সংবাদপত্রেরপাতাথেকে (২৬এপ্রিল- ২৬জুলাই২০২৩)

সংবাদপত্রের পাতা থেকে (২৬ এপ্রিল- ২৬ জুলাই ২০২৩)

অর্থনীতি

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি বাড়ছে, তবে সম্ভাবনাও আছে

২৬ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ছে। তবে পণ্য রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গত দুই বছরে দেশটির সঙ্গে বড় বাণিজ্যঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে আমদানির চেয়ে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি বেশি ছিল বাংলাদেশের। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থায়ই ছিল বাংলাদেশ।

 বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পিছিয়ে থাকলেও জাপানি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক হাজার একর জমির ওপর গড়ে উঠছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল। সেখানে কারখানা স্থাপনে চারটি বিদেশি কোম্পানি চুক্তি করেছে। এ ছাড়া জাপানের ৩০টিসহ ৪০টি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।

দেশের ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, জাপানি কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বাইরে বিকল্প দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ভিয়েতনাম ও ভারতে বিনিয়োগ করছে তারা। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় এবং বিশেষায়িত খাতে কর সুবিধা, অভ্যন্তরীণ বাজার ও আঞ্চলিক বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। এ ছাড়া জাপানের বাজারেও বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ভালো সম্ভাবনা আছে। 

জাপানি উদ্যোক্তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করে থাকেন। অর্থাৎ তাঁরা বিনিয়োগে আসা মানে তা বাংলাদেশের জন্য একধরনের ব্র্যান্ডিং। এতে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডি। 

এমন এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে গেছেন। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্ধশত ব্যবসায়ী নেতার একটি দলও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কাল বৃহস্পতিবার সেখানে বাংলাদেশ ব্যবসা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, মেধাস্বত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার–নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং শুল্ক–সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে।

রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ

পাঁচ বছর আগে জাপান-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩০১ কোটি ডলার। এর মধ্যে আমদানি ছিল ১৫৭ কোটি ডলার, আর রপ্তানি ১৪৪ কোটি ডলার। করোনার পর জাপান থেকে পণ্য আমদানি বেড়ে যায়, সেই গতিতে রপ্তানি বাড়েনি। ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) বাংলাদেশ ব্যাংক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং তথ্যানুযায়ী ২০২০ সালে সেই দেশ থেকে ১৫০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়। পরের বছর সেটি ৮৫ কোটি ডলার বাড়ে। গত বছর তো দেশটি থেকে আমদানি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৬০ কোটি ডলার।

অন্যদিকে ২০২০ সালে জাপানে ১৩১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা পরের বছর বেড়ে ১৪৫ কোটি ডলার হয়। গত বছর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই আসে ১০৯ কোটি ৮৫ লাখ। অন্য খাতগুলোর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ৯ কোটি ৩৬ লাখ, হোম টেক্সটাইলে ৪ কোটি ৬৯ লাখ এবং চামড়াবিহীন জুতায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার আসে।

জাপানে পণ্য রপ্তানির ৬৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) ১২২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। গত ২০২১-২২ অর্থবছর এই বাজারে ১০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের তথ্যানুযায়ী ২০২১ সালে জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে। সেই হিসাবে এই বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খুবই নগণ্য।

দেশে চীন বিনিয়োগ করেছে ৭ বিলিয়ন ডলার, ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ২৩ বিলিয়নের

বণিক বার্তা, ২৬ এপ্রিল, ২০২৩

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেন। এটি বাস্তবায়ন করছে চীনের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—গেঝুবা গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (সিজিজিসি), জিয়াংসু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (জেটিইজি) ও ওয়েহাই ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেটিভ কোম্পানি লিমিটেড।

সাসেক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় এডিবির অর্থায়নে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে কাজ করেছে চায়না কনস্ট্রাকশন সেভেনথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন করপোরেশন লিমিটেড ও হেগো নামে চীনের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ দেশের এমন প্রকল্পে এখন তৈরি হয়েছে চীনা ঠিকাদারদের আধিপত্য।

দেশে চীনের বিনিয়োগে গৃহীত প্রকল্পগুলোয় ঠিকাদারের কাজ প্রধানত চীনা সংস্থাগুলোই পেয়ে থাকে। আবার অন্যান্য দেশের অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পেও দেখা যায় চীনা ঠিকাদারদের আধিপত্য। পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসনের কাজ করেছে দুই চীনা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পটিও বাস্তবায়ন হচ্ছে চীনা ঠিকাদারের মাধ্যমে।

দেশে চীনা ঠিকাদারদের কাজের ব্যাপ্তি এখন দেশটির মোট বিনিয়োগের কয়েকগুণে দাঁড়িয়েছে। দেশী-বিদেশী বিভিন্ন উেস পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত চীনের মোট বিনিয়োগের স্থিতি প্রায় ৭-৮ বিলিয়ন ডলার। আবার বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পেয়েছে কমপক্ষে ২২ বিলিয়ন ডলারের।

দেশে চীনা অর্থায়নে গৃহীত হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকল্প। কয়েকটির কাজ এরই মধ্যে শেষও হয়েছে। চীনা অর্থায়নে গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ডিপিডিসির পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ ইত্যাদি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন খাতে ঋণ ও অনুদান হিসেবে মোট ১ হাজার ৭৭ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪৪ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অনুদান হিসেবে এসেছে খুব সামান্য। সিংহভাগই ঋণ। এসব ঋণ এসেছে মূলত গত দুই দশকে।

সরকারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও চীন থেকে ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি খাতে এ মুহূর্তে চীনা ঋণের স্থিতি ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন (২৩৩ কোটি) ডলারের কিছু বেশি। এক্ষেত্রে সিংহভাগ ঋণের গন্তব্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মীয়মাণ একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১৭৬ কোটি ডলারের ঋণ অর্থায়ন হয়েছে চীনা উৎস থেকে। অর্থায়ন করছে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না ও চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক।

মার্কিন থিংকট্যাংক প্রতিষ্ঠান আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এইআই) এক হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীন থেকে মোট বিনিয়োগ এসেছে ৭ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন (৭০৭ কোটি) ডলারের। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি পেয়েছে ২২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন (২ হাজার ২৯৪ কোটি) ডলারের।

খেলাপি ঋণ বাড়ছে, আছে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের অর্থনীতি বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভুগছে। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ও অবলোপন থেকে আদায়ও তেমন হচ্ছে না। আবার ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো থেকে আমানত সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকেরা। ব্যাংক তথা আর্থিক খাতের জন্য যে পাঁচ আইন করতে হবে, সেগুলোর একটি মাত্র মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে, বাকিগুলোর খসড়া আছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আইএমএফের ঢাকা সফরকারী স্টাফ কনসালটেশন মিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন চিত্রই তুলে ধরেছে। মিশনটি গত মঙ্গলবার থেকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করছে, যা চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন বিভাগ এবং রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালীসহ ছয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে মিশনটির সঙ্গে এ বৈঠক করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশের জন্য গত জানুয়ারিতে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রস্তাব অনুমোদনের শর্তের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আইএমএফ মিশনকে জানানো হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের ঋণ ও অগ্রিম রয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে তাদের খেলাপি ঋণ ৫৬ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি বেসিক ব্যাংকের—৫৮ শতাংশ, আর সবচেয়ে কম সোনালী ব্যাংকের—১৫ শতাংশ। ছয় ব্যাংকের গড় খেলাপি হার দ্বিগুণের বেশি অর্থাৎ ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ।

পুরো ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২০২০ সালে ৭ দশমিক ৬৬, ২০২১ সালে ৭ দশমিক ৯৩ এবং ২০২২ সালে বেড়ে তা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে বলে আইএমএফকে জানানো হয়।

খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখা বাধ্যতামূলক। সোনালী, জনতা ও বিডিবিএল বাড়তি সঞ্চিতি রাখতে পারলেও বাকি তিন ব্যাংকই ঘাটতিতে রয়েছে। যেমন অগ্রণীর ৪ হাজার ৪২২ কোটি, রূপালীর ২ হাজার ৮১৫ কোটি এবং বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। আর বেসিক ব্যাংক ১২৭ কোটি টাকা লোকসানে থাকলেও বাকি পাঁচ ব্যাংকের নিট মুনাফা মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

বিপুল ব্যয়ে ভবন নির্মাণে বেশি আগ্রহ

২৯ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা এলাকায় প্রায় দেড় একর জমিতে গাজীপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি। তিন বছরে সেখানে ২৭৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু প্রশিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন, তাও অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অস্থায়ীভাবে আনা।

গাজীপুরের এই আইএইচটিতে ৯ তলা একটি একাডেমিক ভবন, ৬ তলা ছাত্রাবাস, ৭ তলা ছাত্রীনিবাস এবং প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য ১০ তলা ভবন করা হয়েছে। কিন্তু ভবনগুলোর ব্যবহার সামান্য। সেখানকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অনেক আশা নিয়ে আইএইচটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন সব বিষয়ে প্রশিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস হয় না। পরীক্ষাগারে যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাতে–কলমে শিক্ষাও পাচ্ছেন না।

গাজীপুরের মতো দেশের ১৪ জেলায় ১৫টি আইএইচটি প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে গত ছয় বছরের মধ্যে। লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য খাতে রোগীর রক্ত, মূত্র পরীক্ষা, এক্স-রে করাসহ বিভিন্ন রোগ পরীক্ষার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করা, যাঁরা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নামে পরিচিত। এ ধরনের দক্ষ জনবল স্বাস্থ্য খাতের জন্য জরুরি। করোনাকালে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতির চিত্রটি বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ভবন করতে যতটা আগ্রহ ছিল, জনবল নিয়োগে ততটা নেই। এত বছর পরও আইএইচটিগুলোতে পদ সৃষ্টি করে প্রশিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কোথাও কোথাও ধার করে দু-একজন প্রশিক্ষক এনে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। শিক্ষা উপকরণ ও সরঞ্জামের ঘাটতিও প্রকট। যেহেতু কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়নি, সেহেতু আইএইচটিগুলোর ভবন কোনোটি পুরোটা, কোনোটি আংশিক খালি পড়ে আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রায় আবার বেঁকে গেল রেললাইন, ঢালা হচ্ছে পানি

২৯ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আবার রেললাইন বেঁকে গেছে। এতে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেটের সঙ্গে ঢাকা অভিমুখী রেলপথে (আপলাইন) ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট অভিমুখী রেলপথ (ডাউনলাইন) দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এতে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে বিলম্বে চলবে সব ট্রেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার দারিয়াপুর এলাকায় রেললাইন বেঁকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে একই এলাকায় রেললাইন বেঁকে কনটেইনার বহনকারী ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

পোশাক ছাড়া সব পণ্যে মন্দা

২৯ এপ্রিল ২৩, সমকাল

ঈদ অর্থনীতির পুরোটাই ছিল এবার পোশাককেন্দ্রিক। ২০ রোজার পর থেকে চাঁদ রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন মার্কেট ছিল ক্রেতায় ঠাসা। করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে ঈদুল ফিতরের বেচাকেনাকে ‘মন্দের ভালো’ বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ভোগ্যপণ্য কিনতেই মানুষের নাভিশ্বাস। এরই প্রভাব পড়েছে ঈদের বিকিকিনিতে। প্রয়োজনীয় জিনিসও সবাই কম করে কিনেছেন। তবে বরাবরের মতো পরিবহন ব্যবসা ছিল জমজমাট।

খুলনা ব্যুরো থেকে হাসান হিমালয় জানান, নগরীর ডাকবাংলো, শিববাড়ী মোড়সহ ছোট-বড় শপিংমলে ক্রেতার ভিড় ছিল চাঁদ রাত পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানান, পোশাক ছাড়া ঈদের অন্য সব পণ্যের বাজারেই ছিল মন্দাভাব। ঈদে পোশাকের পর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় খাদ্যপণ্য। কিন্তু এ বছর সেমাই, চিনি, পোলাও চাল, মসলার বাজারে আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। পাইকারি গুদামে অনেক পণ্যই অবিক্রিত রয়েছে। স্মার্টফোন বিক্রিও তলানিতে। যদিও রমজানের শেষদিকে তাবদাহ বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে এসি বিক্রি। আর পরিবহন ব্যবসা ছিল আগের মতোই জমজমাট।

জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব বাড়ছে না, বাড়ছে সরকারের ঋণ

এপ্রিল ৩০, ২০২৩, বণিক বার্তা

জিডিপির অনুপাতে গত এক দশকে রাজস্ব আয় বাড়েনি। যদিও এ সময় জিডিপির অনুপাতে সরকারের ঋণে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে দেশে সরকারের ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। এক দশক পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। আবার এ সময় কমেছে রাজস্ব আয়-জিডিপির অনুপাত। ২০১৪ সালে সরকারের রাজস্ব (কর ও অনুদান)-জিডিপি অনুপাত ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এক দশক পর তা নেমেছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে। আর শুধু কর-জিডিপির অনুপাত নেমেছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে।

আমরা একটা অবস্থান থেকে বেহেশতের বাগানে

৩০ এপ্রিল ২০২৩, যুগান্তর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ১৫ বছর আগে আপনারা কি ছিলেন, আর আজকে কোথায় এসেছেন। সেটা যদি চিন্তা করেন তাহলে আর কাউকে কিছু বলতে হবে না। সবাই মনে করবেন আমরা একটা অবস্থান থেকে বেহেশতের বাগানে প্রবেশ করেছি।

শনিবার কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌর আধুনিক কমিউনিটি সেন্টারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

যে ৫ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ২২৫ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

০২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশকে ২২৫ কোটি (২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক।

গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের এ ঋণচুক্তি হয়। ঋণচুক্তি সইয়ের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো—

রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্ট (আরআইভিইআর)।

বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি)।

অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১।

ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি)।

সাসটেইনেবল মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি)।

প্রথম প্রকল্প: রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিল্ডিং প্রজেক্টটি ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ‘ডেলটা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে প্রথম বড় বিনিয়োগ প্রকল্প। এটি অভ্যন্তরীণ বন্যার বিরুদ্ধে দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নয়নে সহায়তা করবে।

দ্বিতীয় প্রকল্প: বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বিইএসটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি বাংলাদেশে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাসহ সবুজ বিনিয়োগে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর চিত্রকর্ম উপহার প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা বহুমুখী সেতুর চিত্রকর্ম ডেভিড ম্যালপাসকে উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তৃতীয় প্রকল্প: অ্যাকসেলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেকটিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (এসিসিইএসএস) বাংলাদেশ ফেজ-১ হলো ৭৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার (৭৫৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগ বাড়াতে ঢাকাকে সাহায্য করবে।

চতুর্থ প্রকল্প: ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ফার্স্ট বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট (জিসিআরডি) প্রকল্পটি দেশকে সবুজ ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়নে সহায়তা করবে।

পঞ্চম প্রকল্প: সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (এসএমএআরটি) ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রকল্প। এটি ক্ষুদ্র শিল্প খাতকে আরও গতিশীল, কম দূষণকারী, দক্ষ ও জলবায়ু সহনশীল প্রবৃদ্ধির খাতে রূপান্তরে সহায়তা করবে।

বেসরকারি খাতে দিয়েও বন্ধ দুই দেশলাই কারখানা

৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে দেশলাইয়ের বাজারে একসময় ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচের বেশ কদর ছিল। কিন্তু এখন এই ম্যাচ বাজারে নেই। ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচ কারখানা বন্ধ। ঢাকা ম্যাচের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে গেছে। দাদা ম্যাচের অবস্থা আরও খারাপ, বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে।

ঢাকা ম্যাচ ও দাদা ম্যাচ নামের কারখানা দুটি ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানির ৩০ শতাংশের মালিকানা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি)। বাকিটা অর্থাৎ ৭০ শতাংশ ভাইয়া গ্রুপের।

কারখানা দুটির মালিকানা একসময় পুরোটাই বিসিআইসির ছিল। বেসরকারি খাতে অংশীদারত্ব ছেড়ে দিয়েও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানার কোম্পানি ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ কারখানা এবং ২০১০ সালে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো তাঁদের পাওনা বুঝে পাননি।

দুটি কারখানার প্রায় ৩২ একর জমি রয়েছে। কারখানা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই জমি খুবই মূল্যবান। বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। সেখানে অন্য কোনো কারখানা হতে পারে। এ জন্য দরকার উদ্যোগ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরকারি উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন দুটি কারখানা বন্ধ রাখা একেবারেই অযৌক্তিক। এভাবে ফেলে না রেখে কারখানা দুটির বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা ম্যাচ কারখানা। ১৯৫৫ সালে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর বেসরকারি উদ্যোগে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের আবাসনের জন্য পাঁচ একরের বেশি জমিতে একটি কলোনিও করেছিলেন। আর দাদা ম্যাচ কারখানার অবস্থান খুলনার রূপসা স্ট্র্যান্ড রোডে। ১৯৫৫ সালে রূপসা নদীর তীরে ১৭ দশমিক ৭৯ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠে এই কারখানা। এটিও ছিল বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।

দেশে স্বাধীন হওয়ার পর কারখানা দুটি জাতীয়করণ করা হয়। পরিচালনার দায়িত্ব পায় বিসিআইসি। ১৯৮৪ সালে বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতির আওতায় ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়। এই কোম্পানির অধীনে দেওয়া হয় ম্যাচ কারখানা দুটি। কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা বিসিআইসির হাতে রেখে ৭০ শতাংশ বিক্রি করা হয় সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

ঢাকা ম্যাচ কারখানার শ্রমিক মো. নুরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সুইডিশ কোম্পানিটি কারখানা পরিচালনার সময় শ্রমিকদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান চক্রান্ত করে তাদের চলে যেতে বাধ্য করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ১৯৮৯ সালে সুইডিশ কোম্পানি কারখানা দুটিতে তাদের মালিকানার অংশ বিক্রি করে দেয়। এরপর তা কিনে নেয় ভাইয়া গ্রুপ। তারা ১৯৯৩ সালে আবার কারখানা দুটি চালু করে। তারা ২০০৫ সালে ঢাকা ম্যাচ ও ২০১০ সালে দাদা ম্যাচ বন্ধ করে দেয়। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে কারখানা দুটি সিলগালা করে দাদা ম্যাচের দেখভালের দায়িত্ব দেয় জেলা প্রশাসনকে। আর ঢাকা ম্যাচ কারখানার নিয়ন্ত্রণ এখনো কোম্পানির কাছেই রয়েছে।

ধানের উৎপাদন খরচও পাচ্ছে না কৃষক

০৭ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

এক কাঠা জমির বোরো ধানের বীজ কিনতে খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা। ধান কাটতে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সঙ্গে তিনবেলা খাবার বাবদ আরও ২০০ টাকা। সার ও কীটনাশকে ব্যয় হয়েছে ৪৫০ টাকা। চারা রোপণ ও দুই দফায় ঘাস নিড়ানিতে খরচ ২ হাজার টাকা। ধান কাটার পর মাড়াইয়ে কাঠাপ্রতি ব্যয় ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে কাঠাপ্রতি এবার ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে চার মাস ধরে নিজের কঠোর পরিশ্রম তো আছেই।

এক কাঠায় তিন থেকে চার মণ ধান হয়। এবার ধানে বেশিরভাগই চিটা। কাঠাপ্রতি চার মণ ধান ধরলেও কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে ৩০ টাকা। কৃষক নুরুল্লাহ বাজারে ধান বিক্রি করতে গিয়ে দেখেন দাম মণপ্রতি ৯০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ধানের দাম মাত্র ২২ টাকা ৫০ পয়সা। ধান উৎপাদন করতে গিয়ে কেজিতে তার সাড়ে ৭ টাকাই লোকসান।

নুরুল্লাহ বলেন, ধান চাষে লাভ নেই। তার পরও মানুষ চাষ করে ঘরের ভাতের জন্য, গরু-মহিষের খাবারের জন্য। কৃষকের পরিশ্রম ফাও। তিনি বলেন, ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ হলে কৃষকের কিছুটা লাভ হতো। তবে এখনও যাদের জমি বেশি এবং মেশিনে রোপণ, নিড়ানি ও মাড়াইয়ের কাজ করেন, তাদের লাভ থাকে।

রপ্তানি আয় না আসার তথ্যে গরমিলের যে ব্যাখ্যা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

০৭ মে ২০২৩, প্রথম আলো

রপ্তানি তথ্যের সংজ্ঞার গরমিলের কারণে রপ্তানি আয় দেশে না আসার পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো পণ্য রপ্তানি হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে দেশে আসার নিয়ম রয়েছে। আবার বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন কোম্পানির মুনাফাও দেশে আনতে হয়। দেশে আসেনি এমন রপ্তানি আয় ও মুনাফার পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সফররত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভা উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, সময়মতো দেশে না আসা অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আটকে আছে ক্রয়াদেশের তুলনায় কম পণ্য সরবরাহ করার কারণে বিল পরিশোধ না করায়। ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার আটকে আছে রপ্তানিকারক দেউলিয়া হয়ে পড়ায় ও ২ কোটি ডলার আটকে আছে আমদানিকারক দেউলিয়া হওয়ার কারণে। ভুয়া রপ্তানির কারণে আটকে আছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও মামলার কারণে ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

মেজবাউল হক বলেন, যখন অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য দেশে বিক্রি হচ্ছে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তাদের হিসাবে তা রপ্তানি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু এ জন্য দেশে কোনো রপ্তানি আয় আসছে না। এই পণ্য যদি আবার বিদেশে রপ্তানি হয়, তাহলেই কেবল রপ্তানি আয় দেশে আসার কথা। এখানেই ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

ঋণপত্র অর্ধেকে নেমেছে, কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি

০৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার-সংকট, ডলারের ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি এবং বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার কারণে শিল্পের প্রধান উপাদান কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। একই কারণে শিল্প স্থাপনে নতুন প্রকল্প, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সংস্কারের উদ্যোগও কমে গেছে। ফলে গত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে ভাটা এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মার্চে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে হয়েছে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

সরকারি চিনিকলের উৎপাদন তলানিতে

০৮ মে ২৩, সমকাল

বাজারে এখন প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকার বেশি দরে। অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পর্যাপ্ত চিনি নেই। দেশে চিনির চাহিদা ও দাম বাড়লেও সরকারি চিনিকলগুলোর উৎপাদন প্রতি বছরই কমে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে মাত্র ২১ হাজার ৩১৩ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে, যা গত ২৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) তথ্যমতে, সরকারি চিনিকলগুলোতে সর্বোচ্চ এক লাখ ২৮ হাজার লাখ টন চিনি উৎপাদন হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। ওই সময় ১৫টি চিনিকল উৎপাদনে ছিল। পরে লোকসানে থাকায় ২০২০ সালে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করা হয়। উৎপাদনের পরিমাণ প্রতিবছরই কমছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৪ হাজার ৫০৯ টন চিনি উৎপাদন হয়। এখন উৎপাদন আরও তলানিতে নেমেছে। চলতি অর্থবছরে গত অর্থবছরের চেয়েও উৎপাদন কম হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।

ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি, অস্থিরতা

০৯ মে ২৩, সমকাল

ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবর নেই। আমদানি, পাইকারি, খুচরা তিন ধাপেই যে যার মতো বাড়াচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহ কম থাকার ছুতায় ব্যবসায়ীরা দর বাড়ালেও তথ্য-উপাত্ত বলছে ভিন্ন কথা। সমকালের অনুসন্ধান বলছে, বিশ্ববাজার ও ডলারের দাম কিছুটা অস্থির থাকলেও এটিকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনকে চাপে রাখতে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে আমদানি; কমানো হয়েছে উৎপাদন। ঘাটতি তৈরি করা হয়েছে সরবরাহে।

দেশে এ বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে অপরিশোধিত সয়াবিন ১৩ শতাংশ বেশি এসেছে। চার মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি সয়াবিনের দামও কমেছে ১১০ থেকে ১১৫ ডলার। এ হিসাবে প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে ১২ থেকে ১৪ টাকা। তবে দেশের বাজারের চিত্র পুরো উল্টো। এখানে সয়াবিনের দাম লিটারে বেড়েছে ১২ টাকা! চিনির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। তবে সয়াবিনের চেয়ে এ বছরের প্রথম চার মাসে চিনি কিছুটা কম এসেছে। বিশ্ববাজারেও দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু সবশেষ চার মাসে বিশ্ববাজারে চিনির দাম টনপ্রতি গড়ে বেড়েছে ৫৫ থেকে ৬০ ডলার। প্রতি ডলারের দাম ১০৬ থেকে ১০৭ টাকা ধরলে চিনির দাম কেজিপ্রতি বাড়ার কথা ছয় থেকে সাড়ে ছয় টাকা। তবে চিনি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

যানজট ঠেকানোর প্রকল্পে ভজকট

০৯ মে ২৩, সমকাল

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের প্রকল্পে প্রকল্পে লেগেছে ভজকট। সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা, বিভিন্ন সংস্থার আন্তঃসমন্বয়ে বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, সরকারের অনুমোদনসহ সব ধাপ পেরিয়ে নির্মাণকাজ শুরুর পর ধরা পড়ছে– এক প্রকল্প আরেকটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে আটকে যাচ্ছে কাজ, খরচও বাড়ছে। হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্পের ভিড়ে যানজট বাড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের জট ছোটাতে গত ২২ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) পরিচালনা পরিষদের সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি করা হয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিটিসিএ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারি সংস্থাগুলোর মত নিয়েছে কমিটি।

সভার কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর হয়ে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে আপত্তি রয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের। ১২ বছর আগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) এই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু করে সেতু বিভাগ। এতে খরচ হচ্ছে ১৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।

এক যুগ পর এসে দক্ষিণ সিটি বলছে, নকশা অনুযায়ী এক্সপ্রেসওয়ের র‍্যাম্প তেজগাঁওয়ে এফডিসি রেলক্রসিং থেকে হাতিরপুল হয়ে পলাশীর দিকে গেলে যানবাহনের চাপ বহু গুণ বাড়বে। পদ্মা সেতুমুখী গাড়ি পলাশী হয়ে হানিফ ফ্লাইওভারে উঠতে চাইবে। এতে যানজট বাড়বে। এরপরও যদি পলাশীমুখী র‍্যাম্প করা হয়, তবে তা থেকে আদায় করা টোলের ভাগ চায় দক্ষিণ সিটি।

এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা বিমানের জন্য কতটা লাভজনক, প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের

০৮ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

গত বছর ২৮ হাজার টনের কিছু বেশি মালামাল পরিবহন করেছে বিমান। যদিও এর পরিবহন সক্ষমতা ছিল ৪ দশমিক ৯৮ লাখ টনের বেশি।

সক্ষমতার মাত্র ৬ শতাংশ ব্যবহার করার পরও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে দুটি নতুন কার্গো উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে বিমান।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) এর একটি নিরীক্ষায় দেখা যায়, গত বছর আন্তর্জাতিক রুটে ২০ দশমিক ৫৮ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে বিমান। এসব ফ্লাইটে প্রায় ৭ লাখ আসন খালি ছিল যা বিমানের যাত্রী বহন সক্ষমতার প্রায় ২৪ শতাংশ।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করে ১২টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনে। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে একাধিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং -৯ এবং বোয়িং ৭৩৭-৮০০।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইলটসহ অন্যান্য জনবলের ঘাটতি এবং দুর্বল পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কারণে উড়োজাহাজগুলোর সঠিক ব্যবহার হয় না। উড়োজাহাজগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবহারে নতুন রুট চালু করতেও ব্যর্থ হয়েছে বিমান।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩ মে দুটি কার্গো উড়োজাহাজসহ এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঁচ মাসে কেবল পাঁচ দিন উৎপাদনে সিইউএফএল

৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেড-সিইউএফএল গত পাঁচ মাসের মধ্যে শুধু পাঁচ দিন উৎপাদনে ছিল। কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো দুর্ঘটনা আবার কখনো গ্যাসের সংকটের কারণে ব্যাহত হয়েছে কারখানাটির সার উৎপাদন।

বর্তমানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিইউএফএল দেশের সারের চাহিদার বড় একটা অংশের জোগান দেয়। কারখানাটি বন্ধ থাকায় উচ্চ মূল্যে বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হবে সরকারকে।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ নভেম্বর কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের রিফরমার পাইপলাইন ফেটে আগুন ধরে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। সব ধরনের মেরামত সম্পন্ন করে চার মাস পর গত ২২ মার্চ বিকেল থেকে শুরু হয় উৎপাদন। কিন্তু পাঁচ দিন পর ২৭ মার্চ দুপুরে পুনরায় বন্ধ হয়ে পড়ে কারখানাটি। তখন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানার পুরো ইউনিট বন্ধ হওয়ায় ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া দুটোরই উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে, গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে এক মাস সময় ধরে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কারখানার অনুঘটক রূপান্তরের প্রক্রিয়া ‘কনভার্টার ক্যাটালিস্ট’ পরিবর্তন করা হয়। তবে কাজটি সফলভাবে শেষ হলেও এর কার্যকারিতা জানা যায়নি। পরীক্ষামূলক ‘ট্রায়ালের’ জন্য বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের কারখানায় দ্বিতীয় দফায় আসার কথা ১০ মে। এ দফায় কারখানা চালু করে নতুন রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলাফল যাচাই করার কথা তাঁদের। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় তাঁদের আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যথাসময়ে চালু করা না গেলে ব্যয়বহুল এই পরিবর্তন কোনো কাজে আসবে না বলে আশঙ্কা করছেন সিইউএফএলের কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে সিইউএফএলের অস্তিত্বই হুমকির মধ্যে পড়েছে।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ এক মাস সময় ধরে বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে কারখানার যান্ত্রিক ত্রুটি সারানো হলেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবর্তিত রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সার উৎপাদনে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। গ্যাসের সরবরাহ চেয়ে কেজিডিসিএলকে বারবার অনুরোধ করা হলেও গ্যাস মিলছে না। ফলে অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ছে কারখানার।

১৪৬ টাকায় সয়াবিন ও ৮৩ টাকা চিনি কিনছে সরকার

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ভারত থেকে প্রতি লিটার ১৪৬ টাকা ১০ পয়সা দরে ১১ হাজার টন সয়াবিন তেল ও সিঙ্গাপুর থেকে ৮২ টাকা ৯৪ পয়সা কেজিতে সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি আমদানি করছে বাংলাদেশ। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সাশ্রয়ী দামে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এই তেল-চিনি বিক্রি করবে।

রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মার্চ-এপ্রিল সময়ে আমদানি বাবদ ১১৮ কোটি ডলার পরিশোধের পর আজ সোমবার রিজার্ভ কমে গেছে। ফলে গতকাল সোমবার (৮ মে, ২০২৩) দিন শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রিজার্ভ তিন হাজার কোটি ডলারের নিচে ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

খোলা চিনি ১২০ টাকা করার প্রস্তাব সরকারের, বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়

১০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন চিনির নতুন দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। আগের নির্ধারিত দাম কেজিপ্রতি ১০৪ টাকা থেকে ১৬ টাকা বাড়িয়ে খোলা চিনির দাম প্রস্তাব করা হয়েছে ১২০ টাকা। একইভাবে ১০৯ টাকার প্যাকেটজাত চিনির দাম বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতি কেজি ১২৫ টাকা।

এদিকে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও মগবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে কোথাও কোথাও এর চেয়ে কিছুটা বেশি দামেও চিনি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন প্যাকেটজাত চিনি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। সুপারশপে কিছু প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া গেলেও তা সীমিত। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের বাজারদরের হিসাবে, ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন প্রকল্প

তিন বছরের কাজ ১৫ বছরে, খরচ বাড়ছে সাড়ে ৩ গুণ

১১ মে ২৩, সমকাল

ভারতীয় ঋণে (এলওসি) তিন বছরে ঢাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ রেললাইন এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের এই প্রকল্প ১১ বছরেও হয়নি। অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে ‘সংঘর্ষ’ ও জমি জটিলতায় কবে কাজ শেষ হবে– তা এখনও অনিশ্চিত। তাই প্রকল্প মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়াতে প্রস্তাব করেছে রেলওয়ে। ৮৪৮ কোটি টাকা খরচ ধরে শুরু করা প্রকল্পটির ব্যয় সাড়ে তিন গুণ বাড়িয়ে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। শুরুতে ছিল ভারতের ঋণের টাকা পেতে জটিলতা। ঋণের শর্ত অনুযায়ী, দেশটির ঠিকাদাররা এ প্রকল্পে কাজ করছেন। নথি অনুযায়ী, প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩০ জুনে নির্মাণ সম্পন্নের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এর ২৪ দিন আগে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আরভী-আয়েশা জেভিকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ করে রেল।

ডিপিপির প্রথম সংশোধনে ৯০২ কোটি টাকা ভারতীয় ঋণসহ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয় ১ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর তথা ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু এর দেড় বছর পর ভারতীয় ঠিকাদার এফকনস এবং কেপিটিএলের যৌথ উদ্যোগে চুক্তি করে রেল। নির্মাণকাজ শুরু হয় পরের বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্প মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। খরচ বেড়ে হয় ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

বন্ধ কারখানার পেছনে ব্যয় থেমে নেই

১৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকার সাভারের নয়ারহাট এলাকায় অবস্থান ঢাকা লেদার কোম্পানি লিমিটেডের। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ১৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কারখানাটি ১৯৯৫ সালে উৎপাদনে যায়। কোটি টাকার কারখানাটি তিন বছরের মাথায় বন্ধ করে দেয় বিসিআইসি। এরপর আর চালু হয়নি।

দুই দশকের বেশি সময় বন্ধ থাকলেও ঢাকা লেদারের পেছনে ব্যয় থেমে নেই। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, কারখানাটিতে এখনো একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তাঁর অধীনে কর্মচারী, ১২ আনসার সদস্য, ৩ নিরাপত্তাকর্মী, ৫ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা-বোনাসসহ কারখানার রক্ষণাবেক্ষণের নানা খরচ রয়েছে।

গত ২৫ এপ্রিল সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার মূল ফটকে তালা। চারপাশে সীমানাপ্রাচীর। কারখানার ভেতরে ঢোকার অনুমতি পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে দেখা যায়, কারখানার ভেতরের প্রাঙ্গণ নানা ধরনের গাছপালায় ভরে গেছে। জানা যায়, ভেতরে কারখানা ছাড়াও প্রশাসনিক ভবন, রেস্টহাউসসহ কিছু স্থাপনা রয়েছে।

শুধু ব্যবসায়ীদের বক্তব্যকেই আমলে নিচ্ছে কি ট্যারিফ কমিশন?

মে ১৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের বিনিময় হার ওঠানামা করছে ১০৭ টাকার আশপাশে। যদিও ভোজ্যতেলের সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণের সময় ব্যবসায়ীরা আমদানিতে ডলারের বিনিময় হার ধরেছেন ১১১ টাকা। ২০ শতাংশ শুল্কসহ প্রতি টন সয়াবিন তেলের আমদানি দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর সঙ্গে উৎপাদন পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করলে মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২ টাকা। উৎপাদন খরচ, মোড়কজাত, অপচয় (প্রসেস লস), মুনাফা ও ডিলার কমিশন মিলিয়ে আরো ১৫ শতাংশ যুক্ত করে সবচেয়ে রক্ষণশীল হিসাব করেও দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৩ টাকা ৫০ পয়সার বেশি হওয়ার কথা নয়। যদিও ট্যারিফ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায়।

ঢাকার গরিব মানুষের অর্ধেকই ‘নতুন দরিদ্র’

১৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

করোনাভাইরাস মহামারির সময় দেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা কমে আসে। তবে মহামারির প্রভাবে শহরাঞ্চলে নতুন ধরনের দারিদ্র্যের আবির্ভাব ঘটে। নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষ কাজ হারিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাতারে যুক্ত হয়েছে। গত বছর ঢাকা শহরের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই নতুন দরিদ্র।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার ২ হাজার ৪৬টি খানার ওপর জরিপ করে গবেষণাটি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, করোনা–পরবর্তী সময়ে ঢাকার দরিদ্র মানুষের আয় বাড়লেও সঞ্চয় কমেছে। যদিও ধনীদের যে হারে আয় বেড়েছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেভাবে বাড়েনি। তার মানে, সমাজে আয়বৈষম্য নতুন করে বেড়েছে।

বিআইডিএসের গবেষণায় ঢাকার দারিদ্র্যের নতুন মাত্রা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়, ঢাকার ৬২ দশমিক ১২ শতাংশ জনগোষ্ঠী কখনোই দরিদ্র হয় না। দারিদ্র্য থেকে বেরিয়েছে ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী আগে থেকে দরিদ্র। নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী বিআইডিএস রিসার্চ অ্যালমানক ২০২৩ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে গতকাল বুধবার এই গবেষণার তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম ও পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার।

বিনায়ক সেন বলেন, ‘ঢাকার মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ শতাংশ নতুন দরিদ্র। তারা করোনারকালে নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে নিচের স্তরে নেমে গেছে। সংকটে থাকা এই শ্রেণির ওপর আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

আয়, ব্যয় ও বৈষম্য

বিআইডিএসের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দারিদ্র্য ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। আর অতিদারিদ্র্য কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট। করোনা-পরবর্তী সময়

বিআইডিএসের গবেষণা

করোনা–পরবর্তী সময়ে ঢাকার দরিদ্র মানুষের আয় বাড়লেও সঞ্চয় কমেছে। যদিও ধনীদের যে হারে আয় বেড়েছে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় সেভাবে বাড়েনি।

দারিদ্র্য কমাতে আত্মকর্মসংস্থান বড় ভূমিকা রেখেছে। যাঁদের আর্থিক সঞ্চয় ছিল, তাঁরা সেটি ভেঙে নিজের কর্মসংস্থানের জন্য কাজে লাগিয়েছেন। তা ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে মোবাইলে আর্থিক সেবা বা এমএফএস আত্তীকরণ দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।

দারিদ্র্য কমলেও আয়বৈষম্য বেড়েছে। করোনার আগে ২০১৯ সালে ঢাকার দরিদ্র খানা বা পরিবারের বার্ষিক আয় ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। করোনার পর গত বছর সেটি বেড়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৯ সালে অতিদরিদ্র খানার আয় ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। গত বছর সেটি বেড়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হয়েছে। দরিদ্র ও অতিদরিদ্র খানার আয় যথাক্রমে ১০ ও ১৬ শতাংশ বাড়লেও ধনীদের আয় বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ধনী খানার আয় ছিল ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে ১৪ লাখ।

এদিকে আত্মকর্মসংস্থান (সেলফ এমপ্লয়মেন্ট) থেকে দরিদ্র খানার আয় বেড়েছে। করোনার আগে ২০১৯ সালে দরিদ্র খানার আয়ের ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থান থেকে এসেছে। গত বছর সেটি বেড়ে ৩৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ হয়। অন্যদিকে অতিদরিদ্র খানার আয়ের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ এসেছে আত্মকর্মসংস্থান থেকে। গত বছর সেটি বেড়ে ৩৩ দশমিক ২১ শতাংশে দাঁড়ায়।

জ্বালানি তেলের দাম কমে ৭৫ ডলারের নিচে

১৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশ কয়েক বছর কমই ছিল। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ উঠে গেলে চাহিদা বাড়তে শুরু করে। তখন থেকেই বাড়তে শুরু করে তেলের দাম। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশেও দুই দফা তেলের দাম বাড়ানো হয়। এরপর একবার সামান্য কমানো হয়। এই ধাক্কায় মূল্যস্ফীতির হার অনেকটা বেড়েছে। দাম বাড়ানোর সময় সরকারের মন্ত্রীরা বলেছিলেন, তেলের দাম বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশে দাম বাড়ানো হবে, আবার কমলে দাম কমানো হবে।

কিন্তু ২০২২ সালের শেষ দিকে এসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। তখন রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের শেষ প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দর যে হারে কমেছে, তার কারণ হলো বিশ্ব অর্থনীতির বেহালজনিত উদ্বেগ। চলতি বছর বিশ্বের অনেক দেশেই মন্দার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। যদি সেটা হয়, তাহলে তেলের চাহিদা কমে যাবে। সে কারণেই ধারাবাহিকভাবে তেলের দাম কমছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে যা ছিল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে তা বাড়তে থাকে—ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ ও আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এখন জ্বালানি তেলের দাম ৭৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অনেক দিন ধরেই তেলের দাম ৭০ থেকে ৮০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে দেশের বাজারে দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।

বিল বকেয়া রাখা কোম্পানি পাচ্ছে সরবরাহের দায়িত্ব

১৯ মে ২৩, সমকাল

দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস অবশেষে দেশের মূল ভূখণ্ডে আসছে। সিএনজি আকারে এই গ্যাস তিতাসের আওতাধীন শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হবে; যার কাজ পেতে যাচ্ছে ইন্ট্রাকো সিএনজি। এই সিএনজির প্রতি ঘনমিটারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। যদিও গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়া বর্ধিত দর অনুসারে শিল্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩০ টাকা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম পড়ছে ৪৩ টাকা। অর্থাৎ ভোলার গ্যাস চলতি দামের চেয়েও বেশি মূল্যে বিক্রি করবে ইন্ট্রাকো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা থেকে উত্তোলিত গ্যাস সিএনজি আকারে সরবরাহের জন্য ইন্ট্রাকো ও সুন্দরবন গ্যাসের মধ্যে আগামী ২১ মে ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যদিও ইন্ট্রাকোর একাধিক সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে এখনও তিতাস গ্যাসের শতকোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ কিস্তিতে এই বকেয়া পূরণের সুযোগ পেয়েছে কোম্পানিটি।

বিলম্বিত হচ্ছে সব ধরনের জ্বালানির অর্থ পরিশোধ

মে ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানির সংস্থান হয় আমদানির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারি কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে এসব জ্বালানি আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এ আমদানি অব্যাহত রাখা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল, কয়লা ও গ্যাস—প্রাথমিক এ তিন জ্বালানি আমদানি বাবদ বিপুল পরিমাণ বকেয়া জমেছে জোগানদাতাদের কাছে। এ দেনা শোধ করা যাচ্ছে না ডলার সংকটের কারণে। রক্ষণশীলভাবে হিসাব করলেও দেখা যায়, জ্বালানির সংস্থান বাবদ দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান-সংস্থাগুলোর দেনা অনেক আগেই ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) ডলারের বেঞ্চমার্ক অতিক্রম করেছে।

সরবরাহব্যবস্থার বিশৃঙ্খলায় বাজারে অস্থিরতা

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে চিনির বাজারে অস্থিরতার জন্য ‘সরবরাহব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা’কে দায়ী করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। সংস্থাটি বলছে, চিনিকলগুলো তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি সরবরাহের আদেশ নেওয়ায় বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কারণ, সাপ্লাই অর্ডার বা সরবরাহ আদেশ (এসও) হাতবদলের সুযোগ থাকায় অতি মুনাফার জন্য বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি চিনির বাজারের অস্থিরতা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে। এতে চিনির সরবরাহব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে পরিশোধিত চিনির সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পরিশোধন মিল থেকে চিনি সরবরাহে বিশৃঙ্খলার ফলে সৃষ্ট সমস্যা বাজারে চিনির মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া দেশে চিনি পরিশোধনাগার কম থাকার কারণেও বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিটিটিসি বলেছে, চিনিকল থেকে এসওর (সরবরাহ আদেশ) মেয়াদ ১৫ দিন উল্লেখ করা হলেও তা অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত থেকে যাচ্ছে। ফলে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের এসও বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এ ছাড়া মিল থেকে উৎপাদন সক্ষমতার বেশি এসও দেওয়া হয়। আবার এসও হাতবদলের সুযোগ রয়েছে। এতে অতি মুনাফার জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়, আর সেটি বাজারে সমস্যার সৃষ্টি করে।

সরকারি সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থাকলে মিলগুলো আগের এসওর চিনি সরবরাহ কমিয়ে নতুন এসওর মাধ্যমে সরবরাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটি চিনির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম কমতে শুরু করলে তখন মিল থেকে এসও কেনা ব্যবসায়ীরা চিনি উত্তোলন করতে চান না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে চিনির সরবরাহে।

বিটিটিসি জানায়, চিনিকলগুলো অনেক সময় নিয়মিত সরবরাহ আদেশের পাশাপাশি বিশেষ সরবরাহ আদেশ নেয়। এই আদেশের মাধ্যমে মূলত বাড়তি দামের চিনি আগে মিল থেকে ছাড় করা হয়। এতে চিনি সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হয়। অনেক মিল আবার চিনি সরবরাহের জন্য ট্রাকের নম্বর নির্ধারণ করে দেয়। ওই নম্বরের ট্রাক ছাড়া অন্য কোনো ট্রাককে মিলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এতেও সমস্যা দেখা দেয়।

এ ছাড়া মিল ফটকে খোলা চিনির মূল্য অতিমাত্রায় পরিবর্তনের ফলে সেকেন্ডারি বাজারে প্রতিনিয়ত দাম পরিবর্তন হয়। ফলে খোলা চিনির দাম নিয়ে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করে। খোলা চিনি পাইকারি বাজারে প্রবেশের পর সেটি কোন ব্র্যান্ডের, তা বোঝা যায় না। আর দেশে চিনি পরিশোধনকারী কারখানার সংখ্যা কম হওয়ায় চিনির বাজারে সিন্ডিকেটের সুযোগ আছে।

১৬ শর্তে ইজিবাইক নিবন্ধন

২০ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের শহরে-গ্রামে লাখ লাখ ইজিবাইক চলছে অনুমোদন ছাড়াই। এগুলোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে দূরপাল্লার বাসচালকরা অভিযোগ করে থাকেন। এসব ইজিবাইক মানসম্মত করে তোলার জন্য ১৬টি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষকরা। সুপারিশ মেনে তাদের সড়কে চলার অনুমতি দেওয়া যায় বলে গবেষকদের অভিমত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষণা কাউন্সিল এই গবেষণায় অর্থায়ন করে।

বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান জানান, বুয়েটের কয়েকটি বিভাগের অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত গবেষকদল বিদ্যমান ইজিবাইকের ১৬টি কারিগরি পরিবর্তন করতে বলেছে। মেকানিক্যাল ব্রেকের পরিবর্তে তিন চাকায় হাইড্রোলিক ব্রেক সংযোজন করতে হবে। চালকের আসনের দুই পাশ ও উইন্ডশিল্ড পুরোপুরি ফুল ওয়েদার কোট দ্বারা ঢাকা রাখতে বলা হয়েছে। চালকের আসনে কোনো যাত্রী নেওয়া যাবে না। চালকের আসনটি হবে একজন বসার মতো, যাতে সেখানে যাত্রী না নেওয়া যায়। চালক ও যাত্রীদের আসনের মাঝে প্রতিবন্ধক, পেছনে ও ডানে-বাঁয়ে দেখার গ্লাস ও সামনের উইন্ডশিল্ড উইপার থাকবে। সব আবহাওয়ায় দুই পাশে কভার ও মাথার ওপর ঢাকা থাকতে হবে। তাতে জিপার থাকবে যাতে বৃষ্টি ও গরমের সময় সহজে ব্যবহার করা যায়।

আলুর বড় মজুত, দাম বাড়ছে

২১ মে ২৩, সমকাল

‘মার্চ-এপ্রিল মাসে কয়েকটি হিমাগারে ছয় হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছি। বাজারে এর দাম বেড়েছে। তবে আমি এখনও এক বস্তাও বিক্রি করিনি। সংরক্ষণের মেয়াদও অনেক রয়েছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’ কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের আলু ব্যবসায়ী মিঠু ফকির। তাঁর মতো আরও অনেকে একযোগে মজুত করেছেন।

বাজারে এক মাস আগে এক কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) আলু ১৭-১৮ টাকা, ডায়মন্ড (সাদা) ১৮-১৯, দেশি পাকরি (লাল) ২১-২২ এবং রুমানা (পাকরি) ২০ টাকায় বিক্রি হয়। শনিবার সদরের নতুন ও পুরোনো বাজার, কালাই পৌর বাজার ও পুনট হাটে লাল আলু ৩৫-৩৬, ডায়মন্ড ৩৮, দেশি পাকরি ৪০-৪২ এবং রুমানা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত।

অথচ ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে সাড়ে ১১ থেকে ১৩ টাকা কেজি আলু কিনেছেন। হিমাগারের ভাড়াসহ সব মিলে খরচ পড়েছে ১৫-১৬ টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ-এপ্রিলে জয়পুরহাটের হিমাগারে ৬৫ কেজি ওজনের ২০ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ হয়েছে। পাঁচটি উপজেলার ১৬টি হিমাগারে উৎপাদনের ৯৩ শতাংশ মজুত রয়েছে। উত্তোলনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর।

ব্যবসায়ী ও হিমাগার ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, গত বছর ১৬টি হিমাগারে প্রায় ২১ লাখ বস্তা আলু মজুত ছিল। গত মে মাসে প্রকারভেদে এক কেজি কার্ডিনাল ও স্টিক (লাল) আলু ৭-৮ টাকা, ডায়মন্ড (সাদা) ৮-৯ টাকা এবং দেশি পাকরি (লাল) ১০-১২ টাকায় বিক্রি হয়। এবার একই পরিমাণ মজুত থাকলেও দাম বেড়েছে চার-পাঁচ গুণ।

চাহিদা বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় আলু উত্তোলন করছেন না। এতে দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে বলে অভিযোগ হিমাগার মালিক, খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের। তাঁদের দাবি, ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে সংকট সৃষ্টি করেছেন। কম আলু বের করে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়াচ্ছেন। হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা।

গ্রামীণ সড়কের বড় অংশই বেহাল

২১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন দেশের গ্রামীণ সড়কের একটা বড় অংশই বেহাল। এর মধ্যে সংস্কারের অভাবে প্রায় ২৫ শতাংশ সড়ক একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সংস্থার অধীনে থাকা প্রায় ৫০ শতাংশ সড়কেরই মেরামত প্রয়োজন। এলজিইডির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ শাখা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কের একক দায়িত্ব এলজিইডির। এলজিইডির আওতাধীন গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন-রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও সংস্থাটির। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্ক এলজিইডির। সংস্থাটির আওতায় মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯২১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ পাকা ও ৫৫ শতাংশ কাঁচা সড়ক। এলজিইডি সূত্র বলছে, সংস্থাটি সচরাচর কাঁচা সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ বরাদ্দ দেয় না। এ কারণে বছরের পর বছর এই সড়কগুলো ভাঙাচোরা থাকে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, বিগত তিন অর্থবছরে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে রাজস্ব খাত থেকে সংস্থাটি ব্যয় করেছে প্রায় ৬ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সংস্থাটি।

সাধারণত, সড়ক নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যে তা সংস্কার করা হয় না বলে এলজিইডি সূত্র জানায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, নির্মাণের পর বছর না ঘুরতেই সড়ক ভাঙতে শুরু করে। তা ছাড়া এলজিইডির সড়ক নির্মাণের পর তা বেশি দিন না টেকার অভিযোগ রয়েছে। দু-তিন বছরের মধ্যেই সড়ক বেহাল হয়ে পড়ে। এ কারণে বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কের সুফল মানুষ পায় না।

এলজিইডির প্রকৌশলীরা বলছেন, গ্রামীণ সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচল। উপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়কে ৮ দশমিক ২ টন এবং গ্রামীণ সড়কে ৫ টনের বেশি পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে এর চেয়ে অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল করে। এ কারণে সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়। এ ছাড়া অতিবৃষ্টি, সড়কের পাশের পুকুরের পাড় বাঁধানো না থাকা, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।

অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলজিইডির সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও দুর্নীতিকেও দায়ী করেন।

গ্রামীণ কাঁচা সড়ক অবহেলিত

এলজিইডির অধীন থাকা গ্রামীণ সড়ককে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক, গ্রাম সড়ক (ক শ্রেণি) ও গ্রাম সড়ক (খ শ্রেণি)।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে চার ধরনের কাজ করে। এগুলো হলো যেসব সড়কে গর্ত তৈরি হয়েছে, সেগুলো ভরাট (রি-সিল), মোটামুটি থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত (ওভার-লে), সড়কের আয়ুষ্কাল কমে গেলে তা পুনর্বাসন এবং সড়ক প্রশস্ত করা। তবে সংস্থাটির সড়ক রক্ষণাবেক্ষণকাজের বড় অংশ অর্থই ব্যয় হয় মেরামতের পেছনে।

এলজিইডি প্রতিবছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করে। এলজিইডি সূত্র বলছে, যে সড়কে যানবাহন চলাচল বেশি, উপজেলা ও ইউনিয়নের সংযোগকারী সড়ক, হাটবাজারের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে—এমন সব সড়কই সংস্থাটি গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার করে।

এলজিইডি থেকে জানা যায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক বাদে সংস্থাটির ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের বেশি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ১ লাখ ৭৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি। অর্থাৎ, মোট গ্রামীণ সড়কের ৬৭ শতাংশই কাঁচা।

কাঁচা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে এলজিইডি সচরাচর অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকে।

আয় খেয়ে ফেলছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি

২২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা আর্জেন্টিনার মতো এখনো গভীর সংকটে থাকা কিছু দেশ ছাড়া অন্যরা মূল্যস্ফীতি কমাতে পারছে। ভারতে মূল্যস্ফীতি এখন ৫ শতাংশের নিচে, যা গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল্যস্ফীতি কমছে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো দেশগুলোতেও। নানা উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি কমাচ্ছে অন্যরাও। কিন্তু স্বস্তি নেই বাংলাদেশে। এখানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সংসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যদিও সরকারের হিসাবে গত এক বছরে দেশের মানুষের আয় বেড়েছে, মজুরিও বেড়েছে। টাকার অঙ্কে বেড়েছে মাথাপিছু আয়। কিন্তু সবই কাগজে-কলমে হিসাব। আর তাতে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি পাচ্ছে না; বরং সংসার চালাতে অনেককে ধারদেনা করতে হচ্ছে। ভাঙতে হচ্ছে সঞ্চয়। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতিই খেয়ে ফেলছে মানুষের আয়।

ডলার–সংকটে জ্বালানির মূল্য পরিশোধে সমস্যা, বাংলাদেশে ‘তেল না পাঠানোর হুমকি’

২৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সেই সঙ্গে জ্বালানির মজুতও ‘বিপজ্জনকভাবে কমে’ আসছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাঠানো দুটি চিঠির একটির সূত্রে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। ছয়টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশের কাছে জ্বালানি তেল বাবদ ৩০ কোটি ডলার পাবে। অর্থ না পাওয়ায় এদের কেউ কেউ বাংলাদেশে তেল পাঠানো কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তেলবাহী কার্গো ‘না পাঠানোর হুমকি’ দিয়েছে বলে চিঠির সূত্রে আরও জানিয়েছে রয়টার্স।

শিল্পে মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমলেও মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি

মে ২৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

ভারী শিল্প স্থাপনের প্রধান উপকরণ হলো মূলধনি যন্ত্রপাতি। এ ধরনের শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্রায় পুরোটাই আসে আমদানির মাধ্যমে। চলতি অর্থবছরে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র (এলসি) কমেছে ৫৭ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী (ইন্টারমিডিয়েট) পণ্যর ঋণপত্রও। যদিও সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেই বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণে বেশ বড় আকারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দেয়া ঋণকে বলা হয় মেয়াদি ঋণ। ব্যাংক থেকে নেয়া এ ঋণেই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েন উদ্যোক্তারা। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অর্ধেকে নেমে আসার পরও ব্যাংকগুলোর মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধিকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি কমে গেলে শিল্পের মেয়াদি ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমার কথা। এ অবস্থায় আমদানি কমার পরও এ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক চিত্র নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পণ্যমূল্য বেশি দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনেক আছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেকর্ড আমদানি হওয়ার পেছনে এ অর্থ পাচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ডলার সংকটের কারণে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণপত্রগুলোর যথার্থতা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ কারণে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচার কমছে। এর প্রভাবই দেখা যাচ্ছে শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে। অর্থের হিসাবে আমদানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমলেও পণ্যের পরিমাপে আমদানি কমেনি। এ কারণে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা হয়েছিল ৫৬৮ কোটি ১২ লাখ ডলারের। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতের ২৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানের এলসি খোলা কমেছে ৫৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। শুধু নতুন এলসিই নয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তির হারও ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে এ খাতে ৪০৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হলেও চলতি অর্থবছরে তা ৩৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি অর্ধেকের বেশি কমলেও চলতি অর্থবছরে দেশের বৃহৎ শিল্পের মেয়াদি ঋণের উচ্চপ্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৃহৎ শিল্পের ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এ খাতের মেয়াদি ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি দেশের মাঝারি শিল্পেরও মেয়াদি ঋণের বিতরণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মাঝারি শিল্পের মেয়াদি ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে এ ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ৪৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলে কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৯.০৫ কোটি ডলার

মে ২৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ হবে ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেল লাইন (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট)। পাতালপথ ও উড়ালপথের সমন্বয়ে নির্মিতব্য এ মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার ৬২ কোটি টাকা। টাকার বিপরীতে ডলারের সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলারে ১০৮ টাকা ২৫ পয়সা) অনুযায়ী হেমায়েতপুর-ভাটারা মেট্রোরেল নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার। গতকালই মেট্রোরেলের একটি প্যাকেজে ঠিকাদার নিযুক্ত করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আগামী জুলাইয়ে এ মেট্রোর নির্মাণকাজ শুরুর আশা করছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণের ব্যয় নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছে নির্মাণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাত নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’। এতে বলা হয়েছে, লাহোর অরেঞ্জ লাইনের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। একইভাবে জাকার্তা নর্থ-সাউথের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় সাড়ে ৭ কোটি ডলার, হো চি মিন সিটি লাইন-১-এর ৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার, হ্যানয় লাইন-২-এর ৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, দিল্লি লাইন-১-এর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ৫ কোটি ৬ লাখ ডলার। উল্লিখিত সব মেট্রোই সংশ্লিষ্ট শহরগুলোর প্রথম। ‘ফিউচার সাউথইস্ট এশিয়া’র বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এশিয়ার ব্যয়বহুল মেট্রোরেলে পরিণত হয়েছে ঢাকার এমআরটি লাইন-৬। ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। মার্কিন মুদ্রার হিসাবে ১৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)। উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচলের জন্য নির্মীয়মাণ দেশের প্রথম এ মেট্রোরেলের পুরোটাই হচ্ছে উড়ালপথে।

এর চেয়েও বেশি ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ঢাকার দ্বিতীয় মেট্রোরেলটি। বিমানবন্দর-কমলাপুর-পূর্বাচল রুটের জন্য এ মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ১৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার (গতকালের ডলার রেট অনুযায়ী)।

নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষায় থাকা ঢাকার তৃতীয় মেট্রোরেলের ব্যয় প্রথম দুটিকে অতিক্রম করে গেছে। এতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে গড়ে খরচ হবে ১৯ কোটি ৫ লাখ ডলার।

প্রতিবেশী ভারতে যেখানে মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি গড় নির্মাণ ব্যয় ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার মেট্রো নির্মাণে ১৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যবসা খারাপ বেশির ভাগ কোম্পানির

২৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের উৎপাদনশীল খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির ব্যবসায় খারাপ যাচ্ছে। নানামুখী সংকটে উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় এসব কোম্পানি ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। তবে কোনো কোনো কোম্পানির বিক্রি বাড়লেও উৎপাদন খরচ অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও মুনাফায় টান লেগেছে।

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সেবা ও শিল্প খাতের ২০৪টি কোম্পানির চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি–মার্চ) সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১৯টিরই ব্যবসা গত বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। ব্যবসায় ভালো করেছে ৮১টি, অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানি মোট ২৪১টি। এর মধ্যে ৩৭টি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় সেগুলোর ব্যবসা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার শিশু খর্বকায়

২৭ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে ৫ বছরের কম বয়সী ২৬ শতাংশ শিশু খর্বকায়। অপুষ্টির শিকার এসব শিশুর সংখ্যা ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার। এদের উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। দেশে এমন শিশুর সংখ্যা কমে এলেও এখনো তা উচ্চপর্যায়ে আছে বলে একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অপুষ্টির শিকার শিশুদের এই অনুমিত সংখ্যা ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে প্রকাশ করেছে। ২৩ মে প্রকাশিত ‘শিশু অপুষ্টির মাত্রা ও প্রবণতা’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অন্তত একটি ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি বাড়ছে। দেশে আগের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজনের শিশুর সংখ্যা বাড়ছে।

বৈশ্বিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম, এমন শিশুর সংখ্যা কমছে। ২০১২ সালে ছিল ৩৯ শতাংশ বা ৬০ লাখ ৪৬ হাজার। বর্তমানে ২৬ শতাংশ বা ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার। একে ‘উচ্চ’ হার বলছে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংক।

একই সঙ্গে দুই ধরনের অপুষ্টির শিকার শিশুদের বৈশ্বিক বা দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান নেই।

অপুষ্টির আরেকটি সূচক কৃশতা বা ওয়াস্টিং। কিছু শিশু তাদের উচ্চতার তুলনায় কৃশ বা হালকা–পাতলা হয়। কোনো কারণে যদি দ্রুত ওজন কমে যায় বা কোনো কারণে যদি ওজন না বাড়তে থাকে, তাহলে শিশু কৃশ হয়ে পড়ে। মাঝারি থেকে মারাত্মক কৃশকায় শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। এই ধরনের শিশুর চিকিৎসা দরকার হয়। প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৫ বছর কম বয়সী ৯ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু কৃষকায়। এদের মোট সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৮ হাজার।

ওষুধের দামও লাগামছাড়া

২৯ মে ২৩, সমকাল 

নিত্যপণ্যের দাম ছুটছে তো ছুটছেই। এ দৌড়ে পেরে উঠছে না মানুষ। এর মধ্যেই নতুন দুঃসংবাদ নিয়ে হাজির ওষুধ খাত। দেশের শীর্ষ ছয় প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ২৩৪টি জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ালেও সেই নথি পায়নি সমকাল। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো কত শতাংশ বাড়িয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দরের চেয়ে বাজারে অনেক ওষুধ বেশি দামেও কেনাবেচা চলছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১০ কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধের দাম বাড়াতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। এদের কেউ কেউ ওষুধের দাম সমন্বয় না করলে উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ডলার সংকটে ধুঁকছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত

৩১ মে ২৩, সমকাল 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ডলার সংকট প্রকট হচ্ছে। গত বছর থেকেই এ সংকটের শুরু। মাঝে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবার অবনতি হচ্ছে। জ্বালানি পণ্য সরবরাহকারী বিদেশি কোম্পানির কাছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বকেয়া দিন দিন বাড়ছে। বকেয়া বিল পরিশোধে এ মুহূর্তে অন্তত ১০০ কোটি ডলার দরকার। হাতে টাকা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী ডলার নেই। ফলে বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আগের মতো সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদামতো ডলারও দিচ্ছে না; বরং আইএমএফের শর্ত মেনে নিট রিজার্ভ বাড়াতে ডলার বিক্রি কমানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, যথাসময়ে অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় কয়েক কোটি টাকা জরিমানা গুনছে পেট্রোবাংলা। ডলার সংকট দীর্ঘায়িত হলে ব্যাহত হতে পারে এলএনজি আমদানি। ডলারের অভাবে কয়লা আমদানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পায়রা, রামপালসহ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তেল আমদানির বিল পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে বিপিসি। বকেয়া পরিশোধ না করলে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। ডলার চেয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও সুফল মিলছে না।

বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দিলো মুডি’স

৩০ মে ২৩, সমকাল

ডলার সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আর্ন্তজাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি মুডি’স বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান কমিয়েছে। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর থেকে মুডি’স ইনভেষ্টর সার্ভিস এ রেটিং প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রেটিং ‘বিএ৩’ যা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ‘বি১’। তবে আউটলুক বা ভবিষ্যতের জন্য আভাস হচ্ছে ‘স্থিতিশীল’।

কোনো দেশের ক্রেডিট রেটিং বিনিয়োগকারীদেরকে সে দেশের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। ঋণমান হলো- কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের যোগ্যতা। ঋণমানের মূল্যায়ন থেকে কোনো দেশের ঋণ পরিশোধের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ‘বি১’ রেটিং আগের রেটিংয়ের চেয়ে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি নিম্ন ও মধ্যম ক্যাটাগরির। সবচেয়ে উচু মানের রেটিং হলো ‘এএএ’।

বিদেশী ঋণের সুদ ও এলসি কমিশন বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা

জুন ০১, ২০২৩, বণিক বার্তা

আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দেয়ার পরদিনই এর বিরূপ প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে গতকালই আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ঋণসীমা বা ক্রেডিট লাইন স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংক (এডিআইবি)। বাংলাদেশের অন্তত ২০টি ব্যাংকের সঙ্গে ইউএইর বৃহৎ এ ব্যাংকটির ক্রেডিট লাইন রয়েছে। আবুধাবি ইসলামিক ব্যাংকের মতো বিশ্বের অন্য বৃহৎ ব্যাংকগুলোও বাংলাদেশে নিজেদের ঋণসীমা পুনর্বিবেচনার কথা জানাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রাপ্তির আশঙ্কা করছেন দেশের ব্যাংক নির্বাহীরা।

বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পাদন ও দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশী মুদ্রায় ঋণ দেয়ার জন্য বিদেশী ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ঋণসীমা নেয়া হয়। এ ঋণসীমা ব্যবহার করেই আমদানি-রফতানি ঋণপত্রের (এলসি) নিশ্চয়তা দেয় দেশের ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি এর আওতায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল এনে দেশের ব্যবসায়ীদের বিদেশী মুদ্রায়ও ঋণ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কান্ট্রি রেটিং অবনমনের পর এবার সাতটি বেসরকারি ব্যাংকেরও রেটিং অবনমন করে দিয়েছে মুডি’স। রেটিং অবনমন হওয়া ব্যাংকগুলো হলো ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ও প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। এ তালিকায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের নামও রয়েছে। বৈদেশিক ও স্থানীয় মুদ্রায় ‘দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট’ ও ‘ইস্যুয়ার রেটিং’য়ের ক্ষেত্রে এ অবনমন করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে মুডি’স জানিয়েছে। দেশের কেবল এ আটটি ব্যাংকই মার্কিন ঋণমান প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে রেটিং করিয়েছিল। মুডি’সের পক্ষ থেকে গত ডিসেম্বরে এসব ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি রেটিং পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

ধনীদের সারচার্জের ক্ষেত্রে আরও ছাড়

০১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ধনীদের সম্পদের ওপর সারচার্জের ক্ষেত্রে আবার ছাড় দিলেন অর্থমন্ত্রী। এত দিন তিন কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলেই সারচার্জ দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। আগামী বছরের বাজেটে এ সীমা বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে যে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে বাধ্যতামূলকভাবে সারচার্জ দিতে হবে।

 অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাব অনুযায়ী, নিট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে হলে ওই ব্যক্তির করের ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে কিংবা নিজ নামে একাধিক গাড়ি কিংবা ৮ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের গৃহ-সম্পত্তি থাকলেও ১০ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

এ ছাড়া নিট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে হলে প্রদত্ত করের ২০ শতাংশ; সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে করের ৩০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে করের ৩৫ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।

করদাতার বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার সময় পরিসম্পদ, দায় ও খরচের বিবরণীতে নিট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়। সেই সম্পদের ওপরেই সারচার্জ আরোপ করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে যে অনেকেই নিজেদের সম্পদের পুরোটা কর বিবরণীতে ঘোষণা দেন না। বিশেষ করে কালোটাকার মাধ্যমে যে সম্পদ অর্জিত হয়, তা রিটার্নে দেখান না এসব সম্পদের মালিকেরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১৫ হাজারের মতো ব্যক্তি সারচার্জ দিয়েছেন। ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সারচার্জ দেওয়ার বিধান করা হয়। তখন অবশ্য দুই কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হতো। এরপর প্রতিবছর সারচার্জধারী সম্পদশালীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। পাঁচ বছরের ব্যবধানে সারচার্জ দেওয়া সম্পদশালীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গত এক দশকে এমন সম্পদধারী সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে।

২০২০ সালে আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা ওয়েলথ এক্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পদধারীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ শীর্ষে ছিল। ওই সময়ে দেশে ৫০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদধারী ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

উপেক্ষিতই থাকল জ্বালানি খাত

০২ জুন ২৩, সমকাল

জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ। গ্যাস-কয়লার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বেড়েছে লোডশেডিং। গ্যাস সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। ডলার সংকটে  গ্যাস-কয়লা আমদানি বন্ধ থাকছে। সংকট সামলাতে বিশেষজ্ঞরা দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে বলছেন। তবে বরাবরের মতো বাজেটে অবহেলিত থাকছে জ্বালানি খাত।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মাত্র ৯১১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুতের উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ২৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

স্মার্ট না বেহাল আর্থিক পরিস্থিতির সূচনা?

জুন ০২, ২০২৩, বণিক বার্তা

জাতীয় সংসদে গতকাল ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ছবি: পিআইডি

কোষাগারে অর্থাভাব। সরকারি সংস্থাগুলোও বিপর্যস্ত। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কাউকে টাকা দিতে পারছে না। অর্থের অভাবে সরকারও আমদানির বাজার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংস্থান করতে পারছে না। দুইদিন আগেই বাংলাদেশের ঋণমান অবনমন করেছে মার্কিন ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডি’স। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্যাকেজ গ্রহণও এ অবনমন ঠেকাতে পারেনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৬ শতাংশ।  চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরেও পূর্ণ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা না থাকায় সংশোধন করে বাজেটের আকার কমিয়ে আনতে হয়েছে।

এর মধ্যেই জাতীয় সংসদে গতকাল আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৫ শতাংশ বড় আয়তনের এ বাজেটের শিরোনাম ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘‌উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জন আমাদের লক্ষ্য হলেও আমরা একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে চাই। এরই মধ্যে আমাদের সরকারের সময়োপযোগী কৌশলের প্রভাবে লেনদেন ভারসাম্যের অস্থিতিশীলতা কমে এসেছে।’

যদিও বর্তমান পরিস্থিতি উচ্চপ্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বরং অর্থের সুনির্দিষ্ট জোগান ছাড়া খরচ বৃদ্ধির এ ধরনের রূপকল্প পরিস্থিতিকে আরো বেহাল করে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ বিষয়ে তাদের ভাষ্য হলো উচ্চাভিলাষী এ বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। চলমান মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা নিয়েও প্রয়োজনীয় কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এর মধ্যেই আবার বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে দিয়েছে মুডি’স। তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রভাব দৃশ্যমান না হলেও অর্থবছরজুড়ে এর জন্য ভুগতে হবে। এরই মধ্যে আরব আমিরাতের একটি ব্যাংক বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত ঋণসীমা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী অন্য অনেক আর্থিক সংস্থা ও ব্যাংকের এ পদক্ষেপ অনুসরণ করার জোর আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে বিদেশী উৎস থেকে অর্থায়ন সংগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার সরকারের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যে পরিমাণ নতুন টাকা ছাপাতে হবে, তাতে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।

একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩তম (বাজেট) অধিবেশন শুরুর পর গতকাল বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এর আগে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। সংশোধিত হয়ে এ বাজেটের আকার কমে হয় ৬ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ ডলার।

৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উৎস থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর-বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরো ৫০ হাজার কোটি টাকা।

গত কয়েক বছরে প্রাক্কলন বা লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে রাজস্ব আহরণ করতে পারেনি সরকার। প্রতি বছরই প্রস্তাবে উল্লিখিত লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তব রাজস্ব আহরণের বড় ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরেও প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থেকে গেছে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। এর মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আহরণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। সে অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণ করতে অর্থবছরের বাকি দুই মাসে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে সংস্থাটিকে। এজন্য প্রতি মাসে গড়ে রাজস্ব আহরণ করতে হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। যদিও ২০২২-২৩ অর্থবছর শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আয়ের এ ঘাটতি সামনের দিনগুলোয় বড় সংকটের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। বড় অংকের নতুন এ বাজেটে ঘাটতি পূরণের জন্য দেশী-বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে সরকারকে। এ অর্থায়ন নিশ্চিত হোক না হোক, প্রয়োজনমাফিক রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতা বড় ধরনের সংকটের উৎস হয়ে দেখা দিতে পারে। একদিকে তা সুদ বাবদ সরকারের প্রদেয় ব্যয়ের বোঝাকে আরো ভারী করে তুলতে পারে। এরই মধ্যে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের বৃহৎ একটি ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ। আবার মুডি’সের অবনমনও বাংলাদেশের ঋণপ্রাপ্যতাকে খর্ব করেছে। 

প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার পরিচালন ব্যয়ের প্রাক্কলন করেছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া উন্নয়ন ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজেটে অনুদান ব্যতীত মোট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। বৈদেশিক উৎস (অনুদানসহ) থেকে আসবে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ব্যাংকগুলো নিজেরাই এখন তারল্য সংকটে ভুগছে। এ অবস্থায় সরকারের ঋণ চাহিদা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে টাকা ছাপাতে হচ্ছে। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরেও সরকারকে ঋণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৭০ হাজার কোটি টাকা নতুন করে ছাপাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে সরকারকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরো বেশি হারে টাকা ছাপাতে হবে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, সেক্ষেত্রে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী মূল্যস্ফীতিকে ৬ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হবে না। বরং তা বর্তমানের চেয়ে আরো মারাত্মক আকার নিতে পারে। তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, শ্রীলংকার মতো বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে মুদ্রা ছাপিয়ে বাজেট অর্থায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক দুর্বিপাকের শিকার হয়েছে।

৫ বিলিয়ন ডলারই কষ্টসাধ্য ২০ বিলিয়নের সংস্থান হবে কি?

জুন ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেল ফার্নেস অয়েল। এসব জ্বালানির বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ জ্বালানি চাহিদার প্রয়োজন পড়ছে, তার বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। বিপুল পরিমাণ এ জ্বালানি আমদানিতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে বিদ্যমান জ্বালানির বাজারদর বিবেচনায় বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি দরকার হবে।

জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে। নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে জ্বালানি আমদানি বাবদ যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তার সংস্থান নিয়ে রয়েছে সংশয়। জ্বালানি নিরাপত্তায় টেকসই অর্থনীতি ও বাজেটে এ খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেন তারা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন ফার্নেস অয়েল, এলএনজি ও কয়লা আমদানি করতে হয় জ্বালানি বিভাগকে। বছর শেষে হিসাব অনুযায়ী, এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।

জ্বালানিসংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে দেখা যায়, স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করতে হলে বছরে শুধু এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার (গড়ে ১০ ডলার হিসেবে), যার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার না হলেও অনেকাংশে এলএনজিনির্ভর।

দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরে প্রতি টন কয়লার দাম গড়ে ১৫০ ডলার হিসাবে বছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য বছরে প্রায় ছয় লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিসির ফার্নেস অয়েল আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৫৮৬ টন। যার আমদানি ব্যয় ১ হাজার ৭১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরে ডলারের বিনিময় মূল্য গড়ে ৮৫ টাকা হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৭ ডলার।

দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতের জন্য ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েলসহ বেশকিছু জ্বালানি পণ্য আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়। আমদানীকৃত এসব জ্বালানি পণ্যে ব্যয় হয় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে বছরে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ১১ হাজার ৩৭২ মেগাওয়াট। যদিও বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াটের বেশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে পারছে না বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো। নির্মাণাধীন কেন্দ্রগুলো আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে প্রস্তুত হলে দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট। বর্তমানে স্থানীয় গ্যাসের বাইরে এলএনজি আমদানি করছে সরকার। দৈনিক ৯০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ সক্ষমতা চালু থাকলে বছরে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট এক প্রক্ষেপণে দেখা যায়, ২০২৭ সাল নাগাদ দেশে গ্যাসভিত্তিক ১৬ হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৬ হাজার ৪৯৭ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক ৭ হাজার ৯১ মেগাওয়াট, আমদানি সক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৭৬০ মেগাওয়াট ও পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে ৫৯১ মেগাওয়াট। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি চাহিদা ও বিদ্যমান বাজার দর হিসাব করলে সংশ্লিষ্ট বছর থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে হবে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য ৬-৭ বিলিয়ন ডলার, কয়লায় ৫ বিলিয়ন এবং আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ, ফার্নেস অয়েল, নিউক্লিয়ার ফুয়েলের জন্য ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

১১ বছর পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

০৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে গত মে মাসের মতো মূল্যস্ফীতির এত চাপে পড়েনি সাধারণ মানুষ। গত মাসে সার্বিকভাবে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা গত ১৩৪ মাস বা ১১ বছর দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল সোমবার মে মাসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এর আগে ২০১২ সালের মার্চে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল। এরপর আর কখনো মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে যায়নি। ওই বছরের পরের মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য।

কর্মসংস্থানে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ বিপদে

জুন ০৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপ। গ্রুপটির আওতাভুক্ত ৩৬ প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষের। ইউরোপ-আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে বড় বাজার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল বস্ত্র শিল্প খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। শীর্ষ রফতানিকারক হিসেবে বেশ কয়েকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে নোমান গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফ্যাব্রিকস লিমিটেড। 

যদিও প্রতিষ্ঠানটি এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নোমান গ্রুপের উদ্যোক্তা-কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বমুখিতায়। আবার প্রাপ্যতা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এ কাঁচামালেরও দাম বেড়েছে। উৎপাদনের সব অনুষঙ্গে ব্যয় বাড়লেও যুদ্ধসৃষ্ট মূল্যস্ফীতির কারণে পশ্চিমা বাজারগুলো থেকে আগের মতো ক্রয়াদেশ পাচ্ছে না নোমান গ্রুপ। দীর্ঘদিন ধরে বড় বিনিয়োগে শিল্প সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ানো হলেও এখন এর অর্ধেকই অব্যবহৃত পড়ে আছে। ২০২১-২২ অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটির রফতানির অর্থমূল্য ছিল ১২০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। বর্তমানে এটিও নেমেছে অর্ধেকে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরো চাপে ফেলে দিয়েছে জনবল ও অব্যবহৃত সক্ষমতা। তবে ব্যবসায়িক পরিবেশের বহিঃস্থ উপাদানগুলো নিয়েই নোমান গ্রুপের কর্ণধারদের দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি। নিকট ভবিষ্যতে কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং গ্রুপসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, নোমান গ্রুপের ২৩ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ভালো গ্রহীতা হিসেবে এখনো কোনো ঋণ খেলাপ হয়নি প্রতিষ্ঠানটির। যদিও গ্রুপটির অনেক ঋণ এখন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন খোদ প্রতিষ্ঠানটির মূল প্রতিষ্ঠাতাও। 

‘ব্যক্তির প্রভাবে’ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখছে সরকারি ব্যাংক

০৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

আর্থিক সূচক পর্যালোচনা না করেই কোনো কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে কাজ করছে কোনো কোনো ব্যক্তির প্রভাব। এ জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখার ক্ষেত্রে সার্বিক সুশাসন বিবেচনায় নেওয়া এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমন মন্তব্য করে এই নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো হলো সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড।

‘উন্নয়নের বাতি ফিউজ হয়্যা গেইছে বাহে’

০৬ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

বাহে, উন্নয়নের বাতি ফিউজ হয়্যা গেইছে, দিনে রাইতে ১৫ ঘণ্টা কারেন্ট থাকোছে না। মরণ গরমোত হামার ফ্যান চলোছে না, হাতপাখার বাতাসে গাও জুড়ায় না। সারা রাইত চেতন থাকি সকালে কৃষাণী করিবার পারুছি না। আর কদ্দিন এইংক্যা করি চলবার নাগবে। জীবন আর বাঁচোছে না। কদ্দিন যে শোননো কারেন্ট ফেরি করি বেচাইবে, এ্যালা কেন তাক থাকুছে না।

ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে আক্ষেপ করে ইকরচালী বাজারে কথাগুলো বলছিলেন তারাগঞ্জের ইকরচালী গ্রামের দিনমজুর বাদশা মিয়ার।

রংপুর নগরীর শাহিপাড়া গ্রামের রুকন মিয়ার চার ছেলে মেয়ে। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালিয়ে সংসার চালান তিনি। আগে সারা দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে গাড়িতে ঠিকমতো চার্জ করাতে না পারায় এখন সেই আয় ঠেকেছে ৩০০-৪০০ টাকায়। এ টাকায় ঊর্ধ্বমুখী বাজারে সংসার চালাতে খাচ্ছেন হিমশিম।

রুকন মিয়া বলেন, ‘ভাই, না পাওছি ঠিকমতো ঘুমবার, না পাওছি খাবার। কামাই তো নাই। সারা দিনে রাইতে মিলে অর্ধেকও চার্জ হয় না। খুব কষ্টে বাঁচি আছি।’

ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রংপুরের মানুষের জনজীবন। শহরে সারা দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকছে না। আর গ্রামে থাকছে না ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। বিশেষ করে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছে না মানুষ। এতে স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কমছে কর্মঘণ্টাও। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পোলট্রি খামারিরা।

নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র বলছে, রাতের বেলায় কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকায় এ লোডশেডিং বেড়েছে। দিনের বেলায়ও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এটি জাতীয় সমস্যা।

দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে চিন্তিত

জুন ০৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে জীবন-জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তায় সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সমস্যার প্রভাব তুলে ধরতে কয়েক বছর ধরেই নিয়মিত জরিপ চালাচ্ছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। ‘বাংলাদেশ: ডিআইইএম—ডাটা ইন ইমার্জেনসিস মনিটরিং ব্রিফ’ শীর্ষক দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিক এ জরিপের সপ্তম ধাপের ফলাফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশ হয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পরিচালিত জরিপের সপ্তম কিস্তির ফলাফলে উঠে এসেছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশী খানাগুলোর প্রায় অর্ধেকই খাদ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় আর্থিক সংকট বা ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত করেছে ৪৮ শতাংশ খানা। এর আগে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের ষষ্ঠ ধাপে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছিল মাত্র ১০ শতাংশ পরিবার। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে জরিপের ফলাফলে এ বড় পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মূল্যস্ফীতির এ ঊর্ধ্বমুখিতাকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা গোটা খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই হুমকির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জীবিকা জোগাতে হয় শিশুকাল থেকেই

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র শিশুসন্তানকে কাঠের দোকানে কাজে দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু মো. সাফায়েত ইসলাম নামের সেই শিশুর কাজ ভালো লাগত না। ২০২০ সালের শুরুতে ১১ বছর বয়সে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বাড়ি ছেড়ে রাজধানীর সদরঘাটে আসে। এখন সে বরিশালগামী লঞ্চে শিশুদের জন্য প্যাকেটজাত কম দামি খাবার বিক্রি করে।

বাবার মৃত্যু ও মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর মো. রনি হাসানের পরিবারে জায়গা হয়নি। রনির ভাষায়, তার ছয়-সাত বছর বয়সে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর নাটোর থেকে ট্রেনে চেপে রাজধানীতে আসে সে। এখন সে কারওয়ান বাজারে ‘ফোর স্টার ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকানের সামনে রাখা ভ্যানে রাত-দিন থাকে, আর প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে।

গুলশান-২ নম্বর চত্বরে বেলুন বিক্রি করে সুমাইয়া (৯)। শিশুটি জানাল, কাছাকাছি এলাকায় তার বাবা হায়দার আলীও বেলুন বিক্রি করেন। সন্ধ্যার পর বাবার সঙ্গে সে কমলাপুরের বাসায় ফেরে।

জরিপে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৩০ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকে, ৩৬ শতাংশ কখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়নি। ৯১ শতাংশ পথশিশু কাজ করে। দেশের আট বিভাগের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশু জরিপে অংশ নেয়। এদের ৪৯ শতাংশ ঢাকায় থাকে।

দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষা ও সুরক্ষাবঞ্চিত এসব শিশু শৈশব থেকেই নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা নেয়। তাদের নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এসব শিশুকে শ্রম থেকে সরিয়ে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে আজ ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশু শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করি, শিশুশ্রম বন্ধ করি’।

গত মার্চে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ প্রকাশিত ‘পথশিশুদের ওপর জরিপ ২০২২’ শীর্ষক জরিপে দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া পথশিশুদের ৩০ শতাংশ খোলা জায়গায় থাকে, ৩৬ শতাংশ কখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়নি। ৯১ শতাংশ পথশিশু কাজ করে। দেশের আট বিভাগের ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ হাজার ২০০ পথশিশু জরিপে অংশ নেয়। এদের ৪৯ শতাংশ ঢাকায় থাকে।

গত ২৯ মে মহাখালীতে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে ফেলা রড মাথায় ঢুকে সুমন নামের এক পথশিশুর মৃত্যু হয়। একই দিনচট্টগ্রামে বন্দর থানার ইসহাক ডিপো টোল প্লাজার কাছে একটি টিনের ঘর থেকে ১৩-১৪ বছর বয়সী চার পথশিশু কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আশ্রয় ও কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের যৌন নিপীড়নমূলক কাজে বাধ্য করা হচ্ছিল।

কারওয়ান বাজারে রনি বলছিল, দুই দিন আগে মধ্যরাতে তাকে নেশাগ্রস্ত কয়েক তরুণ ঘুম থেকে তুলে মারধর করে প্যান্টের পকেটে থাকা সারা দিনের আয়ের ২০০ টাকা নিয়ে গেছে।

সোয়ারীঘাটের শিশু সাফায়েত বলে, ঘাটের ‘লাঠি বাহিনীকে’ দিনে ৬০ টাকা চাঁদা দিলে খাবার বিক্রির সুযোগ দেয়।

বিবিএসের জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ শতাংশ পথশিশু বলেছে, কাজ করতে গিয়ে তারা সহিংসতার শিকার হয়। পথচারীদের হাতে নির্যাতনের হার সবচেয়ে বেশি, ৮৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি পথশিশু ধূমপান ও নেশায় আসক্ত।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের মিল নেই

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ববাজারে কিছু কিছু নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, দেশের বাজারে বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। আবার বিশ্ববাজারে কিছু পণ্যের দাম যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সে হারে কমেনি। দু-একটি পণ্যের ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে বাড়তি।

সচিবালয়ে গতকাল রোববার বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত টাস্কফোর্স’–এর বৈঠকে আটটি পণ্যের বিষয়ে এমন পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ জন্য দায়ী মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও ডলার–সংকট।

সরবরাহব্যবস্থা ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। প্রতিবেদনে এক বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৈঠকে সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বছরে গমের দাম কমেছে প্রতি টনে ৩৫ শতাংশ। অথচ দেশের বাজারে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটার দাম ২৫ শতাংশ এবং খোলা আটার দাম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে চিত্রটি একই। মসুর ডালের দাম বিশ্ববাজারের চেয়ে কম হারে কমেছে দেশে।

অপরিশোধিত চিনির দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। কিন্তু দেশের বাজারে বাড়ার হার দ্বিগুণের কাছাকাছি—৫৮ শতাংশ। আদার দাম বিশ্ববাজারে ১৭২ শতাংশ বাড়লেও দেশের বাজারে বেড়েছে ২২২ থেকে ২৪৫ শতাংশ পর্যন্ত।

ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ৪৪ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে খোলা তেলের দর কমেছে ২ শতাংশ। আর পাম তেলের দাম বিশ্ববাজারে ৪৯ শতাংশ কমার বিপরীতে দেশে কমেছে ২০ শতাংশ। যদিও গতকালই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা ও পাম তেলের দাম ২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এখন থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৮৯ ও পাম তেল ১৩৩ টাকা দরে বেচাকেনা হবে।

বিআরটি প্রকল্পের বিলম্ব যেভাবে বছরে ১২৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে

১৩ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

এশিয়ার দেশগুলোতে একটি বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সময় লাগে তিন বছর। বাংলাদেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয়ে পরের চার বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এরপর পেরিয়ে গেছে এগারো বছর। জয়দেবপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার বিআরটির কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই সময়ে প্রকল্পটির ব্যয় ২,০৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪,২৬৮ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, দ্রুতগামী বাস করিডর প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কত?

