বয়ান ভাঙার রাজনীতি: জোহরান মামদানির বিজয়ের নেপথ্য লড়াই
নিশাত তাসনিম
‘আমি এই শহরকে সাশ্রয়ী করতে চাই’, ‘বিনা মূল্যে বাস সার্ভিস চালু করতে চাই’, ‘সর্বজনীন শিশুসেবা (৬ মাস থেকে ৫ বছর) নিশ্চিত করতে চাই’- এই তিনটি দাবি এখন বিশ্বব্যাপী সবারই পরিচিত। যার অবিরাম প্রচারণার মাধ্যমে এই পরিচয়টি ঘটেছে তার নামটি এই সময়ে সারা পৃথিবীতে সর্বাধিক উচ্চারিত নামগুলোর একটি–জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির রাজনীতি ও তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় নিয়েই এই লেখা।
জোহরান মামদানি পৃথিবীর রাজধানী (মূলত পুঁজিবাদের) খ্যাত নিউইয়র্ক শহরের নবনির্বাচিত মেয়র, এক শতকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র, প্রথম এশিয়ান বংশোদ্ভূত, প্রথম মুসলিম মেয়র, আফ্রিকায় জন্ম ইত্যাদি নানা রেকর্ড নিয়ে তিনি এখন মানুষের আগ্রহের তুঙ্গে। কিন্তু এই সব পরিচয়কে ধারণ করেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় যে নাড়াটি দিয়েছেন তা হলো তার আদর্শিক অবস্থান। পুঁজিবাদের রাজধানী, যেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক বিলিয়নিয়ারের বাস, সেই শহরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক আদর্শ হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র। সেই সোভিয়েত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথের সময় থেকে যে শব্দগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অঘোষিত ট্যাবু তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ও বামপন্থা। আগের অনেক নির্বাচনেও দেখা গেছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই শব্দগুলোকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের এই মেয়র নির্বাচনে সেটি করার প্রয়োজন পড়েনি। কেননা, প্রার্থী নিজেই এই পরিচয় প্রকাশ করেছেন।
সেই সোভিয়েত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথের সময় থেকে যে শব্দগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অঘোষিত ট্যাবু তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ও বামপন্থা। আগের অনেক নির্বাচনেও দেখা গেছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এই শব্দগুলোকে ট্যাগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জোহরান তার বিজয়ী ভাষণে উল্লেখ করেছেন যে, তার গড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা তার মা-বাবার, যারা কিনা নিজেদের অবস্থানে নিজ নিজ কাজ দিয়ে প্রসিদ্ধ। অনলাইন ও বিভিন্ন মিডিয়ার প্রচারে এই তথ্যগুলো অধিকাংশ মানুষই এখন জানেন যে, জোহরানের মা হচ্ছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার এবং তার বাবা হচ্ছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি। তাদের প্রসঙ্গ জোহরানের আলোচনায় এই কারণে জরুরি যে বাবার তাত্ত্বিক অবস্থান ও মায়ের শৈল্পিক ক্ষমতা ব্যক্তি জোহরানকে এমন একটি কাঠামো দিয়েছে, যা তাকে মানুষের মধ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। একটি পাবলিক স্কুলে পড়ার সময়েই প্রথম জোহরানের নেতৃত্বের দক্ষতার প্রথম প্রকাশ দেখা যায় ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা আমেরিকান স্কুলে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজনের মধ্যদিয়ে। জোহরানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে তার বাবার তত্ত্বগত কাজ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ ভূমিকা রাখলেও সেগুলো প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে জোহরান তার মায়ের মতোই শিল্পকে বেছে নেন।
আফ্রিকান সংগীত এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের অনুরাগী জোহরান তার প্রথম পরিচয় তৈরি করেন একজন র্যাপার হিসেবে। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া, মা মীরা নায়ারের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘কুইন অব কাটওয়ে’-তে সংগীত পরিচালনার কাজও করেন তিনি। গ্র্যাজুয়েশনের পর থেকেই জোহরান নিউইয়র্ক শহরের নিম্ন আয়ের মানুষদের আবাসন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন। পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে জীবনযাপনের সবচেয়ে ব্যয়বহুল খাত হিসেবে এই ক্ষেত্রে তিনি দেখতে পান প্রতিবছর লাগামছাড়া ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বহু মানুষ গৃহহীন হচ্ছে, শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ব্যয় করে আবাসন বাবদ। ফলে তাদের অন্য মৌলিক প্রয়োজনগুলো অধরা থেকে যাচ্ছে। এখান থেকেই জোহরান আবাসন সমস্যাকে সেখানকার মানুষের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং সেটি নিয়ে কাজ শুরু করেন।
আবাসন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে জোহরানের পরিকল্পনা দেখতে গেলে যেতে হবে তার রাজনৈতিক আদর্শের কাছে। জোহরান নিজেকে একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন এবং সেই আদর্শ থেকে তিনি মনে করেন মানুষের মৌলিক এসব প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সেই জায়গা থেকেই তিনি একটা গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য কাজ শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা (ডিএসএ) নামক একটি সংগঠনকে, যারা সরাসরি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ না করলেও যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় বিভিন্ন ধরনের মার্ক্সবাদীদের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এবং বর্তমানে এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে থেকে এর কাজ পরিচালনা করছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করতে গিয়েই মূলত ডিএসএ-র সঙ্গে তার পাকাপোক্ত যুক্ততা তৈরি হয়।
তিনি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা (ডিএসএ) নামক একটি সংগঠনকে, যারা সরাসরি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ না করলেও যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় বিভিন্ন ধরনের মার্ক্সবাদীদের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে এবং বর্তমানে এটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে থেকে এর কাজ পরিচালনা করছে।
এই কাজের ধারাবাহিকতায় জোহরান ২০২০ সালে নিউইয়র্কের এসেম্বলি নির্বাচনে অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন। এই পুরো সময়টিতে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। জোহরান এসেম্বলি মেম্বার থাকাকালীন ২০২১ সালে নিউইয়র্ক জুড়ে ট্যাক্সি চালকরা ঋণ মওকুফের আন্দোলন করছিল, যার প্রতি প্রচলিত মিডিয়া কিংবা সরকার কেউই দৃষ্টিপাত করছিল না। তখন জোহরান সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন এবং ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে ১৫ দিন অনশন করেন। পৃথিবীর সর্বাধিক বিলিয়নিয়ারের বাসস্থলের একজন এসেম্বলি মেম্বারের ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে বসে অনশন করা তখন ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সেই আন্দোলন জয়যুক্ত হয়। এতে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে জোহরানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। এসেম্বলি মেম্বার থাকা অবস্থায়ও জোহরান সমান তালে তার আবাসন নিয়ে প্রচারণা জারি রাখেন। একাজে তিনি নিজের এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে থাকেন। সেসব প্রচারণায় তিনি শুধু সমস্যা নিয়েই কথা বলতেন না, বরং ঠিক কী মডেলে তিনি এই সমস্যার সমাধান করতে চান তার কিছু বাস্তব উদাহরণও তিনি তুলে ধরতেন। যেমন: ‘দ্য গ্রাভেল ইনস্টিটিউট’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এখন থেকে ৫ বছর আগের এক আলোচনায় ১৯২০-৩০ সালের দিকের অস্ট্রিয়ান সোশ্যালিস্টদের তৈরি সামাজিক আবাসনের উদাহরণ দিয়ে তিনি তার নিজের পরিকল্পনার কথা জানান।
