
বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে সমর্থন করে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে সংস্কার ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা ও নেগোসিয়েশন করা হবে বলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন বলে দাবি করেছে দলটি।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির নিজস্ব কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এটিই প্রথম সফর। দেড় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক সাড়া রয়েছে। তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক। তারা এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে নেগোসিয়েশন করবে বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের
২৪ জুলাই ২০২৬, বণিক বার্তা
আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
