জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার

জনগণের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার

গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। এতে জাতি-ধর্ম-লিঙ্গ-বিশ্বাস-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে মানুষের জীবনের শান্তি-স্বস্তি নিরাপত্তার সংকটগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৫ দফার ইশতেহারের সংক্ষিপ্তরূপে এখানে প্রকাশ করা হলো। 

১. বিচার ও স্বচ্ছতা : জুলাইয়ে অভ্যুত্থানকারী শহীদ ও আহত এবং হামলাকারী পক্ষের নিহত ও আহতের তালিকা চূড়ান্ত করা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একই সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়াকে ব্যবহার করে যেকোনরকম তদবির, দুর্নীতি, ক্ষমতা প্রদর্শনকে আইন করে নিষিদ্ধ করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটা প্রতিটি মব সন্ত্রাস ও হামলার বিচার, ওসমান হাদী, দীপু চন্দ্র দাশ, আয়েশাসহ সকল খুনের বিচার।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও ফুলবাড়ীর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও গুরুতর আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান। ফুলবাড়ী গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে করা মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা বাতিল।  

৭১ সালের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী/মানবতাবিরোধী অপরাধ করা আলবদর ও রাজাকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা। ৭১ এবং ২৪ এর জন্য যথাক্রমে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা। অপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা।

২. জননিরাপত্তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জবাবদিহি: রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে সংঘটিত পর পর তিনটি গুম কিংবা বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড ঘটামাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার বিধান। কোন এলাকায় এক বছরে তিনটির অধিক কোন খুন/ ধর্ষণ এর ঘটনায় অপরাধীকে ধরতে ব্যর্থ হলে সেই থানার ওসিকে প্রত্যাহার করার বিধান।

বিচার বিভাগে বিচারক কর্তৃক রিমান্ডে পাঠানো, জামিনযোগ্য মামলায় জামিন না দেয়া এবং যেকোনো মামলার রায় প্রদান বিষয়ক প্রতিটি বিচারকাজের ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষণ ও সেটি জনগণের জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত করার বিধান রাখা। বাংলা ভাষায় বিচারের রায় ও সহজবোধ্য ভাষায় আইনের ভাষ্য প্রণয়ন করা। র‌্যাব বিলুপ্ত করা. বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিষিদ্ধ করা।

৩. নির্বাচনে বৈষম্য দূরীকরণ প্রার্থীকে পছন্দ না করার অধিকার: শূন্য জামানতের বিধান। সকলের জন্য সমান প্রচারের সুযোগ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিটি আসনে চারটি করে নির্বাচনী প্রচারের সমাবেশ পরিচালিত করা। সকল আসনে ‘না ভোটের’ব্যবস্থা যুক্ত করা।

৪. বাজেটের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ন্যায্যতা: জনগণের সামনে প্রতিটি পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের বিস্তারিত আদ্যোপান্ত হিসাব সরকারকে দাখিল করতে হবে। টেন্ডার পাস হওয়ার পর প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান বা ডিপিপি উন্মুক্ত করতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার বাধ্যবাধকতা।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ রাখার বাধ্যবাধকতা তৈরি। পরোক্ষ করের পরিমাণ কমিয়ে বাজেটের আয়ের সিংহভাগ প্রত্যক্ষ আয়কর থেকে সংগ্রহ করার বিধান তৈরি।

৫. অর্থনীতির নিরাপত্তা: আর্থিক খাতের অপরাধীদের বিচার ও পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনা। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ অর্থযোগানদাতা সংস্থার প্রকল্প নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন, এসব সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তাদের উপর নির্ভরশীল অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করার কাজ শুরু করা। কার্যকর গণশুনানি ছাড়া তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বন্ধ করা।

৬. কৃষক, পোল্ট্রি খামারি, মৎস্যচাষী জেলে এবং ভোক্তাদের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা: প্রতি ইউনিয়নে ন্যায্য মূল্যে ফসল, ডিম, মাছমুরগী সংগ্রহে সরকারি সুপারসেন্টার। ভোক্তার জন্য প্রত্যেক স্থানীয় কাঁচাবাজারে ন্যায্য মূল্যের সরকারি সুপারস্টোর। লাভজনকভাবে সুপারসেন্টার ও সুপারস্টোর চালিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রত্যেক জেলায় হিমাগার। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কৃষি ও প্রাণীজ সম্পদ উৎপাদনে বিশেষ প্রণোদনা ও ভর্তুকি।

কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার বন্ধ। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যবান্ধব কৃষি, পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষের জন্য বিকল্প জাতীয় মহাপরিকল্পনা। নদী কিংবা হাওড়ে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেয়া বন্ধ করা।