২০২১ সালে নিউইয়র্ক জুড়ে ট্যাক্সি চালকরা ঋণ মওকুফের আন্দোলন করছিল, যার প্রতি প্রচলিত মিডিয়া কিংবা সরকার কেউই দৃষ্টিপাত করছিল না। তখন জোহরান সেই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন এবং ট্যাক্সি চালকদের সঙ্গে ১৫ দিন অনশন করেন।
মার্কিন রাজনীতির মূল ধারায় এখনো যে বর্ণবাদী, শ্রেণিবিদ্বেষী বয়ান প্রচলিত আছে তার বিরুদ্ধে জোহরানের বিজয় একটি দুর্দান্ত জবাব। ‘সমাজতন্ত্রী’ পরিচয়টি সেই স্নায়ুযুদ্ধকালীন থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বিপরীতে ২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের দৌড়ে এই পরিচয়কে নিয়েই বার্নি স্যান্ডার্স অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়েছিলেন, বিশেষত তরুণদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হয় তখন থেকেই। বলা যেতে পারে তারই ধারাবাহিকতায় একই পরিচিতিকে গর্বের সঙ্গে ধারণ করেই জোহরানের এই বিজয়। কিন্তু এর বাইরে বার্নির থেকে জোহরানের পরিচিতি নিয়ে আরও বেশি আক্রমণ এসেছে। কেননা জোহরান ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম, জন্মগত পরিচয়ে আফ্রিকান এবং বংশগত পরিচয়ে ভারতীয়। জোহরান যেন অসমতা পাঠের ‘ইন্টারসেকশনালিটি’র একটি মূর্ত উদাহরণ। তার এই পরিচয়গুলো নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, মিডিয়া থেকে শুরু করে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বিভিন্নজন নগ্ন আক্রমণ করেছে, বিপরীতে জোহরান দৃঢ় কণ্ঠে জানান দিয়েছেন, তার পরিচিতি নিয়ে তিনি গর্বিত এবং এর সব কটি পরিচয়কেই তিনি নির্দ্বিধায় ধারণ করেন।
যেহেতু ইসরায়েলের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইহুদির বাস নিউইয়র্ক শহরে তাই মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিবিদদের ধারণা ছিল ইসরায়েলি গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব থাকা জোহরান কখনোই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হতে পারবে না, কিন্তু বাস্তবতা বরং ভিন্ন। এই দফায় ২০২৩ সালে ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা শুরু করে তখন বৈশ্বিকভাবে প্রথম সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ তোলে ‘জিউইস ভয়েস ফর পিস’ নামে ইহুদিদের একটি প্ল্যাটফর্ম। এই আন্দোলনে জোহরান এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন যে সেখানকার ইহুদি সম্প্রদায়ই পরবর্তী সময়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম কাজে নামে এবং নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যক ইহুদির ভোট পান তিনি।
২০২৩ সালে ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা শুরু করে তখন বৈশ্বিকভাবে প্রথম সবচেয়ে জোরালো প্রতিবাদ তোলে ‘জিউইস ভয়েস ফর পিস’ নামে ইহুদিদের একটি প্ল্যাটফর্ম। এই আন্দোলনে জোহরান এত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন যে সেখানকার ইহুদি সম্প্রদায়ই পরবর্তী সময়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথম কাজে নামে এবং নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যক ইহুদির ভোট পান তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসকরা যখন অভিবাসনবিরোধী নীতি নিয়ে এগোচ্ছে এবং অনেক অভিবাসীকে জোরপূর্বক দেশছাড়া করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে জোহরান তার বহু-সাংস্কৃতিক পরিচয়কেই করেছিলেন তার প্রচারণার শক্তি। পুঁজিবাদের রাজধানী হিসেবে নিউইয়র্কে একটু ভালো জীবনের আশায় পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলের মানুষই বসতি গড়েছেন বিভিন্ন সময়। সে ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিপক্ষ এন্ড্রু কোমোসহ অন্য প্রার্থীদের যেখানে ছিল বিলিয়নিয়ারদের কোটি কোটি ডলারের স্পন্সর, সেখানে জোহরানের প্রচারণার শক্তি ছিল মানুষ, আক্ষরিক অর্থেই মানুষ।
মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বছর খানেক আগে জোহরান একটি প্ল্যাকার্ড ও মাইক্রোফোন হাতে একা দাঁড়িয়েছিলেন রাস্তায়, কথা বলার চেষ্টা করেছেন শহরের বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের সংকট ও প্রত্যাশা নিয়ে, যা ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা। পরবর্তী সময়ে প্রার্থিতা নিশ্চিত হতে হতে পুরো নিউইয়র্কজুড়ে নব্বই হাজারেরও বেশি মানুষ তার প্রচারণায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সেখানে বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের টিনেজার থেকে শুরু করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারতের বয়স্ক আন্টিরা পর্যন্ত দিনরাত এক করে কাজ করে গেছেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি দরজায় গেছেন। জোহরান চেষ্টা করেছেন বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলে তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে। নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নিয়াররা খুল্লামখুল্লা জোহরানের বিরোধিতা করেছে। কেননা, জোহরানের ঘোষণাতেই ছিল যে তিনি বিলিয়নিয়ারদের ওপর কর আরোপ করে সেই টাকা দিয়ে নিউইয়র্কের জীবনযাপন ব্যয় কমাবেন। ঠিক এই দাবিটিই শহরটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছিল। যদিও বিশ্ব মিডিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদরা সব আলোচনায় সামনে রাখতে চেয়েছিল জোহরানের পরিচয়, তার বিশ্বাস, তার জীবন আচরণকে; কিন্তু জোহরান বরাবরই সেই আলোচনাকে নিয়ে গেছেন তার নির্দিষ্ট তিনটি দাবি– আবাসনকে সামর্থ্যের মধ্যে আনা, ফ্রি চাইল্ড কেয়ার এবং ফ্রি বাস সার্ভিসের দিকে। তিনি তার প্রতিশ্রুতিকে বিক্ষিপ্ত না করে এই তিনটি দাবিতে নির্দিষ্ট রেখেছেন এবং কীভাবে এগুলো বাস্তবায়িত হবে তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, যা মানুষকে আস্থার জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছে। জোহরানের নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয়কারী সংগঠন ড্রাম বিটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহাদ আহমেদ বলেন, ‘সাউথ এশিয়ান অনেক ক্যান্ডিডেটই অনেক সময় ভোটে দাঁড়ায়, কিন্তু আমি মনে করি ইস্যুটা পরিচিতির নয়, অনেক বেশি বস্তুগত। ওয়ার্কিং ক্লাস আসলে সিগনিফিকেন্ট ইফোর্ট দিয়েছে।’
বিশ্ব মিডিয়া থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদরা সব আলোচনায় সামনে রাখতে চেয়েছিল জোহরানের পরিচয়, তার বিশ্বাস, তার জীবন আচরণকে; কিন্তু জোহরান বরাবরই সেই আলোচনাকে নিয়ে গেছেন তার নির্দিষ্ট তিনটি দাবি– আবাসনকে সামর্থ্যের মধ্যে আনা, ফ্রি চাইল্ড কেয়ার এবং ফ্রি বাস সার্ভিসের দিকে।
অনেক মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর গণ-অর্থায়ন দিয়ে বিলিয়নিয়ারদের কোটি কোটি ডলারের প্রচারণাকে হারিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেই সম্ভবত পৃথিবীব্যাপী মানুষ এই বিজয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে উদ্যাপন করেছে। নব্য-উদারনীতির এই সময়ে যেহেতু একক রাষ্ট্রে জনগণের লড়াইয়ে জয়লাভের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে তাই মানুষ আশা খোঁজে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ের মধ্যে, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের মতো নীতিনির্ধারণী দেশ তো সেখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটেই পুঁজিবাদের একতরফা জয় দেখতে দেখতে ক্লান্ত মানুষের মনে যেন হঠাৎ এক টুকরো আশার সঞ্চার করেছে জোহরান মামদানির এই বিজয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো সর্বতোভাবে ধনীদের স্বার্থ রক্ষাকারী রাষ্ট্রের একটি শহরের মেয়র হিসেবে প্রত্যাশার পথে জোহরান কতখানি হাঁটতে পারবেন, সেটা বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক এবং সমতার আন্দোলনের জন্য বড় শিক্ষার বিষয় হতে পারে।
নিশাত তাসনিম: সর্বজন অধিকার কর্মী। ইমেইল: tasnim.nishat.ju@gmail.com
তথ্যসূত্র:
https://mamdanipost.com/zohran-mamdani/?utm
https://www.youtube.com/@ZohranforNYC
https://youtu.be/LVuCZMLeWko?si=GAU0A78Y_WmD6fy2
