জেন্ডার বাজেট: বৈষম্য দূরীকরণ না নব্যউদারনীতির ভাষা?
রেড ফেমিনিস্ট ব্লক
গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার জেন্ডার বাজেট হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এটি মোট জাতীয় বাজেটের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। গত ১৩ জুন ২০২৬ ঢাকায় ‘রেড ফেমিনিস্ট ব্লক’ নামে একটি কর্পোরেটবিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নারীবাদী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে। এই প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে জেন্ডার বাজেট নিয়ে একটি অবস্থানপত্র তৈরি করা হয়েছে। এটি গত ২৩ জুন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ‘বাজেট ২০২৬: উন্নয়ন দর্শন ও কাঠামোগত সমস্যা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত হয়। গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে তার মূল অংশ প্রকাশ করা হলো।
গত দুই দশকের বাংলাদেশের জেন্ডার বাজেটকে বিশ্লেষণ করলে তা কুমিরের ছানার গল্পের মতোই প্রতীয়মান হয়—যেখানে শেয়াল সব ছানাকে গিলে ফেলেও শুধু একটি ছানাকে বারবার দেখিয়ে মা কুমিরকে আশ্বস্ত করেছিল যে তার সব ছানা বেঁচে আছে। ঠিক একইভাবে অবকাঠামো খাতে (যেমন রাস্তা, ব্রিজ নির্মাণ) সবার জন্য প্রযোজ্য উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয়কেই বারবার “জেন্ডার বাজেট” হিসেবে দেখিয়ে দাবি করা হয়েছে যে জেন্ডার বাজেটিং সম্পন্ন হচ্ছে। এই বাজেট দিয়ে আমরা পুনরায় কুমিরের ছানা হতে যাচ্ছি কি না তা এই অবস্থানপত্রে বিশ্লেষণ করছি।
প্রথমে আমরা কয়েকটি প্রশ্ন রাখতে চাই:
- তথাকথিত জেন্ডার বাজেট আসলেই কি ‘জেন্ডার’ ধারণাকে সঠিকভাবে সামনে আনতে পারছে? নাকি সাধারণ নাগরিকসেবাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘জেন্ডার-নির্দিষ্ট’ ব্যয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করছে?
- বাংলাদেশের মানুষের জীবনে যে লিঙ্গ ভিত্তিক মৌলিক শোষণ রয়েছে তা দূরীকরণ কি বাজেটে ‘কিছু’ বরাদ্দ বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে? এবং
- রাষ্ট্রের ভেতরে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পত্তির অসম বণ্টন, শ্রমিকের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া, লিঙ্গভিত্তিক শ্রম ও মজুরির বৈষম্যসহ বিবিধ শোষণমূলক কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে “জেন্ডার বাজেট” কতটা কার্যকর হতে পারে?
জেন্ডার বাজেট কোন একক বাজেট খাত না। বরং জেন্ডার বাজেট হচ্ছে একটি বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া যা রাষ্ট্রের মোট বাজেটকে বিশ্লেষণ করে যে সেখানে লিঙ্গ সমতার জন্য কতটুকু বরাদ্দ রয়েছে। স্কটিশ ফেমিনিস্ট অ্যাঞ্জেলা ও’হেগান এর বই ‘Conceptual and Institutional Origins of Gender Budgeting’ থেকে জানা যায় যে, জেন্ডার বাজেটিং এর জন্ম মূলত নারীবাদী অর্থনীতি (feminist economics) চিন্তাধারা থেকে। সত্তরের দশকের নারীবাদীদের অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনের অন্যতম যুক্তি ছিল— প্রচলিত অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ নারীর অবৈতনিক যত্ন-শ্রম (unpaid care work) কে হিসাবেই ধরে না, ফলে বাজেট প্রক্রিয়া আদতে “জেন্ডার-নিরপেক্ষ” নয় বরং “জেন্ডার-অন্ধ” — এটি বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্যকেই টিকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে রাজপথের এই আন্দোলন বিভিন্ন দেশে নারীবাদী অর্থনীতিবিদদের একাডেমিক ডিসকোর্সের বিষয় হয়ে উঠে।
রাষ্ট্রের ভেতরে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পত্তির অসম বণ্টন, শ্রমিকের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া, লিঙ্গভিত্তিক শ্রম ও মজুরির বৈষম্যসহ বিবিধ শোষণমূলক কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে “জেন্ডার বাজেট” কতটা কার্যকর হতে পারে?
সেই ধারাবাহিকতায় অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল সরকারের ভেতরে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন কর্মীদের ‘অফিস অব দ্য স্ট্যাটাস অব উইমেন’ দলটির চাপে ১৯৮৪ সালে সেখানে ‘উইমেন বাজেট’ পাশ হয়, যদিও পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তা বন্ধ হয়ে যায়। একই বোঝাপড়া থেকে ১৯৮৯ সালে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে (UK Women’s Budget Group), ১৯৯৩-এ কানাডায়, এবং বিশেষভাবে ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী রাষ্ট্র ভাঙার গণ-আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শ্রমজীবী নারী আন্দোলনকর্মীরা রাষ্ট্রের বাজেট দলিল দাবি করতে শুরু করে। তবে জেন্ডার বাজেটের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণ করেন ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ ফেমিনিস্ট ডায়ান এলিসন এবং এর আন্তর্জাতিক ভিত্তি তৈরি হয় ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে (বেইজিং)। কিন্তু ২০০০-এর দশকে যখন আর্থিক শাসক প্রতিষ্ঠান IMF, World Bank আর OECD (Organisation for Economic Co-operation and Development) এই বিষয়টাতে আগ্রহী হলো, তখন তারা জেন্ডার বাজেটকে আর শ্রেণি-সংগ্রাম বা বৈষম্য কমানোর রাজনৈতিক প্রশ্ন হিসেবে দেখেনি তারা এটাকে বেশি করে “কীভাবে বাজেট আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করা যায়”—এই ধরনের একটা টেকনিক্যাল বা প্রশাসনিক টুলে পরিণত করে ফেলে। ফলে আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া যে বড় পরিবর্তনের দাবি ছিল—লিঙ্গ ও শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্য কমানো—সেটা ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়, আর জেন্ডার বাজেট অনেক জায়গায় শুধু একটা ভালো বাজেট, ফর্মাল রিপোর্টিং বা কাগজপত্রের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ২০০৯ এ ০৪টি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বর্তমানে ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় বিশ্লেষণে জেন্ডার বাজেট আনা হয়েছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে মোট বাজেটের ২৪.৬% দেখানো হয়েছিলো, এরপর ১০ বছর পর জেন্ডার বাজেট বেড়ে হয় ৩০.৮ শতাংশ। ২০২৩ সালের এসডিজি সামিটে বাংলাদেশ সরকার জেন্ডার বাজেটে মোট বাজেটের কমপক্ষে ৩৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর ২০২৪-২৫ সালে ৩৪.১১ শতাংশ, ২০২৫-২৬ সালে ৩৩ শতাংশ এবং বর্তমান ২০২৬-২৭ সালে ৩৪.৮ শতাংশ জেন্ডার বাজেট রাখা হয়েছে।
আমাদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলো দিয়ে এবারের বাজেটে উপস্থাপিত জেন্ডার বাজেটকে পরীক্ষা করতে পারি:
- তথাকথিত জেন্ডার বাজেট আসলেই কি ‘জেন্ডার’ ধারণাকে সঠিকভাবে সামনে আনতে পারছে?
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে মূলত শুধু নারী ও পুরুষ—এই বাইনারির ভিত্তিতেই পুরো আলোচনা করা হয়েছে। এই দুই পরিচয়ের বাইরে লৈঙ্গিক ও যৌন অভিমুখতার বহুমাত্রিক পরিচয়ের মানুষের অভিজ্ঞতা ও বৈষম্য এই দলিলে ধরা পড়েনি। জেন্ডার বাজেটকে নারীদের, বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী (special interest)” হিসেবে চিহ্নিত করে, তাদের জন্য আলাদা সুবিধার তালিকা হিসেবে না দেখে, বরং সমাজে লৈঙ্গিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে যে ক্ষমতার অসম সম্পর্ক আছে, সেটাকে বদলানোর একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখা দরকার। কিন্তু এই দলিলে সেই আন্তঃসংযোগী (intersectional) নিপীড়নের বাস্তবতাকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যাও করা হয়নি, তা বদলের জন্য কোনো কথাও আসে নি। আজকের দিনে সারা বিশ্বে ও বাংলাদেশে লৈঙ্গিকভাবে নিপীড়িত হিসেবে নারী, ট্রান্সজেন্ডার এবং আন্তঃলিঙ্গ মানুষেরা নানা ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার মধ্যে আছে, তারা অধিকারের দাবি জানাচ্ছে। সেখানে শুধু নারী ও পুরুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অর্থনৈতিক পার্থক্য দেখানো পুরো ছবিটা তুলে ধরে না। এতে “নারীর ক্ষমতায়ন” নিয়ে কথা বলা হলেও অন্য লৈঙ্গিক পরিচয়ের মানুষের ক্ষমতায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো ন্যুনতম দিকনির্দেশনা নেই।
- বাংলাদেশে মানুষের জীবনে যে লৈঙ্গিক মৌলিক শোষণ রয়েছে তা দূরীকরণ কি বাজেটে ‘কিছু’ বরাদ্দ বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে?
- জেন্ডার বাজেটের মোট বরাদ্দ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৯.৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬১% (২,০০,৪০৪.৮ কোটি টাকা) আসলে সাধারণ প্রশাসনিক খরচ—বেতন, অফিস ভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস বিল, স্টেশনারি ইত্যাদি। এই খরচ চারটি থিম অনুযায়ী ভাগ করে দেখানো হয়নি। এগুলোকে “জেন্ডার বাজেট” বলা ঠিক না, কারণ এসব যেকোনো মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক খরচ। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৫,১৯৬ কোটি টাকার ৯২%-ই বেতন-প্রশাসনিক খাতে যাবে। উন্নয়নের জন্য থাকছে মাত্র ৪২৮.৫ কোটি টাকা, তার আবার মাত্র ৫৭.৪% সরাসরি নারী-কর্মসূচিতে যাবে।
- প্রস্তাবিত জেন্ডার বাজেটের বরাদ্দে দ্বিতীয় থিম হিসেবে “অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সমতা” নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রতিপাদ্যের অধীনে সর্বাধিক বরাদ্দপ্রাপ্ত উপ-প্রতিপাদ্য (Subtheme) হলো “শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ এবং আয়মূলক কর্মকাণ্ড”। তবে উল্লিখিত বরাদ্দ কীভাবে বিশেষভাবে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে তা বাজেটে স্পষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, সরকার যদি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ বা পল্লী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, তাহলে এসব উদ্যোগ সাধারণত সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত সুবিধা হিসেবে কাজ করে। সেক্ষেত্রে এগুলোকে কী ভিত্তিতে “জেন্ডার-নির্দিষ্ট” ব্যয় হিসেবে রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। একই প্রতিপাদ্যের অধীনে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বরাদ্দকেও জেন্ডার বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রযোজ্য—যদি অবকাঠামোগত উন্নয়ন মূলত সকল নাগরিকের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করে, তাহলে কোন মানদণ্ড বা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই ব্যয়কে জেন্ডার বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে?
- উন্নয়ন প্রকল্পের বাকি ১,২৫,৬৫৫ কোটি টাকার (৩৮%) মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ যায় নীতি ও কৌশলপত্র তৈরিতে—প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা (নারীর ক্ষমতায়ন থিমের অধীনে ১৫৬০৮ কোটি টাকা+অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সমতা থিমের অধীনে ৫০১ কোটি টাকা+জনসেবায় নারীর কার্যকর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি থিমের অধীনে ৩১৮.৯ কোটি টাকা + নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ এর অধীনে ২০০.৫ কোটি টাকা)। এটি হচ্ছে একটি আধুনিক পেপার স্টেটের উদাহরণ। যেখানে কাগজের নীতিমালা ও কৌশলপত্র তৈরিতেই জনগণের এক বৃহত্তর অর্থ ব্যয় হয়। বিগত সময়ে দেখা গেছে, নারী ও জেন্ডার সমতা সংক্রান্ত নানাবিধ কাগজপত্র তৈরি হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমলে নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা জরিপে ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়। অথচ সেই কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করে পুনরায় জেন্ডার বাজেটে নীতিমালা ও কৌশলপত্র তৈরিতে এই বিশাল অংকের বরাদ্দ ধরা হয়েছে! এসবের ফলে রাষ্ট্র নারীর সমস্যা সমাধানের বদলে শুধু “ডকুমেন্ট তৈরির কারখানা”-য় পরিণত হচ্ছে!!
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বরাদ্দ ৪২.৫% থেকে বেড়ে ৬৯.৪% হয়েছে, মূলত ফ্যামিলি কার্ডের বিশেষ বরাদ্দের কারণে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে দারিদ্র্য কমাতে ৩৯,০৭১ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে—এটাই জেন্ডার বাজেটের সবচেয়ে বড় উপখাত। কিন্ত বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা হিসেবে ৭০০ টাকা, প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে ১০০০ টাকা- যে জনগোষ্ঠীকে হতদরিদ্র কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে তার দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমাতে উক্ত ভাতাগুলো দেওয়া হয়েছে, তার পরিমাণ করলে হাস্যকর। উপরন্তু সোশ্যাল প্রটেকশন পলিসি অনুযায়ী এক ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবে না। কিন্ত একজন বয়স্ক প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর ঝুঁকি তার সামাজিক অবস্থান, বয়স ও প্রতিবন্ধকতার বিবেচনায় তিন রকম হলেও, তিনি ভাতা পাবেন মাত্র একটি। একই ভাবে ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্ত হলে অন্য ঝুঁকিগুলোকে অগ্রাহ্য করে ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাছাড়া এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো ( যেমন—বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা) নারী ও পুরুষ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি এমন নয় যে উক্ত ব্যয় সরাসরি লিঙ্গ বৈষম্য মোকাবিলা বা জেন্ডার বৈষম্য হ্রাসের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
- জেন্ডার বাজেটে নারীদের জলবায়ু সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ৬,৮৮৩.৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট ৩,২৬,০৫৯.৮ কোটি টাকার জেন্ডার বাজেটের মাত্র ২.১ শতাংশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের অংশ যুক্ত করলে জলবায়ু–জেন্ডার খাতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১০,৯৮০ কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা মোট জেন্ডার বাজেটের আনুমানিক ৩.৪ শতাংশ। বাজেটের নথিতে স্বীকার করা হয়েছে যে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ওপর পুরুষদের তুলনায় অধিক তীব্রভাবে পড়ে। বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে নারীরা প্রায়শই পুরুষদের তুলনায় কম সুযোগ-সুবিধা লাভ করে। আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি নারীর পাশাপাশি লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে সামাজিক নিগ্রহের কারণে। ফলে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ নারীসহ অন্যান্য প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রা ও জীবিকার ধরন পরিবর্তনে বাধ্য করে। তবে এই স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও বাজেটের চারটি থিমের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকে স্বতন্ত্র কোনো প্রতিপাদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জলবায়ু-সংক্রান্ত ব্যয় ১ নং থিমের অন্যান্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে একই কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট জবাবদিহির কাঠামো নেই। ফলে জলবায়ু ও জেন্ডারের আন্তঃসম্পর্কভিত্তিক ব্যয় পৃথকভাবে দৃশ্যমানতা বা অগ্রাধিকার পায় না। এতে বাদ পড়ে যাচ্ছে: বস্তিতে অভিবাসী নারীদের পাচার-শোষণ ঝুঁকি, আশ্রয়কেন্দ্রের জেন্ডার-বান্ধব নকশা, লবণাক্ততাজনিত প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চর-হাওরের নারীদের ভূমিহীনতা, এবং কৃষিতে নারীর জলবায়ু-সহনশীল সেবা।
এতে বাদ পড়ে যাচ্ছে: বস্তিতে অভিবাসী নারীদের পাচার-শোষণ ঝুঁকি, আশ্রয়কেন্দ্রের জেন্ডার-বান্ধব নকশা, লবণাক্ততাজনিত প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, চর-হাওরের নারীদের ভূমিহীনতা, এবং কৃষিতে নারীর জলবায়ু-সহনশীল সেবা।
- “Improvement of living standards of Hijra, Bede and other backward communities” এর অধীনে হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবনমান উত্তরণের কথা বলেছে। কিন্তু কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং এর জন্য কত টাকা বরাদ্দ তা পরিস্কার না।
- গতবছরের চাইতে খুব গুরুত্বপূর্ণ দুইটি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার রিলেভেন্ট এলোকেশন কমেছে। একটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট বরাদ্দ ৬৭ শতাংশ থেকে ৫৯ শতাংশ হয়েছে, অন্যটি স্বাস্থ্যখাতে ৪৫.২ শতাংশ থেকে ৪০.৮ শতাংশ কমেছে।
- দেশের শ্রমশক্তির ৪৪.২% নারী হলেও, শ্রম মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ৭১% কমেছে। থিম ৪ (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কল্যাণ) সবচেয়ে বড় খাত—১,০৪,৮০৪.৯ কোটি টাকা। কিন্তু সাধারণ স্কুল-হাসপাতাল তো সবার জন্যই, তাই এর ৪০-৫০% খরচকে “জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট” ধরার কোনো স্পষ্ট মানদণ্ড দেখানো হয়নি।
- আইসিটি বিভাগের জেন্ডার-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হার ২০২২–২৩ অর্থবছরে ৪৩.৬ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৩৩.৫ শতাংশে নেমে আসা একটি নীতিগত বৈপরীত্য নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নারীরা ক্রমবর্ধমান সাইবার ঝুঁকি ও ডিজিটাল বৈষম্যের মুখোমুখি হলেও, জেন্ডার-সংবেদনশীল আইসিটি নীতির প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার সংকুচিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। একইসাথে, সরকার প্রতিপাদ্য ৪-এর অধীনে নারীদের জন্য “ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ” খাতে ৫,৪৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। একদিকে সরকার ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তিতে নারীকে প্রশিক্ষিত করছে, অন্যদিকে আইসিটি খাতে জেন্ডার সংবেদনশীলতার বাজেট কমাচ্ছে।
- আদিবাসী নারীদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ নিয়ে বা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে জেন্ডার বাজেটে কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ নেই। কেবল মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ হিসেবে আদিবাসী নারীদের প্রতি বরাদ্দকে জেন্ডার বাজেটে দেখানো হয়েছে।
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার রিলেভেন্ট এলোকেশন বাজেট প্রায় ২ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের ৫০৯ কোটি টাকা জেন্ডার বাজেট দেখানো হলেও, এর কোন একটিভিটিস দেখানো নেই। এরকম ৪৬টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার রিলেভেন্ট এলোকেশন দেখালেও, কেন এবং কোন খাতে এই বরাদ্দ তার কোন বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নেই।
- রাষ্ট্রের ভেতরে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, সম্পত্তির অসম বণ্টন, শ্রমিক শ্রমের সঠিক মুল্যায়িত না হওয়া, লিঙ্গভিত্তিক শ্রম ও মজুরির বৈষম্যসহ বিবিধ শোষণমূলক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে “জেন্ডার বাজেট” কতটা কার্যকর হতে পারে?
জেন্ডার বাজেটের কার্যকরিতার প্রশ্ন শুধু বরাদ্দের বিষয় নয়, বরং পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো এর সাথে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রের ভেতরে যদি সম্পদের মালিকানা অল্প কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, শ্রমিকের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হয়, এবং নারী–পুরুষের মধ্যে মজুরি ও শ্রম বিভাজনের অসমতা আগের মতোই বজায় থাকে, তাহলে বাজেটে কেবল “জেন্ডার” শব্দ যুক্ত করলেই সেই কাঠামোগত বাস্তবতা বদলে যায় না।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা জেন্ডার বাজেট হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এই বরাদ্দের আওতায় উচ্চমানের বীজ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ, কৃষকদের উন্নত ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ, এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহারে নারীর সম্পৃক্ততার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু কৃষি খাতে নারীর মৌলিক সমস্যা—যেমন কৃষক হিসেবে স্বীকৃতির অভাব, সার ও বীজের জন্য কর্পোরেট কোম্পানির ওপর নির্ভরতা, ন্যায্য বাজারদরের অনিশ্চয়তা, এবং কোল্ডস্টোরেজ ও বাজার ব্যবস্থায় সীমিত প্রবেশাধিকার—যদি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে এই ধরনের “জেন্ডার-রিলেভেন্ট এলোকেশন” বাস্তবে কৃষক নারীর জীবন ও ক্ষমতায়নে কী পরিবর্তন আনতে পারবে?
কিন্তু কৃষি খাতে নারীর মৌলিক সমস্যা—যেমন কৃষক হিসেবে স্বীকৃতির অভাব, সার ও বীজের জন্য কর্পোরেট কোম্পানির ওপর নির্ভরতা, ন্যায্য বাজারদরের অনিশ্চয়তা, এবং কোল্ডস্টোরেজ ও বাজার ব্যবস্থায় সীমিত প্রবেশাধিকার—যদি অক্ষুণ্ণ থাকে, তাহলে এই ধরনের “জেন্ডার-রিলেভেন্ট এলোকেশন” বাস্তবে কৃষক নারীর জীবন ও ক্ষমতায়নে কী পরিবর্তন আনতে পারবে?
তাই জেন্ডার বাজেট নিয়ে মোটাদাগে আমাদের কথা-
- রাষ্ট্রকে জেন্ডার ধারণা স্পষ্ট করতে হবে এবং নন-বাইনারি ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
- নারী-কেন্দ্রিক ব্যয়কে জেন্ডার বাজেট হিসেবে দেখানোর বদলে প্রকৃত জেন্ডার-রিলেভেন্ট বরাদ্দ, তার বাস্তবায়ন ও প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। যেকোনো প্রকার প্রশাসনিক ব্যয়কে জেন্ডার বাজেটের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে।
- জেন্ডার-সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ, যাচাইযোগ্য মানদণ্ড ও পদ্ধতি প্রণয়ন করতে হবে, যাতে সাধারণ জনকল্যাণমূলক ব্যয়কে (যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি) নির্বিচারে জেন্ডার বাজেট হিসেবে দেখানো না যায়।
- জেন্ডার বাজেটের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয় তাকে সংরক্ষিত অর্থাৎ (ring-fenced) বাজেট হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তার জেন্ডার বরাদ্দ পুরোপুরি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে বাস্তবায়ন করা বাধ্যতামূলক হতে হবে।
- বিদেশি তহবিল নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে এবং নীতিনির্ধারণে ও কৌশলপত্র তৈরিতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করতে হবে।
- ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ২০টি আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং পরবর্তীতে আরও ৬০টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য নারী পরিচালিত ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আমাদের মতে, কেবল নারীকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সব লিঙ্গপরিচয়ের মানুষের প্রয়োজন ও অধিকারকে সামনে রেখে জেন্ডার বাজেটের বরাদ্দ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে—
- জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে হটলাইন, কুইক রেসপন্স ও রেফারেল সার্ভিস সম্প্রসারণ।
- জেলা ও উপজেলাভিত্তিক ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার নির্মাণ।
- প্রতিটি বিভাগে একটি করে ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা।
- প্রতিটি জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা।
- পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সহজলভ্য করা, সরকারি উদ্যোগে মানসম্মত কনডম ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল উৎপাদন এবং বাজারে এসব পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ।
- প্রসবকালীন সিজারিয়ান সেকশন বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে নিশ্চিত করা, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সি সেকশনের খরচ নিয়ন্ত্রণ।
- সরকারি উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব মাসিক সুরক্ষা পণ্য (স্যানিটারি প্যাড, মেনস্ট্রুয়াল কাপ, শোষণমূলক প্যান্টি ইত্যাদি) উৎপাদন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকে তা বিনামূল্যে সরবরাহ এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে বরাদ্দ। ভবিষ্যতে মাসিককালীন ছুটি নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ।
- আন্তঃলিঙ্গ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ সুরক্ষা বরাদ্দ।
- ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও আন্তঃলিঙ্গ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্তি। তার আগপর্যন্ত বিশেষায়িত ভাতা প্রদান।
- সামাজিক সুরক্ষা কর্মসুচির আওতায় সবগুলো ভাতা ন্যূনতম ৫,০০০ টাকায় উন্নীত করা।
- সামাজিক সুরক্ষা কর্মসুচির আওতায় বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িত নারীকে (যৌনকর্মী)কে আওতাভুক্ত করা এবং বিশেষায়িত ভাতা প্রদান।
- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, উদ্যোক্তা ভাতা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
- প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও বিভাগ ভিত্তিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারী, পুরুষ ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যের মানুষের জন্য লিঙ্গবান্ধব ও প্রতিবন্ধীবান্ধব স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং তার যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
- মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে কার্যকর বাজেট ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
- HIV ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় অঞ্চলভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি।
- নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শুধু প্রশিক্ষণ নয়, উদ্যোক্তা ভাতা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ও নিপীড়ন নিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করতে বরাদ্দ রাখা।
- দলিত, হরিজন, বেদে সম্প্রদায়ের নারী ও নন-বাইনারি মানুষের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফ্রিডিং কর্নার স্থাপন করা।
- ওয়ার্ডভিত্তিক সরকারি উদ্যোগে কমিউনিটি কিচেন, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী পরিচর্যা কেন্দ্র ও ডে কেয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা।
- ভূমিহীন আদিবাসী নারী ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে দীর্ঘমেয়াদি জমি লিজ, খাসজমি বরাদ্দ।
- ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কোল্ডস্টরেজ ও কৃষি পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।
- বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি স্বতন্ত্র থিম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে লিঙ্গভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- শ্রমজীবী নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, চিংড়ি চাষসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত নারীদের জন্য অঞ্চলভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালুর জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- লৈঙ্গিক সমতার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলো বিদেশি তহবিল মুক্ত করতে হবে, বরং রাষ্ট্রের সেখানে শক্তিশালী অবস্থান থাকতে হবে। দেশের সকল লিঙ্গের কৃষক, জেলে, শ্রমিকের সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে।
রেড ফেমিনিস্ট ব্লক, যোগাযোগ: marzia.hassan1992@gmail.com