৭. শ্রমিক কর্মজীবীদের অধিকার: ন্যূনতম জাতীয় মজুরী ও ন্যূনতম বেকার ভাতা চালু করা। প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের আইনী বাধ্যবাধকতা। অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার। শিল্প পুলিশ বাতিল করা। কলকারখানা পরিদর্শন অধিপ্তরকে প্রয়োজনীয় লোকবল ও বাজেট দেয়া।

কর্মস্থলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ। নারী ও পুরুষের মজুরী বৈষম্য  দূর করা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করা।

৮. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা: অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরকেও পর্যায়ক্রমে চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে কাজ করার ব্যবস্থা তৈরি। পর্যায়ক্রমে সেক্টর ভিত্তিক ন্যূনতম মজুরী ঘোষণা।   

৯. ফ্রিল্যান্সারদের ন্যূনতম নিরাপত্তা: অনলাইন প্লাটফর্মে কর্মরতদের গিগ শ্রমিক বা প্লাটফর্ম শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন/হালনাগাদ করা। গিগ প্লাটফর্মগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

১০. প্রবাসী শ্রমিকের নিরাপত্তা: মানব পাচার, শ্রমিক নির্যাতন, বিশেষত নারী শ্রমিকেরা যেভাবে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হন তার বিরুদ্ধে দৃঢ় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ। প্রবাসী শ্রমিকেরা মারা গেলে তাদের লাশ দেশে আনতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান। এয়ারপোর্টে প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তি দূর করা।

১১. দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা: দেশীয় শিল্পখাতের বিকাশের জন্য কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবিলম্বে বন্ধ হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল, চিনিকলগুলোকে সঠিক পরিকল্পনার আলোকে চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ। ভাসমান বা অস্থায়ী হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, টং দোকানদারকে চাঁদাবাজী ও নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা। প্রতিটি এলাকায় হকারদের জন্য এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা।     

১২. শিক্ষা, শিক্ষার্থী শিক্ষক: মাতৃভাষায় শিক্ষা। সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, এমপি, আমলা, সরকারি চাকরিজীবীর সন্তানের শিক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে । সকল জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ, তরিকা, বিশ্বাস, লিঙ্গীয় পরিচয় বিবেচনায় রেখে অন্তর্ভুক্তিমুলক বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন। প্রতিটি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব বন্ধ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক ক্যাম্পাস চার্টার ঘোষণা।

১৩. চিকিৎসার নিরাপত্তা স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বাধীনতা: সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে । সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোন প্রাইভেট হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টার/ক্লিনিক গড়ে তোলা যাবে না। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় ১টি করে ৫০০ শয্যবিশিষ্ট হাসপাতাল, ১টি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ১টি হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সারাদেশে বিদ্যমান কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত লোকবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ করা।

দেশের প্রতিটি শহরের বড় রাস্তায় প্রতি এক কিলোমিটার অন্তর বিনামূল্যে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ এবং পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। 

১৪. প্রাণ-প্রকৃতি পরিবেশের নিরাপত্তা: প্রাণ-প্রকৃতিবিরোধী সকল প্রকল্প বাতিল করা। শহরের রাস্তায় ফলের গাছ লাগানো। বায়ুদূষণ ঠেকাতে প্রতিটি ইটভাটায় দূষণরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। ময়লার ডাম্পিং স্টেশনগুলোকে ‘ওয়েস্ট টু পাওয়ার’ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। 

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ঠেকাতে গ্রাম, পাহাড় ও শহর সর্বত্র বৃষ্টির পানিকে মাটির নিচের অ্যাকুইফারে বা ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাহাড়ে কারা কতখানি জমি দখল করেছে, পরিবেশ ধ্বংস করেছে তার শ্বেতপত্র প্রকাশ।

১৫. বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা: রামপাল, রূপপুরসহ প্রাণ-প্রকৃতি এবং জননিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে এমন সকল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করতে হবে। এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে চালু হওয়া প্রকল্পের ক্ষেত্রে ফেইজ আউট প্ল্যান করতে হবে। রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ। এসকল প্রকল্পে দায়মুক্তির যে বিধান রয়েছে সেটাকে বাতিল করতে হবে।

আদানিসহ বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি বাতিল করতে হবে। বিদেশি ঋণনির্ভর, আমদানি নির্ভর, বিদেশি কোম্পানি নির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাতিল করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন। ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাপেক্সের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত জ্বালানি অপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

১৬. নিরাপদ সড়ক: বাস ও ট্রাক ড্রাইভারদের বেতনভুক্ত স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ। ভিআইপি রোডের অবসান। দেশের সকল মহাসড়কে সড়ক বিভাজক বসানো।    

১৭. বাকস্বাধীনতার নিরাপত্তা: সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ৭৪ এর বিশেষ ক্ষমতা আইন, শ্রমিক পরিষেবা বিলসহ মতপ্রকাশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী নিবর্তনমূলক সকল আইন বাতিল করতে হবে। মতপ্রকাশ, সভা-সমাবেশ-মিছিল, বিক্ষোভ-ধর্মঘট, মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

১৮. জনগণের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক: ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব, ইইউ ও জাপানের সাথে সম্পাদিত সকল সামরিক-বেসামরিক চুক্তি প্রকাশ। গোপন চুক্তি করার চর্চা বন্ধ করা। জনস্বার্থবিরোধী ও অসম চুক্তিগুলো বাতিল করা। সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং পানি সমস্যা সমাধানে কার্যকর কূটনৈতিক ও অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ।

ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সুদান, ভেনেজুয়েলাসহ বিশ্বের সকল স্থানে আগ্রাসন, যুদ্ধ, নিপীড়ন, গণহত্যা ও দখলদারিত্বের সক্রিয় বিরোধিতা করতে হবে।

১৯. আবাসনের নিরাপত্তা: পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কোন গৃহহীন মানুষকে রাস্তা, রেলস্টেশন, বাসস্টপেজ, বস্তি বা ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। ঢাকাসহ দেশের সব শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে নিরাপদ করতে হবে। আবাসিক ভবনের নিচে কেমিকেলের গুদাম কিংবা সিলিন্ডারের গুদাম স্থাপনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০. বিনোদনের নিরাপত্তা স্বাধীনতা: মাঠ-পার্ক পর্যটনস্পটসহ সকল জনপরিসরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। প্রতিটি শহরে বেদখল হওয়া সকল জনপরিসর পুনরুদ্ধার। নারীসহ সকলের খেলাধূলার সুযোগ নিশ্চিত করা।

২১. সাংস্কৃতিক ধর্মীয় নিরাপত্তা: সারাদেশে সব ধরনের গান ও নাচের অনুষ্ঠান, কনসার্ট, আর্ট ক্যাম্প, ওরস, কীর্তন, পূজা, মেলা, মাজার, দরবারশরীফ ও মিলাদ মাহফিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক এসব ক্ষেত্রে যত হামলা হয়েছে তার হামলাকারী, হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। সকল অঞ্চলের শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংষ্কৃতিক তৎপরতার উদ্যোগ বাড়াতে হবে। স্কুলে বাদ্যযন্ত্র, সঙ্গীত ও ছবি আঁকার শিক্ষক ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যায়ে পাঠাগার স্থাপন।

২২. সকল জাতির স্বীকৃতি,  নিরাপত্তা গণতান্ত্রিক অধিকার: পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পাহাড়ে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলা অগ্নিসংযোগসহ সকল খুন অপহরণ হয়রানির বিচার হতে হবে। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসী বা প্রতিটি জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে এবং তাদের ভূমি সমস্যার সমধানের জন্য কাজ শুরু করতে হবে। বিনা বিচারে প্রায় সাড়ে ছয়শো দিন ধরে আটক নিরীহ বম নাগরিকদের অনতিবিলম্বে ‍মুক্তি দিতে হবে।

২৩. নারীর নিরাপত্তা অধিকার: সম্পত্তিতে সমান অধিকার পাওয়ার সর্বজনীন সুযোগ রাখা (ধর্মীয় আইনের আওতায় থাকতে ইচ্ছুকদের জন্য সেই সুযোগ রাখা)। সকল প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠনে হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা কার্যকর করা। 

সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় মাতৃত্বকালীন ৬ মাসের ছুটি নিশ্চিত করা। সকল সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় কার্যকর ডে কেয়ার নিশ্চিত করা। সন্তানের অভিভাবকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে মায়েদের জন্য সকল প্রকার আইনী জটিলতা নিরসন। রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থীকে পরবর্তী নির্বাচন থেকে মনোনয়ন নিশ্চিত করা

২৪. বৈচিত্র্যের ঐক্য: লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকারকে স্বীকৃতি দান। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, জাতিগত, পেশাগত, ধর্মীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা এবং চলাফেরার স্বাধীনতা। বাংলাদেশ যে বহু ভাষার বহু জাতির, বহু ধর্মের দেশ এই মর্মে বৈচিত্র্যের ঐক্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিতভাবে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।

২৫. পোশাকের নিরাপত্তা স্বাধীনতা: ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য অতি সস্তায় টি শার্ট, লুঙ্গি, প্যান্ট, শাড়ী, সালোয়ার কামিজ এবং শীতবস্ত্র কেনার সুযোগ সরকারকে দিতে হবে। পোশাকের কারণে নারী-পুরুষ কিংবা কাউকেই কোন প্রকার হেনস্তা করা, বুলিং করা কিংবা তার উপর হামলা করাকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ঘোষণা দিতে হবে।

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •