সংবাদপত্রের পাতা থেকে(২৬ অক্টোবর ২০২৫- ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনীতি ও সংস্কার
পুলিশের আশু বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব আটকে আছে ৪ কারণে
২৭ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশন শতাধিক সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে সরকারের দেওয়া ১৮টি সুপারিশের মধ্যে ১১টি বাস্তবায়ন করেছে পুলিশ। বাকিগুলো আটকে আছে চার কারণে।
পুলিশ সদর দপ্তর সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে দেখা গেছে, চারটি সুপারিশের পুরোপুরি বাস্তবায়ন আটকে আছে অর্থের অভাবে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকায় আটকে আছে পাঁচটি বিষয়। চর্চার ঘাটতির কারণে কিছু সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ।
আদালতের আদেশ ছাড়া কোনোভাবেই এজাহারবহির্ভূত আসামি গ্রেপ্তার করা যাবে না—এই সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের যুক্তি হলো, সাধারণত মামলা দায়েরের সময় অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন সব আসামির নাম এজাহারে দেওয়া সম্ভব হয় না। পরে তদন্তের সময় নতুন করে অনেকের সম্পৃক্ততা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। এমন আসামিকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার না করলে পালিয়ে যেতে পারে। এ কারণে সুপারিশটি বাস্তবসম্মত নয়।
গত ১৩ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পুলিশের আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পুলিশের সুপারিশগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। জুনের শেষ দিকে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে বলা হয়েছে। কিছু বিষয় পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য সদস্যদের প্রশিক্ষিত করে তোলা এবং চর্চার প্রয়োজন। সেগুলো করা হচ্ছে। অন্য সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
প্রয়োজন অর্থ বরাদ্দ
আর্থিক কারণে আটকে আছে সংস্কারের চারটি সুপারিশ। এর মধ্যে একটি আংশিক আটকে আছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল আটক ব্যক্তি বা রিমান্ডে নেওয়া আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিটি থানায় অবশ্যই স্বচ্ছ কাচের ঘেরা একটি আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকবে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মূল্যায়ন হলো, এটি আশু বাস্তবায়নযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে প্রতিটি থানায় স্বচ্ছ কাচের ঘেরা দেওয়া জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
আরেকটি সুপারিশ ছিল—পুলিশের তত্ত্বাবধানে থানাহাজত ও আদালতের হাজত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা। পাশাপাশি বন্দীদের আদালত থেকে আনা-নেওয়ার সময় ব্যবহার করা যানবাহনগুলোতে মানবিক সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা।
এ বিষয়ে পুলিশের মূল্যায়নে বলা হয়, বিদ্যমান জনবল দিয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী কাজটি করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। থানাহাজত ও আদালতের হাজতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজ আউটসোর্সিং জনবল দিয়েই করা হচ্ছে। পুলিশের ২ হাজার ৮০৯টি পদের আউটসোর্সিং সেবা অনুমোদনের জন্য ৬৫টি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে অপেক্ষমাণ রয়েছে। অনুমোদন মিললে কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এ ছাড়া বন্দীদের আনা-নেওয়ার মানবিক সেবা উন্নয়নে প্রিজনার্স ভ্যানের চাহিদাপত্র শিগগিরই পাঠানো হবে।
মামলার এফআইআর গ্রহণে কোনো ধরনের অনীহা বা বিলম্ব করা যাবে না—এমন একটি সুপারিশ ছিল কমিশনের। এ বিষয়ের সঙ্গে আর্থিক সংশ্লেষ আছে উল্লেখ করে পুলিশের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন এফআইআর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর অনলাইন এফআইআর চালুর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সংশোধনীর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়—মামলা প্রদানের ক্ষেত্রে বডিওর্ন ক্যামেরাসহ উন্নত প্রযুক্তির সন্নিবেশ করা যেতে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ বলছে, এটি আশু বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
রাস্তায় যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি বা চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশির ক্ষেত্রে বডিওর্ন ক্যামেরা বা সিসি ক্যামেরার সন্নিবেশ ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা যেতে পারে—এমন সুপারিশও করে কমিশন।
দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে
আশু বাস্তবায়নযোগ্য পাঁচটি সুপারিশ বাস্তবায়ন একাধিক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত হওয়ায় এবং চর্চার অভাবে দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, নারী আসামিকে যথেষ্ট শালীনতার সঙ্গে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
পুলিশ বলছে, বর্তমানে নারী আসামিকে নারী পুলিশের উপস্থিতিতে শালীনতা বজায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও চলছে। তবে এই সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও জনবল প্রয়োজন। এ জন্য এক হাজার নারী পুলিশ সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব ছিল পুলিশের। এ ছাড়া চার হাজার এএসআই পদ সৃষ্টির যে প্রজ্ঞাপন হয়েছে, সেখান থেকে ৬৬৪টি থানার প্রতিটিতে একজন নারী এএসআই পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা আছে।
থানায় জিডি গ্রহণ বাধ্যতামূলক, কেউ জিডি করতে চাইলে না করা যাবে না—সুপারিশে এমন কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, শতভাগ থানায় অনলাইন জিডি ব্যবস্থা চালুর জন্য কার্যক্রম চলমান আছে। এ বিষয়ে জনসাধারণের সচেতনতার জন্য ব্যাপক প্রচার চলছে।
১১ প্রস্তাব বাস্তবায়ন
পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পুলিশ সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে ১১টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে আছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা বা তাদের প্ররোচনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান নিজেই তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। এ জন্য সংস্থাপ্রধানের কার্যালয়ে সেল চালু আছে।
গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ–সংক্রান্ত বিষয়ে আপিল বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা (সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়ের মধ্যে) গৃহ তল্লাশি করতে হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা মানা হচ্ছে। থানায় মামলা দায়ের ও তদন্তের কার্যক্রম সার্কেল অফিসার ও পুলিশ সুপার নিয়মিত তদারক করছেন।
ভুয়া বা গায়েবি মামলায় অনিবাসী, মৃত বা নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য করার সুপারিশ করে কমিশন। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দেশনাটি মানা হচ্ছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা আসামির নামে মামলা দেওয়ার অপচর্চা রোধে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অনেক ক্ষেত্রে সব আসামির নাম জানা সম্ভব হয় না, তবু নিরপরাধ কাউকে হয়রানি ঠেকাতে তদারকি কর্মকর্তারা সজাগ রয়েছেন।
সংস্কারের সুপারিশ অনুযায়ী, আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে মিডিয়ার সামনে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। মামলা দায়ের, রেকার বিল ও চার্জ–সংক্রান্ত কার্যক্রমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
চাকরির ভেরিফিকেশন
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদ বা নম্বরপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব এখন থেকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের। এটি পুলিশ ভেরিফিকেশনের অংশ হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, সুপারিশ অনুযায়ী রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাইয়ের প্রথাও বাতিল করা হয়েছে। তবে কেউ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কার্যক্রমে জড়িত থাকলে কিংবা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তা ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।
চাকরির জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশও অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
গঠন হয়নি পুলিশ কমিশন
সংস্কারপ্রক্রিয়ার শুরু থেকেই পুলিশের দাবি ছিল—পুলিশে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং বাহিনীকে কার্যকর স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। আর এ জন্য দরকার ছিল একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন। অথচ এখনো সেই কমিশন হয়নি। এতে আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের সুপারিশসহ অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন আটকে আছে।
অবশ্য আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি এখন পুলিশ কমিশনের কাঠামো ও কার্যক্রমের খসড়া তৈরি করেছে। খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি স্বশাসিত কমিশন গঠনের। তবে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। কমিশন শুধু এসব বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও সুপারিশ করবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কমিশন হলে পুলিশ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ
সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের মূল সংস্কারের জায়গাটি হলো কার্যকর স্বায়ত্তশাসন। এ জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা দরকার। এই কমিশন হয়ে গেলে বাকি সংস্কারপ্রক্রিয়াগুলো সহজ হয়ে যাবে।
নুরুল হুদা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের এক বছর পরও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন হয়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। এ জন্য সবার আগে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়নসহ মূল সমস্যাগুলো বিবেচনায় রেখে পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে দুই সুপারিশ
২৯ অক্টোবর ২০২৫, সমকাল
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতাবলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ এর দুটি খসড়া রয়েছে, যা জারির সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রথমটিতে বলা হয়েছে, আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করে রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের খসড়া বিল
পাস হলে গণ্য হবে। দ্বিতীয়টিতে বলা হয়েছে, পরিষদ ২৭০ দিনে জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে।
মঙ্গলবার যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দেওয়া সুপারিশ এবং আদেশের দুই খসড়ায় আগামী সংসদের সংবিধান পরিষদকে সংস্কারের বাধ্যবাধকতা ছাড়া বাকি অংশ হুবহু এক। কমিশন জানিয়েছে, কোন সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, কতটুকু গ্রহণ করা হবে, তা সরকার ঠিক করবে।
গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুপারিশে তা নেই। আদেশের খসড়ায় পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনসহ সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আদেশের ওপর হবে গণভোট। আদেশ জারি থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো সময়ে গণভোট হবে। আদেশ কে জারি করবে এবং গণভোট কখন হবে– এ সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে সুপারিশ করেছে কমিশন।
সুপারিশে বলা হয়েছে, গণভোটে একটি প্রশ্নই থাকবে। জনগণ ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটে মতামত জানাবেন। গণভোটের জন্য অধ্যাদেশ জারি করবে সরকার। আদেশই হবে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি।
গণভোটে আদেশ অনুমোদিত হলে আগামী নির্বাচনে দ্বৈত ভূমিকাসম্পন্ন সংসদ গঠিত হবে। সংসদ সরকার গঠন, আইন ও বাজেট প্রণয়ন করবে। সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনে কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান সংস্কার পরিষদ। পরিষদ জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের সংস্কার করবে।
গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাদ দিয়ে দুদক অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, টিআইবির উদ্বেগ
২৯ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
দুদক সংস্কার কমিশনের ‘বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশমালা’ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাশাপাশি দুদক সংস্কার কমিশনের প্রণীত প্রতিবেদনের সুপারিশমালার সঠিক প্রতিফলন নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘খসড়া অধ্যাদেশটি বিদ্যমান আইনের চেয়ে কিছুটা উন্নত সংস্করণ এবং এতে দুদক সংস্কার কমিশনের কোনো কোনো সুপারিশের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে সংস্কার কমিশনের বেশ কিছু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ খসড়ায় বাদ দেওয়া বা অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, যা হতাশাজনক।’
কমিশনার নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও কমিশনের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্কার কমিশন ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেছিল বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সরকার পর্যালোচনা অংশটি বা দুদকের দায়িত্ব পালনে সাফল্য-ব্যর্থতার ষাণ্মাসিক পর্যালোচনার সুপারিশটি প্রত্যাখ্যান করেছে। অর্থাৎ যে কারণে জন্মলগ্ন থেকে দুদক ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা আর প্রতিপক্ষের হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, সরকার সে অবস্থার পরিবর্তন চাইছে না।’
দলগুলোর মতপার্থক্য সামনে এল আরও তীব্রভাবে
৩০ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ জমা দেওয়ার পর সে মতপার্থক্য নতুন করে তীব্রভাবে সামনে এল।
কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিবাচক হলেও এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। ফলে সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ সময়ে এসে দলগুলোর নতুন করে বিভক্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সে আশঙ্কা তৈরি করছে রাজনৈতিক মহলে।
সনদ বাস্তবায়নে কমিশনের সুপারিশ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতারা আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাতে রাজনৈতিক গতিপথ কোন দিকে গড়ায়, এর প্রভাব জাতীয় নির্বাচনের ওপর পড়ে কি না, সে আলোচনাও শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
বিষয়টি গতকাল বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেও উঠে আসে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আপনি কিন্তু এইবার জনগণের সামনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ওয়াদাবদ্ধ। আপনি এখানে সত্যিকার অর্থেই যেটুকু সংস্কার দরকার, সেই সংস্কারগুলো করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন দেবেন। যদি এর থেকে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, এর থেকে বাইরে যদি যান, তার দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনাকেই বহন করতে হবে।’
গণমাধ্যমের সংস্কার নিয়ে হতাশা
৩০ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। গত মার্চে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সাত মাস হয়ে গেলেও সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বরং সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া যেভাবে তৈরি করেছিল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সেভাবে রাখেনি। এটি এমনভাবে পরিবর্তন করছে, যাতে এই আইন না করাই ভালো। মন্ত্রণালয়ের এই খসড়া বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকদের কার্যকর পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত হবে না।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমে সংস্কার: সুপারিশ, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে এমন হতাশার কথা উঠে আসে। তবে হতাশা থাকলেও সুপারিশ বাস্তবায়নে চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষেই মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। গতকাল বুধবার প্রথম আলো আয়োজিত এ বৈঠকে সম্পাদক, সাংবাদিক, মালিক, রাজনৈতিক দলের নেতা, গণমাধ্যমের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।
‘প্রত্যাশা ছিল কলম খুলে লিখব, এখন মবের ভীতি’
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরে আমাদের বলা হলো, আশু করণীয় ঠিক করে দেন, যেগুলো খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করে দিলাম সেটা। এরপর তো ডেফিনেটলি (নিশ্চিতভাবে) আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে অন্তত আশু করণীয়গুলোর ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী হবে এবং কিছু করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, এখন পর্যন্ত কোনো কিছু দৃশ্যমান হয়নি।’
প্রস্তাবিত সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিষয়ে কামাল আহমেদ বলেন, কমিশন থেকে সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ করার কথা বলা হয়েছিল, যাতে সরকার দ্রুত আইন প্রণয়ন করতে পারে, সে জন্য কমিশন একটি খসড়াও তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন করে যে পরিবর্তন প্রস্তাব করেছেন, তাতে আর ওই আইন না করাই ভালো।
আলাদা গুম কমিশন হচ্ছে না, এখতিয়ার বাড়ল মানবাধিকার কমিশনের
৩০ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
মানবাধিকার কমিশনই গুম কমিশনের দায়িত্ব পালন করবে, এমন বিধান রেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ চূড়ান্ত করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
আইন উপদেষ্টা বলেন, মানবাধিকারের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এর ফলে সংবিধানে যে মৌলিক অধিকার আছে এর বাইরেও বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুসমর্থন করেছে বা পক্ষভুক্ত হয়েছে, এমনকি আন্তর্জাতিক আইনে মানবাধিকারের যেসব ধারণা আছে, সেগুলো বলবৎ করার ক্ষেত্রেও মানবাধিকার কমিশন ভূমিকা রাখতে পারবে।
আসিফ নজরুল বলেন, আগে মানবাধিকার কমিশন দুর্বল ছিল; নিয়োগ পদ্ধতিতে ত্রুটি এবং এখতিয়ারে মারাত্মক ঘাটতি ছিল। নতুন অধ্যাদেশের লক্ষ্য হলো কমিশনকে সত্যিকারের ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, যাতে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
মানবাধিকার কমিশনের কাঠামো সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেন, একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সার্বক্ষণিক সদস্য (মোট পাঁচজন) নিয়ে কমিশন গঠিত হবে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যাঁরা সাক্ষাৎকার ও গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকার বা রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সংগঠিত সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুম প্রতিরোধ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা আইনসহ মানবাধিকার সংরক্ষণমূলক যেকোনো আইনের মূল দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিশনের আদেশ প্রতিপালনকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত ৪০ হত্যাকাণ্ড
৩১ অক্টোবর, ২০২৫, কালের কন্ঠ
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অন্তত ৪০ জন বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব হত্যাকাণ্ড হয়। এর মধ্যে শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রতিবেদনটি অধিকার-সংযুক্ত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
সংস্থাটি গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০টি বিচারবহির্ভূত হত্যার মধ্যে ১৯ জন গুলিতে, ১৪ জন নির্যাতনে, এবং ৭ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন। শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিহত ১১ জনের মধ্যে ৭ জনকে যৌথ বাহিনী, ৩ জনকে পুলিশ, এবং ১ জনকে সেনা সদস্যরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩ জন নির্যাতনে, ৬ জন গুলিতে, এবং ২ জন গণপিটুনিতে মারা গেছেন।
একই সময়ে জেল হেফাজতে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩ মাসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে।
অধিকারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ১০ জন জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিহত হন।
এ ছাড়া, চলতি বছরের মে মাস থেকে ভারত অন্তত ২ হাজার ৩৩৩ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতায় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪৬ জন নিহত হয়েছে, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে (আগস্ট ২০২৪ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮১ জনে।
অধিকারের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ৬৮৭ নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১৮৮টি ঘটনা জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ঘটেছে।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে ১৫৩ জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৫টি ঘটনা ২০২৫ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
জুলাই সনদের কয়েকটি দফা অগোচরে বদল
৩১ অক্টোবর ২০২৫, সমকাল
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, জুলাই সনদে সইয়ের সময় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, পরে মুদ্রিত পুস্তকে এর কয়েকটি দফায় অগোচরে বদল করা হয়েছে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিন জুলাই সনদের চূড়ান্ত কপি কারও সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। পরে ছাপানো পুস্তকের কপিতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্মত কয়েকটি দফা আমাদের অগোচরে ফের সংশোধন করা হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি বলেছে, এভাবে সংশোধনের কারণে প্রায় এক বছর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এটি অর্থ ও সময়ের অপচয়, প্রহসনমূলক এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এটি শুধু জাতিকে বিভক্ত করবে; ঐক্যের বদলে সৃষ্টি করবে অনৈক্য। মনগড়া যে কোনো সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করলে জাতীয় জীবনে দীর্ঘ মেয়াদে তা অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে।
অজ্ঞাতনামা লাশ আর কারা হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকায় জনমনে সন্দেহ: এমএসএফ
৩১ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
চলতি অক্টোবর মাসে দেশে অজ্ঞাতনামা লাশ এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় বেশ খানিকটা বেড়েছে। এ তথ্য তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির অক্টোবর মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এমএসএফ বলেছে, এসব ঘটনায় জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে সবার সামনে প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ দুই ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে।
এমএসএফ প্রতি মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরে। আজ শুক্রবার অক্টোবর মাসের প্রতিবেদন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এমএসএফ মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করে।
বেড়েছে অজ্ঞাতনামা লাশ
এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে মোট ৬৬টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়; বরং নাগরিক জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে (সেপ্টেম্বর) এর সংখ্যা ছিল ৫২। এসব অজ্ঞাতনামা লাশের বেশির ভাগই নদী বা ডোবায় ভাসমান, মহাসড়ক বা সড়কের পাশে, সেতুর নিচে, রেললাইনের পাশে, ফসলি জমিতে ও পরিত্যক্ত স্থানে পাওয়া যায়। অল্পসংখ্যক মৃতদেহ গলাকাটা, বস্তাবন্দী ও রক্তাক্ত বা শরীরে আঘাতের চিহ্নসংবলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এমএসএফ বলেছে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েই চলেছে এবং তা জনজীবনের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি জোরালোভাবে সবার সামনে প্রতিফলিত হচ্ছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় উদ্ধারে অপারগতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১টি শিশু, ১ কিশোর, ১১ জন নারী ও ৫৩ জন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ বছর বয়সী শিশু; ১৫ বছর বয়সী কিশোর; ২০ থেকে ৩০ বয়সী ১৫ জন পুরুষ ও ২ জন নারী; ৩১ থেকে ৪০ বয়সী ১৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী; ৪১ থেকে ৫০ বয়সী ১ নারী ও ৫ জন পুরুষ এবং ৫০ বছর বয়সের বেশি ১১ জন পুরুষ ও ১ নারী রয়েছেন। এর মধ্যে অজ্ঞাতনামা তিনজনের বয়স শনাক্ত করা যায়নি।
এমএসএফ বলেছে, শুধু অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং পরিচয় জানার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। পরিচয় উদ্ধার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।
কারা হেফাজতে মৃত্যু বাড়ছেই
এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে কারা হেফাজতে মোট ১৩ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল মোট ৮। এ মাসে ছয়জন কয়েদি ও সাতজন হাজতির মৃত্যু হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চারজন কয়েদি ও দুজন হাজতি, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন কয়েদি ও শেরপুর জেলা কারাগারে একজন কয়েদি মারা যান। এ ছাড়া খুলনা জেলা কারাগারে, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে, চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে, সিরাজগঞ্জ কারাগারে ও মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে একজন করে হাজতি বন্দী মারা যান। সব বন্দীর মৃত্যু হয় কারাগারের বাইরে হাসপাতালে।
এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কারা হেফাজতে মৃত্যু এবং অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই লাশ উদ্ধার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে। কিন্তু এসব লাশ উদ্ধার করে তার পরিচয় শনাক্ত করা এবং সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করাই শুধু নয়, এসব লাশ আত্মীয়-পরিজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া এসব বাহিনীর কাজ। কিন্তু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা করা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আর কোনো কাজ নেই।
সাইদুর রহমান বলেন, অজ্ঞাতনামা লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হেফাজতে মৃত্যু বৃদ্ধি জনমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে।
গণপিটুনিতে হত্যা চলছেই, বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা
অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার শিকার হয়েছেন ৫৪৯ জন। এর মধ্যে ২ জন নিহত এবং ৫৪৭ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ এবং নিহত ব্যক্তিরা বিএনপির কর্মী–সমর্থক। সেপ্টেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৮টি ঘটনা ঘটেছিল।
সহিংসতার ৪৯টি ঘটনার মধ্যে ১১টি ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পার্টি অফিস, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিকাণ্ড এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
অক্টোবর মাসে মোট গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে ৪৪টি। আগের মাসে এ ঘটনা ঘটেছিল ৪৩টি। এ মাসে গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১২। আগের মাসে নিহত হয়েছিলেন ২৪ জন।
তীব্র অর্থ সংকটে সরকার
০১ নভেম্বর ২০২৫, যুগান্তর
তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজস্ব আদায় হ্রাস, বিগত সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়া-এ তিন কারণে মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা করে সামনে এগোতে ও সরকারের পরিকল্পিত চলতি ব্যয় মেটাতেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আর্থিক দুরবস্থার কারণে সরকার কৃচ্ছ সাধনের নীতি গ্রহণ করেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় একেবারেই কম। এরপরও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়ছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। সরকারি খাতের ঋণ বাড়ায় সার্বিকভাবে অভ্যন্তরীণ ঋণপ্রবাহ সামান্য বেড়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সূচকগুলোর হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আইএমএফের এক প্রতিবেদনে সরকারি খাতের ঋণ কমাতে এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বলেছে। তারা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ অব্যাহতভাবে নিম্নমুখিতাকে উদ্বেগজনক হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়েনি। বরং কমেছে দশমিক ০৩ শতাংশ। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট এই দুই মাসেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নেতিবাচক। বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি খাত, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে না। কয়েক বছর ধরেই এ খাতে মন্দা যাচ্ছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে এ খাতে মন্দা আরও প্রকট হয়। এখনও সেই মন্দার প্রভাব কাটছে না।
সরকারের ওপর তিন দলের প্রভাব, জামায়াতের কর্তৃত্ব বেশি: আনু মুহাম্মদ
৩১ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
সুফি–সাধক, মাজার ও দরবারে হামলা, নারীর চলাফেরায় আক্রমণ ও ভিন্নমতের মানুষদের ওপর হামলাকারী ‘মব সন্ত্রাসীদের’ সরকার কোনো কোনো জায়গায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, ‘এ সরকারের ওপর তিনটি দলের প্রভাব আমরা দেখি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আওয়াজ বেশি এবং তাদের কর্তৃত্বও বেশি দেখা যাচ্ছে।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক কনভেনশনের সমাপনী সেশনে এ কথাগুলো বলেন তিনি।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ৫ আগস্ট একটা গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে, যেটাতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছে। বহু বছরের ক্ষোভ, অত্যাচার, শোষণে মানুষ ভয়ংকর রকম ক্ষুব্ধ ছিল। সব স্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছে। এ তাড়ানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের একটা স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। সে স্বপ্ন দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ পরিবর্তনের ফলে কিছু গোষ্ঠী যারা ছদ্মবেশে ছিল, যারা গোপনে ছিল, যারা আগে এক রকম পরিচয় দিত, পরে অন্য রকম পরিচয়ে হাজির হয়েছে, যারা আগে একধরনের সাংগঠনিক পরিচয় দিত, এখন অন্য রকম পরিচয় দেয় এবং একটা প্রতারণার মধ্য দিয়ে যাদের বিকাশ বা যাদের শক্তি, তারা হঠাৎ করে আবির্ভূত হয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করল, যেখানে আরও বেশি বৈষম্য, আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মীয়, লৈঙ্গিক ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে আরও বেশি আতঙ্কের মধ্যে পড়ছে মানুষ।’
এটাকে আওয়ামী লীগ আমলের ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যারা আক্রমণ করছে, তাদের কথা হচ্ছে তাদের মতো করে ধর্ম পালন করতে হবে, তাদের মতো করে চিন্তা করতে হবে, তাদের রাজনীতিকে গ্রহণ করতে হবে। এটাকে ফ্যাসিবাদ বলে। আওয়ামী লীগের সময়ে আমরা এটা দেখেছি এবং সেটারই আরেকটা ভয়ংকর চেহারা আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
স্বাস্থ্য খাতে ৩৩ সুপারিশের মধ্যে বাস্তবায়ন মাত্র ৬টি
০১ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
জনমুখী ও কার্যকর স্বাস্থ্য খাত গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সংস্কার কমিশন চার শতাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ৩৩টিকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ নির্ধারণ করে চলতি বছরে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৩ আগস্ট এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের পর আড়াই মাসে মাত্র ছয়টি বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি সময়ে কীভাবে ২৭টি সুপারিশ মন্ত্রণালয় কার্যকর করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান বলেছেন, তাৎক্ষণিক সম্ভব সংস্কারগুলো করেছি। অনেক সংস্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা জরুরি। কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, যা পরামর্শ ছাড়া বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তবে বাস্তবায়িত সুপারিশের প্রভাব আগামী দেড় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। নির্দিষ্ট সময়ে বাকি ২৭টি সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গত ৫ মে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ১৩ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করে স্বল্প (ছয় মাস), মধ্য (১-২ বছর) ও দীর্ঘ মেয়াদে (২ বছরের বেশি) কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়। ৩৩টি সুপারিশকে স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
জনপ্রশাসন সংস্কারের ২০৮ সুপারিশের মধ্যে বাস্তবায়ন তিনটি
০২ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেই ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন সংস্কারের জন্যও কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন সুপারিশমালা তৈরি করে এরই মধ্যে সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। তবে কয়েক মাস পার হলেও উল্লেখযোগ্য বড় সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮ সুপারিশের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ১৮টি। পরে তার মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত সহজে বাস্তবায়নযোগ্য আটটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র তিনটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন হওয়া প্রস্তাব তিনটি হলো– মহাসড়কের ফিলিং স্টেশনে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, নাগরিকের পাসপোর্ট পাওয়ার মৌলিক অধিকার এবং সব সরকারি দপ্তরে নির্দিষ্ট বিরতিতে গণশুনানি নিশ্চিত করা।
বিএনপির কাছে ২০ আসন চায় এনসিপি, চায় মন্ত্রিসভায়ও হিস্যা
০৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সম্ভাব্য আসন সমঝোতা প্রশ্নে আপাতত বিএনপির দিকেই বেশি ঝুঁকছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বিএনপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা বা যোগাযোগের মধ্যে রয়েছে।
উভয় দলের সূত্র থেকে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে অন্তত ২০ আসনে সমঝোতা করতে চায় এনসিপি। এ ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায়ও হিস্যা চায় দলটি।
এসব প্রস্তাব, দাবি বা আলোচনা—সবই অনানুষ্ঠানিকভাবে চলছে। তবে এনসিপি কার সঙ্গে জোটে যাবে, আসন সমঝোতা করবে নাকি এককভাবে মাঠে নামবে, সে হিসাব এখনো খোলা রয়েছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কেউ কেউ ব্যক্তিপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতেও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ, বিরোধ
০৬ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
প্রার্থী মনোনয়নে জামায়াতে ইসলামীতে অতীতে কখনোই অসন্তোষ, কোন্দল দেখা না গেলেও এবারের নির্বাচনে ক্যাডারভিত্তিক এ দলে তা দেখা গেছে। চারটি আসনে বিরোধ হয়েছে প্রকাশ্যে। আরও চারটি আসনে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলে প্রার্থী মনোনয়নে সংঘর্ষ, বিরোধ সাধারণ ঘটনা হলেও জামায়াতে আগে তা দেখা যায়নি । রুকন (সদস্য), কর্মী, সহযোগী সদস্য– এই তিন স্তর আছে জামায়াতে। সংসদ নির্বাচনে দলটিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের ভোটে প্রার্থী বাছাই করা হয়। এটি অনুমোদন করে কেন্দ্র। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও জামায়াত দলীয়ভাবে যে প্রার্থীকে সমর্থন করেছে, নেতাকর্মীরা তাকেই মেনে নেন। এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
এবার পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রকাশ্য বিরোধ, প্রার্থীকে লাঞ্ছনা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং বিক্ষোভ দেখা গেছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে তৃণমূলের আপত্তিতে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫, গাজীপুর-৬ আসন নিয়ে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। কুমিল্লার দুটি আসনেও অসন্তোষের গুঞ্জন রয়েছে।
বিতর্কিত প্রার্থী নিয়ে বিপাকে বিএনপি
০৭ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু কিছু আসনে বিতর্কিত, অযোগ্য ও হাইব্রিড নেতাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়ে চাপে পড়েছে বিএনপি। এ নিয়ে তৃণমূলে হতাশা আর ক্ষোভ ঝরছে। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ-দুঃখে ফুঁসছেন। এরই মধ্যে বিতর্কিত এক নেতার প্রার্থিতা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে দলটি। অনেক আসনে প্রার্থিতা বদলের আন্দোলন এখনও চলছে। কোথাও সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এই ঘরোয়া দ্বন্দ্বের রাশ টানতে না পারলে অনেক আসন হাতছাড়া হতে পারে বলে শঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।
অসন্তোষ বাড়ছে
চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি ঋণখেলাপি সরওয়ার আলমগীরকে বেছে নিয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় অষ্টম শ্রেণি পাস এই নেতা রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার চৌধুরী। তিনি ফটিকছড়ি বিএনপির আহ্বায়ক। নেতাকর্মীরা বলছেন, সরওয়ার অঢেল টাকার মালিক। সেখানে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর মতো নেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। এটা নিয়ে সবাই ক্ষুব্ধ।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে ‘হেভিওয়েট’ নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর বদলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপাতি কাজী সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সালাহউদ্দিন। এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আন্দোলনের পাশাপাশি গণপদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন।
গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপি বেছে নিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে। বিগত দিনে এই এলাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তারের ঘটনা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে কাজ করছেন আক্তারুল আলম মাস্টার। জনপ্রিয় এই নেতার বিরুদ্ধে ৩০টির ওপর মামলা এবং তিনি চারবার কারাবরণ করেছেন। তার পরও মূল্যায়ান না হওয়ায় ভোটে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে শঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কলিমউদ্দিন মিলনকে। তিনি ওয়ান-ইলেভেনের সংস্কারপন্থি নেতা ছিলেন। এলাকায় নেতাকর্মীর সঙ্গে ভালো যোগাযোগ না থাকলেও তদবিরে মনোনয়ন বাগিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীর। ২০১৮ সালে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। বিগত দিনে তিনি এলাকায় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, মিজানের মতো জনপ্রিয় নেতাকে বাদ দিয়ে মিলনের মতো নেতাকে বাছাই করার খেসারত দলকে দিতে হবে।
নেত্রকোনা-৩ আসন নিয়েও জটিলতা বাড়ছে। সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে রফিকুল ইসলাম হিলালীকে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছেন অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। সেখানে সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল নীরব ভূমিকা পালন করলে আসনটি হাতছাড়া হতে পারে বলে শঙ্কা নেতাকর্মীর।
চাঁদপুর-২ আসনে মো. জালাল উদ্দিনকে প্রার্থী করা হয়েছে। অথচ আন্দোলনের সময়ে স্থানীয় নেতাকর্মী নিয়ে তিনি বনভোজন করায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা তাঁকে প্রবাসী নেতা হিসেবেই চেনেন। এই আসনে ডা. মাহবুবের রহমান শামীম আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও এবার তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।
চাঁদপুর-৪ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি নেতা এম এ হান্নানের অনুসারীরা কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদকে প্রার্থী করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ হান্নানের কর্মী-সমর্থকরা এর বিরোধিতা করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা দোলোয়ার হোসেন দুলু সমকালকে বলেন, এম এ হান্নান যখন কারাগারে গেছেন, মামলা-হামলায় নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তখন হারুন নিরাপদ দূরত্বে ছিলেন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ডা. এ কে এম বাবরকে। অথচ গত ১৭ বছরে এলাকায় তাঁর কোনো অবদান ছিল না। এই আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সরদার মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। এলাকার মানুষ তাঁকে সবসময় কাছে পেয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব না। যারা মনোনয়ন পাননি, তাদের দল অন্যভাবে মূল্যায়ন করবে।
এস আলম ঘনিষ্ঠরাও প্রার্থী
বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠদেরও মূল্যায়ন করেছে বিএনপি। এর মধ্যে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে। তিনি এস আলম ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একসময়ের এই জামায়াত নেতা ২০০৯ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনও করেছিলেন। তাঁর মেয়ে ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি এবি পার্টির যুগ্ম সম্পাদক। অথচ এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহপল্লী উন্নয়ন ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ। বিগত দিনে তিনি এই এলাকায় এককভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। তাঁকে মনোনয়নবঞ্চিত করায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি জারি ইসির, প্রচারে পোস্টার ও ড্রোন নয়
১১ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
ভোটের প্রচারে ড্রোন, পোস্টার ব্যবহার এবং বিদেশে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে আরো বলা হয়েছে, ২০ টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে না, একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ নির্বাচনকে রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটের প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ, অসৎ উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহারে মানা, পোস্টার ও ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ কি করা যাবে, কি করা যাবে না তা তুলে ধরা হয়েছে এ বিধিমালায়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হলেন আলী রীয়াজ
১৩ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অধ্যাপক আলী রীয়াজকে তাঁর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই পদে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি উপদেষ্টার পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
যে চার বিষয়ে হবে গণভোট, একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে মতামত
১৩ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয়।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন ‘আমরা সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না।’ গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভাষণে প্রশ্ন পড়েও শোনান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন প্রশ্নটি হবে এ রকম: ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
সার ডিলারের নতুন নীতিমালা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় বিতরণ
১৪ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কৃষিবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় ও পরামর্শক কমিটিতে অনুমোদনের পর গতকাল বৃহস্পতিবার বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে এটি কার্যকর হবে।
নতুন নীতিমালায় স্বচ্ছ দরপত্র, ডিজিটাল নজরদারি, ডিলার নিয়োগে নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ, এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধকরণ এবং সাব-ডিলার প্রথা বাতিলের মতো বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য একচেটিয়া আধিপত্য ও সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ভাঙা। বছরের পর বছর পরিবহন ঠিকাদার ও ডিলারের প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিল। ফলে কৃষক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতো।
নতুন নীতিমালায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিলারশিপের দ্বৈত কাঠামো বিসিআইসি ও বিএডিসি একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে সরকারি, আধাসরকারি বা বেসরকারি যে উৎস থেকেই সার আসুক, তা একক নীতিমালার আওতায় বিতরণ হবে। আগের মতো ‘বিসিআইসি ডিলার’ ও ‘বিএডিসি ডিলার’ নামে কোনো বিভাজন থাকবে না। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া উভয় ধরনের সার বরাদ্দ একক ব্যবস্থাপনায় হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এর মাধ্যমে বহু বছরের ‘মনোপলি সিন্ডিকেট’ ভাঙার পথ তৈরি হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে কোন দলের দাবি কতটা রাখা হলো
১৪ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সরকার অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছে। এই আদেশ জারির আগে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল।
রাজনৈতিক দলগুলোকে মতভিন্নতা কাটিয়ে সমন্বিত প্রস্তাব দিতে সরকার সাত দিন সময় দিয়েছিল; কিন্তু দলগুলোর মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়নি।
এখন প্রশ্ন হলো, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে কোন দলের আপত্তির কতটুকু বিবেচনায় নিল সরকার।
আগে জেনে নিই জুলাই সনদ কী?
জুলাই সনদ কী
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর জোরালো হয় সংস্কারের দাবি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানদের নিয়ে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যার সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ইউনূস নিজেই।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে ছয়টি কমিশনের ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে স্থান পায়নি স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ। অবশ্য এসব কমিশনের প্রস্তাব সরকার কিছু কিছু বাস্তবায়ন করছে। তবে পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে মনে করেন অংশীজনেরা।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে প্রায় ৯ মাস ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে।
আলোচনায় ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়েই তৈরি হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ, যা সই হয় গত ১৭ অক্টোবর (এনসিপি ও চারটি বাম দল সই করেনি)। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্যই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়েছে এবং তা নিয়ে গণভোট হবে।
হ্যাঁ–না ভোট
যেদিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, সেদিনই গণভোট হবে। নির্বাচনের প্রার্থীকে ভোটের জন্য ভোটারদের যেমন ব্যালট দেওয়া হবে, তেমনি দেওয়া হবে গণভোটের ব্যালট।
গণভোটে প্রশ্ন থাকবে একটি, যেখানে ভোটারদের হ্যাঁ অথবা না ভোট দিতে হবে। প্রশ্নের অধীন প্রস্তাব থাকবে চারটি।
প্রশ্নটি হলো ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
চারটি প্রস্তাব
১. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
৩. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান, সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতাসহ ১০টি প্রস্তাব বিএনপি বা অন্য দলগুলো নিজেদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থাৎ ভিন্নমত অনুসারে বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে কেউ কেউ বলছেন। যদিও আদেশে এগুলো সুনির্দিষ্ট করা হয়নি।
এই চার প্রস্তাবের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ৪৮টি সংবিধানসংক্রান্ত সুপারিশের সব কটিই রয়েছে।
গণভোটে এক প্রশ্নের অধীন চার প্রস্তাব কেন? উত্তর হলো, মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি আমলে নিতে গিয়ে এটা করা হয়েছে।
কোন দলের আপত্তি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হলো
ক) জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল বিএনপি। তারা চেয়েছিল, প্রজ্ঞাপন জারি করে এটা হোক। তাদের যুক্তি, এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই। যদিও জামায়াত সাংবিধানিক আদেশের পক্ষে ছিল।
খ) বিএনপি চেয়েছিল গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ একই দিনে হোক। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট হবে, সেটি আগেই বলেছে সরকার। বিএনপির এ দাবি পূরণ হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে জামায়াতের এই দাবি পূরণ হয়নি। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি করেছিল।
গ) সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির আপত্তি ছিল। বিএনপির চাওয়া ছিল, উচ্চকক্ষে ১০০ আসন বণ্টন হোক নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে। ধরা যাক, নিম্নকক্ষে একটি দল ১৫০টি আসন পেয়েছে। তাহলে উচ্চকক্ষে তাদের আসন হবে ৫০টি। উচ্চকক্ষ নিয়ে বিএনপির এ ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে জামায়াত ও এনসিপির দাবি পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ সংসদ নির্বাচনে দলগুলো যে অনুপাতে ভোট পাবে, সে অনুপাতে আসন বণ্টন হবে উচ্চকক্ষে। যদি কোনো দল ১০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে উচ্চকক্ষে আসন পাবে ১০টি। সদস্যদের নাম তারা ঠিক করবে।
ঘ) সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা, অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের ভোট দরকার হবে। বিএনপি সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি উচ্চকক্ষে নেওয়ার বিপক্ষে। বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি।
ঙ) বিএনপি চেয়েছিল নোট অব ডিসেন্ট, অর্থাৎ ভিন্নমত অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা হোক। অর্থাৎ নির্বাচনে জয়ী হলে তারা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে বিএনপির দাবি আংশিক পূরণ হয়েছে। মূল বিষয়গুলোতে বিএনপির ভিন্নমত আমলে নেওয়া হয়নি। যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), মহাহিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ ও ন্যায়পাল নিয়োগ।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিএনপি চেয়েছিল দুদকে নিয়োগ আইনের মাধ্যমে সরকার করবে। সেটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাখা হয়নি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দুদকে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ হবে বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে। এই কমিটি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতির (প্রধান বিচারপতি ব্যতীত) নেতৃত্বে হবে। কমিটিতে হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার একজন করে প্রতিনিধি এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটি নাম প্রস্তাব করবে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন।
চ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল। তা আমলে নেওয়া হয়নি।
ছ) এনসিপি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চেয়েছিল। সেটি অনেকটা হয়েছে। তবে ঐকমত্য কমিশনের একটি বিকল্প সুপারিশে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ে সংসদ সংস্কার প্রস্তাবগুলো অনুমোদনে ব্যর্থ হলে সেগুলো ২৭০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। এটি নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপির। সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশটি আমলে নেয়নি।
জ) এনসিপি চেয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করবেন। কারণ, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আপত্তি ছিল, যদিও বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আদেশ জারি করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির নামেই আদেশ জারি হয়েছে।
ঝ) এনসিপি গণপরিষদ গঠন অথবা আগামী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে ছিল। জামায়াতও দ্বৈত ভূমিকা দেওয়ার পক্ষে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে আগামী সংসদকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। যদিও বিএনপি সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষমতা দেওয়ার বিপক্ষে ছিল।
হঠাৎ বাংলাদেশে প্রতিবেশী তিন রাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইসলামপন্থী নেতারা
১৪ নভেম্বর ২০২৫, বাংলা স্ট্রিম
ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ধর্মীয় বক্তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতা এখন বাংলাদেশে। তাঁরা এসেছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশে যোগ দিতে। এমন সময়ে তাঁদের আগমন ঘটেছে, যখন বাংলাদেশের রাজনীতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এক ধরনের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির মাঠে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে ইসলামি দলগুলোও। এমন পরিস্থিতি তাঁদের সফর জন্ম দিয়েছে নতুন আলোচনার।
ঢাকায় ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর যে নেতারা অবস্থান করছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাওলানা ফজলুর রহমান, ওই সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল গফুর হায়দরি। সঙ্গে আছেন মাওলানা ফজলুর রহমানের ছেলে মাওলানা আসাদ মাহমুদসহ পাকিস্তান জমিয়তের আরও দুজন নেতা। আসাদ মাহমুদ আবার ছিলেন পাকিস্তানের যোগাযোগমন্ত্রী।
এর বাইরে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির মারকাযু নাদিমুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক ও ধর্মীয় বক্তা মাওলানা সাইয়েদ ফয়সাল নাদিম শাহ, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, ইউসুফ বিন্নুরি টাউন মাদ্রাসার সহপরিচালক ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরি, দারুল উলুম করাচির উপ-উপাচার্য মাওলানা যুবায়ের উসমানি, পাঞ্জাবের সারগোদার মারকাজ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের প্রধান মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান প্রমুখও বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশে এই সময়ে আরও রয়েছেন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’ ভারতের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সায়্যিদ মাহমুদ মাদানি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেপালের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মাওলানা খালেদ সিদ্দিকি, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার পরিচালক বা মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, মাওলানা সাইয়েদ মওদুদ আসআদ মাদানি।
গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার পরে এমিরেটসের একটি বিমানে ঢাকায় পৌঁছান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুর রব ইউসুফী ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীসহ জমিয়তের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি মুখে এক, ভেতরে আরেক
১৫ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি মুখে স্বাগত জানালেও দলটি ভেতরে ভেতরে নাখোশ। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও ভেতরে ভেতরে সন্তুষ্ট। সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারা মেনে নিয়েছে। কোনো দলই আদেশ-গণভোট প্রত্যাখ্যান বা আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে না।
দল তিনটির সূত্র সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এটি জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আদেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন এবং গণভোট হবে। এটিই ছিল বিএনপির প্রধান দাবি। এ দাবি পূরণ হওয়ায় আট সংস্কার প্রস্তাবে থাকা দলটির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) গণভোটে না রাখার বিরোধিতা করতে পারছে না বলে বিএনপি সূত্র জানায়। দলটি আদেশ জারি এবং আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেরও বিপক্ষে ছিল।
সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আটকে যেতে পারে আশঙ্কায় আদেশ জারি এবং পরিষদ গঠনের বিধানের বিরোধিতা না করে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবারের বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে।
জামায়াতের প্রধান দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে গণভোট। এটি পূরণ না হওয়ায় দলটি সমমনাদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নোট ডিসেন্ট উপেক্ষা করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের মতো সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে দেওয়ায় জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে জামায়াত সূত্র। সমমনা আট দলের মূল্যায়ন, বিএনপির তুলনায় তাদের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। না ভোটের প্রচার চালালে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে ভোটের মাঠে তুলে ধরে নির্বাচনে সুবিধা আদায় করা যাবে। আবার বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলেও গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে না।
এনসিপি আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আদেশ জারির বিরুদ্ধে ছিল। তাদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা বলে আদেশ জারি করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় দলটি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখালেও, আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান থাকায় এনসিপিও সন্তুষ্ট। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে যাওয়ায় এ দলটি ভেতরে ভেতরে উচ্ছ্বসিত বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমবে, সংবিধান সংশোধন কঠিন
১৫ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ গণভোটে পাস হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যের সংখ্যা কিছু ক্ষেত্রে সমান হবে; কিছু ক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রাধান্য থাকবে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ সদস্যের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। এর ফলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা থাকবে না।
এ ছাড়া গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংসদ নির্বাচনে পাওয়া ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদের উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে। সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন করতে হলে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাগবে। সংসদ নির্বাচনে কোনো দল ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট না পেলে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না। ফলে ক্ষমতাসীন দলের জন্য সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতি যে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছেন, তাতে এসব বিধান রয়েছে। আদেশের মর্যাদা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিদ্যমান সংবিধানে আদেশ জারির বিধান নেই। তবে সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে এমন অধ্যাদেশ জারি করা যাবে না, যা সংবিধানকে পরিবর্তন করে। অধ্যাদেশ আইনের সমতুল্য, যা অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে উত্থাপনের মাধ্যমে পাস করাতে হয়। এই সময়ের মধ্যে উত্থাপন না করলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
সরকার নির্বাহী ক্ষমতায় প্রজ্ঞাপন, বিধিমালা, নীতিমালা ও প্রবিধান জারি করতে পারে। এগুলোর মর্যাদা আইনের চেয়ে কম। গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সই করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিলুপ্ত ঐকমত্য কমিশন সংবিধানের সমতু্ল্য আদেশ জারির সুপারিশ করেছিল। সুপারিশ অনুযায়ী এ আদেশের ওপর গণভোট হবে।
১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি অস্থায়ী সংবিধান আদেশ জারি করেছিলেন। ১৯৭৫ থেকে পরবর্তী দুই বছরে, সামরিক শাসনের সময়ে ১০ বার আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এসব আদেশের মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ১৯৮২ থেকে পরবর্তী চার বছরে সামরিক শাসনের সময়ে আদেশ জারি করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতিরা। সামরিক শাসনে সংবিধান পুরোপুরি বাতিল না হলেও, কিছু অংশ স্থগিত ছিল।
বিদ্যমান সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান নেই। তার পরও গত বছরের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তা গঠিত হয়েছে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ে গণভোটের জন্য সরকারের পরামর্শে রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেছেন বলে বৃহস্পতিবারের আদেশে বলা হয়েছে। যেসব ধারা অবিলম্বে তথা আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদ সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।
কমবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বাদে রাষ্ট্রপতিকে সব কাজ করতে হয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। ফলে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রীই থাকেন সর্বেসর্বা। প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমাতে অনেক দিন ধরে আলোচনা ছিল।
অভ্যুত্থানের পর গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোও এ বিষয়ে সুপারিশ করে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার কারণেই স্বৈরশাসনের উদ্ভব হয়। বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে হবে।
গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার সংস্কার প্রস্তাব কার্যকর করেছে। ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপি সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগে সাংবিধানিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে। যদিও সাংবিধানিক কমিটির নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে একমত হয়েছে বিএনপি।
বিদ্যমান আইনে সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য চার কমিশনার নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ব্যক্তিরাই নিয়োগ পান নির্বাচন কমিশনে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের এক বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। কমিটি যাদের নাম প্রস্তাব করবে তাদেরই নিয়োগ দিতে বাধ্য থাকবেন রাষ্ট্রপ্রধান।
পিএসসি ও সিএজিতে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। দুদকের নিয়োগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে হলেও তা প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রিত। সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পালের বিধান থাকলেও এ পদে কখনও নিয়োগ হয়নি। ফলে সরকারের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতাসম্পন্ন পদটি অকার্যকর।
জুলাই সনদ অনুযায়ী পিএসসি, সিএজি, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে। দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে অনুরূপ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ-সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি ন্যায়পাল ও দুদকের নিয়োগে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পিএসসি এবং সিএজির নিয়োগে বিদ্যমান ব্যবস্থা তথা প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়। বিএনপি বলছে, এসব প্রতিষ্ঠানে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হলে তা নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারকে দুর্বল করবে। জামায়াত, এনসিপিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এসব সংস্কার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।
তবে সনদ বাস্তবায়ন আদেশের গণভোটে থাকছে না নোট অব ডিসেন্ট। আদেশে বলা হয়েছে, চার বিষয় নিয়ে একটি প্রশ্নে হবে গণভোট। প্রথম বিষয় হলো, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।’ আদেশ অনুযায়ী, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে সনদ অনুযায়ী নিয়োগ কমিটি গঠন করবে আগামী সংসদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ।
নিয়োগ কমিটিতে কারা থাকবেন
সনদে বলা হয়েছে, ন্যায়পাল নিয়োগ হবে সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। এর মধ্যে দুই সদস্য হবেন সরকারি দলের– স্পিকার ও সংসদ নেতা। স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। তিন সদস্য হবেন বিরোধী দলের– ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি। রাষ্ট্রপতি সরকারি দলের হলে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধীদের সমতা থাকবে কমিটিতে।
সনদে বলা হয়েছে, পিএসসিতে নিয়োগ হবে সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। এর মধ্যে দুই সদস্য হবেন সরকারি দলের– স্পিকার ও সংসদের চিফ হুইপ। স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। তিনজন সদস্য হবেন বিরোধী দলের– ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের প্রতিনিধি। কমিটির অন্য দুই সদস্য হবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষা অথবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি।
সনদ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদে এমপির সংখ্যানুপাতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বণ্টন হবে। জনপ্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো কমিটির সভাপতি পদ সরকারি দল যদি বিরোধী দলকে দেয়, তবে পিএসসির নিয়োগ কমিটিতে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে। নয়তো সরকারি দলই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে।
সনদে বলা হয়েছে, সিএজি নিয়োগ হবে সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। এর মধ্যে দুই সদস্য হবেন সরকারি দলের– সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ। দুই সদস্য হবেন বিরোধী দলের– ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতা। ডেপুটি স্পিকার হবেন কমিটির সভাপতি। বাকি তিন সদস্য হবেন– জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। সনদ অনুযায়ী সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পাবে বিরোধী দল। ফলে এ কমিটিতে চার সদস্য হবেন সরকারি দলের এবং তিনজন বিরোধী দলের।
সনদে বলা হয়েছে, দুদকে নিয়োগ হবে সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। বাকি পাঁচজন নিরপেক্ষ– আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, সিএজি ও পিএসসি চেয়ারম্যান এবং প্রধান বিচারপতি মনোনীত একজন। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি হবেন কমিটির সভাপতি।
সংবিধান সংশোধন কঠিন হবে
পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনেও নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে বিএনপির। কিন্তু জামায়াতসহ অন্যান্য দলের দাবি ছিল– উচ্চকক্ষে পিআর হতে হবে। সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করা হয়েছে। গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এতে বলা হয়েছে, আগামী সংসদ হবে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট। নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদেস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। আদেশের ১৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, সংস্কার বাস্তবায়নের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন সম্পন্ন হবে।
অতীতে নির্বাচনে ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকারি দলের সংসদে দুই শতাধিক বা দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার নজির রয়েছে, যা সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দেয়। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দলগুলো ইচ্ছামাফিক সংবিধান সংশোধন করায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটগুলোর উদ্ভব। যেমন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪৮ শতাংশ ভোটের মাধ্যমে সংসদে ২৩২ আসন পায়। এর জোরে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে, যা পরে স্বৈরশাসনের পথ খোলে।
এ অভিজ্ঞতায় সনদে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ নির্বাচনে যত শতাংশ ভোট পাবে, উচ্চকক্ষে তত শতাংশ আসন পাবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের ৫১ সদস্যের সমর্থন লাগবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি দল নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে বা উচ্চকক্ষে অন্য দলের সমর্থন না পেলে সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
তবে উচ্চকক্ষ সরকারের কাজে বাধা তৈরি করতে পারবে না। সরকার গঠিত হবে সরাসরি নির্বাচিত নিম্নকক্ষের সদস্যদের (এমপি) ভোটে। নিম্নকক্ষ বর্তমান পদ্ধতিতেই বাজেট প্রণয়ন এবং তা অনুমোদন করবে। তা উচ্চকক্ষে যাবে না। অর্থবিলেও উচ্চকক্ষের অনুমোদন লাগবে না। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া অন্যান্য আইনের বিল উচ্চকক্ষ দুই মাসের মধ্যে অনুমোদন দেবে। নইলে পাস বলে গণ্য হবে। উচ্চকক্ষ আইন প্রণয়ন করতে পারবে না। তবে আইন করার জন্য নিম্নকক্ষকে প্রস্তাব করতে পারবে। শুধু সংবিধান সংশোধন বিলে উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
আরও যেখানে কমছে ক্ষমতা
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে আস্থা ভোট এবং বাজেট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে দলীয় এমপিদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমবে। সনদে বলা হয়েছে, কেউ জীবনে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। বিএনপিসহ প্রায় সব দল এই দুই সংস্কারে একমত।
সনদে প্রস্তাব করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না। এই প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। আদেশের ঘ অনুযায়ী এটিসহ ১০টি সংস্কার প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা যাবে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগ দিতে পারবেন। এটি বাস্তবায়নও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর ছাড়া হয়েছে গণভোটে।
মেটামডার্ন প্রশাসকের ন্যায্য নগরের রিপোর্ট কার্ড এখনো শূন্য
১৫ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
তীব্র যানজট, বেদখল ফুটপাত, পার্ক, মাঠ আর দখলে-আবর্জনায় দুর্দশাগ্রস্ত জলাশয়ের শহর ঢাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক হিসেবে শপথ নেন রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ। দায়িত্ব নেয়ার পর ‘ন্যায্য ঢাকা’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন রাজধানীর নগরশাসন হয়তো নতুন ধরনের চিন্তার দিকে যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে ‘মেটামডার্ন মিউনিসিপ্যালিজমের’ সূচনা হিসেবেও দেখেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক ব্যাপক। নাগরিক ভোগান্তি, অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা আগের মতোই চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি নেই। ফুটপাত-ফুটওভার ব্রিজ নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী হয়নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ব্যর্থ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোহাম্মদ এজাজ দীর্ঘ সময় খাল-জলাশয় ও নদী নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করেছেন। এসব বিষয়ে সরকারের পলিসি লেভেলে কী ধরনের ত্রুটি হয়ে থাকে তা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। প্রশাসক হওয়ার পর গত নয় মাসে তার কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তারা বলছেন, এখনো ঢাকার নগর জীবনে ন্যায্যতা তো দূরের কথা ন্যূনতম পরিবর্তনটুকুও আসেনি।
নতুন পোশাকে নেমেছে পুলিশ
১৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাক বাহিনীর সদস্যদের গায়ে উঠেছে।
আজ শনিবার থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশসহ (ডিএমপি) দেশের সব মহানগর পুলিশ ও বিশেষায়িত ইউনিটে নতুন পোশাক পরেছে পুলিশ। তবে জেলা পুলিশ এখনো তা পায়নি। পর্যায়ক্রমে তারাও নতুন পোশাক পাবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠার পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠলে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পোশাক অনুমোদন করে। এরই অংশ হিসেবে মহানগর পুলিশে লৌহ রঙের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ এই পোশাক পরবে।
আদানির মতো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের?
১৬ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
ভারতের আদানি পাওয়ার ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট) সই হয়। চুক্তিটি দীর্ঘদিন গোপন ছিল এবং এতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বহু শর্ত রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আদানি পাওয়ারের এ নেতিবাচক অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলোয় বিদেশী অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া উচিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, আদানির মতো চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নকে ঘিরেও একই ধরনের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিদেশী অপারেটরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়নবিষয়ক একাধিক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
এসব চুক্তির খসড়া, বিশেষ করে চুক্তির গ্যারান্টি, ইনডেমনিটি, টার্মিনেশন বা পরিবেশসংক্রান্ত ধারাগুলো এখনো সাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ধারা নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতার থাকলে তা আগামীতে যে সরকারই আসুক, তাদের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা ঘটেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে সই হওয়া আদানির সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বন্দরের যেকোনো মালিকানা বা পরিচালনাসংক্রান্ত চুক্তি কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, ভূরাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও পরিণত হয়। ফলে চুক্তিতে থাকা সংবেদনশীল ধারা যাচাই-বাছাইসহ অংশীজনদের মতামত ও বিভিন্ন ধরনের পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে হতে যাওয়া চুক্তিগুলোয় কী আছে তা কেউ জানে না।
অস্বাভাবিক দ্রুততায় লালদিয়া পানগাঁও টার্মিনালের চুক্তি
১৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বন্দরের সঙ্গে ডেনমার্কের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালসের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে আজ সোমবার। ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এদিন সকালে এই চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। অস্বাভাবিক দ্রুততায় এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
একই দিন বিকেলে একই স্থানে ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল নিয়েও চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছর মেয়াদে পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি হবে ৩৩ বছর মেয়াদি। এই মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকছে চুক্তিতে। এপিএম টার্মিনালস ডেনমার্কের মালিকানাধীন হলেও এটির নিবন্ধন নেদারল্যান্ডসে।
লালদিয়ার প্রকল্পে বাংলাদেশের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী (ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার) বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রতিবেদনে টার্মিনাল অপারেটরের (এপিএম টার্মিনালস) প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর চুক্তি পর্যন্ত কার্যক্রম শেষ করতে ৬২ দিন সময়সীমা ধরা হয়েছিল। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্বাভাবিক দ্রুততায় মাত্র দুই সপ্তাহে এই কার্যক্রম শেষ করেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও সে সময় তাড়াহুড়া ছিল না। স্বাভাবিক গতিতে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তবে ৪ নভেম্বর এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব দাখিলের পরই অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নেয় বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
লালদিয়া চুক্তি
৪ নভেম্বর: এপিএম টার্মিনালসের প্রস্তাব দাখিল।
৫ নভেম্বর: কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন।
৬ নভেম্বর: আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন।
৯ নভেম্বর: বন্দর ও এপিএম টার্মিনালসের মধ্যে নেগোসিয়েশন। (৭–৮ নভেম্বর ছুটির দিনে নেগোসিয়েশন হয়েছে বলে অভিযোগ)
৯ নভেম্বর: বন্দর বোর্ড সভায় অনুমোদন।
১০–১১ নভেম্বর: নৌপরিবহন ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন।
১২ নভেম্বর: অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় অনুমোদনের সুপারিশ।
১৬ নভেম্বর: প্রধান উপদেষ্টার চূড়ান্ত অনুমোদন।
১৬ নভেম্বর: এপিএম টার্মিনালসকে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান
১৭ নভেম্বর: চুক্তির দিন।
পানগাঁও নৌ টার্মিনাল চুক্তি:
৬ নভেম্বর: কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা।
৯ নভেম্বর: আর্থিক মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা।
১০ নভেম্বর: বন্দর থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
১৭ নভেম্বর: চুক্তির দিন।
বন্দরের বিষয়ে অভিজ্ঞ দুজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে জানান, এই ধরনের চুক্তি খুব সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হয়। কারণ, চুক্তির কোনো শর্তের কারণে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত না হলে পরে তার খেসারত দিতে হতে পারে। যার বড় উদাহরণ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার জিবুতিতে। সেখানে ২০০৪ সালে একটি টার্মিনাল নির্মাণে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জিবুতির যে চুক্তি হয়, তার শর্তগুলো ছিল অপারেটরের অর্থাৎ ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে। পরে জিবুতি সরকার চুক্তি বাতিল করলেও ডিপি ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত জিবুতি সরকারকে সুদসহ ৩৮৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং স্বত্ব বাবদ আরও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
যেভাবে অস্বাভাবিক দ্রুততায় চুক্তি
জানা গেছে, ৪ নভেম্বর এপিএম টার্মিনালস কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। ৫ নভেম্বর প্রস্তাবের কারিগরি মূল্যায়ন করা হয়। আর ৬ নভেম্বর আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের পর ওই দিনই শুরু হয় দর–কষাকষি। বন্দর সূত্র জানায়, সরকারি ছুটির মধ্যে ৭ ও ৮ নভেম্বর শুক্র ও শনিবার দর–কষাকষি শেষ হয়। তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ৯ নভেম্বর দর–কষাকষি শেষ হয়েছে।
একই দিন বন্দরের বোর্ড সভায় এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সভায় অনুমোদনের পর সারসংক্ষেপ একই দিন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরদিন তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। আর ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এই প্রস্তাব তোলা হলে তা অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
জানা গেছে, অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় অনুমোদনের সুপারিশে গতকাল রোববার চূড়ান্ত অনুমোদনে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এরপর এপিএম টার্মিনালসের কাছে চুক্তির জন্য লেটার অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় গতকালই। লেটার অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার পর চুক্তির জন্য সাধারণত দুই সপ্তাহ সময় থাকে। অথচ এ ক্ষেত্রে এক দিনের কম সময়ে চুক্তি হতে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
পানগাঁও চুক্তিও দ্রুত হচ্ছে
লালদিয়ার মতো পানগাঁও নৌ টার্মিনালের চুক্তিও দ্রুত সময়ে হচ্ছে। ৬ নভেম্বর পানগাঁও নৌ টার্মিনালের কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জমা দেয় এ–সংক্রান্ত কমিটি। এরপর ৯ নভেম্বর আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হয়। পরদিন তা অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল পর্যন্ত দরপত্রের অন্যান্য ধাপের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। অর্থাৎ কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের এক থেকে দেড় সপ্তাহের মাথায় সব প্রক্রিয়া শেষ করে চুক্তি হচ্ছে।
এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য মেডলগ এসএ ১০৮ কোটি টাকার আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে দর-কষাকষিতে করে তা প্রায় ১২১ কোটি টাকায় চূড়ান্ত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ২০১৩ সালে ১৫৬ কোটি টাকায় এই টার্মিনাল গড়ে তোলে।
তাড়াহুড়ায় সন্দেহ
লালদিয়ার দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির সব বিষয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই। কারণ, এতে ‘নন–ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ অর্থাৎ গোপনীয়তা বজায় রাখার অংশ রয়েছে। চুক্তির কতটুকু প্রকাশ করা হবে আর কতটুকু প্রকাশ করা হবে না, তা জানা যাবে চুক্তির দিন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গোপনীয়তা ও তাড়াহুড়া করে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই চুক্তি জনগণের প্রতি গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দায়িত্ব নেওয়া সরকারের চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিহ্নিত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলার মতো জরুরি বিষয় বাদ দিয়ে বন্দর নিয়ে সরকারের তাড়াহুড়া সন্দেহ তৈরি করে। এতে বোঝা যায়, বিদেশি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা কমিশনভোগীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড
১৭ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
গত বছরের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী ছাড়াও জুলাই আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে সরকারের চুক্তি
১৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই চুক্তি করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। এতে ডেনমার্ক, বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
চুক্তিতে সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
ডেনমার্কের পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইবিএস এপিএম টার্মিনালসের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ভাস্কর সেনগুপ্ত, ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি লিনা গান্ডলোসে হ্যানসেন ও বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.) ও নৌপরিবহন সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনবলেন, ‘এই চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য বড় অবদান। যাঁদের মধ্যে এ নিয়ে সন্দেহ ছিল, আশা করি, আজ তা দূর হবে।’ তাঁর আরও আশা, এই ধারাবাহিকতায় মোংলা সমুদ্রবন্দর পরিচালনায়ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, ‘লালদিয়া দেখিয়ে দিয়েছে—পিপিপি শুধু তত্ত্বে নয়, বাস্তবেও কার্যকর। ভবিষ্যতেও আমরা বাস্তবায়ন-কেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেই মনোযোগ দেব।’ তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক বছরে চারটি নতুন সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে আছে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ও একটি নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে ইজারার প্রতিবাদে মশালমিছিল
১৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তির প্রতিবাদে মশালমিছিল ও সমাবেশ করেছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন’। এ সময় অনতিবিলম্বে এই চুক্তি থেকে সরে আসতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মশালমিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের লাভজনক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লালদিয়া বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করছিল। সরকার জনগণের মতামত ও বাধাকে উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি সম্পাদন করেছে। এতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার এই দেশবিরোধী চুক্তি থেকে সরে না এলে অধ্যাপক ইউনূসের অবস্থাও শেখ হাসিনার মতোই হবে।
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের হত্যাযজ্ঞের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
১৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিচার ‘সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত কোনোটিই হয়নি’ বলে মনে করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার্ড বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সে জন্য যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও বিচারকাজ হতে হবে। কিন্তু এই বিচার ও সাজা কোনোটিই সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত হয়নি। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি পাওয়া দরকার। অথচ মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি। কোনো ন্যায়বিচার ব্যবস্থায় এর (মৃত্যুদণ্ডের) স্থান নেই।’
২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হন উল্লেখ করে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আহত ও নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচারের জন্য অত্যন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া প্রয়োজন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড বজায় রেখে করা হবে। সেখানে এই মামলার বিচার সেই আদালতে পরিচালিত হয়েছে, যে আদালতের (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) স্বাধীনতার ঘাটতি ও অন্যায্য বিচার কার্যক্রমের জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘(আসামিদের) অনুপস্থিতিতে এই বিচারের কার্যক্রম নজিরবিহীন দ্রুতগতিতে করা হয়েছে এবং এ রায় এই মাত্রার ও গুরুত্বের মামলার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। আদালত নিযুক্ত আইনজীবী শেখ হাসিনার প্রতিনিধিত্ব করলেও তিনি (বিবাদীকে) রক্ষার্থে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পেয়েছেন। ন্যায়সংগত না হওয়া বিচারের এ ধরনের সূচকগুলো আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব প্রমাণকে বিরোধপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই (ক্রস এক্সামিনেশন) করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।’
চট্টগ্রাম বন্দরের দুই টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বে বিদেশিরা
১৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
নানা আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি টার্মিনাল নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে একটি এবং ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে অন্য চুক্তিটি হয়।
আজ সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত পৃথক দুই অনুষ্ঠানে চুক্তি দুটি সই হয়েছে। তবে স্বাক্ষরটা প্রকাশ্যে হলেও চুক্তিতে বিস্তারিত কী কী শর্ত রয়েছে এবং কী কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। যদিও নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেছেন, চুক্তির বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। এদিকে চুক্তির বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পক্ষ বিবৃতি দিয়েছে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে করা চুক্তিতে সই করেন ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। এ সময় ডেনমার্কের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইবিএস এপিএম টার্মিনালসের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ভাস্কর সেনগুপ্ত, ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট সেক্রেটারি লিনা গান্ডলোসে হ্যানসেন ও বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার। আর বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) ও নৌপরিবহন সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে পানগাঁও নৌ টার্মিনালবিষয়ক চুক্তিতে সই করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও মেডলগ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ টি এম আনিসুল মিল্লাত। এখানেও নৌপরিবহন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুসারে, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য এটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় এ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য কোম্পানিটি ৫৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের পরপরই ২৫০ কোটি টাকা ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, ২২ বছরের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এসএর হাতে। এ টার্মিনালে মোট ৪ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে মেডলগ। এ ক্ষেত্রে সাইনিং মানি হিসেবে তারা বাংলাদেশকে দিয়েছে ১৮ কোটি টাকা।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লালদিয়া টার্মিনালে বছরে আট থেকে দশ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানোর সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে আট লাখ পর্যন্ত প্রতি একক কনটেইনারে ২১ ডলার (প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা) করে পাবে সরকার। আর আট লাখের বেশি কনটেইনার ওঠানো–নামানো হলে প্রতি একক কনটেইনারের জন্য পাবে ২৩ ডলার করে।
অন্যদিকে পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বছরে ১ লাখ ৬০ হাজার একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হবে বলে জানিয়েছে মেডলগ। প্রতি একক কনটেইনার থেকে ২৫০ টাকা করে পাবে সরকার।
লালদিয়া টার্মিনালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জন্য বড় অবদান। যাঁদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে সন্দেহ ছিল, আশা করি তা দূর হবে।’
পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও আশিক চৌধুরী বলেন, ‘লালদিয়া দেখিয়ে দিয়েছে পিপিপি শুধু তত্ত্বে নয়, বাস্তবেও কার্যকর। ভবিষ্যতেও আমরা বাস্তবায়নকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেই মনোযোগ দেব।’ এ সময় আগামী কয়েক বছরে চারটি নতুন বন্দর বাস্তবায়নের কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।
আইনি ও কারিগরি অসংগতি রেখেই লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি
১৮ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে পরিচালনার জন্য এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে পরিচালনার জন্য এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যদিও গতকাল চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত বন্দরের এ পিপিপি প্রকল্পের সরকারি শর্তগুলোই পূরণ হয়নি। অথচ পিপিপি আইনে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন কখনই চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। নিয়ম অনুযায়ী শর্ত পূরণের পর (প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুপারিশকৃত শর্তগুলো পরিপূর্ণ করে) পুনরায় পিপিপি কমিটি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের এ ধাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি কেন এবং কোন ভিত্তিতে করা হলো?
শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন, যা বলা আছে নথিতে: ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩৭তম সভায় লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পকে পিপিপি আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৪ এবং পিপিপি ক্রয় বিধিমালা, ২০১৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ‘নীতিগতভাবে অনুমোদনযোগ্য’ বলা হয়। তবে শর্ত ছিল লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং পাওয়া সাপেক্ষে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়নি, বরং শর্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ১৬ নভেম্বর স্বাক্ষরিত ভেটিং রিপোর্টে ছয় দফায় আইনি ও কারিগরি অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিভাগ, যে বিভাগ আইনের খসড়া তৈরি, পরীক্ষা এবং সংসদ কর্তৃক পাস হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ পরিচালনা করে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের এ লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পিপিপি প্রকল্পের বিডার এপিএম টার্মিনালস বিভির দাখিল করা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে কনসেশন এগ্রিমেন্টটি ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ সুনির্দিষ্টভাবে যেসব মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরে সেসব বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এপিএম টার্মিনালস বিভির মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার অনুরোধ জানায়।
কী আছে ভেটিং রিপোর্টে: প্রকল্পের মূল অনুমোদনের তারিখই খসড়ায় নেই। এতে এসিসিইএ (অ্যাডভাইজরস কাউন্সিল কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) কর্তৃক বিবেচ্য প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের তারিখ ফাঁকা রাখা হয়েছে। লেজিসলেটিভ বিভাগ বলেছে, ২৯ নভেম্বর ২০২৩ প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন পায়। এটি এমন একটি ত্রুটি, যা ভবিষ্যৎ আইনি ব্যাখ্যায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কর-শুল্ক-রাজস্ব বিষয়ে এনবিআরের মতামত লাগবে কিনা সেটি পরীক্ষা করা হয়নি। চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে কর ও আর্থিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট নয়। যেমন আর্টিকেল ১১.১ (বি), ১৩.৫, ৫২.২ (সি), ৬২.২ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত হলো, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ/জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতামত প্রয়োজন কিনা তা যাচাই করতে হবে। এটি বন্দর প্রকল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজস্ব ভাগাভাগি ও ট্যারিফ কাঠামো সরাসরি রাষ্ট্রীয় আয়ের সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়া এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা বিষয়ে সৌদি আরবভিত্তিক আরএসজিটির সঙ্গে যে পরিচালন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের সময় দেখা গেছে—চুক্তি সম্পাদনের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভেটিং না থাকায় ওই চুক্তির বেশকিছু দিক এনবিআরের প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে। ফলে আরএসজিটি কর্তৃক দীর্ঘদিন পিসিটির কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এপি মুলারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রিমিয়াম, ইন্স্যুরেন্স, পেমেন্ট কাঠামোতে আর্থিক ধারাগুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আর্টিকেল ৪০.২ (বি), ৪০.২ (সি), ৪০.২ (ডি)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভেটিং মন্তব্য হলো এসব ধারা রাষ্ট্রের আর্থিক দায়, ঝুঁকি এবং ক্ষতিপূরণ কাঠামো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরামর্শ নেয়ার আবশ্যকতা পরীক্ষা করে দেখার কথা উল্লেখ করা হয়।
কমপেনসেশন ইভেন্ট, আর্টিকেল ৪৭, ইভেন্ট অব ডিফল্ট চুক্তির জরুরি ধারা পুনরায় পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, কোন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে? কোন ঘটনার ফলে অপারেটর ডিফল্ট হিসেবে গণ্য হবে? চুক্তিতে এসব ধারার অংশে পুনঃনিশ্চিত হওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
এক বছরে চারবার আইন সংশোধন
১৮ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আইন চারবার সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছর ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আসে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে প্রথম সংশোধনী আনা হয় গত বছর নভেম্বরে। আগে শুধু বাংলাদেশের ভেতরে সংঘটিত অপরাধকে আমলে নিতে পারতেন ট্রাইব্যুনাল। ২৪ নভেম্বর তা সংশোধন করে দেশের বাইরে থেকে সংঘটিত অপরাধও ট্রাইব্যুনালে আমলে নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়। এরপর ভারতে বসে ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়ায় আদালত অবমাননার দায়ে শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ সংশোধনীতে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে যে কোনো দেশের নাগরিক বাংলাদেশের ভেতরে এই আইনে উল্লিখিত অপরাধ করলে তার বিচার করা যাবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা, যে কোনো বাহিনীর বিচার করা যাবে। আক্রমণ, নিপীড়ন, গুম, যৌনদাসী, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক গর্ভধারণ ও জোরপূর্বক বন্ধ্যা করা এ আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তদন্ত কর্মকর্তা যে কোনো স্থান তল্লাশি করতে পারবেন; যে কোনো নথিপত্র জব্দ করতে পারবেন। আসামিপক্ষ ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে বিচারের যে কোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত সাক্ষী হাজির ও নথি উপস্থাপন করতে পারবেন। ট্রাইব্যুনাল কোনো শুনানির অডিও বা ভিডিও করতে পারবেন; শুনানিতে অডিও বা ভিডিও দেখাতে পারবেন; ট্রাইব্যুনাল চাইলে ভার্চুয়াল শুনানির আয়োজন করতে পারবেন; সেখানে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হবে না। ট্রাইব্যুনাল বিদেশি আইনজীবীকে বিচারকাজে অংশ নিতে দিতে পারবেন। আগের আইনে এসবের অনুমোদন ছিল না।
এই সংশোধনীর পর শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির অডিও ক্লিপ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দ্বিতীয় দফা পরিবর্তন আনা হয় চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি। ওই সংশোধনীর নাম রাখা হয় ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’। সংশোধনীতে আগে আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ছয় সপ্তাহ সময় পেতেন। সংশোধনীতে তা কমিয়ে তিন সপ্তাহ করা হয়। এতে বিচারের সময় কমে যায়। ট্রাইব্যুনালকে আরও কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয় দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে। যেমন– ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ করতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল। বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন এবং তল্লাশি ও জব্দ করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তার ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না।
এই সংশোধনীর পর শেখ হাসিনার মামলার রায়ে তিনি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছর ১০ মে তৃতীয়বার সংশোধন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দল ও এর সঙ্গে সংযুক্ত সংগঠন বা ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বিধান যুক্ত করা হয়।
সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর চতুর্থ সংশোধনী অধ্যাদেশ আকারে জারি করে সরকার। এর মাধ্যমে আইনে নতুন ধারা ২০ (সি) যোগ করে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে তিনি আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। জনপ্রতিনিধি হয়ে থাকলে সেই পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন। এ সংশোধনীর ফলে গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
লালদিয়ার পর এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু
১৯ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনালের পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্যে গত ১৬ নভেম্বর প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নের জন্য ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বন্দর পর্ষদের সদস্য অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে।
লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকার একটি হোটেলে ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তি করে। টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের কোম্পানির সঙ্গে ৩৩ বছরের জন্য কনসেশন চুক্তি হয়।
একই দিন বিকেলে বুড়িগঙ্গার তীরে পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছর পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয় বন্দরের। এবার এনসিটির কাজ শেষ করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বন্দর সচিব ওমর ফারুক আহবায়ক কমিটির অনুমোদনের জন্য চিঠি পাঠান।
অথচ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি–সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার প্রশ্নে রুল শুনানি আজ বুধবার হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যস্ততা নেই, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় কর্মকর্তা–কর্মচারীরা
২০ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনায় ২২ বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ। টার্মিনালটি নির্মাণের এক যুগের বেশি সময় পরও এটিকে লাভজনক করতে না পারায় সেটিকে বিদেশিদের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনাল শুধু পরিচালনার দায়িত্ব কেন বিদেশিদের হাতে দেওয়া হলো—এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে নানা আলোচনা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পানগাঁও টার্মিনালটি নির্মাণ করে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয় ১৪৯ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে এটির কার্যক্রম শুরু হলেও প্রথম জাহাজ ভেড়ে ২০১৫ সালে। পরে ২০১৮ সাল থেকে কনটেইনার ওঠানামা বাড়তে থাকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৮ হাজারের বেশি একক কনটেইনার পণ্য ব্যবস্থাপনা হয় এই টার্মিনালে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দেড় হাজার একক কনটেইনারে নেমে আসে।
সরকারি হিসাবে, গত ১২ বছরে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে এই টার্মিনালে। প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা লোকসান করে টার্মিনালটি। এখন বিদেশিদের হাতে দেওয়ায় বছরে ১ কোটি ১ লাখ টাকা মাশুল পাবে সরকার।
সরেজমিনে গতকাল পানগাঁও টার্মিনাল ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো কর্মচাঞ্চল্য ছিল না সেখানে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনায়। সবার মাঝে গতকাল আলোচনার মূল বিষয় ছিল এরপর কী হবে? টার্মিনালটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ এই টার্মিনালে পণ্যবোঝাই জাহাজ ভিড়েছিল ১১ নভেম্বর। তাঁরা জানান, বর্তমানে সপ্তাহে একটিও জাহাজ আসে না। তাই জাহাজ না থাকলে এই টার্মিনালে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে শ্রমিকদের তেমন ব্যস্ততা থাকে না। তাই জাহাজ না থাকলে অনেকটা অলস সময় কাটে তাঁদের। গতকালও তেমনই দেখা যায় সরেজমিনে। তবে এই অলস সময়ের আলোচনায় যুক্ত হয়েছে বিদেশিদের সঙ্গে করা টার্মিনালটি পরিচালনা চুক্তি। এই চুক্তির কারণে কারা থাকবেন, কারা থাকবেন না—এই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। অনেকেই বিদায়ের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন।
দুই বিদেশি কোম্পানিকে ১০ বছর করমুক্ত সুবিধা
১৯ নভেম্বর ২০২৫, যুগান্তর
লালদিয়া ও পানগাঁও কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া দুই বিদেশি কোম্পানি আগামী ১০ বছর ১০০ শতাংশ করমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তবে এই সুবিধা কোনো নতুন প্রণোদনা নয়—এটি সরকারের আগের আদেশ অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘পরশু আমরা লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরের দুটি চুক্তি সই করেছি। এসব চুক্তির অংশ হিসেবে আমরা কোম্পানিগুলোকে ১০ বছরের জন্য ১০০% করমুক্ত সুবিধা দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানে কর্মরত বিদেশি টেকনিক্যাল স্টাফও করমুক্ত সুবিধা পাবেন। এছাড়া তাদের (কোম্পানিগুলোর) রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ফি, লভ্যাংশ—সবকিছুই এখন করের আওতামুক্ত।’
সরকারের বিদ্যমান কর প্রণোদনা ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), হাইটেক পার্ক—সবখানেই করছাড়। এমনকি আমাদের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করতে পারে। আমি যদি নিজের বাড়ির সামনে একটা শিল্প স্থাপন করি, তাহলেও তারা সেটিকে হাইটেক পার্ক ঘোষণা করে কর ছাড় দিতে পারে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যাদের কর দেওয়ার কথা, তাদের এভাবে নির্বিচারে করমুক্ত সুবিধা দিলে আমরা প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ করব কীভাবে?’
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের লিজ দেওয়া নিয়ে যা বলল জামায়াত
১৯ নভেম্বর ২০২৫, আজকের পত্রিকা
অস্বচ্ছ ও গোপন চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার দেশীয় স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমনটি জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
বিবৃতিতে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। আবার দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুও চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে অস্বচ্ছ ও গোপন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকার তাই করতে চাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো দরপত্র ছাড়াই পতিত স্বৈরাচারের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক বিদেশি কোম্পানিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) তুলে দেওয়ার যাবতীয় ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য কয়েকটি টার্মিনালের বিষয়েও বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত, কার্যকর ভবিষ্যতে
২০ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ১৪ বছর আগে দেওয়া রায় পুরোটাই বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর ও এ-সংক্রান্ত রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সম্পর্কিত বিধানাবলি এই রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হলো।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলি ভবিষ্যৎ প্রয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্যকর হবে বলে রায়ে এসেছে।
চূড়ান্ত করা কয়েকটি সংস্থা নিয়েও প্রশ্ন
২০ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি ৬৬টি সংস্থা চূড়ান্ত নিবন্ধন পেয়েছে। বাদ পড়েছে সাত প্রতিষ্ঠান। তবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত তালিকাতেও কয়েকটি সংস্থার হদিস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নিবন্ধন পাওয়ার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড, চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সাজসজ্জা বাড়ানো হয়েছে। আবার ক্ষুদ্রঋণসহ ভিন্নধারার কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে নিবন্ধন।
নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য গত ২৮ সেপ্টেম্বর ৭৩টি স্থানীয় সংস্থার প্রাথমিক তালিকা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। নিষ্পত্তি শেষে গত ৬ নভেম্বর ৬৬ সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
নির্বাচনের আগে ঢাকা-১০সহ তিন আসনে হঠাৎ বিশেষ বরাদ্দ, কী বলছেন উপদেষ্টা?
২০ নভেম্বর ২০২৫, বিবিসি নিউজ বাংলা
ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে ঢাকার ২৭৪টি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে মাত্র একটি বাদে বাকি ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানই পড়েছে ঢাকার মাত্র তিনটি সংসদীয় আসন এলাকায়।
ঢাকায় মোট ২০টি সংসদীয় আসন আছে। নির্বাচনের আগে সেখান থেকে কেন শুধুমাত্র তিনটি এলাকায় এই বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় -এখন সে প্রশ্ন সামনে আসছে।
যে ২৭৪টি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শশ্মান এবং কবরস্থানে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও বরাদ্দ বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি বাংলা।
দেখা গেছে, একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান বাদে বাকি ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের অবস্থানই সংসদীয় আসন ঢাকা-০৯, ঢাকা-১০ এবং ঢাকা-১১ এলাকায়।
শুধুমাত্র তিনটি সংসদীয় আসন এলাকাতেই কেন এত বরাদ্দ দেওয়া হলো – এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিবিসি দেখতে পেয়েছে, ২৭৪টির মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ১৪৫টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের অবস্থান ঢাকা-১০ আসনের অন্তর্ভুক্ত ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ এবং নিউ মার্কেট এলাকায়।
ঢাকা থেকে নির্বাচন করতে মাত্র সপ্তাহ খানেক আগেই স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছেন।
প্রায় কাছাকাছি সময়ে ওই সংসদীয় আসনের মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরে তার মন্ত্রণালয় থেকেই কেন সিংহ ভাগ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলো – স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে সে প্রশ্ন করা হলে বিবিসি বাংলার কাছে তিনি দাবি করেছেন, ওইসব প্রতিষ্ঠানে কাদের সুপারিশে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এদিকে, ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরাদ্দের বাকি ১২৮টি প্রকল্প অন্য যে দুইটি আসনে দেওয়া হয়েছে সেই দুইটি হলো- ঢাকা-০৯ এবং ঢাকা-১১ আসন।
ঢাকার ওই দুইটি আসন থেকে আগামী নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা অংশ নিচ্ছেন।
তাহলে কি ছাত্র উপদেষ্টা ও এনসিপি নেতারা ঢাকার যেসব আসনে নির্বাচন করবেন শুধুমাত্র সেসব এলাকার মসজিদ মাদ্রাসায় ভোটের আগে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে?
এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা মি. মাহমুদ বলেছেন, “বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার সময় তো শেষ হয়ে যায় নি। সারাদেশের অন্য অনেক জায়গায়ও তো বরাদ্দ গেছে”।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
২০ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মৌখিক নির্দেশ দেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার আশ্বাস দেন।
বন্দর নিয়ে কেন তাড়াহুড়া করে গোপনীয় চুক্তি, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের
২২ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদ শেষের আগে কেন চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই বন্দর পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের ঘোষণা অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী দুই–তিন মাসের বেশি ক্ষমতায় নেই। এ রকম একটা সরকার কী কারণে ৪০-৫০ বছরের এমন একটা চুক্তি করবে, যেটা পুরো অর্থনীতি ও দেশকে প্রভাবিত করবে এবং যার মধ্যে অনেক ধরনের উদ্বেগের বিষয় আছে। সেই চুক্তি স্বাক্ষর কেন গোপনীয়তা ও অস্বচ্ছতার সঙ্গে ছুটির দিনে তাড়াহুড়া করে করা হবে? তারা এ ধরনের একটা চুক্তি করার এখতিয়ার কীভাবে পায়?’
চট্টগ্রামের লালদিয়া চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ‘বিচার–বিশ্লেষণ এবং প্রতিবাদে’ আজ শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সভায় একথা বলেন আনু মুহাম্মদ।
প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে-বসবে-গ্রেপ্তার করবে, বললেন শাহজাহান চৌধুরী
২৩ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্য আজকের এই সুযোগ ভবিষ্যতে আর আসবে না। দুর্নীতির টাকা বাদ দেন, পার্শ্ববর্তী দেশ হিন্দুস্তান থেকে বস্তা বস্তা টাকা দেশে ঢুকবে। আর অস্ত্র ঢুকবে। আমাদের আমিরে জামায়াত যদি থাকতেন, তাহলে আমি বলতাম, নির্বাচন শুধু জনগণকে দিয়ে নয়। আমি ন্যাশনালি বলব না, যার যার নির্বাচনী এলাকায়, যারা আছে প্রশাসনে যারা আছে, তাদেরকে অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’
শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতের চট্টগ্রামের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
লালদিয়ার চুক্তিতে আছে কী; কার লাভ, কার ক্ষতি
২৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
আলোচনায় এখন লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। ১৭ নভেম্বর ঢাকার একটি হোটেলে ডেনমার্কের মায়ের্সক গ্রুপের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সইয়ের পর এই আলোচনা রাজপথে বিক্ষোভেও গড়িয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা করবে বিদেশি কোম্পানিটি। ৩৩ বছর মেয়াদি এ চুক্তির নানা তথ্য কেন প্রকাশ করছে না অন্তর্বর্তী সরকার, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এই প্রেক্ষাপটে কনসেশন চুক্তি আসলে কী? লালদিয়ার কনসেশন চুক্তিতে কী কী আছে, কী কী বিষয় প্রকাশ করা হয়েছে, কী কী বিষয় প্রকাশ করা হয়নি—তা জানার চেষ্টা এই প্রতিবেদনে।
লালদিয়ার চুক্তিতে কী কী আছে
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, লালদিয়ার চুক্তির দলিলে সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা থেকে শুরু করে কনসেশন প্রদান, নির্মাণকাজ শুরুর পূর্বশর্ত, নিরাপত্তা জামানত, প্রকল্পের নকশা, পক্ষগুলোর দায়বদ্ধতা, টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত, পরিবেশ ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা, ন্যূনতম সেবার মান, মাশুল, কনসেশন এলাকার মালিকানা ও প্রকল্পের সম্পদের মালিকানা, ক্ষতিপূরণযোগ্য ঘটনা, দৈবদুর্বিপাক (ফোর্স মেজ্যুর) ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঘটনা, চুক্তি বাতিল, বাতিল হলে ক্ষতিপূরণ, গ্রান্টরের (বন্দর কর্তৃপক্ষ) হস্তক্ষেপের অধিকার, তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক—ক্ষতিপূরণ, গোপনীয়তা, বিরোধ নিষ্পত্তি, হস্তান্তর ও মালিকানা বদল ইত্যাদি নানা অনুচ্ছেদ রয়েছে। চুক্তির মূল দলিলের সঙ্গে সংযুক্তি বা পরিশিষ্ট রয়েছে, যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি, আর্থিক, কার্যক্রমগত ও আইনি তথ্যগুলো আলাদা করে বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে।
মূল কনসেশন চুক্তিটি ৩৩ বছরের। এর মধ্যে নির্মাণে ৩ বছর এবং বাকি ৩০ বছর পরিচালনার। শর্ত পূরণ হলে আরও ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ আছে।
আট লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো পর্যন্ত প্রতি একক কনটেইনারে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ ডলার করে মাশুল পাবে। আর আট লাখের বেশি ৯ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো পর্যন্ত প্রতি একক কনটেইনারের জন্য ২৩ ডলার করে পাবে বন্দর। এই দুটি স্তর ছাড়া আরও একটি স্তর রয়েছে। যেমন ৯ লাখের বেশি কনটেইনার ওঠানো–নামানো হলে বন্দরকে আরেকটি স্তরে মাশুল দেবে এপিএম টার্মিনালস। তবে সেই হার কত, তা প্রকাশ করা হয়নি।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানোর তিন জেটির এই টার্মিনাল নির্মাণের জন্য কোম্পানিটি ৫৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৫০ কোটি টাকা ‘আপফ্রন্ট ফি’ (এককালীন ফি) পাবে বন্দর।
আরও কী কী আছে
চুক্তি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছেন। বন্দরের অন্য কর্মকর্তারাও কোনো কথা বলছেন না। তবে চুক্তির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র থেকে বেশ কিছু বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে একটি হলো ১৭ নভেম্বর লালদিয়ার চুক্তি হলেও এটি কার্যকর হবে ৯০ দিন পর। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে প্রজেক্ট কোম্পানি গঠনসহ বেশ কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ শেষ করতে হবে বিদেশি কোম্পানিটিকে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ও লোকাল পার্টনার বাংলাদেশের কিউএনএস মিলে এই কোম্পানি গঠন করবে। চুক্তি কার্যকরের সময় আপফ্রন্ট ফির ৫০ শতাংশ পাবে বন্দর। বাকি ৫০ শতাংশ পাবে পরিচালন কাজ শুরুর সময়।
এপিএম টার্মিনালসকে কী কী করতে হবে, তা চুক্তির শর্তে রয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর আগেও সময় ধরে প্রক্রিয়াগত কাজ সেরে নেওয়ার শর্ত রয়েছে। শর্ত না মানলে প্রথমে কারণ দর্শানো নোটিশসহ জরিমানা গুণতে হবে এপিএমটিকে। এরপরও যদি শর্তপূরণ না করে এপিএম টার্মিনালস, তাহলে বন্দর চুক্তি বাতিল করতে পারে। অর্থ্যাৎ এপিএম টার্মিনালসের শর্তভঙ্গের কারণে চুক্তি বাতিল হলে অপারেটর (এপিএমটি) কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের শর্তভঙ্গের কারণে যদি এপিএমটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় বা চুক্তি বাতিল হয়, তাহলে এপিএমটিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বন্দরকে। এই ক্ষতিপূরণ কত তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে তা এপিএমটির মোট খরচের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
চুক্তিতে এপিএম টার্মিনালসের পক্ষ থেকে গ্যারান্টির ধারা রয়েছে। এই অনুচ্ছেদে এপিএম টার্মিনালসকে তৃতীয় বছর থেকে টার্মিনালটির সক্ষমতার (আট লাখ একক কনটেইনার) ৮০ শতাংশ কনটেইনার ওঠানো–নামানো করতে হবে। এই হিসাবে এপিএমটিকে তৃতীয় বছর থেকে ৬ লাখ ৪০ হাজার কনটেইনার ওঠানো–নামানো করতে হবে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি ৬ লাখ ৪০ হাজার কনটেইনারের জন্য কনটেইনারপ্রতি ২১ ডলার করে পরিশোধ করবে। এ ধরনের চুক্তিতে সরকার থেকেও টার্মিনাল অপারেটরকে গ্যারান্টি দেওয়ার ধারা থাকে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ দর–কষাকষি করে তা বাদ দিয়েছে।
এদিকে চুক্তির পর বন্দরের পক্ষ থেকে সেবা মাশুল বাড়ানো হলে তাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির যে আয় বাড়বে, তা থেকে শতাংশ হারে বন্দরকে রাজস্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এপিএমটি থেকে এ রাজস্ব কত শতাংশ পাবে বন্দর, তা অবশ্য জানা যায়নি।
চুক্তি অনুযায়ী জেটির সামনে নিজ খরচে খননকাজ করবে এপিএমটি। বন্দরের অপর টার্মিনাল পতেঙ্গা টার্মিনালের চুক্তিতেও সৌদি কোম্পানির খরচে বন্দরে খননকাজ করছে।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার (হরতাল, অবরোধ ইত্যাদি) জন্য টার্মিনালের পরিচালন কার্যক্রম নির্ধারিত সময় বন্ধ থাকলে এপিএমটিকে বন্দরের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে চুক্তিতে। তবে এ ক্ষতিপূরণের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। আইন পরিবর্তনের কারণে এপিএম টার্মিনালস ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে চুক্তিতে।
চট্টগ্রামে লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ করে ৩০ বছর চালাবে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস
কনসেশন চুক্তিতে সাধারণত ‘এসক্রো অ্যাকাউন্ট’–এর বিধান রাখা হয়। ঝুঁকি কমাতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত এ ধরনের নিরাপদ ব্যাংক হিসাব খোলার গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের হিসাবে টার্মিনালের সব আয় জমা হয়। সেখান থেকে যার যার পাওনা অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়। সাধারণত প্রথমে যে ব্যাংক অর্থায়ন করে সে টাকা পায়, এরপর যে প্রতিষ্ঠান ইজারা দিয়েছে তারা পায় এবং সর্বশেষ যারা ইজারা নিয়েছে তারা টাকা পায়। লালদিয়ার চুক্তিতে এই বিধান রাখা হয়নি বলে জানা গেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এপিএম টার্মিনালস বন্দরকে টার্মিনালের রাজস্ব আয়ের শতাংশ হারে দেবে না। কনটেইনারপ্রতি নির্ধারিত ডলার পরিশোধ করবে। এ কারণে এই ধরনের হিসাব খোলার দরকার নেই। পতেঙ্গা টার্মিনালের চুক্তিতেও এ ধরনের হিসাব ছিল না।
লালদিয়ার চরের ৪৯ একর জায়গায় যেখানে টার্মিনাল নির্মাণ হবে, সেখান থেকে কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে তাঁদের পুনর্বাসন করা হয়নি। সরকার থেকে তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি। চুক্তির মধ্যস্থতাকারী আইএফসি তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এপিএমটিকে শর্ত দেয়। তাতে চুক্তিতে সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাঁদের পুনর্বাসনের বিধান বাধ্যতামূলক করা রয়েছে। ফলে লালদিয়ার চর থেকে যাঁরা উচ্ছেদ হয়েছেন, তাঁরা সহায়তা পাবেন। এটা কত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তা ১৫ মিলিয়ন ডলার বা ১৮৪ কোটি টাকার কম নয় বলে জানা গেছে।
এপিএম টার্মিনালস–চট্টগ্রাম বন্দর, কে কী পাবে
চুক্তির পর পরিচালনার বিভিন্ন ধাপে বিনিয়োগ করতে হবে এপিএম টার্মিনালসকে। এ সময়ে বন্দরের কোনো টাকা খরচ হচ্ছে না। এপিএম টার্মিনালসের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে।
চুক্তির পর থেকেই এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ শুরু হয়েছে। যেমন পিপিপি কর্তৃপক্ষ এই চুক্তির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের হয়ে ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার (মধ্যস্থতাকারী) হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) নিয়োগ দিয়েছে। এ জন্য যে খরচ হয়েছে, তা পরিশোধ করেছে এপিএম টার্মিনালস। পিপিপি কর্তৃপক্ষও প্রকল্প উন্নয়নের জন্য এপিএম টার্মিনালস থেকে ফি নিয়েছে। চুক্তি কার্যকরের পর আপফ্রন্ট ফির ৫০ শতাংশ দিতে হবে এপিএম টার্মিনালসকে। এরপর টার্মিনালের নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সংযোজনে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করতে হবে অপারেটরকে।
টার্মিনাল চালু হলে কনটেইনারপ্রতি আয় ভাগাভাগি শুরু হবে। গড়ে আট লাখ একক কনটেইনার ধরে ৩০ বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো হতে পারে। এতে বন্দরের আয় হতে পারে ৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর বাইরে বহির্নোঙরে জাহাজ আসার পর থেকে টার্মিনালে ভেড়ানো পর্যন্ত যত মাশুল আছে, তা পাবে বন্দর। এ খাতে নতুন মাশুলের হিসাবে ফিডার জাহাজপ্রতি ১৯ থেকে ২০ হাজার ডলার আয় হয় বন্দরের। একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানো হলে বছরে অন্তত ৩০০ জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব। তাতে বছরে ৬০ লাখ ডলার হিসাবে ৩০ বছরে আয় হতে পারে সম্ভাব্য ১৮ কোটি ডলার। জাহাজের সংখ্যা কমবেশি হলে আয়ও কমবেশি হতে পারে। আপফ্রন্ট ফিও যুক্ত হবে। তাতে সব মিলিয়ে বন্দরের আয় ৩০ বছরে ৭০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। মেয়াদ শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ লালদিয়ার টার্মিনাল অবকাঠামোসহ ফেরত পাবে।
এপিএম টার্মিনালসের বিনিয়োগ উঠে আসতে শুরু করবে বাণিজ্যিক পরিচালন কার্যক্রম শুরুর পর। প্রথম তিন বছরে তারা আয়ের মুখ দেখবে না। জাহাজ থেকে কনটেইনার নামানো বা ওঠানো শুরুর পর তাদের আয় শুরু হবে।
টার্মিনালের প্রধান আয় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো–নামানো এবং কনটেইনার রাখা বাবদ মাশুল। আইএফসির সমীক্ষা ও বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি হিসাব করে দেখা যায়, এই দুই খাতে প্রতি বক্স কনটেইনারে (২০ ফুট ও ৪০ ফুট কনটেইনার একটি ধরে) সম্ভাব্য মাশুল আয় হতে পারে ১৭৩ দশমিক ৬৬ ডলার। এপিএম টার্মিনালস আট লাখ একক কনটেইনার ওঠানো–নামানো করবে। বন্দরের হিসাবে আট লাখ একক কনটেইনারে দাঁড়ায় পাঁচ লাখ চার হাজার ৪২৬ বক্স কনটেইনার (প্রতি বক্স কনটেইনারে ১ দশমিক ৫৮ একক কনটেইনার)। এই হিসাবে এপিএম টার্মিনালসের বছরে সম্ভাব্য আয় হতে পারে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, ৩০ বছরে যা দাঁড়াবে প্রায় ২৬৩ কোটি ডলার। এর বাইরে কনটেইনার খুলে পণ্য সরবরাহসহ নানা সেবা ব্যবহার বাবদ আয় করবে টার্মিনালের বিদেশি অপারেটর। এ আয় থেকে বিনিয়োগ ও পরিচালন খরচ ব্যয় করে মুনাফা তুলতে হবে এপিএমটিকে। পরিচালন খরচের মধ্যে এপিএমটির ব্যয়ের একটি অংশ পাবেন বাংলাদেশের যাঁরা কর্মরত থাকবেন তাঁরা।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে দুই পক্ষের আয় নিশ্চিত। বন্দর কোনো বিনিয়োগ না করে আয় পাবে। আর টার্মিনালের বিদেশি অপারেটর বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মুনাফা করবে। তাদের পরোক্ষ মুনাফা হবে বেশি। যেমন টার্মিনাল চালু হলে মায়ের্সক লাইনের জাহাজ লালদিয়া টার্মিনালে ভেড়ানোর অগ্রাধিকার পাবে। তাতে জট হলেও তাদের জাহাজ অলস বসে থাকার জন্য দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে না। এ অর্থ সাশ্রয় হবে তাদের। আবার টার্মিনাল থাকায় তাদের ব্যবসা আরও বাড়বে।
কারণ ছাড়াই চাকরিচ্যুতি ও নেতিবাচক পুলিশ প্রতিবেদন: আতঙ্কে চাকরিপ্রত্যাশীরা
২৯ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারি চাকরির চূড়ান্ত নিয়োগ বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এসে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। কারও ক্ষেত্রে কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। কারও কারও নিয়োগ আটকে যাচ্ছে পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনায় সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ার শেষ ধাপে এসে কারণ ছাড়াই অপসারণের ঘটনা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সম্প্রতি ৪৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণরত তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনারকে চাকরি থেকে অপসারণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অপসারিত ব্যক্তিরা হলেন কাজী আরিফুর রহমান, অনুপ কুমার বিশ্বাস ও নবমিতা সরকার।
প্রজ্ঞাপনে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১’-এর বিধি ৬(২)(এ) অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ বাতিলের কথা বলা হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ মেয়াদে কোনো কর্মকর্তাকে ‘চাকরিতে বহাল থাকার অযোগ্য’ মনে হলে পিএসসির পরামর্শ ছাড়াই নিয়োগ বাতিল করা যায়। তবে প্রজ্ঞাপনে তিন সহকারী কমিশনারকে অযোগ্য ঘোষণার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
অপসারিত কাজী আরিফুর রহমান ৪১তম বিসিএসে রেলওয়ে ক্যাডারে প্রথম এবং ৪৩তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০তম হয়ে উত্তীর্ণ হন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘কোনো কারণ উল্লেখ না করে এভাবে অপসারণ করায় আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি।’ তিনি জানান প্রজাতন্ত্রের একজন জুনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে আমি ১১ মাস ফরিদপুর জেলা প্রশাসনে যুক্ত থেকে কাজ করেছি। সেই সময়েও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। এর আগে ৪১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে আমি রেল ক্যাডারেও চাকরি করেছি।’
চাকরিচ্যুতিতে সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যা বললেন সারজিস আলম
৪৩তম বিসিএসে এই তিন প্রার্থীর বাইরেও পররাষ্ট্র ক্যাডারে দুজন, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে দুজন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে দুজন এবং পুলিশ ক্যাডারে চারজন প্রার্থীকে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় চাকরিচ্যুত করেছে বর্তমান সরকার। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
কাজী আরিফুর রহমানের চাকরিচ্যুতি প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে সারজিস আলম ফেসবুকে লিখেছেন, আরিফুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অমর একুশে হল ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্টস স্কাউট, হল থেকে প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তিতে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কখনো অন্যায় কিংবা অপকর্মের অভিযোগ ওঠেনি। অমর একুশে হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে তিনি ছিলেন ‘রোল মডেল’ এবং অন্যতম সেরা আবাসিক শিক্ষার্থী।
সারজিস আলম তাঁর স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন, ‘তাঁর (আরিফুর রহমান) সঙ্গে যা হয়েছে, তা পরিষ্কার অন্যায়। তিনি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা স্বার্থবিরোধী কোনো অপেশাদার আচরণ করলে ভিন্ন কথা ছিল।’ মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের দপ্তরে গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বৈঠকে আছেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কর্মকর্তা মানসুর হোসেনের পরামর্শে হোয়াটসঅ্যাপে সচিবের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব মেলেনি।
পেট্রোবাংলায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ
বিসিএস ক্যাডারের বাইরে পেট্রোবাংলা ও এর অধীন কোম্পানিগুলোর সমন্বিত নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও একই ধরনের অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১৫ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। বাদ পড়া এক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাকরির আশায় আগের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। সরকারি চাকরির বয়সও শেষ। এখন পরিবার নিয়ে মহাবিপদে পড়েছি। মা-বাবা অসুস্থ, ওষুধ কেনার টাকাও নেই।’
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) এস এম মাহবুব আলম প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো ধাপে উত্তীর্ণ হতে না পারলেই কেউ বাদ পড়ে। চূড়ান্ত নিয়োগ না হলে কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয় না। চাকরিপ্রার্থীরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যোগ্য প্রার্থীদের কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকেও ক্ষুণ্ন করছে।
পুলিশি যাচাইয়ে আটকে যাচ্ছে মেধাবীদের ভবিষ্যৎ
তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পুলিশ বা নিরাপত্তা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের (ভেরিফিকেশন) কারণে বহু মেধাবী প্রার্থীর চূড়ান্ত নিয়োগ আটকে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই সংকট চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার ২৮তম থেকে ৪২তম বিসিএসে বাদ পড়া এমন ২৫৯ জন প্রার্থীকে ২০২৪ সালে ১৪ আগস্ট নিয়োগ দিয়েছিল, যা প্রশংসিত হয়। তবে চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন জটিলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক নিয়োগ আটকে থাকছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, পিএসসির সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিবেচনায় ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও সুযোগের সমতার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। মূলত প্রার্থীর ফৌজদারি মামলার তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রতিবেদনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির
২৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জবাবদিহির বাইরে রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার কেবলই ফাঁকা বুলি কি না, এ প্রশ্নও তুলেছে টিআইবি।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে কেবল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত দুদকের উত্তরণের লক্ষ্যে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ করা হয়েছিল। এই সুপারিশ বাদ দেওয়া শুধু হতাশাজনক নয়, সরকারের অভ্যন্তরে প্রায় সব ক্ষেত্রে সংস্কারবিরোধী মহলের ষড়যন্ত্রের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারের অভীষ্টের জিম্মিদশারও পরিচায়ক।
বিলবোর্ডে নির্বাচনী প্রচার, বৈষম্যের নতুন বিজ্ঞাপন
২৯ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচারের জন্য পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পোস্টারের পরিবর্তে বিলবোর্ড বসিয়ে প্রচার চালাতে পারবেন। একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড স্থাপন করতে পারবেন। সম্প্রতি জারি করা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণ বিধিমালায় এমনটিই বলা হয়েছে।
বিলবোর্ডে প্রচার চালানোর বিষয়ে এরই মধ্যে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিত্তশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিলবোর্ড বসানোর খরচ সামলানো কঠিন না হলেও অন্যদের জন্য এর ব্যয় বহন করা কঠিন হবে। ফলে নির্বাচনী প্রচারে বৈষম্য তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বিলবোর্ড স্থাপনের মতো পর্যাপ্ত স্থান আছে কিনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে কিনা, পরিবেশের কতটা ক্ষতি হতে পারে, সিটি করপোরেশন এ থেকে রাজস্ব পাবে কিনা– এসব প্রশ্নও উঠেছে।
এক বছরে সরকারি কর্ম কমিশন কী করল
৩০ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
নতুন কমিশনের এক বছরের কার্যক্রমে কিছু পরিবর্তন স্পষ্ট হয়েছে। তবে প্রত্যাশিত মাত্রায় অগ্রগতি হয়নি বলে চাকরিপ্রার্থী ও বিশেষজ্ঞদের মত।
ঢাকার আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মূল ভবনের ফটকের সামনে প্রতিদিনই চাকরিপ্রার্থীদের ভিড় দেখা যায়। কেউ ফলাফল জানতে আসেন, কেউ নতুন বিজ্ঞপ্তির আশায়। কারও হাতে বিসিএসের আবেদনপত্র, কেউবা আসেন মৌখিক পরীক্ষার জন্য।
৪৪তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত একজন বললেন, ‘৪৪তম বিসিএসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে ৩ বছর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও আমার এখনো নিয়োগ হয়নি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চাকরিপ্রত্যাশীর ভাষ্য, ‘পিএসসির এই দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পিএসসি নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল বেশি। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে পিএসসির গত এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে চাকরিপ্রার্থী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাঁরা বলছেন, নতুন কমিশনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া ও খাতা দেখায় গতি আনা, পরীক্ষা ফি কমানো, প্রশ্নপত্র নিজস্ব ছাপাখানায় ছাপানো, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানো এবং সিলেবাস পরিবর্তনে উদ্যোগী হওয়া। তবে বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ জটিলতা না কমা, প্রশ্নপত্রে ভুল, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও অকারণে চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো কর্মকাণ্ড এখনো বন্ধ করতে পারেনি পিএসসি। অবশ্য পুলিশ ভেরিফিকেশন ও চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি পিএসসির অধীনে নয়।
ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই: মিয়া গোলাম পরওয়ার
২৮ অক্টোবর ২০২৫, ইত্তেফাক
ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই, এমন দাবি করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্বাচনি দায়িত্বে না দেওয়ার কথা বলেছে—এই মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই।’
ক্ষমতায় গেলে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেব
৩০ নভেম্বর ২০২৫, ইত্তেফাক
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের চাকরি পুনর্বহন ও বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে এসব কর্মকর্তা–কর্মচারীর প্রতি অবিচার দূর করা হবে।
শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নে চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার সভার ২ মিনিট ৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
পুলিশ কমিশনের খসড়ায় আমলাতন্ত্রের ‘হস্তক্ষেপ’
৩০ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের জোর দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি পুলিশ কমিশনের খসড়া তৈরি করে। তবে সেই খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তা অনেকটাই পাল্টে যায়। বাদ পড়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির খসড়ার বিষয়ে আমলারা আপত্তি তোলেন। আইজিপি (পুলিশের মহাপরিদর্শক) নিয়োগের বিষয়টিসহ কয়েকটি সুপারিশের বিরোধিতা আসে। পুলিশকে আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার মাধ্যমে কার্যত পুলিশ কমিশনকে ‘নখদন্তহীন’ করে রাখার সুপারিশ আসে আমলাদের দিক থেকে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, খসড়ায় এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে যা প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশনকে কার্যত দুর্বল ও ক্ষমতাহীন করে তুলবে।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের কী ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা ১১ নভেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, এই আইন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করার কথা ছিল, কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেওয়ার পর তারা এটি প্রস্তুত করেছে। আইনটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল যে কমিশন আইজিপি নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করবে এবং সরকার সেই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেবে। যখন এই আইনটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটিতে পাঠানো হয়, তখন আমলাতন্ত্র প্রচণ্ডভাবে আইনের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যায়।
সর্বশেষ গতকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়া উত্থাপিত হয়েছিল। তবে অধ্যাদেশটি অনুমোদন করা হয়নি। এই অধ্যাদেশ আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী সভায় উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভার ঠিক এক দিন আগে গত শুক্রবার বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে পুলিশ কমিশনের সংশোধিত খসড়া পাস না করার দাবি তোলা হয়েছিল। বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের পূর্বে এই আইনগুলো (পুলিশ কমিশন ও এনজিও–সংক্রান্ত আইন) পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা খসড়ায় নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষমতা পুলিশ কমিশনকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি। অর্থাৎ এগুলো আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে। এমনকি আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছতার জন্য কমিশনকে তিন সদস্যের একটি প্যানেল গঠনের যে ক্ষমতার দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন কমিটি, সেটিও বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা কমিটি একটি ‘সংবিধিবদ্ধ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন’ গঠনের কথা বললেও সেটিও খসড়ায় ছিল না।
উপদেষ্টা কমিটির প্রস্তাবে ৯ সদস্যের পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত খসড়ায় সাত সদস্যের পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। অবশ্য পুলিশ কমিশনের সদস্য বাছাইয়ের জন্য যে কমিটি করা হবে, তার সভাপতি হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটি দুটি খসড়াতেই ছিল। যে কারণে বাছাই কমিটি কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে (সদস্য বাছাই), তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জড়িত
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। তারা বলছে, এ ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। এ ছাড়া এই ঘটনায় ভারতেরও সম্পৃক্ততা পেয়েছে কমিশন।
ঢাকার পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি) সদর দপ্তরে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ১১ মাস ধরে তদন্ত করে প্রতিবেদন তৈরি করে এই কমিশন।
পুরোপুরি পৃথক হলো বিচার বিভাগ
৩০ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
সরকারের নির্বাহী থেকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আজ রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচার বিভাগ পুরোপুরি পৃথক হলো।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে সুপ্রিম কোর্ট জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
জুডিশিয়ারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও কেন বাদ পড়লেন তারা?
২৮ নভেম্বর ২০২৫, বাংলা ভিশন অনলাইন
দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি, তুমুল প্রতিযোগিতা এবং সবশেষে কমিশনের সুপারিশে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও, চূড়ান্ত গেজেটে অজানা কারণে বাদ পড়েছেন ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থী।
সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটভুক্ত না হওয়া ১৩ জন হলেন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তানসেনা হোসেন মনীষা, অনিক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মুন্না ও গগন পাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশাত মনি, নাহিম হাসান, মো. রেজাউল ইসলাম ও সাজ্জাদুল হক। বই প্রকাশনা
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিকুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইমন সৈয়দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামুন হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুব্রত পোদ্দার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হুমায়রা মেহনাজ।
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ১০০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন মোট ১০২ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করে। প্রায় ১০ মাস অপেক্ষার পর ২৭ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয় যে নিয়োগ-গেজেট প্রকাশ করে, সেখানে মাত্র ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং বাকি ১৩ জনকে কোনো কারণ উল্লেখ না করেই বাদ দেওয়া হয়। এতে চরম হতাশায় ভুগছেন বাদ পড়া এসব শিক্ষার্থীরা।
গেজেটভুক্ত না হওয়া এসব শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা ফৌজদারি মামলা নেই। তারা সম্পূর্ণরূপে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই বিচারক হওয়ার সুপারিশ লাভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত পরিচয় নয়, বরং আত্মীয়স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা তাদের ভাষায় সংবিধান, ন্যায়সংগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি
অনেক সুবিধা গোপন করা হয়েছে
২ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
কর্ণফুলী মোহনার অদূরে গুপ্তবাঁকের ঠিক আগেই নির্মাণ হবে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। বন্দর বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থানগত সুবিধা লালদিয়াকে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত টার্মিনালে পরিণত করবে। সরকার বছরে ১০ লাখ টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট (টিইইউ) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কথা বললেও বাস্তব অপারেশন শুরু হলে এর পরিমাণ আরো বেশি হবে বলে ধারণা করছেন বন্দর বিশেষজ্ঞরা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ৩৩ বছরের কাঠামো ঘোষণা করা হলেও কার্যত ৪৮ বছরের নির্মাণ-পরিচালনার সুবিধা পাচ্ছে ডেনমার্কের এপি-মোলার মায়ের্সক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। সমুদ্রে পণ্য পরিবহনে বর্তমানে মায়ের্সকের আধিপত্য থাকায় টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বড় অংশই লালদিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে এপিএম টার্মিনালসের অনুকূলে নিশ্চিত হয়েছে অত্যন্ত সুবিধাজনক আর্থিক কাঠামো। বছরে নয় লাখ টিইইউ ছাড়ালেই বাড়তি কনটেইনারে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব কমে টিইইউ-প্রতি মাত্র ১০ ডলারে নেমে আসবে। ফলে মাত্র এক দশকের মধ্যেই বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এপিএম টার্মিনালসের পক্ষে। অপারেটরের পক্ষে এতসব নিশ্চয়তার পরও নেগোসিয়েশনে সমপর্যায়ের কিংবা কাছাকাছি আর্থিক-কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।
চুক্তির নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের (এনডিএ) বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপিএম টার্মিনালস সবচেয়ে সুবিধা পাবে তাদের শিপিং লাইননির্ভর ব্যবসার কারণে। তাদের নিজস্ব শিপিং লাইন ও কনটেইনার রয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে তাদের ব্যবসাও সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই এ চুক্তি এপিএম টার্মিনালসকে একটি ‘গ্যারান্টেড কাস্টমার বেজ’ দিয়েছে। এটি এমন এক সুবিধা যা সাধারণত অন্য কোনো অপারেটর বাংলাদেশে টার্মিনাল পরিচালনায় পাবে না। ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালে অপারেশন চালুর আগে এ নিশ্চয়তা লালদিয়াকে তাদের ‘লো-রিস্ক, হাই-রিটার্ন’ মডেলে পরিণত করেছে। এখানে সময় যত গড়াবে অপারেটরের আয় তত বাড়বে, কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর পাবে ‘সেট ফর্মুলা’ অনুযায়ী সীমিত রাজস্ব।
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরে টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হতে যাওয়া দ্বিতীয় বিদেশী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস। এর আগে গত বছরের জুনে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালস ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে। ঢাকার অদূরে পানগাঁওতেও বিদেশী অপারেটর নিয়োগে চুক্তি হয়েছে। তবে সেটি মূলত নৌ-টার্মিনাল।
সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে আরএসজিটিআই ও এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছে বণিক বার্তা। এতে দেখা যায়, পতেঙ্গার পিসিটি ও লালদিয়া টার্মিনালের চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নেগোসিয়েশন কৌশলে সুস্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। পিসিটিতে চবক শক্ত অবস্থান নিয়ে আরএসজিটিআইয়ের সঙ্গে একটি ‘উইন-উইন’ কাঠামো নিশ্চিত করতে পেরেছে। কিন্তু লালদিয়ার ক্ষেত্রে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা চুক্তিতে সেই দৃঢ়তা দেখা যায়নি। রাজস্ব আহরণ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থে চবকের চেয়ে বেশি সুবিধা গেছে এপিএম টার্মিনালসের পক্ষে। লালদিয়া চুক্তির আর্থিক কাঠামো, পে-ব্যাক সময়, বাজার-প্রভাব ও টার্মিনালের অবস্থানগত সুবিধা মিলিয়ে এপিএম টার্মিনালস শক্তিশালী ভবিষ্যৎ বাজার নিশ্চিত করেছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে চবক।
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) প্রতি টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে চবক বর্তমানে পায় ১৮ ডলার। অন্যদিকে লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে সরকারি প্রচারণায় বলা হয়েছে, প্রথম স্ল্যাবে বছরে আট লাখ টিইইউ পর্যন্ত হ্যান্ডলিং হলে বন্দর পাবে ২১ ডলার (টিইইউ-প্রতি), দ্বিতীয় স্ল্যাবে আট-নয় লাখ টিইইউ পর্যন্ত হ্যান্ডলিং হলে চবক পাবে ২২ ডলার। তবে চুক্তির নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) পর্যালোচনায় উঠে এসেছে আরো একটি স্ল্যাবের তথ্য, যা সরকারি প্রচারণায় একবারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় এ স্ল্যাবে স্পষ্টভাবে বলা আছে, এপিএম টার্মিনালস বছরে নয় লাখ টিইইউর বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করলেই চবক বাড়তি প্রতি টিইইউর বিপরীতে পাবে মাত্র ১০ ডলার। অর্থাৎ লালদিয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বার্ষিক নয় লাখ টিইইউ পার হলেই স্ল্যাব অনুযায়ী বন্দরের রাজস্ব কমতে থাকবে। টার্মিনালের অবস্থানগত সুবিধা, জাহাজ আগমনের প্রবৃদ্ধি ও এপিএম টার্মিনালসের বাজার নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় তৃতীয় স্ল্যাব কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে চুক্তিতে তৃতীয় স্ল্যাবের এ কাঠামো চবকের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্বার্থের জন্য লাভজনক হবে না।
এছাড়া এপিএম টার্মিনালসের পরোক্ষ লাভ আরো বেশি। তারা যদি সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে কনটেইনার জাহাজসেবা চালু করতে সক্ষম হয়, তাহলে টার্মিনাল থেকে আয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। অর্থাৎ তাদের পরোক্ষ মুনাফা হবে বেশি। যেমন মায়ের্সক লাইনের জাহাজ লালদিয়া টার্মিনালে ভিড়তে অগ্রাধিকার পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এতে টার্মিনালে জট হলেও তাদের জাহাজ অলস বসে থাকার জন্য দিনে ১০-১৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে না। এ অর্থ সাশ্রয় হবে তাদের। নিজস্ব টার্মিনাল থাকায় তাদের ব্যবসা আরো বাড়বে।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই দাবি করা হয়েছে, লালদিয়ায় টার্মিনাল নির্মাণ করে ৩০ বছর মেয়াদে পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস। শর্ত পূরণ হলে আরো ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এরপর সম্পূর্ণ সম্পত্তি তারা সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। যদিও চুক্তির নথিতে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। নথি অনুযায়ী লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ৪৮ বছর মেয়াদে পরিচালনা করবে এ অপারেটর। এর মধ্যে নির্মাণ তিন বছর, পরিচালনা ৩০ বছর, বাড়তি মেয়াদের সুযোগ রাখা হয়েছে ১৫ বছর। আর এ বর্ধিত সময়ের ব্যাপারে নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ফিফটিন ইয়ার্স মাস্ট বি এক্সটেন্ডেবল’। অথচ বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিদেশী অপারেটরের সঙ্গে করা এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ সাধারণত ২০-২৫ বছরের মধ্যে রাখা হয়। এর আগে পিসিটির ক্ষেত্রে আরএসজিটিআইয়ের সঙ্গে মোট ২২ বছর মেয়াদে চুক্তি করেছিল চবক। এর মধ্যে দুই বছর নির্মাণ ও ২০ বছর অপারেশনাল।
এপিএম টার্মিনালস ও চবক উভয়ের কনসালট্যান্টের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ বছর মেয়াদের লালদিয়ায় ২০৩০ সালে বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর মাত্র ১১ বছরেই বিনিয়োগ উঠে আসার প্রক্ষেপণ রয়েছে। অন্যদিকে পিসিটিতে ২২ বছর মেয়াদের চুক্তিতে এ পে-ব্যাক পিরিয়ড ১৩ বছর ধরা হয়েছে। পে-ব্যাক পিরিয়ড বলতে বোঝায় অপারেটর কত সময়ে তার বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাবে। সহজ কথায় কত বছরে তারা নিজেরা খরচ তুলে নেবে এবং নিট প্রফিট কাটা শুরু করবে।
নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে রিটে বিভক্ত রায়
০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর বিভক্ত রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার বিভক্ত রায় হয়।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।
রায়ের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক প্রথম আলোকে বলেন, নিয়ম অনুসারে এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি ভিন্ন বেঞ্চে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পাঠাবেন। সেখানে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। চুক্তিপ্রক্রিয়ার চলমান কার্যক্রম চালাতে আইনি কোনো বাধা নেই।
তবে রায়ের পর রিট আবেদনকারীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, জ্যেষ্ঠ বিচারপতি চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বেঞ্চের অপর বিচারপতি রিট খারিজ করেছেন। যেহেতু বিভক্ত রায় হয়েছে, সুতরাং এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। এই বেঞ্চের সিদ্ধান্তের মধ্যে রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। একক বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।
নামমাত্র ক্ষমতা নিয়ে গঠিত হচ্ছে পুলিশ কমিশন
০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
পুলিশকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত করতে অনেক দাবি উপেক্ষা করেই পুলিশ কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, যে খসড়াটি অনুমোদন হয়েছে, তাতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন হচ্ছে না। এটি পুলিশ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষও হবে না। এ কমিশনের কার্যক্রমকে সীমিত ও সুপারিশকেন্দ্রিক করা হয়েছে। নামমাত্র ক্ষমতা দিয়ে অনেকটা ‘নখদন্তহীন’ কমিশন করা হচ্ছে।
তবে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল গতকাল রাতে এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, পুলিশ কমিশন নিয়ে প্রত্যাশার অনেক কিছুই পূরণ হয়েছে। প্রায় সবকিছু রাখা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক ভোগান্তি কমবে, পুলিশের জবাবদিহি অনেকখানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং পুলিশের ওপর রাজনৈতিক খবরদারি হ্রাস পাবে।
পুলিশ কমিশনের তিনটি খসড়া নিয়েই শুরু থেকে আপত্তি করে আসছিল পুলিশসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এই খসড়া অনুমোদন হলে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পুরোনো ধারা থেকে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধে নীতিমালা করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি কমিশনের অধীনে নিয়ে আসার দাবি ছিল তাদের। পুলিশের পক্ষ থেকে বাহিনী পরিচালনায় কার্যগত স্বায়ত্তশাসন চাওয়া হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করা খসড়ায় বেশির ভাগ দাবি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। অর্থাৎ পুলিশ পরিচালনার সব ক্ষমতা আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থেকে যাচ্ছে। সূত্রমতে, এই খসড়ার দু-একটি বিষয়ে পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ জারি করা হতে পারে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের জোর দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি পুলিশ কমিশনের খসড়া তৈরি করে। সেই খসড়ায় পুলিশ কমিশনকে খুবই সামান্য ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরও সেখানে যা ছিল, সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে পাল্টে যায়। গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়। সেটি উপদেষ্টা পরিষদে উঠলে তা ফেরত পাঠিয়ে সংশোধন করে পরিষদের গতকালের সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল। এরপর ১ ডিসেম্বর পাঁচ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী, তিন সচিব ও আইজিপির উপস্থিতিতে এক বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে যেসব বিষয় এসেছে, উপদেষ্টা পরিষদে গতকাল উপস্থাপন করা খসড়া থেকে তার অনেক বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, উপদেষ্টাদের সমন্বয়ে বৈঠকের পরও পুলিশকে আগের মতোই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন আমলারা। ফলে যেভাবে কমিশন হচ্ছে, তাতে আগের মতোই কমিশনের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে।
সরকারের দেশ চালানো নিয়ে কিছুটা সন্তুষ্ট ৪৯% মানুষ, অত্যন্ত সন্তুষ্ট ৫%
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি রয়েছে। একটি বড় অংশের মানুষ বলেছেন, তাঁরা সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন। আরেকটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে।
প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপে মানুষের এই মতামত উঠে এসেছে। জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকার্স কনসালটিং লিমিটেড।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তিন দিন পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের বয়স হয়েছে ১৫ মাসের কিছু বেশি। জরিপে প্রশ্ন করা হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে, তাতে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
জবাবে সবচেয়ে বেশি, ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা কিছুটা সন্তুষ্ট। ৫ দশমিক ২ শতাংশের মত, তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দুইয়ে মিলে সন্তুষ্টি থাকা মানুষের হার দাঁড়ায় সাড়ে ৫৪ শতাংশ। সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন—এমন মানুষের হার কম নয়, ২৩ শতাংশ।
কিছুটা অসন্তুষ্ট মানুষের হার ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। আর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট মানুষ ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। দুইয়ে মিলে দেখা যাচ্ছে, অসন্তোষ থাকা মানুষের হার সাড়ে ২২ শতাংশ।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, সরকার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো করেছে বলে মনে করেন সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ। অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং দুর্নীতি দমনে সরকার সবচেয়ে ব্যর্থ বলে মনে করে জরিপে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক মানুষ।
আয় বেড়েছে ১২% মানুষের, খরচ বেড়েছে ৭৯ শতাংশের
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের এক বছরে অল্পসংখ্যক মানুষের আয় বেড়েছে। খরচ বেড়েছে বেশির ভাগের। সাধারণ মানুষের আয়রোজগারের ব্যবস্থা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার যে কাজ করেছে, তাতে বেশির ভাগ মানুষ সন্তুষ্ট নন।
প্রথম আলোর উদ্যোগে করা ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ-২০২৫’-এ এই মতামত উঠে এসেছে। প্রথম আলোর জন্য জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিডেট।
জরিপে আয়রোজগার, সংসারের ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচটি প্রশ্ন ছিল। একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণ মানুষের আয়রোজগারের ব্যবস্থা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে যে কাজ করেছে, তাতে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
উত্তরে প্রায় ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। সন্তুষ্টির কথা বলেছেন প্রায় ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা। বাকিরা সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন। নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ—তিন আয়শ্রেণিতে সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হার কাছাকাছি।
সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্ট ৪১% মানুষ, অসন্তুষ্ট ৩৭%
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে একটি বড় অংশের মানুষ সন্তুষ্ট। আবার বড় অংশের মানুষের মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে। একাংশ বলেছে, তারা সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট—কোনোটাই নয়।
প্রথম আলোর উদ্যোগে করা ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’–এ এই মতামত উঠে এসেছে। প্রথম আলোর জন্য জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিডেট।
জরিপের একটি প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
জবাবে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কিছুটা সন্তুষ্ট। দেখা যাচ্ছে, ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে সংস্কার নিয়ে সন্তুষ্টি রয়েছে। অন্যদিকে ২১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা সন্তুষ্ট নন, অসন্তুষ্টও নন। ২৫ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বলেছেন, কিছুটা অসন্তুষ্ট। আর ১১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা খুবই অসন্তুষ্ট। ফলে অসন্তুষ্টি থাকা মানুষের হার ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিএনপি নির্বাচনে বেশি আসন জিতবে, মত ৬৬% মানুষের
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে বিএনপি জয়ী হবে বলে মনে করেন দেশের বেশির ভাগ মানুষ। মানুষের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন, বিএনপি জয়ী হলে দেশের ভালো হবে। আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী জিতলে দেশের ভালো হবে।
প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপে মানুষের এই মতামত উঠে এসেছে। জরিপটি করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড। জরিপের শিরোনাম, ‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’।
কোন দল বেশি আসন পাবে
জরিপের প্রশ্নের মধ্যে একটি ছিল, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসনে জয়লাভ করবে বলে মনে করেন? সেই দল কত আসন পেতে পারে, সেটি অবশ্য প্রশ্নে ছিল না।
জবাবে প্রায় ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি আসনে জয়লাভ করবে বিএনপি। নারী, পুরুষ, নানা বয়স শ্রেণিভেদে প্রায় সবারই কাছাকাছি মত এসেছে। উত্তরদাতাদের প্রায় ২৬ শতাংশের মত, বেশি আসন পাবে জামায়াতে ইসলামী।
দলগুলোর প্রাথমিক প্রার্থী মনোনয়নে নারীরা উপেক্ষিত
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তা রক্ষা করছে না। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংসদের ৩০০ আসনের জন্য নারী প্রার্থী রাখতে হবে অন্তত ১৫ জন। কিন্তু বিএনপির ঘোষণা করা প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকার ২৭২ প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ১১ জন। জামায়াতে ইসলামী একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি। অন্য যেসব দল সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তারাও সনদ অনুযায়ী নারী প্রার্থী দেয়নি।
জুলাই সনদ প্রণয়নের সংলাপে ১৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাব করা এনসিপি এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। দলটির প্রার্থী হতে আগ্রহী দেড় হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ৭৬ জন নারী। দলটি জানিয়েছে, চূড়ান্ত মনোনয়নে নারী প্রার্থী ৫ শতাংশের বেশি থাকবে।
জুলাই সনদ প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (বিলুপ্ত) সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারে অঙ্গীকার রক্ষার নজির নেই। তাই কমিশন চেয়েছিল ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে নারীদের জন্য ১০০ আসন নিশ্চিত করতে। দলগুলোই তখন বলেছিল নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। তারাই প্রস্তাব দিয়ে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’ করেছিল। যদি তারা তা রক্ষা না করে, তবে অঙ্গীকার ভঙ্গের সংস্কৃতিতেই আটকে থাকল বাংলাদেশ।
প্রতিটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়েছে: ইফতেখারুজ্জামান
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিটি আইন করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সংস্কার কমিশনের প্রধান হওয়ার পরও তাঁকে অন্য মাধ্যম থেকে অধ্যাদেশের খসড়া পেয়ে মতামত দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদের পতন–পরবর্তী গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এক প্রবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ সরকারের সময় পাস হওয়া বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত হতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হয়েছে, আমি সেটা বলছি না। আমি সম্পৃক্ত হতে পেরেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘দুদক সংস্কার কমিশন যে আশু বাস্তবায়ন প্রস্তাবগুলো সরকারকে দিয়েছিল, অধ্যাদেশ করার সময় তার শতভাগই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবনায় দুদকের জন্য একটি ‘বাছাই’ ও ‘পর্যালোচনা’ কমিটির কথা বলা ছিল। অধ্যাদেশ করার সময় ‘বাছাই’ শব্দটি রেখে ‘পর্যালোচনা’ শব্দটি ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটা জানার পর তিনি শীর্ষ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাঁরা ‘পর্যালোচনা’ রাখতে রাজি হন। এরপর তিনি জানতে পারেন, সেটা বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের আশাবাদ বেশি
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সফল হবে বলে মনে করেন অর্ধেকের বেশি মানুষ। নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের এই আশাবাদের বিষয়টি উঠে এসেছে প্রথম আলোর উদ্যোগে করা এক জরিপের ফলাফলে।
‘গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপ ২০২৫’ নামের জরিপটি পরিচালনা করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড। জরিপে উত্তরদাতারা নির্বাচিত সরকারের প্রতি আশাবাদের পাশাপাশি কিছু আশঙ্কার কথাও বলেছেন। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, দুর্নীতি দমনে নির্বাচিত সরকার সফল হবে না।
জরিপে একটি অংশে ১০টি বিষয় উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে এসব বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ হবে বলে আপনি মনে করেন? এর মধ্যে ৮টি ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের সফলতার আশা করছেন ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সরকার সফল হবে।
যে ৮টি বিষয়ে নির্বাচিত সরকার সফল হবে বলে বেশির ভাগ মানুষ মত দিয়েছেন, এর একটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচিত সরকার সফল হবে।
৭০ শতাংশ উত্তরদাতা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে, ৬৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং প্রায় ৬৯ শতাংশ নারীর নিশ্চিন্তে চলাফেরা ও নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকার সফল হবে বলে মনে করছেন।
নির্বাচিত সরকার অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন ৬২ শতাংশের বেশি মানুষ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটা নির্যাতন ও নিপীড়ন এবং লুটপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার হবে, এমন আশা প্রকাশ করেছেন যথাক্রমে ৫৭ ও ৫৪ শতাংশের বেশি মানুষ। প্রায় ৫৭ শতাংশ মানুষ মনে করছেন যে নির্বাচিত সরকার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে সফল হবে।
ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময় ভুয়া তথ্য, অপতথ্য ও বিকৃত তথ্যের ছড়াছড়ি ছিল। কর্তৃত্ববাদের পতনের পর এই প্রবণতা ও ব্যাপকতা অনেক গুণ বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড নকল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের প্রচার অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। গুজব, অপতথ্য ও ভুয়া তথ্যের ভিড়ে মূলধারার গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদের পতন–পরবর্তী গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনায়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। এ আলোচনায় টিআইবির পক্ষে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ প্রবন্ধ পড়ে শোনান টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর জাফর সাদিক।
প্রবন্ধে বলা হয়, গণমাধ্যমের ছদ্মবেশে অথবা বিভিন্ন গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে অপতথ্য, গুজব ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন টেলিভিশনের আদলে মিথ্যা ও গুজব–সংবলিত ভিডিও বানিয়ে তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য শনাক্ত করা কঠিন। এ ছাড়া অপতথ্যের রাজনীতির কবলে পড়ে নারীদের অবস্থান আরও প্রান্তিক হচ্ছে।
এ প্রবন্ধে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা এবং নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের একমুখী চাপ ছিল। এখন বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল, উগ্রবাদী সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হুমকি, ধর্মীয় ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাবে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ভারতসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ের সামনে দিনের পর দিন সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন অংশীজনের বক্তব্য ও সমালোচনার কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে একধরনের ভীতি জন্ম নিয়েছে বলে প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তী সরকার সচিবালয়ে প্রবেশে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করার বিষয়টি অনেক সাংবাদিককেই ভীত করে তুলেছে। আর সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা কিছু রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতার অব্যাহত হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করছে।
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য অফিশিয়াল সিক্রেটস আইনের কিছু ধারা, সাইবার নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা, বাংলাদেশ পেনাল কোড, ফৌজদারি কার্যবিধির কিছু ধারাসহ ১৩টি আইনের কথা উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, এসব আইনের বিভিন্ন ধারায় অতীতের সব নিয়ন্ত্রণমূলক উপাদান বিদ্যমান।
তোষামোদী সংবাদ প্রচার
গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তত ৮টি সংবাদপত্রের সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও টিআইবির প্রবন্ধে উঠে এসেছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনগুলো স্বচ্ছভাবে হয়নি।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গণ–অভ্যুত্থানের পর অনেক গণমাধ্যম আগামী দিনে ক্ষমতায় আসতে পারে, এমন রাজনৈতিক দলের আনুগত্য মেনে নিয়েছে। ফলে আগের মতোই তোষামোদী ও ফরমায়েশি সংবাদ প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
১৫ মাসে ১ হাজার সাংবাদিককে হয়রানি
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪৭৬টি ঘটনায় ১ হাজার ৭৩ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে টিআইবির প্রবন্ধে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ২৫৯টি ঘটনায় ৪৫৯ জন গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন এবং ৮৯টি ঘটনায় ৯৯ জনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। হত্যার শিকার হয়েছেন ৬ জন সাংবাদিক।
সংস্কারের পথে আমলাতন্ত্র বড় অন্তরায়
প্রবন্ধে উপস্থাপন শেষে আলোচনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রকাঠামোর বাইরে নয়। এই স্বীকৃতি যত দিন রাষ্ট্র না দেবে, তত দিন বাস্তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বপ্নের মধ্যেই থেকে যাবে।
বিগত ১৫ বছরে কর্তৃত্ববাদের বিকাশে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ কারণে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।
দেশে সংস্কারের পথে আমলাতন্ত্র বড় অন্তরায় বলেও মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলাম, এবার আমাদের পালা—রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্রের এমন মানসিকতার কারণে সংস্কারের সম্ভাবনা ঝুঁকিতে পড়েছে।
দেশে মানবাধিকার কমিশন এখনো অকার্যকর
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ বুধবার। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানবাধিকার আমাদের প্রতিদিনের অপরিহার্য বিষয়’। অথচ বাংলাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বছরের বেশি সময় ধরে অকার্যকর।
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম সব ঘটনার পর জুলাই অভ্যুত্থান মানুষকে করে তুলেছিল আশাবাদী। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের নভেম্বরে মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদসহ সব সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। আওয়ামী লীগ আমলে এই মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকাও অবশ্য ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
এরপর গত মার্চে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল মানবাধিকার কমিশন আইন সংস্কার করে মাসখানেকের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর আট মাস গড়িয়ে গেলেও মানবাধিকার কমিশন এখনো গঠিত হয়নি। এর মধ্যে এক মাসের বেশি সময় আগে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি হয়। নতুন আইনের অনেক বিষয় মানবাধিকারকর্মীরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
বিদায়ী দুই উপদেষ্টা সরকারে থেকে কেমন করলেন
১১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক আগের দিন পদত্যাগ করলেন ছাত্রদের প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিন থেকে সরকারে ছিলেন। তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
মাহফুজ আলম শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ছিলেন। নিয়োগ পান গত বছরের ২৮ আগস্ট। গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। তবে সে সময় তাঁকে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর তাঁকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সবমিলিয়ে আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা ছিলেন ১৫ মাস। আর মাহফুজ আলম ছিলেন ১৩ মাস। এ সময়ে তাঁরা সরকারে থেকে কেমন করেছেন—সেই প্রশ্ন আসছে। কারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের পক্ষ থেকে ‘নতুন বন্দোবস্তের’ কথা বলা হয়েছিল।
মানুষ আশা করেছিল, গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্বের জায়গা থেকে আসা উপদেষ্টারা অন্তত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয় কমাতে নতুন উদ্যোগ নেবেন। স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকবেন। স্বার্থান্বেষী মহলের চাপ উপেক্ষা করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।
বিদায়ী দুই উপদেষ্টা কেমন করলেন—জানতে চাওয়া হয়েছিল দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি দুই উপদেষ্টার কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা তাঁরা রাখতে পেরেছেন, তা বলা যাবে না; বরং তাঁদের মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
দুই বিদায়ী উপদেষ্টাকে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতেই পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তাঁরা তখন পদত্যাগ না করে ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণে নিমজ্জিত থাকলেন। এটি ভালো দৃষ্টান্ত হয়নি।
আসিফ ভুঁইয়ার ১৫ মাস
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে, তখনই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কর্মসূচি ছিল ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট, যা এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হয়। আর এ ঘোষণা আসে আসিফ মাহমুদের মাধ্যমে, যা শেখ হাসিনার সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা তাই স্মরণীয়। গত বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে শুরুতেই অন্তর্ভুক্ত হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। এ এফ হাসান আরিফকে (প্রয়াত) সরিয়ে আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় গত বছরের নভেম্বরে। সেই থেকে তিনি স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ হচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদকেরা। কারণ, বাজেট বরাদ্দের দিক থেকে সব সময়ই এই মন্ত্রণালয় শীর্ষের দিকে থাকে। মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দলের নেতা–কর্মীদের সুবিধা দেওয়া হয়। এমনকি দলীয় তহবিল গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ ছিল। হাসান আরিফকে সরিয়ে দেওয়া এবং আসিফ মাহমুদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে এমন বিবেচনা ছিল বলে আলোচনা আছে এবং বিষয়টি নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠেছিল।
পদত্যাগের আগে আসিফ মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীন উন্নয়ন ও অর্জনের লম্বা ফিরিস্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩টি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৩২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় ২১টি প্রকল্প রয়েছে। এগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় ১২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বলে তিনি জানান। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এলজিইডির অর্জন হিসেবে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামপর্যায়ে ৪ হাজার ৭০০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন তিনি। ডিপিএইচইয়ের অর্জন হিসেবে বিভিন্ন পানির উৎস, ড্রেন নির্মাণ, জনস্বাস্থ্যবিষয়ক স্থাপনা উন্নয়নের বিবরণ দিয়েছেন তিনি। ব্যয় সাশ্রয় হিসেবে ৩১টি প্রকল্প থেকে ২ হাজার ৬০২ কোটি টাকা সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। এ ছাড়া ই–রিকশার পাইলটিং কর্মসূচি, গাইবান্ধায় তিস্তা নদীর ওপর সেতু উদ্বোধন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিলের কথাও বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ও সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন আসিফ।
কিন্তু আসিফ মাহমুদের লিখিত ফিরিস্তির মধ্যে দুর্নীতি-অনিয়ম দমনে কী কী করেছেন, তা নেই। সচ্ছতা নিশ্চিতে, অপচয় দূর করতে, প্রকল্পের গুণগত মান ও কাজের মান বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা নেই।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর বড় পদে নিয়োগে অনিয়ম, প্রকল্পে দুর্নীতি, প্রকল্পের গাড়ি জমা না দিয়ে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ আগে ছিল। আসিফ মাহমুদের সময়েও এমন অভিযোগ উঠেছে। কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে আগের মতো ধারা।
আসিফ মাহমুদের লিখিত ফিরিস্তির মধ্যে দুর্নীতি-অনিয়ম দমনে কী কী করেছেন, তা নেই। সচ্ছতা নিশ্চিতে, অপচয় দূর করতে, প্রকল্পের গুণগত মান ও কাজের মান বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা নেই।
যেমন বিদায়ী স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার জন্মস্থান কুমিল্লা। তাঁর সময়ে জেলাটির সড়ক ও অন্যান্য গ্রামীণ অবকাঠামো মেরামত ও উন্নয়নে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ধরা হয় আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরে (৪৫৩ কোটি টাকা)।
শুরুতে মুরাদনগরকেন্দ্রিক নানা রাজনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত হন আসিফ মাহমুদ, তাঁর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আলোচনায় আসে ঢাকা-১০ আসন (ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট এলাকা) থেকে তিনি নির্বাচন করবেন। মুরাদনগর থেকে ধানমন্ডি এলাকার ভোটার হওয়ার আবেদন করেন।
এর মধ্যে খবর বের হয় যে ঢাকার ২৭৪টি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে মাত্র একটি বাদে অন্য ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানই পড়েছে ঢাকার মাত্র তিনটি সংসদীয় আসন এলাকায়। ১৪৫টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের অবস্থান ঢাকা-১০ আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায়।
আসিফ মাহমুদের সময় বেশ কিছু বিতর্কিত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তাঁর সময়ে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ৪৪ উপজেলায় পাঠাগার করার প্রকল্প নেওয়া হয়। যদিও পাঠাগার করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর। তারা কিছু জানতই না। ঢাকার ফুসফুস নামে পরিচিত ওসমানী উদ্যানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ, যা নিয়ে পরিবেশবাদীদের আপত্তি আছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ যেভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ অপচয় করত, আসিফ ভুঁইয়ার সময়ে তেমন দুটি প্রকল্প নিয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। ব্যয় ৩৪৬ কোটি টাকা।
সরকারে গিয়ে আসিফ ভুঁইয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেন। গত জুনে শাহজালাল বিমানবন্দরে তাঁর ব্যাগে একটি গুলি-ম্যাগাজিন পাওয়া গেলে বিতর্ক শুরু হয়। পরে তিনি বলেছিলেন, এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যাগে চলে এসেছিল এবং ওই ম্যাগাজিন লাইসেন্স করা অস্ত্রের অংশ।
আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনের নামে গত এপ্রিলে এলজিইডিতে ঠিকাদারি লাইসেন্স তালিকাভুক্ত করার খবর বের হয়। ছেলে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বাবা ওই মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থার ঠিকাদার হচ্ছেন—এমন খবরে সমালোচনার জন্ম দেয়। কারণ, এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।
পরে আসিফ মাহমুদ বলেন, স্থানীয় একজন ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে বাবার পরিচয় ব্যবহার করার জন্য বাবাকে লাইসেন্স করার পরামর্শ দেন। বাবাও তাঁর কথায় জেলা নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার থেকে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করেন। তাঁর বাবা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সে জন্য বাবার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১৫ বছর পর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে তাকসিম এ খান দায়িত্ব পালন করেন। নানা সমালোচনা, অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তাঁর মেয়াদ বাড়িয়ে দায়িত্বে রেখে দেয় তৎকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এসে তাকসিমকে বিদায় করে। ওয়াসাতে এমডি নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েই গেছে।
গত ১১ নভেম্বর ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম ব্যাপারীকে নতুন এমডি নিয়োগ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাঁকে নিয়োগ দিতে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তির শর্ত। নিয়োগের যোগ্য করতে তাঁকে পদোন্নতিও দেওয়া হয়। তারপর কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার ছাড়াই তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম উঠানো হয়, অর্থাৎ সমালোচনা, বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগও নিয়োগ আটকাতে পারেনি।
দেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিকেট বোর্ড গঠনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে তিনি নিজের মতো করে জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর নিয়োগ করেন। ফলে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নিয়োগ পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যাঁদের তিনি প্রয়োজন মনে করেছেন, তাঁরাই পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকার সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রথম আলোর প্রথম পাতায় আমার এলাকার একটি প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিবেদন করা হয়েছে। আমরা জানি না তারা কিসের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করেছে। প্রকল্পটি পাস হওয়ার আগপর্যন্ত প্রতিবেদন করা কতটা ঠিক হয়েছে। এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আর একনেক সভা হবে না। তাই প্রকল্পটি আর পাস হবে না।’
নিজের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি দুদককে অনুরোধ করে জানিয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য। যখন এ বিষয়ে অভিযোগ আসে, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি কাউকে কিছু করার সুযোগ দিইনি। সে কারণে দুদককে অধিকতর তদন্তের জন্য অনুরোধ করি। এখন সেটি দুদকের এখতিয়ার। তারা হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারবে।’
বিদায়ী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার এপিএস মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত এপ্রিলে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিজের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেন আসিফ মাহমুদ। ফলে নিজের পছন্দের এপিএসের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সমালোচনায় পড়েন উপদেষ্টা নিজেও।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোয়াজ্জেমের বিষয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেখানে কোনো অগ্রগতির খবর নেই।
মাহফুজ আলমের ১৩ মাস
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথমবার অংশ নিতে গিয়ে সফরসঙ্গী করেন মাহফুজ আলমকে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাহফুজ আলমকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধান উপদেষ্টা, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সমতা, নতুন বন্দোবস্ত আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের কথা বিভিন্ন সময় বলেছেন মাহফুজ আলম। তবে আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রক্রিয়ায় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের (টিভি) লাইসেন্স দিত, সেই একই প্রক্রিয়ায় নতুন দুটি টিভির অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। লাইসেন্স দেওয়া হয় তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের।
মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, তিনি ঠিকমতো অফিসে আসতেন না। এলেও বিকেলের দিকে আসতেন। পদত্যাগ করার আগে অন্তত এক সপ্তাহ অফিসমুখী হননি।
আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রক্রিয়ায় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের (টিভি) লাইসেন্স দিত, সেই একই প্রক্রিয়ায় নতুন দুটি টিভির অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। লাইসেন্স দেওয়া হয় তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সংস্কারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের কিছুই হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদপত্রের সঠিক প্রচারসংখ্যা প্রকাশ, সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়ানো, সরকারি বিজ্ঞাপন বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনা—এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি।
জানতে চাইলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি, এটা সত্য। উপদেষ্টা হিসেবে মাহফুজ আলমের এ বিষয়ে ভূমিকা নেওয়ার কথা। তবে তিনি সেটা নেননি, অথবা পারেননি। না পারার কী কারণ, সেটা তিনি ভালো জানবেন। তবে শোনা যায়, আমলারা তাঁকে সহযোগিতা করেননি। তিনি আমলাদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।
কামাল আহমেদ আরও বলেন, মাহফুজ আলম গত সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, তিনি অন্তত সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইনটি করে যাবেন। সেই অঙ্গীকারও তিনি রাখতে পারেননি। কেন পারেননি, সেটার ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারবেন।
মাহফুজ আলমের বড় ভাই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম। গণ-অভ্যুত্থানের পরে তাঁকে করা হয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পর্ষদ সদস্য। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে উপদেষ্টা ভাইয়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত মুনতাসির মাহমুদ। মুনতাসির গণ-অভ্যুত্থানের পর রেড ক্রিসেন্টে উপপরিচালক পদে চাকরি পেয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, বিদায়ী দুই উপদেষ্টা সরকারে থেকে যে কাজ করেছেন, সেটা গতানুগতিক। বিশেষ কোনো অর্জন তাঁদের নেই।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে এ দিন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করে ভাষণে সিইসি বলেছেন, বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচন জাতীয় ইতিহাসে অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসংকোচে ভোট দেওয়া এবং রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার ভোট গ্রহণ হবে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে টানা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টাকে অ্যামনেস্টির চিঠি
গ্রেপ্তার বমদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অপরাধের অভিযোগ আনুন, না হয় মুক্তি দিন
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
পার্বত্য চট্টগ্রামে বম জনগোষ্ঠীর ৫৯ সদস্যকে বিনা বিচারে বন্দী রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনতে হবে, না হয় তাঁদের মুক্তি দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে এমন আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চিঠিটি শুক্রবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বম জনগোষ্ঠীর আটক সদস্যদের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কিছু সুপারিশও করা হয়েছে।
পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটা অবান্তর: চবি সহ–উপাচার্য
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
পাকিস্তানি বাহিনীর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার বিষয়টি অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। আজ রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, ‘যে সময় আমি (পাকিস্তানি বাহিনী) দেশ থেকে পালানোর জন্য চেষ্টা করছি, আমি জীবিত থাকব না মৃত থাকব, সে বিষয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি, সে সময় পাকিস্তানি যোদ্ধারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটি আমি মনে করি রীতিমতো অবান্তর।’
বেলা ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরে ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. শামীম উদ্দিন খান এ কথা বলেন।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভারতীয় সেনা ও গোয়েন্দাদের সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ: গোলাম পরওয়ার
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ইত্তেফাক
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার ঘৃণাস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে ঘৃণাস্তম্ভে শনিবার বেলা ১২টা থেকে জুতা নিক্ষেপ করা হয়। সেখানে ‘নিঃশব্দ ঘৃণা’ নামে গণস্বাক্ষর বোর্ডে শিক্ষার্থীরা রাজাকারদের প্রতি ঘৃণাও প্রকাশ করেন।
স্বাক্ষর বোর্ডে কেউ কেউ লিখেন, ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘গণহত্যার সমর্থকরা কীভাবে রাজনীতি করে’, ‘রাজাকারের বাচ্চারা এ যুগের কুলাঙ্গার’, ‘রাজাকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ নিকৃষ্ট ইতর প্রাণী’।
২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা করেছিল, দাবি চট্টগ্রাম জামায়াত আমিরের
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী এলাকায় এলাকায় গণহত্যা চালিয়েছিল। এই গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় ২৫ মার্চে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নামিয়ে ক্র্যাকডাউন করে দিয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যুব শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির এই দাবি করেন।
কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতি মুছে বিতর্কিত আলপনা
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের তিন দিকের দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতি আঁকা ছিল। গতকাল সোমবার হঠাৎ সেখানকার গ্রাফিতিগুলো মুছে দেওয়া হয়। তার স্থলে আঁকা হয় আলপনা, যা দেখতে অনেকটা বিয়েবাড়ি বা বৈশাখী উৎসবের আলপনার মতো। পরে অবশ্য স্থানীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমালোচনার মুখে আলপনা মুছে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গ্রাফিতি মুছে আলপনা আঁকার কাজটি করেছে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। গতকাল সন্ধ্যার আগে মুক্তিযুদ্ধের গ্রাফিতি মুছে আলপনা আঁকার বিষয়টি পথচারীদের নজর পড়ে। কেউ কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন অনেকে। এরপর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলপনা মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
২৭তম বিসিএসে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
২৭তম বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।
৬৭৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ৯০ জন, পুলিশ ক্যাডারের ৭০ জন, অডিট ক্যাডারের ৫ জন, আনসার ক্যাডারের ১ জন, কর ক্যাডারের ১ জন, সমবায় ক্যাডারের ৫ জন, খাদ্য ক্যাডারের ২ জন প্রমুখ।
২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে এবং দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা গত ফেব্রুয়ারিতে (২০২৫ সালে) আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। পরে আপিল বিভাগ এই বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্য থেকে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে আজ গেজেট প্রকাশ করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বকশ চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন।
২৮ সুপারিশ আরপিওতে যুক্ত করা হয়নি
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পরিচ্ছন্ন ও যুগোপযোগী করতে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন একগুচ্ছ সুপারিশ দিয়েছিল সরকারকে। সেগুলোর মধ্যে আরপিওতে (গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ) যুক্ত করা আবশ্যক ছিল এমন ২৮টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) এক প্রবন্ধে এমন তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার: অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। বৈঠকে নির্বাচনবিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রবন্ধে বলা হয়, আরপিওতে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের গণতন্ত্রায়ণ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও দলের সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা, নির্বাচন কমিশনের দায়বদ্ধতা। ২০২৩ সালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিবন্ধন দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব দলের প্রতীক ব্যবহার করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
কমিশনের যে ২৮টি সুপারিশ গ্রহণ করা হয়নি, সেগুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন দল নিবন্ধনের শর্ত শিথিল করা; দলের সাধারণ সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং তালিকা প্রতিবছর একবার হালনাগাদ করা; দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে দলের স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সব কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত করা; দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করা, যা থেকে দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড কর্তৃক দলীয় মনোনয়ন প্রদানের বিধান করা; মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের তিন বছরের সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক করার বিধান আবার সংযোজন করা; একই ব্যক্তির একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান বাতিল করা।
‘উদাসীনতা ছিল’
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে সৃষ্ট বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে আর এমন সুযোগ তৈরি না–ও হতে পারে। তাই বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর করার জন্য এগুলো যথাযথভাবে আরপিওতে যুক্ত করা আবশ্যক ছিল। আশা করি, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে আরও কিছু উদ্যোগ নেবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুজনের ট্রাস্টি ও সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেই সুপারিশগুলো দিয়েছিল। কিন্তু যথার্থ কারণ ছাড়াই সেগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানে উদাসীনতা ছিল। জবাবদিহির অভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
উই হ্যাভ আ প্ল্যান: তারেক রহমান
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রিয় বাংলাদেশ—শুরু করলেন ঠিক এভাবেই। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে লাখ লাখ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বললেন, ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল, ফর দ্য কান্ট্রি।’
দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য নেওয়া সেই প্ল্যান (পরিকল্পনা) বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা দরকার—এ কথাও স্পষ্ট করেই বলেছেন তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রেখে প্রথম যে বক্তব্য দিলেন, সেখানে সেই পরিকল্পনার বিস্তারিত অবশ্য উল্লেখ করেননি তিনি। শুধু বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান (পরিকল্পনা) বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তাঁর লাগবে।
বক্তব্যের শুরুর দিকে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বললেও পরে অবশ্য ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলেছেন তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে গণসংবর্ধনার আয়োজন করে বিএনপি। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে নামের ওই সড়কে নির্মিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৬ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি। বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে লাখ লাখ নেতা-কর্মী ৩০০ ফুট সড়কে জড়ো হন। তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তাঁরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তাঁর একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’
জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে এনসিপির ৩০ নেতার চিঠি
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জামায়াতে ইসলামীসহ ৮– দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য।
আজ শনিবার গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে নেতারা তাঁদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন।
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) যুক্ত হয়েছে।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন জাতীয় জীবনের এক কঠিন বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, সে সময় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে এত দিন আট দল কাজ করে আসছে। তার সঙ্গে আরও দুটি দল সম্পৃক্ত হয়েছে। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি ও এনসিপি। আট দল একসঙ্গে ছিল। আর দুটি দল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
এনসিপির সঙ্গে কিছুক্ষণ আগে বৈঠক শেষ হয়েছে জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তাঁরা (এনসিপি নেতারা) এই সংবাদ সম্মেলনে আসার সময় ও সুযোগ পাননি। এ ছাড়া দলীয় পরিসরে সভা করবেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি আট দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্ত দলগুলোকে জানিয়েছেন। আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।
আদর্শিক ঐক্য হয়নি, এটি নির্বাচনী সমঝোতা: নাহিদ ইসলাম
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তিনি বলেছেন, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে তাঁদের কোনো আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এটি একটি নির্বাচনী সমঝোতা।
আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। এর আগে বিকেলে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিপি তাদের সঙ্গে ১০–দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় থাকছে।
চলে গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
চলে গেলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. জিয়াউল হক জানিয়েছিলেন, ‘তাঁর অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। তিনি অনেকটা লাইফ সাপোর্টে আছেন।’ রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাঁর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পরিবারের সদস্যারা হাসপাতালে যান। রাত ২টার পর এজেডএম জাহিদ হোসেন হাসপাতালের সামনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সঙ্কটময়’ সময় অতিক্রম করছেন। উনার পরিবারের পক্ষ থেকে উনার সুস্থতার জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দেশবাসীকে দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি। এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আওয়ামী লীগ থেকে যোগ দিলে সব দায়দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা জামায়াত নেতার
০১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লতিফুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে তাঁরা সব দায়দায়িত্ব নেবেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
লতিফুর রহমান বলেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশে একটা পরিবর্তন হতে চলেছে। আমাদের দলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন। আপনাদের সব দায়দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানা, যেকোনো দায়দায়িত্ব আমরা নেব ইনশা আল্লাহ।’ জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনারা বিএনপি থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনাদের দায়িত্ব আমরা নেব। জামায়াতকে আইগল্যা (আগের) জামায়াত মনে করিয়েন না। এখনকার জামায়াত অনেক শক্তিশালী।’
লতিফুর রহমান ওই উঠান বৈঠকে বলেন, ‘আল্লাহর দল ছাড়া মানুষের গড়া দল করা যাবে না। আমার কথা নয়, কোরআনের কথা। কী, কথা ঠিক আছে? এটা ভালো করে খেয়াল করবেন। আল্লাহ বলছেন, আমি তোমাদের ভালো কাজের, মন্দ কাজের জাররা জাররা হিসাব নেব।’
এনইআইআর চালু হলো, বন্ধ হবে শুধু নতুন অবৈধ হ্যান্ডসেট
০১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর মধ্য দিয়ে দেশের নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো বন্ধ করা হবে।
এর আগে মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ, চুরি হওয়া ফোন বন্ধ এবং মোবাইল বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেনটিটি)—এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না।
বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪৫ জন কারাগারে
২ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। এর প্রতিবাদে ৫০০ থেকে ৬০০ জন বিক্ষোভকারী আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা চালায়। এতে ভবনের বাইরের কাঁচের দেয়াল ও সামনে থাকা একটি এসি স্টাফবাস ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বোয়িংয়ের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ১০ ড্রিমলাইনার ও চার ম্যাক্স উড়োজাহাজ
২ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে ১০টি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার এবং চারটি উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের। বিমানের পরিচালনা পর্ষদ গত মঙ্গলবার এসব উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে, যা গতকাল বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বিক্রি, অন্যান্য শর্তাবলি ও সেগুলো ডেলিভারির বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠায়। পরে গত ২০ ডিসেম্বর সংশোধিত খসড়া চুক্তি পাঠানো হলে তা বিমানের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত মূল্য ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করে নীতিগতভাবে সম্মতি এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়।
বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দরকষাকষির জন্য এখন বিমানের পক্ষ থেকে একটি কমিটি করা হবে। এ কমিটি প্রতিটি এয়ারক্রাফটের দাম ও অন্যান্য টেকনিক্যাল বিষয়ে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। সব ধরনের সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হলে বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু করবে বোয়িং।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বোয়িংয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০৩১ সালের নভেম্বরে উড়োজাহাজগুলোর প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছবে। আর সর্বশেষ উড়োজাহাজটি বিমানকে বুঝিয়ে দেয়া হবে ২০৩৫ সালের অক্টোবরে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবেই ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিল বিমান। অনুমোদিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলের। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মূলত দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য তৈরি বড় আকারের (ওয়াইড বডি) উড়োজাহাজ। আর বোয়িং ৭৩৭-৮ হলো মাঝারি আকারের (ন্যারো বডি), যা সাধারণত আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহার করা হয়।
সুইজারল্যান্ড থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে কেনা হবে এলএনজি, কোম্পানির মালিক আজারবাইজান
২ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
সুইজারল্যান্ডের সকার ট্রেডিং এসএর কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধান কার্যালয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় হলেও সকার ট্রেডিং এসএ মূলত আজারবাইজানের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি সকারের একটি বাণিজ্যিক শাখা (ট্রেডিং আর্মস)। সকার হচ্ছে স্টেট অয়েল কোম্পানি অব দ্য রিপাবলিক অব আজারবাইজানের সংক্ষিপ্ত রূপ। সুইজারল্যান্ড আদতে তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী কোনো দেশ নয়। ফলে সকারের সঙ্গে জিটুজি প্রক্রিয়াকরণ কেন সুইজারল্যান্ড থেকে হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের দুই মেয়ে লায়লা আলিয়েভা ও আরজু আলিয়েভা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে গেছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট: এনসিপিতে বড় ভাঙন, আট দিনে ১৩ কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ
১ জানুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলের নতুন রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অস্থিরতা ও ভাঙনের মুখে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত এক সপ্তাহে দলটির অন্তত ৮ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ—দলটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও নতুন বন্দোবস্ত তৈরির পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
দলটির কিছু নেতা সরাসরি জামায়াত ইসলামির সাথে জোট করাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন। এ ব্যাপারে দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আপত্তি জানিয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে স্মারকলিপিও দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই পদত্যাগের হিড়িক পড়ে।
সংস্কার প্রশ্নে জামায়াত ও এনসিপি ‘ন্যাচারাল এলাই’, জোটকে ইতিবাচকভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
০৪ জানুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সাথে আমাদের আদর্শিক জোট হয়নি। আমরা এককভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করছিলাম। প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর ওসমান হাদি শহীদ হন। এই ঘটনা আমাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করে।’
সংস্কার প্রস্তাবনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একে অপরের ‘ন্যাচারাল এলাই’ (স্বার্থের মিল) আছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। একইসঙ্গে সংস্কার, বিচার নিশ্চিতকরণ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই দুই দলের জোট গঠনকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহবায়ক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এনসিপির ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
একাত্তর বাদ দিলে অস্তিত্ব থাকে না: গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টকে তারেক
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
একাত্তরকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ জানিয়েছেন, বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের’ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এ কথা বলেন।
সেখানে তারেক আরও বলেছেন, অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদীসহ সবাইকে নিয়ে একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তার আছে।
সোমবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার ছেলেকে সমবেদনা জানাতেই মূলত ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের’ নেতারা গিয়েছিলেন।
পাশাপাশি সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা- অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসাবে এবং পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানাইতে আমরা গেয়েছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন আসার পরে মাতৃবিয়োগ… শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা সমবেদনা এগুলো জানাতে গেয়েছি।”
“এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন…এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বৈঠকে ছিলেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
এয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৯ নভেম্বর ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে সাতটি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল।
গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপিতে যোগ দিলেন শতাধিক আ.লীগ নেতাকর্মী
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গ্রেপ্তার এড়াতে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। রোববার রাতে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকারের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন। কামারপুকুর বাজারে এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি সম্প্রতি বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েছেন। রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসেম সরকার, কামারপুকুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লাবু সরকার। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক এই যোগদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধায় খাগড়াছড়িতে এনসিপির তিন শতাধিক নেতা-কর্মীর বিএনপিতে যোগদান
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
খাগড়াছড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তিন শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে এনসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ত্রিপুরার নেতৃত্বে তিন শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। পরে নবাগত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
যোগদানকারী নেতা-কর্মীদের পক্ষে বক্তব্য দেন বিপ্লব ত্রিপুরা। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগে থেকেই তাঁরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। ছাত্র–জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে এবং ন্যায়ের পক্ষে রাজনীতি করবে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় তাঁরা হতাশ হয়েছেন।
নির্বাচনী খরচ: তারেকের ব্যয় নিজের টাকায়, শফিকুরের বড় অংশ দল থেকে
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য ব্যয় ৬০ লাখ টাকা। এই খরচ আসবে তাঁর নিজস্ব আয় (কৃষি খাত ও ব্যাংক আমানত) থেকে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ব্যয়ের বড় অংশ আসবে তাঁর দলের তহবিল থেকে। আর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের মূল ভরসা জনসাধারণ। মূলত ক্রাউড ফান্ডিং বা গণ-অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা টাকায় নির্বাচনী ব্যয় সারবেন তিনি।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও দিতে হয়। সেখানে প্রার্থীরা সম্ভাব্য কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য কত টাকা পেতে পারেন, তার বর্ণনা থাকে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের হলফনামার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।
একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা নির্বাচনী আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আগে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। এবার এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাতে ব্যয়সীমা বেড়েছে। বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় হবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকা—এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হয়। সে হিসাবে এবার প্রার্থীরা আসনভেদে ২৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার সুযোগ পাবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইসি সূত্র জানায়, ভোটারের সংখ্যা হিসাবে ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমান ৩৩ লাখ টাকার কিছু বেশি ব্যয় করার সুযোগ পাবেন। আর বগুড়া–৬ আসনে তিনি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
র্যাব বিলুপ্তি, গোয়েন্দা সংস্থা সংস্কার করার সুপারিশ
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন সময়ে অপব্যবহার করার কথা তুলে ধরে গুম-সংক্রান্ত কমিশন দেশের প্রতিটি গোয়েন্দা সংস্থাকে সংস্কার করতে সুপারিশ করেছে। কমিশন বলছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলায়, কারণ তারা ক্ষমতার অংশ হতে চায়। তাদের অপব্যবহার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে গুম কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত এ কমিশন গত রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গুম কমিশনের প্রধান বলেন, এস আলমের পক্ষে ডিজিএফআই গিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছে। এটা কি ডিজিএফআইর কাজ ছিল? মিডিয়া হাউস দখল করা কি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা ডিজিএফআইর কাজ?
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারগুলো এবং ‘সদ্য বিদায়ী’ সরকার, সবাই তাদের অপব্যবহার করেছে। তবে ‘সদ্য বিদায়ী’ সরকার অনেক বেশি করেছে। সে প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কমিশন ইতোপূর্বে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পুনরাবৃত্তি রোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স প্রিভেনশন অ্যান্ড রিড্রেস অর্ডিন্যান্স, ২০২৫ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫ প্রণয়নে সহায়তা করে। পাশাপাশি কমিশন বাংলাদেশে বলপূর্বক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তকরণ, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ বাতিল বা মৌলিক সংশোধন, সমাজভিত্তিক প্রতিরোধমূলক সন্ত্রাসবিরোধী নীতি প্রণয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন্স আইন ২০০৩-এর ১৩ ধারা বাতিল, সকল বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা, বাধ্যতামূলক মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং সত্য, স্মৃতি ও জবাবদিহির প্রতীক হিসেবে আয়নাঘরগুলোকে জাদুঘরে রূপান্তরের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আর সেনাবাহিনীর কাজ হচ্ছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা, নতুন নতুন যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সেনা কর্মকর্তাদের কাজ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে। বরং পুলিশের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি এলিট ফোর্স গঠন করা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কমিশনে দাখিল করা এক হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্য থেকে একাধিকবার করা ২৩১টি অভিযোগ এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক তদন্তের পর গুমের সংজ্ঞার বহির্ভূত বিবেচনায় ১১৩টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। ফলে এক হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ কমিশনের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল, যার মধ্যে ২৫১ জন নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়। নিখোঁজদের অবস্থান নির্ধারণে কমিশন সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সাক্ষীসহ ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি ৭৬৫ জন গুমের শিকার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাদের শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ সম্ভাব্য সব রকম বিষয়ে কমিশন সুপারিশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় ২৫ শতাংশ গুমের অভিযোগে র্যাব জড়িত, এরপর পুলিশ ২৩ শতাংশ। এ ছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই ব্যাপকহারে গুম করেছে। অনেক ক্ষেত্রে সাদা পোশাকধারী বা প্রশাসনের লোক পরিচয়ে অপহরণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর ধরন থেকে স্পষ্ট যে, গুম একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত চর্চা হিসেবে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দ্বারা একক ও যৌথ অভিযানে সংঘটিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন অসদাচরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
কমিশনের সভাপতি আরও বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে এই কাজে যুক্ত করা হয়। তদন্তে ৪০টি বন্দিশালা পেয়েছে কমিশন। এর মধ্যে র্যাবের ২২ থেকে ২৩টি। গুম কমিশন কাজ শুরু করার পর র্যাব সবচেয়ে বেশি আলামত ধ্বংস করেছে।
বিএনপির ৮৩ শতাংশ প্রার্থী কোটিপতি, শতকোটি ৭ জন
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দেখালেও তাঁর রয়েছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ। এ ছাড়া জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) ২২০ কোটি টাকা, জাকারিয়া তাহের সুমনের (কুমিল্লা-৮) ২০৪ কোটি, মো. সফিকুর রহমান কিরণের (শরীয়তপুর-২) ১৭৭ কোটি, হারুনুর রশিদের (চাঁদপুর-৪) ১৬০ কোটি ও সাইদ আহমেদের (শরীয়তপুর-১) ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য মিলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ২৬৯ জনের হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে সমকাল।
ঋণখেলাপি হয়েও টিকেছেন ৩১ প্রার্থী, অর্ধেক বিএনপির
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ঋণখেলাপি হলেও আদালতের আদেশ বিবেচনায় নিয়ে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ১৫ জনই বিএনপির প্রার্থী। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। বাকিরা অন্য দলের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত এই ৩১ জন। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তারা খেলাপি হয়েছেন। কিন্তু উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়ে বাছাইয়ে টিকে গেছেন এসব প্রার্থী।
এবারের সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন দুই হাজার ৫৬৫ জন। তাদের মধ্যে বাছাইয়ে শুধু ঋণখেলাপির কারণেই বাতিল হয়েছে ৮২ জনের প্রার্থিতা। তাদের মধ্যে ২৮ জন স্বতন্ত্র, তিনজন বিএনপি এবং দুজন জামায়াত মনোনীত। এর বাইরে জাতীয় পার্টি, সিপিবি, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও রয়েছেন। সিআইবির তথ্যের আলোকে নির্বাচন কমিশন প্রার্থী বাছাইয়ে এসব ঋণখেলাপির প্রার্থিতা আটকে দিয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে সব মিলিয়ে বাতিল হয়েছে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এখন ২৯৫টি, বিক্রি করতে হবে সরকার নির্ধারিত দামে
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বড় করেছে সরকার। এই তালিকায় এখন ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে। তবে ওষুধশিল্পের মালিকেরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতিরও অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। এখন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ২৯৫। এই ওষুধগুলোর মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। তালিকায় থাকা এসব ওষুধ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটাবে এবং এসব ওষুধ দেশের মানুষের ৮০ শতাংশ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি তৈরির জন্য টাস্কফোর্স ও কমিটি করা হয়েছিল। এই টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্প মালিক, জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শক, গবেষকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পৃথক সভা করেছে ও তাঁদের সুপারিশ নিয়ে তালিকা ও নীতি চূড়ান্ত করেছে। তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগের ওষুধও আছে।
নতুন করে আরো ২৫২ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দিয়েছে আসিফ নজরুলের মন্ত্রণালয়
৯ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
অবৈধভাবে বিদেশগমন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে না ফেরা, এমনকি নথি জালিয়াতি করে বিদেশ গমন—এসব এখন বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা। যার জন্য অন্যতম দায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ খাতে সবচেয়ে বেশি কালো টাকা তৈরির অভিযোগ ছিল। এমনকি তৎকালীন অর্থমন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ কার্যক্রমে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে।
এসব কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশীদের বৈধপথে বিদেশ গমনের পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রত্যাশা ছিল এ খাতে সুশাসন ফিরবে, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি শক্ত হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নতুন করে আরো ২৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দিয়েছে—যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০২৫ সালে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। একই বছর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ বিলিয়ন ডলার। জনশক্তি রফতানি খাতে ভারতে রিক্রুটিং এজেন্সি আছে ১ হাজার ৯৮৮টি। অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে এমন রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৬। শুধু ভারত নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি সক্রিয় আছে বাংলাদেশে। এমনকি পৃথিবীর বড় বড় বড় শ্রম রফতানিকারক দেশগুলোর তুলনায়ও এ সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
অস্ত্রধারী দেহরক্ষী পেলেন চরমোনাই পীর ও সাকি
১০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমকে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী বা গানম্যান দিয়েছে সরকার। দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও মেহেরপুর-১ আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ অরুণকেও।
অবশ্য জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দেহরক্ষী দেওয়া হয়নি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের (হিরু) আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বুধবার তিনজনের দেহরক্ষী দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও অনেকের আবেদন আছে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঢালাওভাবে অস্ত্রধারী দেহরক্ষী দেওয়া হবে না। নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আরও কয়েকজন রাজনীতিবিদকে দেহরক্ষী দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স এবং অস্ত্রধারী দেহরক্ষী চেয়ে আবেদন করেছিলেন ২০ জনের মতো রাজনীতিবিদ। কারও কারও ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেসব আবেদনের বিষয়ে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিড়িতে সুখ টান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ইত্তেফাক
ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ফয়জুল হকের একটি নির্বাচনি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি মন্তব্য করেছেন, বিড়িতে সুখটান দিয়েও যদি কেউ ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের দাওয়াত দেয়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়ে ভালো মানুষ বানিয়ে দিতে পারেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুরে এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে ড. ফয়জুল হক এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত লাইভ ভিডিওটি বৃহস্পতিবার রাতে ভাইরাল হয়।
বক্তব্যে ফয়জুল হক বলেন, ‘বিড়ি যে দোকান থেকে খাবেন, সেখানে গিয়ে বিড়ি ধরিয়ে একটা সুখটান দিয়ে বলবেন—দেশের অবস্থা দেখছ? দাঁড়িপাল্লা ছাড়া তো আর মানুষ দেখি না। এমনও হতে পারে আমার কোনো ভাই হয়তো ইবাদত করার সুযোগ পায় নাই, কিন্তু ওই সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেয় এবং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিতে পারেন।’
আওয়ামী লীগের ভোট কে পাবে, চলছে নীরব প্রতিযোগিতা, নানা কৌশল
১০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দেশে ক্রিয়াশীল প্রায় সব রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিলেও দলটির সমর্থকদের ভোট পক্ষে নিতে চায় প্রতিদ্বন্দ্বী সব দল। এ নিয়ে আসনভিত্তিক নীরব প্রতিযোগিতা চলছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ একাধিক দল মনে করছে, নিজেদের সমর্থকদের বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের পক্ষে টানতে পারলে সেটা জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ভোট টানতে নানা কৌশল নিচ্ছে দলগুলো। কোথাও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের দলে ভেড়ানো, কোথাও মামলা-নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নির্বাচনে ‘ডিপফেক’, ‘চিপফেক’ আতঙ্ক, ১০ কৌশল বেশি ব্যবহার হচ্ছে
১১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, তা নিশ্চিত ছিল। নির্বাচনটি পরিচিত ‘ডামি ভোট’ নামে।
সেই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন সকালের দিকে গাইবান্ধা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ নাহিদ নিগারের একটি ভুয়া বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে বলতে দেখা যায়, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যা অনেক ভোটারকে বিভ্রান্ত করে।
নির্বাচনে ডিপফেক ভিডিও ব্যবহারের এটি বাংলাদেশি একটি উদাহরণ। জার্মান সংস্থা কনরাড অ্যাডেনয়ার ফাউন্ডেশনের (কেএএস) ‘নির্বাচনে ডিপফেকের প্রভাব’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে (২০২৪) বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জাম্বিয়া, ফ্রান্স—উদাহরণ অনেক।
ফ্যাক্টচেকার, বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে অপতথ্য ছড়াতে ডিপফেক ও চিপফেকের মতো ১০টি কৌশল বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সত্য ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বা ভিন্ন অর্থবাহী ক্যাপশন জুড়ে দেওয়া; সত্য বক্তব্যের অংশবিশেষ কেটে বা প্রসঙ্গ বদলে ভিন্ন অর্থ তৈরি করা; সম্পূর্ণ মনগড়া বক্তব্য বা উদ্ধৃতি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে চালিয়ে দেওয়া, পুরোনো ছবি, ভিডিও বা খবরকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা, ইত্যাদি।
বড় মাধ্যম ভিডিও
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর মাত্রা বাড়ছে। ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ও আলোচিত অন্তত ১৩ নেতা-নেত্রী এমন ঘটনার ভুক্তভোগী হয়েছেন।
দেশে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিথ্যা তথ্যের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ২৯ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব। আটটি স্থানীয় তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম ছিল ভিডিও; মোট তথ্য যাচাইয়ের ৬৬ শতাংশই ছিল ভিডিওভিত্তিক। আগের তিন মাসের (এপ্রিল-জুন ২০২৫) তুলনায় গ্রাফিকস, ছবি ও লিখিত পোস্টের ব্যবহার কমেছে, অর্থাৎ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার তৈরি ভুয়া ভিডিওর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর হারও বাড়ছে।
আবার গণমাধ্যমের ফটোকার্ড, টিভি স্ক্রল বা নিউজ পোর্টালের ডিজাইনের আদলে ভুয়া গ্রাফিকস বানানো; মনগড়া সংখ্যা বা পরিসংখ্যান ব্যবহার; স্ক্রিনশট বা নথি জাল করা এবং একই মিথ্যা তথ্য একযোগে বহু পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে দেওয়ার সমন্বিত অপপ্রচারের ঘটনাও ঘটছে।
রিউমর স্ক্যানার বলছে, প্রকৃতির দিক থেকে এগুলোর মধ্যে সরাসরি মিথ্যা ছিল ১ হাজার ৫১টি, বিকৃত তথ্য ২৫৩টি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ১৩২টি, আংশিক মিথ্যা ৩টি ও আংশিক সত্য ২টি। এতে বোঝা যায়, যাচাইহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরাসরি মিথ্যাই এ সময়ে অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার ছিল।
দেশে নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য ও ভিডিওভিত্তিক অপতথ্যের ব্যাপক বিস্তারের বিষয়টি উঠে এসেছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণেও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসে ১ হাজার ৪৪১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৬টি অপতথ্যই ছিল রাজনৈতিক। আবার সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে ভিডিওভিত্তিক ভুল তথ্য, যার সংখ্যা ৬৫১টি। এরপর রয়েছে তথ্যভিত্তিক ভুল তথ্য ৫৫০টি ও ছবিভিত্তিক ভুল তথ্য ২৪৫টি।
রিউমর স্ক্যানার বলছে, প্রকৃতির দিক থেকে এগুলোর মধ্যে সরাসরি মিথ্যা ছিল ১ হাজার ৫১টি, বিকৃত তথ্য ২৫৩টি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ১৩২টি, আংশিক মিথ্যা ৩টি ও আংশিক সত্য ২টি। এতে বোঝা যায়, যাচাইহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরাসরি মিথ্যাই এ সময়ে অপতথ্য ছড়ানোর প্রধান হাতিয়ার ছিল।
ডিসমিসল্যাবের ৬ জানুয়ারির এক প্রতিবেদন বলছে, ১৬ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের ৯টি ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা নির্বাচনসংক্রান্ত ৬৩টি মিথ্যা দাবি শনাক্ত ও খণ্ডন করেছে। এর আগে ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৫০টি, অর্থাৎ মিথ্যা দাবি প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মিথ্যা বিবৃতি ও উক্তি।
কারা করছে
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশে থেকে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি নিয়মিত বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়ান, সত্য–মিথ্যা মিলিয়ে অপপ্রচার চালান, উসকানি দেন। সেটি সবাই জানে। তবে সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া ভিডিও, ছবি ও অডিও কারা তৈরি করেন, তা অনেক সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
তথ্যব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়া অ্যাকাউন্ট ও পেজ শনাক্ত করা কঠিন নয়। কিন্তু এর পেছনে কারা, সেটি বের করতে তদন্ত দরকার, যা ফ্যাক্টচেকারের পক্ষে সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, অপতথ্য ছড়ানোর সঙ্গে মোটাদাগে দুই শ্রেণির মানুষ জড়িত। এক শ্রেণি রাজনৈতিক অথবা আদর্শিকভাবে উৎসাহিত। অন্য শ্রেণিটি টাকার বিনিময়ে কাজটি করে। প্রবণতা দেখে সন্দেহ করা অমূলক নয় যে এদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি জড়িত।
ফ্যাক্টচেকাররা প্রবণতা বিশ্লেষণ করে বলছেন, ভুয়া পরিচয়ে খোলা ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের একাধিক বাহিনী রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘বটবাহিনী’। এই বাহিনী রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করে। কারও কারও বাহিনী শক্তিশালী, কারও শক্তি কম।
হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে। ভোটের প্রচার শুরু হলে আরও নানা কৌশল দেখা যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ‘যে নির্বাচনে নৌকা নেই, সেই নির্বাচনে ভোট নয়’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মিত্র ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরাও এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্র দলের কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ হয়তো ভোট দিতে যাবে না। এরপরও আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থক-ভোটারকে কেন্দ্রে এনে নিজের পক্ষে রাখতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
জুলাই শহীদের পরিবারকে ‘বিক্রি করে’ সমন্বয়করা আজ কোটি টাকার মালিক, অভিযোগ জুলাই শহীদের বাবার
১০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
এক সংবাদ সম্মেলনে এসে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতাদের থেকে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এক শহীদের বাবা অভিযোগ করেছেন, শহীদ পরিবারকে ‘বিক্রি’ করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ছাত্র সমন্বয়কেরা। আর অন্তর্বর্তী সরকার বিচারের নামে ‘ঘুমপাড়ানি গল্প’ বলছে।
আজ শনিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরম খাঁ হলে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’। শতাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। ‘জুলাই ২৪-এর শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচারে সরকারের অনীহা ও আসামিদের গ্রেপ্তার না করার প্রতিবাদে এবং শহীদ পরিবারের ন্যায্য অধিকার’-এর দাবিতে ডাকা এই সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি দাবি জানানো হয়।
ঘটা করে উদ্বোধনের সাড়ে ৭ মাসেও উদ্যোক্তারা পাননি ইন্টারনেট সংযোগ
১১ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
গত বছরের মে মাসে রাজধানীর ছয় এলাকায় ‘এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা’ দেয়ার উদ্যোগ শুরু করে সরকার। হয়রানি ও দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য একদল উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
গত বছরের মে মাসে রাজধানীর ছয় এলাকায় ‘এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা’ দেয়ার উদ্যোগ শুরু করে সরকার। হয়রানি ও দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রগুলো পরিচালনার জন্য একদল উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের রাজধানীর ছয়টি নাগরিক সেবা কেন্দ্রে বসার অনুমতি দেয়া হয়। বর্তমানে ছয়টি কেন্দ্রে ১২ জন উদ্যোক্তা কাজ করছেন। বেশ ঘটা করে উদ্বোধনের সাড়ে সাত মাস পরও কেন্দ্রগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগই নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।
সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ৪৫০টির বেশি সেবা দেয়া হবে নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে। বাস্তবে গত সাড়ে সাত মাসে চার থেকে পাঁচটি সেবার ফরম পূরণ ছাড়া আর কোনো সেবাই তারা দিতে পারেননি। ইন্টারনেট না থাকায় তারা নিজেদের মোবাইল ডাটা শেয়ার করে কাজ চালাচ্ছেন।
জানা যায়, গত বছরের ২৭ মে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং সরকারের আইসিটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে সরকারি বিভিন্ন সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ‘এক ঠিকানায় সকল নাগরিক সেবা’ স্লোগানে এ উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। সেদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর গুলশান, উত্তরা, নীলক্ষেত, গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর ও বনশ্রী এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। শুরুর দিকে গুলশান ও উত্তরা কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে চালু হয় অন্যগুলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাগরিক ভোগান্তি কমানোর এ উদ্যোগ প্রথম থেকেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
উত্তরা, গুলিস্তান ও নীলক্ষেতের উদ্যোক্তারা বলেন, ‘খুব আশা নিয়ে আমরা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। উদ্যোক্তা হয়েছি। কিন্তু গত সাড়ে সাত মাসে আমরা চরম হতাশার মধ্যে আছি। কথা ছিল, আমরা হয়রানিমুক্ত সেবা প্রোভাইড করব। বিনিময়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্য নেব। কিন্তু এখন আমরা শুধু অনলাইনে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি সেবার ফরম পূরণ করে দিচ্ছি। যেটা মানুষ নিজে নিজেই করতে পারে কিংবা দোকান থেকে করে থাকে। এর জন্য এত ঘটা করে কোনো প্রকল্পের বা ঘোষণার প্রয়োজন ছিল না। এখন আমরা শুধু দোকানের ভূমিকা পালন করছি। সেবাপ্রার্থীরা আসেন, আমরা ফরম পূরণ করে দিয়ে দিই। তারা সেই দালাল ধরে, বেশি টাকা দিয়েই সেবা নেন। সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।’
গণভোট নিয়ে এখনো জোরালো প্রচার নেই
১২ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে। ভোটের বাকি মাত্র এক মাস। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট নিয়ে তেমন প্রচার–প্রচারণা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও গণভোট নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের বড় ধরনের প্রচার নেই।
গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেসব উদ্যোগ এখনো মাঠপর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সরাসরি গণভোটের প্রচার করতে মসজিদের ইমাম ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের কাজে লাগাচ্ছে সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে বলছে। যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে গণভোটের প্রচারে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। এসব কর্মকর্তা এবং সরকার একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার চালাতে পারে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
আমলাতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি
১২ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত আটটি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সংস্কারের নামে যতটুকুই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবায়নে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তারা কার্যত আমলাতন্ত্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। কেন এই আত্মসমর্পণ হলো, দুর্বলতাটা কোথায়, তা মূল প্রশ্ন। তবে সরকারের অভ্যন্তরে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকায় এর নির্দিষ্ট উত্তর আমার কাছে নেই।’
আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য প্রণয়নে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশের বিষয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
টিআইবির সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘সংস্কারের জন্য খাত বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণে কোনো সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে, এমন বিবেচনার সুযোগ নেই। ১১টি কমিশন ও কমিটিসমূহের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্য অনেক খাত, যেমন শিক্ষা, কৃষি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত কোন যুক্তিতে বাদ পড়েছে এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। গণভোটের সিদ্ধান্ত ছাড়া সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনসমূহ বাস্তবায়নের কোনো কর্মকৌশল প্রণীত হয়নি। শুরু থেকে কোনো পর্যায়ে সংস্কার বিরোধী মহলকে চিহ্নিত করে প্রতিহত করার গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি। বরং এই অপশক্তির কাছে আত্মসমর্পণের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাতিল হয়েছে। সংস্কার-পরিপন্থী অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি জুলাই সনদকে যুক্তিহীনভাবে লঙ্ঘন করে নেতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংস্কার-পরি আইন বা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
এতে বলা হয়েছে, ‘সবগুলো সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, নারীবিষয়ক, শ্রম ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন, এবং অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর শ্বেতপত্রের সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্পর্কে কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।’
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ‘কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ সরকার একতরফাভাবে অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোক দেখানোভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় দায় এড়ানো হয়েছে। অবহেলিত হয়েছে। এমনকি কোনো কোনো অংশীজনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে। সরকার আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের চর্চার উদহারণ সৃষ্টি করতে পারেনি।’
আমলাতন্ত্রের কাছে সরকারের নতিস্বীকারের উদাহরণ দিয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও এনজিও খাতে বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মতো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সফল ক্ষেত্রে সংস্কার বিরোধী মহল, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী মহলের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকারের নতি স্বীকারের ফলে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে প্রতিটি জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্রসহ ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্বের চর্চা অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।’
সার্বিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘অধ্যাদেশ যেভাবে প্রণীত হয়েছে, তাতে এর স্বাধীন পুলিশ কমিশনের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে। লোক-দেখানো এ অধ্যাদেশে এমন অনেক উপদান রয়েছে যাতে তথাকথিত পুলিশ কমিশন অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ও পুলিশ আমলাদের ক্ষমতার অব্যাহত অপব্যবহারের রিসোর্ট ছাড়াকিছুই হবে না। বাস্তবে এটি পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুরক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’
টিআইবি বলেছে, ‘মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি আন্তর্জাতিক মানের আইন হিসেবে পরিগণিত হতে পারত, যদি খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় যেসব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, তাদের অন্ধকারে রেখে অন্তর্ঘাতী প্রক্রিয়ায় এতে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের অপ্রতিরোধ্য সুযোগ সৃষ্টি না করা হতো।’
সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশে যুগোপযোগী ইতিবাচক বিধান রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে টিআইবি। এতে বলা হয়েছে, ‘তারপরও কর্তৃত্ববাদী আমলের মতো ব্যাপক নজরদারিভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চলমান রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।’
দুদক সংস্কার কমিশনের আশু করণীয় সুপারিশ গুরত্ব পায়নি অভিযোগ করে টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘অন্য কোনো অংশীজনকে সম্পৃক্ত না করে দুদক ও সরকারি আমলাতন্ত্রের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে দুদকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিতের সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংস্কার প্রতিবেদনে দুদকের শীর্ষ কর্তৃপক্ষের যেমন দ্বিমত ছিল না, তেমনি জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট ছিল না দুদক সংস্কারে।’
গত দেড় বছরের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ বা মন্ত্রিপরিষদ নামে কর্তৃপক্ষ থাকলেও বাস্তবে অপারেশনাল সিদ্ধান্ত সেখানে নেওয়া হয় না। কোন কাগজে সই হবে, কোন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, কোন ধারা বা তারিখ থাকবে কিংবা বাদ যাবে, এসব বিষয় উপদেষ্টা পরিষদ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে না। এসব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে থাকা অত্যন্ত ক্ষমতাবান কিছু ব্যক্তি বা মহলের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এই মহলগুলো শুধু নিজেদের গোষ্ঠীস্বার্থই নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থ এবং কখনও কখনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একাংশের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশের উদাহরণ দিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘সংস্থাটিকে কার্যকর করার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট কৌশলগত অঙ্গীকার দেখা যায় না। দুদক যদি বাস্তব অর্থে সামান্য হলেও কার্যকর হয়, তাহলে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি হবে।’
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত শক্তিগুলোই নীতিগত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির বিরোধিতা করে এবং সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করে। উপদেষ্টা বা মন্ত্রীর তুলনায় প্রশাসনের একটি অংশ পর্দার আড়াল থেকে বেশি প্রভাব বিস্তার করে।’
একতরফা, পাতানো তিন নির্বাচনের পরিকল্পনা ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে
১৩ জানুয়ারি, প্রথম আলো
আওয়ামী লীগ আমলে ২০১৪ সালের একতরফা, ২০১৮ সালের রাতের ভোট ও ২০২৪ সালের ডামি ভোট নামে পরিচিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম করে জেতার ‘অভিনব’ পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের ভোটের পর থেকেই। এই পরিকল্পনা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে। আর তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এ কথাগুলো বলা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, নির্বাচনী অনিয়মে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন। তদন্ত কমিশনের জন্য বরাদ্দ করা সময় অপ্রতুল ছিল। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের নাম এবং কার কী ভূমিকা ছিল, তা বের করা সম্ভব হয়নি। সময়স্বল্পতার কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কমিশনের সদস্যরা ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সন্দেহজনক উল্লেখ করে ওই নির্বাচন নিয়েও তদন্ত করার সুপারিশ করেছেন।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন পাঁচ সদস্যের কমিশনের সভাপতি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন ও নির্বাচনবিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
এর আগে গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে প্রথমে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছিল। কমিটিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরের মাসে সেটি কমিশনে রূপান্তর করা হয়। সময় দেওয়া হয় ৩০ অক্টোবর। অবশ্য পরে এক মাস সময় বাড়ানো হয়।
কমিশনের দায়িত্ব ছিল ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম সম্পর্কে তদন্ত করা।
তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। তাতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের নানা অনিয়ম ও কৌশলের কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভোট হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে একধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট পড়ার হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না দেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত লাভ করে। ২০১৪–২০২৪ পর্যন্ত সময়ে নির্বাচনব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন দেশে ও বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দেয় এবং প্রকারান্তরে নির্বাচনের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের ইতিহাস রচনা করে। এ নির্বাচনগুলো ছিল একতরফা এবং এসব অনিয়মের নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের অর্থ অপচয় করে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার ভীষণভাবে খর্ব করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসব নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কলুষিত ও দুর্বল হয়েছে, গণতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনটি কলুষিত নির্বাচনের ভিত রচিত হয়েছিল ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের একটি বিতর্কিত রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণার মাধ্যমে।
যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে
প্রতিবেদনে যেসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে, তারও একটি তালিকা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোনীত একটি অংশকে ব্যবহার, বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের অজামিনযোগ্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও গুম, জাল ভোট প্রদান, নির্বাচনী কারচুপিতে নির্বাহী বিভাগকে ব্যবহার, অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ, আগে থেকেই ব্যালট বাক্সে ভোট ভরে রাখা, ভোট প্রদানের হারে পরিবর্তন, একতরফাভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ, নির্বাচনে ডামি প্রার্থী দাঁড় করানো ইত্যাদি।
সুপারিশ
তদন্ত কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠন, প্রশাসন ক্যাডার থেকে কোনো কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ না দেওয়া, প্রশাসনের বাইরে থেকে নির্বাচন কমিশনে সচিব নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করা, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং এ দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক কমিশনের কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ করতে হবে।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় নির্বাহী ও রাজনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ‘প্রটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক’ করা, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা আনার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন।
তদন্ত কমিশনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন হয়েছে বটে; কিন্তু এর ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হয়েছে ২০০৮ সালের পরে। ওই নির্বাচনের পরই কৌশল ছিল কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাতিল করা যায়। ২০১১ সালে তা বাতিল করা হয়। এটি বাতিল করার পেছনে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছিল। তিনি আরও বলেন, তিনটি নির্বাচন ছিল প্রতারণাপূর্ণ। এতে জোর করে ফল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তা ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মৃত্যু।
এক বাসায় অনেক পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও ভাইরাল, ব্যবস্থা চায় বিএনপি
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
একটি বাসায় কয়েকজন ব্যক্তি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট গুনছেন, এমন একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টাল ব্যালটের খামে ঠিকানা লেখা রয়েছে বাহরাইনের।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা দাবি করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি ‘বিশেষ রাজনৈতিক দলের’ নেতারা কাজটি করছিলেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তিকে পোস্টাল ব্যালট গুনতে দেখা যায়।
ভিডিওতে শোনা যায়, একজন ব্যক্তি ভিডিওকারীকে বাধা দিয়ে বলছেন, ‘এই দাঁড়ান, আপনি ভিডিও করছেন কিসের জন্য? এখানে উনারা মেইন ভিডিও করছে। কেন আপনারা আরও ভিডিও করছেন। আপনারা এখান থেকে যেগুলা আছে সব লইয়া যানগা। আমরার দরকার নাই। কিন্তু ভিডিও কইরেন না। ফেসবুকে ছাড়িয়েন না।’
অপর দিক থেকে একজন বলছেন, ‘ডিস্টার্ব কইরো না, কেউ ফেসবুকে ছাড়বে না।’
তখন ভিডিও ধারণে বাধাদানকারী ব্যক্তি বলছেন, ‘আমরা এগুলো (পোস্টাল ব্যালট) যাচ্ছি আর আনছি না। এগুলো আমাদের দিয়ে গেছে। এখানে আমার দাদিরা ছিল। আপনারা এখানে যা আছে সব লইয়া যানগা।’
পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষের অবস্থান নিয়ে আপত্তি বিএনপির, ভিডিও দেখে উদ্বেগ
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের প্রতীক ধানের শীষের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিএনপি। পাশাপাশি বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দলের উদ্বেগ তুলে ধরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল।
বৈঠক শেষে বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হয়েছে, আর বিএনপির প্রতীক রাখা হয়েছে মাঝামাঝি স্থানে। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা।
জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন সিপিডির
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিশেষ কোনো দেশের স্বার্থে তড়িঘড়ি করে অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি বলছে, এর মধ্যে দিয়ে জ্বালানি রূপান্তরে অন্তর্বর্তী সরকার উল্টো পথে যাত্রা করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬-২০৫০) নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিপিডি এ কথা বলেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিগত সরকারের সময়ে কী ধরনের বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে এই সংস্থা (সিপিডি) কাজ করেছে, তা সবাই জানে। বর্তমান সরকারের সময়ে কিছুটা সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা কাজ করছিলেন। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে একটি খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয় সিপিডি জানে না। এটা সিপিডির জন্য একধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি।
কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া, কোনো ধরনের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ ধরনের একটি কাজ (খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত) গোপনে শেষ করার বিষয়টি আগের সরকারের আচরণকে মনে করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এ রকম একটি মহাপরিকল্পনার মিশন-ভিশনে যথাযথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতিফলন নেই? কেন এখানে রিসোর্স অপটিমাইজেশনের নাম করে অভ্যন্তরীণ কয়লাকে ব্যবহার করার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? কেন সোলারের নাম ব্যবহার করে সোলারের বাইরে অন্যান্য যে জ্বালানি আছে, যেগুলো কার্বন নির্গমন করে, সেগুলোকে সোলারের ভেতরে যুক্ত করা হয়েছে?
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, খসড়া মহাপরিকল্পনায় ২০৫০ সালে বিদ্যুতের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। অথচ তাঁরা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখিয়েছিলেন এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ দরকার হবে না। খসড়া মহাপরিকল্পনায় এলএনজি অবকাঠামোকে বিপুল বিনিয়োগের জন্য সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আগের মহাপরিকল্পনায় এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। সেটা এই খসড়া মহাপরিকল্পনায় ধরা হয়েছে ২৭ বিলিয়ন ডলার। এ ধরনের প্ল্যান বা পলিসি ডকুমেন্ট শুধু অর্থনৈতিক ডকুমেন্ট নয়। এটা একধরনের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ডকুমেন্ট। কারণ, অনেক জায়গায় সরকারকে সমঝোতা করতে হয়, ছাড় দিতে হয়। কিন্তু বৃহত্তর যে লক্ষ্য, সে জায়গা থেকে সরকার সাধারণত পিছপা হন না। কিন্তু এই ডকুমেন্ট (খসড়া মহাপরিকল্পনা) দেখে সিপিডি মনে করছে, এটার পেছনে প্রেশার গ্রুপগুলোর প্রেশার রয়েছে। এখানে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কোনো জায়গায় ছাড় দিয়েছে বা নতজানু হয়েছে।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তাঁরা জানতে পারছেন যে শিগগির দুটি বড় চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তি হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। উভয় দেশ থেকে জ্বালানি বিষয়ে একটা বড় ধরনের অঙ্গীকার চাওয়া হয়েছে বলে তাঁদের কাছে ইঙ্গিত আছে। সুতরাং এই ডকুমেন্ট (খসড়া মহাপরিকল্পনা) তৈরির ক্ষেত্রে এসব দেশের বা চুক্তিগুলোর একটি প্রভাব থাকা অমূলক নয়।
খলিল, তৈয়্যব ও আখতার বিমানের নতুন পরিচালক, হঠাৎ এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সরকারের একজন উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে হঠাৎ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আর এক মাসও নেই; এমন একটা সময়ে এই তিনজনকে এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিয়োগ করা নিয়ে একাধারে বিস্ময় ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
বিশেষত এই তিনজনের কারও এভিয়েশন ব্যবসার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা অতীতে কোনো যুক্ততাও ছিল না। তার ওপর জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের এই সময়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময়ও পাওয়ার কথা নয়। বাকি দুজনেরও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
মানুষের মতো মনে হলেও আসলে এআই, ভোট দেবে দাঁড়িপাল্লায়
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ডিসমিস ল্যাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার। ভোটারদের সমর্থন পেতে দলগুলো বেছে নিচ্ছে প্রচারণার বিভিন্ন ধরন ও মাধ্যম। সেই তালিকায় এবারে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সামাজিক মাধ্যমে অবিকল মানুষের রূপে হাজির হওয়া এআই তাদের পরিচয় দিচ্ছে সাধারণ ভোটার হিসেবে।
এআই চরিত্রগুলো বলছে তারা ভোট দেবে। শুধু তাই নয়, অন্যদেরও তাদের পছন্দের মার্কায় ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বা দলের নেতাদের নিয়ে বিষোদগার করতেও দেখা গেছে এসব এআই চরিত্রকে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকেই এদের বাস্তব বা আসল ভেবে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন কমেন্ট বক্সে।
সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম চালানো এমনই এক ফেসবুক পেজের নাম উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। “হিউম্যান হেলপ” নামে পেজটি প্রথম তৈরি করা হয় ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর। একই দিনে যা পরিবর্তিত হয়েছে “হেল্প মিশন” নামে। ৩০ ডিসেম্বর তা আবার বদলে গেছে “হম বলো”তে। শেষমেশ ২০২২ সালের ৭ জুলাই পেজটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন।” পেজটির ট্রান্সপারেন্সি অনুযায়ী সাত জন অ্যাডমিন বাংলাদেশ থেকে এটি পরিচালনা করছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকের জন্য রেশন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিতসহ ১৫ সুপারিশ শ্রমিকনেতাদের
০৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বাড়ানোসহ ১৫ দফা সুপারিশ রাখার অনুরোধ করেছে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকিসে অ্যালায়েন্স।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ফেডারেশন নিয়ে গঠিত এই অ্যালায়েন্স বা জোট আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ করেছে। রাজধানীর বিজয়নগরের ৭১ হোটেলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শ্রমিক ইশতেহার তুলে ধরেন অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুপারিশ আকারে তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রমিক অধিকার সংগঠন ও তাদের বিভিন্ন জোট, শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণ ইস্যুতে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স গঠিত হয়।
শ্রমিক ইশতেহারে যা আছে
অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে শ্রমিক ইশতেহারে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক, কৃষি, গৃহকর্মী, অভিবাসী, আউটসোর্সিং, আত্মনিয়োজিত, সেবা খাতসহ সব শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া শ্রমজীবী মানুষের শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জীবনধারণের উপযোগী মজুরি (লিভিং ওয়েজ) ভিত্তি ধরে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি মজুরিবৈষম্য দূর করার সুপারিশও করা করেছে।
শ্রমিকের জন্য রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে অ্যালায়েন্স। ইশতেহারে বলা হয়েছে, গ্রাম ও শহরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে রেশন ও পর্যায়ক্রমে সবার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রেশনিং ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বড় বড় সব শহর, কারখানা ও শিল্পঘন এলাকায় টিসিবির মাধ্যমে স্থায়ী ন্যায্যমূল্যের দোকান এবং ওএমএসের মাধ্যমে শ্রমিকদের পণ্য দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শ্রমিক স্বাস্থ্য কার্ড চালু করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পর শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা–সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি ভাতা দিতে হবে।
ইশতেহারে নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল ১১২ দিন। গত মাসে শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেটি বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইশতেহারে শিশু-কিশোর শ্রম বন্ধে সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার (ইপিজেড) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং সব বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রমিকের অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে জোর দিয়েছে অ্যালায়েন্স।
ইশতেহারে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে অ্যালায়েন্স। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে শ্রমক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলা এবং জবাবদিহিমূলক শ্রম প্রশাসনব্যবস্থা নিশ্চিতে জাতীয় শ্রম কমিশন করার কথাও বলেছে এই জোট।
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএর যাত্রা শুরু, ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণদের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের’ (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ হয়েছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের ৩ জন মুখপাত্র ও ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিন মুখপাত্র হলেন ফেরদৌস আরা রুমী, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও নাজিফা জান্নাত।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সেখানে প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ও কাউন্সিল সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ (কাউন্সিল সদস্য)।
মুখপাত্রের দায়িত্ব পাওয়া ফেরদৌস আরা রুমী ও তুহিন খান লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট। আর নাজিফা জান্নাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী।
এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে স্থান পাওয়া ১০১ জনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগকারী চার নেতা রয়েছেন। তাঁরা হলেন এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় (ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক), সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, সাবেক উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ, সাবেক কালচারাল সেলের উপপ্রধান সৈয়দা নীলিমা দোলা। এ ছাড়া আছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ ইমতিয়াজ নদভী।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অলিউর সান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক নূমান আহমাদ চৌধুরী ও অ্যাক্টিভিস্ট রাফসান আহমেদও আছেন এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে।
মুখপাত্র ও কাউন্সিল সদস্যদের নাম ঘোষণার পর এনপিএর তিন মুখপাত্র প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই প্ল্যাটফর্মের পাঁচটি মূলনীতিও ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষা।
ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক লড়াই-সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। বলা হয়, জুলাই আমাদের সামনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে হাজির করে। জুলাই কেবল শাসক পরিবর্তনের ঘোষণা ছিল না, এটি ছিল ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিসরের দাবি নিয়েই জুলাই আমাদের সামনে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের নানা উদ্যোগ নিলেও দেড় বছর পর এসে বাস্তবতা হতাশাজনক। একই সঙ্গে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিসরের স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তা আজ অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
এরপর বলা হয়, বরং আমরা দেখতে পাচ্ছি পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভাষা ও চর্চার পুনরুত্থান। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সংখ্যাগুরুর পাশাপাশি সংখ্যালঘুর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করার যে গণতান্ত্রিক ধারণা, তার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটছে। ধর্মীয়, জাতিগত ও লৈঙ্গিক পরিচয়ের সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তিই কোনো না কোনোভাবে নারী, সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবিচারমূলক আচরণ করছে। গণতন্ত্রের নাম ব্যবহার করেও বাস্তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের উত্থান স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার প্রশ্নকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ঘটেছিল। তবু প্রাণাধিকার ও মানবাধিকার আজও নিশ্চিত করা যায়নি।
অভ্যুত্থানের পরেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নাগরিকের রক্ত ঝরছে উল্লেখ করে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, এর পাশাপাশি নাগরিকের জীবন, সম্পদ, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিব্যক্তির ওপর বিভিন্ন উগ্র গোষ্ঠীর আক্রমণ বাড়ছে। এসব ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে, যারা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মৌলিক প্রশ্নগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। যারা নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক পরিসর নির্মাণে মনোযোগী হবে। এই প্রেক্ষাপটেই জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এনপিএ যাত্রা শুরু করছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে ১৬১ সুপারিশের বাস্তবায়ন ৮২টি
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের ১৬১টি সুপারিশের মধ্যে অন্তত ৮২টি বাস্তবায়ন হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে ১৩টি বাস্তবায়ন হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইন-বিধি সংশোধনের মাধ্যমে আরও অন্তত ৬৯টি সুপারিশ কার্যকর হয়েছে। কিছু সুপারিশের অবশ্য আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে।
আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে আরপিও অধ্যাদেশ জারির পর এর আলোকে ইসি এখন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা জারির উদ্যোগ নিচ্ছে। সেখানেও সংস্কার কমিশনের আরও কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে।
এছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের কয়েকটি দফায় কমপক্ষে ২০টি সুপারিশের পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। যার অনেকগুলো আবার সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় একত্রে সনদে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কমপক্ষে ৪৯টি সুপারিশ কোনো পর্যায় থেকেই আমলে নেওয়া হয়নি। ১০টির মতো সুপারিশ ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইসলামপন্থীদের ভোট তিন বাক্সে বিভক্ত
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। অর্থাৎ ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টত ‘তিন বাক্সে’ বিভক্ত হয়ে পড়ল। এর রেশ ভোটের মাঠে কতটা-কীভাবে পড়ে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
ইসলামী আন্দোলন গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা এককভাবে নির্বাচন করবে। তাদের অভিযোগ, তারা জামায়াতের দিক থেকে উপেক্ষা ও অসম্মানের শিকার হয়েছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি সংসদীয় আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখেছিলেন। সমঝোতা না হওয়ায় এখন এ আসনগুলোতে প্রার্থী দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টত ‘তিন বাক্সে’ বিভক্ত হয়ে পড়ল। এর রেশ ভোটের মাঠে কতটা-কীভাবে পড়ে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর রাজনীতি কার্যত তিনটি ভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর একদিকে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’, এই মোর্চায় ইসলামি দল পাঁচটি। অন্যদিকে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। আর তৃতীয় ধারায় বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত তিনটি ইসলামি দল—যাদের একটি নিবন্ধিত ও দুটি নিবন্ধনহীন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে এই বিভাজন শুধু কৌশলগত নয়; বরং আদর্শ, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের পুরোনো সংকটকে নতুন করে প্রকাশ্যে এনেছে।
ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি, অপপ্রচার চলছে, ব্যবস্থা নেই
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মধ্যবয়সী এক নারী। একটি হাত নেই। উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি ভিডিওতে তিনি বলছেন, একটি দলের নেতারা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন; কিন্তু কার্ড দেননি। তিনি আরও বলছেন, এই ঘুষখোর দলকে তিনি আর ভোট দেবেন না। ভোট দেবেন কোন দলকে, সেটাও তিনি বলেছেন।
ভিডিওটি সত্যি নয়। প্রথম আলো যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। তবে হাত না থাকা নারীর চেহারার সঙ্গে মিল আছে ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে হাত হারানো পোশাক কারখানার শ্রমিক রিক্তার।
উত্তরবঙ্গ টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি দেওয়া হয় ১০ জানুয়ারি। গতকাল রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ভিডিওটির ভিউ বা দেখা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ বার। ভিডিওটির নিচে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। মন্তব্য পড়েছে ১ হাজার ২০০। শেয়ার হয়েছে ২১ হাজার বারের বেশি।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গ টেলিভিশন নামের পেজটির ফলোয়ার বা অনুসারীর সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি (গতকাল সন্ধ্যায় দাঁড়ায় ১ লাখ ৬ হাজারে)। সাতজন ‘অ্যাডমিন’ (যাঁরা পেজ পরিচালনা করেন) বাংলাদেশ থেকে এটি পরিচালনা করেন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারকে বিভ্রান্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় বা কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করা নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী যেমন এটা পারবেন না, তেমনি প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তা নিষিদ্ধ।
অবশ্য এই নিষিদ্ধ প্রচার নির্বিঘ্নে চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো দলের পক্ষে এআই দিয়ে তৈরি সেনা কর্মকর্তার ভিডিও ছেড়ে কোনো দলকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে বিকিনি পরা নারী বলছেন, তিনি একটি দলকে ভোট দেবেন, যেটি ইসলামপন্থী দল। এভাবে ভোট চাওয়া ওই দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এআই ভিডিও তৈরি করেও একটি দলের সমালোচনা, আরেকটি দলের পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। বানরের মুখ দিয়ে একটি দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
কত ভিডিও ছড়িয়েছে, সেগুলো কত মানুষ দেখেছে, কত শতাংশ মানুষ এসব ভিডিও বিশ্বাস করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কারণ, এমন কোনো গবেষণা হয়নি। তবে ভিডিওগুলোর ‘ভিউ’ হাজার হাজার। তা থেকে ধারণা করা যায়, এগুলোর দর্শক বহু মানুষ।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৯৯ লাখ (সর্বশেষ ৯০ দিনের মধ্যে একবার ব্যবহার করলেই গ্রাহক হিসেবে ধরা হয়)। হ্যাশমেটা নামের একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সাড়ে ৪ কোটির বেশি হতে পারে। টিকটক ব্যবহারকারী দেড় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ হতে পারে। ইউটিউব ব্যবহারকারী হতে পারে সাড়ে ৩ কোটির মতো।
কত ভিডিও ছড়িয়েছে, সেগুলো কত মানুষ দেখেছে, কত শতাংশ মানুষ এসব ভিডিও বিশ্বাস করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কারণ, এমন কোনো গবেষণা হয়নি। তবে ভিডিওগুলোর ‘ভিউ’ হাজার হাজার। তা থেকে ধারণা করা যায়, এগুলোর দর্শক বহু মানুষ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন গত ১২ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এআই ব্যবহার করে অসত্য তথ্য ছড়ানো বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসত্য তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার দিন দিন বেড়ে চলেছে। আইন অনুযায়ী এসব রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অবশ্য এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে জানতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়, বিষয়টি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নাগরিকদের কাছ থেকে কমপ্লেন (অভিযোগ) নেওয়ার জন্য চারটি ই-মেইল ও একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছি। সেখান থেকে যে রিপোর্টগুলো পাচ্ছি, সেগুলো প্রসেস (প্রক্রিয়া) করছি।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু ২২ জানুয়ারি। এর আগে কোনো প্রতীকে ভোট চাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতীক এখনো বরাদ্দ হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চলছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, শেষ দিনে উত্তেজনা
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতের অভিযোগসহ তিনটি ইস্যু নিয়ে গতকাল রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। আগের দিন পক্ষপাত করে বা কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের পার করে দেওয়ার চেষ্টা করলে ইসির বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীদের আপিল শুনানি শেষ করে ইসি।
১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া আপিল শুনানির শেষ দিন ছিল গতকাল। এদিন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ও রায়ের দিন ধার্য ছিল। শেষ দিন আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২১ জন। আর প্রার্থিতা হারিয়েছেন বিএনপির দুজন। এর মধ্যে ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি। এর আগে গত শনিবার কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল করেছিল ইসি। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল।
ভোটে আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে
২০ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ ঋণখেলাপি বেরিয়ে গেলেও বাদ পড়েছেন ৬৮ জন। ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাছাই এবং নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এর পরে রয়েছে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাদ পড়া অনেকেই উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে নাম উঠলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ৩১ জন উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রার্থী হন। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে এই ৩১ জনের মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইসির আপিল শুনানিতে বাদ পড়ে যান। কারণ, হাইকোর্টের আদেশে আপিলে আটকে যাওয়ার ফলে তিনি পুনরায় খেলাপির তালিকায় পড়ে যান।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ আট খাতে বিশেষ পরিকল্পনা বিএনপির
২১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনজীবনের মৌলিক সংকট মোকাবিলায় আটটি খাতভিত্তিক পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা, ক্রীড়া, পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীলতা এবং ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা ও কল্যাণ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও উন্নয়ন অংশীদারদের সামনে বিএনপির পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ‘বিএনপি পলিসি ডিসসিমিনেশন অন প্রায়োরিটি সোশ্যাল পলিসিস’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দূতাবাসের মোট ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইরান ও বাহরাইনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার।
প্রবন্ধে বলা হয়, রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি যে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেই অঙ্গীকারের ভেতরেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ‘দ্য প্ল্যান’ সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই আটটি সামাজিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এটিকে ভিন্ন ধরনের রাজনীতি বলেও প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাতভিত্তিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ডটি থাকবে পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে।
কৃষকদের জন্য প্রস্তাবিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিমাসুবিধা থাকবে। জলবায়ুঝুঁকি, রোগবালাই ও বাজার অস্থিরতা মোকাবিলায় ফসল ও পশুপালন বিমাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
স্বাস্থ্য খাতে বিএনপি এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশ হবেন নারী। তাঁরা ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ রোগ সম্পর্কে ধারণা নেবেন। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় নাগরিকদের দোরগোড়ায় প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা বিনা মূল্যে ওষুধ, বড় রোগে স্বল্প মূল্যে চিকিৎসা, উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতি সেবা সম্প্রসারণ এবং সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ পাঠ্যক্রম চালু এবং কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট এবং বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
ক্রীড়া খাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক ক্রীড়া শিক্ষা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসহ স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ, উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি শাখা, খেলার মাঠ সম্প্রসারণ এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
পরিবেশ খাতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন বা পুনঃখনন, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, সারা দেশে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা জানানো হয়।
ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট শক্তিশালীকরণসহ অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্যও অনুরূপ সুবিধার কথা বলা হয়।
৫ লাখ স্নাতকধারী বেকারকে বিনা সুদে ঋণ দেবে জামায়াত
২১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ক্ষমতায় গেলে পাঁচ লাখ বেকার গ্র্যাজুয়েটকে (স্নাতক ডিগ্রিধারী) মাসে ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেবে জামায়াতে ইসলামী। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরি পাওয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছর এ সুবিধা পাবেন তরুণেরা। সেই সঙ্গে মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল মঙ্গলবার জামায়াত আয়োজিত ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ দলের পক্ষ থেকে এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এই নীতি সম্মেলনে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন নীতি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের রাজনীতিবিদ শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে (বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি ঘোষণা করবে। কর ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ধাপে ধাপে কমানো হবে। দীর্ঘ মেয়াদে কর ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে (এখন ১৫ শতাংশ) নিয়ে আসা হবে এবং স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে) চালু করা হবে।
আগামী তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মাশুল বাড়ানো হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। এ ছাড়া বন্ধ কলকারখানা সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) চালু ও ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের দেওয়া, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণসুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে দলটি। জামায়াত আরও বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে এবং ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেজ প্রোগ্রাম’ বা প্রথম ১ হাজার দিনের কর্মসূচির আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসাও জামায়াতের লক্ষ্য।
তরুণদের জন্য জামায়াতের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, দক্ষ জনশক্তি ও ‘জব প্লেসমেন্ট’–এর জন্য নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি, ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫০ লাখ ‘জব অ্যাকসেস’ (কর্মে প্রবেশ) নিশ্চিত; নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরি, স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা।
তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাত উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করেছে জামায়াত। দলটি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি সম্পৃক্ত কর্মসংস্থান ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়, আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি ডলার ব্যয় সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে।
দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দুই থেকে তিন গুণ বৃদ্ধি, ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে নিয়ে আসার কথা বলেছে জামায়াত।
কড়াইল বস্তিবাসীর ভালো আবাসের ব্যবস্থা করবেন তারেক, চাইলেন দোয়া
২০ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজধানীতে নিজের নির্বাচনি আসনে কড়াইল বস্তিবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান। সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যেকের জীবনমানের উন্নয়নে থাকার জন্য ফ্ল্যাট দেওয়াসহ সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর মহাখালীতে টিঅ্যান্ডটি কলোনির মাঠে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বস্তিবাসীদের পাশে থাকার কথাও বলেন তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়াও চান।
হঠাৎ গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে অব্যাহতি
২১ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
কোনো ধরনের ‘কারণ ব্যাখ্যা’ না করেই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দিয়েছে অন্তবর্তী সরকার।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপনমূলে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র-এর পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত আফসানা বেগম-এর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হল।”
সরকার যখন এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তখন আফসানা বেগম তার সহকর্মীদের সঙ্গে চার দিনের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন।
নতুন বেতন-ভাতায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ
২১ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো বাস্তবায়নে যে অতিরিক্ত ব্যয় হবে, তার চাপ পরবর্তী সরকারকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অর্থের সংস্থানের উপায় সরকারকেই বের করতে হবে। নতুন বেতন কাঠামো অনেক দিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। তবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার যদি মনে করে এর দরকার নেই, তাহলে তারা এর বাস্তবায়ন নাও করতে পারে।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন ও ভাতার সুপারিশ করতে গঠিত পে কমিশন আজ বুধবার বিকেল ৫টায় প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সব সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা নিজে এবং অর্থ সচিব উপস্থিত থাকবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে আর মাত্র ২০ দিন আছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা– জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে কেন? বাস্তবায়ন হবে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী। কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন হয় না। এ বিষয়ে কয়েকটি কমিটি রয়েছে। তারা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে।’
এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। এতে কী বোঝা যায় যে, এই সরকার বাস্তবায়ন করে যেতে পারবে না– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি দিয়ে যাওয়াই একটি বড় বিষয়। তবে বর্তমান সরকার বাস্তাবয়ন করবে না– এমনটিও বলেননি অর্থ উপদেষ্টা।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। জানা গেছে, পে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ খাতে আরও প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে।
দ্বিধাবিভক্ত রায়, এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া
০৪ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যে কনসেশন চুক্তি হবে, তার খসড়া দলিল নিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করেছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি কর্তৃপক্ষ। আগামী সোম ও মঙ্গলবার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৪ ডিসেম্বর এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিট আবেদনের ওপর বিভক্ত রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই দিন হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।
দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর এনসিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে রিট আবেদনকারীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ আদালতের দ্বিধাবিভক্ত রায়ের পর এনসিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যেহেতু বিভক্ত রায় হয়েছে, সুতরাং এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। এই বেঞ্চের সিদ্ধান্তের মধ্যে রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। একক বেঞ্চে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না।
বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ, মান্না বললেন, আগে রাজনীতি, পরে মন্ত্রিত্ব
২১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে বিচ্ছেদ হলো মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের। দলটি বলছে, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় তারা এককভাবে দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে ১১টি আসনে নির্বাচন করবে। দলের সভাপতি মাহমুদুর রহমান ঢাকা-১৮ (বৃহত্তর উত্তরা) ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে বিএনপির বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটল।
নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১৯৮১, বিএনপির ২৮৮, জামায়াতের ২২৪
২২ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৭৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ২৪৯ জন।
গত মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর এক দিন পর গতকাল বুধবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে দলভিত্তিক প্রার্থীর পরিসংখ্যান দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ হবে। তবে পাবনা-১ ও ২ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
কোনো রাজনৈতিক দলকে দলীয় প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে হলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হয়। বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে। দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এর বাইরে নিবন্ধিত আটটি দল নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি।
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী আছেন বিএনপির, ২৮৮টি আসনে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছেন ২২৪টি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আছেন ২৫৩ আসনে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আছেন ১৯২ আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আছেন ৩২টি আসনে।
অন্য দলগুলোর মধ্যে সিপিবির ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪, খেলাফত মজলিসের ২১, গণ অধিকার পরিষদের ৯০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ৩০, গণফোরামের ১৯, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ ও নাগরিক ঐক্যের ১১ জন প্রার্থী আছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার আগের দিনও ১৪–দলীয় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষে ইসির তালিকায় দেখা গেল তাদের সাতজন প্রার্থী আছেন। তখন জাসদ বলেছিল, তারা কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে ইসির প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দলটির ছয়জন প্রার্থী আছেন এই নির্বাচনে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাসদের ১১ জন ও জেএসডির ২৬ জন প্রার্থী আছেন এই নির্বাচনে।
কোটা নিয়ে ফারুকীর সঙ্গে মতভিন্নতাই আফসানার কাল হল?
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
চব্বিশের সেপ্টেম্বরে দায়িত্বে আসার পর বই নির্বাচন নীতিমালার সংস্কার করতে চেয়েছিলেন লেখক আফসানা বেগম। যেন অযোগ্য বই সরিয়ে ভালো বই নেওয়া হয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। এজন্য নীতিমালা সংশোধন করে, সচিব ও মন্ত্রী কোটা ২০ শতাংশ তুলে দিয়ে ১০০ শতাংশ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে আনতে চেয়েছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সদ্য অব্যহতি পাওয়া পরিচালক আফসানা।
কিন্তু তাতে সম্মতি ছিল না সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।
আফসানা বেগম বৃহস্পতিবার রাতে চার পর্বের ফেইসবুক পোস্টে উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ক কথোকপথন প্রকাশ করেছেন।
পোস্টে আফসানা বেগম লেখেন, “ফারুকী ভাই কথা বলা শুরু করেন, ‘কোটা থাকুক। পরবর্তী সরকার এসে ব্যবহার করবে। এটা ওদের লাগবে।’ আমি চমকে উঠি, ভাই, কী বলেন, কোটা কেন থাকবে, কোটার জন্যেই না…।”
চব্বিশের অভ্যূত্থানের পরে ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয় আফসানা বেগমকে। তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনুরোধেই তিনি এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
গত মঙ্গলবার আফসানা বেগমকে হুট করেই অব্যহতি দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আফসানা বেগমের স্থলভিষিক্ত হয়েছেন এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ, যিনি কবি সাখাওয়াত টিপু নামে পরিচিত।
‘৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না’
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, দেশ টিভি অনলাইন
‘৮০ ভাগ মুসলমানের এই দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না’—এমন বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন মো. আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।
জনসভা চলাকালে মো. আফজাল হোসেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন বলে জানানো হয়।
এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরআন চান, না বিদআত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীকে চাইতে হবে। তারা সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। সংসদে উচ্চস্বরে বলবে—এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না, এমনকি সংবিধানও থাকতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কি শাসন থাকবে? আল্লাহর কোরআনের শাসন থাকবে। আজ চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কি এই এলাকায় আর চুরি হবে? আমরা সেই শাসন চাই।’
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, কালের কন্ঠ
জাতীয় সংসদকে কোটিপতি, দুর্বৃত্ত ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ক্লাব নয়, গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর নতুন জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’। যুক্তফ্রন্ট অঙ্গীকার করেছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ৯০ ও ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন তথা সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।
আজ শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা ও বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগিব আহসান মুন্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবার কবীর জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুন নুজহাত মনীষা, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যেভাবে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে এবং গণভোটে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোকে চারটি প্রশ্নের একটি প্যাকেজে এনে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক। এই গণভোটে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রাখা হয়নি। এতে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে না।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হলে জুলাই সনদের ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করলেও ভিন্নমতের বিষয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। সিপিবি, বাসদসহ গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অংশীদার দলগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যোগ দিলেও জুলাই সনদে সই করেনি।
গণভোটের আয়োজন অসাংবিধানিক দাবি করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জুলাই সনদে ৮ মাসের আলোচনা ও নোট অব ডিসেন্টের মর্মবস্তু প্রতিফলিত হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসও সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। রাষ্ট্রের চার মূলনীতি বহাল রাখার প্রস্তাব মানা হয়নি। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার এবং এ নিয়ে আদালতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ ছিল না।
গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের শাসন নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নাই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বড় দলের সবল প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লংঘন করে চলছে। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক দল নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার করে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করছে , যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
তিনি বলেন, খোদ প্রধান উপদেষ্টা যখন তার বক্তব্যে ‘একটি দলের কয়েকজন পাস করবে এবং তাদের দুই-একজন মন্ত্রীও হবেন’ এমন কথা বলেন তথা আগাম ভোটের ফলাফল বলে দেন এবং তার প্রেস সচিব যখন বলেন, ‘এবার ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে’ তখন সুষ্ঠু ভোট নিয়ে জনমনে সন্দেহ-অবিশ্বাস জন্ম নিতে বাধ্য।
অভ্যুত্থানের পর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে দাবি করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, মাজার, খানকাহ, আখড়া-মন্দিরে ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ চলেছে। গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও নারীদের ওপর হামলা ও সাইবার বুলিং প্রমাণ করছে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান হয়নি। বরং মব সন্ত্রাস ফ্যাসিবাদকে উসকে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের চরিত্র অপরিবর্তিত থাকায় মানুষ আবারও মুক্তির পথ খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জন্য জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই বলেই বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি মিলিত হয়ে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করেছে।
এদিকে নির্বাচনী ইশতেহারে ১৮টি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমন, স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার গণমুখী সংস্কার, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি সংস্কার, শ্রমিক অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন স্বাধীনতা, নারী অধিকার ও লিঙ্গসমতা, যুবশক্তির বিকাশ, পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো, পরিবেশ, জলবায়ুও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্ত ও গবেষণার গণমুখী সংস্কার, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চেতনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সংহতি।
১ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে আইনি জটিলতায় রয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের এবং রায়ে দ্বিধাবিভক্ত মত থাকায় পুরো বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তিহীন। এর মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় এ টার্মিনাল হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গুছিয়ে আনতে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি সম্পাদনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কনসেশন চুক্তির লক্ষ্যে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে দরপত্র সংশোধন, টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্সিয়াল ইভ্যালুয়েশন, নেগোসিয়েশন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একাধিক কারণ মিলিয়েই এনসিটি বিদেশী অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করে এগোচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। ফলে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত আদালত অবমাননার শামিল। দ্বিতীয়ত, অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এবং অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে এনসিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর আগে লালদিয়া টার্মিনালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা আমরা দেখেছি। সে সময় তড়িঘড়ি করে চুক্তি সম্পাদনের ফলে নানা ধরনের বড় অসংগতি থেকে গিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘এনসিটি এমন একটি প্রকল্প, যা রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বড় ও সংবেদনশীল প্রকল্প যদি একইভাবে তড়িঘড়ি ও গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়, তাহলে সেটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমি একে প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন বলেই মনে করি। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যে তিন সপ্তাহের মধ্যে না করলে পরবর্তী সময়ে আর করা যাবে না। বর্তমান সরকার নির্বাচনকালীন সরকার। এই যে তড়িঘড়ি করে, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে, এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, যারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত, এনসিটি নিয়ে তাদের নিজেদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আছে কিনা। আরো স্পষ্ট করে বললে, কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের বিষয় আছে কিনা, সেই প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। আমি মনে করি এত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত প্রকল্পের বিষয়ে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। জনরায়ের ভিত্তিতে গঠিত সরকারই এমন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেটাই হবে যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য পথ।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশোধিত টাইমলাইন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রায় প্রতিটি ধাপের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র একদিন করে সময়। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) সঙ্গে সমন্বয় করে মূল দরপত্রে পরিবর্তন এনে সংশোধিত শর্তে পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সংশোধিত শর্ত পাওয়ার মাত্র চারদিনের মাথায় গতকাল দরপত্র জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়।
টাইমলাইন অনুযায়ী, আজ একদিনেই টেকনিক্যাল বিডের পাশাপাশি আইনি নথিসহ পূর্ণাঙ্গ টেকনিক্যাল এনভেলপ মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের বড় প্রকল্পে অপারেশনাল সক্ষমতা, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ঝুঁকি বণ্টন এবং আইনি কাঠামো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে মাত্র একদিনের টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশনকে অস্বাভাবিক বলছেন বন্দর খাতের একাধিক বিশেষজ্ঞ।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, আগামীকাল ফাইন্যান্সিয়াল বিড ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব ভাগাভাগি, ট্যারিফ কাঠামো, বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণের জন্যও রাখা হয়েছে মাত্র একদিন। এরপর ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দুই দিনে ফাইন্যান্সিয়াল মডেল ও কনসেশন এগ্রিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো নিয়ে নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে সিপিএ বোর্ড থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। নথিতে উল্লেখ আছে, এই নেগোসিয়েশনে সিপিএ, আইএফসি এবং নির্বাচিত অপারেটরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
নেগোসিয়েশন শেষ হওয়ার পরদিনই, ২৯ জানুয়ারি, চুক্তির সারসংক্ষেপ ও খসড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি একই দিনে আইডিআরএ, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি একদিনেই আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতামত বা সম্মতি পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে টাইমলাইনে। সাধারণত যেখানে একাধিক সংস্থার মতামত পেতে সপ্তাহ লেগে যায়, সেখানে একদিনেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
টাইমলাইন অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিইএ) চুক্তির সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হবে। সবশেষে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি একই দিনে সিসিইএ অনুমোদন, লেটার অব অ্যাওয়ার্ড ইস্যু এবং কনসেশন এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিবিএসের তথ্য প্রকাশে আর মন্ত্রীর অনুমোদন লাগবে না
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সরকারি যেকোনো পরিসংখ্যানের প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এখন থেকে পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে ছুটতে হবে না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক নিজেই তা প্রকাশ করতে পারবেন।
এতে পরিসংখ্যান নিয়ে কারসাজির পথ বন্ধ হবে বলে আশা করছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে বিবিএস স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘পরিসংখ্যান প্রণয়ন, প্রকাশ ও সংরক্ষণ’ নীতিমালা জারি করে। নীতিমালা অনুসরণে একটি বিধিমালা তৈরির কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্বের অবশিষ্ট সময়ে বিধিমালাটি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদন দিতে চায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশে সময় কমে আসবে বলে মনে করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এতে সময় কম লাগবে। সঠিক ও নির্ভুল তথ্য উঠে আসবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও থাকবে না। এ-সংক্রান্ত বিধিমালা শিগগিরই অনুমোদন করা হবে বলে জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
অর্থনীতি
ঘোষণা দিয়েও আলু কেনেনি সরকার
০২ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
কৃষকের লোকসান কমাতে ৫০ হাজার টন আলু কেনার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। পাশাপাশি বলা হয়েছিল, হিমাগারের ফটকে আলুর কেজির সর্বনিম্ন দর হবে ২২ টাকা। গত ২৭ আগস্টের কৃষি মন্ত্রণালয় সেই ঘোষণার দুই মাস পার হলেও কেনা হয়নি আলু, কৃষক পাননি ২২ টাকা দর। ফলে হিমাগার ও বাজারে আরও পড়েছে দাম। এতে মৌসুমজুড়ে আলু নিয়ে হাহাকারে থাকা কৃষক আরও গাড্ডায় পড়েছেন।
এখন পাইকারি বাজারে আলুর কেজি কেনাবেচা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়, যা খুচরায় ১৫ থেকে ২০ টাকা। মাসখানেক আগেও দাম ছিল ২৫ টাকা। চাহিদার চেয়ে প্রায় ৪০ লাখ টন বেশি উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহের স্রোতে বাজারে দর পতন হয়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত এক বছরে আলুর দর কমেছে প্রায় ৬৩ শতাংশ।
চার মাসে স্টারলিংকের গ্রাহক ২ হাজারের কম
০২ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের যাত্রার পাঁচ মাস পার হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের গ্রাহক সংখ্যা দুই হাজারের কম ছিল। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক হাজারের বেশি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে বাংলাদেশের বাজার ধরার চেষ্টায় ছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান। সে সময় পরীক্ষামূলক কিছু কাজও হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
গত বছর ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু করতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী গত ২০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে স্টারলিংক যাত্রা শুরু করে।
প্রযুক্তিভিত্তিক অলাভজনক গণমাধ্যম রেস্ট অব ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে স্টারলিংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আফ্রিকার ২০টির বেশি দেশে স্টারলিংক রয়েছে। কেনিয়াতে স্টারলিংক চালু হয় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। ২০ মাসে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৬৬। অন্যদিকে নাইজেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্টারলিংকের সক্রিয় গ্রাহক ছিল সাড়ে ৫৯ হাজারের বেশি। দেশটিতে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে।
পাবনায় সার সংকটে কৃষকের বিক্ষোভ
০৫ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় সার সংকটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।
বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত কৃষক মিছিল নিয়ে পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি রবি মৌসুমে ডিএপি, ইউরিয়া ও টিএসপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ডিলাররা পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করতে পারছেন না। ফলে রোপণ মৌসুম ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ
ভেঙে দেয়া হলো পর্ষদ, চাকরি গেল এমডিদের, দায়িত্ব নিলেন প্রশাসক
৬ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে একীভূত হতে যাওয়া দেশের শরিয়াহ্ভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের দায়দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে।
প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে একীভূত হতে যাওয়া দেশের শরিয়াহ্ভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের দায়দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়েছে। প্রশাসকরা দায়িত্ব বুঝে নেয়ায় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মকাল শেষ হয়েছে। প্রশাসকের পাশাপাশি ব্যাংক পরিচালনায় চারজন করে কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারাই ব্যাংকগুলো পরিচালনা করবেন।
দুর্বল পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে গতকাল বিকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এ ব্যাংকগুলো একীভূতকরণের মাধ্যমে যে ব্যাংক গঠিত হবে, সেটি হবে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী মূলধন কাঠামোর ব্যাংক। ব্যাংকটির মালিকানা হবে সরকারি। এ কারণে আমানতকারী কিংবা কর্মকর্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। একীভূতকরণ প্রক্রিয়া শেষ করতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।’
সরকারি সফরের বেশির ভাগ দেশ থেকে বিনিয়োগ কমেছে
৫ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
পুঞ্জীভূত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বা এফডিআই স্টক বিবেচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের শীর্ষ উৎস দেশ যুক্তরাজ্য। কিন্তু দেশটি থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) নিট প্রবাহ কমেছে ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ।
যদিও চলতি বছর মার্চে দেশটি সফর করেন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কাজে নিয়োজিত সংস্থা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। লন্ডনে অবস্থানকালে যুক্তরাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এছাড়া শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ কোম্পানি ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক হয় চৌধুরী আশিকের।
প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। সেখানে তিনি বাংলাদেশে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি, আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে কোনো বিদেশী ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও আশ্বাস দেন।
এরপর বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান চলতি বছরের জানুয়ারিতে। সেখানে তিনি লুইজিয়ানাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহবিষয়ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে বিনিয়োগ এসেছে তার চেয়ে বেশি প্রত্যাবাসিত হয়েছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের
৭ নভেম্বর ২০২৫, ডয়েচে ভেলে বাংলা
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন উদ্যোক্তারা৷ কয়েকশ কারখানা বন্ধ ও লাখো শ্রমিক বেকার হয়েছেন বলে তথ্য দিচ্ছেন তারা৷ তবে রপ্তানির পরিসংখ্যানে পরিস্থিতি ততটা খারাপ দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা৷
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধের খবর পাওয়া গেছে৷ ফলে চাকরি হারাচ্ছেন সেসব কারখানার শ্রমিকেরা৷ আগের মাসগুলোর প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলেও টানা তিন মাস ধরে রপ্তানিতে নেতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ এর মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো হাউজের আগুনে পুড়ে ৫১৬টি কারখানার ১০০ কোটি টাকার বেশি মালামাল পুড়েছে বলে দাবি করেছেন পোশাক শিল্পের মালিকেরা৷
পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা আসলে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি৷ একেবারে যে খুব খারাপ অবস্থায় চলে গেছি, বিষয়টি এমন না৷ তবে এই ১৪ মাসে আরও ভালো করার সুযোগ ছিল৷ বিশেষ করে চীন ও ভারতের উপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে আমরা বেশ কিছু সুবিধা পেতে পারতাম৷ কিন্তু সেই সুযোগ আমরা হাতছাড়া করেছি৷ বিশেষ করে এক ধরনের অভিভাবকশূন্য অবস্থায় আমরা আছি৷ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা বারবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু সেখান থেকে কোন সদুত্তর বা দেখা করার সুযোগ পাইনি৷”
ঋণের কিস্তির জন্য শিশু সন্তানসহ মাকে আটকে রাখার অভিযোগ
০৯ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
ঋণের কিস্তির জন্য তিন বছরের মেয়েসহ এক মাকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার হাতের আংটি, নাকফুল ও পিতলের একটি বদনা রেখে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের চিতলমারীতে। গত ২৯ অক্টোবরের এই ঘটনা জানাজানি হয় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর।
ভুক্তভোগী শ্রাবণী হীরা (২২) চিতলমারী সদর ইউনিয়নের আড়ুয়াবর্নি গ্রামের দিনমজুর রিপন রায়ের স্ত্রী। তিনি স্থানীয় ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের (ডিএফইডি) চিতলমারী শাখা থেকে মাছ চাষ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। লাভসহ তার ৪৬টি কিস্তিতে ৪৫ হাজার ১২০ টাকা পরিশোধ করার কথা। প্রতি সপ্তাহে তাকে এক হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হয়।
আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ইতিবাচক বিএনপি-জামায়াত
১৩ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী— উভয় দলই অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। গতকাল বুধবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান।
১৩ দিনব্যাপী পর্যালোচনা মিশন শেষে বিদায়ের আগে তিনি বলেন, মিশনের সময় তারা বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের সংস্কার এজেন্ডা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পর্যটন করপোরেশনের বিপুল সম্পদ নামমাত্র প্রিমিয়ামে দেয়া হয়েছে বেসরকারি খাতে
২১ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির ভূমিকা বিবর্ণ হয়েছে।
দেশের পর্যটন খাতের বিকাশে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির ভূমিকা বিবর্ণ হয়েছে। পুরনো স্থাপনার আধুনিকায়নের অভাব, পেশাদার ব্যবস্থাপনার ঘাটতি ও যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে সংস্থাটি কাঙ্ক্ষিত পর্যটক আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে আয় বাড়াতে বিভিন্ন সময় পর্যটন করপোরেশনের বেশকিছু স্থাপনা পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যদিও সেখান থেকে সংস্থাটির আয় আসছে যৎসামান্য। বেসরকারি খাতের সঙ্গে এসব লিজ চুক্তির অধিকাংশই হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দীর্ঘদিন এসব চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিলের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ল ১৩ টাকা
২৩ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য প্রতি ইউনিট ১৩ টাকা বাড়িয়ে ২৯ দশমিক ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ দাম ছিল ১৬ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়লো প্রায় দ্বিগুণ।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এ দাম ঘোষণা করে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
দেশে দরিদ্র ৩ কোটি ৬০ লাখ
২৬ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে উল্টো পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে চার বছর ধরে দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সংস্থাটির অনুমিত হিসাব, ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার হতে পারে ২১ শতাংশের কিছু বেশি। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকে। তারা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মতো বিভিন্ন আঘাতের কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২২ সালে সংখ্যাটি ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ।
দেশে দারিদ্র্যের হার হিসাব করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির খানা আয়–ব্যয় জরিপে এ তথ্য উঠে আসে। সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপ করা হয়েছিল ২০২২ সালে। তখন সার্বিক দারিদ্র্য হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বাড়ছে ১০ হাজার কোটি টাকা
২৬ নভেম্বর ২০২৫, কালবেলা
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে প্রকল্পের ব্যয় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়তে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ব্যয় বাড়ার প্রস্তাব তৈরি করেছে এক্সপ্রেসওয়ের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে। মূলত নকশায় পরিবর্তন, টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, নতুন করে কর ও শুল্ক যুক্ত হওয়ার কারণে প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হচ্ছে। কয়েকটি ভাগে এই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে শুল্ক ও করসহ অন্যান্য খাতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা বাড়বে। আর নির্মাণ-সংক্রান্ত খাতে খরচ বাড়বে ৩ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।
এই খরচ বাড়ানোর প্রস্তাবে রাজি হয়েছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান চীনের এক্সিম ব্যাংক। তবে ব্যয় বৃদ্ধি প্রস্তাব পাস হতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাগবে। কিন্তু বর্ধিত ব্যয় সরকার ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন হারে সমন্বয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কেননা, এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাকি টাকা সরকার দিলে পিপিপি মডেল ফেল করবে। আর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবিত খরচের দিগুণ বিনিয়োগ করলে লভ্যাংশ ফেরত পাওয়ার চুক্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
গভীর নলকূপে পানি সরবরাহ দেখতে আট কর্মকর্তার চীন ভ্রমণ
২ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দেখতে চীন ভ্রমণ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আট কর্মকর্তা। তাদের ব্যয় বহন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডেলকো ওয়াটার লিমিটেড। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থে এ ভ্রমণকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
চীন সফরে যাওয়া আট কর্মকর্তার মধ্যে দুজন গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের। তারা হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান মিয়া ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বশির আহমেদ। রাজউকের ছয় কর্মকর্তা হলেন সদস্য (এস্টেট অ্যান্ড ল্যান্ড) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মো. বশিরুল হক ভূইয়া, প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট) মো. আবু কায়সার মল্লিক, পূর্বাচল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের পরিচালক মো. বদিউল আলম ও প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সাদ্দাম হোসেন।
জানা গেছে, পূর্বাচল প্রকল্পের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা স্কুয়েইন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম দেখতে গত ২৫ নভেম্বর চীনে যান। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ভ্রমণটি ঠিকাদারের অর্থায়নে নয়। বরং প্রকল্পের মধ্যেই এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ভ্রমণ না করা হলেও প্রকল্পের অর্থ বাঁচানোর সুযোগ ছিল না। কর্মকর্তারা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বা পরশু (বুধবার) দেশে আসবেন। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।’
রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৬ হাজার ১৫০ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠছে পূর্বাচল নতুন শহর। এতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। সেখানে বসবাসকারীদের পানি সরবরাহের জন্য প্রথমে ওয়াসার সঙ্গে কথা বলে রাজউক। ওয়াসা রাজি না হওয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডেলকোর সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের চারটি সেক্টরে পানির সংযোগ দেয়া হবে। প্রথম ধাপে সংযোগ দেয়া হবে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরের আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্য প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের।
কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে, কমেছে শিল্পে
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
কৃষি খাতে কর্মসংস্থান আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০১৬ সালে দেশে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান ছিল ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষের। ৬ বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালে এই খাতে কর্মসংস্থান বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজারে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে মোট কর্মসংস্থানে কৃষি খাতের অবদানও বেড়েছে। ২০১৬ সালে মোট কর্মসংস্থানে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়।
কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বাড়লেও কমেছে শিল্প খাতে। ২০১৬ সালে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ মানুষের। ২০২২ সালে তা কমে ১ কোটি ১৯ লাখে নেমে এসেছে।
সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলনকক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিত শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধটি তৈরি করেন বিআইডিএসের ফেলো এম এ সাত্তার মণ্ডল, গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস, জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো আজরীন করিম, গবেষক তাজনুরে সামিনা খানম ও রিজোয়ানা ইসলাম। তবে সেমিনারে প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির পেছনের মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত। ২০১৪ সালের পর থেকে কৃষি প্রবৃদ্ধির হার কমতে থাকলেও কর্মসংস্থান বাড়ছিল। আর কৃষির সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, খাদ্য সেবা নিয়ে জিডিপিতে এ খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশে।
প্রবন্ধে কৃষিজমির ব্যবহার নিয়ে বলা হয়, দেশের কৃষিজমির প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতেই ধান চাষ হয়। তবে গত ১০ বছরে পাট, দানাজাতীয় শস্য এবং ফল চাষের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। একই সময়ে মসলাজাতীয় ফসল এবং সবজির উৎপাদন বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
ফসলের উৎপাদনশীলতা নিয়ে প্রবন্ধে বলা হয়, দেশে বোরো ধানের উৎপাদনশীলতার বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ। অথচ দেশে মোট ধানের ৬০ শতাংশই আসে বোরো মৌসুমে। তাই খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে বোরো ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বিশ্বে মোট চাল ও গম উৎপাদনের মাত্র ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যের জন্য নিয়ে আসা হয়। তাই কোনো কারণে উৎপাদন কমলে বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভর করা যায় না। যেমনটা ২০০৭-০৮ সালে দেখা গিয়েছিল। তখন টাকা দিয়েও বিশ্ববাজার থেকে চাল ক্রয় করা যাচ্ছিল না।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে বড় প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কৃষিশ্রমিকের আয় কমেছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে চালের উৎপাদনশীলতা কমতে পারে আড়াই শতাংশ। আর গমের উৎপাদনশীলতা কমতে পারে সাড়ে ৩ শতাংশ। ডাল–জাতীয় ফসলের উৎপাদনশীলতা কমতে পারে ৪ শতাংশের বেশি।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আকতার। বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এম এ সাত্তার মণ্ডল। সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাকিল আকতার বলেন, খামারবাড়িতে ১৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও কৃষকের উন্নতি জন্য প্রকল্প কয়টি? প্রকল্প পরিচালক ও অন্যদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব প্রকল্প নেওয়া হয়। রাজস্ব বরাদ্দ থেকে বেতন আর প্রকল্প থেকে গাড়ি কেনা হয়। কিন্তু গবেষণায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, নতুন কৃষক শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে। তারা জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করছে। তবে ধান থেকে ভিন্ন ফসলের চাষ বাড়লে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ, স্বাধীনতার পর আমাদের দৈনিক গড় ভাত গ্রহণের পরিমাণ ছিল ৪৫০ গ্রাম, এখন তা ৩১৫ গ্রামে নেমে এসেছে।
সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় বলা হয়, দেশের ৫০ শতাংশ কৃষিজমিই এক একরের চেয়ে বড় নয়। অর্থাৎ নিজের খাওয়ার জন্য খোরপোশ কৃষি চাষাবাদ চলে দেশে।
যোগ্যদের মধ্যে ১৯% ভাতা সুবিধা পান
০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা। পাঁচটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, এসব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা আছে—এমন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের মধ্যে মাত্র ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এ সুবিধা পান।
এক গবেষণার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। সেখানে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুন থেকে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত এ গবেষণার কাজ চলে। সমতল থেকে ২২টি ও পাহাড় থেকে ৭টিসহ মোট ২৯টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। এসব সম্প্রদায় হলো চাকমা, মারমা, গারো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, গঞ্জু, বাগদু, পাত্র, খাসিয়া, ওঁরাও, রাখাইন, গোরাইত, ম্রো, বম, কোচ, মুন্ডা, মাহাতো, মালপাহাড়ি, রাজোয়ার, ভূমিজ, সাঁওতাল, হুদি, বর্মন, কুরমি মাহাতো, মাহালি, কোরা, মণিপুরি ও বেদিয়া মাহাতো।
গবেষণায় বলা হয়, আদিবাসী অধ্যুষিত ১০টি ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন ১ হাজার ৬৭৬ জন। এঁদের মধ্যে এ সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৩৫৫ জন। শতাংশের হিসাবে যা এটি ২১ দশমিক ২ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮টি ইউনিয়নে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন ৪৯৮ জন। কিন্তু এ সুবিধার আওতায় আছেন মাত্র ৬০ জন। শতাংশের হিসাবে যা ১২ শতাংশ। ৭টি ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তির যোগ্য ছিলেন ৫৮৩ জন। কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১৮৪ জনকে, যা ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। ছয়টি ইউনিয়নে মা ও শিশুসহায়তা ভাতার জন্য যোগ্য ৫৯৪ জন। এ সুবিধা পাচ্ছেন ১২৮ জন। শতাংশের হিসাবে এটি ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। চারটি ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিটের (ভিডব্লিউবি) যোগ্য পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৩৮ জন; কিন্তু এ সুবিধা পাচ্ছেন ১৬৬ জন। শতাংশে এটি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।
২০১০ সালের খানা ব্যয় জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে গবেষণায় বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির হার ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তির এ হার ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
প্রচার-প্রচারণার না থাকায় এসব সুবিধার কথা অনেক আদিবাসী জানতে পারেন না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ফলে অনেকে আবেদন করতে পারেন না। আবার যাঁরা আবেদন করেন, আবেদনপ্রক্রিয়ায় হয়রানি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব ও যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনে অনিয়মের কারণে তাঁদের অনেকে বাদ পড়েন বলে গবেষণায় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের একটি খানা আয়-ব্যয় জরিপের ফলাফল তুলে ধরে গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটি ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে আদিবাসী অধ্যুষিত সমতল এলাকায় সেটি ৮০ শতাংশ।
মেগা প্রকল্প নয়, কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করবে বিএনপি: আমীর খসরু
২৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মেগা প্রকল্প নয়, মানুষের কল্যাণে বিনিয়োগে বিএনপি গুরুত্ব দেবে। আজ মঙ্গলবার নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগর বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কোনো মেগা প্রজেক্টে যাব না। মানুষের আত্মকর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান, বিদেশে চাকরির সুযোগ, এসবই আমাদের অগ্রাধিকার। নতুন প্রজন্ম লেখাপড়া করেও চাকরি পাচ্ছে না। এ জন্য ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করাই প্রথম দায়িত্ব। আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বিএনপি। দলের প্রণীত বাজেটে সর্বাধিক বিনিয়োগ রাখা হবে এই দুই খাতে।’
ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিনের দাম লিটারে বাড়ল ৯ টাকা, খোলা তেল ৫ টাকা
০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
কোনো ঘোষণা ছাড়াই নীরবে ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এবার এক লাফে লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৯ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম ঘোষণা ছাড়া এভাবে কূটকৌশলে দাম বাড়ানো চরম অন্যায়। সরকারের সংশ্লিষ্টদের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিলেন ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্টরা। কোম্পানিগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। তাই সরকারকে অবহিত করেই দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ব্যবসায়ীরা আবেদন করেছেন। কিন্তু দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
খেলাপি ঋণ আদায়ে তিন মাসে ১৫ হাজার মামলা
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
নীতি-সহায়তার আড়ালে খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ বন্ধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর লুকানো খেলাপি ঋণ সামনে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকায় ঠেকেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলো তৎপরতা বাড়িয়েছে।
গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে ১৪ হাজার ৬৫২টি মামলা করেছে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে এখন মামলায় ঝুলছে চার লাখ সাত হাজার ৪৩৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে অর্থঋণ আদালতে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৪১। এসব মামলায় আটকে আছে ৪ লাখ সাত হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। তিন মাস আগে গত মার্চ শেষে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩টি মামলার বিপরীতে আটকে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। গতকাল ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। সভায় খেলাপি ঋণের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
জাপানি ইকোনমিক জোনে সুমিতোমোর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ জাতীয় স্বার্থবিরোধী: ইআরডি
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা
বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) সুমিতোমো করপোরেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। তাদের মতে, সরকারের অর্থায়নে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন হলেও—জোনের পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
গত ১৪ অক্টোবর অর্থ উপদেষ্টাকে পাঠানো এক চিঠিতে ইআরডি প্রকল্পটি আরও সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে এবং ভবিষ্যতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনার আগে একটি স্বাধীন তদন্তের সুপারিশ করেছে।
ইআরডি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সূত্রগুলো জানায়, ভূমি উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সরকার বৈদেশিক ঋণ ব্যবহার করেছে। পরে বিএসইজেডকে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়—যেখানে জাপান সরকার মনোনীত সুমিতোমোকে ৭৬ শতাংশ এবং বেজাকে ২৪ শতাংশ মালিকানা (শেয়ার) দেওয়া হয়।
কোম্পানিটি পরিচালনার জন্য ৩ সদস্যের বোর্ড গঠন করা হলেও, সেখানে বেজা’র প্রতিনিধি মাত্র একজন, এবং মূল নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সুমিতোমোর হাতে।
এছাড়া, ২০২২ সালের ১ আগস্ট জাইকা একটি অ্যাকসেশন ডিডের মাধ্যমে সুমিতোমোর অংশীদারিত্ব থেকে ১৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করে বোর্ডে অভজার্ভার স্ট্যাটাস লাভ করে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে, যেটি জাপানি ইকোনমিক জোন নামেও পরিচিত—বর্তমানে মাত্র ৮টি কোম্পানির কার্যক্রম চলমান আছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের সিঙ্গার কোম্পানিও রয়েছে।
টিবিএসের দেখা ইআরডির ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ঋণ নিয়ে নিজ দেশে ভূমি অধিগ্রহণ করে কেন একটি বিদেশি বেসরকারি কোম্পানিকে এ অর্থনৈতিক জোন-সংক্রান্ত কোম্পানির ৭৬ শতাংশ মালিকানা প্রদান করেছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। প্রকারান্তরে, প্রতীয়মান হয় এটি পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কোম্পানির আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, ২০২২ সালের অ্যাকসেশন ডিড এবং ভূমির লিজ চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে এ ধরণের অসম চুক্তির মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের নেতৃত্ব একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হলে তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে। আর তাই এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনার পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা এবং পরিচালনার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
পূর্বাঞ্চল রেলের ভাড়া বাড়ছে ২০ ডিসেম্বর থেকে
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
নতুন নির্মিত সেতুতে এক্সট্রা ডিসট্যান্স অব পন্টেজ চার্জ (অতিরিক্ত মাশুল) আরোপ করে বিনিয়োগের অর্থ তুলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এবার পুরনো সেতু, কালভার্টেও পন্টেজ চার্জ আরোপ করেছে সংস্থাটি। ১১টি সেতুতে নিয়মিতভাবে এ চার্জ কার্যকরের ফলে ২০ ডিসেম্বর থেকে সব যাত্রীবাহী ট্রেনের ভাড়া বাড়াচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ। এতে সর্বোচ্চ ভাড়া বাড়ছে ২০০ টাকারও বেশি। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গতকাল পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে নতুন ভাড়া কার্যকরের বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে টিকিট ক্রয়ে বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬% স্নাতক পছন্দমতো কাজ পায় না
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা প্রায় ৬৬ শতাংশ আংশিক বেকারত্বের (আন্ডার এমপ্লয়েড) মধ্যে রয়েছেন।তারা পছন্দমতো কাজ পায় না। অর্থাৎ তাঁরা টিউশনি, কল সেন্টার বা কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়ার মতো কাজ করেন; পূর্ণকালীন কাজের (ফুলটাইম) সঙ্গে যুক্ত নন। ফল ভালো থাকলেও পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা তাঁদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামনে এসেছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উপস্থাপনায় এসব তথ্য তুলে ধরেন গবেষকেরা। গতকাল ছিল দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক। এ বছরের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন’।
প্রথম অধিবেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো তাহরীন তাহরিমা চৌধুরী। জাতীয় বিদ্যালয়ের অধীন ৫১৫টি কলেজ থেকে স্নাতক করা ১ হাজার ৬৩৯ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে ২০২১ সালে বিশ্বব্যাংকের করা জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
স্নাতক ডিগ্রিধারীদের কাছে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ৩৪৩ জন কাজে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান। আর চাকরি খুঁজছেন বলে জানান ১ হাজার ৭৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১১৩ জন পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজে যুক্ত। ৮২ জন কোনো কর্মক্ষেত্রে যুক্ত নন। অর্থাৎ প্রায় ৬৬ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী আংশিক বেকার।
৫০ ব্যবসায়ীর কাছে ঋণ ৩ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা
০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
ব্যাংক খাতের মোট ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বড় ব্যবসায়ীদের কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে শীর্ষ ৫০ শিল্প গ্রুপের শুধু ফান্ডেড ঋণ ঠেকেছে তিন লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকায়। নন-ফান্ডেড ঋণ বিবেচনায় নিলে ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। বিপুল অঙ্কের ফান্ডেড ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তি রয়েছে মাত্র ৯০ হাজার কোটি টাকা যা মোট ঋণের চার ভাগের একভাগ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এভাবে ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়া দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে যা ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
খেলাপি ঋণ বাড়ানোর পর এখন কমাতে তৎপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ পুনঃ তফসিল, অবলোপন ও এককালীন পরিশোধে নানা সুবিধা দেওয়ার পরও খেলাপি ঋণ কেন কমছে না, তা–ও জানতে চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। চলতি মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনতেও বলা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
গত রোববার দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ সব ডেপুটি গভর্নর ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। এ সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতির ঋণের পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী ও অনেক ভালো উদ্যোক্তাও খেলাপি হয়ে পড়েছে। ঋণ নীতিমালায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই খেলাপি ঋণ কমাতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া সভায় কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এই দুই খাতে ঋণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত দুটি বেসরকারি ব্যাংকের দুজন এমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আগে ঋণে কোনো সমস্যা থাকলেই খেলাপি করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে খেলাপি ঋণ নিয়ে বৈশ্বিক সংস্থাগুলো নেতিবাচক মন্তব্য করছে। এ ছাড়া বড় অঙ্কের ঋণ আটকে পড়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে আসছে। এ জন্য খেলাপি ঋণ দ্রুত কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে।
কোনো মেগা প্রকল্পে যাবে না বিএনপি: তারেক রহমান
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য হলো দলটি কোনো মেগা প্রকল্পে যাবে না। তারেক রহমান বলেছেন, মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার উন্নয়নের পেছনে খরচ করা হবে।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এ কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে যুবদল এবং কৃষক দলের নেতারা অংশ নেন।
বিগত স্বৈরাচারের সময় মেগা প্রকল্প হলেও উদ্দেশ্য সফল হয়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় উন্নয়নের নামে বহু অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আইটি পার্কের নামে বহু অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে এখন বিয়েশাদির মতো সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছিল, সেটি সফল হয়নি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য হলো আমরা কোনো মেগা প্রকল্পে যাব না। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থ জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্যের উন্নতির পেছনে খরচ করতে হবে। সে জন্যই বিএনপির নতুন আইটি পার্ক বানানোর পরিকল্পনা নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো সংস্কার করে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের সুযোগ করে দেবে।’
৩৮০১ কোটি টাকার প্রকল্পে পরামর্শেই খরচ ৮০৮ কোটি
১১ ডিসেম্বর ২০২৫, কালবেলা
রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার পানি নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এখনো অপর্যাপ্ত। নদী-খাল দূষণ, অপর্যাপ্ত স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্ক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে শহরের পানির মান ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের লক্ষ্য খাল খনন ও পুনর্বাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করা। তবে বর্জ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। আলোচ্য প্রকল্প বাস্তবায়নে পরামর্শকদের পেছনে ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অত্যধিক ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, যা নিয়ে আপত্তি তুলেছে খোদ পরিকল্পনা কমিশনও। নানা ত্রুটিবিচ্যুতি থাকার পরও প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনে চাপ রয়েছে এক উপদেষ্টার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক। বাকি ১৭১ কোটি ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পে বাস্তবায়ন কাজ চলতি মাসে শুরু করে ২০৩১ সালের মধ্যে শেষ করতে চায় এলজিআরডি মন্ত্রণালয়।
দেশে ১% ধনীর হাতে ২৪% সম্পদ
১১ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
বাংলাদেশের ১ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে দেশের মোট সম্পদের ২৪ শতাংশ। আর মোট জাতীয় আয়ের ১৬ শতাংশ রয়েছে তাদের হাতে। কোন দেশে বৈষম্যের মাত্রা কেমন, তার ওপর বৈশ্বিক প্রতিবেদন ‘ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট-২০২৬’ বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য দিয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে মানুষের আয়ের চেয়ে সম্পদের বৈষম্য অনেক বেশি।
প্যারিসভিত্তিক বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনইকুয়ালিটি ল্যাব সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের জাতীয় উপাত্ত পর্যালোচনা এবং বিস্তৃত গবেষণার মাধ্যমে বৈষম্য পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়, বিশ্বে বৈষম্য অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। মাত্র ১০ শতাংশ ধনী মানুষের কাছে মোট সম্পদের ৭৫ ভাগ রয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা এর সবচেয়ে বড় কারণ। এ ব্যবস্থায় ধনীদের সম্পদ ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈষম্যের বৈশ্বিক বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান মাঝামাঝি। আয় ও সম্পদ উভয় বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের শীর্ষ বৈষম্যের দেশ। আয় বৈষম্যে দ্বিতীয় অবস্থানে কলম্বিয়া। সম্পদ বৈষম্যে দ্বিতীয় রাশিয়া। আয় বৈষম্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ভারত ও পাকিস্তানে বৈষম্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। ক্রয়ক্ষমতার সমতার (পিপিপি) ভিত্তিতে বিশ্বের ৪০টি দেশের বৈষম্যের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বৈশ্বিক বৈষম্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ৪০টি দেশের ওপর আলাদা পর্যালোচনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বৈষম্য মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং গত এক দশকে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি। আয়ের বিবেচনায় দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ আয়ের মানুষ মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ উপার্জন করে। যেখানে নিচের ৫০ শতাংশের আয় মাত্র ১৯ শতাংশ। সম্পদের বণ্টনে বৈষম্য আরও বেশি। শীর্ষ ১০ শতাংশের হাতে মোট সম্পদের প্রায় ৫৮ শতাংশ। আর শীর্ষ ১ শতাংশের হাতে রয়েছে ২৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধনী ১ শতাংশ মানুষের গড় সম্পদ ৭ লাখ ২৩ হাজার ২৩৮ ইউরো। প্রতি ইউরো ১৪২ টাকা ধরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নিচের দিকের ৫০ শতাংশের গড় সম্পদ এক হাজার ৪২২ ইউরো বা প্রায় দুই লাখ টাকা। তাদের হাতে রয়েছে সম্পদের মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তাদের ওপরের ৪০ শতাংশের কাছে রয়েছে সম্পদের ৩৭ শতাংশ। আর শীর্ষ ১০ শতাংশের হাতে রয়েছে ৫৯ শতাংশ।
বাংলাদেশে ওপরের দিকে আয়ের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে রয়েছে জাতীয় আয়ের ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, নিচের দিকের আয়ের ৫০ শতাংশের কাছে রয়েছে মাত্র ১৯ শতাংশ। মাঝখানের স্তরে বাকি ৪০ শতাংশের কাছে রয়েছে ৪০ শতাংশ আয়।
এনটিসির চায়ে গুণগত মান বৃদ্ধি, নিলামে রেকর্ড বিক্রি
১০ ডিসেম্বর ২০২৫, দেশ রুপান্তর
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া ও জগদীশপুর চা বাগানসহ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত ১২টি বাগানে এবার চায়ের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গুণগতমান বৃদ্ধির এই ইতিবাচক পরিবর্তন সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে চট্টগ্রাম চা নিলামবাজারে। কোম্পানির শত বছরের ইতিহাসে এবার পরপর দুই নিলামে সর্বোচ্চ বিক্রির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যা এনটিসির সামগ্রিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংস্কারের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নিলামবাজারের ৩০ নম্বর নিলামে এনটিসির বাগানগুলোর উৎপাদিত চা ৪ কোটি টাকার বেশি বিক্রি হয়। এর পরের ৩১ নম্বর নিলামে এই বিক্রি বেড়ে প্রায় ৬ কোটি টাকায় পৌঁছায়। শুধু দুই নিলামেই প্রায় ১০ কোটি টাকার চা বিক্রি-যা দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় চা খাতকে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়েই এই সাফল্য এসেছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকার পরিচালিত এনটিসি বাগানগুলোতে গুণগতমান নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া, জগদীশপুর চা চাগান সহ, চণ্ডী,পারকুল, মাধবপুর, চাম্পারায়, বিজয়া, প্রেমনগর, পাত্রখোলাসহ মোট ১২টি বাগানে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানো হয়। পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হয়েছে, যাতে খরা বা আবহাওয়াজনিত বৈরি পরিস্থিতিতেও উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
চা শ্রমিকদের প্রশিক্ষণেও বড় পরিবর্তন আনা হয়। বাগান সূত্র জানায়, শ্রমিকদের কঠোরভাবে ‘দুটি কুঁড়ি ও একটি পাতা’ নীতি অনুসরণ করে পাতা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কাঁচা পাতা সংগ্রহের মান অনেক উন্নত হয় এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের পর চায়ের রং, স্বাদ ও ঘনত্বে আসে দৃশ্যমান উন্নতি। এরই ফলশ্রুতিতে নিলামবাজারে এনটিসির চায়ের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেড়েছে।
দুই দফায় টাকা পাবেন ব্যক্তি আমানতকারীরা
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
অবসায়ন বা বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়া ব্যাংকবহির্ভূত ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ জন্য প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থ জোগান দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নপ্রক্রিয়া শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অবসায়নপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে পরিচালককে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া আরও দুজন করে কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অকার্যকর ঘোষণা করা হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
বিডায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছে ৫৮ শতাংশ
১২ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও সামিট আয়োজনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ দেখা গেছে। এসব আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের ভালো সাড়া পাওয়ার কথাও প্রচার করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি বা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয় এখান থেকেই নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৫৫ লাখ কোটি টাকা। জিডিপির আকার ৫০-৫৫ লাখ কোটি টাকা হলেও দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে নিবন্ধন বা বিনিয়োগে ইচ্ছা প্রকাশ এক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে— যা দেশের মোট জিডিপির মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে। যদিও সেবা সংযোগের বিলম্ব, জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতায় প্রকৃত বিনিয়োগ নিবন্ধনের অর্ধেক বা আরো কম।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি
১১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির দিক থেকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। ২০২৬ সালেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকবে।
জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ২০২৬ সালের সম্ভাবনা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাতিসংঘ পূর্বাভাস দিয়ে বলেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। তখনো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে।
ঋণের চক্রে পড়ে নিঃস্ব জীবন
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
কেউ ঋণ নিয়েছিলেন ফসল ফলানোর আশায়। কেউ ব্যবসা দাঁড় করাতে। কেউ আবার পারিবারিক প্রয়োজনে। সময়মতো সেই ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে ঋণ করেছেন আরও একাধিক সংস্থায়। কিন্তু ঋণের চক্র থেকে আর বের হতে পারেননি। এখন ঋণ শোধ করতে না পেরে কেউ গ্রাম ছেড়েছেন, কেউ আত্মগোপনে, কেউ আবার আর কোনো পথ না দেখে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন।
রাজশাহীর পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। জেলার বাঘা, চারঘাট, পবা, মোহনপুর ও তানোর উপজেলায় ঋণগ্রস্ত ২৪টি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে প্রথম আলো। দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবার একই সঙ্গে একাধিক জায়গায় ঋণ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে বাঘা, চারঘাট, মোহনপুর ও তানোরের ১৬ জন ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। চারজন ফসল চাষের জন্য ঋণ করেছিলেন। সন্তানের বিয়ে, ছেলেকে বিদেশে পাঠানো, চিকিৎসার মতো পারিবারিক কাজের জন্য ঋণ করেছেন অন্যরা। ঋণ করে জুয়া খেলার ঘটনাও পাওয়া গেছে।
গত বছরের ১৬ এপ্রিল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজশাহীতে ঋণগ্রস্ত এক পরিবারের চারজনসহ আটজনের অপমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে চারজন আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা। অন্য একজন স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন।
এসব মানুষ ক্ষুদ্রঋণ দানকারী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার ‘টার্গেট ঋণের’ শিকার হচ্ছেন বলে মনে করেন রাজশাহীর বেসরকারি সংস্থা রুরাল আন্ডার প্রিভিলাইজড অ্যান্ড ল্যান্ডলেস ফারমার্স অর্গানাইজেশনের (রুলফাও) পরিচালক আফজাল হোসেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘টার্গেট (লক্ষ্যমাত্রা) পূরণ করতে গিয়ে এনজিওকর্মীরা ফিজিবিলিটি টেস্ট (সম্ভাব্যতা যাচাই) না করেই মানুষকে ঋণ দিচ্ছেন। দেখছেনও না আরও কয়টা এনজিওতে তাঁদের ঋণ আছে। এতে মানুষের জীবনযাপনের স্বাধীনতাই হারিয়ে গেছে।’
১৫ বছরে ৯ বারই আলুতে লোকসান দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শুরু হয়েছে আলুর নতুন মৌসুম। জমি থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত এখন কৃষক। মৌসুমের শুরুতে নতুন আলুর চাহিদা সব সময় বেশি থাকে, এ কারণে কৃষকও ভালো দাম পান। কিন্তু এবারের চিত্রটি উল্টো। হিমাগারে পুরোনো আলু অবিক্রীত থেকে যাওয়ায় বাজারে নতুন আলুর দাম কম। এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁওয়ের আলুচাষিরা বড় অঙ্কের লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন।
কৃষকেরা বলছেন, আলুতে লোকসান নতুন কিছু নয়। গত ১৫ বছরের মধ্যে ৯ বছরই আলুতে লোকসান দিয়েছেন তাঁরা। লোকসানের ৯ বছরের মধ্যে চার বছর পুঁজি পর্যন্ত ফেরত পাননি অনেক কৃষক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে জেলায় ৩৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর (এক হেক্টর সমান ২ দশমিক ৪৭ একর) জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এসব জমি থেকে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ৬৮ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন আলু। আলু সংরক্ষণের জন্য জেলায় ১৭টি হিমাগার রয়েছে। এসব হিমাগারে এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যায়। বেশি সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় গত মৌসুমে অধিকাংশ চাষির উৎপাদিত আলু থেকে গেছে সংরক্ষণের বাইরে। সেই আলু বিক্রি শেষ হয়েছে গত আগস্টে। ফলে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি হয়েছে কম। তাতে হিমাগারে অবিক্রীত অনেক আলু রয়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন আলু বাজারে ওঠায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
ডিএনসিসির নতুন নির্দেশিকা: বাড়িভাড়া বাড়বে, না কমবে
২১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া-সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়েছে, বার্ষিক হিসাবে ভাড়া বাবদ কোনো মালিক বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি আদায় করতে পারবেন না। অগ্রিম হিসেবে নেওয়া যাবে এক থেকে তিন মাসের ভাড়া।
নতুন নির্দেশিকা আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অবশ্য এই নির্দেশিকার ফলে বাড়িভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার আইনে এক মাসের কথা বলা থাকলেও বাড়ির মালিকদের তিন মাস পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার শেওড়াপাড়ায় ১ হাজার ২৭৫ বর্গফুটের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন এক ব্যক্তি। সংবাদমাধ্যমে খবরটি পড়ার পর তিনি এই প্রতিবেদককে ফোন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তিনি যে ভবনে থাকেন, সেখানে ১ হাজার ২৭৫ বর্গফুট আকৃতির ফ্ল্যাট ৭০ লাখ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। এই দরে ১৫ শতাংশ হিসাবে বাসাটির ভাড়া আসবে বছরে সাড়ে ১০ লাখ টাকা, মাসে সাড়ে ৮৭ হাজার টাকা। এখন তিনি ভাড়া দেন মাসে ১৮ হাজার টাকা।
# ৭০ লাখ টাকার ১,২৭৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের ভাড়া নেওয়া যাবে মাসে ৮৭,৫০০ টাকা। # আইনে এক মাসের ভাড়া অগ্রিম নেওয়ার সুযোগ। উত্তর সিটির নির্দেশিকায় ১-৩ মাসের কথা বলা হয়েছে।
শেওড়াপাড়ার ওই ভাড়াটে বলেন, এই নির্দেশিকা কার্যত বাড়িভাড়া বাড়ানোর আয়োজন। এটা বাড়ির মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে। বাড়ির দামের ১৫ শতাংশ হারে ভাড়া নিলে সাত বছরের মধ্যেই মালিকের বাড়ি তৈরির খরচ উঠে যাবে। ভাড়াটেদের কোনো লাভ হবে না।
কী আছে নির্দেশিকায়
ঢাকা উত্তর সিটির নির্দেশিকায় ১৬টি বিষয়ে বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. ভাড়াটে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটেকে রসিদ দিতে হবে।
২. বাড়িতে ভাড়াটের যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটেকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের আগে মতামত নেবেন। দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বাড়ানোর সময় হবে জুন-জুলাই।
৪. দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত ভাড়া দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তন করা যাবে।
৫. নির্দিষ্ট সময়ে ভাড়াটে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দেবেন। তাতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন। ভাড়াটের সঙ্গে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।
৬. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
৭. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।
৮. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
৯. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।
১০. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটে সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিসে থাকবেন।
১১. যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটে সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।
১২. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তাঁর প্রত্যেক ভাড়াটেকে ছাদের ও মূল গেটের (দরজা) চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।
সরকারের সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের বছর
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশে সরকারের নেয়া ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ১৯ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকায়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে এ সরকার ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি ঋণ নেয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনবে। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ৩ লাখ ২৮ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেবে তাদের এ বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া সরকারের ঋণের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে একক বছর হিসেবে সর্বোচ্চ ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল সরকার। তবে সে সময়ে কোনো অর্থবছরেই সরকারের নেয়া ঋণ আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে প্রথমবারের মতো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ নেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে এ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি সে সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া বাবদ আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কারণে সরকারকে দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
মন্ত্রীদের জন্য ৯০৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বানাবে সরকার, সুইমিংপুলসহ আরও কী কী থাকছে
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভবনে থাকবে ৭২টি ফ্ল্যাট, যার আয়তন হবে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৩০ বর্গফুট। এ জন্য নেওয়া হচ্ছে ৭৮৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প।
রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত। নতুন তিন ভবন হবে বেইলি রোড ও মিন্টো রোডে। নতুন প্রকল্পে সেখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সাংবিধানিক সংস্থার প্রধানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপাড়ায় এখন মন্ত্রীদের জন্য বাংলোবাড়ি আছে ১৫টি। আর বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নামের তিনটি ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ১০টি করে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন সাড়ে ৫ হাজার বর্গফুট। মন্ত্রিপাড়া ছাড়াও গুলশান ও ধানমন্ডিতে মন্ত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে।
সব মিলিয়ে মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য ঢাকায় মোট ৭১টি বাংলোবাড়ি ও ফ্ল্যাট চিহ্নিত করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। সেগুলো শুধু মন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্টকরণের (এয়ার মার্ক) প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে কার্যত মন্ত্রীদের বসবাসের জন্য আবাসনের সংকট নেই। তার পরও কেন নতুন করে ৭২টি বিশাল আকৃতির ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলো, সে বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক বাংলো ও ফ্ল্যাট খালি ছিল। সেখানে সাংবিধানিক সংস্থার পদধারী ব্যক্তিদের কেউ কেউ থাকছেন। সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের জন্য আলাদা বাসস্থান রয়েছে, তার পরও তাঁরা কেন মন্ত্রিপাড়ায় থাকেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রিপাড়ায় তাঁদের থাকার বসবাসের অনুমতি দিয়েছে সরকার।
ব্যয়সাশ্রয়ী নীতির ঘোষণা দিয়ে উল্টো পথে সরকার
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
সরকারি ব্যয়ে লাগাম টেনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যয়সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপের ঘোষণাও দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, কাগুজে উদ্যোগের বাইরে গিয়ে পরিচালন খাতে একের পর এক ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফল হিসেবে নিকট-অতীতে প্রথমবারের মতো গত অর্থবছরে সরকারের পরিচালন ব্যয় মোট রাজস্ব আয়ের চেয়েও বেশি হয়ে যায়। অথচ সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে।
গত অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো দ্বিগুণেরও বেশি করার প্রস্তাব করেছে পে কমিশন। অন্যদিকে আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এসব সিদ্ধান্ত নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য শুরুতেই অর্থ খরচ অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বিশ্লেষণ ও সংস্থান পরিকল্পনা থাকে। সরকার জানে কীভাবে অর্থের জোগান দিতে হয়।
সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ ও বাস্তবতা
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক খাতে দুর্নীতির প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতির ক্ষত সারাতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে আরও লাগাম টানতে অর্থ মন্ত্রণালয় একাধিক প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র জারি করে।
বাস্তবে এসব নির্দেশনার বাইরে গিয়ে পরিচালন বাজেটের আওতায় ধারাবাহিকভাবে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এর সূচনা হয় ২০২৪ সালের শেষ দিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ দিয়ে। তীব্র সমালোচনার মুখে সে সিদ্ধান্ত বাতিল হলেও ২০২৫ সালের জুলাই থেকে গ্রেডভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।
ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও বাড়তি আর্থিক দায়
পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম বড় খাত হলো ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ফেব্রুয়ারিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রায় ১৬ বছরে অবসর নেওয়া ৭৬৪ জন সাবেক কর্মকর্তাকে উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়। এর মধ্যে ১১৯ জন সচিব পদে উন্নীত হন।
এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডার বাদে অন্যান্য ক্যাডারের আরও ৭৮ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এসব পদোন্নতির ফলে সরকারের ওপর স্থায়ী আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে।
ভাতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত
গত ১৪ আগস্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ভিত্তিক অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ভাতা বাড়ানো হয়। এতে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দ্বিগুণ এবং প্রশিক্ষকদের ভাতা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভাতাও ২০ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
গত জুলাই মাসে পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকিভাতা ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়। কনস্টেবল থেকে এসআই/সার্জেন্ট পর্যায় পর্যন্ত চাকরির বয়সভিত্তিক পাঁচ ধাপে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়। ফলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর বেতন এক হাজার টাকা এবং অবসরকালীন ভাতা ২০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের ৬০টি কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈদেশিক ভাতা ২০ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়, ফলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ১৫ বছরে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম না থাকায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারাদেশে এক হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে, বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন। এর ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে।
পে কমিশনের প্রস্তাব ও বড় অঙ্কের ব্যয়
সর্বশেষ ২১ জানুয়ারি জাতীয় পে কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
এমনকি তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলেও প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত জোগান দিতে হবে, যা দেশের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় সাড়ে তিন মাসের সমান।
সরকারি গাড়ি ও বিলাসী স্থাপনায় ব্যয়
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তিন দফায় সরকারি যানবাহন কেনার মূল্যসীমা বাড়ানো হয়েছে। এসি মিনিবাস, বাস, প্রাইভেট কার, জিপ, পিকআপ, ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মূল্যসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে ঢাকার মন্ত্রীপাড়ায় ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল হলেও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
পরিচালন ব্যয়ের চাপে বাজেট
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে। তবে সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাবদই বাড়তি ২২ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পরিচালন ব্যয়ের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯০ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ, তার আগের বছর আরও কম।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে ব্যয় হয় ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। অথচ অনুদানসহ মোট রাজস্ব আদায় হয় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব আয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় বেশি ছিল প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি কিছু উন্নয়ন ব্যয় ব্যবহার হয়। কিন্তু পরিচালন ব্যয়ের সমান রাজস্ব সংগ্রহ না হওয়া আশঙ্কার। নব্বই দশকের পর এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তা ছাড়া চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে পরিচালন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যা যৌক্তিক নয়। বরং সরকারের উচিত পরিচালন ব্যয় কমিয়ে এনে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো। কারণ উন্নয়ন ব্যয় না বাড়লে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শ্রমজীবি মানুষের কথা
ছুটি না পাওয়া অসুস্থ শ্রমিকের মৃত্যু, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
০৩ নভেম্বর, ২০২৫, কালের কন্ঠ
অসুস্থ শ্রমিককে ছুটি না দেওয়া ও চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের মদনপুরে তারা এ অবরোধ করে। পরে প্রশাসন তাদের বুঝিয়ে বেলা ১২টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
১৭ নভেম্বর ২০২৫, দেশ রূপান্তর
লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত চার বাংলাদেশীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবারের এ ঘটনা ঘটে।
লিবীয় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর আল-খোমস থেকে যাত্রা করেছিল দুটি নৌকা। এতে প্রায় ১০০ জন অভিবাসীকে বহন করা হচ্ছিল। হঠাৎ দুটি নৌকাই ডুবে যায়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, প্রথম নৌকাটিতে বাংলাদেশ থেকে আসা ২৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন।
শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ
৩ বছর পরপর বাড়বে শ্রমিকের মজুরি
১৯ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
তৈরি পোশাক, ট্যানারি, ওষুধসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরিকাঠামো এত দিন পাঁচ বছর পরপর নির্ধারণ হতো। এখন থেকে মজুরিকাঠামো তিন বছর অন্তর পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিন বছর পরপর বিভিন্ন শিল্প খাতের শ্রমিকের মজুরি বাড়বে। সংশোধিত শ্রম আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত এই আইনে, শ্রমিকের সংজ্ঞা স্পষ্ট করার পাশাপাশি মহিলা শব্দের পরিবর্তে নারী শব্দ প্রতিস্থাপন, ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান, প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন শ্রমিক থাকলে ভবিষ্য তহবিল বাধ্যতামূলক, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন, বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় ও খাতভিত্তিক ত্রিপক্ষীয় পরিষদ গঠন, জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়া কোন কোন আচরণ যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হবে সেগুলোও আইনে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। শ্রমিকের প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, রাজনৈতিক মতামত, জাতীয়তা, সামাজিক অবস্থান, বংশ বা প্রতিবন্ধিতার কারণে কোনো ব্যক্তিকে আলাদা করা, বাদ দেওয়া বা কম গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে আইনে।
সরকার গত সোমবার রাতে শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করেছে। গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই আইন সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। এর আগে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় কোন কোন বিষয়ে সংশোধন হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য হয়।
সংশোধিত শ্রম আইন নিয়ে শ্রমিকনেতারা সন্তোষ প্রকাশ করলেও শিল্পমালিকেরা কয়েকটি বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, শ্রমিকের সংজ্ঞায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে আসায় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়ন নিবন্ধনে শ্রমিকের সম্মতির সংখ্যা এবং ভবিষ্য তহবিল নিয়ে টিসিসি সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি।
জানতে চাইলে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে শ্রম অধিকার নিশ্চিতে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। আইনটি শ্রমিকবান্ধব হলেও মালিকপক্ষের শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এটি বাস্তবায়নে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার দাবি করেছিলাম। সেটি হয়নি। আশা করি, ভবিষ্যতে মাতৃত্বকালীন ছুটি বাড়ানো হবে।’
এত দিন কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করতে গেলে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি লাগত। এখন থেকে শতকরা হারটি থাকছে না, ন্যূনতম ২০ জনের সম্মতি থাকলেই ইউনিয়ন করা যাবে। মূলত ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনে কারখানার মোট শ্রমিকসংখ্যার বিপরীতে কতজনের সম্মতি লাগবে, সেটি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক থাকলে ট্রেড ইউনিয়ন করতে ২০ জনের সম্মতি লাগবে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৫০০ শ্রমিক থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪০ জন, ৫০১ থেকে ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১০০ জন, ১ হাজার ৫০১ থেকে ৩ হাজার শ্রমিক থাকা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩০০ জন এবং ৩ হাজার ১ থেকে এর বেশি শ্রমিক থাকলে ৪০০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। একটি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচটির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে না। এত দিন সর্বোচ্চ তিনটি করা যেত।
এত দিন শ্রম আইনে শ্রমিকদের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের কথা বলা থাকলেও তা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে এবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১০০ স্থায়ী শ্রমিক থাকলেই মালিকপক্ষকে কর্মীদের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করতে হবে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রগতিতে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে ভবিষ্য তহবিল করা থেকে অব্যাহতি পাবে মালিকপক্ষ। সে ক্ষেত্রে পেনশন স্কিমে মালিক ৫০ শতাংশ ও শ্রমিক ৫০ শতাংশ চাঁদা দেবেন।
জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, টিসিসির বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেখান থেকে সরে গিয়ে সরকার অন্য কারও স্বার্থে বা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শ্রম আইন সংশোধন করেছে। এতে শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি। শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়বে। শ্রম আইন সংশোধনে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় থাকলেও তড়িঘড়ি করে কেন এমন করল, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অতীতে দেখা গেছে, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া আদায়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতেন শ্রমিকেরা। আন্দোলন ঠেকাতে শিল্পমালিকেরা অনেক সময় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি তাঁদের কালোতালিকাভুক্ত করতেন। তখন শ্রমিকদের নতুন কারখানায় চাকরি পাওয়া কঠিন হতো। সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের কালোতালিকাভুক্ত করার বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া মালিক বা মালিকদের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে শ্রমিক সংগঠন গঠনে উৎসাহ দেওয়া যাবে না। পক্ষপাতমূলকভাবে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের বরখাস্ত এবং অন্য ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করা যাবে না।
তাজরীনে প্রাণহানি: যুগ পার হলো, কবে শেষ হবে বিচার?
২৪ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলার বিচার ১৩ বছরেও শেষ হয়নি, আর কবে নাগাদ শেষ হবে বলতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের যেমন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে, তেমনি আসামিদের আদালতে হাজিরা দেওয়ার ভোগান্তি আছে।
মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নাসরিন জাহানের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে।
গত বছর তাজরীন ফ্যাশনসের ফিনিশিং সুপারভাইজার আমিনুর রহমান সাক্ষ্য দেন। এরপর আর কোনো সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
সবশেষ ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ছিল, তবে ওইদিন কোনো সাক্ষী আদালতে আসেননি। বিচারক আগামী বছরের ৯ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুর রহমান বলছেন, “সাক্ষীদের প্রতি আদালত থেকে সমন ইস্যু করা হয়। সমন পৌঁছাতে পারেনি বা পায় না, কোনো কারণে হয়তো সাক্ষীরা তা পাচ্ছে না।”
ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড নেই সংশোধিত শ্রম আইনেও
২৪ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে শ্রমিকের বয়স, দক্ষতা ও মজুরির ভিত্তিতে। দেশে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড নির্ধারণে এই সুপারিশ মানার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের।
অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। বাস্তবে সংশোধিত শ্রম আইনে এই দাবি আমলে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা।
কড়াইল বস্তিতে ফের আগুন, পুড়ে ছাই কয়েকশ ঘর
২৬ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে কয়েকশ বসতঘর। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এই আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট সেখানে ছুটে যায়। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি।
আগুনে বস্তির শত শত বাসিন্দা হয়ে পড়েছেন আশ্রয়হীন। গতকাল রাতে তাদের বড় অংশই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন। ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে সেখানে সাতটি ইউনিট পাঠানো হয়। আগুনের ভয়াবহতা বিবেচনায় পরে ইউনিট বাড়ানো হয়েছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ন্যূনতম মজুরি চান ট্যানারিশ্রমিকেরা
২৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
এক বছর আগে ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হলেও বেশির ভাগ ট্যানারিশিল্পে তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ ছাড়া অনেক ট্যানারি কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই শ্রমিক ছাঁটাই করছে। ছাঁটাইয়ের পর প্রাপ্য পাওনাও পরিশোধ করা হচ্ছে না। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে এ খাতের শ্রমিকদের সংগঠন ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।
রাজধানীর দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারের এ এস মাহমুদ সেমিনার হলে গতকাল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ‘ট্যানারিশিল্পে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন ও সংকট’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে অগ্নিকাণ্ড
‘মেয়ে মরল, লাশ পাইলাম, এখন ক্ষতিপূরণ পামু তো?’
০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে আগুনের ঘটনায় উদ্ধারকাজ তত দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়ে মার্জিয়া সুলতানাকে জীবিত অথবা মৃত খুঁজে পাচ্ছিলেন না মোহাম্মদ সুলতান। শেষে একটি শ্রমিক সংগঠনের সহায়তা নিয়ে ঢুকে যান পোড়া কারখানায়।
১১ দিন পর ঘটনাস্থলে খুঁজে পান মেয়ের পচা-গলা-পোড়া লাশ। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা এবং সেটার ফলাফল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা। শেষমেশ গত ২৬ নভেম্বর সুনামগঞ্জে মেয়ের লাশ দাফন করেছেন। ক্ষুব্ধ-হতাশ বাবার এখন একটাই প্রশ্ন—‘মেয়ে মরল, লাশ পাইলাম, এখন ক্ষতিপূরণ পামু তো?’
ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। শিয়ালবাড়ির ৩ নম্বর সড়কের আলম ট্রেডার্স নামের একটি রাসায়নিক গুদামে প্রথমে আগুন লাগে। আগুন গুদামের পাশের আর এন ফ্যাশন নামে পোশাক কারখানায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শুরুতে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। ১১ দিন পর মার্জিয়ার লাশ উদ্ধার করা হলে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭।
মার্জিয়ার লাশ উদ্ধারের সময়কার একটি ছোট্ট ভিডিও তাঁর পরিবারের কাছে আছে। তাতে দেখা যায়, পোড়া ও খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশের ব্যাগে তোলা হচ্ছে। আশপাশে আর কিছু আছে কি না—খুঁজতে গিয়ে একজন বলে উঠলেন, ‘এই যে চামড়া আছে।’ একটু পর আরেকজন হাতের হাড়ের খণ্ডিত অংশ খুঁজে পান। এত খোঁজাখুঁজি আর মেয়ের লাশ উদ্ধারের পুরোটাই সামনে থেকে দেখেন মোহাম্মদ সুলতান।
সিমেন্ট কারখানায় কম্প্রেসর বিস্ফোরণে আট শ্রমিক দগ্ধ
১০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় আকিজ সিমেন্ট কারখানায় একটি কম্প্রেসর বিস্ফোরণে আট শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কারখানার ভেতরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লোকজন কারখানার ফটকের সামনে ভিড় করেন। পরে কারখানার লোকজন ও স্থানীয়রা দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান।
বিস্ফোরণে কারখানার গাড়িচালক হান্নান, কারখানার শ্রমিক মঞ্জুর, হাবিব, রাকিবুল, খোরশেদ, তারেক, ফেরদৌসসহ আটজন দগ্ধ হয়েছেন।
ধর্ম, সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু-প্রান্তিক জনগোষ্ঠি
ক্ষমতায় গেলে মায়েদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের
২৭ অক্টোবর ২০২৫, ইত্তেফাক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে মায়েদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকানদের আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি।
অপহরণের নাটক সাজানোর কথা স্বীকার করলেন মুফতি মুহিব্বুল্লাহ
২৮ অক্টোবর ২০২৫, ইত্তেফাক
গাজীপুরের টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজী (৬০) স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর লাইভে যোগ দিয়ে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।
গত রাত ১২টার দিকে আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভ চলাকালে ফোনে মুহিব্বুল্লাহর মেয়েকে সংযুক্ত করা হয়।
সেখানে মেয়েটি জানান, তার বড় ভাই ফোনে জানিয়েছে— তাদের বাবা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, সব কিছু তিনি নিজের ইচ্ছায় করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উচ্ছেদের পর বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিল কোল জনগোষ্ঠীর ৫ পরিবার
২৮ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
এক্সকাভেটরের আঘাতে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ঘরবাড়ি। দেখে মনে হবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কয়েকটি বাড়ি। ছাউনির টিনগুলো দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে। বাড়ির লোকেরা সরাতে পারেনি কোনো জিনিসপত্র, এমনকি রান্নাঘরের ভাত-তরকারিও।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামে গত সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত। আদালতের উচ্ছেদ আদেশে আদালতের প্রতিনিধি ও থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে কোল জনগোষ্ঠীর পাঁচটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। পরিবারগুলোর সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে ২০। উচ্ছেদের পর তাঁরা একটি বাঁশঝাড়ের নিচে রাতযাপন করেছেন।
ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর আপত্তিতে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ বাদ
০৩ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।
এ দুটি পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা -২০২৫’-এ কিছু ‘শব্দগত পরিবর্তন’ আনা হয়েছে।
এসব পরিবর্তন এনে গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালাটি সংশোধন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়ের অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান সোমবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রোববার বিধিমালাটি সংশোধনের গেজেট জারি হয়েছে। গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালায় ৪ ক্যাটাগরির পদ থাকলেও সংশোধনে দুটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীর চর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদটি নতুন বিধিমালায় নেই।”
সমালোচনার মুখে পদগুলো বাতিল করা হল কী-না জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, “আপনারা এটি খতিয়ে দেখতে পারেন।”
রমনায় গির্জা লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ
১২ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর রমনা এলাকায় অবস্থিত সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল চার্চ লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গির্জা সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল গির্জা প্রাঙ্গণে আগামীকাল শনিবার সকালে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু শুক্রবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে গির্জার সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। গির্জার ভেতরেও আরেকটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরে পুলিশ এসে অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে।
খতমে নবুওয়তের মহাসম্মেলন থেকে ১ দফা দাবিতে বছরজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা
১৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে বছরব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ। ‘কাদিয়ানি’দের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
আজ শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসম্মেলনের মঞ্চ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা না হলে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন থেকে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার গণস্বাক্ষর গ্রহণ; মে ও জুন মাসে দেশের প্রতিটি জেলার ডিসিকে স্মারকলিপি প্রদান; জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত সম্মেলন আয়োজন।
এরপরও দাবি আদায় না হলে পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণে দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম-ওলামাদের নিয়ে ডিসেম্বরে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন করবে খতমে নবুওয়ত।
বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা খতমে নবুওয়তের এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মাওলানা আবদুল হামিদের (পীর সাহেব, মধুপুর) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমানও বক্তব্য দেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করা হবে
১৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ছিল। সেটা পরবর্তীতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে সেটি সংবিধানে পুনর্বহাল করা হবে।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কওম হিসেবে, মুসলমান হিসেবে বিভক্তি এবং দুর্বলতার কারণে ফিলিস্তিনের গাজাবাসী, আরাকানের রোহিঙ্গাসহ সারা পৃথিবীতে মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হতে হচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায়, সরকার পরিচালনার দায়িত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের দেয়, এ দেশের জনগণ যদি আমাদের মহব্বত করে দায়িত্ব দেয়, যদি আপনারা সবাই সহযোগিতা করেন, মঞ্চে উপবিষ্ট যারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পীরে কামেল, হজরত, ওলামায়ে কেরাম, আমাদের দেশের বুজুর্গানে দ্বীন যারা আমাদের পরিচালিত করেন, সবাই যদি আপনারা সহযোগিতা করেন, একসাথে থাকেন, তাহলে আপনাদের এখানে আজকে যে সমস্ত দাবি-দাওয়া আছে, আমরা সকল দাবি-দাওয়া এই প্রস্তাবের পক্ষে ইনশাআল্লাহ কানুনি ব্যবস্থা…’
তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই মঞ্চ থেকে অনেকে এবং সামনে উপবিষ্টরা সালাহউদ্দিন আহমদকে নিজ মুখে ‘কাদিয়ানিদের’ কাফির ঘোষণার দাবি তুলে হইচই শুরু করেন।
তখন সালাহউদ্দিন আহমদ তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘কানুনি সকল ব্যবস্থা জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ। এ জন্য সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাই হোক, আপনারা যে ভাষায় আমাকে কথা বলতে বলছেন, সেটি আইনের ভাষা নয়। আইনের ভাষা হচ্ছে এগুলো কার্যকর করার জন্য, এই প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সারা দেশের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করব।’
মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউলশিল্পী আবুল সরকার কারাগারে
২১ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সংগীত পরিবেশনের সময় ধর্ম অবমাননা ও কটূক্তির অভিযোগে করা মামলায় বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গতকাল দুপুরে বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে আসামি করে মামলা করেন ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ। এতে ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের অবমাননা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য উসকানি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার ইসলাম ও মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তাঁর এসব মন্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। গতকাল সকালে তাঁকে জেলা ডিবির কার্যালয়ে আনা হয়। দুপুরে মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেওয়া হয়। জেলা ডিবির পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের কঠোর শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ‘আলেম-ওলামা ও তাওহীদি জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ আল ফিরোজ, মুফতি আবদুল হান্নান, মানিকগঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মুফতি মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে আবুল সরকারের সহকারী শিল্পী রাজু সরকার বলেন, আবুল সরকারের পালাগানের পুরো বক্তব্য প্রচার না করে একটি গোষ্ঠী তাঁর বক্তব্য আংশিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে পরিবেশ ঘোলাটে করছে। মহান আল্লাহ পাকের তিনটি সৃষ্টির মধ্যে কোনটি আগে করা হয়েছে—প্রতিপক্ষ বাউলশিল্পীকে এমন প্রশ্ন করেছিলেন আবুল সরকার। মহান আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেননি। ওই অনুষ্ঠানে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। ওই গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল সরকারের পালাগানের মন্তব্যের ভিডিওর খণ্ডিত অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে।
মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর হামলা, আহত ৪
২৩ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ভক্ত-অনুরাগীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।
‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে থাকা একদল ব্যক্তি এবং আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। আজ রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা শহরের দক্ষিণ সেওতা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
মামলা হয়েছে ভিডিও আছে, তবু গ্রেপ্তার নেই
২৫ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পীদের ওপর হামলায় মামলা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও আছে, আসামিও চিহ্নিত। কিন্তু পুলিশ গতকাল সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
তৌহিদী জনতার ব্যানারে যারা বাউলদের ওপর হামলা করেছে, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা ও মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ কাজ করছে। হামলাকারীদের মধ্যে একজন হলেন মানিকগঞ্জ এলজিইডি মসজিদের ইমাম নিজাম উদ্দিনের ছেলে সাবিদ সাদী। তিনি বিগত সময় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাদী হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে মিশে যান। রোববার সাদীকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বাউলদের ওপর আক্রমণ করার নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
অন্যজন হলেন সদর উপজেলার বরংগোখোলা গ্রামের হেফাজতে ইসলামের কর্মী আবদুল আলিম, যিনি বাউলদের ওপর হামলা করার সময় আহত হন।
হামলায় যারা অংশ নিয়েছে, অধিকাংশ জেলা শহরের পরিচিত মুখ নয়; তারা বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মুফতি সাঈদ নূর পরিচালিত সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের নূরে কোরআন মাদ্রাসা থেকে সবচেয়ে বেশি ছাত্র মিছিলে যোগ দেয়।
বাউল আবুল সরকারের মুক্তি দাবি: খুলনার সমাবেশেও হামলা
২৬ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাউল আবুল সরকারের মুক্তিসহ সারাদেশে মাজার, দরগা ভাঙচুরের প্রতিবাদে খুলনায় গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী আহতের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার বিকাল ৫টার দিকে নগরের শিববাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি কবির হোসেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে বামপন্থি কয়েকটি সংগঠন মানিগঞ্জের বাউল আবুল সরকারের মুক্তিসহ বিভিন্ন স্থানে বাউল ও দেশি সংস্কৃতির হামলা এবং বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যানার নিয়ে কর্মসূচি শুরু করেন।
অপরদিকে একইস্থানে একই সময় ‘ছাত্র-জনতা’ নামে পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে প্রচার শুরু করেন একদল লোক। তাদের অভিযোগ, বাউল আবুল সরকার ‘আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’ করেছেন।
বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে খুলনায় মানববন্ধনে হামলা, মারধর
২৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবি ও দেশজুড়ে মাজার–দরগাহ ভাঙচুরের প্রতিবাদে খুলনায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মানববন্ধনে হামলা ও মারধর করা হয়েছে। এতে সংগঠনের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে দেয়। গতকাল বুধবার বিকেলে নগরের শিববাড়ী মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতা–কর্মীরা জানান, বাউলশিল্পীদের ওপর হামলা, মাজার–খানকা ভাঙচুর এবং ভিন্ন ধর্মমতের মানুষের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে সারা দেশে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় খুলনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তখন একই স্থানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘ছাত্র–জনতা’র ব্যানারে পাল্টা বিক্ষোভের ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে ও একই স্থানে ‘ছাত্র–জনতা’ ব্যানারে আরেক দল উপস্থিত হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে ছাত্রজোটের নেতা–কর্মীরা ব্যানার হাতে সড়কে নামলে তাঁদের ওপর হামলা হয়। কিল–ঘুষি ও লাঠির আঘাতে কয়েকজন আহত হন। এ সময় ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজীব খান বলেন, ‘বেলা তিনটার দিকে আমরা শিববাড়ীতে অবস্থান নিই। পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পাঁচটার দিকে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। “ছাত্র-জনতা”র নামে যারা এসেছিল, তারা আপ বাংলাদেশ ও শিবিরের কর্মী।’
বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানোয় সালিস ডেকে কনের বাবা, মা, ভাইকে বেত্রাঘাত
২৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের পর ডাকা হয়েছিল সালিস। স্থানীয় যুবদলের এক নেতা এ সালিস ডাকেন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। সে সালিসেই কনের বাবা, মা ও ভাইকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই সালিসে কনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
গত ২০ অক্টোবর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তবে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় কনের ভগ্নিপতির অটোরিকশা আটক করা হয়। অটোরিকশাটি আটকে রাখার সূত্রে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। যদিও স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যস্থতায় অটোরিকশা আবার ফেরত দেওয়া হয়।
শাহবাগে ‘গানের আর্তনাদ’ কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে জুলাই মঞ্চের কর্মীরা, ধাক্কাধাক্কি
২৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাউলশিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি এবং মানিকগঞ্জে বাউলশিল্পীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ‘গানের আর্তনাদ’ শিরোনামে একটি কর্মসূচি দিয়েছিল ‘সম্প্রীতি যাত্রা’ নামে লেখক, শিল্পী, অধিকারকর্মী ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মঞ্চ করে ওই কর্মসূচি শুরু করলে সেখানে মিছিল নিয়ে যান জুলাই মঞ্চ নামের একটি সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা বাউলদের পক্ষে নেওয়া ওই কর্মসূচির বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ‘গানের আর্তনাদ’ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে শিল্পী অরূপ রাহী স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর শিল্পী কৃষ্ণকলি ইসলামকে বক্তব্যের জন্য আহ্বান জানান সঞ্চালক। তখন জুলাই মঞ্চের ব্যানারে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে ওই কর্মসূচির মঞ্চের সামনে আসেন। তাঁরা ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা মাইক থেকে বাউল আবুল সরকারের মুক্তি দাবির বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়া হয়।
‘গানের আর্তনাদ’ কর্মসূচির আয়োজক ‘সম্প্রীতি যাত্রা’র কর্মীরা জুলাই মঞ্চের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৯ জনের পরিবারের জীবিকা বন্ধ
২৯ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামের হেলাল মিয়া (৬৫) জন্মান্ধ। ১৩ জনের পরিবারে তিনিসহ ছেলেমেয়ে, নাতি-নাতনিসহ ৯ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের আয়ের একমাত্র উৎস জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে গান গেয়ে আর্থিক সহায়তা নেওয়া। এই গানই তাদের জীবন ও সংসারের চাকা ঘোরাত। সম্প্রতি গান গাইতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বাধা দেওয়ায় পরিবারটি বিপাকে পড়েছে।
আলোচিত বাউল আবুল সরকারের বিচারের দাবিতে গত বুধবার দুপুরে জেলা শহরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল থেকে ফেরার সময় মুক্তমঞ্চে গান গাইতে বাধা দেওয়া হয় হেলাল মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। এরপর থেকে এই পরিবারটি শহরে না গিয়ে বিষণ্ন মনে বাড়িতে বসে আছে। চার দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জাহাঙ্গীরনগরে ‘বাউলের দ্রোহ’ গানের আসর বন্ধের অভিযোগ প্রশাসনের বিরুদ্ধে
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সারা দেশে বাউলদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাউলের দ্রোহ’ শিরোনামে গতকাল রোববার বিচারগানের আসরের আয়োজন করেন একদল শিক্ষার্থী। তবে অনুষ্ঠানটি জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। গতকাল রাত পৌনে দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রশাসনের দাবি, বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা চলছে। গানের উচ্চ শব্দে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছিল—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজকদের অনুরোধ করলে তাঁরা গান বন্ধ করেন।
ঈদগাঁওয়ে তৌহিদী জনতার ঘেরাওয়ের মুখে ‘ঢাকাইয়া মেলা’ বন্ধ
৩০ নভেম্বর ২০২৫, দৈনিক চাঁটগার চোখ
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বঙ্কিম বাজার–আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়কে চলমান ‘ঢাকাইয়া মেলা’ তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) আসরের নামাজের পর মুসল্লিরা মেলাস্থলে অগ্রসর হলে আয়োজকেরা সটকে পড়েন। এতে স্টল ভাড়া নেওয়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আপত্তি সত্ত্বেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মেলাটি চলছে। আসরের নামাজের পর তারা মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে মেলার দিকে গেলে আয়োজকেরা পালিয়ে যান। পরে মুসল্লিরা স্টল মালিকদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় দেন এবং সড়কের পাশে অবস্থান নেন। এ সময় তারা মেলার ব্যানার–ফেস্টুন নামিয়ে ফেলেন।
ব্যয় সাশ্রয়ের পথে নেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
অর্থের সংকটে থাকা অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই ব্যয় সাশ্রয়ের নীতি গ্রহণ করে। সরকারের নেয়া নীতি অনুসরণ করে পরিচালন ব্যয় কমিয়েছে অনেক মন্ত্রণালয়। তবে সাশ্রয়ের এ নীতির বিপরীত চিত্র সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দায়িত্ব নেয়ার পর বেড়েছে এ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে যে পরিচালন ব্যয় হয়েছে, সেটি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। গত অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় ছিল ৪১০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পরিচালন খাতে ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল মন্ত্রণালয়টি। তারও আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৩৩৭ কোটি টাকা।
গৌরীপুরে মাজারে ভাঙচুর, মল-মূত্র নিক্ষেপের অভিযোগ
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কয়েকশ বছরের পুরনো একটি মাজারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও মাজারের বাউন্ডারি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে মল-মূত্র ও গোবর নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থিত শাহজাহান উদ্দিন (র.) আউলিয়া মাজারে একদল দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায়।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
মাজার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে ভক্তরা মাজারে প্রবেশ করে দেখতে পান মূল অংশের সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করতে পলিথিনে ভরা মল-মূত্র ও গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাজারে ভিড় করেন এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান।
হাই কোর্ট মাজারের ওরশে পুলিশের বাধার অভিযোগ
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
রাজধানীর হাই কোর্ট সংলগ্ন শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর মাজারে বার্ষিক ওরশের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ভক্তরা।
পুলিশ বলছে, দিনের বেলা ওরশ শেষ হয়ে গেছে। এরপরেও কিছু ভক্ত ও পাগল সেখানে রয়ে গেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে যাদেরকে হাই কোর্ট প্রাঙ্গণের ভেতরে অবস্থিত মাজারটিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভক্তরা বলছেন, হাই কোর্ট মাজার বলে পরিচিত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওই মাজারে শুক্রবার থেকে তিন দিনের বার্ষিক ওরশ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেজন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্ত, পাগল ও অনুসারীরা সন্ধ্যায় মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
কিন্তু সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের মূল স্থাপনার ভেতর থেকে বের করে দেয় বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলছেন, সন্ধ্যায় ভক্তরা কেউ কেউ রীতি অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে চলে যেতে চাইলে সেটাও করতে দেওয়া হয়নি।
হামলা–অগ্নিসংযোগের ২৪ দিন পরও সরকারের কেউ খোঁজ নেয়নি: উদীচী
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা–অগ্নিসংযোগে পুড়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক উপকরণের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৫৭ বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস, নথিপত্র, বাদ্যযন্ত্র, নাটকের কস্টিউম, প্রপসসহ সংগঠনটির ক্ষয়ক্ষতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকায় উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই প্রদর্শনী ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নৃশংস এই হামলা–অগ্নিসংযোগের ২৪ দিন পার হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি খোঁজখবর নেননি।
ন্যূনতম সহানুভূতিও প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জামসেদ আনোয়ার। তিনি বলেন, সংস্কৃতি উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত। দেশের বৃহত্তম, ঐতিহ্যবাহী ও গণভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনটির ওপর এমন হামলার পরও সংস্কৃতি উপদেষ্টার এমন নির্লিপ্ততা অনেক সংশয়, প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
১৬ মাসে ১১৩ মাজারে হামলা, সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গত ১৬ মাসে সারাদেশে অন্তত ১১৩টি মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাসা সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে। আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাকাম ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা গেছে, এ দুই বিভাগের জেলাগুলোতে ১৬ মাসে অন্তত ৬৪টি মাজার, দরগাহ ও খানকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে ঢাকা বিভাগের মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায়। এ বিভাগের ৯ জেলায় ৩৭টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম। এ বিভাগের পাঁচ জেলায় ২৭টিতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে।
তবে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে পরবর্তী সাড়ে পাঁচ মাসে সারা দেশে ৪০টি মাজার, সুফি সমাধিস্থল ও দরগাহে ৪৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার সময় ভাঙচুর, ভক্তদের ওপর আক্রমণ, মাজারের সম্পদ লুটপাট ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। সব হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িত অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাকরাইনের বিরোধিতা করছে কারা?
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
আজ (১৪ জানুয়ারি) পুরান ঢাকায় পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রচারণা ও স্থানীয়দের একাংশের বিরোধিতার কারণে এ বছর উৎসবের আয়োজন তুলনামূলকভাবে কম।
প্রতি বছর এ উৎসবকে ঘিরে পুরান ঢাকায় থাকে বিশেষ আয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে ঘুড়ি ওড়ানো ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর সাকরাইনকে ঘিরে স্থানীয়দের একটি অংশের প্রকাশ্য বিরোধিতা সামনে এসেছে। ফলে শতবর্ষী এই উৎসবের আয়োজন ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, নারিন্দা, গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর এলাকার একাধিক মসজিদ থেকে কিছু মানুষ সাকরাইনের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। এ ছাড়া শব্দদূষণ ও ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থী দাবি করে আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ কমিটির পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
এর আগের বছর সাকরাইনে ‘অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অসামাজিক কার্যকলাপ’ বন্ধের দাবিতে ঢাকা মহানগর অনৈসলামিক ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ করা হয়।
ভূমির সংকটে সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামের কোল জাতিসত্তার পাঁচ পরিবারের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় গত বছরের ২৭ অক্টোবর। উচ্ছেদের পর তাঁরা আশ্রয় নেন গ্রামের পাশের বাঁশঝাড়ে। সরকারি সহায়তায় কিছু টিন পেলেও তা ছিল কেবল ছাপরা দেওয়ার মতো। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ভোগও বাড়ে। পরে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কোনোরকমে ঘর উঠলেও ভূমিহীন উদ্বাস্তু হওয়ার বোঝা তাঁদের বয়ে বেড়াতে হচ্ছে এখনো।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর একজন রুমালী হাসদা। তিনি জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে তাঁরা ওই জমিতে বসবাস করছিলেন। তাঁদের জানা ছিল না, জমিটি খাস এবং তাঁরা জানতেন, তাঁদেরই আত্মীয় তিলক মাঝি, দিনু মাঝি, ভাদু মাঝিসহ কয়েকজনের নামে জমিটির রেকর্ড রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তাঁর ওয়ারিশেরা আদালতে মামলা করেন। দারিদ্র্য ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কোল পরিবারগুলো মামলা পরিচালনা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় পক্ষে যায়নি।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার ইউএনও মো. নাজমুস সাদাত প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ কতটা মানবিক, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এভাবে উচ্ছেদ ঠিক হয়নি, কিন্তু কী করার আছে।’
এই উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে কোল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৮২২।
মধুপুরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করা জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উচ্ছেদের আতঙ্ক নিয়ে তাঁদের জীবন কাটছে। অনেকের বিরুদ্ধে ‘বন বিনাশের’ মামলা ঝুলছে।
গোদাগাড়ীর কোলদের ঘটনা দেশের সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের ভূমিসংকটেরই একটি উদাহরণ। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানের ‘আ স্টাডি অন স্ট্যাটাস অব ল্যান্ড রাইটস অব প্লেইনল্যান্ড ইনডিজিনাস অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন নর্থ ওয়েস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী, সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ভূমিহীন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমানের প্রায় সব সূচকেই তাঁরা পিছিয়ে। অথচ তাঁদের ভূমির সুরক্ষায় থাকা বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন বাস্তবে কার্যকর নয় বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও আইনের কার্যকর প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো সমতলের জাতিসত্তা হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রমতে, দেশে এ ধরনের জাতিসত্তার সংখ্যা ৫০-এর বেশি। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি তালিকা নেই।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার
‘পানিও দিতে দেয় নাই’, মব তৈরি করে হত্যায় আসামি গ্রেপ্তার মাত্র ১.২৭%
০৩ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে মো. ইসরাফিল নামের এক ব্যক্তিকে মুঠোফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় নিহতের ভাই আবিদ হোসেন মহম্মদপুর থানায় ২৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। যদিও কেউ গ্রেপ্তার হননি।
মহম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের গত ২৬ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জটিল ও স্পর্শকাতর। ওই ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। জড়িতদের চিহ্নিত করতে পারলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২১ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে রিহান মাহিন (১৫) নামের এক শিশুকে হত্যা করা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তিন শিশুকে চোর অপবাদ দিয়ে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি করা হয়। পরে চার ঘণ্টা আটকে রেখে তাদের পেটানো হয়। নির্যাতনে মাহিনের মৃত্যু হয়।
মাহিনের মা খদিজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছেলে চোর নয়। মারধরের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা মাহিনকে পিটিয়ে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘মাহিন একটু পানি চাইছিল, তারা পানি পর্যন্ত দিতে দেয় নাই।’
প্রথম আলো বিগত ১৩ মাসের ৪৬টি পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬৭ জনের মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছে, মামলাগুলোতে আসামি গ্রেপ্তারের হার নগণ্য। ৪৬টির মধ্যে ৩৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। ১০টি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাতে আসামির সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি (অজ্ঞাতসহ)। এর মধ্যে ২৭টি মামলায় ১১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসামি গ্রেপ্তারের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। ৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
পিটিয়ে হত্যার ঘটনা নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম আলো তথ্য সংগ্রহ করে। পরে গত মাসের শেষ সপ্তাহে তথ্য হালনাগাদ করা হয়। ঢাকায় প্রথম আলোর তিনজন প্রতিবেদক এবং ২৬টি জেলায় প্রথম আলোর প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা এ কাজে যুক্ত ছিলেন। দেখা যায়, ৯টি মামলায় কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
গোলাপি ইয়াবা হয়ে যায় কমলা, নেই সাক্ষী, এমন ১৬ কারণে খালাস পায় মাদক মামলার আসামি
০৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আসামিরা বিচারিক প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে মাদকের যত মামলা হয়, তার ৫৯ শতাংশই শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ করা যায় না। অন্যভাবে বলা যায়, মাদকের ৫৯ শতাংশ মামলায় আসামিদের সাজা হয় না।
ঢাকাসহ দেশের ২৬টি জেলার বিভিন্ন আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া মাদকের ৫০০ মামলার রায় পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে ২৯৬টি মামলায় সব আসামি খালাস পেয়েছেন। সাজা হয়েছে ২০৪টি মামলায়। অর্থাৎ সাজার হার মাত্র ৪১ শতাংশ।
মাদকের পৃষ্ঠপোষক, আশ্রয়দাতা বা অর্থ জোগানদাতাদের বিষয়ে অভিযোগপত্রে (তদন্ত শেষে আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়) কোনো তথ্য থাকে না। এর ফলে মাদকের মামলায় মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
যে ৫০০ মামলা প্রথম আলো পর্যালোচনা করেছে, এগুলোর রায় হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে। এসব মামলা হয়েছিল ২০০৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়া আসামি বা আসামিদের বাইরে কোনো মামলাতেই (যে ৫০০ মামলার রায় পর্যালোচনা করা হয়েছে) অন্য কাউকে চিহ্নিত করা যায় না। মামলা করার সময় এজাহারে প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য উল্লেখ করা হয়, এর বাইরে তদন্তে নতুন কিছু উঠে আসে না। মাদকের পৃষ্ঠপোষক, আশ্রয়দাতা বা অর্থ জোগানদাতাদের বিষয়ে অভিযোগপত্রে (তদন্ত শেষে আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়) কোনো তথ্য থাকে না। এর ফলে মাদকের মামলায় মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পরও কেন আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মামলার রায়ে কী বলা হয়েছে, তা–ও পর্যালোচনা করেছে প্রথম আলো। এতে ১৬টি ঘাটতি চিহ্নিত করা গেছে।
এর মধ্যে প্রথম ছয়টি ঘাটতি হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ এজাহার, তদন্তের দুর্বলতা, পাবলিক সাক্ষী বা নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকা (অভিযানে যাওয়া সদস্যদের বাইরের কোনো ব্যক্তি, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন), জব্দতালিকা সঠিকভাবে না করা, আদালতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা (যেমন এজাহারে বলা হলো গোলাপি রঙের ইয়াবা, কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হলো ইয়াবার রং কমলা)।
এর পাশাপাশি মামলা প্রমাণ করতে না পারার ক্ষেত্রে আরও ১০টি ঘাটতি দেখা গেছে, তার মধ্যে রয়েছে বাদী এবং তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য না দেওয়া, আসামির ভুল ঠিকানা যাচাই না করা, এক থানার ঘটনায় অন্য থানায় মামলা, একই কর্মকর্তার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন, জব্দ আলামত আদালতে প্রদর্শন না করা, কোনো সাক্ষী না পাওয়া, মাদক উদ্ধারে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের (কখনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারী) সাক্ষ্য না দেওয়া, মামলার তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তদারকি না থাকা এবং রাষ্ট্রপক্ষের গাফিলতি।
এই অনুসন্ধানের কাজটি ২০ মাস ধরে হয়েছে। এ জন্য ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন আদালত থেকে ১ হাজার ৫৭টি রায়ের (মাদকের মামলা) অনুলিপি সংগ্রহ করা হয়। এর পরের দুই মাসে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫০০ মামলার রায় পর্যালোচনা করা হয়।
কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ৫ বছরে ২৭৫ বন্দীর মৃত্যু
১০ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দেশের ৭৪টি কারাগারে বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৮২ হাজার। কিন্তু তাঁদের জন্য স্থায়ী চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের অভাবসহ নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় যথাযথ চিকিৎসা পান না অসুস্থ বন্দীরা।
কারা অধিদপ্তরের বিগত প্রায় পাঁচ বছরের হিসাবে, কারাগারে বছরে গড়ে ১৯৬ জন বন্দীর মৃত্যু হয়। ৪ বছর ৯ মাসে মারা গেছেন ৯৩৩ জন। এর মধ্যে কারাগার অথবা কারা হাসপাতাল থেকে বাইরের হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথে মৃত্যু হয় বছরে গড়ে ৫৮ জনের। ৪ বছর ৯ মাসে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোট মারা গেছেন ২৭৫ জন বন্দী।
কারা কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘প্রেষণে’ ও ‘সংযুক্ত’ হিসেবে কারা হাসপাতালে চিকিৎসকদের পাঠানো হয়। তবে তাঁরা সেখানে থাকতে চান না। কারণ, পদোন্নতির সুযোগ নেই, কাজের চাপ বেশি এবং বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হয়েও দায়িত্ব পালন করতে হয় নন-ক্যাডার কর্মকর্তার অধীনে।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে ১৪টি কেন্দ্রীয় ও ৬০টি জেলা কারাগার রয়েছে। মোট সংখ্যা ৭৪। এসব কারাগারে বন্দী ধারণক্ষমতা ৪৬ হাজার।
গত ২৩ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দী বেশি রয়েছে ৭৮ শতাংশ (৮২ হাজার)।
গ্রামীণ ব্যাংক, মৎস্য উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ
১০ নভেম্বর ২০২৫, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা
রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে অন্তত সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাত থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় এসব ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় একই ধরনের এই হামলাগুলোর পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে। তবে কে বা কারা এই নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকায় হঠাৎ ৮ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, তিন বাসে আগুন
১০ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সোমবার ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আতঙ্ক দেখা দেয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত আট স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সকালে মোহাম্মদপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারের খাদ্যপণ্যের প্রতিষ্ঠান প্রবর্তনার সামনে ককটেল ছোড়া হয়।
এ ছাড়া সকালে ধানমন্ডির দুটি স্থান ও মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এবং সন্ধ্যায় মৌচাক, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর ১০ ও খিলগাঁওয়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আর বাসে আগুন দেওয়া হয় বাড্ডা, শাহজাদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায়।
আগামী বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যেই আজ এসব ঘটনা ঘটল।
ময়মনসিংহে গভীর রাতে বাসে আগুন: পুড়ে মারা গেলেন একজন, দগ্ধ মা-ছেলে
১১ নভেম্বর ২০২৫, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সড়কের পাশে থামিয়ে রাখা একটি বাসে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মা ও ছেলেসহ আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া তিনটার দিকে ফুলবাড়িয়া সদরের ভালুজান এলাকায় আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, আলম এশিয়া পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৪১৮) ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে রাত দুইটার দিকে ফুলবাড়িয়ায় পৌঁছায়। যাত্রী নামানোর পর ভালুকজান পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে মূল সড়কে তেল নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটি পার্ক করে রাখা হয়েছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা হঠাৎ বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেশি
১৩ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা, সাভার ও গাজীপুরে আরও অন্তত ছয়টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বুধবার রাত পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাজীপুরে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
এ নিয়ে গত তিন দিনে সারা দেশে অন্তত ১৭টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটল। এর মধ্যে ১৬টি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় (সাভার ও গাজীপুর)। বাসে আগুনের ঘটনায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যুও হয়েছে। এর বাইরে গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে তেজগাঁও রেলস্টেশনে ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগিতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
বাসে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ নিয়ে গত তিন দিনে ঢাকার অন্তত ২২টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।
ভয়- ভোগান্তি, দেশজুড়ে সতর্কতা
১৩ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আজ বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। সহিংসতা ও নাশকতার শঙ্কায় অনেকে রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।
এর মধ্যে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল আজ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য দিনের চেয়ে গতকাল বুধবার ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম দেখা যায়। মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গতকাল সকাল থেকে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নৈরাজ্য ও সংঘাত এড়াতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আবাসিক হোটেলে গিয়ে রেজিস্টার খাতা দেখে কারা সেখানে অবস্থান করছেন, তা খুঁজে দেখছে পুলিশ।
ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল যুবকের পরিচয় মিলল
২৮ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়। গুলি করার ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় সেখানে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়।
অবশেষে খোঁজখবর নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুঁড়তে দেখা ওই যুবকের নাম তুষার মন্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। তিনি পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুনের অন্যতম সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের পর যুবদল নেতার মৃত্যু
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়া এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
তার নাম উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি উপজেলার আলতাপোলের নাজির বিশ্বাসের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ বলেন, “শুক্রবার রাতে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে উজ্জ্বলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
বৃহস্পতিবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
রাজবাড়ীতে ৫ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানে আগুন
০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলা ট্রিবিউন
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের তারাপুরে পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থানে বাঁশের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করা অংশে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) ভোরে দুর্বৃত্তরা কবরস্থানটির সীমানা প্রাচীর ও বাঁশ দিয়ে ঘেরা অংশে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরে ফজরের ওয়াক্তে মসজিদে মুসুল্লিরা নামাজ পড়তে এলে কবরস্থানে আগুন দেখতে পান। পরে মসজিদের মাইকে আগুন লাগার ঘটনা জানালে লোকজন দ্রুত এসে আগুন নেভান। সেখানে পেট্রোল ও কেরোসিনের গন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী এটিকে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে দেখছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ, নেওয়া হয়েছে ঢামেকে
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোড এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকে) নেওয়া হয়েছে।
ওসমান হাদিকে হাসপাতালে নেওয়ার তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক। তিনি বলেন, দুপুর আড়াইটার পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
ওসমান হাদিকে গুলি, জামাল উদ্দীনকে হেনস্তা
গণতান্ত্রিক রূপান্তর চায় না যারা, তারাই এর পেছনে: আনু মুহাম্মদ
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ–সমর্থক শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তা, দুই ঘটনারই নিন্দা জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সাংস্কৃতিক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে যারা চায় না, এই ঘটনাগুলোর পেছনে তারাই রয়েছে।
বাউল আবুল সরকারের মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারসহ ৯ দফা দাবিতে ‘আক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জনগণের প্রতিরোধ যাত্রা’ শিরোনামে বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এই সমাবেশের আয়োজন করে। আনু মুহাম্মদ এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শামীম এ তথ্য জানান।
গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর আনিস আলমগীরকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এ বিষয়ে আনিস আলমগীর গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাঁকে ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম (ব্যায়ামাগার) থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিয়ে আসা হয়। আটটার দিকে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান। তাঁকে বলা হয়, ডিবি প্রধান তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন।
‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ও প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিতে নীতিমালা জারি
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও সশস্ত্র রক্ষী নিয়োগে একটি নীতিমালা করেছে সরকার। ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ শিরোনামে এটি আজ সোমবার প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগের লক্ষ্যে সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করেছে।
নীতিমালায় রিটেইনারের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও পদপ্রার্থীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ও অনুমোদিত সশস্ত্র ব্যক্তি।
সুশীলতা করে লাভ নেই, এবার লাশ পড়লে লাশ নেব: মাহফুজ আলম
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে এবার পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। অত সুশীলতা করে লাভ নেই। কারণ, অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আলোচনায় উঠে আসা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ সোমবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় সমাবেশে বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন মাহফুজ আলম। ইনকিলাব মঞ্চ এই সমাবেশ আয়োজন করে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ওসমান হাদিকে গত শুক্রবার ঢাকার বিজয়নগরে গুলি চালায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই দুর্বৃত্ত। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সরকারি ব্যবস্থাপনায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন।
ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার মূল আসামি ফয়সলের মা–বাবা গ্রেপ্তার: র্যাব
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাচেষ্টা মামলার মূল আসামি ফয়সল করিম মাসুদের মা–বাবাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দেড়টার দিকে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে র্যাব-১০ ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিংয়ে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে ফয়সলের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগম (৬০) গ্রেপ্তার হন।
সাইবার সহিংসতায় নারীরাই বেশি ভুক্তভোগী
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনলাইনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা। গত বছর গণ-অভ্যুত্থান শুরুর সময় জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে দেশের ৮টি থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নারী ও শিশুর প্রতি সাইবার সহিংসতার ৬২০টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ জমা পড়ে খুলনার সোনাডাঙ্গা, রংপুরের কোতোয়ালি, বরিশালের কোতোয়ালি ও কাউনিয়া, গাজীপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও কোতোয়ালি থানায়।
এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে সংবাদমাধ্যমে ৫৬টি সাইবার সহিংসতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ জন ভুক্তভোগীই ছিলেন নারী।
মামলা না থাকলেও ‘সন্ত্রাসীদের’ গ্রেপ্তারের নির্দেশ উপদেষ্টার
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পথ আটকে তাঁর কাছে দাবি জানানো হয়েছিল বাসায় অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও গ্রেপ্তারের’ জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন পুলিশ কর্মকর্তাদের। ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
গতকাল বুধবার বেলা পৌনে ৩টায় নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ভবনের সামনে পুলিশকে এমন নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা। এখানে কয়েকটি সংগঠন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী মূল আসামিকে গ্রেপ্তারসহ সাত দফা দাবি জানায়। যেসব সংগঠন এসব দাবি জানায় তারা হচ্ছে– বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন-এনজিবি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাই। বিকেএমইএর পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশকে তিনটি করে ছয়টি গাড়ি উপহার দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
দাবি জানানোর এক পর্যায়ে একটি সংগঠনের নেতা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলেন, ‘এখনও আওয়ামী লীগের অনেকে এলাকায় অবস্থান করছে। পুলিশকে এ ব্যাপারে বললে তারা বলে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কিন্তু তারা তো চিহ্নিত আওয়ামী লীগ…।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গেই ঘুরে তাঁর পেছনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ‘সন্ত্রাসী, তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি নাই, সেটা দেখার ব্যাপার না। সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় নিয়ে আসবা। আইনের আওতায় না নিয়ে আসতে পারলে তোমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, আগুন
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে একদল লোক এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় পত্রিকা দুটির প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে। আজ বাজারে দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
শুরুতে প্রথম আলো অফিসে অগ্নিসংযোগের পরে ডেইলি স্টারে হামলা চালানো হয়। পরে রাতে ঘটনাস্থলে যায় সেনাবাহিনী। তারা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি (বডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্যদের দেখা যায়। এরপর হামলাকারীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ও ছায়ানট ভবনে গিয়ে ভাঙচুর করে।
রাত পৌনে ৩টার দিকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর হামলার প্রতিবাদ জানাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে যান। এ সময় এক দল লোকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে সেনাবাহিনী তাঁকে সরিয়ে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর একদল লোক শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে। হামলায় কার্যালয়ের বেশির ভাগ জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে এবং সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় বিক্ষোভকারীদের ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’ ‘আল্লাহু আকবর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রথম আলোর একজন সংবাদকর্মী সমকালকে বলেন, শুরুতে অল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্য ছিল। তবে তারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে পারেনি। এরপর অনেক সময় ধরে ভাঙচুর করা হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রথম আলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রথমা প্রকাশনা, প্রথমা ডটকম, বিজ্ঞাপন, হিসাব শাখা, চরকিসহ বিভিন্ন বিভাগ পুরোপুরি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
পরে তারা ডেইলি স্টার ভবনের দিকে যায়। সেখানে হামলা ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। ভবনটির নিচের তিনটি তলায় যখন আগুন জ্বলছিল, তখন প্রাণ বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই ভবনে আটকে পড়া একাধিক সংবাদকর্মী সমকালকে জানান, ভবনের চারতলায় পত্রিকাটির নিউজ রুমে বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আটকে পড়েন এবং আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে আজও শাহবাগ অবরোধ
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজও রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ভোরে কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে।
দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শাহবাগ মোড় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মোড়েই অবস্থান নিয়েছেন ছাত্র-জনতা। উপস্থিত ছাত্র-জনতা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিয়েছেন।
বাম, শাহবাগি, ছায়ানট, উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে: জাবি ছাত্রশিবির সেক্রেটারি
২০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক লড়াই করে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের লড়াই শুরু হবে শহীদ ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চের সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। আগামীকাল (আজ শুক্রবার) বাম, শাহবাগি, ছায়ানট, উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে, তাহলেই বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে বিক্ষোভ মিছিল–পরবর্তী সমাবেশে মোস্তাফিজুর রহমান এ কথা বলেন। রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বের করা বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রশিবিরের পাশাপাশি জাকসুর নেতারা, ছাত্রশক্তি, আধিপত্যবাদবিরোধী মঞ্চসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর হেনস্তার শিকার
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার সময় আটকে পড়া সংবাদকর্মীদের পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর।
গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের সামনে নূরুল কবীর এই হেনস্তার শিকার হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এ সময় হামলাকারীদের একটি দল নূরুল কবীরকে ঘিরে জটলা তৈরি করে আওয়ামী লীগের দালাল বলে চিৎকার শুরু করে। কেউ কেউ তাঁর শার্টের কলার ধরে টানতে থাকে। একাধিক দুর্বৃত্ত কয়েক দফায় তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
পরে এনসিপির নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নূরুল কবীরকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটে হামলা
হামলার সময় সরকারের নীরবতা ছিল বিস্ময়কর: আনু মুহাম্মদ
২০ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং ছায়ানটে হামলার মতো ভয়ংকর ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের পর আর হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে হামলার সময় সরকারের নীরবতা ছিল বিস্ময়কর।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংবাদমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনু মুহাম্মদ এ কথা বলেন। নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, আইনজীবী মানজুর আল মতিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যেভাবে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানট একের পর এক আক্রান্ত হয়েছে, হামলার ঘটনা ঘটেছে, এ রকম ভয়ংকর অভিজ্ঞতা মুক্তিযুদ্ধের পর আর হয়নি। এটা আমাদের চিন্তার মধ্যে ছিল না যে একটা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর, একটা গণ–অভ্যুত্থানের পর এ রকম একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারে।’
সংবাদমাধ্যমের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশে সরকার বলে যে একটা প্রতিষ্ঠান আছে এবং কে যে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর ওপর হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা না। কারণ, বহুদিন ধরে এ নামগুলো উচ্চারিত হচ্ছে।
ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা: কী হয়েছিল সেদিন
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও দীপুর কারখানার সহকর্মীরা কেউ কোনো কথা বলছেন না। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, পুলিশ ডাকার পরও ‘মব’ ঠেকানো যায়নি। পুলিশ বলছে, সময়মতো খবর পেলে প্রাণ রক্ষা করা যেত।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র করে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহত দীপু চন্দ্র তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে গত শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
রাকসু ভিপি এবং জাবি ছাত্রশিবির সেক্রেটারির বক্তব্য ব্যক্তিগত: ছাত্রশিবির
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীতে হামলা চালাতে রাকসুর ভিপি ও শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলে দাবি করেছে ছাত্রসংগঠনটি। এ দুজনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এসব হামলার দায় শিবিরের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে দাবি করে তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিলপরবর্তী সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান। আর ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (আজ শুক্রবার) বাম, শাহবাগি, ছায়ানট, উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে, তাহলেই বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে।’ ওই দুই নেতার বক্তব্যের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আজ ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও রাকসু ভিপি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারির ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ তাঁদের ব্যক্তিগত। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত ‘স্লিপ অব টাং’-এর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা, অস্ত্র, গানম্যান চেয়েছেন যেসব রাজনীতিবিদ
২২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ। কেউ চেয়েছেন পুলিশের একটি দল তাঁকে নিরাপত্তা দিক। কেউ চেয়েছেন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী বা গানম্যান। কেউ চেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে এসব আবেদন আসছে। কেউ কেউ নিরাপত্তা ও অস্ত্রের লাইসেন্স একই সঙ্গে চেয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা, গানম্যান অথবা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত ১৫ জন রাজনীতিবিদের আবেদন তাঁদের কাছে এসেছে। সংখ্যাটি দিন দিন বাড়ছে। অনেকে খোঁজ নিচ্ছেন, কীভাবে আবেদন করতে হয়। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ২৫ জনের মতো সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ প্রমুখের জন্য।
সরকারের ভেতরের একটা অংশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে: নাহিদ ইসলাম
২২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে দুঃখজনক বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্লোগানগুলো ব্যবহার করে তারা সেখানে আক্রমণ করেছে এবং সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। এই ঘটনার পরে আমরা বলেছি যে, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা এক সাথে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না।’
‘নাজনীন মুন্নীকে বাদ দিন, না হলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো আগুন লাগিয়ে দেব’
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
গ্লোবাল টিভি বাংলাদেশের হেড অব নিউজ নাজনীন মুন্নীকে চাকরি থেকে বাদ দিতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। তাঁরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য পরিচয় দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদও তাঁদের সংগঠনের এক সদস্যের ওই কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
ওই তরুণেরা ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত চ্যানেলটির কার্যালয়ে গিয়ে হুমকি দেন, নাজনীন মুন্নীকে চাকরিচ্যুত না করলে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের মতো ওই অফিসেও তাঁরা আগুন লাগিয়ে দেবেন। ১৮ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী গ্রেপ্তার
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় আলোচিত মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করে তিন মাসের আটকাদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুরোধের ভিত্তিতে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯০ দিনের আটকাদেশে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ পাঠানো হয়।
নিউ ইস্কাটনে ককটেলে যুবক নিহত
‘হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ, দেখি ছেলেটা মাটিতে পড়ে আছে’
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
‘ছেলেটা আমার কাছে এসে চা চেয়েছিল। আমি চা বানাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ। দেখি, ছেলেটা মাটিতে পড়ে আছে। মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল,’ এভাবে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সড়কের পাশে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক নিহতের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী চা–দোকানি।
আজ বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সামনে বিস্ফোরণে যুবকের প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সিয়াম মজুমদার (১৯)। তিনি ঘটনাস্থলের সড়কের উল্টো দিকের একটি মোটর পার্টসের দোকানে কাজ করতেন।
কারা হেফাজতে ভ্যানচালকের মৃত্যু, পাঁচ দিন পর পরিবারের হত্যা মামলা
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় চুরির অভিযোগে নির্যাতন চালিয়ে ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৯) হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা মোসলেম সরদার বাদী হয়ে বাগমারা থানায় এ মামলা করেন।
মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভবানীগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ডে তাঁর ছেলে ওমর ফারুক অটোভ্যান রেখে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এলে সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন তাঁকে আটক করেন। তাঁদের নির্দেশে সমিতির সদস্যরা ওমর ফারুককে লোহার রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ওমর ফারুককে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দাঁড় করিয়ে উভয় হাত ও পায়ে হাতুড়ি দিয়ে কয়েকটি লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ওমর ফারুককে মারপিট করতে থাকেন। এর একপর্যায়ে পানি পান করতে চাইলে নদীতে নিয়ে ওমর ফারুককে বিবস্ত্র করে চোবানো হয়। একপর্যায়ে অন্যরা গিয়ে ওমর ফারুকের পায়ুপথে শুকনা মরিচের গুঁড়া ঢেলে দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওমর ফারুকের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে ওমর ফারুকের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে আসামিরা বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞাকে জানান। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওমর ফারুককে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর ওমর ফারুককে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠায় পুলিশ। সেখানে অসুস্থ হলে পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ ডিসেম্বর ওমর ফারুকের মৃত্যু হয়।
কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণ, শিশুসহ আহত ৪
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলা ট্রিবিউন
ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, কেমিক্যাল জাতীয় দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মাদ্রাসা মালিকের স্ত্রী আছিয়াকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদ্রাসাটি শেখ আলা আমিন নামের একজন পরিচালনা করেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়। বিস্ফোরণে একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া পাশের আরো দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে।
খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তরুণের হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন, জামায়াতের ২ কর্মী গ্রেপ্তার
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে ওই তরুণের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গুরুতর অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।
গত বুধবার শিবগঞ্জের উমরপুর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আবু সুফিয়ান একই উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।
আহত সুফিয়ানের মায়ের অভিযোগ, এক স্বজন কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের জেরে সুফিয়ানকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কর্মীরা।
বিদায়ী বছরে মব সন্ত্রাস ও কারা হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে
০১ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ময়মনসিংহের ভালুকায় গত ১৮ ডিসেম্বর গার্মেন্ট শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর মৃতদেহে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
গতকাল আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০২৫ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী বছরে ‘মব সন্ত্রাস’ করে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়। এর আগের বছরে এ ধরনের ঘটনায় নিহত হন ১২৮ জন।
ভালুকার দিপু দাস ছাড়াও মব সন্ত্রাসে প্রাণ হারানো কয়েকটি ঘটনার কথা আসক তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। ৯ আগস্ট ভ্যানচোর সন্দেহে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় পিটিয়ে রূপলাল দাস (৪০) ও প্রদীপ দাসকে (৩৫) হত্যা করা হয়। রূপলাল জুতা সেলাইয়ের কাজ করতেন আর প্রদীপ ভ্যান চালাতেন। ২ আগস্ট চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চেঙ্গেরখাল সেতুতে চোর সন্দেহে কিশোর রেহান উদ্দিন ওরফে মাহিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির সমকালকে বলেন, ২০২৫ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ রাখবে বলে আশা করছি। তবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তিনটি বিষয় অনুমোদনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় কাজ করেছে।
আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর কারা হেফাজতে ১০৭ জন মারা গেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৫। আসক বলছে, বছরজুড়ে কোনো প্রমাণ, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনে সন্দেহের বশে গুজব সৃষ্টি করে মানুষকে মারধর ও হত্যা করা হয়েছে। ‘তৌহিদী জনতা’র নামে বেআইনিভাবে মব তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, কবর থেকে তুলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিরুদ্ধ মতের মানুষকে হেনস্তা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে মব করে হত্যা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, যা আইনের শাসনের জন্য হুমকি।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন মানবাধিকারের বাস্তব পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি। বরং পুরোনো নিপীড়ন পদ্ধতির ধারাবাহিকতা নতুন রূপে চলছে। এটি সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগের। এ ছাড়া প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টারে হামলা-আগুন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা উল্লেখ করে আসক বলেছে, এই সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মধ্যে পড়েছে। এসব ঘটনা বাক্স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গণপিটুনির ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটেছে। এই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন দলমত-নিরপেক্ষ সাধারণ নাগরিক।
মব সহিংসতার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক ভিন্নমত, উগ্রবাদ, গুজব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ ঘটনা ঘটে। মব সন্ত্রাস করে দেশের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শিল্প-সাহিত্য চর্চাকেন্দ্র ভাঙচুর, নারী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের হেনস্তা করা হয়েছে।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয় হিসেবে সামনে আসে। এ বছর কারাগারে মারা যাওয়া ১০৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন হাজতি ও ৩৮ জন কয়েদি ছিলেন। সর্বোচ্চ ৩৮ জন মারা গেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাবেক শিল্পমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, মৃত্যুর পরও হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাঁকে বহন করা হয়েছে। এসব ছবি ও দৃশ্য জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনা বন্দিদের সঙ্গে আচরণ-সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় নীতিমালা, কারাবিধি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আগের বছর কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল ৬৫ জনের।
কথিত বন্দুকযুদ্ধ থামেনি
আসক জানায়, ২০২৫ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে বিচারবহির্ভূত হত্যা অব্যাহত ছিল। এ বছর কমপক্ষে ৩৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, যৌথ বাহিনীর হেফাজতসহ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৬ জন। এ ছাড়া ১২ জন বিভিন্ন থানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন। ২০২৪ সালে এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছিল ২১ জন। এ ধরনের একাধিক ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বন্দুকযুদ্ধ-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোতে তথ্যের স্বচ্ছতা নেই। স্বাধীন তদন্তের অভাব রয়েছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যই চূড়ান্ত। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির কোন্দল বেশি
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর দেশে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় চার হাজার ৭৪৪ জন আহত এবং ১০২ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অন্তত ৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন নিহত, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ৩৩টি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বিএনপির কোন্দলে অন্তত ৩৯ জন নিহত হন।
আসক বলছে, এসব ঘটনা রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের সংকট ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। এ ছাড়া সারাদেশে দুর্বৃত্তদের হামলা, নির্যাতন ও গুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কমপক্ষে ১১১ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে।
আসকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতন, হয়রানি বা হুমকির শিকার হয়েছেন ২৩ সাংবাদিক। প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন ২০ জন। প্রকাশিত সংবাদ বা মতামতকে কেন্দ্র করে মামলার সম্মুখীন হয়েছেন কমপক্ষে ১২৩ জন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সরাসরি হামলার শিকার হন ১১৮ জন।
শরীয়তপুরে কুপিয়ে শরীরে আগুন দেওয়া ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র মারা গেছেন
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
শরীয়তপুরের ডামুড্যার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে পেট্রল–জাতীয় দ্রব্য দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
খোকন চন্দ্র উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও এজেন্ট ব্যাংকিং করতেন।
গুমের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা
০৪ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, ৪ জানুয়ারিছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সৌজন্যে
গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (হাই প্রোফাইল) গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আজ রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সেখানেই এসব কথা বলা হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।
গুম কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত থেকে এ প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই–বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।
গুমের ঘটনার শিকার আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চৌধুরী আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান উল্লেখযোগ্য।
এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের মাধ্যমে আরও ভিকটিমের (ভুক্তভোগী) খোঁজ পাওয়া যায়, যাঁরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের সঙ্গে আমরা নিজে থেকে যোগাযোগ করলেও তাঁরা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’
জীবিত ফিরেছেন জামায়াতের বেশি, নিখোঁজ বেশি বিএনপির
প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা জীবিত ফিরেছেন, তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী। যাঁরা এখনো নিখোঁজ, তাঁদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মী ও ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মী। হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গুমের ঘটনার শিকার আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চৌধুরী আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান উল্লেখযোগ্য।
কমিশন সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তা ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে করে এটি স্পষ্ট হয় যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।
ওয়ার্ড কমিশনারের নির্দেশে ওসমান হাদিকে হত্যা, শুটার ফয়সালসহ আসামি ১৭
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতির কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি এবং গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও তাঁর সহযোগী আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। তবে এই তিনজনের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁরা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি।
ভালুকায় দিপু হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াছিন আরাফাত গ্রেপ্তার
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নীটওয়্যার বিডি লিমিটেডের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইমাম ইয়াছিন আরাফাত (২৫) নামে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ডিএমপির সহযোগিতায় ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার দক্ষিণ হবিরবাড়ি (কড়ইতলা মোড়) এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ১২ দিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন।
বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন পাইওনিয়ার ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোক জড়ো করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল ইয়াছিনের। উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে তিনি দিপুকে মারধর করেন। দিপুকে হত্যার পর তার দেহ রশি দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও প্রায় ১৮ মাস ধরে তিনি উপজেলার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন ঢাকার ডেমরার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান নেন এবং পরিচয় গোপন করে ‘সুফফা মাদ্রাসা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
যুবলীগকর্মী ছেলেকে না পেয়ে বৃদ্ধ বাবাকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
বরিশালের গৌরনদীতে যুবলীগকর্মী ছেলেকে না পেয়ে বৃদ্ধ বাবা শাহজাহান হাওলাদারকে (৬০) গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার উপজেলার বার্থি ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান।
গ্রেপ্তার শাহজাহান ওই বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ধানডোবা খ্রিষ্টান মিশনের বয়েজ হোস্টেলের নৈশ প্রহরীর চাকরি করেন।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সাদ্দাম বাজারে শাহজাহানের ছেলে শামীমের মুদি দোকান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় শাহজাহান ছেলের দোকানে বসে ছিলেন। তখন শামীম দোকানে ছিলেন না। পুলিশ এসে শামীমকে না পেয়ে শাহজাহানকে ধরে নিয়ে যায়।
পাবনায় কারা হেফাজতে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু
১২ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পাবনা জেলার সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ও সংগীতশিল্পী প্রলয় চাকী (৬০) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল রোববার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, তিনি হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পাবনা শহরের দিলালপুর মহল্লার নিজ বাড়ি থেকে প্রলয় চাকী আটক হন। পরে তাঁকে একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জামায়াত প্রার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের গলা ও হাত কেটে নেওয়ার হুমকি, ভিডিও ভাইরাল
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে গলা ও হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় দেওয়া প্রার্থীর ভাতিজা জাকারিয়া নিয়োগীর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জাকারিয়া নিয়োগী কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
নেত্রকোনার কেন্দুয়ার বঙ্গবাজারে গত বৃহস্পতিবার জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে জাকারিয়া নিয়োগী বলেন, ‘ভবিষ্যতে যদি একটা কণ্ঠ উচ্চারিত হয়, গলা কাইট্টা ফালা হবে। আমার চাচার দিকে আঙুল তুললে হাত কেটে নেওয়া হবে।’
ঘরে ডাকাতি, পথে ছিনতাই, মামলা বেড়েছে ৩৯%
২০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা ও অপহরণ—২০২৫ সালে এসব অপরাধের মামলার সংখ্যা বেড়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, মামলা বৃদ্ধি মানে অপরাধও বৃদ্ধি। এ ধরনের অপরাধ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও চলাচলে বেশি প্রভাব ফেলে এবং নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়। অবশ্য অন্য অপরাধও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
অপরাধ একজন মানুষের জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি উদাহরণ কাজী মোহাম্মদ আ. হাদীদ। তিনি একজন বেসরকারি চাকুরে। অফিসের কাজ শেষে তিনি প্রায়ই মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন, অর্থাৎ রাইড শেয়ার করেন। তিনি গত বছরের ২৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বনানীতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।
মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে, যাত্রী নামানোর পর কাজী মোহাম্মদ আ. হাদীদ বনানী মাঠের কাছে একটি জায়গায় মূত্রত্যাগ করতে গেলে চারজন তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাঁকে মারধর করা হয়।
আ. হাদীদ বলছিলেন, এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁর টাকা খোয়া গেছে, তিনি আহত হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তুলতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, মুঠোফোন ফেরত পেতে টাকা ব্যয় করতে হয়েছে এবং তিনি এখনো কর্মহীন।
আ. হাদীদ গতকাল সোমবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় চিৎকার করলে তিনি ও জনতা মিলে দুজনকে ধরে ফেলেন। এ সময় একটি হাতে আঘাত পান তিনি। তাঁর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান দুজন।
হাতে আঘাত পাওয়ার কারণে মাসখানেক কাজে যেতে পারেননি উল্লেখ করে আ. হাদীদ বলেন, তাঁর কারণে নির্মাণ প্রকল্প থামিয়ে রাখা যায় না বলে অফিস নতুন লোক নিয়েছে। মুঠোফোনটি আদালতে জব্দ ছিল। সেটি ছাড়িয়ে নিতে আইনজীবীর পেছনে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তিনি এখনো তুলতে পারেননি। আঙুলের ছাপ না মেলা–সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন।
আ. হাদীদ বলছিলেন, এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁর টাকা খোয়া গেছে, তিনি আহত হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র তুলতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, মুঠোফোন ফেরত পেতে টাকা ব্যয় করতে হয়েছে এবং তিনি এখনো কর্মহীন।
বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫টি, যা আগের বছরের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি। ডাকাতির মামলা হয়েছে ৭০২টি। আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। চুরির মামলা বেড়েছে ১২ শতাংশ (৯ হাজার ৬৭২টি)। অন্যদিকে অপহরণের মামলা বেড়েছে ৭১ শতাংশ (১ হাজার ১০১টি)।
সব মিলিয়ে চার ধরনের অপরাধে মামলা হয়েছে ১৩ হাজার ৪১০টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। শুধু ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। অবশ্য চুরি ও ছিনতাই বা দস্যুতার অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলার ঝামেলায় যেতে চান না। সেই প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে দেশে অপরাধের চিত্র প্রায় একই রকম। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা অপহরণের মামলা গত বছরের তুলনায় বাড়লেও সামগ্রিকভাবে অন্যান্য অপরাধও বেড়েছে, এমনটা নয়। মামলা বাড়ার একটি বড় কারণ, এখন মামলা করা সহজ হয়েছে, মানুষ সহজেই থানায় গিয়ে মামলা করতে পারছেন। এ ছাড়া আগে ঘটেছে, এমন ঘটনায় নতুন করে মামলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে চার ধরনের অপরাধে মামলা হয়েছে ১৩ হাজার ৪১০টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। শুধু ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। অবশ্য চুরি ও ছিনতাই বা দস্যুতার অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলার ঝামেলায় যেতে চান না। সেই প্রবণতা আগেও ছিল, এখনো আছে।
শাহাদাত হোসাইন বলেন, দেশে মোট মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে। এমনকি খুনের মামলাও কমেছে। এর অর্থ হচ্ছে দেশে অপরাধের চিত্রটা কমবেশি একই রকম।
অবশ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, বিভিন্ন ধরনের অপরাধে ২০২৫ সালে মোট মামলা ৯ হাজার ৭৩২টি বেড়েছে। মামলা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি।
২০২২ থেকে ২০২৫ সময়ে দেখা যায়, চুরির ঘটনায় মামলার প্রবণতা মোটামুটি একই রকম। তবে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মামলা।
সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ৬৪৫ ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক উপাদান’ ৭১টিতে: প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বিগত বছরে সারাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হামলা-সহিংসতার ৬৪৫টি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে পুলিশ, যার মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান থাকার কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাতে সরকারপ্রধানের দপ্তর বলছে, বাকি ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয়, বরং ‘সাধারণ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত’। এর মধ্যে রয়েছে পাড়া-মহল্লার বিরোধ, জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার মতন ঘটনা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সারা দেশের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি ধরে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, সাম্প্রদায়িক উপাদানযুক্ত ৭১টি ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ৩৮টি, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৮টি এবং মন্দিরে চুরির ঘটনা ছিল একটি। এছাড়া একটি হত্যাকাণ্ডও সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যান্য ২৩টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে প্রতিমা ভাঙার হুমকি, সোশাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্ট এবং পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো ঘটনা।
এসব ঘটনায় পুলিশ ৫০টি মামলা নথিবদ্ধ করেছে, গ্রেপ্তার করেছে ৫০ জনকে। পাশাপাশি ২১টি ঘটনায় অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য দিয়েছে সরকারপ্রধানের দপ্তর।
কুমিল্লার রেললাইনে চট্টগ্রামের যুবকের গলাকাটা লাশ, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
কুমিল্লায় রেললাইন থেকে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবকের খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে জেলার লালমাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই যুবককে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম আবদুল আজিজ (৩৪)। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নের ওয়াহিদুর পাড়ার গ্রামের মৃত আবদুল আলমের ছেলে। গত বছর ইসলামী ব্যাংকের অফিসার পদ থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে ঢাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করে আসছিলেন তিনি। বিবাহিত আজিজের আড়াই বছর বয়সী একটি শিশুসন্তান রয়েছে।
আবদুল আজিজের চাচাতো ভাই সফিউল আলম জানান, আজিজ ট্রেনে করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।… …
আজিজকে খুন করা হয়েছে দাবি করে সফিউল বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমাদের মনে হয়েছে চট্টগ্রামমুখী ট্রেন থেকে নামানোর পর ঢাকামুখী আরেকটি ট্রেনে তুলে আবদুল আজিজকে কুপিয়ে, হাত-পা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশটি ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত ব্যাংককর্মীদের চাকরি ফেরত চেয়ে যে আন্দোলন, সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন আজিজ। হয়তো এ কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ দেখলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
কারাফটকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখেন তিনি।
কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে সাদ্দাম মিনিট পাঁচেক সময় পান।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে রয়েছেন।
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই নিথর পড়েছিল তার ৯ মাসের শিশু সন্তান সেজাদ হাসান নাজিফ। পুলিশের ধারণা, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।
পুলিশ জানায়, সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা-ছেলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামকে দেখাতে যশোর কারাগারে নিয়ে আসেন স্বজনরা। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো হত্যা মামলার আসামি না, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি।’
সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘সে তো খুনি না, রাজনৈতিক মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়ল না। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিল।’
গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের অধিকার
সিলেটে বাসদের কার্যালয় থেকে ২২ নেতা-কর্মী আটক
০১ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
সিলেটে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ২২ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় দলটির কার্যালয় থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
বাসদের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পাঠচক্র চলাকালে কার্যালয় ঘেরাও করে নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সিলেট জেলার সহসভাপতি বেলাল হোসেন, মঞ্জুর আহমদসহ আরও অনেকে আছেন। তবে পুলিশ বলছে, কোনো দলীয় কার্যালয় ঘেরাও করা হয়নি। সন্দেহভাজন হিসেবে আম্বরখানা এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরের আখালিয়া কালীবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও তাঁকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এখনো জানায়নি পুলিশ।
সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন শ্রমিকেরা। এতে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়। ওই আন্দোলনে সংগঠক হিসেবে বাসদ ও সিপিবির নেতারা সম্পৃক্ত আছেন।
জামায়াতের মার্কা মুখস্থ করানোর ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি
০৪ নভেম্বর ২০২৫, যুগান্তর
মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাসেম্বলিতে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে জামায়াত প্রার্থীর মার্কার নাম মুখস্থ করানোর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছে।
সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেয়।
২৭ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দিবা শাখার অ্যাসেম্বলি চলাকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম মাগুরা-১ এবং মাগুরা-২ নির্বাচনি আসনের জামায়াত ইসলামী দলের মনোনীত দুই প্রার্থী আবদুল মতিন এবং এমবি বাকেরকে শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের বারবার উচ্চারণের মাধ্যমে নিজেদের নামের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় প্রতীকের নাম মুখস্থ করান।
সন্দেহ হলে আমিনবাজারে তল্লাশি করা হচ্ছে যাত্রীদের ব্যাগ ও মুঠোফোন
১২ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আগামীকাল বৃহস্পতিবারের ডাকা ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কর্মসূচিকে সামনে রেখে সাভারে ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর–চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি জোরদার করেছে পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। সন্দেহ হলে যাত্রীদের মুঠোফোন ও ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন কর্মসূচি দিয়েছে। এতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে সাভারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তল্লাশিচৌকি, টহল বাড়ানো হয়েছে। সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ১০টির বেশি স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
ধানমন্ডিতে মারধরের শিকার সেই নারীকে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ
১৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন এক নারী। এক তরুণীর লাঠি দিয়ে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে আজ শুক্রবার গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। যে মামলার আসামির তালিকায় তাঁর নাম ছিল না।
ধানমন্ডি থানা–পুলিশ আজ বিকেলে সালমা ইসলাম নামের এই নারীকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সাংবাদিক মিজানুরকে মধ্যরাতে নিয়ে গিয়ে সকালে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে ডিবি
১৯ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দৈনিক ভোরের কাগজের অনলাইন প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজ বুধবার সকাল ১০টার পর তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিজানুর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বাসায় এলাম। ডিবি আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি সুস্থ আছি।’
মিজানুর আরও বলেন, ভুল–বোঝাবুঝির কারণে তাঁকে আনা হয়েছিল, এমন মুচলেকা তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মামলা
১৯ নভেম্বর ২০২৫, ডেইলিস্টার বাংলা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মানহানিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাহীন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ইলতুতমিশ।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গাজী বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, দিনের শেষ ভাগে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত ১২ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশে ভার্চ্যুয়াল বক্তৃতায় বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভোটের চেয়ে কৃষকদের আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা বেশি জরুরি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ নভেম্বর বিবাদী শাহীন মাহমুদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ৮৮ কোটি টাকা দিয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়ি না কিনে ওই টাকাটা কৃষকদের দিলে তারা পেঁয়াজ ও আলুর ন্যায্য দাম পেতেন।
সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরাতেই গুগলকে বেশি অনুরোধ অন্তর্বর্তী সরকারের
২৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে গুগলের কাছে কনটেন্ট সরানোর ২৭৯টি অনুরোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর বেশির ভাগই সরকারের সমালোচনামূলক। সরকারের এই অনুরোধে গুগলের সাড়া কমই দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ সারির তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল (অ্যালফাবেট) নিজেদের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে। তাতে সরকার কী ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হয়। এখানে সরকারের অনুরোধ বলতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অনুরোধের কথা বোঝানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ সময়ে সরকার গুগলের কাছে কনটেন্ট সরানোর জন্য ২৭৯টি অনুরোধ করেছে। এর মধ্যে আইটেম হচ্ছে ১ হাজার ২৩টি।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে এই অনুরোধ ছিল ৩৩৭টি এবং আইটেম ছিল ৪ হাজার ৪৭০টি। তখন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ওই বছরের আগস্টে সেই সরকারের পতন ঘটলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ কয়েকটি সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, কয়েকজন আহত
০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী লালদিয়া-পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিলটি রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে এলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁরা হলেন কাজী রুহুল আমিন, জহুর লাল রায়, অন্ত অবিন্দম, ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন, রাসেল আহমেদ, শোয়েইব আহমেদ আসিফ, সীমা দত্ত, শাহিনুর আক্তার সুমি, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, স্বাকাই ইসলাম, রাকিব আহমেদ ও প্রিজম ফকির।
সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের মামলায় সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার
০৭ ডিসেম্বর ২০২৫ সমকাল
সরকার উৎখাতে ষড়যন্ত্রের মামলায় জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা আছে। যে মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই মামলায় শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম
চিংড়িঘেরে পানি ঢোকাতে কোপ উপকূল রক্ষা বাঁধে
০২ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চিংড়ি ঘেরে নোনা পানি নেওয়ার জন্য পাইপ বসিয়েছেন এক ঘেরমালিক। এ জন্য রাতের বেলা কাটা হয়েছে উপকূল রক্ষা বাঁধ। শনিবার রাতে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর জেলেপাড়ায় শ্যামনগর উপজেলাকে ঘিরে থাকা বাঁধের ৫ নম্বর পোল্ডার কাটা হয়। এতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘেরমালিক সাজেদুর রহমান শান্ত ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, পাশের মালঞ্চ নদী থেকে থেকে সাজেদুরের চিংড়িঘেরে নোনা পানি নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি কাটা হয়েছে। জেলেপাড়া সংলগ্ন কদমতলা গ্রামের এশার আলীর ভাষ্য, শনিবার রাত ৯টার দিকে সাজেদুর তাঁর লোকজন নিয়ে উপকূল রক্ষা বাঁধের ওপর নির্মিত পাকা সড়ক কেটে ফেলেন। এ সময় তিনি বাঁধটির কয়েক ফুট গভীর করে নদীর পানির নেওয়ার উপযোগী করে সেখানে প্লাস্টিকের পাইপ স্থাপন বসান। এ সময় তারা কয়েকজন আপত্তি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাজেদুর। তিনি বাংলাদেশজুড়ে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে দাবি করে বাঁধ কাটায় বিরোধিতাকারীদের হুমকি দেন।
সেই আব্দুস সালামকেই ঢাকা ওয়াসায় এমডি নিয়োগ দেওয়া হলো
১৩ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিতর্ক, শর্ত বদল ও অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করে অবশেষে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সালাম ব্যাপারীকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে তিন বছরের জন্য এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগ থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য আবদুস সালামকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অবিলম্বে জারিকৃত এ আদেশ কার্যকর হবে।
অথচ সেদিন (১১ নভেম্বর) এই আদেশ জারির আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের পাস-২ শাখা থেকে আরেকটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হলো।
সরকারি কেনাকাটায় সিঙ্গাপুরফিলিয়া
২৫ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
সিঙ্গাপুরের ফাইন্যান্সিয়াল হাব হিসেবে পরিচিত এবং নগররাষ্ট্রটির সবচেয়ে ব্যস্ত করপোরেট এলাকা র্যাফলস প্লেস।
সিঙ্গাপুরের ফাইন্যান্সিয়াল হাব হিসেবে পরিচিত এবং নগররাষ্ট্রটির সবচেয়ে ব্যস্ত করপোরেট এলাকা র্যাফলস প্লেস। সেখানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের প্রধান ব্যাংক, আন্তর্জাতিক ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মসহ বিভিন্ন আর্থিক সেবা দপ্তর।
সম্প্রতি একাধিক সূত্র জানিয়েছে, র্যাফলস প্লেস এলাকায় প্রায়ই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একজন বিশেষ দূতকে দেখা যায়। জানা যায়, তিনি তার কর্মসময়ের একটা বড় অংশই সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন।
সরকারের ঊর্ধ্বতন আমলাসহ একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বড় সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্তগুলোর নেপথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উপদেষ্টা পদমর্যাদার ওই বিশেষ দূত। শুধু ক্রয় নয়, বন্দর বিষয়ে বিদেশীদের সঙ্গে চুক্তিগুলোর নেপথ্যেও কলকাঠি নেড়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই বিশেষ দূত তার পেশাগত জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন সিঙ্গাপুরে। তিনি একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াতেন। দীর্ঘ সময় তিনি সিঙ্গাপুরেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনার পেশাগত দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপদেষ্টা পদমর্যাদার ওই বিশেষ দূতের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের বিকাশকে তিনি কখনো দেখেছেন দর্শক হিসেবে, কখনো সরাসরি কর্মে নিয়োজিত থেকে। এছাড়া সূত্র বলছে, তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে তার স্ত্রী একজন সিঙ্গাপুরিয়ান। সিঙ্গাপুর দেশটি তার স্থায়ী আবাসস্থলের মতোই।
বর্তমান সরকারের অধিকাংশ ক্রয় কর্মসূচির কেন্দ্রে রয়েছে সিঙ্গাপুর। জ্বালানির পাশাপাশি এসব ক্রয়ের মধ্যে রয়েছে গম ও চাল। আর সরকারের ওই বিশেষ দূত এসব ক্রয় কার্যক্রম কখনো সিঙ্গাপুরে গিয়ে, কখনো দূর থেকে সামলাচ্ছেন। জানা যায়, প্রতিটি ক্রয় সিদ্ধান্তের আগে বা পরে বিশেষ ওই দূত সিঙ্গাপুর সফর করেছেন। বিভিন্ন উৎস দেশকে পাশ কাটিয়ে উৎপাদক না হওয়ার পরও সিঙ্গাপুর থেকে এভাবে পণ্য কেনার ঘটনাটিকে অনেকে বলছেন সিঙ্গাপুরফিলিয়া। সাধারণত কোনো কিছুর প্রতি আকর্ষণকে ইংরেজি ভাষায় বলা হয় ‘ফিলিয়া’। দেশটি থেকে পণ্য কেনার আগ্রহকে বিবেচনায় নিয়ে এ সিঙ্গাপুরপ্রীতিকে বলা হচ্ছে সিঙ্গাপুরফিলিয়া।
‘কিটক্যাট-চিনির নিম্নমান’: নেসলে বাংলাদেশ ও মেঘনা গ্রুপের প্রধানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
২৫ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
দেশে ‘নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাত’ করার অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দুইজন এবং মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত।
সোমবার দুটি পৃথক মামলায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথী এ আদেশ দেন।
মামলা দুটির বাদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান নিরাপদ খাদ্য আদালতর এমন আদেশ হওয়ার কথা বলেছেন।
এর মধ্যে একটি মামলায় বাংলাদেশের বাজারে ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট চকলেট বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ান জারি করে আদালত।
একই দিনে আরেক আদেশে একই আদালত ‘সালফার ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ’ নিম্নমানের চিনি প্রস্তুতের দায়ে মেঘনা সুগার রিফাইনারির কর্ণধার মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
চিনি উৎপাদনকারী মেঘনা সুগার রিফাইনারি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের একটি কোম্পানি, যেটির গ্রুপ চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
‘পলক–স্টাইল’ প্রকল্প এবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে
২৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হয় তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে।
তখন আইসিটি বিভাগে একের পর এক প্রশিক্ষণ প্রকল্প নিয়ে সরকার-ঘনিষ্ঠদের কাজ দেওয়া, নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ ও টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ ওঠে। সেসব প্রকল্পের সুফল কতটা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইসিটি বিভাগে এ ধরনের নতুন প্রকল্প নিতে দেখা যাচ্ছে না।
একই ধরনের প্রকল্প ফিরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এবার অবশ্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ নয়, দুটি প্রকল্প নিয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। গত বছরের নভেম্বরে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। বছর না যেতেই গত অক্টোবরে নেওয়া হয়েছে ৪৬ কোটি টাকায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) শেখানোর আরেক প্রকল্প।
পুলিশের পোশাক কেনাকাটায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ
৭ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাকের কাপড় সরবরাহের ১৪১ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নোমান গ্রুপকে। এ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা। অন্যদিকে বুট ও বিভিন্ন ধরনের জুতা সরবরাহের কাজ পেয়েছে ফ্রেন্ডস ট্রেডিং করপোরেশন। অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নেই নিজস্ব ট্যানারি, জুতা তৈরির কারখানা ও পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বরিশাল বিএম কলেজ শাখার সাবেক আহ্বায়ক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগর সদস্য গাজী তৌকির রহমান শুভ। চেক ডিজঅনারের মামলাও হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ পুলিশের জন্য বুট, ট্রেনিং ও প্যারেড বুট, ক্যানভাস সু সরবরাহে ১০৫ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে গাজী তৌকির রহমানের প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার ঘটনাকে অস্বচ্ছ, অগ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সব কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে ঢুকলেই টোল আদায়, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ইজারা নেওয়া হয়েছিল টার্মিনালের জন্য। তবে টোল আদায় হচ্ছে সড়ক থেকে। ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। দেওয়া হচ্ছে রসিদও। লক্ষ্মীপুরের পৌর এলাকায় নিয়মিতই দেখা যায় এ দৃশ্যের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার পৌর এলাকার উত্তর তেহমুনী, দক্ষিণ তেহমুনী, ঝুমুর এলাকা, মজু চৌধুরী হাট সড়ক ও সাবেক গোডাউন রোডে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। যদিও এসব এলাকার সড়ক থেকে টোল আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। টোল নেওয়ার কথা ছিল লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কের পাশে বাঞ্ছানগর এলাকায় অবস্থিত টার্মিনাল থেকে।
পৌর প্রশাসন সূত্র জানায়, টার্মিনাল এলাকায় টোল আদায়ের জন্য প্রশাসন থেকে ২৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় ইজারা নেন আবদুল মতিন নামের জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা। তিনি জামায়াতে ইসলামীর জেলা শহরের যুব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক। চলতি বছরের ১৭ মার্চ তিনি দরপত্র পান। পরে ১৩ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে পৌরসভা প্রশাসকের চুক্তি হয়। এ চুক্তিতে কোথায় থেকে টোল আদায় করা যাবে, কত টাকা নেওয়া হবে, তা উল্লেখ করা ছিল। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ফির বেশি টোল আদায় না করারও নির্দেশনা রয়েছে। তবে এ নিয়ম মানা হচ্ছে না।
শিক্ষা
প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করবে বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমেদ
২৬ অক্টোবর ২০২৫, সমকাল
বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধপরিপন্থি সব সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি আমাদের সরকার পরিচালনা বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জনগণ দেয়, তবে আমরা বাংলাদেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্ম ও নৈতিকতা শিক্ষার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পদ সৃজন করে সেখানে নিয়োগের ব্যবস্থা করব। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রার্থনা করেছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হকার-ভবঘুরে’ উচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
২৭ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে যে প্রক্রিয়ায় হকার ও ভবঘুরে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডাকসুর নেতারা শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালান। ডাকসুর নেতারা বলছেন, তাঁরা যাঁদের উচ্ছেদ করছেন, তাঁদের অনেকেই মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে। তাঁদের কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
এই উচ্ছেদের প্রতিবাদে শনিবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন হকার ও খাবারের ছোট ছোট দোকান পরিচালনাকারীরা। তাঁরা বলছেন, ২০-৩০ বছর ধরে তাঁরা ক্যাম্পাসে দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁদের দোকান চালানোর কোনো ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করলে তাঁরা কীভাবে জীবন চালাবেন?
উচ্ছেদ নিয়ে ডাকসুর নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত করছেন বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তাঁরা জানান, ক্যাম্পাসে এই উচ্ছেদ শুরু হয়েছিল গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর। সে সময় এক দল শিক্ষার্থী টিএসসির চায়ের দোকানগুলোসহ ভ্রাম্যমাণ বিভিন্ন দোকান উচ্ছেদ করেন। পরে ওই সব দোকান আবার বসে এবং অনেক দোকান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে নিবন্ধন নেয়। এখন ক্যাম্পাস থেকে হকার-ভবঘুরে উচ্ছেদের নামে ডাকসুর নেতারা, যাঁরা ৫ আগস্টের পর উচ্ছেদ চালিয়েছিলেন, তাঁরাই আবার নেমেছেন। শনিবার রাতে দোকানপাট ভাঙচুর ও দোকানিদের মারধরও করা হয়েছে।
প্রাথমিকে শারীরিক ও সংগীত শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি
০৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে গানে গানে রাজধানীর রাজপথ পরিক্রম করলেন শিক্ষার্থী-সংগীতশিল্পীসহ সংগীতানুরাগী নাগরিকেরা। তাঁরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ওই শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাব মাঠের সামনে সাতমসজিদ রোডে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সংগীত ও চারুশিল্পী, যুব সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংগীতানুরাগী সাধারণ নাগরিকেরা সমবেত হয়ে মানববন্ধন করেন। ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর সুকুমার বৃত্তি বিকাশের উপযোগী করে তোলো’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই প্রতিবাদী আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’, ‘কণ্ঠ ছাড়ো জোরে’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’, ‘ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়’—এমন গানের বাণী লেখা পোস্টার। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদী কার্যক্রম।
শাহবাগে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিয়ে শিক্ষকদের ওপর চড়াও পুলিশ
০৮ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকার রাজপথে আবার শিক্ষকদের ওপর চড়াও হলো পুলিশ। এবার আক্রান্ত হয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তাঁরা বেতন গ্রেড বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষকদের পদযাত্রায় লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান নিয়ে হামলা চালায় পুলিশ। তাতে শতাধিক শিক্ষক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষকেরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, শিক্ষকেরা বাধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে এগোতে চাইলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সদস্যরা পদক্ষেপ নেন।
শিক্ষক আন্দোলনে সাউন্ড গ্রেনেডে আহত শিক্ষিকার মৃত্যু
১৬ নভেম্বর ২০২৫, দেশ রূপান্তর
দশম গ্রেড বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে সাউন্ড গ্রেনেডে আহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিক্ষিকার নাম ফাতেমা আক্তার। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে অলক হাসপাতালে ওই শিক্ষিকার মৃত্যু হয়।
তার সহকর্মীরা জানান, ফাতেমা আক্তার চাঁদপুরের উত্তর মতলবের ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি দুই সন্তানের মা। তার স্বামীর নাম ডিএম সোলায়মান।
আন্দোলনে থাকা শিক্ষকদের নেতারা বলছেন, সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে যে আন্দোলন ছিল, সেই আন্দোলনে শাহবাগে কলম বিরতির দিন অংশ নেন ফাতেমা আক্তার।
উত্তর মতলবের আমিয়াপুর ডা. মহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আন্দোলনে ছিলাম। উনি গত ৮ নভেম্বর শাহবাগে সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দে আতঙ্কগ্রস্ত হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে এক পর্যায়ে কথা বলাই বন্ধ হয়ে যায়। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান।’
সারা জীবন পড়ান, অবসরে এসে নিজের টাকা পেতে ভোগান্তিতে শিক্ষকেরা
২৭ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার টাকা পেতে ভোগান্তি কোনোভাবেই কমছে না; বরং প্রাপ্য সুবিধা পেতে তাঁদের অপেক্ষার সময় বাড়ছেই। আগে অবসরসুবিধার টাকা পেতে দুই বছরের মতো সময় লাগত, এখন তা তিন-চার বছরে গড়াচ্ছে। অথচ হাইকোর্টের নির্দেশ আছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরসুবিধার টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
সারা জীবন শিক্ষাসেবা দিয়ে নিজের প্রাপ্য অর্থ পেতে এমন দীর্ঘ অপেক্ষা শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এ সংকট সমাধানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) ১২ নভেম্বর অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে একটি আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। পত্রে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অবসরসুবিধা দিতে ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, তহবিলঘাটতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণসুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিজ ও পারিবারিক চিকিৎসা, সন্তানের বিয়ে-পড়াশোনা, বৃদ্ধ বয়সে ধর্মীয় ব্রত সম্পাদন ইত্যাদি প্রয়োজনে প্রাপ্য সুবিধার জন্য বয়োবৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ শিক্ষকেরা প্রায়ই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হন। অনেক শিক্ষক প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার আগেই মারা যান। তহবিলসংকটের কারণে শিক্ষকদের প্রাপ্য সুবিধা দেওয়ার ব্যর্থতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ কাফির’ বললেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে ‘মুরতাদ কাফির’ আখ্যা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি এ আখ্যা দেন। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ওই শিক্ষকের নাম খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। আজ মঙ্গলবার বেগম রোকেয়া দিবসে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।’ ওই শিক্ষক সাজিদ হাসান নামের ফেসবুক আইডির যে পোস্টটি শেয়ার করেছেন, তা মূলত বেগম রোকেয়ার রচনাবলি থেকে ইসলাম-সম্পর্কিত বিভিন্ন খণ্ড খণ্ড অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এই স্ট্যাটাস ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে হেনস্তা করলেন ডাকসু নেতা
১১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে হেনস্তা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনে ওই শিক্ষককে হেনস্তা করেন তিনি। একপর্যায়ে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন দৌড়ে পালাতে গেলে তাঁকে ধাওয়া করেন এ বি জুবায়ের। পরে অবশ্য ওই শিক্ষক একটি গাড়িতে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনার পর এ বি জুবায়ের এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ পাঁচজন শিক্ষক ক্যাম্পাসে গোপন বৈঠকে যুক্ত হয়েছিলেন। খবর পেয়ে তাঁদের পাকড়াও করে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তবে আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা গাড়িতে তাঁরা পালিয়ে গেছেন।
অধ্যাপক জামালকে ধাওয়ার মত ‘গুণ্ডামি’ বন্ধ করতে হবে: শিক্ষক নেটওয়ার্ক
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দীনকে ডাকসু নেতা এবি জুবায়েরের ধাওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
শনিবার বিকালে এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, “কোনো সহনাগরিকের অধিকার নেই যেকোনো অভিযোগে, তা যত গুরুতরই হোক না কেন, আরেকজন সহনাগরিকের গায়ে হাত তোলার। কোনো শিক্ষার্থীর বা শিক্ষকের অধিকার নেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একে অন্যকে হামলা করার, লাঞ্ছিত করার।
“কোনো যুক্তিতেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই গুণ্ডামি বন্ধ করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্ছেদের শিকার ৩০০ হকার ‘রোজগার হারিয়ে মানবেতর জীবনে’
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ক্যাম্পাস এলাকা থেকে হকার ও ভাসমান উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। তারা কয়েকজন গরিব হকারকে লাঞ্ছিত করেছে, যা কোনোভাবেই ডাকসুর দায়িত্ব ও এখতিয়ারভুক্ত নয়। উচ্ছেদের শিকার প্রায় ৩০০ ভাসমান উদ্যোক্তা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। রোজগার হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। উচ্ছেদের নামে হয়রানি বন্ধ চান হকার ও ভাসমান উদ্যোক্তারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়েছে। সেখানে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জীবন–জীবিকার পরিস্থিতি নিয়ে শুরু হওয়া জরিপের আংশিক ফলাফল প্রকাশ করে সংগঠনটি। জরিপের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫০ জন নারী–পুরুষ হকারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলেনে উচ্ছেদের শিকার হওয়া নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পানি বিক্রেতার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সন্তানসম্ভবা। জীবিকা বন্ধ থাকায় ঘরভাড়া দিতে পারছেন না। এ কারণে বাড়িওয়ালা তাঁদের উচ্ছেদ করেছেন। বর্তমানে এই যুবক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
জরিপে উঠে এসেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেউ ৩০ বছর, কেউ ২০ বছর আবার কেউ ৬ মাস ধরে হকারের পেশায় যুক্ত আছেন। যে ৫০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১০ জন নারী হকার বা ভাসমান উদ্যোক্তা রয়েছেন।
জগন্নাথ হলের রাস্তায় আঁকা গোলাম আজমদের ছবি মুছে দিল প্রশাসন
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের রাস্তায় আঁকা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী ও কাদের মোল্লার ছবি মুছে দিয়েছে হল প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে ছবিগুলো মুছে দিয়েছে হল প্রশাসন। তবে হল প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।
শনিবার রাতে হলের রবীন্দ্রভবন ও অক্টোবর স্মৃতি ভবন সংলগ্ন সড়কে এ ছবিগুলো আঁকা হয়, যা মুছে ফেলা হয়েছে রোববার সকাল ১০টার দিকে।
আন্দোলনের মুখে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছয় ডিনের
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
আন্দোলনের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন ডিন রুটিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা এ কথা জানিয়েছেন।
রোববার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে দায়িত্ব পাওয়া ডিনদের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয় ১৭ ডিসেম্বর। এর মধ্যে প্রশাসন তাঁদের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ‘আওয়ামী লীগপন্থী’ এই ডিনদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় ডিনের সবার পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ প্রশাসন ভবনের সব দপ্তরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন একদল শিক্ষার্থী।
সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্রপ্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধের আহ্বান শিক্ষক নেটওয়ার্কের
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আজ রোববার শিক্ষকদের এই প্ল্যাটফর্মের এক বিবৃতিতে এ ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়জন ডিনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের তৎপরতার পটভূমিতে শিক্ষক নেটওয়ার্কের এ বিবৃতি আসে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে নানা ধরনের মবপ্রবণতা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হয়রানিমূলক তৎপরতার কথা তুলে ধরে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে রাকসুর জিএস ভব্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে বারবার ঘোষণা করতে থাকেন, লীগপন্থী শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে ঢুকলে “কলার ধরে টেনে এনে প্রশাসন ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে।” উপরন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ঘোষণা করেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষক ক্লাসে আসতে পারবে না।” তিনি রাজশাহীতে ভারতীয় হাইকমিশন উচ্ছেদেরও উসকানি দেন। বলাবাহুল্য, এসব নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।’
জকসুতে ভিপি, জিএসসহ ১৬ পদে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের জয়
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) এই শিক্ষার্থী সংসদের ২১টি পদের মধ্যে ১৬টিতেই জয় পেয়েছেন এই প্যানেলের প্রার্থীরা।
অপর দিকে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল চারটি পদে জয় পেয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটায় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও হল সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ পদেই জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির। জকসুর প্রথম নির্বাচনেও অধিকাংশ পদে জয় পেল তারা।
জকসুতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ মাসে ২৫০ নিয়োগ নিয়ে ‘বিতর্ক’
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক ছিল। কখনো বিজ্ঞপ্তির বাইরে নিয়োগ, কখনো দলীয় বিবেচনা, আবার কখনো স্বজনপ্রীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এখন বর্তমান প্রশাসনের দেওয়া নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষকদের একটি পক্ষ।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। একই সময়ে দায়িত্ব নেন দুই সহ-উপাচার্য। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৫ মাসে বর্তমান প্রশাসন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে অন্তত ২৫০ জনকে নিয়োগ দিয়েছে। আরও অন্তত ৩০৪ জনকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যা আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠেয় সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত হওয়ার কথা। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক ৪৭ জন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৯৪ জন।
যেভাবে নিয়োগ
বর্তমান প্রশাসন গত ১৫ মাসে বিভিন্ন পদে ৫৫১ জনকে নিয়োগ দিতে অন্তত ২৫টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সব বিজ্ঞপ্তির নিয়োগপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৬৩ জন। কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন ১২ জন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৭৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী অন্তত ১০০ জন। সব মিলিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫০।
আরও অন্তত ৩০৪ জনকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪১ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে।
নিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮টি বিভাগে ৬৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে তিনজন যোগ দেননি। আর দুজন ডোপ টেস্টে আটকে গেছেন। এর মধ্যে পদার্থবিদ্যা, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স, প্রাণিবিদ্যা, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট উল্লেখযোগ্য।
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলা বিভাগের সভাপতি আনোয়ার সাঈদ গত বছরের ২৮ আগস্ট লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, ওই বিভাগে নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন নেই। তবু ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সাতটি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক চিঠিতে বলা হয়েছে, পদ অনুমোদনের আগেই বিভাগটিতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে গত বছরের ১৯ এপ্রিল ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে দুই পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের বিজ্ঞপ্তির আগে বিভাগের পরিকল্পনা কমিটির অনুমোদন নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন। এ ছাড়া পরীক্ষার পর ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রত্যাশী তিন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে তড়িঘড়ি করে। মূলত একটি গোষ্ঠীর লোক নিয়ে দল ভারী করা হচ্ছে। সাধারণ নিয়োগপ্রার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন না। বিষয়গুলো ইউজিসির খতিয়ে দেখা উচিত।
আগের উপাচার্যদের আমলে কত নিয়োগ
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন ছয়জন উপাচার্য। তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি উপাচার্যের আমলেই নিয়োগের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উপাচার্য ছিলেন আবু ইউসুফ। প্রায় দেড় বছরে তাঁর আমলে ৮৮ জন নিয়োগ পান। এরপর ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিনের আমলে ছয় মাসের কিছু বেশি সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয় ৪০ জনকে।
২০১১ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিমের আমলে চার বছরে নিয়োগ দেওয়া হয় ৫৯৯ জনকে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এরপর ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয় ৫৩২ জনকে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার প্রায় পাঁচ বছরে নিয়োগ দেন ৩১৬ জন।
শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা
১০ জানুয়ারি ২০২৬, আজকের পত্রিকা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন চাকসু নেতারা। শিবির-সমর্থিত প্যানেলের আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এর নেতৃত্বে ছিলেন। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ। ক্যাম্পাসে তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে একদল শিক্ষার্থীসহ চাকসু নেতারা আইন অনুষদে হানা দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, রোমান শুভর ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘গণহত্যা’য় সমর্থন এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান।
নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধের দাবি
১০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে থাকা হলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, এগুলো কোনো চেতনা থেকে নয়, বরং যা কিছু বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতি-ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, সেগুলোকে মুছে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশা চলমান রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক মনে করে, রাষ্ট্র ও জনগণের টাকা খরচ করে শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় নামকরণের সংস্কৃতি স্পষ্টতই বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারও নামে স্থাপিত স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতিতেও রেশ টানা প্রয়োজন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নয়া বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষায় জন্ম নেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মরিয়া হয়ে ওঠে। এমন অনেক স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বা করতে উদ্যত হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্বভাবতই সবচেয়ে বেশি খড়্গ পড়েছে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাগুলোর ওপর। কিন্তু পাশাপাশি দেখা গেছে, যা কিছু ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’–এর নামে স্থাপিত, সেগুলোতেও হাত দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর আগের নাম বাতিল করে কোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ঘটনার নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ শিক্ষক নেটওয়ার্কের। বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেছে, এই প্রবণতারই সর্বশেষ নজির গড়া হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কারিগর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। তারা এই পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করছে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার দাবি জানাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নতুন দুই ছাত্রাবাস নির্মিত হয়, তখন জাতীয় দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে এগুলোর নামকরণ করা হয়। ছাত্রাবাস দুটি পাশাপাশি অবস্থিত। এরপর বহু সরকার এসেছে ও গিয়েছে, কখনোই এই দুই ছাত্রাবাসের নাম পরিবর্তনের কথা ওঠেনি। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিকভাবে অপরিপক্ব উদ্দেশ্যের বহিঃপ্রকাশ।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলে অনেক ভাঙচুর ও পরিবর্তন হচ্ছে, যার অনেক কিছুই ন্যায্য নয়। জাতীয় নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের নামে বাংলাদেশের প্রধানতম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পাশাপাশি ছাত্রাবাস থাকার যে সহাবস্থানগত সৌন্দর্য, তা দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্পন্দিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে বলে শেখ মুজিবুরের নাম মুছে ফেলতে হবে। বরং তাঁর নামে একটি ছাত্রাবাস থাকা কেবল ন্যায্যই নয়, প্রয়োজনীয়ও বটে।
শহীদ হাদির নামে নতুন কোনো ভবনের নামকরণ করার প্রস্তাব করে বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক আরও বলেছে, ‘তিন-চার দশক ধরে জাতীয় নেতার নামে যে ছাত্রাবাস একনামে পরিচিত, তা বদলে দেওয়ার উদ্যোগকে আমরা সন্দেহ করি ও মনে করি, হীন রাজনৈতিক ক্ষুদ্রতা থেকে উদ্ভূত।’ অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।
রেজাল্টে এগিয়ে থাকা ১১ জন আউট, নিয়োগ পেলেন প্রো-ভিসির কন্যা
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ডেইলি ক্যাম্পাস
বিভাগীয় ফলাফলে পিছিয়ে থেকেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীম। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে নিয়োগের অনুমোদন করা হয়। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতা গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রণয়ন করেন নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা। এই নীতিমালার আওতায় এ পর্যন্ত চবিতে ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ৫৬৫তম সিন্ডিকেটে বিভিন্ন বিভাগে নতুন করে নিয়োগ পান ১৮ জন শিক্ষক। এর আগে ৫৬৪তম সিন্ডিকেটে নিয়োগ দেওয়া হয় ৩৮ শিক্ষককে। অর্থাৎ গত দুই সিন্ডিকেটে ৫৬ জনসহ এই প্রশাসনের আমলে মোট শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৭৮ জনকে।
এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য চারজনের নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইন্যান্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৯ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। উপাচার্যের অফিস কক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ফাইনান্স বিভাগের চার প্রভাষক পদের বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করেন ৫১ জন প্রার্থী। এই চার পদের মধ্যে একটিতে সহকারী অধ্যাপকের বিপরীতে এবং অন্য একটিতে সহযোগী অধ্যাপকদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইন্যান্স বিভাগের জন্য আবেদন করা ৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীমের নাম তালিকায় ৪৩ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে।
বিভাগীয় ফলাফলে দেখা দেখা যায়, মাহিরা শামীমের স্নাতকের সিজিপিএ-৩.৮০। সিজিপিএ হিসেবে তার উপরে ওই বিভাগে আরও ১১ জন রয়েছেন। এর মধ্যে বিভাগে প্রথম হওয়া প্রার্থীর সিজিপিএ-৩.৯৫। এ ছাড়া মাহিরা শামীমের উপরে সিজিপিএ-৩.৯০ দুইজন, সিজিপিএ-৩.৮৯ একজন, সিজিপিএ-৩.৮৪ দুইজন, সিজিপিএ-৩.৮২ দুইজন এবং সিজিপিএ-৩.৮০ তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।
উপ-উপাচার্যের মেয়ে নিয়োগ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি ব্যঙ্গ করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ক্যাম্পাসের ড. এ আর মল্লিক ভবনের সামনে দাঁড়ানো প্ল্যাকার্ড হাতে লেখেন, ‘বাবা আমায় একটা নিয়োগ দেবে?’
সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে শিক্ষক হেনস্তাকারীরা শিবির-সম্পৃক্ত
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
‘আপনি নিজ যোগ্যতায় বসেননি, আপনাকে আমরা বসিয়েছি, আপনি আমাদের কথা শুনতে বাধ্য।’ ২০২৫ সালের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে তাঁর কক্ষে বসে এভাবেই শাসানো হয়। গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আরও কয়েকজন শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ এক শিক্ষককে ধাওয়া করে ধরে নিয়ে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেছেন চাকসু প্রতিনিধিরা। একের পর এক এসব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষকদের মাঝে।
‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের অনেকে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত। আবার কেউ কেউ ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আগে থেকেই।
বিশিষ্টজন বলছেন, কোনো শিক্ষক অপরাধ করলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে। কিন্তু ‘মব’ তৈরির মাধ্যমে হেনস্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। পুরো সমাজ ব্যবস্থায় খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান, নথিপত্র তালা দিয়ে উপাচার্য ঢাকায়
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র উপাচার্যের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ থাকায় এবং উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় থাকায় দুদকের এই অভিযান অনেকটা থমকে যায়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এর একটি দল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই অভিযান চালায়। তবে উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দুদক চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম অভিযানের বিষয়ে জানান, গত ১৫ মাসে অবৈধভাবে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফিন্যান্স, ফার্সি ও ক্রিমিনোলজি বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষকদের আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান। তিনি বলেন, ‘নিয়োগের নথিপত্র উপাচার্যের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ ছিল এবং উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় থাকায় আমরা সেগুলো দেখতে পারিনি। নথিপত্র পর্যালোচনা ছাড়া নিয়োগ বৈধ ছিল কি না তা বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে দাখিল করব।’
অভিযোগের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীমকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হয়েছে।
ডাকসুর কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট নিয়ে সমালোচনা, আলোচনা স্লোগান নিয়েও
১৮ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কনসার্টে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনায় সমালোচনায় পড়েছে ডাকসু। এই কনসার্টে ওঠা নানা স্লোগান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
গতকাল শনিবার ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় মাঠে ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানেই স্টল বসিয়ে বিনা মূল্যে সিগারেট বিলি করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সঙ্গে এই কনসার্টের সহ–আয়োজক ছিল ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম।
কনসার্টস্থলে বিনা মূল্যে সিগারেট বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। এটা ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন, তা–ও তুলে ধরছেন তাঁরা।.. …
স্লোগান নিয়ে আলোচনা
কনসার্টে উপস্থিত হয়ে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী গণভোটের পক্ষে প্রচার চালান ও স্লোগান দেন। তখন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দৃশ্যত তাঁকে ব্যঙ্গ করে কিছু স্লোগান ওঠে।
মোসাদ্দিক ‘কোটা না মেধা’ স্লোগান দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্লোগান ওঠে—‘কোটা, কোটা’। তিনি ‘গোলামি না সংস্কার’ স্লোগান দিলে পাল্টা স্লোগান আসে ‘গোলামি, গোলামি’। তিনি ‘আপস না সংগ্রাম’ স্লোগান তুললে পাল্টা স্লোগান আসে ‘আপস, আপস’। ‘তুমি কে, আমি কে’—মোসাদ্দিকের এই স্লোগানের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে স্লোগান আসে—‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’।
শিক্ষার্থী আছিয়া আক্তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্ট। আয়োজন করেছে ডাকসু আবার স্লোগান মারায় মঞ্চে—গোলামি না সংস্কার।’
আন্দোলনের মুখে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক চাকরিচ্যুত
২০ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) আন্দোলনের মুখে গত রোববার দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ‘সাধারণ শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই’–এর ব্যানারে আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই দুই শিক্ষকের একজন ইসলামবিদ্বেষী, অপরজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষক হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মোহসিন এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস বন্ধ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লায়েকা বশীরের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রথমে অনলাইনে ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করেন। এরপর সেমিস্টার বিরতি শেষে রোববার ক্লাস শুরুর প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জানায়, দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
‘মাস্তান শিক্ষার্থী ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয় ভীতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে’
২২ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
চাপের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষককে বরখাস্ত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। এ ঘটনাকে ‘মাস্তান শিক্ষার্থী ও মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের সমন্বয়’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলেছে, এভাবে চললে শিক্ষকদের আর স্বাধীনভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।
ইউএপির দুই শিক্ষক লায়েকা বশীর ও এ এস এম মোহসীনকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। সম্মেলন থেকে দুই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালসহ চারটি দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌমিত জয়দ্বীপ ও তানভীর সোবহান।
শিক্ষা খাতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে
২২ জানুয়ারি, ২০২৬, প্রথম আলো
করোনাকালসহ দু-এক বছরের ব্যতিক্রম ছাড়া দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল। নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের স্বস্তি, উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষাবর্ষ শুরুর একটি পরিচিত দৃশ্য। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নিয়মিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করে এসেছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সুযোগ পেলেও একবারও বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এখনো মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই সরবরাহ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ শেষ হবে। তবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৬০ বই সরবরাহ বাকি ছিল। প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই অবশ্য শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছিল। গত বছর শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর সব বই দিতে সময় লেগেছিল প্রায় তিন মাস।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বই সরবরাহে দেরি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাঁরা বলছেন, বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ একটি রুটিন কাজ। দরপত্র, ছাপা ও বিতরণ—সবকিছুই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর অনেক আগেই পরিকল্পনায় থাকার কথা। এটি করতে না পারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার প্রতিফলন।
শুধু সময়মতো বই বিতরণ করতে না পারা নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, নেতৃত্বহীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার চিত্র প্রকট হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানুষ আশা করেছিল, শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। বাস্তবে তা হয়নি। সংস্কারের কথা বলে বিভিন্ন খাতে কমিশন গঠন করা হলেও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি শিক্ষার প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত।
মেয়াদের শেষদিকে এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি আসছে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগেই প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো কিছুর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নীতিনির্ধারণী কাজ ছাড়াও রুটিন কাজের ব্যর্থতা অনেক। তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু কাজ করতে পারলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামগ্রিকভাবে হিমশিম খাচ্ছে। যথাযথ পরিকল্পনার অভাব, বাস্তবায়নে ঢিলেমি ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই শিক্ষা খাতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে।
গোড়াতেই ‘গলদ’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সচিবালয়ের ভেতরে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। তাদের দাবির মুখে এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়। এরপর ‘ভিন্ন পদ্ধতিতে’ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদল শিক্ষার্থীর দাবির মুখে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর পড়বে।
ওই ঘটনার পর থেকে শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) বেড়েছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর চাপ, পদত্যাগ ও প্রশাসনিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায় গিয়ে পড়ে শিক্ষকদের ওপর। কোথাও পদত্যাগ, কোথাও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘটনাও ঘটে, যা শিক্ষা পরিবেশকে আরও নাজুক করে তোলে। এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কেও অবনতি ঘটাচ্ছে।
শিক্ষাক্রমে পিছু হাঁটা
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দায়িত্ব নিয়ে সচিবালয়ে যাওয়ার প্রথম দিনেই পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কোনো আলোচনা-পরামর্শ ছাড়াই শিক্ষাক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আকস্মিক এ সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে নানা কথা ওঠে। তখনকার বাস্তবতায় অনেকেই এটিকে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেন। তবে এরপর কী—সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত বছরের জুনে বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সাল থেকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কোনো কমিটি হয়নি, কোনো রূপরেখাও তৈরি হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় একেবারেই সীমিত। ফলে নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বাকি মেয়াদে এ নিয়ে আর উদ্যোগের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষাবিদদের মতে, যখন পুরো বিশ্ব দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশ আবারও পুরোনো কাঠামোর ভেতরে শিক্ষার্থীদের আটকে দিচ্ছে। এর প্রভাব শুধু শিক্ষায় নয়, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।
নেতৃত্বহীন সংস্থা, কাজে স্থবিরতা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে সেখানে নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। প্রায় এক মাস শূন্য ছিল পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালকের পদও। তবে ৬ জানুয়ারি এই শাখা ও আরেক শাখায় নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মাউশিতে এখন একপ্রকার স্থবিরতা চলছে।
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মহাপরিচালকের পদও শূন্য। একজন কর্মকর্তা পরিচালক রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এভাবে নেতৃত্বহীন রেখে দেওয়া কেবল অবহেলা নয়; এটি প্রশাসনিক অযোগ্যতারও ইঙ্গিত দেয়। একাধিক শিক্ষাবিদ বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা পথনকশা নেই।
সংকট থেকে আরও সংকট
ঢাকার বড় সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে সংকটের সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এখন নতুন আরেক কাঠামোর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়া উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
তবে অধ্যাদেশ করা হলেও অল্প সময়ে আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, সে প্রশ্ন আছে।
দেশের উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিবর্তে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটিও অন্তর্বর্তী সরকারের বাকি মেয়াদে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অবসর সুবিধার ভোগান্তি কমেনি
সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত (বেতন বাবদ মাসে সরকারি অনুদান) শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এসব শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দেওয়া হয় দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে। আর অবসরসুবিধা দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ডের মাধ্যমে।
অবসরসুবিধা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর অবসর সুবিধা পাননি। কল্যাণ ট্রাস্টের পরিস্থিতিও একই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সংকট সমাধানে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার গত ১২ নভেম্বর অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। পত্রে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অবসরসুবিধার জন্য ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এত দিন পরেও এই দুই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অস্থায়ী ব্যবস্থায় চলছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
‘প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’
তবে প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করা, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আটকে থাকা পদোন্নতি, বদলিসহ কিছু কাজ অবশ্য হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতের পরিস্থিতি সব মিলিয়ে হতাশাজনক বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। প্রথম থেকেই শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে শিক্ষাকে ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি—এটি সব সরকারের ক্ষেত্রেই সত্য।
অধ্যাপক মনজুর আহমেদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল যে এই ধারায় অন্তত ব্যতিক্রম ঘটবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়েছে বলেই বলতে হয়। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। তা সত্ত্বেও সরকার যে কাজটি করতে পারত, তা হলো শিক্ষা নিয়ে একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা-ভাবনার সূচনা করা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থা
ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, সরকারি অবহেলার পরিণতি বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা
০৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। চলতি নভেম্বরের শুরু থেকেই প্রতিদিন ডেঙ্গুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন। এক দিনে চলতি বছর এটি সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল, তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, এর মধ্যে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল আগের দিন অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর। সেই হিসাবে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন। আর এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০২ জন মারা গেছেন।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলছিলেন, প্রতিটি মৃত্যু ছিল প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ না করে গতানুগতিক পন্থা অবলম্বন করাতেই এই মৃত্যু হলো। এটা খুবই দুঃখজনক। সরকারকে বারংবার এ বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো বোধোদয় হয়নি। এসব মৃত্যু তাই সরকারি অবহেলার পরিণতি ছাড়া অন্য কিছু নয়।
সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৫৭২ আসন কমেছে
১১ নভেম্বর ২০২৫, ডেইলিস্টার বাংলা
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে চলতি শিক্ষাবর্ষে মোট ৫৭২টি আসন কমানো হয়েছে। যদিও এর মধ্যেই একটি নতুন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এ বছর আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,১০০টি। যা গত বছর ছিল ৫,৩৮০টি। অর্থাৎ সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে মোট ২৮০টি আসন কমেছে।
অন্যদিকে, নতুন একটিসহ ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন থাকবে ৬,০০১টি। আগের শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ৬,২৯৩টি। সে হিসাবে বেসরকারি খাতে আসন কমেছে ২৯২টি। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া ঢাকার ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক মেডিকেল কলেজে আসন যোগ হয়েছে ৫০টি।
তবে, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর ভুঁইয়া মেডিকেল কলেজ (৫৭ আসন) এবং শরীয়তপুরের মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ (৫০ আসন)।
যক্ষ্মায় দৈনিক মৃত্যু ১২১, তিন দশকের চেষ্টায়ও সাফল্য নেই
১১ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
তিন দশক ধরে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ ও কারিগরি সহায়তা পাওয়ার পরও দেশে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য নেই। ওষুধ ও কিট কিনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাতাদের কাছে জরুরিভাবে অর্থ চেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের নজরদারির অভাব, এনজিওগুলোর ওপর অতিনির্ভরশীলতা ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চাপ যক্ষ্মা কর্মসূচিকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ওপর সরকারের বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কম। জাতীয় কর্মসূচি হলেও যক্ষ্মার কাজের সম্মুখভাগে মূলত এনজিওগুলোকে দেখা যায়। কয়েকটি জেলায় রোগী বৃদ্ধির কারণ জানা যাচ্ছে না। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে নষ্ট ওষুধ পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর কোনো তদন্ত করেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কারও নজরদারিতে নেই।
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (সেক্টর কর্মসূচি নামে পরিচিত) অধীন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) আওতায় প্রায় তিন দশক ধরে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্য ওপির লাইন ডিরেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়। কাজ বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে চলে যেতে হয়, নতুন ডিরেক্টর বসানো হয়। এ বছর জুলাই মাসে সেক্টর কর্মসূচি বিলুপ্ত করেছে সরকার। যক্ষ্মা এখন মাইকোব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোল (এমবিডিসি) কর্মসূচির আওতায়। এমবিডিসির নতুন পরিচালক আলী হাবিব দায়িত্ব নিয়েছেন দেড় মাস আগে। তিনি অবসরকালীন ছুটিতে যাবেন তিন মাস পর। সরকার তখন আবার নতুন পরিচালক নিয়োগ দেবে।
সরকারের কাগজপত্র বলছে, বর্তমানে যে ১০টি দেশে যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা বেশি, বাংলাদেশ তার অন্যতম। ১৯৯৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যক্ষ্মাকে বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর স্বাস্থ্য বিভাগ এনজিওগুলোকে সঙ্গে নিয়ে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। যক্ষ্মা নির্ণয়, চিকিৎসা ও ওষুধ—সবই বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। তারপরও দেশে যক্ষ্মা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
সরকারের সর্বশেষ হিসাব বলছে, প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন। প্রতিবছর মারা যান ৪৪ হাজার। অর্থাৎ প্রতিদিন ১ হাজার ৩৮ জন নতুন রোগী যোগ হচ্ছেন এবং মারা যান ১২১ জন। প্রতিদিন দেশজুড়ে মাতৃমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আত্মহত্যার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু যক্ষ্মায়।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মার রোগী বাড়ছে। ওষুধের মান ঠিক না থাকলে, নিয়মিত ওষুধ না সেবন করলে, চিকিৎসার পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ সেবন না করলে যক্ষ্মার জীবাণু
ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠে। তখন সাধারণ ওষুধে যক্ষ্মা ভালো হয় না। এটাই ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মা (মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট বা এমডিআর টিবি)। ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মারোগী সরাসরি যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত হিসাবে প্রতিবছর ৫ হাজার মানুষ নতুন করে ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর অর্ধেক শনাক্ত হচ্ছে না। এর অর্থ হচ্ছে, ওষুধপ্রতিরোধী যক্ষ্মা নিয়ে অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জীবাণু ছড়াচ্ছেন।
২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের যক্ষ্মাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রধানেরা ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একাধিক সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী প্রথম আলোকে বলেছেন, যক্ষ্মার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে নেই বাংলাদেশ।
‘আমার বেটাকে বাঁচান’, চিকিৎসা খরচ মেটাতে হাত পাতছেন তাঁরা
২৬ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের একটি প্রবেশ পথের সামনে দাঁড়িয়ে সাহায্যের জন্য হাত পাতছিলেন মরিয়ম বেগম (ছদ্মনাম)। আর্তনাদের সুরে বলছিলেন, ‘আমার বেটাকে বাঁচান, সাহায্য করেন। আমি অসহায় হয়ে রাস্তায় নামছি। বেটাকে হারালে আমার আর কেউ থাকবে না।’
এই দৃশ্য চোখে পড়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর। মরিয়ম সাহায্য চেয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু সাড়া খুব একটা পাচ্ছিলেন না। কাছে গিয়ে কথা বললাম তাঁর সঙ্গে। তিনি বললেন, তাঁর এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকের ছাত্র। মেয়েটি সরকারি একটি কলেজে পড়ে। ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ে আট মাস আগে। তাঁর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেই মানুষের সহায়তা চাইছেন।
মরিয়ম বেগম বিভিন্ন জায়গা থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। ছেলের সহপাঠীরাও সাহায্য করেছেন। তবে তা যথেষ্ট নয়। এ জন্য মরিয়মকে হাত পাততে হচ্ছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের চিকিৎসায় খরচ হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে ছিল তাঁর প্রয়াত স্বামীর রেখে যাওয়া তিন লাখ টাকা। ছেলের চিকিৎসা খরচ জোগাতে তাঁরা এখন প্রায় নিঃস্ব।
বিগত তিন মাসে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কাছে সাহায্যপ্রার্থী ও ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। এ ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁদের, যাঁদের পোশাক ও সাহায্য চাওয়ার ধরন নিয়মিত ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত মানুষের মতো নয়।
প্রথম আলো যে ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাঁদের ৩৮ জন রোগে আক্রান্ত হয়ে কিংবা স্বজনের চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য রাস্তায় নামার কথা জানান। ৬ জন জানান, তাঁরা কর্মসংস্থান হারিয়ে উপায় না পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছেন। অন্য কাজের আয় দিয়ে পরিবার চালাতে না পেরে সহায়তা চাওয়ার কথা বলেছেন ৪ জন। দুর্যোগে বাড়িঘর হারিয়ে রাস্তায় নামার কথা বলেছেন ২ জন।
‘আর পেরে উঠছি না’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে ১ অক্টোবর পাওয়া যায় এক ব্যক্তিকে, যিনি নিজেকে স্কুলশিক্ষক বলে দাবি করেন (না প্রকাশ করা হলো না)। তিনি বলেন, তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। ডায়ালাইসিসের পেছনে সপ্তাহে ছয় হাজার টাকা খরচ জোগাতে তিনি মানুষের কাছে হাত পাতছেন।
স্কুলশিক্ষকের বাড়ি গাইবান্ধায়। তিনি ‘লোকলজ্জা থেকে বাঁচতে’ নিজের এলাকায় পথেঘাটে মানুষের কাছে হাত পাতেন না। মাঝে মাঝে ঢাকায় এসে রাস্তায় মানুষের কাছে সাহায্য চান। তিনি বলেন, ‘ঋণের ভার, সংসারের খরচ ও নিজের চিকিৎসা—সব সামলাতে গিয়ে আর পেরে উঠছি না।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ২০২৪ সালে একটি গবেষণায় জানায়, দেশের ৬১ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। ২০২২ সালের হিসাবে, সে বছর দেশের জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গিয়েছিল স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে।
জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের বড় অংশ বহন করার কথা সরকারের। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব খরচ বাড়ছেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টস ১৯৯৭-২০২০’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালে ব্যক্তির পকেট থেকে ব্যয় হয়েছে ৬৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত ২০২৩ সালের হিসাবে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় ব্যক্তির পকেট থেকে ব্যয়ের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব (২০২২) অনুযায়ী, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের দিক দিয়ে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
প্রথম আলো চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পথে নামা যে ৩৮ জনের সঙ্গে কথা বলেছে, তাঁদের অনেকে প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু খরচের কুলিয়ে উঠতে না পেরে পরবর্তীতে কেউ কেউ সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে গিয়েছেন। তবে সেখানে অসহযোগিতা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন তাঁরা। আর বেসরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাঁরা জানান, সেখানে খরচের পরিমাণ বেশি।
রাজধানীর শাহবাগে মানুষের কাছে সাহায্য চাইছিলেন চুয়াডাঙ্গার এক ব্যক্তি। বয়স ৫০-এর আশপাশে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। কিডনিতে সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেটাও করাতে পারছেন না। তিনি বলেন, তিনি পারছেন না বলে তাঁর দুই মেয়েকে কৃষিকাজে নিযুক্ত করেছেন। সেটা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলছে। চিকিৎসার জন্য তিনি সাহায্য চাচ্ছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি জোর দেওয়া হতো। স্বাস্থ্য খাত ছিল অবহেলিত। বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া হিসাব (২০২২) অনুযায়ী, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের দিক দিয়ে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়নি। বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ নেই। এমন অবস্থায় কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান গত ৩ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাকে একটি চিঠি দেন। এতে সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১টি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্য সংস্কার নিয়ে একটি কমিশন গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, দেশে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ স্বাস্থ্য খাতে থাকা উচিত। জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ হওয়া উচিত ৫ শতাংশ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রেখেছে জাতীয় বাজেটের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যা সুপারিশের তিন ভাগের এক ভাগের মতো।
স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা হয়নি। বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ নেই। এমন অবস্থায় কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান গত ৩ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টাকে একটি চিঠি দেন। এতে সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এ কে আজাদ খান মনে করেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে মানুষের সমস্যা অনেকটাই কমবে। তিনি প্রথম আলোকে, সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের অধিকার ও সরকারের জন্য বাধ্যবাধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর দুরারোগ্য রোগ চিকিৎসার বিষয়টি বিমার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউই তো সন্তুষ্ট নয়।’
পরিবেশ
জ্বালানি তেলে ‘ফুসফুসের বিষ’
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সালফার পাওয়া গেছে। আর সরকারিভাবে নির্ধারিত মাত্রাও গ্রহণযোগ্য সীমার ৩৫ গুণ বেশি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ হলো জ্বালানি তেলে সালফার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুমানবিষয়ক গবেষক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, সালফার শুধু নিজে দূষণ করে না, বস্তুকণা তৈরি করে আরও কিছু উপাদানের দূষণে সহায়তা করে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলে সালফার কমিয়ে রাখে। দেশে পরীক্ষায় যে মাত্রায় সালফার পাওয়া গেছে, তা ভয়াবহ।
দেশে জ্বালানি তেল পরীক্ষা হয়েছে দুটি সংস্থায়। একটি হলো বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। এসব পরীক্ষায় কিছু নমুনায় জ্বালানি তেলে সালফার নির্ধারিত মাত্রা, অর্থাৎ ৩৫০ পিপিএমের (পার্টস পার মিলিয়ন) নিচে পাওয়া গেছে। কিছু নমুনায় পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩৪৮ থেকে ২ হাজার ৮০০ পিপিএম পর্যন্ত।
বনের জমি আর ইজারা দিতে পারবেন না ডিসিরা, গাছ কাটতেও লাগবে অনুমতি
২২ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বনের জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড থাকলেও তা আর ইজারা দিতে পারবেন না তাঁরা। এসব জমির ব্যবস্থাপনায় থাকবে বন বিভাগ। গাছ কাটার ক্ষেত্রেও অনুমোদন লাগবে বন বিভাগের।
বৃক্ষ ও বন সংরক্ষণে অধ্যাদেশ–২০২৫ এ এমন বিধান রাখা হয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেয়। আইন মন্ত্রণালয়ে যাচাই–বাছাইয়ের পর তা জারি হবে।
উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর এই অধ্যাদেশকে যুগান্তকারী অভিহিত করেছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা প্রশাসকেরা বন বিভাগকে না জানিয়েই বনের জমি ইজারা দিত। নতুন অধ্যাদেশ জারির পর তা বন্ধ হবে।
বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার একর। তার মধ্যে রক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ৯১ হাজার একর, অর্জিত বনভূমি ২৮ হাজার একর। এই দুই শ্রেণির জমি জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড করা হয়।
অধ্যাদেশের তৃতীয় অধ্যায়ের ৬ ধারার উপধারা-২ এ বলা হয়েছে, রক্ষিত বন ও অর্জিত বন জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত হবে। তবে এসব বনের ব্যবস্থাপনায় থাকবে বন বিভাগ। এসব বনভূমি ইজারা দেওয়া যাবে না। গাছ থাকুক বা না থাকুক, এসব জায়গা চিহ্নিত হবে বনভূমি হিসেবে।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ জারি
নিষিদ্ধ গাছ কাটলে এক লাখ টাকা জরিমানা
০৮ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
তালিকাভুক্ত নিষিদ্ধ প্রজাতির গাছ বা বন অধিদপ্তর ঘোষিত বিপদাপন্ন কোনো গাছ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা হবে। ধাতব বস্তু বা পেরেক ব্যবহার করে গাছের ক্ষতি করলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার আওতায় আসবে। এসব বিধান রেখে গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির জারি করা গেজেটে বলা হয়, আদালত চাইলে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নেরও নির্দেশ দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি অনুমতি নিয়েও ভুল নিয়মে গাছ কাটলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বনের জমি এখন থেকে জেলা প্রশাসক ইজারা দিতে পারবেন না।
অধ্যাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ– কারা অনুমতি ছাড়া গাছ কাটতে পারবেন না এবং কোন পরিস্থিতিতে আগাম অনুমতি প্রয়োজন হবে না। সরকারি বন, অশ্রেণিভুক্ত বন, সামাজিক বন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সম্পত্তিতে গাছ কাটতে হলে বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি আবশ্যক। ব্যক্তিমালিকানার জমিতেও এ নিয়ম প্রযোজ্য, যদি গাছটি অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকায় থাকে।
ঢাকায় মাঠ পার্ক জলাশয় দখল হলেও পরিবেশ আন্দোলনে নীরবতা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে গাছ কাটা, তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। বিগত শাসনামলে নেয়া পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিলের সংরক্ষিত জলাধারে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক প্রকল্প বাতিলের দাবিতে পরিবেশকর্মীরা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে টানা কয়েক মাস আন্দোলন করেন। সেখানে ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে পরিবেশকর্মীরা অবস্থান নেন। সে সময় পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান পান্থকুঞ্জে এসেছিলেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে। উপদেষ্টারা আশ্বাস দিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে কথা শুনবেন। কিন্তু তা করা হয়নি। আন্দোলকারীরা পরবর্তী সময়ে আদালতে যান। ‘পান্থকুঞ্জ পার্ক’ ও হাতিরঝিল জলাধারের উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি আবার পান্থকুঞ্জ পার্কে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, পান্থকুঞ্জ পার্ক নিয়ে সরকারের ভূমিকা তাদের হতাশ করেছে।
শুধু পান্থকুঞ্জ পার্কই নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও চলছে পরিবেশের জন্য বিরূপ কর্মকাণ্ড। সেখানে শিশুপার্ক সংস্কারের নামে পার্কের বড় অংশই কংক্রিটের আচ্ছাদনে ঢেকে দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্যানের ভেতর সম্প্রতি আনসার ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্যানে ওয়াকওয়ে নির্মাণের নামে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়া হচ্ছে।
জলবায়ু ন্যায়বিচারকর্মী নয়ন সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পরিদর্শন করেছি। এটিকে এখন আর উদ্যান বলা কঠিন। এখানে এরই মধ্যে কাছ কাটা শুরু হয়েছে। ডিএসসিসি আরো গাছ কাটবে।’
অন্তর্বর্তী সময়ে রাজধানীর আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার কলোনির বড় মাঠে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। রামপুরা মাঠে শিশুদের খেলার সুযোগ বন্ধ করে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। রামপুরা ও খিলগাঁও ঝিলে থানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানেও নতুন করে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার অন্তত তিনটি মাঠ হাতছাড়া হওয়ার কথা জানা গেছে। এর মধ্যে মিরপুরের কালশী মাঠ ও কলোনি মাঠ এবং মোহাম্মদপুরের টাউন হল পার্ক দীর্ঘদিন জনপরিসর হিসেবে ব্যবহার হলেও সম্প্রতি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এসব স্থানে আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ
বিদ্যুৎ খাতে মিলেছে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য, অনিয়মের প্রমাণ আদানির চুক্তিতেও
৩ নভেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ক্রয় চুক্তির নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক, আমলা ও রাজনীতিকদের যোগসাজশে এসব হয়েছে বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ক্রয় চুক্তির নামে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক, আমলা ও রাজনীতিকদের যোগসাজশে এসব হয়েছে বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। তাদের দাবি, দুর্নীতির কারণেই প্রতিযোগিতার চেয়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ, ভর্তুকি বাদ দিলে তা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে চার গুণ বাড়লেও আওয়ামী লীগের দেড় দশকে ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণ। এসব ব্যয় বৃদ্ধি ও অনিয়মের পেছনে সংঘবদ্ধ দুর্নীতিই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে কমিটির অভিমত। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে করা চুক্তিতেও।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে গতকাল এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি। সেখানেই এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে অবশ্য আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লেগে যাবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মুনাফার পরও জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি
০২ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমান্বয়ে কমছে। কয়েক বছর ধরে লাভে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব খরচ বাদ দিয়ে বিপিসি নিট মুনাফা করেছে চার হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এই অবস্থায় মূল্য সমন্বয় করে তেলের দাম কমানোর পরিবর্তে বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতি লিটার তেলের দাম দুই টাকা বাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম ১০২ থেকে বাড়িয়ে ১০৪ টাকা, পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১১৮ থেকে বাড়িয়ে ১২০ ও অকটেন ১২২ থেকে বাড়িয়ে ১২৪ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ থেকে বাড়িয়ে ১১৬ টাকা করা হয়।
লোকসান কমেনি, বেড়েছে সিস্টেম লস, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতেও নেই অগ্রগতি
৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বণিক বার্তা
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ছিলেন। ওই সময়ে দেশে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশেষ আইন প্রণয়ন করে কুইক রেন্টাল ও ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারের (আইপিপি) মাধ্যমে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেশে চাহিদার বিপরীতে সামঞ্জস্যহীনভাবে বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ, বিপরীতে ব্যয় বেড়েছে ১১ গুণ। এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আর্থিকভাবে চূড়ান্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে অনেকগুলো অস্বচ্ছ চুক্তিও হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি বিদ্যুৎ খাতকে বিগত সরকারের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে মূল্যায়ন করে। যদিও গত এক বছরের বেশি সময়ে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিপিডিবির লোকসান কমেনি। সিস্টেম লস আরো কিছুটা বেড়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের থ্রি জিরো তত্ত্বের প্রতিশ্রুত শূন্য কার্বন নিঃসরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা ও অগ্রগতির চিত্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার সামনে উপস্থাপন করা হবে।
বেসরকারি খাতে ৯১৮ মেগাওয়াটের ১২ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হবে
০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া সব সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করা হলেও এখন সেগুলোর মধ্য থেকে ১২টির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মোট ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কেন্দ্রগুলো থেকে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। তবে আগের তুলনায় খরচ একটু কমবে। নতুন হারে বছরে সাশ্রয় হবে ৪২০ কোটি টাকা।
সচিবালয়ে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ১২ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ট্যারিফ অনুমোদনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এগুলোর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)। বৈঠক শেষে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদনের কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে প্রেস সচিবের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহবান
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, বাংলাদেশ বুলেটিন
ফুলবাড়ী আন্দোলন কেবল কয়লা রক্ষার জন্য নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি, পানিসম্পদ এবং মানবাধিকারের সুরক্ষার এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন এ মন্তব্য করেছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা। বুধবার দুপুরে ফুলবাড়ীর নীমতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বক্তব্য দেন কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা জনমানুষের আন্দোলনকে অপমান ও ওপেন-পিট খনির পক্ষে পক্ষপাতমূলক সাফাই। তিনি এটিকে “জাতীয় সম্পদ লুটপাটতন্ত্র আড়ালের অপচেষ্টা” বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে আগামী ১৭ ডিসেম্বর লন্ডনে এশিয়া এনার্জি (জিসিএম)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেন।
জুয়েল জানান, ২০০৬ সালের ফুলবাড়ী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এশিয়া এনার্জির প্রস্তাব ছিল দেশের জন্য ক্ষতিকর। সেখানে রয়্যালিটি ছিল মাত্র ৬ শতাংশ এবং উত্তোলিত কয়লার বেশিরভাগই রপ্তানির জন্য নির্ধারিত ছিল। তার ভাষায়, “এটিকে উন্নয়ন বলা যায় না; এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাচারের সামিল।”
তিনি আরও বলেন, প্রেস সচিবের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং ২০০৬ সালের ৩০ আগস্টের ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি লন্ডনে বাংলাদেশের কয়লাখনি দেখিয়ে শেয়ার ব্যবসা বন্ধ করা, এশিয়া এনার্জিকে দেশে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে বড়পুকুরিয়ার উত্তরাংশে ওপেন-পিট খনির পরিকল্পনা বাতিল এবং জাতীয় কমিটির বিকল্প জ্বালানি মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার নেতা জয় প্রকাশ গুপ্ত, এসএম নুরুজ্জামান, হামিদুল হক, সঞ্জিত প্রসাদ জিতুসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি বন্ধে চক্রান্তের অভিযোগ
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি বন্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খনিটির শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রির ব্যবস্থা না করা এবং বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে কয়লা কিনতে বাধ্য করার মাধ্যমে খনিটিকে কৃত্রিমভাবে লোকসানের দিকে নেওয়া হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে খনিটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২৫ হাজার পরিবার জীবিকা হারাবে।
গত সোমবার দুপুরে বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে খনির ভেতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কয়েকজন কর্মকর্তা খনির পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে খনিটিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছেন।
১২০০ টাকার এলপিজি ১৮০০ টাকায়ও মিলছে না, নজর দেবে কে
০২ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
গত ২৪ ডিসেম্বর সকালে এলপিজি শেষ হওয়ার পর পাড়ার দোকানে ফোন করেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান; কিন্তু সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। এরপর আরেক দোকানে ফোন করেও পাননি। শেষে আরেকটি দোকানে একটি সিলিন্ডার পান। কাওসার খান বলেন, ‘এক সিলিন্ডারের দাম দিতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি চিন্তা করা যায় না।’
কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা ফারজানা নীলা বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সিলিন্ডার দোকানে খোঁজ করে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর ১২ কেজির এক সিলিন্ডার এলপিজি পাওয়া গেলেও দাম দিতে হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকার বেশি গুনতে হয়েছে তাঁকে।
সিলিন্ডার খুঁজতে গিয়ে ৩১ ডিসেম্বর একই রকম বিপদে পড়েন মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতার। তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকায়ও পাননি। তিনি বলেন, ১২ কেজি এলপিজি কিনতে দিতে হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
গৃহস্থালিতে রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এলপিজির দাম। ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা চাহিদা দিলেও এলপিজির সরবরাহ নেই। তাই ক্রেতারা চাইলেও দিতে পারছেন না। তাঁদের বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই তাঁরাও বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।
এলপিজি অটোগ্যাস সংকটে প্রায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ
১০ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
এলপিজি অটোগ্যাসের তীব্র সংকটে দেশের প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অটোগ্যাস ব্যবহারকারী পরিবহন চালক ও মালিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার টন অটোগ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অটোগ্যাস শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
গ্যাস-সংকট কাটছেই না, ভরসা এখন বৈদ্যুতিক চুলা
১১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ—দুটোতেই সংকট দেখা দেওয়ায় ঢাকাজুড়ে বাসিন্দারা প্রতিদিনের রান্না চালাতে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ খুব কমে গেছে, কোথাও আবার পুরোপুরি বন্ধ। বাধ্য হয়ে অনেকেই বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। আর দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হলেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আর নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা বেছে নিচ্ছেন।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলী, খিলগাঁওসহ আশপাশের এলাকায় হাজারো পরিবার কয়েক দিন ধরে পাইপলাইনের গ্যাস নিয়ে ভোগান্তিতে। গ্যাস পেলেও চাপ কম থাকায় রান্না করা যাচ্ছে না।
বিপিডিবির লোকসান বেড়েছে ৯৪ শতাংশ
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির নিট লোকসান ৯৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অথচ বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় সাশ্রয়, এ খাতের বিশেষ আইন বাতিল, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, ট্যারিফ নেগোসিয়েশনসহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এসব উদ্যোগের কোনোটাই যদিও এ খাতের আর্থিক চাপ কমাতে পারেনি। বরং বিদ্যুৎ খাতের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বিপিডিবির নিট লোকসান যেমন বেড়েছে, তেমনি সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমার বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রভাব আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
গ্যাস ও এলপিজির সংকটে রান্নার চুলা জ্বালাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ–সংকট চলছে। দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, তবু চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাসের সংকট। বাসার লাইনে ঠিকমতো গ্যাস না পেয়ে এলপিজি কিনতে ছুটছেন অনেকে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে তাঁরা এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আজ রোববার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। তবে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
শহরের মানুষ রান্নার কাজে দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহার করেন। একটি হচ্ছে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস, অন্যটি এলপিজি সিলিন্ডার। এ দুই ধরনের গ্যাসের সংকটে শহরের মানুষের রান্নার ভোগান্তি কমছে না। কেউ কেউ বিদ্যুৎ–চালিত চুলা কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে বিদ্যুৎ–চালিত চুলার দামও বেড়েছে বাজারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভোগান্তির কথা লিখছেন গ্রাহকেরা।
‘আমরা মোহাম্মদপুরবাসী’ নামে ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে। এখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাস নিয়ে ভোগান্তির কথা লিখছেন স্থানীয় লোকজন। গতকাল শনিবার মোহাম্মদপুরের রবিন হাসান বলেন, ‘মাসে ১ হাজার ৮০ টাকা গ্যাস বিল দিয়ে আবার আড়াই হাজার টাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হলো। কষ্ট দেখার কেউ নেই!’ শায়লা শারমীন নামের এই এলাকার এক গৃহিণীর ভাষ্য, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। শারমীন আকতারের দাবি, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাঁকে গুনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর শামীমা সুলতানা নামের একজন গ্রাহকের দাবি, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।
আদানি বছরে ৫–৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি নিচ্ছে
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো সংশোধন করা দরকার। যেসব চুক্তি বেশি রক্তক্ষরণ ঘটায়, সেগুলোর অস্ত্রোপচার দরকার। এর মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি হচ্ছে সবচেয়ে খারাপ চুক্তি। তাই এটা দিয়ে শুরু করা যায়। এদের ধরতে পারলে অন্যদের সঙ্গে রাষ্ট্রের দর–কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।
গতকাল রোববার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মতামত তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটি। এই কমিটি বিগত সরকারের আমলে করা বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি হলে চুক্তি অনুযায়ী তার দায় নিতে হবে বাংলাদেশকে। ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের দাম যখন ৪ দশমিক ৪৬ সেন্ট ছিল, তখন আদানির সঙ্গে ৮ দশমিক ৬১ সেন্টে চুক্তি করা হয়। দাম নির্ধারণে এক অদ্ভূত সূচক দেওয়া আছে চুক্তিতে। এতে আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দাম দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছর আদানি বাড়তি নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলার (৫-৬ হাজার কোটি টাকা)। ২৫ বছর চুক্তির মেয়াদে এক হাজার কোটি ডলার বাড়তি নিয়ে যাবে তারা।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আদানি নিয়ে বিপুল পরিমাণ প্রামাণ্য–তথ্য পাওয়া গেছে। এ রকম চুক্তি শুধু দুর্নীতির মাধ্যমেই হতে পারে। দুর্নীতির তথ্য আদানিকে জানিয়ে দিয়ে তাদের উত্তর চাওয়া উচিত এবং তারপর দ্রুত সিঙ্গাপুরে চুক্তি–সংক্রান্ত সালিসি মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বিলম্ব করলে মামলা আইনি কারণে দুর্বল হয়ে যাবে।
পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মোশতাক হোসেন খান বলেন, যেসব তথ্য আছে, তা দিয়ে আদানির চুক্তি বাতিল করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এ সরকার হয়তো শেষ সময়ে এটা পারবে না, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার করতে পারে। নির্বাচনের আগেই তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিতে হবে। প্রতারণার মামলাও করা যেতে পারে আদানির বিরুদ্ধে।
তবে চুক্তি বাতিলের ক্ষেত্রে দেশের মানুষকে ত্যাগ স্বীকারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মনে করেন মোশতাক হোসেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের দিকে গেলে স্বল্প মেয়াদে তারা বিদ্যুৎ বন্ধ করতে পারে। এতে লোডশেডিং হতে পারে। ২৫ বছরের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষকে এই কষ্ট মেনে নিতে হবে। যে সরকারই আসুক, জনগণকে এক হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্নীতি মামলায় বিশেষজ্ঞ যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তারা আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই–বাছাই করছে। দুদকের কাছেও এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতেও আদানি–সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞসহ সবাই একমত, দুর্নীতি ছাড়া এ চুক্তি করা সম্ভব নয়। তবে দুর্নীতির প্রমাণ ছাড়া সার্বভৌম চুক্তি বাতিল করা যায় না।
‘দেশের বাইরে বসে বিদ্যুৎ, কিন্তু ঝুঁকি বাংলাদেশে’ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রকে এমন শিরোনামে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় কমিটি। স্থান নির্ধারণ, দাম নির্ধারণ ও শর্ত আরোপ—এমন তিন খাতে আদানির চুক্তি নিয়ে অনিয়ম বের করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে কক্সবাজারের মহেশখালী ও ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা আলোচনায় ছিল শুরুতে। কিসের ভিত্তিতে গোড্ডা বাছাই করা হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই সরকারি নথিতে। ঝাড়খন্ডের কয়লা রপ্তানিতে ব্যবহার করা যায় না। আমদানি করা কয়লায় সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হলো।
যোগসাজশে দুর্নীতি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০–এর অধীন সম্পাদিত চুক্তিসমূহ পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ওই বছরের নভেম্বরে বিশেষ আইনটি রহিত করা হয়। বিশেষ আইনের অধীন করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি ও চুক্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে।
হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এ কমিটির আহ্বায়ক। সদস্যরা হলেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সহ-উপাচার্য আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আলী আশফাক, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অর্থনীতির অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।
প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব–সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না। চুক্তিগুলো পুরোপুরি কারিগরি, তাই সময় লেগেছে। এর মধ্যে দুটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। একটি আদানি নিয়ে, অন্যটি সব চুক্তি পর্যালোচনা করে।
শুরুতে প্রতিবেদন নিয়ে সূচনা বক্তব্য দিতে গিয়ে বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত মুনাফার বিপুল সম্ভাবনা থাকায় যোগসাজশ, দুর্নীতি এবং চুক্তি বণ্টনে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রলোভনও বেড়েছে। অতিরিক্ত দাম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চুক্তির নকশার মধ্যেই কাঠামোগতভাবে যুক্ত ছিল।
শাহদীন মালিক ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন জাহিদ হোসেন ও মোশতাক হোসেন খান।
প্রতিবেদনটি নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রথম আলোকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছে আদানি। তারা দাবি করেছে, পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন তারা পায়নি। বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষ তাদের মতামত জানতে বা তথ্য নিতে যোগাযোগ করেনি। বিপুল বকেয়া থাকলেও তারা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেনি।
অলস বসে ভাড়া নেয় ৫০ শতাংশ কেন্দ্র
পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন বলছে, গত সরকারের দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। একই সময়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল বেড়েছে ১১ গুণ। ফলে দেউলিয়ার পথে পিডিবি। ২০১৫ সালেও পিডিবির লোকসান ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। গত বছর লোকসান ৫০ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে। সংস্কার না করলে সংকট হবে স্থায়ী। লোকসান চলতেই থাকবে, ভর্তুকি বাড়তেই থাকবে। আর বোঝা যাবে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।
কমিটির মতে, ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ–সক্ষমতা কোনো কাজে লাগছে না। প্রতিবছর অলস সক্ষমতার পেছনে কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে ৯০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো হলো, লাভটা নিজের, ঝুঁকিটা সমাজের। এতে ২০ থেকে ২৫ বছরের মতো ভাড়া নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার দেবে, ডলারের দাম বাড়লে সরকার দেবে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না হলেও সরকার ভাড়া দেবে। এই চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। দুই থেকে চার বছর কষ্ট করলে অভিশাপ থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব। আর এভাবে চলতে থাকলে দেশ একসময় ডুবে যাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পিডিবির টিকে থাকতে হলেও ৮৬ শতাংশ দাম বাড়াতে হবে। কিন্তু এই পরিমাণ দাম বাড়ালে শিল্প বাঁচবে না, মানুষ টিকবে না।
বাড়তি দামে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার
অস্বাভাবিক দামে বিদ্যুৎ কিনছে সরকার। ফার্নেস তেলচালিত কেন্দ্রে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দাম। গ্যাসচালিত কেন্দ্রে ৪৫ শতাংশ বেশি। সৌরবিদ্যুৎ খাতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি। এগুলো বাজারের দাম নয়, চুক্তির ফল। গত সরকারের সময় জরুরি আইনের আড়ালের চুক্তিপ্রক্রিয়া রাষ্ট্র দখলের রূপ নেয় ও স্বার্থান্বেষীর পক্ষে ঝুঁকে পড়ে।
সার্বভৌম গ্যারান্টি ও আন্তর্জাতিক সালিসি সুরক্ষার মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন দেশি–বিদেশি ব্যবসায়ীরা। সমমানের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হলো এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র। রিলায়েন্সের ক্ষেত্রে ভারতের একটি অচল বা পরিত্যক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশে এনে বসানোর প্রক্রিয়াটিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মেঘনাঘাটে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছে তারা।
ফার্নেস তেলে চালিত সামিট বরিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অন্য ফার্নেস তেল কেন্দ্রের তুলনায় আপেক্ষিকভাবে ব্যয়বহুল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তুলনায় সামিটের মেঘনাঘাট–২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ দ্বিগুণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রোববার লিখিত বক্তব্যে সামিট বলেছে, সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৎকালীন সময়ে সর্বনিম্ন ট্যারিফে চুক্তি করেছিল। বর্তমানেও পিডিবির তালিকা অনুসারে সবচেয়ে দক্ষ কেন্দ্রের মধ্যে আছে সামিটের বিদ্যুৎকেন্দ্র। সব মানদণ্ড পূরণ করেই আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ঋণ নিয়ে মেঘনাঘাট–২ কেন্দ্রটি করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে নানা কারণে দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
কমিটি বলছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে সরাসরি নির্দেশে এসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে চুক্তির সঙ্গে জড়িত অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হিসাবে কয়েক মিলিয়ন ডলারের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর লাভ নিশ্চিত করাই ছিল এসব চুক্তির মূল লক্ষ্য।
আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলে পরবর্তী সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তা ওই চুক্তি বাতিলের জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত কমিটি।
ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে ধরনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তা ওই চুক্তি বাতিলের জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছে চুক্তি পর্যালোচনা সংক্রান্ত কমিটি। এ চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। তবে এমন সময় এ প্রতিবেদন জমা ও সুপারিশ করা হলো যখন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ একেবারে শেষ পর্যায়ে। ফলে পর্যাপ্ত সময় না থাকায় আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলে পরবর্তী সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
কমিটির প্রধান হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেহেতু বর্তমান সরকারের সময় কম, আমরা চাইব পরবর্তী সরকার যেন এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেয়।’ বিলম্ব করলে আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি।
গতকাল বিদ্যুৎ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে পর্যালোচনা কমিটি। এতে আদানির চুক্তিসহ দেশের বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন কমিটির সদস্যরা। এর আগে ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। এ কমিটি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছে।
যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনার ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ প্রায় ৮৫০ কারখানা, নিরাপদ করার কার্যক্রম ২ বছর ধরে স্থবির
২৬ অক্টোবর ২০২৫, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা
দেশে অগ্নিদুর্ঘটনাসহ বৈদ্যুতিক ও ভবনের স্ট্রাকচারাল (গঠনজনিত) দুর্ঘটনার ‘অতি (উচ্চ) ঝুঁকিতে’ রয়েছে, এমন প্রায় ৮৫০টি কারখানা চিহ্নিত করেছিল সরকার। তবে সমন্বয়ের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক অনীহার কারণে গত দুই বছর ধরে দেশব্যাপী এই পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
নারায়ণগঞ্জের হাশেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫০ জনের বেশি শ্রমিকের প্রাণহানির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুই দফায় ১০ হাজারের বেশি কারখানা পরিদর্শন করে এসব কারখানাকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বিস্তৃত এই কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) শুরুতে সমন্বয়ের দায়িত্ব নিলেও এখন তা ছাড়তে চাইছে। সংস্থাটি বলছে, বিষয়টি তাদের মূল দায়িত্বের আওতায় পড়ে না এবং এটি সামাল দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় জনবলও তাদের নেই।
স্থবির হয়ে পড়া উদ্যোগ
বিডার নেতৃত্বে পরিচালিত সমন্বিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ৮৪৮টি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ১,৩৯৭টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কারখানা মিলিয়ে মোট ২,২৪৫টি দুর্বল কারখানাকে চিহ্নিত করা হয়। এ পরিদর্শন কার্যক্রমে ৭টি সরকারি সংস্থা অংশ নেয়, যার মধ্যে ছিল শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তর।
কারখানাগুলোকে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়—অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপদ। পরিদর্শন তালিকার মানদণ্ডে শতভাগ নম্বর পেয়ে মাত্র ৫৭টি কারখানাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তবে এসব কারখানাকে নিরাপদ করার পরবর্তী কাজ—অর্থাৎ সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন তদারকি—প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চিহ্নিত কারখানাগুলোর বেশিরভাগই স্থানীয় ও অ-রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা, পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানও এর অন্তর্ভুক্ত।
তিনি বলেন, “শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস কিছু কারখানার জন্য কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান (সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা) তৈরি ও তদারকির কাজ করেছে, তবে অন্যান্য সংস্থাগুলো খুব একটা কাজ করেনি। মোটের ওপর কারখানাগুলোকে নিরাপদ করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। গত দুই বছর ধরে পুরো কর্মসূচিই স্থবির অবস্থায় আছে।”
এছাড়া দুই বছর আগে চিহ্নিত করা আরও ২,৯০০ কারখানার পরিদর্শনের পরিকল্পনাও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ কারখানার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে ফার্মগেটে একজন নিহত, মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ
২৬ অক্টোবর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় নিচে থাকা একজন পথচারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নিহত ওই পথচারীর নাম আবুল কালাম (৩৫)। তাঁর বাড়ি শরীয়তপুরে।
এর আগেও গত বছর সেপ্টেম্বরে ফার্মগেট এলাকায় বিয়ারিং প্যাড খুলে নিচে পড়ে গিয়েছিল।
বৃষ্টির পানি ঢোকে, এসি বিকল হয়, মেট্রোরেল ব্যবস্থায় ৪৫ সমস্যা
০২ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ঢাকার মেট্রোরেলে যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা হয় স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে। ঢোকা বা বের হওয়ার সময় যাত্রীকে টিকিট ছোঁয়াতে হয় অথবা জমা দিতে হয় যন্ত্রে। কথা ছিল, প্রতি এক লাখ যাত্রীর মধ্যে একজন প্রথম চেষ্টায় বিফল হবেন। কিন্তু বিফল হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রতি এক লাখে দেড় হাজারের মতো যাত্রীর ক্ষেত্রে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে নির্মাণ হওয়া মেট্রোরেল ব্যবস্থায় এমন ৪৫ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি পেয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজগুলো যথাযথভাবে করেনি, কিংবা চুক্তি অনুসারে যতটুকু কাজ করার কথা ছিল, তা হয়নি।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, মেট্রোরেলের সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কাজে ১০ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৈদ্যুতিক কাজের মধ্যে ত্রুটি ও ঘাটতির সংখ্যা ১৬ ধরনের। উড়ালপথ ও অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত পুরকৌশল কাজে পাওয়া গেছে ১০ ধরনের ত্রুটি ও ঘাটতি। আর মেট্রোরেলের ট্রেন এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থায় মোট ত্রুটি ও ঘাটতি পাওয়া গেছে ৯ ধরনের।
ডিএমটিসিএলের ৬৩ পৃষ্ঠার একটি নথিতে ত্রুটি ও ঘাটতির বিষয়ে সবিস্তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেগুলো পূরণ করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চিঠির পরও বেশির ভাগ ঘাটতি পূরণ করা হয়নি। কিছু ত্রুটি সারিয়ে দেওয়ার পরও এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান হয়নি। এ ছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যে মানের মালামাল সরবরাহের কথা ছিল, তা দেননি ঠিকাদার।
উড্ডয়ন ত্রুটির কারণে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল মাইলস্টোনে
০৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, তার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে তদন্তে।
ঘটনার তিন মাস পর আজ বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
দেশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ৬ জনের মৃত্যু
২১ নভেম্বর ২০২৫, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে দেশের তিন জেলায় শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের পুলিশ ক্যম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ৬ শিক্ষার্থীসহ ৪১ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরেও আহত হয়েছেন অনেকে।
শুক্রবার ছুটির দিনের সকালে ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭; উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশে নরসিংদীর মাধবদীতে।
নাশকতা নয়, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন লাগে
২৫ নভেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
গত অক্টোবরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে (পণ্য রাখার স্থান) ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা নাশকতা ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে।
এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান ত্রুটিগুলো
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) মেনে চলা হয়নি। অ্যাপ্রোন এলাকায় (যেখানে বিমানগুলো পার্ক করা, জ্বালানি ভরা, লোড-আনলোড করা, যাত্রী ওঠানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়) রাখা স্তূপ করা পণ্যের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি কুরিয়ার শেডে অগ্নিকাণ্ডের স্থলে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন পণ্য অ্যাপ্রোনে পড়ে থাকে।
এ ছাড়া আমদানি পণ্য সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি ছিল না। এমনকি দাহ্য এবং বিপজ্জনক পণ্যের জন্য কোনো বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। বেবিচকের অবকাঠামোর সুরক্ষার জন্য কোনো স্থায়ী ফায়ার স্টেশনও নেই।
প্রেস সচিব জানান, তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ২০১৩ সালের পর এখানে সাতটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে; যা প্রতিরোধ ও নির্বাপণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ছিল না।
যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ৪
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, যুগান্তর
ভোলার দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের সঙ্গে অপর একটি লঞ্চের (অ্যাডভেঞ্চার–৯) ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত যাত্রী নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
এর আগে, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন যাত্রী। আরও কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের মাঝ বরাবর সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটির দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মেট্রোরেলে দুর্ঘটনার কারণ মানহীন বিয়ারিং প্যাড ও নকশার ত্রুটি
০১ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। এতে বলা হয়েছে, বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পড়ে যাওয়া দুটি বিয়ারিং প্যাডের মান যথাযথ ছিল না। একইভাবে যে স্থান থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে, সেখানকার ভায়াডাক্টের (উড়ালপথ) নকশাতেও ত্রুটি রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০০৮ শিশু
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০৮ শিশু নিহত হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্টনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
গত এক বছরের সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক বা হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ৫৩৭ শিশু (৫৩.২৭%), পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ শিশু (৪৬.৭২%)।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। পথচারী হিসেবে শিশুরা গ্রামীণ সড়কে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না।
ক্রু ও লোকোমোটিভ সংকটে মাসে বন্ধ থাকছে প্রায় ৬০০ ট্রেন
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন দেড় শতাধিক ট্রেন চলাচলের সূচি। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও যান্ত্রিক অচলাবস্থার ফলে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ সংকট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকোমোটিভ ও ট্রেন ক্রু (চালক, সহকারী চালক ও গার্ড) না থাকায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০০টি ট্রেন বাতিল বা আংশিক চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবার পাশাপাশি রাজস্ব আয়েও বড় ধাক্কা খাচ্ছে রেলওয়ে।
রেলের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই সর্বনিম্ন ১৪টি থেকে সর্বোচ্চ ২৪টি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়েকে। লোকোমোটিভ ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে এসব ট্রেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ৫৪৬টি, অক্টোবরে ৫৮৯টি ও নভেম্বরে বাতিল করা হয় ৫৭৪টি ট্রেন। রেলওয়ের সর্বশেষ সংযোজিত ওয়ার্কিং টাইম টেবিল (ডব্লিউটিটি-৫৪) অনুযায়ী এসব ট্রেন নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা যায়নি। ফলে ট্রেনসংখ্যা অনুযায়ী যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে রেলের হিসাব বিভাগ।
রেলের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে দৈনিক ৫৮টি আন্তঃনগর ট্রেন, ৬০টি কমিউটার ও মেইল ট্রেন এবং ৩৮টি লোকাল ট্রেন চলাচলের কথা। সাপ্তাহিক বন্ধ বাদ দিলে মাসে গড়ে সাড়ে চার হাজার যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সূচি রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, চাঁদপুরসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটকে সংযুক্ত করতে এসব ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাত্রী চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রেলের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক হিসেবেও এসব ট্রেন সার্ভিস বিবেচিত।
রেলওয়ের পরিবহন বিভাগ জানায়, আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেনগুলোই গ্রামীণ ও উপশহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। তবে লোকোমোটিভ ও জনবল সংকটের কারণে ২০২০ সাল থেকে রেলওয়ে ধারাবাহিকভাবে ১৬টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে আরো ছয়টি লোকাল ট্রেন।
ছাদে তালা, ধোঁয়ায় প্রাণ গেল তিন শিশুসহ ছয়জনের
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, সমকাল
‘আমি ছেলে ও স্ত্রীর সঙ্গে এক ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। অন্য ঘরে ছিল আমার মেয়ে রোদেলা। সকালে সে এসে আমাকে বলে, বাবা ওঠো, বিল্ডিংয়ে আগুন লাগছে। তখন ঘরের মধ্যেও অনেক ধোঁয়া ঢুকে পড়েছে। নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। আমি দ্রুত ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে বারান্দায় চলে যাই। আর রোদেলা ওর চাচা ও চাচাতো ভাইকে নিয়ে ছাদে ওঠার উদ্দেশ্যে যায়। কিন্তু ছাদে যাওয়ার দরজায় তালা থাকায় তারা ফিরে আসে। কালো ধোঁয়ায় ঘর অন্ধকার হয়ে পড়ায় কাউকে ঠিকমতো দেখতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে।’
এভাবে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৩৪ নম্বর বাসায় আগুন লাগার ঘটনার বর্ণনা দেন ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেলেও তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেওয়া রোদেলাকে (১৪) বাঁচানো যায়নি। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে সে, তার চাচা হারিছ উদ্দিন (৫২) ও চাচাতো ভাই হিসান উদ্দিন রাহাব (১৭) মারা গেছে। একই ঘটনায় মারা গেছে আরেক পরিবারের তিন সদস্য। তারা হলেন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপক ফজলে রাব্বী রিজভী (৩৮), তাঁর স্ত্রী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আফরোজা আক্তার (৩৭) ও তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান। দুটি পরিবারই ভবনের পঞ্চম তলায় থাকত।
মৃতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা বলছেন, দোতলায় আগুন লাগলেও ধোঁয়ার কারণে মারা গেছেন পঞ্চম তলার বাসিন্দা। ওই সময় ছাদের দরজায় তালা না থাকলে তাদের এমন করুণ পরিণতি হতো না।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ধারণা, রান্নাঘরে গ্যাসের লিকেজ বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
২০২৫ সাল ছিল সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যুর বছর
২১ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে দেশে ৫ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। সংস্থাটির হিসাবে দেশের সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত বছর। সরকারি হিসাবে এমন সময়ে সড়কে বছরে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হলো যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার, যে অভ্যুত্থানের বীজ ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে প্রোথিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দেশে বিশৃঙ্খল সড়ক পরিবহন খাত সংস্কারের একটা বড় সুযোগ ছিল বর্তমান সরকারের হাতে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তা করতে পারেনি, উল্টো এ সময়ে সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে।
গ্রামে যেতে ট্রেনের টিকিট করেছিলেন আশফাক, রাজধানীতে মাথায় রড পড়ে নিহত
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
নিজের সংগঠনের আয়োজনে ফুটবল টুর্নামেন্টে উপস্থিত থেকে আজ শুক্রবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণের কথা ছিল আশফাক চৌধুরীর (৪০)। এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার টিকিটও কেটেছিলেন। কিন্তু সেটি আর হলো না। জীবিত নয়, গ্রামে ফিরছে তাঁর লাশ।
নিহত আশফাক চৌধুরী (৪০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মো. নাদেরুজ্জামান চৌধুরী বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি ভবনের নিচ দিয়ে হেঁটে নিজের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন আশফাক চৌধুরী। এ সময় ভবনের ওপর থেকে একটি রড নিচে পড়ে তাঁর মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আশফাক চৌধুরী গুলশানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক কন্যাসন্তান, মা–বাবা, ভাই–বোনসহ বহু আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
কনকর্ডের বিরুদ্ধে মামলা; তারা বলছে, রড পড়েছে অন্য ভবন থেকে
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
রাজধানীর গুলশানের একটি ভবন থেকে রড পড়ে মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।
মামলায় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠাতা কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন (৭২) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামালকে (৪৫) আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনা নিয়ে কনকর্ড গ্রুপ বলেছে, যে রডের আঘাতে আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে, সেটি তাদের ভবন থেকে পড়েনি। অন্য একটি ভবন থেকে রডটি পড়েছে। ঘটনার সময় সেই ভবনের সামনের ফুটপাতে ছিলেন আশফাকুজ্জামান।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান-১ নম্বরে ভবন থেকে একটি রড মাথায় পড়ে মারা যান আশফাকুজ্জামান। তিনি গুলশানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামে। পরদিন শুক্রবার নিহত ব্যক্তির শ্বশুর মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, এটি চূড়ান্ত ধরনের দায়িত্বে অবহেলা এবং অপরাধমূলক গাফিলতির ফল। এই দায় কোনোভাবেই এড়ানোর সুযোগ নেই।
মামলার এজাহারে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী ২২ জানুয়ারি বেলা ২টা থেকে ২টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গুলশান থানার ১৪০ নম্বর সড়কের ২২ নম্বর বাড়ির সামনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নির্মাণাধীন ভবনের ওপর থেকে একটি রড নিচে পড়ে তাঁর মাথায় ঢুকে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় আশফাকুজ্জামানকে তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রড পড়েছে অন্য ভবন থেকে: কনকর্ড
মামলায় নির্মাণাধীন ২৫তম কনকর্ড এমবিআই স্কাইলাইন ভবন থেকে রড পড়ার কথা বলা হলেও কনকর্ড গ্রুপ বলেছে, রডটি পড়েছে সামনের ভবন থেকে। আশফাকুজ্জামান চৌধুরী সেই ভবনের সামনের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজ দুপুরে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কনকর্ড গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে লিখিত বক্তব্যে কনকর্ড বলেছে, ঘটনার সময় ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনের অংশে ফুটপাত বরাবর ঝুলন্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্লাস ক্লিনিংয়ের (কাচ পরিষ্কার) কাজ চলছিল, যা অত্যন্ত অনিরাপদভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। সেই সময় ওপর থেকে একটি ছোট রডের টুকরা উলম্বভাবে পড়ে একজন পথচারীর মাথায় আঘাত করে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পররাষ্ট্র বিষয়ক
চুক্তির কারণে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের গম কিনছে বাংলাদেশ
২৭ অক্টোবর ২০২৫, ডেইলিস্টার বাংলা
বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে গম আমদানি করছে। কারণ রাশিয়ান গমের দাম কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি রক্ষা করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানান।
বর্তমানে মার্কিন ও রাশিয়ান গমের দামের পার্থক্য প্রতি টনে ৭৫ থেকে ৮০ ডলার। বাংলাদেশ প্রতি টন আমেরিকান গম ৩০৮ ডলার দরে কিনছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ২২৬ থেকে ২৩০ ডলারে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ৫৭ হাজার টন গমের প্রথম চালান এসে পৌঁছেছে। এটি ৪ লাখ ৪০ হাজার টন গম কেনার চুক্তির অংশ।
চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য অধিদপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই গম কেনা হয়েছে।
এয়ারবাস কেনার সঙ্গে যুক্ত জিএসপি প্লাস সুবিধা
২৭ নভেম্বর ২০২৫, সমকাল
ঢাকায় জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ জানান, ইউরোপ থেকে এয়ারবাস কেনা না হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের উড়োজাহাজ কেনার সঙ্গে ইউরোপের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ব্যবস্থা জিএসপি প্লাস সরাসরি হুমকি না হলেও এর সঙ্গে যুক্ত বলে স্মরণ করিয়ে দেন। গতকাল ডিক্যাব টকে এ বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ড. রুডিগার লোটজ। বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানি, ইউরোপের সম্পর্কসহ সমসাময়িক বিষয়গুলোতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে ডিক্যাব টকে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন।
বাংলাদেশ ইউরোপ থেকে এয়ারবাস না কিনলে সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব থাকবে কিনা– উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাস না কিনলে তা আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি, আমরা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার।
গুলি করে বাংলাদেশি যুবককে হত্যা, বিএসএফ বললো অনিচ্ছাকৃত
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ইত্তেফাক
সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে শনিবার (২৯ নভেম্বর) শহিদুল ইসলাম (৩৭) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ঘটনা ‘অনিচ্ছাকৃত’ বলে দাবি করেছে বিএসএফ। তাদের দাবি, আচমকা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে গুলি বের হয়ে গেলে বাংলাদেশি ওই যুবক নিহত হন। নিহত শহিদুল চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ বিএসএফের মাটিয়ারী সীমান্ত চৌকি (বিওপি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে রোববার (৩০ নভেম্বর) বিএসএফের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করে দাবি করে, অনিচ্ছাকৃতভাবে আচমকা বন্দুকের ট্রিগারে চাপ পড়ে গুলি বের হয়ে যায়। ফলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়।
কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহত
০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে সুখীরাম উরাং (২৫) নামের বাংলাদেশি এক তরুণ নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুখীরামের বাড়ি কর্মধার মুরইছড়া বস্তি এলাকায়।
স্থানীয় লোকজনের বরাতে কুলাউড়া থানা-পুলিশ জানায়, সুখীরাম বেলা দেড়টার দিকে মুরইছড়া সীমান্তের ১ হাজার ৮৪৪ ও ১ হাজার ৮৪৫ নম্বর মূল সীমান্তখুঁটি এলাকায় গরু চরাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে বিএসএফ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পিঠে গুলি লাগলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে বদলাচ্ছে আইন, আয় কমবে রাষ্ট্রীয় বিমা সংস্থার
০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অপ্রকাশযোগ্য চুক্তির শর্তের কারণে বিমা করপোরেশন আইন থেকে পুনর্বিমা (রি-ইনস্যুরেন্স) বিষয়ক ধারা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধারাটি বাতিল হলে ব্যবসা কমবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের। এ কারণে তারা উদ্বিগ্ন।
একটি বিমা কোম্পানি যখন দাবি পরিশোধে নিজের ঝুঁকি কমাতে অন্য একটি সংস্থা বা পুনর্বিমা কোম্পানির কাছে প্রিমিয়াম দেওয়ার ভিত্তিতে ঝুঁকির অংশবিশেষ বিক্রি করে, সেটাই হচ্ছে পুনর্বিমা।
বর্তমানে দেশের ৪৫টি বেসরকারি সাধারণ বিমা (নন-লাইফ) কোম্পানিকে ৫০ শতাংশ পুনর্বিমা বাধ্যতামূলকভাবে রাষ্ট্রীয় একমাত্র পুনর্বিমাকারী সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনে করতে হয়।
বাকি ৫০ শতাংশ পুনর্বিমা সাধারণ বীমা করপোরেশন অথবা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানে করার সুযোগ রয়েছে।
বাধ্যতামূলকভাবে পুনর্বিমার সুবিধা পাওয়ার মাধ্যমে সাধারণ বীমা করপোরেশন যে আয় করে, তার অর্ধেক দেশের ৪৫টি নন-লাইফ বিমা কোম্পানিকে ভাগ করে দিতে হয়। ফলে লাভবান হয় সাধারণ বীমা করপোরেশন ও দেশের সব বেসরকারি নন-লাইফ বিমা কোম্পানি।
এর বাইরে সাধারণ বীমা করপোরেশনের আয় কমার আরেকটি আশঙ্কার দিক রয়েছে। সেটি হলো, বর্তমানে সরকারি সম্পত্তি বা বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বাধ্যতামূলক পুনর্বিমা করতে হয় সাধারণ বীমা করপোরেশনে। সেটাও উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনের খসড়ায়।
উন্মুক্ত হলে বিদেশি কোম্পানির ব্যবসা বাড়বে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসার সুযোগ বাড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি উন্মুক্ত করার শর্ত দিয়েছে।
নতুন আইনের খসড়া নিয়ে উদ্বেগের কথা সরকারকে জানিয়েছে সাধারণ বীমা করপোরেশন। তারা গত ১১ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে চিঠি দিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পুনর্বিমাবিষয়ক ধারাটি বাতিল হলে দেশি কোম্পানিগুলো বিদেশে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী পুনর্বিমা করতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাবে। পুনর্বিমা প্রিমিয়াম পরিশোধে বেড়ে যাবে মানি লন্ডারিংয়ের (অর্থ পাচার) ঝুঁকিও।
গুলশানে ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’র নামফলক উন্মোচন
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
রাজধানীর গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে প্রগতি সরণি পর্যন্ত সড়কটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী অ্যাভিনিউ’। এটি ভারতীয় দূতাবাসের পাশের একটি সড়ক। কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মরণে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
গতকাল মঙ্গলবার গুলশান-২ গোলচত্বরে নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, পূর্ত সচিব নজরুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ আটকে দিয়েছে পুলিশ
১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখী জুলাই ঐক্য নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বাড্ডার হোসেন মার্কেট এলাকায় মিছিলটি আটকে দেয় পুলিশ।
পুলিশ মিছিল আটকে দিলে সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন জুলাই ঐক্যের নেতা–কর্মীরা। এ সময় তাঁদের ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’; ‘ভারতীয় আধিপত্য, মানি না, মানব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উত্তেজনা, ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র আজ চালু থাকবে
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাংলাদেশে ‘ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে নয়াদিল্লির ‘গভীর উদ্বেগ’ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে গতকাল বুধবার তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ঘণ্টা দুয়েক আগে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (আইভেক) কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দেশটির হাইকমিশন।
গতকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচি ছিল। এর মধ্যে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম বেলা দুইটা থেকে বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভেকের কার্যক্রম আজ বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক নিয়মে চালু থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে, তা আবারও সামনে এল। দুই দিনের ব্যবধানে দুই দেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির আবহ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক
একই দিনে পাল্টাপাল্টি হাইকমিশনার তলবের ঘটনা এটাই প্রথম
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকাল মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। দিনের শুরুতে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এর জের ধরে এদিন বিকেলে দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে।
গত ১০ দিনে এ নিয়ে দুই দেশ দুবার করে পরস্পরের কূটনীতিককে তলব করে নানা ইস্যুতে প্রতিবাদ আর উদ্বেগ জানাল। গত ১৬ মাসে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। তবে একই দিনে দুই দেশের দূতকে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এটাই প্রথম।
বাংলাদেশের পাট রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় সংকটে ভারতের পাটকল, পাল্টা বীজ রপ্তানি বন্ধের সুপারিশ
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ কাঁচা পাট রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পাটকলগুলো বা চটকলগুলো তীব্র সংকটে পড়েছে। শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাঁচা পাটের দাম প্রতি টন ১ লাখ ১০ হাজার রুপি ছাড়িয়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মিলগুলোর একাংশ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার আশায় ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা পাট ছাড়তে চাইছেন না। পশ্চিমবঙ্গ ভারতের প্রধান পাট উৎপাদনকারী ও পাটশিল্প কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি শিল্পাঞ্চলে পাটকলগুলো বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র ১০ থেকে ১৫টি শিফটে চলছে, যা টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম। কাঁচা পাটের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং অনিশ্চিত প্রাপ্যতার কারণে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকা মিলগুলোও কাঁচামাল ধরে রাখছে।
দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতের ১৪ জন নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে (পুশ ইন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। ওই ১৪ জন বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে আছে।
ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন শিশু, পাঁচজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ আছেন। তাঁরা নিজেদের ভারতের ওডিশা রাজ্যের জগৎসিংহপুর জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছেন।
৬ বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পরিচালক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে ঘন কুয়াশার সুযোগে দর্শনা নিমতলা সীমান্ত গেট খুলে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশ ইন করে বিএসএফ। যাদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক নাগরিকও আছেন। ১৪ জনের সকলেই অবাঙালি। বাংলাদেশে তাঁদের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কেউ নেই। এর আগে এই ১৪ জনকে গত ২৩ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তিনি বলেন, পুশ ইনের ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট ছাড়াও বিজিবি বিএসএফ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ভারতে ফেরত পাঠানো হবে।
সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সমকাল
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধমূলক ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে নিছক গণমাধ্যমের অতিরঞ্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এমন কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
ঢাকায় তালেবানের শীর্ষনেতা, ঘুরছেন হুজি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা স্ট্রিম
আফগানিস্তানে তালেবানের শীর্ষস্থানীয় নেতা মোল্লা নুর আহমদ নুর ঢাকায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট পলিটিক্যাল ডিভিশনের এই মহাপরিচালক মোল্লা জাওয়ান্দি নামে পরিচিত। এক সপ্তাহ ধরে তিনি ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসা সফর করছেন, অংশ নিচ্ছেন নানা কর্মসূচিতে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোল্লা জাওয়ান্দির সফর সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে জাওয়ান্দির কার্যক্রমের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন তারা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানান, সরকারকে জানিয়ে মোল্লা জাওয়ান্দি বাংলাদেশে এসেছেন– এমন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। যোগাযোগ করলে বাংলাদেশের আফগান দূতাবাসও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি।
তালেবান সরকারের এশিয়াবিষয়ক নীতিনির্ধারণে মোল্লা জাওয়ান্দিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা হয়। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে ‘বিশেষ সফরে’ তিনি খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ঢাকার কয়েকজন রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁকে ঘিরে নিষিদ্ধঘোষিত হরকাতুল জিহাদের সন্দেহভাজন একাধিক শীর্ষনেতাকেও দেখা গেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে আন্দোলনমুখর দেশ। নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে মোল্লা জাওয়ান্দির সফর নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা।
মোল্লা জাওয়ান্দির বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলমকে একাধিকবার কল দিলেও তাঁরা সাড়া দেননি। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে কারও সফর সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। সফরের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মকর্তারা সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরোধ জানান। কিন্তু মোল্লা জাওয়ান্দির বিষয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।
ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭%, সংকটে দেশের সুতাকল: বিটিএমএ সভাপতি
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, প্রথম আলো
ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি হওয়ায় দেশীয় সুতার কল (স্পিনিং মিল) বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
বিটিএমএর সভাপতি বলেন, গত অর্থবছরে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। মূলত ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছে বাংলাদেশে। সে কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৫০টি সুতাকল বন্ধ হয়ে গেছে। এসব মিলে ৫০০-৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল। নতুন করে এসব সুতাকল চালু করা কঠিন।
বিটিএমএর সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা সুতার জন্য ভারতের ওপর অতিনির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অতীতে একাধিকবার ভারত বিনা কারণে তুলা রপ্তানি বন্ধ করেছে। সুতা রপ্তানিও বন্ধ করেছে।’ এই অতিনির্ভরতা ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনবে বলে তাঁর শঙ্কা।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আজ রোববার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ।
ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠকের কথা জানালেন জামায়াত আমির
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকা পোস্ট
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ঐক্য সরকার গঠনের কথা চিন্তা করছেন। এছাড়া এক ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি। জামায়াত আমির দাবি করেছেন, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই তাকে বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছেন। এজন্য এটি গোপন রাখা হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে; নয়াদিল্লি এমন সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। দিল্লির এই তৎপরতার মাঝেই চলতি বছরের শুরুর দিকে জামায়াতের আমীরের সঙ্গে ভারতীয় একজন কূটনীতিক বৈঠক করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেখানে প্রকাশ্যেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, সেখানে ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন।
তবে ভারতীয় কূটনীতিক কেন বৈঠক গোপন রাখতে বলেছেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, “কেন (বৈঠক গোপন রাখব)? অনেক কূটনীতিক আমার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সেগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল৷ (ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ করলে) সমস্যা কি?
ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমাদের সবাইকে অবশ্যই একেঅপরের সঙ্গে খোলামেলা হতে হবে। আমাদের সম্পর্ক ভালো করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।”
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে জামায়াত আমিরের সঙ্গে তাদের কূটনীতিকের বৈঠকের বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেনি তারা। কিন্তু ভারত সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, জেএফ–১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের
০৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানের মধ্যে বৈঠকে ঢাকার কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রিসহ সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসলামাবাদ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠার মধ্যে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দুই দেশের বিমানবাহিনীর প্রধানদের ওই আলোচনার কথা জানিয়েছে।
গত বছর মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা আদায় করতে চাইছে পাকিস্তান। পরমাণু শক্তিধর দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ওই যুদ্ধ ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত।
জেএফ-১৭ থান্ডার হলো চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করা একটি ‘মাল্টি-রোল’ যুদ্ধবিমান। এর আগে ২০১৯ সালেও ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সময় এই যুদ্ধবিমান সক্ষমতা প্রমাণ করে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ফেলানীর মা-বাবা ১৪ বছর ধরে বিচারের আশায়
০৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
‘ভারত-বাংলাদেশ দুই দ্যাশে মেয়ে হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে কতবার গেলাম। কিন্তু বিচার পাইলাম না।…নির্বাচনে যে সরকারই আসুক, আমি ফেলানী হত্যার বিচারটা আগে দেখতে চাই। আমি ফেলানী হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।’
সীমান্তে ফেলানী খাতুন হত্যার ১৪ বছর পরও বিচার না পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পাঁচ ঘণ্টা তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পার হলেও এখনো বিচার পায়নি তাঁর পরিবার। ভারতের উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকায় দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন ফেলানীর মা–বাবা।
সাড়ে সাত বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরে এল যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা
০৭ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
প্রায় সাড়ে সাত বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক জাহাজ ভুট্টার চালান পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সদরঘাটের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ভুট্টার চালানটির খালাস শুরু হয়।
প্রায় ৫৭ হাজার ৮৫৫ টনের এই চালানটি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ডলার বা প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা। চালানটি আমদানি করেছে পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিন কোম্পানি নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ ও নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ জুলাই ৫৪ হাজার টনের একটি চালান এনেছিল শ্রীপুরের এজি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি উপলক্ষে কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে ‘দ্য রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর
১০ জানুয়ারি ২০২৬, আজকের পত্রিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজার স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে (আইএসএফ) অংশগ্রহণে ‘নীতিগত আগ্রহ’ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এ অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ভিসা নীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে গঠিতব্য বাহিনীতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি উত্থাপন করলে যুক্তরাষ্ট্র তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
নির্ভরতা কমানোর ডাক দিয়ে ভারত থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, বণিক বার্তা
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় ৮ তারিখ। সেপ্টেম্বরে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ভারতে তার (শেখ হাসিনা) অবস্থানের কারণে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে না।’ এরপর বিভিন্ন সময় সরকারসংশ্লিষ্ট অনেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতনির্ভরতা কমিয়ে আনার কথা বলেন। ডিসেম্বরে খাদ্য উপদেষ্টা জানান, ভারতের পাশাপাশি সরকার টু সরকারের মাধ্যমে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হবে। সে মাসেই আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খোঁজার কথা জানায় ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করা হয় গত বছরের এপ্রিলে। এছাড়া দেশটি থেকে নিউজপ্রিন্ট, গুঁড়া দুধ, সাইকেল ও মোটর পার্টস, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, টাইলসসহ আরো অনেক পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় এনবিআর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বানও ওঠে বিভিন্ন ইস্যুতে। তবে গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এসবের কোনো প্রভাব ভারত থেকে আমদানিতে পড়তে দেখা যায়নি। বরং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ (গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত) থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পণ্য আমদানির প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে ভারত থেকেই গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হয়েছে এবং সেটা ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রয়েছে ভারত থেকে সরকারি ক্রয়েরও।
এক সময় নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
২২ জানুয়ারি ২০২৬, বাংলা স্ট্রিম
ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী আগামী মাসের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করতে যাচ্ছে—এমনটা আঁচ করতে পেরে মার্কিন কূটনীতিকরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী দলটিকে দেশটির ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া কঠোরশাসক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ঐতিহাসিকভাবে দলটি শরিয়া আইন প্রবর্তন এবং নারীদের ঘরের কাজের ও সন্তানদের দেখাশোনার সুবিধার্থে তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার পক্ষে কথা বলে আসছিল। তবে সম্প্রতি তারা নিজেদের ভাবমূর্তি কোমল করতে এবং জনসমর্থন বাড়াতে সচেষ্ট হয়েছে। বর্তমানে তারা বলছে যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা।
বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মার্কিন কূটনীতিকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা পুনরুত্থিত এই ইসলামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, গত ১ ডিসেম্বর ঢাকাভিত্তিক একজন মার্কিন কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন যে, দেশটি এখন ‘ইসলামী ধারায় মোড় নিয়েছে’। ওই কূটনীতিক ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ‘আগে কখনো যা করতে পারেনি, তেমন ফলাফল (সেরা ফল) করবে।’
‘আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই,’ উল্লেখ করে ওই কূটনীতিক সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, তারা জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের টকশো বা প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানাবেন কি না। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? তারা কি আপনাদের শো-তে আসবে?’
নিরাপত্তার খাতিরে ওয়াশিংটন পোস্ট ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে জোরপূর্বক কঠোর ইসলামী আইন বা শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারে—এমন উদ্বেগ তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের হাতে এমন প্রভাব বা ‘লিভারেজ’ আছে যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে প্রস্তুত। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমি মোটেও বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়া চাপিয়ে দিতে পারবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, দলটির নেতারা যদি উদ্বেগের কারণ হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ‘১০০ শতাংশ ট্যারিফ বা বাণিজ্য শুল্ক’ আরোপ করবে।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির প্রস্তাব অনুমোদন উপদেষ্টা পরিষদে
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই চুক্তি অনুমোদিত হয়। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপান এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক। উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুফল বয়ে আনবে। এই চুক্তির ফলে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি এবং উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষর করতে ৪ ফেব্রুয়ারি টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, বিজেইপিএর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত হবে জাপানের জন্য। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হবে জাপানের ১২০টি উপখাত আর চুক্তি সইয়ের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে বিজেইপিএর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দর-কষাকষির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তখন গঠন করা হয় যৌথ গবেষণা দল। ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর যৌথ গবেষণা দল তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি খাত অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে দর-কষাকষি পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ উভয় দেশ দর-কষাকষি শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণে এই দর-কষাকষি প্রক্রিয়া কয়েক মাস থমকে থাকলেও ওই বছরের নভেম্বর থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দর-কষাকষির কার্যক্রম নতুন করে শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে চুক্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এরপর দুই পক্ষের আলোচনা চলতে থাকে। ঢাকায় দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনা শুরু হয় ২০২৪ সালের ১০ থেকে ১৪ নভেম্বর। টোকিওতে তৃতীয় রাউন্ড আলোচনা হয় ওই বছরের ১৯ থেকে ২০ ডিসেম্বর।
জানা যায়, ২০২৫ সালে আলোচনা হয় চারটি। ঢাকায় চতুর্থ রাউন্ডের আলোচনা হয় গত বছরের ২ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি। টোকিওতে পঞ্চম রাউন্ডের আলোচনা হয় ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল। ঢাকায় ষষ্ঠ রাউন্ডের আলোচনা হয় ২১ থেকে ২৬ জুন এবং এ আলোচনায় চুক্তির বিষয়গুলো স্পষ্ট রূপ নিতে শুরু করে। টোকিওতে ৩ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সপ্তম ও চূড়ান্ত রাউন্ডের আলোচনা শেষে উভয় দেশ চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা বিজেইপিএ দর-কষাকষির দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ৭ নভেম্বর জাপান অবশ্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) দেওয়া এক নোটিফিকেশনে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি ও এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলোকে জিএসপি সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছে, যে সুবিধা বাংলাদেশও পাবে। সে বিবেচনায় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চুক্তি করতে এত তাড়াহুড়া করার দরকার ছিল না।
দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, প্রথম আলো
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একটি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাতে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে স্পষ্ট উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার বদলে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এটা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করছে।
বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
