ভেনেজুয়েলায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন কেন?
মেহেদী হাসান
প্রশ্ন হলো, সর্বজনের সম্পদ দখল নিয়ন্ত্রণের সাম্রাজ্যিক প্রচেষ্টা কি ২০২৬-এর প্রথম থেকেই শুরু হলো? লাতিনসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিকট ইতিহাস তা বলে না। লাতিন আমেরিকার মধ্যে ভেনেজুয়েলা তেল ও মূল্যবান খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ একটি দেশ। এখানে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, স্বীকৃত বিরোধী দল আছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে সরাতে হলে বৈধভাবে নির্বাচনে পরাজিত করাই হলো স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ চায়, রাষ্ট্রক্ষমতা এমন শ্রেণির কুক্ষিগত করে রাখতে যারা বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করবে। কিন্তু হুগো শ্যাভেজের পদাঙ্ক অনুসরণকারী মাদুরো সরকার রাষ্ট্রনীতি, সমাজ ব্যবস্থা এবং জনগণমুখী নীতির ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থকে অস্বীকার করেছে। এখানেই দ্বন্দ্বের সূচনা। ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তাই শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়, বরং বৈশ্বিক পুঁজিবাদী শক্তির প্রভাব বিস্তারের অংশ।
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ সৌদি আরবের রিজার্ভের চেয়ে বেশি। এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে একচেটিয়া বহুজাতিক তেল-গ্যাস এবং টেক জায়ান্ট করপোরেশন এবং তাদের প্রতিনিধি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখন মরিয়া। মাদুরো ক্ষমতায় থাকলে এই নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সহজ হবে না, তাই তার বিকল্প দরকার। তারা বেছে নিল মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে। নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবার পর এই নয়া উদারনীতির প্রতিনিধি প্রথমেই তার পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করলেন। এরপর বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং কার্যত দেশটির সম্পদ দখলের আহ্বানই জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে।
সামরিক অনুপ্রেরণার মাধ্যমে অভ্যুত্থান (‘ব্রাদার স্যাম’ ধরন); বিদেশি নেতা গ্রেপ্তার ও স্থানীয় মিত্র প্রতিষ্ঠা (‘পানামা’ ধরন), বোমাবর্ষণ ও অবকাঠামো ধ্বংস (‘ইরাক’ ধরন), মনগড়া নৌ-ঘটনার আড়ালে হামলার অজুহাত (‘গালফ অব টংকিন’ কৌশল), রাষ্ট্রনেতা হত্যার ষড়যন্ত্র (‘কাসেম সোলাইমানি’ কৌশল) প্রভৃতি হলো বিদেশি রাষ্ট্রের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে অন্যতম।১ কিউবার ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সরকার যেমন ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছিল, তেমনি ভেনেজুয়েলার শ্যাভেজ সরকারকেও বহুবার একই ধরনের আয়োজনের মুখে পড়তে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণের প্রক্রিয়াটি সাজিয়ে এবার তার বাস্তবায়ন করল ট্রাম্প সরকার। তার আগে ক্ষেত্র প্রস্তুতের দরকার হয়। প্রথমে ক্যারিবিয়ান জেলেদের ওপর আক্রমণ করে ধ্বংস করা হয় মাছ ধরার বোটগুলোকে। হত্যা করা হয় জেলেদের। তাদের সম্পর্কে বলা হয়, এই জেলেরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। হাস্যকর-সব অভিযোগ! এই ফিশিং বোটগুলো এত ছোট যে, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত যেতে যে জ্বালানি প্রয়োজন সে পরিমাণ জ্বালানি তো দূরে থাক, এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা পর্যন্ত এগুলোর নেই। মাদক রাখার পর্যাপ্ত জায়গা তো পরের কথা! অথচ কোনো প্রকার আইনগত কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই মার্কিন বাহিনী বোমা মেরে তাদের উড়িয়ে দেয়, জেলেদের হত্যা করে! আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কারণে এটিই ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। দ্বিতীয়ত: জলদস্যুতার কায়দায় ভেনেজুয়েলার তেলের ট্যাঙ্কার জব্দ করে নিজেদের বলে দাবি করে ট্রাম্প প্রশাসন। তৃতীয়ত: সার্বভৌমত্ব সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্প প্রশাসন কেবল বোমাবর্ষণই করেনি, উপরন্তু সে দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে নিজ দেশে নিয়ে যায়। সেখানে বিচারের নামে একটি প্রহসনমূলক নাটক মঞ্চস্থ করে মাদুরোকে মাদক পাচারের দায়ে অভিযুক্ত করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অথচ যে ড্রাগ কার্টেলের সঙ্গে মাদুরোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্বই নেই।
অতীতের হিসাব করলে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। শুধু গত বিশ বছরে সহস্রাধিক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের গণহত্যাকে সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে (Weapons of Mass Destruction-WMDs) মিথ্যা অভিযোগ এবং পরবর্তী আগ্রাসন সম্পর্কে সবাই অবগত। ইরাক বিধ্বস্ত, লিবিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত। সিরিয়ার ওপর আধিপত্য করতে চরম ডানপন্থি শাসককে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের চরমপন্থি সংগঠনে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ ঘটাতে তারা মরিয়া।২ ফিরিস্তি অনেক লম্বা। লাতিন আমেরিকার কয়েকটি অঞ্চলের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক।
অতীতের হিসাব করলে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। শুধু গত বিশ বছরে সহস্রাধিক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের গণহত্যাকে সমর্থন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে (Weapons of Mass Destruction-WMDs) মিথ্যা অভিযোগ এবং পরবর্তী আগ্রাসন সম্পর্কে সবাই অবগত। ইরাক বিধ্বস্ত, লিবিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত। সিরিয়ার ওপর আধিপত্য করতে চরম ডানপন্থি শাসককে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের চরমপন্থি সংগঠনে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে।
লাতিন আমেরিকা জুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন কেবল বর্তমান সময়ের বিষয় নয়। এ ধরনের বহু অপকীর্তি যুক্তরাষ্ট্র আগেও ঘটিয়েছে। কয়েকটি দৃষ্টান্ত:
১৯৫৪-র গুয়েতেমালা: ক্যুর মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাকব আর্বেঞ্জকে উৎখাত করে সামরিক শাসক বসায় মার্কিন সিআইএ। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডুয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার। আর্বেঞ্জের অপরাধ ছিল ভূমি সংস্কার – ডিক্রি ৯০০। অব্যবহৃত বড় জমিদারি বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়ে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করা, যাতে প্রায় ১ লাখের বেশি কৃষক পরিবার জমি পায়।৩
কিউবা (১৯৬১): সিআইএর পৃষ্ঠপোষকতায় বে অব পিগস আক্রমণ। কারণ কিউবান বিপ্লবের পর ক্যাস্ত্রো সরকার মার্কিন করপোরেশনের মালিকানাধীন চিনি, জমি, খনি, বিদ্যুৎ ও টেলিকম খাত রাষ্ট্রায়ত্তকরণসহ ভূমি সংস্কার করেছে। তখন সদ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন জন এফ. কেনেডি। কিউবা বিপ্লব লাতিন আমেরিকার বামপন্থি আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করে যে, আরও দেশ সমাজতান্ত্রিক পথে যেতে পারে।৪
ডোমিনিকান রিপাবলিক (১৯৬৫): ১৯৬৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান বোশ ভূমি সংস্কার, শ্রমিক অধিকার, সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা কমানোর কারণে সামরিক ও ধনী এলিটরা অসন্তুষ্ট হয়। সামরিক ক্যু ঘটানো হয়। ১৯৬৫ সালের এপ্রিলে বোশের সমর্থক সৈনিক ও সাধারণ মানুষ তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তাদের বলা হয় Constitutionalists, অন্যদিকে সামরিক জান্তার সমর্থকরা ছিল Loyalists। দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন লয়েলিস্টদের পক্ষে ৪২,০০০ মার্কিন সেনা প্রেরণ করে আন্দোলন দমন করলে দেশটি অস্থায়ীভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে যায়। যুদ্ধ, রাজনৈতিক দমন এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।৫
চিলি (১৯৭৩): প্রেসিডেন্ট সালভাদর আইয়েন্দে সমাজতন্ত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন।৬ মার্কিন করপোরেশন (ITT, Anaconda, Kennecott), CIA, চিলির অভিজাত শ্রেণির জোট৭ মিলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে জেনারেল অগুস্তো পিনোশের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। উৎখাতের ঘটনা ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩। তখন নিক্সন তার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, আর তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। প্রধান শিল্প (তামা খনি) রাষ্ট্রায়ত্তকরণ, ভূমি সংস্কার, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি ছিল আইয়েন্দে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।৮ আর এই সবই মার্কিনসহ শাসক-শ্রেণির চক্ষুশূল।
নিকারাগুয়া (১৯৮০-এর দশক): ১৯৭৯-এ FSLN (Sandinista Front) সোমোজা একনায়কতন্ত্র উৎখাত করে ভূমি সংস্কার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা জাতীয়করণ, মার্কিনপন্থি অভিজাতদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ভাঙা, সাম্রাজ্যবাদী নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে। এগুলো শাসক-শ্রেণি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করে। ‘সোভিয়েত-কিউবান ঘাঁটির’ ‘কমিউনিস্ট’ নিকারাগুয়াকে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র ( সিআেইএ পরিচালিত, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নসহ) সোমোজার জাতীয় গার্ডের সদস্য, ভাড়াটে সৈন্য, অভিজাত শ্রেণির সমর্থকদের নিয়ে কন্ট্রা বাহিনী সংগঠিত করে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়।৯ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান।
পানামা (১৯৮৯): ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ প্রশাসন ‘অপারেশন জাস্ট কজ’ নাম দিয়ে পানামায় সামরিক হামলা চালায়, অজুহাত হিসেবে দেখানো হয় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’। জেনারেল মানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেপ্তার ও বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রে এবং পরবর্তী সময়ে তাকে মাদক পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জেলে আটক রাখা হয়। প্রকৃতপক্ষে পানামা খাল ও আঞ্চলিক সামরিক-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করাই আসল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি মার্কিন-বিরোধী বা স্বাধীনতাবাদী প্রবণতা ঠেকানো এবং লাতিন আমেরিকায় শক্তি-প্রদর্শন। এই হামলায় শত–হাজার নাগরিক নিহত হন এবং মার্কিনপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।১০
ভেনেজুয়েলা: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশাসন ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে সাম্রাজ্যবাদী নীতিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন: অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, গোপন অভিযান ও সামরিক চাপ যা প্রায়ই ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবির মাধ্যমে ন্যায্যতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবাই জানেন এগুলো তেল সম্পদসমৃদ্ধ একটি সার্বভৌম দেশকে বশীভূত করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
হুগো শ্যাভেজ-মাদুরো বিরোধী দল মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আগে থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছিল সরকার গঠন করে তেল এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ মার্কিন বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর হাতে তুলে দিতে – যেগুলো হুগো শ্যাভেজের আমলেই জাতীয়করণ করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে,
‘ভূমি সংস্কার এবং তেলসহ খনিজ সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পুনর্গঠন, বহজাতিক কোম্পানির সর্বব্যাপী প্রভাব থেকে জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় মুক্ত করা, এসব কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ধারা পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ; সর্বোপরি, তেলসম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় জনগণের জীবন পরিবর্তনে ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল শ্যাভেজ এবং শ্যাভেজ-পরবর্তী সরকারের উদ্দেশ্য।’১১
এ সমস্ত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কারণে গ্রাম শহরে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়ে গিয়েছিল। একদিকে তেল এবং খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক (কেউ কেউ অবশ্য সমাজতান্ত্রিক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন) ধাঁচের কার্যক্রম-ব্যবস্থা যাতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য সরকারের উচ্ছেদ বহুজাতিক করপোরেশনগুলোর এজেন্ডা হয়ে উঠে।
লাতিন আমেরিকা: সর্বজনের স্বার্থ বনাম সাম্রাজ্যবাদী চাপ
লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ইতিহাস দেখায়, যখন কোনো সরকার সর্বজনের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নেয়–যা হতে পারে ভূমি সংস্কার, শিল্প বা খনিজ সম্পদের জাতীয়করণ, কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক উদ্যোগ, কিংবা সোশ্যাল ডেমোক্রেসি ধরনের কর্মসূচির বিস্তার–সবই একচেটিয়া পুঁজির সম্প্রসারণের স্বার্থের বিপরীতে চলে। তাদের কাছে এসব কর্মসূচি শত্রুতার শামিল।
এই ঘটনাপ্রবাহ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে লাতিন আমেরিকায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ কোনো ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত ধারাবাহিকতারই অংশ (১৮২৩ মনরো ডকট্রিন, রুজভেল্ট করোলারি), যার ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। লাতিন আমেরিকায় সরাসরি আগ্রাসন ছাড়াও নিকট অতীতে নির্বাচিত কিছু অনুগত নেতাকে সমর্থন এবং অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমে হাইতিসহ ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাজনীতিতে বারবার হস্তক্ষেপ করা হয়।
লাতিন আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ, সহিংসতা, দখল, লুণ্ঠনের ইতিহাস তাই বেশ পুরোনো। কখনো ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’র নামে, কখনো নিরাপত্তা, কখনো-বা মাদকবিরোধী অভিযান আবার কখনো সন্ত্রাসবিরোধিতার নামে তারা হামলা-লুণ্ঠন অব্যাহত রেখেছে। মূলত মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ ছিল এসবের মূলে। কখনো তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ, বন্দর দখল; আবার কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘাড়ে চেপে থাকা লাতিন সমাজতন্ত্র কিংবা কমিউনিজমের ভূত নামানোর স্বার্থে এসব আগ্রাসন। জাতিসংঘ এখন মার্কিন রাষ্ট্রের কোলে। ইরাক আগ্রাসনে তাকে পাওয়া যায় না, আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর সহিংসতায় তার ভূমিকা ভেজা বেড়ালের মতো, ফিলিস্তিনের গণহত্যা বন্ধেও তাকে সক্রিয় দেখা যায় না, লাতিন আমেরিকার আগ্রাসন-গণহত্যায় সে মিনমিনে সুরে মিনতি জানায়।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্ববিরোধী অবস্থান
একদিকে নিজেদের উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র; অন্যদিকে বাস্তবে তারা মদত দেয় নব্য নাজিবাদ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কতান্ত্রিক, অতিরক্ষণশীল রাজতান্ত্রিক সরকারগুলোকেও – যেখানে গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই, আর বাদশাহর কথাই আইন। এই রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাঁটিটি রয়েছে কাতারে – একটি রাজতান্ত্রিক দেশে।
তাই যখন যুক্তরাষ্ট্র বলে যে তারা গণতন্ত্র, সেক্যুলারিজম, আইনের শাসন, উদারনীতি, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক রুল অব ল এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী; তখন বোঝা যায়, এসব কথার কথা। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় দখল, নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি প্রদর্শনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। যখন মার্কিন পুঁজির সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন এই আদর্শের আবরণ সরিয়ে তারা নিজেদের প্রকৃত রূপে হাজির হতে এক মুহূর্তও দেরি করে না।
ফলে যে রাষ্ট্র বা অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন হয়, সেই রাষ্ট্রের সরকারকে কখনো মানবাধিকার-লঙ্ঘনকারী, কখনো অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট, সন্ত্রাসী কিংবা মাদক পাচারকারী হিসেবে আখ্যায়িত করতে তাদের সময় লাগে না। কিন্তু যতদিন কেউ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকে, ততদিন এসব তকমা তার ওপর প্রযোজ্য হয় না – সে সরকার যতই একনায়কতান্ত্রিক হোক-না কেন।
এই বিশ্বব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেল-গ্যাস, দুর্লভ খনিজ, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে উত্তর গোলার্ধ থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড থেকে মরুভূমি, পানামা খাল থেকে বঙ্গোপসাগর, আমাজন থেকে সুন্দরবন – সব জায়গায় পুঁজির অবাধ বিচরণের জন্য দখল নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। নাইজেরিয়ার মতো খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ বহুজাতিক তেল কোম্পানির থাবার কারণে বর্তমানে বিপর্যস্ত। সম্পদ কীভাবে অভিশাপ হতে পারে আফ্রিকা মহাদেশের গৃহযুদ্ধাক্রান্ত অঞ্চলগুলো তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
রাজনীতি, পুঁজি ও প্রতিরোধ: বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদের ছায়া
যদিও আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের আশঙ্কা নেই, তবু বাংলাদেশ যে সাম্রাজ্যবাদী চাপ থেকে মুক্ত – এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় না। কারণ, এখানে এখনো এমন কোনো সরকার আসেনি যারা ভেনেজুয়েলার মতো স্পষ্ট ও সুসংহত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে সক্ষম। বরং বহু ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের দাবি আসার আগেই তা পূরণ করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় সরকারের মধ্যে। ৮০-র দশক থেকে শুরু হওয়া নিওলিবারেল নীতির প্রয়োগ – যার সূত্রপাত মূলত রেগান আমলে–আজও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর কাঠামো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের প্রধান দিশারি হয়ে উঠেছে। শাসক-শ্রেণির পারস্পরিক দ্বন্দ্ব–কোলাহলের মাঝেও তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর ও খনিজ সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বহুজাতিক করপোরেশনের মুনাফা সম্প্রসারণের নিশ্চয়তা দিয়েই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকে। এমনকি যাদের কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই, সেই অন্তর্বর্তী সরকারও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় সম্পদবিষয়ক চুক্তি করতে উৎসাহী।
পুঁজির বিশ্বায়নের যুগে একচেটিয়া মুনাফার স্বার্থে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে ‘উন্নয়নের নামে’ প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিনাশী কর্মকাণ্ড চালানো হোক-না কেন, তার প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ ন্যায্য।
পুঁজিতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদ: ব্যক্তির উন্মাদনা নয়, কাঠামোর কার্যকারিতা
পুঁজিতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদ কোনো ব্যক্তিবিশেষের খেয়াল-খুশির বিষয় নয়, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পও কোনো উন্মাদ চরিত্র নয়। তিনি আসলে সেই একচেটিয়া পুঁজির মালিক-শ্রেণির পরিবেষ্টিত এক রাজনৈতিক প্রতিনিধি, যাদের ইশারায় তার সব লম্ফঝম্প। আর বৈশ্বিক সম্পদের সিংহভাগ আজ এই অতি ক্ষুদ্র মালিক-শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত। পুঁজির সম্প্রসারণ, কেন্দ্রীভবন ও পুঞ্জীভবন তাই কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি এক ধারাবাহিক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া এবং দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের বিষয়, শ্রেণিগত সম্পর্কের বিষয়, যা একটি নির্দিষ্ট সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেই ক্রমাগত অগ্রসর হয়। মার্ক্সের কথা স্মরণ করি,
‘…যেখানে মুনাফা নেই কিংবা নামমাত্র মুনাফা, পুঁজি তা পরিহার করে চলে। যথেষ্ট মুনাফা থাকলে পুঁজি অত্যন্ত সাহসী হয়ে ওঠে। ১০ শতাংশের মতো মুনাফা থাকলে পুঁজি যে কোনো স্থানে বিনিয়োজিত হবে; ২০ শতাংশের মতো থাকলে সৃষ্টি হবে আগ্রহের; ৫০ শতাংশ হলে দেখা দেবে সুস্পষ্ট দুঃসাহস; ১০০ শতাংশ হলে তা সমস্ত মানবিক অধিকার পদদলিত করতেও প্রস্তুত থাকবে; আর যদি মুনাফা ৩০০ শতাংশ হয়, তবে এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংঘটিত করতে তার কোনো নীতিবোধের বালাই থাকবে অথবা পুঁজির মালিকের গলায় ফাঁসির দড়ি পরার আশঙ্কা আছে এমন ঝুঁকি নিতেও সে পিছ পা হবে না।’১২
উন্মত্ত আগ্রাসনের ছায়ায় ভেনেজুয়েলা ও বৈশ্বিক প্রতিরোধ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনগণতান্ত্রিক সরকারকে উচ্ছেদ করে চরম ডানপন্থি সরকারগুলোকে দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক আশ্রয়-পৃষ্ঠপোষকতা। সরাসরি ঔপনিবেশিক দখলদারির মধ্য দিয়ে যে পুঁজিবাদ একসময় গড়ে উঠেছিল, তারই নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বর্তমানে। তবু অতীতের মতো সহজে এই দখলনীতি আর কার্যকর হবে না – এ বিষয়টি এখন দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বক্তব্যও সেই প্রতিরোধেরই ইঙ্গিত বহন করে।১৩ সেই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলন-সংগ্রাম জানিয়ে দিচ্ছে–সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ শক্তি সঞ্চয় করছে।
এখন দরকার এই বিচ্ছিন্ন আন্দোলনগুলোকে একটি বৈশ্বিক ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভরসা করার মতো অবস্থা আর নেই। তাই জনগণের নিজস্ব আন্তর্জাতিক ঐক্যই পারে সাম্রাজ্যবাদের উন্মত্ত অগ্রযাত্রাকে থামাতে। সাম্রাজ্যবাদ যেমন চায়–সবাই তাদের আধিপত্যের সামনে নতজানু হোক; তার ঠিক বিপরীতে প্রয়োজন হচ্ছে আরও জোরালো কণ্ঠে এর বিরুদ্ধে কথা বলা, সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। জনগণের সাধারণ সম্পদের ওপর শতভাগ সামাজিক মালিকানা, কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সর্বজনের কল্যাণে তার ব্যবহার নিশ্চিত করার লড়াই ছাড়া সামনে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই।
মেহেদী হাসান: লেখক গবেষক। ইমেইল: mehedihassan1@gmail.com
তথ্যসূত্র:
১Headlines: The United States Continues Its Attempt to Overthrow Venezuela’s Bolivarian Revolution, The Forty-Fifth Newsletter (2025), 6 November 2025, https://thetricontinental.org/newsletterissue/us-threats-venezuela/
২Taimur Laal: Thoughts on Venezuela, 4 January 2026, https://www.youtube.com/watch?v=7jKRejpJ1lQ
৩Piero Gleijeses: Shattered Hope; The Guatemalan Revolution and the United States, 1944–1954, Princeton University Press, 1991 P 150.
৪আনু মুহাম্মদ: বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা; বিশ্বায়িত পুঁজিবাদে ল্যাটিন আমেরিকা, সংহতি প্রকাশন, ২০১৭, ঢাকা।
৫Lawrence A. Yates: Power Pack; U.S. Intervention in the Dominican Republic, 1965-1966, Combat Studies Institute, U.S. Government Printing Office, Washington D.C. https://apps.dtic.mil/sti/pdfs/ADA211926.pdf এবং Major Lawrence M. Greenberg: The Army in Support of Political Initiatives; The 1965 dominican Republic Intervention, This paper was presented by the author at the 1987 Missouri Valley History Conference. https://apps.dtic.mil/sti/tr/pdf/ADA179129.pdf
৬ Ralph Miliband: The Coup in Chile (October 1973), The Socialist Register, 1973, https://www.marxists.org/archive/miliband/1973/10/chile.htm
৭Petras, James & Morley, Morris: The United States and Chile: Imperialism and the Overthrow of the Allende Government. Monthly Review Press, 1975.
৮Headline: 1973 Chilean coup D’état by Agathe Demarolle, https://www.britannica.com/event/1973-Chilean-coup-d-etat?utm_source=chatgpt.com
৯Morris H. Morley: Washington, Somoza, and the Sandinistas; State and Regime in U.S. Policy Toward Nicaragua, 1969-1981, Cambridge University Press, Uk, 1994 এবং Noam Chomsky and Edward S. Herman: The Washington Connection and Third World Fascism; The Political Economy of Human Rights, Vol 1, Haymarket Books, Illinois, 2014.
১০Noam Chomsky: Deterring Democracy, South End Press, 1992.
১১আনু মুহাম্মদ: হুগো শ্যাভেজের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার গল্প, সংহতি প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি ২০২০
১২Karl Marx: Capital; A Critique of Political Economy, Introduced by Ernest Mandel, Translated by Ben Fowkes, Vol-1, Penguin Books, first published 1976, page-926.
১৩Delcy Rodríguez: ‘‘We Will Never Again Be Slaves”; Speech by Venezuela’s Vice President Delcy Rodríguez, 05/01/2026, https://countercurrents.org/2026/01/we-will-never-again-be-slaves-speech-by-venezuelas-vice-president-delcy-rodriguez/