প্রকল্পটিতে অর্থায়নকারী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, এই অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর।

সংস্থাটি বলছে, ২০১৬ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা গেলে দেশের প্রথম বিআরটি সড়কে সময় ও অর্থ সাশ্রয় এবং যানজট ও পরিবেশের ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ১২৩ মিলিয়ন ডলারের সুফল যোগ করতে পারত, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১,১৪০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির মেয়াদ এখন ২০২৪ সাল ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আট বছর বিলম্বের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে, যা দিয়ে এ ধরনের দুটি বিআরটি করিডর নির্মাণ করা যাবে।

রাজধানী ও শিল্পনগরীর মধ্যে দ্রুত পরিবহনের জন্য নেওয়া এ প্রকল্প রাস্তার জায়গা কমিয়ে দিয়ে এবং পরিবেশ দূষিত করে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সময় যেমন নষ্ট করছে, তেমনি পরিবেশও দূষণ করছে।

মানুষের ভোগান্তি এবং গাজীপুরে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের পরিবহনে বিঘ্ন আর দুর্ঘটনার হিসেব বিবেচনায় নিলে এই নির্মাণ বিলম্বের অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এর জন্য তারা দায়ী করছেন সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ইউটিলিটি স্থানান্তর ও জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, উপকরণ সরবরাহে ঠিকাদারের অনীহা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর উদাসীনতাকে।

শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা মানুষের সংখ্যা এক বছরে দ্বিগুণ

১৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে শহরে বসবাসকারী প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ১১ জন গ্রামে ফিরে গেছেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল হাজারে ৬ জন।

গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা জরিপের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল ২০২০ সালে। এর আগে এ সংখ্যা ছিল খুবই কম। অন্যদিকে গত বছর গ্রাম ছেড়ে শহরে কিংবা এক শহর ছেড়ে অন্য শহরে স্থানান্তরের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জরিপে দেখা গেছে।

বিবিএসের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের অভিবাসন বেড়েছে। গত বছর দেশের অভ্যন্তরে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আগের বছরের তুলনায় হাজারে ছয়জনের বেশি অভিবাসী হয়েছেন। আর আগের বছরের তুলনায় প্রতি হাজারের বিপরীতে দ্বিগুণের বেশি মানুষ দেশের বাইরে অভিবাসী হয়েছেন গত বছর। ২০২১ সালে প্রতি হাজারে ৩ জন দেশ ছেড়ে বিদেশে অভিবাসী হয়েছিলেন। গত বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে হাজারে ৬ দশমিক ৬।

এদিকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ক্ষেত্রে শহর থেকে গ্রামে ফিরে যাওয়া মানুষের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের সংখ্যাও। তবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়া মানুষের অভিবাসন কমেছে। বিবিএসের জরিপের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে প্রতি হাজারে ৪৮ জন গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫।

৩৩,৫৭৫ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে ১১ ব্যাংক

১৬ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্যাংক খাতের খেলাপী ঋণ বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মার্চ শেষে ১১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে ৩৩,৫৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় মার্চে ঘাটতি আরো ২,৮৭৩ কোটি টাকা বেড়েছে। ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতের মূলধন ঘাটতি ছিল ৩০,৭০২ কোটি টাকার মতো।

প্রতিবেদন বলছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ৯ ব্যাংকের মধ্যে ৭টি ব্যাংকই বর্তমানে মূলধন ঘাটতিতে আছে। ব্যাংকগুলো হলো- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৮,১১৭ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ১৪,০৯৪ কোটি টাকা ঘাটতিতে আছে কৃষি ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ব অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলো হলো- বেঙ্গল কমার্সিয়াল ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক।

ডলার–সংকটে আর্থিক হিসাবে সর্বোচ্চ ঘাটতি

১৮ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ডলার–সংকটে দেশের আর্থিক হিসাব পুরো এলোমেলো হয়ে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। এতেই আর্থিক হিসাবে দেখা দিয়েছে বড় ঘাটতি। গত এক যুগের মধ্যে এটাই প্রথম ও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘাটতি। মূলত একটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওঠানামা নির্ভর করে এই আর্থিক হিসাবের ওপর। এই ঘাটতির কারণেই রিজার্ভও ক্রমাগত কমছে।

দেশে এখন প্রবাসী আয়ের পুরোটাই এখন দিনে দিনে দেশে চলে আসে। রপ্তানি যা হয়, তার বড় অংশ খরচ হয়ে যায় কাঁচামাল আমদানিতে। আবার সব রপ্তানি আয় সময়মতো দেশেও আসে না। এর বাইরে দেশে ডলার আয়ের অন্যতম মাধ্যম বিদেশি ঋণ, অনুদান ও বৈদেশিক বিনিয়োগ। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরা আমদানিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন (বায়ার্স ক্রেডিট)। দেশি ব্যাংকগুলোও বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণসীমা নিতেন। এর সবই এখন কমতির দিকে।

বরং ডলারের দাম বাড়তে থাকায় উল্টো বিদেশি ঋণ শোধ করার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এতেই দেশে ডলারের প্রবাহ কমে গেছে এবং আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে ডলারের ওপর চাপ কমছে না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনও থামানো যাচ্ছে না। এতকিছুর পরেও ডলারের দাম এখনো ব্যাংকগুলো আটকে রেখেছে। এই দাম শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কেউ তা বলতে পারছে না।

ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম এখন ১০৮ টাকা হলেও আমদানিতে ১১৩ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। আর রিজার্ভ কমে হয়েছে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ডলার, যা এক বছর আগেও ছিল ৪ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উন্নয়নশীল দেশে আর্থিক হিসাব ভালো রাখাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এর ওপরই একটি দেশের ঋণমান নির্ভর করে। আর্থিক হিসাবে ঘাটতি থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সম্প্রতি দুই অনুষ্ঠানে বলেছেন, গত এক দশকে আর্থিক হিসাবে কখনো ঘাটতি হয়নি, এখন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হচ্ছে, এই আর্থিক হিসাব ভালো করা। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতির ঘোষণা দেবে। এই মুদ্রানীতিতে আর্থিক হিসাবের ঘাটতি কমানোর কথা থাকবে।

এক যুগ পর যেভাবে ঘাটতি

বৈদেশিক আর্থিক সম্পদ ও দায় থেকে দেশের আর্থিক হিসাব গণনা করা হয়। এর মধ্যে থাকে সরাসরি বিনিয়োগ, পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, অন্যান্য বিনিয়োগ ও রিজার্ভ সম্পদ। বিনিয়োগের ধারা (সম্পদ ও দায়), বিনিয়োগের দলিল (ইক্যুইটি, বন্ড, নোটস এবং ঋণ) এই হিসাবের আওতায় আসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদের প্রথম বছরে ২০০৯-১০ অর্থবছরে সব৴শেষ আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তখন ঘাটতি ছিল ৬৩ কোটি ডলার। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ঘাটতি ২১৬ কোটি ডলার। এক যুগ আগেও ঘাটতি দেখা দিয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে। এবারের ঘাটতিও একই কারণে। তবে এ সময়ের মধ্যে ডলারের দর ধরে রাখার কারণে এবারের সংকট বেশি প্রকট হচ্ছে।

এত ঘাটতি কেন

ডলারের দাম সামনে আরও বেড়ে যাবে—এই আশঙ্কায় দেশি উদ্যোক্তারা বিদেশি ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। উল্টো আগের ঋণ শোধ করা বাড়িয়েছেন। এমনকি খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মেয়াদ বাকি রয়েছে, এমন ঋণও শোধ করে দিচ্ছেন। এর ফলে গত দেড় বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৫০০ কোটি ডলার বিদেশে পাঠাতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত মার্চে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ ছিল ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার (২৪.৯৮ বিলিয়ন), যা গত বছর শেষে কমে হয়েছে দুই হাজার ৪৩০ কোটি ডলার (২৪.৩০ বিলিয়ন)। তবে সরকারি খাতে ঋণ ৬ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার (৬৮.২৮ বিলিয়ন) থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ১৯৩ কোটি ডলার (৭১.৯৩ বিলিয়ন)। ফলে বিদেশি ঋণ ৯৩ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

উদ্যোক্তারা মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠান (বায়ার্স ক্রেডিট) ঋণ নিতেন, ডলারের দাম বাড়ায় তা–ও নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার বিলম্বে পরিশোধ সুবিধা (ডেফার্ড পেমেন্ট), ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র সবই কমে গেছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদি ঋণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ১৭২ কোটি ডলার।

এদিকে পণ্য রপ্তানি করার পরেও তার অর্থ বিদেশে বেশি সময় আটকে থাকছে। যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হচ্ছে, তার অর্থ দেশে আসতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এর ফলে গত এপ্রিল পর্যন্ত ৩৬০ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বিদেশে আটকে থাকা রপ্তানি পণ্যের মূল্য ১৩২ কোটি ডলার বা ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ব্যাংক থেকে যে ঋণ ও ঋণসীমা নিত, তা–ও কমে এসেছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত যাতে ঘাটতি হয়েছে ২৭৬ কোটি ডলার। এর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের বাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে খারাপ বার্তা গেছে। এর ফলে ঋণসীমা কমিয়ে দিয়েছে অনেক ব্যাংক। আবার রপ্তানি আয় আসার গতিও কমে গেছে। প্রবাসী আয়ও বেশি দাম দিয়ে দেশে আনা যাচ্ছে না। এসব কারণেই আর্থিক হিসাবে ঘাটতি হয়ে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা এখনো চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছেন না। ডলারের দাম বেড়ে খাদ্যপণ্যের দামও বেড়ে গেছে।

আইএমএফের ছকেই মুদ্রানীতি

১৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বাজারে আগুন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল মানুষ। এই চাপ সামলাতে অবশেষে টাকার প্রবাহ কমিয়ে ঋণের খরচ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ঋণের সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই সীমা নিয়ন্ত্রিত। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুদের হার কিছুটা বাড়ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে ব্যাংকগুলোকেও বেশি খরচ করতে হবে। এ জন্য নীতি সুদহার বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে এই ঘোষণা দিয়েছে, যা কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন ও গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহারের করিডর প্রথা, সুদহারের সীমা প্রত্যাহার, ডলারের একক দাম, রিজার্ভের প্রকৃত হিসাবায়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের মধ্যে ছিল। ফলে পুরো মুদ্রানীতিটি হয়েছে আইএমএফের ছক অনুযায়ী। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি রোধে মুদ্রা সরবরাহনির্ভর নীতি থেকে সরে এসে সুদহার লক্ষ্য করে মুদ্রানীতি প্রণয়ন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার জানিয়েছেন, মুদ্রানীতিটি আইএমএফের শর্ত মেনে হয়নি। অনেক দেশ এই পদ্ধতিতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে, সেটা অনুসরণ করা হয়েছে। মুদ্রানীতির কাঠামোগত পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে ঘোষিত মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে এনে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেক বরাদ্দ ৭ জেলায়

১৮ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বাংলাদেশের এডিপি প্রকল্পে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ৭টি জেলাই মোট বরাদ্দের ৫০ ভাগ বরাদ্দ পাচ্ছে, অথচ স্বল্প বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৫টি জেলা পাচ্ছে মাত্র ১৩ ভাগ।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) একটি গবেষণায় বিষয়টি উঠে আসে।

শনিবার আইপিডি সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের আঞ্চলিক বিন্যাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি একটি ওয়েবিনারের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। আইপিডি’র পক্ষ থেকে গবেষণাটি করেন পরিকল্পনাবিদ রেদওয়ানুর রহমান ও সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান।

গবেষণাটিতে ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের সাধারণ সরকারি সেবা, প্রতিরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাত ব্যতীত বাকি ১২টি খাতের চলমান প্রকল্পের বাজেটসমূহের জেলা ও আঞ্চলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে স্থানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাতে এডিপির প্রায় ৭০ ভাগ প্রকল্পকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তবে এই গবেষণায় জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দেশের জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা বহুমুখী সেতু, পদ্মা রেলসেতু ও যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু রেলসেতুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনের মূল উপস্থাপনায় অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বৈষম্য পরিমাপক ‘পালমা রেশিও’ অনুযায়ী যার মান ৩.৭২, যা এখন ও দেশের মধ্যে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের উচ্চ বৈষম্যকেই নির্দেশ করে। ঢাকা জেলা উন্নয়ন বরাদ্দের ২১ ভাগ পাচ্ছে, তবে বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প চলমান থাকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কক্সবাজার (শতকরা ৯ ভাগ)। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে চট্টগ্রাম (৬.৮৫ ভাগ) ও নারায়ণগঞ্জ (৩.৮৫ ভাগ)।

বরাদ্দপ্রাপ্তির দিক থেকে সবচেয়ে কম পাচ্ছে মেহেরপুর জেলা (০.৩৬ ভাগ) ও পঞ্চগড় (০.৩৯ ভাগ)। এর উপরেই আছে চুয়াডাঙ্গা (শতকরা ০.৪১), ঠাকুরগাঁও (০.৪৩), ঝালকাঠি (০.৪৫), ঝিনাইদহ (০.৪৮), বরগুনা (০.৪৮) ও জয়পুরহাট (০.৪৮ ভাগ)।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও দৃশ্যমান আছে। বাংলাদেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য উন্নয়ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও টেকসই অর্থনৈতিক উদ্যোগ দরকার।

তিনি আরও বলেন, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল (পঞ্চগড়,  ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট), উত্তর পূর্বাঞ্চল (নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ) এবং মধ্য দক্ষিণাঞ্চল (মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, রাজবাড়ী) এলাকায় উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ মধ্যাঞ্চল তথা ঢাকা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা চট্টগ্রাম অঞ্চলের তুলনায় তাৎপর্যপূর্ণভাবে কম। ফলে এসব অঞ্চলের অনেক এলাকাতেই দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সমগ্র দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

আঞ্চলিক বিবেচনায় বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল (পুরাতন বৃহৎ জেলা) পাচ্ছে শতকরা ৩২ ভাগ ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পাচ্ছে ১৫ ভাগ। বিপরীতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পাচ্ছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া (১.৫৩ ভাগ), পার্বত্য অঞ্চল (১.৬০), বৃহত্তর বগুড়া (১.৬৮) ও বৃহত্তর দিনাজপুর (১.৮০ ভাগ)। ফলে দেশের জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দের মধ্যে ব্যাপক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন আহসানুল আলম

১৯ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আহসানুল আলম মারুফ। তিনি মাত্র ২৮ বছর বয়সে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। আহসানুল আলম চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ছেলে। আজ সোমবার ব্যাংকটির ৩২৪তম বোর্ড সভায় পরিচালকদের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহসানুল আলম এর আগে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ব্র্যাডফোর্ড থেকে স্নাতক এবং এডিনবার্গ নেপিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

আহসানুল আলম হাসান আবাসন (প্রাইভেট) লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং আর্টসি হোল্ডিংস লিমিটেড, শাইনিং অ্যাসেটস লিমিটেড, অ্যাফিনিটি অ্যাসেটস লিমিটেড, ওয়েস্কো লিমিটেড, মেরিনা অ্যাসেটস লিমিটেড ও ক্র্যাফট হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি দেশের বৃহত্তম কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার-আই লিমিটেডের পরিচালক।

বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভেরও নিচে

জুন ২২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)।

৫টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। সেগুলো হলো—স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা ও অবকাঠামো।

আজ বৃহস্পতিবার দ্য গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৩ প্রকাশ করেছেন ইআইইউ।

তালিকায় শেষের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান সপ্তম। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৭৩টি শহরের এই র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬৬ নম্বরে রয়েছে ঢাকা।

তালিকার শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা। এরপরে যথাক্রমে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি, কানাডার ভ্যানকুভার, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। যৌথভাবে ৭ নম্বরে আছে কানাডার ক্যালগেরি ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। ৯ নম্বরে কানাডার টরন্টো এবং যৌথভাবে ১০ নম্বরে রয়েছে জাপানের ওসাকা ও নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড।

এই তালিকায় সবচেয়ে শেষের দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া ও ইউক্রেনের শহরের সঙ্গে আছে ঢাকাও। তালিকার শেষের দিক থেকে যথাক্রমে আছে ক্যামেরুনের দৌয়ালা, ইউক্রেনের কিয়েভ, যৌথভাবে জিম্বাবুয়ের হারারে ও বাংলাদেশের ঢাকা, পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোর্সবি, পাকিস্তানের করাচি, নাইজেরিয়ার লাগোস, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।

নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য বানানো সবচেয়ে ছোট ফ্ল্যাটটিরও দাম পড়বে কোটি টাকার বেশি

২৩ জুন, ২০২৩, বণিক বার্তা

রাজধানীর আবাসন সমস্যা সমাধানে কেরানীগঞ্জে ৪৮০ বিঘা জমিতে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য সুলভে ফ্ল্যাট নির্মাণ। এজন্য বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম নামে মালয়েশীয় একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও হয়েছিল রাজউকের। যদিও চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য ও বর্তমানে মালয়েশীয় কোম্পানিটির নতুন করে দাবীকৃত অর্থের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য বানানো এ আবাসন প্রকল্পে সবচেয়ে ছোট আকারের ফ্ল্যাটটিরও দাম গিয়ে ঠেকবে দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি। 

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, ৯ হাজার ৯৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে মোট ৮৫টি ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। তিন শ্রেণীতে ফ্ল্যাট হবে ১৩ হাজার ৭২০টি। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুটের মূল্য নির্ধারণ রয়েছে ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এ হিসাবে সর্বনিম্ন ১ হাজার ৪০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা, রেজিস্ট্রি খরচসহ যার মূল্য দাঁড়ায় কোটি টাকা।

২০১৭ সালে সই হওয়া চুক্তির পর ছয় বছর পেরোলেও বিএনজি গ্লোবাল নামের বিদেশী ওই প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজই শুরু করেনি। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কাজ শুরুর জন্য প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি আরো সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করেছে। যুক্তি হিসেবে বর্তমান বাজারে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিকে সামনে আনছে কোম্পানিটি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাছাই করছেন। তবে দাবি করা সেই অর্থ বিএনজিকে দেয়া হলে নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের সর্বনিম্ন দাম গিয়ে ঠেকবে দেড় কোটি টাকায়।

সরকারি প্রকল্পে আবাসনের মূল্য নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একজন নিম্নমধ্যবিত্ত সর্বোচ্চ ১০-১৫ লাখ টাকায় এবং মধ্যবিত্ত ৫০-৬০ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট কিনতে পারে, তাও কিস্তিতে। কিন্তু রাজউকের ফ্ল্যাটের মূল্য ১ কোটি, দেড় কোটি টাকা। কোনোভাবেই এটা কাম্য নয়। রাজউকের উচিত ভর্তুকি দিয়ে হলেও নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের কাছে কম মূল্যে ফ্ল্যাট বিক্রি করা। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই রাজউকের উচিত জনগণকে সেবা দেয়া। মৌলিক অধিকার নিয়ে ব্যবসা করা সরকারের কাজ নয়। তাই ঝিলমিল ও উত্তরায় নিম্নমধ্যবিত্তদের নামে এক-দেড় কোটি টাকার ফ্ল্যাট কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। তাই সে ফ্ল্যাট উচ্চবিত্তরা কিনছে ও কিনবে।’

এক বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা সরাল বাংলাদেশিরা

২৩ জুন ২৩, সমকাল

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অবিশ্বাস্য গতিতে কমেছে বাংলাদেশিদের আমানত। মাত্র এক বছরেই সুইস ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক এবং এ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ডলার সংকট এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। কেউ কেউ পাচার করা টাকাও হয়তো সরিয়ে নিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২২ সালে তাদের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশের পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৫২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ মাত্র ৬৬২ কোটি টাকা। ২০২১ সাল শেষে বাংলাদেশের পাওনা ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। এর মানে এক বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমেছে।

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের অর্থ প্রায় ৮২ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ৯৪ শতাংশ কমে গেছে।

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার, হিমশিম মানুষ

২৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

‘আমনের ভালো ফলন হবে। মাঠে ফসল হলুদ হয়ে আছে, যা দেখতে চমৎকার লাগছে’—নতুন ধান উঠলে দাম কমার আশার কথা জানিয়ে গত নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আমন মৌসুম তো শেষ হয়েছেই, বোরোর চালেও বাজার এখন ভরা। কিন্তু চালের দাম আর কমছে না। বরং গত এক মাসে মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা বেড়েছে। যদিও আমন ও বোরোতে ফলন ভালো হয়েছে। হাওরে এবার ফসলহানিও হয়নি।

চালের মতো বাজারে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম এখন স্থিতিশীল, তবে উচ্চমূল্যে। দু-একটি পণ্যের দাম কমছে। তবে সেটা আগের জায়গার কাছাকাছিতেও ফিরছে না। দু-একটি পণ্যের দাম এখনো বাড়ছে। সব মিলিয়ে মানুষের খরচ কমছে না, স্বস্তি ফিরছে না।

যেমন ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ৩০ টাকা ছিল। গত জানুয়ারিতে তা ছিল ৪৬ থেকে ৫২ টাকা। এখন তা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে সরু চালের দামও।

রাজধানীর উত্তরা আজমপুর বাজারে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি একটি বিমা কোম্পানির একজন ইউনিট ব্যবস্থাপক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার চেয়েও পরিস্থিতি এখন খারাপ। বরং বলা যায় দেয়ালে পিঠ পিষে গেছে। তিনি বলেন, তাঁর বেতন কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। এ কারণে তিন সদস্যের পরিবার চালাতে তাঁকে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাজারদর: ২০২০ বনাম ২০২৩

বাজার পরিস্থিতি ও প্রবণতা বুঝতে করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উল্লিখিত দর, একই সংস্থার গত ১ জানুয়ারির দর এবং গতকালের দর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল প্রথম আলোর চারজন প্রতিবেদক মিরপুর-১, উত্তরা আজমপুর, মহাখালী, শাহজাহানপুর, মালিবাগ, রামপুরা, শ্যামবাজার, সূত্রাপুর, পশ্চিম আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখেছেন।

এসব বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দুই মাসে কিছু কিছু পণ্যের দাম কমেছে। যেমন ১১ জুন সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫ টাকা কমতে দেখা গেছে। ওদিকে চিনির দাম বেড়ে গেছে।

এই সামান্য দাম কমা-বাড়ায় সার্বিকভাবে মানুষের ব্যয়ের ওপর ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ছে না। কারণ করোনা, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের আগে দাম অনেক কম ছিল। ২০২০ সালের শুরুতে এক লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। এখন তা ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা। চিনি, আটা, মসুর ডাল, মাছ, ডিম, মাংসের ক্ষেত্রে চিত্রটি মোটামুটি একই। বেড়েছে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, টিস্যুসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দামও।

দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে ২০২০ সালের প্রথম ভাগ থেকে। ওই বছর মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরু হয়। তখন মূল্যবৃদ্ধির কারণ ছিল আতঙ্কের কেনাকাটা। ২০২০ ও ২০২১ সালে মূল্যস্ফীতি তবু লাগামছাড়া হয়নি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকে।

২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে এসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু বছরখানেকের মধ্যে দেশে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৩ টাকা (আমদানিতে)। আর আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলারও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, প্রাণিখাদ্য—সবকিছুর দাম বেড়েছে, যা বাড়িয়ে দিয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়।

খেলাপি ঋণ কমাতে আবারও বড় ছাড়

২১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

অনেক ব্যবসায়ী এমনিতেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করছেন না। কারণ, ২০২০ ও ২০২১ সালে ঋণ শোধ না করেও ঋণখেলাপি না হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সুবিধার কারণে সময়মতো ঋণের টাকা ফেরত না পেয়ে অনেক ব্যাংক পড়েছে তারল্যসংকটে। এমন এক পরিস্থিতিতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে আবারও বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ঋণের কিস্তির অর্ধেক টাকা জমা দিলেই কোনো গ্রাহককে আর খেলাপি করা যাবে না। ফলে যারা ঋণ নিয়ে কিস্তি শোধ না করে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন, তাঁরা এখন কিস্তির অর্ধেক টাকা জমা দিয়েই নিয়মিত গ্রাহক থাকতে পারবেন। তবে শুধু মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে। সাধারণত ব্যবসা শুরু বা শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে মেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়। গতকাল জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ।

ঋণ পরিশোধে দেওয়া এ সুবিধার কারণ সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ঋণগ্রহীতারা কিস্তির সম্পূর্ণ অংশ পরিশোধে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও সেবা খাতসহ সব ব্যবসা চলমান রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা অনুসরণীয় হবে।’

রিজার্ভ বাড়াতে ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ডলারের সংকট এখনো কাটেনি। ব্যাংকগুলো চাহিদামতো ঋণপত্র খুলতে পারছে না। আবার যেসব ঋণপত্র খোলা হয়েছে, অনেক ব্যাংক তার বিল পরিশোধ করতে পারছে না। বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোকে যেসব ঋণ দিয়েছে, তার বেশ কয়েকটির মেয়াদ শেষ হলেও ডলার ফেরত পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করেছে বেসরকারি খাতে প্রাইম ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এর মাধ্যমে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথমবার ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, অর্থবছরের হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো দেখাতে ব্যাংক থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত রয়েছে, জুনের মধ্যে প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারে উন্নীত করা।

এ জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বেসরকারি খাতের প্রাইম ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি ডলারের জন্য ১০৬ টাকা দাম দিয়েছে। পাশাপাশি একই দামে আমদানি দায় মেটাতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা এ নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক ব্যাংক আমদানি দায় শোধ করতে পারছে না। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একরকম জোর করেই ডলার কিনে নিয়েছে। কোনো ব্যাংকে ডলার উদ্বৃত্ত থাকলে অন্য সব ব্যাংক সেই ডলার কেনার জন্য প্রস্তুত আছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করেছে, তা অফশোর ইউনিট থেকে ঋণ করা।

১ টাকা আয় করতে গিয়ে ২ টাকা ৭৮ পয়সা ব্যয় করছে রেল

২৪ জুন, ২০২৩, বণিক বার্তা

পঁচিশ বছর আগেও বাংলাদেশ রেলওয়ে ছিল একটি লাভজনক সংস্থা। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে সংস্থাটি যে টাকা আয় করত, তা দিয়ে ট্রেন পরিচালনার সব ব্যয় মেটানোর পরও কিছু টাকা উদ্বৃত্ত থাকত। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর সংস্থাটিতে এমন উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, লাভজনক থেকে ক্রমেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে রেল। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ সালে সংস্থাটির লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। লোকসানের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও। ২৫ বছর আগে যেখানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে ৯৬ পয়সা ব্যয় করতে হতো সংস্থাটিকে। সেখানে বর্তমানে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হচ্ছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

রেলের এ অবস্থার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিজেদের সম্পদ ও জনবলের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে পারছে না রেল। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার পাশাপাশি দুর্নীতিও রেলের ধারাবাহিক লোকসানের জন্য দায়ী বলে মনে করছেন তারা। বিশেষজ্ঞদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত রেলপথ মন্ত্রণালয়ও। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রেলের দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা না হলে, রেলের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে এবং যাত্রীসেবার মান না বাড়ানো হলে লোকসান কমানো কষ্টকর হবে।’

কোনো সংস্থা বা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কতটা দক্ষ, তা সহজেই যাচাই করা যায় ‘অপারেটিং রেশিও’র মাধ্যমে। এ অপারেটিং রেশিও মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট ব্যয়কে মোট আয় দিয়ে ভাগ করে নিরূপণ করা হয়। অপারেটিং রেশিও যত বেশি হবে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালন দক্ষতা তত দুর্বল হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছর সংস্থাটির অপারেটিং রেশিও ছিল ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে রেলওয়ের ব্যয় হয়েছিল ৯৫ দশমিক ৯ পয়সা। পরবর্তী সময়ে অপারেটিং রেশিওর এ হার আর ধরে রাখতে পারেনি সংস্থাটি। ২০০৮-০৯ অর্থবছর এ রেশিও ছিল ১৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ওই অর্থবছরে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে প্রায় ১ টাকা ৫৯ পয়সা ব্যয় করতে হয় রেলওয়েকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর রেলওয়ের অপারেটিং রেশিও ছিল ২১৭ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ রেশিও বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৬ দশমিক ২ শতাংশে। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে অপারেটিং রেশিও পৌঁছেছে ২৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতি ১ টাকা আয় করতে গিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের খরচ হচ্ছে প্রায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

১০% ধনীর হাতে ৪১% আয়

২৬ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে আয়বৈষম্য আরও বেড়েছে। ধনীদের আয় আরও বেড়েছে। যেমন দেশের সবচেয়ে বেশি ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতেই এখন দেশের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় দেশের মোট আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দেখা যাচ্ছে, গত ৫০ বছরে ধনীদের আয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ধনী ও গরিবের আয়বৈষম্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত এক যুগে দেশে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি যেমন বেড়েছে, সঙ্গে দ্রুতগতিতে বৈষম্যও বেড়েছে। বৈষম্যের নির্দেশক গিনি সহগ সূচক এখন দশমিক ৪৯৯ পয়েন্ট। দশমিক ৫০০ পয়েন্ট পেরোলেই উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ উচ্চ বৈষম্যের দেশ থেকে অতি সামান্য দূরত্বে আছে বাংলাদেশ।

ধনীদের আয় শুধু বেড়েছে

বাংলাদেশে ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো খানার আয় ও ব্যয় জরিপ করা হয়। ওই জরিপের ফল অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষ ওই সময়ে দেশের মোট আয়ের ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ আয় করত। পরের ১৫ বছরে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরের চতুর্থ খানার আয় ও ব্যয় জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের আয় কিছুটা বেড়ে হয়েছে মোট আয়ের ৩১ শতাংশ, আর ২০১০ সাল পর্যন্ত তা আরও বেড়ে হয় প্রায় ৩৬ শতাংশ।

এরপর থেকে দেশের সবচেয়ে ধনী শ্রেণির আয়ের অংশীদারত্ব দ্রুত বেড়েছে। যেমন ২০১৬ সালে দেশের মোট আয়ের ৩৮ শতাংশই ছিল শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর হাতে। এবার তা আরও বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯২ শতাংশে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ মানুষের আয় এখন দেশের মোট আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ।

অন্যদিকে স্বাধীনতার পর এই গরিব মানুষের আয় দেশের মোট আয়ে অংশীদারত্ব এখনকার চেয়ে ভালো ছিল। ১৯৭৩-৭৪ সালে দেশের সব মানুষের মোট আয়ের ২ দশমিক ৮০ শতাংশের মতো আয় করত সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষ। পরের ১০-১২ বছরে এই অংশ কিছুটা বেড়েছে। এরপর ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এখন তা ওই সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের খানার আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় কমে মোট আয়ের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে। অবশ্য ২০১৬ সালে তা আরও কমে ১ শতাংশে নেমেছিল।

সব মিলিয়ে এবারের জরিপে দেখা গেছে, দেশের তিন ভাগের দুই ভাগ আয় যাচ্ছে দেশের ধনী ৩০ শতাংশ মানুষের হাতে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের বাকি এক ভাগ।

উচ্চ বৈষম্যের সামান্য দূরে দেশ

১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের গিনি সহগ ছিল মাত্র দশমিক ৩৬। ১৯৮৮-৮৯ অর্থবছরে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৩৭। এর মানে হলো, ওই সময়ে দেশে দারিদ্র্য বেশি থাকলে আয়বৈষম্য ছিল তুলনামূলকভাবে সহনীয়। গত দেড় যুগে বৈষম্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০১০ সালে গিনি সহগ সূচক ছিল দশমিক ৪৫৮। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৪৮৩। সর্বশেষ ২০২২ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৯৯। দশমিক ৫০০ পয়েন্ট পেরোলেই একটি দেশকে উচ্চ বৈষম্যের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এখন উচ্চ বৈষম্যের দেশ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির গিনি সহগ সূচক দশমিক ৬৫। আর সবচেয়ে কম বৈষম্যের দেশগুলোর মধ্যে ওপরের দিকে আছে সুইডেন, ডেনমার্কসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো। এসব দেশে গিনি সহগ সূচক ৩০-এর আশপাশে। এ ছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর গিনি সূচক ৪০ থেকে ৪৫-এর মধ্যে আছে।

ঢাকায় দৈনিক ২.৫ কোটিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়: গবেষণা

২৬ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২.৫ কোটিরও বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয় বলে উঠে এসছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

রোববার (২৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)- এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণে বিপন্ন বাংলাদেশ: করণীয় ও প্রতিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জানানো হয়, ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে ৫টি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বাপা’র সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম. ফিরোজ আহমেদ এনভায়রোনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)- এর সম্প্রতি করা গবেষণাটি থেকে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ক্রাইসিস তৈরি হবে, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

২৬ জুন ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজার সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। এটা ঠিক বড় বড় গ্রুপগুলো একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। চাইলে জেল-জরিমানাসহ বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে আমাদের লক্ষ্য রাখা দরকার— আমরা জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম; সেটা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিসটা তৈরি হবে, সেটাও তো সইতে আমাদের কষ্ট হবে। এজন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি।’

সোমবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র ১০ সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করেন। তবে, কণ্ঠভোটে তাদের প্রস্তাব নাকচ হয় এবং মন্ত্রীর প্রস্তাবিত অর্থ মঞ্জুর হয়।

বিরোধীদের অভিযোগ, বাজার সিন্ডিকেটে মন্ত্রী জড়িত

২৭ জুন ২৩, সমকাল

জাতীয় সংসদে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থতায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতরা মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন। কেউ কেউ বলছেন, মন্ত্রী নিজেই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁরা মন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি জানিয়েছেন।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জেল-জরিমানা করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ক্রাইসিস আরও বেড়ে যাবে। ফলে জনগণের কষ্ট তখন আরও বড়বে। এ কারণেই তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

গতকাল সোমবার সংসদের বৈঠকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য দেওয়া বরাদ্দ পাস হওয়ার আগে বিরোধী সদস্যদের আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র সদস্যরা এসব কথা বলেন। অন্তত ১০ জন সংসদ সদস্য দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সমালোচনার জবাব দেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। বিরোধী সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায় এবং মন্ত্রীর প্রস্তাবিত অর্থ মঞ্জুর হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা কী কাজ করে?

এত বড় একটি মন্ত্রণালয়। এর মন্ত্রীর যদি ডায়নামিজম না থাকে, তাহলে তো জিনিসপত্রের দাম বাড়বেই। তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। এটা চাইলে অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু যদি মনে করেন, ব্যবসা আমারই, তাহলে সেটা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দুঃখজনক।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গত কয়েক মাসে সারাবিশ্বে পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ছে না। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছিল, এখন এটা মনে হয় ১০ শতাংশ। এটা বেড়েই চলছে। মূল্যস্ফীতি মানুষের আয় খেয়ে ফেলছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সাবান, রুটি, কটকটি সব ছোট হয়ে আসছে। সরকারের বাজেট বাড়ছে, মানুষের বাজেট ছোট হয়ে আসছে। চাল, ডাল, তেল, মুরগির আকার ও মাংসের পিস ছোট হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির একটি দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে গেছে দেশের অর্থনীতি। এর থেকে উত্তরণে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

২০২০ সালের জানুয়ারি ও চলতি জুন মাসের নিত্যপণ্য মূল্যের তুলনা করে জাপার এই এমপি বলেন, ২০২০ সালের শুরুতে মোটা চাল ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, এখন হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। চিনি ছিল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। সেটা এখন হয়েছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। গরিবের প্রোটিন ফার্মের মুরগি ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা। সেটা এখন ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা। কারও আয় কি এ সময়ে বেড়েছে? সিন্ডিকেট আছে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সেই সিন্ডিকেট শক্তিশালী। কিন্তু তারা কি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী– এমন প্রশ্নে তুলে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সরকারের ভেতরে সিন্ডিকেট থাকলে সেটা চিহ্নিত করতে হবে। মন্ত্রীর সুবিশাল ব্যবসা আছে। তিনি সফল ব্যবসায়ী। বিশ্বাস করি, তাঁকে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া হলে অবশ্যই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ব্যর্থ মন্ত্রণালয় হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজারে গেলে মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এতটাই ব্যর্থ যে এটিকে মানুষ সিন্ডিকেটবান্ধব মন্ত্রণালয় বলে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দায়ী– এমন অভিযোগ তুলে মোকাব্বির খান বলেন, অনেকে সংসদে বলেছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তিনি এভাবে বলতে চান না।

বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও কেন আপনি পদত্যাগ করেন না? তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে কি সিন্ডিকেট বসিয়েছে? পেঁয়াজ থাকার পরও তিন গুণ দাম বাড়ে। বাণিজ্যমন্ত্রী যখন কোনো দ্রব্যের দাম কমবে বলেন, তার পরদিনই ওই দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেন পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে ৯০ টাকা হলো! আমদানি করার পরও কেন পেঁয়াজের দাম ৮০ টাকা। মোকাব্বির খান বলেন, ‘জানি বাণিজ্যমন্ত্রী এসবের কোনো জবাব দেবেন না। পাশ কাটিয়ে যাবেন।’

জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, বাজারে গেলে মানুষের মাথা গরম হয়ে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিকমতো বাজার নজরদারি করছে না। বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি যদি এখনও হুঙ্কার দেন, তাহলে তিনি কেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাজারে গিয়ে মানুষ কাঁদছে, যার একমাত্র কারণ সিন্ডিকেট। মানুষও এটি বোঝে। শুধু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ওপর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দায় চাপালে হবে না। ডিমের বাজারে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে সিন্ডিকেট। হাঁস-মুরগির ডিম ইউক্রেন থেকে আসে না।

তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, পণ্যমূল্যে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন। যাঁরা এই সুযোগ নিচ্ছেন, মন্ত্রী তাঁদের ধরেন না কেন? মন্ত্রী নিজে একজন ব্যবসায়ী মানুষ। তিনি তো জানেন, কোন ব্যবসায়ী এটা করছে। তাহলে এই ব্যবসায়ীরা কি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন, যে কারণে তিনি সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের ধরতে পারছেন না? তাহলে সেটা মন্ত্রীর প্রকাশ্যে বলা উচিত, কেন তিনি করতে পারছেন না।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, পেঁয়াজের বাজারে দেড় হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। চিনির বাজারে প্রতিদিন ১৭ কোটি টাকা লুটছে কয়েকটি কোম্পানি। ব্রয়লার মুরগির বাজারে দেড় মাসে হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী কিছু করতে পারছেন না।

সদস্যদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, চাইলে জেল-জরিমানাসহ বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। এটা ঠিক, বড় বড় গ্রুপ একসঙ্গে অনেক বেশি ব্যবসা করে। লক্ষ্য রাখা দরকার, জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম। সেটা হয়তো করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিসটা তৈরি হবে, সেটা সইতে তো আমাদের কষ্ট হবে। এ জন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্য থেকে চেষ্টা করি।’

৫% প্রণোদনায় ব্যয় বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা

২৭ জুন ২০২৩, প্রথশ আলো

সরকারি কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) হয় অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে। তবে এ বছরের জুলাই মাসে তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ সুখবর। ২০১৫ সালে ঘোষিত বেতনকাঠামো অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে যে বেতন বাড়ে, এবার তার সঙ্গে আরও মূল বেতনের ৫ শতাংশ প্রণোদনা যোগ হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রণোদনা দিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বাড়তি ব্যয় হবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৮।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানান।

লবণ উৎপাদনে রেকর্ড, দামেও রেকর্ড

২৮ জুন ২৩, সমকাল

কোরবানির ঈদের সময় প্রতিবছর লবণের দাম ও সরবরাহ নিয়ে কমবেশি জটিলতা দেখা দেয়। এবারও সেই পুরোনো পথেই হাঁটছে লবণের বাজার। কোরবানির আগেই বেড়েছে অপরিশোধিত লবণের দাম। গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে প্রতি বস্তায় ১০০ টাকার বেশি বেড়েছে।

চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উৎপাদন ও মজুতে ঘাটতি না থাকলেও কোরবানি ঘিরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এতে লবণের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে বারবার অনুরোধ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বলেছে, এবার কোরবানির সময় কত টন লাগতে পারে, সেই হিসাব করে প্রয়োজনীয় লবণ সব জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তার পরও কোথাও ঘাটতি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ করা হবে।

৬২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে ২২ লাখ ৩২ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, যা লবণ উৎপাদনে ৬২ বছরে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া উদ্বৃত্ত রয়েছে আগের মৌসুমের লবণও। শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বছরে ২২ থেকে ২৩ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। তবে চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, শুধু কোরবানির সময় পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের দরকার হয় দেড় থেকে দুই লাখ টনের। উৎপাদনের হিসাবে বর্তমানে কৃষক, মিলার এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে কয়েক লাখ টন লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সেই হিসাবে এ মুহূর্তে লবণের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়, অথচ দাম বেড়েই চলেছে।

পরশুরামে আড়াই লাখ টাকার গরুর চামড়া ১৫০ টাকা!

২৯ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

চামড়ার আশানুরূপ দাম না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা পাওয়া যায়নি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। পরে কেউ কেউ নামমাত্র মূল্যে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ভুট্টো বলেন, ‘আমার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কোরবানি পশুর চামড়া বিক্রি করেছি মাত্র দেড় শ টাকা। এর চেয়ে বেশি দাম দিতে রাজি হননি স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ী।’

উপজেলা বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের গরু কোরবানি দিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরে একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী তাঁর গরুর চামড়া দেড় শ টাকা দাম বললে চামড়া বিক্রি না করে মাদ্রাসায় দিয়ে দেন।

সত্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ও পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু ইউসুফ মিন্টু জানান, তাঁরা শরিকে কোরবানির জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছেন। আজ সকাল থেকে চামড়ার কোনো ক্রেতা না পেয়ে দুপুরের দিকে দেড় শ টাকার দরে বিক্রি করে দিয়েছেন।

চিথলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শফিকুল হোসেন মহিম জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ১০০ টাকায়।

শফিকুল আরও বলেন, ‘পরশুরামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার ওপরে কোনো চামড়া বিক্রি হয়নি।’

পরশুরাম বাজারের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি পরশুরাম, মির্জানগরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় সাইজের আড়াই শ চামড়া কিনেছেন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। তবে বেশির ভাগ ১০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি।’

তহিদুল বলেন, ‘গ্রাম থেকে ঘুরে ঘুরে ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি।’ প্রতি শ্রমিকের বেতন ২ হাজার টাকা কাঁচা চামড়ায় লবণ যুক্ত করা এবং পরিবহন খরচ মিলিয়ে চামড়ায় তিনি লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এখন পর্যন্ত চামড়া ব্যাপারীরা গড়ে ২০০ টাকা করে বলে চলে গেছেন বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রামে মৌসুমি চামড়া সংগ্রহকারীদের আক্ষেপ

২৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামে চার লাখ কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছেন আড়তদারেরা। চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সংগ্রহের পাশাপাশি শ্রমিকও নিয়োগ করেছেন তাঁরা। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে খরচ বাড়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বেশি দামে চামড়া কেনায় সতর্ক করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা।

আড়তদারদের মতে, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার সময়ই বেশি দাম দিয়ে দেন। পরে তাঁরা সমস্যায় পড়েন।

নগরের হালিশহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৪০টি চামড়া বিক্রি করতে চৌমুহনী এলাকায় আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। প্রতিটি চামড়ার দাম চান ৮০০ টাকা। কিন্তু এ দাম দিতে রাজি হননি ইয়াছিন সওদাগর। তিনি অর্ধেক দামে দিতে চান। পরে সাড়ে ৫০০ টাকা করে চামড়াগুলো কিনে নেন আমজাদের কাছ থেকে।

প্রত্যাশিত দর না পেয়ে হতাশ আমজাদ বলেন, কয়েক জায়গায় চেষ্টা করেছেন ৮০০ টাকা করে বিক্রি করতে। কিন্তু কেউই ৫০০ টাকার বেশি রাজি হননি। পরে যা পেয়েছেন, তা দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাসার আশপাশের মানুষের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে কেনেন বলে জানান তিনি।

আমজাদ হোসেন বিক্রি করলেও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আলামিন ১৫২টি চামড়া বিক্রি করেননি। তিনি ৬০০ টাকা করে চাইলেও সংগ্রহকারীরা ৪০০ টাকার বেশি দিতে রাজি হননি। কাঙ্ক্ষিত দর না পেয়ে যে গাড়িতে করে চামড়াগুলো আনেন, সেটি নিয়ে ফিরে যান।

রাজশাহীতে গরুর চামড়া ৩০০-৭০০, খাসির চামড়া ৫০ টাকাও বলে না কেউ

২৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজশাহী নগরের দরগাপাড়া এলাকার একটি জায়গায় কোরবানির পশুর চামড়া জড়ো করা হচ্ছে। সেখানে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এর মধ্যে মো. ফরহাদ নামে একজন বিক্রেতা একটি খাসির চামড়ার দাম মাত্র ৫০ টাকা চেয়েছেন। কিন্তু এত কম দাম দিতেও রাজি হননি মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নাদিম মোস্তফা। এ সময় ষাটোর্ধ্ব মো. ফরহাদ প্রথম আলোকে জানান, তিনি যে খাসির চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন, সেটি কিনেছেন ১৮ হাজার টাকায়।

 রাজশাহী নগরের হোসনিগঞ্জ এলাকা থেকে আসা মো. ফরহাদ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, এর আগে তিনি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা একটি ষাঁড়ের চামড়া বিক্রি করে পেয়েছেন ৫০০ টাকা। কিন্তু খাসির চামড়া মাত্র ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারেননি। তাই চামড়াটি কোনো মাদ্রাসায় দিয়ে দেবেন। ভাগ্যিস সাইকেলে করে চামড়া নিয়ে এসেছেন বলে পরিবহন খরচ হয়নি।

এদিকে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী নাদিম মোস্তফা জানান, তিনি ভয়ে ভয়ে অল্প করে গরুর চামড়া কিনছেন। কিন্তু খাসির চামড়া কিনছেন না। কারণ, খাসির চামড়া বিক্রি করা যায় না।

নগরের ওই এলাকায় কথা হয় কসাই কাওসার আলী ওরফে জুম্মনের সঙ্গে, যাঁর ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে চামড়া বেচাকেনায়। তিনি জানান, আজ থেকে ১০ বছর আগেও চামড়ার বাজার এমন ছিল না। তখন একটি বড় গরুর চামড়া পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠত। এখন সেই চামড়া কেনেন সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দিয়ে। জুম্মন বলেন, কিছু দেশীয় চক্র অল্প দামে চামড়া কিনে বিদেশে বিক্রি করে। ওই সিন্ডিকেটই চামড়া বিক্রির সর্বোচ্চ সুফল পায়। সরকার কেন এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না, এটাই রহস্য।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাড়া–মহল্লা থেকে পশুর চামড়া প্রধান সড়কগুলোতে এনে রাখা হচ্ছে। স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া জড়ো করছেন। প্রতিটি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির চামড়া খুব অল্প ব্যবসায়ীই কিনছেন, তা-ও খুব কম দামে। সব চামড়া সন্ধ্যায় বা রাতে নাটোর কিংবা রাজশাহীর বেলপুকুর থেকে ব্যবসায়ীরা এসে নিয়ে যাওয়ার কথা।

চামড়া থেকে তোলা মাংসই যখন আরাধ্য

৩০ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির মাংসের অস্থায়ী বাজার বসার চিত্র মোটামুটি সবার কাছে পরিচিত। নিম্ন আয়ের অনেকেই বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মাংস বিক্রির জন্য হাজির হন এসব বাজারে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও এ মাংসের বড় ক্রেতা হন। ফলে দামও থাকে খানিকটা বাড়তি।

সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।

তবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বালিকান্দি গ্রামের গোদারাঘাট এলাকায় কোরবানির সময় মাংসের যে অস্থায়ী হাট বসে সেটা কিছুটা ব্যতিক্রম।

এখানেই অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি চামড়ার বাজার। কোরবানির সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহের পর এখানেই সেই চামড়া থেকে মাংস ছেঁটে নেওয়ার কাজ করেন দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক। আর চামড়া থেকে তুলে নেওয়া সেই মাংস বিক্রি হয় অবিশ্বাস্য কম দামে, যার বেশিরভাগ ক্রেতা দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষ।

বিক্রির জন্য রাখা মাংস। ছবি: মিন্টু দেশোয়ারা/স্টার

গতকাল থেকেও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কোরবানির মাংসের অস্থায়ী অস্থায়ী বাজারগুলোতে কেজিপ্রতি মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০-৮০০ টাকার মধ্যে। অথচ গোদারাঘাটে প্রতি কেজি মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকারও কম দামে।

গোদারাঘাটে মাংসের এই অস্থায়ী হাটটি শুরু হয় ঈদের দিন বিকেল থেকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতার ভিড়ও বাড়তে থাকে। চলে ঈদের দ্বিতীয় দিন পর‌্যন্ত।

রাস্তায় পড়ে আছে গরুর চামড়া, ছাগলের চামড়া ভাগাড়ে

৩০ জুন ২০২৩, জাগো নিউজ

দিনাজপুরে পানির দামে গরুর চামড়া বিক্রি হলেও ছাগলের চামড়া কেনেনি কেউ। রামনগর চামড়া বাজারে ফেলে যাওয়া ছাগলের ফেলে দেওয়া হয়েছে ভাগাড়ে। আর বৃষ্টির কারণে গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে চরম বিপাকে ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (৩০ জুন) বেলা ১১টায় দিনাজপুর পৌরসভার ময়লা পরিবহন ট্রাকে তুলে মাতাসাগর ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে চামড়া পানিতে ডুবে যেতে দেখা গেছে।

কোরবানি দেওয়ার পর আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া কেনার প্রতিযোগিতা থাকতো। এ বছর ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া কিনেছেন সর্বোচ্চ ৪০০ এবং সর্বনিম্ন ১০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া ফ্রিতেও কেউ নেয়নি। এতে ছাগল এবং ছোট ছোট গরুর অনেক চামড়াই ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ।

কাঁচামরিচে তীব্র ঝাল, দায় নিচ্ছে না কেউই

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

‘৫০ বছরের জীবনে কাঁচামরিচের এমন দাম দেখিনি। এটা তো ডাকাতি। রীতিমতো মানুষের গলা টিপে ধরে পকেট কাটছে ব্যবসায়ীরা।’ ১৫০ টাকায় এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ কেনার ক্ষোভ এভাবেই ঝাড়লেন বেসরকারি চাকরিজীবী তৌহিদুর রহমান।

গতকাল শনিবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া থেকে কাঁচামরিচ কেনেন তিনি। সেখানে সমকালকে বলেন, ‘গত শনিবারে মরিচের কেজি কিনেছি ২০০ টাকায়। এক সপ্তাহের মাথায় আজ (গতকাল) কিনলাম ৬০০ টাকা দরে। এমন কী ঘটল যে এক সপ্তাহের মধ্যে দাম ৫/৬ গুণ বেড়ে যাবে। সঠিক তদারকির অভাব। বাজারে যে যার মতো কারসাজি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে।’

কারওয়ান বাজার থেকে আধাপাকা আধাকেজি (৫০০ গ্রাম) ২৫০ টাকায় কাঁচামরিচ কিনেছেন গৃহিণী সাজুদা বেগম। তিনি বলেন, ‘যে মরিচ কিনেছি, এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনেকই পচা। এরপরও কেজি নিল ৫০০ টাকা করে। সরকার জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা নিলে মানুষকে এত দাম দিয়ে মরিচ খাইতে হইত না।’ তৌহিদুর আর সাজুদা বেগমের মতো অনেকেই কাঁচামরিচ কিনতে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন।

১০ দিনে দাম বেড়েছে ৫ গুণ

দিন দশেক আগেও ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, তেজকুনিপাড়া, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরিচ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। তবে ১০০ বা ২০০ গ্রাম কিনতে গেলে দিতে হচ্ছে আরও বেশি দাম। এই হিসাবে ১০/১২ দিনে মরিচের দাম বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। মাস দেড়েক আগেও প্রতি কেজি মরিচের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

হঠাৎ করে দাম বাড়তে থাকায় সরকার গত ২৫ জুন থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১৭ হাজার টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। গত ২৭ জুনের তথ্য অনুযায়ী মাত্র ২০ টনের মতো মরিচ এসেছে দেশে। এদিকে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কাঁচামরিচের উৎপাদন হয়েছে ১৪ লাখ ৫৩ হাজার টন। দেশে কাঁচামরিচের চাহিদা রয়েছে ১৫ লাখ টনের।

দায় নিচ্ছে না কোনো মন্ত্রণালয়

শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশেই অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে পণ্যটির দাম। সমকালের সারাদেশের প্রতিনিধিদের তথ্যমতে, কোথাও কোথাও এক হাজার টাকা দামেও বিক্রি হয়েছে কাঁচামরিচ।

আমদানির পরও কেন মরিচের দাম বাড়ছে, সে বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে প্রশ্ন করা হয়। গতকাল বিকেলে বগুড়া সার্কিট হাউস চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কাঁচামরিচ কৃষিজাত পণ্য। এর দাম কেন বেড়েছে, তা কৃষি মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। সরকার কাঁচামরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত ও অনুমতি দিয়েছে। এর উৎপাদন কতটুকু হয়েছে, তা কৃষি মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’ অন্যদিকে খুলনা নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে জড়িত সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ইতোমধ্যে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমদানিও হচ্ছে। তা ছাড়া বাজার তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তদারকি সেল মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তারপরও বাজারে দাম বাড়ছে কেন কিংবা কারসাজি হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য সংস্থার খতিয়ে দেখা দরকার।

নৈরাজ্য কমলেও ন্যায্যমূল্য নেই

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে নৈরাজ্য কমলেও ন্যায্যমূল্য মেলেনি। ঢাকার বড় মসজিদ ও মাদ্রাসার মধ্যে যেগুলো মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে সরাসরি আড়ত বা ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ কিছুটা বাড়তি দাম পেয়েছেন। গরুর চামড়ার দর সামান্য মিললেও খাসি বা ছাগলের চামড়ার ক্রেতা এ বছরও ছিল না।

গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন এবং শুক্রবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকা এবং কাঁচা চামড়ার সবচেয়ে বড় বাজার লালবাগের পোস্তা ঘুরে দেখা গেছে, প্রান্তিক বা খুচরা পর্যায়ে চামড়ার বড় বিক্রেতার থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাপট কমেছে। তাঁদের জায়গা নিয়েছে এলাকাভিত্তিক মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলো। কতিপয় মৌসুমি ব্যবসায়ী পাড়া বা মহল্লা না ঘুরে মসজিদ ও মাদ্রাসার কাছ থেকে চামড়া কিনেছেন। আড়ত ও ট্যানারি এ থেকে এগিয়ে ছিল। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকেও একই রকম খবর মিলেছে।

ঢাকার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, আড়ত ও ট্যানারির কাছে চামড়া বিক্রি করে কেউ গড়ে ৭০০ টাকা, কেউ ৮৫০ টাকা দর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আবার লালবাগের পোস্তায় ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রেতার কাছ থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ১ হাজার ২০০ টাকায় চামড়া কিনতে দেখা গেছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় ৩০০-৫০০ টাকা দরে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে। গ্রামে বা মফস্বলে কোরবানিদাতারা ১০০-২০০ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও খবর এসেছে।

উত্তরের ৬ জেলায় বাঁধে ভাঙন, সংস্কারে অবহেলার খেসারত

০৫ জুলাই ২৩, সমকাল

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে অনেক জায়গায় বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীতে বিলীনও হয়েছে। ঝুঁকিতে আছে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকশ কিলোমিটার অংশ। বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে।

২০২১-২২ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে পাউবোর বাস্তবায়নাধীন ১০১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৩টি নদীতীর সংরক্ষণের প্রকল্প নেওয়া হয়। চলতি ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। বাস্তবে এসব প্রকল্পের অনেক স্থানে কাজ এখনও শুরু হতে দেখা যায়নি। তিন বছর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে রক্ষায় দেশের ৩৩টি জেলাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সরকার। এর পরও জেলাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার এবং মেরামত কাজ এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি পাউবো।

নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৩ সালটি বন্যার জন্য ঝুঁকির বছর। অতীতে প্রতি পাঁচ বছর পরপর বড় ধরনের বন্যার কবলে পড়েছে দেশ। সেই হিসাবে ২০১৭ সালের পর ২০২৩ সালটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বলেন, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদনদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ ছাড়া উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি সমতল; সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানাচ্ছে, বন্যায় দেশের ৩৩ জেলা লাল দাগে রয়েছে। অর্থাৎ এসব জেলায় ইতোমধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করা শুরু করেছে। এর মধ্যে উত্তরের জেলা রয়েছে আটটি। এসব জেলায় নড়বড়ে বাঁধ রয়েছে ১০০ কিলোমিটারের বেশি। টানা বৃষ্টি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিনই হবে।

দেশের ১২ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন না

০৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায় প্রতিটি দেশেই কিছু মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার সামর্থ্য থাকে না। অপেক্ষাকৃত গরিব দেশগুলোতে এমন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব মানুষ যাতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে ক্ষুধামুক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কিনতে পারেন না, এমন মানুষ যেসব দেশে বেশি, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশে এখন ১২ কোটি ১০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে পারেন না। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার কেনার সামর্থ্য তাঁদের নেই।

বাংলাদেশের ওপরে আছে ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও চীন। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেয়ে পুষ্টিমান অর্জন করতে এটি বড় বাধা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) দ্বিতীয় লক্ষ্য ক্ষুধামুক্তিতে (জিরো হাঙ্গার) ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পুষ্টিমান অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া চিনিকলে ৩ মৌসুম আখ মাড়াই বন্ধ, কর্মহীন সহস্রাধিক

১১ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

টানা তিন মৌসুমে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কুষ্টিয়া চিনিকলের। এতে বিনষ্ট হওয়ার পথে মিলের ভারী মেশিনারিজ-বৈদ্যুতিক মোটরসহ শতকোটি টাকার স্থাপনা। এ দিকে কয়েক বছর মিল বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতা না পেয়ে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা মৌসুম বন্ধ থাকায় কুষ্টিয়া চিনিকলের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে ভূতুড়ে পরিবেশ ও সুনসান নীরবতা। এককালের জৌলুসপূর্ণ এই মিলে এখন নেই কর্ম-ব্যস্ততা ও প্রাণের কলরব। মিলের প্রায় শতাধিক কোয়ার্টার এখন পরিত্যক্ত। বাউন্ডারি ঘেরা মিলের ২২১ দশমিক ৪৬ একর জায়গা জুড়ে ঘাস, লতা-পাতা ও গুল্মে সয়লাব। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মিল ভবন ও টিনের ছাউনিসহ অন্যান্য স্থাপনা, আখ পরিবহনে ব্যবহৃত অনন্ত ১৫-২০টি লরি, মিলের সুউচ্চ চিমনি, ভারী মেশিনারি ও বৈদ্যুতিক মোটরসহ শতকোটি টাকার যন্ত্র বিনষ্টের উপক্রম। জনবল কাঠামো অনুযায়ী কুষ্টিয়া চিনিকলে ১ হাজার ১৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এখন মাত্র ২৬ জন কর্মচারী বেতন ছাড়াই মিল রক্ষায় নিয়োজিত। অন্যরা কর্ম হারিয়ে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

এ দিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্দেশে কুষ্টিয়ার জগতি চিনিকলে ২০১৯-২০, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ মিলে দৈনিক মাড়াই ও উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক মাড়াই ক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বন্ধের তিন বছর পরও মিলটি চালুতে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় মিলজোনের আওতায় আখ উৎপাদন মারাত্নক হ্রাস পেয়েছে। তবে কুষ্টিয়া জোনের আওতায় চাষকৃত আখ মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর ও দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোং চিনিকলে সরবরাহ করছেন চাষিরা।

ইজারা নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপন করতে পারবেন উদ্যোক্তারা

১৩ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের নিয়ন্ত্রক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানটি ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর করেছে। এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট বা পাটজাত পণ্য উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল বিজেএমসি। এক্ষেত্রে ইজারার মেয়াদ ছিল ২০ বছর।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল ইজারা নিয়ে এখন থেকে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপন করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ক নানা শর্তাবলী এবং রেফারেন্সে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)।

সম্প্রতি তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা নয়টি পাটকল বেসরকারি খাতে পাটকল ইজারা দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রণয়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের নিয়ন্ত্রক এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানটি ইজারার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ বছর করেছে।

সংশোধিত শর্তাবলী অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা পাট, পাটজাত পণ্য বা টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন। পাট ও টেক্সটাইল দু ক্ষেত্রেই তারা ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজে কাজ করতে পারবেন।

এর আগে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট বা পাটজাত পণ্য উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছিল বিজেএমসি। এক্ষেত্রে ইজারার মেয়াদ ছিল ২০ বছর।

বিজেএমসির চেয়ারম্যান আনিস মাহমুদ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “বর্তমান পাটকলগুলোতে শুধুমাত্র পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য বেসরকারি খাতের কাছ থেকে আমরা খুব কমই সাড়া পেয়েছি। এ কারণে বস্ত্রশিল্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

“এখন উদ্যোক্তারা শুধু পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক নয়। তাছাড়া, টেক্সটাইল রপ্তানি সম্ভাবনার একটি প্রতিশ্রুতিশীল খাত,” বলেন তিনি।

সরকার পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য এ পর্যন্ত তিনটি পাটকলকে ইজারা দিয়েছে; ইতোমধ্যেই উৎপাদনে ফিরেছে সেগুলো।

যেসব মিল ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে নতুন শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, “যেসব মিল ইতোমধ্যে পাট উৎপাদন শুরু করেছে তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

“তবে, আমরা যদি তাদের কাছ থেকে আবেদন পাই তাহলে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

২০২০ সালের ১ জুলাই বড় লোকসান এবং অত্যধিক উৎপাদন খরচের কারণে সমস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকল একযোগে বন্ধ করে দেয় সরকার। সেসময় প্রায় ২৫০০০ কর্মী চাকরি হারান।

এরপর সরকার বন্ধ পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৫টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাটকলের মধ্যে ১৭টি ইজারা দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আন্তর্জাতিক দরপত্র দেওয়া হয়।

দরপত্রে শর্ত ছিল, একজন ইজারাদার শুধুমাত্র পাট, পাটজাত পণ্য ও পাটের-বৈচিত্র্য সম্বলিত পণ্য উৎপাদন করতে এসব পাটকল ব্যবহার করতে পারবেন।

বর্তমানে তৃতীয় দরপত্র চলছে, কিন্তু এখনও নয়টি পাটকল ইজারা দেওয়া বাকি।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে দেশের রিজার্ভ এখন ২৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার

জুলাই ১৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

অবশেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ প্রাপ্তির শর্ত হিসেবে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বহুজাতিক সংস্থাটির নির্দেশিত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (২ হাজার ৩৫৭ কোটি) ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিজার্ভের এ পরিসংখ্যান উঠে আসে।

তবে আইএমএফ নির্দেশিত হিসাবের পাশাপাশি নিজস্ব পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, ১২ জুলাই দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফ নির্দেশিত হিসাব (বিপিএম৬) অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ করতে গিয়ে এক ধাক্কায় দেশের রিজার্ভ কমেছে ৬৪০ কোটি ডলার।

ঝুঁকিতে এলএনজি আমদানি-সরবরাহ

১৩ জুলাই ২০২৩, কালবেলা

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এলএনজি আমদানির ব্যয় মেটাতে না পারার কারণে অতি জরুরি এ পণ্যটি আমদানির চুক্তি স্থগিত করার কথা জানিয়েছে একাধিক রপ্তানিকারক কোম্পানি। পাশাপাশি বকেয়ার অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) থেকে অর্থ আদায় করার কথা জানিয়েছে একাধিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। পেট্রোবাংলার ব্যাংক হিসাবে টাকা থাকার পরও পর্যাপ্ত মার্কিন ডলারের অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংকট সমাধানে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়ে জ্বালানি সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায়নি। তবে কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের হাতে টাকা থাকলেও ডলার নেই। এ কারণেই এই সংকট।

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরের কোম্পানি গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে আমদানি করা এক কার্গো (কার্গো নং-১০) এবং টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের সুইজারল্যান্ডের ব্রাঞ্চ থেকে আমদানি করা দুই কার্গো (কার্গো নং-৭ ও ৮) এলএনজি আমদানি করা হলেও এখনো অর্থ পরিশোধ করেনি পেট্রোবাংলা। ওই কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকে টাকা থাকলেও ডলার না পাওয়ার কারণে আমদানি বিল পরিশোধ করা যায়নি। এমনকি বিল পরিশোধের সময়ও পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে বিল পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে চলতি মাসের শুরুতে তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে। পত্রে বিল পরিশোধের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে কোম্পানি দুটি। কোম্পানি দুটির একটি গানভর বিল পরিশোধের তাগাদাপত্রে উল্লেখ করে, আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে পেট্রোবাংলা বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির জন্য আহ্বানকৃত দর প্রস্তাবে কোম্পানিটি অংশগ্রহণ করবে না। জুলাই ও আগস্ট মাসে যে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির জন্য ‘কনফার্ম নোটিশ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা স্থগিত করা হবে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যুকৃত স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (এসবিএলসি) থেকে বিল কেটে নেওয়া হবে। একইভাবে অন্য কোম্পানি টোটাল এনার্জিসের পক্ষ থেকে এক ইমেইল বার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেট্রোবাংলা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এসবিএলসি থেকে অর্থ আদায় করা হবে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার জ্বালানি সচিবের কাছে পাঠানো পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তিন কর্মদিবসের মধ্যে এই দুই কোম্পানির বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবং সরবরাহকারী কর্তৃক ইস্যুকৃত এসবিএলসি থেকে তাদের অর্থ আদায় করা হলে তা দেশ ও দেশের বাইরে জানাজানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে মাস্টার সেলস অ্যান্ড পারচেজ এগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ কমে যাবে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ব্যাংকগুলো পেট্রোবাংলার পক্ষে এসবিএলসি ইস্যু করতে রাজি হবে না। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটবে।

জানা গেছে, গানভর সিঙ্গাপুরের সরবরাহকৃত এক কার্গো এলএনজি বিল পরিশোধের সময় ছিল গত ২০ জুন। বিলের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি রয়েছে ২৮ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ থেকেও আট দিন বেশি পেরিয়ে গেছে। গানভরের সরবরাহকৃত এলএনজি দাম আংশিক পরিশোধ করা হলেও টোটাল এনার্জিসের দুই কার্গো এলএনজির বিপরীতে বিলের পুরোটাই বাকি। টোটাল এনার্জিসের একটি কার্গোর (কার্গো-৮) বিল দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় ছিল গত ২০ জুন। এরই মধ্যে ২০ দিন পার হয়ে গেছে। অন্য কার্গো (কার্গো-৭) এলএনজি দাম পরিশোধের সময় ছিল গত ৫ জুলাই। এরই মধ্যে ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিল পরিশোধ করতে পারেনি পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অপার রেট) সঙ্গে ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী যত দিন বিল অপরিশোধিত থাকবে ততদিন দেরিতে পরিশোধের জন্য জরিমানা গুনতে হবে।

দেশে খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ৫ কোটি ২৭ লাখ মানুষ

১৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশের সোয়া পাঁচ কোটির বেশি মানুষ খাদ্যে তীব্র থেকে মাঝারি ধরনের নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে আছে। এর মধ্যে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ। জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার মধ্যে আছে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত বুধবার প্রকাশিত হয়।

দেশে তীব্র থেকে মাঝারি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ২০১৬ সালের পর গত ছয় বছরে প্রায় ১৮ লাখ বেড়েছে।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ নেই বাংলাদেশের

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশকে দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের অন্যতম শর্ত ছিল—গত জুনে প্রকৃত (নিট) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হবে ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার।

আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ (ব্যালান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলার। এর বাইরেও প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি তথ্য আছে, যা প্রকাশ করেনি তারা।

যদিও দেশের মানুষকে না জানালেও ঋণের শর্ত মেনে প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব ঠিকই প্রতিদিন আইএমএফকে জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন সর্বশেষ প্রায় ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের কিছু বেশি প্রকৃত রিজার্ভ থাকার কথা আইএমএফকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন রিজার্ভের তিন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেমন মোট রিজার্ভ, বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ও প্রকৃত রিজার্ভ।

খরচ বাড়বে রেলওয়ের লাভ হবে ঠিকাদারের

১৯ জুলাই ২৩, সমকাল

জামালপুরের নান্দিনার মো. হীরা সাত বছর ধরে সিলেটের ইলিয়াসপুরে রেলের গেটকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন। অস্থায়ী শ্রমিক (টিএলআর) হিসেবে মাসে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা পান তিনি। এটাই তাঁর সম্বল। এখনও যথারীতি দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর চাকরি আছে কিনা, স্পষ্ট নয়। কারণ, টিএলআরদের বাদ দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঠিকাদারের দেওয়া কর্মী নিতে যাচ্ছে রেলওয়ে।

হীরার মতো রেলে অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন ছয় হাজার ৮২৬ জন। রেলওয়ের হিসাবে, এখনও ছয় হাজার টিএলআর আছেন। কাজ হারানোর শঙ্কায় তাদের একাংশ গত রোববার ঢাকায় ট্রেন থামিয়ে রেললাইন অবরোধ করে। পাঁচ ঘণ্টা সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাসে কাজে ফিরলেও তারা বেতন পাবেন না। কারণ, ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থবছরে অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরির জন্য বরাদ্দ পায়নি রেলওয়ে। গত বছরের ২ অক্টোবর অর্থ বিভাগ অস্থায়ী শ্রমিকদের মজুরি আউটসোর্সিং খাত থেকে দিতে শর্ত দিয়েছে। এ কারণে আউটসোর্সিং কর্মী নিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে রেলওয়ে। সেটি করতে রেলের নিয়োগবিধিও মানা হচ্ছে না। যেসব পদে সরাসরি নিয়োগের শর্ত রয়েছে, সেগুলোও দরপত্রে থাকছে।

ডলার সংকটের প্রভাব এখন পোশাক খাতেও দৃশ্যমান

জুলাই ১৯, ২০২৩, বণিক বার্তা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রিজার্ভের নিম্নমুখিতায় গত অর্থবছর আমদানিতে লাগাম টেনে ধরা হয়, যার প্রভাব পড়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে। তবে এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প। কাঁচামাল আমদানির ব্যাক টু ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) খুলতে এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের এতদিন তেমন সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়নি। তবে ডলার সংকট প্রকট হওয়ায় এখন এ সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে পোশাক খাতেও।

পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পোশাক খাতের বেশির ভাগ কাঁচামালই আমদানি করতে হয়। কিন্তু এখন ব্যাক টু ব্যাক এলসি খোলার বিষয়ে বেশকিছু সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। আগের ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধের আগে নতুন ঋণপত্র খোলায় নিরুৎসাহিত করছেন ব্যাংকাররা। তারা জানিয়েছেন, ডলার রিজার্ভের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে গিয়ে ঋণপত্র খোলার শর্তগুলোও আগের তুলনায় অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করছে ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পোশাক রফতানিকারকদের ক্রেতা বা বায়াররা পণ্য আমদানি করলেও সময়মতো অর্থ পরিশোধ করছে না। চুক্তিতে শর্ত দেয়া হয় রফতানি নথি গ্রহণের পর অবিলম্বে (অ্যাট সাইট পেমেন্ট) অর্থ পরিশোধের। যদিও ক্রেতারা পরিশোধ করছে ১২০ কিংবা ১৮০ দিন পর। কভিড প্রাদুর্ভাবের সময় থেকেই এ চর্চা শুরু হলেও গত এক বছরে সমস্যাটি আরো বেশি হচ্ছে। ক্রেতারা পণ্য নেয়ার পর বলছেন, ছয় মাস বা এক বছরের আগে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন না। এদিকে রফতানির মূল ঋণপত্রের বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাকের দায় মেটানোর সময় থাকে ১২০ দিনের। কিন্তু ততদিনে পণ্য রফতানির অর্থ আসছে না। এ বিলম্বের ফলে ব্যাক টু ব্যাকের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না ব্যাংক। এতে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্যাশ বোর্ডে তা রেড মার্কে প্রদর্শন হচ্ছে। তাই এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক নতুন ঋণপত্রের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র করছে না। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা আছে, নির্ধারিত সময়ের একদিন পরও কেউ ব্যাক টু ব্যাকের দায় পরিশোধ করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তফসিলি বা অথরাইজড ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব কারণেই মূলত ব্যাংকগুলো ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে রক্ষণশীল মনোভাব বাস্তবায়ন করছে।

মূল্যস্ফীতির শঙ্কার মধ্যেই টাকা ছাপিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২০ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মূল্যস্ফীতি অনেক দেশে পড়তির দিকে থাকলেও, বাংলাদেশে এই চাপ কমার কোনো লক্ষণ নেই। এরমধ্যেই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারকে টাকা ধার দিতে নতুন টাকা ছাড়ছে, যেটি মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দেওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৮ দিনের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজস্ব ঘাটতির যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল আদতে ঘাটতি হয়েছে তারও বেশি, প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ার কারণে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকার সরবরাহ বাড়াতে হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের এসব তথ্য গত অর্থবছরের একই সময়ের সাথে তুলনা করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকখাত থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা ধার নেয় সরকার। এরমধ্যে ৭৮ হাজার ১৪০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মানে, প্রতিমাসে গড়ে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছে।  এমনকি আগের অর্থবছরের শেষ মাস গত জুনেও সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়েছে ৬ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা।   

সে তুলনায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে – কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯১ ও ৩৬৪ দিন-মেয়াদি ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৪ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়া, আরও ৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা ২, ৫ ও ১০- বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ডিভলভিং প্রক্রিয়ায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে সরকারি ট্রেজারি বিল এবং বন্ড বিক্রি করে টাকা সংগ্রহের বদলে নিজেই কিনে নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিভলভমেন্ট কৌশলের আওতায় সরকারের টাকা ধার নেওয়ার অর্থ-  অর্থনীতিতে নতুন টাকার সরবরাহ বৃদ্ধি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যাংকখাত থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ধার নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পোশাকের রপ্তানি আসলে কত

২৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ণাঙ্গ একটি অর্থবছর শেষ হলো গত জুনে। সরকারি হিসাবে, এই সময়ে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। অথচ ক্রয়াদেশ কমেছে, অধিকাংশ কারখানার ২০-৩০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত। ফলে রপ্তানির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

তৈরি পোশাকশিল্পের বেশ কিছু বড়-মাঝারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) গ্রাহক। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের রপ্তানি আয় প্রায় ১১ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ৩১৭ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পোশাক ও বস্ত্র খাতে চারটি কারখানা রয়েছে উর্মি গ্রুপের। গ্রুপটি গত বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি কমে হয়েছে সাড়ে ৮ কোটি ডলার। ফলে অর্থের হিসাবে প্রায় ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১০০ কোটি টাকার বেশি রপ্তানি হারিয়েছে গ্রুপটি।

ইপিবির পোশাক রপ্তানির পরিসংখ্যানের সঙ্গে আমরা বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছি না। গত অর্থবছরে আমার নিজের প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। নারায়ণগঞ্জ বিসিকে আমার প্রতিষ্ঠানের আশপাশে যতগুলো কারখানা রয়েছে, সব কটিরই রপ্তানি কমেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

এই যখন অবস্থা, তখন অর্থাৎ চলতি মাসের গোড়ার দিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ অথবা ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৪ শতাংশ। ইপিবির তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে শীর্ষ ছয় খাতের মধ্যে শুধু তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে।

কয়েক মাস ধরেই পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের কেউ প্রকাশ্যে, কেউবা ব্যক্তিগতভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানির পরিসংখ্যান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়, ফলে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্য কেনা কমিয়ে দেন। তাতে কমে যায় পোশাকের বিক্রিও। আবার গত বছরের শেষ দিকে অধিকাংশ কারখানা ২০-৩০ শতাংশ কম উৎপাদন সক্ষমতায় চলছে। গ্যাস-বিদ্যুতের কারণেও উৎপাদন কম-বেশি ব্যাহত হয়েছে।

পরিকল্পনার প্রায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ, পূরণ হয়নি বেশির ভাগ উদ্দেশ্য

জুলাই ২৪, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের জন্য ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার। ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, নতুন সেতু নির্মাণ, সড়ক-সেতু পুনর্বাসন, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৬৬ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছর মেয়াদি এ মহাপরিকল্পনাটি বর্তমানে শেষভাগে চলে এসেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে প্রাক্কলনের প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাধ্যমে গত ১১ বছরে খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। যদিও যে সাতটি প্রধান উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার, তার বেশির ভাগই পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সড়ক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত যে বিনিয়োগ হয়েছে, তা থেকে যতটা সুফল পাওয়ার কথা বাস্তবে তা হয়নি। এজন্য দায়ী যথাযথভাবে এবং সঠিক সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে না পারা, অবকাঠামো বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি করতে না পারা, প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়া, অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের বিষয়।

সড়ক মহাপরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দেশের অর্থনৈতিক ও ট্রাফিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ১৫ বছর হতে চললেও পূরণ হয়নি সেটি। সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য বলছে, দেশের অর্থনীতির ‘‌লাইফ লাইন’ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে ধারণক্ষমতার বেশি যানবাহন। অন্য সড়কগুলোরও একই অবস্থা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জরিপে ভালো সড়কের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে (১৩৪টি দেশের মধ্যে ১১৩তম)। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে বিশ্বের চতুর্থ ধীরগতির সড়ক নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের, যেখানে যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪১ কিলোমিটার।

এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার এখন পর্যন্ত যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, সেগুলোয় ব্যয় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার কয়েক গুণ বেশি। মহাপরিকল্পনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। যদিও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি শুধু চার লেন করতেই খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা-মাওয়া সড়কে বিনিয়োগের পরিকল্পনা ছিল ৬০০ কোটি টাকা। বাস্তবে ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কটি চার লেনসহ ‘‌এক্সপ্রেসওয়ে’ মানে উন্নীত করতে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু যুক্ত করে সেতু তিনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। ৬৯০ কোটি টাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীতের পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। বর্তমানে যেসব প্রকল্প ও কর্মসূচি চলমান রয়েছে, সেগুলোয়ও ব্যয় হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

মহাপরিকল্পনার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দুর্ঘটনা হ্রাস। গত ১১ বছরে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণে বিপুল অংকের টাকা খরচ হলেও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন এবং দুর্ঘটনা কমানো—কোনোটিই সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য বলছে, ২০০৩ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৩৩৪ জনের মৃত্যু হয়। আর ২০২২ সালে এসে মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৮ জনের। চলতি বছরও সড়কে বেড়েছে দুর্ঘটনা ও আহতের সংখ্যা। গত শনিবার ঝালকাঠিতে একটি যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনায় আহত হয় আরো অন্তত ৩৫ জন।

বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যে দেখা যায়, গত জুনে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৫১৬ জন ও আহত ৮১২ জন। মে মাসে সড়কে প্রাণ যায় ৪০৮ জনের আর আহত হয় ৬৩১ জন। এ মাসে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয় ১৩ দশমিক ১৬ জন। আর জুনে গড়ে প্রতিদিন নিহত হয়েছে ১৭ দশমিক ২ জন। এ হিসাবে জুনে প্রাণহানি বাড়ে ৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। একইভাবে গত এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন নিহত হয়। এ সময়ে ৪৩১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৭ জন নিহত ও ৭৭৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই প্রকাশিত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবশেষ ঈদুল আজহার সময় ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় ২৭৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৪৪ জন। এসব দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়কে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির তিন চাকার যানবাহন চলাচল।

প্রতিদিনই জরিমানা দিচ্ছে শরিয়াহভিত্তিক ছয় ব্যাংক

২৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

চাহিদামতো টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে না পারায় দণ্ডসুদ বা জরিমানা দিতে হচ্ছে ইসলামি ধারার ছয় ব্যাংককে। এসব ব্যাংকের তারল্যসংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দণ্ডসুদের টাকাও পুরোটা জমা দিতে পারছে না। তাই তারল্য পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এসব ব্যাংককে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

তারল্যসংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ছয়টি হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। এর মধ্যে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলো চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন। এসব ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বর থেকে তারল্যঘাটতিতে রয়েছে।

ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিআরআর ও এসএলআরের টাকা জমা করছে না। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। শুধু ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়ে দায় সেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোও অনিয়ম বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া শুরু করেছে।

মুডি’সের পর বাংলাদেশের রেটিং নেতিবাচক করল এসঅ্যান্ডপি

বৈদেশিক বাণিজ্য ও রিজার্ভ আরো চাপে পড়বে

জুলাই ২৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

মুডি’সের পর এবার বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান কমিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক অবস্থায় নেমে এসেছে বাংলাদেশের ঋণমান। দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং এখন ‘বিবি মাইনাস’ (BB-)। আর স্বল্পমেয়াদে রেটিং ‘বি’। বিদেশী ঋণ ও তারল্য পরিস্থিতি আরো প্রতিকূলে গেলে এ ঋণমান আরো কমে যাবে। এছাড়া আগামী বছর দেশের ডলার পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আরো চাপের মুখে পড়তে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

বিশ্বব্যাপী মুডি’স, এসঅ্যান্ডপি ও ফিচ রেটিং—মার্কিন এ তিন প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ঋণমানের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের ক্রেডিট রেটিং বাজারের সিংহভাগই প্রতিষ্ঠান তিনটির নিয়ন্ত্রণে। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে এ তিন প্রতিষ্ঠানের দেয়া ঋণমানের প্রভাব পড়ে।

এর আগে চলতি বছরের ৩১ মে বাংলাদেশের ঋণমান এক ধাপ কমিয়ে বিএ৩ থেকে বি১-এ নামিয়ে দেয় মুডি’স। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন বড় দুর্বলতা ও তারল্যের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যেও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।

দখল, দুর্নীতি ও অনিয়ম

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকই বড় গ্রহীতাদের ঋণ দেয়ার সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন করেছে

এপ্রিল ২৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

কোনো ব্যাংক তার বিতরণকৃত মোট ঋণের কত শতাংশ অর্থ বড় গ্রাহকদের দিতে পারবে, তা ব্যাংক কোম্পানি আইন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রীতিনীতিতে স্পষ্ট করা আছে। ব্যাংককে অল্প কিছু গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করতেই এমন বিধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান চার ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালীতে বিধানটির প্রতিপালন হয়নি। বরং এ চার ব্যাংকের সবক’টিরই ঋণ পোর্টফোলিওতে বড় গ্রাহকদের দেয়া ঋণের সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক তার ঋণ পোর্টফোলিওর ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দিতে পারে। যদিও গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৯ শতাংশই ছিল বড়দের কাছে। আর বড় গ্রাহকদের কাছে গেছে জনতা ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৬৯ শতাংশ অর্থ। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকও বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা লঙ্ঘন করেছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিওর ৩৬ শতাংশ অর্থ নিয়েছেন বড় গ্রাহকরা। যদিও এক্ষেত্রে ব্যাংকটির বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা হলো পোর্টফোলিওর ৩০ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের বড় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ৩৪ শতাংশ হলেও ব্যাংকটি এরই মধ্যে ৩৬ শতাংশ অর্থ বড়দের দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ বড় গ্রাহকদের কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার এ চিত্র উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড়দের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি রাতারাতি হয়নি। বরং বছরের পর বছর ধরেই এ প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে গত ১০-১২ বছরে এটি অনেক বেশি ত্বরান্বিত হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে। ব্যাংকগুলোর পর্ষদে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও রয়েছেন। তার পরও বড়দের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার বিষয়টি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ চার ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান তিনজন শীর্ষ নির্বাহী বণিক বার্তাকে বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে দেশের ক্ষমতাবানদের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রভাবশালীদের ঋণ দিতে হয়েছে। তবে তাদের কেউই এ বিষয়ে নিজের নাম উদ্ধৃত করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

সরকারি পুকুর ভরাট করে হকার্স মার্কেট

২৯ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের নিউমার্কেটের বিপরীতে মাশরুম কেন্দ্রসংলগ্ন সরকারি পুকুরটির পরিমাণ ১১২ শতাংশ। আগে একবার উত্তরণ সমবায় ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি উপজেলা প্রশাসন লিজ দিয়েছিল। হঠাৎ সেখানে ‘সাভার হকার্স মার্কেট’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। অথচ জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এভাবে কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী ও খাল ভরাট করা যাবে না।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় হকার্স লীগের নেতারা অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সরকারি পুকুরটি ভরাট করে মার্কেট তৈরির কাজ শুরু করেছেন। বাসস্ট্যান্ডের পাশেই ভরাটের কাজ চলছে পুরোদমে। সরকারি সম্পত্তি লিজ না নিয়েই বালু ফেলে ভরাট করার ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। একটি প্রভাবশালী মহল হকার্স মার্কেট নির্মাণকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে গড়ে ২৬৫৩ টাকা ঘুষ

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বয়স্ক ভাতার কার্ড পেতে একেকজন সুবিধাভোগীকে গড়ে ২ হাজার ৬৫৩ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের এ ঘুষ দেন ভাতাপ্রত্যাশীরা। কারণ, ঘুষ না দিলে ভাতা পাওয়ার তালিকায় তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় না। ঘুষ দিতে না পারায় ভাতা কার্ড পাননি, এমন ঘটনাও ঘটেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ঘাটতি নিরূপণ এবং এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ জরিপ করা হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক সংলাপে জরিপে প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে সিপিডি। ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় এ জরিপ করা হয়। জরিপে ঘুষের বিষয়টি ছাড়াও বয়স্ক ভাতার কার্ড প্রাপ্তির নানা ভোগান্তি ও অসংগতির চিত্র তুলে ধরা হয়।

সিপিডি জানিয়েছে, জরিপে দেশের ২৯টি উপজেলার ৪৮৬ জনের বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সুবিধাভোগীর মতামত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ১০৮ জন বয়স্ক, ২০০ জন বিধবা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১৭৮ জন অভিভাবক। জরিপের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ এবং যেখানে কম সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষাবেষ্টনী রয়েছে, সেসব স্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জরিপে উঠে এসেছে, স্থানীয় পর্যায়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড করতে গিয়ে একজন উপকারভোগীকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। আর এসব ঘুষ নিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও সরকারের কর্মকর্তারা।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ১৫শ কোটি টাকা যাচ্ছে অযোগ্যদের কাছে

কার্ডের জন্য ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়

৩০ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের ওপর পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য নয় বলে নিজেরাই জানিয়েছেন। ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত নন এমন মানুষের জন্য মোট বরাদ্দের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তথা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অনেকে যোগ্য হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির কারণে ভাতা পান না।

অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হলে যোগ্যদের অন্তত ৪৫ শতাংশকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা যেত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জরিপভিত্তিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে মাসে ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বয়স্ক ও ৩৩ শতাংশ বিধবা নিজেদের অযোগ্য বলে জানিয়েছে। এদের মধ্যে আবার প্রায় ১২ শতাংশ পেনশন, ভিজিডি বা অন্যান্য ভাতা নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অযোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মূলত উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউপি মেম্বার-চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের পক্ষপাত ও দুর্নীতির কারণে এমন হয়। অযোগ্যদের ভাতা দেওয়া বন্ধ করা হলে প্রকৃত যোগ্য ৪৫ শতাংশ ব্যক্তিকে এর আওতায় আনা সম্ভব।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বয়স্ক ভাতা খাতে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ৫৭ লাখ ১ হাজার উপকারভোগী এ ভাতা পাচ্ছেন। এ ছাড়া বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত ভাতা খাতে ১ হাজার ৪৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২৪ লাখ ৭৫ হাজার উপকারভোগী এ ভাতা পাচ্ছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্য কার্ড পেতে সংশ্লিষ্টদের গড়ে ২ হাজার ৬৫৩ টাকা ঘুষ দিতে হয়। ৫০০ থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়। অনেকে যোগ্য হলেও ঘুষ দিতে না পারায় ভাতা পান না। এসব কারণে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বয়স্ক ও স্কুলগামী শিশুরা যে ভাতা পাচ্ছেন তা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সুবিধাভোগী ও তাঁদের অভিভাবকরা। উপকারভোগীদের  ৯৭ শতাংশ মনে করছেন, বয়স্ক ভাতা বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৮০ শতাংশ শিশুর অভিভাবক মনে করছেন ভাতা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা দরকার।

সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য অথচ ভাতা পান না এমন বয়স্ক লোকের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এদের ভাতার আওতায় আনতে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ১৭ লাখ বিধবা এবং ১ কোটি ৪০ লাখ শিশু শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে না। এদের ভাতা ও বৃত্তির আওতায় আনতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বয়স্ক ও বিধবা ভাতা যদি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা করা হয় এবং যোগ্য সবাইকে যদি এর আওতায় আনা হয় তাহলে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ভাতার হার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা থেকে পেনশন ও সঞ্চয়পত্রের সুদের প্রিমিয়ামকে আলাদা করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বাড়তি অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে তারও একটি হিসাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সিপিডির অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, কর ফাঁকি ও কর অস্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রতি বছর সরকার ৪১ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাজস্ব বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো যেতে পারে।

৩ হাজার পান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ‘আতঙ্কে’ ‍পুঞ্জিবাসী

৯ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির ৪টি পানজুমের ৩ হাজার পান গাছ ও ৬০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে আল্লাদাত চা-বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সোমবার রাতে পুঞ্জির বাসিন্দারা এই অভিযোগ করেছেন। আজ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

পুঞ্জিবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার পর থেকে তারা আতঙ্কে আছেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী অলমি প:তাম গতকাল আল্লাদাত চা-বাগানের ম্যানেজার সিরাজ উদ্দিন, পাহারাদার নূর উদ্দিন ও আব্দুস সামাদের নাম ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে বড়লেখা থানায় লিখিত একটি অভিযোগ করেছেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান।

লিখিত অভিযোগে বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির হেডম্যান অলমি প:তাম বলেন, উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেরেঙ্গা পানপুঞ্জিতে ব্রিটিশ আমল থেকে ৬০টি খাসিয়া পরিবারের প্রায় ৫০০ জন মানুষ বসবাস করছেন। বংশ পরম্পরায় তারা পানজুম ও সুপারি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আল্লাদাত চা-বাগানের ম্যানেজার সিরাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বাগানের পাহারাদার নূর উদ্দিন ও আব্দুস সামাদসহ কয়েকজন লোক বেরেঙ্গা পানপুঞ্জির দক্ষিণ পাশের খাসিয়াদের লাগানো ৪টি পানজুমের ৩ হাজার পান গাছ ও ৬০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলে। বিষয়টি দেখে খাসিয়ারা বাগানের লোকজনকে বাধা দিতে গেলে তারা তাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়।

সাগরপাড়ের রুবিতে মজেছে ইউসিবি

১০ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মাত্র ২৩ কোটি টাকার জামানতের বিপরীতে ৭৬৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)। তার মধ্যেও সিংহভাগই দেওয়া হয়েছে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া। একাধিকবার ঋণ অনুমোদনের আগেই করা হয়েছে ঋণ বিতরণ। খেলাপি গ্রাহক হলেও ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখতে তাকে খেলাপি দেখানো হয়নি। উল্টো নতুন করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। আর এর সবই করা হয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিএসএম গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দিতে। ঋণের টাকায় গ্রুপটির ব্যবসার প্রসার ঘটলেও এখন আর ঋণ আদায় করতে পারছে না ইউসিবিএল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএসএম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ১ কোটি টাকা। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন মাত্র ২ লাখ টাকা। কোনো ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দুটি মেয়াদি ঋণ, তিনটি টাইম লোন, ৪টি ফোর্সড লোন, একটি ওভার ড্রাফ্ট ও একটি সিসি লোনের বিপরীতে ৬৬৪ কোটি ৯২ লাখ ২৯ হাজার টাকা দিয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা। এ ছাড়া নন-ফান্ডের বা এলসির মাধ্যমে ঋণ দিয়েছে ১০০ কোটি ৩২ লাখ। সব মিলিয়ে রুবি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৬৫ কোটি ৩৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া এসব ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনিয়ম করে কন্যাদের নিয়োগ দিলেন দুই ভিসি

১২ মে ২০২৩, সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রীতিমতো তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপাচার্য। পরস্পরের কন্যাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছেন তাঁরা। আর তা করতে গিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে অবলীলায় বাদ দিয়েছেন। তুলনামূলক কম যোগ্যতার প্রার্থী হলেও দুই কন্যার নিয়োগ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

এ দুই উপাচার্য হলেন– গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন। এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে তাঁরা এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মেয়ে অহনা আরেফিনকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বশেমুরবিপ্রবির পুরকৌশল বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য। এ নিয়োগের বিনিময়ে গত ২২ মার্চ একিউএম মাহবুবের কন্যা ফারজানা মাহবুবকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেন ছাদেকুল আরেফিন। প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দুটিতে নিয়োগ বোর্ডেরও প্রধান ছিলেন এ দুই উপাচার্য।

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পরস্পরের কন্যাকে নিয়োগ দিতে গিয়ে তাঁরা নিজ পদের অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, অনেক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে এ নিয়োগ দিয়েছেন। উপাচার্য ছাদেকুল আরেফিনের মেয়ে নাটোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বশেমুরবিপ্রবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেতে তিনটি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রুয়েট) দেশের বিভিন্ন প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী মোট ১৬ প্রার্থী। যদিও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ বোর্ডের কাছে সবচেয়ে ‘যোগ্য’ মনে হয়েছে নাটোরের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী অহনা আরেফিনকে। বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামান এ নিয়োগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনের ব্যাপার বলে জানান তিনি।

কিছু ব্যক্তির কাছে ব্যাংকসহ দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়েছে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

১১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

ব্যাংক খাতের চলমান অবস্থা ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন বাজারে যাই, তখন দেখি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কেন ঊর্ধ্বগতি? আমাদের কিন্তু কোনো কিছুর অভাব নেই, আমরা প্রতিটা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পন্ন। চাল–ডাল, তরিতরকারি, মাছ-মাংস থেকে সবকিছুতেই স্বয়ংসম্পন্ন। তারপরও সিন্ডিকেটের কারণে দেশে এই অবস্থা বিরাজ করছে। যে ব্যক্তি লুটপাট করে বড় লোক হচ্ছেন, তাঁকে আরও সুযোগ দিচ্ছি। ফলে কিছু ব্যক্তির কাছে ব্যাংক থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এই সিন্ডিকেট আমাদের ভাঙতে হবে।’

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘আজ অবাক লাগে, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে লাখ লাখ বেকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ মওকুফ করা হয় না। কাদের ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে? যাঁরা ব্যাংক থেকে লক্ষকোটি টাকা নিয়ে খেলাপি হয়েছেন, তাঁদেরটাই বারবার মওকুফ করা হচ্ছে। তাঁরা মওকুফ পেয়ে আবার ঋণ নিচ্ছেন। বড় খেলাপিদের যে ঋণ মওকুফ করা হচ্ছে, সেগুলো যদি এসএমই ফাউন্ডেশনসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের দেওয়া হতো, তবে তাঁদের ব্যবসা আরও সমৃদ্ধশালী হতো। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।’

অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাপি ঋণে শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশ

১৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির খেলাপি ঋণ প্রায় ১১ শতাংশ। এরপরই অবস্থান বাংলাদেশের, খেলাপি ঋণ প্রায় ৯ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণের দেশ নেপাল। দেশটির খেলাপি ঋণ ২ শতাংশের কম। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক আপডেটে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ আমদানি ব্যয়, ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত ঋণ পরিশোধ না করা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এক বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ১৭ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেড়েছে।

এটা অবশ্য শুধু খেলাপি ঋণের হিসাব। পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না এমন ঋণ ও বিশেষ নির্দেশিত হিসাবের ঋণকে খেলাপি হিসাবে দেখানোর পক্ষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের হিসাব অনুসরণ করলে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

গত জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে। এই ঋণ দিতে আইএমএফ শর্ত দিয়েছিল, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমাতে হবে, যাতে দেশের ব্যাংক খাত বড় ধরনের কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে। সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যেই ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ যাতে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না যায়, সে জন্য গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে বিশেষ ছাড় দেয়। শিথিল করে ঋণ খেলাপি হওয়ার নীতিমালা।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ৬ শতাংশের কম, পাকিস্তান ও ভুটানের ৮ শতাংশের কম।

মতিঝিল আইডিয়ালে শতকোটি টাকার ভর্তি-বাণিজ্য

১৬ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

রাজধানীর খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতিঝিলসহ তিনটি শাখায় গত ৯ বছরে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির অনুমোদিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত এসব শিক্ষার্থী ভর্তিতে লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকার বেশি।

আইডিয়াল স্কুলে ভর্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ঘেঁটে এবং অভিযোগ অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, দুটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ ভর্তি-বাণিজ্যে জড়িত। এই চক্রে ছিলেন বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাও। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভর্তি-বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

ইজারা ছাড়াই বালি তুলছেন তিন আওয়ামী লীগ নেতা

মে ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ছোট যমুনা নদী থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের তিন নেতার বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে উত্তোলন করা এসব বালি কোটি টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে। ইজারা না নিয়েও যত্রতত্র বালি তোলায় ভাঙনের মুখে পড়েছে নদীর বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকা। নদী ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় দ্রুত বালি তোলা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (১৪২৯ সন) ৯ মার্চ নওগাঁয় আটটি বালিমহাল সরকারিভাবে ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেখানে বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর ৭১ দশমিক ৫৭ একর বালি মহালের সরকারি ইজারামূল্য ধরা হয় ৩৯ লাখ ২৫২ টাকা। কার্যাদেশ অনুসারে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ৬২ লাখ ৩১ হাজার ৭১১ টাকায় বালিমহালের ইজারা পান বদলগাছী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তপন কুমার মণ্ডল। বালি  উত্তোলনে তাকে ১০টি মৌজা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এর মধ্যে তেজাপাড়া মৌজায় রয়েছে ১ দশমিক ৭৭ একর। চলতি বছর ওই নদীতে উত্তোলনযোগ্য বালি নেই বলে একটি প্রতিবেদন পাঠায় উপজেলা প্রশাসন। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর নদীর বালিমহাল ইজারা দেয়া হয়নি।

এমডি তাকসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ওয়াসা চেয়ারম্যান পদ হারালেন

২২ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলা ঢাকা ওয়াসা-র চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওয়াসা বোর্ডের সদস্য সুজিত কুমার বালাকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে ওয়াসার সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আমার মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে, হয়তো সে কারণেই নতুন কাউকে নিয়োগ দিয়েছে।’

 মজুতদাররাই পেঁয়াজ কারসাজির হোতা

২২ মে ২৩, সমকাল

এবারও পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমদানি হয়েছে কয়েক লাখ টন। মজুত আছে পর্যাপ্ত। তবু মসলাজাতীয় পণ্যটির বাজারে চলছে অস্থিরতা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকের কাছ থেকে বেশিরভাগ পেঁয়াজ চলে গেছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। ভারত থেকে আমদানি বন্ধের অজুহাতে মূলত তাঁরা বাজারকে নিজেদের কবজায় নিয়ে গেছেন। সরকারের উল্লেখযোগ্য তদারকি না থাকার সুযোগও কাজে লাগিয়েছেন তাঁরা। এ কারণে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারসাজির মূল নায়ক আড়তদার বা মজুতদাররা। যদিও সরকার বলছে, আমদানির ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপাচার্যের আত্মীয় হলেই চাকরি

২৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ম আছে, কোনো নিকট আত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক, শিক্ষক অথবা কর্মকর্তা ওই পরীক্ষার কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কোনো উপাচার্য ভেঙেছেন বলে শোনা যায়নি। ব্যতিক্রম বিএসএমএমইউর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক শারফুদ্দিনের ছোট ছেলে তানভীর আহমেদ ২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর (এমডি/এমএস) কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, ওই পরীক্ষার সার্বিক তত্ত্বাবধান কমিটির প্রধান ছিলেন উপাচার্য নিজে।

তানভীর আহমেদ এখন বিএসএমএমইউর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি অটোল্যারিংগোলজি (নাক কান গলার সার্জারি) বিভাগে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) পদে রয়েছেন। এই চাকরি হয়েছে তাঁর বাবার আমলে। তানভীরের বাবা অধ্যাপক শারফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পান ২০২১ সালের মার্চে।

উপাচার্যের ছেলে তানভীরের স্ত্রী ফারহানা খানম চিকিৎসক। গত ১ জানুয়ারি ফারহানার চাকরি হয়েছে বিএসএমএমইউর শিশু বিভাগে।

বিএসএমএমইউর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য হলো, উপাচার্যের এ রকম অন্তত ১১ জন আত্মীয় চাকরি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের মধ্যে ৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর। বাকি চারজনের দুজন নিয়োগ পান অধ্যাপক শারফুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহ-উপাচার্য থাকার সময়। আর দুজন যখন নিয়োগ পান তখন তিনি আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি ছিলেন।

টাকা নিয়ে নিয়োগের অভিযোগও উঠছে। যেমন গত ২৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এক যুবক। গত ৬ ফেব্রুয়ারি চাকরি দেওয়া না-দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের কার্যালয়ে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। উপাচার্যের অনিয়ম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) রোববার একটি অভিযোগ জমা পড়েছে।

অবশ্য উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন বলেছেন, ‘অনিয়ম করে কিছু হচ্ছে না।’

চেয়ারম্যান-ভাতিজা মিলে বালু-মাটি লুটপাট

২৩ মে ২৩, সমকাল

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনোগ্রাম বাজারসংলগ্ন গড়াই নদী থেকে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারের ভাতিজা সাফি আহমেদ। প্রতিদিন অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকার মাটি-বালু বিক্রি হলেও জানে না স্থানীয় প্রশাসন। সাফির দাবি, তাঁর চাচা উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীপাড়ের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু কেটে ট্রলি ও ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশেই শান বাঁধানো বটগাছের ছায়ায় বসে চালকদের কাছ থেকে মূল্য বুঝে নিচ্ছেন এক যুবক। হিসাব লিখে রাখছেন খাতায়। তবে ক্যামেরা চালু করতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। হিসাবের খাতা লুকিয়ে ফেলেন টাকা আদায়কারী যুবকের সহযোগী। তখনও বালুভর্তি দুটি ট্রলি নদীপাড়ে ছিল। পরে চালকরা বালু নিয়ে চলে গেলেও যুবক তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেননি।

খেলাপির তথ্য লুকিয়ে আরও বড় জালিয়াতি

২৪ মে ২৩, সমকাল

ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে রাতে ঋণের টাকা তুলে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী হায়দার রতন। সম্প্রতি একটি ভুয়া কোম্পানির অনুকূলে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে এবি ব্যাংক, যার সুবিধাভোগী সেই ব্যবসায়ী রতন। জালিয়াতির এই ঋণের তথ্য জানতে পেরে এরই মধ্যে তা আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলী হায়দার রতনের নামে পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে ৫৫৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি কাজের কার্যাদেশের বিপরীতে সন্দেহজনক উপায়ে নেওয়া এসব ঋণ এখন খেলাপি।

আদা আমদানি ৫৮ টাকায়, বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়

২৪ মে ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায় এক মাস ধরে চীন থেকে আদা আমদানি বন্ধ। ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম থেকেও আমদানি হচ্ছে কম। আদা আসছে মূলত এখন মিয়ানমার থেকে। বাজারে এখন যত আদা বেচাকেনা হচ্ছে, তার ৮০ শতাংশই মিয়ানমারের আদা। এই আদার আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি কেজি ৫৮ টাকা। হাতবদলের পর খুচরায় এখন এই আদা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়।

টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের ২২ দিনে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে ৩১ জন ব্যবসায়ী ১ হাজার ৮১৭ টন আদা আমদানি করেছেন। এসব আদার কেজিপ্রতি গড় আমদানিমূল্য ছিল ৪৫ সেন্ট বা ৪৮ টাকা। শুল্ক–কর দিতে হয়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা। এই হিসাবে কেজিপ্রতি আমদানি মূল্য পড়েছে ৫৮ টাকা।

মাদক চোরাকারবার থেকে অর্থ পাচারে বাংলাদেশ এশিয়ায় প্রথম, বিশ্বে পঞ্চম

১১ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মাদক চোরাকারবার থেকে অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড)।

তবে এশিয়ার দেশগুলো বিবেচনায় নিলে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

‘এর মধ্যে মেথামফেটামিন, হেরোইন এবং সিন্থেটিক ওপিওড যেমন বুপ্রেনরফিন এবং ফেনসিডিলের পাচার অন্তর্ভুক্ত,’ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯টি দেশের মাদকসংশ্লিষ্ট অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক হিসাব তুলে ধরেছে সংস্থাটি। অন্য দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মিয়ানমার, নেপাল ও পেরু।

মাদক এবং অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনওডিসির সহায়তায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের অনুমানভিত্তিক এই হিসাব করেছে আঙ্কটাড।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকের অবৈধ অর্থপ্রবাহের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। এরপর যথাক্রমে রয়েছে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু ও বাংলাদেশ।

তালিকায় এশিয়ার যে ৫টি দেশের নাম রয়েছে, এর মধ্যে শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের পরেই আছে মালদ্বীপ ও নেপাল। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।

মূলত ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মাদকের মাধ্যমে অবৈধ অর্থপ্রবাহের এই চিত্র প্রথমবারের মতো তুলে ধরেছে আঙ্কটাড।

নির্বাচনী বছরে সুবিধা নিতে তৎপর ব্যাংকমালিকেরা

১২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ব্যাংকের পরিচালক পদের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে নিতে নতুন করে তোড়জোড় শুরু করেছেন প্রভাবশালী ব্যাংকমালিকেরা। তাঁরা ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরিচালক পদের মেয়াদ ৯ বছর থেকে ১২ বছর করার জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সরকার পরিচালক পদের মেয়াদ ৬ বছর থেকে ৯ বছর করে। পাশাপাশি একই পরিবার থেকে দুজনের পরিবর্তে চারজনকে পরিচালক করার বিধান যুক্ত করে। ২০১৮ সালে তাঁদের চাপে শুধু এই উদ্দেশ্যেই ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছিল।

এবারও নির্বাচনের আগে ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনী হচ্ছে। এবারও তাঁরা নানাভাবে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) বিল-২০২৩’ সংসদে উপস্থাপন করেন। সাত দিনের মধ্যে এই বিল পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটি বিলটি পর্যালোচনা করছে।

ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা শেখ আবদুল হাই অবশেষে আসামি

১৩ জুন, ২০২৩, প্রথম আলো

বেসিক ব্যাংকের মতো ভালো একটি রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংককে কেলেঙ্কারিময় ব্যাংকে পরিণত করার হোতা ছিলেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু। তারপরও তাঁকে সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছিল সরকার। পরের আট বছর আত্মসাৎ করা অর্থে বাড়ি ও জাহাজ কিনে আরাম-আয়েশেই জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। এ নিয়ে বারবার আদালতের তিরস্কারের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংসদ সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের বিরূপ সমালোচনার পর অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে আসামি হলেন তিনি।

আবদুল হাইসহ ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে দুদক অভিযোগপত্র দিচ্ছে ৫৯টি। এর মধ্যে ৫৮টিতেই শেখ আবদুল হাই আসামি। তবে তাঁর দুই মেয়াদের পর্ষদে যাঁরা পরিচালক ছিলেন, তাঁদের কাউকেই আসামি করেনি দুদক। অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তাব গতকাল সোমবার অনুমোদন করেছে দুদক। এখন এগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হবে। দুদক কার্যালয়ে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলায় আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করায় দুদকের ওপর কোনো চাপ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কোনো চাপের মুখে পড়ে কাজ করে না। এ ক্ষেত্রেও কোনো চাপ ছিল না।’

দুই দফায় শেখ আবদুল হাই বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত। এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে ২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।

অনুসন্ধানের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকার মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় প্রথমে ৫৬টি মামলা করা হয়। পরে মামলা হয় আরও ৩টি। এসব মামলার ১টিতেও এত দিন আসামি ছিলেন না শেখ আবদুল হাই। নিবিড় তদন্তের পর এবার ৫৮টিতেই ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে শেখ আবদুল হাইয়ের সম্পৃক্ততা পায় দুদক। দুদকের পাঁচজন কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি প্রতিবেদন দিয়েছেন।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যখন মামলা করা হয়, তখন দুদক চেয়ারম্যান ছিলেন মো. বদিউজ্জামান। তাঁর সময়ে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। তারপর ২০১৬ সালে দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে ইকবাল মাহমুদ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করলেও তদন্ত শেষ হয়নি তখনো। বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ২০২১ সালে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এখন বেসিক ব্যাংকের মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হয়।

সে হিসেবে মামলার তদন্ত করে অভিযোগপত্র তৈরি করতে দুদকের আট বছর লেগে যায়। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিএজি) এবং বেসিক ব্যাংকেরই নানা প্রতিবেদনে এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইসহ অনেকের জড়িত থাকার প্রমাণ আগেই উঠে আসে।

আবদুল হাই ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসন (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট) থেকে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া দেয়। বর্তমান সরকারের ওপর মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত।

শেখ আবদুল হাই ২০০৯ সালে যোগ দেওয়ার সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ৫ শতাংশ আর ২০১৪ সাল শেষে তা দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশ। কেলেঙ্কারির পর এখন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংককে বাজেট থেকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকাও দেয় সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির জন্য শেখ আবদুল হাইকে সরাসরি দায়ী করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে ও সংসদের বাইরে বেসিক ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারার জন্য তিনি হতাশাও প্রকাশ করতেন।

শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান নিয়োগের রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি

জুন ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

ছাত্রজীবনে বা তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবু সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সুনজরে পড়ে বাগেরহাটের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর পিতার ছেলে আবদুল হাই বাচ্চু। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোল্লাহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী আবদুল হাই বাচ্চু। দুই বছর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন রাজনীতির ময়দানে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। তাকে নিয়ে আর কোথাও তেমন একটা আলোচনাও হয়নি।

এ আবদুল হাই বাচ্চুই আবার দীর্ঘদিন পর আলোচনায় আসেন ২০০৯ সালে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কমার্স (বেসিক) ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়োগ সে সময় ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের অবাক করেছিল। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দুই দশক পদাধিকার বলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্প সচিব। পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যও ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু সে ধারা ভঙ্গ করে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু।

তার এ নিয়োগের বিষয়টি কম রহস্যাবৃত নয়। সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আবদুল হাই বাচ্চুর কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায় না। জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও তার জন্য কোনো তদবির বা সুপারিশ করেননি বলে দলটির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছে। আবার আবদুল হাই বাচ্চুর সময়ে বেসিক ব্যাংকের লুট হওয়া অর্থে জাতীয় পার্টি বা দলটির অন্য কারো লাভবান হওয়ারও কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বেসিক ব্যাংক থেকে আবদুল হাই বাচ্চু পদত্যাগ করেন ২০১৪ সালে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতও জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে ব্যাংকটির ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে আবদুল হাই বাচ্চুর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। যদিও প্রায় এক দশক পেরুলেও এখনো জানা যায়নি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে বাচ্চুর নিয়োগের রহস্য। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয়েরও।

একসময়ে বেসিক ব্যাংক পরিচিতি পেয়েছিল সরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভালো ও লাভজনক উদাহরণ হিসেবে। বৈশ্বিক জায়ান্ট স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হতো ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটিকে। প্রতিষ্ঠার পর দুই দশক ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করে আসছিল বেসিক ব্যাংক। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকের চেয়ে বেশি। সরকারি অন্য ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণে জর্জরিত হলেও এ সংকট থেকে একপ্রকার মুক্ত ছিল বেসিক ব্যাংক।

আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার সময়ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল বিতরণকৃত ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ। ওই বছর ৬৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল ব্যাংকটি। কিন্তু বাচ্চুর নিয়োগের পর তার নেতৃত্বে ব্যাপক লুটপাটের শিকার হয় বেসিক ব্যাংক। চেয়ারম্যানের একক কর্তৃত্ববলে বড় ঋণ বিতরণ শুরু করেন বাচ্চু। অজ্ঞাত-অপরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে বিতরণ করা হয় বিপুল পরিমাণ ঋণ। দ্রুত অবনমন ঘটতে থাকে বেসিক ব্যাংকের। কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বাড়তে থাকে খেলাপির পরিমাণও। এর বিপরীতে কমতে থাকে মুনাফার অংক। পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে থাকে দ্রুতগতিতে। কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই অবাধে নিয়োগ দিতে থাকেন জনবল। অবাধে নিয়োগ দেয়া জনবলকে কাজে লাগাতে খুলতে হয়েছে একের পর এক শাখা।

২০১৩ সালে এসে প্রথমবারের মতো লোকসানের দেখা পায় ব্যাংকটি। ২০১৪ সালে তিনি যখন পদত্যাগ করেন, তখন ব্যাংকটির ঘাড়ে শতকোটির টাকার বেশি লোকসানের বোঝা। ব্যাংকের শাখার সংখ্যাও ততদিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাচ্চুর নিয়োগের সময়কার চেয়ে দ্বিগুণে। ওই সময়ের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের ধাক্কা আজও সামলে উঠতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। বরং ব্যাংকটির লোকসানের পাল্লা কেবল ভারীই হয়েছে।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বেসিক ব্যাংকের নিট লোকসান হয়েছে ৪ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যাংকটিকে বাঁচানোর জন্য বাজেট থেকে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার। বিপুল অংকের এ অর্থ পেয়েও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। উল্টো ২০২২ সাল শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকায়। বেসিক ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এখনো খেলাপি।

এক দশকে বেসিক ব্যাংকের লোকসান ৪,২৩০ কোটি টাকা

১৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

একসময় রাষ্ট্র খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থানে ছিল বেসিক ব্যাংক। শিল্প গ্রুপগুলো এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করত। তখন ব্যাংকটি ভালো মুনাফাও করত। উচ্চ বেতনে কর্মী নিয়োগ দিত ব্যাংকটি। সে সময় পদাধিকারবলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব।

তবে ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবদুল হাইকে চেয়ারম্যান করে বেসিক ব্যাংকের নতুন পর্ষদ গঠন করে সরকার। এরপরই ভেঙে পড়ে ব্যাংকটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা। শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার পাঁচ বছরে (২০০৯-১৪) নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। ফলে ২০১৩-২০২২ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির লোকসান হয় ৪ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির হোতা শেখ আবদুল হাই কোথায়, দুদকও জানে না

১৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দুর্নীতির মামলা হওয়ার আট বছর পর বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্রে আসার খবরে সবারই প্রশ্ন, তিনি এখন কোথায়। ঢাকায় না গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে? নাকি নিয়মিত যাতায়াত করা সিঙ্গাপুরে চলে গেছেন? নাকি অনেকের মতো স্থায়ী আবাস গড়েছেন কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রে?

দুদকের কাছে এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে পাওয়া যায়নি। মোট ৫৯টি মামলার মধ্যে ৫৮টিতে ১৪৫ আসামির তালিকায় নাম রয়েছে আবদুল হাইয়ের। কয়েক দিনের মধ্যেই দুদক অভিযোগপত্রগুলো আদালতে দাখিল করবে। আবদুল হাইকে আসামি করলেও দুদক কি শেষ পর্যন্ত তাঁকে ধরবে? যদি বিদেশে পালিয়ে থাকেন, বিদেশ থেকে ফিরিয়ে দেশে এনে দুদক কি বিচারের মুখোমুখি করবে আবদুল হাইকে? এসব প্রশ্নেরও জবাব মিলছে না কোথাও।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান গত রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক বছর আগেও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে ছিল। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন, তা বলা যাচ্ছে না। অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আমরা মনে করছি।’

এক বছর আগেও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাইয়ের তথ্য আমাদের কাছে ছিল। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন, তা বলা যাচ্ছে না।

মো. মোজাম্মেল হক খান, দুদক কমিশনার

অনেকেই বলছেন যে শেখ আবদুল হাই বিদেশে চলে গেছেন—এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই দুদক তাঁর নাম অভিযোগপত্রে এনেছে।

গ্রাহকের টাকা পাচার আলেশা মার্টের

লোপাট ৪২২ কোটি টাকা

১৭ জুন ২০২৩, যুগান্তর

সাড়ে তিন বছরে মানি লন্ডারিংয়ের (টাকা পাচার) মাধ্যমে গ্রাহকের প্রায় ৪২২ কোটি টাকা লোপাট করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম সিকদার, তার স্ত্রী সাদিয়া চৌধুরী, প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম, এসকে ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আল মামুন, আলেশা মার্টের অন্তত ১০টি অঙ্গ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন।

ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৪২১ কোটি ৯১ লাখ টাকা মানি লন্ডারিং হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চারটি বেসরকারি ব্যাংকের পৃথক চারটি হিসাব নম্বর ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে সম্প্রতি রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা হয়েছে। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আল মামুন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গত ৩১ মে থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ দেওয়া হয়। ১ জুন মামলা রেকর্ড হয়। মামলায় ভুক্তভোগী ৩৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, আলেশা মার্টের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন অফার দিয়ে বহু গ্রাহকের কাছ থেকে মোটরসাইকেল ও ইলেকট্রনিক পণ্য সরবরাহের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করা হয়। পরে পণ্য বা টাকা ফেরত না দিয়ে ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়। ২০২০ সালে নিবন্ধিত আলেশা মার্ট ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে মানি লন্ডারিং কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির আত্মসাৎ করা অর্থ ফিরে পেতে গত ১ মে পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে দুই হাজার ৮৭ জন এবং সিআইডিতে ৩৫ জন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সড়কের ৪০ শতাংশ বাস ধ্বংসযোগ্য

১৮ জুন, ২০২৩, কালের কন্ঠ

দেশের সড়কগুলোতে চলাচল অনুপযোগী, অচল ঘোষিত বা মেয়াদ শেষ হওয়া মোটরযান বিনষ্ট করে ফেলতে একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। নীতিমালা পাস হলে আনফিট বা অচল গাড়ি স্ক্র্যাপ করা যাবে। অর্থাৎ পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আলাদা করে মোটরযানটি ধ্বংস করা যাবে। এর মাধ্যমে সড়কে দুর্ঘটনা ও যানবাহনের দূষণ কমানো সম্ভব হবে।

বিআরটিএর এক হিসাবে বর্তমানে সড়কে চলাচল করা ৪০.৬৬ শতাংশ বাস ধ্বংসযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়াটি মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো অতি পুরনো ও চলাচলের অনুপযোগী গাড়িগুলোকেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করে আসছে।

যদিও প্রতিবছর চলাচলের অনুপযোগী বাসগাড়িগুলোর জন্য সড়কে কী পরিমাণ দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, এর যথাযথ পরিসংখ্যান নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এরই মধ্যে স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণ করেছে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে স্ক্র্যাপযোগ্য বাস ও মিনিবাসের সংখ্যা ৩৩ হাজার ১৭৪। অথচ সর্বশেষ গত মে মাস পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত বাস রয়েছে ৫৩ হাজার ৪৮৫টি।

মিনিবাস রয়েছে ২৮ হাজার ৮৮টি। বাস-মিনিবাস মিলিয়ে মোট দাঁড়াচ্ছে ৮১ হাজার ৫৭৩টি। এর বিপরীতে ৪০.৬৬ শতাংশ গাড়িই ধ্বংসযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।

গণপরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের অচল গাড়িগুলোও বাধ্যতামূলক স্ক্র্যাপ করা হচ্ছে আইনে। বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ট্রাকের সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৪।

কাভার্ড ভ্যান রয়েছে ৪৫ হাজার ১৫৯টি। মোট এক লাখ ৯৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যবাহী গাড়ির মধ্যে স্ক্র্যাপযোগ্য ৩০ হাজার ৬২৩টি, যা ১৫.৭৩ শতাংশ।

বিমানের চুক্তিতে কারসাজি, ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

১৯ জুন, ২০২৩, প্রথম আলো

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা ক্রয়ে ‘জালিয়াতিপূর্ণ’ চুক্তির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। ১০ বছরে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।

সরকারের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় এই গুরুতর আর্থিক অনিয়মটি ধরা পড়ে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির আগে আর্থিক প্রস্তাবে কিছু সেবার বিপরীতে খরচ যা হবে তার চেয়ে কম দেখানো এবং কিছু সেবা বাবদ খরচ গোপন করা হয়েছে। আবার কিছু সেবা বাবদ ব্যয় আর্থিক প্রস্তাবে না দেখিয়ে চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই কারসাজির সঙ্গে বিমানের বর্তমান একজন পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

বিমান সূত্র জানায়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেবার গ্লোবাল ইনকরপোরেশনের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি করে বিমান। চুক্তি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টিকিট বুকিং ও বিক্রিসংক্রান্ত এজেন্টদের ব্যবহৃত প্রযুক্তি গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস), এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রিসংক্রান্ত প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম (পিএসএস), বিমানবন্দরে চেক-ইন ও বোর্ডিং কার্ডসহ অন্যান্য সেবা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত ডিপারচার কন্ট্রোল সিস্টেম (ডিসিএস), ই-কমার্স, লয়্যালটি সার্ভিসের মতো সেবাগুলো পাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল একটি সূত্র জানায়, এই চুক্তির আগে বিমানের পরিচালনা পর্ষদে দেখানো হয়েছিল যে এসব সেবা ক্রয়ের জন্য ১০ বছরে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮২ কোটি টাকা দিতে হবে। পরিচালনা পর্ষদও সে অনুযায়ী চুক্তির অনুমোদন দেয়। কিন্তু সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নিরীক্ষায় উদ্‌ঘাটিত হয়েছে যে চুক্তিটি এমনভাবে করা হয়েছে, যার ফলে এসব সেবার জন্য বিমানকে ১০ বছরে মোট ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিতে হবে। যা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা বেশি।

অনিয়মের শুরু

বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সেবা আগে

‘সিটা’ নামের আরেকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনত বিমান। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২০ সালের জুলাইয়ে এ–সংক্রান্ত সেবা ক্রয়ে দরপত্র (আরএফপি) আহ্বান করে বিমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আটটি প্রতিষ্ঠান কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয়। কিন্তু দরপত্রে অ্যামাডিউস নামক একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ যোগ্য বিবেচিত হয়নি। পরে ওই দরপত্র বাতিল করে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আবার দরপত্র আহ্বান করে বিমান। নতুন দরপত্রে অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত এমন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়, যার কারণে কেবল তিনটি প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় আসে। তাদের মধ্য থেকে সেবার গ্লোবালকে নির্বাচিত করা হয়।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গণখাতে ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) বিধি ১০৫ (৩, ৭) অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত আবেদনকারীর সংখ্যা ৪–এর কম হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করতে হবে। কিন্তু বিমানের ভেতরে একটি পক্ষ কাজটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে সক্রিয় ছিল। যার কারণে পিপিআরের বিধি অনুসরণ করা হয়নি। বরং এমনভাবে প্রাক্কলন করা হয়, যাতে ওই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দর প্রকৃত দরের চেয়ে কম প্রতীয়মান হয়।

তথ্য গোপন

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের ২৫৭তম বোর্ড সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম বাবদ বিমানের প্রাক্কলন ছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (৪২২ কোটি টাকার বেশি)। বিমান সূত্র বলছে, ওই সময় বিমানের পরিচালনার পর্ষদকে দেখানো হয় সেবার গ্লোবালের মাধ্যমে এ কাজ করতে খরচ পড়বে ২ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের (প্রায় ২৮২ কোটি টাকা) মতো খরচ পড়বে। এমন প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ সেবার গ্লোবালের সঙ্গে চুক্তি করতে অনুমোদন দেয়।

কিন্তু বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর যে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম বাবদ সেবার গ্লোবালকে দিতে হবে ৩ কোটি ২২ লাখ ডলারের বেশি। ফলে কেবল এই খাতে সেবার গ্লোবালকে বেশি দিতে হবে প্রায় ৫৪ লাখ ডলার (৫৬ কোটি টাকা)।

প্রস্তাবে কম টাকা দেখিয়ে কীভাবে বাড়তি টাকা দেওয়ার কারসাজি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সেবাগুলোর খরচ নির্ভর করে যাত্রীর সংখ্যার ওপর। যাত্রী বাড়লে টাকাও বেশি দিতে হবে। কিন্তু দরপত্রে ওই সময় বিমানের প্রকৃত যাত্রী কত এবং প্রতিবছর কী হারে যাত্রী বাড়বে, তা বিমানের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়নি। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে যাত্রী সংখ্যা উল্লেখ করে দর দিয়েছে। কিন্তু খরচের হিসাব দেওয়ার সময় সম্ভাব্য সর্বনিম্ন যাত্রীর সংখ্যা ধরে আর্থিক হিসাব উল্লেখ করা হয়। প্রতিবছরই যে যাত্রী বাড়বে, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এ কারণে আর্থিক ব্যয় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে কম দেখানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি করা সময় তাতে বলা হয়েছে, সব সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী টাকা পাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তিন বছর পর থেকে প্রতিটি সেবার খরচ ২ শতাংশ হারে বাড়বে।

এ ছাড়া টিকিট বুকিং ও বিক্রিসহ এ–সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বিক্রয় প্রতিনিধি বা ট্রাভেল এজেন্টরা ‘জিডিএস সার্ভিস’ ব্যবহার করে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবার গ্লোবালের সঙ্গে বিমানের যে চুক্তি, তাতে বিমানের কোনো এজেন্ট জিডিএস ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে কোনো টিকিট বুকিং করলে টিকিটপ্রতি ২ ডলার (২১০ টাকা) এবং এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য টিকিট প্রতি সাড়ে ৬ ডলার করে পাবে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেবার গ্লোবালের জিডিএস ব্যবহার করে টিকিট বুকিংয়ের সংখ্যাকে ভিত্তি ধরে দেখা গেছে, ১০ বছরে এই খাতে সেবার গ্লোবালকে অন্তত ১ হাজার ১৯ কোটি টাকা দিতে হবে। কিন্তু বিমানের পরিচালনা পর্ষদের কাছে এই খরচের বিষয়টি গোপন করে চুক্তির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে আছে, প্রস্তাবে নেই

প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেম ও জিডিএস সেবা বাস্তবায়নের জন্য এ পর্যন্ত পরামর্শক ফি হিসেবে প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বিমান। কিন্তু সেবার গ্লোবাল চুক্তির আগে যে আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে এই পরামর্শ ফি উল্লেখ করেনি। কিন্তু চুক্তিতে এই ফি যুক্ত করা হয়েছে।

বিমানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আর্থিক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি চুক্তিতে এমন ব্যয় যুক্ত করা বেআইনি। এই অনিয়মের জন্য ওই সময় আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন ও চুক্তি সম্পাদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা দায়ী।

এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগপর্যন্ত সময়ে (২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) ১০ মাসে বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব প্রায় এক লাখ যাত্রীর জন্য ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি এবং বিমান কর্তৃক অন্যান্য এয়ারলাইনসের যাত্রী হ্যান্ডলিং বাবদ আরও ৭৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছে সেবার গ্লোবাল। এই খরচও আর্থিক প্রস্তাবে ছিল না, কিন্তু চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রযুক্তিসংক্রান্ত সেবা কেনাকাটায় এমন কারসাজি ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আজিমকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি উত্তর দেননি। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ও চুক্তির বাইরে কাউকে এক টাকাও বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই। সেবার গ্লোবালের বিষয়টি নিয়ে তিনি বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কানাডায় স্ত্রীর নামে বাড়ি ব্যাংকে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা

২০ জুন ২০২৩, যুগান্তর

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের দুবারের জাতীয় সংসদ-সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম শিমুল নিজ দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান তিনি। নির্বাচনি এলাকার নিজ দলের দুই উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুটি পৌর মেয়রসহ বেশিরভাগ জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তার দা-কুমড়া সম্পর্ক। জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। জেলার সব এমপির অবস্থানও তার বিরুদ্ধে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ-বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে টিআর-কাবিখা বরাদ্দে এমপি শিমুল ব্যাপক অনিয়ম লুটপাট করেছেন। নিয়োগবাণিজ্য করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দুর্নীতির টাকায় এমপি শিমুল নাটোর ও কানাডার বেগমপাড়ায় স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল দুটি বাড়ি করেছেন। এছাড়া কানাডাসহ দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিনিধির নামে তিনি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা রেখেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, আয়কর ফাইল অনুযায়ী এমপি শিমুলের স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতি একজন গৃহবধূ। কিন্তু তার নামে দেশ-বিদেশে রাজপ্রাসাদসম দুটি বাড়ি রয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জান্নাতির সম্পদ ছিল ২ কোটি ১৪ লাখ টাকার। পরের বছর তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় ১৬ লাখ টাকা। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে তার সম্পদ বেড়েছে ৪ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি। সম্পদ বৃদ্ধির হার ২৮৪ শতাংশ। যা রীতিমতো বিস্ময়কর।

কানাডার ব্যাংকে এমপি শিমুলের অর্থ লেনদেনের তিনটি অ্যাকাউন্টের (ব্যাংক হিসাব) তথ্য যুগান্তরের কাছে আছে। এরমধ্যে তার নিজের নামে দুটি এবং কানাডার একজন নাগরিকের নামে অপরটি রয়েছে। কানাডিয়ান ইম্পেরিয়াল ব্যাংক অব কমার্সে তার একটি অ্যাকাউন্ট (সিআইবিসি ২০০০০০০পি) এবং ব্যাংক অব নোভা স্কোটিয়ায় আরেক অ্যাকাউন্ট (৩০০০০০০পি) রয়েছে। একটি ব্যাংক থেকে তিনি মাস্টার কার্ডও (৪৬৩৯৪৩১৮৫৮৭৯৬০৭৮) নিয়েছেন। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব অ্যাকাউন্টে তার ৪৬ লাখ ৫১ হাজার ১৬২ কানাডিয়ার ডলার (৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা) ছিল। এছাড়া কানাডার নাগরিক রাডি অর্নল্ডের নামে (কার্ড নম্বর ৫০৬১৯৭৩৯৩১৫৩৬৪৪৮) তিনি অর্থ লেনদেন করেছেন। এমপি শিমুলের স্ত্রী জান্নাতির নামে কানাডায় বিলাসবহুল বাড়ির তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম দুর্নীতির বাসা

২৪ জুন ২৩, সমকাল

নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি)। আর এসবের জন্য সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার-উল-আলমকে অভিযুক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। ক্ষমতার দম্ভে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আয়োজিত একটি একাডেমিক সেমিনার পর্যন্ত করতে দেননি বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে বিধিবহির্ভূতভাবে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা গ্রহণ, জনবল কাঠামো না মেনে নিজের খেয়াল-খুশি মতো বিভিন্ন পদে নিয়োগেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ জুন উপাচার্য দিদার-উল-আলমের চার বছর মেয়াদ শেষ হয়। দীর্ঘ চার বছর মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কোনো কাজ না হলেও তাঁর মেয়াদ শেষের দিকে নিয়োগ বাণিজ্যের হিড়িক পড়ে। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসি পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে।

পরিচালক বানাতে টাকা তোলেন কাশেম, ফেঁসে গেছেন অনেকে

২৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারের সাবেক একজন পদস্থ ব্যক্তির কাছে ‘নতুন ব্যাংকের মালিক’ হওয়ার আশ্বাস পেয়ে ২০১৭ সালে দেশে আসেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সহসভাপতি আবুল কাশেম। অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে ‘প্রস্তাবিত পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে কার্যালয়ও খোলেন তিনি। এরপর ব্যাংকের পরিচালক বানানোর আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মূলধন ও বাড়তি খরচ সংগ্রহ শুরু করেন। এভাবে কাটে প্রায় দুই বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পিপলস ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংকের নীতিগত অনুমোদন দেয়। নীতিগত অনুমোদন পাওয়া পিপলস ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আবুল কাশেম। ওই অনুমোদনের পর বেঙ্গল কমার্শিয়াল ও সিটিজেন ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করলেও পিপলস ব্যাংক আর আলোর মুখ দেখেনি।

শর্ত পালন করতে না পারায় ব্যাংকটির প্রাথমিক অনুমোদনও বাতিল করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অনুমোদনের আগে ব্যাংকের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আর ফেরত দেননি আবুল কাশেম। ব্যাংকের পরিচালক বানানোর কথা বলে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই টাকায় আবুল কাশেম গুলশানে কেনেন ফ্ল্যাট, কেনেন দামি গাড়ি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটিকে লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্রও দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। তবে তিন বছরে কয়েক দফায় সময় নিয়েও সেই আগ্রহপত্রের শর্ত পূরণ করতে পারেনি ব্যাংকটি।

জানা গেছে, পিপলস ব্যাংকের পরিচালক বানানো ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের কথা বলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলেশা মার্ট থেকেও ১০০ কোটি টাকা নিয়েছিলেন আবুল কাশেম। এ ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

পাশাপাশি তাঁর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে আবুল কাশেম কারাগারে রয়েছেন।

সরকারি হাসপাতালে ৫ বছরে ৪৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম

২৭ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে সরকারের ৪৫৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৪টি আলাদা কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রস্তুত করা বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) বাজেট ব্যয়ে অনিয়মের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনটি রোববার সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

এই সময়ে মোট বরাদ্দ ৩ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার অনিয়ম হয়েছে।

সিএমএসডির বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারি তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সিএজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সিএমএসডিতে নিরীক্ষাকালীন প্রতি অর্থবছরেই এই ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে সিএজি।’

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যথাযথ প্রটোকল অনুসরণ না করে সিএমএসডি ৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করায় সরকারের ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্য, প্রকৃতপক্ষে, এই সরঞ্জামগুলো অব্যবহৃত রয়ে গেছে কিংবা অকেজো হয়ে পড়েছে। যার ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

নিরীক্ষা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সিএমএসডি ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে। যে মেডিকেল সরঞ্জামগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো শিগগিরই স্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বলছে, সিএমএসডি তাদের সম্মতি ছাড়াই এসব পণ্য সরবরাহ করেছে।

‘সিএমএসডিই এই সরঞ্জামগুলো হাসপাতালে পাঠিয়েছে’ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে এই ধরনের অপচয়ের জন্য দায়ীদের শনাক্ত করতে আরও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ওই বছর ৮টি মেডিকেল কলেজ, একটি সিভিল সার্জন কার্যালয়, একটি জেলা হাসপাতাল এবং ২টি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একই ধরনের পণ্যের জন্য জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানির দেওয়া দামের চেয়ে ১৮ গুণ বেশি দামে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল।

এর ফলে সরকারের লোকসান হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

সিএমএসডির কাছে সিএজি অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি তাদের পণ্যের স্পেসিফিকেশন পূরণ করতে না পারায় তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেছে।

তবে, এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি নিরীক্ষকরা।

২০১১ সালের ২ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন স্থাপন করা হয়।

মেশিনটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড ছিল ৫ বছর। তবে ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ওয়ারেন্টি প্রয়োগের পরিবর্তে ঢামেক কর্তৃপক্ষ মেশিনটি মেরামতের জন্য অন্য একটি কোম্পানিকে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার ব্যয় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অন্য কোনো কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়ম’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এই অসদাচরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ ৪৪টি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে সরকারের প্রায় ২৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

অনিয়মের মধ্যে রয়েছে সরকারি তহবিলের অপচয়, অব্যবহৃত ক্রয়কৃত যন্ত্রপাতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহে ব্যাঘাত এবং প্রচলিত বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ক্রয়।

ওই বছর সিএমএসডি ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ৩টি জেনারেল হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করায় সরকারের প্রায় ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা লোকসান হয়।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে ব্যাপক অনিয়ম

২৮ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ২০১৩ সালের ২৬ জুন একটি ওষুধ উৎপাদন যন্ত্র কেনে। কিন্তু পরবর্তী ৭ বছরে যন্ত্রটি ব্যবহার তো দূরের কথা, খোলাই হয়নি। এরপর যখন যন্ত্রটি খোলা হয়, তখন দেখা যায় তা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।

গত রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ওষুধ কোম্পানির এই অবহেলার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

সিএজি তাদের প্রতিবেদনে একে ‘গুরুতর অবহেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সিএজির নিরীক্ষকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই মেশিনটির পরীক্ষামূলক কাজ চলছিল এবং মেশিনটির আউটপুট ছিল ৯৫ শতাংশ। তবে কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ দেখাতে না পারায় ইডিসিএলের এই দাবি গ্রহণ করেনি সিএজি নিরীক্ষকরা।

এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল সিএজির নিরীক্ষকরা। তবে গত ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিঠির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিতর্কিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নিরীক্ষকরা আরও ৬টি আর্থিক অনিয়মের ঘটনা খুঁজে পেয়েছে, যার ফলে কোম্পানিটি শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরেই প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

অনিয়মগুলোর মধ্যে একটি হলো মহামারিকালে ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক মেরোপেনেম তৈরিতে ব্যর্থতা। তখন এই ওষুধটির ব্যাপক চাহিদা ছিল।

ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই কাঁচামাল সংগ্রহের দরপত্র ৩ বার বাতিল করে এবং যেসব সরকারি হাসপাতালগুলো অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিল, তাদেরকে স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি থেকে তা সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয়।

খেলাপিরাও এখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন

০২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সহজ শর্তে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়ে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে খেলাপি গ্রাহকেরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পান। এবার গ্রুপভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি থাকলেও তাদের অন্য প্রতিষ্ঠান ঋণ পাবে। এ রকম সুযোগ রেখেই জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে খেলাপিরাও ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবে। আগে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পাওয়ার সুযোগ ছিল না। কয়েকজন ব্যাংক পরিচালকের প্রস্তাবেই সরকার আইনটি সংশোধন করে বলে জানা গেছে।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন আইনের ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য আরও খারাপ হবে, খেলাপি ঋণ বাড়বে এবং সার্বিকভাবে আমানতকারীদের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়বে।

যেভাবে এই অভিনব সুযোগ

কয়েকজন ব্যাংক পরিচালক গত মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ে একটি লিখিত প্রস্তাবে জানিয়েছিলেন, গ্রুপভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠান যাতে ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। তাঁরা বলেছিলেন, ঋণ ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলে বা যুক্তিসংগত কারণে ঋণখেলাপি হয়ে পড়লে সেই ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো যেন ঋণ দেয়।

ব্যাংক পরিচালকেরা যখন এই প্রস্তাব জমা দেন, তখন সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়ায় এমন কোনো ধারা ছিল না। আইনটি তখন অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে ছিল। ওই কমিটি সংসদে যে মতামত পেশ করে, তাতেও ব্যাংক পরিচালকদের প্রস্তাবটি স্থান পায়নি।

কিন্তু আইনটি পাসের দিন সরকারি দলের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম ২৭(কক) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আনেন। তিনি যেভাবে ওই ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আনেন, তা অনেকটা সরকারের উচ্চপর্যায়ে ব্যাংক পরিচালকদের দেওয়া প্রস্তাবের মতো।

সংসদে কণ্ঠ ভোটে এই প্রস্তাব পাস হয়ে যায়। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা অবশ্য এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন, অর্থাৎ বের হয়ে যান।

আগের আইন অনুযায়ী, গ্রুপভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও খেলাপি হয়ে পড়ত। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেশি ছিল।

কেন এই সুযোগ

গত দেড় দশকে ভোগ্যপণ্যের বাজার, জাহাজভাঙা শিল্পের উত্থান-পতনসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে পড়েন। তাঁদের বেশির ভাগই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্যবসায়ী। আবার বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করেও অনেক ভালো গ্রুপ প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়ে। অনেক ব্যাংক উদ্যোক্তা এসব প্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে। আবার অনেক ব্যাংকের বড় অঙ্কের ঋণ এতে আটকে পড়েছে। এ কারণেই কয়েকজন ব্যাংক উদ্যোক্তা ঋণখেলাপিদের আবার ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাব দেন।

এই প্রস্তাব প্রক্রিয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না কারার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুধু পরিচালকদের মেয়াদ ৯ থেকে ১২ বছর করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম। লিখিত প্রস্তাবে আরও কিছু দিতে হয়, এ জন্য খেলাপিদের ঋণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবটি যুক্ত করা হয়েছিল। এটাও পাস হয়ে যাবে, সেটা ভাবিনি। এটা ব্যাংক খাতের জন্য ক্ষতির কারণ হলো।’

৬ বছরে জনতা ব্যাংকে প্রায় ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকার অনিয়ম

০২ জুলাই ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ১১০ কোটি ৮০ লাখ টাকার ‘গুরুতর আর্থিক অনিয়মের’ ৩১টি অভিযোগ এসেছে। এটি ব্যাংকটির মোট অনাদায়ী ঋণের ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সম্প্রতি এক অডিটে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা অডিটে দেখা গেছে, এই অনাদায়ী অর্থের ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ রয়েছে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত অ্যাননটেক্স গ্রুপের।

গত সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপিত অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় গুরুতর দুর্বলতা এবং নিয়ম-কানুন মেনে না চলার বিষয়টি ধরা পড়েছে।

এসব অনিয়মের মধ্যে আছে—ঋণ অনুমোদন ও আদায়ের শর্তাবলী না মানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) বিজ্ঞপ্তি, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন ও ব্যাংকের নিজস্ব ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ অনুমোদন নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে না চলা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) পারফরমেন্স উন্নতির জন্য সম্মত হওয়া শর্তাবলী বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য নীতিমালাও জনতা ব্যাংকে অনুসরণ করা হয়নি।

ব্যাংকটি পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ দিয়েছে, অনুমোদিত সীমার বাইরে বড় ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে এবং নিয়ম লঙ্ঘন করে সুদ মওকুফ করেছে।

এতে বলা হয়, ‘ব্যাংকের যেসব শাখায় অডিট করা হয়েছে সেগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার, সরকারি তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

একই ধরনের অনিয়ম যেন আর না হয় এবং অডিটের সুপারিশগুলো যেন বাস্তবায়ন করা হয় তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনিয়মগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করে অ্যাননটেক্স গ্রুপের ৫ হাজার ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিল ও মতিঝিলে ব্যাংকের জনতা ভবন কর্পোরেট শাখার বিআরপিডি সার্কুলার।

এই অর্থ পুনঃতফসিলের জন্য ব্যাংকটি অ্যাননটেক্স থেকে ন্যূনতম ২ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জালিয়াতি ও অর্থপাচারের কারণে শ্রেণিবদ্ধ ঋণ পুনঃতফসিল করা ঠিক হয়নি।

২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত আননটেক্স গ্রুপের ৬ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) সুবিধা দেওয়া হয়, যদিও প্রতিষ্ঠানটি আগের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ডিমান্ড লোন তৈরি করে অ্যাননটেক্সের এলসি গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ঋণগুলোও খেলাপি হয়েছে। এরপরও এর ৬ সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে আরও এলসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

তাদের বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৫৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

জবাবে জনতা ব্যাংক জানায়, বিদেশে ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের সুনাম রক্ষায় নিজস্ব অর্থায়নে অ্যানটেক্সের এলসি ক্লিয়ার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির পর অ্যাননটেক্স নতুন কোনো এলসি সুবিধা দেওয়া হয়নি।

এরপর চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা ভবন কর্পোরেট শাখা জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজকে অনুমোদিত পরিমাণের বেশি ঋণ দিয়েছে। বকেয়া অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অডিট প্রতিবেদনে এস আলমের অপর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকার অনিয়মও ধরা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্লোবাল ট্রেডিং লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আলম কোল্ড রোল স্টিলস ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলস লিমিটেডের পাওনা সমন্বয় করেছে শাখাটি। এটি অনুমোদিত সীমার বাইরে গ্লোবাল ট্রেডিংকে ঋণ দিয়েছিল।

রাজধানীর কামাল আতাতুর্ক শাখা ভুয়া রপ্তানি বিলের বিপরীতে ব্যাক টু ব্যাক এলসি সুবিধা দেয়। রপ্তানি কখনই হয়নি, তাই ডিমান্ড লোন তৈরি হয়েছিল। এসব ঋণ খেলাপি হয়েছে। জামানত ছাড়াই ব্যাংকটি ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করেছে।

বেশ কয়েকবার রপ্তানিতে ব্যর্থ হলেও ব্যাংকটির মতিঝিল শাখা বিআর স্পিনিং মিলসকে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নতুন এলসি দিয়েছে। এই অর্থ কখনই পরিশোধ করা হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা ৮০৬ কোটি টাকার বেশি।

ডরিন গার্মেন্টসের কাছ থেকে ব্যাংকটির পাওনা ১৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর স্থানীয় শাখা রপ্তানির বিপরীতে বেশ কয়েকটি এলসি খুলেছে। তবে রপ্তানি কখনই হয়নি।

স্থানীয় শাখা যথাযথ নিয়ম ছাড়াই আল-মদিনা ট্যানারিকে ঋণ দিয়েছে। এগুলো অনাদায়ী রয়ে গেছে। তবে বিপিআরডি সার্কুলার লঙ্ঘন করে এই অর্থ ব্যাংকের নিয়মিত হিসাবে দেখানো হয়েছিল। ট্যানারির কাছে এখন জনতা ব্যাংকের পাওনা ১০২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

খুলনা করপোরেট শাখা গত ৭ বছরে ৫ বার নিজেদের সীমা অতিক্রম করে ঋণ দিয়েছে। পুনঃতফসিল ও মোরাটোরিয়াম সুবিধা একাধিকবার বাড়ানোর কারণে এখন ব্যাংকটির পাওনা ১১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

শাখাটি পর্যাপ্ত জামানত না নিয়ে লকপুর গ্রুপের ৩ প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মের লঙ্ঘন। এখন এর বকেয়া ১২০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তাঁর ছেলেমেয়ে

০৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মানিকগঞ্জে সরকারি ওষুধ কারখানার জন্য যে সাড়ে ৩১ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখানকার ১১ একর ১৪ শতক জমি কেনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মেয়ে সিনথিয়া মালেক। তিনি এ জমি ভরাট করে ভিটি শ্রেণিতে পরিবর্তন করেন। মাস সাতেক পর ওষুধ কারখানা স্থাপনের প্রকল্প পাস হয়। তার ২০ দিন আগে কেনা মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দেখিয়ে এসব জমি স্বামী আলতাফ আকমলকে দান করেন সিনথিয়া। এখন সরকার এ জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে সর্বশেষ মূল্যের তিন গুণ বেশি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মেয়ে সাড়ে ৭ কোটি টাকায় যে জমি কিনেছেন, সেটা সরকার অধিগ্রহণ করলে ৪০ কোটি টাকা পাবেন তিনি বা তাঁর স্বামী।

 প্রস্তাবিত ওই স্থানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিডি সান লিমিটেডের নামে কেনা হয় ৬ একর ৩৯ শতক জমি। মন্ত্রীর ছেলে রাহাত মালেকের মালিকানাধীন রাহাত রিয়েল এস্টেটের নামে কেনা হয় ৩ একর ১২ শতক জমি। অর্থাৎ সাড়ে ৩১ একর জমির মধ্যে ২০ একর ৬৫ শতাংশ জমি মন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও মেয়ে কিনেছেন।

এরপর শ্রেণি পরিবর্তন করে এক লাফে জমির মূল্য (মৌজা দর) পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। তারপর তিনজনই এসব জমি বর্ধিত দরে (মৌজা রেটে) ঘনিষ্ঠজনদের নামে দান বা বিক্রি করেছেন। এর বাইরে মন্ত্রীর ফুফাতো ভাই শামীম মিয়া কিনেছেন আরও ৫ একর ৫৪ শতক জমি।

প্রকল্প পাসের পর ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর পর্যায়ে জেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির পর্যালোচনায় প্রস্তাবিত জমি নিয়ে এমন কারসাজির বিষয়টি উঠে আসে। এমন পরিস্থিতিতে এই জমিতে প্রকল্প করতে গেলে ভূমি অধিগ্রহণে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হবে। এর পরিবর্তে পাশের কোনো মৌজায় প্রকল্প করলে সরকারের এই টাকা সাশ্রয় হবে। বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

এই চিঠি দেওয়ার পরপর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দেন মন্ত্রীর ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেন, যিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শামীম মিয়ার বড় ভাই।

প্রকল্পটি হচ্ছে সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) মানিকগঞ্জে কারখানা স্থাপন। ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি পাস হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রকল্পের জন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের মেঘশিমুল এলাকায় সাড়ে ৩১ একর জমি প্রস্তাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্প কোথায় হবে, সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্প পাসের সময় প্রস্তাব করে থাকে। তাই প্রকল্প পাসের আগেই ওই এলাকার জমি কিনে নিয়ে শ্রেণি পরিবর্তন এবং তারপর সে জমি অন্যের নামে হস্তান্তর ও মূল্যবৃদ্ধির এই কার্যক্রমকে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে জমির মালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে মৌজা দরের তিন গুণ দাম পান। অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণ বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ১০০ কোটি টাকা বের করে নিতে কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তুলে ধরে গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ।

ঋণখেলাপি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তবু পদোন্নতি পেয়ে সচিব

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মো. খাইরুল ইসলাম বেসিক ব্যাংকের একজন ঋণখেলাপি। ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করলেও সরকারি চাকরিতে তাঁর একের পর এক পদোন্নতি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় ২০১০ সালে ছিলেন উপসচিব। এরপর পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সর্বশেষ ২ জুলাই সচিব হয়েছেন। এখন তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)। কিন্তু এত পদোন্নতি হলেও ব্যাংকের টাকা আর পরিশোধ করেননি তিনি। ৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কিছু ফেরত দিলেও জমতে জমতে সুদাসলে তাঁর দেনা এখন ৯ কোটি টাকা। ঋণও নিয়েছিলেন প্রভাব খাটিয়ে, বেআইনিভাবে এবং সরকারের অনুমতি ছাড়া।

বেসিক ব্যাংক পাওনা আদায়ে খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলা করেছে। মামলা নম্বর ১৪০২। এরপর তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গত এপ্রিলে তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। অর্থঋণ আদালতে তাঁর নামে আরেকটি মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ মামলা করার অংশ হিসেবে খাইরুল ইসলামকে কয়েক দফা নোটিশ দিলেও বেসিক ব্যাংককে তিনি কোনো জবাব দেননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর, বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

হদিস মিলছে না ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া চট্টগ্রামের দুই দম্পতির

০৯ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন, ঘন ঘন বিদেশ সফর, উচ্চশ্রেণির লোকজনদের সঙ্গে নিয়মিত ওঠাবসার পর শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধ না করেই গায়েব হয়ে গেছেন  চট্টগ্রামের দুই দম্পতি।

সুলতানা শিরীন আক্তার-মোস্তাফিজুর রহমান এবং মোয়াজ্জেম হোসেন-সাদিকা আফরিন দীপ্তি দম্পতি ৭ ব্যাংক এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন। তবে ঋণ পরিশোধের সময় এখন আর হদিস মিলছে না তাদের। এতে করে ঋণের অর্থ আদায়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে দাতা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ব্যাংক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শিরিন ও মোস্তাফিজুর দম্পতি আলভি এন্টারপ্রাইজ, সিজদা মোটরস এবং শিরীন করপোরেশনের নামে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) থেকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ঋণ নেন।

এদিকে, পৃথক ঘটনায় ন্যাশনাল ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ১৭৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে উধাও হয়েছেন আরেক দম্পতি। শিপ ব্রেকিং ব্যবসা গ্রান্ড ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নামে ঋণ নেওয়া দম্পতি  মোয়াজ্জেম ও দীপ্তিকে চেনেন না এ খাতের কোনো ব্যবসায়ী। এমনকি এই কোম্পানির নামও তারা শোনেননি।

দীর্ঘদিন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এসব ঋণ গ্রহীতার। ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে নেই তেমন জামানতও। এমনকি, যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ, তার অস্তিত্বই খুঁজে পাচ্ছে না ব্যাংক।

চাকরিটাই ‘জাদুর কাঠি’

বিআরটিএর অন্দরমহল (১)

১১ জুলাই ২৩, সমকাল

যেখানেই জমি কিংবা ফ্ল্যাট কেনাবেচার হাওয়া, সেখানে ছোটেন জলিল মিয়া। পছন্দ হয়ে গেলে তাঁর কাছে দাম কোনো বিষয়ই না। তিনি বড় সরকারি কর্তা। পাবনার ফরিদপুরের বেরহাউলিয়া গ্রামের কৃষকপুত্র আবদুল জলিল মিয়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) বরগুনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক। সহকর্মীদেরই ভাষ্য, তিনি ‘টাকার কুমির’! রাজধানীতেই তাঁর আছে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি।

টাঙ্গাইল বিআরটিএর আরেক সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন। তিনি জলিল মিয়ার শ্যালক। দুলাভাই জলিলই শিখিয়েছেন ‘আলগা কামাই’র ধারাপাত! এর পর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দুলাভাইয়ের মতো তিনিও হয়ে যান ‘টাকার মেশিন’।

বিআরটিএর রাজধানীর মিরপুর কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। ভাসানটেকের হোমিওপ্যাথি কলেজ থেকে ডিগ্রি নেওয়ায় নামের আগে লাগিয়েছেন ‘ডাক্তার’। মিরপুর এলাকায় তাঁর পরিচিতি ডা. আসাদুজ্জামান! সরকারি চাকরি করেই তিনি গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক।

মিরপুর অফিসেরই হিসাবরক্ষক খান মো. রুহুল আমিন এক কর্মস্থলেই খুঁটি ধরে আছেন প্রায় ১৩ বছর। বাড়ি, গাড়ি, জমি– কোনো কিছুতেই কমতি নেই। গ্রামের দরিদ্র স্বজনদের দুই হাতে টাকা বিলান। তাই গ্রামের লোকজনের বিশ্বাস জন্মেছে– রুহুল রাজধানীতে ‘টাকার খনিতে’ চাকরি করেন।

সবে অবসর-পরবর্তী ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের অফিস সহকারী রজব আলী মোল্লাও ঘুষবাজিতে কম যাননি। মিরপুর কার্যালয়ে রেকর্ডরুমে থাকাকালে টাকা ছাড়া নথি চিনতেন না। রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর তিনি যে ছয়তলা বাড়ি বানিয়েছেন, সেটির নাম ‘মোল্লা ভিলা’।

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের ফিরিস্তিই বলে দেয় বিআরটিএর ঘুষ-বাণিজ্যের বিস্তার কোন মাত্রায় পৌঁছেছে। ঢাকার প্রধান কার্যালয় তো বটেই, মাঠ পর্যায়েও সেবাগ্রহীতাদের কাছে হয়রানি, ভোগান্তি আর আতঙ্কের নাম বিআরটিএ। কথিত আছে, কার্যালয়ের ভেতরের টেবিল-চেয়ারও ঘুষ ছাড়া কিছু চেনে না! সরকারি মাশুলের বাইরে বাড়তি টাকায় সব কাজই মেলে সহজে। তা না হলে জুতার তলা ক্ষয় করেও হয় না কাজের সমাধান। বিআরটিএর ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া চাকুরেদের বিপুল বিত্তের খোঁজে ছিল সমকাল। তথ্য বলছে, প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মের ওপর ভর করে উঠেছেন অবৈধ সম্পদের চূড়ায়। বিআরটিএর চাকরিটা তাঁদের কাছে ‘জাদুর কাঠি’। নইলে সরকারি চাকরির সামান্য বেতনে নামে-বেনামে এত অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়াটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

বিশ্লেষকরাও বলছেন, বিআরটিএ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান– এটি মোটামুটি সবারই জানা। সেখানকার দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিপুল সম্পত্তির মালিক হবেন– এটাই স্বাভাবিক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে-মেয়ের জমি কেনা

সরিয়ে দেওয়া হলো মানিকগঞ্জের ডিসিকে

১০ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সামনে রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তাঁর ছেলে–মেয়ের জমি কিনে নেওয়ার খবর নিয়ে আলোচনার মধ্যে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ আবদুল লতিফকে বদলি করা হয়েছে। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বদলি করার কথা জানানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় মানিকগঞ্জে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবকে।

মানিকগঞ্জে সরকারি একটি ওষুধ কারখানা নির্মাণ প্রকল্প পাসের আগেই প্রস্তাবিত এলাকায় ২০ একর ৬৫ শতাংশ জমি কিনে নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তাঁর ছেলে–মেয়েরা। এরপর সেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন (ভিটি শ্রেণি) করে নির্দিষ্ট মৌজার জমির সরকারি মূল্য পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার শুরুতে জেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটি মূল্যায়নে বিষয়টি উঠে আসে। কমিটির সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানান, প্রস্তাবিত ওই মৌজায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি খরচ হবে।

এই চিঠি দেওয়ার পরপর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনে নামেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফুফাতো ভাই মো. ইসরাফিল হোসেন, যিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এই বিষয়ে ৮ জুলাই প্রথম আলোতে ‘সরকারি প্রকল্পে অধিগ্রহণের আগেই জমি কিনে নেন মন্ত্রী ও তাঁর ছেলে–মেয়ে’ শীর্ষক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই খবর প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। তাতে জেলা প্রশাসককে বিষোদ্‌গার করা হয়। জেলা প্রশাসকের কারণে সরকারি ওষুধ কারখানা প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, প্রস্তাবিত জমিতে কারখানা না করে পাশের কোনো মৌজায় প্রকল্প করলে সরকারের ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

ওষুধ কারখানা নির্মাণের জমি ঘিরে এই কারসাজির ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসককে সরিয়ে দেওয়া হলো।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মধুর হাঁড়ি

বিআরটিএর অন্দরমহল (শেষ)

১৩ জুলাই ২৩, সমকাল

ক, খ, গ, ঘ– চার নামে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চার ক্যাটাগরি সার্কেল। রাজস্ব আদায়, কর্মপরিসর, অবকাঠামো অবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ও বদলির জন্য এই সার্কেল ভাগাভাগি। এর মধ্যে ‘ক’ সার্কেল ঘিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাতামাতি। গাড়িবিষয়ক কার্যক্রম বেশি হওয়ায় ‘ক’ সার্কেলে উপরি আয়ের সুযোগ অবারিত। তাই ঘুরেফিরে এই সার্কেলেই থাকতে চান প্রভাবশালী কর্মকর্তারা। এ জন্য চলে তদবির! বদলি হলেও ঊর্ধ্বতনদের আশকারায় ফের ‘ক’ সার্কেলেই থিতু হন অনেক অসাধু কর্তা। এ নিয়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভেতরে রয়েছে অসন্তোষ।

বিধিতে আছে, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এক সার্কেলে একাধারে তিন বছরের বেশি থাকতে পারবেন না; পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষেত্রে তা দুই বছর। বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে ‘ক-ঘ-গ-খ’ এবং ‘ঘ-ক-খ-গ’– এভাবে চক্র মেনে বদলি হবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিধিতে আরও বলা আছে, যৌক্তিক প্রয়োজনে কাউকে চক্রের বাইরেও পদায়ন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে নিতে হবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অনুমতি। তবে সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুরেফিরে ‘ক’ সার্কেলেই পদায়নের চেষ্টা করেন। তদবিরের কারণে ওই সময় কোনো নিয়মনীতি মানা হয় না।

৩ বছরে ১৯ প্রতিষ্ঠানের ১৫০ কোটি টাকা পাচার

২৩ জুলাই ২৩, সমকাল

নতুন টি-শার্টের দাম ৩ টাকা। নতুন প্যান্টের দাম মাত্র ২ টাকা। এত কম দামে পণ্য রপ্তানি দেখিয়ে ১৯ প্রতিষ্ঠান গত তিন বছরে পাচার করেছে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে টাকা পাচারের এমন তথ্য উদঘাটন করেছে কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এই চক্রে আরও কারা আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। পুরো চক্রকে আইনের আওতায় এনে অধিদপ্তর এটি জানাবে আনুষ্ঠানিকভাবে।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এমন জালিয়াতি করেছে সেগুলোর একটি হলো রিফাত অ্যান্ড সিফাত অ্যাপারেলস।

গত জুনে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানিকালে ঢাকার রিফাত অ্যান্ড সিফাত অ্যাপারেলসের তৈরি পোশাকের একটি কন্টেইনার জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। রপ্তানির ঘোষণায় মাত্র ১৭ হাজার ১৪৩ পিস থাকলেও, বাস্তবে পাওয়া যায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪৯৮ পিস পোশাক। পরে প্রতিষ্ঠানটির আরও ৬ কন্টেইনার জব্দ করা হয়।

তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাঠালেও মাঝখানে জালিয়াতি করেছেন সুজন বিশ্বাস নামে এক ব্রোকার। তাকে সিঅ্যান্ডএফ এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে ঘোষণার অতিরিক্ত রপ্তানি পণ্যের টাকা দেশে আসছে না অথবা এলেও তা ফিরছে হুন্ডিতে- এমন তথ্য পান কাস্টমস গোয়েন্দারা। তাই তারা নজরদারি শুরু করেন। একপর্যায়ে মিলেছে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য। এতদিন আমদানিতে দাম কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি এবং টাকা পাচারের অপতৎপরতা থাকলেও এবার প্রমাণ মিলল রপ্তানিতে কারসাজির। এতে জড়িত কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কারখানা থেকে লেফট ওভার বা স্টক লটের পোশাক কিনে নিয়ে রপ্তানিতে জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কারসাজির কারণে পণ্যের সংখ্যা বা পরিমাণের সঙ্গে দামের তারতম্য আকাশ-পাতাল। দেখা যাচ্ছে, সাড়ে ১৬ হাজার টি-শার্ট বা সিংগ্লেটসের দাম দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৯৫০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি পিসের দাম মাত্র ৩ সেন্ট(প্রায় ৩ টাকা)।

আরেকটি প্রতিষ্ঠান একইরকম পোশাক ৩০ হাজার পিস পাঠিয়েছে মাত্র ৬ হাজার ডলারে, যার প্রতি পিসের দাম পড়েছে মাত্র ২ টাকা।

অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৬ হাজার ৪১৭ ডলারে পাঠিয়েছে ২৪ হাজার ৮৭০ পিস। এ হিসেবে প্রতি ইউনিটের দাম পড়েছে প্রায় ২৫ টাকা। এমন দাম কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর হিসাব অনুযায়ি রপ্তানি উপযোগী সবচেয়ে নিম্নমানের টি-শার্ট বা সিংগ্লেটস কারখানা থেকে ৪০ থেকে ৫০ টাকার নিচে কেনার কোনো সুযোগ নেই। শর্ট কিংবা লং প্যান্ট অন্তত ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে পলি প্যাক, কার্টনসহ নানা খরচ। তাই রপ্তানিমূল্য সিংগ্লেটসের ন্যূনতম ৫০ টাকা, টি-শার্ট ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শর্ট ও লং প্যান্ট ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। শার্টের দাম হবে ১৭০ টাকা। তবে এ ব্যাপারে বিজিএমএ’র কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পরিচালকদের ঋণই ২ লাখ কোটি

২৪ জুলাই, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

গ্রাহকদের আমানতের টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে পকেটে ভরছেন ব্যাংক পরিচালকরা। নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালকরা একে অন্যের ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়ে যাচ্ছেন সহজেই। ব্যাংক পরিচালকদের এমন সুবিধার ঋণের পরিমাণ এখন সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার বেশি।

এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও পরিচালকরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ সুবিধা। অনেক ক্ষেত্রেই ঋণের সুদ মওকুফ করা হচ্ছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে মেয়াদ ৮-১০ বছর বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেখা গেছে, পুরনো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলেও ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ ১৬৯ শতাংশ বেড়েছে। এক কথায়, মিলেমিশে লুটপাটে নেমেছেন ব্যাংক পরিচালকরা।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু নিজেরাই যে ঋণ নিচ্ছেন, তা নয়, বিশেষ সুবিধায় অন্যকেও ঋণ পাইয়ে দিচ্ছেন তারা।

নতুন-পুরনো মিলিয়ে দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি ৫২টি এবং ৯টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের পরিচালক ৭৬০ জন হলেও এ ধরনের সমঝোতাভিত্তিক বড় অঙ্কের ঋণ দেওয়া-নেওয়া করেন শতাধিক পরিচালক। বিতর্কিত এসব পরিচালকের কাছেই পুরো ব্যাংক খাত জিম্মি হয়ে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০১৬ সালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা; অর্থাৎ ৬ বছরে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৬৯ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দেশ রূপান্তর। বিভিন্ন ব্যাংকে চালানো অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি ৬১ ব্যাংকের মধ্যে ৫৮টি ব্যাংকই পরিচালকদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক পরিচালকদের ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে। আর দুটি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজেদের ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকার ওপরে ঋণ নিয়েছেন। আইন ভঙ্গ করে এমন ঋণ নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালকরা তাদের ঋণের তথ্য গোপন করতে গড়ে তুলছেন বেনামি প্রতিষ্ঠান। ওই সব প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রাখা হচ্ছে ব্যাংক পরিচালকের আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিদের। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো পরিচালক তার গাড়িচালক ও সহকারীদের নাম ব্যবহার করছেন।

বিভিন্ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, আইন করার পর নিজেদের ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বর্তমানে নিজেদের ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকারও কম। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে পরিচালকরা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণই প্রায় হাজার কোটি টাকা।

ঋণের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিচালকদের সবচেয়ে বেশি ঋণসুবিধা দেওয়ার তালিকায় আছে সরকারি-বেসরকারি পাঁচ ব্যাংক। এগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালকদের ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে আরও ১১টি ব্যাংক। এর মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক দিয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার তালিকায় রয়েছে প্রাইম ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকসহ তিন ব্যাংক। ঢাকা ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া থেকে পরিচালকরা ঋণ নিয়েছেন ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে ব্র্যাক, সিটি ও ইস্টার্ন ব্যাংক।

শ্রমজীবি মানুষ

একজন শ্রমিকের মাসিক আয় ৫২ হাজার টাকা হওয়া উচিত: জরিপের তথ্য

৩০ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

মহামারির পর মূল্যস্ফীতির কারণে পারিবারিক ব্যয় অনেক বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের আয় বাড়েনি। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরিবারের দুজন সদস্য কাজ করেও ব্যয় নির্বাহ করা যাচ্ছে না।

২০২১ সালে চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, সে সময় শ্রমিকদের পরিবারের মাসিক গড় ব্যয় ছিল ২৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। অথচ সামগ্রিকভাবে দুজনে কাজ করেও আয় হয় ২১ হাজার ৬৪২ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি মাসেই তাদের ধার করে চলতে হচ্ছে। দেশের বিদ্যমান মজুরি কাঠামো তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ঋণের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে।

এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এফডব্লিউএ) গতকাল শনিবার এক অনলাইন আলোচনায় এসব তথ্য দিয়েছে। ২০২১ সালের শেষ প্রান্তিকে ৬৩টি কারখানার ৩০০ শ্রমিকের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে এফডব্লিউএ।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, পরিবারের ভরণপোষণ করতে ২০২২ সালে দেশের একজন শ্রমজীবী মানুষের মাসিক আয় হওয়া উচিত ছিল ৫১ হাজার ৯৯৪ দশমিক ৫১ টাকা। একজন মানুষের দৈনিক ৩ হাজার ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, সেই মানদণ্ডে মাসিক আয় এমন হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে এফডব্লিউএ। তারা মনে করে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৩ হাজার ক্যালরি খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি কমেছে

মে ০১, ২০২৩, বণিক বার্তা

মোট মজুরি থেকে মূল্যস্ফীতির হার সমন্বয় করে হিসাব করা হয় প্রকৃত মজুরি। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে প্রকৃত মজুরি বাড়লেও ২০২২ সালে তা কমেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

আইএলওর ফ্ল্যাগশিপ প্রতিবেদন ‘গ্লোবাল ওয়েজ রিপোর্ট ২০২২-২৩: ইমপ্যাক্ট অব ইনফ্লেশন অ্যান্ড কভিড-১৯ অন ওয়েজেস অ্যান্ড পারচেজিং পাওয়ার’-এ বলা হয়, একাধিক বৈশ্বিক সংকটের মুখে বিশ্বব্যাপী প্রকৃত মজুরির নেতিবাচক পরিস্থিতি দেখা গেছে। এ বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

আইএলও বলছে, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি হলো বছরে বছরে সব কর্মচারীর মাসিক গড় মজুরির পরিবর্তন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী মাসিক মজুরি শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসে। চলতি শতাব্দীতে এ বছরেই প্রথমবারের মতো প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি নেতিবাচক হয়। উন্নত জি২০ দেশগুলোর মধ্যে গত বছরের প্রথমার্ধে প্রকৃত মজুরি ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে বলে ধারণা করা হয়। উদীয়মান জি২০ দেশগুলোতে প্রকৃত মজুরি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কভিড-১৯ মহামারীর আগের বছর ২০১৯ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।

আইএলওর প্রতিবেদনে আঞ্চলিক প্রকৃত মজুরি পরিস্থিতির পাশাপাশি সংস্থাটির বিশ্লেষণে ব্যবহূত তথ্যে ছিল বাংলাদেশসহ ১৩০টিরও বেশি দেশের মাসিক গড় নমিনাল মজুরি ও প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান। এতে দেখা যায়, গত চার বছরে বাংলাদেশে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি প্রতি বছরই বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) তথ্যসূত্র উল্লেখ করে আইএলও বলেছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি ছিল ১১ হাজার ২৮১ টাকা, ২০১৯ সালে ১২ হাজার ৪ টাকা এবং ২০২০ সালে হয় ১২ হাজার ৭৩২ টাকা। ২০২১ সালে মাসিক গড় নমিনাল মজুরি বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৫০৪ টাকা।

প্রকৃত মজুরির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ২০২২ সাল পূর্ববর্তী চার বছরে বাংলাদেশে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম-বেশি বেড়েছে। তবে ২০২২ সালের চিত্র ছিল ভিন্ন, এ বছর প্রকৃত মজুরি কমেছে। আইএলওর তথ্য বলছে, ২০১৮ সালে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে প্রবৃদ্ধি হয় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি কমে যায়, যার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধির হার আবারো বেড়ে দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২২ সালে প্রকৃত মজুরি প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে আইএলওর তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। যার হার ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

রোমানিয়ায় কর্মী পাঠানো: শ্রমবাজারের আরেক সুযোগ নষ্ট হলো

০১ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

ছয় মাসে বাংলাদেশের ১৫ হাজার দক্ষ কর্মীকে ভিসা দেবে–এমন প্রস্তুতি নিয়ে গত মার্চে ঢাকায় এসেছিল রোমানিয়ার একটি ভিসা টিম। সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ভিসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে তারা ফেসবুকে একটি পেজ খোলে। দেড় মাস এ দেশে থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে ভিসা দেয় তারা। ১৮ এপ্রিল ওই পেজে হঠাৎ বিরতি টানা হয়। এরপর গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দলটির সদস্যরা তড়িঘড়ি করে অনেকটা নীরবে ঢাকা ছেড়ে চলে যান।

কূটনৈতিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলটি এসেছিল দক্ষ কর্মীকে ভিসা দিতে। কিন্তু দলটির সামনে যাঁদের পাঠানো হয়, তাঁরা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার দাঁড়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ। এ নিয়ে দলটি হতাশ ছিল। এই অবস্থায় অদক্ষ কর্মীদের ভিসা দেওয়ার জন্য তাঁদের ঘুষ সাধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এমনকি ভয়ও দেখানো হয়।

ঘামের দামে কষ্টে চলে তাঁদের জীবনসংসার

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

কাঠফাটা রোদে তপ্ত দুপুর। ইটভাটার খোলা (যেখানে ইট পোড়ানো হয়) থেকে ইটের উচ্ছিষ্ট পোড়ামাটি ঝাঁকায় ভরে মাথায় করে নিয়ে পাশের একটি স্থানে স্তূপ করে রাখছেন শ্রমিকেরা। মাঝেমধ্যে শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম হাত দিয়ে মুছছেন। প্রচণ্ড গরমে তাঁদের নাস্তানাবুদ অবস্থায়। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায় একটি ভাটায় গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। জীবনসংসারের চাকা সচল রাখতে ওই সব শ্রমিকের প্রতিদিনই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। তাঁরা জানেন না মে দিবসের তাৎপর্য কী।

রহমান ব্রিকস নামের ইটভাটাতে প্রায় ১৮ বছর ধরে কাজ করেন আবদুর রহিম (৫০)। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের মুলজান গ্রামে। স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাঁর পরিবার। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। সংসারে তাঁর স্ত্রী ও কলেজপড়ুয়া ছেলে। এই ভাটায় কাজ করেই চলছে তিন সদস্যের সংসার। রহিমের স্ত্রী সাজ্জান বেগম গৃহবধূ। ছেলে টুটুল হোসেন এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন। স্নাতকে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ইটভাটাটির শ্রমিকদের পারিশ্রমিক নির্ভর করে তাঁদের কাজের সময়সীমার ওপর। ভোর পাঁচটা থেকে বিকেলে পাঁচটা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করলে ৮০০ টাকা পাওয়া যায়। তবে হাড়ভাঙা পরিশ্রমে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না আবদুর রহিম। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে। তিনি বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের যে দাম, এই উপার্জনের ট্যাকায় টাইন্যা-টুইন্যা কোনো রহমে সংসার চলে। অন্য কাজ পাই না, বাধ্য হয়ে এই কাম করছি।’

আবদুর রহিমের সঙ্গে মাথায় করে ইটের উচ্ছিষ্ট পোড়ামাটি ভাটায় অন্য স্থানে নিয়ে রাখছিলেন সদর উপজেলার পাথরাইল গ্রামের মঙ্গল মিয়া (৪০)। কাজের ফাঁকে কথা হয়, তাঁর সঙ্গেও। মঙ্গল মিয়া বলেন, পরিবারে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে। তাঁদের নিয়েই তাঁর জীবনসংগ্রাম। দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই স্বল্প উপার্জনে খুব কষ্টে চলছে তাঁর সংসারের চাকা।

৮২% মামলাই ঝুলে আছে

০১ মে ২৩, সমকাল 

দেশের শ্রম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ২৪ হাজার ৭টি মামলা। এর মধ্যে গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ১৯ হাজার ৬০৯টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। অনিষ্পন্ন মামলাগুলো মোট মামলার ৮১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। অথচ শ্রমিকদের দায়ের করা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চার বছর আগে দেশের তিন জেলায় পৃথক শ্রম আদালত গঠন করে সরকার। ফলে দেশে মোট শ্রম আদালতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টি। গত বছর আরও তিনটি শ্রম আদালত গঠিত হলেও এগুলো এখনও সচল হয়নি। তাই মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি কম হওয়ায় প্রতি বছরই মামলাজট বাড়ছে। আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কথা।

শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা আটকে আছে। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব শ্রম আদালতে মোট ২৪ হাজার ৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চে দেশের সাতটি শ্রম আদালত এবং শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল ১৬ হাজার ১১৫টি মামলা। শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ২১৮(৫)-এ বলা হয়েছে, দুই বা ততোধিক বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল চলবে। আইন অনুযায়ী শ্রম আদালতকে ৬০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে উপযুক্ত কারণ ব্যাখ্যা করে আরও ৯০ দিন সময় দেওয়া যাবে। কিন্তু এক যুগ আগের মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

‘পাথরভাঙা কাজে ঝুঁকি বেশি, মজুরি কম’

১ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

লালমনিরহাটের বুড়িমারী ও কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক পাথরভাঙা ও পাথর লোড-আনলোড কাজে জড়িত। এ কাজে রয়েছে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকিও।

শ্রমিকদের দাবি, তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। এ অঞ্চলে তেমন কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা কম মজুরিতেই পাথরভাঙার কাজ করেন।

শ্রমিকরা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাথরভাঙার কাজ করে মজুরি পান ৪০০ টাকা। মজুরির এ টাকা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সন্তানদের পড়াশুনার খরচ যোগাতে পারেন না। পরিবারের লোকজনের অন্যান্য চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। কোনোদিন কাজ বন্ধ থাকলে সেদিন থাকতে হয় অনাহারে-অর্ধারে। সংসার চালাতে অন্যের কাছে ধার করতে হয়। পাথরভাঙার কাজে মজুরি ছাড়া বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা পান না।

সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন সূত্র জানায়, লালমনিরহাটের পাটিগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে ২৭ হাজার আর কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ১৩ হাজার শ্রমিক পাথরভাঙা ও পাথর লোড-আনলোড কাজ করছেন। তাদের মধ্যে নারী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ২০ শতাংশ।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথরভাঙা শ্রমিক সোহরাব হোসেন (৫০) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘১০ বছরধরে পাথরভাঙা শ্রমিকের কাজ করছি। এ কাজ করতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মরণব্যাধি সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু মজুরি খুবই কম। এ অঞ্চলে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলে পাথরভাঙা শ্রমিকের কাজ করতাম না। দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে মজুরি পাই ৪০০ টাকা। মাঝে মাঝে ওষুধ কিনতে অনেক টাকা চলে যায়।’

বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাথরভাঙা শ্রমিক নজরুল ইসলাম (৪৮) ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মেশিনে পাথরভাঙার কারণে পাথরের ধূলা নাক-মুখ দিয়ে ভেতরে ঢুকে ফুসফুসে জমে যায়। এ কারণে পাথরভাঙা শ্রমিকরা সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হন। আমাদের অনেক সহকর্মী সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এখনো অনেক শ্রমিক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। মেশিন মালিকরা কখনোই আমাদেরকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেন না। কোনো শ্রমিক ন্যায্য মজুরি দাবি করলে তাকে আর কাজে নেওয়া হয় না। এই ভয়ে আমরা ন্যায্য মজুরির দাবিও করতে পারছি না।’

বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাথরভাঙা মেশিন মালিক নুর ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ অঞ্চলে চাহিদার চেয়ে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় শ্রমিকরা কম মজুরিতেই পাথরভাঙার কাজ করেন। দুই হাজারের বেশি পাথরভাঙার মেশিনে শ্রমিকরা কাজ করেন। প্রত্যেক মেশিনে ১২ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পান। অন্যান্য মেশিন মালিকরা শ্রমিক মজুরি বাড়ালে আমিও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি করবো।’

চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার

১ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

চা বাগানের স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা সমান মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও কম মজুরি পাচ্ছেন অস্থায়ী শ্রমিকরা। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কয়েকটি চা বাগান পরিদর্শন করে শ্রমিকদের মধ্যে মজুরির বৈষম্যের কথা জানা যায়। শ্রমিক নেতা ও অস্থায়ী চা শ্রমিকরা জানান, স্থায়ী শ্রমিকদের চেয়ে কম মজুরি পান তারা।

শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নুর মহম্মদ বলেন, কিছু অস্থায়ী চা শ্রমিক এখনও স্থায়ী চা শ্রমিকদের সমান মজুরি পান না।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সোনাছড়া চা বাগান ইউনিটের সভাপতি কার্তিক নায়েক জানান, মজুরি চুক্তি অনুযায়ী অস্থায়ী শ্রমিকরাও স্থায়ী শ্রমিকদের সমান মজুরি পাবেন। কিন্তু অস্থায়ী চা শ্রমিকদের অধিকাংশই এখন দৈনিক ১২০ টাকা এর চেয়েও কম মজুরি পাচ্ছেন। অন্যদিকে স্থায়ী চা শ্রমিকরা পাচ্ছেন ১৭০ টাকা।

তিনি বলেন, যেখানে রাবার শ্রমিকরা মজুরি পাচ্ছেন ১১০ টাকা সেখানে কিছু চা শ্রমিক দৈনিক মজুরি পান ৭০, ৭৫ ও ৮০ টাকা।

একটি চা বাগানের অস্থায়ী শ্রমিক ব্রিটিশ রায় বলেন, স্থায়ী চা শ্রমিকের সমান কাজ করলেও আমি ৫০ টাকা কম মজুরি পায়।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, শ্রমিকের রক্তঝরা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত মহান মে দিবসের ১৩৭ বছর পরও চা-শ্রমিকদের শোষণ নির্যাতন এতটুকু কমেনি। এমনকি আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত অধিকার হতেও চা-শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সমান কাজে সমান মজুরি দেওয়ার আইন থাকলেও চা-শ্রমিকদের আজও ক্লাস/ক্যাটাগরির নামে ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ করে যথাক্রমে ১৭০টাকা, ১৬৯ টাকা ও ১৬৮ টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে।

অথচ ‘বি’ ও ‘সি’ ক্লাস বাগানের শ্রমিকদের কাজের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। এ ছাড়া সমান কাজ করলেও ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের মজুরি অনেক ক্ষেত্রে কম দেওয়া হয়। আবার পুরুষ শ্রমিকদের স্ত্রীকে তাদের উপর নির্ভরশীল বিবেচনা করে রেশন দেওয়া হলেও নারী শ্রমিকের বেকার স্বামীকে নির্ভরশীল বিবেচনা করা হয় না। তাদের রেশনও দেওয়া হয় না। যুগ যুগ ধরে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এই অন্যায় চলে আসছে।

শ্রীপুরে শ্রমিকদের ওপর লাঠিপেটা-টিয়ার শেল, পুলিশের গাড়িতে আগুন

১৪ মে ২০২৩, আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে বেতন ভাতার দাবিতে চলমান আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর রাবার বুলেট, লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এতে ছোটাছুটি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার গুদাম ও শিল্প পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আজ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডার্ড কম্পোজিট কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

কারখানায় শ্রমিকদের দাবি, বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। আজ রোববার সকালে মালিক আসার কথা থাকলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত মালিক কারখানায় উপস্থিত না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একটাই দাবি, মালিক আসতে হবে এবং তাঁদের বকেয়া বেতনসহ সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু মালিক সারে ৩টায় কারখানায় আসে। মালিক আসার পর ও শ্রমিকদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায়, কারখানার সকল শ্রমিক এক সঙ্গে মিলিত হন। এরপর শান্তিপূর্ণভাবে কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ হঠাৎ তাঁদের ওপর রাবার বুলেট, লাঠিপেটা ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে বহু শ্রমিক আহত হন।

পোশাকশ্রমিকের মজুরি ২৫ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ

২০ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন। একই সঙ্গে তারা আগামী রোববারের মধ্যে চলতি মাসের মজুরি ও ঈদ বোনাস এবং জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অত্যাবশ্যক পরিষেবা বিল ২০২৩ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

মজুরি বৃদ্ধিতে গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনের ব্যানারে আজ মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। সঞ্চালনা করেন গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান।

শ্রমিকের ‘মরণফাঁদ’ সেপটিক ট্যাঙ্ক

২৪ জুন ২৩, সমকাল

নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কের সাটারিং খুলতে নামেন শ্রমিক মো. সামাদ। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধারে নামেন মধু মিয়া। ডাকাডাকি করে দু’জনের কারও সাড়া না পেয়ে ঠিকাদার নিজেই নেমে পড়েন। ভাগ্য ভালো, সেখানে উপস্থিত অন্যরা সময়মতো ঠিকাদারকে ওপরে ওঠাতে পেরেছেন। খবর পেয়ে গত ২৮ মে রাজধানীর উত্তরখানের ওই সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সামাদ ও মধুর লাশ উদ্ধার করেন। মর্মন্তুদ এ ঘটনার রেশ না কাটতেই পরের দিন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আটঘরা গ্রামে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে মারা যান দিনমজুর মো. শাহজালাল (৫৮)। শ্রমিকের ‘মরণফাঁদ’ হয়ে ওঠা সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে প্রায়ই সামাদ-শাহজালালের মতো প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। এমনকি উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে প্রাণ গেছে অনেক শিশুর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও গ্যাস ডিটেক্টর ছাড়া কারও সেপটিক ট্যাঙ্কে নামা উচিত নয়। ট্যাঙ্ক পরিষ্কার অবশ্যই পেশাদার লোক দিয়ে করাতে হবে। তাহলে এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

গত ১৫ মার্চ আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারে নেমে প্রাণ হারান তিনজন। ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজারের পশ্চিমজুড়ীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কের সাটারিং খুলতে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে মারা যান দুই শ্রমিক। ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। গত ২১ এপ্রিল খুলনার খালিশপুরে চিত্রালী সুপার মার্কেটের নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে মারা যায় সাত বছরের শিশু আব্দুল্লাহ। পুরান ঢাকার চকবাজারে নিখোঁজের একদিন পর ১১ ফেব্রুয়ারি বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয় আরিয়ানের লাশ (৬)। পরে জানা যায়, খেলতে গিয়ে অসাবধানতায় সে নিচতলায় ঢাকনা খোলা সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে যায়।

সেপটিক ট্যাঙ্কে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে সঠিক তথ্য নেই। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশে এ ধরনের ১৮টি দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তবে প্রাণহানি যে আরও বেশি, তা উপরে বর্ণিত ঘটনাগুলো থেকেই স্পষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী কর্মীদের প্রতি দুজনে একজনের মৃত্যুর কারণ জানা যায় না: রামরু

২৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ কাজ করে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। দিনের বেলায় প্রচণ্ড তাপের মধ্যে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে তাপজনিত নানা রোগে শুধু কিডনি নয়, মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব দেশে তাপ আরও বাড়ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে অতিরিক্ত তাপ।

‘প্রাণঘাতী তাপ: উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের ওপর চরম তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠার রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) আজ রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রামরু এবং অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস যৌথভাবে এটি আয়োজন করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের (মধ্যপ্রাচ্য) ছয়টি দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বছরে ১০ হাজার প্রবাসী মারা যান। তাঁদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কোনো অন্তর্নিহিত কারণ কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রাকৃতিক কারণ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হিসেবে মৃত্যুসনদ দেওয়া হয়। বিপজ্জনক ঝুঁকি সত্ত্বেও কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তাপসংক্রান্ত কারণে প্রাণহানি বা কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যের কোনো নিবন্ধন নেই।

শ্রমজীবীদের জন্য ‘সবচেয়ে বাজে’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

০২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

শ্রমজীবী মানুষের জন্য বিশ্বের ‘সবচেয়ে বাজে’ ১০টি দেশের একটি বাংলাদেশ। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের (আইটিইউসি) বৈশ্বিক অধিকার সূচক ২০২৩-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা আইটিইউসির ১০ম এই সূচক গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।

আইটিইউসি বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন। তারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের বৈশ্বিক কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে।

১৪৯টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে আইটিইউসির এবারের সূচকটি করা হয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা বাকি নয়টি দেশ হলো বেলারুশ, ইকুয়েডর, মিসর, এসওয়াতিনি, গুয়াতেমালা, মিয়ানমার, তিউনিসিয়া, ফিলিপাইন ও তুরস্ক।

স্কোর অনুযায়ী, সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ‘অধিকারের নিশ্চয়তা নেই’ শ্রেণিতে পড়েছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সূচকে তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো পশ্চাদমুখী আইন, ইউনিয়ন গঠনে বাধা ও পুলিশি সহিংসতা।

আইটিইউসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শ্রমিকদের অধিকার মারাত্মকভাবে খর্ব করা অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন নিষেধ। ইপিজেডে শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে অধিকার-সম্পর্কিত মতামত প্রকাশও নিষেধ।

গার্মেন্টস খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই খাতে ৪৫ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এখানেও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রচেষ্টায় ক্রূরভাবে বাধা দেওয়া হয়। এখানে ধর্মঘট নির্দয়ভাবে দমন করে শিল্প পুলিশ। কর্তৃপক্ষ একটি কঠোর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চাপিয়ে ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে ব্যাহত করেছে।

বছরের প্রথম ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে ৩৮৯ শ্রমিকের মৃত্যু

০৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু বেড়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে পরিবহন খাতে। এর পরেই রয়েছে নির্মাণ খাত। বেসরকারি সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির (এসআরএস) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

 প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কর্মক্ষেত্রে সারা দেশে ২৮৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশে ২৪১টি কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ৩৩৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।

 ১৫টি জাতীয় ও ১১টি স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে এসআরএস এই প্রতিবেদন তৈরি করে।

শ্রমিকনেতা শহিদুল হত্যা: মালিকপক্ষের ‘ভাড়াটে হয়ে’ হামলা

০৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন–ভাতা আদায়ে আরও দুই শ্রমিকনেতাকে নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডে গিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম।

মালিকপক্ষের সঙ্গে বসলেও বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় পরদিন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মালিকপক্ষ। কারখানা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই তাঁদের ওপর হামলা করা হয়, যাতে প্রাণ হারান শহিদুল।

গত ২৫ জুন রাতে টঙ্গীর সাতাইশ বাগানবাড়ী এলাকায় কারখানাটির কাছে ওই হামলার শিকার অপর দুই শ্রমিকনেতা প্রথম আলোকে এ তথ্য দেন। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফা বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি। আর মো. শরীফ জাতীয় নিট ডাইং গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

নিহত শহিদুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি। ১১ বছর আগে এই সংগঠনেরই নেতা আমিনুল ইসলাম খুন হয়েছিলেন। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল আশুলিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া গিয়েছিল টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা এলাকায়।

বাস চালক-শ্রমিকদের আয়ের নিশ্চয়তা নেই!

০৬ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

দেশের অধিকাংশ গণপরিবহন বেসরকারি খাতে পরিচালিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত ন্যায্য শ্রমনীতি তৈরি হয়নি। বাস চালক-শ্রমিকদের আদর্শ মজুরি এবং কাজের সু-ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। এর ফলে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য আয়ের নিশ্চয়তা নেই, জীবনমানেও আসেনি শৃঙ্খলা।

সম্প্রতি কথা হয় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বাস চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে। তাদের অধিকাংশই দৈনিক ৩ হাজার বা এরও বেশি টাকা চুক্তিতে বাস নিয়ে রাস্তায় চালান। এই চুক্তির টাকা জমা ও রাস্তায় বিভিন্ন জনকে উৎকোচ দেওয়ার পর বাড়তি যা থাকে তা তাদের আয়। কেউ আবার বেতনে বাস চালালেও তা স্বল্প মনে করেন। তাই আয় বাড়াতেই পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বেপরোয়া গাড়ি চালানোসহ সড়কে নানান বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। এছাড়া দিন শেষে নগদ টাকা হাতে পাওয়ায় স্ট্যান্ডে মাদক ও জুয়ার আসরে দৈনিক আয়ের অনেকাংশ ব্যয় করেন কেউ কেউ। এতে করে তাদের কাটে না অর্থ সংকট, জীবনে থাকে না কোনও শৃঙ্খলা।

নির্দিষ্ট আয়ের নিশ্চয়তা নেই

‘চুক্তিতে বাস নেও, রাতে জমার টাকা বুঝায়া দেও’— এইটাই রীতি মন্তব্য করে শিকড় বাসের চালক আউয়াল হোসেন বলেন, ‘২০ বছর ধরে গাড়ি চালায়া আসতাছি। আগে মুড়ির টিন চালাইছি, এখন অনেক ভালো গাড়িও চালাই। কিন্তু নিয়ম ওই একটাই। রাতে গিয়া বাস মালিকরে প্রতিদিনের জমার টাকা বুঝায়া দেওয়া লাগে। এরপর বাকি যা থাকে তা আমার আর আমার হেল্পারের।’

একদিনের আয়ে দুই দিন চলতে হয় জানিয়ে খাজাবাব পরিবহনের চালক মো. নুর ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম হলো একদিন গাড়ি চালায়া আরেকদিন রেস্ট। তাতে আমার এই একদিনের আয় দিয়া দুইদিন চলতে হয়। মনে করেন বাড়তি লোক উঠায়াও দিনে যদি ১২০০ থেকে ১৫০০, কোনও দিন যদি ভালো যায় ১৮০০ টাকাও আয় হয়। এখন এত কষ্ট কইরা দুই দিনের হিসাবে দিনপ্রতি কত করে আসে? বর্তমান বাজারে এই টাকায় কী হয়? রিকশা চালাইলেও দিনে এই টাকা আসে, তাও আরাম। আমাদের মতো এত হয়রানি নাই।’

নিজের আয়, মালিকের দৈনিক জমার চিন্তায় চাপে থাকতে হয় জানিয়ে বিহঙ্গ বাস চালক আব্বাস বলেন, ‘আমাদের ওপর সব দায় চাপায়া না দিয়া বাস মালিকরা যদি বলে বাস ড্রাইভাররা শুধু গাড়ি চালাইবো, ইনকামের চিন্তা নাই। তখন না সব সিস্টেমে আসবে। এখন আমার মাথার ওপর বোঝা দিয়া যদি বলেন, দৌড়ান। তাহলে তো আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার তো টেনশন থাকে ঘরে টাকা নিয়া যাইতে হইবো, মাহাজনরে টাকা বুঝায়া দিতে হইবো। আমার তো শুধু টেনশন থাকবো কীভাবে যাত্রীরে নিরাপদে পৌঁছাইয়া দেওয়া যায়?’

নেই নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টা, বিশ্রামের সুযোগ

গণপরিবহন শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনও কর্মঘণ্টা নেই বলে জানিয়েছেন বাস চালক ও সহকারীরা। সকাল থেকে সন্ধ্যায় অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হয়। রাজধানীর জ্যাম ঠেলে যতটা ট্রিপ দেওয়া যায়, তার ওপর নির্ভর করে দিনের কাজ কখন শেষ হবে। কাজ শেষ করে বাস মালিককে জমার টাকা ও গাড়ির চাবি ফিরিয়ে দিতে দিতে মধ্য রাত হয়ে যায় বলেও জানান তারা।

দিনে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় জানিয়ে মিরপুর লিংক বাসের চালক ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের যে বর্তমান পরিস্থিতি, আগে যারা গাড়ি চালাইতো, তারা একদিন পর পর চালাইতো। আর এখন যারা গাড়ি চালাই তারা ঘুমাইতে পারি না। এই সকালে আসি রাতে বাড়ি যাই পরের দিন আবার রাস্তায় নামি। এখন বাধ্য হইয়াই টানা গাড়ি চালাইতে হয় ফ্যামিলি বাঁচাইতে।’

দীর্ঘ সময় কাজের মধ্যে কোনও বিশ্রামের সুযোগ নেই বাস শ্রমিকদের। জ্যামের শহরে এক ট্রিপ দেওয়ার পর আরেক ট্রিপ দেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়। অন্যথায় দিনের ট্রিপ কম হলে জমার টাকা দিয়ে নিজের আয়ে টান পড়ার দুশ্চিন্তায় থাকেন বাস শ্রমিকরা।

এবিষয়ে বিকাশ পরিবহনের চালক নজরুল বলেন, ‘দিনে পুরা ট্রিপ দেওয়া যায় তিনটা। এর মাঝে যদি বিশ্রাম নিতে চাই, তাইলে তো সময়ই পাওয়া যাইবো না গাড়ি চালানোর। এমনিতে রাস্তার বেশিরভাগ জ্যামেই আটকায়া থাকি।’

গাড়িতেই বিশ্রাম জানিয়ে শিকড় পরিবহনের আরেক চালক সোহেল বলেন, ‘আমাদের তো কোথাও পার্কিংয়ের সুযোগ নাই। সদরঘাট গেলে গাড়ি অলটাইম দৌড়ের ওপর রাখে। গাড়ি ব্রেক করারই সুযোগ দেয় না, পার্কিং তো পরে। দুপুরে খাওয়ার পরে চায়ের দোকানে না হলে বাসেই রেস্ট নিতে হয়।’

দুর্ঘটনায় আহত হলে দেখার কেউ নেই

যে কোনও দুর্ঘটনায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোনও ক্ষতিপূরণ পান না বাস শ্রমিকরা। তাদের ভাষ্য, শ্রমিকের কল্যাণের নামে নানা অর্থ আদায় করা হলেও দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হলে কোনও ক্ষতিপূরণ পান না গণপরিবহন শ্রমিক বা তার পরিবারের সদস্যরা।

এবিষয়ে বাস চালক জাফর বলেন, ‘শ্রমিকের নাম কইরা, প্রোটেকশন দেওয়ার নাম কইরা ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৬০ টাকা আমরা চাঁদা দেই। সবখানেই কিন্তু আমাদের চাঁদা কে খায়, কোন কাজে লাগে আমরা জানি না। আমি এখন পর্যন্ত শুনি নাই কোনও শ্রমিক এক্সিডেন্ট করলে ১০ টাকা দিয়া কেউ সহায়তা করছে।’

শ্রমিকের বিপদে শ্রমিকই এগিয়ে আসে জানিয়ে আরেক বাস চালক মো. কাউসার বলেন, ‘এমনিতে তো কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কাউরে খুঁজে পাওয়া যায় না। যদিও কেউ সহায়তার জন্য আসে, ভুক্তভোগীরে নিয়া বাসস্ট্যান্ডে মূর্তির মতো বসায়া রাখে। এসময় অন্যান্য শ্রমিকরা ৫০ টাকা, ১০০ টাকা করে দেয়। এর বেশি তো দেওয়াও সম্ভব না। তারাই কত আর কামায়।’

আয় থেকে পথে পথে দিতে হয় চাঁদা

দৈনিক আয়ের একটা অংশ পথে পথে চাঁদা দিতেই ব্যয় হয় বলে জানান গণপরিবহন শ্রমিকরা। তারা বলেন, দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিভিন্ন জায়গায় ওয়েবিল ও চাঁদা দিতে হয়। এই টাকার পুরোটা যায় তাদের আয় থেকে। আর এসব চাঁদা বিভিন্ন গণপরিবহন সমিতির ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের লোকেরা আদায় করেন বলে জানান বাস চালক ও সহকারীরা।

মিরপুর ১২ থেকে আজিমপুর যেতে আসতে প্রায় ৮ থেকে ১০ জায়গায় চাঁদার টাকা দিতে হয় জানিয়ে মিরপুর লিংকের সহকারী রুবেল বলেন, এই পেশার কোন ভবিষ্যৎ নাই, আয় রুজির ঠিক নাই। একদিন বেশি হয় তো আরেকদিন খরচাপাতি দিয়া টানাটানি অবস্থা। তার ওপর রাস্তার সব খরচ আমাদের। এত কিছু দিয়া আর থাকে কত। সবাই দেখে টাকার লাইগা পাড়াপাড়ি করি। এইটা তো আর এমনি এমনি না।

শিকড় বাসের সহকারী বাবু বলেন, ‘রাস্তার চাঁদা-মাদা সব টাকা আমাদের দিতে হইতাছে। আর শেষে আমার ইনকাম হোক না হোক, মালিকের টাকা বুঝায়া দিতে হয়। এক পয়সা কম নাই আগে টাকা দেও। এই চাঁদার চার-পাঁচশো যদি না দেওয়া লাগতো তাহলেও তো কিছুটা সেভ হয়’।

হাসেম ফুডসে অগ্নিকাণ্ড

ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে কারখানাটির উৎপাদন

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পূর্তি হয়েছে গতকাল শনিবার। ২০২১ সালের ৮ জুলাই ছয়তলা ভবনের ওই কারখানায় আগুনে প্রাণ হারান ৫৪ জন। এ ঘটনার দুই বছরেও মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। উল্টো ফায়ার সার্ভিস, প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের কার্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই পুরোদমে কারখানাটির উৎপাদন চলছে। এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন কারখানার মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাসেম, তাঁর চার ছেলেসহ আট আসামির সবাই।

গতকাল সকালে কারখানা এলাকায় গিয়ে ওই কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তা ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। মো. আমজাদ ও সাহারা খাতুন নামের দুজন জানান, বর্তমানে কারখানাটির চারটি ভবনে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানাটিতে এখন জুস, লাচ্ছি, সেমাই ও নুডলস উৎপাদন করা হয়।

কারখানার একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার চার মাস পর পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালানোর কথা বলে কারখানা চালু করা হয়। শুরুতে চার-পাঁচ শ শ্রমিক কাজ করতেন। ধীরে ধীরে শ্রমিক ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। এখন প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। তবে এখনো প্রশাসনিকভাবে উৎপাদনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

অনুমোদন ছাড়া কীভাবে উৎপাদন চলছে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সবকিছু ম্যানেজ করেই চালাতে হচ্ছে। উৎপাদন বন্ধ রাখলে অনেক শ্রমিক কাজ হারান। আবার যন্ত্রও নষ্ট হয়।’

১০ লাখ ৬৮ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত

জুলাই ১৯, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজত শিশুর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২’এর প্রভিশনাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ-২০২২’র ফলাফলে দেখা গেছে, দেশে ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩৯,৯৬৪,০০৫ বা ৩৯.৯৬ মিলিয়ন। তাদের মধ্যে যথাক্রমে শ্রমজীবী শিশুর সংখ্যা ৩,৫৩৬,৯২৭ জন, শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা ১,৭৭৬,০৯৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজত শিশুর সংখ্যা ১,০৬৮,২১২।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০২২ সালে শ্রমজীবী শিশু এবং শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কমেছে।

২০১৩ সালের শিশুশ্রম জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৫-১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৯,৬৫২,৩৮৪। তাদের মধ্যে ৩,৪৫০,৩৬৯ শ্রমজীবী, শিশুশ্রমে নিয়োজিত ছিল ১,৬৯৮,৮৯৪ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত ছিল ১,২৮০,১৯৫ জন শিশু।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম, ঢাকা ঘুরেও হাসপাতালে ভর্তি করা গেল না শাহীনকে, গেল না বাঁচানো

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা মো. শাহীনকে বাঁচানোর আশা নিয়ে তাঁর স্বজনেরা গতকাল মঙ্গলবার রাতে এসেছিলেন ঢাকায়। মুমূর্ষু শাহীনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাতভর তাঁরা ঘুরেছেন এ হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও তাঁকে ভর্তি করতে পারেননি। অবশেষে বিনা চিকিৎসায় মারাই গেলেন শাহীন।

শাহীন এক হতদরিদ্র নাগরিক। গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার মোটবি ইউনিয়নে। বাবা মুন্সী মিয়া। ৩৮ বছর বয়সী শাহীন ২৩ এপ্রিল রোববার অর্থাৎ, পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন সকালে ফেনী শহরের অদূরে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত পান। গাছের সঙ্গে ধাক্কায় তাঁর মাথার একাংশ থেঁতলে যায়।

২২ জেলায় সরকারিভাবে আইসিইউ সেবা নেই

২৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৯: ৩৩

মাথায় আঘাত পাওয়া মো. শাহীনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আঘাত এত গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় রেখে তাঁর চিকিৎসা সম্ভব ছিল না। নিজের শহর ফেনীর সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হয়নি। পাশের জেলা চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা খালি ছিল না। তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। চিকিৎসা না পেয়ে ফেনীতে ফেরত নেওয়ার পর গত বুধবার তিনি মারা যান।

শাহীনের জন্য আইসিইউ শয্যাসংকট বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনদের কাছ থেকে জেনেছেন, দেশের কমপক্ষে ২২ জেলায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সেবা নেই।

জেলায় জেলায় আইসিইউ নেই

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ নেই এমন জেলার মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, বরগুনা, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, নাটোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, ভোলা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, শরীয়তপুর, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গা ও সুনামগঞ্জ। এ ছাড়া বাগেরহাট ও মাদারীপুর জেলায় সরঞ্জাম থাকলেও আইসিইউ চালু নেই।

মানুষের আইসিইউ সেবার দরকার হলে কী করেন প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাট জেলার সিভিল সার্জন প্রথম আলোর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমরা জরুরি রোগী রংপুরে পাঠিয়ে দিই।’

রাজধানীর একাধিক বড় সরকারি হাসপাতালেও এই শয্যা নেই। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (পঙ্গু হাসপাতাল) এক হাজার শয্যার। সারা দেশের গুরুতর আহত রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়। গতকাল ওই হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে কোনো আইসিইউ শয্যা নেই। জাতীয় নাক-কান-গলা হাসপাতালেও এ ধরনের কোনো শয্যা নেই।

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দুই সপ্তাহ পর অস্ত্রোপচার শুরু

০২ মে ২৩, সমকাল

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে দুই সপ্তাহ পর অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শীতাতপ যন্ত্রের কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে এবং জীবাণুমুক্ত করার কাজ শেষে এটি চালু করা হলো। মঙ্গলবার এখানে তিনজনের অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম মনজুরুল আলম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সব কাজ শেষ করে মঙ্গলবার অস্ত্রোপচার কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়। আইসিইউর এসি মেরামত করা ও জীবাণুমুক্ত করতে এটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অধ্যাপক ডা. একেএম মনজুরুল আলম জানান, ঈদের আগে হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের আইসিইউ ইউনিটের এসি দিয়ে পানি পড়ায় অনেক রোগীর সংক্রমণ বাড়তে থাকে। গত ১৮ এপ্রিল এক রোগীর সংক্রমণ বাড়লে তাকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বন্ধ করে রাখা হয় ২৯ শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি। সবশেষ এ ইউনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত মরিয়ম বেগমের অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর ঈদের ছুটি শুরু হয়।

চিকিৎসা চালাতে নিঃস্ব হচ্ছেন রোগী-স্বজন

০৮ মে ২৩, সমকাল

দিনমজুর কিবরিয়া মাতুব্বর থাকেন মাদারীপুর সদরের একটি ভাড়া বাসায়। তার ১১ বছরের ছেলে মো. সোহান রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। কিবরিয়া বলেন, তিন বছর বয়সে ছেলের থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত হয়। ৭ থেকে ৮ বছর  ধরে চিকিৎসা করে আসছি। প্রতি মাসে দু’বার রক্ত দিতে হয়। সেই সঙ্গে অনেক ওষুধ কিনতে হয়। সব মিলিয়ে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার খরচ। মাঝেমধ্যে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। তখন সোহান অনেক দুর্বল হয়ে যায়। ছেলের অসুস্থতা বাড়লে বিষণ্নতা ও দুশ্চিন্তা বাড়ে। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ফের চিকিৎসা শুরু করি। এরই মধ্যে নিজের জায়গাজমি বিক্রি করতে হয়েছে। এভাবে কতদিন চিকিৎসা চালিয়ে নিতে পারব জানি না।

রাজধানীর বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নুসরাত জাহানও থ্যালাসেমিয়া রোগী। ২২ বছরের নুসরাত দুই বছর বয়স থেকে এ রোগ বহন করছেন। প্রতি মাসে দু’বার হিসাবে গত ২০ বছরে প্রায় ৪৮০ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে তাঁকে। রক্ত জোগাড়ে প্রতিবারই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে শরীরে নানা জটিলতাও দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। পা ও হাতের হাড় ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাইয়েরও থ্যালাসেমিয়া রয়েছে। নুসরাত জানান, সবচেয়ে বেশি কঠিন রক্তের ব্যবস্থা করা। প্রতি মাসে চার ব্যাগ রক্ত লাগে তাঁদের। প্রতিদিনই ডোনার খুঁজতে হয়।

শুধু সোহান বা নুসরাত নন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন লাখো রোগী ও তাঁর স্বজন। তাঁদের আকুতি, দেশের সব স্থানে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা সহজ এবং বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

তবে দেশে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় রয়েছেন মাত্র ১৩৫ রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, দেশের শতকরা ১২ ভাগ মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন বহন করছে। এ হিসাবে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এর বাহক। প্রতি বছর আরও ৫ থেকে ৬ হাজার শিশু এ রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। যে হারে রোগী বাড়ছে, সেই হারে বাড়েনি সেবার মান। চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় সবচেয়ে বেশি অবহেলিত গ্রামের রোগীরা।

ঢামেক হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অখিল রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা ব্যয়বহুল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ চিকিৎসা চালাতে হয়। তবে অধিকাংশ রোগী ৫ থেকে ১০ বছর চিকিৎসা নিয়ে অর্থ সংকটে বন্ধ করে দেয়। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনও ব্যয়বহুল। অটোলোগাস পদ্ধতিতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে ৫ লাখ টাকা এবং অ্যালোজেনিক পদ্ধতিতে এর প্রায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হবে। কিন্তু চিকিৎসাপ্রার্থীরা দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এ জন্য সরকারের এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের সভাপতি ডা. এম এ মতিন বলেন, তাঁদের সমিতির আওতায় প্রায় ৯ হাজার নিবন্ধিত রোগী রয়েছেন। তাঁদের জন্য বছরে ২ লাখ ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন। তবে তাঁরা ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ব্যাগ সংগ্রহ করতে পারছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, দেশে চাহিদার মাত্র ৩১ শতাংশ রক্ত সংগ্রহ করা হয় স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে। যে রোগীদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তাঁদের প্রতি মাসে ১ থেকে ৪ ব্যাগ রক্ত লাগে। ৮০ শতাংশ পরিবার নিয়মিত রক্ত জোগাড়ে সমস্যায় পড়ে। দেশে বহুল পরিচিত ব্লাড ডোনার ক্লাব ও সংস্থা থেকেও তাঁরা আশানুরূপ সহযোগিতা পান না।

ভোগান্তির শেষ নেই রোগীর স্বজনদের

৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সাত বছরের আরিয়ান হাসানকে মাসে দুবার গাজীপুর থেকে ঢাকায় আসতে হয়। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত আরিয়ানের রক্ত পরিসঞ্চালন, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয় পরিবারকে।

গতকাল রোববার রাজধানীর গ্রিন রোডে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার প্রায় সব শয্যাতেই রোগী। আরিয়ানকেও সেখানে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। তখন সে ঘুমাচ্ছিল। তার মা আয়েশা জানান, দেড় বছর বয়সে আরিয়ানের রোগটি ধরা পড়ে। সেই থেকেই ঢাকায় নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছে সে।

আজ ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘সচেতন হোন, জানান, যত্ন নিন: সেবার মান বৃদ্ধিতে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানুন’। বলা হয়ে থাকে, দেশে মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। তবে দেশে কী পরিমাণ রোগী বা বাহক আছে, তার সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা-বাবার মধ্যে কেউ বা দুজনই থ্যালাসেমিয়ার রোগী বা এ রোগের বাহক হলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাঠামোগত ত্রুটির কারণে থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।

হাসপাতালে দেখা গেল, বাড্ডা থেকে আসা সাড়ে তিন বছরের শাহির আল আসিরের এক হাতে ক্যানুলা লাগানো। তাকে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। আট মাস বয়সেই শাহিরের থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। ওর মা সানজিদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, মাসে একবার শাহিরকে নিয়ে আসতে হয়। তিনি ও শাহিরের বাবা দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক। চিকিৎসার খরচ প্রসঙ্গে জানান, রক্ত, ওষুধের জন্য মাসে ১০–১২ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়।

একাধিক রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বয়স ও রোগীর অবস্থাভেদে মাসে চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। চিকিৎসা খরচের পাশাপাশি রক্তের সন্ধানে তাঁদের দৌড়াতে হয় প্রতিনিয়ত। সব মিলিয়ে তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের প্রধান উপায় হচ্ছে বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা। তাই বিয়ের আগে প্রত্যেককে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ–সংক্রান্ত আইন আছে। থ্যালাসেমিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বাংলাদেশকে তেমন কিছু ভাবতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন জানায়, তাদের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এখন ছয় হাজারের বেশি। তিন বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল তিন হাজারের মতো। এ ছাড়া থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা এখন সাড়ে চার হাজার, যা তিন বছর আগে আড়াই হাজারের মতো ছিল।

থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের (টিআইএফ) ‘গ্লোবাল থ্যালাসেমিয়া রিভিউ ২০২২’ নামে একটি প্রকাশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এর চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মনজুর মোরশেদ প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসকদের সবাইকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে রোগটি সম্পর্কে জানাতে শিক্ষাক্রমে সেটি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে।

রোগী ও রোগীদের স্বজনদের দ্বারা পরিচালিত হয় বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি। এর সভাপতি এম এ মতিনের এক সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সঠিক চিকিৎসা ও সচেতন থাকার কারণে তাঁর সেই সন্তান এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিও পেরিয়েছেন। তাঁরা স্বামী–স্ত্রী দুজনই বাহক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোয় থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসার জন্য আলাদা সেন্টার চালু করা প্রয়োজন।

রোগী বাড়ছে, নিরাপদ পানি নিশ্চিতের তাগিদ

১১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীর প্রায় ৪০ ভাগের শরীরে পাওয়া যাচ্ছে কলেরার জীবাণু। মূলত অনিরাপদ খাওয়ার পানির মাধ্যমে এই জীবাণু মানুষের শরীরে যাচ্ছে বলে চিকিৎসকেরা মনে করছেন।

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়ারায় ডায়রিয়া রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। এসব উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল বুধবার ২৬৫ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হন। এ নিয়ে চলতি মাসে উপজেলাগুলোতে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল আড়াই হাজারে। গত মাসে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৬৯৫।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত খাওয়ার পানি কিংবা নানা ধরনের খোলা পানীয় থেকে ডায়রিয়া হয়। ওয়াসার পানিও নানাভাবে দূষিত হয়। আগেও হালিশহরে খাওয়ার পানিতে কলেরা জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, পানিতে লবণাক্ততার কারণে অসমোটিক ডায়রিয়া হতে পারে। গবেষণা দল বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে।

ক্যানসার চিকিৎসায় গড় খরচ সাড়ে ৫ লাখ টাকা

১৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশে ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর চিকিৎসায় গড়ে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪০ টাকা পকেট থেকে খরচ করতে হয়। এই খরচ জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৮১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় ওষুধপত্র কিনতেই।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অধিবেশনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে ক্যানসারের রোগীর খরচের এই চিত্র তুলে ধরা হয়। গবেষণাটি করেন বিআইডিএসের গবেষক আবদুর রাজ্জাক সরকার। রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গবেষণায় দেখানো হয়, হাসপাতালে নিবন্ধন, চিকিৎসক সম্মানী, পরীক্ষা–নিরীক্ষাসহ সরাসরি চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত খরচ হয় গড়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৯৫ টাকা। যাতায়াত, খাবারসহ অন্যান্য খরচ হয় আরও ৯০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ক্যানসারের প্রথম স্তরে গড়ে চিকিৎসা খরচ ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪৩ টাকা। আর দ্বিতীয় স্তরে গড় খরচ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬৫ টাকা।

সাড়ে চার শ ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এই গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কোনো সদস্য ক্যানসারে আক্রান্ত হলে প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়। ৬৫ শতাংশ পরিবার নিয়মিত আয় থেকে খরচ করেছে। ৫৬ শতাংশ পরিবারকে চিকিৎসার জন্য সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে। আর সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে ৪০ শতাংশ পরিবারকে।

প্রক্রিয়াজাত ৬২ শতাংশ খাবারে অধিকমাত্রায় লবণ

২২ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার গ্রহণ করে। আর এসব খাবারে রয়েছে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত লবণ। এ কারণে কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

রোববার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে লবণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং রিসলভ টু সেইভ লাইভস (আরটিএসএল) এর সহযোগিতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (ক্লিনিকাল রিসার্চ) ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান। তিনি বলেন, এক হাজার ৩৯৭ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার দেশের বাজারে পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০৫ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবার ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে অধিকমাত্রায় লবণ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫.২ শতাংশ খাবারে অত্যধিক এবং ২৬.৭ শতাংশ খাবারে বেশি, তবে তুলনামূলক কম অতিরিক্ত লবণ রয়েছে। আর ৩৮.১ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটকৃত খাবারে সঠিক মাত্রায় লবণ রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর পরামর্শ শোনেনি সরকার

২৪ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরামর্শক কে কে কৃষ্ণমূর্তি ২০১৭ সালে সরকারকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। সরকার সেই উদ্যোগ নেয়নি। দুই বছর পর ২০১৯ সালে ওই সংস্থার জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ বি এন নাগপাল ডেঙ্গুর জীবাণু বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। সরকার সেই পরামর্শও সব কটি শোনেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২০০০ সালের পর থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে অস্থায়ী ভিত্তিতে, সমস্যার আপাত সমাধান করতে। তাদের কাজে কোনো সমন্বয় নেই। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু এখন সারা দেশের রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে ডেঙ্গু মূলত ঢাকা শহরের রোগ ছিল। চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় শহরে অতীতে কিছু ডেঙ্গু রোগী দেখা গেছে। কিন্তু গত বছর দেশের ৫০টির বেশি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছিল। এ বছর ডেঙ্গুর মৌসুম এখনো শুরু হয়নি, এরই মধ্যে ৪৪টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রোগীরা। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গুর জীবাণু ও জীবাণু বাহক মশা সারা দেশেই আছে। ডেঙ্গু এখন সারা দেশের মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভয়ংকর চেহারায় ডেঙ্গু

০১ জুন ২৩, সমকাল

দুই বছর আগে ২০২১ সালের মে মাসে সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ৪৩ জন। গত বছরের মে মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৬৩। এই বছরের মে মাসে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬। সরকারি পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, কতটা আগ্রাসী চেহারায় রয়েছে এবারের ডেঙ্গু। আতঙ্কের বিষয়– গত বছরের চেয়ে এবার ছয় গুণ গতিতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব বেশি। মে মাসের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় জ্যামিতিক হারে রোগী বাড়ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উড়ন্ত এডিস মশা নিধনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে অধিকাংশ হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় রয়ে গেছে অব্যবস্থাপনা। এখনও অনেক হাসপাতালে প্রস্তুতিই নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীকে হাসপাতালের শয্যায় মশারির ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিলেও চিকিৎসাধীন ৯০ শতাংশ রোগী থাকছেন মশারি ছাড়াই। এতে হাসপাতালের অন্য রোগীর মধ্যে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এছাড়া সব হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ইউনিটও করা হয়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। দ্রুতই হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, গড়ে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ দিন। তবে হাসপাতালে গত বছরের মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গু চিকিৎসার বাড়তি খরচ মেটাতে বেকায়দায় পড়ছেন নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর (গতকাল পর্যন্ত) ২ হাজার ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মে মাসেই ১০৩৬ জন। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৯৮৬ জন। সে হিসাবে গত চার মাসের চেয়ে মে মাসেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার যাত্রাবাড়ীতে এবং রাজধানীর বাইরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল জোড়াতালি দিয়ে চালুর চেষ্টা

০৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা দিতে ‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ উদ্বোধনের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ বিশেষায়িত এই হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা তো দূরের কথা, একজন রোগীও ভর্তি করতে পারেনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিএসএমএমইউ সূত্র জানিয়েছে, বিশেষায়িত এই হাসপাতাল চালু করার জন্য মে মাসে উচ্চপর্যায়ের অন্তত চারটি সভা হয়েছে। হাসপাতালের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে। ১ জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতাল চালু করতে বলা হয়েছে। এখন চাপে পড়ে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালটি চালুর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগের বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক ও সি ব্লকের উত্তর এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পশ্চিম দিকে।

অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ খরচ হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ঋণ। ৩৩৮ কোটি টাকা সরকারের সহায়তা এবং বাকি ১৭৫ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন।

বিএসএমএমইউতে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি রোগী এর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। দেড় হাজার শয্যার হাসপাতালে ৪৬টি বিষয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হয়। এত বড় আয়োজন থাকার পরও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ আছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রযুক্তিনির্ভর অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবার যে কথা শোনানো হয়েছিল, বর্তমান বিএসএমএমইউর প্রশাসন তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

দক্ষতার ঘাটতি নিয়েই চিকিৎসক

২৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

২৫ মে সকাল নয়টায় রাজশাহীর শাহ্ মখদুম মেডিকেল কলেজে গিয়ে এর অধ্যক্ষকে পাওয়া যায়নি। কলেজে বেলা একটা পর্যন্ত কোনো শিক্ষক আসেননি, কোনো শিক্ষার্থীও চোখে পড়েনি। পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এটি একটি মেডিকেল কলেজ। আছে শুধু সাইনবোর্ড।

মেডিকেল কলেজটি রাজশাহী মহানগরের খড়খড়ি এলাকায়। কলেজের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা এই প্রতিবেদককে বলেন, দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলতে হলে সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৯ বছর আগে ২০১৪ সালে বেসরকারি এই মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কলেজটির কার্যক্রম একাধিকবার স্থগিত করেছে। কর্তৃপক্ষ আদালতের অনুমতি নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি অব্যাহত রাখে। তবে এ পর্যন্ত এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে কলেজে শিক্ষার্থী আছেন ৪০ জন।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে নিয়মনীতির মধ্যে আনা হচ্ছে। যারা কথা শুনছে না, এমন ছয়টিকে বন্ধ করেছি। কলেজ পরিচালনার নীতিমালা তৈরি হয়েছে।

অধ্যাপক মো. টিটো মিয়া, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

দেশে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৭৭টি। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শাহ্ মখদুমসহ ছয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেয়নি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এই তালিকায় অন্য মেডিকেল কলেজগুলো হলো ঢাকার কেয়ার, নর্দান, আইচি ও নাইটিঙ্গেল এবং রংপুরের নর্দান মেডিকেল কলেজ। এই প্রতিবেদক রাজশাহীর শাহ্‌ মখদুম ছাড়াও তালিকার বাইরে থাকা খুলনা শহরে দুটি এবং ঢাকার তিনটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ঘুরে দেখেছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। হাতে-কলমে শিক্ষারও ঘাটতি রয়েছে।

ঢাকার ১৯ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা

২৮ জুন ২৩, সমকাল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় এমন লার্ভা পাওয়া গেছে প্রায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িতে। অর্থাৎ, রাজধানীর ১৯ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা আছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বছরে তিনবার মশা জরিপ করে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার বর্ষাকালীন মশা জরিপে রাজধানীর এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে সারাদেশেই ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়বে।

জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে পানি জমে থাকা ঘর বা ভবনের মেঝে, প্লাস্টিকের ড্রাম বা প্লাস্টিকের নানা ধরনের পরিত্যক্ত পাত্রে। এর মধ্যে ডিএসসিসির ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ডিএনডিসি এলাকার ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিত্যক্ত পাত্রে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ১৮ থেকে ২৫ জুন উভয় সিটিতে এ জরিপ হয়। উভয় সিটি করপোরেশনের ২ হাজার ৫১১টি বাড়ি পরিদর্শন করেন জরিপকারীরা।

ছয় মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড শনাক্ত ৮২৪৮

০২ জুলাই ২৩, সমকাল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এত মৃত্যু আগে কখনও দেখা যায়নি। এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিন, এপ্রিলে দুই, মে মাসে দুই এবং গত মাসে ৩৪ জনের প্রাণ গেছে। করোনা মহামারিকালে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১ হাজার ১১১ জনের। ওই বছর জুনে প্রথম ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বছর শেষে ২৮১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ডেঙ্গুতে এটি এক বছরে দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ১০০ জন আক্রান্ত হন। তবে প্রথম ছয় মাসে কেউ মারা যাননি। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২০৮। মারা গিয়েছিলেন সাতজন।

এবার ডেঙ্গু ভয়ানক রূপ নিতে পারে

০৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০১৯ সালে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক্‌-বর্ষা জরিপের তথ্য বলছে, এবারের পরিস্থিতি ২০১৯ সালের চেয়েও কয়েক গুণ খারাপ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার ঘনত্ব এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থলের সংখ্যা সর্বোচ্চ। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৫টিই ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০১৯ সালে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ড ছিল ২১টি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রাক্‌-বর্ষা জরিপ অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সব এলাকাতেই ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপস্থিতি বেশি। এবার ডেঙ্গুর মৌসুম গত বছরের মতো দীর্ঘ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সিটি করপোরেশনের জোরালো কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসী সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক রূপ নিতে পারে।

৮৬১% রোগীর চিকিৎসা দেন ওঝারা

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

পাটখেতে কাজ করার সময় গত ৩ জুলাই রাজবাড়ীর কৃষক জাহিদ প্রামানিককে সাপে কামড়ায়। প্রথমে তিনি চিকিৎসার জন্য পাংশা সদর হাসপাতালে যান। সাপের বিষের চিকিৎসা না থাকায় তিনি বাসে চড়ে কুষ্টিয়ায় যান এবং সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তাঁর প্রাণরক্ষা হয়।

এর কিছুদিন আগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক যুবক সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাননি। কারণ, হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ অ্যান্টিভেনাম ছিল না।

দেশে প্রায় প্রতিদিনই সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছেন মানুষ। গ্রামে এসব ঘটনা বেশি। তবে উপজেলা পর্যায়ে সব হাসপাতালে এসব রোগীর ওষুধ নেই। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গবেষকেরা বলছেন, সাপের কামড়ের ৬১ শতাংশ রোগী চিকিৎসা নেন ওঝাদের কাছ থেকে।

ওষুধের আনুপাতিক ব্যয়ে সবার ওপরে কি বাংলাদেশ

জুলাই ০৮, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে স্বাস্থ্যসেবায় যে অর্থ ব্যয় হয় তার প্রায় অর্ধেকই যাচ্ছে ওষুধে। গত কয়েক দশকে এ ব্যয় কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বর্তমানে এ ব্যয়ের হার ৪৪ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে খরচের ১০০ টাকার মধ্যে ৪৪ টাকাই ওষুধের পেছনে ব্যয় হচ্ছে। এ খরচের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ওষুধের খরচে বৈশ্বিক গড় ব্যয় ১৫ শতাংশ। সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণে দেশে এ ব্যয় বেশি। এতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির বাড়তি ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার) বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআইএর তথ্যমতে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়ে ওষুধের খরচ সবচেয়ে কম যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে মোট স্বাস্থ্যসেবার খরচের মাত্র ৯ শতাংশ ওষুধে ব্যয় হয়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কানাডা। দেশটিতে এ হার ১০ শতাংশ। অন্য দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলে ১৩ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় ১৪ শতাংশ, ফ্রান্সে ১৫ শতাংশ, ইতালি, জাপান ও জার্মানিতে ১৭ শতাংশ, স্পেনে ১৮ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ শতাংশ ওষুধের পেছনে খরচ হয়।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপালেও স্বাস্থ্য ব্যয়ে ওষুধের খরচ বাংলাদেশের তুলনায় কম। এ দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং গবেষণা থেকে জানা যায়, ভারতে ওষুধে ব্যয়ের হার ২৭ শতাংশ, নেপালে ২৬ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৩০ শতাংশের কিছু বেশি।

তবে দেশে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৪৪ শতাংশই ওষুধে খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। গত জানুয়ারিতে ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্ট প্রকাশ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এ প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০২০ সালের হিসাবে দেখা যায়, সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার বার্ষিক স্বাস্থ্য ব্যয়ে ৭৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ওষুধে ব্যয় হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট ব্যয়ের ৪৪ শতাংশ। এছাড়া ২৩ শতাংশ হাসপাতাল অবকাঠামো, বহির্বিভাগে চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে ১৬ শতাংশ, পরীক্ষায় ৮ শতাংশ, জনস্বাস্থ্যমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৪ শতাংশ, প্রশাসনিক কার্যক্রমে ২ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে ২ শতাংশ।

ডেঙ্গু ছড়িয়েছে দেশের ৬০ জেলায়

১০ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রতিরোধে কার্যকর গুরুত্ব না দেওয়ায় দেশের ৬০ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবার জটিল হচ্ছে। মানুষ একই সঙ্গে ডেঙ্গুর একাধিক ধরনেও আক্রান্ত হচ্ছেন। আর কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি হওয়ায় এবার ডেঙ্গুতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর গত দুই দশকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বছরের জুলাই মাসের শেষে বা আগস্টের শুরু থেকে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু এ বছর জুলাই মাসের শুরু থেকেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে দেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৮। আর গতকাল রোববার (৯ জুলাই) এক দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩৬ জন। এই সংখ্যা এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির দিক থেকে (চলতি বছরে) সর্বোচ্চ।

সব পানিতেই জন্মাচ্ছে এডিস, কামড়ায় রাতেও

০৯ জুলাই ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বদলে গেছে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার গতিপ্রকৃতি। এ মশা শুধু দিনেই নয়, রাতেও কামড়ায়। এমনকি স্বচ্ছ পানির পাশাপাশি এডিস মশা ময়লা পানি ও সমুদ্রের নোনা পানিতেও ডিম পাড়ে এবং জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের গবেষণায় এমন তথ্য এসেছে।

চলতি বছরের মধ্যে গতকাল শনিবার সর্বোচ্চ ৮২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে এবং ২ জন মারা গেছে। এ নিয়ে এ বছর ১২ হাজার ১১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬৭ জন।

গবেষক কবিরুল বাশার শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে আমরা পরিষ্কার পানির কথা জানি। আমি নিজেও এটি সব সময় বলে এসেছি। কিন্তু আমাদের গবেষণায় আমরা পেয়েছি এডিস মশা ড্রেনের ময়লা পানি এমনকি সমুদ্রের নোনা পানিতেও ডিম পাড়ে এবং জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে।

তিনি বলেন, এক সেন্টিমিটার পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও আমরা এডিস মশার বংশবৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছি। ইতঃপূর্বে আমরা জানতাম এডিস মশা শুধু দিনের বেলায়, বিশেষ করে সকালে এবং বিকালে কামড়ায়। কিন্তু আমাদের গবেষণায় সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে?

জুলাই ১৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে চলতি বছর ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের কথা গতকাল জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৪৬ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। এ নিয়ে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শনাক্তকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ২০২৩ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের নিশ্চিতকৃত সংখ্যা ৮৮।

সে অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৫ দশমিক ৪৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরিসংখ্যানে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ বছর বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশি।

বিষয়টিকে চরম উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের ভাষ্যমতে, রোগটির বাহক এডিস মশা এরই মধ্যে আচরণ বদলে ফেলেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর লক্ষণেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হতেও দেখা যাচ্ছে কম। যদিও এর শক সিনড্রোম এখন আরো প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। শনাক্তের আগেই মৃত্যুর ঘটনাও শোনা যাচ্ছে অনেক। আবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও হিসাব প্রকাশ করছে শুধু হাসপাতালে ভর্তিভিত্তিক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) বলেছে, চলতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ২২ লাখ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজারের মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয়। সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া দেশগুলো হলো ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু ও আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ হিসাবে ব্রাজিলে চলতি বছর শনাক্তকৃত ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৬০ রোগীর মধ্যে মারা গেছে ৩৮৭ জন। প্রতি হাজার রোগীর বিপরীতে মৃত্যুহার শূন্য দশমিক ২৫ জন। বলিভিয়ায় শনাক্তকৃত ১ লাখ ২৬ হাজার ১৮২ রোগীর মধ্যে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক্ষেত্রে মৃত্যুহার হাজারে দশমিক ৫৫ জন। পেরুতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৯ রোগীর মধ্যে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৪৩ জন। আর্জেন্টিনায় ৯৯ হাজার ৪৫৬ জনে মারা গেছে ৫৯ জন। হাজারে মৃত্যুহার দশমিক ৫৯ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ পাঁচ গুণ

১৫ জুলাই ২৩, সমকাল

সরকারির চেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসার খরচ দিন-রাতের ফারাক। এডিস মশাবাহিত এ রোগ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে পা রাখলেই খরচাপাতি বাড়ে অন্তত পাঁচ গুণ। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর সাধারণ চিকিৎসায় এক রোগীর খরচ যেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে অন্তত লাখ টাকা। দেশের সর্বোচ্চ মানের বেসরকারি হাসপাতালে এ খরচ গিয়ে ঠেকে ৩ থেকে ৪ লাখে।

একই রোগের চিকিৎসা খরচে এত বড় ব্যবধান অযৌক্তিক মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্রমবর্ধমান বিস্তারের পাশাপাশি চিকিৎসা খরচও উদ্বেগজনক। বিপর্যয়মূলক স্বাস্থ্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি হাসপাতালে তদারকি বাড়ানো দরকার। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সরকারি বা বেসরকারি– যেখানেই ভর্তি থাকুক, ডেঙ্গু রোগীর খরচ বাড়াচ্ছে অ্যাপারেসিস প্লাটিলেট। যাদের প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে যাচ্ছে, তাদের ১ থেকে ৩ ব্যাগ পর্যন্ত প্লাটিলেট নিতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা ১ ব্যাগ প্লাটিলেটের দাম ১৪ হাজার টাকা। বেসরকারিতে যা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ডিএনসিসির নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের লার্ভা, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

জুলাই ১৫, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিজেদের নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আজ শনিবার দুপুরে গাবতলী বেড়িবাঁধ রোডে ডিএনসিসির ক্লিনার্স পল্লী আবাসনের নির্মাণাধীন দুটি ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মার্ক বিল্ডার্স এবং মাইশা কন্সট্রাকশনকে দুটি মামলায় ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্যে গরমিল

১৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যানে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে। আবার কোথাও মৃত্যু বেশি দেখা যাচ্ছে। একইভাবে আক্রান্তের সংখ্যাও কম পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানী ও চট্টগ্রামের চারটি বড় সরকারি হাসপাতালের তথ্য যাচাই করে এটা জানা গেছে।

এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। গতকাল সোমবার এক দিনে আরও ৮ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১৪। এর মধ্যে ৬৬ জন নারী এবং ৪৮ জন পুরুষ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলা করতে হলে সঠিক তথ্য দরকার। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে গরমিল দেখা যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রতিদিন রাজধানীর ২০টি সরকারি হাসপাতাল, ৪২টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা শহরের বাইরের ৭১টি হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য প্রকাশ করে। গতকাল প্রথম আলো মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের প্রকাশ করা তথ্যের মিল নেই।

প্রতিদিন ওই হাসপাতালগুলো নির্দিষ্ট ছকে কন্ট্রোল রুমে ডেঙ্গুর তথ্য পাঠায়। ওই ছকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় নতুন কত রোগী ভর্তি হলো, কতজনের মৃত্যু হলো, কত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলেন এবং কত রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সেই তথ্য থাকে। কন্ট্রোল রুম সব হাসপাতালের তথ্য একত্র করে তা সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমে পাঠায়।

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু একদিনে ১৯ জনের মৃত্যু

জুলাই ২০, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত সংক্রামক এ রোগটি। একদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ১৯ জন, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বাসায় থেকেও চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। অন্যান্য বছরের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য এ রোগে এত মৃত্যুর হার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল ১৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ১৭ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪৬। চলতি মাসের ১৮ দিনেই প্রাণ হারিয়েছে ৯৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো হাসপাতালভিত্তিক ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এডিস মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরো ১ হাজার ৭৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৯২। তাদের মধ্যে জুলাইয়ের ১৮ দিনে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৮১৪ জন। নতুন রোগীদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ৯২২ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭০ জন ভর্তি হয়েছে। আর মারা যাওয়া ১৯ জন রোগীর মধ্যে ১৭ জনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। বর্তমানে ৫ হাজার ৫৫২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে রাজধানীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আর সারা দেশে অন্যান্য হাসপাতালে সোয়া দুই হাজার রোগী।

৯৯ শতাংশ হাসপাতাল হিসাবের বাইরে

২৩ জুলাই ২৩, সমকাল

প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসাব দিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেটি পূর্ণাঙ্গ নয়। সরকারি-বেসরকারি মিলে মোট হাসপাতালের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর তথ্য প্রকাশ করছে সরকারি এ সংস্থাটি। বাকি ৯৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আংশিক ওই তথ্যকে পূর্ণাঙ্গ ধরে প্রকাশ করা অনৈতিক। এতে রোগ নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়। এরকম লুকোচুরিতে গোপনে মহামারিও দেখা দিতে পারে। এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ মহামারি পর্যায়ে রয়েছে। পরিস্থিতি এবং আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এবার সর্বোচ্চ হতে পারে। তবে বিপুল সংখ্যক হাসপাতাল ও হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগী ও মৃত্যু হিসাব না থাকায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

করোনা মহামারির সময় জরুরি উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি স্থানীয় অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্যও মানুষ জানতে পারত। এবার ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ৭০টি হাসপাতালে তথ্যে গত এক দিনে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত রেকর্ড ২২৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ২৩ বছরে এক দিনে এই বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সব মিলিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৮৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হন ১৮ হাজার ৮৮৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ১১ হাজার ৮০০ জন। শুধু জুলাইয়ের ২১ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৭০৭ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ১১ জন মারা গেছেন। তাতে এডিস মশাবাহিত রোগে এ বছর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৭ জনে। তাদের মধ্যে ১২০ জনের মৃত্যুই হয়েছে জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সারাদেশে সরকার-বেসরকারি ৫ হাজার ২৭৫টি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২০টি সরকারি ও ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী তথ্য সরকারিভাবে দেওয়া হয়। এর বাইরে ৫ হাজার ২০৫টি হাসপাতাল রয়েছে। এমনকি অনেক রোগী আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে, যার তথ্য নেই সরকারের কাছে। দেশে ৪২৪ উপজেলা, ৬৪ জেলা ও বিশেষায়িত পর্যায়ের মেডিকেল ৩০টিসহ মোট ৫৭৭ সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাসপাতালের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৪ হাজার ৬৯৮টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৫০টি তথ্য আসছে।

রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী থাকে এর অন্তত পাঁচগুণ বেশি পাওয়া যায় ওই এলাকায়। বৈজ্ঞানিক উপায়ে হাসপাতাল এলাকা অর্থাৎ ওই শহর বা গ্রামে জরিপ করলে দেখা যাবে, ১০ রোগী ভর্তি হলেও বাস্তবিক অর্থে চিকিৎসার বাইরে রয়েছে ৫০ জন। এ পদ্ধতিতে এনসেফালাইটিসের (জীবাণুঘটিত মস্তিষ্কের প্রদাহ) বেলায় জরিপ করা হয়েছিল।

মশা মারতে ১২২ কোটি টাকা ব্যয় করবে ঢাকা উত্তর সিটি

২৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মশা নিধনে এবার প্রায় ১২২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, যন্ত্রপাতি কেনা, ডেঙ্গু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচারকাজে এই টাকা ব্যয় করা হবে।

আজ সোমবার দুপুরে গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনের ষষ্ঠ তলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরাদ্দের এ বিষয়টি জানানো হয়। ডিএনসিসির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটির গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ বাবদ মোট ১১১ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী এ খাতে ব্যয় হয় ৭৪ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী এ খাতে ব্যয়ের তুলনায় এবারের বরাদ্দ প্রায় দেড়গুণ বেশি।

শিক্ষা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গরিবই রয়ে গেল

০৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পুরান ঢাকার অভিজাত এলাকা ওয়ারী। সেখানকার লালমোহন সাহা স্ট্রিটে সুউচ্চ ভবনের ফাঁকে একতলা একটি ঘর। ছাউনি টিনের, দেয়াল পাকা। তারই মধ্যে একটি সাইনবোর্ডে লেখা—‘মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৫৭ ’।

 সম্প্রতি বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, মোটামুটি ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি মাত্র কক্ষ। পুরো ঘরজুড়ে জীর্ণতার ছাপ। একপাশে একটি চেয়ার ও ছোট একটি টেবিল পেতে প্রধান শিক্ষকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি জায়গায় ১০ থেকে ১২টি বেঞ্চ রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য। সেখানেই চলছে পাঠদান।

 ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন, তার একটি মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিগত ৫০ বছরে ওয়ারীর একতলা ঘরগুলো ভেঙে বহুতল ভবন হয়েছে, শিক্ষা খাতে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে, কিন্তু মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি।

 বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০। শিক্ষক রয়েছেন ৩ জন। এ বিদ্যালয়ে ওয়ারীর নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুরা পড়ে। শিক্ষকেরা জানান, শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে স্কুলের মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এমনকি শৌচাগারও (টয়লেট) ছিল না। বছরখানেক আগে শিক্ষকেরা নিজস্ব উদ্যোগ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি শৌচাগার নির্মাণ করেন। বিদ্যালয়টিতে কোনো দপ্তরি নেই।

শিক্ষকেরা আরও জানান, বিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে সরকারের কাছ থেকে বেতন পান। আর বছরে ৫০ হাজারের মতো সরকারি বরাদ্দ আসে, যা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ করা হয়।

২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন তৈরি করা হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যদিও সেই প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রুমা চৌধুরী (গত ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়েছেন) প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীতে এমন দুরবস্থার মধ্যে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে, সেটা ভাবাই যায় না।

শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অভাব দেখি না। তবে এসব বিষয় যাঁদের দেখভাল করার কথা, যাঁরা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বে আছেন, তাঁরা সেটি ঠিকমতো করছেন না।

রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর দুরবস্থার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ মুসলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত তিন মাসে এটিসহ ঢাকার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য—এক. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নগরের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা পড়ে। দুই. বিদ্যালয়গুলোতে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরি, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া নেই। ব্যবস্থাপনা কমিটি বা স্থানীয়দের অনুদানে সামান্য বেতনে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে এ ধরনের কর্মী রাখা হয়েছে। তিন. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মলিন ও অপরিচ্ছন্ন। চার. শিক্ষার মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। পাঁচ. সহশিক্ষা কার্যক্রম নেই বললেই চলে। ছয়. বেশ কিছু বিদ্যালয়ের জমি ও অবকাঠামো বেদখল।

এই প্রতিবেদক যে ৪০টি বিদ্যালয়ে গেছেন, তা বাছাই করা হয়েছে এভাবে যে, প্রথমে প্রতিবেদক চারটি বিদ্যালয়ে গেছেন। এরপর সেখান থেকে তথ্য পেয়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মাঠ না থাকা, জমি বেদখলে থাকা বিদ্যালয় খুঁজে বের করা হয়েছে। পাশাপাশি দেখা হয়েছে বিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ ও শিক্ষাদানের পরিস্থিতি। দেখা গেছে, ৪০ টির মধ্যে ৩০টি বিদ্যালয়ে কোনো মাঠ নেই। তিনটিতে কাগজে-কলমে মাঠ আছে, তবে তা বেদখল। শিক্ষা কর্মকর্তাদের হিসাবে, ঢাকায় ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাঠ নেই ২৫২ টির।

সরেজমিনে ২১টি বিদ্যালয়ের জমি ও ভবন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে দখল অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর বাইরে আরও চারটি বিদ্যালয়ের ভবন ও জমি বেদখল বলে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে তিনটি বিদ্যালয়ে।

বাংলা বর্ণ চেনে না তৃতীয় শ্রেণীর অর্ধেক শিক্ষার্থী

মে ২২, ২০২৩, বণিক বার্তা

পাঠ্যক্রম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর প্রাক-প্রাথমিকেই বাংলা বর্ণমালা ও গণিতের ১ থেকে ২০ পর্যন্ত শিখে ফেলার কথা। অথচ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া অনেক শিক্ষার্থীরই বাংলা বর্ণ ও গণিতের সংখ্যা চিনতে সমস্যা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কভিডে দুই বছর স্কুল বন্ধ থাকার পর প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অবস্থা এখন কোন অবস্থায় রয়েছে, তা জানতেই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

কভিড মহামারী শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় দেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হয়েছে বলে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে পুরো একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ে যায় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা যখন স্কুল বন্ধ থাকে, তখন শিশুরা শেখার ও বেড়ে ওঠার সবচেয়ে বড় সুযোগটি হারায়। সেটিই প্রকাশ পেয়েছে বিআইডিএসের গবেষণায়। দেশের ৩৩৯টি উপজেলায় গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালনা করে সংস্থাটি। এর মধ্যে গ্রামীণ, শহুরে, চর ও উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকার ২০ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্য থেকে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১ হাজার ৬৪৪টিকে বাছাই করা হয়। যেখানে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল গ্রামাঞ্চলের এবং ৭ দশমিক ৩ শতাংশ শহরের বিদ্যালয়। এছাড়া চর ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যালয় ছিল ১১ দশমিক ২ শতাংশ এবং পাহাড়ি এলাকার ৯ দশমিক ১ শতাংশ। একই পদ্ধতিতে এসব বিদ্যালয় থেকে নির্বাচন করা হয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৬২ হাজার ৭০৩ শিক্ষার্থীকে, যারা কভিডের সময় অটো পাস নিয়ে ওপরের শ্রেণীতে উঠেছে। বাংলা ও গণিতে দক্ষতার ওপর তাদের মূল্যায়ন করা হয়।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘৬৪ জেলার ৬২ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর জরিপটি চালানো হয়। এটা অনেক বড় একটি গবেষণা। তাতে দেখা গেছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীই জটিল (কমপ্লেক্স) বাক্য ও শব্দ পড়তে পারে না। এটা আমাদের শিক্ষার সংকটকে নির্দেশ করে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতে হলে আমাদের শিক্ষার এ সংকট দূর করতে হবে।’

সহজ ও কঠিন শব্দ পড়তে পারে কিনা তা যাচাই করা হয় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ওপর। এ মূল্যায়নে ৩১ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মোট তিনটি শব্দ দেয়া হয়, তার মধ্যে একটি ছিল কঠিন বর্ণ দিয়ে গঠিত। তবে একটি শব্দও পড়তে পারেনি চতুর্থ শ্রেণীর ২ হাজার ২১৭ শিক্ষার্থী (৭ শতাংশ)। তিনটি শব্দের মধ্যে মাত্র একটি পড়তে পেরেছে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ১৬৮ শিক্ষার্থী। মাত্র দুটি শব্দ পড়তে পেরেছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ বা ১৯ হাজার ১৪২ শিক্ষার্থী সব শব্দ পড়তে পেরেছে।

কঠিন বানানের তিনটি শব্দও দেয়া হয় তাদের। যেখানে একটিও পড়তে পারেনি এমন শিক্ষার্থীর হার ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। একটি শব্দ পড়তে পেরেছে কেবল ১৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৩৯৩ শিক্ষার্থী। দুটি শব্দ পড়তে পারে কেবল ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। সব বানানই পড়তে পারে এমন শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিআইডিএসের কভিড-পরবর্তী প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে করা বিশেষ গবেষণায় তৃতীয় শ্রেণীর ৩১ হাজার ৫৮ এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৩১ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থীকে পুরো একটি লেখা পড়তে দেয়া হয়। তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরো লেখাটা একেবারেই পড়তে পারেনি ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ১১ হাজার ৩৯৭ জন। আবার পড়তে পেরেছে কিন্তু জড়তা আছে এবং বিরাম চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে না, এমন শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া সাবলীলভাবে লেখাটা পড়তে পারে এবং বিরাম চিহ্নের যথাযথ ব্যবহার করতে পেরেছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। একই পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরো লেখাটা একেবারেই পড়তে পারেনি ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বা ৯ হাজার ৫৬০ শিক্ষার্থী।

তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা গণিতের বিভিন্ন নম্বর চিনতে ও যোগ করতে পারে কিনা তার ওপরও মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে কোনো নম্বরই চিনতে পারে না এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮৪ জন বা ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। এক্ষেত্রে ছেলেদের (১ হাজার ৬৫৫ জন) চেয়ে মেয়েদেরই (২ হাজার ৪২৯) অংকে কাঁচা মনে হয়েছে। তিনটির একটি নম্বরও চিনতে পারেনি এ রকম শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। তিনটির মধ্যে দুটি নম্বর চিনতে পারে এমন শিক্ষার্থী ছিল ১৯ দশমিক ২ শতাংশ বা ৫ হাজার ৯৭০ জন। এছাড়া সব নম্বরই চিনতে পেরেছে ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী।

এসব শিক্ষার্থীকে দুই ধরনের যোগ করতেও দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এক ধরনের যোগের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো উত্তর দেয়নি এবং ভুল করেছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী। আরেক ধরনের যোগের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো উত্তরই দেয়নি এবং ভুল করেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তাদের ভাগ করতে দেয়া হলে ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তরই দেয়নি। আবার উত্তর দিলেও ১৮ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী ভুল করেছে।

দারিদ্র্য-বাল্যবিয়ের কারণে মাধ্যমিক শিক্ষায় ধাক্কা

২৮ মে ২৩, সমকাল

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত ২১ মে পর্যন্ত অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। যদিও পরীক্ষার বিষয় ও পত্রভেদে এ সংখ্যা কমবেশি হয়।

৩৮ হাজার অনুপস্থিত সারাদেশে একযোগে গত ৩০ এপ্রিল মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। ১১ শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৬৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২১ হাজার ১৯৭ এবং ছাত্রী ১০ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। ৩৮ হাজার অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে, ১১ হাজার ৩৮৩ জন।

বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে অনুপস্থিতির হার এবার চোখে পড়ার মতো। ১৪ মে অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে ১১ হাজার ৬০৯ জন পরীক্ষায় বসেনি। এই তিন বিষয়ে অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ১৬ মে রসায়ন বিষয়ে গরহাজির ছিল ১৫ হাজার ৪৭২ জন। এই হার মোট পরীক্ষার্থীর ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। ১৯ মে অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞান পরীক্ষায়  ৫ হাজার ৮০০ জন অনুপস্থিত ছিল। সর্বশেষ ২১ মে বিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় সারাদেশে ১৬ হাজার ১৫২ জন অনুপস্থিত ছিল।

অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনুপস্থিতর এই সংখ্যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। করোনার আগে ২০১৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৮ হাজার ৫২০ জন। ২০১৮ সালে  ৯ হাজার ৬৪২, ২০১৯ সালে ১০ হাজার ৩৮৭, ২০২০ সালে ১২ হাজার ৯৩৭, ২০২১ সালে ১৮ হাজার ৮২০ এবং ২০২২ সালে ৩৫ হাজার ৮৬৫। আর এ বছর ৩৮ হাজার অনুপস্থিতি ধরলে ২০১৭ সালের চেয়ে তা পাঁচ গুণের কাছাকাছি।

কেন ঝরে পড়া বাড়ছে

পরীক্ষায় কেন শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বাড়ছে? এই উদ্বেগজনক প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে সমকাল। দারিদ্র্য আর বাল্যবিয়ের কারণেই মূলত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা থেকে দূরে থাকছে। অসুস্থতা ও পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কারণে অনুপস্থিতির ঘটনাও আছে। এ ছাড়া খুব সামান্য কিছু শিক্ষার্থী কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণেও পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে আর উপস্থিত থাকছে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশনের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালে করোনার মধ্যে দেশের অর্ধেকের বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে ৪৭ হাজারের বেশি ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়ে যায়। আর শিশুশ্রমে যুক্ত হয় প্রায় ৭৮ হাজার শিক্ষার্থী। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মাউশি সে সময় দেশের ২০ হাজারের মধ্যে ১১ হাজার ৬৭৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি-২০২৩ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাল্যবিয়ের হারে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে। প্রতিবেদনে বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগেই ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে বেতন–ফিতে বিস্তর ফারাক

০৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীর মাসে বেতন ১ হাজার ৪৫০ টাকা। এই বিদ্যালয় থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত মতিঝিল কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ে একই শ্রেণিতে বেতন ৪০০ টাকা। দুটি বিদ্যালয়ই এমপিওভুক্ত। শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পান। অবশ্য দুটি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এমপিওভুক্ত নন। অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের আয়ে বেতন পান।

আবার কাছাকাছি দূরত্বের মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মাসে বেতন মাত্র ৪ টাকা। আবার কাছের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনন্যা কিন্ডারগার্টেনে কেজি শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীর মাসে বেতন দেড় হাজার টাকা।

বেতনের বাইরেও নানা অজুহাতে ‘ফি’ নেওয়া হয়। তবে শুধু এই চারটি বিদ্যালয় নয়, সারা দেশেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর বেতনসহ নানা ফিতে বিস্তর ফারাক দেখা যায়। সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয় বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো করে বেতন-ফি ঠিক করে। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঠিকমতো পড়াশোনা না হওয়ায় কোচিং-প্রাইভেটেও খরচ করতে হয় অভিভাবকদের।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে ব্যয়ের ৭১ শতাংশই পরিবারকে বহন করতে হয়। এর মধ্যে কোচিং-প্রাইভেটের খরচও দিন দিন বাড়ছে। এনজিও বিদ্যালয়ে ফি সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তিন গুণ আর বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনে ৯ গুণ বেশি।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেতন ও ফির বিষয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা দরকার। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো মাধ্যমিক পর্যন্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও এমপিওভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা গেলে এই বৈষম্য দূর করা যেত।

স্কুলে অভুক্ত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষতি

০৮ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর তুরাগে বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর দ্বিতীয় শ্রেণিতে ক্লাস করতে এসেছে ৬৩ জন শিশু। তাদের মধ্যে নাশতা করে এসেছে অর্ধেকের মতো। ২৯ জন জানাল, তারা খেয়ে আসেনি। কেউ কেউ বাসা থেকে নাশতা এনেছে। কেউ নিয়ে এসেছে টাকা, কিছু কিনে খাবে। অনেকেই আবার জানাল, স্কুল শেষে বাসায় ফিরে তারা সকালের নাশতা করবে।

কথা হলো প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও। ৫০টি শিশুর মধ্যে ২৪ জন না খেয়ে এসেছে ক্লাসে। এদেরও অনেকে বাসায় ফিরে খাবে।

বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রতিবেদক গিয়েছিল গত ১৬ মে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হলো পাঠদানের বিরতিতে, শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে। তাদের মধ্যে বাড়ি ফিরে নাশতা করার দলে ছিল শারমিন আক্তার নামের একটি শিশু। সকাল সাড়ে ১০টায় তার ক্লাস শেষ হলো। শারমিনের সঙ্গে প্রতিবেদক তাদের বাড়িতে গিয়েছিল পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখে আসার জন্য।

পাঁচ বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা

গত ১৬, ১৭ ও ১৮ মে এ রকম পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এই প্রতিবেদক—তুরাগের বাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাইলজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুলশানের ছোলমাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালাচাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহজাদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কথা বলেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে। তাতেই জানা গেল, শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশ না খেয়ে ক্লাসে আসে। পাঁচটি বিদ্যালয়ই আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর–বাস্তবায়িত ‘দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ছিল।

প্রকল্পটির আওতায় শিশুশিক্ষার্থীদের ৭৫ গ্রাম করে ফর্টিফায়েড বিস্কুট (১০টি) দেওয়া হতো। এ বিস্কুট একেকটি শিশুকে প্রতিদিন ৩৩৮ কিলোক্যালরি করে শক্তি জুগিয়েছে। ২১ বছর ধরে চলা সেই কার্যক্রম গত বছরের জুনে বন্ধ হয়ে যায়।

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি ২০১৯’ অনুসারে, প্রাক্‌-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদার (ক্যালরি) ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্কুল মিল থেকে আসার কথা। শিক্ষকেরা বলেছেন, যখন বিস্কুট দেওয়া হতো, তখন দরিদ্র এই শিশুদের বাড়ি থেকে নাশতা আনার দরকার পড়ত না। বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও ছিল কম।

স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দরিদ্র শিশুদের ভর্তি, উপস্থিতি ও শিক্ষাচক্র সমাপ্ত করার হার বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও শিক্ষার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে। প্রকল্পটি সর্বশেষ বাস্তবায়িত হচ্ছিল ৩৫ জেলার ১০৪ উপজেলায়। ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২ লাখ ৩১ হাজার শিশুশিক্ষার্থী এ প্রকল্পের আওতায় পুষ্টিকর বিস্কুট পেত।

দেশে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। সেগুলোতে ১ কোটি ৩৩ লাখ শিক্ষার্থী পড়ছে। সরকার বলছে, সীমিতসংখ্যক স্কুলে নতুন করে কার্যক্রমটি আবার শুরু হবে, তবে ব্যাপক পরিসরে শুরু করার পরিকল্পনা নেই।

বাংলাদেশে শিক্ষায় বরাদ্দ ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, দ. এশিয়ায় সবার নিচে

জুন ১৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিক্ষাখাতে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ ইউনেস্কোর, যা প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কম দেওয়ার কারণে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জিডিপির শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে গড় ব্যয় ছিল ৪১টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে পঞ্চম সর্বনিম্ন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই হ্রাসের প্রবণতায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে শিক্ষাখাতে বাজেট সবচেয়ে কম।’

‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর আরও অর্থনৈতিক দক্ষতা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে শিক্ষার যে মান, সেই অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা পাব না।’

২০০৯-১০ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট প্রথম বাজেট পেশ করার পর থেকে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার শিক্ষাখাতে জিডিপির সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে। এরপর থেকে গত ৭ বছরে এই বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে কমেছে এবং ক্ষমতাসীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এটি একেবারে তলানিতে পৌঁছেছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় সব পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই আমাদের উন্নত-সমৃদ্ধ-স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। সুতরাং আমরা শিক্ষার্থীদের প্রধানত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত আসন্ন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং এগিয়ে যেতে সক্ষম করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিভিত্তিক, দক্ষতা বৃদ্ধিকারী ও সৃজনশীলতা-সহায়ক শিক্ষা প্রদান করা, যা তাদের মধ্যে সেবা প্রদানের চেতনা জাগিয়ে তুলবে।’

তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, কীভাবে এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি তারা।

ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শিক্ষা আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের দাবির কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।’

‘শিক্ষাখাতে বাজেট হতাশাজনক। বাজেট বক্তৃতা চমৎকারভাবে তৈরি করা হয়েছে, সবকিছু সেখানে রয়েছে। এতে স্মার্ট নাগরিক, মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি ও শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এগুলো নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনাই বক্তৃতায় অনুপস্থিত।’

সিপিডি ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক উপস্থাপনায় বলেছে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩৫টি স্বল্পোন্নত দেশ গড়ে তাদের জিডিপির ২ শতাংশ বা তার বেশি শিক্ষাখাতে ব্যয় করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গড় শিক্ষা ব্যয় ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৮ শতাংশ। শুধু সোমালিয়া দশমিক ২ শতাংশ, হাইতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ, দক্ষিণ সুদান ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে।

সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র আফ্রিকার দেশ, যা সংঘাতে বিপর্যস্ত। এসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্যাংভিত্তিক সহিংসতা ক্যারিবিয়ান দেশ হাইতিকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে, যা ফলে দেশটিতে কলেরার পুনরুত্থান ও চরম মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ, কঙ্গো ও উগান্ডা ২ দশমিক ২ শতাংশ, চাদ ২ দশমিক ৫ শতাংশ, কম্বোডিয়া ২ দশমিক ৬ শতাংশ, রুয়ান্ডা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, সেনেগাল ও ইথিওপিয়া ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং সিয়েরা লিওন ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করে শিক্ষাখাতে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জিডিপির শতাংশ হিসেবে বাংলাদেশের গড় শিক্ষা ব্যয় আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম।

তাদের তথ্যে আরও দেখা যায়, ভুটান ২০২১ সালে জিডিপির ৭ শতাংশ, ভারত ২০২০ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, পাকিস্তান ২০২১ সালে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, মালদ্বীপ ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, নেপাল ২০২০ সালে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২০১৯ সালে ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আফগানিস্তান ২০১৯ সালে ২ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যয় করেছে শিক্ষাখাতে।

২৭% প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ, বৃষ্টি হলেই পানি ঝরে ১৯% শ্রেণীকক্ষে

জুলাই ০৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

দেশের সব শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সম্প্রসারণের মূল কার্যক্রম হিসেবে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)’ বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এতে অর্থায়ন করে ১০টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ১৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে ব্যয় করা হচ্ছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা। তবে এখনো ২৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ। দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে গেছে, দরজা ভাঙা। ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় ১৯ শতাংশ শ্রেণীকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ, বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। এমনকি ২৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে নলকূপ নেই কিংবা থাকলেও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সরকারের প্রকল্প মনিটরিংয়ের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সমীক্ষায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

পিইডিপি-৩ প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দু’দফায় সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ে। এ প্রকল্পে আর্থিক ব্যয় ৯২ ও অবকাঠামো বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ শতাংশ। এর মাধ্যমে নতুন করে ৩৯ হাজার শ্রেণীকক্ষ ও নলকূপ স্থাপন করা হয়। ৩১ হাজারের বেশি টয়লেট মেরামত এবং সাড়ে ২৮ হাজার ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ নানামুখী কাজ করা হয় প্রকল্পটির মাধ্যমে।

প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে আইএমইডির সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়গুলোর কোনোটায় মেঝেতে গর্ত, লাইট-ফ্যান থাকলেও নষ্ট, কোনোটায় আবার অল্প বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ১৩ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ নেই। একই সংখ্যক বিদ্যালয়ে নলকূপ থাকলেও ব্যবহার অযোগ্য কিংবা নষ্ট। সমীক্ষায় ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের শ্রেণীকক্ষ নিয়ে নানা সমস্যার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশের মতেই শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণীকক্ষ ছোট। তাই সবার বসার জায়গা হয় না। ফ্যান না থাকায় গরমে কষ্ট হয় বলে জানিয়েছে ১৪ শতাংশ খুদে শিক্ষার্থী। এমনকি প্রায় ১১ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে শ্রেণীকক্ষে বিদ্যুৎ নেই। ১৯ শতাংশ বিদ্যালয় ভবনের ছাদে ফাটল থাকায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে বলে অভিযোগ। আর ১০ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো কমন রুম নেই। ২৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট নেই। টয়লেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হয় বলে জানিয়েছে ১১ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৯ শতাংশই আবার বিদ্যালয়ের টয়লেট সবসময় খোলা না থাকার কথা জানিয়েছে। আর ব্যবহার উপযোগী নয় মনে করে ১১ শতাংশ খুদে শিক্ষার্থী। অপরিষ্কার থাকায় টয়লেটে যেতে খারাপ লাগার কথা জানিয়েছে ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু সরকারি ব্যয় ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা

০৬ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী প্রতি সরকারের বছরে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব‌্যয় হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দলের মোজাফ্ফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ‌্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে (কোন অর্থ বছর সেটা উল্লেখ করা হয়নি) ক‌্যাডেট কলেজগুলোর সরকারি বরাদ্দ ছিল ১৯৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বর্তমানে ক‌্যাডেট কলেজগুলোতে ৩ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সেই অনুযায়ী ক‌্যাডেট কলেজগুলোতে অধ‌্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের মাথাপিছু বার্ষিক সরকারি ব‌্যয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩ টাকা।

মন্ত্রী জানান, মাধ‌্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ হতে সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব‌্যয় সংক্রান্ত বরাদ্দ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয় বিধায় সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব‌্যয় পৃথকভাবে প্রদর্শন করা হয় না।

মন্ত্রীর তথ‌্য অনুযায়ী উচ্চ মাধ‌্যমিক স্তরে শিক্ষার্থী প্রতি সরকারের বার্ষিক খরচ ৫০ হাজার ৫১২ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ স্তরের ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। পোস্ট সেকেন্ডারি নন টারশিয়ারি স্তরে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে সরকারের বরাদ্দ ৭০৭ কোটি টাকা। শিক্ষার্থী প্রতি বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৮৯ টাকা। টারশিয়ারি স্তরে ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে সরকারের বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৭৮ টাকা।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধাওয়া পুলিশের

১৮ জুলাই, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তা দখল করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। তবে গত দুদিন শিক্ষকদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার বেলা ১টার দিকে শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। যদিও পরে আবার শিক্ষকরা তাদের আগের জায়গায় ফিরে আসেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, গতকাল তারা সপ্তম দিনের মতো শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু বেলা ১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। তারা মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের পক্ষে তাদের দাবি তুলে ধরেন। মহাপরিচালক তাদের ক্লাসে ফিরে যেতে বললে তারা দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ ছাড়বেন না বলে জানান।

পরিবেশ

ঢাকায় শব্দদূষণের সময় বেড়ে যাচ্ছে

২৭ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

‘শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতক, আসুন শব্দদূষণ বন্ধে সকলে আমরা সচেতন ভূমিকা রাখি’—পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট খুললেই আজ বুধবার এ কথাগুলো ভেসে উঠছে। আজ আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস। আর এ জন্যই এই প্রচারণা। তবে বাস্তবতা হলো রাজধানীর শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছে। এই নীরব ঘাতক রোধ হচ্ছে না। এর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগও তেমন নেই। আগে রাজধানীতে গড়ে ১২ ঘণ্টা সময় ধরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় শব্দদূষণ হতো। এখন তা ১৪ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেখভালকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান হলো পরিবেশ অধিদপ্তর। তারাও রাজধানীতে দূষণের বিস্তৃতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানে। আর এ বিস্তৃতি রোধে গবেষণাও এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধনের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

ক্যাপস গত জানুয়ারি মাসে ঢাকার দুই সিটির করপোরেশনের সড়কের মোট ৮২টি সংযোগস্থানের শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৩৭টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকায় ৪৫টি স্থান। গবেষণায় তাইওয়ানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় শব্দের মাত্রা পরিমাপক যন্ত্র অটোমেটিক সাউন্ড লেভেল মিটার ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

গবেষণায় কী পাওয়া গেল

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী, ঢাকার জন্য দিনের বেলায় শব্দের আদর্শ মান (সর্বোচ্চ সীমা) ৬০ ডেসিবেল। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শব্দের তীব্রতা মানমাত্রা ছাড়িয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে সাধারণভাবে শব্দের গ্রহণযোগ্য মানমাত্রার থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ২ গুণ বেশি শব্দ পাওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ৭৬ দশমিক ৮০ ডেসিবেল। যে তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে সর্বোচ্চ মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো নিউমার্কেট মোড়, নয়া পল্টন মোড় এবং প্রেসক্লাব মোড়। সেখানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ১০০ দশমিক ৬৫ ডেসিবেল, ৯২ দশমিক ২২ ডেসিবেল এবং ৯০ দশমিক শূন্য ৩ ডেসিবেল। দক্ষিণ সিটির সড়কের সংযোগস্থলে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া জায়গাগুলো হলো আবুল হোটেল মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় এবং জিরো পয়েন্ট মোড়। এই তিন এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৭৮ দশমিক ২৭ ডেসিবেল, ৭৭ দশমিক ৯২ ডেসিবেল এবং ৭৭ দশমিক ৬০ ডেসিবেল।

গবেষণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ৮০ দশমিক ৫৬ ডেসিবেল। যে তিনটি সড়কের সংযোগস্থলে সর্বোচ্চ মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে, সেগুলো হলো মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড়, শিয়া মসজিদ মোড় এবং মাসকট প্লাজা মোড়। এসব স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৯৯ দশমিক ৭৭ ডেসিবেল, ৯৩ দশমিক শূন্য ৫ ডেসিবেল এবং ৯০ দশমিক ২৭ ডেসিবেল। উত্তর সিটির যেসব সড়কের সংযোগস্থলে অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার শব্দদূষণ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো মিরপুর বেড়িবাঁধ মোড়, রবীন্দ্র সরণি মোড় এবং গুলশান-২ মোড়। এসব স্থানে শব্দদূষণের মাত্রা যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৮৬ ডেসিবেল, ৭৫ দশমিক ২৫ ডেসিবেল এবং ৭৬ দশমিক শূন্য ১ ডেসিবেল।

ঢাকায় শব্দদূষণের ক্ষেত্রে যেসব উৎসের কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো সাধারণত যানবাহন চলাচলের শব্দ (হর্ন, ইঞ্জিন, চাকার ঘর্ষণ ও কম্পনের শব্দ), নির্মাণকাজ যেমন ইট ও পাথর ভাঙার মেশিন ও টাইলস কাটার মেশিন থেকে শব্দ, ভবন ভাঙার শব্দ, কলকারখানার শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের মাইকিংয়ের শব্দ।

উন্নয়নের করাতে বৃক্ষহীন হচ্ছে ঢাকা

০৩ মে ২৩, সমকাল

রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ এলাকার সড়কদ্বীপ উন্নয়নের নামে শুরু হয় গাছ কাটা। এর প্রতিবাদে গত ৩০ জানুয়ারি আন্দোলনে নামেন এলাকাবাসী। এর পর কেটে গেছে তিন মাস। গত সোমবার হঠাৎ একই এলাকায় আবার শুরু হয় গাছ কাটা, তবে এবার গভীর রাতে। রাত পৌনে ২টায় এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে জড়ো হন স্থানীয়রা। ছুটে আসে পুলিশও, বন্ধ হয় গাছ কাটা। তবে এর আগেই কেটে ফেলা হয় শতাধিক গাছ।

শুধু সাতমসজিদ রোড নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নের নামে এভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে সবুজ। প্রকল্পের পর প্রকল্পের করাতে কাটা পড়েছে বৃক্ষরাজি। আর উধাও হয়ে যাচ্ছে গাছের ছায়া। খাতা-কলমে একটি কাটলে তিনটি গাছ লাগানোর কথা। তবে রাজধানীতে কোথায়, কত বিকল্প গাছ লাগানো হয়েছে– তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। তাপদাহ যখন ঢাকাকে পোড়াচ্ছে, ঠিক তখন গাছ কাটার বিষয়টি নগরবাসীর মনে দাগ কেটেছে। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে। ধানমন্ডিতে বৃক্ষ ধ্বংস নগর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রায় ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ পায় অনিকা এন্টারপ্রাইজ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া প্রকল্পের কার্যাদেশের কোথাও গাছ কাটার কথা উল্লেখ নেই। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি গত জানুয়ারিতে ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে গাছ কাটা শুরু করে। আগের বিভাজক ভেঙে নতুন বিভাজকের জন্য ঢালাই দেওয়া হয়। সরেজমিন দেখা যায়, সাতমসজিদ রোড থেকে জিগাতলার পিলখানা গেট পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তখন ‘সাতমসজিদ রোড গাছ রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে এলাকাবাসী নানা কর্মসূচি পালন করেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত সোমবার গভীর রাতে আবার শুরু হয় গাছ কাটা।

উৎসমুখ খনন না করায় ব্রহ্মপুত্রে জেগেছে চর

০৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

খননকাজ শুরুর চার বছরেও নাব্যতা ফেরেনি ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদে। উল্টো নদের বুকে ছোট ছোট চর জেগে উঠেছে। শুষ্ক মৌসুমে হেঁটেই পার হওয়া যায় নদ। নাগরিক সমাজের অভিযোগ, খননকাজ পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে না। যমুনা নদীর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের সংযোগস্থল বা উৎসমুখ খনন না করায় প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

খননের নামে ব্রহ্মপুত্রকে মেরে ফেলা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার নদের বুকে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান ময়মনসিংহ শহর ও কয়েকটি উপজেলা থেকে আসা তরুণ–তরুণীরা। ‘মৃতের চিৎকার’ শিরোনামে প্রতীকী ওই কর্মসূচিতে তাঁরা বিষাদের গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান।

সর্বশেষ গত শনিবার ‘জনউদ্যোগ’ নামের একটি নাগরিক সংগঠন নদের বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করে খননকাজের অসংগতি অনুসন্ধান করে। পরে প্রতিকার চেয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা।

সংরক্ষিত বনের মাটি চুরি

১০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সবুজ গাছগাছালির ঘন এক বন। আঞ্চলিক সড়ক থেকে সে বনের গাছপালার ফাঁক গলে চলে গেছে কাঁচা রাস্তা। রাস্তা ধরে ২০০ মিটার বনভূমি পার হলেই চমকে ওঠার মতো দৃশ্য। বনের ভেতর প্রায় ৫ বিঘায় ৩০ ফুট গভীর দুটি খাদ। সেখান থেকে বনভূমির মাটি কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ দৃশ্য গাজীপুরে বন বিভাগের শ্রীপুর রেঞ্জের আওতাধীন সদর বিটের গাজিয়ারন এলাকার সংরক্ষিত বনে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গোসিংগা-শ্রীপুর সড়কের গাজিয়ারন এলাকায় বন বিভাগের একটি কংক্রিটের ফলক স্থাপন করা হয়েছে। ফলকে সেখানকার বনভূমি ও বনায়নের কিছু তথ্য লেখা আছে।

ফলক ঘেঁষে বনের ভেতর চলে গেছে একটি কাঁচা নিচু সড়ক। সড়কটিতে বড় ট্রাক চলাচলের ছাপ স্পষ্ট। ওই সড়ক ধরে উত্তর দিকে বনের ভেতর অল্প দূরে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল একটি খাদ। এটির আয়তন অন্তত আড়াই বিঘা। এ খাদের গড় গভীরতা কমপক্ষে ২৫ ফুট।

খাদে রয়েছে শাল, গজারিসহ বিভিন্ন গাছপালা। খাদ দেখে মনে হয়েছে, এটি অতিসম্প্রতি খনন করা হয়েছে। ওই খাদের চারপাশের গাছের গোড়া থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে গাছগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক সড়ক থেকে নেমে আসা কাঁচা সড়কটি খাদের পাশ দিয়ে আরও কিছু দূরে উত্তর দিকে চলে গেছে। ওই সড়ক ধরে ১০০ মিটারের মতো উত্তরে গিয়ে চমকে উঠতে হয়। সেখানে বনের ভেতর গাছপালার গোড়া থেকে আরও বেশি গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গভীরতা কমপক্ষে ৩০ ফুট। এসব খাদের আশপাশে কোনো জনবসতি নেই। ফলে খাদ দুটির জায়গাটি একদমই নির্জন‌।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীপুরের কর্ণপুর, গাজিয়ারন, বিন্দুবাড়ি, কাওরাইদ, মাওনাসহ বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটা হচ্ছে বহু বছর ধরে। একটি বড় চক্র এসব মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। মাটিগুলো কেটে ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে দূরদূরান্তের ইটভাটা ও সিরামিক কারখানায় সরবরাহ করা হয়। এসব মাটির সবচেয়ে বড় ক্রেতা বিভিন্ন ইটভাটা। এ ছাড়া শিল্পকারখানা ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের জন্য নিচু জমি ভরাটের ক্ষেত্রেও বনের মাটি কেটে সরবরাহ করা হয়।

বনের ভেতর থেকে কারা কীভাবে মাটি কেটে নিচ্ছেন, এ বিষয়ে জানতে গোসিংগা, কর্ণপুর ও শ্রীপুর সদর এলাকার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, গভীর রাতে বন থেকে এসব মাটি কাটা হয়। ভোররাত পর্যন্ত বন থেকে ট্রাকের পর ট্রাক মাটি নিয়ে বের হয়।

স্থানীয় লোকজন বলেন, বন ও বিভিন্ন ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে বেশ কয়েকটি চক্র কাজ করে। প্রভাবশালী এসব চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে বন বিভাগের অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া এসব চক্র ক্ষমতাসীন দলের কারও কারও প্রভাবকে কাজে লাগায়।

হাতিরঝিল ভরাট করে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

১০ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা

রাজধানীর হারিয়ে যাওয়া কয়েকশ পুকুর ও জলাধারের মধ্যে টিকে থাকা অন্যতম জলাধার হাতিরঝিলের কারওয়ান বাজারের অংশ ভরাট করছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে এ অংশের ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন পর্যন্ত ভরাট করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ অংশের কাজ নিয়ে আলোচনা ওঠার পরে তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। সোমবারের পর থেকে আর ভরাট করা হচ্ছে না।

তারা জানায়, হাতিরঝিলের এ অংশের পিলার তুলতে লেকের একটি অংশ ভরাট করা হবে। কাজ শেষে ভরাট করা বালু সরিয়ে নেওয়া হবে।

পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুগে লেকে মাটি না ফেলেও পিলারের কাজ করা যায়। এভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে জলাধার ভরাট করতে পারে না সরকারি সংস্থা। কাজ শেষে খালি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানে না সংস্থাগুলো।

দিনে মাত্র ৯৮৯ টাকা পেতে বাহাদুর শাহ পার্ক ‘ধ্বংস’

১৩ মে ২০২৩, প্রথম আলো

পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশবাদীদের তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদের পরও বাহাদুর শাহ পার্কের ভেতর থেকে খাবারের দোকান সরেনি। দৈনিক মাত্র ৯৮৯ টাকা ভাড়ায় গত অক্টোবর থেকে ঐতিহাসিক এই পার্কে খাবারের দোকান বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ওই দোকানকে কেন্দ্র করে পার্কের ভেতরে রাতে আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এতে পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাখির আনাগোনা কমে গেছে।

দোকান বসানোর কারণে এই পার্কের সবুজ চত্বরে নিজের মতো হাঁটা বা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। দোকান বসানোর কারণে পার্কের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ জায়গা কার্যত ইজারাদারের দখলে চলে গেছে। পার্কের ভেতরে ‘ফুড ভ্যান’ বা খাবারের দোকান বসানোর ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের শর্ত ছিল, এটি এমনভাবে স্থাপন করতে হবে, যাতে যেকোনো সময় তা স্থানান্তর করা যায়। তবে ইজারাদার শর্ত না মেনে পার্কের ভেতরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করেছেন। এ নিয়ে নানা মহল থেকে আপত্তি তোলা হলেও সিটি করপোরেশন ইজারাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হাতিরঝিলের ক্ষতি হবেই

১৪ মে ২৩, সমকাল

হাতিরঝিলের একাংশ মাটি ভরাট করেই হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৪১ পিয়ার (খুঁটি) নির্মাণ। তেজগাঁও এফডিসি রেলগেট থেকে পলাশীমুখী ভায়াডাক্টের (উড়াল সড়ক) র‍্যাম্পের জন্য সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে লেকের পাড়ে খুঁটি নির্মাণ করা হবে। এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্মাণকাজ শেষে লেক পুনঃখনন করা হবে। তবে নকশা সমন্বয়কারী বিশেষজ্ঞই বলেছেন, তাতেও ক্ষতি হবে হাতিরঝিলের।

২০০৮ সালে হাতিরঝিলের নির্মাণকাজ শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ৩০২ একর আয়তনের দৃষ্টিনন্দন এই ঝিলটি পরিত্যক্ত এবং বেদখল অবস্থায় ছিল। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিলের উদ্বোধন করেন। তবে এরও দুই বছর আগে ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বিমানবন্দর থেকে বিদ্যমান রেললাইন বরাবর কমলাপুর স্টেশন হয়ে চিটাগং রোডের কুতুবখালী পর্যন্ত উড়াল সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এটিই দেশের প্রথম পিপিপি প্রকল্প।

পাহাড়-গাছপালা সাবাড়, এবার বাঁচাবে কে

১৩ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

১৯৭০ সালে ভোলার মনপুরায় আঘাত হেনেছিল প্রলয়ঙ্ককরী ঘূর্ণিঝড়। এতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ওই সময় ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা না থাকায় লন্ডভন্ড হয়েছিল মনপুরা। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, বুলবুল, ফণিসহ এক ডজনের বেশি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করেছে সুন্দরবন। এতে উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে আঘাত হানতে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোখার বেলায় নেই সুন্দরবনের মতো প্রাকৃতিক রক্ষাকবজ। যদিও এক সময় নাফ নদীর পাড়ে অবস্থিত টেকনাফ উপজেলা ছিল সবুজ ঘন বনবেষ্টিত পাহাড়ি এলাকা। কিন্তু কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবাসনের ব্যবস্থায় কাটা হয়েছে টেকনাফের অগণিত পাহাড়। ধ্বংস করা হয়েছে ঘন গাছপালাসমৃদ্ধ বনাঞ্চল।

গবেষক ও প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মীরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা থেকে কক্সবাজার উপকূলের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করার আর কোনো উপায় নেই। কারণ এরই মধ্যে এ অঞ্চলের ৭৫ শতাংশ সবুজ প্রাকৃতিক বেষ্টনী ধ্বংস হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের তাণ্ডব ও একই সঙ্গে ধেয়ে আসা ১০-১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে পারে টেকনাফ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। বর্তমানে টেকনাফে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার চিংড়ির হ্যাচারি ও লবণের ঘের, যেগুলো জলোচ্ছ্বাসে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে লবণপানিতে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা তীব্র সুপেয় পানির সংকটে পড়বেন।

কক্সবাজারের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, টেকনাফে রোহিঙ্গা ও সেন্টমার্টিনে অপরিকল্পিত পর্যটনের কারণে প্রাকৃতিক বন ও পাহাড় এখন একেবারেই নেই। তবে মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া যে পাহাড় আছে, সেটি কিছুটা রক্ষা করতে পারে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা। ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হলে সেখানে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন বিপন্ন হতে পারে। এ ছাড়া অস্থায়ী ঘরবাড়িগুলো বাতাসের বেগে ধ্বংস হতে পারে। সেন্টমার্টিনে এরই মধ্যে খাবার পানি নষ্ট হয়ে গেছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং জাতীয় উদ্যানে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। এতে এ বন ধ্বংস হয়ে গেছে।

বালু তোলায় ঝুঁকিতে স্থাপনা, ইজারা বাতিলের দাবি

১৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে ঘিওর সরকারি কলেজের পাশে ধলেশ্বরী নদী বালুমহাল ঘোষণা করা হয়েছে। এই বালুমহালের আশপাশে রয়েছে আরও অনেক স্থাপনা। সম্প্রতি তোলা ছবিপ্রথম আলো

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সদরে ধলেশ্বরী নদী থেকে দেদার বালু তোলা হচ্ছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি খাদ্যগুদাম, শত বছরের পুরোনো হাটবাজার, মহাশ্মশানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এমন পরিস্থিতিতে বালুমহাল ইজারা বাতিল এবং অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাসিন্দা ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলা সদরে ঘিওর-কুস্তা-চর বাইলজুরী বালুমহাল ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের দেওয়া সম্ভাব্য ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৪ টাকা। উদ্ধৃত দরমূল্য ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বালুমহালটি ইজারা পায় মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর স্বত্বাধিকারী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি যন্ত্র (ভেকু) দিয়ে বালু তুলে তা ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করছেন।

বনাঞ্চল ধ্বংস-ঝিরির পাথর উত্তোলনসহ অপরিকল্পিত উন্নয়নে’ পাহাড়ে তীব্র পানির সংকট

১৮ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বান্দরবান-রুমা-চিম্বুক-নীলগিরি-থানচি সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের এলাকার প্রায় ৯০টি ম্রোপাড়ায়।

সম্প্রতি বিভিন্ন পাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, সব পানির উৎস প্রায় শুকিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় ঝিরির একেবারে শেষ মাথায় পাথরের গর্তে অল্প পানি জমে আছে। সেখান থেকেই ম্রো পাড়ার নারীরা পানি সংগ্রহ করছেন।

জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ম্রোলং পাড়া। এই পাড়ায় বসবাস করা বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের নার্সিং শিক্ষার্থী চামলে ম্রো দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কাকড়া ঝিরি থেকে পানি আনতে আসা-যাওয়ায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। দুই এক মগ পানি নেওয়ার পর আবার ৮-১০ মিনিট পানি জমার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। বয়স্ক নারীরা রাত ২-৩টার সময়ও পানি আনতে যান। পানি অনেক কম থাকায় একসঙ্গে সবাই গেলে পানি আনতে পারেন না। তাই প্রতিবার ২ জন পানি আনতে যেতে হয়।’

ম্রো লং পাড়ার ৬০ বছরের ম্রো নারী হাই প্লেম ম্রো বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পাড়ার নারীদের অন্যান্য কাজ বাদ দিয়ে শুধু নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতেই অধিকাংশ সময় দিতে হয়। বর্তমানে ম্রোলং পাড়ায় ২৬টি পরিবার থাকে। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত, অর্থাৎ বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমরা পানির  তীব্র সংকটে থাকি।’

রাংকোইসা ম্রো (৭১) বলেন, ‘পানির অভাব থাকায় শুষ্ক মৌসুমের ২-৩ মাস নিয়মিত গোসল করা যায় না। যারা কাজে যায়, তারা যেখানে পানি পায় সেখানেই গোসল করে বাড়িতে ফেরে। কোথাও পানি না পেলে সারা দিন পরিশ্রমের পর ঘামে ভেজা শরীর নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা জুমের কাজে যাওয়ার সময় বাড়িতে থাকা ময়লা কাপড় সঙ্গে নিয়ে যান। যেখানেই সামান্য পানি পান, সেখানেই কাপড় ধুয়ে নেন। এইভাবে চলে শুষ্ক মৌসুমে ম্রো পাড়াবাসীর জীবন।’

‘এই অবস্থা চলতে থাকলে পানির সংকটের কারণে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

রেনিক্ষ্যং বাগান পাড়ার ৩৮টি ম্রো পরিবারের একমাত্র পানির উৎস বিউসনা ঝিরি। সেখানে একটি এনজিও পক্ষ থেকে জিফএস পদ্ধতিতে পাড়ায় পানি সরবরাহ করা হয়েছে। জিএফএস পাইপের পানি বর্ষায় পাওয়া গেলেও মার্চ থেকে মে পর্যন্ত পাওয়া যায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পাড়ায় তীব্র পানি সংকট থাকে বলে জানান কনইয়াং ম্রো।

একই পরিস্থিতি ক্রামাদি পাড়ার ৪৪টি পরিবারের।

পাকু ম্রো বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগেও এই চিম্বুক পাহাড়ে পানির জন্য এতো হাহাকার ছিল না। রাস্তা ভালো হয়েছে, কিন্তু রাস্তা হওয়ার পর ক্ষমতা আর টাকার মালিকরা ইচ্ছে মতো বনের গাছ কেটে, ইটভাটার জন্য লাকড়ি কেটে সব উজাড় করছে। ঝিরি আর ঝর্ণাগুলো থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করায় পানির সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ে একদিকে প্রচণ্ড গরম পড়ছে, তেমনি বৃষ্টির পরিমাণও কমে গেছে। সব মিলিয়ে পাহাড়ে চরম পানির সংকট তৈরি হয়েছে।’

ক্রামাদি পাড়ার তুমপিয় ম্রো জানান, কেউ একবার পানি আনার পর ৩ ঘণ্টা পর আরেকজন পানি নিতে পারেন। ফলে, ঝিরি থেকে পানি নিতে যাওয়ার আগে পাড়ায় জিজ্ঞাসা করে নেন, সর্বশেষ কতক্ষণ আগে কেউ পানি এনেছেন।

লেখক ও গবেষক ইয়াং ঙান ম্রো বলেন, ‘বনাঞ্চল ধ্বংস, ঝিড়ির পাথর উত্তোলন করে পানির উৎস ধ্বংস করার কারণে প্রতি বছর চিম্বুক এলাকার প্রায় ৯০টি পাড়ার ম্রো সম্প্রদায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে থাকেন। দুর্গম এলাকার অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের লোকজন পানির সংকটে থাকেন। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত চিম্বুক এলাকাসহ দুর্গম পাড়াগুলো বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫-১০ বছরের মধ্য শুধু পানির অভাবে ম্রো জনগোষ্ঠী চিম্বুক-নীলগিরি এলাকা থেকে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে।’

শতকোটির প্রকল্প নিয়ে বিপদে ওসমানী উদ্যান

১৯ মে ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে মানুষের স্বস্তিদায়ক উন্মুক্ত জায়গা ওসমানী উদ্যান। তবে ‘গোস্বা নিবারণী পার্ক’ নাম দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে ছয় বছর ধরে এ উদ্যানে আর উন্মুক্ত পরিবেশ পাচ্ছে না নগরবাসী। এখানে-ওখানে গাছ কেটে, রড-সিমেন্টের অর্ধেক স্থাপনা তৈরি করে অবিন্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলা হয়েছে এ উদ্যানকে।

এদিকে যে লক্ষ্য সামনে রেখে উদ্যানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, ১০০ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ওসমানী উদ্যান তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য হারাবে। প্রকৃতপক্ষে কোটি টাকা খরচ করে ঐতিহাসিক এ উদ্যানকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

কংক্রিট স্থাপনা কতটুকু

২০২১ সালে ঢাকার পার্ক-উদ্যানের নকশা নিয়ে একটি সমীক্ষা করে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এতে বলা হয়, ওসমানী উদ্যানের নকশায় ৫২ ভাগ কংক্রিট রাখা হয়েছে। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, পাবলিক পার্ক ও খোলা পরিসরে শতকরা ৫ ভাগের বেশি জায়গায় অবকাঠামো তৈরির সুযোগ নেই।

তবে এ পরিসংখ্যান সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন পার্কটির নকশাপ্রণেতা স্থপতি রফিক আজম। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘পার্কের মধ্যে যত কংক্রিটের স্থাপনা রয়েছে, তা ৫ শতাংশের বেশি হবে না। যারা এসব বলছেন, তারা সঠিক বলছেন না। আমার কাছে নকশা রয়েছে, কেউ দেখতে চাইলে, দেখতে পারেন।’

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় নষ্ট হচ্ছে উদ্যান

ওসমানী উদ্যানসহ ঢাকার পার্ক ও খেলার মাঠ নিয়ে ২০১৭ সালে প্রকল্প গ্রহণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আবদ্ধ এ উদ্যান। তবে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতায় এর টিনের বেড়া ভেঙে ফেলা হয়েছে নানা স্থানে। সেসব স্থান দিয়ে আসা-যাওয়া করছে অনেকেই। গত মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিন দেখা গেল, উদ্যানে অনেককেই ঘোরাঘুরি করতে। বেশ কিছু ছেলেমেয়েকে দেখা গেল খেলাধুলা করতে। তবে এলোমেলোভাবে রাখা নির্মাণসামগ্রী ও বড় বড় গর্ত এ উদ্যানের মধ্যে মানুষের চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। পুকুরের ওপর নির্মাণ করা বিশালাকৃতির স্থাপনার বড় বড় রড ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একটু অসাবধান হলেই ঘটতে পারে বড় রকমের বিপদ।

প্রকল্পের গতি-প্রকৃতি

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যানে প্রথমে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হলেও পরে নতুন পরিকল্পনা সংযোজন করে তা বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। এরপর আবারও পানি নিষ্কাশন, ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন প্রক্রিয়া যোগ করা হয়। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে।

প্রায় ২৩ একর এলাকাজুড়ে ওসমানী উদ্যান। সচিবালয়, নগর ভবন, গুলিস্তান, পল্টন ও হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যবর্তী এ স্থানে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ বিশ্রাম নিতেন, ঢাকার বাইরে থেকে আসা অনেকেই এখানে অবসর সময় কাটাতেন। ভাসমান মানুষ ও পথশিশু থেকে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এখানে সময় কাটাতেন। অনেকে শরীর চর্চা করতেন। কিন্তু উন্নয়নকাজের জন্য টিনের বেড়ায় আবদ্ধ করে ফেলা হয় উদ্যানটি। এরপর থেকে সেখানে আর কেউ ঢুকতে পারছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওসমানী উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে বিভক্ত। প্রথম প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত একটি লাইব্রেরি, ফুড কোর্ট-১, ফুড কোর্ট-২, কার পার্কিং প্লেস, জিম, টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড বোর্ড, এটিএম বুথ, ওষুধের দোকান, বিনোদনকেন্দ্র ও নগর জাদুঘর।

দ্বিতীয় প্যাকেজে রয়েছে শিশুদের খেলার জায়গা, ভলিবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, মাঠ উন্নয়ন ও সাব-স্টেশন স্থাপন এবং তৃতীয় প্যাকেজে ওয়াটার পিউরিফিকেশন সিস্টেম, স্বাধীনতা চত্বর ও কফিশপ, স্পিংকেল সিস্টেম, ওয়াটার রিজার্ভার স্থাপন, প্যাডল বোট, বিভিন্ন ভাস্কর্য ও পুরান ঢাকার থ্রিডি স্থাপত্য নকশার মডেল। এ ছাড়া জলাধার, আলাদা আলাদা বসার জোন করার পাশাপাশি বড় স্ক্রিনে নিজের অবস্থান দেখার ব্যবস্থা রাখারও কথা ছিল এ প্রকল্পে। নিরাপত্তার জন্য ৩৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জিম স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ছয় বছরে এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।

নদে ভেসে উঠছে মাছ, ধরতে শত শত মানুষের ভিড়

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফুলজোড় নদের বিভিন্ন অংশে নানা প্রজাতির মরা মাছ ভেসে উঠছে। মরা ও প্রায় মরা এসব মাছ ধরতে নদের দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, নদের উজানে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দুটি শিল্পকারখানার বর্জ্য নদে ফেলায় পানি দূষিত হয়ে গেছে। এ কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কুঁচে, কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জলজ প্রাণী মরে যাচ্ছে। দুই দিন ধরে এ অবস্থা চলছে।

হাওরে সড়ক বানিয়ে পায়ে কুড়াল মেরেছি: পরিকল্পনামন্ত্রী

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

হাওরের মাঝখানে সড়ক নির্মাণ করা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, ‘এখন টের পাচ্ছি, হাওরে সড়ক নির্মাণ করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছি। হাওরে সড়ক বানিয়ে উপকারের চেয়ে অপকারই হয়েছে।’

শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন। ‘পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার’ শিরোনামে সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ সেন্টার ফর হলিস্টিক স্টাডিজ।

সড়কের কারণে হাওরে কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে শনিবার রাতে কথা হয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের কারণে পানির চলাচলের পথ রুদ্ধ হচ্ছে। বর্ষার সময়ে পানি উপচে বাড়িঘরে উঠছে। হাওরের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। হাওরের নিজস্ব প্রজাতির মাছ, গাছ—হিজল, কড়চ, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রাণী-বৃক্ষ ধ্বংস হচ্ছে। হাওরকে হাওর হিসেবেই থাকতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম সড়ক চালু করে সরকার।

উন্নয়ন প্রকল্পে আরো আট এলাকায় গাছ কাটবে ডিএসসিসি

মে ২৩, ২০২৩, বণিক বার্তা

নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর আওতায় ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বিভাজক ভেঙে নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। কেটে ফেলা হয় সড়ক বিভাজকে থাকা ৫৬৩টি গাছ। এ নিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন ধানমন্ডিবাসী ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনে অন্তত আরো আট এলাকায় কাটা পড়বে ছোট-বড় নানা প্রজাতির গাছ। যদিও সেখানে নতুন করে গাছ লাগানোর আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএসসিসি। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্টের (ডিসিএনইউপি) অধীনে সদরঘাটের লালকুঠি, নারিন্দা, খিলগাঁও ও ধোলাইখাল এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রকল্পটির মাধ্যমে দুটি খেলার মাঠ, দুটি কমিউনিটি সেন্টার ও একটি পুকুর আধুনিকায়নে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে নির্মাণ হবে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো। এজন্য ওইসব এলাকায় থাকা বড় অনেক গাছ কাটা পড়বে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

ডিএসসিসির ৮৯৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে কালুনগর, জিরানী, মান্দা ও শ্যামপুর খাল উন্নয়নের কাজও এগোচ্ছে। খালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে কালুনগর খাল ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার, জিরানী খাল ৩ দশমিক ৯, মান্দা খাল ৮ দশমিক ৭ ও শ্যামপুর খাল ৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। প্রকল্পের আওতায় ৩৮ দশমিক শূন্য ৬ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর, ৩৬টি পথচারী সেতু, যানবাহন চলাচলের জন্য ১৯টি সেতু, ১০টি পাবলিক টয়লেট, ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার হাঁটার পথ, চারটি প্লাজা, সাইকেল লেন ও ৭৭১টি লাইট স্থাপন করা হবে। চার খালের এ সংস্কারকাজ করতে গিয়েও আশপাশের গাছ কাটতে হবে।

নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কত দিন লাগবে: হাইকোর্ট

২৮ মে ২০২৩, প্রথম আলো

বরিশালের বানরিপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর (কৃষ্ণকাঠি) সীমানা জরিপ ও নদীর জায়গায় থাকা দখল ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পাঁচ বছর আগে দেওয়া রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

 রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে আদালত বলেছেন, ‘রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে কত দিন লাগবে? ১০০ বছর হলেও হয়তো হবে না।’ বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ মন্তব্য করেন।

 সন্ধ্যা নদী ভরাট করে আবাসন প্রকল্প তৈরি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট করে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। নির্দেশনার মধ্যে সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুসারে একই বছরের ৩১ মের মধ্যে নদীর সীমানা জরিপ করতে ও জরিপ অনুসারে নদীর জায়গায় থাকা স্থাপনা চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করতে বলা হয়।

তিন দশকে ঢাকা উত্তরে ৬৬% সবুজ এলাকা কমেছে: সমীক্ষা

৩০ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

যেকোনো শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পার্ক, খেলার মাঠ এবং শহুরে বনাঞ্চলের মতো সবুজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে এমন সবুজ এলাকার পরিমাণ কমেছে ৬৬ শতাংশ।

১৯৯২ সালে ঢাকার উত্তর অঞ্চলে ৯২.২১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল গাছপালা, যা ২০২২ সালে এসে প্রায় ৬৬ শতাংশ কমে ৩১.৪০ বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। গত ৯ মে মার্কিন-ভিত্তিক জার্নাল পিএলওএস সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনে প্রকাশিত ‘প্রোসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ অ্যাচিভিং সাস্টেইনেবল আরবান গ্রিন স্পেসেস: আ কেস স্টাডি অফ আরবান গ্রিনিং ইন ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

১৯৯২ সালে ঢাকার উত্তরের ১৯৪.২ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪৭ শতাংশই ছিল সবুজ, যা ২০০২ সালে ৩১ শতাংশ, ২০১২ সালে ১৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালে আরও কমে ১৬.১৭ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা উত্তরে ধূসর এলাকা (শহুরে অঞ্চল, যেখানে গাছপালা নেই) ১৯৯২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সময়ে এ অঞ্চলে জলাশয় কমেছে ৩২.৪ শতাংশ।

এছাড়া, ঢাকা উত্তরে গাছ লাগানোর মতো অনুর্বর ভূমি এলাকা ২০১২ সালের প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার থেকে কমে ২০২২ সালে ২.২ বর্গ কিলোমিটারে নেমে এসেছে।

যশোরে কম উচ্চতার ১১ সেতুতে ‘নদী হত্যা’

০৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ভৈরব নদের পর এবার যশোরের আরও সাতটি নদীর ওপর কম উচ্চতার ১১টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুগুলো নিচু হওয়ার কারণে বর্ষায় এসব সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র না নিয়ে সরকারের দুটি প্রতিষ্ঠান সেতুগুলো নির্মাণ করছে।

এর আগে ভৈরব নদের ওপর ৫১টি ‘অপরিকল্পিত’ সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ নিয়ে ২০২১ সালের ১৫ জুলাই প্রথম আলোয় ‘নদের টুঁটি চেপে ধরেছে ৫১টি সেতু-কালভার্ট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এখন যে সাতটি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রে সেতুর উচ্চতা হওয়ার কথা পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ১৬ ফুট, কোনোটির ২৫ ফুট। কিন্তু যে ১১টি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে তার সব কটির উচ্চতা ৪ দশমিক ৫৯ ফুট থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত। সেতুগুলোর মধ্যে ১০টি সেতু নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ডব্লিউবিবিআইপি) আওতায়।

অভ্যন্তরীণ জলপথ ও তীরভূমিতে স্থাপনাদি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী, নৌপথে খুঁটিসহ বৈদ্যুতিক লাইন ও সেতু নির্মাণ করতে হলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে ছাড়পত্র (নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স) নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব সেতু নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর ছাড়পত্র নেয়নি এলজিইডি ও সওজ। বাংলাদেশ নদী কমিশন এবং বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে এসব সেতুর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানানোর পরও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

২৮ বছরে রাজধানীর ২৪ বর্গকিলোমিটার জলাশয় উধাও : বিআইপি

০৩ জুন ২০২৩, প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গত ২৮ বছরে রাজধানী থেকে ২৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের জলাধার উধাও হয়ে গেছে। এ সময়ে প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার সবুজের মৃত্যু হয়েছে। ১৯৯৫ সালে রাজধানীতে জলাধার ও জলাভূমি ছিল ৩০ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২৩ সালে সেটা মাত্র ৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে রাজধানীর মাত্র ২ দশমিক ৯১ শতাংশ জলাধার ও ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ সবুজ রয়েছে। অথচ একটি আদর্শ শহরে ১২ শতাংশ জলাভূমি ও ১৫ শতাংশ এলাকায় সবুজ থাকা প্রয়োজন। 

শনিবার (৩ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৩ উপলক্ষ্যে ‘২৮ বছরে রাজধানীর জলাধার ও সবুজ নিধন, বাস্তবতা ও উত্তরণের পথনকশা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এবং নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ (ইউডিজেএফবি)।

বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

ল্যান্ডসেট স্যাটেলাইট ছবিসহ নানা বিষয় বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ বছরে রাজধানীর সবুজ, জলাধার, জলাভূমি, উন্মুক্তস্থান, গণপরিসর, পতিত জমি সবই ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। কেন্দ্রীয় নগর এলাকায় সবুজের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৭৮ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ১০ দশমিক ৪২ একরে নেমেছে। জলাধার ও জলাভূমি ৩০ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে ৪ দশমিক ২৮ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। ফাঁকা জায়গা ও পতিত জমিও কমেছে।

ঢাকায় জলাধার ও সবুজ উধাওয়ের পথে, পার্ক ছেয়েছে কংক্রিটে: গবেষণা

০৩ জুন ২০২৩, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

জলাধার ভরাট করে ও সবুজ খালি জায়গায় একের পর এক ভবন তৈরির মূল্য দিতে হচ্ছে ঢাকাবাসীকে; কমতে কমতে ২৮ বছরের ব্যবধানে জলাভূমি এসে ঠেকেছে মাত্র ২ দশমিক ৯১ শতাংশে এবং সবুজ এলাকা ৭ দশমিক ৯ শতাংশে।

শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ক এক গবেষণার বরাতে এসব তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৩০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা শহরে ১৯৯৫ সালে ঢাকা শহরে জলাধার ও জলভূমি ছিল নগরীর মোট আয়তনের ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং সবুজ এলাকার পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

ওই সময় ৪৩ দশমিক ৭২ শতাংশ এলাকা নির্মাণের আওতায় এসেছিল, যা এখন বেড়ে হয়েছে ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে খেলার মাঠ দখল করে ক্লাব, বিপণিবিতান, হাটবাজারসহ নানা স্থাপনা এবং জলাভূমি ভরাট করে প্রতিনিয়ত আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করায় সবুজ ও জলাভূমি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে বলে এ গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

এতে বলা হয়, একটি আদর্শ শহরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ জলাভূমি এবং ১৫ শতাংশ সবুজ থাকাটা প্রয়োজন।

রাজধানী ঢাকায় পার্কের উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণও অত্যন্ত বেশি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বনানী পার্ক, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন পার্ক, ওসমানী এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যথাক্রমে ৪২, ৩৭, ৫২ ও ৩৭ শতাংশ এলাকা কংক্রিটে আচ্ছাদিত।

এমন প্রেক্ষাপটে বক্তারা উন্নয়নের নামে জলাশয় ভরাট করা ও সবুজ নষ্ট করে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নেওয়ার সমালোচনা করেন। এ বিষয়ে নিয়ম মেনে চলা ও সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

বন কেটে পাখির জন্য অভয়ারণ্য বানাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন

জুন ৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল বন কেটে পাখিদের জন্য একটা অভয়ারণ্য বানাচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলি এলাকায় বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন কেটে এ অভয়ারণ্য তৈরি করা হচ্ছে। এর জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ৫ হাজার ১২টি গাছ কাটা হয়েছে।

শনিবার সারাদেশে যখন পরিবেশের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হচ্ছিল, তখনই চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গাছ কাটা শুরু করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধ দখলে থাকা বেশ কিছু জমি উদ্ধার করে সেখানে ডিসি পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, যেখানে পাখি ও বন্যপ্রাণীদের আশ্রয়স্থলসহ একটা গ্রিন এরিয়া তৈরি করা হবে।

তার দাবি, জায়গাটি এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জায়গা। আগের অবৈধ দখলদাররা সেখানে বিষ দিয়ে গাছগুলো মেরে ফেলেছিল। সেই মরা গাছ তারা সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

কিন্তু ডেইলি স্টারের হাতে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, তারা যে গাছগুলো কেটে ফেলেছেন, সবগুলো গাছই সজীব ও জীবন্ত ছিল।

গাজীপুরে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ফসলি জমি

জুন ০৭, ২০২৩, বণিক বার্তা

গাজীপুরের কাশিমপুর উপজেলার সারাবো এলাকার আবু বকর, পেশায় একজন কৃষক। জমিতে ফসল ফলিয়েই একসময় চলত তার জীবন-জীবিকা। ধানের পাশাপাশি শীতের মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলাসহ নানা ধরনের সবজিও চাষ করতেন, কিন্তু আশপাশের ডায়িং কারখানার ইটিপিবিহীন কেমিক্যাল ও বর্জ্য মেশানো পানি এসে পড়ছে কৃষিজমিতে। নষ্ট করছে জমির ফসল, পুকুর ও খালের মাছ, শিশুদের খেলার মাঠ। ডায়িং কারখানার এ বিষাক্ত পানিতে আজ যেন ‘কালছে’ হয়ে গেছে আবু বকরের মতো অর্ধশতাধিক কৃষকের স্বপ্নও! অনেকেই কৃষিকাজ হারিয়ে করছেন দিনমজুরি।

পরিবেশ আইন অমান্য করে বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কাশিমপুরের বেশ কয়েকটি ডায়িং কারখানার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের ৪ নং সারদাগঞ্জ ওয়ার্ডের সারাবো এলাকায় স্থানীয় জোড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে বসানো হয়েছে মোটা পাইপলাইন। জিএমএস কম্পোজিট লিমিটেড ও মেগা ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড নামে দুটি কারখানার বিষাক্ত কালো পানি ওই পাইপলাইনে করে ফেলা হচ্ছে সরাসরি কৃষি জমিতে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা কারখানা কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

কৃষক আবু বকর বলেন, ‘আমরা কৃষক মানুষ, আমাদের আয়ের একমাত্র উপার্জন কৃষি। কিন্তু ১০-১২ বছর হলো কারখানাগুলো কেমিক্যালমিশ্রিত পানি সরাসরি আমাদের জমিতে ফেলছে। এ কারণে আর চাষাবাদ করতে পারছি না। বর্তমানে আমি দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছি।’ একই কথা জানান, স্থানীয় কৃষক ফারুখ, আফতাব উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, আবুল হোসেন, নুরুল ইসলামরাও। তাদের জমিতে এক সময় বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ পর্যন্ত ধান হতো বলেও জানান।

কৃষক মমিন বলেন, ‘১০-১২ বছর আগে আমরা বোরো মৌসুমে বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ ধান পেতাম। কিন্তু কারখানার কালো রঙের বর্জ্যপানি ফসলি জমিতে সরাসরি চলে আসায় ফলন কমে যায়। প্রথম কয়েক বছর বিঘাপ্রতি ধান পাওয়া গেছে সাত থেকে আট মণ। লোকসানের কারণে অনেকে চাষাবাদ বন্ধ করে দিয়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনমজুরের কাজ করে কোনোরকম বেঁচে আছেন।’ অনেকেই আবার অন্য পেশার কাজ না জানায় ক্ষতির মুখে বাধ্য হয়ে চাষাবাদই করে যাচ্ছেন বলে জানান এ কৃষক। 

স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি কারখানা থেকে নির্গত কেমিক্যালমিশ্রিত বর্জ্য পানির কারণে নষ্ট হচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বস্ত করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রতিকার হয়নি।’

দুর্গন্ধযুক্ত কাদামাটির আধিক্যে খেতে হালচাষসহ স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। ডা. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রায় ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। কারখানার কেমিক্যালমিশ্রিত বর্জ্যপানির কারণে ১০-১২ বছর ধরে সে জমিতে আর চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এভাবে যদি দিন দিন ফসলি জমি নষ্ট করা হয় তাহলে টাকা দিয়েও আর খাদ্যশস্য মিলবে না।’

এলাকাবাসী জানান, একসময় খালে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এসে এখানে মাছ ধরত। কিন্তু কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালমিশ্রিত পানির কারণে মাছ দূরের কথা, খালে এখন কোনো জলজ প্রাণীও চোখে পড়ে না। এছাড়া কারখানার ঝুট বয়লারের বিষাক্ত ধোঁয়ায় চর্ম ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

হাতিরঝিলে শত শত মরা মাছ

১১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর হাতিরঝিলে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে মাছ মরে ভেসে উঠতে থাকে। আজ রোববার সকালে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পেছনের অংশে মরা এসব তেলাপিয়া  মাছ উঠিয়ে মাটিচাপা দিতে দেখা যায় ঝিলের রক্ষণাবেক্ষণে থাকা কর্মীদের। তাঁরা জানান, গত শুক্রবারের বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পানিতে মাছগুলো মরেছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবছরই ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানীর অন্য এলাকা থেকে আসা পানিতে মাছ মরার ঘটনা ঘটে।

কংক্রিটের চাপে সবুজের টিকে থাকা দায়

২১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী উদ্যানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি কংক্রিট অবকাঠামো থাকতে পারবে না। আর আন্তর্জাতিকভাবে ২ শতাংশও অনুমোদন করে না। কিন্তু চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেটের বিপ্লব উদ্যানের কংক্রিট অবকাঠামোর পরিমাণ অন্তত ৫৫ শতাংশ। কংক্রিটের চাপে কোনোরকমে টিকে আছে সবুজ।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ জালাল মিশুকের নেতৃত্বে করা এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে সহায়তা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কাবিরুল সহিদ। গত মে মাসে এ জরিপ করা হয়।

এ অবস্থায় আবার নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বর্তমানে যে অংশে দোকান রয়েছে, একতলা অংশটি বর্ধিত করে দোতলা করা হবে।

১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম ২ নম্বর গেট গাছগাছালিতে ভরা ২ একরের এই উদ্যান গড়ে তোলা হয়। আশপাশের মানুষের স্বস্তির একটি স্থান এ উদ্যান। অনেকে বিকেলের সময়টুকু কাটান এখানে। সেই স্বস্তি এখন কেড়ে নিচ্ছে কংক্রিটের যন্ত্রণা।

উদ্যানের সবুজ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের নগর–পরিকল্পনাবিদ আবদুল্লাহ আল ওমর। তাঁর মতে, বিপ্লব উদ্যানে কংক্রিটের অবকাঠামোর পরিমাণ ২৫–৩০ শতাংশের বেশি হবে। অবশ্য এই পরিমাণও গ্রহণযোগ্য নয়। আরও কম থাকা দরকার ছিল। একজন নগর–পরিকল্পনাবিদ হিসেবে মনে করেন, এভাবে স্থাপনা করতে দেওয়া উচিত হয়নি।

সবুজের প্রাণ যায় যায়

উদ্যানটি রক্ষণাবেক্ষণ করত সিটি করপোরেশন। ২০১৮ সালে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রি ফর্ম লিমিটেড ও স্টাইল লিভিং আর্কিটেক্টস লিমিটেড নামে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ইজারা দিয়ে দেয় সংস্থাটি। এ জন্য বছরে রাজস্ব ধরা হয় মাত্র এক লাখ টাকা।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজারা পেয়ে বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করতে দেরি করেনি। এতে উদ্যানের মূল চরিত্রই পাল্টে গেছে। এখন উদ্যানের মূল অংশে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান। একটি-দুটি নয়, এক সারিতেই আছে ১৯টি দোকান। উদ্যানের বড় অংশজুড়ে রয়েছে এসব দোকান ও দোকানে আসা ক্রেতাদের জন্য বসার আসন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের বড় অংশজুড়ে মানুষের যাওয়ার সুযোগ নেই। সেখানে বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। শুধু হাঁটার পথগুলো খোলা। সেগুলোও কংক্রিটের তৈরি। সবুজের চিহ্ন নেই। উদ্যানে থাকা চারটি বড় গাছও মরে গেছে। এ ছাড়া হাঁটাপথের পাশে একটু পরপর বসার আসন রাখা হয়েছে। দোকানগুলোর সামনের অংশ ঢালাই করা। এর মধ্যে এক সারিতে বসার আসন। উদ্যানের মাঝখানে রয়েছে পানির ফোয়ারা। নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ময়লা হয়ে আছে পানি।

একসময় বিপ্লব উদ্যানে হাঁটতে আসতেন নগরের আলফালাহ গলির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী সৈয়দ সগীর (৭৮)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আগে উদ্যানের পরিবেশ ছিল নিরিবিলি। স্বস্তিতে হাঁটা যেত। বিশ্রাম নেওয়া যেত। কিন্তু এখন সেখানে প্রচুর দোকান হয়ে গেছে। সারাক্ষণ মানুষের ভিড় লেগে থাকে। নিরিবিলি পরিবেশ আর নেই। উদ্যানের বর্তমান পরিবেশের কারণে সেখানে তাঁদের মতো বৃদ্ধ লোকদের যাওয়ার সুযোগ নেই।

খোলা জায়গা ও পার্কে কংক্রিটের আচ্ছাদন নগরীর জলাবদ্ধতা বাড়িয়েছে

জুলাই ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কার্যালয় (নগর ভবন) ও সচিবালয়ের মাঝে ওসমানী উদ্যানের অবস্থান। প্রায় ২৩ দশমিক ৩৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত উদ্যানটির বেশির ভাগ অংশই অর্থাৎ ৫২ শতাংশ এখন কংক্রিটে ঢাকা। পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বনানী পার্ক, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কগুলোর চিত্রও প্রায় একই। অথচ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কোনো পার্ক বা উদ্যানের ৫ শতাংশের বেশি অংশে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়ার নিয়ম নেই। পার্কের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের নামে রাজধানীর খোলা জায়গাগুলোতেও বসানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কংক্রিট। ফলে অল্প বর্ষণেই তীব্র জলাবদ্ধতায় ভুগতে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই সিটি করপোরেশনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাই নগরে জলাবদ্ধতা বাড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কংক্রিটে ঢেকে ফেলা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ উদ্যান ও খোলা জায়গাগুলো। যদিও দুই সিটি মেয়রের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা গড়ার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে গত ২৮ জুন ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। ১ জুলাই হয়েছে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এতেই তলিয়ে যায় ঢাকার পথঘাট। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা থাকায় অবশ্য ব্যাপক জনভোগান্তি হয়নি। তবে সামনের বর্ষার দিনগুলোয় এমন বৃষ্টি ঝরলে ঠিকই চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে নগরবাসীকে। কেননা জুলাইয়ে সাধারণত ১১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদরা জানান, বৃষ্টির পানি সাধারণত তিনভাবে নিষ্কাশন হয়। এর মধ্যে মাটি কিছু শুষে নেয়। কিছু পানি জলাশয় ও নিচু ভূমিতে গিয়ে জমা হয়। আর বড় একটা অংশ নগরের ড্রেন হয়ে খাল ও নদীতে গিয়ে মেশে। কিন্তু ঢাকায় না আছে পর্যাপ্ত জলাশয়, না আছে শোষণক্ষম ভূমি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আবার যে পরিমাণ খোলা জায়গা ও পার্ক রয়েছে সেগুলোও যদি কংক্রিটে ঢেকে ফেলা হয় তাহলে আগামী দিনগুলোয় অল্প বৃষ্টিপাতেই নগরবাসীকে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় ভুগতে হবে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে আশঙ্কাজনক হারে শোষণক্ষম ভূমি কমছে। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ শতাংশে। অর্থাৎ ২০ বছরের ব্যবধানে শোষণক্ষম ভূমি কমেছে ২৬ শতাংশ। একই সঙ্গে রাজধানীতে কমেছে খোলা জায়গাও। ১৯৯৯ সালে ফাঁকা ভূমি ছিল ১৪ শতাংশ। বর্তমানে সেটি ৪ দশমিক ৬১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। রাজধানীতে ২০ বছরে সবুজ আচ্ছাদিত এলাকা কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বর্তমানে এর পরিমাণ মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশ।

বিআইপির সম্প্রতি প্রকাশিত আরেক গবেষণা বলছে, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্ক ওসমানী উদ্যানের ৫২ শতাংশ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৩৭ শতাংশ, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কের ৩৭ শতাংশ এবং বনানী পার্কের ৪২ শতাংশ কংক্রিটে আচ্ছাদিত। একইভাবে বাহাদুর শাহ পার্কের মতো ঐতিহাসিক পার্কেও গত বছর নতুন করে কংক্রিটের আচ্ছাদন দেয়া হয়েছে, তাও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অনুমোদন নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিনিয়ত রাজধানীর শোষণক্ষম ভূমি এভাবে কংক্রিটে ঢেকে ফেলায় আরো জটিল আকার ধারণ করবে নগরীর জলাবদ্ধতা। ডিএসসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‌‘পর্যাপ্ত জলাশয় ও শোষণক্ষম ভূমি সমস্যার সমাধান না করে রাজধানীবাসীকে কখনই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। ড্রেন ও খাল শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলেও জলাবদ্ধতা থেকেই যাবে। কারণ এসব ড্রেন ও খালের একটি নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে।’ জলাবদ্ধতা বাড়ার জন্য মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সৌন্দর্যের নামে দেদার পার্ক ও উদ্যান কংক্রিটে ঢেকে ফেলাকে দুষেছেন এ কর্মকর্তা।

মিলেমিশে পাহাড় সাবাড়

০৭ জুলাই ২৩, সমকাল

কক্সবাজারের শুকনাছড়ি এলাকায় সড়কের পাশে বড় বড় পাহাড়। ব্রিটিশ আমলে এসব পাহাড়কে ‘সংরক্ষিত বন’ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন’ বনভূমিও রয়েছে। কিন্তু ২০২১ সালে সংরক্ষিত ও সংকটাপন্ন এই এলাকার ৭০০ একর বনভূমি বরাদ্দ দেওয়া হয় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে সেই বরাদ্দ কার্যক্রম।

বন বিভাগ বলছে, বন বিভাগের জমি নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমি অব পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে মাত্র ১ লাখ টাকা প্রতীকী মূল্যে ওই জমি বরাদ্দ দেয়। অথচ জমির প্রকৃত মূল্য ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। একইভাবে, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে খুনিয়াপালং মৌজায় ২০২২ সালের ৪ জুলাই ২৫ একর সংরক্ষিত বন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। সেখানে তৈরি হবে আবাসিক প্রশিক্ষণ একাডেমি। জমি বরাদ্দের সময় আপত্তি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয় বন বিভাগ। ওই চিঠিতে বলা হয়, একাডেমি স্থাপনে সেখানে পাহাড়ের পাশাপাশি কাটা পড়বে প্রায় ৩০ হাজার গাছ। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পরিবেশ।

পানি

লোডশেডিংয়ের মধ্যে ঢাকায় পানিরও সংকট

০৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

রাজধানীর আফতাবনগরের জি ব্লকে দুই দিন ধরে ঢাকা ওয়াসার লাইনে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাসিন্দারা দুই দিন ধরে পাশের বনশ্রী থেকে পানি আনতেন। গতকাল মঙ্গলবার বনশ্রীতেও পানির সংকট দেখা দেয়।

আফতাবনগরের জি ব্লকের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পানিও যদি না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচে কী করে। এখন তো আরও বেশি পানি লাগে। কিন্তু পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

পানিসংকটের এই চিত্র শুধু আফতাবনগরে নয়, রাজধানীর অন্তত ৩৫টি এলাকা থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও ওয়াসার লাইনে চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ওয়াসা গাড়ির মাধ্যমে যে পানি বিক্রি করে, তা–ও চাহিদামতো কিনতে পারছেন না কিছু এলাকার মানুষ।

ঢাকা ওয়াসা বলছে, লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পানির পাম্প চালাতে পারছে না। বিপরীতে প্রচণ্ড গরমের কারণে পানির চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে—দুইয়ে মিলে সংকট তৈরি হয়েছে।

চাহিদা কত, উৎপাদন কত

ঢাকা ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরে প্রতিদিন ২৫৫ থেকে ২৬০ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হয়। ওয়াসা প্রায় ২৮০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে। কিন্তু সরবরাহকালে অপচয় (সিস্টেম লস, যা প্রায় ২০ শতাংশ) এবং পাম্প নষ্ট হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই এলাকাভিত্তিক কিছু সমস্যা তৈরি হয়।

ওয়াসা বলছে, গরমের কারণে এখন পানির চাহিদা বেড়ে দৈনিক ৩০০ কোটি লিটারের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে বেশিসংখ্যক এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার উৎপাদিত পানির প্রায় ৬৭ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বৈদ্যুতিক পাম্পের সাহায্যে গভীর নলকূপ দিয়ে টেনে এই পানি তোলা হয়। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এখন ঢাকা ওয়াসার ১ হাজার ৬১টি পাম্প (স্ট্যান্ডবাইসহ) রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ওয়াসা নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে পাম্পগুলো চালায়। তবে জেনারেটর দিয়ে সব পাম্প চালানোর মতো সক্ষমতা ওয়াসার নেই। অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।

সংস্থাটির একটি সূত্র বলছে, ঢাকা ওয়াসায় এখন সব মিলিয়ে ৪০০টির মতো জেনারেটর আছে।

ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহের ব্যবস্থাটি ১০টি জোন বা অঞ্চলে বিভক্ত। অঞ্চলগুলো থেকে গত সোমবারের সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে, পাঁচটি অঞ্চলে (১, ২, ৩, ৫ ও ১০) বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের কারণে বেশি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এসব অঞ্চলের পাম্পগুলো গত সোমবার মোট ১৫৮ বার বিদ্যুতের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগের দিন এসব অঞ্চলের পাম্প ১৪৯ বার বিদ্যুৎ–বিভ্রাটের শিকার হয়।

পানি উৎপাদনে ঢাকা ওয়াসা ‘কাগুজে বাঘ’

০৯ জুন ২৩, সমকাল

ঢাকা ওয়াসা এত দিন গলা ফাটিয়েছে– চাহিদার চেয়েও তাদের পানির উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। কয়েক দিনের তাপদাহ আর লোডশেডিংয়ের বাড়াবাড়িতেই এখন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানেরও নরম সুর! গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাজধানীবাসীকে এই সময়ে কম পানি ব্যবহারের সবক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন সরাসরি রানিং পানি ব্যবহার না করে পাত্রে নিয়ে ব্যবহার করুন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা কী পরিমাণ বাড়ে, সে ধারণা ওয়াসার নেই। তা না হলে এত অল্পতেই পানি ব্যবস্থাপনায় হযবরল পরিস্থিতি হবে কেন? সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প; এত দিনেও কেন তারা পাম্পগুলোতে জেনারেটর নিশ্চিত করতে পারল না। এ দায়ভার এককভাবে ওয়াসাকেই নিতে হবে।

ঢাকা ওয়াসার দাবি, প্রতিদিন গড়ে ২৮০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করেছে তারা। গত এক সপ্তাহে ৯১৪ পাম্পের মধ্যে জেনারেটরহীন ১৫৮টি বিদ্যুৎ বিভ্রাটজনিত কারণে ২৭৫ ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে। ওয়াসার হিসাবে প্রতিদিন দেড় হাজার গাড়ি পানির চাহিদা জমা পড়লেও ৭৫০টির বেশি সরবরাহ করতে পারছে না তারা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার গাড়ি পানির চাহিদা থাকে। এদিকে ওয়াসার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, প্রতিদিন যদি একজন মানুষের ১৩০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়, সে হিসাবে রাজধানীতে দুই কোটি লোকের জন্য ২৬০ কোটি লিটার পানি লাগে। তবে বাস্তবে একজন মানুষ প্রতিদিন ১৩০ লিটার পানি ব্যবহার করছেন না। আর ওয়াসার প্রকৃত উৎপাদন যদি দৈনিক ২৮০ কোটি লিটার হয়, কোনোভাবেই রাজধানীতে পানি সংকট থাকার কথা নয়। ওয়াসা যে হিসাব দেয় তা কাগুজে, এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই।

ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম দ্বিগুণ হচ্ছে

১৬ জুলাই ২৩, সমকাল

দ্বিগুণ করা হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম। বর্তমানে প্রতি লিটার পানি বিক্রি হচ্ছে ৪০ পয়সায়। আগস্ট মাস থেকে কিনতে হবে ৮০ পয়সায়। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এটিএম বুথ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রামেশ্বর দাস সমকালকে বলেন, লিটারপ্রতি ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি লিটারের দাম হবে ৭০ পয়সা। বাকি ১০ পয়সা কর বাবদ গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

তবে এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সুজিত কুমার বালা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জানা গেছে, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার ২৯৪টি পানির এটিএম বুথ রয়েছে। ওয়াসার পানির পাম্পগুলোতে এসব এটিএম স্থাপন করা আছে। এটিএম বুথের মাধ্যমে সেখান থেকে গভীর নকলকূপের পানি গ্রাহকের নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বুথে বুথে নোটিশ দিয়ে গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দাম বৃদ্ধির কথা। এতদিন প্রতি লিটারের দাম ছিল করসহ ৪০ পয়সা। 

ওয়াসা বলছে, যে দামে ওয়াসা এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহককে পানি দেয় তাতে খরচ ওঠে না। বিদ্যুৎ বিল, কর্মীদের বেতন-ভাতা, পানি সরবরাহে এটিএম বুথ স্থাপনসহ বিভিন্ন খরচ আছে। এতদিন ভর্তুকি দিয়ে গ্রাহককে এই সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভর্তুকির পরিমাণ কমানোর জন্য দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ-জ্বালানী-খনিজসম্পদ

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প কি অনিশ্চয়তায় পড়ছে

২৭ এপ্রিল ২৩, সমকাল

ইউক্রেনে হামলার কারণে মস্কোকে আরও চাপে ফেলতে চায় ওয়াশিংটন। তারই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার ৮০ প্রতিষ্ঠান ও একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সদ্য দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্যতম প্রতিষ্ঠান রোসাটম। এতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে রোসাটমের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন নিয়ে। সম্প্রতি রোসাটমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঢাকাকে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে রোসাটম এক ই-মেইল বার্তায় সমকালকে জানায়, রোসাটমের সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করবে না। বরং এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে রোসাটম।

রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে তাদের ওয়েবসাইটে। এতে বলা হয়, রাশিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি বা অন্য দেশের প্রতিষ্ঠান ইউক্রেন যুদ্ধে মদদ দিয়েছে বা দিচ্ছে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে চীনের প্রতিষ্ঠান ‘হেড অ্যারোস্পেস টেকনোলজি’ এর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে– তারা ইউক্রেনের ওপর থেকে স্যাটেলাইট দিয়ে ছবি তুলে রাশিয়াকে সরবরাহ করেছে।

কয়লাসংকটে পাঁচ দিন ধরে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

২৮ এপ্রিল ২০২৩, প্রথম আলো

কয়লাসংকটে আবারও বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ২৩ এপ্রিল রাত থেকে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ আছে। ডলার–সংকটের কারণে কয়লা আমদানি করতে না পারায় এ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে আবার উৎপাদন শুরু হবে।

এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি কয়লাসংকটের কারণে রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এক মাসের মাথায় কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার উৎপাদনে ফেরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১৫ এপ্রিল রাত থেকে আবারও বন্ধ হয় উৎপাদন। তিন দিন বন্ধ থাকার পর ১৮ এপ্রিল কেন্দ্রটি আবার সচল হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর অফশোর ব্লকে অনুসন্ধানে আগ্রহী হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো

৫ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে বাংলাদেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তেল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন ও ভারতের মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সুপারপাওয়ার দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে বেশি।

দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল, অস্ট্রেলিয়ার স্যান্টোস ও আজারবাইজানের সকারসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি এখানে কার্যক্রম বন্ধ করার বেশ কয়েক বছর পর ফের এসব প্রস্তাব পাচ্ছে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশে ২৬টি ওপেন অফশোর ও ২২টি অনশোর ব্লক রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অফশোর ব্লক অগভীর সমুদ্রে ও ১৫টি গভীর সমুদ্রে।

সরকার ওএনজিসি ভিদেশ ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে দুটি অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য (এসএস-০৪ ও এসএস-০৯) উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদন করেছে। কোম্পানি দুটি যৌথভাবে এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

মোট অনশোর ব্লকগুলোর মধ্যে মাত্র চারটি ব্লক আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন তেল জায়ান্ট শেভরন তিনটি উপকূলীয় ব্লকে (১২, ১৩ ও ১৪) প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন করছে। আর সিঙ্গাপুরের ক্রিসএনার্জি কাজ করছে ব্লক-৯-এ।

এদিকে পেট্রোবাংলা একটি নতুন মডেল পিএসসির খসড়া তৈরি করেছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সেটির আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার চলছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ক্ষেত্রে আকৃষ্ট করতে এ চুক্তির আওতায় বড় আউটপুট শেয়ার দেয়া হবে; বেশি দেওয়া হবে গ্যাসের দামও।

প্রস্তাবিত পিএসসিতে আইওসি-উৎপাদিত গ্যাসের ক্রয়মূল্য প্রতি হাজার ঘনফুটে (এমসিএফ) প্রায় ১০ ডলার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান পিএসসির হারের চেয়ে তিনগুণ বেশি। ‘প্রফিট গ্যাসে’ সরকারের হিস্যাও আগের পিএসসির ৫৫-৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০-৭০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন যে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তাবগুলো সামলাতে হবে।

দেশের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, ‘আইওসির প্রস্তাবের পেছনে কোনো ভূ-রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। তবে আমাদের উচিত তাদের প্রস্তাবকে স্থানীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে নেওয়া, বিশেষ করে প্রস্তাবটা যখন এক্সনমোবিলের মতো বড় কোম্পানি থেকে আসে।

‘এর আগে কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় গ্যাসক্ষেত্র ছেড়ে চলে গেছে। এখন বাংলাদেশ যেহেতু আইওসিগুলোর লাভ বাড়িয়ে পিএসসিকে আকর্ষণীয় করছে, তাই অন্যান্য কোম্পানিও আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই এই প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের দিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

এর আগে গত ২৩ মার্চ পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার জানিয়েছিলেন, গভীর সমুদ্র ও অনশোর ব্লকগুলোর জন্য এক্সনমোবিলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে। তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রস্তাব ও প্রতিবেদন দুটোই বিশ্লেষণ করছে।

স্থলের পাশাপাশি সমুদ্রও চায় যুক্তরাষ্ট্র

নতুন ব্যবসায়িক পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস কোম্পানি এক্সনমোবিল কর্পোরেশন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সমস্ত উন্মুক্ত গভীর পানির অফশোর ব্লক ও কিছু অনশোর ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

একইসঙ্গে শেভরন কর্পোরেশন—যারা স্থানীয় ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত ৬০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের জন্য তিনটি কূপ উন্নয়ন করছে—এখন সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সুনেত্রা গ্যাসক্ষেত্রেও তাদের কাজের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী।

মার্কিন বহুজাতিক জ্বালানি কর্পোরেশন শেভরনের সুবাদে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় গ্যাসের সিংহভাগ উৎপাদনই করে শেভরন।

এছাড়া টেক্সাসভিত্তিক প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এক্সেলারেট এনার্জি মহেশখালীতে দুটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে বাংলাদেশে এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন সেবা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র পটুয়াখালীর পায়রাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছ থেকে নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশের অংশে হাইড্রোকার্বন মজুতের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ তার বহুল প্রত্যাশিত মাল্টি-ক্লায়েন্ট জরিপ শুরু করেছে, যা চলতি মে মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেছেন এক্সনমোবিল ও আইওসির অন্যান্য প্রস্তাবের উপর আলোচনা চলছে এবং তারা বাংলাদেশের শর্তাবলিতে সম্মত হলে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।

নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযুক্তি বাড়াতে চায়, তেমনি রাশিয়াও অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত লজিস্টিক ও আর্থিক সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ খুঁজছে।

চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত রাশিয়া-বাংলাদেশ ইন্টারগভর্নমেন্টাল কমিশন অন ট্রেড, ইকোনমিক, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের (আইজিসি) চতুর্থ অধিবেশনে রাশিয়া বাংলাদেশের কাছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রস্তাব দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ প্রতিনিধিরা তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি, কয়লা শিল্পে সহযোগিতা এবং যৌথভাবে সবুজ শক্তি বিশেষ করে পারমাণবিক সৌরশক্তির উৎস গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

বর্তমানে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন—রোসাটম পাবনায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

গাজপ্রম ইপি ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টস বিভি-ও বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে দৈনিক ৩,৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন স্থানীয় উৎস থেকে দৈনিক ২,২০০ এমএমসিএফ এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৬০০ এমএমসিএফ গ্যাস পাওয়া যায়। ফলে বাংলাদেশ এখন গ্যাস সংকটে ভুগছে।

বাংলাদেশ কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি করলেও এই প্রথম রাশিয়া সরকারি পর্যায়ে এদেশে এলএনজি রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে চীন ও ভারতের রশি টানাটানি

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ছাড়াও আঞ্চলিক শক্তিধর ভারত এবং চীনেরও বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে।

চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) কয়লা খনন ও কয়লা বিদ্যুৎ উন্নয়নে নিযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে চায়না পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যাল কর্পোরেশন (সিনোপেক) গ্যাস খাতে কাজ করছে।

এদিকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও তরল রপ্তানিতে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রতিবেশী ভারতের উল্লেখযোগ্য হিস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি এশিয়ার উভয় প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের শাখা পেট্রোচায়না কোম্পানি লিমিটেড এবং ইন্ডিয়ান অ্যাডভেন্ট অয়েলফিল্ড সার্ভিসেস প্রাইভেট একই এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এছাড়াও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) ও এইচ-এনার্জি বাংলাদেশে আন্তঃসীমান্ত এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দেড় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৭৩.৪৯%

৮ মে ২০২৩, শেয়ার বিজ

কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে চলেছে। ডলারের বিনিময়হার বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসায় ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লা ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এর মূল কারণ। এতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়। মাত্র দেড় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৭৩ শতাংশ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও চলতি অর্থবছরের ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) উৎপাদন ব্যয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও কয়লার দাম কমতে থাকায় আগামীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

পিডিবির তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় ছিল ছয় টাকা ৩০ পয়সা। গত অর্থবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট টাকা ৫৪ পয়সা। আর চলতি অর্থবছর প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯৩ পয়সা। অর্থাৎ দেড় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় বেড়েছে চার টাকা ৬৩ পয়সা তথা ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২০-২১ অর্থবছর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় (আমদানিসহ) সাত হাজার ৮৫২ কোটি ৫০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৪৭০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হয় ছয় টাকা ৩০ পয়সা। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ব্যয় জলবিদ্যুতে। এক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় পড়ে প্রায় তিন টাকা। এছাড়া গ্যাসে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয় তিন টাকা ২৭ পয়সা, কয়লায় আট টাকা ৬৯ পয়সা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (সৌর ও বায়ু) ১২ টাকা ৩৪ পয়সা, ফার্নেস অয়েলে ১২ টাকা ৩৮ পয়সা এবং ডিজেলে ৫২ টাকা ৯৪ পয়সা। এছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ইউনিটপ্রতি ব্যয় পড়েছিল পাঁচ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২১-২২ অর্থবছর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় (আমদানিসহ) আট হাজার ৩৯৩ কোটি ৩০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৭১ হাজার ৬৮৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় আট টাকা ৫৪ পয়সা। এর মধ্যে জলবিদ্যুতে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয় দুই টাকা ৭০ পয়সা, গ্যাসে তিন টাকা ৪৭ পয়সা, কয়লায় ১২ টাকা ৬৮ পয়সা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১২ টাকা ৮৫ পয়সা, ফার্নেস অয়েলে ১৬ টাকা ৯৬ পয়সা এবং ডিজেলে ৩৪ টাকা ৩৬ পয়সা। এছাড়া ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে ইউনিটপ্রতি ব্যয় হয় ছয় টাকা ছয় পয়সা।

সাগরে বিদেশি কোম্পানিকে আগ্রহী করতে সুবিধা বাড়ছে

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর এক দশক ধরে ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ। চারটি বিদেশি কোম্পানি কাজ শুরু করলেও তিনটি ছেড়ে গেছে বঙ্গোপসাগর। গত ১০ বছরে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) চূড়ান্ত হয়নি দুই বছরেও। বিদেশি কোম্পানিকে আগ্রহী করতে সুবিধা বাড়িয়ে পিএসসির খসড়া করা হয়েছে।

পিএসসি-২০২২ নামের নতুন খসড়া ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইনি যাচাই (ভেটিং) শেষ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে এসেছে। এটি এখন জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের অপেক্ষায়। এরপর এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে মন্ত্রিসভায়। শেষবারের মতো খসড়াটি যাচাই–বাছাই করতে গতকাল সোমবার খসড়া প্রস্তুতসংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিসচিব খয়েরুজ্জামান মজুমদার।

নতুন খসড়ায় চুক্তিতে ঠিকাদার হিসেবে আসা বহুজাতিক কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার মধ্যকার মুনাফা ভাগাভাগির সূত্র বদল করা হয়েছে এবার। আগে বিনিয়োগ ও পরিচালন খরচ তুলে নেওয়ার পর মুনাফা ভাগাভাগি করত দুই সংস্থা। এতে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ৫৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেত পেট্রোবাংলা। উৎপাদন বাড়লে পেট্রোবাংলার মুনাফার হার বাড়ত। তবে এবার গ্যাসক্ষেত্র থেকে আয় করা মোট রাজস্বের ওপর ভাগাভাগি করা হয়েছে। এতে ৩৫ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্বের ভাগ পাবে পেট্রোবাংলা। শুরুতে ঠিকাদার কোম্পানির বিনিয়োগের খরচ তোলার সময় পেট্রেবাংলার আয়ের ভাগ কম থাকবে। ধীরে ধীরে খরচ কমে আসবে আর পেট্রোবাংলার আয় বাড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ, শঙ্কায় পায়রাও

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের কয়লাভিত্তিক বড় দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন নিয়ে আবারও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সময়মতো ডলার না পাওয়ায় কয়লা আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। কয়লার অভাবে দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ হয়ে আছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। ডলার না পেলে উৎপাদন বন্ধ হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রায়ও। আর এতে বাড়তে পারে লোডশেডিং।

গত ডিসেম্বরে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার পর এ পর্যন্ত কয়েক দফায় বন্ধ হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ মালিকানায় নির্মিত বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ১৫ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চার দিন পর এটি আবার চালু হয়। কিন্তু কয়লার অভাবে ২৪ এপ্রিল থেকে এটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে আমদানি করা কয়লার জাহাজ আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা রয়েছে।

আবার বেড়েছে লোডশেডিং, গ্রামে ভোগান্তি বেশি

১০ মে ২৩, সমকাল

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ। এদিকে চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে; বেড়েছে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি বেশি খারাপ। বিভিন্ন এলাকায় দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে খবর আসছে। গরমের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়েছে মানুষের।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, তিন কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। চরম গরমে এসির লোড মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। জ্বালানির অভাবে ও যন্ত্রপাতি সংরক্ষণে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে। বিদ্যুতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট।

সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায়। এরপর রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেটে। তবে বরিশাল অঞ্চলে লোডশেডিং নেই বললেই চলে। রংপুরের বাসিন্দা ইকবাল মাহমুদ জানান, দিন-রাত মিলিয়ে তাদের এলাকায় ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে আর ঘুমানো সম্ভব হয় না। এভাবেই দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও দিনে দুই/একবার লোডশেডিং হচ্ছে।

পারমাণবিক ঘটনাজনিত ক্ষতি

বিমার দায় কে নেবে

১২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ব্যাচের পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) রাশিয়া থেকে আসছে আগামী অক্টোবর। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ জ্বালানি নেওয়া হবে পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায়। তবে জ্বালানি পরিবহনের সময় কোনো ঘটনা ঘটলে, এর আর্থিক দায় কে নেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ইতিমধ্যে পারমাণবিক ঘটনাজনিত ক্ষতির বিমা করতে গত এপ্রিল মাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

আইন অনুযায়ী, পারমাণবিক ঘটনাজনিত (ইনসিডেন্ট) ক্ষতির আর্থিক দায় মেটাতে বিমার ব্যবস্থা করবে প্রকল্পের অপারেটর ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)’। তবে পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে থাকা এ কোম্পানি বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখনো উৎপাদনে আসেনি। তাদের আয় শুরু হয়নি। প্রতিবছর প্রিমিয়ামের টাকা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। সার্বিক দিক বিবেচনায় পারমাণবিক ঘটনাজনিত বিমা করার মতো অবস্থায় তারা নেই। সরকার এই দায়িত্ব নিতে পারে।

বেসরকারি আইপিপিতে বেশি দামের বিদ্যুৎ ফেনী লংকার কম ইউনাইটেড পাওয়ারের

মে ২১, ২০২৩, বণিক বার্তা

চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিদিনই ফার্নেস অয়েলচালিত (এইচএফও) বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এসব কেন্দ্রের বড় একটি অংশ রয়েছে বেসরকারি পর্যায়ের স্বতন্ত্র উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) মালিকানায়। বেসরকারি আইপিপি  থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বা ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ কিনতে বিপিডিবির খরচ পড়ছে সর্বোচ্চ ১৯ টাকা ৮৯ পয়সা থেকে সর্বনিম্ন ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

বিপিডিবির এপ্রিলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের এক তালিকা পর্যালোচনা দেখা যায়, বেসরকারি আইপিপিগুলোর মধ্যে ফার্নেস অয়েলচালিত ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনায় বিপিডিবির খরচ পড়েছে সবচেয়ে বেশি। এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৯ টাকা ৮৯ পয়সা। এটি শ্রীলংকার আইপিপি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান লাকধানাবি লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ফার্নেস অয়েলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সবচেয়ে কম মূল্যে মিলছে চট্টগ্রামে ইউনাইটেড গ্রুপ পরিচালিত আনোয়ারা ৩০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টে। কেন্দ্রটির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সা।

সাধারণত দৈনিক চাহিদার ভিত্তিতে বিপিডিবি পিক লোডের পাওয়ার প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনে। বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি হিসাবের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যয়, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসাব করা হয়। এর ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টার দাম নির্ধারণ করে বিপিডিবি।

বিপিডিবির এপ্রিলে ফার্নেস অয়েলচালিত বেশির ভাগ আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনায় খরচ হয়েছে ১৩-১৬ টাকার মতো। যদিও বছর শেষে গড় হিসাবে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ১৪-১৫ টাকার মতো খরচ পড়ছে সংস্থাটির।

মধ্যরাতে কেন এত লোডশেডিং

০৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দিন ও রাতে গরমের অনুভূতি আলাদা করার উপায় নেই। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে গরমের তেজ। এতে মধ্যরাতের পরও বিদ্যুতের চাহিদা তেমন একটা কমছে না; কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন রাত ১০টার পর থেকে কিছুটা কমতে থাকে। গত কয়েক দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে মধ্যরাতের পর। এই পরিস্থিতি সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বেশি।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা লাইজু বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাত ১২টায় ঘুমাতে গেলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এক ঘণ্টা পর আসে। ঘুম কিছুটা গভীর হওয়ার আগে দুইটার দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। চার দিন ধরে এমন চলছে। ঘুমাতে পারছে না কেউ। বাচ্চাদের সকালে স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে।

রাজধানীর এই বাসিন্দার চেয়েও লোডশেডিংয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা থাকা রাজশাহী, নীলফামারী, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিং ভোগান্তি তৈরি করেছে। রাজশাহী নগরের বুধপাড়া এলাকার রহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে রাত ১২টার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। এ গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে কষ্ট বাড়ে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বলছে, রাত ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে। রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াট। স্বাভাবিক সময়ে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকে; কিন্তু কয়েক দিন ধরে এটি তেমন একটা কমছে না। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ানো যাচ্ছে না, তাই লোডশেডিং বেড়ে গেছে।

জ্বালানিসংকটে ধুঁকছে ৩৩% বিদ্যুৎকেন্দ্র

০৭ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বর্তমানে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রায় ৩৩ শতাংশই গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের অভাবে ভুগছে। এসব কেন্দ্রের ৯ হাজার মেগাওয়াটের সক্ষমতা থেকে দিনে গড়ে উৎপাদিত হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। এতে লোডশেডিং বাড়ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

গত দেড় দশকে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র ২৭টি থেকে বেড়ে ১৫৩টি হয়েছে। বিচ্ছিন্ন চর, দুর্গম পাহাড়েও বিদ্যুৎ–সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকার শতভাগ বিদ্যুতায়নের অর্জন উদ্‌যাপন করেছে। আর এখন শহর-গ্রাম সবখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে ভুগছে মানুষ। চাহিদার চেয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানিসংকটের কারণে তা কাজে লাগছে না।

ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে শিল্প উৎপাদনে ধস

০৬ জুন ২৩, সমকাল

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি লাগামছাড়া লোডশেডিংয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদনেও ধস নেমেছে। রপ্তানি পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত, বিদেশি ক্রেতা হারানো ও জরিমানার আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকরা।

লোডশেডিংয়ের সময় যাঁরা নিজস্ব জেনারেটরে কারখানা চালাচ্ছেন, তাঁদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ব্যাপক। অধিকাংশ কারখানার শ্রমিকরা দিনের বড় অংশ অলস সময় কাটাচ্ছেন। বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া-আসার কারণে কারখানার যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল। কমেছে শ্রমিকদের আয়। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

গতকাল সোমবার দুপুরে টঙ্গীর হৃদি ফ্যাশন হাউজ নামে একটি পোশাক কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ নেই। উৎপাদন বন্ধ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই শ্রমিকরা কারখানার মেঝেতে বসে অলস সময় পার করছেন। টঙ্গী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভালুকা, ত্রিশালসহ দেশের শিল্পপ্রধান এলাকার অধিকাংশ কারখানায় গত দুই সপ্তাহে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। টঙ্গীতে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার লোডশেডিং হচ্ছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কারখানা চালু রাখতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে জানান, অনেক গার্মেন্টস মালিক জানাচ্ছেন প্রতিদিন ১ লাখ টাকার বেশি ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে তাঁদের খরচ কমপক্ষে ১০ ভাগ বেড়ে যাচ্ছে।

শ্রমিকদের ওভারটাইম, নাইট করিয়ে উৎপাদনের সময় ঠিক রাখতে হচ্ছে। একদিকে গ্যাসের সংকটতো আছে; ফের বিদ্যুতের ঝামেলায় উৎপাদনে ধস নেমেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিদেশি ক্রেতা ধরে রাখা কঠিন হবে। একসময় শ্রীলঙ্কার সংকটের কারণে বিদেশিরা বাংলাদেশে এসেছিলেন পোশাক কিনতে। চীন, ভিয়েতনামের বহু ক্রেতা এখনও বাংলাদেশমুখী। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যদি পণ্য সময়মতো সরবরাহ করা না যায়, তাহলে ক্রেতারা এদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে চলে যাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ে বড় ক্ষতি ছোট ব্যবসায়ীদের

০৮ জুন ২৩, সমকাল

মাসখানেক আগে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললেও কাজের চাপে দম ফেলার জো ছিল না ওয়ার্কশপ কর্মীদের। দুপুরের খাবার খেতে হতো পালা করে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় নারিন্দার দক্ষিণ মৈশুণ্ডি মহল্লায় দেখা গেল, গোটা চল্লিশেক ওয়ার্কশপের মালিক-কর্মচারী কাটাচ্ছেন অলস সময়। কেউ কেউ গোল হয়ে মোবাইল ফোনে মেতেছেন লুডু খেলায়। কারণ কী– প্রশ্নে জ্যৈষ্ঠের তেজি দুপুরের চেয়েও তেতে জবাব দিলেন, ‘কারেন্ট নাই। কারখানা বন্ধ। কাজও বন্ধ।’

বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরে কারখানা চালানো যায় না– প্রশ্নে ওয়াসীমা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক রাজীব মোহাম্মদ রানা বলেন, শুধু মৈশুণ্ডি নয়; পুরান ঢাকার অধিকাংশ কারখানাই ক্ষুদ্র শিল্প। দিনে হাজার থেকে দুই হাজার টাকা উপার্জন করা যায়। লোডশেডিংয়ের চার ঘণ্টা জেনারেটর চালালে অকটেন লাগবে ৬০০ টাকার। তাতে ব্যবসায় লালবাতি জ্বলবে। তাই বিদ্যুৎ গেলে কাজ বন্ধ। এতে কাজ ও উপার্জনে টান পড়ে ব্যবসা গোটানোর জোগাড় হয়েছে।

বংশাল মোড় পেরিয়ে ধোলাইখাল সড়ক ছেড়ে বাঁয়ে গেলে ৬০০ বছরের পুরোনো বিনতবিবির মসজিদ। অন্তত ৭০ বছর আগে এই এলাকায় গড়ে ওঠা হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সমৃদ্ধিতে ধাক্কা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। মসজিদ ছাড়িয়ে লালমোহন সাহা সড়ক ধরে গেলে দক্ষিণ মৈশুণ্ডি মহল্লা। আবাসিক ভবনের ফাঁকে ফাঁকে গড়ে ওঠা শতাধিক ওয়ার্কশপের একটি শাহজালাল ইঞ্জিনিয়ারিং। দুপুর ১২টার দিকে ওয়ার্কশপের মালিক মো. শাহজালালের সঙ্গে কথা হয় তাঁর কারখানার দরজায় বসে। তখন অবশ্য বিদ্যুৎ ছিল, তাই দ্রুত হাতে লেদ মেশিনে অটো রাইস মিলের যন্ত্রাংশ তৈরি করছিলেন। কথায় খুব একটা মন ছিল না। কারণ, যে কোনো সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই লোডশেডিং শুরুর আগেই তাঁর কাজ শেষের তাড়া।

জলবায়ু তহবিলের অর্থ মাতারবাড়ীতে

১৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

উন্নয়নশীল দেশগুলোয় গ্যাস নির্গমন কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তার অংশ হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বছরে ১০ হাজার কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নত দেশগুলো। যদিও এখন পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এসব অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, এ নিয়ে ১ জুন একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশও জলবায়ু অর্থায়ন নামের এই তহবিল থেকে ঋণ ও অনুদানের পাশাপাশি অন্যান্য সহায়তা পেয়ে থাকে। প্রতিশ্রুত এই তহবিল থেকে ২০১৫–২০২০ সাল নাগাদ ৯০০ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্থের মধ্যে মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জাপান থেকে পাওয়া ২৪০ কোটি ডলারের ঋণও রয়েছে।

মাতারবাড়ীর মতো বড় প্রকল্পে অর্থায়ন জাপানকে জলবায়ু অর্থায়নের শীর্ষ তহবিলদাতা হিসেবে তুলে এনেছে। বলা হচ্ছে, এ খাতে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল নাগাদ দেশটি ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ঋণ, অনুদান ও মূলধনি বিনিয়োগ দিয়েছে। একই সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তহবিল জোগান দেওয়া জার্মানির চেয়ে এই পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বেশি।

বিদেশি কোম্পানির গ্যাস বিল পরিশোধ করতে পারছে না পেট্রোবাংলা

১৩ জুন ২০২৩, ইত্তেফাক

বহুজাতিক কোম্পানি থেকে গ্যাস-এলএনজি কিনে নির্ধারিত সময়ে মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। এ কোম্পানিগুলোর কাছে বর্তমানে ৪৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৯ কোটি টাকা দেনা রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির। বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় মূল বিলের ওপর সুদযুক্ত হয়ে দেনার বোঝা বড় হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে এলএনজি আমদানিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ঋণ চাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি সংস্থাগুলোর বিল পরিশোধে প্রয়োজনীয় ডলার সংস্থানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে পেট্রোবাংলা।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে বতর্মানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া মোট গ্যাসের ৬০-৬৫ শতাংশ সরবরাহ করে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন। স্থানীয় খনি থেকে উত্তোলন করে গ্যাস সরবরাহকারী আরেকটি কোম্পানি তাল্লো। আর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করে কাতারের রাস গ্যাস এবং ওমানের ওকিউ ট্রেডিং। এছাড়া খোলা বাজার থেকেও এলএনজি আমদানি করা হয়। এ কোম্পানিগুলো বর্তমানে সম্মিলিতভাবে ৪৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা রয়েছে। বকেয়া থাকা বিলগুলোর মধ্যে ২ মাস থেকে ৬ মাসের পুরোনো বিল রয়েছে। আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। ফলে ইনভয়েস মূল্যের সঙ্গে বিলম্ব ফি যুক্ত হচ্ছে।

৩৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকার বিল আটকে গেছে পিডিবিতে

 ১২ জুন ২০২৩, শেয়ার বিজ

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি বসে রয়েছে। তবে যেটুকু চলছে তার বিলও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছে না বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এতে রেন্টাল ও আইপিপির (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল বকেয়া পড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া বিল পড়েছে ৩৩ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

পিডিবির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিল বকেয়া পড়েছে ২৫ হাজার ৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় বকেয়া ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া চার হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া সাত হাজার ৬২১ কোটি টাকা এবং সৌর বিদ্যুতের বিল বকেয়া ৪৯২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগস্ট থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিল বকেয়া পড়েছে ছয় হাজার ৫২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বকেয়া দুই হাজার ১৭ কোটি টাকা, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া চার হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা এবং সৌর বিদ্যুতের বিল বকেয়া সাত কোটি টাকা। এছাড়া পিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া গ্যাস বিল রয়েছে আরও এক হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবার ফার্নেস তেলের সংকট

১৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

কয়লার পর এবার ফার্নেস তেলের সংকটে পড়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। এই তেল দিয়ে দেশের ২৭ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে।

জ্বালানি তেল আমদানির একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বিপিসির কাছে বর্তমানে ফার্নেস তেলের মজুত এক সপ্তাহের। তবে ফার্নেস তেলের নতুন দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। মাসের শেষ দিকে ওই জাহাজের তেল পাওয়া যাবে। এই পরিস্থিতিতে ফার্নেস তেলের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমবে। এতে বাড়তে পারে লোডশেডিং।

মহেশখালীতে হবে সামিটের আরেক এলএনজি টার্মিনাল

১৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের আরেকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ভাসমান এই এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের মূল প্রস্তাব দিয়েছে সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড।

গুম, হত্যা ও নিপীড়নে ‘জড়িত’ ৫০০ পুলিশ কর্মকর্তার তালিকা করেছে বিএনপি 

১৬ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

তালিকায় যেসব পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে তারা ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ও তার আগে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন; এদের সবাই এখন পদোন্নতি পেয়ে পুলিশের বিভিন্ন বড় পদে কর্মরত আছেন।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম-খুন, নিপীড়ন, গায়েবি মামলার সাথে জড়িত ও কর্মসূচিতে বাধা দানকারী ৫০০ পুলিশ কর্মকর্তার তালিকা করেছে বিএনপি। সারাদেশের স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের দেয়া তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে জেলা কমিটির পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী যাচাই-বাচাইয়ের পর তালিকা করা হয়েছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, এ তালিকায় মধ্যে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, এসপি ক্যাটাগরিতে আছেন মোট ৫৫ জন। তালিকার একটি কপি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কাছে পৌঁছায়।

তালিকায় মোট ৫০০ জন পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে যারা ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ও তার আগে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্বরত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিএনপি সূত্র।

বায়ু থেকে শক্তি: দৈনিক জাতীয় গ্রিডে ২০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে দেশের একমাত্র বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র

২৪ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

কক্সবাজারের খুরুশকুল গেলে সহজেই চোখে পড়বে দীর্ঘ ১০টি বায়ুকল। আশেপাশের ভূচিত্র থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ২০০ মিটার উঁচু টাওয়ারগুলো চোখ এড়ানোর উপায় নেই। 

বাতাসের গতি বাড়লেই, ঘুরতে থাকে টার্বাইনের ব্লেড বা পাখা। আগে অবশ্য পুরো এলাকায় ছিল জলমগ্ন, আর বায়ুর প্রবাহকে বাধা দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না এখানে।

সেই পরিবর্তন এনেছে এসব বায়ুকল। যা দেশের প্রথম বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের অংশ । তবে এখাতে কেবল যাত্রা শুরুই হয়েছে বাংলাদেশের।

২০৪১ সাল নাগাদ মোট বিদ্যুতের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করতে চায় সরকার, সেই লক্ষ্যের দিকে যাত্রা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দৈনিক গড়ে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করছে জাতীয় গ্রিডে।

বাপেক্সকে দুর্বল রেখে বিদেশি কোম্পানির দিকে ঝোঁক

০৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সিলেটের জকিগঞ্জে ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ২৮তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্থাটির খরচ হয় ৭৮ কোটি টাকা। আর ভোক্তাপর্যায়ে গ্যাসের গড় দাম বিবেচনায় মজুত গ্যাসের দাম আড়াই হাজার কোটি টাকা।

এ বছরের মে মাসে ভোলায় ২৯তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থার খরচ হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। যদিও জকিগঞ্জে বাপেক্স নিজে কূপ খনন করে খরচ করেছে ৭৫ কোটি টাকা। আর ভোলায় কূপ খননে বিদেশি কোম্পানি গাজপ্রমকে দিতে হয়েছে ১৮০ কোটি টাকার বেশি। এ গ্যাসক্ষেত্রে পাওয়া গেছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার গ্যাস। গত ৯ মাসে ভোলায় মোট তিনটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাপেক্স।

স্বল্প বিনিয়োগে নিয়মিত ব্যবধানে এমন সাফল্য দেখাচ্ছে বাপেক্স। সর্বশেষ তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের একটি পরিত্যক্ত কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদনের সফলতা দেখিয়েছে তারা। গত ৯ জুন এ কূপ থেকে দিনে ৮০ লাখ ঘনফুট করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

বিশ্বের যেকোনো দেশের কোম্পানির তুলনায় বাপেক্সের গড় সাফল্য বেশি। যদিও দেশে বাপেক্সের সক্ষমতা নিয়ে কয়েক দশক ধরেই বিতর্ক চলছে। কিন্তু কোনো সরকারই রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তেমন নজর দেয়নি। অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় রিগ (খননযন্ত্র) ও জনবল বাড়ানো হচ্ছে না। এক দশক ধরে সরকারের কোনো অর্থায়নও নেই; বরং বাপেক্সকে দুর্বল করে রেখে বিদেশি কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানের ঝোঁক বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের সংকটে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে দেশে। জ্বালানির আমদানিনির্ভরতার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দিয়ে আমদানির দিকে ঝুঁকেছে সরকার। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। আমদানি আরও বাড়াতে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। অথচ বাপেক্সকে শক্তিশালী করা গেলে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান জোর পেত। বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভর করতে হতো না।

গত দুই দশকে বৈশ্বিক কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোনাস ও ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন লিমিটেড (ওএনজিসি)। একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করতে বাপেক্সের যা খরচ হয়, তার প্রায় তিন গুণ নিচ্ছে রাশিয়ার কোম্পানি গাজপ্রম। এখন পর্যন্ত ২০টি কূপের কাজ দেওয়া হয়েছে গাজপ্রমকে। আরও কূপ খননের কাজ পেতে পারে এ বিদেশি সংস্থা। এ ছাড়া স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের একক এখতিয়ার আর থাকছে না।

সমুদ্রের পাশাপাশি স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ দিতে বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে সরকার।

বাপেক্স জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন একটি কোম্পানি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, বাপেক্স কোম্পানি হিসেবে নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলবে। কিন্তু নিজেদের বড় প্রতিষ্ঠান করার কোনো পরিকল্পনা নেই সংস্থাটির। দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে তিন বছরে ৪৬টি কূপ খনন করা হচ্ছে। এটি বাপেক্স একা করলে ১০ বছরের বেশি লেগে যাবে। কিন্তু গ্যাস তো দরকার এখন। এ ছাড়া বাপেক্সের ভেতরেও একটা চক্র আছে, যারা সংস্থাটিকে পিছিয়ে রাখছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, ২০০ কোটি টাকা খরচ করলে অন্তত ছয় হাজার কোটি টাকার গ্যাস পাওয়া যায়, এমন প্রকল্পে সরকার তো বিনিয়োগ করতে চায়। বাপেক্সকে নেতৃত্ব দিতে হবে। সংস্থাটিকে শক্তিশালী করতে তাদেরই চাইতে হবে, পেশাদারত্ব বাড়াতে হবে। জরুরি গ্যাস দরকার এখন, এ কারণে বিদেশি ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজের গতি বাড়ানো হয়েছে। মাঝে বাপেক্সের কাজ মন্থর হলেও গত তিন বছরে গতি আনা হয়েছে।

যদিও বাপেক্স মনে করে, নিজস্ব বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, দক্ষ জনবলের অভাবকে সঙ্গী করেই তাদের এগোতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানের খননযন্ত্র মাত্র দুটি

গ্যাসক্ষেত্র আছে, এমন দেশগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বছরে পাঁচ থেকে সাতটি কূপ খননের কথা। বছরে অন্তত তিনটি কূপ খননের সক্ষমতা আছে বাপেক্সের। অথচ বাংলাদেশে খনন করা হয়েছে গড়ে একটি অনুসন্ধান কূপ। দেশের স্থলভাগে একটি কূপ খননে বাপেক্স সর্বোচ্চ খরচ করে ৮০ কোটি টাকা। আর বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে এখন একটি কূপে খরচ হচ্ছে ১৮০ কোটি টাকার বেশি।

বাপেক্স সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন ও দুটি ওয়ার্কওভার (কূপে একধরনের সংস্কার) মিলে চারটি খননযন্ত্র কিনে দেয় সরকার। এর মধ্যে সর্বশেষ অনুসন্ধান খননযন্ত্রটি কেনা হয়েছে ২০১২ সালে। এখন কোম্পানির মোট খননযন্ত্র আছে ছয়টি।

এর মধ্যে অনুসন্ধান কূপ খনন করার মতো যন্ত্র মোটে দুটি, যা দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ তিনটি কূপ খনন করা যাবে। যদিও জমি অধিগ্রহণ এবং ভূমি উন্নয়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা-ও সম্ভব হয় না।

বাকি চারটির মধ্যে দুটি অনুসন্ধান খননযন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এর একটি ১৯৮৪ সালের, যা মেরামতে রাজি হয়নি কোনো বিদেশি ঠিকাদার। আর ১৯৮৭ সালেরটি মেরামতের আলোচনা চলছে। তবে মেরামত হলেও তা দিয়ে আর অনুসন্ধান করা যাবে না। পুরোনো কূপের সংস্কারে এটি কাজে লাগানো হবে। বাকি দুটি ওয়ার্কওভার কূপ খননে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে ভারতীয় ওএনজিসির এখন খননযন্ত্র আছে ১৫০টি। নিজেদের দেশে সাফল্য দেখিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্রেও গ্যাস অনুসন্ধান করছে তারা।

বাপেক্সের তিনজন কর্মকর্তা বলেন, কোনো বিদেশি কর্মী ছাড়াই কাজ করে বাপেক্স। তবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবল কমে যাচ্ছে। নিয়মিত নিয়োগ না থাকায় কেউ অবসরে গেলে দক্ষতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এখন সংস্থায় মোট জনবল আছে ৫৯৪ জন, এর মধ্যে কর্মকর্তা ৩৫৯ জন। নিয়মিত নিয়োগ হয় না। সর্বশেষ নিয়োগ হয়েছিল ২০১৬ সালে। এখন নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মী যুক্ত হলে বাপেক্স আরও শক্তিশালী হবে।

বিনিয়োগের অভাবে পিছিয়ে

বাপেক্স সবচেয়ে বেশি ভুগছে বিনিয়োগ নিয়ে। গ্রাহকদের টাকায় তৈরি গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) থেকে গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দ শুরু হয় ২০১২ সালে। এরপর থেকে সরকারি কোনো অর্থায়ন আসেনি বাপেক্সের প্রকল্পে। নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি জিডিএফ থেকে নিয়মিত ঋণ পেয়েছে তারা। যদিও সেই টাকায় কোম্পানির সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কোনো প্রকল্প নেওয়া যায়নি; বরং সীমিত পরিসরে নিয়মিত অনুসন্ধানকাজ করে গেছে তারা।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে জিডিএফ ব্যবহার করায় তহবিলও প্রায় ফাঁকা হয়ে এসেছে। দুই হাজার কোটি টাকা ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছে এলএনজির ভর্তুকি বাবদ। পেট্রোবাংলার ব্যাংক হিসাবের উদ্বৃত্ত অর্থ হিসাবে জিডিএফের তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ টাকা বিইআরসি ফেরত দিতে বললেও এখনো তা দেয়নি পেট্রোবাংলা। তাই জিডিএফ থেকেও বরাদ্দ পাচ্ছে না বাপেক্স। এখন সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প নিতে বলা হয়েছে।

গ্রাহকের শোধ করা গ্যাসের দাম থেকে একটা অংশ যায় জিডিএফে। প্রতি মাসে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা এ তহবিলে জমা হয়। গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জিডিএফ থেকে এ পর্যন্ত চার হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বাপেক্স নিয়েছে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। বাকিটা নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি। নতুন করে কোনো প্রকল্পে বরাদ্দ করার মতো টাকা নেই জিডিএফে।

বাপেক্সের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কূপ খননের পর গ্যাস না পাওয়া গেলে পুরো টাকা লোকসান হয়। গ্যাস না পেলে জিডিএফের টাকা ফেরত দিতে হতো না।

আর গ্যাস পেলে তা ফেরত দিতে হয় তহবিলে। কিন্তু সরকার ৪ শতাংশ সুদে ঋণ হিসেবে অর্থায়ন করবে। গ্যাস না পেলেও তা ফেরত দিতে হবে। অথচ চড়া দামে কূপ খননের পরও বালু ও পানি উঠে আসায় পাঁচটি কূপে গ্যাস উৎপাদন ধরে রাখতে পারেনি গাজপ্রম। সেই টাকা গাজপ্রম ফেরত দেবে না। এসব কূপ পরে সংস্কারকাজ করে গ্যাস উৎপাদন ফিরিয়ে এনেছে বাপেক্স।

সাফল্যের অনন্য নজির

পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান পরিদপ্তর বিলুপ্ত করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল করতে ১৯৮৯ সালে একটি কোম্পানি হিসেবে জন্ম নেয় বাপেক্স। শুরুতে শুধু অনুসন্ধান কোম্পানি হিসেবে তারা পেট্রোবাংলার অর্থায়নে চলত। এরপর অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি হিসেবে বাপেক্স যাত্রা শুরু করে ২০০২ সালে।

এখন পর্যন্ত গ্যাস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ এবং ১৭ হাজার ৭২১ লাইন কিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করেছে তারা। গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১০টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে তারা। সাতটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখন নিয়মিত গ্যাস উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে বাপেক্স। বাকি তিনটি থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।

বাপেক্সের সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী তাঁর ৩৯ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে প্রথম আলোকে বলেন, নতুন কর্মী নিয়োগ হলে বাপেক্সের কাজের সক্ষমতা বাড়বে। এর সঙ্গে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আর বিনিয়োগ যুক্ত হলে বিশ্বমানের গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি হতে পারে বাপেক্স। এ সংস্থাকে পাঁচটি খননযন্ত্র দেওয়া হলে বছরে ১৫টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা যাবে।

বৈশ্বিকভাবে গড়ে প্রতি পাঁচটি অনুসন্ধান কূপের বিপরীতে একটিতে গ্যাস পাওয়া যায়। আর দুটির কম কূপ খনন করে একটিতে গ্যাস পেয়েছে বাপেক্স। গত ৯ মাসে বাপেক্স ২১ হাজার কোটি টাকার গ্যাস আবিষ্কার করেছে। বিদেশ থেকে আনা এলএনজির বর্তমান দাম বিবেচনায় নিলে এ গ্যাসের দাম ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাপেক্স আয় করেছে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা। মুনাফা ১২৩ কোটি টাকা।

বাপেক্সের বোর্ডে আমলাতন্ত্রের প্রভাব

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাপেক্স কাজ করছে। এভাবে পরিকল্পিত কাজের শুরুটা ২০১৯ সালে, চলবে ২০৪১ সাল পর্যন্ত। তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা অধিকাংশ সময় পূরণ হয়নি। জ্বালানি বিভাগের পরামর্শে বারবার কাটছাঁট করা হয়েছে পরিকল্পনা। সারা দেশে গ্যাস অনুসন্ধানের জরিপকাজ আরও দ্রুত করার দরকার ছিল। দেশে দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে, শিল্পকারখানা হচ্ছে। তাই জরিপ পরিচালনা করা কঠিন হবে। আগে সব জরিপ করা থাকলে তথ্য পরেও কাজে লাগানো যাবে।

বাপেক্স সূত্র বলছে, গত চার বছরে বাপেক্স ছয়টি কূপ খনন করে পাঁচটিতে গ্যাস পেয়েছে। এর মধ্যে একটির গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক মনে হয়নি। বাকি চারটি থেকে গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। এমন সাফল্যের পরও কূপ খনন বাড়ানো যাচ্ছে না। বাপেক্স নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলতে পারে না। যেকোনো প্রকল্প নিলে তা পেট্রোবাংলার মাধ্যমে জ্বালানি বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। মন্ত্রণালয়কে অনেক সময় যৌক্তিকভাবে বোঝাতে পারে না, বিনিয়োগে ভয় পান বাপেক্সের কর্মকর্তারা।

সাত সদস্যের একটি বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বাপেক্স। এ বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব। এ ছাড়া আছেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-৩, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ এবং বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর সরকারের বাইরে থেকে দুজন সদস্য রয়েছেন বোর্ডে। তাঁদের মধ্যে একজন ভূতত্ত্ববিদ, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক। অন্যজন হলেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একজন বিশেষজ্ঞ।

বাপেক্স বোর্ডের সদস্য ভূতত্ত্ববিদ মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, কোনো কূপে গ্যাস না পেলে তা ব্যর্থতা নয়। টাকা গচ্চা যাওয়া বলা যাবে না। কোনো কূপে গ্যাস না পেলেও সেখানকার তথ্য পাওয়া যাবে। গ্যাস না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ওই এলাকা তখন অন্য কাজে লাগানো যাবে। তার মানে, অনুসন্ধান কূপ খনন সব সময়ই কাজে লাগে। ঝুঁকির ভয়ে কূপ খনন কম করার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। এমন বিনিয়োগে সরকারের অনিচ্ছা থাকার কথা নয়। বাপেক্সকে সেভাবে প্রকল্প নিয়ে যেতে হবে।

এক যুগ বিভিন্ন দেশের গ্যাস খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রতি কূপে ২৫০ কোটি টাকা করে খরচ করলেও ২০টি কূপ খনন করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এর মধ্যে যদি একটি কূপে মাত্র ২০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়, উৎপাদন পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে এর মূল্য সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা। আর বর্তমান বিশ্ববাজারের দামে এটি ২৬ হাজার কোটি টাকা। আর এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেলে তার দাম এক লাখ কোটি টাকার বেশি।

বাপেক্স সূত্র বলছে, গত চার বছরে বাপেক্স ছয়টি কূপ খনন করে পাঁচটিতে গ্যাস পেয়েছে। এর মধ্যে একটির গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন লাভজনক মনে হয়নি। বাকি চারটি থেকে গ্যাস উৎপাদন করা যাবে।

এগিয়ে নিতে দুই বাধা

বাপেক্সের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বাধা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী থাকাটাই হলো প্রশাসনিক বাধা। বাপেক্স নিজের সিদ্ধান্তে চলে না, জ্বালানি বিভাগের নতজানু হয়ে চলে। এভাবে বড় কোম্পানি হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।

আর প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের তহবিল না থাকা হলো অর্থনৈতিক বাধা। ভারতের গ্যাস কোম্পানি ওএনজিসির বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের দ্বিগুণ। আর বাংলাদেশের জাতীয় বেতন স্কেলের চেয়ে কম বেতন পান বাপেক্সের কর্মকর্তারা। তাই মেধাবীরা এখানে থাকেন না। তাঁরা বহুজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিতে চলে যান উচ্চ বেতনের চাকরি নিয়ে।

উন্নত প্রযুক্তির একটি খননযন্ত্র কিনতে এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, একটি যন্ত্র অন্তত ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। ২০১২ সালের খননযন্ত্রটি কেনা হয়েছিল ২৫০ কোটি টাকায়।

গত ১০ বছরে সরকার নতুন একটি খননযন্ত্র কিনতে পারেনি। গাজপ্রম দিয়ে দুটি কূপ খনন করতে যা খরচ হয়, তা দিয়ে একটি নতুন যন্ত্র কেনা সম্ভব। এ ছাড়া মাসে খোলাবাজার থেকে কেনা এক জাহাজ এলএনজি আনায় খরচ হয় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। এক মাসে আসা দুই জাহাজ এলএনজির দাম বাপেক্স পেলে অন্তত ১০টি কূপ খনন করতে পারবে।

বিদ্যুৎ খাতের দুর্দশা কাটাতে ক্যাপাসিটি চার্জ প্রত্যাহার ও দায়মুক্তি আইন বাতিলের সুপারিশ

৬ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

ক্যাপাসিটি চার্জের মডেল ও দায়মুক্তি আইনসহ আরও বেশ কিছু কারণে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। এর ফলে সরকারের ওপর বড় মাপের ভর্তুকির বোঝা তৈরি হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংস্থা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। ক্যাপাসিটি চার্জকে ‘লুটেরা মডেল’ হিসেবে উল্লখ করে আইএমইডির এ প্রতিবেদনে খাতটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ, জ্বালানি-অবান্ধব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিলসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ বছরে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ৯০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে। এই অর্থের পুরোটাই দিতে হয়েছে ডলারে।

ক্যাপাসিটি চার্জ হলো বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহারের বিনিময়ে দেওয়া অর্থ।

বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হোক বা না হোক, কেন্দ্রমালিকদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে বাধ্য পিডিবি।

আইএমইডি বলেছে, এই মডেলের কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে, এটিও সত্য নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভর্তুকির চক্র থেকে বিদ্যুৎ খাতকে বের করার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার। আর ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যবস্থাও টেকসই নয়।

ক্যাপাসিটি চার্জকে ‘লুটেরা মডেল’ বলল সরকারি নিরীক্ষা সংস্থা

জুলাই ৭, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার প্রথা এক ধরনের ‘লুটেরা মডেল’ এবং তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চুক্তির ফল বলে এক প্রতিবেদনে বলেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

‘এ ধরনের ব্যবস্থা টেকসই নয়’, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সরকার গত ১৪ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৯০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, যা প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

গত ১২ বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) লোকসান হয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তবে শুধুমাত্র ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগে এক বছরে যে লোকসান হতো, এখন প্রতি ২ মাসে সেই পরিমাণ লোকসান হবে পিডিবির।

ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের ব্যবস্থা না থাকলে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ আসবে না, এটা দাবিটি ‘মিথ্যা’ বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে ‘অপচুক্তি’, ‘লুটেরা মডেল’

আইএমইডির প্রতিবাদ

৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রথম আলোতে গতকাল শনিবার প্রকাশিত ‘বিদ্যুৎ খাতে “অপচুক্তি”‘, “লুটেরা মডেল”’ শিরোনামের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। বিভাগের পরিচালক (সেক্টর-১) মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান প্রতিবাদপত্রে সই করেছেন। গতকাল পাঠানো প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, প্রতিবেদনে আইএমইডির নামে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে তাদের নয়। বক্তব্যগুলো একটি ইংরেজি দৈনিকের বাংলা অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একজন কলাম লেখকের মতামত। প্রতিবাদপত্রের সঙ্গে ওই কলাম লেখকের প্রবন্ধের ‘স্ক্রিনশট’ সংযুক্ত করা হয়।

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, প্রবন্ধটিতে উল্লিখিত তথ্য ও মতামত গবেষণার প্রয়োজনে অন্যান্য প্রবন্ধ ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রকাশনার তথ্যের সঙ্গে যাচাইয়ের জন্য আইএমইডিতে সংরক্ষিত ছিল। এটি আইএমইডির গবেষণায় প্রাপ্ত কোনো ফলাফল নয়। একজন ব্যক্তির মনগড়া একটি প্রতিবেদন আইএমইডির গবেষণা প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কোনো সুযোগ নেই। এটি মূল গবেষণা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তও করা হয়নি। কিন্তু কলাম লেখকের মতামত হুবহু আকারে গবেষণা প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে আইএমইডির ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া (আপলোড) করা হয়।

কীভাবে প্রবন্ধের মতামত আইএমইডির গবেষণা প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে, তা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় প্রতিবাদপত্রে। এতে জানানো হয়েছে, আইএমইডির চূড়ান্ত করা গবেষণা প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদটি ভিত্তিহীন, মনগড়া, বানোয়াট ও তথ্যভিত্তিক নয় বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার গত দেড় দশকে দেশের বিভিন্ন খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য যুগান্তকারী। এ সময়ে দেশের প্রতি ঘরে সরকার বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে, যা অতীতে কোনো সরকার করতে পারেনি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভাগ আইএমইডির ‘বিদ্যুৎ সেক্টরভুক্ত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন’-এর ওপর ভিত্তি করে। গবেষণাটি করেছেন আইএমইডির পরিচালক (সেক্টর-১) ও উপসচিব মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান। প্রতিবেদনে উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এস এম হামিদুল হকের নাম, যিনি ওই শাখার প্রধান ও সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। মাহিদুর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, ৫৮ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মাসে জমা দেওয়া হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের পঞ্চম অধ্যায়ের একটি পরিচ্ছেদে (৫.২/পৃষ্ঠা ৪৯ থেকে ৫২) বিদ্যুৎ খাতের কেন্দ্রভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন বিষয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। এর শিরোনাম ছিল ‘বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায়’।

প্রতিবাদপত্রেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেদনটি আইএমইডির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছিল। বিভাগটির ওয়েবসাইটে সর্বশেষ গতকাল নতুন করে ‘বিদ্যুৎ সেক্টরভুক্ত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন’ শিরোনামের যে প্রতিবেদন তোলা হয়েছে, তাতে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদটি (৫.২) পুরো বাদ দেওয়া হয়েছে।

নিজেদের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাল আইএমইডি

৯ জুলাই ২০২৩, শেয়ার বিজ

দৈনিক শেয়ার বিজ পত্রিকায় “বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ একটি ‘লুটেরা মডেল’” শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এক ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে তা শেয়ার বিজের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। মূলত আইএমইডির প্রতিবেদন থেকে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই এর মাধ্যমে আইএমইডি নিজেদের প্রতিবেদনের প্রতিবাদই জানিয়েছে।

আইএমইডির পরিচালক মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদে বলা হয়েছে, উক্ত প্রতিবেদনে আইএমইডি’র নামে প্রকাশিত বক্তব্যগুলো প্রকৃতপক্ষে আইএমইডি’র নয়। উল্লিখিত বক্তব্যগুলো একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রবন্ধে উল্লিখিত মতামত। উক্ত প্রবন্ধে উল্লিখিত তথ্য ও মতামত গবেষণার প্রয়োজনে অন্যান্য প্রবন্ধ ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রকাশনা তথ্যের সাথে  যাচাইয়ের জন্য আইএমইডি’তে সংরক্ষিত ছিল। এটি আইএমইডি’র গবেষণায় প্রাপ্ত কোনো ফাইন্ডিংস নয়।

ভুলবশত প্রকাশিত প্রবন্ধের মতামতসমূহ হুবহু আকারে প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে আইএমইডি’র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। কীভাবে প্রবন্ধের মতামতসমূহ প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আইএমইডি কর্তৃক প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিনা দরপত্রে আরও কাজ পেতে যাচ্ছে গাজপ্রম

১৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বিনা দরপত্রে আরও পাঁচটি গ্যাস উত্তোলনের কূপ খননের কাজ পেতে যাচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি গাজপ্রম। ভোলায় সরকারি সংস্থা বাপেক্স যে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে, সেখানে এই কূপ খননের সুযোগ পেতে পারে তারা।

শুধু কূপ খনন নয়, গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও পেতে পারে গাজপ্রম। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে সরকারের।

বিনা দরপত্রে কাজ দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের অধীনে, যেটি দায়মুক্তি আইন নামে পরিচিত। অন্যদিকে বাপেক্সের বদলে গাজপ্রমকে দিয়ে কূপ খনন করালে সরকারের দ্বিগুণ খরচ পড়বে।

ভোলায় এখন পর্যন্ত তিনটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা। এর মধ্যে শাহবাজপুর ও ভোলা নর্থে দুটি করে কূপ খনন করা হবে।

এই চারটি কূপ হলো উন্নয়ন কূপ, যা গ্যাস উত্তোলন শুরুর জন্য খনন করা হয়। এর বাইরে ওই দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মাঝামাঝি একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। গাজপ্রমকে এ পাঁচটি কূপের কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হচ্ছে।

ভোলায় বাপেক্সের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রে আরও পাঁচটি কূপ খনন করবে রাশিয়ার কোম্পানি গাজপ্রম।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন—পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্র বলছে, দ্রুত গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে তিন বছরে ৪৬টি কূপ খননের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাপেক্স একা এসব কূপ খনন করতে গেলে ১০ বছরের বেশি সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাপেক্সের পাশাপাশি গাজপ্রমকে কাজ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, কূপ খননের প্রস্তুতির জন্য বাপেক্সের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য নিয়েছে গাজপ্রম। তারা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে শিগগিরই একটি দরপ্রস্তাব দেবে। এরপর দর নিয়ে বাপেক্স সমঝোতা করে পেট্রোবাংলাকে জানাবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সবকিছু পর্যালোচনা করে গাজপ্রমকে কাজ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। সব মিলিয়ে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

বায়োগ্যাস: সম্ভাবনার মাত্র আড়াই শতাংশ কাজে লাগছে

১৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম একটি খাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বায়োগ্যাসের। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ ও জনসম্পৃক্ততার অভাবে খাতটি প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোতে পারছে না। একইভাবে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ঝিমিয়ে পড়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, এখন সারা দেশে এক লাখের মতো বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট আছে। অথচ নেপালের মতো ছোট দেশেও দুই লাখের মতো বায়োগ্যাসের প্ল্যান্ট আছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, উপকরণের সহজলভ্যতার কারণে দেশে ৪০ লাখ বায়োগ্যাসের প্ল্যান্ট স্থাপনের সুযোগ আছে। এই হিসাবে দেশে এখন বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনার মাত্র আড়াই শতাংশ কাজে লাগানো হচ্ছে।

এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রথম বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি চালু হয়েছিল ১৯৭২ সালে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এর পরের ৫০ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিটি সারা দেশে প্রত্যাশা অনুযায়ী ছড়িয়ে দেওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখন বাসাবাড়িতে যেসব প্ল্যান্ট আছে, এর বেশির ভাগই স্থাপন করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। গবাদিপশু ও পোলট্রি বর্জ্য বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য খুবই কার্যকর। বাংলাদেশে যে পরিমাণ গবাদিপশুর খামার ও পোলট্রি বর্জ্য উৎপাদিত হয়, সেগুলো কাজে লাগাতে পারলেও ব্যাপক হারে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। সেই হিসাবে বাংলাদেশে ৪০ লাখ বায়োগ্যাসের প্ল্যান্ট স্থাপনের সুযোগ আছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৮২ হাজার ২৫৩টি গবাদিপশুর খামার এবং ৮৭ হাজার ৮১৩টি হাঁস-মুরগির খামারের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। তবে নিবন্ধিত খামারের বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যা বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদনে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ স্বাধীনের পরপরই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন নিয়ে কাজ শুরু হলেও সঠিক নির্দেশনার অভাবে এ খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী জনপ্রিয় হয়নি। এমনকি দুই দশক আগেও খাতটিকে সেভাবে গুরুত্বও দেওয়া হয়নি। তাঁদের মতে, প্ল্যান্ট স্থাপনের পর সেটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়, বর্জ্য ফেলতে হয়। সহজ বিকল্প থাকায় অনেকেই এই কষ্ট করতে চান না। সিলিন্ডার গ্যাস বা কাঠ-খড়কে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন।

দেশীয় খনির কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ

১৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দেশীয় খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পথে হাঁটছে সরকার। কারণ, কয়লার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু মার্কিন ডলারের সংকটে আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন—পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, তারা দিনাজপুরের দীঘিপাড়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনে পরিকল্পনা করছে। এই খনি এলাকায় প্রাথমিক জরিপকাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে।

পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা নিয়ে এসেছে এমভি পাভো ব্রেভ নামের পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি

দেশের খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৬ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আন্দোলনের পর দেশীয় খনি থেকে কয়লা তোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। যদিও দেশের খনিতে বিপুল কয়লা মজুত রয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার প্রথম আলোকে বলেন, নতুন খনি থেকে কয়লা তোলার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়লা তোলা নিয়ে জরিপ শেষে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে এটি উপস্থাপন করা হবে। এরপর নির্দেশনা অনুসারে কয়লা উত্তোলনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

দেশীয় কয়লা উত্তোলনের চিন্তা উঠে এসেছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায়ও। তিনি বলেছেন, দেশের কয়লাক্ষেত্রসমূহ থেকে কয়লা সংগ্রহের কারিগরি ও অন্যান্য সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে গেলেন আদানি

১৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

স্বল্প সময়ের জন্য ঢাকা সফর করে ফিরে গেছেন ভারতের আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের গোড্ডা জেলায় আদানি গ্রুপের নির্মিত ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসেন তিনি।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও আদানি গ্রুপের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিজস্ব উড়োজাহাজে করে ঢাকায় নামেন গৌতম আদানি। বেলা ১১টার দিকে তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর বেলা সোয়া একটার দিকে আবার নিজস্ব উড়োজাহাজে করে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

আদানির বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের ব্যয় ১৯৫% বেড়েছে

১৮ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা অনলাইন

ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে আদানির বিদুৎ জাতীয় গ্রিডে আনতে নির্মাণাধীন বড় পুকুরিয়া–বগুড়া কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। 

মূল প্রস্তাবের তুলনায় নতুন অনুমোদিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়েছে ৬ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ ১৯৫ শতাংশ বেশি। আর প্রথম সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় বেড়েছে ৫ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা বা ১৪২ শতাংশ।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ( একনেক) সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুতখাত নিয়ে গবেষণা, আইএমইডির কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

১৯ জুলাই ২০২৩, দ্যা বিজনেস পোস্ট

বিদ্যুতখাত নিয়ে গবেষণা করা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এর উপসচিব মোহাম্মদ মাহিদুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

১৮ জুলাই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়; ‘সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী মাহিদুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন বলে মনে করে মন্ত্রণালয়। তাই বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করা মাহিদুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। এর আগে ১৬ জুলাই তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব ন্যস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।’

একই সাথে ওই গবেষণার উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত থাকা আইএমইডির অতিরিক্ত সচিব এস এম হামিদুল হককেও ওএসডি করা হয়েছে। ১৭ জুলাই তাদের দুই জনকে আইএমইড‘র দায়িত্ব থেকে অবমুক্তকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

ঢাকার বাইরে আবার ফিরেছে লোডশেডিং

২১ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে দিনের কিছু সময় সর্বোচ্চ দুই হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহর ও গ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বলছে, দেশে এখন ২৪ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। এর মধ্যে সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না নানা কারণে। বাকি ১৭ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার মধ্যেও দিনে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ হাজার ও রাতে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

ডলারের অভাবে গ্যাসের দাম বকেয়া, দিতে হচ্ছে জরিমানা

২৫ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মার্কিন ডলারের অভাবে নিয়মিত গ্যাসের দাম পরিশোধ করতে পারছে না সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন-পেট্রোবাংলা। বিল বকেয়া রাখায় জরিমানা দিতে হচ্ছে তাদের।

পেট্রোবাংলা দেশীয় খনি থেকে উত্তোলিত গ্যাস বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কেনে। আবার বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামও তারাই দেয়। দুই ক্ষেত্রেই মূল্য পরিশোধ করতে হয় ডলারে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বিল দিতে না পারলে নির্ধারিত হারে জরিমানা দিতে হয়।

অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে বিল না পেলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে বিদেশি কোম্পানি। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, এতে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যেমন ১১ জুলাই জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়ে পেট্রোবাংলা জানায়, তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিল না পেলে গানভর সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড ভবিষ্যতে এলএনজি সরবরাহ করবে না বলে জানিয়েছে। ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি (এসবিএলসি) থেকে তারা টাকা আদায় করবে। একইভাবে টাকা আদায় করার হুমকি দিয়েছে টোটাল এনার্জিস।

এই দুই কোম্পানির কাছে বকেয়া পড়েছিল ১১ কোটি ডলার। এরপর কিছু বিল পরিশোধ করে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়। এদিকে ১৩ জুলাই বকেয়া বিল চেয়ে পেট্রোবাংলাকে চিঠি দেয় দেশীয় খনি থেকে গ্যাস উত্তোলনকারী মার্কিন কোম্পানি শেভরন।

এক যুগে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে তালিকাভুক্ত আট বিদ্যুৎ কোম্পানি

জুলাই ২৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের নীতি গ্রহণ করে। অনুমোদন পায় একের পর এক রেন্টাল ও স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) প্রতিষ্ঠান। এসব আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাংশ তালিকাভুক্তির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করেছে পুঁজিবাজার থেকেও। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে খাতটির আট তালিকাভুক্ত কোম্পানি গত এক যুগে নিট মুনাফা করেছে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। বিক্রেতা হিসেবে কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিক্রি করে ভালো অংকের মুনাফা অর্জন করলেও ক্রমাগত লোকসানে আর্থিক সক্ষমতা হারিয়েছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বিপিডিবি। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর পাওনা অর্থও পরিশোধ করতে পারছে না আর্থিক চাপে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থা। বিপিডিবির কাছে এ বছরের জুন পর্যন্ত বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পাওনা জমেছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় আইপিপিগুলোও চলতি মূলধন সংকটে পড়েছে। যদিও এর আগে গত এক যুগে নীতিগতভাবে মুনাফার নিশ্চয়তা নিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করেছে কোম্পানিগুলো।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৬ হাজার ৬৩৯ মেগাওয়াট। এ বছরের জুন শেষে ক্যাপটিভ পাওয়ার ও অফ গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাদে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াটে। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বিপিডিবির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। সদ্যসমাপ্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো বড় অংকের মুনাফা করলেও এর একটি অংশ লভ্যাংশ হিসেবে পেয়েছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে অতালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মুনাফার পুরোটাই উদ্যোক্তাদের কাছে গেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে আইপিপি ও রেন্টাল মিলিয়ে বর্তমানে আটটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এছাড়া এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অধীনেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। তবে সাবসিডিয়ারির বিস্তারিত আর্থিক তথ্য কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে না থাকায় নিট মুনাফার তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরো বেশকিছু কোম্পানি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায় যুক্ত রয়েছে। সেগুলোরও বিস্তারিত আর্থিক তথ্য পাওয়া যায়নি। যে আট তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ কোম্পানির নিট মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড, ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, সামিট পাওয়ার লিমিটেড এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এর মধ্যে ২০২১ সালে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার এবং ২০১৬ সালে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফলে এ দুই কোম্পানির গত ১২ বছরের নিট মুনাফার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ম‌ডেল পিএস‌সি অনু‌মোদন

জুলাই ২৬, ২০২৩, বণিক বার্তা

দে‌শের গভীর ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ম‌ডেল প্রোডাকশন শেয়া‌রিং কন্ট্রাক্টের (পিএস‌সি) খসড়া অনু‌মোদন দি‌য়ে‌ছে সরকার। আজ বুধবার (২৬ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ অনু‌মোদন দেয়া হয়।

সভা শে‌ষে মন্ত্রিপ‌রিষদ বিভা‌গের অতিরিক্ত স‌চিব সাঈদ মাহবুব খান জানান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক দেশের উত্তরোত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মিটানোর নিমিত্তে গভীর ও অগভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া “ড্রাফট বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (পিএসসি) ২০২৩” অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যাতায়াত ব্যবস্থা ও দুর্ঘটনা

গ্যাস সরবরাহে সতর্ক সংকেত

২৬ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সঞ্চালন ও বিতরণ পর্যায়ে যথাযথভাবে গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ না করায় ঢাকার একটি বড় অংশজুড়ে সোমবার রাতে অস্বাভাবিক গ্যাস লিকেজের ঘটনা বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা আবারও টের পাওয়া গেল। তিতাসের ইমার্জেন্সি টিম দ্রুত সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ না করলে গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণ হয়ে ভয়াবহ বিপদ হতে পারত।

সোমবার গ্যাসের প্রকট গন্ধে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে রাতেই তিতাস কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ভয় কাটেনি ঢাকাবাসীর। গ্যাস লাইনে ছিদ্রের কারণে গত দুই বছরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, পুরোনো, জীর্ণ এবং অসংখ্য ছিদ্র থাকার কারণে এমনিতেই তিতাসের বিতরণ নেটওয়ার্ক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) এবং তিতাসের অপারেশন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে রাজধানীবাসী সোমবার রাতে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তাদের মতে, সময়মতো গ্যাসের সরবরাহ না কমানোর কারণেই লাইনের চাপ বেড়ে যায়। এমন ঘটনার দায় পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এড়াতে পারে না। সোমবার রাতের ঘটনার পরও গ্যাস কোম্পানিগুলোর টনক খুব বেশি নড়েনি বলে মনে করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ঘটনার জন্য সরকার শুধু ঈদের ছুটিতে গ্যাসের চাহিদা কমে যাওয়াকে দায়ী করে দায় এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে। বিতরণ লাইনের দুরবস্থা, পরিচালনায় ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। এমনকি ঘটনার তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি।

মৃত্যু ঠেকানোর উদ্যোগ প্রকল্পেই ঘুরপাক

২৮ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সাত বছর আগের কথা। বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে দেশজুড়ে ১০ লাখ তালগাছের চারা আর ৩৫ লাখ আঁটি রোপণের উদ্যোগ নেয় সরকার। পরিচর্যা না থাকায় কোথাও মরে যায় তালের চারা, কোথাও হয়েছে নষ্ট। আর আঁটি থেকেও গজায়নি চারা। প্রায় শতকোটি টাকা গচ্চাতেই শেষ হয় তালগাছ প্রকল্পের গল্প।

আগাম সমীক্ষা ছাড়াই তালগাছের সে আয়োজন যে পুরোটাই নিষ্ফলা ছিল, খোদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানও টের পেয়েছেন। তবে দেরিতে, শতকোটি টাকা জলে যাওয়ার পরে। তিনি বলছেন, ‘৩৮ লাখের মতো তালের চারা-আঁটি লাগানোর পর দেখা গেল, যত্নের অভাবে মারা যাচ্ছে। তাই এটি বাতিল করে দিয়েছি। আর একটি তালগাছ বড় হতে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগে। ফলে এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান মনে হচ্ছে না।’

এরপর ২০১৭ সালে বজ্রপাতের পূর্বাভাস জানতে ৬৮ কোটি টাকা খরচায় দেশের আট স্থানে বসানো হয় রাডার (লাইটনিং ডিটেকটিভ সেন্সর)। বলা হয়েছিল, ১৫ মিনিট আগেই ওই এলাকার মানুষকে বজ্রপাতের তথ্য জানিয়ে দেওয়া যাবে। তবে সেটাও সফলতার মুখ দেখেনি। সম্প্রতি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সহযোগিতায় বজ্রপাত সম্পর্কে আগাম তথ্য পেতে ‘হাই ইমপ্যাক্ট ওয়েদার অ্যাসেসমেন্ট’ নামে একটি প্রযুক্তি চালু করে। এর মাধ্যমে ৫৪ ঘণ্টা আগেই বজ্রপাত সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া যাওয়ার কথা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষক ও জেলেদের কাছে এ ধরনের প্রযুক্তি সহজলভ্য না হওয়ায় এটি খুব বেশি কাজে লাগবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ।

এদিকে, তালগাছ প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার পর গত বছর নতুন করে হাওরাঞ্চলে আরও দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির সফলতা নিয়ে এখনও আশাব্যঞ্জক তথ্য মেলেনি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার আরও একটি প্রকল্প একনেকে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গত মার্চে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যাডাপশন অ্যান্ড ভালনারাবিলিটি রিডাকশন (রিভার)’ শীর্ষক প্রকল্প পাস হয়েছে। সেই প্রকল্পেও ১ হাজার ৪০০টি বজ্রনিরোধক যন্ত্র স্থাপন করার কথা বলা আছে।

ভয়াবহ ঝুঁকিতে মৌচাক মার্কেট

৩০ এপ্রিল ২৩, সমকাল

সব সময়ই বিপুলসংখ্যক ক্রেতার সমাগম ঘটে রাজধানীর মৌচাক মার্কেটে। ঈদের মৌসুমে এ সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। গত ঈদে কেনাকাটা করতে প্রতিদিন গড়ে দেড় লক্ষাধিক ক্রেতা ভিড় করেন। অথচ যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ৭০ বছর আগে নির্মিত এই মার্কেটটি। ২০১৪ সালের ৭ মে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা এ মার্কেটটি ভাঙতে মালিকদের চিঠি দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ঈদের আগে মার্কেটটিতে ‌‘ঝুঁকিপূর্ণ নোটিশ’ দিতে কৌশল নেয় সংস্থাটি।

বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ

৫১ মৃত্যুতে কারও দায় নেই

০৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

১১ মাস আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৫১ জন নিহত হওয়ার মামলার তদন্তে কারও দায় পায়নি পুলিশ। মামলাটি ‘তথ্যগত ভুল’ উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি দুর্ঘটনা। ডিপো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ছিল না। একই সঙ্গে ডিপোর বিভিন্ন পর্যায়ের আট কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। এটি গ্রহণের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক জাকের হোসাইন মাহমুদ।

ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই চলছিল নারায়ণগঞ্জের কারখানাটি

০৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় লোহা গলানোর সময় চুল্লিতে বিস্ফোরণ হওয়া রহিমা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড নামের কারখানাটির ছাড়পত্র নেই। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই চলছিল কারখানাটির উৎপাদন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কারখানাটিতে বিস্ফোরণের পর এসব তথ্য জানা গেছে।

চুল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা হলেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ইসলামনগর এলাকার ভোলা বাবুর ছেলে শঙ্কর বাবু (৩৭) ও কিশোরগঞ্জের ইটনা মৃধা আড়ি এলাকার ফজর আলীর ছেলে মো. ইলিয়াস হোসেন (৩৫)।

বজ্রনিরোধক যন্ত্রের ফল পেতে থাকতে হবে দীর্ঘ অপেক্ষায়

মে ০৫, ২০২৩, বণিক বার্তা

বজ্রপাতের জন্য ‘চিহ্নিত’ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা সিলেট। এরই মধ্যে গেল মাসে একই দিনে ওই অঞ্চলের তিন জেলায় নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এমনটি হচ্ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। চলতি বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি বজ্রপাতের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র (লাইটনিং অ্যারেস্টার মেশিন) বসানো হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে যন্ত্রটি। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় এর সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হবিগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সূত্র মতে, সিলেটের এ জেলাটিতে গত তিন বছর বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। এর মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়। ২০২০ সালে ১৫ ও ২০২১ সালে ১২ জন বজ্রপাতে মারা যান। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে গড়ে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এ জেলায় বজ্রপাতনিরোধক যন্ত্র স্থাপনে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে বাহুবল উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয় ১৫ লাখ, নবীগঞ্জে ৩০, বানিয়াচংয়ে ৪৫, আজমিরীগঞ্জে ৩০, হবিগঞ্জ সদরে ১৫, লাখাইয়ে ২৫, শায়েস্তাগঞ্জে ১০, চুনারুঘাটে ১৫ ও মাধবপুরে ১৫ লাখ টাকা। ওই টাকা দিয়ে জেলার নয় উপজেলায় লাইটিং অ্যারেস্টার মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকাকে ঘিরে ভূমিকম্পের কেন্দ্র

০৯ মে ২০২৩, প্রথম আলো

চলতি বছরের দুটি ভূমিকম্পের ধরনের সঙ্গে প্রায় ২১১ বছর আগে হওয়া ভূমিকম্পের একটি মিল আছে। ১৮১২ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ঢাকার আশপাশে পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্প ঠিক কত মাত্রার ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও এতে ঢাকার দুটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়। যেসব এলাকার ভূ-অভ্যন্তরে চ্যুতি বা ফাটল থাকে, সেখানে প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ বছর পরপর মাঝারি থেকে তীব্র ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই হিসাবে ঢাকার আশপাশে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে—এমন ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে।

বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ঢাকার দোহার থেকে ১৪ কিলোমিটার পূর্বে-দক্ষিণ-পূর্বে। ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে যান। তবে এখন পর্যন্ত এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর তথ্যের দ্বিগুণ আহত এক হাসপাতালে

৮ মে, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায়, ১৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ দিন ২৫৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩৯ জন নিহত ও ৫১০ জন আহত হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পত্রপত্রিকা ও পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ও যাচাই-বাছাই করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে তাদের এ তথ্যের সঙ্গে মাত্র একটি সরকারি হাসপাতালের তথ্যের আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ১৫ থেকে ২৯ এপ্রিল ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৪ জনের মতো। আর বিআরটিএর সংস্থার কর্মীরা ৬৪টি জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই ১৫ দিনে আহত পেয়েছেন ৫১০ জন; যা কিনা সরকারি এক হাসপাতালের তথ্যের থেকে অর্ধেকের কম।

দেশের অর্ধেক রেললাইন ঝুঁকিতে

২৩ মে, ২০২৩, কালেরকন্ঠ

দেশের ৪৩ জেলার ৩৯টিতেই রেললাইনে সমস্যা। রেলের মান নষ্ট হওয়া, লাইনে পর্যাপ্ত পাথর না থাকা, মাটি সরে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দেশের প্রায় অর্ধেক রেললাইন ঝুঁকিতে। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের করা এক সমীক্ষায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত ২৭ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দাড়িয়াপুর এলাকায় মালবাহী ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে লাইন ৫০০ মিটার বেঁকে যায়। ২৮ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়। ২৯ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারও রেললাইন বেঁকে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত রেললাইনে সমস্যার কারণে বেশি দুর্ঘটনা হয়। সঙ্গে অনেক সময় সাংকেতিক জটিলতা এবং মানুষের ভুলও দায়ী। দেশের বেশির ভাগ রেললাইনের অবস্থাই ভালো নয়।

মাটি থাকছে না, পাথর নেই, লাইন পুরনো হয়ে যাওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে।

রেলের মান ও লাইনের অবস্থা যাচাই করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে করা ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার রেললাইন ও রেলপথের অবস্থা খারাপ।

কোথায় কোথায় সমস্যা : রেলের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পূর্বাঞ্চলের ১৬ জেলায় সমস্যা বেশি। এই অংশে ১৫০ কিলোমিটার রেললাইন পুরোপুরি নতুন করে করতে হবে। ৪০০ কিলোমিটার পথে রেল পরিবর্তন করতে হবে। প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথে স্লিপারসহ অন্য সরঞ্জাম পরিবর্তন করতে হবে। পূর্বাঞ্চলের রেলপথে পাঁচ লাখ কিউবিক মিটার পাথরের ঘাটতি আছে।

রেলের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পূর্বাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও ঢাকায় রেলপথে এসব সমস্যা রয়েছে।

এদিকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী, ঢাকা, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২৩ জেলায় সমস্যা বেশি। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় কাজ করতে হবে। এই পুরো অংশে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার রেললাইনের অবস্থা ভালো নয়।

রেলপথে দুর্ঘটনার ৯০% লাইনচ্যুতির কারণে

২৩ মে, ২০২৩, কালেরকন্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দাড়িয়াপুর, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া বা অন্য কোনো জায়গা, দেশে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা থামছে না। ট্রেন দুর্ঘটনা মানেই লাইনচ্যুত হওয়া—বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিসংখ্যানও এমন অনুমিতিকেই জোর সমর্থন করছে।

সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরের দুর্ঘটনার তথ্য আছে পরিসংখ্যান দপ্তরে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ৮০টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৭২টিই ঘটেছে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে।

অঙ্কের হিসাবে এটা ৯০ শতাংশ। এর পর থেকে গত তিন অর্থবছরে রেল থেকে আর কোনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়নি।

ওই অর্থবছরের দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ট্রেন চলার সময় বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় সাতবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২.৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা শহরে ফিটনেসহীন বাসের দৌরাত্ম্য

৯ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজধানী ঢাকা শহরে বেসরকারি বাস অপারেটরদের পরিচালিত প্রতি ৫টি বাসের মধ্যে এক বা একাধিক বাসের কোনো বৈধ ফিটনেস সনদ নেই।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে চলাচলের জন্য ৭৫টি বাস কোম্পানির ৩ হাজার ৯৭৪টি বাসের রুট পারমিট রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে ২১ দশমিক ৯২ শতাং বা ৮৭১টি বাসের কোনো ফিটনেস ছাড়পত্র নেই।

সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।

এ সংক্রান্ত একটি নথি দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসে পৌঁছেছে, যেটি গত ৫ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দফতরে আয়োজিত একটি সভায় উত্থাপন করা হয়। যেখানে বহু বাস মালিক উপস্থিত ছিলেন।

দেশে শিশুমৃত্যু কমছে না

১৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভালো দেখা যাচ্ছে না। দেশে শিশুমৃত্যুর হার কমছে না; বরং বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএসএস) শিশুমৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিদিনই সভা-সেমিনারে বা গণমাধ্যমের কাছে স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির কথা বলছেন। কিন্তু কেন শিশুমৃত্যুর হার কমছে না বা কমাতে পারছেন না, তার ব্যাখ্যা তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সার্কভুক্ত প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের মধ্যে পিছিয়ে আছে। এমনকি আফ্রিকার কোনো কোনো দেশ থেকেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি খারাপ।

গতকাল মঙ্গলবার বিবিএস নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ স্যাম্পেল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২২’ প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ১ হাজার শিশু জন্ম নিলে তাদের মধ্যে ২৫টি শিশু মারা যায় বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২। ২০২১ সালে পাঁচ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে) ছিল ২৮। ২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩১। অর্থাৎ ১ হাজার শিশু জন্ম নিলে তাদের বয়স পাঁচ বছর হওয়ার আগেই ৩১টি শিশু মারা যাচ্ছে।

দুর্ঘটনা কমাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

১৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও আহত মানুষদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেওয়া এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বুধবার এই প্রকল্পের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠান হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। প্রকল্পের জন্য দুটি মহাসড়ক বেছে নেওয়া হয়েছে—গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এবং নাটোর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের সংকেত (সাইন) ঠিক করা, আশপাশের হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় আহত মানুষদের দ্রুত চিকিৎসার লক্ষ্যে বিনা পয়সায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া, পেশাদার চালকের প্রশিক্ষণ, দুর্ঘটনার তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশকে যন্ত্রপাতি দেওয়া, হাইওয়ে পুলিশের জন্য মাদারীপুরে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

পানিতে ডুবে কচি প্রাণের মৃত্যু চলছেই

০৭ জুলাই ২৩, সমকাল

পটুয়াখালীর কলাপাড়া শহর থেকে পূর্বদিকে দেড় কিলোমিটার গেলেই আন্ধারমানিক। নদীর পাড় ঘেঁষে মিনিট দশেক হাঁটলে ডান পাশে দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের জিয়া কলোনি। এখানে ভূমিহীন ছিন্নমূল মানুষের বাস। নদীর জোয়ার-ভাটা কলোনির বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। দূরন্ত শিশুরা দল বেঁধে দাপিয়ে বেড়ায় নদীর জলে। মর্মন্তুদ এক ঘটনার পর এ গ্রামের ঘরে ঘরে আতঙ্ক। যে পানিতে আনন্দে মাতত শিশুরা, সেই পানি নিয়েই এখন ভয়। কলাপাড়ার জিয়া কলোনিতে একটি অসহায় পরিবারের সাঁতার না জানা তিন শিশু পানিতে ডুবে লাশ হয়েছে।

অভাব-অনটনের সংসারে মা-হারা চার নাতি-নাতনিকে আগলে রাখছিলেন দাদি। প্রিয় নাতি-নাতনিকে হারিয়ে দাদি শেফালি বেগম এখনও ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। গত ১২ মে বাড়ির পাশে খেলা করছিল তিন শিশু মরিয়ম বেগম (৮), আল আমিন (৮) ও শারমিন আক্তার (৬)। খেলতে খেলতে দুপুর হয়ে যাওয়ায় গোসল করতে তিন শিশু নেমে যায় রাস্তার ধারের জমিতে জমে থাকা পানিতে। আর সেখানেই ডুবে মারা যায় তিন শিশু।

উপকূলের কলাপাড়ার মতোই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, এবার ঈদুল আজহার ছুটিতে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এক সপ্তাহে ২৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার নোয়াখালীতে এক দিনে পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। সন্তানহারা মায়েদের চোখে এখন জল আর বুকজুড়ে এক নদী দুঃখ। পানিতে তলিয়ে গেছে বেঁচে থাকার একমাত্র স্বপ্ন। ছোট্ট শিশুর ছিল কত আবদার, কত আহ্লাদ, দুষ্টুমিভরা দিনও– সবই এখন থমকে যাওয়া স্মৃতি। সংক্রামক রোগ ও দুর্ঘটনাজনিত কারণের বাইরে দেশে প্রতি বছর যত শিশু মারা যায়, এর অন্যতম পানিতে ডুবে মৃত্যু। তিন বছরে এই প্রাণহানি বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। সরকারি হিসাবেই দেখা গেছে, অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ এখন পানিতে ডুবে মৃত্যু। গত তিন বছরে এ হার দ্বিগুণেরও বেশি। গত এপ্রিলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসে দেখা গেছে, পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মোট মৃত্যুর ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হয় পানিতে ডুবে।

গণমাধ্যম উন্নয়ন ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সমষ্টি’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে। সংগঠনটির হিসাবে ২০২০ থেকে ২০২২– এই তিন বছরে পানিতে ডুবে ৩ হাজার ২৮৫ জন মারা গেছে, এর ৮৭ দশমিক ২৯ শতাংশই শিশু। গত জুনেই পানিতে ডুবে ৯৮ জন মারা গেছে। বাস্তবে এ সংখ্যা অনেক বেশি বলে মনে করেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের (সিআইপিআরবি) নির্বাহী পরিচালক এ কে এম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা গবেষণায় দেখেছি, পানিতে ডুবে প্রতিবছর পাঁচ বছর বয়সী অন্তত ১১ হাজার শিশুর   মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর বড় অংশের খবর গণমাধ্যমে আসে না।’ দ্য সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশে (সিআইপিআরবি) এবং আইসিডিডিআর,বির গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০টি শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, যাদের ৩০ জনেরই বয়স পাঁচ বছরের কম।

বুড়িগঙ্গায় বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে গেছে ওয়াটার বাস, নিখোঁজ ৩০

১৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রীসহ একটি ওয়াটার বাস ডুবে গেছে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। আজ রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বেঁচে যাওয়া কয়েকজন যাত্রী জানান, ওয়াটার বাসটি রাজধানীর লালকুঠি ঘাট থেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেলঘাটে যাচ্ছিল। মাঝনদীতে এলে এটি বালুবোঝাই এমভি আরাবি নামে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায়। খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনা এত বেশি যে কারণে

১৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মোটরসাইকেলে রাজধানীর মেয়র হানিফ উড়ালসড়ক দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মতিউর রহমান। তাঁর মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর মতিউর মারা যান।

ঘটনাটি গত শুক্রবারের। মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে প্রায়ই এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার শিকার হন মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী। ঢাকার অন্য উড়ালসড়কগুলোতে এত বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞ, পুলিশ কর্মকর্তা ও চালকেরা বলছেন, মেয়র হানিফ উড়ালসড়কে তিনটি কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি হয়—১. উড়ালসড়কটির জোড়া বা এক্সপানশন জয়েন্টের ফাঁকা, যেখানে সরু চাকার মোটরসাইকেল চালানো ঝুঁকিপূর্ণ; ২. অতিরিক্ত গতি; ৩. উড়ালসড়কে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানো–নামানো ও সাধারণ মানুষের অসতর্ক চলাফেরা।

ঝালকাঠিতে বাস পুকুরে পড়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

২২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে পড়ে নিহত যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ১৭ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন একটি পুকুরে বাসটি পড়ে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ‘বাসার স্মৃতি’ নামের বাসটি আজ সকালে ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। পথে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদরের ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন একটি পুকুরে বাসটি পড়ে যায়।

গণতন্ত্র মতপ্রকাশের অধিকার

গোয়েন্দা সংস্থার অফিস ও থানায় নির্যাতন – যেসব কারণে আলোচিত ‘মহানগর’

২৮ এপ্রিল ২০২৩, বিবিসি নিউজ, বাংলা

পুলিশের একজন ওসিকে থানা থেকে উঠিয়ে এনে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অতীত কাহিনী নিয়ে নির্মিত ‘মহানগর ২’ ওয়েব সিরিজ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে বেশ আলোড়ন ফেলেছে।

কোন একটি গোয়েন্দা সংস্থার ‘গোপন ডিটেনশন সেন্টারে’ কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ হয় এবং সেখানে কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির টেলিফোন কথোপকথন রেকর্ড করা হয়, তার একটি ধারণা দেয়া হয়েছে ‘মহানগর ২ সিরিজের’ মাধ্যমে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কোন নাটক, সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ নিয়ে এতোটা আলোচনা হয়নি। গণমাধ্যম বিশ্লেষক এবং দর্শকরা বলছেন, মহানগর ২ সিরিজে যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেগুলো যেন সমসাময়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।

এই সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র ওসি হারুন দর্শকদের কাছে পরিচিত একটি নাম হয়ে উঠেছে।

একজন সংসদ সদস্যের সাথে মেয়রের দ্বন্দ্ব, মানুষজনকে উঠিয়ে নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, একজন শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যবসায়ীর সন্তানের বেপরোয়া আচরণ – এসব বিষয় উঠে এসেছে মহানগর ২ সিরিজের মাধ্যমে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহানগর ২ সিরিজে যেসব চরিত্র কিংবা বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে সেগুলোর সাথে বাস্তবের চরিত্র এবং ঘটনা মেলাতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না।

“বাংলাদেশে গত ১০ বছরে যা ঘটেছে তার অনেক বিষয় এই মহানগর সিরিজের মাধ্যমে উঠে এসেছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন চলচ্চিত্র এবং মিডিয়া বিশ্লেষক ফাহমিদুল হক

“একজন বিলিয়নিয়ারের কাণ্ড-কীর্তি, ইন্টেলিজেন্স (গোয়েন্দা) বিভাগের কাণ্ড-কীর্তি, একজন নারী মেয়র ও একজন এমপির মধ্যে দ্বন্দ্ব – এসব কিছু উঠে এসেছে এখানে।”

২৭% মামলাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

দুর্নীতি–সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গত বছরের জুনে গ্রেপ্তার হন রাঙামাটির সাংবাদিক ফজলে এলাহী। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একই আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। দুই মামলারই বাদী সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের মেয়ে।

মানবাধিকার ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যানুযায়ী, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। আর বেশির ভাগ মামলা করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সিজিএস ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ১ হাজার ২৯৫টি মামলার তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তাতে উঠে এসেছে, এসব মামলার মধ্যে ২৭ দশমিক ৪১ শতাংশ মামলা হয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৫৫ জন সাংবাদিককে।

সিজিএস বিশ্লেষণ বলছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে। আসামি হওয়া রাজনীতিকের সংখ্যা ৪০৩ জন (৩১ শতাংশ)। এর পরেই আছেন সাংবাদিক (৩৫৫ জন)। তারপর আছেন শিক্ষার্থী (১১৮ জন)।

একাডেমিক কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না অধ্যাপক ইমতিয়াজ

০১ মে ২০২৩, প্রথম আলো

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের ওপর আরও কঠোর হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অধ্যাপক ইমতিয়াজ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের একাডেমিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।

 গতকাল রোববার সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষাসচিব সোলেমান খান প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গেছেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ।

মামলার বিড়ম্বনায় সাংবাদিকতা: ২৫ বছরে শতাধিক মামলার জালে প্রথম আলো

মে ০৩, ২০২৩, ভয়েস অব আমেরিকা

১৯৯৮ সালের নভেম্বরে যাত্রা শুরুর পর ২০২৩ সালের মে মাস আসতে আসতে শতাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে ‘প্রথম আলো’ নামের বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকদের। গত ৪ নভেম্বর ২৫ বছরে পা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা ভয়েস অফ আমেরিকাকে জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এখনো ৫২টি মামলা চলমান। দেশটির ইতিহাসে অন্য কোনো বাংলা গণমাধ্যম এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি।

প্রথম আলো অফিস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সম্পাদক মতিউর রহমানের নাম উল্লেখ আছে এমন চলমান মামলার সংখ্যা ১৬টি। একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে এতগুলো মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেছেন, ‘‘বেশি মানুষ সংক্ষুব্ধ হচ্ছেন বলেই বেশি মামলা হচ্ছে।’’

বাংলাদেশে যখনই যে দল ক্ষমতায় এসেছে তারাই প্রথম আলোর সাংবাদিকতাকে চ্যালেঞ্জ করে একের পর এক মামলা করেছে। বারবার বন্ধ হয়েছে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। নজিরবিহীনভাবে কখনো ঘণ্টাব্যাপী, কখনো কয়েক মিনিট ধরে জাতীয় সংসদে তাদের সমালোচনা হয়েছে। এরমধ্যে ২০০১ সালের একটি ঘটনায় স্পিকার সংসদের কার্যবিবরণী থেকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীর বক্তব্য বাদ (Expunge) দিয়েছিলেন। সেবছর ১২ ও ২৬ জুন দুইবার জয়নাল হাজারী প্রথম আলো এবং মতিউর রহমানের তীব্র সমালোচনা করেন। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে গণমাধ্যমটির সমালোচনা করেছেন।

ঢাবি কর্তৃপক্ষ কি সরকারের পাহারাদার, প্রশ্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

মে ৩, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নেওয়া সিদ্ধান্তের নিন্দা ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

আজ বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে এই নিন্দা ও দাবি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি একটি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে দুজন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দুটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী, তিয়াত্তরের অধ্যাদেশের মূলনীতির বিরুদ্ধে এবং বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে একটি উদারপন্থী প্রতিষ্ঠান ও পরিসর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ও কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে তারা প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও অঙ্গীকারকে হত্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এ ধরনের পদক্ষেপের নিন্দা জানাচ্ছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের ২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি বইতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা করা হয়েছে ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটনো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে তিনি “জয় বাংলা”র পাশাপাশি “জয় পাকিস্তান” বলেছিলেন কি না, অধ্যাপক আহমেদের বইতে উত্থাপিত সে সংক্রান্ত তথ্য বা তথ্য বিভ্রান্তিকে ঘিরে এই অভিযোগ উঠেছে।

গত ৩০ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে এলপিআরে থাকা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিই কেবল দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতে যেকোনো একাডেমিক কাজে তার যুক্ত হওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রকাশককে বইটি প্রত্যাহরের আহ্বান জানানো হয়েছে।’

‘একই সভায় সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর ফেসবুকের একটি পোস্টকে ঘিরে একটি কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপিত হয়, যাতে বলা হয়েছে যে ওই পোস্টের মাধ্যমে তিনি পাঠ্যপুস্তক, সরকারের শিক্ষানীতি ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার “অপপ্রয়াস” করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে এ বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের আচরণ করবেন না এরকম লিখিত মুচলেকা প্রদানের সাপেক্ষে তার “ক্ষমাপ্রার্থনা” সিন্ডিকেট সভায় মঞ্জুর করা হয়েছে।’

বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, ইতিহাসের একটি মহাবয়ান থাকে, কিন্তু অপরাপর বয়ান সমান্তরালে চালু থাকে। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে ঐতিহাসিক বড় ঘটনাকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করা একাডেমিক চর্চা ও স্বাধীনতারই অংশ। অধ্যাপক ইমতিয়াজ যদি ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে আরও বহু সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ ঐতিহাসিক রচনাই হতে পারে তার প্রতি জবাব। থিসিস ও পাল্টা থিসিসের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এক্ষেত্রে নানান শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া কোনো একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিষদের কাজ হতে পারে না। বিশেষত উভয় ক্ষেত্রে সরকারকে সাক্ষী মানা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে মানায় না। দ্বিতীয় ঘটনাটিতে যদি কিছু হয়ে থাকে, তবে সরকারের “ভাবমূর্তি” ক্ষুণ্ন হয়ে থাকতে পারে। বিক্ষুব্ধ পক্ষের হয়ে উপযাচকের মতো সহকর্মীর কাছ থেকে মুচলেকা আদায় দেখে মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় যেন পুলিশি প্রতিষ্ঠান হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। প্রথম ঘটনাটির ক্ষেত্রে কেবল সহকর্মীকে শাস্তিই দেওয়া হয়নি, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি সরকারের পাহারাদার?’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘কয়েকদিন আগেই একটি দৈনিকের প্রতিবেদনকে ঘিরে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা বিবৃতি প্রদান করেছেন, উপাচার্য মহোদয়ও রাজপথে একই দাবি জানিয়েছেন। অথচ প্রতিবেদককে যে রাতের আঁধারে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ২০ ঘণ্টা গুম করে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য ছিল না। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় ক্ষমতা কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে, অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনাকারী শিক্ষক নেতারা যেন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আগ বাড়িয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’

‘আমরা মনে করি, সর্বজনের করের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব নাগরিকের কাছে দায়বদ্ধ, কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কাছে নয়। এটাই সর্বজনের (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের যদি সরকারি ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার শক্তি না থাকে, তবে অন্তত ক্ষমতাকাঠামোর লেজুড়বৃত্তি থেকে সরে, অধিকতর একাডেমিক কার্যক্রমে নিজেদের যুক্ত করা উচিত। তাতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী-কর্মচারী-শিক্ষক মিলে যে বৃহত্তর বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ, তার মানমর্যাদা যতটুকু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা পাবে, সব নাগরিকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে দায়, তাও পালন হবে। ক্ষমতাবানদের পক্ষে সহকর্মীদের শাস্তি দেওয়া নয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষা করাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।’

মুক্ত গণমাধ্যম সূচক: ১৪ বছরে ৪২ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

মে ৩, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। এই ১৪ বছরের শাসনামলে মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ৪২ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম এবং ১০০ এর মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪২ দশমিক ২। গত বছর মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬২তম এবং স্কোর ছিল ৩৬ দশমিক ৬৩।

আজ বুধবার প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, ২০২৩ সালে আরও একধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৬৩তম। এ বছর বাংলাদেশের স্কোর ৩৫ দশমিক ৩১।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্রস (আরএসএফ) প্রতিবছর ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে থেকে এই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক প্রকাশ করে। আরএসএফের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা ২০০২ সাল থেকে এই সূচক প্রকাশ করছে।

২০০২ সালে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১৮তম। ২০০৩ সালে তা অবনতি হয়ে দাঁড়ায় ১৪৩তম। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে এই অবস্থান ছিল ১৫১তম এবং ২০০৮ সালে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৬তম।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক তৈরিতে আরএসএফ মূলত ৫টি বিষয় বিবেচনায় নেয়। সেগুলো হলো—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা।

সরকারের ‘মুঠোয়’ হেফাজত, একই পথে ইসলামি দলগুলো

০৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

‘আমরা আপনার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। আগামীকাল রাতে কীভাবে পালাবেন, তার প্রস্তুতি নিন।’ এই উক্তি ১০ বছর আগের, ২০১৩ সালের ৫ মের। রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে উক্তিটি করেছিলেন সাবেক হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

১৩ দফা দাবিতে মতিঝিলে অবস্থান নেওয়া হেফাজত নেতাদের উদ্দেশে সেদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, সন্ধ্যা ছয়টার পর সমাবেশ শেষ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে হেফাজতের সমাবেশ থেকে মামুনুল হক সরকারকে কীভাবে পালাবেন, তার প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। যদিও সে রাতেই পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানের মুখে হেফাজত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ৫ মে দিনভর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ-সহিংসতা হয়। ওই দিন এবং পরদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৯ জন নিহত হন।

১০ বছর আগে আজকের এই দিনে সারা দেশ থেকে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা এসে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তাদের ১৩ দফা দাবি নিয়ে তখন বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং নারীদের হিজাব বাধ্যতামূলক করাসহ নারীনীতি ও শিক্ষানীতি নিয়ে হেফাজতের দাবির বিরুদ্ধে তখন বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদও করেছে।

হেফাজত আরেকবার আলোচনায় আসে ২০২১ সালের মার্চে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনার কারণে। তখন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন।

তবে এক দশকের ব্যবধানে হেফাজতের সেই দাপট ও সাংগঠনিক অবস্থান আগের মতো নেই। ২০১৩ সালে সরকারকে পালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া সেই মাওলানা মামুনুল হক দুই বছর ধরে কারাবন্দী। তাঁর বিরুদ্ধে ৪১টি মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন। এ রকম সারা দেশে ২৮৫টির মতো মামলা রয়েছে। এতে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী আসামি।

হেফাজত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হেফাজত গুরুত্ব ও প্রভাব হারানোয় এর প্রভাব পড়েছে হেফাজত-সংশ্লিষ্ট কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ওপরও। কারণ, হেফাজতের নেতৃত্বের সিংহভাগই কোনো না কোনো ইসলামি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বা ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে হেফাজতের মামলায় ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতারা আসামি হন। যার কারণে মামলা, গ্রেপ্তারসহ নানামুখী চাপে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল যেমন দুর্বল হয়েছে, তেমনি হেফাজতও বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

 

বেলাবতে লালনের আখড়ায় হামলা, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর

০৮ মে ২৩, সমকাল

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নে লালন সংগীতের আখড়াবাড়ি পুলকিত আশ্রমের সাধুসঙ্গে হামলা এবং বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন বাউল শিল্পী আহত হয়েছেন। সোমবার এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তুমুল নিন্দা জানাচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।

আশ্রমের বাউলরা জানায়, সোমবার পুলকিত আশ্রমে সাধুসঙ্গের দিন ধার্য ছিল। সে উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু-ফকির, বাউল শিল্পীরা আগে থেকেই আশ্রমে উপস্থিত ছিলেন। রোববার দুপুরে শেখ জাহাঙ্গীর এবং শাহীনের নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়াকে খুঁজতে আশ্রমে আসেন। জাহাঙ্গীরকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা আশ্রমে হামলা শুরু করলে তাদের বাধা দেন বাউল শিল্পীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আগত শিল্পীদের ওপর হামলা চালায় তারা। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে আসা লালন শিল্পী রিয়াদ ভূঁইয়া, মিন্টু ফকির ও রাকিব ফকির আহত হয়েছেন। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা তনপুরা, দোতারাসহ সব বাদ্যযন্ত্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, তরুণীর কারাদণ্ড

১০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা কলেজের এক শিক্ষার্থীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছিল র‍্যাব। সেই মামলায় তাঁকে আড়াই বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত আজ বুধবার এই রায় দেন। এই ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম দণ্ডাদেশের বিষয়টি  প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ওই শিক্ষার্থী। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দারুসসালাম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৮ ও ২৯ ধারায় মামলা হয়। ওই মামলায় ২০২২ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। আজ বুধবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।

 

নতুন নিবন্ধিত দল ইনসানিয়াত বিপ্লবের নেতৃত্বে কারা

১৪ মে ২০২৩, প্রথম আলো

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দেশের ৪১তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অপরিচিত এই দলের নিবন্ধন পাওয়া নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। এই রাজনৈতিক দল যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁরা মূলত চট্টগ্রামভিত্তিক সুন্নি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এর নেতারা দাবি করেছেন, তাঁদের দল ধর্মভিত্তিক কোনো দল নয়। উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে দলটিকে ইসি নিবন্ধন দিয়েছে গত ৮ মে।

দলটির নিবন্ধন পাওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ব্যাপারে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইসির গেজেট অনুযায়ী ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গুলশান-১ নম্বরে অবস্থিত। গত বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সেই ঠিকানাতেই সড়কের পাশে অবস্থিত ভবনের দোতলায় দলটির কার্যালয়। সেখানে একটি দরবার হল রয়েছে এবং হলে শতাধিক চেয়ার পাতা। সামনে মঞ্চের মতো বানানো। কার্যালয়ে আরও কক্ষ রয়েছে নেতাদের বসার জন্য।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ইনসানিয়াত বিপ্লব ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে। কিন্তু ইসি দলটিকে নিবন্ধন দেয়নি। তখন তারা হাইকোর্টে রিট করলে নিবন্ধনের পক্ষে রায় হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসি আপিল বিভাগে আপিল করেছিল। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ইনসানিয়াত বিপ্লবের নিবন্ধনের পক্ষে রায় বহাল রাখেন।

ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সই করা দলটির নিবন্ধনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আপিল বিভাগের রায় ও আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশকে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে।

দলটির নেতাদের সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

সর্বশেষ নিবন্ধন পাওয়া এই দল ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইদুর রহমান নিজামী শাহ। তিনি গবেষণার জন্য ২০২০ সালে একুশে পদক পেয়েছেন। সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইদুর রহমানের ছেলে সৈয়দ ইমাম হায়াত দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ইসলাম ধর্মভিত্তিক সংগঠন ‘বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন’-এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। তাদের কর্মকাণ্ড ছিল চট্টগ্রামের মিরসরাইভিত্তিক। সেখানে পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত জামিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন সৈয়দ ইমাম হায়াত। দলের মহাসচিব শেখ রেহান আফজাল একটি ভবন নির্মাণকারী বা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।

খুলনায় বিএনপির সমাবেশে পুলিশের গুলি-লাঠিচার্জ, আহত ২০

১৯ মে ২৩, সমকাল

খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ বিএনপির অন্তত ১৫ জন ও ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পূর্বঘোষিত সমাবেশে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও শটগানের গুলি ছুঁড়েছে।

 

নির্বাচন ছাড়াই সংসদ ও সরকারের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব

২২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান সংসদ ও সরকারের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত জামাল উদ্দীন ‘যুক্তি’ দিয়েছেন, করোনা দুর্যোগের কারণে দুই বছর জাতীয় সংসদ ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। ওই সময় সরকার, জনগণ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেউই ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি এবং দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। তাই সংসদ ও সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো প্রয়োজন। তবে কোনো কারণে পাঁচ বছর সম্ভব না হলে সরকার ও সংসদের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর বাড়ানো যেতে পারে।

আজ সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির ডাকা মানববন্ধনে দেওয়া বক্তব্যে ওই প্রস্তাব দেন জামাল উদ্দীন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার সামনে এই কর্মসূচি পালন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে।

জায়েদার কর্মী-সমর্থকদের সন্ধান মিলছে বিভিন্ন জেলার কারাগারে

২২ মে ২০২৩, যুগান্তর

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের নিখোঁজ কর্মী-সমর্থকদের সন্ধান মিলছে বিভিন্ন জেলা কারাগারে।

সোমবার টেবিল ঘড়ি প্রতীকের সমর্থক ও টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রাসেল (৩৪), টঙ্গী ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা হায়দার ওরফে কামাল (৫০) ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুরার বাসিন্দা টেবিল ঘড়ির কর্মী রেজাউল করিমের (২২) সন্ধান মিলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে।

গত শনিবার রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। পরে তাদের রূপগঞ্জ থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের ঠাঁই করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম ফারুক খোকনকে প্রধান আসামি করে বিএনপির ৩৯ নেতাকর্মীর নামে গত বছর ২৮ নভেম্বর রূপগঞ্জ থানায় ওই মামলা দায়ের হয়।

অপরদিকে টঙ্গীর ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব কামাল হোসেনের সন্ধান মিলেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। বিএনপি নেতাদের নামে রাজধানীর তুরাগ থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি পুরনো মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কামালকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত শনিবার রাত ১১টায় সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা কামালকে টঙ্গীর বড় দেওড়া পরান মণ্ডলের টেকের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম

২৩ মে ২০২৩, মানবজমিন

মনটা চায় আবার ইস্তফা দিয়ে ফিরে আসি। যেখানে মুগুর দেয়ার সেটাও জানি। একজন চিফ জাস্টিসকেও নামিয়ে দিয়েছিলাম। মশিউজ্জামান (বারের গত নির্বাচনের সাব কমিটির প্রধান)কে আমরা মনে করতাম, ওরে বাবা, কী জানি ফেরেস্তা আসছে। সবচেয়ে বড় চোর হলো মশিউজ্জামান। যে সকল সুশীলরা আমাদেরকে বুদ্ধি দিতে যাবেন সেই সকল সুশীলদের আমরা বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গা নদীর কালো পানিতে ছেড়ে দেবো। গত রোববার বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

শাহবাগে প্রতিবন্ধীদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

০৫ জুন ২৩, সমকাল

প্রতিবন্ধী ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করাসহ ১১ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে  যাত্রা শুরু করলে পুলিশের বাধায় পড়ে ‘সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজ’। পরে তারা শাহবাগ মোড়ে বসে পড়েন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে শাহবাগমুখী যান চলাচল দীর্ঘসময় বন্ধ থাকে।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারা আন্দোলন স্থগিত করে চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিন সকাল ১০টায় তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে তাদের শাহবাগেই আটকে দেয় পুলিশ। পরে এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

সন্ধ্যায় সংক্ষুব্ধ প্রতিবন্ধী নাগরিক সমাজের অন্যতম সমন্বয়ক সাবরিনা সুলতানা বলেন, তাদের দাবি-দাওয়া আলোচনার জন্য তারা আন্দোলন স্থগিত করেছেন এবং তাদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। তাদের অসুবিধা হতে পার। আগামী ১৪ জুনের মধ্যে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন।

আন্দোলন কর্মসূচিতে তারা বলেন, সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে কোনো ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা মাসিক ৮৫০ টাকা, উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এটি খুবই অপ্রতুল। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের তুলনায় খুবই কম। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ না থাকায় তারা বাজেট ক্ষোভের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ৭০০১টি

৬ জুন, ২০২৩, দেশ রুপান্তর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সারা দেশে এই আইনে ৭ হাজার একটি মামলা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

ভোট বন্ধে খর্ব হচ্ছে ইসির ক্ষমতা

০৬ জুন ২৩, সমকাল

অনিয়মের কারণে ভোট বন্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা সীমিত করে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৩’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আইনে এই সংশোধনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিলটি উত্থাপনে আপত্তি জানিয়ে জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমাম বলেন, ইসির ক্ষমতা খর্বের এই প্রস্তাব সংবিধানবিরোধী। তবে তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ২৮ মার্চ বিলটিতে নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

বিদ্যমান আইনে অনিয়ম বা বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের আশঙ্কায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট বন্ধ করতে পারে নির্বাচন কমিশন। এই ক্ষমতা সীমিত করে শুধু ভোটের দিন ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের কোনো আসনের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে পুরো আসনের ভোটের ফল ঘোষণার পর স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে না ইসি। যেসব ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, শুধু সেসব (এক বা একাধিক) কেন্দ্রের ফল স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতা থাকছে ইসির হাতে।

ভোটের নগরে বিদ্যুৎ যায় না

০৭ জুন ২৩, সমকাল

প্রচণ্ড গরমে ত্রাহি অবস্থা সারাদেশে। লোডশেডিংয়ে জীবন জেরবার। কিন্তু তুলনামূলক ভালো আছে ভোটের চার শহর বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী। ভোটারদের তুষ্ট রাখতে ‌‘ওপরের নির্দেশে’ এসব শহরে লোডশেডিং তেমন দেওয়া হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেভাগে এ চার নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সিটির বাইরে বিদ্যুতের দুর্ভোগ অসহনীয়। বরিশাল ও খুলনায় ১২ জুন এবং সিলেট ও রাজশাহীতে ২১ জুন ভোটের তারিখ নির্ধারিত আছে।

বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ওপরের নির্দেশনায় সিটি নির্বাচন এলাকায় লোডশেডিং কমিয়ে আনা হয়েছে। কোথাও কোথাও নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

যদিও বিষয়টির সমালোচনা করেছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, এটি অনৈতিক। অন্যায়ভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হচ্ছে। শুধু ভোটের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় সরকারিভাবে বিশেষ সুবিধা প্রদানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এটা অন্য প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। যোগাযোগ করা হলেও নির্বাচন কমিশনের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে বিদেশ সফররত বিদ্যুৎ সচিব হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশে ফিরে কথা বলবেন বলে জানান।

এদিকে, ঢাকার কিছু ভিআইপি এলাকাও লোডশেডিংয়ের চরম ভোগান্তি থেকে মুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

‘রম্য রচনা’র জন্য ডেইলি স্টারের কাছে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি মেয়র তাপসের

০৮ জুন ২০২৩, ইত্তেফাক

দ্য ডেইলি স্টারে গত ১৩ মে প্রকাশিত একটি রম্য রচনায় মানহানি হয়েছে দাবি করে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মেয়র তাপসের আইনজীবী মেজবাহুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ডেইলি স্টার তাদের প্রিন্ট সংস্করণ ও অনলাইন সংস্করণে ‘কাটিং ট্রিজ টু মেক ওয়ে ফর এয়ার’ শিরোনামে একটি ‘কলাম’ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, কলামে ঢাকা সাউথ সিটি করপোরেশনের নাম বিকৃত করে ‘ধোকা সাউথ টাউন করপোরেশন’ করা হয়েছে। যিনি ‘কলাম’টি লিখেছেন, তিনি তার নিজের বক্তব্য উদ্ধৃতি চিহ্ন দিয়ে মেয়রের বক্তব্য বলে চালিয়েছেন, বিকৃত করে উপস্থাপন করেছেন।

৮ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করে তোমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানিয়েছি

০৮ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

নিজে আটটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করে কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কায়সারুল হক ওরফে জুয়েলকে বিজয়ী করেছিলেন বলে দাবি করেছেন উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ইমরুল কায়েস চৌধুরী। গত মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে এমন বক্তব্য দেন তিনি।

 পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবুনিয়ারছড়া এলাকায় মাহবুবুর রহমানের পথসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে ইমরুল কায়েসকে বলতে শোনা যায়, ‘কায়সারুল হক জুয়েল, তুমি যদি আমার বক্তব্য শুনে থাকো বিগত নির্বাচনে তোমার জন্য কক্সবাজারে ৮টি কেন্দ্রে আমি ভোট ডাকাতি করেছি, নৌকার পক্ষে গিয়ে। আমি ইমরুল কায়েস যদি না থাকতাম, তুমি উপজেলা চেয়ারম্যান হতে পারতে না।’

১০ মাসে ১৪৩১ লিংক অপসারণে বিটিআরসিকে অনুরোধ

১১ জুন ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

গত ১০ মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ১ হাজার ৪৩১টি লিংক অপসারণের জন্য বিটিআরসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

রবিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

১০ বছর পর প্রকাশ্যে জামায়াতের সমাবেশ, রাজনীতিতে গুঞ্জন

১১ জুন, ২০২৩, প্রথম আলো

এক দশকের বেশি সময় পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুলিশের মৌখিক অনুমতি পেয়ে ঢাকায় সমাবেশ করল। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করেছিল দলটি। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে সরকারের অনুমতি পেয়ে জামায়াতের সমাবেশ করার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ অবশ্য জামায়াতকে শর্ত সাপেক্ষে মৌখিকভাবে সমাবেশের অনুমতি দেয়। দলটিও শর্ত অনুযায়ী রাস্তায় সমাবেশ করেনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে জামায়াত নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমাবেশে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে হবে। গত দুটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০১৪ গিয়েছে যাক, ২০১৮ গিয়েছে যাক, কিন্তু ২০২৩ সাল এভাবে অতীতের মতো আর হবে না। দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম।’

জাতীয় পার্টিকে সরিয়ে জামায়াতকে অনুমতি

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনটি শনিবারের জন্য ভাড়া নিয়েছিল জাতীয় পার্টির (জাপা) যুব সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি। সেখানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে সরিয়ে সেখানে জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় পুলিশ। জানা গেছে, গত শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশ জাপার দায়িত্বশীল নেতাদের ডেকে নিয়ে মিলনায়তন ছেড়ে দিতে বলে। মিলনায়তনে সম্মেলনের জন্য নেওয়া ব্যানার-ফেস্টুনসহ জিনিসপত্র কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে নিয়ে যেতে বলে।

জাপার পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভাড়া নিয়েছিলেন দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক টাকা খরচ করে হল সাজিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই পুলিশের কর্মকর্তারা সব জিনিস নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। পুলিশ আমাদের ওপর জুলুম করেছে।’

পরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের একটি মিলনায়তনে যুব সংহতির সম্মেলন হয়। এতে জাপার চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ তাহের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্সের বিষয়টি তাঁরা একদম জানতেন না। সকালের দিকে টের পেয়েছেন। পুলিশ কাজটি ঠিক করেনি। তবে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, সামনে গেলেও সমস্যা, পেছনে গেলেও সমস্যা।

সিটি নির্বাচনের পরদিন থেকেই খুলনায় ফের বিদ্যুৎ বিপর্যয়

১৪ জুন ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের পূর্বে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন লোডশেডিং বন্ধ করতে। সেই অনুরোধে সাড়াও দিয়েছিল সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ।

সোমবারের (১২ জুন) ভোটযুদ্ধে জয়লাভ করেছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে ভোটের পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে খুলনা শহরে আবার ফিরে আসে লোডশেডিং।

তবে মেয়র নির্বাচনের একদিন পরও বরিশাল নগরীতে বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল নিরবচ্ছিন্ন।

নির্বাচনকালীন প্রশাসন চাঙ্গা রাখতে নানা পদক্ষেপ

সমকাল, ১৯ জুন ২০২৩

নির্বাচনমুখী প্রশাসন সাজাতে পুরোদমে মন দিয়েছে সরকার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে– এমনটা ধরে নিয়েই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছে। সামনের দিনে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসনের শীর্ষ মহল। সংশ্লিষ্ট শীর্ষ দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য মিলেছে।

প্রশাসনকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করছে বিরোধী দল– এমন কথা সচিবালয়ে ঘুরছে। তাঁদের মধ্যে এ নিয়ে কানাঘুষাও চলছে। এমন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সরকারের পক্ষ থেকেও কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার উপায় খোঁজা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে বারবার পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা যাতে নির্বাচন সামনে রেখে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুমে প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ চার কর্মকর্তা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে। অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখা এবং যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষেত্রে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

সচিবালয় সূত্র জানায়, তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকটি হয় মন্ত্রিসভার এক সদস্যের রুমে। তখন ওই মন্ত্রিও উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে মুখ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও জননিরাপত্তা সচিব মন্ত্রীর রুমে যান। তখন বেশ কিছু দর্শনার্থীর চাপে ছিলেন মন্ত্রী। এ চাপ সামলানোর পরপরই মন্ত্রিপরিষদ সচিব রুমে ঢোকেন। এর পর তাঁরা একান্তে অন্তত তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের টেবিলে বেশ কিছু দৈনিক পত্রিকা ছিল। এর মধ্যে কয়েকটি পত্রিকা একজন আরেকজনের দিকে দিয়ে বিভিন্ন নিউজ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর মধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত আন্দোলনবিষয়ক কয়েকটি নিউজ তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই করতে চায় সরকার। দেশি-বিদেশি মঞ্চগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সেটা মানছে না। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এ সংক্রান্ত সমঝোতা না হলে যে কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এমন অবস্থা ধরে নিয়ে মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ে দক্ষ এবং চৌকস কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ কারণে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে আরও অন্তত তিন দফা পদোন্নতি দেওয়া হবে। প্রশাসনের ২২ ব্যাচের কর্মকর্তাদের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ-সংক্রান্ত কাজ অর্ধেক এগিয়েছে। ব্যতিক্রম না হলে জুলাই মাসের মধ্যেই তাঁরা পদোন্নতি পাবেন।

এর পরপরই পদোন্নতির কাতারে আসবে প্রশাসনের ২৯তম ব্যাচ। এ ব্যাচের সিনিয়র সহকারী সচিবরা এরই মধ্যে উপসচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। পদোন্নতিযোগ্যদের তথ্য চেয়ে জনপ্রশাসন থেকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে চলতি বছর একবার অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি হলেও নির্বাচনের আগে আরেকবার পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে। ১৮ ব্যাচকে মূল ধরে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি হবে বলে জানা গেছে। চলতি বছরে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে এবার পদোন্নতি বিবেচনায় আসার কথা নয়। কিন্তু নির্বাচন সামনে রেখে পদভেদে দক্ষ অফিসারের রিজার্ভ বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ গত মে মাসে ১৭ ব্যাচের কর্মকর্তাদের যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লেগেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেরি করে পদোন্নতি দিলেও অন্যবারের চেয়ে বেশি কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন এবার। এটাও নির্বাচনী পুরস্কার বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এর আগে একাধিকবার পদোন্নতিযোগ্য মূল ব্যাচের অর্থাৎ ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা থাকার পরও ১০০ জনের বেশি অতিরিক্ত সচিবের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে ব্যাচ ভেঙে একই ব্যাচকে মূল ধরে দুই বছরে দু’বার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার সময় মূল ব্যাচের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তা ছিলেন মাত্র ৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৪২ জনসহ ১১৪ জনকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনে যুক্ত হওয়া ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা ও অন্যান্য ব্যাচের লেফট-আউট কর্মকর্তারা আছেন। তবে ১০০ জনের বেশি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাবেন– এটা প্রায় কেউই আন্দাজ করতে পারেননি।  নির্বাচনী বছর হিসেবে এটা হয়েছে বলে মনে করেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

মাঠ প্রশাসনে বড় পরিবর্তন

এদিকে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদ– বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি, এবং ইউএনও পদেও বেশ পরিবর্তন আসবে। নির্বাচনকালে এ পদগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে পুলিশের ডিআইজি পদে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনে পরিবর্তন বিষয়ে হোমওয়ার্ক শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনের পরপরই ২২ থেকে ২৭টি জেলার ডিসি পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে এ পদে প্রশাসনের ২২ ব্যাচের কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাঁদের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে এমনিতেই সরিয়ে নিতে হবে। এর বাইরে আরও কয়েকটি জেলার ডিসির বদল বা প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে। আর বিভাগীয় কমিশনার পদে দায়িত্বশীল আচরণ করতে না পারলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় যাবে সরকার। খুলনার সদ্য সাবেক বিভাগীয় কমিশনারের উদাহরণ দিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, সিটি নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বিভাগীয় কমিশনার পরিবর্তনেও পিছপা হয়নি সরকার। তাই যাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্বে আছেন তাঁদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা সামনে। যদি কারও পা পিছলে যায়, সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে। এ কারণে বিকল্প প্রার্থীও খুঁজে রাখা হচ্ছে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচন সামনে রেখে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের ডিসি নিয়োগ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ চলছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বৈঠকে দায়িত্বশীল সব কর্মকর্তার উপস্থিত থাকতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যদি কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার প্রমাণ পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে সেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাবে সরকার।

চুক্তি নিয়ে গ্যাঁড়াকল ও বঞ্চনা

আস্থাবান অফিসারদের নির্বাচন পর্যন্ত রাখতে এরই মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। প্রশাসন এবং প্রশাসনের বাইরে সচিব ও সিনিয়র সচিব মিলিয়ে এক ডজনের বেশি কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আছেন। পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদগুলোতে নিকট অতীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নজির নেই। সেখানে আইজিপি ও র‍্যাবের মহাপরিচালককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী নির্বাচনের আগেই প্রশাসনের শীর্ষতম দুই পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের স্বাভাবিক কর্মকাল শেষ হচ্ছে। তাঁদের দু’জনকেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে বলে সচিবালয়ে আলোচনা আছে।

রেজা-নুরের দ্বন্দ্বে ভাঙতে যাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ

১৯ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া এবং সদস্য সচিব নুরুল হক নুর সম্প্রতি একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি নানা অভিযোগ তুলছেন। দলটির শীর্ষ এ দুই নেতার দ্বন্দ্বে যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে গণঅধিকার পরিষদ।

একে অপরকে সরকারি এজেন্ট বলে আখ্যা দিচ্ছেন তারা। দলটির একটি সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই দলের কাউন্সিলের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। সেখানে নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত নেবেন কে দলে থাকবেন, কে থাকবেন না।

গণঅধিকার পরিষদের একটি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৮ জুন) রাতে গুলশানে রেজা কিবরিয়ার বাসায় গণঅধিকার পরিষদের বৈঠক হয়। সেখানে রেজা কিবরিয়া কেন ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের ইনসাফ কায়েম কমিটির অনুষ্ঠানে গিয়েছেন তা জানতে চান নুর। তখন রেজা কিবরিয়া নুরুল হকের কাছে জানতে চান, গণঅধিকার পরিষদের নামে প্রবাস থেকে আসা টাকার হিসাব কোথায়? কেন তিনি ইসরায়েলি মেন্দি এন সাফাদি ও তার ‘বাংলাদেশি বন্ধু’ শিপন কুমার বসুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন? এসব প্রসঙ্গ নিয়ে বৈঠকের পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রশাসনে এক শ্রেণির কর্মকর্তারা অস্বস্তিতে

২১ জুন ২৩, সমকাল

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতির কারণে দেশের সিভিল প্রশাসনে এক শ্রেণির কর্মকর্তার মধ্যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা অবসর শেষে আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডায় থিতু হতে চান, চিন্তা ঢুকেছে মূলত তাঁদের মধ্যে। এ ছাড়া নির্বাচনকালে ডিসি ও ইউএনও রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাঁদের মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও নাম প্রকাশ করে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

গত ২৪ মে এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভিসা নীতির ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভিসা নীতিতে যে বার্তা দিয়েছে তাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেশি ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, রাজনীতিকরা রাজপথ, ক্ষমতার মসনদ এবং জেলখানা– সব জায়গাতেই অভ্যস্ত। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দলীয় সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করলেও থাকতে চান নিরাপদে। সেখানে এই ভিসা নীতি এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে।

‘সাংবাদিক নাদিমকে ঠিক করতে লাগবে আমার এক মিনিট’

২০ জুন ২৩, সমকাল

‘নাদিম সাংবাদিকের দায়িত্ব উপজেলা আওয়ামী লীগের। তাকে ঠিক করা আমার এক মিনিটের বিষয়। এখন আমি যাব শাসন করতে। তখন আমাকে দেখে যদি উপজেলা আওয়ামী লীগ হো হো করে হাসে, যে বাবু বিপদে পড়েছে পড়ুক। আমি বাবু আগাইতে জানি পিছাইতে জানি না।’

কথাগুলো বলছিলেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউপির বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রধান আসামি মাহমুদুল আলম বাবু। মঙ্গলবার বাবু চেয়ারম্যানের এমন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সভায় এমন বক্তব্য দেন তিনি।

নির্বাচনের বছরে ব্যাংক পরিচালকদের বড় ছাড়

২২ জুন ২৩, সমকাল

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবারও ব্যাংকের মালিকদের আবদার পূরণ করল সরকার। ব্যাংকে পরিচালক পদে টানা ১২ বছর থাকার সুযোগ দিয়ে গতকাল ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সংসদে উপস্থাপিত বিলে ৯ বছরের প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১২ বছর নির্ধারণ করে আইনটি পাস হলো। কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হলে অন্য প্রতিষ্ঠানকে খেলাপি দেখানো যাবে না– এমন সুযোগও রাখা হয়েছে। তাদের ঋণ পেতেও কোনো সমস্যা হবে না।

সম্প্রতি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) আইনে এ দুটি বিষয় যুক্ত করার সুপারিশ করে। এর মধ্যে গত ৮ জুন বিলটি সংসদে উঠলে এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বিলটি পাসের আগ মুহূর্তে সরকারি দলের সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটোর আনা সংশোধনী গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের গোয়েন্দা বাহিনী তুলে নিচ্ছে, অভিযোগ ফখরুলের

২২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে যাঁরা বিগত সংসদ নির্বাচন করেছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন করবেন, এমন নেতাদের গোয়েন্দা বাহিনী তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তুলে নিয়ে যাওয়ার পর বলা হচ্ছে, বিএনপি যদি নির্বাচন না–ও করে, তাঁদেরকে নির্বাচন করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আহ্বান

২৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত কেউ যেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ পিয়ের ল্যাক্রোয়ার প্রতি আসন্ন ঢাকা সফরে বাংলাদেশের বাহিনীগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

চট্টগ্রামে ২ আইপিটিভির অফিস সিলগালা, ক্যামেরা ও যন্ত্রপাতি জব্দ

২৫ জুন ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পরিচালনার জন্য বৈধ লাইসেন্স না থাকায় চট্টগ্রামে ২টি আইপিটিভির অফিস বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একইসঙ্গে লাইসেন্স ছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে সংবাদ প্রচার ও অনুষ্ঠান প্রচার করায় ক্যামেরাসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে৷

সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।

চট্টগ্রামের ‘সিপ্লাস টিভি’ ও ‘সিভিশন টিভি’র অফিস ২টিও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ।

প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার খবর নিশ্চিত করে এহসান মুরাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে সিপ্লাস ও সিভিশন কার্যক্রম চালাচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অনুমোদন বা ছাড়পত্র না নিয়েই তারা অনলাইনে অনুষ্ঠান ও খবর প্রচার করছে। তারা আমাদের কোনো লাইসেন্স দেখাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের অন্যান্য আইপিটিভি অফিসেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব।’

আইনত, আইপিটিভি সংবাদ সম্প্রচার করতে পারে না। জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতি ২০১৭ (২০২০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, আইপিটিভি শুধুমাত্র বিনোদন বা তথ্যভিত্তিক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারে।

ডিক্যাব টকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেষ দুই জাতীয় নির্বাচন দৃষ্টান্ত হতে পারে না

২৬ জুন ২৩, সমকাল

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ২০১৪ সালে প্রধান বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন নিয়ে কিছু দিন সমালোচনার মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছিল। তবে সেই সমালোচনা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আমরা নির্বিঘ্নে সরকার পরিচালনা করেছি। তাই বর্তমানেও আমরা কোনো কিছুতেই চাপ অনুভব করছি না। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন কোনো দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এ নিয়ে আমাদেরও অনুতাপ রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশের কাছে সেন্টমার্টিন বা কোনো ভূখণ্ড চেয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানা মতে কেউ চায়নি।’

গতকাল রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিক্যাব টক’ নামের এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন প্রতিমন্ত্রী। এতে সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ ইস্যু নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের অবস্থান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা পৃ‌থিবীর কো‌নো বন্ধুরাষ্ট্রকেই ব‌লি‌নি বাংলা‌দে‌শের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কেন, যে কো‌নো বিষ‌য়ে আমা‌দের কাঠা‌মো, সং‌বিধান, আমা‌দের নির্বাচন ক‌মিশন বা সরকা‌রের সিদ্ধান্তের বা‌ইরে কো‌নো মন্তব্য কর‌তে। আমরা কখনোই এ বিষয়ে বন্ধুরাষ্ট্রগু‌লো‌কে উৎসাহ দেব না। আমরা অতী‌তেও ব‌লে‌ছি আমা‌দের অবস্থান। তারপরও যাঁরা এটা ক‌রেন বা ক‌রে যান, আমরা কখনোই এটা‌কে স্বাগত জানাব না। তবে স্বচ্ছ নির্বাচন নি‌শ্চিত করার বিষ‌য়ে নির্বাচন ক‌মিশন বদ্ধপ‌রিকর। প্রধানমন্ত্রীও ব‌লে‌ছেন, তাঁর সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সহ‌যো‌গিতা কর‌বে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের বাহিনীদের যাচাই-বাছাই নিয়ে শাহরিয়ার আলম বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। বাংলাদেশের গর্বের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, পুলিশ বাহিনী বা সার্বিক অর্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত শান্তিরক্ষী বাহিনী গোটা পৃথিবীতে একটি উদাহরণ। চিঠি দিয়ে এই যে অর্জনকে যারা খাটো করে দেখছেন বা এ অর্জনকে ব্যর্থ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন, তাঁরা বাংলাদেশের বন্ধু নন, তাঁরা শত্রু।

তিনি বলেন, যাঁরা এটা করেছেন, তাঁরা কংগ্রেসম্যান, সিনেটর, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেই হোন না কেন, তাঁরা আমাদের শত্রু। তাঁদের যাঁরা এগুলো করিয়েছেন পয়সা দিয়ে, বাংলাদেশের মানুষের সময় এসেছে তাঁদের চিনে নেওয়ার। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে নিশ্চিত থাকবেন এ ধরনের চিঠির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

বিদেশে সরকারের লবিস্ট ও পিআর ফার্ম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের একটি পিআর ফার্ম আছে, নেলসন মুলিনস। তাদের মাসিক ফি ২০ বা ২৫ হাজার ডলার।

কে এই মেন্দি এন সাফাদি

০৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

প্রায় সাত বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার ইসরায়েলের নাগরিক মেন্দি এন সাফাদিকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক নুর মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কি না, তা নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সাক্ষাতের খবর নাকচ করে দিয়ে নুর বলেছেন, এ সবই অপপ্রচার।

তবে প্রথম আলোর প্রশ্নের জবাবে মেন্দি এন সাফাদি বলেছেন, তাঁর সঙ্গে নুরের সাক্ষাৎ হয়েছিল। গত ২৬ জুন মেন্দি এন সাফাদি মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে এসব কথা জানিয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি প্রথম আলো সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাসি, রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস নামে ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানের বোর্ড মেম্বার হিসেবে তাঁর নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসরায়েলি করপোরেশনস অথরিটিতে নিবন্ধিত।

২০১৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশে মেন্দি এন সাফাদির নাম প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতে ইসরায়েলিদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন। শিপন কুমার বসু নামের এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় মেন্দির সঙ্গে আসলামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আগ্রায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সে সময় মেন্দি ভারত সফর করছিলেন। মেন্দির সঙ্গে সাক্ষাতের খবর বের হওয়ার পর ওই বছরের ১৫ মে আসলামকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক বছর পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি মামলাসহ একাধিক মামলা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

মোসাদ বিতর্ক

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মেন্দি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট। তিনি মোসাদের এজেন্ট—এ ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়নি। আবার তিনি যে মোসাদের এজেন্ট নন, সে ব্যাপারেও কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মেন্দি এন সাফাদিকে নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন ছেপেছে। এসব প্রতিবেদন থেকে তাঁর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

নাগরিকত্ব আইনে ফিলিস্তিনিদের আইন করে সম–অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই আইনের পক্ষে মেন্দি এন সাফাদি তাঁর অবস্থানের কথা জানান।

ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা গোলান মালভূমি এলাকার বাসিন্দা মেন্দি এন সাফাদি ইহুদি নন। তিনি দ্রুজ ধর্মাবলম্বী। দুবাইয়ে ব্যবসা করেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ‘ফাইভ ফ্যাক্টস অ্যাবাউট ইসরায়েলি দ্রুজ, আ ইউনিক রিলিজিয়াস অ্যান্ড এথনিক গ্রুপ’ নামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ২০১৬ সালে। সেখানে বলা হয়েছে, ইসলাম ও হিন্দুধর্ম এবং গ্রিক দর্শন এই ধর্মের ভিত্তি। প্রতিবেদন বলছে, এই ধর্মের আবির্ভাব ১১ শতকে। সিরিয়া ও লেবাননে দ্রুজ সম্প্রদায়ের ১০ লাখের ওপর মানুষ আছেন। এ ছাড়া ইসরায়েল ও জর্ডানে দ্রুজরা আছেন। ইসরায়েলে মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ দ্রুজ। সংখ্যালঘু আরব হওয়া সত্ত্বেও দ্রুজরা ইসরায়েলে ইহুদিদের মতো সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে থাকেন। সেনাবাহিনীতে দ্রুজদের একটি আলাদা পদাতিক ইউনিট আছে, যেটির নাম ‘হেরেভ’ (তরবারি ব্যাটালিয়ন)।

মেন্দি এন সাফাদি ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সদস্য। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক। ইসরায়েল ২০১৮ সালে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন পাস করে। ১৯৪৮ সালে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের জন্ম হয়। সে সময় ওই অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পান। তবে তাঁরা কখনোই নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেননি। নাগরিকত্ব আইনে ফিলিস্তিনিদের আইন করে সম–অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই আইনের পক্ষে মেন্দি এন সাফাদি তাঁর অবস্থানের কথা জানান।

গ্রেপ্তার প্রশ্নে ছাড়ের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও

০৪ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

‘স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো মামলা হলে আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের আগে তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি লাগবে।’

এই বিধান রেখে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল–২০২৩’ পাস হয়েছে। এত দিন গ্রেপ্তার প্রশ্নে এই ছাড় পেয়ে আসছিলেন শুধু সরকারি কর্মচারীরা। এখন তাঁদের সঙ্গে স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই ছাড় পাবেন।

জগন্নাথের শিক্ষার্থী খাদিজার জামিন আরও চার মাস স্থগিত থাকছে

১০ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার জামিন প্রশ্নে আবেদন শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) করেছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ সোমবার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বলছেন, আপিল বিভাগের আজকের আদেশের ফলে এই সময় পর্যন্ত (চার মাস) খাদিজাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতই থাকছে।

ভোটের আগে ‘পছন্দমতো’ মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে সরকার

১২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সরকার গত পাঁচ দিনে ২৮ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত জেলা প্রশাসকেরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। তাই নির্বাচনের প্রাক্কালে এসব নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল বেশি থাকে।

এ ছাড়া ভোটের সময় এবং তার আগে পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। গত মাসে পুলিশ সুপার পদেও ১৩ জনের বদলি হয়েছে। একই সময়ে ইউএনও পদে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ৪৫ জন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে, সরকার নির্বাচনের আগে পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে মাঠ প্রশাসন সাজাচ্ছে। এর মধ্যে ডিসি পদে নিয়োগ আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন ডিসিদের মধ্যে সাতজনই বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব (পিএস)। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ১১ জনকে এবার জেলা প্রশাসক করা হয়েছে।

এবার ডিসি পদে নতুন করে ২৭তম বিসিএসের কর্মকর্তাদেরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ও ২৫তম বিসিএসের কিছুসংখ্যক কর্মকর্তাও ডিসি হয়েছেন। ডিসি পদে থাকা ২২তম বিসিএসের সব কর্মকর্তাকে তুলে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যে ডিসি পদে থাকা এই ব্যাচের ২০ জনের মতো কর্মকর্তার বদলির আদেশ হয়েছে। এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়। যার মধ্য দিয়ে সরকারের প্রতি কতটা অনুগত, সেটা বোঝার চেষ্টা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতনের কর্মকর্তার মতে, সাধারণত নির্বাচনের আগে এ ধরনের নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পায়। এরপরও পেশাদারত্ব ও মেধা-যোগ্যতার কারণেও কেউ কেউ নিয়োগ পান। যদিও সে সংখ্যা কম।

বুড়িগঙ্গা নদী পারাপার হচ্ছে না কোনো নৌযান

১২ জুলাই ২০২৩, ইত্তেফাক

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে বুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের সব ধরনের নৌযান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে নৌযান চলাচল।

নদী পারাপারের সহজলভ্য উপায় নৌকাও বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ।

নদী পার হটে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ঘাট দিয়েই যাতায়াত করলেও তারা আজ এসে দেখছেন খেয়া পারাপার বন্ধ। ঘাটের মাঝিদের অনেক অনুরোধ করার পরও ‘নেতাদের ভয়ে’ তারা যেতে চাচ্ছে না।

স্থানীয় মাঝিরা জানান, নেতারা আজ নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোন নেতা নির্দেশ দিয়েছেন জানতে চাইলে কেউ বলতে চাননি।

গাবতলী ও আমিনবাজারে তল্লাশি, মুঠোফোন ঘেঁটে বিএনপি নেতা–কর্মীদের আটকের অভিযোগ

১২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকায় তল্লাশি করছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল থেকে এ তল্লাশি শুরু করে ঢাকা জেলা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ। সমাবেশে যোগ দিতে আসা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মীর মুঠোফোন ঘেঁটে দেখার পর তাঁদের আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর আগে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাবতলী ও আমিনবাজার এলাকায় একই ধরনের তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

পুলিশ বলছে, এটা নিয়মিত তল্লাশির অংশ। তবে বাসের যাত্রী ও চালকেরা বলছেন, গত এক মাসেও আমিনবাজার ও গাবতলী এলাকায় এ ধরনের কোনো তল্লাশি দেখেননি তাঁরা। ধামরাই থেকে গুলিস্তানগামী একটি বাসের চালক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত এক–দুই মাসে এ ধরনের তল্লাশি হয়নি। তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি। গ্যাস খরচ হচ্ছে, যাত্রীদের কষ্ট হচ্ছে।’

মানুষের ‘ভোটাধিকার’ আদায়ের লক্ষ্যে আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে সরকার পতনের এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজধানীর ১২টি জায়গা থেকে যুগপৎভাবে একই ঘোষণা দেবে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, এলডিপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণফোরাম, এবি পার্টিসহ ৩৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট।

অপর দিকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

‘নয়াপল্টনে ৩জি, ৪জি সংযোগ বন্ধের নির্দেশ’

জুলাই ১২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় ৩জি ও ৪জি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি।

আজ দুপুর থেকে সমাবেশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মোবাইল অপারেটরদের একাধিক সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) মোবাইল ফোন অপারেটরদের আজ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নয়াপল্টন এলাকায় ৩জি এবং ৪জি পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

আজ বুধবার সকাল থেকেই এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হতে শুরু করেন।

নবীনগর বাইপাইল এলাকা থেকে সমাবেশে আসা বিএনপি কর্মী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে আমি নয়াপল্টনে আসি। আসার পর থেকেই এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছি না। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।’

‘অবৈধ সরকারের অবৈধ মেশিনে বালু উত্তোলন’, আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য ভাইরাল

১২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদ থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুল্লুক হোসেনের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকে ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও দুটি তাঁর ব্যবহৃত ফেসবুকেও ‘ট্যাগ’ করা হয়েছে।

একটি ভিডিওতে ওই আওয়ামী লীগের নেতা বলছেন, ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’ অন্য ভিডিওতে বালু উত্তোলনের জন্য তিনি স্থানীয় যুবলীগকে দুষছেন। তবে তিনি যুবলীগের কারও নাম উল্লেখ করেননি।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘অবৈধ সরকারের অবৈধ মেশিন দ্বারা তারা জোরপূর্বক সাধারণ পাবলিককে এত হয়রানি করতেছে। আমি দায়িত্বশীল একজন মুরব্বি, দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই হিসেবে আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ তিনি বলেন, ‘লিজের বহির্ভূত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, এতে ধ্বংস হয়ে নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর, গোরস্তান, বাড়ি। স্থানীয় প্রশাসন যদি বালু উত্তোলন বন্ধ না করে, তাহলে এখানে খুনখারাবির ঘটনা ঘটবে। এতে আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না।

বিএনপির সমাবেশ

দফা একটি, ‘সরকারের পদত্যাগ’

১৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ চেয়ে ‘এক দফা, এক দাবি’ ঘোষণা করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন। এদিন বিএনপি ছাড়াও গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, এলডিপি, গণফোরাম, গণ অধিকার পরিষদসহ ৩৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট যুগপৎভাবে এক দফা ঘোষণা করে।

‘এক দফা, এক দাবি’ কী? এ প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ; এটাই এক দফা, এক দাবি।

এরপর মির্জা ফখরুল এক দফা দাবিতে ১৮ ও ১৯ জুলাই দুই দিনের ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ১৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকার গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত পদযাত্রা হবে। একই কর্মসূচি থাকবে জেলা ও মহানগরেও। ১৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত পদযাত্রা হবে।

সমাবেশে ৩১ দফা ঘোষণার কথা ‘ভুলে গেছে’ বিএনপি!

১২ জুলাই ২০২৩, বাংলা ট্রিবিউন

সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি আরও একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব তুলে ধরার কথা ছিল বুধবার নয়া পল্টনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সাড়ম্বরপূর্ণ সমাবেশে। কিন্তু ‘ভুলবশত’ পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতকৃত সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ক রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করা হয়নি। সমাবেশের পর বিষয়টি নিয়ে যুগপতে যুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তুললে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘ইতিবাচক অবস্থান’ ব্যক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১২ জুলাই) সমাবেশের পর বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা ও যুগপতে যুক্ত দলগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনের আলাপ হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সমাবেশ থেকে ৩১ দফা ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল বিএনপির। এদিন গণতন্ত্র মঞ্চও তাদের সংবাদ সম্মেলনে ‘সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৩১ দফা রূপরেখা’ প্রকাশ করে।

বিএনপির প্রভাবশালী সূত্রগুলো বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, সমাবেশের পর কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতা ৩১ দফা রূপরেখা পাঠ না করার বিষয়টি তোলেন। জবাবে বিএনপির দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘একেবারেই ভুলবশত’ রূপরেখা পড়া হয়নি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমাবেশে রূপরেখা পাঠ করার কথা থাকলেও তিনি কেবল একদফা ঘোষণা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

বিএনপির আয়োজকদের কেউ কেউ মনে করেন, কেবলমাত্র ভুলেই এ বিষয়টি ঘটেছে। যদিও কোনও কোনও সূত্র ধারণা করছে, রূপরেখা ঘোষণা না করার বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত। এতে সিনিয়র নেতাদের অংশগ্রহণ আছে। একাধিক যুগপতভুক্ত দলের নেতা জানান, অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বিএনপিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ৩১ দফা ঘোষণা

১৩ জুলাই ২০২৩, ইত্তেফাক

সমাবেশে একদফা ঘোষণার পরদিন এবার রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা যৌথ রূপরেখা ঘোষণা করলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৩১ রূপরেখা ঘোষণা করা হলো।

তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন বা নির্বাচনের জন্য নয়, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য এই রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জনগণের চাহিদা পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে বিএনপিকে জনকল্যাণমূলক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন দল, জনগণ, গণমাধ্যমের প্রস্তাবনা বিবেচনায় রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আন্দোলনে থাকা দলগুলো থেকে জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করা হবে।

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা

১. সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এজন্য আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী একটি নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। 

২. গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি  ‘নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

৩. সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী সভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সমন্বয় করা হবে।

৪. পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

৫. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’ প্রবর্তন করা হবে।

৬. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন বিষয় ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

৭. রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও বিশিষ্টজনের মতের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সকল কেন্দ্রে পেপার-ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।

৮. রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনঃগঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির ভেটিং সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।   

৯. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটি ‘জুডিশিয়াল কমিশন’ গঠন করা হবে। অধঃস্থন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত হবে। বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫ (গ) ধারা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সংবলিত ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে।

১০. যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হবে। বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতা একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

১১. গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি, মিডিয়া সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মিডিয়া ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠন করা হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। 

১২. গত দেড় দশকে অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে ‘দুদকের’ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগ করা হবে।

১৩. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

১৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূর করা হবে। 

১৫. দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের ক্ষুদ্র-বৃহৎ সব জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ও পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে।

১৬. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হইবে। শিশু-শ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হইবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকলসহ সব বন্ধ শিল্প কারখানা আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, দেশে বিমানবন্দরসহ সব ক্ষেত্রে হয়রানি মুক্ত সেবা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওড়-বাওর ও মঙ্গাপীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। 

১৭. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি বাতিল করা হবে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ কেনা বন্ধ করা হবে। আমদানি নির্ভরতা পরিহার করে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র এনার্জিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৮. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৯. স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিণীকে সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।

২০. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারি মুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদ শূন্য না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে বরখাস্ত করা হবে না।

২১. স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

২২. যুবসমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্খাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

২৩. নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশে যুগোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২৪. শিক্ষাক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

২৬. স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধাবঞ্চিত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্যবীমা, পশুবীমা, মৎস্য বীমা ও পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। রপ্তানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প খাতকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

২৮. সারা দেশে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে।

২৯. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।

৩১. একটি জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ কমিয়ে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠির আবাসন নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় চান ব্যবসায়ীরা

১৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ভবিষ্যতেও শেখ হাসিনার সরকার দরকার।  শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যবসায়ীদের করণীয়’ শীর্ষক সম্মেলনে দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা ও শিল্পোদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে ৩১ জন ব্যবসায়ী বক্তব্য দেন। তাঁদের বেশির ভাগ সরাসরি বলেছেন, আগামী মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে চান তাঁরা। কেউ কেউ পরোক্ষভাবে তা বলেছেন। কয়েকজন স্লোগানে স্লোগানে একই দাবি জানান। দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ী গানে গানে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেখার অনুভূতি প্রকাশ করেন। সম্মেলনে কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। 

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই, মেট্রোপলিটন চেম্বার, ঢাকা চেম্বার, তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বারসহ দেশের বিভিন্ন চেম্বার ও সংগঠনের নেতারা এবং শিল্পোদ্যোক্তা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকাররা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানটি এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন তাঁর স্বাগত বক্তব্যের শেষ দিকে বলেন, শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত সব ব্যবসায়ীকে দাঁড়িয়ে পতাকা নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর মিলনায়তনের সব ব্যবসায়ী দাঁড়িয়ে পতাকা নেড়ে সমর্থন দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে উপহার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। আপনারা ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে দীর্ঘক্ষণ বসে আছেন, এই আন্তরিকতা আমাদের চলার পথের পাথেয়।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকলেও কোনো বক্তব্য দেননি।

স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আপনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে আসছেন ও আমাদের (ব্যবসায়ীদের) যে অবস্থান সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে ধরে রাখার জন্য আপনাকে প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো আপনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে চাই।’

গানে গানে প্রধানমন্ত্রীকে আবার চাওয়া

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘আপনি অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছেন। আর স্থিতিশীলতাই সমৃদ্ধি আনে। এ জন্যই বলি, শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার।’ এ সময় তিনি বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমনের জনপ্রিয় গানের ভাষায় বলেন, ‘প্রথমত আমি তোমাকে চাই, শেষ পর্যন্ত আমি তোমাকে চাই। ভীষণ অসম্ভবেও তোমাকে চাই।’

এফবিসিসিআইয়ের আরেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সব ব্যবসায়ীকে দাঁড়িয়ে হাত তুলে শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা বিগত দিনে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন দিয়ে থাকেন, তাহলে আগামী দিনেও সমর্থন করবেন।’

এ ছাড়া এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, ব্যবসায়ী নেতা ও সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদও প্রধানমন্ত্রীকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চাওয়ার কথা বলেন। এফবিসিসিআইয়ের আরেক সাবেক সভাপতি মাতলুব আহমাদও একই সুরে বক্তব্য দেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে পোশাকশিল্পের মালিকেরা অর্থনীতির সেনা হিসেবে আপনার সঙ্গে রয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে নীলকণ্ঠী উল্লেখ করে বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমার আপা নীলকণ্ঠী। উনি সব সহ্য করতে পারেন। বিষ ওনার হজম হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য আপাকে আবারও যেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাই। তাহলে বাঙালি জাতির আর কোনো দুঃখ থাকবে না।’

অন্যদিকে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অ্যানালগ দেশকে ডিজিটালে রূপান্তর করেছেন। আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা আপনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

স্থিতিশীল সরকার চাই

এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্থিতিশীল সরকারের কথা বলছি। সিঙ্গাপুরে পিপলস অ্যাকশন পার্টি ৫৮ বছর ধরে দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করছে। দলটি এতটাই ভালো করেছে, দেশটির বিরোধী দল ৯৩ আসনের মধ্যে ১০ শতাংশ আসন পেয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই। করোনা মহামারি ও যুদ্ধের মধ্যে দেশের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আমরা ঝুঁকি নিতে পারব না।’

মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘প্রতিবার নির্বাচন এলেই কাদের যেন আনাগোনা বেড়ে যায়। নাগিনীর বিষাক্ত নিশ্বাস পাই। আমরা কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেব না। আপনার (প্রধানমন্ত্রী) প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে থাকব।’

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সামীর সাত্তার বলেন, বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। এটি সম্ভব হয়েছে স্থিতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে। স্থিতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল বলেই সিঙ্গাপুর আজকের সিঙ্গাপুর হতে পেরেছে, আজকের মালয়েশিয়া হতে পেরেছে।

চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বারের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনার জয় হবেই। আগামী সংসদে আপনাকে জয়ী করবই। আপনার সরকার, বারবার দরকার।’

শেখ হাসিনা সরকার, বারবার দরকার—এমন স্লোগানে বক্তব্য শেষ করেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ বাবু। তিনি রংপুর বিভাগে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানান। আলু সংরক্ষণ, চিনিকল চালুসহ নানা ধরনের কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুপারিশ করেন তিনি।

ব্যাংকমালিকেরাও চান

‘জয় শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শুরু করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে যাঁরা উপস্থিত আছেন, তাঁদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই মিছিলের সামনে থাকবেন শেখ হাসিনা। দেশকে নিয়ে অনেক চক্রান্ত চলছে। দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। তত্ত্বাবধায়ক, নিরপেক্ষ এসব বুঝি না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।’ ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’ স্লোগান দিতে দিতে তিনি বক্তৃতা শেষ করেন।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, সেটা আমরা সম্পূর্ণরূপে বিশ্বাস ও সমর্থন করি।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনার ষড়যন্ত্র চলছে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কী হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। ১/১১–এর মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

এই যড়যন্ত্র রুখতে হবে। এমন সরকার এলে ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম হবে। ১/১১ সরকারের সময়ে নামীদামি সব ব্যবসায়ীকে জেলে ঢোকানো হয়েছিল। আমি তখন লন্ডনে ছিলাম। সেখান থেকে বলেছি, সব পজ (সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করা) করো। আমার নয়জন কর্মকর্তাকে দুই মাস আটকে রাখা হয়। আমরা বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নেওয়া হয়। যদি এসবের পুনরাবৃত্তি চান, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনেন।’

আকবর সোবহান আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আমৃত্যু আপনার সঙ্গে থাকবে। এখানের দেশের শীর্ষ এক থেকে এক হাজার ব্যবসায়ী আছেন। এ ব্যাপারে কারও দ্বিমত নেই। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে।’

ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আরও যা বললেন ব্যবসায়ীরা

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, জ্বালানির অভাবের কারণে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হচ্ছে। শিল্প খাতে সমস্যা হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল—এসব দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এটি আপনার দূরদৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। কারণ, অবকাঠামো না থাকলে বেসরকারি খাত কাজ করতে পারবে না। আপনি বেসরকারি খাতের বন্ধু।

মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আয়কর কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা থাকলে আইন-আদালত দরকার হয় না। তাঁদের বিচারিক ক্ষমতায় রাখা ঠিক নয়। এ জন্য আয়কর খাতে সংস্কার দরকার। এই খাত ঢেলে সাজাতে হবে। তাঁর মতে, যান চলাচলের প্রবাহ বিবেচনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের সড়ক কিছুদিনের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে যাবে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে আট লেনে উন্নীত করতে গেলে ২০ বছরেও সম্ভব নয়। তাই ঢাকা–চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা দরকার।

এফবিসিসিআইয়ের আরেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ওপারে অর্থনৈতিক অঞ্চল ও গ্যাস–সংযোগ বৃদ্ধি পেলে ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বৃদ্ধি পাবে। ডলার–সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে যেসব শ্রমিক বিদেশে যান, তাঁদের সঙ্গে একটু আনুষ্ঠানিক চুক্তি থাকা প্রয়োজন। চুক্তির শর্ত থাকবে—তাঁদের সব আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠাতে হবে। এটা করা গেলে ডলারের রিজার্ভ বাড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আপনার হাত ধরেই এ দেশ একদিন সোনার বাংলায় পরিণত হবে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হলে রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে চ্যালেঞ্জ আসবে। রপ্তানিতে বৈচিত্র্যকরণ করতে হবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

সাভারে চামড়াশিল্প নগরীতে থাকা কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপির ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘স্মার্ট দেশ হতে হলে স্মার্ট লজিস্টিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু এখনো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসে ১২ দিন লেগে যায়। আমাদের সবচেয়ে বড় বেদনা হচ্ছে, পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়া। এটা এভাবে চলতে পারে না।’

বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ তরতর করে এগিয়ে চলছে। আসিয়ান দেশগুলোর সব গুরুত্বপূর্ণ শহরে ঢাকা থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব। এ জন্য আমরা ট্রানজিট যাত্রী চাই। এই সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে পারে বাংলাদেশ বিমান।’

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়েছি। বাকি পথও তার নেতৃত্বে পাড়ি দিতে চাই।’

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সহসভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ওষুধশিল্প খাতের বেশির ভাগ কাঁচামাল দেশেই তৈরি হবে। এই দেশ বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন বলে আমরা ব্যবসায়ী হয়েছি। সে জন্য আপনার জন্য দোয়া করি, যেন আপনি বারবার সরকার গঠন করতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান বলেন, ‘আপনি ডলার–সংকট নিয়ে চিন্তিত হবেন না। বর্তমানে সব দেশই একটি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাটপণ্যের রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। তবে এ জন্য সরকার থেকে নীতি সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে—এই প্রত্যাশা করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। সরকারের সাফল্য বর্ণনা করতে আগামী মাসে সারা দেশের সব জেলায় ব্যবসায়ী সম্মেলন করার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া সম্মেলনে বক্তব্য দেন বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ারুল আলম পারভেজ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বহুজাতিক কোম্পানি ইন্ডিটেক্সের আঞ্চলিক প্রধান জাভিয়ার কার্লোস ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মায়ং-হো লি।

আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় নিবন্ধন নিয়ে এই সিদ্ধান্ত: নুরুল হক

১৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে না চাওয়ায় গণ অধিকার পরিষদকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সভাপতি নুরুল হক (নুর)। নির্বাচন কমিশন আজ রোববার নতুন দলগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নামের দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ অভিযোগ করেছেন তিনি।

নুরুল হক দাবি করেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় একটি সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁদের সমঝোতার জন্য ডেকেছিলেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল, গণ অধিকার পরিষদ যদি তাঁদের সঙ্গে একমত হয় এবং নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে নিবন্ধন দেওয়া হবে। কয়েকটি আসনও দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁরা বলেছিলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না।

নিবন্ধন পেতে যাওয়া বিএনএমের পেছনে বিএনপির সাবেক নেতারা

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে চলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা। দুই বছর আগে গঠিত এই দলের আহ্বায়ক কমিটিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের আধিক্য রয়েছে। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ৩৮০ বর্গফুটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন মাস আগে।

বিএনএম দলটি গঠিত হয় ২০২১ সালের ৭ জুলাই। গঠনের দুই বছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে দলটি। বিএনএমের সঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নামের আরেকটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার এই দুই দলের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। অনেকটাই অপরিচিত দল দুটির নিবন্ধন পাওয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বিএনএমের আহ্বায়ক অধ্যাপক আব্দুর রহমান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। দলের সদস্যসচিব মেজর (অব.) মো. হানিফ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য।

বিএনএম গঠনের সময় থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। এই দল গঠনকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীনদের ‘ষড়যন্ত্রের’ সূত্রপাত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিএনপি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে বিএনএমের ব্যানারে বিএনপির একটি অংশকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানো হতে পারে। নির্বাচনের আগে আগে বিএনএমের নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিএসপির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে যা দেখা গেল

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে যাওয়া বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ঠিকানা—৮২ শাহ আলীবাগ, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬। শাহ আলীবাগ এলাকায় গিয়ে কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলেও কেউ চিনতে পারলেন না। একপর্যায়ে এক দোকানি বললেন, ‘খানকা শরিফ গিয়ে দেখেন, ওইটা হতে পারে।’ গিয়ে দেখা যায়, খানকা শরিফ নামে পরিচিত পাঁচতলা ভবনটির চতুর্থ তলায় বিএসপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। পরে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, বিএসপি হিসেবে নয়, খানকা শরিফ হিসেবেই এটি পরিচিত।

খানকা শরিফ নামে পরিচিত পাঁচতলা ভবনের মূল ফটকের সামনে ছোট–বড় তিনটি সাইনবোর্ড। সবচেয়ে বড় সাইনবোর্ডটি বিএসপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের। তারচেয়ে ছোট সাইনবোর্ডটি বিএসপির ঢাকা জেলা কার্যালয়ের। সবচেয়ে ছোট সাইনবোর্ডটি মিরপুর মেট্রো মডেল থানা কার্যালয়ের। সব কটিই নতুন বা অল্প সময় আগে লাগানো।

ভবনটির প্রধান ফটকে কড়া নাড়তে একজন নিরাপত্তারক্ষী দরজা খুলে দিলেন। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। ভবনটির নিচতলায় গ্যারেজ, যেখানে কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি রাখা। সেখানে বিএসপির চেয়ারম্যান শাহ্জাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারীর ছবিসংবলিত আরবিতে লেখা নতুন একটি ব্যানারও পাওয়া গেল। ব্যানারের ওপর ডান পাশে পুরোনো কালো একটি নোটিশ বোর্ডে লেখা, ‘খানকা শরিফে রাজনৈতিক বা দুনিয়াদারির কথাবার্তা বলা নিষেধ। নির্ধারিত মাহফিলের তারিখ ব্যতীত রাত্র ৯টার পর খাদেম ব্যতীত অন্য কাহারো অবস্থান নিষেধ।’

অচেনা দুই দলে হাসি, আলোচিতরা নাখোশ

১৭ জুলাই ২৩, সমকাল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) আর বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। দল দুটি রাজনীতির মাঠে অচিন, তবু তাদেরই ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ল। জুটছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন। ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে যাচাই-বাছাই শেষে ১২ রাজনৈতিক দলের ছোট তালিকা করা হয়েছিল। শেষমেশ নিবন্ধন দেওয়ার ব্যাপারে ‘অখ্যাত’ দল দুটিকে বেছে নিল ইসি। যারা রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে আলোচিত হয়েছে, তারা নিবন্ধন না পেয়ে নিরাশ, নাখোশ। নিবন্ধনের দৌড় থেকে ছিটকে পড়াদের তালিকায় সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, ভিপি নুরের গণঅধিকার পরিষদ এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বেরিয়ে আসা নেতাদের নিয়ে গঠিত এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টিও রয়েছে।

গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিবন্ধনবিষয়ক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসির বিবেচনায় ‘নিবন্ধন পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ বিএনএমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান খোকন, যিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনে বরগুনা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন। দলটির সদস্য সচিব হিসেবে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উইংয়ের সাবেক প্রধান মেজর (অব.) মো. হানিফ। অন্যদিকে বিএসপির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরিফের অনুসারীরা। মিরপুরে তাদের খানকা শরিফেই গড়ে উঠেছে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

ইসির নিবন্ধন পাওয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে– নিবন্ধনে আগ্রহী দলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনে অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকা; যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পাওয়া; একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়; দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০ উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকা বাধ্যতামূলক।

তবে নিবন্ধন পাওয়া দল দুটি এসব শর্ত কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। গতকাল দল দুটির ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের  ঠিকানায় গিয়ে কোনো সক্রিয় কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি আশপাশের বাসিন্দাদের কাছেও দল দুটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচিত নয় বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনএমের আহ্বায়ক আবদুর রহমান খোকন জানান, চূড়ান্ত নিবন্ধন পাওয়ার পরই আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তাঁর দল। তিনি বলেন, আমরা কোনো দল ভাঙাগড়ার সঙ্গে জড়িত নই। ১৯৭৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাগদল, ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতি করে এসেছি।

আব্দুর রহমান দাবি করেন, ইসিতে দেওয়া তাঁর দলের জেলা, থানা ও উপজেলা কার্যালয়ের ঠিকানা শতভাগ সঠিক। তাদের নেতাকর্মীরা সেখানে নিয়মিত বসেন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান।

এদিকে বিএসপির চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত তাঁর পরিবার। সাত-আটটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে। ২০১৯ সালের ১১ মে রাজনৈতিক সংগঠন বিএসপি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদে ১২১ জন সদস্য। ৪০টি জেলা, ২৫০টি উপজেলা ও এক হাজার ইউনিয়নে দলের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এমন ‘অখ্যাত’ দলের নিবন্ধনের সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বর্তমান কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসি হারিয়ে যাওয়া ভাবমূর্তি উদ্ধারে কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তাদের এই সিদ্ধান্তে হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। অতীতেও ইসি দলীয় সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে অখ্যাত দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করেছে। তাতে রাজনীতি বা গণতন্ত্রের কোনো উপকার হয়নি। সরকারের উদ্দেশ্যও সফল হয়নি।

হিরো আলমকে রাস্তায় ফেলে পেটালেন নৌকার ব্যাজধারীরা

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে ধাওয়া দিয়ে বাইরে আনার পরে রাস্তায় ফেলে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমকে পিটিয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরা। হামলাকারীরা নৌকা প্রতীকের ব্যাজ পরে ছিলেন।

আজ সোমবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকার বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে হিরো আলমের ওপর এ হামলা হয়।

মারধর থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে  হিরো আলম দৌড়ে পালান। হামলাকারীরা এ সময় তাঁকে পেছন থেকে ধাওয়া দেন। হিরো আলম একপর্যায়ে বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে গাড়িতে করে চলে যান।

আজ বেলা তিনটার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন  হিরো আলম। সেখানে তিনি একটি নারী ভোটকেন্দ্রে যান। এ সময় নৌকা প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকেরা পেছন থেকে হিরো আলমকে গালমন্দ করতে থাকেন এবং কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে চলে যেতে বলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে রেখে স্কুলের ফটকের দিকে নিয়ে যান। তখনো পিছু নেন হামলাকারীরা।

স্কুলের প্রাঙ্গণ থেকে বেরুনোর পরে হিরো আলমের পাশে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন না। স্কুল থেকে বের হয়ে ফটকের সামনে দিয়ে সোজা ১৬ নম্বর সড়কের দিকে দ্রুত এগোতে থাকেন হিরো আলম। একপর্যায়ে হামলাকারীরা হিরো আলমকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন, তখন তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তাঁরা।

হিরো আলমের সঙ্গীরা তাঁকে রক্ষা করে সামনের দিকে নিয়ে যান। ২৩ নম্বর সড়কের এ ব্লক পর্যন্ত তাঁকে পেছন থেকে ধাওয়া করে হামলাকারীরা।

এটা কোথায় না হয়: জাল ভোট নিয়ে আ.লীগ নেতা

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকা–১৭ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে আজ সোমবার ভোট গ্রহণ শুরুর পর সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। দুপুর পৌনে ১২টায় তা দাঁড়ায় ৩ শতাংশে। বেলা দুইটার পর নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারীরা কেন্দ্রে প্রবেশে করেন। এরপর বেলা সোয়া তিনটায় দেখা যায়, সেখানে ভোট গ্রহণের হার বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে।

 গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভেতরে আজ মোট পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট হয়। এর মধ্যে ৬৩ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেন মোহাম্মদ এ আরাফাত‌। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৮৮ জন। সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর ৯টা পর্যন্ত সেখানে ভোট পড়ে মাত্র ১৬টি। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত ভোট দেন ৮৩ জন। আর বেলা তিনটার দিকে এই সংখ্যা হয় ২৭৮।

‘ভুঁইফোড়’ দুই দলের নিবন্ধন কি সরকারের পরামর্শে

১৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সক্রিয় অনেক দলকে বাদ দিয়ে ‘ভুঁইফোড়’ দুটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন সংস্থাটি আসলে সরকারের পরামর্শেই চলছে কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

ইসির নিবন্ধন পেতে ৯৩টি দল আবেদন করেছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) নামের দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। ইসি গতকাল এ–সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

এই দুটি দলের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দল দুটিকে অনেকে দেখছেন ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে। নির্বাচন কমিশন ও এর কর্মকর্তাদের কারও কারও মধ্যে এই দল দুটিকে নিবন্ধন দেওয়া নিয়ে অস্বস্তি আছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার আটটি জেলা এবং এসব জেলার উপজেলা পর্যায়ে দল দুটির বিষয়ে খোঁজ করেছেন প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে অনেক জায়গায় এ দুটি দলের কার্যালয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব কার্যালয়ের বেশির ভাগই অস্থায়ী। কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এসব কার্যালয় ভাড়া করে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কার্যালয় ভাড়া করে দিয়েছেন, এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। আর অনেক জায়গায় বিএনএমের কমিটি গঠন করা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকজন দিয়ে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগঘেঁষা একটি রাজনৈতিক জোটেরও চেয়ারম্যান।

তবে বিএনএমের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক দুই নেতা। বিএনএমের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুর রহমান বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য। দলের সদস্যসচিব মেজর (অব.) মো. হানিফ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। ২০২১ সালে গঠিত হয় দলটি। তখন এই দলের গঠনের পেছনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরকারের কোনো ‘ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে, এমন অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। বিএনপি নেতাদের কাউকে কাউকে এই দল থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী করা হতে পারে, এমন আলোচনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে আছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগঘেঁষা একটি রাজনৈতিক জোটেরও চেয়ারম্যান।

নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীনদের কৌশলের অংশ হিসেবে এই দল দুটিকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে, এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরদার হচ্ছে। নিবন্ধন না পাওয়া ১০টি দল গতকাল একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, সরকারের নির্দেশনায় এবং বিভিন্ন এজেন্সির পরামর্শে ‘ভুঁইফোড়’ দুটি দল ছাড়া কাউকে নিবন্ধন দেয়নি ইসি। বিএনপির মধ্যে ভাঙন সৃষ্টির লক্ষ্যে এই দলের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা–১৭ আসনে উপনির্বাচন

প্রার্থীকে মারধর, ভোটারও কম

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমকে মারধর, নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ভোটে জয়ী নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ভোট পড়ার হার ১১.৫১%।

১৮ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ভোট দিতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা সকাল থেকেই বেশ কম ছিল। কোনো কোনো কেন্দ্রে দেড় ঘণ্টায় একটি ভোটও পড়েনি। তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থকদের জটলা ছিল। শান্তিপূর্ণ ভোটে হঠাৎ উত্তাপ ছড়ায় আলোচিত প্রার্থী আশরাফুল হোসেনের (হিরো আলম) ওপর হামলার ঘটনাটি।

ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে বনানীর একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে হিরো আলমকে মারধর করেন নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী কিছু যুবক। মারধরের পর হিরো আলমকে ধাওয়া দিয়ে এলাকাছাড়া করেন হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁরা ছিলেন ‘দর্শকের’ ভূমিকায়।

গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের অনাগ্রহকে ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত আলোচনার জন্ম দেয় হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি। এমন সময়ে এই হামলার ঘটনাটি ঘটল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রাক্‌-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ঢাকা সফর করছে। তারা আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে হওয়ার কথা রয়েছে) পরিবেশ এবং নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এসেছে।

বিএনপির পদযাত্রায় হামলা-সংঘর্ষ

লক্ষ্মীপুরে কৃষক দলের এক কর্মী নিহত।

১৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বিএনপির পদযাত্রায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে নিহত হয়েছেন কৃষক দলের এক কর্মী। আরও ছয়টি জেলায় বিএনপির পদযাত্রায় বাধা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন পুলিশের সদস্য, সাংবাদিকসহ চার শতাধিক ব্যক্তি। রাজধানীতেও দলটির পদযাত্রায় ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে।

কোনো কোনো জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষ হয়েছে ত্রিমুখী—পুলিশ, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এসব জায়গায় পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে এবং রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো জেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের সময় ১০টি মোটরসাইকেলসহ অন্তত ১২টি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি এবং আরও ৩৬টি দল ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ঘোষণা দেয় ১২ জুলাই। এরপর বিএনপিসহ আন্দোলনকারী দলগুলো তাদের এক দফা দাবিতে গতকাল ঢাকাসহ সারা দেশে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করে। গতকাল তাদের এই পদযাত্রায় বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের বাধা, হামলা, সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায়।

গত ছয় মাসে বিএনপি অন্যান্য দলের সঙ্গে যে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করেছে, তাতে পুলিশ এবং সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান অনেকটা সহনশীল ছিল, বড় কোনো হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি ১২ জুলাই যেদিন বিএনপি ঢাকার নয়াপল্টনে সমাবেশ করে এক দফার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে, সেদিন একই সময় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। দুটি সমাবেশই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

সে সময় বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়া ঢাকা সফর করছিলেন। এ ছাড়া নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিবেশ যাচাইয়ের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলও তখন ঢাকা সফরে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল এখনো ঢাকায় অবস্থান করছে।

‘রাতের অন্ধকারে এমপি হয়েছ, আমরাই তো তৈরি করেছি’

২২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী বলেছেন, ‘রাতের অন্ধকারে তোমরা এমপি হয়েছ, আমরাই তো তৈরি করেছি। অহংকার ভালো না দাদাভাই। তোমরা এমপি হয়েছ, মুরব্বিদের সম্মান করে চলো। তা না হলে সমস্যা হবে। তখন কিছু বলতে পারবা না। সংগঠন আমরাই তো করেছি, তোমরা করো নাই।’

শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আয়োজিত এক শান্তি সমাবেশে আসগর আলী এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতা–কর্মীরা বলছেন, আসগর আলী মূলত কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফের উদ্দেশে কথাগুলো বলেছেন। কারণ, আগের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার খোকসায় শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে আসগর আলীসহ চার নেতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ। এর জেরেই শুক্রবার সমাবেশে আসগর আলী পাল্টা এ বক্তব্য দিলেন।

নির্বাচনের আগে এবারও ‘গায়েবি’ মামলা

২২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

পুরান ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা সূত্রাপুরের বানিয়ানগর মোড়। এই মোড়ে গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২০ থেকে ২৫ নেতা-কর্মী সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন। সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে নিষেধ করলে তাঁরা অতর্কিতভাবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালান। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা খয়ের উদ্দিন আহমেদের করা মামলার এজাহারের ভাষ্য এটি। কিন্তু ঘটনাস্থলের ও আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে কেউ এমন ঘটনা দেখেছেন বা শুনেছেন, সেটা বলতে পারেননি।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল আলামত হিসেবে জব্দ করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মামলার বাদী ইটপাটকেল ছুড়েছে বলে দাবি করলেও কোনো ককটেল হামলা হয়নি বলে জানান।

এ রকম হামলার অভিযোগ এনে গত সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কেবল আওয়ামী লীগের নেতারা বাদী হয়ে ৪০টি মামলা করেছেন। গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে করা এসব মামলায় আসামি হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১ হাজার ৭০১ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা আরও ২ হাজার ৫৭৫ জন।

বিএনপির নেতাদের দাবি, এ সবই ‘গায়েবি মামলা’। অর্থাৎ, ঘটনা ঘটেনি, তারপরও মামলা দেওয়া হয়েছে। যার কারণে মামলার বিবরণ ও ধারা প্রায় একই রকম।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সারা দেশে এ রকম অসংখ্য মামলা হয়েছিল পুলিশ বাদী হয়ে। ওই নির্বাচনের আগের তিন মাসে (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) কেবল ঢাকা মহানগরে নাশকতার অভিযোগে ৬৯৭টি মামলা হয়। এর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই ঢাকায় মামলা হয়েছিল ৫৭৮টি। বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা এসব মামলা তখন ‘গায়েবি মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে ওই সময়ের মতো এবারও ‘গায়েবি’ মামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এসব মামলার উদ্দেশ্য, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঘরছাড়া করা। তবে এবারের ব্যতিক্রম হচ্ছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মামলার বাদী করা হচ্ছে।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে করা এসব মামলায় আসামি হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১ হাজার ৭০১ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা আরও ২ হাজার ৫৭৫ জন।

অবশ্য এবার (সাত মাসে) ঢাকার বিভিন্ন থানায় পুলিশের করা এমন ১০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টা ও ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে করা এ ১০টি মামলায় বিএনপির ২৫০ জন নেতা-কর্মী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১১০ জনকে আসামি করা হয়। এগুলোকেও ‘গায়েবি মামলা’ বলছেন বিরোধী দলের স্থানীয় নেতারা। এর বাইরে বিএনপির কর্মসূচিকেন্দ্রিক আরও কিছু মামলা হয়েছে। সেগুলো এই হিসাবে ধরা হয়নি।

 নতুন করে গায়েবি মামলা করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র, গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাশকতার ঘটনা ঘটেছে বলেই পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা নিয়েছে। মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।’

ঢাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের করা ৪০ মামলার মধ্যে ৩৫টি হয়েছে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে। বিএনপির ধারাবাহিক বিভাগীয় সমাবেশ ও ১২ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ ঘিরে রাজনীতিতে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল, তখন এসব মামলা হয়। এতে মূল অভিযোগ, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে জখম করেছেন, হত্যার চেষ্টা করেছেন, গাড়ি ভাঙচুর করেন, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

বিএনপির পদযাত্রা ঘিরে ২২ মামলায় ১৫ হাজার আসামি

২৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি ঘিরে হামলা, সহিংসতা, ভাংচুর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৯টি জেলায় দলটির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিসহ প্রায় ১৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় দলটির ১১৮ নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে বিএনপি। এই আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ছিল পদযাত্রা। ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে সব মহানগর ও জেলায় এবং ১৯ জুলাই ঢাকায় এই কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সরকারবিরোধীদের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ৯টি জেলায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের নামে এসব মামলা দেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি কোথাও কোথাও সরকারি দলের কর্মী–সমর্থকেরাও মামলার বাদী হয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের বড় বাধা ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থা’

২৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

মানবাধিকারকর্মীদের কাজে ৬৫ শতাংশ ক্ষেত্রে বাধা এসেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ও ক্ষমতাসীন দল থেকে। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ ক্ষেত্রে কাজে বাধা দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তারা। নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে প্রতি ১০ জন মানবাধিকারকর্মীর ১ জনকে এলাকা ছাড়তে হয়েছে।

দেশের ৩৬টি জেলার তৃণমূল পর্যায়ের ৫০ জন মানবাধিকারকর্মীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) শনিবার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সাক্ষাৎকার দেওয়া ৪৬ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী বলেছেন, দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে এবং ৬২ শতাংশ মানবাধিকারকর্মী বলেছেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি তাঁদের কাজের জন্য ‘অনিরাপদ ও খুবই অনিরাপদ’।

রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ‘প্রতিবাদীদের কে রক্ষা করবে, বাংলাদেশে মানবাধিকারকর্মীদের দুর্দশা’ শিরোনামে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা মানবাধিকারকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের ওপর জোর দেন তাঁরা।

হিরো আলমকে নিয়ে বিবৃতি

১৩ বিদেশি দূতকে একসঙ্গে তলব

২৬ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলায় নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১২টি বিদেশি মিশন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। বিবৃতিতে তারা ওই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছিল। ওই বিবৃতির জেরে ১৩টি বিদেশি মিশনের প্রধানদের আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশি ও বিদেশি কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এসব কূটনীতিকের কাছে ওই বিবৃতির বিষয়ে সরকারের অসন্তোষের কথা তুলে ধরবেন।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সম্প্রতি ১২টি মিশন ও ইইউ ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনের প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে মিশনগুলোর প্রধানদের আগামীকাল (আজ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সেখানে ওই বিবৃতির বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’

অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশি মিশনগুলোর যৌথ বিবৃতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ‘তলব’ করার বিষয়টি তাঁদের কাছে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রে উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল ওই মিশনগুলোতে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি

১৯৫ কোটি টাকা পাচার মামলায় ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দিতে হবে না সম্রাটকে

মে ১৫, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

গ্রেপ্তারের পর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। স্টার ফাইল ফটো

মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

সম্রাটকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী আবেদন করার পর ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আজ এই আদেশ দেন।

‘ডিবি পুলিশ সেজে’ ছিনতাই: নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সহসভাপতি

মে ১৬, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তপু চন্দ্র ঘোষ। ২৯ বছর বয়সী এ তরুণের বাড়ি সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের অর্জুনদি গ্রাম। গত ১৩ মে তপু চন্দ্র ঘোষ তার আরও ৩ সহযোগীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ বলছে, তপু তার সহযোগীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক সৌদি আরব প্রবাসীর ১৭ লাখ টাকা লুট করেছেন। গ্রেপ্তার হবার পর গতকাল রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন আসামিরা।

ডিবি হেফাজতে থাকা ব্যক্তির লাশ মিলল হাসপাতালে

১৮ জুন ২০২৩, আজকের পত্রিকা

একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জুন রাজধানীর বাউনিয়া থেকে আলাল দেওয়ান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে মিলেছে তাঁর লাশ। স্বজনদের অভিযোগ, ডিবি হেফাজতে নির্যাতনের কারণে আলাল মারা গেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের দাবি, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, বাউনিয়ার একটি বাসায় ৫ জুন এক নারী খুন হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় একমাত্র আসামি ওই নারীর স্বামী সাইফুল ইসলাম রানা।

আলাল দেওয়ান ছিলেন সেই বাড়ির কেয়ারটেকার। ৬ জুন সন্ধ্যায় মহিষাগার এলাকা থেকে আলালকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ।

আলালকে ডিবি পুলিশ তুলে আনার সময় তাঁর ফুফাতো ভাই নেয়াজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তুরাগ থানা-পুলিশ আমার ভাই আলালকে প্রথম দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছুই পায়নি। এরপর ৬ জুন সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ একটি হাইয়েস গাড়িতে করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় ডিবির এসআই নাসির আমাকে তাঁর নম্বরও দিয়ে যান। এরপর থেকে আমরা ওই নম্বরে ফোন দিলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) পঙ্গু হাসপাতালে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) থেকে আমাদের এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে জানান আলাল অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এরপর আমরা তাঁকে বলি হাসপাতালে আসি? তিনি বলেন, না, রোববার কোর্টে গেলেই পাবেন। পরদিন শুক্রবার শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আনোয়ার আমাদের ফোন দিয়ে জানান, আলাল হৃদ্‌রোগ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। আমরা লাশ দেখতে গিয়ে দেখি তাঁর হাত-পা ভাঙা।’

‘ঈদের আগেই বাবাকে ফিরিয়ে দিন’

২৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

 আজ রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে দাঁড়িয়ে শিশুরা এই দাবি জানায়। আগামীকাল ২৬ জুন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নির্যাতনবিরোধী দিবস। দিবসটিকে সামনে রেখেই আজ রোববার এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

 মানববন্ধনে মায়েরা চাইলেন তাঁদের গুম হয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে। স্ত্রী বললেন, ‘অন্তত এটুক জানান আমার স্বামী আর জীবিত নেই।’ গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, ‘আর কীভাবে বললে আপনারা আমাদের কষ্ট বুঝবেন? কার কাছে আমরা আমাদের যন্ত্রণার কথা বলব? কোথায় প্রতিকার পাব?’

মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী আফরোজা আক্তারের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাঁদের পরিবারের কেউ গুম হয়েছেন ৫ বছর, ৭ বছর, ১০ বছর এমনকি এক যুগ পেরিয়ে গেছে। প্রিয়জনকে ফিরে পাননি বলে চোখের পানি ফেলে তাঁরা দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রিয়জনেরা অপরাধী হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিচার করুন।’ শিশুরা কেঁদে কেঁদে বলেছে ‘ঈদে এখন আর আমাদের কোনো আনন্দ নেই। এবার ঈদের আগেই আমাদের বাবাকে ফিরিয়ে দিন।’

মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবাকে ফিরে চেয়েছে ২০১৪ সাল গুম হওয়া চঞ্চল হোসেনের ছেলে ১০ বছরের আহাদ হোসেন। ২০১৬ সালে গুম হওয়া আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রাইসা, ২০১৩ সালে গুম হওয়া কাওসার হোসেনে মেয়ে লামিয়া আক্তার, ২০১৪ সালে গুম হওয়া মফিজুল ইসলামের ছেলে সহিদুল ইসলাম, ২০১৯ সালে গুম হওয়া ইসমাইল হোসেনের মেয়ে আনিসা ইসলাম, সোহেল হোসেনের মেয়ে শাফা হোসেন, সাজেদুল ইসলামের মেয়ে অররা ইসলাম, ২০১৫ সালে গুম হওয়া নুর আলমের স্ত্রী রিনা আলম, ২০১৯ সালে গুম হওয়া ইসমাইল হোসেনে স্ত্রী নাসরিন জাহান, ২০১৩ সালে গুম হওয়া মাহবুব হাসানের ভাই জাহিদ খান।

র‍্যাব পরিচয়ে দুই ব্যবসায়ীকে ‘অপহরণ’, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

২৯ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

র‍্যাব পরিচয় দিয়ে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকা থেকে দুই ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়া হয়। তাঁদের একজনের কাছ থেকে আদায় করা হয় ‘মুক্তিপণের’ টাকা। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই দুই ব্যবসায়ীর পরিবার গুলশান ও বনানী থানায় আলাদা দুটি মামলা করেছে।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন পুলিশের কনস্টেবল জাহিদ মিয়া (৩৫), শেখ ফরিদ (৩২), মুরাদ আলী খান (৩৫) ও হ‌ুমায়ূন কবির (৩৪)। তাঁদের মধ্যে জাহিদ মিয়া র‌্যাব-৯-এ সিলেটে কর্মরত ছিলেন। শেখ ফরিদ ছিলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয় মালিবাগে। মুরাদ আলী ছিলেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন)। আর হ‌ুমায়ূন কবিরও র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন।

ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও শরীরের নিরাপত্তা নিজেকেই নিতে হবে: ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার

০৩ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

নিজের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ও শরীরের নিরাপত্তা নিজেকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খ. মহিদ উদ্দিন।

আজ সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত শনিবার ভোরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুজ্জামান তালুকদার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন ছিনতাইকারীর বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

৬ মাসের সন্তানসহ দম্পতিকে ‘তুলে নেওয়ার’ ১ মাস পর গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ

জুলাই ৪, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

মাদ্রাসার একজন শিক্ষক, তার স্ত্রী এবং তাদের শিশুসন্তানকে ‘তুলে নেওয়ার’ এক মাস পর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করার অভিযোগ উঠেছে। 

ইকরামুল হক মিলন (২৮), তার স্ত্রী দেওয়ান ফারিয়া আফরিন আনিকা (২১) এবং তাদের ছয় মাস বয়সী ছেলেকে গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে গত ১ মে ইকরামুলের ভাই ইমদাদুল হক ইমনের অভিযোগে এসব তথ্য জানা যায়।

পুলিশের তৈরি মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় পুলিশের নাম

১৯ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থানাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও এসেছে। তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার কদমতলী ও শ্যামপুর থানার পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কেউ মাদক বিক্রির জায়গা (স্পট) থেকে টাকা তোলেন। কেউ কেউ তথ্যদাতার (সোর্স) মাধ্যমে নিজেরাই চালান মাদক ব্যবসা।

মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাটি তৈরি করা হয় গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে। ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগে সেই তালিকা পাঠানো হয়। সূত্র বলছে, সেই তালিকা ধরে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের তালিকায় দেখা যায়, এই বিভাগের ছয় থানায় মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন ৫৮ জন। এঁদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে শতাধিক। কদমতলীতে পুলিশের তিন কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

পররাষ্ট্র বিষয়ক

রূপপুরের ঋণ শোধে মার্কিন বাধা

২৬ এপ্রিল ২০২৩, আজকের পত্রিকা

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঋণ পরিশোধ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটছে না কিছুতেই। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ডলার-রুবলে শোধ করতে না পেরে চীনের মধ্যস্থতায় দেশটির মুদ্রা ইউয়ানে দায় শোধের সর্বশেষ উদ্যোগেও বাগড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে আবারও আটকে গেল ঋণ শোধের প্রক্রিয়া।

রাশিয়ার কাছ থেকে নেওয়া এই ঋণ ডলারেই পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার পর পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। ইউক্রেনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ডলারে রূপপুরের ঋণ পরিশোধ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রাশিয়া ডলারের পরিবর্তে তার নিজস্ব মুদ্রা রুবলে ঋণের কিস্তি শোধ শুরু করতে চাপ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশ অপরীক্ষিত এই ব্যবস্থায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়।

শেষ পর্যন্ত চীনের সহায়তায় দেশটির মুদ্রা ইউয়ানে ঋণের কিস্তি শোধ শুরু করতে ১৩ এপ্রিল একমত হয় বাংলাদেশ ও রাশিয়া। প্রায় একই সময়ে নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়া ও দেশটির প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘তৃতীয় দেশের মাধ্যমে’ রূপপুরের ঋণের টাকার লেনদেনের এই ব্যবস্থায় সরাসরি বাগড়া দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ ডলারের পরিবর্তে শোধ হবে চীনা মুদ্রায়রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ ডলারের পরিবর্তে শোধ হবে চীনা মুদ্রায়

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ ১২ এপ্রিল রাশিয়ার জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের কয়েকটি সহযোগী সংস্থাসহ মোট ১২০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস পরদিনই অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল এক কূটনৈতিক পত্রে (নোট ভারবাল) ‘নিষেধাজ্ঞা এড়াতে’ ‘তৃতীয় দেশের মাধ্যমে’ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণের টাকা লেনদেনে আপত্তি জানায়। নোট ভারবালটি গতকাল মঙ্গলবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে সরকারের এক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান।

ভারতীয় পণ্য ট্রানজিটে ন্যূনতম ফি টন প্রতি ৫৮৯ টাকা

এপ্রিল ২৬, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যের ট্রানজিট সুবিধার ক্ষেত্রে রাজস্ব বোর্ডের ন্যূনতম ফি ধার্য করা হয়েছে প্রতি কিলোমিটারের জন্য টন প্রতি ৫৮৯ টাকা।

তবে এর বাইরে সড়ক ব্যবহারের জন্য আলাদা ফি ধার্য হবে। সড়ক ব্যবহারে প্রতি কিলোমিটারের জন্য টন প্রতি ১ টাকা ৮৫ পয়সা ফি দিতে হবে।

গত সোমবার রাজস্ব বোর্ড চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদায়যোগ্য ফি ও চার্জের তালিকা অনুযায়ী, ট্রানজিট সুবিধার ক্ষেত্রে প্রতিটি চালানে ডকুমেন্ট প্রসেসিং ফি দিতে হবে ৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন পণ্যের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট ফি ২০ টাকা, সিকিউরিটি চার্জ ১০০ টাকা, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি কন্টেইনারের জন্য ২৫৪ টাকা পরিশোধ করতে হবে স্ক্যানিং ফি হিসেবে। প্রতিটি কন্টেইনার, ট্রাক, ট্রেইলার বা কাভার্ড ভ্যানের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কিলোমিটার প্রতি ৮৫ টাকা এসকর্ট চার্জ দিতে হবে।

সেইসঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণে ইলেক্ট্রিক লক অ্যান্ড সিল ফি দিতে হবে।

ভারতীয় পণ্যের ট্রানজিট রুট

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যের ট্রানজিট সুবিধা দিতে মোট ১৬টি রুট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:

১. চট্টগ্রাম বন্দর-আখাউড়া-আগরতলা

২. মোংলা বন্দর-আখাউড়া-আগরতলা

৩. চট্টগ্রাম বন্দর-তামাবিল-ডাউকি

৪. মোংলা বন্দর-তামাবিল-ডাউকি

৫. চট্টগ্রাম বন্দর-শেওলা-সুতারকান্দি

৬. মোংলা বন্দর-শেওলা-সুতারকান্দি

৭. চট্টগ্রাম বন্দর-বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর

৮. মোংলা বন্দর-বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর

৯. আগরতলা-আখাউড়া-চট্টগ্রাম বন্দর

১০. আগরতলা-আখাউড়া-মোংলা বন্দর

১১. ডাউকি-তামাবিল-চট্টগ্রাম বন্দর

১২. ডাউকি-তামাবিল-মোংলা বন্দর

১৩. শেওলা-সুতারকান্দি-চট্টগ্রাম বন্দর

১৪. শেওলা-সুতারকান্দি-মোংলা বন্দর

১৫. শ্রীমন্তপুর-বিবিরবাজার-চট্টগ্রাম বন্দর

১৬. শ্রীমন্তপুর-বিবিরবাজার-মোংলা বন্দর

জাপান ও বাংলাদেশের ৮ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

২৬ এপ্রিল ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে আজ আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—কৃষি, শুল্ক বিষয়ক, প্রতিরক্ষা, আইসিটি ও সাইবার-নিরাপত্তা, শিল্পোন্নয়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক (মেধা) সম্পদ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার ও মেট্রোরেল বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে স্বাক্ষরিত ৮ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলো:

১. কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে জাপানের কৃষি, বন এবং মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়।

২. শুল্ক বিষয়ক পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি চুক্তি সই করে জাপান সরকার ও বাংলাদেশ সরকার। এ চুক্তির আওতায় দুই দেশ শুল্ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; শুল্ক অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত ও দমন করা এবং শুল্ক পদ্ধতির সরলীকরণ ও সমন্বয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

৩. ‘বাংলাদেশ-জাপান শিল্পোন্নয় অংশীদারত্ব’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে মসৃণ উত্তরণ এবং ‘ভিশন ২০৪১’-এর আওতায় ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় সহায়তা হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে ও যৌথভাবে শিল্পের মানোন্নয়নের সম্ভাবনাগুলো অন্বেষণ করার জন্য একটি কাঠামো স্থাপন করতে সহযোগিতা হবে।

৪. প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকার। এই সমঝোতার আওতায় প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য কার্যক্রম এবং সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

৫. মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় মেট্রোরেল নীতি, আইন ও প্রবিধানে সহযোগিতা; অবকাঠামো, রোলিং স্টক ও সিস্টেমের জন্য প্রযুক্তি; নিরাপত্তা নীতি ও ব্যবস্থাপনা; দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সহযোগিতা হবে।

৬. জাহাজ ভাঙা শিল্প খাতে একটি সহযোগিতা স্মারক সই করেছে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ২০২৩ সালের মধ্যে জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশগতভাবে সঠিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এক্ষেত্রে একটি ট্রিটমেন্ট, সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয়করণ ফ্যাসিলিটি প্রতিষ্ঠাসহ হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে জাপান।

৭. একটি সহযোগিতা স্মারক সই করেছে জাপান পেটেন্ট অফিস এবং বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক বিভাগ। এর আওতায় তথ্য ও চর্চার আদান-প্রদানের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার (আইপিআর) সিস্টেম এবং আইপিআরের গুরুত্বের বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টি, শিল্প ও উদ্ভাবনের বিকাশে আইপিআর সিস্টেমের উন্নতি করা হবে।

৮. সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি সহযোগিতা স্মারক সই করে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে অবস্থান জানাল ঢাকা

২৮ এপ্রিল ২৩, সমকাল

বাংলাদেশ-জাপান যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এদিকে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে ঢাকা। গত বুধবার টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর গতকাল বৃহস্পতিবার এই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ১১ পৃষ্ঠার এই যৌথ বিবৃতিতে ৩০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এতে রোহিঙ্গা সংকট, চীন সাগর প্রসঙ্গ, বৈশ্বিক নানা বিষয় উঠে এসেছে।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চীন ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বৈরিতা বহু দিনের। এ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কখনোই পরিষ্কার ছিল না। তবে এবার দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাল ঢাকা। এ সাগরে জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক আইন ১৯৮২-এর আনক্লজ সমর্থন করা এবং এখানকার যে অবস্থা রয়েছে তা একতরফাভাবে জোরপূর্বক বা বল প্রয়োগ করে পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে এ কার্যক্রমের কারণে উত্তেজনা বাড়লে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে– তাও অগ্রহণযোগ্য।

ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেবে বাংলাদেশ

মে ৫, ২০২৩, ভোরের কাগজ

ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুত খাত সহায়তা বিষয়ক যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এতদিন পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনে বাংলাদেশ করিডোর দেয়ার ক্ষেত্রে যৌথ নদী কমিশনে সেটি তোলার দাবি জানিয়ে আসছিলো। তবে সেই দাবি থেকে সরে এসে যৌথভাবে ৭৬৫ কেভির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়ে ভারতের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে ঢাকা।

ভারতের বিদ্যুৎ সচিব অলোক কমুারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গেল দুই দিনে ঢাকায় আসেন। প্রতিনিধি দলে দেশটির বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবজাল হোসেন ছাড়াও উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ হোসাইন ছাড়াও অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজি মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, আজকের মিটিং দুটি এজেন্ডা ছিল। একটি ৭৬৫ কেভির সঞ্চালন লাইন নির্মাণ। সেটির বিষয়ে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানি জিএমআরের ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৈঠকের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সঙ্গে ভারতের সেন্ট্রাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন কোম্পানি যৌথভাবে একটি কোম্পানি গঠন করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জমি দেবে আর ভারত অর্থায়ন করবে। তবে প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সহজ কোনো পদ্ধতি অনুসরনের ওপর জোর দিয়েছে দিল্লি।

চূড়ান্ত হওয়া বিদ্যুৎ করিডোরটি কাটিহার-পার্বতীপুর-বরানগরকে সংযুক্ত করবে। অর্থাৎ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ৭৬৫ কেভির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি ভারতের কাটিহার ও বরানগরকে সংযুক্ত করবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৪০০ কেভি ক্ষমতার লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে ভারত বিদ্যুৎ করিডরের নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। কিন্তু ঢাকা নানাভাবে বিষয়টিতে বিলম্বিত করছিল। কারণ সেভেন সিস্টারে (আসাম, মিজোরাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মনিপুর, নাগাল্যান্ড) জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করলে তার প্রভাব কতখানি পড়বে সে বিষয়ে কোনো দেশই নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় ঢাকা একটি যৌথ পরিবেশগত সমীক্ষার ওপর জোর দিয়ে আসছিলো।

ভারত দাবি করছে, এই অঞ্চলের সাতটি রাজ্যে অন্তত ৪০ হাজার মেগাওয়াট জল বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তবে ওই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা না থাকায় ভারত বাংলাদেশর ওপর দিয়ে তার অন্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ নিতে চায়।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক

তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মানা হবে না: রাষ্ট্রদূত

৭ মে ২০২৩, মানবজমিন

বাংলাদেশের রাজনীতি বা কোনো ইস্যুতেই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না বেইজিং- কূটনৈতিক ভাষায় সেটা ফের স্মরণ করিয়ে দিলেন ঢাকাস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গতকাল ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: ভবিষ্যতের পূর্বাভাস’- শীর্ষক কসমস ডায়ালগে ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের নিজস্ব  উন্নয়নের পথ বেছে নেয়ার বিষয়টিকে সম্মান করে এবং এর ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক শিক্ষা জোরদার করতে ইচ্ছুক। চীন ও বাংলাদেশের উচিত মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে একে- অপরের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং এক কণ্ঠে বাহ্যিক হস্তক্ষেপকে ‘না’ বলা। সিম্পোজিয়ামে প্রদত্ত মূল বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের মধ্যস্থতাসহ সম-সাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। গত মার্চে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান বিষয়ক বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি বেইজিংয়ের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তখন তিনি বলেছিলেন- বাংলাদেশের প্রতি চীন ধারাবাহিক নীতি বজায় রেখেছে। চীন সব সময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার। অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যানের ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে চীন। জানুয়ারিতে ঢাকায় দায়িত্ব নেয়া ইয়াও ওয়েন গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকের পরও বলেছিলেন অন্য দেশগুলোর মতো চীন বাংলাদেশ বা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কারও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীন নাক গলায় না।

ভারতকে দেয়া ট্রানজিট ফি টাকায় নির্ধারণ না করে ডলারে হলে ভালো হতো?

৫ মে ২০২৩, বিবিসি বাংলা

মোংলা ও চট্টগ্রাম সমূদ্র বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি পূরণ করেছে বাংলাদেশ। ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার ব্যাপারে ২০১০ সালে ভারত বাংলাদেশ শীর্ষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়। এর ১৩ বছর পর ভারতকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ হলো। তবে এখনও ভারতে ভূমি ব্যবহার করে বাংলাদেশকে ট্রানজিট সুবিধার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দুই দেশের মধ্যে চুক্তির আওতায় পণ্য পরিবহনের জন্য কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পাদনের স্থায়ী আদেশ জারী করেছে।

কোন পদ্ধতিতে কীভাবে কোন রূটে ভারতীয় পণ্য পরিবহন হবে এবং এর ফি এবং মাশুল কী হবে সেটিও নির্দিষ্ট করা হয়েছে এই স্থায়ী আদেশে।

বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এনিয়ে দুই দেশ নানা পর্যায়ে বৈঠক, আলোচনা, সমঝোতা ও প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদন করেছে। এছাড়া পরীক্ষামূলক চালানও পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। সবশেষে স্থায়ী আদেশ জারীর মাধ্যমে ভারতকে দুটি বন্দর ব্যবহারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ।

মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আনা ও নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের চারটি স্থলবন্দর হয়ে ১৬টি রূট নির্ধারন করা হয়েছে।

ভারতের বৈধ যে কোনো পণ্যের চালান সমূদ্রপথে মোংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হবে। সেসব পণ্য বাংলাদেশের সড়ক পথ ও যান ব্যবহার করে চারটি স্থলবন্দর হয়ে ভারতে যাবে অথবা ভারত থেকে আসবে।

এই চারটি স্থল বন্দরের রুট হলো সিলেটে তামাবিল-ডাউকি ও শেওলা-সুতারকান্দি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর।

ভারত বাংলাদেশের দুটি বন্দর ব্যবহার করে পণ্যের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট করলে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে মনে করা হয়। এছাড়া এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত অনেকের।

মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে চারটি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনা ও নেয়া করতে পারবে ভারত

ভারতের সুবিধা

প্রায় ১৬শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এবং দীর্ঘ সময় ব্যয় করে ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে পণ্য আসতো।

মোংলা এবং চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য পরিবহনের সময় এবং খরচ বহুলাংশে কমে যাবে ।

সেটি এখন অল্প সময়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে পৌছে যাবে।

ভারতের বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো শ্রীরাধা দত্ত বলেন, এই সুযোগ ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য সবচেয়ে বেশি সুবিধা সৃষ্টি করবে।

“শিলিগুড়ির একুশ কিলোমটার কোরিডোর ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটা রাজ্য মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। যে কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বলুন ওখানে দ্রব্য যাওয়া বলুন, সবকিছুই অ্যাফেকটেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হচ্ছিল।”

“বাংলাদেশের সাথে আমরা যখন ক্রসবর্ডার ফ্যাসিলিটি তৈরি করেছি তাতে সবচেয়ে বেশি উপকার পেয়েছে নর্থ-ইস্টের লোকরা। মোংলা বা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারলে এখন নর্থ-ইস্টের কমার্স পুরোটাই চেঞ্জ হয়ে যাবে,” বলেন শ্রীরাধা দত্ত।

বাংলাদেশ কী পাচ্ছে?

ভারত বাংলাদেশের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করলে বন্দরের কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং নানারকম ফি ও মাশুল আদায় হবে। এছাড়া কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আদায় করা ফি ও চার্জ এবং সড়ক ব্যবহারের মাশুল থেকেও আয় করবে বাংলাদেশ।

মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের চার্জ ছাড়াও বাংলাদেশ কাস্টমস ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট ফি আদায় করবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তালিকা অনুযায়ী প্রতি চালানে ৩০ টাকা প্রসেসিং ফি, টন প্রতি ২০ টাকা ট্রান্সশিপমেন্ট ফি, ১শ টাকা সিকিউরিটি চার্জ ও একশ টাকা প্রশাসনিক চার্জ দিতে হবে।

এছাড়া কনটেইনার বা লরি প্রতি কিলোমিটারে ৮৫টাকা পুলিশ এসকর্ট ফি এবং প্রতিটি কন্টেইনার স্ক্যানিং ফি ধার্য করা হয়েছে ২৫৪ টাকা। পনের শতাংশ ভ্যাটসহ এই ফি দিতে হবে। এর সাথে প্রতি কিলোমিটারে সড়ক ব্যবহার মাশুল দিতে হবে ১ টাকা ৮৫ পয়সা।

বন্দরের নিয়মিত ফি ছাড়াও কাস্টমস এবং সড়ক ব্যবহারের জন্য মাশুল দিতে হবে ভারতকে

বাংলাদেশ ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য যে চার্জ নির্ধারণ করেছে সেটি আরো বেশি হতে পারতো বলে মনে করেন, বন্দর বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদ ড.মইনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “এই বন্দর ব্যবহার করে ভারতের ১শ ডলার যদি বেঁচে যায়, তাহলে ৫০ ডলার বাংলাদেশকে দেয়া হোক, ৫০ ডলার ভারত রাখুক। কিন্তু ভারত যদি ৮০ ডলারই নিয়ে যায় বাংলাদেশকে মাত্র ২০ ডলারের সুবিধা দেয় সেটা আমি ন্যায্য মনে করি না।”

“কারণ বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার হবে, বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহার হবে, রেলপথ ব্যবহার হবে।অতএব এগুলোর যে অবচয় সেটি অনেক বেড়ে যাবে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আরো বেশি হওয়া উচিৎ বলেই আমি মনে করি।”

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে চুক্তির আওতায়। ট্রানজিট ও ট্রানশিপমেন্ট পণ্যের কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যে ফি এবং চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি টাকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব চার্জ ডলারে নির্ধারণ করলে ভালো হতো বলে মনে করেন ড. মইনুল ইসলাম।

“টাকার যে প্রায় ২৫শতাংশ অবচয়ন হয়েছে সেটা গত দেড় দুই বছরে হয়েছে। অতএব সেখানে টাকার অঙ্কে যদি মাশুল নির্ধারণ হয় তাহলে আমরা ২৫ শতাংশ কম পাচ্ছি আগের চাইতে। তো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের টাকা আরো বেশি অবচয়নের শিকার হবে। কারণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মূদ্রা রিজার্ভের যে সংকটটা সেটা আরো অনেকদিন থাকবে,” বলেন অধ্যাপক ইসলাম।

“ডলারে নির্ধারন হলে এই অবচয়নের কবল থেকে আমরা রক্ষা পেতাম। কিন্তু টাকায় হওয়াতে এইটার সুবিধাটা ভারত পেয়ে যাচ্ছে।”

মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্যের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার ক্ষেত্রে ফি ও মাশুল এবং মূদ্রার ক্ষেত্রে টাকা নির্ধারণ নিয়ে বাংলাদেশে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন, ট্রানজিট এবং ট্রান্সশিপমেন্টের কাজ যখন পুরোদমে শুরু হবে তখন ফি-মাশুল পুনপুনর্বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।

“এনবিআর থেকে যে এসআরওটা জারী হয়েছে সেটা কিন্তু দীর্ঘদিন পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর কতটুকু কী করবো না করবো, সবকিছু মিলিয়ে কিন্তু গত কয়েকদিন আগে এটা জারি হয়েছে। যেহেতু আমাদের সঙ্গে তাদের একটা এগ্রিমেন্ট হয়ে গেছে আমরা শুরু করতে চাই,” বলেন মি. চৌধুরী।

বন্দর কতটা প্রস্তুত ?

বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার বাড়াতে এবং আঞ্চলিক ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রামকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা করছে সরকার।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের যে সক্ষমতা তাতে বছরে প্রায় ৩৫-৪০ লাখ কনটেইনার ওঠানামা করতে পারে। এছাড়া এখন গড়ে ২.৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে মাল খালাস সম্ভব হচ্ছে বলে জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারত পুরোদমে বন্দর ব্যবহার শুরু করলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি হচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দরের যে সক্ষমতা আছে তাতে ভারত এ বন্দর ব্যবহার করলে কোনো বাড়তি চাপ পড়বে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো: ওমর ফারুক বিবিসি বাংলাকে বলেন, পতেঙ্গা টার্মিনাল তৈরি হয়ে আছে, যেখানে বছর সাড়ে চার লাখ টন কনটেইনার ওঠা নামার সক্ষমতা রয়েছে।

এ বাস্তবতায় বন্দরের সক্ষমতাও আরো বৃদ্ধি করা দরকার বলে মনে করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন,

“বে টার্মিনাল বাড়াতে হবে, জেটির সংখ্যা বাড়াতে হবে লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়াতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশের ইমপোর্ট আমরা করছি । সাথে সাথে যদি পার্শবর্তী দেশের ইমপোর্ট আসে তাহলে আমাদের ওপর প্রেসার পড়বে।”

চাপ কমানোর জন্য মোংলা ও চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন মি. আলম।

পশ্চিমি চাপে ভারতকে পাশে চায় বাংলাদেশ

১০ মে ২০২৩, আনন্দবাজার

বাংলাদেশে নির্বাচনের মুখে অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বরে জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে ভারতে আসছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার দাবি, তাঁর সফরের আগেই নয়াদিল্লির চাহিদা-তালিকার সবই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি কিছু বাকি থাকে, তবে তা ছোটখাটো বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ সূত্রের দাবি, সম্প্রতি চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়ার বিষয়টি দশ-পনেরো বছর আগেও কল্পনা করতে পারতেন না বাংলাদেশবাসী। কিন্তু সেটাও আজ সম্ভব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার সফরে বাংলাদেশ চাইবে, সে দেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা তথা পশ্চিমের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার মোকাবিলায় কূটনৈতিক ভাবে আওয়ামি লিগ সরকারের পাশে থাকুক ভারত।

বাংলাদেশে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, সে দেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নাক গলানো নিয়ে অভিযোগ ও সমালোচনায় সরব হচ্ছে হাসিনা সরকার। মানবাধিকার প্রসঙ্গেও খোঁচা দিয়ে আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য বিভিন্ন স্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ঢাকার উপরে চাপ তৈরি করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে ইইউ, ব্রিটেন, জাপান বাংলাদেশের গত বারের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ চাইছে, বন্ধু দেশ হিসাবে ভারত কূটনৈতিক ভাবে ওই দেশগুলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুক। ঢাকার বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নেতৃত্ব ভারতের হাতে, তাই পশ্চিমের কাছে নয়াদিল্লির বক্তব্যের গুরুত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশের যুক্তি, রাতারাতি কোনও দেশ মানবাধিকার প্রশ্নে আদর্শ হয়ে উঠতে পারে না। আপাতত অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলির সুরাহার জন্য অল্প সময়ে অনেকটা পথ হেঁটেছে হাসিনা সরকার। কিন্তু এর পরের ধাপে যাওয়ার আগেই যদি পশ্চিম অর্থনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করতে চায় ঢাকাকে, তা হলে দেশটাই মৌলবাদের খপ্পরে চলে যাবে। বাংলাদেশে যে উদার আবহাওয়া রয়েছে, তা আর থাকবে না।

হাসিনার আসন্ন সফরে আরও যে বিষয়গুলি নিয়ে সাউথ ব্লকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত-হত্যা শূন্যয় নিয়ে আসা, তিস্তার নাব্যতা এবং প্রবাহকে বাঁচিয়ে রাখা, তিস্তা-সহ ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলির জলবণ্টনের বিষয়টি সুনিশ্চিত করা। হাসিনা সরকার একরকম ধরেই নিয়েছে যে আপাতত তিস্তা চুক্তি করতে দেবেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তবুও নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনার আসন্ন বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে, তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আবেগের দিকটিকে বিবেচনা করে। সম্প্রতি তিস্তায় পশ্চিমবঙ্গের তরফে দু’টি খাল খননের খবর প্রকাশিত হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ঢাকায়। বিষয়টি নিয়ে যদিও কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মহম্মদ আবুল হোসেন তিস্তায় খাল খনন নিয়ে কমিশনের অন্য সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন, তার কোনও উত্তর এখনও আসেনি। বাংলাদেশের তরফে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক আরও ঘনঘন করার প্রস্তাবও দেওয়া হবে।

ঢাকার দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার প্রধান কারণ বিএসএফের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলি ঘনবসতিপূর্ণ। উভয় দেশের বহু মানুষ নদী ভাঙনের কারণে খেত-খামার ও জীবিকা হারিয়েছেন। তাঁরা আন্তঃসীমান্ত গবাদি পশু ও পণ্য পাচারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঢাকার বক্তব্য, যদি কোনও অপরাধীও সীমান্ত পার হয়ে যায়, তা হলে তাকে গ্রেফতার করা বিচার করা হোক। কিন্তু হত্যা কেন করা হবে? এর ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বিদ্বেষকে নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে যাবে হাসিনার।

যারা নিষেধাজ্ঞা দেয়, বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে কিছু কিনবে না: প্রধানমন্ত্রী

১৩ মে ২০২৩, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (১৩ মে) বলেছেন, বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী কোনো দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কিছু কিনবে না।

তিনি বলেন, ‘স্যাংশন দেয়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যাদের দিয়ে সন্ত্রাস দমন করি, তাদের উপর দেওয়া হচ্ছে স্যাংশন! আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বলে দিয়েছি, যে দেশ স্যাংশন দেবে তাদের কাছ থেকে আমি কিছুই কিনব না।’

‘৪র্থ শিল্প বিপ্লবে উদ্ভাবনী প্রকৌশল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আইইবি সদর দপ্তরে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) পাঁচ দিনব্যাপী ৬০তম কনভেনশনের উদ্বোধনকালে শনিবার প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে টাকা–রুপিতে বাণিজ্য, ঘোষণা আসছে

১৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

মার্কিন ডলারের পাশাপাশি বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ও ভারতীয় মুদ্রা রুপিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য শুরু করা এখন সময়ের ব্যাপার। এ জন্য উভয় দেশই রাজি। প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে দ্রুতই। আগামী সেপ্টেম্বরে টাকা-রুপিতে বাণিজ্যিক লেনদেন শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করছে দুই দেশ। তবে এর আগেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এমন আভাসই পাওয়া গেছে।

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রথমে কোভিড ও পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলার-সংকট দেখা দেয়, যা এখনো চলমান। এর ওপর আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরই মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক লেনদেনে বাংলাদেশি টাকা ও তাদের রুপি ব্যবহারের মৌখিক প্রস্তাব দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চায় না আমি ক্ষমতায় থাকি

১৬ মে ২৩, সমকাল

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাঁকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না বলেই বাংলাদেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে গত ১৪ বছর ধরে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকায় দেশে অসাধারণ উন্নয়ন হয়েছে।

শেখ হাসিনা তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরের সময় বিবিসিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সোমবার রাতে বিবিসির বাংলা বিভাগ এটি প্রকাশ করে।  প্রায় আধঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্রের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করা হয়, সেটি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরেই শুধুমাত্র দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আমরা উন্নতি করতে পারছি।’

যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশের একটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন?

এ প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বাহিনীর ওপর তারা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটা তাদের পরামর্শেই ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাদের সকল প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছিল। যেভাবে তারা বাহিনীটাকে তৈরি করেছে, তারা তো সেভাবেই কাজ করছে বলে আমার বিশ্বাস। তাহলে কেন তারা এই নিষেধাজ্ঞা দিল– এটা আমার কাছেও বিরাট এক প্রশ্ন।’ তিনি বলেছেন, ‘আমি জানি না, হয়তো তারা চায় না, আমি (ক্ষমতায়) আরও থাকি কিংবা বাংলাদেশের যে উন্নয়ন আমরা করছি, তা অব্যাহত থাকুক। হয়তো এ রকমই কিছু, আমার তাই মনে হচ্ছে।’

নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ২০১৮ সালে ৪৬৬ মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালে ৩৮৮ মানুষ এভাবে নিহত হয়েছে। আর ২০২০ সালে নিহত হয়েছে ১৮৮ জন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পর এই সংখ্যা মাত্র ১৫ জনে নেমে এসেছে। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব নাম্বার তারা উল্লেখ করেছে, সেগুলো তারা প্রমাণ করতে পারেনি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব হত্যাকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করেনি। কারণ আমরা প্রমাণ চেয়েছিলাম, সেগুলো তারা পাঠিয়ে দিক, আমরা তদন্ত করে দেখব।’

জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়চেভেলের একটি তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, এই র‍্যাবের দুইজন ব্যক্তি গোপন তথ্য ফাঁস করে বলেছেন যে, এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এসেছে। এই তথ্য তুলে ধরা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না, তারা কীভাবে এটা করেছে। কিন্তু আমেরিকায় কী ঘটছে, আপনি দেখতে পাচ্ছেন। সেখানে প্রায় প্রতিদিন একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুল, শপিংমল, রেস্তোরাঁয় হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এমনকি স্কুলশিক্ষার্থীরা, সাধারণ মানুষ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অথবা সশস্ত্র ব্যক্তির হাতে নিহত হচ্ছে। আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাদের নিজেদের ব্যাপারে আরও মনোযোগী হওয়া। তাদের দেশের কী অবস্থা? তাদের উচিত শিশুদের জীবন রক্ষা করা। তারা নিজেদের লোকজনের ব্যাপারে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

বাংলাদেশের পার্লামেন্টে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছেন, আমেরিকা বাংলাদেশের ক্ষমতায় পরিবর্তন আনতে চায়। এই বক্তব্যের পক্ষে কী প্রমাণ আছে– বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয় শেখ হাসিনার কাছে। তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে একটা বড় প্রশ্ন হলো– কেন তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করল? যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য কাজ করছে; মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তখন তারা লঙ্ঘনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে; যারা ভুক্তভোগী, তাদের পক্ষে নয়।’

বিবিসি বলেছে, সরকারের তথ্যেই জানা গেছে, বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২০ হাজারের মতো মামলা হয়েছে; সাত হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হ্যাঁ। কিন্তু তারা কী করেছিল? তারা মানুষ হত্যা করেছে; তারা মলোটভ ককটেল ছুড়েছে। তারা পাবলিক বাসে আগুন দিয়েছে। ৩৮০০ পাবলিক বাসের ভেতরে যাত্রীদের রেখেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষ হত্যা করেছে; ট্রেন, লঞ্চ, প্রাইভেটকারে আগুন দিয়েছে। যারা হত্যা করেছে, মানুষকে নির্যাতন করেছে, দুর্নীতি করেছে; এই জন্য তারা শাস্তি পেয়েছে। আমি বুঝতে পারি না– তারা যেসব অপরাধ করেছে, কেন এইসব (মানবাধিকার) সংগঠন সেটা দেখতে পাচ্ছে না!

বিবিসি বলেছে, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ভোটের এই হার মিসরের মতো অনেক সামরিক শাসকের চেয়েও বেশি। এটা অনেকটা ভ্লাদিমির পুতিনের ভোটের মতো। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেন নয়? আমাদের কাজের জন্যই মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা তাদের জন্য কাজ করেছি। আমাদের ১৭০ মিলিয়ন মানুষ রয়েছে। আমাদের জনগণ রাজনৈতিক অধিকারের ব্যাপারে সচেতন। আমরা ক্ষমতায় আসার পর দারিদ্র্য কমেছে, খাদ্য নিরাপত্তা বেড়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গৃহায়ন– সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তাহলে মানুষ কেন (আমাদের) ভোট দেবে না?’

পঞ্চগড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত পাথর শ্রমিকের মৃত্যু

২১ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় নদী থেকে পাথর তোলার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত পলাশ হোসেন (৩৫) মারা গেছেন।

রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বগুলাহাটি এলাকার করতোয়া নদীতে মেইন পিলার ৭৩৯ এর ১ আর এবং ২ আর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে গুলিবিদ্ধ হন পলাশ।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য না হলে ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

২৫ মে ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে এ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন।

অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, `আজ আমি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ধারা ২১২ (এ) (৩) (সি) (“৩ সি”) এর অধীনে একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করছি।

এই নীতির অধীনে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

তাদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, সরকারপন্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র গত ৩ মে বাংলাদেশ সরকারকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি , ভোটারদের ভয় দেখানো , সহিংসতার মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারে বাধা দেওয়া এবং নানা প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখা।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ভোটার, রাজনৈতিক দল, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী, সুশীল সমাজ  এবং গণমাধ্যমসহ সবার। যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চায় তাদের সবাইকে আমাদের সমর্থন জানাতে আমি এই নীতি ঘোষণা করছি।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বৈঠক

২৫ মে ২০২৩, প্রথম আলো

সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেবে না, এমন নীতি ঘোষণার পর আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা। দুপুরে রাজধানীর গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় পিটার হাসের সঙ্গে তিন দলের নেতাদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকটি হয়।

 বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলেন দলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ ও কেন্দ্রীয় নেতা মো. এ আরাফাত। বিএনপির পক্ষে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ। আর জাতীয় পার্টির পক্ষে ছিলেন মহাসচিব মুজিবুল হক (চুন্নু) ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল।

চীন আরেকটি বৈশ্বিক উদ্যোগে বাংলাদেশকে পাশে চায়

২৭ মে ২০২৩, প্রথম আলো

প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগেও (গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ—জিডিআই) বাংলাদেশকে যুক্ত করতে চায় চীন। স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা, সংযুক্তির জন্য যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতিসহ আটটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে জিডিআইয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে চায় দেশটি।

জিডিআইয়ে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আজ শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

ভারত সরকার আওয়ামী লীগের হয়ে দেন-দরবার করবে না

২৮ মে ২০২৩, মানবজমিন

আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকির ইস্যুতে ভারত সরকার কি বাংলাদেশে সরকারের পাশে থাকবে? এ প্রশ্ন এখন নানা জায়গায় আলোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর সুরাহার জন্য বাংলাদেশ সরকার দিল্লির দ্বারস্থ হয়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল যা তারা অস্বীকার করেনি। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সহযোগী দেশ। কোয়াডের সদস্য। খুবই ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যে। তাছাড়া, ভারতের বাজারও আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য খুবই লোভনীয়।

কিন্তু দিল্লি কি তাদের সেই কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে?

“আওয়ামী লীগ দিল্লির ওপর ভরসা করে এবং এখনও করবে, কিন্তু ভারতেরও কিছু সমস্যা রয়েছে। ভারত কি আমেরিকাকে বলবে বাংলাদেশ নিয়ে তোমরা যা করছো সেটি ঠিক নয়? আমার মনে হয়না ভারত তা করবে,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত।

তিনি বলেন, “এটা ঠিক যে কূটনীতি বিভিন্ন চ্যানেলে হয়, ভারত হয়ত ট্র্যাক টু বা ট্র্যাক থ্রি চ্যানেলে একথা তুলবে, কিন্তু ভারত সরকার কখনই মার্কিন সরকারের কাছে গিয়ে বাংলাদেশ বা আওয়ামী লীগের হয়ে দেন-দরবার করবে না।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের চাপ থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটে নিয়েও ভারত মিয়ানমার সরকারের ওপর কখনই খোলাখুলিভাবে কোনো চাপাচাপি করেনি। তবে মিজ দত্ত স্বীকার করেন ভারত চায় আওয়ামী লীগের সরকার বাংলাদেশে থাকুক কারণ, তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগগুলো সবসময় শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে  বিবেচনা করেছেন যা নিয়ে দিল্লি কৃতজ্ঞ।

এ কারণে, তিনি বলেন, পরপর দুটো নির্বাচন নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠলেও ভারত চোখ বুজে ফলাফলকে মেনে নিয়েছে।“এটা ঠিক যে ভারত আওয়ামী লীগকে অন্ধের মত সমর্থন করেছে…কিন্তু আমেরিকা এখন যেভাবে ক্ষেপে উঠেছে সেটা ভারতের জন্য চিন্তার জায়গা তো বটেই। মনে হচ্ছেনা আমেরিকানরা পেছোবে। সেখানে ভারত কী করতে পারবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।”

এর আগে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ভারত যে বাংলাদেশের হয়ে আমেরিকার সাথে জোরালো কোনও দেন-দরবার করেছে তার কোনো প্রমাণ নেই।

ভিসা, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মাথাব্যথা করে লাভ নেই: প্রধানমন্ত্রী

০৩ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতির বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কে আমাদের ভিসা দেবে না, কে আমাদের স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে; ও নিয়ে মাথাব্যথা করে কোনো লাভ নাই। ২০ ঘণ্টা প্লেনে জার্নি করে আটলান্টিক পার হয়ে ওই আমেরিকা না গেলে কিচ্ছু আসে-যায় না।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের জন্য নির্মিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য টেলিভিশনসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীতে আরও অনেক মহাসাগর আছে, অনেক মহাদেশ আছে, সেই মহাদেশের সাথে মহাসাগরেই আমরা যাতায়াত করব আর বন্ধুত্ব করব। আমাদের অর্থনীতি আরও মজবুত হবে, উন্নত হবে, আরও চাঙা হবে।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিজের পায়ে চলব। নিজের দেশকে গড়ে তুলব, কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না।’

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি বাহিনীকে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ

০৪ জুন ২৩, সমকাল

বাংলাদেশের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন ছয় কংগ্রেসম্যান। গত ২৫ মে জো বাইডেনের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেসম্যানরা।

২ জুন ভার্জিনিয়ার পঞ্চম ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি কংগ্রেসম্যান বব গুড প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কাছে লেখা ওই চিঠি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। অন্য পাঁচ কংগ্রেসম্যান হলেন– স্কট পেরি, ব্যারি মোর, ওয়ারেন ডেভিডসন, টিম বুরচেট ও কিথ সেলফ। গত ২৭ মে চিঠির সত্যতা জানতে সমকালের পক্ষ থেকে বব গুডসহ চিঠিতে সই করা কংগ্রেসম্যানদের কাছে ই-মেইল করা হয়েছিল। তবে কোনো উত্তর দেননি তাঁরা।

চিঠিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রশ্নে বেশ সমালোচনা করা হয়েছে। সেসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ যাতে অবাধ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সে সুযোগ সৃষ্টির জন্য ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করেছেন কংগ্রেসম্যানরা। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং দায়ী  ব্যক্তিদের ওপরও নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ করেন তাঁরা।

দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র

০২ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

ভারতের নতুন সংসদ ভবনে ম্যুরালের মাধ্যমে ‘অখণ্ড ভারতের’ এক মানচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই অখণ্ড ভারতের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কুমার দহলের (প্রচণ্ড) ভারত সফরের সময় এ ম্যুরাল নেপালের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। ভবিষ্যতে এ বিতর্ক ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বড় হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 ম্যুরালে নেপালের লুম্বিনীকে অখণ্ড ভারতের অঙ্গ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী নেপালিদের কাছে এক পবিত্র স্থান ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা তাদের এক অনন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম প্রধান আকর্ষণও।

এগিয়ে আসছে নির্বাচন, ঢাকার উদ্বেগ নিয়ে মোদীর সফরে বাংলাদেশকে বার্তা দিতে চায় ভারত

১০ জুন ২০২৩, আনন্দ বাজার অনলাইন

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সে দেশের উপরে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার নয়াদিল্লির কাছে ঘরোয়া ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের অভিযোগ, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ এবং চিন্তাভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমেরিকা এবং আংশিক ভাবে জাপানের পক্ষ থেকে যে ভাবে অতিসক্রিয়তা দেখানো হচ্ছে, তা যথেষ্ট অস্বস্তির। শীর্ষ কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলার পক্ষপাতী সাউথ ব্লক। প্রকাশ্যে যদিও বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্য কোনও রাষ্ট্রের ভোট নিয়ে শেষ কথা বলবেন সে দেশের মানুষ। তাতে নাক গলানোর প্রশ্ন নেই। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের খবর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দফতর থেকে ঢাকাকে জানানো হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের গুরুত্বের দিকটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ওয়াশিংটন সফরে তুলে ধরা হবে। গত মাসে জাপানের হিরোশিমায় জি-৭ শীর্ষ বৈঠকে আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গিয়েছিলেন মোদী। তখনই বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তোলার পরিকল্পনা ছিল সাউথ ব্লকের। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে তখন তা সম্ভব হয়নি।

নয়াদিল্লি আমেরিকাকে বলতে চায়, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব যথেষ্ট। সেখানে এখন এমন কিছু করা বাঞ্ছনীয় নয়, যাতে সে দেশে মৌলবাদী, কট্টরপন্থী, সন্ত্রাসবাদীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যায়। সম্প্রতি ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে হাসিনা সরকার ১৫ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছে। সেখানে ভারতের অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওই অঞ্চলের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উদার, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাই বলা হয়েছে। সূত্রের মতে, নয়াদিল্লি এ কথাও ওয়াশিংটনকে বলতে চায় যে, সে দেশে এমন কিছু করা উচিত হবে না, যাতে আওয়ামী লীগ সরকার চিনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এই মুহূর্তে আমেরিকার নতুন ভিসা নীতি নিয়ে বাংলাদেশ সরগরম। শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য পৃথক ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে বাইডেন প্রশাসন। বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ করার লক্ষ্যে এই নয়া ভিসা নীতি। নির্বাচনকে যাঁরা বানচাল করার চেষ্টা করবেন, তাঁরা আমেরিকায় প্রবেশাধিকার পাবেন না।

অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকার প্রশাসন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাতেই নিজের দেশের আইন প্রয়োগ করে সে দেশের জন্য পৃথক ভিসা নীতি গ্রহণ করল। এই পদক্ষেপের আসল বক্তব্য হল, হাসিনার সময়ে হওয়া নির্বাচনগুলি অবাধ ছিল না। আওয়ামী লীগের বক্তব্য, এর ফলে ভোটের আগে বাংলাদেশে বিরোধীরা আমেরিকার এই ঘোষণাকে অস্ত্র করার বাড়তি সুযোগ পেয়ে গেল। বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলি বহু দিন ধরেই দাবি করছে, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ভোট হোক। সূত্রের খবর, এই দাবির প্রতি আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন আছে।

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে কৃষকের মৃত্যু

১০ জুন ২০২৩, যুগান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি কৃষ‌কের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে।

শ‌নিবার বিকালে উপজেলার ধর্মগড় চেকপোস্ট এলাকার নাগর নদীর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।রাণীশং‌কৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গুলফামুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কৃষক জিন্নাত আলী (৫৫) ধর্মগড় ইউনিয়নের চেকপোস্ট কলোনির মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে।

ওসি ব‌লেন, বিকালে ঘাস কাটতে গেলে জিন্নাতকে লক্ষ্য করে গুলি করে বিএসএফ সদস‌্যরা। এ সময় পেটে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে শান্তিরক্ষী নিয়োগে যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান

১৩ জুন ২৩, সমকাল

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলেছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের জন্য জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জিন পিয়েরে ল্যাক্রোইক্সের আসন্ন বাংলাদেশ সফরে এ উদ্বেগ জানাতে আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের যাচাই-বাছাই বাড়াতেও জাতিসংঘের কাছে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জিন পিয়েরের আগামী ২৫ জুন বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। সফরের প্রাক্কালে এ বিবৃতি এলো।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের মধ্যে শীর্ষে চীনারা, দ্বিতীয় ভারতীয়

জুন ১৩, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের ১১৫টি দেশের ২০,৯৮৮ জন বিদেশি নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি চীনের নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারতীয়রা।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের ১১৫টি দেশের ২০,৯৮৮ জন বিদেশি নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি চীনের নাগরিক। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভারতীয়রা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানান। নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরা শিল্পকারখানা, উন্নয়ন প্রকল্প, এনজিও, আইএনজিও এবং বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিদেশিদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৫ জন চীনা, ৫ হাজার ৮৭৬ জন ভারতীয়, ২ হাজার ৪৬৮ জন রুশ, ১ হাজার ২৪৬ জন শ্রীলঙ্কান, ৯২৪ জন দক্ষিণা কোরিয়ান, ৫৫৭ জন জাপানি, ৪১৬ জন পাকিস্তানি, ৪৬০ জন ফিলিপিনো, ৩৯৯ জন থাই, ৩৭৮ জন বেলারুশিয়ান, ২৬৯ জন কাজাখ, ১৬৮ জন আমেরিকান, ১৩৯ জন কোরিয়ান, ১২৩ জন মালয়েশিয়ান, ১০৮ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক রয়েছেন।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আমরা প্রস্তুত: চীন

১৪ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, সব ধরনের আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে তাঁরা প্রস্তুত আছেন। বাংলাদেশ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেছেন তিনি।

ঢাকায় চীনের দূতাবাস আজ বুধবার তাদের ফেসবুক পেজে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের এই বক্তব্য প্রচার করেছে। সেখানে এ বিষয়ে চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রশ্ন এবং তার জবাবে ওয়েনবিনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

গ্লোবাল টাইমসের প্রশ্নে বলা হয়, সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, র‌্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিভ্রান্তিকর এবং এই নিষেধাজ্ঞা একটি খেলার মতো। তিনি বলেছেন, যে কোনো দেশের সরকার পতনের ক্ষমতা তাদের রয়েছে। বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পায় না এবং তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদানকারী দেশ থেকে কিছু কেনা না হয়।

জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো আমাদেরও নজরে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে একটি দেশ নিজেদের বর্ণবৈষম্য, বন্দুক সহিংসতা ও মাদকের বিস্তারের সমস্যার দিকে চোখ বন্ধ রেখে দীর্ঘ দিন ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাতে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই বলিষ্ঠ অবস্থানের কথা বলেননি, তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের বিশেষত উন্নয়নশীল বিশ্বের মনের কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পদক্ষেপ চেয়ে ব্লিঙ্কেনকে ৬ কংগ্রেসম্যানের চিঠি

১৫ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভূমিকা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কাছে চিঠি লিখেছেন দেশটির ছয়জন কংগ্রেস সদস্য। তাঁরা হলেন উইলিয়াম আর কিটিং, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, বারবারা লি, জিম কস্টা, ডিনা টাইটাস ও জেমি রাসকিন। তাঁরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য। কংগ্রেস সদস্য উইলিয়াম আর কিটিং গতকাল মঙ্গলবার এক টুইটে বিষয়টি জানিয়েছেন।

 ৮ জুন দেওয়া ওই চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসায় মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। এটি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প

চীনের মাধ্যমে হচ্ছে না বকেয়া পরিশোধ

১৫ জুন ২৩, সমকাল

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে রাশিয়া। এতে দেশটির সঙ্গে অন্য দেশের লেনদেনেও দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার অর্থায়নে পাবনায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিশোধও আটকে আছে। বকেয়া প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার সরাসরি রাশিয়াকে না দিয়ে পিপলস ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে পরিশোধের জন্য গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রটোকল সই হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে চীনে অর্থ পরিশোধের বার্তা পাঠানোর একমাত্র উপায় ‘সুইফট’। এ ব্যবস্থায় অর্থ দিলেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে– এ কারণে আপাতত পরিশোধ হচ্ছে না বকেয়া।

পরিশোধ জটিলতা নিয়ে গেল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েকটি বিভাগের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। চীনের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ করলে যে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে– তা ওই বৈঠকে উঠে আসে। বিষয়টি শিগগিরই সরকারকে জানানো হবে। এরপর পরিশোধের বিকল্প কী হতে পারে– নতুন করে দুই দেশের বৈঠকের পর আবার সিদ্ধান্ত হবে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই, আমার দ্বারা সেটি হবে না: প্রধানমন্ত্রী

২১ জুন ২০২৩, প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কাউকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা তাঁর দ্বারা হবে না। তিনি বলেন, ‘এই দেশের কোনো সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না।’

আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তাঁর সদ্য সুইজারল্যান্ড ও কাতার সফর নিয়ে সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কীভাবে? তখন তো গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে, নাকি সেন্ট মার্টিন বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়? তিনি বলেন, ‘আমি এতটুকু বলতে পারি, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা, আমার হাত থেকে এই দেশের কোনো সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ওই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। আর এখনো যদি আমি বলি, ওই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমাদের ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই। আমি জানি সেটা। কিন্তু আমার দ্বারা সেটি হবে না।’

সিরিয়ায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত বাংলাদেশসহ ৬২ দেশ

১ জুলাই ২০২৩, মানবজমিন

সিরিয়ায় গুম বা নিখোঁজ এক লাখ ৩০ হাজার মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি কি হয়েছে তা জানতে একটি নিরপেক্ষ মেকানিজম বা বডি গঠন করবে জাতিসংঘ। এ বিষয়ক প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদে ভোটদানে বিরত ছিল বাংলাদেশ। ওই প্রস্তাবে বৃহস্পতিবার ভোট দানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতসহ ৬১টি দেশ বিরত থাকে।

আমেরিকার ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনের আহ্বান বাংলাদেশের ওপর স্পষ্ট হস্তক্ষেপের চেষ্টা: রাশিয়া

০৭ জুলাই ২৩, সমকাল

বাংলাদেশে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের উদ্বেগ প্রকাশকে নবঔপনিবেশিকতা এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে মনে করছে রাশিয়া।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে এ তথ্য জানায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

টুইটে বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করছি যে, কিছু ইউরোপীয় এবং আমেরিকান রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এটি হলো-নবঔপনিবেশিকতা এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পষ্ট হস্তক্ষেপের চেষ্টা।

ডলারের পাশাপাশি রুপিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চালু

১২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ ও ভারত। বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি এবং ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি—উভয় কাজ করতেই এখন থেকে মার্কিন ডলারের পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রা রুপিও ব্যবহার করা যাবে। রুপিতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য করার এ কার্যক্রম গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। আর এর মাধ্যমে ডলারের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিকল্প লেনদেন মাধ্যম চালু হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের যৌথ আয়োজনে ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে গতকাল রুপিতে দুই দেশের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এ সময় মূল বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আফজাল করিম, বেসরকারি ইষ্টার্ণ ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) কান্ট্রি হেড অমিত কুমার এবং আইসিআইসিআই ব্যাংকের কান্ট্রি হেডের আগে থেকে রেকর্ড করা বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। সব বক্তাই উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে দেশের প্রায় সব ব্যাংকের এমডি উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ড, চীনের ইউয়ান ও জাপানের ইয়েন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বীকৃত মুদ্রা। এ পাঁচটি ছাড়া অন্য কোনো মুদ্রায় এক দেশ আরেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে গেলে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা থাকতে হয়। বাংলাদেশ ও ভারত গতকাল এবার সেটিই করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ সেখান থেকে বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে আর সে দেশে রপ্তানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে রুপিতে বাণিজ্য করার আলোচনা চলছিল। ব্যবসায়ীরাও এ দাবি করে আসছিলেন। এবার তা বাস্তবে রূপ পেল।

গভর্নর বলেন, একটি বড় সূচনার প্রথম পদক্ষেপ এটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঝুড়িতে থাকা মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসবে। শুধু তাই নয়, রুপিতে লেনদেন উভয় দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে বৈচিত্র্যপূর্ণ করবে।

রুপিতে বাণিজ্য শুরুর পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বর থেকে টাকা-রুপিতে ডুয়েল কারেন্সি কার্ড চালু করা হবে বলেও জানান গভর্নর। বলেন, ‘এ নিয়ে আমরা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্ড প্রস্তুত হবে। এর পর ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের দরকার পড়বে। চালু হতে ডিসেম্বর নাগাদ লেগে যাবে। এ কার্ড চালু হলেও কিছু ডলার সাশ্রয় হবে।’

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা শুরুতেই উভয় দেশের মধ্যে রুপিতে আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ার তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, রুপিতে আমদানি-রপ্তানি শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন হলো।

নতুন পদ্ধতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাবে উল্লেখ করে প্রণয় ভার্মা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। এমনকি ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে পঞ্চম বৃহত্তম। গত পাঁচ বছরে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্বিগুণ ছাড়িয়েছে। রুপিতে লেনদেন চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সামনে নতুন বিকল্প চালু হলো। এখন লেনদেনের খরচ কমবে, সময়ও বাঁচবে।

প্রথম আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের কাজ করতে বাংলাদেশের দিক থেকে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি ইষ্টার্ণ ব্যাংক এবং ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) ঢাকা শাখা যুক্ত থাকছে। আর ভারতের দিক থেকে থাকছে এসবিআই ও আইসিআইসিআই ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রথম রুপিতে রপ্তানি করেছে বগুড়ার তামিম ইন্ডাস্ট্রিজ। রপ্তানি চালানের মূল্য ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ রুপি। রপ্তানিকারকের ব্যাংক ছিল স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) বাংলাদেশ শাখা। এ চালানের আমদানিকারক ঋণপত্র (এলসি) খোলে ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকে। অনুষ্ঠানস্থলেই গতকাল রপ্তানি নথি গ্রহণ করেন তামিম অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আলী।

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রুপিতে প্রথম আমদানির আদেশ দেয় নিটল-নিলয় গ্রুপের নিটা কোম্পানি লিমিটেড। এসবিআই ঢাকা শাখার মাধ্যমে কোম্পানিটি ১ কোটি ২০ লাখ রুপির পণ্য আমদানির আদেশ দেয়। ভারতের দিক থেকে ব্যাংক হিসেবে কাজ করে এসবিআইয়ের মুম্বাই শাখা। কোম্পানির কর্ণধার আবদুল মাতলুব আহমাদ নথি গ্রহণ করেন।

প্রথম আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি হিসেবে উভয় কোম্পানিগুলোর দুই প্রধানকে অনুষ্ঠানে স্মারক উপহার দেওয়া হয়।

কে কী বললেন

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, নতুন উদ্যোগের ফলে শুধু বাণিজ্য নয়, ভ্রমণ ও অন্যান্য খাতেও রুপি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ বলেন, ডলারের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় করলে বর্তমানে আর্থিক ক্ষতি হয়, রুপিতে বাণিজ্য নিষ্পত্তি হলে তা আর হবে না।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করি। নতুন উদ্যোগের ফলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, শুধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নয়, সাধারণ মানুষও রুপিতে লেনদেন শুরু হওয়ার ঘটনায় খুশি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, রুপির মাধ্যমে লেনদেনের যে ব্যবস্থা তৈরি হলো, তাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য নতুন নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে।

ভারতের আগ্রহেই রুপিতে বাণিজ্য শুরু: বাংলাদেশ ব্যাংক

১১ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

ভারতের আগ্রহেই রুপিতে বাণিজ্য শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রুপিতে বাণিজ্য করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। আরও ১৮টি দেশ রুপিতে বাণিজ্য করছে। বাংলাদেশ ১৯তম দেশ হিসেবে এটা শুরু করল।

 আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতীয় রুপি ব্যবহারের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক। অনুষ্ঠানে সহকারী মুখপাত্র সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেজবাউল হক বলেন, ‘আজ সকালে একটি আমদানি ও রপ্তানি ঋণপত্র খোলার মাধ্যমে রুপিতে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। এর লেনদেন সম্পন্ন হবে শুধু রুপিতে। ভারত থেকে আমরা ১৪ বিলিয়ন (১ হাজার ৪০০ কোটি) ডলারের পণ্য আমদানি করি, রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের পণ্য। আমরা যে পরিমাণ রপ্তানি আয় করব, শুধু সে পরিমাণ পণ্য আমদানি রুপিতে হবে। বাকি আমদানি কার্যক্রম আগের মতোই ডলারে চলবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এখন শুধু রুপিতে এই সেবা চালু হলো। এতে খরচ কিছুটা কমে আসবে। ভবিষ্যতে টাকায়ও এই সেবা মিলবে। ডলারের পাশাপাশি রুপিতে বাণিজ্য শুরুর মাধ্যমে আমাদের নতুন একটি দ্বার খুলল। আপাতত দেশে কাজ করে এমন তিন ব্যাংক এই সেবায় যুক্ত হলেও পরে অন্য ব্যাংকগুলো এ সেবা দিতে পারবে।’

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখে পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র

১৫ জুলাই ২৩, সমকাল

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে– ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে সফর করে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। ঢাকার এ প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে ওয়াশিংটন আগামীতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এমনই মন্তব্য করেছেন।

চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকাকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায় ওয়াশিংটন। এ জন্য দরকার একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। এ স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি অর্জনে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলোর আদর্শিক পরিস্থিতি। এ কারণে যে কোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

বিবিধ

বাল্যবিবাহে বাংলাদেশ এশিয়ায় শীর্ষে

০২ মে ২০২৩, প্রথম আলো

জনস্বাস্থ্য ও মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশ কিছু উন্নতি দৃশ্যমান। তবে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাচ্ছে না। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহের হারে বাংলাদেশ এখনো শীর্ষে। এটি মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি–২০২৩ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে ২০০৬ থেকে ২০২২ সালের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়সের আগেই ৫১ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।

‘৮০০ কোটি জীবন, অপরিসীম সম্ভাবনা’ (এইট বিলিয়ন লাইভস, ইনফিনিট পসিবিলিটিজ) শিরোনামে বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২৩ বৈশ্বিকভাবে প্রকাশিত হয় গত ১৯ এপ্রিল। বাংলাদেশে গতকাল রোববার রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) স্যাটেলাইট কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন বাংলাদেশে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি ক্রিশ্চিন ব্লুখস। প্রতিবেদনে ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

জার্নালিস্টদের বাবার জুতা পরা ছবি চাইলেন সালাউদ্দিন

২ মে ২০২৩, মানবজমিন

ফিফা থেকে ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফের পুরো কমিটিই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। গত ১৭ই এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভায় এই প্রশ্নবিদ্ধ কমিটির ১০ জনকে দিয়ে সোহাগ ইস্যুতে তদন্ত কমিটি করে বাফুফে। সপ্তাহ খানেক আগে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন দুই সহ-সভাপতি। বাফুফের এমন টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই মঙ্গলবার নির্বাহী কমিটির সভা শেষে ভবনে সাংবাদিক প্রবেশ নিয়ে বাজে মন্তব্য করে বসলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

মঙ্গলবার ছিল বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভা। সেই সভা শেষে মিডিয়াকর্মীদের সামনে কথা বলতে আসেন সালাউদ্দিন। কিন্তু তিনি টের পাননি তার সামনে আগে থেকেই বেশকিছু মুঠোফোন রেকর্ডে দেয়া ছিল। আনুষ্ঠানিক কথা শুরুর আগে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের সঙ্গে আলাপচারিতায় কাজী সালাউদ্দিন বলেন, জার্নালিস্টরা এখানে ঢুকতে গেলে তাদের আমার এখানে ফটো দিতে হবে তাদের বাপ-মা’র। …আরেকটা কন্ডিশন হলো- তার বাপের ফটো পাঠাবে জুতা পরা। ঠিক আছে (হাসি), এটা হতে হবে ম্যান্ডেটরি। বাপের জুতা পরা ছবি থাকতে হবে।’  বাফুফে সভাপতির এমন উদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনে স্তম্ভিত মিডিয়া কর্মীরা।

ওদিকে বাফুফে সভাপতি অবশ্য পরে নিজের বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

পাঠান: বাংলাদেশে কত টাকার টিকিট বিক্রি হলো

২০ মে ২০২৩, প্রথম আলো

আট বছর পর বাংলাদেশে হিন্দি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। বলিউড তারকা শাহরুখ খানের আলোচিত সিনেমা পাঠান বাংলাদেশে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে কেমন ব্যবসা করল, সিনেমা হলে দর্শকের উপস্থিতি কেমন—তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় স্পাই থ্রিলার সিনেমাটি আমদানি করেছে ঢাকার পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট। প্রায় আট বছর পর ১২ মে বাংলাদেশের সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘পাঠান’। দ্বিতীয় সপ্তাহে দুটি হল বাড়লেও শো ২০৬ থেকে ১৮৫টিতে নেমেছে।

প্রথম সপ্তাহে বসুন্ধরা শাখা ছাড়াও এসকেএস টাওয়ার, সীমান্ত সম্ভার, সনি স্কয়ারসহ সাতটি শাখায় প্রতিদিন ৩৪টি করে শো চালিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স। দ্বিতীয় সপ্তাহে হল না কমলেও শো নেমেছে ২১টিতে।

হিন্দি ছবির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবির তালিকায় জায়গা করে নেয় সিনেমাটি। আয় করেছে ১ হাজার ৫০ কোটি রুপি। সিনেমাটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্মাতা অনন্য মামুন গতকাল প্রথম আলোকে জানান, প্রথম সপ্তাহে (১২ থেকে ১৯ মে) বাংলাদেশে ৪১টি সিনেমা হল মিলিয়ে ৮৫ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি (গ্রস) হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তির দিনেই বিক্রি হয়েছে ২৫ লাখ টাকার টিকিট।

টিকিট বিক্রির মোট অর্থকে গ্রস বলা হয়, সেখান থেকে করসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে আয় বের করা হয়। সিনেমাটি প্রথম দিনে কত টাকা আয় করেছে, তা জানাতে চাননি অনন্য মামুন।

একক সিনেমা হলে দর্শক–খরা

মাল্টিপ্লেক্সে পাঠান সিনেমা দেখতে দর্শকের উপস্থিতি দেখা গেলেও ঢাকাসহ দেশের একক সিনেমা হলগুলোর চিত্র ছিল ভিন্ন। গতকাল ঢাকার ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হল ঘুরে দেখা গেছে, দর্শকের সংখ্যা হাতে গোনা। প্রায় ৯০০ দর্শক ধারণক্ষমতার হলটিতে গতকাল সাড়ে ১২টার শোতে মোটে ৪০ থেকে ৫০ জন ছিলেন।

হলটির অপারেটর সোহাগ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, সিনেমাটি দর্শকসংখ্যা খুবই কম। শুক্রবার বাদে অন্যান্য দিনে আরও কম দর্শক আসেন। অনেক বাংলা সিনেমাও এটির চেয়ে ভালো চলেছে। সোহাগের ভাষ্যে, অনেক শোতে আলোচিত বাংলা সিনেমা হাওয়া দেখতে ৬০০ দর্শকও দেখেছেন। এরপর পরাণ দেখেছেন। সেই তুলনায় পাঠান সিনেমার দর্শক অনেক কম।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বাসদের ‘টালবাহানায়’ ক্ষুদ্ধ ৩১ নারী অধিকারকর্মী

জুন ২২, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) একাংশের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিষ্পত্তির প্রশ্নে দলটির ‘টালবাহানায়’ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ৩১ নারী অধিকারকর্মী।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, পূর্বে উত্থাপিত এ ধরনের অভিযোগ দলের নেতৃস্থানীয়রা আমলে না নিয়ে, নানাভাবে অস্বীকার করে ধামাচাপা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ করছি যে বাসদ অভিযোগ নিষ্পত্তির কোনো গণতান্ত্রিক এবং সম্মানজনক পথ অবলম্বন না করে বরং কালক্ষেপণ এবং অভিযোগকারীদের কালিমালেপনের চিরায়ত পিতৃতান্ত্রিক কৌশল অবলম্বন করছেন। একটি বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দলের এই আচরণ আমাদের স্তম্ভিত করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশে যৌন হয়রানিবিরোধী আন্দোলনের অংশীজন হিসেবে আমরা জানি যে এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপন কোনো নারীর জন্য সহজ না। ভুক্তভোগী নারীরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা হওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে জনপরিসরে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে একাধিক প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, বাসদের প্রাক্তন কর্মীগণ ভুক্তভোগীদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। একইসঙ্গে তারা যৌন নিপীড়ন ও শোষণমূলক লিঙ্গীয় সম্পর্কের চর্চাকে সংগঠন থেকে সমূলে উৎপাটনের জন্য একটি যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল এবং নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। আমরা তাদের দাবির সাথে সম্মতি ও সংহতি প্রকাশ করছি।’

যে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে যৌন হয়রানির  মতো অভিযোগ আমলে নেওয়ার কথা ছিল বাসদ তা করেনি মন্তব্য করে বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে তারা যেভাবে প্রথমে অস্বীকার করে এবং পরে অভিযোগটিকে দলের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেয়, বাসদও একইভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তি না করে যিনি হুইসেলব্লোয়ার তার বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক কাজে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। বাসদ এবং তার অঙ্গসংগঠনের কাছে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ছাত্রলীগের যৌন নিপীড়ন প্রতিবাদযোগ্য। কিন্তু নিজ দলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে সর্বোতভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের নেতাদের “অযৌন”, “ত্যাগী” ও  “আদর্শবাদী” ভাবধারার কথা তুলে। এটি আমাদের ক্ষুব্ধ করেছে।

‘বাসদের একাধিক কর্মী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী এবং তাদের পাশে যারা দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি যৌনবাদী মন্তব্য  ছুঁড়ে দিয়েছেন। যেমন- অভিযোগকারী নারীরা অভিযুক্তকে প্রলুব্ধ (যৌন ইঙ্গিতময় আচরণ করেছে) করার চেষ্টা করেছে, অভিযোগকারী সমাজের নিয়ম মেনে চলা নারী নয় (নর্তকী, পার্টি অফিসে সিগারেট খায়) ইত্যাদি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ভিক্টিম ব্লেইমিয়ের ন্যাক্কারজনক উদাহরণ এবং বাসদের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির লজ্জাজনক বহিঃপ্রকাশ। আমরা এ ধরনের আচরণ ও বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।’

বাসদের অনেকে তাদের নিজ দলে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের দাবিকে সমাজতান্ত্রিক দলের জন্য অপ্রয়োজনীয়  উল্লেখ করেছেন জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তারা বলেছেন এ ধরনের নীতিমালা কেবল বুর্জোয়া  প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। দলের কিছু কর্মীর দাবি, দলের অভ্যন্তরে এ ধরনের অভিযোগ অতীতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, অভিযোগ যদি সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে তাহলে দলের প্রাক্তন নারী কর্মীরা কেন সাংগঠনিক চর্চায় লিঙ্গীয় নিপীড়ন ও যৌন দাসত্বের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন?  আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই,  স্থান-কাল-পাত্রভেদে যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞা বদলায় না। হোক পরিবার বা বিপ্লবী সংগঠন কিংবা ক্যাম্পাস— ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়ন সকল ক্ষেত্রেই অবাঞ্ছনীয়, অন্যায় এবং গুরুতর অপরাধ। বাসদের নেতা-কর্মীদের এ ধরণের বক্তব্য তাদের স্থূল পুরুষালী চিন্তা এবং লিঙ্গীয় ও যৌন রাজনীতি নিয়ে তাদের অমীমাংসিত রাজনৈতিক অবস্থানের স্মারক।’

বিবৃতিতে নারী অধিকারকর্মীরা জানতে চান, ‘সাম্প্রতিক সময়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরসনে কালক্ষেপণ ও অভিযোগকারী সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা ছাড়া বাসদ সাংগঠনিকভাবে আর কি উদ্যোগ নিয়েছে?  যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালাকে বুর্জোয়া বলে খারিজ করে দিয়ে এ ধরনের অভিযোগ নিষ্পত্তি করার জন্য কি বিকল্প বিপ্লবী পন্থা বাসদ অবলম্বন করছে?’

বিবৃতিদাতাদের ভাষ্য, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, লিঙ্গীয় সমতার প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে, যৌন সহিংসতার ঘটনাকে কভারআপ করার মধ্যে দিয়ে বাসদ আদর্শচ্যুত হয়েছে এবং জনগণের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার রাজনৈতিক বৈধতা  হারিয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে বাসদের প্রতি এই বিবৃতিদাতারা আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অভিযুক্ত নেতাদের সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে  সুষ্ঠু তদন্তের পথ  তৈরি করুন। এছাড়া এই রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের আর কোনও গ্রহণযোগ্য বিকল্প নেই।’

৫ কোটির বেশি নাগরিকের গোপন তথ্য প্রকাশ্যে সরকারি ওয়েবসাইটে

জুলাই ৮, ২০২৩, ডেইলিস্টার অনলাইন বাংলা

বাংলাদেশের ৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকলেই পাওয়া যাচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, গুগলে সার্চ করলেই যে কেউ ওয়েবসাইটিতে ঢুকে ৫ কোটি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ ও এনআইডি নম্বর দেখতে পারছেন।

গত ২৭ জুন এটি দেখতে পান বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটির গবেষক ভিক্টর মার্কোপোলোস। বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা সমাধান সংস্থা। তার বরাতে বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে মার্কিন অনলাইন পোর্টাল টেকক্রাঞ্চ।

ভিক্টর মার্কোপোলোস দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘.gov.bd’ ডোমেইনে থাকা একটি বাংলাদেশি সরকারি ওয়েবসাইটে এসব তথ্য উন্মুক্ত অবস্থায় আছে।

‘এ তথ্যগুলো সরকারি পরিষেবা পেতে নাগরিকরা আবেদন করার সময় দিয়েছিলেন। সেখানে লেনদেন আইডি এবং আবেদনকারীদের অর্থ প্রদানের মতো তথ্যও রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

ভিক্টর জানান, বিষয়টি জানার পর মার্কোপোলোস একাধিকবার বাংলাদেশি ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের (বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি।

বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি একটি সরকারি সংস্থা যা বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে।

যথাযথ বিকল্প না থাকায় এনআইডি সার্ভার নিয়ে ঝুঁকি

১২ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

দেশের প্রায় ১২ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যভান্ডারের কোনো ডিজাস্টার রিকভারি সাইট (ডিআরএস) বা যথাযথ ব্যাকআপ (বিকল্প সংরক্ষণব্যবস্থা) নেই। ডিআরএস না থাকায় জাতীয় এই তথ্যভান্ডার অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি ইসির তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ কমিটির একটি বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এনআইডির তথ্যভান্ডারে প্রায় ১২ কোটি ভোটারের কমবেশি ৩০ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য আছে। ১৭১টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইসির এই তথ্যভান্ডার থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য যাচাই–সংক্রান্ত সেবা নিচ্ছে।

ইসির কাছ থেকে এই সেবা নেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে সম্প্রতি লাখ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়। এরপর দেশে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থানায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ডিআরএস না থাকায় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে যদি এনআইডির তথ্যভান্ডার নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বিপুলসংখ্যক মানুষের তথ্য আর না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক দিন ধরে এই বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর (ব্যাকআপ) কথাবার্তা চললেও এখনো তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এখন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে (বিসিসি) তথ্যের ব্যাকআপ রাখা হয়, কিন্তু ইসির কর্মকর্তারা মনে করেন তা যথাযথ নয়।

সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য, যেভাবে প্রতারণার শিকার ৫ কর্মকর্তা

১৭ জুলাই ২০২৩, প্রথম আলো

গুগলে কয়েকটি শব্দ লিখে মাউসে ক্লিক করলেই বেরিয়ে আসছে দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য। শত শত মানুষের নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। কোথাও কোথাও থাকছে জন্মনিবন্ধন নম্বর এবং ছবিও।

দেশের নাগরিকদের ব্যক্তিগত এসব তথ্য এভাবে উন্মুক্ত রয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে। সরকারি একটি ওয়েবসাইট থেকে ‘লাখ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হওয়ার খবরের’ মধ্যে দেখা যাচ্ছে, শুধু ওই একটি ওয়েবসাইট নয়, নাগরিকদের তথ্য উন্মুক্ত করে রেখেছে সরকারের আরও অনেক ওয়েবসাইট। এসব ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরাধীরা মানুষের কী ক্ষতি করতে পারে, তার উদাহরণ হতে পারেন সরকারের পাঁচজন কর্মকর্তা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড থেকে অনুদান পেয়েছিলেন। এ রকম অনুদান পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা ওই প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটে তুলে দেয়, যেখানে নামসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য ছিল। অপরাধীরা সেই তালিকা সংগ্রহ করে অনুদান পাওয়া কর্মকর্তাদের ফোন করে এবং আরও অনুদান দেওয়ার কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য নেয়। এরপর জালিয়াতি করে পাঁচজনের কাছ থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেয়।

বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি ২০১৬ সালে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) চালুর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের অনুদান সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর সুবিধা চালু করে। স্বচ্ছতার জন্য সুবিধাপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, ঠিকানা, অনুদানের পরিমাণ, মুঠোফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হতো (এখন হয় না)। সেই তালিকা ধরে প্রায় প্রত্যেককে ফোন করে প্রতারণার চেষ্টা করে কয়েকটি চক্র। অনেকে টাকা হারান।

২০২২ সালের শুরুর দিকে প্রতারণার বিষয়টি নজরে আসে। এরপর কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে সতর্ক করে। এমন একটি ঘটনায় গত বছরের ১১ আগস্ট রমনা মডেল থানায় মামলা হয়। মামলার পর একটি চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছর ২১ আগস্ট সিআইডির এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছিল, শুধু এই পাঁচজন নয়, অনেক সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতারণা করেছিল প্রতারকেরা।

Social Share
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •